Tuesday, July 15, 2014

দুঃখী ম্যারাডোনার পাশে মেসি

নিয়তি মানুষকে নিয়ে কি খেলাটাই না খেলে থাকে। তাই বলে লিওনেল মেসির মতো মানুষকে নিয়েও। মারাকানার মঞ্চে রোববার ফুটবল জাদুকর উঠলেন ঠিকই। তবে বিশ্বকাপ আর ধরা হলো না। সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিলেন যেন নিতান্তই অনিচ্ছায়। এ সান্ত্বনা পুরস্কার তিনি চাননি। তার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ। বার্সোলোনা সতীর্থ জাভি, ইনিয়েস্তার কাছে জানতেও চেয়েছিলেন বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে কেমন লাগে? সে বিশ্বকাপ থেকে ইঞ্চি কয়েক দূরত্বে থেমে গেলেন তিনি। ম্যাচ শুরুর আগেই ফুটবল পণ্ডিতরা বলেছিলেন, জার্মানিই ফেভারিট। কিন্তু সবার দৃষ্টি ছিল লিওনেল মেসির দিকে। কারণ তারা জানতেন মুহূর্তের মেসি ম্যাজিকে পাল্টে যেতে পারে সব। মহারণের শুরুতে আর্জেন্টিনার নীল জার্সি দেখেই অবশ্য আঁতকে উঠেছিলেন অনেকে। এ তো অভিশপ্ত জার্সি। এ রঙের জার্সি পরে দুই যুগ আগে এই জার্মানির কাছেই ফাইনালে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এক মাস আগে মারাকানাতেই বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল মেসির। তিন ম্যাচে চার স্বর্গীয় গোল। দ্বিতীয় রাউন্ডে এসে গোল না পেলেও দুরন্ত জাদুর প্রদর্শনী অব্যাহতই ছিল। যদিও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ছিলেন অনুজ্জ্বল। ফাইনালের শুরুতে আর্জেন্টিনাকে চেপে বসে জার্মানি। মাঝ মাঠ অবধি আসতে কোন বাধাই পাচ্ছিলেন না জার্মান খেলোয়াড়রা। পরে বোঝা গেছে, এটা আসলে সাবেয়ার কৌশলই ছিল। প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে টেনে এনে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া। এ থেকে বার বারই সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। লিওনেল মেসির ভয়ঙ্কর গতি আর ড্রিবলিংয়ের দেখা মিলছিল। মুহূর্তেই ছিটকে ফেলছিলেন তিন-চার জন মার্কারকে। কিন্তু আসল কাজ হচ্ছিল না। গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারলেন না হিগুয়েইন। আরেকবার মেসির জাদুকরি পাস লাভাজ্জি হয়ে হিগুয়েইনের কাছে। তার শট জাল খুঁজেও পেলো। কিন্তু কোটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থককে স্তব্ধ করে দিয়ে অফসাইডের কারণে এ গোল বাতিল করে দেন রেফারি। জার্মানির বেশির ভাগ আক্রমণই খেই হারিয়ে ফেলছিল আর্জেন্টিনার ডিবক্সে গিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল মিস করলেন স্বয়ং লিওনেল মেসি। গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারলেও জালে না ঢুকে বার ঘেঁষে চলে যায় বল। যেন তার বিশ্বকাপ স্বপ্নও বেরিয়ে গেল। অথচ বার্সেলোনার হয়ে এ জায়গা থেকে গোল হররোজই করে থাকেন মেসি। বারবার গোল মিসের মূল্য অবশ্য নির্মমভাবে পরিশোধ করতে হয় আর্জেন্টিনাকে। খেলা শেষ হওয়ার সাত মিনিট বাকি। সবাই ভাবছেন টাইব্রেকারেই নিষ্পত্তি হবে ফাইনালের। কিন্তু মারিও গোটশের ভাবনা ছিল ভিন্ন। ১১৩ মিনিটের মাথায় অসাধারণ এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দেন এ তরুণ। শেষ কয়েক মিনিটে আর্জেন্টিনা চেষ্টা করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মেসির হেড বারের ইঞ্চি কয়েক উপর দিয়ে চলে যায়। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি এরিয়ার কাছাকাছি ফ্রি কিক পেয়েছিলেন। কিন্তু মেসির নেয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। আর ফুটবলের এক যুবরাজের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে যায় আপাতত। খেলা শেষে লিওনেল মেসি অবশ্য স্ট্রাইকারদের পাশাপাশি দোষারোপ করেছেন ভাগ্যকেও। ইংরেজিতে বিখ্যাত প্রবাদ- হিস্ট্রি রিপিট ইটসেলফ- ইতিহাসের প্রত্যাবর্তন হয়। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে মেসির মধ্যে ম্যারাডোনার ছায়া দেখতে পান অনেকে। অনেক নতুন ম্যারাডোনার মতো হারিয়ে যাননি তিনি। দিনের পর দিন অসাধারণ সব পারফরমেন্স প্রদর্শন করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছেন এখনই। তবে মারাকানায় জার্মানি-আর্জেন্টিনা ফাইনালের আগে দুই ম্যারাডোনা ফিরছিলেন। ’৮৬’র ম্যারাডোনা উচ্ছ্বসিত। জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্ব জয় করেছিলেন যিনি। পরের ফাইনালে অশ্রুসজল তিনি। এবার জার্মানির সঙ্গে ১-০ গোলে পরাজয়। ম্যাচ শেষে দিয়াগো ম্যারাডোনার সেই কান্নার ছবি স্থান পেয়েছে বিশ্বকাপের চিরস্থায়ী অ্যালবামেও। এবার মারাকানার ফাইনালের আগে সবচেয়ে বিখ্যাত প্রশ্ন ছিল, লিওনেল মেসি কি ম্যারাডোনা হতে পারবেন। সে প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। তিনি ম্যারাডোনা হতে পেরেছেন। তবে তা ’৮৬-এর সুখী ম্যারাডোনা নন। ’৯০-এর দুঃখী ম্যারাডোনার পাশেই স্থান হয়েছে লিওনেল মেসির।

ভাগ্য তাড়া করে ফিরছে মেসিকে by মতিউর রহমান চৌধুরী

কাঁদছে বিশ্ব। কাঁদছেন মেসি নিজেও। ম্যারাডোনার খবর কি? তিনি হয়তো মনে মনে খুশিই হয়েছেন। তার রেকর্ড ভাঙতে পারলেন না লিওনেল মেসি। বাংলাদেশ কি করছে? রীতিমতো আহাজারি চলছে সর্বত্র। রাতের ঘুম হারাম করেছিলেন মেসি। স্বপ্ন ছিল মেসিকে ঘিরেই। এবার তার হাত ধরেই বিশ্ব ফুটবলের মুকুটটা আসবে আর্জেন্টিনার কাছে। কেন আর্জেন্টিনা? কেন মেসি? এর কোন জবাব নেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে। কোন মুহূর্তে তারা আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে রীতিমতো গবেষণা হতে পারে। তবে ফলাফল যে একদম নিখুঁত হবে তা বলা যায় না কোন অবস্থাতেই। কারণ ম্যারাডোনা ক্রেজ তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবল-ভক্তদের মধ্যে। সেই ৮৬ সন থেকে আজ অবদি। ৯০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার কাছ থেকেই লোথার ম্যাথিউস মুকুটটা কেড়ে নিয়েছিলেন। এবার আর্জেন্টিনা চেয়েছিল মেসির নেতৃত্বে কাপ ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেটা হলো না। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন? কোচ সাবেলাকে? মেসিকে? ভাগ্যকে? নাকি পুরো টিমটাকে। পাকিস্তানের তৈরী ব্রাজুকাকে? যে বল দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি-ভক্তদের কাঁদিয়েছে জার্মানি। বাংলাদেশে এমনই ক্রেজ তৈরি হয়েছিল যেখানে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত রাত জেগে খেলা দেখেছেন। তিনি সহকর্মীদের বলেছেন, মেসি গোল করলে বা আর্জেন্টিনা জিতলে খুব খুশি হতেন। প্রস্তুতি ছিল বিজয় মিছিলের। দেশজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। সেহেরির সময়ে এ রকম উত্তেজনার সাক্ষী বাংলাদেশীরা কখনও হয়েছেন বলে জানা নেই। একদিকে নির্ঘুম রাত। অন্যদিকে সেহেরির প্লেট রেখে টিভির পর্দায় চোখ। কখন কি হয়? মেসির পায়ে যখন বল তখন সবাই নড়ে চড়ে বসেছেন। কিন্তু মেসি কি জানতেন তাকে ইতিমধ্যেই বোতলবন্দি করা হয়েছে।

মেসি তো খালি খালি স্বপ্ন দেখাননি বিশ্ব জয়ের। দ্বারপ্রান্তে এসে সব যেন এলোমেলো হয়ে গেল। আর্জেন্টিনা তো সুযোগ কম পায়নি। হিগুয়েন যদি সহজ সুযোগটি হাতছাড়া না করতেন তাহলে মারাকানার ইতিহাস যা ছিল তা-ই থাকতো। কোন ইউরোপীয় টিম ল্যাটিন আমেরিকা থেকে কাপ নিয়ে দেশে ফিরতে পারতো না। মেসিও অন্তত দু’টো সুযোগ নষ্ট করেন স্বার্থপরের মতো শট নিয়ে। বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন সুযোগ বারবার আসে না। শেষ বাঁশি বাজার দু’মিনিট আগে মেসির ফ্রি কিক এমনভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে তা কে ভেবেছিল। মেসি নিজেও ভেবেছিলেন কিনা জানি না। পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে তাকে বোতল বোতল পানি খেতে দেখা গেছে জার্মানদের ট্রফি নেয়ার সময়। জার্মানরা বিশ্ব জয় করেছে তাদের শক্তি আর কৌশল দিয়ে। ২৮ বছর আগে ফ্রেঞ্জ বেকেনবাউয়ারের নেয়া কৌশল ঠিকই কাজে লাগান জোয়াকিম লো। সেবার ম্যারাডোনাকে বোতলবন্দি করতে না পারলেও মেসিকে ঠিকই করেছেন। আরও নাটকীয়তা ক্লসাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে এই বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ নতুন মুখ ব্রায়ান মিউনিখের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গোয়েটসাকে নামিয়ে। আর্জেন্টাইন কোচ সাবেলা টেরই পাননি কেন এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন জোয়াকিম লো। তার কাছে হয়তো মনে হয়েছে সে আর কি? বিশ্বকাপ আসবে অপরিচিত মুখ তাকে মার্কিং-এর মধ্যে রাখার দরকার কি? ২২ বছর বয়স্ক গোয়েটসাকে সুযোগই দেয়া হচ্ছিল না। ক্লসার শূন্যস্থান তাকে দিয়ে পূরণ করার এত বড় ঝুঁকি নেবেন কিনা?
অথচ কে না জানে বিশ্বকাপে সুযোগ না পেলেও জার্মানির হয়ে ৩৫ খেলায় ১১ গোল পেয়েছেন এই গোয়েটসা। যাকে এক সময় ফ্রেঞ্জ বেকেনবাউয়ার মেসির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। আর্জেন্টাইনকে কুপোকাত করার পর বলা হচ্ছে মেসি নয়, গোয়েটসাই সেরা। তাকে নিয়েই নতুন ইতিহাস লিখতে হবে। এটাকেই বলে ভাগ্য। না হলে প্রথম দিন নেমেই সব চেয়ে দামি গোল পেয়ে গেলেন। যে গোল তার দেশকে এনে দিলো বিশ্ব ফুটবলের তকমা। তাকে দিল ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন এক স্বপ্ন। মেসি আসলেই আনলাকি প্লেয়ার। স্প্যানিশ লীগে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ফিফার চারবার বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন। অথচ বিশ্বকাপ! ফাইনালে মাত্র পনের গজ দূর থেকে বল মেরেও গোল পাননি। এমনকি গোলকিপারের কাছেও যায়নি। ফ্রি কিক বিশারদ হয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। বীরের মতো আর্জেন্টিনায় যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু আর্জেন্টিনা গেলেন এক রাশ হতাশা নিয়ে। দেশের মানুষ মুখিয়ে ছিল বিজয় উল্লাসের জন্য। বাংলাদেশে পরস্থিতি কি হতো জানি না। তবে শেষ রাতে হয়তো বা পুলিশ ডাকতে হতো। কারণ এমন অন্ধ মেসি-ভক্ত খোদ আর্জেন্টিনায় আছেন কিনা তা বলা সম্ভব নয়। কথায় আছে জিতলে নায়ক, হারলে খলনায়ক। গোয়েটসা নায়ক হয়ে গেলেন রাতারাতি। কিন্তু নায়ক থেকে খলনায়ক হয়ে গেলেন মেসি। ফুটবলে এমনই হয়। অনেকেই এখন বলছেন মেসির পাশে সত্যিই ঈশ্বর নেই। থাকলে ভ্যাটিকান থেকে পোপ আশীর্বাদ করেও কোন ফল পেলেন না। এটা আমি মানবো না। ফুটবল যেমন টেকনিকের খেলা-তেমনি ভাগ্যেরও। দেখুন না জার্সি বদলের পালা আর্জেন্টিনার ওপর পড়বে কেন? সেটা তো জার্মানদের ওপরও পড়তে পারতো। নিজের জার্সি ছাড়া বিশেষ করে আর্জেন্টিনা যখন নীল জার্সি পড়ে খেলতে নামে তখন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। অনেকেই বলেন, এটা নাকি এক অভিশপ্ত জার্সি। ’৯০ বিশ্বকাপেও জার্মানির কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা একই জার্সি পরে। সেই দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। যা-ই হোক জার্মানরা লড়াকু জাতি। রক্ত দেখলে ওরা সিংহের মতো গর্জে ওঠে। সোয়েনস্টাইগারের রক্ত বৃথা যেতে দেয়নি তারা। ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে দেখে কোচ জোয়াকিম লো ‘বেঞ্চ মেটদের’ বলেছিলেন, এর জবাব দেবো আমরা অন্যভাবে। ঠিকই দিয়েছেন। এই জবাব জার্মানির জন্য দ্যুতিময়। আর মেসির জন্য মর্মবেদনা- যা থেকে মেসি কখনও বের হতে পারবেন না। তাকে তাড়া করে বেড়াবে সারাজীবন।

গাজায় নিরাপদ আশ্রয় নেই

গাজা উপত্যকার রাফায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত
বাড়ির সামনে এক ফিলিস্তিনি নারীর আহাজারী।
শুক্রবার, সকাল সাতটা। গাজায় নিজ বাড়ির সিঁড়ির নিচে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কাদের। হঠাৎ প্রতিবেশীর ভয়ার্ত কণ্ঠের ডাক, ‘ড. কাদের, উঠুন, উঠুন। তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ওরা আমার বাড়িতে বোমা হামলা চালাতে যাচ্ছে।’ সন্তানদের তাড়াহুড়া করে জাগিয়ে তাদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে যাচ্ছিলেন ড. কাদের। সে সময় সাত বছর বয়সী ছোট ছেলে মোহাম্মদ বাবার পরনের পোশাক খামচে ধরল। এই তাড়াহুড়ায় ভয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে সে, যেন নড়াচড়া করতে পারছে না! তাকে কোলে নিয়ে সবাই মিলে দ্রুত বাড়ি ছাড়লেন কাদের। হলুদ রঙের এই বাড়িটি তৈরি করতে বেশ কয়েক বছর কষ্ট করে অর্থ জমাতে হয় কাদেরকে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের গগনবিদারী আওয়াজ শুনতে পেলেন তিনি। ‘হামলা থেকে বাঁচার জন্য আমরা শুধু দৌড়াতে লাগলাম।’ কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলছিলেন কাদের। তিনি বলেন, ‘এমন হামলা আমার সন্তানের মনে স্থায়ী আতঙ্কের ছাপ ফেলছে—এই শৈশব কি তাদের প্রাপ্য?’ ড. কাদেরের বাড়ি ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না। কিন্তু তাঁর প্রতিবেশীর বাড়ি লক্ষ্যবস্তু ছিল। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছার পরপরই ইসরায়েলি বিমান থেকে ফেলা দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রে বিধ্বস্ত হলো প্রতিবেশীর বাড়ি। ড. কাদেরের পাঁচ সন্তানের বয়স সাত বছর থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। পাশের বাড়ি বোমায় বিধ্বস্ত। এখন ভয়ে নিজের বাড়িতে ফিরতে চাচ্ছে না কাদেরের সন্তানেরা। ‘বাচ্চারা এত ভীত যে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছে না, আমরা তো সেদিন আসলে অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলাম।’ বলেন কাদের। কাদের যে হামলার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, সেই হামলার সময়ই গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফায় আরেকটি বাড়িতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
হামলার আগে কোনো সতর্কসংকেত পায়নি ওই বাড়ির লোকজন। ওই হামলায় ঘুমন্ত অবস্থায় একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারান। আহত হন ১৬ জন। গাজায় টানা সাত দিনের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৭২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। হামলায় এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের অন্তত ৭০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি বাড়ি। ইসরায়েল গাজার প্রায় প্রতিটি স্থানেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই নির্বিচার হামলার পক্ষে সাফাই গাওয়ারও চেষ্টা করছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে খুদে ব্লগ লেখার ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস রকেট ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ‘বিভিন্ন বাড়ি, মসজিদ, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে’ লুকিয়ে রেখেছে। তাই বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, বেসামরিক হতাহত এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিন হিউম্যান রাইটস সেন্টারের উপপরিচালক জাবে উইসা বলেন, ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন বাড়িতে ‘ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক’ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো বাড়ির মালিক হামাস বা ইসলামিক জিহাদের সদস্য হলেও সেই বাড়িকে বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সে বিষয়টি বিবেচনায়ই নেওয়া হচ্ছে না। উইসা আরও বলেন, বিমান হামলা চালানোর আগে কোনো সতর্কসংকেতও দিচ্ছে না ইসরায়েল। ওই বাড়িগুলোতে থাকা পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হামলার আগে সতর্কসংকেত দেওয়া উচিত ইসরায়েলের। তিনি বলেন, আসলে গাজার প্রতিটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এখানে এখন আর নিরাপদ আশ্রয় বলতে কিছু নেই। বিমান হামলায় গাজার প্রতিটি বাড়িই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আল–জাজিরা।

১৩ হাজার বছর আগে বর্ণবাদী যুদ্ধ!

সুদানের জেবেল সাহাবায় পাওয়া কিছু মানুষের কঙ্কাল
ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা সুদানের জেবেল সাহাবায় পাওয়া কিছু মানুষের কঙ্কাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তির-ধনুক ব্যবহার করে এদের হত্যা করা হয়েছে।এরা ১৩ হাজার বছর আগে প্রথম বর্ণবাদী যুদ্ধের শিকার কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণায় ফরাসি বিজ্ঞানীরা যুক্তরাজ্যের জাদুঘরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন।যুক্তরাজ্যের জাদুঘরের নতুন সংযোজন ‘প্রাচীন মিসর’ গ্যালারিতে স্থায়ীভাবে গতকাল সোমবার থেকে এই কঙ্কালের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। খবর দি ইনডিপেনডেন্টের। সুদানের উত্তরাঞ্চলের জেবেল সাহাবায় নীল নদের পূর্ব তীর থেকে এই কঙ্কালগুলো উদ্ধার করা হয়। এগুলো সবচেয়ে প্রাচীন সশস্ত্র দুই পক্ষের যুদ্ধের শিকার ব্যক্তিদের কঙ্কাল বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর অর্থায়নে ষাটের দশকে তদন্তের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা খননের সময় বেশ কিছু কঙ্কাল পাওয়া যায়। ১৯৬৪ সালে মার্কিন প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রেড ওয়েনডর্ফ একই ধরনের আরও কিছু কঙ্কাল উদ্ধার করেন। নিজের গবেষণাকেন্দ্রে রেখে গবেষণার প্রায় ৩০ বছর পর তিনি সেগুলো যুক্তরাজ্যের জাদুঘরে হস্তান্তর করেন। তবে বর্তমান গবেষণা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে কঙ্কালগুলো খতিয়ে দেখা হয়নি। ফ্রান্সের বোর্ডেক্স ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্ববিদেরা দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে ওই কঙ্কালগুলোতে তিরের আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পান। গবেষকেরা পৃথক গবেষণায় হত্যার শিকার ব্যক্তিদের জাতিগত পরিচয় ও বর্ণ খোঁজার চেষ্টা করেন। এই গবেষকদের মতে, কঙ্কালগুলো আধুনিক কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের পূর্বপুরুষদের একাংশের। হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া কঠিন হলেও ধারণা করা যায়, সম্পূর্ণভাবে আলাদা বর্ণ ও জাতিগত গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।

মিঠুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই

মিঠুন চক্রবর্তী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত সারদা কেলেঙ্কারির ঘটনায় রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ও বলিউড অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। চাঞ্চল্যকর ওই চিটফান্ড কেলেঙ্কারির ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) সূত্র এ কথা জানিয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। আলোচিত ব্যবসায়ী সুদীপ্ত সেন প্রতিষ্ঠিত সারদা গ্রুপ ১৭ লাখের বেশি আমানতকারীর কাছ থেকে দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা তোলে।
পরে প্রতারণার শিকার আমানতকারীদের ৪৭৫ কোটি রুপি ফেরত দিলেও বাকি টাকার কোনো হদিস নেই। এরপর এই কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত করতে জোর তৎপরতা শুরু করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত মে মাসে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেন সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই সূত্র জানায়, অভিনেতা মিঠুন সারদার ওই আমানত সংগ্রহ স্কিমের একটা অংশ ছিলেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। ওই স্কিমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিবিআই। মিঠুনের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য কখন তাঁকে সিবিআই ডাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মিঠুনকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।

প্রতিরোধের ক্ষীণ চেষ্টা ফিলিস্তিনিদের

গাজায় স্থল অভিযানের প্রথম দিনে উত্তর গাজায় ঢুকে পড়েছে ইসরাইল বাহিনী। ফিলিস্তিনের ইসলামি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কয়েকটি ঘাঁটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তাদের এ স্থল অভিযান। সোমবার এক বিবৃতিতে এমনটাই দাবি করেছে ইসরাইল। পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে গাজায় অভিযান চালানোর জন্য ইসরাইল সীমান্তে কয়েকদিন আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের সমাবেশ ঘটিয়েছিল তেল আবিব। এদিকে ইসরাইল বাহিনী প্রতিরোধে ক্ষীণ চেষ্টা চালাচ্ছে ফিলিস্তিন। দফায় দফায় বিচ্ছিন্ন বাধার সৃষ্টি করছে। ওত পেতে থাকা সদস্যদের বিচ্ছিন্ন হামলায় কিছু জায়গায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে বহু সেনা আহত হয়। পরে আহত সেনাদের ইসরাইলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এদিকে গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্য উত্তর গাজা থেকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল বাহিনী। তবে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা জনগণকে ইসরাইলের ওই নির্দেশ অমান্য করার আহ্বান জানিয়েছে। হামাস বলছে, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে তেল আবিব এ কথা বলেছে এবং তারা জনগণের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এদিকে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের ভেতরে দুটি রকেট ছোড়া হয়েছে। এরপর ইসরাইল পাল্টা কামানের গোলাবর্ষণ করে। সিরিয়া থেকেও গোলান মালভূমিতে রকেট ছোড়া হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে হামাসও রকেট ছোড়া অব্যাহত রেখেছে। নতুন করে হাইফা,
তেল আবিব, রিশন লিজন ও নেগেভ শহরে রকেট ছুড়েছে হামাস। ফিলিস্তিনি ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের : ইসরাইলের অভ্যন্তরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পাঠানো একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সোমবার এক টুইটার বার্তায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে আসা একটি ড্রোনকে দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী আসদোদের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা ভূপাতিত করা হয়েছে। স্থানটি গাজা থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। সাত দিন আগে গাজায় ইসরাইলি অভিযান শুরুর পর এই প্রথম কোনো ফিলিস্তিনি ড্রোনকে ভূপাতিত করল ইসরাইল। হামাস জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে বেশ কিছু ড্রোন পাঠিয়েছে। হামলার জবাবে হামাস গত কয়েকদিনে ইসরাইলের ভেতর প্রায় এক হাজার রকেট নিক্ষেপ করেছে, অবশ্য এসব রকেট হামলায় ইসরাইলের তরফে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলকে মূল্য দিতে হবে : হামাস : ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, গাজা উপত্যকায় বর্বর আগ্রাসনের জন্য ইসরাইলকে চরম মূল্য দিতে হবে। গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে হামাস এ হুশিয়ারি দিল। রোববার হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ইসরাইল মূল্য দেবে। যে কোনো ঘটনার জন্য হামাস প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আবু জুহরি অভিযোগ করেন, ইসরাইল নিজের স্বার্থে গাজার সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
ইসরাইলি বোমায় ক্যানসারের জীবাণু
ফিলিস্তিনের গাজায় নিক্ষিপ্ত ইসরাইলি বোমায় ক্যানসারের জীবাণু রয়েছে বলে দাবি করেছেন নরওয়ের অসলো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডাক্তার এরিক ফোসে। এরিক কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা উপত্যকায় বাস করছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরিক বলেন, গাজায় ইসরাইলের বোমার আঘাতে আহতদের মধ্যে ত্রিশ শতাংশই শিশু। আহতদের অধিকাংশেরই শরীরে প্রাণঘাতী ক্যানসারের জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। ইসরাইল ডেন্স ইনার্ট মেটাল এক্সপ্লোসিভ (ডিআইএমই) নামের এক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে গাজার অধিবাসীদের ওপর। এসব বোমা মানব শরীরে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বোমা আয়তনে ছোট কিন্তু এর ক্ষমতা ভয়ানক এবং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বিস্ফোরণের প্রভাব বিস্তার লাভ করে। আলজাজিরা, এএফপি, রয়টার্স।

এবার সময় উদযাপনের

গোলপোস্টের নিচে ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায়। গ্র“পপর্ব থেকে শুরু করে ইতিহাস গড়ার আগ পর্যন্ত বিশ্বস্ত হাতে দলকে বাঁচিয়েছেন অনেকবার। অবশেষে এক মাসের কঠিন পরীক্ষা শেষ। শিরোপা জেতার পর তাই ম্যানুয়েল নুয়ারের মুখে বিশ্ব জয়ের হাসি। বললেন, এবার উদযাপনের সময়। নুয়ার জানালেন, বাকি জীবন হাসিমুখে, মাথা উঁচু করে চলার উপলক্ষ পেয়ে গেছেন তারা।
১৯৯০ সালের পর আরেকবার বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে বসল দেশটি। ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান করে চতুর্থ শিরোপা জিতল জার্মানি। উচ্ছ্বসিত নুয়ার বলেন, ‘এখন আমরা অন্তত পাঁচ সপ্তাহ উদযাপন করব। একটা সময় গিয়ে উদযাপন থামাতে হবে কিন্তু সব সময় আমরা হাসিমুখেই হাঁটব।’ সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’জয়ী নুয়ার আরও বলেন, ‘আমরা জিতেছি, এটা অবিশ্বাস্য। প্রস্তুতিতে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। এখানে যারা নেই তাদের কথা আমাদের ভাবতে হবে। তারাও এখন চ্যাম্পিয়ন।’ ওয়েবসাইট।

নিয়মিত হয়েছেন মিথিলা

প্রায় দু’বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন মিথিলা। ঈদের নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আবারও পর্দায় ফিরলেন তিনি। এরই মধ্যে ঈদের পাঁচটি নাটকে অভিনয় করেছেন মিথিলা। রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘আয়না মহলে আয়না’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফিরতি যাত্রা শুরু তার। এ নাটকে তার বিপরীতে অভিনয় করেন সঙ্গীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া। নাটকটি ঈদে আরটিভিতে প্রচার হবে।
এছাড়াও ‘শুভপ্রাপ্তি’, মাহফুজ আহমেদের নির্দেশনায় ‘সূর্যান্তের আগে’, হুমায়ুন সাধুর ‘মুসিবত রিলোডেড’ এবং সানী চৌধুরীর ‘উত্তরের বারান্দায় দখিনা হাওয়া’ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকগুলোতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন যথাক্রমে নিলয়, মাহফুজ আহমেদ, ইরেশ যাকের ও অপূর্ব। ঈদের নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, ‘আমি এমনিতেই খুব কম কাজ করি। ঈদ আসছে বলে চাকরির পাশাপাশি পাঁচটি নাটকে কাজ করেছি। রেদওয়ান রনির নাটকে এর আগেও আমি কাজ করেছি। তার কাজ সব সময়ই বেশ গুছানো হয়। অন্যদিকে মাহফুজ ভাই কিংবা অন্যদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও আমার অনেক ভালো। প্রতিটি নাটকেই আমার চরিত্র ভিন্নরকম। যে কারণে বলতে পারি যে আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি নাটকই দর্শকের ভালো লাগবে।’ অভিনয় থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘ব্র্যাক-এ চাকরির ব্যস্ততার কারণে অভিনয়ে সময় দেয়া তার কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন ব্যস্ততা একটু কমেছে বলেই ফের অভিনয় শুরু করেছি।’ তবে অভিনয়ে পুরোপুরি পেশাদারি হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই তার। চাকরির পাশাপাশি যেটুকু অবসর মিলবে তাতেই তিনি চেষ্টা করবেন ভালো ভালো গল্পের নাটকে অভিনয় করতে।

দোষারোপ নয়, জবাবদিহিই গবেষণার লক্ষ্য by মোহাম্মদ রফিক হাসান

টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সম্প্রতি যে গবেষণা পরিচালনা করেছে, তার উদ্দেশ্য হলো এই খাতের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। গবেষণালব্ধ তথ্যসমূহকে প্রত্যাখ্যান না করে বাস্তবতার নিরিখে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে লাখ লাখ অভিভাবক, শিক্ষার্থী তথা সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব বলে টিআইবি মনে করে। সমাজবিজ্ঞান গবেষণার স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করে টিআইবির এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সুতরাং এ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ফলাফলের বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে সন্দেহ করার অবকাশ নেই।

টিআইবির গবেষণাটি দুই বছর ধরে (২০১২-১৪) পরিচালিত হয়। ওই সময়ের মধ্যে গবেষণার সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সেলে কর্মরত একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য এবং পরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার ছাড়াও প্রশ্নমালা সরবরাহ করে লিখিতভাবে জবাব নেওয়া হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে, টিআইবির প্রতিবেদনে ঢালাওভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সমালোচনা, আক্রমণ এবং হেয় করা হয়েছে। কিন্তু টিআইবির প্রতিবেদনের প্রথমেই উল্লে­খ করা হয়েছে যে প্রাপ্ত ফলাফল সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অংশীজনের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া, প্রতিবেদন উপস্থাপনার প্রথমেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অংশীজনের ২০টি ইতিবাচক অর্জন/উদ্যোগের কথা উল্লে­খ করা হয়, যেগুলোর মধ্যে উল্লে­খযোগ্য হলো: ইতিমধ্যেই কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী, অভিভাবকদের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে, বিদেশগামিতার বিকল্প হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা বর্তমানে বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়তে যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করছেন এবং প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে স্থান করে নিচ্ছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহত শিক্ষার সুযোগকে সম্প্রসারিত করেছে, বিশেষত যাঁরা দ্বাদশ শ্রেণির পর নানা কারণে চাকরিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হন, তাঁদের জন্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই প্রথম চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে বিভিন্ন নতুন নতুন বিভাগ খোলা হয়, যেমন: বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োইনফরম্যাটিকস ইত্যাদি এবং শিক্ষা-শিখনের আধুনিক উপায়-উপকরণগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হয়। এ ছাড়া, শিক্ষক মূল্যায়নে ছাত্রছাত্রীদের ফিডব্যাক গ্রহণ করা হয় এবং তা শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় ইত্যাদি।
দেখা গেছে, যেসব ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্টির বিশেষ ভূমিকা ছিল বা বোর্ড অব ট্রাস্টি কেবল নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে শিক্ষাবিদদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ভার ছেড়ে দিয়েছে, সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো করেছে। টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন অর্জনে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ/অর্জনসহ এই খাতে ইতিবাচক অর্জনগুলোকে মোট ২০টি ধারায় উপস্থাপন করে দেখায়।
এরপর গবেষণায় প্রাপ্ত নেতিবাচক ফলগুলো উপস্থাপন করা হয় মোট ১৯টি ধারায়, যা গণমাধ্যমে বেশি আলোচিত হয়েছে। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্য ৭৯টি। এর মধ্যে সীমিতসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুশাসনের সমস্যা বিদ্যমান। টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যমান ২৪ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরাজমান অনিয়ম ও দুর্নীতি শুধু টিআইবির গবেষণার একক আবিষ্কার নয়। টিআইবি পদ্ধতিসম্মত গবেষণার মাধ্যমে বিরাজমান বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরেছে মাত্র। এ গবেষণায় দৈবচয়ন পদ্ধতিতে মোট ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচিত করে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং প্রত্যক্ষ পরিদর্শনের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যকে নির্বিচারে গ্রহণ না করে অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্যতা, তথ্যসমূহের পারস্পরিক সংগতি এবং একই তথ্য একাধিক ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে নানাভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইউজিসি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। মন্ত্রণালয়ও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া তারা অবৈধ অর্থ প্রদান করেছে কি না। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে যেখানে ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া দুটিই বেআইনি, সেখানে সরকারি জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ লিখিতভাবে বলতে পারেন কি না যে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান ঘুষ দিয়েছেন। টিআইবির প্রতিবেদনে প্রাপ্ত নেতিবাচক ফলগুলোকে কেন্দ্র করে সংশ্লি­ষ্ট মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে একধরনের অস্বীকৃতি বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যদিও টিআইবি তার প্রতিবেদনে সব বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ঢালাওভাবে মন্তব্য করেনি, বরং এর সার্বিক উন্নয়নে ১৬ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন, ২০১০ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন বাস্তবায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়ন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার স্থাপনে অতিসম্প্রতি যে বিধিমালা জারি করা হয়েছে, সেটি সংশোধনপূর্বক কেবল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রেটিংসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমোদন প্রদান এবং শর্ত বা নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে দেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমতা আনয়ন, এবং সর্বোপরি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তদারকিকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে ইউজিসির এখতিয়ার বৃদ্ধি এবং ইউজিসি ও মন্ত্রণালয়—উভয়ের জনবল, দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা পড়ছে, যদিও এই সংখ্যা সীমিত। বিদেশ থেকে আসা মোট এক হাজার ৬৪২ জন ছাত্রছাত্রীর ৭৫ শতাংশই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নরত। বিদেশি অভিভাবকেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমেই তাঁদের ছেলেমেয়েদের পাঠাচ্ছেন। কারণ, ইউজিসি বা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সহায়ক তথ্য নেই। অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক মানের রেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে দেশি-বিদেশি সব অভিভাবক/ছাত্রছাত্রীর সামনে বেছে নেওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং একদিকে যেমন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা প্রতারণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি অনেক বেশি বিদেশি ছাত্রছাত্রী আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল দেশের অভ্যন্তরেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাণিজ্যের পথকে অনেকাংশে রুদ্ধ করবে। তাই সব অংশীজনের কাছে অনুরোধ যে তাঁরা ঢালাও প্রত্যাখ্যান না করে দেশের সম্ভাবনাময় এই উচ্চশিক্ষা খাতটির সার্বিক উন্নয়নে টিআইবির গবেষণাভিত্তিক সুপারিশগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

মোহাম্মদ রফিক হাসান: পরিচালক (গবেষণা), টিআইবি।

গাজায় গণহত্যা- ইসরায়েলকে থামানো জাতিসংঘের দায়িত্ব

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার সপ্তম দিন চলছে। এই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানোয় বিশ্বনেতৃত্বে ব্যর্থতা ইসরায়েলকে কার্যত আগ্রাসনের ছাড়পত্র দিয়েছে। গাজাবাসীর জীবনরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবি এখন বিশ্বমানবতারই দাবি। নিরীহ নিষ্পাপ শিশু হত্যা করা এখনই থামাতে হবে।
আকাশ-মাটি-সমুদ্রসহ সব দিক থেকে নারকীয় বোমাবর্ষণ এবং শিশু-নারীসহ নিরীহ মানুষ হত্যা পরিষ্কারভাবে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ। ২০১২ সালের হামলায়ও ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে তদন্ত করে দেখেছিল জাতিসংঘ। ইসরায়েলি যুদ্ধমেশিনের সঙ্গে অসম যুদ্ধ গাজাকে পরিকল্পিত গণহত্যার ক্ষেত্র করে তুলেছে। সেই বধ্যভূমিতে নিহত হচ্ছে মনুষ্যত্ব ও সভ্যতা। এর দায় যতটা ইসরায়েলের, ঠিক ততটাই তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের।
তিন ইসরায়েলি অপহরণের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হলেও এর কারণ রাজনৈতিক। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের দুই রাজনৈতিক শক্তি হামাস ও ফাতাহ ঐক্যের ঘোষণা দেয়। যেকোনোভাবে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ঠেকানো এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির সুবাদে হামাসের বিশ্বরাজনীতিতে প্রবেশ ঠেকানোই ইসরায়েলি হামলার উদ্দেশ্য। ২০০৫ সালের নির্বাচনে হামাস বিপুলভাবে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পরও তারা একইভাবে অবরোধ ও আগ্রাসন আরম্ভ করে। সাম্প্রতিক গণহত্যা তারই ধারাবাহিকতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন, লোক দেখানো এসব আহ্বান ইসরায়েলের উন্মত্ততা বন্ধ করতে পারবে না।
ফিলিস্তিনের বন্দী, বিধ্বস্ত, নিঃসঙ্গ অস্তিত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষপাতের নির্মম দৃষ্টান্ত। যত দিন না তারা ইসরায়েলকে বাধ্য করতে পারবে সভ্য ও সহনশীল হতে, তত দিন ফিলিস্তিনের আশা নেই। আরব রাষ্ট্রগুলোর নৈতিক ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, মুসলিম দেশের জনগণের অনৈক্য ইসরায়েলকে আরও বেশি বেপরোয়া করেছে। গাজায় ইসরায়েলের এই ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানোর দায়িত্বটি এখন জাতিসংঘকেই নিতে হবে।
ইসরায়েলকে বুঝতে হবে, দুর্গরাষ্ট্র হয়ে থাকার মধ্যে তার নিরাপত্তা আসবে না। ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও স্বাধীনতা ফেরত দেওয়ার মাধ্যমেই তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সমগ্র আরবকে পদানত রাখার বাসনা আখেরে তার পতনের কারণ হয়ে উঠতে পারে।