Thursday, January 22, 2015

কমলাপুর ও রামপুরার ২ বাসে আগুন- পাহারার মধ্যেই হামলা, ঠেকাতে গিয়ে আহত দুই ভাই

অনির্দিষ্টকালের অবরোধে রাজধানীর কমলাপুরের মানিকনগর ও রামপুরার কাঁচাবাজারের কাছে দুটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কমলাপুরের মানিকনগর ডিপোতে রাখা একুশে পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো- ব ১৪-৫৬৬৪) আগুন দেয়া হয়। এতে করে বাসটি একবারেই পুড়ে যায়। অপরদিকে, রামপুরার কাঁচাবাজার এলাকায় সাতটা ৪০ মিনিটের দিকে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো জ ১১-৩০০০) আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে করে বাসটির পেছনের সিটসহ বেশকিছু অংশ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উভয় বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাহারার মধ্যেই হামলা, ঠেকাতে গিয়ে আহত দুই ভাই
(রাজশাহীতে ট্রাক বহরে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় বাধা দিতে গিয়ে আহত দুই ভাইয়ের একজন কাজেম শেখ। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: শহীদুল ইসলাম) রাজশাহীতে বিজিবির পাহারার মধ্যেই ট্রাকের বহরে বোমা হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুই ভাই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজিবির সদস্যরা ট্রাকের বহরটিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাহারা দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। বহরটি রাজশাহী শহরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে পেছনে পড়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রাকে ১৫-২০ জন মুখোশধারীর একটি দল হামলা চালায়। তারা একের পর এক বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। হামলায় একটি গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। আরেকটি গাড়িতে সামান্য আগুন জ্বলে ওঠে। এ ছাড়াও আরও তিনটি ট্রাক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে গাড়িগুলো ওই অবস্থার মধ্যেও না দাঁড়িয়ে এলাকাটি পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে বহরের পেছনে থাকা বিজিবির গাড়ি হামলাকারীদেরকে ধাওয়া দিলে তারা হাতবোমা ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। হামলায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, জানা যায়নি। ঘটনার সময় হামলাকারীরা রাস্তায় কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সাংবাদিকেরা ছবি তুলতে গেলে তাঁদেরও বাধা দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই হামলাকারীদের প্রতিরোধে রড নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় পান দোকানদার মাশেম শেখ। তাঁর ডাকে পাশের ছাপাখানায় কর্মরত তাঁর ছোট ভাই কাজেম শেখসহ আরও কয়েকজন যুবক হামলাকারীদের বাধা দিতে চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীর তাঁদের লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়ে। এতে দুই ভাই আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত মাশেম শেখ বলেন, হামলাকারীরা একসঙ্গে কোনো রাস্তা দিয়ে আসেনি। হঠাৎ জড়ো হয়ে বোমা ফাটাতে শুরু করে। তারা ট্রাকগুলোতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে, একটিতে সামান্য আগুন ধরেও যায়। তবে তাঁরা প্রতিরোধ করায় অন্য ট্রাকে আগুন দিতে পারেনি। বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদুর রহমান বলেন, ট্রাকগুলো বিজিবি পাহারায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে আসছিল। ওই বহরে সেনাবাহিনীর পণ্যবাহী কিছু ট্রাকও ছিল। হামলাকারীদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা পালিয়ে যায়।

তিন শিশুর ‘মানবিক প্রতিবাদ’ by সাবিনা ইয়াসমিন

(ছবি:-১ ‘সাফিরের কষ্ট সমাজের মানুষ বুঝবে কবে?’ শিরোনামে আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তিন শিশু সারিক (বাঁ থেকে), সানিম ও মামা হৃদয়। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন ছবি:-২ সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তিন শিশু সারিক, সানিম ও মামা হৃদয়। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন) রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা আড়াই বছরের ছোট্ট শিশু সাফিরের কষ্ট হয়তো বুঝতে পারছেন না। তবে ছোট তিন–তিনটি শিশু সাফিরের কষ্ট ঠিকই বুঝতে পেরেছে। তাই সাফিরের কষ্ট যেন সবাই বুঝতে পারে সে জন্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা তাদের। সে চেষ্টার অংশ হিসেবেই আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সহিংসতার বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তিন শিশু সারিক (৩.৫) ও সানিম (৫) এবং তাদের মামা হৃদয় (১০)। দেশে ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ হচ্ছে। এ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নারী-শিশুও। ১৮ জানুয়ারি (রোববার) রাত সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয় আড়াই বছরের ছোট্ট শিশু সাফির। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাফিরের দগ্ধ হওয়ার খবর ও ছবি দেখে বাসায় বসে থাকতে পারেনি একই পরিবারের তিন শিশু সারিক, সানিম ও হৃদয়। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘সাফিরের কষ্ট সমাজের মানুষ বুঝবে কবে?’ আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কথা হয় ছোট্ট সারিকের সঙ্গে। সে জানায়, ছোট্ট বেলায় গরম পানিতে তার পা পুড়ে যায়। তাই সে শিশু সাফিরের কষ্ট বুঝতে পারে। শিশুদের অভিভাবক সাবের মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, গরম পানিতে পা পুড়ে যাওয়ার পর রাজধানীর লালমাটিয়ায় সিটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল সারিক। সাফিরকে দেখতে যেতে চায় সে। পরপর তিন দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে শিশুরা এই ‘মানবিক প্রতিবাদ’ জানাবে বলে জানান তাদের আত্মীয় সাবের মহিউদ্দিন। শিশুদের ওপর সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতা নিহত- আমার স্বামীর অপরাধ কি?

ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতা নিহত- আমার স্বামীর অপরাধ কি? -কেন
ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করলো? কি অপরাধ ছিল আমার স্বামীর? আল্লাহ আমাকে
বিধবা করেছে যারা তুমি তাদের বিচার করো। এভাবে চিৎকার করে কাঁদছিলেন ডিবির
ক্রসফায়ারে নিহত ছাত্রদল নেতা নূরুজ্জামান জনির স্ত্রী মুনিয়া পারভীন
মণীষা। হৃদয়বিদারক দৃশ্য জনির বাড়িতে। স্বজনরাও সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা
হারিয়ে ফেলেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ছোট ভাইকে দেখতে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয়
কারাগারে যান ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি। ফিরে এসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী
মনীষাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আর ফেরা হয়নি।
ফেরা হবে না আর কোন দিন। তার অনাগত সন্তান কোন দিন পিতার মুখ দেখতে পাবে
না। মনীষা চিৎকার করে বলছিলেন, সে তো সন্ত্রাসী ছিল না। তবে কেন তাকে হত্যা
করা হলো, রাজনীতি করাই কি তার অপরাধ? তাহলে দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক।
প্রধানমন্ত্রী কি আমার স্বামীকে ফেরত দিতে পারবেন! আমার সন্তান তো তার
পিতাকে কোন দিন দেখতে পাবে না। মনীষা জানান, তার স্বামী রাজনীতি করলেও কোন
নাশকতায় জড়িত ছিলেন না। ছাত্রদলের খিলগাঁও থানার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
থাকার কারণেই তাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন
তিনি। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে জনি তাদের জানিয়েছিলেন, খিলগাঁও থানার
বিএনপি-ছাত্রদলের চার-পাঁচজনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হবে। এরকম একটি
তালিকা তৈরি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তালিকাভুক্তদের যেখানে
পাওয়া যাবে সেখানেই গুলি করে হত্যা করবে ডিবি। ওই তালিকায় জনির নাম রয়েছে।
জনির মুখে এ কথা শোনার পর উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন স্ত্রী মনীষাসহ পরিবারের
সদস্যরা। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার নিজেদের ২০১ নম্বর বাড়ি ছেড়ে তারা
বাসা ভাড়া নেন অন্যত্র। তার পরও রাতে ঘরে থাকতেন না জনি। ধানমন্ডিসহ
বিভিন্ন এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে থাকতেন। এত কিছুর পরও বাঁচতে পারেননি তিনি।
মঙ্গলবার রাতে ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন ছাত্রদলের এই নেতা।-a Bengali Wikipedia or Archive of Bangla Article. একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ ও উইকিপিডিয়া Collection by Nejam Kutubi

সংঘাত এড়াতে সংলাপের আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের, অ্যামনেস্টির ৪ দফা সুপারিশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিসংতার মহামারী গত কয়েকদিনে চরম আকার ধারণ করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশীয় বিষয়ক প্রতিনিধি দল। ইপি’র বিবৃতিতে বলা হয়, বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনের অধিকারসহ মৌলিক অধিকারসমূহকে নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক শক্তিকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। ইপি দৃঢ়ভাবে আশা পোষণ করে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও উন্নয়নকে আরও বিপদের সম্মুখীন না করতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই প্রকৃত সংলাপে বসবে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অ্যামনেস্টির ৪ দফা সুপারিশ
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতা তীব্রতর হওয়ায়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার দেয়া ওই বিবৃতিতে বৃটেনভিত্তিক এ সংগঠনটি বলেছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য শহরের রাজপথে সরকারি ও বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকরা সহিংস সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে মূলত ৪টি বিষয় নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জানানো আহ্বানে অ্যামনেস্টি বলেছে, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডের সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কেবল স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চার জন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা যাতে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ না করেন এবং যেখানে তারা শক্তি প্রয়োগ করবেন, তা যাতে আন্তর্জাতিক মানদন্ড হয়, তা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান যাতে মানবাধিকার ইস্যুতে বাধ্যবাধকতাসমূহ মেনে চলে, যার জন্য বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ তা নিশ্চিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতির শুরুতে বলা হয়, রাজপথে অব্যাহত সহিংসতায় প্রাণহানি বাড়ছেই এবং আহত হচ্ছে মানুষ। এর মধ্যে বিরোধী দলের চাপিয়ে দেয়া সড়ক অবরোধও চলছে। একই সময়ে সহিংসতার সঙ্গে কোন সম্পৃক্ততার প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও, বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের অনুকূলে নয়, এমন সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের সম্পাদক ও নির্বাহীদের বিরুদ্ধে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। সন্দেহভাজন যে কোন বোমা বহনকারীকে গুলি করার ঘোষণা দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আদালত অবমাননা আইনকে দৃশ্যত যেভাবে ব্যবহার করছে, তাতে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে।

অবরোধ তোলার দাবিতে খালেদার কার্যালয়ের কাছে বিক্ষোভ

(অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় ঘেরাও করার চেষ্টা করেছে কয়েকটি সংগঠন । এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় ঘেরাও করার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ ও আরও কয়েকটি সংগঠন। তবে পুলিশ বাধা দেওয়ায় তারা কার্যালয় পর্যন্ত যেতে পারেনি। কার্যালয়ের কাছে গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বরে তারা অবস্থান নিয়ে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকেই সোয়া একটা পর্যন্ত ওই বিক্ষোভ চলে। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, খেটে খাওয়া নগরবাসী, গুলশান থানা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন মিছিল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। গুলশান ২ নম্বর সড়কে পুলিশ তাদের বাধা দিলে সংগঠনগুলোর কয়েক শ নেতা-কর্মী গোলচত্বরে অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ করেন। বেলা পৌনে একটার দিকে ‘খেটে খাওয়া নগরবাসী’র ব্যানারে প্রায় ৫০ জনের একটি দল খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের একেবারে কাছাকাছি চলে যায়। তাদের সবার হাতে কোদাল ও ঝুড়ি ছিল। ‘ভাত চাই, কাপড় চাই’, ‘খালেদা জিয়া কেন কর্মসূচি দিয়েছেন?’, ‘মানি না মানব না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তারা কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কার্যালয়ের ভেতরে যেতে দেওয়ার জন্য তারা পুলিশকে অনুরোধ করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চান। পুলিশ তাদের কার্যালয়ের কাছে আটকে দেয়। পুলিশের বাধার মুখে খেটে খাওয়া নগরবাসীর সদস্যরা কার্যালয়ের কাছে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা ‘পেটে লাথি মেরো না, তুলে নাও অবরোধ’, ‘আমার বাবাকে পুড়িয়ে মারা হলো কেন?’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েকটি ডিম ছুড়ে মারা হয়। নিজেকে লেবার সরদার পরিচয় দিয়ে সুমন বলেন, তাঁর বাসা উত্তর বাড্ডায়। দেড় মাস ধরে তাঁরা কোনো কাজ পাচ্ছেন না বলে জানান। ৬ জানুয়ারি অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র দুই থেকে তিন দিন কাজ পেয়েছেন বলে জানান সুমন। তিনি বলেন, ‘খাওয়া তো দূরের কথা, বাসাভাড়া দিতে পারছি না।’
খেটে খাওয়া নগরবাসীর ব্যানারে যাঁরা মিছিল নিয়ে এসেছেন, তাঁরা সবাই নিজেদের শ্রমিক বলে দাবি করেন। তাঁরা জানান, তাঁরা রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা, গুলশান থেকে এসেছেন। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ আহমেদের ভাষ্য, নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার, সবই তাঁরা করেছেন। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা বলেন, অবিলম্বে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা না হলে তাঁরা খালেদা জিয়ার বাসভবন ও কার্যালয় অবরোধ করবেন। একটি পাখিও সেখানে যেতে পারবে না। অবরোধ, হরতালে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পুলিশ গুলশান ২ নম্বর সড়কের দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। সেখানে পুলিশের জলকামান, রায়ট গাড়ি ও প্রিজন ভ্যান রাখা হয়েছে। গুলশান ২ নম্বর থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। গতকাল বুধবার সম্মিলিত গাড়িচালক সমাজের এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চোরাগোপ্তা বোমা হামলা, নাশকতা ও গাড়িচালকদের পেট্রলবোমা দিয়ে অগ্নিদগ্ধ ও মেরে ফেলার বিরুদ্ধে সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এয়ারফোর্স ওয়ানের জন্য ভারত যা করবে

২৫ জানুয়ারি এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়েই ভারতে পৌঁছাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এক অত্যাধুনিক পরিবহন আর শৌর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এ উড়োজাহাজ। ২৬ জানুয়ারি ওবামা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর এয়ারফোর্স ওয়ান ভারতের আকাশে প্রবেশ করলে অবতরণ করার আগ পর্যন্ত অন্য সব বিমান উড্ডয়ন বা অবতরণ বন্ধ থাকবে।
তিন তলাবিশিষ্ট বিশাল এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরে জায়গা চার হাজার বর্গফুট। এয়ারফোর্স ওয়ানে রয়েছে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি ভরার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও তাপসন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
তবে ভারতে এয়ারফোর্স ওয়ানকে বিশেষ কোনো ‘এয়ার রুট’ দেওয়া হবে না। জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো আকাশপথ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। উড্ডয়নের সময় হয়তো অন্য বিমানের চলাচল কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখতে হবে।’ মার্কিন কর্মকর্তাদের দিল্লির এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে।
২৭ জানুয়ারি ওবামা এয়ারফোর্স ওয়ানেই তাজমহল দেখতে আগ্রা যাবেন। আগ্রায় ভারতের বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে নামবে ওবামার বিমান। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে নাকি ‘বিস্ট’ নামে পরিচিত তাঁর অতি সুরক্ষিত লিমুজিন গাড়িতে চড়ে তাজমহল দেখতে যাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি মেইলে সিলেটের পথশিশুরা

টেলিভিশন শিশুদের মুখে হাসি আনে। কিন্তু টেলিভিশন দেখার বদলে, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে টেলিভিশনের ভাঙা অংশ কুড়িয়ে হাসি ফোটে কয়জনের মুখে? তারা বাংলাদেশের শিশু। আবর্জনার ভাগাড় থেকে বিভিন্ন ভাঙা জিনিসপত্র কুড়িয়ে তাদের দিন চলে। সিলেটের এমন শিশুদের গল্প ছাপা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলে। তাদের জীবন চলে দিনভর ফেলে দেয়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে তা বিক্রি করে। তাদের হাসির আড়ালে এক বিপজ্জনক জীবন লুকিয়ে আছে। তাদের কাজ করতে হয় অনেক ঘণ্টা ধরে। দেশের অন্যতম ধনী শহরে নিজেদের জীবনের চাহিদা মেটাতে তারা বেছে নিয়েছে এ পথ। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাস করেন সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত এ শহরে। পশ্চিমা ধাঁচে শহরটিতে হোটেল, শপিং মল, বিলাসবহুল হাউজিং এস্টেট ও ব্যবসা গড়ে উঠছে এ শহরে। কিন্তু তবুও এ শহরে এমন কিছু মানুষ রয়ে গেছেন, ফেলে দেয়া জিনিসপত্র কুড়িয়েই তাদের জীবনযাপন করতে হয়। তারা বিভিন্ন জিনিসপত্রের খোঁজে থাকে, যেটি হয়তো বাজারে আবারও বিক্রি করা যাবে। এমনকি নিজেদের পরিবারের জন্য খাবারও জোটে ফেলে দেয়া আবর্জনার স্তূপ থেকে। স্যান্ডেল পরে কিংবা খালি পায়ে তাদের কাজ চলে। হাত মোজা বাঁধার প্রয়োজনও পড়ে না। বাংলাদেশে ব্যবহৃত জিনিসপত্রকে পুনর্ব্যবহারোপযোগী করার এক ধরনের শিল্প গড়ে উঠছে। প্লাস্টিক বোতল ও জিনিসপত্র চীন ও থাইল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়। ক্রমেই লাভজনক হয়ে ওঠা এ শিল্পে জড়িত রয়েছে প্রায় ২০০ কারখানা। এসব কারখানার জন্য অনেক শিশু দিনভর সংগ্রহ করতে থাকে ফেলে দেয়া জিনিস। তাদের কাজের কোন সময় বেঁধে দেয়া নেই। ঢাকায় দিনে ১২ ঘণ্টা ধরে এ কাজ করে কেউ হয়তো ১২০ থেকে ১৮০ টাকা উপার্জন করতে পারে। ধারণা করা হয়, ঢাকায় এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ। বাংলাদেশের লাখো শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। প্রায় অর্ধেক শিশুই কম ওজনের। অনুমান করা হয়, বাংলাদেশের ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৭ শতাংশ শ্রমিক।

সেনা মধ্যস্থতার ইঙ্গিত নেই: ইউকে পার্লামেন্টের প্রতিবেদন

বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সহিংসতার শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশের সব পক্ষের প্রতি সংযম ও মধ্যপন্থা অবলম্বন, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং একসঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। হাউস অব কমন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেপরোয়াভাবে গণতন্ত্রের সঙ্গে খেলছেন, ব্যাপকভাবে এমন অভিযোগ উঠছে। এতে বলা হয়, তবে গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার অঙ্গীকারের আন্তরিকতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিশ্লেষক। অনেকেই ভাবছেন, প্রকৃতপক্ষে খালেদা জিয়া হয়তো তার বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলে সেনাবাহিনীকে মধ্যস্থতায় বাধ্য করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যাশা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোন কিছু ঘটার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশের সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে ইউকে পার্লামেন্ট। হাউস অব কমন্সের এক প্রতিবেদনে আজ উল্লেখ করা হয়, প্রায় অব্যাহত রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যেও, বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে বহু চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক উন্নয়ন ইস্যুতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত ৫ই জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার যে সূত্রপাত হয়, তা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও।

বিস্ফোরণে আহত ছাত্রদল নেতা বাপ্পীর মৃত্যু

(ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন বাপ্পী। ছবিটি বুধবার তোলা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা যান তিনি। ছবি: ফোকাস বাংলা) রাজধানীর লালবাগে বিস্ফোরণে আহত মাহবুবুর রহমান ওরফে বাপ্পী (২৫) আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মারা গেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।  হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে বাপ্পী মারা যান।  পুলিশের দাবি, বাপ্পী নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে ছাত্রদল সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিউমার্কেট থানা শাখার বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।  পুরান ঢাকার লালবাগের একটি বাসায় গতকাল বুধবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাপ্পীর ডান হাত কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণে তাঁর ভাগনি হ্যাপি আক্তার (১২) ও ভাগনে লিপন (৬) জখম হয়েছে। ঘটনার পর আহত অবস্থায় এই তিনজনকে পুলিশের পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিন রহমান বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে একটি মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বাপ্পী, তাঁর বোন ঝুমুর আক্তার ও তাঁর স্বামী আবদুল হাকিম। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও পাঁচ-ছয়জনকে। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজগর বলেন, তদন্ত চলছে। আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গতকাল চিকিৎসকেরা জানান, বিস্ফোরণে বাপ্পীর ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত ও বাঁ হাত ঝলসে গেছে। হ্যাপির মুখমণ্ডল, হাত এবং লিপনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মুখমণ্ডল, হাত ও পা ঝলসে গেছে। বাপ্পীর ১৭ শতাংশ, হ্যাপির ১৯ ও লিপনের শরীর ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।  পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে বাপ্পীর ডান হাত উড়ে যায়। তিনি কাঁটাবনের ‘বোমা বাপ্পী’ হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনায় আহতরাসহ ১০ জনকে আটক করার কথা গতকাল জানিয়েছিল পুলিশ। এর মধ্যে বাপ্পী আজ সকালে মারা গেছেন। গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাপ্পীর বোন ঝুমুর প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, বোমার বিস্ফোরণে নয়, কক্ষ গরম করার বড় লাইট বিস্ফোরণে তাঁর মেয়ে হ্যাপি, ভাই বাপ্পী, বোনের ছেলে লিপন আহত হয়। তিনি একটু দূরে থাকায় কিছু হয়নি।
ঝুমুরদের সঙ্গে লালবাগের ঢাকেশ্বরী সড়কের ২৯/২ নম্বর পাঁচতলা বাড়ির দোতলায় থাকতেন বাপ্পী। তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল হাকিম। লিপন মা-বাবার সঙ্গে কাঁটাবনে থাকে। খালার বাসায় বেড়াতে এসেছিল। বাপ্পীদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকেন বাড়ির মালিক আবুল কাশেম।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাশেমের স্ত্রী সুফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, এক মাস আগে বাপ্পী নিজেকে টাইলসের দোকানের কর্মচারী ও ভগ্নিপতি হাকিমকে গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে দুই কক্ষের বাসা ভাড়া নেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে ওই বাসায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বাড়িটি কেঁপে ওঠে। বিদ্যুৎও চলে যায়। ওই বাসা থেকে ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বাড়ি ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ এলে দেখেন পাশের বাসার স্টিলের দরজা খোলা। পুরো দোতলা ধোঁয়াচ্ছন্ন। আগুনও জ্বলছিল। তাঁরা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভান। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল।
ডিবির পরিদর্শক সফিউল্লাহ শেখ বলেন, হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে বিস্ফোরকের আলামত পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর কক্ষে আগুন ধরে যাওয়ায় পানি ছিটিয়ে নেভানোর কারণে পোড়া বিস্ফোরক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সামনের কক্ষে থাকা চৌকিটি ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে আছে। লেপ-তোশক, পোড়া কাপড়চোপড় ও মালপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজউদ্দিন বলেন, বিস্ফোরণস্থল দেখে মনে হয়েছে চৌকির ওপর বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বাপ্পী কাঁটাবনের বোমা বাপ্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন। তিনি বোমা বানাতেন এবং সরবরাহ করতেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

পাকিস্তানে কফিন বিক্রি বেড়েছে!

পাকিস্তানে গত ১০ বছরে কফিন বিক্রি বেড়েছে। ক্রমাগত জঙ্গিহানায় বিধ্বস্ত হচ্ছে পাকিস্তান। প্রাণ যাচ্ছে একের পর এক নিরীহ মানুষের। বিক্রি বাড়ছে কফিনের। যে কোনো হামলায় মৃতের সংখ্যা বাড়লেই, তাদেরও ব্যবসা বাড়ে। একটা সময় ওই ব্যবসায়ীরা কার্যত মাছি তাড়াতেন। কিন্তু গত ১০ বছরে অবস্থা এমন পর্যায়ে উঠেছে যে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি দেখা দেয়ার জোগার! ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফনে কফিনের ব্যবহার নেই। কিন্তু এলোপাতাড়ি গুলি,
আত্মঘাতী বিস্ফোরণ বা আইইডি হামলার মতো জঙ্গি নাশকতায় মৃত্যু হলে মৃতদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ খুঁজে এক জায়গায় জড়ো করে রাখতে কফিনকেই বেছে নেয়া হয়। হঠাৎ রোজগার বেড়ে যাওয়া পেশোয়ারের কফিন ব্যবসায়ী জেহানজেব খানের কথায়, ‘আমি ৮০-র দশকে যখন কফিন ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তখন দিনে হয়তো খুব বেশি হলে দুটি বা তিনটি কফিন বিক্রি হতো। মূলত আফগান রিফিউজিরাই কফিন কিনতেন। প্রিয়জনের দেহ অনেক দূরে আদিবাসী গ্রামে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ব্যবসাটি হঠাৎ বাড়ে ২০০৪ সাল থেকে। তারপর থেকে দিনে ১৫টির বেশি কফিন বিক্রি হচ্ছে।’ এএফপি।

ঘরেবাইরে নয়া নীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের বার্ষিক ভাষণে নিজের দেশ আমেরিকা ও বিশ্বব্যবস্থার জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সংকটের সমাপ্তিসহ নিজের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ নানা আইন ও পদ্ধতির সংস্কারের প্রস্তাব করেন তিনি। এই ভাষণে একইসঙ্গে উঠে এসেছে বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। সন্ত্রাসবাদ দমন, এশিয়ার অর্থনীতি, রাশিয়াকে হুমকি, ইরানের পরমাণু আলোচনা ও কিউবার সম্পর্ক।
১. গরিব-মধ্যবিত্তদের উন্নয়ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার ভাষণে ‘মধ্যবিত্ত অর্থনীতি’র পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মক্ষম পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন এর মাধ্যমে গরিব ও মধ্যবিত্ত জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। ওবামা বলেন, ‘আগামী ১৫ বছর আমরা কাদের চাই তা পছন্দ করার সময় এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্ত অর্থনীতি কাজ করছে। কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। রাজনীতি ব্যাঘাত না ঘটালে এটা চলতেই থাকবে।’ প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি কর্মক্ষম পরিবারগুলোকে অসুস্থতা ও মাতৃত্বকালীন ছুটি দান এবং সামর্থ্যরে মধ্যে শিশুসেবা সরবরাহের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চান।
২. নারী-পুরুষের সমান মজুরি
নারীকে পুরুষের সমান মজুরি দিতে আইন পাস করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘এখন ২০১৫। এটাই সময়।’ এ সময় দেশজুড়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কমিউনিটি কলেজগুলোতে বিনা ফি’তে ভর্তি সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘এই পরিকল্পনা নতুন অর্থনীতির জন্য ঋণহীন গ্র্যাজুয়েট তৈরির সুযোগ করে দেবে।’
৩. ধনীরা বেশি করে কর দিন
ওবামা বলেন, ‘যারা ধনী আছেন, তারা বেশি করে কর দিন। এতে মধ্যবিত্তরা একটু স্বস্তি পাবে। গরিবদের ওপর বোঝা কমাতে হবে।’ তিনি ধনীদের আয়ের ওপর করসীমা ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ৫ হাজার কোটি ডলারের পরিমাণ সম্পদের মালিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কর ধার্যের পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে ওবামার পরিকল্পনা পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাই ইতিমধ্যে এটাকে ‘শ্রেণী কল্যাণ’ আখ্যা দিয়ে তা পাস না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৪. গুয়ান্তানামো বন্ধের প্রতিশ্রুতি
কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধের প্রক্রিয়া তরান্বিত করার ঘোষণা দেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রতিশ্রুতি রাখতে চাই। এখন সময় এসেছে এই অধ্যায় সমাপ্ত করার।’ তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকা উচিত। যে কারাগারের ওপর বিশ্ববাসীর ওপর নিন্দা, সেখানের প্রতিটি বন্দির পেছনে ৩০ লাখ ডলার ব্যয় করার কোনো মানে হয় না।
৫. কিউবায় নতুন নীতি
কিউবার ওপর থেকে গত অর্ধশতাব্দীর অবরোধ তুলে নেয়ার পথ বের করতে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, অবিশ্বাসের যুগ পেছনে ফেলে সম্পর্কের স্বাভাবিক পথে হাঁটতে হবে আমাদের। তিনি বলেন, যে পথ গত ৫০ বছরে কাজে আসেনি, সে পথ নতুন করে নির্মাণ করার সময় এসেছে। তাই কিউবায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশ ও তার জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিন। কংগ্রেসকে এ বছরেই অবরোধ তুলে নেয়া উচিত।
৬. ইরানের ওপর অবরোধ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করবে
কংগ্রেসকে হুশিয়ার করে ওমাবা বলেন, ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হলে তা পরমাণু আলোচনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে। তিনি বলেন, এই সময়ে এসে কংগ্রেসের নতুন অবরোধ পাস করার কোনো মানে নেই। এটা শুধু আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার গ্যারান্টি দেবে। এখন সমঝোতা করার সময় এসেছে।
৭. চীন নয়, যুক্তরাষ্ট্রই ঠিক করবে এশিয়ার বাণিজ্যনীতি
এশিয়ার বাণিজ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রই ঠিক করে দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, এশিয়ার বাণিজ্যনীতি কী হবে, তা চীন লিখবে না। এই নিয়ম-নীতি লেখা হবে যুক্তরাষ্ট্রের কলমে। কংগ্রেসকে তিনি বলেন, বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে স্বাধীনতা দিন। ওবামা জানান, এশিয়া নীতি চীন তৈরি করলে তা আমাদের স্বার্থ ও মার্কিন ব্যবসায়ীদের অনুকূলে হবে না। তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে। চীনও রয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া অর্থনৈতিক নেতৃত্ব চলবে না।

মোদির বুদ্ধিতেই ওবামার আমন্ত্রণ

এদিকে ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি যৌথ রেডিও ভাষণ দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ওয়াশিংটন পোস্টে ওবামার সঙ্গে যৌথ কলাম লিখেছিলেন মোদি। এই এক্সক্লুসিভ ধারা অব্যাহত রাখতে চান দুই নেতা। খবর দ্য ইকোনোমিক টাইমসের। যুক্তরাষ্ট্রের রেডিওতে প্রেসিডেন্ট একটি সাপ্তাহিক ভাষণ দিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে ভারতে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রেডিওতে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান করে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন ২৫ জানুয়ারি বারাক ওবামা ভারতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরে তার স্ত্রী মিশেল ওবামা ও দুই মেয়ে শাসা ও মালিয়াকেও নিয়ে আসবেন। দুই মেয়েকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে ১৯৯৫ সালে ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন তার মেয়ে চেলসিয়াকে নিয়ে সফরে এসেছিলেন। দ্য ইকোনোমিক টাইমস। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির আইডিয়া দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এই আইডিয়া তার ক্লোজ গ্র“পকে শেয়ার করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত এস জয় শংকরের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড মহরার গুরুত্ব বোঝানোর পর হোয়াইট হাউস এতে সম্মত হয়।
আসছে এয়ার ফোর্স-১ আকাশপথে আতংক!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভারত সফরের সময়ে দেশটিতে হামলা চালাবে জঙ্গিরা। সফরের আগ মুহূর্তের এমন হুমকিতে রীতিমতো আতংকে রয়েছে ভারতের প্রশাসন। স্থলপথ, নৌপথ ছাপিয়ে আকাশপথেও জেঁকে বসেছে সে ‘আতংক’। স্থলে ১৬০০০ নিরাপত্তা বাহিনীর মতো আকাশপথেও নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন ‘সতর্কতা’। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে বহনকারী ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশে ভিভিআইপি প্রটোকল দেয়া হবে। থেমে যাবে ভারতের সব বিমান চলাচল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিমানের মতোই নিরাপত্তার ছায়া বিছানো হবে আকাশপথে। বারাক ওবামা তার সুরক্ষিত বিমানে চড়ে ভারতে পৌঁছালেও নিয়ে আসছেন না তার ব্যক্তিগত ‘দ্য বিস্ট’ গাড়িটি। জেনে নেয়া যাক ওবামাকে বহনকারী বিমানটি কেমন। বোয়িং ৭৪৭-২০০ বা জাম্বু জেট বিমানটির আয়তন ৪০০০ বর্গফুট। বিমানের মধ্যেই রয়েছে অত্যাধুনিক সম্মেলন কক্ষ।
প্রেসিডেন্টের অফিস, ব্যক্তিগত কেবিন, মেডিকেল কেবিনসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের জন্যও রয়েছে কক্ষ। বিমানের খাদ্য গ্যালারি থেকে যে কোনো সময় ১০০ লোকের খাবার সরবরাহ করতে পারে। এয়ারফোর্স ওয়ানের রয়েছে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ঠেকিয়ে দিতে পারে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত। মধ্য আকাশে বৈরী আবহাওয়াতেও সঠিক পথেই উড়তে পারে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধানের যোগাযোগের জন্য রয়েছে মোবাইল কমান্ড সেন্টার। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় ও রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কারও কাছে থাকছে না। কেবল বিশেষ বাহিনী এটা জানবে এবং এয়ারফোর্স ওয়ানের সুবিধা মতো অন্য বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। ভারতের বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করবে।’ এনডিটিভি।

সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপই একমাত্র পন্থা বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি। এজন্য আজকের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে অবিলম্বে সংলাপ আয়োজনে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে মতৈক্যে পৌছানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি। তাদের মতে পৃথিবীর কোন দেশেই চাপ ও শক্তি প্রয়োগ করে কাঙ্খিত সমাধান অর্জন সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত ‘বর্তমান দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত অর্থনৈতিক অচলাবস্থা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হোসেন খালেদ এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, যে পরিস্থিতি বা সংকট তৈরি হোক রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোাতায় আসতে হবে। রাজনীতির কারণে যেন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শুধু বর্তমান সমস্যার সমাধান করলে চলবে না। ভবিষ্যতে যেন এরকম সংকট তৈরি না হয় সে ব্যবস্থাও করতে হবে। ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, সুষ্ঠু ধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার কাঙ্খিত পরিবেশেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।

মুশফিকুরেরও একই লক্ষ্য

মুশফিকুর রহিম বিশ্বকাপে যাচ্ছেন একজন খেলোয়াড় হিসেবে। দুই অধিনায়ক তত্ত্বে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রবেশ করার পর তিনি এখন শুধু টেস্ট দলের নেতৃত্বে। বিশ্বকাপে তার অধিনায়ক মাশরাফি। দায়িত্ব কর্তন তাকে নির্ভার করলেও করতে পারে। নিজেকে মেলে ধরার অপূর্ব সুযোগ পেলেন মুশফিক। যেখানে কোনো চাপ নেই। স্নায়ুক্ষয়ী টেনশনের থাবা থেকে অনেকটাই মুক্ত তিনি। তাই বলে দল নিয়ে তার ভাবাভাবির দিন শেষ, এমনটা হতে পারে না। দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তো বটে, উইকেটের পেছনে দাঁড়ান বলে খেলাটা ধরার সুবিধা তারই সবচেয়ে বেশি। মাশরাফির তাই একজন যোগ্য সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন মুশফিক। তার ওপর অতীত-অভিজ্ঞতাও তাকে খানিকটা এগিয়ে রাখবে। সব মিলিয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যে ক’জন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সারথি থাকবেন, মুশফিককে অনায়াসে তাদের কাতারে ফেলা যায়। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসের স্মৃতি আজও অক্ষয়। বাংলাদেশের জয়সূচক রান বাউন্ডারির মাধ্যমে এসেছিল তার ব্যাট থেকে। এরপর দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপেও খেলেছেন সব ম্যাচ। এবার মুশফিকুর রহিম নিজেকে প্রস্ফুটিত করতে চান আরও ভালোভাবে।
মঙ্গলবার অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত লক্ষ্য তো সবারই থাকে। আমারও আছে। বিশ্বকাপ একটি বড় মঞ্চ। সবাই চাইবে নিজেকে মেলে ধরতে, আমারও লক্ষ্য আছে। আশা করি আমরা যদি নিজেদের সেরাটা খেলতে পারি, তাহলে আমাদের ব্যাটসম্যানরাও সেরা পাঁচে থাকতে পারবে।’ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বৈরী কন্ডিশন নিয়ে কথা চালাচালির শেষ নেই। এ নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করতে নারাজ মুশফিকুর রহিম, ‘কন্ডিশন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমার মনে হয় না যে, কোনো সমস্যা হবে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে হয়তো বাউন্স থাকবে, তবে ওরকম সিমিং উইকেট হবে না। আমাদের যেমন প্রস্তুতি, আশা করি আমরা ভালো খেলব’, মুশফিকুর আÍপ্রত্যয়ী। বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্যের কথাও জানালেন তিনি। সতীর্থদের মতো তারও স্বপ্ন কোয়ার্টার ফাইনাল। মুশফিক বলেন, ‘আমরা যদি প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করতে পারি, তাহলে আÍবিশ্বাস বেড়ে যাবে। আমাদের চারটি ম্যাচ জিততে হবে, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যে কাউকে হারাতেই পারি। চেষ্টা থাকবে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার।’ উড়ে যাওয়ার আগে দেশে যে প্রস্তুতি হয়েছে তাও টাইগারদের জন্য বেশ সহায়ক হবে বলে মনে করছেন মুশফিকুর রহিম।

অস্কারের সাজসাজ রব

মাত্র ক’দিন হল আসর ভেঙেছে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের। আসরের শেষ বলেই যাত্রা ভঙ্গ দেননি বিশ্বজোড়া সিনেমা সংস্কৃতির রথী-মহারথীরা। একটি শেষ করেই আরেক মহোৎসবের দিকে। আর সেই বিষয়টি মাথায় নিয়েই সম্ভবত আসছে ৮৭তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করল কর্তৃপক্ষ। যারা গোল্ডেন গ্লোবে জিতেছেন তাদের একটা নজর তো আছেই, যারা ওই আসরে খুব একটা বর্তে উঠতে পারেননি তারাও প্রতি বছরের মতো তীক্ষè নজর রেখেছেন অস্কারের দিকে। গোল্ডেন গ্লোবের দুই ক্যাটাগরিতে জয়ী ‘বয়হুড’ আর ‘দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল’ অস্কারে যুদ্ধে নেমেছে সেরা ছবির। সঙ্গে অবশ্য প্রতিযোগী হিসেবে আছে ‘আমেরিকান স্নাইপার’, ‘বার্ডম্যান’,
‘দ্য লিমিটেশন গেম’, ‘সেলমা’, ‘হুইপলেস’ ও গোল্ডেন গ্লোবের সেরা অভিনেতার উসিলা ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’। সেরা অভিনেতার খাতায় ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’-এর এডি রেডম্যায়েনের সঙ্গে লড়ছেন মিশেল কিটোন, স্টিভ ক্যারেল, ব্র্যাডলি কুপার ও বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ। অন্যদিকে গোল্ডেন গ্লোবজয়ী জুলিয়ানকে ছেড়ে দিতে রাজি নন ম্যারিয়ন কোটিলার্ড, ফ্যালিসিটি জোন্স, রোজামান্ড পাইক কিংবা রিজ উইদারস্পুন। রঙ জমেছে অ্যানিমেটেড মুভির মনোনয়নেও। গোল্ডেন গ্লোবে দাপিয়ে বেড়ানো ‘লেগো মুভি’কে টপকে ‘হাউ টু ট্রেন ইওর ড্রাগন টু’ পুরস্কার জেতায় অনেকেই ছিলেন অস্কারের পথ চেয়ে। আর এখানে কিনা মনোনয়নই জুটল না ছবিটার ভাগ্যে।

বাচ্চাটাকে ওরা বাঁচতে দিল না ক্যান? by মানসুরা হোসাইন

‘আমার বাচ্চাটার কী অপরাধ ছিল? আমি বাচ্চাটাকে নিয়া বাঁচতে চাইছিলাম। সেই বাচ্চাটাকে ওরা বাঁচতে দিল না ক্যান? আমি খুনিদের ন্যায্যবিচার চাই। আমার মতন আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়। ধাপে ধাপে ওপরে ওঠার বয়স ছিল, আর এখনই সে ফুরাইয়া গেল।’
আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে বসে এসব কথা বলেন নূরজাহান বেগম। তাঁর বুকভরা বেদনা থেকে যেন নীল টুকরোর মতো পড়ে হাহাকার ও ক্ষোভে ভরা কথাগুলো।
তিনি সানজিদ হোসেন অভির (১৯) মা। গতকাল বুধবার রাত দেড়টার দিকে অভি মারা যান। মর্গে ছেলের লাশের ময়নাতদন্ত চলছিল। মা কিছুতেই তা চাননি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মামলার প্রয়োজনে এটা করতে হবে।
নূরজাহান বেগম নর্দমার পাশে একটি সিঁড়িতে বসে আছেন সকাল থেকে। ছেলের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুরে যেতে হবে। এর আগে ছেলের লাশ যাবে কবি নজরুল কলেজে। অভি ওই কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটার দিকে অবরোধে দুর্বৃত্তদের ককটেল হামলায় রাজধানীর বঙ্গবাজারের এনএক্স টাওয়ারের সামনে আহত হন অভি। ককটেল হামলায় তাঁর মুখের আশপাশের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়‌ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত হওয়ার পর থেকে অভির পাশেই ছিলেন মা। আশঙ্কায় তাঁর মনটা দুরুদুরু করছিল। কিন্তু সবাই ভরসা দিচ্ছিল অভি সেরে উঠবেন। কিন্তু অভি এখন সব ভরসা আর আশ্বাসের ঊর্ধ্বে।
নূরজাহান বেগম কাঁদতেও পারছিলেন না। বিলাপ করে বলেন, ‘ও তো বলত, “মা, তুমারে রাইখ্যা আমি কোথাও যাইবো না।” কিন্তু ও তো চইল্যা গেল। ও আমারে কোথায় রাইখ্যা গেল? সরকার বলে এসব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। কী আর ব্যবস্থা করবে? সরকার কী আমার সন্তানরে আবার আমার কোলে ফিরাই দিতে পারব? আর যাতে কেউ বোমা মারতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে পারব?’
গত পরশু ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয় নূরজাহান বেগমের। গতকাল সারা দিনই ওর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি ছেলেরে বলছি তুই আমারে হাসপাতালে খুব জ্বালাইতেছিস। তখন ছেলে বলে, “মা, আমরা বাড়ি চলে যাব। চাকরিবাকরি করব না। গ্রাম থেইক্যা তোমার জন্য একটা টুকটুকে বউ আইন্যা দিব।”’
অভি পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার দোকানে কাজ করতেন। নিজের জন্য একটি কম্পিউটারের শখ ছিল। নূরজাহান বেগমের পক্ষে তা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তবে বলেছিলেন, যেমন করেই হোক, এটা কিনে দেবেন।
অভির বাবা ডিম বিক্রি করেন। মাত্র তিন মাস আগে প্রসবজনিত জটিলতায় সন্তান রেখে মারা গেছেন অভির বোন। এখন শুধু আছে দেড় বছর বয়সী এক ভাই।
অভির ভগ্নিপতি আফজাল বলেন, ‘রাতে অভিকে আইসিইউতে নিলে হয়তো ও মরত না।’
নূরজাহান বেগমের পাশেই ছিলেন অভির এক খালা। তাঁর ভাষ্য, ‘১০ টাকা দিলেই অভির সারা দিনের খরচ চলে যেত। খরচ কমাতে হেঁটেই বেশির ভাগ জায়গায় যেত। কোনো রাজনীতি করত না। ওর কলেজের প্রায় সবাই হাসপাতালের মর্গে এসেছেন।’

লালবাগে বাসায় বিস্ফোরণ- হাত উড়ে গেছে ছাত্রদল নেতার

(রাজধানীর লালবাগের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে ঝলসে যাওয়া শিশু লিপন (ডানে কোলে) ও হ্যাপিকে (সামনে ডানে) হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা l প্রথম আলো) পুরান ঢাকার লালবাগের একটি বাসায় গতকাল বুধবার বিস্ফোরণে মাহবুবুর রহমান ওরফে বাপ্পী (২৫) নামে এক যুবকের ডান হাত কনুই পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিস্ফোরণে তাঁর ভাগনি হ্যাপি আক্তার (১২) ও ভাগনে লিপন (৬) জখম হয়েছে। আহত এই তিনজনকে পুলিশের পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণে বাপ্পীর ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত ও বাঁ হাত ঝলসে গেছে। হ্যাপির মুখমণ্ডল, হাত এবং লিপনের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মুখমণ্ডল, হাত ও পা ঝলসে গেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বাপ্পীর ১৭ শতাংশ, হ্যাপির ১৯ ও লিপনের শরীর ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে বাপ্পীর ডান হাত উড়ে গেছে। তিনি কাঁটাবনের ‘বোমা বাপ্পী’ হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় আহত তিনজন, বাপ্পীর বোন, ভগ্নিপতিসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বাপ্পী নিউমার্কেট থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তবে ছাত্রদল সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিউমার্কেট থানা শাখার বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাপ্পীর বোন ঝুমুর আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, বোমার বিস্ফোরণে নয়, কক্ষ গরম করার বড় লাইট বিস্ফোরণে তাঁর মেয়ে হ্যাপি, ভাই বাপ্পী, বোনের ছেলে লিপন আহত হয়। তিনি একটু দূরে থাকায় কিছু হয়নি।
বাপ্পী ঝুমুরদের সঙ্গে লালবাগের ঢাকেশ্বরী সড়কের ২৯/২ নম্বর পাঁচতলা বাড়ির দোতলায় থাকেন। তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল হাকিম। লিপন থাকে মা-বাবার সঙ্গে কাঁটাবনে, খালার বাসায় বেড়াতে এসেছিল। বাপ্পীদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটেই থাকেন বাড়ির মালিক আবুল কাশেম।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাশেমের স্ত্রী সুফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, এক মাস আগে বাপ্পী নিজেকে টাইলসের দোকানের কর্মচারী ও ভগ্নিপতি হাকিমকে গাড়িচালক পরিচয় দিয়ে দুই কক্ষের বাসা ভাড়া নেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে ওই বাসায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বাড়িটি কেঁপে ওঠে। বিদ্যুৎও চলে যায়। ওই বাসা থেকে ‘বাঁচাও’, ‘বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বাড়ি ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ এলে দেখেন পাশের বাসার স্টিলের দরজা খোলা। পুরো দোতলা ধোঁয়াচ্ছন্ন। আগুনও জ্বলছিল। তাঁরা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভান। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল।
ডিবির পরিদর্শক সফিউল্লাহ শেখ বলেন, হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে বিস্ফোরকের আলামত পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর কক্ষে আগুন ধরে যাওয়ায় পানি ছিটিয়ে নেভানোর কারণে পোড়া বিস্ফোরক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে। বিকেলে ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, সামনের কক্ষে থাকা চৌকিটি ভেঙে খণ্ড খণ্ড হয়ে আছে। লেপ-তোশক, পোড়া কাপড়-চোপড় ও মালপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজউদ্দিন বলেন, বিস্ফোরণস্থল দেখে মনে হচ্ছে চৌকির ওপর বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বাপ্পী কাঁটাবনের বোমা বাপ্পী হিসেবে পরিচিত। তিনি বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে যান। তিনি বোমা বানান এবং সরবরাহ করেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। মফিজউদ্দিন বলেন, ওই বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়ায় পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বোমা বাপ্পীসহ আহত তিনজন, বাড়িওয়ালা আবুল কাশেম, বাপ্পীর বোন ঝুমুর ও তাঁর স্বামীসহ অন্যরা।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এ্যান সি. রিচার্ড। এ ইস্যুতে আগামী দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ‘ইউএস পলিসি অন রিফিউজি, মাইগ্রেশন অ্যান্ড পপুলেশন ডাইনামিকস’ শীর্ষক এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা সফর করে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন তিনি। ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিনিধি এখানে তিন দিন অবস্থান করবেন। রাজনীতিক, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সিরিজ মিটিং করবেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জীবনমান সরজমিন দেখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শনে যাবেন তিনি। গতকাল পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরেছেন। অবশ্য এর আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) আয়োজিত এমিনেন্ট পারসন লেকচারে অংশ নেন। ইস্কাটনস্থ প্রতিষ্ঠানের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই বক্তৃতায় মার্কিন মন্ত্রী শরণার্থী ইস্যুতে আমেরিকার নীতি বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বিশেষ করে দেশটির আরাকান প্রদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সমপ্রদায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের ‘মিয়ানমারের নাগরিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের স্বেচ্ছায় দেশটিতে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে দেশটির নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনে এরা ‘এথনিক গ্রুপ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না। আর বাস্তুচ্যুত বলেই এরা নানা রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। দেশটির অভ্যন্তরে  ‘ভাসমান’ হয়ে পড়ার কারণে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে ছুটে। তাদের উদ্বাস্তু হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্যোগের বিষয়টি স্মরণ করে মার্কিন মন্ত্রী বলেন, ক’বছর আগে আমি মিয়ানমার সফর করি। ঢাকায় আসার আগে যখন দেশটি সফরে যাই তখন দেখি অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাবে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন ওই প্রতিনিধি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মূল উৎপাটনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটির স্থায়ী সমাধান জরুরি। এ জন্য সংঘাতময় এলাকায় ‘পারস্পরিক সংলাপ’- চালু করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্মীয় সংঘাত ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানা কারণে শরণার্থীদের বিষয়টি এখন অনেক দেশেই দেখা যায়- এমন মন্তব্য করে মার্কিন মন্ত্রী বলেন, বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনই যখন এসব শরণার্থী ক্যাম্প  ছেড়ে নগর-বন্দর ও লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি উদ্বাস্তুদের বিশেষ করে উদ্বাস্তু নারী ও শিশুদের অধিকারের ব্যাপারে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। ২০১৪ সালকে একটি কঠিন বছর আখ্যায়িত করে ওবামা প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই বছরে মানুষ-সৃষ্ট দুর্যোগ সর্বনিম্ন স্তরে  নেমে এসেছিল। এই বছরে বেশ কয়েকটি কুৎসিত যুদ্ধ মানুষ দেখেছে যাতে অনেকেই গৃহহারা হয়েছেন, পরিণত হয়েছেন উদ্বাস্তুতে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, শুধুমাত্র সিরিয়ার যুদ্ধেই ১ কোটি ২ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে উদ্বাস্তু জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে ৫ কোটিরও বেশি শরণার্থী রয়েছে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি। তিনি সামপ্রতিক শরণার্থী পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে এ জন্য ইরাকে আইএসআইএসের সন্ত্রাসী কর্মকা-, দক্ষিণ ও মধ্য সুদানে গৃহযুদ্ধ, ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের যুদ্ধ এবং গাজায় ইহুদি ও হামাসের যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। মার্কিন মন্ত্রী গত প্রায় দুই দশক ধরে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের আশ্রয়  দেয়ার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রতিনিধির বক্তৃতার আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিস-এর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব  মো. শহীদুল হক। অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামপ্রতিক সময়ে শরণার্থী ও অভিবাসন ইস্যু মানবাধিকার ও মানবিক নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও অনুন্নত দেশের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন কাজ হলেও এখানে দুই দশক ধরে বিপুল পরিমাণ মিয়ানমার নাগরিক শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ে রয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব তার সমাপনী বক্তৃতায় বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আন ডকুমেন্টেট মিয়ানমার নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে দেশটির সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের আরও বেশি সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

মনের সুস্থতায় সংগীত ও শিল্প

(ভেনেজুয়েলার কারাকাসে গান শুনিয়ে রোগীদের মিউজিক থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। ছবিটি কারাকাসের জেএম দে লস রিওস পেডিয়াট্রিক হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগ থেকে তোলা। ছবি: এএফপি) গান মানুষের মন চাঙা করে। শিল্প ছড়িয়ে দেয় ভালো লাগার অনুভূতি। এই দুটি জিনিসকেই থেরাপি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন পাকিস্তানের ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সংগীত ও শিল্প ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের আত্মপ্রকাশের মহা অবলম্বন। এর প্রভাবে শিশুরা স্বাভাবিকভাবে সৃজনশীলতার দিকে ধাবিত হয়। ক্যানসারের গবেষণা ও চিকিৎসার জন্য করাচির ইন্দুস হাসপাতালের এমনিতেই বেশ সুনাম রয়েছে। পাকিস্তানে তারাই প্রথম ক্যানসার রোগীদের মানসিক সমর্থন দিতে ও মনোবল চাঙা করতে সংগীত আর শিল্পকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গানের প্রতি মানুষের টান চিরন্তন। পপ, র‌্যাপসহ পশ্চিমা সংগীত কিংবা ধ্রুপদি গান বা ধর্মীয় সংগীত—যা-ই হোক না কেন, আকর্ষণ থেকেই মানুষ নিয়মিত গান শোনে। কখনো তা হতে পারে স্রেফ বিনোদন, কখনোবা তা হতে পারে মনের ক্লান্তি দূর করার দাওয়াই। শারীরিক সুস্থতায় মানসিক প্রশান্তির জন্য কত কিছুই না করে মানুষ। কত অর্থই না খরচ করে। অথচ ভালো লাগার কিছু গান মানুষকে দিতে পারে সেই টনিক।  শুধু তা-ই নয়, ক্যানসার রোগীদের জন্য এখন সংগীত ও শিল্পকলা থেরাপি অপরিহার্য। এমনটাই বলছেন করাচির ইন্দুস হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সাইকো সোশ্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রধান ইরাম গাজী।
ইরাম গাজী বলেন, ‘ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের গান শুনিয়ে ও সৃজনশীল কোনো কিছু দেখিয়ে তাঁদের যন্ত্রণা, স্নায়ুরোগ বা নিরাময় অযোগ্য কোনো সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে সহায়তা করতে পারি।’
তিনি ওষুধের বিকল্প পদ্ধতির ওপর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। এটাই তাঁর এখন প্রধান কাজের ক্ষেত্র। বর্তমানে তিনি ক্যানসার রোগীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ করছেন।
ইরাম গাজী বলেন, ‘আমি দেখেছি কঠিন রোগের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া রোগীদের গান শোনালে বা অন্য কোনো সৃজনশীল কিছু দেখালে সত্যি সত্যিই তাঁদের ভেতরে আত্মবিশ্বাসটা বহু গুণ বেড়ে যায়। ’
শিশুদের নিয়ে সাধারণ কিছু ভুল ধারণাও ভেঙে দিয়েছেন ইরাম গাজী। তিনি বলেন, অনেকের ধারণা যে বড়দের চেয়ে শিশুরা সহজেই মনের কথা, দুঃখ-কষ্টের কথা প্রকাশ করে। এটা ভুল ধারণা। এ ব্যাপারে শিশুদের যতটা অবোধ ভাবা হয়, আসলে তা নয়। বরং বড়রা পরিবারের কথা চিন্তা করে শিশুদের চেয়ে সহজেই দুঃখ-কষ্টের কথা প্রকাশ করে দেয়। তাঁদের এই কাজটাকেই আরও সহজ করে দেয় মিউজিক থেরাপি বা সংগীত ও শিল্পকলার চিকিৎসা কৌশল। এটা যখন ধরে, ওষুধ বা অন্য কোনো চিকিৎসার চেয়ে বেশ ভালো কাজে দেয়।

দায় নিতে হবে দুই দলকেই

এখন যেটা চলছে, তার দায়ভার দুটি দলকেই নিতে হবে। একদল ক্ষমতায় থাকতে চাইছে, অন্য দল টেনে নামাতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হওয়া উচিত; মানুষ পুড়িয়ে নয়। আমাদের কেন পুড়তে হচ্ছে? এই যন্ত্রণা অসহনীয়। এই যে এত এত মন্ত্রী আমাদের দেখতে বার্ন ইউনিটে আসছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, প্লিজ, আমাদের দেখতে না এসে কথা বলুন। সমস্যার সমাধান করুন। আমার ধারণা, যারা আগুন লাগাচ্ছে তারা কোনো দলের নয়। ভাড়া খাটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ওদের বয়স কম। যারা ওদের ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। অল্প বয়সী এই ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলুন। সমস্যাটা কোথায় খুঁজে বের করুন। একটা বিষয় ভেবে দেখুন। আমার বাড়ি হাতিয়া। আমাদের জীবনের একটাই লক্ষ্য, তা হলো মানুষ হয়ে সংসারের হাল ধরা। আমি দিন গুনছিলাম। তৃতীয় বর্ষ চলছে। আর বছর দুয়েক পরই পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারব। সে জায়গায় আমি এখন বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে। আমার বন্ধুরা ক্লাস বন্ধ রেখেছে। কত দিন এভাবে শুয়ে থাকতে হবে জানি না। মনে হচ্ছিল, সুস্থ হয়ে উঠছি। নতুন করে মুখে-হাতে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। সরকার হরতাল-অবরোধের আগুনে পোড়া মানুষের দায়িত্ব নিয়েছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যে আমার পেছনে পরিবারের চার লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে।
অনুলিখন: শেখ সাবিহা আলম

ইয়েমেন সংকট- বিদ্রোহীদের হাতে সানা

(ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গতকাল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরে সামরিক বাহিনীর একটি যানে বসে আছেন শিয়া হুতি যোদ্ধাদের কয়েকজন l ছবি: রয়টার্স) টানা দুই দিনের সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রায় সবকিছুই শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। তারা গতকাল বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুরাবুহ মানসুর হাদির প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে হুতি যোদ্ধারা বলেছে, তারা প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করেনি। হুতি সম্প্রদায়ের নেতা বলেছেন, দেশ এখন ‘সংকটপূর্ণ ও চূড়ান্ত’ ক্ষণে রয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। ইয়েমেনের হুতিরা শিয়া ইরানের মদদ পায়। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শিয়া ইরান আবার ইয়েমেনের প্রতিবেশী সুন্নি সৌদি আরবের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। এ মুহূর্তে হুতিরাই এখন ইয়েমেনের সবচেয়ে দাপুটে শক্তি। তবে দৃশ্যত তারা সরকারকে উৎখাতের পরিবর্তে চাপে রেখে সুবিধা আদায়ের কৌশল নিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ক্ষমতা দখলের দায় না নিয়ে দেশের নেতাদের নিজেদের করুণার ওপরে রাখতেই এই কৌশল।
সানায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে গত সোম ও মঙ্গলবারের সংঘর্ষে হুতি বিদ্রোহীদের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যায় প্রেসিডেন্টের গার্ড বাহিনীর সদস্যরা। এরপর গতকাল স্থানীয় সময় সকালের মধ্যেই হুতি বিদ্রোহীরা একটি সাঁজোয়াযানে সজ্জিত হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
হুতি পলিটব্যুরো সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হাদি এখনো নিজের বাসভবনের ভেতরে রয়েছেন। সেখানে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। (চাইলে) তিনি বাসভবন ত্যাগ করতে পারেন।’
হুতি সম্প্রদায়ের নেতা আবদেল মালেক আল-হুতি মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনে ভাষণ দেন। এতে তিনি প্রেসিডেন্ট হাদি ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তাঁরা ইয়েমেনি জনগণের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাঁরা দুর্নীতি ও স্বৈরতন্ত্রের গভীরে ডুবে গেছেন। দেশ এক করুণ পরিস্থিতি তথা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার পথে চলছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা —সবদিক থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।’
প্রেসিডেন্ট হাদিই দেশে আল-কায়েদার জঙ্গিদের বাড়তে দিয়েছেন, এমন অভিযোগ তুলে মালেক আরও বলেন, ‘তাঁরা সব প্রদেশেই তাদের (আল-কায়েদা) বেড়ে উঠতে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে লড়াই করতে দেননি।’ হুতিদের ক্ষমতা বাড়াতে প্রেসিডেন্ট সংবিধানে পরিবর্তন আনার দাবি না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি। আল-হুতি বলেন, ‘শান্তি ও অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নে আমরা...প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করব না।’
হুতি বিদ্রোহীরাই যে এখন ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণে, নেতা মালেকের ওই ভাষণে তা প্রায় স্পষ্ট হয়ে গেল। এমনকি সংবাদপত্র আল মাসাদার মালেককে দেশের ‘প্রেসিডেন্টের প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিজেদের সাদা প্রদেশে অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল হুতিরা। তাদের মিলিশিয়া বাহিনী গত সেপ্টেম্বরে প্রতিরোধ ছাড়াই রাজধানী সানায় প্রবেশ করে। ওই ঘটনার পর থেকে এবারের পরিস্থিতিই সবচেয়ে বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। ঐক্যের সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে, এমন শর্তে হুতি মিলিশিয়ারা সেপ্টেম্বর মাসে অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছিল। অস্ত্রবিরতির শর্ত অনুযায়ী মিলিশিয়ারা সব এলাকা থেকে সরে যেতে সম্মত হলেও রাজধানী সানার অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
ইয়েমেনের সংকট নিয়ে আলোচনা করতে প্রেসিডেন্ট হাদির ঘনিষ্ঠ মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গতকাল রাতে সৌদি আরবে জরুরি বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা ছিল।
শিয়া মিলিশিয়াদের ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। প্রেসিডেন্ট
হাদিকে দেশের ‘বৈধ কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে সমর্থন দিয়ে পরিষদ বলেছে, ‘দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সঠিক পথে রাখতে’ সব পক্ষকে সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঘর-বারান্দা by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। তার আগে এ পদটি অলঙ্কৃত করে গেছেন আরও ২০ কীর্তিপুরুষ। তবে সবার চেয়ে একটু আলাদাই সুরেন্দ্র কুমার সিনহা- যার ছোট্ট নাম এস কে সিনহা, কাছের জনরা তাকে চেনেন আরও ছোট নামে- সুরেন। অনেক ঐতিহাসিক রায় লিখেছেন তিনি। এবার নিজেকে দিয়েই লিখলেন নতুন ইতিহাস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির তালিকায় এবারই প্রথম কোন নাম যুক্ত হলো যিনি মুসলিম নন। ইতিহাসের পাতাকে বর্ণিল করেছে তার জাতিগত পরিচয়। তিনি প্রতিনিধিত্ব করছেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরও। ইতিহাস গড়ে হয়ে উঠেছেন পুরো মণিপুরি জাতির অহঙ্কারের প্রতীক। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিভৃত এক গ্রাম তিলকপুর। উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেক দূরে থাকলেও গ্রামটিতে শিক্ষার আলো জ্বলছিল  অনেক আগে থেকেই। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ায় ‘বিদ্যাসাগর’ নামে অন্য পরিচয়ও রয়েছে গ্রামটির। শত ভাগ শিক্ষিতের সে ‘বিদ্যাসাগরে’ই প্রথম সাঁতার কাটার শুরু সুরেন্দ্র কুমার সিনহার। ১৯৫১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। স্কুল শিক্ষক ললিত মোহন সিনহা ও ধনবতী সিনহার দ্বিতীয় সন্তান এস কে সিনহা পড়ালেখার পাঠ শুরু করেন গ্রামের রানীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ভর্তি হন কমলগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এস কে সিনহা গ্রাম ছেড়ে আসেন সিলেটে। শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লেখান সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মদন মোহন কলেজে। সেখান থেকে ১৯৬৮ সালে পাস করেন উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৭০ সালে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৭৪ সালের ১৯শে ডিসেম্বর আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন সিলেট জেলা জজ কোর্টে। সিলেটের প্রথিতযশা আইনজীবী সুলেমান রাজা চৌধুরীর জুনিয়র হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন। থাকতেন নগরীর তাঁতিপাড়ায়। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সিলেটেই ছিলেন। ’৭৮ সালে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে নাম লেখান তিনি। ১৯৯০ সালে এস কে সিনহার পরিচিতি হয় আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে। স্বনামধন্য আইনজীবী এস আর পালের জুনিয়র হিসেবে আইন পেশা চালিয়ে যান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত। ১৯৯৯ সালের ২৪শে অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে যোগ দেন এস কে সিনহা। ১০ বছর পর ২০০৯ সালের ১৬ই জুলাই তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এস কে সিনহা স্বপ্নের শেষ সীমা ছুঁলেন গত ১৭ই জানুয়ারি, বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। এমন স্বপ্নের বীজ কিন্তু অনেক আগে থেকেই বোনা ছিল এস কে সিনহার মনে। যখন তিনি কর্মজীবনের প্রবেশের দ্বারে তখন থেকেই তার মনে এমন স্বপ্নের আনাগোনা। বাবা ললিত মোহন সিনহা চেয়েছিলেন সরকারি কোন চাকরি নিয়ে নিশ্চিত জীবনে থিতু হন ছেলে। তবে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী ছিলেন না এস কে সিনহা। সুযোগ এসেছিল তবে চোখ ফেরাননি সেদিকে। হৃদয়জুড়ে ছিল আইনের ঘর-বারান্দা। শপথ ছিল মনে এ ভুবনের শীর্ষে পৌঁছুবেন একদিন।  স্বপ্নের মতো সাজানো এস কে সিনহার ব্যক্তিজীবনও। ১৯৭৮ সালের ২রা জুলাই কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের জবলারপার গ্রামের সমরেন্দ্র কুমার সিনহা ও হেমলতা সিনহার বড় মেয়ে সুষমা সিনহার সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন এস কে সিনহা। সুখী সংসারে তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে সূচনা সিনহা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী, স্বামী বিদ্যুৎ প্রকৌশলী। ছোট মেয়ে আশা সিনহা স্বামীর সঙ্গে কানাডায়।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বড় ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহা মার্কেন্টাইল মেরিন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী, থাকেন চট্টগ্রামে। একমাত্র বোনটি তার ছোট, সত্যবামা দেবী ২০০৯ সালে মারা গেছেন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা নীলমণি সিনহা গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। সব চেয়ে ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহা পেশায় দন্ত চিকিৎসক, থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ব্যস্ত জীবনে খুব কমই অবসর মেলে এস কে সিনহার। সেটারও মাপা মাপা ব্যয় করেন তিনি। তার স্ত্রী সুষমা সিনহা মানবজমিনকে বললেন, অবসর পেলে গান শুনেন বাংলাদেশের নতুন প্রধান বিচারপতি। রবীন্দ্র সংগীতই তার পছন্দের তালিকায়। খাবারে তেমন বাছবিচার না থাকলেও দুর্বলতা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভর্তার প্রতি। কোষ্ঠী  বিচারে তিনি তুলা রাশির জাতক। পোশাক হিসেবে প্রথম পছন্দ পাঞ্জাবি-পায়জামা। কাছে টানে হালকা ধরনের রঙগুলো।
কেমন মানুষ এস কে সিনহা। তার সহপাঠী-বন্ধুদের সঙ্গে আলাপে বুঝা যায় ‘সুরেন’ সবার প্রিয়ই। স্কুল জীবনের সহপাঠী ও ভগ্নিপতি রায়মোহন সিংহ মানবজমিনের কাছে এস কে সিনহার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরলেন এভাবে, তিনি যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান- একথাটি সব সময়ই স্মরণে রাখেন এস কে সিনহা। সব সময়ই সততার প্রতি খেয়াল রেখেই এগিয়ে গেছেন। রায়মোহন সিংহ বলেন, পড়াশোনায় কোন বিরতি নেই তার। শত ব্যস্ততার মাঝে ফাঁক পেলেই বইয়ের পাতা চোখের সামনে মেলে ধরেন এস কে সিনহা। মানবজমিনের সঙ্গে কথা হয় এস কে সিনহার বাল্যবন্ধু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ’র। বন্ধুকে নিয়ে বেশ গর্বই তার। বললেন, এতো উঁচু মাপের মানুষ তবে এতটুকু বদলে যায়নি সুরেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও ও আমার সঙ্গে নিয়মিতই ফোনে আলাপ করে। প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরও ওর সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। ও বললো, ‘আমাকে নিয়ে কি কেউ কিছু বলে?’ আমি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেছি, হ্যাঁ তোকে নিয়ে লোকে অনেক কিছুই বলে। আরও অনেক কিছু জানতে চেয়েছিল সুরেন, আমি বলিনি। জমা রেখেছি অন্য আরেক দিনের জন্য।

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাসে আগুন- ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটের মৈত্রী পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১১-১৭৪৩) ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে দুর্বৃত্তরা। এরপর পেট্রল ঢেলে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে চলে যায় তারা। এ সময় তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, আগুন দেয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোন তথ্য নেই।
নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার
নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এ তথ্য জানিয়ে বলেন, দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারীদের অন দ্য স্পটে ধরিয়ে দেয়ার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। সাধারণ মানুষ যারা ধরিয়ে দেবেন তারা এ পুরস্কার পাবেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে পুরস্কারের মূল্য কত হবে, তা পরে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তার এ ঘোষণার একদিন পর পুরস্কারের মূল্যমান ঘোষণা করা হলো।

জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ক্ষোভ by দীন ইসলাম

জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে সরকারি দলের এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সব জনপ্রতিনিধি জনগণের পাশে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে। জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি’র বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। বলেন, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির জন্য অবরোধকারীদের ঠিকভাবে ধরা যায় না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। তাই জনপ্রতিনিধিরা ঠিকভাবে এলাকায় বসবাস করলে অবরোধকারীদের দমনের কাজটি সহজ হয়ে যায়। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বিশেষ বৈঠকে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় জনপ্রতিনিধিদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। মন্ত্রিসভা কমিটি’র একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের চেয়ে জোরালো বক্তব্য দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা। অবরোধ ও যে কোন ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান দেন। একই সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কি ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন ওই সব কথাও জানানো হয় বৈঠকে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলী’র ‘দেখামাত্র গুলি করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার’- এমন বক্তব্য আলোচিত হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, বিএনপিসহ ২০ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি মানুষের মনে কোন ধরনের সাড়া ফেলতে পারেনি। অবরোধ মানে সব কিছু স্থবির হয়ে যাবে। কিন্তু সব কিছু কি স্থবির হয়েছে? সব কিছুই এখন স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ২০ দল তাদের আন্দোলনে জনসমর্থন পায়নি বলে চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করেছে। এটা ঠেকাতে সবার আগে এমপিসহ সব জনপ্রতিনিধিদের এলাকায় যেতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সবার আগে পরিস্থিতি প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এরপরই রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দুই ঘণ্টার এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কমিটি’র অন্য সদস্য-মন্ত্রীরা খুব একটা বক্তব্য দেননি। সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, আমরা একটি বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশের সকল মানুষের কাছে প্রশ্ন, দেশে আদৌ রাজনীতি থাকবে কি থাকবে না। রাজনীতিকে দেশের অঙ্গন থেকে আমরা বিদায় দিচ্ছি কিনা। কারণ আমরা দেখেছি, দেশে কোন  রাজনৈতিক অ্যাকটিভিটিস (কার্মকা-) নেই।
১৯৭২ সালে আমরা দেখেছি, একটি ব্যাংক ডাকাতি করলে বা ফাঁড়ি লুট করলে সর্বহারার নামে একটা স্লোগান হতো। এখন যারা পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করছে তারা কিন্তু অবরোধের স্লোগান দেয় না। নীরবে-নিভৃতে তারা পেট্রলবোমা মেরে হত্যাকা- সংঘটিত করে হয় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, না হয় ধরা পড়ে। কিন্তু খালেদা জিয়া দাবি করেন, এটা অবরোধ। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখা ও পুনরুজ্জীবিত করার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এ কমিটিসহ সবাইকে কঠিন হস্তে এ অপসংস্কৃতির রাজনীতি দমন করতে হবে। আজ যদি এরা প্রাধান্য পায়, সামনে আসে, তবে ভবিষ্যৎ কি হবে? কেউ তা হলে কষ্ট করে রাজনীতি করবে না। কেউ সংগঠন করবে না। পেট্রলবোমা মেরে যদি দাবি আদায় করা যায় তবে ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করার প্রয়োজন থাকবে না। তিনি বলেন, সভায় পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে আমরা মোটামুটি সন্তোষ প্রকাশ করার মতো একটি অবস্থায় এসেছি। কারণ ওনাদের (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি লক্ষ্য করছি। খালেদা জিয়া কথায় কথায় বলেন, তারা কোন  নাশকতামূলক কাজে জড়িত নন। কিন্তু এ পর্যন্ত  যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাতে আমরা বলছি, তার তথ্য সঠিক নয়। তিনি যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান- এটাই আমরা প্রমাণ করে দিচ্ছি। নাশকতার আশঙ্কায় অবরোধের মধ্যে সারা দেশে সাত হাজার ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৫৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ১২৫ জন, জামায়াত-শিবিরের ২৭ ও অন্যান্য দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জে বিএনপির ১৩৪ জন, জামায়াত-শিবিরের ১৮ জন, চট্টগ্রাম রেঞ্জে বিএনপির ১২০ জন, জামায়াত-শিবিরের ২৮  নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাজশাহী রেঞ্জে বিএনপির ৭৬ জন ও জামায়াত-শিবিরের ৩৩ জন, রংপুর রেঞ্জে বিএনপির ৩৮ জন ও জামায়াত-শিবিরের ৬০ জন, খুলনা রেঞ্জে বিএনপির ১১৭ জন ও জামায়াত-শিবিরের ৩৫ জন এবং বরিশাল রেঞ্জে বিএনপির ২২ জন ও জামায়াত-শিবিরের একজন, সিলেট রেঞ্জে বিএনপির ৩৫ জন ও জামায়াত-শিবিরের ১৩ জন, রেলওয়ে রেঞ্জে বিএনপির তিনজন ও জামায়াত-শিবিরের তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। হাইওয়েতে এখন পর্যন্ত কোন গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। নাশকতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা অবস্থায় স্পট এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে দাবি করে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ১৬ থেকে ২০শে জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন জেলার যান চলাচলের সার্বিক চিত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করে বলেন, এ সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬৬ হাজার গাড়ি (বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, অয়েল ট্যাঙ্কার, জিপ) হাইওয়ে দিয়ে ঢাকায় এসেছে এবং ঢাকা থেকে বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে গেছে। সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে আমু প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা এদেশের সন্তান। প্রতিদিন ৩৫ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। কোথায় একটি গাড়িতে আগুন দেয় সেই খবর দুই বা তিন দিন ধরে দেখান। অথচ গাড়ি যাতায়াতের খবর একটু  দেখিয়ে আর দেখান না। এটা কেন? এটা কি সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে না?
কমিটি’র প্রধান শিল্পমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার কি মনে নেই আমরা অবরোধ করেছিলাম, তখন ইয়াজউদ্দিনের বঙ্গভবন থেকে শুরু করে হাইওয়ে, জেলা-উপজেলার সড়কে লাখ লাখ লোক বসে অবরোধ করেছিল। ওটা হলো অবরোধ। এখন যারা পেট্রলবোমায় মানুষ মেরে অবরোধ করে, তারা দেশ থেকে রাজনীতি বিদায় করতে চায়। নকশালবাদীদের মতো একটা দল তারা গঠন করতে চায়। সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য বিএনপি মানুষের কাছে পরিত্যক্ত হয়েছে দাবি করে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ বলেন, মানুষের ধারণা তাদের রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের রাজনীতি মানুষ গ্রহণ করছে না। তাই মানুষের প্রতি আস্থা হারিয়ে তারা প্রতিহিংসামূলক হত্যাকা-  ঘটাচ্ছে। মানুষ হত্যা করার এ রাজনীতি সফল হতে পারে না, পারে না, পারে না। এটা আমরা অনুধাবন করেছি। সেভাবেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে।
আমির হোসেন আমু বলেন, ডিসি (জেলা প্রশাসক), এসপিসহ (পুলিশ সুপার) বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা কমিটি রয়েছে। সকল নির্বাচিত প্রতিনিধি, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের সকল পক্ষকে যুক্ত করে এ কমিটি আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর বাইরে কিছু এলিট ব্যক্তিকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে শান্তি স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতে আমির হোসেন আমু জানান, এ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী  তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিজিবি মহাপরিচালক  মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, কোস্টগার্ড ও আনসারের প্রধানসহ কমিটির সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ডলফিন ফ্যান্টাসি: পিটার-মার্গারেটের প্রেম ও যৌনতা

মাত্র ৬ বছর বয়সে প্রেমে পাগল হয় পিটার। ইংরেজির শিক্ষিকা মার্গারেট হো-র জন্য অচিরেই সঁপে দিয়েছিল দেহ-মন। তার অনুভূতিতে কী সাড়া দিয়েছিলেন যুবতী মার্গারেটও? সম্প্রতি তার স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে মানবী ও ডলফিনের অত্যাশ্চর্য প্রেমগাথা। ১৯৬৫ সাল। বছর ছয়েকের 'বট্লনোজ' ডলফিন পিটারকে নিয়ে এক অভিনব গবেষণার পরিকল্পনা করেন নাসার জীববিজ্ঞানী জন সি লিলি। আমেরিকার রোদ ঝলমলে সেন্ট টমাস অঞ্চলে তৈরি করা হয় ২২ ইঞ্চি গভীর কৃত্রিম জলাশয়। নোনা জলের এই পুল ঢাকা হয় স্বচ্ছ্ব আচ্ছাদনে। সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় একটি ডেস্ক এবং শাওয়ার কার্টেনে ঢাকা গদি। মনোযোগ কাড়তে এই প্লাস্টিক পর্দা মোড়া গদির উপরই জলের ঝাপটা মারত পিটার। মানুষের ভাষা কী ভাবে রপ্ত করবে ডলফিন? ডলফিনের নাকের উপর রয়েছে একটি ব্লো হোল। শরীরের এই ছিদ্র দিয়ে হাওয়া ছুড়ে তীক্ষ্ণ শিসের মতো শব্দ বের করতে পারে তারা। ঠিক হয়, এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়েই পিটারকে ভাষা শেখানো হবে। দশ সপ্তাহের এই পরীক্ষায় তাকে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় গবেষণা সহায়িকা মার্গারেট হো-কে। তরুণী মার্গারেটের সঙ্গে প্রথম দিন মোটেই ভালো ব্যবহার করেনি পিটার। মানুষের ভাষা শেখার ব্যাপারে তার তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। শত চেষ্টা করেও প্রতি সকালে ছাত্রকে 'হ্যালো মার্গারেট' শব্দ দু'টি শেখাতে পারেননি হো। বদলে অন্য এক রকম আওয়াজ করে প্রতিদিন মার্গারেটকে স্বাগত জানাত পিটার। কিন্তু ধীরে ধীরে সদ্য যৌবনে পা-দেওয়া ছাত্রের ব্যবহারে অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন শিক্ষিকা। বুঝতে পারেন, 'ভালো লাগা' কবে যেন বদলে গিয়েছে 'ভালবাসা'য়। তালিম শুরু হওয়ার চার সপ্তাহ পর ডায়েরিতে মার্গারেট লিখেছেন, 'এ সপ্তাহে একাধিকবার পিটার যৌন আবেগের বশবর্তী হয়েছে। বুঝতে পারছি, আমার প্রতি তার শারীরিক কামনা আমাদের সম্পর্কের মাঝে বাধা সৃষ্টি করছে। ও আমার দু পায়ের ফাঁকে এসে বার বার গুঁতো মারছে, আমার চারপাশে ঘুরে ঘুরে সাঁতার কাটছে, ঠোঁট দিয়ে আমায় ছোট ছোট টোক্কর মারার চেষ্টা করছে এবং আমায় নিয়ে এতই উত্তেজিত হয়ে উঠছে যে ওকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ছে।' কিন্তু পরিবর্তন কি শুধু পিটারেরই ঘটেছিল? মার্গারেট লিখেছেন, 'কাজের খাতিরে পিটারের সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যাপারটা কী ভাবে যেন প্রচণ্ড উপভোগ করতে শুরু করেছি। আমাদের মধ্যে এক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ওর সঙ্গে সারা দিন কাটানোর জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি। ওকে না দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়।' ডায়েরির শেষ পর্যায়ে ডলফিন নয়, বন্ধুকে 'পিটার' বলে ডাকতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেছেন মার্গারেট। পিটারের শারীরিক চাহিদা যে তাঁর পক্ষে কোনও মতেই মেটানো সম্ভব নয়, তা বুঝে কৃত্রিম উপায়ে তার যৌন খিদে মেটাতে সাহায্য করেছেন। তবে তার কথায়, সেটা শুধুই পড়াশোনার প্রতি পিটারের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে। কী রকম ছিল সেই অভিজ্ঞতা? মার্গারেট জানিয়েছেন, বড় দুর্লভ, বড়ই আলতো সেই অনুভব। পিটার জানত আমি ওর সঙ্গেই আছি। ও আমার চারপাশে থাকত। ওর চিন্তায় যা যৌনতা, আমার ভাবনায় তা সূক্ষ্ণ অনুভূতি ছাড়া কিছু নয়। এ যেন একটা ঘা, যা একটু চুলকে নিলেই ফের কাজকর্মে মন দেওয়া যাবে।' দশ সপ্তাহ পর ইংরেজি শিক্ষার মেয়াদ ফুরোয়। পুলে মার্গারেটের যাতায়াতে ছেদ পড়ে। মনে মনে তিনিও হয়তো চেয়েছিলেন ডলফিন ও মানুষের আপাত অবাস্তব এই প্রেমে ইতি টানতে। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে পারেনি পিটার। গবেষণার শেষে সেন্ট টমাস থেকে জাহাজে তাকে মায়ামিতে লিলির গবেষণাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক সপ্তাহ পর হঠাৎ মারা যায় পিটার। পশু চিকিত্সক অ্যন্ডি উইলিয়ামসন জানান, ভগ্ন হৃদয়ই তার মৃত্যুর কারণ। অ্যান্ডির বয়ানে, 'মার্গারেট যা বুঝতে পেরেছিলেন, তা মেনে নিতে পারেনি পিটার। সে শুধু এটুকু টের পেয়েছিল যে তার ভালবাসার জনকে চিরদিনের মতো হারিয়েছে। তাই শেষে আত্মহত্যার পথই বেছে নেয় পিটার।' ষাটের দশকের এই অভাবনীয় ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি একটি তথ্যচিত্র তৈরি করছে বিবিসি। পিটারের কথা বলতে গিয়ে রোমন্থনরত বৃদ্ধা মার্গারেটের চোখের কোণ কি চিক চিক করে উঠেছিল? এ সম্পর্কে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি ছবির পরিচালক।- ওয়েবসাইট

ফুল- লবঙ্গলতা by সৌরভ মাহমুদ

(লবঙ্গলতার ফুল। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে গত এপ্রিলে তোলা l ছবি: লেখক) পাহাড়ি ছড়ার পথে গত বছরের মধ্য গ্রীষ্মে ট্রেকিং করছি। কাঁধে ব্যাগপ্যাক, হাতে দুটি টেলিলেন্সের ক্যামেরা। বন্ধুর পথ। ভেজা পাথরে পা ফসকে যেকোনো সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। ঘণ্টা দুয়েক এভাবেই হাঁটতে হবে ছড়ার পথে। বন্য হাতির ভয়ও আছে। তার পরও হেঁটে চলতে হয়, ক্লান্ত হতে হয়। পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য এবং যখন কোনো বিরল পাখি কিংবা বনফুলের দেখা মেলে, তখন ক্লান্তি নিমেষেই হারিয়ে যায়। সেদিন কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানেরই একটি ছড়ার পথে অনেক প্রজাতির বুনো গাছপালার ফুল ও পাখির দেখা পেলাম, যা অতীতে কখনোই দেিখনি। আমাদের পাহাড়ের গাছপালার প্রজাতির এখনো অধিকাংশ শনাক্ত করা যায়নি। উল্লেখযোগ্য গবেষণাও হয়নি।
আগে লেবু গোত্রের অনেক ফলের বৃক্ষ দেখেছি। কিন্তু লেবু গোত্রের লতাগাছ কখনোই চোখে পড়েনি। কাপ্তাই বনে গিয়ে ছড়ার পথে দুটি বড় লবঙ্গলতার ঝাড় দেখেছি। ছড়ার পথে হাঁটতে হাঁটতে একসময় বনফুলের সুগন্ধ পাই। হন্যে হয়ে ফুলের গাছটিকে খুঁজতে থাকি। তারপর একটি গাছতলায় কিছু ফুলের ঝরে পড়া পাপড়ির দেখা পাই। তারপর ওপরের দিকে তাকিয়ে বিরল এ লতার দেখা পাই এবং নমুনা সংগ্রহ করি।
এটি কাঁটাযুক্ত কাষ্ঠল লতা, পাহাড়ি বড় গাছকে আঁকড়ে ধরে বাড়ে এবং ছড়ার অংশে লতার শাখা ঝুলে পড়ে। ঝুলে পড়া শাখায় পাতার গোড়া থেকে ফুল আসে। ফুলের রং সাদা। লেবু ফুলের মতো। পাপড়ি লম্বাটে ও পাতলা। রোদ বাড়লে ও একটু বাতাস বইলে পাপড়ি ঝরে পড়ে এবং প্রবহমান ছড়ার পানির সঙ্গে দূরে কোথাও হারিয়ে যায়। অনেক সময় পাথরে বাধা পেয়ে এক জায়গায় অনেক পাপড়ি জমে থাকে। এ লতার বৈজ্ঞানিক নাম Paramignya scandens।
এ লতার ফুলের প্রবল সুগন্ধি। পাহাড়ি ছড়ার পথ ধরে হেঁটে গেলে আপনিও সেই সৌরভ অনুভব করতে পারেন। তবে যেতে হবে এপ্রিল মাসে। যখন ফুল ফোটা শুরু হয়। এ লতাকে পাহাড়িরা বনলেবু বলে। লবঙ্গলতা নামটি নিসর্গী অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা তাঁর ভিষক বাবা চন্দ্রকান্ত শর্মার কাছ থেকে জেনেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি ছেলেবেলায় সিলেটের জঙ্গলে পেয়েছিলেন। ফল লেবুর মতো গোল।
লবঙ্গলতা আমাদের দেশের একটি বিপন্ন উদ্ভিদ। বসতি ধ্বংসের ফলে এ লতাগাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ছড়ার কাছাকাছি পরিবেশে জন্মে। এ গাছকে আমাদের যেমন বন্য পরিবেশে টিকিয়ে রাখা দরকার, তেমনি বনের পরিবেশের বাইরে, যেমন উদ্ভিদ উদ্যানে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাগানে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে এ ফুলের প্রবল সুগন্ধি ফুলপ্রেমীরা উপভোগ করতে পারবেন এবং গাছটি সবাই চিনতে পারবেন।

বর্জ্যে বর্জ্যে দূষিত সুরমা by সুমনকুমার দাশ

(কী নেই এখানে! বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁর উচ্ছিষ্ট, ময়লা-আবর্জনা থেকে শুরু করে কলকারখানার বর্জ্য—সবই ভাসছে সুরমা নদীতে। ১৪ জানুয়ারি সিলেট নগরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে তোলা ছবি l আনিস মাহমুদ) যত দূর চোখ যায়, পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল আর ময়লা-আবর্জনা পানিতে ভাসছে। সুরমা নদীতে কয়েক মাস ধরে এমন দূষণ চলছে। সিলেট নগরের অংশে অবস্থিত নদীতীরের অন্তত নয়টি এলাকায় নিয়মিত আবর্জনা ফেলার কারণে এ দূষণ দেখা দিয়েছে বলে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর কিনব্রিজ এলাকার ডানে ও বাঁয়ে অন্তত আধা কিলোমিটার করে প্রায় এক কিলোমিটার স্থানে দূষণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এসব স্থানে প্লাস্টিক ও বোতলজাত পরিত্যক্ত সামগ্রীর পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, সুপারি ও নারকেলের ছোলা, পচা সবজি ভাসছে। এ ময়লা পানিতে গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করায় নদীতীরবর্তী মানুষেরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
১৪ জানুয়ারি দুপুরে নদীতীরের তোপখানা এলাকার বাসিন্দা আজমল মিয়া গোসল করতে এসেছিলেন। তিনি জানান, বিকল্প না থাকায় অনেকেই নদীতে গোসল করেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে নদীর পানিতে দূষণ চরম মাত্রায় পৌঁছার কারণে অনেকের শরীরে চুলকানিসহ নানা চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন আজহারুল ইসলাম জানান, নদী দূষণের কবলে পড়ায় সুরমার পানিতে যাঁরা গোসল বা গৃহস্থালির কাজ সারছেন, তাঁদের নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চর্মরোগ, কিডনি নষ্ট, জীবনহানিকর কৃমির প্রবণতা, পেটের পীড়া, যকৃতের অসুস্থতা তীব্রভাবে দেখা দিতে পারে। এর বাইরে সেখানের জীবাণু থেকে ক্যানসার, যক্ষ্মা ও কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শেখঘাট, কাজিরবাজার, তোপখানা, চাঁদনিঘাট, কালীঘাট, মাছিমপুর, কদমতলী ঘাট, কুশিঘাট, টেকনিক্যাল রোড ঘাট এলাকায় নদীতীরে স্থানীয় লোকজন নিয়মিত হোটেল-রেস্তোরাঁর পচা ও উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা রকমের বর্জ্য ফেলছেন। তীরে ফেলার কারণে এসব বর্জ্য গড়িয়ে পানিতে পড়ছে। কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে এসব বর্জ্য ফেললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দূষণ রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই এর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে তীরের দূষণ ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নগরবাসীর একমাত্র হাঁটাচলার স্থানটিই হচ্ছে সুরমা নদীর পাড়। আর দূষণে বিপর্যস্ত সুরমার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশটি তাই পথচারীদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শেখঘাট, কাজিরবাজার, তোপখানা, চাঁদনিঘাট, কালীঘাট, মাছিমপুর, কদমতলী ঘাট অংশে নগরের বড় পাইকারি হাটগুলো অবস্থিত। এ কারণে এসব এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য বেশি। ব্যবসায়ীরা তাঁদের উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত সামগ্রী কখনো নদীর তীরে আবার কখনো সরাসরি নদীতেই ফেলে দিচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. ছালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ময়লা ফেলে নদীদূষণ ঠেকানো ও সার্বিক তদারকির দায়িত্ব সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, দূষণ ঠেকাতে প্রায়ই নদীতীরের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাতের আঁধারে অনেকে নদীতে বর্জ্য-আবর্জনা ফেলায় দোষী ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। দূষণ ঠেকাতে স্থানীয় লোকজন নিয়ে সচেতনতামূলক বৈঠকও করা হবে।

কারও কাছে কিছু আশা করি না

আমি কোনো আশা দেখি না। যারা স্বার্থের রাজনীতি করে, তাদের কাছ থেকে কীই-বা আশা করা যায়? দেশের জন্য ত্যাগের মানসিকতা কারও নেই। একদল পোড়ায়, একদল মলম লাগায়। কী লাভ তাতে? নির্বাচনের আগেও মানুষ পুড়ে মরেছে। ক্ষমতা নিয়ে মারামারি হচ্ছে আর আমরা বলির দান হচ্ছি। আমাদের তাও আদর্শ আছে। এই যে আমাকে দেখেন, সারা জীবন শুধু সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পড়িয়েছি, স্বাস্থ্যশিক্ষা দিয়েছি। মাস ছয়েক আগেও একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতাম। হঠাৎ বাড়িতে গিয়ে দেখলাম, আমাদের শহরে যারা ছিনতাই-রাহাজানি করত, তারা ইজিবাইক চালাচ্ছে। অন্যায় পথ থেকে সরে এসেছে। আমি খুব রোমাঞ্চিত হলাম। ভাবলাম, ওদের পাশে দাঁড়াই। অনেকেই বলেছিল, স্যার, এই কাজ করবেন না, ছোট কাজ। আমি পাত্তা দিইনি। তখনো কি জানতাম, আমার শখের ইজিবাইক পুড়বে? আমি পুড়ব? আমার তিন সন্তান। ৬ তারিখে স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা। এখন ওরা একেকজন একেক দিকে। সবচেয়ে ছোটটার বয়স আড়াই। একটার ৪, একটার ১০। তারা টিভিতে আমাকে দেখে আর কাঁদে। ওদেরই বা কী হবে? ওদের ভবিষ্যৎ? আমি আজ বেশি কিছু বলব না। হাত দুটো ভালো হলে নিজেই লিখব। শুধু একটা কথাই বলতে চাই রাজনীতিকদের, প্লিজ, আগুন নিয়ে খেলবেন না। দেশে অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ আছেন। তাঁরা জানেন, সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে। অনেকে এতিম হয়েছেন। অনেকে অক্ষম হয়ে গেছেন। তাঁদের কথা ভাবুন। আর যাঁদের পেটের দায়ে রাস্তায় বেরোতে হয়, তাঁরা সাবধানে চলুন। দেশবাসীকে বলব, যারা আগুন দিয়ে পোড়ায়, তাদের হাতের কাছে পেলেই ধরে ফেলুন। মানুষ বাঁচান।
অনুলিখন: শেখ সাবিহা আলম

এ কেমন বর্বরতা?

কখনো ভাবিনি, মা-ছেলে বার্ন ইউনিটে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে এভাবে যন্ত্রণায় কাতরাব। আমি একবার নিজের দিকে তাকাই, একবার ছেলের দিকে। নিজের কথা যতটা না ভাবি, তার চেয়ে বেশি ভাবি ছেলের কথা। ও সুস্থ হবে তো? হলে কবে? কবে আবার ফিরবে বিশ্ববিদ্যালয়ে? মেয়েটা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মাথাব্যথায় তিন দিন পড়তে পারেনি। সে কারণেই তাড়াহুড়ো করে ঢাকায় আসা। স্কুলে খুব চাপ। দুই বেলা শিক্ষার্থীদের কোচিং করাই আমরা। আমার সপ্তাহে চারটা ক্লাস। সহকর্মীদের বলে এসেছিলাম, আমার ক্লাসগুলো ওঁরা যেন নিয়ে নেন। আমি ফিরে গিয়ে পুষিয়ে দেব। আর এখন...।
যখনই চোখ বন্ধ করি, শুধু মনে হয় দাউ দাউ করে সব জ্বলছে। ওই দিন সন্ধ্যায় মিরপুরে যাওয়ার পথে আমাদের সিএনজিটা যানজটে আটকা পড়েছিল শেওড়াপাড়ায়। হঠাৎ দেখি একদল ছেলে—কতই বা বয়স হবে—১৭/১৮; সিএনজিতে ওরা যেন কী ঢালতে শুরু করল। আমি ছেলেকে শুধু জিজ্ঞেস করেছি, সিএনজিতে পানি ঢালছে কেন? আমার মুখের কথা শেষ হতে না-হতেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল পুরো সিএনজি। এ কেমন বর্বরতা? মানুষ দেখেও ওদের সিএনজিতে আগুন ধরাতে বুক কাঁপেনি? দুই দল সমঝোতায় আসবে না, আমাদেরও ভোগান্তির শেষ হবে না। আমাদের মতো মানুষের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা করা কঠিন।
অনুলিখন: শেখ সাবিহা আলম

শিবগঞ্জে ‘সাঈদী মঞ্চ’

জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ঘোনটোলা গ্রামের পেছনে আমবাগানের মধ্যে তৈরি হয়েছে ‘সাঈদী মঞ্চ’। এখানে পলিথিন, চাটাই ও খড়ের তৈরি ছাউনির চালের নিচে বসা ও শোয়ার জন্য বাঁশের মাচা রয়েছে। এমন দুটি ঘর নিয়েই সাঈদী মঞ্চ।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ওই মঞ্চ তৈরি করা হয়। এখানে তাঁরা নিয়মিত বৈঠক করেন ও বিভিন্ন সময় এসে আশ্রয়ও নেন।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ওই দুটি ঘরের নিচে তিনটি মাচা। মাচার ওপর বিছানো রয়েছে ধানের খড়। খড়ের ওপর বিছানো সিমেন্টের খালি বস্তা। পাশের একটি বাড়ি থেকে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ-সংযোগ। মাচার নিচে দেখা যায়, ভাঙা ইটের স্তূপ ও খালি কয়েকটি প্লাস্টিকের বোতল। একটি ব্যাগে দেখা যায়, বড় বড় পাথরের টুকরো। অন্য দুটি ব্যাগে ছিল কাঠের গুঁড়া। এখানে রান্না করার চুলাও রয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এখানে নিয়মিত বৈঠক করেন। এ ছাড়া হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আগে ককটেল, ইট-পাথরসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁরা এখানে জড়ো হন। পরে তাঁরা এখান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান। এ ছাড়া তাঁরা এখানে রান্না করে খাওয়া-দাওয়াও করেন। এখানে বিভিন্ন মামলার আসামি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এসে মাঝেমধ্যে রাতেও থাকেন।
ওই বাসিন্দারা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সময় জামায়াত-শিবিরের লোকজন আর এখানে জড়ো হয়নি। এ ছাড়া গ্রামের লোকজনও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখানে জড়ো হয়ে তারা যেন আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে।
জামায়াতের শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার নায়েবে আমির মনিরুল ইসলাম সাঈদী মঞ্চের অস্তিত্বের কথা ও এখানে মাঝেমধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু তিনি এখান থেকে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা হয় না বলে জানান। তবে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে জামায়াত-শিবিরের কোনো কোনো কর্মী মাঝেমধ্যে সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নেন এবং রাতেও থাকেন।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মঈনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, এমন কোনো সাঈদী মঞ্চের অস্তিত্বের কথা তাঁদের জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রাবাসের প্রতি আসনে দুজন, তবু সংকট by সাইফুর রহমান

(বরিশালের ব্রজমোহন কলেজের জরাজীর্ণ কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাস। আসনসংকটের কারণে এই ছাত্রাবাসের একটি আসনে দুজন করে শিক্ষার্থী থাকছেন। একই অবস্থা কলেজের অন্যান্য ছাত্রাবাসেরও। গতকাল বিকেলে তোলা ছবি l প্রথম আলো) বরিশালে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৫০ হাজারের ওপর। এর মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে পড়াশোনা করেন। কিন্তু কলেজের সাতটি ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা আছে মাত্র ১ হাজার ২০০ জনের। শিক্ষার্থীদের একটা অংশ বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। আর প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে আবাসন সংকটে। তাঁরা নগরের বিভিন্ন মেস বা আত্মীয়স্বজনের বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি থাকার পরও আবাসন সংকট সমাধান হচ্ছে না।
কলেজ সূত্র জানায়, ৫৮ একর জমির ওপর নির্মিত ব্রজমোহন কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২২টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বরিশালের বাইরে থেকেও বিশেষ করে সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুর অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী এসে এখানে পড়াশোনা করেন।
সূত্র জানায়, বিশাল এই শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই রয়েছেন আবাসন সংকটে। কলেজের মোট ছাত্রাবাসের সংখ্যা সাতটি। এর মধ্যে কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাস ও অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার নেই। এ কারণে বসবাসের প্রায় অনুপযোগী এ দুটি ছাত্রাবাস। তা ছাড়া ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে সুরেন্দ্রনাথ ছাত্রাবাস। ছাত্রীদের জন্য নির্মাণ করা একমাত্র বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের অবস্থাও শোচনীয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে ৩৫০ জন ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে গাদাগাদি করে থাকছেন ৭৫০ জন। আবাসন সংকট ছাড়াও সেখানে বিদ্যুৎ, গোসলখানার সমস্যা প্রকট। দরজা-জানালাও ভাঙা।
কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাসের ছাত্র উজ্জ্বল ব্যাপারী বলেন, সংস্কার না হওয়ায় ছাত্রাবাসটির অবস্থা জরাজীর্ণ। তার ওপর চারজনের কক্ষে আটজন থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা লেগেই আছে।
কলেজ ছাত্র কর্মপরিষদের সহসভাপতি মঈন তুষারের অভিযোগ, কলেজের জায়গার সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় ছাত্রাবাস নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ছাত্রাবাসের অভাবে শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
বনমালী ছাত্রীনিবাসের তত্ত্বাবধায়ক শাহ সাজেদা বলেন, ছাত্রীনিবাসের ভাঙাচোরা দরজা-জানালা সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি সমস্যা একটি কক্ষে আটজন শিক্ষার্থীর থাকা। এর ফলে পড়াশোনার পরিবেশ থাকছে না। তিনি জানান, কলেজের উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তাঁর দাবি, ছাত্রীদের জন্য দ্রুত একটি ভবন নির্মাণ করা হোক।
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস এ কাইউমউদ্দিন জানান, নতুন একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তা হচ্ছে না। এবার দরপত্র আহ্বায়ন করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছাত্রীদের জন্যও একটি ভবন নির্মাণের বরাদ্দ রয়েছে।
জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ এম ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষার্থীদের তুলনায় ছাত্রাবাসের সংখ্যা কম থাকায় আবাসন সমস্যা রয়েছে। দুই বছর আগে একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওই ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রীদেও জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ করা হবে। তখন আবাসন সংকট কিছুটা নিরসন হবে বলে তিনি আশা করেন।

৫০০ কোটি টাকার ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন! by মনজুর আহমেদ

৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বড় অঙ্কের ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এর একটা প্রাথমিক বা খসড়া নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম বা জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দলের বৈঠকে গতকাল বুধবার নীতিমালাটি আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার, প্রধান অর্থনীতিবিদকে নিয়ে এই জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দল গঠিত। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণও থাকতে পারে। আবার কিছু চলমান ঋণও পুনর্গঠনের আওতায় আসতে পারে। খসড়া অনুসারে ঋণগুলো পুনর্গঠন করতে ব্যাংকের পর্ষদ এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্টের হার নির্ধারণ করবে। তবে তা কমপক্ষে মোট ঋণের ১ শতাংশ হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত ২১ ডিসেম্বর কয়েকটি বড় গ্রুপের ঋণ কেস-টু-কেস বা প্রতিটির জন্য পৃথক বিবেচনায় পুনর্গঠনের আলোচনা উঠলে পর্ষদ একটি নীতিমালা করার নির্দেশনা দেয়। নীতিমালাটি তৈরি করে পর্ষদের কাছে তা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল। পর্ষদের নির্দেশনা অনুসারেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম রবিউল হাসানকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
সূত্র জানায়, কমিটি চারটি বিষয়কে পুনর্গঠনের নীতিমালাতে প্রাধান্য রেখে তাদের প্রস্তাব হাজির করে। এগুলো হলো ঋণ পরিশোধের সময়, এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্ট, গ্রেস বা মেরেটরিয়াম পিরিয়ড ও সুদের হার। খসড়া নীতিমালায় সুদের হার নির্ধারণের দায়িত্ব ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তা যেন ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কম না হয়, সে কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ নিজের মত প্রকাশ করে বলেন, পুনর্গঠন যদি করতে হয়, সে ক্ষেত্রে ভালো গ্রাহকদের কথা মনে রাখতে হবে। সুদের হার কোনোভাবেই বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে কম হতে পারবে না। এককালীন জমা কমপক্ষে আড়াই শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবও দেন তিনি। তিনি ঋণ পরিশোধের সময় ১২ বছরের কম করতেও পরামর্শ দেন।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘তবে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই একবার পুনর্গঠন করেছে বা তিনবার পুনঃ তফসিল করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এককালীন জমা ৬০ শতাংশ নিতে হবে। আর তাদের সুদের হার কোনোভাবেই বাজারভিত্তিক সুদের চেয়ে কম হওয়া যাবে না।’ তিনি পুনর্গঠিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন। খসড়া নীতিমালা প্রণয়নে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, একবারের বেশি এ সুযোগ কেউ নিতে পারবে না। পুনর্গঠনের সুযোগ নেওয়ার পর যদি কোনো গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান নিয়মমতো ব্যাংকের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে ব্যাংক তার বিরুদ্ধে দেউলিয়া আদালতে যাবে। যদিও বাংলাদেশে দেউলিয়া আইনটি কার্যকর হয়নি এবং এখন পর্যন্ত দেউলিয়া আইনে কাউকে দেউলিয়া ঘোষণার পর তার সম্পদ ব্যাংকের আওতায় আনা যায়নি।
বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে গত ২১ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষ ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঋণের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছিল। জানা গেছে, এদের কাছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বা দেশের মোট ঋণের ১০ ভাগের মতো রয়েছে। এই ২০ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে থাকা ঋণের আড়াই শতাংশের মতো ঋণ খেলাপি হয়ে আছে। ব্যাংক খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হয়েছে; যা ওই সময় পর্যন্ত মোট বিতরণ করা প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, নানা অনিয়ম করে বের করে নেওয়া ঋণসহ বেক্সিমকো গ্রুপের ৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাংকগুলোতে চলছে। এর পরই অন্যদেরও এ সুযোগ দিতেই নীতিমালাটি করা হচ্ছে।