Wednesday, April 6, 2016

যেভাবে গুপ্ত সম্পদের পাহাড়ে ইলহাম আলিয়েভ

২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ দুই হাজারের বেশি সম্মানিত অতিথিতে কানায় কানায় পূর্ণ রেসপাবলিকা প্যালেস। তাঁদের সামনে জ্বালানি-সমৃদ্ধ আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ইলহাম আলিয়েভ।
ওই বছর কেবল দেশের মসনদেই বসেননি আলিয়েভ। বিভিন্ন কর রেয়াত অঞ্চলের একগুচ্ছ গোপন কোম্পানির মাধ্যমে তিনি, তাঁর পরিবারের সদস্য, উপদেষ্টা ও মিত্ররা বিদেশে বিলাসবহুল সব বাড়ি, দেশের মূল্যবান বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি বৃহৎ স্বর্ণখনিতে আলিয়েভের পরিবারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ, যা এখন পর্যন্ত অজানা ছিল। পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথির মাধ্যমে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নথি মোতাবেক, আলিয়েভ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাস কয়েক আগে আজারবাইজানের করমন্ত্রী ফাজিল মাম্মাদভ আতা হোল্ডিং নামের একটি কোম্পানি গড়ে তুলতে শুরু করেন। অচিরেই ফুলে-ফেঁপে সেটি দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। মাম্মাদভ পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসায় যুক্ত হতে আলিয়েভের পরিবারের প্রতি আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সুবিধা ও রাজনৈতিক অংশীদারত্ব আরও পাকাপোক্ত হয়। আজারবাইজানের ব্যাংকিং খাত, টেলিযোগাযোগ, নির্মাণ খাত, খনিশিল্প, তেল-গ্যাস খাতে উল্লেখযোগ্য স্বার্থ রয়েছে আতা হোল্ডিংয়ের। সর্বশেষ (২০১৪ সালে) দাখিল করা প্রতিবেদন মোতাবেক, শিল্পগোষ্ঠীটির ৪৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ রয়েছে। ফাঁস হওয়া নথি বলছে, করমন্ত্রী মাম্মাদভ মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে পানামায় একটি কোম্পানি খোলেন, যার নাম এফএম ম্যানেজমেন্ট হোল্ডিং গ্রুপ। পরে তিনি একটি অফশোর ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন, যার নাম ইউএফ ইউনিভার্স ফাউন্ডেশন। দুই বছর পর ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের স্ত্রী মেহরিবান আলিয়েভা এই ফাউন্ডেশনের দুই ব্যবস্থাপকের একজন হন। অপর ব্যবস্থাপক মাম্মাদভ নিজেই।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘মানবাধিকার’ গুরুত্ব হারিয়েছে

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার রক্ষার কাজটি আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না উল্লেখ করে এর কড়া সমালোচনা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র-বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর (ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস—এফসিও) মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বের দেশে দেশে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করত, তা অনেকটা দমে গেছে বলে মনে করে এই কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানবাধিকার রক্ষার কাজে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ দ্বিগুণ করে প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড করা হয়েছে। কিন্তু পররাষ্ট্র দপ্তর মানবাধিকারের প্রতি নজর কমিয়ে দিয়েছে। তারা উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে—এমন দেশের তালিকায় চীন, মিসর ও সৌদি আরবের মতো দেশকে যুক্ত না করার ঘটনা অন্তত তা-ই প্রমাণ করে বলে মনে করে কমিটি। সামনের দিনগুলোয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি গভীর নজর রাখা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে কমিটি। এ ছাড়া সময়-সময় কাজের মূল্যায়নও করা হবে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র-বিষয়ক কাজের ওপর আলাদা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্যও পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রীরা মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যে ধরনের ভূমিকা পালন করছেন বা যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, তাতে এমন ধারণার জন্ম হয়েছে যে মন্ত্রীদের কাছে মানবাধিকারের বিষয়টি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র-বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এমপি ক্রিসপিন ব্লান্ট বলেন, মন্ত্রীদের শব্দ চয়ন ও ভূমিকা পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার রক্ষার চমৎকার ঐতিহ্যকে হেয় করেছে। এর প্রতিকার প্রয়োজন। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রক্ষার নীতিতে আটটি বিষয় যুক্ত ছিল। এগুলো হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মৃত্যুদণ্ডের অবসান, নির্যাতন বন্ধ, ধর্ম পালন ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, নারী অধিকার, ব্যবসা ও মানবাধিকার, গণতন্ত্রায়ণ ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন অপরাধ দমন। ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে পররাষ্ট্র দপ্তর মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট কাজের এই তালিকাকে সংক্ষিপ্ত করে মাত্র তিনটিতে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে আছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন, আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পদ্ধতিকে শক্তিশালীকরণ এবং স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য মানবাধিকার। কমিটি বলছে, সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক নীতিগুলো বাদ দেওয়ায় তারা অসন্তুষ্ট। সুনির্দিষ্ট ইস্যুগুলোয় পররাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকা দেখতে চায় কমিটি। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষার কাজটিকে কমিটি যেভাবে উপস্থাপন করেছে, তার সঙ্গে একমত নন তিনি। হ্যামন্ড বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়টি তাঁর দপ্তরের অনিবার্য কাজ। এটি দেশে দেশে ছড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ কূটনীতিকদের অন্যতম দায়িত্ব।

লন্ডন-রোমে হামলার ইঙ্গিত দিল আইএস

আইএস
যুক্তরাজ্যের লন্ডন, জার্মানির বার্লিন এবং ইতালির রোমে জঙ্গি হামলা চালাতে পারে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আজ মঙ্গলবার আইএসের প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় এ শহরগুলোতে হামলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।  ভিডিও বার্তায় আইএসের এক সদস্য ইংরেজিতে বলেন, ‘যদি গতকাল প্যারিসে হামলা হয়ে থাকে, আজ ব্রাসেলসে হয়ে থাকে, তাহলে স্রষ্টাই জানেন কাল কোথায় হামলা হবে। এই হামলা লন্ডন বা বার্লিন অথবা রোমেও হতে পারে।’ ভিডিও বার্তায় আগের হামলাগুলোর কিছু ফুটেজ দেখানোর পর এই কথাগুলো বলা হয়। ভিডিওটিতে লন্ডনের হাউস অব কমন্স এবং রোমের কলোসিয়ামের ছবিও দেখানো হয়। গত মাসে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এবং গত বছরের নভেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে যে হামলা হয়, তার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। ব্রাসেলসের হামলায় ৩১ জন এবং প্যারিসের হামলায় ১৩০ জনের মৃত্যু হয়।

অভিশংসনের মুখে জুমা ও রুসেফ

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা এবং দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। জুমার বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাব টিকবে না বলেই আশা করছে তাঁর দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এনএনসি)। আর অভিশংসন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রুসেফের প্রধান আইনজীবী বলেছেন, এ প্রস্তাব ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (ডিএ) বলেছে, জুমা ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। কেননা, গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন, জুমা তাঁর সরকারি বাসভবন সংস্কারের কাজ করে যে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছিলেন, তা ফেরত না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। ডিএ দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গোপন ব্যালটে এই অভিশংসন প্রস্তাবের বিষয়ে ভোট নেওয়ার দাবি তুলেছে। তবে পার্লামেন্টের স্পিকার বালেকা মাবেতে সে দাবি বাতিল করে দিয়েছেন। এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট রুসেফের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের শুনানিতে তৈরি পার্লামেন্টের ৬৫ সদস্যের অভিশংসন কমিটির সামনে সওয়াল জবাব দিয়েছেন প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হোসে এদুয়ার্দো কারদোজা। গতকাল মঙ্গলবার শুনানিতে কারদোজা অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে রুসেফের সরকার অননুমোদিত ঋণ নিয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, এমন অভিযোগের মাধ্যমে অভিশংসনের প্রস্তাব আনা যেতে পারে না। এই অভিশংসন প্রস্তাব অভ্যুত্থানের শামিল বলেও অভিযোগ করেন কারজাই।

চাপের মুখে ক্যামেরন

ডেভিড ক্যামেরন
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার চাপের মধ্যে পড়েন। পানামা পেপার্সের তথ্য অনুযায়ী তাঁর প্রয়াত বাবা ব্রিটেনে কর ফাঁকি দিয়ে ৩০ বছর ধরে বিদেশে অর্থ রেখেছিলেন। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবশ্য এটিকে ক্যামেরনের পরিবারের সদস্যদের ‘একান্ত বিষয়’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, তাঁরা বিদেশে বিনিয়োগ করবেন কি না, সেটা একান্তই তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে সরকারি সূত্রগুলো এএফপিকে জানিয়েছে, দেশের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের ওরকম নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। ক্যামেরন পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অর্থ রাখার বিষয়টি ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতায় বড় জায়গা পেয়েছে। এতে কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নিঃসন্দেহে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। কারণ তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগের পক্ষে বিভিন্ন সময় সরব হয়েছেন। ডেভিড ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরন বাহামা দ্বীপপুঞ্জে ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস নামে একটি বিনিয়োগ তহবিল গড়েছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন পরিচালকের একজন হিসেবে ২০১০ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কর-সংক্রান্ত যেসব নথি ফাঁস হয়েছে, সেগুলো দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসির কাছে এসেছে। এতে দেখা যায়, বাহামার প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা প্রতিবছর ব্রিটেনে কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য ব্লেয়ারমোরের কাগজপত্রে সই করেছেন। গার্ডিয়ান বলেছে, ব্লেয়ারমোর ৩০ বছরের লাভের অংশ থেকে যুক্তরাজ্যকে এক পয়সাও কর দেয়নি। আগামী ১২ মে বড় পরিসরে একটি দুর্নীতিবিরোধী সম্মেলনের আয়োজন করবে লন্ডন। ওই অনুষ্ঠানের এক মাস আগে পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকির তথ্য ফাঁস হওয়াতে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সচরাচর জোরালো বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, দূরবর্তী যেসব ভূখণ্ড আছে সেখানকার জন্য ‘প্রত্যক্ষ আইন’ প্রণয়ন এবং যুক্তরাজ্যের কর আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টি সরকারের বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে ব্রিটেনের জনগণের ‘ক্ষোভের’ বিষয়টিকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, যুক্তরাজ্য বরাবরই করের ব্যাপারে স্বচ্ছতার ‘শিখরে’ ছিল। কর ফাঁকির বিষয়ে আরও কঠোর হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে করবিন বলেন, বিত্তবানদের জন্য এক রকম কর আইন আর জনসাধারণের জন্য অন্য রকম হতে পারে না। এই পক্ষপাত এবং অন্যায় অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। শুধু কথায় নয়, বিত্তশালীদের অবশ্যই ন্যায্য কর পরিশোধ করতে হবে। পানামাভিত্তিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথিপত্র সম্প্রতি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য’পদে সুচি

অং সান সুচি
সেনা প্রতিনিধিদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে, যার ফলে ‘স্টেট কাউন্সিলর’ বা রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা হবেন অং সান সু চি। কিন্তু আদতে থাকবেন ‘প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য’ ভূমিকায়। গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি বিল দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়েছে। এটি আইনে পরিণত হতে লাগবে কেবল প্রেসিডেন্টের অনুমোদন। নতুন প্রেসিডেন্ট থিন কিউ অং সান সু চির অনুগত ও ঘনিষ্ঠ জন হওয়ায় তাঁর ‘কার্যত প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার বাধা প্রায় নেই বললেই চলে। মিয়ানমারে সদ্য ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) অং সান সু চির জন্য ‘প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য’ রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার নতুন পদ সৃষ্টি করতে গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে একটি বিল তোলে। সংরক্ষিত আসনের (এক-চতুর্থাংশ) সামরিক প্রতিনিধিরা বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। বিলটি পাস করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের অনেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। বলতে থাকেন, এটি ‘অসাংবিধানিক’।

অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয়ে মুখ খুললেন বচ্চন

অমিতাভ বচ্চন
‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারির বিষয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, তাঁর নামের অপব্যবহার করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির। বিবৃতিতে অমিতাভ বলেন, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা পানামা পেপারসের বরাত দিয়ে সি বাল্ক শিপিং কোম্পানি লিমিটেড, লেডি শিপিং লিমিটেড, ট্রেজার শিপিং লিমিটেড এবং ট্রাম্প শিপিং লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে আমার নাম উল্লেখ করেছে। আমি কখনোই ওই কোম্পানিগুলোর পরিচালক ছিলাম না। হতে পারে আমার নামটি ভুলভাবে এসেছে।’ অমিতাভ বলেন, ‘দেশে-বিদেশে যে অর্থ আমি খরচ করেছি তার সব করই পরিশোধ করেছি। কর দিয়েই আইনগতভাবে দেশের বাইরে অর্থ প্রেরণ করেছি।’ অমিতাভের পুত্রবধূ বলিউড অভিনেত্রীর ঐশ্বরিয়া রাইয়ের নামও ‘পানামা পেপারস’এ আছে। তবে গত সোমবার ঐশ্বরিয়ার মিডিয়া পরামর্শক তা অস্বীকার করে বলেন, ওই নথিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস হয় গত সোমবার। ফাঁস হওয়া এসব নথিতে বিশ্বের শতাধিক ক্ষমতাধর মানুষ বা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের বিদেশে টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তালিকায় দেখা গেছে যে চীন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বা তাঁদের আত্মীয় এসব অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত।

পেরুতে ফুজিমোরির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিক্ষোভ

পেরুতে শীর্ষস্থানীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কিকো ফুজিমোরির বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভযাত্রা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী লিমায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কিকোর বাবা দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি। ১৯৯২ সালের ৫ এপ্রিল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নিয়েছিলেন তিনি। ওই ঘটনার ২৪ বছর পর অভ্যুত্থানের দিনে আলবার্তোর মেয়ের বিরুদ্ধে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হলো। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘ফুজিমোরি আর নয়’। বিক্ষোভকারীরা নানা ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। আগামী রোববারের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিক্ষোভকারীরা দেশটির ন্যাশনাল ইলেকটরাল বোর্ড অভিমুখে যাত্রা করেন। প্যাট্রিসিয়া সালাজার নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, তিনি চান, বিশ্ব জানুক যে দুর্নীতিগ্রস্ত এক নেতার মেয়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার বিরুদ্ধে পেরুর জনগণ বেশ ক্ষুব্ধ। ৪০ বছর বয়সী রক্ষণশীল কিকোর বিরুদ্ধে দেশটির অন্যত্রও বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা পেরুর জনগণকে ২৪ বছর আগের অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা কিকোর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টিও জানান দিতে চান। কিকোর বাবা আলবার্তো দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০০৯ সালে তাঁর দণ্ড হয়। তিনি এখন ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

উইসকনসিনে ট্রাম্পের পরাজয়

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেড ক্রুজ।
আগেই অনুমান করা হচ্ছিল। এবার তা সত্যি হলো। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে শীর্ষস্থানীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন। সেখানে সুস্পষ্ট জয় পেয়েছেন সিনেটর টেড ক্রুজ। এতে অগ্রবর্তী মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এগোনোর পথ দুর্গম হয়ে উঠেছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ওই নির্বাচন হয়। সেখানে ক্রুজ জয়ী হওয়ায় ট্রাম্পের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পথ জটিল হয়ে উঠেছে। উইসকনসিনের এই ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য একটা বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচনের আগে এক জনমত জরিপে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পকে ‘অপছন্দ’ করে—এমন ভোটারের সংখ্যা ৬৭ শতাংশ। শুধু নারীদের হিসাব নিলে অঙ্কটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। হিস্পানিক, অর্থাৎ, লাতিন বংশোদ্ভূত স্প্যানিশভাষী ভোটাররা তাঁকে অপছন্দ করে—৮৫ শতাংশ। ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি টিভির ওই জরিপ অনুযায়ী, গত ৩২ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ট্রাম্পের মতো এমন ‘অজনপ্রিয়’ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আর দেখা যায়নি। ট্রাম্প আশা করেছিলেন, এই রাজ্যের শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবীদের ভোটে তিনি তাঁর দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর টেড ক্রুজ ও গভর্নর জন কেইসিককে সহজেই হারিয়ে দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনমত জরিপের ফলাফলই সত্যি হলো। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদই নিয়ে এল। রিপাবলিকান নেতৃত্বের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে বিতর্কিত ট্রাম্প তাঁর দলের মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন, এ সম্ভাবনা সম্প্রতি জোরালো হয়ে উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইঙ্গিত করেছেন, আগামী জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে অন্য কেউ মনোনয়ন পেলে তাঁকে সমর্থন করতে না-ও পারেন তিনি। অধিকাংশ বিশ্লেষক একমত, গত দুই সপ্তাহ ট্রাম্প একের পর এক কৌশলগত ভুল করেছেন।

হ্যাকিং নিয়ে কেউ বলছে না: ফনসেকা

পানামা পেপারস
‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হলেও কেউ হ্যাকিং নিয়ে কথা বলছে না বলে খেদ প্রকাশ করেছেন আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন র‍্যামন ফনসেকা। তিনি দাবি করেছেন, বিদেশি সার্ভার থেকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে হ্যাক করা হয়েছে। এ নিয়ে তাঁরা গত সোমবার একটি ফৌজদারি অভিযোগ করেছেন। র‍্যামন অভিযোগ করেন, এখানে কেউ হ্যাক করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে না। অথচ অপরাধ হয়ে থাকলে এটিই হয়েছে। টেলিফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এএফপির করা এক প্রশ্নের জবাবে ফনসেকা বলেন, ‘আমরা অভিযোগ করেছি। তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়ে আমাদের কাছে কারিগরি প্রতিবেদন আছে। সেখানে দেখা গেছে, বাইরে থেকে আমাদের সার্ভার হ্যাক করা হয়েছে।’ তবে কোন দেশ থেকে হয়েছে, তা তিনি বলেননি। আফ্রিকার দরিদ্র দেশ আইভরিকোস্ট, অ্যাঙ্গোলা থেকে শুরু করে ধনী যুক্তরাজ্য—সব দেশেরই ক্ষমতাধরেরা ৪০ বছর ধরে মোসাক ফনসেকার সহযোগিতায় অর্থ পাচার, কর ফাঁকি দিয়ে দেশের বাইরে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। বিশ্বের যেসব প্রতিষ্ঠান গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিখ্যাত, মোসাক ফনসেকা সেগুলোর একটি। পানামার এ প্রতিষ্ঠানের অজস্র নথি ফাঁসের এ ঘটনা ‘পানামা পেপারস’ নামে খ্যাত হয়ে উঠেছে। অজানা সূত্র থেকে মোসাক ফনসেকার ওই ১ কোটি ১৫ লাখ নথি জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতংয়ের হাতে আসে। পত্রিকাটি সেসব নথি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে কাজ করা ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ সাল, প্রায় ৪০ বছরের এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে প্রকাশ করে। আগামী মে মাসে আরও নথি প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। র‍্যামোন ফনসেকা বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না। সারা বিশ্ব কি ইতিমধ্যে স্বীকার করে নিয়েছে—গোপনীয়তা কোনো মানবিক অধিকার নয়?’ মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া এসব নথিতে বিশ্বের শতাধিক ক্ষমতাধর মানুষ বা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের বিদেশে টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তালিকায় দেখা গেছে যে চীন, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বা তাঁদের আত্মীয় এসব অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। শুধু রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানেরাই নন, বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসি থেকে ভারতীয় চিত্রনায়িকা ঐশ্বরিয়া রাই—তালিকায় আছে অনেকেরই নাম। আছেন অমিতাভ বচ্চনও। মেক্সিকোর মাদকসম্রাট বা সন্ত্রাসী সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কালো তালিকায় থাকা ব্যবসায়ীরাও বাদ যাননি এ তালিকা থেকে। মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ কর রেয়াতকারী অঞ্চলে তথাকথিত প্রতিষ্ঠান (অফশোর কোম্পানি) তৈরির মাধ্যমে গচ্ছিত রেখেছিলেন পাচারকারীরা। এসব অঞ্চলের মধ্যে প্রায় সব কটিই যুক্তরাজ্যের রানিশাসিত নানা অঞ্চল (ব্রিটিশ টেরিটোরিজ)। এই অঞ্চলগুলো ‘করের স্বর্গ’ বা ‘ট্যাক্স হেভেন’ নামে পরিচিত। কিন্তু আইনি এ প্রতিষ্ঠানটি ও দেশটির সরকার জোর দিয়ে বলছে, অফশোর কোম্পানিগুলো অবৈধ নয়।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন
‘পানামা পেপারস’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন। আজ মঙ্গলবার রাতে জনতার বিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টি তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কৃষিমন্ত্রী সিগুরদুর ইনগি জোহানসন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী কোটি কোটি ডলার ফাঁকি দিতে দেশের বাইরে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন, যেখানে অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ আছে। ২০০৮ সালে আইসল্যান্ডের ব্যাংকব্যবস্থা যখন ভেঙে পড়ে, তখন দেশটির এই প্রধানমন্ত্রী গোপনে কোটি কোটি ডলারের ব্যাংক বন্ডের মালিক হয়েছেন। মোসাক ফনসেকার নথিতে নাম থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর ডেভিড গুনলাগসনের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সোমবার রাজধানী রেইকজাভিকের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। পার্লামে​ন্ট ভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। একদিন পরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন সিগমুন্ডুর। তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে আগাম নির্বাচনের আবেদন করেন। প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র‍্যাগনার গ্রিমসন তা নাকচ করে দেন। প্রগ্রেসিভ পার্টির উপনেতা ও কৃষিমন্ত্রী সিগুরদুর ইনগি জোহানসন বলেন, ‘পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। এখন থেকে এই পদের দায়িত্ব আমি নেব।’

চীনে মুছে যাচ্ছে পশ্চিমা নাম!

কথায় আছে, ‘নামে কী আসে যায়’। কিন্তু এ নাম নিয়েই খেপেছে চীন সরকার। এবার বিদেশি নামের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও স্থান থেকে পশ্চিমা ঘরানার নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিউনিস্ট সরকার। এসব নাম মুছে সেখানে লাগানো হবে চীনের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই সব নাম। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদপত্র গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে ব্যাপকভাবে বিদেশি নাম প্রচলনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করে খবর ছেপেছে। দেশটির অর্থনীতি জোরদার হওয়ার সঙ্গে অনেক নির্মাতার মধ্যে ভবন ও স্থাপনার বিদেশি নামকরণের প্রবণতা বেড়ে গেছে। যদিও সেই ১৯৯৬ সালে সরকার এই চলন নিষিদ্ধ করে। চায়না ডেইলি পত্রিকায় প্রকাশিত ওই মন্তব্য প্রতিবেদনে ক্ষোভ ঝেড়ে বলা হয়েছে, চীনের প্রায় সব শহরে; অন্তত নতুন নির্মাণ করা হয়েছে এমন আবাসিক কমপ্লেক্সের একটির নামকরণ করা হয়েছে রোম বা ভেনিস শহরের আদলে। উদাহরণ হিসেবে, রাজধানী বেইজিংয়ের শহরতলির এক কম্পাউন্ডে বাড়ির দাম ন্যূনতম ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এ কম্পাউন্ডের নাম রাখা হয়েছে ফ্রান্সের শৈল্পিক শহর গ্রাসে টাউনের নামে। আবার সাংহাই শহরে রয়েছে ‘গোল্ডেন ভিয়েনা’ নামের বিলাসবহুল কমপ্লেক্স। এখানকার একেকটি বাড়ির বর্গমিটারপ্রতি দাম চীনা মুদ্রায় ৭৮ হাজারের বেশি ইউয়ান। চীনা বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র শহরটিতে আরও রয়েছে ‘টেমস টাউন’ নামের আবাসিক কমপ্লেক্স। আর রাজধানীতে ‘এডিনবরা’ অ্যাপার্টমেন্টের মতো বাহারি বিদেশি নামের ভবন। মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা নামকরণের এ লাগামছাড়া প্রবণতা দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি একধরনের উদাসীনতা। আর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পশ্চিমা দেশগুলো বেশি আধুনিক’ ভোক্তাদের এ ধারণা শক্তপোক্ত করতে সহায়তা করছে। প্রতিবেদনে ওয়াং ওয়াইকিং বলেন, ‘তিন দশকের বেশি সময় ধরে চীনে দ্রুতগতিতে চলা অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে দেশটি এখন এক বিশ্বশক্তি হয়ে উঠেছে। তাই আধুনিক সমাজের নামে পশ্চিমাদের ধ্যানধারণা ও লাইফস্টাইল অনুকরণের প্রয়োজন নেই এই দেশটির।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পশ্চিমাদের নকল করে নয়, বরং চীনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে চীনা জনগণের উচিত আধুনিকতার এক নতুন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা।’ এদিকে গত মাসে নাগরিক-বিষয়ক মন্ত্রী লি লিগুয়ো বলেছেন, সব স্থান থেকে এ রকম অযৌক্তিক, পশ্চিমা-বন্দনার, অদ্ভুত ও নকল নাম মুছে ফেলতে হবে এবং সেখানে চীনের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নাম বসাতে হবে। এটা করতে হবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে।

বালিগঞ্জে সুব্রতর পথের কাঁটা কংগ্রেস by অমর সাহা

কলকাতার একসময়ের সবচেয়ে অভিজাত এলাকা ছিল বালিগঞ্জ। আভিজাত্যের দিক থেকে এখন অবশ্য বালিগঞ্জকে টপকে গেছে সল্টলেক ও রাজারহাটের নিউ টাউন। তবু দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এখনো তাঁর জৌলুশ ধরে রেখেছে। বিধানসভার নির্বাচনে এ আসনের এবারের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সুব্রত কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। ১৯৯৯ সালে যোগ দেন তৃণমূলে। ছিলেন কলকাতা পৌর করপোরেশনেরও মেয়র। সাতবার তিনি বিধায়ক হয়েছেন। এবার লড়ছেন অষ্টমবারের জন্য। অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছেন কংগ্রেসেরই রাজ্য কমিটির অন্যতম সম্পাদক কৃষ্ণা দেবনাথ। পেশায় চিকিৎসক কৃষ্ণা দেবনাথও এক লড়াকু নেত্রী। কৃষ্ণা দেবনাথ ১৯৯৬ সালে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন কলকাতার বেলেঘাটা কেন্দ্রে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আসনে এবার আর সহজে তরি পার করতে পারছেন না সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পথে রয়েছে অনেক কাঁটা। সারদার কেলেঙ্কারির কাদা তাঁর গায়ে না লাগলেও এবার লেগেছে নারদা কেলেঙ্কারির কালি। তাই অনেকটাই বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুব্রত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছরের কাজ দেখেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা নিশ্চয়ই আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।’ কংগ্রেসের প্রার্থী কৃষ্ণা দেবনাথও জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বললেন, ‘আমরা দাঁড়াই মানুষের ভালোবাসার ওপর ভরসা রেখে। এবার বাম-কংগ্রেস জোট হয়েছে। আমি তাদেরই প্রার্থী। জয়ের আশা তো করবই।’ ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে সুব্রত মুখোপাধ্যায় ভোট পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ১৯৪টি। সেবার তিনি ছিলেন কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটের প্রার্থী। ওই সময় সুব্রতর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ লোকসভার সাবেক স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিমের ছেলে ফুয়াদ হাসান। তিনি পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ৯ ভোট। আর বিজেপির প্রার্থী শতরূপা পেয়েছিলেন ৫ হাজার ১৮ ভোট। এবার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের ভোটের বাজারে যেমন কংগ্রেসের অংশ কমে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি কংগ্রেস প্রার্থীর ভোটের অঙ্কে যোগ হচ্ছে বাম দলের ভোটে।

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতা ঘোষণা হেলেন ক্লার্কের

হেলেন ক্লার্ক
নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক জাতিসংঘের মহাসচিব পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। ক্লার্ক মহাসচিব হলে প্রথম কোনো নারী এ পদে আসীন হবেন। ক্লার্ক ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিন দফায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থী হচ্ছেন এমন একটা জল্পনা ছিল বেশ কিছু দিন থেকে। গত সোমবার ওয়েলিংটনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে ক্লার্ক জল্পনার অবসান ঘটালেন। তিনি এর আগে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান ছিলেন। বৈশ্বিক কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী। ক্লার্কের প্রার্থী ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন কি। ক্লার্কের পরই প্রধানমন্ত্রী হন কি। তিনি বলেন, মহাসচিব পদে ক্লার্ক হবেন সেরা ব্যক্তি। ক্লার্ক একজন পরীক্ষিত মানুষ।

পদত্যাগ করলেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আইসল্যান্ডের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির এ কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন। এর আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে দেশের প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানান তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র্যা গনার গ্রিমসন তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। অর্থ পাচারের তালিকায় নাম থাকা ধনশালী ৮০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তদন্ত শুরু হয়েছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পানামায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনীতিক এবং চলচ্চিত্র ও ক্রীড়া জগতের তারকা ব্যক্তিদের অর্থ পাচারের খবর প্রকাশ হয় গত রোববার। এ ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর ফাঁকি দেওয়াকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কথা জানিয়ে তাঁর দল প্রগ্রেসিভ পার্টির উপনেতা ও কৃষিমন্ত্রী সিগুইডুর ইঙ্গি জোনাসন বলেন, পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। এখন তিনি (কৃষিমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বলে জানান। মোসাক ফনসেকা নামে পানামার একটি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয় রোববার। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিকটাত্মীয়দের নাম আসে। এ তালিকায় আরও আছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান আল সৌদ, মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও মেয়ের নাম। রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং তাঁর পুত্রবধূ ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার নামও অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় স্থান পেয়েছে। মোসাক ফনসেকার ওই ১ কোটি ১৫ লাখ নথি অজানা সূত্র থেকে জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং-এর হাতে আসে। পত্রিকাটি সেসব নথি ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫, প্রায় ৪০ বছরের এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে প্রকাশ করে। গতকাল সকাল থেকে আইসল্যান্ডের রাজধানী রেকজেভিকের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে। ফাঁস হয়ে যাওয়া নথি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর গুনলাগসন ও তাঁর স্ত্রী ২০০৭ সালে উইনট্রাস নামের কোম্পানি কেনেন। ২০০৯ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সময় গুনলাগসন প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া লভ্যাংশের কথা গোপন করেছিলেন। কেলেঙ্কারির খবর বের হওয়ার পরপরই সোমবার গুনলাগসনের পদত্যাগের দাবিতে গণস্বাক্ষরে সই করে ২৪ হাজার মানুষ। মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ কর রেয়াতকারী অঞ্চলে তথাকথিত প্রতিষ্ঠান (অফশোর কোম্পানি) তৈরির মাধ্যমে গচ্ছিত রেখেছিলেন পাচারকারীরা। এসব অঞ্চলের মধ্যে প্রায় সব কটিই যুক্তরাজ্যের রানীশাসিত নানা অঞ্চল (ব্রিটিশ টেরিটোরিজ)। এই অঞ্চলগুলো ‘করের স্বর্গ’ বা ‘ট্যাক্স হেভেন’ নামে পরিচিত। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে তাই গতকাল বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবেন বলেন, এ অঞ্চলগুলো যদি যুক্তরাজ্য সরকারের কর নীতি না মানে, তাহলে ‘প্রত্যক্ষ শাসন’ জারি করা হোক। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, কর ফাঁকি দেওয়াটা একটা বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কর আইনের ফাঁকফোকর বের করে অর্থ পাচার করছে। ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত করবে। গতকাল ফরাসি অর্থমন্ত্রী মিশেল সাপাঁ পার্লামেন্টে ঘোষণা দেন, ফ্রান্স কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে যেসব দেশ সহযোগিতা করে না, এর তালিকায় এখন পানামার নাম যুক্ত করবে। অস্ট্রেলিয়ার কর কার্যালয় গতকাল তালিকায় নাম থাকা ৮০০ ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়। অস্ট্রিয়ার আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, তালিকায় নাম উঠে আসার পর দেশের দুটি ব্যাংক অর্থ পাচারে জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে। মোসাক ফনসেকার দেশ পানামাও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। আদৌ অর্থ পাচার বা এ জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ হয়েছে কি না, সে লক্ষ্যেই হবে এ তদন্ত। পানামার প্রেসিডেন্ট জুয়ান কার্লোস ভারেলা বলেন, তাঁর সরকার আন্তর্জাতিক যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি। তবে তাঁর দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখেই তিনি সবকিছু করবেন। যে ৫০০ ভারতীয়র নাম তালিকায় উঠে আসে, তাঁদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর দুদিন পর গতকাল মুখ খোলেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলেন, যে চারটি জাহাজ কোম্পানির পরিচালক হিসেবে তাঁর নাম এসেছে, এগুলো তিনি চেনেন না। এসব প্রতিষ্ঠানে তাঁর নাম ভুলভাবে এসেছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি বলেন, ‘আমার প্রদেয় সব কর আমি শোধ করেছি। যেসব অর্থ বিদেশে ব্যয় করেছি, সেসবের করও আমি দিয়েছি।’ অমিতাভের পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাইয়ের গণমাধ্যম উপদেষ্টা রাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। পানামা পেপারসে দেশের দুটি ব্যাংকসহ ৬০০ প্রতিষ্ঠানের নাম আছে—গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ পাওয়ায় ইসরায়েল এসব প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে এই কেলেঙ্কারিতে যেসব ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের অনেকেই নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তিন সহযোগীর নাম উঠে এলে সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ আসে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে। আর গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই কেলেঙ্কারিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘আসলে এর মাধ্যমে রাশিয়ায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।’

ডি সিলভার দায় স্বীকার

ইডেনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়েই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। কিন্তু এরপর লঙ্কানদের যে হতশ্রী দশা, তাতে বোঝা কঠিন ছিল এই দলটা কিনা ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় শ্রীলঙ্কার। দলের এ ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অরবিন্দ ডি সিলভা। টুর্নামেন্টের আগ মুহূর্তে ডি সিলভাকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছিল নির্বাচক কমিটি। এই কমিটিতে রাখা হয়েছিল কুমার সাঙ্গাকারাকেও। কমিটিকে সবচেয়ে বেশি তোপের মুখে পড়তে হয়েছে ফর্মে না থাকা লাহিরু থিরিমান্নেকে দলভুক্ত করা নিয়ে। ৪ ম্যাচে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের রান ১৪। থিরিমান্নেকে দলে নেওয়ার যুক্তি ডি সিলভা দিলেন এভাবে, ‘আমাদের হাতে এ মুহূর্তে যেসব বিকল্প আছে, তার মধ্যে টেকনিকের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থিরিমান্নে।’

স্বাধীনতা দিবস টেনিস

রমনা টেনিস কমপ্লেক্সে ৭-১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতা দিবস টেনিস প্রতিযোগিতা। এতে ১০টি ইভেন্টে অংশ নেবে ২৫০ জন প্রতিযোগী। ট্রফির পাশাপাশি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার প্রাইজমানি দেওয়া হবে বিজয়ীদের। এ উপলক্ষে কাল ফেডারেশনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হিগুয়েইন

গঞ্জালো হিগুয়েইন
নাপোলির শিরোপা-স্বপ্ন তো প্রায় ভেস্তেই গেল! সিরি ‘আ’তে শীর্ষে থাকা জুভেন্টাসের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। লিগের বাকি ৭ ম্যাচে সে ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা এমনিতেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। এখন সেটি করতে হবে দলের মূল অস্ত্রকে বাইরে রেখে! লাল কার্ড দেখে রেফারিকে ধাক্কা মারায় চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের মূল স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইন। গত রোববার উদিনেসের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় নাপোলি। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে উদিনেসের খেলোয়াড় ফেলিপেকে ফাউল করেন হিগুয়েইন। রেফারি লাল কার্ড দেখান এই আর্জেন্টাইনকে। কিন্তু শাস্তিটা মেনে নিতে না পেরে এই স্ট্রাইকার চড়াও হন রেফারির ওপর। রেফারিকে সজোরে ধাক্কা মারেন, গালাগাল শুরু করেন। সেখান থেকে তাঁকে জোর করে সরিয়ে নেন অন্য খেলোয়াড়েরা। হিগুয়েইন চড়াও হতে চেয়েছেন ফেলিপের ওপরও। পরে জোর করেই তাঁকে মাঠ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার শাস্তি হিসেবেই চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন তিনি। শাস্তিটা আরও কঠিনও হতে পারত। তবে রেফারির বদান্যতায় অল্পেই পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। ম্যাচ রিপোর্টে অভিযোগটা তেমন গুরুতরভাবে উল্লেখ করেননি তিনি।

‘চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি’

মামুনুল ইসলাম
হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেননি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। এবারও একই আদেশ হলে আরও সাত ফুটবলারের সঙ্গে শেখ জামাল ছাড়া অন্য দলে খেলতে পারবেন না মামুনুল ইসলাম। এসব নিয়েই কথা হলো এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে *আপনি বলেছিলেন, শেখ জামালে খেলতে কেউ জোর জবরদস্তি করলে খেলাই ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শেখ জামাল ছাড়া অন্য দলে খেলার ব্যাপারে আপনাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে আদালতের। বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন? মামুনুল ইসলাম: এখনো আইনি লড়াই শেষ হয়নি। হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেননি আপিল বিভাগ। সেটা না করে আপিল বিভাগ মামলাটি হাইকোর্টে পাঠিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। আমি যত দূর জানি, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে শুনানি শুরু হবে। চূড়ান্ত রায় হয়তো বা আগামী সপ্তাহে হতে পারে। দেখা যাক, চূড়ান্ত রায়ে কী আসে। *কিন্তু এখন পর্যন্ত যে আদেশ, তাতে শেখ জামাল ছাড়া অন্য দলে আপনারা খেলতে পারবেন না। শেষ পর্যন্ত যদি এটাই বহাল থাকে? মামুনুল: আদালত নির্দেশ দিলে সেটা মানতে হবে। তবে আমি আশাবাদী চূড়ান্ত রায় আমাদের পক্ষে যাবে। *যদি না যায়, তাহলে তো শেখ জামালেই খেলতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি তো বলেছিলেন, কোনোভাবেই আর শেখ জামাল নয়... মামুনুল: বলেছিলাম, কিন্তু এখন বিষয়টা আদালতে গড়িয়েছে। চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে এই অন্তর্বর্তী আদেশ শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে ফেডারেশন ও আমার ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনী বসে আলাপ আলোচনা করবে। বিশেষ করে ফেডারেশন যেহেতু বিবাদী, তাই তারাই ঠিক করবে আমরা কী করব। *যদি শেষ পর্যন্ত শেখ জামালেই খেলতে হয়, মানিয়ে নিতে পারবেন? মামুনুল: এটা ঠিক, মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে। কারণ, মানসিকভাবে ওই ক্লাবের হয়ে খেলতে আমরা প্রস্তুত নই। আমিসহ পাঁচজন চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে চুক্তি করেছি। তবে একটা কথা বলব, জীবিকা যেখানে আছে, সেখানেই খেলতে হবে। *কিন্তু এটা তো জীবিকার বিষয় নয়, আইনি ব্যাপার। তা আপনার দল চট্টগ্রাম আবাহনী কী বলছে? মামুনুল: মামলায় বিবাদী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আদালতে তারা দাঁড়িয়েছে, শুনানি করেছে। চট্টগ্রাম আবাহনী এই প্রক্রিয়ায় নেই। থাকলে হয়তো আরও বিস্তারিত বলতে পারতাম। *এই যে আপনাদের দলবদল নিয়ে এত নাটক...এসব কি এড়ানো যেত না? মামুনুল: নাটক তো আমরা করিনি। আমরা শেখ জামালে খেলব না, তাই অন্য দলে নাম লিখিয়েছি। সেই স্বাধীনতা নিশ্চয়ই আমাদের আছে। এবং সেটাই আমরা চর্চা করেছি। *কিন্তু শেখ জামাল তো প্রয়োজনীয় প্রমাণ নিয়ে আদালতে গিয়েছে... মামুনুল: বিষয়টা বিচারাধীন হওয়ায় আমি কিছু বলব না। আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। *শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় দল থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। এখন আদালতের আদেশে আপাতত শেখ জামাল ছাড়া অন্য দলে খেলতে পারবেন না। সব মিলিয়ে কীভাবে ফিরে আসার কথা ভাবছেন? মামুনুল: পারফরম্যান্স দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করব। সেটা করতে মুখিয়ে আছি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে আপাতত চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে মাঠে নামতে পারছি না। খুবই খারাপ লাগছে। তবে আশা করি সব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়েই খেলতে পারব।

নতুন অধিনায়ক সরফরাজ

টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের নতুন অধিনায়ক সরফরাজ
আহমেদ। পিসিবির ঘোষণার পর এই উইকেটকিপার-
ব্যাটসম্যানকে মিষ্টিমুখ করালেন বন্ধুরা।
নতুন কেউ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল শহীদ আফ্রিদি পদত্যাগ করার পরই। সেটা কে হন, তা-ই দেখার অপেক্ষা ছিল। খুব বেশি অপেক্ষায় রাখল না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কাল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদই হচ্ছেন টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক। পিসিবির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি সকালেই (কাল) সফররাজের সঙ্গে কথা বলেছি। স্বাভাবিকভাবেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ও আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল। অধিনায়ক হিসেবে তার মেয়াদ উন্মুক্ত থাকবে। সফররাজের জন্য আমার শুভকামনা।’ ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সরফরাজের। ২১ ম্যাচের ১৫ ইনিংসে ব্যাট করে দুটি হাফ সেঞ্চুরিসহ রান করেছেন ২৯১। এ ছাড়াও দেশের হয়ে তিনি ২১টি টেস্ট ও ৫৮টি ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে তিনটি ও ওয়ানডেতে একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে। তবে দায়িত্বটা এখন পেলেও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে সরফরাজের প্রথম মিশন আগামী সেপ্টেম্বরে, ইংল্যান্ড সফরে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের একটি হোম সিরিজ রয়েছে, যেখানে অন্তত দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কথা। এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার মুখে প্রথমে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আফ্রিদি। পরে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন কোচ ওয়াকার ইউনিসও। পরপর দুই টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটের রদবদল শুধু এখানেই থেমে থাকছে না। এরই মধ্যে নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে পিসিবি। পিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন কোচের সন্ধানে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে যাদের সহযোগিতা করবেন ওয়াসিম আকরাম ও রমিজ রাজা। এ ছাড়া পিসিবির গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হারুন রশীদের নেতৃত্বাধীন আগের নির্বাচক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। পিসিবির একটি বিশেষ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন নির্বাচক প্যানেল বেছে নেওয়ার।

থাইল্যান্ডে সোনা জিতলেন মাহফিজুর

তাঁর সেরা ইভেন্ট ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল। কিন্তু অল থাইল্যান্ড ওপেন সাঁতারে ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে সোনা জিতেছেন এবারের এসএ গেমসে সাতটি ব্রোঞ্জ পাওয়া মাহফিজুর রহমান সাগর। সময় নিয়েছেন ১ মিনিট ৫৪.০৫ সেকেন্ড। সর্বশেষ জাতীয় সাঁতারে তাঁর টাইমিং ছিল ১ মিনিট ৫৯.১৩ সেকেন্ড। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বৃত্তি নিয়ে থাইল্যান্ডে বিশেষ প্রশিক্ষণে আছেন মাহফিজুর। সেখানেই বিভিন্ন দেশের সাঁতারুদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

স্যামুয়েলসকে অস্ট্রেলিয়ানদের জবাব

শেন ওয়ার্ন এখনো চুপচাপ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচসেরা হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস যেভাবে তাঁর ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন, সেটার জবাবে এখনো কিছু বলেননি কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার। কিংবা হয়তো বলার দরকারই মনে করেননি। তবে অস্ট্রেলিয়ানরা কিন্তু চুপচাপ বসে নেই। সাবেক ও বর্তমান অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারই পাল্টা তোপ দেগেছেন স্যামুয়েলসকে। ওয়ার্নকে নিয়ে কটূক্তি করে এখন ব্র্যাড হাডিন, পিটার সিডল আর মিচেল স্টার্কদের রোষের মুখে স্যামুয়েলস। পুরোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে ওয়ার্নের ওপর সেদিন ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন স্যামুয়েলস। ওয়ার্ন অকারণে তাঁর সমালোচনা করেন—এই দাবি করে স্যামুয়েলস বলে দিয়েছিলেন, ‘জানি না সে কেন এসব করছে। হয়তো আমার চেহারাটা আসল, ওরটা আসল নয়—এ কারণেই!’ কিংবদন্তি স্পিনারকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যে খেপেছেন অস্ট্রেলিয়ার অনেকেই। পেসার পিটার সিডল জবাব দিয়ে বলেছেন, ‘আসলে পারফরম্যান্স ভালো হলে তখন এভাবে কথা বললে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু স্যামুয়েলসকে তো আমি নিয়মিত পারফর্ম করতে দেখি না। যদি ক্রিস গেইল বলত, কিংবা আন্দ্রে রাসেল, তা-ও না হয় মানা যেত।’ সিডল সম্ভবত গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে স্যামুয়েলসের বাজে পারফরম্যান্স নিয়েই খোঁচা দিয়েছেন। ওই সিরিজে ৩ টেস্টের ৫ ইনিংসে ৭ গড়ে ৩৫ রান করেছিলেন স্যামুয়েলস। আরেক পেসার স্টার্কও ছেড়ে কথা বলেননি স্যামুয়েলসকে। তাঁর অধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘নির্ঘাত ও এত দিন এটা মনের মধ্যে পুষে রেখে ঘুরছিল। এর আগে তো এটা নিয়ে সে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলেনি। আমার মনে হয়, সে অপেক্ষা করছিল কবে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে পারবে, আর সেদিনই এটা বলবে। আশা করি, তার বুক থেকে এখন সেই ক্ষোভ নেমে গেছে। এখন থেকে ও শুধু ক্রিকেটটাই খেলুক।’ সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হাডিন অবশ্য এ দুজনের মতো এত কড়া ভাষায় জবাব দেননি। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নায়ক স্যামুয়েলস নন, কার্লোস ব্রাফেট। স্যামুয়েলসকে নিয়ে একটু বেশিই আলোচনা হচ্ছে বলে মনে করেন হাডিন, ‘টানা ৪ ছক্কা মেরে ফাইনালটা তো জেতাল ব্রাফেট। বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ ওভারে ও রকম চাপের মধ্যে এটা অসাধারণ পারফরম্যান্স। আমাদের তো উচিত ব্রাফেটের এই বীরত্ব নিয়ে কথা বলা। তার বদলে আমরা স্যামুয়েলস ওয়ার্নকে নিয়ে কী সব উল্টোপাল্টা বকেছে, সেসব নিয়ে মেতে আছি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এসব বিষয় নিয়ে কথা চালাচালি হওয়া দুঃখজনক।’

ফাইনালে রিয়ালকে চান পিকে

এল ক্লাসিকোতে পরাজয়ের স্মৃতি সহজে ভোলার কথা নয় বার্সেলোনার। জেরার্ড পিকের তো আরও বেশি সময় লাগার কথা। মাদ্রিদের সঙ্গে গত বছর থেকেই একটা চাপান উতোর চলছিল বার্সা ডিফেন্ডারের। গত শনিবারের ক্লাসিকোতে গোল করেও জেতাতে পারেননি দলকে। পিকের মনে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটা ঘুরে ঘুরে আসবেই। সে জন্যই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চান রিয়াল মাদ্রিদকে। এল ক্লাসিকোর হারের বদলা নিতে যেন তর সইছে না পিকের, ‘আমি মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চাই। যে কেউ তাদের সঙ্গে খেলতে চাইবে।’ কিন্তু এবারের হারে আত্মবিশ্বাসটা কি একটু টাল খেল না? ইয়োহান ক্রুইফের জন্যই ওই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিল বার্সা। কিন্তু ম্যাচ জিতে প্রয়াত মহানায়ককে সম্মান জানানোটা আর হয়নি। পিকে সেটাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস থাকবে। ক্রুইফ আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।’ মার্কা।

পিএসজি-সিটির ‘কুলীন’ হওয়ার লড়াই!

এল ক্লাসিকো জয়ের পর এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী রিয়াল মাদ্রিদ।
চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে জার্মানি যাওয়ার সময় তাই কাল
বেশ ফুরফুরে মেজাজে পাওয়া গেল তাদের
চার দিন আগের এল ক্লাসিকো নিশ্চয়ই চোখে ভাসছে অনেকেরই। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ রাত জেগে প্যারিসে ‘এল ক্যাশিকো’ দেখার প্রস্তুতি নিতে হবে। পিএসজি-ম্যানচেস্টার সিটির দ্বৈরথের এর চেয়ে লাগসই নাম আর কী হতে পারে? মোটাদাগে বললে, এখনকার বড় ক্লাবগুলো দুই রকম। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আর নিজেদের খেলোয়াড়ের সঙ্গে অর্থ নিয়ে এক দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আরেক দল দেদার টাকা ছড়িয়ে নগদ সাফল্য কিনছে। পিএসজি আর সিটি সেই গোত্রীয় দলে সবার আগেই থাকবে। সিটি যেমন আবুধাবির দাক্ষিণ্যপুষ্ট, পিএসজি কাতারের আশীর্বাদধন্য। উপসাগরীয় অর্থ দুই দলের খোলনলচেই গত কয়েক বছরে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। সাফল্যও পেয়েছে দুই দল। সিটি যেমন দুবার ইংলিশ লিগ জিতেছে। পিএসজি কয়েক বছর ধরেই ফ্রেঞ্চ লিগে দেখাচ্ছে একচ্ছত্র আধিপত্য। কিন্তু ইউরোপের কুলীন লিগে ভালো করে ‘জাতে’ ওঠার যে চেষ্টা, সেটাই যেন হয়ে উঠছিল না। পিএসজির কথাই ধরা যাক—এই মুহূর্তে কাগজে কলমে বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। ইব্রাহিমোভিচ, ডি মারিয়া, কাভানিদের নিয়ে নিজেদের দিনে যে কাউকেই হারিয়ে দিতে পারে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন বছর ধরে কোয়ার্টার ফাইনালের গেরোতেই দলটি বারবার আটকে যাচ্ছে। ফ্রেঞ্চ লিগ এখন পিএসজির কাছে ডালভাত হয়ে গেছে, এবারেই তো রেকর্ড আট ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে শিরোপা। লরা ব্লাঁ যেমন এই মৌসুমের শুরু থেকেই বলছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাই এবার তাঁদের ধ্যানজ্ঞান। এই শনিবারেই ম্যাচ শেষে ব্লাঁ মনে করিয়ে দিলেন, ‘যেসব ক্লাব আমাদের মতো আর্থিকভাবে শক্তিশালী, আমাদের চেয়ে ঐতিহ্যের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে, আমাদের মতো অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, তাদের সঙ্গে আমরা এখন একই সমতলে। এরাই সেরাদের সেরা।’ কী অদ্ভুত ব্যাপার, পিএসজির সেই পথে আজ যারা বাধা, সেই সিটিও চ্যাম্পিয়নস লিগের মোহেই আচ্ছন্ন। পিএসজির চেয়ে সিটির অবস্থা অবশ্য অন্য রকম। ঘরোয়া লিগে এবার দলটি বেশ ভালোই ভুগছে। গত ছয় ম্যাচের চারটিতেই হার। কিন্তু সিটির চূড়ান্ত গন্তব্য যে ওই চ্যাম্পিয়নস লিগ! পেপ গার্দিওলাকে আনার পেছনেও এই কারণটাই বেশি কলকাঠি নেড়েছে। পিএসজির মতো সিটি অবশ্য এত দূর কখনো যেতে পারেনি, শেষ আটেই খেলছে এই প্রথম। তবে এত দূর যখন এসেছে, সেমিফাইনালে কেন নয়? বায়ার্ন, বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে একই বন্ধনীতে আসতে হলে ওই পর্যন্ত তো যেতেই হবে! পিএসজি-সিটির ডামাডোলে অনেকটা আড়ালে পড়ে যাচ্ছে, আজ কিন্তু জার্মানিতে রিয়াল মাদ্রিদ-ভলফসবুর্গও মুখোমুখি। অবশ্য দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বলছে, পাল্লাটা রিয়ালের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। বিশেষ করে এল ক্লাসিকোর পর তো বটেই। লা লিগায় রিয়ালের শিরোপাস্বপ্ন এখনো মলিন, তবে ক্লাসিকোর পর হারানো আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ফিরে পেয়েছে রিয়াল। গ্যারেথ বেলের কণ্ঠে সেটিরই ছোঁয়া, ‘এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগায় আমাদের অনেক দূর যেতে হবে, তবে এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ তবে বার্সা ম্যাচে উজ্জ্বল রিয়াল মিডফিল্ডার কাসেমিরো কিছুটা সতর্ক, ‘ভলফসবুর্গকে আমাদের হালকাভাবে নিলে চলবে না। ওদের রক্ষণ ভালো, আক্রমণে ক্ষিপ্রগতির কয়েকজন আছে।’ তবে ফর্ম দেখলে বলতেই হয়, ভলফসবুর্গ খুব বড় বাধা হওয়ার কথা নয় রিয়ালের সামনে। বুন্দেসলিগায় ভলফসবুর্গ এখন আটে, গত তিন ম্যাচে গোল করেছে মাত্র একটি। তবে সব একপাশে রেখে ক্লাবের পরিচালক ক্লাইস আলোফস উপভোগের মন্ত্রই জপে দিচ্ছেন, ‘এ রকম একটা ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের এর পর কবে হবে ঠিক নেই। তাই এটা উপভোগ করা চাই। নিশ্চিত করতে প্রয়োজন, নিজেদের খেলাটা যেন আমরা ঠিকঠাক খেলি।’ এএফপি, ইএসপিএন।
আজ মুখোমুখি
পিএসজি-ম্যানচেস্টার সিটি
ভলফসবুর্গ-রিয়াল মাদ্রিদ
* স্বাগতিক দল প্রথমে

অভিষেকেই ফিকরুর গোল

বক্সের মধ্যে চট্টগ্রাম আবাহনীর মিডফিল্ডার শরীফুলকে টেনে ধরে
এভাবেই পেনাল্টি উপহার দিলেন মুক্তিযোদ্ধা গোলরক্ষক মামুন।
ফিকরু জেইদার শরীর বেয়ে দরদরিয়ে ঘাম ঝরছে। সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকে কেনা শেখ রাসেলের এই ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড ম্যাচ শেষে ডাগ আউটে এসে সবার সঙ্গে হাত মেলালেন। ভারতীয় সুপার লিগে (আইএসএল) অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার সাবেক এই ফুটবলারের চোখেমুখে তখন স্বস্তি। স্বাধীনতা কাপ দিয়ে কাল বাংলাদেশে ক্যারিয়ার শুরু হলো ফিকরুর। প্রথম ম্যাচে গোলও পেলেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে কাল ফিকরু ও পল এমিলির গোলে আরামবাগকে ২-১ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেল। আদালতের নিষেধাজ্ঞায় শেখ রাসেল মাঠে নামাতে পারেনি জামাল ভূঁইয়া ও আলমগীর রানাকে। জামালের জায়গায় খেলেছেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড পল এমিলি। খারাপ খেলেছেন বলা যাবে না। ১-১ ম্যাচে ৮১ মিনিটে শেখ রাসেলের জয়সূচক গোলটি করেছেন পল এমিলিই। দ্বিতীয় মিনিটে আরামবাগের ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার ইয়োকো সামনিকের থ্রু ধরে কেস্টার আকন এগিয়ে নেন আরামবাগকে (১-০)। তবে ৪ মিনিটেই ফিকরুর গোল ফেরায় শেখ রাসেলকে। ফ্রি কিক থেকে মিশুর শট, বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো ফিকরু জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসা আরামবাগের গোলরক্ষক মিতুলকে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠান জালে। ম্যাচ শেষে ফিকরুকে খুশিই দেখাল, ‘প্রয়োজন ছিল ৩ পয়েন্টের। সেটা পেয়ে আমরা খুশি। প্রতি ম্যাচেই গোল করতে চাই। প্রথম ম্যাচে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যা হলেও আশা করি পরের ম্যাচগুলোতে আর সমস্যা হবে না।’ আরামবাগের কোচ সাইফুল বারী টিটু অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার তৃপ্তি পেতেই পারতেন। কিন্তু মাঝমাঠে ভালো খেললেও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় তা আর হয়ে ওঠেনি।

মেসি-রোনালদোর সঙ্গে কোহলিরাও

ব্যাটিং রেকর্ডে শচীন টেন্ডুলকারের ধারেকাছে পৌঁছাতে অনেক দূর যেতে হবে বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাকে। তবে টুইটারে ভক্তসংখ্যায় পূর্বসূরিকে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি। খুব একটা পিছিয়ে নেই রোহিতও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আধিপত্যকে ছড়িয়ে দিতে এবার দুজনই নাম লিখিয়েছেন ‘আন্সক্রিপ্ট’ ওয়েবসাইটে। এর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, জেরার্ড পিকে কিংবা আন্দ্রে আগাসির মতো বিশ্ববিখ্যাত খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করেছেন এই সাইটে। নিজের ‘অন্দরমহল’ নিয়ে রোনালদোর ভিডিও তো তিন কোটি বারেরও বেশি দেখা হয়েছে। বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের নিজস্ব ভিডিও প্রচার করার এই সাইটে ভারতীয় তারকারাও আছেন। কোহলি তাঁর ভিডিওতে জানিয়েছেন ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত পাওয়া সেরা উপদেশের কথা। আর রোহিত কথা বলেছেন নিজের ‘আইডল’ টেন্ডুলকারকে নিয়ে। দুজনের এই দুই ভিডিও প্রথম দুই দিনেই নয় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। দেখা যাক, মেসি-রোনালদোদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন কি না ক্রিকেটের দুই তারকা!

ভারতের ঘাড়ে উইন্ডিজের নিশ্বাস

ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ড্যারেন স্যামির দলকে এখন হাতছানি দিচ্ছে আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও। সর্বশেষ র্যা ঙ্কিংয়ে ১ নম্বর দল ভারতের চেয়ে মাত্র ১ রেটিং পয়েন্টে পিছিয়ে ক্যারিবীয়রা। র্যা ঙ্কিংয়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরেই আছে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া নিউজিল্যান্ড। রানার্সআপ ইংল্যান্ড ৪-এ। ব্যক্তিগত র্যা ঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানদের ১ নম্বর স্থানটা ধরে রেখেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় বিরাট কোহলি। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পর সবচেয়ে বড় লাফটা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট। সাত ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা অবস্থানে ৪-এ উঠে এসেছেন রুট। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবার ওপরে সাব্বির রহমান। সেমিফাইনাল-ফাইনালের পর অন্যদের ওঠা-নামায় এক ধাপ এগিয়ে ১৫ নম্বরে সাব্বির। বোলারদের ১ নম্বর স্যামুয়েল বদ্রি। বছর দুয়েক কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে র্যাঙ্কিংয়ে নামই ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান লেগ স্পিনারের। সেই বদ্রি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরতেই ফিরে পেয়েছেন ১ নম্বর জায়গাটা। দুইয়ে আরেক লেগ স্পিনার দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবার ওপরে সাকিব আল হাসান। ফাইনালের পর দুই ধাপ পিছিয়ে আছেন ১৫ নম্বরে। টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডার তালিকায় সাকিব এখনো দুইয়ে। অবসর নিয়ে ফেলেছেন ১ নম্বর অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। তাই শিগগিরই হয়তো ফিরে পাবেন শীর্ষস্থানটা। তথ্যসূত্র: আইসিসি। দলীয় র্যা ঙ্কিং (শীর্ষ   পয়েন্ট
১. ভারত ১২৬
২. ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২৫
৩. নিউজিল্যান্ড ১২০
৪. ইংল্যান্ড ১১৫
৫. দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৫
৬. অস্ট্রেলিয়া ১১২
৭. পাকিস্তান ১০৭
৮. শ্রীলঙ্কা ১০৫
৯. আফগানিস্তান ৮১
১০. বাংলাদেশ ৭৪
শীর্ষ পাঁচ
ব্যাটসম্যান
পয়েন্ট
১ (-) বিরাট কোহলি ৮৮৯
২ (-) অ্যারন ফিঞ্চ ৮০৩
৩ (-) মার্টিন গাপটিল ৭৫৪
৪ (+৭) জো রুট ৭৫০
৫ (-১) ফাফ ডু প্লেসি ৭৪১
      বোলার
                      পয়েন্ট
১ (-) স্যামুয়েল বদ্রি ৭৯০
২ (-) ইমরান তাহির ৭৪০
৩ (-) রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৭১২
৪ (-) শহীদ আফ্রিদি ৬৭৪
৫ (-) কাইল অ্যাবট ৬৭১
    অলরাউন্ডার
                       পয়েন্ট
১ (-) শেন ওয়াটসন ৩৭৩
২ (-) সাকিব আল হাসান ৩৪৬
৩ (-) শহীদ আফ্রিদি ৩৩২
৪ (-) গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩২৯
৫ (-) মারলন স্যামুয়েলস ২৮৮

সুয়ারেজ ঝলকে এগিয়ে থাকল বার্সা

সুয়ারেজের জোড়া গোলেই এসেছে বার্সেলোনার স্বস্তি।
আগের দিনই ‘পানামা পেপারস’-এ নাম এসেছে তাঁর। আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ মাথায় নিয়ে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা লিওনেল মেসি খেলতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেক বার্সেলোনা সমর্থকই। মেসি দোষী হন বা না হন, পানামা পেপারসে ধন-সম্পদ পাচারের অভিযোগ আসাটা মানসিক দিক দিয়েও তো এক ধরনের চাপ। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মাঠে নেমে মেসি কাল সবকিছু দূরেই সরিয়ে রাখলেন। নিজে খেললেন, দলকে খেলালেন। তাঁর নেতৃত্বে বরাবরের মতোই দুর্দান্ত ‘এমএসএন’। মেসির সঙ্গে নেইমার দেখালেন নিজের ঝলক। গোল করার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিলেন লুইস সুয়ারেজ। এই ত্রয়ীর নৈপুণ্যে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও বার্সেলোনা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে তুলে নিয়েছে ২-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয়।  অ্যাটলেটিকোর দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। যে ফার্নান্দো তোরেসের গোলে দলটি ন্যু ক্যাম্পে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল, সেই তোরেসের লালকার্ডই শেষ পর্যন্ত তাদের হারের কারণ। দশজনের দল নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি তারা। ৬৩ ও ৭৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের জোড়া গোল বার্সেলোনাকে এনে দেয় জয়। তোরেসের দুই হলুদ কার্ডের মিলিত পরিণতিতেই ঘটেছে অ্যাটলেটিকোর সর্বনাশ। গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই। কিন্তু গোল করেই নেইমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। ৩৫ মিনিটে সার্জিও বুসকেটসকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন। ডাগ আউট থেকে রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ এলেও তোরেস কেন বার্সেলোনার অর্ধে বুসকেটসকে ফাউল করতে গেলেন, সেটা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। তোরেস নিজে অবশ্য বেশ ক্ষুব্ধ রেফারির এই সিদ্ধান্তে। ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভটা আর অপ্রকাশিত রাখেননি। তাঁকে যে অপরাধে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছে, বার্সেলোনার কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে রেফারি নাকি তা এড়িয়েই যেতেন। স্প্যানিশ রেডিও কাদানা কোপেকে দেওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তোরেস বলেছেন, ‘এই ম্যাচে রেফারি বার্সেলোনা আর অ্যাটলেটিকোকে এক চোখে দেখেননি, এক পাল্লায় মাপেননি। ১১ জন নিয়ে খেলতে পারলে ম্যাচটা আমরাই জিততাম।’ লুইস সুয়ারেজের একটি ঘটনা রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়াতেই যত সমস্যা। বার্সেলোনার উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার একপর্যায়ে অ্যাটলেটিকোর হুয়ানফ্রানকে পা দিয়ে মেরে দিলেও রেফারি এড়িয়ে যান। বল ছাড়াই ফিলিপে লুইসকে আরও একবার ফাউল করলেও রেফারি তাঁকে কিছু বলেননি। ম্যাচ শেষে অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনেও ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলেছেন, ‘রেফারির বদান্যতায় সুয়ারেজ কমপক্ষে দুবার বেঁচে গেছে।’ ম্যাচে ১৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বার্সেলোনা। দানি আলভেজের ক্রসে লাফিয়ে উঠে করা নেইমারের হেড বার উঁচিয়ে চলে যায়। ২৫ মিনিটে তোরেসের গোল ন্যু ক্যাম্পকে স্তব্ধ করে দেয়। কোকের পাস থেকে বল পেয়ে বার্সেলোনা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে খুব সহজেই হারালেন তোরেস। ৩২ মিনিটে আন্দ্রে গ্রিয়েজমেন ব্যবধানটা বাড়িয়ে নিতে পারতেন। তোরেসের পাস থেকে পেয়ে তাঁর নেওয়া শটটি বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেন স্টেগেন। ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তোরেস। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে নেওয়ার বিকল্প ছিল না অ্যাটলেটিকোর। সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে এই সময় অ্যাটলেটিকোর রক্ষণকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দেন ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। ৫০ মিনিটে নেইমারের ক্রস বুক দিয়ে নামিয়ে নেওয়া মেসির একটি দুর্দান্ত শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ৫২ মিনিটে অ্যাটলেটিকোর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়া নেইমারের শট ক্রসবারের লাগে। ৫৬ মিনিটে আবারও মেসি। এবার তাঁর নিচু শট ওবলাক কোনোরকমে ফেরালেও ফিরতি শটে গোল করতে পারেননি নেইমার। তবে সুরায়েজ ছিলেন লক্ষভেদে নিঁখুত। ৬৩ মিনিটে জডি আলবার বাড়ানো বলে পোস্টের সামান্য সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুয়ারেজ সুযোগ-সন্ধানী এক গোল করলেন। ৭৪ মিনিটে তাঁর মাথা থেকে এল বার্সেলোনার জয়ের গোলটি। দানি আলভেসের ক্রস থেকে এবার স্বাক্ষর রাখেন হেডিং-সামর্থ্যের। কালকের দুই গোলে এই মৌসুমে সুয়ারেজের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে-৪৫টি। আগামী ১৩ এপ্রিল অ্যাটলেটিকোর মাঠে ফিরতি লড়াইয়ে মাঠে নামবে দুই দল। ন্যু ক্যাম্পের এই জয় ন্যূনতম ব্যবধানে হলেও তা অ্যাটলেটিকোর মাঠে লড়াইয়ে নামার আগে বার্সেলোনাকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

মুস্তাফিজের আইপিএল-যাত্রা by রানা আব্বাস

প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে যাচ্ছেন
মুস্তাফিজুর রহমান, মুখে তাই বিস্তৃত হাসি।
‘অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্স তো ভালোই হলো। এমন গুছিয়ে কথা বলেন, জানা ছিল না’—প্রশংসা শুনে মৃদু হাসলেন মুস্তাফিজুর রহমান। তবে মুখের অভিব্যক্তি যেন বলছিল, ‘এ আর এমন কী’! বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার পরশু রাতে এসেছিলেন এবিসি রেডিওর ‘সেন্টার ফ্রেশ ম্যাজিক অব মুস্তাফিজ’ অনুষ্ঠানে। সংবাদমাধ্যমের সামনে বরাবর লাজুক থাকলেও সেখানে কিন্তু ভালোই ‘কথার জাদু’ দেখালেন কাটার-মাস্টার! ছুটি কাটিয়ে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ৩ এপ্রিল। দিনের বেলায় ভারতীয় দূতাবাসে দৌড়াদৌড়ি, নিজের গোছগাছ, রাতে রেডিও অনুষ্ঠান—বেশ ব্যস্ততায়ই কেটেছে পরশুর দিনটা। আর কাল বিকেলে তো ভারতেই চলে গেলেন। সামনে আইপিএল-অভিযান, খেলবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএল খেলতে কাল ভারতে গেছেন সাকিব আল হাসানও। ভারতের জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন মুস্তাফিজ। ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে তাঁকে নিয়েছে হায়দরাবাদ। আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের পর আইপিএলে মুস্তাফিজ ষষ্ঠ বাংলাদেশি খেলোয়াড়। রোমাঞ্চটা স্পষ্ট তাঁর কণ্ঠে, ‘এত বড় একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ভালো তো লাগছেই।’ বড় টুর্নামেন্ট, আশপাশে থাকবে না পরিচিত তেমন কেউ—একটু কি স্নায়ুচাপ অনুভব করছেন না? কাল বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সাংবাদিকদের বললেন, ‘ভয় পাচ্ছি না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন ভালো করতে পারি।’ আইপিএলে দল পাওয়ার পর কথা প্রসঙ্গে এর আগে একবার বলেছিলেন, হায়দরাবাদের চেয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলতে পারলেই বেশি ভালো হতো। কারণ দুটি—কলকাতায় খেলেন জাতীয় দলের সতীর্থ সাকিব আল হাসান। আরেকটি ভাষাগত সুবিধা। কাল ভারতে উড়াল দেওয়ার আগেও সেই আফসোসের পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের দলে খেলতে পারলে খুবই ভালো হতো। একসঙ্গে থাকতে পারতাম, খেলতে পারতাম...।’ ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট মানেই বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির সম্মিলন, সারা বিশ্বের ক্রিকেট তারকাদের এক ছাদের নিচে আসা। বল হাতে বিধ্বংসী হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন মুস্তাফিজের সমস্যা হতে পারে এখানেই। জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারও তাই ধারণা, ‘ও হিন্দি-ইংরেজিতে অতটা অভ্যস্ত নয়। খেলা নিয়ে সমস্যা না হলেও এটা একটা সমস্যা হলেও হতে পারে।’ তবে তাঁর আশা, ‘দলের সবাই নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবে। তা ছাড়া মুস্তাফিজের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে ও এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়।’ মাশরাফি সব সময়ই বলেন, বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০-১৫ বছর খেলবেন মুস্তাফিজ। আপাতত তাঁর চাওয়া একটাই, ‘সে খেলবে বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটায়। সব ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবে কি না জানি না। পেলে সে-ই হবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।’ গত বছরের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আন্তর্জাতিক অভিষেক মুস্তাফিজের। তবে যে সংস্করণ দিয়ে তাঁর আগমন, সেটিতে সাফল্য পাচ্ছিলেন না বলার মতো। অভিষেক ম্যাচে পেয়েছিলেন ২ উইকেট। এরপর তো ওই ‘২’-এর চক্রেই আটকে গেলেন! পরের ১১টি-টোয়েন্টিতে আরও ছয়বার ২ উইকেট। অবশেষে ইডেন গার্ডেনে ভাঙলেন চক্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তুলে নিলেন ২২ রানে ৫ উইকেট। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই এটি সেরা বোলিং। মুস্তাফিজ বলছিলেন, ‘উইকেট যেমনই হোক না কেন, সেদিন আমার লক্ষ্য ছিল ভালো জায়গায় বল করা। সেটিই করেছি। বারবার বলি, উপরওয়ালা ভালো সময় দিয়েছেন। এই কারণে ৫ উইকেট পেয়েছি।’ চোটের কারণে বিশ্বকাপের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ড্রেসিংরুমে। মাঠে ফিরেই দেখালেন ‘জাদু’। ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট, টুর্নামেন্টের সপ্তম সেরা বোলার। তবু আইসিসি ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশে মুস্তাফিজ কি না দ্বাদশ খেলোয়াড়! মুস্তাফিজ অবশ্য এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে রাজি হলেন না। আইসিসির দলে না হলেও ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর একাদশে ঠিকই আছেন বাংলাদেশের বোলিং-বিস্ময়। শুধু কাগজে-কলমের দলে নয়, মুস্তাফিজ নিশ্চয়ই চাইবেন হায়দরাবাদের একাদশেও নিয়মিত হতে।

স্যামির নামে স্টেডিয়াম

ড্যারেন স্যামি
ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ার বড় তারকা ড্যারেন স্যামি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কত্ব করছেন অনেক দিন। সাফল্যের মুকুটেও আছে অমূল্য রত্ন—দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজই নয়, ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে স্যামি জোড়া ‘বিশ্বকাপজয়ী’ অধিনায়ক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। স্যামির সাফল্যে মাতোয়ারা সেন্ট লুসিয়াবাসী। কৃতজ্ঞতা হিসেবে দ্বীপের একমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামকরণ স্যামির নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এত দিন বোঁশেজো ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামে পরিচিত মাঠটি এখন থেকে পরিচিত হবে ড্যারেন স্যামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে। গতকাল ​মঙ্গলবার সেন্ট লুসিয়ায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী কেনি ডি অ্যান্থনি। এই স্টেডিয়ামের একটি গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্য সেন্ট লুসিয়ার ক্রিকেটার জনসন চার্লসের নামে।

পঞ্চায়েতে বিরোধের জেরেই খুন, ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের (একাংশ) প্রধান আবদুল আলী ও তাঁর তিন ছেলেসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পঞ্চায়েত নিয়ে বিরোধের জের ধরেই ওই ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. কাউছার আলমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মো. মোকতাদির হোসেন। আদালত ১০ এপ্রিল অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন। অভিযোগপত্রে যাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন গ্রাম পঞ্চায়েতপ্রধান আবদুল আলী ওরফে বাগাল এবং তাঁর ছেলে মো. জুয়েল মিয়া, মো. রুবেল মিয়া ও মো. বিল্লাল মিয়া; একই গ্রামের সাহেদ ওরফে ছায়েদ, মো. হাবিবুর রহমান ওরফে আরজু, উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও অটোরিকশাচালক বাচ্চু মিয়া। তাঁদের মধ্যে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় বাচ্চু এবং সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে বাছির আহমদ ও মো. সালেহ আহমদকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিল্লাল, উস্তার ও বাবুল পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাবন্দী। তাঁদের মধ্যে রুবেল, জুয়েল ও হাবিবুর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযোগপত্র দাখিলের পর দুপুরে সিলেটে পুলিশের উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগপত্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব কুমার ভদ্র। ডিআইজি বলেন, দ্রুততম সময়ে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আশা করছি বিচারকার্য দ্রুত হবে। এদিকে মামলার বাদী মো. আবদাল মিয়া বলেন, প্রকৃত দোষী ব্যক্তিরা অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁরা খুশি। এখন সঠিকভাবে বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে আসামিদের বিচার দেখতে চান তাঁরা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া ওরফে শুভ (৮), প্রথম শ্রেণির মনির মিয়া (৭), চতুর্থ শ্রেণির তাজেল মিয়া ওরফে সাদেক (১০) ও সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাইল মিয়া (১০) নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে গ্রামের পাশে ইছারবিল খালের পাশে বালুচাপা অবস্থায় চার শিশুর লাশ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ইসমাইল ছাড়া তিনজন আপন চাচাতো ভাই। ইসমাইল প্রতিবেশী। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সুন্দ্রাটিকি গ্রামে আটটি পঞ্চায়েত। এর মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন আবদুল খালেক তালুকদার (খালেক মাস্টার)। অন্যটির আবদুল আলী। এ দুটি পক্ষের মধ্যে পঞ্চায়েত ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব অনেক পুরোনো। নিহত চার শিশুর পরিবার আবদুল খালেকের সমর্থক। অন্যদিকে, আবদুল আলীর চার ভাই, পাঁচ ছেলে। নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে গ্রামে বিরোধ লাগিয়ে রাখতেন তাঁরা। চার শিশুহত্যার ২০ দিন আগে আবদুল আলী এক গোপন বৈঠকে আবদুল খালেকপক্ষের প্রধান দুজনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। কিন্তু বড়দের হত্যায় সুবিধা করতে না পেরে ওই চার শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।