Tuesday, February 8, 2011

ভারতে ৫২ ব্যক্তিসহ সন্দেহভাজন জলদস্যুদের জাহাজ আটক

ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জলদস্যুদের একটি সন্দেহজনক জাহাজ আটক করেছে। জাহাজে থাকা ৫২ ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন এম নাম্বায়ার বলেন, জাহাজে সব মিলিয়ে ৫২ জন লোক ছিল। এদের মধ্যে ৩৪ জন সোমালীয় জলদস্যু বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ব্যক্তিদের একটি থাই জাহাজ থেকে আটক করা হয়। ছয় মাস আগে সোমালিয়ার উপকূল থেকে জাহাজটি ছিনতাই হয়। ধারণা করা হয়, ছিনতাইকাজে তখন থেকেই জাহাজটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মুম্বাই পুলিশ বলছে, তারা আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সব তথ্য বের করে আনবে।
ভারতের নৌবাহিনীর সদস্যরা গতকাল সকালে কেরালা রাজ্যের ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে কাভারাত্তি এলাকায় গ্রিসের পতাকাবাহী একটি জাহাজ জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার খবর পায়। এর পর নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা জলদস্যুদের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি নৌকা নিয়ে ওই জাহাজের কাছে যাওয়ার পর সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড একযোগে গুলি চালালে জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করে।

ডেভিড ক্যামেরনকে ‘প্রচার কুশলী’ বলছে লেবার পার্টি

যুক্তরাজ্যে বহু সংস্কৃতিবাদ ও ইসলামি চরমপন্থীদের নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। এসব মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে ‘প্রচার কুশলী’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি।
লেবার পার্টির নেতা ও শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি সাদিক আমান খান প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের বক্তব্যকে ‘ইংলিশ ডিফেন্স লিগের (ইডিএল) লিখিত প্রচারণা’ বলে আখ্যা দেন। ইডিএল ইসলামবিরোধীদের একটি সংগঠন, যারা রাজপথে ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। সাদিক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন যুক্তরাজ্যের ‘রাষ্ট্রীয় বহু সংস্কৃতিবাদের’ প্রতি আক্রমণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চরম ডানপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের যোগাযোগ রয়েছে।
লেবার পার্টির অন্য এমপিরাও প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, লন্ডন থেকে ৩০ মাইল দূরে লুটনে ইডিএলের কর্মীরা যখন বিক্ষোভ করছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ওই বিক্ষোভকারীদের উসকানি দেওয়ার শামিল। লেবার পার্টির এমপি গ্যাভিন সুকার বলেন, লুটনে ইডিএলের দেড় হাজার কর্মী বিক্ষোভ করছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক হাজার ৮০০ কর্মী তাদের ঘিরে রেখেছে—এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের এমন বক্তব্য কাম্য নয়।
গ্যাভিন সুকার আরও বলেন, চরমপন্থী এক পক্ষ রাজপথে বিক্ষোভ করবে আর প্রধানমন্ত্রী আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলবেন, এটা হতে পারে না। সাধারণ মানুষ এতে নিরাপদবোধ করবে না।
লেবার পার্টির এমপিদের বক্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামরনের দল কনজারভেটিভ পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারোনেস ওয়ারসি। তিনি এমপি সাদিক খানের মন্তব্যকে ‘চরমপন্থীদের আসকারা দেওয়া’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানায়, মিউনিখে দেওয়া বক্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
দ্য মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের নেতা ফয়সাল হাজরা বলেন, মুসলিমদের সমস্যার সমাধান না করে তাদের আপদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তাবিষয়ক সম্মেলনে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বহু-সংস্কৃতিবাদের নীতি ব্যর্থ হয়েছে। দেশটিতে নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় দিক থেকে সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে নতুন নীতি গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়ে আরও ‘সংহত স্বাধীনতাবাদ’ গ্রহণ করতে তিনি ব্রিটিশ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। মূলধারার সংস্কৃতিতে না থাকার কারণেই তরুণ মুসলিমরা চরমপন্থী মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে ইসলামি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।
গত বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ডেভিড ক্যামেরন। এরপর এই প্রথম বহু সংস্কৃতিবাদ ও ইসলামি চরমপন্থীদের নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস

বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসির পর অস্ট্রেলিয়ায় এবার দাবানল দেখা দিয়েছে। এতে অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সবচেয়ে বড় শহর পার্থের পার্শ্ববর্তী এলাকায় গতকাল রোববার তিনটি বড় ধরনের দাবানলের সৃষ্টি হয়।
জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দাবানলে অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ পর্যায়ে আমরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারব না।’
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পার্থের দক্ষিণ উপকণ্ঠে গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকা রোলিস্টোনে দাবানলে ২০টির মতো বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেকটি এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সেখান থেকে ১৫০ জনের বেশি লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। দুটি এলাকাকেই জানমালের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এসব এলাকার লোকজনকে দাবানল থেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িঘর ত্যাগ করার জন্য কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসি আঘাত হানে। ইয়াসি অস্ট্রেলিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
গত মাসে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া এক দিনের রেকর্ড-পরিমাণ বৃষ্টিতে মিলডুরা নামে একটি শহরে প্রায় ২০০টি বাড়িঘর ডুবে গেছে।

সার্বিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

সার্বিয়ার পার্লামেন্টের সামনে গত শনিবার হাজার হাজার মানুষ আগাম নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে সে দেশে এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ।
‘আমরা ক্ষুধার্ত’ এবং ‘সময় এসেছে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিদায় নেওয়ার’ লেখাসংবলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ এনে আগাম নির্বাচন দাবি করে। ওই দিন বিরোধী দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির ডাকা শোভাযাত্রাটি পার্লামেন্টের সামনে গিয়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
পার্টির নেতা টমিস্লাভ নিকোলিক আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য সরকারকে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। নইলে সরকারকে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্যপদ লাভের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্থবির অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অল্প আয়ের কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষের মাত্রা বেড়েই চলছে।
২০১২ সালে সার্বিয়ায় পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সার্বিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০০৮ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় আছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেছে, ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

পুলিশকে ‘স্টান গান’ দেওয়া হবে

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিতর্কিত ‘টেসার স্টান গান’ দেওয়া হবে। গত বছর যুক্তরাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ চলার সময় প্রিন্স চার্লস ও ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলাকে বহনকারী গাড়িতে বিক্ষোভকারীদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টেসার স্টান গান এমন এক ধরনের বন্দুক, যেটার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে শিকারকে ঘায়েল করা হয়। এর আওতা ২১ ফুট।
অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা হিসেবে এই স্টান গান দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ডিপ্লোম্যাটিক প্রটেকশন স্কোয়াডের সদস্যদের এই অস্ত্র দেওয়া হবে। বিশেষ ধরনের এই বন্দুক থেকে লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশ্যে একটি ডার্ট ছোঁড়া হয়, যা থেকে ওই ব্যক্তি বা বস্তুর দেহে ৫০ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ তরঙ্গ প্রবাহিত করে। এই অস্ত্রটি নিয়ে বিতর্কের কারণ এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এবং একে প্রাণঘাতী না বলা হলেও এর প্রাণহরণের সামর্থ্য রয়েছে।
গত বছর লন্ডনে ছাত্র বিক্ষোভের সময় রিজেন্ট স্ট্রিটে বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়ে চার্লস ও ক্যামিলার গাড়ি। বিক্ষোভকারীদের হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। পত্রিকায় ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ছবিতে ক্যামিলার আতঙ্কিত মুখ দেখা গেছে। এর পরই নিরাপত্তারক্ষীদের যোগ্যতা ও সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে চেয়েছিলেন কি না নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা। জবাবে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যার পল স্টিফেনসন বলেন, তারা প্রচণ্ড ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ওই রাতে তাঁরা আসলে কিছু করার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার আইন তাঁকে গুলি করতে বাধা দেয়। এখন রয়াল প্রোটেকশন স্কোয়াডের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই বাহিনীতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের এক্স টোয়েন্টিসিক্স টিজার স্টান গান বহন করতে দেওয়া হবে।

ইরানে তিন মার্কিন নাগরিকের বিচার শুরু

ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার এক বছর ছয় মাস পর মার্কিন তিন নাগরিকের বিচার গতকাল রোববার শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনজীবী বলেছেন, তিন আসামির একজন জামিনে মুক্তি পেলেও বাকি দুজন এখনো আটক রয়েছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৯ সালের ৩১ জুলাই সারাহ শোর্ড, শেন বাওয়ের ও জোশ ফাত্তাল নামের মার্কিন তিন নাগরিককে ইরাকের সীমান্তসংলগ্ন ইরানি ভূখণ্ড থেকে আটক করা হয়। ইরানের অভিযোগ, তাঁরা গুপ্তচর বৃত্তির উদ্দেশে বিনা অনুমতিতে সে দেশে ঢুকে পড়েছিলেন। তবে ওই তিন নাগরিকের দাবি, তাঁরা ইরাকের সীমান্ত এলাকায় ঘুরছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে একসময় নিজেদের অজান্তে তাঁরা ইরানের ভুখণ্ডে ঢুকে পড়েছিলেন। তাঁদের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি জানালেও শেন বাওয়ের ও জোশ ফাত্তালকে ইরান মুক্তি দেয়নি। তবে গত সেপ্টেম্বরে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলারের মুুচলেকায় শোর্ডকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। গতকাল আদালতে শোর্ড অনুপস্থিত ছিলেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ শাফি বলেছেন, শোর্ডের অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম চলবে। তিনি বলেন, তাঁর মক্কেলেরা নিজেদের অজান্তে ইরান ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিলেন। এ জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনতে পারে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।
আটক থাকা শেন ও জোশের মুক্তির জন্য ওয়াশিংটন বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও তাঁদের মুক্তি দিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানান। তবে ইরান তাঁর সে আহ্বানে কর্ণপাত করেনি।

৬-১ করেই ছাড়ল অস্ট্রেলিয়া

প্রথমে শন মার্শ, পরে ক্যালাম ফার্গুসন, কাল অ্যাডাম ভোজেস। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেই যাচ্ছেন উপেক্ষিতরা। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা অবশ্য বলতে পারেন, এটা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের গভীরতা!
১১ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামা অ্যাডাম ভোজেসের ৭২ বলে অপরাজিত ৮০ অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছিল লড়ার মতো রান। পার্থের গতিময় উইকেটে এই রানটাই ইংল্যান্ডের জন্য হয়ে গেল দুরতিক্রম্য। অ্যাশেজে হারের পর বদলা তো আর হতে পারে না, তবে ৬-১-এ সিরিজ জয় বিশ্বকাপের আগে তৃপ্তি আর আত্মবিশ্বাস দুটোই দেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ইংল্যান্ডে গত অ্যাশেজে হারের পরও ওয়ানডে সিরিজ ৬-১-এ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজ নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় আর চোটের কারণে সেরা একাদশ নামায়নি কোনো দলই। দুই দলেই খেলেছেন দুজন করে বিশেষজ্ঞ উইকেটকিপার! ১০৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়াকে উদ্ধার করেন ডেভিড হাসি (৬০ বলে ৬০)। লোয়ার-অর্ডার নিয়ে ভোজেস দলকে নিয়ে যান ২৭৯ রানে। আগের ম্যাচে ৯১ রান দেওয়া অ্যান্ডারসন কাল নিয়েছেন ৩ উইকেট। ‘এসওএস’ পেয়ে সেন্ট কিটস-মিয়ামি-লন্ডন-সিঙ্গাপুর হয়ে পার্থে আসা লিয়াম প্লাঙ্কেট নিয়েছেন দুটি। দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড লড়াইয়েই ছিল না কখনো। মাইকেল ইয়ার্ডির ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংসে কেবল ২০০ পেরোতে পেরেছে তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৭৯/৭ (পেইন ৫, হাডিন ২৭, ফার্গুসন ১৫, হোয়াইট ২৪, হাসি ৬০, ভোজেস ৮০*, জনসন ২৬, হেস্টিংস ৬, ক্রেজা ৬*; অ্যান্ডারসন ৩/৪৮, প্লাঙ্কেট ২/৪৯, ইয়ার্ডি ২/৫৯)। ইংল্যান্ড: ৪৪ ওভারে ২২২ (স্ট্রাউস ০, ডেভিস ০, ট্রট ১৪, পিটারসেন ২৬, বেল ৮, প্রিয়র ৩৯, ইয়ার্ডি ৬০*, রাইট ২৪, প্লাঙ্কেট ২০, ফিন ০, অ্যান্ডারসন ৪, জনসন ৩/১৮, টেইট ৩/৪৮, ক্রেজা ২/৫৩, হেস্টিংস ১/৩৯, বলিঞ্জার ১/৪৫)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫৭ রানে জয়ী। সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ৬-১-এ জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: অ্যাডাম ভোজেস। ম্যান অব দ্য সিরিজ: শেন ওয়াটসন।

আমিরের প্রশ্ন, এখন কী করব

মাত্র আঠারো বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ, প্রচার। হঠাৎ পেয়ে যাওয়া তারকাখ্যাতি, কিংবদন্তি বোলারদের সঙ্গে তুলনা, যশের সঙ্গে আসা বিত্ত। ২০০৯-এর জুলাইয়ে অভিষেক, ২০১০-এর জুলাইয়ে শেষ ম্যাচ—মাত্র এক বছরের মধ্যে জীবনটাকে উল্টেপাল্টে দেখা হয়ে গেল মোহাম্মদ আমিরের।
পাকিস্তানের এই তরুণ প্রতিভা নিষিদ্ধ হয়েছেন পাঁচ বছরের জন্য। অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক বলে ফিরে আসার সুযোগ তাঁর থাকছে। ২৩ বছর বয়সেই না হয় আবার শুরু হবে!
কিন্তু ‘ক্রিকেট’ যাঁর একমাত্র অবলম্বন, সেই আমিরের পাঁচ বছরের ক্রিকেট-নির্বাসন বাকি সব অর্থহীন করে দেয়। পরশু দোহায় নিষেধাজ্ঞার বোঝা মাথায় বেরিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে আমির বলেছেন, ‘আমার জীবনে এটাই সবচেয়ে বাজে দিন। ক্রিকেট আমাকে সব দিয়েছে। ক্রিকেটও আমার সব। যদি ক্রিকেট খেলতে না পারি, আমার কাছে তো কিছুই থাকল না। ক্রিকেট খেলব বলে পড়াশোনাও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন কী করব আমি! একজন ক্রিকেটার, যার জীবনটাই আসলে ক্রিকেটময়; তার জন্য এটা তো জীবন ধ্বংসেরই মতো।’
একটা দার্শনিক উপলব্ধিও এই ছোট্ট জীবনে পেয়ে গেছেন। সেদিকে তাকিয়েই আশা খুঁজছেন, ‘আমি জানি, আল্লাহ আপনার জীবনের একটি দরজা বন্ধ করে দেন তো সঙ্গে সঙ্গে এক শটা দরজা খুলেও দেন।’
আমিরের এই আকুতি সমবেদনাই জাগায়। তবে তাতে তাঁর পাপের মাত্রা লঘু হয় না। মাত্র ১৪ টেস্টে ৫১ উইকেট নেওয়া এই পেসারকে বরং আপনি পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন, ‘আমির, লোভের ফাঁদে পা দেওয়ার আগে কেন ভাবোনি!’
পাকিস্তানের সমর্থকদের মনেও এই প্রশ্ন। এমনিতে আইসিসির প্রতি দেশটির বেশির ভাগ মানুষই বীতশ্রদ্ধ। আইসিসির অনেক সিদ্ধান্তের পেছনে ষড়যন্ত্রও দেখেন তাঁরা। কিন্তু আমির, আসিফ আর সালমান বাটকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রায় সবাই। পাকিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রী ইজাজ হুসাইন জাখরানিও এই দলে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারের কথার মূল সুর একটাই। বাকিদের জন্য এই শাস্তি একটা দৃষ্টান্ত। ক্রিকেটকে পরিচ্ছন্ন করতে হলে এমন কঠোর শাস্তি অবশ্যই দরকার। কেউ কেউ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনাও করছেন।
কিন্তু একই সঙ্গে পিসিবির নিরপেক্ষ অবস্থান বাহবাও পেয়েছে। পিসিবি যেমন জানিয়ে দিয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে বোর্ডের পক্ষ থেকে আপিল করার চিন্তাভাবনা নেই। আমির অবশ্য নিজে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) যাওয়ার কথা ভাবছেন। ‘একটি নো বলের শাস্তি পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না’—আমিরের যুক্তি। তাঁর আশা, সিএএস নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনেক কমিয়ে দেবে। বাকি দুজন সিএএসের দ্বারস্থ হবেন কিনা, সেটি পরিষ্কার নয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপরে বাংলাদেশ

আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। উঠে এল আটে। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান।
কাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ও সিরিজ হেরে যাওয়ায় নেমে গেল নয়ে। এ কারণেই বাংলাদেশের এই উন্নতি। দুই দলেরই রেটিং পয়েন্ট অবশ্য সমান, বাংলাদেশের ৬৬, ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও তা-ই। তবে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট বেশি। ৩২ ম্যাচে ২১২১, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০ ম্যাচে ১৩২১। রেটিং পয়েন্টে বাংলাদেশ তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ভগ্নাংশের সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে।

ইমরুলের লক্ষ্য থাকে নিজের মধ্যেই

ধর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারত ২৭০ রান করল। এরপর আমার আর তোর ওপেনিং জুটিতেই হয়ে গেল ২৩০ রান। আমরা দুজন ভারতীয় খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে হা হা করে হাসছি। ওরা হতভম্ব। কেমন হবে ব্যাপারটা?’
বাস্তবে এমন না ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। তার পরও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে এমন একটা দৃশ্য কল্পনা করলেন ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল। তামিমের মুখে কথাটা শুনে হা হা করে হেসেছিলেন ইমরুল।
কিন্তু বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে যদি সত্যিই কোনো ওয়ানডেতে ২৩০ রান আসে, সেখানে ইমরুল কায়েসের রান থাকবে কত? প্রশ্নটা আসছে এই কারণেই যে বাংলাদেশ দলের ওপেনিং জুটির প্রসঙ্গ এলেই প্রথমে ভেসে ওঠে তামিমের মুখ, ইমরুলেরটা পরে।
ইমরুল নিজেও সেটা মানেন। গত বছর ওয়ানডেতে দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম পরিশ্রমী ক্রিকেটার। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই বছর কাটিয়েও তামিমের ছায়ায় ঢাকা থাকছেন! তবে তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে বেশির ভাগ সময় সংযত ব্যাটিংয়ে মনোযোগী থাকতে হয় বলে, ‘ইমরুল মারতে পারে না’ অভিযোগটাকে ছক্কার মতোই উড়িয়ে দিতে চান তিনি, ‘আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক স্ট্রোক খেলতাম। কিন্তু তামিম মারলে আমাকে একটু রক্ষণাত্মক হতে হয়। আমার ভূমিকাটাই এ রকম, উইকেটে থেকে খেলতে হবে। এ জন্য একটু খারাপও লাগে। নিজেকে তখন বোঝাই...এটা আমার কাজ না, তামিমের। ও আউট হয়ে গেলে তো আমাকেই মারতে হবে।’
শুধু স্ট্রোক খেলা নয়, ইমরুল তামিমের প্রতিদ্বন্দ্বী স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়াতেও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজের কথা। মাঠে কাইল মিলস আর ইমরুল কায়েসের একখণ্ড কথোপকথন পড়ুন:
মিলস: তোমার জন্য তো নাথান ম্যাককালামই যথেষ্ট, আর কাউকে লাগবে না।
ইমরুল: কেন, তুমিও তো আছ।
মিলস: নাহ্, এটা বাজে উইকেট...অত বাউন্সি না।
ইমরুল: কিন্তু আমি যে তোমাদের ওখানে গিয়ে সেঞ্চুরি করে এলাম, তখন তুমি কোথায় ছিলে!
এবার চুপই মেরে গেলেন বেচারা মিলস। এ রকম আরও আছে। যেগুলো টেলিভিশনের পর্দায় না ফুটে উঠলেও প্রতিপক্ষকে চুপচাপ-লাজুক ইমরুলের ভেতরটা দেখিয়েছে।
বিশ্বকাপে অবশ্য ইমরুল ব্যাটেই বেশি কথা বলতে চান। কিন্তু সেই কথাগুলো কেমন হবে তা বের করা গেল। লক্ষ্যের কথা ইমরুল কখনো বলেন না। তবে লক্ষ্য পূরণের জন্য পুরোপুরি তৈরি। যেসব শটে দুর্বলতা আছে, সেগুলো অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন অনুশীলনে, ‘স্কয়ার কাট, ফ্লিক, স্ট্রেট ড্রাইভ—এই তিনটা শট এখন আমি ভালো খেলি। আগে জানতাম না, তবে এখন বুঝি, সব ব্যাটসম্যানেরই কিছু বিশেষ শট থাকতে হয়। ও রকম এক শটা বল এলে যেন এক শটাই মারা যায়।’
যখন যে শট খেলে আউট হন, পরদিনের অনুশীলনে তাতেই বেশি জোর দেন। ঘাটতি ঢাকতে চান অনুশীলনে বাড়তি পরিশ্রম করে। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই জেদ ইমরুলের ছোটবেলা থেকে। দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় ভালো করেও মেহেরপুর জেলার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে সুযোগ পাননি। দলটা রাজশাহী থেকে খুলনা যাওয়ার পথে একই ট্রেনে ছিলেন ইমরুল। ওই ট্রেনে বসেই পণ করেছিলেন একদিন বিভাগীয় দলে খেলতে হবে, যেতে হবে অনেক দূর।
তবে সেই প্রতিজ্ঞার পরিধি বিশ্বকাপ তো নয়ই, হয়তো জাতীয় দল পর্যন্তও বিস্তৃত ছিল না। বিশ্বকাপ তাঁর কাছে তাই স্বপ্নেরও বেশি। ইমরুলের বিশ্বকাপে খেলা একই রকম রোমাঞ্চিত করে তাঁর বাবাকেও, ছেলেকে যিনি আপাদমস্তক ক্রিকেটারই বানাতে চেয়েছিলেন।
ছেলের খেলা নিয়ে বাবা এতটাই আবেগপ্রবণ যে বিশ্বকাপে মাঠে বসে বাংলাদেশের খেলা না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ‘আম্মা খেলা দেখবেন। কিন্তু আব্বা অনেক আবেগপ্রবণ। আমি আউট হয়ে গেলে হয়তো বা ভেঙে পড়বেন। উনি তাই টেলিভিশনেই খেলা দেখতে চান।্রমাঠে আসতে চান না’—বলছিলেন ইমরুল।
বাবার এই ‘গুণ’টা ছেলের মধ্যেও ছিল। জাতীয় দলে আসার আগ পর্যন্ত রান না পেলে ইমরুলও ভেঙে পড়তেন প্রায়ই। খালি মনে হতো, ‘এখানে রান পাচ্ছি না, কোনো দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললে কী হবে! ওখানে তো আরও জোরে বল আসবে।’ এখন আর এসব কল্পনার বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হাসি-কান্না ইমরুলের জীবনেরই অংশ। এবার খেলতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপও, যা তাঁর কাছে স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু।

মেসিময় বার্সার নতুন রেকর্ড

আরেকটি লিগ শিরোপার দিকে এগিয়ে চলছে দুর্দমনীয় বার্সেলোনা। পরশু স্প্যানিশ লিগের রেকর্ড বইয়ের একটি পাতায়ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে পেছনে ফেলল কাতালানরা। মাদ্রিদেরই আরেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ভেঙে দিল রিয়ালের আধা শতাব্দী পুরোনো রেকর্ড। ১৯৬০-৬১ মৌসুমের লিগে আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর রিয়াল জিতেছিল টানা ১৫ ম্যাচ। পরশু লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি বার্সেলোনার টানা ১৬তম।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড উলভারহ্যাম্পটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে একটি রেকর্ড ছোঁয়া হলো না ম্যানইউর। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে লিগে টানা ৩০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার যে রেকর্ড গড়েছিল তারা নিজেরাই।
রিয়াল মাদ্রিদকে ছাপিয়ে বার্সেলোনার এই দুর্দমনীয় যাত্রার রহস্য মেসি। অ্যাটলেটিকোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর কোচ গার্দিওলাই বলেছেন, ‘লিও আমাদের দলে না থাকলে এখন যেখানে আছি, সেখানে থাকতে পারতাম না। রিয়াল মাদ্রিদ টানা ১৫টি ম্যাচ জিতেছিল, কারণ তাদের ডি স্টেফানো ছিল। আমাদের মেসি আছে বলেই টানা ১৬ ম্যাচ জিতলাম।’
ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কারজয়ী এই আর্জেন্টাইন প্রতিটি ম্যাচে যা করছেন, তাতে এটা না মেনে উপায়ই বা কী! ৩৩ ম্যাচে ৪০ গোল করে ফেলেছেন, এর মধ্যে হ্যাটট্রিক ৪টি। লিগে ১৯ ম্যাচে ২৪ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। কালকের আগে পর্যন্ত মেসির পরেই ছিলেন ২১ ম্যাচে ২২ গোল করা রোনালদো।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে বলতে গেলে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মেসি। ১৭, ২৮ ও ৭৮ মিনিটে দলের তিনটি গোলই করেছেন বলে নয়, বার্সার প্রায় প্রতিটি আক্রমণের উৎসও ছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।
অপ্রতিরোধ্য মেসিকে দেখে মুগ্ধ প্রতিপক্ষ কোচ সানচেজ ফ্লোরেসও। তাঁর চোখে মেসি ‘একুশ শতকের ডি স্টেফানো’, ‘আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় সে। বিস্ময়কর ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। তারা বিশ্বের এক নম্বর দল।’
মেসি অবশ্য নিজের কীর্তির চেয়ে দলের এগিয়ে চলাটাকেই দেখছেন বড় করে। ‘ সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার চিন্তা আমার মাথায় নেই। দল ঠিক পথে আছে এবং ব্যবধানটা ঠিক থাকছে, এতেই আমার আনন্দ। রিয়ালের রেকর্ড ভাঙতে পেরে খুশি আমি’—বলেছেন মেসি। কাল রিয়াল সোসিয়েদাদের মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত বার্সেলোনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল রিয়াল। ২২ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৬১, রিয়ালের ছিল ২১ ম্যাচে ৫১।
ইউরোপের ফুটবলে এদিন হতাশায় কেটেছে আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখেরও। ২৬ মিনিটের মধ্যে ৪-০-তে এগিয়ে গিয়েও নিউক্যাসলের সঙ্গে ৪-৪ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল। দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল করেছে গোল চারটি (৬৮-৮৭ মিনিটের মধ্যে)। আর বুন্দেসলিগায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষে ৩-২ গোলে হেরেছে কোলনের কাছে।

সাকিবের আহ্বান

গত ২৯ নভেম্বর ‘থিংক ওয়াইজ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। বাংলাদেশের অধিনায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছিলেন আইসিসি, ইউএনএইডস, ইউনিসেফ ও গ্লোবাল মিডিয়া এইডস ইনিশিয়েটিভসের এইডসবিরোধী প্রচারণায়। এর অংশ হিসেবেই কাল সাকিব দেশের তরুণ সমাজকে আহ্বান জানালেন এইডস নিয়ে সচেতন হতে।
ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইডসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. সলিল পানাকাড়ান বলেন, ‘ক্রিকেট এই উপমহাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। প্রায় ২০০ কোটি মানুষ টিভিতে এবারে বিশ্বকাপের দেখবে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ক্রিকেটকেই তাই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে। আর সাকিব বাংলাদেশে এখন কোটি তরুণের আদর্শ। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে তিনিই যোগ্যতম।’
সচেতনতার কথা উঠে এল সাকিবের কণ্ঠেও, ‘এখনকার তরুণেরা এমনিতেই অনেক সচেতন। তার পরও আমি অনুরোধ করব সবাইকে সচেতন হতে। যাঁরা সচেতন তাদের উচিত অন্যদের সচেতন করা।’

৩৬ কোটি টাকায় সেজেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

লক্কড়ঝক্কড় বাস চলছে যানজটের তীব্র বাধা ঠেলে। যাত্রীকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে জান-প্রাণ দিয়ে প্যাডেল ঠেলেন রিকশাচালক। এর ভেতর দিয়ে সামনে এগোনোর সাধ্য কার! কষ্ট স্বীকার করে পল্টন হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট পেরিয়ে ডানে মোড় নিন। বিশ্বকাপ-রাজ্যে প্রবেশ!
‘বিশ্বকাপ-রাজ্য’—শুনতে ভালোই লাগছে। কিন্তু এটি এখনো সেই ইলেকট্রনিকসামগ্রীর সাম্রাজ্য। ঠেলাগাড়িতে ডাব বিক্রেতা-দর্শন কমেছে বটে, তবে টিভি-ফ্রিজ কিনে ভ্যানে তুলে বাড়ি যাওয়ার তোড়জোড় ঠিকই আছে। এরই মাঝে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মশালের নিচে অগুনতি কৌতূহলী চোখ ফটকের ছিদ্রপথে। ভেতরে কী হচ্ছে?
সে এক এলাহি ব্যাপার। ‘বিশাল’ কর্মযজ্ঞের ফিরিস্তি দেওয়ার আগে বলা দরকার, এদিকটায় আসতে এখন আর ভাঙা রাস্তার ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয় না। স্টেডিয়ামের আশপাশের রাস্তায় নতুন কার্পেটিং। গাড়ি চলে মসৃণ শব্দ তুলে।
ভালো লাগার এই অনুভূতির উল্টো পিঠে মন খারাপ করার সব উপকরণও যথারীতি বিদ্যমান। ক্রীড়া পরিষদের সামনের রাস্তায় বৈদ্যুতিক তারের স্তূপ দেখা গেছে এক দিন আগেও। বেশির ভাগই জরাজীর্ণ ভবন, তাকানো যায় না। যা ছিরি! সরকার এগুলোকে রং-টং করতে বলেছে শেষ সময়ে। কিন্তু কত দূর কী হবে, সংশয় আছে তাতেও।
সংস্কার...সংস্কার...সংস্কার...চলছেই! এর যেন শেষ নেই। শেষ সময়ে বাতি জ্বালিয়েও কাজ। খেলা শেষ, তবু সংস্কার শেষ হবে না! গ্রামের সেই বিয়েবাড়ির মতো। বর এসে গেটে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু চলছে গেট সাজানোর কাজ!
তবে একটা কাঠামো দৃশ্যমান। বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ গেট, শিল্পব্যাংক ভবন, হকি স্টেডিয়াম—পুরোনো চারটি ফটকই নতুন করে হচ্ছে। তা-ও যে সে গেট নয়, এগুলোর জন্য বেশ বড় অঙ্ক বরাদ্দ।
বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বৈশিষ্ট্য—এটির খরচ কোটি টাকার ওপরে, থাকছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। পাশেই চার স্তরবিশিষ্ট পানিপ্রবাহের কৃত্রিম ফোয়ারা। আলো-পানির বর্ণিল দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। চারপাশে ফুলগাছ লাগানোর কথা, কিন্তু এগুলো চোখে পড়ছে না। তবে ‘পাখির অনন্ত যাত্রা’ নামে শিল্পী হামিদুজ্জামানের নকশায় ২৫ ফুট উঁচু ভাস্কর্য উঠে দাঁড়াচ্ছে। ফটকগুলোয় থাকছে আরও কিছু ভাস্কর্য।
এবড়োখেবড়ো পল্টন ময়দান সবুজ রূপ নিয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাটা পাকা হয়েছে। তবে ক্ষতিও আছে, এই জায়গায়টায় এখন আর খেলাধুলা হতে পারবে না। বড়লোকের বাড়ির আঙিনার মতো ‘ঝকঝকে’ এলাকাটা অনেকের বুকে যেন দীর্ঘশ্বাস।
তবে এটা পুরো এলাকার আসল ছবি নয়। ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন ঢাকাকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ‘তিলোত্তমা’ বানাতে চেয়েছেন, কিন্তু দিন দশেক আগেও তিলোত্তমার ‘ত’-ও খুঁজে পাওয়া কঠিন! উদাহরণ—ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের পাশেই এখনো নাকে রুমাল গুঁজতে হয় আবর্জনার গন্ধে। ইট, বালু, রডের স্তূপ, থিকথিকে কাদার হাত থেকে কিছুটা মুক্তি মিললেও এখনো অপরিচ্ছন্ন পুরো এলাকা। ময়লা-আবর্জনা, মাদক বিকিকিনির অভয়ারণ্যও এটি।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকলে অবশ্য ভালো লাগবে। ইউরোপ, ইউরোপ গন্ধ। টিভিতে সুন্দর সব স্টেডিয়াম দেখে আফসোস ঝরে বাঙালির কণ্ঠে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভেতরটা অন্তত সেই আফসোস খানিকটা ঘোচাবে।
গ্যালারিতে চেয়ার, ৫০০ সাংবাদিকের জন্য প্রেসবক্স, কাচঘেরা গোটা দশেক অত্যাধুনিক হসপিটালিটি বক্স, প্রায় ৫০০ জনের জন্য একটি বিশাল ‘আইসিসি বক্স’, সবুজ মাঠ—পরিবেশটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না এতে। গ্যালারিতে লাল-সাদা ফুল ফুটিয়ে তুলেছে রঙিন চেয়ার। মাঠের মাঝখানে বিশাল মঞ্চ। এর নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় দুই শিল্পী দৃশ্যপটে আসবেন বলে খবর।
গত ১২ বছরে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোটা দাগে ৭৫ কোটি টাকার মতো সংস্কারকাজ হয়েছে। ১৯৯৮ মিনি বিশ্বকাপে ৫ কোটি, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ২৮ কোটি, গত এসএ গেমসে ৬ কোটি, এই বিশ্বকাপ পর্বে প্রথমে বরাদ্দ ছিল ৩১ কোটি ৬০ লাখ, পরে যোগ হয় আরও ৪ কোটি ১০ লাখ। অনেকে বলেন, বারবার সংস্কারের পেছনে ঢালা এই টাকা দিয়ে ভালো একটা স্টেডিয়ামই বানিয়ে ফেলা যেত।
এসএ গেমসের জন্য যে সংস্কারকাজ হয়েছিল, সেসব ভেঙেচুরে নতুন করে করা হচ্ছে সব। বিশ্বকাপ সামনে রেখে পরিকল্পনা করলে এসএ গেমসের পুরো খরচটা জলে যেত না! এক দিনের কয়েক ঘণ্টার বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আবার ভাঙচুর হবে না তো? সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন নতুন তথ্য, ‘বিশ্বকাপের পর এটিকে আমরা তিনতলা স্টেডিয়ামে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছি।’
তিনতলা হবে কি না পরের কথা। ক্রীড়াঙ্গনে এমন দাবি ওঠেওনি যে এটিকে তিনতলা করতে হবে। বরং পরিবর্তিত এই কাঠামোর কার্যকর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণই ক্রীড়া প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।