Friday, March 12, 2010
প্রতিরোধের ভিত গড়ে দেয় যে ধর্মঘট by এম আর মাহবুব
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট, ঢাকা শহরে বিক্ষোভ ও পিকেটিং করা হয়। এ দিন দেশজুড়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলন, মিছিল ও বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
১১ মার্চের হরতালের একটি পূর্বপ্রস্তুতি ছিল। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা করার প্রস্তাব পেশ করেন। ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি মুসলিম লীগ নেতাদের অদূরদর্শিতার কারণে বাতিল হয়ে যায়। গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ার প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করা হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা সাব-কমিটি এক সভায় মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, পাকিস্তান গণপরিষদের সরকারি ভাষার তালিকা থেকে বাংলাকে বাদ দেওয়া, পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করা এবং নৌবাহিনীতে নিয়োগের পরীক্ষা থেকে বাংলা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ১১ মার্চ সমগ্র পাকিস্তানে সাধারণ ধর্মঘট পালন করা হবে। ১১ মার্চের ধর্মঘটের প্রতি চারদিক থেকে সমর্থন আসতে থাকে।
২৯ ফেব্রুয়ারি তমদ্দুন মজলিস ও পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যৌথভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও প্রতিবাদ দিবস পালন করে এবং ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১১ মার্চের হরতাল সফল করতে ১৯৪৮ সালের ১ মার্চে প্রচারমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছিল। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম (তমদ্দুন মসলিস সম্পাদক), শেখ মুজিবুর রহমান (পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য), নঈমুদ্দীন আহমদ (পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের আহ্বায়ক) ও আবদুর রহমান চৌধুরী (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যুব সম্মেলনে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের নেতা)। ওই বিবৃতিতে ১১ মার্চের হরতাল সফল করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘...আমরা পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত দেশপ্রেমিক গণনেতা, ছাত্র ও যুব-কর্মীগণকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি ধর্মঘটকে সম্পূর্ণ সফল করার জন্য, যেন তাঁরা এখন থেকে প্রস্তুত হতে থাকেন। গণতান্ত্রিক পূর্ব পাকিস্তানের যে স্বপ্ন আমরা এতকাল দেখে এসেছি, যে গণরাষ্ট্রের জন্য পাকিস্তানের জনগণ, তরুণগণ ও ছাত্র-বন্ধুরা অপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ কতিপয় স্বার্থান্বেষীর কৃতকার্যতায় সে স্বপ্নের ভিত্তিমূল কেঁপে উঠেছে। আমরা পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ও যুবসমাজের কাছে আবেদন জানিয়ে বলি; ওঠো, জাগো, এই ষড়যন্ত্রকে তোমাদের নিজ শক্তি বলে চুরমার করে দাও। দেশব্যাপী এমন আন্দোলন গড়ে তোলো, যার ফলে বাংলাকে অচিরে আমাদের রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণ করতে সরকার বাধ্য হন।’
১১ মার্চের হরতালকে সামনে রেখে তমদ্দুন মজলিস ও মুসলিম ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে ২ মার্চ ফজলুল হক হলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কামরুদ্দীন আহমদ। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, অধ্যাপক আবুল কাশেম, অজিত কুমার গুহ, আজিজ আহমদ, সরদার ফজলুল করিম, নঈমুদ্দীন আহমদ, তফাজ্জল আলী, শামসুদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, আলী আহমদ, শহীদুল্লা কায়সার, অলি আহাদ, শওকত আলী, শামসুল হক, লিলি খান, আনোয়ারা খাতুন, মহিউদ্দিন, শামসুল আলম, কাজী গোলাম মাহবুব, আবদুল আউয়াল, তাজউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। সভায় ২৮ জন সদস্য নিয়ে প্রথম সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক নিযুক্ত হন শামসুল আলম। ওই সভায় ১১ মার্চ পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ মার্চ সকালে ছাত্র-জনতা সচিবালয়ের সামনে সমবেত হতে থাকে। সচিবালয়ে প্রবেশের দুটি গেট ছিল আব্দুল গণি রোডের প্রথম গেটে পিকেটিং করেন শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ প্রমুখ। এই গেট দিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যাতায়াত করতেন। তোপখানা রোডের দ্বিতীয় গেটে পিকেটিংয়ে নেতৃত্ব দেন কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলী, খালেক নওয়াজ খান, মো. বায়তুল্লাহ প্রমুখ। তা ছাড়া অন্য স্থানে পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক আবুল কাশেম, মির্জা মাজহারুল ইসলামসহ অন্য নেতারা। ঢাকায় সচিবালয়ের সামনে পিকেটিং করার সময় গ্রেপ্তার হন শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুব, শামসুল হক, আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, অলি আহাদ, শওকত আলী, খালেক নওয়াজ খান, নঈমুদ্দীন আহমদ, বায়তুল্লাহ, রণেশ দাশগুপ্তসহ আরও অনেকে। ১১ মার্চের ধর্মঘট শুধু ঢাকায়ই সীমাবদ্ধ ছিল না। পূর্ব বাংলার প্রায় সর্বত্র ওই দিন ছাত্ররা পূর্ণ ধর্মঘট পালন করেন। রাজশাহী ও সিলেটে ১১ মার্চে পিকেটিং করতে গিয়ে অনেকে রক্তাক্ত হন।
১১ মার্চের গ্রেপ্তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের এক টার্নিং পয়েন্ট। মোনায়েম সরকার সম্পাদিত বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি শীর্ষক গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই তাঁর প্রথম গ্রেপ্তার।’
১১ মার্চের হরতালের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তান-উত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিরোধের ভিত গড়ে দেয় যে ধর্মঘট এম আর মাহবুব
বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এ দেশের উপকূলের কাছাকাছি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জানা গিয়েছে যে, দেশের ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে সেচ দেওয়ার ফলে সেই পানিস্তর নেমে যাচ্ছে এবং সেটা এখন এমন পর্যায়ে যে আর্সেনিক দূষণযুক্ত এলাকাতে সেচের পানি বাহিত হয়ে আর্সেনিক সেখানে উৎপাদিত ধানের মধ্যেও প্রবেশ করেছে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার অশনি সংকেতটিকে বিবেচনা করে কৃষি উন্নয়নের নতুন পথ, নতুনতর কৌশল এখন থেকেই বেছে নিতে হবে।
প্রত্যাশিতভাবেই সরকার এখন ধান বা খাদ্যশস্য উৎপাদনের নতুন পন্থার ওপর জোর দিচ্ছে। শীতকালীন, ভূগর্ভস্থ পানি বা সেচনির্ভর ধানের চেয়ে আমন মৌসুমে উপরিস্তরের পানির ওপর নির্ভরশীল ধানের চাষ বাড়ানোর ধারণাটি এখন সামনে এসেছে। কৌশল পরিবর্তনের এই ধারাটি অবশ্যই সুফল আনতে পারে। তবে শুধু আমন মৌসুমের ধান বা উপরিস্তরের পানির দ্বারা সেচ দিয়ে শস্য উৎপাদন করে এই দেশের খাদ্যশস্যের চাহিদা ৮০-৯০ শতাংশ মেটানো সম্ভব হবে কি না সন্দেহজনক। কাজেই এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের (যা কিনা বেড়ে দ্রুত দাঁড়াবে ২০ বা ২৫ কোটিতে) জন্য খাদ্য সংস্থান কীভাবে করা হবে সেই দুশ্চিন্তাটি এখন থেকেই করা দরকার।
বর্তমান খাদ্যনিরাপত্তা কিন্তু বিশেষভাবে ‘খাদ্যশস্য নিরাপত্তা’ হিসেবে আলোচিত হয়। কিন্তু এ পর্যায়ে এই সত্যটিকে মেনে নিতেই হবে যে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষিজমির সংকোচন ঘটতে থাকবে এবং এ রকম ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশের নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো দুরূহ হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যশস্যভিত্তিক কৃষি উন্নয়নের পরিবর্তে বহুমুখী উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই পন্থা গ্রহণ করার বা সেটা প্রকাশ্যে আলোচনা করার জন্য একটু সাহসিকতার প্রয়োজন। এ ধরনের পরিবর্তন অবশ্যই সময়সাপেক্ষ এবং প্রথম দিকে ধীরগতিতেই এগোতে হবে। তবে এখনই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, দোদুল্যমানতায় থাকলে বা কালক্ষেপণ করলে সমস্যা ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠবে।
কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টিতে অবশ্যই সতর্কভাবে অগ্রসর হতে হবে। কারণ এখানে জড়িয়ে আছে দেশের বিপুল নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নটি। আর যেসব অঞ্চলে আর্সেনিক সমস্যাটি গুরুতর সেগুলো দেশের দরিদ্রতর অংশ। সেখানে উৎপাদন বাড়ানোর সব ধরনের প্রচেষ্টা নেওয়া একটি জরুরি প্রয়োজন। অথচ সেসব এলাকাতেই নতুন সমস্যার উদ্ভব হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বিশেষভাবে সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। সুতরাং যেকোনো পরিবর্তনের শুরুতে তাদের জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী দৃঢ়তর করতে হবে।
২০০৭-০৮ সময়ে চালের মূল্যের দ্রুত ঊর্ধ্বগতি এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা থেকে খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে কিছু অন্তর্দৃষ্টি পাওয়া গিয়েছে। তখন অনুধাবন করা গিয়েছে যে আমদানির ভিত্তিতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জটিলতা ঘটতে পারে। আংশিক আমদানি-সম্পৃক্ত খাদ্যনিরাপত্তার জন্য যে ধরনের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, খাদ্য কূটনীতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ দরকার, সেখানে আমাদের দক্ষতা ও পারদর্শিতা এখনো বোধ হয় যথেষ্ট নয়।
কৃষি উন্নয়নের নতুন পথ ও কৌশল গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।
১. ধান চাষ এবং অন্য ফসল বা প্রাণী-সম্পদ উন্নয়নে আর্থিক বিনিয়োগে যথেষ্ট পার্থক্য থাকবে। ক্ষুদ্র মাত্রায় অন্য খাদ্য উৎপাদনের কাজ হাতে নিতে যে আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধান চাষের চেয়ে বেশি হবে। আর জমির অনুপাত ধানের ক্ষেত্রে বেশি হবে।
২. প্রাণীজাত খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষকের নিজস্ব জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। এই বিষয়ে ন্যূনতম কিছু প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে। তার জন্য কিছু স্কুলশিক্ষা বা অন্তত হিসাবজ্ঞানের ভিত্তিও লাগবে।
৩. এসব উৎপাদন প্রক্রিয়াতে নতুন উপকরণ সবরাহ ও তার ব্যবস্থাপনার নিরবচ্ছিন্ন জাল পাতা থাকতে হবে।
৪. ধান চাষের চেয়ে প্রাণীজ খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকি বেশি হবে। সুতরাং ঝুঁকি কমানোর পন্থা নিতে হবে।
আজকাল নানাবিধ সবজি-ফল ইত্যাদি চাষের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সাফল্যের খবর আসছে। এসব সাফল্যকে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
সবজি ও ফল টিনজাতকরণ শিল্পকে উত্সাহিত করতে হবে। তাতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটতে পারে। শুরুতেই বলা হয়েছে যে ধান চাষের তুলনায় অন্য খাদ্য উৎপাদনে আর্থিক বিনিয়োগ বেশি হতে হবে। সুতরাং ঋণ দেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। দেশের বহুসংখ্যক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান নিশ্চয় এদিকটিতে লক্ষ রাখবে।
শস্য বাদে অন্য খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। তা হচ্ছে, সেসব খাদ্যের মান ও নিরাপদ সংরক্ষণপদ্ধতি। অতিতে বিভিন্ন খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর উৎপাদনের ঘটনা ঘটেছে। দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করতে হলে দেখতে হবে যে এগুলো সংরক্ষণ যেভাবে হচ্ছে তাতে সঠিক পুষ্টিগুণ বজায় থাকে কি না, বিপজ্জনক কোনো উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না। পশুখাদ্যের মান ও ব্যবহূত বিভিন্ন প্রতিষেধক ও পশু চিকিত্সাপদ্ধতি সঠিক কি না সেটাই বা কে দেখবে। চিংড়ি চাষে যেসব ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার হয়েছে তাতে চিংড়ি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে সেগুলোই সুখাদ্য হিসেবে চলছে। এগুলো থেকে ক্ষতি হয়তো অল্পদিনে হবে না। কিন্তু এসব বিষক্রিয়া যখন পরস্ফুিট হবে, তখন বিপরীত দিকে যাওয়া কঠিনতর হবে।
আসলে এ দেশের ধনীশ্রেণীর পরিবারগুলো এসব বিপদ নানাভাবে পাশ কাটিয়ে চলে। যেমন, বিভিন্ন প্যাকেটকৃত তরল দুধে যখন ভেজাল ও মেলামিনযুক্ত গুঁড়ো দুধ মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেল, তার পর থেকে অনেক ধনী ব্যক্তি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্যাকেটের তরল দুধ বেছে নিলেন। এসব কারণে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার উত্সাহ কমে যেতে পরে (যেমনটি ঘটেছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে চেষ্টার অভাবের ক্ষেত্রে, কারণ যাদের সংগতি আছে তারা তো সেখানে না গিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে বা বিদেশে যাচ্ছে এবং নীতিনির্ধারকও সেই শ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত)।
ধান বাদে অন্য খাদ্য উৎপাদন, শস্য বা অ-শস্য, যা-ই হোক, বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে শুরুতেই এসবের ভ্যারাইটি উন্নয়ন, মান উন্নয়ন, চিকিত্সাব্যবস্থা ও উপকরণের মান নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হবে। এ দেশের কৃষি গবেষণার সিস্টেমে যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদের ভূমিকা সুস্পষ্ট করতে হবে এবং দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উৎপাদনকারীদের সচেতন করতে হবে, যেন তারা দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বা উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য ক্ষতিকর উপকরণ বা ক্ষতিকর পদ্ধতি ব্যবহার না করে। ভোক্তাদেরও এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে। নিয়মিতভাবে বাজারে চালু পণ্যের মান পরীক্ষা করার প্রথা থাকতে হবে।
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে। এ দেশে মানুষ ও জমির অনুপাত খুব বেশি এবং কৃষিজমি যে হারে কমছে তা আশঙ্কাজনক। অকৃষি বা শিল্প উন্নয়নে কিছু না কিছু জমি লাগছে। তা ছাড়া প্রতিবছর নতুন পরিবারের জন্য বাসস্থান নির্মাণ হচ্ছে। এগুলো অবশ্যই চলবে। কিন্তু এ বিষয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। কোন ধরনের জমি কী কাজে লাগানো যাবে তার নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি জরুরি কাজ।
আরও একধরনের ব্যবহারের জন্য জমির মালিকানা বদল হচ্ছে। যেসব অঞ্চলে ভালো সড়কপথ হচ্ছে, তার আশপাশের অধিকাংশ জমি এখন অ-কৃষকের হাতে। এসব জমি এখন আক্ষরিক অর্থেই সোনার চেয়ে দামি। সেগুলো বিলাস ও বিনোদনের জন্য ব্যবহূত ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে শোভা পাচ্ছে। এর ফলে কত যে কর্ম নিয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে, কত শস্য আলোর মুখ দেখল না, সেসব কথা কি কেউ ভাবছেন? এসব জমি অন্তত যদি শিল্প স্থাপনার জন্য ব্যবহূত হতো তাহলেও কিছু সুফল আনত। এই বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সামগ্রিক ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় হাত দেওয়া প্রয়োজন।
শুরুতে যে কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, সে বক্তব্যে ফিরে আসি। এ দেশের খাদ্যচাহিদা মেটাতে চালের পরিমাণ কমিয়ে অন্যান্য খাদ্য প্রাত্যহিক তালিকাতে ঢোকানোর চিন্তা করতে হবে। এটা শুধু চালের সাশ্রয়ের জন্য ও চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমানোর জন্য নয়। এতে পুষ্টি সমস্যারও সমাধান হবে, বিশেষত শিশু ও মাতৃত্বকালীন পুষ্টি বাড়বে। তবে এই পথে দুটি বাধা: প্রথমত, এটা যে অধিকতর পুষ্টিকর সেই বিষয়টিতে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা কঠিন এবং দ্বিতীয়ত, সর্বসাধারণের আয় বাড়ানো দরকার হবে, যাতে তারা অন্যান্য খাদ্য, বিশেষত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য কেনার কথা ভাবতে পারে। আসলে দ্বিতীয়টি ছাড়া প্রথম পদক্ষেপ কার্যকর হবে না (বরং সেই রানির গল্পটিই সবার মনে পড়বে, যিনি সবাইকে রুটির পরিবর্তে কেক খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন)।
চালপ্রধান খাদ্য বিন্যাস এ দেশে চালু এ জন্য যে এটাই উদরপূর্তির সবচেয়ে কম ব্যয়সাধ্য উপায়। ‘ভেতো বাঙালি’ হয়ে ওঠা শুধু স্বভাবজাত কারণে হয়তো হয়নি। কাজেই অন্য খাদ্যের দিকে ঝুঁকতে বললে প্রশ্ন উঠবে, কেন আমরা ওগুলো কিনব অর্থাত্ ‘ভাত পাই না, আর বলে কিনা মাছ-মাংস কেনো—এ কী প্রহসন!’ সুতরাং অ-শস্য খাদ্য উৎপাদনের কৌশল হবে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে এই কাজে সম্পৃক্ত করা। তাতে তারা নিজেদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং এসব পণ্যের উৎপাদনকারী হিসেবে এগুলো দৈনন্দিন খাদ্য তালিকাতে গ্রহণ করতে উত্সাহী হবে।
সাম্প্রতিক একটি গবেষণাতে দেখেছি, আয় একই রকম হলেও যেসব পরিবার চাল বেশি উৎপাদন করে, তাদের খাদ্যে চালের পরিমাণ বা ক্যালোরির পরিমাণ বেশি। অন্য খাদ্যের বেলায়ও একই বিষয় প্রযোজ্য হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে একই গবেষণাতে অন্য একটি বিষয় বোঝা গিয়েছে। স্কুল পাঠ্য বইতে, বা স্কুলের শিক্ষাতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয় খুব কম। স্কুল প্রায় শেষ হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করে দেখা গিয়েছে, কোন খাদ্যে কী ধরনের পুষ্টিগুণ আছে, সেগুলো কেন খেতে হবে এসব সম্পর্কে তেমন কোনো জ্ঞান তারা অর্জন করেনি। সুতরাং স্কুল শিক্ষায় যেন এসব জ্ঞান বাড়ানোর বাস্তব বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয় সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
দেশ ও জাতির ক্রম অগ্রগতির জন্য প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়েই যেতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেলে শীতকালীন সেচনির্ভর ধানের পরিবর্তে অন্যান্য শস্য ও প্রাণী-সম্পদ উন্নয়ন, উপরিস্তরের পানি দিয়ে সেচ ইত্যাদি পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তবে এই কারণে যেন নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখে দীর্ঘমেয়াদের উন্নয়নকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আসলে এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে, যেখানে কৃষিজমি ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, সেখানে একযুগ পরে শিল্প ও প্রশস্ত সেবা খাতনির্ভর একটি অর্থনীতি এবং সেই সঙ্গে শস্য ও অন্য খাদ্য উৎপাদনের একটি সমন্বিত পন্থাই হওয়া দরকার আমাদের লক্ষ্য।
ড. রুশিদান ইসলাম রহমান: অর্থনীতিবিদ। গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাম বদলে আমজনতার কী লাভ by সোহরাব হাসান
বাংলাদেশেও যারা বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন বা অতীতে ছিলেন, তারা কমবেশি এই নীতি অনুসরণ করে চলেছেন। ভবিষ্যতে যারা আসবেন, তাদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই ধারণা করি। তবে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীনদের আরেকটি ফরজ কাজ হয়ে দাঁড়ায় পুরোনো নামফলক তুলে নতুন নামফলক বসানো। প্রবাদ আছে—নামে কী বা আসে যায়। কাজই নাকি আসল পরিচয়। কিন্তু আমাদের জনদরদি নেতা-নেত্রীরা কাজের চেয়ে নামকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারি বেতার-টিভিতে হররোজ তাঁদের নাম ও মহিমা প্রচার হয়। পত্রিকার পাতায় নিজেদের ছবি দেখে তাঁরা যারপরনাই আহলাদিত হন। আবার বিরোধী দলে গেলে সরকারি বেতার-টিভিতে কারও চেহারা দেখা যাবে না, কথাও শোনা যাবে না। এই হলো কথিত গণতান্ত্রিক শাসনের অদ্ভুত নীতি। এ কারণেই ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকার জন্য মরিয়া তাঁরা। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ মঙ্গলবার সংসদে আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁরা ক্ষমতায় আসবেন এবং আওয়ামী লীগের বদলে দেওয়া নাম তাঁরা আবার বদলে ফেলবেন। এই যে বারবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করা হচ্ছে তাতে আমজনতার কী আসে যায়?
নির্বাচনের আগে নেতা-নেত্রীরা জনগণের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাঁরা জনগণের কথা খুব একটা মনে রাখেন না। নির্বাচনের আগে নেতা-নেত্রীরা বড় বড় বুলি কপচান। কেউ বাংলাদেশকে ইমার্জিং টাইগার হওয়ার খোয়াব দেখান, কেউ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর থাকেন। কিন্তু সেসব স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিতে যাচ্ছে। ঢাকা মহানগরের স্থান পৃথিবীর মন্দ শহরের তালিকার দ্বিতীয় শীর্ষে। রাস্তায় ভয়াবহ যানজট। গ্রীষ্ম না আসতেই ঘন ঘন লোডশেডিং। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। বাড়ছে মশার উপদ্রব। সেসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। সংসদে জনগণের অভাব-অভিযোগ, সমস্যা-সংকট নিয়ে কথা হয় না। জনপ্রতিনিধিরা ব্যতিব্যস্ত মৃত নেতাদের মুরদাবাদ ও জিন্দাবাদে।
গত ৩৯ বছরে বাংলাদেশে কোনো উন্নতি হয়নি তা বলব না। উন্নতি অবশ্যই হয়েছে। রাজনীতিকদের ভাগ্যের বদল হয়েছে। সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ভাগ্যের বদল হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাগ্যের বদল হয়েছে। ধনীরা আরও ধনী হয়েছেন। যাঁরা আগে গলি-ঘুপচিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন, তাঁরা গুলশান-বনানীর আলিশান বাড়িতে উঠে গেছেন। কিন্তু ভাগ্যের বদল হয়নি সাধারণ মানুষের। এখনো তাঁরা খোলা বাজার থেকে ২২ টাকা কেজি চাল কেনার জন্য লাইনে দাঁড়ান, জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদপিষ্ট হন। তৈরি পোশাক কারখানায় দৈনিক ১০/১২ ঘন্টা শ্রম দিয়েও নিয়মিত বেতন পাননা। দারিদ্র্য কমাতে সরকারি-বেসরকারি এত উদ্যোগ-আয়োজন, এত সভা-সেমিনার, দাতাদের এত ঋণ-অনুদান; তার পরও দেশের শতকরা ৪০ ভাগ লোক মনবেতর জীবন যাপন করছে। জনসংখ্যার অর্ধেক শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। শিশুদের বড় অংশ বেঁচে থাকার জন্য শ্রম দিতে বাধ্য হয়। গ্রামগঞ্জে ফতোয়াবাজির শিকার হচ্ছেন অসংখ্য নারী। এর প্রতিকার ও প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
নেতা-নেত্রীরা বর্তমান নিয়ে ভাবেন না। তাঁরা অতীত চর্চায় জীবন ও রাজনীতির অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেন। শুনেছি, ভূত নাকি পেছনের দিকে হাঁটে, আমাদের নেতা-নেত্রীদের অবস্থাও তা-ই। মীমাংসিত বিষয় নিয়ে তাঁরা ঝগড়া-ফ্যাসাদে আনন্দ পান। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দেখে নেওয়ার এবং দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঝগড়াটি ব্যক্তিগত বা দলীয় পর্যায়ে সীমিত থাকলে আমজনতার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যখন রাষ্ট্রকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখনই ঝামেলা বাধে। এক পক্ষ নাম বদলে মরিয়া হয়ে ওঠে, অন্য পক্ষ সেই বদল ঠেকাতে মাঠে নামে। নাম নিয়ে এত কাদা ছোড়াছুড়ি অন্য কোনো দেশে হয় বলে জানা নেই।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বাংলাদেশের স্থপতি, সে ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছেন, তাও অস্বীকার করা যাবে না। তাই বলে যত্রতত্র তাঁর নাম ব্যবহার করতে হবে কেন? এতে কি তাঁর মর্যাদা বাড়ে না কমে? একটি সাফারি পার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থপতির নাম যুক্ত করারই বা কী যুক্তি থাকতে পারে? জিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা পদক দিয়ে বিএনপি একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারও সবকিছু থেকে জিয়ার নাম মুছে দিয়ে সংকীর্ণতার পরিচয় দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতারাই বলছেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়ার তুলনা হতে পারে না। সেই তুলনা যারা করেন নিঃসন্দেহে তারা মতলববাজ। কিন্তু এও মানতে হবে ২৮ বছর পর জিয়া বিমানবন্দরের নাম বদলানো ঠিক হয়নি। স্পিকার বলেছেন, দুই দলই সওয়াব কামাচ্ছে। আসলে তারা সওয়াব কামাচ্ছে না, নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে। মওদুদ আহমদের দাবি অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে বা পরের যে কোন নির্বাচনে যদি ক্ষমতায় এসে তাঁরা নাম বদলের প্রতিশোধ নেন, তখন কী হবে? জিয়াউর রহমানের যতই দোষ থাকুক, এরশাদের চেয়ে খারাপ লোক তিনি নন। জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে কূটনীতিকের চাকরি দিয়েছেন। এ অভিযোগ অসত্যনয়। তবে ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ডের অন্যতম হোতা সৈয়দ ফারুক রহমানকেদেশে এনে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী করার কাজটি করেছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বর্তমানে মহাজোট সরকারের শরিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের সহযাত্রী। এখানে সুবিধা না তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গেই জোট বাধতেন। ক্ষমতার রাজনীতি কাকে কখন কোথায় নিয়ে যায় বলা কঠিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির আমলে দুই থেকে আড়াই শ প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম তারা বদল করেছে সিদ্ধান্ত নিয়ে, আরবাকিগুলো করেছে গায়ের জোরে। যেমন—বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু, চট্টগ্রাম এম এ হান্নান বিমানবন্দর, জলযান এসটি শহীদ শেখ কামাল, জলযান এসটি শেখ জামাল, জলযান এসটি শেখ রাসেল, এসটি শহীদ সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, চন্দ্রিমা উদ্যান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, শহীদ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি, শহীদ এম মনসুর আলী অডিটরিয়াম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, শেখ ফজলুল হক স্মৃতি মিলনায়তনের নাম বদলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলকও তারা তুলে ফেলার চেষ্টা করেছিল। সফল হয়নি। অন্যদিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়াম, সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম ইত্যাদির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে সিদ্ধান্ত নিয়ে। এসব সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তি ও দলীয় বিদ্বেষ যেমন কাজ করেছে, তেমনি কাজ করেছে নগদ নারায়ণও। প্রতিটি নামফলক বদলাতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন করে সাইনবোর্ড লেখানো হয়েছে, প্যাড ছাপাতে হয়েছে, মনোগ্রাম বদলাতে হয়েছে। এ নাম বদলের মাহাত্ম্য ফাঁস করে দিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কর্মরত এক বন্ধু। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক যে রাতারাতি লিমিটেড কোম্পানি করা হলো, তাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন না এলেও নতুন নামফলক ও প্যাড-সিল-মনোগ্রামের ঠিকাদারি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে একটি শ্রেণী। ১৯৭২ সাল থেকে পুলিশের যে মনোগ্রাম চালু ছিল, বিএনপি নেতাদের হঠাত্ মনে হলো—এতে মান-ইজ্জত আর থাকে না। মনোগ্রামে নৌকা থাকলে যদি পুলিশের জাতীয়তাবাদী চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়! হায়রে সংকীর্ণ রাজনীতি। তবে পুলিশের মনোগ্রাম বদলের পেছনে যেমন নৌকাবিদ্বেষ ছিল তেমনি ডান্ডি ডায়িংকে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিয়ে উপরি আয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার ভৈরবে মেঘনা সেতুর নামকরণ করেছিল মক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে। তারা কাজটি শেষ করে যেতে পারেনি। সেতু উদ্বোধন হয় বিএনপি আমলে এবং যথারীতি নাম বদল করা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে তার প্রতিবাদও হয়। জবাবে তত্কালীন অর্থমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বলেছিলেন, কোথাকার কোন নজরুল ইসলাম, তাঁর নামে সেতুর নাম রাখতে হবে কেন? সাইফুর রহমান মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে গিবত গাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু যে কথাটি বলা প্রয়োজন—বাংলাদেশের ইতিহাসে সৈয়দ নজরুল ইসলামের যে স্থান, অর্থমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড সৃষ্টিকারী সাইফুর রহমান কখনোই তার ধারে কাছে যেতে পারবেন না।
বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম বদল করে বিএনপি খারাপ নজির স্থাপন করেছিল। অওয়ামী লীগকেও একই কাজ করতে হবে কেন? জনগনকে যারা ডিজিটাল বাংলাদেশের খোয়াব দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তাদের অতীত আশ্রয়ী হলে চলেনা, দৃষ্টি সামনে রাখতে হয়।
নাম বদল নিয়ে এর আগেও লিখেছি। তবে এবারে পুরনো কথা এড়িয়ে নতুন কিছু বলার চেষ্টা করেছি। আশা করতে চাই, এ বিষয়ে এটাই শেষ লেখা হবে। নাম বদল নিয়ে ভবিষ্যতে লিখতে হবেনা। আর সরকারের যদি সুমতি না হয় তা হলে আবারও লিখতে হবে। বার বার গাইতে হবে পুরনো গীত।
সোহরাব হাসান: কবি ও সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনের তাৎপর্য by রবার্ট ফিস্ক
এবারের নির্বাচনে সুন্নিরাও ভোট দিল। পশ্চিমারা চায় অতীতকে ভুলতে, এমনকি নিকট অতীতকেও। সংবাদমাধ্যমে খুব কমসংখ্যক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও কয়েক শ প্রার্থীর উপর একসময় বাথ পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অজুহাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তাঁদের বেশির ভাগ সুন্নি। এটা ছিল স্পষ্টত গোষ্ঠীগত রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন। উল্লেখ্য, সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ শিয়ারা ‘গণতান্ত্রিক’ ইরাকে এখনো তাদের পদ ঠিকই ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছেন।
ইরাকের নতুন আইনের আওতায় নির্বাচনব্যবস্থা এমনভাবে উল্টেপাল্টে দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো দল এককভাবে ক্ষমতায় আসতে না পারে তা নিশ্চিত করা যায়। ৮৬টি দলের ছয় হাজার প্রার্থীর মধ্যে যারাই সংসদে আসুক না কেন, তাদের ক্ষমতাসীন হতে হলে কোনো না কোনো জোট গঠন করতেই হবে—এমনটাই জানাচ্ছেন টেলিভিশনের বিশ্লেষকেরা। কিন্তু এই সবকিছুর অর্থ হলো, যে গোষ্ঠীগত সরকার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাতে ক্ষমতার বিন্যাস হবে দেশটির শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিদের সংখ্যানুপাতে।
পশ্চিমা বিশ্ব সব সময় মধ্যপ্রাচ্যে এমন ব্যবস্থা চেয়েছে। তারা জানে, এমন ‘গণতন্ত্রে’ যে সরকার আসবে তাতে প্রতিটি গোষ্ঠীর জনসংখ্যা অনুপাতে অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হবে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে এমনটা করা হয়েছে। সাইপ্রাসে করা হয়েছে। ফ্রান্স এমন এক লেবানন তৈরি করে গেছে, যেখানে সংসদ, সরকারি সেবা খাতের মতো জায়গায় প্রতিটি গোষ্ঠীর জনসংখ্যা অনুপাতে অংশীদারি থাকার কথা। এর ফলে প্রতিটি গোষ্ঠী দেশটির অস্তিত্বের স্বার্থে সন্দেহপূর্ণ ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। এমনকি আফগানিস্তানেও পশ্চিমারা দুর্নীতিবাজ হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে লেনদেনে এবং পশ্চিমাদের পক্ষে শাসন চালিয়ে যেতে দিতে আগ্রহী। কারজাই শাসন চালাচ্ছেন বেতনভুক উপজাতীয় সমর্থক গোষ্ঠী নিয়ে তৈরি এক সেনাবাহিনী দিয়ে। এটা হয়তো ‘জেফারসনীয় গণতন্ত্র’ নয়, কিন্তু পশ্চিমাদের পক্ষে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্পও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আর শোচনীয় এসব ব্যবস্থার সমর্থনে পশ্চিমারা বারবার একই ধরনের কথার ধোয়া তোলেন। আপনি কি চান তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসুক? সাদ্দামের প্রত্যাবর্তন ঘটুক? কিংবা সাইপ্রাস বা লেবাননে কয়েক দশক আগের মতো অটোমান তুর্কিদের প্রত্যাবর্তন কি চান? আর নির্বাচনে যতই জালিয়াতি হোক বা নির্বাচনপ্রক্রিয়া যতই জটিল হোক, নির্বাচনের ফল তো একটি অগ্রগতি—এভাবে দেখলে কারা আসলে নির্বাচনে জিতল তা নিয়ে আর ভাবা হয়ে ওঠে না।
ইরাকের সুন্নি রাজনীতিকেরা দাবি করেন, ইরান সামরিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে ইরাকে হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু বর্তমানে শাসক দলগুলোর বেশির ভাগ ইরানে প্রতিপালিত হওয়ায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির হস্তক্ষেপের কোনো দরকার আসলে নেই। যে দলটির প্রতি এখন পশ্চিমারা শ্রদ্ধায় নতজানু হয়, সেই দাওয়া পার্টি বছর কুড়ি আগেও বৈরুতে বিদেশিদের অপহরণ করত, আর কুয়েত সিটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফরাসি দূতাবাসে বোমা হামলা চালিয়েছে। পশ্চিমারা এখন উত্তর ইরাকের মসুল ও অন্য নগরগুলোর নামও নিচ্ছে না। এসব এলাকায় নির্বাচনে গণতন্ত্র কোনো মুখ্য বিষয় নয়, বরং আরব-কুর্দি সীমান্ত এলাকার তেলের নিয়ন্ত্রণ কে করবে তার মীমাংসাটাই প্রধান বিবেচ্য।
ইরাকি জনগণ অত্যন্ত সাহসী। মর্টারের গুলির ভেতর ভোট দিতে যেতেন কয়জন ব্রিটিশ? কিংবা আমেরিকান? মুসলমানেরা স্বাধীনতা বা গণতন্ত্র চায় না এমন নয়। আসলে যখন কোনো দেশ পশ্চিমা সেনাদের দখলে থাকে, তখন সে দেশে ‘গণতন্ত্র’ ভালোমতো কাজ করে না বলে মনে হয়। আফগানিস্তানে ‘গণতন্ত্র’ কাজ করেনি। ইরাক থেকে আমেরিকার ‘যোদ্ধা’বাহিনী প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখে ইরাকে রয়ে যাবে না।
আর যত দিন পর্যন্ত মোবারক আর বাদশাহ আবদুল্লাহর মতো নেতারা পশ্চিমাদের প্রশ্নহীন রাজনৈতিক সমর্থন পেতে থাকবেন, তত দিন তাঁদের দেশগুলো মুক্তি অর্জনের পথে সত্যিকারের কোনো অগ্রগতি ঘটাতে পারবে না।
তাই ইরাকে নির্বাচনের দিনটিতে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বাড়তি কোনো প্রমাণ মেলে না। এই নির্বাচনের সত্যিকার অর্থ হলো, ইরাকের সাহসী জনগণ এখনো বিশ্বাস করে, যে ব্যবস্থার অধীনে তারা ভোট দিচ্ছে তা তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাবে।
অবশ্য অতীতের বহুবারের মতো এই নির্বাচন ধারণ করবে গোষ্ঠীগত বিভক্তিকে, যে বিভক্তি কাজে লাগিয়ে একসময় নির্মম শাসন চালিয়েছিলেন সাদ্দাম। এবার সেই বিভক্তির আত্তীকরণ ঘটছে পশ্চিমাদের চোখের সামনেই।
দি ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব।
রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশ সাংবাদিক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজধানীতে মশককুলের অভিযান -ঢাকা সিটি করপোরেশন কোথায়
ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) হয়তো মশা মেরে হাত নষ্ট করতে চায় না। কামানও দাগে না। ঢাকার দেড় কোটি মানুষকে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচানোর জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাতে অন্তত প্রতিদিন পাড়া-মহল্লায় ছোট ছোট কামান তথা ফগার মেশিন চালালেও তো মশার আক্রমণ কিছুটা কমানো সম্ভব। কিন্তু সিটি করপোরেশনের সেদিকে নজর নেই। মাঠকর্মী ৬০০ জন। তাঁদের সবাই কাজ করছেন কি না, সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি নাকি সম্ভব নয়। ডিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাই যদি এ কথা বলেন, তাহলে মশার রাজত্ব কায়েমের পেছনে আর কোনো কারণ অনুসন্ধানের দরকার পড়ে কি?
মশার বিরুদ্ধে অভিযান যথাযথভাবে চলছে কি না, তা উপলব্ধির জন্য দু-একটি এলাকায় মশার খবর নেওয়াই যথেষ্ট। মাঠকর্মীরা কাজ করলে মশার উপদ্রব কমার কথা। সমস্যা যখন বাড়ছে, এর মানে কাজ ঠিকঠাকভাবে চলছে না। মশা মারার জন্য নাগরিকেরা ট্যাক্স দেবে আর মশারা সেই নাগরিকদের রক্ত খাবে, এটা চলতে পারে না। সিটি করপোরেশনের কাজের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি না থাকার কারণেই এ রকম হচ্ছে।
মশা ক্ষুদ্র হলেও ভয়ংকর পতঙ্গ। এর কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, গোদ, এনসেফালাইটিসসহ নানা রকম জটিল ও প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। একে অবহেলা করা যায় না। যেকোনো মূল্যে মশা নির্মূল করতে হবে। এটা সম্ভব। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় মশা ছিল না। পূর্ব পাকিস্তানের তত্কালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরী সফল অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে মশা বিতাড়ন করেন। ষাটের দশকেও ঢাকায় মশা ছিল না। তখন তো নর্দমা, জলাশয় কম ছিল না। কচুরিপানাও ছিল। কিন্তু সেই সঙ্গে ছিল গাপ্পি মাছ। ছোট ছোট এই মাছ মশার ডিম-বাচ্চা সব খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মশা নির্মূল করে। সিটি করপোরেশন এদিকে মনোযোগ দিলে পারে।
তবে নিয়মিত ওষুধ স্প্রে না করলে চলবে না। নর্দমা ও জলাশয়গুলো পরিষ্কার রাখাও জরুরি। ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকলে মশা থাকবে না। এ জন্য তাদের একটি সেল খোলা দরকার। ঢাকার কোন অঞ্চলে মশার উপদ্রব কতটা, সেখানে করপোরেশনের কর্মীরা কাজ করছে কি না, এসব ব্যাপারে সেই সেল নিয়মিত খোঁজখবর রাখবে। মশা মারার জন্য এর চেয়ে বড় ওষুধ আর নেই।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত জাতিসংঘের কর্মীদের প্রতি বান কি মুনের শ্রদ্ধা
অনুষ্ঠানে বান কি মুন নিহত কর্মীদের উদ্দেশে আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তোমাদের কখনো ভুলব না। তোমাদের কর্মকাণ্ড আমরা চালিয়ে নিয়ে যাব।’ নিহত কর্মীদের এই স্মরণ সভায় তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে শত শত জাতিসংঘ-কর্মী যোগ দেন।
হাইতির প্রেসিডেন্ট রেনে প্রিভাল এখন ওয়াশিংটন সফর করছেন। হাইতির বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমর্থন আদায়ে তিনি এই সফর করছেন। প্রিভাল বলেন, প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের কারণে দেখা দেওয়া সংকটের প্রথম ধাপ তাঁরা উত্রাতে পেরেছেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গিবাদের দায়ে এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া নগরে জন্ম নেওয়া রোজকে অক্টোবর মাসে আটক করা হয়। এরপর ওই মামলাটির ব্যাপারে এত দিন কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। মঙ্গলবার রোজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার বিভাগ সূত্র জানায়, কলিন আর লা রোজ নিজেকে ‘জিহাদজেইন’ ও ‘ফাতিমা লা রোজ’ নাম দিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমের প্রচারণা শুরু করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি নিজেকে জঙ্গি সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের ব্যবহার করে বহির্বিশ্বে জঙ্গি তত্পরতা চালানোই তাঁর লক্ষ্য ছিল। সুইডেনের বিতর্কিত কার্টুনিস্ট লারস ভিকসকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। ওই কার্টুনিস্ট মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবি এঁকেছিলেন।
বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। রোজই প্রথম মার্কিন নারী, যাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ আনা হলো।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নোবেল পুরস্কারের অর্থ এখনো নেননি বারাক ওবামা
নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গিবস বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা এখনো নোবেল কমিটির কাছ থেকে ওই অর্থ চাননি। আমার ধারণা, পুরস্কারের অর্থ নোবেল কমিটির কাছেই আছে।
বারাক ওবামার পুরস্কার গ্রহণের পর হোয়াইট হাউস জানায়, পুরস্কারের অর্থ মানবসেবায় ব্যয় করা হবে। রবার্ট গিবস বলেন, আমরা ওই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
২০০৯ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নাম ঘোষণা করা হয়। ১৩ অক্টোবর রবার্ট গিবস সাংবাদিকদের জানান, পুরস্কারের অর্থ মানবসেবায় ব্যয় করা হবে। তবে কোথায় এবং কীভাবে এ অর্থ মানবসেবায় ব্যয় করা হবে সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা কাউকে কিছু বলেননি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোটদানে বিরত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা নিজেও একজন নারী হয়ে কেন এই বিলের পক্ষে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয়ত, মমতা বর্তমান মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের শরিক দল। রাজনীতির বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও ভোটদানে বিরত থাকায় ইতিমধ্যে উঠে এসেছে নানা কথা। সেসব কথাও ছাপা হয়েছে কলকাতার গতকালের পত্রপত্রিকায়। এতে বলা হয়েছে, বিল পাসের ব্যাপারে কংগ্রেস সরকার মমতাকে তেমন পাত্তা না দিয়ে বরং বিজেপি এবং বাম দলকে পাত্তা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা ভোটদানে বিরত থাকেন। আবার কারও কারও মতে, মুসলিমদের জন্য পৃথকভাবে আসন সংরক্ষণ না করায় মুসলিম ভোটব্যাংককে অটুট রাখার জন্য মমতা এই ভূমিকা নিয়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে মমতা বলেছেন, ভোটদানের প্রক্রিয়া যথাযথ না হওয়ায় তাঁরা ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীনে ভিন্ন মতাবলম্বীর মুক্তি চেয়ে শতাধিক মানুষের চিঠি
চীনের পার্লামেন্টের নেতা উ বাংগুওকে উদ্দেশ করে লেখা ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি, দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী লেখিকা নাডিন গর্ডিমার ও চীনা লেখক মা ঝিয়ানও রয়েছেন।
‘চার্টার-০৮’ নামে একটি ঘোষণাপত্র লেখার দায়ে ৫৪ বছর বয়সী লেখক ও সাবেক অধ্যাপক লিউকে গত ডিসেম্বরে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ঘোষণাপত্রে চীনে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেদেশে লিউ মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
শতাধিক লেখক ও বুদ্ধিজীবীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চীনের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন না করে লিউ বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, কাউকেই শান্তিপূর্ণ পন্থায় বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলার জন্য কারাদণ্ড দেওয়া যায় না। তাঁরা চিঠির মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বী লেখকের নিঃশর্ত মুক্তি চান।
বর্তমানে চীনের পার্লামেন্টে ১০ দিনের অধিবেশন চলছে। সংসদে তিন হাজার সদস্য থাকলেও কার্যত তাঁদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেই। ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তই সরকারি নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুলমাতিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া
অস্ট্রেলিয়া সফররত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনো গতকাল বুধবার দুলমাতিনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় ইউধোইয়োনো বলেন, ‘দুলমাতিন আল-কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া বোমাবিশেষজ্ঞ। তাঁর মাথার জন্য এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন।’ তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত পামুলাং শহরে বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি দুলমাতিন নিহত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। অনেক দিন ধরেই আমরা তাঁকে ধরার চেষ্টা করছিলাম।
দুলমাতিনের সংগঠন জেমাহ ইসলামিয়াসহ সব জঙ্গিগোষ্ঠীকে নির্মূল করার ব্যাপারেও অঙ্গীকার করেন প্রেসিডেন্ট ইউধোইয়োনো। তবে দুলমাতিনের নিহত হওয়ার বিষয়ে মুখ খোলেনি ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ। ২০০৮ সালে একবার ফিলিপাইনে বন্দুকযুদ্ধে তাঁর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যায় দুলমাতিন নিহত হননি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে মার্কিন দাতব্য সংস্থায় হামলা, পাঁচজন নিহত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থার অফিসে ঢুকে গুলি করে দুই নারীসহ পাঁচজনকে হত্যা করেছে। তাদের গুলিতে আহত হয়েছেন সাতজন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। গতকাল বুধবার প্রদেশের মানশেরা জেলার ওঘি শহরে দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ঢুকে বন্দুকধারীরা এ হতাহতের ঘটনা ঘটায়। পুলিশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের সবাই পাকিস্তানি। এএফপি।
হামলার সময় উপস্থিত থাকা ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ সাজদিম বলেন, পিকআপ ভ্যানে চড়ে আসা প্রায় ১৫ বন্দুকধারী তাঁদের সবাইকে প্রথমে একটা কক্ষে নিয়ে আটকে ফেলে। তারা তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো ছিনিয়ে নেয়। তারপর কয়েকজনকে পাশের কক্ষে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। তিনি জানান, বন্দুকধারীদের সবাই ছিল মুখোশধারী।
ওয়ার্ল্ভ্র ভিশনের আঞ্চলিক যোগাযোগ কর্মকর্তা রিয়েঙ্ক ভ্যান ভেলজেন নেদারল্যান্ড থেকে টেলিফোনে এএফপিকে বলেছেন, তাঁরা এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন।
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াকার আহমেদ জানান, জঙ্গিরা ওয়ার্ল্ড ভিশনের অফিসে ঢোকার আগে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বেশ কয়েকটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বন্দুকধারীরা সটকে পড়ে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে পড়ালেখার বিষয়ে ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান জঙ্গিরা সে দেশে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা গ্রহণের ঘোর বিরোধী। এ কারণে তারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৫ সাল থেকেই পাকিস্তানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ওয়ার্ল্ড ভিশন। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের জঙ্গিদের হাতে এ প্রতিষ্ঠানের চার কর্মচারী নিহত হন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দরিদ্র বেকারদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি
রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রধান অতিথি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ, সহসভাপতি আবু আলম চৌধুরী ও পরিচালক গোলাম দস্তগীর গাজী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ‘এফবিসিসিআই ফাউন্ডেশন’ গঠন করে। এই ফাউন্ডেশন ‘এক ব্যবসায়ী এক পরিবার’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এতে প্রতিবছর সাত থেকে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এ প্রকল্পের আওতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলার ৪৮৭ জনকে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন সেচপাম্প, ভ্যানগাড়ি প্রভৃতি প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এফবিসিসিআই দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে—এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ ধরনের কাজ ব্যবসায়ীদের করা উচিত। এতে ব্যবসায়ীদের ভাবমূর্তি অনেক বাড়িয়ে দেয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ী কালো চেহারার ও বিষদাঁত বের করা, যাঁরা কৃত্রিম সংকট ও মজুদ করে চিনি ও ভোজ্যতেলের দর বাড়িয়ে দেন। যাঁদের কারণে সবার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তিনি ব্যবসায়ীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পর্ষদ গত দুই বছরে যত কাজ করেছে, এটি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এফবিসিসিআইয়ের এ কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য সংগঠনও এ ধরনের সাহায্য দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় নামবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে অনেকেই ভুল প্রচারণা করছেন। সরকারকে দেশের বেসরকারি খাতকে সহায়তা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা দেবে। এফবিসিসিআই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে সরকারের কাজের সহায়তা করছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সহায়তা করতে হবে। তিনি দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পণ্য ঘাটতি মেটাতে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
আনিসুল হক বলেন, এফবিসিসিআই ফাউন্ডেশন প্রাথমিক অবস্থায় বছরে সাত থেকে ১০ হাজার অর্ধশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত লোকের চাকরি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রথম বছর প্রয়োজনের তুলনায় সাড়া কম পড়েছে। তবে এফবিসিসিআই থেকে উদ্যোগ নিলে বছরে ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
আনিসুল হক আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪৮৭ জনকে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন, সেচপাম্প, ভ্যানগাড়ি প্রভৃতি প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬১ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে। এ ছাড়া ২০৫ জন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
আনিসুল হক আরও বলেন, দেশের প্রায় ৫০ লাখ ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রত্যেক ব্যবসায়ী যদি একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার দায়িত্ব নেন, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনৈতিক চেহারার আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে।
পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে টাঙ্গাইলের পাপিয়া বেগম ও বরিশালের ইশরাত জাহানের হাতে সেলাই মেশিন এবং প্রতিবন্ধী যুবক নওশের আলীর হাতে একটি কম্পিউটার তুলে দেন। এফবিসিসিআই ফাউন্ডেশন থেকে অনুষ্ঠানে আগতদের দুপুরে আপ্যায়ন করা ছাড়াও দূরত্ব ও স্থান অনুসারে আসা-যাওয়া ও পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনীয় ভাড়া প্রদান করা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনসিসি ব্যাংকের নতুন ডিএমডি স্বপন দাশ
স্বপন কুমার দাশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৯ সালে জনতা ব্যাংকে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ব্যাংকে এবং ১৯৮৫ সালে তত্কালীন ন্যাশনাল ক্রেডিট লিমিটেডে (এনসিএল) যোগ দেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি এনসিসি ব্যাংকের কক্সবাজার, চট্টগ্রামের জুবিলী রোড ও খাতুনগঞ্জ শাখা এবং ঢাকার মতিঝিল প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রপ্তানি-আয়ে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে দেশে পণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে চার শতাংশের বেশি কমেছে।
আবার চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের প্রকৃত রপ্তানি-আয় এই সময়ের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ কম।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৮৭০ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যেখানে এই সময়কালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৯১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার।
এতে আরও দেখা যায়, শুধু জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১৪২ কোটি ৬২ লাখ ডলার, যা গত বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় সাড়ে তিন শতাংশ বেশি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে তৈরি পোশাক, নিট পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল একদিকে যেমন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি, অন্যদিকে তেমনি গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের চেয়ে কম আয় করেছে।
জুলাই-জানুয়ারি সময়কালে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় সাত শতাংশ ও আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ কম।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩১৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাত শতাংশ এবং এবারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ শতাংশ কম।
ইপিবির পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, চামড়া ও পাদুকা রপ্তানি-আয় দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ কোটি ডলার ও ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় যথাক্রমে দশমিক ৯০ শতাংশ ও আড়াই শতাংশ কম।
এ ছাড়া আলোচ্য বছরের সাত মাসের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চামড়া ও পাদুকা রপ্তানি-আয় ছিল যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ১১ ও সাড়ে ১০ শতাংশ কম।
এই সময়কালে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ২৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন শতাংশ কম।
অন্যদিকে কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি শুধু আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি হয়নি, বরং চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে।
আলোচ্য সময়কালে কাঁচাপাট ও পাটজাত রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলার ও আট কোটি ডলার। এই দুই পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যথাক্রমে ৪৮ ও ৩৮ শতাংশ এবং এবারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যথাক্রমে ৪৪ ও ২৭ শতাংশ হারে বেশি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যাত্রা শুরু করল এবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক
বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগী এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা।
রাজধানীর দিলকুশার বিসিআইসি ভবনে গতকাল বুধবার এবিআইএলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবি ব্যাংক ও নতুন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক। এ সময় এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার এ চৌধুরী, পরিচালক সেলিম আহমেদ এবং এবিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে মূল ব্যাংক থেকে পৃথক করার বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ মেনেই এ কোম্পানিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির ৯৯ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক এবি ব্যাংক লিমিটেড। অর্থাত্ এ কোম্পানির লভ্যাংশ মূল ব্যাংকের হিসাবেই জমা হবে।
ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যক্রম প্রধানত শেয়ারে বিনিয়োগের জন্য গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু তাঁরা এ সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে চান। এর অংশ হিসেবে তাঁরা প্রচলিত ঋণ কার্যক্রমের বাইরে শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সমমূলধন অর্থায়ন বা ইকুইটি ফাইন্যান্সের মতো বিকল্প অর্থায়নও করবেন। সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির অগ্রাধিকার বা প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অর্থায়ন কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফজলুর রহমান আরও জানান, এবিআইএলের মাধ্যমে দেশের বাইরে বসবাসরত অনিবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) উপার্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগের কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য দেশের বাইরে এবিআইএলের শাখা খুলে এনআরবিদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সেবা দেওয়া হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে বিদেশে বসেই দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের ব্যবস্থা করবে এবিআইএল। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের শাখা খোলা হবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খুলনা পাওয়ার ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে যাচ্ছে
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট ফখরউদ্দীন আলী আহম্মদ, খুলনা পাওয়ার কোম্পানির পরিচালক মুহাম্মদ ফরিদ খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ।
সেমিনারে জানানো হয়, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি তাদের ২৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে।
প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা ধরে পাঁচ কোটি ২১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫০টি সাধারণ শেয়ার ছাড়া হবে। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ২০ শতাংশ বা এক কোটি চার লাখ ২৯ হাজার ৬৫০টি শেয়ার। প্রতি ১০০টি শেয়ার নিয়ে একটি মার্কেট লট বা বাজারগুচ্ছ তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ইতিমধ্যে সাতটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে শেয়ারপ্রতি যে দর পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে গড় করে শেয়ারপ্রতি আভাস-মূল্য ১৬২ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন এই আভাস-মূল্যের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে বা কমিয়ে দর প্রস্তাব করবে।
এর পরই বুকবিল্ডিং পদ্ধতি অনুসরণ করে শেয়ারের দর চূড়ান্ত হবে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাহসী সিদ্ধান্ত কিংবা বোকামি
ওয়াকারের মতোই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত অনেকেই। যে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য এই ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’, ওই সফরে দলের ম্যানেজার আবদুল রাকিব তো বুঝেই উঠতে পারছেন না ইউনুস খানকে কেন এর মধ্যে টেনে আনা হলো, ‘ইউনুস শুধু ওয়ানডে সিরিজে খেলেছে। তাঁকে আজীবন নিষিদ্ধ করার মতো কী ঘটনা ঘটল, এই ভেবে আমি বিস্মিত। ইউনুস আসলে ষড়যন্ত্রের শিকার।’
ইউসুফ আর ইউনুসের ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পিসিবি যে অন্যায় করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই ইনজামাম-উল হকের মনে। সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘ইউনুস আর ইউসুফের উচিত আদালতে এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা। পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য এটা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে বোর্ড ভালো কোনো দৃষ্টান্ত রাখল না। যাদের নিয়ে পিসিবি গঠিত, সেখানে কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তিই নেই।’
আরেক সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফও ক্রিকেটারদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইউনুস সব সময়ই অন্যায়ের শিকার হয়েছেন বলে মত তাঁর। সরষের মধ্যেই ভূত আছে বলে মনে করেন তিনি। আর তাই বড় ধরনের রদবদল করতে হলে সেটি পাকিস্তানের ক্রিকেট প্রশাসনেই করা উচিত বলে লতিফের মত।
তবে কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তকে সমর্থনও করছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের দাপট ক্রমেই বাড়ছিল, অসির চেয়ে মসি বড় হয়ে উঠছিল—এমন ধারণায় বিশ্বাসীরা মনে করেন, পিসিবির এই কঠোর সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে। জহির আব্বাস তাঁদের একজন, ‘খেলোয়াড়দের ক্ষমতা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। দলে শৃঙ্খলা বলতে কিছুই ছিল না। খেলোয়াড়দের সামলানো বোর্ডের পক্ষে দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা যদি আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরেও যাই, তারপরও এই সিদ্ধান্তের সুফল আমরা পাবই।’
শৃঙ্খলা একটা বড় সমস্যা ছিল মানছেন রমিজ রাজা। এটাও মানছেন, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ‘কিন্তু একেবারে তাদের নিষিদ্ধ করা, আমি ঠিক নিশ্চিত নই, এটা উচিত হয়েছে কি না। এ ধরনের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া মোটেও ভালো কিছু হলো না’—বলেছেন রমিজ।
সাবেক নির্বাচক আবদুল কাদির আবার বলছেন, ‘এটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ক্রমান্বয়ে পতনের দিকে এগোতে থাকা পাকিস্তানের ক্রিকেটে এটি ইতিবাচক ফল আনবে।’ সরফরাজ নওয়াজও একমত, ‘এর মাধ্যমে জাতীয় দলের ওপর খেলোয়াড়দের প্রভাব শেষ হয়ে গেল। এটা শুভ লক্ষণ। এখন সব খেলোয়াড়ই সতর্ক থাকবে। ইউসুফ আর ইউনুস যা খেলার খেলে ফেলেছে। ওরা এখন বুড়ো। নাভেদ আর আকমলকেও এক বছর নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাকুমিকে নিয়ে রাজনীতি
নিরীহ-নির্দোষ সেই জাকুমিকে ঘিরে শুরু হয়েছে ‘রাজনৈতিক’ বিতর্ক। অন্তত চীনের সাংহাই ফ্যাশন প্লাস্টিক প্রোডাক্টস কোম্পানিটির (এসএফপিপিসি) দাবি সে রকমই। এই প্রতিষ্ঠানের ওপরই দায়িত্ব ছিল আগামী বিশ্বকাপে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য জাকুমির পুতুল বানানো। কিন্তু ফিফার ব্র্যান্ডিং প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ড গ্রুপ (জিবিজি) সম্প্রতি এসএফপিপিসিকে উত্পাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কারখানাটির পরিবেশ স্বাস্থ্যকর নয়। ৮ ঘণ্টার বদলে কর্মীদের ১৩ ঘণ্টা করে কাজ করতে হচ্ছে। শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে শ্রমিক হিসেবে। এবং বেতন হিসেবে দিনে দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন ডলার।
‘নিরীক্ষায় বেশ কিছু অসংগতিপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো গ্লোবাল ব্র্যান্ডস সিএসআরের (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) নীতিবিরুদ্ধ। তাই এই ফ্যাক্টরির উত্পাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয় নিয়ে আপত্তি আছে সেগুলোর সুরাহা করতে তাদের সুযোগও দেওয়া হয়েছে’—গ্লোবাল ব্র্যান্ডস গ্রুপের বিবৃতি।
এদিকে চীনা ওই প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবেই দেখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসএফপিপিসির একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে শিশুশ্রম, স্বল্প মজুরি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ...ইত্যাদি যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সবই বানোয়াট। আসলে এর পেছনে আছে রাজনীতি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন বেকারত্বের হার অনেক বেশি। কিছু কিছু রাজনীতিবিদ কর্মপরিবেশকে স্রেফ একটা অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন।’
এক মাস আগে জিবিজি কারখানা পরিদর্শন করে যাওয়ার পর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তনগুলো ঠিকঠাক হলো কি না, তা নিয়ে আরেক দফা পরিদর্শনে আসার কথা জিবিজির। এরই মধ্যে হুট করে এই স্থগিতাদেশ পেয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বিস্ময় প্রকাশ করেছে। ওই মুখপাত্র যেমন বলেছেন, ‘আমাদের কারখানার পরিবেশ হয়তো সর্বোত্কৃষ্ট নয়, কিন্তু চীনের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করলে বেশ ভালো বলতে হবে অবশ্যই। কাজের পরিবেশ, বেতন পরিশোধ, আইন মেনে চলা—এসব বিবেচনায় আমরা চীনের সেরা কোম্পানিগুলোর একটি। পরিবেশ আরও উন্নত করতে কী করা দরকার এ নিয়ে জিবিজির পরামর্শও আমরা আনন্দের সঙ্গেই মেনে নিয়েছি। চেষ্টা করছি, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার। তবে বাস্তবতা হলো, চীনের বেতন আর কর্মপরিবেশের সঙ্গে ব্রিটেন বা সিঙ্গাপুরের তুলনা করে লাভ নেই।’
এর পেছনে যে একটা রাজনীতি কাজ করছে সেটাও গোপন কিছু নয়। চীনা ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন দলের একজন সাংসদ। দেশটির সর্ববৃহত্ শ্রমিক ফেডারেশন কসাটু এই বলে সমালোচনা করেছে, বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক বেকারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিত। সেখানে উল্টো তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জিতেও খুশি নয় আবাহনী
তবে আবাহনীর খেলা দেখে মনে হয়নি পেশাদার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জোরাল করে তুলেছে দলটি। এদিন আবাহনীর খেলোয়াড়েরা কোনোরকমে গোল ধরে রেখে মাঠ ছেড়ে গেছেন। ৪৪ মিনিটে এসেছে ম্যাচের একমাত্র গোল।
ভাগ্য আবাহনীর সঙ্গী ছিল বলে পুরো ৩ পয়েন্টই হাতে উঠেছে। শেরিফ, ইব্রাহিম, এনামুলরা বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও গোল এসেছে একেবারেই ফাঁকতালে। ইব্রাহিম বল ঠেলেছিলেন শাহেদকে, ফরাশগঞ্জ ডিফেন্ডার রেজাউল বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। সামনেই দাঁড়ানো আবাহনীর তরুণ মিডফিল্ডার শাহেদের পায়ে লেগে রেজাউল ও গোলরকক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় জালে।
পড়ে পাওয়া গোল! শুধু সেটি ভেবেই নয়, দলের পারফরম্যান্সে খুবই হতাশ কোচ অমলেশ সেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে জয়ের তাড়নাই তো ছিল না। হেলেদুলে গা-ছাড়া ফুটবল খেলেছে তারা। এভাবে ভালো ম্যাচ হয় না। ফরাশঞ্জকে সম্ভবত তারা পাত্তাই দিতে চায়নি। এক গোলের ভরসা ছিল না, তবু বেঁচেই গেলাম আজ (কাল)।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোহামেডানে ক্ষোভের আগুন
ওই দিন মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচের আয়োজক বিয়ানীবাজারকে বাংলাদেশ লিগ থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলা হয়েছে কাল সংবাদ সম্মেলন ডেকে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, ভালো মাঠ, লিগ কমিটির পদত্যাগ এবং সুষ্ঠুভাবে লিগ পরিচালনার নিশ্চয়তা না পেলে বাংলাদেশ লিগে মোহামেডান আর খেলবে কি না, সেটাও তারা ভেবে দেখবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা চেয়ে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছেন মোহামেডানের খেলোয়াড়েরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মোহামেডান অধিনায়ক আরমান আজিজ, আমিনুল, জাহিদ হাসান (এমিলি), ওয়ালি ফয়সাল, জাহিদ, আবদুল বাতেন (কমল), শাকিল, সৈকত, মামুনুলকে দেখেই মনে হচ্ছিল, মারধরের শিকার হয়েছেন তাঁরা। কারও পায়ে ব্যান্ডেজ, কারও হাতে।
ব্যথিত ও হতাশ গোলরক্ষক আমিনুল বললেন, ‘সিলেট থেকে আমরা কোনো রকমে জীবন নিয়ে বেঁচে এসেছি। খেলোয়াড়দের বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা ছিল না ওখানে। লাঠিসোঁটা নিয়ে দর্শক, সংগঠকেরা জাতীয় খেলোয়াড়দের ওপর যেভাবে আক্রমণ চালাল, তা এ দেশের ফুটবলে এক কালো অধ্যায়।’
ম্যাচের শেষ মিনিটে বিয়ানীবাজার স্কোরলাইন ১-১ করার পর ঘটনার সূত্রপাত। মোহামেডানের দাবি, বিয়ানীবাজারের ৪-৫ জন খেলোয়াড় অফসাইডে ছিলেন। রেফারি তৈয়ব হাসান ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে আমাদের সর্বনাশ করেছেন। অভিযোগ আছে, মোহামেডান খেলোয়াড়েরা রেফারিকে লাঞ্ছিত করেছেন। তবে আমিনুল বললেন, ‘অফসাইড গোল কেন দিলেন, সেটা জানতে চাইলে তিনি (রেফারি) বলেন, সহকারী রেফারি অফসাইড ধরেননি, তাঁর নাকি কিছু করার নেই। তবে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।’
কী ঘটেছিল আসলে? মোহামেডান ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘মাঠে গর্ত ছিল, হেঁটে গেলেও ধুলা ওড়ে। পরিচর্যা করা হয়নি। আগের বিকেলে মাঠে অনুশীলন করতে গিয়ে দেখলাম, গোলপোস্ট নেই। আছে দুটি ক্রিকেট পিচ, শত শত ছেলে ওখানে খেলছে। আপত্তির পরও শেষ পর্যন্ত খেললাম আমরা, কিন্তু মাঠে ডাক্তার-অ্যাম্বুলেন্স কিছুই ছিল না। পুলিশ ছিল অপর্যাপ্ত। মারধরের শিকার হয়ে পরে বাথরুমে লুকিয়ে আমাদের খেলোয়াড়েরা আত্মরক্ষা করেছে। রাতে পুলিশের সহায়তায় কোনোরকমে ঢাকার পথে রওনা হই আমরা।’
ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব ক্লাবগুলোর। তবে বাফুফের একটা ভূমিকা এতে থাকেই, কেননা মূল আয়োজনটা তাদেরই। সিলেটে ওই ম্যাচ দেখতে যাওয়া বাংলাদেশ লিগ কমিটির সদস্য আবু হাসান চৌধুরী (প্রিন্স) সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, ‘মাঠ ভালো ছিল না। বাফুফের সাধারণ সম্পাদককে ফোনে বিষয়টা জানানো হলে তিনি ‘ম্যানেজ’ করতে বলেন। লিগ কমিটি, রেফারি এবং স্থানীয় আয়োজকদের দায়িত্বহীনতা ও নিরাপত্তার অভাব ছিল। এভাবে একটা ভেন্যুতে পেশাদার লিগ চলতে পারে না। প্রয়োজনে কমিটি থেকে পদত্যাগ করব!’
লিগ কমিটির সভা আজ এবং এ সভার আগে বাফুফের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদী কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁকে ‘মাঠ খারাপ’ জানানোর বিষয়টা সম্পর্কে বললেন, ‘ওটা লিগ কমিটি দেখছে।’ অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন উল্টো সুর তুললেও আবু হাসানই সিলেটের মাঠে খেলা চালানোর সার্টিফিকেট দিয়েছেন!’
মোহামেডান ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান এম এ সালামের ভাষায়, ‘মোহামেডানকে শিরোপা লড়াই থেকে দূরে রাখতে (এক ম্যাচ কম খেলে আবাহনীর চেয়ে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে) এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’ কর্মকর্তা মোস্তাকুর রহমানের ভাষায়, ‘ফুটবল এখন আল্লাহর ওয়াস্তে’ চলছে। রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বিরের কথা, মোহামেডান খেলোয়াড়েরা এভাবে মার খাবে, এমন ন্যক্কারজনক কাজ ভাবাই যায় না। ছাইদ হাসান বললেন, ‘লিগ কমিটির পদত্যাগ করা উচিত।’ জাকারিয়া পিন্টুর কথা, ‘এটা সহ্য করা যায় না, সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। পাশে বসে এসব শোনার পর সিলেটের ছেলে কায়সার হামিদের প্রতিক্রিয়া, ‘আমি লজ্জিত, ক্ষমা চাই।’
ম্যাচ কমিশনার ইব্রাহিম নেসার বলেছেন, ‘সর্বত্রই অব্যবস্থাপনা ছিল।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘দ্বিতীয় সেরা’ টেন্ডুলকার
‘ডন ব্র্যাডম্যান তো গ্রেটেস্ট, এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ডনই এক নম্বর। এর পরই আসে অন্যদের নাম। তাই যুক্তি অনুযায়ী ও (টেন্ডুলকার) সম্ভবত দ্বিতীয় সেরা ক্রিকেটার’—কাল আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত লরিয়াস স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে স্টিভ ওয়াহ বলেছেন সাংবাদিকদের।
টেন্ডুলকারকে দ্বিতীয় সেরা বলার আগে ‘সম্ভবত’ কেন বলছেন সেটিও ব্যাখ্যা করলেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক, ‘কারণ আরও আরও অনেকের নাম আসবে। গ্যারি সোবার্স, ডব্লু জি গ্রেস। তাই সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম বলা মুশকিল।’
টি-টোয়েন্টির উত্থানকে কীভাবে দেখছেন—এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলো ওয়াহকে। ফাস্ট বোলার প্রজাতিটা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে দেখে নিজের আশঙ্কার কথা জানালেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এটা ভয়াবহ যে আমরা ফাস্ট বোলারদের পাচ্ছি না। টি-টোয়েন্টির প্রভাবেই এমনটা হচ্ছে। ফাস্ট বোলারদের অবশ্যই অনেক বেশি চাপ নিতে হয়। টি-টোয়েন্টিতে চার ওভার বোলিং করলেই তিন গুণ বেশি টাকা পাওয়া সম্ভব। তাই দেখছি, ফ্লিনটফ, ব্রেট লি, শেন বন্ডরা টেস্ট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। এটা লজ্জাজনক।’
ক্রিকেটে ইদানীং যা হচ্ছে তার সবটাই যে তাঁর কাছে হতাশার—এমনও নয়। যেমন আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশের ক্রিকেট মানচিত্রে উঠে আসা স্টিভের মনে দারুণ দাগ কেটেছে। ‘এটা দুর্দান্ত একটা স্পোর্টিং গল্প। যেন সিনেমার মতো। বছরের সেরা রূপকথা। শরণার্থী শিবিরে খেলোয়াড়েরা ক্রিকেট খেলতে শিখছে। সেই তারাই দুর্দান্ত ভালো করছে।’
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
-
▼
2010
(9402)
-
▼
March
(743)
-
▼
Mar 12
(22)
- প্রতিরোধের ভিত গড়ে দেয় যে ধর্মঘট by এম আর মাহবুব
- প্রতিরোধের ভিত গড়ে দেয় যে ধর্মঘট এম আর মাহবুব
- নাম বদলে আমজনতার কী লাভ by সোহরাব হাসান
- নির্বাচনের তাৎপর্য by রবার্ট ফিস্ক
- রাজধানীতে মশককুলের অভিযান -ঢাকা সিটি করপোরেশন কোথায়
- হাইতিতে ভূমিকম্পে নিহত জাতিসংঘের কর্মীদের প্রতি বা...
- যুক্তরাষ্ট্রে জঙ্গিবাদের দায়ে এক নারীর বিরুদ্ধে অভ...
- নোবেল পুরস্কারের অর্থ এখনো নেননি বারাক ওবামা
- ভোটদানে বিরত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
- চীনে ভিন্ন মতাবলম্বীর মুক্তি চেয়ে শতাধিক মানুষের চিঠি
- দুলমাতিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া
- পাকিস্তানে মার্কিন দাতব্য সংস্থায় হামলা, পাঁচজন নিহত
- দরিদ্র বেকারদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি
- এনসিসি ব্যাংকের নতুন ডিএমডি স্বপন দাশ
- রপ্তানি-আয়ে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত
- যাত্রা শুরু করল এবি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক
- খুলনা পাওয়ার ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে যাচ্ছে
- সাহসী সিদ্ধান্ত কিংবা বোকামি
- জাকুমিকে নিয়ে রাজনীতি
- জিতেও খুশি নয় আবাহনী
- মোহামেডানে ক্ষোভের আগুন
- ‘দ্বিতীয় সেরা’ টেন্ডুলকার
-
▼
Mar 12
(22)
-
▼
March
(743)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...