Thursday, August 1, 2019

প্রধানমন্ত্রী বরিসের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য: ইইউ

ব্রেক্সিট কার্যকরে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পুনরায় সমঝোতার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার ইইউর একাধিক নেতা জানিয়ে দেন, বরিসের প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। এর মধ্য দিয়ে আবারও দৃশ্যপটে ফিরে এল যুক্তরাজ্য বনাম ইইউর সমঝোতার লড়াই।

২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের মানুষ ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দেয়। এই রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছরের চেষ্টায় ইইউর সঙ্গে একটি বিচ্ছেদ চুক্তি সম্পাদন করেন সদ্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট তিন দফা ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে মে পদত্যাগে বাধ্য হন। গত বুধবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন।

বৃহস্পতিবার ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ ইয়ঙ্কারের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বিচ্ছেদ চুক্তি নিয়ে পুনরায় সমঝোতার অনুরোধ করেন বরিস। তিনি বেকস্টপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তির কথাও জানান। জবাবে ইয়ঙ্কার জানিয়ে দেন যে, সম্পাদিত চুক্তিটি সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এ নিয়ে নতুন সমঝোতা সম্ভব নয়। ইইউ নেতাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় ইইউর পক্ষে সমঝোতাকারী মিশেল বার্নিয়ে বলেন, বেকস্টপ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। আর স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভরদকার বলেন, বেকস্টপ বাদ দিয়ে বিচ্ছেদ চুক্তি অসম্ভব। তবে ইইউ নেতারা বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে তাঁরা আলোচনায় প্রস্তুত।

বিচ্ছেদের পর স্বাধীন আয়ারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্তে মানুষ ও পণ্যের বাধাহীন চলাচলের নিশ্চয়তাকে বলা হচ্ছে বেকস্টপ। শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অন্য কোনো উপায়ে আয়ারল্যান্ড সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার বিকল্প পাওয়া না গেলে বেকস্টপ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এ ব্যবস্থা অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড ইইউ আইনের অধীনে থাকবে এবং যুক্তরাজ্যকে শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত ইইউর কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এই ব্যবস্থাকে যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ববিরোধী বলে মনে করেন ব্রেক্সিটপন্থীরা।

বরিস জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী ৩১ অক্টোবর প্রয়োজনে চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে আসবেন। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি ব্রেক্সিটপন্থীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গড়েছেন।

নেতা হিসেবে সকল পক্ষের আস্থা অর্জনে বরিস ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে দেওয়া প্রথম ভাষণে থেরেসা মের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি বাতিল করেছেন। জনশক্তির চাহিদা মিটাতে অভিবাসন নীতি ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেন তিনি। এ ছাড়া অবৈধদের বৈধতাদানের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ইইউ নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ ছাড়াও ২০ হাজার পুলিশ নিয়োগ এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের সমস্যা দূর করতে কাজ শুরুর ঘোষণা দেন।

জনসন লেবার দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, ওরা যুক্তরাজ্যের সামর্থ্যকে খাটো করে দেখে।

জবাবে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের সামর্থ্যকে অধিক আঁচ করছেন, এটাই সমস্যা।’ কথা বলার সময় বরিসের বিচিত্র অঙ্গভঙ্গির প্রতি ইঙ্গিত করে করবিন বলেন, ‘হাত নাড়িয়ে ক্ষিপ্র ভঙ্গিতে কথা বলা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দরকার নেই।’ নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলকে অভিবাসনের চরম বিরোধী, মৃত্যুদণ্ডের সমর্থক এবং কট্টর ডানপন্থী নীতির ধারক উল্লেখ করে করবিন বলেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য কীভাবে অভিবাসী-বান্ধব হবে? রাষ্ট্রীয় গোপন খবর ফাঁস করে দেওয়ার দায়ে দুই মাস আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানো গেভিন উইলিয়ামসন কি করে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন, সেই প্রশ্নও রাখেন করবিন।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তালেবানের ছায়া

একদিকে তালেবানদের অভিযান ও অন্যদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধিন ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলা বৃদ্ধি – আফগানিস্তানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ছায়াপাত করেছে।

২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ৯.৬৮ মিলিয়ন আফগানের নাম নিবন্ধিত করা হয়েছে। ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পতনের পর এটা হবে দেশটিতে চতুর্থ গণতান্ত্রিক নির্বাচন।

৬০ দিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণা চলবে। এবার প্রার্থী ১৮ জন। ভোটারের সমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন তারা।

প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি, তার ক্ষমতার ভাগিদার সিইও আব্দুল্লা আব্দুল্লা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হানিফ আতমার ও সাবেক গোয়েন্দা বাহিনী প্রধান রাহমাতুল্লাহ নাবিল।

অনেক প্রার্থী আশংকা প্রকাশ করেছেন যে প্রচারণা কাজে ঘানি তার প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন। তবে ঘানি এই আশংকা বাতিল করে দেন। দেশের সংবিধান ও নির্বচন কমিশনের আইনের মধ্যে থেকে প্রচারণা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এই নির্বাচনে ১৪৯ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে ধরা হয়েছে। কাবুল প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই তহবিল জোগাবে।

ভোট গ্রহণের জন্য ৭,৪০০ ব্যালট বাক্স প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২টি রাখা হয়েছে তালেবান অধ্যুষিত এলাকাগুলোর জন্য। তালেবানরা এই নির্বাচনের বিরোধী।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ব্যালট বাক্স রক্ষার জন্য ৫০,০০০ সদস্যের নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দেশের রাজধানী কাবুলসহ ৩৪টি প্রদেশের সবখানে তালেবান হামলা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তালেবানরা। এরপরও হামলায় রাশ টানার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই বিদ্রোহী গ্রুপটি।

>>>হালিল সিলাশর, মোস্তফা মেলিহ আহিশালি

পালানোর পর প্রথম প্রকাশ্যে এলেন দুবাইয়ের শাসকের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া

রাজপ্রাসাদ থেকে পালানোর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন দুবাইয়ের শাসক, বিলিয়নিয়ার শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইন। মঙ্গলবার তিনি লন্ডনের রয়েল কোর্ট অব জাস্টিসে হাজিরা দিলেন। সেখানে আদালতকে জানালেন, তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায়। একই সঙ্গে তার সন্তানদের যেন পারিবারিক বিয়ের অধীনে গণ্য করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফেরত পাঠানো না হয়। এর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে পালিয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেন লন্ডনে। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন দুই সন্তানকে। তাদেরকে নিয়ে তিনি আত্মগোপন করেন। স্বামী শেখ মোহাম্মদ আল মাকতুমের সঙ্গে বিচ্ছেদের আবেদন করেন।
এ নিয়ে তোলপাড় হয় তামাম দুনিয়া। এ খবর দিয়েছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।
ওদিকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম প্রিন্সেস হায়া’র স্বামী শেখ মোহাম্মদ বৃটেনের কাছে দাবি করেছেন, তার সন্তানদের ফেরত দেয়ার জন্য। প্রিন্সেস হায়া দুবাই থেকে পালানোর পর মঙ্গলবার প্রথম প্রকাশ্যে আদালতে হাজির হন। এ সময় তিনি ছিলেন সাদা পোশাকে, ডায়মন্ড বসানো কানের গহনা, ডিজাইনারদের তৈরি হ্যান্ডব্যাগ ছিল তার সঙ্গে। সঙ্গে ছিলেন বিচ্ছেদ বিষয়ক আইনজীবী, যিনি ‘স্ট্রিল ম্যাগনোলিয়া’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই ব্যারোনেস শ্যাকলেটন। শ্যাকলেটন বৃটিনের প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়ানার বিচ্ছেদের বিষয়টি হাতে নিয়েছিলেন। হাতে নিয়েছিলেন পল ম্যাককার্টনি ও হিদার মিলসের বিচ্ছেদের মামলা।
পারিবারিক আদালতে দুই সন্তানের জন্য বৃটিশ আইনের অধীনে ‘জোরপূর্বক বিয়ে সুরক্ষা নির্দেশের’ অধীনে আবেদন করেছেন প্রিন্সেস হায়া। এর অধীনে ওইসব ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেয়া হয়, যারা জোরপূর্বক বিয়ের ফলে হুমকিতে পড়তে পারে। এর ফলে তাকে বৃটেন থেকে বাইরে নেয়া বন্ধ করা হয়। তাই অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা প্রিন্সেস হায়া আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যেন ‘যৌন নির্যাতন বিরোধী’ নির্দেশ দেয়া হয়। এ নির্দেশের অধীনে ভিকটিম পারিবারিক সহিংসতা থেকে সহায়তা পায়।
৩৩ নম্বর কোর্টে যখন হাজির হন প্রিন্সেস হায়া তখন সেখানে ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা চারদিক ঘিরে ফেলেন। ফলে হাইকোর্টে তখন এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সেখানে বৃটেনের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের আইনজীবীরা দুবাইয়ের শাসক পরিবারের ভিতরকার গোপন কথা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না দুবাইয়ের শাসক। তবে ৭০ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ তার তিনজন শীর্ষ ফ্লাইট বিষয়ক কিউসি’কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালতে লড়াই করার জন্য। এর মধ্যে রয়েছেন সলিসিটর হেলেন ওয়ার্ড, তিনি ২০০৯ সালে বার্নি এক্লেসটোনের ২০০ কোটি পাউন্ড রক্ষা করেছিলেন তার সাবেক স্ত্রী ক্লাভিকার কাছ থেকে।
মঙ্গলবার আদালতে শুনানির সময় আদালতের সামনের সারিতে বসা ছিলেন প্রিন্সেস হায়া। সেখানে তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন সঙ্গে আনা সন্তানদের পরিণতি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত। কিন্তু ওইদিন আদালত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি। তিনি দুবাই থেকে পালানোর সময় সঙ্গে নিয়ে যান ৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড। বৃটেনে কেনসিংটন রাজপ্রাসাদের কাছে তার কেনা ৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। এরপর বৃটেনে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এখানে উল্লেখ্য, দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ ও তার পলাতক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া দু’জনেই বৃটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছের বন্ধু। এখন তাদের ৪৫০ কোটি পাউন্ডের বিচ্ছেদের আবেদন হতে পারে বৃটিশ আইনি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অংকের বিচ্ছেদ।
প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সৎবোন। তিনি বৃটেনে তার দুই সন্তানের অধিকারের জন্য এখন লড়াই করছেন। সফলতার সঙ্গে প্রিন্সেস হায়া আবেদন করেছেন, তার সন্তানদের বৃটিশ আইনের অধীনে সুরক্ষা দিতে। এর অর্থ হলো পরিবার বিষয়ক বিচারকদের অনুমতি ছাড়া তার সন্তানদের ভবিষ্যত সম্পর্কে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না বৃটিশ আদালত। শেখ মোহাম্মদ ও প্রিন্সেস হায়ার মধ্যে আইনি লড়াই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব আবেদন এখন শুনানি হবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। এ বছরের শেষের দিকে পারিবারিক আদালত শুনানি করবে। তারপর সিদ্ধান্ত দেবে ওই দুই সন্তানের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওদিকে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয় নি।
এর আগে দুবাইয়ের শাসকের মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা (৩৩) রাজপ্রাসাদ থেকে পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তাকে এখন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ সম্পর্কে জেনে যাওয়ার পর প্রিন্সেস হায়া দুবাই থেকে পালিয়ে যান। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ ২৩ টি সন্তানের জনক। বিভিন্ন স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে তারা। তার মধ্যে প্রিন্সেস লতিফ অন্যতম। তিনি গত বছর পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নতুন জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু স্পেশাল ফোর্স তা জেনে তাকে ফিরিয়ে নেয়। বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিনিধি বলেছেন, এখন প্রিন্সেস হায়ার আশঙ্কা তাকে অহপরণ করে দুবাইয়ে ফেরত নেয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি দুবাইয়ের শাসক।

কোলে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুঃ উদ্বিগ্ন মায়ের চোখে পানি

কোলে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু। উদ্বিগ্ন মায়ের চোখে পানি। সোহ্‌রাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ছবিটি তুলেছেন জীবন আহমেদ

বিস্ফোরণে নারী ও শিশু সহ আফগানিস্তানে নিহত ৩৫

আফগানিস্তানে মহাসড়কের পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। নিহত ও আহতরা একটি বাসে করে সফর করছিলেন। এ হামলার জন্য সরকার তালেবানদের দায়ী করেছে। তবে তালেবানরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে হেরাত ও কান্দাহার প্রদেশের রাজধানীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী মহাসড়কে আব খোরমা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। প্রাদেশিক পুলিশের মুখপাত্র মহিবুল্লাহ মহিব বলেছেন, আফগানিস্তান ও বিদেশী নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের টার্গেট করে ওই বোমা পুঁতে রেখেছিল তালেবান জঙ্গিরা। কিন্তু তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, এ হামলার জন্য তাদের কোনো যোদ্ধা দায়ী নয়।
তিনি বলেন, তালেবানরা ওই হামলা চালায় নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সারা আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তালেবান ও আইএস যোদ্ধারা প্রায়দিনই আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর হামলা জোরালো করেছে। সরকার ও দাতব্য কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। কারণ, তালেবানরা নতুন বিস্ফোরক ব্যবহার করছে। ১৮ বছর আগে তাদেরকে উৎখাতের পর যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অধিক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবানরা।  জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিসের মতে, গত বছর স্থলবোমা ও বিস্ফোরকের কারণে কমপক্ষে ১৪১৫ জন আফগান বেসামরিক ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়েছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশে বুধবার লড়াই চলছিল তালেবান ও আগফানিস্তানের সেনাদের মধ্যে। এতে অনেক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। নাঙ্গারহার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সোহরাব কাদেরি বলেছেন, সেখানকার গান্ডুমাক এলাকায় অপারেশন চালাচ্ছিল আফগানিস্তানের বিশেষ বাহিনী। এই এলাকাটি তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এতে নিহত হয়েছেন তালেবানের দু’জন যোদ্ধা ও ৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি। আফগানিস্তান ও বিদেশী বাহিনীগুলো বলছে, বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা বাড়ার কারণ হলো, বিদ্রোহী বা জঙ্গিরা তাদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। জঙ্গি গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ বছরের প্রথম অর্ধেক অংশে কমপক্ষে ৩৮১২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত বা আহত হয়েছেন।

রাজ্যে ফের গণপ্রহার, সিঙ্গুরে ‘মোবাইল চোর সন্দেহে’ মৃত কিশোর

নদিয়া, আলিপুরদুয়ারের পর এবার ঘটনাস্থল হুগলির কামারকুণ্ডু। চার দিনে এ রাজ্যে তিনটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার গভীর রাতে মোবাইল চোর সন্দেহে এক কিশোরকে পিটিয়ে খুন করা হল কামারকুণ্ডুতে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কিশোরের নাম দীপক মাহাতো (১৭), বাড়ি নদিয়ায়। জানা যাচ্ছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ওই প্রহৃত কিশোরের।

গণপ্রহার-সহ অসহিষ্ণুতা ইস্যুতে সম্প্রতি বিদ্বজ্জনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির এক সপ্তাহের মধ্যেই এ রাজ্যে তিনটে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে গেল। নদিয়ায় শনিবার, আলিপুরদুয়ারে রবিবার এবং মঙ্গলবার গভীর রাতে হুগলির কামারকুন্ডুতে গণপ্রহারে মৃত্যু ঘটল। ছেলেধরা সন্দেহ বা দুষ্কৃতী নয়, এবার মোবাইল চুরির অভিযোগে চলল বেদম প্রহার। এই ঘটনায় বুধবার ৭ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিঙ্গুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, পেশায় ঠিকা শ্রমিক দীপকের বাড়ি নদিয়ার সীমান্ত এলাকায়। কামারকুন্ডু জংশন এর আপ ও ডাউন রেল লাইনে বেশ কয়েকদিন ধরে কাজ চলছে। সেখানেই এক ঠিকাদারের অধীনে দীপক শ্রমিকের কাজে যুক্ত ছিল। তাঁদের যে তাঁবুর অদূরেই ছিল আরেক ঠিকাদারের তাঁবুও। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই অপর ঠিকাদারের সুপারভাইজারের তাঁবুতে ঢুকেছিল দীপক। কিন্তু দীপক সেখানে ঢুকতেই তাকে ধরে ফেলে জনা কয়েক যুবক। সকলেরই সন্দেহ হয় সে মোবাইল চুরি করতে এসেছে। জানা যাচ্ছে, ওই সুপারভাইজার এরপর অন্যান্য শ্রমিকদের সাহায্যে দীপককে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। এরপর শুরু হয় চরম মারধর। মারধরের ফলে দীপক একসময় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা দীপককে উদ্ধার করে সিঙ্গুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, হাসপাতালের যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক দীপকের সঙ্গে কাজ করছিলেন। মঙ্গলবারের রাতের এই ঘটনার পর থেকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ওই এলাকা থেকে চম্পট দিয়েছেন। দীপকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন সিঙ্গুর থানায় আসেন। দীপককে খুন করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তার এক আত্মীয় সুরেশ। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিস।

এই ঘটনার জেরে পুলিশ এলকায় দফায় দফায় তল্লাশিতে নামে। ইতিমধ্যে ৭ জনকে সিঙ্গুর থানার পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, এর মধ্যে ৩ জন ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। তবে, একজন নাবালক কী করে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগ দিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। জানা যাচ্ছে, সেদিকটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দীপকের দেহ আপাতত ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে।

নান ও রুটির দাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিল পাকিস্তান সরকার

নান ও রুটির দাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিল পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার। বর্তমানে সেখানকার বিভিন্ন শহরে নান বিক্রি হয় ১২ রুপি থেকে ১৫ রুপিতে। গ্যাসের শুল্ক ও আটার দাম বৃদ্ধির আগে এই দাম ছিল ৮ রুপি থেকে ১০ রুপি। একইভাবে বর্তমানে রুটির মূল্য ১০ রুপি থেকে ১২ রুপি। আগে এর দাম ছিল ৭ থেকে ৮ রুপি। মঙ্গলবার এ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় সারাদেশে আগের দামে বিক্রি করতে হবে নান ও রুটি। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ড. ফিরদৌস আশিক আওয়ান আরও বলেছেন, মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে বিভিন্ন ইস্যু ছাড়াও গ্যাসের শুল্ক বৃদ্ধি, নান ও রুটির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কথা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রীপরিষদের অর্থনৈতিক সমন্বয় কমিটির (ইসিসি) বৈঠক আহ্বান করেছেন বুধবার।

এশিয়ায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা: বাংলাদেশে রেকর্ড

মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার উদ্বেগজনক বিস্তার হওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তার মধ্যে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণে বিস্তার ঘটেছে ডেঙ্গুর। তবে ম্যালেরিয়া এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্যখাতে জরুরি অবস্থার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে। ওষুধেও কাজ হচ্ছে না এ রোগে। এ বছর ভয়াবহ আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হওয়ায় ফিলিপাইনে এ মাসে জাতীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে ডেঙ্গু এলার্ট। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে সেখানে প্রায় এক লাখ মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা শতকরা ৮৫ ভাগ বেশি।
ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে অনলাইন সিএনএন এ খবর দিয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, গ্রীষ্মপ্রধান ও গ্রীষ্মপ্রধানের কাছাকাছি এমন দেশ যেমন- বাংলাদেশ, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতে ডেঙ্গুুর প্রাদুর্ভাব খুব সাধারণ বিষয়। কিন্তু এখন এর বিস্তার বিশ্বের অন্যান্য অংশেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সেসব দেশ গ্রীষ্মপ্রধান নয়। এমন দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, চীনের উপকূলীয় এলাকা ও জাপান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা বিশ্বের ওই সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সিএনএন আরো লিখেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০০০ মানুষ নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা একে ভয়াবহতার রেকর্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ বছর জানুয়ারি থেকে এতে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৮ জন মারা গেছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত মশার কামড় থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৬০০ মানুষ। এর মধ্যে ৮৩৪৮ জন অথবা অর্ধেকেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন জুলাই মাসে। জুনে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮২০ জন। মে মাসে ১৮৪ জন। সে তুলনায় জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ডিরেক্টরেট জেনারেল সহকারী পরিচালক আয়েশা আখতার সিএনএন’কে বলেছেন, ২০০০ সাল থেকে আমরা ডেঙ্গুর রেকর্ড রাখা শুরু করি। তারপর বাংলাদেশে ডেঙ্গুর যে ভয়াবহতা দেখেছি তার মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ বিস্তার ঘটেছে। তিনি স্বীকার করেন, দেশের কমপক্ষে ৫০টি জেলায় দেখা দিয়েছে এ রোগ। কিন্তু ২ কোটির বেশি মানুষের বসবাসের শহর ঢাকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। এখানে অনেক হাসপাতাল রোগীদের স্থান সংকুলানে হিমশিম খাচ্ছে। আয়েশা আখতার আরো বলেন, সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এই ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সব শক্তি যেন ব্যবহার করে এটা নিশ্চিত করছি আমরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমরা একটি বিশেষ শাখা খুলেছি।

ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দেয় ডেঙ্গু সংক্রমণ। এর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, পেশি ও শরীরের জয়েন্টগুলোতে প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বর ও পুরো শরীরে র‌্যাশ ওঠা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষের অবস্থা খারাপ পর্যায়ে যায়। ফলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এর মধ্যে মারা যান ১২৫০০ জন।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বাস্তবায়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে কারিগরি সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসার নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে। এজন্য সংবাদপত্রগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

রাব্বির মৃত্যুতে অন্ধকার দেখছে পরিবার by শুভ্র দেব

গতকাল দুপুর দেড়টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে ট্রলিতে রাখা একটি মরদেহ। ট্রলি ঘিরে কয়েকজন নারী পুরুষের আহাজারি। এক নারীর বুক ফাটা এক আর্তনাদ। জানতে চাইলে বললেন, বাবারে আর বাঁচাতে পারলাম না। ডেঙ্গু রোগে আমার বাবাটা মরে গেল। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমার একমাত্র ছেলেটা এভাবে চলে যেতে পারলো? কতটা কষ্ট পেয়ে আমার ছেলেটা মারা গেছে   বুঝাতে পারব না।
ডেঙ্গু রোগে নিজের একমাত্র সন্তান হারানোর পর এভাবেই বিলাপ করছিলেন রবিউল ইসলাম রাব্বির মা মাসুমা বেগম।

মো. বাচ্চু খান ও মাসুমা বেগমের একমাত্র সন্তান রবিউল ইসলাম রাব্বি (২৫)। তাদের বাড়ি ফরিদপুর সদরে। বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকার শেওড়াপাড়ায় থাকতেন। শেওড়া পাড়ায় তার বাবার একটি দর্জির দোকান আছে। রাব্বি ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিউট থেকে রেফ্রিজেটর এন্ড এয়ারকন্ডিশনারে ডিপ্লোমা শেষ করেছে কয়েক বছর আগে। চলতি বছরে ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিল। পড়ালেখার পাশাপাশি স্যামসাং সার্ভিসিং সেন্টারে চাকরি করত। দুই বছর আগে তার বাবা মা পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে দেন। চাকরি, লেখাপড়া ও পরিবার নিয়ে বেশ ভালই চলছিল রাব্বির পরিবার। কিন্তু হঠাৎ সে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। ৯দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গতকাল দুপুর ১২টায় না ফেরার দেশে চলে গেছে রাব্বি। একমাত্র সন্তান হওয়াতে তাকে নিয়েই পরিবারের সব স্বপ্ন ছিল। তাকে হারিয়ে পরিবারে সব স্বপ্ন মিইয়ে গেছে। সব কিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেছে।
রাব্বির বাবা বাচ্চু খান মানবজমিনকে বলেন, ২৩শে জুলাই মঙ্গলবার সকালের নাস্তা করে রাব্বি অফিসে গিয়েছিল। দুপুরে বাসায় এসে খাবার খেয়ে আবার অফিসে যায়। বিকাল থেকেই তার পচন্ড জ্বর আসে। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩/১০৪ ডিগ্রি। রাতেই তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসক তাকে নাপা ওষুধ ও তরল খাবার খাওয়ানোর কথা বলেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা নীরিক্ষা করার কথা বলেন। পরেরদিন ওই টেস্ট করানোর পর ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে। রক্তের প্লাটিলেট পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটা ১ লাখ ৩৮ হাজারে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় টেস্ট করে দেখা যায় প্লাটিলেট ৫০ হাজারে নেমেছে। পরের পরীক্ষায় সেটা আরও কমে ২৯ হাজারে নামে।

এভাবে কয়েক দিন যাবার পর বৃস্পতিবার তার জ্বর কমে  গিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। শুরু হয় পাতলা পায়খানা এবং পেট ফোলা। অবস্থা বেগতিক দেখে শুক্রবার তাকে নিয়ে ভর্তি করি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে।  ১৮ থেকে ১৯ বার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর সেটি বন্ধ হয়। তারপর তার প্রশ্রাব বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা তার পুরুষাঙ্গ দিয়ে পাইপ ঢুকানোয় রক্তপাত শুরু হয়। এতে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরে তাকে আইসিইউতে নিয়ে ভর্তি করা হয়। টানা তিন দিন আইসিইউতে থাকার পর তাকে বাইরে আনা হয়। এরপর চিকিৎসকরা বলেন তার কিডনিতে সমস্যা তাই কিডনি হাসপাতালে নিতে হবে। বুধবার কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে কিডনি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

রাব্বির স্ত্রী জেরিন পারভিন অন্তরা বলেন, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে আমার স্বামীকে নিয়ে আসি। এখানে আসার পর এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষ। আবার লিফটে করে এক তলা থেকে আরেক তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরকম করতে করতে আমার স্বামী মারা গেছেন। এখানে চিকিৎসা শুরু হবার আগে নিয়মনীতি মানতে মানতে সময় শেষ। চিকিৎসা শুরু করলে হয়তো তাকে বাঁচানো যেত। রাব্বির মা মাসুমা বেগম বলেন, আমার ছেলে যখন আইসিইউতে ছিল তখন সেখান থেকে তাকে বের করার জন্য খুব তাড়া দিয়েছিল। সে বলত আমাকে তাড়াতাড়ি বের কর। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বাঁচতে চাই। যখন তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে বের করে ঢাকা মেডিকেলে আনা হচ্ছিলো তখন তাকে খুশি খুশি লাগছিল। তার হয়তো মনে হচ্ছিলো সে বেঁচে যাবে। কিন্তু তা আর হল না। বরং হাসপাতালে আনার পরপরই মারা গেলো। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমার ছেলেটা শরবত, স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই খায় নি। না খেয়েই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। ডেঙ্গুতে যেন আর কোন বাবা মায়ের কোল খালি না হয়।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৪৭৭: বাড়ছে রোগী বাড়ছে মৃত্যু

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়েই চলছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। দেশের অন্তত ৬২ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন জেলা থেকে আক্রান্তের খবর আসছে। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৭৭ জন। ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছেন ৬১ জন রোগী। এক মিনিটের কম সময়ে ভর্তি হচ্ছেন একজন করে ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরে এই পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ১৮৩ জন আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে প্রতিদিনই রোগী বাড়ায় রাজধানীর হাসপাতালগুলো সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সিট না থাকায় রোগীর স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন। অব্যাহত রোগী বাড়ায় ডেঙ্গু পরীক্ষা নীরিক্ষার কিট সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিট না থাকায় কয়েক ঘণ্টা ডেঙ্গুর পরীক্ষা বন্ধ ছিল। এদিকে জেলা পর্যায়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় চিকৎসা সরঞ্জামাদির সঙ্কটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অসহায় ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬২টি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারি হিসাবে ১৪ জন মৃতের খবর দিলেও এই সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে। ডেঙ্গুতে গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ও বরিশালে একজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সোমবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান পুলিশের এসআই কুহিনুর বেগম নীলা।

অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ হাজার ২৬৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন।  গতকাল রাজধানী ছাড়া ৬২ জেলা থেকে ২ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১৮শ’ ৮৫ জন। এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে অধিক সংখ্যক রোগী আসায় বিভিন্ন হাসপাতাল তাদের ঠাঁই দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট সিট না থাকায় অনেক রোগীকে ভর্তি করা যাচ্ছে না। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও তার স্বজনরা। ডেঙ্গু রোগীর স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যান মতে, গত জুলাই মাসে গড়ে প্রতিদিন ৪৮৩ জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হিসাবে ঢাকা জেলা থেকে ১৭৪ জন, গাজীপুর থেকে ১২০ জন, গোপালগঞ্জ ১০ জন, মাদারীপুর ২৪ জন, মানিকগঞ্জ ৩২ জন, নরসিংদী ২৬ জন, রাজবাড়ী থেকে ৩৭ জন,শরীয়তপুর ৯ জন, টাঙ্গাইল ৫১ জন, মুন্সীগঞ্জ ২৭ জন, কিশোরগঞ্জ ১০৩ জন, নারায়ণগঞ্জ ২৪ জন, ফরিদপুর ২ জন, ময়মনসিংহ ২০৩ জন,  জামালপুর ৪৭ জন, ১৪ জন,  চট্টগ্রাম থেকে ২২৬ জন, ফেনীতে ৮৫ জন, কুমিল্লা ৬৫ জন, চাঁদপুর থেকে ১০২ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ জন, লক্ষ্মীপুর ৩৩ জন, নোয়াখালীতে ৪১ জন, কক্সবাজার ১৭ জন, খাগড়াছড়ি ১০ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন, বান্দরবন একজন, খুলনায় ১৮০ জন, কুষ্টিয়া থেকে ৭২ জন, মাগুরা ৮ জন, নড়াইল ১০ জন,  যশোর ৯৮ জন, ঝিনাইদহ থেকে ২৬ জন, বাগেরহাট ৮জন, সাতক্ষীরা ২৩ জন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ৮ জন, মেহেরপুর ৩ জন, রাজশাহী থেকে ৮১ জন, বগুড়া ১১৬ জন, পাবনা ৪৯ জন,  সিরাজগঞ্জ ১৯ জন,  নওগাঁয় ১০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১৮ জন,  নাটোর ৫ জন, জয়পুরহাট একজন, রংপুর ৭৯ জন, লালমনিরহাট ৩ জন,  কুড়িগ্রাম ৫ জন, গাইবান্ধায় ৬ জন,  নীলফামারি ৮ জন,  দিনাজপুরে ৩৩জন, পঞ্চগড় ২ জন, ঠাকুরগাঁও ১২ জন, বরিশাল থেকে ১০১ জন, পটুয়াখালী ১৬ জন, ভোলা ৭ জন,  পিরোজপুর ৩ জন, ঝালকাঠি একজন, সিলেট থেকে ৯০ জন, সুনামগঞ্জ ৭ জন, হবিগঞ্জ ১৩ জন, মৌলভীবাজার ২৬ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৩১শে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের মধ্যে এপ্রিলে দু’জন, জুনে দু’জন ও জুলাই মাসে ১০ জন মারা যান। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫২ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৮ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৩৫ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২৮১জন,হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২৪২ জন, বারডেম হাসপাতালে ৪৪ জন, বিএসএমএমইউতে ১১২ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ১৪৮ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ২৫১ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২৩ জন, কুর্মিটোলায় ২৯২ জন, রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৭ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১০১ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৭৭ জন,স্কয়ার হাসপাতালে ১০০ জন, শমরিতায় ২৬ জন, ল্যাব এইডে ২৭ জন,  হেলথ এন্ড হোপে ৩১ জন, গ্রীনলাইফে ৩৬ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ১০১ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৯০ জন, খিদমা হাসপাতালে ২৮ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১০৭ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৭৪ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ১০৪ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৬২ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬৬ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৪ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৪৫ জন, উত্তরা আধুনিকে ৮৬ জন, আনোয়ার খান মর্ডানে ২১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

দেড় বছরের মেয়েকে রেখে না ফেরার দেশে এসআই কোহিনুর
চাকরীজীবী স্বামী, দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর বেগম নীলার ছিল সুখের সংসার। থাকতেন রাজধানীর বাড্ডায়। কিন্তু ঘাতক ডেঙ্গু তার সব তছনছ করে দিয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের এই কর্মকর্তা কিছু দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। প্রথমে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ায় ওষুধ নিয়ে বাসায় ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউ সেবা দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় রাজধানীর সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত সোয়া একটার দিকে ওই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়। কোহিনুর বেগম নীলার মৃত্যুতে তার স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় রাজারবাগ পুলিশলাইনসে প্রথম জানাজা এবং জোহরের নামাজের পর তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে অর্জুনা পূর্বপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় কোহিনুরকে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ শে জুলাই সোমবার রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কোহিনুর বেগম নীলাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই রাত সাড়ে নয়টার দিকে সিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। এসআই কোহিনুরের স্বামী জহির উদ্দিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

শরীয়তপুরের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে স্কুল শিক্ষিকার  মৃত্যু
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জব্বার আকনকান্দি গ্রামের বর্ষা আক্তার (২৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তিনি  স্থানীয় শাহেদ আলী মাদবরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান,বর্ষা আক্তার গত ১৮ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হন। প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। জ্বরের শরীর নিয়েই বিদ্যালয়ে যেতেন। বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে  গত ২৫ জুলাই পরিবারের সদস্যরা তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তার শরীরে ডেঙ্গু জ্বরের আলামত পান। তারা তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার পরামর্শ দেন। পরের দিন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। স্বজনরা গত শনিবার তাকে ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকায় প্রএ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাকে  কয়েক দফায় ১০ ব্যগ রক্ত দেয়া হয়। তার অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকে।  মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গতকাল তার মরদেহ জাজিরার জব্বর আকনকান্দি গ্রামে আনা হয়। দুপুরে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। বর্ষার স্বামী মিজানুর রহমান নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। মিজানুর রহমান বলেন,বর্ষার নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে এটা ভাবতে পারিনি। মেয়ে দুটি বাবার বাবার তাদের মায়ের খোঁজ করে। আমি কি বলে তাদের শান্তনা দেব? আল্লাহ কেন আমাকে এমন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেললেন।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মো.খলিলুর রহমান বলেন, গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলায় ১০ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু সচেতনতার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। আমাদের উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার পরীক্ষা করা হচ্ছে। যারা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের সর্বচ্চ সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বরে শিশুর মৃত্যু
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আব্দুর রহমান নামে দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার রেনেসাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশু মারা যায় বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। নিহত আব্দুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আরিফ হোসেনের ছেলে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শিশু আব্দুর রহমান জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে একদিন চিকিৎসা দেয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে যাওয়ার পর ওই দিনই শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে ঢাকা রেনেসাঁ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ওই হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে সে মারা যায়।

একমাত্র শিশু সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুবাই প্রবাসী আরিফ হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত তার ছেলেকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। মঙ্গলবার রাতে কাপাইস গ্রামের তেরমুখ ব্রিজ সংলগ্ন মাঠে তার জানাজার নামাজের পর সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে মারা গেলেন ৬ শ্রমিক

আক্কেলপুরে নতুন একটি সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি গতকাল সকাল ৯টায় উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের জাফরপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে ঘটে। এ সময় আরো একজন স্থানীয় বাসিন্দা অসুস্থ হয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, ঘটনাস্থলে ৪ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দুজন মারা যান। ঘটনা জানার পরই  ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে মরদেহ এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। খবর  পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠায়। মৃতেরা হলেন- জাফরপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের নিখিলচন্দ্র দাসের (বাড়ির মালিক) ছেলে প্রিতম চন্দ্র মোহন্ত (২০), তার চাচা মৃত গোবিন্দ চন্দ্রের ছেলে ভুট্টু চন্দ্র মোহন্ত (৪০), গণিপুর গ্রামের সামছুল আকন্দের ছেলে (হেড মিস্ত্রি) শাহিন হোসেন (৩৫), বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার খলিশ্বর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৫), গণিপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে (শ্রমিক) সজল হোসেন (১৫), একই গ্রামের শাফি আলমের ছেলে (শ্রমিক) শিহাব হোসেন (১৮)। আহত জাফরপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের দীলিপ চন্দ্র (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বুধবার সকালে নিখিল চন্দ্রের বাড়িতে ট্যাংকের কাজ করতে আসে মিস্ত্রিরা। তাদের মধ্যে একজন ট্যাংকে নামলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধারের জন্য আরো দুজন নামে। তারাও অসুস্থ হলে, তাদের উদ্ধারের জন্য বাকিরা নামলে এই ঘটনা ঘটে। লাশ ও তাদের উদ্ধার করতে গেলে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) কিরণ কুমার রায় জানান, উপজেলার জাফরপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের নিখিলচন্দ্র দাস তার বাড়িতে নতুন একটি পাকা টয়লেট নির্মাণ করে। কয়েকদিন আগে মিস্ত্রিরা ওই টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ছাদ ঢালাইয়ের সার্টার খুলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

‘এরা ভিআইপি নন রাষ্ট্রের কর্মচারী’

একজন যুগ্ম সচিবের জন্য ফেরি দেরিতে ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অতিরিক্ত সচিবের নিচে নন, এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিষয়টি তদন্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, তিতাস  ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না, তা  জানতে  চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এই আদেশ দেন। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। রিটটি শুনানির জন্য উত্থাপন করলে আদালত বলেন, আমরা ঘটনাটি জানি। এরা কেউ ভিআইপি নন, এরা সার্ভেন্ট অব দ্যা স্টেট।
আদালত বলেন, সারা বিশ্বে অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপনে ফায়ার সার্ভিস ও নিরাপত্তার জন্য পুলিশের গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেতে দেয়া হয়। আর এখানে ঘটেছে তার উল্টোটা। আদালত বলেন, ভিআইপি কারা সেটা আইনেই বলে দেয়া আছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটা অন্য কারো ক্ষেত্রে নয়। ভিআইপি থাকলেও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে যেতে দেয়া হয়ে থাকে। কারণ এরসঙ্গে একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে।

শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তিনি একজন যুগ্ম সচিব। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্টের ২২ নম্বর ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে কার দায় সেটা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যদি কারো দায় থাকে সেটা ব্যক্তিগত। রাষ্ট্র এ দায় নেবে না এবং ক্ষতিপূরণও দেবে না। আদালত বলেন, ব্যক্তিগত দায় অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। রিটকারী মো. জহির উদ্দিন লিমন নিজেই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

রিটে আবেদনের বিবাদী নৌ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান, যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল, মাদারীপুরের ডিসি, পুলিশ সুপার, কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসাইন মিয়া ও কাঁঠালবাড়ি থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২৫শে জুলাই বৃহস্পতিবার একটি অ্যাম্বুলেন্স রাতে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটে ফেরিতে ওঠে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া নড়াইলের কালিয়া পৌর এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ (১১) ও তার স্বজনরা। কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত সবুর মণ্ডলের গাড়ির জন্য তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ১১টার দিকে ফেরিটি শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে রওনা করে। তার আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যায় তিতাস। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর কর্তাদের অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সরকারি জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯ এ ফোন করা হলেও ফেরি দ্রুত ছাড়তে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। এছাড়া তিতাসের মৃত্যুর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ও তদন্তে কমিটি করেছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহ হাবিবুর রহমান হাকিম। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সোমবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আজ শোকাবহ আগস্ট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বাঙালির শোকের মাস আগস্ট শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি জাতি হারিয়েছে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আগস্টকে শোকের মাস হিসেবে বরাবর পালন করে আসছে।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন। সেনাবাহিনীর কিছু সংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে বাঙালি জাতি।

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট শেষ রাতে (১৫ আগস্ট) ঘাতকরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। তাকে সপরিবারে নিঃশেষ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেল, সদ্য বিবাহিত পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে সেখানে হত্যা করা হয়। বেইলি রোডে সরকারি বাসায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর  ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবি সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টুকে। আরেক বাসায় হত্যা করা হয় তার ভাগ্নে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে। তারা ধানমন্ডি এলাকার বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এর বাবা-মা।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে শুনে সেখানে যাওয়ার জন্য রওনা দেন বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। তবে ৩২ নম্বরের সামনে পথভ্রষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাকে প্রথমে বাধা দেয় ও পরে হত্যা করে। এছাড়া ওইদিন ৩২ নম্বরের বাড়িতে কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড বিশ্বের বুকে নিন্দিত ও ঘৃণিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ হয়ে আছে।

সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর বড় সন্তান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ও ছোট বোন শেখ রেহানা শেখ হাসিনার স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান।

আগস্টে শোক পালনের অংশ হিসেবে পুরো মাসজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর আর বেদনাবিধূর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে। একেক দিন একেক সংগঠন আয়োজন করবে শোকসভার। এসব সভায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

আজ রাত ১২টার পর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবক লীগ মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে শোকের কর্মসূচি শুরু করেছে। আগামীকাল একইস্থানে বিকাল তিনটায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করবে কৃষক লীগ। এছাড়া পুরো মাস মিলাদ মাহফিল, কোরান তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ১৫ আগস্টে কাঙালি ভোজ ও পরদিন আওয়ামী লীগের শোকসভার মাধ্যমে শোক পালিত হবে। ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগের শোকসভার মাধ্যমে এ বছরের মতো শোকের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।

পরিবারের সবাই ডেঙ্গু আক্রান্ত by পিয়াস সরকার

রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। জরুরি বিভাগের পেছনেই মসজিদ। আর দেয়ালের বিপরীতে ক্যান্টিন। এই ক্যান্টিনের সামনে দুটি চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন ৩ জন রোগী। তারা প্রত্যেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত। আবার ৩ জনই একই পরিবারের সদস্য। বাবা-মা-ছোট ভাইয়ের পাশে বসা বড় মেয়ে। পাশে বসা তার ছোট খালা।
আর রক্ত পরীক্ষা, খাবার, ওষুধ ইত্যাদি আনা নেয়ায় ব্যস্ত তার স্বামী।

পুরো হাসপাতাল জুড়ে ছড়াছড়ি ডেঙ্গু রোগীদের। ঠাঁই নেই বেড, কেবিন এমনকি বারান্দাতেও। আশরাফুল হক। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বয়স তার ৪৮। থাকেন মোহাম্মদপুরের লোহারগেইট এলাকায়। তিনি পেশায় লন্ড্রি দোকানদার। এছাড়া সেই দোকানে বিক্রি করেন বালিশ, কোলবালিশ, জাজিম ইত্যাদি। তার স্ত্রীর নাম রোকসানা বেগম। তার প্রেসক্রিপশনে লেখা বয়স ৪০। দোকানটি ঘিরেই তাদের সংসার। স্বপ্ন। এই দম্পতীর দুই সন্তান। বড় মেয়ের নাম ইয়াসমিন আরা। বিয়ে হয়েছে বছর খানেক আগে। আর নবম শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে। প্রেসক্রিপশনে লেখা নাম মো. রবিন। বয়স ১৩। এই সাজানো গোছানো ছোট পরিবারটি ডেঙ্গুর ছোবলে জর্জরিত।
গতকাল বুধবার দুপুর দুটার দিকে দেখা যায় তাদের মায়ের চলছে স্যালাইন। বাবার হাতেও লাগানো ক্যানোলা। আর ছোট ভাই ঘুমে কাতর। পাশে বসে বাবার সঙ্গে কথা বলছিলেন মেয়ে।

ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার লন্ড্রীতে ছিলেন তাদের বাবা আশরাফুল। শরীর খারাপ হলে ৮ টার দিকে লন্ড্রি থেকে বাড়িতে চলে আসেন। সাধারণত তিনি বাড়ি ফেরেন রাত ১১টার দিকে। তাদের দোকানে কাজ করেন ফুপাতো ভাই রাসেল। রাতেই হালকা জ্বর অনুভুত হয়। পরদিন তিনি আর লন্ড্রিতে যাননি। সেদিন প্রতিবেশীর পরামর্শে শিয়া মসজিদ এলাকায় করান রক্ত পরীক্ষা। তবে কোন ডেঙ্গুর লক্ষণ ধরা পড়েনি সেদিন। এরপর সেদিন রাতে ছোট ভাইয়ের দেখা দেয় জ্বর। আর দেরি করেন না তারা। বাবা ও ছোট ভাইকে নিয়ে চলে আসেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষা করান। দুজনরই ধরা পড়ে ডেঙ্গু।
সেদিন থেকে চলতে থাকে চিকিৎসা। শরীর দুর্বল লাগায় শনিবার রাতে মেয়েকে হাসপাতলে রেখে বাড়িতে চলে আসেন মা। বাবা ও ভাইয়ের পাশেই ছিলেন তিনি। কিন্তু রাতে জ্বর দেখা দেয় মায়ের। লন্ড্রির দায়িত্বে থাকা ফুপাতো ভাই সকালেই নিয়ে আসেন হাসপাতালে। রক্ত পরীক্ষার পর জানতে পারেন- ডেঙ্গু।

ভীষণ অনিশ্চয়তায়, ঘুমহীন দিন কাটছে পরিবারটির। প্রত্যেকের শরীর দুর্বল। কথা হয় ইয়াসমিনের স্বামী লোকমানের সঙ্গে। তিনি পেশায় সিএনজি চালক। এছাড়া তার রয়েছে ৩টি সিএনজি ও ১০টির মতো রিকশা। তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিনই ৩ জনের রক্ত পরীক্ষা করাই। এখানে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাই বাইরে থেকে করে আনি। এই রিপোর্ট আনা নেয়াতে চলে যায় দিনের ৫/৬ ঘণ্টা।

তিনি জানান, প্রতিটি পদক্ষেপে বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন তিনি। বড় বিপত্তি প্রসাব পায়খানা। শাশুড়িকে সঙ্গে করে নিয়ে যান খালা ও তার স্ত্রী। আর শ্যালককের সঙ্গে থাকেন তিনি। এতে খুব একটা ধকল না হলেও শ্বশুরের সঙ্গে থাকতে হচ্ছে একজনকে। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। এতে ভীষণ বিব্রত তিনি। তবে পাশে না থেকে উপায় নেই বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, প্রত্যেকের রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে প্রতিদিন। তবে তার শ্বশুরের অবস্থা কিছুটা খারাপ। তার রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা উঠা-নামা করছে। আর শ্বাশুড়ির জ্বরটাও কমছে না। সেখানে দায়িত্বরত নার্স জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দুজনেরই ডায়াবেটিক থাকার কারণে একটু ধীর গতিতে উন্নতি হচ্ছে। আর তাদের ছেলের অবস্থা উন্নতির দিকে।

কথা হয় মেয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে এখানে আছি। ভয়ে আছি। আব্বা ঘুামাতে পারছেন না। রাতে ঘুমালে কেঁপে কেঁপে উঠছেন। বুকে কফ জমে আছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আম্মা সারাদিন কান্নাকাটি করে। ছোট ভাইটা কিছুই খেতে চায় না। আমার স্বামী শুক্রবার থেকে এখানে।

ফুপাতো ভাই ও লন্ড্রির দোকানে কর্মরত রাসেল বলেন, আমরা থাকি লোহার গেটের পাশে। আর এখানেই একটি ক্যানেল রয়েছে। এটি এতো ময়লা আর দুর্গন্ধযুক্ত। এতে জমে আছে পানি। এটা একটা মশা তৈরির কারখানা। এখানে সারাবছর আটকে থাকে পানি। কিছুদিন আগে খনন করা হলেও এখন আবার সেই পূর্বের অবস্থা বিরাজ করছে।

দায়িত্বরত চিকিৎসক তাসলিমা বলেন, ছোট ছেলেটির অবস্থা ভালো। তাকে হয়তো আজই ছেড়ে দেয়া হবে। আর মায়ের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত। তবে ডায়াবেটিক থাকায় কিছুটা পর্যবেক্ষণে রাখতে হচ্ছে। আর তার বাবার অবস্থা কিছুটা বিপদজনক। তার রক্তের প্লাটিলেট উঠা নামা করছে।

শ্রীলংকায় ইস্টার হামলার জেরে পদত্যাগকারী মন্ত্রীদের ফের দায়িত্ব গ্রহণ

শ্রীলংকায় ইস্টার সানডেতে প্রাণঘাতী হামলার পর সমালোচনার মুখে পদত্যাগকারী মুসলিম মন্ত্রীরা আবারো সরকারে যোগ দিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে পুলিশ নির্দোষ রিপোর্ট দেয়ার পর তারা শপথ গ্রহণ করেন।

২১ এপ্রিলের হামলার পর স্থানীয় একটি জঙ্গিগ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে শতাধিক মুসলমানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনটি চার্চ ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ওই হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়।

এক বৌদ্ধ এমপি মুসলিম এমপি ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংযোগের অভিযোগ আনার পর জুনের গোড়ার দিকে নয় জন সরকারি এমপি ও বেশ কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি যেসব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সম্প্রতি পদত্যাগ করেছিলেন তারা গতরাতে ফের শপথ গ্রহণ করেছেন।

এমপিদের এক আইনজীবী বলেন যে পুলিশ তদন্ত রিপোর্টে নির্দোষ ঘোষণার পর তারা তাদের পুরনো পদে ফিরে যেতে রাজি হন।

শ্রীলংকার ২১ মিলিয়ন জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলমান। সেখানকার মুসলিম নেতারা বলছেন যে হামলার পর থেকে তাদের সম্প্রদায় সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রাণির শিকার হচ্ছে।

শ্রীলংকা মুসলিম কংগ্রেসের নেতা রউফ হাকিম বলেন, তার সম্প্রদায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করার পরও সম্মিলিত প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে।

বোমা হামলার পর শ্রীলংকার বেশ কয়েকটি শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বৌদ্ধ চরমপন্থীদের হামলায় এক মুসলমান নিহত হয়। মুসলমানদের শত শত বাড়ি, দোকান ও মসজিদ ভাংচুর করা হয়।

তখন থেকে শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা বহাল রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জে না মালয়েশিয়ায়?

ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এখন পর্যন্ত মারা যাওয়ার সংখ্যা কমপক্ষে ৪১ জন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এডিস মশা বৃদ্ধির তুলনা করে আলোচনায় আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কিন্তু, গত কয়েকদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কেউ বলছেন মন্ত্রী মানিকগঞ্জে বন্যাপীড়িতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন। যদিও সংবাদকর্মীরা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তাকে দেখছেন না।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেলো, তিনি মালয়েশিয়ায় গেছেন। আরো জানা গেলো, তিনি সরকারি কোনো কাজে যাননি। ঢাকা বিমানবন্দর সূত্র উল্লেখ করে প্রথম আলো সংবাদ প্রকাশ করেছে, গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সপরিবারে মালয়েশিয়ায় গেছেন। এমন দুর্যোগকালে তার মালয়েশিয়া যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইন আজ (৩১ জুলাই) কথা বলেছে সাবেক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত-এর সঙ্গে।

সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, “আমার মনে হয় যে এধরনের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে প্রত্যেককে তার নিজস্ব দায়িত্বের জায়গায় থাকা এবং কাজ করা উচিত। এটি তার বিবেকের ব্যাপার। নিঃসন্দেহে এখন দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে লন্ডন থেকে ফোন করেছেন। আমি মনে করি, একটি জাতীয় দুর্যোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এটি আমাদের সবাইকে মিলেই মোকাবিলা করতে হবে।”

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, “যদি ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকে তাহলে মন্ত্রী কোথায় থাকলেন এটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের ধারাবাহিকতা যদি সঠিকভাবে চলতো, ডেঙ্গুর পূর্বাভাস অনুযায়ী কাজ যদি সঠিকভাবে করা হতো তাহলে কারোর উপস্থিতি আছে কী নেই সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতো না। উনিতো অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকতে পারতেন। তাহলে আমরা ডেঙ্গুতে ভুগবো, কী ভুগবো না? আমার প্রশ্ন এ জায়গায়।”

“এধরনের দুরবস্থায় সরকারি ট্যুর বাতিল করে দেশে থাকার কথা” উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “সব সরকারি কর্মচারী, মন্ত্রীদের মাথার ভেতর আছে প্রধানমন্ত্রী বললে পরে ঘুম থেকে উঠে কাজ করবেন। এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী আজকে আছেন, তিনি কালকে পদত্যাগ করতে পারেন। তাতে কী দেশ অচল হওয়ার কথা? তা তো হওয়ার কথা না। এটি আমাদের প্রত্যেককে বুঝতে হবে।”

“আমার কাছে মন্ত্রী কোথায় গেলেন বা কোথায় থাকলেন তা এই প্রযুক্তির যুগে এটি গুরুত্বপূর্ণ না। আমি ধরেই নিচ্ছি যে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। তাহলে কী বাংলাদেশের মানুষ সেসময় ডেঙ্গুতে ভুগবেন? এই প্রশ্নটির উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাওয়া যেতে পারে।”

সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, “দেখুন, দায়িত্বশীল মানুষগুলোকে সবসময় দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। যখন দায়িত্বপূর্ণ মানুষগুলো একটি দুর্যোগময় মুহূর্তে ‘হাইড অ্যান্ড সিক’ করেন, বা রাষ্ট্র যখন সঙ্কটে থাকে তখন এ ধরনের খেলা দেশের জন্যে প্রচণ্ড ক্ষতিকর। এতে সমাজে খারাপ বার্তা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিআরও বলছেন তিনি মানিকগঞ্জে আছেন। আমাদের সংবাদ প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন উনি সেখানে নেই। এই ‘হাইড অ্যান্ড সিক’ খেলাটি খুবই দুঃখজনক। উনি মানিকগঞ্জে থাকলে সেখানকার ডিসি সাহেবকে ফোন করলে তা জানা যাবে।”

“এই মুহূর্তে সমস্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ঠাঁই নেই। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলে গেলেন মালয়েশিয়ায়। তিনি চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর এটি সময় নয়। এই সময় তাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা। প্রতিদিন হাসপাতালগুলো মনিটর করার কথা। মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে কী না সেটি দেখার কথা। বেসরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত বিল নিচ্ছে কী না সেটি চেক করার কথা। তিনি সেগুলো বাদ দিয়ে চলে গেলেন বিনোদন ভ্রমণে। আমি মনে করি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। উনি এটি করতে পারেন না। একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। শপথের সময় তার অঙ্গীকার ছিলো দেশের প্রতি সঠিক সময়ে সঠিক দায়িত্ব পালন করার।”

“এদেশে স্বাস্থ্যখাতে দুর্যোগ চলছে” উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “একদিকে, তিনি স্বাস্থ্যখাতে লুটপাট বন্ধ করতে পারেননি। যারা হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রপাতি সাপ্লাই দেওয়ার কথা বলে তা সাপ্লাই না দিয়েই অর্থ আদায় করে চলে যায় তাদেরকে তিনি আটকাতে পারেননি। অন্যদিকে, যখন সারা বাংলাদেশে সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসার জন্যে ভিড় করছেন সেই মুহূর্তে তিনি চলে গেছেন পরিবারকে নিয়ে ভ্রমণ করতে। জাতির সঙ্গে এটি এক ধরনের প্রতারণার সামিল। আমি এটিকে দুঃখজনক মনে করি। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমি সেটিই প্রত্যাশা করি।”

সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতির পুরো বিষয়টিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবরই সিটি করপোরেশনের বিষয় বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। এটি সিটি করপোরেশনের বিষয় বটে, তবে এর সেকেন্ডারি স্টেজটি অর্থাৎ রোগীদের দেখার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। দুর্ভাগ্যজনক হলো যে আমরা তা দেখিনি। যদিও, গত দুই-একদিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।”

“মন্ত্রী কোথায়? এমন প্রশ্ন খুবই দুর্ভাগ্যজনক” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিউজটি দেখেছি। কেউ বলছেন তিনি মালয়েশিয়ায়, কেউ বলছেন তিনি মানিকগঞ্জে। আমার ধারণা উনি দেশে নেই। ওই প্রতিবেদনেই রয়েছে যে তার ফোনে রোমিংয়ের আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে। যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে মন্ত্রী তখন নিজেই দেশে নেই। আমি মনে করি, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। কারণ, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এখন চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা দরকার। বিশেষ করে আগামীতে যদি আরো ১ বা ২ হাজার রোগী বেড়ে যায় তাহলে এমন হতে পারে যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি করতে হতে পারে। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে সেখানে অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপনের করা জরুরি। যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে আগামী কয়েকদিন তা আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে না থাকলে এই পুরো বিষয়টি কে করবেন?”

“শুনলে অবাক হয়ে যাবেন- শুধু স্বাস্থ্যমন্ত্রীই নন, মন্ত্রণালয়ের আরো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা বিদেশে রয়েছেন। আমি জানি কয়েকটি হাসপাতালের পরিচালকও বিদেশ রয়েছেন। মুগদা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেন সেখানকার পরিচালক ভিয়েতনামে রয়েছেন। আমি জানি না, এগুলো দেখার কেউ আছেন কী না। আমাদের দেশে দুর্ভাগ্য যে যতোক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী না দেখেন ততোক্ষণ পর্যন্ত কিছু হয় না।”

“গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের স্ত্রী ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছেন। আজ সকালে জানলাম, পুলিশের একজন এসআই মারা গেছেন। তার মানে ডেঙ্গুর বিস্তার ও ভয়াবহতা কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা এলাকায় নয়, এটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের সচেতনতা তৈরি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যে দরকার ছিলো একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। এর মূল দায়িত্ব নিতে পারেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অথবা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। সেটিতো এখন হওয়ার নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই নেই, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ধারণা তিনি জরুরি ভিত্তিতে হয়তো আজ-কালকের মধ্যে চলে আসবেন। যেহেতু এ নিয়ে সমালোচনা উঠেছে সেহেতু হয়তো দুই-একদিনের মধ্যে উনাকে পাওয়া যাবে।

‘একটি মুহূর্তের জন্যও বাবাকে ভুলতে পারি না’ by রিপন আনসারী

মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু। দেশের শিল্পবিপ্লবের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বরেণ্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও মানবসেবাসহ সর্বগুণে গুণান্বিত ছিলেন বলেই সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জের সর্বজন মানুষের সম্মান এবং ভালোবাসার এক নিদর্শন হয়ে আছেন তিনি। সততা আর আদর্শ ছিল যার জীবনের মহৎ গুণ। সেই গুনের অধিকারী ও আলোকিত এই মানুষটি নেই। তবে তার কর্মগুণের কারণে মানুষের  মাঝে অমর হয়ে আছেন।
সাবেক মন্ত্রী ও শিল্পপতি মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। আজকের এইদিনে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন অনন্তকালের ঠিকানায়।
ঘুমিয়ে আছেন তারই হাতে গড়া মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে দৃষ্টিনন্দন মসজিদের পাশে। দিন, মাস এবং বছর পেরিয়ে গেলেও বিন্দু পরিমাণ শোক কাটেনি মুন্নু  পরিবারে। প্রিয় এই মানুষটির কথা মনে করে সর্বক্ষণই তাদের চোখে পানি ঝরে। মুন্নু সিটিতে সমাহিত বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রায়ই কাঁদতে দেখা যায় পরিবারের বড় কন্যা মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতাকে। তার বাবা ছিলেন তার আদর্শ। ছোট থেকেই বাবার সেই আদর্শ অনুসরণ করেই আফরোজা খান রিতা পথ চলছেন। বাবার কাছ থেকে শিখেছেন কীভাবে ব্যবসা, রাজনীতি, সামাজিকতা আর মানবসেবা করতে হয়। পিতার মতো তিনিও সাধারণ মানুষের কাছে আলোকিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন অনেক আগে থেকেই। বাবা চলে গেলেও যোগ্য পিতার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তার বাবার রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ হাতেই পরিচালনা করে আসছেন আফরোজা খান রিতা।
একান্ত আলাপচারিতায় আফরোজা খান রিতা মানবজমিনকে তার বাবার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেন,  কি যে হারিয়েছি বোঝাতে পরবো না। একটি মুহূর্তের জন্যও বাবাকে ভুলতে পারি না। তাকে ছাড়া সব কিছুই যেন খাঁ খাঁ করছে। ঘরে বাইরে যে দিকেই চোখ বুলাই শুধুই বাবার স্মৃতি ভেসে উঠে। 
বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন আদর্শবান মানুষ এবং আদর্শবান পিতা। তিনি ছিলেন আমাদের অহঙ্কার, আমার আদর্শ এবং আমার পরিবারের বটবৃক্ষ। শিশুকাল থেকেই যার শীতল ছায়ায় একটু শান্তির নীড় খুঁজে পেতাম। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের পুরো পরিবারকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বড় অসময়ে চলে গেলেন।
আফরোজা খান রিতা বলেন, সেই ছোট কাল থেকেই আমরা দুই বোন তার কাছ থেকে অসম্ভব ভালোবাসা পেয়েছি।  আমাদেরকে ‘মা’ ছাড়া কোনো সময় ডাকতেন না। সর্বক্ষণ বাবার সেই ‘মা’ ডাক আমার কানে ভেসে বেড়ায়। খাবার সময় হলেই  বাবা-মা খাবার নিয়ে টেবিলে বসে অপেক্ষায় থাকতেন আমি কখন আসবো। আমি এলেই তারা খাবার শুরু করতেন।  কিন্তু আজ দু’টি বছর খাবার টেবিলে বাবাকে পাশে পাই না। বাবার অভাব আর স্মৃতিগুলো সর্বক্ষণ আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। একটি মুহূর্তের জন্য আমি তাকে ভুলতে পারি না। আজ দু’টি বছর ধরে আব্বা বলে ডাকতে পারি না। হৃদয়ের ভেতর কি যে কষ্ট  হয় তা কাউকে বোঝাতে পারবো না।
রিতা বলেন, আমি দেখেছি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা তার সততা থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি। একজন আদর্শবান পিতার সন্তান হয়ে তাই আমি গর্বিত। তিনি জীবদ্দশায় স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। তার স্বপ্ন ছিল মানিকগঞ্জের বুকে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠা করা। আর মানিকগঞ্জের বুকে প্রথম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন আমার বাবা। স্বপ্ন ছিল গ্রামের বুকে আন্তর্জাতিক মানের স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সে স্বপ্নও তার পূরণ হয়েছে।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অসম্ভব দুর্বল ছিলেন তিনি। তাই তো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আর গরিব-দুঃখী মানুষের জন্য কাজ করতে তিনি বেশি পছন্দ করতেন। হরিরামপুরে পদ্মার থাবায় যারা বাড়িঘর হারিয়েছেন, যাদের মাথা গোঁজার  কোনো ঠাঁই ছিল না তাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন রিতা আবাসন প্রকল্প। এছাড়া তার হাতে গড়া মুন্নু সিরামিক, মুন্নু ফেব্রিক্স, মুন্নু অ্যাটেয়া, মুন্নু নার্সিং মেডিকেল কলেজসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে যেখানে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ  পেয়েছেন। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী মানুষ আমার বাবাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন, ভালো বাসতেন।
পিতার রাজনীতি জীবন সম্পর্কে আফরোজা খান রিতা বলেন, আমার বাবা সারা জীবন  মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মানুষের বিপদ-আপদে সব সময়ই ছুটে বেড়াতেন। কখনো ক্লান্ত হননি। রাজনীতি করতে গিয়ে কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল বলেই চার বার হয়েছেন এমপি, হয়েছেন মন্ত্রী। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চারবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে একই সঙ্গে নির্বাচন করে দু’টি আসনেই জয়লাভ করে তার জনপ্রিয়তার কারিশমা দেখান। দলীয় নেতাকর্মীদের আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা ছিল তার প্রতি। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দলের প্রতি ছিল তার প্রচণ্ড রকম ভালোবাসা। সব মিলিয়ে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ ছিলেন আমার বাবা। তার কর্মগুণের কারণে মানিকগঞ্জের প্রতিটি মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন। সেই সঙ্গে আমার রাজনীতি, ব্যবসা, সমাজসেবাসহ সব কিছু্‌র হাতেখড়িই হচ্ছেন আমার বাবা। বাবার  সেই  আদর্শকে সামনে রেখেই আমি পথ চলছি।      
সমস্ত আবেগ ছিল মানিকগঞ্জের মানুষকে ঘিরে: 
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর জীবনী নিয়ে ’আমার জীবন উপাখ্যান’- নামের একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইয়ের প্রত্যেকটি অক্ষরে অক্ষরে তুলে ধরা হয়েছে তার জীবন- সংগ্রামের সব গল্প। ২২৪ পাতার এই বইয়ের একজায়গায় মানিকগঞ্জের প্রতি তার সমস্ত আবেগ ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে হারুনার রশিদ খান মুন্নু বলেছেন, আমার সমস্ত আবেগ মানিকগঞ্জের মানুষকে ঘিরে। তাই রাজধানীর অভিজাত এলাকা ছেড়ে এসে আমি সব গড়েছি সোঁদা মাটির গন্ধজুড়ে থাকা প্রাণের মানিকগঞ্জে। মানুষ কিছুটা সচ্ছল হওয়া মাত্রই শহরমুখী হয়। আর আমি আমার ঝলমলে পৃথিবী ছেড়ে চলে এসেছি মাটির কাছাকাছি। আমার অন্য কোনো দায় ছিল না। অন্য কোনো মোহ ছিল না। আমার সমস্ত টান এবং মমত্ববোধজুড়ে মানিকগঞ্জের মাটি ও মানুষ। আমি তাদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমগ্র জীবন আমি মানিকগঞ্জেই থাকবো। আমার চলে যাওয়ার সময়-স্থান-প্রেক্ষাপট নিয়ে আমার অগ্রিম কোনো ধারণা নেই। তবুও আমি সবাইকে জানিয়ে রেখেছি, আমার কবরটা যেন এই মাটিতেই হয়। আমার আয়ু ফুরোবার পর এ মানিকগঞ্জের মাটিতে শেষ ঘুম ঘুমাতে চাই। মুন্নু সিটির ভেতরে জামে মসজিদের প্রাত্যহিক আজান যেন আমি শুনতে পাই। এ মাটি ছেড়ে আমি অন্য কোথাও যেতে চাই না। মানিকগঞ্জের প্রতি আমার আবেগের প্রাবল্য এখানেই। বইয়ে লেখা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর শেষ চাওয়াটাও পূরণ হয়েছে।
মুন্নুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে যা থাকছে-
আজ বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের গিলন্ড এলাকায় মুন্নু সিটিতে মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালন করবে মুন্নু পরিবার।
মৃত্যুবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে মুন্নু সিটিতে হারুনার রশিদ খান মুন্নুর সমাধিতে প্রথম ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মুন্নু পরিবারের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত থাকবেন, মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় মেয়ে আফরোজা খান রিতা, মুন্নু ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মুন্নুপত্নী হুরুন নাহার রশিদ, মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান ও আফরোজা খান রিতার স্বামী মঈনুল ইসলাম স্বপন, মুন্নু সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আফরোজা খান রিতার বড় ছেলে রাশিদ মাইমুনুল ইসলাম এবং মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচলাক ও আফরোজা খান রিতার ছোট ছেলে রাশিদ রাফিউল ইসলাম। এরপর শ্রদ্ধা জানাবেন মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সকল প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশজীবী, সামাজিক,
সাংস্কৃতিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষজন।
সকাল থেকেই হুরুন নাহার রশিদ জামে মসজিদ ও মরহুমের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে কোরআন তিলাওয়াত। মুন্নু গ্রুপের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে দোয়া মাহফিল। বিকালে মুন্নু ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মুন্নু সিটিতে মরহুমের আত্মার মাগফিরত কামনায়  অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
এছাড়া হারুনার রশিদ খান মুন্নুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতবারের ন্যায় এবারও মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা দিনব্যাপী বিনা পয়সায় রোগী দেখবেন। এছাড়া মাসব্যাপী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অপারেশনে থাকছে ২০% ভাগ ছাড়।

ভিআইপি সংস্কৃতি অসাংবিধানিক, ক্ষমতার অপব্যবহার -টিআইবি

বাংলাদেশে ভিআইপিদের বিশেষ সুবিধা অর্জনের বিষটি অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "ফেরিঘাটে ছাত্র মারা যাওয়ার ঘটনা ভিআইপি হিসেবে তাদের বিশেষ সুবিধা অর্জনের নামে অসাংবিধানিক, সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, বৈষম্যমূলক এবং একই সাথে অনৈতিক ও অমানবিক দৃষ্টান্ত। আমাদের সংবিধানে পরিষ্কারভাবে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে।"
এ ধরণের চর্চাকে সুস্পষ্টভাবে 'ক্ষমতার অপব্যবহার' বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার জন্য একটি ফেরি ছাড়তে তিন ঘণ্টা দেরি করায় সংকটাপন্ন এক রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুল ছাত্র তিতাস ঘোষকে যখন ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল তখন মাদারীপুরের একটি ফেরিঘাটে দীর্ঘসময় আটকে ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি।
এ ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর সরকার এ ঘটনার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মিস্টার ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তথাকথিত ভিআইপি সুবিধা রয়েছে। তবে সেই সুবিধার 'একটা সীমারেখা' থাকতে হবে।
তিনি বলেন, " বাংলাদেশে যে ভিআইপি তার জন্য সুবিধার সীমারেখা রয়েছে। যারা ভিআইপি তাদের কার্যালয় নির্ধারিত, তাদের চেয়ারটা নির্ধারিত, তাদের গাড়িটা নির্ধারিত, তাদের বাড়িটা নির্ধারিত। এই ধরণের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।"
তবে জনগণের ব্যবহারযোগ্য যে সুযোগ-সুবিধা যেমন রাস্তাঘাট, তা তারা [ভিআইপি ব্যক্তিরা] দখল করে নিবেন বা বন্ধ করে দেবেন - তা কোন ভিআইপি আচরণ হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার মতে, "ভিআইপি হতে গেলে ভিআইপির সত্ত্বাটা তা অর্জন করতে হয়। সেটা জোর করে আদায় করা যায় না। মানুষকে বিপদে ফেলে জিম্মি করে ভিআইপি সুবিধা ভোগ করা কোন অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"
তিনি বলেন, ভিআইপি সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে চলে গেছে।
কিছুদিন আগে, ভিআইপিরা দাবি তোলেন যে রাস্তার একটা নির্ধারিত অংশ তাদের জন্য রাখতে হবে এবং বিমানবন্দরে তাদেরকে নিরাপত্তা তল্লাশি করা যাবে না।
মিস্টার ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "ক্ষমতার এধরণের সীমাহীন অপব্যবহার কোনভাবেই একটা গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না। ভিআইপিদের সুনির্দিষ্টভাবে সীমারেখা চিহ্নিত থাকতে হবে যে কোন কোন সুযোগ-সুবিধা তারা পাবেন আর কোন কোনটা পাবেন না।"
"ভিআইপিদের বিশেষ সুবিধার বোঝাটা যেহেতু জনগণকেই শেষমেশ নিতে হয় - সেটা অর্থমূল্যে হোক কিংবা মানসিক জীবনের মূল্যে হোক, তাই তাদের মতামত নিতে হবে যে তারা এই বোঝাটা নিতে চায় কিনা," তিনি বলেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্বলন

শোকের মাস আগস্টের প্রথম প্রহরে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরেই মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয়। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ অন্যরা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে একই কর্মসূচি পালন করা হয়।

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ

শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক  সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি।
বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ মাসে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ জানান, মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ সকালে কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ই আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন।

উসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা নিহত!

প্রয়াত আল-কায়েদা প্রধান উসামা বিন লাদেনের ছেলে ও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হামজা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন গণামধ্যমের খবরে জানা গেছে।

তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর খবর দিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রচার করে এনবিসি নিউজ। তবে কোথায় কখন তিনি নিহত হয়েছেন কিংবা তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা আছে কিনা, কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করেননি।

যুক্তরাষ্ট্র তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে কিনা তাও পরিষ্কার না। হামজার নিহত হওয়া নিয়ে কোনো গোয়েন্দা তথ্য আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না।

গত বছরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির মিডিয়ায় প্রকাশ করা সর্বশেষ বিবৃতিতে আরব উপদ্বীপের লোকজনের বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন হামজা। এতে সৌদি আরবকেও হুমকি দেয়া হয়েছিল।

মার্চে সৌদি আরব তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। তখন যেকোনো দেশে হামজার অবস্থান কিংবা শনাক্ত করা সম্ভব এমন তথ্য দিতে পারলে ১০ লাখ ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

১১ সেপ্টেস্বর হামলার আগে ৩০ বছর বয়সী হামজা আফগানিস্তানে তার বাবার পাশে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পরে পাকিস্তানেও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।

১৯৮৯ সালে সম্ভত হামজা বিন লাদেন জন্মগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৬ সালে তার বাবা আফগানিস্তানে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। আল-কায়েদার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে বাবার পাশে হামজাকেও দেখা গেছে।

২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের এক অভিযানে উসামা বিন লাদেন নিহত হন। যে কম্পাউন্ডে উসামা নিহত হন, সেখানে হামজাকে দেখা যায়নি।

২০১৭ সালে এক প্রবন্ধে সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক এজেন্ট আলি সওফান বলেন, বাবার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের নেতৃত্ব নিতে হামজা প্রস্তুত হচ্ছেন।

ওসামার জীবিত তিন স্ত্রীর মধ্যে খাইরিয়া সাবারের গর্ভে জন্ম নিয়েছেন হামজা বিন লাদেন।

গত আগস্টে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় প্রধান ছিনতাইকারী মোহাম্মদ আত্তার মেয়েকে বিয়ে করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাণ হারায় দুই হাজার ৭৫৩ জন।

শুধু প্রাণের হিসেবেই নয়, এই ঘটনায় পাল্টে যায় বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র। ঘটনার পরপরই সন্দেহের তীর আল-কায়দার ওপর গিয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয় অস্বীকার করলেও ২০০৪ সালে হামলার দায় স্বীকার করেন আল-কায়দা প্রধান উসামা।

এবার ১৪ কেজি সোনার অলঙ্কার পরে শিবদর্শনে 'গোল্ডেন বাবা'

প্রত্যেক বছর কানওর যাত্রার সময় তাকে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে। কয়েক কেজি সোনার গয়না পরে গাড়ির ছাদে চেপে দর্শকদের হাত নাড়তে নাড়তে জাতীয় সড়ক দিয়ে এগিয়ে যান গোল্ডেন বাবার ওরফে সুধীর মাক্কার। সন্ন্যাস নেয়ার আগে অবশ্য তিনি দিল্লিতে পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসা দেখভাল করতেন।
তবে এবার তার সোনালি জৌলুসে খানিক ঘাটতি দেখতে পারেন ভক্তরা। প্রত্যেক বারের মতো এবছরও তিনি সামিল হচ্ছেন কানওর যাত্রায়। এই নিয়ে ২৬ তম কানওর যাত্রা তার। তবে এবার শরীর বিশেষ ভালো না থাকায় গয়নাও খানিক কম পরবেন। ২০১৮ সালে ২০ কেজি সোনার গয়না পরে গোল্ডেন বাবা বেরিয়েছিলেন শোভাযাত্রায়। তবে এবার তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৪ কেজি সোনার গয়নায়। সোনার ওজন কমলেও গোল্ডেন বাবার জনপ্রিয়তা যে একবিন্দু কমেনি তা স্পষ্ট রোববার গাজিয়াবাদের রাস্তায়।
গোল্ডেন বাবা স্বয়ং জানালেন, ‘গতবছরই জানিয়েছিলাম রজতজয়ন্তী বর্ষই হবে আমার শেষ কানওর যাত্রা। কিন্তু মহাদেবের কৃপায় এবারও আসতে পারলাম। তবে গলায় দুটি অস্ত্রোপচার হওয়ায় সোনার হারের সংখ্য়া কমাতে হলো। তাই এবার ওই ১৪ কেজির মতো সোনা পরে যাত্রায় এসেছি।’
শুধু সোনা প্রীতি নয়, গোল্ডেন বাবার বিলাসবহুল গাড়িরও শখ রয়েছে ষোল আনা। তার সংগ্রহে রয়েছে ৮টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও জটিল ও স্পর্শকাতর

কাশ্মীরে অতিরিক্তি ১০ হাজার আধা সেনা মোতায়েনের সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্মে আরও রাশ টানতে চলেছে কেন্দ্র। কাশ্মীর জুড়ে নজরদারি, টহলদারি বাড়ানো হচ্ছে। হুরিয়ত নেতাদের গতিবিধি ও কাজকর্মের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর সঙ্গে জুড়ল নয়া ফরমান। কাশ্মীর উপত্যকায় কোথায় কতগুলি মসজিদ আছে? সেগুলিতে ঠিক কী কী পরিষেবা দেওয়া হয়? কারা সেগুলির পরিচালক? তাঁদের সামাজিক অবস্থান কি? কীভাবে সেগুলির কাজকর্ম চলে? মসজিদগুলির বার্ষিক আয়, ব্যয় রক্ষণাবেক্ষণ খরচের হিসেব নিয়ে যাবতীয় তথ্য চাইল কেন্দ্রীয় সরকার। এই মর্মে সরকারি নির্দেশনামা পৌঁছে গিয়েছে কাশ্মীর উপত্যকার প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের কাছে। দ্রুত সঠিক পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে মসজিদগুলি ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্ম প্রচণ্ড বাড়তে থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার এই তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছে। তাছাড়া প্রতি জুম্মাবারের নমাজের পর মসজিদগুলি থেকে ভারত বিরোধী স্লোগান, উত্তেজক ধর্মীয় বক্তৃতা দেওয়া এবং ইসলামিক স্টেটের পতাকা উড়িয়ে খিলাফত গঠনের ডাক দেওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মসজিদগুলি থেকে ভারতীয় সেনা, আধাসেনাকে লক্ষ্য করে লাগাতার পাথর ছোড়া এখন পরিচিত ঘটনা। দীর্ঘ তিন দশক ধরে কাশ্মীরের মসজিদগুলি থেকে জেহাদে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই ৩৫এ ধারা ও ৩৭০ ধারার বিলুপ্তি চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যখন একের পর এক পদক্ষেপ করছে তখন মসজিদ সংক্রান্ত বিশদ তথ্য চাওয়াকে তারই অঙ্গ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি থানা ও পুলিশ সুপারকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকায় কতগুলি পেট্রোল পাম্প আছে? তার প্রতিটিতে জ্বালানি তেলের ধারণ ক্ষমতা কত? এবং কতগুলি ট্যাক্সি ও মালবাহী গাড়ি চলে তার হিসেব এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও জটিল ও স্পর্শকাতর হওয়ায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তাঁর অনুরোধে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিতে এককথায় রাজি হয়েছেন ফারুক আবদুল্লা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সময়ও চেয়েছেন মেহবুবা। মেহবুবার সাফ কথা, এখনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলাটা খুব জরুরি। উনি কখন উত্তর দেবেন তার অপেক্ষায় আছি। আমাদের জানতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক কী চাইছে? কেন এত সেনা, আধা সেনা কাশ্মীরে মোতায়েন হচ্ছে? একই কথা  বলেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাও।

এদিকে, অমরনাথ তীর্থযাত্রা এখনও পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই হচ্ছে। দুর্ঘটনার কোনও খবর নেই। এই অবস্থায় রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের পরামর্শদাতা কে বিজয় কুমার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অজস্র গুজব রটছে। এগুলিতে যাতে কেউ কান না দেন তার জন্য সরকার প্রচার চালাচ্ছে। সেনা মোতায়েন, ৩৫ এ ধারা বাতিল নিয়ে অযথা আতঙ্ক ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সরকার যা পদক্ষেপ করছে তা রাজ্যের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সুনিশ্চিত করতেই করছে। অন্যদিকে, পুলওয়ামার মাত্রিগাঁও এলাকায় পিডিপি দলের কর্মী লতিফ আহমেদ শাহকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক জঙ্গি। পিডিপি’র দপ্তরেই গুলি করা হয় তাঁকে। হামলার নিন্দা করেছেন মেহবুবা মুফতি।

ভারতের জন্য মার্কিন-ইরান উত্তেজনার অর্থ কি by টিসিএ রাঘবন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেভাবে উত্তেজনা বাড়ছে, সেখানে পরিচিত একটা ধারা নজরে আসে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এতে করে দুই দেশ বা এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য ঝুঁকি কিছু কমে গেছে। হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য বা আরব সাগর দিয়ে তেল পরিবহনের ব্যাপারে একটা স্থায়ী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মার্কিন-ইরান উত্তেজনা এই অঞ্চলকে স্থায়ী চরম উত্তেজনার অঞ্চলে পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে, ইরান তেল ট্যাঙ্কারে হামলা করেছে বা হামলায় উসকানি দিয়েছে, অতিরিক্ত নৌ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে তারা, এরপর ইরান কর্তৃক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় এ অঞ্চলে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেটা নিকট অতীতে কখনও দেখা যায়নি।
ওয়াশিংটন জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ প্রোগ্রাম অব অ্যাকশান (জেসিপিওএ) থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ায় যে সমস্যা শুরু হয়েছে, সেখানে নতুন সংযোজন হলো বর্তমান মার্কিন-ইরান সঙ্কট। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইরান ছাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য ছয়টি দেশ হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক ত্রুটিপূর্ণ সম্পর্ক শুধরানোর পথে এটা ছিল একটা উল্লেখযোগ্য অর্জন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও এ অঞ্চলে তাদের মিত্র – বিশেষ করে সৌদি আরব ও ইসরাইলের কাছে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে নিরস্ত রাখাটা একটা প্রধান ইস্যু। ইরানের নেতৃবৃন্দের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিটা তাদের উপরে আরোপিত চাপটাকে আরও বাড়ানোর একটা কৌশল মাত্র, ১৯৭৯ সাল থেকেই যে চাপটা তারা মোকাবেলা করে আসছে। ইরানের বিপ্লবের যে অর্জন সেটাকে ব্যর্থ করার জন্যই এটা করা হচ্ছে বলে ইরানের নেতৃবৃন্দ মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান, আরব বিশ্বে প্রায় এক সহস্রাব্দের মধ্যে একটা প্রধান শিয়া রাষ্ট্রের (ইরাক) আবির্ভাব, সিরিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ, এবং ইয়েমেনে সৌদি আরবের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে আরব বিশ্বে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি প্রকট হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের অব্যাহত বিরোধিতা সত্বেও এই ভূরাজনৈতিক অর্জন লাভ করেছে ইরান, যেগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যর্থ নীতির বহিপ্রকাশ।
ট্রাম্পের দৃষ্টিকোণ থেকে জেসিপিওএ প্রচেষ্টা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্রযুক্তি সংগ্রহের যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, সেটার কারণে তেহরানের নেতৃত্বাধীন শিয়া গোষ্ঠির শক্তি একটা অপ্রতিরোধ্য গতি পেয়ে যাবে।
ইরানের দিক থেকে এই ইস্যুটা এ রকম: পশ্চিম ও দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা এবং সেটাকে ব্যবহার করে ইরানের ঐতিহ্যগত শত্রুদের আঞ্চলিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা। তেহরানের দৃষ্টিতে, ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লব মেনে নেয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে অনীহা, সেটাই ইরানকে নিয়ে বর্তমানের ও অতীতের সমস্ত সঙ্কটের মূল কারণ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ইরানের মানসিকতা আরও কঠিন হয়েছে। তাছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণেও তারা কষ্ট করছে, বিশেষ করে ইরানের তেল আমদানিকারক দেশগুলোর উপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় সেটা ইরানের ক্ষতি করছে।
ভারতের জন্য মূল প্রশ্ন হলো কিভাবে তারা এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে এবং একই সাথে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে। ইরানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা একটি দিক। অন্যদিকে, উপসাগরীয় আরব দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করা। আরব অঞ্চলে বৃহৎ সহযোগিতামূলক ফ্রেমওয়ার্ক না থাকার কারণে ভারত এখন একটা দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছে, কারণ এ অঞ্চলে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে ভারতের।

ভারতে বিদ্বেষের স্রোতে ডুবছে সংখ্যালঘুরা by কৃতি সিং

ভারত সরকার যখন গোরক্ষা কমিটির প্রহারে মৃত্যু নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের ক্রুদ্ধ জবাব দিয়েছে, তখনই আরেক তরুণ মুসলিমকে পিটিয়ে মারা হয়।
তাবরেজ আনসারি নামের ২৪ বছর বয়স্ক ওই তরুণকে পেটানোর ভিডিও প্রচারের পর দেশব্যাপী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ওয়েল্ডার হিসেবে অন্য এক রাজ্যে কর্মরত আনসারি ঈদ উদযাপনের জন্য তার রাজ্য ঝাড়খন্ডে গিয়েছিল। গত ১৭ জুন তাকে মোটরসাইকে চুরির চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়। তাকে একটি থামের সাথে বেঁধে প্রায় ১৮ ঘণ্টা প্রহার করা হয়, হিন্দু দেবতার প্রশংসাসূচক ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয়।
তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চার দিন পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, সেখানে সে মারা যায়।
নোবেল পুরস্কারজয়ী ভি এস নয়পাল যে দেশকে লাখ লাখ বিদ্রোহের দেশ বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই ভারত এখন একের পর পিটিয়ে মারা ও জখম করার ঘটনা দেখছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর দেশব্যাপী প্রায় ২৬৫টি ঘটনার কথা জানা গেছে। এগুলোর প্রায় ৫৯ ভাগ ক্ষেত্রে শিকার হচ্ছে মুসলিমেরা। আর ৫৮ ভাগ হামলাকারী হচ্ছে হিন্দু।
গত ৫ বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত হামলা ১০ গুণ বাড়ার চিত্র পাওয়া যায় এতে। সমালোচকদের মতে, মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপির উত্থানের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এই বৃদ্ধি।
ঝাড়খন্ডে ২০১৬ সাল থেকে বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ১৪তম শিকার হলেন আনসারি। এ তথ্য পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ফ্যাক্টচেকার.ইনের। সাবেক সাংবাদিক সকেট গোখলে বলেন, প্রহারের ঘটনার সাথে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। আর বিজেপি-শাসিত রাজ্যে পুলিশের নিস্কৃয়তায় প্রহারের ঘটনায় সরকারি সমর্থনের প্রমাণ স্পষ্ট হয়।
গোরক্ষা কমিটি
প্রাচীন বর্ণবাদী ব্যবস্থা অনুসরণকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের মধ্যে যারা নিম্নবর্ণে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নির্যাতিত হয়েছে। দলিত নামে পরিচিত এসব শ্রেণির লোক মুসলিম সংখ্যালঘুদের মতো ক্রমবর্ধমান বিদ্বেসপ্রসূত হামলার টার্গেট হচ্ছে। ভারতে মুসলিমরা হচ্ছে সংখ্যায় ২০ কোটি, মোট জনসংখ্যার ১৪ ভাগ। তাদের ওপর হামলার ধরনটি যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী হামলার সমতুল্য।
পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রবলভাবে সামনে আসে ২০১৫ সালে মোহাম্মদ আখলাকের ঘটনায়। ৫০-এর কোঠায় বয়স্ক এই লোকটিকে উত্তর প্রদেশের দাদরিতে তার গ্রামে দাঙ্গাবাজেরা হত্যা করে। তার বাড়িতে জবাই করা বাছুরের গোশত আছে, এই সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে সরকারি তদন্তে দেখা যায়, তার বাড়িতে গরুর গোশত ছিল না। ওই হামলার এক আসামি মারা যায় ২০১৬ সালে। তখন গ্রামের অধিবাসীরা তার লাশ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেয়।
এরপর থেকে গো রক্ষাকারীদের তাণ্ডব আরো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে থাকে। ২০১৭ সালে ঝাড়খন্ডে ব্যস্ত বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩০ জনের একটি গোরক্ষা দল আলিমুদ্দিন আনসারিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
তিনি গরুর গোশত পরিবহন করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
গত বছর বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে মোহাম্মদ কাসিম নামের ৩৮ বছর বয়স্ক এক লোককে হত্যা করা হয় গরু চুরির অপবাদে।
জুলাইতে গরু পাচারের অভিযোগে রাজস্থানে রাকবার খান নামের একজনকে হত্যা করা হয়।
মোদির সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন ২১ মে প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইও। এতে বলা হয়, মুসলিম ও নিম্নবর্ণের দলিতদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে, তাদেকে ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে পম্পেও ২৫ জুন ভারত সফর করেন। তবে প্রতিবেদনটির সাথে পম্পেওর ভারত সফরের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সরকারের পরিসংখ্যানে গত দুই বছরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ব্যাপকভাবে বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও মোদি প্রশাসন সমস্যাটির সমাধান করেনি।
প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রধানত মুসলিমদের ওপর হামলার জন্য মোদির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার উস্কানিমূলক বক্তব্যের কথা বলা হয়।
তবে মোদি সরকার এর জবাবে জানিয়েছে, ভারত তার সেক্যুলার পরিচিতি, বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ও বহুত্ববাদী সমাজ নিয়ে গর্বিত।
পিটিয়ে মারার ঘটনা নিয়ে মোদি নীবর রয়েছে। তবে সাধারণ নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এর নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ঝাড়খন্ডে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে এজন্য কেন পুরো রাজ্যকে দোষী করা হবে। ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ বা কেরালার সহিংসতাকে একইভাবে বিবেচনা করা হবে।
ভারতীয় বামপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট উমার খালিদ বলেন, বিজেপিই সমাজে মেরুকরণ করছে।
তিনি বলেন, এল কে আদভানির নেতৃত্বে দাঙ্গা সৃষ্টিকারী সমাবেশের মাধ্যমে এই মেরুকরণ করা হয়েছে। এখন মোদির আমলে হামলার নিত্যদিনের ঘটনাগুলো ঘটছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাবদিহিতায় আনার মতো শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবকে এজন্য দায়ী।
এই অবস্থা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গোখলে। তিনি ঝাড়খন্ড পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সংখ্যালঘুবিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ হাই কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভারতে সংখ্যলঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যেসব অপরাধ হচ্ছে, সেগুলোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ প্রয়োজন। জেনেভা কনভেনশনে সইকারী হিসেবে এবং জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে ভারত সরকার প্রান্তিকদের রক্ষা করার প্রতি তার প্রতিশ্রুতিগুলোর সম্মান প্রদর্শনে বাধ্য। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, আমাদেরকে এখন আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করতে হচ্ছে।

কাশ্মিরে ৩৫-এ ধারা নিয়ে গরমিলের চেষ্টা হলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে: -মেহেবুবা

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ৩৫-এ ধারা নিয়ে গরমিল করলে তা রাজ্যে আগুন জ্বালানোর মতো হবে।

তিনি গত ২৮ জুলাই রোববার পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র (পিডিপি)প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন। মেহেবুবা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ৩৫-এ ধারা রক্ষা করতে লড়াইয়ের জন্য তৈরি থাকুন। ৩৫-এ ধারার ভিত্তিতে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারা কিছু বিশেষ অধিকার ভোগ করেন।

মেহেবুবা বলেন, আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে বলতে চাই যে, ৩৫-এ ধারা গরমিল করার চেষ্টা বারুদে আগুন ধরানোর মতো হবে। যদি কোনো হাত ৩৫-এ ধারা স্পর্শ করার চেষ্টা করে তবে কেবল সেই হাতই নয়, পুরো শরীরও পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। রাজ্যের বিশেষ মর্যাদায় কোনও প্রকারের হস্তক্ষেপ রোধ করতে তারা শেষ নিঃশ্বাস অবধি লড়াই করবেন বলেও মেহেবুবা মুফতি মন্তব্য করেন।

জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উগ্রহিন্দুত্ববাদী আরএসএস চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তাদের বক্তব্য, দ্বিতীয়বার আরও বড় জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসা মোদি সরকার এখনই এ কাজ না করলে পরে সমস্যা হবে। সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার এ নিয়ে দ্রুত হেস্তনেস্ত করতে চাচ্ছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দাদের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৫-এ ধারা শুরু থেকেই বাতিলের পক্ষে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার। গত কিছুদিন ধরে কাশ্মির উপত্যকায় জল্পনা ছড়িয়েছে আগামী অগস্টেই ওই ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপত্যকায় অতিরিক্ত আরও দশ হাজার আধাসেনা জওয়ান পাঠানোর সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে দিল্লির শাসক শিবির নিশ্চুপ রয়েছে।

৩৫-এ ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে। রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওমর আব্দুল্লাহর আশঙ্কা, স্বাধীনতা দিবসের (১৫ অগস্ট) আগেই কেন্দ্রীয় সরকার এনিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তার প্রশ্ন, ‘বিষয়টি এখনও আদালতের বিচারাধীন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকার এত তাড়াহুড়ো করছে কেন, বোঝা যাচ্ছে না।’

ওমরের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরোয়াভাবে কাশ্মিরিদের খাবার, গ্যাস, কেরোসিন তেল সংগ্রহ করে রাখতে বলা হচ্ছে। কারণ, কিছু দিনের মধ্যেই উপত্যকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হতে পারে। ওমরের আশঙ্কা, সরকার সম্ভবত ৩৫-এ ধারা খারিজ করার বিষয়ে ভাবছে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত নিলে কাশ্মির ফের অশান্ত হয়ে উঠবে বলে ওমর আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেছেন।
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি

ভ্রমণশিল্পে ভারত-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক সই

ট্যুর অপারেটরস আসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিওএবি) আর হিমালায়া হসপিটালিটি এবং ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের (এইচএইচটিডিএন) প্রতিনিধিরা শিলিগুড়িতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি ফলপ্রসূ হলে দুই সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং বাংলাদেশকে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে একসাথে তুলে ধরতে পারবেন।
টিওএবি পরিচালক তৌফিক রহমান বলেন, এই রকম উদ্যোগ আগে কখনো নেওয়া হয়নি। আজ আমরা এমওইউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারত এবং বাংলাদেশ ভ্রমণশিল্পের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। তাঁর মতে, দুই দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে একটা সার্কিট তৈরি করলে তা পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।
তিনি আরো বলেন, হিমালয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর সাথে আমরা জুড়ে দিতে পারি রাজশাহী ডিভিশন এর পাহাড়পুর যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে একটা আকর্ষণ হতে পারে। তা ছাড়া আমরা ভারতের হিমালয় দর্শন এর সাথে বাংলাদেশের গ্রামীণ পটভূমি দেখাতে পারি পর্যটকদের।
ভারত এবং বাংলাদেশের এই যৌথ প্রয়াস আগামী দিনগুলোতে অবশ্যই সার্থকতা পাবে বলে মনে করেন এইচএইচটিডিএন এর সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল।