Thursday, July 21, 2011

সাত মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবার প্রায় সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বাজারে ভয়াবহ ধসের পর এটাই সর্বোচ্চ লেনদেন। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে এক হাজার ৭৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা প্রায় সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এক হাজার ৭৮৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আবারও বাজারে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে বাজারে আর্থিক লেনদেন বেড়েছে। এমনকি জুন মাসের শেষ দিক থেকে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ যাচ্ছে।
ডিএসইতে আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৩১.৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৬,৬১৯.০৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৭টির, কমেছে ১২৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজ ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় সূচক ৭৮ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা একটায় সূচক ৭৫ পয়েন্ট বেড়েছিল।
আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ার, ওয়ান ব্যাংক, গ্রামীণফোন, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো, আরএন স্পিনিং, এমআই সিমেন্ট, ইউসিবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৩২.০৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৮৮৫৪.০৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১১২টির, কমেছে ৮২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট ১৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১১ কোটি টাকা বেশি।

আমলাচালিত অর্থলোলুপ গণতন্ত্র—গণতন্ত্র নয় by মইনুল হোসেন

বারবার হরতাল ডাকার ফলে জনজীবন অচল হচ্ছে, পুলিশের সঙ্গে হরতাল সংগঠকদের সংঘাত বাধছে এবং সরকারি কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হচ্ছে। জনগণ ক্রোধে ফুঁসছে। সরকারি কর্মসূচি যতই ভালো হোক না কেন তার বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ জন্য দায়ী সংঘাত-সংঘর্ষের বিকৃত রাজনীতি।
দেশের জন্য এবং রাজনীতিকদের জন্য রাজনীতি কী ধরনের বিপজ্জনক দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে, তা ভেবে দেখার মতো সময় মনে হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের নেই। সুতরাং যখন আমরা রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা করি, তখন আমাদের রাজনীতির ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কে সঠিক অথবা সঠিক নয়—বাইরে থেকে যতটা বোঝা সম্ভব, তার আলোকে প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে হবে। রাজনৈতিক নেতারা সেই সত্যের প্রতি কর্ণপাত করলেন কি করলেন না সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় না। জাতির কাছে আমাদের বৃহত্তর দায়দায়িত্ব রয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থে মুষ্টিমেয় লোকের ক্ষমতায় যাওয়ার ও আঁকড়ে থাকার কুটিল খেলায় পরিণত হয়েছে দলীয় রাজনীতি। গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত আলোচনা, বিতর্ক ও সহনশীলতার মূল্যবোধ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। আরও সুনির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, জাতীয় রাজনীতি দুই নেত্রীর কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরূপ লড়াইয়ের এমনও অর্থ হতে পারে যে কে কাকে রাজনৈতিকভাবে উৎখাত করতে পারেন।
একশ্রেণীর আমলা রাজনীতিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যে সহযোগিতা এবং সমঝোতার ইচ্ছা ও দক্ষতার সম্পর্ক ছিল, তা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতা জবরদখলকারী বলা যেতে পারে। কিন্তু তাঁরা রাজনীতি বলতে বোঝেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরা, ক্ষমতা ছাড়া নয়। ক্ষমতার পরিবর্তন আনা আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়। তাই নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য অনেক সময় এবং শক্তি ব্যয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে সরকারের অধীনেই নির্বাচন হোক না কেন, নির্বাচনী ফলাফল কখনো বিরোধী দলের জন্য গ্রহণযোগ্য হয়নি। নির্বাচন তো লড়াই নয়, রীতিমতো যুদ্ধ—যা অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
বস্তুত, রাজনীতির চরিত্রই বদলে গেছে। রাজনীতি ক্ষমতায় থাকার জন্য নিষ্ঠুর শক্তি প্রয়োগের খেলায় পরিণত হয়েছে। সংঘাতের রাজনীতিই তাঁরা বেশি পছন্দ করছেন। কারণ, তাহলে অপশাসন ও আসল সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে রাখতে সুবিধা হয়। এবারের সংঘাতকে অযথা বলতে না চাইলে, আগাম বলতে হবে, যা সরকারই ডেকে এনেছে। কারণ, নির্বাচনের এখনো আড়াই বছর বাকি রয়েছে।
জনগণের ভেতর থেকে রাজনৈতিক নেতাদের উত্থান ঘটে আর আমলারা আসেন প্রশাসন থেকে। এ থেকেই তাঁদের মনমানসিকতা ও রুচিবোধ পরিষ্কার হয়ে যায়। আমলাতন্ত্রের কাজ হচ্ছে হুকুম দেওয়া ও তা তামিল করা। রাজনীতিতে তাই গণতন্ত্র ও আমলাতন্ত্রের মিশেল চলে না। গণতন্ত্রে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আমলাতন্ত্রকে। অথচ আমাদের আমলারা নিয়ন্ত্রণ করছেন গণতন্ত্র। পাকিস্তান আমলে জেনারেল আইয়ুব খানও এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চালু করেছিলেন।
সাবেক আমলা ও ব্যবসায়ীদের একটি দুষ্টচক্র রাজনীতিতে ঢুকে রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশিষ্ট্য বদলে দিয়েছেন। রাজনীতিবিদদের মর্যাদা এই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে অবনমিত হয়েছে। নিজ নিজ দলের ভেতরেও দলের রাজনীতিবিদদের যথেষ্ট যোগ্য মনে করা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুটি দলেই আমলা ও ব্যবসায়ীদের দাপট দেখা যাচ্ছে। জনসেবার বদলে আমলারা ক্ষমতার রাজনীতিতে এবং ব্যবসায়ীরা লোভ-লালসা চরিতার্থ করার রাজনীতিতে উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।
যে পথে পরিস্থিতির বিকাশ ঘটতে দেওয়া হয়েছে তাতে উদ্ভূত সংকটের কোনো রাজনৈতিক সমাধান আপাতত আর দৃশ্যমান নয়। রাজনীতি থাকলে সহযোগিতা-সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান পাওয়া সম্ভব। বিতর্কিত জাতীয় ইস্যুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারক ভূমিকা রাখতে পারে না যতক্ষণ না গোটা জাতিকে সঙ্গে নেওয়া সম্ভব হয়। এ কথা বলা হয়ে থাকে যে জনগণের শাসনতন্ত্রে জনগণের হূদয় ও মনের স্পন্দন ধ্বনিত হয়। আইনবিজ্ঞানীরাও স্বীকার করে থাকেন যে শাসনতন্ত্র সর্বোচ্চ আইনের বিধিবিধানই নয়, এর মধ্যে প্রতিফলিত হয় কিছু অলঙ্ঘনীয় নীতি ও মূল্যবোধ, যা জনগণ ধারণ ও লালন করে। শাসনতন্ত্রে কি থাকবে আর কি বাদ যাবে, তা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিণত করা হয় তবে তা আর জাতীয় শাসনতন্ত্র থাকে না।
নিছক নির্বাচন আর নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। আসলে রাজনীতির চাবিকাঠি কীভাবে রাজনৈতিক নেতাদের হাতে ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে কথা বলা দরকার। এটা সম্ভব না হলে, আমলাচালিত রাজনীতিতে লোভ-লালসাভিত্তিক রাজনৈতিক স্থিতাবস্থাই বহাল থাকবে। জনস্বার্থ সমুন্নত রাখার গণতান্ত্রিক রাজনীতি মরীচিকার মতোই অধরা থেকে যাবে, যা জাতির জীবনদায়িনী হতে পারে না।
নতুন যাত্রা শুরু করার জন্য হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে হবে। সংঘাত কেবলই সংঘাতের জন্ম দেয়, একমাত্র ন্যায়ভিত্তিক সমঝোতার রাজনীতিই আমাদের সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে সম্ভব করে তুলতে পারে। এ বিশ্বাস এখনো আমি পোষণ করি যে প্রকৃত সুশীল সমাজ এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে এগিয়ে আসবে।
মইনুল হোসেন: জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।

চুক্তি সই সত্ত্বেও পৃথক রাজ্যের দাবিতে অনড় জনমুক্তি মোর্চা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে গত সোমবার ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সইয়ের পরও পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি থেকে সরে আসেনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।
চুক্তি সইয়ের পরপরই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং বলেন, পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না। এটাই তাঁদের লক্ষ্য।
সোমবার চুক্তি সইয়ের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলা ভাগ হবে না। দার্জিলিং বাংলার হূদয়।’ মমতার এ বক্তব্যের পর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়।
তবে চুক্তি সইয়ের পর জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার দাবি থেকে সরছেন না।
গতকাল মঙ্গলবার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তাঁরা অনড়। তিনি আরও বলেন, পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার চুক্তিতে সই করবেন জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং।
সোমবার স্বশাসিত সংস্থা গড়ার চুক্তিতে সই করেন জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি।
এদিকে ‘বাংলা ভাগ করার’ এ চুক্তির বিরুদ্ধে ‘বাংলা ও বাংলা ভাষা বাঁচাও কমিটি’র ডাকে গতকালও শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সে বন্ধ্ পালিত হয়েছে। কমিটি ঘোষণা দিয়েছে, ‘বাংলা ভাগের’ এ চুক্তি তারা মেনে নেবে না।
রাজ্য বামফ্রন্টও জানিয়ে দিয়েছে তারাও এ চুক্তি মানছে না। পশ্চিমবঙ্গ বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, এ চুক্তি রাজ্যে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সম্প্রীতি ও সংহতিকে ধ্বংস করবে। যে পদ্ধতিতে এ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করা হয়েছে, তা সমর্থন করে না বামফ্রন্ট।
পৃথক রাজ্যের দাবিতে গণ-অনশন: পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে পৃথক রাজ্য গড়ার দাবিতে সোমবার থেকে কোচবিহার জেলা সদরে শুরু হয়েছে গণ-অনশন। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন এ কর্মসূচির ডাক দেয়। কোচবিহার শহরের রাসমেলা ময়দানে চলছে এ গণ-অনশন।

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১৩

সিরিয়ার বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হোমস শহরে গত দুই দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বার্তা সংস্থা এএফপিকে টেলিফোনে এ কথা বলেন।
রামি আবদেল রহমান বলেন, বিদ্রোহীদের দমনে সেনাবাহিনী গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার হোমস শহরের কিছু জায়গায় অভিযান চালায়। এ সময় সেনাবাহিনীর গুলিতে তাঁরা নিহত হন।

গিনির প্রেসিডেন্টের বাসভবনে রকেট হামলা

গিনির প্রেসিডেন্ট আলফা কোন্দের বাসভবনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গত সোমবার রাতে একটি রকেট ও গুলি ছুড়েছে। এতে একজন নিহত হয়। তবে কোন্দে অক্ষত রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে রাজধানী কোনাক্রির উপকণ্ঠে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ওই হামলা চালানো হয়। ওই হামলা এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির দীর্ঘ সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে কোন্দে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সিলোউ দালিয়েন দায়ালোকে পরাজিত করেন। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে গিনিতে এটাই প্রথম নির্বাচন।

গাদ্দাফির প্রতিনিধি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। গত রোববার বন্দর নগর ব্রেগায় এই গোপন বৈঠক হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও স্থানের ব্যাপারে কিছু বলেনি।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বৈঠকে কর্নেল গাদ্দাফির সরে যাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এদিকে লিবিয়া সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, লিবিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি সমর্থন করে। তবে তা হতে হবে পূর্বশর্ত ছাড়া।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা কর্নেল গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের এই স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন যে লিবিয়ার নেতাকে সরে যেতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বার্তাটি সাদামাটা ও দ্ব্যর্থহীন। আর তা হলো গাদ্দাফিকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। যাতে নতুন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম এ বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মতপার্থক্য দূর ও বন্ধন দৃঢ় করাই লক্ষ্য

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে খোলামেলা আলোচনা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুই নেতা এ কথা জানান। এ আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ও স্থান পাবে বলে তাঁরা সাংবাদিকদের জানান।
হ্যানোভারে দুই দেশের মন্ত্রীদের যৌথ বৈঠকে তাঁরা জ্বালানি, গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং ইউরো জোনের অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে আলোচনা করবেন। ওই যৌথ বৈঠকের আগে আইনের শাসন বিষয়ে দুই দিনের আলোচনার সমাপনী অধিবেশনে অংশ নেন মেদভেদেভ ও মেরকেল।
আলোচনায় মেরকেল বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেভাবে কাজ করার কথা, অনেক সময় সেভাবে কাজ করে না। গণতন্ত্রে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভিসার নিয়মকানুন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ধাপে ধাপে পরিকল্পনামাফিক কাজ করব।’
মেদভেদেভ বলেন, কোনো বিষয়ে চুপ করে থাকার চেয়ে তা নিয়ে যুক্তিতর্ক করা অনেক ভালো।
দুই দিনব্যাপী আলোচনার কো-চেয়ারম্যান সাবেক পূর্ব জার্মানির নেতা লোথার ডি মেইজিয়ের বলেন, ‘দেশের টেকসই আধুনিকায়নের জন্য আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত হয়েছি।’ তিনি বলেন, রাশিয়াকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও কাজ করতে হবে।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিকতর জুবকোভ বলেন, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানির বিষয়ও স্থান পাবে।
দুই দেশের নেতারা অর্থনীতি, রাজনীতি ও পরিবেশ নিয়ে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

গাজা-অভিমুখী ফরাসি ইয়ট ঘিরে ফেলেছে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের বহন করা গাজা অভিমুখী ফরাসি পতাকাবাহী ইয়ট গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের নৌবাহিনী ঘিরে ফেলেছে। এর আগে গাজার ওপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার অংশ হিসেবে গত শনিবার গ্রিক দ্বীপ থেকে ইয়টটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে ইয়টের পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা জুলিয়েন রিভোর বলেন, ‘স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিক থেকে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে ইসরায়েলের নৌবাহিনীর অন্তত তিনটি জাহাজ আল-করমা নামের ওই ইয়টকে ঘিরে রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইয়টের কর্মীদের সঙ্গে ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছি না।’
এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের নৌবাহিনী ও ইয়টের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে।’ ইয়টে তিনজন ক্রু ও তিনজন সাংবাদিকসহ ১৬ জন আরোহী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রখ্যাত কলামিস্ট ও ইসরায়েলের বামপন্থী হারেৎজ পত্রিকার সাংবাদিক আমিরা হাসও আছেন।
ইয়টের পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা বলেন, ‘ইয়টের দায়িত্ব নেওয়াসহ এর যাত্রীদের রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা ফরাসি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। ইসরায়েল যেন সহিংসতার আশ্রয় না নেয়, সেই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

হুগো চাভেজ আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ আগামী বছর পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে গত সোমবার নিশ্চিত করেছে সরকার। প্রেসিডেন্ট চাভেজ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো কিউবায় গেছেন।
চাভেজের অসুস্থতা নিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে কিছুটা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা কাটিয়ে উঠতেই সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি কিউবায় দ্বিতীয় দিন কেমোথেরাপি চিকিৎসার আগে চাভেজ বলেছেন, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি জয়ী হবেন।
গত মাসে কিউবায় চাভেজের টিউমার অপসারণে প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। গত শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো চিকিৎসা করাতে কিউবা যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট এলিয়াস জাওয়া ও অর্থমন্ত্রী জর্জ জিওর্দানির হাতে তাঁর কিছু ক্ষমতা দিয়ে যান। কিন্তু চাভেজবিরোধীরা তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের পুরোপুরি ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান।
গত সোমবার অর্থমন্ত্রী জিওর্দানি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে চাভেজ পুরোপুরি সক্ষম। আমি নিশ্চিত, প্রেসিডেন্ট ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। এরপর আরও বহু বছর তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
এদিকে, চাভেজ গত রোববার কেমোথেরাপি দেওয়ার আগে কিউবায় পৌঁছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইউরেনিয়ামের ‘সবচেয়ে বড়’ মজুদ আবিষ্কার ভারতে!

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের একটি খনিতে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের মজুদ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা এ দাবি করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরেনিয়ামের মজুদ হতে পারে।
ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগের সচিব শ্রীকুমার ব্যানার্জি বলেন, অন্ধ্র প্রদেশের তুমালাপল্লি খনিতে এক লাখ ৫০ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুদ থাকতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
খনিতে চার বছরের জরিপকাজ শেষ হওয়ার পর গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকাকে শ্রীকুমার ব্যানার্জি বলেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে খনিতে ৪৯ হাজার টন ইউরেনিয়াম আছে। এখন এ আভাস পাওয়া যাচ্ছে, খনিতে ইউরেনিয়ামের মোট মজুদ এর তিন গুণ হতে পারে। তিনি বলেন, যদি তা হয়, তাহলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইউরেনিয়ামের খনি।
প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছিল, ওই খনি থেকে মাত্র ১৫ হাজার টন ইউরেনিয়াম আহরণ করা সম্ভব হবে।
চলতি বছরের মধ্যেই ওই খনিতে কাজ শুরু হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই খনিতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তা দিয়ে আট হাজার মেগাওয়াটের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ৪০ বছর চালু রাখা সম্ভব।
পারমাণবিক শক্তি বিভাগের মুখপাত্র এস কে মালহোত্রা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তুমালাপল্লি খনির বিশেষজ্ঞরা ‘পুরোপুরি আশাবাদী’ যে শেষ পর্যন্ত এ খনি থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের পরিমাণ এক লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছাবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এ খনির ইউরেনিয়াম উচ্চ মাত্রার নয়, নিম্ন মাত্রার। অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া ইউরেনিয়ামের সঙ্গে তুলনা করার মতো উচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়াম ভারতে পাওয়া যায়নি।
ভারতের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি কয়লার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির মোট বিদ্যুতের তিন শতাংশেরও কম আসে পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে।

পাকিস্তানের ১৬ পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের ১৬ পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যার ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে তালেবান। এসব পুলিশ সদস্যকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। গত সোমবার পাকিস্তানের পুলিশ এ তথ্য জানায়।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভিডিওচিত্রটি গত ১ জুন ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই সময় আফগান সীমান্ত থেকে পাকিস্তানের ছয় কিলোমিটার অভ্যন্তরে আপার দিরের একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়েছিল তালেবান।
ভিডিওচিত্রটির অংশবিশেষ পাকিস্তানের জিও টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। লাইভলিক ডট কম নামের একটি ওয়েবসাইটেও ভিডিওচিত্রটি প্রচার করা হয়। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি একটি পাহাড়ের পাশে দাঁড়ানো। তাঁদের হাত ছিল পিঠমোড়া করে বাঁধা। তাঁরা যে পুলিশ সদস্য, ভিডিওতে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালাশনিকভ রাইফেল ও রকেটচালিত গ্রেনেডসজ্জিত একদল জঙ্গি পুলিশ সদস্যদের সামনে দাঁড়ানো। দাড়িওয়ালা এসব জঙ্গির পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ।
একপর্যায়ে জঙ্গিদের কমান্ডার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের ইসলামের শত্রু ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘এরা ধর্মের শত্রু। এরা ইসলাম ত্যাগ করেছে। আল্লাহ এ ধরনের লোকজনকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।’
তালেবান কমান্ডার পশতু ভাষায় বলেন, ‘লড়াইয়ের সময় আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। তারা সোয়াতে ছয় নিরাপরাধ শিশুকে হত্যা করেছে।’
এরপর কমান্ডারসহ অন্য জঙ্গিরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী মিয়া ইফতিখার হুসেন বলেন, আপার দিরে এ ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়েছে।
আপার দির জেলার পুলিশপ্রধান মির কাশিম খান বলেন, জঙ্গিদের গুলিতে নিহত ব্যক্তিরা পুলিশ। তিনি নিহতের সংখ্যা ১৮ বলে উল্লেখ করেন। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ১ জুন তাঁদের অপহরণ করা হয়।

পুতিনের ‘আর্মি’

পশ্চিমা বিশ্বে নির্বাচনী প্রচারণায় সুন্দরী তরুণীর ব্যবহার নতুন কিছু নয়। এর আগেও রাশিয়ায় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনকে আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়ে একঝাঁক সুন্দরী তরুণী অনলাইন প্রচারণায় নেমেছে। তাঁরা প্রিয় নেতার প্রশংসা করে বের করেছেন ভিডিও ক্লিপস।
সুন্দরী তরুণীর এ দলটি নিজেদের ‘পুতিনের আর্মি’ বলে অভিহিত করেছে। বলেছে, ক্রেমলিনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফের পুতিনকে দেখতে তাঁরা নগ্ন হয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ দলটি ‘পুতিনের জন্য আমি পোশাক খুলে ফেলব’ শীর্ষক একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেছে। পুরস্কার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে একটি আইপ্যাড টু। প্রতিযোগিতার নমুনা হিসেবে পুতিনের ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির সাংসদ কিরিল এসকিতভের ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও ছাড়া হয়েছে।
এ ভিডিওতে দেখা গেছে, উজ্জ্বল চুলের ডায়ানা নামের একজন সুন্দরী তরুণী উঁচু জুতা ও কালো স্যুট পরে মস্কোর রাস্তায় হাঁটছেন। তিনি বলছেন, ‘আমি একজনের ব্যাপারে পাগল, যিনি আমাদের দেশ বদলে দিয়েছেন।’ ডায়ানা বলতে থাকেন, ‘তিনি একজন বিশাল রাজনীতিবিদ। বিস্ময়কর চরিত্রের অধিকারী। তিনি আর কেউ নন, ভ্লাদিমির পুতিন।’
ডায়ানা বলেন, ‘তাঁকে লাখ লাখ লোক শ্রদ্ধা করে। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা তার কুৎসা রটায়। হয়তো তারা ভীতসন্ত্রস্ত। কেননা তারা দুর্বল। তারা জানে, পুতিনের জায়গা নিতে পারবে না।’
ভিডিওতে দেখা যায়, এরপর ডায়ানার সঙ্গে তাঁর দুই সুন্দরী বন্ধুর দেখা হয়। তাঁরা নদীর তীরে রৌদ্রস্নান করছেন। তাঁদের টি-শার্টে লাল লিপস্টিক দিয়ে লেখা, ‘পুতিনের জন্য আমি নগ্ন হব।’
এ সময় তাঁরা অন্য স্মার্ট ও সুন্দরী তরুণীদেরও পুতিনের জন্য একই কাজ করার আহ্বান জানান।
ভিডিওটির সঙ্গে ইউটিউবের একটি অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও একদল তরুণী তাঁদের প্রিয় নেতার প্রশংসা করেছেন।

নয় বছর পর বাবার স্মৃতিসৌধে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলেন সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি তাঁর বাবা ও দেশটির স্বাধীনতার বীর জেনারেল অং সানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ইয়াঙ্গুনে সমর্থকদের নিয়ে অং সানের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অং সানসহ কয়েকজন নেতাকে ১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই হত্যা করা হয়।
২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো সানের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন সু চি। গত নভেম্বর গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান তিনি।
অং সানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ইয়াঙ্গুনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সদর দপ্তরের বাইরে হাজার হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়। সু চি তাঁর বাবা সানের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সময় তাঁর ভাই অং সান ওও এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওই এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশ অবস্থান নিলেও তারা সু চির সমর্থকদের স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর অনুমতি দেয়।
শ্রদ্ধা জানানোর পর ইয়াঙ্গুনে এনএলডির সদর দপ্তরে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। অং সানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এনএলডির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, জেনারেল সানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিয়ানমারকে একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ ব্যাহত হয়। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে আবার রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অস্ত্র দিয়ে কোনো বিষয় মীমাংসার চেষ্টা দেশের ভবিষ্যতের জন্য সুখকর কিছু হবে না।

সানচেজকে বার্সায় চান গার্দিওলা

ডেভিড ভিয়া লিগে গোল করেছিলেন ১৮টি, সব মিলে ৫০ ম্যাচে ২৩টি। পেদ্রোর লিগে গোল ১৩, সব মিলে ৫৪ ম্যাচে ২২। এমনটাই কেটেছে বার্সেলোনার মূল দুই স্ট্রাইকারের গত মৌসুম। পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার না হয়েও লিওনেল মেসি ৫৫ ম্যাচে ৫৩ গোল করেছিলেন বলেই দুই স্ট্রাইকারের ব্যর্থতাটা সেভাবে চোখে পড়েনি। তবে কোচ পেপ গার্দিওলা স্পষ্টতই বুঝতে পারছিলেন, আরেকজন স্ট্রাইকার খুব দরকার।
রিয়ালের হোসে মরিনহো এবার নতুন করে ছক কষে নামবেন। এবার বার্সেলোনার চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। চেষ্টা চলছে তাই শক্তি বাড়ানোর। ফ্যাব্রিগাসকে আর্সেনাল থেকে ফিরিয়ে আনার আশা এখনো ছাড়েনি বার্সা। তবে মাঝমাঠে জাভি-ইনিয়েস্তারা আছেন বলেই গার্দিওলার মূল লক্ষ্য আক্রমণভাগ। গত পরশু প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়ার পর কাল সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেছেন, ‘একজন ফরোয়ার্ডই আমাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে আছে।’
সেই অগ্রাধিকার তালিকায় যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন অ্যালেক্সিস সানচেজ, সেটাও খোলাখুলি বলেছেন গার্দিওলা, ‘আমরা তিন-চারজনের কথা ভাবছি। আমরা যে ধরনের খেলোয়াড় চাইছি, তার সঙ্গে অ্যালেক্সিস সবচেয়ে বেশি মিলে যায়। সে তরুণ। তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেললে সে ভালো মানিয়ে নিতে পারবে।’
তিন স্ট্রাইকারের পরিকল্পনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই মৌসুমে আরও আক্রমণাত্মক বার্সেলোনাকেই দেখবে সবাই। তবে সানচেজের দিকে চোখ আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর ম্যানচেস্টার সিটিরও। তবে উদিনেসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সানচেজ বলে দিয়েছেন, ‘হয় বার্সায় যাব, নয়তো কোথাও নয়।’ চিলির আর্জেন্টাইন কোচ ক্লদিও বোর্গিও মনে করেন, সানচেজের খেলার ধরন ইংলিশ ফুটবলের চেয়ে স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গেই বেশি মানায়।

বাতিস্তাতেই আস্থা আর্জেন্টিনার

ম্যারাডোনাকে ফিরিয়ে আনো’— আর্জেন্টিনার সমর্থকদের একটা বড় অংশজুড়ে উঠে গেছে এই দাবি। কোপার কোয়ার্টার ফাইনালের চেয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল অর্জন হিসেবে তো অনেক বড়। ম্যারাডোনাকে ফিরিয়ে আনার দাবি মানেই তো সার্জিও বাতিস্তাকে ছাঁটাইয়ের দাবি। কিন্তু কোপার ব্যর্থতার পরও বাতিস্তার ওপরই আস্থা রাখছে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থা (এএফএ)। প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রন্ডোনার ছেলে এবং এএফএর শীর্ষ কর্মকর্তা হামবার্তো গ্রন্ডোনা বলেছেন, ‘বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। আমরা ওই পথে হাঁটব না। কেন দল ব্যর্থ হলো, সেটি খুঁজে বের করতে দলের কোচিং স্টাফদের যথেষ্ট সময় দেওয়া হবে।’
কোচ হিসেবে বাতিস্তা তাঁর সেরা খেলোয়াড়দের চেনেন না—এমন সমালোচনাই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। গ্রন্ডোনা জুনিয়র অবশ্য বলছেন, ‘বাতিস্তাকে অবশ্যই নিজের ভালোটা বুঝতে হবে। কোন খেলোয়াড় তাঁর কাজের নয়, সেটি খুঁজে বের করতে হবে। আশা করি, দলে সেই পরিবর্তন তিনি আনবেন। খেলার দৃষ্টিকোণ থেকে কোপা হয়তো আমাদের জন্য খুব ভালো যায়নি। কিন্তু সামনে (বিশ্বকাপ) বাছাইপর্বে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

ব্রডের আচরণে বিরক্ত ফ্লাওয়ার

ফর্মে নেই স্টুয়ার্ট ব্রড। আর সে কারণেই কাল থেকে লর্ডসে শুরু হওয়া ভারতের বিপক্ষে ‘ঐতিহাসিক’ টেস্টে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
লর্ডস টেস্টের জন্য ঘোষিত ইংল্যান্ড স্কোয়াডে অবশ্য রয়েছেন ব্রড। তবে একাদশে ঢুকতে তাঁকে লড়াই করতে হবে টিম ব্রেসনানের সঙ্গে। স্কোয়াডে থাকলেও আপাতত যে তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের সদয় বিবেচনায় নেই—তা পরিষ্কার হয়ে গেছে কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের কথাতেই। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে বাজে বল করা ব্রড সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, পরিসংখ্যান যেভাবে বলছে, ব্রড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঠিক তেমন খারাপ করেননি। একজন তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে তাঁর পারফরম্যান্সটা আরও ভালো হতে হবে।’
ফ্লাওয়ার ব্রডের আচরণের ব্যাপারেও কিছুটা বিরক্ত। তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটা সে উপভোগ করে। কিন্তু আচার-আচরণেও তাঁকে কিছুটা দায়িত্ব-সচেতন হতে হবে। তাঁকে আচার-আচরণে আরও সংযত হতে হবে।’
কাল লর্ডসে ব্রড খেলবেন কি না, এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি ফ্লাওয়ার। কিছুটা কৌশলী ঢংয়েই তিনি বলেছেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রড আমাদের দল নির্বাচনের অংশ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘লর্ডস টেস্টের জন্য আমরা আমাদের সেরা একাদশটাই বেছে নেব।