Sunday, March 23, 2025
‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও হস্তক্ষেপ করতে পারেনি ভারত’
শনিবার ( ২২ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাদ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে দেশটিতে একটি হাসিনাবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠছে বলে ভারত অবগত ছিল। পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদের পরামর্শক কমিটির বৈঠকে জয়শঙ্কর এমন তথ্য জানিয়েছেন।
জয়শঙ্কর বলেন, হাসিনার উপর প্রয়োজনীয় প্রভাবের অভাব ছিল। ফলে কেবল পরামর্শ দেওয়া যেত, তাই ভারতের পক্ষে এ বিষয়ে তেমন কিছু করার সুযোগ ছিল না।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভারত অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে বলা হয়, তুর্ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন যে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারে।
পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় পরামর্শক কমিটির সদস্যরা ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে একটি খোলামেলা আলোচনায় মিলিত হন। এ আলোচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি, বিশেষ করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, তবে শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। তবে ২-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে কিনা, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখ বন্ধ রেখেছে।
ড. ইউনুস ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বর্তমানে তিনি চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সফরে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সঙ্গে চীনের বিভিন্ন গন্তব্যের মধ্যে বিমান সংযোগ বৃদ্ধিসহ একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। জয়শঙ্কর বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, চীন প্রতিপক্ষ নয়, তবে প্রতিযোগী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ by সাইমন টিসডাল
মার্কিন শুল্কনীতি ট্রাম্প বদলে দিচ্ছেন ব্যাপকভাবে। সেই বদল হিমবাহে ধাক্কা লাগা টাইটানিক জাহাজের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ডোবাবে বলে মনে হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের ওপর তাঁর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাগুলো ইতিমধ্যে শেয়ারবাজারে ধস নামিয়েছে। শঙ্কা হচ্ছে মারাত্মক মূল্যস্ফীতির। অথচ ট্রাম্প তাঁর ভোটারদের এসবের ঠিক উল্টো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বড় করার নয়। কিন্তু তিনি কানাডা আক্রমণের হুমকি দিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য করার ইচ্ছা জাহির করলেন। কানাডা স্বাভাবিকভাবেই খুব ক্ষুব্ধ। তারা মার্কিন পণ্য বর্জন করছে এবং পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
ট্রাম্প একাই নতুন জীবন দিয়েছেন ঝামেলায় পড়া জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টিকে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান মার্ক কার্নির নেতৃত্বে দলটি এবার ট্রাম্পবিরোধী ইস্যুতে নির্বাচনে জেতার ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। অথচ পরিকল্পনাটা এমন ছিল না।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের ভোটাররা পুতিন-স্টাইলের সাম্রাজ্যবাদী দখলের প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে দূরে থাকতে বলেছেন। তাঁরা স্বাধীনতা নিয়ে নিশ্চিত নন। তবে তাঁরা মার্কিন (বা ড্যানিশ) নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতিও আরেকটি বিপর্যয়। রাশিয়া হামলাকারী। অথচ ট্রাম্প শাস্তি দিচ্ছেন ভুক্তভোগীকে। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে কেবল কিয়েভের ওপর। ফলে ভ্লাদিমির পুতিন আরও আক্রমণ বাড়ানোর সাহস পাচ্ছেন, বিশেষ করে কুরস্কে। আর ট্রাম্পকে বোকা বানিয়ে সময় নিচ্ছেন।
এই অন্যায় শাস্তির ফল হবে রাশিয়ার অযাচিত পুনর্বাসন, পুতিনের যুদ্ধাপরাধের জন্য কার্যত ক্ষমা, জোর করে দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন। প্রশ্নটা আবার উঠছে—এটা কি সত্যিই অনিচ্ছাকৃত? ট্রাম্প কি কারও আজ্ঞাবহ, কেজিবির এজেন্ট, নাকি নিছক নির্বোধ।
গত সপ্তাহে এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্ভবত তিনি জানেনই না তিনি কী করছেন। অথবা আদৌ কোনো পরোয়া করেন না। তা না হলে শুল্ক নিয়ে নিজের যুক্তি প্রমাণ করতে গিয়ে বৈশ্বিক মন্দা ডেকে আনার মানে কী? বা তিনি কীভাবে ভাবেন যে গাজায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জাতিগতভাবে উচ্ছেদ করে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে?
ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য চীন। আর তিনি মস্কোকে বেইজিং থেকে আলাদা করতে চাইছেন। এটাও এক উল্টো ভাবনা। এই দুই রাষ্ট্রের লক্ষ্য এক—পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে দুর্বল করা ও দখল করা। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, ট্রাম্প তাদের এই লক্ষ্যে সাহায্য করছেন।
ট্রাম্প ও তাঁর অপরিণত উপদেষ্টারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন যে রাশিয়াকে এমন এক লজ্জাজনক বিজয় উপহার দিলে শান্তি আসবে না। বরং ভবিষ্যতে ন্যাটোর মিত্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন সংঘাত তৈরি হবে। এই নজির বিশ্বব্যাপী আরও সব আইন ভাঙার জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। হয়তো আসলেও তারা বুঝতেই পারছে না।
‘ট্রাম্পের আগে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিহাস বিষয়ে এতটা অজ্ঞ ছিলেন না। ওনার আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এতটা অক্ষম ছিলেন না’—কথাগুলো বলেছেন রক্ষণশীল বিশ্লেষক ব্রেট স্টিফেনস। ‘গণতন্ত্র অন্ধকারে মারা যেতে পারে, একনায়কত্বেও মারা যেতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের অধীন গণতন্ত্র নির্বুদ্ধিতার হাতেও মরতে পারে।’ সবচেয়ে বড় কথা হলো ট্রাম্পের এই অজ্ঞতা ইচ্ছাকৃত।
ট্রাম্পের একের পর এক করে যাওয়া ভুলের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্রের দ্রুত বিস্তার। তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন। তখন জার্মানি, পোল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ব্যাপারে জরুরি আলোচনা করছে। ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরও একই কথা ভাবছে। যদিও তাদের কারণ ভিন্ন।
ট্রাম্প দাবি করেন যে তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে। বিশ্লেষক ডব্লিউ জে হেনিগান লিখেছেন, ‘তাঁর নীতিগুলো ঠিক উল্টো ফল দিচ্ছে। ট্রাম্পের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ দ্রুত বেড়ে গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা দিতে পারবে—এ বিষয়ে তাদের আস্থা কমে গেছে।’
ইরানের ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে কীভাবে ট্রাম্প নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারেন। তিনি নিজেকে শান্তির দেবতা ভাবতে ভালোবাসেন। তাই তেহরানকে হুমকি দিয়ে বলছেন, নতুন করে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করো, নইলে ফল ভালো হবে না। এই ‘ধমক’ ইরানের নেতাদের আরও ক্ষিপ্ত করেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সমভাবনা গেছে বেড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত এখন কেবল যেন সময়ের ব্যাপার।
ট্রাম্পের অনুসারীরা তাঁর ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং সেগুলো অনুকরণ করছেন। তাঁর উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্তের ঘোরপ্যাঁচে অনুসারীরা নিজেদেরও হাস্যকরভাবে বিপদে ফেলছে। যেমন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রযুক্তি-মিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক গত মাসে ইউরোপের ‘উদারপন্থীদের’ তীব্র আক্রমণ করে জার্মানির কট্টর-ডানপন্থী আফডি পার্টিকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু এর ফল হয়েছে তাদের প্রত্যাশার পুরো বিপরীত।
জার্মান ভোটাররা নতুন ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। মাস্কের ব্যবসা বয়কট করা হচ্ছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন ট্রাম্প ও পুতিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিচ্ছে। ভ্যান্স-মাস্কের এই অদ্ভুত রাশিয়া সমর্থন ইউরোপের কট্টর-ডানপন্থী রাজনীতিকদের, বিশেষ করে ব্রিটেনের নাইজেল ফারাজকেও বিভ্রান্ত করেছে। ফলে কিয়ার স্টারমারের মতো মধ্যপন্থী রাজনীতিকেরা ট্রাম্পবিরোধী হাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।
এলোমেলোভাবে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তাঁর ১০০ দিনের দিকে যতই এগোচ্ছেন, ততই তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। তিনি ইতিমধ্যে জো বাইডেনের চেয়ে কম জনপ্রিয় হয়ে গেছেন। ট্রাম্পের হানিমুন পিরিয়ড শেষ।
* সাইমন টিসডাল অবজারভারের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাষ্যকার
গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
| ট্রাম্পের ট্যারিফ আতঙ্ক। কার্টুন: সাউথ চায়না মনিটর |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউনূস সরকারের চেয়ে ভালো কী হতে পারত by সোহরাব হাসান
৫ আগস্ট যেদিন ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, সেদিন মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে প্রথম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের বারবার অনুরোধে তিনি সরকারের দায়িত্ব নিতে রাজি হন। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ঢাকা থেকে যোগাযোগের বিষয়ে বর্ণনা আছে প্রথমা প্রকাশন থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সদ্য প্রকাশিত জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু বইয়ে।
ছাত্রনেতাদের সেদিনকার চিন্তা সঠিকই ছিল। সেই অনিশ্চিত সময়ে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল, যাঁর প্রতি দেশের বৃহত্তর জনগণের আস্থা আছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তারাও অধ্যাপক ইউনূস ছাড়া অন্য কারও নেতৃত্ব মেনে নিত কি না সন্দেহ।
অতএব, সাড়ে সাত মাস পর অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য–ব্যর্থতা বিচার করতে হবে আমাদের আর্থসামাজিক–রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে। অতীতে আমাদের নির্বাচিত কিংবা অনির্বাচিত সরকারগুলো কী করেছে, তা–ও মনে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ হলো বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাসের দ্বিতীয় উদাহরণ নেই। এখানে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ, শিক্ষার সুযোগ থেকে এখনো ৩০ শতাংশ মানুষ বঞ্চিত, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বাড়ছে ধনী–গরিবের বৈষম্যও।
বলা প্রয়োজন, নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় আসে। তাদের পক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া সহজ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তা নেওয়া সম্ভব নয়। তদুপরি ইউনূস সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না।
এ অবস্থায় সরকারের প্রধান ও প্রথম কর্তব্য হয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। দ্বিতীয় কর্তব্য হয় বিশৃঙ্খল অর্থনীতিকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসার পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা হলেও সফল হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ধ্বংসের কিনারে যাওয়া ব্যাংকিং খাতকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস যাঁদের নিয়ে সরকার গঠন করেন, তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন রাজনীতি ও প্রশাসনের বাইরের মানুষ। স্বাভাবিকভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁদের পদে পদে হোঁচট খেতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। বয়স, অভিজ্ঞতার কারণেও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সবার কাজের দক্ষতা একই রকম নয়। কয়েকজন নিজের মন্ত্রণালয় চালানোর বিষয়ে সক্রিয়তা দেখালেও অন্যদের এ বিষয়ে বেশ ঘাটতি আছে বলে অনেকে মনে করেন।
মুহাম্মদ ইউনূস স্বীকার করেছেন, দেশ পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর বা তাঁর সরকারের বেশির ভাগ উপদেষ্টার নেই। কোনো মন্ত্রণালয়ে ভালো কাজ হলে তার কৃতিত্ব সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা নিতে পারেন, নিচ্ছেনও। কিন্তু কোনো মন্ত্রণালয় কাঙ্ক্ষিত ফল দেখাতে না পারলে সেই দায় পুরো সরকার, আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রধান উপদেষ্টার ওপরই পড়ে।
বিভিন্ন মহলে সমালোচনা আছে, অন্তর্বর্তী সরকার ঠিকমতো দেশ চালাতে পারছে না। এই সমালোচনা ভিত্তিহীন নয়। কোনো কোনো উপদেষ্টার নিষ্ক্রিয়তা পীড়াদায়কও। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা পদে মুহাম্মদ ইউনূসের বিকল্প কারও কথা ভাবা যেত কি? অন্য কেউ কি বিবদমান পক্ষগুলোকে এক টেবিলে বসাতে পারতেন?
অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দল ও পক্ষকে এক টেবিলে বসানো। সেই কাজে তারা মোটামুটি সফল হয়েছে। বিলম্বে হলেও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
বাংলাদেশে এর আগে যতগুলো রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পেছনে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। পার্থক্য হলো, ৫ আগস্টের পরিবর্তনে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তারা বেসামরিক প্রশাসনে নাক গলায়নি। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান বারবার বলেছেন, ক্ষমতায় আসার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। বেসামরিক সরকার যে সেনাবাহিনীর অব্যাহত সহযোগিতা পেয়ে আসছে, সেটাও মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া সম্ভব হতো কি না সন্দেহ আছে। এরপরও সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নানা রকম প্রচারণা ও উসকানি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। কেউ কেউ অন্তর্বর্তী সরকার ও সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে আসারও চেষ্টা চালাচ্ছেন। এসব দেশকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানকালে অধ্যাপক ইউনূস তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ ১২টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর বাইরে ৪০টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশ সফর প্রায় দৃষ্টির পেছনে যাওয়া রোহিঙ্গা সমস্যাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারকে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এর একটি হলো পূর্বাঞ্চলের ওপর দিয়ে বন্যার তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি। কয়েক মাস ধরে বাজার অস্থিতিশীল থাকার পর এখন কিছুটা নিম্নগামী। রোজায় নিত্যপণ্যের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই আছে। যেমনটি বিগত বছরগুলোতে দেখা যায়নি। খাদ্যের মজুতও সন্তোষজনক।
সরকারের এসব সাফল্য সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডাকাতি, ছিনতাই, খুন–ধর্ষণের ঘটনা তো আছেই। ৫ আগস্টের পর নতুন উপসর্গ দেখা দিয়েছে—মব ভায়োলেন্স বা সহিংসতা।
আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি–জামায়াত শিবির ট্যাগ লাগিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। অভ্যুত্থানের পর ছাত্র–জনতার আক্রোশে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী–এমপি–নেতার ঘরবাড়ি হামলা ও ভাঙচুরের শিকার হয়। আবার স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ দিয়ে অনেক নিরীহ মানুষের বাড়িঘর, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা চালানো হয়, কিছু জায়গায় আক্রান্ত হয়েছেন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও। কেউ অপরাধ করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হলো আইনানুগ নাগরিকের দায়িত্ব। সেটা না করে ছাত্রনেতৃত্ব বা অন্য কারও নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলে সমাজে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সাহসী ভূমিকা না নিতে পারা ব্যর্থতা বলেই মনে করি।
অন্তর্বর্তী সরকার মোটাদাগে তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার হত্যা–নির্যাতনের বিচার, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরাগমন ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে না পারলে, মব ভায়োলেন্স চলতে থাকলে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা যাবে বলে মনে হয় না।
অতএব, প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের সুরক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিদেশিদের ‘অতিশয়োক্তির’ জবাব দেওয়ার পুরোনো রীতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকারকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে কেউ অভিযোগই তুলতে না পারে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতাদের সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে।
অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের দুটি ইতিবাচক দিক উল্লেখ করা প্রয়োজন। একটি হলো, টিমওয়ার্ক বা সমন্বিত কার্যক্রম। অতীতের প্রায় সব সরকারই ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক—সরকারপ্রধান না বললে কিছু হতো না। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা স্বাধীনভাবেই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের উপদেষ্টাদের দক্ষতা নিয়ে যত সমালোচনাই থাকুক, এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক কাঠামোয় এটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
● সোহরাব হাসান প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
sohrabhassan55@gmail.com
![]() |
| অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে মোগল শাসক আওরঙ্গজেবকে নিয়ে এখন কেন এত বিতর্ক
দত্তের বাড়ি থেকে মাত্র এক মাইল দূরে থাকেন আসলাম। তিনি তাঁর পুরো নাম বলতে চাননি। তিনিও একইভাবে ভীত, আতঙ্কিত। তিনি বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন, যেখানে তাঁর স্ত্রী ও মা রয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, বাড়িতে গেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তিনি বলছেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ নিরীহ মুসলিমদের গ্রেপ্তার করছে। আসলাম বলেন, ‘আমি কিছুই করিনি। কিন্তু পুলিশ যখন বাড়ি আসবে, তখন তারা আমি কোন সম্প্রদায়ের, সেটাই বিবেচনা করবে।’
দত্ত ও আসলাম দুজনই ৩০ লাখ মানুষের নগর নাগপুরের বাসিন্দা। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের এই শহরে রয়েছে মোগল বাদশা আওরঙ্গজেবের সমাধি। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর সমাধি সেখান থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছেন হিন্দুত্ববাদীরা।
গত সোমবারের সহিংসতা ঘিরে নাগপুরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অন্তত ৫০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যাঁদের বেশির ভাগই মুসলিম। এই নাগপুর শহরে ৩০ মার্চ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই শহরে আবার বিজেপির আদর্শিক উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দপ্তর।
ভারতজুড়ে গেরুয়া পোশাকের মানুষের জন্য এই নগরের আলাদা একটা খ্যাতি রয়েছে। কেন এই শহরে সাম্প্রদায়িক সংঘাত দেখা দিল। কে এই আওরঙ্গজেব? কেন এখনো তাঁকে নিয়ে ভারতে বিভক্তি?
নাগপুরে কেন সহিংসতা
গত সপ্তাহে মোগল বাদশাহ আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিকে ঘিরে মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহর অশান্ত হয়ে ওঠে। সম্ভাজি নগরকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূচনা হয়। এই জেলার আগের নাম ছিল আওরঙ্গবাদ। বর্তমান নাম ছত্রপতি শিবাজির জ্যেষ্ঠ ছেলে সম্ভাজির নামে, সম্ভাজি নগর। সেখানেই খুলদাবাদ এলাকায় রয়েছে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সেই সমাধি সেখান থেকে সরানোর দাবি অনেক দিন ধরেই জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি সেই দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
গত সোমবার নাগপুর শহরের মহল অঞ্চলে এই দাবিতে উগ্রবাদী বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জমায়েত করেন। তাঁদের অভিযোগ, ১৬৫৮ সাল থেকে ১৭০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের শাসক আওরঙ্গজেব হিন্দুদের প্রতি বৈষম্য করেছেন এবং তাঁদের প্রার্থনালয়ে হামলা চালিয়েছেন। জমায়েতে সবুজ কাপড়ে ঢাকা আওরঙ্গজেবের কুশপুত্তিলকায় আগুন লাগানো হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক ও ভিএইচপির মুখপাত্র অমিত বাজপাই বলেন, ‘এই কবর আমাদের মাতৃভূমির জন্য এক কালো দাগ। আমরা একটা চত্বরে জড়ো হয়েছি এবং পুলিশের সামনে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো আওরঙ্গজেবের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছি।’
অমিত আরও বলেন, ‘আমরা যা সঠিক মনে করি, তার দাবি করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’
আইনজীবী ও মহারাষ্ট্র বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি আসিফ কুরেশি বলেন, মুসলিম দোকানিসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামাক। বিশেষ করে এই পবিত্র রমজান মাসে যখন এমন আন্দোলন হচ্ছে।
গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, কুশপুত্তলিকাকে মোড়ানো সবুজ কাপড়ে পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত লেখা ছিল। এমন তথ্য জানাজানির পর মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন ইফতার ও মাগরিবের নামাজের পর একদল মুসলমি ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা পবিত্র কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ভিএইচপির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কুরেশি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং ক্ষুব্ধ জনতা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল।’
তখন থেকে নাগপুর শহরের একাংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এরপর পুলিশ অভিযান চালায়। কুরেশি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ছিল এমন মুসলিমদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে, ঠিক আছে। কিন্তু নামাজ আদায় করতে গেছে, এমন অনেক নিরীহ মানুষকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
সংঘর্ষের পর ভিএইচপির মুখপাত্র বাজপাই বলেন, তিনি চরম ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ধ। উগ্র হিন্দুত্ববাদী এই নেতা বলেন, ‘এখন আমরা আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব। তাঁরা (মুসলিম) কেন মনে করছে, দাঙ্গা বাঁধিয়ে তাঁরা আমাদের ভীতসন্ত্রস্ত করতে পারবেন। আমরা চাই, আওরঙ্গজেবকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হোক।’
মহারাষ্ট্র রাজ্যের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাভিস গত মঙ্গলবার বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে, সম্প্রতি বলিউডে নির্মিত একটি সিনেমায় আওরঙ্গজেবকে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওই সিনেমার কারণে হিন্দুদের মধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
‘চাভা’ নামের ওই সিনেমায় মোগল শাসকের সঙ্গে মারাঠাদের যুদ্ধ চিত্রিত করা হয়েছে। সেই মারাঠারা তখন আজকের এই মহারাষ্ট্র শাসন করত।
ফাডনাভিস বলেন, ওই সিনেমা হয় তো ‘আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ’ সামনে নিয়ে এসেছে।
আওরঙ্গজেব কে
ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল শাসকদের মধ্যে আওরঙ্গজেব ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী। প্রায় ৫০ বছর তিনি ভারত শাসন করেছেন। তাঁর সমাধি নাগপুরে নয়। এটি নাগপুর শহর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) দূরে অবস্থিত। ওই জায়গার নাম ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিল আওরঙ্গবাদ। এরপর ওই জায়গার নাম পরিবর্তন করে ছত্রপতি সম্ভাজির নামে করা হয়েছে। তিনি ছত্রপতি শিবাজির ছেলে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলোর দাবির মুখে ওই জায়গার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই হিন্দুত্ববাদীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করছেন, আওরঙ্গজেব হচ্ছেন আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ভিলেন। তবে ইতিহাসবিদেরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আজকের ভারতে আওরঙ্গজেবকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে, তাঁর বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
ইতিহাসবিদ ও লেখক অড্রে ট্রুসকি তাঁর ‘আওরঙ্গজেব: দ্য ম্যান অ্যান্ড দ্য মিথ’ বইয়ে বলেছেন, ‘আওরঙ্গজেব একটি শক্তিশালী রাজপরিবারের উত্তরাধিকার। তিনি তাঁর বাবাকে বন্দী করে আর বড় ভাইকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছিলেন। তবে ক্ষমতাপিপাসু এই শাসক তাঁর সময়ে যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন অতুলনীয়। ঐক্য ও জোট গড়ার ক্ষেত্রে ছিলেন দারুণ এক নেতা।’
ট্রুসকি বলেন, ‘আওরঙ্গজেবের নীতিনির্ধারণে তাঁর প্রপিতামহ আরেক মোগল শাসক সম্রাট আকবরের প্রভাব ছিল অপরিসীম।’
এই ইতিহাসবিদ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আওরঙ্গজেব তাঁর সাম্রাজ্যে সব ধরনের মানুষকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছিলেন। একজন যুবরাজ হিসেবে তিনি পুরো সাম্রাজ্য ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি সবকিছু বোঝার চেষ্টা করেছেন। তিনি সব পক্ষের মানুষ—মারাঠা থেকে রাজপুত—সবার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন। পরে এসব মানুষকে তিনি তাঁর রাজসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।’
তবে ট্রুসকি এটাও বলেন, ‘আওরঙ্গজেব খুব কঠিন ইসলামি আইন বলবৎ করেছিলেন। তিনি বৈষম্যমূলক করারোপ করেছিলেন, যাতে সুরক্ষার বিনিময়ে হিন্দু অধিবাসীদের কর দিতে হতো।’ তিনি বলেন, ‘আওরঙ্গজেব তাঁর নানা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকে বেশ জটিল এক বাদশাহ ছিলেন।’
ভারতের উগ্র ডানপন্থী হিন্দুরা আওরঙ্গজেবকে ধর্মান্ধ বলে অভিযোগ তুললেও ট্রুসকি বলেন, এই মোগল শাসক তাঁর রাজত্বকালে বারবারই দেখিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস দিয়ে নয়, তিনি রাজ্য সাম্রাজ্য শাসন করেছিলেন ক্ষমতা দিয়ে। এই ইতিহাসবিদ বলেন, ‘যখনই ধর্ম আর ক্ষমতা মুখোমুখি অবস্থানে এসেছে, তিনি ক্ষমতাকে বেছে নিয়েছিলেন। সব সময়ই তিনি এ কাজটি করেছেন।’
আওরঙ্গজেবকে নিয়ে ভারতে কেন বিভক্তি
অনেক ঐতিহাসিক একটি বিষয়ে একমত, শাসক হিসেবে ওই সময়ে কোনো রাজা বা বাদশাহ গণতান্ত্রিক ছিলেন না। ট্রুসকি বলেন, নানাভাবে দেখলে প্রাক্–আধুনিক যুগে ভারতের অন্যান্য রাজার থেকে আওরঙ্গজেবও বিশেষভাবে বিচ্যুত ছিলেন না।
ট্রুসকি বলেন, কিন্তু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকেরা আওরঙ্গজেবের নিন্দা ও সমালোচনা করে থাকেন। বিজেপি ও আরএসএসের অনুসারী হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মূলত উপনিবেশ–পূর্ব যুগের সেই অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি করছেন।
ভারতে আওরঙ্গজেববিরোধী অনুভূতি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে এবং এটিকে আক্রমণাত্মকভাবে এমনকি সহিংস উপায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে একটি শোভাযাত্রায় আওরঙ্গজেবের ছবিসংবলিত পোস্টার বহন করায় চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে ইনস্টাগ্রামে আওরঙ্গজেবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক মুসলিম বালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
২০২২ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার স্কুল ও মাধ্যমিক স্কুলের ইতিহাসের বই থেকে মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস অধ্যায় বাদ দিয়ে দেয়। বই থেকে আওরঙ্গজেব ও তাঁর পূর্বসূরি শাসকদের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত একটি টেবিল মুছে দেওয়া হয়।
মোদি ও তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের বেশির ভাগের কাছে আওরঙ্গজেব কেবল ইতিহাস নয়। তাঁরা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করেন, আওরঙ্গজেব অসংখ্য মন্দির ধ্বংস করেছেন। আবার এটাও জানা যায়, তিনিই হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির তৈরির জন্য জমি ও অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন।
এখন হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা দাবি তুলেছেন, বিজেপিদলীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী আসন ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বারানসির জ্ঞানবাপি মসজিদের নিচে শিবলিঙ্গ আছে। তাঁরা দাবি করছেন, ষোড়শ শতকে নির্মিত বিশ্বনাথ মন্দির ধ্বংস করে ১৬৬৯ সালে আওরঙ্গজেবের নির্দেশে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।
২০২২ সালে বারানসিতে এক জনসভায় ভাষণদানকালে নরেন্দ্র মোদি ‘আওরঙ্গজেবের নৃশংসতা ও তাঁর সন্ত্রাস’ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তরবারি দিয়ে তিনি সভ্যতার পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। ধর্মান্ধতা দিয়ে তিনি সংস্কৃতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করেছিলেন।’
তখন থেকে হিন্দুত্ববাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি অসংখ্যবার আওরঙ্গজেবকে নিয়ে বক্তৃতা করেছেন।
নাগপুরে সংঘর্ষের এক দিন পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ফাডনাভিস বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে আওরঙ্গজেবের নির্যাতনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও সরকারকেই তাঁর কবর সংরক্ষণের দায়দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’
১৯৫৮ সালের একটি আইনের আওতায় ভারতের প্রত্নতত্ত্ব সমীক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ঘোষিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্মতিচিহ্ন হিসেবে আওরঙ্গজেবের সমাধি সুরক্ষিত। বেআইনিভাবে এটির নকশা বদল বা ধ্বংস করা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।
নাগপুরে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উত্তেজনা চলতে থাকায় এখানকার বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আশপাশের এলাকায় সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দত্ত শিরকে বলেন, ‘একের প্রতি অন্যের কোনো আস্থা বা বিশ্বাস নেই। আমি আস্থা রাখতে পারছি না যে আমার প্রতিবেশী সুযোগ পেলে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে না।’
কুরেশি বলেন, মুসলিম বাসিন্দারা পুলিশের তল্লাশি অভিযানের ভয়ে আছেন। তিনি আশা করেন, কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া রাজ্যের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।
ইতিহাসবিদ ট্রুসকি বলছিলেন, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইতিহাস নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে থাকে, সেখানে অতীতে বা বর্তমানে মুসলমিদের প্রতি ঘৃণার চিত্র ফুটে ওঠে। ইতিহাস আসলে এক জটিল বিষয়। কোনো সম্প্রদায় বা দেশ ইতিহাসকে কীভাবে দেখছে, কীভাবে অনুধাবন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই ইতিহাসবিদ আরও বলেন, ১৭ শতকে যদি ঘটনা ঘটেও থাকে, সেটি নিয়ে এখন মামলা–মোকদ্দমা ও সহিংসতা আসলে কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ ছাড়া আর কিছু নয়।
![]() |
| বাদশাহ আওরঙ্গজেবের সমাধি সরিয়ে নেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ১৭ মার্চ, মহারাষ্ট্রের নাগপুর। ছবি: এপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুরস্কে পিছু হটেছে ইউক্রেন, অভিযান ঘিরে নানা প্রশ্ন
মারিয়া পানকোভা মনে করেন, ইউক্রেন ঝুঁকি নিয়ে রাশিয়ার কুরস্কে যে অভিযান চালিয়েছে, তার অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। মারিয়ার মতো এমন কথা ইউক্রেনের অনেকেই এখন বলছেন। তাঁরা এ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
ইতিমধ্যে চলতি মার্চ মাসে রুশ সেনাদের সঙ্গে ব্যাপক লড়াইয়ের পর ইউক্রেনের সেনাদের পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়েছে। এর পর থেকে ইউক্রেনের অনেকেই কুরস্ক অভিযান নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
চোখের পানি মুছতে মুছতে মারিয়া বলেন, এটার দরকার ছিল কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। মারিয়া বলেন, ‘আমরা অনুপ্রবেশকারী নই। আমরা শুধু আমাদের এলাকা ফিরে পেতে চাই। আমাদের রাশিয়ার কোনো এলাকা দরকার নেই।’
এ বিষয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ আন্দ্রি গনাটভ বলেন, এ অভিযান চালানো হয়েছিল রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে, রুশ সেনাদের মনোযোগ ভিন্নদিকে ফেরাতে। এ ছাড়া ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে কুরস্কে অভিযান চালানো হয়।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ আরও বলেন, ওই অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্যই পূরণ হয়েছে। এ অভিযান ঠেকাতে রাশিয়াকে ৯০ হাজার সেনার বাহিনী গড়তে হয়। এর বাইরে ১২ হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কুরস্কে হামলা শুরু করে ইউক্রেন। তাদের আকস্মিক এ হামলায় পুরো বিশ্ব চমকে গিয়েছিল। ১৯৪১ সালের নাৎসি হামলার পর রাশিয়ায় এত বড় হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। ইউক্রেনের সেনাদের আক্রমণে কুরস্কের ১ হাজার ৩৭৬ কিলোমিটার এলাকা ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু সেনা-স্বল্পতার কারণে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে খাদের কিনারায় চলে আসে। এ আক্রমণে কিয়েভ মেরিন ও বিমানবাহিনীর সেনা ব্যবহার করে। তবে বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য সেনা অপ্রতুল হয়ে দাঁড়ায়।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কমিটির আইনপ্রণেতা সের্হি রাখমানিন বলেন, শুরু থেকে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতরভাবে জটিল ছিল। শুরু থেকে রাশিয়ার জন্য পর্যাপ্ত সেনা থাকার সুবিধা ছিল। গত বছরের শেষের দিকে রাশিয়া তাদের প্রশিক্ষিত বাহিনীর সঙ্গে ড্রোন সুবিধা যুক্ত করে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সেনারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন ইউক্রেনের সেনারা।
কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের হটিয়ে রাশিয়া মূলত শান্তিচুক্তির আগে ইউক্রেনের হাতে থাকা একটি দর-কষাকষির গুটি ছিনিয়ে নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনকে যুদ্ধবিরতিতে যেতে চাপ দিচ্ছেন। তবে রাশিয়ার দাবি হচ্ছে, ইউক্রেনে তারা যে এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, এর দাবি তারা ছাড়বে না।
কুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহর সুদঝা থেকে ১৬ মার্চ পিছু হটে ইউক্রেনের বাহিনী। এর পর থেকে ইউক্রেনের জনগণের মনে রাশিয়ায় অনুপ্রবেশের সুবিধা নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়েছে। কুরস্কের লড়াইয়ে এক হাত হারানো সৈনিক ওলেক্সি দেশেভি বলেন, ‘তিনি এ অভিযানের কোনো যুক্তি দেখতে পান না। তিনি বলেন, আমাদের এ অভিযান শুরু করা ঠিক হয়নি।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্বীকার করেন, তাঁর বাহিনী কুরস্কে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। তবে রুশ বাহিনী তাদের সেনাদের ঘিরে রেখেছে বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দাবিকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে হামলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন রুশ সেনারা।
পাল্টাপাল্টি হামলা
ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে সম্মতির কথা বলেছেন পুতিন। তা সত্ত্বেও গত শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাদের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গ্যাস পাম্পিং স্টেশন উড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে রুশ বাহিনীর হামলায় জাপোরিঝঝিয়াসহ কয়েকটি অঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনকে সহায়তা জার্মানির
জার্মানির পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে সামরিক সহযোগিতা হিসেবে ৩২৫ কোটি ইউরো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে জার্মানির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, তিন বছর আগে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা রাশিয়ার ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে। এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ভাবছে।
![]() |
| রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধারকাজ চলছে। আজ ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়ায়। ছবি : এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাহবাগে সমাবেশ: বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে
এ সময় ‘আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘এনসিপি কি চায়, আওয়ামী লীগের বিচার চায়’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘গুম খুনের বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’, ‘জুলাই হত্যার বিচার চাই, আওয়ামী লীগের বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়া হয়।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, আমরা জুলাইকে ভুলি নাই। জুলাইয়ের শক্তি আছে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে মুছে দেয়ার। যে আওয়ামী লীগ শাপলা, বিডিআর, মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। নাৎসি পার্টির থেকেও ভয়ঙ্কর দল আওয়ামী লীগ। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চান তারা সাবধান হয়ে যান।
এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ২০১৪ সালে যখন ভোট হলো না তখন ইনক্লুসিভ ইলেকশন কোথায় ছিল, ১৮ সালে রাতে ভোট হলো, ২৪-এ ডামি নির্বাচন হলো তখন আপনাদের ইনক্লুসিভ ইলেকশন কোথায় ছিল? যে বাংলাদেশে এখনো রক্তের দাগ মুছে যায় নাই। এখন বিডিআর, শাপলা, মোদিবিরোধী আন্দোলনের বিচার হয় নাই। এখনো জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় নাই। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আপনারা যেভাবে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন, রাজনীতিবিদদের হস্তক্ষেপ করেছেন আপনারা তখন কোথায় ছিলেন। এত গুম খুন হত্যা হয়েছে আপনারা তখন কোথায় ছিলেন?
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করেছিলেন। এর জন্য জীবন দিতে হয়েছে। জামায়াত পুনর্বাসন করেছিল তাদের নেতাকর্মীদের গুম খুন করা হয়েছে। কেউ যদি জীবন দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করতে চায় তাহলে সেই দায় পূরণ করতে হবে। আমরা সব করবো গণতান্ত্রিকভাবে। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ থাকবে না।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, দ্রুত নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা দেশের দল নয় এটা ভারতের দল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা, সমর্থন রয়েছে। কোনো ব্যক্তির ওপর আমাদের ক্ষোভ নাই। আপনাদের ওপর আমরা আস্থা রাখতে চাই। আর রাজনীতির বিষয়টি আপনারা রাজনীতি করতে দেন। আমাদের অবস্থান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। সেনাবাহিনীর অবদান রয়েছে। আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই। অমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির দলগুলোকে এক থাকতে হবে। আপনাদের ওপর যে নির্যাতন দেড় দশক চালিয়েছে সেটা আপনারা ভুলে যাইয়েন না।
এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমাদের পুনর্জন্ম হতে পারে কিন্তু আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে পারে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করেছিল। তারা গণতন্ত্রের মুখে চুনকালি মাখিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আমরা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবো না। বাংলাদেশে মুজিববাদী আদর্শের রাজনীতি আর পুনর্বাসন হবে না। সাত মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কোনো বিচার শুরু করে নাই। অবিলম্বে আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে। তা না হলে ছাত্র-জনতা আবার রাজপথে এসে বাতিল করিয়ে ছাড়বে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো ভালো নেতৃত্ব নাই। পিলখানা, শাপলা, মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, জুলাই হত্যাকাণ্ডর দায় স্বীকার করে নাই। কেউ যদি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তাদের প্রতিহত করবো। আজ আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।
শাহবাগে সমাবেশ শেষ করে এনসিপি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যায়। এর আগে শাহবাগে একই দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে জুলাই মঞ্চ। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় জুলাই মঞ্চ। তারা শাহবাগ চৌরাস্তার মাঝে অবস্থান নেয়। চারদিক থেকে যানবাহন চলাচল করে।
শনিবার বেলা ২টার দিকে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। পূর্বঘোষিত ‘গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের’ দাবিতে শাহবাগ ব্লকেডের ঘোষণা দেন। তারা ‘দফা এক দাবি এক, লীগ নট কাম ব্যাক’ স্লোগান দেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, এ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে না। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে জাহান্নামে পরিণত করেছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। কেউ যদি ইনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগের পাশে থাকার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে। জুলাই মঞ্চ শুধু নয় অনেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছে। তাদের বিচার দাবিতে, নিষিদ্ধের দাবিতে আমরা রাজপথে থাকবো। সরকারের কাছে দাবি থাকবে অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করুন। নিবন্ধন বাতিল করুন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, আপনি জনগণের ভাষা বুঝুন। না বুঝলে আপনার পরিণতিও শেখ হাসিনার মতো হবে। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও বিচারের দাবি জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘এমআইএস’ লকড: জুলাই অভ্যুত্থানের আহত-শহীদদের নাম অন্তর্ভুক্তি বন্ধ by সাজ্জাদ হোসেন
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছে জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশন। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই ফাউন্ডেশন থেকে শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে আহতরা পাচ্ছেন চিকিৎসা খরচ ও সহায়তা। আহত এবং শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তার দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে তালিকা করা হয়। এই তালিকাকে প্রাথমিক তথ্যের উৎস ধরে সেবা দিয়ে থাকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’।
কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’র আওতায় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রকাশ করার কাজ গত ১৯শে জানুয়ারি থেকে বন্ধ আছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- এমআইএস ওয়েবসাইটে নাম অন্তর্ভুক্তি না করার কারণে কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না তারা। এতে চিকিৎসা খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও ফিল্ড ভেরিফিকেশনসহ সকল কাজ সম্পন্ন হলেও, সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক পরিবার। তারা দ্রুত এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবি জানান।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের প্রমাণপত্র এবং উপযুক্ত অন্যান্য কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা সিভিল সার্জন অফিস কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় গিয়ে সরকারিভাবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে হয়।
গত বছরের ১৫ই জুলাই থেকে ৫ই আগস্টের মধ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণে যারা শহীদ বা আহত হয়েছেন তাদের নাম এমআইএস তালিকাভুক্তির জন্য ‘জেলা যাচাই- বাছাই কমিটি’ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে সভাপতি এবং জেলা সিভিল সার্জনকে সদস্য সচিব করে, পুলিশ সুপার ও সামাজ সেবা কর্মকর্তা ওই কমিটির সদস্য। এ ছাড়াও ২ জন করে ছাত্র প্রতিনিধি উক্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার পরেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এমআইএস-এ নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। যা প্রায় ২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীর শহীদ জাহিদ-এ-রহিমের বাবা মো. আব্দুর রহমান মণ্ডল মানবজমিনকে বলেন, আমার ছেলে জুলাই আন্দোলনে প্রথম দিকের শহীদ। আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের অনেক হয়রানির শিকার হয়েছিলাম। কিন্তু এখন জুলাই আন্দোলনের আহত এবং শহীদ পরিবার সরকারি সহায়তা নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের জন্য আবেদন করছে। ইতিমধ্যে মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য গেজেটে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আমার ছেলের শহীদ হওয়ার সকল কাগজপত্র জমা দিয়েছি, এমন কি কাগজপত্র, ফিল্ড ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আমি এখনো এমআইএসে নামই অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসে বারবার গিয়েও প্রতিকার পাইনি। এমআইএস’এ নাম অন্তর্ভুক্তির কাজটা যেন দ্রুত হয় সেজন্য আমি ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদনও করেছি। কিন্তু সকল কাজ সম্পন্ন হলেও এমআইএস-এ তালিকাভুক্ত না করার কারণে আমি কোনো সরকারি অর্থ পাচ্ছি না।
জুলাই আন্দোলনে গত ১৮ই জুলাই চট্টগ্রাম বহদ্দার হাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ডান পায়ের হাড় সম্পূর্ণ ভেঙে যায় মো. ইসমাঈল হোসেনের। ২ দফা অপারেশন করতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে বেসরকারি মেডিকেলে। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়। কোনো সরকারি সহায়তা না পাওয়া ইসমাঈল এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তের জন্য ১১ই ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে শোনেন এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তকরণের কাজ বন্ধ রয়েছে। সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে দেখা করেন। তাতেও হয়নি সমাধান। উপায়ান্তর না পেয়ে ১৯শে মার্চ ফের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফাইল জমা দেন।
২ দফা অপারেশন করার পরেও সরকারের আর্থিক সহায়তা না পাওয়া ইসমাঈল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমি জুলাইয়ের প্রথম দিকেই গুলিবিদ্ধ হই। অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করে চিকিৎসা করতে হয়েছে। কিন্তু এখনো এমআইএস-এ তালিকাভুক্ত হতে পারি নাই। বিভিন্ন জায়গায় দৌঁড়াদৌঁড়ি করে আমার পায়ের গোঁড়ালি ফুলে গেছে। আমি দ্রুত প্রতিকার চাই।
ঢাকার খিলগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন উজ্জল হোসেন। তিনি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই জুলাই ফাউন্ডেশনে আসছেন। উদ্দেশ্য এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্ত করা। মানবজমিনকে তিনি বলেন, ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসে সব কাগজ জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনো এমআইএস-এ নাম আসে নাই। কারণ জানতে তাদের অফিসে গেলে বলে, আপনার মেডিকেল ডকুমেন্টসহ যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক আছে কিন্তু এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তকরণের কাজ বন্ধ আছে। কার্যক্রম শুরু হলে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ নিজেদেরই বহন করতে হচ্ছে। কিন্তু অনেকে দ্বিতীয় ধাপে টাকা পাচ্ছেন। অথচ আমি এখনো প্রথম ধাপের টাকাই পাইনি। স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও এখনো এমআইএস-এ তালিকাভুক্ত না হওয়ায় মাসিক ভাতার জন্য সরকারের গেজেটে নামও আসে নাই। আমি সরকারের কাছে এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তকরণের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানাই।
প্রায় ৮ মাস ধরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি) ভর্তি মো. সোহান। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ১৭ই মার্চ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আহতদের ক্যাটাগরির কিছু সমস্যা, স্বাস্থ্য কার্ড এবং এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তি করার কাজ শুরু করার দাবি জানাই। তারা আমাদের আশ্বাস দেন এমআইএস খুলে দেয়া হবে। কিন্তু এখনো না খোলার কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানি হচ্ছেন আহত ও শহীদ পরিবার। সরকার যেন দ্রুত এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্তি করার কাজ শুরু করে আমরা সে দাবি জানাই।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, প্রায় ২ মাসের মতো এমআইএস-এ নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই আহত ও শহীদ পরিবার জুলাই ফাউন্ডেশনে এসে ভিড় করে যে তারা এখনো এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত হন নাই। আমরা তাদের নানাভাবে গাইড করে বোঝানোর চেষ্টা করি যে, এটা দ্রুতই চালু হবে। যেহেতু আহত ও শহীদ পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা এমআইএসকে তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে ধরি, সুতরাং এমআইএস-এ নাম না থাকলে নতুন করে যারা আসছে তাদের আমরা কোনো সহায়তাই দিতে পারি না। সরকারকে এটা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এমআইএস চালু করার দাবি জানান তিনি।
ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মো. রকিবুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, প্রতিদিন এমআইএস-এ নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ২০ থেকে ২৫ জন আসছে। সারা দেশে প্রায় ২০০০ জনের মতো আহত লোক নতুন করে এমআইএস-এ তালিকাভুক্তির অপেক্ষায়। এ ছাড়াও ৩ জন শহীদ কেস ভেরিফিকেশনসহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন। কিন্তু এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত করতে পারছি না। আমরা এমআইএস-এ তথ্য এন্ট্রি করি। কিন্তু এটা মূলত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তারা যদি খুলে দেন আমরা দ্রুত কাজ শুরু করবো।
ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকা জেলায় এখনো ১২৬টা ফাইল ভেরিফাইড আছে। এগুলো এখনো এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গত ১৬ই মার্চ জেলা প্রশাসকসহ আমরা মিটিং করেছি। সেখানে এমআইএস’র বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এটা মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আসলে আমরা কাজ শুরু করবো।
সারা দেশে এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ আহত ও শহীদের নাম এমআইএস-এ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ ছাড়াও ঢাকা জেলায় ২,২২০ জন ভেরিফাইড আহত স্বাস্থ্য কার্ডের আওতায় এসেছেন। এরমধ্যে ১৫৬৪ জন ঢাকায় রয়েছেন। বাকিরা স্থায়ী ঠিকানায় চলে গেছেন। এই কার্ডগুলোও দেয়া শুরু হবে। এখন আমরা ২০০ কার্ড ইস্যু করলেও পর্যায়ক্রমে বাকিদের স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হবে। এ কার্ডের আওতায় জুলাই আন্দোলনে আহতরা সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা মো. মশিউর রহমান (যুগ্ম সচিব) মানবজমিনকে বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস সার্ভারে নতুন করে নাম এন্ট্রি বন্ধ আছে, আমরা এ বিষয়ে কিছু করতে পারবো না। হাসপাতাল থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এমআইএস সার্ভারে নাম অন্তর্ভুক্ত হলেই কেবল ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করাসহ যাবতীয় সুবিধা পাবে। কিন্তু এটা বন্ধ থাকায় আমাদের কাছে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা দিতে রাজি বৃটেন: লন্ডনে মানবজমিনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর by আরিফ মাহফুজ
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই পাচারকৃত দুর্নীতির অর্থ ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। নাইজেরিয়া, মেক্সিকোসহ নানা দেশ নানা সময়ে পাচার হওয়া অর্থ সে দেশ ফেরত নিতে পেরেছিলো তাই বাংলাদেশ পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে নিতে পারবে এই সম্ভাবনা অনেক বেশি। বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি, সেটি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা দিতে রাজি হয়েছে বৃটেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আহসান এইচ মনসুর আরো বলেন , বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারেই বিপজ্জনক অবস্থায় চলে গিয়েছিল। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের বিশাল ঘাটতি ছিল, রিজার্ভ কমে গিয়েছিলো, এক্সচেঞ্জ রেট অবমূল্যায়িত হয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ, ব্যাংকিং খাতে ধস সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে শোচনীয় ছিল। এরকম আরো কিছুদিন চললে হয়তো দেশ শ্রীলংকার মতো হয়ে যেতে পারতো। তবে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে এখন আর কোনো শঙ্কা নেই, বর্তমানে এক্সচেঞ্জ রেট স্ট্যাবল আছে।
রিজার্ভ সম্পর্কে গভর্নর বলেন, রিজার্ভের এখনো পতন হয়নি এবং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো রিজার্ভ বিক্রি করে নাই, তবে রিজার্ভ এখনো বাড়ে নাই। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এখন রিজার্ভকে স্ট্যাবল করা। আইএমএফ-এর অর্থের কিস্তি না পাওয়াও রিজার্ভ না বাড়ার একটি কারণ বলে মনে করেন গভর্নর। তবে আগামী জুন মাসে আইএমএফ-এর অর্থের কিস্তি পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কমে আসছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সরকারের বড় উদ্বেগের কারণ। তাই মূল্যস্ফীতি যাতে না বাড়ে খুব সতর্কতার সাথে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে দেশের অর্থনীতি সঠিক দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের ফিসক্যাল পলিসিও বেশ ভালোভাবে কাজ করছে যে জন্য বেশ অর্থ সঞ্চয় হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে জনগণ একটু স্বস্তিতে আছে।
গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে কিনা এসম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া হয়েছে এখনো হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর অবস্থা অনেকটাই ভালো তবে কিছু কিছু ব্যাংকের অবস্থা এখনো ঠিক হয়নি। এগুলো ঠিক করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। ব্যাংকগুলোর অবস্থার জন্যে এস আলম দায়ী, কোন কোন ব্যাংকের ৮৭% ডিপোজিট এস আলম নিয়ে গেছে। তারল্য সংকট এখন কমে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তভাবে দাঁড় করাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
প্রবাসীদের টাকার নিরাপত্তার প্রশ্নে গভর্নর বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের নিরাপত্তা এখন নিশ্চিত আছে। প্রবাসীদের অর্থ ব্যাংকগুলো সাথে সাথেই পরিশোধ করেছে। এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্কতার সাথে বিষয়টি মনিটরিং করছে।
অর্থ পাচার রোধ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণখেলাপি নিয়ন্ত্রণসহ ব্যাংক খাতকে সাশ্রয়ী করতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে -স্টিভ উইটকফ
চলমান এ যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করেছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষযক যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
ওদিকে ২০২৩ সালে ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজার সবকিছুতে বোমা হামলা চালানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। তিনি বলেন, গাজার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস চায় শেষ সময় পর্যন্ত তাদের অবস্থান ধরে রাখতে। তারা গাজাকে শাসন করতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন চায় হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করতে।
উইটকফ বলেন, হামাস যদি এ শর্তে রাজি হয় তাহলে তারা সেখানে সামান্যই থাকতে পারবে, খুব সামান্যই রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে, একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন পরিচালিত হোক, গাজাকে পরিচালনা করুক। কারণ, তা ইসরাইলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
উইটকফ আরো বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, গাজাকে দখল করে নিতে চায় ইসরাইল।
ওদিকে গাজায় যে ক্যান্সার হাসপাতালটি ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল তার নাম টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ। টার্কিস কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সির (টিআইকেএ) সহযোগিতায় এটি নির্মাণ করা হয়। ২০১১ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০১৭ সালে। খরচ হয় সাত কোটি ডলার। এটিই ছিল গাজায় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র। এর ভিতরে মোট আয়তন ৩৩ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। গাজায় শুধু এখানেই ক্যান্সারের চিকিৎসা হতো। বছরে ৩০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সক্ষমতা ছিল তাদের।
২০২৩ সালের ৩০শে অক্টোবর ইসরাইলের বিমান হামলায় এর তৃতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বছর জ্বালানি সংকটের কারণে ১লা নভেম্বরে হাসপাতালটি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তখন সেখানে কমপক্ষে ৭০ জন রোগীর জীবন ছিল ঝুঁকিতে। এই হাসপাতালটি ধ্বংস করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গাজায় নিহত হামাসের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ওসামা তাবাশ
ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ওসামা তাবাশ নিহত হয়েছে । সম্প্রতি বিবৃতি জারি করে এমনটাই দাবি করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে , তাবাশ হামাসের নজরদারি এবং নিশানা (টার্গেটিং) ইউনিটেরও প্রধান ছিলেন। খান ইউনিস ব্রিগেডের ব্যাটেলিয়ন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। স্থলভাগে হামাসের যুদ্ধকৌশল ঠিক করতেন। মূলত দক্ষিণ গাজ়াতেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে বড়সড় সাফল্য হিসাবেই দেখছে আইডিএফ। কখন বা কোথায় তাবাশকে হত্যা করা হয়েছে তা বলা হয়নি এবং হামাস আইডিএফ- এর দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইতিমধ্যেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন যে তিনি স্থল বাহিনীকে গাজার আরও গভীরে অগ্রসর হতে এবং হামাসকে বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে চাপ দেওয়ার জন্য ভূমি দখলের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরাইল কাটজ বলেছেন -"হামাস যতই অপহৃতদের মুক্তি দিতে দেরি করবে, ইসরাইলের কাছে তত বেশি অঞ্চল হারাবে। 'যুদ্ধবিরতি বর্ধিত হওয়ার পরেও ইসরাইল দিন কয়েক আগে আবার বিমান হামলা শুরু করে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা যতদিন চলবে ততদিন যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকার কথা ছিল, কিন্তু ইসরাইলি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আলোচনায় যেতে অস্বীকার করেন। মঙ্গলবার থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ইসরাইল বলেছে যে হামাস এখনও তাদের হাতে বন্দি ৫৯ জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। যাদের মধ্যে ২৪ জন এখনো জীবিত রয়েছে বলে বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার, নেটজারিম করিডোরের কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করার পর যা গাজার উত্তরকে দক্ষিণ থেকে বিভক্ত করে, ইসরাইলি সেনারা বেইট লাহিয়া শহরের পাশাপাশি দক্ষিণ সীমান্ত শহর রাফাহের দিকে অগ্রসর হয়।
ইসরাইল আরও বলেছে যে তারা গাজা সিটি সহ উত্তর গাজার উপর অবরোধ পুনরায় চালু করেছে। এদিকে, গাজা শহরের পূর্বে শুক্রবার একটি বিস্ফোরণে একজন দম্পতি এবং তাদের দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং একটি স্থানীয় হাসপাতালের মতে, একই ভবনে আরও দুটি শিশু মারা গেছে।ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গাজা শহরের একটি ভবনে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক ক্ষতি কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। ইসরাইল আরও বলেছে যে তারা গাজা শহরের পশ্চিমে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে এবং ফিলিস্তিনিদের আগে থেকে সেখান থেকে সরে যেতে বলে সতর্ক করেছে।
সূত্র : স্কাই নিউজ
![]() |
| মধ্যপ্রাচ্য বিষযক যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইসল্যান্ডের এক নারী মন্ত্রীর কাণ্ড, পদত্যাগ
এ বিষয়ে আইসল্যান্ডের বার্তা সংস্থা আরইউভি বৃহস্পতিবার খবর দিয়েছে যে, মিস আস্থিলদারের ওই টিনেজ প্রেমিকের নাম ইরিক আসমুন্ডসন। বর্তমানে তিনি টগবগে এক যুবক। বাড়িতে জটিল পরিস্থিতিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ট্রু ওগ লিফ (ধর্ম ও জীবন) নামের একটি গ্রুপে। সেখানে কাজ করতেন মিস আস্থিলদার। এই সুযোগে তাদের সাক্ষাৎ হয়। যোগাযোগ হয়। তার পর প্রেম। শারীরিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কে তিনি ২৩ বছর বয়সে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। সেই সন্তানের বয়স এখন ১৬ বছর।
উল্লেখ্য, আইসল্যান্ডে সম্মতি জানানোর বয়স ১৫ বছর। কিন্তু কেউ যদি মেন্টর হন, শিক্ষক বা শিক্ষিকা হন, যদি কোনো ব্যক্তি আপনার ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয় অথবা আপনার জন্য কাজ করে, তাহলে তার সঙ্গে ১৮ বছর বয়সের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বেআইনি। যদি এই অভিযোগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাহলে তাকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল দেয়ার বিধান আছে। ওদিকে ওই সম্পর্কের বয়স পেরিয়েছে ৩৬ বছর। কিন্তু মিস আস্থিলদার লোয়া থোরসদোত্তি মনে করেন এরই মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এসব ইস্যুকে তিনি এখন অন্যভাবে দেখেন। তবে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রান ফ্রেস্টাদোত্তির বলেছেন, বিষয়টি সিরিয়াস। সাধারণ পর্যায়ে মানুষ এসব বিষয়ে যা জানেন, তার চেয়ে কিছুটা বেশি জানার কথা মিস আস্থিলদারের। তিনি এ অভিযোগ পেয়েছেন বৃহস্পতিবার রাতে। সঙ্গে সঙ্গে তার অফিসে তলব করেন মিস আস্থিলদারকে। সেখানেই শিশুকল্যাণ বিষয়ক ওই মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মিস আস্থিলদার ও মিস্টার আসমুন্ডসনের মধ্যকার সম্পর্ক যদিও গোপন ছিল, তবু সন্তান জন্মগ্রহণের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসমুন্ডসন। এরপর প্রথম এক বছর তারা একসঙ্গে ছিলেন। কিন্তু মিস আস্থিলদারের স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সবকিছু বদলে গেছে। ওদিকে মিস্টার আসমুন্ডসন আগেই আইসল্যান্ডের আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন। তাতে তিনি ওই সন্তানের ‘এক্সেস’ দাবি করেছেন। কিন্তু তার কাছ থেকে দেড় বছর ওই সন্তানের সাপোর্ট নেয়া সত্ত্বেও সন্তানের ‘এক্সেস’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মিস আস্থেলদার। গত সপ্তাহে আসমুন্ডসনের একজন নারী আত্মীয় এ বিষয়ে দু’বার কথা বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুনীতি, উইলমোরের ওভারটাইম দিতে হলে ট্রাম্পের পকেট থেকে দিতে হবে!
মহাকাশে বিজ্ঞানীদের পরিবহন, তাদের থাকার ব্যবস্থা এবং খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে নাসা। প্রতিদিন আনুষঙ্গিক খরচাপাতি হিসেবে অতিরিক্ত ৫ ডলার অনুমোদন দেয়া হয়। সে হিসেবে সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর মহাকাশে কাটিয়েছেন ২৮৬ দিন। এ সময়ে তারা প্রতিজন বাড়তি ১৪৩০ ডলার ও তাদের বেতন হিসেবে ৯৪,৯৯৮ ডলার থেকে ১,২৩,১৫২ ডলার পাওয়ার কথা। ওদিকে নাসার বিজ্ঞানীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য ওভাল অফিসের সংবাদ সম্মেলনে ইলন মাস্কের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ইলন না থাকতেন তাহলে তাদেরকে (বিজ্ঞানী) সেখানে (মহাকাশে) দীর্ঘ সময় থাকতে হতো। আর কে তাদেরকে উদ্ধার করতো? মহাকাশে ৯-১০ মাস পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ভাবুন, যদি আমাদের সময় না থাকতো? তিনি এখন অনেক কিছু করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ই জুনের পর থেকে আইএসএসে আটকা পড়েন সুনীতা উইলিয়াম ও বুচ উইলমোর। গত বুধবার তাদেরকে স্পেসএক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফেরত আনা হয়। তারা ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলে অবতরণ করেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিশোধ নিলেন ট্রাম্প! কমালা, হিলারিসহ বিপুল শীর্ষ কর্মকর্তার নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স প্রত্যাহার
উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তখনকার (সাবেক) প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বেশ কয়েকটি মামলায় আদালতে দৌড়াতে হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু দিন বদলে গেছে। এখন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট। জো বাইডেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। ফলে তার ওপর কি ট্রাম্প ওই সব হয়রানির বদলা নিচ্ছেন! বিশ্লেষকদের অনেকেই তেমনটা মনে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরা এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সৌজন্যবশত নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স পেয়ে থাকেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের পক্ষে কাজ করেছিলেন এমন অভিযোগে এর আগে কমপক্ষে চার ডজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স তুলে নেন ট্রাম্প। এখানে উল্লেখ্য, পরাজিত প্রার্থী ট্রাম্পের তখনকার ক্ষুব্ধ আচরণের কথা উল্লেখ করে তাকে গোয়েন্দা ব্রিফিং সুবিধা বাতিল করেন জো বাইডেন ২০২১ সালে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদি সরকারের ‘একতরফা’ আসন পুনর্বিন্যাস রুখতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক স্ট্যালিনের
স্রেফ জনসংখ্যার নিরিখে আসন পুনর্বিন্যাস রুখতে তামিলনাড়ুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে স্ট্যালিন এক ‘জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’ (জেএসি) গঠন করেছিলেন। আজ শনিবার চেন্নাইয়ে জেএসির প্রথম বৈঠক বসে। সেখানে ঠিক হয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ‘একতরফা’ যা করতে চলেছে, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পাশাপাশি আইনের সাহায্যও নেওয়া দরকার।
বৈঠকে যোগ দিতে স্ট্যালিন দক্ষিণের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাঞ্জাব, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীদেরও। ওডিশার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেডি নেতা নবীন পট্টনায়েক এবং অন্ধ্র প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএসআর কংগ্রেস নেতা জগনমোহনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
নবীন পট্টনায়েক নিজে যোগ না দিলেও দুই শীর্ষ নেতাকে চেন্নাইয়ে পাঠান। নিজে ভার্চু৵য়ালি সম্মেলনে ভাষণ দেন। জগনমোহন রেড্ডি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লিখেছেন। তাতে তাঁর প্রস্তাব, সংবিধান সংশোধন করে আনুপাতিক হারে সব রাজ্যের আসন বাড়ানো হোক, যাতে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই চিঠি তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকেও পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আজ শনিবার বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তেলেঙ্গানার কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, কেরালার সিপিএম মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কর্ণাটকের কংগ্রেসের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এবং আম আদমি পার্টি শাসিত পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমুল কংগ্রেস কিন্তু দলের কাউকেই চেন্নাই পাঠায়নি। কেন পাঠায়নি, তার কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তিও দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে এই অনৈক্য বিজেপিকে উৎসাহিত করেছে। তারা মনে করে, এই বৈঠক দেশকে উত্তর–দক্ষিণে বিভাজিত করার শামিল। এই কাজ দেশের ঐক্যের পরিপন্থী।
স্ট্যালিন তাঁর ভাষণে ঐক্যের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উত্তরের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোর আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা হচ্ছে। এটা রুখতে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি লড়াইও লড়তে হবে। সে জন্য তিনি আইনজ্ঞদের এক প্যানেল গঠনের প্রস্তাব রাখেন।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, মোদি সরকার কারও সঙ্গে আলোচনা না করে দক্ষিণের ঘাড়ে আসন পুনর্বিন্যাসের খাঁড়া ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিজেপি যা করতে চলেছে, তা সাংবিধানিক বিধি ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বলেন, বিজেপির ছক কার্যকর হলে জাতীয় রাজনীতিতে চিরকালের জন্য দক্ষিণের কন্ঠরোধ হয়ে যাবে।
কর্ণটকের উপমুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমার বলেন, যেকোনো মূল্যে এই অপচেষ্টা রুখতে হবে। দাক্ষিণ্যত্য অর্থনৈতিক দিক থেকে যেমন দেশকে সমৃদ্ধ করে চলেছে, তেমনই সব সময় দেশের স্বার্থ রক্ষা করেছে।
দক্ষিণের উদ্যোগে পাঞ্জাবের শামিল হওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মান। তাঁর রাজ্য থেকে শিরোমণি অকালি দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি বলবিন্দর সিং ভুন্দের যোগ দিয়েছিলেন। আর এসেছিলেন কেরালার ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক পিএমএ সালাম।
অন্ধ্র প্রদেশের শাসক দল তেলেগু দেশম পার্টির নেতা মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বৈঠকে যোগ দেননি। রাজ্যে বিজেপি তাঁর শরিক, তিনি কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের শরিক।
নাইডুর মতে, দক্ষিণ যাতে বঞ্চিত না হয় প্রধানমন্ত্রী তা নিশ্চিত করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা জানিয়েও দিয়েছেন। তাই উত্তর–দক্ষিণে বিভাজনের রাজনীতি করা উচিত নয়। কিছু কিছু সময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
ভাষা শিক্ষা ও লোকসভার আসন বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে তামিলনাড়ুর উদ্যোগে দক্ষিণে বিজেপি বেশ কোণঠাসা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) চিন্তিত। কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে আরএসএসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ কমিটি অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার তিন দিনের বৈঠক গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।
বৈঠকে সংঘের অন্যতম শীর্ষ নেতা সি আর মুকুন্দ বলেন, আসন পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য ভুল–বোঝাবুঝি এড়াতে আলোচনা প্রয়োজন। ভাষাশিক্ষার প্রশ্নও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এসব নিয়ে বিজেপি যে চাপে আছে, তা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, ভুল–বোঝাবুঝি এড়াতে সংঘ তামিলনাড়ুর ঘরে ঘরে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
![]() |
| তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম স্ট্যালিন। ফাইল ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 23
(13)
- ‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও হস্তক্ষেপ কর...
- ট্রাম্পের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ by সাইমন টিসডাল
- ইউনূস সরকারের চেয়ে ভালো কী হতে পারত by সোহরাব হাসান
- ভারতে মোগল শাসক আওরঙ্গজেবকে নিয়ে এখন কেন এত বিতর্ক
- কুরস্কে পিছু হটেছে ইউক্রেন, অভিযান ঘিরে নানা প্রশ্ন
- শাহবাগে সমাবেশ: বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ...
- ‘এমআইএস’ লকড: জুলাই অভ্যুত্থানের আহত-শহীদদের নাম অ...
- পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা দিতে রাজি বৃটেন: লন্...
- গাজা যুদ্ধ আরব জাহানকে অস্থিতিশীল করে তুলবে -স্টিভ...
- আইসল্যান্ডের এক নারী মন্ত্রীর কাণ্ড, পদত্যাগ
- সুনীতি, উইলমোরের ওভারটাইম দিতে হলে ট্রাম্পের পকেট ...
- প্রতিশোধ নিলেন ট্রাম্প! কমালা, হিলারিসহ বিপুল শীর্...
- মোদি সরকারের ‘একতরফা’ আসন পুনর্বিন্যাস রুখতে ঐক্যব...
-
▼
Mar 23
(13)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




