Friday, December 21, 2018
ইসলামপন্থিদের ওপর কেন ভর করছে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো by ড. আলী রিয়াজ

২০০৫ সালের মার্চ। ওই সময়ে প্রচ- কট্টর ইসলামপন্থি মুফতি ফজলুল হক আমিনী দাবি করেছিলেন, মাদরাসাগুলোর সমর্থন ছাড়া বাংলাদেশে জাতীয়পর্যায়ে কোনো দলই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সারা দেশে ছড়িয়ে আছে এমন অনেক মাদরাসা। তাতে আছেন কমপক্ষে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। তারা দেওবন্দের অনুসারী। দেওবন্দ হলো ইসলামের একটি রক্ষণশীল অংশ।
আগামী ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এ নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বেপরোয়াভাবে ইসলামপন্থিদের কাছে টানছে। তাহলে এর অর্থ কি, ফজলুল হক আমিনীর পূর্বাভাষই সত্য?
ইসলামপন্থিদের দলে টানা
১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে সেনা শাসকদের সময়ে বাংলাদেশে ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান ঘটে। ওই সময়ে সেনা শাসকরা তাদের বৈধতার সংকটে ভুগছিলেন। আর তাই ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন ধর্মকে। সেনা শাসকগোষ্ঠী রাজনীতিতে ধর্মকে টেনে আনার জন্য দায়ী হলেও দেশে ইসলামপন্থি গ্রুপগুলোকে রাজনৈতিক আইনগত বৈধতা দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।
নির্বাচনে সফলতা পাওয়ার জন্য ১৯৮০’র দশক থেকে বর্তমানের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি ইসলামপন্থিদের দ্বারস্থ হচ্ছে। যুক্তি দেখানো হচ্ছে যে, এসব গ্রুপ ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক। কিন্তু প্রাপ্ত পরিসংখ্যান এই যুক্তিকে সমর্থন করে না।
১৯৭৯ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল মাত্র দুটি ইসলামপন্থি দল। কিন্তু ১৯৯১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ইসলামপন্থি দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয় আরো একটি দল। কিন্তু ২০০১ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১১। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১০। ১৯৯১ সালে তারা শতকরা ১৪ ভাগের সামান্য বেশি ভোট পায়। কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের সেই ভোট কমে দাঁড়ায় শতকরা প্রায় ৬ ভাগে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পুরনো ইসলামপন্থি দলগুলোর একটি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করার দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে ওই আদালত। বছরের পর বছর ইসলামী ঐক্যজোট খ- বিখ- হয়েছে। অন্যদিকে, নিজেদেরকে রক্ষণশীল রাজনৈতিক এজেন্ডা সম্বলিত সামাজিক আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে রহস্যময় (অবসকিউরেনটিজম) হেফাজতে ইসলাম। এবার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উঠে এসেছে তারা। বর্তমানে কমপক্ষে ৭০টি সক্রিয় ইসলামপন্থি দল আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ১০টি।
মিথ্যা ধারণা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০১৪ সাল থেকে এক কঠিন অবস্থার মুখে পড়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে বেশ সময় জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। যাহোক, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছে বিএনপি। অনেকেই আশা করেছিলেন যে, দীর্ঘদিনের ইসলামপন্থি মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে ত্যাগ করবে তারা। নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে, আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দিতে পারে নি জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ২২ জন রাজনীতিককে নির্বাচনে লড়ার জন্য মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি তার প্ল্যাটফরম থেকে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। ৭০টি ইসলামপন্থি দলের মধ্য থেকে ৬০টিরও বেশি এই ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মূল মিত্র জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠ। জাতীয় পার্টিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক স্বৈরশাসক থেকে রাজনীতিকে পরিণত হওয়া এইচ এম এরশাদ। বিস্ময়কর হলো যে, বিএনপিকে অধিকমাত্রায় ইসলামপন্থিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হয়। সেই বিএনপির সঙ্গে রয়েছে মাত্র ৫টি ইসলামপন্থি দল।
‘এ ম্যারিজ অব কনভেনিয়েন্স?’
আওয়ামী লীগকে পশ্চিমের অনেকে বিবেচনা করে থাকেন ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে। তারা কেন ইসলামপন্থিদের দ্বারস্থ হলো?
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, আওয়ামী লীগের আদর্শের এই পটপরিবর্তনের অনেক কারণের মধ্যে একটি হলো, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা সার্বিকভাবে ইসলামীকৃত হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটিতে বেড়ে ওঠা মধ্যম শ্রেণী ইসলামপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করেন না। ২০১৪ সালে বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে বিতর্কিত ও একপেশে একটি নির্বাচন হয় বাংলাদেশে। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। তাই আওয়ামী লীগ ধর্মীয় গ্রুপগুলোর সমর্থন ব্যবহার করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা তাদের রাজনৈতিক তাৎপর্য প্রমাণ করতে চাইছে।
ক্ষমতাসীন দলের মিত্রে পরিণত হয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এ দলটির মতো ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে জোট হিতকর হতে পারে। কারণ, ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারে।
(আলী রিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর। তার এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্মান সরকার পরিচালিত অনলাইন ডয়েচে ভেলে’তে)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যা আছে বিএনপির ইশতেহারে
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন
১. বিএনপি নির্বাচনের দিনের গণতন্ত্রকে নিত্যদিনের অনুশীলনে পরিণত করবে।
২. সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।
৩. একাধারে পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান করা হবে।
৪. মন্ত্রিসভাসহ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হবে।
৫. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দেয়া হবে।
৬. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
৭. বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে ‘জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংবিধানে ‘গণভোট’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করা হবে।
৮. সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
৯. জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
১০. নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অতীতের সমস্যার আলোকে নিরূপণ করা হবে এবং এই লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা করা হবে।
১১. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যতমুখী এক নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশনের সদস্য থাকবেন সংসদে সরকারি দলের নেতা, বিরোধী দলের নেতা এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব।
১২. একদলীয় শাসনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করা হবে।
১৩. জাতীয় নেতৃবৃন্দের আপত্তিকর সমালোচনা রোধে সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা হবে।
১৪. ব্যক্তির বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং দলীয় আনুগত্যকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবলমাত্র সততা, দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা, দেশ প্রেম ও বিচার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র, পুলিশ এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।
১৫. প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ দেয়া হবে।
১৬. র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। র্যাবের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করে
অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। এই ব্যাটালিয়ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে।
১৭. চাকরি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সকল ধরনের তদবির ও চাঁদাবাজি নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দেশরক্ষা, পুলিশ ও আনসার ব্যতীত শর্তসাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা থাকবে না।
১৮. বিডিআর হত্যাকাণ্ডের এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত সকল অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে এবং অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হবে।
১৯. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় যেন সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি না হয় সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০. প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর প্রকাশ করা হবে।
২১. সড়ক পথে চলাচলে বিরাজমান বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটানো হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২২. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিচার বিভাগ
১. সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা হবে।
২. মামলার জট দূর করার জন্য যোগ্য বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে এবং এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
৩. বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও কারো কণ্ঠ রোধ করা হবে না। অনলাইন মনিটরিং তুলে দিয়ে জনগণকে অবাধে কথা বলার ও মতপ্রকাশের সুযোগ দেয়া হবে।
২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টসহ সকল প্রকার কালাকানুন বাতিল করা হবে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রাপ্তি দ্রুততর করার জন্য বিদ্যমান বাধাসমূহ পুরোপুরি দূর করা হবে।
৩. মানুষের জীবনের মূল্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে।
৪. বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে।
৫. রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যুক্তিসঙ্গত সমালোচনার অবাধ অধিকার থাকবে।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
১. দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের হাতে।
২. বর্তমানে কমবেশি ৫ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের পরিবর্তে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে পাঁচ বছরে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বাজেট স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয়ের বিধান করা হবে।
৩. জেলা পরিষদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে।
৪. পৌর এলাকাগুলোতে সব সেবা সংস্থা মেয়রের অধীনে রেখে সিটি গভর্নমেন্ট চালু করা হবে।
৫. জনকল্যাণে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা এবং স্থানীয় সরকারের স্তর নির্ধারণের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হবে।
অর্থনীতি
১. জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১১ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
২. রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার তিন গুণ বাড়ানো হবে। রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করা হবে।
৩. শেয়ার মার্কেট, ব্যাংক এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ লুটের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন দুর্নীতি-অনাচার করতে না পারে সেই লক্ষ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হবে। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ পরিচালনা ও তদারকির ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত করা হবে।
৪. বর্তমানে চলমান কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে মেগা প্রকল্পে ব্যয়ের আড়ালে সংঘটিত দুর্নীতি নিরীক্ষা করে দেখা হবে এবং এজন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
৫. বর্তমান সরকারের শেষ দুই বছরে তড়িঘড়ি করে নেয়া প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করার জন্য কমিটি গঠন করা হবে।
৬. দেশে কর্মরত সকল বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় এনে মুদ্রা পাচার রোধ করা হবে এবং তাদেরকে করের আওতায় আনা হবে।
৭. একটি টাস্কফোর্স রেন্টাল পাওয়ার প্রজেক্টের উচ্চ ব্যয়ের কারণ তদন্ত করে দেখবে।
মুক্তিযোদ্ধা
১. সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ‘রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা করা এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের নামে দুর্নীতির অবসান ঘটানো হবে। মূল্যস্ফীতির নিরীখে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।
২. দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেসব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
যুব, নারী ও শিশু
১. জাতীয় উন্নয়নে যুব, নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
২. ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ইয়ুথ পার্লামেন্ট গঠন করা হবে।
৩. দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি সকল কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সকল বাধা অপসারণ করা হবে।
৪. ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে।
৫. নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু-শ্রম রোধে কার্যকর বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৬. শিশু সন্তান রেখে নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে সেই লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক দিবাযত্নকেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৭. নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংক ঋণ এবং কর-ছাড় দেয়া হবে।
৮. এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। এদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
৯. নারীদেরকে ন্যায়সঙ্গত সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রদান করা হবে। এই লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিদ্যমান আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
১. শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে।
২. উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সমপ্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে।
৪. বিশ্বের মেধা জগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে বাংলাদেশের একটি নতুন মাত্রা যোগের জন্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিসহ অন্যান্য বিদেশি ভাষা শেখার জন্য অধিকতর সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
৫. স্বল্পআয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্বল্প সুদের শিক্ষা ঋণ চালু করা হবে।
৬. বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।
৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-সংসদের নির্বাচন নিশ্চিত করে ছাত্রদের মধ্য হতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করা হবে।
৮. মাদরাসা শিক্ষাকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। তাদের কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৯. সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ‘সম্মানীভাতা’ চালু করা হবে।
১০. বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তা প্রতিরোধ করার জন্য সকল প্রকার আইনি, প্রতিকারমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১. শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে সকল ধরনের ভ্যাট বাতিল করা হবে। ভ্যাটবিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আনীত সকল মামলা প্রত্যাহার এবং এসব আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
১২. সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরিব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হবে। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থা বিলোপ করা হবে।
১৩. প্রথম তিন বছরে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে দুই লাখ মানুষকে চাকরি দেয়া হবে।
১৪. তরুণ দম্পতি ও উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ২০ বছর মেয়াদি ঋণ চালু করা হবে।
১৫. আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৬. এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। এদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
জ্বালানি
১. অদক্ষ পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহ অতি জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকায়ন এবং পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। দেশীয় গ্যাস এবং ফার্নেস-অয়েল-এর ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা হবে। বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে নিরসন এবং কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ছোট, মাঝারি ও বৃহদাকার পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণ বিশেষ করে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জিও-থারমাল, সমুদ্র তরঙ্গ, বায়োগ্যাস, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
২. বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলাধার, গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ শিল্প সরকারি খাত এবং প্রয়োজনবোধে সরকারি/বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে স্থাপন করা হবে।
৩. ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরে বিদ্যুৎ ও আবাসিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যে সকল প্রকার অসঙ্গতি দূর করা হবে।
তথ্য ও প্রযুক্তি
১. তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশ হতে অর্জিত অর্থ দেশে আনয়নের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অযৌক্তিক বাধা দূর করা হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত সকলকে সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্বল্প চার্জে Global Payment Gateway দেয়া হবে।
২. Nationwide Telecommunication Transmission Network (NTTN), Internet Service Provider (ISP) Ges International Internet Gateway (IIG) মার্কেট উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এর ফলে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, দক্ষতা বাড়বে এবং ইন্টারনেট ব্যয় হ্রাস পাবে।
৩. অগমেনটেড রিয়্যালিটি, এ্যানিমেশন এবং রোবটিকস তৈরি খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। START UP FUND Ges IT Innovation Fund Ges Venture Capital দিয়ে দেশের স্থানীয় সমস্যার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সলিউশন ডেভেলপ করতে উৎসাহ দেয়া হবে।
৪. পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ই-গভর্নমেন্ট চালু করার জন্য ক্লাউড ভিত্তিক এন্টারপ্রাইজ এপিকেশন ডেভেলপ করতে সরকার দেশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে।
৫. ভিওআইপি ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে এই খাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।
৬. সৃজনশীল ব্যক্তির মেধাস্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। শুধু সাব-কন্ট্রাক্ট নয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দেয়া হবে। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারে স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্বরান্বিতকরণ তহবিলসহ আইটি ইনকিউবেটর এবং ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা সংযোজিত হবে।
৭. ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোবাইল ডেটার জন্য এবং ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে সময়োপযোগী সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে।
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত সকল প্রকার উপকরণ সামগ্রীর ওপর শূন্য শুল্ক সুবিধা বজায় রাখা হবে।
৯. মেট্রোপলিটন এলাকা, পৌরসভা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহকে ক্রমান্বয়ে স্মার্ট সিটি, স্মার্ট পৌরসভা, স্মার্ট গ্রাম ও স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরিত করা হবে।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি
১. আগামী ৫ বছরের মধ্যে খেলাধুলার কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ যাতে একটি গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিতে পারে সে লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের জন্য প্রতি জেলায় একটি আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২. জাতীয় ভাবধারার পরিপন্থি অপসংস্কৃতি চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হবে। সংস্কৃতির মাধ্যমে স্বাধীন চিন্তাধারা ও মতাদর্শের যেন সুষ্ঠু প্রতিফলন হয় তার জন্য গণতান্ত্রিক রীতি পদ্ধতির অনুসরণ করা হবে।
বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ
১. বৈদেশিক কর্মসংস্থান সমপ্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রবাসীরা যাতে তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রেরণ করতে পারে সেজন্য পর্যাপ্তসংখ্যক এক্সচেঞ্জ হাউস/ব্যাংকের সঙ্গে প্রণোদনা সুবিধাসহ রেমিট্যান্স প্রেরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো যাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করে তা নিশ্চিত করা হবে।
২. বিদেশফেরত প্রবাসীদের বিমানবন্দরে বিদ্যমান হয়রানি বন্ধ করা হবে। বিদেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের যথাযথ তালিকা প্রস্তুত করে তাদের কল্যাণে নানামুখী প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
৩. প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশ পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। বিদেশে বিপদগ্রস্ত বা আটকে পড়া নাগরিকদের রক্ষা ও ফিরিয়ে আনতে যথোপযুক্ত কনস্যুলার সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
কৃষি ও শিল্প
১. মূল্য-সমর্থন এবং উপকরণ ভর্তুকির সঠিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কৃষক যাতে তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ডাটাবেইজ গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। কৃষিতে নানা ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে।
২. গরিব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত কৃষকের কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করা হবে।
৩. দু’বছরের মধ্যেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার টাকা করা হবে। গার্মেন্টসহ অন্যান্য সকল শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
৪. সকল খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।
৫. কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক পেশায় পরিণত করার লক্ষ্যে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করে সকল কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হবে স্থানীয় সমবায় সমিতির মাধ্যমে।
৬. শ্রমিক ও ক্ষেত মজুরসহ গ্রাম ও শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুলভ মূল্যে রেশনিং চালু করা হবে।
৭. কৃষি ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়িয়ে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা হবে।
৮. জলমহাল এবং হাওরের ইজারা সম্পূর্ণ বাতিল করে মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
৯. পুনর্বাসন ছাড়া শহরের বস্তিবাসী ও হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না।
১০. স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে শ্রমিকগণ মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়ামের মাধ্যমে সব চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
১১. এক বছরের মধ্যে মানুষকে ভেজাল ও রাসায়নিক মুক্ত নিরাপদ খাদ্য পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
১. জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে। উৎপাদনকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার যুক্তিসঙ্গত মুনাফা নিশ্চিত করে ওষুধের মূল্য যুক্তিসঙ্গত হারে হ্রাস করা হবে।
২. বিশিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চিকিৎসা শিক্ষার মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জাতীয় এক্রেডিটেশন কাউন্সিল (Accreditation Council) গঠন করা হবে।
৩. মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বয়োঃবৃদ্ধদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৪. চিকিৎসার ক্ষেত্রে সিংহভাগ খরচ হয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায়। এক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত ডায়াগনস্টিক বুথ স্থাপন করা হবে।
৫. শিশুদের ডায়াবেটিস ও বেড়ে ওঠার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রতিরক্ষা ও পুলিশ
১. একটি দক্ষ, স্বচ্ছ, গতিশীল, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক যুগোপযোগী ও গণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠী কোটা ব্যতিরেকে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। গতিশীল বিশ্বায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র এবং অন্যান্য সব সরঞ্জাম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কেনা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
২. পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে। সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য যৌক্তিক রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৩. পুলিশ বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধি করা হবে। পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাতিসংঘ বাহিনীতে পুলিশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গৃহীত হবে।
৪. ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরদের বেতন ছয় মাসের মধ্যে আপগ্রেড করা হবে এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ অবসরে গেলেও তাদেরকে রেশন সুবিধা প্রদান করা হবে।
আবাসন, পেনশন ফান্ড ও রেশনিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
১. দুস্থ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা এবং অসহায় বয়স্কদের ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির নিরিখে বৃদ্ধি করা হবে। বেসরকারি ও স্বনিয়োজিত খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বার্ধক্যের দুর্দশা লাঘবের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন করা হবে। গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
পরিবেশ
১. জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য টেকসই কৌশল গ্রহণ করা হবে। উপকূল এলাকাসহ সারাদেশে নিবিড় বনায়ন ও সুন্দরবনসহ অন্যান্য বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পররাষ্ট্র
১. বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে।
২. বিএনপি অন্য কোনও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং অন্য কোনও রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে কোনো স্পেস দেবে না। একইভাবে অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
৩. মুসলিম দেশসমূহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ বাসভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ নেয়া হবে।
৪ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থা যেমন- সার্ক, বিমসটেক, বিসিআইএম, বিবিআইএন প্রভৃতি সংস্থাগুলোকে সুসংহত করা এবং কার্যকরভাবে গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৫. বিআরআই, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিক ইনশিয়েটিভসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৬. বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নেপাল, ভুটান ও উন্নয়নের জনগণের সংযোগ সহজতর করা হবে।
৭. আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে বহমান আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আঞ্চলিক ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায়
১. পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন, সম্পদ, সম্ভ্রম ও মর্যাদার সুরক্ষা করা হবে। অনগ্রসর পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সব সুবিধা এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
২. দল, মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল জাতি গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মকর্মের অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। এই লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছে না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক

যেখানে শক্তিশালী বিরোধীদল এবং সরকারীদল অংশগ্রহণ করবে। তবে এর মধ্যে নানা ধরনের শঙ্কা রয়েছে। ভয় রয়েছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা হতে পারে, এরকম একটি অজানা ভয় সাধারণ মানুষ এবং অংশগ্রহণকারীদের মনে ফুটে উঠেছে। যদি এটাকে এড়ানো যায় তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে সরকারের হাতে।
সরকারি দল যদি এটা সঠিকভাবে করতে পারে, তাহলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। বিশিষ্ট এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারছে না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। এর ফলে নির্বাচন সর্বজনগ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কারণ বিষয়টি এতই অনাকাঙ্ক্ষিত যে, এটাকে যেকোনো মূল্যে পরিহার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন এবং যারা ক্ষমতায় আছেন উভয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কেমন হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন? এমন প্রশ্নের জবাবে কলামনিস্ট ড. শেলী বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা সন্দেহ, কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আশাও। আশা এ জন্য যে, নির্বাচনটা খুব কাছে। আর ক’টি দিন ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এবং সুবিচারের পথে অগ্রসর হতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে। সারা দুনিয়ার কাছে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে।
বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ইশতেহার প্রসঙ্গে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, তাদের ইশতেহারকে ভালোই মনে করতাম, যদি না ব্র্যাকের জরিপটি দেখতাম। ব্র্যাকের এক জরিপে বলা হয়েছে, শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ বা ভোটার নির্বাচনের এই ইশতেহার পড়েন না, অনেকে পড়লেও বোঝেন না। সুতরাং এটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিচারের একটি মাপকাঠি বলা হলেও এবারের নির্বাচনে তা নিয়ামক হবে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আপিল বিভাগের সেই রায় আজও বহাল!

প্রবীণ আইনবিদরা বলেছেন, আপিল বিভাগের ওই রায় এখন পর্যন্ত আইন। এটা পরিবর্তন করে রিজন বা যথাকারণ সম্বলিত কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
সুতরাং জেনারেল এরশাদ দণ্ড মাথায় নিয়ে (যা স্থগিত হয়নি) কারাগারে থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সেটা পারছেন না। অবশ্য আরো অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওই রায়ে বাতলে দেয়া নীতির হেরফের ঘটেছে।
১৯৯৬ সালের ৫ই জুন আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চের দেয়া রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে রিটের মাধ্যমে দুটি ব্যতিক্রম বাদে আার কোনো বিরোধের ফয়সালা হবে না। যা হবার নির্বাচনের পরে হবে। আর তাও রিটে নয় নির্বাচনী বিরোধ হিসেবে সুরাহা হবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে।
বিচারপতি মোস্তফা কামাল ছিলেন অথর জাজ। প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজাল, বিচারপতি লতিফুর রহমান, বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী এবং বিচারপতি মোস্তফা কামালের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ওই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে ৪১ ডি এল আর এ বর্ণিত এ এফ এম শাহ আলম বনাম মুজিবুল হক এবং অন্যান্য মামলার বরাত দিয়ে বলেছিলেন, এই আদালত অর্থাৎ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় এই নীতি নিশ্চিত করেছেন যে হাইকোর্ট বিভাগের অধীনে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় কোনো একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। শুধুমাত্র দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া। এর একটি হচ্ছে, দেখাতে হবে যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তাদের যথাযথ এখতিয়ার ছিল না। একে বলে কোরাম নন জুডিস। দেখাতে হবে, রিটার্নিং অফিসারের বা ইসির নিয়োগ বৈধ ছিল না। দ্বিতীয়ত যেটা দেখাতে হবে, সেটা হলো মেলিস ইন ল অর্থাৎ যে আইনের আওতায় সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সে আইনটি বিদ্বেষপূর্ণভাবে প্রণীত হয়েছিল।
এই দুটি শর্তের বাইরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিধানের অধীনে রিট দিয়ে কোনো বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। সেই নীতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত করেছে এবং আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পর্যন্ত সময়ে সেই নীতি আইনিভাবে কখনোই বদলে যায়নি। বিচারপতি কামাল লিখেছিলেন, এই নীতি সংসদের মতো সমানভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
বিচারপতি মোস্তফা কামাল লিখেছিলেন, প্রতীয়মান হচ্ছে যে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার অধিকারের মধ্যে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরশাদ দণ্ডিত এবং দণ্ডিত থাকা বিষয়ে তার আপিল বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং দণ্ডিত থাকা চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করেনি। কারণ তার আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
আপিল বিভাগ আরো লিখেছিলেন, দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে যদি সংবিধানের আওতায় অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকে, সেটা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে তুললে চলবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দিতে হবে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সামনে নিবার্চনী দরখাস্ত হাতে প্রতিকার চাওয়ার জন্য আসতে হবে। এই বিষয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় পরখ করার কোনো সুযোগ নেই। হাইকোর্ট বিভাগের উচিত হবে না এই বিষয়ে কোনো মতামত প্রদান করা। সুতরাং যখন রিট দরখাস্ত করা হয়েছিল তখনই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
বিচারপতি মোস্তফা কামাল আরো লিখেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে দরখাস্তকারী এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এরশাদ নমিনেশন পেপার দাখিল করেছিলেন কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এরশাদের নমিনেশন গ্রহণ করেন। এর বিরুদ্ধে একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী মাঈদুল ইসলাম হাইকোর্টে এসেছেন। রিট দরখাস্তে বলা হয়েছে যে, এরশাদ বিভিন্ন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে নানাবিধ মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। একটি মামলায় তিন বছর একটিতে সাত বছর, অপরটিতে ১৩ বছর দণ্ড পেয়েছেন। কিন্তু নমিনেশন পেপার যাচাইয়ের সময়ে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়। তিনি আরো নিবেদন করেন যে, এরশাদ আপিল করেছেন সেটা ঠিক কিন্তু তা স্থগিত হয়নি। তাই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ধারা অনুযায়ী তার নমিনেশন পেপার বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ওই মামলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ একেএম মাইদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন। তিনি নিবেদন করেছিলেন যে হাইকোর্ট ডিভিশন এটা বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন যে এরশাদের দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়নি। তাই তার নমিনেশন পেপার গ্রহণ করা বৈধ হয়নি। আপিল বিভাগ একথায় সায় দেননি।
উল্লেখ্য যে, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সপক্ষে বলে চলছেন, দুই বছরের বেশি কারো দণ্ড হলেই হলো, তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা নির্যাতনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করার দাবি মার্কিন সিনেটরদের
![]() |
| মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর চালানো সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের উভয় দলের সিনেটররা। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের ওই গ্রুপটি বুধবার এমন আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী। এতে বাধ্য হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনাকে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও অন্যরা জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। এ বিষয়ে যুক্তাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন সিনেটররা। ওই চিঠির একটি কপি দেখতে পেয়েছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব রিপোর্টে গণহত্যার ব্যাপক ও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও গণহত্যা চালানো হয়েছে এ মর্মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে নি। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এর আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র সরকার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা ঘোষণা দিলে তাতে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতো যুক্তরাষ্ট্র। তাই ওই রিপোর্টকে থামিয়ে রাখা হয়। ওদিকে মঙ্গলবার রাখাইন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স। এক সময় যে রাখাইনে রোহিঙ্গারা বসবাস করতেন এবং যেখান থেকে তাদেরকে সেনাবাহিনী উৎখাত করেছে, তা নাটকীয়ভাবে পাল্টে ফেলা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়াকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তাই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা। তারা চিঠিতে বলেছেন, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রস্ত করা হয়েছে, বাড়িঘর থেকে উৎখাত করা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেখানে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে তাতে গণহত্যার সব সংজ্ঞাই অনুসরণ করে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর বব মেন্ডেজ, রিপাবলিকান সিনেটর মারকো রুবিও, সুসান কলিনস, ডেমোক্রেট সিনেটর এডওয়ার্ড মারকি, টিম কেইন, বেন কার্ডিন এবং জেফ মার্কলি। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

