Monday, September 29, 2014

জাপানে ৩১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

জাপানে মাউন্ট ওনতাকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর
আটকে পড়া একজন ভ্রমণকারীকে গতকাল উদ্ধার করে
সামরিক হেলিকপ্টার। ছবি: রয়টার্স
জাপানের মাউন্ট ওনতাকে আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের পর গতকাল রোববার পর্বতটির চূড়ার কাছে অন্তত ৩১ জন ভ্রমণকারীর নিথর দেহ পাওয়া গেছে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করার কথা ছিল। রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমের পর্বতটি দেখতে খুব সুন্দর বলে এটি ভ্রমণকারীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। খবর বিবিসি ও এএফপির। হঠাৎ করে গত শনিবার ওই আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে ক্ষিপ্রগতিতে ধোঁয়া এবং উত্তপ্ত ছাই ও পাথর বেরুতে থাকে। তার আগে প্রচণ্ড শব্দও হয়। এ সময় পর্বতটিতে অন্তত ২৫০ জন পরিব্রাজক আটকা পড়েন। তবে পরে তাঁদের বেশির ভাগই নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হন।
উদ্গিরণের পর পর্বতটি থেকে বেশ কয়েকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধারণা করা হয়, এর মধ্যেও রাতে অন্তত ৫০ জন সেখানে অবস্থান করছিলেন। গতকালও অগ্ন্যুৎপাত অব্যাহত ছিল। সকালে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ওই পরিব্রাজকদের নিথর দেহের খোঁজ মেলে। মাউন্ট ওনতাকের উচ্চতা ৩,০৬৭ মিটার বা ১০,১২০ ফুট। এর বিভিন্ন অংশে থাকার লজ, কেবিন এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া হাঁটাপথ আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, পর্বতের চূড়ার কাছে ৩১ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁরা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ গতকাল সকালে সামরিক হেলিকপ্টারের সাহায্যে পর্বতের একটি অংশ থেকে সাতজনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অন্য পরিব্রাজকদের নিচে নেমে আসতে সহায়তা করেন হেঁটে ওঠা উদ্ধারকর্মীরা। জাপান আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূকম্পনজনিত তৎপরতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চলগুলোর একটি। কোনো পাহাড়ে অগ্ন্যুৎপাতের লক্ষণ দেখা গেলেই সেখানে পরিব্রাজকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কবার্তাও জারি করে। কিন্তু শনিবার এ ধরনের কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। এর আগে ১৯৯১ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের একটি আগ্নেয়গিরিতে আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার চান মোদি

নিউইয়র্কে সেন্ট্রাল পার্কের সমাবেশে নরেন্দ্র মোদি l রয়টার্স
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার চেয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মোদি নিরাপত্তা পরিষদের বিষয়ে নয়াদিল্লির আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন। মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রসঙ্গেও কথা বলেন। খবর বিবিসি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের অঙ্গগুলোতে বিংশ শতাব্দীর অপরিহার্য বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটেছে। সেগুলো একবিংশ শতাব্দীতে সেভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তাই পরিষদগুলোকে আরও ‘অংশগ্রহণমূলক’ করে গড়তে হবে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে আসছে।
বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য হচ্ছে বিশ্বের প্রভাবশালী পাঁচটি দেশ। এগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। নির্দিষ্ট মেয়াদ পর পর অস্থায়ী ১০ সদস্যরাষ্ট্র পরিবর্তন হয়। জাতিসংঘে ‘প্রকৃত আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, সংস্কার না করায় জাতিসংঘ ‘অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে’ রয়েছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ইসলামাবাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চান। তবে এ জন্য অবশ্যই ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ সৃষ্টি করতে হবে। ‘সন্ত্রাসবাদের ছায়া সরিয়ে’ সংলাপে বসতে হবে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সেনা পাঠিয়ে থাকে। শান্তিরক্ষী বাহিনীতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভূমিকার উল্লেখ করে এতে অবদান রাখা দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক উৎপাদন ও প্রযুক্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ভারতের রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন মোদি। বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক: সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতা করার আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। তাঁরা জাতিসংঘের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নানা বিষয়ে কথা বলেন। বান কি মুনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ভারতের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ ও ভারতের জনগণের আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহাসচিব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আকবরউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান,
দুই নেতা জাতিসংঘের সংস্কার ও শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অবদান রাখা দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেন্ট্রাল পার্কে ভাষণ: নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে শনিবার প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন মোদি। দারিদ্র্য দূরীকরণের লড়াই করা আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল পোভার্টি প্রজেক্ট আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ওই বক্তৃতা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া দর্শকদের একটি বড় অংশ ছিল তরুণ। প্রথম সাত মিনিট ইংরেজিতে বক্তৃতা করার পর সংস্কৃত শ্লোকের মাধ্যমে ‘বিশ্বের জন্য শান্তি কামনা’ করেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বদ্ধ সম্মেলন কক্ষের চেয়ে খোলা ময়দানে তরুণদের সামনে হাজির হতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তোমরা আজ যা করবে, সেটাই আমাদের আগামী নির্মাণ করবে।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনেও ভাষণ দেন। সেখানে কয়েক হাজার ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অংশ নেয়।

নিরাপত্তার চাদরে মক্কা নগর by ফেরদৌস ফয়সাল

হজ উপলক্ষে মক্কার চারপাশ ঘিরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন মক্কায় ঢুকতে পাসপোর্ট অথবা আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) দেখাতে হয়। পথঘাটে চলছে তল্লাশি। তাই সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখতে হয়। জেদ্দা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে গেটের কাছে লেখা ‘নো এনট্রান্স ফর নন মুসলিম’। মক্কায় অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারে না। সব সময় পুলিশ প্রহরা থাকে। মক্কায় প্রবেশমুখে গাড়ি, কাগজপত্র, হজ ভিসা তল্লািশ করা হয়। এগুলো থাকলে প্রবেশের অনুমতি মেলে।
কাবা শরিফের নিরাপত্তার জন্য এর ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও নিরাপত্তার যন্ত্রপাতি বসানো আছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য সাদাপোশাকে ও পোশাক পরা পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মসজিদের প্রবেশপথে এবং ভেতরে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। মসজিদের ভেতর চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও বাইরে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স থাকে।
দিন-রাত অসংখ্য মানুষ কাবা শরিফে তাওয়াফ করছেন। ভিড়ের কারণে কেউ পথ হারালে তাঁকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন মক্কার স্থানীয় লোকজন। বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মীরাও হাজিদের সাহায্য করছেন।
চিকিৎসাসেবা: সৌদি আরবে মক্কা, মদিনা, মিনা, মুজদালিফায় হজযাত্রীদের জন্য (অর্থাৎ হজ ভিসা থাকলেই) চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। এসব ক্লিনিকে লোকজনের ভিড় থাকলে লাইন ধরতে হয়। নাম, দেশ, বয়স বললেই আরবিতে একজন লিখে নেন। লেখা ফরম নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা বললে চিকিৎসক ওষুধের নাম লিখে ডিসপেনসারিতে দিলে ওষুধ দিয়ে দেয়।
উপমহাদেশের হজযাত্রী: এ বছর ভারত থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৫২টি এজেন্টের মাধ্যমে ৩৬ হাজার মানুষ হজ করতে এসেছেন।
পাকিস্তান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৬ হাজার ৬৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৫২টি এজেন্টের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৬৮৪ মানুষ হজ করতে এসেছেন।
আফগানিস্তান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৪টি এজেন্টের মাধ্যমে ২০ হাজার মানুষ হজ করতে এসেছেন।
বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এক হাজার ৫০১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৩৫টি এজেন্টের মাধ্যমে ৯৭ হাজার ১৪৬ মানুষ হজ করতে এসেছেন।
প্রতিদিন হাজিদের ছবি, মৃত হাজির নাম, পরিচয় ও তথ্য হালনাগাদ করা হয় www.hajj.gov.bd এই ঠিকানায়।
ইন্তেকাল হলে: সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসে স্বাভাবিক কারণে এ পর্যন্ত ৩০ জন হজযাত্রী মারা গেছেন। হজযাত্রী মারা গেলে মরদেহ দেশে পাঠানো হবে, নাকি সেখানে দাফন করা হবে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
হজে আসার আগে প্রত্যেক হজযাত্রী হজে গমনের আবেদনপত্র পূরণ ও স্বাক্ষর করেছেন। সেই আবেদনপত্রে অঙ্গীকার করেছেন, সৌদি আরবে মৃত্যু হলে মরদেহ সেখানেই দাফন করা হবে। কোনো আপত্তি থাকবে না। মক্কায় মারা গেলে মসজিদুল হারামে জানাজা পড়ানো হয়, আর মদিনায় মারা গেলে মসজিদে নবিবতে জানাজা পড়ানো হয়, জেদ্দায় মারা গেলে জেদ্দায় জানাজা পড়া হয়।
মক্কা ও মদিনা দুই জায়গাতেই প্রায় প্রতি ওয়াক্তেই ফরজ নামাজের পর জানাজা হয়। হজযাত্রী এবং সম্ভবত আশপাশের এলাকায় যাঁরা মারা যান, তাঁদের জানাজা এ দুই পবিত্র মসজিদে হয়ে থাকে। কোনো কোনো ওয়াক্তে একাধিক জানাজাও হয়ে থাকে। আমরা তাই ফরজ নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে সুন্নত নামাজ শুরু না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি জানাজার জন্য।

বিএনপির ঘাড়ে মামলার বোঝা by রিয়াদুল করিম

মামলা তিন হাজার ৭৮০টি। আসামি তিন লাখ ৫৫ হাজার ৯০৮ জন। এঁদের মধ্যে অন্তত দুই লাখ ৫১ হাজার ৮৬২ জন হলেন অজ্ঞাতনামা আসামি। আসামিদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও রয়েছেন। এ হিসাব ঢাকাসহ পাঁচটি মহানগর ও ৪৪টি জেলার। প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ ও আদালত সূত্র থেকে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চার হাজার ৫৫১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত দুই লাখ ২৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির সংখ্যাও যোগ করা হয়েছে। বিএনপির দপ্তর থেকে বলা হয়, তাদের এই হিসাব ‘প্রাথমিক’। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
এদিকে সরকার এসব মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ইতিমধ্যে বিচারের জন্য ৭২৯টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন ‘প্রতিহতের আন্দোলন’ ও তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। বেশির ভাগ মামলারই বাদী পুলিশ।
এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এসব মামলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকার বিএনপির নেতাদের বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদি একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়েও থাকে, তাতে যেন বিএনপি অংশ নিতে না পারে। এ জন্য তিন মাসের মধ্যে মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য সরকার মাঠ প্রশাসনে নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে নতুন আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য তিনি দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হতে বলেছেন। তিনি ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণাও দিয়েছেন সম্প্রতি দুটি জনসভায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দোলনের প্রস্তুতি তো দূরের কথা, এসব মামলা সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
এর মধ্যে যেসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাঁরাও নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না। কারণ, বেশির ভাগ মামলায়ই বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাঁদের এসব ‘অজ্ঞাতনামার’ অজুহাতে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সারা দেশে এসব মামলার কারণে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অনেকটা বিপর্যস্ত। অনেকে কারাগারে, অনেকে পলাতক। যাঁরা জামিনে আছেন, তাঁদেরও প্রতিনিয়ত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর জেলায় প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো নেতা-কর্মীকে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।
দলের আরেকজন নেতা পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝাতে বলেন, ‘আমাদের মহাসচিবকেই মাসে অন্তত ১০ দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়।’ তিনি বলেন, দলে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাঁরাও শঙ্কামুক্ত নন। কারণ, অজ্ঞাতনামা আসামির জায়গায় অনেককে এখনো মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে কর্মীদের আন্দোলনে নামানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য মির্জা ফখরুল দাবি করেন, আন্দোলনের জন্য এটা খুব বড় সমস্যা নয়। যেটুকু সমস্যা হওয়ার, তা সব সময়ই হচ্ছে। মামলা-মোকদ্দমা নিয়েই বিএনপি এগিয়ে চলছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা এসব মামলার অধিকাংশই হয়েছে গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে। বিশেষ করে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার নির্বাচন প্রতিহতের কর্মসূচি ঘোষণার পর মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসব মামলার অনেকগুলোতে বিএনপির পাশাপাশি জোটের শরিক দল, বিশেষত জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতা-কর্মীও আসামি আছেন। আবার একই ব্যক্তি একাধিক মামলার আসামিও আছেন।
বাদ যাননি কেন্দ্রীয় নেতারাও: সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের এসব মামলায় দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রায় সব নেতাই আসামি আছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে রয়েছে ৫২টি মামলা। এর মধ্যে ২৪টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন (অর্থ পাচারের মামলায় এখন কারাবন্দী), এম কে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের একেকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত ৫০টি করে মামলা।
বেশি মামলা যেসব জেলায়: যেসব জেলায় তুলনামূলক বেশি মামলা হয়েছে সেগুলোর একটি গাইবান্ধা। নির্বাচনের আগে বিএনপি ও শরিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধার বিভিন্ন থানায় ৪৭৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৭০ হাজার নেতা-কর্মীর নাম এজাহারে উল্লেখ আছে। বাকি ৮০ হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি। এসব আসামির মধ্যে ১৭৫ জন কারাগারে।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, একই ব্যক্তি অনেকগুলো মামলার আসামিও আছেন। ফলে মোট সংখ্যা বেড়ে গেছে। খুলনা জেলা ও মহানগরে মোট মামলা ২৯০টি। আসামির সংখ্যা সাড়ে চার হাজার। এর মধ্যে ২৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরে ২৩০টি এবং চট্টগ্রাম জেলায় ২৯২টি মামলা হয়েছে। ঢাকায় মামলা আছে ২০০। এর মধ্যে অন্তত ৭০টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় নাম-পরিচয়সহ আসামি করা হয়েছে এক হাজার ৪০০ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামি আছেন আরও কয়েক হাজার।
কুমিল্লায় ১৪৪টি মামলায় প্রায় দেড় হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। দিনাজপুরে ১১৩টি মামলায় ৬৬০ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এর বাইরে ৩৬ হাজার ২৪০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
নাটোরে বিএনপির দুই হাজার ৩৪০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১৫৬টি। লালমনিরহাটে মোট ৬৭টি মামলায় এক হাজার ৭২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও আট হাজার ২৩১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৮টি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ায় ৫৪টি মামলায় ১০০ জনের মতো নামে এবং আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদ আব্বাস। গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট এ অভিযোগ করেন। খবর জাতিসংঘ ওয়েবসাইটের। মাহমুদ আব্বাস বলেন, গত যুদ্ধে ইসরায়েল যা করেছে, তা পুরোপুরি যুদ্ধাপরাধ। বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই এ যুদ্ধাপরাধ করেছে তারা। তিনি বলেন, গাজায় করা যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলের শাস্তি পাওয়া উচিত। কড়া ভাষায় নিন্দা করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেননি আব্বাস। যদিও অতীতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তা করার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলি সর্বশেষ হামলায় গাজার নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগের যেকোনো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতিকে তা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি দখলদারির অবসানসহ সমঝোতা হয়ে যাওয়া বিষয়গুলোর সমাধান না হলে আলোচনায় বসার কোনো মানে হয় না। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরায়েলের ৫০ দিনের বিমান ও গোলন্দাজ হামলায় অন্তত দুই হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামাসের রকেট হামলা বন্ধ ও তাদের তৈরি সুড়ঙ্গ কাঠামো ধ্বংস করতে ইসরায়েল ওই অভিযান চালায়। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
আরও বিশ্বনেতার ভাষণ: ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, আইএস জঙ্গিদের পরাজিত করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। শুধু আইএসের জঙ্গি নয়, সব জায়গায় সব সন্ত্রাসীকেই নির্মূল করতে হবে। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাককে সামরিক সহায়তা ও ইরাকি বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইরাকের প্রেসিডেন্ট। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেন, চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই খ্রিষ্টানের বিরুদ্ধে ইসলামের বা ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদিদের লড়াই নয়। সব সাম্প্রদায়িক চরমপন্থার বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে। ছোট দ্বীপদেশগুলোর নেতারা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও নেতিবাচক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা চেয়েছেন। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী টুইলায়েপা সেইলেলে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যক্রম অপর্যাপ্ত। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণের দিকে নজর না দিয়ে আলামতের দিকে বেশি গুরুত্ব দিই।’ নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট হিফিকেপুনে পোহাম্বা আফ্রিকায় ইবোলা মহামারি, সশস্ত্র দ্বন্দ্ব ও সন্ত্রাসবাদের হুমকিসহ মহাদেশটির নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।

সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার কড়া সমালোচনা

আইএসের তাড়া খেয়ে সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকেছে সিরিয়ার
অনেক কুর্দি পরিবার। আন্তর্জাতিকভাবে মতৈক্য হলে তুর্কি
সেনাবাহিনী এই শরণার্থীদের জন্য সিরিয়ার ভেতরেই
একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়তে কাজ করতে আগ্রহী।
গতকাল তুরস্কের সুরুক শহর থেকে তোলা ছবি।
সিরিয়ায় বিমান হামলার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন দেশে ‘সামরিক হস্তক্ষেপ’ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। গতকাল শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই অভিযোগ করেন। খবর এএফপি ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইটের। ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিজের স্বার্থ আদায়ে ওয়াশিংটন বিশ্বের যেকোনো স্থানে তার একতরফা শক্তি প্রয়োগের অধিকারকে খোলাখুলি প্রকাশ করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো অন্য রাষ্ট্রের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তার এই মনোভাব পরিহার করতে হবে।
ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল: এর আগে গত শুক্রবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যা চালিয়েছে। আব্বাস বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইসরায়েল যা করেছে, তা পুরোপুরি যুদ্ধাপরাধ। বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই এ যুদ্ধাপরাধ করেছে তারা। এ জন্য ইসরায়েলের শাস্তি পাওয়া উচিত। কড়া ভাষায় নিন্দা করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেননি আব্বাস। যদিও অতীতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তা করার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরায়েলের ৫০ দিনের বিমান ও গোলন্দাজ হামলায় অন্তত দুই হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামাসের রকেট হামলা বন্ধ এবং তাদের তৈরি সুড়ঙ্গকাঠামো ধ্বংস করতে ইসরায়েল ওই অভিযান চালায়। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
আরও বিশ্বনেতার ভাষণ: ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম তাঁর ভাষণে বলেন, আইএস জঙ্গিদের পরাজিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। শুধু আইএসের জঙ্গি নয়, সব জায়গায় সব সন্ত্রাসীকেই নির্মূল করতে হবে। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাককে সামরিক সহায়তা ও ইরাকি বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইরাকের প্রেসিডেন্ট। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেন, চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই খ্রিষ্টানের বিরুদ্ধে ইসলামের বা ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদিদের লড়াই নয়। সব সাম্প্রদায়িক চরমপন্থার বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হবে। ছোট দ্বীপদেশগুলোর নেতারা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নেতিবাচক প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা চেয়েছেন।

দুর্নীতির দায়ে জয়ললিতার চার বছরের কারাদণ্ড

জয়ললিতা জয়রাম
দুর্নীতির দায়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতাকে গতকাল শনিবার চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর এক আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক শ কোটি ভারতীয় রুপি জরিমানা করা হয়েছে। জয়ললিতার তিন সহযোগীকেও দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। রায়ের ফলে দক্ষিণ ভারতের এই প্রভাবশালী রাজনীতিক মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। রায়ের পর গতকাল তামিলনাড়ুর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও বাসে আগুন দেন জয়ললিতার দল অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) কর্মী–সমর্থকেরা। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে অংশ নিতে গতকাল সকালেই চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরুর ওই আদালতে হাজির হন জয়ললিতা। সেখানকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে শুনানি হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় জয়ললিতা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল সম্পদের মালিক হন। দীর্ঘ ১৮ বছর আগে এ মামলা করেছিলেন বিজেপির নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী। রায়ের পর তিনি বলেন, ‘আমি প্রমাণ করতে পেরেছি...এ আস্থা হারানোর ক্ষতি তিনি আর পুষিয়ে নিতে পারবেন না।’ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বছর এক আদেশে বলেছিলেন, কোনো আইনপ্রণেতা দুই বছর বা ততোধিক সময়ের জন্য কারাদণ্ড হয় এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পদের জন্য অযোগ্য হবেন। বাদীপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতে যুক্তি দেখান, জয়ললিতা যখন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন তখন মাত্র এক রুপি বেতন গ্রহণ করতেন। অথচ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেই তিনি তাঁর সম্পদ ৬৬ কোটি রুপিতে নিয়ে গেছেন। ধারণা করা হয়, জয়ললিতার অবৈধ এ সম্পদের মধ্যে রয়েছে দুই হাজার একর জমি, ৩০ কেজি স্বর্ণ ও ১২ হাজার শাড়ি। এআইএডিএমকে দলের সাধারণ সম্পাদক জয়ললিতা দক্ষিণ ভারতের শীর্ষ প্রভাবশালী নেতাদের অন্যতম। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ছিলেন।

মা হলেন চেলসি

মা হলেন চেলসি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মেয়ে চেলসি ক্লিনটন কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকে গত শুক্রবার এ কথা জানান চেলসি। খবর রয়টার্স ও বিবিসির। চেলসি তাঁর টুইটার বার্তায় বলেন, ‘মার্ক (চেলসির স্বামী মার্ক মেজভিনস্কি) ও আমি গভীর ভালোবাসায় আমাদের কন্যা শার্লোট ক্লিনটন মেজভিনস্কির জন্ম উপভোগ করছি।’ চেলসি (৩৪) ২০১০ সালে মার্ক মেজভিনস্কিকে বিয়ে করেন। এ বছরের এপ্রিলে সন্তানসম্ভবা হওয়ার কথা জানান তিনি। ক্লিনটন পরিবারে এমন সময় নতুন এই অতিথির আগমন ঘটল, যখন হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
চেলসি স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। বাবা-মার সঙ্গে তিনি ক্লিনটন ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন। চেলসির স্বামী মার্ক মেজভিনস্কি একজন বিনিয়োগ ব্যাংকার। সন্তান জন্মদান ও দাতব্যকাজের জন্য চেলসি গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টিভি চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধির পদ ছেড়ে দেন।

মোবারকের রায় স্থগিত

হোসনি মোবারক
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার পুনর্বিচারের রায় স্থগিত করেছেন দেশটির একটি আদালত। সংশ্লিষ্ট মামলাটি দুর্নীতি ও ২০১১ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ নিয়ে। আগামী ২৯ নভেম্বর রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশনার সময় মোবারক উপস্থিত ছিলেন।
সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলেরা ও এক সাবেক মন্ত্রী। ২০১২ সালে হোসনি মোবারককে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন একটি আদালত। তবে গত বছরের এপ্রিল মাসে নতুন করে বিচার শুরু হয়। রয়টার্স

র‌্যাবের ডিজিকে তলব

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটি তলব করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানকে। আজ বেলা আড়াইটায় তাকে সচিবালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে একই কমিটি র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। র‌্যাবের ডিজিকে তলবের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির সদস্য আবুল কাশেম মহিউদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে র‌্যাবের ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। র‌্যাবের কয়েকজন সদস্য জড়িত থাকার বিষয় আসায় র‌্যাবের প্রধান হিসেবে তার বক্তব্য নেয়া হবে। ওদিকে অপরাধের জন্য র‌্যাব সদস্যদের দায় মুক্তি চাওয়া হবে না এমন বক্তব্য দেয়ার পর নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও সাত খুনের নেপথ্য জানতে তদন্ত কমিটি র‌্যাবের মহাপরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিটি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগে আরো তিন-চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এর আগে গত ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার সহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশে গত ৬ই মে অভিযোগ তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে সরকার। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল সাঈদ তারেক, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এমএম রানাকে র‌্যাব থেকে সরিয়ে নিজ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে র‌্যাব কর্মকর্তারা সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া, র‌্যাবের আরও কয়েক জন সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই সাক্ষীদের বক্তব্য নিয়ে শিগগিরই তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট দাখিল করবে বলে জানা গেছে।

১ ডলারের জন্য ৩ ডলার সুদ গুনবে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের গঠিত বিশেষ জলবায়ু তহবিল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের গ্রহণ করা প্রতি এক ডলার ঋণের জন্য বাংলাদেশকে তিন ডলার সুদ দিতে হবে। দু’জন আন্তর্জাতিক গবেষক জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সবচেয়ে হুমকিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকা বাংলাদেশের বিষয়ে ওই নতুন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তারা সুপারিশ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নানাবিধ পদক্ষেপ নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যে শর্তে ঋণ দেয়া হচ্ছে তা বাতিল করা উচিত। লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের পিএইচডি গবেষক হেলেনা রাইট এবং লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর ভিজিটিং রিসার্চার আদরিয়ান ফেন্টন এবিষয়ে গত শুক্রবার লন্ডনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন।
তবে ঢাকার ওয়াকিবহাল মহল এক ডলারে তিন ডলার সুদ পরিশোধের এই ভয়ানক তথ্য জেনে এর আগে টিআইবি’র একটি প্রতিবেদন স্মরণে এনেছেন। গত বছরের ৩রা অক্টোবর টিআইবি এক সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহারে ‘স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি’র অভিযোগ প্রকাশ করেছিল। টিআইবি সমীক্ষা অনুযায়ী অ্যানেক্স ওয়ান দেশগুলো থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার ৫৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছিল।  
উল্লেখ্য, ওই দুই গবেষক গার্ডিয়ানে প্রকাশিত তাদের নিবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জলবায়ুর হুমকি মোকাবিলায় ২০১০-২০১২ অর্থবছরে যে পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেছে সে জন্য তাকে চড়া মাশুল দিতে হবে। এর সঙ্গে জোনাস বেন্দিকসেনের তোলা ব্রহ্মপুত্র নদি তীরবর্তী একটি এলাকার বাংলাদেশী পাটচাষিদের আলোকচিত্র প্রকাশ করেছে। নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকানোর খরচ বহন করবে। কিন্তু এ জন্য যে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে তা কি সুফল দেবে? তারা বলেন, জলবায়ু বিষিয়ে তুলতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো কোন অপরাধ করেনি। অথচ এখন তাদের ওপর চেপে বসছে ঋণের বোঝা। আগামী প্রজন্মকেও এই ঋণের ভার বইতে হবে।

চাকরি হারানোর শঙ্কায় লাখো বাংলাদেশী -এমআরপি জটিলতা by দীন ইসলাম

চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত অর্ধ কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একরোখা মনোভাবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দেশে বসবাসকারী শ্রমিকরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের দেশে ফিরতে হবে। এছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও ২০১৫ সালের মধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তুলে দিতে হবে। এমন বাস্তবতায় এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতটি দেশে অবস্থিত ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবু ধাবি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ওমানের মাস্কট, কাতারের দোহা, কুয়েতের কুয়েত সিটি, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর সিটি এবং ইতালির রোমে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে। এরপরও নিজেদের গুরুত্ব কোনভাবেই কমতে দিতে রাজি নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাদ সাধতে তৎপর তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশী শ্রমিকবেষ্টিত দেশগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উইং স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটার বিরোধিতা করে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। এটার বাস্তবায়ন তাড়াতাড়ি না করলে বাংলাদেশী শ্রমিকরা সমস্যার মুখে পড়বেন। অনেকের চাকরিও চলে যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৫ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ জন, কুয়েতে চার লাখ ৮১ হাজার ৩৬২ জন, মালয়েশিয়ায় সাত লাখ আট হাজার ৪৪২ জন, সিঙ্গাপুরে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫ জন, ওমানে নয় লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ জন ও কাতারে তিন লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক গিয়েছেন। এসব দেশের অর্ধ কোটি শ্রমিক এখনও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) পাননি। এমআরপি দিতে সরকারি পর্যায়ে যেসব তৎপরতা চলছে তাও আশানুরূপ নয়। এমন অবস্থার মধ্যেও নিজেদের কর্তৃত্ব খর্ব হয়ে যাবে- এমন শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং বসতে দিতে চাইছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এনিয়ে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের এমআরপি ও এমআরভি প্রদানসহ কনস্যুলার সেবা প্রদানের বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ছয় জন কর্মকর্তা অনুমোদনকৃত উইং স্থাপন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি গত ২১শে সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনকৃত উইং স্থাপনের বিরোধিতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে একটি চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এম. আল্লামা সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর জন্য শ্রমঘন ২৬টি মিশনে অতিরিক্ত কন্স্যুলার সহকারীর ৫৮টি পদ সৃজন করা হয়েছে। এতে বহির্বিশ্বে কন্স্যুলার পরিসেবা প্রদানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকার আইনগত স্বীকৃতি ঘটেছে। এছাড়া, মিশনগুলোতে স্থানীয় ভিত্তিক জনবল বাড়ানো এবং মন্ত্রণালয় বা মিশনগুলোর শূন্যপদ পূরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজন ভিত্তিক বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরও ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের বিরোধিতায় মেতেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে এমআরপি ও এমআরভি’র মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব দিতে চায় তারা। তবুও কোন মতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইং স্থাপনের বিরোধিতা করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে ২০১৫ সালের মধ্যে এমআরপি ও এমআরভি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং তবে তা নিতান্তই সাময়িক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আউটসোর্সিং কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরপি বা এমআরভি-র ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার যেমন- অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাই বাছাই, ঢাকাস্থ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন নতুন পদ সৃষ্টি ও দাপ্তরিক স্থাপনা সমপ্রসারণ এড়ানো সম্ভব হবে তেমনি সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ভার পরিহার করেও উন্নত কনস্যুলার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইংয়ের জন্য সৃষ্টি করা ৭৩টি পদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদ হিসেবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছেন তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে কনস্যুলার সেবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। অনুমোদনকৃত পদগুলোতে মিশনগুলোর চাহিদা অনুসারে একটি কমিটির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচিত করে মিশনে পদায়িত করতে পারে। একই পদ্ধতির আওতায় অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের এবং সংস্থার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা বর্তমানে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে কর্মরত আছেন। এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক বিভাগের আওতাধীন অনুমোদিত পদের প্রায় ২৫ ভাগ। এসব ৭৩টি পদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা মিশনগুলোর জনবল বৃদ্ধির যে কার্যক্রম অব্যাহত আছে তা আরো সুসংহত হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নানা দেন-দরবারের পর সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদের একক প্রচেষ্টায় সাতটি দেশের ১০টি বাংলাদেশ মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উইং স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়। অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উইং স্থাপনের প্রস্তাবটি। এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চ্যালেঞ্জ করে প্রচারণা চালাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটা দেশের জন্য সুখকর নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাবি ‘চ’ ইউনিটে ফেল ৯৭ শতাংশ -ফল নিয়ে পাল্টাপাল্টি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফেলের রেকর্ড গড়ছেন ‘মেধাবী’ শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গতকাল প্রকাশিত ‘চ’ ইউনিটের ফলে মাত্র তিন ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। এর আগের ইউনিটগুলোতে ৯ থেকে ২০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র দু’জন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে যখন চারদিকে সমালোচনা তখন মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, এমন ফলের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষা পদ্ধতি দায়ী। এতে শিক্ষার্থীরা হেনস্তা হচ্ছে এবং তাদের হতাশা বাড়াচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বোর্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদরাও।
গতকাল সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান কমেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইচ্ছা করে শিক্ষার্থীদের ফেল করাচ্ছে শিক্ষার মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এত সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল এটা আমাদের বিষয় না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবে। শিক্ষার্থীদের হেস্তনেস্ত করতে ফেল বলে প্রচার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেমেয়েদের সর্বনাশ, হতাশাগ্রস্ত, নিরুৎসাহিত এবং বিদেশে তাদের অগ্রহণযোগ্য করার জন্য ওই ধরনের বাছাই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবেন না। শিক্ষামন্ত্রী এ বক্তব্যে কড়া সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এটা নিয়ে কখনও কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে আপনার (শিক্ষামন্ত্রী) পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ ওই পরীক্ষাগুলো থেকে ৮০ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে সহায়তা করে। ভিসি আরও বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি আরও আধুনিকায়নে আমরা চেষ্টা করছি। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা পরীক্ষা নিয়ে থাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে বির্তক করার কোন অবকাশ নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মানে গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি এটি তারই প্রমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ত্রুটি কোন জায়গায় আছে বিতর্ক না করে সেটা বের করতে হবে। ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করাটা সামগ্রিক শিক্ষার মানে নিয়ে উদ্বেগ হওয়ার মতো। এর সমাধানে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে। ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। বহু কষ্টে আজকের এ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এটি একটি পরিপূর্ণ নির্ভুল প্রক্রিয়া। শিক্ষামন্ত্রী এ ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কিছু ঘটনার কারণে কিছু সমস্যা হতে পারে। তা উত্তরণের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যখন ছাত্র ছিলেন তখনও এ পদ্ধতি ছিল। ৩০-৪০ ভাগ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে পাস করতো। তারা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়েও ভাল করতো। বর্তমানে শিক্ষার মানের দিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে। এটার লক্ষণ ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা।  শিক্ষাবিদ ও ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যেমন বিশ্লেষণ করা দরকার তেমনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নম্বর দেয়ার সময় উদারতা ছিল কিনা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষা আরও আধুনিকায়নের চেষ্টা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আমি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদরা জড়িত। এটা কোনভাবে ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে না। উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মান যাচাই-বাছাই করার জন্য ভর্তি পরীক্ষা। সেখানে তারা পাস করতে পারছে না মানে আমাদের সামগ্রিক মান খারাপ সেটা বুঝে নিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় নির্ধারণ হচ্ছে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্য কিনা। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলে জাস্টিফাই করতে চাইছেন। উচ্চ মাধ্যমিকে গণহারে পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়া সবাই মেধাবী। অতিরিক্ত জিপিএ-৫ পাওয়ার মাঝে কোন কৃতিত্ব নেই। কলা অনুষদের ডিন ও ‘খ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য দুঃখজনক। এটা ওনার কাছ থেকে আশা করিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেশের সেরা ভর্তি পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলে আসছে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানের অবনতি হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোতে এসে শিক্ষার্থীরা ভাল করতে পারছে না। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয় অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অদ্বিতীয়। এটা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সারা দুনিয়া এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। ভর্তি পরীক্ষায় পাস-ফেলের বিষয় নেই। যারা সেরা তাদের ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ও শিক্ষা গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে সত্য। তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি ্‌ত্রুটিপূর্ণ। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে চলছে তা চলতে দেয়া যায় না। পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় ত্রুটি আছে বিষয়টি সে রকম না। ভর্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য শিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ণয় না, ভর্তির যোগ্যদের যাচাই করা। ভালদের মধ্যে থেকে অধিক ভালদের খুঁজে বের করা। সুতরাং এটা দিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার মান যাচাই করার কথা বলা যাবে না। তবে গণহারে ফেলের বিষয়টিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঢাবি ‘চ’ ইউনিটে ফেল ৯৭ শতাংশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ইউনিটে পাসের হার ৩.১০ শতাংশ। ফেল করেছে ৯৭ শতাংশ। রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে এই ফল ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চারুকলা অনুষদের ডিন ও ‘চ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আবুল বারাক আলভী, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান। এ বছর ১৩৫টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭ হাজার ২২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২২৬ জন। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানা যাবে। উল্লেখ্য, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ৭টি কেন্দ্রে ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

‘স্মরণকালের বৃহত্তম বেয়াদবি’

পাশাপাশি জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্য দেয়াকে স্মরণকালের বৃহত্তম বেয়াদবি আখ্যা দিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, আমি এই বেয়াদবি আর বরদাস্ত করবো না। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন উপলক্ষে রোববার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী মোটরচালক লীগের পাশাপাশি দু’টি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পশ্চিম দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। অপরদিকে পূর্বপাশে মোটরচালক লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধান অতিথি ড. হাছান মাহমুদ। বক্তব্য শুরু করতে গিয়ে সাজেদা চৌধুরী অপর প্রান্তের মাইকের বিকট আওয়াজে বারবার বিব্রত হচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ড. হাছান মাহমুদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এখানে পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠান আমি আশা করিনি। এখানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হবে না। এটা জামায়াতি হিসেব...। নতুন নেতারা প্রতিপক্ষ হিসেবে বক্তব্য দেবেন এটা প্রথম দেখলাম। পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আওয়ামী লীগ অতীতে করেনি। এখনও আশা করি না। এ ধরনের আস্ফালন তার রাজনৈতিক জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এইটা কোনদিন দেখি নাই, আশা করি আর কোনদিন দেখবোও না। এখন নতুন নতুন নেতা জন্মে বেয়াদবি শুরু করেছে। এ বেয়াদবি আমি সহ্য করবো না। তাকে একটু সংবরণ করতে বলবো। এই খানে (৩২ নম্বর) কোনদিন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য হয়নি। আর কোনদিন হবেও না। আমি একজন আওয়ামী লীগ কর্মী। বঙ্গবন্ধুর কর্মী। আমি জানি উনি কি ছিলেন, কোথায় ছিলেন। আমি আপনাদের কাছে বিচার দিয়ে গেলাম। তিনি হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি কে? আগে কি ছিলেন? কিভাবে উনি নেতা হয়েছেন, রাজনীতিবিদ হয়েছেন তা-ও আমার জানা আছে। হাছানের বক্তব্য চলতে থাকলে তিনি বলেন, এখন বাহাস করতেছেন, যা হোক আমি কিছু বলতে চাই না। আজকের দিনে শেখ হাসিনার জন্মদিন। তার এভাবে চিৎকার করে অপজিটে বক্তৃতা করায় আমাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছেলেরা যে মিটিং করছে তাদেরকে যেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বক্তৃতা করছেন। সৈয়দ সাজেদা বলেন, এ দল বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ছিল না। সব নেতাই গায়েব হয়ে গিয়েছিল। যখন নেতার ?লাশ পড়েছিল তিন দিন কেউই ছিল না। প্রতিবাদ করেনি। একমাত্র আমিই প্রতিবাদ করেছি। এখন অনেকেই নেতা বনে গেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচার শুরু করেছেন। আপনি কে? মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি কোথায় ছিলেন? এখন বড় বড় কথা বলছেন। বেয়াদবি করছেন। এই বেয়াদবি আমি বরদাস্ত করবো না। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠান থেকে কয়েকজন দৌড়ে মোটরচালক লীগের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি হাছান মাহমুদকে জানালে তিনি বক্তব্য বন্ধ করে দেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠান শেষ হলে হাছান মাহমুদ বক্তব্য শুরু করেন। মোটরচালক লীগের আলোচনা সভা শেষে সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ কোন কথা না বলে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এদের সঙ্গে বিদেশীরাও জড়িত। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি দেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছেন সে তথ্য সরকারের কাছে আছে। সরকার এ ধরনের ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবে না উল্লেখ করে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে খালেদা জিয়াকে বিরত থাকার আহ্বান জানান হানিফ।

‘সাজেদা ফুফু ছিলেন আয়োজকরাও জানতেন না’
এদিকে জ্যেষ্ঠ নেতা সাজেদা চৌধুরীর ‘উষ্মা’ প্রকাশের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি জানতামই না পাশের স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠানে সাজেদা ফুফু রয়েছেন। আয়োজকরাও বিষয়টি জানতো না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের বক্তব্যের পরেই নিজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য শুরুর কথা মোটরচালক লীগের আয়োজকদের আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ওখানে হানিফ ভাইয়ের বক্তব্যের পর আমার অনুষ্ঠানে আমি বক্তব্য শুরু করি। আমাদের আওয়াজ যেমন ওখানে যাচ্ছিল, তেমনি সেখানকার আওয়াজও আসছিল। ভাষণের দু’তিন মিনিটের মধ্যে যখন জানতে পারি সাজেদা ফুফু বক্তব্য দিচ্ছেন তখনই মাইক বন্ধ করে দিই। সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্যের পরই আবার বক্তব্য রাখেন বলে জানান হাছান। তিনি বলেন, ফুফু হয়তো কিছু বলেছেন, আমি সেখানে শুনিনি। এখন জানলাম। আয়োজকরা তো জানতোই না যে সাজেদা ফুফু আছেন সেখানে। আমার তো জানার প্রশ্নই উঠে না।