Friday, November 19, 2010

গল্পালোচনা- 'এমন ঘটনাও ঘটে'! by ফখরুজ্জামান চৌধুরী

প্রবাসে থাকেন এমন একজন মানুষের গল্প বলি। গল্পই তা বলে। বাস্তবে এমন ঘটনা কদাচ ঘটার কথা। অথচ সেই ঘটনাই ঘটল অবিশ্বাস্য পৌনঃপুনিকতার সঙ্গে। ভুক্তভোগী মানুষটির নাম নাই বা বললাম।

বাংলাদেশের লাখো-কোটি মানুষের মতো তিনিও অবয়বহীন একজন, ইংরেজিতে যাকে বলে 'ফেইসলেস মিলিয়নস' তাঁদেরই একজন। যদি প্রবাসে তাঁর আলাদা একটা পরিচয় রয়েছে। তিনি একজন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী গবেষক। টোকিওর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আজ প্রায় এক যুগ হলো তিনি জাপানপ্রবাসী।

আলোচনা- 'হাইকোর্টের রায় এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে' by শক্তিপদ ত্রিপুরা

বাংলাদেশ বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু ধর্মের দেশ। বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও পাহাড় ও সমতল অঞ্চল মিলে ৪৫টির অধিক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী বাস করে।

স্মরণাতীতকাল থেকে তারা এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। এ অঞ্চলের ভূমিকে বাসযোগ্য ও চাষযোগ্য করার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের রয়েছে বিশেষ অবদান। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসকগোষ্ঠী ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে এ দেশ থেকে বিতাড়নে আদিবাসীদের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা।

আলোচনা- 'আইন'-এর শাসন বনাম 'অহং'-এর শাসন' by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

কিছু দিন আগে বাসায় এসে নেওয়া ইটিভি চ্যানেলে আমার এক সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়। সেটি ছিল চ্যানেলটির নিয়মিত সংবাদ-প্রচার অনুষ্ঠানের ক্ষুদ্রাংশ হিসেবে। কিন্তু সেভাবে

তো সাক্ষাৎকার দিইনি। ফলে আমার পুরো বক্তব্যে উত্থাপিত সব কয়টি যুক্তি পরিবেশিত না হওয়ায় প্রচারিত আমার বক্তব্য সম্ভবত শ্রোতাদের কাছে স্পষ্ট হয়নি। সাক্ষাৎকারটিতে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ইজারা দেওয়া কী আইনানুগ ছিল? প্রশ্নটির কী প্রেক্ষাপট, প্রিয় পাঠক, আপনার নিশ্চয়ই ধারণায় এসেছে। হ্যাঁ, সেটা ছিল ওই ইজারা দেওয়ার আগাগোড়া কার্যক্রম বেআইনি_এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হাইকোর্ট বিভাগের রায়টিই। প্রিয় পাঠক, সাক্ষাৎকারটি না দিতে হলে আমার এ লেখাটির জন্ম হতো না।

খবর- জাহাজভাঙা শিল্পে সংকটমোচন

দেশের বিকাশমান ও শিল্পোন্নয়নের জন্য অপরিহার্য জাহাজভাঙা শিল্প অবশেষে সংকট কাটিয়ে উঠছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বেঁধে দেওয়া সুনির্দিষ্ট ৫৬টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে

আপাতত বঙ্গোসাগরের চট্টগ্রাম উপকূলে গড়ে ওঠা ১৬টি শিপইয়ার্ডকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী ১২৫টি শিপইয়ার্ডের মধ্যে এই স্বল্পসংখ্যক শিপইয়ার্ডকে বেশ দীর্ঘ সময় অর্থাৎ আট মাস পর ছাড়পত্র দেওয়া হলো। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাকিগুলোকেও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে।

আলোচনা- 'বাংলাদেশের সংবিধানের দর্শনের গল্পসল্প' by মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী

আগের লেখাটি ছিল 'আইন-এর শাসন বনাম অহং-এর শাসন'। লেখাটির সারমর্ম যে আইনের শাসন হচ্ছে সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ার একমাত্র ভিত্তি এবং আইনের শাসনকে বিপর্যস্ত করে অহং-এর শাসন। লিখেছিলাম অহং শব্দটি বোঝায় অহংকার, অহমিকা, অহং-সর্বস্বভাব, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ইগো-ইজম।

লেখাটিতে আইনের শাসন মান্য করার পক্ষে বিবেকি যুক্তিগুলো উল্লেখ করেছিলাম। বিবেক হচ্ছে দেহাতীত, যার নাম আত্মা। এই কথাটি কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু লোক প্রাচীনকাল থেকেই মানছেন না। তাঁদের একজন চার্বাক। তিনি বললেন, দেহই আত্মা, দেহ ছাড়া আত্মার অস্তিত্ব নেই। কে এই চার্বাক বা কারা? প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল ধূর্ত চার্বাক, শিক্ষিত চার্বাক, অহং চার্বাকদের।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'মধ্যবিত্তের মূল্যবোধ ও পঙ্কিল রাজনীতি' by শাহদীন মালিক

‘মধ্যবিত্ত’ শব্দটা প্রচণ্ড গোলমেলে। অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, উন্নয়ন চিন্তা—সব জায়গায় মধ্যবিত্তের অবস্থান সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু অবস্থানটা ভালো না মন্দ তা নিয়ে বিতর্ক প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো।

বামপন্থী রাষ্ট্রচিন্তা, ইতিহাস, বিপ্লব এবং আনুষঙ্গিক তত্ত্বকথায় ‘মধ্যবিত্তের’ অবস্থান ছিল নাজুক, বহুকাল ধরে। বুর্জুয়া, পাতি-বুর্জুয়ার সঙ্গে মধ্যবিত্তকে একাকার করে মাঝে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল যে মধ্যবিত্ত কোথায় লুকাবে তার হদিস পাচ্ছিল না। সারা বিশ্বের অতিবাম, মধ্যবাম, অল্পবাম—সব বামপন্থী মধ্যবিত্তের ওপর ভীষণভাবে চড়াও হলো ১৯২০-এর সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিভিন্ন দেশ ঘুরে সত্তরের কম্বোডিয়া (এখন কাম্পুচিয়া) পর্যন্ত। জমিদার-জোতদার-বুর্জুয়া-মধ্যবিত্ত—বিভিন্ন দেশে সব একাকার হয়ে মারা পড়ল হাজারে হাজারে, কোথাও লাখ লাখ।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'মুক্ত বাতাসে সু চি' by রফিকুল রঞ্জু

তিনি ছোট, সেটা শুধু শরীরেই। মননে, সংগ্রামে বিশ্বের কাছে তিনি বিশাল মানুষ। তিনি অং সান সু চি। গণতন্ত্রের জন্য মিয়ানমারের (সাবেক বার্মা) দীর্ঘ লড়াইয়ের মূর্ত প্রতীক।

দীর্ঘকাল গৃহবন্দি থাকা সেই মানুষটির মুক্তির সম্ভাবনা জাগায় তাই গতকাল শনিবার সকাল থেকে তাঁর ছোট্ট সাদামাটা বাড়ির সামনে ছিল সমর্থকদের ভিড়। হাতে তাদের নানা দাবিসংবলিত পোস্টার, ছবি।
সংশয় ছিল, আটকাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নোবেলজয়ী নেত্রী সু চি মুক্তি পাবেন তো? শেষ পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে তিনি বেরিয়ে আসেন ইয়াঙ্গুনের (রেঙ্গুন) বাড়ি থেকে। সঙ্গে সঙ্গে হাজারো সমর্থক স্লোগান তোলে, 'অং সান সু চি দীর্ঘজীবী হোন'।

বিশ্ব অর্থনীতি 'জি-২০ সম্মেলনে ধাক্কা খেল আমেরিকা' by আসজাদুল কিবরিয়া

বড় কিছু হবে—এমন প্রত্যাশাটি আগেই দমিয়ে আনা হয়েছিল। আর তাই দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে দুই দিনব্যাপী (১১ ও ১২ নভেম্বর ২০১০) জি-২০ জোটের সম্মেলন শেষে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি

জোটের নেতাদের। বিশ্বের ধনী ও অগ্রসর উদীয়মান অর্থনীতির ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিয়ে গঠিত এই জোটের এবারের সম্মেলনটিতে কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যবিরোধই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে বিরোধ নিষ্পত্তিতে তেমন অগ্রগতি হয়নি। বরং বলা যেতে পারে, সম্মেলন থেকে তুলনামূলক বিচারে চীনই খানিকটা লাভবান হয়েছে।