Friday, September 12, 2025
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছর কারাদণ্ড
২০২২ সালে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রসহ পাঁচটি অভিযোগের সবক’টিতে বলসোনারোকে দোষীসাব্যস্ত করেন চার বিচারপতি। ফলে ৭০ বছর বয়সী বলসোনারোকে বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বলসোনারোর পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানেরাসহ আরও সাতজন এ মামলায় দোষীসাব্যস্ত হয়েছেন।
তবে সেনবাহিনীর সাবেক এই ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন, তিনি রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার। বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁর সিনেটর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারো লিখেছেন, ‘তারা (সরকার) এমন একটি প্রক্রিয়াকে বিচার বলছে, যার ফলাফল ঘোষণার আগেই সবার জানা ছিল।’
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডানপন্থী সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সাজার ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বলসোনারোর দোষীসাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্মিত এবং খুবই অসন্তুষ্ট।
এর আগে গত ৯ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ব্রাজিলের ওপর কড়া শুল্ক আরোপ করতে চান। কারণ, হিসেবে বলেন, ব্রাজিলে তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে। এরপর ব্রাজিলের কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প।
![]() |
| ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেপালের তরুণেরা কেন থামছে না? by চার্লি ক্যাম্পবেল
সেনা-নিয়ন্ত্রিত কারফিউ ঘোষণার পর বুধবার নেপালে এক ভয়াবহ নিস্তব্ধতা নেমে আসে। তার আগে দুই দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজধানী কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহর অচল হয়ে পড়ে।
মূলত তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালানো, পার্লামেন্ট, মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে ভাঙচুর এবং রাজনীতিবিদদের বাড়িতে হামলা চালান। এমনকি মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টারেরও প্রয়োজন হয়।
এই সহিংসতায় অন্তত কমপক্ষে ২২ জন প্রাণ হারান এবং শত শত মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আহত হন। সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধের চেষ্টাকে এই সহিংসতার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশটির প্রায় তিন কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যা জন্ম নিয়েছে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও ব্যাপক বৈষম্যের বিরুদ্ধে।
২.
নেপাল সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, সেগুলো নিবন্ধন ও সরকারি নজরদারির নিয়ম মানেনি।
কিন্তু বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, এটি মূলত তরুণদের ক্ষোভ দমন করার পদক্ষেপ। তরুণেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন রাজনৈতিক অভিজাতদের সন্তানদের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে, যা অনলাইনে প্রদর্শিত হচ্ছিল, যাঁদের ‘নেপো কিডস’ বলা হচ্ছে।
সাধারণ নেপালি জনগণ যে বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তার সঙ্গে অনলাইনে অভিজাত পরিবারের সন্তানদের জৌলুশপূর্ণ জীবনযাপনের বৈপরীত্য ক্রমে ক্ষোভ বাড়ায়।
গত সপ্তাহে শুরু হয় গণবিক্ষোভের ডাক, যা আরও তীব্র হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের অদক্ষ নিষেধাজ্ঞার পর। মঙ্গলবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও এবং প্রধানমন্ত্রী খাদগ প্রাসাদ শর্মা অলি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের পদত্যাগের পরও অশান্তি কমেনি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘নেপালের সরকার আসলে নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিধিনিষেধ ব্যবহার করে এই ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে চেয়েছিল। কিন্তু তা সম্পূর্ণ উল্টো ফল দিয়েছে।’
৩.
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জন–আন্দোলন গড়ে তোলার শক্তি এশিয়ার জন্য নতুন নয়। ইন্টারনেট ইতিমধ্যেই ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পতনের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি আজও এটি ইন্দোনেশিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
তবে এই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১০ সালের আরব বসন্তে, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় অনলাইনে সংগঠিত এক ধারাবাহিক সরকারবিরোধী আন্দোলন ঝড় তোলে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি এক স্পষ্ট পূর্বাভাস; আরব বসন্তের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার প্রচেষ্টা যেন ‘এক হাইড্রার মাথা কাটার’ মতো কাজ করেছিল।
এতে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য বাক্স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার অস্বীকার করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগকে বৈধতা দেয় এবং তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি আরও বাড়ায়।
৪.
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আরব বসন্তের পর অনেক স্বৈরশাসক দেশে কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করে। নেপালের উত্তর সীমান্তের ওপারে চীনের গ্রেট ফায়ারওয়াল হয়ে ওঠে কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত অনলাইন স্পেসের প্রতীক। গ্রেট ফায়ারওয়াল কেবল ‘অবাঞ্ছিত বাইরের তথ্য’ই আটকায় না, দেশীয় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ও ছেঁটে ফেলে এবং নিষিদ্ধ করে।
তবে গ্রেট ফায়ারওয়াল হলো চীনের বহুস্তরীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি অংশমাত্র। সেখানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ বা মোবাইল সিম কার্ড কিনতে হলে সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র প্রয়োজন।
এমনকি পাবলিক ওয়াই–ফাই ব্যবহার করতে হলেও ফোন নম্বর যাচাই করতে হয়, যা আবার জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। আর চীনের সর্বব্যাপী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাট ব্যবহারকারীদের এক শতাধিক সদস্যবিশিষ্ট গ্রুপে যোগ দিতে হলে ব্যাংক তথ্য নিবন্ধন করতে হয়।
এই বহুবিধ যাচাইয়ের কারণে অনলাইন ফোরামে নামবিহীন পোস্টও আইনি পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ফলে তৈরি হয়েছে একধরনের সেলফ-সেন্সরশিপের সংস্কৃতি। যখনই কোনো সমস্যা দেখা দেয়, দমন-পীড়ন হয় দ্রুত ও কঠোরভাবে।
যেমন ২০২৩ সালের নভেম্বরে চীনের সাংবাদিক ও কর্মী সান লিন পুলিশের মারধরে মারা যান। তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্ট করেছিলেন।
পরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি অনলাইনে তাঁর মৃত্যু নিয়ে যেকোনো আলোচনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার করা হচ্ছে দ্রুত আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও মুছে ফেলার জন্য।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পার্ক স্ট্র্যাটেজিসের এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শন কিং মন্তব্য করেন, বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা হয়তো কাঠমান্ডুর সহকর্মীদের দিকে করুণা ও আনন্দ নিয়ে তাকাচ্ছেন। তাঁরা মনে মনে কৃতজ্ঞ হচ্ছেন যে মূল ভূখণ্ড চীনের নেটিজেনরা কখনোই সেই জিনিস মিস করে না, যার জন্য নেপালি জনগণ এত কঠিন লড়াই করছে।
৫.
কেবল স্বৈরচারী রাষ্ট্রগুলোই নয়, তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশও অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে।
ফ্রিডম হাউসের ২০২৪ সালের ফ্রিডম অন দ্য নেট প্রতিবেদনের মতে, গত বছর টানা ১৪তম বারের মতো বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে। সমীক্ষাকৃত বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ এখন উন্মুক্ত ও মুক্ত ইন্টারনেট ভোগ করছে।
নেপালের অপর প্রান্তে, স্বৈরতান্ত্রিক চীনের বিপরীতে, ভারত হয়ে উঠেছে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের এক পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র—কীভাবে অনলাইন বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে ক্রমশ জটিল কৌশল প্রয়োগ করছে, তা দেখানোর জন্য।
উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সাল থেকে ভারত তার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, যেখানে এখন কেবল আইটি বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নয়, বরং আরও অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে সরাসরি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে কনটেন্ট অপসারণের নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে ভারত সরকার একটি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট’ গঠনের উদ্যোগ নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কথিত ভুয়া রিপোর্টিং সংশোধন করা। তবে সাংবাদিক ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এর বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ছিল। এরপরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যঙ্গ করে আঁকা কার্টুন থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী পদদলনের খবর পর্যন্ত সবই অপসারণের ওই নির্দেশনার আওতায় এসেছে।
৬.
অবশ্যই সম্পূর্ণ অবারিত ও নিয়ন্ত্রণহীন ইন্টারনেটও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যায় অনলাইনে ঘৃণা ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার ছিল অন্যতম কারণ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া–বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সব সময় একধরনের দ্বিমুখী অস্ত্রের মতো। কারণ, কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই সহিংসতা উসকে দিতে পারে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
নেপালের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা অনিশ্চিত। দেশটির জনগণ মাথাপিছু বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে এখনো ১ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে এবং জীবনযাত্রা নিয়ে সংগ্রাম করছে। আর যুব বেকারত্ব প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি তরুণ দেশ ছাড়ছেন বিদেশে কাজের সন্ধানে, প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যে।
বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, সংসদ সদস্যদের গণপদত্যাগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশদাতা কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত এবং নতুন নির্বাচনের আয়োজন। তবে শুধু এসব দাবি পূরণ করলেই নেপালের সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অন্তত এই আশা করা যায় যে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমালোচনা উপেক্ষা না করে তা শোনার অভ্যাস করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বৈরাচারী রাষ্ট্রগুলোর জন্য কিংবা যারা স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোতে চায়, তাদের উল্টো শিক্ষা হলো ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াই অস্তিত্বের ঝুঁকি। কারণ, একবার বোতলের ভেতর থেকে দৈত্য বেরিয়ে গেলে তাকে আর ফেরানো যায় না, আর তা চেষ্টা করলে বরং আগুনে ঘি ঢালার মতো হয়।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ক্ষোভ আর রাগ কোনো বিস্ময়ের বিষয় হওয়া উচিত নয় নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে, যদি তাঁরা কেবল বিক্ষুব্ধদের কথা শোনার সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু প্রায়ই যা ঘটে, সমস্যাগুলো সমাধান করার পরিবর্তে সরকারগুলো সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার পথই বেছে নেয়।
* চার্লি ক্যাম্পবেল, টাইম–এর এডিটর অ্যাট লার্জ
- টাইম–এর অনলাইন সংস্করণ থেকে নেওয়া, অনুবাদ: মনজুরুল ইসলাম
| দেয়ালের একটি গ্রাফিতিতে লেখা ‘হত্যাকারীকে ফাঁসিতে ঝোলাও’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর অনেকটা শান্ত নেপাল। কাঠমান্ডু, ১১ সেপ্টেম্বর। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে ফেলছে কারা by এ কে এম জাকারিয়া
একটি রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানও ভূমিকম্পের মতোই অনেক পরাঘাতের জন্ম দেয়। এগুলো গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে ভূমিকা রাখে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বছর পার হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে এত দিনে পরাঘাতের হার কমতে কমতে মিলিয়ে যাওয়ার কথা।
কিন্তু দেশের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে তেমন মনে হচ্ছে না। বোঝা যায়, অস্বাভাবিকভাবে হলেও কোনো কোনো পক্ষ বা রাজনৈতিক শক্তি পরাঘাত অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা মনে হয় এটা বুঝতে পারছে না যে গণ-অভ্যুত্থান ও তার পরের পরিস্থিতিতে যা বৈধ ও গ্রহণযোগ্য ছিল, এক বছর পর এখন আর তা নয়।
বলা হয়, প্রেম ও যুদ্ধ বা বিপ্লবে সবই ন্যায্য। কিন্তু এরপরও কোথায় বা কখন থামতে হয়, তার একটা সীমা থাকে। জার্মান-আমেরিকান রাষ্ট্রচিন্তাবিদ হার্বার্ট মার্কুয়েস মনে করেন, যেকোনো সহিংস বিপ্লব ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু যদি তা দ্রুত শেষ না হয়, তবে বিপ্লব তার নৈতিক ভিত্তি হারাতে পারে।
বাংলাদেশে ৫ আগস্ট কোনো বিপ্লব হয়নি, সহিংস পথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনের চেষ্টা করেছিল উল্টো হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার। এর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার যেকোনো প্রতিরোধই ছিল ন্যায্য। সেটাই গড়ে তুলেছিল ছাত্র-জনতা। গণ-অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে জরুরি কাজটি ছিল দ্রুত সব ধরনের সহিংসতা, সংঘাত ও বিরোধের অবসান ঘটানো। কিন্তু তা হয়নি, বরং এটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট যে কোনো কোনো পক্ষ ইচ্ছা করেই তা জিইয়ে রাখতে চাইছে।
এসব কারণে বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের পতিত ও পরাজিত শক্তি এবং তাদের সমর্থকেরা এরই মধ্যে সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হাসিনার মতো দীর্ঘ সময় ধরে গেড়ে বসা এক স্বৈরশাসককে উৎখাত করেছে। একই সঙ্গে তা রাষ্ট্রকাঠামোর গভীরে ঢুকে পড়া স্বৈরাচারের শিকড় ধরেও টান দিয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে এগুলো উপড়ে ফেলা জরুরি ছিল। রাষ্ট্রকাঠামোয় বিস্তৃত স্বৈরাচারী সরকারে শিকড়-বাকড় ওপড়ানোর কাজটি তাই গণ-অভ্যুত্থানেরই অংশ। এগুলোই ছিল গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী একধরনের আফটার শক বা পরাঘাত। এগুলো ঘটেছে ছাত্র-জনতার শক্তিতে।
অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দুর্বল রাষ্ট্রকাঠামোর সুযোগে কিছু উগ্র, হঠকারী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীও নিজেদের আদর্শিক শক্তি দেখাতে মাঠে নেমে পড়ে। এই কাজে ‘মব’ হয়ে ওঠে তাদের প্রধান হাতিয়ার।
মব তৈরি করে তারা মাজার, পীর-ফকিরদের আস্তানা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলা এবং সংস্কৃতি-স্থাপনা ও শিল্পকর্ম গুঁড়িয়ে দিতে শুরু করে। সংবাদমাধ্যমও এসব মব হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনাগুলোও ছিল গণ-অভ্যুত্থানের পর আরেক ধরনের পরাঘাত।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে মব-নির্ভর এই পরাঘাতও অব্যাহতভাবে ঘটে চলেছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক হচ্ছে কিছু রাজনৈতিক শক্তি তাদের যৌক্তিক বা অযৌক্তিক যেকোনো দাবি আদায়ের জন্য এখন পুরোপুরি মব-নির্ভর হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বা সেখানে দেওয়া বক্তব্যকেও ‘মব’ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ আছে।
’২৪–এর গণ-অভ্যুত্থান বিভিন্ন মত, পথ ও আদর্শের রাজনৈতিক দল, শক্তি ও মানুষকে হাসিনা উৎখাতের লক্ষ্যে এক করেছিল। অভ্যুত্থান শেষে কোনো রাজনৈতিক দলই পরিস্থিতির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে ঠিকই কিন্তু ক্ষমতাকাঠামোয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই গেছে। দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো এক বছর ধরে রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে যেভাবে পেরেছে, নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তা সরকারে, প্রশাসনে, শিক্ষাঙ্গনে বা রাজনীতির মাঠে যেখানেই হোক না কেন। এই কাজে তারা সফলও হয়েছে। কিন্তু এই আধিপত্য আংশিক, কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণ নয়। এই অবস্থাটি বেশ বিপজ্জনক।
গ্রিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্ট্যাথিস ক্যালাভাস তাঁর দ্য লজিক অব ভায়োলেন্স ইন সিভিল ওয়ার বইয়ে এমন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, যেখানে কোনো পক্ষ আংশিক আধিপত্য বিস্তার করে কিন্তু পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পায় না, সেখানে টার্গেটেড ভায়োলেন্স বা নিশানানির্ভর সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের প্রমাণ, আধিপত্য ধরে রাখা বা বিস্তারের জন্য সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটে বা ঘটানো হয়।
সাম্প্রতিক নানা সহিংস ঘটনা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ সম্ভবত এখন এমনই একটি সময় পার করছে। এখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজদের আংশিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তা ধরে রাখা ও বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গত এক বছরে সরকারের পারফরম্যান্স বা যোগ্যতা-দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে কিন্তু বিভিন্ন দলের এই আংশিক আধিপত্য যে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দেখা যাচ্ছে, স্রেফ নিজেদের শক্তি দেখানো বা আধিপত্য ধরে রাখতেই রাজনৈতিক শক্তিগুলো মব সৃষ্টি করে সহিংসতা করছে। গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষ শক্তির তরফেই এসব ঘটছে, তাই অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছে না।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির আংশিক আধিপত্যনির্ভর এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন সহিংসতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও এসব শক্তির প্রভাব ও বিভক্তি ঠিকভাবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর অস্বস্তিকর সম্পর্কের বিষয়টি এখন নানা মহলে আলোচিত। এসব আলোচনা দেশের রাজনীতি ও জনমনে প্রভাব ফেলছে।
তা ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের পর নানা ক্ষেত্রে সংস্কারের যত আশা জেগেছিল, সেটাও বেশ ফিকে হয়ে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মতবিরোধ বেড়েছে। যেগুলোতে তারা একমত হয়েছে, এর বাইরে খুব বেশি সংস্কার সুযোগ বা সময় কোনোটাই নেই। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই একটি বাস্তব চাহিদায় পরিণত হয়েছে। সরকার নিশ্চিতভাবেই তা বুঝতে পেরেছে এবং শুরুতে যে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, তার আগেই নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছে।
কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্য ও নেতাদের কথাবার্তায় নির্বাচনবিরোধী সুর পাওয়া যাচ্ছে। খুব বেশি সংস্কারের যখন আর সুযোগ নেই এবং রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর নানামুখী চাপে সরকারও ব্যতিব্যস্ত, তখন সংস্কারের দাবিতে অটল থাকার অর্থ স্পষ্টতই নির্বাচনের বিরোধিতা করা। এটা রাজনীতিকে একটা অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজনীতিতে অচলাবস্থা মানে সহিংসতা টিকিয়ে রাখার ঝুঁকি তৈরি করা। কোনো কোনো পক্ষ সম্ভবত এমনটাই চাইছে। এমন একটি পরিস্থিতি গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিকে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
স্লোভাক দার্শনিক স্লাভো জিজেকের একটি কথা আছে, ‘সামটাইমস ডুইং নাথিং ইজ মোস্ট ভায়োলেন্স থিং টু ডু’ মানে কখনো কিছু না করাই সবচেয়ে বড় সহিংস কাজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী সক্রিয় আক্রমণ ছাড়াও সহিংসতা সম্ভব। এখন নির্বাচন করতে না চাওয়া, সমঝোতার পথ না ধরা বা নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে অচলাবস্থা তৈরি করাকেও সেই অর্থে একধরনের ‘সহিংসতা’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেখা যাচ্ছে সক্রিয় আক্রমণের সহিংসতা এবং কিছু না করার সহিংসতা—বাংলাদেশ এখন দুই ধরনের সহিংসতার কবলে পড়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশে এই দ্বিমুখী সহিংসতা অব্যাহত থাকলে দেশের সংকট গভীর থেকে গভীরতর হবে। গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে, গণ-অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে না চাইলে এবং পরাজিত শক্তির ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে হলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই।
● এ কে এম জাকারিয়া, প্রথম আলোর উপসম্পাদক
- akmzakaria@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেপালেও শোনা গেল ‘ডোন্ট মেস উইথ জেন-জি’ by সারফুদ্দিন আহমেদ
সোজা বাংলায়—‘খবরদার! জেন-জির সঙ্গে পাঙ্গা নিতে যাইয়ো না।’
অলির সরকার সেই কাজটাই করেছে। তারা জেন-জি খেপিয়ে ধরা খেয়েছে। এই জেন-জি চলে স্মার্ট গতিতে। তারা সোজা কথা সোজাভাবে এবং অবশ্যই অতি সংক্ষেপে বলতে ও শুনতে পছন্দ করে।
স্মার্টফোনেই তারা কাজের বেশির ভাগ সেরে ফেলে। যে কথাটা বলতে তিনটি বাক্য লাগে, তা তারা বলে তিন শব্দে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন অক্ষরে।
পানির অপর নাম যেমন জীবন, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তি; বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জেন-জির শ্বাসপ্রশ্বাস।
এই জিনিস অলির সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব আর এক্স (আগের টুইটার) এক রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
আমাদের এখানে আমলা-মন্ত্রী-এমপিদের অনেকের ছেলেমেয়ে ১৫ লাখ টাকার ছাগল কিনে, কিংবা ১০ লাখ টাকার লেহেঙ্গা পরে, কিংবা ১০ কোটি টাকার গাড়ি কিনে দেখনদারি সেলফি দেওয়ার পর ভাইরাল হয়েছিলেন।
তার জেরে কাউকে কাউকে কঠিন বিপদে পড়তে হয়েছিল। ঠিক সেই কায়দায় নেপালে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের ছেলেমেয়ে নানা ধরনের বিলাসবহুল ফুর্তিফার্তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছিলেন।
অনেকের দুর্নীতির খবর সংবাদমাধ্যমে চলে এসেছিল। সেসব খবর ও ছবি বঞ্চনার আগুনে পুড়তে থাকা জেন-জিকে খেপিয়ে তুলেছিল। রাজনীতিকদের সন্তানদের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের পোশাক-গয়না প্রদর্শনের ছবি তাঁরা ভাইরাল করেছেন।
এই ‘আলালের ঘরের দুলাল’দের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘নেপো কিডস’। #NepoKids এবং #PoliticiansNepoBabyNepal হ্যাশট্যাগে ‘নেপো কিডস’দের চৌদ্দগুষ্টির কীর্তিকলাপের ফিরিস্তি তুলে ধরা হচ্ছিল।
সরকার যখন দেখল রাজনীতিকদের ধুতি খুলে যাচ্ছে, তখন ফট করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, এক্স—সব বন্ধ করে দেওয়া হলো। তার মানে, যে মাধ্যমগুলো জেন-জির শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো, সেগুলো সরকার দুম করে বন্ধ করে দিয়েছিল।
ধারণা করি, এই অঞ্চলের ‘বুড়িয়ে যাওয়া’ রাজনীতিকদের প্রধান সমস্যা হলো, তাঁরা বুঝতে পারেন না, জেন-জি দুবেলা না খেয়ে থাকতে রাজি, কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তারা সহ্য করতে পারে না।
ইন্টারনেট বন্ধ করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া মানে সরাসরি তাদের গলা টিপে ধরা। এতে তাদের দমবন্ধের অনুভূতি হয়। এতে তারা চরমভাবে অপমান বোধ করে।
সরকারের লোকজন দুর্নীতি করবে, আর সেই দুর্নীতির কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে বা ট্রল করে হালকা হওয়ার সুযোগও থাকবে না—এটা জেন-জি মানতে পারে না।
তাদের এই মানতে না–পারাটাই সরকার পতনের পেট্রলে জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি হয়েছে।
সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছিল, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল, তাই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
জেন-জি ঠিকই বুঝেছে, ‘ইন্টারনেট এমনি এমনি বন্ধ হয়ে গেছে’র মতো এটাও একটা ‘চালাকি মার্কা’ কথা। আর এই প্রজন্মের সবচেয়ে অপছন্দ হলো সোজা না বলে ঘুরিয়ে বলা কথা বা চালাকি করা কথা। এতে তারা প্রচণ্ড বিরক্ত হয়েছে।
সেই বিরক্তি থেকে তারা রাস্তায় নেমেছে। বিক্ষোভ করেছে। তাদের এই বিক্ষোভে নিশ্চয়ই সরকারবিরোধী শক্তিগুলোর সমর্থন ছিল। কিন্তু কেউ সামনে আসেনি। পেছন থেকে আন্দোলনে সহায়তা করেছে। গত বছর ঠিক এই জিনিস আমরা বাংলাদেশে দেখেছি।
গত বছর আমাদের দেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছিল, তখন আন্দোলনকারীদের মধ্যে কোন নেতার কী নাম, কী পরিচয়; তা নিয়ে জেন-জিকে অতটা মাথা ঘামাতে দেখিনি।
নেপালেও একই ঘটনা দেখা গেছে। সরকার ফেলে দেওয়ার মতো এত বড় কাণ্ড তারা ঘটিয়ে ফেলল, কিন্তু কেউ ঠিকমতো জানে না, এই আন্দোলনের মূল নেতা কে। আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ছিল ‘নামহীন, গৃহহীন...দীপ্তিহীন, কীর্তিহীন’। শুধু এইটুকু সবাই জেনেছে, তারা ‘জেন-জি’।
কোনো দল বা ব্যক্তি এই আন্দোলনের মালিকানা দাবি করেনি। এটা ছিল সচেতন কৌশল। কারণ, এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মতো নেপালেও রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতি আর লুটেপুটে খাওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়।
এ কারণে তারা আন্দোলনটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলের নাম–গন্ধ রাখেনি। খুব পরিচিত কেউ আন্দোলনটির নেতৃত্বে ছিলেন না।
এই তরুণেরা খুব সচেতনভাবে, অর্থাৎ মেটিকিউলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে দলীয় সীমারেখা প্রত্যাখ্যান করে একটি বিবেকনির্ভর আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তাতেই সরকার পড়ে গেছে।
অনেকেই বলছেন, দুর্নীতিবাজ অলির সরকার পালানোয় উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এখন রাজতন্ত্রপন্থী ও হিন্দুত্ববাদীরা ক্ষমতায় চলে যেতে পারে। নতুন করে সেখানে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সুখের কথা, সামনে যা-ই হোক, যারাই ক্ষমতায় যাক—এই অভ্যুত্থান তাদের সামনে অন্তত সেই কড়া ধমক হাজির করেছে—‘ডোন্ট মেস উইথ জেন-জি।’
* সারফুদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক
- ই–মেইল: sarfuddin2003@gmail.com
![]() |
| এই অঞ্চলের ‘বুড়িয়ে যাওয়া’ রাজনীতিকদের প্রধান সমস্যা হলো, তাঁরা বুঝতে পারেন না, জেন-জি দুবেলা না খেয়ে থাকতে রাজি, কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তারা সহ্য করতে পারে না। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনের পক্ষে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনি শান্তি প্রক্রিয়ার বিরোধী। ১৯৯০ এর দশকে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি সরব ছিলেন। ২০০১ সালে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তিনি কার্যত ওই চুক্তির ইতি টেনেছেন।
৭২ ঘণ্টায় ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল
মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ছয় ছয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা চালায় দেশটি। তাদের দাবি সেখানে হামাস নেতৃবৃন্দের বৈঠককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ওই হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে হামাসের রাজনৈতিক শাখার উচ্চপদস্থ নেতা খালিদ আল হাইয়া অন্তর্ভুক্ত। মূলত তার কার্যালয় লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়। এতে হাইয়ার সঙ্গে তার তিনজন দেহরক্ষী এবং কাতারের এক সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন। তবে অন্যান্য কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতা প্রাণে বেঁচে যান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, সেসময় ইসরাইলের হামলা শুধু কাতারেই সীমাব্ধ ছিলোনা। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ছয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। গণমাধ্যমটি বলছে, ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, কাতার এবং ইয়েমেনে হামলা চালানো হয়েছে। সোমবার থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এরমধ্যে সোমবার ৬৭ জনের মৃতদেহ গ্রহণ করেছে হাসপাতাল। এছাড়া ৩২০ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই নিহতের মধ্যে ১৪ জন ত্রাণপ্রার্থী ছিলেন। এছাড়া দুই শিশুসহ মোট ছয়জন দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাকি ৮৩ জন নিহত হয়েছেন মঙ্গলবার। এ দিন আরও ২২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
গাজায় হামলার মধ্যেই সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে লেবাননের বেক্কা এবং হেরমেল জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার এবং তাদের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব। যদিও তাদের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এখনও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। গত নভেম্বরে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর হিজবুল্লাহকে টার্গেট করে পুনরায় হামলা চালানো ইসরাইল। একই দিন সিরিয়ারতেও হামলা চালায় দেশটি। ওই দিন লাতাকিয়া নামক শহরের একটি বিমান ঘাঁটি এবং সামরিক ব্যারাকে হামলা চালানো হয়। তবে এতে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান তারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ইসরাইলের ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সোমবার রাতে তিউনিসিয়ার গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রধান জাহাজ বন্দরে নোঙ্গর করার সময় ড্রোন হামলার শিকার হয়। ধারণা করা হচ্ছে এটি ইসরাইলের হামলার অংশ। ড্রোন হামলায় বোটটিতে আগুন লেগে যায়। ২৩ মিটার লম্বা ওই জাহাজটিতে পর্তুগালের পতাকা ছিল। জাহাজের বোর্ডে ছয়জন কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ওই হামলায় জাহাজের প্রধান ডেক মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পান জাহাজে অবস্থানকারী যাত্রী এবং ক্রু। এদিকে বুধবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যেটি এক মাসের মধ্যে তেল আবিবের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে ২৮ আগস্ট ইসরাইলের বিমান হামলায় হুথি সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল রাহাউই নিহত হন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করবে যন্ত্র
বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের চিন্তাভাবনা ছিল ভিন্ন। খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য নজর দেন অপ্রচলিত এক উৎসের দিকে—মরুভূমির শুষ্ক বাতাস। কাঠখড় পুড়িয়ে সফলও হয়েছেন তাঁরা। ছোট জানালার আকৃতির একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। তাতে রয়েছে ‘হাউড্রোজেল’ নামের শোষক পদার্থ। এর সঙ্গে মেশানো হয়েছে লবণ। এই হাইড্রোজেল আবার ঘিরে রাখা হয়েছে কাচ দিয়ে।
হাইড্রোজেল বাতাস থেকে সরাসরি জলীয় বাষ্প শোষণ করে। শোষণ করা বাষ্পের পরিমাণ যত বাড়ে, ততই ফুলে ওঠে পদার্থটি। পরে আবার বাষ্প ছেড়ে দিয়ে আকারে ছোট হয়ে আসে। সেই বাষ্প ঘিরে থাকা কাচের দেয়ালে বিশুদ্ধ পানির কণার আকারে জমা হয়। পরে তা একটি নল দিয়ে গড়িয়ে পড়ে জমা হয় পাত্রে। এভাবে পানি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন হয় না বিদ্যুতের। শুধু দরকার সূর্যের তাপ।
মরুভূমির বাতাস শুষ্ক হওয়ায় যন্ত্রটি থেকে আপাতত খুব বেশি পরিমাণে পানি সংগ্রহ করা যায় না বলে জানিয়েছেন এমআইটির যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সুয়ানহে ঝাও। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় দিনে একটি কাপের তিন ভাগের দুই ভাগ পরিমাণ সুপেয় পানি পাওয়া যাবে। আসলে এই যন্ত্রের লক্ষ্য হলো খুব শুষ্ক মরুভূমিতে মানুষের কাছে যেন অন্তত খাওয়ার পানিটুকু সরবরাহ করা যায়।
বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ কিন্তু নতুন কোনো কৌশল নয়। শত শত বছর ধরে প্রাচীন নানা কৌশলে সাগর ও পর্বত এলাকা থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে আসছে মানুষ। পরে তা ঘনীভবন করে পানিতে পরিণত করা হয়। তবে এসব কৌশলে বাতাসে বেশি জলীয় বাষ্প থাকতে হয়। অধ্যাপক সুয়ানহে ঝাওসহ অন্য গবেষকেরা মিলে যে যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, তাতে খুব শুষ্ক পরিবেশেও বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ করা যাবে।
এমন পরিবেশ থেকে পানি সংগ্রহের জন্য শোষক পদার্থের ওপর নির্ভর করতে হয়। এমন শোষক পদার্থের ছোট ছোট প্যাকেট জুতার বাক্সে দেখতে পাই আমরা। আর্দ্রতা শোষণ করে জুতাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এগুলো। এই শোষকগুলো কঠিন। কিছু তরল শোষক আছে। তবে সুয়ানহে ঝাওয়ের যন্ত্রে ব্যবহৃত হাইড্রোজেল শোষকটি স্পঞ্জের মতো। এমনই আরেকটি শোষকের নাম অ্যারোজেল।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল ওয়েস্টারহফ বলেন, এই হাইড্রোজেলের বড় একটি সুবিধা হলো জলীয় বাষ্প শোষণ করে এটি নিজের আকারের তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত ফুলে উঠতে পারে। এটি সস্তাও। এমআইটির আরেক অধ্যাপক ইভেনলি ওয়াং বলেন, সস্তা হওয়ার কারণে শিশুদের ডায়াপারে হাইড্রোজেল ব্যবহার করা হয়। আর হাইড্রোজেল খুব কম পরিমাণ শক্তি খরচ করে।
হাইড্রোজেল ব্যবহার করে বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও হয়েছে। যেমন লাতিন আমেরিকার দেশ চিলিতে। দেশটির আতাকামা মরুভূমিকে বলা হয় মেরু অঞ্চলের বাইরে সবচেয়ে শুষ্ক স্থান। সেখানে হাইড্রোজেল ও লবণের মিশ্রণ ব্যবহার করে প্রতি বর্গমিটার জায়গায় দশমিক ১ গ্যালনের (দশমিক ৩৮ লিটার) মতো বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা।
![]() |
| মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকদের তৈরি একটি যন্ত্র। ছবি: এমআইটির সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে জেন-জিদের পছন্দ কে এই সুশীলা কারকি
নেপালে দুই দিনের বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। সেদিন রাত থেকেই দেশের ‘পরিস্থিতির’ নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। বিভিন্ন শহরে মোতায়েন করা হয় সেনাসদস্যদের। এরই মধ্যে বুধবার তরুণদের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠক করেন সেনা কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবারও তাঁদের আলোচনায় বসার কথা ছিল।
নেপালে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। আর জেন–জি প্রতিনিধি ওজাশ্বি রাজ থাপা সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের প্রধান হিসেবে সুশীলা কারকির নাম বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে।
ওজাশ্বি রাজ থাপার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভকারীরা চান নেপালের পার্লামেন্ট যেন ভেঙে দেওয়া হয়। তবে দেশের সংবিধান বাতিল করার পক্ষে নন তাঁরা। আপাতত সংশোধনই যথেষ্ট বলে মনে করছেন। আর বিক্ষোভকারীরা ক্ষমতায় থাকতে চান না বলে এএফপিকে জানিয়েছেন তাঁদের আরেক প্রতিনিধি সুদান গুরুং। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে কোনো অবস্থান চাই না। আমরা প্রকৃত সংস্কার চাই।’
কে এই সুশীলা
জেন–জিদের পছন্দের প্রার্থী সুশীলা কারকির বয়স ৭৩ বছর। ২০১৬ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে অবসরে। জেন–জি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একজন রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে সুশীলা রাজি আছেন। এখন তাঁকে নিয়োগের উপায় খোঁজা হচ্ছে।
নেপালের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সুশীলা। এ বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল রয়টার্স। তবে সাড়া মেলেনি। সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নিয়ে আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাতে তিনি বলেছেন, বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতির সমাধান করতে সব ধরনের চেষ্টা করছেন তিনি। গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য এবং শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে এ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে সবাইকে আশ্বস্ত থাকতে বলেন প্রেসিডেন্ট।
নেপালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুজিত কুমার ঝা। ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক বলেন, ‘আমরা সুশীলাকে একজন সাহসী এবং নিজ সংকল্পে অটল মানুষ হিসেবে চিনি।’ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সবাই সুশীলাকে সরকারপ্রধান হিসেবে সমর্থন করছেন না। তাই সর্বসম্মতভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
আলোচনায় আরও যাঁরা
নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে জেন–জিদের পছন্দ হিসেবে কুলমান গিসিংয়ের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি দেশটির বিদ্যুৎ বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। নেপালের বিদ্যুৎ–বিভ্রাট মোকাবিলা করে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি তাঁকে বিদ্যুৎ বোর্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি দিয়ে কুলমান গিসিংয়ের প্রতি সমর্থন জানান বিক্ষোভকারীদের একাংশ। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবিধানিকভাবে সুশীলা কারকি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হতে পারেন না। কারণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিচারিক কাজের বাইরে অন্য কোনো দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে। আর জেন–জিদের নেতা হওয়ার জন্য তিনি ‘অনেক বয়স্ক’।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে কাঠমান্ডুর সাবেক ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহর নাম শোনা যাচ্ছিল। একজন র্যাপার হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। তবে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি লিখেছেন, সুশীলা কারকির প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
নিহত বেড়ে ৩৪
নেপালে দুর্নীতি, বেকারত্ব, বৈষম্য ও রাজনীতিবিদদের স্বজনপ্রীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এরই মধ্যে সম্প্রতি ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। এর জেরেই সোমবার থেকে বিক্ষোভে নামেন তরুণেরা। সেদিনই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন।
বৃহস্পতিবার নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এদিন পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি। এদিনও কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি ছিল। রাস্তায় ছিল সেনাসদস্যদের উপস্থিতি। বন্ধ ছিল স্কুল, কলেজ ও দোকানপাট। তবে জরুরি কিছু সেবা চালু করা হয়।
![]() |
| সুশীলা কারকি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উপসাগরীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে, বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি বলেছেন, দোহায় ইসরাইলের হামলার অবশ্যই একটি ‘যৌথ প্রতিক্রিয়া’ প্রয়োজন। আরব নেতারা ইতিমধ্যে দোহায় ছুটে গেছেন সংহতি জানাতে। তিনি সিএনএন’কে বুধবার বলেন, এখান থেকে একটি প্রতিক্রিয়া আসবে। এ প্রতিক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলই ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এমন কিছু হবে যা ইসরাইলকে এই দমনপীড়ন চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করবে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে তিনি অভিযুক্ত করেন এ অঞ্চলকে ‘অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন’ বলে।
আল জাজিরার চার্লস স্ট্র্যাটফোর্ড জানান, কাতারে শিগগির একটি আঞ্চলিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে আইনজীবী দল গঠন করেছে, যাতে নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা যায়। তিনি বলেন, চাপ ক্রমেই বাড়ছে শুধু কাতার থেকে নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও। এজন্যই তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ) সিএনএন-এ এত জোরালো বক্তব্য দিলেন।
মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী দোহায় হামাস নেতাদের টার্গেট করে, যারা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। তবে হামাস জানিয়েছে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বেঁচে গেছে। কাতার বলেছে, তাদের দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ হামলার নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বুধবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনালাপে এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলা অগ্রহণযোগ্য। আমি এর নিন্দা করছি। কাতারের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি ফ্রান্সের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা নায়িম কাসেম বলেন, কাতারে হামলা উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য হুঁশিয়ারি। সেটা হলো ভবিষ্যতে তারাও রেহাই পাবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা কাতারের পাশে আছি, আমরা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধেরও পাশে আছি। এই হামলা বৃহত্তর ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের অংশ।
‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণাটি দখলদার ইসরাইলপন্থি চরম জাতীয়তাবাদীদের কল্পিত পরিকল্পনা, যা পশ্চিম তীর, গাজা, লেবানন, সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের অংশ দখলের দাবি করা হয়। অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো ইসরাইলকে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। বুধবার একদিনেই গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭২ জন নিহত হন। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪,৬৫৬-এর বেশি। বর্তমানে গাজা সিটির (যেখানে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বসবাস করে) দখল নিতে হামলা আরও জোরালো করেছে ইসরাইল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেন, এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল গাজায় শান্তির যেকোনো সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা। তিনি বলেন, হামাস নেতাদের উপস্থিতি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানত। এটা আমরা লুকাইনি। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু যা করেছেন, তাতে ওই ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির আশা শেষ হয়ে গেছে।
কিন্তু বিশ্বনেতাদের সমালোচনায়ও নেতানিয়াহু নির্বিকার। বুধবার তিনি কাতারকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি কাতার ও সব দেশকে বলছি যারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়- তাদের বের করে দাও বা বিচারের মুখোমুখি করো। নইলে আমরা করব।
গত দুই বছরে ইসরাইল হামাসের বহু শীর্ষ নেতা হত্যা করেছে। এর মধ্যে আছেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার, সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ এবং রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়ে। কাতার নেতানিয়াহুর ‘বেপরোয়া মন্তব্যের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কাতার বলেছে, নেতানিয়াহু ভালোভাবেই জানেন, হামাস অফিস দোহায় রাখা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অনুরোধে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে। এখন তিনি তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন কাপুরুষোচিত হামলা ও ভবিষ্যৎ হুমকির ন্যায্যতা দিতে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই শাবানা মাহমুদ
এর আগে যুক্তরাজ্যের আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শাবানা মাহমুদ। উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার পদত্যাগ করার পর গত শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকারের একটি বড় রদবদলের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান শাবানা। এটি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চার রাষ্ট্রীয় কার্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের একটি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কোনো মুসলিম নারীর দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনা দেশটিতে এটিই প্রথম।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চার রাষ্ট্রীয় কার্যালয় হচ্ছে—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়।
স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাবানা মাহমুদের জন্ম বার্মিংহামে। তাঁর মা-বাবা দুজনেরই বাড়ি পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। শাবানা মাহমুদ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১০ সালে পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার পর থেকে শাবানা যা যা করেছেন, সেগুলোর তালিকা নিজের ওয়েবসাইটে রেখে দিয়েছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তিনি এ ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে থাকেন।
২০১০ সালে গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলা জাহাজে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়ে দেওয়া একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছিলেন শাবানা। ওই হামলায় ১০ জন নিহত হন। প্রস্তাবটিতে গাজার ওপর ইসরায়েলের অবরোধ দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়।
শাবানা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ইসরায়েলের হাতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে ব্যবসা পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর নাম প্রকাশ করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শাবানা।
২০১৪ সালে শাবানা সেন্সবারি সুপারমার্কেট চেইনের একটি শাখার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। ফিলিস্তিনে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পণ্যের বিক্রি বন্ধ করতে সুপারমার্কেটটির কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
ওই সময় যুক্তরাজ্যের ইহুদিদের সংগঠন জিউয়িশ লিডারশিপ কাউন্সিল শাবানার সমালোচনা করেছিল। তারা বলেছিল, শাবানা জনগণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা উসকে দিচ্ছেন। এ বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে একটি সুপারমার্কেট বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার থাকা মানুষেরা শাবানার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি উত্থাপিত প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। শাবানা লেবার পার্টির নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নেন। যদিও দলের ভেতরের অনেকেই ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
এর ফলে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বার্মিংহাম লেডিউড আসনে শাবানা মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আখমেদ ইয়াকুব। তিনি মূলত গাজার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রচার চালান।
নির্বাচনে শাবানার সঙ্গে ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার ৪২১-এ নামিয়ে আনতে সক্ষম হন ইয়াকুব। ২০১৯ সালে ভোটের ব্যবধান ছিল ২৮ হাজার ৫৮২।
‘এমপি ওয়ার ক্রাইমস’ নামের একটি ওয়েবসাইটে শাবানা মাহমুদকে ‘স্পষ্টত ফিলিস্তিনবিরোধী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের সাম্প্রতিক অবস্থান মূল্যায়ন করে থাকে। ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়, শাবানা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি। তিনি ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রাখার চিঠিতেও স্বাক্ষর দেননি।
অবশ্য ওয়েবসাইটে এটাও বলা হয়েছে, শাবানা মাহমুদ লেবার ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইনের সদস্য। গত বছর তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বর্জন, সেখান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আন্দোলনকে অবৈধ ঘোষণার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, মন্ত্রিসভার শীর্ষ ব্যক্তিদের যাঁরা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শাবানাও আছেন। তবে যাঁরা ভেবেছিলেন শাবানা নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান বদলাবেন, তাঁরা সম্প্রতি হতাশ হয়েছেন।
গত রোববার শাবানা বলেন, ‘ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো এবং নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এক জিনিস নয়।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী বলছে
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু শনিবারই লন্ডনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮৯০ জন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শাবানা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান মার্ক রাউলির কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে দেখা গেছে, শনিবার বিক্ষোভ চলাকালীন বিশেষ অভিযানসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে আছেন তাঁরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থকদের গ্রেপ্তারে তিনি (শাবানা) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমর্থন দিয়েছেন।’
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ইস্যুতে শাবানার অবস্থানের সঙ্গে পূর্বসূরি ইভেট কুপারের অবস্থানের মিল রয়েছে। নিজের এমন অবস্থানের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাবানা।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টির সমর্থন ক্রমাগত কমছে। তাই শাবানা মাহমুদকে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে সতর্কভাবে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ২০২৯ সালের গ্রীষ্মের মধ্যে ওই নির্বাচন হওয়ার কথা।
![]() |
| শাবানা মাহমুদ। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রধান নিশানা খলিল আল–হায়া কে
হামাস জানিয়েছে, হামলায় তাদের পাঁচ সদস্য ও একজন কাতারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে সংগঠনের আলোচক দল বা শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো ক্ষতি হয়নি।
হামাসের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার সময় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের তরফে প্রস্তাব করা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এতে অন্যদের মধ্যে হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান ও শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হায়া উপস্থিত ছিলেন।
ইসরায়েলি হামলায় যেসব নেতাকে নিশানা করা হয়েছিল কিন্তু বেঁচে গেছেন বা নিহত হয়েছেন, তাঁদের সম্পর্কে যা জানা গেছে—
![]() |
| কাতারে ইসরায়েলি হামলার অন্যতম নিশানায় থাকা খলিল আল-হায়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
খলিল আল-হায়া
কাতারে ইসরায়েলি হামলার অন্যতম নিশানা ছিলেন খলিল আল-হায়া। তিনি বর্তমানে নির্বাসনে থেকে হামাসের গাজা শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং প্রধান আলোচকের ভূমিকা পালন করছেন।
গত বছর তেহরানে হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া, গাজায় নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফ হত্যাকাণ্ডের পর খলিল আল-হায়ার গুরুত্ব বেড়ে যায়। ইসমাইল হানিয়া নিহত হওয়ার পর গাজার নেতৃত্বে আসেন সিনওয়ার, কিন্তু তাঁকেও ২০২৪ সালে হত্যা করা হয়। এর পর থেকে আল-হায়া হামাসের পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদের একজন ছিলেন।
নেতৃত্ব পরিষদ হলো যুদ্ধের সময় হামাসকে পরিচালনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে গঠিত অস্থায়ী পাঁচ সদস্যের কার্যনিবাহী কমিটি।
১৯৬০ সালে গাজায় জন্ম নেওয়া আল-হায়া ১৯৮৭ সালে হামাসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্ত আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। কাতারে অবস্থান করায় তিনি ইসরায়েল, মিসর, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রধান ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।
গাজার বাইরে অবস্থান করায় আল–হায়া সহজে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে পারতেন, যা গাজার ওপর ইসরায়েলি অবরোধের কারণে উপত্যকাটিতে থেকে সম্ভব ছিল না। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হামাসের আলোচক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যাঁরা, তিনি তাঁদের অন্যতম।
ইসরায়েলি হামলায় আল-হায়ার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় তাঁর বড় ছেলে ওসামার বাড়ি ধ্বংস হয়। ওই হামলায় ওসামা, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের তিন সন্তান নিহত হন। আর মঙ্গলবারের হামলায় নিহত হন তাঁর ছেলে হুমাম।
আল-হায়া আল–জাজিরাকে বলেন, ‘যেকোনো প্রাণহানিই মর্মান্তিক। (ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী) আন্দোলনের নেতৃত্বের রক্তও ঠিক ততটা মূল্যবান, যতটা কোনো ফিলিস্তিনি শিশুর রক্ত মূল্যবান।’
আর কারা নিশানায় ছিলেন
আল-হায়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি হামলার নিশানায় ছিলেন জাহের জাবারিন। তিনি হামাসের আর্থিক কার্যক্রমের প্রধান ও নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য।
জাহের জাবারিন ১৯৯৩ সালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দুই দশক কারাভোগ করেন। ২০১১ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির পর দ্রুত শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
জাবারিন সংগঠনের আর্থিক দপ্তরের প্রধান হন এবং বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। বর্তমানে তিনি পশ্চিম তীরে হামাসের প্রধান ও নেতৃত্ব পরিষদের পাঁচ সদস্যের একজন।
কাতার হামলায় নিহত যাঁরা
কাতারে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন আল-হায়ার দপ্তরের পরিচালক জিহাদ লাবাদ, আল-হায়ার ছেলে হুমাম আল-হায়া, দেহরক্ষী আবদুল্লাহ আবদুল ওয়াহিদ, মোয়ামেন হাসসুনা ও আহমেদ আল-মামলুক।
কাতারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ষষ্ঠ ব্যক্তি হলেন দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হুমাইদি আল-দোসারি।
হামাসের বর্তমান নেতা কারা
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এরপর সংগঠনটি পাঁচ সদস্যের নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করে। তাঁদের মধ্যে আছেন আল-হায়া ও জাবারিন। এ ছাড়া গাজায়ও একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতা আছেন।
![]() |
| হামাসের নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য খালেদ মেশাল। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
অন্য নেতারা হলেন—
ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদ : ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর ইজ্জ আল–দীন আল–হাদ্দাদ গাজা উপত্যকায় হামাসের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা হয়ে ওঠেন। ইসরায়েল তাঁকে ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মনে করে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রেখেছে। তিনি হামাসের নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য নন।
খালেদ মেশাল: ৬৮ বছর বয়সী খালেদ মেশাল নব্বইয়ের দশক থেকে হামাসের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা। ১৯৯৭ সালে জর্ডানে ইসরায়েলি এজেন্টরা তাঁর কানে ধীরগতির প্রাণঘাতী রাসায়নিক প্রয়োগের চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হয়। পরে ওই এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকেই পরিচিতি পান খালেদ মেশাল। বর্তমানে তিনি কাতারে আছেন ও নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ দারবিশ: হামাসের নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশও কাতারে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার জন্য একটি জাতীয় ঐক্যের সরকারের ধারণা প্রকাশ্যে সমর্থন করেন।
নিজার আওয়াদাল্লাহ: দীর্ঘদিনের নেতা নিজার আওয়াদাল্লাহকে হামাসের অন্যতম মূল সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি সংগঠনের সশস্ত্র শাখাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি বা গণমাধ্যমে উপস্থিত হননি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন চাপের মুখে ভারত যে রণকৌশল নিয়েছিল বাজপেয়ী-বুশের আমলে by রেহান ফজল
মার্কিন সেনেটর লিণ্ডসে গ্রাহাম তো এও বলেছিলেন, "রাশিয়ার তেল কিনে ভারত ভ্লাদিমির পুতিনের সমরসজ্জাকে উৎসাহ দিচ্ছে।"
তবে এটাই প্রথমবার নয় যখন আমেরিকা ভারতের নীতিমালা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
ভারত যখন দ্বিতীয়বার পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফারণ ঘটায় ১৯৯৮ সালে, তখন আমেরিকা ভারতেও ওপরে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছিল।
ভারতের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কূটনীতিক টিপি শ্রীনিবাসন এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, "ক্লিনটন ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাসে রীতিমতো হুমকির সুরে এক বার্তা পাঠিয়েছিলেন : "আমি বার্লিন যাচ্ছি। সেখানে পৌঁছতে আমার ছয় ঘণ্টা লাগবে। যদি ততক্ষণে ভারত সরকার বিনা শর্তে সিটিবিটি-তে সই না করে তাহলে আমি বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।"
"প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নরেশ চন্দ্রকে জানানো হয় যাতে তিনি পরের দিন দুপুর পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া না দেন, যতক্ষণে পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফােরণের বাকি অংশের কাজ শেষ না করা হচ্ছে," বলেছিলেন মি. শ্রীনিবাসন।
ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, "১৩ই মে সরকার ঘোষণা করল যে এখন থেকে আর কোনও পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বিস্ফারণ ঘটানো হবে না এবং সিটিবিটি-এত সই করতে সরকার রাজি।"
বেশ কয়েকদিন ধরে পর্দার আড়ালে চলতে থাকা কূটনীতি এবং যশবন্ত সিং-স্ট্রোব ট্যালবটের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠকের পরে আমেরিকাকে ভারত নিজেদের পক্ষে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
ইরাকের ওপরে মার্কিন হামলায় 'ধর্মসংকটে' ভারত
অটল বিহারী বাজপেয়ীর বাসভবন, দিল্লির সাত নম্বর রেস কোর্স রোডে ২০০৩ সালের হোলির প্রস্তুতি শেষ। বাইরের লনে অনেক মন্ত্রী এবং তার চেনাশোনা মানুষ ঘিরে রয়েছেন মি. বাজপেয়ীকে। কেউ তার মাথায় একটা পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা সব প্রথা ভেঙ্গে ঢোলের তালে তালে একটা হোলির গান ধরেছেন।
সকলের অনুরোধে মি. বাজপেয়ীও হাত-পা নেড়ে নাচার চেষ্টা করছিলেন। ততদিনে প্রধানমন্ত্রীর পদে তিনি পাঁচ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন, ৭৯টি বসন্ত পেরিয়ে এসেছেন তিনি। কিছুটা ধীরে সুস্থে চলাফেরা করেন, কিন্তু ভাজাভুজি খাবার আর চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়ে ওজন প্রায় চার কিলোগ্রাম কমিয়ে ফেলেছেন তিনি। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দেখাচ্ছিল তাকে।
সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই 'বিলিভার্স ডিলেমা'তে লেখক অভিষেক চৌধুরী লিখেছেন, "মি. বাজপেয়ী কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতে চাইছিলেন, কিন্তু ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সম্ভাবনা ওই প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিতে বসেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ইরাকের কথিত ওয়েপন অফ মাস ডেস্ট্রাকশন বা গণবিধ্বংসী অস্ত্র থেকে নিজের দেশকে বাঁচাতে চাইছিলেন।"
"গোড়ার দিকে মি. বুশকে অটল বিহারী বাজপেয়ী অনুরোধ করেছিলেন যাতে জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে নিয়ে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র নষ্ট করে ফেলা হয়," লিখেছেন মি. চৌধুরী।
যুদ্ধ কি আদৌ উচিত? ভারতের আশংকা
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা ইরাকে তিনশো জায়গায় পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিলেন, কিন্তু গণবিধ্বংসী অস্ত্রের কোনও প্রমাণ তারা পান নি। তা সত্ত্বেও মি. বুশের উদ্দেশ্যের খামতি দেখা যাচ্ছিল না।
প্রাক্তন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার তো রাখঢাক না করেই বলেছিলেন, "তালিবানকে ক্ষমতা থেকে সরানোটাই যথেষ্ট নয়। শুধু এতেই ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার যে মার্কিন উদ্দেশ্য, পুরোপুরি মেটে নি।"
তবে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এটিকে অনর্থক লড়াই বলে মনে করেছিল। এই লড়াইয়ের আদৌ প্রয়োজন নেই এবং পুরো ভাষ্যটাই ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপরে ভিত্তে করে গড়ে তোলা হয়েছে।
অভিষেক চৌধুরী লিখেছেন, "এই যুদ্ধের ফলে ভারতের লাভে থেকে ক্ষতিই বেশি হওয়ার কথা, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপরে দেশ পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল আর নির্বাচনের বছরে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি যে কোনও সরকারের কাছেই খুশির খবর বহন করে আনে না।
"এই সংকটের ফলে তেলের ব্যাপারে কূটনীতির গুরুত্ব সরকার অনুধাবন করতে পেরেছিল। আর তারই ফলস্বরূপ হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম আর ভারত পেট্রোলিয়ামের বেসরকারিকরণ বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। তাদের বড় চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত ৪০ লক্ষ ভারতীয়কে কীভাবে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়," লিখেছেন মি. চৌধুরী।
তিনি আরও লিখেছেন, "গুজরাত দাঙ্গার পর থেকে ভারতের মুসলমানরা বাগদাদকে কব্জা করার মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জোরেশোরে প্রতিবাদ করছিলেন এবং সেই ক্ষোভ বেশ খোলাখুলিই প্রকাশ করছিলেন।"
আমেরিকা ব্যাপক সমর্থন পায় নি
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটা প্রস্তাব নিয়ে আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে ইরাক যেন ১৭ই মার্চের মধ্যে তার সব গণবিধ্বংসী অস্ত্র হস্তান্তর করে দেয়।
জিন এডওয়ার্ড স্মিথ তার বই 'বুশ'-এ লিখেছেন, "যেদিন ওই প্রস্তাবের ওপরে ভোটাভুটি হওয়ার কথা, সেদিনই আমেরিকা ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ তাদের ভয় ছিল যে ভোট হলে তারা হেরে যাবে। দুদিন পরে মি. বুশ ইরাকের ওপরে হামলা শুরু করেন।
"নিজেকে তিনি এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন যেন তিনিই ঈশ্বরের ইচ্ছা পূরণ করছেন, যিনি ইরাকের একনায়কতন্ত্রকে সরিয়ে পশ্চিমা দেশগুলির মতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি দেশ ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধে সামিল হতে অস্বীকার করে," লেখা হয়েছে ওই বইটিতে।
ভারতের সংসদে মার্কিন হামলার 'নিন্দা'
মার্কিন হামলার আগেই ভারতের সংসদে সরকারের ওপরে চাপ তৈরি হয় যাতে স্পষ্টভাবে এটা বলা হয় যে 'কোনও দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা বদলের জন্য পরাশক্তি তার শক্তি ব্যবহার করবে – এটা ভুল এবং এই নীতি সমর্থন করা যায় না।'
এরপরেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি জারি করে বলে, "ইরাকে যে সামরিক কর্মকাণ্ড চলছে, তাকে উচিত বলে মেনে নেওয়া যায় না।"
পরের দিন মি. বুশ অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ফোন করে অনুরোধ করেন যে ভারত যেন তার বিরোধিতার সুর কিছুটা নরম করে।
প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা তার আত্মজীবনী 'রিলেন্টলেস'-এ লিখেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাকে হামলা করল তখন ভারতে সংসদের অধিবেশন চলছিল। কংগ্রেস দল বিশ্বকে দেখাতে চাইছিল যে তারা আমেরিকা-বিরোধী। তাই তারা জোর দিচ্ছিল যাতে সংসদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা করা হয়, নাহলে সংসদ চলতে দেবে না তারা।
"ব্যক্তিগতভাবে আমি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ছিলাম। তবে আমি যে ইরাকে মার্কিন কর্মকাণ্ডের সমর্থন করছিলাম, তা নয়। তবে সংসদে এধরণের প্রস্তাবের ফলে সরকারের নীতি প্রণয়নের নমনীয়তার সুযোগ করে যায়," লিখেছেন মি. সিনহা।
তার ভাষায়, "পরে, সংসদ যাতে চলতে পারে, সেজন্য আমরা প্রস্তাবটা পাশ করি যেখানে হিন্দি শব্দ 'নিন্দা' কথাটার উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ইংরেজিতে ব্যবহার করা হয়েছিল 'ডিপ্লোর' শব্দটা। এই শব্দটার ধার 'নিন্দা'র থেকে কিছুটা কম।"
ইরাকে ভারতীয় সেনা পাঠানোর অনুরোধ আমেরিকার
ভারত-মার্কিন সম্পর্কে আরও একটা সমস্যা সামনে এসেছিল সেই সময়ে। মে মাসে ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্র। তখন আমেরিকা তাকে অনুরোধ করে যে যুদ্ধের পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে যে বাহিনী যাবে ইরাকে, তার মধ্যে যেন যে ভারতও তাদের সেনা পাঠায়।
মি. মিশ্র এর পক্ষেই ছিলেন। এর আগে 'ইসলামি সন্ত্রাসবাদ'-এর সঙ্গে লড়াই করতে ভারত-আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের পক্ষে সরব ছিলেন।
লাল কৃষ্ণ আদভানি যখন ২০০৩ সালের জুন মাসে আমেরিকা যান, তখন তিনিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ভারত সেনা পাঠাতে ইচ্ছুক।
আসলে আমেরিকা চাইছিল যে ভারত আর পাকিস্তান দুই দেশই ওই 'শান্তি সেনাবাহিনী'তে নিজেদের সৈন্য পাঠাক। ভারতকে বলা হয়েছিল যে উত্তর ইরাকে প্রশাসন চালানোর জন্য একটা পুরো ডিভিশন সেনা যাতে পাঠানো হয়।
অভিষেক চৌধুরী লিখেছেন, "ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ চাইছিল যে ভারত এই প্রস্তাব মেনে নিক, কারণ তাহলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল।
"ভারতে মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি জারি করে জানিয়েছিল যে শান্তি সেনাবাহিনীতে ভারত যোগ দিক, এটাই আমেরিকার ইচ্ছা, কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, তাদের ভাবমূর্তিও পরিষ্কার এবং তাদের যথেষ্ট সংখ্যক সেনা রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী যেসব ইউনিটকে এই মিশনে পাঠাবে তার তালিকাও তৈরি করে ফেলেছে," লিখেছেন মি. চৌধুরী।
মার্কিন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাজপেয়ী
সেই সময়ে পাকিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত শিবশঙ্কর মেনন, যিনি আবার পরে পররাষ্ট্র সচিবও হয়েছিলেন, তিনি অনেক পরে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, "যশবন্ত সিং আর ব্রজেশ মিশ্র ছাড়া মি. আদভানি আর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসাররাও ইরাকে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর পক্ষে ছিলেন। আমেরিকা-বিরোধী জর্জ ফার্ণান্ডেজ প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের সমর্থন তো করেন নি, কিন্তু সেনাবাহিনীকে এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করার অনুমতি দিয়েছিলেন।"
কিন্তু মি. বাজপেয়ী এ ব্যাপারে কোনও নিশ্চিত অবস্থান নেন নি। এধরণের যে কোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মি. বাজপেয়ীকে একটা চিঠি লিখেছিলেন সোনিয়া গান্ধী।
যশবন্ত সিনহা লিখেছেন, "সঙ্গে সঙ্গেই মি. বাজপেয়ী সোনিয়া গান্ধীকে বৈঠকের জন্য ডাকলেন। প্রণব মুখার্জী, মনমোহন সিং আর নটবর সিংকে সঙ্গে নিয়ে সোনিয়া গান্ধী তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। মি. বাজপেয়ী খুব মন দিয়ে তাদের বক্তব্য শুনলেন। এনডিএ জোটে তার সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করলেন তিনি।
"বেশিরভাগ মানুষই ইরাকে ভারতীয় সৈন্য পাঠানোর পক্ষে ছিলেন না। এমনকি চিকিৎসকদের টিম পাঠানোরও বিরোধিতা হচ্ছিল। এটা মি. বাজপেয়ীর কাজের ধরণ। তিনি সবার মতামত শুনলেন, কিন্তু শেষমেশ সেটাই করলেন, যেটা দেশের স্বার্থের পক্ষে ঠিক। তার মত ছিল নিজের কাছের মানুষদের মতামত এড়িয়ে যাওয়ার সবথেকে ভাল উপায় হল সেই মতের বিরুদ্ধে একটা মত গড়ে তোলা," লিখেছেন মি. সিনহা।
সৈন্য না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার
ইরাকে ভারতীয় বাহিনী পাঠানোর ব্যাপারে অটল বিহারী বাজপেয়ী অন্যান্য দলের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন। তিনি কমিউনিস্টদের খুব সুচারুভাবে উস্কাচ্ছিলেন যাতে তারা বাহিনী পাঠানোর বিপক্ষে জোরেশোরে বিরোধিতা করে।
মন্ত্রীসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি বা সিসিএস-এর বৈঠকের বিবরণ একটি সাক্ষাতকারে শুনিয়েছিলেন শিবশঙ্কর মেনন।
তিনি বলেছিলেন, "বৈঠকে আদভানি চুপ করে ছিলেন। বাজপেয়ী তার কাছে জানতে চান যে আপনি কি ভাবছেন? সবাই ভারতীয় সেনাবাহিনী পাঠানোর পক্ষেই মতামত দিচ্ছিলেন। বাজপেয়ী চুপ করেই ছিলেন। তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করেন নি। এরপরে বৈঠকে সবাই নিশ্চুপ হয়ে যান।
"বাজপেয়ী ওই নিস্তব্ধতা আরও কিছুক্ষণ চলতে দিলেন। তারপরে বললেন, 'এই অভিযানে যারা মারা যাবেন, সেইসব সন্তানের মায়েদের আমি কী জবাব দেব?' বৈঠকে আবারও নিস্তব্ধতা। বাজপেয়ী সেই নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে বললেন, 'না, আমরা আমাদের ছেলেদের ওখানে পাঠাতে পারব না'।"
বন্ধুত্ব, তবুও স্বাধীন বিদেশ-নীতি
জুলাই পর্যন্ত ভারত আমেরিকাকে বলে আসছিল যে ইরাকে সেনা পাঠানোর ব্যাপার নিয়ে জাতিসংঘের সমর্থন নেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় নি। মি. বাজপেয়ী তখন ওই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যুক্তি দিলেন যে তার হাত-পা বাঁধা।
বছরের শেষে যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে ইরাকে কোনও গণবিধ্বংসী অস্ত্র নেই, তখন মি. বাজপেয়ী প্রথমবার জনসমক্ষে বলেন, "আমরা চাই নি যে আমাদের সেনাসদস্যরা একটি বন্ধু দেশে গিয়ে গুলির নিশানা হয়ে উঠুক।"
যশবন্ত সিনহা লিখেছেন, "আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করতে চান না মি. বাজপেয়ী, এমনটা নয়। কিন্তু তিনি এটা কিছুতেই চাইতেন না যে আমেরিকার প্রতিটা কথাই ভারত মেনে নিক। তার কাছে সম্পর্ক হবে সমানে-সমানে, পারস্পরিকভাবে এবং একে অপরকে সম্মান করবে।
"কার্গিল যুদ্ধের সময়ে বিল ক্লিন্টন যখন মি. বাজপেয়ী আর নওয়াজ শরিফকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানালেন, তখন মি. বাজপেয়ী এই যুক্তি দেখিয়ে এড়িয়ে যান যে যতক্ষণ পাকিস্তানের একজন সৈনিকও ভারতের মাটিতে থাকবে, ততক্ষণ আমেরিকা যাব না," লিখেছেন মি. সিনহা।
সিকিম নিয়ে চীনের চাপ সামলিয়েছেন যেভাবে
একইভাবে একবার চীনের চাপও সামলাতে হয়েছে ভারতকে। অটল বিহারী বাজপেয়ী ২০০৩ সালের জুলাই মাসে চীন সফরে গিয়েছিলেন। আলোচনার তালিকায় সবথেকে ওপরে ছিল বাণিজ্যের জন্য নাথু লা উন্মুক্ত করার বিষয়টি।
তবে নাথু লা গিরিপথ যে সিকিম, অর্থাৎ ভারতের অংশ, তা মেনে নিতে চায় নি চীন। ব্রজেশ মিশ্র থেকে শুরু করে অন্য ভারতীয় কূটনীতিকরা চীনকে রাজি করানোর জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা সফল হন নি।
অভিষেক চৌধুরী লিখেছেন, "সমস্যার সমাধান করতে মি. বাজপেয়ী যৌথ বিবৃতিতে সই করে দিলেন, যেটা আবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের পছন্দ হয় নি। যখন সংবাদ মাধ্যম তার কাছে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করল, তখন তিনি এটা মানতে অস্বীকার করেন যে তিনি ভারতের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন।
"দুটি দেশ একে অন্যের উদ্দেশ্য নিয়ে শঙ্কিত ঠিকই। সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় বিবাদ চলতে থাকলেও চীন কিন্তু খুব দ্রুতই সিকিমকে ভারতের অংশ বলে দেখাতে শুরু করল," লিখেছেন মি. চৌধুরী।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ
আবার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির জন্যও উদ্যোগ নিয়েছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। কার্গিল যুদ্ধের মধ্যেই তিনি কাশ্মীর সফরে গিয়ে কোনও পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই এক ভাষণে বলেছিলেন, "আপনাদের দু:খ কষ্ট ভাগ করে নিতে এসেছি আমি।"
তার কথায়, "সময় এসেছে, কাশ্মীরের মানুষ পুরণো কথা ভুলে গিয়ে মনুষ্যত্ব, গণতন্ত্র আর কাশ্মীরের নিজস্বতার ওপরে নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিন।"
পরের দিন কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, "যদি পাকিস্তান আজ ঘোষণা করে দেয় যে তারা সীমান্ত-পারের সন্ত্রাসবাদকে তারা চিরবিদায় দিচ্ছে, তাহলে আমি কালকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদ পাঠিয়ে দেব।"
মি. বাজপেয়ী তার হিন্দি বক্তৃতায় 'চিরবিদায়' বোঝাতে গিয়ে যে শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন, সেটি হল 'তিলাঞ্জলি' – তিল সহ জলাঞ্জলি, যেটা আসলে হিন্দুদের একটা ধর্মীয় রীতি, কোনও মৃত-ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়ে থাকে।
ওই ভাষণেই ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেছিলেন, "নিজেদের মতভেদ দূর করতে আমাদের আলোচনা আরও জরুরী হয়ে পড়েছে।"
ওই ঘোষণার দশ দিন পরে পাকিস্তানের সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জাফরুল্লাহ জামালি মি. বাজপেয়ীকে ফোন করে ট্রেন, বাস আর বিমান পরিসেবা শুরু করার এবং দুই দেশের দূতাবাসকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।
দুই দেশের মধ্যে যে বাক্যালাপ বন্ধ ছিল, তা কাটতে শুরু করে ওই ফোনালাপ থেকেই।
পাকিস্তান নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
জানুয়ারি ২০০৪ সালে ঘোষণা হয় যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলন হবে। অটল বিহারী বাজপেয়ী ইঙ্গিত দেন যে তিনি ওই সম্মেলনে যোগ দিতে চান। তবে শর্ত একটাই, সীমান্ত-পারের 'সন্ত্রাসবাদ' শেষ করার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাক পাকিস্তান।
পাকিস্তানে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শিবশঙ্কর মেনন বলেছিলেন, "মুশাররফ জানতেন যে মি. বাজপেয়ী যদি ওই সম্মেলনে না যোগ দেন তাহলে সম্মেলনের কোনও গুরুত্বই থাকবে না। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলে আসছিলাম যে যদি পাকিস্তান আমাদের কথা না মানে তাহলে বাজপেয়ী নিজের জায়গায় অন্য কাউকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেবেন। শেষমেশ পাকিস্তান আমাদের কথা মানতে হয়।"
দিল্লি থেকে মি. বাজপেয়ীর বিএমডব্লিউ গাড়িটি ইসলামাবাদে নিয়ে যাওয়া হল। সেটাতে চেপেই বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত আধঘণ্টার রাস্তা গিয়েছিলেন তিনি। মি. মুশাররফের সঙ্গে আলোচনার সময়ে মি. বাজপেয়ী অভিযোগ করেন যে ভারতে লাগাতার 'সন্ত্রাসী হামলা' হচ্ছে, যে কারণে নির্বাচনের বছরে তার পক্ষে কোনও লিখিত বক্তব্যে সই করতে সমস্যা হবে।
'সন্ত্রাসবাদীদের' বিরুদ্ধে কী কী পদক্ষেপ তারা নিচ্ছেন, তার বিস্তারিত জানান জেনারেল মুশাররফ।
অভিষেক চৌধুরী লিখেছেন, "৯/১১-র পরে পশ্চিমা দেশগুলি কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদকে বিদেশ-নীতির একটা অংশ হিসাবে দেখার পক্ষপাতী ছিল না। আমেরিকা পাকিস্তানের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছিল যাতে তারা নিজেরাই সন্ত্রাসবাদের উৎস বন্ধ করে দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে চীন সফরের সময়ে মি. মুশাররফকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যেন ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। মি. বাজপেয়ী চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-চুক্তিতে যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছিল।"
যৌথ বিবৃতির একটি বাক্য নিয়ে অস্বস্তি
ভারত আর পাকিস্তানের কর্মকর্তারা যখন যৌথ বিবৃতির খসড়া নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন পাকিস্তানের পেশ করা খসড়ার একটি বাক্য নিয়ে ভারত আপত্তি তুলেছিল।
সেই বাক্যটা ছিল এরকম : "সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের জন্য পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করা যাবে না।"
ইসলামাবাদে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়া তার বই 'অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট'-এ লিখেছেন, "ভারত জোর দিয়েছিল যে খসড়ায় 'পাকিস্তানের মাটি'-র বদলে 'পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জমি' শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এর অর্থ ওই কথার মধ্যেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকেও সামিল করা হয়ে যাবে।
"শিবশঙ্কর মেনন ফোন করে তারিক আজিজকে ভারতের আপত্তির কথা জানান। ঘটনাচক্রে সেই সময়ে আজিজ মুশাররফের পাশেই বসেছিলেন। মুশাররফ এক সেকেন্ডের মধ্যেই ভারতের আপত্তির সমাধান করে দিলেন,"লিখেছেন মি. বিসারিয়া।
"আজিজ তখন রিয়াজ খোখড়কে ফোন করে পাঞ্জাবী ভাষায় বলে যে খসড়ায় ভারতের ইচ্ছানুসারে বদল করে দেওয়া হোক। কয়েক বছর আগে আগ্রা ও লাহোরের বৈঠকে ভারত যা অর্জন করতে পারে নি, এই বৈঠকে ভারত তাতে সফল হয়েছিল," তার বইতে মন্তব্য করেছিলেন অজয় বিসারিয়া।
![]() |
| জর্জ বুশ ও অটল বিহারী বাজপেয়ী - ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1435)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
September
(221)
-
▼
Sep 12
(11)
- ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ২৭ বছর কারাদণ্ড
- নেপালের তরুণেরা কেন থামছে না? by চার্লি ক্যাম্পবেল
- অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে ফেলছে কারা...
- নেপালেও শোনা গেল ‘ডোন্ট মেস উইথ জেন-জি’ by সারফুদ্...
- কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করবে য...
- নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে জেন-জিদের পছ...
- উপসাগরীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে, বৃহত্তর ইসরাইল প্রতিষ্ঠার ...
- যুক্তরাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে এই শাবানা ম...
- কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রধান নিশানা খলিল আল–হায়া কে
- মার্কিন চাপের মুখে ভারত যে রণকৌশল নিয়েছিল বাজপেয়ী...
-
▼
Sep 12
(11)
-
▼
September
(221)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







