Thursday, July 10, 2014
আর্জেন্টিনার হিগুইয়েনের না-হওয়া গোল নিয়ে বিভ্রান্তি by সামিউল আজিজ
আর্জেন্টিনার বৈধ একটা গোল কি বাতিল হলো? প্রথম দেখায় তেমনটাই মনে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আজও ফেসবুক, ব্লগে এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে। এমনকি প্রথম আলো অনলাইনের পাঠক মন্তব্যে রাশি রাশি মন্তব্য আসছে অফসাইডের ভুল সিদ্ধান্তে হিগুয়েইনের বৈধ গোলটি বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে।
অফসাইডের সিদ্ধান্তটি অবশ্যই ভুল ছিল। কিন্তু তাই বলে গোল বাতিল হওয়া নিয়ে আফসোসের সুযোগ নেই। বল যে জালের ভেতরেই ঢোকেনি! সজোরে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছে জালের বাইরের প্রান্তে। ফুটবলীয় ভাষায় যাকে বলে সাইড নেটিং।
সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে অফসাইডের খাঁড়ায় গোল বাতিল হলে, সেটিও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে, ক্ষোভে ফুঁসে উঠত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। সরব প্রতিবাদ করতেন। রেফারিকে ঘিরেও ধরতেন। যাঁরা ভেবেছেন গোলটা বাতিল হয়েছে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ না করায় নিশ্চয়ই অবাকও হয়েছিলেন।
বার্তা সংস্থাগুলোর উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবিতেও পরিষ্কার হয়েছে বলটা জালের বাইরে আঘাত হেনেছে। ভিডিও দেখলে অবশ্য বিভ্রান্তি জাগতে পারে স্বল্প রেজ্যুলেশন আর ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণেই। তবে ডাচ গোলরক্ষক বলটা কোথায় থেকে কুড়িয়ে নিলেন, সেটা খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, তিনি পোস্টের ভেতরে ঢোকেননি, বাইরের ডানপাশ থেকে বলটা কুড়িয়েছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তালপট্রি দ্বীপের কোন অস্বিত্বই নেই, তালপট্টি কোথায় খুঁজে বের করুক- প্রধানমন্ত্রী
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, প্রধানমন্তীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও সমান অবদান রাখার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নারীরা জাতীয় উৎপাদনে সমানভাবে এগিয়ে আসলে আমরা সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হতে পারবো। আমরা চাই, নারীরা জাতীয় উৎপাদনে সমানভাবে এগিয়ে আসুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সেজন্য দেশের প্রতিটি নারীকে সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। শিক্ষিত হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি নারীদের আরও উদ্যোমী হওয়ার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই আমরা নারী ও শিশুর উন্নয়নে সর্বাত্মক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। শহরের পাশাপাশি গ্রামের নারীদের উন্নয়নেও কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের সরকারের সময় থেকেই নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ২০১১ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সকল মন্ত্রণালয়ে নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪০টি মন্ত্রণালয়ের জন্য জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নারীর উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১০, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। ইভটিজিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ স্ববেতনে ৬ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। ন্যাশনাল আইডি ও পাসপোর্টে বাবার পাশাপাশি মায়ের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ৪৪০ লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা
![]() |
| গাজার রাফা এলাকায় গতকাল ইসরায়েলি বিমান হামলার পর কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায়। এ সময় ভবনগুলো থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ইসরায়েলি হামলায় দুই দিনে অন্তত ২৮ জন নিহত হন। ছবি: রয়টার্স |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকার–সংগঠন সবই এখন মোদির হাতে
![]() |
| অমিত শাহ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পিকারের কাছে বিরোধী দলের মর্যাদা চাইল কংগ্রেস
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় পাল্টাপাল্টি হামলা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লুইজের ক্ষমা প্রার্থনা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটু সদয় হওয়া যায় না সাকিবের প্রতি? by কাউসার খান
পুরো বিষয়টি নিয়েই এই মুহূর্তে ক্রিকেটপ্রেমীরা তর্কে মেতে আছে। আলোচনা চলছে ব্যাপক। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এ দেশের ক্রিকেটে এযাবত্কালের সেরা এই ক্রিকেটারটিকে নিয়ে এই সমস্যা তৈরি করল কে? এ ক্ষেত্রে সাকিব বেশি দায়ী, নাকি বিসিবি?
সাকিবের এই নিষেধাজ্ঞা নাকি এসেছে অনেকগুলো কারণে। তবে মূল কারণ হলো বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র না নিয়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেট লিগে খেলতে যাওয়া। এটা ঠিক যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ঘটনার জন্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছিলেন তিনি। এই তো কিছু দিন আগেই তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন একটি বিতর্কিত ঘটনায়। কিন্তু কথা হচ্ছে, নিজের স্ত্রীকে বখাটেদের দ্বারা উত্ত্যক্ত হতে দেখলে কিন্তু শৃঙ্খলা ভঙ্গের ভয়ে কোনো সাধু-সন্তও হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। সাকিব ঠিক সেটাই করেছিলেন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীর। কিন্তু এই ঘটনায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে? এখন তো শোনা যাচ্ছে, সাকিবের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করা লোকটি নাকি খুব প্রভাবশালী। খোদ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেই নাকি তাঁর বিশেষ সম্পর্ক আছে!

ক্যারিবীয় ক্রিকেট লিগে বোর্ডের অনাপত্তিপত্র না নিয়ে সাকিবের খেলতে যাওয়ার ব্যাপারেও তৈরি হয়েছে নানা চিত্রনাট্য। কথা হচ্ছে, সাকিবের মতো একজন ক্রিকেটার কি এতটাই বোকা যে তিনি বোর্ডের অনুমতি না নিয়ে বিদেশের লিগে খেলতে চলে যাবেন? এ ক্ষেত্রে চলে এসেছে বোর্ডের একটি বিশেষ কমিটির প্রধানের কথা। তিনিই নাকি সাকিবকে মৌখিকভাবে ক্যারবীয় লিগে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, পরে তিনি অনাপত্তিপত্রে সই করে দেবেন।
সাকিব কিন্তু ফিরে এসেছেন বোর্ডের নির্দেশ পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। এখন সাকিবকে যদি শাস্তি দেওয়া হয়, তবে সেটা একপেশে হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে ভাবার কিন্তু যথেষ্ট কারণ আছে। সাকিব যদি এ ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণ করে থাকেন, তাহলে অপেশাদারভাবে সাকিবকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে উড়াল দেওয়ার অনুমতি দিয়ে তো একই রকম অন্যায় করেছেন বোর্ডের ওই বিশেষ কমিটির প্রধান।
সাকিবের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এসেছে দলের লঙ্কান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের এবং দেশের হয়ে ভবিষ্যতে টেস্ট ও ওয়ানডে না খেলার হুমকি দেওয়ার। কিন্তু এই অভিযোগ যে ‘গোপন ই-মেইলে’র মাধ্যমে উঠেছে, সেই ‘গোপন’ ই-মেইল সংবাদমাধ্যমের হাতে গেল কীভাবে—সেই প্রশ্ন কিন্তু আসতেই পারে। কোচ যদি সাকিবের বিরুদ্ধে বোর্ড সভাপতি বরাবর কোনো নালিশও করে থাকেন, সেই মেইল অন্যের হাতে যাওয়া কিন্তু বড় ধরনের ষড়যন্ত্রেরই ইঙ্গিত দেয়। সাকিবকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট কি তাহলে কোনো নীলনকশার শিকার?
বিসিবি সভাপতি সেদিন সাকিবের শাস্তি ঘোষণার সময় এমন ভাব করছিলেন যেন সাকিব আজীবন নিষেধাজ্ঞার মতো কোনো অপরাধ করেছেন, কিন্তু তাঁর শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু লঘু পাপে যে সাকিবকে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়নি—এ কথা কি বিসিবি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে?
অনেকেই বলছেন, সাকিবকে একটু বাড়াবাড়ি রকমেরই শাস্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাকিবের দুই-একটি ভুল যদি হয়েও থাকে, তাহলেও কি বিসিবি পারত না সেগুলোতে কঠোর না হয়ে তাঁকে সংশোধিত হওয়ার পথ করে দিতে?
যদি কারও ভুল থাকে বিচার হবে ভালোবাসা দিয়ে, কঠোর হয়ে নয়। রুখে দেওয়া সহজ, গড়ে নেওয়া খুব কঠিন। নিষেধাজ্ঞার খড়্গ ঝুলিয়ে নয়, সাকিবের ভুলগুলো শোধরাতে দরকার ছিল অন্য কোনো রাস্তা। দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক বিসিবি কি পারত না সে পথে হাঁটতে?
সাকিবের শাস্তিটা ফিরিয়ে নিলে কি খুব ক্ষতি হয়ে যায়?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমুদ্রে নতুন গোলপোস্ট পেয়েছে বাংলাদেশ -সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ খুরশেদ আলম by মিজানুর রহমান খান
খুরশেদ আলম :এ বক্তব্য সঠিক নয়। ১৯৭০ সালে এটি বালির দ্বীপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে উড়িরচরের ঝড়ের পরে এটি ডুবে যায়। ১৯৮৯ সালের পর এটিকে আর পানির ওপরে দেখা যায়নি। সারা বঙ্গোপসাগরে পানি আছে, পানির নিচে মাটি আছে। সুতরাং, অদৃশ্য হওয়ায় এটি গুরুত্ব হারায়। সমুদ্র আইনের নিরিখে এর অস্তিত্ব ছিল না।
প্রথম আলো :এটা হারানোর ফলে আমরা সাগরে জায়গা বেশি বা কম পেয়েছি, সেটা কি বিবেচনায় এসেছিল?
খুরশেদ আলম :তালপট্টি হারানোর প্রশ্ন এখানে আসে না। সেটি দ্বীপ হিসেবে নেই। আমরা পুরোটা পানি হিসেবেই দেখছি। গত বছরের অক্টোবরে বিচারকেরা তালপট্টি শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভারত এটা দেখানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। সুতরাং, রায়ে এটাকে শুধুই পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের রেডক্লিফের যে রোয়েদাদ, তার মূল পাঠ্য ও মানচিত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানে বাংলাদেশের তেমন হাত ছিল না। আদালত বলেছেন, রেডক্লিফ ১৯৪৭ সালে যে লাইন ড্র করে দিয়ে গেছেন, সেটাই সীমান্ত।
প্রথম আলো :তালপট্টি প্রশ্নে, না সার্বিকভাবে বলেছেন?
খুরশেদ আলম :সার্বিকভাবে।
প্রথম আলো :তালপট্টি বিচ্ছিন্ন একটি বিরোধ হিসেবে মীমাংসা করার বিষয় ছিল না।
খুরশেদ আলম :এটাকে কেউ আলাদাভাবে উত্থাপনও করেনি। করলে আরেকটি সমস্যা দেখা দিত। আনক্লোজ বা আন্তর্জাতিক কোনো আদালত কোনো দ্বীপ বা এলাকার সার্বভৌমত্ব নির্ধারণ করতে পারে না। ইস্যু ছিল সীমান্তটা বর্তমানে যেভাবে আছে সেভাবে হবে, নাকি ১৯৪৭ সালের ভিত্তিতে হবে।
প্রথম আলো :১৯৭১ সালে অ্যাডমিরেলটি চার্টে ভারত প্রথম তালপট্টিকে শনাক্ত করে নোটিশ দিয়েছিল।
খুরশেদ আলম :১৯৭৭ সালে হবে।
প্রথম আলো :অনেক বিশেষজ্ঞ ১৯৭১ উল্লেখ করেছেন।
খুরশেদ আলম :এটা ১৯৭৬ হবে।
প্রথম আলো :তাহলে ১৯৮০ সালে সংসদে এর মালিকানা দাবি করে জিয়াউর রহমান যে শ্বেতপত্র পেশ করেছিলেন, তা রায়ের আলোকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? সেটা কতটা আইনগত আর কতটা রাজনৈতিক ছিল?
খুরশেদ আলম :আইনগত দিকটি সম্ভবত খুব বেশি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। কারণ, আইনের কথা ভাবলে প্রথম দরকার ছিল এটা দেখা যে রেডক্লিফের সীমান্ত কোথায় শেষ হয়েছে। এটা দাবি করার আগে বা পরের এমন কোনো নথিপত্র দেখলাম না, যেখানে রেডক্লিফের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। রেডক্লিফের মানচিত্রও তখন বাংলাদেশের কাছে ছিল না। অথচ এটাই ছিল মূল। তখন যিনি প্রধান বন সংরক্ষক ছিলেন, তিনি বলে গিয়েছিলেন যে এই দ্বীপ দাবি করতে হলে অবশ্যই রেডক্লিফ নির্দেশনা দেখা প্রয়োজন।
প্রথম আলো :তালপট্টির মালিকানা প্রশ্নে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে আমরা অনেক উত্তেজনা দেখেছি।
খুরশেদ আলম :সেখানে ভারতীয় জাহাজ এসেছিল। তারা একসময় দখলও করেছিল।
প্রথম আলো :তাহলে কি আমরা বলব যে, ওই সিদ্ধান্ত অদূরদর্শী ছিল?
খুরশেদ আলম :আমি মনে করি, মোটামুটিভাবে আইনগত ইস্যু সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
প্রথম আলো :আপনি যে প্রধান বন সংরক্ষকের কথা বলছেন, যিনি জিয়া প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, তার কী প্রমাণ?
খুরশেদ আলম :শ্বেতপত্র প্রকাশের আগে তিনি সেটা লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন।
প্রথম আলো :তাহলে শ্বেতপত্র বের করে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা একটি বন্ধুদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলাম। রায়ে আজ কি সেটাই সত্যে প্রমাণিত?
খুরশেদ আলম :অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় ছিল। আমিও কিন্তু সেখানে জড়িত ছিলাম। তালপট্টির জন্য লড়াই করেছি। আজও দ্বীপটি চেয়েছিলাম। তাই ২০১০ সালে ম্যাপ শুধরালাম। কিন্তু রায় হলো ১৯৪৭ সালের ম্যাপের ভিত্তিতে। তার পরও যাঁরা তালপট্টি গেছে বলে আক্ষেপ করছেন, তাঁদের আবেগের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল থেকেই বলব, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট সান্ত্বনা আছে। তালপট্টির আয়তন মাত্র ১ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। আর রেডক্লিফের কল্যাণেই এর চেয়ে কয়েক গুণ বড় গোটা হাড়িয়াভাঙ্গা নদীটা পেয়েছি। এই নদী ভারত ব্যবহার করত। সেটা এখন তারা পারবে না।
প্রথম আলো :১৯৮০ সালে আপনি কী পদে ছিলেন? আর তালপট্টিতে কী ভূমিকা রেখেছিলেন?
খুরশেদ আলম :আমি একটি গানবোট নিয়ে গিয়েছিলাম। ১৩০ টনের গানবোট। ভারত পাঠিয়েছিল এক হাজার ১০০ টনের চারটি জাহাজ। আমি তখন লে. কমান্ডার ছিলাম।
প্রথম আলো :তালপট্টি দ্বীপে নেমেছিলেন?
খুরশেদ আলম :আগেই ভারত সেখানে অবতরণ করেছিল।
প্রথম আলো :আপনারা দ্বীপের কতটা কাছে গিয়েছিলেন? কী অভিজ্ঞতা ছিল?
খুরশেদ আলম :দ্বীপের প্রায় আধা মাইল কাছাকাছি গিয়েছিলাম। বেতারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। কোনো গোলা বিনিময় হয়নি। ভারত সেখানে তাদের পতাকা উড়িয়েছিল। ঘর তুলেছিল। গাড়ি এনেছিল।
প্রথম আলো :তাহলে কি বলবেন যে ভারতীয় উপস্থিতি সঠিক ছিল?
খুরশেদ আলম :না, সেটা বলব না। আমি বলব, সেটা ঠিক ছিল, কি ছিল না, তার সঙ্গে রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রথম আলো :কিন্তু রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, ভারতের উপস্থিতি যৌক্তিক ছিল।
খুরশেদ আলম :সেটা যুক্তির কথা।
প্রথম আলো :যদি কোনো দ্বীপ থাকত, তাহলে সেখান থেকে ইইজেড বা টেরিটোরিয়াল সি পরিমাপের বিষয়টি আসত কি না? জটিলতা বাড়ত কি না?
খুরশেদ আলম :জটিলতা বাড়ার সুযোগ ছিল না। কারণ, দ্বীপ থাকলেও সেটা বিরোধপূর্ণ হয়েই থাকত। বিরোধপূর্ণ কোনো এলাকা নিয়ে কেউ আদালতে যায় না। আগে বিন্দুটা ঠিক করতে হবে। রেডক্লিফের সীমান্তের রেখাটা কোথায় শেষ হয়েছে? আদালত স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন কোথায় এটি শেষ হয়েছে। এখন তালপট্টি সেই চিহ্নিত বিন্দুর এদিকে পড়ল কি ওদিকে পড়ল, সেটা আদালতের বিবেচ্য নয়।
প্রথম আলো :সেটাই যদি হবে, তাহলে সংবাদ সম্মেলনে কেন বলছেন যে বাংলাদেশের সরকারগুলো কখনো তালপট্টিকে নিজেদের ভূখণ্ডে দেখিয়ে ম্যাপ প্রকাশ করতে পারেনি। এ যুক্তি কিন্তু স্ববিরোধী মনে হচ্ছে।
খুরশেদ আলম :এটা দেখিয়েছি এ কারণে যে, যেহেতু বলা হচ্ছে তালপট্টি আমাদের আর সেটা কি আমরা হারিয়ে ফেললাম? তাই যুক্তির খাতিরে বলেছি। যদি তালপট্টি আমাদেরই হবে, তাহলে আমাদের ম্যাপে তা দেখালাম না কেন? ২০০৯ সাল পর্যন্ত যত ম্যাপ ছাপা হয়েছে, তাতে তা দেখানো হয়নি। যদি আমরা এখন মনে করি হারিয়েছি, তাহলে আমার প্রশ্ন, তাহলে তো আপনার ম্যাপে থাকবে যে এটা আপনার। মুখে বলব আমার, অথচ রাজনৈতিক ম্যাপে দেখাব না, সেটা হয় না।
প্রথম আলো :১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে কেন এটা ছাপা হয়নি?
খুরশেদ আলম :এখানে কিন্তু সব সরকারের কথা বলা হচ্ছে।
প্রথম আলো :তালপট্টি আমাদের ছিল না, সেই উপলব্ধি বাংলাদেশ নেভির কবে হয়েছে? আপনি কবে অবসরে এসেছেন?
খুরশেদ আলম :২০০৯ সালে। নেভি তা মনে করে না। এখনো তারা মনে করে, সেই সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্ন থেকেও একই ধারণা মিলছে। এখন এই রায়ের মধ্য দিয়ে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া উচিত।
প্রথম আলো :তাহলে ২০১০ সালে তালপট্টিকে নিজেদের দেখিয়ে ম্যাপ ছাপালেন কেন? শুধু আদালতকে দেখাতেই?
খুরশেদ আলম :কারণ, আমরা দেখলাম, রেডক্লিফের ম্যাপে এটা আমাদের মধ্যে পড়ে না। তখন আমরা ব্রিটিশ লাইব্রেরি থেকে ম্যাপ আনলাম।
প্রথম আলো :এখন কি আমরা বলব যে, বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই চিরতরে ও চূড়ান্তভাবে সমুদ্রসীমান্ত ফয়সালা করে নিয়েছে? এর ওপরে আমাদের সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ?
খুরশেদ আলম :নিরঙ্কুশ। শুধু দুটো ‘ধূসর এলাকা’ ব্যতিরেকে।
প্রথম আলো :‘ধূসর এলাকা’ একটু বিস্তারিত বলুন।
খুরশেদ আলম :আপনি যদি সমদূরত্ব পদ্ধতিতে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ না করেন, তাহলেই ধূসর এলাকার সৃষ্টি হয়। আমার যেখানে ২০০ নটিক্যাল মাইল শেষ, সেখানে অন্য দেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল শুরু হয়। এখানে একটা ব্যবধান তৈরি হলো। কারণ, আমার ২০০ নটিক্যাল মাইলের ওপর যেভাবে আমার অধিকার আছে, তারও ২০০ নটিক্যাল মাইলের ওপর তেমনি অধিকার আছে। কিন্তু আমার ২০০-এর নিচে আমার মহীসোপান (পানিতে মহীসোপান হয় না। এটা হলো তলদেশ) আর তার ২০০ ওপরে তার ইইজেড। মিয়ানমার ও ভারত ধূসর এলাকার কেবল মাছ ধরতে পারবে। তলদেশের সব সম্পদ আমাদের।
প্রথম আলো :বিএনপি ২৮টি ব্লক করেছিল। এর ১৭টি মিয়ানমার ও ১০টি ভারত দাবি করেছিল। এখন সেই ১০টির প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশ পেল। বিএনপি একটা কৃতিত্ব তাহলে দাবি করতে পারে?
খুরশেদ আলম :না। কারণ, ভারতের দাবি তখনো ওই লাইনেই ছিল। ১৯৭৪ সালে যখন প্রথম ব্লক দেওয়া হয়, তখন ভারতের বাধার কারণে তা কার্যকর করা যায়নি।
প্রথম আলো :কিন্তু ৭৪-এ করা ছয়টি ব্লক এলাকাতেই বিএনপি ব্লকগুলো করেছিল। রায়েও সেই ব্লকের এলাকাই পেলাম। তাহলে?
খুরশেদ আলম :আগে আইনত সমুদ্রসীমা ঠিক করে তারপর ব্লকের ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল।
প্রথম আলো :৭৪-এ ভারত কি বিদেশি তেল কোম্পানিদের রুখতে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল?
খুরশেদ আলম :না। তারা প্রত্যেক কোম্পানির সদর দপ্তরে আপত্তি জানিয়ে চিঠি লিখেছিল। বলেছিল, তোমরা তেল-গ্যাস পেলে তুলতে পারবে না। কারণ, সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হয়নি।
প্রথম আলো :তার মানে ৪০ বছর পরে প্রমাণিত হলো, বঙ্গবন্ধুর সরকার বাংলাদেশের ভূখণ্ডেই ব্লক করেছিল। ভারতের বিরোধিতাই ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে?
খুরশেদ আলম :এক অর্থে আমরা কিন্তু সে ধরনের যুক্তি দিতেই পারি।
প্রথম আলো :আমরা এই রায় থেকে অনতিবিলম্বে কী সুবিধা পাব?
খুরশেদ আলম :১০টি ব্লকের গ্যাস-তেল আহরণে টেন্ডার দিতে পারব। শতকরা ১ শতাংশের কম এলাকা ছাড়তে হবে। এই এলাকায় অবাধে মাছ শিকার ও অন্যান্য সম্পদ আহরণ করতে পারব। ওশেন ও ব্লু অর্থনীতির ওপর কাজ শুরু হয়ে গেছে। সাগরে আমাদের এখন ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য। বিদেশি দুই হাজার ৬০০ জাহাজ আসে। আমাদের জাহাজ মাত্র ৬৯। কোস্টাল শিপিং চালু করতে পারব। বিশ্বে প্রায় দেড় লাখ সিফারার আছে। আমরা এখানে নগণ্য। এখন এখানে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আসলে একটা নতুন গোলপোস্ট অর্জন করেছে।
প্রথম আলো :আপনাকে ধন্যবাদ।
খুরশেদ আলম :ধন্যবাদ।

পরিচিতি: রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ খুরশেদ আলম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট)। তিনি সমুদ্রসীমা নির্ধারণ বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালস ইটলস-এ মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পরপরই তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রসীমাবিষয়ক সেলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ন্যায়বিচারই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারে by রবার্ট ফিস্ক
কথা হচ্ছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধকাণ্ডের পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত নোংরা, একই সঙ্গে তা প্রাণঘাতীও বটে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই তিনজন টিনএজারকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ‘পশু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাতে কী? মেনাচেম বেগিন কি ১৯৮২ সালে ফিলিস্তিনিদের ‘দুই পায়া জন্তু’ আখ্যা দেননি? এবং তারপর বেগিনের নির্দেশে ফিলিস্তিনের ওপর বিমান থেকে লাখ লাখ গোলাবর্ষণ করা হয়, নেতানিয়াহু যেমন বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য হামাসকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
আর এদিকে রাষ্ট্রপতি শিমন পেরেস বলেছেন, ইসরায়েল ‘এই জঘন্য সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করবে’। কিন্তু কতজন সংবাদকর্মী জানেন যে এই শিমন পেরেস প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৯৬ সালে ‘সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় কানায় গণহত্যা সংঘটিত হয়। না, কেউই তা জানে না। মধ্যপ্রাচ্যের একটি ব্যাপার হচ্ছে, এখানে সামষ্টিক স্মৃতির কোনো বালাই নেই। এটা বড় ভুলনশীল এলাকা।
সেই ১৯৬০ সালে ইসরায়েল লেবাননের ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর বিমান আক্রমণ শুরু করে। তারপর অসংখ্য বিমান আক্রমণ হয়েছে। ইসরায়েল এখনো তা করে যাচ্ছে, লেবাননে ‘সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলতে’ বা বেগিনের ভাষ্য অনুসারে, ‘সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন করতে’। ইসরায়েল ১৯৮২ সালে যে লেবানন আক্রমণ করেছিল, তাতে ১৭ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। ২০০৮-০৯ সালে ইসরায়েল যখন গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তখন এক হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি ও ১৩ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারান। এই ১৩ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে চারজনই নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে মারা যান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সে সময় চুপ থাকলেও এবার তিনি বেশ উচ্চকণ্ঠ, তিনি এই ‘কিশোরদের হত্যার মতো মূঢ় কাজের’ সমালোচনা করেছেন।
১৯৯৬ সালে হিজবুল্লাহ বলেছিল, ইসরায়েল ‘নরকের সব দ্বার খুলে দিয়েছে’। হামাস সতর্ক করে বলেছিল, ‘ইসরায়েল নরকের সব দ্বার খুলে দিচ্ছে’। লক্ষ করুন, সেই একই পোকায় খাওয়া পাণ্ডুলিপি। রক্তের বদলে আরও রক্ত, যা হোক, শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ যা বলেছিল, তার কিছুটা সত্যতা তো মিলল।
ফিলিস্তিনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, নেতানিয়াহু যদি সে-বিষয়ক তার নব্য উৎসাহে শাণ দেন, তাহলে আমাদের ভুলে যেতে হবে, ফিলিস্তিন একটা রাষ্ট্র। আর এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সব সহিংসতার অবসান ঘটবে, তাই নয় কি? মাহমুদ আব্বাস মরহুম ইয়াসির আরাফাতের মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি আরেক দুর্নীতিগ্রস্ত সংগঠন হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। এর ফলে, ইসরায়েলের নোংরা রাজনৈতিক প্রশাসন এ কথা বলার সাহস পাচ্ছে যে হামাস ফিলিস্তিন সরকারে থাকলে কোনো শান্তি আসতে পারে না। এমনকি হামাস যখন ফিলিস্তিন সরকারের অংশও ছিল না, তখন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, কোনো ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, আব্বাস তো আর হামাসের হয়ে কথা বলতে পারেন না।
শেষ পর্যন্ত, এটা আসলে ভূমিরই ব্যাপার। এ অঞ্চলের সব যুদ্ধবিগ্রহের উৎস হচ্ছে এই ভূমি। আরব ভূমিতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েল শুধু ইহুদিদের জন্য উপনিবেশ বানিয়েছে। বহুল আলোচিত পশ্চিম তীরেই সেটা তারা বানিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ইহুদিরাই হিটলারের হাতে লাখে লাখে মারা পড়েছে। সে স্মৃতি আমরা ভুলিনি। সেটা ভোলারও নয়। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় সেই ইহুদিরাই ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে বসল। এর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই পশ্চিম তীরেই এই তিনজন ইসরায়েলি কিশোর মারা পড়ল। তারা সেই অবৈধ উপনিবেশে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। না, এ যুক্তিতে তাদের হত্যাকাণ্ড বৈধ হয়ে যায় না।
এই হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে খুবই বর্বর ও নির্মম, একই সঙ্গে তা ক্ষমার অযোগ্যও বটে। এই মৃত্যুতে তাদের পরিবারবর্গ যে দুঃখ পেয়েছে, সেটা তাদের প্রাপ্য নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। হ্যাঁ, ন্যায়বিচার। তার মানে হচ্ছে, খুনিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। একই সঙ্গে, এই চুরি হয়ে যাওয়া ভূমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তা ফেরত দিতে হবে। সেটা করতে হলে অনতিবিলম্বেই এর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এতে হয়তো আরও রক্ত ঝরবে। তবে এতে হয়তো আমাদের অনন্তকাল ধরে রক্তক্ষরণ দেখতে হবে না।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
রবার্ট ফিস্ক: মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অপরাধীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা নিন by আলী ইমাম মজুমদার
নারায়ণগঞ্জ ঢাকা মহানগরের অদূরে শিল্পসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এ দেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে এ স্থান অগ্রণী। তবে ইতিমধ্যে জেলা শহরটি সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাত খুনের ঘটনাটি ঘটে গত এপ্রিলের শেষে। প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের রাজপথ থেকে সাতজন লোককে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর কয়েকজন সহযোগী, অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার আর দুজন গাড়িচালক। কয়েক দিন পর শীতলক্ষ্যায় পাওয়া যায় তাঁদের মৃতদেহ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের হয়।

পরবর্তী সময়ে তৎপরতা যত জোরদার হোক, সূচনাতে অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে অভিযোগ আনেন নিহত নজরুলের শ্বশুর। তাঁর বর্ণনামতে, নূর হোসেন ছয় কোটি টাকা দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন র্যাব কর্মকর্তার মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার পরও নূর হোসেন দিন তিনেক দেশেই ছিলেন। টেলিফোনে কথা বলেছেন সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে। ঘটনাটির নৃশংসতা ও অভিনবত্বে সব মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিনজন র্যাব কর্মকর্তাকে সামরিক বাহিনীতে দ্রুত ফিরিয়ে নিয়ে করা হয় কর্মচ্যুত। উচ্চ আদালতের আদেশে তাঁরা গ্রেপ্তারও হন। জানা যায়, তাঁরা তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন পালিয়ে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন ভারতে। সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বলা হচ্ছে, শিগগির তাঁকে ফেরত আনা হবে। সে ক্ষেত্রে এ মামলার তদন্ত শেষ হতে তেমন সময় লাগার কথা নয়। উল্লেখ্য, তার পরও নারায়ণগঞ্জে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদের একটি আসনে উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেছেন, র্যাব এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাহলে সব মিলিয়ে এ ঘটনায় তাঁর অন্য কোনো ভূমিকা ছিল কি না, এটা তদন্তের বিষয়। আর কিছু না হলেও তিনি যে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, এতে সন্দেহ নেই। অথচ আজ অবধি তাঁকে তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা যায় না। এমনকি হাইকোর্টের আদেশে গঠিত কমিটিও তা করেছে, এমনও শোনা যায়নি। সে ক্ষেত্রে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আসবে কীভাবে? যতটুকু জানা গেছে, এ খুনের মূল উদ্দেশ্য অবৈধ চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। উল্লেখ্য, পক্ষ দুটোই শাসক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
ওসমান পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ সেখানকার ত্বকী হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত। এ পরিবারেরই একজন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ বিষয়ে বহু অভিযোগ এসেছে। ভোট গ্রহণের দিনে অনিয়মের অংশীদার হতে অস্বীকার করায় একজন তরুণ এএসপিকে সাংসদ শামীম ওসমান অশালীন ভাষায় হুমকি দেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই কর্মকর্তা ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। গণমাধ্যমে তিনি ব্যাপকভাবে নন্দিত হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে হুমকির মুখোমুখি হওয়া এই কর্মকর্তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব। প্রকৃতপক্ষে এ হুমকি দায়িত্ব সম্পাদনে বাধাদানের নামান্তর। তবু তারা নির্বিকার। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে এক্স-রে করেও নাকি কোনো মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ এ বিষয়ে আর মন্তব্য না করাই ভালো।
এ নির্বাচনে তাঁর ভাইয়ের প্রশ্নবিদ্ধ বিজয়ের পরপরই সাংসদ শামীম ওসমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন কদর্য ভাষায়। তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের জন্য দায়ী করেছেন তাদের। নারায়ণগঞ্জে তাঁদের পিতা-পিতামহ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। সে ভূমিকা ক্ষুণ্ন করছেন তাঁদের বংশধরেরাই—এমনটি বললে মোটেই অসংগত হবে না। তা আমলে না নিয়ে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যম সবাইকে হুমকি–ধমকির মাধ্যমে তিনি কাবু করতে চাইছেন। তাই আলোচিত সাত খুনের মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশস্ত হওয়া কঠিনই বটে।
এরপর আলোচনায় আসে ফেনী প্রসঙ্গ। দীর্ঘকালের সমৃদ্ধ ও বহু খ্যাতনামা লোকের জন্মস্থান এ জেলা। অথচ আজ প্রায় দুই যুগ যেন মাঝেমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয়; অনেকটা লেবাননের বৈরুতের মতো। এক গডফাদার মঞ্চ ত্যাগের পর মনে হয়েছিল ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিধি বাম। গত মে মাসের শেষ দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ফেনী শহরের বুকে সরকারি গাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামকে। মৃতদেহসহ গাড়িটি অকুস্থলেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে ৩৫ জন অংশ নেয় বলে খবরে প্রকাশ। এর মধ্যে মূল চারজনের তিনজনই শাসক দলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। কেউ কেউ স্থানীয় সাংসদ নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। নিজাম হাজারী ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। আর ফুলগাজী আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ দায়ী করতে থাকে নিজাম হাজারীকে। সবারই জানা, সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উভয়ই শাসক দলের লোক।
অভিযোগ রয়েছে, নিজাম হাজারী একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবাসের মেয়াদ শেষ না করেই কাগজপত্র জালিয়াতি করে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। জানা যায়, এ খবর ফাঁস করে দিয়েছিলেন নিহত একরাম। নেতৃত্বের গণ্ডি আর চাঁদাবাজি নিয়ে উভয় নেতার মধ্যে তীব্র রেষারেষি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। এ বিষয়ে ফেনীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজাম হাজারী দাবি করেন, জয়নাল হাজারী ঘটনা সম্পর্কে জানেন। তাঁকে রিমান্ডে নিলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে। জয়নাল হাজারীও প্রত্যুত্তরে ঘটনার জন্য নিজাম হাজারীকে দায়ী করেন। তদন্ত চলছে। তবে সন্দিগ্ধ ব্যক্তি কিংবা সাক্ষী যেটাই হোক, নিজাম হাজারীকে এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা যৌক্তিক; এমনকি জয়নাল হাজারীকেও। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা কি তা করতে পেরেছে? যারা প্রত্যক্ষভাবে ঘটনাটি ঘটায়, তারা দায়ী হবে নিশ্চয়ই। তবে তাদের নেপথ্যে কোনো বড় শক্তির অবস্থানের সম্ভাবনা নাকচ করার সুযোগ নেই। এদের আইনের আওতায় না আনতে পারলে তদন্ত থাকবে অসম্পূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আইন চলবে নিজস্ব গতিতে। তাহলে প্রশ্ন থাকে, এ ধরনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারের শীর্ষ নির্বাহীদের কেউ না কেউ, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে ঘটনা দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিতে হয় কেন? নারায়ণগঞ্জের ঘটনা নিয়ে তদন্ত পর্যায়ে কেন হাইকোর্টের আদেশ আবশ্যক হয়? ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দুজন প্রতিশ্রুতিশীল কর্মী সাগর আর তাঁর স্ত্রী রুনি হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হয়তো বা এত দ্রুত তা করা সম্ভব নয়। তবে ২৪ মাসেও এ রহস্য উদ্ঘাটনের বিষয়টি চাপা পড়ে থাকার বিষয়কে কি গ্রহণযোগ্য বলা চলে? ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জেরই কিশোর ত্বকী হত্যার এক বছর পার হলেও অভিযোগপত্রও এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এখানে সরকারের কোনো কোনো মহলের সদিচ্ছা সম্পর্কে কেউ সংশয় প্রকাশ করলে তাকে কি খুব দোষ দেওয়া যাবে?
নারায়ণগঞ্জ আর ফেনী দুটো ভিন্ন জনপদ। আলোচিত ঘটনাও ভিন্ন। অপরাধের ধরন অভিনব ও ভয়াল। বিচারে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু এসেছে, তাতেই দেশবাসী বিস্মিত ও বিমূঢ়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা বাস্তবে তার দ্রুত প্রতিফলন দেখতে চাই। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধীদের প্রতি সরকারকে কঠোর হতে হবে। তদন্তের স্বাভাবিক গতিকে কেউ যেন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। পক্ষপাতহীনভাবে অপরাধীকে শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারলে বলা যাবে আইনশৃঙ্খলা-ব্যবস্থা স্থিতিশীল।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
July
(592)
-
▼
Jul 10
(11)
- আর্জেন্টিনার হিগুইয়েনের না-হওয়া গোল নিয়ে বিভ্রান্ত...
- তালপট্রি দ্বীপের কোন অস্বিত্বই নেই, তালপট্টি কোথায়...
- গাজায় ৪৪০ লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা
- সরকার–সংগঠন সবই এখন মোদির হাতে
- স্পিকারের কাছে বিরোধী দলের মর্যাদা চাইল কংগ্রেস
- গাজায় পাল্টাপাল্টি হামলা
- লুইজের ক্ষমা প্রার্থনা
- একটু সদয় হওয়া যায় না সাকিবের প্রতি? by কাউসার খান
- সমুদ্রে নতুন গোলপোস্ট পেয়েছে বাংলাদেশ -সাক্ষাৎকা...
- ন্যায়বিচারই রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারে by রবার্ট ফিস্ক
- অপরাধীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা নিন by আলী ইম...
-
▼
Jul 10
(11)
-
▼
July
(592)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


