Friday, May 7, 2010

শতবর্ষে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর by মুহাম্মদ লুৎফুল হক

১৮১৪ সালে হেনরি ক্রেটনের রুইনস অব গৌড় বইটি লন্ডন থেকে প্রকাশ পায়। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্ন নিদর্শনের বিষয়ে এটিই প্রথম প্রকাশিত বই। সরকারি উদ্যোগে ১৮৬১ থেকে ১৮৮৫ সালের মধ্যে আলেকজান্ডার কানিংহাম দুই দফায় সারা ভারতের প্রত্ন নিদর্শনের জরিপ করেন। কানিংহামের জরিপে বরেন্দ্র অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা বিশেষত গৌড়ের প্রত্ন নিদর্শনগুলো স্থান পায়। একই সময়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকও সরকারের কাছে পেশ করেনজেলার প্রত্ন নিদর্শন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন।
উনিশ শতকের শেষার্ধে রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকার প্রাচীন ইতিহাসের বিষয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন; হিন্দু রঞ্জিকা পত্রিকা এ বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখে। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় পেশায় আইনজীবী হলেও সে যুগে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ইতিহাস চর্চার সূত্রপাত করেন। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়কে ঘিরে রাজশাহীতে একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে। এ দলে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন কুমার শরৎ কুমার রায় (দিঘাপতিয়ার জমিদার), রমা প্রসাদ চন্দ প্রমুখ। ১৯০৭ সালে মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনের প্রথম অধিবেশনে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় বাংলাদেশের কেন্দ্রস্থলে প্রাচীন পুঁথি, উপকথা, কিংবদন্তি, পুরাকীর্তি ইত্যাদি সংগ্রহ, সংকলন ও সংরক্ষণের জন্য একটি ‘স্বারস্বত ভবন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখেন। ১৯০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বগুড়ায় উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মিলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে রাজেন্দ্র লাল আচার্য্যের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রত্ন নির্দশন উপস্থাপনের সংবাদে অক্ষয় কুমার বগুড়া আসেন। উত্তরবঙ্গ বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলনে এসব সংগৃহীত প্রত্ন নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
১৯১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাগলপুরে বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মিলন অধিবেশনে রাজশাহী থেকে অক্ষয় কুমার, শরৎ কুমার এবং রমা প্রসাদ যোগ দেন। ওই এলাকার প্রত্ন নিদর্শন দেখে জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। ১৯১০ সালের এপ্রিল মাসে তাঁরা বরেন্দ্র এলাকায় পুরাকীর্তি সংগ্রহ শুরু করেন। ১৯১০ সালের জুন মাসে প্রত্ন নিদর্শন সংগ্রহের জন্য তাঁরা দ্বিতীয় দফায় সফর করেন। ওই সফরে আরও যোগ দেন রাজেন্দ্র লাল আচার্য্য ও শ্রীরাম মৈত্র। এই সফরকালে নিজেদের সংগঠিত করার জন্য একটি সমিতি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি (Varindra Research Society) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কুমার শরৎ কুমার রায়, অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং রমা প্রসাদ চন্দ যথাক্রমে সভাপতি, পরিচালক এবং সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
প্রথম সফরে সংগৃহীত প্রত্ন নিদর্শনগুলো শরৎ কুমারের বড় ভাই প্রমদানাথ রায়ের রাজশাহীর বাড়ির (সাবেক বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়) উঠানে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়। সংগ্রহের সংখ্যা বাড়তে থাকলে উঠানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৯১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী পাবলিক লাইব্রেরির নিচতলার দুটি ঘরে সেগুলো স্থানান্তর করা হয়। এখানে এটি একটি প্রত্ন সংগ্রহশালা বা জাদুঘরের রূপ নেয়। বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি গঠনের পর এই জাদুঘর সমিতির অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংগঠনের স্বীকৃতি পায়। ১৯১০ সালের এপ্রিল মাসে প্রমদানাথের উঠানে বরেন্দ্র জাদুঘরের প্রদর্শনী শুরু হলেও সরকারিভাবে ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরকে বরেন্দ্র জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা দিবস ধরা হয়, কারণ, এ দিন থেকে পাবলিক লাইব্রেরিতে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রার শুরু হয়। ১৯১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পাবলিক লাইব্রেরিতে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির সংগ্রহশালার প্রদর্শন বহাল থাকে। ১৯১৬ সালে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে জাদুঘর সম্পর্কে ও মেলি উল্লেখ করেন, ‘রামপুর বোয়ালিয়ার (রাজশাহী শহরের পুরাতন নাম) সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান হলো বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির জাদুঘর, যেটি এখন পাবলিক লাইব্রেরিতে স্থাপিত হয়েছে’।
১৯১৯ সালের নভেম্বরে জাদুঘরের নিজস্ব ভবন নির্মাণ হওয়ার পর অনুসন্ধান সমিতির প্রত্ন সংগ্রহ বর্তমান স্থান অর্থাৎ জাদুঘরের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। ভবন নির্মাণের জন্য জমি দান করেন প্রমদানাথ রায়। জাদুঘর নির্মাণে ব্যয় হয় ৬৩ হাজার টাকা, যার পুরোটাই বহন করেন শরৎ কুমার রায় ও বসন্তকুমার রায়। ১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল এবং ১৯১৯ সালের ২৭ নভেম্বর জাদুঘর উদ্বোধন করেন বাংলার আর এক গভর্নর লর্ড রোনাল্ডস। জাদুঘর তার আয়ুষ্কালে দুবার বড় ধরনের হোঁচট খায়। ১৯১১ সালে কলকাতা জাদুঘর বরেন্দ্র জাদুঘরের দুষ্প্রাপ্য ও অদ্বিতীয় সংগ্রহগুলো দাবি করে বসলে জাদুঘরের অস্তিত্বের সংকট দেখা দেয়। রাজশাহীর তদানীন্তন বিভাগীয় কমিশনারের প্রচেষ্টা এবং গভর্নর লর্ড কারমাইকেলের সহযোগিতায় এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। ১৯৪৭-পরবর্তী সময়ে জাদুঘর আরেকবার অস্তিত্ব-সংকটের মুখোমুখি হয়। এ সময় জাদুঘরের প্রধান উদ্যোক্তা এবং পরিচালকেরা দেশত্যাগ করলে জাদুঘরটি অভিভাবকশূন্য হয়ে যায়। ১৯৬২ সালে জাদুঘরের তদানীন্তন কিউরেটর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এ আর মল্লিকের প্রচেষ্টায় জাদুঘরটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হলে এটি নতুন জীবন লাভ করে।
বরেন্দ্র জাদুঘর দেশের প্রাচীনতম জাদুঘর এবং এখানে আছে বাংলার প্রস্তর নির্মিত ভাস্কর্যের সবচেয়ে বড় মজুদ। বরেন্দ্র জাদুঘর অবিভক্ত বাংলার দ্বিতীয় প্রাচীনতম জাদুঘর, এর আগে ১৮১৪ সালে কলকাতা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করে আর ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯১৩ সালে।
১৯১০ সালের এপ্রিলে প্রমদানাথ রায়ের বাড়ির উঠানে অল্প কিছু প্রত্ন নিদর্শন নিয়ে যে জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়, তা আজ শতবর্ষ পূর্ণ করল। ১০০ বছরে এখানে প্রত্ন নিদর্শন, মুদ্রা, মূর্তি, পাণ্ডুলিপি, পুস্তকের সংগ্রহ শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রকাশিত হয়েছে সমৃদ্ধ প্রকাশনা, গবেষকেরা এ জাদুঘরের সাহায্য নিয়ে গবেষণাকর্ম সমাধা করেছেন। বরেন্দ্র জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা পরবর্তীকালে এর অনেক সংগ্রহ কলকাতা এবং ঢাকা জাদুঘরে স্থানান্তর করে ওই সব জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। এই জাদুঘরে এমন অনেক সংগ্রহ আছে, যা অদ্বিতীয় এবং পৃথিবীর আর কোথাও তা নেই। জাদুঘরের সংগ্রহে তিন হাজার ভাস্কর্য, পাঁচ হাজার মুদ্রা, এক হাজার ৭৩টি টেরাকোটা, ৩২টি শিলালিপি, ২৫০টি ধাতব সামগ্রী, ২০০ অলংকার এবং ৭০০ বিবিধ সামগ্রীসহ প্রায় ১০ হাজার প্রাচীন কালের নিদর্শন আছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার ৩০০ পাণ্ডুলিপি এবং ১৩ হাজার মূল্যবান বই ও পত্রিকা মজুদ আছে। বরেন্দ্র জাদুঘরের প্রায় ১০০-র অধিক প্রকাশনা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক মানের। এগুলোর বেশির ভাগই এখন দুষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে।
বাংলাদেশে শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম, আর এ ধরনের গবেষণা বা শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তো হাতে গোনা। পৃথিবীর অন্য কোনো এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখা হতো, কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভিন্ন। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের শতবর্ষ নিয়ে বিশেষ কারও যে খুব একটা চিন্তা আছে তা মনে হচ্ছে না। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শতবর্ষ উদ্যাপনের এখনো কোনো পরিকল্পনা হাতে নেয়নি, তারা তাকিয়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। হয়তো শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে একটা দায়সারা অনুষ্ঠান হলেও হতে পারে এবং তা কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমিত থাকবে, যার মধ্যে একাডেমিক ফ্লেভার বা পাণ্ডিত্যের স্বাদ নাও থাকতে পারে। এপ্রিল মাস তো চলেই গেল, তবে শতবর্ষ উদ্যাপনটা সেপ্টেম্বর মাসেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উদ্যোগটা এখনই শুরু করতে হবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বড় কোন প্রতিষ্ঠানকে পাওয়া দুরূহ হবে না। আশা করছি যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তথা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর তাদের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাদুঘরকে নতুন করে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করবে এবং একই সঙ্গে তার ঐতিহ্য ও সুনামকে পুনরুদ্ধার করবে।
মুহাম্মদ লু্ৎফুল হক: গবেষক।
lutful55@gmail.com

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার

একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া এক বড় ধাক্কা খেল এই অপরাধ তদন্তে গঠিত সংস্থার প্রধান আবদুল মতীনের পদত্যাগের ঘটনায়। বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, আবদুল মতীন বুধবার স্বেচ্ছায় স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে একে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বলা যাবে না। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এবং এরপর এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো, এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়নি। ঘটনাটি মানবতাবিরোধী বিচারের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গত ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে সরকার যখন আদালত, আইনজীবী প্যানেল ও তদন্ত সংস্থা নিয়োগ দেয়, তখনই নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করতে যে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা অনেকেরই নেই। আইনজীবীদের প্যানেলও জনমনে আশা জাগায়নি। ৩৯ বছর আগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অনেক তথ্য-প্রমাণ ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে যাঁরা এ বিচারের বিরোধী, তাঁরাও বসে নেই। তাঁরা বিদেশ থেকে আইনজীবী আনারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মোকাবিলায় প্রয়োজন একদল অভিজ্ঞ ও চৌকস আইনজীবীর।
পদত্যাগী প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মতীনের সমালোচনা হয়েছে নৈতিক অবস্থান থেকে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে ষাটের দশকের প্রথমার্ধে তিনি বি এম কলেজের ছাত্র থাকাকালে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবদুল মতীন অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ হচ্ছে, তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরিতে ঢুকেছেন ১৯৭১ সালের অক্টোবরে, যা আবদুল মতীন নিজেও স্বীকার করেছেন। এটা যদি ন্যায়সংগত না হয়ে থাকে তবে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার আগে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি কেন?
বোঝা যায় বিষয়টির গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেনি সরকার। মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে গঠিত কমিশনে গ্রহণযোগ্য এবং যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন এমন একজন খুঁজে পাওয়া নিশ্চয় কঠিন নয়, যাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠার সুযোগ ছিল না। তা ছাড়া মাস দেড়েক আগে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তকাজ শুরু হয়নি; তদন্ত কর্মকর্তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করাও দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ একটি বড় ধাক্কা বলেই মানতে হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে এ ধরনের গাফিলতি অমার্জনীয়। যাদের ঔদাসীন্য ও ব্যর্থতার কারণে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল, তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারেরই। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ব্যাপারে সরকার জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারও গাফিলতি বা অদক্ষতায় এর বিচারকাজ ব্যাহত বা ভণ্ডুল হতে দেওয়া যায় না।

ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকে যোগ দিচ্ছেন

ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মুল্যানি ইন্দ্রবতী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক বলেন, তিনি ব্যাংকটির গ্রাহকদের সমর্থন বাড়ানো এবং কিছু সংস্কার সাধনের যে পরিকল্পনা করেছেন, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন ইন্দ্রবতী।

যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ফার্স্ট লেডি

ব্রিটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে আজ ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। গর্ডন ব্রাউন, ডেভিড ক্যামেরন ও নিক ক্লেগের মধ্যে যিনিই প্রধানমন্ত্রী হোন, তাঁর কাঁধে চাপবে সীমাহীন দায়িত্বের বোঝা। পাশাপাশি নিজেকে প্র্রধানমন্ত্রীর যোগ্য স্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করতে ‘ফার্স্ট লেডি’কেও যথেষ্ট চাপে পড়তে হবে।
ফার্স্ট লেডি বলে সরকারিভাবে কোনো পদবি নেই। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও নেই। তার পরও সাধারণ মানুষের কাছে ফার্স্ট লেডি যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সে কারণেই বিশ্ববাসীর আলোচনায় নিজেকে অনন্য হিসেবে ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর জীবনসঙ্গীদের (স্বামী অথবা স্ত্রী) চাপে থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর জীবনসঙ্গীর ভূমিকা প্রসঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের স্বামী জোভিয়াল ডেনিস থ্যাচার বলেন, সশরীরে উপস্থিত না থেকেও প্রধানমন্ত্রীর পাশে সব সময় ফার্স্ট লেডিকে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে হবে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ চার্লি বেকেট বলেছেন, ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর কী করণীয়, তা তাঁকেই ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, মজার ব্যাপার হলো, এই যুগেও স্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ পদের সহায়ক অবলম্বন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের স্ত্রী সারাহ ব্রাউন ইতিমধ্যে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের খুঁটিনাটি আয়ত্ত করেছেন। বিভিন্ন সেবামূলক কাজে জড়িত থাকার সুবাদে ইতিমধ্যে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সামাজিক ওয়েবসাইট টুইটারে তাঁর ১০ লক্ষাধিক ভক্ত রয়েছে।
সারাহ ব্রাউনের তুলনায় জনপ্রিয়তার দৌড়ে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছেন ক্যামেরনের স্ত্রী সামান্থা ক্যামেরন এবং নিক ক্লেগের স্ত্রী মিরিয়াম গনজালেস দ্রুয়ান্তেজ। শুরুতে সামান্থা ব্রিটিশদের কাছে তেমন পরিচিত মুখ ছিলেন না। তবে সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও স্বামীর নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিয়ে দ্রুত আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ চার্লি বেকেট বলেন, প্রচারণার শুরুতে রক্ষণশীলেরা যথাযথভাবেই সামান্থাকে ব্যবহার করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, সামান্থার চরিত্র বিশ্লেষণে মনে হয়, নিশ্চিতভাবেই তিনি আলোচনায় থাকার বিষয়টি উপভোগ করেন না।
সামান্থা বর্তমানে ব্রিটেনের বিলাসবহুল প্রকাশনা সংস্থা স্মিথসনের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ধারণা করা হচ্ছে, ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি চাকরি ছাড়বেন না।
তবে সামান্থা বলেছেন, তিনি যত দূর পারবেন স্বামীকে সহায়তা করবেন।
অন্যদিকে নিক ক্লেগের স্পেনিশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী গনজালেস একেবারেই অপরিচিত মুখ। পেশায় আইনজীবী। গনজালেসের উপার্জন তাঁর স্বামীর চেয়ে অনেক বেশি। স্বামীর চেয়ে তাঁর ব্যস্ততাও কম নয়। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গত সপ্তাহান্তে মাত্র একবার গিয়েছিলেন। নিক ক্লেগ বলেছেন, তাঁর স্ত্রী কী নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে বেকেট বলেন, ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন হচ্ছে পৃথিবীর কঠিনতম ‘রাজনৈতিক চাকরি’।

৫০ হাজার সেনা মোতায়েন

উত্তর কোরিয়া গতকাল বুধবার তার সীমান্ত এলাকায় আরও ৫০ হাজার বিশেষ সেনা মোতায়েন করেছে। ২৬ মার্চ সিউলের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেলে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় তারা এ সৈন্য মোতায়েন করল।
দক্ষিণ কোরিয়ার অজ্ঞাত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপকে বলেন, গত দু-তিন বছর ধরেই সীমান্ত এলাকায় উত্তর কোরিয়া সেনা মোতায়েন জোরদার করছে এবং সাত হাজার শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে।

হুমকির মুখে ৬০০ প্রজাতির প্রাণী

মেক্সিকো উপসাগরের তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণে সমুদ্রের পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ফলে ৬০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
লুইজিয়ানার বন্য প্রাণী ও মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৪৪৫ প্রজাতির মাছ, ১৩৪ প্রজাতির পাখি, ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ৩২ প্রজাতির সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী হুমকির মুখে পড়েছে। পাখির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে বাদামি রঙের বড় আকৃতির পাখি পেলিকান। জীববিজ্ঞানী রবার্ট লোভার বলেন, এ পাখি উপকূলীয় দ্বীপে ডিম পাড়ে। এরা ছড়িয়ে পড়া তেলে আক্রান্ত হওয়া মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
একই হুমকিতে আছে সমুদ্রের নিকটবর্তী জলাভূমির দীর্ঘপদের পাখি প্লোভার, শঙ্খচিলজাতীয় পাখি রয়াল টার্ন ও গাঙশালিক।
সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে হুমকিতে রয়েছে বিপন্নপ্রায় কেমপস রিডলি প্রজাতির কচ্ছপ। কেননা, ডিম পাড়ার মৌসুম শুরু হয়েছে। তেল ছড়িয়ে পড়ায় তাদের আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুমির, ব্যাঙ ও সামুদ্রিক সাপ এবং অনেক প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়াজাতীয় প্রাণীও একই রকম বিপদে আছে।

ব্যয় হ্রাস ও কর বৃদ্ধি পরিকল্পনার প্রতিবাদে ধর্মঘটে অচল গ্রিস

পরিকল্পিত ব্যয় হ্রাস এবং কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে গ্রিস। সরকারি কর্মচারীদের ডাকা গত মঙ্গলবার থেকে দুই দিনের এ ধর্মঘটে পরিবহন শ্রমিকেরা যোগ দেওয়ায় বাস, ট্রেন, বিমান ও ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রিস থেকে দেশের বাইরে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বুধবার সকালেও ট্রেন বা ফেরি চলাচল করেনি। এ ছাড়া বিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ বেশির ভাগ অফিস বন্ধ ছিল।
রাজধানী এথেন্সের মধ্যভাগে গতকাল বুধবার একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করার কথা ছিল। আগের দিন মঙ্গলবার কয়েক হাজার ছাত্র-শিক্ষক কালো পতাকা ও ব্যানার নিয়ে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হচ্ছে। তবে কিছু বিক্ষোভকারী পার্লামেন্টের সামনে দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে সামান্য বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
ঋণগ্রস্ত অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ইউরো সাহায্য নিশ্চিত করতে গ্রিস সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের যে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা, অবসর-ভাতা কমানো এবং কর বৃদ্ধি। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আগামী তিন মাসে বাজেটে খরচের অঙ্ক তিন হাজার কোটি ডলার কমাতে চায়। এসব নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে গ্রিস পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হতে পারে

আফিয়া সিদ্দিকীর বোনকে হাকিমুল্লাহ মেহসুদের চিঠি

হত্যাচেষ্টার দায়ে মার্কিন আদালতে দোষী সাব্যস্ত পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীর বোন ফৌজিয়া সিদ্দিকীকে প্রায় দুই মাস আগে একটি চিঠি লিখেছেন পাকিস্তানি তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘মনে রাখার মতো’ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের সংবাদ চ্যানেল ডন এ কথা জানিয়েছে।
ডন জানায়, ফৌজিয়াকে লেখা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে মনে রাখার মতো জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদ।
ওই চিঠির সূত্র ধরে ডন মনে করছে, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার সঙ্গে হাকিমুল্লাহর হাত থাকতে পারে। চিঠিতে আফিয়ার বোন ফৌজিয়াকে নিজের বোন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাঁকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন হাকিমুল্লাহ। চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
চিঠিতে হাকিমুল্লাহ আরও বলেন, পাকিস্তানি নেতাদেরও ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়া হবে। হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার কয়েক দিন পর এ খবর প্রচারিত হলো। ভিডিওতে শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহরে হামলার হুমকি দিয়েছেন হাকিমুল্লাহ মেহসুদ।

পলিগ্রাফ পরীক্ষা নিষিদ্ধ করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিকে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের পদ্ধতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আদালত বলেছেন, এ পদ্ধতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এ নিয়মে জিজ্ঞাসাবাদের আগে সন্দেহভাজন আসামির সম্মতি নেওয়া জরুরি। অনুমতি ছাড়া এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে না। এমনকি এ পদ্ধতিতে পাওয়া বক্তব্যকে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা যাবে না।
প্রধান বিচারপতি কে জি বালাকৃষ্ণের নেতৃত্বাধীন তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রায় দেন। কয়েকজন অভিযুক্ত আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দিয়ে বলেছেন, ‘নারকো, ব্রেন ম্যাপিং ও পলিগ্রাফ পরীক্ষা (ছকচিত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কম্পন পরিমাপ যন্ত্রের সাহায্যে জিজ্ঞাসাবাদ) অবৈধ। এ পদ্ধতিতে মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার লঙ্ঘন হয়।
ভারতীয় পুলিশ সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলায় সন্দেহভাজন আসামিদের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি ক্ষতি হবে: আহমাদিনেজাদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত মঙ্গলবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন করে তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি ক্ষতিকর হবে। এ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা দুটি দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা বন্ধ করে দেবে। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানাই না এবং এটাকে আমরা ভয়ও পাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এতে আমাদের চেয়ে মার্কিন সরকারের বেশি ক্ষতি হবে।’
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। কারণ, ৩১ বছর ধরে এটি আমাদের ওপর আরোপ আছে। এটা খুবই স্পষ্ট, যদি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। এ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা কোনো ধরনের পরিবর্তন বয়ে আনবে না।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই আমাদের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কোনো নিষেধাজ্ঞা ইরানকে দমাতে পারবে না। ৪০ বছর আগের চেয়ে ইরান এখন অনেক বেশি অগ্রগামী ও শক্তিশালী।’
জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বাগ্যুদ্ধের এক দিন পর নিউইয়র্কে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আহমাদিনেজাদ আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কখনোই তাদের সম্পর্কের আর উন্নতি ঘটবে না।
এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য ও জার্মানি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে চতুর্থবারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকোভ বলেন, ‘আমি আশাবাদী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে চতুর্থবারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে আমরা একটি মতৈক্যে পৌঁছাতে পারব।’
এ দিকে ওয়াশিংটনে এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ বলেছেন, আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন তেহরানে নয়, ওয়াশিংটনে লুকিয়ে আছেন। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বিন লাদেন ইরানে থাকতে পারেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
আহমাদিনেজাদ বলেন, লাদেনের ওয়াশিংটনেই আশ্রয় নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তিনি শুনেছেন, লাদেন সেখানেই আছেন; কারণ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাঁর একসময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘তাঁরা পুরোনো সহকর্মী। একসময় একসঙ্গে তেলের ব্যবসা করতেন। সেই সুবাদে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তেহরান কখনোই লাদেনকে সহায়তা করেনি, সহায়তা করেছেন বুশ।’
আহমাদিনেজাদ আরও বলেন, লাদেনকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অভিযান চালিয়েছিল। সম্ভবত তাঁরা জানতেন, লাদেন কোথায় ছিলেন। না জানলে কেন তাঁরা সেখানে হামলা করবেন?

ফয়সাল শাহজাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ফয়সাল শাহজাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার এসব অভিযোগ আনা হয়। এরই মধ্যে হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন শাহজাদ।
ফয়সাল শাহজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নরহত্যার জন্য শনিবার নিউইয়র্কের একটি ব্যস্ততম এলাকায় গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেগুলো হলো—আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নরহত্যার চেষ্টা, ধ্বংসাত্মক যন্ত্র উপকরণ বহন, বিস্ফোরক পরিবহন ও ভবন ধ্বংসের চেষ্টা। দোষী সাব্যস্ত হলে শাহজাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার বলেছেন, বোমা হামলার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন শাহজাদ। তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার—দেশের অন্যতম ব্যস্ততম একটি জায়গায় মার্কিন নাগরিকদের হত্যার জন্যই ওই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের উপপরিচালক জন পিস্তোল বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাদ সহযোগিতা করছেন এবং মূল্যবান তথ্য ও প্রমাণাদি দিয়েছেন।
আদালতের কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, শাহজাদ তদন্তকারীদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার শাহজাদকে আদালতে তোলার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তবে এই বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাননি কর্মকর্তারা।
ফয়সাল শাহজাদ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন—সে সম্পর্কে তথ্য আসতে শুরু করেছে। সরকারের নো-ফ্লাই তালিকায় তাঁর নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি এমিরেটস এয়ারলাইনসের দুবাইগামী একটি বিমানের টিকিট কিনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তিনি টিকিট বুক করেন ও টিকিটের মূল্য নগদ অর্থে পরিশোধ করেন। বিমান উড্ডয়নের ৩০ মিনিট আগে কাস্টমস এজেন্টরা যাত্রীতালিকা পরীক্ষা করেন এবং ওই সময় শাহজাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিট আগে বিমানটি থামানো হয়। গতকাল এমিরেটসের একজন কর্মকর্তা জানান, একমুখী টিকিট কিনেছিলেন শাহজাদ। তাঁর গন্তব্য ছিল দুবাই হয়ে ইসলামাবাদ।
টাইমস স্কয়ারে গাড়িবোমা হামলার চেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানি-বংশোদ্ভূত এক মুসলিমের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। তিনি বলেন, পাকিস্তানি ও মুসলিম নিউইয়র্কবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ সহ্য করা হবে না।
অবাক শাহজাদের গ্রামের মানুষেরা: ফয়সাল শাহজাদের বাড়ি পাকিস্তানের পেশোয়ারের প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের মোহিব বান্ধা গ্রামে। তাঁর বাবা বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের ছেলে শাহজাদের এমন কাণ্ডে অবাক তাঁর গ্রামের মানুষ। তাঁরা বলছেন, শাহজাদের মধ্যে তাঁরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা কিংবা কট্টর পন্থার প্রতি দুর্বলতা দেখেননি।
পাকিস্তানে আটক সাত: ফয়সাল শাহজাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, ফয়সালাবাদ ও করাচি থেকে কমপক্ষে সাত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের অজ্ঞাত জায়গায় নেওয়া হয়েছে।

ডাকযোগে ভোটে বড় জালিয়াতির অভিযোগ

নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে পোস্টাল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ৫০টি অভিযোগ তদন্তের তালিকা করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। অসততাবিরোধী আন্দোলনকর্মী মার্টিন বেল ডেইলি মেইল পত্রিকাকে বলেছেন, চূড়ান্ত বাস্তবতা হচ্ছে এই ভুয়া ভোটাররাই হয়তো বদলে দিতে পারেন ভোটের হিসাব-নিকাশ।
যুক্তরাজ্য-জুড়ে মোট চার কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৭০ লাখ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। আর জমাকৃত ভোটের মধ্যে মেট্রোপলিটন পুলিশ লন্ডনের ১২টি বারার ২৮টি গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের অভিযোগ তদন্ত করতে কাজ করছে চারটি পৃথক দল। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল ভোট নিবন্ধনের শেষ দিন তারা পাঁচ হাজার ১৬৬ জন নতুন ভোটারের নাম নিবন্ধন করেছে। এত অল্প সময়ে এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই করার সুযোগ ছিল না।
তদন্তে দেখা গেছে, পূর্ব লন্ডনের চার বেড রুমের একটি ফ্ল্যাটে ১৮ জন ভোটারের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। এ ধরনের কাউন্সিল ফ্ল্যাটে যেখানে দুই-তিনজন পূর্ণ বয়স্ক লোক থাকার কথা, সেখানে ভোটার-সংখ্যা এখন ১৮! তদন্তকারী প্রতিনিধিদল সরেজমিনে গিয়ে ওই ফ্ল্যাটে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি তালিকার অন্য ভোটারদের শনাক্ত করতে পারেননি। আসিফ জানিয়েছেন, তালিকায় নিবন্ধিত ভোটাররা ওই বাড়িতে থাকেন না। লন্ডনে, বিশেষ করে ছাত্রদের চিঠিপত্রের জন্য, পরিচিত বাঙালিদের ফ্ল্যাটগুলোর ঠিকানা ব্যবহারের চল আছে। এ রকম ঠিকানায় অনেকে ভোটারও হন। এটি সে রকম কিছু, নাকি আসলেই ভুয়া ভোটার, তা তদন্তে নিশ্চয়ই বের হয়ে আসবে।
পূর্ব লন্ডনের রেইনহিল ওয়ে এলাকার একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে এক মাস আগে যেখানে ভোটার ছিল পাঁচজন, সেখানে এখন ভোটার-সংখ্যা ১২। জাতীয় দৈনিক ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টের সাংবাদিক জেরেমি টেইলর এর কারণ জানতে ফ্ল্যাটের দরজায় টোকা দিলে স্থানীয় বখাটেরা তাঁকে পিটিয়ে নাক ভেঙে দিয়েছে। গেইল স্ট্রিটের মোহাম্মদ হোসেন দুই বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। তিনি জানেনই না কে তাঁর নাম নিবন্ধন করেছে। অভিযোগ ওঠা এলাকাগুলোতে লেবার দলীয় বাঙালি কাউন্সিলর সিরিয়া খাতুন ও খালিস উদ্দীনের বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কনজারভেটিভ কাউন্সিলর পিটার গোল্ড অভিযোগ করেছেন, সব ভুয়া ভোটারই বাংলাদেশি। তিনি দাবি করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে ভিজিটর ভিসায় এসেও তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ২০০৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোট ভোটের শতকরা ১৫ ভাগ ছিল পোস্টাল। চলতি বছর এই সংখ্যা শতকরা ২০০ ভাগ বাড়তে পারে বলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ধারণা। নির্বাচন কমিশন সাত বছর আগে সতর্ক করেছিল, পোস্টাল ভোট পদ্ধতি চালু করলে জালিয়াতির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। সে সময় প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, পোস্টাল ভোট পদ্ধতি কার্যকর করার আগে অবশ্যই ভোটারদের হাতে আইডি কার্ড যেতে হবে। কিন্তু ভোটাররা সেই আইডি কার্ড পাননি।
এ ধরনের পোস্টাল ভোট জালিয়াতির ঘটনা ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।
মার্টিন বেলের বক্তব্য, ডাকযোগে ভোটের এই বেহাল অবস্থার কারণে নির্বাচন-প্রক্রিয়ার ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাঁর অভিমত, পোস্টাল ভোট গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোটা ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরাট ভুল।

আইসিসি খুশি

২০০৭ বিশ্বকাপে বড় দর্শক-খরা দেখেছে আইসিসি। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্যালারি যে একেবারে দর্শকে ঠাসা, তা নয়। তবে দর্শকের উপস্থিতি এবার বেড়েছে। আর এর পেছনে আইসিসি বড় করে দেখছে তাদের একটি সিদ্ধান্তকেই। ২০০৭ বিশ্বকাপে দর্শকদের ঢাকঢোল ও বাদ্য-বাজনা নিয়ে মাঠে ঢোকায় বিধিনিষেধ ছিল। সেই বিধিনিষেধ এবার তুলে নিয়েছে আইসিসি। আর এতে ক্যারিবীয়রা যে সাড়া দিয়েছে, তা দেখে উচ্ছ্বসিত আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত, ‘দর্শককে মাঠে ফিরিয়ে আনতে কী করতে হবে, সেটা বুঝতে পেরেছিলাম আমরা। এখন ফলটা দেখাই যাচ্ছে। স্থানীয় দর্শকদের তাদের প্রিয় বাদ্য-বাজনা নিয়ে মাঠে আসতে দেওয়াটাই একটা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে

দুই স্বাগতিকের ম্যাচে জিতল শুধু ফেনী

সিটিসেল বাংলাদেশ লিগে কাল ছিল তিনটি ম্যাচ। কিন্তু ঢাকার বাইরের খেলা দুটি হলেও ঢাকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফেনীতে রহমতগঞ্জকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্থানীয় ফেনী সকার। চট্টগ্রামে অবশ্য জিততে পারেনি স্থানীয় চট্টগ্রাম আবাহনী। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানির দল শুকতারার কাছে হারতে হয়েছে ১-০ গোলে।
ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে চলছে জাতীয় অ্যাথলেটিকস। যে জন্য বিকেল ৪টায় নির্ধারিত শেখ রাসেল-বিয়ানীবাজার ম্যাচটি নিয়ে যাওয়া হয় সন্ধ্যা ৬টায়। কিন্তু খেলাটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সন্ধ্যার পর ফ্লাডলাইটে কোনো খেলা চালানো যাবে না—সরকারি এই নির্দেশ পেয়েই ম্যাচ স্থগিত রাখে বাফুফে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুত্ কম ব্যবহার করার জন্য একটি আদেশ জারি করেছেন আদালত। যে কারণে খেলাটি চালাতে হলে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারস্থ হতে হতো বাফুফেকে। কিন্তু সেই জটিলতায় না গিয়ে দুটি ম্যাচই স্থগিত করেছে বাফুফে। যে জন্য শেখ রাসেল ও বিয়ানীবাজারের ম্যাচটি হয়নি। দুই দিনব্যাপী অ্যাথলেটিকস চলার কারণে মুক্তিযোদ্ধা-আরামবাগের আজকের ম্যাচটিও স্থগিত করা হয়েছে। এই দুই দিনের ম্যাচ হবে ৭ ও ৮ মে। বি-লিগের অন্য ম্যাচগুলোর তারিখও এই অনুযায়ী বদলে যাবে।
ফেনীতে প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল রহমতগঞ্জই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ধরে রাখতে পারেনি তারা। ফেনী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ২৬ মিনিটে রহমতগঞ্জ ইদ্রিসের গোলে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ফেনী সকার। ৬৩ মিনিটে রাজুর দুর্দান্ত এক শটে সমতায় ফেরে ফেনী। আর ৭৫ মিনিটে সকারের আনোয়ারের গোলে ২-১ পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল। ৬৬ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে তাঁরা মাঠ ছেড়ে বাইরে চলে যান। অবশ্য ৩ মিনিট পর আবারও মাঠে ফিরে আসেন। ৭৭ মিনিটে আবারও একটি ফাউল ধরাকে কেন্দ্র করে রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ জানান। এ সময় রহমতগঞ্জের একজন কর্মকর্তা মাঠে নেমে রেফারির সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অনেক দিন পর নিজেদের মাঠে সকারের খেলা স্বাগতিক দর্শকদের মন ভরিয়েছে। ২০ খেলায় ২৫ পয়েন্ট ফেনী সকারের এবং সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট রহমতগঞ্জের।
চট্টগ্রামে শুকতারার এই ম্যাচে আসলে হারানোর কিছু ছিল না। অবনমন এড়াতে পারেনি তারা। কিন্তু জয়ক্ষুধা যে তাদের হারিয়ে যায়নি সেটাই দেখাল নারায়ণগঞ্জের ক্লাবটি। লিগে তৃতীয় জয় পেল কাল। চট্টগ্রাম অফিস থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, একমাত্র গোলটি হয়েছে ৭ মিনিটে। লিটনের ক্রসে ইদ্রিস দারুণ এক হেডে গোল করেন। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া আবাহনী বেশ কয়েকটি আক্রমণ হানে প্রথমার্ধেই। কিন্তু মিঠুন, রনিরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। খেলার ৬৫ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন মিঠুন। এই জয়েও অবস্থানের উন্নতি হয়নি শুকতারার। ১৯ ম্যাচে আবাহনীর সংগ্রহ ১৭ পয়েন্ট, শুকতারার ১৩।

প্রস্তুতি ম্যাচে জয় বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমস বাছাই হকির আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারছেন না বলে আক্ষেপ ছিল হকি খেলোয়াড়দের। সেই আক্ষেপ পূরণ হলো কাল। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হংকংকে ৯-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কামরুজ্জামান (রানা) ৩টি, রাসেল মাহমুদ (জিমি) ও মামুনুর রহমান (চয়ন) ২টি করে গোল করেছেন। আসাদুজ্জামান (চন্দন) ও কৃষ্ণকুমার করেছেন ১টি করে।

ক্ষণিকের উদ্বেগ উড়িয়ে বার্সার বড় জয়

৩৯ থেকে ৬৩—এই ২৪টি মিনিট ভীষণই দুশ্চিন্তায় কেটেছে বার্সেলোনার। নিজেদের মাঠে ম্যাচ, লিওনেল মেসির গোলে ১৭ মিনিটেই তারা এগিয়ে যায়, তার পরও কেন এই দুশ্চিন্তা? কারণ ৩৯ মিনিটে মার্টিনেজের গোলে সমতা এনে ফেলেছিল টেনেরিফে। তার পর তারা খেলতে লাগল ঠিক ইন্টার মিলানের মতো। মেসিকে জোনাল মার্কিংয়ে রেখে বার্সেলোনাকে চুল পরিমাণ জায়গাও ছাড়তে চায়নি অবনমন এলাকায় থাকা দলটি। কিন্তু ৬৩ মিনিটে গোল করে বার্সার এই গুমোট ভাবটা কাটিয়ে দিলেন বোজান কিরকিচ। শেষে তো পেদ্রো এবং মেসির দ্বিতীয় গোল মিলে সেই বড় জয়ই পেল বার্সেলোনা। টেনেরিফেকে উড়িয়ে দিল ৪-১ ব্যবধানে।
ছোট কিংবা বড়, যেমনই হোক, মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে জয়টাই আসল। কাঙ্ক্ষিত সেই জয়টা এমন বড় ব্যবধানে এসেছে বলে খুব খুশি বার্সেলোনার কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আবহাওয়া এবং সূচি, দুই দিক দিয়েই আজকের (পরশু) রাতটি খুব কঠিন ছিল। আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি এবং বড় জয় পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’ টেনেরিফের কৌশলের সঙ্গে বৃষ্টি মিলেই রাতটা বার্সার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল।
৩৬ ম্যাচে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ শিরোপার দিকে আরও এক পা এগিয়ে গেল গার্দিওলার দল। কাল রাতে মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়াল জিতে থাকলেও দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান থাকবে এক। সুতরাং জয়টা গার্দিওলার জন্য আনন্দের কারণ তো হবেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ইন্টার মিলান বার্সাকে আটকাতে যেমন কৌশল নিয়েছিল, টেনেরিফেও পরশু সে রকমই খেলার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে গোলটি শোধ করে দেওয়ার পর। বার্সা যাতে তাদের স্বাভাবিক পাসিং ফুটবলটা খেলতে না পারে এ জন্য মাঝমাঠে বার্সাকে কোনো জায়গাই তারা ছাড়তে চায়নি।
টেনেরিফের এই খেলার মধ্যেই দলকে ২-১-এ এগিয়ে দেন কিরকিচ। ওই গোলেই আসলে ভেসে যায় টেনেরিফের প্রতিরোধ দেয়াল। এর পর জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের বদলি হিসেবে নামা পেদ্রো ৭৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান। মেসি মৌসুমে তাঁর গোল টালিটা ৪৪-এ নিয়ে যান ইনজুরি সময়ে।
শিরোপা জয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে লা লিগার একটি রেকর্ড গড়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকার রেকর্ডটা হলো তাদের। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর রিয়াল মাদ্রিদ সর্বোচ্চ ৯২ পয়েন্ট তুলেছিল। দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সেটা টপকে গেল গার্দিওলার বার্সা।
তবে এসব রেকর্ড-টেকর্ডে নয়, বার্সেলোনার চোখ আসলে শিরোপায়। গার্দিওলা বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে হলে আমাদের সেভিয়ার বিপক্ষে জিততে হবে। আমরা এখন এটা নিয়েই ভাবছি।

রুনির যোগ্য সঙ্গী চায় ম্যানইউ

স্বপ্ন ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টানা চতুর্থ শিরোপা জয়। এই দৌড়ে এখনো আছে তারা। তবে সেই থাকাটাও যেন কেমন নিরালম্ব। এবার যা হয় হবে, আর তো কিছু করার নেই। তবে আগামী মৌসুমে এমন যেন না হয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে শুরু হয়ে গেছে সেই ভাবনা-চিন্তা।
তাহলে কী করতে হবে ম্যানইউকে? বয়সী ম্যানইউতে আমদানি করতে হবে তরুণ খেলোয়াড়। এমন খেলোয়াড় যাঁরা তুঙ্গস্পর্শী ফর্মে থাকা ওয়েইন রুনিকে দিতে পারবে যোগ্য সঙ্গত। এই মৌসুমের শুরুতেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করেছে ম্যানইউ। কিছুদিন পর ম্যানইউ ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে নাম লিখিয়েছেন কার্লোস তেভেজ। প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি দিমিতার বারবেতভ। একমাত্র উইগান থেকে এ মৌসুমে ম্যানইউতে যোগ দেওয়া ভ্যালেন্সিয়াই যতটুকু সাহায্য করতে পেরেছেন রুনিকে। শেষ দিকে এসে তো রুনিও পড়েন ইনজুরিতে। সব মিলিয়ে রুনির যোগ্য সঙ্গতের অভাবটা ভালোভাবেই টের পেয়েছে ম্যানইউ।
এটা আগামী মৌসুমে যেন না হয়, ম্যানইউতে এখন আলোচনা তা নিয়েই। আক্রমণ ভাগে নতুন খেলোয়াড় কেনার কথা ভাবছে তারা।

গুলকে বিশ্রামের পরামর্শ

অনুশীলন তো নয়-ই, হাঁটাচলাও করতে পারবেন না—চিকিত্সকেরা এমনই পরামর্শ দিয়েছেন উমর গুলকে। কাঁধের চোটের কারণে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের বাইরে থাকা এই ফাস্ট বোলার জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা তিন সপ্তাহ পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে বলেছেন তাঁকে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠানরত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের খোঁজখবর নিয়মিতই রাখছেন আগের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল বোলার।

দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে শামসুর রহমান যা বললেন তার সারমর্ম—এ ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আসলে করতে পারেনি কিছুই, ‘আমাদের বোলিংটা ভালো হয়নি, বোলারদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না বোলিংয়ে। মিস ফিল্ডিং হয়েছে। ব্যাটিংয়েও শুরুতে উইকেট হারানোয় চাপে পড়ে গেছি।’
চাপ আসলে ছিল রানের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কলিন ইনগ্রাম আর ডেভিড মিলারের দুই সেঞ্চুরি দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে তুলে দেয় ৩৬৮ রানের পাহাড় চূড়ায়। ৩২.৩ ওভারে মাত্র ১৬৫ রান তুলেই অলআউট বাংলাদেশ ‘এ’ দল সেই পাহাড়ের নিচে পিষ্ট হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটা হেরেছে ২০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে।
অথচ দলের ৫৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ফন উইক আর জোনাথন ভ্যানডায়ারকে হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়েছিল সফরকারীরাই। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে টেনে তোলার কৃতিত্ব মূলত ইনগ্রামের। তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেটে রোজু-বেইলির সঙ্গে ৬৬ আর ৫০ রানের দুটি জুটি গড়ে প্রাথমিক চাপটা সরিয়ে দেন তিনিই। এর পর পঞ্চম উইকেটে মিলারের সঙ্গে ১২৮ রানের আরেকটি জুটিতে তারা চলে যায় শামসুর রহমানের দলের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১১৮ বলে ১২৭ রান করে ইনগ্রাম নূর হোসেনের বলে নাজমুলের ক্যাচ হলেও আরেক সেঞ্চুরিয়ান মিলারকে আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলাররা। ১০ বাউন্ডারি আর ৭ ছক্কার ঝোড়ো ইনিংসে মাত্র ৫৫ বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের হয়ে কালই প্রথম খেলতে নামা মিলার। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে স্বাগতিক বোলাররা সবাই কমবেশি নির্যাতিত। ওভারপ্রতি সবচেয়ে কম রান দেওয়ার ‘কৃতিত্ব’ যাঁর, সেই শামসুর রহমানও ১০ ওভারে দিয়েছেন ৫২ রান! জাতীয় লিগের নজরকাড়া স্পিনার সাকলাইন সজীব ৮৫ রান দিয়েছেন তাঁর ১০ ওভারে। বোলারদের মতোই অবস্থা ব্যাটসম্যানদের। ৩১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বেসামাল ইনিংসটা মুখ থুবড়ে পড়েছে ১৬৫ রানে। চতুর্থ উইকেটে মার্শাল আইয়ুব (৩৮) ও রকিবুল হাসানের (৪০) ৪৭ রানের জুটিতে সামান্য প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিল বাংলাদেশ ‘এ’, ৩৬৮ রানের জবাবে তাও খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে শেষ পর্যন্ত।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল আজ একই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৫০ ওভারে ৩৬৮/৯ (ইনগ্রাম ১২৭, মিলার ১১৫*, ফন উইক ২৯, বেইলি ২৩, ভ্যানডায়ার ২০, রোজু ১৬, সোলেকিলে ১২; নাজমুল ৯-০-৬৩-১, ডলার ৪-০-৩৭-০, নূর হোসেন ১০-১-৬৭-২, শামসুর ১০-০-৫২-১, সাকলাইন ১০-০-৮৫-১, ফয়সাল ৫-০-৩৫-২, নাজমুল হোসেন ২-০-২২-১)। বাংলাদেশ ‘এ’: ৩২.৩ ওভারে ১৬৫ (উত্তম ৬, শামসুর ৯, ডলার ১০, মার্শাল ৩৮, রকিবুল ৪০, ফয়সাল ৪, ধীমান ২৫, নাজমুল হোসেন ১২, নূর হোসেন ০, নাজমুল ১৫, সাকলাইন ১*; ভ্যানডায়ার ৩/৪২, ফ্রেন্ড ২/২১)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ২০৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভিড মিলার।

সামনে ‘শত্রু’ ইনজুরি

৩২টি দেশের কোচরা প্রার্থনা করছেন। করছেন টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই। প্রার্থনায় বসুন আপনিও। যেন এবার বিশ্বকাপে আপনার প্রিয় খেলোয়াড়টি ছিটকে না যান! যেন অনাকাঙ্ক্ষিত চোট তাঁর দুর্ভাগ্যের কারণ না হয়। ঈশ্বর না করুন, স্প্যানিশ লিগের বাকি দুই ম্যাচের কোনো একটাতে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের গুরুতর কোনো ফাউলের যদি শিকার হন লিওনেল মেসি...অমন অলক্ষুণে কথা মুখে আনতে নেই!
কিন্তু এটাও বাস্তবতা, কোচদের দুশ্চিন্তার তালিকায় প্রতিপক্ষ দলগুলোর চেয়ে আপাতত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এই একটা নাম—ইনজুরি! খেলোয়াড়দের চিরশত্রু। যে শত্রুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়েছেন ডেভিড বেকহাম। অতিসম্প্রতি বেকহামের সঙ্গী হয়ে এই বিশ্বকাপে দর্শকের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন রেনে অ্যাডলার আর সাইমন রোলফস।
জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর কপালের ভাঁজটা তাই বেড়েই চলেছে। এমনিতেই রবার্ট এনকার অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মহনন জন্ম দিয়েছিল জার্মানির গোলপোস্টের নিচের জায়গাটি নিয়ে নতুন সমস্যার। একসময় ‘অলিভার কানকে খেলাই নাকি জেন্স লেম্যান’ এই মধুর সমস্যায় ভুগতে থাকা জার্মানি এখন গোলরক্ষকই খুঁজে পাচ্ছে না! ফুটবল তো বটেই, জীবন থেকেই আগ্রহ হারানো এনকার হঠাত্ চলে যাওয়ার পর অ্যাডলারই ছিলেন এক নম্বর পছন্দ। বায়ার্ন লেভারকুসেনের সেই গোলরক্ষক পাঁজর ভেঙে ছিটকে গেছেন বিশ্বকাপ থেকে। অ্যাডলারের ক্লাব অধিনায়ক ডিফেন্ডার রোলফসের সমস্যা হাঁটুতে।
লোর দুশ্চিন্তাটা যেখানে রক্ষণভাগ নিয়ে, স্পেন কোচ দেল বস্কের দুশ্চিন্তায় আবার আক্রমণভাগ। বলা হচ্ছে, স্পেনই নাকি এবার সবচেয়ে ফেবারিট। সবচেয়ে বেশি তারকা ফুটবলারও তাদেরই দলে। কিন্তু বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, চোটে আক্রান্ত স্প্যানিয়ার্ড খেলোয়াড়ের সংখ্যা ততই বাড়ছে। সেস ফ্যাব্রিগাস, ফার্নান্দো তোরেস, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। স্প্যানিশ লিগে এখনো দুটো ম্যাচ বাকি। দেল বস্ক তো বটেই, ডিয়েগো ম্যারাডোনাও নিশ্চয়ই ভীরু চোখে তাকিয়ে থাকবেন এই ম্যাচ দুটোর দিকে। ম্যারাডোনার মূল অস্ত্রটা যে বার্সেলোনারও।
ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর মূল ভরসা যেমন ওয়েইন রুনি। ক্যাপেলো অবশ্য চিন্তামুক্ত হয়েছেন, লিগে গত ম্যাচেই সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে চোট পাওয়া এই স্ট্রাইকার। তবে প্রিমিয়ার লিগে যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এখনো শতভাগ ফিট মনে হচ্ছে না।
সর্বোচ্চ গোলদাতায় রুনির সঙ্গে থাকা দিদিয়ের দ্রগবাও একটু অস্বস্তিকর ইনজুরিতে। অবশ্য আইভরিকোস্টের অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে চিকিত্সকের ছুরির নিচে যেতে চান না। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করানো মানেই সপ্তাহ কয়েকের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়া। আর ‘গ্রুপ অব ডেথে’ পড়া আইভরিকোস্টের অধিনায়কের জন্য সেই ছিটকে যাওয়ার মানে হয়ে যেতে পারে বিশ্বকাপ-স্বপ্নের অপমৃত্যু।
প্রার্থনায় বসুন...।

ডি/এলে গলদ দেখছেন না ডাকওয়ার্থ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবহাওয়া ঠিক আমার প্রেমিকার মতো। মন বোঝা বড় দায়!’ পরশু ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে আবারও বৃষ্টি হানা দেওয়ার পর ক্রিকইনফোতে এক পাঠকের মন্তব্য।
বিষয়টি এখন আর এমন হালকা রসিকতার পর্যায়ে নেই। গ্রুপ পর্বে টানা চারটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টি-নাটকের সবচেয়ে বড় দৃশ্যটা ইংল্যান্ডকে নিয়েই। প্রথম ম্যাচে ১৯১ রান করেও হেরেছিল ইংল্যান্ড। বৃষ্টি খেলার দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিয়ে সহজ করে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য। ওই ম্যাচের পর ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক পল কলিংউড।
সেই কলিংউডই পরশু বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন বৃষ্টির বদান্যতায়। আয়ারল্যান্ড আরেকটু হলেই গত বিশ্বকাপের মতো আরেক আইরিশ রূপকথার জন্ম দিতে চলেছিল। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১২০ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। তাদের সিংহভাগ রানের জোগানদাতা আবার এক আইরিশই—এউইন মরগান (৩৭ বলে ৪৫)।
সে যা-ই হোক। ক্ষণে ক্ষণে বিরতি দিয়ে যেভাবে আবির্ভূত হচ্ছে বৃষ্টি, ঠিক সেভাবেই আলোচনায় হাজির দুই ইংলিশ পরিসংখ্যানবিদ ফ্রাঙ্ক ডাকওয়ার্থ আর টনি লুইস। কলিংউডের ‘টি-টোয়েন্টিতে ডি/এল পদ্ধতি অচল’ মন্তব্যের পর আর মুখ বন্ধ রাখতে পারেননি ডাকওয়ার্থ। পদ্ধতির দোষ না খুঁজে কলিংউডকে নিজের বোলারদের দিকে আঙুল তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, ‘সর্বজনাব ডাকওয়ার্থ আর লুইসের ওপর পল কলিংউড রাগ হতেই পারেন। তবে রাগটা সর্বজনাব টিম ব্রেসনান, গ্রায়েম সোয়ান অ্যান্ড কোম্পানির ওপর হওয়াটাই ছিল যুক্তিসংগত। যাঁরা বৃষ্টির আগে আর পরে চারটি করে আটটি ওয়াইড দিয়েছেন। যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্যটা শেষ পর্যন্ত ৬০ নয়, হয়ে গিয়েছিল ৫২।’
ডাকওয়ার্থের কথায় যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ওই আটটি ওয়াইডের কারণে আটটি বল বেশিও পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এটাও ঠিক, ২০ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা আর ৬ ওভারে ৬০—এই দুয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। প্রতি ওভারে গড়ে প্রায় ১০ করে রান তোলার চাপের মুখে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙেও পড়তে পারত। যেখানে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনাই ছিল বেশি, সেই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তারা হেরেছে আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
ফলাফলের শেষে অবশ্য বন্ধনীর মধ্যে ‘ডি/এল পদ্ধতিতে’ লেখা থাকছে। যেটি এখন পর্যন্ত যেকোনো বাধার মুখে (হোক সেটি বৃষ্টি) সবচেয়ে কার্যকর আইন বলে প্রমাণিত। কিন্তু মৌলিক একটা প্রশ্ন করেছেন কলিংউড। ৫০ ওভারের ওয়ানডেতে ডি/এল পদ্ধতি কার্যকর হলেও ২০ ওভারের টি-টোয়েন্টিতে সেটি কার্যকর নয়।
এখানে দ্বিমত ডাকওয়ার্থের। তিনি বলছেন, আসলে আইসিসির নতুন করে ভাবা উচিত কমপক্ষে ৫ ওভার খেলার নিয়মটা নিয়ে। ওভারের সংখ্যা আরও বাড়ালে দুই পক্ষই বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমলেও ডি/এল পদ্ধতির ন্যায়বিচার পাবে। দ্য উইজডেন ক্রিকেটার সাময়িকীকে তিনি বলেছেন, ‘আইসিসির উচিত হবে সম্পন্ন ম্যাচে কমপক্ষে ৫ ওভার খেলা হতে হবে এই নিয়মটা নিয়ে নতুন করে ভাবা। কারণ এটা স্পষ্টতই প্রমাণিত, এ নিয়মটার কারণে ম্যাচের ফল বিকৃত হচ্ছে।’
টি-টোয়েন্টিতে ডি/এল পদ্ধতি নিয়ে শুধু ইংল্যান্ডই অনুযোগ করছে বলে মনে করেন ডাকওয়ার্থ, ‘২০০২ সালে টি-টোয়েন্টি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০টির মতো ম্যাচে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু মাত্র দুবার এ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। দুবারই অভিযোগ করেছে কলিংউড কিংবা ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড। দুবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো না করার পর।’
এই ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়েই ১৯৯৭ সালে হারারেতে যাত্রা শুরু এই পদ্ধতির। এক যুগ পর গত অক্টোবরে সামান্য কিছু রদবদল করেছেন ডাকওয়ার্থ-লুইস। ডাকওয়ার্থ মনে করেন, এই নিয়মটাই যথার্থ। কিন্তু এটাও বাস্তবতা, ক্রিকেট বিশ্বে একটা রসিকতা বেশ চালু, সারা বিশ্বে পদ্ধতিটা কেবল দুজন মানুষই বোঝেন—মিস্টার ডাকওয়ার্থ আর মিস্টার লুইস!