Saturday, November 8, 2025

ইসরাইলি সামরিক আইনজীবীরা গাজায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সম্পর্কে সতর্ক করেন

ইসরাইলি সামরিক আইনজীবীরা নিজেদের সরকারকে সতর্ক করেছিলেন যে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে সমর্থন করতে পারে এমন প্রমাণ বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর এমন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। পাঁচজন মার্কিন সাবেক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি পূর্বে অপ্রকাশিত একটি গোয়েন্দা মূল্যায়ন।

সাবেক কর্মকর্তাদের মতে যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছানো সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্যগুলোর একটি ছিল এটা। এটি ইঙ্গিত করে যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভেতরেই তাদের কৌশলগত বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। যা ইসরাইলের প্রকাশ্য অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। দু’জন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়নি ২০২৪ সালের শেষের আগে।

বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদ শেষের দিকে, ডিসেম্বরের কংগ্রেস ব্রিফিংয়ের আগে এগুলো সীমিতভাবে শেয়ার করা হয়। এ গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে ইসরাইলের সেই অভিযান নিয়ে, যেটিকে তারা হামাস যোদ্ধাদের ধ্বংস করার জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করেছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা এবং মানবিক কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ইসরাইল জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড হয়তো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করছে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/188528_abul-2.webp

তালেবান এই ‘সুযোগ’ কেন হাতছাড়া করল by মাজহার সিদ্দিক খান

সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়। এটি একটি শোচনীয় বাস্তবতাকে তুলে ধরছে। আফগান তালেবানের পররাষ্ট্রনীতি এখনো সেই একই বিচ্ছিন্নতা ও একগুঁয়েমির মধ্যে আটকে আছে। এই নীতিই দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানকে একঘরে ও অস্থিতিশীল করে রেখেছে।

একটি আন্দোলন বহু দশকের যুদ্ধের পর ‘স্থিতিশীলতা’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপে অনীহার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এটি তালেবানের দেখার দৃষ্টি ও শাসনক্ষমতার ব্যর্থতাকে তুলে ধরে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারারের মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, আফগানপক্ষ মূল বিষয় থেকে সরে আসছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদ সীমান্তে সন্ত্রাস কমানোর জন্য দৃঢ় নিশ্চয়তা চেয়েছিল। কিন্তু আফগান প্রতিনিধিদল এই প্রশ্ন এড়িয়ে যায়। হয় এটি ইচ্ছাকৃত অস্বীকার, নয়তো আফগান মাটিতে কার্যরত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে তালেবানের অক্ষমতা।

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আয়োজিত ইস্তাম্বুল সংলাপটি সীমান্ত সংঘাতের পর তালেবান-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল; কিন্তু সীমান্ত আক্রমণ বন্ধে পরিকল্পনা গ্রহণে অনীহা দেখিয়ে তালেবান কার্যত সেই সুযোগকে নষ্ট করেছে।

তালেবানের পররাষ্ট্রনীতিতে সংকীর্ণতা ও প্রতিরক্ষামূলক জাতীয়তাবাদের ছাপ স্পষ্ট। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার বদলে কাবুল সরকার কূটনীতিকে ব্যবহার করেছে তাদের সশস্ত্র নীতির সম্প্রসারণ হিসেবে।

এটি কেবল আত্মহানিকর নয়, আফগানিস্তানের অস্তিত্বের জন্যও বিপজ্জনক। বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, খাদ্যনিরাপত্তা–সংকটের মুখোমুখি এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিহীন একটি রাষ্ট্র, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীকে বিরক্ত করতে পারে না।

পাকিস্তান বহু দশক ধরে ১০ লাখের বেশি আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানকে বাণিজ্যিক পথ ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশ্ব যাতে কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, সে জন্য পাকিস্তান বারবার আন্তর্জাতিক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের এই সদিচ্ছার প্রতিদান না দিয়ে তালেবান নেতৃত্ব নিজেদের মাটিকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আক্রমণের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। টিটিপির হামলায় এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। এই গোষ্ঠী পাকিস্তানে ইসলামিক আমিরাত প্রতিষ্ঠা ও কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন চালু করতে চায়।
এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে দূরে না থাকতে পারাটা শুধু পাকিস্তানের আস্থার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়; বরং আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও বেপরোয়া জুয়াখেলা।

তালেবান নেতৃত্ব এটা বুঝতে পারছে না যে তাদের পররাষ্ট্রনীতিকে কেউ বিচ্ছিন্নভাবে দেখছে না; বরং প্রতিটি আঞ্চলিক শক্তি যাচাই করছে যে একটি সার্বভৌম সরকার হিসেবে তালেবান কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করছে।

চীন খুব সতর্কতার সঙ্গে আফগানিস্তানের খনি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করেছে। তালেবান সরকার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেশটি খুবই উদ্বিগ্ন। এসব গোষ্ঠী চীনা নাগরিক এবং পাকিস্তানে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড মহাপ্রকল্পের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া জাতিগত উইঘুরদের সশস্ত্র সংগঠন ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট চীনের পশ্চিমাঞ্চল জিনজিয়াংকে স্বাধীন করার পথ খুঁজছে।

২০২৩ সালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টকে ‘চীন, আফগানিস্তান ও গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বেইজিং তালেবানকে এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে ন্যাশনাল মবিলাইজেশন ফ্রন্ট নামে আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবানের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই গোষ্টী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খনিতে কাজ করা একজন চীনা নাগরিককে হত্যা করে।

বেইজিং তালেবানের সঙ্গে লেনদেনভিত্তিক ও বাস্তবমুখী সম্পর্ক রাখছে; কিন্তু সেটি শর্তের বাইরে নয়। সীমান্ত পার হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় চীন মনে করতে পারে যে, আফগানিস্তান এখনো বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য খুব অস্থিতিশীল।

রাশিয়া সম্প্রতি তালেবানের সঙ্গে নীরব কূটনীতিতে জড়িত হয়েছে। পশ্চিমা প্রভাব ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাশিয়া আফগানিস্তানকে একটি সম্ভাব্য বাফার অঞ্চল হিসেবে মনে করছে। এখন ক্রেমলিনের ধৈর্যও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

আফগানিস্তানের মাটি থেকে জঙ্গিবাদ বিস্তার হয়ে মধ্য এশিয়ায় ছড়ালে সেটি মস্কোর নিরাপত্তা হিসাবনিকাশ পাল্টে দেয়। এমন একটি সরকার, যেটি নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে বা আন্তসীমান্ত সন্ত্রাস প্রতিরোধ করতে অক্ষম, সেটিকে কখনো নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখবে না রাশিয়া।

সংক্ষেপে—তালেবানের এই অবাধ্যতা কেবল পাকিস্তান থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করছে না; বরং ২০২১ সালে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তান যে সামান্য বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছে, সেটিও ক্ষুণ্ণ করছে। বিশ্ব এখানে পরিষ্কার বার্তা পাচ্ছে। আফগানিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র নয়, যেটি দায়িত্বশীল আচরণ করতে প্রস্তুত; বরং তালেবান হচ্ছে এমন একটি আন্দোলন যেটা এখনও অতীতের বিদ্রোহী মানসিকতায় আটকে আছে।

পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগান সীমান্ত এলাকা থেকে ছড়ানো সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে, তবু সংঘর্ষের চেয়ে কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। দোহা, ইস্তাম্বুল আলোচনা এরই অংশ। তবে ধৈর্যেরও সীমা আছে। আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়; বরং একটি সতর্কবার্তা। আর সেই সতর্কবার্তা হলো, অবাধ আগ্রাসন দীর্ঘ সময় সহ্য করা হবে না। এর পরও ইসলামাবাদ স্পষ্ট করেছে যে কূটনীতি এখনো তাদের প্রধান পথ।

পাকিস্তানের জন্য এখন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হলো দৃঢ়তার সঙ্গে দূরদর্শিতা বজায় রাখা। কেবল সামরিক পদক্ষেপ নিরাপত্তা দিতে পারবে না, যদি তা ধারাবাহিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক সমঝোতার সঙ্গে মিলিত না হয়; কিন্তু সেই কূটনৈতিক পথ কার্যকর করতে হলে আফগানিস্তানকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সক্ষম ও ইচ্ছুক এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে।

ইস্তাম্বুলে তালেবানের সামনে সুযোগ ছিল প্রাপ্তবয়স্ক আচরণ করার; কিন্তু তারা হঠকারিতার পথ বেছে নিল। এই সিদ্ধান্তের মূল্য বহন করতে হবে সাধারণ আফগান ও পাকিস্তানিদের যাঁরা, চাইলেই এড়ানো যায়, এমন আরেকটি যুদ্ধের ছায়ায় বসবাস করছেন। আর এর মূল্য দিতে হবে তালেবান সরকারকে। কেননা, বেইজিং আর মস্কো, শেষ বন্ধু দুজন যে তালেবানের ওপর ধৈর্য হারাচ্ছে।

* মাজহার সিদ্দিক খান, পাকিস্তানের আইনজীবী
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

তালেবানের একগুঁয়ে অবস্থান বাকি বিশ্ব থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করছে
তালেবানের একগুঁয়ে অবস্থান বাকি বিশ্ব থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করছে। ছবি : রয়টার্স

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তুরস্কের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। শুক্রবার ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট ৩৭ জন সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির এবং সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির। তবে সম্পূর্ণ তালিকাটি প্রকাশ করা হয়নি।

তুরস্ক এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে, তারা গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা ‘গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’, যা ইসরাইল ‘পদ্ধতিগতভাবে পরিচালনা করেছে’। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্কের নির্মিত ‘তুর্কি-ফিলিস্তিনি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’, যা গাজা উপত্যকায় অবস্থিত, তা গত মার্চে ইসরাইলি বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছে।

উল্লেখ্য, তুরস্ক গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে করা মামলায় যোগ দেয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ১০ অক্টোবর থেকে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এই যুদ্ধবিরতি।

https://mzamin.com/uploads/news/main/188538_Abul-9.webp

ইলন মাস্ক মঞ্চে নাচলেন, সঙ্গী হলো রোবট

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক গতকাল বৃহস্পতিবার কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালে রোবটের সঙ্গে নেচেছেন। এক ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা ইলন মাস্কের জন্য প্রায় এক লাখ কোটি ডলারে বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করার পর তিনি নেচে নেচে উদ্‌যাপন করেন।

টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা গতকাল টেক্সাসের অস্টিনে বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ইলন মাস্কের জন্য একটি বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করেন। এ বেতন প্যাকেজের আওতায় আগামী এক দশকে ধাপে ধাপে তাঁকে শেয়ার আকারে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন বেতন প্যাকেজ অনুমোদনের পর মুহূর্তের মধ্যেই মাস্ক মঞ্চে উঠে আসেন। সেখানে উপস্থিত থাকা মানুষেরা তখন উল্লাসে মেতে ওঠেন। মাস্ক মঞ্চে নাচতে শুরু করেন। তখন মঞ্চে থাকা রোবটও তাঁর নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করে নাচতে থাকে।

মাস্ক দর্শকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের অন্য সভাগুলো একঘেয়ে, কিন্তু আমাদের সভাগুলো দারুণ। দেখুন না, এটা কত চমৎকার।’

এরপর মাস্ক ঘোষণা করেন যে টেসলা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি বলেছেন, এ নতুন যুগ শুধু গাড়িতে নয়, রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাতেও শুরু হচ্ছে। তিনি তখন ইশারায় পাশে থাকা মানবসদৃশ রোবটকে দেখান।

গতকাল টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারের বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করেন। এটিকে মাস্কের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা মাস্কের টেসলাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যকে সমর্থন জানিয়েছেন।

কিছু বড় বিনিয়োগকারীর বিরোধিতার পরও গতকাল বেতন প্যাকেজের প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে। তবে টেসলা কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রস্তাবটি অনুমোদন না পেলে মাস্ক হয়তো কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদত্যাগ করতেন।

টেসলা কর্তৃপক্ষ ও নতুন বেতন প্যাকেজ অনুমোদনকারী বিনিয়োগকারীরা বলেছেন, প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের এই বেতন প্যাকেজ দীর্ঘ মেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের জন্যই লাভজনক। কারণ, মাস্ককে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে টেসলার জন্য নির্ধারিত কিছু যুগান্তকারী লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

মাস্ককে আগামী ১০ বছরের জন্য যে লক্ষ্যগুলো বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—২ কোটি গাড়ি সরবরাহ করা, ১০ লাখ রোবোট্যাক্সি চালু করা, ১০ লাখ রোবট বিক্রি করা।

মাস্ককে পুরো বেতন প্যাকেজ পেতে হলে, টেসলার বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পেতে হবে। প্রথমে কোম্পানির বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারকে ২ লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে। এর পরে বাজারমূল্যের পরিমাণ ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে হবে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায়, মাস্ক টেসলার শেয়ার হিসেবে ১০ বছরের মধ্যে ৮৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয় করতে পারেন। আদতে মাস্ককে ১ লাখ কোটি ডলার দেওয়া হতে পারে, তবে তাঁকে কিছু অর্থ টেসলাকে ফেরত দিতে হবে। এ জন্য তা ৮৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে।

মঞ্চে রোবটের সঙ্গে নাচছেন ইলন মাস্ক
মঞ্চে রোবটের সঙ্গে নাচছেন ইলন মাস্ক। ছবি: এসএমএক্স নামের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া ভিডিওর স্ক্রিনশট

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতা ম্লান হলো মাত্র দুই দিনেই

চলতি বছরের শুরুতে ক্ষমতায় বসার পর থেকে কী করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! দেশ–বিদেশে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা রীতিনীতি তছনছ করে দিয়েছেন। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন, মিত্রদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোয় সেনা মোতায়েন করেছেন, সরকারি দপ্তরগুলো ওলট–পালট করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একপ্রকার নাজেহাল করে ছেড়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতা অবশেষে কিছুটা ম্লান হয়েছে। তা ঘটেছে মাত্র দুই দিনে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের মেয়রসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা জয় পেয়েছেন। আর বুধবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে সংবিধান ট্রাম্পকে যে জরুরি ক্ষমতা দিয়েছে, তা ব্যবহার করে তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করতে পারেন কি না?

ব্যাপক কূটকৌশলের পরও নিউইয়র্কের মেয়র হওয়া থেকে জোহরান মামদানিকে ঠেকাতে পারেননি ট্রাম্প। ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সিতে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবিগালি স্প্যানবার্গার ও মিকি শেরিল। যদিও এই এলাকাগুলোয় ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বেশি, তারপরও তাঁরা যে বড় জয় পেয়েছেন, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি রিপাবলিকানরা।

এই জয়ের আগে থেকেই যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া শুরু করেছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘ভালুককে খোঁচা দিলে সে গর্জন করে রুখে দাঁড়াবেই।’ ইলিনয়ের গভর্নর ও আরেক ডেমোক্র্যাট জে বি প্রিটজকার ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছেন। আদালতে ট্রাম্পের মুখোমুখি হচ্ছে তহবিল ছাঁটাইয়ের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।

মধ্যবর্তী নির্বাচন কঠিন হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘অগাধ’ ক্ষমতা। তবে ট্রাম্পের মতো কোনো প্রেসিডেন্টই হোয়াইট হাউসকে রাজদরবার মনে করেননি। রিপাবলিকান কংগ্রেসে ট্রাম্পের এতটাই নিয়ন্ত্রণ যে তাঁর আগ্রাসী ক্ষমতাচর্চার ওপর নজরদারি করার মতো কেউ নেই। আর ট্রাম্পের জীবনের একটি মন্ত্র হলো—সব বাধার জবাব দিতে হবে আগ্রাসীভাবে। আর প্রতিটি হিসাব যথাযথভাবে চুকিয়ে দিতে হবে।

সে হিসেবে মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটদের জয়ের জবাব আগ্রাসীভাবে দিতে পারেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তিনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন। মামদানির জয়ের আগেই তিনি নিউইয়র্কে কেন্দ্রীয় তহবিল কমানোর হুমকি দিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন এবং সময়ের আগেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মানচিত্র পুননির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্প যা–ই করুন না কেন, তাঁর ওপর মার্কিনরা যে আস্থা হারাচ্ছেন, তা সম্প্রতি কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে। তাঁরা মনে করছেন, ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতিও নড়বড়ে। আর কয়েকটি নির্বাচনের ফল দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না হলেও মঙ্গলবারে ডেমোক্র্যাটদের জয় এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য সহজ হবে না।

ট্রাম্পের ভুল ধারণা

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এক অসাংবিধানিক ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন রয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বুধবারেই ট্রাম্প বলেছেন, ‘তাঁরা বলেন, আমি নাকি রাজা। আমি তা নই।’ তবে গত আগস্টে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্টই কিন্তু বলেছিলেন, ‘আমি যা চাই, তার সবকিছু করার অধিকার আমার আছে।’

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্পর্কে এই ভুল ধারণা হয়তো ট্রাম্প পেয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে। এই বিচারকেরাই চলতি বছরে এক ফৌজদারি মামলার রায় ট্রাম্পের পক্ষে দিয়েছিলেন। ওই মামলার রায়ে তাঁরা বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে যেকোনো সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য যথেষ্ট দায়মুক্তি পাবেন একজন প্রেসিডেন্ট।

সেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদেরই এখন শুল্ক আরোপ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট মনে হয়েছে। বুধবার তাঁরা এই ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ থেকে বোঝা গেছে, রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের কাছে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের যে অধিকার রয়েছে, তা সাংবিধানিকভাবে কাজ করছে। এতে কিছুটা হলেও ট্রাম্পের ক্ষমতাচর্চা ম্লান হয়েছে। তবে ট্রাম্প তো ট্রাম্পই। একে কতটা তিনি তোয়াক্কা করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

শাটডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজ চলাচলে বিপর্যয়

কেন্দ্রীয় সরকার আংশিক শাটডাউনের (অচলাবস্থা) মুখে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজ চলাচল পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি কর্মী–সংকটের কারণে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো কমপক্ষে ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করলে এ বিপর্যয় দেখা দেয়।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় বিবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আসা, যাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে মোট ১ হাজার ২৩৮টি ফ্লাইট এ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া ৮২৪টি ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। জর্জিয়ার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ৩০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

কয়েক দফা চেষ্টার পরও সিনেটে ব্যয় বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার শাটডাউনে পড়েছে। বেতন না হওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মতো কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আবার অসুস্থতার কারণে কাজে যোগ দিতে পারছেন না।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, কর্মী–সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ৪ শতাংশ থেকে কমানো শুরু হবে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ পুরোপুরি ১০ শতাংশ কমানো হবে। এতে প্রতিদিন ৪ হাজারের মতো ফ্লাইট বাতিল কিংবা বিলম্বিত হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটরা ব্যয় বিলে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা শুধুই একটি ব্যয় বিলের জন্য চাপ দিচ্ছে। উভয়পক্ষ একমত না হওয়ায় সিনেটে কয়েক দফা ভোটাভুটির পরও বিলটি পাস হয়নি। ১০০ আসনের সিনেটে বিলটি পাস হতে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন। সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির ভোট ৫৩টি।

ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই রিপাবলিকানদের ব্যয় বিলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। কারণ, এই প্রস্তাব পাস হলে নিম্ন আয়ের মার্কিনদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে। রিপাবলিকানরা বারবার অভিযোগ করেছে, অবৈধ অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে ডেমোক্র্যাটরা সরকার অচল করে দিয়েছে।

কখন সরকার শাটডাউনের কবলে পড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ সরকারি সংস্থার জন্য প্রতিবছর ব্যয়-সংক্রান্ত বিস্তারিত আইন তৈরি করে কংগ্রেস। তবে ১ অক্টোবর অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে বেশির ভাগ সময় তারা এই কাজ শেষ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত অস্থায়ী ব্যয় বিল পাস করেন আইনপ্রণেতারা, যাতে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের জন্য সরকার সচল থাকে এবং তাঁরা আইনটি তৈরির কাজ শেষ করতে পারেন।

অস্থায়ী ব্যয় বিল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে তা আটকে যায়। বিল পাসের সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার আংশিক শাটডাউনে পড়েছে। এর অর্থ হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের ১৪ লাখ কর্মী হয় বিনা বেতনে ছুটিতে যাবেন কিংবা বিনা বেতনে কাজ করবেন। এর ফলে সরকারের কিছু পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।

শাটডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে। লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বোস্টন; ৭ নভেম্বর ২০২৫
শাটডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হচ্ছে। লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বোস্টন; ৭ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স