Monday, November 15, 2010

নতুন বেতনকাঠামোতে বোনাস কেন নয়? by খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১০ থেকে। নতুন কাঠামোয় শ্রমিকদের বেতন বিভিন্ন গ্রেড অনুযায়ী ৬৭ থেকে ৮১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারিভাবে প্রথম ঘোষিত হয় ২৯ জুলাই ২০১০ তারিখে। এরপর বিভিন্ন পক্ষের মতামতের জন্য তা উন্মুক্ত থাকে দুই মাসের ওপর। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা আসে ১১ অক্টোবর। দীর্ঘ ছয় মাসের ওপর আলোচনা আর আড়াই মাসের ওপর খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য গেলেও অদ্যাবধি শ্রমিকেরা নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সুবিধা পাননি।
শ্রমিকদের প্রত্যাশা ছিল, রোজার ঈদের আগে খসড়া বেতনকাঠামো ঘোষিত হওয়ায় ওই ঈদেই নতুন বেতনকাঠামোতে তাঁরা বেতন ও বোনাস পাবেন। সে সময় খসড়া বেতনকাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ার কারণে শ্রমিকদের নতুন কাঠামোর আওতায় সুবিধা না পাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় ঈদুল আজহার ঈদের বোনাস না পাওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবির মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই প্রতীয়মান হয়।
নতুন বেতনকাঠামোতে ঈদুল আজহার বোনাস না পাওয়ার বিষয়টিকে আইনগতভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজিএমইএর সভাপতি। বলা হয়েছে, যে মাস থেকে মজুরি কার্যকর হবে, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত হবে আগের মাসের মূল বেতনের ভিত্তিতে। অর্থাৎ ঈদুল আজহার জন্য ঈদ বোনাস নির্ধারিত হবে আগের মাসের প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে। অন্যদিকে, নভেম্বর থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার বিষয়টি যদিও শ্রমমন্ত্রী বলেছিলেন, কিন্তু এটি কি আরও আগে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না? খসড়া চূড়ান্ত করার কাজটি কি আগস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে শেষ করা যেত না? তাহলে তো শ্রমিকেরা এবারের ঈদের বোনাসটি নতুন নিয়মে পেতে পারতেন। শ্রমমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শ্রমিকেরা এবারের ঈদের বোনাস নতুন নিয়মে পাবেন। অথচ নতুন নিয়মে ঈদ বোনাস না দেওয়ার ঘোষণা এল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে, যা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।
শ্রম আইন অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরির খসড়া গেজেট ঘোষণার (১ আগস্ট ২০১০) পর থেকে মতামতের জন্য ১৪ দিন রেখে তা চূড়ান্ত হওয়ার কথা (শ্রম আইন বিধিমালা ২০০৬-এর ১০৮ ধারা)। সে দিক বিচার করলে নতুন বেতনকাঠামো আগস্টেই চূড়ান্ত হতে পারত। অথচ তা চূড়ান্ত করা হলো ৭২ দিন পর। সময়মতো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে শ্রমিকেরা আইনগতভাবেই ঈদুল আজহায় নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় ঈদ বোনাস পেতে পারতেন।
মনে রাখা দরকার, ন্যূনতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, শ্রমিকেরা বেতন ছাড়াও বিদ্যমান অন্যান্য সব সুবিধা পেতে থাকবেন। সুতরাং শ্রমিকদের ঈদ বোনাসের বিষয়টি মোটেই আর আইনি কাঠামোর বাইরে কিছু নয়।
সবশেষে, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুবিধার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া দরকার। এখন শ্রমিকেরা যদি আইনি মারপ্যাঁচে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা না পান, তাতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নতি করার উদ্যোগে ঘাটতি থেকে যাবে। নতুন ঘোষিত বেতনকাঠামোয় ঈদ বোনাসের জন্য শ্রমিকপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় হতো সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা করে, যা কারখানা-প্রতি পাঁচ শ থেকে এক হাজার শ্রমিকের জন্য সব মিলিয়ে দাঁড়াত সর্বোচ্চ চার থেকে আট লাখ টাকা। এ টাকা দেওয়াতে মালিকদের কি খুব অসুবিধা হতো?
সার্বিকভাবে শ্রমিকদের মানবিক দিক বিবেচনায় নতুন বেতনকাঠামোতে ঈদুল আজহার বোনাস দেওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম: অর্থনীতিবিদ, সিপিডি।

পিছু ছাড়েনি আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তা

আজ থেকে ৬৫ বছর আগে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ হতাহত হয়। এত বছর পরও বোমার তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকর প্রভাব রয়ে গেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি।
জাপানের সরকারি হিসাব মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমার আঘাত থেকে অন্তত দুই লাখ ৪০ হাজার মানুষ রক্ষা পায়। তারা ‘হিবাকুশা’ নামে পরিচিত। তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে তাঁদের শরীরে। অনেকের শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যানসার।
হিবাকুশা লোকদের ক্ষতিগ্রস্ত জিন পরবর্তী বংশধরদের শরীরেও স্থানান্তরিত হচ্ছে। এতে কেউ কেউ জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ হয়ে। দ্বিতীয় প্রজন্মের মধ্যেও তেজস্ক্রিয়তার কুপ্রভাব পড়বে—এমন আশঙ্কা অনেককেই তাড়িয়ে বেড়ায়।
হিরোশিমায় আণবিক বোমা হামলায় আহত কাজু সাতুরের বয়স এখন ৮২ বছর। একটি নার্সিং হোমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। সাতুর অনেক শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। এখন তিনি ছেলে ও নাতিদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর আশঙ্কা, ক্ষতিগ্রস্ত জিন বহন করে তাঁর ছেলে কিংবা নাতিদের শরীরে বাসা বাঁধবে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি।
আশঙ্কা ও উদ্বেগ পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও কম নেই। একজন প্রয়াত হিবাকুশার ছেলে নোবুহিতো হিরানো (৫২)। তিনি বলেন, ‘কিছু বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন, আণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব দ্বিতীয় প্রজন্মের ওপর পড়েনি। আমি তাঁদের এ কথা বিশ্বাস করি না। অজানা আশঙ্কা আমার পিছু ছাড়ে না।’
হিবাকুশাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষদের বিনা মূল্যে ক্যানসার পরীক্ষার কোনো পরিকল্পনা নেই জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তবে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিচালনায় ‘দ্য র‌্যাডিয়েশন ইফেক্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ চলতি মাসের শেষের দিকে হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরের হিবাকুশাদের এক হাজার ২০০ শিশুর শরীরে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রভাব আছে কি না, তা বিনা মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।

অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় যৌথ বাহিনী-মাওবাদী সংঘর্ষ, নিহত ২

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ঝাড়খন্ড সীমান্তের অযোধ্যা পাহাড় অঞ্চলে গতকাল শুক্রবার তল্লাশি অভিযানের সময় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের ব্যাপক গুলি পাল্টা গুলির ঘটনা ঘটেছে। যৌথ বাহিনীর সূত্রে বলা হয়, এ ঘটনায় অন্তত দুজন মাওবাদী নিহত ও বহু আহত হয়েছে।
পুলিশের আইজি (পশ্চিমাঞ্চল) জুলফিকার হাসান জানান, গতকাল সকালে সংঘর্ষের পর বামনি গ্রাম থেকে দুজন মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, অপহূত শিক্ষক সৌম্যজিৎ বসু এবং গোয়েন্দা পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পার্থজিৎ বসুর খোঁজে গতকাল পাহাড় অঞ্চলের মুরগুমা ও বামনি গ্রামে তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।

ফুলদানির দাম পাঁচ কোটি পাউন্ড!

লন্ডনে গত বুধবার রাতে চীনা একটি ফুলদানি ব্রিটিশ মুদ্রায় পাঁচ কোটি ৩১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। চীনের কোনো শিল্পকর্ম সর্বোচ্চ দামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটি রেকর্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের পিনারে একটি বাড়ির জিনিসপত্র নিলামে তোলার সময় ফুলদানিটি পাওয়া যায়।
নিলামে মোট নয়জন আগ্রহী ক্রেতা অংশ নেন। রাইসলিপের নিলামকক্ষে ৩০ মিনিট ধরে চলে দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম ধরে এটি কিনে নেন এক চীনা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি চীন সরকারের হয়ে নিলামে প্রতিনিধিত্ব করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
নিলামে তোলার আগে ফুলদানিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে এর মালিকদের কোনো ধারণা ছিল না। এত দামে বিক্রি হওয়ায় তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। এটির আসল দাম পড়েছে চার কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড। কমিশন ও ভ্যাট মিলে মোট দাম পড়েছে পাঁচ কোটি ৩১ লাখ পাউন্ড।
চীনের কুইং রাজবংশের চতুর্থ সম্রাট কিয়ানলংয়ের শাসনামলের ১৬ ইঞ্চি দীর্ঘ এ ফুলদানিতে দৃষ্টিনন্দন নকশা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চীনা রাজপরিবারের অধীনে ছিল। ১৮৬০ সালে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে রাজপ্রাসাদ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর এটি বেহাত হয়ে যায়। ১৯৩০ সালের পর থেকে এটি খুচরা বিক্রেতাদের দখলে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাই ১০ গুপ্তচরকে ধরিয়ে দিয়েছেন

রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্বৈত ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে। সে দেশের একটি প্রভাবশালী পত্রিকা দাবি করেছে, ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হয়েও গুপ্তচরবৃত্তি করেন। তাঁর কারণেই গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ জন রুশ গুপ্তচরের একটি চক্র ধরা পড়ে।
কোমারসান্ত নামের ওই পত্রিকাটি বলেছে, রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এসভিআর) সাবেক প্রধান কর্নেল এসচারবাকভ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করছেন। খবরে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গত জুনে ওয়াশিংটন সফরের মাত্র তিন দিন আগে কর্নেল এসচারবাকভ যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। আর সফর শেষে মেদভেদেভ দেশে ফিরে আসার পরই ১০ রুশ গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়। গত শতকের নব্বই দশকের শুরুতে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা বিনিময়ের ঘটনা।
কোমারসান্ত বলেছে, গ্রেপ্তারের পর কারাগারে হুয়ান ল্যাজারো নামের একজন গুপ্তচরের সঙ্গেও দেখা করেন কর্নেল এসচারবাকভ। ল্যাজারোর কাছ থেকে তিনি স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন। ল্যাজারোর প্রকৃত নাম মিখাইল ভাসেনকভ। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রাশিয়ার নাগরিক নন বলে দাবি করেন ল্যাজারো। এরপর তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মার্কিন সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন এসচারবাকভ।
রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নিরাপত্তাবিষয়ক পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান গেন্নাদি গুদকভ গোয়েন্দা কর্মকর্তার দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রুশ গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
গেন্নাদি গুদকভ বলেন, তাঁর সঙ্গে বিদেশ শাখার অন্যান্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারও কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাঁদের গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযান ব্যর্থ হয়নি।
গুদকভ বলেন, কয়েক দশক ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে এসব গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গড়ে তোলা হয়েছিল। এ ঘটনায় রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের ভাবমূর্তির বিরাট ক্ষতি হলো।
এদিকে কোমারসান্ত-এ প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু ও খবরটি প্রকাশের বিচক্ষণতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। সোভিয়েত আমলের প্রবীণ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আইগর প্রেলিন বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছেন, নাম-পরিচয় প্রকাশ করে এভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করাটা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ এ প্রতিবেদনের ফলে কর্নেল এসচারবাকভকে এখন দেশে ফিরিয়ে আনাটাই অসম্ভব ব্যাপার হয়ে গেছে।

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের সুযোগ-সুবিধা পাবেন না চেন

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পাবেন না তাইওয়ানের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান চেন শুই বিয়ান। দুর্নীতির দায়ে ওই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চেন এখন থেকে আর মাসিক ভাতা, বার্ষিক খরচ ও ১২ জন দেহরক্ষী পাবেন না।
তাইওয়ানের আইন অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বছরে তিন লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রতি মাসে চিকিৎসা ভাতাও দেওয়া হয় তাঁকে। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তার জন্য কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়।
চেন শুই বিয়ান ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঘুষ নেওয়ার দুটি মামলার রায়ে সম্প্রতি তাঁকে ১১ ও ৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মাউন্ট মেরাপির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০৬

ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মেরাপিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০৬ জনে পৌঁছেছে। অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ঘরবাড়ি হারিয়েছে প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার মানুষ।
একজন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, মাউন্ট মেরাপির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে উদ্ধারকর্মীরা মৃতদেহগুলো উদ্ধার করেন। গত ২৬ অক্টোবর থেকে মাউন্ট মেরাপির জ্বালামুখ থেকে লাভা ও ছাই উদিগরণ শুরু হয়। মাউন্ট মেরাপি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের সুযোগ-সুবিধা পাবেন না চেন

সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সুযোগ-সুবিধা পাবেন না তাইওয়ানের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান চেন শুই বিয়ান। দুর্নীতির দায়ে ওই দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চেন এখন থেকে আর মাসিক ভাতা, বার্ষিক খরচ ও ১২ জন দেহরক্ষী পাবেন না।
তাইওয়ানের আইন অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বছরে তিন লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রতি মাসে চিকিৎসা ভাতাও দেওয়া হয় তাঁকে। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তার জন্য কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়।
চেন শুই বিয়ান ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঘুষ নেওয়ার দুটি মামলার রায়ে সম্প্রতি তাঁকে ১১ ও ৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শান্তি সম্মেলনে সিয়াওবোর মুক্তি দাবি

চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ১৯৮৯-এর বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এক সাবেক ছাত্রনেতা সে দেশের এ বছর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কারাবন্দী ভিন্নমতাবলম্বী মানবাধিকার কর্মী লিউ সিয়াওবোর মুক্তির দাবি করেছেন। জাপানের হিরোশিমা শহরে আয়োজিত শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতা উয়ার কাইশি গতকাল শুক্রবার এ দাবি জানান। স্বেচ্ছানির্বাসিত এই নেতা বলেন, চীনের সরকারের উচিত সিয়াওবোকে শিগগির নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।
চীনের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আরেকজন মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে ইশতেহার রচনার জন্য সিয়াওবোর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক তৎপরতার অভিযোগ এনে গত ডিসেম্বরে তাঁকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সিয়াওবো গত মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। উয়ার কাইশি তাঁর পক্ষে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
বিশ্বকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার দাবিতে হিরোশিমায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাসহ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাবেক ছয় বিশ্বনেতা যোগ দিয়েছেন। জাপানের এই শহরে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা হামলা চালায়। ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ লাখো নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাপানের কাছে ক্ষমা চায়নি।

ইরাকে সমঝোতার পরদিনই দ্বন্দ্ব

ইরাকে সরকার গঠনে রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতাচুক্তির এক দিন পরই আবার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সরকার গঠনের জন্য শুরু হওয়া পার্লামেন্ট অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির জোট আল-ইরাকিয়া। তবে এতে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে কোনো সমস্যা হয়নি। সমঝোতা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে জালাল তালাবানি ও প্রধানমন্ত্রী পদে নুরি আল মালিকি পুনর্নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী মালিকি নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কাজ শুরু করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরাকে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত ৭ মার্চ ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩২৫টি আসনের পার্লামেন্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন আল-ইরাকিয়া (ইরাকি ন্যাশনাল মুভমেন্ট) জোট ৯১টি আসন পায়। প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির স্টেট অব ল জোট ৮৯টি, ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ৭০টি, কুর্দিস অ্যালায়েন্স ৪৩টি ও অন্যান্য দল ৩২টি আসন লাভ করে।
এর প্রায় আট মাস পর গত বুধবার রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে জালাল তালাবানি ও প্রধানমন্ত্রী পদে নুরি আল মালিকি পুনর্নির্বাচিত হন। স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ইরাকিয়া জোটের নেতা ওসামা আল নুজায়ফি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৌশলগত নীতিসংক্রান্ত জাতীয় কাউন্সিলের প্রধানের পদও পাওয়ার কথা রয়েছে ইরাকিয়া জোটের।
গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন শুরুর পর প্রথমে স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর ইরাকিয়া জোটের চার নেতার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন জোটের নেতারা। ওই চার নেতার বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বাথ পার্টির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ইরাকিয়া জোট বিষয়টি মীমাংসার দাবি তোলে। এ নিয়ে বাগিবতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আইয়াদ আলাবি, নবনির্বাচিত স্পিকার ওসামা আল নুজায়ফিসহ ইরাকিয়া জোটের অন্তত ৬০ জন এমপি ওয়াক আউট করেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়।
নতুন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তালাবানি বলেন, আজ বিজয়ের দিন। এটি সত্যিকার অর্থে ইরাকিদের জয়।
ইরাকিয়া জোটের নেতা সালেহ আল মুতলাক বলেন, ‘আমরা অধিবেশন বর্জন করেছি। কারণ, আমাদের জোট সবার প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছে। কিন্তু অন্যরা পেছন থেকে আমাদের পিঠে ছুরি মেরেছে। আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি ছাড়া আমরা অধিবেশনে ফিরব না।’ বুধবারের সমঝোতা চুক্তিকে সম্মান দেখানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন ইরাকিয়া জোটের নেতারা।
আজ শনিবার পার্লামেন্ট অধিবেশন আবার বসবে। প্রধানমন্ত্রী মালিকিকে এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করতে হবে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ইরাকের নতুন সরকারে ইরাকি সব জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকছে। এটি দারুণ ইতিবাচক বিষয়।

শৈশব থেকে রাজনীতি

১৯৪৫ সালের ১৯ জুন ইয়াঙ্গুনে জন্ম অং সান সু চির। বাবা অং সান ছিলেন আধুনিক বর্মি সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের বিষয়ে তিনি মিয়ানমারের পক্ষের মূল সমঝোতাকারী ছিলেন। ওই বছরই প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হন। বাবাকে হারিয়ে সু চি তাঁর মা খিন কি, দুই বড় ভাই অং সান লিন ও অং সান ওর সঙ্গে রেঙ্গুনে বড় হতে থাকেন। আট বছর বয়সে লিন পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার পর অপর ভাই সান ওকে তাঁর মা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়ে দেন।
সু চি মিয়ানমারেই পড়াশোনা করতে থাকেন। ১৯৬০ সালে মা খিন কি ভারত এবং নেপালে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁরা চলে আসেন দিল্লি।
১৯৬৪ সালে দিল্লির শ্রীরাম কলেজ থেকে সু চি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকে তিনি লন্ডনের অক্সফোর্ড চলে যান। উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সেখান থেকে চলে যান নিউইয়র্কে। সেখানে জাতিসংঘে তিন বছর চাকরি করেন।
১৯৭২ সালে আরিস নামের এক নৃবিজ্ঞানীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরের বছরই লন্ডনে তাদের প্রথম পুত্রসন্তান আলেকজান্ডার আরিসের জন্ম হয়। দ্বিতীয় ছেলে কিমের জন্ম হয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৮৫ সালে সু চি লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৮ সালে সু চি দেশে ফিরে নিজেকে পুরোপুরিভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন। ওই বছরই ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের প্রধান জেনারেল নে উইন পদত্যাগ করেন। দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন সামরিক জান্তা ক্ষমতা নেয়। জান্তা ক্ষমতায় আসার পরই সু চি নতুন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি গঠনের ঘোষণা দেন।

বদলে গেছে তাঁর চারপাশ

বছরের পর বছর ধরে গৃহবন্দী। কারও সঙ্গে দেখা নেই। নেই টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ। এভাবে দিনের পর দিন নিঃসঙ্গ থেকেছেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে অং সান সু চি কতটা বদলেছেন, তা হয়তো সময়ই একদিন বলে দেবে। তবে এত দিনে তাঁর চারপাশের ছবিটা আর আগের মতো নেই। বদলে গেছে দূর থেকে দূরান্তর। ইয়াঙ্গুনে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ওয়েব ক্যাফেটেরিয়া। বদলে গেছে রাজনৈতিক অঙ্গনও। তাই মুক্তির পর এক নতুন মিয়ানমারের সঙ্গেই যেন সাক্ষাৎ হবে গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রীর। সর্বশেষ টানা সাত বছর বন্দী থেকে মুক্তির পর সু চির প্রথম ইচ্ছাই হলো টুইটারে সমর্থকদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব সাউথ ইস্ট এশিয়া স্টাডিজের গবেষক পাভিন চাচাভালপংপুন বলেছেন, বন্দী জীবনই সু চিকে বিচ্ছিন্ন করেছে। তাঁকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেওয়া হয় না।
গত রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) অংশ নিতে পারেনি। তবে দলের একটি অংশ নির্বাচনে যেতে চেয়েছিল। এ নিয়ে এনএলডির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মুক্তির পর সু চিকে প্রথমেই দলের অভ্যন্তরীণ এ বিরোধের অবসান ঘটাতে হবে।
পাভিন চাচাভালপংপুন বলেন, ‘নতুন সরকারের সঙ্গে লড়তে হলে সু চিকে প্রথমেই বিরোধী দলগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন ও তরুণ প্রজন্মের সমন্বয়ে দল গঠন করতে হবে।’
দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত দেশের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াটাও সু চির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সু চির ভালো করেই জানা, বিগত পাঁচ দশকে সামরিক শাসনামলে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষিত হয়নি।
তাই সু চির মুক্তিকে ঘিরে দেশটির সব শ্রেণীর মানুষ স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক মাউং জারনি বলেন, ‘মুক্তির পর সু চির মানবতার রানী হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁকে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে। আগে যেমন রাজনীতি করতেন, সেটাই চালিয়ে যেতে হবে।’
ষাটোর্ধ্ব একজন রত্ন খনির শ্রমিক বলেন, ‘আমি মনে করি, স্বয়ং ঈশ্বরও জান্তাকে ভয় পান। তবু কাউকে না কাউকে এই সেনাশাসনকে ঠেকাতে হবে। আমি মনে করি, সু চিই তা পারেন।’
ইয়াঙ্গুনের বাইরে বেরোনো যাবে না এই শর্তে সু চিকে সর্বশেষ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। তাই এবারও সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনটি হলে সরকারের সঙ্গে তাঁর মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাওয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এবং সর্বোপরি আবারও তাঁকে বন্দী করা হতে পারে।

জেরুজালেমে তিন হাজার বাড়ি নির্মাণ করবে ইসরায়েল

ইসরায়েল জেরুজালেমে ইহুদিদের জন্য তিন হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিক্রির জন্য এ বাড়িগুলো আগামী বছর তৈরি করা হবে। একজন পৌর কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ইসরায়েলের সাপ্তাহিক কুল হেয়ার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকায় বলা হয়, জেরুজালেম পৌর কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত প্রকৌশলী সোলেমো এস্কল তাদের জানিয়েছেন, সরকার জেরুজালেমে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য ১০ বছর মেয়াদি একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই ওই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হবে। এস্কল আরও জানান, এই তিন হাজার বাড়ি ২০১১ সালে মূলত পূর্ব জেরুজালেমের ইহুদি বাসিন্দাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেমের মেয়র নির বারকাতের সঙ্গে ইসরায়েলের ৬১০টি আবাসন-প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার বৈঠকের পর ওই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়।
পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে গণ্য করে থাকে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল ছয় দিনব্যাপী যুদ্ধে ইসরায়েল জর্ডানের কাছ থেকে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়।

২৩ শতাংশ ক্যানসার নির্ণয় শেষ মুহূর্তে

ব্রিটেনে ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশের রোগনির্ণয় শেষ সময়ে শনাক্ত হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না যাওয়া পর্যন্ত তাঁদের রোগ সম্পর্কে জানা যায় না। দেশটির জাতীয় পর্যায়ের একটি জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ন্যাশনাল ক্যানসার ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই জরিপ পরিচালনা করেছে। তাতে দেখা গেছে, অবস্থা গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত ২৩ শতাংশের ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে না। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দরিদ্র লোকজনের ক্ষেত্রেই এ ঘটনা বেশি ঘটছে।
জরিপে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের টিউমার ও ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বেশি ঘটছে। এই দুটি ক্যানসারে আক্রান্ত অর্ধেকের বেশি রোগী একেবারে শেষ মুহূর্তে জানছেন, তাঁদের এই মরণব্যাধি হয়েছে।
ক্যানসার-সংক্রান্ত দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো জরিপের এ ফলাফলকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সাধারণ লোকজনের মধ্যে ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগ শনাক্ত করতে চিকিৎসকদের ব্যর্থতাই এর জন্য দায়ী। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারা যত দ্রুত সম্ভব, দেশব্যাপী নতুন করে স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু ও জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ক্যানসার মারাত্মক আকার ধারণ করলে কেবল তখনই চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন রোগীরা। অথচ এই সময়ের মধ্যে ক্যানসার এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তখন আর চিকিৎসা করানোরও সুযোগ থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগনির্ণয়-ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণেই ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনে ক্যানসার-আক্রান্ত লোকের মৃত্যুহার বেশি। অথচ সময়মতো ক্যানসার ধরা পড়লে বছরে শত শত লোকের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস সম্প্রতি একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের মতো দেশগুলোর চেয়ে যুক্তরাজ্যে ক্যানসার-আক্রান্ত নারীদের মৃত্যুহার বেশি। এই তথ্য প্রকাশের পরই ন্যাশনাল ক্যানসার ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক ক্যানসার রোগ নির্ণয়ের ওপর জরিপ করে।
গর্ভাশয়, অন্ত্র ও স্তন—এই তিন ধরনের ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য ব্রিটেনে জাতীয় পর্যায়ে স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু থাকলেও অন্যান্য ক্যানসার শনাক্ত করতে তা নেই।

হাইতিতে কলেরা ঠেকাতে অর্থ চেয়েছে জাতিসংঘ

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে। ইতিমধ্যে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। মহামারি রোধে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার সাহায্য চেয়েছে জাতিসংঘ। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ, ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ সরঞ্জাম কিনতে এই অর্থ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ইউএন অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) মুখপাত্র এলিজাবেথ বায়ারস গত শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশা করি, এই সহযোগিতা আমরা পাব। আর যদি আমরা এই তহবিল সংগ্রহে ব্যর্থ হই, তাহলে হাইতিতে কলেরা মহামারি প্রতিরোধে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, কলেরা মহামারি প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ওষুধ, বাড়তি চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত সেবিকা ও পানি বিশুদ্ধকরণ সরঞ্জামাদি কেনার কাজে ওই তহবিল দরকার।
হাইতিতে গত ২২ অক্টোবর কলেরায় আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত করা হয়। এর পর থেকে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে কলেরায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩০০ জন ছাড়িয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে এ রোগে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাইতিতে অন্তত আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া অন্তত ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন তাঁবুতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাঁরা জীবন যাপন করছে। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিশেষ করে, বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর মধ্যে কলেরা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়বে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, আগামী ছয় মাসে হাইতিতে অন্তত দুই লাখ মানুষ ডায়রিয়া কিংবা কলেরায় আক্রান্ত হবে।

ম্যাগনা কার্টার ৮০০তম বার্ষিকী উদ্যাপন শুরু

যুক্তরাজ্য ম্যাগনা কার্টা বা মহাসনদের ৮০০তম বার্ষিকী উদ্যাপন শুরু করেছে। পাঁচ বছর ধরে এই উৎসব চলবে। এ উপলক্ষে গত শুক্রবার ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরের স্থান সারে কাউন্টির রানিমেডে বিশেষ এক আয়োজনে অংশ নেন যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী কেন ক্লার্ক। এ সময় বিশিষ্টজনেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালের ১৫ জুন ম্যাগনা কার্টা স্বাক্ষরের ৮০০তম বার্ষিকী পূর্ণ হবে। দিনটিকে সামনে রেখেই পাঁচ বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে ম্যাগনা কার্টার প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী কেন ক্লার্ক বলেন, ‘সব রাষ্ট্রের একটি সাধারণ ঝোঁক হলো, বেশি বেশি ক্ষমতা হাতে রাখা এবং বাধা-নিষেধ আরোপ করা।’ এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা বাড়াতে এই অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ হিসেবে ধরতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
ম্যাগনা কার্টা ট্রাস্ট ২০১৫ সালের ১৫ জুন সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং দিনটি উপলক্ষে স্মারকমুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। লন্ডনে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে বিশেষ প্রদর্শনী এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ১৬০টি শাখায় প্রদর্শনীর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদাসম্পন্ন ম্যাগনা কার্টার সাংবিধানিক গুরুত্ব এবং আইন ও রাজনীতি সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করবে ম্যাগনা কার্টা ট্রাস্ট।
ম্যাগনা কার্টা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ বিচারক লর্ড নিউবার্জার বলেন, ম্যাগনা কার্টার গুরুত্ব বোঝানো সম্ভব নয়। এই সনদে আইনের অধীনে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সরকারের গুরুত্বের ধারণা চমৎকারভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।
১২১৫ সালের ১৫ জুন ম্যাগনা কার্টা বা মহাসনদে স্বাক্ষর করেন রাজা জন। ওই সনদে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার ও মুক্ত মানুষের গ্যারান্টি দেওয়া হয়।

মাওবাদীদের নতুন দল ট্রাইবাল প্লাটুন-২

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে এবার মাওবাদীরা আরেকটি দল গঠন করেছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মাওবাদীদের আরেক নেতা মার্শাল। মার্শাল গত বছর কেন্দ্রীয় নেতা কিষানজির সঙ্গে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে আসেন। সম্প্রতি তিনি আদিবাসীদের নিয়ে ‘ট্রাইবাল প্লাটুন-২’ নামে এই দল গঠন করেন।
গত শুক্রবার যৌথ বাহিনী পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ের পূর্ণাপানি এলাকায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে অস্তিত্ব পায় এই মাওবাদী দলের। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও পোস্টার উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় এক নেতাকে। তাঁর নাম অনাদি ভূঁইয়া।
উদ্ধার হওয়া পোস্টার থেকে পুলিশ জানতে পারে মাওবাদীদের এই নতুন দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে। শুধু তাই নয়, ওই পোস্টারে কিষানজিকে শহীদ হিসেবে লেখা হয়েছে।
এদিকে এই পোস্টার উদ্ধারের পর পুলিশ কিষানজির আত্মগোপন নিয়ে ধন্দে পড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা মনে করছেন, কিষানজি সম্ভবত গত ১৫-১৬ জুন জঙ্গলমহলের রঞ্জার জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর লড়াইয়ের সময় মারা গেছেন। তবে মাওবাদীরা কিষানজির আহত হওয়ার কথা বলেছিল। গত এপ্রিলের পর থেকে কিষানজি আর প্রকাশ্যে না আসায় পুলিশ মনে করছে যে তিনি মারা যেতে পারেন।

এবার এক কুকুরনীতি!

চীনে ৩০ বছর ধরে এক সন্তাননীতি চলে আসছে। এবার দেশটির সাংহাই প্রদেশের বাসিন্দাদের এক কুকুরনীতি মেনে চলতে হবে। কুকুরের ঘেউ ঘেউ, পরিবেশ নোংরা হওয়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর কুকুরের আক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সাংহাই কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষার জন্য একটি পরিবারকে একটি কুকুরের বেশি রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ জন্য কুকুরের মালিকদের তিন মাসের সময় দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তাঁদের অতিরিক্ত কুকুরের জন্য বাড়ি খুঁজে বের করতে হবে। তিন মাস পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সংখ্যার অতিরিক্ত কুকুর ধরে আনা হবে। কর্তৃপক্ষ জানায়, আয়তন অনুযায়ী সাংহাইয়ে দুই কোটি মানুষ ও আট লাখ কুকুর থাকার অনুমতি রয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন কুকুরপ্রেমীরা। ইন্টারনেট ব্লগে স্থানীয় একজন লিখেছেন, ‘আমার বাড়ির ভেতরে আমার কুকুর থাকবে। তারা কি দেয়াল ভেঙে কুকুর নিয়ে যাবে? পারলে তেমন সাহস দেখাক।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য ডগ পার্টি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এক হতে হবে। কারও বাড়ি থেকে কুকুর ধরে নিয়ে গেলে বিক্ষোভ করতে হবে।’
চীনে এর আগে রাজধানী বেইজিং, গুয়াংজুসহ বেশ কয়েকটি শহরে এক কুকুরনীতি কার্যকর করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ জালালাবাদের প্রধান বিমানবন্দর ও সেখানকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তালেবান জঙ্গিরা। গতকাল শনিবার ভোরের দিকে এ ঘটনায় আট হামলাকারী নিহত হয়েছে। এদিকে কুন্দুজ প্রদেশের একটি বিপণিকেন্দ্রে অপর এক হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে আরও ১০ জন। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এসব হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে লিসবনে ন্যাটো জোটের নেতারা মিলিত হচ্ছেন। সেখানে আফগান যুদ্ধ ও দেশটির ভবিষ্যৎই হবে প্রধান আলোচ্যসূচি। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামী মাসে আফগান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা করবেন ।
আফগানিস্তানে তালেবানের পতনের নবম বর্ষপূর্তি ছিল গতকাল। ২০০১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আফগান বাহিনীর কাছে পতন ঘটে তালেবান সরকারের। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালে সন্ত্রাসী হামলার আগে ও পরে আল-কায়েদাকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দেয় তালেবান সরকার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জালালাবাদ বিমানবন্দর থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। সেখানে বিস্ফোরণ ও বন্দুকযুদ্ধের আওয়াজও পাওয়া গেছে। হেলিকপ্টারগুলো আকাশে ক্রমাগত টহল দেয়। বিমানবন্দরের কাছে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীসহ দুজন হামলাকারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) জানায়, তালেবান জঙ্গিরা একই সঙ্গে বিমানবন্দরের কাছে আইএসএএফের সম্মুখ ঘাঁটিতেও হামলা চালায়। আফগান ও বিদেশি সেনারা গুলি চালিয়ে এ হামলার জবাব দিয়েছে। এতে আটজন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে একজনের দেহে ছিল আত্মঘাতী হামলার পোশাক। আইএসএএফ বলেছে, জঙ্গি হামলায় আফগান বা বিদেশি সেনাদের কেউ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অজ্ঞাত স্থান থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, এসব হামলায় ১৪ জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী অংশ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলায় অন্তত ৩০ জন বিদেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে আফগান কর্মকর্তারা বলেন, যেকোনো হামলার ঘটনায় তালেবানেরা বাড়িয়ে বাড়িয়ে তথ্য পরিবেশন করে। আফগান সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হামদর্দ বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া আট জঙ্গি মারা গেছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাদের পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আইএসএএফের ঘাঁটির কাছে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেনা পোশাকে এসব ব্যক্তির সঙ্গে ছিল রকেটচালিত গ্রেনেড ও ভারী মেশিনগান।
দিনের অপর ঘটনায় কুন্দুজ প্রদেশের ইমাম সাহেব জেলার একটি বিপণিকেন্দ্রে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। বিপণিকেন্দ্রের ভেতরে একটি মোটরসাইকেলে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সাহায্যে সেটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দুজন পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন বেসামরিক ব্যক্তি মারা যান। আহত হন আরও ১৮ জন।
ইমাম সাহেব জেলার প্রধান মোহাম্মদ আইয়ুব হাক্কিয়ার বলেছেন, সম্ভবত সরকারপন্থী মিলিশিয়া কমান্ডার আবদুল মান্নানকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তিনিও মারা গেছেন।

ভুল থেকে শিখতে চায় বিসিবি

মাঠে ঢুকলেন এশিয়ান গেমসগামী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দলনেতা হিসেবে। এশিয়ান গেমস নিয়েই কথা বলার কথা তাঁর। কিন্তু বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে সাংবাদিকদের জটলায় পড়ে কথা বলতে হলো বিশ্বকাপের ‘কাউন্টডাউন’ অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে।
জালাল ইউনুস একবাক্যে সব কথার উত্তর দিতে চাইলেন, ‘আসলে খোলা জায়গায় অনুষ্ঠানটা হয়েছিল। ফলে ব্যবস্থাপনা যতটা গোছালো হওয়া উচিত ছিল, তা হয়তো হয়নি। আমরা মানছি, কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। তবে এই ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নেব।’
শুধু ভুল থেকে শিখবেন তা নয়, জালাল ইউনুস বলছেন, ভুলগুলো সংশোধন করে ফেলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কাউন্টডাউন ঘড়িগুলো ঠিক করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সমস্যা তো শুধু ঘড়িতে নয়। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সমস্যা ছিল, সমস্যা ছিল সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের আপ্যায়নে। এসবের কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না এই বিসিবি কর্মকর্তা।
আনুষ্ঠানিকভাবে বললেন, ‘এসব বিষয় কীভাবে ঘটল আমরা সেটা ভেবে দেখছি। বোর্ড প্রেসিডেন্ট এখন দেশের বাইরে। তিনি ফিরলে আমরা সবাই মিলে বসব। দেখব, কীভাবে এসব হলো। মূলত এই ত্রুটিগুলো যাতে আর না হয় সেটাই নিশ্চিত করতে চাই আমরা।’
সৌরভ গাঙ্গুলীর কেতাদুরস্ত পোশাকের পাশে আটপৌরে পোশাকের মাশরাফির মঞ্চে ওঠা নিয়েও কথা হয়েছে। জালাল ইউনুস বললেন, কোনোভাবেই এ জন্য মাশরাফিকে দায় দেওয়া যাবে না, ‘ক্রিকেটাররা কী পোশাক পরে যাবে, সেটা আমাদেরই বলে দেওয়ার কথা। আমাদের তরফ থেকেই ওদের ক্যাজুয়াল পোশাকে যেতে বলা হয়েছিল। ও যে মঞ্চে উঠবে, সেটাও সম্ভবত ওকে আগে বলা হয়নি।’

শেষ বিকেলে ভারতের অস্বস্তি

‘নড়বড়ে নব্বইয়ে’ গিয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়া বীরেন্দর শেবাগের ধাতে নেই। বরং চার-ছয় দিয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়াটা তাঁর অভ্যাস। কালও গিয়েছিলেন সেই পথে। ৯২ থেকে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে চার মেরে ৯৬, এক বল পরেই ভেট্টোরির ঝুলিয়ে দেওয়া বলে সুইপ করলেন তেড়েফুঁড়ে, ফ্লাইট মিস করে বোল্ড। দীর্ঘক্ষণের সঙ্গীকে হারিয়ে একটু যেন আনমনা হয়ে গেলেন গৌতম গম্ভীর। টিম সাউদির করা পরের ওভারে লেগ স্টাম্পের বল ফ্লিক করতে গিয়ে ধরা পড়লেন উইকেটকিপারের হাতে।
এই দুটো উইকেট হারানোতেই ভারতের জন্য দারুণ একটি দিনের শেষটা হলো একটু অস্বস্তিতে। প্রথম দিনের ধাক্কা সামলে ম্যাচে ভালোভাবেই ফিরে এসেছে স্বাগতিকেরা। তবে লাগামটা পুরোপুরি নিতে পারেনি। ক্ষেত্র অবশ্য প্রস্তুত, নিউজিল্যান্ডকে ৩৫০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর শেবাগ-দ্রাবিড়কে হারিয়ে ভারতের রান ১৭৮। আজ লাগাম নেওয়ার লড়াইয়ে নামবেন বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞ দুই সেনানী শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়।
আগের দিন শেষ বিকেলে নেওয়া নতুন বলটা চকচকেই ছিল। সেই বলেই কাল সকালে জ্বলে উঠলেন জহির খান। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে ভেতরে ঢোকা দুটো অসাধারণ ডেলিভারিতে কাল সাতসকালেই ফিরিয়েছেন নাইটওয়াচম্যান গ্যারেথ হপকিন্স ও কেন উইলিয়ামসনকে। বাইরে যাবে ভেবে ছেড়ে দিয়েছিলেন হপকিন্স, উইলিয়ামসন মিস করেছেন লাইন, এলবিডব্লু দুজনই। অভিজ্ঞ জহিরের রুদ্রমূর্তি হয়তো জাগিয়ে দিয়েছিল হরভজনকেও। টানা চারটি উইকেট নিয়ে ছেঁটে দিয়েছেন কিউইদের লেজ। সবচেয়ে বড় বাধা জেসি রাইডারকে আউট করেছেন সম্ভবত দিনের সেরা বলটিতে। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার পর এই প্রথম ইনিংসে তিনটির বেশি উইকেট পেলেন ‘ভাজ্জি’। আগের দিন শেষ বিকেলে টিম ম্যাকিন্টশের উইকেটটিসহ শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড ৯৭ রানে।
গম্ভীর না হয় ফর্মের সঙ্গে লড়ছেন, কিন্তু কাল শেবাগের শুরুটাও শেবাগের মতো হয়নি। আসলে হতে দেননি মার্টিন-সাউদি। নিউজিল্যান্ডের নতুন বলের দুই বোলার দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের দুই স্ট্রোকপ্রিয় ওপেনারকে পাখা মেলতে দেননি। প্রথম ২৩ বলে বিধ্বংসী শেবাগের রান ছিল ২! নড়বড়ে লাগছিল গম্ভীরকেও। তবে দুজনেরই সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব, ওই সময়টা দাঁতে দাঁত চেপে উইকেটে পড়ে থেকেছেন দুজন। উইকেট ছুড়ে আসেননি। সময়মতো ছুটিয়েছেন স্ট্রোকের ফুলঝুরি।
পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছিলেন শেবাগ, সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন গম্ভীরও। আর এতেই ভারত পেয়েছে ১৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি। উদ্বোধনী জুটিতে এটি শেবাগ-গম্ভীরের অষ্টম শতরানের জুটি। ৭০ বলে ফিফটি পাওয়া শেবাগ পরের ৪৬ করেছেন ৫০ বলে। তবে মুহূর্তের অমনযোগিতায় ২৩তম সেঞ্চুরি নয়, ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো শিকার হয়েছে নড়বড়ে নব্বইয়ের। গত কিছুদিনের বাজে ফর্মে গড়টা পঞ্চাশের নিচে নেমে গিয়েছিল গম্ভীরের। ১০ মাস পর পাওয়া ফিফটিতে গড়া আবার হয়েছে ঠিক ৫০।

আজ আবার দুই ভাগ মিলান

বছরে দুবার অন্তত দুই মিলান মুখোমুখি হয়। বছরে অন্তত এই দুটি দিন মিলান শহর দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এক ভাগে ইন্টার মিলান, অন্য ভাগে এসি মিলান। ইতালির ফুটবল সূচিতে আজ সেই রকম একটা দিন। শরিকি স্টেডিয়াম সান সিরোতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী।
সেই ১৯১০ সাল থেকে এই লড়াই চলে আসছে ইতালি ফুটবলের দুই পরাশক্তির। এই শত বছরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মিলে ২৭৩ বার দেখা হয়েছে দুই দলের। পরিসংখ্যানে লড়াইটা প্রায় সমানে সমান। এসি মিলান ১০৬ বার জিতেছে, ইন্টার ৯৫ বার। ড্র হয়েছে ৭২টি ম্যাচ।
তবে গত তিন-চার মৌসুমে দুই মিলানের লড়াই মানেই ছিল ভঙ্গুর এসি মিলানের আগেই পিছিয়ে পড়া। এ মৌসুমে অবশ্য নতুন কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির অধীনে নতুনভাবে সেজেছে এসি মিলান। ১১ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে সিরি ‘আ’র শীর্ষে তারা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে চতুর্থ স্থানে ইন্টার। আজকের মিলান ডার্বি তাই ইন্টারের মিলানকে ছোঁয়ার ম্যাচ।
ইন্টারের ছুঁয়ে ফেলা আর মিলানের ব্যবধানটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার ম্যাচের আগে দুই দলেই একটি সাধারণ সমস্যা আছে। সেই সমস্যার নাম চোট। ইন্টার মিলানের অন্যতম ভরসার নাম ডাচ প্লে-মেকার ওয়েসলি স্নাইডারের খেলা নিয়ে সংশয় আছে। রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তিনি।
ইন্টার কোচ রাফায়েল বেনিতেজের জন্য এই চোটের সঙ্গে যোগ হয়েছে হঠাৎ করেই তাঁর ফরোয়ার্ডদের গোল করতে ভুলে যাওয়া। মৌসুমের শুরু থেকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার স্যামুয়েল ইতো ১৭ ম্যাচে ১৭ গোল করেছেন। কিন্তু লিগে ইন্টার ১১ ম্যাচে করেছে মাত্র ১৩ গোল।
বেনিতেজ বলে আসছেন, সময়মতো ঠিকই জ্বলে উঠবে তাঁর ফরোয়ার্ড লাইন। আজ মিলান ডার্বি, আজ সেই সময়। আজ কি সত্যি জ্বলে উঠতে পারবেন ইতো, মিলিতোরা? বেনিতেজ শিষ্যদের অনুপ্রাণিত করতে তাঁদের কানে ঢেলে যাচ্ছেন মিলান ডার্বি শব্দযুগল, ‘আমরা ডার্বিতে ভালো করার চেষ্টা করব। এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চটা ঢেলে দেওয়ার কথা বলেছি। আমার মনে হয়, আমরা জিততে পারি।’
মিলান কোচ অ্যালেগ্রির আজ বড় দুশ্চিন্তার নাম চোট। চোট কাটিয়ে কদিন আগেই মাঠে ফেরা ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আলেক্সান্দ্রে পাতো আবার পড়েছেন ইনজুরিতে। মিলান ডার্বি তো যাচ্ছেই, প্রায় ৬ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। সিরি ‘আ’র সর্বশেষ ম্যাচে চোট পেয়েছেন অভিজ্ঞ ফিলিপ্পো ইনজাগি। এ মৌসুমেই তাঁকে আর পাচ্ছে না এসি মিলান।
এর পরও মিলান কোচের ভয় থাকার কথা নয়। কারণ অনেকের মতেই বর্তমানে ইউরোপের সেরা আক্রমণভাগে এখনো যে আছেন ব্রাজিলিয়ান জুটি রোনালদিনহো-রবিনহো। সঙ্গে আছেন ইন্টার মিলানের সাবেক স্ট্রাইকার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তা আছেন, তবু সতর্ক মিলান কোচ অ্যালেগ্রি। মিলান খেলোয়াড়দের তিনি একটা কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন বারবার, ‘আমাদের ডার্বি জয়ের আত্মবিশ্বাস আছে। তবে মনে রাখতে হবে আমরা ইতালিয়ান এবং ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি।’
এদিকে স্প্যানিশ লিগে আজ ইন্টারের সাবেক কোচ হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হচ্ছে স্পোর্টিং গিজনের। শক্তির বিচারে দুই দলের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। তবে মরিনহো সতর্ক, ‘আমাদের প্রতিটি ম্যাচেই সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে হবে।’

চীনা ক্রিকেটের ‘জয়যাত্রা’

জয় দিয়েই ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করল চীন। হোক না সেটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, হোক না সেটি মেয়েদের, হোক না সেটি ঠিক আন্তর্জাতিক নয়, ‘অফিসিয়াল’। তার পরও প্রথম ‘অফিসিয়াল’ ম্যাচে জয় দিয়ে সোয়া শ কোটি মানুষের দেশে তো যাত্রা শুরু হলো ২২ গজি উইকেটে ব্যাটে-বলের লড়াইয়ের এই খেলাটির!
কাল এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচে চীন হারিয়ে দিল মালয়েশিয়াকে। সেটিও ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে। প্রথমে ব্যাট করে চীনের মেয়েরা তুলেছিল ৬ উইকেটে ১১৬। সাবধানী শুরু করে মালয়েশিয়া ২০ ওভারে আটকে যায় ৬১/৮ স্কোরেই।
ম্যাচটা হয়েছে একপেশে। যার ফলে সেদিন মাঠে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট দেখতে আসা চীনাদের অনেকেই হতাশ। বাস্কেটবল আর ফুটবলের পাঁড় ভক্ত ঝেন ঝিলিন যেমন জানালেন, ‘আমি এই প্রথম কোনো ক্রিকেট ম্যাচ দেখলাম। খুব একটা আগ্রহ আমার নেই। তবে সত্যি বলতে কি, আমার একটু বিরক্তিই লেগেছে এই খেলা দেখে।’
আশার কথা হলো, সবাই ঝেনের মতো নয়। চীনের অনেকে দ্রুতই পছন্দ করে ফেলছে ক্রিকেট। ২১ বছর বয়সী ট্যান ঝাওয়েন যেমন, ‘এই প্রথম ক্রিকেট খেলা দেখলাম। আমার কাছে ভালোই লেগেছে। খেলাটার নিয়মকানুন অবশ্য জানি না। তবে আবারও দেখতে আসব নিশ্চয়ই।’
দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও চায়নিজ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান লিও রংগায়ও আশাবাদী, একদিন চীনের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হবে ক্রিকেট। শুধু তা-ই নয়, লিওর আশাটি আরও বড়, ‘একদিন আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হব। যে সৈন্য সেনাপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখে না, সে মোটেও ভালো সৈন্য নয়।’
মেয়েদের ক্রিকেটে আজ প্রথম মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হংকং। ছেলেদের ক্রিকেট বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে বলে প্রথম ম্যাচ ২৩ নভেম্বর।

আশরাফুলদের সঙ্গী অন্ধকার

বলটি সম্পর্কে তেমন পরিষ্কার ধারণা নেই কারও, ধারণা নেই চীনের কন্ডিশন সম্পর্কে, ধারণা নেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের সম্পর্কে। এসব ধারণা দূরে থাক, নিজেরাই সবাই এক হয়ে এখন পর্যন্ত ভালো করে একটু অনুশীলন করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এক ধরনের অন্ধকার সামনে নিয়েই এশিয়ান গেমস খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ভরসা, শুরুতেই অন্তত শক্তিশালী কোনো দলের মুখোমুখি হতে হবে না। সেই ভরসাতেই হয়তো আগামীকাল গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে রওনা দিতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলনে দলনেতা জালাল ইউনুস বললেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য পদক-তালিকায় নাম ওঠানো। আর মূল লক্ষ্য ফাইনাল খেলা।’
কাজটা সহজ হবে না। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের খেলা শুরু হবে ২৩ নভেম্বর, সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন বা মালয়েশিয়া। কিন্তু ঝামেলাটা হলো, ফাইনালে উঠতে হলে সেমিফাইনালে সম্ভবত শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে আসতে হবে।
অবশ্য অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, ‘খেলাটা টি-টোয়েন্টি। তাই এখানে ওই সময়টা ভালো খেললেই ম্যাচ জেতা সম্ভব। আমাদের দলের খেলোয়াড়েরা টি-টোয়েন্টির জন্য খুবই মানানসই। তাই আমি আশাবাদী।’
সে অধিনায়ক আশাবাদী হতে পারেন। কিন্তু হতাশারও অনেক পথ থাকছে। অন্তত অনুশীলন নিয়ে বাংলাদেশ দলকে হতাশা পেয়ে বসতে পারে। একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলা তো দূরে থাক, একসঙ্গে এই দলটা তো তেমন অনুশীলনই করতে পারল না।
এ নিয়ে দলের কোচ সারওয়ার ইমরানের আফসোস আছে। আফসোস আছে আশরাফুলেরও। তবে এর মধ্যেও খুঁজে পাওয়ার মতো সান্ত্বনাও আছে, ‘আফসোস তো আছেই। কিন্তু কিছু করার ছিল না। জাতীয় দলের অনুশীলন ছিল, জাতীয় লিগের খেলা ছিল। তবে একটা ইতিবাচক দিক হলো, সবাই খেলার মধ্যে ছিলাম।’
ওই খেলা ৫০ ওভারের; আর এখানে ২০ ওভারের ক্রিকেট! মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না? আশরাফুল বলছেন, খুব সমস্যা হবে না, ‘এটা ঠিক, আমাদের জাতীয় দলেরও টি-টোয়েন্টি রেকর্ড খুব ভালো না। তার ওপর ওখানে দ্রুত কন্ডিশন ও ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই আমাদের কাজ।’
শুধু ৫০ থেকে ২০ ওভারের ম্যাচে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ নয়; চ্যালেঞ্জ আছে নতুন বলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ারও। এসজি, কোকাবুরা বা ডিউক নয়, এখানে খেলা হবে ‘প্লাটিপ্লাস’ নামে নতুন এক বলে।
মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ একটু সহযোগিতা পাচ্ছে সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে। কিছু তথ্য জানিয়ে উপকার করছেন বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের এই কর্মকর্তা। যেটা বললেন জালাল ইউনুস, ‘বুলবুল (আমিনুল) অনেক দিন ধরে চীনের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ও বলেছে, ওখানে উইকেট হয়তো একটু স্লো হবে। আর আমাদের বলেছে, খুব ভালো অনুশীলন সুবিধার আশা নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।’
বাংলাদেশ তাহলে কোন আশাটা নিয়ে যাবে?
বাংলাদেশ দল
মোহাম্মদ আশরাফুল (অধিনায়ক), শামসুর রহমান (সহ-অধিনায়ক), নাঈম ইসলাম, ফয়সাল হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মাহবুবুল আলম, নাজমুল হোসেন, নাজিমউদ্দিন, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, ডলার মাহমুদ, রনি তালুকদার, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, শুভাগত হোম চৌধুরী। কোচ: সারওয়ার ইমরান। দলনেতা: জালাল ইউনুস।

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বিপাকে পাকিস্তান

মোহাম্মদ হাফিজ ও তৌফিক উমরের শত রানের জুটি। দ্বিতীয় দিন শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান। মনে হচ্ছিল, চেনা ব্যাটিংটাই ফিরে পেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু তৃতীয় দিনে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় উল্টো বিপাকে পড়ে গেছে মিসবাহ উল হকের দল। প্রোটিয়াস বোলারদের তোপে পড়ে মাত্র ২৪৮ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। এরপর প্রথম ইনিংসে ৩৮০ রান করা দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান তুলেছে। পাকিস্তানের চেয়ে এখন পর্যন্ত ২৭১ রানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, হাতে রয়েছে আরও আটটি উইকেট।
৩৫ রানে থাকা ইউনুস খানকে দিয়ে দিনের প্রথম আঘাতটা হানেন বোথা। বোথা ও মরকেলের তোপে পড়ে এরপর যেন কেবল আসা যাওয়ার খেলা খেলেছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন আগের দিন ১২ রানে অপরাজিত থাকা আজহার আলী। একপ্রান্ত আগলে রেখে এই ব্যাটসম্যান করেন ৫৬ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মরকেল পাঁচটি ও বোথা তিনটি উইকেট শিকার করেন।
১৩২ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংটাও দুর্দান্ত হয়েছে। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গ্রায়েম স্মিথ ৩৪ ও পিটারসেন ২৬ রান করেন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় হাশিম আমলা ৪৪ ও জ্যাক ক্যালিস ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জাতীয় লিগের শিরোপা ঢাকার

লড়াইটা ছিল বরিশালের শিরোপা ধরে রাখার, আর ঢাকার শিরোপা পুনরুদ্ধারের। এ লড়াইয়ে সফল হয়েছে ঢাকা। আজ রোববার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বরিশালকে তিন উইকেটে হারিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ঢাকা।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা বরিশালের শুরুটা ভালো হয়নি। মাত্র ৫৭ রানে চলে গিয়েছেল তিন উইকেট। তবে শাহিন হোসেনের ৪০, আসিফ আহমেদের ৪৮ ও আরিফুল হকের ৩৫ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত নয় উইকেটে বরিশালের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২১। ঢাকার হয়ে শাহাদাত হোসেন চারটি ও মোহাম্মদ আশরাফুল দুটি উইকেট লাভ করেন।
২২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা ঢাকা ইলিয়াস সানির ব্যাটে চড়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। শিরোপা পুনরুদ্ধার করা ইনিংসের পথে সানি অপরাজিত থাকেন ৮৭ রানে। মাহমুদউল্লাহ করেন ৫৩ রান। ম্যাচ-সেরা নির্বাচিত হন সানি।

খবর- গণতান্ত্রিক সব শক্তির সঙ্গে কাজ করতে চাই: সু চি

সদ্য গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি গণতন্ত্রকামী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সু চি বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ করলে আমরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব। আমি গণতান্ত্রিক সব শক্তির সঙ্গে কাজ করতে চাই।’
মুক্তি পাওয়ার পরদিন গতকাল রোববার ইয়াঙ্গুনে নিজের দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে বক্তব্য দেন সু চি।

ফিচার- ‘নিজের কথা : বেঁচে আছি' by হুমায়ূন আহমেদ

কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, 'কেমন আছেন?'-তার উত্তরে 'ভালো আছি' বলাটাই ভদ্রতা। খারাপ থাকলেও বলতে হয় 'ভালো আছি'।

বৃদ্ধদের জন্যে এই নিয়ম খাটে না। এক বৃদ্ধ যখন অন্য বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করেন, 'কেমন আছেন?'-তার উত্তরে 'ভালো আছি' না বলে যেসব অসুখ-বিসুখে তিনি ভুগছেন তার বিশদ বর্ণনা দেওয়াটাই ভদ্রতা। যেমন, কিছুই হজম হচ্ছে না। গ্যাসের যন্ত্রণা। রাতে ঘুম হয় না বললেই হয়। মাথার তালু, পায়ের পাতা গরম হয়ে থাকে। মনে হয় ভাঁপ বের হচ্ছে।

কবিতা- সাম্প্রতিক সময়ের কিছু কবিতা


তোমার নিমগ্ন অগি্ন
রফিক আজাদ
নিস্তব্ধ প্রহর: তোমার নিমগ্ন অগি্ন
এই শাদা চাদরের প্রান্ত বেয়ে উঠে
আসে, অনায়াসে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার কাল:
আমার বুকের হু-হু বাতাসের সঙ্গে
লতিয়ে উঠছে রাত্রি; মাঝে-মধ্যে খুব
করে অনুভব করি নিজেরই ভিতরে
উনুনের আঁচ- গনগনে কয়লার
লালে স্বভাবের সবটুকু পুড়ে-উড়ে
নিষিদ্ধ সংস্কৃতি!