Tuesday, August 15, 2017

৭৩-এ পা দিলেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ, ৭৩-এ পা দিলেন তিনি। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত  মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান খালেদা জিয়া। গত বছরের মতো এবারও প্রথম প্রহরে কেক কাটা থেকে বিরত থাকে বিএনপি। তবে জন্মদিন উপলক্ষে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। চেয়ারপারসন দেশে না থাকায় জন্মদিন পালন নিয়ে নেতাকর্র্মীদের মধ্যেও ততটা আগ্রহ নেই। তবে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকায় যুক্তরাজ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এবার গুরুত্ব দিয়েই চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করবে বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে কেক কাটাসহ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। দেশের মানুষ ভালো নেই। এছাড়া চেয়ারপারসনও চিকিৎসাধীন আছেন। এমন পরিস্থিতিতে এবার জন্মদিন বিশেষভাবে পালন না করে তার আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এমন নির্দেশনা না থাকলেও সারা দেশেই তার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে লাখ লাখ নেতাকর্মী-সমর্থক-ভক্ত রয়েছেন। চেয়ারপারসন কখনও নিজ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন করেন না। এমনকি দিনটি পালন করতে কাউকে উৎসাহও দেন না। এটা নেতাকর্মীদের অনুভূতির ব্যাপার। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির এক নেতা জানান, চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। ৮ আগস্ট তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিরা ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করতে পারেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করব। কেকও কাটা হবে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী। শোকের এ দিনে জন্মদিন পালন করায় নানান মহল থেকে সমালোচনা করা হয়। এদিন জন্মদিন পালন না করতে বিভিন্ন মহল থেকে অনুরোধ জানানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর কেক না কেটেই জন্মদিন পালন করা হয়। এতে সব মহলের প্রশংসা পান খালেদা জিয়া।

ভুয়া জন্মদিন পালন গণতন্ত্রকে ব্যাহত করেছে : ওবায়দুল

১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করে গণতন্ত্রের ধারাকে ব্যাহত করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়ার ম্যারেজ সার্টিফিকেট ও পাসপোর্টে ১৫ আগস্ট জন্মদিন নয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, উনি এ ভুয়া জন্মদিন পালন করে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। গণতন্ত্রের ধারাকে ব্যাহত করেছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করেননি। সেদিন খালেদা জিয়া দেখা করলে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হতো আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অতীতে বিএনপির কর্মকাণ্ড ও ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের কারণে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এ সরকারের মেয়াদে তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের মতো এবারও রাতের প্রথম প্রহরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর পরিবর্তে জন্মদিন উপলক্ষে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা-ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি) মোকাবেলায় বাজেট সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। যার পরিমাণ হবে ২৫ কোটি ডলার, যা (স্থানীয় মুদ্রায় প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে) প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ২৩ জুলাই বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বাজেট সহায়তার এ ঋণ প্রস্তাব নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তাদের সামনে একটি উপস্থাপনা দেয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে এ ঋণ পাওয়া যাবে। আইডিএ থেকে নিয়মিত যে ঋণ বাংলাদেশ পায়, এ ঋণ সহায়তা তার বাইরে। ইআরডি সূত্র জানায়, বন্যা, পাহাড় ধস, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ দিতে চায় সংস্থাটি। দুর্যোগ-পরবর্তী তাৎক্ষণিকভাবে ওষুধ ও খাদ্য আমদানি, অবকাঠামো নির্মাণসহ যে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন থাকে, তা মেটাতে বিশ্বব্যাংকের এ তহবিল ব্যবহার করা যাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিসূচক অনুযায়ী, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সারা বিশ্বে ষষ্ঠ। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩২০ কোটি ডলার বা ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ২ শতাংশ।
২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে যত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, তাতে সব মিলিয়ে ১ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে এ সময়ে তহবিল মিলেছে মাত্র ২০০ কোটি ডলার। ঋণটি নিতে বাংলাদেশ রাজি থাকলে আগামী তিন বছর দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেমন অর্থ পাওয়া যাবে, পাওয়া যাবে পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্যও। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রস্তাবটি পাওয়ার পরপরই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছে ইআরডি। কোন কোন দুর্যোগে বিশ্বব্যাংকের এ তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাবে, তা ঠিক করতে শিগগির আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকও ডাকা হবে বলে জানা গেছে। ইআরডি সূত্র জানায়, প্রতি তিন বছরের জন্য আইডিএ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সহজ শর্তের ঋণ পায় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত আইডিএতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৩০ কোটি ডলার। আগামী তিন বছরেও একই পরিমাণ বরাদ্দ থাকবে বলে জানা গেছে। তবে এ ঋণ নির্দিষ্ট প্রকল্পের বিপরীতে পায় বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি আরও ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে দিতে চায় বিশ্বব্যাংক।

ঘর সাজাতে ম্যাট আর ফুল

মানুষের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে দর্পণে আর ঘরের সৌন্দর্য তার সাজের নিপুণতার ওপর। কতটুকু যত্ন আর ভালোবাসা নিয়ে আপনি আপনার ঘরটিকে সাজিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে এর বাহ্যিক চাকচিক্য। একটি সময় ছিল যখন ঘরের সাজ বলতে কেবল ঘর দখল করে রাখা ভারী ভারী আসবাবপত্রকেই মানুষ বুঝত। যার ঘরে যত ধরনের আসবাবপত্র আছে তার ঘরটি অন্যদের থেকে সবচেয়ে আলাদা আর সুন্দর। কিছুদিন পর এর সঙ্গে যুক্ত হয় অ্যান্টিকের আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজানোর একটি প্রক্রিয়া। এর পরে আসে আরও নতুন অনেক ধরন। তবে ঘরকে সাজিয়ে তোলার মাত্রা আছে ঠিক তার জায়গাতেই। শিল্পী যেমন কর্মে তার কাজকে ফুটিয়ে তোলে, তেমনি যিনি ঘরটিকে সাজান তার কাজের আর কল্পনা শক্তির মাধ্যমে তিনি জানেন এটি একটি বড় শিল্পীমনের কাজ। তবে বর্তমান এই সময়ে ঘরের পরিসর আর সময় দুটিই আমাদের জীবন থেকে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। একটি সময় ঘর থাকত বিশাল বিশাল আর তাকে সাজাতেও থাকত নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে নানা উৎসব আর পার্বণে। সামনেই ঈদ তাই ঘরের সাজের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। তবে ঘর সাজাতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতে একটু আলাদা ভাবে উপস্থাপন করাই অনেক। সেই ক্ষেত্রে ঘরের টুকিটাকি জিনিস যেমন ম্যাট আর ফুল আপনার ঘরের সৌন্দর্য প্রকাশে অনেকখানি সহায়তা করতে পারবে। ঘরের সাজের ক্ষেত্রে সবার মাথায় থাকে সব কিছু ঝকঝকে আর তকতকে থাকতে হবে। এজন্য ফ্লোর থেকে শুরু করে আসবাবপত্র সব কিছু মুছে রাখা হয়। তবে বাইরে থেকে যদি ধুলাবালির আগমন ঘটে তবে তো পুরো পরিশ্রমটাই ব্যর্থ।
তাই ঘরের সাজে আর এই উৎসবের ব্যস্ত সময়ে ম্যাট অনেক জরুরি একটি জিনিস। আপনি খুব সহজেই ঘরে ঢুকতে কিংবা বিছানার নিচে অ্যানিমেটেড ম্যাট বা একটি ফ্লোরাল ম্যাট বিছিয়ে রাখতে পারেন। প্রতিবার এতে পা মুছে গেলে ঘর এবং বিছানার চাদরসহ বাকি জিনিস ময়লা হবে না সহজে। তবে ম্যাট কেনার আগে ঘরের মাপ আর জায়গা কতখানি আছে তা ভেবে নিন। খুব বড় ঘরে ছোট একটি ম্যাট ভালো লাগবে না। তাই ছোট ঘরে মাঝারি আর বড় ঘরে তুলনামূলক একটু বড় ম্যাট ব্যবহার করুন। ম্যাটের মাঝে আছে নানা ধরন। কোনোটি জুটের, কোনোটি সিনথেটিকের, কোনোটি পাটের আবার কোনোটি কাপড়ের তৈরিও হয়ে থাকে। তবে ম্যাট সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার পরিষ্কার করুন আর উৎসবের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলুন। ফ্লোর ম্যাটের পাশাপাশি আছে ফুল। ফুল ভালোবাসে না এমন মানুষ নেই। আর উৎসবের এই সময়ে ঘরকে ফুল দিয়ে সাজাতে ভালোবাসেন সবাই। আপনি ইচ্ছা করলে প্লাস্টিকের ফুল দিয়েও ঘরকে সাজিয়ে তুলতে পারেন আবার তাজা ফুল দিয়েও, তবে ফুলের সঙ্গে আপনি অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন আপনার ফুলদানির ওপর। কাঁচ, সিরামিক কিংবা মাটির যাই হোক সেই ফুলদানি যাতে দেখতে নান্দনিক হয়। ফুল আপনি রাখতে পারেন শোবার ঘরে, বসার ঘরে কিংবা পড়ার ঘরে। এই ফুল কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায় না সঙ্গে সঙ্গে মনকে প্রাণবন্ত রাখে। সেই ক্ষেত্রে একি রঙের ফুল ব্যবহার না করে আলাদা আলাদা ঘরে ভিন্ন ভিন্ন রঙের ফুল রাখুন। এটি যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি আপনার রুচির পরিচয় বহনের বাহক। কোথায় পাবেন যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক, নর্থ টাওয়ার, রাজউক কমপ্লেক্স, ডিসিসি মার্কেট থেকে শুরু করে আপনার আশপাশের শপিং মলে পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের ম্যাট আর ফুল।
দাম
ম্যাটের দাম পড়বে প্রতি গজ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। আর এছাড়া আলাদা কিছুটা কারুকাজ করা ম্যাট আপনি পাবেন ২০০০ থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত। ফুলের দাম পড়বে প্রতি স্টিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর পুরো এক ফুলদানি ভর্তি ফুল নিতে পরবে ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

৫ বছরেই ৭০ অস্ত্রোপচার

পাঁচ বছরের মেয়ে শাহাদ। অসুস্থ শিশুটির ছোট্ট শরীরে এর মধ্যেই পড়েছে ৭০ বার চিকিৎসকদের ছুরি কাঁচির আঁচড়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও হতাশ সবাই। কারণ এত কিছু করেও উন্নতি হচ্ছে না সৌদি আরবের মেয়ে শাহাদের শারীরিক অবস্থার। কী হয়েছে শাহাদের? বাবা হুসাইন আল খিদাইস সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটকে জানান, দুই বছর বয়সে গরম কিছু খেয়ে ফেলে শাহাদ। এতে তার খাদ্যনালি ও পাকস্থলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে শাহাদ। তবে শাহাদ কী খেয়েছিল তা বলতে পারেননি বাবা হুসাইন। হুসাইন জানান, শাহাদ এখন আর কিছু খেতে পারে না।
তাকে নাকের ভেতরে নল দিয়ে তরল খাবার দিতে হয়। এভাবে  চলছে আড়াই বছর ধরে। এর মধ্যে ৭০ বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শাহাদকে প্রথমে ভর্তি করা হয় আল খোবার শহরের সাদ হাসপাতালে। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে। সেখানে তার খাদ্যনালি ও পাকস্থলিতে দুই সপ্তাহ পরপর ৫০টি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে শাহাদকে নিয়ে যাওয়া হয় রিয়াদের বাদশাহ খালেদ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। সেখানে আরও কয়েকবার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে এত কিছুর পরও সন্তানের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

মুখ খুললেন সামিরা

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে আমেরিকা প্রবাসী রুবি সুলতানার ভিডিও নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা। রোববার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভিডিওটিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইমন (সালমান শাহ) খুন হয়নি, আত্মহত্যা করেছেন।’ উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি রুবি সুলতানা গত ৭ জুলাই ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন; যাতে সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার (সালমান) স্ত্রী সামিরা ও তার (সামিরা) পরিবারকে দায়ী করা হয়েছে। ভিডিও বার্তায় রুবি বলেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, খুন হয়েছেন। সামিরাকে জিজ্ঞাসা করলেই মৃত্যুর রহস্য রেব হয়ে আসবে।’ এ ভিডিও বার্তা প্রচার হওয়ায় দীর্ঘ দুই যুগ পর সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে দেশব্যাপী আবার তোলপাড় শুরু হয়। ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর এতদিন চুপচাপই ছিলেন সামিরা। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) কথা ভেবেই আমি কোথাও মুখ খুলিনি। আমাকে যেসব অপবাদ দেয়া হয়েছে সেসব নিয়ে রিঅ্যাক্ট করিনি। কারণ আমার যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে আমি কথা বলেছি। বারবার তদন্ত হয়েছে সালমানের মৃত্যু রহস্য নিয়ে। আমাকে তলব করা হয়েছে। আমি গোয়েন্দা, পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে জবানবন্দি দিয়েছি। যখন যে যা জিজ্ঞেস করেছে আমি তার জবাব দিয়েছি। আমার যেখানে যেখানে যেটা ক্লিয়ার করার করে যাচ্ছি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্লিয়ার করেই যাচ্ছি। এতে আমার কোনো ক্লান্তি বা আপত্তি নেই। কারণ আমি জানি আমি কোনো ভুল করিনি। আমিও সালমানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়েছি সব সময়। আমি জানি ইমন আত্মহত্যাই করেছে।
সেদিন আমাদের বাসায় বাইরে থেকে কেউ আসেওনি, কেউ বেরও হয়নি। সেই সময় অনেক মানসিক প্রেসারে ছিল ইমন। সে এমন কিছু করে বসবে ভাবনাতেও ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘ইমন খুন হয়েছে দাবি করে রুবি যেসব কথা বলছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। এটিও রিজভীর মতো সালমানের মায়ের কোনো সাজানো পরিকল্পনা হতে পারে। এসব কথা প্রেসের কাছে বলতেও আমার সমস্যা ছিল না। কিন্তু আমি নিজেই ইচ্ছে করে প্রেসের সামনে আসতে চাইনি।’ কী এমন কারণ ছিল যার জন্য সালমানকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হল- এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘ঠিক কী কারণ ছিল সেটা তো আর আমি বলতে পারব না। তবে মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, এফডিসি থেকে কিছু সংগঠন দ্বারা বয়কট হওয়ার প্রেসার, শাবনূরসহ আরও কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার সঙ্গে খানিকটা মতবিরোধ- ইত্যাদি কারণে মানসিক চাপে ছিল সালমান। মাঝখানে গাড়ি দুর্ঘটনাও হয় তার। সবকিছু মিলিয়ে ও বিধ্বস্ত ছিল। মৃত্যুর আগের কয়েকটা দিন বারবার শুধু সরি বলত আমার কাছে। আমাকে খুশি রাখার চেষ্টা করত। আমি ভাবিইনি এমন কিছু হয়ে যাবে।’ সালমানের মৃত্যুর পর আবারও নতুন করে জীবন শুরু করা প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, ‘তিনটা বছর একা একা কাটালাম। একটা সময় আমি ভেবেছি বিদেশ চলে যাব পড়াশোনা করতে। সেটা আর হয়নি। আমি ইমনের মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। তার স্মৃতি নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাইলাম। তখন খুব প্রয়োজন বোধ করলাম যদি একটি সন্তান আমাদের থাকত! একটা সময় ইমনেরই বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল। আমি তাকে ফিরিয়ে দেই। পরে তার পরিবার ও আমার পরিবারের প্রচেষ্টায় বিয়েটা হয়। আমি এখন ভালো আছি। বর্তমান সংসারে আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকে। তারপর আরও দুটি মেয়ে রয়েছে আমার। তারা ঢাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করছে।’ এতদিন পরও তাহলে কেন খুন কিংবা আত্মহত্যা রহস্যের ব্যাপারে আপনার নাম আসছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সামিরা বলেন, ‘যতদিন আমার বর্তমান পক্ষের শাশুড়ি বেঁচে ছিলেন, ইমনের মা কিন্তু চিৎকার চেঁচামেচি করেননি। অনেক দিন তিনি এসব নিয়ে কিছু বলতেন না। কারণ ইমনের মা আমার শাশুড়িকে হাড়ে হাড়ে চিনতেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন। যখনই আমার শাশুড়ি মারা গেলেন তিনি আমাকে নিয়ে নানারকম ব্লেইম দিতে শুরু করলেন। আমার সন্তানদের, আমার স্বামীর, আমার বাবা, মা, বোন ও তাদের পরিবারের যদি কোনো ক্ষতি হয় তবে তার দায় নীলা চৌধুরীকে (সালমানের মা) নিতে হবে।’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ফায়ারকাট

শনিবার দুপুর দুইটা। চুল কাটাতে ঢুকলাম নগরীর জনপ্রিয় জেন্টস পার্লার ও স্যালুন অ্যাডোনিসে। অ্যাডোনিসে ঢুকতেই চোখ উঠে গেল কপালে। ২২ বছর বয়সী এক তরুণের মাথায় দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। আর সেই আগুনের মধ্যে চিরুনি আর কাঁচি দিয়ে সুনিপুণভাবে নিজের কাজ করে যাচ্ছেন ফায়ারকাট এক্সপার্ট মোহাম্মদ জয়নাল। ব্যাপারটি দেখে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পরে জানলাম এটিই চুলের স্টাইল ও চুল সেটিং করার নতুন পদ্ধতি। নতুন এই হেয়ার স্টাইলের নাম ‘ফায়ারকাট’। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফায়ারকাট এনেছে অ্যাডোনিসই। চুলের কাট সম্পর্কে জয়নাল বলেন, ফায়ারকাটটি মূলত পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাপক জনপ্রিয়। যাদের চুল বসা কিংবা যাদের চুল অত্যন্ত সিল্কি তারা চাইলেই ইচ্ছা মতো স্টাইল করতে পারবেন। ফায়ারকাটে চুলটা ফিনিশিং দিলে সহজেই ফেদকাট, আন্ডারকাট, পাসপোড়কাট, স্পাইককাট এবং স্লাইসকাট দেয়া সম্ভব। চুল ভলিউম বা কিছুটা বাউন্সি হয়। কোনো সাইড ইফেক্ট নেই। আমাদের এক্সপার্টরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ। তবে বাসায় ভুলেও ফায়ারকাট চেষ্টা করা যাবে না। ফায়ারকাটের মূল্য রাখা হয়েছে ৩৫০ টাকা+।
যোগাযোগ : অ্যাডোনিস মেকওভার সেলুন, বাসা নং ৩, রোড নং ২৭, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

হাত-পায়ে জ্বালাপোড়া

ইদানীং অনেক রোগী আমাদের কাছে আসে তাদের হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হয়, বিশেষ করে রাতে বিছানায় গেলে সমস্যাটা বেশি দেখা যায়, এমনকি শীতের রাতে হাত ও পা কম্বল বা লেপের ভেতরে রাখতে পারেন না বাহিরে রাখতে হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই মহিলা। অনেক কারণে আমাদের শরীরে বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূত হতে পারে। যেমন -
* স্নায়ু জনিত কারণ আক্রান্ত অংশের স্নায়ুর ওপর চাপ লেগে থাকলে।
* হরমোন জনিত কারণে- বিভিন্ন ধরনের হরমোন আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপোজ পরবর্তী সময়ে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে তখন এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
* ডায়াবেটিস জনিত কারণে- যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না এসব রোগীর পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি দেখা যায়।
* ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে- কিছু কিছু ভিটামিন বা মিনারেলের অভাবে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। যেমন- থায়ামিন, পাইরিডক্সিন, সাইনোকোবালসিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি ইত্যাদির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে হাত ও পায়ের তালুতে জ্বালা পোড়া অনুভূব করতে পারে।
করণীয় : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করা, এক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস জেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমণ্ডি, ঢাকা।