Wednesday, July 10, 2019

পাকিস্তানকে কাশ্মির দখলের আহ্বান আল কায়েদা প্রধানের

পাকিস্তানকে কাশ্মির দখলের আহ্বান জানিয়েছেন আল কায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি। ‘মুজাহিদিন ইন কাশ্মির’ শিরোনামে একটি ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি। ইসলামাবাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরকে ভুলো না’। এ সময় পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনীকেও যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদারির দায়ে অভিযুক্ত করেন তিনি।
আইমান আল জাওয়াহিরি বলেন, আমি চাই মুজাহিদিনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে এই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জম্মু-কাশ্মির সরকারকে নিরবচ্ছিন্নভাবে আঘাত করতে, যাতে ভারতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক রক্তপাত হয়। প্রাণহানি ও বিভিন্ন সরঞ্জামহানিসহ দিল্লিকে স্থায়ী ক্ষতি ভোগ করতে হয়।
ভাষণে গত মে মাসে কাশ্মিরে ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত বিদ্রোহী জাকির মুসা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি আল কায়েদা প্রধান। তবে কাশ্মির নিয়ে তার কথা বলার সময় ভিডিওতে মুসার ছবি ভেসে উঠতে দেখা যায়। জাকির মুসাকে আল কায়েদার ভারতীয় সেলের প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। ওই প্ল্যাটফর্মটির নাম ছিল ‘আনসার-ঘাজোয়াত-উল-হিন্দ’।
নিজের ডানদিকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং বাম দিকে আল কোরআন নিয়ে কাশ্মির ইস্যুতে কথা বলেন আল কায়েদা প্রধান। পাকিস্তানের রাজনীতিতে তালেবানের সঙ্গে সমসাময়িক অন্যদেরও তুলনা করেন তিনি।
আইমান আল জাওয়াহিরি বলেন, সবক‘টি পাকিস্তানি সরকার ও সেনাবাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশে মুজাহিদিনকে ব্যবহার করছে। পরে সেই তাদের ওপরই দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
আল কায়েদা প্রধান বলেন, পাকিস্তানের ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।

ট্রাম্প প্রশাসনকে অযোগ্য ও অদক্ষ দাবি করা বৃটিশ রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বৃটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ড্যারচ। ট্রাম্প প্রশাসনকে অযোগ্য, অদক্ষ ও অনিরাপদ দাবি করা তার ইমেইল বার্তা প্রকাশিত হয়ে পরলে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরার সম্ভাবনা দেখা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দেন, তিনি আর ওই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কোনো ধরণের কাজ করছেন না। এরপরই বুধবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন কিম ড্যারচ।
গত রোববার বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে পাঠানো কিছু ইমেইলে ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত কিম ড্যারচ। বৃটিশ এই শীর্ষ ক’টনীতিকের মূল্যায়নে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অপদার্থ, অদক্ষ ও তার ওপর নির্ভর করা যায় না। এছাড়া তিনি, হোয়াইট হাউজকে অকার্যকর ও বিভক্ত বলেও আখ্যায়িত করেন।
বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্তনালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা সিমন ম্যাকডোনাল্ডকে লেখা চিঠিতে ড্যারচ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে বোকা ও মূর্খ বলেছেন। এর অর্থ হচ্ছে তিনি আর এ পদে থাকতে পারছেন না।
তিনি আরো বলেন, ওই ইমেইল ফাঁসের পর পরিস্থিতি এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে আমার পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পরেছে। এ চিঠির উত্তরে ম্যাকডোনাল্ড বলেন, আপনি উদ্বেষ্যপ্রণদিত একটি ফাঁসের শিকার হয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড্যারচের প্রশংসা করেন। ম্যাকডোনাল্ড কিম ড্যারচকে সেরা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন ওই চিঠিতে।
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে জানিয়েছেন, তিনি ড্যারচের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসময় তিনি ড্যারচের পদত্যাগ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। রোববারের ফাঁসের পরও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিম ড্যারচকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। যদিও তার ওই বক্তব্য তিনি সমর্থন করেন না বলেও জানিয়েছেন তেরেসা মে। পদত্যাগের পর মে বলেন, স্যার কিম আজীবন বৃটেনের সেবা করে গেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। একটি সুন্দর সরকার সবসময় তার কর্মচারিদের নির্দিধায় দেয়া উপদেশের ওপর নির্ভর করে। তিনি আরো বলেন, আমি চাই আমাদের সকল কর্মকর্তাই ড্যারচের মত আÍবিশ্বাসী হয়ে উঠুক।
লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি করবিনও কিম ড্যারচের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ড্যারচের সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায্য ও ভুল। তিনি বৃটেনকে সম্মানজনক ও ভালভাবে সেবা দিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়েছে ৬৯টি কেন্দ্রে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় ছয় মাস পর কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেখা গেছে, গত ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারা দেশের ৬৯টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই নির্বাচনে ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯টি কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। যা রীতিমতো বিস্ময়কর এবং দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে বিরল। সমপ্রতি ৩০০ আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের পরই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ও রিটার্নিং  কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসব ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। ইসির ওয়েবসাইটে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল - কেন্দ্র, মোট ভোটার, প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট, বৈধ ভোট, বাতিল ভোট, প্রদত্ত ভোট, শতকরা হার দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ইসি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৩০০ আসনের ৪০ হাজার ১৫৫ কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৯ জন।
এরমধ্যে ভোট পড়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৯১১টি। অর্থাৎ ভোট পড়ার হার ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বৈধ ভোট ৮ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ ভোট। আর বাতিল হয়েছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৯০ ভোট।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সংসদীয় আসন ১ থেকে ১০০ আসনের মধ্যে ২৯টি কেন্দ্রে, ১০১ থেকে ১৯৯ আসনের মধ্যে ২২টি কেন্দ্রে এবং পরবর্তী ১০০ আসনের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। তবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়লেও সবগুলো বৈধ ভোট ছিল না। বাতিল ভোট রয়েছে অনেক। সেক্ষেত্রে ওইসব ভোট কেন্দ্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করা বা অভিযুক্ত ভোট বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ আসনের শিবপুর উপজেলার ২১৬ নম্বর কেন্দ্রের বিলস্বরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মোট ভোটার ২১১৬ জন। কেন্দ্রটিতে প্রার্থীরা পেয়েছেন যথাক্রমে মো. ওয়ায়েজ হোসেন ভুঁইয়া (হাতপাখা-১১৫), জহিরুল হক ভুঁইয়া মোহন (নৌকা-৮৯৫), সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (সিংহ-৪১০), আলমগীর কবির (লাঙ্গল-০), রাজীব হোসেন (গোলাপ ফুল-১০) ও ডা. মো. আলতাফ হোসেন (আম-২)। এখানে বৈধ ভোট ১৪৩২টি; বাতিল ভোট ৬৮৪টি। প্রদত্ত ভোট ২১১৬টি। এর মানে এ কেন্দ্রের ভোটারদের সবাই ভোট দিয়েছেন। এবার সংসদ নির্বাচনের সময় নানা অনিয়মের অভিযোগ করে বিএনপিসহ অনান্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে উচ্চ আদালতেও গিয়েছিলেন অনেক প্রার্থী। ‘জাল ভোট’ দেয়া, এজেন্টদের ‘বের করে দেয়া’, ‘একতরফা ভোট’ দেয়া, ‘কারচুপি’ ও ভোট ‘ডাকাতির’ অভিযোগ এনে ফল চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালেও গিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। অবশ্য ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা গেজেট আকারে গত পয়লা জানুয়ারি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ১০০ শতাংশ ভোট পড়া এবং অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ফলাফল ও নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে এখন আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিশনের এই কর্মকর্তা।
শতভাগ ভোট যেসব কেন্দ্রে: সারাঙ্গাই পলাশবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন-১ (পুরুষ), টেংগনমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মহিলা), কোদালখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খুনিয়াগাছ এস সি উচ্চ বিদ্যালয়, রাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঁচাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় (মহিলা), কাঁচাবাড়ী চৌপতির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঠেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝিনিয়া ধনীর বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, গাড়ালচৌকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এনায়েতপুর ইসলামিয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদ্রাসা, খিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শীতলগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ), মির্জাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সাহাপাড়া হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোচাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরা শামীম এন্ড শাকিল কারিগরী কলেজ, সিধুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোর্দ্দকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভালাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভারশোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফতেপুর (২য়) বি এল উচ্চ বিদ্যালয়, দোবিলা উচ্চ বিদ্যালয়, গুপিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৈজুরী মহিউল ইসলাম সিনিয়র মাদ্রাসা, রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ, আগৈলঝাড়া এস এম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নাঘিরপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গফুর মল্লিক পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খিদির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাঝিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিসকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, জোরবাড়ীয়া উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইজবাগ পাছপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ দত্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আঠারদানা উচ্চ বিদ্যালয়, দ. ঘাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতীখলা উচ্চ বিদ্যালয়, চরশাঁখচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চকহরিচরণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণভিটা উচ্চ বিদ্যালয়, ফাউগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলস্বরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াদিয়া কেএইচ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুলালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাড়ইলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাদিম নগর ইউনিয়ন অফিস, পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড্ডাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিটঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পেটুয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুজাফ্‌ফর আলী হাইস্কুল ও কলেজ, নিচহরা সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়, কচুয়াই সিতাবিধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোটনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকমারকুল দারুল উলুম মাদ্রাসা, উলুচামরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঙ্গাঝিরি ইউনুছ চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
দলভিত্তিক ভোট: দলভিত্তিক ভোটের হিসেবে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬১৫২৪২১৩ ভোট, বিএনপি ৯৯৮৫২০২ ভোট, জাতীয় পার্টি ৪৪০৭৯৩০ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২৫৫৩৭৩ ভোট, এলডিপি ৫৪,০৩১ ভোট, জেপি ১৯৭৪৮৭ ভোট, সাম্যবাদী দল ৩৮৭ ভোট, কৃৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১৪৪১১৫ ভোট, সিপিবি ৫৫৪২১ ভোট, গণতন্ত্রী পার্টি ১৬৪১ ভোট, ন্যাপ ১০০৩০ ভোট, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬৪৬৮৪৪ ভোট, বিকল্পধারা ৫৬৫৯৪০ ভোট, জাসদ ৬৫১০১৭ ভোট, জেএসডি ১১৫০১৩ ভোট, জাকের পার্টি ১০৯৪৪০ ভোট, বাসদ ১৭৩৯৬ ভোট, বিজেপি ৪০১০০ ভোট, তরিকত ফেডারেশন ২৪৪৫১৭ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৯৭৯৬ ভোট, মুসলীম লীগ ১৫২৯৩ ভোট, এনপিপি ৩৬৬১১ ভোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২১৮০০৯ ভোট, গণফোরাম ৫০১৭৩৭ ভোট, গণফ্রন্ট ৫২৭৭ ভোট, পিডিপি ৬১১৩ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাপ ৩৫১৩ ভোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ২৩৮০১ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩১৪৬৮ ভোট, কল্যাণ পার্টি ৪৪৪৩৬ ভোট, ঐক্যজোট ১১৩২৮ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ৫০১৭১ ভোট, ইসলামী ফ্রন্ট ৬০৩৭২ ভোট, জাগপা ৩৭৯৮ ভোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১৭২৬৩ ভোট, খেলাফত মজলিস ৬৯৮৩৮ ভোট, বিএনএফ ১৩২৮৯ ভোট, মুক্তিজোট ১২১৯ ভোট ও স্বতন্ত্র ১৪৯৮৪০১ ভোট।

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গারা, নিহত ৩

প্রবল বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাসে গত ৪ দিনে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জীনবযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে রোহিঙ্গা শিবিরের তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়স্থল হারিয়েছে। মারা গেছে দুই রোহিঙ্গা শিশুসহ ৩ জন। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। জানা যায়, গত ৪ দিনের বিরামহীন বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসস্থলগুলো মেরামত করার কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন সহ বিভিন্ন সংস্থা। এমনটিই জানালেন কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ। এদিকে ভারি বৃষ্টির পানির ঢল ও পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ ৩ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।
নিহতরা হলো- উখিয়ার হাকিমপাড়া ক্যাম্পের শিশু মোহাম্মদ হামিম (৮), মধুর ছড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ  ইব্রাহিম (৭) ও কুতুপালং ২নং ক্যাম্পের ডি ব্লকের মৃত আবু বকরের স্ত্রী মোস্তফা খাতুন (৫০)। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের।
আইওএম-এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলয়েড বলেছেন, বর্ষাকালের মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় আমরা দুই হাজার মানুষকে সহায়তা করেছি। আমাদের সদস্যরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২০১৮ সালের ক্ষয়ক্ষতির থেকেও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জর্জ ম্যাকলয়েড। আইওএম এর ভাষ্য মতে, ২ থেকে ৬ই জুলাই পর্যন্ত ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ১৮৬টি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ২১৬টি, ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১ হাজার ৮৪০টি, বন্যায় বা অন্যান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৪ জন। ভূমিধস হয়েছে ৩৯১টি।

উত্তাল গণবিক্ষোভে প্রত্যর্পণ বিলের মৃত্যু হয়েছে: হংকং-এর শাসক

উত্তাল গণবিক্ষোভের বাস্তবতায় চীনের কাছে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হংকং-এর শাসক ক্যারি ল্যাম। এই বিলটি নিয়ে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে হংকং। এমনকি আন্দোলনকারীরা অঞ্চলটির পার্লামেন্ট ভবনেও ঢুকে পড়ে। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সরকারি দফতরগুলো। মঙ্গলবার ক্যারি ল্যাম স্বীকার করেন, এই গণবিক্ষোভ বিলটি নিয়ে তার সরকারের তৎপরতা পুরোপুরি ভণ্ডুল করে দিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
এর আগে গত মাসে লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে ওই বিলটির জন্য ক্ষমা চান হংকং-এর চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। বিতর্কিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতেরও ঘোষণা দেন তিনি। তবে এরপরও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় বিক্ষোভকারীরা। উল্টো চীনের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দেশে প্রত্যার্পণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্যারি ল্যামের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা বিতর্কিত বিলটি স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে আওয়াজ তোলে।
ইতোপূর্বে কথিত ওই অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলে কোনও কাটছাঁট করা হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন ক্যারি ল্যাম। তবে গণআন্দোলনের মুখে বিলটি স্থগিতের পর উল্টো জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার খোলাখুলি স্বীকার করেন, তার সরকারের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে হংকংজুড়ে এই গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে। বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে।
প্রস্তাবিত বিলে সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন ও তাইওয়ানে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে। কিন্তু চীন এই আইনের সুযোগ নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় বিষয়টি সেখানে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
২০১৮ সালের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দি বিনিময়ের কোনও চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তাইওয়ানও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে।
কথিত এই অপরাধী প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন রাতে অঞ্চলটির রাজপথে নামে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ঢল টানা কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। অঞ্চলটির সরকারি অফিসে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে রাখে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। ব্যাপক গণআন্দোলনের তীব্রতায় বিলটি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।
হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও, ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান।

কেন পালালেন দুবাইয়ের প্রিন্সেস হায়া?

স্বামী দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ মাকতুমকে ফেলে পালিয়েছেন তার স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে হুসেইন। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট কোনো উত্তর মিলছে না। কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়ায় ঘুরছে। একজন শাসকের স্ত্রী তার স্বামীকে ফেলে পালিয়েছেন এটি মিডিয়ার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পাশাপাশি প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে প্রিন্সেস হায়া কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? কোনো কোনো মিডিয়ায় বলা হচ্ছে, তিনি নিজের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার মনে হয়েছে তাকে অপহরণ করা হতে পারে। কারণ, তিনি শাসক শেখ মোহাম্মদের এক মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা সম্পর্কে অনেক তথ্য জেনে ফেলেছিলেন। লতিফাকে দুবাইয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সেখানে লতিফার সঙ্গে কি আচরণ করা হচ্ছে এসব বিষয়ে সত্য কিছু বিষয় তিনি জেনে যান। ফলে তার ওপর পারিবারিক চাপ আসতে থাকে। এ জন্য জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
প্রিন্সেস হায়া বলছেন, জীবনের ভয়েই স্বামীকে ছেড়ে দুবাই থেকে পালিয়েছেন। ৬৯ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ একজন বিলিয়নিয়ার। ইন্সটাগ্রামে তিনি কয়েকটি কবিতা পোস্ট করেছেন। তাতে একজন নারীকে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য দায়ী করেছেন। নিজের স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা ওই কবিতা। উল্লেখ্য, প্রিন্সেস হায়া জর্ডান বংশোদ্ভূত ও বৃটেনে লেখাপড়া করেছেন। তিনি জর্ডানের প্রয়াত বাদশার মেয়ে ও বর্তমান বাদশার বোন। ৪৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস হায়া ২০০৪ সালে শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তবে তিনি শেখ মোহাম্মদের প্রথম স্ত্রী নন। তিনি ছিলেন তার ষষ্ঠ ও কনিষ্ঠ স্ত্রী। বিভিন্ন স্ত্রীর ঘরে দুবাইয়ের এই শাসকের রয়েছে ২৩টি সন্তান। প্রিন্সেস হায়া প্রথমে জার্মানি গিয়েছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে। এখন তিনি বাস করছেন লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেনসের একটি টাউন হাউজে, যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তিনি এখন আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু কেন তিনি দুবাইয়ের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পালিয়েছেন? আবার তিনি এখন জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন?
বিবিসি লিখেছে, তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে প্রিন্সেস হায়া সম্প্রতি তার স্বামীর এক কন্যা শেখ লতিফার দুবাই থেকে পালিয়ে আবার রহস্যজনক ফিরে আসার পেছনে কিছু বিষয় জেনে যান। শেখ লতিফা এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সাগর পথে পালিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতীয় উপকূলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের বাধা দেয় ও পরে দুবাইতে ফিরিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় দুবাইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রিন্সেস হায়া তখন আইরিশ প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সাথে কাজ করেছিলেন।
দুবাই কর্তৃপক্ষ বলছে যে, শেখ লতিফা এখন দুবাইতে নিরাপদে আছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর প্রিন্সেস হায়া সত্যি কিছু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এ নিয়ে তার স্বামীর পরিবার থেকে চাপ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। একটি সূত্র জানায়, তিনিও অপহরণের শিকার হতে পারেন বলে এখন আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে লন্ডনে সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা বিষয়টিকে একজনের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
প্রিন্সেস হায়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং এখন তিনি যুক্তরাজ্যেই বসবাস করতে চান। তবে যদি তার স্বামী তাকে ফেরানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেন তাহলে এটা বৃটেনের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার বিষয় হবে। কারণ, আরব আমিরাত যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ। ঘটনাটি জর্ডানের জন্যও বিব্রতকর। কারণ প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎবোন। আবার জর্ডানের বিপুল সংখ্যক নাগরিক দুবাইতে কাজ করে ও বিপুল রেমিট্যান্স আয় করেন। তাই দুবাইয়ের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো কঠিন হবে জর্ডানের জন্যও।

যজ্ঞ, উলঙ্গ নৃত্যের মাধ্যমে ৩ বছরের শিশুকে নরবলির আয়োজন

একুশ শতকেও বর্বরতার চিত্র দেখা গেল ভারতের আসামের ওদালগুড়িতে। শিক্ষকের পরিবারের তিন বছরের শিশুকে বলি দেওয়ার নৃশংস প্রস্তুতির সাক্ষী হল আসাম। তান্ত্রিকের নির্দেশে শিশুবলির প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে হাঁড়িকাঠে সন্তানের গলা কাটতে শান দেওয়া হচ্ছে খড়গে। তারস্বরে চলছে মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ। যজ্ঞের আগুনের শিখা ঘিরে চলছে পরিবারের উন্মত্ত উলঙ্গ নৃত্য। বর্বরোচিত এই ঘটনা আটকানোর চেষ্টা করে ওদালগুড়ি জেলার গণকপাড়া গ্রামের প্রতিবেশীরা।
উল্টো তাদের দিকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এই উন্মত্ত তান্ডব আটকাতে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষে পুলিশের গুলিতে থামে এই নৃশংস হত্যার চেষ্টা।
ঠিক কী হয়েছিল?
জানা যাচ্ছে, আসামের ওদালগুরি জেলার গণকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা শিক্ষক যাদব চাহারিয়ার বাড়িতে তিন বছর আগে এক মহিলা আত্মঘাতী হন। তারপরেই ঘাঁটি গাড়েন রমেশ চাহারিয়া নামের এক তান্ত্রিক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এই তিন বছরে যাদব চাহারিয়ার পুরো পরিবারকেই কার্যত সম্মোহিত করে রেখেছিল রমেশ তান্ত্রিক। এই তান্ত্রিকের মদতেই পরিবারের লোকেরা তাদের বাইক এবং গাড়িও পুড়িয়ে দেয়। শনিবার বাড়িতে এক পুজোর আসর বসানো হয়, যেখানে হাড়িকাঠ বসিয়ে যাদব চাহারিয়ার এক আত্মীয়ার তিন বছরের শিশুকে সেই হাড়িকাঠে বলি দেওয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকে। চলে যজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ। এমনকি পরিবারের লোকজন উলঙ্গ হয়ে তাকে ঘিরে নৃত্য করতে থাকে। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা এসে এই নরবলি আটকানোর চেষ্টা করলে যাদব চাহারিয়া এবং রমেশ চাহারিয়া গ্রামবাসীদের দিকে ধারালো অস্ত্র নিক্ষেপ করে, ঢিল ছোঁড়াছুড়িও শুরু করে। শুধু তাই ই নয়, তাঁরা নিজেদের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয়।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী এসে পরিবারের সকলকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কাজ না হওয়ায় প্রথমে পুলিশ লাঠিচার্য করে এবং পাঁচ রাউন্ড গুলিও চালায়। পুলিশের গুলিতে জখম হন গৃহকর্তা যাদব চাহারিয়া এবং তার ছেলে। পুলিশ এবং স্থানীয় মানুষের তৎপরতায় নিরাপদে বের করে আনা হয় তিন বছরের শিশুটিকে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ভণ্ড তান্ত্রিককেও।
কিন্তু একুশ শতকে দাঁড়িয়ে কীভাবে একজন শিক্ষক এবং তার পরিবারকে কুসংস্কারাচ্ছন্নে আবিষ্ট করল এই তান্ত্রিক সেখানেই উঠছে প্রশ্ন। কীভাবেই বা দিনের দিনের পর দিন ধরে সম্মোহিত করে রাখলেন এই পরিবারকে? এই ঘটনাকে ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ইমরানের পদত্যাগ দাবি নওয়াজ কন্যা মরিয়মের

ইমরান-খান-মরিয়ম নওয়াজ
নওয়াজ শরিফের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সম্প্রতি ভিডিও প্রকাশের পর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি করেছেন মরিয়ম নওয়াজ। মরিয়মের ফাঁস করা ভিডিওতে নওয়াজের মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারককে বলতে শোনা যায়, অদৃশ্য শক্তির চাপে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিতে বাধ্য হয়েছেন। এক মিছিল থেকে মরিয়ম দাবি করেছেন, এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার বৈধ অধিকার হারিয়েছেন ইমরান।
গত বছরের ডিসেম্বরে আল আজিজিয়া দুর্নীতির মামলায় পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এখন কোট লাখপাত জেলে আছেন তিনি। শনিবার (৬ জুলাই) লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে মরিয়ম নওয়াজ দাবি করেন, তার বাবার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার জন্য বিচারপতিকে ‘ব্ল্যাকমেইল ও বাধ্য’ করা হয়েছে। এর একদিন পরই (রবিবার, ৭ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সে অভিযোগ নাকচ করে দেন অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের বিচারপতি আরশাদ মালিক।
তবে ইমরান খানের কড়া সমালোচনা করেছেন মরিয়ম নওয়াজ। সোমবার গভীর রাতে পাঞ্জাব প্রদেশের মান্ডি বাহাউদ্দিন শহরে মিছিল করেন তিনি। বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পিএমএল-এনের সহ-সভাপতি তিনি। ওই মিছিলে ৪৫ বছরের মরিয়ম বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত ইমরানের।
মরিময়ের দাবি, এই চেয়ারে বসার আর বৈধ অধিকারই নেই পাক প্রধানমন্ত্রীর। জনসভায় ইমরানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, পদত্যাগ করুন এবং বাড়ি চলে যান।
নওয়াজ কন্যার আশা, খুব শিগগিরই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাবেন তার বাবা। তারপরে তিনিই আবার পাক প্রধানমন্ত্রীর গদিতে বসবেন। আর এবার অনেক বেশি জনসমর্থন থাকবে তার।
নিজের দাবির সমর্থনে আরশাদ এবং নাসির বাট নামে পিএমএল-এন-এর এক সমর্থকের কথোপকথনের একটি ভিডিও ক্লিপিংও প্রকাশ করেছিলেন মরিয়ম, যেখানে আরশাদকে বলতে শোনা গিয়েছে, চাপে পড়েই নওয়াজকে জেলে পাঠাতে বাধ্য হন তিনি। নওয়াজ কন্যার অভিযোগ, তার বাবার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার জন্য ওই বিচারপতিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছিলো। কিছু মানুষ তাকে হুমকি দিয়েছিল সাজা ঘোষণা না করলে তার (বিচারপতির) ব্যক্তিগত একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে মূল্য পরিশোধে বাধ্য করতে পারে বাংলাদেশ by মাউং জারনি

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের ক্রিস সিদোতি, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞরা ১২ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে মিয়ানমারে তাদের বাড়িঘরে ফেরানোর চ্যালেঞ্জটি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য গত সপ্তাহে লন্ডনে সমবেত হয়েছিলেন।
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের তাদের মূল স্থানে পুনর্বাসন নিয়ে মিয়ানমার ‘মিথ্যাচার’ করছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন দাবি করার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দেশ ২০১৮ সালের অক্টোবরে পুনর্বাসন নিয়ে একটি চু্ক্তিতে সই করলেও জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশের অস্তিত্ব নেই।
প্রত্যাবাসনের জন্য যে ৮০০ গ্রাম প্রয়োজন, তার মধ্যে মাত্র দুটিতে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখানেই সমস্যাটি নিহিত। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি, ব্যাপকভিত্তিক উপস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উদ্বাস্তু জনসংখ্যার অস্তিত্বগত প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। উদ্বাস্তু ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবদুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যে ৯২০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য চাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র ২২ ভাগ পাওয়া গেছে।
রোহিঙ্গা গণহত্যা থেকে রক্ষা পাওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদান ও খাওয়ানোটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি বোঝা।
তাছাড়া, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেয়াটা হবে মিয়ানমারের গণহত্যাকে বৈধতা দেয়া। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমার উত্তর রাখাইন রাজ্যের আবাসিক লোকজনের বিরুদ্ধে নৃশংস সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।
ওই সময় থেকে মিয়ানমারের সামরিক, বেসামরিক- সব ধরনের সরকারই সব পন্থায় সব ধরনের সহিংস পন্থা অবলম্বন করে আসছে। গত চার দশক ধরে মিয়ানমারে বিরামহীনভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-পরিচালিত নির্যাতন চলছে।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘ দিনের ভয়
মিয়ানমারকে পুরোপুরি বৌদ্ধ রাষ্ট্র বানানো ও ‘বাঙালি’ অনুপ্রবেশকারীদের নির্মূল করতেই রাখাইনে গণহত্যা চালানো হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো, যারা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করতে ব্যাপক নির্মূল অভিযান পরিচালনা করেছে, তারা কেন রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে এত সহজে রাজি হবে? রোহিঙ্গাদের মধ্যে মিয়ানমারের মধ্যে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর অবসান না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নিতে চাইবে না। আন্তর্জাতিক সুরক্ষা, নাগরিকত্ব পুনর্বহাল ও মৌলিক নাগরিক অধিকারের ব্যবস্থা না করা হলে রোহিঙ্গাদের পক্ষেও ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।
তাহলে ঢাকার কৌশল কী হওয়া উচিত? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন, তার একটি হলো মিয়ানমারে উত্তর রাখাইন রাজ্যের ভেতরে নিরাপদ জোন প্রতিষ্ঠা।
আন্তর্জাতিক তদারকিতে এমন একটি অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে রোহিঙ্গারা নিরাপদ প্রত্যাবর্তন করতে পারবে বলে আশা করা যেতে পারে।
বলা নিস্প্রয়োজন, মিয়ানমার এ ধরনের আইডিয়ার তীব্র বিরোধিতা করবে। মিয়ানমার কর্মকর্তারা সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যেই ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্তর্বর্তী সম্ভাবনা
দ্বিতীয়ত, একটি অন্তর্বর্তী সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে ঢাকা। তা হলো গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা।
এই দাবি হওয়া উচিত আশু পদক্ষেপগুলোর অংশবিশেষ। ঢাকা থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের কাছে প্রস্তাব পাঠানো যায়। মালয়েশিয়াও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য একই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
এর বিকল্প পথ রয়েছে আরেকটি। তা হলো গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতার আইনগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির জন্য গাম্বিয়ার নেতৃত্ব ওআইসি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তাতে যোগ দিতে পারে ঢাকা।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের উচিত হবে এখন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য মিয়ানমারের কাছ থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলার দায় পরিশোধের জন্য চাপ দেয়া।
এ ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হলে অন্যান্য রাষ্ট্রও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মূল অভিযান পরিচালনা করতে ভয় পাবে। অপরাধকারী রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারকে অবশ্যই তার অপরাধের জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এবং তা করতে হবে আক্ষরিকভাবেই।

বিসিআইএম-ইসি’র পুনরুত্থান নিয়ে আলোচনায় শি-হাসিনা by অতুল আনেজা

গত মাসে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরের (বিসিআইএম-ইসি) পুনরুত্থানের বিষয়ে একমত হন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর নয়া দিল্লির সমর্থন নিয়ে প্রকল্পটি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে গত ৫ জুলাই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করেছেন জিনপিং। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তাদের আলোচনা নিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেন, এই অঞ্চলের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের বাজারটি যুক্ত করতে বিসিআইএম-ইসি নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করা উচিত ঢাকা ও বেইজিংয়ের।
বিসিআইএম-ইসি নির্মাণে ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চীনের আগ্রহ প্রতীয়মান হয় গত বছরের এপ্রিলেই। সেসময় অনানুষ্ঠানিক উহান সম্মেলনে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে দুই দেশের সম্পর্ক। তখনই করিডোর নির্মাণের প্রকল্পটিকে আলাদা করে উপস্থাপন করেছিলেন শি। এরপর গত মাসে বিশকেকে সাংহাই কর্পোরেশন সম্মেলনের (এসসিও) ফাঁকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার।
করিডোরটি নির্মাণে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে শি ও হাসিনা স্বীকার করেছেন যে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে তাদের। এ ছাড়া, উহান সম্মেলনের পর থেকে ‘চীন-ভারত প্লাস’ সহযোগিতার দিকে জোর দিচ্ছে চীন। এর অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট, নেপাল, আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য প্রকল্পের বিষয়ে যৌথ পদক্ষেপ নেয়ার লক্ষ্যেই এই স¤পর্কের দিকে জোর দেয়া হচ্ছে।
এদিকে,  গত ৫ জুলাই শুক্রবার হাসিনার সঙ্গে আলোচনাকালে ঢাকার অনুরোধে রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানের দিকে জোর দিয়েছে চীনা পক্ষ। আলোচনা শেষে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী সং টাও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটটি আপসে সমাধান করতে ও যথাসম্ভব দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আমরা অং সান সুচি সহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। দুই পক্ষের আলোচনায় এ ছাড়া চীনের বিআরআই মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে দেশটির উপদেশমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ঋণ চুক্তির শর্ত শিথিল করার আবেদন হাসিনার
স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্টকে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ঋণ প্রদান চুক্তির শর্ত কিছুটা শিথিল করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি বাংলাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অঞ্চলগুলোতে ‘বাইব্যাক’ ব্যবস্থার আওতায় চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। চলতি বছরের বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরামের (বিআরএফ) বক্তব্য টেনে তিনি জানান, বিআরআই প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য বিআরএফের অর্থায়ন মডেলটি উন্নীত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে এই ধরনের অর্থায়নে ঋণগ্রহণকারী দেশগুলো চীনের ফাঁদে আটকা পড়ছে। কিন্তু জিনপিং ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ও একটি ডিজিটাল বেল্ট রোড নির্মাণে বাংলাদেশের সহযোগিতা চান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প বিআরআই দেশগুলোতে চীনের অত্যাধুনিক ফাইভ জি প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারে। সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। উল্লেখ্য, ডিজিটাল বেল্ট রোড হচ্ছে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট দ্বারা বিআরআই দেশগুলোকে স্থল, জল ও আকাশসীমায় সংযুক্ত করার একটি প্রকল্প। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার ডিজিটাল বিভক্তি দূর হবে বলে দাবি করছে চীনা পরিকল্পনাকারীরা।
আলোচনায় ‘অবকাঠামোগত নির্মাণ’কে একটি অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন জিনপিং ও হাসিনা। তবে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনা বিনিয়োগের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি। বর্তমানে কক্সবাজারের কাছে মাতারবাড়িতে জাপানের অর্থায়নে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করছে বাংলাদেশ। এর কাছেই সোনাদিয়া বন্দরে অর্থায়নে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে চীন। কিন্তু সেদিকে জোর দিচ্ছে না বাংলাদেশি কর্মকর্তারা।

চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকে ইয়াবা ব্যবসায় by জিয়া চৌধুরী

অভিভাবকের আশা ছিল ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করবে, পরিবারের হাল ধরবে। ছেলেও পড়াশোনা শেষে কিছুদিন চাকরির চেষ্টা করেছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজেও যুক্ত হয়েছে। তবে, পরিবার জানতো না কী কাজ করছে তাদের ছেলে? বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন মো. জুবায়ের আহম্মেদ (২৮)। পড়াশোনা শেষ করে অন্য সবার মতো বেশিদিন চাকরি কিংবা ব্যবসার পেছনে ছোটেননি। ভিন্ন পথে হেঁটেছেন এই তরুণ। যুক্ত হন  মরণনেশা ইয়াবার বেচাকেনার কারবারে। অল্পদিনে আয় করতে থাকেন কাড়িকাড়ি টাকা।
নিজেই গড়ে তোলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি জুবায়ের আহম্মেদের। সিন্ডিকেটর পাঁচ সদস্যসহ ধরা পড়েছেন র‌্যাবের জালে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে জুবায়েরের অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সূত্র জানায়, গাজীপুরের টঙ্গী ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ইয়াবা কারবারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন জুবায়ের। জুবায়েরকে প্রশ্রয় দিতেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে তাকে আইনের আওতায় আনতে কৌশলগত কারণে নাম প্রকাশ করতে চায় না র‌্যাব। চক্রটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ইয়াবা বহন করতো। কখনো যাত্রীবাহী বাসে, কখনো মৌসুমী শাক-সবজি বহনকারী ট্রাকে করে, কখনো ধান, ভুট্টা বহনকারী গাড়িতে করে, কখনো ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়াবার চালান আনতো তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো চক্রটি।
গ্রেপ্তার হওয়া জুবায়েরের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, মাদকের চালানগুলো অভিনব কায়দায় পায়ুপথে ও পেটের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে টেকনাফ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হতো। ৫০টি ইয়াবার ছোট-ছোট প্যাকেটে নারকেল তেল মেখে পিচ্ছিল করে বিশেষ কৌশলে পায়ুপথ দিয়ে পেটের ভেতরে প্রবেশ করানো হতো। এই চক্রের কাছে টেকনাফের অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল ইয়াবা সরবরাহ করতো বলেও র‌্যাবের কাছে জানিয়েছে জুবায়ের। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্পটে খুচরা বিক্রিসহ পাইকারি চালানেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দিতো। গত ১০ জুন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে জুবায়ের আহম্মেদসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন- সাইদুল ইসলাম (২৩), মিঠু (২৮), আনোয়ার (৩২), আসাদ হোসেন (৩৫), খায়রুল ইসলাম (২৮)। এসব বিষয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম মানবজমিনকে বলেন, এই ইয়াবা চক্রের অন্যদের ধরতেও অভিযান চালানো হচ্ছে। ইয়াবা কারবারে যুক্তরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। র‌্যাব সূত্র জানায়, জুবায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
ইয়াবার নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজেই নেমে পড়েন ইয়াবা ব্যবসায়। এক পর্যায়ে নিজেই তৈরি করেন ইয়াবা সিন্ডিকেট। ইয়াবা বিক্রির মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ ও সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করতেন।

সেনা প্রত্যাহার নয়, সমন্বিত শান্তির কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, তালেবানদের ভিন্ন অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বলে আসছে যে তালেবানদের সাথে চলমান আলোচনার উদ্দেশ্য হলো আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার না করা। আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদ বলেছেন, “এই ফ্রেমওয়ার্ক তালেবানরা মেনে নিয়েছে। আমরা পরবর্তী দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটা মনে রাখা দরকার যে আমরা একটা সমন্বিত শান্তির চেষ্টা করছি, কোন সেনা প্রত্যাহার চুক্তি নয়”। কিন্তু তার বিপরীতে, তালেবানদের কাতার অফিসের মুখপাত্র সোহাইল শাহীন টুইটে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে এবং এ দেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে, তবে তিনি কোন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দর কষাকষির প্রক্রিয়া দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোন অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। তালেবানরা শুধুমাত্র এই আশ্বাস দিয়েছে যে আফগানিস্তানের ভূমি থেকে কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হবে না। তালেবানরা সুনির্দিষ্টভাবে কাবুল সরকারকে কোন ধরনের বৈধতা দেয়ার বিষয়টি নাকচ করে আসছে যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছে। আফগানিস্তানে সেনা প্রত্যাহার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে একটা অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
লড়াইয়ে গতি বজায় রেখেছে তালেবানরা
আগ্রাসী তালেবানদের বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি এখন আফগান ন্যাশনাল আর্মি কারণ ১০ বছর আগে যে সংখ্যক মার্কিন সেনা সেখানে ছিল, এখন সেটা নেই। তারা এখন প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে সামান্যই অংশ নেয় এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডকে তারা উপদেশ ও প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামের সাথে আফগান সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি থাকার কারণে তালেবানরা সরকারী বাহিনীর পোস্টগুলোকে অগ্রাহ্য করতে পারছে এবং নিজেদের হামলার গতি বাড়াতে পারছে।
যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক বাহিনী ও আফগান সেনাদের জন্য মৃত্যু ভূমি হলো হেলমন্দ। সেখানে যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এই প্রদেশটি আবারও তালেবানদের হস্তগত হতে পারে।
কৌশলের পরিবর্তন
আফগানিস্তানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্তাব্যক্তিরা আফগান জেনারেলদের বুঝিয়েছেন যে, তালেবানদের সংযত রাখার কৌশল একেবারেই কাজ করছে না, তাই সেনাদের আউটপোস্টে ঠেলে না দিয়ে চেকপয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। আফগানিস্তানে ন্যাটোর মিশন এবং মার্কিন যুদ্ধ প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল স্কট মিলার। তিনি বলেছেন যে, আফগান সামরিক বাহিনীর জন্য চেকপয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি বলেছেন যে, “তারা অভিযানে মানুষ হারাচ্ছে না, তারা তালেবানদের হত্যা করছে। আপনারা আমার মত শুনতে চান? চেকপয়েন্ট নিয়ে কথা বলুন”।
যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া আছে, তালেবানদের নেই
এটা সত্য যে, তালেবানরা তিন দশকের যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারা কোন তাড়াহুড়ার মধ্যে নেই। তালেবানরা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে, যেটা একতরফাভাবে তাদের অনুকূলে রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের তৎপরতা গুটিয়ে আনতে চায়। মার্কিন আলোচকরা বিশ্বকে যা-ই বলুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তালেবানদের দর কষাকষির শর্ত ও দাবি মেনে নেয়, তাহলেই কেবল অচলাবস্থার ইতি ঘটতে পারে। যতই দিন যাচ্ছে, তালেবানরা তত বেশি জায়গার দখল নিচ্ছে এবং আফগান ও মার্কিন সরকারের উপর চাপ বেড়েই চলেছে।

রিফাত হত্যার সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার: ২ মিনিটের কিলিং মিশন, মূল ভূমিকায় রিফাত ফরাজী by মো. মিজানুর রহমান

বরগুনায় প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফ হত্যার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ঘটনাস্থলের সামনের একটি বাসা  উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় হত্যার মূল ভূমিকায় ছিল মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজি। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২৬শে জুন বুধবার সকাল থেকেই বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নানা পরিকল্পনা করতে থাকে ‘বন্ড ০০৭’ গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা। হঠাৎ কলেজ থেকে তারা জোর করে রিফাত শরীফকে বের করে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওইদিন সরাসরি ১৫ থেকে ২০ জন জড়িত ছিল। তবে কিলিং মিশনে মূল ভূমিকা পালন করে দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি। ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের সদস্যরা মাত্র ২ মিনিটের মধ্যেই তাদের মিশন শেষ করে চলে যায়। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী নয়ন বন্ড হলেও কিলিং মিশনে মূল ভূমিকা পালন করে এ হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজি।
ঘটনার দিন সকাল ১০টায় রিফাত শরীফ তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নিকে নিতে সাদা একটি মোটরসাইকেলে করে কলেজে আসে। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের প্রধান ঘাতক রিফাত ফরাজি ছয় থেকে সাত জনকে নিয়ে কলেজ গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। ২ মিনিট পরে আরো দুই থেকে তিন জনকে কলেজে পাঠায় সে। সকাল ১০টা ৯ মিনিটে দুই থেকে তিন জনসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তার উল্টো পাশে অবস্থান নেয়। ১ মিনিট পরে ঘাতক রিফাত ফরাজি গেটের কাছে এসে আরো দুটি ছেলেকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে উল্টো দিকে পাঠায়। সকাল ১০টা ১২ মিনিটে কলেজ থেকে বেরিয়ে রিফাত গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করে। সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে ঘাতক রিফাত ফরাজি নিহত রিফাত শরীফকে বরগুনা সরকারি কলেজের গেটে এসে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের সদস্যদের সহায়তায় জোর করে নয়ন বন্ডের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে সবাই তাকে কিল ঘুষি মারতে থাকলেও রিফাত ফরাজি ও একজন দৌড়ে গিয়ে তিনটি রামদা নিয়ে আসে। রিফাত ফরাজির দুই হাতে থাকা দুটি দায়ের একটি নয়নকে দেয় ও আরেকটি দিয়ে নিজেই কোপাতে শুরু করে।
এদিকে পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, ৬ জন এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ হত্যায় যুক্ত ছিলেন অন্তত ২০ জন। বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়নের গড়ে তোলা ফেসবুক গ্রুপ ‘বন্ড ০০৭’ এ বার্তা পেয়ে গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্য হত্যার ঘটনাস্থলে এসেছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা।
এছাড়া তানভীর, অলিউল্লাহসহ অন্যরা তাদের জবানবন্দিতে বলেছে, হামলার সময় ‘বন্ড ০০৭’  গ্রুপের অন্তত ২০ জন ছোট দলে ভাগ হয়ে কিলিং মিশনে অংশ নেয়। ঘটনার সময় পথচারী বা রিফাত শরীফের দলের কেউ যেন এগিয়ে আসতে না পারে, তা সামলানোর দায়িত্ব ছিল একটি দলের। অন্য আরেকটি দল নয়ন বন্ড, রিফাত-রিশান ফরাজিসহ অন্য হামলাকারীদের মোটরসাইকেলগুলো পাহারা দেয়, যাতে করে হামলার পরে সবাই নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে।
কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ গায়েব
এদিকে বরগুনা সরকারি কলেজের ভেতরে নোটিশ বোর্ডের সামনে রিফাতকে প্রথম পেটানোর সময় সিসি ক্যামেরায় ছবিগুলো থাকার কথা। কলেজের অধ্যক্ষের দাবি ঘটনার দুইদিন আগে বজ্রপাতে সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো হয়ে গেছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, অধ্যক্ষ দিনের পর দিন কলেজ ক্যাম্পাসে ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের অপরাধ আড়াল করে রাখার চেষ্টা করেছেন। এদিকে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ বলেন, বরগুনা সরকারি কলেজ মাদক মুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, বহিরাগত মুক্ত। কলেজের বাইরে কোথায় কি ঘটে এইটা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, কলেজের সামনে মেয়েদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হতো। ধামা চাপা দেয়া হয়েছে রিফাতকে কোপানোর ঠিক আগ মুহূর্তের ঘটনা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যারা রিফাতকে কুপিয়েছে তাদের বাইরেও ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপটি কাজ করেছে কলেজের ভেতরে। ওইদিন নোটিশ বোর্ডের সামনে থেকে তারা রিফাত শরীফকে মারতে মারতে কলেজ গেটের বাইরে নিয়ে যায়। আর সেখানেই পরবর্তীতে নয়ন, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীসহ সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে।
অথচ নোটিশ বোর্ডের সামনে রিফাতকে প্রথম যেখানে পেটানো হয়েছে, সেখানে লাগানো আছে দুটি সিসি ক্যামেরা। সিসি ক্যামেরা দুটিতে অবশ্যই ধরা পড়ার কথা কলেজ ক্যাম্পাসে মারধরের ঘটনা। তবে অধ্যক্ষ জানান, ঘটনার দুদিন আগে বজ্রপাতে কলেজের সব ক্যামেরা বিকল হয়ে যায়।
অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, ক্যামেরাগুলো সব ভালোই ছিল। ২৪ তারিখে বজ্রপাতের কারণে মনিটরটা নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে কলেজ হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা বলছে, বজ্রপাতের কোনো ঘটনাই ঘটেনি সে সময়। শিক্ষার্থীরা বলেন, গত এক মাসেও আমরা কোনো বজ্রপাতের আওয়াজ শুনিনি, কলেজে আরো আগেও যদি কোনো বজ্রপাত হতো, তাহলে তা আমরা শুনতে পেতাম। কিন্তু এখানে কোনো বজ্রপাত হয়নি। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে ও বাকি আসামিদের ধরতে অনেক বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, তদন্ত চলমান আছে। কার তথ্যের ভিত্তিতে কাকে ধরা হবে না হবে, সেগুলো এখানে বলে দিলে আমি আসামি ধরবো কি করে? তারা তো আমার নজরদারির বাইরে চলে যাবে।

ভ্রমণবিষয়ক এশিয়ার সেরা স্থানগুলোর তালিকা প্রকাশ

ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইট লোনলি প্লানেট ২০১৯ সালের জন্য এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেরা স্থানগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট রিভার, দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়া। এ অঞ্চলটি ওয়াইন, সার্ফিং এবং নয়নাভিরাম উপকূলের জন্য বিখ্যাত। এ তালিকায় রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত আঙ্গুরক্ষেতে থেকে বিস্তৃত শান্ত সাগর। রয়েছে জ্বলজ্বলে আলো বিকিরণকারী কোনো শহর। দ্বাদশ শতাব্দীর মন্দির। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, লোনলি প্লানেট এশিয়ার সেরা স্থানগুলোর বিষয়ে প্রতি বছর তালিকা প্রকাশ করে।
কিন্তু এ বছর তাতে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। তালিকার শীর্ষ ১০টি স্থানের মধ্যে রয়েছে ফিলিপাইনের পালাওয়ান। ক্রাউন জুয়েল হিসেবে পরিচিত এল নিদো। সেখানে বাকুইট উপসাগরের নীল পানির ভিতর থেকে যেন উঠে এসেছে আকাশচুম্বী সব খাঁজসমৃদ্ধ পাথরময় পাহাড়ি এলাকা। এ তালিকায় আরো আছে মিনিলক আইল্যান্ডের বড় বড় সব উপহ্রদ বা লেগুন। আছে ব্যাকপ্যাকারদের প্রিয় পোর্ট বার্টন। আর আছে একেবারে নতুন বিমানবন্দরসমৃদ্ধ সান ভিনসেস্ট। আছে জাপানের শিকোকু, নিউজিল্যান্ডের বে অব আইল্যান্ডস, নর্থল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কুক আইল্যান্ডস, সেন্ট্রাল ভিয়েতনাম, ফিজি, চীনের বেইজিং ও কম্বোডিয়া।
















দুবাই থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রিন্সেস হায়া, কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কা

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতৌমের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সে হায়া বিনতে আল-হুসেইনের ব্রিটেন পাড়ি দেওয়া নিয়ে কূটনৈতিক সংকট শুরু হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবনশঙ্কার কারণে লন্ডনে পালিয়ে আছেন বলে দাবি করেছেন প্রিন্সেস হায়া।  এর ফলে দুবাইয়ের শাসকদের বিরুদ্ধে পরিবারের নারীদের প্রতি আচরণ সমালোচনার মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বৈমাত্রেয় বোন হায়া বিনতে আল হুসেন যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম-কে বিয়ে করে তার ষষ্ঠ এবং কনিষ্ঠতম স্ত্রী হন। এ বছরের শুরুতে জার্মানি পালিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন তিনি। সম্প্রতি ইন্সট্রাগ্রামে কবিতা পোস্ট করে কারো নাম প্রকাশ না করেই এক নারীকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেন দুবাইর শাসক। এর পরেই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মধ্যাঞ্চলে কেনিংসটন প্যালেস গার্ডেনে ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের একটি বাড়িতে হায়া বিনতে আল হুসেনের বসবাস করার খবর জানালো বিবিসি।
গত বছর এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে সমুদ্রপথে পালিয়ে যান দুবাইর শাসকের মেয়ে শেখ লতিফা। ভারত উপকূলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের বহনকারী নৌযানটি আটক করে তাকে দুবাই ফিরিয়ে নিয়ে যায় বলে খবর দেয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দুবাই কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, তারপর থেকেই নিজ দেশেই নিরাপদে আছেন শেখ লতিফা। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শেখ লতিফাকে অপহরণ করা হয়েছে। ওই সময়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন হায়া বিনতে আল হুসেন।
বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় অপহৃত হওয়ার পর ৪৫ বছরের জর্ডানের বাদশাহের বৈমাত্রেয় বোন হায়া এখন লন্ডনে আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক তথ্যচিত্রে ৩৩ বছরের প্রিন্সেস লতিফার জীবনের পরিণতির কথা তুলে এনেছে। লতিফার পরিণতির কথা জানতে পেরেই হায়া পালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রিন্সেস হায়া হয়ত কূটনৈতিক দায়মুক্তি পেতে পারেন। যদিও এবারের লন্ডন সফরে তাকে কূটনৈতিক তালিকায় রাখা হয়নি। এর আগে তাকে যুক্তরাজ্য সরকার জর্ডানের কর্মকর্তা হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল।
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রিন্সেস হায়া ফার্স্ট সেক্রেটারি (কালচারাল অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে যুক্তরাজ্য সফর করেছেন। জানা গেছে, জর্ডানের দূতাবাস সম্প্রতি তাকে পুনরায় অ্যাক্রিডিয়েশন দিয়েছে। অবশ্য এই বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একটি বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তায় সেন্ট্রাল লন্ডনে কেনসিংটন প্রাসাদের কাছে একটি বাড়িতে রয়েছেন প্রিন্সেস হায়া। ২০১৭ সালে এই বাড়িটি তিনি ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কিনেছিলেন। অপহরণের আশঙ্কায় তিনি স্থানীয় পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য জানায়নি।
ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সঙ্গে হায়ার সম্পর্ক ভালো। রানি ও প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে প্রায়ই ছবিতে তাকে দেখা গেছে। প্রিন্সেস হায়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বিষয়টি ব্যক্তিগত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে জানা গেছে, দুবাইয়ের শাসক পরিবার হায়াকে ফেরত নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা চেয়ে। তবে এমন উদ্যোগের কথা অস্বীকার করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, প্রিন্সেস হায়াকে নিয়ে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হতে পারে। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন গত ডিসেম্বর তার দুবাই সফর প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। ওই সময় প্রিন্সেস হায়ার অনুরোধে মেরি রবিনসন দুবাই সফর করেন এবং লতিফার সঙ্গে তার বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হয়।

রোহিঙ্গাদের আবাসস্থলকে নাৎসি বন্দিশিবিরের সাথে তুলনা করলেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা

মিয়ানমারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম কনসেনট্রেশান ক্যাম্প ও শহুরে বস্তিতে বাস করছে, যেমন পরিস্থিতি ছিল নাৎসি বাহিনীর অধীনস্থ ইউরোপে। জাতিসংঘের এক তদন্ত কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে যে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন কাজ করছে এবং গত বছর যারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনে, সেই মিশনের সদস্য ক্রিস্টোফার সিদোতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, নির্যাতিত এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেটা শেষ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সিদোতি বলেন, যে ১২৮,০০০ মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তারা এখন মধ্য রাখাইনের বিভিন্ন ক্যাম্পে এবং শহুরে বস্তিগুলোতে বাস করছে। এমন পরিস্থিতিতে তারা আছে, যেটাকে নাৎসিদের ইহুদি ক্যাম্পের সাথে তুলনা করা চলে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি যে গ্রামগুলোতে আছে, সেখানে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত এবং তাদের বিয়ে করা এবং সন্তান জন্মদানের বিষয়টিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সিদোতি বলেন, “এগুলো হলো কনসেন্ট্রেশান ক্যাম্প – যেটা যা, তাকে সেটাই বলতে হবে। মধ্য রাখাইনে, সিত্তয়ের বাইরে ১২৮,০০০ ঘরবাড়িহারা রোহিঙ্গা বাস করছে, এবং সেগুলো শহুরে বস্তি হয়ে উঠেছে, ঠিক নাৎসি ইউরোপে ইহুদিরা যেভাবে বাস করতো”।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে সিদোতি এ সব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “গণ বহিস্কার ও গুলি করা হয়তো বন্ধ হয়েছে, সামরিক বাহিনী হয়তো তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে ফেলেছে – রাখাইন রাজ্যের চেহারা হয়তো বদলে গেছে – কিন্তু সঙ্কট মোটেই শেষ হয়নি”।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে মাত্র ৪০০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ এর মতো রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে, যেখানে ২০১২ সালে ছিল ২ থেকে ৩ মিলিয়ন।
সিদোতি বলেন, “এক বছর আগে আমরা বলেছিলাম যে, সেখানে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটা থেকে গণহত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে”।
“গত দুই বছরে যেটা ঘটেছে, তাতে গণহত্যার উদ্দেশ্য আরও প্রবল হয়েছে। গ্রামবাসীরা এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে, তাদের চলাফেরা সীমিত; জেলেরা মাছ ধরতে পারে না এবং শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। দূরে কোথাও যেতে হলে তাদেরকে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হয়। বিয়ে বা সন্তান নেয়ার জন্যও তাদের অনুমতি নিতে হয়। হাসপাতালে যেতে হলে আপনাকে হয়তো ছয়টি আলাদা বিষয়ে ছয়টি আলাদা কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। পুরো বিষয়টি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে এই সম্প্রদায়টি নিরবে হারিয়ে যায়”।
সিদোতি বলেন, তিনি আশা করছেন যে, প্যানেলের নতুন যে রিপোর্টটি কয়েক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হবে, সেখানে গণহত্যার উদ্দেশ্যের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
এমন সময় তিনি এ সব মন্তব্য করলেন যখন জাতিসংঘ সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে রাখাইন ও চিন রাজ্যে জনগণের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। সামরিক বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গ্রুগগুলোর লড়াই যতই তীব্র হচ্ছে, ততই এই অপরাধের মাত্রা বাড়ছে।
রাখাইনে নতুন সহিংসতা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী আর রাখাইন বৌদ্ধ যোদ্ধাদের বিদ্রোহী সেনাদের মধ্যে। জানুয়ারি থেকেই এই লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। এ যাবত এ লড়াই থেকে প্রাণ বাঁচাতে ৩৫,০০০-এর বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
>>>হান্নাহ এলিস, পিটারসেন ও ক্যারেন ম্যাকভেই
ইয়াঙ্ঘি লি, মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার

যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না, ভারতের কর্মীরা ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায়: মির্জা ফখরুল

সরকার দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বেকার যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। অথচ একই সময়ে আজকে ভারত থেকে কর্মীরা এসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর লেডিস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে পরনির্ভরশীল দেশে পরিণত করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষিত যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। কর্মসংস্থানের হার নিচের দিকে নামছে। একদিকে উন্নয়নের কথা বলে, অন্যদিকে আমাদের ছেলেদেরকে চাকরি দেয় না। অথচ একই সময়ে ভারত থেকে আসা কর্মীরা এখানে কাজ করছেন। এতে প্রমাণ হয়, বাংলাদেশে এখন যারা সরকার, তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। তারা প্রকৃতপক্ষে এই দেশের জনগণের সরকার নয়। এরা পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছে।’
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে দুঃসময় ও কঠিন সংকটময় মুহূর্তে চলছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার মনে করি গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন হতে পারে। তা আজকে একটি কঠিন পরীক্ষার মধ্যে আছে। দেশে এখন সব সময় উন্নয়নের ঢোল বাজানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সন্মেলনে বলেছেন- উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিকে মেনে নিতে হবে, অর্থাৎ মূল্য দিতে হবে। অবশ্যই আমার জানি ডেভেলপমেন্ট একটা মূল্য দিতে হয়। কিন্তু সেই মূল্য কাকে দিতে হয়? সেই মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু আমার খুব ভালোভাবে দেখছি, উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে যে টাকা বের করে নেওয়া হচ্ছে, তা ব্যয় হচ্ছে শুধুমাত্র গুটিকয়েক ক্ষমতাসীন দলের সুবিধার জন্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব ভালো করে জানি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে কেন। এলএনজি আমদানি করে ভুর্তকি দেওয়ার জন্য। এলএনজি কারা আমদানি করছে? সরকারের সঙ্গে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যারা মন্ত্রী বা উপদেষ্টা বা অত্যন্ত প্রিয়ভাজন তাদের জন্য এই বাড়তি খরচ জনগণকে করতে হবে।
বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে বা ভ্যাটের পরিমান বাড়লেও, মানুষের আয় না বাড়লে তাদের কিছু আসে যায় না।
সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের হুকুমে বিচারক বিচারের হুকুম বা রায় দিতে হয় দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯৪ সালে পাবনায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা হয়েছিল। কিন্তু কোনও হতাহত হয়নি। আমরা যেকোনও হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা করি। কিন্তু যেখানে কোনও হতাহত হয়নি, সেখানে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে। এটাই হচ্ছে বিচার বিভাগের অবস্থা।
জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে হলে জনগণের ঐক্যের খুব প্রয়োজন। সমস্ত দলমতকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে অবশ্যই আমাদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেভাবে ড্যাব তাদের সংগঠনের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
ড্যাবের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড্যাবের সাবেক নেতা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের বর্তমান সভাপতি হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

‘আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না’ -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ আসে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন, অযথা সমালোচনা করতে বারণ করেন...
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দশ দলের মধ্যে শেষ পর্যন্ত হয়েছে অষ্টম। এ নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে হতাশা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্লাসের ভরাট অংশের দিকেই তাকাতে বলছেন। বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি খুশি।
চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গও আসে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেট ভালোবাসেন। ক্রিকেট দলের খোঁজ নিয়মিত রাখেন বলেই এক সাংবাদিক প্রসঙ্গটা তোলেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কিন্তু খেলা দেখেছি। অনেক রাত পর্যন্ত। অফিশিয়াল কাজ যেমন করেছি, খেলাও দেখেছি। হয়তো একবার দেখতে পেরেছি, একবার পারিনি। যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলা দেখেছি। আমি তো আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাব, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কিন্তু এসেছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে।’
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করেছে, ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলীয় অর্জনও আছে, ‘আমরা যে এত দূর যেতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কিছু খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান এরা বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না। খেলা এমন একটা জিনিস, অনেক সময় কিন্তু ভাগ্যও লাগে। সব সময় যে সবকিছু ঠিকমতো হবে, একই রকম হবে, সেটা নয়। ক্রিকেটাররা সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পেরেছে, আমি এটার প্রশংসা করি।’
সেমিফাইনালে শুধু চারটি দল খেলতে পারে, এই বাস্তবতা বোঝার আহ্বান ছিল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে, ‘এতগুলো দেশ খেলেছে। এর মধ্যে চারটা দেশ মাত্র সেমিফাইনালে উঠেছে। তাহলে কি আপনারা বলবেন বাকিরা সবাই খুব খারাপ খেলেছে? আমরা নিজেরাই নিজেদের ছোট করেন কেন? নিজেদের এত খারাপ বলি কেন? বরং আপনারা এটা বলেন, যে একেকজন জাঁদরেল জাঁদরেল খেলোয়াড়, দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত, তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের ছেলেরা খেলতে পেরেছে। তাদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব তো আমি দেখি না।’
তাঁর প্রথম সরকারের সময় বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জিতেছিল, বিশ্বকাপে গিয়েছিল, সেসবও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী, ‘আরও একটা জিনিস খেয়াল করেন। আসলে খেলোয়াড় হিসেবে আসছে কারা, আপনি খেলোয়াড় পাচ্ছেন কোত্থেকে, কত জন পাচ্ছেন। প্রথম যখন সরকারে ছিলাম, আমাদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আমাদের মনোযোগ ছিল, আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন বিভিন্ন খেলাধুলায় মনোযোগী হয়। সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ছোট থেকে অভ্যস্ত করে করে, অনুশীলন করে করে, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগানো হয়েছে। তাদের তৈরি করা হয়েছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ কিন্তু ভালো করছে। এগিয়ে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের প্রতি আবেগটাও প্রকাশ পেয়ে যায়, ‘এখানে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। দোষ যদি দিতেই হয়, ওই চারটি দল (যারা সেমিফাইনালে গেছে) বাদ দিয়ে বাকি সব দলকেই দোষ দেন। খালি বাংলাদেশকে দোষ দেবেন না। আমি আমার ছেলেদের কখনো নিরুৎসাহিত করি না। আমি বরং ফোন করে ওদের বলি, খেলো তোমরা, তোমরা ভালো খেলেছ। ৩৮১ রান তাড়া করে (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) বাংলাদেশ ৩৩৩ রান করল। আপনারা চিন্তা করে দেখেন। তাহলে আপনারা খারাপ বলবেন কীভাবে? আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না।’
বিশ্বকাপ যাত্রার আগে বাংলাদেশ দল প্রধানমন্ত্রীর শুভকামনা নিতে গিয়েছিল। ফাইল ছবি

বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকীতে কাশ্মিরে বনধ পালিত, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। গত সোমবার বনধকে কেন্দ্র করে জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। হুররিয়াত কনফারেন্স প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক ও মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিকের সমন্বিত যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ওই বনধের ডাক দেয়া হয়। 
বর্তমানে সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী ও মীরওয়াইজ ওমর ফারুক নিজ বাসায় গৃহবন্দি এবং মুহাম্মাদ ইয়াসীন মালিক তিহার জেলে বন্দি রয়েছেন।
বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকীতে কাশ্মিরে বনধ পালিত, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
আজ বনধকে কেন্দ্র করে গোটা কাশ্মির উপত্যকা জুড়ে দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। সড়কে যান চলাচল ও গণপরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। শ্রীনগর আপটাউনে কিছু ব্যক্তিগত যান চলাচল করেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মির এবং জম্মু বিভাগে রেল চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বনধকে কেন্দ্র করে রাজ্যটির গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগর, দক্ষিণ কাশ্মির ও উপত্যকার অন্যান্য এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। বুরহান ওয়ানির নিজ শহরে কারফিউ জারি এবং ঢোকা ও বেরোনোর সমস্ত পয়েন্ট ‘সীল’ করে দিয়েছে। 
২০১৬ সালের ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি ও তার দুই সহযোগী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানকার মানুষজনের বিক্ষোভ ও বনধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে একশ’ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং দশ হাজার মানুষ আহত হন।
বুরহান ওয়ানির তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে

অবশেষে সংলাপে সম্মত ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা

নিকোলাস মাদুরো
নরওয়ের মধ্যস্ততায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা। নরওয়ে সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সপ্তাহেই আলোচনা শুরু হতে পারে। দেশটির স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট ও বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো বলেছেন, যে কোনও আলোচনা অবশ্যই চলমান রাজনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে হতে হবে আর তা মাদুরোর সময় ক্ষেপণের চেষ্টা হতে দেওয়া হবে না।
২০১৫ সাল থেকে খাবার  ও চিকিৎসার অভাবে সৃষ্ট মানবিক সংকট থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ নাগরিক ভেনেজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে অভ্যুত্থানের ডাক দেন তিনি। এতে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। 
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট সমাধানে গত মে মাসে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময়ে মে মাসে অসলো’তে আলোচনায় সম্মত হয় গুইদোর সমর্থকরা। তবে একে সময় ক্ষেপণের প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ তোলেন গুইদো। জুনে নিজস্ব সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরেক দফা আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষ।
রবিবার ভেনেজুয়েলার তথ্যমন্ত্রী নরওয়ে সরকারের বিবৃতি টুইটারে পোস্ট করে আলোচনা শুরুর কথা জানান। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে ভেনেজুয়েলার তথ্যমন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণ, আমাদের মিত্র এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তি আমাদের অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই নির্বাচন আমাদের সংকট উত্তরণ ও ফলপ্রসু ভবিষ্যত নির্মাণের পথ সুগম করবে’।

চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা by দীন ইসলাম

ধর্ষণ মামলার দুর্বল তদন্তে ক্ষুব্ধ পুলিশ সদর দপ্তর। আসামি পলাতক থাকায় এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ না নেয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের ৭ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার নিশ্চিত  করতে বলা হয়। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত চাঞ্চল্যকর ১২ ধর্ষণ মামলা পর্যালোচনা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সভায় এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে ধর্ষণ মামলায় সঠিক প্রমাণ নিশ্চিত করতে তদন্ত করবে সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে আদালতে দ্রুত চার্জশিট দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ই মে সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এম খুরশীদ হোসেনের সভাপতিত্বে চাঞ্চল্যকর নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা পর্যালোচনা করা হয়। ওই সভায় বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর প্রকৃতির অপরাধ।
এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে তদন্তের মান উন্নত করতে হবে। এ সভায় অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আলোচনার জন্য নির্ধারিত মামলাগুলোর বিষয়বস্তু ও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয় পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে ওই সভায় উত্থাপন করেন। এ সভায় চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনা সভার শুরুতে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার মামলা নং-১২, তারিখ-০৭/০৪/২০১৯ নিয়ে আলোচনা হয়। এ মামলার বাদী মিনুয়ারা বেগমের অভিযোগ কমিটিকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মামলার ১ নং আসামি মো. সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে। ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয়েছে এবং ডাক্তারী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যের পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুই জন আসামিকে এতদিন গ্রেপ্তার করতে না পারায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট সংগ্রহ ও এজাহারভূক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় কুমিল্লার হোমনা থানার মামলা নং ৫, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী আছমা আক্তার তিশার এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি ওমান প্রবাসী দুলাল গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় অসন্তোষ্টি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার মামলা নং ১৩, তারিখ- ১৫/০৪/২০১৯ এর বাদিনী মুন্নি আক্তারের এজাহার পড়ে শোনানো হয়। এ মামলায় আসামি মো. নবীরুল মেম্বার ও মো. শহিদ খান পাখিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সভায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানার মামলা নং ১১, তারিখ- ১০/০৫/২০১৯ এর বাদিনী রানী আক্তার, একই জেলার শাহরাস্তি মডেল থানার মামলা নং ১৪, তারিখ- ১১/০৫/২০১৯ এর বাদিনী ফেরদাউস বেগম, নোয়াখালীর চরজব্বার থানার মামলা নং ১, তারিখ- ১/০৪/১৯ এর বাদী মো. শাহজাহান, একই জেলার সোনাইমুড়ি থানার মামলা নং-৯ তারিখ-১১/০৪/১৯ এর বাদী মো. আব্দুল বাকী, মামলা নং-৩৪, তারিখ- ২৮/০৪/১৯ এর বাদিনী পিয়ারা বেগম, ফেনীর সোনাগাজী থানার মামলা নং ১৬, তারিখ- ১৭/৪/১৯ এর বাদিনী মোসা. নাসিমা আক্তার, ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সদর থানায় মামলা নং ৪৯, তারিখ- ১৬/৪/১৯ এর বাদিনী শারমীন আক্তার এবং একই জেলার নাসিরনগর উপজেলার মামলা নং-০৮ তারিখ-১৪/৪/১৯ এর বাদিনী মোছা. মরিয়ম বেগমের এজাহারের সারাংশ সভায় পড়ে শোনানো হয়। এসব মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এজন্য মামলার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর পুলিশ সদর দপ্তরের স্পেশাল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখাকে জানাতে বলা হয়।

ফিরোজ রশিদের পুত্রবধূর ‘আত্মহত্যা’র চেষ্টা, নানা রহস্য by শুভ্র দেব

মেরিনা
তিন বছর আগে স্বামী কাজী শোয়েব রশিদের কাছ থেকে নিজেই ডিভোর্স নেন মেরিনা শোয়েব। এরপর স্বামীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে চলে যান বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারীর বাসায়। সেখানে ঠাঁই না পেয়ে আবার ফিরে আসেন শোয়েব রশিদের বাসায়। ছেলে-মেয়ের সঙ্গে থাকার আকুতি  জানালে শোয়েব রশিদের পরিবার তা মেনে নেয়। এরপর থেকে ছেলে এবং মেয়ের সঙ্গে ওই বাড়িতেই থাকতেন মেরিনা। গত রোববার রাতে ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। মেরিনা শোয়েব জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদের পুত্রবধু।
ফিরোজ রশীদের পরিবারের দাবি মেরিনা নিজের শরীরে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে এ ঘটনা নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পর প্রথমে জানানো হয়েছিল তার পিঠে গুলি লেগেছে। কিন্তু পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পিঠে নয় তার পেটে গুলি লেগে পিঠে গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া ডিভোর্স নেয়ার দুই বছর পর কেনো তিনি আত্মহত্যা চেষ্টা করেছেন এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। 
ফিরোজ রশীদের পরিবারের দাবি, মাঝে মধ্যে মেরিনা আত্মহত্যা করে মরে যাবার হুমকি দিতেন। অবশেষে রোববার রাতে তিনি স্বামীর লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি চিকিৎসাধীন।
২৮ বছর আগে শোয়েব রশীদের সঙ্গে মেরিনার বিয়ে হয়েছিল। তাদের ২০ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ১১ বছরের এক ছেলে আছে। মেয়ে এ লেভেল শেষ করেছে আর ছেলে স্কুলে পড়ছে। মেয়ের সঙ্গেই তিনি একই রুমে থাকতেন। একই বাসায় থাকলেও শোয়েব রশীদের কোনো যোগাযোগ ছিল না। পুলিশসূত্র তাদের তদন্ত ও মেরিনার পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে রোববার রাত ৮টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ বাড়িতে। ঘটনার সময় মেরিনার ছেলে-মেয়ে, শাশুড়ী ও দেবর বাসায় ছিলেন। মেরিনার ছেলে ও দেবর ঘরের মধ্যেই ক্রিকেট খেলছিলেন। মেয়ে অন্য ঘরে ছিল আর মেরিনা তার কক্ষে একাই অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তার মেয়ে ঘরে গিয়ে দেখে মেরিনা মাটিতে পড়ে আছেন।  আর পাশেই পড়ে আছে একটি পিস্তল। ঘটনার পর মেরিনার মেয়ে ফোন করে তার দাদা ফিরোজ রশীদ বাবা শোয়েব রশীদকে ঘটনাটি জানায়। ফোন পেয়ে তারা সবাই ছুটে আসেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। তার শরীর থেকে গুলি বের করা যায়নি। ল্যাবএইড হাসপাতালের কর্পোরেট কমিউনিকেশন শাখার এজিএম সাইফুর রহমান লেনিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মেরিনা শোয়েবের শরীরে চারজন চিকিৎসক মিলে একটি অস্ত্রপচার করেছেন। তবে তার শরীর থেকে গুলি বের করা যায়নি। আইসিইউতে থাকলেও তার লাইফ সাপোর্ট খোলে দেয়া হয়েছে। গুলির কারণে পেটের ভেতরে যেসব ড্যামেজ হয়েছিল সেগুলো সারানো হয়েছে। তবে তাকে এখনি আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। সারতে আর কয়েকদিন সময় লাগবে। এদিকে মেরিনার পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গণমাধ্যমে এমন খবর এলেও  পুলিশের দাবি, পিঠে নয় গুলি লেগেছে নাভির একটু উপরে আর সেটি পিঠে গিয়ে ঠেকেছে।  মেরিনা নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আব্দুল্লাহেল কাফি গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন, আমরা তদন্ত করে জানতে পেরেছি, মেরিনা শোয়েবের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগটা ভাল ছিল না। এতে করে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার দুই সন্তান, স্বামীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তার ছেলে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ও মেয়ে প্রাপ্ত বয়ষ্ক। দুজনের কথার মধ্যে কিছু গড়মিল আছে। মেয়েটা বলেছে ঘটনার সময় সে অন্য রুমে টিভি দেখছিল। গুলির শব্দ শুনে সে ওই রুমে যায়। আবার তারা এটাও দাবি করছে  মেরিনা তাদের বাবার রুম থেকে পিস্তল এনে নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে। পিস্তলটি কাজী শোয়েব রশীদের নামে লাইসেন্স করা। তিনি বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেছি ওই সময় বাইরে থেকে কেউ বা তার স্বামী ভেতরে যান নি। তাই আমাদের ধারণা তিনি নিজেই আত্মহত্যার উদ্দেশ্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে এরপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি ঘটনার সঙ্গে অন্য কোন বিষয় জড়িত আছে কিনা। 
মেরিনার বাবা সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, স্বামীর সঙ্গে আমার মেয়ের বনিবনা ছিল না। বনিবনা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। আমি সকালে মেয়েকে আইসিইউতে গিয়ে দেখা করেছি। সে আমাকে চিনতে পারলেও তার সঙ্গে কোন কথা হয়নি। জামাতা শোয়েবের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সে নাকি তখন বাড়িতে ছিল না। এছাড়া আমরা থানায় কোন মামলা করিনি তবে একটি অভিযোগ দিয়েছি। এদিকে, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাতকারে মেরিনার বাবা বলেছেন, তার মেয়ে ও তার স্বামী উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাচল করে। এজন্য তাদের মধ্যে বনিবনা ছিল না। তাই সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। মেরিনার স্বামী কাজী শোয়েব রশীদ বলেন, ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম। আমার মেয়েই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়।

নিউইয়র্কে প্রতারণার জাল, ঠকছে মানুষ by মনজুরুল হক

নিউইয়র্কে প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বল্প সময়ে বিত্তশালী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে আর ভালো চাকরি দেওয়ার নাম করে এসব চক্র অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা বলছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
রিয়েল এস্টেট বা আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত বেশি অর্থ উপার্জনের উপায় বাতলে দিতে একটি রিয়েল স্টেট কোম্পানি গত ২৯ জুন নিউইয়র্ক নগরের লাগার্ডিয়া হোটেলে ফ্রি ক্লাসের আয়োজন করে। এই ক্লাসে যোগ দিতে কোম্পানিটি সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে। বিজ্ঞাপনটি দেখে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ওই হোটেলে ক্লাসে অংশ নিতে যান। দুই ঘণ্টার ক্লাসে কীভাবে বাড়ি কিনতে হয়, কীভাবে বিক্রি করতে হয়, কীভাবে লোন পাওয়া যায়, অকশান বা নিলামে বাড়ি কেনার নিয়ম এবং বাড়ি মেরামতের মালামাল কেনাসহ বিভিন্ন তথ্য নিয়ে একটি ভিড়িও বার্তা প্রদর্শন করেন। তাদের কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা
করলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় দ্রুত সফল ও লাভবান হওয়া যাবে—ভিড়িও বার্তায় সেই বিষয়টি কৌশলে ফুটিয়ে তোলা হয়।
দুই ঘণ্টা ক্লাসের কথা বললেও রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানটি এক ঘণ্টায় ক্লাস শেষ করেন। ভিডিও বার্তার শেষ অংশে ছিল দ্রুত ব্যবসা প্রসার করতে হলে অথবা স্বল্প দামে বাড়ি ক্রয় বা লোন পাওয়ার কৌশল ও নিয়মকানুন জানতে হলে তাদের মাধ্যমে তিন দিনের ক্লাস করতে হবে। এই ক্লাসের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানকে ৫০১ ডলার দিতে হবে।
জানা গেছে, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কের অন্যান্য কমিউনিটির প্রায় ক্লাসে শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই তিন দিনের ক্লাসের জন্য ৫০১ ডলার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করেন। বাকিরা যখন ফরম পূরণ না করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আয়োজক কমিটির লোকজন তাদের পথ রোধ করেন। কেন রেজিস্ট্রেশন করতে অনাগ্রহী জানতে চান তারা। ক্লাসে অংশ নেওয়া এসব ব্যক্তি চিন্তা–ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে অনেকেই তাদের আচরণের প্রতিবাদ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
জ্যামাইকা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সোহেল বলেন, ঘণ্টায় ৩৫ ডলারে চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাঁকে একটি প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে যায় একটি চক্র। সোহেল সেখানে গেলে ওই প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা ইন্টারভিউ নেবেন বলে তাঁকে একটি রুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে বলা হয়, চাকরিতে তাঁকে কাজটি করতে, তাতে তার দক্ষতা কম আছে বলে জানান কর্মকর্তারা। করণীয় হিসেবে তাঁকে একটি ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ করার কথা বলেন তাঁরা। ট্রেনিং বাবদ তাকে এক হাজার ডলার দিতে হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন বলেন। পরে সোহেল এক হাজার ডলার দিয়ে ট্রেনিং করলেও চাকরি পাননি।
২ জুলাই আলমগীর হোসেন নামে এক বাংলাদেশি জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে একজন স্প্যানিশ অভিবাসীর কাছ থেকে নতুন আইফোন–১০ ম্যাকস অল্প দাম তথা ৪০০ ডলার দিয়ে কেনেন। বাসায় গিয়ে আইফোনটি চালু করার দুই ঘণ্টা পর তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে অনেক চেষ্টা করেও আইফোনটি চালু করা সম্ভব হয়।
প্রতারণা প্রসঙ্গে কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট মাকসুদ চৌধুরী জানান, দেশ থেকে অনেক সহজ–সরল মানুষ আমেরিকায় এসেছেন। তারা অনেক কষ্ট করে অর্থ আয় করছেন। তাদের উচিত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে হওয়া, যাতে করে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যর কোটায় থাকে।

মিজোরামে পাচারের শিকার রোহিঙ্গা নারী উদ্ধার

পাচারের শিকার দুই শিশুসহ চার জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে উদ্ধার করেছে ভারতের পুলিশ। আটক করা হয়েছে পাচারের চেষ্টায় থাকা দুই গাড়িচালককে। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এনিয়ে গত তিন মাসে তৃতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা নারী উদ্ধার করলো ভারতের মিজোরাম পুলিশ।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিভিন্ন সময় ভারতেও আশ্রয় নিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। এখনও দেশটিতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
গত শনিবার ভারতীয় পুলিশের তরফে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে ২০ বছর বয়সী দুই রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা ১৪ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকেও উদ্ধার করা হয়। একটি কার স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর রোহিঙ্গা নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
আটক দুই গাড়িচালকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে এসব রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসা হয়। তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা চলছিল।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল মিজোরাম-আসাম সীমান্ত থেকে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী আট রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে বাজারে যাওয়ার পথে এসব শরণার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল। আর গত ১৭ জুন ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী আরও আট রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদেরও বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
মিজোরামের সঙ্গে মিয়ানমারের ৫১০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। আর বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ৩১৮ কিলোমিটার সীমান্ত। কাঁটাতারের বেড়াহীন দুর্গম এসব সীমান্ত ব্যবহার করে মানুষ পাচারের চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিজোরামে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে

বৃটিশ রাষ্ট্রদূতকে ট্রাম্পের নিন্দা মে’র সমর্থন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্র নীতিমালা নিয়ে যতটা না সমালোচনায় থাকেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নানান বিষয়ে মন্তব্য করেও ততটাই আলোচিত হন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বৃটিশ রাষ্ট্রদূত কিম ডারোখকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বন্দ্বে নেমেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে ওই দূতের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, গোপন কূটনৈতিক বার্তায় ট্রাম্পকে অযোগ্য ও অদক্ষ বলেছিলেন ডারোখ। সে খবর ফাঁস করেছে একটি গণমাধ্যম। এরপরই রেগে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানান, ওই রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আর কাজ করবেন না তিনি। এমনকি ছাড়েন নি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র সমালোচনা করতেও।
এদিকে, নিজেদের দূতের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, রোববার ডারোখের কূটনৈতিক বার্তার খবর প্রকাশ হয়। সেদিন কিছু বলেন নি ট্রাম্প। তবে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ওনি বৃটেনের জন্য ভালো কাজ করেন নি, এটা আপনাদের বলতে পারি। আমরাও লোকটির খুব বড় ভক্ত নই। চাইলে তার সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে পারি, কিন্তু তাকে নিয়ে মন্তব্য করব না।
ডারোখের খবর প্রকাশের পর টানা টুইট করে গেছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, ওই দূতের সঙ্গে আর কাজ করবেন না। বাদ রাখেন নি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতেও। বলেছেন, ব্রেক্সিট ইস্যুটিকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছেন মে।
এদিকে, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (ডাউনিং স্ট্রিট) জানিয়েছে, কূটনৈতিক তথ্য ফাঁসের বিষয়টি দুঃখজনক। কীভাবে ওই গোপন কূটনৈতিক বার্তার সন্ধান পেলো গণমাধ্যম, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটা পরিষ্কার করে বলেছি যে, এই তথ্য ফাঁস হওয়াটি অত্যন্ত দুঃখজনক। যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের মধ্যে একটি বিশেষ ও মজবুত সম্পর্ক রয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তথ্য আমাদের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ নয়।
ডাউনিং স্ট্রিট আরো জানায়, ডারোখের মন্তব্যের সঙ্গে তারা একমত পোষণ করে না। তবে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাদের।
বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, দূত দূতের কাজ করছিলেন। যে দেশে তিনি কর্মরত, সেখানকার বিস্তারিত মূল্যায়ন ও সেদেশ সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছেন। কিন্তু সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত মত, আমারও নয়, বৃটিশ সরকারেরও নয়।
হান্ট আরো বলেন, আমরা এখনো বিশ্বাস করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত কার্যকরী পথে এগিয়ে চলছে। আর আন্তর্জাতিক স্তরে তারা বৃটেনের পরম বন্ধু।

ইয়েমেন থেকে সব বিদেশি সেনা সরাতে হুথিদের আহ্বান

মোহাম্মাদ আলী আল-হুথি
অবিলম্বে ইয়েমেন থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করতে আগ্রাসী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ বিপ্লবী পরিষদের প্রধান মোহাম্মাদ আলী আল-হুথি।
তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, আগ্রাসী দেশগুলো ইয়েমেনকে মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরিণত করেছে, তবে ইয়েমেনিরা আগ্রাসন, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ অবস্থায় ইয়েমেন থেকে বিদেশি সেনা সরিয়ে নেয়াই হবে আগ্রাসীদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে মোতায়েন সেনা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এসব কথা বললেন।
এছাড়া ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী যেইফুল্লাহ আশ শামি বলেছেন, আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির বিরোধ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। এখন এটা স্পষ্ট সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে পরজিত হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে আমিরাতের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরব আমিরাত ইয়েমেন ইস্যুতে যুদ্ধ থেকে শান্তির দিকে এগোতে চায়।