Monday, October 3, 2011

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে মহাজোট সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা। তাঁরা বলেছেন, স্বাধীনতা-উত্তর এ অঞ্চলের উন্নয়নে কোনো সরকারই আন্তরিকতা দেখায়নি। দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ, অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্যের কারণে এ অঞ্চল দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। গতকাল রবিবার সকালে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কপোতাক্ষ, বেতনাসহ সব নদী পরিকল্পিতভাবে খনন ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, খুলনা রেলস্টেশনকে আধুনিকায়ন ও রেল সংখ্যা বৃদ্ধি, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ ও মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ বেড রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ও সেবার মান বৃদ্ধি, নিউজ প্রিন্ট মিলস, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিসহ সব বন্ধ কলকারখানা চালু, দ্রুত মাওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণ এবং মংলা বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি এস এম দাউদ আলীর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, এম নুরুল ইসলাম, লিয়াকত আলী, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মনা, শেখ আবদুল কাইয়ুম, অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম খোকন, ড. নুরুল ইসলাম, আলহাজ লোকমান হাকিম প্রমুখ।

রাজশাহীতে বছরে হত্যাসহ শিশু নির্যাতন ১৬২

রাজশাহীতে বেড়েই চলেছে শিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত এক বছরে ছয়টি হত্যাকাণ্ডসহ শিশু নির্যাতনের ১৬২টি ঘটনা ঘটেছে যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) উদ্যোগে গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। নগরীর শিরোইল এলাকায় অবস্থিত এসিডি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত এক বছরে রাজশাহীতে শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ছয়টি, হত্যার চেষ্টা পাঁচটি, ধর্ষণ ৩২টি, ধর্ষণের চেষ্টা ১২টি, অপহরণ ৩৬টি, এসিড নিক্ষেপ তিনটি, আত্মহত্যা ১৭টি, যৌন হয়রানি ১১টি ও অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হওয়া খবর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চারটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আদিবাসী কিশোরী শিরাফিনা মার্ডির আত্মহত্যার ঘটনা। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল রাতে গণধর্ষণের শিকার শিরাফিনা ধর্ষণের স্মৃতি ভুলতে না পেরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তানোরে তপন বর্মণ নামের একটি শিশুকে ধান চুরির অভিযোগে জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যা করা। তৃতীয় ঘটনাটি হলো পারিবারিক কলহের জের ধরে পবা উপজেলার বৈশাখী নামের একটি শিশুকে শ্বাস রোধ করে হত্যা এবং চতুর্থ ঘটনাটি হলো দুর্গাপুরে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র পার্থকে জবাই করে হত্যার পর লাশ পান বরজে ফেলে রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এসিডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার এহসানুল আমিন ইমন, প্রোগ্রাম অফিসার পারভেজ আহমেদ আপেল, শিশু প্রতিনিধি তৃষা খাতুন প্রমুখ।

বাঘের চামড়া উধাও by হোসেন সোহেল

বাঘ শিকারে বীরত্ব প্রকাশ এবং একই সঙ্গে বাঘের চামড়ার লোভে বাঘ হত্যার খবর শত বছরের পুরনো_ যা আজও অব্যাহত আছে। বাঘ সমৃদ্ধ পৃথিবীর ১২টি দেশের মতো বাংলাদেশেও বাঘ হত্যা চলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে। কখন কীভাবে চামড়ার লোভে এ বাঘ হত্যা করা হয় তা সবার অগোচরে থাকে। বাঘ বাঁচাতে না পারলেও বিভিন্ন সময় মৃত বাঘের চামড়া উদ্ধারে প্রশংসার দাবি রাখেন বাংলাদেশ বন বিভাগসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকি-ঢুলিদের ডাক পড়ে না আর

দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছে গতকাল রবিবার থেকে। চারদিকে এখন পূজার আমেজ। সবার মনেই উৎসবের আনন্দ। কিন্তু আনন্দ নেই উত্তরের ঢাকি সমপ্রদায়ের মনে। সমাজ-সংস্কৃতির পরিবর্তনসহ নানা কারণে এখন হিন্দু সমপ্রদায়ের মধ্যে এমন আনুষ্ঠানিক উৎসব-আয়োজন কমে গেছে। ফলে ঢাকি-ঢুলিদের আর তেমন ডাক পড়ে না। অভাব-অনটনে এখন তাঁদের বাড়িতে নিত্যবিসর্জনের বিষাদ। এ কারণে বংশপরম্পরায় চলে আসা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
'পিঠে আর পেটে পড়ে অনবরত ঢাকের বাড়ি'_এ কথা এখন এ অঞ্চলের ঢুলিদের মধ্যে বেশ প্রচলিত। দুর্গাপূজাকে উপলক্ষ করে সারা বছর অবহেলায় পড়ে থাকা ছেঁড়া-ফাটা ঢোল ও ঢাকের চামড়ার ছাউনি, দল (টানা) বেঁধে চামড়া টান করা ও তা রঙিন করে সাজানো_এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থটুকুরও জোগান নেই তাঁদের। পূজা কমিটির কাছে আগাম কিংবা কোনো সুদখোর ব্যক্তির কাছে ধরনা দিয়ে কোনোভাবে চলছে এর আয়োজন। তারা বেঁচে আছেন অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মধ্যে।
দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার একটি কুড়িগ্রামের উলিপুরের ধরণিবাড়ী। এ গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন নিতাই ঢাকি। ঢাকে ময়ূরপুচ্ছ লাগিয়ে আর রং-বেরঙের পোশাক পরে উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দিত তাঁর ঢাক। সেই নিতাই ঢাকির মৃত্যু হয়েছে অনাহারে আর বিনাচিকিৎসায়। প্রতিবেশীরা জানায়, দুই বছর আগের কথা। দুর্গাপূজা আর কয়েক দিন পরেই। বৃদ্ধ বয়সে নিতাইয়ের শরীর তখন বেশ দুর্বল। দুধ খেয়ে শরীর সবল করবে ঢাকের ওজন বইতে_এ জন্য আগাম নিতে তিনি হাত পাতেন এক পূজা কমিটির কাছে। প্রতিশ্রুতি দেন, ঢাক বাজিয়ে টাকা শোধ করবেন। কিন্তু তিনি আগাম কোনো টাকা পাননি। এরপর পাঁচ দিন পূজার মণ্ডপে রাত কাটিয়ে আর ঢাক বাজিয়ে যখন বাড়ি ফেরেন, তখন তাঁর গায়ে প্রচণ্ড জ্বর। রাতভর প্রলাপ বকে অবশেষে মৃত্যুতে মুক্তি মিলল তাঁর। এর পরের কাহিনী আরো শোকাবহ। স্বামীহারা স্ত্রী পড়লেন আরো নিদারুণ কষ্টে। অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে থেকে তিনি একসময় স্বামীর প্রিয় ঢাকটি পানির দরে বিক্রি করে দিলেন। এর কয়েক দিন পর তিনি কোথায় হারিয়ে গেলেন, সে খোঁজ আজও কেউ জানে না।
আরেক ঢাকি ক্ষুদু দাস। তিনি মারা গেলে তাঁর ঢাক কাঁধে তুলে নেন ছেলে কমল। কিন্তু তখন আর ঢাক চলে না। এলাকায় পূজা-পার্বণ কম। পিতৃপুরুষের পেশা ছেড়ে পানের দোকান দেন তিনি। সেটিও একদিন বন্ধ হয়ে যায়। বেকার কমল দেশ ছাড়েন একদিন। তাঁর ভাই অমল আর ঢাক কাঁধে নেননি। তিনি এখন মানুষের বাড়িতে ফুট-ফরমাশ খাটেন, রান্নার কাজ করেন।
রংপুরের মমিনপুরের বাসিন্দা নরেশ, দীপেন ও সুনীল। ঢাক বাজিয়ে কেমন চলে সংসার_এ প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, বংশপরম্পরায় ঢাক বাজিয়ে চলত তাঁদের সুখের সংসার। তখন রংপুরের নাম ছিল রঙ্গপুর। এখন আর রঙ্গ নেই, সেই রসও নেই। বছরে তিনবার মাত্র ডাক আসে তাঁদের_দুর্গা, কালী আর সরস্বতী পূজায়। তাই এখন আর জীবন চলে না। ক্ষেতমজুরি দিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তাঁরা।
চিলমারীর রানীগঞ্জের গিরীশ ঢাকির বাজিয়েদের একটি দল ছিল। একসময় বিয়েবাড়ি, পূজা-পার্বণে তাঁরা খুব ডাক পেতেন। আর ডাক আসে না বলে এখন দলটি ভেঙে গেছে। দলের একজন সদস্য গৌরাঙ্গ জানান, অভাবের তাড়নায় পড়ে অন্যরা দেশ ছেড়েছেন।

পোর্টল্যান্ড পুলিশ প্রধান ঢাকায়

মিউনিটি পুলিশ সেবা পরিদর্শনে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড অরিগনের পুলিশ ব্যুরোর (পিপিবি) প্রধান মাইকেল রিস। এক সপ্তাহের সফরে শনিবার তিনি ঢাকায় পেঁৗছান। সফরকালে রিস পিপিবি ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা কিভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুশীলন করছেন, তা পরিদর্শনে যাবেন। গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র বিচার ও পররাষ্ট্র দপ্তর, বিশেষত আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ সহায়তা কর্মসূচির (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ ট্রেনিং অ্যাসিসটেন্স প্রোগ্রাম-আইসিআইটিএপি) আওতায় পোর্টল্যান্ড পুলিশ ব্যুরোর সঙ্গে অংশীদারত্বে রাজশাহী মেট্রোপলিটন কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজশাহীতে অবস্থানকালে পুলিশ প্রধান রিস ও কমিশনার কুইকেন্ডাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণও করবেন। এ ছাড়া তাঁরা কমিউনিটি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন এবং রাজশাহীর ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার ও নাগরিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

শামীম না আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো ফয়সালা হয়নি। এ নিয়ে দলের ভেতরে রীতিমতো এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। শেষতক কে দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, সাবেক সাংসদ একেএম শামীম ওসমান নাকি সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী_
এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার একেএম শামীম ওসমান এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জরুরিভিত্তিতে ঢাকায় ডেকে আনেন।
তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে দুই প্রার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। তবে দলীয় প্রার্থিতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য দুই প্রার্থীকেই নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর আলোচনাকালে গণভবনে দলের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার জিয়াউদ্দিন বাবলু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শামীম ওসমান দলের সমর্থন ছাড়া নির্বাচন করবেন না বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী পরোক্ষভাবে বলেছেন, দলের সমর্থন না পেলেও তিনি নির্বাচনে লড়বেন। প্রথমে আলাদা হলেও পরে দু'জনের সঙ্গে একত্রে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সোয়া ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
একেএম শামীম ওসমান গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে গণভবনে আসেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী আসেন রাত ৮টা ৫ মিনিটে। তাদের সঙ্গে কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না। তারা দু'জনই দলীয় প্রার্থিতা পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। দুই নেতা গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দু'জনই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে অনড়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছেন না। দলীয় মনোনয়ন পেতে দু'জনই শেষ মুহূর্তের দেন-দরবার করছেন।
এ অবস্থায় বড্ড বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা। তারাও নড়েচড়ে বসেছেন। কয়েকজন রোববার দিনভর নানা তৎপরতা চালিয়েছেন। একক প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ করেছেন। কেউ কেউ একেএম শামীম ওসমান ও সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তাদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু সমাধান আসেনি। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেও নাসিক নির্বাচনে একক প্রার্থী মনোনয়নের বিষয় নিয়ে গতকাল দলের কয়েক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।
নাসিক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১২ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী এর আগেই হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা করে দেবেন বলে নেতারা মনে করছেন। আর সমঝোতা হলে যে কোনো একজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। সে ক্ষেত্রে দলের আরও দুই প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এসএম আকরাম এবং আওয়ামী ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
এদিকে একেএম শামীম ওসমান ও সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত জানার জন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সদুত্তর পাননি।
নারায়ণগঞ্জেও ছিল একই চিত্র। স্থানীয় চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভিড় জমিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের দেখামাত্রই ছুটে গিয়ে জানতে চেয়েছেন, কে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাচ্ছেন_ শামীম ওসমান নাকি আইভী।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন নীতিনির্ধারক। আবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর টেলিফোন বার্তার মাধ্যমে নেতাদের দোয়া চেয়েছেন দুই প্রার্থী।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে একক প্রার্থী বাছাইয়ে ম্যানেজ ফর্মুলা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, এ ক্ষেত্রে একেএম শামীম ওসমান বেশ এগিয়ে আছেন। দলের বেশিরভাগ নীতিনির্ধারক নেতার আশীর্বাদ তার পক্ষে। তবে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মাইনাস করে শামীম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া খুব একটা সহজ হবে বলে মনে করছেন না শীর্ষ নেতারা।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একেএম শামীম ওসমানের মতো ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীরও রয়েছে শক্ত ভিত্তি। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ কারণেই সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ম্যানেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একেএম শামীম ওসমানের বিজয় শতভাগ নিরাপদ করতে হলে আইভীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
অবশ্য এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি উল্টো প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার বদলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে একেএম শামীম ওসমানকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক। এ আসনের বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের সারাহ বেগম কবরী।

রাঙ্গুনিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ

ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ফারহানা আক্তার মুনি্ন (২২) নামে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ গতকাল সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মুনি্নর শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানায়, শনিবার রাতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মুনি্নর পরিবারের দাবি, যৌতুক না পেয়ে মুনি্নকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী ফারুক আহমদ সিকদারসহ শাশুড়ি ও ননদ পলাতক। মুনি্নর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করবে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি আবদুল লতিফ।
রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজাভুবন সিকদারপাড়ার শফিউল আলম সিকদারের ছেলে ফারুক। আর ইসলামপুর ইউনিয়নের পেয়ার মোহাম্মদ চৌধুরীবাড়ির হাজি আবদুল গণির মেয়ে মুনি্ন।
মুনি্নর ভাই কুসুম উদ্দিন জানান, চার বছর আগে ফারুকের সঙ্গে মুনি্নর বিয়ে হয়। তাঁদের নিসপা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মুনি্ন ফের সন্তানসম্ভবা ছিলেন। বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে ভিসা দিয়ে ফারুককে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। পাঁচ মাস আগে ফারুক বিদেশ থেকে বহিষ্কৃত হন। সেই থেকে ফারুক আবারও বিদেশে যাওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য মুনি্নকে চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে মুনি্নর ওপর শাশুড়ি আমেনা বেগম, দেবর কায়সার ও ননদ রানু আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী নির্যাতন চালাতে থাকেন। রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে মুনি্নর গলায় রশি বা ওড়নার দাগ পাওয়া গেছে।

ঢাকায় এসেছেন রুশনারা আলী

ক সপ্তাহের সফরে গতকাল রবিবার সকালে ঢাকায় এসেছেন ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী রুশনারা আলী। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পেঁৗছান বলে বেসরকারি সংস্থা অঙ্ফামের ঢাকা অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে বেসরকারি সংস্থা অঙ্ফাম ও কেয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী এ সফর করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আজ ঢাকায় একটি হোটেলে রুশনারা আলীকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আগামীকাল ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে 'এঙ্পেক্টেশনস ফ্রম ডারবান : ইউকে অ্যান্ড বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ' শিরোনামে এক সংলাপে তিনি অংশ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, ইউরোপীয় কমিশনের সহযোগিতায় এ সংলাপ আয়োজন করছে অঙ্ফাম এবং ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুডস (সিএসআরএল)। এতে সভাপতিত্ব করবেন সিএসআরএলের আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সি এস করিম।
রুশনারা আলী আগামী বুধবার ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অঙ্ফাম প্রকাশিত 'টেস্টিমনি অব সিঙ্টি'র ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

লিমনের মাকে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবির অভিযোগ

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের কলেজছাত্র লিমন হোসেনের মায়ের কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে র‌্যাবের স্থানীয় সোর্স পরিচয়দানকারী সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গতকাল বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় এ মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি রাজিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্য আসামিরা হলো র‌্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী স্থানীয় সন্ত্রাসী মানিক জমাদ্দার, লিডার ইব্রাহিম, বাদশা আকন, হান্নান জমাদ্দার, আলম জমাদ্দার ও দিলীপ জমাদ্দার।
রাজাপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুল হালিম তালুকদার বলেন, 'লিমনের মায়ের কাছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। লিমনের মা এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দিলে তা এজাহার হিসেবে লিপিবদ্ধ করেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'
লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বলেন, "গত শুক্রবার সকালে ইঁদুরবাড়ী সেতুর সামনে আসামিরা আমার পথ রোধ করে বলে, 'তোর পোলারে (লিমন) মানসে লাখ লাখ টাকা দেয়। আমাগো হেই টাকার ভাগ দিবি, নাইলে মাইর‌্যা হালামু।' একপর্যায়ে তারা আমারে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে আমি পাশের তালুকদার বাড়িতে গিয়া উঠি।"

২০৫০ সালে দেশের লোকসংখ্যা বাড়বে চার কোটি ৪০ লাখ

০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা চার কোটি ৪০ লাখ বাড়বে। ২০২৫ সালে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রবীণ হবে।
গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় 'বাংলাদেশের প্রবীণ জনসংখ্যা এবং স্বাস্থ্য খাতে তার প্রভাব' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. এম কবির। নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ উইম্যান হেলথ কোয়ালিশন যৌথভাবে 'মাদ্রিদ সম্মেলনের ১০ বছর : প্রবীণদের জন্য ক্রমবর্ধমান সুযোগ ও অন্তরায়' শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ড. এম কবির বলেন, প্রবীণদের জন্য রাষ্ট্রের কেবল স্বাস্থ্যনীতি নয়, সম্পূর্ণভাবে আলাদা নীতি থাকা উচিত। বর্তমানে প্রবীণদের যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে তা অপ্রতুল। তাই বার্ধক্য বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাঠ্যসূচিতে এ সম্পর্কিত বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং মেডিক্যাল কলেজের পাঠ্যসূচিতে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

গরিবের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে

প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, গরিব ও সাধারণ মানুষ যেন ন্যায্য বিচার পায় এজন্য বিচারক ও আইনজীবীদের আরো যত্নবান হতে হবে। মামলার জট দূর করার জন্য উভয়পক্ষকেই আরো আন্তরিক হতে হবে। গতকাল রবিবার বিকেলে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফ আবদুর রাকিবের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন জেলা ও দায়রা জজ আজিজুল ইসলাম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কেরামত আলী, কাজী আবদুস শহীদ লাল, নজরুল ইসলাম, কাজী তৌহিদুর রহমান, মোহাম্মদ ইসহাক, সালাউদ্দিন স্বপন, ইশমত হাসার, মাহবুব আলম বাচ্চু, এ জেড এম ফিরোজ, আবদুল গফুর প্রমুখ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, লোকবল সংকটের কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে সমস্যা হচ্ছে। ১২০ জন সহকারী জেলা জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়োগ সম্পন্ন হলে সংকট অনেকটা দূর হবে। স্বাধীন বিচার বিভাগের সুফল সবার কাছে পেঁৗছে দেওয়ার জন্য তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

ক্যাম্পাস খোলার আগেই সমাধান

গন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চলমান সমস্যার সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই করা হবে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে বাণী ভবনে ছাত্রীদের জন্য এক হাজার আসনের একটি হল, এক সপ্তাহের মধ্যে হাবিবুর রহমান হল উদ্ধার, নতুন দুটি বাস চালু এবং বেদখল হওয়া আরো চারটি হল শিগগিরই উদ্ধার করা হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ তাঁর সম্মেলন কক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শওকত জাহাঙ্গীর, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্ররক্ষক (প্রক্টর) অশোক কুমার সাহা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেজিস্ট্রার ওহিদুজ্জামান।
উপাচার্য মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ২৭(৪) ধারা বাতিলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৭(৪) ধারাটি ছাত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়। ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে তাঁদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।' জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, 'পরিস্থিতির কারণে পুলিশ আমাদের না জানিয়ে মামলাটি করেছে। এটি প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' কোষাধ্যক্ষ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়কে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার মেয়াদ শেষ হবে ২০১৩ সালের জুন মাসে।'

এ আমলেই ঢাকার ২৬ খাল উদ্ধারের ঘোষণা নৌমন্ত্রীর

র্তমান সরকারের মেয়াদেই ঢাকার ২৬টি খাল অবৈধ দখলদারমুক্ত করে দুই পাশে পায়ে হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজধানীর নদী-খাল দূষণ রোধে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগে দখলমুক্ত করা কল্যাণপুর 'ঘ' ও রামচন্দ্রপুর খাল পরিদর্শন শেষে গতকাল রবিবার ওয়াসা ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বর্তমান সরকারের প্রায় তিন বছরে চারটি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুই বছরে ২২টি খাল কিভাবে দখলমুক্ত এবং সেখানে স্থায়ী ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা সম্ভব_সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, 'আগের হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আগে খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে উচ্ছেদকারীদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। এখন সেই জটিলতা নেই। সম্প্রতি কল্যাণপুর খাল উদ্ধার অভিযানে পাঁচতলা ভবন পর্যন্ত উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ অভিযান চলতেই থাকবে। দখলদাররা যে-ই হোন না কেন তাঁকে উচ্ছেদ করা হবে।' তিনি বলেন, এ কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা গেলে রাজধানী আবার প্রাণ ফিরে পাবে। তখন আর জলজটে নগরবাসীকে নাকাল হতে হবে না। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, প্রধান প্রকৌশলী কামরুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ওয়াসা জানায়, গত বছর কাঁটাসুর খালের ৮০টি, কল্যাণপুর 'ঘ' খালের ২০টি, কল্যাণপুর প্রধান খালের ৫০টি ও দেবধোলাই খালের অংশবিশেষ অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। খালগুলো যাতে আবার বেদখল হয়ে না যায় সে জন্য ঢাকা ওয়াসা খালের পাড় বাঁধাইসহ জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আলামত পর্যবেক্ষণের অনুমতি পেল আসামিপক্ষ, শুনানি ৯ অক্টোবর

১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় জব্দকৃত আলামত পর্যবেক্ষণের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গতকাল রবিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আসামিপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেন।
একই সঙ্গে দুই মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্রভুক্ত ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। এ সময় কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে শুনানি করার জন্য সময়ের আবেদন করেন। একই সঙ্গে আইনজীবীরা মামলায় জব্দকৃত আলামতসমূহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে আজ সোমবার, আগামীকাল মঙ্গলবার ও পরশু বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালকক্ষে আলামত পর্যবেক্ষণের জন্য দিন ধার্য করেন। এ সময় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।
বিচারক বলেন, 'তিন দিনের মধ্যে আলামত পর্যবেক্ষণের পর ধার্য তারিখে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি করতে হবে। আবারও অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য সময় চাইলে সেটা বিচারকের জন্য বিব্রতকর হবে। কারণ এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল।' এদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত এক দিন কারাগারে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তাঁর পক্ষে প্যানেলভুক্ত ১০ আইনজীবী। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের আইনজীবীরা মামলা দুটির অবিকল সত্যায়িত নকল কারাগারে মুজাহিদের কাছে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক এই বিষয়ে কারাবিধি মোতাবেক কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আইনগত বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁর পক্ষের আইনজীবীরাও আবেদন করেন। বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির মুখে এই আবেদন নাকচ করেন।

উৎপাদনশীলতাকে জাতীয় আন্দোলন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রেষ্ঠ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাকে প্রতিবছর 'প্রডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড' দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রূপসী বাংলা হোটেলে ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন ও এশিয়ান প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি ফর বাংলাদেশ আয়োজিত 'প্রডাক্টিভিটি মুভমেন্ট ইন বাংলাদেশ : স্ট্র্যাটেজি ফর ২০২১' শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তনের কথা জানান।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদনশীলতাকে 'জাতীয় আন্দোলন' ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর জাতীয়ভাবে ২ অক্টোবর উৎপাদনশীলতা দিবস পালন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে মালিক, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকার_এই তিন পক্ষের সমান দায়িত্ব রয়েছে। মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এর জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। কিন্তু বেসরকারি কারখানার মালিকরা প্রশিক্ষণে মনোযোগী হন না। এ খাতে অর্থ খরচকে তাঁরা অপচয় মনে করেন। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ন্যায্য মজুরি-ভাতার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। তাই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে গিয়ে শ্রমিকদের বেকার করা যাবে না। যন্ত্রের ব্যবহার ও শ্রমিকের মধ্যে সমন্বয়ের সুপারিশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকরা মজুরি বেশি পাবেন। মালিকদের মুনাফা বাড়বে। ভোক্তারা সস্তায় মানসম্মত পণ্য পাবেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে বড় অঙ্কের অর্থ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন কাজের বর্ণনা দিয়ে বলেন, মংলা বন্দরকে সচল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সব কাজে গতিশীলতা এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্র থেকে শিগগির গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, শিল্প খাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং পরিকাঠামো বাড়নোর সুপারিশ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, শিল্পের ৫০ ভাগ কাঁচামালের জোগান আসে কৃষি থেকে। তাই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সবচেয়ে জরুরি। এ লক্ষ্যে চলতি বছর ১৬টি জেলায় কৃষিযন্ত্র কিনতে কৃষকদের বিশেষ ভর্তুকি দেওয়া হবে। যন্ত্রের মোট মূল্যের এক-চতুর্থাংশ সরকার দেবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রধান শর্ত দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। ১৪০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে এ খাতের জন্য।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ সিদ্দিকী। এপিও সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জাওয়াইদ ইয়াহিয়া, একাধিক সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আট দফা সুপারিশ করেন।

১৬২ ছিটমহলে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ

মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহলবাসী ১০ দিনের লাগাতার আন্দোলনের শেষ দিনে গতকাল রবিবার ১৬২টি ছিটমহলে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এসব ছিটমহলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের মুখে মুখে ধ্বনিত হয়_'খাঁচার বন্দিজীবন থেকে মুক্তি চাই।'
গতকাল কর্মসূচির শেষ দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার কামালপুর মসজিদ মাঠে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছিটমহলের প্রবীণ বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি ও ফুলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মইনুল হক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ফুলবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান, আলতাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, মোজাফ্ফর হোসেন, সোনালী রায়, জুলহাজ হোসেন, প্রতাপ রায়, আন্দুস সালাম, খন্দকার ময়নুল, শেখ নূর আলম, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে গাঁওচুলকা ছিটমহলে মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুরূপ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এখানেও ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে ছিটমহলবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে যায়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, ছিটমহল বিনিময় চুক্তির সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পঞ্চগড়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাজলদীঘিতে সিরাজুল ইসলাম, গাড়াতি ছিটমহলে মফিজার রহমান, পুঁটিমারীতে তসলিম উদ্দিন, লালমনিরহাটের বাঁশকাটায় রফিকুল ইসলাম, নীলফামারীর কোটভাজনী ছিটে আলতাফুর রহমান, ভূরুঙ্গামারীর সাহেবগঞ্জে হাসেন আলী ও সেউটিকুরশা ছিটমহলে তারা মিয়া বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। এই মিছিলগুলো ছিটমহল সংলগ্ন বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর প্রদক্ষিণ করে।
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত ইউনিটের সহসাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেন গুপ্ত জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দিনহাটা, মাথাভাঙ্গা এবং মেকলিগঞ্জ মহকুমা শহরে ছিটমহলবাসী পৃথক তিনটি বড় সমাবেশ করে। এসব সমাবেশে ভারতীয় নাগরিকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। দিনহাটা মহকুমার শহীদ কর্নার মাঠে দুপুর ১২টায় আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অরুণ কুমার বর্মণ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত ইউনিটের সভাপতি সাবেক এমপি জয়ন্ত রায়। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব, মনসুর আলী, রশীদ আলী, দ্বিজেন শর্মা প্রমুখ।

জগন্নাথে শিক্ষার্থীদের উসকানি দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আইন বানিয়ে ফাঁদ পেতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে।' তিনি আরো বলেন, 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারায় পাঁচ বছর পর নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়নসংক্রান্ত যে আইনটি রয়েছে, সেটি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারই করেছে। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এ আইন বাস্তবায়ন করিনি।' জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭(৪) ধারাটি সংশোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো ভিত্তি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, '২৭(৪) ধারা তো আমরা বাস্তবায়ন করিনি, উল্টো এ বছর অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি।'
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭(৪) ধারাটি বাতিল করা হবে কি না_এমন প্রশ্নের জবাবে নাহিদ বলেন, 'এটি সংসদে পাস করা আইন। চাইলেই বাতিল করা যায় না। বাতিল করতে হলেও সংসদের সিদ্ধান্ত লাগবে। আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
আইনের ধারাটি সংশোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছি।'
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, 'বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে। আইন থাকলেও আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যয়ভার চাপিয়ে দেইনি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের ওপর অতিরিক্ত খরচ বহনের চাপ পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।'

বরিশালে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

রিশালে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম নিমা বেগম (১৯)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের শাহজাহান আকনের মেয়ে এবং একই গ্রামের নাসির হাওলাদারের স্ত্রী।
গতকাল রবিবার তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) মর্গে পাঠানো হয়।

খালেদার অবস্থান দলের ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে

ত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, 'বেগম জিয়া দলের কোনো ফোরামে আলোচনা না করে, এমনকি জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে কোনো ধরনের আলোচনা বা তাঁদের অনুমোদন না নিয়ে তাঁর একক ক্ষমতাবলে দলের ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে যে দায়িত্বহীনতা ও দলের ঘোষণাপত্র লঙ্ঘন করেছেন, এর দায়দায়িত্ব এককভাবে তাঁকেই বহন করতে হবে।'
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আক্তার আরো বলেন, 'তিনি (খালেদা) অতীতেও একইভাবে জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গঠিত বিএনপির ঘোষণাপত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।' বিএনপি প্রধানের এ অবস্থানের কারণে দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী, তাঁর নিজের পরিবার ও নিজেকে ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন বলেও মনে করেন আখতারুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, এক-এগারোর পর জামায়াত খালেদা জিয়া বা বিএনপির পক্ষে দাঁড়ায়নি। খালেদা জিয়া আবারও নিজের দলের সর্বনাশ করে জামায়াতের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
এ কারণে খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

মার্সিসাইড ডার্বি জিতল লিভারপুল

আরেকটা মার্সিসাইড ডার্বি জিতে নিল লিভারপুল। ক্যারল ও সুয়ারেজের গোলে ১০ জনের এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে কেনি ডালগ্লিসের দল।
আগের ম্যাচে স্টোক সিটির সঙ্গে ড্র করা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবার জয়ের ধারায় ফিরেছে। কাল নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল নরউইচকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। ম্যানচেস্টার শহরের আরেক ক্লাবও করেছে জয়োৎসব। ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের মাঠ থেকে ম্যান সিটি ফিরেছে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে। জনসন, বালোতেল্লি, নাসরি ও স্যাভিচ করেছেন একটি করে গোল। ম্যানইউর গোল দুটি অ্যান্ডারসন ও ওয়েলবেকের।
এদিকে গোল না খেয়ে ‘১০০০’ মিনিটের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। কালও বায়ার্ন মিউনিখের জালে বল ঢুকতে দেননি এই জার্মান গোলরক্ষক। তবে তাঁর দলের জন্য দিনটি ভালো যায়নি। হফেনহেইমের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে বায়ার্ন।

অধিনায়কত্ব চান রুনি

৫ ম্যাচে ৯ গোল। ওয়েইন রুনি উড়ছিলেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইংলিশ স্ট্রাইকার মাটিতে নামলেন এর পর, মাটিতে তাঁকে নামিয়েছে আসলে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। সেই চোট কাটিয়ে আবার মাঠে রুনি। আরও আরও গোল করতে চান। চান আরেকটি বড় স্বপ্ন পূরণ করতে। হাতে পরতে চান ইংল্যান্ড আর ম্যানইউ দলের বাহুবন্ধনী।
দেশ ও ক্লাবকে এর আগে নেতৃত্ব যে দেননি তা নয়। দোহায় ব্রাজিলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের বাহুবন্ধনী উঠেছিল তাঁর হাতে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তাঁকে সুযোগ দিয়েছেন ‘রেড ডেভিল’দের নেতৃত্ব দেওয়ার। কিন্তু এটুকুতে স্বাদ মেটেনি। বরং অধিনায়ক হওয়ার ইচ্ছাটা আরও বেড়েছে। খণ্ডকালীন নয়, ইংল্যান্ড ও ম্যানইউর পূর্ণকালীন অধিনায়ক হতে চান রুনি।
‘আমি জাতীয় দল আর ক্লাব, দুটিতেই একবার করে অধিনায়কত্ব করেছি। দুই জায়গাতেই পূর্ণকালীন অধিনায়ক হতে পারা আমার জন্য হবে বিশেষ সম্মানের’—ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় রুনির এই উক্তি ছাপা হয়েছে।
অধিনায়ক এখন রুনি নন, তবে ম্যানইউকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা কম করেন বলে মনে হয় না। বার্সেলোনাকে কীভাবে হারানো যায়, এর একটা উপায় রুনির মাথায় এসেছে।
অনেকেই বার্সেলোনাকে সময়ের অবিসংবাদিত সেরা বলে মেনে নিয়েছে। তবে কেউ কেউ আবার সেরা বলছে ম্যানইউকে। কেউ আবার বলছে, বার্সেলোনাকে আগে হারাক ম্যানইউ! সেই হারানোর পথটা কী হতে পারে? রুনির রেসিপিটা সংক্ষেপে এ রকম—বার্সেলোনাকে হারাতে খেলতে হবে বার্সার মতো।
বার্সার খেলাটা কী রকম? বেশির ভাগ মানুষ বার্সেলোনার অজেয় হয়ে ওঠার পেছনে তাদের দুর্দান্ত পাসিং ফুটবলের কথাই বলেন। রুনির কাছে বার্সেলোনার বিশ্বজয়ী হয়ে ওঠার কারণ অন্য, ‘আমার কাছে বার্সেলোনার এত ভালো খেলা আর জয় পাওয়ার কারণ তাদের দল হিসেবে রক্ষণ করার সামর্থ্য। তারা যখন বল হারায়, খুব দ্রুতই তা আবার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় তো প্রতিপক্ষের সীমানাতেই দ্রুত বল নিয়ে নেয় তারা। আক্রমণের সূচনাও হয় সেখান থেকেই।’

তেভেজের পাশে ম্যারাডোনা

কার্লোস তেভেজ আর রবার্তো মানচিনি—দুজনই যেন সমানে সমান। কারও জেদ এতটুকু কম নয়। তেভেজ যেমন মানচিনির কাছে ক্ষমা চাইবেন না জানিয়ে দিয়েছেন, মানচিনিও তেমনি তেভেজকে সিটি থেকে যেতে দেবেন না!
কোচের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে বড় দুঃসময় যাচ্ছে বেচারা তেভেজের। এমন সময়ে ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে তাঁর পুরোনো ক্লাব ওয়েস্টহাম। জানুয়ারিতে দলবদল শুরু হতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁকে ধারে নিতে চেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। এই ক্লাব দিয়েই ইংল্যান্ডের ফুটবলে আগমন ঘটে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের।
করিন্থিয়ানস থেকে ওয়েস্টহামে নাম লেখানো নিয়েও অনেক ঝামেলা ছিল। তেভেজের স্বত্বটা ছিল তৃতীয় পক্ষের হাতে। ওয়েস্টহামকে তাই গুনতে হয়েছিল ৯০ লাখ ডলার জরিমানা। কিন্তু যে তেভেজকে এত কিছু করে দলে নিয়েছিল, সেই তেভেজই ওয়েস্টহাম ছেড়ে যান পরের বছর। তবু যে এখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাবটি, কারণ তেভেজের কল্যাণেই যে ২০০৭-এ অবনমন এড়াতে পেরেছিল তারা।
ওয়েস্টহাম চাইলেই তো আর হবে না, সিটির সম্মতিও প্রয়োজন। ওয়েস্টহামের প্রস্তাবে সরাসরি না বলে দিয়েছে তারা। আপাতত সিটির হয়েও তাঁর নামা হচ্ছে না মাঠে। দুই সপ্তাহের জন্য ক্লাবে তিনি বহিষ্কৃত। বেতনও কেটে নিচ্ছে এক সপ্তাহের। তেভেজ আর কী করবেন? ব্যাগট্যাগ গুছিয়ে পরশু চলে গেছেন বাড়ি। গৃহকাতর তেভেজের জন্য স্ত্রী-কন্যাদের সঙ্গটাও এই সময় অনেক বড় পাওয়া।
কোচের সঙ্গে তেভেজের এই কাণ্ড মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। তাঁদের মধ্যে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনও। বিষয়টি নিয়ে মানচিনির পক্ষেই কথা বলেছেন ‘রেড ডেভিল’ কোচ। তবে ওয়েস্টহামের সঙ্গে তেভেজ পাশে পেয়েছেন সাবেক আর্জেন্টিনা কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
ফার্গুসন যে মানচিনিকে সমর্থন করেছেন, এটি ম্যারাডোনার চোখে ‘বড় প্রহসন’, ‘ফার্গুসন এ নিয়ে কথা বলতে পারেন না। কারণ, তিনি বড় কোচ হয়েছেন বড় খেলোয়াড় দলে পাওয়ার পরই। এই দুর্ঘটনা নিয়ে তাঁর কিছু বলার থাকতে পারে না। ফার্গুসন মানচিনিকে সমর্থন করেছেন। মানচিনিকে চেনা আছে আমার, আমি তেভেজকেও চিনি। পুরো বিষয়টি না জেনে এটি নিয়ে তাঁর কথা বলা উচিত নয়। এটা আসলে বড় প্রহসনই।’
তেভেজের বিরুদ্ধে মানচিনির অভিযোগ, চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামাবেন বলে তেভেজকে ওয়ার্মআপ করতে বলেছিলেন, কিন্তু তেভেজ ওয়ার্মআপ করতে চাননি। তেভেজের কথা, তিনি ওয়ার্মআপ করতেই চেয়েছিলেন। আসলে কী ঘটেছিল, ম্যারাডোনা কি জানেন? ‘আমরা শুনে আসছি কার্লোস তেভেজ ম্যানচেস্টার সিটিতে থাকতে বা খেলতে চায় না। আর ম্যাচে এটাই ঘটেছে। তবে সেখানে সত্যি কী ঘটেছে, এটা বোঝা মুশকিল’—বলেছেন বর্তমানে আল ওয়াসলের কোচ ম্যারাডোনা।

ফিলিস্তিনের সাহায্য আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রায় ২০ কোটি ডলারের একটি সাহায্য প্রকল্প আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মার্কিন অর্থবছরে এ সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই অর্থবছরের শেষ দিন গতকাল শনিবার পর্যন্ত এই অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান মাহমুদ আব্বাস। তাঁর এই দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া এই তহবিল ছাড় না করায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘে এই দাবি থেকে সরে না এলে সেটা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৮ সাল থেকে ফিলিস্তিনকে প্রতি বছর গড়ে ৬০ কোটি ডলারের সাহায্য দিয়ে আসছে। আগামী অর্থবছরে এই অর্থ ছাড় না দিতে কংগ্রেসে দাবি উঠেছে।

চীনে গণতন্ত্র নিশ্চিত করার অঙ্গীকার

চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বৃহত্তর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা এবং দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানী বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জাতীয় দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও এবং ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্মৃতিসৌধে তাঁরা শহীদ বিপ্লবীদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এটি ছিল প্রজাতন্ত্র হিসেবে চীনের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

পাকিস্তানে তাসিরের হত্যাকারী কাদরির মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরকে হত্যার ঘটনায় তাঁর দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার এ রায় দিয়েছেন পাকিস্তানের একটি আদালত।
গত ৪ জানুয়ারি ইসলামাবাদে দেহরক্ষী মালিক মুমতাজ হুসেন কাদরির গুলিতে নিহত হন সালমান তাসির। কাদরি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেছেন, ব্লাসফেমি আইন সংশোধনের কথা বলায় তিনি তাসিরকে হত্যা করেন।
কাদরির আইনজীবী সুজা-উর-রেহমান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমার মক্কেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সন্ত্রাসবাদ ও হত্যার দায়ে এর রায় দেওয়া হয়েছে।’ রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী একটি বিশেষ আদালতের বিচারক পারভেজ আলী শাহ এ রায় দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
গতকাল রায় ঘোষণা উপলক্ষে কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তবে এর মধ্যে কয়েক শ মানুষ কাদিরের পক্ষে স্লোগান দিয়ে কারাগারের বাইরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বলে জানান এএফপির এক ফটো সাংবাদিক।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘একজন মুমতাজ কাদরিকে শাস্তি দেওয়া হলে হাজারো মুমতাজ কাদরি সৃষ্টি হবে।’ অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা এ রায় মেনে নিতে পারি না, পারি না।’
আইনজীবী সুজা-উর-রেহমান আরও বলেন, আদালত একই সঙ্গে তাঁর মক্কেলকে দুই লাখ রুপি (দুই হাজার ৩০০ ডলার) জরিমানা করেছেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করবেন বলে জানান।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার পর পাকিস্তানে গভর্নর সালমান তাসিরের হত্যাকাণ্ডটি ছিল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
এ ছাড়া ব্লাসফেমি আইনের বিরোধিতা করায় এক খ্রিষ্টান মন্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয় চলতি বছরের মার্চে। পাকিস্তানে বিতর্কিত ইসলামি শরিয়া আইনে এ পর্যন্ত কাউকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া না হলেও সমালোচকেরা বলছেন, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থে অনেক ক্ষেত্রে এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে।

এপেক্স বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপিত

১ বছরে পা রেখেছে সেবাধর্মী যুব সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির আইএফএসটি অডিটরিয়ামে সংগঠনটির সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব উদ্যাপন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এপেক্সে সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
এপেক্স বাংলাদেশের জেলা-১-এর গভর্নর অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের জাতীয় সভাপতি চন্দন দাশ, জাতীয় সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, সদ্য বিদায়ী জাতীয় সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, লাইফ গভর্নর মোহাম্মদ কাদের নেওয়াজ, লাইফ গভর্নর টি কে বাড়ৈ তরুণ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে আইন প্রতিমন্ত্রী এপেক্স ক্লাবের সৌজন্যে অসহায় পঙ্গুদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক by পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য

মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া বিগত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের 'তিক্ত' অভিজ্ঞতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁরা বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বর্তমানে দলের এ কঠোর অবস্থান। সংসদে গিয়ে বিএনপি বিকল্প প্রস্তাব দিলে ত্রুটিগুলো সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার সুযোগ ছিল।

এমপি বদির ভাইয়ের অভিযোগ দায়ের

'বদনামের শেষ নেই এমপি বদির' শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কঙ্বাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল রবিবার মানহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল জেলার টেকনাফ-উখিয়া সংসদীয় আসনের সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই ও টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মৌলভী মুজিবুর রহমান কালের কণ্ঠের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন এবং দুই প্রতিবেদক বিপ্লব রহমান ও তোফায়েল আহমদকে বিবাদী করে এ অভিযোগ (পিআর-২১৪/২০১১ ইং) দায়ের করেন। আদালতের বিচারক তাওহিদুল হক এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারায় দায়ের করা আরজিতে বাদী বলেছেন, আবদুর রহমান বদি মহাজোট মনোনীত স্থানীয় সংসদ সদস্য। তাঁর বাবা মৃত এজাহার মিয়া কম্পানিও ছিলেন টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান। তাঁদের পরিবার এলাকার ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার। তাঁরা এলাকায় অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে তাঁর (বাদী) ভাই এমপি বদিসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয় সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর।
বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন কঙ্বাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে আহমদ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট খালেক নেওয়াজ ও অ্যাডভোকেট রফিক উদ্দিন চৌধুরী।

রাষ্ট্রের গোপন কাজ বিদেশির হাতে! by ফারুক মেহেদী

রের স্পর্শকাতর গোপন নথি ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ, ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নাম্বার বা টিআইএন সনদ ইস্যুকরণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছে বিদেশি একটি সংস্থা। রাষ্ট্রীয় গোপন কাজের জন্য মনোনীত ভারতীয় সংস্থাটি পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য এনবিআরের এ ধরনের কাজ তদারকি করবে। পরে দরপত্রের মাধ্যমে আবারও সংস্থা মনোনয়ন করা হবে। কোনো ধরনের ঋণ সহায়তা না দিয়েই বাংলাদেশি করদাতাদের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ নিয়ে পরিচালনার শর্তে ভারতীয় সংস্থা মনোনয়ন করছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন বা আইএফসি। তাও বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারতীয় সংস্থা মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ' আজ

জ সোমবার দেশে 'বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ' পালিত হচ্ছে। দিবসটি পালনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 'বিশ্বের সকল শিশু দূষণমুক্ত পরিবেশে গড়ে উঠবে'_এ প্রত্যাশায় চিলড্রেন থিয়েটার ফেডারেশন আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শিশু একাডেমীর সামনে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১১-এর সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারঃ দেশ অনিবার্য সংঘাতের দিকে by জাকির হোসেন

লীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং বিএনপিকে এ নির্বাচনে অংশ নিতে হবে—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্যকে উস্কানিমূলক এবং প্রলোভনযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন। কারণ ভিন্ন কোনো পন্থায় এই নির্বাচন অতিক্রম করে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই নানারকম হিসাব-নিকাশ শেষে আগামী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই প্রধানমন্ত্রী এখন থেকেই নানারকম উস্কানিমূলক ও প্রলোভনযুক্ত কথা বলছেন।

বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমেঃ সরকারি কেন্দ্রে উৎপাদন ধস by এম আবদুল্লাহ

রাজধানীসহ সারাদেশে বিদ্যুত্ সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। রাজধানীর অভিজাত এলাকায়ও দৈনিক ৪-৫ দফা লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার অন্যান্য এলাকাসহ সারাদেশে রাত-দিন প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং তো আছেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিতরণ ত্রুটিজনিত বিভ্রাট। তীব্র গরমে বিদ্যুতের এ ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গতকালও কমপক্ষে ১ হাজার ৭শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ঘাটতি নিয়ে লোডশেডিং করা হয়েছে যথেচ্ছভাবে।

আয়কর রিটার্ন জমার সময় দুই সপ্তাহ বাড়ল

ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) জমা দেওয়ার সময় দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে না পারায় করদাতাদের অনুরোধে গতকাল এ সময়সীমা বাড়ানো হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়কর) এম এ কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, রবিবার পর্যন্ত যাঁরা আয়কর রিটার্ন জমা দেননি, তাঁরা আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, এ বছর এনবিআর আয়কর দাতাদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পেয়েছে।
 তার পরও অনেক করদাতাই সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁদের অনুরোধেই সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এবার শেষ দিন শুক্রবার হওয়ায় ২ অক্টোবর পর্যন্ত রিটার্ন জমা নেওয়া হয়। গত বুধবারই এ ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিল এনবিআর। তখন বলা হয়েছিল, সময় আর কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, 'এবার ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন জমার সময়সীমা আর কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না।'

সংঘাতের আশঙ্কা হতাশায় জনগণ by লোটন একরাম

পাঁচ বছরের মাথায় আবারও সংঘাতের পথে ফিরে যাচ্ছে রাজনীতি। ওয়ান-ইলেভেনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর নির্বাচিত সরকারের তিন বছর না যেতেই আবার মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে 'অনড়' অবস্থান গ্রহণ করেছে তারা। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই আগামী নির্বাচন হবে, হবে, হবেই।

তেল-গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে

ণফোরামের নেতারা বলেছেন, দফায় দফায় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও তেল-গ্যাসের দাম বাড়ায় জনগণের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে এ সরকারের সব অর্জন বিফলে যাবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তাঁরা এ কথা বলেন।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম না বাড়লেও বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে সরকার দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে বাসভাড়াসহ সব ধরনের দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। অথচ সরকারের সেদিকে কোনো নজর নেই। বড় দুই দলকেই জনমানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান সাইদ, জামাল উদ্দিন আহমেদ, আ হ ম শফিক উল্লাহ, আবদুল হাসিব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার প্রমুখ। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল : এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, ঢাকার রাস্তায় রিকশা চলাচলে বাধা ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতির প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে জাফর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের আবদুর রাজ্জাক, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের আবদুস সাত্তার প্রমুখ।

আশঙ্কা যথেষ্ট কমল

সৌরজগতের একমাত্র বাসযোগ্য গ্রহ আমাদের এই পৃথিবী। কিন্তু পৃথিবীর অস্তিত্বটাই হুমকির মুখে পড়েছে অগুনতি গ্রহাণুর কারণে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় হঠাৎই ঘটে যেতে পারে কোনো গ্রহাণুর সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষ। এর ফলে গ্রহাণুটি ধ্বংস হয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু এর আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৃথিবী। পরিমাণটা এমনই মারাত্মক যে পরমাণু বোমার হামলায় যত ক্ষতি হয় একেকটি মাঝারি আকৃতির গ্রহাণুর সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতি হতে পারে এর কয়েকগুণ বেশি। এর ফলে মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে বড় কোনো শহরও।

লোডশেডিংয়ের প্রতিকার ও কৃষিজমি আলাদা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিকার এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় কৃষিজমি আলাদা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা গতকাল রবিবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে এ রিট আবেদন দুটি দাখিল করে।
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আজ সোমবার রিট আবেদন দুটির শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী সংস্থার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদা। রিট আবেদনের বিষয়ে সিগমা হুদা সাংবাদিকদের জানান, কৃষিজমি আলাদা করা ও কৃষিজমিতে কৃষকদের মালিকানা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ আবেদনে কৃষকদের জীবিকা ও স্বার্থরক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন ও জমির শ্রেণীবিন্যাস করে তা কার্যকর করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং কেন অবৈধ হবে না এবং এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে পৃথক একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বাংলাদেশকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে, তার সময় নির্ধারণ করতে সরকারকে নির্দেশ দিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। শিল্প ও কলকারখানাগুলো লোডশেডিংয়ের বিষয়টি মাথায়
রেখে যাতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে জন্যই এ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানান সিগমা হুদা।

সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়েছে বামাসপ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করতে না দেওয়ার সঙ্গে যে কর্মকর্তারা জড়িত, তাঁদের বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ)। অন্যদিকে শনিবার কালের কণ্ঠে 'আইজি প্রিজনসের সাফাইয়ের চেষ্টা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দেশের কারাগারগুলোতে তোলপাড় শুরু হয়। প্রতিবেদন পড়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কারারক্ষী। তাঁদের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
কেউ কেউ জানান, কিভাবে কারাগারে দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা আইজি প্রিজনসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করছেন। কারারক্ষীরা দাবি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে দুর্নীতির চিত্র।
বামাসপের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য আইনের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করতে না দেওয়ায় বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বামাসপ সভাপতি এ এইচ এম নোমান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, মানবাধিকার আন্দোলনকে পদদলিত করা নির্যাতন ও অপমানজনক। এ ধরনের গণমানবাধিকারবিরোধী মানসিকতার কারণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সর্বস্তরের মানুষ স্তম্ভিত হয়েছে। এঘটনা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য অশনি সংকেত। নির্ধারিত কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া, জেলার কর্তৃক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে বসিয়ে রাখা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারা ফটকের তালা খুলে দিতে বলা সত্ত্বেও না খুলে দেওয়ার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণে দেশবাসী ক্ষুব্ধ। মানবাধিকার কমিশনের কারাগার ও হাসপাতালের ন্যায় জাতীয় মানবতা সংবলিত স্থাপনায় পরিদর্শন ও প্রয়োজনে তদন্ত করার ম্যান্ডেট থাকা সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির নামে এ ধরনের বাধা দান সাংবিধানিক কাজে বাধা দেওয়ারই সমতুল্য। তিনি আরো বলেন, এটি জেলখানার অভ্যন্তরে কয়েদিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়া, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, মানবতাবিরোধী আচরণ, ঘুষ-দুর্নীতিকে দেশবাসী থেকে আড়াল করারই অপপ্রয়াস। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া ও আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি জানাচ্ছে বামাসপ।
কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ : ১ অক্টোবর কালের কণ্ঠে প্রকাশিত 'আইজি প্রিজনসের সাফাইয়ের চেষ্টা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. কামাল হোসেন। তাঁর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সময় টেলিভিশনের মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে কাউকে প্রভাবিত করা হয়নি। এসএমএস করার জন্য গভীর রাতে দেশের কোনো কারাগারেই কোনো ধরনের লিফলেট বিতরণ এবং কারারক্ষীদের মধ্যে সাবান বিতরণ করা হয়নি। একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. শাহ আলম।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবাদপত্রে যা লেখা হয়েছে তা আইজি প্রিজনস আগেই তাঁর মন্তব্যে বলে দিয়েছেন যা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের কোথাও 'সময়' টিভির নাম উল্লেখ করা হয়নি। লিফলেট বিতরণ ও কারা কর্মকর্তা এবং কারারক্ষীদের এসএমএস করার জন্য দেওয়া নির্দেশের তথ্য-প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। যে লিফলেট ছাড়া হয়েছিল, এর কপিও রয়েছে কালের কণ্ঠের কাছে।

মিরসরাই থানার ওসির বিরুদ্ধে বিনা দোষে জেলে পাঠানোর আরো অভিযোগ

নিরপরাধ ব্যক্তিদের ধরে জেলে পুরে দেওয়ার আরো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসানের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতায় নিরপরাধ কলেজছাত্র আরিফকে জেলে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন স্থান থেকে ফোনে অনেকেই নিজেদের পুলিশের রোষানলের শিকার দাবি করে এসব অভিযোগ করেন।
মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় গ্রামের মৃত বশির আহাম্মদের ছেলে জসীম উদ্দিন বলেন, 'আমি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। একদিন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। একই কায়দায় আরো সাতজনকে ধরে থানা হাজতে রাখে সারা রাত। ভোরে অন্য স্থান থেকে চোলাই মদ নিয়ে আসে পুলিশ। মদখোর আখ্যা দিয়ে আমাদের জেলে পাঠিয়ে দেয়।' অভিযোগে জানা যায়, ৩২ দিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন জসীম উদ্দিন। কোনো অপরাধ না করেও অন্ধকার কারাগারে থাকার নানা যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে জসীম প্রশ্ন করেন, 'মিরসরাই থানার ওসি কি পারবেন আমার জীবনের ৩২টি দিন ফেরত দিতে? এই সময়টা আমার স্ত্রী-সন্তানরা অনেক কষ্টে কাটিয়েছে। এখনো প্রতি সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিতে হয়।'
মিরসরাই থানা পুলিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আটক করে নানা অজুহাতে জেলে পাঠানোর অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পদোন্নতির উদ্দেশ্যে কিছু নিরীহ প্রকৃতির ব্যক্তিকে তারা আটক করে। বিভিন্ন প্রক্রিয়াধীন মামলায় তাদের সন্দেহভাজন আসামি আখ্যা দিয়ে আদালতে পাঠায়। এর সর্বশেষ প্রমাণ মিরসরাই সদর ইউনিয়নের আরিফ উদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মতে, গত ১১ এপ্রিল কালের কণ্ঠের শেষের পাতায় বিশেষ অভিযানের নামে মিরসরাই থানা পুলিশের মাদক কারবারি ধরে বেপরোয়া বাণিজ্যের খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট সাত পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন বিভাগ। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। ওই ঘটনায় এসআই ফেরদৌসকে অন্য থানায় শাস্তিমূলক বদলিও করা হয়। এরই মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল রাতে মাদক কারবারি ধরতে গিয়ে খুন হন মিরসরাই থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বোরহান উদ্দিন। দুই ঘটনার জের ধরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ একসঙ্গে ৯ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়। ১১ মে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদে যোগ দেন ইফতেখার হাসান। তাঁর যোগদানের কয়েক দিন পর থেকেই নিরপরাধ ব্যক্তিদের ধরে জেলে পাঠানোর অভিযোগ আসতে থাকে। তবে এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি ইফতেখার হাসান কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিকে
ওসির হুমকি
কালের কণ্ঠের মিরসরাই প্রতিনিধি মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন থানার ওসি ইফতেখার হাসান। পুলিশের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলে গতকাল রবিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে তিনি এ হুমকি দেন।
গতকাল কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় 'নিরপরাধ জেনেও আরিফকে ফাঁসিয়ে দিল পুলিশ' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে ক্ষিপ্ত হন ওসি ইফতেখার হাসান। প্রকাশিত সংবাদটি দেখে আরো অনেক স্থান থেকে অনুরূপ অভিযোগ আসতে শুরু করে। জসীম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে বিনা অপরাধে জেলে পাঠানো হয়েছে_এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চাইলে ওসি সরাসরি বলেন, 'আমি আপনার প্রশ্নের কোনো উত্তর দেব না। আপনার সঙ্গে কথাও বলব না। আপনি যা খুশি লিখে দেন। আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।' এ কথা বলেই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ওসি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ জানতে আবার ফোন করা হলে তিনি 'আপনার কিছু লেখার থাকলে লিখে দেন' বলে আবারও ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চট্টগ্রামে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

ট্টগ্রামে হাইকোর্টের একটি সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। সংবিধানেই সার্কিট বেঞ্চের বিধান আছে উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, 'চট্টগ্রামে অবশ্যই একটি সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন করা প্রয়োজন।
 প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও আমি এ বিষয়ে কথা বলব। এরপর প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ সার্কিট বেঞ্চ গঠন করবেন।'
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব সহিদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল কাশেম মাস্টার, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মহসিন মিয়া ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালেহউদ্দিন হায়দার সিদ্দিকী।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন যে আদালত ভবন হচ্ছে সেটা কোনো দাতা সংস্থার টাকায় নয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ ১২ তলা ভবন তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা দরদি মন নিয়ে, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করবেন। মামলাকে দীর্ঘসূত্রতার জালে না ফেলে বিচারপ্রার্থীদের যত দ্রুত সম্ভব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবেন।'
মামলাজট ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, 'মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনের পরিবর্তন আনতে আমরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি পর্যালোচনা করছি। এ ছাড়া সালিসের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছি।'
অনুষ্ঠানে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, 'বর্তমান সরকারের আমলেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হবে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল হোতাদের শনাক্ত করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।'
আইন প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত সাত বছরে একজন জজও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে নিম্ন আদালতে এরই মধ্যে দুই শতাধিক বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরো ১০০ বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

মাছ ধরায় মা-ছেলেকে পেটালেন পৌর মেয়রের ভাই

পায়রা নদীর একাংশে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম লেকের। সেই লেকে মাছ ছেড়েছেন পৌর মেয়রের ভাই। না বুঝে ওই লেকে মাছ ধরার অপরাধে এক কিশোর পৌর মেয়রের ভাই-ভাগ্নের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন ওই কিশোরের মা-ও। নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি সরকারদলীয় ওই মেয়রের ক্যাডার বাহিনী। মা-ছেলেকে চিকিৎসাও নিতে দেয়নি তারা। নির্যাতিতরা থানায় মামলা তো দূরের কথা, ভয়ে আত্মগোপন করে আছে।
 বরগুনার আমতলী পৌর এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। নির্যাতনকারীরা হলেন_আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের ভাই সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মজিবর রহমান ও ভাগ্নে ছাত্রলীগকর্মী আবুল কালাম আজাদ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম দেলোয়ারের ছেলে পৌরসভার প্যানেল মেয়র জি এম মুছাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। নির্যাতিতরা হচ্ছেন_পৌর এলাকার মজিরব রহমানের স্ত্রী শিউলী বেগম ও ছেলে শওকত হোসেন মিরাজ। মিরাজ আমতলী এ কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। বছরখানেক আগে অন্য একটি বিষয়ে সালিসের নামে শিউলী বেগমকে প্রকাশ্যে মারধর করেছিলেন কমিশনার মজিবর রহমান।
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিউলী বেগম গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর ছেলে শওকত হোসেন মিরাজ গত বৃহস্পতিবার স্কুল শেষে ওই লেকে মাছ ধরে। লেকের মাছ চুরির অভিযোগ এনে জালসহ মিরাজকে মেয়রের ভাগ্নে আজাদ তুলে নিয়ে যান। একপর্যায়ে মজিবর রহমান তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। স্থানীয়রা মিরাজের চিৎকার শুনে তাঁকে (শিউলী) জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে শিউলী বেগম মেয়রের বাড়ির উঠানে একটি গাছের সঙ্গে ছেলেকে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তখন ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে মজিবর তাঁকেও মারধর করেন। পরে তাঁদেরকে বাঁচাতে এসে শিউলীর মা ফাতেমা বেগম, বোন বিউটি বেগম, ভাগ্নে ফয়সাল সরদারও মারধরের শিকার হন। পরে মা ও ছেলে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েচিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে পৌরসভার প্যানেল মেয়র জি এম মুছা তাঁর দলবল নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েএসে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলেন। হুমকির কারণে শুক্রবার সকালে তাঁরা চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল থেকে চলে আসেন। শনিবার পালিয়ে এসে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন।
মারধরের কথা স্বীকার করেছেন মজিবর রহমান। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, 'শিউলী ও তাঁর ছেলেকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল মীমাংসার জন্য। কিন্তু তাঁরা পালিয়ে বরিশালে চিকিৎসার জন্য গেছে বলে শুনেছি।' ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমতলী পৌরসভার প্যানেল মেয়র জি এম মুছা বলেন, 'মেয়রের ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী শিউলী বেগমের ঝগড়া বেধেছিল। তখন শিউলী বেগম বাজে মন্তব্য করায় মেয়রের ভাগ্নে আজাদ তাঁকে মারধর করেছে। এতে তিনি সামান্য ব্যথা পেয়েছেন। ঘটনার দিন তিনি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি হয়েছেন। আমি নিজেই তাঁর চিকিৎসা ভার গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক এক হাজার টাকা সাহায্য করেছি। বিষয়টির মীমাংসা চলছে।'

আয়োজন

লিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে অপূর্ব কান্তি দাশের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী 'রিডল অব ক্যারেক্টারস'। শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
* আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে চলছে 'পোট্র্রেট : রিডল অব ক্যারেক্টারস' শিরোনামে শিল্পী অপূর্ব কান্তি দাশের একক চিত্র প্রদর্শনী। চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি সোম থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা, শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ও বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। রবিবার বন্ধ।

নাচের আসরে তাহারা

বার হাতেই সময় কম। এক জায়গায় বেশি সময় দেওয়া এখন আর সম্ভব নয়। কিন্তু তারকার উপস্থিতি তো থাকতেই হবে। তাই অনেক তারকাকেই হাজির করা হয়েছিল 'জাস্ট ড্যান্স'-এর ফাইনালে, তবে অল্প সময়ের জন্য। সেই অল্প সময়েই তাঁরা নিজেরা মেতেছেন এবং সবাইকে মাতিয়েছেন। শনিবার মুম্বাইয়ে আয়োজিত নাচের এ রিয়ালিটি শোতে হাজির হয়েছিলেন শাহরুখ খান। বলিউডের কিং খান মানেই ব্যতিক্রম কিছু থাকবেই।
এবারও সেই ব্যতিক্রমের ব্যতিক্রম ঘটেনি। এমন কাণ্ডই করে বসলেন, যা কেউ ভাবেইনি। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার টিপ্পনী শুনে জাস্ট ড্যান্সের নিয়মিত বিচারক ফারাহ খানকে কোলে তুলে নিলেন শাহরুখ খান এবং তাঁর দেখাদেখি হৃতিক কোলে তুলে নিলেন বৈভবী মার্চেন্টকে (১)। অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে হাজির হয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন (২)। সদা হাস্যোজ্জ্বল বলিউডের এ হার্টথ্রব অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স দেখে যেন বিস্মিতই হয়ে গেলেন। নিজেও নেচেছেন হৃতিক রোশানের সঙ্গে। এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। শাহরুখ খানকে জড়িয়ে ইদানীং কত ধরনের গুজব যে বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেসব নিয়ে মোটেই মাথা ব্যথা নেই তাঁদের, এমনটাই মনে হলো অনুষ্ঠানে তাঁদের আচরণ দেখে। প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে নেচেছেন শাহরুখ, তাল মিলিয়েছিলেন হৃতিক রোশানও (৩)। আর প্রিয়াঙ্কার অনুকরণে র‌্যাম্পের আদলে হেঁটে দর্শকদের বিনোদিত করেছেন শাহরুখ ও হৃতিক (৪)।

আহত সালমা

তুন ছবি 'পুশ ইন বুটস'-এর প্রচারণায় অংশ নিতে আসার পরই ধরা পড়ল বিষয়টি। অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল সাবলীল। কিন্তু সবাইকে কেমন যেন এড়িয়ে এড়িয়ে যাচ্ছিলেন মেঙ্কিান সুন্দরী। তখনই দৃষ্টিগোচরে এল অনেকের_সালমা হায়েকের ডান পায়ের গোড়ালি কালো ব্যান্ডেজে জড়ানো। কিন্তু কিভাবে চোট পেলেন সেই খবর এখনো জানা যায়নি।
 পায়ের এই চোট নিয়ে সেদিন অনুষ্ঠানে হাজির সবার সঙ্গে বেশ রসিকতাও করেছেন। এর আগে নাকি বিমানবন্দরে হুইল চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে তাঁকে। পায়ের চোট কতটা গভীর কিংবা কিভাবে তিনি চোট পেয়েছেন_এ বিষয়ে কেন মুখ খুলছেন না সালমা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু কোনো কিছুতেই ঘটনার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব কাজ করেছেন সালমা, সেখানেও তিনি আহত হয়েছেন বলে কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেন এই চোট পাওয়া সম্পর্কে মুখ খুলছেন না সালমা, তা নিয়ে এখনো রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।

অবশেষে করেছেন স্বীকার

লিউডের প্রেমকাহিনীগুলো এমনই। যখন প্রেম থাকে, তখন সে খবর কাউকে জানাতে চান না। যখন থাকে না, তখন নিজেরাই চাউর করে বেড়ান। রণবীর কাপুর আর দীপিকা পাড়ুকোনের প্রেমলীলার খবর তো নিশ্চয় সবারই জানা। শুরুতে নিজেরা এ সম্পর্ককে স্রেফ বন্ধুত্ব বলেই উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তারপর বিচ্ছেদের পর দীপিকা অভিযোগ করেছিলেন রণবীর প্রতারণা করেছেন তাঁর সঙ্গে। 'রাজনীতি' ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল রণবীরের। তারপর সেই সম্পর্ক গড়ালো প্রেমে, সেই প্রেমের দাপটেই ভেঙে গেল দীপিকা-রণবীরের প্রেম।
সম্পর্ক ভাঙার পর থেকে দীপিকা প্রকাশ্যে রণবীরের প্রতারণার কাহিনী বলে বেড়ালেও কেউ তেমন একটা গা করেনি। তবে এবার বোমা ফাটালেন রণবীর নিজেই। সম্প্রতি বলিউডের এ হার্টথ্রব নিজেই নিজেকে 'প্রতারক' দাবি করেছেন!
শুক্রবার ছিল রণবীরের ২৯তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল বিরাট এক অনুষ্ঠান। সেখানে হাজির হয়েছিলেন বি-টাউনের ঝলমলে সব তারকা। ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোনও। পুরনো প্রেমিকাকে দেখেই কি না কে জানে বেশ নস্টালজিক হয়ে উঠেছিলেন রণবীর। এ সময় এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে অবলীলায় সব স্বীকার করে বসলেন ঋষিতনয়। বললেন, 'আমি তখন আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। আমার নিজের নির্বুদ্ধিতার জন্যই এমনটা ঘটেছিল। দীপিকার সঙ্গে আমি যেমনটা করেছি, তা করা আমার মোটেই উচিত হয়নি।'
এখানেই শেষ নয়, সম্পর্ক নিয়ে এখন বেশ দার্শনিকদের মতোই ভাবছেন রণবীর, কথাবার্তায় তা-ই মনে হলো। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেছেন, 'আমি আসলে সম্পর্কের মর্যাদা ধরে রাখতে পারিনি। আমিও তাই সম্মান পাওয়ার যোগ্য নই। তবে ধীরে ধীরে আমি সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে শিখছি। আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না বলেই হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয় খুব ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এবার যত দিন না নিজেকে যোগ্য মনে করছি, তত দিন আর নতুন কোনো সম্পর্ক নয়।' এ সম্পর্কে দীপিকার মত জানা না গেলেও অন্যদের মত হচ্ছে, শিগগিরই অয়ন মুখার্জির 'ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি' ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন রণবীর-দীপিকা। সেই ছবির প্রতি দর্শককে আকৃষ্ট করতেই নাকি এসব কথাবার্তা এখন বলে বেড়াচ্ছেন রণবীর। এটা স্রেফ প্রচারণা চালানোর কৌশল ছাড়া কিছু নয়!

নাচের রাজা অঙ্কন

তিনজনই ছিল ফেভারিট। অঙ্কন সেন, সুরজিৎ বনসাল ও করন খান্না_তিন ফাইনালিস্টের মধ্যে কে হতে যাচ্ছে 'জাস্ট ড্যান্স' রিয়ালিটি শোয়ের বিজয়ী। শনিবার মুম্বাইয়ে আয়োজিত হয়ে গেল জাস্ট ড্যান্সের চূড়ান্ত পর্ব। হৃতিক রোশান, ফারাহ খান ও বৈভবী মার্চেন্ট তো ছিলেনই, এদিন অনুষ্ঠান রাঙাতে হাজির হয়েছিলেন বলিউডের নামিদামি বর্ণিল সব তারকা। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন থেকে শুরু করে সোনাক্ষী সিনহাও এসেছিলেন। তবে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন কিং খান।
হ্যাঁ, শাহরুখ খান এসেছিলেন। স্বভাবসুলভভাবে নেচে-গেয়ে এবং কথায় কথায় মাতিয়েছেন আসর। আর মন মাতানো এ আসরে সবাইকে পেছনে ফেলে শিরোপা জিতে নিল অঙ্কন সেন। ১৭ বছর বয়সী অঙ্কন একজন বাঙালি। কলকাতা থেকে আগত এ প্রতিযোগী আসরের শুরু থেকেই নিজের ধুন্ধুমার নাচের প্রতিভা দিয়ে মন কেড়েছে সবার। নাচের প্রতি তার নিষ্ঠা আর অদম্য আগ্রহের কারণেই বিজয়ীর মুকুট উঠল তার মাথায়। বিজয়ী হিসেবে অঙ্কন এক কোটি রুপি এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ি পুরস্কার পেয়েছে স্টার প্লাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। আর হৃতিক রোশান অঙ্কনের পারফরম্যান্সে খুশি হয়ে আরো ১০ লাখ রুপি এবং আরো একটি গাড়ি উপহার দিয়েছেন তাকে। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে দিলি্ল থেকে আসা সুরজিৎ বনসাল। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মুম্বাইয়ের করন খান্না।

আবারও ছুরির নিচে

ই কদিন আগেই একবার অস্ত্রোপচার করিয়ে এসেছেন। চোয়ালের ব্যথা নিয়ে ভুগেছেন দীর্ঘদিন। ওষুধপত্রে কাজ হয়নি। তাই অস্ত্রোপচার করিয়ে ফেললেন। তারপর ভেবেছিলেন এবার বুঝি মুক্তি পাওয়া গেল। কিন্তু না। আবারও চোয়ালের ব্যথায় কাবু সালমান খান। শিগগিরই তাই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সল্লুবাবা, দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করানোর জন্য। জানা গেছে, প্রথম দফা অস্ত্রোপচারের পর ব্যথাটা কমে গিয়েছিল প্রায়। আর কিছুটা দিন যদি বিশ্রামে থাকতেন, তাহলে হয়তো পুরোপুরিই ব্যথাটা বিদায় করতে পারতেন।
কিন্তু কাজের চাপে বিশ্রাম আর হলো কই! ডাবলিনে 'এক থা টাইগার' ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সালমান। সেই শুটিং করতে গিয়েই পড়েছেন ঝামেলায়। ডাবলিনের ঠাণ্ডা আবহাওয়া পেয়েই যেন ব্যথাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শুটিং উঠেছে লাটে, সালমান কাতরাচ্ছেন চোয়ালের ব্যথা নিয়ে। কদিন আগেই একবার অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে বলে এখনই আবার চিকিৎসকের ছুরির নিচে শুয়ে পড়তে পারছেন না। আরো বেশ কিছুদিন এ ব্যথা নিয়ে থাকতে হবে। তিন মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার করাতে হবে। নিজেই সম্প্রতি বললেন সে কথা, 'প্রথম অস্ত্রোপচারের পর ব্যথাটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু ডাবলিনের ঠাণ্ডায় আবারও ব্যথাটা বেড়েছে। এখন কথা বলতেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তাই আবারও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতেই হলো। মাস তিনেকের মধ্যেই অস্ত্রোপচার করাতে হবে।' আপাতত বিশ্রামেই রয়েছেন সালমান খান।

মিক্সড অডিও অ্যালবাম 'এফএনএফ'র মোড়ক উন্মোচন

০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে প্রত্যয় খান ফিচারিং মিক্সড অডিও অ্যালবাম 'এফএনএফ'র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রত্যয় খানের বাবা রিপন খান, বড় ভাই হৃদয় খান, লেজার ভিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। অ্যালবামটিতে আটটি গান রয়েছে। গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান, নওমী, প্রমা, অমিদ এবং প্রত্যয় খান নিজে।

পর পর চার ছবি

লতি বছরের জানুয়ারিতে ইমন অভিনীত 'মায়ের জন্য পাগল' ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। এরপর রোজার ঈদের আগ পর্যন্ত আর কোনো ছবিই মুক্তি পায়নি তাঁর। গত ঈদে একসঙ্গে তাঁর দুটি ছবি মুক্তি পায়। পি এ কাজলের 'গরিবের ভাই' ও গাজী মাহবুবের 'আমার পৃথিবী তুমি'। এই দুটি ছবির রেশ কাটতে না কাটতেই এ সপ্তাহে মুক্তি পেল শাহীন সুমনের 'অঙ্ক'। পরের সপ্তাহেই মুক্তি পাবে ইমন অভিনীত জি সরকারের 'গার্মেন্টস কন্যা'।
 পর পর চারটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তবুও ইমন শঙ্কিত নন। তিনি বলেন, 'সাধারণত কোনো অভিনেতাই চান না একসঙ্গে এতগুলো ছবি মুক্তি পাক। এতে দর্শকের একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। কিন্তু আমি খুব খুশি, 'গরিবের ভাই', 'আমার পৃথিবী তুমি' ও 'অঙ্ক'_তিনটি ছবিই ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে। আশা করছি, 'গার্মেন্টস কন্যা'ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। যেসব পরিচালক ও প্রযোজক আমার ওপর ভরসা রেখেছেন, তাঁদের প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।

ড্রাইভার মোশাররফ

কজন গাড়িচালকের ভূমিকায় অভিনয় করলেন মোশাররফ করিম। 'মেডেল' নামের নাটকে এই চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। নাটকটি নির্মাণ করেছেন নাসির আল মুনির। নাটকের অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কচি খন্দকার, মারজুক রাসেল, আল মামুন, চাষী আলম, মিলন ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। সকালে বসকে অফিসে নামিয়ে দিয়ে বাড়তি কিছু টাকার লোভে রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে থাকে ড্রাইভার অনিমেষ। গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে, হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো একটি ঘঠনা ঘটে_যা গাড়ির ভেতর থাকা ছয়জনকে মুহূর্তে হতচকিত করে তোলে এবং ভীতি আর উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। যাত্রীবেশে ওঠা সশস্ত্র দুই সন্ত্রাসী হান্নান ও জাহাঙ্গীর অস্ত্রের মুখে অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা লুটে নিতে উদ্যত হয়। এ নিয়েই নাটকের গল্প।

ক্যামোফ্লেজ by নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

টেনিদা কুলপির শালপাতাটা শেষবার খুব দরদ দিয়ে চেটে নিলে, তারপর সেটাকে তালগোল পাকিয়ে ক্যাবলার মুখের ওপর ছুড়ে দিয়ে বললে, ‘তবে শোন! আমি তখন যুদ্ধ করতে করতে আরাকানের এক দুর্গম পাহাড়ি জায়গায় চলে গেছি। জাপানিদের পেলেই এমন করে ঠেঙিয়ে দিচ্ছি যে ব্যাটারা “ফুজিয়ামা টুজিয়ামা” বলে ল্যাজ তুলে পালাতে পথ পাচ্ছে না। ১৩ নম্বর ডিভিশনের আমি তখন কম্যান্ডার—তিন-তিনটে ভিক্টোরিয়া ক্রস পেয়ে গেছি। টিড্ডিমে তখন পেল্লায় যুদ্ধ হচ্ছে। জাপানি পেলেই পটাপট মেরে দিচ্ছি। জাপানিদের যখন প্রায় নিকেশ করে ছেড়েছি, তখন হঠাৎ একটা বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড হয়ে গেল। আর সেইটেই হলো আমাদের আসল গল্প।’

কন্যাসন্তানের বাবা

দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের বাবা হলেন শামীম শাহেদ। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাঁর স্ত্রী শাহরিন মুন একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের সময় নবজাতকের ওজন ছিল সাড়ে তিন কেজি। বাচ্চা এবং বাচ্চার মা দুজনই সুস্থ আছেন। নবজাতকসহ পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন শামীম শাহেদ

আজ বারীণ মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী

জ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ বারীণ মজুমদারের দশম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাবনা শহরের রাধানগর অঞ্চলের বিখ্যাত মজুমদার জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম সংগীত মহাবিদ্যালয় 'কলেজ অব মিউজিক'।
একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক, জনকণ্ঠ গুণীজন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত বারীণ মজুমদার দীর্ঘ রোগভোগের পর ২০০১ সালের এই দিনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী ইলা মজুমদারও ছিলেন একজন বরেণ্য উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী। তাঁর বড় ছেলে পার্থ মজুমদার ও ছোট ছেলে বাপ্পা মজুমদারও গানের মানুষ।

হাসার জন্য আলাদা সময় দেওয়া হতো

মাছরাঙা টেলিভিশনে আজ রাত ৯টা ২ মিনিটে রয়েছে সিটকম নাটক 'মায়েদের পাঠশালা'। রোম্য খানের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন সুষমা সরকার। নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে অন্তরালের গল্প বলেছেন তিনি-
প্রথম কথা হচ্ছে, এ ধরনের নাটক আমাদের এখানে হয় না। রেগুলার নাটকে অভিনয় করতে করতে আমাদের একধরনের অভ্যাস তৈরি হয়েছে। পরিচালক যখন আমাকে এ নাটকের কনসেপ্ট জানালেন, বেশ মজা লাগল। চার থেকে পাঁচ মাস আগে উত্তরার একটি বাড়িতে এ নাটকের শুটিং শুরু করি।
সিটকম নাটকের শুটিং শুরু করার আগে প্রচুর সময় ধরে মহড়া করতে হয়। কিন্তু মহড়া করার সময় আমাদের হয়নি। অন্যান্য নাটকে দেখা যায়, আমি শুধু আমার সংলাপগুলো মুখস্থ রাখলেই চলে। কিন্তু এ নাটকে সহশিল্পীর সংলাপও মুখস্থ রাখতে হয়। কারণ তার সংলাপ শুনে ওই অনুযায়ী আমাকে এঙ্প্রেশন দিতে হবে। পুরো নাটকের স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে একধরনের ধারণা রাখতে হয়। পাঁচজন মেয়েকে নিয়ে নাটকের গল্প এগিয়ে যায়। তাদের একজন আকিফা। এ চরিত্রে আমি অভিনয় করছি। মেয়েটা একটু আতেল টাইপের। জীবনের সব কিছু সে সিরিয়াসভাবে দেখতে পছন্দ করে। পোশাক-আশাকে বিশেষ কোনো বৈচিত্র্য নেই। তবে নাটকে আমি সব সময় শাড়ি পরি এবং কপালে বড় টিপ ব্যবহার করছি। পাঁচজন মেয়ে একসঙ্গে থাকলে কী ঘটতে পারে একবার কল্পনা করে দেখুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলত আমাদের আড্ডা। আর নাটকের সংলাপ পড়ে নিজেরাই হাসতে হাসতে মরার অবস্থা হতো। বিশেষ করে শামীমা নাজনিন যখন সংলাপ বলতেন, তখন তো আর কথাই নেই। পরিচালক আমাদের বলতেন, 'প্লিজ আর হাসবেন না। দয়া করে আপনাদের কোনো দুঃখের স্মৃতি মনে করে হাসিটা বন্ধ করুন।' পরিচালক এর পর থেকে আমাদের হাসির জন্য শুটিং বিরতি দিতেন। সাধারণ দর্শক খুব ভালোভাবে নাটকটি গ্রহণ করেছে। শুধু আমরা হাসি না, তারাও হাসতে পারছে।

আবারও প্লেব্যাকে মিলা

নেক দিন পর আবারও প্লেব্যাক করলেন মিলা। তাঁর একক কণ্ঠের এ গানটি থাকছে মনতাজুর রহমান আকবরের 'ভালোবাসার রং' চলচ্চিত্রে। 'হাওয়া লাগে রে এ মনের গভীরে' শিরোনামের এ গানটির কথা, সুর ও সংগীত করেছেন শওকত আলী ইমন।
সম্প্রতি শওকত আলী ইমনের নিজস্ব স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং হয়েছে। মিলা বলেন, 'অনেক দিন পর প্লেব্যাক করে ভালোই লাগছে। ইমন ভাই অনেক যত্ন নিয়ে গানটি তৈরি করেছেন।'
ইমন বলেন, 'এটা চলচ্চিত্রে মিলার জন্য করা আমার চতুর্থ গান।' অনেক দিন ধরেই মিলা তাঁর চতুর্থ একক অ্যালবামের গান তৈরি নিয়ে ব্যস্ত। তবে আগামী ঈদেও অ্যালবামটি বাজারে আসবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঈদের ছবি নিয়ে অনিশ্চয়তা

র এক মাস পরেই কোরবানির ঈদ। এরই মধ্যে ছোট পর্দা থেকে শুরু করে অডিও বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের ব্যস্ততা। ঈদ সামনে রেখে শপিংমলগুলোতেও জমতে শুরু করেছে ভিড়। অথচ চলচ্চিত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সাড়াশব্দ নেই! গত ঈদে যেখানে এক মাস আগে থেকে 'আমার পৃথিবী তুমি', 'একবার বলো ভালোবাসি', 'গরীবের ভাই', 'টাইগার নাম্বার ওয়ান' ছবিগুলো মুক্তি পাওয়া নিয়ে একটি নিশ্চয়তা ছিল, এবার সেখানে মাত্র একটি ছবি!
মতাজুর রহমান আকবরের 'ছোট্ট সংসার' নামের এ ছবিটি সম্প্রতি সেন্সর ছাড়পত্র লাভ করেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অমি বনি কথাচিত্র প্রযোজক সমিতিতেও ছবিটিকে ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছে। ঈদে মুক্তি দেওয়ার জন্য অন্য যেসব ছবির নাম শোনা যাচ্ছে সেগুলো নিয়ে প্রযোজক-প্রদর্শক এমনকি নির্মাতারাও আছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। এ মুহূর্তে ঈদে মুক্তি দেওয়া নিয়ে যে ছবিটি বেশি আলোচিত, তার নাম 'বস নাম্বার ওয়ান'। অথচ বদিউল আলম খোকনের এ ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র তো দূরের কথা, এখনো ডাবিংই শেষ হয়নি। এম বি মানিকের 'এক টাকার দেনমোহর' ছবিরও একই অবস্থা। তবে শাহাদাৎ হোসেন লিটনের 'আদরের জামাই' ও রাজু চৌধুরীর 'প্রিয়া আমার জান' ছবি দুটি সম্প্রতি সেন্সর লাভ করেছে। কিন্তু ছবি দুটির প্রযোজকরা এখনো নীরব। এখনো সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তাঁরা। মোস্তফা কামাল রাজের 'প্রজাপতি' ছবিটির প্রচার শুরু করেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এনটিভি, তারা সব ধরনের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। কিন্তু চাষী নজরুলের 'দেবদাস'? এখনো নাকি বহুল আলোচিত এ ছবিটির ডাবিংই শেষ হয়নি! তাহলে ঈদের মধ্যে ছবিটি কি সেন্সর ছাড়পত্র লাভ করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিতে পারবে?

আরটিভিতে শারদীয় উৎসব

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরটিভি প্রচার করবে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান। ৪ অক্টোবর মহা অষ্টমীর দিন সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমারী পূজা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রয়েছে ছায়াছবি 'বিরহ ব্যথা', বিকেল ৫টায় রয়েছে পূজার বিশেষ সিনেমা আর গান, ৬টায় সংগীতানুষ্ঠান 'বর্ণে বর্ণে রচিত', রাত ১১টা ৩০ মিনিটে রাধাকৃষ্ণের লীলা কীর্তন নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠান 'লীলা মাধুরী'।
এতে কীর্তন পরিবেশন করবেন দুলাল চন্দ্র চক্রবর্তী ও তাঁর দল। ৫ অক্টোবর মহা নবমীর দিন দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রয়েছে ছায়াছবি 'রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত', রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সংগীতানুষ্ঠান 'মা মাটি দেশ', রাত ১১টা ৩০ মিনিটে লাইভ স্টুডিও কনসার্টর্। এতে গান পরিবেশন করবেন চন্দনা মজুমদার। ৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রয়েছে ছায়াছবি 'বিরাজ বউ', ৫টা ৩০ মিনিটে 'আনন্দময়ী উমা', রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সংগীতানুষ্ঠান 'পূজার গান', রাত ১১টা ৩০ মিনিটে লাইভ স্টুডিও কনসার্ট। এতে গান পরিবেশন করবেন শফি মণ্ডল ও আরিফ বাউল।

ভাষার নাটকে বিদেশি সুজানা

ভাষা দিবসের জন্য নির্মিতব্য একটি একক নাটকে অভিনয় করবেন ব্রিটিশ-বাঙালি সুজানা আনসার। নাটকের নাম 'নির্ণয় ন জানি'। কবি আবদুল হাকিমের 'বঙ্গবাণী' কবিতার এ চরণ নিয়ে নাটকটি রচনা করেছেন দাউদ হোসাইন রনি। এটি পরিচালনা করবেন পার্থ সরকার। নাটকের প্রধান চরিত্র মিষ্টি জন্মসূত্রে ব্রিটিশ, কিন্তু মনেপ্রাণে বাঙালি। চরিত্রটির মতো সুজানাও জন্মসূত্রে ব্রিটিশ কিন্তু তার মা-বাবা বাংলাদেশি।
তাই পরিচালক মিষ্টি চরিত্রের জন্য সুজানাকেই বেছে নিয়েছেন। ইন্টারনেটে সুজানা জানান, 'এ নাটকে অভিনয়ের জন্য যখন সময় চাওয়া হবে, তখনই আমি বাংলাদেশে চলে আসব। ভাষা আন্দোলন নিয়ে আমার মধ্যে একধরনের ভালো লাগা কাজ করে। তা ছাড়া গল্পটিও আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।' কিন্তু পরিচালক বলেন, 'নাটকটি চিত্রায়ণের সময় শীতের একটু আমেজ রাখতে চাই। তাই আগামী ডিসেম্বরে শুটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত বছর ২১ ফেব্রুয়ারির আগে নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম নাটকটি। কিন্তু যথাসময়ে পাণ্ডুলিপি হাতে না পাওয়ায় কাজটি তখন করতে পারিনি। এবার বেশ যত্ন নিয়ে কাজটি করতে চাই। নাটকে আরো বেশ কিছু চমকও থাকবে।' সুজানা মূলত ব্রিটিশ কণ্ঠশিল্পী হলেও এর আগে এ দেশের বেশ কয়েকটি একক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত নাটকের মধ্যে 'গ্র্যাজুয়েট', 'ফিফটি ফিফটি' ও 'বরিশাইল্লা মামা' অন্যতম।

সাবিনা ইয়াসমীনের ও কি আজ আসবে

ট-নয় বছর আগে কলকাতার এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সাবিনা ইয়াসমীনের একটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। আর তাই সেই অ্যালবামের গানগুলো নতুন করে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন। চলতি মাসেই লেজার ভিশনের ব্যানারে অ্যালবামটি প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন এই গায়িকা। কলকাতায় যে নামে অ্যালবামটি প্রকাশ হয়েছিল এখন আর সেই নাম থাকছে না। নতুন করে নাম রাখা হয়েছে 'ও কি আজ আসবে'। এতে গান থাকছে ১০টি। সব গানেরই কথা ও সুর করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
গানের শিরোনাম 'রান্না ঘরে মা কাঁদছে', 'ওরে ও পালকিওয়ালা', 'ওরে খোকন সোনা খুকুমণি', 'কে বলে নৌকা ডুবায় নদী', 'প্রতিমা বলে ডাকতে', 'সাঝবেলায় ফিরে এসো ঘরে', 'নাইরে নাই আজ কোনো ভরসা', 'ও প্রাণ বন্ধুরে', 'ও কালা কালা রে' ও 'আমার হৃদয়টাকে মঞ্চ ভেবে'। সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, 'অ্যালবামটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া গানগুলো বাংলাদেশের শ্রোতারাও শোনেননি। এ উদ্যোগের ফলে সবাই গানগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।'
উল্লেখ্য, মাঝে সাবিনা ইয়াসমীন কলকাতায় গিয়েছিলেন স্বামী কবির সুমনের কাছে। ঢাকায় ফেরার দুই দিন পরই (৩০ সেপ্টেম্বর) চলে যান সিঙ্গাপুরে। পূজা উপলক্ষে শনিবার সেখানকার একটি অনুষ্ঠানে গান করেন তিনি। দুই-তিন দিনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

সরকারি দলের প্রতি অবিশ্বাস থেকেই পক্ষে বিএনপি

দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাসের কারণেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি এসেছিল। বিরোধী দল বিএনপির নেতারা মনে করেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর দেশের মানুষের অবিশ্বাস আরো বাড়ছে। সংসদের বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে তারা অনড়।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। এটা দেশবাসী ভালো চোখে নেয়নি। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দাবি করছে দেশের মানুষ। বিএনপিরও দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন কখনো দেশে কিংবা বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কেন প্রয়োজন জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাংলাদেশে বড় দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ_এতে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ এই বড় দুটি দলের মধ্যে আস্থাহীনতার অভাব রয়েছে। একে অন্যকে বিশ্বাস করছে না। আর এই আস্থাহীনতার কারণেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির অধীনে নির্বাচন দরকার।'
ড. মোশাররফ বলেন, 'তিয়াত্তর সালে আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে নির্বাচন করে ২৯৫টির মতো আসন পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে পরে বাকশাল গঠন করল। মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওপর সাধারণ মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ হবে_এমনটি মনে করে না কেউ। ক্ষমতাসীন দল সেই আস্থা অর্জন করতে পারেনি। পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কিছু নেই।'
বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতার কোনো পথ আছে কি না, জানতে চাইলে সরাসরি জবাব না দিয়ে মোশাররফ বলেন, 'আইন করে, হাইকোর্টের ভয় দেখিয়ে রাজনীতি হয় না। রাজনীতির মাধ্যমেই রাজনীতির সব সমস্যার সমাধান করতে হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার মন খোলাসা করে কোনো সমস্যার সমাধান চায় না। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা গায়ের জোরে ও ধমক দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে চায়। এটা কখনো সম্ভব নয়।'
নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে সরকারের আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. মোশাররফ বলেন, 'বড় দুই দলের মধ্যে যে দূরত্ব বাড়ছে, তাতে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করলেও আওয়ামী লীগকে কেউ বিশ্বাস করবে না।' তিনি আরো বলেন, 'ভারতের নির্বাচন কমিশন অনেক বেশি শক্তিশালী। ভারতের মতো অবস্থায় যেতে আরো ২০-৩০ বছর সময় লাগবে। আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড বলতে কিছু নেই। তাই কমিশনকে শক্তিশালী করলেও কোনো লাভ হবে না। কমিশন সব সময় সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কার্যক্রম চালায়। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং থানা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওরা থাকেন নির্বাচনী দায়িত্বে। তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশ আসে, তা বাস্তবায়ন করতে সচেষ্ট থাকেন।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এ জন্যই সংবিধান সংশোধন করে তড়িঘড়ি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার।'
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে যে অবস্থা হয়েছে তার জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ। তাই হঠাৎ আওয়ামী লীগের মাথায় কূটকৌশল এল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে হবে। উচ্চ আদালতের রায়েও বলা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি অন্তত আরো দুটি টার্ম থাকতে পারে। সংসদে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। আওয়ামী লীগ এ নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা করেনি। একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। এখন তারা নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করে কমিশনের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলছে।'
এক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের কোনো আস্থা ও বিশ্বাস নেই। তাই বিএনপি কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না। দেশের মানুষও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।'

জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

কাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জড়িত থাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। এখন শুরু হবে বিচার। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ ঠিক করেছে আগামী ৩০ অক্টোবর। সাঈদীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকালে কারাগার থেকে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর সাঈদীই হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তি যার যুদ্ধাপরাধর বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। অবশ্য সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলামের দাবি, অভিযোগ গঠনের এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বায়বীয় অভিযোগের ভিত্তিতে।
গণহত্যা, লুটপাট, হিন্দু মেয়েদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া, পাকিস্তান ক্যাম্প স্থাপনে সহায়তা করা, ধর্ষণে সহায়তা করা, প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা এমন মোট ৩১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে সাঈদীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ শুনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাঈদী।
অভিযোগ গঠনের আগে এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি শেষ করে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সাঈদীর পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তারপর ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষ করলে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি খন্ডনের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী সৈয়দ হায়দার আলী শুনানিতে অংশ নেন। ২৭ সেপ্টেম্বর সৈয়দ হায়দার আলীর যুক্তি খন্ডন শেষ হলে তার যুক্তি খন্ডনের জন্য শুনানি করেন তাজুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদীকে। চলতি বছর ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়

তিক্ত অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক কারণে

মূলত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া বিগত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের 'তিক্ত' অভিজ্ঞতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁরা বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বর্তমানে দলের এ কঠোর অবস্থান। সংসদে গিয়ে বিএনপি বিকল্প প্রস্তাব দিলে ত্রুটিগুলো সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার সুযোগ ছিল।
আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বর্তমানে সব দলের আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তবে বিএনপি নতুন কিছু চাইলে তাদেরকেই আগে শর্তমুক্ত আলোচনায় আসতে হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থানের মূল কারণ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও তিনি মত দেন। তিনি বলেন, 'সংবিধান সংশোধনের সময় বিএনপি আলোচনায় এলে এবং প্রস্তাব দিলে ভিন্ন গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত।'
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ওবায়দুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় এবং বিগত তিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সংসদ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিএনপি সংসদে গিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিলে ত্রুটিমুক্ত করে এই ব্যবস্থা বহাল রাখার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন তিনি।
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, 'আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে মত দেওয়ার পরও আদালত এই ব্যবস্থাকে সাংঘর্ষিক বলে রায় দিয়েছেন এবং এটাকে বাতিল করেছেন। রায়ে আগামী দুই টার্মের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে পরামর্শ দিলেও বিচারপতিদের এই ব্যবস্থার সঙ্গে না জড়ানোর এবং সংসদকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান রেখে সংবিধান সংশোধন করেছে।'
আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল হলেও বিগত তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা কারণে সংসদ এই ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই প্রধান দল যে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। ইউসুফ হোসেন বলেন, 'প্রয়োজনটা বিরোধী দলের হওয়ায় তাদেরকেই শর্তমুক্ত আলোচনায় আসতে হবে এবং এর মাধ্যমে সমাধান আসবেই।'
অন্যদিকে চিরস্থায়ীভাবে অনির্বাচিত লোকদের দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। এক-এগারোর সরকারের আমলে রাজনীতিবিদদের নির্যাতন এবং দুই নেত্রীর কারাবরণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, 'তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করলেও সেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদের কথা বলা হয়েছিল।' তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের অভিজ্ঞতার পর এই ব্যবস্থা বহাল রাখার সুযোগ নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, 'সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে ছিল। সেই সময় বিএনপি বিকল্প প্রস্তাব দিলে অন্য রকম কিছু করা যেত।'
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আলোচনায় বিএনপি অংশ নিলে এবং স্বাধীন কমিশন গঠিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে হবিগঞ্জের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতো নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা কতটা সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওবায়দুল কাদের।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই গত ৩০ জুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্ত করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন বিল পাস হয়। এই বিল পাস হওয়ার পরই তত্ত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেয় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

সব কমিটিতেই স্বজনরা

য়মনসিংহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে এক পরিবারের সদস্যই রয়েছেন ২১ জন। পরিবারটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের কমিটির বিভিন্ন পদ দখল করেছেন এমপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দুর্নীতির পথ নিষ্কণ্টক করতেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবারের সদস্যদের বসানো হয়েছে। এ কারণে দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে দলের কর্মকাণ্ডও স্তিমিত হয়ে পড়েছে সদর এলাকায়।
জানা যায়, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মতিউর রহমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি চারটি কলেজের পরিচালনা পর্ষদেরও সভাপতি। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমীর (স্কুল ও কলেজ) অধ্যক্ষ তিনি নিজে।
সংসদ সদস্যদের স্ত্রী নুরুন্নাহার শেফালী জেলা মহিলা লীগের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী।
এমপিপুত্র মুহিতউর রহমান শান্ত ময়মনসিংহ (বেসরকারি) বিজ্ঞান কলেজের চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের পরিচালক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমীর পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য। এমপির চাচা আবদুস সালামকে দেওয়া হয়েছে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ।
বর্তমান সরকার আমলে অনেকটা জোর করে ময়মনসিংহ মোটর মালিক সমিতির সভাপতি হয়েছেন এমপির ভাই মমতাজ উদ্দিন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছাড়াও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটিতেও মমতাজ উদ্দিনকে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে।
এমপির ভাই আফাজ উদ্দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোতোয়ালি থানা শাখার সভাপতি। তিনি সম্প্রতি আকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের আমলে হাজি জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদেরও সভাপতি তিনি।
এমপির চাচাতো ভাই আলম জেলা শ্রমিক লীগের নেতা ও টেম্পো মালিক সমিতির সভাপতি। আরেক চাচাতো ভাই আজহারুল ইসলাম জেলা যুবলীগের সহসভাপতি। তিনি মুসলিম বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদেরও সভাপতি। ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাট বালুমহালের নিয়ন্ত্রণও তাঁর হাতে।
এমপির আরেক চাচাতো ভাই গোলাম সারোয়ার জেলা যুবলীগের সভাপতি। তাঁকে ময়মনসিংহ মহিলা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে কয়েক মাস আগে বসানো হয়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমী, ময়মনসিংহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং জেলা ডায়াবেটিক সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। এমপির নিকটাত্মীয় মোশাররফ হোসেন কোতোয়ালি থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়েরও উপাধ্যক্ষ।
সংসদ সদস্য মতিউর রহমান ময়মনসিংহ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার পর গোলাম সারোয়ার ও মোশাররফ হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
এ ছাড়া এমপির ভাগ্নে আমিনুল ইসলাম তারাকে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এমপির মামাশ্বশুর হেলাল উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ। সম্প্রতি এমপি তাঁর মামাশ্বশুরের ৩২ বছর বয়সী বেকার ছেলে রফিক উদ্দিন রুবেলকে দাপুনিয়া ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় পদে পারিবারিক সদস্যদের বসানো প্রসঙ্গে মতিউর রহমান দাবি করেন, 'আমাদের বংশের লোকজন সবাই রাজনীতি করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেন। ফলে দলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে তাঁরা যোগ্যতা দিয়ে নির্বাচিত হয়েই এসেছেন।'