Tuesday, July 22, 2014

আলিয়া ভাটের প্রথম প্রেম শহীদ কাপুর!

হাজারো পুরুষের হৃদয় হরণকারী বলিউডের মিষ্টি চেহারার অধিকারিণী এই তারকার হৃদয়ে কে বসবাস করেন? এক কোথায় উত্তর ভারুন ধাওয়ান এলেও, প্রকৃত উত্তরটি কিন্তু আলিয়া নিজেই দিয়ে দিলেন। তবে ভারুন না হলে আলিয়ার হৃদয়ের পুরুষটি কে?

বলিউডে নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়িকার এক নম্বর আসনটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আলিয়া ভাট। আর সেই সুবাদে একে একে ঝুলিতে আসতে শুরু করেছে বলিউডের প্রতিষ্ঠিত নায়কদের বিপরীতে সিনেমায় কাজ করার অফার। আর এখানে থেকেই শুরু। জানা যায় আলিয়া ভাট শহীদ কাপুরের বিপরীতে ‘শান্দার’ সিনেমাতে অভিনয় করতে চলেছেন। আর এই সুযোগটি পেয়ে আলিয়া তার মনের কথা জানিয়ে দিলেন এই চার্মিং হিরোকে।
আলিয়া জানান, আলিয়ার জীবনে প্রথম প্রেমের ছোঁয়া নিয়ে এসেছিলেন যে পুরুষটি তিনি আর কেউ নন শহীদ কাপুর। মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘ইশক ভিষক’ সিনেমায় শহীদকে প্রথম দেখেই ক্রাশ খান এই আলিয়া।
আলিয়া বলেন, আমি শহীদ কাপুরের অনেক বড় ভক্ত। আমি মাত্র ১১ বছর বয়সে শহীদের ‘ইশক ভিষক’ সিনেমাটি দেখতে Gaiety Galaxy সিনেমা হলে যাই । আর প্রথম দেখতেই ভালো লেগে যায় শহীদ কাপুরকে। আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। আর বাল্যকালের ক্রাশের সাথে অনস্ক্রিন শেয়ার করতে পারব ভেবেই ভালো লাগছে।
তবে ক্যারিয়ারের শুরু যেখানে ভারুন- সিদ্ধারথের মতো সমবয়সী অভিনেতার সাথে সেখানে শহীদের মতো তারকার সাথে অভিনয় করতে অসুবিধার সম্মুখীন হবেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে আলিয়া বলেন, আমি এমনটা মনে করি না। শহীদ কাপুর আমার কাছে অন্যান্য সহকর্মী ভারুন-সিদ্ধারতের মতোই। আর আপনারা ভুলে যাচ্ছে আমি ইতোমধ্যেই আমার থেকে বয়সে বড় অভিনেতা রণদীপ হুড্ডার সাথে অভিনয় করেছি হাইওয়ে সিনেমাটিতে।

ফটোগ্রাফারের প্রেমে প্রভা!

কিছুদিন ধরেই মিলন নামে একজন ফটোগ্রাফারের চারপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে। পেশাগত কারণে একটি কোম্পানির কর্মচারীদের বার্ষিক পিকনিকে ছবি তোলার দায়িত্ব পায় সেই ফটোগ্রাফার। সেই সূত্রে ওই কোম্পানিতে কর্মরত প্রভার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানেই তাদের ভালো লাগা শুরু হয়। কিন্তু কেউই প্রকাশ করেন না।

কিন্তু ফোনালাপ, সাক্ষাতে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল তাদের। জানা গেছে এরই মধ্যে প্রভার সঙ্গে সেই ফটোগ্রাফারের প্রেম বিনিময় হয়ে গেছে। তাহলে কি এই ছেলেটিই তার মনের মানুষ?

তবে ছেলেটি প্রভার মনের মানুষ হোক আর যাই হোক। এটি কিন্তু তার বাস্তব জীবনের গল্প নয়। নিজাম উদ্দিন লস্করের রচনা ও হারুন-অর-রশীদের পরিচালনায় ‘মনের মানুষ’ নামের একটি নাটকে এমনই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে প্রভা বলেন, "নাটকটির গল্প বেশ সুন্দর। আমি সাধারণত এমন রোমান্টিক ঘরানার গল্পের নাটকে অভিনয় করতে পছন্দ করি। দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস।" এতে ফটোগ্রাফার মিলনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা। নাটকটি একুশে টেলিভিশনের ঈদ অনুষ্ঠানমালায় প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানিয়েছেন।

‘কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়’ -সাক্ষাত্কারে নাছিমা আক্তার by মানসুরা হোসাইন

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘গার্ল সামিট’ বা কন্যাশিশু সম্মেলন। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য বাল্যবিবাহ ও শিশুদের জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধ করা এবং বিভিন্ন দেশে মেয়েদের সুরক্ষার নামে ফিমেল জেনিটাল মিউটিল্যাশন (লিঙ্গ কর্তন) বন্ধ করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লিঙ্গ কর্তনের বিষয়টি তেমন সমস্যা না হলেও বাল্যবিবাহ একটি চরম সমস্যা।

>>ছবি জুমের জন্য ক্লিক>>
বাল্যবিবাহ পরিস্থিতিসহ দেশের কন্যাশিশুরা কেমন আছে, তা জানতে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার ২০০২ সাল থেকে এ ফোরাম কাজ করছে। বর্তমানে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকসহ ১৭২টি সংগঠন এ ফোরামের সঙ্গে যুক্ত।

প্রথম আলো: কেন এই ফোরাম বা মোর্চা গঠন?
নাছিমা আক্তার: ২০০০ সালের আগে সার্ক কন্যাশিশু বর্ষ, কন্যাশিশু দশকসহ বিভিন্ন ধাপ পার করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন  সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কন্যাশিশুর সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন অঙ্গীকারও করেছে। তবে সেসবের বাস্তবায়ন ছিল হতাশাজনক। ২০০০ সালে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারকে কন্যাশিশু দিবস পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ফোরামের যাত্রা। দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট সচিবালয় হিসেবে কাজ করছে। ফোরামের কর্মীদেরও সহায়তা করছে এ সচিবালয়। এ ছাড়া এ ফোরাম আন্তর্জাতিক মোর্চা ‘গার্লস নট ব্রাইড’র সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

প্রথম আলো: ফোরামের ফলে দেশের কন্যাশিশুদের অবস্থার কী পরিবর্তন হয়েছে?
নাছিমা আক্তার: ফোরামের উদ্যোগে সরকার ৩০ সেপ্টেম্বরকে কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে দিবসটি ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের মধ্যে দিবসটিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ দিবস পালনের জন্য সরকারের বাজেটও থাকে না। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ধারণা নিয়ে প্রথম ফোরামের কাজ শুরু করে। তবে বর্তমানে ইউনিসেফের সহায়তায় সরকার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ ধরনের ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে তার পরও বলতে হয়, কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

প্রথম আলো : শিক্ষা ক্ষেত্রে কন্যাশিশুর অংশগ্রহণ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আইন বা নীতির মধ্যেই কন্যাশিশুরা আবদ্ধ বললে কি খুব ভুল বলা হবে?
নাছিমা আক্তার: জাতীয় শিশুনীতি বা নারীনীতির কথাগুলো কাগজে-কলমেই আবদ্ধ হয়ে আছে। এগুলো বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নেয়নি। সরকার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে, তবে আইনটি সম্পর্কে প্রচারের ব্যবস্থা না নেওয়ায় তা অনেকেই জানে না। এ ধরনের নির্যাতনের শিকার শিশু-কিশোরীরা অভিযোগ জানায়। অনেক সময় আমি নিজেও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। কেননা তাদের সহায়তার জন্য আসলেই কোথায় বা কার কাছে যাওয়া প্রয়োজন, তা বুঝতে পারি না। যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৮০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমিটি গঠন করেনি। তাই শুধু আইন বা নীতি করে ফেলে রাখলেই হবে না, তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা সরকারকে দেখতে হবে।

প্রথম আলো : বাল্যবিবাহ বন্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে কিছু বলেন।
নাছিমা আক্তার: বাল্যবিবাহ দেশের জন্য ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাল্যবিবাহের হারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। তবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। প্রায় সাত-আট মাস ধরে সরকার ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। কয়েক দফায় বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুপারিশ জমা দেওয়া হলেও আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার বাল্যবিবাহ বন্ধে নিরুত্সাহিত হন। তাঁরা বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখে উল্টো সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করলে ভবিষ্যতে ভোট ব্যাংক কমে যাবে বলেও মনে করেন তাঁরা।  এ ছাড়া কাজিদের জবাবদিহি কারও কাছে সুস্পষ্ট নয়।

প্রথম আলো: গৃহশ্রমিক হিসেবে আদুরিদের নির্যাতন কমেনি। এ ক্ষেত্রে সরকার আসলে কতটা আন্তরিক?
নাছিমা আক্তার: পরিবারে আর্থিক অনটন দেখা দিলে প্রথমেই বাড়ির মেয়েটিকে অন্যের বাড়িতে কাজে পাঠিয়ে দেন অভিভাবকেরা। গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে পারছে না সরকার।

প্রথম আলো: পথশিশু ও দরিদ্র শিশুদের মধ্যে কন্যাশিশুরা সব থেকে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। এ বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
নাছিমা আক্তার: রাজধানীর ফার্মগেটে এক বিকলাঙ্গ কন্যাশিশু দিনের বেলায় ভিক্ষা করে। রাতে তার অভিভাবকদের সহায়তায় তাকে বিভিন্ন সিনেমা হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সে বাধ্য হয় অন্যদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনেক মেয়ে শিশু পানি বিক্রি করে। রাতের বেলা তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এটি যে নির্যাতন, তা-ও অনেক শিশু বুঝতে পারে না।
বেসরকারি সংগঠন উন্নয়ন অন্বেষণের ২০১২ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পথশিশুদের ১৯ শতাংশই যৌনকর্ম করতে বাধ্য হয়। এই শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের কী ব্যবস্থা আছে, তা দৃশ্যমান নয়। পথশিশুদের মধ্যে কন্যাশিশুরা মাদকেও আসক্ত হয়ে পড়ছে।
কন্যাশিশু সম্মেলনে সরকার বিভিন্ন অঙ্গীকার করবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেবে। দেশে ফেরার পর সেসব অঙ্গীকার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
নাছিমা আক্তার: প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ।

ইসরায়েলের অব্যাহত একতরফা বর্বর হামলায় গাজায় নিহত প্রায় ৬০০

ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকায় আজ মঙ্গলবার পঞ্চদশ দিনের ইসরায়েলের প্রায় একতরফা বর্বর হামলা অব্যাহত আছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ছয় শর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

>>গাজায় হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। ছবি: এএফপি
বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে দোহা ও কায়রোতে আলোচনা চলছে।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। গাজায় হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেরি বলেছেন, গাজায় সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় চার কোটি সাত লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় গতকাল সোমবার ইসরায়েলি হামলায় ৫৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন শিশু রয়েছে। এ নিয়ে ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় ৫৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন হাজার ৬০০ জন। হতাহত ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, আজ সকালে তাদের আরও দুজন সেনা নিহত হয়েছে। এ নিয়ে ইসরায়েলের ২৭ জন সেনা এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর ও গাজা ২০০৭ সালের আগস্টে চলে যায় দুটি দলের নিয়ন্ত্রণে। সেই থেকে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ও খালেদ মেশালের নেতৃত্বে হামাস গাজা শাসন করছিল। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই দলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। কিন্তু হামাস-ফাতাহর চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। তাদের মতে, হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন। হামাস-ফাতাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার হলে সেই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ইসরায়েল।
১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।

‘আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও’ -ফিলিস্তিনি শিশুর আর্তচিৎকার

আমি আমার বাবাকে চাই, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দাও-  চিকিৎসাকর্মীর শার্ট ধরে এভাবেই আর্তচিৎকার করে ওঠে ফিলিস্তিনের এক শিশু। শরীর রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত। ইসরাইলি গোলাবারুদের ক্ষত তাকে কাবু করেনি, তাকে কাঁদিয়েছে পিতা হারানোর বেদনা। ইসরাইল আর হামাস দ্বন্দ্বের বাস্তব দৃশ্য ফুটে উঠেছে গাজার হাসপাতালে ফিলিস্তিনি ওই শিশুর মর্মস্পর্শী ছবিতে। শিশুটির পরনে কোন শার্ট নেই। সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন। স্প্লিন্টারে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে শরীর। সে সব ক্ষত দিয়ে রক্ত ঝরছে। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠছে সে। কিন্তু সে ব্যথার চেয়ে তার পিতার ভালবাসা অনেক বড়। তাই হাসপাতালের এক চিকিৎসাকর্মী বাচ্চাটিকে শুইয়ে দিতে চেষ্টা করার সময় তার শার্ট আঁকড়ে ধরে চিৎকার করে ওঠে শিশুটি। ফিলিস্তিনি সংবাদ মাধ্যম ইলেক্ট্রনিক ইনতিফাদা জানায়, ছবিটি গত বৃহস্পতিবার গাজার আল শিফা হাসপাতাল থেকে নেয়া হয়েছে। একই খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল ও ফেয়ারফ্যাক্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই পরিবারের ৪ ভাইবোনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই শিশুটি তাদের একজন। বাকিদের দু’জনের বয়স মাত্র ৩ বছর। গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি উন্মত্ততা অব্যাহত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইসরাইলের নৃশংসতায় সেখানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০৮। লাশের স্তূপের সংখ্যা আরও উচ্চতায় বাড়ছে। বেড়ে চলেছে আহতের সংখ্যাও। হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। যদি কিছু প্রাণ বাঁচানো যায়- সে জন্য চলছে তাদের প্রাণান্ত চেষ্টা। এক গাজা নিবাসী যথার্থই বলেছেন, নরকের দরজা খুলে গেছে। এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ক্রমবর্ধমান বেসামরিক লোকের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক জরুরি বৈঠকের পর সংস্থাটি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায়। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন মধ্যপ্রাচ্যে তার সফরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করছেন। গতকাল দিনশেষে তার কায়রো পৌঁছানোর কথা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি পুনরায় মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকে দৃশ্যত কোন কার্যকর চাপ নেই ইসরাইলের ওপর। ইসরাইল একটি রাষ্ট্র। সে একদিকে। সারা বিশ্ব অন্যদিকে। নির্বিচারে পবিত্র রমজানে গাজায় মুসলমানদের ওপর যে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে তা যে কোন মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এক ইসরাইল রাষ্ট্র এত বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছে, আর এ সময়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করেই কি দায় সারতে চাইছে- এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে। তাছাড়া আরব বিশ্ব কিভাবে এত শিশুর প্রাণহানি সহ্য করছে! হামাসের ‘রকেট ছোড়া’র জবাবে অকাতরে তারা শিশু ও নারীদের হত্যা করে চলেছে। গাজার হাসপাতালগুলোতে নারী ও শিশুদের লাশ, আহত মানুষে ঠাসা। একই বিছানায় আহত তিন-চারজনকে সেবা দেয়া হচ্ছে। নিহত শিশুর লাশ বুকে নিয়ে আর্তচিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলছেন পিতা-মাতা। আবার কোন পরিবার চিরদিনের জন্য একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের উত্তরসূরি বলতে কেউ বেঁচে নেই। ইসরাইলের গোলার আঘাতে থর থর করে কেঁপে উঠছে গাজার মাটি। প্রাণভয়ে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ছুটছেন দূরে। একদিকে আকাশে ইসরাইলি হামলার ফলে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া, পিছনে দাউ দাউ করে জ্বলছে এপার্টমেন্ট। আর তার পাশ দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে মানুষ। যার যা আছে, যে যা পারেন তাই নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন কোন নিরাপদ আশ্রয়ে। কোন বয়োবৃদ্ধ মাকে তার সন্তান হুইল চেয়ারে বসিয়ে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। কোথাও প্রাইভেট কারের ব্যাক কভারের ভিতর ঠেসে ঠেসে শিশু ও নারীদের বসিয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ এক বিভীষিকা। বিশ্ব শুধু দেখছেই! বিলম্বে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, গাজার আল-আকসা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে।

রোজার কাজা কাফফারা

রমজান মাসে যারা অসুস্থ বা পীড়িত, অতিশয় বৃদ্ধ, যাদের দৈহিক ভীষণ দুর্বলতার কারণে রোজা পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয় এবং যারা ভ্রমণে থাকার কারণে সিয়াম পালন করতে পারে না, তাদের জন্য রোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদ্ইয়া ইত্যাদি বদলা ব্যবস্থা স্থির করে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ‘ফিদ্ইয়া’ অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। ‘যদি তোমরা উপলব্ধি করতে তবে বুঝতে সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৪) যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা হচ্ছে; ১. মুসাফির অবস্থায়। ২. রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে। ৩. মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে। ৪. এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে। ৫. শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে। ৬. কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে। ৭. মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়। আর যেসব কারণ রোজার কাজা ও কাফ্ফারা দুটোই ওয়াজিব হয় তা হলো জেনে-শুনে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। এমতাবস্থায় কাজা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয়।
রোজার কাজা ও কাফফারা: শরিয়তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে। ১. একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ২. যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খানা দেবে। অপর দিকে কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খানা খাওয়াতে হবে। ৩. গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে। রোজার ফিদ্ইয়া: কারও পক্ষে রোজা রাখা দুঃসাধ্য হলে একটা রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে অন্নদান করা কর্তব্য। শরিয়ত মোতাবেক রোজা পালনে অক্ষম বা সামর্থ্যহীন হলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে ‘সাদাকাতুল ফিতর’-এর সমপরিমাণ গম বা তার মূল্য গরিবদের দান করাই হলো রোজার ‘ফিদ্ইয়া’ তথা বিনিময় বা মুক্তিপণ। অতিশয় বৃদ্ধ বা গুরুতর রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অথবা রোজা রাখলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তারা রোজার বদলে ফিদ্ইয়া আদায় করবে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো শক্তি ও সাহস পায়, তাহলে তার আগের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তখন আগে আদায়কৃত ফিদ্ইয়া সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি ফিদ্ইয়া বা মুক্তিপণ আদায় না করে মারা গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ফিদ্ইয়া আদায় করা কর্তব্য; যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যায়। অন্যথায় আদায় করা মুস্তাহাব। উল্লেখ্য, প্রতিটি রোজার ফিদ্ইয়া হলো একটি সাদাকাতুল ফিতর অর্থাৎ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম আটা বা তার সমমূল্য ৬৫ টাকা দরিদ্র এতিম বা মিসকিনকে দান করা অথবা একজন ফকির বা গরিবকে দুই বেলা পেট পুরে খাওয়ানো। অনেক জায়গায় দেখা যায় গরিব লোক কোনো ধনীর বদলি রোজা পালন করে দিচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই একজনের রোজা অন্যজন বদলি হিসেবে পালন করতে পারবে না। কেউ কারও রোজা বদলি হিসেবে রাখলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ হবে না। রোজার ফিদ্ইয়া গুনাহমাফির মাধ্যমে মানুষকে নিষ্কলুষ ও নির্ভেজাল করে। বিনা কারণে যে ব্যক্তি একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ওই একটি রোজা পালনের কারণে পেত। এ সম্পর্কে ফিকহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয়। এ কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটাই কেবল আদায় হয়। আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানের রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে কঠিন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীদের ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাহে রমজানের এক দিনে রোজা কোনো ওজর বা অসুস্থতা ব্যতীত ভঙ্গ করবে, সারা জীবনের রোজাও এর ক্ষতিপূরণ হবে না, যদি সে সারা জীবনও রোজা রাখে।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ) ইচ্ছাকৃত রোজা না রাখলে যে কঠিন শাস্তির হুকুম এসেছে, সেই ব্যক্তি ইহকালে তা না পেলেও পরকালে জাহান্নামের দাউ দাউ অগ্নিকুণ্ডে তার শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ; তাই রমজান মাসে রোজার সংখ্যা পূরণ করাই অধিকতর শ্রেয় ও কল্যাণকর।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক।
dr.munimkhan@yahoo.com

প্রিয়াঙ্কাপুত্রকে দত্তক নিচ্ছেন রাহুল?

রাইহান ভদ্র
বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছেলে রাইহান ভদ্রকে দত্তক নিতে যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি রাইহানের নামের শেষে গান্ধী যোগ করতে চান। রবার্ট ভদ্রকে বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর নামের শেষে ভদ্র যোগ করেন। রাহুল গান্ধী চাইছেন, তাঁর মা সোনিয়া গান্ধীর পরামর্শেই রাইহানকে তাঁদের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিতে। এতে প্রিয়াঙ্কার সম্মতি আছে। রবার্ট ভদ্রও সবুজ সংকেত দিয়েছেন। ১৪ বছরের এই রাইহানের সঙ্গে দারুণ ভাব মামা রাহুল গান্ধীর। মামাকেও দারুণ পছন্দ তার। রাইহান এখন দেরাদুনে পড়াশোনা করছে। কিছুদিন আগে সে নিজের নামের শেষে ‘গান্ধী’ লিখতে শুরু করেছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের বন্ধুরা সমালোচনা শুরু করলে সে ‘গান্ধী’ লেখা বন্ধ করে দেয়। প্রায় এক বছর আগে ভয়াবহ বন্যার পর উত্তরাখন্ডের কেদারনাথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাহুল। তখন তিনি ভাগনে রাইহানকে দেখতে তার বিদ্যালয়ে যান। বিদ্যালয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে রয়েছে মামা রাহুলের নাম।
রাহুল বিয়ে করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর বয়স এখন ৪৪ বছর। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত বিয়ে না-ও করতে পারেন এসব ভেবে গান্ধী পরিবারের বংশধরের তালিকায় নিতে চান রাইহানকে। একইভাবে কংগ্রেসের রাজনীতিতে রাহুল বোন প্রিয়াঙ্কা ভদ্রকেও আনতে চান। গত লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীরা যেভাবে রাহুলের সমালোচনা করেছেন, তাতে ক্ষুব্ধ প্রিয়াঙ্কা। এর জবাব দিতেই প্রিয়াঙ্কা মাঠে নামতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলের খবর। প্রিয়াঙ্কার বাবা রাজীব গান্ধী সব সময় মনে করতেন, তাঁর মেয়ের মধ্যে দৃঢ় রাজনৈতিক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। দাদি ইন্দিরা গান্ধীও মৃত্যুর ১০ দিন আগে তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাখনলাল ফতেদারকে বলেছিলেন, তাঁর নাতনি এক দিন দল ও দেশের হাল ধরবে।

শাজাইয়া এখন মৃত্যুপুরী

এএফপি
গাজার পূর্বাঞ্চলের শাজাইয়া শহরের পথেঘাটে পড়ে আছে নারী-শিশুর লাশ। পুড়ে যাওয়া লাশ থেকে গন্ধ ছড়াচ্ছে। গত রোববার রাতে ওই এলাকায় রক্তাক্ত অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত চলা ওই অভিযানে শুধু শাজাইয়া শহরে ৭২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। খবর আল-জাজিরা ও এএফপির। কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংকের গোলা ও বিমান থেকে ফেলা বোমায় প্রকম্পিত হয়ে উঠছে পুরো শাজাইয়া। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তাঘাটে পড়ে রয়েছে নিহত নারী-শিশুর লাশ। ছিন্নভিন্ন দেহের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে। শাজাইয়া থেকে পালিয়ে আসা এক নারী বলেন, ‘রাতেই বাড়ি ছাড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্ধকার বলে বের হওয়ার সাহস পাইনি। পুরো শহরে ভুতুড়ে পরিবেশ...। শহরজুড়েই লাশের গন্ধ আর বোমা-গুলির ভীতিকর আওয়াজ।’ ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিহত নারীদের অনেকেই জীবন বাঁচাতে প্রিয় সন্তানকে বুকে নিয়ে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি অভিযান তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ফিলিস্তিন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এক বিবৃতিতে বলেছে, শাজাইয়া থেকে যারা সরে যেতে পারেনি, ইসরায়েলি অভিযানে তারা মূলত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা অনিশ্চিত। শাজাইয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এলাকা থেকে পালিয়ে এসে রাস্তায় ট্যাক্সি খুঁজছিলেন ইবতেসাম বাতনিজি। তাঁকে ঘিরে আছে তিনটি শিশু। কোলেও আছে একটি। ইবতেসাম বলেন, ‘কোথায় যাব, জানি না। শাজাইয়া শহরের প্রতিটি এলাকায় নির্বিচার হামলা চালানো হচ্ছে।’ গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন স্থান থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জাতিসংঘের আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন। এখন সেখানেও আর জায়গা নেই। তাই অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন গাজার আল-শিফা হাসপাতালের সামনে চত্বরে। ওই চত্বরে ঘাসের ওপর বসে আছেন নাদা আবু আমর নামের এক নারী। পাশে খেলছে তাঁর দুই শিশু। নাদা বলেন, ‘এটাই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বলে মনে হচ্ছে। ইসরায়েলি বোমায় আমাদের পাশের বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নিই।’ আতাইত আইয়াদ তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন ওই চত্বরে। তিনি বলেন, ‘...আমরা হামাসের সদস্য নই, আমরা হামলাকারীও নই, তার পরও ইসরায়েল আমাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ফিরে গিয়ে বাড়িটি অক্ষত অবস্থায় পাব, সেই আশা করতে পারছি না।’ জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সির (ইউএনআরডব্লিউএ) নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন খারিয়া আলা মুকাইদ। ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১২ সালে ইসরায়েলি হামলার সময়ও তিনি জাতিসংঘের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। খারিয়া বলেন, ‘এবারের পরিস্থিতি একেবারেই অন্য রকম। আগের দুবার শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার দু-এক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার কবে যুদ্ধ বন্ধ হবে, তা কেউ জানে না।’ ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র আদনান আবু হাসানা জানান, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলার সময়ও এত বেশি মানুষ শিবিরে আশ্রয় নেয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী রোববার রাতে শাজাইয়া ছাড়াও খান ইউনিস, রাফাসহ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। খান ইউনিস ও রাফায় হামলায় অন্তত ২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রাফায় হামলায় একটি চারতলা ভবন বিধ্বস্ত হলে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হামাসসহ ফিলিস্তিনি কট্টরপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে শাজাইয়ায়। এ কারণেই এখানে স্থল অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ৭ জুলাই থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে সোমবার পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। ‘শাজাইয়া হামাসের রকেটের ঘাঁটি,: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শাজাইয়ায় রক্তাক্ত অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, শাজাইয়া শহর ফিলিস্তিনি কট্টরপন্থী সংগঠন হামাসের মজুত করা রকেটের ঘাঁটি। নেতানিয়াহু বিবিসির আরবি বিভাগের সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হামাসসহ ফিলিস্তিনি কট্টরপন্থীদের অস্ত্র মজুত রাখা সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করতে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু ওই অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের ব্যাপক গোলাগুলির মধ্যে পড়ে।জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালানোর পক্ষে সাফাই গেয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ওই ধরনের এলাকায় ঢোকা ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর আর কোনো উপায় ছিল না। তবে ওই অভিযানের আগেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

রাজ্যে রাজ্যে নাজুক অবস্থা কংগ্রেসের

রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের হাল ক্রমে খারাপ হচ্ছে। আসাম ও মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের দাবিতে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন। জম্মু-কাশ্মীরে জোট ভেঙে কংগ্রেস বেরিয়ে আসার পর সেখানে দল ছাড়লেন সাবেক সাংসদ। এ অবস্থায় চলতি বছরের শেষে মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোটে কংগ্রেসের হাল কী হবে, সে নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠে গেছে। আসামে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের বিরুদ্ধে দলের একাংশের ক্ষোভ অনেক দিনের। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, দলের ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে তাঁর পক্ষে রয়েছেন অন্তত ৩২ জন। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তনের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে সুর চড়ালেও হাইকমান্ড গগৈকে সরাতে রাজি হয়নি। গতকাল সোমবার সেই পুরোনো দাবি নিয়ে বিশ্বশর্মা রাজ্যপাল জানকিবল্লভ পট্টনায়কের কাছে ৩২ জন বিধায়ক নিয়ে হাজির হন। তারপর তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন। বিশ্বশর্মার দাবি, অবিলম্বে নেতৃত্বের বদল না হলে তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা কমলনাথ দলের সংকট স্বীকার করে জানান, সমস্যা একটা হয়েছে, তবে মিটে যাবে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তরুণ গগৈয়ের সৎ ও স্বচ্ছ প্রশাসনের ওপর এখনো ভরসা রাখতে চান। বিজেপি অবশ্য কংগ্রেসের এ অবস্থায় উৎফুল্ল। লোকসভা ভোটে ওই রাজ্যে তারা মোট সাতটি আসন জিতেছে।
কংগ্রেস সেখানে জেতে মাত্র তিনটি আসন। আসামের মতো কংগ্রেসের হাল মহারাষ্ট্রেও। সেখানে গতকাল মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন শিল্পমন্ত্রী নারায়ণ রানে। তাঁর দাবি, ২০০৫ সালে যখন তিনি শিব সেনা থেকে কংগ্রেসে যোগ দেন, তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি আজও পালিত হয়নি। পৃথ্বীরাজ চৌহানের জায়গায় তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করতে নারাজ কংগ্রেস হাইকমান্ড। সে কথা গত মাসে তাঁকে বুঝিয়েও দেওয়া হয়। পৃথ্বীরাজ চৌহানের অধীনে কাজ করা সম্ভব নয় জানিয়ে ক্ষুব্ধ রানে গতকাল মন্ত্রিপদে ইস্তফা দিয়ে পরবর্তী জল্পনা জিইয়ে রাখলেন। রাজ্য সূত্রে খবর, নারায়ণ রানের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। গত রোববার জম্মু ও কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্সের জোট ভেঙে বেরিয়ে আসে কংগ্রেস। গতকাল সেই রাজ্যের উধমপুরের সাবেক সাংসদ লাল সিং কংগ্রেস ত্যাগ করেন। লাল সিংকে এবার লোকসভা ভোটে কংগ্রেস টিকিট দেয়নি। গোটা রাজ্যের ছয়টি আসনের একটিও কংগ্রেস পায়নি। লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয় মহারাষ্ট্রেও। ৪৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পায় মাত্র দুটি, সঙ্গী এনসিপি চারটি। এ রাজ্যে কংগ্রেস-এনসিপি জোট অবশ্য এখনো অটুট।

রাস্তায় ট্যাংক গলিতে লাশ ঘরে ইসরাইল

ইসরাইলের বর্বর বিমান হামলা আর স্থল আক্রমণে গাজা এখন বধ্যভূমি। ট্যাংক দখল করে রেখেছে রাস্তা। গলিতে গলিতে পড়ে আছে লাশ, ঘরে ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেছে ইসরাইলি সেনারা- সেখানেই ঘাঁটি গাড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিজাইয়া গ্রামের আহমেদ রাবিয়া জানান, ‘রাস্তায় পড়ে আছে মৃত-অর্ধমৃত দেহ। তাদের কেউ সাহায্য করতে পারছে না। হতভাগ্যদের লাশ পড়ে আছে রাস্তায় রাস্তায়, গলিতে গলিতে। নারী-পুরুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধের গলিত-অর্ধগলিত লাশ। দাফন করারও সুযোগ নেই। এসব লাশের পাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না নৃশংস ইসরাইলি সেনারা। মৃত্যদেহের ওপর চলছে বর্বরতা, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ছোড়া হচ্ছে বোমা। ফিলিস্তিনের জরুরি সেনাপ্রধান বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেন, হাসপাতালে জায়গা নেই ‘গোলা নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বের হতেও পারছে না।’
গাজায় স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন, আহত নাগরিকদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যেতে দিচ্ছে না ইসরাইলি সেনারা। অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের শিফট সুপারভাইজার জিহাদ সেলিম বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা সহ্য করা খুব কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘একটা ঘরে গিয়ে দেখি একটা লাশ টুকরো টুকরো করা।’ ৮ জুলাই শুরু হওয়া ইসরাইলের গাজা আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়েছে। রোববার ছিল ভয়াবহ রক্তাক্ত দিন। এদিকে, ফিলিস্তিন অধিকৃত গাজায় হামলার ১৩তম দিন রোববারে সবচেয়ে ভয়াবহতম হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ দিনই ইসরাইলের হামলায় ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির। পূর্ব গাজার শিয়াজিয়া এলাকায় এদিনের বর্বরতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যায়িত করে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এর আগে রোববার দুপুরে ইসরাইলি বাহিনী শিয়াজিয়ায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি ভঙ্গ করে এক ঘণ্টা পরেই হামলা চালায়। ওই অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীকে ভারি অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যে সেখানে বিমান হামলা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
ইসরাইলের হামলা যুদ্ধাপরাধ : আরব লীগ
ফিলিস্তিনের গাজায় রোববার ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহতম গণহত্যার পর দেশটির এ আচরণকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আরব লীগ। খবর এএফপির। কায়রোভিত্তিক আরব লীগের প্রধান নাবিল আল-আরাবি রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর-পূর্ব গাজার শেজাইয়ায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও স্থল হামলায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। শেজাইয়া ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় রোববার ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকার রাস্তায় ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখান থেকে হাজারো লোকজন পালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে তিন বছর আগে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটা আশা ছিল যে, আরব জাহানে ক্রমবিকাশমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তারা হয়তো আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে। মুনদার মুয়াম্মার নামে একজন তিউনিশীয় বিক্ষোভকারী যিনি তার দেশের রাজধানীতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আরব দেশই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
৩২ ইসরাইলি সেনা খতম করেছি : হামাস
ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেড বলেছে, শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩২ ইসরাইলি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর প্রেস টিভির। অবশ্য, ইসরাইল দীর্ঘ লুকোচুরির পর রোববার ১৩ সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ নিয়ে একজন মেজরসহ ১৮ সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করল ইসরাইল। হামাসের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেক ইসরাইল সেনা আহত হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সব লাশ বিদ্রোহীদের দখলে

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকর্মীরা যে ১৯৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সেগুলো অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে গেছে বলে ইউক্রেনের জরুরি বিভাগের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সংস্থা এপির বরাত দিয়ে মুখপাত্র নাতালিয়া বিস্ট্রো রোববার বলেন, শনিবার সাংবাদিকরা বিদ্রোহীদের ঘটনাস্থল থেকে লাশের বস্তাগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। কিন্তু রোববার তারা ঘটনাস্থলে কোনো মৃতদেহ দেখতে পাননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রুশপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা উদ্ধারকর্মীদের কাছ থেকে মৃতদেহগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। সেগুলোকে তারা কোথায় রেখেছে এ বিষয়ে ইউক্রেন সরকারের কোনো ধারণা নেই। এদিকে ইউক্রেনের উচ্চপর্যায়ের এক বিদ্রোহী নেতা রোববার বলেছেন, কিয়েভ তাদের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে নিরাপদে বিধ্বস্ত বিমানের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নিশ্চয়তা দেবেন। ‘দনেতস্ক পিপলস রিপাবলিকান’ নামক দলের স্বঘোষিত উপপ্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই পুরগিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এই মর্মে ঘোষণা দিচ্ছি যে, কিয়েভ আমাদের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি যুক্তিতে সম্মত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিরাপদে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নিশ্চয়তা দেব।’ এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইউক্রেনে বিধ্বস্ত বিমানের ঘটনাস্থলে যেতে না দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। শনিবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লেভারভের কাছে টেলিফোনে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কোপারেশন ইন ইউরোপ’ সংক্ষেপে ওএসসিই’র পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের সঠিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বাধা দেয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। এছাড়া বিধ্বস্ত বিমানের মৃতদেহ এবং ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়ার খবরেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মালয়েশিয়ার বিমান নিয়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চাপানউতোর চলছেই। শনিবার ইউক্রেন অভিযোগ করেছে রাশিয়া এবং রুশপন্থী জঙ্গিরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ গায়েব করছে। ইউক্রেন সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জঙ্গিরা ৩৮টি দেহ দোনেস্কের মর্গে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও সরকারি তদন্তকারীদের দুর্ঘটনাস্থলে ঢুকতে বাধা দিয়েছে।
রুশভাষী কিছু লোক মৃতদেহের অটোপসিতে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্য দিকে, বিমান দুর্ঘটনার জন্য ওবামা রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করায় বিরক্ত ভ­াদিমির পুতিন প্রশাসন। সে দেশের উপ-বিদেশমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ‘তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই ওবামা প্রশাসন একতরফা সিদ্ধান্ত নিল। প্রথিবী জুড়ে নিজের সিদ্ধান্ত চাপাতে গিয়ে আমেরিকা অপরিণত শল্যচিকিৎসকের মতো কাজ করে ফেলে। প্রথমেই গভীরে গিয়ে কাটাছেঁড়া করে ফেলায়, সেলাইটাও পাকাপোক্ত হয় না। ফলে ব্যথাটা থেকেই যায় আর সমস্যার সুরাহাও হয় না।’ রাশিয়ার অবস্থানকেই সমর্থন করে বহুল প্রচারিত রুশ দৈনিক ‘মসকভস্কি কমসোমোলেটস’ শনিবার সামরিক বিশেষজ্ঞ ভিক্তর মুরাখভস্কিকে উদ্ধৃত করে বলেছে, রুশপন্থী জঙ্গিদের বুক মিসাইল ছোড়ার দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা, কোনোটাই নেই। রুশ সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের দুর্ঘটনাস্থল গ্রাবোভো গ্রাম থেকে জঙ্গিরা এখন প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলেছে। খোলা আকাশের নিচে এখানেই পড়ে আছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ এবং অসংখ্য মৃতদেহ। কিন্তু কিয়েভের দিক থেকে এই ধরনের সেফ করিডরের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিমানবালার আশংকাই শেষে সত্য হল!

ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার আকাশসীমায় চড়তে আপত্তি জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার ভূপাতিত বিমানের অন্তত দুই ক্রু। তাদের আশংকা ছিল- ‘ওয়ার জোন’ খ্যাত ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত নিরাপদ নয়। গত সপ্তাহেই তারা এ আশংকার কথা কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ইউক্রেনের ওই বিমান পথকে বিপজ্জনক মন্তব্য করে কোনো কোনো ক্রু সেই রুটের বিমানে চড়তে আপত্তি জানান বলেও জানা গেছে। কারণ, ওই এলাকায় ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা।
এ পথ নিয়ে শঙ্কিতদের একজন ছিলেন বিমানবালা এঞ্জেলিন প্রেমিলা রাজনধরণ। রোববার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বরাতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। ৩০ বছর বয়সী ওই তরুণীর শখ ছিল বিমানবালা হওয়ার। হয়েছিলেনও তাই। কিন্তু বৃহস্পতিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এমএইচ১৭ বিমানের যে ২৯৮ আরোহী নিহত হন, তিনিও সেই হতভাগ্যদের একজন। শুধু বিমানবালাই নয়, পাইলটরাও মালয়েশিয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের উদ্বেগের কথা জানান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে। কিন্তু মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ অবশ্য আগেভাগেই এ ধরনের আশংকার অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। জানা গেছে, ইউক্রেনের ওই বিমানপথ নিয়ে নিরাপত্তা-উদ্বেগ থাকায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউএস এয়ারলাইন্স, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স ও কান্তাস তাদের বিমানপথ পরিবর্তন করে।

সেবার গেল ভাই এবার মেয়ে!

অদ্ভুত, ভয়ংকর অদৃষ্ট। মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান এমএইচ ৩৭০ আজও মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক রহস্য থেকে গেল। ভারত মহাসাগরের তলায় তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়েও কিছু পাওয়া যায়নি। ওই বিমানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রমহিলা কাইলিন মান-এর ভাই রড বারো ও ননদ মেরি বারো। ফলে দু’জনকেই আক্ষরিক অর্থে নিখোঁজ এবং সরকারিভাবে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ও ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের ট্রাজেডি। এবার হারালেন তার মেয়েকে। মালয়েশীয় যে বিমানটিকে রুশপন্থীরা মিসাইল ছুঁড়ে ধ্বংস করেছে সেটিতে ছিলেন তারই সৎ মেয়ে মেরি রিজ। মেরি রিজও মারা গেছেন বাকি ২৯৮ জন যাত্রীর মতোই।
বৃহস্পতিবারই মধ্য পঞ্চাশের কাইলি মান জানলেন। মালয়েশিয়ার বিমান আমার সব নিয়ে গেল। সেবারের ফ্লাইটে গেল ভাই, এবার মেয়ে! কাইলি মানের ভাই গ্রেগ বারো জানিয়েছেন, ‘ঈশ্বরের ওপর থেকে বিশ্বাসটাই চলে গেল। মেয়েটা বহু মাস বাদে বাড়ি ফিরছিল। আর ওকে দেখতেই পাব না। আমাদের পুরনো শোকের ক্ষতটা আবার দগদগে হয়ে উঠল। প্রথমে আমাদের ভাই চলে গেল। তারপর বোনের মেয়েটাও। আমাদের বেঁচে থাকাটাই যেন অর্থহীন মনে হচ্ছে।’ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবর্ট কাইলি মানের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে ফোন করেছিলেন। ডেইলি মেইল।

লাশের শহর গাজা

গাজায় রক্তসে াত থামছে না। ইসরাইলি নৃশংসতায় ক্রমেই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। নিরপরাধ নারী-শিশুর লাশের পাহাড় উঠছে। সঙ্গে সঙ্গে বেদখল হয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর। স্থল আক্রমণের পাশাপাশি থেমে থেমেই চলছে ইসরাইলের বিমান হামলা। গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া ইসরাইলের ‘অপারেশন প্রটেকটিভ এজ’ এ এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা সাড়ে তিনশ’ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। আহতদের আর্তচিৎকারে ভারি গাজার আকাশ। মুমূর্ষুদের গুদাম হয়ে উঠেছে গাজার আল শিফা হাসপাতাল। এদিকে, গাজার নিচে আরেক গাজা! স্থলপথ অভিযানে হামাস জঙ্গিদের একের পর এক সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার পর এমনটাই অভিমত ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ)। ইসরাইলের দাবি, এই সুড়ঙ্গগুলোই যত নষ্টের গোড়া। এগুলোকে কাজে লাগিয়েই রকেট ছোড়ে হামাস। ইসরাইলে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় তো বটেই, ইসরাইলিদের অপহরণ এবং হত্যা করতে সুড়ঙ্গগুলো ব্যবহার করা হয়। বিমান হানায় গোলকধাঁধার মতো এই ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা সম্ভবপর নয় বলেই স্থলপথে আক্রমণে নেমেছে ইসরাইল। তবে জঙ্গিদের নিকেশ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৭০ জন শিশুসহ ৩৩৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘও। ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা স্থলপথে অভিযান চালাবেন। সেই মতো রোববার গাজার পূর্বপ্রান্তের আড়াই কিলোমিটার প্রশস্ত একটি এলাকায় ইসরাইলি সেনা সুড়ঙ্গ সন্ধানে নামে। আইডিএফে’র মুখপাত্র পিটার লার্নার বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৩টি সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলেছে। কয়েকটির অবস্থান মাটির ৯০ ফুট গভীরে। সুড়ঙ্গগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে যুক্ত।
যেন গাজা ভূখণ্ডের নিচে আরও এক গাজা লুকিয়ে রয়েছে।’ রোববার কয়েকজন জঙ্গি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে ইসরাইলে ঢোকার চেষ্টা করলে আইডিএফ একজনকে গুলি করে মারে। বাকিরা পালায়। সংঘর্ষে চারজন ইসরাইলি সেনাও আহত হয়েছেন। দিনকয়েক আগে একই কায়দায় ঢুকতে গিয়ে ১৩ জন জঙ্গি ইসরাইলি সেনার হাতে ধরা পড়েছিল। আরব লীগ-হামাস নেতার বৈঠক ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে আরব লীগের প্রধান ও কুয়েতের শাসক শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন হামাসের প্রধান খালেদ মিশাল। কুয়েত সিটিতে রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গাজায় অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর এএফপি’র। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। তবে এক কূটনীতিকের সূত্রে এএফপি জানায়, গাজায় ইসরাইলি হামলার ১৩ দিনে এ পর্যন্ত ৪০০ জন নিহতের পর হামলা বন্ধে পদক্ষেপের ব্যাপারে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দিনের শুরুতে সাবাহ’র সঙ্গে আলোচনার জন্য কাতার থেকে কুয়েতে পৌঁছান মিশাল। বৈঠক শেষে তিনি আবারও কুয়েতে ফিরে আসেন। সেখানে তার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এর আগে মিসরের মধ্যস্ততায় ইসরাইলের সঙ্গে এক অস্ত্রবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে হামাস। তাদের দাবি ছিল, চুক্তিতে শুধু বিনা শর্তে অস্ত্রবিরতিই নয়, বরং তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও যৌক্তিক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। এদিকে আগামী সোমবার ফিলিস্তিন সংকটের বিষয়ে কুয়েতে দেশটির আমীর ও আরব লীগ প্রধান সাবাহ’র সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

গাজা এখন বধ্যভূমি -রাস্তায় ট্যাংক গলিতে লাশ ঘরে ইসরাইল

ইসরাইলের বর্বর বিমান হামলা আর স্থল আক্রমণে গাজা এখন বধ্যভূমি। ট্যাংক দখল করে রেখেছে রাস্তা। গলিতে গলিতে পড়ে আছে লাশ, ঘরে ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেছে ইসরাইলি সেনারা- সেখানেই ঘাঁটি গাড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিজাইয়া গ্রামের আহমেদ রাবিয়া জানান, ‘রাস্তায় পড়ে আছে মৃত-অর্ধমৃত দেহ। তাদের কেউ সাহায্য করতে পারছে না। হতভাগ্যদের লাশ পড়ে আছে রাস্তায় রাস্তায়, গলিতে গলিতে। নারী-পুরুষ, শিশু-যুবক-বৃদ্ধের গলিত-অর্ধগলিত লাশ। দাফন করারও সুযোগ নেই। এসব লাশের পাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না নৃশংস ইসরাইলি সেনারা। মৃত্যদেহের ওপর চলছে বর্বরতা, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ছোড়া হচ্ছে বোমা। ফিলিস্তিনের জরুরি সেনাপ্রধান বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদরা বলেন, হাসপাতালে জায়গা নেই ‘গোলা নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বের হতেও পারছে না।’ গাজায় স্থানীয় অধিবাসীরা বলছেন, আহত নাগরিকদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যেতে দিচ্ছে না ইসরাইলি সেনারা। অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের শিফট সুপারভাইজার জিহাদ সেলিম বলেন, ‘আমরা যা দেখছি, তা সহ্য করা খুব কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘একটা ঘরে গিয়ে দেখি একটা লাশ টুকরো টুকরো করা।’ ৮ জুলাই শুরু হওয়া ইসরাইলের গাজা আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়েছে। রোববার ছিল ভয়াবহ রক্তাক্ত দিন।

এদিকে, ফিলিস্তিন অধিকৃত গাজায় হামলার ১৩তম দিন রোববারে সবচেয়ে ভয়াবহতম হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ দিনই ইসরাইলের হামলায় ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। খবর বিবিসির।
পূর্ব গাজার শিয়াজিয়া এলাকায় এদিনের বর্বরতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যায়িত করে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এর আগে রোববার দুপুরে ইসরাইলি বাহিনী শিয়াজিয়ায় দুই ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি ভঙ্গ করে এক ঘণ্টা পরেই হামলা চালায়। ওই অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীকে ভারি অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ইতিমধ্যে সেখানে বিমান হামলা শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
ইসরাইলের হামলা যুদ্ধাপরাধ : আরব লীগ
ফিলিস্তিনের গাজায় রোববার ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহতম গণহত্যার পর দেশটির এ আচরণকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আরব লীগ। খবর এএফপির।
কায়রোভিত্তিক আরব লীগের প্রধান নাবিল আল-আরাবি রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর-পূর্ব গাজার শেজাইয়ায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও স্থল হামলায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। শেজাইয়া ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় রোববার ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ওই এলাকার রাস্তায় ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখান থেকে হাজারো লোকজন পালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে তিন বছর আগে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটা আশা ছিল যে, আরব জাহানে ক্রমবিকাশমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তারা হয়তো আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে। মুনদার মুয়াম্মার নামে একজন তিউনিশীয় বিক্ষোভকারী যিনি তার দেশের রাজধানীতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আরব দেশই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
৩২ ইসরাইলি সেনা খতম করেছি : হামাস
ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেড বলেছে, শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৩২ ইসরাইলি সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। খবর প্রেস টিভির।
অবশ্য, ইসরাইল দীর্ঘ লুকোচুরির পর রোববার ১৩ সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। এ নিয়ে একজন মেজরসহ ১৮ সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করল ইসরাইল। হামাসের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে অনেক ইসরাইল সেনা আহত হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

গাজায় ইতিহাসের বর্বর দিন

ইট-কংক্রিট-পাথরের ধ্বংসস্তূপ। এর মধ্যে আসবাবপত্রের টুকরো। তার মধ্যেই স্থানে স্থানে উঁকি দিচ্ছে মানুষের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ও রক্তমাখা শরীর। ধূসর ধুলোও রক্তে লাল। তা থেকে বেরোচ্ছে উৎকট গন্ধ। অদূরে মানুষের আর্তচিৎকার আর প্রাণভয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি। আহতদের আর্তনাদ আর স্বজনের মরদেহ বুকে ধরে আহাজারিতে ভারি হাসপাতালের বাতাস। প্রিয় সন্তানের লাশ বুকে নিয়ে বিধাতার কাছে আর কত আর্জি জানাবেন বাবা, গর্ভে ধারণ করা শিশুকে শুধু চোখের জলে কী করে দাফনের জন্য তুলে দেবেন মা, চোখের সামনে এমন রক্ত-নদে ডুবে কী করে প্রিয় মুখগুলোকে স্বজনরা দেবেন অভয়! না, হল না। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজায় যে ভয়াবহ বিপর্যয়- কোন ভাষায় তা লেখা সম্ভব? মারকোভা ট্যাংকের গোলা, বিমান থেকে ছোড়া শেল আর পদাতিক বাহিনীর গুলিতে রোববার একদিনেই এখানে প্রাণ হারালেন দেড়শ’ ফিলিস্তিনি। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করতে হল প্রায় দেড় হাজার নিরীহ ব্যক্তিকে। বাড়িঘর আর স্বজন, একসঙ্গে সবই হারিয়ে যে কয়েক হাজার মানুষকে ঠাঁই নিতে হল আশ্রয় কেন্দ্রে- কে কীভাবে এসবের বর্ণনা লিখবে!

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাঁচ বছরে তো বটেই, ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিন-ইসরাইল ভয়াবহ যুদ্ধের পর থেকে একদিনে এমন বিপর্যয় দেখেনি গাজা। আর ইসরাইলি হামলার ১৪তম দিনে এসে সোমবার নিহতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ৫২৩-এ। আহতের ক্ষেত্রে তা প্রায় পাঁচ হাজার। এ ক’দিনে ৮৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন ৬৭ স্কুলে জাতিসংঘের গড়ে তোলা আশ্রয় কেন্দ্রে। ইসরাইলের দাবি, হামাস জঙ্গিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে তারা। কিন্তু পরিসংখ্যান প্রশ্ন তুলছে- কোথায় হামাস জঙ্গি? নিহতদের এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ শতাধিকই শিশু। অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় আড়াইশ’ই নারী। বাকিরাও প্রায় সবাই নিরীহ বেসামরিক পুরুষ। হামাস যোদ্ধাও আছেন- কিন্তু খোদ ইসরাইলের বিবৃতির যোগফল বলছে, তা মাত্র ২৩!
এ অবস্থায় সোমবার গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার জরুরি বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়। এদিন একই আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। তবু থামেনি ইসরাইলের কামান। পাষাণের বন্দুকের গুলি। বরং সোমবার গাজার উপকণ্ঠ দেইর আল বালায় এক হাসপাতালেও হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। আল-আকসা নামের ওই হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হন। গাজায় চালানো ইসরাইলের বিমান হামলায় এদিন এক পরিবারেরই নয় সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতজনই শিশু। একটি মোটরবাইকে চালানো হামলায় মারা যান আরেক ফিলিস্তিনি। দক্ষিণ গাজার ১৬ বাসিন্দা এদিন মারা যান বিমান হামলায়। সোমবার এছাড়াও গাজার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শেইজিয়া, বাইত হানুনসহ কয়েকটি এলাকায় ইসরাইলি হামলায় মারা গেছেন আরও অর্ধশত ফিলিস্তিনি। এদের প্রায় সবাই নিরীহ নাগরিক।
এর আগে রোববার শুধু শেইজিয়াতেই ইসরাইলি ট্যাংকের গোলায় মারা যান ৭২ জন। সোমবার সকালে এদের ৪৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রাফায় নিহতের সংখ্যা ১৫। গাজায় বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে সোমবারও, রোববার মারা যান তারা। রোববার যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন হামাস যোদ্ধা বলে দাবি করেছে ইসরাইল। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত বিবৃতি মেলেনি। ইসরাইল আরও জানিয়েছে, হামাসের আক্রমণে তাদের ১৩ সেনা এদিন (রোববার) মারা গেছেন। এর আগে ৫ সেনাসহ ইসরাইলের মোট ২০ জন মারা গেলেন ১৪ দিনে। অবশ্য এদিন হামাসের যুদ্ধ শাখা ইজ্জাদিন আল কাশেম ব্রিগেড দাবি করেছে, শাওল আরন নামে এক ইসরাইলি সেনাকে রোববার বন্দি করেছে তারা। যদিও ইসরাইল এ খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘের আহ্বান : জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গাজায় ইসরাইলের গোলা নিক্ষেপকে ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করার পর নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে। রোববার রাতে জর্ডানের অনুরোধে বৈঠকটির আয়োজন করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে দুর্বলতম পদক্ষেপ ‘শুধু চাপ দেয়ার’ বিষয়ে একমত হন এর ১৫ সদস্য দেশ। এরপরই বান কি মুন অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান।
ইসরাইলের পক্ষে ওবামা-ক্যামেরন : নিরীহ নাগরিকদের ওপর ইসরাইলের রোববারের বর্বরতম হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ওবামা। উভয় পক্ষের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।’ তিন দিনের মধ্যে এ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ফোনে কথা বললেন ওবামা। সর্বশেষ ফোনালাপে ইসরাইলের নিজের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রো আসেন। সেখানে তিনি মিসর ও অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা করেন।
মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও কথা বলেছেন। তিনিও ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
হামাসদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে- নেতানিয়াহু : নিজেদেও সেনা নিহতের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছলেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেনা হারানোর ঘটনায় ইসরাইল সরকার ‘গভীর বেদনা’ অনুভব করছে জানিয়ে তিনি গাজার লড়াই আরও দীর্ঘ করার জন্য হামাসকে দায়ী করেন। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এরপর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরাইল।
ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরাইলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরাইল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

তামাশা করবেন না -দায় এড়াতে পারেন না যোগাযোগমন্ত্রী

মন্ত্রী বদলায়, তাঁদের হম্বিতম্বির ভাষা বদলায় কিন্তু মহাসড়কের মহা ভোগান্তি কমে না। তাই সারা বছরের অবহেলার খেসারত যাত্রীদের সুদে-আসলেই দিতে হয় ঈদের আগের ও পরের যাত্রাপেথ। ঈদ সামনে রেখে যোগাযোগমন্ত্রী ও তাঁর অধীন সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কগুলো মেরামতের কাজে অতি তৎপরতা দেখালেও সময়ের কাজ কেন সময়ে করেনি, তার জবাব কই?

সোমবারের প্রথম আলোর প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠা মহাসড়কের মহা দুর্দশার দলিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জায়গায় জায়গায় মেরামত চলছে ঠিকই, কিন্তু ভোগান্তি কমছে না। এর উন্নয়নকাজ নিয়ে চীনা কোম্পানিটি কার্যত তামাশা করে গেলেও শাস্তির বদলে পদ্মা সেতুর নদীশাসনের কাজ তাদেরই দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে কী রহস্য আছে, তা জানার অধিকার জনগণের আছে। আর যশোর-খুলনা, বরিশাল-ঢাকা, উত্তরবঙ্গমুখী সড়কসহ অন্যান্য জেলামুখী সড়কগুলোর দুর্দশার দায় তো বিদেশি কোম্পানির নয়!
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যত তর্জন-গর্জনই করুন, ফলাফল প্রায় শূন্য। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সড়ক–মহাসড়কগুলোর মেরামত সম্পন্ন হবে; অন্যথায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাস্তি পাবেন। এখন বলছেন, আরও দু–তিন দিন লাগবে। অর্থাৎ অনিশ্চয়তা। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রধান নির্বাহী’ যেহেতু তিনি, সেহেতু ব্যর্থতার দায় না এড়িয়ে তিনি নিজেই নিজের শাস্তির মাত্রা ঠিক করতে পারেন।
ঈদ কেবল ধর্মীয় মহোৎসবই নয়, লক্ষ-কোটি মানুষের ঘরে ফেরার উপলক্ষও। যাঁরা জীবিকার জন্য শহর-বন্দরে থাকেন—বিশেষত শ্রমজীবী মানুষেরা—এটাই স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের মিলিত হওয়ার সুযোগ। যাঁদের অবহেলা ও ঔদাসীন্যের কারণে এই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।
প্রথম আলোসহ সমকাল ও ডেইলি স্টার–এর সোমবারের প্রতিবেদনগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, সমস্যার কারণ সমন্বয়হীনতা, সময়মতো উদ্যোগী না হওয়া এবং অবহেলা। অথচ এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে তিনি গণমাধ্যমের ‘হেদায়েত’ কামনা করেছেন। আমরা তাঁর সুমতি আশা করি।
যোগাযোগমন্ত্রী ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষকে স্বস্তি দিতে না পারুন, ‘রাস্তা চলাচল উপযোগী আছে’ বলে তাদের সঙ্গে তামাশা করবেন না।

চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত অর্ধশত পয়েন্টে গর্ত by মাহবুবুর রহমান পলাশ

সোমবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী থেকে চট্টগ্রাম অবধি সড়কে বৃষ্টিতে সৃষ্ট গর্তের জন্যই লক্ষ্য করা গেছে যানজট। বিশেষ করে রোববার রাত থেকে সোমবার দিনভর বৃষ্টির ফলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গর্ত, সংস্কারাধীন কাজ ও ফোর লেনের অসমাপ্ত অংশে গাড়িগুলো অনেক ধীরগতিতে পার হতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। যোগাযোগমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই সারা দেশের সড়ক যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে ঈদে দুর্ভোগ না পোহানো নিশ্চিত করবেন। চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাই সিনো হাইড্রোর অংশে বিভিন্ন স্থানে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যানবাহন। এই অংশে চলমান ফোর লেনের অসমাপ্ত অংশে ভাঙাচোরা গর্ত, আবার পুরনো অংশেও গর্তসহ সংকীর্ণ সড়কের জন্য এক লাইনে বা দীর্ঘ লাইনের কবলে পড়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে গাড়ি। গত ক’দিনের বর্ষায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত এই রুটের প্রায় অর্ধশত পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। এসব গর্তের কারণে রমজানে দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কবলে পড়েছে দূর-দূরান্তের যাত্রী আর মালামাল পরিবহনকারীরা।

এ বিষয়ে ফোর লেনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলী জুলফিকার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই রুটের সব গর্তই দ্রুত প্রাথমিক সংস্কার করেছি।
আশা করছি এবারের ঈদে কোনো যানজটেই পড়তে হবে না কাউকে। তবে প্রকৃতপক্ষে যানজট কতটুকু নিরসন হয় সেটি এখন সময়ের ব্যাপার। ফোর লেন কৌশলী আরও বলেন, আমরা এখন থেকেই পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে যানজট না হওয়ার সব উদ্যোগ নিচ্ছি। আবার মিরসরাই থানার ওসি ইমতিয়াজ ভূঞা জানান, ফোর লেনের সংস্কারাধীন অংশের সঙ্গে পুরনো রুটগুলোর সড়ক ফিনিশিং ও পিচ ঢালাই না থাকায় গর্ত বেড়ে যাাচ্ছে।

চরমপন্থায় না, আত্মঘাতী বোমায় হ্যাঁ by মিজানুর রহমান খান

সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগের আরও অনেকেই এখনো বাংলাদেশের সংকটের জন্য প্রধানত বিএনপি-জামায়াতকেই দুষে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রিয় স্লোগান জয় বাংলার অবমাননার জন্য প্রধানত পঁচাত্তর-পরবর্তী কুশীলবেরাই দায়ী। কিন্তু জয় বাংলা বলে টেন্ডার বাক্স ছিনতাই-সংস্কৃতি বন্ধ না করলে একে আর স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠা করা কষ্টসাধ্য থেকে যাবে। যারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে, তারা পাকিস্তানের এজেন্ট—এ ধরনের বাতচিত দিয়ে শত্রু ও শত্রুতার বিষয় ভুলভাবে চিত্রিত হচ্ছে। যেখানে আঘাত হানার বিষয়, যেখানে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়, তা আড়ালে চাপা পড়ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার শর্তে বিএনপি ও জামায়াতের দফারফা করতে গিয়ে সমাজ-রাষ্ট্রের দফারফা ঘটছে।

৯৯টি দেশের মধ্যে আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত ৯২তম র্যাংকিং নিয়ে এর আগে আলোচনা করেছি। এবার আরও একটি বিপর্যয় বা উৎকণ্ঠার খবর। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের যাত্রা শুরু ২০০২ সালে। তারা নানা বিষয়ে গ্লোবাল অ্যাটিচুড পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ১৪টি দেশের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখানো হয়েছে, যে রাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য, সেখানে উগ্রপন্থার প্রতি মনোভাবটা কেমন। এই সংস্থার বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যালান মুরে জাঁদরেল সাংবাদিক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর ওয়াশিংটন ব্যুরো চিফ হিসেবে তাঁর এক দশকের দায়িত্ব পালনকালে ব্যুরো তিনবার পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে।
পিউর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসলামি চরমপন্থার উত্থান বাংলাদেশের জনগণ চায় না। বরং তাদের কোনো সম্ভাব্য শাসনে তারা বিচলিত। আবার এই জরিপেই ইঙ্গিত পাচ্ছি যে, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও পরমতসহিষ্ণুতার অভাবের কারণে বাংলাদেশ সমাজ নতুন করে কোনো রেডিক্যালাইজেশনের গহ্বরে প্রবেশ করছে কি না। ইসলামের পক্ষে আত্মঘাতী বোমা হামলা কি সমর্থনযোগ্য? এর উত্তরে বাংলাদেশের মানুষ যা বলেছে, তাতে আমি হতভম্ব। সাধারণ বিবেচনায় এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ৩৩ ভাগ বলেছে, মাঝেমধ্যে এর দরকার আছে। ১৪ ভাগ বলেছে, প্রায়ই এটা দরকার। আরও ১৪ ভাগ বলেছে, বিরল ক্ষেত্রে এটা দরকার। আবার ৩৩ ভাগ বলেছে, কখনো এটা সমর্থনযোগ্য নয়। তবে মোটামুটি ৪৭ ভাগ মানুষ কমবেশি আত্মঘাতী বোমা হামলার পক্ষে মতামত দিয়েছে। অথচ পাকিস্তানে এটা মাত্র ৩ ভাগ। সে দেশের ৮৩ ভাগই বলেছে, এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তাহলে কি পাকিস্তানিরা আত্মঘাতী বোমা হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার পরে একে না বলতে শিখেছে, আর বাংলাদেশের মানুষ এখনো এই দানবীয় সন্ত্রাসের ভুক্তভোগী নয় বলে এত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ একে সমর্থন দিতে পেরেছে? তালেবান, যাদের কারণে পাকিস্তানে এখনো রক্তগঙ্গা বইছে, পিউ প্রতিবেদন বলেছে, তালেবানের প্রতি পাকিস্তানিদের কোনো ভালোবাসা নেই।
ফ্যাক্ট ট্যাংক হিসেবে পরিচিত পিউ ২০০২ থেকে আত্মঘাতী বোমা হামলার বিষয়ে জরিপ করছে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশকে এবারই প্রথম তারা জরিপভুক্ত করেছে। কেন করল এবং কেন এমন ফল এল দুটোই চিন্তার বিষয়। পাকিস্তানকে ২০০২ থেকেই তারা নিয়মিত জরিপভুক্ত রেখেছে। আর এর ফলাফলটা চমকপ্রদ, যা থেকে আমরা পাঠ নিতে পারি। ইসলাম রক্ষায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর পক্ষে পাকিস্তানিরা ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ ৪১ ভাগ মত দিয়েছিল। বাংলাদেশে তখন তালেবান-দরদি বিএনপি-জামায়াতের শাসন চলছে। তবে পাকিস্তানিদের ক্রমাগত মোহভঙ্গ ঘটেছে। এখন যেটা আতঙ্কজনক সেটা হলো, বাংলাদেশিরা এ ক্ষেত্রে কেবল পাকিস্তানই নয়, ১৩টি মুসলিম দেশের মধ্যেই শীর্ষে। এমনকি ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের চেয়ে বাংলাদেশ ১ ভাগ বেশি। পশ্চিম তীরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ‘কিছু লোক মনে করে যে ইসলামকে তার শত্রুদের কাছ থেকে রক্ষার জন্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আত্মঘাতী বোমা ও অন্যান্য ধরনের সহিংসতার দরকার রয়েছে। অন্যরা বিশ্বাস করেন কারণ যা-ই হোক না কেন, এ ধরনের সহিংসতা কখনোই জায়েজ নয়। আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন যে ইসলাম রক্ষায় এ ধরনের সহিংসতা প্রায়ই জায়েজ, মাঝেমধ্যে জায়েজ, প্রকৃতপক্ষেই জায়েজ কিংবা কখনোই জায়েজ নয়?’
এটা আশার বিষয় যে, ৬৬ ভাগ আল-কায়েদার বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ২৩ ভাগ অনুকূলেও মত দিয়েছে। ৫৬ ভাগ লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে, আবার ২৮ ভাগ তাদের অনুকূলে এবং ১৬ ভাগের কাছে সংগঠনটি অজানা বলে প্রকাশ পেয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জিতে হামাস ২০০৭ থেকে গাজা উপত্যকা শাসন করছে। ২০ জুলাই নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০ ছাড়ানোর পরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটা অনিশ্চিত অস্ত্রবিরতিও কার্যকর করা অসম্ভব মেন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি আমাদের জনগণের মনোভাবে বড় পরিবর্তন এল কি না, সেটাও ভাবার বিষয়। কারণ, পিউ জরিপে ফিলিস্তিনিদের ৬২ ভাগ যখন ‘উগ্রপন্থীদের’ পক্ষে, তখন ৫৬ ভাগ বাংলাদেশি হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ২৯ ভাগ অনুকূলে। আর ১৫ ভাগের কাছে হামাস অজানা। আমাদের ৮৫ ভাগ উত্তরদাতা হামাস সম্পর্কেও মন্তব্য করতে সক্ষম, এটা ইঙ্গিত দেয় জরিপটা গড়পড়তা উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে করা হয়েছে।
১ জুলাই প্রকাশিত ওই জরিপে বলা হয়েছে, ইসলামি চরমপন্থার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের উদ্বেগ অনেক বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় লেবাননে চলতি বছরে ৮১ থেকে ৯২ ভাগ, তিউনিসিয়ায় ৭১ থেকে ৮০, মিসর ৬৯ থেকে ৭৫, জর্ডান ৫৪ থেকে ৬২ ভাগ, এবং তুরস্কের মানুষের মধ্যে ইসলামি উগ্রপন্থার প্রতি ৩৭ থেকে ৫০ ভাগ মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে।
এশিয়ার চারটি মুসলিম দেশকে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা আশার বিষয়, ইসলামি চরমপন্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে। এমনকি আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশিরা এ বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ২৫ ভাগ অসচেতন, কিন্তু ৬৯ ভাগই উদ্বিগ্ন। পাকিস্তানে অসচেতন ১৪ ভাগ, উদ্বিগ্ন ৬৬ ভাগ, মালয়েশিয়ায় ২৪ ভাগ অসচেতন, ৬৩ ভাগ উদ্বিগ্ন এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৫৫ ভাগ অসচেতন ও ৩৯ ভাগ উদ্বিগ্ন।
পিউ প্রতিবেদনও বাংলাদেশিদের আত্মঘাতী বোমাপ্রীতি অবাক করেছে। পিউ তার ২৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলেছে, ‘টুইন টাওয়ার ধ্বংসের (৯/১১) এক দশকের বেশি সময়ের পরে আত্মঘাতী বোমা হামলার ওপর মুসলিম দেশগুলোতে সমর্থন অনেক কমেছে। তবে মালয়েশিয়ায় যেখানে ১৮ ভাগ আত্মঘাতী বোমা হামলাকে জায়েজ মনে করে, সেখানে বাংলাদেশ অনেক ওপরে। ২০০৫ সালে লেবাননি প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরির হত্যাকাণ্ডের পরই কেবল এর প্রতি সমর্থন এখন সে দেশে ২৯-এ নেমেছে। ২০০২ সালে ৭৪ ভাগ লেবাননি বোমা-সমর্থক ছিল। একই বছরে আম্মানে তিনটি হোটেলে হামলার পর ৫৭ ভাগ জর্ডানির সমর্থনটা আজ ১৫ ভাগে নেমেছে। পাকিস্তানে বেনজির হত্যার আগেই তা হ্রাস পাচ্ছিল। তবে এক দশক আগে ৪১ ভাগ পাকিস্তানি বলেছিল, তারা আত্মঘাতী বোমাকে জায়েজ মনে করে। পিউ প্রতিবেদন যেটি বলেনি, সেটা হলো বাংলাদেশে কেন এটা বেড়ে গেল? এক দশক আগের পাকিস্তানকেও অতিক্রম করার একটা অর্থ দাঁড়ায়, আমাদের ৪৭ ভাগ মানুষ এক দশক আগের পাকিস্তানি মানসিকতাকে ধারণ করছে। এই পরিহাস সহ্য করা আরও কঠিন যে গত বছরেও ফিলিস্তিনিদের ৬২ ভাগ, যারা এর সমর্থক ছিল এবং এই মুহূর্তেও ইসরায়েলি তাণ্ডবের শিকার, তারাও এর ওপর সমর্থন তুলে নিজেদের বাংলাদেশিদের নিচে নামিয়েছে। তাই সার্বিক বিচারে এটা একটা বিরাট প্রশ্ন যে আমাদের হলোটা কী। বাংলাদেশ তো বাংলা ভাই ও ইসলামি জঙ্গিদের হাতে কম রক্ত ঝরতে দেখেনি।
যাচাই না করে এমন বিপজ্জনক ফলাফলকে ধ্রুব সত্য মনে করার যুক্তি নেই। আবার অভ্যাসগত উন্মাদনায় নাকচ করারও সুযোগ নেই। মাদ্রাসাশিক্ষা সংস্কারে বিমুখ অথবা অসমর্থ সরকার এবং নাগরিক সমাজকে এই ভয়ংকর পূর্বাভাস নিয়ে নিশ্চয় ভাবতে হবে। বিএনপি ও জামায়াতকে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এটা কারও কারও বা কতিপয়ের কাছে মসনদ বিলাসের রক্ষাকবচ। কিন্তু এই জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রতিপক্ষকে জব্দ করতে পারলেই নিশ্চিন্ত ঘুম দেওয়া যায় না। আরও অনেক ভয়ংকর সমস্যা সমাজের দেহে ছড়িয়ে পড়াটা ক্ষমতাসীনদের টিকে থাকার কৌশলগত হিম্মতের ওপর নির্ভর করে না। আইনের শাসনের সূচকে বাংলাদেশের নিকৃষ্ট ৯২তম অবস্থানে অধঃপতিত হওয়া এবং এই পিউ জরিপের ফলাফলের যে বিপদ, তার মধ্যে একটা পরিষ্কার যোগসূত্র দেখতে পাই।
২০১৪ সালের ১৪ এপিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের এক হাজার ব্যক্তির মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পিউর পক্ষে ওই জরিপ পরিচালনা করেছে প্রিন্সটন রিসার্চ।স্বনামধন্য জরিপ সংস্থা গ্যালাপের সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু কোহাট প্রিন্সটন রিসার্চ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই পিউ জরিপের তিনিই পরিচালক। তাঁর কাছে উত্তরদাতাদের শিক্ষা ও তাদের পেশা-সংক্রান্ত প্রশ্ন জানতে চেয়ে গত সপ্তাহে ই-মেইল করেছিলাম।উত্তর পাইনি। তবে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে মার্কিন চোখে উদারনৈতিক মুসলিম দেশের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশের পরিচয়টা এই জরিপ চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

ঈদে নতুন জামা আর পুরোনো কাপড়ের কাফন by সৈয়দ আবুল মকসুদ

অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী তাঁর হরিজন পত্রিকায় ১৯৪৬ সালের ১৪ জুলাই একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন, যার শিরোনাম ‘ইহুদি ও প্যালেস্টাইন’। তাঁর পক্ষে দিব্যদৃষ্টিতে দেখা সম্ভব ছিল না ঠিক, ৬৮ বছর পরে ১৪ জুলাই বা জুলাই মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহব্যাপী ফিলিস্তিনে কী ঘটবে। কিন্তু তাঁর মতো মহামানব ভবিষ্যতের কিছুই অনুমান করতে পারেন না, তাও নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরিকল্পনামতো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে কী ঘটতে যাচ্ছে, মানবজাতির জন্য তার পরিণাম কী হবে, তা উপলব্ধির ক্ষমতা না থাকলে তিনি মোহনদাস বাবু হয়ে থাকতেন, মহাত্মা গান্ধী হতেন না।
ওই সময় বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লুই ফিসার মহাত্মা গান্ধীর সাক্ষাৎকার নেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ছাড়াও আরও কিছু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ে আলোচনাও হয় তাঁর সঙ্গে। ইহুদিদের নিয়ে আরবদের বিরুদ্ধে, আরবদের শায়েস্তা করতে, আমেরিকা ও ব্রিটেন যে দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র করছে, তা নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের বুদ্ধিমতো ইহুদিরা যে আরব ভূখণ্ড দখল করে নিজেদের ‘বাসভূমি’ বানানোর পাঁয়তারা করছে, তা হবে তাদের জন্য ভয়াবহ ভুল—erred grievously; একটি নগ্ন সন্ত্রাসবাদী কাজ—naked terrorism.
গান্ধীজি লিখেছিলেন: ‘এখন পর্যন্ত আমি আরব-ইহুদি বিবাদ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করিনি। তার সংগত কারণ রয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে ওই প্রসঙ্গে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি ওই প্রসঙ্গে কিছু বলিনি তার কারণ, ওই প্রসঙ্গে আমার জ্ঞান খুব সীমিত। লুই ফিসারের সঙ্গে প্রসঙ্গক্রমে কিছু কথা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নির্মমভাবে তাদের একটি ভুল পথে পরিকল্পনা করা হচ্ছে—I do believe that the Jews have been cruelly wronged by the world. তারা ইউরোপে নির্মমভাবে নিপীড়িত হয়েছে, কিন্তু তাদের প্যালেস্টাইনে পাঠানোর প্রশ্ন আসতেই পারে না। পৃথিবীতে তারা অবদান রেখেছে, পৃথিবীর সবখানেই হবে তাদের বাড়ি, প্যালেস্টাইনে আমার দরকার কী? আমেরিকা ও ব্রিটেন এই ফন্দি আঁটছে। নগ্ন সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিচ্ছে (তাদের দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার)। বিশ্বনাগরিক (citizenship of the world) হয়ে থাকাই তাদের জন্য বেশি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত। সব দেশেই তারা সম্মানিত অতিথি হয়ে থাকবে (honoured guests of any country). তাদের মিতব্যয়িতা, তাদের মেধা ও তাদের পরিশ্রমের জন্য যেকোনো দেশে তারা সম্মানিত নাগরিক হয়ে থাকতে পারে। তাদের সবাই সমাদর করেই রাখবে।’
ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দুই বছর আগে গান্ধীজি বলেছিলেন: ‘তাদের মেধা আছে, কেন তারা আমেরিকার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে। তাদের জাতিসত্তার জন্য অবাঞ্ছিত জায়গায় (unwelcomed land) যাওয়ার দরকার কী? সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মাধ্যমে প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড তারা কেন দখল করবে? Why should they resort to terrorism to make good thir forcible landing in Palestine? যেহেতু তারা ইউরোপে নির্যাতিত হয়েছে, এখন অহিংসার মাধ্যমে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’ বঙ্গীয় প্রবচন—চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। অহিংসার দেবতা গান্ধীজির উপদেশ ইহুদিবাদী বা জায়নিস্ট নেতারা শুনবেন, তা যে বিশ্বাস করবে সে এখনো মাতৃগর্ভে।
উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে আরব ভূখণ্ডে ইহুদিদের চোখ পড়ে এবং তারা সেখানে এসে জড়ো হতে থাকে। হিটলার ক্ষমতায় আসার পর নাৎসিদের নিপীড়ন শুরু হলে জার্মানি থেকে ইহুদিরা পালিয়ে এদিকে আসে। আরবরা প্রতিবাদ করে, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের মদদে তাদের এই অঞ্চলে আবাসন বাড়তেই থাকে। ১৯২০, ’২১, ’২৯ এবং ’৩৬ সালে ইহুদিদের সঙ্গে আরবদের সংঘর্ষ হয়। ১৯৪৭-এ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে প্যালেস্টাইন দ্বিখণ্ডিত করে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের নীলনকশামতো। ১৯৪৮-এ ব্রিটেন সেখান থেকে চলে যায়। ওই বছরের ১৪ মে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, সৌদি আরব এভাবে জবরদখলের মাধ্যমে তাদের জমিতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। বহুবার যুদ্ধ হয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে আরবদের। আমেরিকা-ব্রিটেনের সহায়তায় ইসরায়েলের কোনো ক্ষতি হয়নি, পরাজিত হয়েছে আরবরা। পরাজিত হয়েছে সত্য ও মানবতা, বিজয়ী হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও বর্বরতা। কারণ, মানবতার চেয়ে মারণাস্ত্রের মূল্য বেশি।

আজ পৃথিবীর বড় বড় দেশ পরিচালিত হচ্ছে নিম্ন ও মাঝারি মানের নেতৃত্ব দ্বারা। গত শতাব্দীর পঞ্চাশ, ষাট, এমনকি সত্তরের দশক পর্যন্তও তৃতীয় বিশ্বে বিশ্বমানের উঁচু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা ছিলেন অনেকেই। তাঁরা পশ্চিমা স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করতে পারতেন। ভয় পেতেন না। অন্যায়কারী ও অত্যাচারীর গালে কষে চপেটাঘাত করতে পারতেন। তাতে যুদ্ধবাজদের একটু সমঝে চলতে হতো। আজ জওহরলাল নেহরু নেই, মার্শাল জোসেফ টিটো নেই, চৌ এনলাই নেই, নাসের ও সুকর্ণর মতো জাতীয়তাবাদী নেতারাও নেই। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নও নেই। আজ সাম্রাজ্যবাদীদের পোয়াবারো।
পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু শুধু একজন জাতীয়তাবাদী নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বমানের বুদ্ধিজীবী ও বড় একজন ইতিহাসবিদ। নেহরু ইতিহাস পাঠ করেছেন, ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন এবং ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তাঁর গ্লিমসেস অব ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে ‘প্যালেস্টাইন ও ট্রান্স-জর্ডান’ শীর্ষক একটি অধ্যায় আছে। ১৯৩৩-এর মে মাসে তিনি ইহুদি ও প্যালেস্টাইন সম্পর্কে লিখেছিলেন: ‘সিরিয়ার পাশেই প্যালেস্টাইন। এর ওপরে লিগ অব ন্যাশনসের নির্দেশে ব্রিটিশ সরকার একটা ম্যান্ডেট পেয়েছে। সিরিয়ার চেয়েও ছোট এই দেশটি। এর মোট জনসংখ্যা ১০ লাখেরও কম (বর্তমানে ৪২ লাখ ৬০ হাজারের ওপর)। তবু বিশ্ববাসীর চোখে এর বিরাট মর্যাদা। তার কারণ, এর গৌরবময় অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ইহুদি ও খ্রিষ্টান—দুই সম্প্রদায়েরই এটি (জেরুজালেম) তীর্থস্থান, মুসলমানদেরও। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান আরব, এরা স্বাধীন হতে চায় এবং সিরিয়ায় যে আরব মুসলমানরা রয়েছে, তাদের সঙ্গে একত্র থাকতে চাইছে। কিন্তু ব্রিটিশের কূটনীতির ফলে এখানে একটি বিশেষ ধরনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ঘটিত সমস্যা মাথাচাড়া দিয়েছে, সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টি হলো ইহুদিরা। ইহুদিরা ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের পক্ষে, প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা অর্জনে তারা প্রাণপণে বাধা দিচ্ছে। তাদের ভয়, স্বাধীন হলেই দেশে আরব মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ...ব্রিটিশরা আরবদের জাতীয়তাবাদকে প্রতিহত করার অস্ত্র হিসেবে উসকে দিয়েছে ইহুদিদের ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে। বিভেদ বাধিয়ে দিয়ে তারা এমন একটা চাল চালছে যে এদের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখতে ও শান্তি রক্ষার জন্য তাদের এই অঞ্চলে থাকতে হবে। সাম্রাজ্যবাদীদের পদানত অন্যান্য দেশেও এই পুরোনো খেলা আমরা দেখেছি।’
জওহরলাল নেহরু ছিলেন অসামান্য পণ্ডিত। তিনি আরও লিখেছেন: ‘অদ্ভুত জাত এই ইহুদিরা। তারা বহুকাল আগে ছিল প্যালেস্টাইনের বাসিন্দা। ছোট একটি উপজাতি বা কয়েকটি উপজাতির সমষ্টি। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেটে এদের প্রাচীন ইতিহাস পাওয়া যায়। তাদের ধারণা, তারাই হচ্ছে ঈশ্বরের প্রিয় জাতি। তা নিয়ে তাদের অহংকার রয়েছে। বহুবার তারা বহু বিজেতার কাছে পরাজিত হয়েছে, পদানত করেছে, দাসে পরিণত হয়েছে।...শেষ পর্যন্ত ইহুদিরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবশ্য অতিদরিদ্র। পূর্ব ইউরোপের শহরগুলোতে এরা গাদাগাদি করে বাস করেছে। উনিশ শতকের শেষ দিকে জায়নবাদী আন্দোলন ক্রমে ক্রমে জোরদার হয়। পরিণত হয় একটি উপনিবেশ স্থাপনের আন্দোলনে। সব দেশ থেকে ইহুদিরা প্যালেস্টাইনে এসে বাসা বাঁধে। হিব্রু ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করে। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনারা প্যালেস্টাইন আক্রমণ করে। ব্রিটিশ সেনারা যখন জেরুজালেমে প্রবেশ করে, তখন ১৯১৭-র নভেম্বর, ব্রিটিশ সরকার হঠাৎ এক ঘোষণা দেয়, যার নাম ব্যালফোর ঘোষণা। তাতে বলা হয়: “প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের একটি জাতীয় বাসস্থান” প্রতিষ্ঠিত করে দেওয়াই ব্রিটিশ সরকারের অভিপ্রায়। পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের আনুকূল্য লাভই এই ঘোষণার উদ্দেশ্য।’
এরপর ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগ দেয় আমেরিকা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে, সে বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়। নানাভাবে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইসরায়েলকে করা হয় ক্ষমতাধর।
তবে ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আরব দেশগুলোর অনৈক্য। ১৯৫৮ সালের জুলাই মাসে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষের বাসিন্দা একজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেতা লন্ডন গিয়েছিলেন এক শান্তি সম্মেলনে। সেখান থেকে মিসরের প্রেসিডেন্ট জামাল নাসের এবং সিরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট শুকরি আল কোয়াতলির আমন্ত্রণে কায়রো ও দামেস্কে যান। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ইঙ্গো-মার্কিন-ফরাসিদের মদদপুষ্ট ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণ প্যালেস্টাইনিদের ন্যায়সংগত সংগ্রামে পাশে থাকবে—এ আশ্বাস দেন। সন্তোষের বৃদ্ধ নেতা মিসর ও সিরিয়ার নেতাদের বলেন, সবার আগে দরকার আরবদের ঐক্য। সেই ঐক্য নেই বলেই ৮ জুলাই থেকে গাজায় গণহত্যা অব্যাহত থাকতে পারছে।
সেখানে পাকিস্তান, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশের নেতারাও জালেমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারতেন। পশ্চিমা দেশেও ছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল, জাঁ-পল সাত্রে৴, মার্টিন লুথার কিং প্রমুখের মতো বিবেকবান দার্শনিক ও মানবাধিকারকর্মী। আজ পৃথিবী মানুষশূন্য। দানবের হাতই শক্তিশালী।
রমজান মাস। সামনে ঈদ। কয়েক বছর আগে এক ঈদের দিন সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া হয়। শাসক সাদ্দামকে সমর্থন করার প্রশ্ন নয়, তিনি ছিলেন ইরাকের সর্বশেষ স্বাধীন শাসনকর্তা, যেমন বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজদ্দৌলা। তাঁর ফাঁসির সেই ঈদের দিনে আমি গভীরতম কষ্ট পেয়েছিলাম। ঈদের দিন আমি উপবাস করেছিলাম। আমার মানসিক যন্ত্রণার কথা প্রথম আলোর প্রথম পাতায় মন্তব্য হিসেবে ছাপা হয়েছিল।
আমার এই লেখা যখন ছাপা হবে, তখন গাজায় মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। শতবর্ষের অন্যতম বড় গণহত্যা চলছে। বিশ্ববিবেক নীরব। কী হবে আমাদের মতো সামান্য মানুষের তা নিয়ে লিখে। কী হবে রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিল করে। টিভির পর্দায় শুনলাম, নারীদের মারা হচ্ছে, কারণ তাঁদের পেটে আর যেন কোনো ‘সন্ত্রাসী’ না জন্মে। শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে আর যেন কেউ মুক্তিসেনা না হতে পারে। সামান্য মানুষ হিসেবে আমাদের বুকটাই শুধু ফাটতে পারে। চোখে পানি ফেলতে পারি, কিছু করার ক্ষমতা নেই। ঈদের দিন আমাদের ছেলেমেয়েরা মিষ্টিমণ্ডা, পোলাও-কোর্মা খাবে, সেদিন গৃহহীন ফিলিস্তিনি শিশুরা কোথাও মাটিতে শুয়ে কাতরাবে অভুক্ত। আমাদের শিশুরা রঙিন নতুন জামাকাপড় পরে বাবা-মায়ের হাত ধরে রাস্তায় বেড়াতে বেরোবে। প্যালেস্টাইনের মা-বাবারা নতুন সাদা কাপড়ে নয়, পুরোনো কাপড়ের দাফনে মুড়ে তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যাবেন কোনো কবরস্থানে দাফনের জন্য। আর লেখা সম্ভব নয়।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

প্রাণভয়ে ভারতে কলকাতায় পালিয়ে আসি : নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দাবি করেছেন, তার জীবনের সংশয় থাকায় তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পর সাংবাদিকদের কাছে নূর হোসেন এমনটাই দাবি করেন। আজ স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় নূর হোসেন ও তার দুই সঙ্গী ওহিদুর রহমান ও খান জামানকে ফের আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

নূর হোসেন বলেন, “আমি পালিয়ে না এলে যারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলত। সেই কারণেই আমি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বলতে অস্বীকার করেন নূর হোসেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, আপনারাও তাদের সহযোগিতা করুন।”
ছয় কোটি টাকা লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করুক তাহলেই আসল সত্য প্রকাশ পাবে।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ থেকে তার পরিবারের লোকজনেরা আসছে। তারপর তাদের সঙ্গে কথা বলেই আইনজীবী যা করার করবেন।”
প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকেও গত ১৪ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা কৈখালির একটি বহুতল আবাসন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অধৈভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪ বিদেশি নাগরিক আইন (ফরেনারস অ্যাক্ট) লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী ওহিদুর জামান ও খান সুমনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। তাদের প্রত্যেকের আট দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২৩ জুন তাদের ফের আদালতে তোলা হয়। মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মধুমিতা রায় ওই তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে দিয়ে দমদম কেন্দ্রয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৭ জুলাই তাদের আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়ে দমদম কারাগারে পাঠান।
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ভেসে ওঠে সাতজনের মরদেহ। এই সাতজন হলেন এক গাড়িতে থাকা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সঙ্গী তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন ও তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আরেকটি গাড়িতে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়াডের্র কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে নজরুলের পরিবার।

লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী by তানজির আহমেদ রাসেল

যুক্তরাজ্য ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে ড়২২শে জুলাই অনুষ্ঠেয় ‘গার্ল সামিট-২০১৪’তে যোগ দিতে লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় দুপর সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-০০৫ ফ্লাইটে হিথ্রো বিমানবন্দর পৌঁছেন তিনি। এসময় তাকে স্বাগত জানান লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সেন্ট্রাল লন্ডনের অভিজাত এলাকা পার্ক লেনের হিলটন হোটেলে পৌঁছলে সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন, উপদেষ্টামন্ডলীর সভাপতি শামসুদ্দিন খান মাস্টার, ইউরোপিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল দাস গুপ্ত, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজ, মারুফ চৌধুরী, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বাণিজ্য সম্পাদক আ স ম মিছবাহ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মিসবাহুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান, ছাত্রলীগ সভাপতি তামিম আহমদসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক  নেতৃবৃন্দ। এদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের প্রতিবাদে আজ  গার্ল সামিট চলাকালে সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কালো পতাকাও প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে অতীতের বিভিন্ন সময়ে বিরোধী নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে কালো পতাকা প্রদর্শন করলেও গতকাল তেমন কোন কর্মসূচি কাউকে পালন করতে দেখা যায়নি।

আজকের কর্মসূচি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হবে। দিনের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা বাণিজ্য, বাংলাদেশে ব্রিটিশ সাহায্যের বর্তমান পরিস্থিতি, ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাসহ দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও বিরাজমান আন্তর্জাতিক বিষয় স্থান পাবে।  এই দিন সকাল ১০টা ২০ মিনিটে গার্ল সামিটে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। গার্ল সামিটে তিনি কন্যা শিশুর অধিকার রক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। এছাড়া কন্যা শিশুদের বাল্যবিবাহে বাধ্য করার প্রবণতা নিয়েও কথা বলবেন। গার্ল সামিট শেষে বিকাল ৪টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেট ফরেন এফেয়ার্স ডগলাস আলেক সান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই দিনই হিলটন হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলেও যোগ দেবেন তিনি। কাল বিকালে বিমানের বিজি-০০৫ ফ্লাইটে লন্ডন ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আবার আমার দেশ by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যখনই বিদেশ ভ্রমণ করি, সদাই সতর্ক থাকি কতটা উপেক্ষিত হচ্ছি। সেই ছোটবেলায় যখন তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়ার সময়ে গ্রীষ্মের ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে যেতাম, তখন কুটিল ইউরোপের জটিল সীমানার কারণে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ট্রেনে ঘুমন্ত আমাদের জাগিয়ে সবুজ পাসপোর্ট এ পাশ-ও পাশ করে দেখে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় মনে করিয়ে দিত আমরা সম্ভবত অনাকাঙ্ক্ষিত দেশের নাগরিক। এই অনাকাঙ্ক্ষার কতটুকু স্বোপার্জিত আর কতটা আন্তর্জাতিক সমাজের চাপিয়ে দেওয়া, এটা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। আমি যখন উর্দি-পরা মূর্ত ত্রাস সীমান্ত প্রহরীদের বৈধ পাসপোর্ট আর বৈধ ভিসা নিয়ে অবৈধ উৎপীড়ন মোকাবিলা করার জন্য ভয়ার্ত মনে অপেক্ষমাণ, তখন ১৬ বছরি এক মার্কিন মেয়ে পাসপোর্টের অংশটি পকেটের বাইরে দৃশ্যমান রেখে নিতান্তই অবহেলায় তার চরণযুগল পাদুকাসমেত আরেকটি সিটে উপস্থাপন করে পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রমমান সীমান্ত প্রহরীকে অবলীলায় উপেক্ষা করে চলেছে এবং তাতে যখন সীমান্ত প্রহরী তার ন্যায্য জিজ্ঞাসাটিও করছে না তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে সভ্যতার সূতিকাগার ইউরোপও পাশবিক শক্তির পূজারি—এই দোষটি শুধু অশিক্ষিত পুরোনো যুগের জাতিদের মধ্যে নয়।
১। একসময় পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন ছিল তাইপেই ১০১। দর্শনের জন্য নিচের দিকের কোনো ফ্লোরে দেখলাম ঘড়ির মতো বৃত্তাকার জায়গায় পৃথিবীর শ খানেকের ওপর শহরের নাম রয়েছে, শুধু নেই বাংলাদেশের কোনো শহরের নাম, যে দেশটি সভ্যতার মুখ্য উপাদান সারা পৃথিবীর মানুষের ২ দশমিক ৪ শতাংশকে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা দিচ্ছে এক-সহস্রাংশ ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে। এমনকি কলম্বোর নামও রয়েছে। এমন নয় যে আমাদের অক্ষাংশে আরও গুরুত্বপূর্ণ শহর রয়েছে।
২। সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক থেকে উড়ে এলে বিমানের সিংহভাগ যাত্রী থাকবে বাংলাদেশের সরবরাহকৃত খবরের কাগজে, যা অবশ্যই কোনোভাবে বাংলাদেশি নয়, সব দেশের আবহাওয়ার তথ্য দেবে কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে বাংলাদেশে যেহেতু আবহাওয়াই নেই আর তথ্য দেবে কীভাবে। সিঙ্গাপুরের আছে, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, দিল্লি আছে। এমনকি কলম্বো আর কাঠমান্ডুও বাদ যায়নি, কোনো কারণে পাকিস্তানও অবহেলার যোগ্য নয়, তবে সিংহভাগ বাংলাদেশের যাত্রীরা যেহেতু নিজেদের আবহাওয়া জানে, তাই অন্য দেশের তথ্য দিয়ে তাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করা হয়। এটা কিন্তু শুধু আবহাওয়া নয়, এত বড় দেশের শেয়ারবাজারও কিন্তু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ নয়, যেমনটি আমাদের খেলাধুলা এবং অন্যান্য বিষয়। একবার আমাদের গলফ খেলোয়াড় সিদ্দিকুর রহমানের খবর পড়ে কী-ই না গর্বিত মনে হয়েছিল নিজেকে।
৩। আরবের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশগুলো আমাদের দেশের যাত্রী পরিবহনে রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে আর আমাদের নিজেদের বিমান শুধু লোকসানি খাত। আমাদের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষগুলো শ্রম দিয়ে যে পয়সাটি উপার্জন করে, তার সম্ভবত সিংহভাগ চলে যায় বিমানভ্রমণের খরচে। অথচ সেই যাতায়াতেও তারা সেবা, ভাষা এবং আপ্যায়নে আন্তরিকতার পরশ নেই। ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি যাত্রীর জন্য পথনির্দেশক হয়তো অনর্গল হিন্দি বলে যাচ্ছে আর আমাদের সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভাবছে যে আদর-আপ্যায়ন পেতে হলে অন্য ভাষা জানতে হবে। অনেক দিন আগের কথা, একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে পড়েছিলাম বিমান হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আয় করা খাত। কেন আমরা সেই বিমানকে ক্ষতিতে নুইয়ে পড়া অবস্থায় দেখছি। আমাদের নেতাদের মধ্যে এমন কেউ সাহসী ও যোগ্য নেই, যিনি দেখিয়ে দিতে পারেন আমরাও পারি। এর জন্য বিদেশি যাত্রীদের ডাকতে হবে না, নিজের দেশের যাত্রীদের দেশের পতাকাবাহী বিমানে উঠতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের অর্থে আকাশভ্রমণে ভারতে নিজেদের পতাকাবাহী বিমান ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা ছিল, এতে আমাদের গণতান্ত্রিক (স্বেচ্ছাচারিক!) অধিকার কিছুটা ক্ষুণ্ন হলে অসুবিধা কী? এমনকি ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় ছেলেমেয়েকে যেকোনো স্কুলে ভর্তি করা যায় না, এলাকার স্কুলে ভর্তি করতে হয় তাতে তো আর তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছে না। এটা কারও ব্যক্তিগত সংগতির ওপর নির্ভর করে না দেশের কল্যাণই এখানে মুখ্য।
৪। শুধু বাইরে বলি কেন দেশেও কিন্তু আমাদের এই সহজ-সরল খেটে খাওয়া জীবনের আনন্দ পরিত্যাগ করা মানুষগুলো যাদের রেমিট্যান্সের সুবাদে বিশ্বের অর্থনৈতিক চরম মন্দার দিনগুলোতেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল ছিল রাজনীতির শাখের করাতে পিষ্ঠ হয়েও এই মানুষগুলো বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে যাওয়ার পথে এবং ফেরার পথে রীতিমতো নিগৃহীত, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা চলছে তাদের বোর্ডিং কার্ডটি পূর্ণ করে দেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পর্যাপ্তসংখ্যক লোক নিয়োগ করা যেতে পারে, তাদের ভিসা পাসপোর্টে ভুল এই কথা বলে হয়রানির জন্য বড়সড় সাজার ব্যবস্থা করে এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের দূতাবাসে কর্মরত সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে এই খেটে-খাওয়া মানুষের পাঠানো রেমিট্যান্সেই তাঁদের বেতন হয়। সুতরাং তাঁদের যেকোনো কাজ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত করে ফেলা উচিত। দূতাবাসের অবহেলায় যদি এই মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে বাংলাদেশও ওই পরিমাণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
৫। ১৯৯৮ সালের কথা। আমাদের ছেলেরা ভ্যালাডলিদ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনলাইন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় খুব ভালো করার জন্য তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করেছিলেন। তখনো ওই সাইটের পুল ডাউন মেনুতে অনুল্লেখ্য কিছু দেশের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম ছিল না। এখনো প্রয়োজনীয় নানা সাইটের পুলডাউন মেনুতে বাংলাদেশের নাম নেই। অস্ট্রেলিয়া তাদের ভিসার কার্যক্রম বাংলাদেশ থেকে তুলে নিয়েছে, কানাডার কথাও একই। ভিসা করতে হলে বাংলাদেশের নাগরিকদের ব্যাংকক কিংবা দিল্লি যেতে হয়, কখনো বা কলম্বো, জিআরই পরীক্ষাও নাকি দেওয়া যায় না।
নানা সীমাবদ্ধতায়, আইনকানুনে বাধা হয়ে যাচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের। এটা নিয়ে ভুক্তভোগীরা উচ্চারণ করতে পারছে না, সরকারও বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিমানের অবতরণেও নাকি নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আন্তদেশীয় সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত, শক্তির তারতম্য দিয়ে নয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে আমরা জাতি হিসেবে যে বিব্রত, এটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আমাদের আত্মসম্মানবোধকে বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নানা দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। আমাদের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হতে হবে, যা ছাড়া জাতীয় প্রতিষ্ঠা হবে কেবলই মরীচিকা।

মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে নেই কোনো আরব রাষ্ট্র

তিন বছর আগে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটা আশা ছিল যে আরব জাহানে ক্রমবিকাশমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তারা হয়তো আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে।
এরপর দেশটিতে হামাস ও ফাতাহ একটা ঐকমত্যের সরকার গঠন করে এবং এই সরকার জনগণের অধিকার ও দাবিগুলোর ব্যাপারে আরো বেশি দায়িত্বশীল। তাই ফিলিস্তিনি নেতারা আশা করেছিল যে তারা এবার আরব নেতাদের সমর্থন পাবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামপ্রতিক বিমান হামলা ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ তাদের মন একটুও টলাতে পারেনি। বরং এর বিপরীতটাই ঘটছে। কার্যত আরব দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সমর্থকদের মতে ইসরাইলের অবৈধ বিমান হামলা আর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে আরব দেশগুলোর সরকারের প্রতিক্রিয়া বেশ অসংলগ্ন এবং মোটেই আশানুরূপ নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু আরব দেশগুলোর সরকার এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন।
মুনদার মুয়াম্মার নামে একজন তিউনিশীয় বিক্ষোভকারী যিনি তার দেশের রাজধানীতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আরব দেশই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
দিয়ানা বুতু নামে একজন ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং বিশ্লেষক বলেন, গাজায় অন্য সব আগ্রাসন ও আক্রমণের বেলায় কয়েকটা সরকার ছিল যারা প্রতিবাদ করত যে ইসরাইল যা করছে, যেভাবে করছে তা বেআইনি-অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি কিছু সমর্থন দিত। কিন্তু এবার সে রকম কিছু ঘটছে না। সবাই চুপচাপ বসে আছে।

আবু তারেক সাদেক নামে একজন ফিলিস্তিনি যিনি বৈরুতের শাতিলা শরণার্থী শিবিরে থাকেন। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা পিছু হটছে। আগের আমলের সরকারগুলো ফিলিস্তিনের ব্যাপারে কমপক্ষে কিছু কথা বলত, যদিও তারা মিথ্যা বলত। কিন্তু আজ আমরা তাদের কাছে অপাঙক্তেয়। যেখানে আমরা ১ নম্বর আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা, সেখানে আজ আমরা ২৪ নম্বরে।
মারওয়া বেটলিলি নামে তিউনিশিয়ার একজন ছাত্রী শুক্রবার রাজধানী তিউনিসে এক ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ র্যালিতে অংশ নিয়ে বলেন, আরব বসন্ত শুরু হয়েছে এই তিউনিশিয়ায়। আমরাই প্রথম বিপ্লব করেছি। আর আমাদেরকেই প্রথম অন্যায়ের নিন্দা করতে হবে এবং স্বাধীনতা ও মুক্তির ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।
বামপন্থী ইসরাইলি পত্রিকা হারেেজর একজন লেখক আনসেল পেফার টুইটারে লিখেছেন, এটা অবিশ্বাস্য যে ইসরাইল যখন গাজা উপত্যকা এবং সমগ্র আরব রাষ্ট্রের ওপর খবরদারি করছে, তখন মিসর তাদের সমালোচনা করে একটি কথাও বলছে না। শুধু হামাসের ওপর দোষারোপ করছে।
ফিলিস্তিনি-মিসরীয় মানবাধিকার কর্মী এবং সংগঠক রামি সাথ বলেন, মিসরের সরকার আগুন নিয়ে খেলছে। তারা গাজা নিকটবর্তী মিসরীয় সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে যাতে গাজাবাসীর জন্য কোনো সাহায্য ও ত্রাণসামগ্রী না আসতে পারে। এটা শুধু অমানবিকই নয়; বরং সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।

অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে নেই কোনো আরব রাষ্ট্র

তিন বছর আগে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে একটা আশা ছিল যে আরব জাহানে ক্রমবিকাশমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তারা হয়তো আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে পারবে।
এরপর দেশটিতে হামাস ও ফাতাহ একটা ঐকমত্যের সরকার গঠন করে এবং এই সরকার জনগণের অধিকার ও দাবিগুলোর ব্যাপারে আরো বেশি দায়িত্বশীল। তাই ফিলিস্তিনি নেতারা আশা করেছিল যে তারা এবার আরব নেতাদের সমর্থন পাবে।

কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামপ্রতিক বিমান হামলা ও নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ তাদের মন একটুও টলাতে পারেনি। বরং এর বিপরীতটাই ঘটছে। কার্যত আরব দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনের সমর্থকদের মতে ইসরাইলের অবৈধ বিমান হামলা আর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞে আরব দেশগুলোর সরকারের প্রতিক্রিয়া বেশ অসংলগ্ন এবং মোটেই আশানুরূপ নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু আরব দেশগুলোর সরকার এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন।
মুনদার মুয়াম্মার নামে একজন তিউনিশীয় বিক্ষোভকারী যিনি তার দেশের রাজধানীতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে মিছিলে যোগ দেন তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোনো আরব দেশই ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিচ্ছে না।
দিয়ানা বুতু নামে একজন ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং বিশ্লেষক বলেন, গাজায় অন্য সব আগ্রাসন ও আক্রমণের বেলায় কয়েকটা সরকার ছিল যারা প্রতিবাদ করত যে ইসরাইল যা করছে, যেভাবে করছে তা বেআইনি-অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি কিছু সমর্থন দিত। কিন্তু এবার সে রকম কিছু ঘটছে না। সবাই চুপচাপ বসে আছে।

আবু তারেক সাদেক নামে একজন ফিলিস্তিনি যিনি বৈরুতের শাতিলা শরণার্থী শিবিরে থাকেন। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে ফিলিস্তিনিরা পিছু হটছে। আগের আমলের সরকারগুলো ফিলিস্তিনের ব্যাপারে কমপক্ষে কিছু কথা বলত, যদিও তারা মিথ্যা বলত। কিন্তু আজ আমরা তাদের কাছে অপাঙক্তেয়। যেখানে আমরা ১ নম্বর আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা, সেখানে আজ আমরা ২৪ নম্বরে।
মারওয়া বেটলিলি নামে তিউনিশিয়ার একজন ছাত্রী শুক্রবার রাজধানী তিউনিসে এক ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ র্যালিতে অংশ নিয়ে বলেন, আরব বসন্ত শুরু হয়েছে এই তিউনিশিয়ায়। আমরাই প্রথম বিপ্লব করেছি। আর আমাদেরকেই প্রথম অন্যায়ের নিন্দা করতে হবে এবং স্বাধীনতা ও মুক্তির ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।
বামপন্থী ইসরাইলি পত্রিকা হারেেজর একজন লেখক আনসেল পেফার টুইটারে লিখেছেন, এটা অবিশ্বাস্য যে ইসরাইল যখন গাজা উপত্যকা এবং সমগ্র আরব রাষ্ট্রের ওপর খবরদারি করছে, তখন মিসর তাদের সমালোচনা করে একটি কথাও বলছে না। শুধু হামাসের ওপর দোষারোপ করছে।
ফিলিস্তিনি-মিসরীয় মানবাধিকার কর্মী এবং সংগঠক রামি সাথ বলেন, মিসরের সরকার আগুন নিয়ে খেলছে। তারা গাজা নিকটবর্তী মিসরীয় সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে যাতে গাজাবাসীর জন্য কোনো সাহায্য ও ত্রাণসামগ্রী না আসতে পারে। এটা শুধু অমানবিকই নয়; বরং সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।

নাগরিক ঐক্যের মতবিনিময় নিজেদের ব্যর্থতাই সরকারের বড় শত্রু

বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাই তাদের বড় শত্রু। তাদের আর কোন শত্রুর প্রয়োজন নেই। তারা জনগণকে ভোটের অধিকার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার স্বাধীনতাকে অর্থহীন করেছে, মুক্তিযুদ্ধকে অর্থহীন করেছে। এই সরকারের কাছে কোন দাবি আদায়ের ভিত্তি নেই। বাংলাদেশে রাস্তায় আন্দোলন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়- এটা প্রমাণ হয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধ করেও এদেশে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সম্মানে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, দেশের মানুষ যেখানে দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে সেখানে গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকার যে নজির স্থাপন করেছে তা পাকিস্তান আমলেও সম্ভব হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে বলছে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। যারা শাসনতন্ত্র সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখে না তারা আজ শাসনতন্ত্র সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভোটছাড়া ঘোষিত এমপিদের দাপটে এখন সবার দিশাহারা অবস্থা। তাদের অবৈধ কাজের বিরোধিতা করলেই হামলা-মামলা, গুম-খুনের শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিন্দিত ও জনবিচ্ছিন্ন, এটা অস্বীকার করা যায় না। এই সরকার কতটা জনবিচ্ছিন্ন সেটা প্রমাণে ঘটনার অভাব নেই। র‌্যাব-পুলিশ ও আমলাদের ওপর নির্ভর করে দেশ চালাতে গিয়ে সর্বত্র নির্যাতন, গুম ও খুনের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বক্তব্য চলাকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দলীয় প্রধান হিসেবে তিনি সংসদ ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও নিয়ন্ত্রণ করছেন। সাংবিধানিকভাবেই দেশে এখন রাশিয়ার জার বা মোগল সম্রাটের মতো এক ব্যক্তির শাসন কায়েম হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই আমরা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের প্রহসনে আওয়ামী লীগ যেভাবে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে তা নজিরবিহীন। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্য আসনগুলোতে ভোটই হয়নি। বর্তমান সরকারকে তাই নির্বাচিত বলার সুযোগ নেই। এজন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, গণফোরাম, সিপিবি-বাসদের সঙ্গে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করতে আগ্রহী। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এনডিএফের সঙ্গে আমরা কথা বললেও তাদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এসময় মান্না নির্বাচন কমিশনকে অকার্যকর দাবি করে এই নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনও দাবি করেন। নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের উপনির্বাচনকে প্রভাবিত করেছেন। আওয়ামী লীগকে প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়। এই সরকার পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। ইফতার অনুষ্ঠানে মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, এনটিভির হেড অব নিউজ খায়রুল আলম বকুল, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, সোহরাব হাসানসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশ নেন।

‘প্লিজ রাস্তা নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না’ -যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

রাস্তা নিয়ে কোন প্রকার অপপ্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন,  প্লিজ রাস্তা নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। অপপ্রচার করে মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করছে একটি মতলবি মহল। এটা প্রতি ঈদেই করে। এ পর্যন্ত আমি চারটি ঈদ পেয়েছি। এর কোন ঈদেই মানুষের ভোগান্তি হয়নি। এবারও হবে না।

গতকাল দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেটলাইন দেয়ার পর ২০ তারিখের মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বাকি কাজ দু’দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। রাস্তার জন্য এবার কোন যানজট হবে না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ২১টি টিম সার্বক্ষণিকভাবে সারাদেশের সড়কের কাজ মনিটরিং করছে। আমি প্রকৌশলীদের বলেছি, কাজ করতে যদি কোথাও অতিরিক্ত খরচ হয় তাহলে সরকার অতিরিক্ত খরচ বহন করবে। কিন্তু দায়সারা গোছের বালি-খোয়া দিয়ে একটি কৃত্রিম আবরণ সৃষ্টি করা যাবে না, তা মেনে নেয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করছি কারা কমিটমেন্ট নিয়ে দেশের জন্য কাজ করছে, আর কারা দেশের জন্য কাজ করছে না। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে, ঈদের পর শাস্তি তাদের পেতেই হবে। বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কোন কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেয়া আছে, ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক তাদের রাস্তায় থাকতে হবে। ২৪ ঘণ্টা রাস্তায় থেকে কাজ মনিটরিং করতে হবে। কারণ, আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে স্বস্তি দেয়া। মানুষকে কথা দিয়েছি, কথা আমাদের রাখতে হবে।

ভালুকা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- প্রকল্পের কন্ট্রাক ৩-এর পরিচালক প্রকৌশলী শওকত হোসেন, প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রকৌশলী আফতাব উদ্দিন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. শাহাব উদ্দিন খান, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনোয়ারুউজ্জামান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল আহসান তালুকদার প্রমুখ। বিকালে ভালুকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলোর সামনে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন,  মহাসড়কটিকে ঈদের আগেই ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে। ঈদে মহাসড়কটি যানজট মুক্ত থাকবে বলে আশা করছি। এ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের মার্চের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে জানান তিনি।