Wednesday, August 12, 2026

মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নাসার কিউরিওসিটি রোভার

প্রকাশ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ঃ পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহাকাশ অভিযানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি মিশন। এ মিশনের প্রাণ হলো কিউরিওসিটি রোভার। ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর অ্যাটলাস ভি নামের রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে রোভারটি। প্রায় ৯ মাসের দীর্ঘ মহাজাগতিক ভ্রমণের পর ২০১২ সালের ৬ আগস্ট রোভারটি মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটারে সফলভাবে অবতরণ করে, যা ‘ব্র্যাডবেরি ল্যান্ডিং’ নামে পরিচিত।

মঙ্গল গ্রহে দুই বছর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি করা হয়েছিল কিউরিওসিটি রোভার। তবে বিজ্ঞানীদের অবাক করে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গল গ্রহে কাজ করছে রোভারটি। নাসার তথ্যমতে, মঙ্গল গ্রহে কখনো অণুজীবের জীবনধারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ ছিল কি না, তা খুঁজে বের করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মানব অভিযানের জন্য মঙ্গল গ্রহের বিকিরণ স্তর পরিমাপ করছে রোভারটি। বর্তমানে রোভারটি গেল ক্রেটারের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল মাউন্ট শার্প বা ইওলিস মন্সের স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছে।

গাড়ির আদলে তৈরি কিউরিওসিটি রোভারটি ২.৯ মিটার লম্বা, ২.৭ মিটার চওড়া ও ২.২ মিটার উঁচু। এর শক্তির উৎস সৌর প্যানেল নয়, বরং একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-মিশন রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর। এটি প্লুটোনিয়াম-২৩৮ মৌলে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটিকে রাতের বেলা বা ধূলিঝড়ের সময়ও একটানা কাজ করতে পারে। কিউরিওসিটির চলাচলের জন্য ছয়টি চাকার একটি জটিল গতিশীলতা ব্যবস্থা রয়েছে। রোভারটির রোবোটিক বাহুতে ড্রিল করার এবং নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মঙ্গল পৃষ্ঠে ৩৫ দশমিক ৯৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে কিউরিওসিটি রোভার। ২০১৮ সালে রোভারটি গেল ক্রেটারে থাকা ৩০০ কোটি বছরের পুরোনো শিলার নমুনায় বেনজিন ও প্রোপেনের মতো জৈব অণু আবিষ্কার করে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এটি কাদাপাথরে দীর্ঘ-শৃঙ্খলের অ্যালকেন আবিষ্কার করে, যা জৈব বা অজৈব উৎস থেকে উদ্ভূত হতে পারে। রোভারটি এমন শিলা এবং কাদামাটির উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, যা একসময় দীর্ঘস্থায়ী হ্রদ বা নদীর তলদেশ ছিল।

সূত্র: নাসা

কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি
কিউরিওসিটি রোভারের ফাইল ছবি। নাসা

গাজায় গণহত্যায় অংশ নেওয়া ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গণহত্যায় অংশ নেওয়া মার্কিন বংশোদ্ভূত এক ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। গাজা থেকে ফেরার পর তিনি পিটিএসডিসহ গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে তার বন্ধু ও পরিচিতরা জানিয়েছেন।

২৫ বছর বয়সি উইলিয়াম শাকিন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলে যান। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরে গাজায় ইসরাইলি সরকারের স্থল আক্রমণের সময় গোলানি ব্রিগেডের ১৩তম ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞাপন

বন্ধু ও পরিচিতরা জানান, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ফেরার পর তার মানসিক স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে। শাকিন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ও অন্যান্য গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

তার স্বজনেরা আরো জানান, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধে সহযোদ্ধাদের হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে থাকেন।

ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে অন্তত ১৮ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির ঘটনাও প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

গাজায় গণহত্যায় অংশ নেওয়া ইসরাইলি সেনার আত্মহত্যা

পশ্চিম তীরে ধরপাকড় ও অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধরপাকড়, অভিযান, স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া ও জমি দখলের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা।

মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেথলেহেম, জেনিন, রামাল্লাহ, কালকিলিয়া ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ২৩ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।

রামাল্লাহর পশ্চিমে অবস্থিত বেইত সিরা গ্রামের ১৬ বছর বয়সি ফিলিস্তিনি আহমেদ থায়ের আত্তা আল-হাজ্জকেও আটক করা হয়েছে। তিনি প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ১২টি গুদাম ও কৃষি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় একটি স্কুল, কয়েকটি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংসের নোটিস দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অভিযানের সময় প্রতিরোধ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন ফারুক রমাদান। মঙ্গলবার ইসরাইলি বাহিনী তার বাড়িও গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

নাবলুসের কাছে বুরকা শহরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে ছয় ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

এদিকে নাবলুসের কাছে কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ঢুকে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। আওয়ার্তা এলাকায় ধর্মীয় উপাসনাস্থলগুলোর কাছেও তারা অভিযান চালিয়েছে।

এ ছাড়া তুবাসের পূর্বে ইরজা এলাকায় একটি কৃষি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনীর ভারী যন্ত্র। ৬০ বর্গমিটার বা প্রায় ৬৪৬ বর্গফুট আয়তনের ওই স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি না থাকায় ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পশ্চিম তীরে ধরপাকড় ও অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইল
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত ফারুক রমজানের বাড়ি ভাঙার সময় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: এএফপি

‘হাতি পথ হারালে বিপদে মানুষও’ by রুবেল মিয়া

গভীর রাতে পাহাড়ের দিক থেকে ভেসে আসে হাতির ডাক। সীমান্তঘেঁষা গ্রামের অনেক কৃষকের ঘুম ভেঙে যায় আতঙ্কে। ফসলের মাঠে হাতির পাল নেমেছে কি না, ঘরবাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে কিনা সেই উৎকণ্ঠায় রাত কাটে। অন্যদিকে খাবার ও পানির সন্ধানে বন থেকে লোকালয়ে নেমে আসা হাতিও পড়ছে নানা ঝুঁকিতে। ফলে নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ে মানুষ ও হাতি-দু’পক্ষের নিরাপদ সহাবস্থান এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আজ বিশ্ব হাতি দিবস। হাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, অস্তিত্বের জন্য হুমকি মোকাবিলা এবং মানুষ-হাতি সংঘাত কমানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হয়। শেরপুরের গারো পাহাড়ে দিবসটির গুরুত্ব বিশেষ।

কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলে বন্য হাতির বিচরণ এবং মানুষ-হাতি সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির সংঘাতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ সালের ২৭শে মে পানিহাটা-ফেকামারী এলাকায় রাতে হাতি তাড়াতে গিয়ে অপু মারাক (৪৮) নিহত হন। ২০২২ সালের ২রা আগস্ট মায়াঘাসী পাহাড়ে ঘাস কাটতে গিয়ে হাতির আক্রমণে মারা যান কৃষক ছমেদ আলী (৬৫)। ২০২৩ সালের ৬ই জানুয়ারি দাওধারা-কাটাবাড়ি এলাকায় হাতির সংঘাতে মারা যান শরীফুল আলম। ২০২৪ সালের ১৮ই এপ্রিল বাতকুচি গ্রামে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে নিহত হন কৃষক উমর আলী। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯শে মে বাতকুচি নামাপাড়ায় নিজ বাড়িতে হাতির আক্রমণে মারা যান বিধবা সুরতন নেছা। মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

২০২১ সালের ১৯শে নভেম্বর ফেকামারি এলাকায় চাঁন মিয়ার ধানক্ষেতে ২ থেকে ৩ বছর বয়সী একটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই সময় এলাকায় প্রায় ৪০টি হাতির একটি পাল অবস্থান করছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ২০২৪ সালের ৩১শে অক্টোবর রাতে নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী বাতকুচি রাবার বাগান এলাকায় ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে একটি মাদি হাতির মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ফসল রক্ষার জন্য ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পূর্ব সমশ্চুড়া-লাল টেংগড় এলাকায় বোরো ধানক্ষেতে বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরেকটি বন্য হাতির মৃত্যু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, মানুষ-হাতি সংঘাতের ক্ষতি শুধু মানুষের ওপরই পড়ছে না; হাতিও হারাচ্ছে প্রাণ।

হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া, বনভূমির পরিবর্তন এবং খাদ্য ও পানির সংকটসহ নানা কারণে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। অন্যদিকে কৃষকরাও ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষায় নানা পদ্ধতি গ্রহণ করেন। ফলে সংঘাতের পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় উভয়পক্ষই। এ অবস্থায় প্রয়োজন হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংরক্ষণ, পাহাড়ে খাদ্য ও পানির উৎস নিশ্চিত করা, কৃষকের জন্য নিরাপদ ফসল সুরক্ষা ব্যবস্থা, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কতা এবং হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে প্রশিক্ষিত দলের দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ। এই লক্ষ্যেই গত ৪ঠা জুলাই নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন ও নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। সভায় বন বিভাগ, প্রশাসন, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ফাহিম চৌধুরী জানান, বন্যহাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করতে গহীন বনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এদিকে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে শেরপুরের বালিজুরি, রাঙটিয়া ও মধুটিলা রেঞ্জে পৃথক র‌্যালি ও আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ব হাতি দিবসে নালিতাবাড়ীর বার্তা তাই একটাই হাতিকে বাঁচাতে হবে, মানুষকেও বাঁচাতে হবে। সংঘাত নয়, প্রয়োজন নিরাপদ সহাবস্থান। 

‘হাতি পথ হারালে বিপদে মানুষও’

নারায়ণগঞ্জে এক বিস্ফোরণে না ফেরার দেশে একটি পরিবার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যই একে একে মারা গেছেন। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের পর এবার মারা গেলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাইদুল ইসলাম (২৮)। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুল ইসলাম মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।

এর আগে সোমবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি আক্তার (২৪)। আর গত শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান আট বছরের মারুফ। ফলে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় পরিবারটির তিন সদস্যই প্রাণ হারালেন। এখন ওই পরিবারের আর কেউ জীবিত নেই। গত শুক্রবার ভোরে বন্দরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকায় সালাহউদ্দিনের টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে স্ত্রী বিউটি আক্তার ও আট বছরের ছেলে মারুফকে নিয়ে থাকতেন রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কাজের সুবাদে প্রায় এক বছর ধরে ওই টিনশেডের ঘরে ভাড়া ছিলেন নাটোরের বাসিন্দা মাইদুলের পরিবার।

বিস্ফোরণের পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মধ্যেও একে একে নিভে গেল তিনটি প্রাণ।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা ছিল, গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ঘরের জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ভেতরে জমে যায়। ভোরে মাইদুল ইসলাম সিগারেট ধরানোর সময় আগুনের সংস্পর্শে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই শেষ করে দিলো একটি পুরো পরিবারকে। কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও একমাত্র সন্তান মারুফ- তিনজনই এখন শুধুই স্মৃতি।

নারায়ণগঞ্জে এক বিস্ফোরণে না ফেরার দেশে একটি পরিবার

মিসরের জাহাজে হুতিদের হামলায় নিহত ৬

বাব আল মান্দেব প্রণালিতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ছয় জন নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনে সরকার এই তথ্য জানায়। জাহাজটি মিসরের মালিকানাধীন। কার্গো জাহাজটিতে ২বার আঘাত হানা হয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর মঙ্গলবার আক্রান্ত হওয়া তিহামা নামের জাহাজটিতে ৬ জনের মৃত্যুর ফলে হরমুজে প্রণালির পর বাব আল মান্দেব প্রণালিও জীবনঘাতীর খাতায় নাম লেখালো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পাকিস্তানি ও ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক রয়েছেন, বলে জানায় ইয়েমেনের পরিবহণ মন্ত্রণালয়। জাহাজটিতে ৩টি মিসাইল নিক্ষেপ করে হুতি গোষ্ঠী।

এতে আগুন লেগে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আক্রমণের ফলে জাহাজটিতে উদ্ধার অভিযানও ব্যাহত হয়। উদ্ধারকালীন সময়ে ফের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালানো হলে ২ সেনা নিহত হন। ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকরী ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হুতিরা। হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা জানায়, তারা একটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যেটিতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ করা হচ্ছিলো। এ বিষয়ে সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 

মিসরের জাহাজে হুতিদের হামলায় নিহত ৬

৫ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-জর্জিনা রদ্রিগেজ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ভক্তদের চমকে দিতে জানেন। তবে এবার ফুটবল মাঠে নয়, মাঠের বাইরের এক বিশেষ খবর দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা। দীর্ঘদিনের পার্টনার জর্জিনা রদ্রিগেজকে ১১ই আগস্ট (মঙ্গলবার) বিয়ে করেছেন রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিয়ের ছবি প্রকাশের পরই বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি জানায়- রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে দু’জনকে পরস্পরের হাত ধরে থাকতে দেখা যায় এবং দু’জনের হাতেই আছে বিয়ের আংটি। জানা গেছে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের কাছে পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে একেবারে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ পরিবেশে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তানও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে ব্রান্সউইক গ্রুপ।

রোনালদো ও জর্জিনার পাঁচ সন্তানের নাম ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ ইভা ও মাতেও, আলানা মার্টিনা এবং বেলা এসমেরাল্ডা। বিয়ের ছবি পোস্ট করে রোনালদো ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সি হার্ট ইমোজি জি’। রোনালদোর ঘনিষ্ঠ বৃটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানও বিয়ের পর এই দম্পতির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। ছবিতে তাদের বিয়ের আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়।

রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে মাদ্রিদে। গত এক দশকে তাদের সম্পর্ক একটি আকস্মিক পরিচয় থেকে পরিণত হয়েছে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধনে। স্পেন, ইতালি, বৃটেন ও সৌদি আরবে বসবাসের মধ্য দিয়ে তারা পাঁচ সন্তানকে নিয়ে পরিবার গড়ে তুলেছেন। জানা যায়, মাদ্রিদের একটি গুচি বুটিকেই প্রথম রোনালদোর সঙ্গে জর্জিনার পরিচয় হয়। তখন জর্জিনা সেখানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় রোনালদো খেলতেন লা লিগার অন্যতম বড় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। কয়েক দিন পর একটি ব্র্যান্ডের অনুষ্ঠানে তাদের আবার দেখা হয়। সেখানে কাজের সময়ের বাইরে অপেক্ষাকৃত স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দু’জনের কথা বলার সুযোগ হয়।

২০১৭ সালের নভেম্বরে জর্জিনা তাদের মেয়ে আলানা মার্টিনার জন্ম দেন। এর কয়েক মাস আগে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান মাতেও ও ইভার জন্ম হয়। জর্জিনা তাদেরও নিজের পরিবারের অংশ হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেন। এর সঙ্গে ছিলেন রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র। পর্তুগালের হয়ে ১৪৬ গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। তিনি পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। সম্প্রতি পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে নিজের রেকর্ড গড়া ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও খেলতে দেখা গেছে তাকে। তবে সেই বিশ্বকাপ অভিযান রোনালদো কিংবা পর্তুগাল- কেউই দীর্ঘদিন মনে রাখতে চাইবে না। ক্লাব ফুটবলে বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই তাকে মাঠে দেখা যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

৫ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-জর্জিনা রদ্রিগেজ

ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উত্তর গাজায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ছবিটিতে গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার দুজন বয়োবৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নাদি মারুফ ও আলী মারুফকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনুস তিরাউই ছবিটি এক্স-এ প্রকাশ করেছেন।

সামরিক অভিযানের সময় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চলা নিপীড়নের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে এই ফাঁস হওয়া ছবিটি। ওই বৃদ্ধদের পরনে ছিল শুধু অন্তর্বাস এবং একজনের হাত পেছনে বাঁধা ছিল। ইসরাইলি সেনারা কোনো ভবনে ঢোকার আগে তাদের জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করানো হতো।

তিরাউই জানান, ওই দুই ব্যক্তিকে মানব টোপ বা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পর হত্যা করা হয়। ইসরাইলি সেনাসদস্যরা বেইত লাহিয়া থেকে দুই ফিলিস্তিনি বৃদ্ধকে অপহরণ করে হত্যার আগে দীর্ঘদিন মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিরাউই জানিয়েছিলেন যে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কেফির ব্রিগেডের ৯২তম ব্যাটালিয়নের সেনারা বেইত লাহিয়া থেকে ওই দুই ফিলিস্তিনিকে তুলে নিয়ে যায় এবং বেশ কিছুদিন ধরে মানবঢাল হিসেবে আটকে রাখে। আল-তাওয়াম গোলচত্বরের কাছে ছেড়ে দেওয়ার আগে ওই দুই ব্যক্তিকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার তিন দিন পর তাদের স্বজনরা লাশগুলো খুঁজে পান।

ইসরাইলি সেনারা বিস্ফোরক বা যোদ্ধা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জোর করে বাড়ি ও সুড়ঙ্গের ভেতর পাঠাতো। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাসদস্যদের আগে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করানো মানবঢাল ব্যবহারের শামসুল এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক নাগরিক, বন্দী ও নিহতদের লাশের প্রতি অমানবিক আচরণের এসব অভিযোগ গাজায় ইসরাইলি কার্যক্রমের ওপর আন্তর্জাতিক তদন্ত ও চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল

হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি: স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে রুটিন চেকআপ কেন জরুরি? by নাগিব বাহার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ মারা যায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণে। প্রশ্ন আসে - একজন মানুষের কোন সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা কীভাবে অনুমান করা সম্ভব।
আপাতদৃষ্টিতে এই প্রশ্নের উত্তরটা সহজ - নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করলেই মানুষের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক চিত্রের একটি ধারণা পাওয়া সম্ভব।
কিন্তু কোন সময় ঠিক কোন পরীক্ষাটি করা উচিত? - সেটি কীভাবে নির্ণয় করা সম্ভব?
বিবিসি বাংলা'র সাথে এ বিষয়ে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শোয়েব মোমিন মজুমদার 'রুটিন চেকআপ' বা নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার বিষয়ে কিছু খুঁটিনাটি তথ্য জানান।
মি. মজুমদারের মতে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা মূলত দুই ভাবে হয়ে থাকে। যথা - রোগের লক্ষণভেদে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (বয়সভেদে শারীরিক পরিবর্তন বিচারে)।
বয়স ৪০ হওয়ার পর সাধারণত, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেন মি. মজুমদার।
মি. মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের মত দেশে শহুরে জীবনে সাধারণত যথেষ্ট পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম করা হয়ে ওঠে না যার ফলে ডায়বেটিস, হার্টের রোগ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরে কোলস্টোরেলের মাত্রা বেড়ে যায়।
"এ কারণে চল্লিশোর্ধ প্রত্যেক ব্যক্তির নিয়মিত কিছু রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত।"
এরকম ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে কয়েকটি বিশেষ ধরণের পরীক্ষা করা উচিত বলে জানান মি. মজুমদার।

প্রাথমিকভাবে সবার যেসব স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত

"চল্লিশোর্ধ সব ব্যক্তির নিয়মিত বিরতিতে কয়েকটি বিশেষ পরীক্ষা করা প্রয়োজন", বলেন মি. মজুমদার।
"যেগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো রক্তের সিবিসি পরীক্ষা।"
হিমোগ্লোবিনসহ রক্তের অন্যান্য কণিকাগুলো সঠিক অনুপাতে আছে কিনা - তা দেখা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে।
বয়স চল্লিশ পার হওয়ার পর ক্যান্সার বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে যার প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রায় তারতম্য দেখা দিতে পারে বলে জানান মি. মজুমদার।
এছাড়া রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষার মধ্যে কিডনির 'ক্রিয়েটিনিন' পরীক্ষা এবং লিভারের 'এএলটি বা এসজিপিটি' পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
আর বয়স চল্লিশ পার হওয়ার পর সাবরই ডায়বেটিস এবং কোলস্টোরেলের মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত বলে মন্তব্য করেন মি. মজুমদার।

দূষণজনিত রোগের সতর্কতা

মি. মজুমদার বলেন, ক্রমবর্ধমান মাত্রায় দূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম রোগের আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।
"অতিমাত্রায় শব্দ দূষণের কারণে বয়সের সাথে সাথে অপেক্ষাকৃত তাড়াতাড়ি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।"
এছাড়া বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত এবং ফুসফুসের রোগ বেড়ে যাওয়া, এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন মি. মজুমদার।
মি. মজুমদার বলেন, এরকম ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে রোগের লক্ষণ অনুমান করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেয়া উচিত।
ভেজালযুক্ত খাবার গ্রহণ করার কারণেও বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মন্তব্য করেন মি. মজুমদার। তাই সেবিষয়টিও বিবেচনায় রেখে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন মি. মজুমদার।
"তবে প্রাথমিক কয়েকটি পরীক্ষা বাদে অন্যান্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবাইকেই রোগের লক্ষণ যাচাই করে স্বাস্হ্যপরীক্ষা করা উচিত।"

ধূমপানের ঝুঁকি

মি. মজুমদার বলেন, "ধূমপানের কারণে বিবিধ প্রকার রোগ হয়ে থাকে। তাই ধূমপায়ীদের অবশ্যই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত।"
ধূমপানের কারণে খাদ্যনালী, জিহ্বা, ফুসফুস, বৃহদান্ত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকিসহ মস্তিষ্কের রক্তনালী ব্লক হয়ে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায় বলে জানান মি. মজুমদার।
"এছাড়াও ধূমপানের কারণে রক্তনালী ব্লক হতে পারে। হাত বা পায়ের রক্তনালী ব্লক হয়ে ঐ অঙ্গ অকেজো হওয়া থেকে শুরু করে অঙ্গহানিও হতে পারে।"
এসব কারণে স্বাস্থ্যপরীক্ষার বিষয়ে অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের আরো বেশি নিয়মিত ও সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন মি. মজুমদার।
চিকিতসকদের মতে, চল্লিশোর্ধ ব্যক্তিদের নিয়মমাফিকভাবে কয়েকটি পরীক্ষা করা উচিত

‘বড় যুদ্ধের’ প্রস্তুতিতে ইরান?

আল জাজিরার বিশ্লেষণঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ছয়জন অভিজ্ঞ কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে ইরান তার যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

সোমবার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
ওয়াহিদির ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মোস্তফা ইজাদি।
এ ছাড়া মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহিকে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়োমার্স হেইদারিকে তার ডেপুটি করা হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি ওজমাইকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার এবং হোসেইন তাইয়েবকে বাসিজের প্রধান করা হয়েছে। বাসিজ হলো সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক আধাসামরিক বাহিনী।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেন, এই ছয় কমান্ডার সাম্প্রতিক “দুটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে” নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে গত রোববার সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার-ইন-চিফ মোহসেন রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব এবং ওই শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থায় মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে এসএনএসসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, এসব নিয়োগের লক্ষ্য শুধু সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধে উন্মোচিত দুর্বলতা সংশোধন করা নয়, একই সঙ্গে “মোজতবার কর্তৃত্ব সুসংহত করা”।
তার মতে, পরবর্তী সংকটে দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে খামেনি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আস্থাভাজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বসাচ্ছেন।

‘শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের’ প্রস্তুতির নির্দেশ
আইআরজিসির কমান্ডার হিসেবে ওয়াহিদিকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি “শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের” জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। এতে ইরানের সামরিক অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ওয়াহিদি আইআরজিসির নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনির নির্দেশনা অনুসরণ করে আইআরজিসিকে তার পথ অব্যাহত রাখতে হবে।
আলি ভায়েজের মতে, ওয়াহিদির আইআরজিসির কৌশলগত, গোয়েন্দা ও অসম যুদ্ধ পরিচালনা কাঠামোয় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার নিয়োগের অর্থ হলো, ভবিষ্যতে ইরানে হামলা হলে তেহরান যেন আরও দ্রুত, শক্তিশালী ও সমন্বিতভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে- এমন সক্ষমতা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

পুরোনো প্রজন্মের কমান্ডারদের ওপর আস্থা

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের নিরাপত্তা অধ্যয়নের সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের প্রায় সবাই আইআরজিসির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত।
আইআরজিসির শুরুর সময় থেকেই ওয়াহিদি এই বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উঠে আসেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইআরজিসির অভিজাত কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেন।
১৯৯৮ সালে কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব তিনি কাসেম সোলাইমানির কাছে হস্তান্তর করেন। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সোলাইমানি ওই পদে ছিলেন।
এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব ওয়াহিদির ওপর।
সেলুমের মতে, সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ওয়াহিদির ব্যক্তিগত আনুগত্য এবং গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে এসেছে।
তার ভাষায়, এটি নতুন প্রজন্মের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নয়; বরং পুরোনো আস্থাভাজন নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা।

দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ অনাবাসিক ফেলো সিনা তুসি বলেন, ওয়াহিদির নিয়োগের ভাষা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তার মতে, মোজতবা খামেনি একদিকে “সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা” বজায় রাখার কথা বলেছেন, অন্যদিকে শত্রুর বিরুদ্ধে “শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের” জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
তুসির মতে, এর মাধ্যমে ইরান প্রতিরোধনীতির ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। শুধু পাল্টা আঘাত নয়, বরং উদ্যোগ নিজের হাতে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেয়ার সক্ষমতাকেও এখন প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এসব নিয়োগ থেকে মনে হচ্ছে ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধের শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যুদ্ধকালীন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নয়।
মার্চে নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর মোজতবা খামেনি এখন ইরানের যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থায় নিজের কাঠামো তৈরি করছেন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রেজায়ির নিয়োগে বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য?
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব হিসেবে মোহসেন রেজায়ির নিয়োগও ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সেলুমের মতে, রেজায়িকে নিয়োগের মাধ্যমে সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। জোলঘাদর সংসদের স্পিকার ও প্রধান আলোচক গালিবাফের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
রেজায়ি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। এতে ইরানের “বেসামরিক-সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিরোধপন্থী শিবিরের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে” বলে মনে করছেন সেলুম।
তার মতে, আসল পরিবর্তন সামরিক কৌশলে নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে- কৌশল নির্ধারণের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। তবে ইরান আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেও এর অর্থ এই নয় যে দেশটি বাস্তবে আরও বড় সামরিক অভিযান চালাবে।
সেলুমের মতে, ওয়াহিদিকে দেওয়া আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির নির্দেশ অনেকটাই বক্তব্যনির্ভর এবং আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল।
তিনি বলেন, ইরানের প্রকৃত আক্রমণাত্মক সক্ষমতা মূলত অসম যুদ্ধের ওপর নির্ভরশীল। “বক্তব্যে আক্রমণাত্মক, কিন্তু পরিকল্পনায় ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ”- এভাবেই ইরানের বর্তমান অবস্থানকে বর্ণনা করেন তিনি। পাশাপাশি গোয়েন্দা দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে ইরানের আক্রমণাত্মক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

‘বড় যুদ্ধের’ প্রস্তুতিতে ইরান?

ইরানের ভয়ে ক্যাটারিং কার্টে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প

গত মাসে তুরষ্ক থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি সামরিক বিমানে করে দেশে ফেরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস তখন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে প্রেসিডেন্টের ফেরার কথা জানালেও মূলত একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাকে গোপন সামরিক বিমানে তোলা হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব নেতাদের নিয়ে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর এই ব্যতিক্রমী নিরাপত্তা কৌশলী অভিযান পরিচালনা করা হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প বড় আকারের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিট পর তাকে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয়, যা সাধারণত বিমানের খাবার ও রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। এই ট্রাকের মাধ্যমেই তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সামরিক বিমানে গোপনে স্থানান্তর করা হয়। প্রেসিডেন্টের প্রকৃত অবস্থান গণমাধ্যম, এমনকি হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর কাছ থেকেও সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। ইরানের তরফ থেকে আসা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণেই এই বিশেষ ‘ডিসেপশন অপারেশন’ বা ধোঁকাবাজি অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই তুরষ্ক ছেড়ে আসার সময় ট্রাম্প জানান যে তিনি কাতার কর্তৃক উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪-৮ জেটের পরিবর্তে পুরনো একটি এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। ন্যাটোর ওই সফরেই নতুন বিমানটি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যবহার করা হয়। তুরস্কের সীমান্তবর্তী দেশ ইরান হওয়ায় ট্রাম্প ঝুঁকিতে ছিলেন।

আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, পুরনো বিমানটি তিনি ‘পুরনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ ব্যবহার করবেন। ক্যামেরার সামনে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার পর তাকে গোপনে একটি ছোট এয়ার ফোর্স সি-৩২এ বিমানে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি ট্রাম্পের সাথে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু স্টাফও জানতেন প্রেসিডেন্ট সেই পুরনো বিমানটিতেই আছেন। ফ্লাইটের সময় সাংবাদিকদের বিমানের উইন্ডো শেড বা জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, আপনারা হয়তো একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন, তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন, তাই না? পরবর্তীতে সি-৩২এ বিমানটি বৃটেনে পৌঁছে এবং স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছান। তবে ছোট বিমানটি থেকে ট্রাম্পকে কীভাবে পুনরায় পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। পরে তাকে পুরনো বিমানটির সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভ চ্যুং এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার অনেক শত্রুর নজর প্রেসিডেন্টের ওপর রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকি।

ইরানের ভয়ে ক্যাটারিং কার্টে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প

বিশ্বে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ ভাগ চীনের দখলে

চীনের অত্যাধুনিক শিল্পোন্নয়ন সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মাধ্যমে হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তিতে চীনের পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং দেশটির তথাকথিত ‘নিউ নিউ থ্রি’ কৌশলগত খাতÑ রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উদ্ভাবনী চিকিৎসা- আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের মোট হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি এসেছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে।

একই দিনে চীনা রোবোটিক্স প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবোটিক্স সাংহাইয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য শেয়ার সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি হিউম্যানয়েড রোবট খাতের প্রথম এ-শেয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানি হতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গ্লোবাল টাইমস।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ প্রায় ১৯১০০ ইউনিটে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭২ শতাংশ বেশি। এ সময় বাজারে নেতৃত্বেরও পরিবর্তন হয়েছে। চীনা রোবোটিক্স কোম্পানি এজিবট ইউনিট্রিকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ স্মার্ট অ্যানালিটিক্স গ্লোবাল (এসএজি) গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের হিউম্যানয়েড রোবটের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে এসেছে।

২০২৫ সালে বার্ষিক ৫৫০০ ইউনিট সরবরাহ করে বিশ্বের শীর্ষ হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা হওয়া ইউনিট্রি রোবোটিক্স সোমবার তাদের আইপিওর শেয়ারপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৫০.৮ ইউয়ান। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক আইপিও মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহ করতে পারে। এতে কোম্পানিটির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬১ বিলিয়ন ইউয়ান। ইউনিট্রি জানিয়েছে, অনলাইন সাবস্ক্রিপশনে চূড়ান্ত শেয়ার পাওয়ার সম্ভাব্য হার হবে মাত্র ০.০১৮১ শতাংশ।
হিউম্যানয়েড রোবোটিক্সে এই অগ্রগতি চীনের দ্রুত বিকাশমান ‘নিউ নিউ থ্রি’ শিল্পের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এসব খাত চীনের উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদনব্যবস্থা উন্নয়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে।

বিশ্বে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের ৯৭ ভাগ চীনের দখলে

সরব সুনেরাহ

চলচ্চিত্র, ওটিটি, নাটকসহ বিনোদনের প্রায় সব মাধ্যমেই সরব সময় পার করছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। প্রথম সিনেমা ‘ন ডরাই’-এর মাধ্যমেই সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এরপর ‘অন্তর্জাল’, ‘উৎসব, ‘দাগি’ ছবিগুলোর মধ্যে দিয়ে নিজেকে সুঅভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি। নূহাশ হুমায়ূনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মশারি’তে অভিনয় করেও আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়েন তিনি। এটি বেশ কয়েকটি উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এর বাইরে ওটিটির কাজেও পাওয়া গেছে তাকে।

তবে বড় পর্দা ও ওটিটি থেকে নাটকে নাম লিখিয়েই বেশ ভালো পরিচিতি পান নাট্যঅভিনেত্রী হিসেবে। বিশেষ করে আলাদা স্টাইল, সংলাপ ভঙ্গি ও অভিনয়ের কারণে ছোট পর্দার দর্শকদেরও নজর কাড়েন তিনি। তার অভিনীত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের এ সিরিয়ালে তিনি ‘সায়রা’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। এ সিরিয়ালের পর সুনেরাহ’র ছোট পর্দায় চাহিদা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে নাটকে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

একাধিক সিনেমা ও ওটিটির কাজের পাশাপাশি নাটকেই এখন বেশি সময় দিচ্ছেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি পারিবারিক গল্পে সুলতান এন্টারটেইনমেন্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নাটক ‘আপন পরিবার’। আরমান আহমেদ প্রত্যয়ের পরিচালনায় এতে তিনি অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহানের বিপরীতে। নাটকটি প্রকাশের দু’দিনের মাথায়ই এতে সুনেরাহ’র অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে। এর বাইরে কমপক্ষে আরও হাফ ডজন নতুন নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। 

সরব সুনেরাহ

মস্তিষ্কের বয়স বাড়ে পাঁচ ধাপে, এসব ধাপে মানুষের কী পরিবর্তন আসে

মানুষের জীবনকালে পাঁচ ধাপে মস্তিষ্কের বয়স বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে মূল বদলগুলো আসে ৯, ৩২, ৬৬ ও ৮৩ বছর বয়সে। ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে এ তথ্য তুলে ধরেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

গবেষণার ফল গতকাল মঙ্গলবার কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, আমাদের বয়স যখন ত্রিশের কোঠার শুরুর দিকে পৌঁছায়, তখনো আমাদের মস্তিষ্ক কৈশোরে থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কেন ভিন্ন ভিন্ন হয়, তা বুঝতে সাহায্য করতে পারে এই গবেষণা।

মানুষের মস্তিষ্কের বয়সের যে পাঁচটি ধাপ রয়েছে, সেগুলো হলো—শৈশব: জন্ম থেকে ৯ বছর পর্যন্ত; কৈশোর: ৯ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত; প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থা: ৩২ থেকে ৬৬ বছর বয়স পর্যন্ত; বার্ধক্যের শুরু: ৬৬ থেকে ৮৩ বছর বয়স পর্যন্ত এবং বার্ধক্যের শেষ ভাগ: ৮৩ বছর থেকে বাকি জীবনকাল।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনসেও’ প্রকাশ করা হয়েছে গবেষণাটি। গবেষকদের ভাষ্য, বহু মানুষের মস্তিষ্ক স্ক্যানিং করার কারণেই এখন এ তথ্যটি জানা গেছে। মানুষের মস্তিষ্কের বয়সের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ধরা পড়াটা একটি বড় চমক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের এই শুরু ও শেষ কিছুটা আগে-পরে হতে পারে।

মস্তিষ্কের বয়সের ৫ ধাপ

শৈশব:
মানুষের জন্ম থেকে ৯ বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের শৈশবকাল চলে। এ সময় মস্তিষ্কের আকার দ্রুত বাড়তে থাকে। তবে একই সময়ে জীবনের শুরুতে তৈরি হওয়া মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যকার অতিরিক্ত সংযোগ কমতে থাকে। এই কোষগুলোকে বলা হয় সাইন্যাপস।

এই সময়ে মস্তিষ্ক কম কর্মক্ষম থাকে। বলতে গেলে একটি শিশুর মতো কাজ করে। একটি শিশু যেমন নির্দিষ্ট এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার বদলে উদ্দেশ্যহীনভাবে পার্কে ঘুরে বেড়ায় বা যেখানে খুশি সেখানে চলে যায়, বিষয়টি ঠিক তেমন।

কৈশোর:
মানুষের জীবনের ৯ বছর থেকে হঠাৎই মস্তিষ্কে বড় পরিবর্তন আসা শুরু করে। এই সময় থেকে মস্তিষ্কের কোষের সংযোগগুলো ব্যাপক দক্ষতার একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। তবে চিন্তার বিষয় হলো, মস্তিষ্কের বয়সের এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শুরু হওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি থাকে।

মানুষ যখন শারীরিকভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায়, তখন মস্তিষ্কেরও কৈশোর শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে মিল রয়েছে। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা আগে যেমনটা ধারণা করতাম, তার চেয়েও বেশি সময় ধরে মস্তিষ্কের কৈশোর থাকে। এ সময় ধারণা করা হতো ১৯ বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের কৈশোর থাকে। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, এটি ত্রিশের কোঠার শুরুর দিক পর্যন্ত চলে।

মস্তিষ্কের বয়সের সব পর্যায়ের মধ্যে কৈশোরেই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে বলে উল্লেখ করেছেন গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. অ্যালেক্সা মাউসলি। তিনি বলেন, এটি মস্তিষ্কের বয়সের একমাত্র পর্যায় যখন স্নায়ুকোষের সংযোগগুলো আরও বেশি সক্ষম হয়ে ওঠে।

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থা: কৈশোরের পর আসে মস্তিষ্কের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থা। এই পর্যায় চলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে—তিন দশকের বেশি। এই সময়টাতে আগের তুলনায় মস্তিষ্কে পরিবর্তন ধীরে হয়। অ্যালেক্সা মাউসলি বলেন, এই পর্যায়টি বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্বের একটি স্থির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বার্ধক্যের শুরু: এই পর্যায় শুরু হয় ৬৬ বছর বয়স থেকে। তবে এই পর্যায়ে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের সক্ষমতা কমে যায় না। এর বদলে মস্তিষ্কের কোষের সংযোগে ধরনে বদল আসে। এ সময় পুরো মস্তিষ্ক একটি একক হিসেবে কাজ করার বদলে, এর অংশগুলো আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করে।

বার্ধক্যের শুরুতে মস্তিষ্ককে সুস্থ মনে হলেও এই পর্যায়ে ডিমেনশিয়া ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে শুরু করে। এগুলো মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

বার্ধক্যের শেষ ভাগ: মানুষের বয়স ৮৩ বছর হলে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে মস্তিষ্ক। বার্ধক্যের শুরুর পর্যায়ের মতো শেষ পর্যায়েও একই ধরনের পরিবর্তন আসে। তবে সেগুলো আরও বেশি স্পষ্ট হয়।

অ্যালেক্সা মাউসলি বলেন, মস্তিষ্কের বয়সের বিভিন্ন পর্যায়গুলোর সঙ্গে মানুষের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মিল রয়েছে। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়ঃসন্ধি, জীবনের শেষের দিকে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ এবং ত্রিশের কোঠার শুরুতে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের কারণে বড় সামাজিক পরিবর্তন।

মানুষের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা চিত্র
মানুষের মস্তিষ্কের স্ক্যান করা চিত্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স