Thursday, January 21, 2010

সৎ ও সাহসী প্রার্থীদেরই বেছে নিতে হবে -সিটি করপোরেশন নির্বাচন by তোফায়েল আহমে

পশ্চিমা সমাজে ‘১৩’ সংখ্যাটি নিয়ে যে সংস্কার, তা আমাদের মধ্যে না থাকলেও ২০১৩ সালটা এ পর্যন্ত যা দিয়েছে এবং নিয়েছে, তাকে কোনোভাবেই শুভকর বলা যাচ্ছে না। তা ছাড়া এ বছরের সামনের দিনগুলো নিয়েও শঙ্কার শেষ নেই। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার পালাবদলের ধারাবাহিকতার স্বাভাবিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের আগে রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একই বছরের শেষ প্রান্তে যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কাল, তাই প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দিক থেকে নির্বাচন কমিশন এ চারটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তা যথার্থই বলতে হয়। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, তফসিল অনুযায়ী সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে এ নির্বাচনগুলো সমাপ্ত করা।
যা লেখার শুরুতেই বলছিলাম, সময়টা সাংঘাতিক রকমের বৈরী। বৈরিতার সবচেয়ে বড় উপাদানও কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা। দলীয় সরকার বনাম নির্দল সরকার। এখন যে চারটি করপোরেশনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সে চারটিতে রয়েছেন সরকারি দলের নির্বাচিত মেয়ররা। কেন্দ্র ও প্রান্ত উভয় স্থানেই একই দল ক্ষমতায়। এখানে কিছুই করার নেই। এটি জনরায় বা গণরায়ের ফসল। প্রশ্ন ভিন্ন জায়গায়, যার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার ও নির্বাচনপদ্ধতির যে জাতীয় সংকট, বিরোধ ও আস্থাহীনতা, তা থেকে নির্বাচন কমিশনও মুক্ত নয়। তাই এ বৈরী সময়ে নির্বাচনী তরি পারাপার স্থানীয় নেতৃত্বের জন্য যতটুকু সহজ, কমিশনের জন্য মোটেও তা নয়।
আন্দোলনরত বিরোধী দল বা জোট এ নির্বাচন নিয়ে এখনো পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। আশা করি, তারা স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের যে অচলাবস্থা বা অনড়াবস্থা, তার সঙ্গে একাকার করবে না। স্থানীয় নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে সহায়ক নীতি ও অবস্থান গ্রহণ করলে সরকারি জোট ও বিরোধী জোট কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সরকারি প্রার্থী ও বিরোধী প্রার্থীদের নিয়ে ২০১১ এবং ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় যা যা ঘটেছে, তা থেকে দুটি বড় দল আশা করি কিছু শিক্ষা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সে শিক্ষা গ্রহণ করে এই চার নির্বাচনে জাতীয়ভাবে কোনো মনোনয়নগত, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না চাপিয়ে সবাইকে সমান সুযোগ ও সহায়তা দেবে। নতুবা স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল সৃষ্টির আরও একটি নতুন অবকাশ তৈরি হবে।
সব দিক বিবেচনা করে আসন্ন এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নাগরিকবান্ধব, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের উপায় হিসেবে গ্রহণ করা এবং নির্বাচনকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য কতিপয় সুপারিশ পেশ করছি। এই সুপারিশগুলোতে সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দল, সম্ভাব্য প্রার্থী, নাগরিক ও প্রশাসন—সবার জন্য কিছু কিছু করণীয় থাকবে।
১. সরকার এ নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার একটি দৃঢ় নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। সরকারি দল কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রার্থী মনোনয়নের পথে না গিয়ে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও আগ্রহী নেতা-কর্মীদের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিতে পারে। এমনকি দলের একাধিক প্রার্থী
হলেও স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সেখানে ছেড়ে দিয়ে দেখতে পারে। তাতে ফলাফল বিরূপ হবে না।
২. বিরোধী দল নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং নির্বাচনকালীন ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নিয়ে প্রবল আন্দোলনে থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্দোলনকে সীমিত রেখে এ নির্বাচনে দলের আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে দিতে পারে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ বা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতত সজাগ থাকতে পারে। সেটি সংগত ও দীর্ঘ মেয়াদে সুফলদায়ক হতে পারে।
৩. চারটি সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করবেন। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে করপোরেশনের সুযোগ-সুবিধা, উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ইত্যাদি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরত রাখার বিধানসংবলিত নির্বাচনী বিধিমালা থাকতে হবে। এ বিধি ভঙ্গ হলে মনোনয়নপত্র ও প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখা প্রয়োজন। এমনকি বিধি ভঙ্গ করে নির্বাচিত হওয়ার পরও বিধিভঙ্গের জন্য পদ শূন্য করার স্পষ্ট বিধান এবং সে বিধান কার্যকর করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
৪. নিজেদের বিবেকবোধ থেকেও ক্ষমতাসীন মেয়র ও কাউন্সিলররা স্বেচ্ছায়ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর পদত্যাগ করে গৌরবময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন।
৫. চারটি সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা এ নির্বাচনের সফলতার জন্য অপরিহার্য। নাগরিক সমাজ নির্বাচনী বিধিমালার অনুসরণে প্রার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিধি ভঙ্গকারীকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। সর্বোপরি সৎ, নিবেদিত, নিষ্ঠাবান ও যোগ্য প্রার্থীরা যাতে প্রার্থিতায় আগ্রহী হন, সে ব্যাপারে সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা রাখতে পারে। এ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন হবে ঠিকই, কিন্তু নাগরিক প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার নয়।
বিগত দুটি সিটি নির্বাচনে (২০১১ ও ২০১২) স্থানীয় নাগরিক সমাজ তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে। যার ফলে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নাগরিক সমাজের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লার ক্ষেত্রেও সাধারণ ভোটাররা নীরবে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। তবে দুই নির্বাচনের ফলাফলের সামগ্রিক বিশ্লেষণে আমরা যা দেখেছি, তাতে ভোটার ও নাগরিক সচেতনতার কিছু কিছু মারাত্মক দুর্বলতাও ধরা পড়েছে, যার পুনরাবৃত্তি সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৩ সালে কাম্য নয়। প্রথমত, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর (নারী ও পুরুষ) প্রার্থীদের মধ্যে আধুনিক একটি নগর গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন প্রার্থীর দারুণ খরা দেখা গেছে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত পটভূমি, অপরাধ ও মামলার ইতিহাস, বয়স ও পেশা, সমাজকর্মের পটভূমি ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিক সমাজের সামগ্রিক উদাসীনতার কারণে মাঠে ভালো প্রার্থী ছিলেন না। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া প্রার্থীর তথ্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই, মিথ্যা তথ্য চ্যালেঞ্জ করা, তথ্যগুলোর ব্যাপক বিনিময় ও মূল্যায়ন হয়নি। নির্বাচন কমিশন আগে এসব তথ্য জনসাধারণের মধ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করেছিল। বিশেষত, সুজন কাজটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে করেছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নাগরিকদের জন্য সে সুযোগ তৈরি করবে কি না, জানি না।
উপসংহারে বলতে হয়, ভুল করে হোক বা ব্যবস্থার কারণেই হোক, স্থানীয় নির্বাচনকে আমরা চেয়ারম্যান ও বা মেয়র নির্বাচন হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলররা পাদপ্রদীপের ধারেকাছেও থাকেন না। সবাই শুধু মেয়রকে নিয়েই ভাবতে থাকি। মনে রাখা উচিত, এটি মেয়র নির্বাচন নয়, করপোরেশন নির্বাচন। তাই সাধারণ আসনের এবং নারী আসনের কাউন্সিলরদের বিষয়টিও যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়, সে বিষয়টি মনে রাখতে হবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সরকার কমিশন।

সংকট উত্তরণে কিছু প্রস্তাব by রুবানা হক ও আনিসুল হক

এ দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত একই সঙ্গে আশা-নিরাশার মধ্যে দিয়ে হাঁটছে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশ যখন উৎপাদনক্ষমতায় সীমিত, তখন আমরা আমাদের কারখানা নিয়ে ক্রেতাকে সুলভ মূল্যে সুস্থিত উৎপাদনের আশ্বাস দিই। এর মাঝে যেমন বাংলাদেশের সুন্দর ভবিতব্যে পদার্পণের স্বপ্ন দেখি, তেমনি একই সঙ্গে তাজরীন, রানা প্লাজা আমাদের সবাইকে দুঃস্বপ্নের মতো জড়িয়ে থাকে, প্রতিনিয়ত, প্রতিপ্রহরে।
ক্রেতারা এ মুহূর্তে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেবেল দেখে শঙ্কিত হচ্ছেন। এনজিওকর্মীরা বিদেশে বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করছেন। আর আমরা এই প্রান্তে দেশি আর বিদেশিদের তিরস্কার শুনছি। ইইউ শুল্কমুক্ত-সুবিধা পরিহারের কথা ভাবছে, আমেরিকা জিএসপি তুলে নেবে বলে বারবার আমাদের সাবধান করছে। যত উত্তম সরবরাহকারী হই না কেন, বহু ক্রেতা তাদের সুনাম ক্ষুণ্নের আশঙ্কায় এ দেশ থেকে সরে পড়তে পারেন। এতে বাংলাদেশের ক্ষতির ঝুলি ভরবে বৈ কমবে না। আজকে প্রয়োজন একটি আমূল পরিবর্তনের কার্যকর পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন।
আমরা যে প্রস্তাবগুলো দিচ্ছি, তা সুধীসমাজ, গুণীজনেরা, ব্যবসায়ী মহল, আর সরকার বিবেচনা করতে পারে। এই শিল্পের জন্য কিছু করতে হলে শিল্প খাতকে ভালো করে বুঝতে হবে। শিল্পকে বন্ধ করা নয় বরং বন্ধ শিল্প নতুনভাবে শুরু করার মানসিকতা নিয়ে সব কাজ করতে হবে।
বিজিএমইএর কাছে চার হাজার ৩৮২টি কারখানার তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে তিন হাজার ২৮০টি ঢাকায়, ৭৮৮টি চট্টগ্রামে, ৩১৪টি নারায়ণগঞ্জে। এই চার হাজার ৩৮২টির মধ্যে দুই হাজার ৬৮টি কারখানা সরাসরি রপ্তানি করে। বাকি দুই হাজার ৩১৪টি কারখানা, যার মধ্যে অনেক কারখানা পরোক্ষভাবে উৎপাদন করছে, বেশ কিছু বন্ধ ও অস্তিত্বহীন আছে। ৩৫ লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। বিকেএমইএর এক হাজার ৮৭০টি কারখানায় যেখানে ছয়-সাত লাখ শ্রমিক কাজ করেন, তার মধ্যে ৯০০টি প্রত্যক্ষভাবে রপ্তানি করে (যার আবার ৫০০টি প্রথম সারির আর বাকি ৪০০টি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সারির), ২৭০টি সম্পূরক প্রতিষ্ঠান (অ্যাক্সেসরিজ) হিসেবে কাজ করছে। বাকি ৭০০টি কারখানা হয়তো বা বন্ধ, নতুবা অস্তিত্বহীন।
প্রকৃতপক্ষে, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অধীনে বহু কারখানা বহু বছরের খারাপ ব্যবসা ও অধিকাংশই রাজনৈতিক কোলাহলের কারণে রুগ্ণ অথবা বন্ধ হয়ে গেছে।
পোশাক রপ্তানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি, সার্বিক এবং চতুর্মুখী সমাধানের জন্য, প্রথম প্রয়োজন কারখানাগুলোর নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নিরীক্ষা, জরিপ ও পর্যবেক্ষণ। যেহেতু বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ ভোটারদের সংগঠন, সেহেতু বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর পক্ষে নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বিজিএমইএ/ বিকেএমইএ নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় সংগঠনকে দিয়ে পরীক্ষণ প্রয়োজন। দেখা প্রয়োজন কটি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সারির কারখানা এবং কটি কারখানা বন্ধ। সময় বাঁচানোর জন্য এই যাচাই প্রক্রিয়াটি রাজউক এবং বিইউবিটির প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে কিছু ছাত্রছাত্রীকে দিয়েও করানো যেতে পারে।
এই তৃতীয় সারির কারখানাগুলোই অগ্নিবিষয়ক নিরাপত্তা এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভোগে। প্রথম অবস্থায় এদেরই পরিচর্যা প্রয়োজন।
শিল্পের খাতিরে, এই শিল্প খাতকে বাঁচাতে হলে জরুরি প্রদক্ষেপ হিসেবে এই তৃতীয় সারির কারখানাগুলোকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন। ঢাকা মেট্রোতে এক হাজার ৫৬৮টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৬৪৭টি ইউডি নেয় এবং তাদের নিজেদের নামে রপ্তানি করে। বাকি আরও ৫০০টি দ্বিতীয়/তৃতীয় সারিতে ফেলা যেতে পারে। ঢাকা মেট্রো ও চট্ট মেট্রোতেই প্রথম থেকেই অপরিকল্পিতভাবে অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এর সমাধান করতে হলে প্রয়োজন বোঝা—কী লাগবে, কত লাগবে। একটি শার্ট অথবা নিট গার্মেন্টস কারখানা তৈরির আনুমানিক ধারণা দিচ্ছি।
একজন শ্রমিকের জন্য ৫০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ৫০০ শ্রমিকের একটি কারখানার জন্য লাগে ২৫ হাজার বর্গফুট। একটি নতুন কমপ্লায়েন্ট কারখানা তৈরির হিসাবের খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো। ছয়টি তালায়, ছয়টি কারখানার জন্য তিন বিঘা জমি ১ দশমিক ৫০ কোটি; প্রতি কারখানা ২৫ লাখ, কনস্ট্রাকশন এক হাজার ৩০০ টাকা প্রতি বর্গফুট মোট ৩ দশমিক ২৫ কোটি, মেশিনারি ৩ দশমিক ৫০ কোটি, ফার্নিচার, ইলেকট্রো মেকানিক্যাল, অগ্নিনির্বাপণ ২ দশমিক ৮০ কোটি, মোট ৯ দশমিক ৮০ কোটি। এর অর্থ হলো ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি কারখানার জন্য খরচ হয় আনুমানিক ১০ কোটি টাকা। একজন মালিক চাইলে একাধিক কারখানা তৈরির ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তৃতীয় সারিতে যদি এক হাজার কারখানা থেকে থাকে, তবে মোট জায়গা লাগবে ৫০০ বিঘা। দুটি ভিন্ন স্থানে এ পল্লি গড়া সুবিধাজনক। প্রতি ছয়তলা ভবনে, ছয়টি কারখানার জন্য বরাদ্দ করতে হবে তিন বিঘা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের আশপাশে সরকারের খাসজমি থেকে বরাদ্দ দিতে হবে এই পোশাকপল্লিকে। প্রথম ৭০০-কে সরিয়ে নিতে হবে। ক্রমান্বয়ে বাকি ৩০০টিকেও একইভাবে ঢাকা/চট্টগ্রামের কাছে একই পদ্ধতিতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। শ্রমিকের সুবিধার জন্য ঢাকা/চট্টগ্রামের ৫০-৬০ কিলোমিটারের মধ্যে এ রকম জমি প্রয়োজন ও পাওয়া সম্ভব। গ্যাস, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সরকারকে করতেই হবে।
এই এক হাজার কারখানাকে সরাতে প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন, যার প্রথমাংশের বরাদ্দ আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা বর্তমান বাজেটে রাখার বিনীত প্রস্তাব রাখছি। (এর বেশ কিছু অংশে মালিকেরাও অর্থসংস্থান করতে পারেন) এই ছোট এক হাজার কারখানা নিজেরাই তাদের রপ্তানি আয় থেকে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া চলাকালে আরও বহু নতুন চাহিদা দেখা দিতে পারে। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে তিন-চার বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পাদন সম্ভব। এটিই হবে নিরাপদ শিল্পের সর্বোৎকৃষ্ট কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
এবার ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গে আসা যাক। ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন, তা স্বীকার করছি। প্রথমেই বলি, ১ মে থেকেই মজুরি বৃদ্ধি করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। সময় দিয়ে বিক্রেতাদের ক্রেতার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিয়ে, তারপর স্থির করতে হবে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের তারিখ। কারণ, ক্রেতারা আদৌ বেশি দামে কিনবেন কি না, আদৌ তাঁদের ভোক্তারা বর্ধিত দামে কিনতে রাজি হবেন কি না, তা বুঝতে হবে সবার আগে। অন্যথায়, ক্রেতাদের বিকল্প বাজারের দিকে ঠেলে দেওয়া যৌক্তিক হবে না। বিক্রেতাদের ধৈর্যসহ বোঝাতে হবে কেন আমরা সস্তা শ্রমের বিপক্ষে। আর একই সঙ্গে ন্যূনতম মজুরিকে শ্রমিকের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সংযোগ করতেই হবে। তাতে শ্রমিকের উৎপাদন দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যাবে।
অন্যদিকে, কারখানার দালান পরীক্ষা ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু বড় ব্যান্ড একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে তারা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিয়ে একজন নিরপেক্ষ চেয়ার নিয়োগ করে দুই পাশে তিনজন কারখানামালিক ও তিনজন শ্রমিকনেতার সমন্বয়ে একটি ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করছে। এই চুক্তি অনুযায়ী তারা ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোকে পাঁচ বছরে ২৫ লাখ ডলার দেবে। কিন্তু দেশের সার্বিক প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ করা টাকার পরিমাণ অত্যল্প। এই ব্র্যান্ডগুলো তাদের নিজেদের সরবরাহকারী কারখানাগুলোর জন্য এই বিশেষ পদক্ষেপগুলো নিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি, আরও ক্রেতা সংগঠন এদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। একটি ছোট/মাঝারি আকারের কারখানাকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় শক্তিশালী করতে হলে লাগে নয় লাখ ৩৬ হাজার টাকা, যার প্রায় সাত লাখ টাকা ব্যয় হবে যন্ত্রপাতি কিনতে আর প্রশিক্ষণে। পাশাপাশি দুই লাখ খরচ হবে কেবল পিএ (পাবলিক অ্যাড্রেস) সিস্টেম কিনতে। কাজেই যদি এই কারখানাগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে, অর্থ সহায়তা দিয়ে, তৃতীয় সারি থেকে প্রথম/দ্বিতীয় সারিতে নেওয়া যায়, তাহলে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে এ পদক্ষেপটি অত্যন্ত ফলপ্রদ হবে বলে আশা করি।
একই সঙ্গে শ্রমিককল্যাণ ট্রাস্টের কথাও ইতিমধ্যে উঠেছে। এই ট্রাস্টটিকে শিগগিরই কার্যকর করতে হলে, ক্রেতা এফওবি মূল্যের শতকরা ১ ভাগ আর সরবরাহকারী কারখানা মূল্য সংযোজনের শতকরা ১ ভাগ দিয়ে যৌথ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে। এটি শ্রমিকের শতকরা ৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার বিকল্প ও স্বচ্ছতর পদ্ধতি হিসেবে গঠন করা যেতে পারে। তবে বিতরণে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে।
এসব কিছু করতে হলে বিজিএমইএ ক্রেতা, কারখানা, সরকার, এনজিও, শ্রমিকনেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিল্পের খাতিরে, এই ৪০ লাখ শ্রমিকের কথা ভেবে, কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেওয়া হবে স্বার্থপরতার শামিল।
রুবানা হক: ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মোহাম্মদী গ্রুপ।
আনিসুল হক: সাবেক সভাপতি, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, সার্ক চেম্বার।

আমাদের ‘আলটিমেটাম’ ও পাকিস্তানের নির্বাচন by ইনাম আহমদ চৌধুরী

আমেরিকার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন-এ ১৭ মে প্রকাশিত প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম খবর, চার ‘কলাম’ব্যাপী শীর্ষ নাম দিয়ে, ‘স্ক্র্যামবল ফর অলটারনেটিভস টু বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের জন্য হুড়োহুড়ি’। তার পরই ব্যাখ্যা, পশ্চিমা ক্রেতারা তৈরি পোশাক আমদানির জন্য বাংলাদেশ ছাড়া অন্য উৎস খুঁজতে উন্মুখ হয়ে গেছে, ‘রেস’ শুরু করেছে। তার ওপর একটি চার কলামব্যাপী ছবি, একটি বিকল্প উৎস ইন্দোনেশিয়াতে একটি জাতীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নারীদের সেলাই শেখানো হচ্ছে। শুধু এই কেন্দ্র থেকেই বছরে ১২ হাজার হবু পোশাককর্মী শিক্ষা গ্রহণ করছেন। অধিকাংশই নারী।
আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রদত্ত জিএসপি-সুবিধা প্রত্যাহারের চিন্তা করছে (যদিও সম্প্রতি অন্যথা খবর প্রচারিত হয়েছিল)। পত্রিকাটির তৃতীয় পৃষ্ঠায় আরও বিস্তারিত পাঁচ কলামব্যাপী ছবিসংবলিত খবর। এর বিবরণে আছে কীভাবে ক্রেতারা এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাংঘর্ষিক অবস্থা এড়াতে দেশ থেকে সত্বর তাদের ক্রয়কর্ম গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যৎও তারা আশাপ্রদ মনে করছে না। আরেকটি খবরে ছিল কম্বোডিয়াতে তৈরি পোশাকশিল্প উন্নয়নে সরকারি প্রচেষ্টার কথা।
খবরটি আমাকে যেন একটি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করল। এমনিতেই দেখছি দেশে শিল্প উৎপাদন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য-অর্থনীতির কী নিদারুণ দুরবস্থা। তার ওপর দেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের উৎস রপ্তানিশিল্পের ওপর আশু মৃত্যুপরোয়ানা। এ তো শুধু সরকারের ওপর নয়, সারা রাষ্ট্রের ও জাতির কাছে প্রদত্ত বহির্বিশ্বের ‘আলটিমেটাম’। বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া তো দেশের এই দুঃসহ পরিস্থিতি অবিলম্বে স্বাভাবিকীকরণের জন্যই বাজিয়েছিলেন সাবধানী ঘণ্টা, দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা আজ রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অস্তিত্বের জন্য অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে সংলাপ নিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ যে টালবাহানা, লুকোচুরি, ভান-ভণিতা শুরু করেছে; তা দেখে আইনবিদ শাহদীন মালিক ১৭ মে প্রথম আলোতে লিখেছেন, ‘সংলাপ-সংলাপ খেলা চলবে আরও দুই-তিন মাস।...সে সময়তক আমরা হয়ে যাব ব্যর্থ রাষ্ট্রের ক্ষত-বিক্ষত নাগরিক।’ নোবেল বিজয়ী বিশ্বনন্দিত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যে বিশাল ফাটল ধরেছে, সেটা আমলে না নিলে জাতিও এ ধরনের ধসের ভেতর হারিয়ে যাবে।’
এই যে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার উচ্চকিত পদধ্বনি আমরা শুনছি, যার সাবধানী ঘণ্টা আজ দেশে-বিদেশে ‘আলটিমেটাম’ বা চরম পর্যায়ে বাজানো হচ্ছে, তাতে কি সরকারের টনক নড়বে না? জাতির ভাগ্যাকাশে আজ জারি হয়েছে দশ নম্বর মহা বিপৎসংকেত।
এ থেকে উত্তরণের উপায় ছিল একটাই। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি সর্বদল গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন। আর সেটা নির্ধারণের জন্যই অপরিহার্যভাবে প্রয়োজনীয় ছিল রাজনৈতিক সংলাপ। সে সংলাপ আহ্বানের আশা বা কথা সরকারি দল অধুনা মাঝে মাঝে দিয়ে থাকলেও, বিশেষত বিদেশিদের কাছে, আজ তাদের মনোভাব পরিষ্কারই হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ এখন সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য আন্তরিক বা আগ্রহী নয়। সাদামাটা কথায় তারা চায়, নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে (এমনকি পার্লামেন্টও) গদিনশিন রেখে লোকদেখানো চার-পাঁচজন অন্য দলীয় উপদেষ্টা বা মন্ত্রী নিয়ে তাকে অন্তর্বর্তী সরকার নাম দিয়ে এক স্বৈরাচারী উপায়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে। তাদের ভীষণ ভয়, যেকোনো নিরপেক্ষ, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার থাকলে তাদের ভরাডুবি হবে। তাই তারা যেকোনো উপায়ে দেশের সর্বস্বার্থ বিসর্জন দিয়েও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়; জাতির ও বিশ্বের জনমত সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সর্বদলের অংশগ্রহণের অপরিহার্যতার নীতি প্রত্যাখ্যান করে।
দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকে প্রকাশিত পেশাদারি জরিপে সম্প্রতি দেখা গেছে, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ ‘নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার’ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। ৮০ শতাংশ ধারণা করছে, দেশের অবস্থা বর্তমানে বিপজ্জনক। বিদেশি শুভার্থীরাও সবাই একবাক্যে বলছেন, সব প্রধান দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা আবশ্যক, যা হবে গণতন্ত্র সুরক্ষায় অপরিহার্য। সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু বিএনপির দাবি নয়; এ আজ জাতির দাবি, বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের দাবি।
আওয়ামী লীগ বলে বেড়ায় যে ‘নির্বাচনের সময়ের’ সরকার শুধু ‘নির্বাচিত’ সাংসদ দিয়ে গঠিত হবে, অথচ পৃথিবীর প্রতিটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে মেয়াদপূর্তিতে সংসদ অবলুপ্ত হয়। তখন সরকারে যাঁরাই থাকেন, তাঁরা কেউই ওই সময়ে ‘নির্বাচিত’ নন। তাঁরা হলেন সাবেক নির্বাচিত। তাঁদের আইনি অবস্থান অন্য যেকোনো সাবেক সাংসদ বা সাধারণ নাগরিকের মতো। তাই ‘নির্বাচিত’ শব্দ ব্যবহার করে এই ভাঁওতাবাজি করা বা ধূম্রজাল সৃষ্টির অপচেষ্টা কেন? বর্তমানে সৃষ্ট সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি, পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাস এবং দলীয়করণ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কারণে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের নাগরিক সদ্য অবলুপ্ত সাংসদ-সমন্বিত সরকারের ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছেন না। আবার পঞ্চদশ সংশোধনী মোতাবেক যদি পার্লামেন্ট ও সরকারকে বহাল রেখেই নির্বাচন হয় তাহলে কি তা অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দেশের মতো নির্বাচন হবে? তা কি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এনে দেবে? তা কি গ্রহণযোগ্য হবে? সেটাই তো হবে নিখাদ স্বৈরাচার।
আমাদের কানে আজ বাজছে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ মরণঘণ্টা। আর আমরা অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করলাম কী করে একই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ‘পাকিস্তান’ একটি চরম বিপর্যয়মুখী অবস্থা থেকে একটি সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে মেয়াদপূর্তিতে এক সরকার থেকে আরেক নির্বাচিত সরকারে ক্ষমতা হস্তান্তর করল। আর প্রায় নিমেষেই হয়ে দাঁড়াল বিশ্বনন্দিত, অভিহিত হলো শক্ত ভিতের গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে। কেননা ১. তারা ক্ষমতাসীন দলের মেয়াদপূর্তির পর শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করল; ২. সব প্রধান দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কেয়ারটেকার সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করল; ৩. এই নির্বাচন সর্বজনীন হলো—শুধু সব রাজনৈতিক দলই নয়, মহিলারা এবং উপজাতীয়রা ও সমাজের সর্বশ্রেণীর লোকেরা (এমনকি একজন হিজড়াও প্রার্থী ছিলেন) বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করলেন; ৪. চরমপন্থী ও তালেবানের সক্রিয় বিরোধিতা সত্ত্বেও সব দল গণতন্ত্রের সপক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও অনুষ্ঠানে দৃঢ়তা দেখাল; ৫. শান্তি-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন নিরপেক্ষতা দেখাল এবং সামরিক বাহিনী শান্তি রক্ষায় সহায়তা করলেও কোনো রকম প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপের বিন্দুমাত্র অপচেষ্টা করল না; ৬. সবার সম্মতিতে গঠিত নির্বাচন কমিশন সত্যিকারভাবে আস্থা উদ্দীপককারী নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করল এবং ৭. সব দল একে অপরের প্রতি ভদ্রজনোচিত সহনশীলতা ও সহযোগিতামূলক আচরণ করে নির্বাচনের ফলাফল অনতিবিলম্বে স্বীকার করে নিয়ে পাকিস্তানে গঠনমূলক কার্যক্রমে সমর্থন জানাল।
পাকিস্তানের পরিস্থিতি আমাদের চেয়েও বেশি সমস্যাসংকুল ছিল। সেখানে তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ তো ঘোষণাই দিয়েছিলেন, এ জাতীয় রাজনৈতিক নির্বাচন ইসলামবিরোধী এবং তাঁরা সর্বপ্রকার উপায়ে এটাকে প্রতিহত করবেন। অনেকগুলো আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হলো, প্রার্থী অপহরণও করা হলো (পিপিপি নেতা গিলানির তনয়)। বহু রাজনৈতিক দলকে বড় সমাবেশই করতে দেওয়া হলো না। এমনকি নিরাপত্তার কারণে পিপিপির খোদ চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টোকে হতে হলো দেশান্তর। নেতৃত্বহীন অবস্থা ক্ষমতাসীন পিপিপির পরাজয়ে ছিল একটি বড় ফ্যাক্টর। তবুও লক্ষ করলাম নির্বাচনোত্তর কালে দুবাই থেকে বিলাওয়াল ভুট্টো নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে তাঁর দলের লোকজনকে নতুন সরকারের গঠনমূলক কার্যক্রমে সমর্থনের আহ্বান জানালেন। তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা তো হাসপাতাল থেকে ভোট গণনার সময়ই ফলাফলের ধারা লক্ষ করে পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে নওয়াজ শরিফকে বিজয়ী হিসেবে অভিনন্দন জানালেন। অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলও তা-ই করল। বিজয়ী দলের প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসাপরায়ণ কোনো আচরণ আমরা লক্ষ করলাম না। বরং বিজয়ী নওয়াজ শরিফ হাসপাতালে গিয়ে প্রতিপক্ষ ইমরান খানের সুস্থতা ও সহযোগিতা কামনা করলেন। নির্বাচনের সময়ও এই সহযোগিতামূলক ভাব আমরা লক্ষ করেছি। ইমরান খান মঞ্চ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন হলে পিএমএল-এন একদিন তাদের সব নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত রাখল। পিপিপি স্থগিত করল তাদের কয়েকটি আহূত নির্বাচনী সমাবেশ। সবাই দেখাল একে অন্যের প্রতি সম্মান, সমীহ ও সুবিবেচনা। বাক্য বিনিময় হলো ভদ্রসম্মত। বক্তৃতাকালীন বক্তব্যও ছিল শালীন এবং অনেকাংশে নীতিভিত্তিক।
এ ধরনের একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর আমরা লক্ষ করলাম, প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই পাকিস্তানিদের ভেতরে একটি আত্মবিশ্বাস, আস্থা এবং জাতীয় ঐক্যচেতনার জন্ম ও বহিঃপ্রকাশ হলো। এ যেন একটা জাতির নবজন্ম। আন্তর্জাতিক মহলে এটা সাগ্রহে স্বীকৃত হলো। প্রেসিডেন্ট ওবামা ফোন করে অভিনন্দন জানিয়ে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করলেন পাকিস্তান-ভারত সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার। একটি ‘প্রায় ব্যর্থ রাষ্ট্র’ থেকে নিমেষেই পাকিস্তান হয়ে দাঁড়াল উপমহাদেশে ‘অমিত সম্ভাবনা’র এক দেশে; উপমহাদেশ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে যা পালন করবে এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
দেশের অত্যন্ত কঠিন কয়েকটি সমস্যা মোকাবিলার জন্যও এই সর্বস্বীকৃত নির্বাচন নওয়াজ শরিফকে শক্তি ও সাহস জোগাবে। নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গেই দেশের শেয়ার মার্কেট চাঙা হয়ে উঠেছে। নওয়াজ শরিফ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ও শিল্পায়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি অর্থমন্ত্রীর পদে প্রাইভেটাইজেশন বিশেষজ্ঞ ইকবাল দার বা অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ সারভাজ আজিজের নিযুক্তির কথা ভাবছেন। গঠনমূলক কয়েকটি মহাপরিকল্পনার কথাও তিনি প্রকাশ করেছেন। কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্দলীয় আচরণ করবে, এই দৃঢ় অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছেন। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টায় তাঁর সংকল্প অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই ওই দুই দেশ গ্রহণ করেছে। ওবামা বলেছেন, এই সম্পর্ক হবে ‘সমান দোসর’ হিসেবে। নতজানু ভূমিকা এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের হবে না। ভারতও সেটা জানে।
আমার বক্তব্য হচ্ছে, যদি আমরা বাংলাদেশে একটি সর্বদলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচন-প্রক্রিয়া সংলাপ মারফত উদ্ভাবন করতে পারতাম এবং সেভাবে নির্বাচন করে একটি দল ক্ষমতাসীন হতো, তাহলে বাংলাদেশেও অচিরেই অর্থনৈতিক স্থিরতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হতো, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে আমরা এক ধাপ দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারতাম। পাকিস্তান তো আমাদেরই কেয়ারটেকার ব্যবস্থা ধার করে নিয়ে তাদের দেশে তা সম্ভব করে তুলল। নেপালও তা করার চেষ্টা ও প্রস্তুতি শুরু করেছে।
দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনে হচ্ছে অর্থবহ সংলাপ ছেড়ে এক হিংসাত্মক সাংঘর্ষিক পথ বেছে নিচ্ছে। সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রার কোনো অনুমোদন দিচ্ছে না; ধরপাকড়, জোর-জুলুম, মামলা-হয়রানি শুধু চালিয়েই যাচ্ছে না, তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুণ। দুই টেলিভিশন ও একটি জাতীয় দৈনিক বন্ধ করে দিয়েছে। সিএনএনের ক্রিস্টিন আমনপুরের ভাষায়, ‘সরকার গণমাধ্যমকে করেছে শৃঙ্খলাবদ্ধ।’ বিরুদ্ধাচরণ করলে কী করা হয় তা সাগর-রুনির ব্যাপারেই দেখা গেছে। দেশে এখন প্রবর্তিত হয়েছে স্বৈরাচারী শাসন। সরকার ‘কঠিন হস্তে’ এখন বিরোধী দলের সব গণতান্ত্রিক কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ এখন সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। দেশের ভবিষ্যৎ আজ চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হওয়ার দোরগোড়ায় আমরা।
এমতাবস্থায় ‘আলটিমেটাম’-এর ঘণ্টা না বাজিয়ে কি বাজানো হবে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সরোদের মূর্ছনা?
ইনাম আহমদ চৌধুরী: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ।

আমাদের জয়যাত্রার মিছিল শুরু হয়ে গেছে -পাঠকের মন্তব্য: অনলাইন থেকে

অনলাইনে প্রথম আলো (prothom-alo.com) নিয়মিত পড়া হয় ১৯০টি দেশ থেকে। পড়ার পাশাপাশি পাঠকেরা প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত দেন। তাঁদের এ মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো।
সরকারের চাপ ও সাংগঠনিক দুর্বলতায় দিশেহারা বিএনপি
বিএনপির সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর এই সংবাদ বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয় গত শনিবার। এ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মোহাম্মদ কাশেম লিখেছেন: বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্ত নয়। জামায়াতের ওপর যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক, অন্যথায় সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্ত এই দলটি। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা, হেফাজতে ইসলামকে মাঠে দাঁড় করানো এবং আরও অনেক মিথ্যাকে সত্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টায় জামায়াত অনেকটা সফল। এককভাবে হরতালে জামায়াতের শক্তির পরিচয় মেলে। কিন্তু যেভাবে চলছে, তাতে দলটি আর কত দিন টিকবে, তা ভবিষ্যৎই বলবে। নিবন্ধন বাতিল করে জামায়াতকে যদি নিঃশেষ করা যায়, তাহলে বুড়ো ঘুণে ধরা বিএনপির ভার সওয়া হাতের লাঠিটাও আর থাকবে না। তাতে করে সরকারের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ বলে আর কেউ থাকবে না।
মো. নাসিম ওয়াহিদ: রাজনৈতিক দলকে পারিবারিক সম্পত্তি বানালে তো এ রকমই হওয়ার কথা।
এস মোরশেদ: এমন একটা খবরের অপেক্ষায় ছিলাম। প্রথম আলোকে আবার ধন্যবাদ। এবার যদি বিএনপির ঘুম ভাঙে।
ইকরামুল হুদা ইরাম: গত নির্বাচনের পর বিএনপি চার বছর সময় পেয়েছিল দল গোছানোর জন্য, কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। সামনের নির্বাচনে জয়লাভ করে আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলেও সরকারি দল হিসেবে বিএনপি চরম বিশৃঙ্খলার পরিচয় দেবে বলে আমি আশঙ্কা করি। আর এই সুযোগে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ আওয়ামী লীগ ওই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারবে। তাতে আগামী বছরগুলোতে আরও সংঘর্ষ ও হানাহানি হবে।
উল্টো পথে আওয়ামী লীগ
প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের নানা ধরনের কথার বিশ্লেষণ করেছেন সোহরাব হাসান। তাঁর এ অভিমত সম্পর্কে হেলাল লিখেছেন: আমরা পাঠকেরা প্রায়ই এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে অনেক কথা বলি, কিন্তু কিছু কি লাভ বা উপকার হচ্ছে? যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা যদি সত্যিকারভাবে এগিয়ে না আসেন, তাহলে কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে? এখন আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, সরকার সহজে নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় যাবে না, যত দিন না তৃতীয় শক্তি তাদের চাপ দিচ্ছে। যা হোক, আমরা এটুকুই বুঝতে পারছি, সামনে আরও কঠিন সময় আমাদের পার করতে হবে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য। আর এ রকম করে ক্ষমতায় গেলে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না—এর বহু উদাহরণ এই বাংলাদেশেই আছে। অতএব, সময় থাকতে এখনই সাবধান হওয়া ভালো।
মো. লিটন: আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করে, তবে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনটা কখন হবে? একবার শুনেছিলাম ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদ বহাল রেখে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন বা তিন মাস আগে নির্বাচন হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা এ বছর অক্টোবরের মধ্যে। ভাই, কেউ কি বলবেন, আসলে নির্বাচনটা কখন, কী করে হবে?
গোলাম মোস্তফা: এ মুহূর্তে সরকারের কর্তব্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে একটি সমঝোতায় আসা। সেই প্রায় সম্ভব কাজটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করতে পারলে ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে। না পারলে ভবিষ্যতে হয়তো এই পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে তাঁকেই রাজপথে নামতে হবে।

ব্রাজিলে অবৈধ ৮০ বাংলাদেশি উদ্ধার
দালালের খপ্পরে পড়ে সুদূর ব্রাজিলে গিয়ে ধরা পড়েছেন ৮০ জন বাংলাদেশি। গত শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা ছিল আলোচনার বিষয়। সংবাদটি অনলাইনে প্রকাশের পর পাঠক হিসেবে মত প্রকাশ করে তৌহিদুল ইসলাম লিখেছেন: আর কত দুঃসংবাদ? বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য ইউরোপ-আমেরিকা এখন পাগল হয়ে গেছে। আর বাংলাদেশিরা এখনো বেশি লাভের আশায় প্রবাসী হয়ে দেশের দুর্নাম ছড়াচ্ছে। বিদেশে যে পরিশ্রম করেন বাংলাদেশিরা, সেই পরিশ্রম যদি তাঁরা দেশে করেন, তাহলে দেশ ও নিজেরা অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। সরকারকে আরও সচেতন হতে হবে বিদেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে। আর ভালো ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে পড়ালেখা করে দেশে ফিরে আসতে চায় না কেন, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।
ফারহান তানভীর: বিদেশে পাঠানোর নামে দালালদের প্রতারণার কারণেই সারা বিশ্বে বাংলাদেশিরা কাজের সুযোগ হারাচ্ছেন, বিদেশে অমর্যাদাকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ওই দালালদের শায়েস্তা করা কি র‌্যাব বা পুলিশের জন্য খুব কঠিন?

ইতালির ছবিতে বাংলাদেশের নায়ক
প্রথম আলোর ‘আমিই বাংলাদেশ’ কলামে এবার উঠে এসেছেন ইতালির টিভি ও মঞ্চের পরিচিত মুখ পায়েল ঠাকুর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সন্তানের অভিনয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। এ সম্পর্কে উজ্জ্বল শামিম আহসান মন্তব্য করেছেন: যে দেশে এ ধরনের সোনার মানুষের জন্ম, যে দেশের মানুষ সর্বদাই বহির্বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে, সে দেশে যখন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেখি, তখন বড় ব্যথিত হই।
শওকত আলী: অভিনন্দন সংগ্রামী পায়েলকে। বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। নিজের ওপর বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের সবচেয়ে সত্য এবং বড় চ্যালেঞ্জ। তোমার অর্জন বাংলাদেশের আজ নতুন পরিচয়। এই দেশের মানুষ শুধু শ্রমিক পরিচয়ে প্রবাসে থাকে, এটা আর কেউ বলতে পারবে না। নতুন প্রজন্মের বাঙালি সন্তানেরা বিশ্ব জয় করবে। আমাদের জয়যাত্রার মিছিল শুরু হয়ে গেছে।
সময় চলে যাচ্ছে, দ্রুত সংলাপ চায় জাতিসংঘ
দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাঠক ইশতিয়াক লিখেছেন: খালেদা জিয়ার বলা উচিত, অমুক দিন আমার বাসায় সংলাপের দাওয়াত, যদি আপনার (শেখ হাসিনা) সময় হয়। অথবা শেখ হাসিনার বলা উচিত, অমুক অমুক দিন আমার সময় আছে, আমি আপনার সঙ্গে সংলাপে বসতে চাই। তবে কেউ যেন কোনো লেজ নিয়ে না যান। জনগণের পক্ষ থেকে একটাই অনুরোধ, সংলাপে দিকনির্দেশনা আসতে হবে। দেশের শান্তির জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রতিনিধি এসে অনুরোধের পরও যদি আশ্বাস না পান, তাহলে এর পরিণতি পরবর্তীকালে ভয়াবহ হতে পারে। আমাদের সবার জন্য ইজ্জতের প্রশ্ন।
জামশেদ পাটোয়ারি: বাংলাদেশের মানুষ বলতে যদি সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে বলব, সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। আর সাধারণ মানুষ বলতে যদি সুশীল শ্রেণীকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে বলব, তারা দুই ভাগে বিভক্ত এবং তারা নিজেদের চিন্তাকেই শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনে করে। বিরোধী পক্ষের মতামতের কোনো দাম নেই তাদের কাছে।
(পাঠকের মন্তব্য বিস্তারিত পড়তে ও আপনার মতামত জানাতে ভিজিট করুন prothom-alo.com)

সরকারিভাবে তুরাগ ধ্বংসের বন্দোবস্ত -সীমানা নির্ধারণে এত বড় ‘ভুলের’ হোতা কারা

উচ্চ আদালতের নির্দেশকে কীভাবে বুড়ো আঙুল দেখাতে হয়, তার ‘উজ্জ্বল’ ইতিহাস সৃষ্টি করল ঢাকা জেলা প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন তুরাগ নদ উদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে। ব্যবস্থা অবশ্য নেওয়া হয়েছে; কিন্তু উদ্ধারের নয়, দখলের। গ্রামদেশে একেই বলে ‘কানাকে হাইকোর্ট দেখানো’। উচ্চ আদালতের সঙ্গে এই প্রতারণাকে কি ‘ভুল’ বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব?
এ বিষয়ে প্রথম আলোসহ গণমাধ্যমে অনেক আলোচনা হয়েছে। গতকাল প্রথম আলোয় তুরাগের সোয়া পাঁচ কোটি বর্গফুট জমি দখল বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) অনুসন্ধানী সংবাদও ছাপা হয়েছে। নদের পাশে সীমানাপ্রাচীর সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ জায়গায়। অর্থাৎ প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকাকে সীমানার বাইরে দখলদারদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকার চারটি নদীকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর উচ্চ আদালত অব্যাহতভাবে ঢাকার তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যাকে দূষণ ও দখলমুক্ত করার নির্দেশও দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে তুরাগ নদ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে নদের সীমানায় খুঁটি পুঁতে, গাছ লাগিয়ে, পাড় বাঁধিয়ে দখলদারদের প্রতিহত করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। নির্দেশ পালনের দায়িত্ব ছিল ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের। তারা নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্য বেছে নেয় শুকনো মৌসুমকে। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার: ইতিমধ্যে তুরাগের ভেতরে দখল সম্পন্ন হওয়া এলাকাগুলোকে সীমানার বাইরে রাখা এবং আরও নতুন এলাকায় দখলের সুবন্দোবস্ত করা। যেখানে প্রয়োজন ছিল দখল উচ্ছেদ, সেখানে তারা করেছে দখলের সুরক্ষা।
তুরাগ নদ রক্ষার নামে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের এই নিষ্ঠুর প্রহসন নদী রক্ষার নামে নদী হত্যারই আয়োজন। এটা আইনের নির্লজ্জ বরখেলাপ। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন। ঢাকার চারটি নদী উদ্ধারকে সারা দেশের নদী উদ্ধারের সূচনা হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।

জার্মানিতে বাঙালির গৌরব ও লজ্জা -ইউরোপের জানালা by সরাফ আহমেদ

হলভর্তি লোকজনের সামনে বাংলাদেশের গৌরবগাথার কথা বলছেন তিনি। জার্মান পার্লামেন্টের উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইয়ুরগুন ক্লেমকে এমপি বলছেন তাঁর বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতির কথা, ‘ধরুন, আমাদের দক্ষিণ জার্মানের বাভেরিয়া আর বাডেন ভুটেনবার্গের আয়তনের সমান আয়তনের বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি লোকের বাস আর আমাদের এই দুটি প্রদেশে বাস করে মাত্র ২৩ লাখ মানুষ। অথচ ওই ছোট এক ভূখণ্ডে ১৬ কোটি লোকের খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে; রাস্তাঘাট, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাব্যবস্থা সবই চলছে। রয়েছে অভিজ্ঞ সুশীল সমাজ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এনজিও নেটওয়ার্ক আর অনেক নারীকর্মী।’ জার্মান সরকারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলবিষয়ক রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান ভাগনার বললেন, তাঁদের গবেষণায় উঠে আসছে যে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক ও অর্থনীতিক উন্নয়নে আগুয়ান শক্তি হিসেবে দেখা যাবে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকি, বাংলাদেশকে নিয়ে জার্মানিতে এমন উচ্ছ্বসিত কথাবার্তা শুনিনি। শুনতে শুনতে অজান্তেই চোখে পানি চলে আসে।
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে বার্লিন শহরের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের উন্নয়নবিষয়ক সংগঠন কনরাড আডেন আওয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত তাদের সদর দপ্তরের সেই সেমিনারে আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও জ্বালানির নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিও উপস্থিত ছিলেন, আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফলকার রুয়ে, পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য, আমলা, জার্মানির দক্ষিণ এশীয় বিশেষজ্ঞরা এবং আমরা কিছু বাঙালি।
এর মধ্যে খবর পেলাম জার্মান পার্লামেন্টের দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়নবিষয়ক সংসদীয় কমিটির আট সদস্য এ বছরেরই মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে জার্মান অনুদানে পরিচালিত প্রকল্পগুলো দেখতে বাংলাদেশ যাবেন। একই কাজে তাঁরা প্রতিবেশী দেশ ভুটান সফর করবেন। আর যাওয়ার আগে তাঁরা জার্মানিতে বাংলাদেশ বিষয় নিয়ে যাঁরা কাজকর্ম করেন তাঁদের সঙ্গে বার্লিনে পার্লামেন্ট ভবনে কথা বলবেন। আলোচনায় প্রথমেই শাহবাগ আন্দোলন প্রসঙ্গ, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি, বাংলাদেশজুড়ে জামায়াতের সহিংসতা, বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-ভাঙচুর, আগামী নির্বাচন—এসব প্রসঙ্গ আসে। সবশেষ ড. ক্লেমকে জানান, বলতে খারাপ লাগলেও তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবার তাঁরা বাংলাদেশ যাবেন না, শুধু ভুটান সফর করেই ফিরে আসবেন। নানা সূত্রে তাঁদের কাছে বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতার খবর আছে। মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।
কদিন আগে একটি সেমিনারে আবার দেখা হয় জার্মানির দক্ষিণ এশীয় বিজ্ঞান ও রাজনীতিবিষয়ক গবেষণা ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশীয় বিভাগের পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান ভাগনারের সঙ্গে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হরতাল আর নির্বাচন নিয়ে তাঁর চেহারায় দেখি হতাশার ছায়া। বললেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে জার্মানিসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বড় অঙ্কের তহবিল জোগাচ্ছে, তাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমাদের কাম্য।’ উল্লেখ্য, এই ফাউন্ডেশনই জার্মান সরকারকে বিভিন্ন দেশের নানা ঘটনার গবেষণা প্রতিবেদন দিয়ে থাকে।
এরপর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক ও নিরাপত্তানীতি-বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্যাথেরিনা অ্যাসটন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় মৌলবাদীদের সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠীকে, রক্ষায় সহিংসতা রোধ এবং আরেকটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের প্রধান দলগুলোকে আলোচনায় বসার তাগিদ দেন।
দেশজুড়ে হেফাজতিদের সহিংস আন্দোলন ও তাদের ১৩ দফা প্রশ্নে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আইনবিদ আলব্রেখট কনজে ঢাকায় প্রকাশ্য একটি সভায় বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের দাবি-দাওয়াগুলো বাংলাদেশের সেক্যুলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মোটেও মেলে না; তা ছাড়া বাংলাদেশ ইরানের মতো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র নয়, এটি একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বের্নহাড হার্টলাইন বহুবার বাংলাদেশে গেছেন। এর মধ্যে একদিন বললেন, বহুবার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, বাংলাদেশে পরিবহনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বাস-ট্রেন নেই অথচ প্রায় প্রতিদিন বাস-ট্রাক পুড়ছে; রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রামে ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে, এসব কারা করছে? আমি চুপ করে থাকি। কারা এসব পোড়াচ্ছে বা আমার দেশের সমস্যা, আমার থেকে আমার জার্মান বন্ধুবরের বেশি জানার কথা নয়।
ভিনদেশি আলব্রেখট কনজে, ক্যাথেরিনা অ্যাসটন, ক্রিশ্চিয়ান ভাগনার বা বের্নহাড হার্টলাইন বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য বা গণতন্ত্র ও সহিংসতার কথা বললেন, তা ক্ষমতার মোহে বা ক্ষমতার লোভে আমাদের অনেক রাজনীতিক বোঝেন না বা না বোঝার ভান করছেন। কিন্তু বাংলাদেশে না জন্মেও ভিনদেশিরা বাংলাদেশের আত্মা আর জনগণের কথা বলছেন।
সবশেষে গত ২৪ এপ্রিল সাভার ট্র্যাজেডি, বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর এক দিনে হাজারের ওপর মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বিরল। সেদিন থেকেই ইউরোপের সব পত্রিকা আর টেলিভিশনে সংবাদ শিরোনামে চলে আসে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী, সহকর্মী বন্ধুবান্ধব সবাই খবরটি পড়েছেন বা দেখেছেন, তার পরও এমন করে জিজ্ঞাসা করে ঘটনা জানতে চান যেন আমারই কোনো স্বজন মারা গেছেন। রক্তের সম্পর্কের না হোক যাঁরা মারা গেছেন তাঁরা তো স্বজনই, আমাদের আত্মার আত্মীয়। গত কয়েক মাসের নানা ঘটনা আর এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে বা খুঁজতে গিয়ে আমার মতো লাখ লাখ প্রবাসী ক্ষুব্ধ বা ক্লান্ত হয়েছেন। স্বদেশের এসব ঘটনায় মনটা খুব ছোট হয়ে গেছে, তার পরও আপন স্বদেশ, দেশমাতৃকা—সে তো মায়ের মতোই, তাকে কি ভুলে থাকা যায়?
সবশেষে ভালো খবরটি হলো, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর মান ও শ্রমিকদের অধিকার ও মানবেতর অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে বহু দিন থেকেই ইউরোপের নানা দেশে ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন বা এই জাতীয় সংগঠনগুলো ইউরোপীয় ক্রেতা কোম্পানিগুলোর ওপর শ্রম অধিকার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ থেকে সস্তায় তৈরি পোশাক আনার বিরোধিতা করে এই আধুনিক দাসপ্রথার বিরুদ্ধে চাপ দিচ্ছিল। সাভারের সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি আর তাদের আন্দোলনের ফলে এরই মধ্যে ২৩ মে জেনেভায় আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদর দপ্তরে ইউরোপের ৩১টি নামী পোশাক কোম্পানি বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর মান ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে বলে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলোর জার্মানি প্রতিনিধি।

মালিকদের অন্যায় দাবি -আগে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা দিন

শনিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আয়োজিত গণশুনানিতে পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতিনিধিরা অন্তত দুটি অন্যায় করেছেন। প্রথমত, তাঁরা নিজেদের কথা বলেই চলে গেছেন। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ডিরেক্টরসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাঁদের কথা শোনার মতো সময় বা ধৈর্য তাঁদের যদি না থাকে, তাহলে কেন তাঁরা গণশুনানিতে গিয়েছিলেন? এভাবে সভা ছেড়ে চলে যাওয়া অসদাচরণই বটে।
দ্বিতীয়ত, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যে মালিকপক্ষের দায় থাকে, সেটা তাঁরা স্বীকার করেননি। বরং এর দায় সরকার, বিদেশি ক্রেতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ওপর চাপিয়ে নিজেদের অপরাধ ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন। এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কী হতে পারে? বিদেশি ক্রেতা বা সরকারের দায় অবশ্যই আছে, কিন্তু তাতে মালিকেরা দায়মুক্ত থাকবেন কীভাবে? বাংলাদেশে সবচেয়ে কম মজুরিতে পোশাকশিল্পের কর্মীদের শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। কথায় কথায় ছাঁটাই, বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ না করা, এমনকি ঈদের আগে অনেক শ্রমিককে বিভিন্ন অজুহাতে চাকরিচ্যুত করে তাঁদের ঈদবোনাস থেকে বঞ্চিত করাসহ যেসব অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, তার দায় কি বিদেশি ক্রেতারা নেবে? রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দেওয়ার পরও সেখানে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করাল কে? এর দায় কি মালিকপক্ষের নয়?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানালে তিনি চেষ্টা করার আশ্বাস দেন বটে, কিন্তু একই সঙ্গে পোশাক শিল্পকারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করা, আগুন নেভানোর ব্যবস্থা, নিরাপদ ভবন এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশে শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করারও তাগিদ দেন। এগুলো যে জ্বলন্ত সমস্যা, তা কি বিদেশিদের মুখ থেকে শুনতে হবে?
এক দিকে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ঘন ঘন হরতালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দূরে সরে যাচ্ছেন, অন্য দিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার না থাকায় বাংলাদেশি পোশাকের বাজার হুমকিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের শুধু ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, বিদেশি বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে। গত শনিবার বিদেশি চেম্বারগুলোর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সতর্ক করে দিয়েছেন যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম আইন সংস্কার ও শ্রমিক ইউনিয়ন-ব্যবস্থার অগ্রগতি না হওয়ায় পোশাকশিল্প পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক প্রকল্প ‘বেটার ওয়ার্ক’-এ যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ওই প্রকল্পে যেতে পারলে বাংলাদেশ পারে না কেন? এটা সাংঘাতিক লজ্জার কথা। আসন্ন অধিবেশনে শ্রম আইন সংশোধন করে এই লজ্জা নিবারণের ব্যবস্থা করা হোক। মালিকপক্ষেরও বোধোদয় হওয়া উচিত যে শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা না দিলে কারখানা চালানো সম্ভব নয়।

জাহরা শাহিদের হত্যাকাণ্ডের খবরে
করাচিতে পিটিআই-সমর্থকদের মাতম
পাকিস্তানে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) একজন জ্যেষ্ঠ নেত্রীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে বন্দরনগর করাচিতে জাহরা শাহিদ হুসেইন নামের ওই নেত্রীকে নিজ বাড়ির সামনে অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীরা খুন করে। ইমরান খান এ হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টকে (এমকিউএম) দায়ী করেছেন। তবে দলটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জাহরা শাহিদ হুসেইন পিটিআই দলের সিন্ধু প্রদেশের নারী শাখার জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
পিটিআইয়ের নেতা ইমরান খান এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি এমকিউএমের প্রধান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আলতাফ হুসেইনকে দায়ী করেছেন। তবে দলটি ইমরানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পিটিআইয়ের স্থানীয় নেতা ফিরদৌস শামীম এএফপিকে বলেন, জাহরা শাহিদ ব্যক্তিগত কাজে গাড়িতে চড়ে বাড়ির বাইরে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি বাড়ির ফটকের কাছাকাছি আসতেই মোটরসাইকেলে চড়ে আসা তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করে। জাহরা শাহিদ তাদের ছিনতাইকারী মনে করে হাতব্যাগটি বাড়িয়ে দেন। কিন্তু তারা তা না নিয়ে তাঁকে গুলি করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জাহরাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাসির আফতাব নামের পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখনো কেউ এর দায় স্বীকার করেনি। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। গতকালই করাচিতে জাহরা শাহিদ হুসেইনকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে হামলার পরপরই ইমরান খান তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে আলতাফ হুসেইনকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। আলতাফ ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন। জাহরা শাহিদ হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান। ইমরান তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি আলতাফ হুসেইনকে দায়ী করছি। তিনি সরকারি সম্প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে রাখঢাক ছাড়াই পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়েছিলেন।
এমকিউএমের উপ-আহ্বায়ক ফারুক সাত্তার বলেন, ইমরান খানের বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁর রাজনৈতিক অপরিপক্বতার পরিচায়ক। তিনি আলতাফ হুসেইনের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাঁরা মানহানির মামলা করবেন। এমকিউএম ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছে।
এদিকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা গতকাল সিন্ধুর দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর হায়দরাবাদে পিটিআইয়ের নেতা ওসমান কেনেডির বাড়িসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।

কুশায়ের শহরে হামলার নিন্দা

মধ্য সিরিয়ার কুশায়ের শহরে সরকারি বাহিনীর হামলায় ১১ বিদ্রোহীসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার চালানো এই হামলাকে ওই এলাকায় প্রেসিডেন্ট বাশারের অনুগত বাহিনীর স্থল অভিযান শুরুর প্রস্তুতি বলে মনে করা হচ্ছে।
হোমস প্রদেশের কুশায়ের শহর বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে বাশার বাহিনী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস অভিযোগ করেছে, লেবাননের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সহায়তা নিয়ে এই হামলা চালায় বাশারের বাহিনী।
কুশায়ের শহরে সরকারি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা। সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল এই হামলাকে বর্বরোচিত আখ্যা দিয়ে বলেছে, এ ধরনের হামলা সিরিয়ায় রক্তপাত বন্ধে রাশিয়ার প্রস্তাবিত শান্তি সম্মেলনকে ‘অর্থহীন’ করে তুলতে পারে।
আগামী মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওই শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। এই সম্মেলনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট বাশার ও তাঁর বিরোধীরা উভয়েই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আবদেল রহমান বলেন, বাশার বাহিনী কুশায়ের শহরে অভিযান শুরু করেছে। শহরের সব প্রবেশমুখে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। বাশার বাহিনী ট্যাংক নিয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্রোহীরা তাদের বাধা দিচ্ছে। আবদেল রহমান অভিযোগ করেন, এই অভিযানে বাশার বাহিনীর অন্যতম মিত্র হিজবুল্লাহর সদস্যরা মূল ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, এটা কুশায়ের শহরে স্থল অভিযান শুরুর প্রস্তুতি।
সিরিয়ার ভেতর থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহকারী সংগঠন সিরিয়ান রেভল্যুশন জেনারেল কমিশন বলছে, কুশায়ের শহরে বৃষ্টির মতো মর্টার শেল ছোড়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুলিও চালানো হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে কুশায়ের শহরের আশপাশে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। অবস্থানগত কারণে শহরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাজধানী দামেস্ক থেকে ভূমধ্যসাগর উপকূলে পৌঁছার অন্যতম পথ।

মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে পাকিস্তানকে

আগামী বাজেটের প্রস্তুতির জন্য সময় বেশি না থাকায় পাকিস্তানের নির্বাচনে বিজয়ী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) দ্রুতই জাতীয় পরিষদের অধিবেশন করতে চাইছে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে, বিজয়ী দলকে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে পিএমএল-এনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আহসান ইকবাল গত শনিবার বলেছেন, নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হবে।
বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তি দেবে নির্বাচন কমিশন। এরপর প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ১ জুনের মধ্যে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করবেন।
নির্বাচন কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সংবিধান অনুযায়ী বিজয়ী প্রার্থীদের ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য দাখিল করতে হবে। একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করার আগে এটা করা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পর স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার জন্য তিন দিনের সময় দেওয়া হবে। অন্যথায় এককভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা পরবর্তী পাঁচ বছরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর পাওয়া আসনের ভিত্তিতে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো বণ্টন করা হবে। এর জন্য সময় লাগবে আরও তিন-চার দিন। এরপরই কেবল পরিষদের অধিবেশনের সূচনা হতে পারবে।
নতুন সরকার ছোট হবে জানিয়ে আহসান ইকবাল বলেন, এর ফলে মূল্যবান জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। আজ ২০ মে লাহোরে দলের পার্লামেন্টারি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত ভারত সফরকালে সম্ভাব্য অস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত (ডুরান্ড লাইন) ও জঙ্গি হামলা নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আফগান প্রেসিডেন্ট নয়াদিল্লি যাচ্ছেন।
কারজাইয়ের মুখপাত্র আইমাল ফাইজি বলেন, আফগানিস্তান ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি সম্পাদন করেছে। ওই চুক্তির ভিত্তিতে আফগানিস্তানকে সামরিক খাতসহ বিভিন্ন ব্যাপারে ভারত সহযোগিতা করছে। সামরিক ঘাটতির ব্যাপারে ভারতের সাহায্য চাওয়া হবে।

আবারও ক্ষেপণাস্ত্র্র পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া গতকাল রোববার তার পূর্ব উপকূলে আবারও স্বল্পপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এ কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং।
সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, গতকাল বিকেলে পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) উত্তর কোরিয়া একটি নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।
এর আগে শনিবার একই স্থানে তিনটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিম হাইয়ুং-সিওক গতকাল বলেন, এর কারণে এই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে। অবিলম্বে এই কর্মসূচি বন্ধ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে উত্তর গতকালের (শনিবার) নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর মতো উসকানিমূলক কাজ বন্ধ করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

অপহরণ নিয়ে সংলাপের জন্য উ. কোরিয়ায় জাপানি দূত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সহযোগীর আকস্মিক উত্তর কোরিয়া সফর নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে টোকিও। দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী ইসাও লিজিমার এই সফরে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে জাপানি নাগরিকদের অপহরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আকিরা আমারি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এনএইচকের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এ অপহরণের ঘটনা জাপানের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দেশগুলোর স্বার্থের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এটা এমন একটি ব্যাপার যা জাপান নিজের মতো করেই সমাধান করতে চাইছে।’
২০০২ সালে উত্তর কোরিয়া প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানি নাগরিকদের অপহরণের কথা স্বীকার করে। তবে সে সময় অপহূতদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ায় জাপান ক্ষুব্ধ হয়। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের আলোচনার পথও ব্যাহত হয়।
উত্তর কোরিয়ায় চার দিনের সফর শেষে গত শনিবার চীনের রাজধানী বেইজিং হয়ে দেশে ফেরেন লিজিমা। এনএইচকের খবর অনুযায়ী, বেইজিংয়ে সাংবাদিকেরা তাঁকে পিয়ংইয়ং সফরের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে লিজিমা বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।
উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও তার মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। উদ্বেগ সৃষ্টি হয় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জাপানেও। এই পরিস্থিতির মধ্যে লিজিমার পিয়ংইয়ং সফরকে অনেকে জাপানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়া এ সফর পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের জন্য সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছে। আর ওয়াশিংটন প্রকাশ করেছে বিস্ময়।

ইউরোপ নিয়ে দলের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ক্যামেরন

যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ দলের সাবেক মন্ত্রী লর্ড হাও বলেছেন, দলনেতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপ বিষয়ে নিজের দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। ব্রাসেলসের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার কথা বলায় বোঝা যাচ্ছে যে দলের পেছনের সারির নেতাদের ভয় পাচ্ছে টরি নেতৃত্ব।
অবজারভার পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে লর্ড হাও এ কথা বলেছেন। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত গণভোটের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্য যদি ইইউ ত্যাগ করে, তাহলে বিশ্বের ওপর দেশটির কর্তৃত্বে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
প্রধানমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠজন ইইউ গণভোটের জন্য কনজারভেটিভ দলের তৃণমূল পর্যায়ের দাবিকে ‘পাগলামি’ অভিহিত করেছেন বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর লর্ড হাও এ কথা বললেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কেউ এমন মন্তব্য করেননি।
অবজারভার-এ লর্ড হাও লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন রাজনৈতিক এক ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছেন। মনে হচ্ছে ইইউর সঙ্গে দেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনি তাঁর নিজের দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। ইউরো-সংশয়বাদের একমুখী প্রভাব এখন এত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে যে কনজারভেটিভ নেতৃত্বকেও দলের পেছনের সারির নেতাদের ভয় পেতে হচ্ছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মার্গারেট থ্যাচার আমলের উপপ্রধানমন্ত্রী লর্ড হাও আরও লিখেছেন, ‘ইউরোপ নিয়ে কনজারভেটিভ দলের বিচলিত অবস্থা দীর্ঘদিনের এবং তা এখনো অব্যাহত আছে। এটা এখন তাদের একটি সমস্যা এবং জাতীয় সমস্যা হয়ে গেছে।’
লর্ড হাওয়ের মতে, এখন প্রয়োজন সুস্পষ্ট চিন্তা-ভাবনার সমন্বয়, শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং দলীয় সুবিধাবাদের বদলে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া।
এ ছাড়া বিবিসি রেডিও ফাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সাবেক মন্ত্রী একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গণভোটের ফলাফল যদি এমন হয় যে ইইউ থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হচ্ছে, তাহলে তার প্রভাব হবে খুবই খারাপ। কেননা, ইইউর সঙ্গে থাকার অর্থ সারা বিশ্বে আমাদের প্রভাব বজায় থাকা।’
ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার সপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি। চলতি মাসের প্রথম দিকে স্থানীয় নির্বাচনে বেশ ভালো করেছে দলটি। এতে উৎসাহিত হয়ে কনজারভেটিভ দলের অনেক নেতা এখন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে চাপ দিচ্ছেন ইইউ সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের জন্য।

যত দিন প্রয়োজন অভিযান চলবে

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান ‘যত দিন পর্যন্ত প্রয়োজন তত দিন’ অব্যাহত থাকবে। দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্রিস ওলুকোলাদে নামের ওই মুখপাত্র বলেন, নাইজেরিয়ার অখণ্ডতা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। দেশের প্রতিটি অংশ থেকে জঙ্গিদের বিতাড়িত করতে যত দিনই লাগুক না কেন, অভিযান চলবে।
নাইজেরিয়ায় সক্রিয় ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাইদুগুরি শহরে সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। সেখান থেকে ৬৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ গ্রেপ্তার করা হয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তিন রাজ্যে জঙ্গিদের অব্যাহত হামলার পর (বোর্নো, আদামাওয়া ও ইয়োব) গত সপ্তাহের শুরুতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এ ছাড়া বোর্নোর রাজধানী মাইদুগুরি শহরের ১২টি এলাকায় স্থায়ী কারফিউ বহাল থাকবে বলে সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবিরে গত শুক্রবার হামলা চালানো হয়। একটি যুদ্ধবিমানে জঙ্গিরা গুলি করলেও সেটি নিরাপদে ফিরে আসে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনীকে সংযত হতে বলেছেন। তিনি জঙ্গি দমন অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নাইজেরিয়ায় ২০১০ সাল থেকে সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য বোকো হারামকে দায়ী করা হয়। সংগঠনটির নামের মানে হচ্ছে ‘পশ্চিমা শিক্ষা নিষিদ্ধ’। নাইজেরিয়ার সরকারকে উৎখাত করে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যান্য দেশে সক্রিয় আল-কায়েদার জঙ্গিদের সঙ্গে বোকো হারামের যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

আমদানিকৃত ৯৩টি তেলবাহী ওয়াগন সচল করা হলো by এম আর আলম,

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় সচল
করে তোলা তেলবাহী ওয়াগনের বহর
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আমদানি করা ৯৩টি আধুনিক ট্যাংক বা তেলবাহী ওয়াগন ব্রডগেজ বা বড় লাইনে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতীয় ঋণের টাকায় সেই দেশ থেকে আমদানি করা এসব এয়ারব্রেকসম্পন্ন (হাওয়া) ওয়াগন এক মাস ধরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও প্রয়োজনীয় মেরামতসহ ‘ডি প্রসেসিং’ বা এ দেশের রেলপথে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। এর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ওয়াগন গত শনিবার পাকশী রেল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্যব্যবস্থাপক (ডব্লিউএম) কাজী মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্রথম আলোকে জানান, আমদানি করা ১৬৫টি তেলবাহী ওয়াগনের মধ্যে তাঁরা ৯৩টির ‘ডি প্রসেসিং’ করেছেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে ২১৮টি ট্যাংক ওয়াগন রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। তাই কৃষকের কাছে দ্রুত ও কম খরচে জ্বালানি পৌঁছে দিতে সরকার ভারত থেকে ১৬৫টি ওয়াগন আমদানির উদ্যোগ নেয়, যাতে দেশের সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে। এ ছাড়া এগুলো দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
সূত্রমতে, প্রতিটি ট্যাংক ওয়াগনের ধারণক্ষমতা হচ্ছে কেরোসিন বা পেট্রল ৫০ হাজার লিটার অথবা ডিজেল ৪৮ হাজার ১৪৮ লিটার কিংবা ফার্নেস তেল ৪৩ হাজার ৯৬৪ লিটার। আর একটি ইঞ্জিনের মাধ্যমে ৩১টি ট্যাংক ওয়াগন নেওয়া যায়।

এনসিসি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু

এনসিসি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা
কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা
মোবাইল ফোনে ব্যাংকিং ও লেনদেন করার সর্বাধুনিক সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘এনসিসিবি শিওর ক্যাশ’। ‘টাকা পাঠাই ফোনে ফোনে’ এ স্লোগানে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছে ব্যাংকটি।
রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান গতকাল রোববার এনসিসি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন এবং এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ নূরুল আমিন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনসিসিবি শিওর ক্যাশের মাধ্যমে শ্রমজীবী, পোশাক খাতের শ্রমিক থেকে শুরু করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সবাই লেনদেন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া, টাকা তোলা যাবে এনসিসি ব্যাংকের শাখা ও এজেন্টদের কাছ থেকে। এ ছাড়া এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বেতন গ্রহণ ও বিল পরিশোধ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এনসিসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদ, ইভিপি ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী শাহাদত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পোশাক খাত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক -বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার হেদার ক্রডেন গতকাল রোববার বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পোশাক খাত ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
ক্রডেন বলেন, আগের দিন (শনিবার) তিনি একটা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যা আয়োজন করেছিল কয়েকটি বিদেশি চেম্বার। সেখানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আজ উত্তর আমেরিকার খুচরা বিক্রেতারা প্রধানমন্ত্রীকে কর্মস্থলের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছেন। বাংলাদেশ ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে। কিন্তু এটা শুধু ভাবমূর্তির সংকটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সব রাজনৈতিক দল মিলে সমাধান করতে হবে।’
ক্রডেন আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিষ্কার ভাষায় ও জনসমক্ষে রাজনৈতিক সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের উচিত সরকারের সঙ্গে একযোগে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা আস্থা পাবেন এখানে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে।

কারখানা, ভবন ও প্রবাসী শ্রমিকদের বিমার তাগিদ

দেশের সব শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক ভবন এবং বিদেশে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক বিমা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)।
রাজধানীর একটি ক্লাবে বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে গত শনিবার অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় বিআইএর সদস্য সব বিমা কোম্পানির চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রতিটি বিমা কোম্পানি দুই লাখ টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় বিআইএ।
শ্রমিকদের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঝুঁকি ব্যবস্থা আইনে থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই বলে সভায় হতাশা ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, শ্রমিক, মালিক, সরকারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অসচেতনতা ও অনীহাই এ জন্য দায়ী। আবার দেশের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি হ্রাসে আইন করা হয়েছে। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কোনো আইন নেই।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যক্রমে সম্প্রতি শৈথিল্য দেখা দিয়েছে বলে সংশয় প্রকাশ করেন বিমা কোম্পানির চেয়ারম্যানরা। তাঁরা বলেন, বিমা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম যেমন ১৫ শতাংশের বেশি কমিশন, বাকি ব্যবসা ইত্যাদি রোধে ভূমিকা রাখতে হলে আইডিআরএকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।
চেয়ারম্যানরা বলেন, সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির (সিআরসি) প্রবিধান হওয়ার পরও এর কোনো সভা হয়নি। তাই ট্যারিফ-সংক্রান্ত কিছু বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আর নতুন লাইসেন্স প্রসঙ্গে বিআইএর মতামত হলো চার থেকে পাঁচটি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই নন-লাইফ বিমা কোম্পানি নয়।

ডিএসইর লেনদেন আবার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াল

তিন মাসের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন আবারও ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সে সঙ্গে সাধারণ মূল্যসূচকও চার হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার লেনদেন ও সূচকের এই উত্থান ঘটেছে। গতকাল এক দিনেই ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়েছে ৯৮ পয়েন্ট বা প্রায় আড়াই শতাংশ। নতুন সূচক ডিএসইএক্স ১০০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩২২ পয়েন্ট বা পৌনে তিন শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিএসইর সাধারণ সূচক চার হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমা পার হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ বেড়েছে। তাই নিষ্ক্রিয় অনেক বিনিয়োগকারীও আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এর ফলে এদিন লেনদেন ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ সরকার বিশেষ একটি তহবিল করতে যাচ্ছে, কিছুদিন ধরে এই ধরনের খবর শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা শান্ত হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। এসব কারণে বাজারে গতি সঞ্চার হয়েছে।’
কসমোপলিটন ফিন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরিব জাহিদ বলেন, নানা খবর ও আশাবাদকে কেন্দ্র করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। এতে হঠাৎ লেনদেন ও সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।
কসমোপলিটন ফিন্যান্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাতভিত্তিক লেনদেনে রোববার ডিএসইতে শীর্ষে ছিল বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত। এ খাতের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।
একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ফার্মা। এদিন কোম্পানিটির প্রায় ৩২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৬ শতাংশ। গত ১৫ মে কোম্পানিটি সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য নগদ ও স্টক মিলিয়ে ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। লভ্যাংশের এই ঘোষণায় গত কয়েক দিনে কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি ঘটেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।
ঢাকার বাজারে গতকাল ২৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১৪৩ কোটি টাকা বেশি। তিন মাসের ব্যবধানে গতকাল ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।
সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাজারে ৫৪৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
চট্টগ্রামের বাজারে রোববার দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা বেশি।

‘অঘটনের’ আশায় বাংলাদেশ

ঢাকা শহরের স্মৃতিটা এখনো ভোলেননি ভদ্রলোক। ঢাকায় ১৯৮২ সালে আগাখান গোল্ডকাপ ফুটবলে খেলেছিলেন ব্যাংকক ব্যাংক ক্লাবের হয়ে। ৩১ বছর পর আবার ঢাকায় এলেন পিয়াকুল কেওনাম কাং। এবার তিনি থাইল্যান্ড মহিলা দলের কোচ। ঢাকায় এসেই কিছু সময়ের জন্য হলেও ফিরে গেলেন পুরোনো দিনে।
মহিলা এশিয়া কাপের বাছাইপর্বে ‘বি’ গ্রুপে খেলতে ঢাকায় এসেছে থাইল্যান্ড। র‌্যাঙ্কিংয়েও সবার ওপরে, ২৯তম স্থানে। দুপুরে ঢাকায় পা রেখে বিকেলেই অনুশীলনে চলে এল দলটি। বাফুফের অ্যাস্ট্রো টার্ফে ঘণ্টা খানেক অনুশীলন হলো তাদের। থাই মেয়েদের নিখুঁত পাসিং, পাওয়ার ফুটবল আর বৈচিত্র্যময় অনুশীলন বাফুফে ভবনের চারতলায় দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলেন প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ দলের মেয়েরা।
এই বাছাইপর্বের জন্য দুই মাসের ক্যাম্প করেছে থাইল্যান্ড। এর আগে আরও তিন মাস খেলেছে স্থানীয় মহিলা লিগে। সব মিলিয়ে খেলার মধ্যেই ছিল দলটি। ঢাকায় আসার আগে ৩টি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে এসেছে স্থানীয় কয়েকটি ক্লাব দলের সঙ্গে। প্রচণ্ড গরমে দরদরিয়ে ঘাম ঝরছিল, কিন্তু ক্লান্তিহীন অনুশীলন চালিয়ে গেল থাই মেয়েরা। প্রতিটি গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন দল উঠবে চূড়ান্ত পর্বে। ‘বি’ গ্রুপে থাইল্যান্ডই ফেবারিট। ১৪ বার এই টুর্নামেন্টে খেললেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবারই—১৯৮৩ সালে। তবে এখনই টুর্নামেন্ট জয়ের চিন্তা করছে না দলটি। কোচ কেওনাম কাং জানালেন, আপাতত লক্ষ্য তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ‘এখানে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছি। এই গ্রুপে আমরা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকলেও মেয়েরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। সবাইকেই যোগ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছি আমরা।’ থাইল্যান্ডের মতোই ঢাকায় ভাপসা গরম, তাই কন্ডিশন নিয়েও দুশ্চিন্তা নেই তাদের।
থাইল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ দিয়েই কাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ ফুটবলের মূলপর্বে উত্তরণের অভিযান। র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৯ ধাপ পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ (১০৮) থাইল্যান্ডের সামনে দাঁড়ানোর আগে জয়ের কথা ভাবতে পারছে না। কাল বাফুফে ভবনের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সুইনু প্রু মারমা বললেন, ‘আমরা ভালো খেলা উপহার দিতে চাই দেশকে।’ বাংলাদেশ দল মাস দেড়েকের আবাসিক ক্যাম্প করেছে, সঙ্গে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ভারতে। সেখানে দুটি জয়, একটি ড্র থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাসই সাহস জোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী জাতীয় দলের ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে এখানে কাজে লাগাতে চান, ‘ডাচ কোচের সহকারী ছিলাম। সেটা এখানে কাজে লাগাব। ওদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করেছি। মেয়েদের ফিটনেস বাড়িয়েছি। এই গ্রুপে সবাই কঠিন প্রতিপক্ষ, তবুও একটা অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে এরা।’ ৩৫ জনের প্রাথমিক দল থেকে কাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো বাংলাদেশের ২২ সদস্যের দল। লিগামেন্টে চোট পাওয়ায় বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার ফারহানা। দলে নতুন মুখ টুম্পা, সাজেদা, লাবনী, ঝুমা ও মনিকা।

হারিয়ে যাবে ওয়ানডে

ওয়ানডে ক্রিকেট হারিয়ে যাবে বলে যাঁদের আশঙ্কা, তাঁদের কাতারে সর্বশেষ এসে মিলেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। আসলেই কি হারিয়ে যাবে ওয়ানডে?
তিন বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে ওয়ানডে ক্রিকেট!
এই ভবিষ্যদ্বাণীটা করেছেন এমন একজন, যাঁকে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বকালের সেরাদের একজন হিসেবেই মানা হয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কিছু দিন আগে করেছেন এমন মন্তব্য। তাঁর আগেও অনেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ক্রিকেটের তিন সংস্করণের মধ্যে ৫০ ওভারের ভবিষ্যৎই অন্ধকার। গিলির আগে সাল-তারিখ দিয়ে কেউ খেলাটার ‘মৃত্যু’ ঘোষণা করেননি।
গিলক্রিস্টের আশঙ্কার কারণও আছে। পরিসংখ্যানই সাক্ষ্য দিচ্ছে, ১৭ বছরের মধ্যে ২০১২ সালেই সবচেয়ে কম ওয়ানডে হয়েছে। ১৯৯৫ সালের পর গত বছরই প্রথম ওয়ানডের সংখ্যা তিন অঙ্ক ছাড়িয়ে যায়নি। এ পর্যন্ত ২০১২ সালে মাত্র ৯০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হয়েছে। ২০১১ সালে হয়েছিল ১৪৬টি।
যা-ই হোক, খেলাটা এখনো স্বর্ণপ্রসবিনী। বিশেষ করে উপমহাদেশে যে পরিমাণ টেলিভিশন-রাজস্ব পাওয়া যায়, সেটা অবিশ্বাস্য! আর হর্তাকর্তারাও মনেপ্রাণে চাইছেন, টিকে থাকুক ৫০ ওভারের খেলা। টিকিয়ে রাখতে চাইলে ওয়ানডে ক্রিকেটকে সময়োপযোগী করে তুলতে হবে। আর এটা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। ভারতীয় ক্রিকেট গ্রেট শচীন টেন্ডুলকার যেমন বলেছেন ওয়ানডেতে এক পক্ষেরই দুই দফায় ব্যাট করার কথা। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার টম মুডি রেখেছেন এক ইনিংসেই এক ব্যাটসম্যানের দুবার ব্যাট করার প্রস্তাব। অস্ট্রেলিয়ারই সাবেক ফাস্ট বোলার ডেমিয়েন ফ্লেমিং বলেছেন বোলারদের বোনাস ওভার দেওয়ার কথা। ওয়ানডে বাঁচাতে উঠে আসা এ রকম আরও কিছু প্রস্তাবের সারসংক্ষেপই তুলে ধরা হলো এখানে।
‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড়
এক ইনিংসে কোনো ব্যাটসম্যানের দুবার ব্যাট করার ধারণাটি এসেছে টম মুডির মাথা থেকে। টস করার সময়ই কোনো দলের অধিনায়ক ঠিক করবেন তাঁর দলের কোন খেলোয়াড় দুবার ব্যাট করবেন। দুবার ব্যাট করা ব্যাটসম্যানই হবেন ‘ইমপ্যাক্ট’ খেলোয়াড়। দ্বিতীয়বার তিনি ব্যাট করবেন টেলএন্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের বদলি হিসেবে। ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় কে হবেন, সেটা নির্ভর করতে পারে মাঠ, পিচ, বিপক্ষ ও কে ফর্মে আছে, কে ফর্মে নেই, তার ওপর। তবে কোনো ব্যাটসম্যান একবার আউট হওয়ার পরপরই আবার ব্যাট করতে নামতে পারবেন না। অন্তত একটি উইকেট পড়তে হবে। ধরা যাক, বাংলাদেশের তামিম ইকবাল অল্পতেই আউট হয়ে গেলেন, কিন্তু শেষের দিকে নেমে আবার দ্রুত কিছু রান করে গেলেন। ভালোই তো হবে, তাই না!
উইকেট ও মেডেন = অতিরিক্ত ওভার
অস্ট্রেলিয়ার রায়োবি ওয়ানডে কাপে একজন বোলার সর্বোচ্চ ১৩ ওভার পর্যন্ত বোলিং করার সুযোগ পান। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের এই আইডিয়াটা দারুণ পছন্দ! এতে আরেকটু বৈচিত্র্য আনতে চান ফ্লেমিং। কোনো বোলার উইকেট কিংবা মেডেন পেলেই শুধু অতিরিক্ত ওভার বল করার সুযোগ পাবেন। ‘ধরুন, কেউ একটি উইকেট পেল কিংবা মেডেন পেল, তবেই সে ১১ ওভার বোলিং করতে পারবে। আর এ কারণেই কেউ যদি টানা পাঁচটি ডট বল করে, তখন ব্যাটসম্যান শেষ বলটায় রান নিতে মরিয়া থাকবে। আর এতে তাকে ঝুঁকি নিতেই হবে। আর আপনি কাকে দিয়ে বেশি বল করাবেন, সেটাও আগেভাগে ঠিক করে দিতে পারবেন না। কারণ, আপনি তো জানেন না কে উইকেট ও মেডেন পাবে।’ এ নিয়ে টম মুডির চিন্তাভাবনাটা একটু অন্য রকম। সাবেক এই অলরাউন্ডার চান কোন বোলার ১০ ওভারের বেশি বল করবেন, সেটা আগেই ঠিক করে রাখতে।
ইনিংস ভাগ করে খেলা
দুই ইনিংসে ভাগ করে ওয়ানডে খেলা ২০১০-১২ রায়োবি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট দেখে ফেলেছে। তবে আইসিসি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এ ধারণাটি গ্রহণ করেনি। ২৫-২৫ ধারণাটিই যখন প্রত্যাখ্যাত, তখন দক্ষিণ আফ্রিকান ডিক উড নামের এক ভদ্রলোক নিয়ে এসেছেন পাঁচ ওভারের তত্ত্ব। দুই দলের প্রথমটি পাঁচ ওভার করার পর দ্বিতীয় দল করবে ১০ ওভার ব্যাটিং। এরপর প্রথম দল আবার পাঁচ ওভার ব্যাট করে পুরো করবে চক্র। আর প্রতি চক্রেই থাকবে বোনাস পয়েন্ট। এভাবে চক্রাকারে পুরো ৫০ ওভার পূর্ণ করার পরই শেষ হবে খেলা, নির্ধারিত হবে বিজয়ী।
বেশি বেশি বাউন্সার
এক ওভারে দুই বাউন্সার, গত জুনেই ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রচলন হয়েছে। আর এতে কিছুটা হলেও সীমিত ওভারের ম্যাচে সুবিধা পাচ্ছেন ফাস্ট বোলাররা। ফ্লেমিং মনে করছেন, ওভারপ্রতি বাউন্সারের সংখ্যাটি আরও বাড়ানো উচিত। তাঁর মতে, সংখ্যাটা হওয়া উচিত তিন। তাঁর যুক্তি, ‘আরও বেশি বাউন্সার দিলে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একটু হলেও অনিশ্চয়তার ছায়া পড়বে। আর এটা ফাস্ট বোলারদের তূণে বাড়তি অস্ত্র জোগান দেবে। তা ছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে তো তেমন একটা পুল আর হুক দেখা যায় না। বাড়তি বাউন্সার হয়তো ফিরিয়ে আনবে এই শট দুটোকেও। আকর্ষণীয় এই শটগুলো দেখাটাও হবে দৃষ্টিসুখকর।’
টি-টোয়েন্টি শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট
অনেকেই মনে করেন, ক্রিকেটের নবতম টি-টোয়েন্টি সংস্করণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজন করাই উচিত নয়। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম এই সংস্করণ শুধু ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে আয়োজন করা উচিত বলেই মতামত তাঁদের। আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জনপ্রিয়তাই তাদের যুক্তিটাকে জোরালো করছে। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বন্ধ হয়ে গেলে আপনা-আপনিই ওয়ানডে ক্রিকেট ফিরে পাবে তার হূৎগৌরব।
বিদেশি পত্রিকা অবলম্বনে মোহাম্মদ সোলায়মান

শেষবেলায় জুভেন্টাসের অতৃপ্তি

শিরোপা জেতা হয়েছিল আগেই। কিন্তু শেষবেলায় একটা অতৃপ্তি রয়ে গেল, ‘মধুর সমাপ্তি’ হলো না জুভেন্টাসের। পরশু সাম্পদোরিয়ার কাছে হেরে ইতালির চ্যাম্পিয়নরা একটা রেকর্ড ছুঁতে পারল না একটুর জন্য। সেটি হলো, ৫১ বছর পর প্রথম দল হিসেবে সিরি ‘আ’র ১৯ প্রতিপক্ষের সবার বিপক্ষে জেতা। কোয়ালারেল্লার ২৫ মিনিটের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল জুভেন্টাসই। এরপর এডার ও ডে সিলভেস্ত্রির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ৭৫ মিনিটে মাউরো ইকারদি চ্যাম্পিয়নদের কফিনে ঠুকে দেন শেষ পেরেক। জুভেন্টাসের পক্ষে লিচস্টেইনার অতিরিক্ত সময়ে জুভেন্টাসের পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমিয়েছেন (৩-২)।
এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯৩ পয়েন্টের রেকর্ড ছোঁয়ারও হাতছানি ছিল জুভেন্টাসের সামনে। গত সপ্তাহে ক্যালিয়ারির সঙ্গে ড্র করাতেই সেই সম্ভাবনাও দূরে সরে গিয়েছিল। আর পরশু তো হেরে যাওয়ায় ৮৭ পয়েন্ট নিয়েই সিরি ‘আ’ শেষ করতে হলো কন্তের দলকে।
জুভেন্টাসের অভিযান শেষ হলেও সিরি ‘আ’র রোমাঞ্চ এখনো শেষ হয়নি। আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পেতে তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে এসি মিলান ও ফিওরেন্টিনা কাল রাতেই মুখোমুখি হয়েছিল সিয়েনা ও পেসকারার। ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে মিলান এগিয়ে ছিল ২ পয়েন্টে।

ফেদেরারকে উড়িয়ে দিলেন নাদাল

এ বছরই মার্চে একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে ফাইনালে সর্বশেষ তাঁদের দেখা হয়েছিল ২০১১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে। দীর্ঘদিন পর রোম মাস্টার্স সুযোগ দিয়েছিল রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেদেরারের ফাইনালের দ্বৈরথ দেখার। তবে কোর্টের লড়াইটা বড় বেশি একপেশে হলো। এতটাই যে স্কোর দেখে এটিকে ঠিক নাদাল-ফেদেরার ম্যাচ বলাই দায়! দুজনের ৩০তম সাক্ষাতে ফেদেরারকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে নাদাল জিতেছেন তাঁর ক্যারিয়ারের ৫৬তম শিরোপা। জিতেছেন ৬-১, ৬-৩ গেমে!
টানা দুই শিরোপা জিতে ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে সেরে রাখলেন সেরেনা উইলিয়ামসও। আগের সপ্তাহেই মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে জিতেছেন মাদ্রিদ মাস্টার্সের শিরোপা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেরেনা কাল রোম মাস্টার্সে জিতলেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে হারিয়ে। এখানেও লড়াইটা নাদাল-ফেদেরারের মতো, সেরেনা জিতেছেন ৬-১, ৬-৩ গেমে!

গ্রেপ্তার আরেক ক্রিকেটার

শুরুতে পাত্তা না দিলেও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) বেশ টনক নড়েছে অবশেষে। তিন ক্রিকেটারের স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে কাল জরুরি বৈঠকে বসেছিল ভারতীয় বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সব এজেন্টকে হতে হবে বোর্ড-স্বীকৃত ও অনুমোদিত। ক্রিকেটারদের কাছে অন্যদের প্রবেশাধিকারকে আরও নজরদারিতে রাখা হবে। প্রতিটি আইপিএল দলের সঙ্গে একজন করে দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাখা হবে। বোর্ডের দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তাপ্রধান রবি সাওয়ানিকে কমিশনার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বহিষ্কৃত তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিসিসিআই প্রধান এন শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই বলে তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নিতে পারবে না বোর্ড। তবে পার পাচ্ছেন না শ্রীশান্তরা। যাঁদের সঙ্গে চুক্তি আছে, সেই রাজস্থান রয়্যালস ঠিকই পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতারণা ও ফ্র্যাঞ্চাইজির সুনাম নষ্টের অভিযোগে। তিন ক্রিকেটারের জিজ্ঞাসাবাদ কাল তৃতীয় দিনের মতো চলেছে। পুলিশের একটি সূত্র এনডিটিভিকে বলেছে, তিনজনই স্পট ফিক্সিংয়ে টেনে আনার জন্য দায় চাপাচ্ছেন পরস্পরের ওপর। তিনজনের কণ্ঠ নমুনাও সংগ্রহ করেছে পুলিশ, বাজিকরদের সঙ্গে তাঁদের ফোনালাপের টেপরেকর্ড আদালতে প্রমাণ হিসেবে শোনানোর জন্য। পুলিশের দাবি, এর মধ্যেই যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছে তারা।
ফিক্সিংয়ের শিকড় কতটা গভীরে, সেটির আরেকটা প্রমাণ মিলেছে কাল। দিল্লি পুলিশ কাল আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাঁদের একজন সাবেক রঞ্জি ক্রিকেটার মনীষ বুদেওয়া। বিদর্ভের সাবেক এই ক্রিকেটার ২০০০ সাল থেকে খেলছেন অজিত চান্ডিলার সঙ্গে। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে মাঝেমধ্যে অনুশীলনও করতেন। মনীষই নাকি চান্ডিলাকে বাজিকরদের সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। পুলিশ বলছে, জড়িত আছে আরও ক্রিকেটার। মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ছয় বাজিকরকে, যাঁদের একজন রমেশ ভাইয়াস। অপরাধজগতের সম্রাট দাউদ ইব্রাহিমের ভাই আনিস ইব্রাহিম ও বিশ্বস্ত সহকারী সুনীল দুবাইয়ের ঘনিষ্ঠ এই রমেশ।
ঘোড়দৌড় ছাড়া আর সব খেলায় বাজি ধরা ভারতে অবৈধ। ভারতে ক্রিকেট বাজির বার্ষিক বাজার ৩ লাখ কোটি টাকা। পুরোনো একটি প্রশ্ন তাই নতুন করে উঠেছে, ক্রিকেটে বেটিংকে বৈধতা দেওয়া যায় কিনা! বিসিসিআই প্রধান শ্রীনিবাসন এটিকে ঠিক নিশ্চিত সমাধান ভাবছেন না, ‘অন্য অনেক দেশেই বাজিকে বৈধ করে দেওয়া হয়েছে, এতে বেশ কাজও হয়েছে এটা নিয়ন্ত্রণে। তবে ভারতে কতটা সম্ভব, আমি ঠিক নিশ্চিত নই।’
প্রশ্ন উঠছে ফিক্সিং নিয়ন্ত্রণ বা উদ্ঘাটনে দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের (আকসু) পৌনঃপুনিক ব্যর্থতা নিয়েও। ফিক্সিংয়ের সব কেলেঙ্কারিই ফাঁস করেছে সংবাদমাধ্যম অথবা পুলিশ। তবে শ্রীনিবাসনের যুক্তিটাও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য, ‘আকসু তো পুলিশের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। ফোনে আড়ি পাততে পারে না, আরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। পুলিশি সংস্থা নয় বলে অনেক কিছুতেই আমাদের হাত-পা বাঁধা।’

জেলা ফুটবল লিগ

প্রাইম ব্যাংক জেলা ফুটবল লিগে নড়াইলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। কাল নড়াইল জেলা ফুটবল স্টেডিয়ামে ফাইনালে আবাহনী ২-০ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেলকে। দুটি গোলই করেছেন মশিউর। জয়পুরহাটে সেমিফাইনালে জয়পুরহাট কলেজ ২-০ গোলে হারিয়েছে শান্তিনগর স্পোর্টিং ক্লাবকে।

ফার্গির বিদায়ী ম্যাচে মহা নাটক

এই শেষবার! আর কখনো এভাবে দর্শক অভিবাদনের জবাব
দিতে দেখা যাবে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচকে।
গতকাল ওয়েস্ট ব্রমের সঙ্গে ম্যাচটাই শেষ টেনে দিল স্যার
অ্যালেক্স ফার্গুসনের কোচিং জীবনের
মহাকাব্যিক এক ম্যাচ দিয়েই অবসান হলো মহাকাব্যিক এক যুগের। ৫-৫ গোলের অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ উপহার দিয়েই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে বিদায় জানাল ফুটবল। কাল মৌসুমের শেষ দিনে চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ১০ গোলের ম্যাচটি খেলেছে ওয়েস্ট ব্রমউইচ আলবিয়নের সঙ্গে।
ব্রমউইচের মাঠ দ্য হথর্নস ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে উঁচু ভেন্যু। সেই উঁচু মাঠেই গোলের বন্যা বইল, হলো রেকর্ড। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে চালু প্রিমিয়ার লিগ কালই দেখল সবচেয়ে বেশি গোলের ড্র। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবলে সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে ৫-৫ গোলে ড্র করেছিল নিউক্যাসল ও কিউপিআর। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবলে এর চেয়ে বেশি গোলের ড্র আছেই মাত্র একটি। ১৯৩০ সালে তৎকালীন প্রথম বিভাগে লিস্টার সিটি ও আর্সেনাল ড্র করেছিল ৬-৬ গোলে।
রেকর্ডের এই ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। এরপর ওয়েস্ট ব্রম ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করলেও ফন পার্সি ও চিচারিতোর ২ গোলে আবার এগিয়ে যায় ইউনাইটেড (৫-২)। এরপর ৮১ থেকে ৮৬—এই ৫ মিনিটেই ইউনাইটেডের রক্ষণ চুরমার করে ওয়েস্ট ব্রমের ৩ গোল। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ফার্গির দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন রোমেলু লুকাকু।
কাল জিতেছে চেলসি, আর্সেনাল, লিভারপুল ও টটেনহামও। আর্সেনাল চতুর্থ দল হিসেবে সুযোগ পেয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। তবে কাল নরউইচের কাছে হেরে গেছে রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটি।

বেকহামের অশ্রুসিক্ত বিদায়

বিদায়বেলায় আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি,
ডেভিড বেকহামের চোখে নামল অশ্রুধারা। কাঁদালেন
গ্যালারিতে থাকা স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহাম ও সন্তানদেরও
(ডানে)। তবে সতীর্থরা শূন্যে ছুড়ে হূদয়ছোঁয়া একটা
মুহূর্তও এনে দিয়েছেন এই ফুটবলারকে
দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো মাঠ ছেড়েছেন চোটের যন্ত্রণা নিয়ে। কখনো সঙ্গী হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনাও। কিন্তু মনটাকে শক্ত রেখে ডেভিড বেকহাম ঠোঁটের কোণে হাসিটা ধরে রেখেছেন সব সময়ই। কিন্তু শেষ ম্যাচে আবেগটাকে ধরে রাখতে পারলেন না ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। পরশু পার্ক ডি প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলে ৮১ মিনিটে যখন বেরিয়ে এলেন মাঠ থেকে, বেকহামের কানে বাজল বিটলসের গান, তাঁর চোখে নামল অশ্রু।
বেকহামের কান্নাভেজা বিদায়ের দিনটাকেই জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ পরিণত করেছেন উদ্যাপনের উপলক্ষ। জোড়া গোল করে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) সুইডিশ স্ট্রাইকার গড়েছেন এক মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ লিগ গোলের রেকর্ড। এই দুই গোল নিয়ে লিগে তাঁর গোল এখন ২৯টি। সুইডিশ স্ট্রাইকারের সামনে এখন ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে ফ্রান্সের সাবেক স্ট্রাইকার জ্যঁ পিয়েরে পাপাঁর এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে পাপাঁ অলিম্পিক মার্শেইয়ের হয়ে করেছিলেন ৩০ গোল। রেকর্ডের পাশাপাশি বেকহামের বিদায়বেলাকেও রাঙিয়েছেন জয়ের রঙে। ইব্রাহিমোভিচের জোড়া গোলে পিএসজি ব্রেস্তকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। ব্রেস্তের অবনমন নিশ্চিত হয়েছিল অবশ্য আগেই। বিদায়ী ম্যাচে দলকে জেতাতে অবদান রেখেছেন বেকহামও। মাতুইদির করা দলের দ্বিতীয় গোলটি বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই।
গত রোববার ১৯ বছর পর লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে পিএসজির। শিরোপা-আনন্দ টাটকা থাকতেই ১৬ মে বেকহাম দিয়ে দেন অবসরের ঘোষণা—এই মৌসুম শেষেই চিরতরে তুলে রাখবেন বুটজোড়া। পিএসজির আরেকটি লিগ ম্যাচ বাকি আছে। কিন্তু আগামী রোববার লিগের শেষ ম্যাচটি পিএসজি খেলবে প্রতিপক্ষ লরিয়াঁর মাঠে গিয়ে। যেটি আসলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মাঠ। বেকহাম নিজেই বলছেন, ‘অফিশিয়ালি আমাদের আরও একটা ম্যাচ আছে। কিন্তু সেটা প্লাস্টিকের মাঠ এবং মাত্রই কয়েক বছর আগে আমার অ্যাকিলিস ভেঙে গিয়েছিল। কাজেই কে জানে আমি খেলতে পারব কি পারব না?’
এ জন্যই পরশু পার্ক ডি প্রিন্সেসে নেমেছিলেন বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়েই। বেকহামের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি শেষ ম্যাচে তাঁর বাহুতেই বেঁধে দেন অধিনায়কত্বের বন্ধনী। ৮১ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় পান সতীর্থ খেলোয়াড়দের ‘গার্ড অব অনার’। গ্যালারি ভরা দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় তাঁকে। ধীর পায়ে বেঞ্চের দিকে এগোনো বেকহামের চোখে তখন জল।
ম্যাচ শেষে ব্যক্তিগত পদকের জন্য যখন বেদিতে দাঁড়ালেন, বেকহামের গায়ে জড়ানো ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকা। পর্দায় বেজে উঠল বিটলসের গান ‘হ্যালো, গুডবাই’। ভিডিওতে দেখানো হলো পিএসজিতে তাঁর খেলার উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো। বেকহামের কথা, ‘আবেগের ধাক্কাটা শুরু হয় বেরিয়ে আসার ২০ মিনিট আগেই। মাঠে দৌড়ানো, এমনকি বল শট নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। তবে সতীর্থ খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া দেখাটা ছিল সত্যিই বিশেষ।’
বাবা-মা, স্ত্রী ভিক্টোরিয়াসহ উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের ২৫ জন সদস্য। ছেলেরা তো তাঁর বুট, জার্সি, পদক নিয়ে এরই মধ্যে স্মৃতিশালাই বানিয়ে ফেলেছে!
১৯৯৩ সালে শুরুটা হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। সেই থেকে ভিন্ন চারটি লিগে শিরোপার স্বাদ পাওয়া বেকহাম নিজের অর্জনে তৃপ্ত। খুশি, শেষটা প্যারিসের মতো জায়গায় হওয়াতেও, ‘আমার ক্যারিয়ারের শেষটা হয়ে থাকল “ভেরি স্পেশাল”। এখন আমি সময়টা আমার পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করব। ভান্ডারে অনেক স্মৃতি জমিয়েই আমি যাচ্ছি।

রেকর্ডের পথে আরেকধাপ বার্সেলোনার

স্প্যানিশ লিগের শিরোপাটা আগেই নিশ্চিত করে ফেলেছে বার্সেলোনা। এখন তারা ছুটছে রেকর্ডের পেছনে। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড স্পর্শ করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল কাতালানরা। গতকাল রিয়াল ভ্যালাদোলিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর এখন বার্সেলোনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৯৬ পয়েন্ট। লিগের শেষ দুটি ম্যাচ জিততে পারলেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের এ রেকর্ডটি ছুঁয়ে ফেলতে পারবে বার্সেলোনা।
স্প্যানিশ লিগের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কারণেই হয়তো গতকাল দলের প্রধান স্ট্রাইকার লিওনেল মেসিকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। তার পরও জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি কাতালানদের। প্রথমার্ধের ২১ মিনিটে জাভির পাস থেকে বল পেয়ে ভ্যালাদোলিদের জালে বল জড়িয়ে দেন পেদ্রো। ৪২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বার্সেলোনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভ্যালাদোলিদের ডিফেন্ডার মার্ক ভিলেন্তে। ম্যাচের একেবারে শেষ পর্যায়ে, ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হন ভ্যালাদোলিদের মিডফিল্ডার ভিক্টর পেরেজ। ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি মৌসুমে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছিল বার্সেলোনা। গত মৌসুমে কাতালানদের একক আধিপত্য খর্ব করে রিয়াল মাদ্রিদ। এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১০০ পয়েন্ট সংগ্রহের নতুন রেকর্ড গড়ে গত মৌসুমের শিরোপা জিতেছিলেন হোসে মরিনহোর শিষ্যরা। এবার সেই রেকর্ডটাই স্পর্শ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে বার্সেলোনা।— রয়টার্স

চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ ফুটবল

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে কাল উত্তর বারিধারা ক্লাব ৪-১ গোলে হারিয়েছে ঢাকা ইউনাইটেডকে। ডালিম ও জীবন করেছেন দুটি করে গোল। ইউনাইটেডের একমাত্র গোলটি নজরুলের। ৯ ম্যাচে বারিধারার এটি ষষ্ঠ জয়। ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দলটি সবার ওপরে। ৮ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম আবাহনী। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে ইউনাইটেড।

নীলফামারীতে ব্যাডমিন্টন খেলার প্রসারে শোভাযাত্রা

মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি ও ব্যাডমিন্টন খেলাকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে ১৬ মে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলার শহীদ ধীরাজ-মিজার স্মৃতি পাঠাগার থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ডোমার উপজেলা চত্বরে।
ব্যাডমিন্টন কোচ ও ডিবিসিসির পরিচালক আবু আসাদ মো. মামুন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বসুনিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বার, ডিবিসিসির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ এস এম মোহসীন সাজ্জাদ চৌধুরী, ডেইজি নাজনীন মাশরাফি, রংপুর ক্যাডেট একাডেমির ডোমার পৌর শাখার অধ্যক্ষ মো. কবির আহমেদ, ক্রীড়াবিদ মোহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখ।

পোশাকশিল্পে শ্রমিক কল্যাণের তাগিদ

চট্টগ্রামে এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা বলেছেন, দেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক কল্যাণের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ সুযোগ-সুবিধা বাড়লে শ্রমিকের উত্পাদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা দুটোই বাড়বে।
নগরের একটি হোটেলে গতকাল মঙ্গলবার ‘পোশাকশিল্প ও সামাজিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি মাহবুব আলী।
বৈঠকে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাদাফ নূরে ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্দ্রজিত্ কুণ্ড, বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এরশাদ উল্লাহ, সদস্য শওকত ওসমান, মো. মহিউদ্দিন, সাংবাদিক আলী হায়দার, এনজিওকর্মী শামসুন নাহার, জেসমিন সুলতানা, প্রদীপ কুমার বড়ুয়া, শ্রমিকনেতা সফর আলী প্রমুখ।
বক্তারা কর্মরত পোশাকশ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মাতৃত্বকালীন সুবিধাসহ নানা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, এ শিল্পে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী।

তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার আহ্বান

তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সামনে আনতে না পারলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের (এসএমই) কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হবে না। আবার তাদের উৎসাহিত করতে হলে বিভিন্ন বাধা দূর করে সরকারকে নীতি-সমর্থন দিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) ইন বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত প্রকাশ করেন। অ্যামচেমের মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজসভা উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
অ্যামচেম সভাপতি আফতাব-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি।
নির্ধারিত আলোচক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রোকেয়া এ রহমান বলেন, এসএমই খাতকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে হবে। ইতিমধ্যেই এই খাতের উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন যে সমর্থন ও সহায়তা পেলে তাঁরা অনেক দূর যেতে পারবেন।
রোকেয়া এ রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসছেন। ক্ষুদ্রঋণ নারীকে ছোট ছোট ব্যবসায় সম্পৃক্ত করেছে। এটাকে জোরদার করা গেলে সামাজিকভাবে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
রোকেয়া এ রহমান সরকারের নীতি-সমর্থন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, যখন নারী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন ও ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন তখনই বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের গতিশীলতা অর্জন করবে।
অপর আলোচক নিউ এজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, বিদ্যুত্-জ্বালানি সংকট, অর্থায়নের অসুবিধা ও উচ্চ সুদের হার এসএমই বিকাশে বাধা তৈরি করেছে। তারপরও বড় স্থানীয় বাজার ও সস্তা শ্রম উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে। এখন নীতি-সমর্থন দিয়ে একে আরও জোরদার করতে হবে।
জেমস এফ মরিয়ার্টি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ বছরের কোনো একসময়ে একটি শিল্পোদ্যোগ সম্মেলনের আয়োজন করবেন, যেখানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে বলে তিনিও জানান।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মরিয়ার্টি বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর আমেরিকায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করতে যাবে বলে তিনি আশা করেন। বর্তমানে এই সংখ্যা মাত্র দুই হাজার, যেখানে নেপাল থেকে বছরে ১৪ হাজার ও ভারত থেকে বছরে ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী আমেরিকায় গমন করে থাকে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হাফিজ জি এ সিদ্দিকী, নাসরিন আউয়াল মিন্টু, মোশাররফ হোসেন, মঈনউদ্দিন মোনেম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেমের সহসভাপতি খালিদ হোসেন ও নির্বাহী পরিচালক এ গফুর।

আইপিওর টাকা ফেরত পাওয়ার পদ্ধতি আগে জানিয়ে দিতে হবে

এখন থেকে কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) লটারিতে অকৃতকার্য হওয়া আবেদনকারীরা নিজ ব্যাংক হিসাবে অথবা সরাসরি রিফান্ড ওয়ারেন্টের মাধ্যমে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।
তবে আবেদনকারী কীভাবে টাকা ফেরত নিতে চান, তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আইপিওর আবেদন ফরমে আগে থেকেই উল্লেখ করতে হবে। এ জন্য আবেদন ফরমে আলাদা একটি ছক যুক্ত করা হবে। যেখানে টিক চিহ্নের মাধ্যমে আবেদনকারী কীভাবে টাকা পেতে চান তা জানিয়ে দেবেন।
একইভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা লভ্যাংশের টাকা সরাসরি বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা যেভাবে সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করবেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে সেভাবেই তা বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগে শেয়ারহোল্ডারকে নির্ধারিত একটি সময়সীমার মধ্যে তার আগ্রহের কথা কোম্পানির কাছে জানাতে হবে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক বৈঠকে গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত দুই-এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সভা শেষে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবির ভুঁইয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে আইপিওর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে দুই পদ্ধতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।’
গত বছরের নভেম্বর এসইসি আইপিও এবং লভ্যাংশের টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তার আগে বিনিয়োগকারীরা এসব টাকা সরাসরি বা ডাকযোগে পেয়ে থাকত। এ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সময় নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমানোর কথা বিবেচনা করেই নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসইসি।
কিন্তু ব্যাংকগুলোকে মানসিক ও ব্যবহারিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ না দিয়েই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের হয়রানি আরও বেড়েছে। কোনো ধরনের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবতা যাচাই না করেই ব্যাংক হিসাবে টাকা ফেরতসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে গিয়েই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
তবে তারা এও বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে কোম্পানিকে দুভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যা জটিলতা আরও বাড়াবে। তা ছাড়া ব্যাংকগুলো অসহযোগিতার বিষয়টি নতুন পদ্ধতিতেও কার্যকর থাকবে।
সম্প্রতি একটি বিমা কোম্পানি ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও অন্তত পাঁচটি ব্যাংক তা প্রত্যাখ্যান করে।
মূলত গ্রামীণফোনের আইপিওর আবেদন থেকে লটারিতে অকৃতকার্য আবেদনকারীদের টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। কোম্পানিটি তার সুনাম ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই অকৃতকার্য আবেদনকারীদের বড় অংশেরই নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হয়। তার পরও প্রায় ১০ শতাংশের মতো আবেদনকারীর টাকা ফেরত দিতে গ্রামীণফোনকেও বেগ পেতে হয়েছে।
কিন্তু তালিকাভুক্ত কোম্পানি গোল্ডেনসনের পুনঃ আইপিওর টাকা ফেরত নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এসইসির নির্দেশ মানতে গিয়ে এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সব আবেদনকারীর টাকা ফেরত দিতে পারেনি কোম্পানিটি। এ জন্য উত্তেজিত আবেদনকারীরা কোম্পানির কার্যালয় ভাঙচুর, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নাজেহাল ও এসইসির কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন।

আলজেরিয়াকে শেষ আটে তুলেছে অ্যাঙ্গোলা?

স্বাগতিক অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে আফ্রিকান নেশনস কাপের শেষ আটে উঠেছে আলজেরিয়াও। তবে কেউ কেউ বলছেন, আলজেরিয়া ওঠেনি, তাদের আসলে শেষ আটে ওঠানো হয়েছে। আর সেই ওঠানোর কাজটা করেছে অ্যাঙ্গোলা। দু দলের শেষ গ্রুপ ম্যাচটি একমাত্র গোলশূন্য ড্র হলেই আলজেরিয়ার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সম্ভব ছিল। পরশু লুয়ান্ডাতে হয়েছে সেটাই। এর পরই উঠেছে অমন কথা।
৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অ্যাঙ্গোলা। আলজেরিয়া ও মালির পয়েন্ট সমান ৪। গোল-ব্যবধানে আলজেরিয়াকে পেছনে ফেলেছে মালি। এর পরও যে আলজেরিয়া কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল, এর কারণ মুখোমুখি লড়াইয়ে মালিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।
তবে আলজেরিয়া-অ্যাঙ্গোলা ম্যাচটি পাতানো ছিল কি না—এই বিতর্কে চাপা পড়ে গেছে বাকি সব। আলজেরিয়ার কোচ রাবাহ সাদানে অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন এই অভিযোগ, ‘অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়নি আমাদের। আমরা পাতানো খেলায় বিশ্বাস করি না। ১৯৮২ বিশ্বকাপে জার্মানি-অস্ট্রিয়া পাতানো ম্যাচ খেলায় আমাদের বাদ পড়তে হয়েছিল। আমি আবার জোর দিয়ে বলতে চাই, ফলটা পূর্ব নির্ধারিত ছিল না। দু দলই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে খেলেছে। এটা ছিল একটা ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ।’
মালি এটা বুঝতে চাইবে কেন? এরই মধ্যে কনফেডারেশনস অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে তারা। জানিয়েছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও।

সাকিবের মতো উপেক্ষিত আফ্রিদিও

দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের নিলামে কোনো দলের কাছ সাড়া পেলেন না সাকিব আল হাসান। তাঁর ‘ভিত্তি মূল্য’ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। কিন্তু কোনো দলই তাঁকে নিলামে ডাকেনি। বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে অলরাউন্ডারের কি খারাপ লাগছে? লেগে থাকলে দুঃখটা তিনি ভাগাভাগি করে নিতে পারেন টি-টোয়েন্টি জমানার সবচেয়ে বড় তারকার সঙ্গেই। খোদ শহীদ আফ্রিদিকেই যে কেনেনি কোনো দল!
প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট-সেরা, দ্বিতীয় আসরের সেমিফাইনাল আর ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, ওয়ানডেতে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি—‘বুম বুম’ আফ্রিদিকে কেনেনি কোনো দল। প্রথম আসরে ডেকান চার্জার্সের হয়ে খেলেছিলেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তবে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিতীয় আসরে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেয় দলগুলো। এবার তাই নতুন করে নিলামে উঠতে হয়েছিল আফ্রিদিদের। কিন্তু এবারও ভিসা নিয়ে জটিলতা হতে পারে এই আশঙ্কার কারণেই আফ্রিদিসহ ১১ পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের কাউকেই কেনেনি আইপিএলের দলগুলো।
আসলে প্রতিটা দলে সর্বোচ্চ ১০ জন করে বিদেশি খেলোয়াড় থাকতে পারে। আগে থেকে প্রায় সবগুলো দলেই আট-নয়জন করে বিদেশি খেলোয়াড় ছিল। এবার নিলামে ৬৬ জন উঠলেও বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা ফাঁকা ছিল মাত্র ১৩টি। তবে খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছে মোট ১১ জন। তাতে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের শেন বন্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। গত চ্যাম্পিয়নস লিগে নজরকাড়া পোলার্ডকে কিনেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস, আর আইসিএল থেকে ফেরা বন্ডকে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলার কেমার রোচকে সাত লাখ ২০ হাজার ডলার দিয়ে কিনেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ডেকান চার্জার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েইন পারনেলের (দিল্লি ডেয়ারডেভিলস) দাম উঠেছে ছয় লাখ ১০ হাজার। মোহাম্মদ কাইফ রাজস্থান রয়্যালস থেকে আড়াই লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে কিংস ইভেলেন পাঞ্জাবে। ইংল্যান্ডের এউইন মরগ্যানকে দুই লাখ ২০ হাজার দিয়ে কিনেছে বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। অনেক দিন ধরে আড়ালে থাকা শেন ওয়ার্নের বন্ধু ডেমিয়েন মার্টিনকে এক লাখ ডলার দিয়ে কিনেছে তাঁর দল রাজস্থান। সমান দামে জাস্টিন কেম্পকে কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। বাকি তিনজন—বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজে নজরকাড়া থিসেরা পেরেরা (চেন্নাই), অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম ভোজেস (রাজস্থান) আর দক্ষিণ আফ্রিকার ইউসুফ আবদুল্লাহ (পাঞ্জাব) বিক্রি হয়েছেন ৫০ হাজার ডলারে।
নিলামে প্রতিটা দল সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ ডলার করে খরচ করতে পেরেছে। মুম্বাই আর কলকাতা পুরো টাকাটাই একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ঢেলেছে। দুজন করে খেলোয়াড় কিনেছে চেন্নাই, রাজস্থান আর পাঞ্জাব। বাকি পাঁচ দল কিনেছে একজন করে। শেন বন্ডকে কিনতে রিকি পন্টিংকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা।

মাঠে ফিরছেন মাশরাফি

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে আজ। তিনটি ম্যাচের মধ্যে আলাদা আলো পড়বে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে খুলনা-সিলেট ম্যাচটিতে। এই ম্যাচ দিয়েই যে মাঠে ফিরছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে যাওয়ার আগে মাশরাফি ইনজুরিগ্রস্ত হাঁটুর সর্বশেষ অবস্থাটা বুঝতে চাইছেন মাঠে নেমে। নিজেকে ‘বেশ ফিট’ বলেই মনে হচ্ছে বলে জানালেন কাল। তাহলে কি আগামী মাসের নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ ফিরে পাচ্ছে তাঁকে? এখনই কিছু বলতে পারছেন না মাশরাফি, ‘আগে আমি জাতীয় লিগে খেলি। তারপর এটা নিয়ে ভাবব। এখনই কিছু বলতে পারছি না।’ গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে হাঁটুতে আবারও চোট পাওয়ার পর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে আছেন মাশরাফি।
দ্বিতীয় রাউন্ডের অন্য দুটি ম্যাচে খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ঢাকা খেলবে বরিশালের বিপক্ষে, বিকেএসপিতে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম। প্রথম রাউন্ডে জয় পেয়েছে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম।

মাঠের মুখ

চারদিকে এত চিত্কার-চেঁচামেচি; তিনি ব্যস্ত নিজের কাজে। অখণ্ড মনোযোগ। মাহমুদউল্লাহ একটি চার মারলেন, গর্জে উঠল পুরো গ্যালারি। একবার শুধু মাঠে তাকিয়ে দেখলেন, যেন কিছুই হয়নি ভাব দেখিয়ে আবার মন দিলেন নিজের কাজে। গ্যালারিতে বসে কী করছেন?
নখ কাটছেন! গ্যালারির সিঁড়ির মতো ধাপগুলো পেরিয়ে উপরের দিকে সমানমতো যে জায়গাটা আছে, সেখানে বসেছেন। নেইল কাটার দিয়ে নখ কাটায় এমন মনোযোগ, যেন জগতের সব আনন্দ লুকিয়ে আছে ওই নখ কাটার মধ্যেই। নখ কাটতে শুধু শুধু কষ্ট করে মাঠে আসার কী দরকার, এটা জিজ্ঞেস করতে এগিয়ে যেতেই শোনা গেল পাশের তরুণকে বলছেন, ‘ইশান্তের চেয়ে কিন্তু শ্রীশান্তের রানআপ ভালো, অনেকটা ম্যালকম মার্শালের মতো।’ তার মানে ক্রিকেটটা শুধু ভালো বোঝেনই না, মাঠেও মনোযোগ আছে তাঁর। এটাই আরও উত্সাহী করল তাঁর সম্পর্কে।
যা পরিচয় পাওয়া গেল, তাতে ক্রিকেটটা তাঁর ভালো বোঝারই কথা। তানুজী নাগ যে একজন ক্রিকেট আম্পায়ার! যে সে আম্পায়ার নন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের লেভেল ‘এ’ আপগ্রেড আম্পায়ারিং কোর্স করা আম্পায়ার। বাগেরহাট আম্পায়ার ও স্কোরারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তিনি, গায়ে বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্লেজার। বাগেরহাট শহরেই বাড়ি, মেরিন একাডেমিতে ছেলের ভর্তি পরীক্ষার সুবাদে তিন দিন ধরে আছেন চট্টগ্রামে। প্রতিদিনই মাঠে এসেছেন খেলা দেখতে। ওই তরুণ তাঁর ছেলে।
মাঠের লোক তিনি, তবে বাইরে বসে খেলা দেখাটাও উপভোগ করেন খুব। সেই ১৯৬৯ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড টেস্ট দিয়ে শুরু, এরপর অসংখ্য ম্যাচ দেখেছেন গ্যালারিতে বসে। ছেলের পরীক্ষা শেষ হলে ঢাকায় কিছু কাজ শেষেই ফিরবেন বাগেরহাট। জেলায় অনেক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। প্রতিদিনই ফোন পাচ্ছেন, আম্পায়ারিং করতে হবে না!

অর্জন আর বিসর্জনের গল্প by আরিফ রনি,

তাকে দেখার জন্য হাপিত্যেশ করে মরছিলেন সবাই। অবশেষে গতকাল তার দেখা পাওয়া গেল। টানা দু দিন গোমড়া মুখে থাকার পর কাল হেসে উঠলেন ‘সূর্যিমামা’। আলোকস্বল্পতায় দু দিনে প্রায় ৯০ ওভার খেলা না হওয়া জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল আলোর অভাব ছিল না। অন্তত বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময়। কিন্তু আলোটা হারিয়ে গেল বাংলাদেশ দল থেকে!
প্রথম দেড় দিনে বাংলাদেশ দলে ছিল খুশির জোয়ার। দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে আস্তে আস্তে ভাটার টান। আর তৃতীয় দিন শেষে সেই খুশি প্রায় উধাও। ম্যাচের এখনো অনেক বাকি, হতে পারে অনেক কিছুই। তবে বোলারদের সৌজন্যে পাওয়া ভারতকে চাপে ফেলার সুবর্ণ সুযোগটা বাংলাদেশ হাতছাড়া করেছে ব্যাটসম্যানদের নিদারুণ ব্যর্থতায়। বড় লিড পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো ভারতই পেয়ে গেছে লিড, হোক না সেটা এক রানের।
দ্বিতীয় দিনে তিন উইকেট হারানোর পরই বড় লিডের স্বপ্ন শেষ। মোটামুটি মাঝারি আকারের একটা লিডের দিকে বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল। তাকিয়ে ছিল দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল এবং এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দলে রাখা রকিবুল হাসানের দিকে। কিন্তু প্রথম সেশনেই এই দুজনের সঙ্গে আউট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও।
৯৮ রানে নেই ৬ উইকেট, বাংলাদেশকে ১৫০-র ভেতর আটকে দিয়ে কালকেই শ দুয়েক রান তুলে ফেলবে ভারত—শঙ্কা তখন এমনটাই। কিন্তু দাঁড়িয়ে গেলেন দুজন। একজন এসব পরিস্থিতিতেই রান করাটাকে যেন নিজের ব্রত করে নিয়েছেন। অন্যজন হঠাত্ করেই যেন হয়ে উঠেছেন দলের জন্য বড় এক আস্থার জায়গা। মুশফিকুর রহিম এই নিয়ে টানা ৯ ইনিংস দুই অঙ্ক পার করলেন, গত ১৬ ইনিংসে দুই অঙ্কের নিচে আউট হয়েছেন মাত্র তিনবার। তবে ১৬ ইনিংসের ১০ বারই ৩০ পার করেও ফিফটি মাত্র ৩টি। কাল আরও একবার সেই রোগে আক্রান্ত। ৪৪ রানের মাথায় কী যে হলো, স্পিনের বিপক্ষে উঠিয়ে মারতে গেলেন অমিত মিশ্রকে। বাউন্ডারি তো বহুদূর, পার করতে পারেননি ৩০ গজের বৃত্তই।
এর আগে দুই টেস্টের চার ইনিংসে একবার মাত্র দুই অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু সে তো ছয় মাস আগের ঘটনা। বছর শুরুর ত্রিদেশীয় ক্রিকেট দেখেছে নতুন এক মাহমুদুল্লাহকে। ব্যাট হাতে ওয়ানডের ফর্মটা বয়ে আনলেন টেস্টেও। প্রথম ফিফটিকে যে আরও টেনে নিতে পারলেন না, এতে দায় কিছুটা আছে মুশফিকের। মুশফিক আউট হওয়ায় দুজনের জমে যাওয়া ১০৮ রানের জুটিটাই শুধু ভাঙল না, সপ্তম উইকেটের পতন মাহমুদুল্লাহর ওপর এনে দিল দ্রুত রান তোলার চাপ। সেই চাপে স্ট্রাইক ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়েই হলেন আউট।
অবশ্য এই রানই বা কম কি! ভারতের বিপক্ষে ১১ ইনিংসে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর। অভিষেক টেস্টে ৪০০-এর পর ভারতের বিপক্ষে আড়াই শ পেরোনো মাত্র দুবার। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে (৩৩৩), আর ২০০৭ সালে মিরপুরে দু দেশের সর্বশেষ টেস্টে (২৫৩)। ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্মরণীয় ওই সিরিজেও দলের রান আড়াই শ পেরিয়েছে মাত্র একবার। এর আগের সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একবার, আর তার আগের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পারই হয়নি, তবে আড়াই শ ছুঁয়েছে একবার।
শুরু ভালো হোক আর না হোক, স্কোরটাও যেন বাধা একটা গণ্ডির ভেতরেই, ওই ১৬০-১৭০ থেকে ২৪০। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই চেহারায় তাই বিস্ময়ের কিছু নেই। শুধু অনেকবার করা প্রশ্নটাই আরেকবার করতে হচ্ছে, তাদের সামর্থ্য কি তবে এটাই! তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, বোলারদের অর্জনটা কি বিসর্জনই দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা?