Saturday, March 25, 2017

আরব সাগরে ভারতের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা

আরব সাগরের বুকে ভারতীয় নৌবাহিনী নতুন ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র (এসএএম) তার প্রথম পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে। বুধবারের ওই সফল পরীক্ষার কথা গতকাল বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করা হয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে। শুক্রবার ভারতের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধজাহাজ আইএনএস বিক্রমাদিত্য থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া দ্রুতগামী লক্ষবস্তুকে যথাযথভাবে ধ্বংস করতে পেরেছে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। ওয়েস্টার্ন ন্যাভাল কম্যান্ড-এর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল গিরীশ লুথরার নেতৃত্বে এই পরীক্ষা করে ভারতীয় নৌসেনা। এটি অপারেশনাল রেডিনেস ইন্সপেকশন-এর একটা অংশ বলেই নৌবাহিনী সূত্রে খবর।
ক্ষেপণাস্ত্রের এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতীয় নৌসেনার শক্তি ভাণ্ডারকে আরো মজবুত করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সমুদ্রের তলা থেকে শত্রুপক্ষের জাহাজকে ধ্বংস করার জন্য এ মাসের গোড়াতেই জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করেছিল ভারতীয় নৌসেনা। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কালভারি গোত্রের ডুবোজাহাজ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সেই পরীক্ষাতেও সফল হয় ভারতীয় নৌবাহিনী।

‘আমার বাইচ্চাটারে আইন্না দিলাও’

জঙ্গি আস্তানা বলে সন্দেহে থাকা ‘আতিয়া মহলে’ আটকা মেয়ে আর জামাতা। বাইরে অজানা আশঙ্কায় বুক ধড়ফড় করছে বাবা আর মায়ের। মা সাফিয়া বেগম কাঁদছেন আর বলছেন, ‘আমার বাইচ্চাটারে আইন্না দিলাও। আমার নাতিন নওশডারে আইন্না দিলাও।’ বাবা নূর মিয়াও অস্থির, ব্যাকুল। গতকাল শুক্রবার থেকে কাটছে তাঁদের এই প্রতীক্ষার প্রহর। নূর মিয়া বলেন, তাঁর মেয়ে রুমি বেগম। জামাতা খলকু মিয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে। রুমির সঙ্গে রুমির ছোট বোনও রয়েছে। আতিয়া মহলে নিচতলায় একটি ফ্ল্যাট থাকে মেয়ের পরিবার। এখনো তিনি মেয়ের পরিবারের কাউকে পাননি। পুলিশের ধারণা, আতিয়া মহল নামের বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ভেতরে একজন নারী থাকার কথা নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আছে, সেটা জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ভেতরে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাইনুল ওরফে মুসা রয়েছেন। আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়িতে মোট ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে। নূর মিয়া দাবি করেন, এক ঘণ্টা (বেলা সোয়া একটা) আগে মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। জানিয়েছে, তাঁরা ভালো আছেন।
তবে এখনো নিজেদের ফ্ল্যাটেই আটকা আছেন। বেলা দুইটার দিকে আতিয়া মহল থেকে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের যখন শব্দ আসছিল, তখন চোখে-মুখে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে নূর মিয়া ও সাফিয়া বেগমের। মেয়ের পরিবারকে নিরাপদে ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। জঙ্গিরা অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। গতকাল দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল গতকাল বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। রাতভর বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল আতিয়া মহল নামের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে আনছে। আতিয়া মহল ও তার পাশের আতিয়া মহল ২ নামের আরেকটি ভবনের মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই পথে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাসিন্দাদের বের করা হচ্ছে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

থেমে থেমে গুলি-বিস্ফোরণের শব্দ

সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ অভিযান চলাকালে বেলা দুইটার একটু পর থেকে থেমে থেমে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এর আগে ওই বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকেছে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের কাজ শেষ বলে বেলা সোয়া একটার দিকে জানিয়েছেন জালালাবাদ সেনানিবাসের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকাজের বর্ণনা দিয়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল আতিয়া মহল নামের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে আনছে। আতিয়া মহল ও তার পাশের আতিয়া মহল ২ নামের আরেকটি ভবনের মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই পথে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাসিন্দাদের বের করা হচ্ছে। সে সময় ফায়ার সার্ভিসকে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে। সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। জালালাবাদ সেনানিবাসের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের কর্মকর্তা সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হচ্ছে। পুলিশ ও সোয়াট সহায়তা করছে।
সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মূল অভিযান চালাচ্ছেন। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযান শুরু হওয়ার পরই ওই এলাকায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর বৃষ্টি থেমে যায়। সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ফোর্স। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় চালানো অভিযানেও অংশ নিয়েছিল সিলেটের জালালাবাদ থেকে যাওয়া সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল। জঙ্গিরা অবস্থান করছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। গতকাল দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল গতকাল বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। রাতভর বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের ধারণা, আতিয়া মহল নামের বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ভেতরে একজন নারী থাকার কথা নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আছে, সেটা জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ভেতরে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাইনুল ওরফে মুসা রয়েছেন। আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়িতে মোট ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

জিয়া ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ কবে শুরু হতো বলা মুশকিল: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ কবে শুরু হতো, তা বলা মুশকিল। আজ শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জীবনীভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এই দাবি করেন। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন যুবদল ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ২৬ মার্চ যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে স্বাধীনতাযুদ্ধ কবে শুরু হতো, এটা বলা মুশকিল। কারণ, তখন জাতি যেভাবে দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়েছিল, জাতি যেভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন কিন্তু কোন রাজনীতিক নেতৃত্ব জাতিকে সেভাবে কোনো আহ্বান জানায়নি। এই আহ্বানের ফলেই পুরো জাতি সেদিন যুদ্ধে নেমে পড়েছিল।’
বিএনপির মহাসচিব আবারও অভিযোগ করেন, সরকার জঙ্গিবাদ জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ হাসিল করতে চায়। গতকালের বিস্ফোরণে একজনের নিহত হওয়ার বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যে মানুষটি আত্মঘাতী বোমা দিয়ে নিহত হলো, সে কি তাকে নিহত করবার জন্যই আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে? বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্যগুলো না এলে জনগণের মধ্যে সেই সন্দেহ সৃষ্টি হবেই। যে কথাগুলো আমরা বারবার বলে আসছি যে সরকার এটাকে আসলে সমাধান করতে চায় না। সরকার চায় এটাকে জিইয়ে রেখে, এই সমস্যাকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়।’ জঙ্গিবাদ নির্মূলে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য গড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব। বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুন ইচ্ছাকৃত কি না, সে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ভবনের যে তলায় বৈদেশিক রিজার্ভের ‘ডকুমেন্ট’ থাকে, সেখানেই আগুন লেগেছে। তাই সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ আছে, ডকুমেন্ট নষ্ট করার জন্য এই আগুন ইচ্ছাকৃত কি না।

কুমিল্লার নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ মনে করছি না: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে কুমিল্লার নির্বাচন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ যা-ই থাকুক না কেন, কুমিল্লার নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হবে। আমি কুমিল্লার নির্বাচনকে কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। আমার বিশ্বাস, কুমিল্লার মানুষ এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে না।’ আজ শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিইসির এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। সিইসি বলেন, ‘আমার অর্ডার, কারও প্রতি শৈথিল্য দেখানো যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো ব্যক্তি বা দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি অকারণে প্রবেশ করলে তাঁকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চেয়ে বড় প্রভাবশালী আর কেউ নেই। তাঁর অধীনে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।’ সাফল্যের সঙ্গে তিনি সবাইকে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন। ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট নেওয়ার কথা।

‘আতিয়া মহলে’ আটকা মেয়ে, পথ চেয়ে পঙ্গু বাবা

সন্দেহে থাকা জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলের’ তিন তলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে আটকা মেয়ে-জামাই। সঙ্গে শিশু দুই নাতি-নাতনি। একজনের বয়স পাঁচ বছর, আরেকজনের নয়। বাসায় বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস নেই। অন্ধকারে কান্নাকাটি করছে শিশুরা। আতিয়া মহলের কাছাকাছি একটি চায়ের দোকানে বসে এসব কথা জানান পঙ্গু মহসিন হোসেন। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরেই ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন। রাত থেকেই মেয়ে-জামাইয়ের অপেক্ষায় চায়ের দোকানে বসে আছেন। চোখে কান্নার নহর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে মহসিনের। তাঁরা জানিয়েছেন, বাচ্চারা ভীষণ ভয় পাচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ করে তাঁরা ভেতরে বসে আছেন। ফোনের নেটওয়ার্কেও সমস্যা হচ্ছে। ঘর অন্ধকার থাকায় বাচ্চারা বেশি ভয় পাচ্ছে। মহসিন হাঁটতে পারেন না। ২০০৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। জামাতা আর নাতি-নাতনির দুশ্চিন্তায় অস্থির তিনি। কিছুতেই স্থির হতে পারছেন না।
একবার এ চায়ের দোকানে বসেন তো আরেকবার অন্য চায়ের দোকানে যান। মহসিনের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর ভাগনিজামাই ও ছেলে। একই চায়ের দোকানে দেখা মেলে বীথি আক্তারের। কোলে ঘুমিয়ে আছে চার বছরের মেয়ে। বীথি বলেন, তিনি ‘জঙ্গি আস্তানার’ পাশের বাড়ি আতিয়া মহল ২-এ ভাড়া থাকেন। গতকাল পুলিশ ভবনটি খালি করতে বলে। এরপর তিনি এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। সকালে আবার চায়ের দোকানে আসেন। বীথির স্বামী ওরসে গেছেন। তিনি না আসা পর্যন্ত চায়ের দোকানেই থাকবেন। আতিয়া মহলের আশপাশে মহসিন ও বীথির মতো বেশ কয়েকজন এসেছেন স্বজনের খোঁজে। বাড়ির কাছের রাস্তায় কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছে। রাস্তার ওপর সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আতিয়া মহল ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়েছে।

লামায় বৃদ্ধ দম্পতি খুন

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইয়াংসায় বৃদ্ধ দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে ক্যহ্লাচিং মারমা (৭০) ও তাঁর স্ত্রী চিংহ্লামে মারমার (৬৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ক্যহ্লাচিং মারমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউিপ) সাবেক সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংসা ছোটপাড়া। সেখানে একটি বাড়িতে থাকতেন ওই দম্পতি।
বৃদ্ধ ক্যহ্লাচিংকে গলা কেটে ও বৃদ্ধা চিংহ্লামেকে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ির আলমারি ও সিন্দুক ভাঙা রয়েছে। ইয়াংসা ছোটপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য আপ্রুসি মারমা জানান, পাঁচ মাস আগেও বৃদ্ধের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেছেন, লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। সেখানে সেনাবাহিনীও গেছে।

অভিযান শুরু, গুলির শব্দ

ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান। সকাল ১০টা ০৫ মিনিটের দিকে পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। ওই এলাকার আশপাশ অনেকটাই অন্ধকার। সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আশপাশের বাড়িতে টর্চলাইট খুঁজতে দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর আর্মি ইনটেলিজেন্সের ওই কর্মকর্তা সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের জানান, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হচ্ছে। পুলিশ ও সোয়াট সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মূল অভিযান চালাচ্ছেন। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ‘আতিয়া মহল’ নামের ওই বাড়ির ভেতর থেকে কাউকে সরানো হয়নি। এলাকার জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে। এলাকার বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ফোর্স। সকাল নয়টার দিকে জানা যায়, তারা সেখানে অভিযান চালানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় চালানো অভিযানেও অংশ নিয়েছিল সিলেটের জালালাবাদ থেকে যাওয়া সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল। জঙ্গিরা অবস্থান করছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাঁচতলা বাড়িটি ঘেরাও করে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটের একটি দল গতকাল বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। রাতভর বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। গতকাল সন্ধ্যার পর সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের ধারণা, আতিয়া মহল নামের বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে। ভেতরে একজন নারী থাকার কথা নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আছে, সেটা জানা যায়নি। পুলিশের ধারণা, ভেতরে নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাইনুল ওরফে মুসা রয়েছেন। আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়িতে মোট ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

উল্টে গেল ট্রাক, চলে গেল পুরো পরিবার

অভাব ঘোচাতে আট মাস আগে গ্রাম ছেড়ে রাজধানীতে পাড়ি জমান আজিজুল হক (৪০)। সঙ্গে নেন স্ত্রী ও তিন ছেলেকে। কিছু অর্থকড়ি রোজগারের পর আবারও গ্রামে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল পুরো পরিবারের সবার প্রাণ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেহেরবাড়ি এলাকায় গতকাল শুক্রবার ভোরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক উল্টে তাঁরা ৫ জনসহ ১০ জন নিহত হয়। এ ছাড়া বগুড়া, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও নোয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে এক শিশুসহ সাতজনের। এ নিয়ে গত ৪৩ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল অন্তত ৩৯২ জন। ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর আঞ্চলিক অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: ময়মনসিংহের ভালুকায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন তারাকান্দা উপজেলার বালিখা ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা গ্রামের আজিজুল, তাঁর স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৩৪), ছেলে মেহেদি হাসান (১১), মিজান (৯) ও সিজান (৭) এবং ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর সিরতা গ্রামের জোসনা বেগম (৫৫) ও তাঁর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (১৮) এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নকশি গ্রামের শাজাহান হোসেন, একই জেলার নকলা উপজেলার ভাতিয়ারকান্দা গ্রামের শুক্কুর আলী (৬৫) ও সদর উপজেলার জহুরদি গ্রামের গ্রামের খোরশেদ আলম (২৫)। আজিজুলের স্বজনেরা বলেন, অসুস্থ শ্বশুর আবদুল জলিলকে দেখতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের ছাদে চেপে ময়মনসিংহের উদ্দেশে পরিবার নিয়ে রওনা হন আজিজুল। গন্তব্য ছিল তারাকান্দার ঢাকিরকান্দা গ্রাম। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গতকাল ভোর পৌনে চারটার দিকে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি মেহেরবাড়ি এলাকায় উল্টে যায়। ভোরে পুলিশ এবং ময়মনসিংহ, ভালুকা ও ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সিমেন্টের বস্তার নিচে চাপা পড়া অবস্থায় নয়জনের লাশ উদ্ধার করেন তাঁরা। গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে খোরশেদ মারা যান। আহত অন্য চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন-অর-রশিদ বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলায় সড়কের কিছু অংশে কাটা। সম্ভবত চালক বিষয়টি বুঝতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। লাশ বাড়িতে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকিরকান্দা গ্রামে গতকাল বিকেলে আজিজুলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও প্রতিবেশীরা শোকে বিহ্বল। তাঁরা বলেন, আজিজুলের বাবা মারা গেছেন অনেক বছর আগে। মা হনুফা বেগম নারায়ণগঞ্জে বাসাবাড়িতে কাজ করেন। খবর পেয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বেলা তিনটার দিকে আজিজুল ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের লাশ বাড়ি পৌঁছায়। আজিজুলের শাশুড়ি জমিলা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ভাত রান্না কইরা রাখছিলাম, তাঁরা আইয়া খাইব বইল্যা।’ এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আজিজুলের অসুস্থ শ্বশুর আবদুল জলিল তখন মেয়ে-জামাই-নাতিদের শোকে হাউমাউ করে কাঁদছেন। আজিজুলের ছোট ভাই শামসুল হক বলেন, ১৫ দিন আগে তাঁর বড় ভাই বাড়ি এসেছিলেন। তখন বলে গিয়েছিলেন, কয়েক বছর ঢাকায় রিকশা চালিয়ে কিছু টাকা রোজগার করবেন। তারপর বাড়ি ফিরবেন। আজিজুলের স্বপ্ন ছিল ভিটা পাকা করে ঘর তুলবেন। সন্ধ্যা নামার পর উপস্থিত সবাই লাশ দাফন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আজিজুলের মা তখনো বাড়ির পথে।
সাতক্ষীরায় দম্পতি নিহত
কালীগঞ্জ উপজেলায় হারানের মোড়ে গতকাল দুপুরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় উপজেলার ভদ্রখালীর বাসিন্দা আবেদ আলী (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম (৪৫) নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, বাড়ি থেকে ভ্যানে করে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন এই দম্পতি। হারানের মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যান তাঁদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আমেনা। গুরুতর অবস্থায় আবেদ আলীকে প্রথমে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
নোয়াখালীতে বাসচাপায় দুজন নিহত
ফেনী-নোয়াখালী সড়কে সেনবাগ উপজেলার ইয়ারপুরে গতকাল বিকেলে যাত্রীবাহী বাসচাপায় বাচ্চু মিয়া (৬৫) ও আবদুল মজিদ (৩০) নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। তাঁরা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা। হাইওয়ে পুলিশের চন্দ্রগঞ্জ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুক্তার আহমেদ বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে বাচ্চু ও মজিদ মোটরসাইকেলে করে চৌমুহনী থেকে সেনবাগের এমপি রোডের দিকে যাচ্ছিলেন। একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস ইয়ারপুর এলাকায় পেছন থেকে তাঁদের চাপা দেয়। এতে তাঁরা দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।
গোপালগঞ্জে পথচারী নিহত
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কাশিয়ানী উপজেলার সিংপাড়া এলাকায় গতকাল দুপুরে বাসচাপায় নিত্যানন্দ রায় (৪৫) নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন। তিনি কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের পোনা গ্রামের বাসিন্দা।
ঝিনাইদহে প্রাণ গেল শিশুর
সদর উপজেলার এম এ খালেক কলেজের সামনে গতকাল সকালে প্রথমে ভ্যানের ধাক্কায় এবং পরে নছিমনচাপায় সাগর মণ্ডল (৮) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনার সময় সে সাইকেল চালাচ্ছিল বলে জানান স্থানীয় ব্যক্তিরা। সাগর সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের শাহিন মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বগুড়ায় বাসের ছাদ থেকে পড়ে যাত্রী নিহত
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বগুড়ার শেরপুরে গাড়িদহ এলাকায় গতকাল সকালে চলন্ত বাসের ছাদে থেকে পড়ে মহিদুল ইসলাম (২৪) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি নওগাঁর মান্দা থানার চকবালাই গ্রামে। শেরপুর থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় বাসের চালকসহ বাসটি আটক করা যায়নি।

ভারতীয় সেনাপ্রধান ঢাকায় আসছেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের এক সপ্তাহ আগে দুই দিনের সফরে ঢাকায় যাচ্ছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ৩০ মার্চ তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। দিল্লি ফিরবেন পরের দিন। ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই গতকাল শুক্রবার এই খবর জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোই এই সফরের লক্ষ্য। ঢাকায় থাকাকালে জেনারেল রাওয়াত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর জেনারেল রাওয়াতের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এই সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সফর ঘিরে বিভিন্ন মহলে আগ্রহ দানা বেঁধেছে।
মাত্র কিছুদিন আগে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর বাংলাদেশে যান। তারপর থেকেই শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। এটা সই হলে যৌথ উদ্যোগে প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি, সামুদ্রিক অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতা বাড়বে। এ ছাড়া দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজনের মাধ্যমে যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া দুই দেশকেই সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জেনারেল রাওয়াতের সফর এই দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জেনারেল রাওয়াত নেপাল হয়ে বাংলাদেশে যাবেন। ২৮ ও ২৯ মার্চ তিনি কাঠমান্ডু থাকবেন।

‘রবীন্দ্র-নজরুল হতে বলেন না কেন?’

‘সবার মা-বাবা বড় হয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে বলেন। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল হতে বলেন না কেন?’ শিক্ষকদের কাছে এই প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের ভাষা প্রতিযোগের উৎসবে। এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগের আঞ্চলিক উৎসব গতকাল শুক্রবার বসেছিল রংপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে। এ আসরে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট—এ ৭ জেলার ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উৎসব শুরু হওয়ার কথা সকাল ৯টায়। তবে অনেক আগেই ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে ব্যান্ড পার্টির বাদ্য-বাজনা। তাই শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের কলকাকলি আর বাদ্যের তালে মুখর ছিল উৎসব প্রাঙ্গণ। সকাল ৯টায় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ আর মিজানুর রহমান। ভাষা প্রতিযোগের পতাকা উত্তোলন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি। এরপর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাষা প্রতিযোগের স্মারক বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় উৎসবের। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম আলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের চর্চা আরও এগিয়ে যাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। উৎসব উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে শ্রেণিকক্ষে চলে যায়। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ৪ ক্যাটাগরিতে ৪০ মিনিটের মূল্যায়ন ও শুদ্ধ বানান পরীক্ষা হয়। পরে খোলা মাঠের মঞ্চে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কবি কে?, বিদেশি ভাষায় বাংলার কোনো শব্দ ব্যবহার হয় কি না? শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীদের এমন মজাদার সব প্রশ্নে উৎসব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এ পর্বে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল মেটান শিক্ষকেরা। অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি ছাড়াও প্রশ্নোত্তর পর্বে মঞ্চে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ, রংপুর সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এ আই মুসা, সরকারি শ্রীনগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক কুদরত-ই-হুদা। প্রশ্নোত্তর পর্বে ভালো ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ও ভাষা প্রতিযোগ ২০১৭-এর সমন্বয়ক অরুণ বসু। পরীক্ষার পর ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাঝে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাজেদ ফাতেমী। রংপুরে ভাষা প্রতিযোগ উৎসবে ৬০ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়। তারা ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় উৎসবে অংশ নেবে। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ, পদক ও বই তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে প্রথম আলো বন্ধুসভা। প্রতিযোগিতায় সেরা শিক্ষার্থী হয়েছে দিনাজপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির তৌকির নূর রাহাত। এ ছাড়া ‘বানান বীর’ হিসেবে সেরা হয় কারমাইকেল কলেজের মো. আল ইমরান।

বিশ্বসভায় যেতে চায় বাংলাদেশ

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে শুরুতে বন্ধুদেশগুলোর পার্লামেন্টের সমর্থন পাওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রয়োজনে জাতিসংঘ অথবা নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যেতে চায় বাংলাদেশ। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই সব সূত্র বলছে, গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক সংস্থা নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তোলাটা কার্যকর হবে, নাকি সেটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে তোলা হবে। নিউ ইয়র্ক কিংবা জেনেভায় জাতিসংঘের দপ্তরে বিষয়টি তুলে ধরার চেয়ে নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাওয়াটা ফলপ্রসূ হলে সেখানেই যাওয়ার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।
মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪৬ বছর আগের বিভীষিকাময় দিনটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘ এবং নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) যাওয়ার সুযোগ আছে। তবে এই দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশকে যথেষ্ট প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করতে হবে। আজ ২৫ মার্চ, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এমন বিভীষিকাময় রাত আর আসেনি। ১৯৭১ সালের ওই কালরাতে বাঙালি জাতিসত্তাকে পরিকল্পিতভাবে নিশ্চিহ্ন করতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। একই সঙ্গে এই দিনে শুরু হয়েছিল বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম। ১১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ঘোষণার ব্যাপারে জাসদের সাংসদ শিরীন আখতারের উত্থাপন করা প্রস্তাব পাস হয়। এ প্রসঙ্গে সংসদের প্রস্তাবে আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এর আগে ২০ মার্চ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। ফলে ২৫ মার্চ বিশ্বজুড়ে গণহত্যা দিবস ঘোষণার সুযোগ নেই। গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি-সংক্রান্ত জাতিসংঘের সনদটি ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর গৃহীত হয়। ১৯৫১ সালের ১২ জানুয়ারি এটি কার্যকর হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৪৩টি দেশ এই সনদে সই করেছে। জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী কোনো একটি জাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ধ্বংসের জন্য এর সদস্যদের হত্যা, শারীরিক ও মানসিক চরম ক্ষতিসাধন, পরিকল্পিতভাবে লোকজনের জীবনের বা শরীরের আংশিক ক্ষতিসাধন, পরবর্তী প্রজন্ম বিকাশে বাধাদান গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, গণহত্যার স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে। তাদের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর সরকার দেখবে কীভাবে কাজটি এগিয়ে নেওয়া যায়। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকেরা বলছেন, স্বীকৃতি আদায়ের কাজটি সহজ নয়।
এ জন্য গণহত্যার মানচিত্র লাগবে, সংখ্যাসহ প্রমাণ লাগবে, ফরেনসিক প্রতিবেদনও প্রয়োজন। এসব প্রস্তুতি নিয়ে যথাযথভাবে নিজেদের দাবি উপস্থাপন করতে হবে। দ্য ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রধান ডা. এম এ হাসান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম যেসব অপরাধ ঘটেছিল, তা প্রমাণের জন্য জোরালো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তার আগে এগুলো সংগ্রহ করার কাজটি বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ, যদিও তা অসম্ভব নয়। তাঁর মতে, ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ইতিমধ্যেই পালিত হচ্ছে। ফলে জাতিসংঘে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। কারণ, গণহত্যার অভিযোগ কখনো তামাদি হয় না। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন মনে করেন, গণহত্যার আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য বিশ্বজুড়ে জনমত গড়ে তোলার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশের জনগণ ২৫ মার্চ প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবছর রাস্তায় জড়ো হলে এবং বছরের পর বছর এটি চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ এতে আকৃষ্ট হবে। তিনি গতকাল এই প্রতিবেদককে জানান, এ মাসে একাত্তরের স্মারক হিসেবে ৭১টি ডাকটিকিট প্রকাশের কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজও হয়েছিল। অজানা কারণে তা এখন এপ্রিলে প্রকাশ হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অথচ ১ থেকে ৫ এপ্রিল ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলনে যোগ দিতে প্রায় দেড় শ দেশের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঢাকায় আসছেন। তাঁদের হাতে ৭১টি ডাকটিকিটের স্মারক তুলে দেওয়া হলে গণহত্যার পক্ষে একটি জোরালো প্রচারণার সুযোগ ছিল।

বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় আহত চার, একজন সংজ্ঞাহীন

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরের উত্তর-পূর্ব পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির ব্যাগে ছিল তিনটি তাজা বোমা। গতকাল শুক্রবার রাতে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার সময় স্প্লিন্টারের আঘাতে চারজন আহত ও প্রচণ্ড শব্দে একজন সংজ্ঞা হারিয়েছেন। প্রথম বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয় রাত পৌনে ১১টার দিকে, দ্বিতীয়টি সাড়ে ১১টার দিকে এবং তৃতীয়টি রাত সোয়া ১২টার দিকে। প্রতিটি বোবা নিষ্ক্রিয় করার আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয় করণ দলের নেতৃত্বে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। তিন বোমার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি ছিল সবচেয়ে বড়। এই বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময়ই আশপাশের লোকজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দেখা গেছে, রাত সোয়া ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উৎসুক জনতা ও গণমাধ্যম কর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে ১০০-১৫০ গজ দূরে সরিয়ে দেন। রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে দ্বিতীয় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। অন্তত ২০০ গজ দূর পর্যন্ত ছুটে আসে বোমার স্প্লিন্টার। স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন মহিয়ান মজনু ওরফে মজনু মিয়া, ফয়সাল, জাকির ও অজ্ঞাত একজন। শব্দে জ্ঞান হারানা স্থানীয় মাদ্রাসা ছাত্র বাহারউদ্দিন। মজনু মিয়ার ডান হাতে স্প্লিন্টারের আঘাত লেগেছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পাবনা থেকে আজ শুক্রবার তিনি ঢাকায় এসেছেন। রাতে আশকোনার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি স্প্লিন্টার তার ডান হাতে লাগে। কথা বলার সময় তাঁর হাত দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না।
পরে পুলিশ তাঁকে একটি অটোরিকশায় করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। একই সময় স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর তিন কর্মী আহত হন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম সরদার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তিন রেস্তোরাঁ কর্মীর মধ্যে একজনের নাম তিনি জানেন না। বাকি দুজনের মধ্যে ফয়সালের শরীরের বিভিন্ন অংশে ও জাকিরের বুকে স্প্লিন্টার লেগেছে। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বরের পাশের বাবুস সালাম নামে একটি মাদ্রাসার ছাত্রকে অজ্ঞান অবস্থায় কয়েকজনকে ধরাধরি করে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তাঁর নাম বাহারউদ্দিন। বাহারউদ্দিনের সহপাঠীরা বলেন, বোমার শব্দে তিনি জ্ঞান হারিয়েছেন। তাঁকেও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও স্প্লিন্টারের আঘাতে পুলিশ ও র্যা ব-৪ এর একটি গাড়িসহ ৮-১০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্প্লিন্টারের আঘাতে র্যা ব-৪ এর (ঢাকা মেট্রো-ঠ ১৩-২৫৬৭) গাড়িটির পেছনে ফুটো হয়ে গেছে। পুলিশ কর্মকর্তার ব্যবহৃত একটি পাজেরো গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১১-৪৪৭০) কাচ ভেঙে যায়। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলের পাশে বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও ট্রাফিক পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের অধিকাংশ কাচ ভাঙে। দ্বিতীয় বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় কয়েকজন আহত হওয়ার পর তৃতীয় বোমা নিষ্ক্রিয় করার আগে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। অনেককেই নিরাপদ দূরত্বে ও বিভিন্ন স্থাপনার দেওয়ালের আড়ালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

বহির্বিভাগ ছাড়া সব তালা মারা

কামরাঙ্গীরচরে ৩১ শয্যার সরকারি হাসপাতাল ভবন নির্মাণের তিন বছর পরও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটারসহ প্রায় সব কটি বিভাগ তালাবদ্ধ। কবে নাগাদ হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হবে, তা জানেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কামরাঙ্গীরচর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন। এখানে ডিএসসিসির তিনটি ওয়ার্ডে প্রায় ১২ লাখ লোকের বসবাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হাসপাতাল ছাড়া কামরাঙ্গীরচরে আর কোনো সরকারি হাসপাতাল ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। কেউ অসুস্থ হলে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মিটফোর্ড হাসপাতালে যেতে হয়। এতে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অবিলম্বে এই হাসপাতালের সব কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তাঁরা। হাসপাতাল এলাকাটি ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ কামরাঙ্গীরচরের জনগণকে সেবা দিতেই কুড়ার ঘাটে এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছে সরকার। কিন্তু এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সাংসদ কামরুল ইসলামকে জানানো হয়েছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা জানা নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০১৩ সালে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর ওই হাসপাতাল ভবন এবং চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রেষণে চারজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স দিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে তিনজন চিকিৎসা কর্মকর্তা,
দুজন নার্স ও দুজন সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগ চালু আছে। এর মধ্যে গত ২৪ জানুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক পদে প্রেষণে নিয়োগ পান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনতলা হাসপাতাল ভবনের নিচতলার প্রায় প্রতিটি দরজা-জানালার কাচ ভাঙা। বহির্বিভাগের একটি কক্ষে বসে রয়েছেন দুজন চিকিৎসক ও একজন নার্স। পাশে আরেকটি কক্ষে বসে আছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। তাঁর কক্ষের জানালার কাচ ভাঙা। এ ছাড়া হাসপাতালের নিচতলায় জরুরি বিভাগ, এক্স-রে কক্ষ ও দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, ল্যাবরেটরি, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড তালাবদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের চারতলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনের জানালার কাচও ভেঙে চৌচির। তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে আজিমপুর সিভিল সার্জনের অফিস থেকে এই হাসপাতালে ওষুধপথ্য দেওয়া হয়। তা দিয়েই হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। এই বিভাগ থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত প্রায় দুই শ রোগী চিকিৎসা নেয়। জানতে চাইলে ঢাকার সিভিল সার্জন এহসানুল করিম বলেন, এই হাসপাতাল নির্মাণের পর জনবল নিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে অন্যান্য খাত থেকে ওই হাসপাতালে ওষুধ ও জনবল দিয়ে বহির্বিভাগ চালু রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালে নয়জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদ অনুমোদন লাভ করেছে। আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে আগামী জুন বা জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাবে।

আইবিএ চ্যাম্পিয়ন, নর্থ সাউথ রানারআপ

ব্যবসায়িক সমস্যা (কেস) সমাধানের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)। আর রানারআপ হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) এবং আইবিএ যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। গতকাল প্রতিযোগিতার ‘গ্র্যান্ড ফিনালে’ শেষে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘এইচএসবিসি-আইবিএ বিজনেস কেস কম্পিটিশন’ নামের এই প্রতিযোগিতায় দেশের ২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টি দল চূড়ান্ত পর্বে ওঠে। আইবিএর দুটি দলের মধ্যে এল প্যাট্রন চ্যাম্পিয়ন এবং ব্র্যান্ড এজ দলটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়ার মার্জ রানারআপ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলসহ অংশগ্রহণকারী সব দলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘যে যেই বিষয়ের হোক না কেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষতা অর্জন। এ জন্য সবাইকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’ এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঁসোয়া দো মারিকু এই ধরনের আয়োজনে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবীদের খুঁজে বের করা সম্ভব। তাই এই ধরনের প্রতিযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল মজিদ দেশসেরা মেধাবীদের যুক্ত করায় এইচএসবিসিকে তিনি ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে তাঁরা এ ধরনের আয়োজনে থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ১ লাখ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দলকে ৭৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ তুলে দেন অতিথিরা। চ্যাম্পিয়ন দলটির হংকংয়ে আঞ্চলিক ফাইনালে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ভাঙাচোরা বেঞ্চ, আবর্জনায় ভরা তাজমহল রোড পার্ক

মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড পার্কটি সংস্কার হয় না প্রায় ২০ বছর। ভেতরে আবর্জনায় ভরা। বসার জায়গাগুলোও ভাঙা। স্থানীয় লোকজন বলছেন, পার্কটি সংস্কার করা হলে এলাকাবাসীর বিনোদনের সুযোগ হবে। রাইড থাকলে শিশুরা খেলতে পারবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তাজমহল রোড পার্কটি খুব বেশি বড় নয়। সি ব্লকের ওই পার্কে গাছপালা আছে প্রচুর। সিমেন্টের তৈরি ভাঙাচোরা কয়েকটি বেঞ্চ আর মাঝখানে অকেজো একটি ফোয়ারা পার্কের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। শিশুদের খেলার জন্য কোনো রাইড না থাকায় পার্কে এলে তাদের সময় কাটে গল্প করে, কানামাছি খেলে, সাইকেল চালিয়ে। গতকাল শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, পুরো পার্কেই আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। পড়ে আছে খাবারের খালি প্যাকেট, নানা রকম কাগজ। পার্কে হাঁটতে আসা মোমেন হক বলেন, ‘সপ্তাহে এক দিনও পরিষ্কার করতে কেউ আসে কি না, সন্দেহ।’ পার্কের এক পাশে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিষ্কারের সামগ্রী রাখা। জানা গেল, এগুলো আশপাশের সড়ক পরিষ্কারের সরঞ্জাম। কাজ শেষে পার্কে এনে রাখা হয়। পার্কটিতে বসার জন্য সিমেন্টের যে বেঞ্চগুলো আছে, এর বেশ কয়েকটিই ভাঙা। ভেতরের রড বের হয়ে আছে। কয়েকটিতে আবার ময়লাও জমে আছে। পার্কটি স্যাঁতসেঁতে। হাঁটার জায়গাগুলোয় শেওলা জমে আছে। কয়েকজন বলেন, বৃষ্টি হলে পিচ্ছিল থাকে, হাঁটা যায় না। একটি বেঞ্চে বসে ১০ বছরের সাবিহা ও ৮ বছরের সুষমা চকলেট খাচ্ছিল।
ওরা বলে, বসার মতো বেঞ্চ পেলে বসে থাকে বা কানামাছি খেলে। পাশেই সাইকেল চালাচ্ছিল এক শিশু। পথ মসৃণ না হওয়ায় চালাতে গিয়ে বারবার ওঠানামা করতে হচ্ছিল তাকে। পার্কের ঠিক মাঝখানে একটি ফোয়ারা। দেখেই বোঝা যায়, সেখানে পানি নেই দীর্ঘদিন। খেলতে থাকা কয়েকজন শিশু বলে, ওরা কখনো ফোয়ারায় পানি দেখেনি। ফোয়ারাটি মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল-সংবলিত। চারদিক নোংরা হয়ে আছে। ফোয়ারার চারপাশের গাছগুলোর কোনো যত্ন নেওয়া হয় না। জানা গেল, ১৯৯৭ সালের পর পার্কে আর সংস্কার করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিনা আক্তার বলেন, ‘পার্কে শিশুদের খেলার রাইড থাকলে ভালো হতো। পরিষ্কার থাকলে মানুষ সময় কাটানোরও জায়গা পেত।’ ডিএনসিসির উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নের জন্য প্রায় ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ৭ মার্চ একনেকে অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের আওতায় জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে ২২টি পার্ক, ৪টি খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থানের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করা হবে। এই ২২টি পার্কের মধ্যে তাজমহল রোডের পার্কটিও আছে। ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ বলেন, এই প্রকল্পের বাইরেও ডিএনসিসির নিজস্ব অর্থায়নে ইতিমধ্যে কয়েকটি পার্কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। একনেকে প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় এখন নকশা প্রণয়ন ও আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এই অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরুর চেষ্টা করা হবে।

শামসুজ্জামান খানের বইয়ের প্রকাশনা ও সংবর্ধনা

ছুটির দিন। অন্য দিনে ব্যস্ততার তুঙ্গে থাকা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইচ্ছা ছিল বাইরে বের হবেন না। বিশ্রাম নেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘরে বসে থাকতে পারেননি। কেননা গতকাল বিকেলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিশিষ্ট লোকগবেষক ও লেখক শামসুজ্জামান খানের কিশোর সমগ্র গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে না এসে পারলেন না তিনি। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী নিজেই জানালেন, তিনি এ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে না এসে পারেননি শামসুজ্জামান খানের টানের কারণে। বক্তব্য দিতে এসে আরও জানালেন, শামসুজ্জামান খানের কিশোর সমগ্র গ্রন্থটি বেশ খানিকটা তিনি পড়ে ফেলেছেন। আজকের (শনিবার) মধ্যে পুরোটা পড়ে ফেলবেন। তিনি বলেন, ‘শামসুজ্জামান খান লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক ও গবেষক হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ। অনেক লোককাহিনি তিনি শিশুদের উপযোগী করে লিখেছেন। এটা শুধু কিশোরদের জন্য নয় বরং সবারই পড়া উচিত।’ চন্দ্রাবতী একাডেমি থেকে প্রকাশিত বইটির প্রকাশনা ও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তিতে শামসুজ্জামান খানকে সংবর্ধনা জানাতে শুক্রবার বিকেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা চন্দ্রাবতী একাডেমি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন চিত্রশিল্পী হাশেম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম।
স্বাগত বক্তব্য দেন চন্দ্রাবতী একাডেমির নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান কাজল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার অনুপস্থিত থাকায় তাঁর প্রেরিত বক্তব্য পড়ে শোনান দেবপ্রসাদ দেবনাথ। সব বক্তৃতাতেই লেখক, গবেষক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্ব হিসেব শামসুজ্জামান খানের প্রশংসা করা হয়। শামসুজ্জামান সামনে থেকে নিজের প্রশংসা শোনাকে বিব্রতকর বললেও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বিষয়টিকে আরও জোরালো করলেন। বললেন, এগুলো প্রশংসা নয়, সত্য ভাষণ। শিশু একাডেমীর প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের সমবেত নাচ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ভালো শিশুসাহিত্যের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের পাঠ্যপুস্তক শিশুদের জ্ঞানের জন্য যথেষ্ট নয়।’ এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় শামসুজ্জামান খানকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, চ্যানেল আই, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, আনন ফাউন্ডেশন, রকমারি ডটকম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিল্পী আলপ্তগীন তুষারের আঁকা শামসুজ্জামান খানের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয় তাঁকে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিশু একাডেমীর শিশুশিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল সংগীতানুষ্ঠান।

ভারত সফরে যাচ্ছেন দালাই লামা

চীনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সফরে যাচ্ছেন তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। নোবেল শান্তিজয়ী দালাই লামা আগামী ১ এপ্রিল আসামের গুয়াহাটি পৌঁছাবেন। দুই দিন সেখানে কাটিয়ে তিনি চলে যাবেন অরুণাচল প্রদেশে। সেখানে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চীনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই দালাই লামার অরুণাচল সফর নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, তিনি ভারতের সম্মানিত অতিথি। তিনি তাঁর খুশিমতো ভারতের যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন। দালাই লামা বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে আসাম যাচ্ছেন। প্রথম দিন তিনি আসাম ট্রিবিউন পত্রিকার ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তাঁর লেখা ‘মাই ল্যান্ড অ্যান্ড মাই পিপল’ বইটির অসমিয়া ভাষায় ‘মোর দেশ, মোর মানুহ’ প্রকাশিত হবে। পরদিন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। আসাম থেকে তিনি চলে যাবেন অরুণাচল প্রদেশে। বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রশিক্ষণই তাঁর অরুণাচল সফরের মূল উদ্দেশ্য। চীন সীমান্তবর্তী তাওয়াং যাওয়ার কথা দালাই লামার। আর এটাকেই বড় করে ইস্যু করছে চীন। চীনের বুদ্ধিজীবীরা মনে করছেন,
দালাই লামার অরুণাচল সফর ইন্দো-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। চীনের তিব্বোতলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক লিয়াং জিয়াংমিন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘অরুণাচল চীনের অঙ্গ। তাওয়াংয়ে দালাই লামাকে যেতে দিয়ে ঠিক করছে না ভারত। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে এটা ক্ষতিকারক।’ তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ ভারত। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দালাই লামা ভারতের সম্মানিত অতিথি। তিনি ভারতের যেখানে খুশি যেতে পারেন। ১৯৬৯ সাল থেকে ভারতের আতিথ্য গ্রহণ করছেন দালাই লামা। তাঁর এই সফরকে স্বাগত জানিয়েছে গুয়াহাটির সামাজিক সংস্থা ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রমের সম্পাদক ড. সৌমেন ভরতিয়ার মতে, শান্তির বার্তা ছড়াতে দালাই লামার মতো ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব অত্যন্ত জরুরি। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের মানসিকতার সমালোচনা করেছেন অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, দালাই লামা ধর্মীয় গুরু হিসেবে শান্তির বার্তা ছড়াতে আসছেন। তাঁর কথা শোনার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ উদ্‌গ্রীব।

দরকার পড়লে হাত উঠবে

উড়োজাহাজের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে মারধরের ঘটনার পর ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার এক নেতা বলেছেন, দরকার পড়লে হাত ওঠাবেন তাঁরা। উড়োজাহাজের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জুতোপেটা করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের রবীন্দ্র গায়কোয়াড় নামের এক এমপি। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনার এই সদস্য মহারাষ্ট্র থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য। এ ঘটনায় শিবসেনার নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেন, যখন প্রয়োজন পড়বে, দলের সদস্যরা তখন হাত তুলতে দ্বিধা করবেন না। মারধর করার ঘটনায় গায়কোয়াড়কে নিষিদ্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির অন্যতম পাঁচটি বিমান সংস্থা। গায়কোয়াড়ের এই ঘটনায় বিতর্কে না জড়াতে সতর্ক বক্তব্য দিয়েছেন রাউত। তিনি বলেছেন, শিবসেনা গায়কোয়াড়ের আচরণ সমর্থন করে না। ওই সাংসদ কেন এমন আচরণ করলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করার কথা অবশ্য বলেছেন তিনি। রাউত বলেছেন, কারও গায়ে হাত তোলা শিবসেনার সংস্কৃতি নয়, কিন্তু দরকার পড়লে অবশ্যই হাত ওঠাতে হবে। গায়কোয়াড়কে কালো তালিকায় রাখা প্রসঙ্গে শিবসেনার এই নেতা বলেন,
বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং মনে রাখা দরকার, মানুষ যদি এয়ারলাইনসকে কালো তালিকা করা শুরু করে, তাহলে কী ঘটবে। এটা শুধু একজন এমপি বলে নয়, হাজারো যাত্রীকে এয়ার ইন্ডিয়ার খারাপ যাত্রীসেবার জন্য নানা সমস্যায় পড়তে হয়। দলের পক্ষ থেকে গায়কোয়াড়ের বিরুদ্ধ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এয়ারলাইনস গায়কোয়াড়কে নিষিদ্ধ করায় গতকাল সন্ধ্যায় ট্রেনে করে মুম্বাই আসতে হয়েছে তাঁকে। রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে দিল্লির হজরত নিজামউদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন থেকে মুম্বাই সেন্ট্রাল স্টেশনে প্রথম শ্রেণির বগিতে আসেন গায়কোয়াড়। এ ঘটনায় ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেছেন গায়কোয়াড়। মারধরের ঘটনার পর চাপমুক্তির জন্য বলিউডের সিনেমা দেখেন ওই এমপি। এফআইএর পক্ষ থেকে ওই এমপির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে পুনে থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে যাচ্ছিলেন রবীন্দ্র গায়কোয়াড়। উড়োজাহাজে এমপির আসন ছিল বিজনেস ক্লাসে। কিন্তু ভুল করে তাঁকে আসন দেওয়া হয় ইকোনমি ক্লাসে। এ ঘটনায় তিনি রেগে গিয়ে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে জুতা দিয়ে টানা ২৫ বার বাড়ি দেন। কেবল এই অসৌজন্য আচরণ করেই ক্ষান্ত হননি, এ নিয়ে বীরদর্পে বলে বেড়াচ্ছেন, যা করেছেন ঠিকই করেছেন।
তথ্যসূত্র: জিনিউজ।

হামলাকারী খালিদ মাসুদ ধর্মান্তরিত মুসলিম

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এলাকায় বুধবারের হামলাকারী খালিদ মাসুদ একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ জ্যানেট এলমস তাঁর মা। বাবার পরিচয় জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ। হামলার ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গতকাল দুজন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ১০। তদন্তকারীরা বলেছেন, ৫২ বছর বয়সী এই হামলাকারী ২০০৯ সাল থেকে খালিদ মাসুদ হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে শুরু করেন। জন্মের সময় খালিদ মাসুদের নাম রাখা হয়েছিল অ্যাড্রিয়ান এলমস। তখন তাঁর মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এদিকে হামলায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী লেজলি রোডস বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।
তিনি লন্ডনের স্ট্রেথাম এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে বুধবারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য, হামলাকারীসহ মোট নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে হলো ৫। গতকাল শুক্রবার ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর রাস্তাঘাট খুলে দেওয়া হয়েছে। নিত্যদিনের মতো দেশ-বিদেশের পর্যটকের পদভারে মুখরিত এলাকা। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত তথ্য অনুয়ায়ী, ১৯৬৪ সালে লন্ডনের অদূরে কেন্ট এলাকার ডার্টফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাড্রিয়ান এলমস (পরে খালিদ মাসুদ)। অ্যাড্রিয়ানের জন্মের দুই বছরের মাথায় তাঁর মা পশ্চিম সাসেক্সের অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। সৎবাবার নামের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর নাম হয় অ্যাড্রিয়ান রাসেল আজাও। ডার্টফোর্ডে অ্যাড্রিয়ানের ছোটবেলার বন্ধুরা বলেছেন, তিনি পড়াশোনা ও খেলাধুলায় বেশ ভালো ছিলেন। তবে পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, তরুণ বয়স থেকে অ্যাড্রিয়ান নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন। ১৯ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো ফৌজদারি অপরাধের দায়ে জেল খাটেন। ২০০২ সালে ইস্ট সাসেক্সে এক ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে হামলার অপরাধে জেলে যান।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের কোনো অভিযোগ ছিল না। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এক যুবকের ওপর ছুরি হামলা চালিয়ে ৬ মাসের জেল খাটেন অ্যাড্রিয়ান। জেল থেকে বের হয়ে ২০০৪ সালে কেন্ট শহরের মিডওয়ে এলাকার ফারজানা খালিদ নামে এক নারীকে বিয়ে করেন অ্যাড্রিয়ান। ফলে জেলে থাকা অবস্থায় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং খালিদ মাসুদ নাম ধারণ করেন বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর চাকরির জন্য বেশ কয়েক জায়গায় জীবনবৃত্তান্ত বিলি করেন খালিদ মাসুদ। ওই জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ২০০৫ সালে তিনি সৌদি আরবে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেন। ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসেন। ২০১২ সালে বিদেশিদের ইংরেজি শেখানোর সেন্টার চালু করেন। সর্বশেষ মিডল্যান্ডের বাড়িতে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে থাকতেন খালিদ মাসুদ। ফলে ফারজানা খালিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কত দিন ছিল, তা নিশ্চিত নয়। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলাকারীকে নিজেদের যোদ্ধা বলে দাবি করলেও হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেনি। যুক্তরাজ্যের পুলিশ মনে করছে, আইএস আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকতে পারেন তিনি।

হোসনি মোবারক মুক্তি পেলেন

আরব বসন্তের ধাক্কায় ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক অবশেষে প্রথমবারের মতো কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। পুরো আরব বিশ্ব কাঁপিয়ে তোলা ওই গণ-অভ্যুত্থানে গদি হারানো নেতাদের মধ্যে মোবারকই প্রথম, যাকে নানা অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। একনায়ক হোসনি মোবারককে দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে রাখার পর গতকাল শুক্রবার মুক্তি দেওয়া হয়।
রাজধানী কায়রোর মা’দি এলাকার সামরিক হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে হেলিওপোলিস শহরে তাঁর বাড়িতে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট। ৮৮ বছর বয়সী সাবেক মিসরীয় প্রেসিডেন্ট তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হত্যার অভিযোগগুলো থেকে চলতি মাসেই পুরোপুরি নিষ্কৃতি পান। ২০১১ সালে টানা ১৮ দিনের তীব্র আন্দোলনের মুখে মোবারকের ৩০ বছরের কঠোর শাসনের অবসান ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই মাস পর ২০১১ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হন হোসনি মোবারক। তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কড়া নিরাপত্তায় সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। অভ্যুত্থান চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ থেকে শীর্ষ আদালত তখন তাঁকে খালাস দেন। ২০১২ সালে একটি অভিযোগে মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে উচ্চ আদালত পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। দুই বছর পর মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। এরপর গত ২ মার্চ আপিল আদালত তাঁকে হত্যাকাণ্ডের দায় থেকেও অব্যাহতি দেন।

কিথ পামারের শেষ ছবি

লন্ডনে গত বুধবারের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য কিথ পামারের জীবনের শেষ ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে। স্টেসি মার্টিন নামের এক মার্কিন পর্যটকের সঙ্গে ওই ছবি তুলেছিলেন তিনি। এর মাত্র প্রায় ৪৫ মিনিট পরই পার্লামেন্ট এলাকায় হামলা করেন খালিদ মাসুদ নামের এক ব্যক্তি। খালিদ মাসুদ ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজের ওপর গাড়ি চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে চাপা দেওয়ার পর পার্লামেন্ট ভবনের ঠিক বাইরে ছুরি নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন কনস্টেবল পামারের ওপর। তাঁকে বেশ কয়েকবার ছুরি মারেন মাসুদ। পর্যটক স্টেসি বলেন, এটাই ছিল তাঁর প্রথম লন্ডন সফর। কনস্টেবল পামারের মাথার টুপিটা দেখে তাঁর ভালো লেগেছিল।
সে জন্য ছবি তুলতে চেয়ে অনুরোধ করলে পামার রাজি হয়েছিলেন। ছবি তোলার ঘণ্টাখানেক পরই স্টেসি মার্টিন একটি ট্যাক্সিতে থাকা অবস্থায় ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় হামলার খবর পান। পরে হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য কিথ পামারের ছবিটি দেখেই চিনতে পারেন তিনি। স্টেসি এখন ওই ছবিটি পামারের পরিবারকে পৌঁছে দিতে চান। পরিবারটির জন্য অনলাইনে সহায়তা তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ডলার জমা পড়েছে।

একটি অপ্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ৭ এপ্রিল। ভারতে বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রীর সফর এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবারের সফরটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কারণে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ১৯৭২ সালের মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সমঝোতা-সম্পর্কিত কিছু বিধান ছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে তা সমালোচিত হয়েছে। এই চুক্তি ২৫ বছর মেয়াদি ছিল, এর নবায়নের সুযোগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ছিল। তখন তা নবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে কেন সে তুলনায় আরও জোরালো ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, তা নিয়ে দুই দেশে জল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে অস্বস্তি ও ভীতিও রয়েছে বাংলাদেশে। এই ভীতি অমূলক নয়। এর প্রধান কারণ প্রতিরক্ষা সমঝোতা নিয়ে অস্পষ্টতা। এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে কী থাকতে পারে তার একটি ধারণা কয়েক দিন আগে একটি ইংরেজি দৈনিকে ছাপানো খসড়ায় দেখা গেছে। কিন্তু এটি কতটা বস্তুনিষ্ঠ বা এটিই চূড়ান্ত বা সবকিছু কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আবার এই খসড়ায় যা ছাপানো হয়েছে (যেমন, ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়, যৌথ টহল, প্রশিক্ষণ ও তথ্যবিনিময় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ), তা বাংলাদেশের জন্য কতটা স্বার্থানুগ বা এটি আদৌ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক নিয়ে অস্বস্তির আরও কারণ রয়েছে। অতীতে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ভারত মৈত্রী ও সহযোগিতার নামে যে চুক্তিগুলো করেছে, তাতে দেশ দুটোর জন্য অবমাননাকর কিছু শর্ত ছিল।
যেমন, নেপালের সঙ্গে ১৯৫০ সালের চুক্তিটিতে বলা আছে যে নেপাল ভারতের সম্মতি ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে পারবে না, নেপালের প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নে ভারত অগ্রাধিকার পাবে। ভুটানের সঙ্গে ভারতের আদি মৈত্রী চুক্তিতে অনুরূপ বিধান ছিল; ছিল এমনি বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের পরামর্শ দ্বারা ‘গাইডেড’ হওয়ার বাধ্যবাধকতাও। নেপাল সম্প্রতি চুক্তিটির কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করলেও ভারতের কাছ থেকে সাড়া পায়নি। অন্যদিকে ভুটানের সঙ্গে চুক্তিটি ২০০৭ সালে নবায়ন হলে তাতে বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ভুটানকে অধিকতর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা-ও ভুটানের সম-অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী নয়। এসব চুক্তি এই সাক্ষ্য দেয় যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তি করার একটি মানসিকতা ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ছিল। ভারতের সমরবিদ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন লেখায়ও (যেমন সুব্রামানিয়াম স্বামী, ভবানী সেনগুপ্ত) এর প্রতিফলন দেখা যায়। নেপাল ও ভুটানের তুলনায় বাংলাদেশ বহু দিক দিয়ে শক্তিশালী একটি রাষ্ট্র, এ দেশ দুটোর তুলনায় বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসও বহুগুণে গৌরবদীপ্ত ও মর্যাদাকর। কিন্তু তাই বলে তুলনামূলকভাবে প্রতিকূল কোনো প্রতিরক্ষা সমঝোতায় বাংলাদেশকে রাজি করানোর মতো প্রভাব ভারতের নেই, তা বলা যাবে না। বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বর্তমানে বহু গুণে বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে দুর্বল ম্যান্ডেটের সংকটে থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের দর-কষাকষির ক্ষমতা। সম্প্রতি চীন থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনার পর ভারতের অসন্তুষ্ট হওয়ার যে খবরাখবর ভারতের পত্রপত্রিকাতেই পাওয়া যায়, তাতে ভারতকে শান্ত করার একটি মনোভাবও সরকারের মধ্যে কাজ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সুযোগ গ্রহণ করার মতো চেষ্টা ভারতের নীতিনির্ধারকদের রয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক তাই বাংলাদেশের জন্য
কতটা স্বার্থানুগ হবে, তা নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে অস্বস্তি থাকা স্বাভাবিক।
২. গতকালের প্রথম আলোর সংবাদ অনুসারে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে যে সচেতন রয়েছে, তার কিছু আলামত পাওয়া যায়। এতে ভারতের চাপে কোনো চুক্তি করতে রাজি না হয়ে শুধু সমঝোতা স্মারকের প্রতি বাংলাদেশের সম্মতি রয়েছে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তি আইন অনুসারে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট/ট্রিটি) তুলনায় অনেক দুর্বল একটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। চুক্তির তুলনায় সমঝোতা স্মারক পালনের বাধ্যবাধকতাও অনেক কম। তবে সমঝোতা স্মারক তাই বলে ছুড়ে ফেলার মতো বিষয় নয়। এতে যেসব বিষয় থাকার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বহু প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। যেমন এতে ভারত থেকে অস্ত্র আমদানির কথা বলা হয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে মূলত একটি অস্ত্র আমদানিকারক দেশ, রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বড় নয়। তুলনামূলকভাবে উন্নত চীনা অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ভারতের অস্ত্র কেনার এই বাধ্যবাধকতা কেন থাকবে তাহলে দুই দেশের সমঝোতায়?
সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষের প্রশিক্ষণ, সামরিক পর্যবেক্ষক, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা তথ্যবিনিময়ের কথা বলা হচ্ছে। অতীতে চুক্তি থাকার পরও নদীর পানির মতো ‘নিরীহ’ তথ্যবিনিময়ে ভারতের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি, যদিও বাংলাদেশ ভারতের দাবি অনুসারে বহু তথ্য দিয়েছে। এমন অবস্থায় তথ্যবিনিময় বাংলাদেশের জন্য অনুকূলভাবে ব্যবহার করা কখনো সম্ভব হবে কি? প্রশিক্ষণ বিনিময় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ও আরও নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতির স্বাতন্ত্র্যের কথা বিবেচনায় নেওয়া হবে কি? তুলনামূলকভাবে বহু গুণে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো বৈরিতা হলে এসব বিষয়ে সমঝোতা বাংলাদেশের জন্য কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে না? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীনতার এত বছর পর ভারতের সঙ্গে এ ধরনের একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক কেন বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হতে পারে? বাংলাদেশের নিরাপত্তাঝুঁকি (যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাত বা এক দেশের মাটিতে অন্য দেশের উগ্রবাদীদের আশ্রয় প্রদান) রয়েছে আসলে কোন দেশ থেকে? এই সমঝোতা স্মারক যদি মূলত ভারতের স্বস্তি ও স্বার্থের জন্যই প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিনিময়ে কী পাচ্ছে? ভারত থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে ভারতেরই অস্ত্র কেনা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু স্বার্থানুগ হতে পারে না। বাংলাদেশ তাহলে কী পাচ্ছে বিনিময়ে?
৩. বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে লেনদেনের অজস্র বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় পুরোটাই ভারতবেষ্টিত। ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বহু বিষয় রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে নেই, থাকা সম্ভবও না। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ স্বার্থ সম্পর্কে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি কয়েক দশকেও; বরং ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর মূলত ভারতের জন্য সহায়ক হয় এমন আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ভারত এর উপযুক্ত প্রতিদান দেয়নি। শেখ হাসিনার সরকার বিএনপির আমলে বাংলাদেশে নিরাপদে থাকা ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে কঠোরভাবে দমন করে ভারতের নিরাপত্তাঝুঁকি বহুলাংশে দূর করেছে। ভারতকে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের স্থলভূমি ও বন্দর ব্যবহার করতে দিয়েছে, ভারতের প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রায় অবাধে উপার্জনমূলক কর্মকাণ্ড করতে দিয়েছে, কম মাশুলে ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, ভারতের সঙ্গে অসম বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে, আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রেখেছে। বিনিময়ে বাংলাদেশের সামনে এক তিস্তা চুক্তির প্রলোভন জিইয়ে রাখা হয়েছে বহু বছর ধরে। এই চুক্তি না হওয়ার জন্য শুধু পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষারোপ করার একটা প্রবণতা বাংলাদেশেও রয়েছে। কিন্তু এটি আসলে ঠিক নয়। তিস্তার পানির বিষয়ে ভারতের সংবিধান অনুসারে মমতাকে অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে (দেখুন মিজানুর রহমান খান, প্রথম আলো, ১৫ মার্চ, ২০১৭)। আমার ধারণা, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার গঠনে উচ্চাভিলাষী বিজেপি এই চুক্তি করতে উদ্যমী হচ্ছে না নিজের স্বার্থে। বিজেপি সরকারের কাছে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকারের চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের সমর্থন হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এটি না হলে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের জন্য এত কিছু করার পর এক তিস্তা চুক্তিই বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, তিস্তা চুক্তি হলেই কি আমাদের অসম বাণিজ্য, অসম ট্রানজিট চুক্তি বা কোনো সম্ভাব্য অসম প্রতিরক্ষা সমঝোতা মেনে নিতে হবে? না। কারণ তিস্তা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নদীতে পানি পাওয়া আন্তর্জাতিক নদী ও পরিবেশ আইন এবং ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি অনুসারে আমাদের ন্যায্য অধিকার। একইভাবে সীমান্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি পাওয়া জাতিসংঘ সনদ অনুসারে আমাদের ন্যায্য অধিকার। আর ভারত ট্রানজিট, নৌ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, কানেকটিভিটি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার যেসব বিষয়ে আগ্রহী, তা কোনো বিচারেই অধিকার নয়। এসব অন্য দেশের সঙ্গে বড়জোর সমঝোতার শর্তে প্রত্যাশিত সুবিধা মাত্র। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার দেয়নি অনেক ক্ষেত্রে। এসব অধিকারের প্রতি যুগের পর যুগ ধরে কর্ণপাত না করা একটি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা নতুন নতুন আরও বিভিন্ন সমঝোতায় উদ্বিগ্ন হওয়া তাই অন্ধ ভারতবিরোধিতা নয়, যৌক্তিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার বহন করা আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি ভারতকে এটি বোঝাতে পারবেন তাঁর আগামী সফরে? পারবেন ভারতের সঙ্গে একটি ভারসাম্যমূলক স্বার্থসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে এগোতে? যদি পারেন তাহলে বাংলাদেশের আরও বহু মানুষের কাছে তিনি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হবেন।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

চীন কি কান্ডারি হতে পারবে?

এ বছরের জানুয়ারি মাসে দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চীনের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশ্বায়নের সপক্ষে কথা বলেছেন। তিনি এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তর্জাতিকতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় চীন এখন বৈশ্বিক নেতৃত্ব গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, বিশ্বায়নের ইঞ্জিন সচল রাখার জন্য যে সমাধান প্রয়োজন, চীন কি তা দিতে পারবে? ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালীন বিশ্বব্যবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এতে যেমন পশ্চিমা অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, তেমনি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো খাটো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দ বলেছেন, ওই সংকটের পর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। আর এখন বৈশ্বিক জিডিপির ৬০ শতাংশ আসছে এই দেশগুলো থেকে। এর মধ্যে চীন ও রাশিয়ার মতো উদীয়মান শক্তিগুলো উদার প্রতিষ্ঠান ও তার মূল্যবোধগুলো আরও খাটো করেছে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া অধিগ্রহণ ও সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ শীর্ষক মানবিক হস্তক্ষেপের নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে উদীয়মান চীন পশ্চিমের শ্রেষ্ঠত্বের মুখোমুখি হয়েছে। সেই লড়াই যেমন কূটনৈতিক, তেমনি সামরিক। এসব ঘটনাপ্রবাহের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদার ব্যবস্থা ২.০ সৃষ্টি করতে চাইছে। এর সঙ্গে তারা এশিয়াকেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ করে সেখানকার বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের আঞ্চলিক প্রভুত্ব রোধ করতে চায়, অনেক পর্যবেক্ষকই এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালীন নীতি একই সঙ্গে রক্ষা ও শক্তিশালী করতে চায়। সাবেক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল এটাকে এশিয়ার ‘অপারেটিং সিস্টেম’ আখ্যা দিয়েছেন। সে কারণেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। সমুদ্রে নৌচালনাবিষয়ক আইনকানুন প্রয়োগ করেছেন। এ ছাড়া তিনি প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী ১১টি দেশের সঙ্গে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ চুক্তি করেছেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন কংগ্রেস আইএমএফের ২০১০ সালের কোটা অ্যান্ড গভর্ন্যান্স রিফর্ম অনুসমর্থন করে। এ ছাড়া ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড তাদের মুদ্রাভান্ডারে চীনা রেনমিনবিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই হিসাবের নাম হচ্ছে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে যদি হিলারি ক্লিনটন জিততেন, তাহলে এখন আমরা দেখতাম, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বিরাজমান অবস্থা বজায় রাখার জোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে অনেকেই ভয় পান, বিরাজমান আন্তর্জাতিক বন্দোবস্ত শিগগিরই বদলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র যে এই উদার বিশ্বব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায় তার কারণ হচ্ছে, সে এই ব্যবস্থার সুফলভোগী। কিন্তু ট্রাম্প মার্কিন আধিপত্যকে বোঝা মনে করেন। এটার সঙ্গে যে সুবিধা জড়িয়ে আছে, সেটা তিনি বিস্মৃত হয়েছেন। আর বিশেষভাবে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা নিয়ন্ত্রণজনিত যে সুবিধা আছে, সেটাও তিনি বিস্মৃত হয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক মাতবরিও ছাড়তে চান না। এর মানে এটাই হয় যে তিনি বাণিজ্য যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের দিকে ঝুঁকে যেতে পারেন। সে রকম পৃথিবীতে চীনের ভূমিকা কেমন হবে তার পরিপ্রেক্ষিতে বিংশ শতাব্দীর শেষ দশক থেকে চীনের চিন্তাধারায় মৌলিক পরিবর্তন আসে। তখন থেকে তারা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ব্যাপারে মাথাব্যথা বাদ দিয়ে জাতীয় পুনর্জাগরণ বা ‘চীনা স্বপ্নের’ পুনর্জাগরণের মতো ক্ষুদ্র বিষয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করে। পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বাস্তববাদীরা পরাশক্তি নির্ধারণ করে থাকেন মূলত একটি দেশের আত্মোপলব্ধি ও বস্তুগত সামর্থ্যের ভিত্তিতে। চীনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারিত হয়, অর্থাৎ পশ্চিমের সঙ্গে। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমকে বৈশ্বিক মূল স্রোতের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে শুরু করে। চীনা নেতারা পশ্চিমের সঙ্গে যোগ দিতে না চাইলেও নিশ্চিতভাবেই তাঁরা পশ্চিমের স্বীকৃতি চেয়েছেন। চীনা নেতারা চান না, তাঁদের দেশটি যেন বৈরী সংশোধনবাদী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত হয়, যাদের স্থান বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে। সে কারণে চীন পশ্চিমের দিকে ঘেঁষে যাচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বেশি করে যুক্ত হতে চাইছে। চীনা সরকার নির্দেশনা দিয়েছে, তারা যেন ‘আন্তর্জাতিক পথের সঙ্গে মিলে যায়’। কিন্তু ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর চীন দেখল, এই ‘আন্তর্জাতিক পথ’ সংকটাপন্ন। ফলে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ও নিজের পছন্দে চীন তখন থেকে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। বিদ্যমান ব্যবস্থা এখন তার পথে অন্তরায় নয়, তারা বরং এটা বদলাতে বেশি আগ্রহী।
সৌভাগ্যবশত, চীন প্রথাগত সংশোধনবাদী শক্তি হিসেবে কাজ করছে না। অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের প্রতি তারা গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। চীনা নেতারা মনে করেন, তাঁরা নতুন প্রক্রিয়ার ইঞ্জিন। ২০১৩ সাল থেকে সি চীনের মহিরুহ প্রকল্প ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এর লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। চীন এশিয়া বা খণ্ডিত আঞ্চলিক জোটগুলো ভাগ করতে চায় না। তাই তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে অভিন্ন স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতার চর্চা করছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের মশাল বহন করতে গিয়ে চীন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবে। এখানে বলে রাখি, চীন এখনো উন্নয়নশীল দেশ, রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো তার নিত্যসঙ্গী। সি চিন পিংয়ের সরকার দেশটিকে শ্রমঘন ও বিনিয়োগঘন দেশ থেকে অভ্যন্তরীণ ভোগ ও সেবাভিত্তিক দেশে রূপান্তরিত করতে চাইছে। ফলে তাকে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ অ্যাজেন্ডাই এখন চীনের অগ্রাধিকার হওয়ায় বৈশ্বিক পরিবর্তনের কান্ডারি হওয়ার তার যে আকাঙ্ক্ষা আছে, সেটার লক্ষ্য পরিষ্কার হবে না। এমনকি তার সমন্বিত কৌশলও থাকবে না। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক নেতৃত্ব দেওয়ার মতো চীনের ভূরাজনৈতিক শক্তি বা বৈধতা নেই, যুক্তরাষ্ট্রের যেটা ছিল। কারণ, বিশ্বদরবারে তার উত্তরণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। আবার ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ নিয়েও অনেকের সন্দেহ আছে। তাঁরা মনে করেন, এটি আরোপিত, চীনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার। এত সব অনিশ্চয়তার মাজেজা হলো: উদার বিশ্বব্যবস্থা বিপন্ন হলেও চীনা নেতৃত্বধীন বিকল্প এখনো বোধগম্য নয়।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট।
ইয়ং দেং: ইউএস নেভাল একাডেমির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক।

চামড়াবিহীন জুতায় বড় স্বপ্ন

১০ হাজার বর্গফুটের বিশাল মেঝে। একসঙ্গে কাজ করছেন কয়েক শ শ্রমিক। সবাই ব্যস্ত পাদুকা তৈরিতে। নানা নকশায় তৈরি হচ্ছে হাজারো জুতা, যা চামড়ার নয়। এতে মূল উপাদান হিসেবে কৃত্রিম চামড়া (সিনথেটিক), রাবার, প্লাস্টিক কিংবা কাপড় ব্যবহার করা হচ্ছে। সেগুলো রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের নামী ব্র্যান্ডগুলোর কাছে। এ চিত্র চট্টগ্রামের চান্দগাঁও শিল্প এলাকার ম্যাফ সুজ কারখানার একটি তলার। এ কারখানার চারটি ভবনে প্রায় চার লাখ বর্গফুট আয়তনের মেঝেতে একসঙ্গে কাজ করেন সাড়ে চার হাজার শ্রমিক। প্রতিদিন কারখানাটিতে তৈরি হয় প্রায় ২০ হাজার জোড়া চামড়াবিহীন কেডস ও ১৫ হাজার জোড়া স্যান্ডেল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই কারখানা থেকে ৫৩ লাখ জোড়া জুতা ও স্যান্ডেল রপ্তানি হয়, যা থেকে আয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আগের বছরের চেয়ে এ কারখানার রপ্তানি বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ। ম্যাফ সুজের মতো ভালো করছে দেশের আরও ১০-১২টি কারখানা, যারা এ ধরনের জুতা রপ্তানি করে। অবশ্য এসব কারখানার ছয়টিই রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে কোরীয় ইপিজেডে ইয়াংওয়ান গ্রুপের কর্ণফুলী সুজ ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় চামড়াবিহীন জুতা বেশি তৈরি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানিতে আয় হয়েছে ২১ কোটি ৯১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। জুতা রপ্তানির মোট আয়ের ৩০ শতাংশ এসেছে চামড়াবিহীন জুতা থেকে। বিশ্বের ৭৮টি দেশে এসব জুতা রপ্তানি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যায় স্পেনে, যা মোট রপ্তানিমূল্যের ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কোরিয়া, ভারত, জার্মানি, ইতালি, জাপানে বেশি রপ্তানি হয় বাংলাদেশে তৈরি চামড়াবিহীন জুতা। উদ্যোক্তারা জানান, কোনো জুতার ৬০ শতাংশের বেশি উপাদান চামড়ার হলে সেটিকে চামড়ার জুতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এর কম হলে তা নন-লেদার বা চামড়াবিহীন জুতা হিসেবে স্বীকৃত। ‘বাংলাদেশ ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট ২০১৬’ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিশ্বে চামড়াবিহীন জুতার বাজারের আকার ছিল ৪ হাজার কোটি বা ৪০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে চামড়া জুতার বাজারের আকার ছিল সাড়ে ৬ হাজার কোটি বা ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এ খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখনো নগণ্য। অবশ্য চামড়াবিহীন জুতার বড় উৎপাদক দেশ চীনের শ্রমের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। বাংলাদেশ চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি করে যে আয় করে, তাতে ম্যাফ সুজের অবদান সাড়ে ১১ শতাংশ। কারখানাটির যাত্রা শুরু ২০১০ সালে। শুরুতে অবস্থা ভালো ছিল না।
তবে বিশ্বজুড়ে চামড়াবিহীন জুতার বাজার বড় হওয়ায় উদ্যোক্তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন প্রতিবছরই কারখানার পরিসর বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে রপ্তানিও। কারখানাটির উদ্যোক্তাদের মতে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষই চামড়াবিহীন জুতা ব্যবহার করে। দাম কম ও বৈচিত্র্য বেশি থাকায় চামড়াবিহীন জুতার দিকে ঝুঁকছে মানুষ। কিন্তু এখন দেশীয় রপ্তানিকারকদের দখলে আছে এ বাজারের ১ শতাংশেরও কম। ম্যাফ সুজের নির্বাহী পরিচালক মো. জসীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, চামড়ার জুতা রপ্তানি করে ২০ বছরে যে রপ্তানি আয় হয়েছে, চামড়াবিহীন জুতায় তা ১০ বছরে করা সম্ভব। তবে এ জন্য চামড়াবিহীন জুতাকেও নীতি সহায়তা দিতে হবে। তিনি এ খাতে চামড়ার জুতার মতো নগদ সহায়তা দাবি করে বলেন, শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল ব্যবহার করা হলে মূল্য সংযোজনও ৬৫ শতাংশের বেশি হবে। উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে দেশীয় রপ্তানিকারকেরা কেরিফোর, এইচঅ্যান্ডএম, কাপ্পা, পুমা, ফিলা, টিম্বারল্যান্ড, ডাইচম্যান, প্রাইমার্কের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের কাছে জুতা রপ্তানি করছে। সম্প্রতি ওয়ালমার্ট, টার্গেট, টেসকোসহ অনেক ব্র্যান্ড কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ফরচুন লেদার ক্রাফটসের চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘মজুরি বাড়ায় চীনের ব্যবসার বড় অংশই এখন ভিয়েতনামে যাচ্ছে। আমরা এ সুযোগ পুরোপুরি নিতে পারছি না। চামড়াবিহীন জুতা তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, চামড়া খাতের মতো প্রণোদনা না থাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে অর্থায়নের সুবিধা কম থাকায় এই খাত এখনো পিছিয়ে আছে।’

ধনীদের জন্য পয়মন্ত ২০১৬ সাল!

২০১৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি সার্বিকভাবে মন্দা সময় পার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া, জ্বালানি তেলের পড়তি দামসহ নেতিবাচক খবরের শেষ ছিল না। এত কিছুর পরও বিলিয়নিয়ার বা শীর্ষ কোটিপতিদের জন্য বছরটা ছিল পয়মন্ত। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর ‘শীর্ষ ধনী ২০১৭’ তালিকা বলছে, গত এক বছরে সারা বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। আর এ তালিকায় যথারীতি শীর্ষে আছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ফোর্বস-এর শীর্ষ ধনীর তালিকা প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৩১ বছরে এই প্রথম বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৩, যা এক বছর আগে ছিল ১ হাজার ৮১০। এ দুই হাজার ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৭ লাখ ৬৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বা ৭ দশমিক ৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
এক বছরে শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। স্থানের অদলবদল ছাড়া শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় এ বছর তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিল গেটসের পরে এ তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে বিনিয়োগ-গুরু ওয়ারেন বাফেট ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। চার নম্বরে আছেন স্পেনের অ্যামানসিও ওর্তেগা, পাঁচ নম্বরে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। শীর্ষ দশে থাকা অন্যরা হলেন যথাক্রমে কার্লোস স্লিম হেলু, ল্যারি এলিসন, চার্লস কচ, ডেভিড কচ ও মাইকেল ব্লুমবার্গ। চার্লস কচ ও ডেভিড কচের সম্পদের পরিমাণ একই হওয়ায় তাঁরা যৌথভাবে আট নম্বরে রয়েছেন। শীর্ষ ১০ ধনীর আটজনই যুক্তরাষ্ট্রের, একজন স্পেনের, আরেকজন মেক্সিকোর। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ এক বছরে এক হাজার কোটি ডলার বেড়েছে। গত বছর তাঁর মোট সম্পদ ছিল ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা এ বছর হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। গত ২৩ বছরের মধ্যে ১৮ বারই তিনি ফোর্বস-এর শীর্ষ ধনী নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ, শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে তাঁর ধারেকাছে কেউ নেই। ওয়ারেন বাফেটের জন্যও গত বছরটা বেশ ভালো কেটেছে। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার। এক বছরে বাফেটের সম্পদ বেড়েছে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার। বাফেটের সম্পদের এ বৃদ্ধি অ্যামানসিও ওর্তেগাকে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখলের জন্য ছিল যথেষ্ট। তবে সম্পদ বৃদ্ধিতে গত এক বছরে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ই-কমার্স ওয়েবসাইট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস।
তাঁর সম্পদ গত এক বছরে বেড়েছে ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার। শীর্ষ তিনে উঠে আসা বেজোস গত বছর ছিলেন পাঁচ নম্বরে। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া বস্ত্র ব্যবসায়ী অ্যামানসিও ওর্তেগার জন্য গত বছরটি খারাপ কাটেনি। এ সময়ে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৪৩০ কোটি ডলার। তবে বাফেট বা বেজোসের মতো লক্ষ্মী বৃদ্ধি না পাওয়ায় এবার তিনি একটু পিছিয়ে পড়েছেন। ফোর্বস-এর সেরা ১০ ধনীর তালিকায় গত বছর প্রথম উঠে আসেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার সম্পদের মালিক জাকারবার্গ এ বছর রয়েছেন পাঁচ নম্বরে। ৪ হাজার ৪৬০ কোটি ডলার নিয়ে গতবার তিনি ছিলেন ষষ্ঠ স্থানে। এবারের তালিকায় ছয় নম্বরে থাকা মেক্সিকোর কার্লোস স্লিম হেলুর সম্পদও গত এক বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বেড়েছে। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন এ বছরও আগের মতোই তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন। তবে এ বছর তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৮৬০ কোটি ডলার। যৌথভাবে অষ্টম স্থানে থাকা কচ ভাইদের সম্পদও গত এক বছরে ৯৭০ কোটি ডলার বেড়েছে। আর আট থেকে দশে নেমে যাওয়া মাইকেল ব্লুমবার্গের সম্পদও গত এক বছরে ৭৫০ কোটি ডলার বেড়েছে।

রোমানের বুদ্ধি কত!

চার বছরের শিশু রোমান। কতটুকুই-বা বুদ্ধি তার? তবু এই শিশুর বুদ্ধিতেই রক্ষা পেল মায়ের প্রাণ। যুক্তরাজ্যের কিনলেতে এ ঘটনা ঘটে। রোমানের মা বাড়িতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। তখন বাড়িতে আর কেউ ছিল না। ছোট রোমান অনেক চেষ্টা করেও যখন মাকে জাগাতে পারেনি, তখন প্রযুক্তির সাহায্য নেয় সে। এ ক্ষেত্রে তার কাজে এসেছে অ্যাপলের ভয়েস বা কণ্ঠস্বরভিত্তিক ভার্চ্যুয়াল সহকারী সফটওয়্যার সিরি। মোবাইল ফোনে সিরি চালু করে ইমারজেন্সি বা জরুরি সেবা চেয়ে কল করে সে। এরপর দ্রুত চিকিৎসক ওই বাড়ি খুঁজে বের করে তার মাকে হাসপাতালে নেন। ঘটনাটি ঘটে ৭ মার্চ।
কল করে অপারেটরকে রোমান বলেছে যে তার মা মারা গেছে। তিনি চোখ খুলছেন না, শ্বাস নিচ্ছেন না। ওই অপারেটর তখন রোমানকে বলেছেন তাঁর মাকে ঝাঁকিয়ে দেখতে। কথোপকথনের ভিত্তিতে ওই বাড়ির ঠিকানা খুঁজে ১৩ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকারী দল সেখানে যায়। রোমানের মা মেঝেতে অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন। চিকিৎসক তাঁর জ্ঞান ফেরান এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ওই কথোপকথনের ভিডিও পুলিশ প্রকাশ করে। পুলিশ বলে, শিশুদের জরুরি কিছু বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। হাতে কাজ না থাকলে অভিভাবকদের শিশুর সঙ্গে আড্ডাচ্ছলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলো শেখানোর গুরুত্ব দিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

১০ বছর পর কেমন হবে কেনাবেচা?

ওয়ালমার্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রেসিডেন্ট ডগ ম্যাক মিলন জানিয়েছেন, আজ থেকে ১০ বছর পরে পণ্য ক্রয়ের অভিজ্ঞতা কেমন হবে। ৮টি ধারার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এখানে সেই ৮টি ধারা তুলে ধরা হলো।
* সেন্সর এবং ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্যে প্রত্যেক গ্রাহকের নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়া হবে। গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যবহারের ও অতীতে পণ্য ক্রয়ের তথ্য এমন সেবা দিতে সাহায্য করবে।
* পণ্য বিকিকিনির কাজে স্বয়ংক্রিয়তা বাড়বে। বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মী চাকরি হারাবে।
* পণ্য কেনার পর অর্থ প্রদানের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতি পণ্যের বারকোড স্ক্যান করার প্রয়োজন পড়বে না। চেক আউটের কাজ হবে দূর থেকেই, দোকানের তাক থেকে পণ্য নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গ্রাহকের হিসাবে যুক্ত হয়ে যাবে।
* নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িতে পৌঁছে যাবে। এই কাজটি করবে চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় ট্রাক বা ড্রোন।
* গ্রাহকদের কাছে বিশেষায়িত ছোট দোকানের গুরুত্ব বজায় থাকবে।
* অনলাইনে বিক্রি বর্তমানে ১০ শতাংশ থেকে ২০২৭ সাল নাগাদ ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। কিছু কিছু খাতে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
* প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে দেবে ত্রিমাতৃক মুদ্রণ প্রযুক্তির সাহায্যে। ফলে অনেক ছোট প্রতিষ্ঠানও বাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে।
* ঘরে তো বটেই, কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও বদলে দেবে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি। সম্ভাব্য ক্রেতা পণ্য ক্রয়ের আগে পণ্যের ব্যবহারবিধি, সুবিধা-অসুবিধা জেনে নিতে পারবেন।

চীনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরঞ্জাম ধসে ৯ জনের মৃত্যু

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরঞ্জাম ধসে নয়জনের মৃত্যু ও অপর দু'জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে।
আউটার কংহুয়া ডিস্ট্রিক্ট এর স্থানীয় সরকার সূত্রে জানা গেছে, প্রাদেশিক রাজধানী গুয়াংঝৌয়ে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে ৭ নম্বর থেরমাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ধসের ঘটনাটি ঘটে। নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কংহুয়ায় অবস্থিত। সরকার এই ঘটনায় একটি তদন্ত শুরু করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন যোগী!

২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন যোগী আদিত্যনাথ। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর আগমনে গোরক্ষপুর মুখরিত হচ্ছে এমনই স্লোগানে। দুই দিনের সফরে নিজের কেন্দ্র গোরক্ষপুরে গিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। সকাল থেকেই গোরক্ষনাথ মন্দিরে তাকে দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছেন অনুগামীরা। দূর দূর থেকে এসেছেন অনেকে। সবারই বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, এবার প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি।
যোগী ক্ষমতায় আসার পরেই একাধিক নতুন কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম পান মশলায় নিষেধাজ্ঞা আর কষাইখানায় বন্ধের উদ্যোগ। কাজ শুরুর প্রথম দিনের উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা কঠোর করার দিকে জোর দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে স্বচ্ছতা অভিযান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যেই যোগীর অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড কাজ শুরু করে দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে নাকি একাধিক মিল রয়েছে যোগীর। মোদির মতোই যোগী অবিবাহিত। দেশের জন্যই কাজ করবেন তিনি। এমনই বিশ্বাস গোরক্ষপুরের। তাই ২০২৪–এ দিল্লিতে তার আসন পাকা। এমনই দাবি গোরক্ষপুরের।

‘আতিয়া মহলে’ বোমা ও গুলির শব্দ

সিলেটর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন উগ্রবাদী আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ সেনাবাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান শুরুর কয়েকঘণ্টা পর মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে। অভিযান চলাকালে বেলা দুইটার একটু পরে গুলির শব্দ শোনা যায়। এর আগে ওই বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকেছে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান। এর মধ্যে ২টা ৭ ও ২টা ১০ মিনিটে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। বিকট শব্দ শুনে বাইরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো গ্রেনেড হতে পারে। এর আগে ভবনের বাসিন্দাদের বের করে আনা হয়।
আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজ শেষ বলে বেলা সোয়া একটার দিকে জানান জালালাবাদ সেনানিবাসের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল আতিয়া মহল নামের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে আনছে। আতিয়া মহল ও তার পাশের আতিয়া মহল ২ নামের আরেকটি ভবনের মাঝখানে ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই পথে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাসিন্দাদের বের করা হচ্ছে। সে সময় ফায়ার সার্ভিসকে বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেখা গেছে।

রামপুরায় ঝড়ের সময় বিদ্যুতের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৪

রাজধানীর রামপুরায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগে দুই শিশুসহ চারজন দগ্ধ হয়েছেন। আহতরা হলেন-আবদুস সাত্তার (৫০),মো.হোসেন (৩৫), আদিয়াত (৮) ওমাহাবীর (৫); তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। আহতদেরঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। রামপুরা থানার এসআই শায়েখ আহমেদ জানান, শনিবার সকালে বৃষ্টির সময় রামপুরা নতুনবাগে একটি বাড়ি সংলগ্ন বিদ্যুতের দুটি তার এক হয়ে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে চারজন দগ্ধ হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিল প্রত্যাহার : ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

শেষ মুহূর্তে এসে ভোটাভুটি বাদ দিয়ে প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা বিল। এই বিল নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে ট্রাম্প ব্যর্থ হলেন। এটি তার জন্য বড় ধাক্কা বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। কারণ ওবামার সময়ের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত বিল, যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত, সেটি বাতিল করার বিষয়টি ছিল ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নিজের দলেই সমর্থন না পেয়ে ট্রাম্প তার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলেন।
ওবামার প্রণীত স্বাস্থ্যসেবা বিল বাতিল করা সম্ভব হলো না। হাউজ স্পিকার পল রায়ান বলেছেন, ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা বিলের সমর্থনে ২১৫টি রিপাবলিকান ভোট পাওয়া যাবে না। এমন অনিশ্চয়তার মুখে তিনি এবং ট্রাম্প কংগ্রেসে ভোট না করতে সম্মত হন।এটাকে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন স্পিকার পল রায়ান। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এটাকে আমেরিকার জনগণের বিজয় বলে বর্ণনা করেছেন।তারা বলেছেন, ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইন বাতিল করে ট্রাম্পের বিল প্রণয়ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। গত বৃহস্পতিবারেই কংগ্রেসে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু নিজ দলেই বিরোধিতার কারণে সেদিন ভোট করা যায়নি।ট্রাম্প শুক্রবারে ভোট করার ব্যাপারে নিজ দলের সদস্যদের প্রতিই আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।তাতে লাভ হয়নি। হোঁচট খেলেন ট্রাম্প।
সূত্র : বিবিসি

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করবে ভারত

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেয়া হবে। 'ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ও অনুপ্রবেশ' রুখতে ভারত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার, মধ্যপ্রদেশের টেকানপুরের বিএসএফ অ্যাকাডেমিতে বক্তব্য রাখেন তিনি৷ পাকিস্তানকে তুলোধোনা করে তিনি ভারতের সীমানা রক্ষায় নিয়োজিত বিএসএফ-এর ভূয়সী প্রসংশা করেন৷
এদিন বিএসএফ-এর পাসিং আউট প্যারেডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে রণনৈতিক ও কৌশলগত পরিবর্তনে এনেছে বিএসএফ৷ নিজের কার্যকুশলতা ও সাহসিকতার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছে আজ সুপরিচিত বিএসএফ৷ পাকিস্তানও বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করার জন্য বহুদিন ধরে আলোচনা করছে ভারত৷ গত বছর, জম্মু ও কাশ্মিরে আন্তর্জাতিক সীমান্তে দেয়াল বানানোর পরিকল্পনা নাকচ করেছিল ভঅরত৷ তবে 'ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসী' হানা রুখতে এবার এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত৷

ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের তদন্ত দাবি

জাতিসঙ্ঘের যে প্যানেল সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা তা তদন্ত করছে তাদেরকে এর পাশাপাশি ইরাকেও একই বিষয় খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। তবে শুক্রবার উত্থাপিত প্রস্তাবটিকে তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দেয় ব্রিটেন। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে মসুল যুদ্ধের ওপর আলোচনাকালে দেশ দুটি ইরাকেও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বিষয়ে যৌথ তদন্তের প্রস্তাব উত্থাপন করে। দেশটিতে ইরাকী বাহিনী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়ই করছে। বৈঠকে সভাপতিত্বকারী ব্রিটিশ দূত ম্যাথিউ রিক্রোফট বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আইএসের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পেয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।
তিনি জানান, রাশিয়া ও চীন ‘সিরিয়ার পাশাপাশি ইরাকেও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ওপর যৌথ তদন্ত চেয়ে’ একটি খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ব্রিটেন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি। ব্রিটেন দূত আরো বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের যুক্তি হলো ইরাক ও সিরিয়ার পরিস্থিতি এক নয়।’ তিনি বলেন, ইরাক সরকার আমাদের সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। রিক্রোফট আরো বলেন, ইরাক সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কোন অভিযোগ নেই। তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিষদ রাশিয়া ও চীনের এই খসড়া প্রস্তাবটির ওপর কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সাগরে নামছে চীনের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী!

চীনের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী আগামী মাসের শেষের দিকে সাগরে নামানো হবে। চীনের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এ খবর দিয়েছে। সাইনা নিউজ পোর্টাল নামের একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইন্টারনেটে দ্বিতীয় লিয়াওনিং বিমানবাহী রণতরীর কিছু ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এপ্রিল মাসের শেষে হয়ত সাগরে নামবে এ রণতরী। বিশেষ করে চীনের গণমুক্তি ফৌজ বা পিএলএ'র নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠার বার্ষিকীতে এ রণতরীকে সাগরে নামানো হতে পারে। ২৩ এপ্রিল হলো ওই বার্ষিকী।
এর আগে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের রণতরী ভারিয়াগে ব্যাপক সংস্কার এনে চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং তৈরি করা হয়েছিল। ২০১১ সালে একে পরীক্ষামূলক ভাবে সাগরে নামানো হয় এবং ২০১২ সালে চীনা নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয় এটি। ২০১৫ সালে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় রণতরী পুরোপুরিভাবেই চীনে তৈরি করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

চীনে খনি দুর্ঘটনায় নিহত ১০

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হেনান প্রদেশের দুটি স্বর্ণখনিতে শুক্রবার পৃথক দুর্ঘটনায় ১০ জন মারা গেছেন। শনিবার ভোরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার নাগরিক কমিটির প্রেস অফিসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে লিংবাও নগরীতে চায়না ন্যাশনাল গোল্ড গ্রুপের কিনলিং স্বর্ণখনি ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। সেখানে ১২ শ্রমিক ও মাকিলপক্ষের ছয় কর্মী আটকা পড়ে। এতে আরো বলা হয়, শুক্রবার রাতে উদ্ধারকর্মীরা খনি থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করে।
আহত অবস্থায় ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে মারা যায়। অপর নয় জন আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। নগরীর জরুরি কর্মকর্তা জানান, শনিবার সকালে আটকে পড়া শ্রমিকদের একজন নিখোঁজ রয়েছে। কিন্তু খনির ভেতর বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা অনেক বেশি থাকায় ও এক মিটারের কম দূরের জিনিসও দেখতে না পাওয়ায় তল্লাশী ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার প্রাদেশিক কর্মস্থান সুরক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাশের একটি স্বর্ণ খনিতেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোর তিনটায় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় খনির ভেতর ছয় শ্রমিক আটকা পড়ে। দিনভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় চার শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় অপর দুই শ্রমিককে সেখানে মৃত পাওয়া গেছে। প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

২৭০ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাতে চায় আমেরিকা

২৭০ ভারতীয়কে ফেরত পাঠাতে চায় মার্কিন সরকার। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে একথা জানিয়েছে আমেরিকা। পররাষ্টমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, আমেরিকার দাবি ২৭০ জন ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে বসবাস করছে। তাদের দেশে ফেরানোর আগে আমেরিকার কাছে ২৭০ জনের নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সুষমা স্বরাজ বলেন, ২৭০ জন ভারতীয় কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। সেইসাথে তারা যে ভারতীয় তার প্রমাণ হিসেবে একটি সার্টিফিকেটও দিতে বলা হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। ভারতীয়দের উপর যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষমূলক আচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটানের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৪–র মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার ভারতীয় শরণার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে আমেরিকায়। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভারতীয় বেআইনিভাবে বসবাস করছেন। হোমল্যান্ড সিকিওরিটি এজেন্সির দাবি, ভিসার মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও নানা উপায়ে এইসব ভারতীয়রা আমেরিকায় বসবাস করছে। ২০১৫–আর্থিক বর্ষের হিসেবে ১২ হাজার ৮৮৫ জন ভারতীয় ভিসের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। তারপরেও তারা রয়ে গেছে আমেরিকায়। প্রতিবছর এইচ ওয়ান বি ভিসা নিয়ে হাজারের উপর ভারতীয় আমেরিকায় আসেন, সেটি রিনিউ করিয়েই বছরের পর বছর থেকে যান। ট্রাম্প প্রশাসন এবার সেইসব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে প্রস্তত। সেকারণে আগে থেকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে বিশদ তথ্য দিয়ে রেখেছে তারা।

পাবনা ও নাটোরে রসুন চড়া দামে বিক্রি করে খুশি চাষিরা

পাবনা ও নাটোর জেলায় জমি থেকে রসুন তোলা চলছে পুরোদমে। এ অঞ্চলে চলতি মওসুমে মসলা জাতীয় ফসল রসুনের আশাতীত ফলন ও ভাল দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে। প্রায় ২৯ হাজার ৭২৮ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ২৩ হাজার টন রসুন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর রসুনের আকার ও গুনগতমান খুবই ভাল হয়েছে। মওসুমের শুরুতেই প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা চড়া দামে রসুন বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলে লাভের মুখ দেখছেন।
আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার রসুনের আশাতীত ফলন পাওয়া যাবে বলে পাবনা ও নাটোর কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। চলতি রবি মওসুমে নাটোর ও পাবনা জেলায় রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য হয়েছিল ২১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ২০০ টন। এবার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাত হাজার ৮৬৮ হেক্টর বেশী জমিতে রসুন আবাদ হয়েছিল। অর্থাৎ ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫৯ হাজার ৭৬০ টন বেশী রসুন উৎপাদন হয়েছে। গত বছর রসুনের আবাদ কম হওয়ায় বাজারে রসুনের দাম বেশী হয়েছে। অর্থৎ দেশি রসুনের দাম প্রতিমণ ছয় হাজার টাকার বেশি হয়ে যায়। এ অঞ্চলে এখন জমি থেকে রসুন তোলা ও শুকানোর কাজ চলছে পুরোদমে। রসুনের ফলন হয়েছে আশাতীত। এবছর পাবনা ও নাটোর জেলায় অঞ্চলে রেকর্ড পরিমান ২৯ হাজার ৭২৮ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ২৩ হাজার টন রসুন উৎপাদন হবে বলে কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন। পাবনা ও নাটোর কৃষি সম্প্রসারন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরের চলনবিল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয়। রসুন এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ১৩ হাজার ৮২ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯৪ হাজার ১১৫ টন, গুরুদাসপুরে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টরে ৫৪ হাজার ৭৫০ টন, লালপুরে ৮০০ হেক্টরে ৬ হাজার টন, বাগাতিপাড়ায় ৪০০ হেক্টরে তিন হাজার টন, সিংড়ায় ৩০০ হেক্টরে দুই হাজার ২৫০ টন, পাবনার চাটমোহরে সাত হাজার ৫০০ হেক্টরে ৫৬ হাজার ২৫০ টন, পাবনা সদর, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৪০০ হেক্টরে তিন হাজার টন রসুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এসব এলাকায় প্রতি বছরই রসুন আবাদের পরিমান বাড়ছে। চলনবিল অঞ্চলে বিনা চাষে রসুন আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয় নাটোরের বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলায়। মসলা জাতীয় ফসল রসুন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত দেশের চলনবিলের বড়াইগ্রামের বাজিতপুর, মাড়িয়া, ইকড়ি, জালশুকা, তারানগর, শ্রীরামপুর, মানিকপুর, চকপাড়া, রয়না ভরট, মামুদপুর, রয়না, রোলভা, খাকসা, চড়ইকোল, গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা, কাছিকাটা, হাঁসমারী, দড়ি হাঁসমারী, শিধুলী, চড়কাদহ, মশিন্দা, চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা, কাটেঙ্গা, কোকড়াগাড়ি, ধানকুনিয়া, লাঙ্গলমোড়া, বরদানগর, ধুলাউড়ি, বোয়ালমারি, গৌরনগর, বিন্যাবাড়ি, নিমাইচড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি রসুন আবাদ হয়েছিল।
চলনবিল অঞ্চলে বণ্যার পানি নেমে যাওয়ার পরই পলিযুক্ত দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটিতে রসুন রোপন করা হয়। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় পাবনা ও নাটোর জেলায় এ বছর রসুনের আশাতীত ফলন হয়েছে। এখন এ অঞ্চলের কৃষাণ-কৃষাণীদের দম ফেলার সময় নেই। তারা জমি থেকে রসুন তুলে বাড়ীতে আনা এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করচ্ছে। গত বছর মৌসুমের শুরুতে আর্দ্র রসুন প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে। এবার আর্দ্র রসুন প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা দরে। ভাল দাম পেয়ে রসুন চাষিরা বেশ খুশি। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫-৯৬ সালে নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোর কৃষকেরা স্ব-উদ্যোগে প্রথম বিনা চাষে রসুন আবাদের প্রচলন শুরু করেন। এই রসুনের আবাদ বা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বড়াইগ্রাম উপজেলার জালশুকা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম পূর্ণি জানান, চলনবিল অঞ্চলের জমিতে সাধারণত বণ্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া রোপণ করা হয়। এ জন্য প্রচলিত নিয়মে জমি চাষ করার প্রয়োজন পড়ে না। এ পদ্ধতিতে ক্ষেতে আগাছা কম জন্মে। সার প্রযোগ করতে হয় কম। রোপণ থেকে উৎপাদণ পর্যন্ত ১২০ দিনের এই রসুন উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে পুরনো পদ্ধতির আবাদের চেয়ে অনেক কম। বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুনের ফলন বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে রসুনের ফলন পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩০ মণ। সাধারণত চৈত্র মাসে জমি থেকে রসুন তুলে আনা হয়। বড়াইগ্রামের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি সার, ২৫ কেজি পটাশ সার ও ১৫ কেজি জিপসাম সার ছিটানোর দুই-একদিনের মধ্যে নরম জমিতে সারিবদ্ধভাবে রসুন বীজ রোপণ করতে হয়। রোপণের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে দুই মণ রসুনের প্রয়োজন হয়। জমিতে রসুন রোপণের দিনই খড় বা বিচালী দিয়ে জমি ঢেকে দিতে হয়।
বীজ রোপণের একমাস পরে পানি সেচ দিয়ে বিঘায় ১০ কেজি হারে ইউরিয়া সার ও পাঁচ কেজি হারে এমওপি সার ছিটিয়ে দিলে ফলন ভালো হয়। এ বছর জেলার বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, বাগাতিপাড়া, সিংড়া উপজেলায় রসুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। রসুনের আকার ও গুনগতমান খুবই ভাল হয়েছে। গুণগত মান বৃদ্ধি ও হাটবাজারে বিক্রির জন্য চাষিরা রসুন এখন রোদে শুকাচ্ছেন। শুকানো রসুনের দাম ভাল পাওয়া যায়। পাইকার ও মজুতদারা হাটবাজার থেকে আর্দ্র রসুন কিনে শুকানোর কাজ শুরু করেছেন। চাটমোহরের ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম আর্দ্র রসুন মানভেদে প্রতিমণ কিনছেন এক হাজার ৯০০ টাকা থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায়। আর্দ্র রসুন রোদে শুকানোর পর প্রতিমণে ৫ থেকে ৭ কেজি ঘাটতি হয়। সেই হিসেবে শ্রমিক খরচসহ প্রতিমণ শুকানো রসুনের দাম পড়ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিমণ শুকানো রসুন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৬৫০ টাকায়। ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা কম দামে রসুন কিনে শুকিয়ে বেশি দামে ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের বিক্রি করছে। এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় হাট-বাজারে রসুনের সরবরাহ বেড়েছে। গত বছর প্রতিমণ আর্দ্র সরষে বিক্রি হয়েছিল এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। এ বছর প্রতিমণ রসুন এক হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে রসুনের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্ইা অনেক ব্যবসায়ীই রসুন কিনে শুকিয়ে গুদামজাত করতে শুরু করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাটোরের লক্ষীকোল বাজার, রয়না ভরট হাট, মৌখাড়া হাট, জালশুকা হাট, চাঁচকৈড় হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা হাট, মির্জাপুর হাট, ছাইকোলা হাট রসুন বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। রসুন বেচাকেনার জন্য বিভিন্ন হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আড়ৎ। চট্রগ্রাম, সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রসুনের বেপারী এসে আরৎদারদের মাধ্যমে চাহিদা অনুয়ায়ী রসুন কিনছেন। পরে রসুন বস্তায় ভরে ট্রাকে করে সড়ক পথে নিজ নিজ গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে হাট-বাজারে মান ভেদে প্রতি মণ শুকনা রসুন ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমন শুকনো নতুন রসুন তিন হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবনার সুজানগর উপজেলার বিলগাজনা এলাকার রসুন চাষী খোরশেদ আলম পুর্ণি ও রফিক মোল্লা বলেন, প্রতি বছরই কৃষকদের রসুন যখন বেচা হয়ে যায়, তখন রসুনের দাম বাড়ে। এতে তাদের কোন লাভ হয় না। সারা বছর খেটে আবাদ করে রসুনের উৎপাদণ খরচ ওঠেনা। অথচ মৌসুমের শেষে মজুতদারেরা বেশি দামে রসুন বিক্রি করে লাভের টাকা ঘরে তোলেন। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, দোঁ-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
এ কারণেই নাটোর জেলায় বিশেষ করে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলায় সর্বাধিক জমিতে রসুন চাষ হয়। জমিতে টিএসপি, পটাশ ও জিপসাম ছিটানোর দুই-একদিনের মধ্যে নরম জমিতে সারিবদ্ধভাবে রসুন বীজ রোপণ করতে হয়। রোপণের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে দুই মণ রসুনের প্রয়োজন হয়। জমিতে রসুন রোপণের দিনই খড় বা বিচালী দিয়ে জমি ঢেকে দিতে হয়। বীজ রোপণের একমাস পরে পানি সেচ দিয়ে জমিতে ইউরিয়া ও এমওপি সার ছিটিয়ে দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। পাবনা সদর, সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া, আটঘড়িয়া, ঈশ্বরদী, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কম বেশি রসুন আবাদ হয়। এসব এলাকায় প্রতি বছরই রসুন আবাদের পরিমান বাড়ছে। এ বছর রসুনের আকার ও গুনগতমান খুবই ভাল হয়েছে। এ অঞ্চলে গত এক দশকের মধ্যে রসুনের এমন বাম্পার ফলন পাওয়া যায়নি।