Wednesday, September 25, 2019
বাইডেন-ইউক্রেন-ট্রাম্প: আমেরিকায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

যেভাবে বিতর্কের সূচনা
এ বছরের ২৫শে জুলাই ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে চাপ প্রয়োগ করেন। ওই আলাপে তিনি ইউক্রেনের জন্য কংগ্রেসের বরাদ্দকৃত ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রসঙ্গও তোলেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে ওই সাহায্য দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখে। ওয়াশিংটন পোস্ট সহ অন্যান্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, ওই ফোনকলের অন্তত এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প তার ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ মাইক মালভ্যানিকে বলেছিলেন, ওই সাহায্য যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়।
ট্রাম্প কি এই অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেছেন?
এই অভিযোগের কিয়দাংশ ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি দুর্নীতির সমস্যা, বাইডেন ও তার ছেলের ব্যাপারে আলাপ করেছেন। তার ভাষ্য, এটি খুব দারুণ আলাপ ছিল। একেবারে নিখুঁত। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ ইউক্রেনকে দিচ্ছে। সুতরাং আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যেন সৎ থাকে। টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, এই বিতর্ক সৃষ্টি করছে মূলত ডেমোক্রেট ও মিডিয়া।
উল্লেখ্য, এই ফোনালাপের বিষয়টি প্রথম গণমাধ্যমে আসে এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে। এ ধরণের ব্যক্তিকে বলা হয়, হুইসেলব্লোয়ার। ট্রাম্প ওই হুইসেলব্লোয়ারের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যান্য রাজনীতিকরা কী বলছেন?
কংগ্রেসের ডেমোক্রেটদলীয় সদস্যরা বলছেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মাধ্যমে ওই গোয়েন্দা যে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ থেকে বোঝা যায় প্রেসিডেন্ট কীভাবে বিদেশী নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন। হোয়াইট হাউজের সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। তাকে বলেছেন, হান্টার বাইডেনের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড নিয়ে তদন্ত করতে। হান্টার বাইডেন ছিলেন ইউক্রেনের এক ধনকুবেরের মালিকানাধীন একটি কোম্পানির বোর্ড সদস্য। ডেমোক্রেটরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এই তদন্ত করাতে চান যেন এর ফলে হান্টার ও তার পিতা জো বাইডেনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়।
রিপাবলিকানরা এই বিতর্ক নিয়ে তেমন কিছু বলছেন না। তবে অন্তত একজন রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি বলছেন, তিনি এ ব্যাপারে আরও জানার আগে মন্তব্য করবেন না।
ওই হুইসেলব্লোয়ারের দায়ের করা অভিযোগের কী হলো?
ওই অভিযোগ পাওয়ার পর, মহাপরিদর্শক দেশের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জোসেফ ম্যাগুইরেকে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়টি ‘জরুরী।’ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হুইসেলব্লোয়ার আইন অনুযায়ী, যদি মহাপরিদর্শক কোনো অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য ও জরুরী মনে করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান ৭ দিনের মধ্যে বিষয়টি কংগ্রেসের গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়ক কমিটিকে অবহিত করবেন। কিন্তু জোসেফ ম্যাগুইরে তা করেননি। তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই আইনজীবী তাকে জানান, আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ওই ইস্যু জরুরী কিছু নয়। ফলে ম্যাগুইরে সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি দেখার প্রয়োজন নেই কংগ্রেসের ওভারসাইট কমিটির।
৯ই সেপ্টেম্বর খোদ মহাপরিদর্শক কংগ্রেসকে ওই অভিযোগের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে অবহিত করেন। তবে তিনি বিস্তারিত জানান নি। এরপর থেকে কংগ্রেসের ডেমোক্রেট দলীয় সদস্যরা আরও তথ্যের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা ট্রাম্পের ওই ফোনালাপের ট্রান্সক্রিপ্ট চেয়েছেন, তবে প্রশাসন থেকে তা পালন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ-এর ইন্টিলিজেন্স কমিটির সামনে প্রকাশ্য শুনানিতে অংশ নেবেন ম্যাকগুইরে। কংগ্রেস সদস্যরা হয়তো ওই অভিযোগ দেখতে চাইবেন। কিন্তু ম্যাকগুইরে রাজি না হলে, হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফ হয়তো মামলা করবেন।
জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কি কোনো সারবত্তা আছে?
ট্রাম্প ও তার আইনজীবী রুডি জিলিয়ানি (যিনি আবার নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র) বাইডেন-দ্বয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো, ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বাইডেন ২০১৬ সালে ইউক্রেনের শীর্ষ সরকারী কৌঁসুলি ভিক্টর শোকিনকে বরখাস্তের দাবি জানান ও এতে সফলও হন।
শোকিনের কার্যালয় থেকে ইউক্রেনিয়ান গ্যাস কোম্পানি বুরিজমা হোল্ডিংস-এর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। তখন বুরিজমা হোল্ডিংস-এর বোর্ড পরিচালক ছিলেন জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। এজন্য তিনি মাসে ৫০ হাজার ডলার পেতেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট তখন চাপ দিয়ে ইউক্রেনের সরকারকে বলেছেন, ভিক্টর শোকিনকে সরান না হলে তাদেরকে ১ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ নিশ্চয়তা আমেরিকার দেওয়ার কথা ছিল, তা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প, জিলিয়ানি ও অন্যান্যদের অভিযোগ হলো, এই চাপ দেওয়ার মাধ্যমে ভাইস প্রেসিডেন্ট মূলত শোকিনের তদন্ত থেকে বুরিজমা, তথা নিজের ছেলেকে বাঁচাতে চাইছিলেন।
তবে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, জো বাইডেন দুর্নীতি করেছেন বা ইউক্রেনে নিজের ছেলের কাজের কারণে প্রভাবিত হয়েছেন। তবে সমালোচকরা বিশ্বাস করেন, এই ঘটনায় অন্ততপক্ষে এক ধরণের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট, বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বিপক্ষে পালটা যুক্তিও আছে। সেটি হলো, ওই সময় কেবল বাইডেনই শোকিনকে বরখাস্তের দাবি জানাননি। তখন মার্কিন ও ইউরোপিয়ান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও শোকিনকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শোকিন ওই সময় বুরিজমার বিরুদ্ধে তদন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছিলেনও না। বরং, বিভিন্ন কোম্পানির মালিকদের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়া ও নিজেই দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে যাওয়ায় পশ্চিমা কমবেশি সকল দেশই তাকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিল।
শোকিনের স্থলে যিনি এসেছিলেন, সেই ইউরি লুটসেঙ্কো ১০ মাস ধরে বুরিজমার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়েছিলেন। বুরিজমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে তিনি তদন্ত শেষ করেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ভ্যাকসিন হিরো’ শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গাদের ইমিউনিটি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: এদিকে অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে রাখাইন রাজ্য থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে প্রবেশ করায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম এবং নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ইমিউনিটি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ সব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে কোন স্বাস্থ্য সেবা পায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সফলভাবে কলেরার টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, ডিপথেরিয়া ও হাম ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রথম ২০১৭ সালে টিকাদান ক্যাম্পেইনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য জিএভিআই’র সমর্থিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর: ওদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) নিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এটা বৈশ্বিক ও প্রাথমিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে। তিনি বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুফল বৈশ্বিক এবং এর জন্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সোমবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ট্রাস্টিশীপ কাউন্সিলের প্ল্যানারি কাউন্সিলে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি। উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অপরিহার্য। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি ক্রমান্বয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি এমনকি অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকেও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন ধরণের অর্থনৈতিক ক্লেশ ছাড়াই সহায়তা করছে। নানা রকম প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও বাংলাদেশ সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিশ্চিতকরণে উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।
পরে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে জলবায়ু পদক্ষেপ শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ২শ’ কোটি মানুষের জীবন ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বিশ্বব্যাপী চরম জলবায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা প্রক্রিয়ার কারণে হতাহতের সংখ্যা হাজার হাজার থেকে হ্রাস পেয়ে প্রায় শূন্যতে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অধিক ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শামীমের ডেরায় আনাগোনা ছিল ভিআইপিদের by আল আমিন

যখন তিনি বাসা থেকে অফিসে যেতেন বা অফিস থেকে বের হতেন সবসময় গাড়ির সাইরেন বাজিয়ে আসা যাওয়া করতেন। সড়ক দখল করে রাখা হতো শামীমের অফিসের এবং সেখানে আসা যাওয়াদের গাড়িগুলো। এছাড়াও শামীমের দেহরক্ষীরা ছিল আরও বেপরোয়া। তাদের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী ছিলেন ত্যাক্ত-বিরক্ত। শামীম র্যাবের হাতে ধরা পড়ায় এলাকাবাসী যেমন খুশি তেমনি তার কঠোর শাস্তিও দাবি করেছেন। শুক্রবার বিপুল পরিমাণ অর্থ, অস্ত্র ও মদসহ র্যাব গ্রেপ্তার করে মাফিয়া ডন শামীমকে। তার নামে গুলশান থানায় ৩ টি মামলা হয়েছে। তিনি এখন পুলিশি রিমান্ডে আছেন।
গতকাল সকালে শামীমের অফিস গুলশান নিকেতনের এ ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর চারতলা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মূল গেটে তালা লাগানো। অফিসের দুই নিরাপত্তা প্রহরী অফিসটি পাহাররত। তারা জানালেন, গত দুইদিন ধরে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেউ আসেনি। অভিযানের পরও আইন-শৃংখলা বাহিনীর একটি দল অফিসে এসে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গেছেন।
নিরাপত্তা রক্ষী মো. সেলিম জানান, অফিসে লোকজন আসছেন না। দুইদিন আগে এক কর্মকর্তা এসে কিছু কাগজপাতি নিয়ে গেছেন। আরেক নিরাপত্তারক্ষী লিংকন হোসেন জানান, কয়েকদিন আগেই অফিস ছিল জমজমাট। অনেক লোকজন আসতো। আমরা নাম এন্ট্রি করতাম। কেউ কেউ রিসিপশনে এসে বসে থাকতো। সিরিয়াল ধরে স্যার যাকে ডাকতেন তাকে আমরা নিয়ে যেতাম। কিন্তু, হঠাৎ করে সব ছন্দ পতন ঘটেছে। শামীমের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো: দিদারুল আলম জানান, স্যার এখন হাজতখানায়। একারণে অফিসে যাওয়া হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্ড এর এক কর্মকর্তা গতকাল দুপুরে মানবজমিনকে জানান, শামীমের উত্থান শুরু হয় মূলত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ঈসমাইল হোসেন সম্রাট ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা কাউছারের আস্থাভাজন হওয়ার পর। প্রত্যেক সপ্তাহে তারা শামীমের অফিসে আসতেন। আড্ডা দিতেন। কোন কাজ কিভাবে ভাগবাটোয়ারা করবেন এজন্য তারা মিটিং করতেন। অফিসের আলিশান কনফারেন্স হলে তারা ওই বৈঠক করতেন। তাদের জন্য আয়োজন করা হতো নানা পদের খাবার। সঙ্গে থাকতো পানীয়।
সূত্র জানায়, ওই অফিসে দুই নেতার অবাধ যাতায়াত থাকার কারণে অন্যসব নেতাকর্মীরা তার অফিসে ভিড় করতো। তারা শামীমকে সমীহ করে চলতেন। সূত্র জানায়, দুই নেতার সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার কারণে ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিভিন্ন টেন্ডার ও তদবিরের জন্য শামীমের দরবারে হাজির হতেন। করতেন নানা দেনদরবার। কাজের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকার চুক্তি করতেন। শামীমের অফিসের পাশের ৯৭ নম্বর রোডের বাসিন্দা মো: মাহেদুজ্জামান জানান, শামীম যেভাবে চলাফেরা করতেন মনে হতো যেন ভিআইপি তিনি। তিনি যখন ৫ নম্বর রোড দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতেন তখন সব গাড়িগুলো তার দেহরক্ষীরা সড়কে থামিয়ে দিতো।
আরেক বাসিন্দা নাজিয়া চৌধুরী জানান, শামীমের বহরে তিনটি গাড়ি থাকতো। একটি আগে আরেকটি পিছে। মধ্যে খানে শামীমের গাড়ি। প্রত্যেক গাড়িতে উচ্চ শব্দে সাইরেন বাজাতেন চালকরা। রাতদিন বলে কোন কথা ছিল না। বিষয়টি নিকেতনের অভিভাবকদের ক্লাবে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বরং উল্টো তারাই ক্লাবের লোকজনকে হুমকি দিয়েছেন। শামীম ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলতেন এজন্য কেউ পুলিশকে কোন কথা জানাতে চাননি। নিকেতনের ১১৪ নম্বর বাসার শারমিন নামে এক গৃহকর্মী বলেন, শামীমের দেহরক্ষীদের লোকজনের ব্যবহার অনেক খারাপ। কিছুদিন আগে সে গাড়ি নিয়ে নিকেতনে ঢুকছিল। এসময় এক প্রাইভেট কার চালক গাড়ি নিয়ে তার বহরের সঙ্গে ঢুকে যায়। এ কারণে শামীমের দেহরক্ষীরা তাকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ শামীমকে প্রাথমিক জিজ্ঞামসাবাদ করেছে। তারই সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টাকার সঙ্গে পাঠাতেন সুন্দরী মডেলও by রুদ্র মিজান

গুলশান ও বনানীর একটি তারকা হোটেল ও কাকরাইলের একটি হোটেল ব্যবহার করা হতো একান্তে সময় কাটানোর জন্য। টেন্ডার পাওয়ার পর পার্টি দেয়া হতো। পার্টি হতো দেশে ও বিদেশে। এসব পার্টিতে নিজ দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও সহযোগীরা উপস্থিত থাকতেন। পার্টিতে পশ্চিমা পোশাকে হাজির হতেন সুন্দরীরা। মাদকে বুঁদ হয়ে সুন্দরীদের মধ্য থেকে যাকে খুশি কাছে টেনে নিতেন। বেশ কয়েক পার্টি হয়েছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। দেশের বাইরের পার্টিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন যুবলীগ দক্ষিণের শীর্ষ এক নেতা। কখনও কখনও হাজির হতেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাবেক প্রভাবশালী এক নেতা ও সংসদ সদস্য।
কখনও কখনও ব্যক্তিগতভবেই নায়িকা-মডেলদের সঙ্গী করে দেশের বাইরে যেতেন এই দরবারের কর্তারা। এরমধ্যে এক নায়িকা রয়েছেন। যিনি অভিষেকেই শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী হিসেবে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। শামীমের সঙ্গে পরিচয়ের পর দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তন হতে থাকে খুলনার এই মেয়ের। শামীমের দরবারের আর্শীবাদের বদৌলতে রাতারাতি বদলে যায় তার আর্থিক অবস্থা। এই নায়িকা গুলশানে একটি ফ্যাশন হাউজ ও ধানমন্ডিতে একটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি হয়েছেন প্রযোজক। ডেন্টাল কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্রী অভিনয় ছাড়াও ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় আত্মপ্রকাশ করেন প্রযোজক হিসেবে। অভিনয় করেছেন ভোজপুরি চলচ্চিত্রেও। পাঁচটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই নায়িকা।
জি কে শামীম তাকে নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। সূত্রমতে, যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতাও এই নায়িকাকে ডাকতেন। ওই নেতার কাছেও পাঠিয়ে দেয়া হতো তাকে। পার্টিতে তাল মিলিয়ে এ্যালকোহল পান করেন এই নায়িকা। প্রকাশ্যেই শামীমকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি কয়েক নায়িকাকে ব্যবহার করেন জি কে শামীম। মোটা অঙ্কের টাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা এসব নায়িকা-মডেলদের চাইতেন। অবশ্য এই কর্মে রাতারাতি ভাগ্য বদলেছে নায়িকাদেরও। ওই নায়িকার সঙ্গে গুলশানের একটি তারকা হোটেলে প্রায়ই দেখা যেতো তাদের।
শামীমের প্রতিটি টেন্ডারে মোটা অঙ্কের ভাগ পেতেন যুবলীগের দক্ষিণের শীর্ষ ওই নেতা। ওই নেতার নিজেরও ছিলো সুন্দরী কানেকশন। যদিও তার ঘনিষ্ঠরা জানান, কাউকে ডাকতে হয় না। স্বেচ্ছায় হাজির হন সুন্দরীরা। ওই শীর্ষ নেতার হয়ে এই অপরাধ সাম্রাজ্য দেখাশোনা করতেন মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তাদের দরবারে প্রায়ই হাজির হতেন পরিচিত এক মডেল, উপস্থাপিকা। অবশ্য চারটি চলচ্চিত্রেও দেখা মিলেছে এই মডেলের। এখন তার যাত্রাপথ চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক। নৃত্যে তার রয়েছে ভালো দখল। ওয়ার্ল্ড ডান্স পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। আলোচিত এই মডেলের একটি সেলফি বেশ আলোচিত হয়েছিলো। সেলফিতে তার সঙ্গে ছিলো বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ।
সূত্রমতে, ক্যাসিনোতে না গেলেও তারকা হোটেলে ক্যাসিনো হোতাদের আড্ডায় নিয়মিত থাকতেন এই মডেল, উপস্থাপিকা। ঢালিউড কিং হিসেবে পরিচিত নায়ক শাকিব খানের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার ইচ্ছে এই মডেল উপস্থাপিকার। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে হাজির হয়েছিলেন ওই নেতার দরবারে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত শেষে দাবি জানিয়েছিলেন শাকিবের সঙ্গে মুভিতে অভিনয় নিশ্চিত করার। তারপর যথারীতি আশীর্বাদও পান। মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চলচ্চিত্রটি আর নির্মাণ হয়নি।
এই দরবারের প্রমোদ সঙ্গী হিসেবে পরিচিত আরেক নায়িকা। যিনি রূপালি পর্দায় আসার আগে টিভি নাটকে কাজ করেছেন। মডেল হয়েছেন একটি বিস্কুট কোম্পানী ও একটি জুসের বিজ্ঞাপনে। মডেল হয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী আসিফের একটি গানেও। তিনি ২০১৪ সালে পা রাখেন চলচ্চিত্রে। সেরা নবীন শিল্পী হিসেবে মনোনীত হন বিশেষ একটি পুরস্কারের জন্যও। ওই বছরের শেষেই মুক্তি পায় তার আরও একটি চলচ্চিত্র। এ পর্যন্ত ওই নায়িকা অভিনীত চারটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। শীর্ষ নেতার দরবারে তাকে ডাকা হতো প্রায়ই। দরবারের ডাক এলে যে কাজই থাকুক তা ফেলে ছুটে যেতেন। দরবারের ডাককে আর্শীবাদ মনে করতেন এসব নায়িকা, মডেলরা।
সূত্রমতে, এই দরবারের নেতাদের উৎসাহে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এক নায়িকা। ২০০২ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। অশ্লীল জগতের নায়িকা হিসেবে অনেকের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। আজ থেকে কয়েক বছর আগে শীর্ষ ওই নেতার দরবারে বেশ কদর ছিলো এই নায়িকার। দরবার থেকে ডাক না এলেও নিজ থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করেন এই নায়িকা। তবে দরবারের নতুনদের আগমনে ঈর্ষা কাজ করতো পুরাতনদের মধ্যে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু ডেমোক্রেটদের

ভোলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে ট্রাম্প আসলে কি বলেছিলেন তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ডেমোক্রেটরা অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তারা যাতে এই তদন্তে বাধ্য হয় এ জন্য তিনি তাদেরকে দেয়া সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এ নিয়ে যখন মার্কিন মুলুকে তোলপাড় চলছে তখন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে জো বাইডেন ইস্যুতে আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে তিনি শুধু ইউরোপকে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন।
কি বলছেন পেলোসি?
ট্রাম্প যা-ই বলুন না কেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইন লঙ্ঘন করেছেন। তিনি সাংবিধানিক যে দায়িত্বের মধ্যে রয়েছেন তা লঙ্ঘন করেছেন। প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আহ্বান করেছিলেন পদক্ষেপ নিতে, যাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারেন। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতেই হবে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হিসেবে সবচেয়ে সিনিয়র ডেমোক্রেট হলেন ন্যান্সি পেলোসি। এতদিন রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। কারণ, তিনি মনে করতেন এমন প্রচেষ্টায় উল্টো ফল হতে পারে। তাতে বেড়ে যেতে পারে ট্রাম্পের সমর্থন। ওদিকে নিজে কোনো অন্যায় করেননি বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, যদি তদন্ত মেনে না চলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তাহলে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে তিনি সমর্থন করেন। জো বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হবে একটি ট্রাজেডি। কিন্তু এই ট্রাজেডি তিনিই রচনা করছেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেট দল থেকে ফ্রন্টরানার বা সামনের সারিতে যে কয়েকজন প্রার্থী আছেন তার মধ্যে জো বাইডেন অন্যতম।
ট্রাম্প কি বলছেন?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে এ নিয়ে ধারাবাহিক টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘে তিনি যখন সফর করছেন তখন তার ক্ষতি ও অবমাননা করা হচ্ছে এর মাধ্যমে। তারা ‘জাদুবিদ্যার আবর্জনা’ দিয়ে অধিক ব্রেকিং খবর বানাচ্ছে। যে ফোনকলের কথা তারা বলছে তার কোনো লিখিত রূপ তারা কখনো দেখে নি। এটা পুরোপুরিই জাদুবিদ্যা! ওদিকে ট্রাম্পের পক্ষ নিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি। তিনি বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদে এসব ঘটাচ্ছেন স্পিকার পেলোসি। যখন এটা ইস্যু করা হয়েছে তখন তিনি আমেরিকানদের পক্ষে কথা বলছেন না। আমরা অভিশংসনের তদন্ত শুরু করবো- এটা তিনি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এ ইস্যুতে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানরা যখন মুখোমুখি তখন কংগ্রেসের কাছে বিস্ফোরক হুইসেলব্লোয়ার রিপোর্ট শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জোসেফ মাগুইরে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির শুনানিতে তার সাক্ষ্য দেয়ার কথা রয়েছে।
এরপর কি হবে?
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্তে যাচাই করে দেখা হবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে ট্রাম্প কি বলেছিলেন এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তিনি অভিশংসনযোগ্য অপরাধ করেছেন কিনা। ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, বর্তমান চলমান আনুষ্ঠানিক অভিশংসন বিষয়ক তদন্তের অধীনে আরো ৬টি কংগ্রেশনাল কমিটি তদন্ত করে দেখবে। এসব কমিটি তদন্ত করবে অন্য বিষয়গুলোতে। যদি এতে অভিশংসনযোগ্য অপরাধ খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে তা প্রতিনিধি পরিষদে ভোটে দেয়া হবে। এই পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটরা। ফলে সেখানে অবলীলায় তা পাস হতে পারে। এরপরই তা পাঠানো হবে সিনেটে। এখানে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। কিন্তু সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। ফলে সেখানে আটকে যেতে পারে এ প্রস্তাব।
জরিপ কি বলছে
এরই মধ্যে এ ইস্যুতে জনমত জরিপ করেছে ইউগভ। তাতে দেখা গেছে যদি এটা নিশ্চিত হয় যে, জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধ্য করার জন্য ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাহলে শতকরা ৫৫ ভাগ মার্কিনি সমর্থন দেবেন অভিশংসনে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোলানে কী করছে ইসরাইল? by মো: বজলুর রশীদ

সিরিয়া এক বিরান ভূমি এখন। জনে-বলে-সম্পদে-ইসলামী ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ এই দেশ বর্তমানে ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে। গত সপ্তাহে ইসরাইল সিরিয়ার শিল্পাঞ্চলে অনেক বোমা ফেলেছে; ইরানি সেনাছাউনি ও অস্ত্রের ডিপোতেও বোমা হামলা চালিয়েছে। উদ্দেশ্য সিরিয়াকে বলবীর্যহীন অক্ষম করে তোলা।
দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে গোলান। মাত্র ৪০ মাইল দূরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। দক্ষিণ সিরিয়া দেশটির সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এটা একটি আদর্শ জায়গা। গোলান মালভূমি থেকে পানি প্রবাহিত হয় জর্ডান নদীতে যা ইসরাইলের পানি সংগ্রহের বড় উৎস। জায়গাটি উর্বর; এখানে নানা ধরনের ফল এবং বিশেষত আঙুরের চাষ হয়। পশুপালনও করা হয়ে থাকে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে সিরিয়া এটি পুনর্দখল করার চেষ্টা করেও পারেনি। ১৯৮১ সালে ইসরাইল গোলানকে নিজের অংশ করে সিরিয়ান দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হাজার লোককে বসতি করে দেয়। মরু অঞ্চলে বাঁচার জন্য পানি ও তেল দরকার। গোলান হাইটস এই দুটিতে ভরপুর।
অক্টোবর, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধে গোলান হাইটে ‘সিরিয়া আরব আর্মি’ দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বুলেটও ব্যবহার করেনি। গোলান হাইটের উঁচু স্থানে ইসরাইলি পতাকা উড়ানো হলেও সিরিয়া সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সিরিয়ার জনসাধারণ যেন কোনো বিক্ষোভ মিছিল করে ইসরাইলি বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে সে জন্য সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করছিল! ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে গোলান মালভূমির পতন দুঃখগাথায় ভরা। সরাসরি যারা যুদ্ধ করেছিল অনেক যোদ্ধা সেসব স্মৃতিচারণ করেছেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদের ঘনিষ্ঠজনেরা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিডিয়ায় করুণ বক্তব্য দিয়েছিলেন। আলজাজিরা টিভি চ্যানেল ধারাবাহিকভাবে এসব ডকুমেন্ট প্রচার করেছে।
এসব ডকুমেন্টে দেখা যায়, সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আসাদের বাবা ১৭ ঘণ্টা আগেই কুনিয়াত্রা প্রদেশের পতন ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেনাঅফিসারদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল এবং তখন সিরিয়ার সৈন্যরা কোনো কমান্ডার ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছিল। পরে সৈন্যদেরও ডেকে পাঠানো হয়। ইসরাইলি সৈন্যরা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই কুনিয়াত্রায় প্রবেশ করে। এখন জানা যাচ্ছে, আসলে গোলান হাইটস ইসরাইলের কাছে ‘বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল’। ড. মাহমুদ জামে এই দাবি করেছেন। তিনি মিসরীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের বন্ধু। তিনি আরো দাবি করেন, ইসরাইল হাফিজ আল আসাদ ও তার ভাই রিফাতকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের চেক দিয়েছিল। ওই চেক সুইচ ব্যাংকে জমা করা হয়েছিল। ইসরাইল দাবি করে যে, গোলান হাইটস ইহুদিদের প্রমিজড ল্যান্ডের অংশ। তাই গোলান হাইটস থেকে সরে যাওয়া বা ১৯৬৭ সালের আগের সীমায় ফেরত যাওয়ার কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ইসরাইল মানতে পারে না।’
এখানে আরো একটি বিষয় জড়িত- হাফিজ আল আসাদ ১৯৭১ সালে ক্যু-এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নুরুদ্দিন আল আত্তাসীকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। সমালোচকরা বলেন, ক্ষমতার জন্যও ইসরাইল তখন সহায়তা দিয়েছিল। গোলানের বদলে বিত্ত ও ক্ষমতা লাভ করাই ছিল হাফিজের উদ্দেশ্য।
তারই পুত্র সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদও কি বাবার পদচিহ্ন অনুসরণ করছেন? তিনিও কি অপরাধজনক কাজকর্ম আড়াল দিতে গোলান মালভূমির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না? এক ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ক্ষমতার জন্য লাখ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিচ্ছে, হাতছাড়া হচ্ছে গোলান। ওবামা আমল থেকেই বলা হচ্ছিল ‘জানোয়ার আসাদ’কে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে হবে। এই সে দিনও নিক্কি হ্যালি (জাতিসঙ্ঘে সাবেক মার্কিন দূত) বলেছেন, ‘যেকোনো মূল্যে আসাদকে যেতে হবে।’ আমেরিকানরা কেন এই আরাধ্য কাজ সমাধা না করেই বিদায় নিচ্ছে? এটাও কি গোলানের বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকা নয়? মিডিয়া তথ্য ফাঁস করেছে, বাশার আল আসাদের ক্ষমতায় থাকার বিনিময়ে ইসরাইল গোলান দখল করবে, ট্রাম্প গোলানের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করবেন। মনে হচ্ছে, আসাদ যুগ যুগ ধরে সিরিয়ার ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু সিরিয়া তো এখন এক মহাশ্মশান! সম্পদ ও মানুষ না থাকলে ‘বাদশাহী’ কী কাজে আসবে?
গোলান ইহুদিদের দখল ও হাতছাড়া হওয়াতে আরব রাজন্যবর্গ এই আরব ভূমির জন্য উদ্বিগ্ন নন। গোলানের মতো উত্তপ্ত বিষয় বাদ দিয়ে উপসাগরীয় মিডিয়াগুলো এখন ‘মুলার রিপোর্ট’, ‘ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান’ এসব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ব্যস্ত। এসব মিডিয়া এখন ইরানের পর তুরস্কের এরদোগানকে ধরেছে কিছু পশ্চিমা দেশ ও বশংবদ নেতৃত্বকে খুশি করার জন্য। এক সাথে বসে একটু কফি খাওয়া, কিছু লেনদেন, কিছু অস্ত্র কেনা, কিছু সমর্থন ও মিডিয়ায় বক্তব্যের জন্য নতজানু হওয়া ইত্যাদি। তারা সিরিয়ায় রাশিয়া ও ইরানের উপস্থিতির সমালোচনা করেছেন, কিন্তু জেরুসালেম দখল, গাজায় অব্যাহত বোমাবর্ষণ, গোলান দখল, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ, জিনজিয়াং-এর মুসলমানদের দুর্দশা, কাশ্মিরি জনগণের অধিকার, রোহিঙ্গাদের বাঁচা-মরা, ফিলিপাইনের মরো মুসলমানদের স্বাধীনতা এসব বিষয়ে সোচ্চার নয়।
মনে হচ্ছে- ইসরাইল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইসরাইল যে বলীয়ান হয়ে অর্ধশতাধিক মুসলিম রাষ্ট্রকে থোড়াই কেয়ার করছে; মুসলিম বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একের পর এক মুসলিমভূমি দখল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, আরব দেশগুলো সেসব নিয়ে চিন্তা করার যেন সময় পাচ্ছে না। কিভাবে ব্রাদারহুড ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করা যাবে এখন সে চিন্তাতে তারা নিমগ্ন।
সিরিয়ার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অগ্রসর হয়েছে বহু বছর ধরে। ট্রাম্প আমেরিকায় ক্ষমতায় এসেই যে সাতটি দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন সেখানে সিরিয়াও ছিল। সিরিয়ার বিমানবাহিনী ধ্বংস করাও তাদের একটি উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ৫৯টি টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করার ফলে সিরিয়ার ১০০ সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিল এবং অন্তত ২০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। এই আক্রমণের নির্দেশ এসেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে। আমেরিকা ও ইসরাইলের আঁতাতের উদ্দেশ্য হলো, সিরিয়া যেন কোনোভাবেই গোলানে হামলা চালাতে না পারে। সে উদ্দেশ্যে পালাক্রমে সিরিয়ার বিমানবহরকে ধ্বংস করার কাজে মিসাইল ও বোমারু বিমান ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সিরিয়ায় হামিমিম ও তারতুস সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ মোতায়েন রয়েছে। রুশ দৈনিক ‘ইজভেস্তিয়া’ জানায়, ২০১৭ সালে যদি রাশিয়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করত, তাহলে রুশ-মার্কিন যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত। ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, ২০১৭ সালে যে বিমানঘাঁটি থেকে হামলা চালিয়ে ইসরাইলি জঙ্গি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল, সেই বিমানঘাঁটিতেই হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। সেখানে মার্কিন হামলা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ওই হামলায় ইসরাইলের ইন্ধন ছিল সরাসরি। শুধু হামলা নয়, বরং ঘাঁটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ইসরাইল আমেরিকাকে উসকানি দিয়েছে। উল্লেখ্য বড় বড় হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল রাশিয়ার কোনো ঘাঁটিতে আঘাত করেনি আর রাশিয়াও এ যাবৎ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আঘাত হানেনি। এই দুটি দেশ নিজেরা যুদ্ধে জড়াবে না কিন্তু যুদ্ধরত অন্যান্য গোষ্ঠী ও দেশকে ইন্ধন জোগাবে মরণখেলার জন্য।
ইসরাইলে নির্বাচনের আগে গত মার্চ ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। দলের নেতা গাবি আসকিনাজি, ইয়ার লাপিড, বেনী গাঞ্জ ও মোশে ইয়ালুন ঘোষণা দেন, গোলান হাইটস থেকে ইসরাইল পিছিয়ে আসবে না; বরং সেখানে তারা আরো দ্বিগুণ বসতি স্থাপন করবে এবং ইহুদি জনসংখ্যা বাড়াবে। তারা বলেছেন, সিরিয়ার বাশার আল আসাদের হাতে ভূমি হস্তান্তর করতে চান না যে নিজের জনগণের ওপর অত্যাচার চালায়।
জনাব নাজি মোস্তফা, ‘ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র’ গত মার্চ মাসের শেষে সপ্তাহে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সিকে জানান যে, বাশার আল আসাদ গোলান হাইটস ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো প্রচেষ্টা চালাননি।
অবস্থা দেখে মনে হয় দুনিয়াতে এখন ‘জঙ্গলের আইন’ শ্রেষ্ঠ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা এমন এক ঘোষণা- যার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানানো যায় বা জানানো হয়েছে। কিন্তু আরব বিশ্ব তো জেগে জেগে ঘুমিয়ে আছে। জাতিসঙ্ঘের সনদে বলা আছে, কোনো দেশ অন্য দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। সনদের ভাষ্য, ÔAll Members shall refrain in their international relations from the threat or use of force against the territorial integrity or political independence of any state, or in any other manner inconsistent with the Purposes of the United Nations.'
শুধু কি তাই? যুক্তরাষ্ট্রের গোলান সংক্রান্ত ঘোষণা জাতিসঙ্ঘের একাধিক সিদ্ধান্তের বিপরীত। জাতিসঙ্ঘের ২৪২ নম্বর সিদ্ধান্তে ইসরাইলকে অবিলম্বে অধিকৃত এলাকা ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে অধিকৃত এলাকা ছাড়তে হবে। ১৯৮১ সালেও ইসরাইল গোলান হাইটসে তার আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক আইন বলবৎ করতে গেলে জাতিসঙ্ঘ ৪৯৬ নম্বর সিদ্ধান্তে তা নাকচ করে দিয়েছিল। মনে হচ্ছে- আমরা অন্ধকার যুগে ফিরে গেছি। তাই জোর যার মুল্লুক তার।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিভিন্ন ইস্যুতে ইসরাইল বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। ট্রাম্প আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের প্রয়োজনে ‘জেরুসালেম ঘোষণা’ দেন এখন ইসরাইলে নেতানিয়াহুর নির্বাচনে তিনি ‘গোলান ইসরাইলের’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে রিপাবলিকানরা যে ইসরাইলের বেশি প্রিয়, তার জন্য আর কোনো পরীক্ষা ট্রাম্পকে দিতে হবে না। ‘গোলান ঘোষণা’র আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পিউ আজগুবি বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, গড ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য (ইরানের হাত থেকে) ট্রাম্পকে পাঠিয়েছেন।’ কিন্তু কথা হলো গড যে পাঠিয়েছেন তা তিনি কিভাবে জানলেন? তিনি কি একজন মসিহ বা নবী? ইহুদিরা খ্রিষ্টানদের ঘৃণা করে। কেননা দাউদ আ: ও সোলাইমান আ:-এর ধর্মকে ত্যাগ করে তারা ঈসা আ:-এর ধর্ম গ্রহণ করেছে। অথচ এখন ইহুদিদের পরিত্রাণের জন্য খ্রিষ্টান ট্রাম্পের খুব প্রয়োজন। আসলে ধর্মের পাঠ ও রাজনীতির পাঠ শুধু ভিন্ন নয়, বিপরীতও।
দেখা যাচ্ছে, পম্পেউর ভাষ্য মতে ট্রাম্প একজন ‘স্বর্গীয় দূত’। মানে, দেবতার আসনে থাকায় তিনি যেকোনো জায়গা যে কাউকে দিতে পারেন অথবা ইচ্ছে করলে যে কারো কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতেও পারেন।’ এই ধারা অব্যাহত থাকলে তিনি যেকোনো আরব ভূমি যেকোনো সময় ইসরাইলকে ‘দান’ করতে পারেন। বলপূর্বক ইসরাইল তো সেই ভূমি যা ফিলিস্তিনিদের দেশছাড়া করে, উদ্বাস্তু বানিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক চৌর্যবৃত্তির মাধ্যমে নির্লজ্জভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়ার প্রতিনিধি বাশার জাফরি, ট্রাম্পকে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলি সাপোর্টের জন্য বা নেতনিয়াহুকে সাপোর্ট করার জন্য ট্রাম্প নিজ দেশের সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনা তাদের দিয়ে দিলে সব দিক দিয়ে উত্তম বিবেচনা হবে।
ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন সন্নিকটে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও। অবশ্য ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু ‘ট্রাম্প কার্ড’-এর কারণে বেশ শক্তিশালী। নির্বাচনে তাকে জয়লাভে সহায়তা করতে ট্রাম্প সঙ্কল্পবদ্ধ মনে হয়। লেবাননে শক্তিশালী হিজবুল্লাহর হাতে এখন রাসায়নিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সিরিয়ার সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইরানের স্থায়ী উপস্থিতির ব্যাপারেও ইসরাইল বিরক্ত ও সতর্ক। গোলানে ইসরাইলি ভূমি প্রসারিত হলে ইরান বেকায়দায় পড়বে। এখান থেকে পুরো এলাকার ওপর ইহুদিবাদীদের নজরদারি সহজ হবে। ‘ইরান যুদ্ধে’ ইসরাইলের এটা একটি কৌশলগত বিজয়ও বটে।
>>>লেখক: অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনের মধ্যস্থতায় নিউ ইয়র্কে বৈঠক: পাল্টাপাল্টি, চুক্তির শর্ত পড়ে শোনানোর পর ক্ষান্ত মিয়ানমার!

মিয়ানমারের বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। বৈঠকের পরিবেশ খানিকটা পাল্টাপাল্টি অবস্থায় রূপ নেয়। এই সময় বাংলাদেশের তরফে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় অ্যারেঞ্জমেন্টের শর্তাবলী বৈঠকে পড়ে শোনানো হয়। যে চুক্তিটি ২০১৭ সালের নভেম্বরে নেপি’ডতে সই হয়েছিল। চুক্তির শর্তগুলো তুলে ধরে বাংলাদেশ বক্তব্য দিলে মিয়ানমার ক্ষান্ত হয়। সূত্র মতে, বৈঠকে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে মিয়ানমারকে অগ্রগতির দৃশ্যমান তাগিদ দেয়া হয়। তবে প্রত্যাবাসন শুরুর কোন দিন-তারিখের বিষয়ে তারা একমত হতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে নিউইয়র্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় এমন বৈঠক হয়েছিল। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবও উপস্থিত ছিলেন । সেই সময় মধ্যস্থতাকারী চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল- প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে চীন তার বন্ধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ইনফরমাল বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই আলোচনার অংশ হিসাবেই নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বৈঠক। ’১৮ সালের জুনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের তৎকালীণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী চাও থিন সোয়েকে নিয়ে প্রথম অনানুষ্ঠানিক ত্রি-দেশীয় বৈঠক করেছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং ই। সেই থেকে শুরু। এরপর নিউইয়র্ক এবং নেপি’ডতে দু’দফা ত্রিদেশীয় বৈঠক হয়েছে। ওই সব বৈঠকের ফল হিসাবে দু’দফা প্রত্যাবাসন চেষ্টাও হয়। কিন্তু তা সফল হয়নি। একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে রাজী হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার চতুর্থ দফায় বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক হলো।
প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি যৌথভাবে মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার: এদিকে নিউইয়র্কের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি ‘ত্রিপক্ষীয় যৌথ কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা’ গঠনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বৈঠক শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি মিডিয়া প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। বলেন, কিছু আপত্তি সত্ত্বেও চীনের ওই প্রস্তাবে রাজি হয় মিয়ানমার। অক্টোবরে ত্রিপক্ষীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বেঠক হওয়ার বিষয়ে তারা সব পক্ষ একমত হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমার দাবি করেছে যে তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে। তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে, মিয়ানমার এখনও রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস আনতে পারেনি। তারা নিজ দেশে তখনই ফিরে যাবে, যখন তারা মনে করবে মিয়ানমারে ফেরার পর তারা নিরাপদে থাকবে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে। ড. মোমেন নিউইয়র্ক বৈঠকে মিয়ানমারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করার বিষয়ে বলেন, একটি সুসংবাদ হচ্ছে মিয়ানমার যত দ্রুত সম্ভব তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে আচমকা রোহিঙ্গা ঢলে প্রায় সাড়ে ৭লাখ নারী-পুরুষ শিশু বাংলাদেশে ঢুকে। বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয়, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। রাখাইনে রাজ্যে উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণে একজন রোহিঙ্গাও তাদের জন্মভূমিতে ফিরতে রাজি হচ্ছে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রবাসী উইঘুরদের চীনের কাছে হস্তান্তর নয়: যুক্তরাষ্ট্র

মাইক পম্পেও বলেন, উইঘুর মুসলমানদের চীনে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বেইজিং-এর দাবি যেন নাকচ করে দেয় মধ্য এশিয়ার দেশগুলো।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মধ্য এশীয় দেশগুলোর সহায়তা চান মাইক পম্পেও। তিনি বলেন, এ লড়াইয়ে দেশগুলোর পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চীনে উইঘুর নিপীড়নের বিষয়টির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনও যোগসূত্র নেই। প্রকৃতপক্ষে চীন জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে তার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে মুছে দিতে চায়।
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মত স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার ওপর এখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে যে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা গণগ্রেফতারের শিকার হচ্ছে।
২০১৮ সালের আগস্টে জেনেভায় চীনের ওপর জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুই দিনের বিশেষ সভায় উঠে আসে চীনে উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি। সভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ স্বায়ত্তশাসিত উইঘুর প্রদেশকে কার্যত ‘বিশাল একটি বন্দিশিবিরে’ পরিণত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিমদের গণহারে আটকের অভিযোগ তোলা হয় চীনের বিরুদ্ধে। তবে উইঘুরদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে ‘সন্ত্রাস ও চরমপন্থা’র বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে বেইজিং।
চীনকে কেন অভিযুক্ত করা হচ্ছে?
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলিমদের গণহারে ধরে বিভিন্ন বন্দিশিবিরে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেসব শিবিরে তাদের জোর করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে।
নির্বাসিত উইঘুর মুসলিমদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস তাদের এক রিপোর্টে বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই উইঘুরদের আটক করা হচ্ছে। তাদের জোর করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্লোগান দিতে বলা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস জানিয়েছে, বন্দিদের ঠিকমত খাবার দেওয়া হয় না এবং নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। অধিকাংশ বন্দিকে দীর্ঘদিন আটকে রাখলেও তাদের অভিযুক্ত করা হয় না এবং কোনও আইনি সহায়তা নিতেও দেওয়া হয় না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈশ্বরে বিশ্বাস না করা চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বিদেশি ধর্মীয় প্রভাব নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন ‘সিনিসাইজ রিলিজিওন’ নামে এক প্রচারণা শুরু করেছে যাতে বলা হচ্ছে ‘ধর্মকে যতটা পারো চীনের মতো করে নাও।’ ইতোমধ্যেই সরকারিভাবে উইঘুরদের ঘরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হান সম্প্রদায়ের ‘গুপ্তচরদের।’ চীনের সরকারি এসব কর্মচারীরা উইঘুর পরিবারের সঙ্গে থাকেন, যাতে তাদেরকে ‘চীনা সংস্কৃতি’র সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে এবং প্রয়োজনে সরকারকে উইঘুরদের ‘অগ্রহণযোগ্য’ জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, হান সম্প্রদায়ের ১০ লাখেরও বেশি সরকারি চাকরিজীবীকে উইঘুরদের পরিবারের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরা উইঘুর পরিবারের ‘সদস্য’ হয়ে পরিবারগুলোর ওপর নজরদারি করছে। এর বাইরে সরাসরি বন্দিশিবিরে রয়েছেন আরও বিপুল সংখ্যক উইঘুর মুসলিম। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাটি ছাড়া সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লায়
![]() |
| মাটি ছাড়া সবজি চাষ |
কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আইয়ুব হোসাইন খান জানান, পাত্রে পানি দিয়ে সবজি চাষকে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি বলে। নগরীর বাসা-ফ্ল্যাটের বারান্দা ও করিডরে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা যাবে। এতে বিশুদ্ধ সবজি মিলবে। এসব সবজি গাছে পোকার আক্রমণ ও রোগ কম হয়। এ পদ্ধতিতে শসা,করলা,লেটুস ও চাল কুমড়া ভালো উৎপাদন হয়। খরচও খুব বেশি নয়।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের একটি বাক্সে পানি দিয়ে তার ওপর ককসিট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ককসিট ছিদ্র করে তাতে ফোম দিতে হয়। ফোমে চারা লাগানো হয়। মূল বিষয়টি হচ্ছে উদ্ভিদ মাটি থেকে যে ১৬টি উপাদান গ্রহণ করে তা পানিতে মেশাতে হবে। সেগুলো স্টক সলিউশন এ ও বি নামে ঢাকায় পাওয়া যায়। কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রেও এসব সলিউশন পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের একটি বাক্সের দাম পড়বে ৩০০ টাকা, ককসিট ও ফোম ১৫০ টাকা, স্টক সলিউশন এ ও বি ৮০০ টাকা। একটি প্লাস্টিকের বক্সে ছয়টি চারা লাগানো যাবে। উৎপাদন সময় ও সবজির স্বাদ মাটিতে লাগানো সবজির মতোই।
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার সৌখিন সবজি চাষি নজরুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘মাটি ছাড়া সবজি চাষের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ইউটিউবের মাধ্যমে কিছু ধারণা নিয়েছি। তবে কুমিল্লায় সরাসরি কোনও কৃষিবিদের কাছ থেকে পরামর্শ পেলে আরও ভালো হতো।’
কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, কুমিল্লায় মাটি ছাড়া সবজির চাষের বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এই পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। কেউ এই পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হলে আমরা পরামর্শ দেবো।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টাকার বাদশাহ এনামুল

গেন্ডারিয়া ছিলো এনামুল হকের রাজত্ব। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই চলতো নির্যাতন। চলতো অস্ত্রের মহড়া। অস্ত্র ঠেকিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি থেকে সবই হতো তার নেতৃত্বে। এলাকবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার আলাদা আলাদা দুটি গ্রুপ নানান সময় করতো অপকর্ম। কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা আসলে একসাথে বসে দেনদরবার করতো দুইজন। এই এলাকায় দু’জন ছিলো এক আতংকের নাম। এনামুল হক ও রূপন ভুঁইয়া গ্রুপ দোকান পাট থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত তুলতো চাঁদা। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতো। এসব চাঁদার একটি অংশ থানায় গিয়ে দিয়ে আসতো এই নেতারা। এসবের বাইরেও তাদের অর্থের একটি বড় অংশ আসতো রাজধানীর ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে। এসব অভিযোগে গতকাল রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের শেয়ার হোল্ডার এনামুল হকের বাসা ও সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়ার বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সূত্রাপুরের বানিয়া নগরে এনামুলের ছয়তলায় বাসার দোতলা ও পাঁচতলায় এই অভিযান চালানো হয়। তাদের বাসায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ভল্ট থেকে ১ কোটি টাকা ৫ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। বাজার মূল্য হিসাবে এ স্বর্ণালংকারের দাম কমপক্ষে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। জানা যায়, তারা দুজনই ক্যাসিনোর লাভের টাকা বাসায় নিয়ে রাখতেন। প্রতিদিন সকালেই এসব টাকা ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে আসতেন তাদের কর্মীরা। র্যাব জানায়, টাকা রাখলে বেশি জায়গা লাগে তাই তারা স্বর্ণ কিনে সেগুলো ভল্টে রাখতেন। এছাড়া তাদের বাসা থেকে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এনামুল হকের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ ও বন্ধু হারুন সরদারের নারিন্দার বাসায় রাখা ভল্ট থেকে র্যাব উদ্ধার করেছে আরো চার কোটি টাকা, বিশ রাউন্ডগুলিসহ একটি পিস্তল।
তার কর্মচারী আবুল কালামের স্ত্রী শিলা আহাম্মেদ বলেন, গত দুই তিন আগে এক সন্ধ্যায় দুইজন লোক এসে আমাদের বাসায় এই ভল্টটি রেখে যান। কিন্তু এই ভল্টিতে কি আছে আমরা কেউ জানতাম না। আমার স্বামীও এই বিষয়ে কিছু জানে না। তার স্বামী কোথায় আছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নামাজ পড়তে গিয়েছেন। যদিও এর পর আর আবুল কালামকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে অভিযান চালানোর আগে গভীর রাতেই বাসাটি ঘিরে রাখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। র্যাব জানিয়েছে এক সপ্তাহ আগে এনামুল হক থাইল্যান্ড পালিয়েছেন। এনামুলের ভাই সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূইয়াও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা দু’জনই ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত। অভিযান শেষে এক ব্রিফিংয়ে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, কয়েকদিন আগে এখানকার ইংলিশ রোডে পাঁচটি ভল্ট বানানোর অর্ডার দেন এই দুইজন। সেই সূত্রে জানতে পারি এই বাসায় তিনটা ভল্ট আছে। এরপর সোমবার মধ্যরাতের পর এই বাড়িতে আমরা অবস্থান নেই। অভিযানে তিনটি ভল্ট খোলা হয়। এখান থেকে নগদ এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও আট কেজি (৭২০ ভরি) স্বর্ণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আরও তথ্য ছিল, এনামুল হক ওরফে এনু ও রূপন ভূঁইয়া ক্যাসিনোর শেয়ারহোল্ডার। ক্যাসিনোর লাভের টাকা তারা বাসায় নিয়ে রাখতেন। নগদ টাকা রাখলে অনেক জায়গার প্রয়োজন হয় তাই তারা টাকা দিয়ে স্বর্ণ কিনে রাখতেন। তিনি আরও বলেন, এই বাড়ি থেকে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো দিয়ে তারা স্থানীয় লোকদের ভয়ভীতি দেখাতেন। তিনি বলেন, এই পর্যন্ত আমরা প্রায় পাঁচ কো?টি পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার ক?রে?ছি। এনামু?লের কর্মচারীর আবুল কালাম আজা?দের বাসা থে?কে দুই কো?টি টাকা এক?টি পিস্তল ও বিশ রাউন্ড গু?লি উদ্ধার করা হয়। এদিকে এনামুলের বন্ধু হারুন সর্দারের বাসায় অ?ভিযা?নে চা?লি?য়ে দুই কো?টি টাকা উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এনামুলরা ছয় ভাই। একসময় নিজেই জুয়া খেলতেন এনামুল। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। ছয় ভাই থাকায় তাদের লাঠির জোরটা ছিল বেশি। তাই তারা ইচ্ছেমত যা খুশি তাই করতেন। গেন্ডারিয়া এলাকার প্রতি দোকান থেকে এনামুলের ক্যাডার বাহিনী চাঁদা উঠাত। ওই এলাকার মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও ছিল এনামুলের হাতে। মাদক ব্যবসা করেও কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তারা দুই ভাইয়ের কথার বাইরে যাওয়ার সাহস পেত না কেউ। এলাকার মানুষ তাদের ভয়ে তটস্থ থাকতেন। কেউ যদি তাদের কথার বাইরে যেত তবে তার উপর চলত নির্যাতন। অস্ত্র ঠেকিয়েও আদায় করে নিতেন অনেক কিছু। থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদে থাকার পরেও কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তাদেরকে দিতেন। অভিযোগ আছে দেশ পলাতক এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। স্থানীয়রা জানান, ওয়ান্ডারর্স ক্লাবে জুয়া খেলতে খেলতে এনামুল ও রুপণ ক্লাবের শেয়ার হোল্ডার হয়ে যান। এরপর থেকে তারা কিনতে থাকেন একের পর বাড়ি।
সূত্র জানায়, তিন-চার বছর আগে এনামুল ও তার ভাই একের পর এক বাড়ি কিনতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত এই দুই ভাই ঢাকা শহরে ১৫টি বাড়ি কিনেছেন। তবে স্থানীয়রা জানান, বংশাল, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, গেণ্ডারিয়া, ওয়ারী, কদমতলী এলাকায়ই তাদের অর্ধশতাধিক বাড়ি কেনা আছে। গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডি এলাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও দোকান। শহরের বিভিন্ন স্থানে কেনা আছে প্লট। এসব প্লটে বাড়ি নির্মানের প্রস্তুতি ছিল। এছাড়া শহরের বাইরেও তাদের শত শত বিঘা জমি কেনা আছে। ঢাকার বাড়িগুলো ভাড়া দেয়া আছে। গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে জানা গেছে, এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার নিয়মিত যাতায়াত ছিল বিদেশে। ধারণা করা হচ্ছে ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে আয়ের টাকা তারা বিদেশেও পাচার করেছেন। সেখানেও তাদের ব্যবসা বাড়ি-গাড়ি আছে। এলাকাবাসি জানান, অল্প কিছু দিনেই এই দুই ভাই এলাকার ত্রাস হয়ে উঠেন। রাতারাতি যেন তারা আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান।
গত ১৮ই সেপ্টেম্বর অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র্যাবের হাতে আটক হন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এর পর থেকেই একেক করে বের হতে থাকে ক্যাসিনো সম্রাজ্যের নানা কাহিনী। একের পর এক অভিযানে বেরিয়ে আসছে ক্ষমতার ছায়ায় থাকা নেতাদের অবৈধ বিত্ত বৈভব গড়ে তুলার নানা তথ্য।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিলেটে বিএনপির সমাবেশ: আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান by ওয়েছ খছরু ও শাহনেওয়াজ বাবলু

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার বৈধ সরকার নয়। কারণ তারা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় নাই। তারা আগের দিন রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। এই ভোট ডাকাতি শুধু আওয়ামী লীগই করে নাই। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। তারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা কখনো জনগণের সরকার হতে পারে না। তারা জণগণকে নিজেদের শত্রু মনে করে। তারা এই দেশটাকে সুপরিকল্পিতভাবে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা একটা একটা করে রাষ্ট্রের সকল ভিত্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বিচার ব্যবস্থায় অবিচার চলছে। এই সরকার দেশের বিচার বিভাগগুলোকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করছে। পুলিশ প্রশাসনকে তারা সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করেছে। গত ছয় বছর ধরে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ। এমন শত শত পরিবার তারা তাদের সদস্যদের হারিয়েছে। এই সরকার আমাদের দশ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এই সরকার বলে সারা দেশে নাকি এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশে এমনভাবেই উন্নয়ন বইছে যে আজ সারা দেশেই ক্যাসিনো। আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে ক্যাসিনো। আওয়ামী লীগের ঘরে ঘরে জুয়ার আসর। দেশে আজ মেগা লুট হচ্ছে। দেশটা লুটেরাদের দেশে পরিণত হয়ে গেছে। তারা যদি ক্ষমতায় থাকে এই দেশ আর আগাবে না। এই দেশ নিরাপদ থাকবে না। দেশের মানুষ নিরাপদ থাকবে না। তাই এই সরকারের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আর তাকে মুক্ত করতে হলে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাই আমাদের সকলকে আগামী আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এর একটি টাকাও এদিক-সেদিক হয়নি। আমি বলি কী ম্যাডামকে যদি এই মামলায় জেলে থাকতে হয় তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাদেরতো ৫০০ বছর জেল হবে। এই সরকার অবৈধ সরকার। তাই তাদের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলে লাভ নেই। ম্যাডামের মুক্তির জন্য রাজপথের কোনো বিকল্প নাই। তাই আসুন আমরা এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শপথ নিই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহ্হের শামীম। সমাবেশ পরিচালনা করেন- জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী ও মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, কামরুজ্জামান রতন, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মীর হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নাসির হোসাইন, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক জিকে গৌছ, মৌলভীবাজারের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুুল কাহির চৌধুরী, সহ সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার, আবদুল মান্নান, এটিএম ফয়েজ, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুুল আহাদ খান জামাল, হুমায়ূন আহমদ মাসুক, হাসান পাটওয়ারী রিপন, আবুল কাশেম, শামীম আহমদ, সিটি কাউন্সিলর তৌফিকুল হাদী, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালেহা কবির সেপী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, যুবদল নেতা নজিবুর রহমান নজিব, সাদিকুর রহমান, জেলা ছাত্রদল সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, মহানগর সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, জেলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি হাসান, মহানগর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক, মহানগর নেতা এমদাদ হোসেন সহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তির-ধনুকে ‘রোমান সাম্রাজ্য’ by বদিউজ্জামান
![]() |
| তিরন্দাজ রোমান সানা। ছবি: শামসুল হক |
অর্জনটা বাংলাদেশের গোটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই অনেক বড়। বাংলাদেশের কোনো আর্চার এই প্রথম সরাসরি অলিম্পিকে যাবেন নিজের যোগ্যতায়। এর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে গর্বের কীর্তিটি গড়েছিলেন শুধুই গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিযোগিতায় নয়, ওই সময় র্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৬০ এর মধ্যে (৫৪ তম) থেকে সর্বশেষ রিও অলিম্পিকে সিদ্দিকুর খেলেছিলেন সরাসরি।
জহুরির চোখে
ঘটনাটা ২০০৮ সালের। আর্চারি ফেডারেশনের প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্প হয়েছিল খুলনা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামের পাশের সোনালী অতীত ক্লাবের মাঠে। অন্যদের মতো সেদিন খুলনা শিশু উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রোমানও এসেছিলেন ট্রায়ালে। রোমানের তির ছোড়ার কৌশল আর প্রতিভা কোচ সাজ্জাদ হোসেনকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু সেদিন বাছাইয়ে রোমান টিকলেও তাঁর বদলে স্থানীয় আরেকজনকে নিতে চাপ দিয়েছিলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা এবং ছেলেটির বাবা। সাজ্জাদও নাছোড়বান্দা, ‘আমি বলেছিলাম যদি একটি ছেলেকেও ঢাকায় নিয়ে যাই, সে রোমান।’ এতে কাজ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রোমানকেই বেছে নিতে পেরেছিলেন সাজ্জাদ। তাই তো রোমান অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার পর কোচ সাজ্জাদ বলছিলেন, ‘আজ আমার খুব ইচ্ছা করছিল তাঁদের জানাতে—দেখেন, আমি সেদিন ভুল ছেলেকে বাছাই করিনি।’
হার না মানা প্রতিজ্ঞা
ক্যাম্পের শুরুর দিন থেকেই রোমানের ভেতরে ছিল হার না মানার এক অবিচল আকাঙ্ক্ষা। ক্যাম্পের শুরুর দিনে একবার ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দিন ঘোষণা দেন, যে ছেলে তির ছুড়ে সবচেয়ে বেশি স্কোর করতে পারবে, তাকে দেওয়া হবে আর্থিক পুরস্কার। রোমান চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেদিন টাকাটা জিতে নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে খুঁজে পেলেও ফেডারেশন বেশি দিন তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। মাঝে দুই বছর খেলা ছেড়ে খুলনায় চলে গিয়েছিলেন রোমান। একসময় তো মনে হয়েছিল, আর কখনো তির-ধনুক হাতে নেওয়াই হবে না।
২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় রোমান পা হারাতে বসেছিলেন। খুলনায় হাসপাতালে ছিলেন তিন মাস। পাঁচ মাস ছিলেন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে। সেদিনের সেই দুঃস্মৃতির কথা মনে করে রোমান বলছিলেন, ‘আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম আর কখনো খেলতে পারব না। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করতাম। মাও কান্নাকাটি করত। তারপরও নিজের ওপর আস্থা হারাইনি।’
চমক বাংলাদেশ গেমস দিয়ে
বাংলাদেশ আনসারে রোমানকে বেছে নিয়েছিলে কোচ জিয়াউর রহমান। এই দলের হয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ গেমসে যখন তির হাতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রোমান, অনেকেই তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়েছিল। কিন্তু সেদিন সেরা আর্চারদের পেছনে ফেলে রিকার্ভের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আমি আসছি।’
![]() |
| নেদারল্যান্ডসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর অন্য দুই প্রতিযোগীর সঙ্গে রোমান সানা (ডানে) |
স্বপ্নের শুরু, তবে শেষ নয়
হল্যান্ড থেকেই উত্তাপটা টের পাচ্ছিলেন রোমান। ক্রিকেট বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেও যে কীর্তিটা গড়েছেন, সেই রেশ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের জোয়ার। ১৮ জুন দেশে ফিরেই পেয়েছেন উষ্ণ সংবর্ধনা। এত ভালোবাসায় মুগ্ধ রোমান বলছিলেন, ‘সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। যদিও অলিম্পিক এখনো অনেক দূরে। সেখানে কী করতে পারব জানি না। কিন্তু হল্যান্ডে যেভাবে পদকমঞ্চে উঠেছি, সেভাবে অলিম্পিকেও উঠতে চাই।’
চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা। কিন্তু শান্ত-সৌম্য রোমান তির-ধনুক হাতে নিলে হয়ে ওঠেন অশান্ত। টোকিও অলিম্পিকে পতাকা বহনই করতে চান না, লাল-সবুজের পতাকা মাথার ওপরে তুলে ধরতে যেন তর সইছে না রোমানের।
‘আমাদের ছেলে দেশের গর্ব’
আনন্দের খবরটা প্রথম দেখেছিলেন টেলিভিশনের স্ক্রলে। রোমান সানা অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছেন, টেলিভিশনে ছেলের এমন কীর্তির খবরটা দেখে আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিলেন বাবা আবদুল গফুর সানা আর মা বিউটি পারভীন। রোমানদের অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর জোগাড়। আবদুল গফুর দেড় যুগ ধরে খুলনার একটি মৎস্য খামারে চাকরি করেন মাত্র ছয় হাজার টাকা বেতনে! ছেলে পড়াশোনা করে একটা ভালো চাকরি করবে, সেটাই স্বপ্ন ছিল বাবার। কিন্তু বাবার সেই স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে গেছেন রোমান। বাবা ঢাকা শহরেই এসেছেন একবার, তা–ও আবার বিশ্ব ইজতেমার সুবাদে। কিন্তু আর্চারি খেলতে গিয়ে ছেলে রোমান সানা এরই মধ্যে ঘুরে ফেলেছেন থাইল্যান্ড, ইরান, তাইওয়ান, তুরস্ক, ডেনমার্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, চীন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও হল্যান্ড। একের পর এক পদক জিতছেন ছেলে। অলিম্পিকে খেলার মর্যাদাটা এখনো বুঝতে পারেননি মফস্বলের এই শ্রমিক বাবা। কিন্তু একটা জিনিস ঠিকই বুঝেছেন, ছেলে বাংলাদেশের জন্য বড় একটা অর্জন নিয়ে এসেছেন। তাই তো মুঠোফোনের অন্য প্রান্তে যখন কথাগুলো বলছিলেন, কেঁপে কেঁপে উঠছিল রোমানের বাবার কণ্ঠ, ‘ছেলে আমার একার নয়, ও বাংলাদেশের সবার ছেলে। ও বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। আমাদের ছেলে দেশের গর্ব। আমি গরিব মানুষ, মাত্র অল্প টাকা বেতন পাই। ঠিকমতো সংসার চলে না। কিন্তু ওর এই অর্জনে নিজেকে অনেক ধনী মনে হচ্ছে।’
![]() |
| রোমান সানার বাবা–মা। ছবি: সাদ্দাম হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ 'যৌনদাসী'রা জাপানের ক্ষতিপূরণ চুক্তিতে উপেক্ষিত
কী আছে দুবছর আগে সম্পাদিত চুক্তিতে
![]() |
| তথাকথিত 'যৌনদাসী'দের প্রতীকী মূর্তি বসানো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে বারবার কূটনৈতিক বিতণ্ডা হয়েছে। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-মিয়ানমার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে by অঙ্কিত পান্ডা

মিয়ানমারের ডিফেন্স সার্ভিসের কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইংয়ের এক সফরকালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তাতমাদাও নামে পরিচিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সাথে সম্পর্ক জোরদার করেছে।
মিন অং লাইং ভারতের সিনিয়র নেতা এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে সাক্ষাত করেন। বাহিনীর প্রধানরা হলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত, এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কারাম্বির সিং।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আলোচনার সময় ভারত ও মিয়ানমার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অধীনে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির যে নীতি নেয়া হয়েছে, মিয়ানমার সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে মিয়ানমারের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বৃদ্ধি করে আসছে”।
ভারত ও মিয়ানমার তাদের অভিন্ন সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়িয়েছে, যেটা অবস্থান হলো অস্থির উত্তরপূর্বাঞ্চলে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই এলাকায় সমন্বিত সীমান্ত অভিযান চালিয়েছে দুই দেশ।
সীমান্ত সহযোগিতা ছাড়াও ভারত সম্প্রতি মিয়ানমারে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের মাত্রা বাড়িয়েছে। চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি টর্পেডো দিয়েছে। এই পুরো প্রকল্পটি ছিল ৩৭.৯ মিলিয়ন ডলারের।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ মহড়া এবং প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা, যৌথ মহড়া ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নৌ নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা”।
তাতমাদাওয়ের সাথে ভারতের সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বেড়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে ভারত কখনও কড়াভাবে সমালোচনা করেনি। সংখ্যালঘু এই মুসলিম সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে।
২০১৮ সালে মিয়ানমার সফরকালে ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোন উদ্বেগ জানাননি। হাজার হাজার রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে এবং প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় আছে।
গত বছর, জাতিসংঘ তাদের তদন্তে জানায় যে, তাতমাদাও গণহত্যার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল এবং তাতমাদাওয়ের সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইংসহ অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায় সংস্থাটি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচিত ছাত্র সংসদের দাবি সব ছাত্র সংগঠনের by পরিতোষ পাল

বিভিন্ন সময়ে এসব ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে নানা আন্দোলনও হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের দীর্ঘ ঐতিহ্যও রয়েছে। এই ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছেন অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতা। এমনকি ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের প্রেসিডেন্ট মধুজা সেনরায় বলেন, ১৮ বছর বয়স হয়ে গেলে আমরা যদি ভোট দিতে পারি তাহলে কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবো না কেন। অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না, এটাই সব ছাত্র সংগঠনের তরফে বার বার বলা হয়েছে। আর এর ফলেই দু’বছর পরে ঘুম ভেঙে জেগে উঠে ছাত্র ইউনিয়ন নিয়ে কি করা হবে তা নিয়ে মত জানতে সব ছাত্র সংগঠনকে ডেকে আলোচনায় বসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এই বৈঠকে সব ছাত্র সংগঠনই নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষেই সওয়াল করেছে। এমনকি, শিক্ষামন্ত্রীর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি ও অন্য সংগঠনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, চাই ছাত্র নির্বাচন, চাই নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়নই। প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও নির্বাচনের পক্ষে মত জানিয়ে বলেছে, কাউন্সিল তৈরি করলে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অনেকটাই ক্ষুণ্ন হবে। তবে টিএমসিপির ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করা নিয়ে কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য টিএমসিপির পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মতো নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষেই। সরকারের দোলাচলের ফলেই প্রায় আড়াই বছর ধরে রাজ্যে ছাত্র ভোট হয়নি। স্বভাবতই সব ছাত্র সংগঠন অবিলম্বে ছাত্র ভোটের দাবি জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুরনো মত পাল্টে শিক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, তিনিও ছাত্র ভোট করতে আগ্রহী। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ আছে আর যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ নেই, সব ক্ষেত্রে ছাত্র ভোট একইভাবে হবে কি না, সেই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে তিনটি ফ্যাকাল্টির ছাত্র সংসদ তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে তিনটি ছাত্র সংসদ থাকবে, নাকি একটি হবে, সেটাও ভাবা হচ্ছে। তবে এখনই ছাত্র নির্বাচন হচ্ছে না জানিয়ে বিষয়টি আপাতত ঝুলিয়েই রাখা হলো বলে পর্যবেক্ষদের অভিমত।
রবীন্দ্র সদন-নন্দন ঘিরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
কলকাতার কেন্দ্রে রবীন্দ্র সদন-নন্দন চত্বরে গোটা বছর ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতায় ঘুরতে আসা সংস্কৃতি মনস্ক মানুষ এক পাক ঘুরে যান রবীন্দ্র সদন, নন্দন, বাংলা একাডেমি, শিশির মঞ্চ ও কলকাতা তথ্যকেন্দ্র ঘিরে থাকা এই চত্বর। নানা ধরনের মানুষের মেলা থাকে প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত। কবি, গায়ক থেকে সব ধরনের শিল্পী সাহিত্যিকদের আনাগোনা ও আলাপচারিতায় গোটা এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আর এই জন্যই কলকাতায় আসা অনেক দেশি-বিদেশি সেলিব্রিটি বলে থাকেন, কলকাতার প্রাণ উপলব্ধি করতে হলে এই চত্বরে ঢু মারতেই হবে। এবার সেই চত্বরকেই নবরূপে বিশ্বমানে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির আবহকে বজায় রেখেই এই কাজ করতে হবে। উদ্দেশ্য হলো, এই চত্বরকে দেশের সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম গন্তব্য করে তোলা। যাতে এই চত্বরে পা রাখলেই বাংলার সমাজ, শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি পলকে চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
পরিকাঠামোগতভাবে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে দেশের প্রথম সারির স্থপতিদের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই সব প্রস্তাব নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে। সেরা স্থাপত্য প্রস্তাবকে দেয়া হবে ৫ লাখ রূপির আর্থিক পুরস্কার। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা স্থপতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ভাবনা চিন্তা চলছে এখন যেখানে বইঘর রয়েছে, সেখানে চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে এলাকার হেরিটেজ ঐতিহ্য বজায় রেখেই। প্রথম ধাপে বাড়িটি হবে দোতলা। দোতলায় থাকবে কাফেটেরিয়া। এই চত্বরে আসা মানুষজন কাচে ঘেরা কাফেটেরিয়ায় বসে কফি খেতে খেতে দু’পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নিচে বইঘর, শিশু-কিশোর আকাদেমিসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বই বিক্রির কেন্দ্র থাকবে। থাকবে লাইব্রেরি ও রিডিং রুম। এ ছাড়াও তৈরি হবে পর্যটন তথ্যকেন্দ্র। এই কিয়স্ক থেকে এ রাজ্যের পর্যটন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এলাকা সৌন্দর্যায়নের কাজ পুজোর আগেই সম্পূর্ণ হবে।
সুরের জাদুতে সজ্ঞানে অপারেশন
সুরের জাদুতে চলছে সজ্ঞানে অপারেশন। রোগীর শরীরে চিকিৎসকের হাতের স্কালপেল চলছে ব্যস্ততার সঙ্গে। চলছে কাটাছেঁড়া। কিন্তু রোগীর কোনো বিকার নেই। তিনি তখন মগ্ন গানের সুরে। এমনকি নিজে গেয়ে চলেছেন রবি ঠাকুরের গান। এনেসথেসিয়াকে দূরে সরিয়ে রেখে স্থানীয়ভাবে অবশ করে সুরের জাদুতে অপারেশনের সাফল্য দেখিয়ে নজর কেড়েছেন কলকাতার এক চিকিৎসক। মিউজিক থেরাপিতে চিকিৎসা বিভিন্ন দেশেই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে অস্থিশল্য চিকিৎসক সুমন্ত ঠাকুর সুরের জাদুকে এনেসথেসিয়ার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাপারটা এমন নয় যে, আচমকা গান বাজাতে শুরু করলাম, আর এনেসথেসিয়া ছাড়া অপারেশন করে ফেললাম। তার কথায়, প্রথাগত ওষুধের পাশাপাশি রোগীর কাউন্সেলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর রোগীকেও গান ভালোবাসতে হবে। তবেই সুরের জাদুতে অপারেশন করা সম্ভব। ডা. ঠাকুর ব্যাখ্যা করে বলেচেন, আসলে গানের সুরের পাশাপাশি রোগী যখন নিজে গান গাইতে শুরু করেন তখন তার শরীরে হরমোন ক্ষরণের ধারাটি এমন গতিতে হয় যে, এনেসথেসিয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু অপারেশনের জায়গাটি অবশ করলেই চলে। সেই সঙ্গে তিনি আরো জানিয়েছেন গান বাছাই করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাছাই করতে হয় মধ্য মাত্রার উদ্দীপক ও ইতিবাচক সুরের গান বা সুর। বেহালা, সরোদ, গিটারের মতো যন্ত্রের সুর খুব ভালো কাজ করে। শব্দ মাত্রা থাকতে হবে ৪৮-৬৮ ডেসিবেলের মধ্যে। আর এসবের সমন্বয়েই অপারেশনে কাজ সারা হয়ে যায়। তিনি আরো জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির ফলে এড়ানো যায় মাথাব্যথা, গা বমিভাব, রক্তচাপের তারতম্যের মতো এনেসথেসিয়া সংক্রান্ত জটিলতা। ড. ঠাকুর শতাধিক অপারেশন করেছেন এই সুরের জাদু প্রয়োগ করে। গত পাঁচবছর ধরে চলা তার এই সাফল্যের স্বীকৃতিতে শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আন্তর্জাতিক ইউনিভার্সাল রেকর্ড ফোরামের পক্ষ থেকে ডা. ঠাকুরের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ইউআরএফ গ্লোবাল এশিয়ান অ্যান্ড ইন্ডিয়ান পুরস্কার।
হেরিটেজ দেব সাহিত্য কুটির
কলকাতার বইপাড়া বলে পরিচিত কলেজস্ট্রিট এলাকার ঝামাপুকুর লেনে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে প্রকাশনা চালিয়ে যাচ্ছে দেব সাহিত্য কুটির। হাঁদাভোঁদা, বাটুল দি গ্রেট, ছবিতে রামায়ণ, মহাভারত এবং গোলাপি মলাটের বর্ণপরিচয় বেরিয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। এখনো বেরোয়। বেরোয় দুটি জনপ্রিয় পত্রিকা এবং অসংখ্য নানা ধরনের বই। শিশু ও কিশোরদের জন্য উৎসব সংকলন প্রকাশের কৃতিত্ব এদেরই। ১৯২৮ সালে আশুতোষ দেব তৈরি করেছিলেন এই প্রকাশনা সংস্থাটি। আর মাত্র ১০ বছর পরেই শতবর্ষ পালন করবে বইপাড়ার এই অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি। ২১ নম্বর ঝামাপুকুর লেনে দেব সাহিত্য কুটিরের বাড়ি। গোলাপি রঙের সাবেকি বাড়ি। উত্তর কলকাতার প্রথা মেনে সামনে লম্বা টানা রক। সবুজ রঙের খড়খড়ি আর দরজা। এই বাড়িতেই এক সময় নিয়মিত আনাগোনা ছিল বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের খ্যাতনামা লেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তিদের। এই বাড়িতেই নিজস্ব প্রেস। জমিদার বরদাপ্রসাদ মজুমদারের হাতে বীজ বপন হয়েছিল দেব সাহিত্য কুটিরের। ১৮৬০ সালের আগেই তৈরি করেছিলেন প্রেস। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক পরে ১৯২৮ সালে পুত্র আশুতোষের হাতে। আশুতোষ দেবের অভিধান খুব জনপ্রিয় ছিল সে সময়ে। তবে ঝামাপুকুরের এই ঐতিহ্য সম্পন্ন বাড়িটি প্রমোটারের থাবায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেই দেব সাহিত্য কুটিরের স্বত্বাধিকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন ঝামাপুকুরের বাড়ি ও প্রেসটিকে হেরিটেজ মর্যাদা দেয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গত ২১শে আগস্টেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান শিল্পী শুভাপ্রসন্ন কমিশন জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রমোটারের থাবা থেকে রক্ষা করতেই হেরিটেজ সিলমোহর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া এর ফলে সম্পত্তি বিক্রি বা অদলবদল করা যাবে না। লাগানো যাবে না পোস্টার। কোনোভাবেই বিকৃতি ঘটানো চলবে না। হেরিটেজ কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক জগতের সবাই। ঐতিহ্য রক। সায় এগিয়ে আসার জন্য হেরিটেজ কমিশনকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন অনেকে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা খেলছে বাঁশের তৈরি শান্তির নীড়ে by সাদ্দিফ অভি
![]() |
| লিডো পিস হোম |
প্রকৃতিবান্ধব খেলার জায়গার বড়ই অভাব রাজধানীতে। তাই বছর দুয়েক আগে পরিবেশবান্ধব খেলার জায়গা তৈরির একটি প্রকল্প হাতে নেয় গবেষণাধর্মী স্থাপত্য শিল্পের প্রতিষ্ঠান ‘পারা’। এর অংশ হিসেবে পিস হোমের পাশেই তিন বছরের জন্য ওয়াশপুর গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষের দেওয়া জায়গায় গড়ে তোলা হয় বাঁশের তৈরি একটি খেলার জায়গা। এর নাম ‘ব্যাম্বু প্লে-স্পেস’। সেই প্রকল্প ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে কয়েকটি পুরস্কার জয়ের পাশাপাশি প্রশংসিত হয়েছে। অস্থায়ী তবে নান্দনিক এই প্রকল্পে সঙ্গে ছিল বুয়েট, ব্র্যাক ও শাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী ও পারা’র স্থপতিরা।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত স্ট্রিট চিলড্রেন ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নিয়েছে লিডো পিস হোমের ৮ শিশু। তারা হলো সানিয়া মির্জা, জেসমিন আক্তার, স্বপ্না আক্তার, আরজু রহমান, রাসেল ইসলাম রুমেল, আবুল কাশেম, রুবেল ও নিজাম হোসেন। গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৮ মে লন্ডনে পথশিশুদের এই ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার আজিমপুরে বেড়ে উঠেছেন ফরহাদ। পথের ধারে ছোট শিশুদের দেখে ভীষণ মায়া হয় এই তরুণের। কলেজে পড়ার সময় থেকে ভাগ্যাহত শিশুদের জড়ো করে ‘স্কুল আন্ডার দ্য স্কাই’ নামের স্কুল বানিয়ে পড়াতেন তিনি। এভাবে আরও বড় দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছে হয় তার। সেখান থেকে লিডো পিস হোমের ভাবনা আসে। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে এটি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
September
(820)
-
▼
Sep 25
(24)
- বাইডেন-ইউক্রেন-ট্রাম্প: আমেরিকায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক
- ‘ভ্যাকসিন হিরো’ শেখ হাসিনা
- শামীমের ডেরায় আনাগোনা ছিল ভিআইপিদের by আল আমিন
- টাকার সঙ্গে পাঠাতেন সুন্দরী মডেলও by রুদ্র মিজান
- ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু ডেম...
- গোলানে কী করছে ইসরাইল? by মো: বজলুর রশীদ
- চীনের মধ্যস্থতায় নিউ ইয়র্কে বৈঠক: পাল্টাপাল্টি, চু...
- প্রবাসী উইঘুরদের চীনের কাছে হস্তান্তর নয়: যুক্তরাষ...
- মাটি ছাড়া সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লায়
- টাকার বাদশাহ এনামুল
- সিলেটে বিএনপির সমাবেশ: আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের...
- তির-ধনুকে ‘রোমান সাম্রাজ্য’ by বদিউজ্জামান
- দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ 'যৌনদাসী'রা জাপানের ক্ষতিপূ...
- ভারত-মিয়ানমার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে by...
- নির্বাচিত ছাত্র সংসদের দাবি সব ছাত্র সংগঠনের by পর...
- সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা খেলছে বাঁশের তৈরি শান্তির নী...
- ‘রোবট শ্রমিক’ নিয়ে সামনে বড় শঙ্কা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত অনিয়ম, বিতর্ক by মনির হোসাইন
- আফগানিস্তানে দিনে গড়ে নিহত ৭৪, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ...
- ঢাকায় কাশবন ছুটছেন মানুষ by নূরে আলম জিকু
- থাইল্যান্ডে নগ্ন কেরি কেতোনা
- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা...
- স্ত্রী ২৬ বছরের ছোট হলেও ভালোবাসার কমতি নেই
- ভারত-পাকিস্তান, কে এগিয়ে?
-
▼
Sep 25
(24)
-
▼
September
(820)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





