Wednesday, June 5, 2013

আটক রোহিঙ্গাদের নিতে চায় না কেউ: থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড সরকার বলেছে, সে দেশে আটক প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে তৃতীয় কোনো দেশ রাজি হচ্ছে না। ব্যাংককের ধারণা, রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে আশ্রয় দিলে বাকি রোহিঙ্গারাও তাদের পথ অনুসরণ করবে—এই ভয়ে হয়তো কোনো দেশ তাদের আশ্রয় দিতে চাইছে না। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মানাসভি শ্রীসদাপল গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলেন। ওই মুখপাত্র বলেন, রোহিঙ্গাদের গ্রহণে তৃতীয় কোনো দেশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে আশ্রয় দিলে বাকি হাজার হাজার বা লাখ লাখ রোহিঙ্গাও তাদের অনুসরণ করবে। কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ডের কয়েকটি জনাকীর্ণ জেলহাজতে বন্দী রয়েছে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা। তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে নৌকা বা ট্রলারযোগে সেখানে পালিয়ে গেছে। রাখাইন বৌদ্ধদের সঙ্গে জাতিগত দাঙ্গার পর প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। এদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। কারাগারগুলোতে মানবেতর জীবনযাপনের কারণে আটক রোহিঙ্গাদের মুক্তি দাবি করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এ ব্যাপারে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা কারাগারের অমানবিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত। মানাসভি বলেন, থাই সরকার রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। অভিযোগ আছে, থাইল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অনেককে নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে সাহায্য করেছে থাই নৌবাহিনী। আবার অনেককে আটক করা হয়েছে। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের গন্তব্য হিসেবে প্রথম পছন্দ মালয়েশিয়া। দুই সন্তান নীতি খতিয়ে দেখা হবে: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সরকার সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলমানেরা দুটির বেশি সন্তান নিতে পারবে না বলে যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা সরকার পুনর্বিবেচনা করবে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই দুই সন্তান নীতির কড়া সমালোচনা করার পর সরকার বিষয়টি বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের মুখপাত্র ইয়ে তুত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার এই নীতি ঘোষণা করেনি। আমরা এটি খতিয়ে দেখছি।’ এএফপি।

সিরিয়ায় এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হয়নি: পুতিন

পাশ্চাত্যের নেতাদের আশ্বস্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, মস্কো এখনো সিরিয়ায় এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হোক, রাশিয়া তা চায় না। তবে সিরিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রির অধিকার রাশিয়ার আছে। রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ কথা বলেন। এদিকে জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এটা বিশ্বাস করার ‘যুক্তিসংগত’ কারণ রয়েছে। তবে এর পক্ষে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট পুতিন আরও বলেন, ‘সিরিয়ার সঙ্গে কয়েক বছর আগেই অস্ত্র সরবরাহ-সংক্রান্ত চুক্তি করা হয়। সেই চুক্তির এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে আমরা ওই অঞ্চলের ভারসাম্য নষ্ট করতে চাই না।’ তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বহির্বিশ্বের সামরিক অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ইইউ সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা না বাড়ানোয় তার নিন্দা জানিয়েছেন পুতিন। এই মুহূর্তে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অন্যতম মিত্র রাশিয়া দামেস্কে বিভিন্ন অস্ত্র সরবরাহ করছে। কয়েক বছর আগে করা চুক্তির আওতায়ই এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করছে উভয় দেশ। সম্প্রতি লেবাননের কট্টরপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাশার বলেন, তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৩০০ মডেলের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছেন। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে গঠিত জাতিসংঘ কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় ‘নৃশংসতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে’। সেখানে দুই পক্ষই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। সিরিয়ার বিদ্রোহীরাও যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা নাকচ করা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। এতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে দামেস্কের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়। নদীর তীরে ১৪৭ লাশ সিরিয়ার আলেপ্পোতে একটি নদীর তীরে ১৪৭ ব্যক্তির  দেহাবশেষ দেখেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংগঠনটি বলছে, সম্ভবত সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাদের হত্যা করা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এইচআরডব্লিউ জানায়, তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দা, একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও হত্যার শিকার ১৮ জনের পরিবারের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছে। এ ছাড়াও সাড়ে তিন শ ছবি ও ভিডিওচিত্র দেখেছে। এর পরেই ওই লাশগুলোর ব্যাপারে এ বক্তব্য দিয়েছে। বিবিসি, এএফপি।

রানির অভিষেকের ৬০তম বার্ষিকী উদ্যাপন

যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৬০তম বার্ষিকী উদ্যাপিত হলো গতকাল মঙ্গলবার। ১৯৫৩ সালের এই দিনে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে তাঁর মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রানির অভিষেকের বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানে প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্যাথেরিনসহ রাজপরিবারের সব জ্যেষ্ঠ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ছিলেন দুই শতাধিক অতিথি। রানিকে বহনকারী গাড়ি পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাবির সব কটি ঘণ্টা বেজে ওঠে। এরপর রানি গাড়ি থেকে নেমে গির্জার দিকে পা বাড়ান। সেখানেই ২৭ বছর বয়সে তাঁকে যুক্তরাজ্যের রানি ও কমনওয়েলথের প্রধান করা হয়েছিল। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির অনুষ্ঠানে ৮৪ বছর বয়সী রানির পাশে ছিলেন তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ (৯১)। হীরাখচিত খাঁটি সোনায় মোড়ানো মুকুটটি এ সময় অ্যাবির বেদিতে রাখা হয়। গতকাল সিংহাসনের আইনত উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস তাঁর বাবা-মায়ের পাশে আসন নেন। চার্লসের পাশেই বসেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যামিলা। তাঁদের পাশে বসেন উইলিয়াম ও ক্যাথেরিন। অনুষ্ঠানে ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা রানিকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। রাজকবি ক্যারল অ্যান ডাফির লেখা একটি বিশেষ কবিতা পাঠ করা হয়। ১৯৫২ সালে বাবা ষষ্ঠ জর্জের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় এলিজাবেথ রানি হন। কিন্তু জাতীয় শোক পালনের কারণে এর ১৬ মাস পরে তাঁর মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুকুট পরানো হয়। এএফপি।

যে দেশে শিশুরা বাক্সে ঘুমায়!

ফিনল্যান্ডের সব ছোট শিশু জন্ম থেকেই এক ধরনের বাক্সের মধ্যে ঘুমায়। ৭৫ বছর ধরে সে দেশে এ ব্যতিক্রমী সংস্কৃতি চলছে। গত শতকের তিরিশের দশক থেকে ফিনল্যান্ডের সরকার প্রত্যেক সন্তানসম্ভবা মাকে একটি বাক্স উপহার দেয়। ওই বাক্সে থাকে একটি শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস। আর মূল বাক্সটি ব্যবহার হয় শিশুর ঘুমানোর বিছানা হিসেবে। বিশ্বে সবচেয়ে কম শিশুমৃত্যুর হারের দেশ ফিনল্যান্ড। তাঁদের এ অর্জনের পেছনে চিকিৎসাসেবা ছাড়াও বড় একটি ভূমিকা রেখেছে সরকারের উপহার দেওয়া এই বাক্স। ১৯৩০-এর দশকেও ফিনল্যান্ড ছিল ইউরোপের অন্যতম গরিব দেশ। তখন সেখানে প্রতি হাজারে শিশুমৃত্যুর হার ছিল ৬৫। ফিনল্যান্ডের সরকার ১৯৩৮ সালে দেশটির দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নবজাতকের জন্য জরুরি জিনিসপত্রে ভরা একটি বাক্স উপহার দেওয়া শুরু করে। ওই দশকেই তাঁদের শিশুমৃত্যুর হার কমতে থাকে। ১৯৪৯ সাল থেকে ধনী-গরিব সব পরিবারের শিশুদের জন্যই এটি দেওয়া শুরু হয়। ১৯৫০-এর দশকে ওই বাক্স উপহারের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রত্যেক সন্তানসম্ভবা মায়ের বাধ্যতামূলক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। ৭৫ বছর পর এখনো হবু মাকে সরকারের বাক্স উপহার দেওয়ার ধারা অব্যাহত আছে। ফিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা অনেক বদলে গেছে। সেই সঙ্গে বদলেছে বাক্সের মধ্যে থাকা জিনিসপত্র। যুক্ত হয়েছে কিছু জিনিস। বাদ দেওয়া হয়েছে কিছু। এখন বাক্সে থাকে ছোট মাদুর, স্লিপিং ব্যাগ, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের কয়েক প্রস্থ জামা, শীতের কাপড়, গোসল করানোর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কিছু খেলনা, ছবির বই ইত্যাদি। সব শিশুই যেন সমান সুযোগ পেয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে, সেটাই এ উপহারের উদ্দেশ্য। কোনো পরিবার বাক্স নিতে না চাইলে সরকার তাঁদের ১৪০ ইউরো দেয়। তবে জানা গেছে, ৯৫ শতাংশ পরিবারই বাক্স নিয়ে থাকে। ইউনিভার্সিটি অব হেলসিংকির ইতিহাসবিদ প্যানু পুলমা বলেন, শিশুদের ঘুমানোর বাক্স ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ বাক্স শিশুমৃত্যুর হার কমানো, তার বৃদ্ধি ও সময় হলে মায়ের দুধ ছাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিবিসি।

নতুন এলাকা প্লাবিত, মৃত ১১

মধ্য ইউরোপে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বন্যার পানি চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগের শহরতলিগুলোতে প্রবেশ করে। প্রবল বর্ষণের কারণে সৃষ্ট এ বন্যায় গতকাল পর্যন্ত চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে উঠেছে। এদিকে এই বন্যার প্রবাহ এখন জার্মানির দিকে যাচ্ছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির ১০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। বন্যায় প্রাগের উত্তর ও দক্ষিণের এলাকাগুলো নিমজ্জিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে নগরের চিড়িয়াখানা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার ট্র্যাক। তবে ভ্লাতাভা নদীর তীরে গড়া ধাতব বাঁধের কারণে ইতিহাসসমৃদ্ধ নগরকেন্দ্র রক্ষা পেয়েছে। এ বন্যাকে এই অঞ্চলে এক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম বলে বলা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বৃষ্টিপাত কমে এলে চেক প্রজাতন্ত্রজুড়ে বন্যার উন্নতি হলেও আগামী দিনগুলোতে জার্মানি, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির বিভিন্ন অংশে তা আঘাত হানতে পারে। জার্মানির স্যাক্সোনি এলাকার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার লোককে ইতিমধ্যে বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুই দিনের ধর্মঘট ডেকেছে ট্রেড ইউনিয়ন জোট

তুরস্কের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো দুই দিনের ধর্মঘট ডেকেছে। সোমবার রাতভর রাজধানী আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়। খেস্ক নামের বামপন্থী ১১টি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ট্রেড ইউনিয়ন জোট ধর্মঘটের ডাক দেয়। এই জোট দুই লাখ ৪০ হাজারের মতো শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকার দেশে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করতে চাইছে। তারা গণতন্ত্রের ভিতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল চার দিনের সফরে মরক্কো গেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি ‘নিরীহ’ জনগণকে উসকানি দিচ্ছে। আর যাঁরা সংবাদ তৈরি করতে গিয়ে এটাকে ‘তুর্কি বসন্ত’ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা তুরস্ককে সত্যিকার অর্থে জানেন না। প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান বলেন, ‘আমি মরক্কো থেকে দেশে ফিরলেই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।’ এসব ঘটনায় রিপাবলিকানস পিপলস পার্টি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কিছুটা সুর মিলিয়ে বলেছেন, প্রতিবাদ-সমাবেশ করার অধিকার সবারই আছে। তবে তা শান্তিপূর্ণ হতে হবে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, চলমান এই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। এদিকে উপপ্রধানমন্ত্রী বুয়েন্ত আরেঞ্চ গতকাল বলেছেন, সত্যিই যাঁরা ইস্তাম্বুলের পার্ক রক্ষার জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। আরেঞ্চ বলেন, ‘লোকের মন থেকে সংশয় দূর করতে হবে। এ জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’ উপপ্রধানমন্ত্রী আরেঞ্চ আরও বলেন, ‘বৈচিত্র্যই তুরস্কের বড় সম্পদ। কাজেই সরকার ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবনযাত্রার পদ্ধতিকে শ্রদ্ধা করে।’
সোমবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইস্তাম্বুলের তাসকিম স্কয়ারে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের অনেকে এ সময় এরদোয়ানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। তাঁদের হাতে লাল পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়। বেসিকতাস শহরে এরদোয়ানের দলের কার্যালয়ের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ: এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘তুরস্কের পুলিশ বাড়াবাড়ি করছে। আমাদের প্রত্যাশা, এ ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত হবে এবং পুলিশকে এ ধরনের তৎপরতা থেকে বিরত রাখা হবে।’ বিবিসি ও রয়টার্স।

‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের হাতে নথি তুলে দিয়েছেন’

সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন সেনা ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের (২৫) বিচার গত সোমবার সামরিক আদালতে শুরু হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, গোপন তথ্যভান্ডার থেকে ম্যানিং পরিকল্পিতভাবে লাখ লাখ নথি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিচারের শুরুতেই সরকারপক্ষের কৌঁসুলি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওসামা বিন লাদেনও উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যের ভান্ডারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি এসব তথ্য ব্যবহারও করেছেন। ম্যানিংয়ের বিচার চলছে মেরিল্যান্ডের ফোর্ট মিড সামরিক আদালতে। সরকারি কৌঁসুলি ক্যাপ্টেন জো মোরো তথ্য ফাঁসের এই ঘটনাকে ‘উদ্ধত কোনো ব্যক্তি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশাধিকার পেলে যা হয়, তাই’ বলে উল্লেখ করেন। বিবিসি।

আফ্রিকার জঙ্গিদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা

উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামপন্থী জঙ্গিদের ধরিয়ে দিতে প্রথমবারের মতো পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গিনেতার জন্য আলাদা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের নেতা আবু বাকার শেকাইয়ের অবস্থান জানাতে পারলে তথ্যদাতাকে ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। আফ্রিকার জঙ্গিনেতাদের ধরিয়ে দিতে যেসব পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যেই এটিই সর্বোচ্চ অঙ্কের। আরও যাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন পশ্চিম আফ্রিকার জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক মাগরিব (একিউআইএম) এবং মুভমেন্ট ফর ইউনিটি অ্যান্ড জিহাদ ইন ওয়েস্ট আফ্রিকার (মুজাও) শীর্ষস্থানীয় নেতারা। সাবেক জঙ্গিনেতা মোখতার বেলমোখতার এবং একিউআইএমের নেতা ইয়াহিয়া আবুয়েল হাম্মামের জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। এ ছাড়া একিউআইএমের নেতা মালিক আবু আবদেল কারিম এবং মুজাওয়ের মুখপাত্র উমর উলদ্ হামাদার অবস্থান জানানোর জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই জঙ্গিনেতারা বিভিন্ন সময় নাশকতামূলক তৎপরতা চালিয়েছেন। বিবিসি।

যুক্তরাজ্য কনভেনশন ছাড়লে ‘বিপর্যয়’

মানবাধিকার কনভেনশন থেকে যুক্তরাজ্য নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে তা ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। ইউরোপের মানবাধিকারবিষয়ক সর্বোচ্চ আদালত ইউরোপীয় কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসের (ইসিএইচআর) সভাপতি ডিন স্পিলম্যান এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ওই কনভেনশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাজ্য বিবেচনা করতে থাকার প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার ডিন স্পিলম্যান এ কথা বলেন। স্পিলম্যান বলেন, কনভেনশন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার মানে দাঁড়ায়, এর মধ্য দিয়ে তারা ৪৭ সদস্যের কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং সম্ভবত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকেও বেরিয়ে যাবে। কাউন্সিল অব ইউরোপ কনভেনশনটি পরিচালনা করে। তা ছাড়া, প্রথমে এই কাউন্সিলে যোগ না দিয়ে কোনো দেশ ইইউর সদস্য হতে পারে না। স্পিলম্যান সতর্ক করে বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতিতে যুক্তরাজ্যের যে বিশ্বাসযোগ্য ভূমিকা রয়েছে, তা-ও এই সিদ্ধান্তে মধ্য দিয়ে ক্ষুণ্ন হতে পারে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, মানবাধিকার কনভেনশনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা না-রাখার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় রক্ষণশীলদের উচিত ইসিএইচআরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এ পরিকল্পনার আলোচনায় কনভেনশন থেকে বেরিয়ে যাওয়াসহ বিকল্প সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। বিবিসি।

রাজনৈতিক দলগুলোও তথ্য অধিকার আইনের আওতায়

ভারতের কংগ্রেস, বিজেপিসহ ছয়টি জাতীয় রাজনৈতিক দলকে তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) আওতায় নিয়ে আসার রায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (সিআইসি)। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রায়ের আওতায় বাকি চারটি দল হচ্ছে সিপিআই, সিপিআই (এম), বহুজন সমাজ পার্টি ও শারদ পাওয়ারের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে দলগুলো ঠিক করবে, তারা সিআইসির এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করবে কি না। তবে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস এরই মধ্যে রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এ ধরনের ‘অদূরদর্শী’ পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তথ্য কমিশন গত সোমবার ৫৪ পৃষ্ঠার এক আদেশে বলেছে, ওই ছয়টি জাতীয় দলকে কেন্দ্রীয় সরকার উল্লেখযোগ্য হারে অর্থ দিয়েছে, যদিও তা পরোক্ষভাবে। রায়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোরও আরটিআই আইনের আওতায় ‘সর্বসাধারণের আজ্ঞাধীন হওয়ার বৈশিষ্ট্য’ রয়েছে। কারণ, তারা জনসাধারণকে নিয়েই কাজ করে থাকে। কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। তবে তারা যদি তা না করে অথবা করেও ব্যর্থ হয়, তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো আরটিআই আইনের আওতাভুক্ত হবে। তখন কোন দল কীভাবে ও কার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে, কীভাবে তা খরচ করছে, নির্বাচনে কাদের প্রার্থী করছে কিংবা সরকারের কাছ থেকে কতটা সাহায্য পাচ্ছে, সবকিছুই সাধারণ মানুষকে জানাতে বাধ্য থাকবে। দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইসি এই রায় দেয়। এর মধ্যে একটি আবেদন করেছিল অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) নামের একটি সংগঠন। আরেকটি করেছিলেন তথ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মী এস সি আগরওয়াল। রায়ে সিআইসি রাজনৈতিক দলগুলোকে কোনো আবেদনের বিষয়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া তাদের আইনি বিধানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। একমাত্র সিপিআই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে ছিল। দলটির নেতা সাংসদ গুরুদাস গুপ্ত সিআইসির রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, একমাত্র এভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতি কমানো সম্ভব। বাকি দলগুলোর অধিকাংশই অতীতে এ ধরনের ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিআই (এম) নেতারা জানিয়েছেন, দিন কয়েকের মধ্যেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জনার্দন ত্রিবেদি গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে দ্বিমত পোষণ করছি। এ ধরনের ‘অদূরদর্শী’ পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনেক ক্ষতি ও ধ্বংস ডেকে আনবে।’

নিরুত্তাপ সংসদে বিএনপির আয়েসি সময়

বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন ওয়াক আউটের পর দ্বিতীয় দিন ফিরে এলেও সংসদ জমাতে পারেনি বিরোধী দল। সদ্য কারামুক্ত বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এমকে আনোয়ার পুরো সময়টাই কাটিয়েছেন নিজের চেয়ারে আধশোয়া হয়ে। যেন নিরুত্তাপ দৃষ্টিতে স্পিকারকে মাপছেন।

আফ্রিকাই খাদ্য ও শক্তির উৎস হবে: ড. ইউনূস

আফ্রিকাই ভবিষ্যতে সারা বিশ্বের খাদ্য ও শক্তির উৎস হবে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূস। পুরো আফ্রিকা জুড়ে তখন প্রবৃদ্ধির হার দুই অংকে পৌঁছাবে বলেও দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আমার সঙ্গে গাদ্দারি করেছে!- আশরাফুল!

আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়ার দিন থেকেই চুপ হয়ে গেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। গণমাধ্যমে তার ফিক্সিংয়ে খবর বিশদভাবে প্রকাশ হওয়ার দিন থেকে প্রকাশ্যে চলাফেরা কমিয়ে দিয়েছেন।