Saturday, April 10, 2010

ছোটদের জন্যলিখে মিলল পুরস্কার by তানজিল রিমন

৪ মার্চ, বিকেল সাড়ে তিনটা। কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের দ্বিতীয় তলার সেমিনারকক্ষে আসতে থাকেন দেশের শিশুসাহিত্যিকেরা। তরুণ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠিত লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে কক্ষটি। কারণ, ‘ছোটদের মেলা’ সদ্য শেষ হওয়া অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বই থেকে কয়েকটি বিভাগে সেরা বই নির্বাচন করেছে। সেরা বইয়ের লেখকদের পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। ‘ছোটদের মেলা’ সংগঠনটি ‘ছোটদের আনন্দময় ভুবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ করে আসছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি ছোটদের বই প্রকাশ, পত্রিকা প্রকাশ, শিশুসাহিত্য চর্চা উল্লেখযোগ্য। ছোটদের মেলার সঙ্গে আমার পরিচয় আজ থেকে কয়েক বছর আগে। তখন আমি দশম শ্রেণীতে পড়ি। ছোটদের মেলা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ছোটদের লেখা ছড়ার বই ছড়াগুলো লিখেছে ছোটরা। এত দিন পর এসে বইটির প্রকাশক ছোটদের মেলার প্রধান আবু হাসান শাহীনের সঙ্গে পরিচিত হলাম। তিনি সেই বইয়ের আরও একজন লেখক উম্মে হাবীবাহ্ নাসরীনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আরেক লেখক জাহিদুল হাসান রুমানও এসেছিলেন। কথা হচ্ছিল তাদের সঙ্গে। এরই একপর্যায়ে অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছোটদের মেলার প্রধান নির্বাহী আবু হাসান শাহীন।
দুই পর্বের অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শুরু হয় দশ তরুণের বই আলোচনা। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত দশজন তরুণ লেখকের বই আলোচনা শুরু হয়। এই পর্বে সভাপতি ছিলেন ছড়াকার ফারুক নওয়াজ। দশ বইয়ের মধ্যে শরীফ উদ্দিন সবুজের লীন হয়ে যায় প্রিয় নগর বইটি এনায়েত রসূল, রুবামা ইয়াসমিন সুইটির একটা সাদা বক পাখি বইটি আহমেদ জসিম, আদিত্য রুপুর ছড়াপুরের রেলগাড়িটা বইটি তপন বাগচী, মালেক মাহমুদের ছড়ার বই ছড়া কই বইটি রহীম শাহ, আবিদ আজমের আমাদের ক্লাসে একটা পরী আছে বইটি মনি হায়দার, সাজ্জাদ হুসাইনের ফুলবাবু ভুলবাবু বইটি নিয়ে জগলুল হায়দার আলোচনা করেন। আলোচনা-সমালোচনায় জমে ওঠে অনুষ্ঠান। এ পর্বে তরুণ লেখকদের উদ্দেশে কথা বলেন ছড়াকার লুত্ফর রহমান রিটন ও আহমাদ মাযহার। প্রথম পর্ব শেষ হয় সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর কবিতা আবৃত্তি করতে মঞ্চে আসেন মনিরুজ্জামান পলাশ। তিনি ফারুক নওয়াজের সত্যি সত্যি মা এবং লুত্ফর রহমান রিটনের খোকার কাছে বাবার চিঠি আবৃত্তি করেন।
এরপর দ্বিতীয় পর্ব পুরস্কার বিতরণ। কিন্তু এই পর্বের সভাপতি দ্বিজেন শর্মা এখনো এসে উপস্থিত হননি। তিনি রাস্তায় যানজটে আটকা পড়েছেন। আসতে দেরি হচ্ছে। এ অবস্থায়ই এই পর্ব শুরু হলো। বিশেষ অতিথি কবি নাসির আহমেদ বলেন, ‘ছোটদের বইগুলো বড়রাও পড়তে পারে। বড়রাও মজা পায়। আমাদের সময় কেউ এভাবে পুরস্কার দেয়নি। এখন দিচ্ছে। এতে তরুণরা উত্সাহ পাবে।’ সাংবাদিক জাহীদ রেজা নূর বলেন, ‘প্রত্যেকটা বড় মানুষের ভেতরেই রয়েছে ছোট মানুষ। তারা একসময় ছোট ছিল। এ জন্য শিশুসাহিত্য সবার জন্যই উপযোগী। তবে পুরস্কার যেন কখনো অযোগ্য ব্যক্তির কাছে না যায়। যোগ্য ব্যক্তি পুরস্কার পেলে তাতে আনন্দ অনেক বেশি থাকে।’ এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কবি সিরাজুল ফরিদ, মোস্তফা হোসাইন প্রমুখ। বক্তব্য শুরু হতে হতেই অবশ্য চলে এসেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রকৃতিবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা।
এরপর সেরা বইয়ের লেখকদের হাতে অতিথিরা তুলে দেন পুরস্কার। চারটি ক্যাটাগরিতে মোট পনেরটি পুরস্কার জয়ীরা হলেন—প্রতিষ্ঠিত লেখক ক্যাটাগরিতে উপন্যাসে সেলিনা হোসেন, গল্পে ইমদাদুল হক মিলন, ছড়ায় মাহমুদউল্লাহ, রূপকথায় আমীরুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধে শরীফ খান, প্রবন্ধে খন্দকার মাহমুদুল হাসান, গোয়েন্দা সাহিত্যে মোস্তফা মামুন, রহস্য সাহিত্যে আহমেদ রিয়াজ। তরুণ লেখক ক্যাটাগরিতে নাসিরুদ্দীন তুসী, কামাল হোসাইন, দেওয়ান আজিজ, আশিক মুস্তফা। প্রথম সেরা বই ক্যাটাগরিতে মিজানুর রহমান মিথুন ও রিফাত কামাল সাইফ এবং সেরা আঁকিয়ে ক্যাটাগরিতে সব্যসাচী হাজরা। পুরস্কার নেওয়ার পাশাপাশি লেখকেরা তাঁদের অনুভূতি জানান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে আমার খুবই ভালো লাগে। তরুণেরা যেন প্রাণসঞ্চার করে। তাঁদের দেখলেই নতুন করে জীবন ফিরে পাই। পাই উচ্ছলতা। তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এই পুরস্কার প্রেরণা জোগাবে।’ তিনি বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ছড়া উত্সব করার ঘোষণা দেন। এই আয়োজনের জন্য তিনি ছোটদের মেলাকে ধন্যবাদ জানান। এরপর সভাপতির বক্তবে প্রকৃতি বিজ্ঞানী ও লেখক দ্বিজেন শর্মা বলেন, ‘যাঁরা শৈশব স্মৃতিকে অবিকল ধারণ করতে পারেন তাঁরাই শিশুসাহিত্যিক হতে পারেন। আর যাঁরা তরুণ সাহিত্যিক তাঁদের দেখলে আমি সব সময়ই আকৃষ্ট হই।’ তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করেন।

জীবন দিয়েই শুধু বোঝাতে হবে তাদের মূল্য কত by সারওয়ার জাহান

আবারও মৃত্যুর ঘটনায় শিরোনাম হলো গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা। তবে এবার পুলিশের গুলি খেয়ে বা পদদলিত হয়ে মৃত্যু নয়, আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হলো ২১ জনের। ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় একটি খবরের শিরোনাম ছিল এ রকম: গরিব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নিহত জরিনা বেগমের ছেলে বিলাপ করছিলেন এই বলে—‘এক লাখ টাকা দাম দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলো আমার মায়ের, বোনের লাশের দামও এক লাখ, আর লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য দেবে আরও ১৫ হাজার করে। গরিব গার্মেন্টসে কাজ করে আমার মা আর বোন যে এখন অনেক বড়লোক হয়ে গেছে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘জীবিত ও মৃত’ নামক ছোটগল্পে লিখেছিলেন ‘কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’, গরিব গার্মেন্টসের জরিনা বেগম, তাঁর মেয়ে ও আরও ১৯ জন গার্মেন্টস শ্রমিক জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেলেন তাঁদের মূল্য কত।
বাংলাদেশের এই হতদরিদ্র লোকগুলো যত দিন বেঁচে থাকে তত দিন আমাদের কাছে থাকে অপাঙেক্তয়; আমাদের ধারণায় এক ধরনের পরজীবী, যারা আমাদের অনুকম্পা নিয়ে বেঁচে থাকে। অথচ আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই যে এরা তা আমরা অনুধাবন করি না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে গার্মেন্টস শিল্পের এত অবদান, সেই শিল্পের ভিত্তিই হচ্ছে এ হতদরিদ্র মানুষগুলোর শ্রম। বছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আয় করছে এদের শ্রমের বিনিময়ে। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলো যখন কাজ পায় না, নিজের ক্ষুদ্র জমিটি বিক্রি করে কিংবা অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে তা পাঠায় দেশে। তাদেরই পরিশ্রমের ফসল আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্ত করে। আমাদের মধ্যে যাঁরা অবস্থাপন্ন তাঁরা বিদেশে গিয়ে ডলার পাঠান না, বিদেশের ব্যাংকে জমা রাখেন বা বাড়ি কেনেন। গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক তাঁর শ্রমের বিনিময়ে যে খাদ্য ফলান, তা নিয়ে আমরা গর্ব বোধ করি এবং বলি—বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ তাঁদের মূল্যায়ন আমরা করি না, করি সরকারের।
ঢাকা মহানগরের কথাই ধরা যাক। এক দিন যদি রিকশাচালকেরা রিকশা না চালান, অটোরিকশা, ক্যাব ও বাসচালকেরা তাঁদের গাড়ি বের না করেন, যদি গৃহকর্মীরা কাজে না আসেন, ফুটপাতের হকাররা তাঁদের বিক্রি বন্ধ রাখেন এবং নির্মাণ শ্রমিকেরা কাজ না করেন, কী অবর্ণনীয় দুর্দশায় না পড়ি আমরা! অথচ তাঁদের বিপদে আমরা কখনোই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না।
একটি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সব মানুষ, বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে যাঁরা বাস করেন, তাঁরা যাতে কাজ পান তার ব্যবস্থা করা। অথচ এই হতদরিদ্র মানুষগুলো কখনো সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকেন না। গ্রামে যখন কাজ পান না, ছুটে যান কাছাকাছি কোনো শহরে। সেখানে কাজ না পেলে ছুটে আসেন ঢাকায়। নিজের শ্রম বা সামান্য পুঁজি নিয়ে নিজেরাই নিজেদের কাজের ব্যবস্থা করেন। এভাবে তাঁরা নিজেরাই এক ধরনের অর্থনীতির পত্তন ঘটান, যাকে আমরা বলি অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি। আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিচিতি ছিল সনাতন খাত হিসেবে। উন্নয়ন অর্থনীতির আধুনিকায়ন তত্ত্বে এই সনাতন খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিলীন হয়ে যাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। কিন্তু কিথ হার্ট নামে একজন ব্রিটিশ নৃ-বিজ্ঞানী ১৯৭৩ সালে আফ্রিকার রাষ্ট্র ঘানায় এক গবেষণার মাধ্যমে দেখতে পান যে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এ খাতের একটি বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি এ খাতের নাম দেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত। পরবর্তী সময়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বিলীন হওয়া তো দূরের কথা, উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে এ খাত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রয়োজন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সমন্বয় ঘটানো।
বাংলাদেশের নগর-মহানগরে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার উদাহরণ আমরা দিয়েছি। তা সত্ত্বেও এ খাতের প্রতি যে আমরা নিষ্ঠুর, তা বলাই বাহুল্য। এ খাতে যাঁরা কাজ করেন, স্বল্প আয়ের কারণে তাঁরা কখনোই ভালো জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন না। তাঁদের আশ্রয় জোটে বস্তিতে। আগে বেশির ভাগ বস্তিই ছিল সরকারি জমিতে আর সরকারি জমিতে থাকার কারণে এগুলো ছিল বেআইনি, যার কারণে প্রায়ই এগুলো উচ্ছেদের শিকার হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বড় ধরনের উচ্ছেদ হয় ১৯৭৫ সালে। তবে সে সময় অনেক বস্তিবাসীকে টঙ্গী, মিরপুর ও ডেমরায় পুনর্বাসন করা হয়। এরপর ২০০২ সালে বড় ধরনের বস্তি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। তখন প্রায় ৫০ হাজার লোককে আগারগাঁওয়ের বস্তিগুলো থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও হাজার হাজার বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হয়।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ঢাকা মহানগরের পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান। যদিও ঢাকা মহানগরের প্রায় ৪০ ভাগ লোকই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, তাদের গৃহায়ন সমস্যা সমাধানে রাজউক কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। বরং সাধারণ জনগণের জমি অধিগ্রহণ করে তা উচ্চমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর কাছে প্লট বানিয়ে বিক্রি করেছে। গুলশান, বারিধারা, বনানী ও উত্তরার মতো পশ এলাকাগুলো তাদের প্রয়োজনেই তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের আরও সম্পদশালী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্প ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে আরও আট হাজার ৬৯১ একর জমি উচ্চমধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হচ্ছে। তাদের জন্য ঢাকার কাছে বানানো হচ্ছে আরও চারটি উপশহর।
২০০০ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকা মহানগরের বাসযোগ্য ভূমির মাত্র তিন ভাগের মালিকানা দরিদ্র পরিবারের। যেহেতু আয় কম, সেহেতু যাদের জমি নেই তারা বস্তিতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সরকারি জমি থেকে বস্তি উচ্ছেদের ফলে এখন শতকরা ৮০ ভাগ হতদরিদ্র পরিবারই ব্যক্তিমালিকানাধীন বস্তিতে বাস করে। এ পরিবারগুলো যে ভাড়া দেয় তা নেহাতই কম নয়। বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দরিদ্র বস্তিবাসী আধাপাকা ঘরের প্রতি বর্গ ফুটের জন্য ভাড়া দেয় ১০.১০ টাকা আর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো একই ধরনের ঘরের জন্য প্রতি বর্গ ফুটে ভাড়া দেয় ৫.২৭ টাকা। অপরদিকে, পাকা বাড়ির প্রতি বর্গ ফুটের জন্য দরিদ্র পরিবারগুলো ভাড়া দেয় ১০.২০ টাকা, মধ্যবিত্ত পরিবার দেয় ৭.১০ টাকা এবং উচ্চবিত্ত পরিবার দেয় ১২.৩০ টাকা।
এটা এখন অনেকটাই স্পষ্ট যে এই হতদরিদ্র পরিবারগুলো কিছুটা সরকারি সহযোগিতা পেলে তাদের জীবনযাপন অনেকটা সহজ করে নিতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত ক্ষমতাশালী চক্রের কারণে তা হয়ে উঠছে না। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিভিন্ন সংগঠনের চাপে উচ্ছেদকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য পাঁচ একর জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এই চক্রের কারণে সিদ্ধান্তটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু রাজউক এলাকার ভেতরেই প্রায় দুই হাজার একর কৃষি ও অকৃষি খাসজমি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে প্রায় দুই হাজার ৫০০ একর খাস জলাভূমি। এগুলোর অনেকাংশই ক্ষমতাধরদের দখলে। এগুলোর কিছু অংশে কি হতদরিদ্র পরিবারগুলোর বসবাসের ব্যবস্থা করা যায় না? এসব জমি দরিদ্র পরিবারগুলোকে দিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং এগুলোতে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে ভাড়া দিয়ে সরকার আয়ও করতে পারে। গবেষণা থেকে তা-ই বেরিয়ে এসেছে।
দারিদ্র্য বিমোচন বিগত সব সরকারের আমলেই সরকারি কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। গ্রামাঞ্চলে এ উদ্দেশ্যে তত্পরতা লক্ষ করা গেলেও শহরে, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরে এর বিপরীতটাই চোখে পড়ে। বস্তিবাসী হওয়ার কারণে হতদরিদ্র পরিবারগুলো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বলা হয়ে থাকে, এ ধরনের সযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে গ্রামের মানুষগুলো ঢাকায় এসে ভিড় করবে। এর মানে হচ্ছে নগরায়ণকে অস্বীকার করা। বিশ্বের কোনো উন্নত দেশই নগরায়ণ ছাড়া উন্নত হতে পারেনি। উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কৃষির ওপর নির্ভরতা কমে এবং নগরায়ণ ত্বরান্বিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শতকরা পাঁচ ভাগেরও কম লোক কৃষিকাজ করে থাকে। যুক্তরাজ্যে এ সংখ্যা দুই ভাগেরও কম। যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, ঢাকার বাইরে যে পাঁচ শ শহর রয়েছে সেগুলোকে আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী করা, যাতে সেই শহরগুলোতে হতদরিদ্র পরিবারগুলো কাজের সুযোগ পায়।
বৈষম্যের মাধ্যমে নগরায়ণের সমস্যাকে পাশ কাটানো যাবে না। যে সমাজে বৈষম্য বেশি সে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাও দুরূহ। অথচ ন্যায়বিচারই হওয়া উচিত সমাজের ভিত্তি। আল কোরআনে সূরা নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়; সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীন হোক আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্ঠতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুগামী হবে না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তো তার সম্যক খবর রাখেন।’ বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আহমেদ দিদাতের ভাষায়, ‘যে জাতি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা সম্পদের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে, সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য।’ আমরা কি সে পথেই ধাবিত হচ্ছি!
ড. সারওয়ার জাহান: প্রেসিডেন্ট, বিআইপি এবং প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বুয়েট, ঢাকা।
sarwarjahan@urp.buet.ac.bd

যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে যাক by মামুন রশীদ

স্বাধীনতা অর্জনের আগে তিনি যখন ছাত্ররাজনীতি করতেন, তখনই প্রগতিশীল সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অগ্নিকন্যা’ খেতাব পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি প্রশ্নাতীত সততা, নৈতিকতা ও সাহসিকতা অব্যাহত রেখেছেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান ১৪ দলীয় জোট সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি কৃষি খাতের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও খাদ্যশস্যের উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নীতি সংস্কার, সহজে ও সময়মতো কৃষি উপকরণ বিতরণ ও উত্পাদন খরচ কমানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলে জোরাল প্রতিশ্রুতি দেন। এরই আলোকে তিনি দেশের এক কোটি ৮২ লাখ কৃষকের কাছে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি পৌঁছাতে তাঁদের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরণের কাজও শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে এই প্রথমবারের মতো আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেখতে পেলাম। প্রিয় পাঠক, নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছেন যে আমি কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কথাই বলছি। যেহেতু দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৮ শতাংশই কৃষি কাজে নিয়োজিত, সেহেতু এই খাতের নেতৃত্ব দিতে তাঁকে যোগ্যতম ব্যক্তিত্ব মনে করি। কারণ ১৯৯৬-২০০১ সময়েও তিনি সাফল্যের সঙ্গে তত্কালীন সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
সরকার চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্যের উত্পাদন বাড়ানোর বিষয়ে বেশ জোর দিয়েছে। সে অনুযায়ী এই অর্থবছরে খাদ্যশস্য উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা তিন কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টনে প্রক্ষেপণ করেছে, যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮.১ শতাংশ বেশি। সরকার সত্যিকার অর্থেই কৃষিখাতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতার সমাধানেও মনোযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই সরকার সারের দাম সমন্বয় করে অর্থাত্ কমিয়ে তার একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। নবনির্বাচিত সরকার সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ইউরিয়া-বহির্ভূত সারে ভর্তুকি প্রদান, সার সরবরাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা অপসারণ এবং ডিজেল ও কেরোসিনে অব্যাহতভাবে ভর্তুকি দিয়ে কৃষি খাতে উত্পাদন খরচ কমানোর মতো সময়োপযোগী কিছু সঠিক নীতি-পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেদিকেও নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
পুরো ২০০৯ সাল জুড়ে নতুন সরকার বারবার কৃষি খাতে নীতি-সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই আসে সরকারের নেওয়া আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমের কথা, যেখানে কৃষিকে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিন হাজার ৪২৪ কোটি টাকার এই আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় কৃষি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য। যা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বা কার্যক্রমের ৬৯ শতাংশ। চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৩০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৭.৮ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয় মত্স্য, পশুপালন ও পানিসম্পদসহ সার্বিকভাবে কৃষি খাতের জন্য। বাজেটে সেচ-ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ কৃষি খাতে অবকাঠামো জোরদারকরণ, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো ও নদীভাঙন রোধের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো জোরদার করতে এডিপির আওতায় বরাদ্দ করা হয় এক হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ করা হয় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সে আলোকে ২০০৯ সালের নভেম্বরে এসে আবার সারের দাম কমানো হয়। এবার প্রতি কেজি টিএসপি সার ২২, এমওপি ২৫ ও ডিএপি ৩০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়, যা একই বছরের এপ্রিলে দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪০, ৩৫ ও ৪০ টাকায়।
সরকার উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজের উদ্ভাবন ও উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়াতে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শস্য উত্পাদনে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কৃষি গবেষণা ও কৃষি খাতে পুনর্বাসন সহায়তা বাবদ ১৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।
নতুন সরকার কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ানো এবং কৃষকেরা যাতে সহজে ও সময়মতো কৃষি ঋণ গ্রহণের সুযোগ পায়, সে বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দিয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে ‘কৃষি/পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি নীতি-নির্দেশনা জারি করে। এই নীতি-কর্মসূচিতে এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক শস্য উত্পাদন, কৃষকদের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, সফল কৃষকদের স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ্যে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে, যা এর আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৯ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।
কৃষি খাতে আরো কিছু জরুরি নীতি-পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো, কৃষকদের নিয়ে একটি সহজে ব্যবহারযোগ্য সমন্বিত ডাটাবেজ বা উপাত্ত-ভান্ডার তৈরি করা। সরকার কৃষি খাত নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কৌশল হাতে নিয়ে নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী কৃষকদের দোরগোড়ায় সময়মতো সঠিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ পৌঁছে দেবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরকার কৃষি বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উত্পাদক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য ন্যায্যদামে কৃষিপণ্যের বেচাকেনার প্রক্রিয়া খুঁজে বের করার লক্ষ্যেও কাজ করছে। আমরা যদ্দুর জানি, কৃষক ও ভোক্তাদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে কৃষিপণ্যের বিপণন কার্যক্রম জোরদারের ব্যাপারে গাইডলাইন বা দিক-নির্দেশনা দিতে ‘এগ্রিকালচার প্রাইস কমিশন’ নামে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
কৃষি খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার সঠিক ইস্যুগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি নীতি-পদক্ষেপও গ্রহণ করে আসছে। কিন্তু তা কতটা কাজে লাগছে সেটিও কিন্তু দেখতে হবে। কারণ অতীতে বারবার দেখা গেছে, সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করলেও কার্যকর তদারকির অভাবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বাণিজ্য শর্ত (টার্মস অব ট্রেড) বিষয়েও সরকারের একটি সুসমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ করা উচিত। তবে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের সামনে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে। যেমন—বিতরণ নেটওয়ার্কের ব্যবস্থাপনা, বাজারমূল্য ও ভোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত দামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে বাজারচালিত পথ ধরে সমাধানসূত্র খোঁজা। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সময়মতো সম্পদের জোগান নিশ্চিত করা।
সরকারের উচিত, কৃষি খাতের সংস্কার সাধন ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে ক্রমান্বয়ে বাণিজ্যিক কৃষিতে আকৃষ্ট করতে হবে, যাতে আবাদযোগ্য জমির সবটাই ব্যবহার করা যায় ও তাদের বিনিয়োগও হয়ে ওঠে লাভজনক। সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কৃষকদের কাছে ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ছাড়া দেশব্যাপী যেহেতু ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে, সেহেতু কৃষি উপকরণ বিতরণে তাদেরও কাজে লাগানো যায়।
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে উত্পাদকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অতীতের মতো নীতি ও সুশাসনের ব্যর্থতা যেন পরিলক্ষিত না হয়, সেদিকেও নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে। আমি নিশ্চিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সব সময়ই প্রবল উদ্দীপনা নিয়েই গ্রামীণ বাংলাদেশ তথা আমাদের প্রবৃদ্ধির নায়ক কৃষক-সমাজের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন এবং সোচ্চার থাকবেন।
[নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব]
মামুন রশীদ: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

ডিসেম্বর ২০০৮-এর আগে ও পরে by সৈয়দ আবুল মকসুদ

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচার বন্ধ হওয়ার আগের রাত পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহে আমি ৫০টির বেশি নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছি। কোনো বড় দলের নেতা হিসেবে নয়, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা হিসেবেও নয়। ৮-১০টি নাগরিক সংগঠনের আমন্ত্রণে গিয়েছি তাদের আয়োজিত প্রজেকশন মিটিংয়ে। সেসব জনসভায় বড় বড় দলের প্রার্থীরা তাঁদের বক্তব্য দিতেন। প্রতিদ্বন্দ্বীর কোনো অভিযোগ বা প্রশ্নের উত্তর দিতেন, বিশেষ করে নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে গিয়ে জনগণের জন্য কী করবেন, তা ভোটারদের জানাতেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) থেকে তো আমরা শপথবাক্য পর্যন্ত পাঠ করিয়ে তাতে তাঁদের স্বাক্ষর নিয়েছি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে তাঁদের অনেকেই আজ সংসদ সদস্য।
আমাদের উপস্থিতিতে ওই সব জনসভায় প্রার্থীদের বক্তৃতা ছিল খুবই উপভোগ্য। ভাষা প্রাঞ্জল। মোহাম্মদ আলী ক্লের মতো মাংসপেশিওয়ালা প্রার্থীরও অতি নরম গলা। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, কারও কণ্ঠেই তখন কিছুমাত্র উগ্রতা দেখিনি।
দুই বছর আগে যাঁর সামনাসামনি হলে বহু মানুষ মূর্ছিত হতো, যাঁর গলার আওয়াজ শুনলে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যেত যেকোনো মানুষের, ২৯ ডিসেম্বরের আগের দিনগুলোয় দেখেছি, তাঁর গলায় কী মাধুর্য! যেমন-তেমন লোকের কথার যিনি জবাব দিতেন না, ঘনিষ্ঠ মানুষ দেখলেও পাজেরোর কাচ নামিয়ে সালামের উত্তর দিতেন না, তিনিও ওই সময়টুকুতে ছাবেদালি শেখ আর কেষ্ট কর্মকারকে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। জড়িয়ে ধরার সময় অবশ্য মনে মনে বলতেন: স্লারা, ভালোয় ভালোয় ভোট দ্যাস তো দিলি, না দিলে অন্য ব্যবস্থা করা আছে।
সোয়া বছর আগের ঘটনা বলে তাঁদের বক্তৃতার বিষয়বস্তুও বেশ মনে আছে। মোটামুটি রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন সিরিজের বক্তৃতার মতো। তবে তখন প্রার্থীরা কী বলেছেন, এর চেয়ে কী বলেননি, সেটাই এখন বেশি করে মনে হচ্ছে। তাঁরা কখনো বলেননি, নির্বাচিত হয়ে শেরেবাংলানগরের লাল দালানে গেলে অন্য দলের নেতার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করব যে তাঁর লাশ কবরে থাক বা না থাক, তাঁর অবিনাশী আত্মা ছটফট করতে থাকবে। যদি প্রয়াত নেতার আত্মার কান থাকে, তাহলে তিনি কানে আঙুল দেবেন। যদি প্রয়াত নেতার আত্মার চেতনা থাকে, তাহলে আমার বক্তৃতা শুনে অচেতন হয়ে যাবেন।
২৯ ডিসেম্বরপূর্ব কোনো সভায়ই কোনো প্রার্থী বলেননি যে আমাদের ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি বছরখানেকের মধ্যেই বাড়িয়ে নেব। অবশ্য যে ভাতা এখন তাঁরা পান, তা কম। বাড়ানো দরকার। তবে অধিকাংশ সাংসদেরই মাসিক ভাতাটা এক দিনের পকেটখরচও নয়। আমি খুশি হতাম, যদি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বেতন পাঁচ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হতো। তাঁর মতো আরও কয়েকজন আছেন বর্তমান সংসদে। তাঁদের ভাতা বাড়ালে ভালো হয়।
একটি নির্বাচনী সভাতেও কোনো প্রার্থী বলেননি, প্রাণপ্রিয় ভাইয়েরা আমার, নির্বাচিত হলে শুল্কমুক্ত গাড়ির ব্যবস্থা কয়েক হপ্তার মধ্যেই করে ফেলব। গাড়ি দিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের মতো দ্বিগুণ দামে বেচে দেব। সেদিন বরং বলতে চেয়েছেন, আপনারা ভোট দিন, সম্ভব হলে আপনাদের টয়োটা-বিএমডব্লিউ গাড়ি না হলেও মোটরসাইকেল কিনে দেব এবং সেটা চালানোর জন্য বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তা পাকা করে দেব।
সেদিন তারা ঘুণাক্ষরেও বলেননি, মন্ত্রী ইত্যাদি হয়ে সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পেলেও এমপির ফ্ল্যাটটি ছাড়ব না। দুটোই রাখব। ওতে আমাদের জন্মগত অধিকার। মোগল যুগের মৌরসি পাট্টা। তাঁরা বলেননি, আমি এবং বেগম সাহেবা ও তাঁর ভাইবোন (অথবা আমার কর্তা) সরকারি বাড়িতে উঠে গেলেও আমার এমপির ফ্ল্যাটে থাকবে আমার ড্রাইভার, কাজের বুয়া, অফিস সহকারী, দলীয় কর্মী ও আমার টেন্ডল। আমরা হাজি মুহসীন, ওরা গরিব মানুষ। আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকেনি কোনো দিন, এখন একটু সুখ ভোগ করুক। এবং তাঁদের ‘দাপটে এমপি হোস্টেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম’ হয় তো হোক। তারপর যেদিন বোমা ফাটাবে, সেদিন বলব: জঙ্গিবাদ।
২০০৮-এর ডিসেম্বরে কোনো নির্বাচনী সভাতেই তাঁরা বলেননি, নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার স্কুল-কলেজগুলোর ভর্তি-বাণিজ্যে বেসাতি করব চুটিয়ে। নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের প্রতিদিন সকালে-সন্ধ্যায় উপদেশ দেব। সেদিন কোনো প্রার্থীই বলেননি, নির্বাচিত হয়ে পয়লা মাসেই বিড়াল না মারলেও বিমানবন্দর ও ফেরিঘাটের লোকদের চড় মারব। বছরখানেক সংসদে না গেলেও লাল পাসপোর্ট নিয়ে সপরিবারে বিদেশ ভ্রমণ করব, বিশেষ করে দ্বিতীয় স্বদেশ আমেরিকা।
খিস্তিখেউড় জীবনের অংশ। অশ্রাব্য গালিগালাজ বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। মৌলিক মানবাধিকার। এ ছাড়া শালা-টালা যদি ঘরের মধ্যে বা হাট-বাজারে বলা যায়, তাহলে লাল বাড়ির হলঘরে দাঁড়িয়ে বলা যাবে না কেন? জীবনের যেকোনো অবস্থায় আস্তিন গোটানো দোষের নয়। লিঙ্গবৈষম্যহীনতার যুগে কোমরে শাড়ির আঁচল পেঁচানোও অস্বাভাবিক কিছু নয়। মাননীয় স্পিকার রসিক মানুষ। তাই তিনি শরীরে তেল মেখে স্টেডিয়ামে গিয়ে রেসলিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর ফাটা মাথা ও অকালমৃত্যুর কথাও তাঁর মনে পড়ে থাকবে।
উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য, কঠোর বাক্যবিনিময় বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশের সংসদেও হয়ে থাকে। হাতাহাতি ও জুতা-ছোড়াছুড়ি ভারতের সংসদেও হয়েছে। কিন্তু তা হয়েছে জনগণের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে বা নীতি-আদর্শগত কারণে। প্রয়াত নেতাদের প্রতি বিষোদ্গার থেকে নয়। বাংলাদেশি গণতন্ত্রের কপাল। জনপ্রতিনিধিদের কথা ও কাজ দেখে মনে হচ্ছে, ডিসেম্বর ২০০৮ থেকে মার্চ ২০১০-এর দূরত্ব সোয়া এক বছর নয়, সোয়া এক শতাব্দীর!
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

রাজনীতিতে সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব by আনিসুল হক

গত ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে যে হোটেলে আমরা উঠেছিলাম, সেখানেই উঠেছিলেন বাংলাদেশের বেশ কজন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে সরকারি দলের সদস্যরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন বিরোধী দলের সদস্যরাও। সকালবেলা প্রাতঃরাশের টেবিলে তাঁদের সবার সঙ্গে দেখা হতো। কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি, এটা বড় কথা নয়, বিদেশের মাটিতে বাঙালিমাত্রই বাঙালির পরম আত্মীয়, সবাই এক টেবিলে বসছেন, গল্প করছেন, কুশল বিনিময় করছেন। দেখে বড় ভালো লাগে। আমাদের রাজনীতিতেও যদি এই সমঝোতা, এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা কাজ করত! আমার শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় একজন সম্পাদক একজন সাংসদকে আমাদের সেই প্রত্যাশার কথাটাই জানান, সরকারি দল আর বিরোধী দলের মধ্যে এই রকম সৌহার্দ্যবোধটা খুব দরকার। এটা হলে আমাদের রাজনীতিতে বিরাজমান সংঘাতের সংস্কৃতির অনেকটাই অবসান ঘটবে। সম্পাদক মহোদয়ের এ কথাগুলো আমাদের অনেকেরই মনের কথা।
কিন্তু নিজের মনে এই প্রশ্নও জাগে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই ন্যূনতম সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বাস্তবতা আদৌ বিরাজ করে কি না! ২১ আগস্টে শেখ হাসিনার জনসভায় বোমা-হামলার পর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতারা বলে আসছেন, এই হামলার সঙ্গে হাওয়া ভবন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ আছে। এটা তাঁরা কেবল বলেন না, তাঁরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন। এখন বিভিন্ন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, শাহরিয়ার কবির তাঁর প্রামাণ্যচিত্রে দেখিয়েছেন—মুফতি হান্নান বলছেন, ২১ আগস্টের বোমা হামলার সঙ্গে বিএনপির অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের নেতারা যুক্ত। আমরা মুফতি হান্নানের এই উক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি, নাও পারি, কিন্তু শেখ হাসিনা তো এটা বিশ্বাস করেন। এখন শেখ হাসিনার পক্ষে কি এটা বাস্তবে সম্ভব যে তিনি তাঁর হত্যা-পরিকল্পনাকারী বলে যাঁদের সন্দেহ করেন, তাঁদের সঙ্গে সমঝোতাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবেন? আমরা কোন মুখে সরকারকে বলব, বিরোধী দলকে কাছে টেনে নিন, তাদের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করুন?
অথচ দেশে একটা শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার। এটা দরকার গণতন্ত্রের স্বার্থে। এমনিতেই গত নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোট যারপরনাই খারাপ করেছে। আওয়ামী লীগ যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তা দৈত্যাকায়। এর আগে ২০০১-এর নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোট খুব ভালো করেছিল। তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। তারপর তারা বিরোধী দল ও মত দমন, বল্গাহীন দুর্নীতি ও দলীয়করণের যে পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছিল, তাতে অতিষ্ঠ জনগণ সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিল, যেদিন তারা গোপনঘরে ঢুকে নিজের রায়টা ব্যালটের মাধ্যমে দিয়ে আসতে পারবে। বিএনপি খুব ভালো করে জানত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ক্ষমতা তারা ধরে রাখতে পারবে না। কাজেই তারা নির্বাচনটাকেই ছিনতাই করার ষড়যন্ত্রে মেতেছিল। বহু ঘটনার পর সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। দেশের মানুষ ভোট দেয় এবং ভোটের ফলাফলে তাদের দুর্গ বেনোজলের মুখে পড়া খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। দুই বছরের বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আর বর্তমানে এমন সব তথ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও হাওয়া ভবন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে উন্মোচিত হচ্ছে যে এই দলটা সম্পর্কে বড়মুখ করে কিছু বলাটা সত্যিই কঠিন।
বিএনপি তার ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে এখন। আর তার সবচেয়ে ভালো সময়টা গেছে ১৯৯১—৯৬ সালে। তার আগে বেগম জিয়া রাজপথের আন্দোলনে থেকেছেন, সরকারের জুলুম উপেক্ষা করে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ ভেবেছিল, বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সেই বিএনপিকে কেবল নিশ্চিহ্নতার কবল থেকে রক্ষা করেনি, দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছিল, তারা সরকার গঠন করেছিল। সেই বিএনপি আর আজকের বিএনপির অনেক তফাত। ওই সময় সর্বত্র ছাত্রদল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তার একটা কারণ ছিল। বিএনপি আসলে সামরিক-বেসামরিক আমলা, পুঁজিপতি, ব্যবসায়ীর দল। অর্থাত্ বুর্জোয়াদের দল। ছাত্রদলের মিছিলে জিনস আর কেডস পরা ছেলেরা অংশ নিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আসলে ছিল কৃষকের দল। তাদের মধ্যে সামন্তবাদী আচার-আচরণ ছিল লক্ষণীয়। শুধু একটা ঐতিহাসিক ফোকর ছিল এই দুই দলের শ্রেণীচরিত্র আর আদর্শের মধ্যে। বাংলার কৃষকের দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্বাভাবিক কারণেই ধর্ম-কর্ম করে থাকেন বেশি, অথচ তাঁদের দলের আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতা। আর বুর্জোয়াদের দল বিএনপি আধুনিক, নিজেদের জীবনাচরণে ধর্মীয় আচার-আচরণ খুব বেশি লক্ষগোচর নয়, অথচ তারাই গ্রহণ করল ধর্মভিত্তিক আদর্শ। কিন্তু ’৯০ সাল থেকে পরবর্তী ২০ বছরে এই ফোকর পূর্ণ হয়ে গেছে। বিএনপি ক্রমাগতভাবে জামায়াতে ইসলামীসমেত ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কাছে আশ্রয় সন্ধান করেছে। হিসাবটা যদিও ছিল সরাসরি অঙ্কের, বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ভোটব্যাংক যুক্ত হলে তাদের ঠেকায় কে? তাদের ঠেকানোর জন্য আছে বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা, এটা বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা ভুলে গিয়েছিলেন। এরই মধ্যে দেশের মধ্যবিত্ত বড় হয়েছে, প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলেমেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে ভোটার তালিকায়ই নয় কেবল, বাস্তবজীবনেও যুক্ত হচ্ছে, তাদের আকাঙ্ক্ষা-চাহিদা যে ভিন্নতর, সেটা তাঁরা হিসাবে রাখেননি। এ জায়গায় আওয়ামী লীগ দ্রুত এগিয়ে গেছে। তারা নতুন উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে, তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের গৌরবের সঙ্গে তরুণদের থাকতে আহ্বান জানিয়েছে, তরুণেরাও বিজয়ী পক্ষকেই বেছে নিয়েছে, পরাজিতদের দলে তারা কেন ভিড়বে।
তবুও বলি, ২০০৯-এর নির্বাচনের ফল কেবল আওয়ামী লীগের পক্ষের ভোটের প্রতিফলন নয়, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসনের প্রতিক্রিয়া। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মূলেও ছিল একই প্রতিক্রিয়া। এর আরেকটা মানে আছে, এই দেশের ভোটারদের মনের দরজা-জানালা আসলে খোলা, সুশাসন না দিলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বলে পার পাওয়া যায় না, তেমনি দুঃশাসন ঢাকতে ভারত-জুজু, ধর্ম গেল ইত্যাদি ভয় দেখিয়েও লাভ হয় না। ভালো কাজ করো, আমরা তোমাদের সমর্থন দেব। খারাপ কাজ করেছ তো বিদেয় হও।
বিএনপি এর চেয়ে খারাপ সময় তার ইতিহাসে আর কখনো অতিক্রম করেনি। বেশির ভাগ সময়ই তারা ছিল ক্ষমতায়। সংসদে এত কম আসন তাদের কখনো ছিল না। জিয়াউর রহমান তাঁর বিএনপিতে চীনপন্থী বামদের অনেককেই আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন, ওই বামদের সঙ্গে মুসলিম লীগাররা মিলিত হলে মোটামুটি একটা ভারসাম্য হয়তো দলে বিরাজ করত। কিন্তু ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই বামরা খালেদা-তারেক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলে এখন দল থেকে বিতাড়িত। এখন দলে বেগম জিয়ার অনুগত ব্যক্তিরাই কেবল রয়ে গেছেন এবং তাঁদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা অংশ প্রায় নেই বললেই চলে। একই ঘটনা আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে ঘটলেও সেটা তত সংকট সৃষ্টি করেনি, কারণ আওয়ামী লীগে মুসলিম লীগার বনাম সমাজতন্ত্রী ধরনের বৈপরীত্যের বিকট সমাবেশ কখনো ঘটেনি। বিএনপি দল হিসেবে এখনো জনপ্রিয়, এত দুঃসময়েও তাদের মিছিল-জনসভায় লোক-সমাগমের কমতি নেই। কিন্তু তারা দলের ভবিষ্যত্ হিসেবে এখন নির্বাসিত তারেক রহমানকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের কর্মকাণ্ড দেখে তা-ই অনুমিত হয়। এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে উত্তরাধিকার যে একটা বড় নিয়ামক, তার ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। বেগম জিয়া নিজেই তার বড় উদাহরণ, নইলে সবাইকে ছাড়িয়ে বেগম জিয়াই বিএনপির মতো বড় দলের একচ্ছত্র নেতা হয়ে উঠতে পারতেন না। আর এই দেশের মানুষের স্মৃতির আয়ু যে রকমভাবে কম, তাতে কালকের গণশত্রুরও ভবিষ্যতে গণনেতা হিসেবে সংবর্ধিত হওয়াটা খুবই সম্ভব। তা না হলে এই দেশে মতিউর রহমান নিজামী কোনো দিনও মন্ত্রী হতে পারেন!
এ অবস্থায় সরকারি দলের চেষ্টা হলো বিএনপিকে যতটা পারা যায় কোণঠাসা করে রাখা। প্রশ্ন হলো, বিএনপিকে কি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব? আরেকটি বিকল্প বিরোধী দল এগিয়ে এলে এটা হতেও পারত। বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আবদুল মান্নান ভূঁইয়ারা মিলে হয়তো একটা চেষ্টা করে দেখতে পারতেন। কিন্তু এ দেশের মানুষ নিজেরাই উত্তরাধিকারের রাজনীতি সমর্থন করে। বাইরে থেকে চেষ্টা করে কি আর রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা যায়! গেলে তো মইন উ আহমেদের স্বপ্নই বাস্তবায়িত হতো।
তার মানে ভবিষ্যতে সরকারি দল আর বিরোধী দলের মধ্যে বাস্তবে কোনো সমঝোতা হবে, এটা কল্পনা করা কঠিন। হানাহানির রাজনীতির তাই বন্ধ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাহলে আমরা যাঁরা কলাম-টলাম লিখি, তাঁরা সরকারকে কী বলব? বলব যে ২১ আগস্ট বোমা হামলাকারী বলে যাদের জানেন, তাদের সঙ্গেই মিলেমিশে থাকুন? বিরোধী দলকেই বা আমরা কী বলব? আর বিএনপিও ডান দিকে সরতে সরতে প্রতিক্রিয়াশীলতার যে চরম দুর্গে ঢুকে পড়ছে, তাকে আমরা জায়গা দেব কোথায়?
অবস্থাটা আসলে আশাব্যঞ্জক নয়। এ অবস্থায় সরকারের কর্তব্য হবে, শুধু বিরোধী দলকে দমন করা নয়, শুধু নাম বদলানো নয়, জনগণের জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান করতে হবে, জরুরি ভিত্তিতে বড় সিদ্ধান্ত সাহস, সততা আর প্রজ্ঞার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে, গ্যাসের সমস্যার সমাধান করতে হবে, পানি সমস্যার সমাধান করতে হবে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে, কর্মসংস্থান করতে হবে। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। দলীয় কর্মীদের নিবৃত্ত করতে হবে, স্থানে স্থানে দলীয় কর্মীরা, বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগারা যে বাড়াবাড়ি করছে, তা এখনই থামানো না গেলে মানুষ ত্রাহি ত্রাহি করতে থাকবে।
আর আইনকে তার স্বাভাবিক গতিতে এগোতে দিতে হবে। আমরা অবশ্যই ২১ আগস্ট বোমা হামলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচার চাই। সেই বিচার যদি ন্যায়বিচার হয়, বিচারপ্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ হয়, তাহলে এর পেছনে জড়িত রুই-কাতলাদের শাস্তি দেওয়া হলে দেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে, ক্ষুব্ধ হবে না। প্রতিটা মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ ক্ষেত্রে গতিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। মন্ত্রীদের কথাবার্তা ও কাজের পর্যালোচনা করতে হবে, মূল্যায়ন করতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সংসদ সদস্যদের কার্যালয় পর্যন্ত সর্বত্র দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণকে নিরুত্সাহিত করতে হবে। কাজের তালিকা দীর্ঘ। সেই কাজগুলো হচ্ছে কি হচ্ছে না, খবর নেই, জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে, চাঁদার দাবিতে রাজধানীতে খুনের ঘটনা ঘটছে, এ অবস্থায় জনগণ যখন দেখে জিয়া উদ্যানের নাম পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, সরকারের হাতে কি করার মতো কাজকর্ম নাই? আজাড়ে কাজ নিয়ে তারা এত ব্যস্ত থাকে কেন? কেন সরকার মনে করছে বিএনপিকে রাজপথে ঠেলে দেওয়া তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে?
আর বিএনপি তার দল নিয়ে কী করবে? জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্য গাঁটছড়া তাকে ছাড়তে হবে। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে তারা শতহস্ত দূরে, এটা জনগণ যেন বিশ্বাস করে। সংসদে থাকতে হবে, তাদের বক্তব্য পেশ করে যেতে হবে। বিএনপির বড় সম্পদ হলো জনগণের ভোট। যখন তাদের সংগঠন ছিল না, তখনো তারা ভোট পেয়েছে। আজকে অবশ্য সংগঠনটাই তাদের কাল হয়েছে। আত্মশুদ্ধির যে পথে গেলে ভালো হতো, সেই পথে বিএনপি যাবে, এ রকম কোনো লক্ষণ নেই।
পাওয়ার করাপ্টস অ্যান্ড অ্যাবসোলুট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসোলুটলি। এই সরকার যদি নিজের ভালো চায়, তবে অবশ্যই তাকে বিরোধী রাজনীতির জন্য একটা জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। সেটা হয়তো স্পিকার সংসদে যে উদ্যোগ নিচ্ছেন, সেই রকম ইস্যুভিত্তিক হতে পারে। কিন্তু দুর্বল বিরোধী দল গণতন্ত্রের জন্য সুসংবাদ নয়। সরকার একই সঙ্গে অনেক ফ্রন্ট খুলছে, এটাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সব মিলিয়ে আমাদের রাজনীতিতে অচিরেই সমঝোতা-সম্প্রীতির নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, এ রকম আশা ব্যক্ত করা কঠিন। আমরা শুধু চাইব, সরকার পরমতসহিষ্ণু হোক, বিরোধী দলকে শিক্ষা দেওয়ার পেছনে সময় অপচয় না করে দেশের উন্নয়নে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায়, মানুষের বাস্তব সমস্যা সমাধানে বেশি মনোনিবেশ করুক। পাশাপাশি ঐতিহাসিক অন্যায়, অপরাধ, হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকাশ্য স্বচ্ছ মানবাধিকারনিষ্ঠ বিচার সম্পন্ন করুক।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

থানাহাজতে শিশুর নিরাপত্তা -জেনেশুনে পুলিশ আইন ভঙ্গ করছে

কোনো শিশু যখন অপরাধে লিপ্ত হয়, তখন বুঝতে হবে তার অধঃপতনের জন্য সে নিজে যতটা দায়ী, এর চেয়েও বেশি দায়ী সমাজের নানা গলদ ও অব্যবস্থাপনা। শিশুর যখন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার কথা, তখন তাদের অনেককে জীবিকার সন্ধানে পথে পথে ঘুরতে হয়। এভাবেই সে অপরাধীদের পাল্লায় পড়ে। যে শিশুর নিষ্পাপ থাকার কথা, সে নিষ্পাপ থাকতে পারে না, সমাজ তাকে কলুষিত করে। তাই দেশে শিশুদের জন্য আলাদা আইন রয়েছে। শিশু আইন, ১৯৭৪-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত শিশুর ব্যাপারে নির্দিষ্ট করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এসব আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে না।
শিশু আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগে শিশুকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে নিরাপদ স্থানে ও নিরাপদ ব্যক্তির অধীনে রাখতে হবে। কিন্তু প্রথম আলোয় সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানা ও আদালতের হাজতে শিশুদের রাখার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা নেই। ফলে অভিযুক্ত শিশুদের রাখা হয় নারীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষে। এতে নারী ও শিশু উভয়েরই ক্ষতি হয়। কারণ অনেক অভিযুক্ত নারী মাদক ব্যবসায় জড়িত। অনেকে দেহপসারিণী। এদের সংস্পর্শে এসে শিশু আরও বেশি অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে যেহেতু ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু বলে গণ্য, তাই থানাহাজতে নারীদের সঙ্গে বয়স্ক শিশুদের রাখলে সেখানে অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে।
ঢাকার নতুন থানাগুলোতে শিশুদের জন্য আলাদা কক্ষ তৈরির কথা বলা হয়। কিন্তু কার্যত সে রকম ব্যবস্থা এখনো নেই। এ অবস্থায় অভিযুক্ত শিশুদের জন্য বিভিন্ন থানায় অভিন্ন নীতি অনুসরণ করা দরকার। আদালত কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত শিশুদের নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী থাকতে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশও দিয়েছেন। প্রয়োজনে মা-বাবার সঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা যায়। ইউরোপ-আমেরিকায় এ ধরনের বিধান রয়েছে।
শিশু ও পূর্ণবয়স্ক অভিযুক্তদের একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয়ে থানাগুলোকে নির্দেশ প্রদান করতে পারে। পৃথক কক্ষ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিশুদের থানাহাজতে না রেখে তাদের অভিভাবক, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি বা নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকতে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে তাদের জন্য ভালো হবে।

চরমপন্থীদের তৎপরতা -শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না

দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় চরমপন্থীদের তৎপরতা মাঝে তেমন লক্ষ করা যায়নি। নানা রাজনৈতিক সংগঠনের নামে চরমপন্থীদের তৎপরতা কমে যাওয়ার কারণ ছিল তাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযান। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের অভিযান প্রকৃত অর্থে তেমন কাজে আসেনি, সংগঠিত হয়ে তারা আবার মাঠে নামার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি খুলনায় ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় এর প্রমাণ মিলেছে। প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও তাদের সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিপ্লবী ও বাম রাজনীতির নামে এই সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বললেও কার্যত তা চাঁদাবাজির রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সে কারণেই এ ধরনের সংগঠনগুলো অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য খুনোখুনি, হামলা, অপহরণ, বোমাবাজির মতো অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। গত জোট সরকারের আমলের শেষের দিকে ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এসব সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মীর মৃত্যু ও আটক হওয়ার পর তারা স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে পড়ে। এর পর থেকে তাদের তৎপরতা অনেকটা কমে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। গত বছর এই সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চরমপন্থীদের প্রতি আত্মসমর্পণের আহ্বান ও প্রয়োজনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলেছিলেন।
আমরা মনে করি, চরমপন্থীদের তৎপরতার বিষয়টি একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা, অন্যদিকে রাজনৈতিক-সামাজিকভাবেও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। এ সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে রাজনীতির নামে; সমাজের শোষিত শ্রেণীর অধিকার রক্ষার কথা বলে তারা লোকজনকে তাদের দলে টানার চেষ্টা করে। বেকারত্ব ও অশিক্ষার এই দেশে এসব কথা বলে দলে লোক টানা অসম্ভব নয়। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এই চরমপন্থীদের ব্যবহার করে এসেছে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে—কখনো প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, কখনো নির্বাচনে জিততে, কখনো এলাকায় নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করতে আবার কখনো তা ধরে রাখতে। ফলে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না। সেটা হলে এত ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, অভিযানের পর তাদের আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ ছিল না।
চরমপন্থী-সমস্যার বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি যারা রাজনীতির নামে খুন ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আওয়ামী লীগ গত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় চরমপন্থীদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রায় আড়াই হাজারের বেশি চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছিল। অস্ত্র জমা পড়েছিল দুই হাজারের বেশি। উদ্যোগটি ভালো ছিল এতে সন্দেহ নেই, কিন্তু তা সফল হয়নি। আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের অনেককে আনসারে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গেছে, অনেকে আবার চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন এ সমস্যার সমাধান করতে গেলে শুধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা আর কয়েকজনকে চাকরি দিয়ে দায়িত্ব সারলে হবে না। চরমপন্থীদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাটা সে কারণে খুবই জরুরি।
খুলনায় এক উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে গত শনিবার চরমপন্থীরা তাদের উপস্থিতির যেভাবে জানান দিল, তাতে আমরা শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করব, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে এ সমস্যার একটি কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করবে।

এক পার্সেলে তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট

একটি পার্সেলে তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট লাগিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর শহরের সুভাষনগরের যুবক মনোজ মণ্ডল। লন্ডনে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধি মার্কো ফির্গাটির কাছে ওই পার্সেলটি পাঠানো হয় গত ৪ মার্চ ।
পার্সেলটির ওজন দুই কেজি ৮২৫ গ্রাম। দৈর্ঘ্যে এক মিটার, প্রস্থে ৭০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতায় ২০ সেন্টিমিটার। এতে লাগানো হয়েছে এক হাজার ৬৫৫ রুপির তিন হাজার ৮০৮টি ডাকটিকিট। মনোজের আশা, এবার নাম উঠবে গিনেস বুকে। মনোজ এর আগে ছোট প্রেশার কুকার বানিয়ে নাম উঠিয়েছিলেন লিমকা বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এবার চাইছেন গিনেস বুকে নাম তুলতে।

পরমাণু যুদ্ধ শুরুর পূর্ব প্রস্তুতি বলে অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার হুমকি সত্ত্বেও গতকাল সোমবার থেকে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়া এ মহড়াকে পরমাণু যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করেছে। এএফপি।
যৌথ ফোর্স কমান্ডের এক মুখপাত্র জানান, ১০ দিনের এ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ হাজার সেনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা কোরিয়াভিত্তিক নয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য বলছে, আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্যই এ সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তবে এ মহড়ার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা একে উত্তর কোরিয়ার ওপর হামলা চালানোর পূর্ব-প্রস্তুতি বলে অভিযোগ করেছে। গত রোববার উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা এর কঠিন জবাব দেবে। ১৯৫০ থেকে ৫৩ সাল পর্যন্ত যুদ্ধের পর দুই কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলেও উল্লেখ করে তারা। পাশাপাশি তারা পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয়।
পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে ছয় জাতির আলোচনায় ফিরে যাওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে দেশটি ওই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায়। এর পরের মাসেই তারা দ্বিতীয়বারের মতো সফল পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।

‘পানচেন লামার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নেতাদের দেখা করতে দেওয়া উচিত’

পানচেন লামা পদে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার নির্বাচিত ছয় বছর বয়সী ওই বালকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের দেখা করতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে তিব্বতের প্রবাসী পার্লামেন্টের স্পিকার পেমপা টিসেরিং।
তিব্বতে চীন সরকারের নবনিযুক্ত গভর্নর পদ্মা চোলিং গত রোববার দেওয়া এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় টিসেরিং এ মন্তব্য করেন। গভর্নর পদ্মা চোলিং ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘পানচেন লামা নিরাপদ ও সুস্থ আছে। সে তিব্বতেই বাস করছে।’
স্পিকার টিসেরিং বলেন, গভর্নরের বক্তব্য সঠিক হলে পানচেন লামার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ সংস্থার নেতাদের সাক্ষাত্ করতে দেওয়া হোক। তাঁরা দেখুক, পানচেন লামা কেমন আছে। টিসেরিং বলেন, ‘সে জীবিত আছে কি না, সে তথ্যও আমাদের কাছে নেই।’
আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ছয় বছর বয়সী এক বালককে পানচেন লামা পদে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করেন। এর পরপর ওই বালককে আটক করে চীন সরকার। পরে গিয়ালটেন নোরবুকে ১১তম পানচেন লামা হিসেবে নির্বাচিত করে চীন।

মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির নেতা ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র কিংবা কল্যাণরাষ্ট্র কোনোটাই নয়। দেশটি আসলে মার্কিন উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।
ইমরান খান বলেন, কেন্দ্র ও পাঞ্জাব প্রদেশে শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ মার্কিন নীতি অনুসরণ করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও এখন একই নীতি অনুসরণ করছেন। তাঁরা দেশকে একটি মার্কিন উপনিবেশে পরিণত করেছেন।
সম্প্রতি পাকিস্তানি তালেবান ও সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইমরান খান। সাবেক এই ক্রিকেট-তারকা বলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে দেশকে একটি সত্যিকারের ইসলামি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা হবে।
ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিকে ইসলামপন্থী দল জামায়াত-ই-ইসলামির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ দুই দলই ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন বর্জন করে।
ইমরান খান বলেন, তাঁর দল পদ্ধতির পরিবর্তন করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরিক-ই-ইনসাফ কখনই দেশের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে না।
তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ের চোরদের’ ওপর নির্যাতন চালানোর পরিবর্তে সরকারের উচিত অধুনালুপ্ত ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্সের (এনআরও) সুবিধাভোগীদের বিচারের আওতায় আনা।

নির্বাচনী আইন পাস করেছে মিয়ানমার

বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনী আইন পাস করেছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। গতকাল সোমবার আইন পাসের ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণের ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি জান্তা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিও জানিয়েছে, নির্বাচনসংক্রান্ত পাঁচটি আইন স্টেট পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলে পাস হয়েছে। আইনের বিস্তারিত আজ মঙ্গলবার সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া বই আকারেও আইনগুলো প্রকাশ করা হবে।
তবে আজ আইনগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও সেখানে নির্বাচনী তারিখের বিষয়ে কিছু থাকবে কিনা সেটা জানা যায়নি।
জান্তাপ্রধান থান শুয়ে জানিয়েছেন, তাঁর গণতন্ত্রের রোডম্যাপের অংশ হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সু চিকে গৃহবন্দী রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা হবে অর্থহীন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)।

ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মালিকি এগিয়ে

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রাথমিক ভোট গণনার পর এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকি। ভোটকেন্দ্রগুলো ঘুরে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে অভিযান শুরু করার পর গত রোববার দেশটিতে দ্বিতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বোমা ও রকেট হামলা সত্ত্বেও রোববার ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটগ্রহণের দিন বাগদাদ, বাকুবা ও ফাল্লুজাসহ দেশের বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্রোহীদের হামলায় কমপক্ষে ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছে আরও ১১০ জন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকের ১৮টি প্রদেশের নয়টিতেই এগিয়ে রয়েছেন মালিকি। তবে ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল রাজধানী বাগদাদে কে এগিয়ে রয়েছেন সে সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তারা আরও জানান, শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে মালিকির নেতৃত্বাধীন ‘স্টেট অব ল’ জোট এগিয়ে রয়েছে। আর সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে এগিয়ে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবির নেতৃত্বাধীন ‘ইরাকিয়া লিস্ট’ জোট। এ ছাড়া শিয়াপ্রধান দল সুপ্রিম ইরাকি ইসলামিক কাউন্সিল ও শিয়াধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল-সদরের অনুসারীদের জোট ‘ইরাকি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ১৮ মার্চের আগে নির্বাচনের পূর্ণ ফল জানানো সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।
এদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বোমা ও মর্টার হামলা উপেক্ষা করে ভোট দেওয়ায় ইরাকি ভোটারদের সাধুবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নির্বাচনের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সহিংসতাকে উপেক্ষা করে যেসব ইরাকি ভোট দিয়েছেন তাঁদের সাহসিকতাকে আমি সম্মান জানাই।’ এ নির্বাচনকে ইরাকের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘও ইরাকি ভোটারদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। ইরাকে জাতিসংঘের দূত অ্যাড মেলকার্ট বলেন, ‘নির্বাচনী-প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও ভোটগ্রহণ-প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল ইরাকের নির্বাচন কমিশন আইএইচইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারা দেশে ৬০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলের আরবিল এলাকায় এবং সহিংসতাপূর্ণ কিরকুক প্রদেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। সুন্নি ভোটাররা ২০০৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচন বর্জন করলেও এবার তাঁদের যথেষ্ট উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৫টি আসনের বিপরীতে ছয় হাজার ২০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ভারতের পাসপোর্ট সমর্পণ করলেন মকবুল ফিদা হুসেন

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন। কাতারের রাজধানী দোহায় ভারতীয় দূতাবাসে গত রোববার তিনি পাসপোর্ট সমর্পণ করেন। গতকাল সোমবার গালফ টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। পিটিআই।
ভারতের পিকাসো বলে পরিচিত মকবুল ফিদা হুসেন সম্প্রতি কাতারের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। চার বছর ধরে দুবাই ও লন্ডনে তিনি স্বেচ্ছা-নির্বাসনে আছেন। হিন্দু দেব-দেবীদের নগ্ন ছবি এঁকে বিতর্কের ঝড় তোলেন ফিদা হুসেন। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। উগ্রপন্থীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে অনেক শিল্পকর্ম ধ্বংস করে। এরপর তিনি স্বেচ্ছা-নির্বাসন নেন। সম্প্রতি ফিদা হুসেনের ছেলে ওয়েইস শাহ বলেন, ‘কাতারের দেওয়া নাগরিকত্বের প্রস্তাব বাবা গ্রহণ করেছেন। তিনি আর ভারতীয় থাকতে চান না।’
গালফ টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে দোহায় ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ভারতে দুই দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের বিষয়টি আইনসম্মত নয়। এ কারণেই ফিদা হুসেইনকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও চিত্রশিল্পী ফিদা হুসেনকে ‘ভারতের গর্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই বলেন, ‘ফিদা হুসেনের বিরুদ্ধে এখন কোনো মামলা নেই। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে সব মামলা বাতিল করে দিয়েছে। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছে।’

পশ্চিম তীরে শতাধিক বাড়ি নির্মাণের অনুমতি ইসরায়েলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিতে নতুন করে ১১২টি বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার দেশটির একজন মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।
সরকারি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পরিবেশমন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেন, বাড়িগুলো বেথেলহেমের কাছে বেইতার ইলিতে নির্মাণ করা হবে।
ফিলিস্তিন ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনায় সম্মত হওয়ার এক দিন পর বসতি স্থাপনের নতুন প্রকল্পের বিষয়টি সামনে আসে। আলোচনায় সম্মত হলেও ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে মার্কিন মধ্যস্থতায় ওই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিন।
ফিলিস্তিনিরা জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ বন্ধ করলে, তবেই তারা সরাসরি সমঝোতায় ফিরে আসবে। ইসরায়েলের বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া ফিলিস্তিনের সঙ্গে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

নাইজেরিয়ায় দাঙ্গায় নিহত পাঁচ শতাধিক



নাইজেরিয়ায় গত রোববার ভোররাতে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পাঁচ শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শ। হতাহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। কয়েকটি সূত্র প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক শ বলে জানালেও গতকাল সোমবার স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, প্লাতেউ প্রদেশের জোস শহরের পার্শ্ববর্তী তিনটি গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের ফিলানি গোত্রের লোকেরা তাদের প্রতিপক্ষ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বেরোম গোত্রের ওপর হামলা চালালে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নতুন করে যাতে কোনো সংঘাত না বাধে সে জন্য ওই এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার জের ধরে নাইজেরিয়ার অন্যান্য প্রদেশেও জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স ও এএফপি।
জানা গেছে, ঐতিহাসিকভাবেই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ফিলানি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত বেরোম গোত্রের মধ্যে বহু বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে একটি গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ওই সময় বেরোম গোত্রের হামলায় ফিলানি গোত্রের শতাধিক লোক নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই ফিলানিরা রোববার ভোররাতে বেরোমদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রাঙ্ক তাতগুন বলেছেন, ভোররাতে হামলাকারীরা তিনটি গ্রাম ঘিরে ফেলে। তাদের সবার হাতে চাপাতি জাতীয় ধারালো অস্ত্র। তারা শণ ও বাঁশের তৈরি কুঁড়েঘরে প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। নারী ও শিশুসহ সবাই যখন পালাচ্ছিল, তখন তাদের বন্য জানোয়ার শিকারের জন্য ব্যবহার করার ফাঁদ ও মাছধরার জাল দিয়ে আটকে ফেলা হয়। এরপর নারী-শিশুনির্বিশেষে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রঘটনার দিন প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক শ বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করলেও গতকাল প্লাতেউ প্রদেশের রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজ্য সরকারের উপদেষ্টা ড্যান মানজাং বলেছেন, তাঁরা এ পর্যন্ত ৯৫ জনকে হামলাকারী সন্দেহে আটক করছেন। একই সঙ্গে তিনি এ হামলায় পাঁচ শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
গণমাধ্যমকর্মীরা বলেছেন, সাধারণত নাইজেরিয়ার জাতিগত দাঙ্গায় নিহতদের সঠিক সংখ্যা জানা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় বহু লোককে মেরে লাশ গুম করা হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই অসংখ্য মৃতদেহ তড়িঘড়ি করে কবর দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আসল তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই ধামাচাপা পড়ে যায়। এদিকে পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্লাতেউ প্রদেশের রাস্তায় রাস্তায় নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছে।
প্লাতেউর কমিশনার ফর ইনফরমেশন গ্রেগরি ইয়েনলং বলেন, সৈন্যরা সবখানে সতর্ক পাহারায় রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে রেডক্রসের একজন মুখপাত্র বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো নাজুক। তাঁরা উদ্ধার-তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুরুতর আহতদের তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় এমন এক সময় এ জাতিগত দাঙ্গার আগন জ্বলে উঠল, যখন সে দেশের প্রেসিডেন্ট উমারু ইয়ারআদুয়া অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুডলাক জোনাথন সরকার চালাচ্ছেন।
জোনাথনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার

আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাকিস্তানে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানান। তবে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আল-কায়েদার মোস্ট ওয়ান্টেড মুখপাত্র বলে প্রথমে যে খবর বেরিয়েছিল, কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা যাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন, তিনি করাচি থেকে আসা আবু ইয়াহইয়া মাজাদান। আমরা যত দূর জেনেছি, তিনি একজন মার্কিন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছি। তবে আমরা তাঁর আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
অপর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি মার্কিন নাগরিক। তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে এর বেশি কিছু জানানো হয়নি। ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবশ্য তাঁকে আল-কায়েদার মুখপাত্র অ্যাডাম ইয়াহিয়া গাদান বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গাদানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতামূলক তত্পরতার অভিযোগ আছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিতে পারলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কাউকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কূটনীতিকদের কাছে কোনো তথ্য দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই বলেছে, ৩১ বছর বয়সী গাদান মার্কিন নাগরিক ‘আজম দ্য আমেরিকান’সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে।

রাজাপক্ষেকে পরাজিত করতে চেয়েছিল ‘র’

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। ডেইলি মিরর পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে দেশটির একজন মন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল সোমবার সাক্ষাত্কারটি প্রকাশিত হয়।
ডাকমন্ত্রী নান্দানা গুনাথিলেক বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এমনকি ভারত সরকারও ‘র’-কে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে।
সাক্ষাত্কারে মন্ত্রী নান্দানা বলেন, ‘র’-এর কার্যক্রম কীভাবে চলে এবং ভারতের সরকারই বা কোন নীতিতে পরিচালিত হয়, মাঝেমধ্যে তা নির্ণয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ভারতের সরকার রাজাপক্ষের পক্ষে থাকলেও ‘র’-এর কর্মকর্তারা তাঁর বিপক্ষেই কাজ করেছেন।
ডাকমন্ত্রী গুনাথিলেক এমন এক সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও শ্রীলঙ্কা সফর করছেন। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী শ্রীলঙ্কার রাজনীতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে তিনি গত রোববার কলম্বো যান।
জানুয়ারিতে রাজাপক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতের কোনো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার এটাই প্রথম শ্রীলঙ্কা সফর।
প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিরুপমা রাও গত বছর সরকারি সৈন্য ও তামিল গেরিলাদের মধ্যে শেষ দফা যুদ্ধে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া জাতিগত তামিলদের পুনর্বাসনে শ্রীলঙ্কাকে আরও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
নিরুপমা রাওয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রাজাপক্ষের কার্যালয় সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ভারত রাজি আছে।

নয় কোটি ৬০ লাখ নারীকে হারিয়েছে এশিয়া: জাতিসংঘ

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বৈষম্য, উপেক্ষা বা সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যের কারণে বর্তমানে এশিয়ায় যতসংখ্যক নারী থাকার কথা ছিল, তার চেয়ে নয় কোটি ৬০ লাখ নারী কম রয়েছে। এদের একটি বড় অংশেরই থাকার কথা ছিল চীন ও ভারতে। গতকাল সোমবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েশিশুর ভ্রূণ গর্ভপাত ঘটানোর কারণে এশিয়ায় বড় ধরনের লিঙ্গবৈষম্য দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও সমস্যাটি প্রকট রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অনুরাধা রাজিভান বলেন, ‘ছেলেশিশু নেওয়ার ব্যাপারে প্রাচীন মানসিকতা এখন আধুনিক চিকিত্সা প্রযুক্তির সাহায্য পাচ্ছে। এখন দম্পতিরা আগে থেকেই জেনে যেতে পারছে, সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে এবং সে অনুযায়ী তারা মেয়েশিশু নেওয়া থেকে বিরত থাকছে।’
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। ওই অঞ্চলে প্রতি এক শ কন্যাশিশুর বিপরীতে ১১৯টি ছেলেশিশু জন্ম নেয়। এই হার আন্তর্জাতিক গড় অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি। বিশ্বে গড়ে এক শ কন্যাশিশুর বিপরীতে জন্ম নেয় ১০৭টি ছেলেশিশু।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘কন্যাশিশুর ভ্রূণ গর্ভপাত, নবজাতকের মৃত্যু এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও অপুষ্টির কারণে এশিয়ায় যত নারী থাকার কথা ছিল, তার চেয়ে নয় কোটি ৬০ লাখ নারী কম রয়েছে।’
ইউএনডিপির গবেষকেরা জানিয়েছেন, এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও নারীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এখানকার নারীরা অনেক বেশি হারে সহিংসতার শিকার; পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও তারা অনেক পিছিয়ে।

এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন রশীদ সম্পাদক আল-মঈজ

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের ২০১০-১১ সাল মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটি কান্ট্রি অফিসার মামুন রশীদ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আল-মঈজ লাইওয়ালা।
নূরুল হক মজুমদার, আমিনুর রহমান, তারভীরুল হক, রূপালী চৌধুরী ও মোহাম্মদ আজিজুল হক সমিতির সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। রাসেল টি আহেমদ ও মোহাম্মদ রোশাঙ্গির অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, শেখ আবুল হাশেম ও জাকির ইবনে হাই যুগ্ম সম্পাদক এবং ডি এস ফয়সাল হায়দার কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।
সমিতির অন্য পদগুলোর মধ্যে মাহফুজুল হক দপ্তর সম্পাদক, শাকিল মনজুর ও রিজওয়ানা আমীর সাংগঠনিক সম্পাদক, ফাতেমা রিজওয়ানা প্রচার সম্পাদক, শাহনিলা আজহার আন্তর্জাতিক সম্পাদক, জাওয়াদ আর জাহিদ গবেষণা ও সেমিনার সম্পাদক এবং শরিফুল ইসলাম প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন—মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, ইরফানুদ্দিন আহমেদ, সারোয়ার আহমেদ, এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম, সাঈদ আহমেদ, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও জসিম ইউ চৌধুরী।

নারী দিবসেও ভারতে পাস হলো না নারী সংরক্ষণ বিল

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শতবর্ষে ভারতে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকার চেয়েছিল ১৩ বছর ধরে ঝুলে থাকা নারী সংরক্ষণ বিল পাস করিয়ে নেওয়া। এই লক্ষ্যে গতকাল সোমবার ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করা হয় বিলটি। এই বিলে নারীদের জন্য লোকসভা ও রাজ্যসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে বিলটি আর পাস হয়নি।
গতকাল রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করেন ভারতের আইনমন্ত্রী বীরাপ্পা মইলি। ইউপিএ সরকারের লক্ষ্য ছিল রাজ্যসভায় বিলটি পাস হওয়ার পর এই বিল সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা থেকেও পাস করিয়ে নেওয়া।
ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা ২৩৩। সংরক্ষণ বিল পাস করতে প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন। সেই লক্ষ্যে ইউপিএ জোট এই বিলের পক্ষে ১৬৪ জনের সমর্থন জোগাড় করেছিল। বিজেপিও সমর্থন দিয়েছিল এই বিলের পক্ষে। ফলে বিলটি পাসের ব্যাপারে সরকার নিশ্চিত ছিল।
অন্যদিকে লোকসভার ৫৪৪ সদস্যের মধ্যে ইউপিএ জোট এই বিলের পক্ষে সমর্থন পেয়েছিল ৪১০ জনের। এর মধ্যে কংগ্রেস ও এর শরিকদের সমর্থন ছিল ২৪৪, বিজেপি ১১৬ এবং বাম দলের ২০ জনসহ অন্যান্য দলের ৩০ জনের সমর্থন।
কিন্তু মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টি, লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল, মায়াবতীর বহুজন সমাজপার্টি সংখ্যালঘু মুসলিমসহ তপশিলি, অনগ্রসর ও আদিবাসী নারীদের আসন সংরক্ষণের দাবি তুলে বিরোধিতায় নামে। এসব দলের সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন। ফলে আইনমন্ত্রী বীরাপ্পা মইলি বিলটি পেশ করার পর রাজ্যসভা উত্তাল হয়ে ওঠে।
সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সাংসদেরা বারবার রাজ্যসভায় হইচই ও হট্টগোল করেন। তাঁরা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারির টেবিল থেকে জোর করে সংরক্ষণ বিলের কপি নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এর ফলে বিঘ্নিত হয়ে পড়ে রাজ্যসভার অধিবেশন। চেয়ারম্যান মোট পাঁচবার অধিবেশন মুলতবি করলেও এতে পরিস্থিতি শান্ত হয় না।
একই চিত্র দেখা যায় লোকসভায়ও। সেখানেও এই বিল নিয়ে হইচই হয়। সেখানেও স্পিকার বারবার অধিবেশন মুলতবি করেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভার অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়।
এদিকে ইউপিএ সরকারের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিং যাদব ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা লালুপ্রসাদ যাদব কেন্দ্রীয় ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে তাঁদের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
গতকাল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুলায়ম সিং যাদব ও লালু প্রসাদ বলেন, আমরা সরাসরি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি না। তবে আমরা চাই, এবং গোটা দেশও চায় এই আসন সংরক্ষণের মূল সুবিধা দেওয়া হোক দেশের সত্যিকারের পিছিয়ে থাকা নারী জনগোষ্ঠীকে।
লালু প্রসাদ বলেন, ‘আমরা সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং এই প্রস্তাবের বিরোধিতা অব্যাহত রাখবো।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দফায় দফায় বৈঠক করেন বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে। পরে ঠিক হয়, আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর নির্ধারিত হবে এ বিলের ভবিষ্যত্।

৩০ দিন মেয়াদি বিলের নিলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল সোমবার ৩০ দিন মেয়াদি বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ২৬০ কোটি টাকার চারটি দরপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্য থেকে ২৫৫ কোটি টাকার তিনটি দরপত্র গৃহীত হয়। গৃহীত দরপত্রগুলোর গড়-ভারিত আয়ের হার ছিল শতকরা ২ দশমিক ৫৩ ভাগ।

এসিআই জিরো কুপন বন্ড বণ্টনের লটারি

‘এসিআই ২০% কনভার্টিবল জিরো কুপন বন্ড’ বণ্টনের লটারি সম্প্রতি ঢাকায় শেরেবাংলানগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লটারি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এসিআই লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা। এতে এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দ্দৌলা ও কোম্পানির সচিব সীমা আবেদ রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এসইসি, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও আইসিবির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বন্ডের পাবলিক অফারের মোট মূল্য হচ্ছে ৪০ কোটি ছয় হাজার ৯২৪ টাকা। এর বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২১৬ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে, যা প্রস্তাবের তুলনায় ৫ দশমিক ২৯ গুণ বেশি।
এটি হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজারে প্রথম বিক্রয় ও রূপান্তরযোগ্য জিরো কুপন বন্ড। এ বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে এসিআই ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ হচ্ছে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও ৪০ শতাংশ পাবলিক অফার।

ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে শিগগিরই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ী ও বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা সীমান্ত পথে শিগগিরই উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরু হবে।
পশ্চিমবঙ্গের পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য গত শনিবার ফুলবাড়ী সীমান্তে ট্রাক পার্কিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে এ কথা বলেন।
অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এক হাজার ৯০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এই ট্রাক পার্কিং এলাকা। এ ছাড়া সীমান্তের রাস্তাকে চার লেনের রাস্তায় রূপান্তর করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গড়ে তোলা হবে একটি ফুড পার্কও। এ ছাড়া ১০ একর জায়গা নিয়ে তৈরি করা হবে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে আট কোটি রুপি। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী বছরই চালু হয়ে যাবে ফুলবাড়ী-বাংলাবান্ধা সীমান্ত পথ।
ফেডারেশন অব এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক তপন দাস প্রথম আলোকে বলেন, এই সীমান্ত পথে বাণিজ্য শুরু হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হবে।
এদিকে একই দিনে ফুলবাড়ীতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিনিধিদলও সীমান্তের অবকাঠামো পরিদর্শনে আসে।

ঢাকায় তিন দিনের পর্যটন মেলা বৃহস্পতিবার শুরু

দেশের পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রয়াস হিসেবেই রাজধানীতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০১০’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা। ঢাকায় শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেনে এ মেলা বসতে যাচ্ছে।
মেলা চলাকালীন আগত দর্শকেরা বিমান বাংলাদেশের স্টলে ঢাকা থেকে দিল্লি, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, করাচি, হংকং প্রভৃতি রুটে টিকিট কিনলে বা বুকিং দিলে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
মেলায় স্বাগতিক বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবাসমূহ প্রদর্শন করবে। মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
পর্যটনবিষয়ক স্থানীয় পত্রিকা বাংলাদেশ মনিটর এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করছে। সহ-আয়োজকেরা হচ্ছে: ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড ও বেসরকারি খাতের বিমান সংস্থা জিএমজি এয়ারলাইনস। মেলার প্রিমিয়াম পার্টনার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
মেলা উপলক্ষে গতকাল সোমবার শেরাটন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।
এতে বক্তব্য দেন মেলা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম, বিমান বাংলাদেশের পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) খাজা জুনায়েদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) শফিকুর রহমান, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, জিএমজির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আনোয়ারুল আজিম এবং ইবিএলের বিপণন বিভাগের প্রধান নাজিম এ চৌধুরী।
কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ঘটছে। নতুন নতুন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, অবকাঠামোগত সুবিধা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় ভ্রমণ উদ্দীপনা ও আগ্রহ বেড়েছে। ইদানীং অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তরাও দেশে-বিদেশে অবকাশ যাপন ও বেড়ানোর জন্য যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা।
প্রদর্শনীর শেষ দিন প্রবেশ টিকিটের ওপর অনুষ্ঠিত হবে র্যাফল ড্র, যাতে থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। এর মধ্যে আছে কুয়েত এয়ারওয়েজের সৌজন্যে ঢাকা-কায়রো-ঢাকা, এমিরেটসের সৌজন্যে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা, জিএমজির সৌজন্যে ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা, জেট এয়ারওয়েজের সৌজন্যে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ইউনাইডেট এয়ারওয়েজ ও জিএমজির সৌজন্যে রয়েছে ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকার বিমান টিকিটসহ মোট ১৭টি পুরস্কার।

রপ্তানি হ্রাস, শ্লথ বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমাবে: এডিবি

রপ্তানি-আয় কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগের শ্লথ গতি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দুই অন্তরায় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
ম্যানিলাভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি আরও মনে করে, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশ হবে।
গতকাল সোমবার ঢাকায় এডিবির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব কথা তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্বমন্দার সবচেয়ে বেশি আঘাত এসেছে শিল্প খাতে। তৈরি পোশাকসহ প্রধান প্রধান পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রভাবটি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে পড়বে বলেও উল্লেখ করেছে এডিবি।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিকে ভীষণভাবে ব্যাহত করছে। আর তাই চলতি অর্থবছর শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ের অভিঘাত থেকে রক্ষা পেতে এডিবি শিল্প তথা রপ্তাানি খাতের পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
এডিবির মতে, বাংলাদেশের সীমিত রপ্তানিভিত্তি বাইরের যেকোনো আঘাতে নাজুকতার মুখে পড়তে পারে, ইতিমধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে।
দেশে বিপুলসংখ্যক অদক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিকের জোগান থাকার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমঘন শিল্প গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। বলেছে, কৃষি ও শিল্পের মধ্যে উৎপাদনশীল সংযোগ গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকাশে জোর দিতে হবে।
এডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে কৃষির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে হবে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ, যা গত অর্থবছর ছিল ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কৃষিপণ্যের মূল্যহ্রাসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এডিবির মতে, আগামী দিনগুলোয় মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্ববাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি। তবে সরকার কৃষি উৎপাদন জোরদার করতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা খাদ্যমূল্যকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা দেবে।
অন্যদিকে ব্যাংকে বাড়তি তারল্য ও মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট বিদেশিদের ব্যাংক হিসাব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে

রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্টতা আছে এমন বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসব ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ও নিকটজনের, যাঁদের সঙ্গে লেনদেন করলে ব্যাংকের সুনাম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
গতকাল সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা প্রদান করেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন রোধে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০৯ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো পরিপালনে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত বিদেশি ব্যক্তি (পলিটিক্যালি এক্সপোজড পারসনস) বলতে অন্য কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজে নিয়োজিত ছিলেন কিংবা রয়েছেন এমন লোকজনকে বোঝাবে। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক অথবা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তির হিসাব খোলা ও পরিচালনা-সংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য একটি ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের আগেই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। তাঁদের হিসাবে লেনদেন করা অর্থ বা সম্পদের উত্স জানার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁদের হিসাবের লেনদেন নিয়মিতভাবে তদারক করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নির্দেশনায় অনিবাসীদের হিসাব খোলা ও পরিচালন-সংক্রান্ত যেসব বিধিবিধান রয়েছে, তাও এ ক্ষেত্রে যথারীতি পরিপালন করতে হবে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের পর গ্রাহক রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হলে অথবা হিসাবের প্রকৃত সুবিধাভোগী কেউ ওই পর্যায়ের ব্যক্তি হলে সেই হিসাবের ক্ষেত্রেও এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাতে কোনো ব্যাংক মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিষয়ক ঝুঁকির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিয়োগে যথাযথ বাছাই-প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহূত হতে না পারে, সে জন্য বিদেশে অবস্থিত কোনো ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন ও অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং বলতে এক ব্যাংক কর্তৃক অন্য ব্যাংককে ঋণ, আমানত, আদায়, পরিশোধ বা অনুরূপ অন্য কোনো সেবার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত সেবা প্রদানকে বোঝানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যে দেশে নিবন্ধিত, সে দেশে তার কোনো শাখা বা কার্যক্রম না থাকলে (যা শেল ব্যাংক হিসেবে পরিচিত) ওই ব্যাংকের সঙ্গে কোনো ব্যাংকিং সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এমনকি এ ধরনের ব্যাংকের সঙ্গে বিদেশের কোনো করেসপনডেন্ট ব্যাংকের ব্যাংকিং সম্পর্ক থাকলে তার সঙ্গেও করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং করা যাবে না।
সার্কুলারের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রশ্নমালা সংযুক্ত করেছে। করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানের আগে প্রশ্নমালা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশের রেসপনডেন্ট ব্যাংকের ব্যবসা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নিতে হবে।
বিদেশের ব্যাংক যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কার্যকরভাবে তদারক করা হয়—এটা নিশ্চিত হয়েই কেবল কোনো বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে বা বজায় রাখা যাবে। যেসব দেশ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেনি, তাদের সঙ্গে করেসপনডেন্ট সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক দাবা

গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ কাল কক্সবাজারে শুরু করলেন তাঁর ‘সিক্স সিজন’ দাবার প্রথম টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার পাঁচ জন পুরুষ ও পাঁচ জন মহিলাসহ মোট ১০ প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন এতে। প্রথম রাউন্ডে জিতেছেন রাশিয়ার মিনিনা ভেরোনিকা ও মাহফুজুর রহমান (ইমন)। ফিদে মাস্টার আবদুল মালেকের সঙ্গে ফিদে মাস্টার আবু সুফিয়ান (শাকিল), শামীমা আক্তারের (লিজা) সঙ্গে তনিমা পারভীন ও ভারতের কিরণ মনিষার সঙ্গে স্বদেশি ধ্যানি দাব ড্র করেছেন।

এবার পাক ক্রিকেটারদের সম্পত্তির হিসাব

পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ওঠা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না সে দেশের ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ জাতীয় সন্দেহ থেকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির প্রধান জামশেদ আহমেদ দাস্তি পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকাকে বলেছেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে ম্যাচ পাতানো নিয়ে যে কঠোর সমালোচনা হচ্ছে, আমরা তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। পিএমএল আইনজ্ঞ সৌদ মজিদকে প্রধান করে একটি সাবকমিটিকে এই ঘটনা তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাবকমিটি খেলোয়াড়দের সম্পত্তি এবং কর প্রদানের হিসাবও নেবে।’ ওয়েবসাইট।
ওদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ইজাজ বাট নাকি সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, ম্যাচ পাতানোয় যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁদের কেউ পাকিস্তানের বর্তমান দলের সদস্য নয়।

‘টেরিকে রেহাই দিন’

‘যথেষ্ট হয়েছে, এবার সবার থেমে যাওয়া উচিত।’ জন টেরির গোপন প্রণয় কাহিনি নিয়ে হইচই চাপা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কথাগুলো বলেছেন চেলসির সহকারী কোচ রে উইলকিনস।
ওয়েইন ব্রিজের সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে ‘পরকীয়া’র খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চাপের মুখে আছেন বেচারা টেরি! কি ইংল্যান্ড কি চেলসি—যে জার্সি গায়ে চাপিয়েই মাঠে নামেন, ‘দুয়ো’ শুনতে হয় তাঁকে। উইলকিনস বলেছেন, এটা এখন বন্ধ করা উচিত, ‘অধ্যায়টা শেষ হয়ে গেছে, এমনটা ভাবতেই আমি পছন্দ করি। এখন যা হচ্ছে তাতে আমি মোটেই খুশি নই। কিন্তু এ নিয়ে তো আমি আর কিছু করতে পারি না। শুধু বলতে পারি, অনেক হয়েছে। টেরিকে এবার রেহাই দিন।’
টেরির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলার আগ্রহ নেই উইলকিনসের, তবে তাঁর অধিনায়কত্বের প্রশংসা ঠিকই করেছেন চেলসির সহকারী কোচ, ‘সে ব্যতিক্রমী এক অধিনায়ক। তাকে পেয়ে আমরা খুশি। মাঠে খেলোয়াড়দের দারুণভাবে নেতৃত্ব দেয়।’
হঠাত্ উইলকিনসের এই টেরি প্রশস্তির কারণটা সহজবোধ্য। পরশু তাঁর নৈপুণ্যেই স্টোক সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে চেলসি। টেরি নিজে একটি গোল করেছেন, অন্যটি করিয়েছেন ল্যাম্পার্ডকে দিয়ে।
পরশু স্টোকের বিপক্ষে ম্যাচেও প্রায় পুরোটা সময় টেরিকে দুয়ো দিয়েছে স্টোক সমর্থকেরা। এই পারফরম্যান্সে বুঝি তারই জবাব দিলেন সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

নিউজিল্যান্ডের অন্য লড়াই

সিরিজে ১-১-এ সমতা। আজ তৃতীয় ম্যাচটি তাই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দুই দলের কাছেই এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কের ম্যাচটির গুরুত্ব তাই অনুমান করাই যায়। কিন্তু কতটা, সেটা নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরির কথাটা না শুনলে বোঝা যাবে না। ‘সম্ভবত এটাই এই সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। যারা ২-১-এ এগিয়ে যাবে, সিরিজ জয়ের জন্য তাদের দরকার হবে আর মাত্র একটি জয়’—এই ম্যাচের গুরুত্বটা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন ভেট্টোরি।
অথচ এমন এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভেট্টোরির দলকে লড়তে হচ্ছে ইনজুরির সঙ্গে। অবস্থা এমনই যে মাঠে এগারজন ক্রিকেটার নামানোই দায়! অনুশীলনে চোট পাওয়ায় প্রথম ওয়ানডে খেলা হয়নি ভেট্টোরির। দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরলেও দলের বাইরে চলে যান প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া রস টেলর। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আজও খেলা অনিশ্চিত তাঁর। একই চোট নিয়ে অনিশ্চিত জেমস ফ্র্যাঙ্কলিনও। আর সিরিজ শুরুর আগেই তো চোটআঘাত ছিটকে দিয়েছে জেসি রাইডার, গ্র্যান্ট ইলিয়ট, কাইল মিলস, ইয়ান বাটলারদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই নির্বাচকেরা তাই তৃতীয় ওয়ানডের দলে রেখেছেন নতুন মুখ ক্যান্টারবুরির ব্যাটসম্যান শানান স্টুয়ার্টকে। তবে ইনজুরি-বিপর্যয়ের পরও আজ জয়ের আশা ভেট্টোরির, ‘এই ম্যাচে (জয়ের জন্য) সব চেষ্টাই করব আমরা।’
নিউজিল্যান্ডের জন্য সেডন পার্কও একটা প্রেরণা। এখানে ১৩টি ওয়ানডে খেলে ১০টিতেই জিতেছে তারা। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান—১৯৯৩ ও ২০০৭ সালে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডের দুটিতেই জয়ী দলের নাম নিউজিল্যান্ড।
ইনজুরি-টুরির সমস্যা নেই অস্ট্রেলীয় শিবিরে। তবে ব্যক্তিগত কারণে হঠাত্ করেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন মাইকেল ক্লার্ক। গত সপ্তাহেই এক ম্যাগাজিনে নগ্ন ছবি ছাপা হয়েছিল ক্লার্কের বাগদত্তা লারা বিঙ্গলের। এ নিয়ে যখন বিতর্ক অস্ট্রেলিয়ায়, নিউজিল্যান্ডে দলকে রেখে দেশে ফিরে গেলেন ক্লার্ক। কত দিন থাকবেন, নিউজিল্যান্ডে আর ফিরবেন কি না সে সম্পর্কে কিছুই জানায়নি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
ক্লার্কের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের মিডল অর্ডারে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা হতে পারেন ‘মিস্টার ক্রিকেট’ থেকে ‘মিস্টার কনসিসটেন্ট’ হয়ে যাওয়া মাইক হাসি। গত ১৯টি ম্যাচের সব কটিতেই দুই অঙ্কের রান করেছেন। এই সিরিজের দুই ম্যাচে ৫৯ ও ৫৬ রানের ইনিংসসহ নিয়ে মোট ফিফটি ৮টি। ব্যাটিং-গড় ৬৩.২১!

ড্র করল ইন্টার মিলানও

সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি ইন্টার মিলান। এসি মিলান ও এএস রোমা নিজেদের আগের ম্যাচে ড্র করায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইন্টার। কিন্তু পরশু জেনোয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সে সুযোগটা হারিয়ে ফেলল তারা। যদিও পয়েন্ট ব্যবধানে কোনো হেরফের হয়নি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসি মিলানের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধানটা ইন্টারের সেই চারই আছে। ২৭ ম্যাচে ইন্টারের ৫৯, মিলানের ৫৫। ৫২ পয়েন্ট নিয়ে রোমা তৃতীয় স্থানে। তবে লিভর্নোকে ১-০ গোলে হারিয়ে জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলেছে পালের্মো। ২৭ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে তারা। পঞ্চম স্থানে জুভেন্টাস (৪৪)।
মারিও বালোতেল্লি, জোরান পানদেভ ও ডিয়েগো মিলিতোর ত্রিফলা আক্রমণও জেনোয়ার শক্ত রক্ষণকে ভাঙতে পারেনি। এমনকি শেষ ১৫ মিনিটের আগে কখনো মনেই হয়নি ইন্টার জেনোয়ার পোস্টে বল পাঠাতে পারবে।
ইন্টার কোচ হোসে মরিনহো নিষেধাজ্ঞার কারণে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। খেলা দেখতে হয়েছে তাঁকে গ্যালারিতে বসে। দল গোল পাচ্ছে না দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন ইন্টারের পর্তুগিজ কোচ। বসার জায়গা বদলাতে বদলাতে মাঠের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ওখান থেকেই দিয়েছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

আর্সেনালের ‘প্রায়শ্চিত্তে’র রাত

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পোর্তোতে আর্সেনালের রাতটা ছিল আসলে দুঃস্বপ্নের। রক্ষণ-ভুলের কারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে পোর্তোর কাছে ১-২ গোলে হেরে এসেছে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। নিজেদের মাঠ এমিরেটসে আর্সেনালের আজ সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার দিন। শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ের দ্বিতীয় পর্বে আজ এমিরেটসে মুখোমুখি হচ্ছে দু দল।
আর্সেনাল যতই প্রায়শ্চিত্তের কথা ভাবুক, লড়াইটা ইউরোপের বলে পোর্তোকে আপনি এগিয়ে না রেখে পারেন না। কারণ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার শেষ আটে খেলার অভিজ্ঞতা পর্তুগালের এই ক্লাবটিরই বেশি। ইউরোপে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পোর্তো এ পর্যন্ত শেষ আটে খেলেছে ১৪ বার। আর্সেনাল ১২ বার। চ্যাম্পিয়নস লিগেও এদিক দিয়ে এগিয়ে পোর্তো। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটে ৬ বার খেলেছে পোর্তো। আর্সেনাল শেষ আটে খেলেছে ৫ বার।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনাল-পোর্তোর মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা অবশ্য ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’। এ পর্যন্ত পাঁচবার সাক্ষাতে দুবার জিতেছে আর্সেনাল, দুবার পোর্তো। ড্র হয়েছে বাকি ম্যাচটি। নকআউট পর্বে অবশ্য একবারই মুখোমুখি হয়েছে পোর্তো-আর্সেনাল। সর্বশেষ সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে আজকের লড়াইয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে আছে পোর্তো।
আর্সেনাল দল অবশ্য এসব পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবছে না। ‘গানার’রা অনুপ্রেরণা খুঁজছে অন্য দুটি দিক থেকে—আজকের ম্যাচটি হচ্ছে এমিরেটসে, যে মাঠে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার সর্বশেষ ৩২টি ম্যাচের মাত্র একটিতেই হেরেছে তারা। তাও আবার ইংল্যান্ডেরই ক্লাব ম্যানইউর কাছে। আর প্রথম লেগে পোর্তো থেকে হেরে এলেও নিয়ে এসেছে একটি অ্যাওয়ে গোল। আর্সেনালের ইংলিশ ডিফেন্ডার সল ক্যাম্পবেল অ্যাওয়ে গোলটিকেই দেখছেন বড় করে, ‘অ্যাওয়ে গোল করে আসাটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা ০-১ গোলে হেরে আসতাম, তাহলে কাজটা কঠিন হতো। আর যে গোলটি আমরা পোর্তোতে পেয়েছি, সেটি দ্বিতীয় লেগে আমাদের জন্য বড় সুবিধা হয়ে আসবে।’
তবে একটি ব্যাপার নিয়ে ভাবতেই হচ্ছে আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে—ইনজুরি। ওয়েলস মিডফিল্ডার অ্যারন রামসে এবং ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম গালাস চোটের কারণে আগে থেকেই মাঠের বাইরে। বার্নলির বিপক্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া সেস ফ্যাব্রিগাসেরও খেলা হচ্ছে না এ ম্যাচে। স্প্যানিশ প্লে-মেকারকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না আর্সোনাল কোচ ওয়েঙ্গার, ‘ওকে নিয়ে আমরা জুয়া খেলতে পারি না। ফ্যাব্রিগাসকে তাই এ ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এসব জুয়া-টুয়ার কথা ভাবার দরকার পড়ছে না বায়ার্ন মিউনিখ কোচ লুই ফন গলের। তাঁর হিসেবটা খুব সোজা। বায়ার্নের নিজের মাঠে খেলা আজ। সঙ্গে বড় প্রেরণা তো প্রথম লেগে ফিওরেন্টিনা থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফেরা। তবে এর পরও সতর্ক বায়ার্ন মিউনিখ কোচ। খেলোয়াড়দের সাবধান করে দিতে বলছেন—ম্যাচটি কিন্তু সহজ হবে না।
বায়ার্নের জন্য ম্যাচটি কঠিন করে তোলার প্রত্যয় ফিওরেন্টিনা খেলোয়াড়দেরও। ‘আমার মনে হচ্ছে এই ম্যাচটা বর্ষসেরাও হয়ে যেতে পারে’—বায়ার্নের বিপক্ষে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে দল তা জানাতে গিয়ে বলেছেন ফিওরেন্টিনা কোচ সিজার প্রান্দেল্লি।

রহমতগঞ্জের ৫ গোল মুক্তিযোদ্ধার জালে

আগের ৮ ম্যাচে তারা গোল করেছিল মাত্র ৩টি। কাল এক ম্যাচেই ৫ গোল করল রহমতগঞ্জ! প্রতিপক্ষ দলটার নাম মুক্তিযোদ্ধা।
শুকতারার সঙ্গে ড্র আর আরামবাগকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাকে আবার ঘিরে ধরেছে দুঃসময়। আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে ১-২ গোলে হারলেও কিছুটা লড়াই তারা করতে পেরেছিল। ঢাকা মোহামেডানের কাছে ০-৪ গোলে হারলেও আবাহনীর কাছে মুক্তিযোদ্ধা হেরেছিল মাত্র ০-১ গোলে। সেই দল রগমতগঞ্জের কাছে কাল ৫-১ গোলে উড়ে গেল!
১১ ও ২১ মিনিটে রাফায়েল দুই গোল করে জয়টা ম্যাচের প্রথমভাগেই নিশ্চিত করে ফেলেন। ২৩ মিনিটে টিপু ২-১ করেন। এরপর ৩১ মিনিটে ফেলিক্স, ৪০ মিনিটে মামুন ও ৮৭ মিনিটে পাশবনের গোল রহমতগঞ্জকে এবারের বাংলাদেশ লিগে এনে দিয়েছে দ্বিতীয় জয়। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৮। মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে অবনমন এড়ানো কঠিনই হয়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই পড়ে আছে দলটি।
আজকের খেলা: ঢাকা মোহামেডান-বিয়ানীবাজার (সিলেট স্টেডিয়াম, শুরু বিকেল ৫টা), চট্টগ্রাম আবাহনী-আরামবাগ (চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডি., শুরু বেলা ৩-৩০ মি.)।

ঢাকায় আসছেন মরগান

২০১১ বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকতা হারুন লরগাতসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক রথী-মহারথী। এবার আসছেন খোদ আইসিসি সভাপতি ডেভিড মরগান। বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের আমন্ত্রণে আগামী ২২ মার্চ ঢাকা আসবেন তিনি।
তিন দিনের সফরে বোর্ড সভাপতি ছাড়াও মরগান সাক্ষাত্ করবেন বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে। ওই সময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট।

আজ মাশরাফির আইপিএল-যাত্রা

ভিসা পেয়ে গেছেন, আইপিএলে খেলতে আজ সকালেই ভারতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মুম্বাইয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। আইপিএলের তৃতীয় আসর শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ থেকে।
আইপিএলে যাওয়ার আগে কালও জাতীয় দলের সঙ্গে মিরপুর ইনডোরে অনুশীলন করেছেন মাশরাফি। যাওয়ার আগে কোচ জেমি সিডন্সের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন শুভকামনা। দীর্ঘ ইনজুরি থেকে ফেরা মাশরাফির কাছে এবারের আইপিএল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পরীক্ষা, ‘আইপিএলে যদি ভালো খেলতে পারি, ফিটনেসটা পুরো ফিরে পেতে পারি, আশা করি দ্রুতই আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারব। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ ডেভ হোয়াটমোর, ওয়াসিম আকরামও থাকবেন। তাঁদের পরামর্শও আমার কাজে লাগবে।’
আগামী ১২ মার্চ থেকে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। আর তাতে মাশরাফি নেই। টেস্ট থেকে আপাতত দূরে থাকার সিদ্ধান্তটা নিজেই নিলেও এই সিরিজে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি, ‘দল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে আমার ধারণা স্পিন-নির্ভর দলই হবে এবং সেটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কার্যকরও হবে আশা করি। তা ছাড়া আমাদের ব্যাটিংটাও এখন ভালো হচ্ছে।’
বোলিংয়ে যেমন মাশরাফি, একটা সময়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দল বলতেই বোঝাত মোহাম্মদ আশরাফুলকে। মাশরাফির মতো সেই আশরাফুলেরও এখন খারাপ সময়, দলে ছিলেন না ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। আইপিএলে যাওয়ার আগে আশরাফুলের মঙ্গল কামনা করে গেলেন মাশরাফি, ‘আশরাফুল টেস্ট দলে থাকবে কি না এখনো জানি না। আমি মনে করি তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রয়োজন আছে দলে। আশরাফুলের ফর্ম ফিরিয়ে আনতে সম্ভব যা কিছু করা দরকার আশা করি বোর্ড সেটা করবে।’

সংবর্ধনায় অনুপ্রাণিত তাঁরা

বিকেএসপির একদল নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আসা হলো অনুষ্ঠানে। বক্তাদের কথায় কখনো তারা উদ্দীপ্ত, কখনো নীরব। সিরডাপ মিলনায়তন কখনো করতালিতে ফেটে পড়ে, কখনো ভাবগম্ভীর হয়ে যায়।
অনুষ্ঠান শেষে বিকেএসপির মেয়েরা নতুন একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে গেল। নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন-বিষয়ক এই আলোচনা পর্ব থেকে একটা অনুপ্রেরণাও তারা পেল। ক্রীড়াঙ্গনে ভালো করলে আগামী দিনে তারাও সম্মান পাবে। এই অনুষ্ঠানেই ওই কিশোরীরা দেখল তাদের পূর্বসূরিদের সম্মানিত করল নারী উদ্যোগ কেন্দ্র।
১৯৯১-১৯৯৮ পর্যন্ত বিশ্ব নারী দিবসে মূলত তৈরি পোশাক-শ্রমিকদের নিয়েই অনুষ্ঠান করত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নারী উদ্যোগ কেন্দ্র। ১৯৯৯ সালে প্রথম কয়েকজন গুণী নারী ক্রীড়াবিদকে সম্মাননা জানানোর পর এ বছর আরও বড় পরিসরে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সম্মানিত করল সংস্থাটি। সম্মাননা জানানোর আগে কাল দুপুরেই হলো নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে শোভাযাত্রা।
নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসুদা খাতুন শেফালির স্বাগত বক্তব্যের পরই হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে আজীবন সম্মাননা জানানো হলো ক্রীড়াঙ্গনের তিনজন কৃতী ক্রীড়াবিদ-সংগঠক হামিদা আলী, জিনাত আহমেদ ও রানী হামিদকে। পদক দিয়ে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হলো একসময়ের মাঠ কাঁপানো খেলোয়াড় ডলি ক্যাথরিন ক্রুস, রওশন আক্তার ছবি, সুফিয়া খাতুন, শামীমা সাত্তার মিমু, কামরুন্নাহার হিরু, সৈয়দা মরিয়ম তারেক ও মাহবুব আরা গিনিকে।
এবারের এসএ গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশ দলের নারী ক্রীড়াবিদেরা ছিলেন এই মঞ্চের অন্যতম আকর্ষণ। শারমিন আক্তার (রত্না), তৃপ্তি দত্ত, ফারজানা শারমিন, শাম্মী আক্তার, মরিয়ম খাতুন, জ উ প্রু, মুন্নি খানম, হুসানু মারমা ও ইতি ইসলামকে পদক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার আসেননি। ছিলেন কয়েকজন বিশেষ অতিথি। তাঁদেরই অন্যতম রাফিয়া আক্তার ডলি বলেন, ‘নারী দিবস পালিত হলে পুরুষ দিবসও পালিত হওয়া উচিত।’ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মিজানুর রহমান ‘আজই ভারতে সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালনায় একটা বোয়িং বিমান উড্ডয়ন করছে’ বলার পর হাততালি পড়ল অনেক। বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক যখন বলেন, ঢাবিতে মোট শিক্ষকের ৩০ শতাংশ নারী, উপস্থিত নারী ক্রীড়াবিদদের কাছে সেটি প্রেরণাদায়ী হয়ে ওঠে।
সাংসদ মাহবুব আরা গিনি যখন বলেন, খেলাধুলার জন্য প্রতিটি জেলাকে এক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে, সেটিও নারী ক্রীড়াবিদদের নতুন আশা জাগায়। তবে আসল কথাটা বলে দিয়েছেন বিকেএসপির অধ্যক্ষ আইনুন নাহার, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নই এ দেশে বড় সমস্যা।’

বেল পড়ল কীভাবে

রাজশাহীর ফিল্ডারদের দাবি ইলিয়াস সানি বোল্ড। আম্পায়ার বলছেন, অফ স্পিনার ফরহাদ হোসেনের বল টার্ন করে এতটাই বেরিয়ে যাচ্ছিল যে বল স্টাম্পে লাগারই কথা নয়। এত দ্রুত সব ঘটে গেছে যে বল স্টাম্পে লেগেছে কি না সেটা বুঝতেই পারেননি লেগ আম্পায়ার। তবে উইকেটকিপার স্টাম্পিং করেননি, সেটা তিনি নিশ্চিত। তাহলে প্রশ্ন, বেল ফেলল কে?
কৌতূহলোদ্দীপক এই ঘটনা ঘটেছে কাল জাতীয় লিগের রাজশাহী-চট্টগ্রাম ফাইনালের দ্বিতীয় দিনে। দিনের শেষ ওভারটি করছিলেন রাজশাহীর অফ স্পিনার ফরহাদ হোসেন, ব্যাট করছিলেন চট্টগ্রামের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি। ওভারের তৃতীয় বলে রাজশাহীর জোরালো আবেদন। আবেদন কট বিহাইন্ড বা স্টাম্পিংয়ের নয়, বোল্ডের! কিন্তু আম্পায়ার এনামুল হক বলছেন, ‘ব্যাটসম্যান অনেক সামনে ছিল বলে বল স্টাম্পে লেগেছে কি না দেখতে পাইনি। তবে বলটা যে রকম টার্ন করেছে, স্টাম্পে লাগার কথা না।’ দ্বিধা দূর করতে তিনি সাহায্য চাইলেন লেগ আম্পায়ার নাদির শাহর। কিন্তু ঘটনা অতি দ্রুত ঘটে যাওয়ায় বলটা স্টাম্পে লেগেছে কি না সেটা নাকি বুঝতে পারেননি তিনিও।
অগত্যা উপায় একটাই, ম্যাচ রেফারির সাহায্য চাওয়া। থার্ড আম্পায়ারের ব্যবস্থা না থাকলেও ম্যাচটা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে বলে রকিবুল হাসান নিশ্চয়ই ঘটনাটা টেলিভিশনে দেখেছেন। তিনিও অসহায়, ওই সময় নাকি টিভিতে খেলাই দেখা যাচ্ছিল না! উইকেট আর বেলের ময়নাতদন্তও নিশ্চিত কিছু বলছিল না। ব্যাটসম্যান ইলিয়াস সানি তাই পেয়ে গেলেন বেনিফিট অব ডাউট। ‘বেল কীভাবে পড়ল, সেটা নিশ্চিত না হয়ে তো আমরা আউটের সিদ্ধান্ত দিতে পারি না’—বলেছেন আম্পায়ার এনামুল। বেল পড়ল কীভাবে, সেটা তাই রহস্য হয়েই থাকল।

দু দলই জয়ের আশায়

ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে দুই অধিনায়কই মোটামুটি নিশ্চিত, জাতীয় লিগের পাঁচ দিনের ফাইনাল ফলাফল দেখবে। দুই অধিনায়কই সমীকরণ মেলাচ্ছেন ফলাফলটা নিজেদের দিকে আনার এবং সেই সমীকরণে প্রথম শর্তটাও দুই অধিনায়কের কাছে একই—লিড নিতে হবে প্রথম ইনিংসে।
১০৬ রানে এগিয়ে থেকে কাল পর্যন্ত সেই লিড রাজশাহীর। প্রথম ইনিংসে তাদের ৩৭২ রানের পর দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের রান ৬ উইকেটে ২৬৬। চট্টগ্রাম অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন তার পরও লিড নেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘কাল (আজ) যদি আমরা লাঞ্চ পর্যন্তও খেলতে পারি, আমার বিশ্বাস রাজশাহীর রান আমরা টপকে যাব। দলে ১১ জনই ব্যাটিং করতে পারে। এমনকি ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান কামরুলও গত প্রিমিয়ার লিগে তিনটা ৪০ রানের ওপরে ইনিংস খেলেছে।’ কিন্তু রাজশাহী অধিনায়ক খালেদ মাসুদ উল্টোভাবেই মেলাচ্ছেন সমীকরণ, ‘চট্টগ্রাম দলটা মূলত ওয়ানম্যান শো। ডিকেন্স (ফয়সাল হোসেন) ছাড়া দলে আর কোনো ব্যাটসম্যান নেই, আর ও তো আউটই।’
ফাইনালে জিতলে তো শিরোপা নিশ্চিতই। তবে এই ম্যাচ ড্র হলে চ্যাম্পিয়ন হবে আগের দুই রাউন্ডে এগিয়ে থাকা দল রাজশাহী। বিস্ময়কর হলো, এই নিয়মটা নাকি কাল এই প্রতিবেদকের কাছেই প্রথম জানলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন! ‘খেলার আগে তো ম্যাচ রেফারি আমাদের বলেছেন ড্র হলে আগের মতো প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকা দলই চ্যাম্পিয়ন হবে। এখন সেটা না হলে তো আমাদের জেতার জন্যই খেলতে হবে।’ উল্টো দিকে রাজশাহী অধিনায়ক আগে থেকেই নিয়মটা জানেন বলে লক্ষ্যও স্থির করে রেখেছেন আগেই, ‘উইকেট একেবারেই ফ্ল্যাট। ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করাই কঠিন। তার পরও চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা সহজ হবে না চট্টগ্রামের পক্ষে। দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা তাই অল্প কিছু রান লিড নিয়েই ইনিংস ঘোষণা করব। ফাইনালে ড্র করলেই শিরোপা আমাদের, তার পরও আমরা চাই জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে।’
শিরোপা শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে উঠবে, আজই হয়তো অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে তা। উইকেটে থাকা দুই ব্যাটসম্যান মোমিনুল হক আর ইলিয়াস সানির দিকে তাকিয়ে দিনের খেলা শুরু করবে চট্টগ্রাম। ২০১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর কাল দিনশেষে ৬৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি তাদের। মোমিনুল ৭২ ও ইলিয়াস ২৯ রানে অপরাজিত। তবে ১১১ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর সম্ভাব্য বিপর্যয়টা সামলেছেন অধিনায়ক নাজিমউদ্দিন। ষষ্ঠ উইকেটে মোমিনুলের সঙ্গে ৯০ রানের জুটি গড়ার পর আউট হয়েছেন তিনি ৮০ রান করে।

ফরাশগঞ্জকে জিততে দিল না শুকতারা

পরাজয়ের কিনারে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ড্র করে ফেলল নারায়ণগঞ্জ শুকতারা। ৫২ মিনিটের সবুজের গোল ধরে রেখে যখন তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাশগঞ্জ, তখনই অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে তাদের বিপক্ষে পেনাল্টি। রেজাউল করিম (লিটন) পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-১ করে ফেললেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম দেখল নাটকীয় এক ড্র।
৯ ম্যাচে ২ জয় আর ৪ ড্রয়ে ফরাশগঞ্জের পয়েন্ট ১০। সমান ম্যাচে শুকতারার পয়েন্ট ৭। তারা একটি ম্যাচ জিতেছে এবং ড্র করেছে চার ম্যাচ।
আজকের খেলা: রহমতগঞ্জ-মুক্তিযোদ্ধা (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা)।

নারী ক্রীড়াবিদদের নতুন আশা

সম-অধিকার, সমান সুযোগ, সবার জন্য অগ্রগতি—এই স্লোগান সামনে রেখে আজ দুপুর ১২টায় মুক্তাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রা শুরু করবেন বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদেরা। দিনটি তাদের জন্য অন্য রকম এক তাত্পর্য নিয়ে আসছে। আজ বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষ পালিত হচ্ছে এবং সেটিরই অন্যতম কর্মসূচি এটি।
খেলাধুলায় বাংলাদেশের মেয়েরা কতটা এগিয়েছেন, কতটা পিছিয়েই বা রয়েছেন এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া ক্রীড়াবিদদের সম্মান দেওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত। আর এই কাজটা করতে যাচ্ছে নারী উদ্যোগ কেন্দ্র। আজকের নারী দিবসে নারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা জানাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সদ্য শেষ হওয়া দক্ষিণ এশীয় গেমসে (এসএ গেমস) সোনাজয়ী নারী ক্রীড়াবিদদের আজ বিকেল তিনটায় সিরডাপ মিলনায়তনে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য নারী সংগঠক ও ক্রীড়াবিদদেরও সম্মাননা জানানো হবে একই সঙ্গে। দুপুরের শোভাযাত্রার আয়োজকও তারা, মুক্তাঙ্গন থেকে প্রেসক্লাব হয়ে যেটি শেষ হবে সিরডাপ মিলনায়তনে।
এবারের এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮টি সোনা জিতেছে, এর মধ্যে ৮টি জিতেছেন নারী ক্রীড়াবিদেরা। তথ্যগতভাবে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের এগিয়ে যাওয়ারই প্রমাণ মিলছে এতে। তবে তা দেখেও এখানকার নারী ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে অনেকের মুখেই হতাশার সুর।
ষাটের দশকের ক্রীড়াবিদ, বর্তমানে নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক হামিদা বেগম বলছিলেন, ‘আমাদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত মেয়েরা বেশি আসত ক্রীড়াঙ্গনে। এখন শিক্ষিত মেয়েরা আসছে না। মূলত গরিব ঘরের মেয়েরা একটা চাকরির আশায় খেলাধুলায় আসছে। এখনকার বাবা-মায়েরা শুধু কোচিং আর পড়াশোনার বাইরে কিছু ভাবতে পারেন না। এটা তো এগিয়ে যাওয়া হলো না।’
প্রতিকূল একটা পবিরেশের মধ্যেই বেড়ে ওঠা সাবরিনা সুলতানা আজ দেশের মহিলা ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় নাম। নারী দিবস নিয়ে তিনি কী ভাবছেন? ‘বিশেষ কিছু ভাবি না। অবশ্য এই দিনটিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে ভালো লাগে’—বললেন ১৯৯৭ কমনওয়েলথ ও সাফের সোনাজয়ী শ্যুটার। তবে আগের চেয়ে মেয়েরা সুযোগ-সুবিধা বেশি পাচ্ছেন এবং দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থায় নারী ক্রীড়াবিদেরা বেশ ভালো করছেন মনে করেন তিনি, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের মেয়েরা অনেক এগিয়েছে। লড়াই করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়েও ভালো করছে।’
‘মেয়েরা ভালো করছে’ এই কথার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারেন শারমিন আক্তার (রত্না)। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শ্যুটিংয়ে গত এসএ গেমসে ব্যক্তিগত ও দলীয় সোনা জিতেছেন। কদিন আগে দিল্লিতে কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ে দলীয় সোনা আর ব্যক্তিগত রুপাজয়ী এই শ্যুটার ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করতে পারেন। খেলার জগতে শারমিনের কেটে গেল প্রায় পাঁচ বছর। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে ভালো ধারণাই পোষণ করেন তিনি, ‘সব ক্ষেত্রেই উন্নতি করছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তারা সাফল্য আনছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তেমন বাধার মুখে না পড়লেও বাংলাদেশের মহিলা ক্রীড়াঙ্গনে অনেক বাধা আছে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দরকার। বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতাও চাই। সেটা আমি হয়তো পাচ্ছি, আরেকজন হয়তো নাও পেতে পারে। তবে সব মিলিয়ে নারী দিবসে একটাই প্রত্যাশা আমাদের, মেয়েরা খেলাধুলায় আসুক আরও বেশি করে।’

গেইলদের স্বস্তির এক জয়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ ম্যাচ জিতেছিল গত আগস্টে। বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে ওই জয়ের পর আরও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে তারা, খেলেছে ৯টি ওয়ানডে ও ৩টি টেস্ট। কিন্তু জয় তাদের কাছে ছিল সোনার হরিণ। তবে পরশু কাঙ্ক্ষিত সেই জয়ের দেখা পেল ক্রিস গেইলের দল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বুকের ওপর চেপে বসা বড়সড় একটা পাথরই যেন সরিয়ে দিয়েছে এই জয়। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সে রকমই বললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রিস গেইল, ‘এ জয় বড় স্বস্তির। আশা করি অনাগত অনেক জয়ের শুরুও।’
জয়ের ধারায় ফিরতে পারার ‘স্বস্তি’র সঙ্গে ম্যাচ বাঁচাতে পারার আনন্দও আছে গেইলের। আগের ম্যাচে শেষ ওভারে হেরে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরশু ১৩ বল হাতে রেখে জিতলেও জিম্বাবুয়ের ২০৬ রান তাড়া করে ৮৫ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৪ উইকেট। তবে উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে গেইল এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। ৭টি চার ও ২ ছয়ে করেছেন ৮৮ রান। ক্রেমারের অফ স্পিনে তিনি যখন বোল্ড হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৬৮/৫। জয় থেকে দূরত্ব তখন মাত্র ৩৯ রান। বাকি কাজটা দায়িত্বের সঙ্গেই করেছেন নরসিং দেওনারায়ণ। গেইলের সঙ্গে ৮৩ রানের জুটি গড়া দেওনারায়ণ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে (৬টি চার ও ১টি ছয়)।
এর আগে জিম্বাবুয়ে দুশ পেরোনো স্কোর গড়ে এলটন চিগুম্বুরা ৫০ এবং ব্রেন্ডন টেলরের ৪৭ রানের সুবাদে। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন বাঁহাতি স্পিনার নিকিতা মিলার।
পরশুর জয়ে ৫ ওয়ানডের সিরিজে ১-১-এ সমতা আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় ম্যাচ আগামী পরশু, সেন্ট ভিনসেন্টে। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৪৯.৫ ওভারে ২০৬ (চিগুম্বুরা ৫০, টেলর ৪৭, টাইবু ৩১, ল্যাম্ব ২৩, ক্রেমার ১৭, মাসাকাদজা ১৪; মিলার ৪/৪৩, রোচ ৩/৩৭, গেইল ১/২৫)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৭.৫ ওভারে ২০৮ (গেইল ৮৮, দেওনারায়ণ ৬৫*; প্রাইস ২/৩১, ক্রেমার ২/৪৪, ল্যাম্ব ১/২৩, টেলর ১/৬)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী।
মান অব দ্য ম্যাচ: নরসিং দেওনারায়ণ।

আবারও প্রেসিডেন্টস কাপের আয়োজক আবাহনী

আবারও এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপের নিজেদের গ্রুপ পর্বের খেলার আয়োজক হতে যাচ্ছে ঢাকা আবাহনী। আগামী ১২-১৬ মে ঢাকায় হবে এই পর্বের খেলা।
‘এ’ গ্রুপে আবাহনীর সঙ্গে আছে আরও তিনটি দল—নেপালের লিগ চ্যাম্পিয়ন (এখনো চূড়ান্ত হয়নি), কিরগিজস্তানের দরদই বিশকেক, চীনা তাইপের ইয়োয়েদি। খেলা হবে ১২, ১৪ ও ১৬ মে। আবাহনীর প্রথম ম্যাচ নেপালের চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে, ১৪ মে দরদই বিশকেক ও শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ ইয়োয়েদি।
তাজিকিস্তানের ভাক্স্ক, কম্বোডিয়ার নাগাকর্প, পাকিস্তানের খান রিচার্স ল্যাবরেটরিজ ও শ্রীলঙ্কার রিনাউন স্পোর্টস ক্লাব নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের খেলার ভেন্যু ও সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মিয়ানমারের ইয়াদানারবন, তুর্কমেনিস্তানের আইটিটিইউ ও ভুটানের ড্রুকস্টার্স ক্লাব আছে ‘সি’ গ্রুপে। ৯-১৩ মে খেলা হবে মিয়ানমারে।
তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আর সেরা রানার্সআপ দল যাবে পরবর্তী রাউন্ডে।
প্রেসিডেন্টস কাপে এবার নিয়ে তৃতীয়বার খেলছে বাংলাদেশের পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। আগের দুবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। প্রথমবার নিরপেক্ষ ভেন্যু কুয়ালালামপুরে, দ্বিতীয়বার ঘরের মাঠে গোল-গড়ে। তবে আয়োজক হওয়া মানেই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এবারও আয়োজক হতে আবেদন করেছিল আবাহনী, সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছে এএফসি।

ড্রয়ের চিন্তা নিয়েও এগোচ্ছে রাজশাহী

মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের ফাইনাল কাল দ্বিতীয় দিনে কিছু দর্শক দেখেছিল। কিন্তু গোটা পঞ্চাশেক দর্শকের বেশির ভাগই আবার লাঞ্চের পরপর চলে গেল। যাওয়ার সময় অনেককেই বলতে শোনা গেল—দূর, দূর! এটা কোনো ব্যাটিং? এ খেলা দেখার চেয়ে না দেখাই ভালো।
আগের দিনের ৫ উইকেটে ২০৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা রাজশাহী অলআউট হয়েছে ৩৭২ রানে। পরশু ৯০ ওভার খেলেছিল, কাল অলআউট হওয়ার আগে খেলেছে আরও ৭৯ ওভার। এতে ২.০৭ গড়ে উঠেছে ১৬৪ রান। এই শ্লথ ব্যাটিং কি পরিকল্পিত? রাজশাহীর অধিনায়ক খালেদ মাসুদের উত্তর, ‘ম্যাচ ড্র করলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। এমনিতে ম্যাচের ফল হলে আগের পাওয়া পয়েন্ট হিসেব হবে না। আর যদি ড্র হয় তাহলে আগের পয়েন্ট যোগ হবে। আর আমরা ওদের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেশি (রাজশাহী ৮৯, চট্টগ্রাম ৮৪) নিয়ে ফাইনালে এসেছি।’
দর্শকদের তৃপ্তি দেওয়ার চেয়ে শিরোপাটাই আসল বলে হয়তো উইকেট কামড়ে পড়ে থাকতে চেয়েছে রাজশাহী। আগের দিন অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটসম্যান মাসুদ (৫৫) ও আনিসুর (৫২) হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। আট নম্বরে নেমে ধীমান ঘোষও (৬৬*) অনুসরণ করেছেন জ্যেষ্ঠ সতীর্থদের। তবে আনিসুর ছাড়া বাকি দুজনের ব্যাটিং ছিল কচ্ছপ গতির। মাসুদ ৬টি চারের মাধ্যমে ৫৫ রান করেছেন ২২০ বলে। ধীমানের অপরাজিত ৬৬ রান এসেছে ১৮৯ বলে। আনিসুর ৫২ করেছেন ৯৫ বলে।
ধীর ব্যাটিং করেও ওভাবে আগের পয়েন্টের কল্যাণে কি শিরোপা জেতা হবে রাজশাহীর? ম্যাচটি যে পাঁচ দিনের। কাল গেল কেবল দ্বিতীয় দিন। আর দ্বিতীয় দিনের শেষে কোনো উইকেট না হারিয়েই চট্টগ্রাম ৯ ওভারে করেছে ২১ রান। গাজী সালাউদ্দিন ১১ ও মাহবুবুল করিম ৬ রান নিয়ে উইকেটে আছেন।
রাজশাহী অবশ্য শেষ দিকে দ্রুত উইকেট না হারালে শ্লথ ব্যাটিংয়ের পরও এর চেয়ে বড় স্কোর করতে পারত। মাসুদ-আনিসুরের ৭৭ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটির পর সপ্তম উইকেটে ধীমানকে নিয়েও ওই একই রানের জুটি গড়ে দলকে ৩৩৩ রানে নিয়ে যান মাসুদ। তিনি আউট হয়ে গেলে ধীমানকে আর কেউ ভালো সঙ্গ দিতে পারেননি। ৩৯ রানে পড়েছে শেষ ৩ উইকেট।