Thursday, December 18, 2014

ন্যায় বিচার করুন নয়তো ফাঁসির চেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে : খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ার পারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ তাকতে হবে। তিনি বলেন, হাসিনা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংশ করে ফেলেছে। হাসিনা জোর করে ক্ষমতায় আছে। ৫ জানুয়ারি কোন নির্বাচন হয়নি। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আবার নির্বাচন দিতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান সংগ্রামে বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বৈরাচার বিরোধী গণতন্ত্রের সংগ্রামে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রবৃন্দের ছাত্র কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ৯০ ডাকসুর সাবেক ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এ ছাত্র কনভেনশনের আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ৯০ র ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসবিচ আমান উল্লাহ আমান। অনুষ্ঠানে খালেদা বলেন, গত নির্বাচনে হাসিনা যে ওয়াদা করেছিলো তা একটাও রক্ষা করেনি। ঘরে ঘরে চাকরি, বিনা মূল্যে সার ও ১০ টাকা কেজিতে চালও দিতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে খালেদা বলেন, ছাত্রলীগকে সামলান। নিজের জিহবাকে ঠিক করেন। যে ভাষায় কথা বলেন তা গণতন্ত্রে ভাষা নয়।
খালেদা বলেন, দেশের অর্থনীতি আজ কঠিন অবস্থায় আছে। এজন্য বিদেশীরা এদেশে বিনিয়োগ করছে না। তিনি বলেন, লুটপাট করে সরকার আর বোঝা চাপায় জনগনের উপর। তিনি বলেন, কিছু হলেই বলা হয় তারা বিএনপির সমর্থক। যদি তাই হয় তাহলেতো সরকারের সমর্থক আর কেউ নেই। তাতেই প্রমান হয় চুরির মাধ্যমেই তারা ক্ষমতায় এসেছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সোনার বংলাদেশে সোনা আসছে আর আসছে। এর সাথে চেয়ারম্যান জড়িত থাকার পরও তাকে আটক করা হয় না। বিচারালয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ বলে কিছু নেই। বিচারপতিরা চেহারা দেখে বিচার করেন। বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের কেউ হলে তার বিচার হয়। আর আওয়ামীলীগের হলে তার বিচার হয়না। তা হতে পারেনা। তাই হাসিনার সব মামলা আবার পুনরায় চালু করতে হবে। বিচারপতিদের তিনি বলেন, আপনারা যদি ন্যায়ের পথে না থাকেন, ন্যায় বিচার না করেন তাহলে একদিন আপনাদের ফাঁসির চেয়েও আরো কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

পরমাণু আলোচনা ‘কার্যকর’ হয়েছে : ইরান

বিশ্বের পরমাণু ক্ষমতাধর প্রধান দেশগুলোর সাথে পুনরায় শুরু করা প্রথম দফার পরমাণু আলোচনাকে ‘কার্যকর’ অভিহিত করে তেহরান বৃহস্পতিবার একে স্বাগত জানিয়েছে। চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় প আরো সাত মাস সময় নিয়েছে। বুধবার জেনেভায় দুই ঘন্টা ধরে চলা এক বৈঠকের পর ইরানের প্রধান আলোচক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ব্যাপক ও কার্যকর আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে আমরা আবারো বৈঠকে বসবো।’ ছয় পরাশক্তির সাথে পূর্ণাঙ্গ দফা আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে আরাকচি দু’দিন আলোচনা করেন। ভারপ্রাপ্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরমেন মার্কিন এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশ্বের এ মতাধর দেশগুলো গত মাসে ভিয়েনায় ইরানের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে। ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ শিথিলের বিনিময়ে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে নির্ধারিত সময়সীমা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে একটি ব্যাপক চুক্তিতে পৌঁছতে তারা ব্যর্থ হয়।

বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগের দরকার নেই : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু  মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি ধ্বংসের জন্য তাদের নেতিবাচক রাজনীতিই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করে বলেছেন, বিএনপির ঘরের শত্রুই বিভীষণ। তাদের ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগের দরকার নেই। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের ঢাকা কাপাসিয়া সড়কের রাজাবাড়িতে নবনির্মিত রাজাবাড়ি সেতু উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বিএনপির উদীয়মান এক নেতা মাঝে মাঝে লন্ডন থেকে শব্দ বোমা ছুঁড়েন। এতে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে তারা বিএনপি করবেন কিনা। এসময় মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিপসটের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মাকসুদুর রহমান, গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রহমত আলী, সড়ক ও জনপথের ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান। এর আগে মন্ত্রী ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুরে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। ৬৭ মিটার দীর্ঘ সেতুটি সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

নিজের জিহ্বা ঠিক করেন-মুখটা সামলান, হাসিনাকে খালেদা

(রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সাবেক ছাত্রনেতাদের এক কনভেনশনে দলীয় নেতা-কর্মীদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছবি: ফোকাস বাংলা) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘নিজের জিহ্বা ঠিক করেন, মুখটা সামলান। তাহলে দেশের মানুষ কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সাবেক ছাত্রনেতাদের এক কনভেনশনে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান সংগ্রামে বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বৈরাচারবিরোধী গণতন্ত্রের সংগ্রামে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের’ ওই কনভেনশন আয়োজন করা হয় ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ব্যানারে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নিজেদের মুখগুলো সংযত করেন, পরে অন্যকে উপদেশ দিয়েন। আমরা যা বলি, সত্য কথা বলি, তথ্যভিত্তিক কথা বলি।’
সম্প্রতি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দেন। এর জবাবে গতকাল বুধবার খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘কুপুত্রকে জিহ্বা সামলাতে বলুন।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতাদের গালিগালাজ করতে করতে এখন বিদেশিদেরও গালিগালাজ করছে। মুখে যা আসে, তা বলছে।’
আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সময়মতো ডাক দেব। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। যেকোনো সময় ডাক দেব।’ প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এবার গুলি চালালে বিএনপি তার পাল্টা গুলি চালাবে না। তবে জনগণ এর জবাব দেবে। এবার ঢাকার রাস্তা খালি থাকবে না। গুলি-বন্দুক উপেক্ষা মানুষ রাস্তায় থাকবে।’ তিনি সরকারকে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
বিএনপির চেয়ারপারসন আবারও দাবি করেন, সুন্দরবন এলাকায় ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনা পরিকল্পিত।
বিচারপতিরা মুখ দেখে বিচার করেন
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এখন বিচারপতিরা মুখ দেখে বিচার করেন। আওয়ামী লীগ হলে সব মাফ করে দেওয়া হচ্ছে। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চাকরির জন্য হাসিনার কথামতো চলবেন? এটা সঠিক হবে না। ন্যায়বিচার করুন। সত্যের পথে, গণতন্ত্রের পথে থাকুন। ভুলে যাবেন না, আপনারা মানুষ, জন্মালে মরতে হবে।’
বিচারকদের পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এখন অন্যায় করলে পরজীবনে ৩ গুণ, ১০ গুণ শাস্তি ভোগ করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনি বাধা নেই
খালেদা জিয়া দাবি করেন, প্রসাশনের বর্তমান কোনো নেতা তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেননি। সম্পূর্ণ ভুয়া অভিযোগ তুলে বিএনপি–সমর্থক কর্মকর্তাদের চাকরি খাওয়া হচ্ছে। সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভুল তথ্য দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ মিটিং করেছি। কার সঙ্গে করেছি সেটা দেখা দরকার।’
খালেদা জিয়া প্রশ্ন রাখেন, বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকেরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেননি? তিনি দাবি করে বলেন, তাঁর সঙ্গে কোনো কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা বৈঠক করেননি। আর যদি করেনও তাতে আইনের বাধা নেই, কারণ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী।
টাকা বিদেশে পাচার করেছে লীগের লোক
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এ বছর বিদেশে যে ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, কিন্তু সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারণ, যারা পাচার করেছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের।
দলের কার্যক্রম নিয়ে সাবেকদের ক্ষোভ
কনভেনশন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। সকাল থেকে বক্তব্য দেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। তাঁদের একটি বড় অংশ দলের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অনেকে অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়। উপযুক্ত ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। বিএনপির চেয়ারপারসনকে একটি বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী দেখা করার সুযোগ পান না।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এর আগে সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি আমানউল্লাহ আমান, পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবীর।

স্কুলে হামলাকারী ৭ তালেবানের ছবি প্রকাশ, হুমকি

পাকিস্তানের পেশোয়ারের সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৩২ স্কুল শিক্ষার্থীসহ ১৪৫ জনকে হত্যাকারী ৭ তালেবান সদস্যের ছবি প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। একই সঙ্গে এ ধরনের আরও হামলা চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানি তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ খুরাসানি। পাকিস্তানের বেসামরিক মানুষকে সব ধরনের সামরিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। তালেবানের প্রকাশিত একটি ছবিতে আরবিতে লেখা একটি সাদা ব্যানারের সামনে বন্দুক হাতে ও সেনা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে হামলাকারীদের। তবে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির পরনে রয়েছে কাবলি জাতীয় পাঞ্জাবি। অপর একটি ছবিতে কাবলি জাতীয় পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে তাদের।

পদ্মা সেতু তৈরি তাঁর স্বপ্ন, বললেন মুসা

(নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনীতে দুদক কার্যালয়ে যান বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। ছবি: প্রথম আলো) পদ্মা সেতু তৈরি তাঁর ও তার বাবারও স্বপ্ন বলে দাবি করেছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। দুর্নীতি হয়েছে, এমন অভিযোগে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আগে সরকারই সেখান থেকে সরে আসে। এর পরই মুসা বিন শমসের পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছিলেন মর্মে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের মুসা বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু আমার নয়, আমার বাবারও স্বপ্ন ছিল। পদ্মা সেতু গোয়ালন্দ থেকে আরিচা, নগরবাড়ী-এখানে অ্যাঙ্গেল একটা ব্রিজ হবে। তিন বিলিয়ন ডলার লাগবে এতে।’
সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুসা সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি গল্পের পেছনে একটি ইতিহাস থাকে। ধৈর্য ধরেন। সব জানতে পারবেন। আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমি ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দুদকের অনুসন্ধানে এটা বেরিয়ে আসবে।
একটি বিশেষ সূত্র জানায়, অনিয়মিত লেনদেনের কারণে কয়েক বছর আগে সুইস ব্যাংকে তাঁর সাত বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করা হয়। এ ব্যাপারে মুসা বলেন, এ পরিমাণ টাকা কেউ দেশে অর্জন করতে পারেনি। আগামী ৫০ বছরেও কেউ অর্জন করতে পারবেও না। এটা সবাই বুঝতে পারবে যে, এ পরিমাণ টাকা বাংলাদেশ থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়। যা উপার্জন করেছি বিদেশেই। আমি দেশ থেকে কোনো টাকা বিদেশে পাচার করিনি।
গত ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসা বিন শমসেরের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে নোটিশ দেওয়া হয় মুসাকে।
দুদক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুসা। সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে দুদকের চাহিদামতো তথ্য সরবরাহ করার অঙ্গীকারও করেছেন বলেও সূত্রটি জানায়।
চলতি বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীর ঈদসংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তাঁর সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ওই সাময়িকীতে এই ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাঁর জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়।
১৯৪৫ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া মুসা ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে ‘জনশক্তি রপ্তানির জনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বেশ আলোচনায় আসেন এ ব্যবসায়ী।
বিজনেস এশিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা, তেল বাণিজ্য ও কেনাবেচার মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছেন মুসা।

নাইজেরিয়ায় ৫৪ সেনার মৃত্যুদণ্ড

নাইজেরিয়ার একটি সামরিক আদালত বিদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশটির ৫৪ সেনাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে ৫ সেনা সদস্যকে। কট্টরপন্থী সংগঠন বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নির্দেশ অমান্য করায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিয়েছে আদালত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। বোকো হারামের দখলে থাকা ৩টি শহরতলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সেনা সদস্যদের। গত আগস্ট মাসে ওই শহরতলিগুলোতে দখল প্রতিষ্ঠা করে কট্টরপন্থী সংগঠনটি। দন্ডপ্রাপ্ত সেনাদের পক্ষের এক আইনজীবী জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে গুলি করে ওই ৫৪ সেনার মৃত্যুদন্ডের রায় নিশ্চিত করা হবে। এদিকে সেনা সদস্যদের অভিযোগ, বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তাদের পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে না। গত অক্টোবর মাসে লোকচক্ষুর অন্তরালে সামরিক আদালতে নির্দেশ অমান্য করা সেনাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এদিকে এ রায়ের ব্যাপারে সেনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত সেনারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিনিয়র কর্মকর্তারা মৃত্যুদন্ডের রায়ের ব্যাপারে তাদের অনুমোদন দিলে তবেই তা কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে এবং একের পর এক হামলা চালিয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসমূহে দখল প্রতিষ্ঠা করছে। নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে সংগঠনটি। এ বছর এখন পর্যন্ত বোকো হারামের হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

ফেল করা শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যারা ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছে, তারা মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘যারা ভর্তি পরিক্ষায় পাস করেনি, তাদের ভর্তি হবার সুযোগ আমি কীভাবে দেব? যারা পাস করেনি, তারা কীভাবে ডাক্তার হবে? যে ফেল করেছে তাকে ভর্তি করব, এ ধরনের মনমানসিকতার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমি নই।’ খবর বাসসের।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের কিডনি ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশীদের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এম মুহিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ভর্তি পরীক্ষায় ৪০-এর নিচে নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীরা বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন না। প্রায় একই রকম নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলও (বিএমডিসি)।
তবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের সংগঠন বিপিএমসিএ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। সংগঠনটি ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ২০ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার আবদার জানিয়েছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে আরও হাসপাতাল হলে সরকার সহযোগিতা করবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ থাকতে হবে। সরকার বারডেম, শিশুস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, কিডনি ফাউন্ডেশনের মতো উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে চায়।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করার পরামর্শ দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন চাই। কিন্তু “মোহনা”র মতো ভেজাল হাসপাতাল আমরা কিছুতেই চাই না।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কিডনি সংযোজনে অতীতে অনেক দালাল দরিদ্র মানুষকে প্রতারিত করেছে। এ-সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার পথে। ২৮ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কিডনি-সম্পর্কিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তা পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সূচনা বক্তব্যে কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এম মুহিবুর রহমান জানান, ২০০৩ সালে ৭০ হাজার টাকায় ধানমন্ডির একটি ভাড়াবাড়িতে ছয়টি ডায়ালিসিস মেশিন নিয়ে কিডনি ফাউন্ডেশন যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কিডনি ফাউন্ডেশন ১৫০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। ৪৫টি ডায়ালিসিস মেশিন দ্বারা ১২০-১৩০ জন রোগী প্রতিদিন ডায়ালিসিস করার সুযোগ পাচ্ছেন। ১৬ শয্যার নিবিড় পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ও তিনটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯৬ জন রোগী এখানে কিডনি সংযোজন করেছেন। ২০১১ সাল থেকে ডায়ালিসিস-সেবা বাড়ি বাড়ি যেয়ে দিচ্ছে কিডনি ফাউন্ডেশন। এ পর্যন্ত ১৬১ জন এ সেবা পেয়েছেন।

নিখোঁজের ১৯ মাস পর খোঁজ মিলল হেফাজতকর্মীর

নিখোঁজের ১৯ মাস পর আল ফারুক (১৬) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে নগরের চকবাজার মিসকিন শাহ মাজার থেকে তাকে উদ্ধার করে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফারুক ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। তাই তার পরিবার ধারণা করে ওই দিন শাপলা চত্বরে যে সংঘর্ষ হয় সেখানেই হয়তো মারা গেছে ফারুক। এমনকি তার পরিবার গায়েবানা জানাজা ও কুলখানিও সম্পন্ন করে। ওই সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে হেফাজত তাদের অনেক নেতা-কর্মী নিহত ও গুম হয়েছে দাবি করে আসছিল। ফারুক ঢাকার বাড্ডা এলাকার উম্মুল ক্বোরা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। কুমিল্লার চান্দিনা নবাবপুর শিংগাড়া এলাকার সোলায়মান বিন মোবারকের ছেলে সে।
ফারুকের মামা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আজ বিকেলে মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফারুককে কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করেছিলাম সে মারা গেছে। তাই কুলখানিও করেছি গত ৫ মে। তাকে খুঁজে পেয়েছি এটাই বড় কথা।’
কেন এতদিন আত্মগোপনে ছিল, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা না করতেই সে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকে।’
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে ফারুকের পরিবার জানতে পারে সে চট্টগ্রামে আছে, নিখোঁজ কিংবা মারা যায়নি। এরই মধ্যে ১০ নভেম্বর ফারুক তার মাকে ফোন করে কেমন আছেন জানতে চেয়ে লাইন কেটে দেয়। পরে ১৯ নভেম্বর ফারুকের নিখোঁজ হওয়া প্রসঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনা থানায় একটি জিডি করা হয়। এই বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলে তারা তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ফারুককে নগরের মিসকিন শাহ মাজার এলাকা থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
এসআই সন্তোষ চাকমা ফারুকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, ফারুক শাপলা চত্বরের ঘটনার পরপরই চট্টগ্রামে চলে আসে। হেফাজতের কর্মী হিসেবে সে সমাবেশে যোগ দিয়েছিল। পড়ালেখা ভালো না লাগায় বাইরে আত্মগোপনে চলে যায় সে।
জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রথম আলোকে বলেন, ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে মাদ্রাসা ছাত্রসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই নিখোঁজ হয়েছেন। পুলিশ সন্ধান পাওয়া মাদ্রাসার ছাত্র ফারুক তো নিখোঁজ ছিল না। স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিল। পড়ালেখা না করতেই সে আত্মগোপনের আশ্রয় নেয়।

‘নিজের জিহ্বা ঠিক করেন’ -খালেদা জিয়া

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের জিহ্বা ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আমি তো বলবো, অন্যকে সামলানোর কথা বলার আগে ছাত্রলীগ-গুন্ডালীগকে সামলান।  স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হলেও এই ভাষায় কেউ কথা বলে না। আগে নিজের জিহ্বা ঠিক করেন। নিজের ভাষা সংযত  করুন। আজ বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ফোরাম আয়োজিত ছাত্র কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমানকে অশিক্ষিত, জানোয়ার আখ্যায়িত করে জিহ্বা সামলে কথা বলার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনা দেশটাকে গিলে ফেলেছে। পুরো দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভোটার বিহীন একতরফা নির্বাচন করে এখন জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। ২০০৮ সালে মইনউদ্দিন ফখরুদ্দীনের বদৌলতে ক্ষমতায় এসেছিল। ওই কার এরপর আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছে।  খালেদা জিয়া বলেন, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল। তখন জামায়াত ছিল তাদের প্রধান সঙ্গী। ক্ষমতায় এসে সংবিধান এমনভাবে পরিবর্তন করেছে নির্বাচন হলেও যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে।  তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।  বিদেশীরা বলছে, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। তাই সব দলের অংশগ্রহণের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনার মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মইনউদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল ১৫টি মামলা। তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় নিজের মামলাগুলো তুলে নিয়েছে শেখ হাসিনা। আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। শেখ হাসিনার মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বিচার বিভাগের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা চেয়ার দেখে বিচার করবেন না। নিরপেক্ষ বিচার করুন। আওয়ামী লীগ হলেই সব মাফ-এভাবে চলতে পারে না। এগুলো করলে দেশের মানুষের প্রতি অবিচার করা হবে। এর জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। 
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সাহস থাকলে আমার বাড়ির সামনে বালির ট্রাক আর পুলিশ দিয়ে আটকে রাখবেন না। রাস্তা খালি রাখবেন। রাজপথে মোকাবিলা করবেন। দেখি কতটুকু সাহস আছে। সারা দেশ থেকে আগত উপস্থিত ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, এখন আপনাদের প্রয়োজন জনগণের কাছে যাওয়া। তাদেরকে প্রস্তুত করা। যখনই ডাক দেব তখনই গুলি, টিয়ার গ্যাসসহ সব বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসবেন। এবার ঢাকার রাজপথ আর খালি থাকবে না। আসুন, এই অত্যাচারী জালেম সরকারকে বিদায় করে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি।

সন্ধ্যার বুকে ফুলের হাট by এ কে এম ফয়সাল

ট্রলার থেকে ফুলের চারা কিনছেন ক্রেতা
সন্ধ্যা নদী। অবস্থান পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায়। তীরে ভেড়ানো ট্রলারে সাজিয়ে রাখা নানা জাতের ছোট-বড় ফুলের চারা। পছন্দসই চারা কিনছেন ফুলপ্রেমী আর ক্ষুদ্র চারা ব্যবসায়ীরা। দাম ২০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সন্ধ্যার বুকে ফুলের চারার ভাসমান এই হাট বসে সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার। শীত ও বর্ষায় উপকূলীয় এলাকাগুলোর হাটবাজারে বিকিকিনি হয় এ হাটের ফুলের চারা। চারা ব্যবসায়ীরা নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন নার্সারি থেকে দেশি-বিদেশি ফুলের চারা সংগ্রহ করে থাকেন এই দুই মৌসুমে। চারা সংগ্রহের পর তা নৌকা-ট্রলারে সাজিয়ে বিক্রি করেন এই হাটে। নদীর চিরাপাড়া এলাকা ছাড়াও কচুয়াকাঠী মোহনায় বসে এই হাট। পাঁচ বছর ধরে সন্ধ্যার হাটে ফুলের চারা বিক্রি করে আসছেন নেছারাবাদের কুনিয়ারা গ্রামের হান্নান মিয়া। জানালেন, নৌপথে চারা পরিবহনের কাজটি সহজ হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন হাটবাজারে ট্রলারে চারা নিয়ে যান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। নদীর তীরে হাট বসায় নৌকা-ট্রলারে বসেই চারা বিক্রি করতেন তাঁরা। একসময় সেখানেই গড়ে ওঠে চারার হাট। হান্নান জানান, নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠী ও সংগীতকাঠীতে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুলের চারার নার্সারি। সেখান থেকে গাঁদা, গোলাপ, জিনিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ ২০-২৫ জাতের চারা সংগ্রহ করে সেগুলো বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন তিনি। তবে বেশি বেচাকেনা করেন এই ভাসমান হাটে। প্রতি শীতে হাটটিতে চারা বিক্রি হয় কয়েক লাখ টাকার।
অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, গাঁদা ২০-২৫ টাকা, দেশি গোলাপ ও ডালিয়া ৫০-৬০ টাকা, চায়না গোলাপ ও চন্দ্রমল্লিকা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিটি চারায় তাঁরা ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন। কাউখালী শহরের বাসিন্দা আবদুল লতিফ বলেন, পাঁচ-সাত বছর আগে চারা ব্যবসায়ীরা হাটের দিন কিছু কিছু করে ফুলের চারা বিক্রির জন্য নিয়ে আসতেন। চারার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরে তাঁরা নৌকা-ট্রলারে করে নদীতে ভাসমান হাট বসিয়ে চারা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে ফুলের চারার মৌসুমি বাজার এখন দুই ঋতুতে স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফুলের চারার ব্যাপক চাহিদা থাকে। এ সময় শুধু নেছারাবাদ উপজেলার সহস্রাধিক চারা ব্যবসায়ী প্রতিদিন লক্ষাধিক ফুলের চারা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন। অলংকারকাঠী গ্রামের নার্সারি ব্যবসায়ী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত চারার বড় বাজার সন্ধ্যা নদীর ভাসমান হাট। সেখানে হাটের দিন পাইকারি ও খুচরা কয়েক হাজার চারা বিক্রি হয়।’
ফুলের চাষ সারা বছর করা যায়। তবে শীত মৌসুমে এর উৎপাদন বেশি হয়। কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরিফ মনে করেন, সন্ধ্যা নদীর ভাসমান ফুলের এই হাটের বিস্তৃতি বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

তেল অপসারণের নামে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে by মামুনুর রশীদ

(সুন্দরবনের শ্যালা নদীর দুই পাড়ের গোলপাতা গাছগুলো গতকাল সকাল থেকে কাটা শুরু করেন বন বিভাগের কর্মীরা। মৃগমারী এলাকা থেকে গতকাল দুপুরে ছবিটি তুলেছেন এহসান-উদ-দৌলা) সুন্দরবনের শ্যালা নদীর দুই পাশের সংরক্ষিত বনে গাছের গায়ে লেগে থাকা তেল অপসারণের নামে ডালপালা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো গাছই কেটে ফেলতে দেখা গেছে। তেল অপসারণের জন্য বন বিভাগের নিয়োগ করা কর্মীরা বলছেন, বন কর্মকর্তাদের আদেশেই তাঁরা এমনটি করছেন। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। গতকাল বুধবার দুপুরে বন বিভাগের চাঁদপাই লঞ্চঘাট থেকে মৃগমারীর দিকে একটু এগোতেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। নদীর বাঁ পাশে তেল লেগে থাকা একটি ছোট কেওড়াগাছের ডালপালা দা দিয়ে ছাঁটছিলেন দুজন লোক। তাঁরা জানালেন, চার দিন ধরেই বন বিভাগের হয়ে তেল অপসারণের কাজ করছেন তাঁরা। কী কারণে গাছটির ডালপালা ছাঁটা হচ্ছে জানতে চাইলে তাঁদের একজন বলে উঠলেন, ‘গাছের তেল যাতে আর পানিতে না নামতি পারে তাই কাটতিছি।’ এভাবে যত দূর পর্যন্ত নদীর ওপর ঝুলে পড়া তেলমাখা গাছ ও লতাপাতা আছে, সেগুলো পরিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। গাছের ডাল ছাঁটার নির্দেশ কখন দেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে পাশেই নৌকার ওপর বসে থাকা আরেকজন কথা বলে উঠলেন; যিনি ছেঁটে ফেলা ডালগুলো তুলে নৌকার ওপর স্তূপ করে রাখছিলেন। তিনি বললেন, সকালে চাঁদপাই রেঞ্জ অফিস থেকে এ নির্দেশ এসেছে। এরপর আরেকটু সামনে এগোতে নদীর অপর পাশে বন বিভাগের নিয়োগ করা আরও দুজন লোককে তেলমাখা গোলপাতাগাছ প্রায় গোড়া থেকে কেটে ফেলতে দেখা গেল। তাঁরা জানালেন, নদীর দুই ধারে এ রকম তেল লাগা প্রচুর সুন্দরী, গেওয়া, হরগজিসহ নানা ধরনের লতাপাতা আছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হুসাইন চৌধুরী দাবি করেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশ তাঁরা দেননি। বরং তাঁরা গাছগুলো থেকে তেল অপসারণের কথা বলেছেন। চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, বন বিভাগের কর্মকাণ্ডকে হেয় প্রতিপন্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ এটা করে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা অনেক নিচের দিকে আন্ধারমানিক থেকে তাম্বুলবুনিয়া পর্যন্ত কাজ করেছি। মৃগমারীর দিকে আমাদের কোনো লোক ছিল না।’ তিনি আরও দাবি করেন, বন বিভাগ থেকে নিয়োগ করা প্রতিটি নৌকায় একজন করে গার্ড রয়েছেন। যাতে করে এ সুযোগে কেউ গাছ কাটার মতো কাজ করতে না পারে।

আগরতলায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ইতিহাস কথা কয়' শীর্ষ্ক চলচিত্র ও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শনে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ


দেশ একটি সন্মিলিত উচ্চারন, বাংলাদেশ -এর উদ্যোগে তথ্য ও সংস্কৃতি সমন্বয় কেন্দ্রের সহায়তায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ইতিহাস কথা কয়' শীর্ষ্ক চলচিত্র ও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন।

নজরুল কলাক্ষেত্র, আগরতলা
১৮-২৩ আগষ্ট, ২০১৩

স্কুলে হামলা: শুধুই প্রতিশোধ নয়

দুই দিন আগেও প্রাণবন্ত ছিল শ্রেণিকক্ষটি। জঙ্গি তাণ্ডবে পরিণত হয়েছে
প্রায় ধ্বংসস্তূপে। তাঁর মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন পাকিস্তানি
সেনা। মঙ্গলবারের তালেবানি হামলার শিকার পেশোয়ারের
আর্মি পাবলিক স্কুলের গতকালের চিত্র। ছবি: এএফপি
পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবানের গত মঙ্গলবারের হামলাকে দেশটির ইতিহাসে ভয়াবহতম জঙ্গি হামলাগুলোর একটি বলা হচ্ছে। কিন্তু নির্দোষ শিশুদের ওপর কেন এই হামলা? এর মাধ্যমে কী অর্জন করতে চেয়েছে তালেবান? হামলার কিছুক্ষণ পরই দায় স্বীকার করা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বলেছে, সেনাবাহিনীর অভিযানে উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় অনেক নিরপরাধ মানুষ, নারী-শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তার প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এককথায় ‘সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ’ বলে দিলে সরলীকরণ হবে। বিষয়টির আরও কিছু দিক আছে। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে টিটিপি। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে শরিয়া আইন চালু করা। তারা কথিত ‘পাশ্চাত্যমুখী’ শিক্ষা ও নারীদের চাকরি করারও বিরোধী। পাকিস্তান সরকার টিটিপির সঙ্গে শান্তি আলোচনারও উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু করাচি বিমানবন্দরে গত জুন মাসের সন্ত্রাসী হামলার পর তা স্থগিত করা হয়। এরপর টিটিপি তথা জঙ্গি নির্মূলে আফগান সীমান্তের দুর্গম উত্তর ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে ‘জারব-ই-আজাব’ নামের অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিচালক সাজন গোহেল বলেন, টিটিপি চায় উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিজেদের মতো করে চালাতে। সেখানে সরকার বা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নিতে চায় না তারা। সেনাবাহিনীর ‘জারব-ই-আজাব’ অভিযানে চরম ক্ষুব্ধ টিটিপি। আর পেশোয়ারের স্কুলটিতে মূলত সেনা কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। পুরুষ শিক্ষকের পাশাপাশি সেখানে নারী শিক্ষকও ছিলেন।
সবকিছু মিলিয়েই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ওই স্কুলটি বেছে নেয় টিটিপি। পাকিস্তানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিন্নাহ ইনস্টিটিউটের রাজা রুমি বলেন, ‘টিটিপির মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালানো।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্কুলের মতো জায়গায় নৃশংসতা চালিয়ে কী পেল তালেবান? সিএনএনের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক পিটার বার্গেন বলেন, এই হামলা চালিয়ে তালেবান একটা প্রচার পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য সম্ভবত পূরণ হবে না। তিনি বলেন, হামলার উদ্দেশ্য যদি হয় সরকার কিংবা সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, সে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না; বরং এই হামলার ফলে অতীতে যে পাকিস্তানিরা তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পক্ষে ছিলেন, তারাও এখন টিটিপির প্রতি কঠোর হবেন। বার্গেনের মতে, এই হামলার ফলে অদূর ভবিষ্যতে সরকারের সঙ্গে টিটিপির আলোচনার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে গেল। সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে টিটিপিসহ কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্ত অবস্থান। পেশোয়ারে এই হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হবে বলে মনে করেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলিটারি ইনকরপোরেশনের বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকি মনে করেন, শুধু সামরিক অভিযান জোরদার করলেই হবে না, কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলার পদ্ধতি এবং কোনো ধরনের জঙ্গিবাদই সহ্য করা হবে কি না, সে বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তা না হলে রক্তপাত চলতেই থাকবে। আয়েশা বলেন, টিটিপি যত বেশি সম্ভব প্রাণহানি ঘটানোর নীতি নিয়েছে। তাই পৌঁছানো কঠিন—এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা অপেক্ষাকৃত সহজ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটাচ্ছে।

মঙ্গলে মিথেন গ্যাস!

মঙ্গলে রোবটযান কিউরিওসিটি
মঙ্গল গ্রহে প্রথমবারের মতো মিথেন গ্যাস পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) অনুসন্ধানী রোবটযান কিউরিওসিটি। এতে ‘লাল গ্রহে’ অতীত বা বর্তমানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। কার্বনসমৃদ্ধ জৈব উপাদান মিথেন সাধারণত জীবন্ত প্রাণ থেকেই পাওয়া যায়। পৃথিবীর মিথেন গ্যাসের ৯০ শতাংশই আসে অণুজীব, তথা কোনো জীবসত্তা থেকে। কিন্তু মঙ্গলে মিথেন গ্যাস কোথা থেকে কীভাবে এল, তা নিয়ে ধাঁধায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিউরিওসিটি মঙ্গলপৃষ্ঠে প্রাচীন একটি পাথর খুঁড়ে জৈব অণুর খোঁজ পেয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী জন গ্রৎসিংগার গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পৃথিবীর প্রতিবেশী গ্রহটিতে এই প্রথম জৈব যৌগের উপস্থিতি পাওয়া গেল। এটা এক বড় আবিষ্কার। তবে মঙ্গলে মিথেন ও অন্যান্য জৈব উপাদানের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কিউরিওসিটির আরেক বিজ্ঞানী সুশীল আত্রেয়া এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যান আরবর বলেন, মঙ্গলে অবস্থানরত রোবটযানের আশপাশেই কোনোভাবে মিথেন তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান। এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের অনুমান, মঙ্গল গ্রহ একসময় উষ্ণ ও আর্দ্র ছিল। আর সুদূর অতীতে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ত্বও হয়তো ছিল। বিষয়টি নিয়ে সায়েন্স সাময়িকীর আসন্ন সংখ্যায় একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

নির্যাতনের অভিযোগ থেকে রেহাই ব্রিটিশ সেনাদের

ব্রিটিশ সেনাদের হাতে একদল সাধারণ ইরাকির মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ গণতদন্তের প্রতিবেদন গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সেনারা ইরাকিদের হত্যা ও নির্যাতন করেছেন—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে তাঁরা নয়জন ইরাকির সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করেছেন। খবর বিবিসি ও দ্য টেলিগ্রাফের। ইরাকের মাজার আল কবির শহরের কাছে ২০০৪ সালে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাদের একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সে ঘটনার পর ২০ জনের মতো ইরাকিকে ব্রিটিশ সেনারা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ছিল, ওই ইরাকিদের হত্যা এবং অঙ্গহানি করা হয়। ইরাকি পরিবারগুলোর আইনজীবীরা প্রথমে দাবি করেছিলেন, ওই ইরাকিদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ধরে ক্যাম্প আবু নাজি ও শাহিবা লজিস্টিকস ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। কিন্তু যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাজির করা যায়নি উল্লেখ করে গত মার্চে তাঁরা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও তদন্ত অব্যাহত রাখে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি।
হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি স্যার থায়ানে ফোর্বসের নেতৃত্বে তখনকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বব এইনসওয়ার্থ ২০০৯ সালে আল-সিদি নামে ওই কমিটি গঠন করেন। ইরাকি যুবক হামিদ আল-সিদির নামে কমিটির নামকরণ হয়। ব্রিটিশ সেনাদের হাতে যেসব ইরাকি হত্যার শিকার হয়েছেন বলে মনে করা হয়, আল-সিদি তাঁদের একজন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনা এবং তাঁদের আইনজীবীরা শুরু থেকেই অভিযোগ নাকচ করে আসছেন। তাঁদের দাবি, ওই ইরাকিরা যুদ্ধক্ষেত্রেই মারা যান। তদন্তের জন্য ২০০৪ সালের ওই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্রিটিশ সেনাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে কমিটি। গতকাল কমিটি বলেছে, ওই লড়াইয়ের পর ব্রিটিশ সেনারা নয়জন ইরাকির সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে। তবে ইরাকিরা বেআইনিভাবে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা ‘সুচিন্তিত মিথ্যা, অসংযত অনুমান ও মজ্জাগত শত্রুতা’ ছাড়া কিছুই নয়।

দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মোবারকের আপিল দাখিল

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেন তাঁর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দাখিল করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি দাখিল করা হয়। মোবারক হোসেনের পক্ষে আপিলটি দাখিল করেন তাঁর আইনজীবী জয়নাল আবেদিন। পরে আপিলকারীর কৌঁসুলি তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আপিলে মোবারকের দণ্ডাদেশ বাতিল ও খালাসের আরজি জানানো হয়েছে। ৮২ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে ৮৬২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দেওয়া হয়েছে। আপিলে ৭৭টি যুক্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ২৪ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোবারক হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তাঁর বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে মোবারকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ২২ আগস্ট মোবারক ও অন্য রাজাকারেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার টানমান্দাইল গ্রামের ২৬ জন ও জাঙ্গাইল গ্রামের সাতজনকে বাছাই করে তেরোঝুড়ি হাজতখানায় নিয়ে যান। ২৩ আগস্ট পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারেরা ওই ৩৩ জনকে দিয়ে গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম পাড়ে গুলি করে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়।
তিন নম্বর অভিযোগে মোবারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১১ নভেম্বর রাত আটটা-নয়টার দিকে মোবারক তাঁর সশস্ত্র রাজাকার সহযোগীদের নিয়ে ছাতিয়ান গ্রামের আবদুল খালেককে অপহরণ করে সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যান ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ওই রাতেই খালেককে তিতাস নদীর পশ্চিম পাড়ে বাকাইল ঘাটে নিয়ে গুলি ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
২, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন মোবারক। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে মোবারক ও অন্য স্বাধীনতাবিরোধীরা মিলে ‘আনন্দময়ী কালীবাড়ী’ নামের একটি হিন্দু মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর ও মালামাল লুটের পর এটি দখল করেন, পরে মন্দিরটির নাম রাখেন ‘রাজাকার মঞ্জিল’। ২৪ অক্টোবর মোবারক শিমরাইল গ্রামের আশুরঞ্জনকে অপহরণ করে আহত অবস্থায় চার দিন রাজাকার মঞ্জিলে আটকে রাখেন এবং ২৮ অক্টোবর তাঁকে কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। চতুর্থ অভিযোগ হলো, একাত্তরের ২৪-২৫ নভেম্বর বেলা দুইটা-আড়াইটার দিকে মোবারকের নেতৃত্বে রাজাকারের একটি দল খড়মপুর গ্রামের খাদেম হোসেন খানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার স্টেশন রোড থেকে অপহরণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে স্থাপিত সেনাক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করে। ৬ ডিসেম্বর অন্য কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে তাঁকেও কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। পঞ্চম অভিযোগ অনুসারে, একাত্তরের ২৮-২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে নিয়ে মোবারক খড়মপুর গ্রামের আবদুল মালেক ও আমিরপাড়া গ্রামের মো. সিরাজকে অপহরণ করেন। ৬ ডিসেম্বর সিরাজকে কুড়লিয়া খালের পাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এটি সাবেক কোনো আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম রায়।

সুন্দরবনে কমে গেছে ডলফিন আর শুশুক

বাংলাদেশে সুন্দরবনে শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে বিস্তীর্ণ এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার পর এই বনভূমি ও প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর তার গুরুতর প্রভাবের আশংকা দেখা দিয়েছিল। এই এলাকাটি ছিল দুর্লভ ইরাবতী ডলফিনের একটি অভয়ারণ্য। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, তেল ছড়িয়ে এই ডলফিনের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে গত সাত দিনে পরিস্থিতির একটা উন্নতি হয়েছে। পশুর ও শেলা নদীর মোহনা, যেটি ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেখানকার স্থানীয় জেলেরা বলছেন, গত কয়েক দিন ধরে তারা ডলফিন ও শুশুকের হার খুবই কম দেখছেন। তবে, তারা কোনা ডলফিন মারা যেতে দেখেননি। গবেষক জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, এই দুই নদীর মোহনা ও তার আশপাশের এলাকা ডলফিনের প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই এটিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। যেহেতু এরা মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল এবং এখানকার নদীর গভীরতা ডলফিনের বেচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, করমজল ঢাঙমারী, শেলা নদী ও দুধমুখী এলাকাগুলি ডলফিনের জন্য হটস্পট, ট্যাঙ্কারডুবির পর পাঁচ দিন পর্যন্ত ঐসব এলাকায় কোনো ডলফিন দেখা যায়নি। এরপর গত দুই তিন যাবৎ আবার ডলফিন, শুশুক ও ইরাবতী ডলফিন দেখা যাচ্ছে। গবেষক জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, ভবিষ্যতে ডলফিনের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সেখানে কী পরিমাণ মাছ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ওই অঞ্চলে যদি মাছের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে জেলেরা মাছ ধরতে নদীর আরো গভীরে যাবে, আর তাতে ডলফিনের আবাসে ডিসটার্বেন্স অনেক বেড়ে যেতে পারে। আর তার প্রভাব পড়বে ডলফিনের প্রজননের ওপর। তেলের স্তর এখন আর তেমন দৃশ্যমান নয়। কিন্তু তেল নিঃসরণের ফলে ডলফিনের দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা- তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে।
সূত্র : বিবিসি।

তালেবানের হামলায় ‘র’-এর সমর্থন আছে : জে. মুশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ বলেছেন, পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তাতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সমর্থন আছে। সিএনএন নিউ ডে’র সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ কথা বলেন। আর জেনারেল পারভেজ মুশাররফের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে।
জেনারেল মুশাররফ আরো বলেছেন, “আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, টিটিপি নেতা মোল্লা ফাজলুল্লাহকে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সমর্থন দিয়েছেন।” পাকিস্তানের সাবেক এ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা অবশ্যই ফাজলুল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে জানে। তিনি প্রশ্ন করেন, “কেন আপনারা পাকিস্তানকে সমর্থন করছেন না?”
জেনারেল মুশাররফ বলেন, “আমাদের কাছে যারা সন্ত্রাসী তারা আপনার দৃষ্টিতেও সন্ত্রাসী হবে। কিন্তু সমস্যাটা হয়েছে- অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সন্ত্রাসীরা আপনার কাছে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হয় না এবং আপনি তাদেরকে আপনার জন্য সন্ত্রাসী মনে করেন না।”
তিনি বলেন, মঙ্গলবারের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং গত ১৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে যা ঘটছে তারই ধারাবাহিকতা।
সূত্র : রেডিও তেহরান।

হিজবুল্লাহ নেতার নিরাপত্তায় ছিলেন মোসাদ এজেন্ট



হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন মোসাদ এজেন্ট। কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ কয়েকজন সিনিয়র সদস্যসহ এ ডাবল এজেন্টকে আটক করা হয় বলে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করে লেবাননের সংবাদ মাধ্যম এলনাশরা। হিজবুল্লাহর উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, হাসান নাসরুল্লাহর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উচ্চ পর্যায়ের এ সদস্য ডাবল এজেন্ট ছিলেন। প্রতিবেদনে তার পরিচয় গোপন রেখে নামের প্রথম অক্ষর ‘এম’ প্রকাশ করা হয়। তারা জানায়, ‘এম’ একসময় ব্যবসায়ি ছিলেন। পেশাগত কারণ দেখিয়ে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ করতেন। লেবাননে ফেরার পর এক ইসরাইলির সাথে বৈঠকের সময় তাকে আটক করা হয়। ‘এম’কে আট বছর আগে মোসাদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। তিনি অবৈধভাবে ইসরাইলকে গোপন তথ্য সরবরাহ করতেন। ২০০৯ সালের গুপ্তহত্যা এবং ২০১৩ সালে হাসান আল লাকি হত্যার সাথেও তার যোগসাজস পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ বছর পেরুতে হিজবুল্লাহ নেতা মোহাম্মদ আমাদার এবং গত বছর সাইপ্রাসে ইয়াকুবকের গ্রেফতারের পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি ধারণা করা হয় ব্যাংককে ইউসেফ আয়াদকে আটকের পেছনেও তার ষড়যন্ত্র রয়েছে।

ভুয়া মুক্তিযুদ্ধাদের ভিড়ে হারিয়ে গেল আসল মুক্তিযুদ্ধা

ছোট খবর

রামাল্লা
জাতিসংঘে ফিলিস্তিন
আগামী দুই বছরের মধ্যে ইসরাইলি দখলদারিত্ব অবসানের দাবি জানিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে জাতিসংঘে বুধবার একটি খসড়া প্রস্তাব আনছে ফিলিস্তিন। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। আরব-সমর্থিত একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেয়া হচ্ছে। এ খসড়া প্রস্তাবে ইসরাইলের দখলদারিত্ব প্রত্যাহারের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। ফিলিস্তিন পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য জর্ডান ফিলিস্তিনের পক্ষে এই খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করবে।
ওয়াশিংটন
আবারও বুশ পরিবার?
যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ। ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমতি দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। এক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৯৩ সালে বিদায় নেন তিনি। কিন্তু ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফেরে ওই বুশ পরিবার। সিনিয়র বুশের বড় ছেলে জর্জ ওয়াকার বুশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ওই সময়। তার যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। বিবিসি
বাগদাদ
১৫০ নারীকে হত্যা
বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আনবারে দেড়শ নারীকে হত্যা করেছে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরা। ইরাকের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে আনবার প্রদেশের আল-ওয়াফা শহর থেকে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, জঙ্গিদের হাত থেকে জীবন রক্ষার প্রচেষ্টায় অনেক পরিবার মরুভূমিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রেসটিভি
বেইজিং
দরজা খুলে বিমান ভ্রমণ!
জানালার ধারে বসে হাওয়া খেতে খেতে ট্রেন বা বাস ভ্রমণ করতে বেশ লাগে। তাই বলে বিমানের দরজা খুলে আকাশে উড়া! বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও চীনের এক নাগরিক কার্যত এটাই করেছে। চীনের অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী একটি বিমানে এ ঘটনা ঘটেছে। এক যাত্রীর ইচ্ছা হল বিমানের দরজা খুলে সে যাত্রা করবে। জিয়ামিন এয়ার ফ্লাইটের একটি বিমান চীনের ঝিঝাং প্রদেশে হ্যাংগো থেকে চেংডু যাচ্ছিল। সিনহুয়া

তালেবান, বোকো হারাম, আল শাবাব ইসরাইল একই জাতের কসাই

নাইজেরিয়া থেকে ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও এ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বোকো হারাম, আল শাবাব, ইসরাইল ও টিটিপির (তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান) চালানো হামলাগুলোই সবচেয়ে ভয়াবহ- এরা সবাই একই জাতের কসাই।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ভয়ানক অভিজ্ঞতা সারা জীবন ভোগাবে হামলার শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনীর পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে টিটিপির সদস্যরা। ওই হামলায় ১৩২ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়েছে।
অন্তত অস্ত্রধারী সাত তালেবান ওই হামলা পরিচালনা করে। স্কুলের একটি অডিটরিয়ামে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়।
টিটিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের পরিচালিত তালেবান নির্মূলে জার্ব-ই-আজব নামক অভিযানের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। দেশটিতে পোলিও টিকাদান কর্মসূচিকে লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। চলতি বছরের এপ্রিলে নাইজেরিয়ার বর্নো রাজ্যের চিবক শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ হামলা চালায় বোকো হারামের সদস্যরা।
সংগঠনটির অস্ত্রধারী সদস্যরা ওই স্কুলের দুই শতাধিক ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নাইজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলেও অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন ছাত্রী পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বাকিদের অবস্থা এখনও অজানাই রয়ে গেছে।
দেশটির ইয়োবে রাজ্যের পতিসকুম শহরের একটি স্কুলে ১০ নভেম্বর ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে অন্তত ৪৭ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, বোকো হারামের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর শুরু করা একতরফা হামলায় বহু শিক্ষার্থী হতাহত হয়। ৫০ দিনব্যাপী চালানো ওই আগ্রাসনে অন্তত ৫০০ শিশু নিহত হয়। এদের বেশিরভাগই স্কুলপড়ুয়া। জাতিসংঘের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ওই হামলায় গাজা প্রশাসন ও সংস্থাটির পরিচালিত অন্তত ২২৩টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার প্রথম দিকেই স্কুলগুলোতে পড়ালেখার কার্যক্রম বন্ধ করে আশ্রয় শিবির খোলা হয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরাইল সরকারকে এ স্কুলগুলোতে হামলা না চালানোর অনুরোধের পরও তারা আক্রমণ অব্যাহত রাখে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক স্কুলেই এখনও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি। কেনিয়ার ওয়েস্টগেট শপিংমলেও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল আল শাবাব।
এছাড়া চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মেক্সিকোতে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে হত্যার ঘটনাও ছিল উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চালানো এ ধরনের হামলাকে বেশ উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন বিষেশজ্ঞরা। শিশুদের ওপর এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আজীবন প্রভাব ফেলবে জানিয়েছেন তারা। ডন, এএফপি, বিবিসি।

পাকিস্তানে আবার ফিরে এলো মৃত্যুদণ্ড

পেশোয়ারে স্কুলশিশুদের ওপর জঙ্গি হত্যাযজ্ঞের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর থেকে গত ছয় বছর ধরে চলে আসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল পাকিস্তান সরকার। বুধবার পেশোয়ারের গভর্নর হাউসে প্রেসিডেন্ট নওয়াজ শরিফের সভাপতিত্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র মহিউদ্দিন বাওয়ানি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
মঙ্গলবার নয় জঙ্গি সামরিক পোশাকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ঢুকে বর্বর হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে ১৩২ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়। নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের অনেকেই সেনা কর্মকর্তাদের সন্তান। জঙ্গি হামলায় একই বয়সী আরও অন্তত ১২১ স্কুলশিশু আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সেনা অভিযানে কয়েক হাজার তালেবান সদস্য নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা। জঙ্গি হামলার খবর পেয়ে মঙ্গলবারই রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে পেশোয়ারে ছুটে যান নওয়াজ। জঙ্গি দমনে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যত শিশুর রক্ত ঝরেছে, তার প্রতিটি ফোঁটার প্রতিশোধ নেয়া হবে। ডন।

এরা আমার সন্তান, এ আমার ক্ষতি, জাতির ক্ষতি

এরা আমার সন্তান, এ আমার ক্ষতি, জাতির ক্ষতি- পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবান আক্রমণে ১৩২ শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুখে এ বিলাপ শোনা গেছে। ছয় থেকে আটজন তালেবান আততায়ী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অবশ্যই শরিফ অকুস্থলে গিয়ে হতাহতদের পরিবারবর্গের প্রতি তার সমবেদনা জ্ঞাপন করতে চেয়েছেন। আর্মি পাবলিক স্কুলে প্রথম থেকে দশম গ্রেডের ছাত্ররা পড়ত। মঙ্গলবার সকালে জনাছয়েক বন্দুকধারী স্কুলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আর্মি কমান্ডোরা শিগগিরই অকুস্থলে পৌঁছে বন্দুকধারীদের সঙ্গে গুলিবিনিময় শুরু করে। স্কুল প্রাঙ্গণের চারপাশে সাঁজোয়া গাড়ি নিয়োগ করা হয়। ৯ ঘণ্টা টানা অপারেশনের পর স্কুলটি জঙ্গিমুক্ত করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা তালেবান গোষ্ঠীকে সমুচিত শিক্ষা দেয়ার শপথ নিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকের আগে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মাটি থেকে তালেবানের শেকড় না উপড়ে ফেলা পর্যন্ত আমরা থামব না। লুকিয়ে থাকা সব সন্ত্রাসীকে এক এক করে খুঁজে বের করা হবে। পাকিস্তানের মাটিতে ওদের ঠাঁই নেই।
এদিকে, সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে তালেবান হামলার প্রতিশোধ নেবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ। পেশোয়ারে নিষ্পাপ শিশুদের ওপর হামলাকে তিনি ‘জাতির হৃদয়ে আঘাত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ‘অমানুষ জানোয়ারদের’ নির্মূলের অঙ্গীকার করেন। বুধবার এ খবর দিয়েছে পাকিস্তান টুডে। মঙ্গলবার সেনাপ্রধান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা জাতির হৃদয়ে হামলা চালিয়েছে। নিষ্পাপ শিশুদের প্রতি ফোঁটা রক্তের দাম তাদের দিতেই হবে।’ শিশুদের হত্যাকাণ্ডকে তিনি ‘কাপুরুষতা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ হামলা প্রমাণ করে সন্ত্রাসীরা শুধু পাকিস্তানের শত্র“ নয়, তারা মানবতার শত্র“।’ রাহেল শরিফ হুংকার দিয়ে বলেন, ‘আমি আবারও বলতে চাই, এই জাতির ইচ্ছাকে কেউ অবদমন করতে পারবে না। এসব অমানুষ জানোয়ারদের শেষ ঠিকানায় না পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত আমরা আক্রমণ চালিয়ে যাব।
এর আগে বেলুচিস্তানে এক প্যারেড অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, বেলুচিস্তানের সন্ত্রাসীদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করব। এই প্রদেশ একটি শান্তির রাজ্যে পরিণত হবে। তিনি বলেন, ‘এটা খুব স্বস্তির যে, বেলুচিস্তানের জনগণ দেশবিরোধী সব বর্জ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এবার তারা তাদের ভাগ্য বরণ করবে। এ বক্তব্যে সেনাবাহিনীকে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন।
মোল্লা ফজলুল্লাহকে হস্তান্তরে কাবুলে রাহেল শরিফ
পেশোয়ারে তালেবান হামলার পর বুধবার আফগানিস্তান সফরে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ। তালেবান প্রধান মোল্লা ফজলুল্লাহকে হস্তান্তরের বিষয়ে কাবুল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জেনারেল শরিফ বলেন, পাকিস্তানের সন্ত্রাসী হামলার মোস্টওয়ান্টেড আসামি তালেবান প্রধান মোল্লা ফজলুল্লাহ। ইসলামাবাদের কাছে তাকে হস্তান্তরের জন্য তিনি আহ্বান জানান।
এ সফরে শরিফ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ফোর্সের (ইসাফ) কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ডের সঙ্গে দেখা করেন। ডানফোর্ড পাকিস্তানের স্কুলে হামলার নিন্দা জানান ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিও এ হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানে দুঃসময়ে পাশে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
ওদিকে, কাউকে জিম্মি করা নয়, সবাইকে হত্যা করাই ছিল পেশোয়ারের স্কুলে হামলা চালানো তালেবান জঙ্গিদের লক্ষ্য। মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক অসীম বাজওয়া এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে দ্য ডন। কাউকে জিম্মি করার চেয়ে শিশুদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই হামলাটির পরিকল্পনা করেছিল তালেবান, দাবি করেছেন তিনি। ‘ঘটনা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নিষ্পাপ ওই শিশুদের হত্যা করা, আর তাই করেছে তারা,’ বলেছেন তিনি।

সংস্থা ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বক্তব্য জাতির জন্য ক্ষতিকর

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীর কোনো সংস্থা ও এর কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। বুধবার আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। আমির হোসেন আমু বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো দলের নেতা-নেত্রীরা কোনো কোনো সংস্থার প্রধানদের নাম নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য জাতির জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে কোনো দলের পক্ষেই কাজ করার পরিস্থিতি থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী। শনিবার নারায়ণগঞ্জে এক জনসভায় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকে গুম-হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে তার গ্রেফতারের দাবি জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শিল্পমন্ত্রী জানান, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যমুনা বিল্ডার্সের দেয়াল ভাংচুরে গ্রেফতার ২

রাজধানীর তুরাগ থানায় যমুনা বিল্ডার্সের বাউন্ডারি ওয়াল ভাংচুরের মামলার ঘটনায় বুধবার কামারপাড়া এলাকা থেকে মোক্তার হোসেন ও ১৪ ডিসেম্বর রাতে একই এলাকার সবুজ নামের ২ হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে তুরাগ থানা পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি সুরুজ বাহিনীর প্রধান কামারপাড়ার আতঙ্ক সুরুজ মেম্বার মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনার পর থেকে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়া এলাকায় যমুনা বিল্ডার্সের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সময় ৫ ডিসেম্বর এলাকার একদল সন্ত্রাসী ভাংচুর চালায় এবং বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও এলাকার আতঙ্ক নুরুল ইসলাম মোল্লা সুরুজ ওরফে সুরুজ মেম্বার, এনামুল হক, বাদল মিয়া, ফরহাদ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে ইঞ্জিনিয়ার মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ৫ ডিসেম্বর তুরাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে কামারপাড়া নতুন বাজার এলাকা থেকে দর্জি মোক্তার হোসেনকে ও ১৪ ডিসেম্বর একই এলাকা থেকে সবুজকে গ্রেফতার করে তুরাগ থানা পুলিশ।
এদিকে মামলা তুলে নিতে নানা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আসামিরা যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, মামলার বাদী মিজানুর রহমান ও টঙ্গী জোনের যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির আহমেদ সুবীরের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার প্রধান আসামি হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম মোল্লা সুরুজ ওরফে সুরুজ মেম্বার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় নানা ধরনের উস্কানিমূলক কথাবার্তা ও নানা কুৎসা রটাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যমুনা গ্র“পের জেনারেল ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবুল হোসেন বলেন, আমাদের কামারপাড়া প্রকল্পে হামলাকারী ২ জনকে আটক করা হলেও প্রধান আসামি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সুরুজ মেম্বারই সব নাটের গুরু। সে জামিনে বেরিয়ে এসে অযথাই আমাদের প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মামলা তুলে নিতে উল্টো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সুরুজ মেম্বারের বৈধ কোনো ব্যবসা না থাকলেও সে বিভিন্ন সালিশসহ ধান্ধা করে এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি করে রাখে। আমি মনে করি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সুরুজ মেম্বারকে শিগগিরই আইনের আওয়ায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার বাদী মিজানুর রহমান বলেন, মামলা করার পর থেকে সুরুজ মেম্বার ও গংরা মামলা তুলে নিতে আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে ১৪ জানুয়ারি তুরাগ থানায় একটি জিডি করেছি। কামারপাড়া এলাকার সব অপকর্মের হোতা সুরুজ মেম্বার।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবে খোদা বলেন, যমুনা বিল্ডার্সে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকায় ২ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছি। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হামলার সঙ্গে বাকি যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব!

মঙ্গল গ্রহের মাটিতে গর্ত খুঁড়ে এতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে রোবট যান কিউরিওসিটি। লাল মাটি থেকে রহস্যময় মিথেন নির্গত হতে দেখে কিউরিওসিটি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ভিনগ্রহের কোনো জীবাণু থেকেই তৈরি হচ্ছে এ মিথেন। ২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে এর মাটিতে অণুজীব খুঁজে আসছে কিউরিওসিটি। রোবট যানের আবিষ্কার করা মিথেন সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা প্রকৃত ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও দাবি করছেন, ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়াসদৃশ জীবন্ত অণুজীবই এর কারণ। তারা বলেন, যদি জীবন্ত কোনো অণুজীব থেকে এ গ্যাস তৈরি হয়, তবে তা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ পৃথিবীতে ৯৫ শতাংশ মিথেন গ্যাস তৈরি হয় ক্ষুদ্র অণুজীব থেকে। তবে অজৈবিক প্রক্রিয়াতেও এ ধরনের গ্যাস তৈরি হতে পারে।
নাসার গবেষকরা বলেন, এখন জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে বারবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে কিউরিওসিটিকে। ২০২০ সালে মিথেনের উৎস খুঁজে বের করতে মঙ্গলের মাটিতে মনুষ্যবিহীন মিশন পরিচালিত হবে। ওয়েবসাইট।

ড্রোন হামলার পরিকল্পনা এবিটির

খেলনা হেলিকপ্টারের চেয়ে একটু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছে উগ্রপন্থী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্যরা। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে এবিটির সদস্যরা এ পরিকল্পনা করছে। আর এতে অর্থায়নের বিষয়টি কারাগার থেকেই নিশ্চিত করেছেন এবিটির প্রধান শায়খ মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানী। গ্রেফতারের কিছুদিন আগেও রাহমানীর সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেছেন তানজিল হোসেন বাবু ও গোলাম মাওলা মোহন। এই দুই যুবক এবিটির প্রযুক্তি বিভাগের অন্যতম সদস্য। তারা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির ওপর হামলা চালানোর জন্য খেলনা হেলিকপ্টারের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন তৈরি করছিল।
দুই যুবককে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক হোসেন সড়ক থেকে ড্রোন তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাকৃতদের মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দুই যুবক পরিকল্পনা করেছে যে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সব সময় নিরাপত্তা থাকে তাই সেখানে ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালানোর বিকল্প নেই। তাই তারা ড্রোন বা কোয়াড হেলিকপ্টার ব্যবহার করে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। যুগ্ম কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে যে, ছয় মাস ধরে ড্রোন তৈরির জন্য গবেষণা ও কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা ড্রোন তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। আর কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্ট পেলেই তারা এটি তৈরি করতে পারত।
খেলনা হেলিকপ্টারের চেয়ে একটু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনটি তৈরি করছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০-৩০ তলা ভবনের মতো উঁচু ভবন থেকে হামলা চালানোর জন্য ড্রোনটি তৈরি করছিল তারা।’ তাদের হামলার টার্গেট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সেক্যুলার ব্যক্তিরা ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেক্যুলার রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকরা ছিলেন তাদের হামলার লক্ষ্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণের পরিকল্পনা ছিল তাদের।’ মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার মোহন গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। অন্যদিকে তানজিলের একাডেমিক ডিগ্রি না থাকলেও তিনি টেকনিক্যাল দিক থেকে পারদর্শী। এই দুজন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা জসিম উদ্দিন রোহানীর অনুসারী বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) কৃষ্ণপদ রায় ও উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ইয়েমেনে আল কায়দাবিরোধী অভিযানে মাইনুদ্দীন শরীফ, তেহজীব করিম ও রেজওয়ান শরীফ গ্রেফতার হন। বাংলাদেশে তাদের ফেরত পাঠানোর আগে পশ্চিমা গোয়েন্দারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এবিটির সঙ্গে সংযুক্ত এ তিনজন ড্রোন হামলা সম্পর্কে অত্যন্ত প্রযুক্তিসম্পন্ন। তেহজীব করিমের ভাই রাজীব করিমকে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রগামী ব্রিটিশ এয়ারের বিমান উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালে ফেব্র“য়ারিতে গ্রেফতার করা হয়। রাজীব করিম জেএমবির শুরুর দিকে যুক্ত ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরাকি আল কায়দা নেতা আনসার উল ইসলামকে অনুকরণ করে থাকেন আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ জসীমউদ্দীন রাহমানী। আনসার উল ইসলামও ড্রোন হামলায় বিশ্বাসী ছিলেন। আর এবিটির নতুন আধ্যাত্মিক নেতা তামিম আল আদনানীও অনুসরণ করেন আনসার উল ইসলামকে। বাংলাদেশী এই দুই আধ্যাত্মিক নেতা ইয়েমেনভিত্তিক আল কায়দার নেতা আনওয়ার আল আওলাকিকেও অনুসরণ করে থাকেন। আল কায়দা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা নামে একটি গোষ্ঠীর প্রধান আওলাকি ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলায় ইয়েমেনে মারা যান। এদের অনুসরণ করে কারাবন্দি মুফতি জসিমউদ্দীন রাহমানী নিজে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশে। তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেফতার দুই যুবক হামলার পরিকল্পনা করে ড্রোন তৈরি করছিল।

টাকা পাচার বাড়ছেই

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর গড়ে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার তৈরি একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে তিনি বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে পাচার করা টাকা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছেন। ওইসব তথ্যে পাচার করা টাকার অংক আরও বেশি বা কম দেখানো হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, চোরাচালন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেশি মূল্য দেখান এবং রফতানির ক্ষেত্রে কম দেখানো এবং হুন্ডি প্রধানত এই তিনটি পথে দেশ থেকে প্রতিবছর ওই টাকা পাচার হচ্ছে। টাকা পাচারের কারণ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মুদ্রার অতিমূল্যায়িত বিনিময় হার, আর্থিক খাতের অদক্ষতা, কর নীতিতে বৈষম্য, মুদ্রার চলাচলে কঠোরতা আরোপ, ভারতীয় অর্থনীতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার নিয়ে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গবেষণা করেছে। তাদের প্রত্যেক গবেষণায়ই দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা বেরিয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে এক বছরের ব্যবধানে দেশে টাকা পাচার ২০০ শতাংশ বেড়েছে বলে বলা হয়েছে। ২০১১ সালে দেশ থেকে পাচার হয়েছিল ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় ১৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গত চার দশকে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুল আউয়াল সরকার বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের বিষয়ে একটি গবেষণা তৈরি করেছিলেন। ‘বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য নীতি পরামর্শ’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদনটিতে তিনি দেশ থেকে টাকা পাচারের কারণ, কিভাবে পাচার হয়, পাচার রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি পদক্ষেপ নিতে পারে এসব বিষয়ে সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংকের পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের বেশ কিছু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৯৯৪ সালে ১০৬ কোটি ডলার, ১৯৯৬ সালে ১৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৯৯৮ সালে ১২২ কোটি ডলার, ২০০০ সালে ১১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০০১ সালে ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ২০০২ সালে ১৪৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ২০০৬ সালে ৮৯ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ২০০৭ সালে ১৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাচার করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অর্থপাচার রোধে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি এখন অনেক বেড়েছে। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এছাড়া কাস্টমসের কার্যক্রম অটোমেশন করা হয়েছে। তাই মিস ইনভয়েসিং করা আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ফলে বিদেশে অর্থ পাচার আগের চেয়ে কমেছে।
তবে তিনি সোমবার রাতে প্রকাশিত জিএফআইর প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, দালিলিকভাবে টাকা পাচারের তথ্য-প্রমাণ করা খুব কঠিন। আগে যেভাবে পাচার হতো। এখন তা অনেক কমে গেছে।
মুদ্রা পাচারের কারণ : গবেষণায় মুদ্রা পাচারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মুদ্রার অতিমূল্যায়িত বিনিময় হার, আর্থিক খাতের অদক্ষতা, কর নীতিতে বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রার চলাচলে কঠোরতা আরোপ, ভারতীয় অর্থনীতির প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেখানে মুদ্রার নিশ্চয়তা ও বাড়তি মুনাফার সুযোগ মেলে সেখানে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনুন্নত দেশগুলো তাদের দেশ থেকে মুদ্রা যাতে অবাধে চলে যেতে না পারে সে কারণে নানা ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করে মুদ্রার লেনদেনের ওপর। ফলে যাদের টাকা আছে তারা যে কোনো উপায়ে তা পাচার করার পথ খুঁজে এই প্রক্রিয়ায় টাকা দেশের বাইরে চলে যায়।
টাকা পাচার রোধে করণীয় : টাকা পাচার রোধে কর নীতি সমন্বয় করা, বিনিময় হার নমনীয় করা, সরকার পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন তদারকি বাড়ানো, প্রদর্শিত ও অপ্রদর্শিত আয়ের ব্যাপারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শেয়ারবাজার ও মুদ্রাবাজারের লেনদেন পদ্ধতিতে আধুনিকায়ন করা, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা বাজার বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ পাচার রোধে প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্ভিলেন্স এবং তদারকি দায়িত্ব স্বাধীন অন্য একটি সংস্থার কাছে ছেড়ে দিতে পারে। প্রয়োজনীয় নীতি এবং তদারকির মাধ্যমে ব্যাংকিং সিস্টেমকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ অবৈধ কার্ব মার্কেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের কথা শোনা যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে টাকা পাচার হয়। সাধারণত আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাচার করা হয়। তবে বিষয়টি তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বিদেশ ঋণ ও অনুদান নিচ্ছে, অন্যদিকে দেশের নিজস্ব আয় বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি স্ববিরোধী। দেশ থেকে টাকা পাচার ঠেকানো গেলে বৈদেশিক নির্ভরশীলতার প্রয়োজন হবে না।
আমদানির নামে মুদ্রা পাচার : গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ৬ মাসে ব্যাংকগুলোতে হঠাৎ করে বেড়ে যায় শিল্পঋণ বিতরণের পরিমাণ। এ ঋণের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ওই ৬ মাসে শিল্পঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৮০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে একই সময়ে এই ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। ওই সময়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ। যদিও ওই সময়ে মেয়াদি ঋণ বিতরণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রচলিত নিয়মে মেয়াদি ঋণ বাড়লে চলতি মূলধন ঋণ বিতরণও বাড়ে। কিন্তু মেয়াদি ঋণ বিতরণ কমলেও সাধারণত চলতি মূলধন ঋণ বাড়ার যুক্তি নেই।
গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। ওই সময়ে ঋণের একটি বড় অংশ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। এর আগেও বিভিন্ন সরকারের শেষ সময়ে দেশ থেকে টাকা পাচার হওয়ার নজির পাওয়া গেছে। যে কারণে ওই সময়ে একদিকে যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে, তেমনি দেশে কার্ব মার্কেটে ডলারের দামও বেড়ে যায়। মূলত এসব কারণেই ওই সময়ে শিল্প ঋণের একটি অংশ দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। এছাড়া আরও একটি বড় প্রমাণ মিলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তে।
ঋণের বিপরীতে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে। কিন্তু শিল্পের পণ্য আসেনি। এ সবের বদলে কন্টেইনারে এসেছে ছাই, ইট, বালি, পাথর ও সিমেন্টের ব্লক। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের তদন্তে খালি কনটেইনার আসার ঘটনাও ধরা পড়েছে। এর মধ্যে এবি অ্যান্ড ডি কর্পোরেশন, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, এসআর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএল স্টিল এবং এলএসআই, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ও সেবা এন্টারগ্রাইজের নামে এসব জালিয়াতি হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার, মার্কেন্টাইল, সোনালী ও কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় এসব এলসি খোলা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পণ্য না আসার প্রবণতাও বেড়েছে।
রফতানির নামে মুদ্রা পাচার : সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া রফতানি এলসি এবং ক্রয়চুক্তির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে এ ধরনের পাচারের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জের টানবাজার শাখায় রফতানিতে ভুয়া ঋণপত্র খুলে এবং রফতানি মূল্য দেশে না এনে বিদেশে রেখে দেয়ার মাধ্যমে টাকা পাচার করা হয়েছে। ভুয়া রফতানি এলসি এবং ক্রয়চুক্তির ফটোকপির বিপরীতে রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। মেসার্স আলমাস নিট ওয়্যার কোনোরূপ ব্যবসায়িক সম্পর্ক ব্যতীত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলে। রফতানি এলসি ব্যাংকিং চ্যানেলে না এসে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান নিজেই ব্যাংকের শাখায় দাখিল করে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সঠিকতা যাচাই-বাছাই ছাড়া এক লাখ সাত ডলারের ঋণপত্র স্থাপন করে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার ক্রেতা ‘টিএসকো পিটিওয়াই’ ক্রেডিট প্রতিবেদন ব্যতীত ঋণপত্র খোলা হয়েছে। পরে এলসির তথ্য বিদেশী ক্রেতার ব্যাংকে ‘ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক’ পাঠিয়ে দেখা যায়, ওই নামে তাদের কোনো গ্রাহক নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল মনে করে, রফতানিকারক এবং শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনৈতিকভাবে ভুয়া রফতানির বিপরীতে অর্থ পাচার করেছেন। মেসার্স আল-ফালাহ নিট গার্মেন্টস এবং নরওয়ের একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘পিপপারমিন্ট নরজ’ মধ্যকার ক্রয় চুক্তির ফটোকপির বিপরীতে ৩২ হাজার ২০০ ডলারের মূল্যের পোশাক রফতানি করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আইনের নির্দেশনায় ক্রয় চুক্তির সঠিকতা যাচাই এবং বিদেশী ক্রেতার ক্রেডিট প্রতিবেদন ছাড়াই রফতানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকের রফতানি মূল্য আদায়ে নরডিয়া ব্যাংক নরজ এএসএ তথ্য প্রেরণ করলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতার হদিস মেলেনি।
এছাড়া বেসিক ব্যাংক থেকে রফতানি করেও দেশে রফতানির মূল্য আনা হয়নি। এর মাধ্যমে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও টাকা পাচারের ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্ঘাটন করেছে।
মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে পাচার ৪ হাজার কোটি টাকা : মালয়েশিয়া সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ২০০২ সালে চালু করে ‘মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচি। এতে যারা বিনিয়োগ করবেন তাদের সে দেশে নানা ধরনের সুযোগ দেয়া হবে। আগে ওই কর্মসূচিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের নাম ছিল না। বর্তমানে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় আবাস গড়েছেন। এতে তারা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। যা বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। এই তালিকায় আছেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো ৩২ জন বাংলাদেশী সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করেন। ২০০৪ সালে এতে বিনিয়োগ করেন ২০৪ জন, ২০০৫ সালে ৮৫২ জন, ২০০৬ সালে ৩৪১ জন, ২০০৭ সালে ১৪৯ জন, ২০০৮ সালে ৬৮জন, ২০০৯ সালে ৮৬ জন এবং ২০১০ সালে ৭৪ জন, ২০১১ সালে ২৭৬ জন, ২০১২ সালে ৩৮৮ জন, ২০১৩ সালে ২৮৫ জন এবং ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশী সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করেছেন।
মালয়েশিয়ার সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে কেউ সে দেশে আবাস গড়ে তুলতে চাইলে তাকে নগদ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ৫ লাখ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান মুদ্রার নাম) মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে হবে।
সিঙ্গাপুরে টাকা পাচার হচ্ছে : বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে টাকা পাচার করা হচ্ছে। পাচার করা টাকায় সিঙ্গাপুরে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদের নামে সিঙ্গপুরের মিষ্টির দোকান, রেস্টুরেন্ট ও তেলের পাম্প রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যেও টাকা পাচার : বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে টাকা পাচার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর নামে টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দা শাখার তদন্তে সে দেশে বাংলাদেশের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীর নামে টাকা রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে এ বিষয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে আর কোনো কাজ করেনি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো এখন পড়ে আছে।
এছাড়া একজন ব্যবসায়ীর নামে সে দেশের একটি ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। সে কার্ডের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ী ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

‘ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়’ -মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যখন মহান স্বাধীনতার  ঘোষক জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের উপসেনাপতি একে খন্দকারকে ‘রাজাকার’ বলেন, তখন হুঁশ থাকে না। আজ তারেক রহমান ইতিহাস  থেকে সত্য তুলে এনেছেন। তাতেই আপনাদের গায়ে জ্বালা ধরেছে। মনে রাখবেন, ইট মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। আজ সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ফোরাম আয়োজিত ছাত্র কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার ও পাকবন্ধু বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।  এর জবাবে বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেক রহমানকে জিহ্বা সামলে কথা বলার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী  যে ভাষায় কথা বলেন, তা মুখে আনতেও আমাদের রুচিতে বাধে। আপনারা অন্যকে ভাষা শিখতে বলেন। অন্যের রসনা সংযত করতে বলেন, তার আগে নিজেদের রসনা সংযত করেন। নব্বইয়ের গণঅভুথ্যানের সাবেক ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে কনভেনশনে সাবেক ছাত্রনেতা গোলাম কাদির কামাল, শামসুজ্জামান সামু, ইফতেখার হোসেন, বিলকিস জাহান শিরিন, ফরহাদ ইকবাল, সাবেরুল হক সাবু, নেওয়াজ হালিম আরলিসহ বিভিন্ন জেলা  থেকে আগত সাবেক ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, বিকালে ছাত্র কনভেনশনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

মোবারকের চেয়েও কঠোর সিসি

মিসরে জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন ৪০ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক। এরপর নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন মোহাম্মদ মুরসি। তাঁকে উৎখাত করে মসনদে বসেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তাঁর বজ্রমুঠির ভেতর এখন মিসরের হাল। যে হালের দাপট মোবারকের চেয়ে অনেক বেশি।
‘রুটি, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’—বিপ্লবীদের সেই দাবি এখন সিসির কঠোর শাসনের জাঁতাকলে বিলীন। গতকাল বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিসি দেশজুড়ে এতটাই ভয়ের আবহ সংস্কৃতি তৈরি করে রেখেছেন যে, মিসরবাসী গণতন্ত্রের স্বাদ তো পেলই না, বরং এখন তাদের কণ্ঠ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি রুদ্ধ। বলতে গেলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই।
আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমানে দেশটির ট্রেনে, বাসস্টেশনে, গণজমায়েতের খোলা চত্বর ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় সাধারণ মানুষ মন খুলে কথা বলতে ভয় পায়। কারণ সবখানেই পুলিশের পাশাপাশি অবস্থান করছে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’ নামে সরকারের অনুগত চরেরা। এরা সরকারবিরোধী কোনো সমালোচনার বিষয় টের পেলে সঙ্গে সঙ্গেই তা উচ্চ পর্যায়ের পৌঁছে দেয়।
বামপন্থী কর্মী আবদেল রহমানের ভাষ্য, একদিন তিনি একটি মিনিবাসে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় তিনি এক নারীকে সিসির সমালোচনায় মগ্ন হতে দেখেন। তিনি এমনভাবে সিসির মন্তব্য করছিলেন, যাতে কেউ এতে নিজের মতামত দেন। একপর্যায়ে দাড়িওয়ালা এক লোক সরকারবিরোধী মন্তব্য করেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ফোন করেন ওই নারী। মন্তব্য করা ব্যক্তিকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের জঙ্গি’ বলে ধরিয়ে দেওয়া হয়। লোকটাকে বাস থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়, মারধর করে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত শনিবার দুই ব্যক্তিকে কায়রোর পাতাল রেলস্টেশন থেকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। ওই দুজনের বিরুদ্ধে এক যাত্রীর অভিযোগের কারণে তাঁদের আটক করা হয়। ওই যাত্রীর দাবি, ইংরেজিতে ওই দুই ব্যক্তি বলাবলি করছিলেন, আগামী ২৫ জানুয়ারি মোবারকবিরোধী আন্দোলনের চতুর্থ বর্ষপূর্তিতে সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।
সরকারবিরোধীরা বলছেন, ভিন্ন মতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষ ও শাসকদের অনুগতরা বর্তমানে যে তৎপরতা চালাচ্ছে, তা কৌশলে এড়ানোর জন্য তাঁদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তাঁদের পরামর্শ হলো, প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা না করা, মোবাইল ফোনে বুঝেশুনে কথা বলা এবং কারও সঙ্গে দেখা করতে হলে তা যথাস্থানে হওয়াই শ্রেয়।
আহমেদ নামের ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ নয় দিনের জন্য আটক ছিলেন। তাঁর অপরাধ, মোবাইলে এক বন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন তিনি।
আহমেদ বলেন, ‘রাস্তায় বা পাতাল রেলপথে যদি কেউ জানতে চায় যে আপনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কী, নিরাপত্তা অভিযানের কারণে আপনি তা বলতে ভয় পাবেন।’
মোবারকবিরোধী আন্দোলনে তরুণ দলের অন্যতম কর্মী করিম তাহা বলেন, মুরসির সংক্ষিপ্ত শাসনকালও বর্তমান সময়ের চেয়ে ভালো ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা গণউদ্যানে সাক্ষাৎ করতে পারতাম। এখন একেবারেই এটা অসম্ভব।’
মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যদের ধরিয়ে দিতে ফাঁদ তৈরিতে সহায়তা করার জন্য ‘নাগরিক তথ্যদাতাদের’ প্রশংসা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হানি আবদেল লতিফ বলেন, গত জানুয়ারি থেকে গোপন তথ্যদাতাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের ধরপাকড়ের হার বেড়েছে।
হানি আবদেল লতিফ বলেন, এটি ইতিবাচক ব্যাপার। মিসরের মানুষ বিপদ ও চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সচেতন। তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন, কোনো নিরপরাধ নাগরিককে আটক করা হয়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ভারতজুড়ে সতর্কতা লোকসভা ও সব স্কুলে স্মরণ

পাকিস্তানের পেশোয়ারে নিষ্পাপ স্কুলশিশুদের ওপর বর্বর জঙ্গি হামলার পর বুধবার ভারতজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। এদিন ভারতের সংসদ এবং সব স্কুলে নিহত শিশুদের স্মরণে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মঙ্গলবার রাতেই নওয়াজ শরিফকে ফোনে শোকবার্তা জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত সবসময় পাকিস্তানের পাশে আছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা হাতে হাত মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ব।’ ইন্ডিয়াটুডে ও হিন্দুস্থানটাইমসসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সামনে বড়দিন। তারপরই খ্রিস্টীয় নববর্ষ। বছর শেষে উৎসবের এ মৌসুমে জঙ্গি হামলার আশংকায় ভারতের সবক’টি রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাছাড়া, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটি সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সব মিলিয়ে পেশোয়ারের ঘটনার পরে কোনোরকম ঝুঁকি নিতে চায় না দেশটির সরকার। তাই গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
২ মিনিট নীরবতা : মঙ্গলবার পেশোয়ারে সেনা স্কুলে জঙ্গি হামলায় শিশুসহ ১৪১ জন নিহত হয়। তাদের স্মরণে এ দিন ভারতের সংসদে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অধিবেশনের শুরুতেই এ বিষয়ে শোকপ্রস্তাব পেশ করেন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন। এর পরে উঠে দাঁড়িয়ে নীরবতার সঙ্গে ওই জঙ্গিহানায় নিহত স্কুলশিশুসহ নিরীহ নাগরিকদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান সংসদ সদস্যরা। এ দিন লোকসভায় হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন স্কুলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ২ মিনিট নীরবতা পালন করে সমবেদনা জানায়।
পাকিস্তানের পাশে থাকবে দিল্লি : এদিন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ গ্রহণ করে ভারতের লোকসভা। পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার নিন্দা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, পরপর দুটি সন্ত্রাসবাদী হামলা আমাদের একজোট হতে বলছে। একজোট হয়েই সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা সম্ভব বলে মনে করেন সুষমা।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে টেলিফোনে শোক জানানোর সময় মোদি বলেন, ভয়াবহ এ ঘটনা গোটা দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ভারত পাকিস্তানের পাশে আছে। আমরা হাতে হাত মিলিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ব। যাতে ভবিষ্যতের দিনগুলো এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন না হয়।f

আফগানিস্তানে ব্যাংকে জঙ্গি হামলা নিহত ১৩

আফগানিস্তানের একটি ব্যাংকে তালেবান জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন সাধারণ নাগরিকসহ ১৩ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হেলমান্দ প্রদেশে বুধবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর আল-জাজিরা ও এএফপির।
খবরে বলা হয়, হেলমান্দের প্রধান শহর লস্কর গাহ-এর কাবুল ব্যাংকের একটি শাখায় সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিরা আÍঘাতী বোমা হামলা করে। এরপর ব্যাংকের ওই শাখাটি দখল করে নেয় তারা। এ সময় অনেকেই ওই ব্যাংকের ভেতর আটকা পড়েন।
ব্যাংক দখলমুক্ত ও আটকেপড়াদের উদ্ধার করতে নিরাপত্তাকর্মীরা জঙ্গিদের ওপর পাল্টা গুলি ছোড়ে। বোমা হামলা ও পরে বন্দুকযুদ্ধে ১৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩ হামলাকারী, ৫ পুলিশ ও ৫ সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।
হেলমান্দ প্রশাসনের এক মুখপাত্র ওমর বলেন, ব্যাংকের গেটের কাছে এক জঙ্গি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এ সুযোগে অন্য তিন জঙ্গি ব্যাংকের ভেতর ঢুকে পড়ে। এরপর তারা ভেতরে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তিনি আরও বলেন, এটি ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের দিন। বেতন নিতে সব কর্মচারী জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সে সময় হামলার ঘটনা ঘটে।
হেলমান্দ পুলিশের মুখপাত্র ফরিদ আহমেদ ওবাইদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, অন্তত চার তালেবান যোদ্ধা এ হামলায় অংশ নেয়। তাদের একজন আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। বাকিরা ব্যাংক দখলে নেয়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তালেবানদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। তিনি আরও জানান, তিন তলা ভবনটির ওই ব্যাংকের ভেতর অনেকেই আটকা পড়েছেন। এখনও (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) উদ্ধার অভিযান চলছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিস্ফোরণ এবং পাল্টাপাল্টি গুলির শব্দ শুনেছেন। ব্যাংকের ভেতর থেকে পালিয়ে আসা কয়েক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকটির ভেতরে ভিড় ছিল। জঙ্গিরা যখন হামলা চালায়, তখন বেতন নিতে আসা কর্মচারী-কর্মকর্তারা ভয়ে এক জায়গায় জড়সড় হয়ে থাকেন। নগরের প্রধান হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আসলান নওয়াজ জানান, তাদের হাসপাতালে ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে আহতাবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের মৃতদেহও ওই হাসপাতালে রাখা আছে। একজন তালেবান মুখপাত্র এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কাবুল ব্যাংকের ওই শাখায় ২০১০ সালে ব্যাপক অর্থ জালিয়াতি হয়েছে। তাই এ হামলা চালানো হয়েছে।

সিলেটে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ ওসির মৃত্যু

সিলেটের ওসমানীনগরে অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ওসমানীনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ ছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর থানার গোয়ালাবাজারে দু’দল শ্রমিকের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক টানা ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল ছুড়ে শ্রমিক ও গ্রামবাসী। একপর্যায়ে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় তাদের মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন ওসমানীনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়। ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবে সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মীনা দাবি করছেন, ওসি মোস্তাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ বা আহত হয়ে নয়, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। একই বক্তব্য সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা সুজ্ঞান চাকমার। সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রওশন ও রুবেল নামে দু’জনকে আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সংঘর্ষে আহতরা হচ্ছেন- করনসী গ্রামের জুয়েল, রমজান, এমরান হোসেন, আহাদ মিয়া, আবদুল মতিন, আজাদ, ব্রা?হ্মণ গ্রামের মুহিবুর রহমান, রুবেল, শানুর, মাহমদ আলী, আবদুল হামিদ, মতিন মিয়াসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে একটি নোয়া মাইক্রো, একটি যাত্রীবাহী বাস, তিনটি মোটরসাইকেল, ডাচ্বাংলা ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও বেবিশপ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়কের সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কের উভয়দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ সহস্রাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীসহ দূরপাল্লার যাত্রীদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে গোয়ালাবাজার অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় তারা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে সাবেক গ্রুপটি গোয়ালাবাজারের উত্তরাংশে এবং অপর গ্র“পটি দক্ষিণাংশে অফিস স্থাপন করে। তাদের মধ্যে এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বচসা চলে আসছিল। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উভয় ইউনিয়নের শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামবাসী সাবেক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে এবং করনসী গ্রামবাসী নতুন ইউনিয়নের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোয়ালাবাজার পয়েন্ট পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের যান চলাচল। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দু’পক্ষকে শান্ত করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়তে বাধ্য হয়। পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়তে শুরু করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-গ্রামবাসী আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা বৃষ্টির মতো নিক্ষেপ করে ইট-পাটকেল ও পাথর। পাল্টা গুলি ছুড়ে পুলিশের ওপর। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি ত্রিমুখী রূপ নেয়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় পুলিশ সহযোগিতা চায় জেলা পুলিশের। খবর পাওয়ার পর রেঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয় গোয়ালাবাজারে। অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছার আগ মুহূর্তে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান ওসি মোস্তাফিজ। গুরুœতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হলে দ্রুত সিলেট ওসমানী হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ওখান থেকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই মারা যান তিনি। ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ গোয়ালাবাজার পৌঁছার পর সংঘর্ষে লিপ্ত দুটি গ্র“পের শ্রমিক ও গ্রামবাসী পালাতে থাকে। বিকাল ৩টার পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ফের যান চলাচল শুরু হয়।
যেভাবে ওসি নিহত : সংঘর্ষ চলাকালে ওসির ওপর ইটপাটকেল পড়ে। পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরে দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। সিলেটের এএসপি (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা ডাক্তারের বরাত দিয়ে ওসির মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। বিকালে নিহত মোস্তাফিজুর রহমানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রাত ৮টায় পুলিশ লাইনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নিহত ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরের কোতোয়ালি থানায়। ছাত্রজীবনে কুমিল্লা শহরের সংস্কৃতি চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২ কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রীসহ ২ কন্যা ঢাকায় বসবাস করে। এর আগে তিনি বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩ মাস পূর্বে তিনি ওসমানীনগর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন। এদিকে ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে ছুটে যান।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : কিছুদিন পূর্বে গোয়ালাবাজার অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের একজন ম্যানেজার দক্ষিণ স্ট্যান্ডের একটি অটোরিকশা অফিসে নিয়ে আসার পর শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে বাজারের দক্ষিণ অংশের কিছু অটোরিকশা শ্রমিক গোয়ালাবাজারে নতুন একটি শ্রমিক শাখার দাবি তুলে। সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এলাকা পরিদর্শন করে নতুন শাখা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না করায় শ্রমিকদের একটি অংশ উত্তেজিত হয়ে মহাসড়কে নামলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। করনসী রোড এলাকার অটোরিকশা শ্রমিক নেতা পিয়ার আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলা কমিটি গোয়ালাবাজারে আমাদের একটি শাখা উদ্বোধন করে দিবে বলে তারিখ করে আসলেও তা দিচ্ছিল না। এর প্রতিবাদে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে অপর সংগঠনের শ্রমিকরা আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন গোয়ালাবাজার শাখার সভাপতি জিলু মিয়া বলেন, করনসী রোডের কিছু অবৈধ লাইসেন্সধারী শ্রমিক আমাদের সংগঠনের সদস্য হতে না পেরে নতুন শাখার জন্য জেলায় আবেদন করে। এর জের ধরে তারা আমাদের শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়েনের সিলেট জেলার নেতারা নতুন শাখা দেয়ার কথা বলে না দেয়ায় সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।