Friday, April 30, 2010

হলিউড কেমন করে যুদ্ধের বিভীষিকা আড়াল করে by স্লাভো জিজেক

জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার ছবিকে পেছনে ফেলে ক্যাথরিন বিগেলোর দ্য হার্ট লকার প্রধান প্রধান অস্কার পুরস্কার জিতে নিল। হলিউডের বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য এ বিজয়কে একটি ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে। মাঝারি খরচের এই চলচ্চিত্রটি স্পষ্টত বিধ্বস্ত করল অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রযোজনাকে, যার কৌশলগত অসাধারণত্ব কাহিনির বৈচিত্র্যহীন সরলতাকে ঢাকতে পারেনি। দ্য হার্ট লকার-এর বিজয়ের মানে কি হলিউড শুধু এক ব্লকবাস্টার তৈরির যন্ত্র নয়, হলিউড এখনো প্রান্তের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে জানে? হয়তো—কিন্তু এই ‘হয়তো’ অনেক জোরালো।
সব রহস্যময়তা সত্ত্বেও অ্যাভাটার-এর পক্ষপাতিত্ব স্পষ্টত বৈশ্বিক মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের বিরোধীদের প্রতি। অ্যাভাটার-এ প্রচণ্ড শক্তিধর সেনাবাহিনী বড় বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত বর্বর বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন এক বাহিনী হিসেবে উপস্থিত। অন্যদিকে দ্য হার্ট লকার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর যে চিত্র আঁকে, তা অনেক বেশি সংগতিপূর্ণ মানবিক হস্তক্ষেপ ও সমরবাদী শান্তি আন্দোলনের এই সময়ে সেনাবাহিনীর সর্বজনীন প্রতিচ্ছবির সঙ্গে।
দ্য হার্ট লকার ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের মতো বড় ধরনের বিতর্ককে অনেকাংশে অগ্রাহ্য করে গেছে। ঝুঁকি ও ধ্বংসাত্মক বিষয়-আশয় নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হওয়া সাধারণ সেনারা প্রতিদিন যেসব অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হয়, তাতেই কেন্দ্রীভূত ছবিটির মনোযোগ। আপাত-প্রামাণ্যচিত্রশৈলী ব্যবহার করে এ ছবিতে বলা হয়েছে একটি এক্সপ্লোসিভ অর্ডন্যান্স ডিসপোজাল (ইওডি) স্কোয়াডের গল্প। স্কোয়াডের সদস্যরা পেতে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য প্রাণঘাতী কাজ করে চলে। গল্পটি বাছাই গভীর ইঙ্গিতবহ—যদিও তারা সেনা, তবুও হত্যা করে না, কিন্তু প্রতিদিন সন্ত্রাসীদের পুঁতে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করতে জীবনের ঝুঁকি নেয়। এসব বোমা জীবন্ত থাকলে বেসামরিক লোকজন মারা পড়বে। দর্শকের উদার সংবেদনশীলতার প্রতি এর চেয়ে সহানুভূতিশীল আর কিছু হতে পারে? সন্ত্রাসবিরোধী চলমান যুদ্ধে পশ্চিমা সেনারা শেষতক ইওডি স্কোয়াডের মতোই নয় কি? এমনকি, যখন তারা বোমা হামলা করে, ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তখনো বেসামরিক মানুষের জীবন অধিকতর নিরাপদ করার জন্য তারা কি ধৈর্যসহকারে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কাজ করে চলে না?
ছবিটির আরও গুরুতর কিছু দিক আছে। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের ওপর নির্মিত আরি ফোলম্যানের অ্যানিমেটেড ডকুমেন্টারি ওয়ালত্স উইথ বশির এবং স্যামুয়েল মাওজের লেবানন-এর মতো সাম্প্রতিক ইসরায়েলি ছবি দুটির সাফল্যের পেছনে যে প্রবণতা কাজ করছে, সেই প্রবণতাই হলিউডে নিয়ে এসেছে দ্য হার্ট লকার।
তরুণ বয়সে মাওজের সেনাবাহিনীতে কাজ করার স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে লেবানন। ছবিটির অধিকাংশ অ্যাকশন ট্যাংকের ভেতর থেকে চিত্রায়নের মাধ্যমে যুদ্ধের ভীতিকর দিক এবং আবদ্ধ থাকার আতঙ্কজনিত ব্যাধির রূপদান করা হয়েছে। এ ছবিতে চার অনভিজ্ঞ সেনা ট্যাংকের ভেতর বসে লেবাননের এক শহরে শত্রু খতম করার দায়িত্বে নিয়োজিত। এই চার সেনাকেই অনুসরণ করা হয় ছবিটিতে। যে শহরে তারা শত্রু নিধনে নিয়োজিত, সেটি এরই মধ্যে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণে বিধ্বস্ত। মাওজের চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেতা ইওয়াভ দোনাত ২০০৯ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ওই ছবি দর্শকের মনে এমন ভাবনা জাগাবে না, “আমি শুধু একটি ছবি দেখলাম।” এই ছবি আপনার মধ্যে এমন অনুভূতি তৈরি করবে, যেন আপনি নিজেই যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত।’ একইভাবে ওয়ালত্স উইথ বশির ছবিটিও ইসরায়েলি সেনাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ১৯৮২ সালের সংঘাতের বিভীষিকা রূপায়িত করে।
মাওজ বলেন, ইসরায়েলি নীতির নিন্দা নয়, তাঁর ছবিটি একজন সেনা কী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে, তার ব্যক্তিগত বিবরণ। ‘ছবির নামটি লেবানন রাখা ঠিক হয়নি। কারণ, লেবাননের যুদ্ধ সারবস্তুর দিক থেকে অন্য কোনো যুদ্ধের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কোনো চেষ্টা ছবিটির ধার কমিয়ে দিত।’ এ বক্তব্য বিশুদ্ধভাবে মতাদর্শিক। অপরাধ সংঘটনকারীর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা পুনরায় মনোযোগে আনার কাজটি সংঘাতের নৈতিক-রাজনৈতিক পুরো পটভূমি মুছে ফেলা সম্ভব করে তোলে। লেবাননের গভীরে ঢুকে ইসরায়েলি বাহিনী কী করেছিল, তা আড়াল করা যায়। এভাবে ‘মানবিকীকরণ’ আচ্ছন্নতা তৈরি করে: রাজনৈতিক-সামরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা কী করছি এবং আমাদের ঝুঁকির জায়গাগুলো কী, তা নির্দয়ভাবে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আমাদের রাজনৈতিক-সামরিক সংগ্রাম যা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অন্তরঙ্গ জমিনে ভয়াবহ ব্যাঘাত ঘটায় তা কোনো জড় ইতিহাস নয়। এসব সংগ্রামে আমরা পূর্ণ মাত্রায় অংশগ্রহণ করি।
আরও সরলভাবে বলা যায়, এভাবে কোনো সেনার চরিত্রের ‘মানবিকীকরণ’ (মানুষ মাত্রেই ভুল হয়—এই প্রবাদের মতো) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতাদর্শিক (আত্ম)উপস্থাপনের প্রধান উপাদান। ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাদের সেনাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও মানসিক আঘাতের বিষয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে। পছন্দ করে তাদেরকে উপস্থাপন করতে নিখুঁত সামরিক যন্ত্র বা অতিমানবিক বীর হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষ হিসেবে, যারা ইতিহাস ও যুদ্ধের ময়দানের মর্মান্তিক বিভীষিকার মধ্যে থেকেও যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের মতো ভুল করে এবং হারিয়ে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সন্দেহভাজন এক সন্ত্রাসীর পারিবারিক বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। তারা কাজটি সম্পাদন করে অত্যন্ত সদয়চিত্তে, এমনকি বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে বাড়ির আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজে পরিবারটিকে সাহায্য করে। তারও আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম একই ধরনের আরেকটি ঘটনার খবর প্রচারিত করেছিল। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খোঁজে এক ফিলিস্তিনির বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল এক ইসরায়েলি সেনা। তখন সেই পরিবারের মা তার আতঙ্কিত মেয়েকে শান্ত থাকার জন্য তাঁর নাম ধরে ডাকেন। সেই সেনাটির মেয়ের নামও একই ছিল। মেয়েটির নাম শুনে সেনার হূদয়ানুভূতি জেগে ওঠে। সে তার ওয়ালেট বের করে ফিলিস্তিনি মাকে তার মেয়ের ছবি দেখায়।
অন্যের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এমন আচরণের মধ্যে মিথ্যা প্রতারণামূলক দিক আছে—এটা উপলব্ধি করা সহজ। রাজনৈতিক অবস্থানের ভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা সবাই মানুষ, একই ধরনের ভালোবাসা আর উদ্বেগ আমাদের আছে—এমন ভাবনা এ মুহূর্তে সেনাটি যে কাজ কার্যকরভাবে সম্পাদন করছে, সেটির প্রভাব নিয়ে ভাবতে উত্সাহী করে না। সেই মায়ের একমাত্র যথার্থ জবাব হওয়া উচিত, সেই সেনার কাছে একটি প্রশ্নের জবাব চাওয়া: ‘তুমিও যদি আমার মতোই মানুষ, তবে কেন তুমি এখন এই কাজটি করছো?’ সেনাটি তখন তাঁর ওপর চাপানো দায়িত্বের দোহাই দিতে পারে, ‘আমি এই কাজ পছন্দ করি না, কিন্তু এটা করার জন্য আমার ওপর নির্দেশ আছে।’ এভাবে সে তার নিজের কর্মকাণ্ডের দায় নিজে না নিয়ে অন্যের ওপর চাপাতে পারে।
এমন মানবিকীকরণের মর্ম হচ্ছে, ব্যক্তির জটিল জীবনবাস্তবতা এবং সেই জীবনে সে নিজের স্বভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে যা যা করতে বাধ্য হয়, এ দুয়ের মধ্যকার তফাতটাকে গুরুত্ব দেওয়া। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর নির্মিত ক্লদ লেনজম্যানের একটি প্রামাণ্যচিত্রে একজন সেনা কর্মকর্তা, যিনি কখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ভাবেননি, তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমার পরিবারের কোনো জেনেটিক ব্যাপার নয়।’
এ প্রসঙ্গে আবার দ্য হার্ট লকার-এ ফিরে আসি। যুদ্ধের ময়দানে কাজ করার দৈনন্দিন বিভীষিকা ও মানসিক যন্ত্রণার প্রভাব চিত্রায়ন ছবিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মানবিক ভূমিকার আবেগগত উদ্যাপন থেকে বহু দূরে ঠেলে দেয় বলে মনে হয়। জন ওয়েইনির কুখ্যাত চলচ্চিত্র গ্রিন বেরেটস-এ সেনাবাহিনীর মানবিক ভূমিকার যে হূদয়কাড়া উপস্থাপনা, তা থেকে দ্য হার্ট লকার অনেক দূরে। তবে সবসময় আমাদের মনে রাখা উচিত, দ্য হার্ট লকার-এ যুদ্ধের উদ্ভটতার বাহুল্যবর্জিত বাস্তববাদী উপস্থাপনও আচ্ছন্নতা তৈরি করে। আর এ ছবির নায়কেরা গ্রিন বেরেটস ছবির নায়কদের মতো একই ভূমিকা রেখে চলে। মতাদর্শের অদৃশ্যমানতার মধ্যেই মতাদর্শ উপস্থিত, এ উপস্থিতি যেকোনো সময়ের থেকে তীব্র: দর্শকেরা যুদ্ধের ময়দানে সেনাদের সঙ্গে নিজেও চলে যায়, সেনাদের আতঙ্ক ও নিদারুণ যন্ত্রণার সঙ্গে দর্শক একাত্মতা বোধ করে। সেই যুদ্ধে তারা কী করছে সেই প্রশ্ন আর জাগে না।
ইন দিজ টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
স্লাভো জিজেক: স্লোভেনীয় দার্শনিক।

অগ্রপথিক চাই, পশ্চাত্পথিক নয় by মোজাফ্ফর আহমদ

বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা নিয়ে জনমনে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিদিন সংবাদপত্রে দুর্নীতির খবরাখবর বের হয়। এক হিসাব অনুযায়ী, দুর্নীতির মাত্রা কমিয়ে আনা গেলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে লক্ষণীয়ভাবে। দুর্নীতির মাধ্যমে অনার্জিত আয়ের পথ উন্মুক্ত হয় বলেই উত্পাদনবিমুখ দ্রুত ধনশালী হওয়ার এক মানসিকতা সরকারি ও বেসরকারি খাতে পরিব্যাপ্ত হয়। এ ছাড়া, স্মরণ রাখা প্রয়োজন, দুর্নীতির অভিঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে ক্ষমতাহীন নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর। এর মাধ্যমে আয়-বৈষম্যের যে বৃদ্ধি ঘটে, তাও সুষম সমাজ গঠনে সহায়ক হয় না। দুর্নীতির চক্রে ক্ষমতার অবস্থান অত্যন্ত প্রকটভাবে ক্রিয়াশীল। এ জন্য সরকারি খাতে আমলাতন্ত্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুর্নীতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এর সঙ্গে সহায়ক ভূমিকায় থাকে ব্যবসায়ীদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী এবং তাদের মদদে রাজনীতিবিদদের অবস্থানও জনস্বার্থবিরোধী হয়ে পড়ে। এই তিনের স্পর্শে জনসম্পদের পাচার ও অপচয় নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
দুর্নীতি দমনের বিষয়ে এ দেশে যে আন্দোলন গত কয়েক দশক ধরে হয়ে আসছে, তার ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ দেশে দুর্নীতি দমন ব্যুরো অনেক কাল ধরে ক্রিয়াশীল ছিল। সে ব্যুরোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এমন কঠিন ছিল যে তাদের প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এমন মামলাগুলো আদালতে অনেক সময়ই রুজু হয়নি অনুমতির অভাবে, যেগুলো রুজু হয়েছে দুর্বল উপস্থাপনার কারণে আদালতে সেগুলোর নিষ্পত্তি হতে সময় লেগেছে অনেক কাল। ব্যুরোতেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ছিল ব্যাপক হারে। ব্যুরোর বেহাল দশার পেছনে ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। এ পরিপ্রেক্ষিতেই আইনের ভিত্তিতে অন্যান্য সংসদীয় সংস্থার আদলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি ওঠে। কেবল বাংলাদেশে নয়, এ দাবি ওঠে পৃথিবীর নানা দেশে। নাগরিক সমাজের দাবির মুখে জাতিসংঘ এ সম্পর্কে একটি সনদ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সে সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং পরবর্তী সময়ে সরকারিভাব অনুসমর্থন (র্যাটিফাই) করেছে। সম্প্রতি সরকার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট সম্পর্কীয় সনদে মানবতাবিরোধী বিচারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুস্বাক্ষর দিয়েছে। সে সনদের মতোই জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের বিভিন্ন করণীয় এখন সরকারের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। স্মরণীয় যে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী অনেকবার সংসদে ও সংসদের বাইরে দুর্নীতি দমনের জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের কিছু সংশোধনী এনে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যেটি বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদিত হয়নি। আদালতেও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দুর্নীতি দমন কমিশনের নানা কর্মকে স্থবির করে তুলেছে এবং কিছু কিছু মামলায় প্রক্রিয়াকে মূল অভিযোগ ও তার সঙ্গে যে প্রমাণাদি উত্থাপিত হয়েছিল তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করায় এক জটিলতার সৃষ্টি হয়। মামলা স্থগিত করে জামিন নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কিছু লোক নির্বাচনী বিধিমালার ফাঁকফোকর গলে বর্তমানে সংসদে এসে বিভিন্ন অযৌক্তিক কথা বলে চলেছেন। তাঁদের অনেকে যেহেতু আগে আমলা ছিলেন তাঁদেরই প্রভাবে আমলাতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সচিব কমিটি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। তারই ফলে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় দুর্নীতি দমন কমিশন-সম্পর্কিত আইনের কিছু সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের আগামী বৈঠকে আইন হিসেবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্বল করবে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাকে হাস্যকর করে তুলবে।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের (তথা প্রধানমন্ত্রীর) অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখানে আমলাতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার অকারণ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। বিয়াল্লিশের মন্বন্তর ও বার্মা থেকে আশ্রয়হীনদের ভারতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে যে দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়, সেখানেও এমনতর সুরক্ষা ছিল না। সবচেয়ে সার্থক দুর্নীতি দমন কমিশন হংকং ও সিঙ্গাপুরে এমনটি নেই। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ অন্যান্য দেশেও এর উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন সুরক্ষা এটিই প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি হাস্যকার বিধান। তদন্তের জেরায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যাপারে যুক্ত হতে পারবেন না। ফৌজদারি বিধিতেও এমন বিধান নেই। অপরাধী বা অভিযুক্তকে সে দৃষ্টিতেই দেখতে হবে। না হলে মন্ত্রী অভিযুক্ত হলে তাঁকে জেরা করতে আবার মন্ত্রী নিয়োগের বিষয় এসে যাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের জবাবদিহিতার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে ব্যবহার করা যায় অথবা সংসদের একটি বিশেষ কমিটিকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। দুর্নীতি যেহেতু মূলত ‘একজিকিউটিভ’ ব্রাঞ্চের ব্যাপার, সে কারণে একে সে বিভাগের অধীনে আনার প্রস্তাব গ্রহণীয় নয়।
বিএনপির শাসনামলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন অকার্যকর ছিল। তেমনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এটি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সচিব নিয়োগের প্রস্তাব এবং সচিবের ক্ষমতার এখতিয়ার। কমিশন প্রয়োজনে প্রেষণে সচিব নিয়োগের অনুরোধ করতেই পারে কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক করা হলে নির্বাচন কমিশনের উপাখ্যানের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। বর্তমান সরকার জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী যেসব করণীয় ছিল, সেদিকে এখনো দৃষ্টিপাত করেনি। বিশেষ করে, তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা (whistleblowers protection) কিন্তু এর বিপরীতে মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীর জন্য শাস্তির বিধান রাখছে। এসবই এ দেশে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে বাড়িয়ে দেবে, যেমন আমরা দেখছি নানা দখলের উন্মাদনার মধ্যে।
মোজাফ্ফর আহমদ: শিক্ষাবিদ, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।

ধর্ষণের রাজধানী কঙ্গো

জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মারগট ওয়ালস্ট্রম বলেছেন, বিশ্বে ধর্ষণের রাজধানী হলো আফ্রিকার দেশ কঙ্গো। যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তারা যেন রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য ওয়ালস্ট্রম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। খবর এএফপির।
ওয়ালস্ট্রম বলেন, কঙ্গোতে নারীরা অব্যাহতভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে এটা এই কারণে নয় যে তাঁদের রক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত আইন নেই। বরং আইন প্রয়োগের অভাবে এসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, যারা এসব অপরাধ করছে তাদের যদি শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে নারীর অধিকার বলে কিছু থাকবে না।
ওয়ালস্ট্রম বলেন, কঙ্গোতে নারীরা এখনো নিরাপদ নন। এমনকি তাঁরা তাঁদের ঘরেও নিরাপদ নন। তাঁর সাম্প্রতিক কঙ্গো সফরের বিস্তারিত ঘটনা নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করার সময় ওয়ালস্ট্রম এসব কথা বলেন।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচআরসি গত সপ্তাহে জানায়, কঙ্গোতে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

চীনে আট শিশুর হত্যাকারীর ফাঁসি কার্যকর

চীনে গতকাল বুধবার এক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গত মাসে আট স্কুলশিশুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অপরাধে তাঁকে এ ফাঁসি দেওয়া হয়। সে দেশের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এ কথা জানায়।
ঝং মিনশেং (৪১) পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে গত ২৩ মার্চ এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। সে সময় ওই শিশুরা ক্লাস শুরুর আগে স্কুলের বাইরে তাদের মা-বাবার সঙ্গে অপেক্ষা করছিল।
এ মাসের শুরুতে বিচারের সময় ঝং মিনশেং আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। ঝং জানান, সে সময় তাঁর প্রেমিকা তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং প্রেমিকার ধনাঢ্য পরিবার তাঁর প্রতি দুর্ব্যবহার করায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
১৯ জনকে ছুরিকাঘাত
চীনে এক ব্যক্তি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে এক শিক্ষক ও ১৮ শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করেছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংদং প্রদেশের লেইঝাউ শহরে গতকাল এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন মোশাররফ

ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার দুই বছর পর আবার রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ। এ জন্য তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে মোশাররফ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এক নির্বাচনী কর্মকর্তা।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে মোশাররফের আইনি উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী সাইফ জানিয়েছেন, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ১০ মে আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
সাইফ বলেন, ‘নতুন দলের নিবন্ধন পেতে আমি আবেদন করেছি। দলের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে “অল পাকিস্তান মুসলিম লিগ”। পারভেজ মোশাররফ হবেন দলের প্রধান। নিবন্ধন পাওয়ার পর আমরা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেব।’
নতুন দল গঠনের লক্ষ্যে মোশাররফের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন সাইফ। তিনি জানান, লন্ডনে পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং মোশাররফ জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াই করতে চান।

জার্মানি সফরে বুশকে সম্ভবত বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল

জার্মানিতে জি-৮ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়া তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজন সফরসঙ্গীকে সম্ভবত বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বুশের স্ত্রী সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ স্বয়ং এ কথা লিখেছেন তাঁর নতুন বইতে। স্পোকেন ফ্রম দ্য হার্ট নামের বইটি আগামী মাসে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জি-৮ সম্মেলনে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সফরের একটা বড় সময় বুশকে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল। সম্ভবত এবারই প্রথম বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন লরা বুশ।
লরা বুশের বইয়ের একটি কপি অগ্রিম সংগ্রহ করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। লরা বুশ এতে লিখেছেন, বুশ এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ওপর বিষ প্রয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে তদন্ত করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। শেষ পর্যন্ত চিকিত্সকেরা শুধু এটুকু বলতে পারেন যে তাঁরা একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এমন রহস্যময়ভাবে অন্য কোনো দেশের প্রতিনিধি অসুস্থ হয়েছিলেন কি না তা জানতে পারেননি লরা বুশ।
লরা বুশ তাঁর বইতে বুশকে ‘গালমন্দ’ করার জন্য তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের ভর্ত্সনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বুশকে বলেছিলেন ‘একজন অযোগ্য নেতা’ যাঁর বিচক্ষণতা, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে। আর সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা হ্যারি রিড বুশকে ‘মিথ্যাবাদী’ অভিহিত করেছিলেন।
লরা লিখেছেন, বুশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিরোধীদের সমালোচনা বেশ কয়েকবারই নাকচ করে দিয়েছেন লরা। তিনি লিখেছেন, ‘নিউ অরলিন্সে হারিকেন ক্যাটরিনা আঘাত হানার পর প্রেসিডেন্ট বুশ বিমানে করে আকাশ থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন না করেই চলে এসেছিলেন—এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে প্রকৃত বিষয় হলো, তিনি চাননি তাঁর সফরের কারণে একটি জীবনও নষ্ট হোক। তিনি সেখানে নামলে তাঁর নিরাপত্তাবহরের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিতে হতো। আর এতে করে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিত্সা সরঞ্জামবাহী কোনো ট্রাক রাস্তায় আটকে পড়তে পারত।’
সাবেক ফার্স্ট লেডি ১৭ বছর বয়সে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন। নতুন বইতে সেই দুর্ঘটনার বিষয়ে অনেক কথাই বলেছেন তিনি।

ভুটানে মনমোহন ও গিলানির বৈঠক আজ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি-আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, দুই দিনব্যাপী সার্ক সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি মনমোহন সিং ও ইউসুফ রাজা গিলানির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আজ বিকেলে হতে পারে। কিন্তু কত সময় ধরে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক হবে বা বৈঠকের আলোচ্য বিষয় কী—এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি থিম্পুতে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তি-আলোচনা শুরু করার জন্য যেকোনো ধরনের বৈঠক খুবই জরুরি। কোন বিষয়ে ভারত আলোচনা করতে চায় বা কোন বিষয়ে আলোচনা করতে চায় না, সে বিষয়ে তাদের মনস্থির করা প্রয়োজন। যদিও আমি মনে করি, আলোচনাই হচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র ্পথ।’
কুরেশি বলেন, এটাই হচ্ছে ভারতের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এবং ভারতের উচিত পাকিস্তানের নিন্দা না করা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদকে একটি অভিন্ন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করি। এখানে আমার বা আপনার বলে কিছুই নেই।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সার্কভুক্ত সব দেশকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানান।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে হামলার পর দুই দেশের মধ্যে শান্তি-আলোচনা বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়। সে সময় থেকেই এ হামলার জন্য পাকিস্তানভিক্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করে আসছে ভারত।

হিজবুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে ইরান ও সিরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস অভিযোগ করেছেন, লেবাননের কট্টরপন্থী শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহকে অত্যাধুনিক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে ইরান ও সিরিয়া। এতে করে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গেটস বলেন, ‘ইরান ও সিরিয়া হিজবুল্লাহকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান দিচ্ছে। হিজবুল্লাহর কাছে এখন যত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র আছে, বিশ্বের অনেক দেশের সরকারের হাতে তা নেই। এতে করে ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি লক্ষ করছি।’
ইসরায়েলের অভিযোগ, হিজবুল্লাহকে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে সিরিয়া। তবে সিরিয়া বারবার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

কুকুরের জন্য ব্লাড ব্যাংক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের একটি পশুবিষয়ক হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় কুকুরের রক্ত সংরক্ষণাগার (ব্লাড ব্যাংক) চালু করেছে। তামিলনাড়ু ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি নামের ওই প্রতিষ্ঠান গত সোমবার সেখানে এই কার্যক্রম শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য পি থাঙ্গারাজু বলেছেন, ইতিমধ্যে কুকুরের ২৮ জন মালিক নিজ নিজ কুকুরের রক্তদানের জন্য নিবন্ধন করিয়েছেন। গত সোমবার একটি ব্ল্যাক ল্যাব্রাডার জাতের কুকুরের দেহ থেকে রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
থাঙ্গারাজু বলেন, পশুবিজ্ঞানীরা কুকুরের দেহে আট ধরনের (গ্রুপের) রক্তের অস্তিত্ব পেয়েছেন। এই সবগুলো গ্রুপের রক্তের মজুদ পেতে তাঁদের দাতা কুকুর দরকার।

সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগস্টে

আগামী আগস্ট মাসেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সার্কভুক্ত আটটি দেশের ছাত্রছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন। প্রথম অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থায়ীভাবে চালু হবে দিল্লির একটি ভবনে। পরে এটি চলে যাবে এর নিজস্ব ক্যাম্পাসে।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দক্ষিণ দিল্লির মেহেরৌলিতে ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের মধ্যে ক্যাম্পাস তৈরি হয়ে গেলে সেখানেই স্থানান্তরিত হবে এটি।
প্রথমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন চার হাজার ছাত্রছাত্রী। পরে অবশ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত হাজারে উন্নীত করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অর্ধেক হবেন ভারতীয়। বাকিরা আসবেন সার্কের অন্য সাতটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে। এ সাতটি দেশের প্রতিটি দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও নির্ধারিত হতে পারে দেশটির জনসংখ্যার ভিত্তিতে। তবে তা কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যার চার শতাংশের কম হবে না।

কাতিন গণহত্যার নথিপত্র প্রকাশ করেছে রাশিয়া

সোভিয়েত সেনাদের হাতে হাজার হাজার পোলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার যে ঘটনা ইতিহাসে কুখ্যাত কাতিন গণহত্যা বলে পরিচিত, সেই ঘটনার কিছু দলিলপত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে রাশিয়া। রাশিয়া-পোল্যান্ড সম্পর্কের সাম্প্রতিক বরফ গলার ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এএফপির।
গণহত্যার ঘটনায় নিহত পোলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ মাসের শুরুতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট লেস কাচজিনস্কি রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাতিন সফর করতে গিয়ে সেখানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর সঙ্গে মারা যান তাঁর স্ত্রীসহ আরও ৯৪ জন কর্মকর্তা। এ দুর্ঘটনায় শত্রুভাবাপন্ন দেশ রাশিয়ার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সেই সূত্রে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাশিয়া এ-বিষয়ক নথিপত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করে।
১৯৯২ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলিসন এই নথিগুলোর অনুলিপি প্রথমবারের মতো পোল্যান্ড সরকারকে দেখানোর অনুমতি দিলেও এত দিন তা সাধারণের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।
প্রকাশিত নথিপত্রে ১৯৪০ সালে সোভিয়েতের একনায়ক জোসেফ স্তালিনের কাছে লেখা গোপন পুলিশ বিভাগ এনকেভিডির প্রধান ল্যাভরেন্তি বেরিয়ার একটি চিরকুট সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই চিরকুটে সোভিয়েত বাহিনীর হাতে আটক ২৫ হাজার পোলিশ কর্মকর্তার নিয়তি নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এতে এনকেভিডির প্রধান দ্রুততার সঙ্গে বন্দীদের গুলি করে মেরে ফেলার বিষয়টি বিবেচনার জন্য স্তালিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
১৯৪০ সালের মার্চ মাস উল্লেখ করা ওই দলিলপত্রের প্রথম পাতায় স্তালিনের সই রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ওপর ‘টপ সিক্রেট’ লেখা একটি সিলমোহরও রয়েছে।
১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ওই গণহত্যার কথা স্বীকার করেনি। শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ স্বীকার করে বলেন, স্তালিনের সময়ে ‘সোভিয়েত শক্তির শত্রু’ বিবেচনায় পোলিশ কর্মকর্তাদের এনকেভিডি হত্যা করে।

কাঠমান্ডুতে জড়ো হচ্ছে লাখ লাখ মাওবাদী

আগামী মে দিবসে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে নেপালের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লাখ লাখ মাওবাদী কর্মী-সমর্থক রাজধানী কাঠমান্ডুতে এসে জড়ো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ওই দিন মাওবাদীরা কাঠমান্ডুর রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। মে দিবসের পরের দিন অর্থাত্ ২ মে থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল ও অবরোধ পালন শুরু করবে। ইতিমধ্যেই মাওবাদীরা কাঠমান্ডুসহ আশপাশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। ২ মে থেকে সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও বাণিজ্যকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে পুরো দেশ অচল করে দেওয়া হবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছে মাওবাদীদের দল ইউনিফায়েড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওয়িস্ট)। খবর নেপাল নিউজ ও এশিয়ান ট্রিবিউন অনলাইনের।
কর্মকর্তারা বলেছেন, কাঠমান্ডু থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরের তিরাই জেলার প্রত্যন্ত বারদিয়া গ্রামের মতো অসংখ্য নিভৃত পল্লি এলাকা থেকে মাওবাদীরা কাঠমান্ডুতে আসছে। পুলিশ বলেছে, থানকোট, সাঙ্গা, সানখু ও দক্ষিণকালী পয়েন্ট দিয়ে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি লোক রাজধানীতে এসে পৌঁছেছে। ৩০ মে পর্যন্ত গ্রাম থেকে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার লোক জড়ো করার লক্ষ্য নিয়েছেন মাওবাদী নেতারা। ধাড়িং, কাবেরি, গোর্খা ও তানাহুনের মতো আশপাশের জেলা থেকে এখনো নেতা-কর্মীরা আসা শুরু করেননি। বিক্ষোভ শুরুর আগের দিন শহর এলাকার কর্মীরা রাজধানীতে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানীর বাইরে থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে মাওবাদীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজের ভবন, দলীয় কার্যালয়, মন্দির এলাকা, সাধারণ নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি জায়গায় এসে কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। অনেকে থাকার জায়গার অভাবে খোলা আকাশের নিচেও অবস্থান করছেন।
বহিরাগত কর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্কুল, ব্যাংক, গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠান এমনকি মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তাঁরা চাঁদা আদায় করছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চিতওয়ান ও নওয়াল পাড়াশি জেলার মতো অনেক জায়গাতেই মাওবাদীরা প্রতিটি পরিবারকে তাদের অন্তত একজন সদস্যকে মে দিবসের বিক্ষোভে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
কয়েক দিন আগে মাওবাদীদের নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নেপালের নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং প্রতিশ্রুত মেয়াদের মধ্যে শান্তি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের জন্য তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার জায়গায় নতুন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে হবে। প্রচণ্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে দমনাভিযান চালানো হলে যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তাঁরা তার দায় নেবেন না।

ইরাকে দ্রুত সরকার গঠনে হিলারির আহ্বান

নির্বাচন-পরবর্তী বিতণ্ডা বন্ধ করে দ্রুত সরকার গঠনের জন্য ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তবে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইয়াদ আলাবি অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত এবং দেশকে সম্ভাব্য সহিংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা প্রয়োজন।
গত ৭ মার্চ ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। অন্যদের থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে প্রথম স্থানে আছে আলাবির জোট। নির্বাচনের পর প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার গঠনের জন্য মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি ইরাকি নেতারা।
এর মধ্যেই গত সোমবার আলাবির জোট থেকে নির্বাচিত এক পার্লামেন্ট সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বিচারকদের একটি প্যানেল। ওই সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে সহযোগিতা করেছিলেন। এ ছাড়া বিজয়ী আরও সাত প্রার্থীর বিষয়ে বিচারক প্যানেলে গতকাল বুধবার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে আরও ৫০ প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তবে তাঁরা কেউ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি।
নির্বাচনের পর প্রার্থীদের এভাবে অযোগ্য ঘোষণা এবং সরকার গঠনের বিষয়ে নেতারা মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফল এখন নতুন করে যাচাইয়ের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন হিলারি ক্লিনটন।
গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হিলারি বলেন, ‘প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং নির্বাচনী ফলাফল যাচাইয়ের জন্য ইরাক যে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, আমরা তার প্রতি সম্মান জানাই। তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্বাচনী বিধিবিধান মোতাবেক হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো একক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না বরং শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য ইরাকি দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সরকার গঠনের জন্য ইরাকি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’
এদিকে নিজের দলের এক পার্লামেন্ট সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণার পর আলাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের এ আহ্বান জানিয়েছেন। আলাবির জোটের কোনো প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হলে এতে লাভবান হবে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকির জোট। মালিকির জোট নির্বাচনী ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। আলাবির জোট পেয়েছে ৯১ আসন। আর মালিকির জোট জিতেছে ৮৯ আসনে।
আলাবি বলেন, ‘ইরাকি জনগণের রায় চুরি করা হচ্ছে এবং অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমরা আর চুপ থাকতে পারি না। আমরা নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
অযোগ্য ঘোষণা করে শত শত প্রার্থীকে নির্বাচন করতে দেয়নি ইরাকের অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড জাস্টিস কমিশন। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এমন অনেক প্রার্থীকে এখন অযোগ্য ঘোষণা করছে এ কমিশন।
আলাবি বলেন, এই কমিশনের কোনো বৈধতা নেই। তারা ইচ্ছামতো যা খুশি তা-ই করছে। তারা সংবিধান মেনে কাজ করছে না।

ফেদেরারের হার

ফেদেরার আসলেই মাটির কোর্টে নড়বড়ে। না হলে রোম মাস্টার্সের তৃতীয় রাউন্ডে কেন হেরে যাবেন অখ্যাত আর্নেস্ট জিলবিসের কাছে (২-৬, ৬-১, ৭-৫ গেম)। আগামী মাসে শুরু হবে ফ্রেঞ্চ ওপেন। এর আগে এই পরাজয়ে ফেদেরার কি চিন্তিত? ‘না, আমি চিন্তিত নই’—না-বোধক উত্তরই দিলেন এক নম্বর তারকা।

ব্রাজিল আবার শীর্ষে

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটি নিয়ে স্পেন আর ব্রাজিলের মধ্যে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে। আবারও স্পেনকে হটিয়ে দিয়ে এক নম্বরে উঠে এল ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে সরিয়েই এক নম্বরে উঠে এসেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। পাঁচ মাসের রাজত্ব শেষে দুইয়ে নেমে গেল স্পেন। ওয়েবসাইট।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে বড় ধরনের লাফ দিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই ধাপ এগিয়ে তারা এখন সাতে। এক ধাপ এগিয়ে পর্তুগাল এখন তিনে। চার-পাঁচ-ছয়ে নেদারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি; আট-নয়-দশে ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স। দুই ধাপ নিচে নেমে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৬০-এ।

পাতানো ছিল আইপিএল ফাইনাল!

আইপিএলের গত রোববারের ফাইনালটি তাহলে পাতানো হয়েছিল! অন্তত একটা সন্দেহ জাগছেই। আর এই প্রশ্ন তুলে ধরেছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া। পত্রিকাটি জানিয়েছে, একটা বিশালসংখ্যক জুয়াড়ি অভিযোগ করেছে, বাজিকরেরা নাকি ‘চেন্নাই সুপার কিংস জিতবে’ এর পক্ষে বাজি ধরাই বন্ধ করে দিয়েছিল।
সেদিন ম্যাচে চেন্নাইয়ের শুরুটা হয়েছিল একদমই বাজে। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৫৮/২। ওভারপ্রতি রান তোলার হার ছিল মাত্র ৫.৮। ওই অবস্থাতেও চেন্নাইয়ের পক্ষে বাজি ধরতে চেয়েও পারেননি। এর থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, বাজিকরেরা আসলে আগে থেকেই জানত, ম্যাচটা চেন্নাইই জিততে চলেছে।
সূত্রগুলো টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে, আইপিএলের ৬০টি ম্যাচে ১১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজির ব্যবসা হয়েছে! বাংলাদেশি মুদ্রায় যে অঙ্কটা প্রায় ৭৫ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার! গড়ে প্রতিটি ম্যাচে বাজি ধরা হয়েছে সাড়ে আট শ কোটি রুপির! এখানে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, খোদ আইপিএলের মূল্যমান ধরা হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলার। অর্থাত্ আইপিএলের মোট মূল্যের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা লগ্নি হচ্ছে বাজিতেই!
বৈধ এবং অবৈধ বাজিকরেরা আইপিএল থেকে এবার কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচটি বিত্তের পরিমাণ তাদের রাতারাতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ ফাইনালে ফেবারিট ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। ফাইনালের আগে ১৫টি ম্যাচের ১১টিই জিতেছিল যারা।
একজন শীর্ষস্থানীয় জুয়াড়ি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, ‘কয়েক হাজার কোটি রুপি মুম্বাইয়ের জয়ের ওপরই বাজি ধরা হয়েছিল। কারণ ম্যাচের শুরুতেও ওরাই ছিল ফেবারিট। সবাই ধরেই নিয়েছিল, মুম্বাইয়ের জয় নিশ্চিত। কিন্তু চেন্নাই যখন ম্যাচে ফিরে আসতে শুরু করল, বাজিকরদের বসেরা তাদের নির্দেশ দিয়েছিল, চেন্নাইয়ের পক্ষে বাজি ধরা বন্ধ করে দিতে। এ ধরনের অপেশাদার আচরণের প্রতিবাদ করার কেউ সাহস পায়নি। কারণ এই বাজিকরদের সঙ্গে আন্ডার ওয়ার্ল্ডের ভালো সখ্য আছে। এর ফলেই বাজিকরেরা অভাবনীয় লাভ করেছে।’
সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে কুখ্যাত ‘গডফাদার’ দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাংটাই। দাউদের ‘ডি কোম্পানি’র হয়ে করাচির নুমান মিয়া নামের এক ব্যক্তি পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। আর ভারতে রাজেশ জয়পুর নিয়ন্ত্রণ করেছেন ভারতের বাজির ব্যবসা।

দিনটাই শুভ গেল একাডেমির

দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিনটা ভালোই কাটল জিপি-বিসিবি একাডেমি দলের। প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলকে ২২২ রানে অলআউট করে দিয়ে দিন শেষে বিসিবি একাডেমি দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৭ রান। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ৩৩ ও শুভাগত হোম ২০ রান নিয়ে খেলছিলেন।
ওবুস পিয়েনারের (১১০*) সেঞ্চুরি আর ওপেনার অব্রে সোয়ানপলের (৫২) ফিফটিতেই কোনোরকমে মান বাঁচানো একটা স্কোর দাঁড় করাতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দল। নইলে বাকিদের ইনিংসগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রানটা মাত্র ১১! ৭৯ রানে ৫ উইকেট নেওয়া বিসিবি একাডেমির শেখর আহমেদের সামনেই মূলত ধসে পড়েছে সফরকারীরা। এ ছাড়া সাকলাইন সজীব ৩টি ও শুভাশিস রায় ২টি উইকেট নিয়েছেন।
দুই ওপেনার নাদিমউদ্দিন (১৬) ও রনি তালুকদার (৩৩) দলীয় ৫০ রানের মধ্যে ফিরে গেলেও তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে বিসিবি একাডেমি দলের ইনিংসটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মিঠুন ও শুভাগত।

অনলাইনে বিশ্বকাপের টিকিট ১ জুন থেকে

আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে ২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। তবে শুরুতে অনলাইনের মাধ্যমেই সংগ্রহ করতে হবে টিকিট। কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রির তারিখ পরে জানানো হবে।
কাল বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির এক সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘আপাতত মোট টিকিটের পাঁচ শতাংশ অনলাইনে ছাড়া হবে। পরে সেটা বাড়তেও পারে। আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টিকিট বুকিং দিয়ে একটি ভাউচার সংগ্রহ করবেন। ম্যাচের আগে সেই ভাউচার দেখিয়ে তাঁরা কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করবেন। অনলাইনে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলবে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে।’ টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটের ঠিকানা এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।
প্রাথমিকভাবে কিছু টিকিটের দাম জানা গেছে বিসিবি সূত্রে। পূর্ব গ্যালারির ‘ডি’ শ্রেণীর টিকিটের দাম ৩ মার্কিন ডলার, উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির ‘সি’ শ্রেণীর ৬ ডলার, ক্লাব হাউস (উত্তর-দক্ষিণ) ‘বি’ শ্রেণীর ১০ ডলার ও আন্তর্জাতিক গ্যালারি (উত্তর-দক্ষিণ) ‘এ’ শ্রেণীর টিকিট ৩০ ডলার করে। আন্তর্জাতিক গ্যালারি মার্কি, গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড সিটিং ও হসপিটালিটি বক্স, করপোরেট বক্স ও প্রেসিডেন্ট বক্সের টিকিটের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। খেলা শুরু হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে।

জাতীয় মহিলা দাবা

নাজরানা খানকে (ইভা) টপকে আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবায় শীর্ষে উঠে গেলেন শারমীন সুলতানা (শিরিন) ও শামীমা আক্তার (লিজা)। পঞ্চম রাউন্ড শেষে দুজনেরই পয়েন্ট সাড়ে চার পয়েন্ট। চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শারমীন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল মাসুদা বেগমের কাছে হেরেছেন নাজরানা খান। হেরে গেছেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদও। তাঁকে হারিয়েছেন শারমীন। এটা রানী হামিদের দ্বিতীয় হার। জিতেছেন শামীমা, জাকিয়া সুলতানা ও দিলারা জাহান। শামীমা জাহানারা হককে, জাকিয়া মাহমুদা হককে ও দিলারা ইয়ন সরকারকে হারিয়েছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগ বার্সাকে বিদায় দিয়ে ফাইনালে বায়ার্নের সামনে ইন্টার

এ এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। জয়ী দলের মুখে হাসি নেই। হেরে যাওয়া দল আনন্দ করল। আসলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পদ্ধতিটাই এমন যে, অঙ্কের মারপ্যাঁচ এক দলকে হাসায়, আরেক দলকে কাঁদায়।
কাল ন্যু ক্যাম্পে যেমন হেরেও হাসল ইন্টার মিলান। ৩৮ বছর পর চ্যাম্পিনস লিগের ফাইনালে যাওয়ার মুহূর্তটা তো তাদের কাছে আনন্দেরই হবে। ওদিকে ঘরের মাঠে বার্সেলোনার স্বপ্নভঙ্গ। পারল না তারা টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপাটা জিততে। সেমিফাইনালেই এবার থামতে হলো মেসিদের।
ইন্টারের মাঠে ৩-১ গোলে হেরে আসায় সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে সরল সমীকরণে বার্সার প্রয়োজন ছিল ২-০ জয়। কিন্তু তারা জিতল ১-০ গোলে। সেই গোল এল ৮২ মিনিটে। করলেন গোরার্ড পিক। দ্বিতীয় গোলটার জন্য মরণপণ চেষ্টা করে যাওয়া বার্সা ইন্টারের জালে বলও ঢুকিয়েছিল। কিন্তু আগেই হ্যান্ডবলের কারণে ওই গোল দেওয়া হয়নি।
শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া বার্সা ইন্টারকে কোণঠাসা করে রাখল গোটা ম্যাচেই। তাদের সুবিধা হয়ে গেল ২৭ মিনিটে ইন্টার ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায়। লঘু পাপে গুরুদণ্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইন্টারের থিয়াগো মোতাকে। ১০ জনের সেই ইন্টার যে একটির বেশি গোল করতে দিল না বার্সার মতো দলকে, সেটি তাদের বড় কৃতিত্বই।
মেসি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারলেন না। ২২ মের ফাইনালে দেখা যাবে না মেসিকে, মেসিভক্তদের জন্য এটিই সবচেয়ে হতাশার।

অনুশীলন ঘাটতিকেই দায়ী করলেন মারুফ

ড্রেসিংরুমের এক কোনায় পাওয়া গেল মারুফুল হককে। হতাশ-বিষণ্ন। একটু আগে ফরাশগঞ্জের সঙ্গে ড্রয়ে পেশাদার ফুটবল লিগের শিরোপার আশা যেন শেষ হয়ে গেছে বলেই ধরে নিয়েছেন মোহামেডান কোচ। সে জন্যই হয়তো বলে দিলেন, ‘কোনো সম্ভাবনা নেই আর।’
আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। ম্যাচ বাকি পাঁচটি। কাগজ-কলমে সম্ভাবনা বেঁচে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে আবাহনীকে পেছনে ফেলা অবাস্তব মনে হচ্ছে মারুফের কাছে, ‘আবাহনী পয়েন্ট হারাবে আর আমরা লড়াইয়ে ফিরে আসব—এ রকম চিন্তাই করতে পারছি না। ওরা কি আর এই সুযোগ ছাড়বে?’
মোহামেডান কোচ তাঁর দলের এই দুর্দশার জন্য দায়ী করলেন অনুশীলন ঘাটতিকে, ‘গত ২৩ তারিখের পর আর অনুশীলন হয়নি। ২৪ তারিখ ম্যাচ খেলার পরদিন বিশ্রাম ছিল। আজ আবার খেললাম।’ কেন অনুশীলন হয়নি সেটা তিনি খুলে বলেননি। ‘পরে বলব’ বলে অপেক্ষায় রাখলেন।
বেতন না পেয়ে বিদেশিরা বিদ্রোহ করার পর স্থানীয় খেলোয়াড়েরা বিদ্রোহ করেছেন। গত এক সপ্তাহ সিরিয়াস অনুশীলন না হওয়ায় খেলোয়াড়দের ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। এসব কারণে কোচ মারুফ ক্ষুব্ধ। শিরোপা জিততে পারবেন না ধরে নিয়ে আগেই এক প্রশ্নে বলে দিলেন, ‘গতবার আমি ব্যর্থতার দায় নিয়েছি। এবার নেব না। এবার আমার অনেক কিছু বলার আছে।’
দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ড্র করার কারণটা বললেন মোহামেডান কোচ, ‘মাঝমাঠ ভেঙে পড়েছিল। রক্ষণ ছিল অগোছালো। আমরা ওদের (ফরাশগঞ্জ) গোল করার সুযোগ করে দিয়েছি। আমাদেরই ব্যর্থতা।’
গোলরক্ষক আমিনুল সব দায় নিজেদের কাঁধেই নিলেন, ‘আমরা দুই গোলের পর বাজে ফুটবল খেলেছি। নির্ভার হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের কাছে লোকে এমন ফুটবল আশা করে না।’
নিস্তব্ধ ড্রেসিংরুমে আর সবার মতো মাথা নিচু ছিল অধিনায়ক আরমান আজিজের। বললেন, ‘আমাদেরই দোষ। আমরা কেন ওভাবে নির্ভার হয়ে যাই!’

অস্ট্রেলিয়াকে আবারও হারাল জিম্বাবুয়ে

শিরোপা তো নয়ই, গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবারও ফাইনালের পথটা তাদের জন্য সহজ হবে না—প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেই বার্তাই দিয়ে রাখল জিম্বাবুয়ে। গ্রস আইলেটের বোসেজো স্টেডিয়ামে পরশু জিম্বাবুয়ে ১ রানে হারিয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দলকে। দিনের অন্য প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ৬৮ রানে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডকে এবং নিউজিল্যান্ড ৪০ রানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছে।
২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই জিম্বাবুয়েই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের অভিষেকটাই হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে। সেই জিম্বাবুয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল। এলটন চিগুম্বুরার ৩৫ বলে ৭৬ রানের (৫টি চার ও ৬টি ছয়) সুবাদে প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে তুলেছিল ১৭৩ রান। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭২ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ১৭২ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ওয়ার্নারের ৪৯ বলের ইনিংসটিতে আছে ৪টি চার ও ৫টি ছয়। মাইকেল ক্লার্ক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৩ রান দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু শেষ ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭২ রানে থামিয়ে দেয় জিম্বাবুয়ে। পোফুর ওভারটিতে মাইকেল ক্লার্ক হয়েছেন বোল্ড। মিচেল জনসন রানআউট। তবে এই ম্যাচের পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই দাবি জনসনের, ‘অবশ্যই ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম আমরা। যখন খেলবেন, নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে চাইবেন। তবে এটা (পরাজয়) আমাদের পেছনে ঠেলে দেবে না। প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে যাওয়াটা হতাশাজনক, তবে এগিয়েই যেতে হবে আমাদের।’ পরাজয় পেছনে ঠেলে না দিলেও ব্রেট লির ইনজুরি অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কাই দিয়েছে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না এই অস্ট্রেলিয়ান তারকার।
একই মাঠে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডের বিপক্ষে মোহাম্মদ হাফিজের ফিফটিতে (৫৭) ১৬০ রান করেছিল পাকিস্তান। উইন্ডওয়ার্ড ২০ ওভার খেললেও ৪ উইকেটে ৯২ রানের বেশি তুলতে পারেনি।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে রাইডারের ৩০ বলে ৬০ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। আয়ারল্যান্ড ৯ উইকেটে করে ১৭৪ রান।

১২৬ করে কি জেতা যায়?

ওয়েস্ট ইন্ডিজে দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচটায় বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল কচ্ছপ গতির মতো। এত ধীর ব্যাটিং টি-টোয়েন্টিতে বেমানান। ঠেলাগাড়ির মতো ঠেলে-ধাক্কিয়ে বাংলাদেশ দল ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করতে পারল ১২৬। এই রান নিয়ে আর যাই হোক ইংল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে লড়াই করা কঠিন। শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। ইংল্যান্ড লক্ষ্যে পৌঁছাতে খেলেছে ১৭.১ ওভার পর্যন্ত। উইকেট হারিয়েছে ৩টি।
পরশু বারবাডোজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি অনুশীলন ম্যাচে বাংলাদেশ করেছিল ১৬৬। ৩৬ রানের জয় দিয়ে শুরু করা গেছে এই সফর। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে দ্বিতীয় ম্যাচের ব্যাটিংটা মনমতো হলো না বাংলাদেশের। গোটা ইনিংসে ৯টি চার আর ছক্কা মাত্র ১টি। এটা টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং বিজ্ঞাপন হতে পারে না।
প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করা ইমরুল কায়েস এদিন ১৪ রান করে অ্যান্ডারসনের বলে ক্যাচ দিয়েছেন লুম্বকে। ১৩ বলে ১টি চার ও ১টি ছয়। আগের ম্যাচে ৩৫ করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, এ ম্যাচে ২৩ বলে ৩টি চারে ২১ করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশ তখন ৭ ওভারে ৫০/২। পরের ১০ বলে রান এল মাত্র ৫। কিন্তু উইকেট পড়ল আরেকটি। আফতাব ১৩ বলে ৮। বাংলাদেশ ৫৫/৩। এভাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকল। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গিয়েছেন আর ফিরে এসেছেন।
ব্যতিক্রম একজনই—মাহমুদউল্লাহ। ১৭.২ ওভারে ১০৪ রানে ৭ উইকেটে হারা বাংলাদেশ ১২৬ রান করতে পারল তারই কল্যাণে। তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসে ৩০ বলে চারটি চারে অপরাজিত ছিলেন ৩৮ রানে।
বাংলাদেশ: ১২৬/৭ (ইমরুল ১৪, আশরাফুল ২১, আফতাব ৮, সাকিব ৭, মাহমুদউল্লাহ ৩৮*, নাঈম ৯, মুশফিকুর ২, জহিরুল ৪, মাশরাফি ১৩*। অতিরিক্ত ১৩ (লেবা ৫, ও ৬, নো ২)। ইয়ার্ডি ২০/৩, অ্যান্ডারসন ২৩/২, কলিংউড ১৩/১। উইকেট পতন: ১-৩৯, ২-৫০. ৩-৫৫, ৪-৬৬, ৫-৮৫, ৬-৮৯, ৭-১০৪।
ইংল্যান্ড: ১৭.১ ওভারে ১২৭/৩: (লুম্ব ৮, ক্রিয়েসউইটার ২২, রোপারা ৬২, কলিংউড ৩২*, মরগান ০*। অতিরিক্ত ৩। সাকিব ৪ ওভারে ২৩/১, রাসেল ২ ওভারে ২৩/১, মাশরাফি ২ ওভারে ১২/০, রাজ্জাক ৪ ওভারে ১৯/০।)
ফল: ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।

ইমরুলের ব্যাটে বাংলাদেশের জয়

ফর্মহীনতার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বাদ পড়েছিলেন। এর মধ্যে আর কোথাও নিজেকে এমন কিছু প্রমাণও করতে পারেননি। তার পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আশা কথা শুনিয়ে গিয়েছিলেন, ‘সুযোগ পেলে যে পজিশনেই বলা হোক না কেন, ভালো রান করার চেষ্টা করব। ওপেনিং করতেও আপত্তি নেই।’
তামিম ইকবালের ইনজুরির কারণে ওপেনিংয়েই সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুল কথা রেখেছেন। গত পরশু কেনসিংটন ওভালে প্রস্তুতি ম্যাচে বারবাডোজকে ৩৬ রানে হারানোর পথে আশরাফুল করেছেন ৩৫ রান। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং-নায়ক আশরাফুল নন, ইমরুল কায়েস।
টি-টোয়েন্টির শুরুটা যেমন হওয়া চাই, ঠিক তেমনই করেছিলেন ইমরুল। ৩৫ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছয়ে ৫৭ রান। সেই সঙ্গে আফতাব আহমেদের ২১ বলে ২৬ রান নিয়ে ৫ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।
সদ্যসমাপ্ত আইপিএল অভিজ্ঞতা বলে ১৬৬ রান টি-টোয়েন্টিতে এমন কিছু নিরাপদ স্কোর না। কিন্তু প্রতিপক্ষ বারবাডোজ বলেই কি না, একেবারে শুরু থেকে চড়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। শুরুটা করেছিলেন আরেক ‘কামব্যাক হিরো’ মাশরাফি বিন মুর্তজা। ইনিংসের চতুর্থ বলেই আশরাফুলের ক্যাচ বানিয়েছেন তিনি ওপেনার রশিদি বাউচারকে। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের ভয় কমেনি। এর পর ৪৯ বলে ৫০ রান করে বেশ শক্ত একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টেস্ট-ওয়ানডে ক্রিকেটার রায়ান হাইন্ডস। তবে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছিলেন ২৯ বলে ৪৫ রান করা কার্টার। দুজনই অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রান-বলের সমীকরণের সঙ্গে পেরে ওঠেননি হাইন্ডস-কার্টার।
নাঈম ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, আশরাফুলদের আঁটোসাটো বোলিংয়ে ৩ উইকেটে ১৩০ রানে থেমে গেছে বারবাডোজের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে বাকি দুটি উইকেট নিয়েছেন রাজ্জাক ও রুবেল হোসেন।
ম্যাচটা অবশ্য ঠিক প্রথাসিদ্ধ হয়নি। অনুশীলনের স্বার্থে দুদলই উল্টেপাল্টে ১৪ জন করে খেলোয়াড় খেলিয়েছে। ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ১৬৬/৫ (ইমরুল ৫৭, আশরাফুল ৩৫, আফতাব ২৬, সাকিব ১১, নাঈম ৯*, মাহমুদউল্লাহ ১৪, মুশফিকুর ৪*; মার্টিন নার্স ৩/২১, অ্যাশলি নার্স ১/২৯, ব্র্যাথওয়েট ১/৩৪)। বারবাডোজ: ১৩০/৩ (মার্টিন নার্স ১৮, বাউচার ০, হাইন্ডস ৫০*, এডওয়ার্ডস ৮, কার্টার ৪৫*; মাশরাফি ১/২৭, রাসেল ০/৩৩, নাঈম ০/১৩, সাকিব ০/২৭, রাজ্জাক ১/৭, আশরাফুল ০/৪, রুবেল ১/১৮)। ফল: বাংলাদেশ ৩৬ রানে জয়ী