Saturday, April 2, 2016
আমি কোন নির্বাচন দেখিনি -নুরুল কবীর
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গণসচেতনতা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ইসলামের সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক অজ্ঞতাবশত এবং নানা কুমন্ত্রণা, প্ররোচনা ও অসৎ সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বর্জনীয় ও ক্ষতিকর বস্তু গ্রহণ করে নিজেদের, পরিবারের ও সমাজের সর্বনাশ ডেকে আনে এবং মারাত্মক বদঅভ্যাসের দাসে পরিণত হয়। মাদকাসক্তি এ ধরনের একটি কু-অভ্যাস। মাদকাসক্তি মানে মাদকদ্রব্যের দ্বারা আসক্তি বা নেশা সৃষ্টি হওয়া। যেসব খাদ্য, পানীয় বা বস্তু সুস্থ মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়, জ্ঞানবুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি লোপ করে দেয় এবং যা নেশা সৃষ্টি করে সেগুলো মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। মাদকদ্রব্য প্রাকৃতিক হোক বা রাসায়নিক হোক, পরিমাণে অল্প হোক আর বেশি হোক, পান করা হোক বা অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করা হোক, নেশা ও চিত্তভ্রমকারী হলেই তা হারাম বা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শরিয়তের একটি মূলনীতি প্রদান করে বলেছেন, ‘নেশাজাতীয় যেকোনো দ্রব্যই মাদক, আর যাবতীয় মাদকই হারাম।’ (মুসলিম)
ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুতি যুবসমাজে ভয়ানক মাদকাসক্তি বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। জীবনবিধ্বংসী মাদকে অনেক তরুণের জীবন নেশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রকৃতই মাদকাসক্তি মানুষের দেহের মারাত্মক বিনাশ সাধন করে। নেশাগ্রস্ত যুবকদের উল্লেখযোগ্য অংশ সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে; এ কারণে মরণব্যাধি এইডসের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। নিজের সত্তা, ধর্ম-কর্ম সবকিছু ভুলে গিয়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা নিছক কল্পনার জগতে বিচরণ করতে থাকে। ‘যে ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে, সে কখনো বেহেশতে প্রবেশাধিকার পাবে না’ এ মর্মে নবী করিম (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। (বুখারি)
মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা মাদকের ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য নানা রকম দুর্নীতি, অসামাজিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে পড়ে। একজন নেশাখোর মাদকের অর্থ জোগাতে গিয়ে সাধারণত চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং ও চোরাকারবারে লিপ্ত হয়। নিজের পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে সমাজের আর দশজনের টাকা-পয়সাও লুটে নিয়ে সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এভাবে মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিকৃষ্টতর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ও অনাচারে বাধ্য হয়। মাদকদ্রব্য ব্যবহারে মানুষ চিত্তবিভ্রম, অস্থির, উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার এবং নরহত্যার মতো ন্যক্কারজনক অপরাধগুলোর অধিকাংশই মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণাম। সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ক্ষেত্রেই মাদকাসক্ত চালকের কারণে ঘটে থাকে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নবী করিম (সা.) কঠোর শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করে ঘোষণা করেছেন, ‘মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল।’ (মুসলিম)
দেশের আশা-ভরসা ও মূল্যবান সম্পদ তথা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যুবসমাজকে ধ্বংস করার এক ভয়ংকর ক্ষতিকারক হাতিয়ার মাদকদ্রব্য। এ ছাড়া অনেক লোক মাদকসেবনকারীর সঙ্গে ওঠা-বসার দ্বারা মাদক গ্রহণ করতে পারে, ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। উপরন্তু মাদকাসক্তি মানুষকে ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ তথা কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ আল্লাহ তাআলার বিধিবদ্ধ দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত থেকে দূরে রাখে এবং পাপাচারে লিপ্ত করে। এতে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়, তবুও কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত-৯১)
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্তি যেমন একটি চরম অপরাধ, তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি জঘন্য পাপাচার; সমাজ, দেশ ও জাতিকে বিধ্বস্তকারী মারাত্মক ব্যাধি। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকায় সমাজের অর্থলিপ্সু চক্রের মদদের জন্য মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটছে। তাই সমাজজীবনে এ হেন ঘৃণ্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে যারা মাদকদ্রব্য প্রস্তুত, এর প্রচলন ও সরবরাহের কাজে জড়িত, তাদের দেশ ও জাতির স্বার্থে এ অনৈতিক কাজ বর্জন করা উচিত। যুবসমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার জন্য মাদকসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। মুসলিম পরিবারের প্রধানের দায়িত্বে নিয়োজিত পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও অভিভাবকেরা নিজেদের সন্তানদের মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত করবেন এবং তাদের মধ্যে এ কু-অভ্যাস যেন কোনোমতেই গড়ে না উঠতে পারে, এ ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকবেন। ভঙ্গুর পরিবারের ছেলেমেয়েরা অধিকতর মাদকাসক্ত হয়ে ওঠে; সে জন্য তারা যাতে অসৎ, দুশ্চরিত্র ও নেশাগ্রস্ত বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গী-সাথির সঙ্গে মেলামেশা না করতে পারে, সেদিকে সুদৃষ্টি রাখবেন এবং ইসলামের আলোকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করবেন।
দেশের প্রায় তিন লাখ মসজিদের ইমাম-খতিবরা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বিশেষ করে জুমার খুতবার ভাষণে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিকগুলো উপস্থাপন করেন, তাহলে সমবেত মুসল্লিরা মাদক গ্রহণ না করার ব্যাপারে সজাগ হয়ে যাবেন এবং তাদের বিপথগামী সন্তানদেরও মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করবেন। সমাজের ধর্মীয় পণ্ডিত ব্যক্তিরা তথা আলেম-ওলামারা বিভিন্ন মিলাদ-মাহফিলে ওয়াজ-নসিহত ও উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে মাদকদ্রব্যের কুফলসমূহ বর্ণনা করবেন। সরকার মাদকের প্রতিকার ও প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন করবে এবং তা প্রয়োগ করবে। যারা মাদক আমদানি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করলে যুবসমাজ মাদকমুক্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাসহ, সকল শ্রেণীর লোক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মাদকদ্রব্যের প্রসার রোধে দেশব্যাপী সামাজিক আন্দোলন গড়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালালে সমাজ থেকে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ হবে। ইসলামের বিধি-বিধান তথা পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে যেসব সাবধানবাণী আছে, জনগণকে সেগুলো শোনাতে ও বোঝাতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা ও তীব্র ঘৃণা জন্মাতে হবে। আসুন, ‘আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস’ (২৬ জুন) সামনে রেখে আমরা সমবেত কণ্ঠে সব ধরনের নেশা জাতীয় মাদককে ‘না’ বলি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। dr.munimkhan@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সামগ্রিক অর্জন ম্লান করে দিয়েছে: সিইসি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাচনেওয়ালি কনা
![]() |
| ‘রেশমি চুড়ি’ গানের ভিডিওতে কনা |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমার পরামর্শ
![]() |
| এমা ওয়াটসন |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইরিনের‘বাষ্পস্নান’
![]() |
| আইরিন |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্পটি এক রাতের!
![]() |
| পলায়নবিদ্যা নাটকের দৃশ্যে জোভান ও সাবিলা |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিনয় ছাড়ছেন নিপুণ?
![]() |
| নিপুণ |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনামিকা বলবে কথা...
![]() |
| প্রিয়াঙ্কা চোপড়া |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মা হচ্ছেন শ্রেয়া ঘোষাল?
![]() |
| শ্রেয়া ঘোষাল |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাটাপ্পা কেন মেরেছিলেন বাহুবলীকে?
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিয়ে করছেন বিপাশা বসু
![]() |
| বিপাশা বসু ও করন সিং গ্রোভার |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কনকচাঁপায় মুগ্ধ ফেরদৌসী রহমান
![]() |
| ফেরদৌসী রহমান ও কনকচাঁপা। |
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রান্তিকালে মনুষ্যত্বের রক্তপাত
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরে সুপ্রিম কোর্ট শুদ্ধিকরণ!by মিজানুর রহমান খান
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন ভাওয়াইয়ার সাধক by সফিউল আলম রাজা
![]() |
| নুরুল ইসলাম জাহিদ |
ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের সেই গানের চিলমারী বন্দরের মানুষ ভাওয়াইয়ার কিংবদন্তি নুরুল ইসলাম জাহিদকেও আপন করে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। রংপুর বেতারের নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘তিস্তা পাড়ের গানের অনুষ্ঠান ভাওয়াইয়া’ মানেই নুরুল ইসলাম জাহিদের বিশেষ ধারার, ভিন্ন গায়কি আর মিষ্টি সুরের গান। তিনি ছিলেন স্বভাব-গীতিকবি। একদিন বিকেলে তাঁর সঙ্গে বসেছিলাম, হঠাৎ একটি পায়রা (কবুতর) উড়ে এসে ঘরের চালে বসল। পায়রাটি চালে বসেই বাকবাকুম বাকবাকুম করে যেন অস্থির করে ফেলল। আর অমনি গুরুজি লিখে ফেললেন, ‘আরে তুই ক্যানে একেলায় পায়রা রে/ ও পায়রা আসিলু ঘুরিয়া / ওরে মোর মতন কি তোরো জোড়া গেইছে রে ভাঙিয়া...।’ ভাওয়াইয়ার প্রচলিত ধারার গানগুলোতে সুর ও কথার ঔজ্জ্বল্য রয়েছে। প্রচলিত গানগুলো দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা পেলেও শিক্ষিত গীতিকারদের অবদানও কম নয়। সে ক্ষেত্রে গীত রচয়িতা হিসেবে নুরুল ইসলাম জাহিদের বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে। শব্দ ও সুরের নির্বাচনে তাঁর পারদর্শিতা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সংসারের টানাপোড়েন ও অসংগতিগুলো সহজেই উঠে এসেছে তাঁর গানে। গানে তিনি মাঠের চাষি, গাড়িয়াল বন্ধু, নারীর প্রেম ও দীর্ঘশ্বাস তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। কালা, গাড়িয়াল কিংবা গাড়িয়াল বন্ধুর প্রেম-বিরহের একঘেয়েমি ছকবাঁধা গান থেকে তাঁর গান ভিন্ন স্বাদের, যা ভাওয়াইয়ার পরিধিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। লোকসংস্কৃতির ভান্ডারকে করেছে সমৃদ্ধ। তিনি প্রথম রংপুর বেতারে ঈদ, পূজা, নবান্ন, পিঠা, বৈশাখসহ বিশেষ দিনগুলো নিয়ে ভাওয়াইয়া রচনা করেন এবং তা সুর দিয়ে বেতারে পরিবেশন করেন। শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি লোকগানের একজন নিবিষ্ট গবেষক। ঐতিহ্য ও লোকসংগীত বিষয়ে তাঁর লেখাও কম নয়। বিভিন্ন পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং ‘গ্রামবাংলার চিরায়ত সংগীত-পল্লিগীতি’, ‘কুড়িগ্রাম হামার জেলা বাহে’ প্রভৃতি লেখায় পল্লিজীবন ও পল্লিগানের নিষ্ঠাবান গবেষক সত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিভিন্ন সময় গুরুজির মুখ থেকে অনেক অভিমানের কথা শুনেছি। ভাওয়াইয়া নিয়ে তাঁর নিজের কর্মপরিকল্পনা ও বেতার কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কথাও শুনেছি। তাঁর সাড়ে তিন হাজার গানের মধ্যে কতগুলো গান বেতারে সংরক্ষিত আছে? রংপুর বেতারে পাওয়া গেল মাত্র ৩৫টি। অথচ গুরুজির শতাধিক গান আমার অন্তরেই গেঁথে আছে। আর পাঁচ শতাধিক ভাওয়াইয়া গান আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে। তাঁর বড় ছেলে সজীবের সংগ্রহেও দুই হাজারের অধিক গানের কথা আছে, কিন্তু সমস্যা হলো সুরগুলো তো ধারণ করা নেই। যে বেতারে থাকার কথা সেই বেতারে তো নেই। যে মানুষটি দেশের জন্য, মানুষের জন্য পুরো জীবনটা কাটিয়ে দিলেন; এককথায় নিঃশেষ করে দিলেন, তাঁর জন্য এই দেশ, এই সমাজের কি কিছু করার নেই! নুরুল ইসলাম জাহিদ ছাড়া তাঁর পুরো পরিবারটি এখন বিধ্বস্ত। গুরুজির প্রথম প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রথম দাবি, রংপুর বেতারে রেকর্ড করা সাড়ে তিন হাজার গানের অধিকাংশই কে নষ্ট করল তা খুঁজে বের করা হোক। দ্বিতীয়ত, বাংলা একাডেমির মাধ্যমে তাঁর সাড়ে তিন হাজার গানের পাণ্ডুলিপি কয়েক খণ্ডে বই আকারে প্রকাশ করা হোক।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা ক্রিকেট দলের সঙ্গে আছি
খেলা হচ্ছে, তখন আমরা ১১ নম্বর দল, খেলছি বিশ্বের এক নম্বর দলের সঙ্গে!
এরপরেও আমাদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। এবং আমরা প্রত্যাশা পূরণের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। আর মাত্র একটা রান। ইশ্। একটুর জন্য! একটুর জন্য কত কিছু হয়নি। একটুর জন্য আমরা পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। একটুর জন্য এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্বের এক নম্বর দলটিকে হারাতে পারিনি। আমার সঙ্গে কতজনের কথা হলো, কত জ্ঞানী-গুণী বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক, এখনো বলেন, ভাই, ওই একটা রানের কথা ভুলতে পারি না, যতবার মনে হয়, ততবারই কষ্ট হয়, এখনো ঘুমের মধ্যে দেখি, মাহমুদউল্লাহ ছয় মারার চেষ্টা না করে এক নিচ্ছেন। এই যে আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল, আমরা যেকোনো একটা বড় দলকে হারাতে পারব, এমনকি এও ভেবেছিলাম যে হয়তো আমরা সেমিফাইনালে যেতে পারব, সেটা ভিত্তি পেয়েছিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে শেষ হওয়া এশিয়া কাপ থেকে। টি-টোয়েন্টিতে আমরা ভালো নই, সেই কথা মিথ্যা প্রমাণ করে মাশরাফির দল হারিয়ে দিল শ্রীলঙ্কাকে, পাকিস্তানকে। আর এশিয়া কাপের ফাইনালের দিনে খেলা শুরুর আগে আগে বয়ে গেল দুর্ভাগ্যের বাতাস, টসে আমরা হেরে গিয়েছিলাম, আর ম্যাচটা হলো স্বল্পদৈর্ঘ্যের। আর ছিল মুস্তাফিজের না খেলতে পারা। সেখান থেকে দল গেল ভারতের ধর্মশালায়। একদমই কোনো বিশ্রাম পাননি আমাদের খেলোয়াড়েরা। এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষই হয়েছে মধ্যরাতের পর। না ঘুমিয়ে ছেলেরা ভোরবেলা গেলেন এয়ারপোর্ট। সেখান থেকে দীর্ঘযাত্রা, ট্রানজিট বিরতির ধকল পেরিয়ে ধর্মশালা। বাংলাদেশ যে এশিয়া কাপের ফাইনালে যেতে পারে, এটা কর্তৃপক্ষ ভাবেইনি। বিশ্বকাপের আগে তাঁদের যেদিন অনুশীলন ম্যাচটা ছিল, সেদিন বাংলাদেশ ফাইনাল খেলেছে ভারতের সঙ্গে। মধ্যখানে এক দিন বিরতি দিয়েই মাশরাফি বাহিনী নেমে পড়ল বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে। সেই তিনটা খেলায় বাংলাদেশ যে ভালো খেলেছে, দুটোতে সরাসরি জয়লাভ করেছে, সেটা বাংলাদেশ নিতান্তই বড় দল বলেই পেরেছে। ক্রিকেট মনের খেলা। জিততে পারি—এই আত্মবিশ্বাস থাকলেই জেতা সম্ভব। ধর্মশালা থেকে দিল্লি হয়ে উড়ে যেতে হলো কলকাতা। অথচ আগের সূচি অনুযায়ী পাকিস্তানেরই উড়ে আসার কথা ধর্মশালায়। পাকিস্তান নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ধর্মশালায় গেল না। ফলে বিমানে চড়তে হলো বাংলাদেশকে। এক দিন পরেই খেলা। এশিয়া কাপের পরে একটা দিনের জন্যও কি বিশ্রাম পেয়েছিল বাংলাদেশ দল? এরই মধ্যে এল সেই অপ্রত্যাশিত আঘাত। যাঁরা খেলে গেলেন এশিয়া কাপে, কোনো আম্পায়ার যাঁদের নিয়ে বিন্দুমাত্র প্রশ্ন তুললেন না, সেই তাসকিন আর আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে রিপোর্ট করলেন আম্পায়াররা। প্রথম খেলার পরেই। প্রিয়তম খেলোয়াড়দের হারানোর শঙ্কায় মাশরাফি কেঁদে ফেললেন সংবাদ সম্মেলনের পর, জানা গেল। এই অবস্থায় দল ভালো খেলে কী করে! আর আমাদের টস–ভাগ্য! এক ভারতের সঙ্গে খেলার দিন ছাড়া একটা দিনও আমরা টসে জিতলাম না। এরপরও মাশরাফিরা ভালো খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবং ভারতের বিরুদ্ধে। আমি বলব, ভাগ্য একেবারেই আমাদের পক্ষে ছিল না। কী হতো যদি—
১. তাসকিন ও সানির বিরুদ্ধে অভিযোগ না করা হতো, তাঁরা যদি খেলতে পারতেন।
২. যদি মুস্তাফিজ খেলার উপযুক্ত থাকতেন।
৩. যদি আমরা টসে জয়লাভ করতাম।
৪. যদি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার দিন তামিম ইকবাল অসুস্থ হয়ে না পড়তেন। এগুলোর একটারও ওপর মাশরাফির কোনো হাত ছিল না। এটাকে আমরা বলব, নেহাতই দুর্ভাগ্য। আর গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হলো শুভাগত হোম ও সাকলাইন সজীবকে। ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ে। তাঁরা সড়কপথে রওনা দিলেন শাহজালাল বিমানবন্দরের দিকে। পথে যানজট। সজীব কি ফ্লাইট মিস করবেন? শেষরাতের ফ্লাইট ধরলেন তাঁরা। মধ্যখানে জাহাজ বদল। তারপর বেঙ্গালুরু। বিমান থেকে নেমে তাঁরা সরাসরি চলে গেলেন মাঠে, অনুশীলনে। তারপরের দিনই খেলা। সেই খেলায় নাসিরকে না খেলিয়ে কেন দুজন ভ্রমণক্লান্ত খেলোয়াড়কে নামানো হলো, সেই বিস্ময় অনেকেরই যায় না। তারপরও বাংলাদেশ ভালো খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। আর ভারতের বিরুদ্ধে। শেষ ওভারে মুশফিকুর রহিম পরপর দুই বলে মারলেন দুটো চার। এরপর তিন বলে দরকার ২ রান। ১ রান হলে ম্যাচ টাই। তখন সুপার ওভার খেলতে হবে। আমরা পারিনি। মুশফিক উঠিয়ে মারতে গেলেন। ছক্কা ভেবে যাঁরা লাফিয়ে উঠেছিলেন, তাঁদের স্তব্ধ করে দিয়ে মুশফিক তালুবন্দী। কিন্তু আমাদের মনে তখনো আশা। কারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তখন স্ট্রাইকিং প্রান্তে। না, আর মনে করতে চাই না সেই দুঃস্বপ্নের রাতটিকে। আমরা যে পারিনি, সেটা বাংলাদেশ অভিজ্ঞতায় ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বলে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার দিন কোহলি কীভাবে ম্যাচটাকে বের করে আনলেন। মুশফিকের মতো তিনিও পরপর চার মেরে চাপমুক্তি উদ্যাপন করেছিলেন। কিন্তু তিনি ম্যাচটা বের করে আনতে পেরেছিলেন, আমরা পারিনি। পারলে আমরা খুব খুশি হতাম, উদ্বেলিত হতাম, সন্দেহ নেই। পারিনি যে, তা নিয়ে আমাদের আফসোস আছে, হাহাকার আছে, কিন্তু কোনোÿ ক্ষোভ নেই। ওডিআইতে বাংলাদেশ ভারতকে সিরিজে হারিয়েছে, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে, জিম্বাবুয়েকেও তা-ই। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতেই আমরা ২-২ ড্র করেছি, এটা মনে রাখলে এ কথা বলা আর কঠিন হবে না যে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ভালো করেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে, টি–টোয়েন্টিতে আমরা আফগানিস্তানের কাছে হেরেছি, হংকংয়ের সঙ্গেও আমাদের হারের ইতিহাস আছে। এশিয়া কাপের ধকলের পর বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের তিনটা ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাসকিন ও সানি-কাণ্ডের পর দলের মন গিয়েছিল ভেঙে। মুস্তাফিজ ও তামিমকে সব ম্যাচে না খেলাতে পারায় আমরা পূর্ণশক্তি দেখাতে পারিনি। তা না হলে আমরা আরও ভালো করতাম। কিন্তু যা করেছি, তা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট না হতে পারি, ক্ষুব্ধ বা হতাশ হব না। তামিম সেঞ্চুরি করেছেন, রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, সাকিব বল ও ব্যাটে ভালো করেছেন, মুস্তাফিজ বিশ্বের সবচেয়ে ভালো বোলার হিসেবে গণ্য হচ্ছেন, এমনকি ব্রেট লির কাছে। মাশরাফির অধিনায়কত্বের প্রশংসা ভারতের সঙ্গে খেলার দিন করেছেন সবাই, এমনকি সুনীল গাভাস্কার পর্যন্ত। জেতা ম্যাচ হেরে গেছি, সেই বেদনা আমাদের যাবে না। কিন্তু ম্যাচটা যে জেতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন মাশরাফিরা, সেই গৌরববোধও আমাদের আছে। গতস্য শোচনা নাস্তি। অতীত নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই। এটা আমাদের দলের অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে ঋদ্ধ করবে। ভবিষ্যতে আমরা এ রকম পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারব বলে আশা করা যায়। এ কথা আবারও বলব যে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটে ভালো করছে, তা এই দেশের মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রেই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টারই একটা অংশমাত্র। ব্যক্তিমানুষ নিজের পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলানোর সংগ্রাম করছেন, তা-ও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। ক্রিকেটও তাই। মুস্তাফিজের উদাহরণ আমরা বারবার স্মরণ করব। সাতক্ষীরা শহর থেকেও ৩৫ কিলোমিটার দূরে তাঁর বাড়ি। ছেলে মাঠে যান, বাবা চান ছেলে পড়াশোনা করুক, চারটা গৃহশিক্ষক রেখে দিয়েছেন। তবু ছেলে ছুটে যান মাঠে। সেজো ভাই তাঁকে মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে নিয়ে যান ৩৫ কিলোমিটার দূরের সাতক্ষীরা শহরে। সেখানে সুন্দরবন ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়ে মুস্তাফিজ ক্রিকেট অনুশীলন করেন। সেই ছেলে, প্রায় কিশোর, আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই নাম লিখিয়ে ফেললেন বিশ্ব রেকর্ডের খাতায়, কি টেস্টে, কি ওডিআইতে, এখন দেখা যাচ্ছে টি-টোয়েন্টিতেও। ওই মুস্তাফিজই বাংলাদেশ। মাশরাফির দুই হাঁটুতে বাটির মতো কী যেন লাগানো—ট্রাউজারের বাইরে থেকেও তা বোঝা যায়। ওই হার না-মানা মাশরাফিই বাংলাদেশ। তামিমের সদ্যোজাত পুত্রসন্তান ছিল ব্যাংককের হাসপাতালে। সেখান থেকে উড়ে এসে তিনি নেমে পড়লেন এশিয়া কাপের খেলায়। এশিয়া কাপে তেমন ভালো করতে পারেননি, কিন্তু দেখিয়ে দিলেন বিশ্বকাপে। আর সাকিব আল হাসান। পৃথিবীর এক নম্বর অলরাউন্ডার। ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ক্যাপ্টেনের। মাশরাফির পজিশনে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ালেন, ১ ঠেকানোর জন্য। ধোনির জন্য ফিল্ডিং সাজিয়ে সিঙ্গেল ঠেকিয়ে তিনি যে হাসিটা দিয়েছিলেন, তা দেখেই তো মন ভরে গিয়েছিল। সাব্বির তো নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারের চলমান বিজ্ঞাপন, ওর দাঁড়ানোর ভঙ্গি আর উঁচানো কলারই বলে দেয়, এই বাংলাদেশ নতুন বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তো নির্ভরতার নাম। মুশফিক ফর্ম ফিরে পেতে শুরু করেছেন। আল আমিন বল হাতে সফল হচ্ছেন। সৌম্য সরকার তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেই দুর্দান্ত হয়ে উঠবে দলটা। মাশরাফি বাহিনীকে তাই বলব, তোমরা এগিয়ে যাও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। আমাদের স্লোগান তো ‘হারি জিতি বাংলাদেশ’। এবং বাংলাদেশের দর্শকদের প্রশংসা আমাদের করতেই হবে, তাঁরা আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে জানেন। ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একজন-দুজন একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন বটে, সেই জায়গাতেও আমাদের হয়ে উঠতে হবে শোভন ও সুন্দর, এর বাইরে মোটের ওপর বাংলাদেশের দর্শক-সমর্থকেরা যথেষ্ট পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েই আসছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে বলব, ওয়েল ডান বয়েজ। ভালো খেলেছ। ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলবে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন তোমরা ভালো কোনো টুর্নামেন্টে খুব বড় কোনো বিজয় ছিনিয়ে এনে আমাদের এনে দেবে গৌরবের মুহূর্ত, আনন্দের উপলক্ষ। আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউপি নির্বাচন আমাদের কোথায় নিচ্ছে?
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসলামে প্রতিবন্ধীদের অধিকার by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী যেন অপর কোনো নারীকে উপহাস না করে; কেননা, যাকে উপহাস করা হয়, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে।’ (সূরা হুজুরাত, আয়াত: ১১)। প্রতিবন্ধীদের সামাজিক স্বীকৃতি প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিকবার তাঁর অনুপস্থিতির সময় মদিনার মসজিদে নববিতে ইমামতির দায়িত্ব এক প্রতিবন্ধী সাহাবির ওপর অর্পণ করে তাদের সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত করার নজির তৈরি করেন। তিনি সেই প্রতিবন্ধী সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে আজান দেওয়ার কাজেও নিযুক্ত করেছিলেন। (বুখারি, অধ্যায়: মাগাজি, অনুচ্ছেদ: বদর ও ওহুদের যুদ্ধ)। প্রতিবন্ধীদের জন্য ছাড় ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ বিধানে প্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে সহজতা ও সহনশীলতা। তাই এমন প্রতিবন্ধী, যে ইসলামের বিধান পালনে একেবারে অক্ষম, যেমন পাগল ও জ্ঞানশূন্য ব্যক্তি, তার ওপর ইসলাম কোনো বিধান জরুরি করে না। আর আংশিক প্রতিবন্ধী যে কিছুটা করতে সক্ষম, তার প্রতি অতটুকুই পালনের আদেশ দেয়। ফরজ বিধান যা মহান আল্লাহ মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যদি মানুষ তা পালনে সক্ষম হয়, তাহলে তার প্রতি তা আবশ্যিক হবে। আর যদি সে তাতে অক্ষম হয়, তাহলে তা থেকে সে মুক্তি পাবে। অর্থাৎ, যে পরিমাণ পালন করতে সক্ষম হবে, সে পরিমাণ তাকে পালন করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেন না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যখন আমি তোমাদের কোনো আদেশ করি, তখন তা বাস্তবায়ন করো, যতখানি সাধ্য রাখো।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইসলামে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নবী করিম রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।’ (বুখারি)। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে সদাচরণ করা, সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক। প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো মানবতার দাবি ও ইমানি দায়িত্ব। প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা তাদের উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা ঠাট্টা-তামাশা করা স্রষ্টাকে তথা আল্লাহকে উপহাস করার শামিল। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করে, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করেন।’ (মুসলিম)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আর তাদের ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিত ব্যক্তিদের হক বা অধিকার রয়েছে।’ (সূরা জারিয়াত, আয়াত: ১৯)। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। আল্লাহর কাছে প্রিয় সৃষ্টি সে, যে তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করে।’ প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে ফল খাওয়াবেন। যে তৃষ্ণার্তকে পানি পান করায়, আল্লাহ জান্নাতে তাকে শরবত পান করাবেন। যে কোনো দরিদ্রকে বস্ত্র দান করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে উত্তম পোশাক দান করবেন।’ (তিরমিজি)। জন্মগত প্রতিবন্ধী হোক কিংবা দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধীই হোক; ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের বিভেদ ভুলে তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য। প্রিয় নবী (সা.) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে তাঁর অপার ভালোবাসায় ধন্য করেছেন। তিনি যখনই তাঁকে দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগত জানাই তাকে, যার সম্পর্কে আমার প্রতিপালক আমাকে সতর্ক করেছেন।’ পরে মহানবী (সা.) এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবিকে দুবার মদিনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। প্রতিবন্ধীদের প্রতি ভালোবাসা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় সুন্নত। (মুসলিম)।
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে বার্তা ছিল মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সফরে by মিজানুর রহমান
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে এ বিষয়গুলোই দেখভাল করেন ড. সারাহ। বাংলাদেশে আসার আগে ব্যাংককে তিন দিন কাটিয়ে এসেছেন তিনি। এখান থেকে বৃহস্পতিবার সরাসরি ওয়াশিংটনে ফিরে গেছেন। ড. সারাহ যখন ঢাকায় ব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এলান বার্সিনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি টিম আসে। ওই টিমের সদস্যরা এখানে নিরাপত্তা, বিশেষ করে এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে আলোচনা করছেন। এটা এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তিনি যেদিন বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সেদিনই বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে বৃটেন তথা পশ্চিমা দুনিয়ার বেঁধে দেয়া ডেটলাইন শেষ হয়। অবশ্য সরকার পরিস্থিতি উন্নয়নে ত্বরিত ব্যবস্থা হিসেবে বৃটেনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগে চুক্তিবদ্ধ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি এবং এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের কাছাকাছি সময়ে ঢাকা সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে বিস্তর আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে সফর দুটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কি বার্তার আদান-প্রদান হলো সেটিরও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিশ্লেষকরা দুটি সফরকেই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। কারণ হিসেবে তারা মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির ঢাকার তৎপরতাকে বিবেচনায় নিচ্ছেন। আন্ডার সেক্রেটারি ড. সারাহ সরকারি পর্যায়ে বৈঠকের আগে তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একটি বক্তৃতা করেছেন। ওই বক্তৃতায় তিনি সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থার উত্থানের সঙ্গে যে গণতন্ত্র চর্চা, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গভীর যোগসূত্র আছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তিনি তার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে ভিন্নমত বা বিরোধীদের ঘায়েল করা, কথায় কথায় জেলে পাঠানো এবং তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে সাধারণ জনগণের মধ্যে উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এটি যে এই প্রথম, মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বললেন তা কিন্তু নয়। কাউন্টার টেরোরিজম নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই এটি বলেন। সন্ত্রাস বা উগ্রপন্থা ঠেকানোর পাশাপাশি ওই বিষবৃক্ষ যেন নতুন নতুন সম্প্রদায়কে আক্রান্ত করতে না পারে সে জন্য সমাজ বা রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ওবামা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা।
তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ গণতন্ত্রচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারগুলোর দায়িত্বই বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। এটি যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লাড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকর দাওয়াই সেটি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। ঢাকা ছাড়ার পর তার বক্তৃতায় সেই অংশটিই টুইট বার্তায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কিভাবে সহায়তা করে সেটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বলেছেন ড. সারাহ। তিনি তার ঢাকা সফর নিয়ে একাধিক টুইট করেছেন। সেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের একাধিক ছবিও পোস্ট করেছেন। তার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে করা টুইট বার্তায় মার্কিন ওই কর্মকর্তা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন। তবে তার উদ্বেগ সব ধর্মের লোকজনের সুরক্ষায় সমানভাবে আইন প্রয়োগের বিষয়ে। এক বার্তায় তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সমাজগুলোকে শক্তিশালী করে। কিন্তু এটার জন্য দরকার হচ্ছে সব ধর্মের লোকজনের সমান সুরক্ষা। বাংলাদেশের ব্লগার ও ধর্মীয় সমপ্রদায়ের ওপর আক্রমণের ঘটনাগুলোর নিন্দা করেছেন তিনি।
তার মতে, এটি বাংলাদেশে ভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসের লোকজনের শান্তিপূর্ণ বসবাসের যে ঐতিহ্য রয়েছে তার ওপর কঠিন আঘাত। তিনি বাংলাদেশিদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন জানতে চেয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায়। সেই আলোচনায় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গও ছিল। ওই নির্বাচনটি বিরোধী জোট ও দলগুলোর বর্জনের কারণে একতরফা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশ এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিল। সরকারের সঙ্গে ওই দেশগুলো কাজ করলেও নির্বাচন প্রশ্নে তাদের সেই অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে এমন কোনো ঘোষণা এখনও নেই।
আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও এখন তারা স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আন্ডার সেক্রেটারি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য না করে সরকারের ব্যাখ্যা শোনায় বেশি মনোযোগী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই সব আলোচনায় অংশ নেয়া ঢাকার কর্মকর্তারা। সরকারি প্রতিনিধিরা এ সফরকে অতীতের যে কোনো সফরের চেয়ে ব্যতিক্রম এবং সম্পর্কের নতুন পথচলা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অতীতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিরোধী দলের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা সরকারের বাইরে নাগরিক সমাজ এবং সংখ্যালঘু নেতাদের সঙ্গে আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এটি এবারের নতুনত্ব হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিম রেজিস্ট্রেশনের যদি এবং কিন্তু
জাতীয়
নিরাপত্তার প্রয়োজনে সরকার যে অনেক কিছুই করতে পারে, তা আমরা সবাই জানি।
সুতরাং, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের সিম রেজিস্ট্রেশনের
একধরনের বাধ্যবাধকতা নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের আদেশের
বৈধতা নিয়ে আদালতে একটি রিটও হয়েছে এবং সরকারের প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ
জারি হয়েছে। কিন্তু যেহেতু আদালত রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে বলেননি, তাই
সরকারের তরফে কাজটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার একটা চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো কাজ অপরিহার্য হলে সব নাগরিকের জন্যই তাতে
সহযোগিতা করার প্রশ্ন আসে এবং সে কারণে আমরাও সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই।
তবে এই সহযোগিতা নিঃশর্ত হতে পারে না। অনেক ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’র কোনো জবাব
না পেলে এই আদেশ পালন করার চেয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভ্যাস ত্যাগ করাই
শ্রেয় হতে পারে। প্রথমত, বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন আসলে কী এবং এর মাধ্যমে
কীভাবে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে, প্রশ্নটি দেখে নেওয়া যাক।
বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে গ্রাহকের শুধু নাম-ঠিকানার পরিচয় নথিবদ্ধ
করা নয়, তার সঙ্গে আঙুলের ছাপ পর্যন্ত মিলিয়ে নেওয়া। যেহেতু প্রতিটি সিমের
বিপরীতে ওই সিমগ্রহীতা গ্রাহকের বায়োমেট্রিক পরিচয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষিত
থাকবে, সেহেতু কোনো সিমের সঙ্গে কোনো অপরাধের যোগসূত্র পাওয়া গেলে ওই
অপরাধীকে চিহ্নিত করা সহজ হয়ে যাবে। যুক্তি হিসেবে এটি ভালোই। তাহলে
নিশ্চয়ই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে? নাকি আমরাই
প্রথম এ রকম একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করলাম? জঙ্গিবাদী হুমকির বাস্তবতায় এটি
নিশ্চয়ই খুব কার্যকর হাতিয়ার? বিশ্বে জঙ্গিবাদীদের সবচেয়ে বড় এবং
সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলা সন্ত্রাসী ঘটনাগুলো কোথায় ঘটেছে এবং সেসব দেশে কি
এ ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে? সন্ত্রাসবাদ যে নতুন বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে, তার
সূত্রপাত ঘটে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যা নাইন-ইলেভেন নামে পরিচিত। তারপর
থেকে গত ১৫ বছরে বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তেই জঙ্গিবাদীরা আঘাত হেনেছে।
লন্ডনে সেভেন সেভেন বা মেট্রোরেলে হামলা, স্পেনে মাদ্রিদে রেলে হামলা,
প্যারিসে কনসার্ট হলে হামলা এবং সাম্প্রতিক ব্রাসেলসের বিমানবন্দর এবং
মেট্রোরেলে হামলা বিশ্বব্যাপী বহুলভাবে আলোচিত। এ ছাড়া ইরাক, সিরিয়া,
ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের মধ্য যুদ্ধপীড়িত রাষ্ট্রগুলোর বাইরে
সন্ত্রাস বারবার আঘাত হেনে চলেছে পাকিস্তানে। এসব দেশের কোন কোনটি জাতীয়
নিরাপত্তার প্রয়োজনে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন
বাধ্যতামূলক করেছে তা কি আমরা জানি? ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ায় যাঁরা
গেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই সাক্ষ্য দিতে পারবেন যে সেসব জায়গায় এ ধরনের
বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের বালাই নেই। ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের প্রায় সব
জায়গাতেই মোবাইল ফোনের সেবা পাওয়ার দুটো উপায়। একটি মাসিক চুক্তি আর অন্যটি
যতটুকু ব্যবহার ততটুকু ব্যয়। মাসিক চুক্তিতে সেবা নিতে হলে সেবাদাতা
কোম্পানির কাছে পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আবাসিক ঠিকানা এবং ব্যাংক
অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হয়। আবাসিক ঠিকানা প্রমাণের জন্য ড্রাইভিং
লাইসেন্স অথবা পাসপোর্টের কপি কিংবা অন্য কোনো সেবা কোম্পানি যেমন বিদ্যুৎ
বা পানির বিল দেখালেও চলে। সেখানে কেউ বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে
না। আর যদি পে অ্যাজ ইউ গো নামে পরিচিত যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচের
চুক্তিতে গ্রাহক হন, তাহলে কোনো নাম-পরিচয় প্রমাণের বালাই নেই। চাইলে পরে
আমাদের টেলিযোগাযোগ বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্তৃপক্ষের যে কেউ লন্ডনের
অভিজ্ঞতা যাচাই করে নিতে পারেন। তাঁরা ওই দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোতেও এ
বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। সেখানে বিমানবন্দরে পৌঁছালে লাইকা, লিবরা,
সিম্পলকল ইত্যাদি নানা নামের মোবাইল সেবাদানকারী কোম্পানি আপনাকে বিনা
পয়সায় সিম অফার করবে। ওই সিমে সৌজন্য হিসেবে নিখরচায় পাঁচ পাউন্ড মূল্যের
ফোন করার সুবিধাও থাকে। তারা ওই সিম বিক্রি করে এই আশায় যে এরপর আপনি যতটা
সময় (টকটাইম) বা ডেটা কিনবেন, তাতে তাদের খরচ উঠে আসবে। ওই লিবরা ও লাইকা
মোবাইলের সিম আমি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতেও কিনেছি এবং ইউরোপের অন্য কিছু
শহরেও তাদের অস্তিত্ব দেখেছি। বার্লিনে ভোডাফোনের পে অ্যাজ ইউ গো সিম পেতেও
আমার কোনো রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়নি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব আমাদের দেশে
সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি ওই সব পশ্চিমা দেশের চেয়েও বেশি? নাকি তাদের
গোয়েন্দা কার্যক্রমের যে দক্ষতা ও যোগ্যতা আছে, আমাদের তা নেই? তবে হ্যাঁ,
বায়োমেট্রিক আপডেট নামক একটি ওয়েবসাইট জানাচ্ছে চারটি দেশে বায়োমেট্রিক
রেজিস্ট্রেশনের তথ্য দেওয়া আছে। ওই দেশ চারটি হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব
আমিরাত, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। সৌদি আরব, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে
সন্ত্রাসের ঘটনা যে বন্ধ হয়নি, সে প্রমাণ সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার সূত্রে
আমরা জানি। সুতরাং, বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন যে ওই দুই দেশে
নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে এসেছে তা কিন্তু প্রমাণ হয়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে
সন্ত্রাসের ঘটনা খুব একটা শোনা না গেলেও সেখানে রাজতন্ত্রের কর্তৃত্ববাদী
ক্ষমতা বজায় রাখার প্রয়োজনে সবকিছুর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নতুন কিছু নয়।
কিন্তু আমরা কেন সন্ত্রাসপীড়িত আফগানিস্তান-পাকিস্তান অথবা দুই আরব
রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা কৌশলকে অপরিহার্য ভাবব? জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে
আমাদের উপমহাদেশে সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি যাকে অনেকে বাড়াবাড়িও বলে থাকেন, সেটা
দেখা যায় ভারতে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুম্বাই ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা এখানে
খুবই প্রাসঙ্গিক। মুম্বাইতে ২০০৮ সালে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় দেড় শতাধিক
মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং তারপর থেকে ভারতের অন্যান্য শহরের তুলনায়
সেখানকার নিরাপত্তা কড়াকড়ি অনেক বেশি। প্রথম দিন দুপুরে মুম্বাই পৌঁছানোর
পর মোবাইল সিম কীভাবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে খোঁজখবর করার পর জানা গেল যে
পাসপোর্টের কপি জমা দিয়ে তা পাওয়া যাবে। তবে দুটো সমস্যা আছে। প্রথমত,
স্থানীয় কোনো ব্যক্তির (হোস্ট) মোবাইল ফোন নম্বর প্রয়োজন হবে, যেটিতে তাঁরা
সিম সক্রিয় করার বার্তা পাঠাবেন। আর দ্বিতীয়ত, সিম সক্রিয় হতে ২৪ থেকে ৪৮
ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে ট্যাক্সিওয়ালার মোবাইল নম্বর ব্যবহার
করে মাত্র ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই আমার মোবাইল চালু হয়ে গেল। সেখানেও
বায়োমেট্রিকের কোনো প্রশ্ন আজ পর্যন্ত ওঠেনি। ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত
করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার সময় বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণের একটি জাতীয়
ব্যবস্থা এখন দেশে চালু আছে। বলা হচ্ছে, মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকের
আঙুলের ছাপ ওই তথ্যভান্ডার থেকে যাচাই করে নেবে। তবে জাতীয় তথ্যভান্ডারে
তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কোনো তথ্যভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও
সীমিত প্রবেশাধিকার থেকেও যে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, সে কথা নিশ্চয়ই আর
কাউকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের পর নিশ্চয়ই আর
কেউ গ্যারান্টি দিতে পারেন না যে আমাদের সব জাতীয় তথ্যভান্ডার অভেদ্য।
আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের প্রতি আগ্রহী গোষ্ঠী যে শুধু দেশের
ভেতরে আছে তাও নয়। বিদেশের অপরাধী চক্র, রাষ্ট্রীয় অথবা অরাষ্ট্রীয় (স্টেট
অ্যান্ড নন-স্টেট অ্যাক্টরস) গোষ্ঠী কাউকেই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
সরকার মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোকে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়ার সময় জনস্বার্থে
সরকারি বার্তা প্রচারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে একটি শর্ত দিয়েছিল এবং এ
কারণে মাঝেমধ্যেই সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের বাণী আমরা আমাদের
মোবাইল ফোনে পেয়ে থাকি (যদিও গত দেড় বছরে আমি যতগুলো বার্তা পেয়েছি তার
অধিকাংশই হচ্ছে সরকারি প্রচারণা—জনগুরুত্বের নিরিখে খুব একটা প্রাসঙ্গিক
নয়)। এগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন নাহয় না-ই করলাম। কিন্তু এখন
যে গড়ে দৈনিক গোটা দশেক বার্তা পাই, সেগুলোর সবই আসে বেসরকারি বাণিজ্যিক
প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। নুডলস বিক্রেতা, বলিউড তারকাদের কনসার্ট, হোটেল
চেইন, ট্রাভেল কোম্পানি, ব্যাংক, বিমা, ফ্ল্যাট বিক্রেতা—কে নয়? এঁরা সবাই
আমাকে গ্রাহক হিসেবে পেতে চান এবং আমার মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠান। আবার
দেখা যায় চার ডিজিটের শর্ট কোড ব্যবহারকারী কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হঠাৎ হঠাৎ
ফোন করে। আপনি হয়তো তখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আছেন। অথবা বিদেশ থেকে
কোনো জরুরি ফোনের অপেক্ষায় আছেন। তখন ওই সব নম্বর থেকে ফোন করে আপনাকে বলা
হয় আপনি অমুক শিল্পীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অমুক ডিজিট চাপুন, গান শুনতে
চাইলে অমুক ডিজিট...। আমাদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কিংবা টেলিফোন সেবার
নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি বলতে পারবে এসব বেসরকারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কোন
সূত্র থেকে আমার নম্বর হস্তগত করেছে? এদের অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ফোনের যন্ত্রণা
থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করার কথা কি তারা আজ পর্যন্ত ভেবেছে? ইউরোপের
দেশগুলোতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অযাচিত ফোনকল এবং বার্তা পাঠানোর
শাস্তি কতটা কড়া, তঁারা চাইলেই তা খোঁজ নিয়ে জেনে নিতে পারেন।গ্রাহকদের প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা আছে তাঁর ফোন নম্বর তিনি কাকে দেবেন আর কাকে দেবেন না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কিন্তু সেই অধিকার উপেক্ষা করে গ্রাহকদের নম্বরগুলো বাণিজ্যিক বিবেচনায় একের পর এক হাতবদল হয়ে চলেছে। আমার নম্বর গোপন রাখার অধিকার যখন রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি, তখন এই প্রশ্ন ওঠা কি স্বাভাবিক নয় যে বায়োমেট্রিক তথ্যের গোপনীয়তারও কোনো গ্যারান্টি থাকবে না? এসব বিতর্কের পর আইনের প্রশ্নটিই বা কীভাবে উপেক্ষা করা যায়? মোবাইল ফোনের সিমের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন কোন আইনের আওতায় হচ্ছে সেই প্রশ্নটি এখন আদালতে বিবেচনাধীন। আইনগত অধিকার, গ্রাহকের অধিকারের সুরক্ষা, ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রতিকার ইত্যাদি বিষয়ে আইনগত অবস্থান নির্ধারণ ছাড়া সিম রেজিস্ট্রেশনের জন্য পীড়াপীড়ি না করলেই কি নয়?
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
April
(935)
-
▼
Apr 02
(53)
- আমি কোন নির্বাচন দেখিনি -নুরুল কবীর
- মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গণসচেতনতা by মুহাম্মদ আবদুল ম...
- সামগ্রিক অর্জন ম্লান করে দিয়েছে: সিইসি
- নাচনেওয়ালি কনা
- এমার পরামর্শ
- আইরিনের‘বাষ্পস্নান’
- গল্পটি এক রাতের!
- অভিনয় ছাড়ছেন নিপুণ?
- অনামিকা বলবে কথা...
- মা হচ্ছেন শ্রেয়া ঘোষাল?
- কাটাপ্পা কেন মেরেছিলেন বাহুবলীকে?
- বিয়ে করছেন বিপাশা বসু
- কনকচাঁপায় মুগ্ধ ফেরদৌসী রহমান
- ক্রান্তিকালে মনুষ্যত্বের রক্তপাত
- মিসরে সুপ্রিম কোর্ট শুদ্ধিকরণ!by মিজানুর রহমান খান
- প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন
- একজন ভাওয়াইয়ার সাধক by সফিউল আলম রাজা
- আমরা ক্রিকেট দলের সঙ্গে আছি
- ইউপি নির্বাচন আমাদের কোথায় নিচ্ছে?
- ইসলামে প্রতিবন্ধীদের অধিকার by শাঈখ মুহাম্মাদ উছমা...
- যে বার্তা ছিল মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সফরে by ম...
- সিম রেজিস্ট্রেশনের যদি এবং কিন্তু
- যুদ্ধশিশুর বয়ান
- রাঙামাটির বিধান কেন বাগেরহাটে চলবে না?by সোহরাব হাসান
- প্রহরী বাঁচাল ব্যাংককে
- রাজশাহী-ঢাকা ফ্লাইট
- ১২৫ মন জাটকা জব্দ
- কুড়িল উড়ালসড়কে বাতি নষ্ট
- ফ্ল্যাট নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি মামলা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কেটে পুলিশের বহুতল ভবন!by ...
- ছয় মাস বাড়তি সাজা খাটলেন আবু তালেব
- মধুপুরে চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিককে গণধর্ষণের অভিযোগ
- বান্দরবানে চলছে ভাষা প্রতিযোগ
- অর্পিত সম্পত্তি আইন আবার সংশোধন হচ্ছে
- কাঠবোঝাই ট্রাক আটকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
- পোশাককর্মীদের জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্ট
- ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- ‘জব ফেয়ারে’চাকরি ...
- খোঁড়া সড়কে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ
- দুর্নীতিবিরোধী সভা
- হাসিবকে বাঁচাতে তিন লাখ টাকা দরকার
- বাংলাদেশি নারীর সংখ্যা বাড়ছে মুম্বাইয়ের যৌনপল্লিতে
- ‘চৈত্রে বই উৎসব’আজ শুরু
- সংখ্যালঘুদের রক্ষায় রুখে দাঁড়ান
- ঢাকার উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় র্যাব সদস্য নিহত
- নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫, মমতাকে মোদির ফোন
- জাভেনতেম বিমানবন্দর আংশিক চালুর জন্য প্রস্তুত
- উ. কোরিয়াকে নিবৃত্ত করতে একসঙ্গে কাজ করবে যুক্তরা...
- ‘বোমায়’উড়ালসড়কটি ভেঙে পড়ে থাকতে পারে
- মহারাষ্ট্রে সব মন্দিরে ঢুকে প্রার্থনা করতে পারবেন ...
- সেই বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত
- আগাম নির্বাচনে রাজি
- প্যারিসে বিস্ফোরণ
- রিজার্ভের অর্থ যায় সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র মেট্রোরেলে...
-
▼
Apr 02
(53)
-
▼
April
(935)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















