Showing posts with label ফুটবল খলা. Show all posts
Showing posts with label ফুটবল খলা. Show all posts

Friday, September 16, 2011

ড্র করেই খুশি আর্সেনাল

আর্সেনালের জার্মানি সফরটা কেমন হলো? বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র। আর্সেনালের জন্য ফলটা ভালো, না খারাপ?
আগের সেই দিন নেই আর্সেনালের। সেস ফ্যাব্রিগাস আর সামির নাসরিকে হারিয়ে অনেকটাই ডানাভাঙা পাখির মতো উড়তে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে ‘গানার’রা। এটা মাথায় রেখেই হয়তো আর্সেনাল-শিবির ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ড্র করতে পেরেই খুশি।
আর্সেনালের ফরাসি ডিফেন্ডার ব্যাকারি সানিয়া যেমন বললেন, ‘আমি এই এক পয়েন্ট পাওয়াকে ভালোই বলব। ডর্টমুন্ড ভালো দল। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম, এখানে কঠিন ম্যাচ হবে।’ সানিয়ার কথার প্রতিধ্বনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসা দলের সহকারী কোচ প্যাট রাইসের কণ্ঠেও, ‘আমার মনে হয় না এখানে এসে খুব বেশি দল পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারে।’
আর্সেনাল শিবিরে খুশির আরেকটা কারণ, ম্যাচে আর্সেনালের চেয়ে ডর্টমুন্ডই ছিল শ্রেয়তর দল। ৪২ মিনিটে আর্সেনালকে এগিয়ে দেওয়া অধিনায়ক রবিন ফন পার্সির গোলটিও ছিল খেলার ধারার বিপরীতে। তবে ভালো খেলেও ড্র করে ডর্টমুন্ড অখুশি নয়। দুর্দান্ত এক ভলি থেকে বদলি খেলোয়াড় পেরিসিকের সমতাসূচক গোলটির কথা বলতে গিয়ে ডর্টমুন্ড কোচ ইয়ুর্গেন ক্লুপ বলেছেন, ‘আমার চোখে এই গোলটি আমাদের জন্য পুরস্কার।’
শেষ মুহূর্তে (৮৮ মিনিট) পাওয়া গোলটিকে পুরস্কার ভাবার কারণও আছে ক্লুপের, ‘কখনো কখনো ফুটবলে অনেক ভালো খেলেও গোল পাওয়া যায় না। কিন্তু এক গোলে পিছিয়ে থেকেও আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। আর শেষে এর পুরস্কার পেয়েছি।’
ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব চেলসি নিজেদের মাঠে জার্মানির বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে জয়ের আনন্দেই ভেসেছে। আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষিক্ত হলেন ২-০ গোলের জয় দিয়ে।
ম্যাচের আগে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন ভিলাস-বোয়াস, গোল করতে হবে! গোল তোরেস পরশু পাননি, তবু কোচের প্রশংসা পেয়েছেন। কারণ, দ্বিতীয়ার্ধে ডেভিড লুইজ ও হুয়ান মাতার করা দুটি গোলেরই উৎস তিনি।
এদিকে ভিলাস-বোয়াসের ছেড়ে আসা ক্লাব পোর্তোকে ২-১ গোলে জিতিয়েছেন দুই ব্রাজিলীয় হাল্ক ও ক্লেবার।

ডিএফএ যেন ঠুঁটো জগন্নাথ!

জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ) শুধু নামেই আছে, কাজে নেই!
সব ডিএফএ অবশ্য সারা বছর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না। তার পরও মোটের ওপর বিশ্লেষণটা এমনই দাঁড়ায়। ডিএফএর স্থবিরতায় সারা দেশের ফুটবলের চাকাও অচল। ডিএফএ গঠনের আসল উদ্দেশ্যই মাঠে মারা যাচ্ছে।
ডিএফএ গঠন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাফুফের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সহসভাপতি মনজুর হোসেন খুবই হতাশ, ‘ডিএফএর কার্যক্রম না থাকার জন্য বাফুফে যতটা দায়ী তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী সরকার। কারণ, সরকার মাঠ দিচ্ছে না। এছাড়া বাফুফে থেকে ডিএফএর কার্যক্রম মনিটর করা হয়নি। এ জন্য ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর নেতৃত্বে একটা কমিটি করা হয়েছিল, কিন্তু সালাম কোনো পদক্ষেপ নেননি। ডিএফএ এখন কোমর ভাঙা একটা প্রতিষ্ঠান।’
ঠাকুরগাঁও ডিএফএর সভাপতি মমিনুল হক তীর্যকভাবে বলেন, ‘ডিএফএ করার সময় বাফুফের প্রতিশ্রুতি ছিল সারা দেশের ফুটবল উজ্জীবিত করা হবে। কিন্তু উল্টো অবনতি হয়েছে। কী বলব, ভাষা নেই। ফেডারেশনের নির্বাচন হয়ে গেছে, ব্যস ওই পর্যন্তই। ফেডারেশন কোনো সহযোগিতা করে না। ডিএফএর বসার একটু জায়গা পর্যন্ত হলো না। জেলা পর্যায়ে ফেডারেশন কিছুই করল না। নির্বাচনের জন্যই এটা করা হয়েছে।’
২০০৮ সালের এপ্রিলে বাফুফের নির্বাচনের আগে ফিফার নির্দেশে গঠিত হয়েছিল ডিএফএ। সারা বিশ্বেই ফুটবলের এমন বিকেন্দ্রীকরণ আছে। বাংলাদেশে ডিএফএ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে মত ছিল। শেষ পর্যন্ত সময়ের চাহিদায় ডিএফএ গঠন করতেই হয়েছে।
সাড়ে তিন বছর বয়সী ডিএফএ নিয়ে এখন হিসাব করার সময়। কেননা, একটা সময় ঢাকার ফুটবল নিয়মিত আয়োজনই ছিল ফুটবল অঙ্গনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। এখন ঢাকার ফুটবল মোটামুটি নিয়মিত। মেসিরা খেলে গেছেন কয়েক দিন আগে। বলা হচ্ছে, ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের পর সারা দেশে ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। এখন ঢাকার বাইরের ফুটবলটা চালু করার ওপরই জোর দিচ্ছেন সবাই। কিন্তু ডিএফএ কতটা প্রস্তুত?
বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায় বলছেন, ‘ডিএফএকে আমরা দুর্বল করে ফেলেছি। এটিকে শক্তিশালী করতে হবে। ডিসি-এসপিকে ডিএফএতে সম্পৃক্ত করা দরকার। জেলা পর্যায়ে তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। ডিএফএ একটা নতুন শিশু, এই শিশুর পরিচর্যা হয়নি। তাই এটি বিকলাঙ্গ হয়ে আছে।’
মজার ব্যাপার, বাফুফে জানে না কোন ডিএফএ কী করছে! তারা শুধু জানে, গাজীপুর ও সিলেট বাদে ৬২টি ডিএফএ আছে, ঢাকা ও সিলেট বাদে আছে চারটি বিভাগীয় ডিএফএ।
এটা ঘটনা যে, জেলার ক্রীড়াঙ্গন চালায় স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ডিএফএ হওয়ার আগে জেলা ও বিভাগের ফুটবল চালাত ডিএসএ। পদাধিকার বলে ডিএসএর প্রধান স্থানীয় জেলা প্রশাসক। এখন ডিএসএ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নাকি ডিএসএ মাঠ দেয় না ফুটবলকে। আর্থিক সংকট। তাই এটি ঠুঁটো জগন্নাথ!
নতুন ধারণা চালু করতে গেলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ কই? সালাম মুর্শেদীর উত্তর, ‘আমরা তো ডিএফএর খোঁজখবর নিচ্ছি। হয়তো আগে বেশি পারিনি। তবে এখন প্রতিদিনই কথা হয়। কারও হয়তো মাঠ নেই, কারও টাকার অভাব। এগুলো নিয়ে কী করা যায় দেখছি।’
মাঠপর্যায়ে ছবিটা অবশ্য ভিন্ন। হবিগঞ্জ ডিএসএর সভাপতি শফিকুল বারী কাল ফোনে বলছিলেন, ‘তিন বছর ধরে ডিএফএ চালাচ্ছি। মোটামুটি চালিয়ে নিচ্ছি। তবে এর দিকে কারও নজর নেই। হাজারো সমস্যা। মাঠ পেলে টাকা নেই, টাকা পেলে মাঠ নেই।’
বরিশাল ডিএসএর সভাপতি আলমগীর খানের কথা, ‘কী আর বলব, ডিএফএর খোঁজ কেউ রাখে না। নিজেরা যা পারছি করছি, কিন্তু এভাবে চলে না।’
বাগেরহাট ডিএফএর সভাপতি হাবিবুর রহমান বলছেন, ‘ঢাকায় কোটি টাকার টুর্নামেন্ট না করে ফেডারেশনের উচিত প্রতিটি ডিএফএকে টাকা দেওয়া। ফুটবলার তুলে আনতে জেলা লিগ দরকার। লিগের জন্য স্পনসর লাগে। স্পনসর পাই না।’
বাফুফের আগামী এপ্রিলের নির্বাচনে ডিএফএ ইস্যু বড় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ওটা বড় ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংক কাছে টানার নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। মেসিদের ম্যাচের দুটি করে টিকিট দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ডিএফএকে। এতে তারা খুশি নয়। তারা চায় ডিএফএকে সক্রিয় করার উদ্যোগ, সঙ্গে কাউন্সিল।
কী ভাবছেন সালাউদ্দিন? কাল বললেন, ‘১৫-২০ দিনের মধ্যে ডিএফএগুলোকে ডাকব, তাদের কথা শুনব। ঢাকার ফুটবল নিয়মিত মাঠে রাখা নিশ্চিত করেছি। এখন জেলার দিকে আরও বেশি নজর দেব।’
তবে ‘নজর’টা অতি শিগগির না দিলে দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে না।

পেলেকে পেয়ে গেছেন ফার্গি!

চার ম্যাচে ৮ গোল, এর মধ্যে দুটো আবার হ্যাটট্রিক! এবার মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত এই ফর্ম অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে গত মৌসুমে কী উত্থান-পতন-উত্থানই না গেছে ওয়েইন রুনির ক্যারিয়ারে। গতবার লিগের মাঝপথে, ১৮ ম্যাচ শেষে তাঁর নামের পাশে ছিল একটি মাত্র গোল। ফর্মের এই দুর্দশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন, পতিতা-কেলেঙ্কারি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে রুনির ব্যাকুল হয়ে ওঠা।
সেই রুনি লিগের শেষ ১৮ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। শেষার্ধে এসেই বুঝি পরের মৌসুমের জন্য নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন। তাই মৌসুম শুরু হতেই এবার গোলের পর গোল!
রুনির এই দুর্দান্ত ফর্ম স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে পেলের কথা! রুনিকে ব্রাজিল কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা করলেন ম্যানইউ কোচ, ‘উদাহরণ হিসেবে আপনি পেলের কথা বলতে পারেন। পেলেও ছিল দারুণ আক্রমণাত্মক, আবার একই সঙ্গে যে নিজের ভালো-মন্দটাও বুঝত। রুনিও তা-ই। এই দুজনের মধ্যে শক্তি, গতি আর দৃঢ়প্রতিজ্ঞার দিক দিয়ে দারুণ মিল আছে।’
পেলের সঙ্গে রুনির এই মিল খুঁজতে ফার্গুসনকে উসকে দিয়েছেন আসলে বেনফিকা কোচ হোর্হে জেসাস। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর আগে জেসাস রুনিকে পরিয়েছেন প্রশংসার মালা, ‘রুনিকে দেখে মনে হয় না ও ব্রিটিশ খেলোয়াড়। মনে হয় ও যেন ব্রাজিল নয় তো আর্জেন্টিনার।’
পেলের সঙ্গে তুলনা করায় মনে হতে পারে ফার্গুসন হয়তো জেসাসের কথা মেনে নিয়েছেন। তবে স্যার ফার্গির ব্যাখ্যাটি কিন্তু ভিন্ন, ‘এখানে আমি ভিন্নমত জানাই। ও আসলে প্রথাগত ব্রিটিশ খেলোয়াড়ই। তবে যুগে যুগে এমন অনেক ব্রিটিশ খেলোয়াড় এসেছে, যাদের মধ্যে ওই ধরনের (ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো) খেলার গুণাগুণ ছিল। পল গ্যাসকোয়েন, জর্জ বেস্ট, ববি চার্লটন, ডেনিস ল যেমন ছিলেন। মিলগুলো হলো, এই ছেলেটার বুকে প্রচণ্ড সাহস। ও সব সময়ই খেলতে চায়, ওর আছে অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি। এসব ওর প্রতিভায় বাড়তি কিছু যোগ করেছে।’
রুনি আগের চেয়ে অনেক পরিণতও হয়েছেন বলে মন্তব্য ফার্গুসনের, ‘বিশের ঘরের মাঝামাঝি বয়সটায় আপনার মধ্যে অনেক পরিণতিবোধ আসবে। খেলাটার ওপর কর্তৃত্ব বাড়বে, টাইমিং অনেক ভালো হবে, খেলাটাকেও আপনি আগের চেয়ে অনেক ভালো বুঝবেন।

হোয়াইটওয়াশই হলো জিম্বাবুয়ে

ব্যাট হাতে দারুণ একটি ইনিংস তো খেলেছেনই। ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিলেন অসাধারণ এক ক্যাচ। ওয়ানডে দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। কিন্তু ব্যাটে আর ফিল্ডিংয়ে কাল ইউনুস খান জানিয়ে দিলেন, ৩৪ ছুঁইছুঁই বয়সেও দলে তাঁর বিকল্প নেই। প্রথম ওয়ানডের মতো আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের ২৮ রানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ৩-০-তে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান।
বলতে হবে আইজাজ চিমার কথাও। ৩২ বছর বয়সে অভিষেক পাকিস্তানে এমনিতেই বিরল, তার ওপর আবার পেসার। চিমা হয়তো বুঝতে পেরেছেন সময় খুব বেশি পাবেন না। তাই অভিষেক সিরিজেই আলো ছড়িয়েছেন। একমাত্র টেস্টে নিয়েছেন ৮ উইকেট। আগের দুই ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর কাল নিলেন আরও ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা যেটুকু ছিল, শেষ হয়ে গেছে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে চিমার দুর্দান্ত বোলিংয়েই।
সিবান্দা ও চিবাবা উদ্বোধনী জুটিতেই দলকে এনে দিয়েছিলেন ১১০ রান। তবে যথারীতি ফিফটিকে তিন অঙ্কে নিতে পারেননি দুজনের কেউ। এর পরও দাঁড়াতে পারেননি আর কেউ। টাটেন্ডা টাইবু হুমকি হয়ে উঠছিলেন, কিন্তু তাঁর ২৬ বলে ২৭ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে ইউনুসের দুর্দান্ত ক্যাচে।
তৃতীয় উইকেটে আসাদ শফিক ও ইউনুসের ৯৭ রানের জুটি পাকিস্তান ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। মনে হচ্ছিল, ৩০০ ছুঁবে পাকিস্তানের রান। কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে রানের গতিটা ধরে রাখতে পারেননি মিসবাহ ও আদনান আকমল। শেষ ১০ ওভারে এসেছে মাত্র ৫৭ রান। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২৭০/৫ (হাফিজ ২৩, ফারহাত ৩৭, শফিক ৫১, ইউনুস ৮১, মালিক ১৪, মিসবাহ ২৯*, আদনান ২৪*; চিগুম্বুরা ২/৩৬, প্রাইস ১/৪৮, জারভিস ১/৫৫, ভিটরি ১/৬২)। জিম্বাবুয়ে: ২৪২/৯ (সিবান্দা ৫৯, চিবাবা ৬২, টেলর ৬, মাসাকাদজা ২১, টাইবু ২৭, ওয়ালার ১৯, চিগুম্বুরা ৯, উতসেয়া ১৫*, প্রাইস ১০, জারভিস ৬, ভিটরি ৩*; চিমা ৪/৪৩, ইয়াসির ২/৫১, মালিক ১/২১, সোহেল ১/৩৬, হাফিজ ১/৩৭)।

শুরু আর শেষে মিলান মাঝে বার্সা

শুরুর দৃশ্য: ম্যাচ শুরুর বাঁশি। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ২০ সেকেন্ড পেরিয়েছে। সেন্টার সার্কেলের একটু ওপরে বল পেলেন পাতো। তাঁর দিকে ধেয়ে আসা সার্জিও বুসকেটসের পাশ দিয়ে ঠেলে দিলেন বল। এরপর নিজেই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় পেরিয়ে গেলেন বুসকেটসকে। মিলান স্ট্রাইকারের সামনে শেষ বাধা কেবল গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেস। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভালদেসের পায়ের নিচ নিয়ে বলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন পাতো। ২৪ সেকেন্ডেই প্রথম গোল! চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের পঞ্চম দ্রুততম।
শেষের দৃশ্য: শুরুর ধাক্কা সামলে ভালোমতোই ম্যাচে ফিরেছে বার্সেলোনা। পেদ্রো আর ডেভিড ভিয়ার গোলে ২-১-এ এগিয়ে। ন্যু ক্যাম্প তখন ম্যাচ শেষের বাঁশি শোনার অপেক্ষায়। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিট চলছে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো কর্নার দিলেন আবিদাল। সেই কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে থিয়াগো সিলভার গোল!
ম্যাচের একদম শুরু আর শেষে এই দুই নাটকীয় গোল শেষ পর্যন্ত জিততে দিল না বার্সেলোনাকে। ৭৫ শতাংশ বলের দখল, ১১টি কর্নার, ২২টি শট (যার সাতটিই লক্ষ্যে) আর ম্যাচে একতরফা দাপট দেখিয়েও একটা শিক্ষা পেল পেপ গার্দিওলার দল। ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বার্সার শুরুটা অবশ্য মন্দ হয়নি। শুরুতেই ব্রাজিল তারকা পাতোর সেই দুর্দান্ত গোলের ধাক্কা দ্রুতই সামলে নিয়েছে বার্সা। ছন্দটা তুলে নিয়েছে নিজেদের পায়ে। পাসের পর পাস। যদিও পাতোর গোলটি শোধ করতে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। বক্সের ডান প্রান্তে বল নিয়ে ঢুকেছেন লিওনেল মেসি। তিন-চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে একেবারে শেষ লাইন থেকে বল ঠেলে দিয়েছেন পেদ্রোর দিকে। ফাঁকা পোস্টে সহজ গোলটি করতে ভুল করেননি পেদ্রো।
এই গোলের খানিক পরেই অবশ্য চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইনিয়েস্তা। তাঁর জায়গায় সেস ফ্যাব্রিগাস নামলেও ইনিয়েস্তার অনুপস্থিতি ভালোই বুঝেছে বার্সা। তবে বার্সা ভুগেছে আলেসান্দ্রো নেস্তার নেতৃত্বাধীন মিলানের অটুট রক্ষণের কাছে। ইতালির ঐতিহ্যবাহী রক্ষণের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে মিলান। এই ৩৫ বছর বয়সেও জীবনের সেরা ফর্মে থাকা ২৪ বছর বয়সী মেসিকেও বারবার আটকে দিয়েছেন নেস্তা।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পায় বার্সা। দুর্দান্ত ফ্রিকিকে বাঁকানো শটে গোলপোস্টের বাঁয়ের কোনায় বল ঢুকিয়ে দিয়েছেন ভিয়া। বার্সেলোনা আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মিলানের রক্ষণপ্রাচীরে তা প্রতিহত হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের ওই ভুলে শেষ পর্যন্ত দুটো পয়েন্টের জলাঞ্জলি।
সেই হতাশা ছিল গার্দিওলার কণ্ঠে। তবে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিলান এদিন বেশি রক্ষণাত্মক খেলেছে বলেও অনুযোগ করেছেন এই সময়ের সফলতম কোচ, ‘প্রতিপক্ষ আটজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেললে তো তাদের পেনাল্টি বক্সে আতঙ্ক তৈরি করা অসম্ভব।’ আর সৌভাগ্যক্রমে এক পয়েন্ট পেয়ে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের কথা মনে করিয়ে দিলেন মিলান কোচ অ্যালেগ্রি, ‘বার্সা এখনো বিশ্বের সেরা দল, তবে তারাও মাঝেমধ্যে ড্র করে। ফুটবলের মজাটা এখানেই। কখনো কখনো আপনি জেতার যোগ্য হলেও হেরে যাবেন, কখনো হার প্রাপ্য হলেও জিতবেন।’

Wednesday, September 14, 2011

ব্রাজিলের ‘সমতায়’ ফেরার পালা?

গত কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথ হয়নি। এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা হতাশ ছিলেন। তবে তা বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না। পরপর দুটি ম্যাচে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রথম ম্যাচটি আজই, আর্জেন্টিনার করদোবায়। ২৮ সেপ্টেম্বর ফিরতি ম্যাচ ব্রাজিলের বেলেমে।
দুটি ম্যাচই ফিফার নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচ সূচির বাইরে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা পাবে, কিন্তু এই ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়দের ছাড়তে বাধ্য নয় ইউরোপের ক্লাবগুলো। যে কারণে তারকা খেলোয়াড়দের এই দুটি ম্যাচের জন্য পাবে না আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কোনো দলই। এতে অবশ্য আক্ষেপ নেই আর্জেন্টিনার কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলার। এটাকে তিনি আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে খেলা ফুটবলারদের পরখ করে দেখার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।
কলকাতা-ঢাকা সফর শেষে তৃপ্ত মনে দেশে ফেরা সাবেলা বলেছেন, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়দের আমরা পরীক্ষা করে দেখব। আমাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই এখন বাইরে। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলতে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সবাই গর্ববোধ করে।’
জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কলকাতায় জয় দিয়ে অভিষেক। এরপর ঢাকায়ও জয়। তবে সাবেলার জন্য বড় পরীক্ষা আগামী মাসে। ৭ অক্টোবর চিলি ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরু আর্জেন্টিনার। মূলত এই দুই ম্যাচ সেই বাছাইপর্বেরই প্রস্তুতি।
ব্রাজিলের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়েই আবারও জাতীয় দলে ফেরার কথা ছিল হুয়ান রোমান রিকেলমের। যদিও শেষ পর্যন্ত চোটের কারণে তা হচ্ছে না। রিকেলমে এবং দলের আরেক সিনিয়র হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ছিটকে গেছেন। ‘আমি রোববার রোমানের সঙ্গে কথা বলেছি। ও আমাকে জানিয়েছে, ম্যাচের জন্য সে ফিট নয়’—বলেছেন সাবেলা।
ওদিকে ব্রাজিল মোটামুটি একটা শক্তিশালী দলই নামাতে পারছে। ঘানার বিপক্ষে দারুণ খেলা রোনালদিনহো এবং ওই ম্যাচে গোল করা লিওনার্দো দামিয়া, সান্তোসের উঠতি তারকা সান্তোস থাকছেন। অবশ্য ব্রুনো করতেস, কাসেমিরো, সিসেরো, মারিও ফার্নান্দেজ, ওস্কার, পলিনহো, রেনাতো আব্রিউয়ের মতো নতুন মুখও আছেন।
দুই দলই তারকাবহুল নয়। তাতে কি, সমর্থকদের প্রত্যাশায় কিন্তু হেরফের নেই। ব্রাজিল তারকা নেইমার বলছেন, ‘প্রত্যাশা বিশাল। দলে অনেক নতুন মুখ এসেছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ম্যাচটা জেতা।’
ফুটবল বিশ্বের এটি পরম প্রার্থিত দ্বৈরথ। এর আগে ৯০ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল। ব্রাজিল জিতেছে ৩৩ বার, আর্জেন্টিনা ৩৪ বার। আজ ব্রাজিলের সমতা ফেরানোর পালা?

কেন গেল না ভারত

ম্যাচ তো ছিলই না। ছিল না অনুশীলনও। ভারতীয় দল ছিল লন্ডনেই। কিন্তু পরশু সন্ধ্যায় লন্ডনের গ্রসভেনর হাউস হোটেলে আইসিসি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ছিলেন না ভারতীয় দলের একজনও!
অথচ তিনটি ক্যাটেগরিতে সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ভারতের চারজন। অনুপস্থিতি নিয়ে ভারতীয় দল ও আইসিসি দায় চাপাচ্ছে পরস্পরের ওপর। তবে ব্রিটিশ মিডিয়ার ধারণা, পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম দেখেই আগ্রহ দেখাননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা! আইসিসি অ্যাওয়ার্ডের অষ্টম আসরে পুরস্কৃত হয়েছেন কেবল একজন ভারতীয়। ট্রেন্টব্রিজ টেস্টে রান আউট হওয়া ইয়ান বেলকে ডেকে পাঠানোয় ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
ভারতের ম্যানেজার শিবলাল যাদবের দাবি, ‘অনুষ্ঠানের দিন বিকেলে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এত সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে এত বড় অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আজই আমাদের কার্ডিফে চলে যাওয়ার কথা ছিল, শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনায় যাওয়া হয়নি।’ তবে ভারত ম্যানেজারের দাবিটা আবার উড়িয়ে দিলেন আইসিসির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান কলিন গিবসন, ‘বিসিসিআইকে আমরা দুই মাস আগেই জানিয়েছিলাম। গত ২৬ আগস্ট পুরো দলকেই আবারও আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতীয় দল না আসায় আমরা বরং অবাক হয়েছি।’
বিসিসিআই ভারতীয় দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে—প্রমাণস্বরূপ এমন একটা ই-মেলও নাকি আছে, জানালেন আইসিসির এক মুখপাত্র। ওই মুখপাত্রের দাবি, অনুষ্ঠানের কারণেই সোমবার কার্ডিফে যায়নি ভারত। কিন্তু অনুপস্থিতির কারণ রহস্যজনক। অনুষ্ঠানে থাকা বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা বললেন আবার অদ্ভুত কথা, ‘আমি ভেবেছিলাম যারা মনোনয়ন পেয়েছে, তারা অন্তত আসবে।’
মজার ব্যাপার, আইসিসির প্রধান ও বিসিসিআইয়ের সাবেক প্রধান শারদ পাওয়ার ছিলেন অনুষ্ঠানে, তুলে দিয়েছেন কিছু পুরস্কার। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ, বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স ট্রফি জয়ী জোনাথন ট্রট হয়ে পড়েছিলেন আবেগ আপ্লুত, ‘কখনোই ভাবিনি এই অ্যাওয়ার্ড পাব। সাফল্যের এই স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি অসাধারণ।’ পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় নেওয়া সময়কালে (৩১ আগস্ট ২০১০ থেকে ৩ আগস্ট ২০১১) ১২ টেস্টে ৬৫.১২ গড়ে ১০৪২ রান করেছেন ট্রট, ২৪ ওয়ানডেতে ৪৮.৩৬ গড়ে রান ১০৬৪।
ট্রটের সতীর্থ অ্যালিস্টার কুক বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের ট্রফি নিয়েছেন কার্টলি অ্যামব্রোসের হাত থেকে। ইংলিশ ওপেনার কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের, ‘বছরটি ছিল অসাধারণ। এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, পুরো দলের।’ পরশু দুটো পুরস্কার জেতা একমাত্র ক্রিকেটার (বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার ও পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড) কুমার সাঙ্গাকারা অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভিডিও বার্তায়, ‘এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়াটাই দারুণ সম্মানের। পুরস্কার জেতা তো আরও বেশি সম্মানজনক।’ একই রকম প্রতিক্রিয়া ছিল বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার দেবেন্দ্র বিশুর, ‘সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকাটাই বিশ্বাস হচ্ছিল না। সেখানে পুরস্কারও পেয়ে গেলাম, খুব ভালো লাগছে।’ বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স জয়ী টিম সাউদির কথা, ‘এই পুরস্কার জয়ের স্মৃতি কখনোই ভুলব না।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের কারণে অনুষ্ঠানে ছিলেন না বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর। থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সহযোগী ও অধিভুক্ত দেশগুলোর সেরা ক্রিকেটার রায়ান টেন ডেসকাট। গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বার এই পুরস্কার জিতলেন ডাচ অলরাউন্ডার। বর্ষসেরা আম্পায়ারের ডেভিড শেফার্ড ট্রফি টানা তৃতীয়বার জিতেছেন পাকিস্তানের আলিম দার।

শাস্তি পেলেন তিন ফুটবলার

ঘরোয়া ফুটবলে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই ফুটবলার জাহিদ হাসান (এমিলি) ও মিঠুন চৌধুরীকে। সঙ্গে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা। জরিমানার টাকা না দিলে আরও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। কাল বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি খেপ খেলার দায়ে দুই ফুটবলারকে এই শাস্তি দিয়েছে।
গত ২০ জুলাই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লেবাননের বিপক্ষে খেলতে যাওয়ার আগের দিনের ঘটনা। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মানিকগঞ্জে খেপ খেলতে যান জাতীয় দলের দুই স্ট্রাইকার। পরে অবশ্য ধরা পড়েন। তার পর থেকে এই দুজনকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে আসছিল ব্যবস্থাপনা কমিটি। তারই অংশ হিসেবে ঢাকায় মেসিদের বরণ করার তালিকা থেকে বাদ পড়েন দুজনই।
শাস্তি পাচ্ছেন জাতীয় দলের আরেক খেলোয়াড় জাহিদ হোসেনও। লেবাননের বিপক্ষে ঢাকায় হোম ম্যাচে কোচ ইলিয়েভস্কি প্রথমার্ধে তুলে নেন এই উইঙ্গারকে। মাঠের বাইরে এসে বোতলে লাথি মেরে ক্ষোভ জানান জাহিদ। তাঁকে ঘরোয়া ফুটবলে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
কাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে চেয়ারম্যান বাদল রায় শাস্তির পক্ষে যুক্তি দিলেন, ‘এমিলি ও মিঠুনের বিরুদ্ধে তা ৎ ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ হওয়ার কারণে আমরা তখন কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের আজীবন নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু তাদের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’
বাফুফের এমন সিদ্ধান্তে হতাশ জাহিদ হাসান, ‘ভুল করেছি। শাস্তিও পেয়েছি। মেসিদের বরণ করতে পারিনি। তার পরও বাফুফের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। খুবই খারাপ লাগছে। বড় একটা শিক্ষা হলো, ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হয়ে চলব। একটা প্রশ্ন অবশ্য আসছে মনে, আমাদের ভুলের কারণে ক্লাব কেন ভুগবে?’

মরিনহোকে ছাড়াই শুরু করছে রিয়াল

আজ যখন মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ, হোসে মরিনহো তখন কী করবেন? এটা কোনো প্রশ্ন হলো! দল যখন খেলে, কোচের তখন ডাগ আউটেই তো থাকার কথা। না, সেটা হচ্ছে না মরিনহোর বেলায়। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের একটা শাস্তি এই মৌসুমেও টেনে এনেছেন রিয়াল কোচ। উয়েফা বার্সার পক্ষপাতী—এমন সমালোচনার কারণে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ মরিনহো এই ম্যাচটায় থাকতে পারছেন না। খেলাটা তিনি দেখবেন জাগরেবে তাঁর হোটেল কক্ষে।
গত মৌসুমের শাস্তি এই মৌসুমে টেনে এনেছেন, তবে মরিনহো নিশ্চয়ই গত মৌসুমের ব্যর্থতা এই মৌসুমেও টেনে আনতে চাইবেন না। ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা ইতিহাসের তিনজন মাত্র কোচের একজন মরিনহো। এবার তাঁর সামনে হাতছানি ইতিহাসের একমাত্র কোচ হিসেবে তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার। গতবার দারুণ ছুটছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেমিফাইনালে পড়ে যেতে হয়েছে বার্সেলোনার সামনে। এবার অবশ্য বার্সাকেও থোড়াই কেয়ার করেন ‘স্পেশাল ওয়ান’।
রিয়ালের শুরুটা তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ দিয়েই হচ্ছে। ডায়নামো জাগরেব এমনিতে রিয়ালের জন্য অচেনা প্রতিপক্ষ। তবে এর আগে কোনো ম্যাচ না খেললেও আজ ক্রোয়েশিয়ার ক্লাবটিকে হারানো রিয়ালের জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। সর্বশেষ ১২ মৌসুম আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা ক্লাবটি নিজেদের মাঠের তিন ম্যাচের দুটোই হেরেছিল। এই ১২ বছরে অনেক কিছু পাল্টেছে। গতবার ইউরোপা লিগে খেলার সময় ডায়নামো হারিয়ে দিয়েছিল ভিয়ারিয়ালকে। তবে স্প্যানিশ কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে ১০ ম্যাচে ওই একটাই ম্যাচ জিতেছে তারা, হেরেছে সাতটিই।
গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে মরিনহোর দুঃখ যতটা, তার চেয়েও বেশি দুঃখ অ্যালেক্স ফার্গুসনের। স্যার ফার্গির দল ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও পারল না। নতুন মৌসুমে নতুন মিশন। এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারুণ্যের জয়গান গাইছে। লিগে গত দুই ম্যাচে ১৩ গোল করা ম্যানইউ আজ মুখোমুখি দুবারের চ্যাম্পিয়ন বেনফিকার। মুখোমুখি লড়াইয়ের সাত ম্যাচের ছয়টিই ম্যানইউ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু ফার্গুসনের জন্য আজ দুশ্চিন্তার কারণ, বেনফিকা ইউরোপ পর্যায়ে নিজেদের মাঠে গত ছয়টি ম্যাচই জিতেছে। জিতেছে আসলে গত দশ ম্যাচের নয়টিই। ইংলিশ প্রতিপক্ষের সঙ্গেও তাদের রেকর্ডটা ভালো। নিজেদের মাঠে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিই জিতেছে। তবে গত সাত ম্যাচে বেনফিকার যে একটি মাত্র পরাজয়, সেটিই ম্যানইউর বিপক্ষে। চার ম্যাচে ৮ গোল করা রুনি লিগের এই ফর্মটা ইউরোপেও টেনে নিতে পারেন কি না, দেখার বিষয়।
মরিনহোর সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলান মুখোমুখি হবে ত্রাবজনস্পরের। ইতালিয়ান লিগে প্রথম ম্যাচে পালেরমোর কাছে ৪-৩ গোলে হেরে আসা ইন্টারের জন্য এই ম্যাচে দুশ্চিন্তা নিজেদের রক্ষণ নিয়ে। আজকের ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক হবে আরেক ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলির। এই দলটি মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটির, চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যান সিটিরও এটি অভিষেক ম্যাচ। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সার্জিও আগুয়েরো মুখোমুখি হচ্ছেন তাঁর শ্বশুর ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাবের। ম্যারাডোনার ছোঁয়ায় নাপোলি যেমন বদলে গিয়েছিল, আগুয়েরোও তেমনি বদলে দিতে চান সিটির ভাগ্য। দেখা যাক, শুরুটা কেমন হয় আগুয়েরো এবং ম্যান সিটির।
এই ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে ভিয়ারিয়াল আর বায়ার্ন মিউনিখও। ফলে অনেকের চোখে এটাই হয়ে গেছে ‘গ্রুপ অব ডেথ’। সব কটি দলই প্রায় কাছাকাছি শক্তির। গ্রুপ অব ডেথের লড়াই মানে অন্য আকর্ষণও। সেই আকর্ষণ আজ বাড়াবে ভিয়ারিয়াল বনাম বায়ার্নের ম্যাচটিও।

Tuesday, August 9, 2011

সাবেলার আর্জেন্টিনা-স্বপ্ন

স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন আলেজান্দ্রো সাবেলা। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন আর্জেন্টিনার কোচ হবেন। বহুদিনের লালিত স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে। এবার আরেকটা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন—আর্জেন্টিনার হূতগৌরব পুনরুদ্ধার করবেন।
১৯৭৪ সালে শুরু করা খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি টানেন ১৯৮৯ সালে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে খেলেছেন মাত্র ৪টি ম্যাচ। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করলেও ফুটবল ছাড়েননি। রিভার প্লেট ও এস্তুদিয়ান্তেসের সাবেক মিডফিল্ডার বেছে নেন কোচিং ক্যারিয়ার।
শুরুতে অবশ্য আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ ড্যানিয়েল পাসারেলার সহকারী হিসেবেই কাজ করেন বিভিন্ন ক্লাবে। সহকারী কোচের ভূমিকায় ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আলফিও বাসিলে এবং ১৯৯৮-এ পাসারেলার সঙ্গে কাজ করেছেন। মূল কোচের দায়িত্ব পান ২০০৯ সালে, আর্জেন্টিনার ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেসে। খেলোয়াড় হিসেবে না পারলেও কোচ হিসেবে এস্তুদিয়ান্তেসকে জেতান কোপা লিবার্তোদোরেস।
খেলোয়াড়ি জীবনে আর্জেন্টিনার হয়েও কিছু করতে পারেননি। কোচ হিসেবে কি পারবেন? সাবেলা প্রত্যয়ী, ‘আমি কখনোই আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি। জাতীয় দলের কোচ হওয়া অনেকে সম্মানের। আবার অনেক দায়িত্বও আছে। আর্জেন্টিনার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাই আমি।’
এখন গৌরবের মানদণ্ড আরেকটা বিশ্বকাপ জেতানো। দুবারের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা বড় স্বপ্ন নিয়ে নিজের দেশে কোপা আমেরিকা খেলতে নেমেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের মৃত্যু হয় কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে পেছনের এই ব্যর্থতা নিয়ে বসে না থেকে সাবেলা এগিয়ে যেতে চান সামনে।
সাবেলার এই এগিয়ে যাওয়া হবে নিজস্ব কায়দায়। আগামী মাসে কলকাতা ও ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ভেনেজুয়েলা ও নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচের দল সাবেলা ঘোষণা করবেন শিগগিরই। এর আগে দল সম্পর্কে একটা ইঙ্গিত অবশ্য দিয়েছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ। দলটাও ভারসাম্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে চাই। যে দলের একটি নিশ্ছিদ্র রক্ষণভাগ থাকবে, থাকবে ভালো একটি মাঝমাঠ এবং আগ্রাসী আক্রমণভাগ।’
তবে এর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, তা হচ্ছে দলীয় ঐক্য এবং দলের প্রতি ভালোবাসা। দল দেওয়ার আগেই খেলোয়াড়দের প্রতি সেই বার্তাটা পৌঁছে দিয়েছেন সাবেলা, ‘খেলোয়াড়দের অবশ্যই এটা মনে রাখতে হবে, সবার ওপরে দল।’

বার্সা রিয়াল চেলসির জয়

প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে হেরে গেলে হয়তো কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু নতুন মৌসুম শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসে ঘা তো লাগেই। পর পর দুই ম্যাচে হেরে বার্সেলোনার সেই ছন্দপতনই হয়েছিল। অবশেষে পরশু যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাদের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিল ইউরোপ ও স্পেন চ্যাম্পিয়নরা। টেক্সাসে মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকাকে তারা হারিয়েছে ২-০ গোলে। ২৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছেন ডেভিড ভিয়া, শেষ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন সেইডু কেইটা। চীন সফরের প্রথম ম্যাচে গুয়াংজু এভারগ্রান্ডেকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর পরশু রিয়াল মাদ্রিদ ৬-০ গোলে হারিয়েছে তিয়ানজিন তেদাকে। গোল পেয়েছেন কাকা, ডি মারিয়া, হিগুয়েইন, রোনালদো, বেনজেমা (২)। ওদিকে প্রাক-মৌসুমে আগের ছয়টি ম্যাচ জেতার পর পরশু স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্সকে নিজেদের মাঠেই ৩-১ গোলে হারিয়েছে চেলসি।
কমিউনিটি শিল্ড ম্যানইউর: কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের মুখ রক্ষা করেছেন স্মলিং, নানিরা। কমিউনিটি শিল্ডের ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’কে সামনে রেখে ফার্গুসন বলেছিলেন, নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের হই-হুল্লোড় থামিয়ে দেবেন। কাল ওয়েম্বলিতে ৩-২ গোলে দলকে জিতিয়ে শিষ্যরা মান রেখেছে বটে, তবে উদ্বেগাকুল সময়ই কেটেছে ম্যানইউ কোচের। ফার্গুসনের টেনশন বাড়িয়ে লেসকট ও জেকোর গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ গোল করে ম্যানইউ ম্যান সিটিকে হতাশ করে জিতে নেয় মৌসুমসূচক কমিউনিটি শিল্ড। ৫২ মিনিটে গোল করে ম্যানইউকে ম্যাচে ফেরান স্মলিং। ৫৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলের পর অতিরিক্ত সময়ে দলের জয়সূচক গোলটিও করেছেন নানি।

ইব্রার কণ্ঠে মিলানের জয়গান

ইন্টার মিলানের টানা পাঁচ বছরের শ্রেষ্ঠত্ব চ্যালেঞ্জ করে ছয় বছর পর গত মৌসুমে লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে এসি মিলান। এবার তো মৌসুমটাই শুরু করল সেই ইন্টার মিলানকে হারিয়ে সুপারকোপা জিতে। পরশু বেইজিংয়ের এই ‘মিলান ডার্বি’ জয়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ মেতেছেন মিলান প্রশংসায়।
‘ইব্রা’ বলছেন, মিলান বিজয়ীদের দল। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও মিলান মৌসুমসূচক শিরোপা জিতেছে ২-১ গোলে। ইব্রাহিমোভিচের বিশ্বাস, এই জয় মিলানের ‘বিজয়ী’ মানসিকতারই ফসল।
২৯ বছর বয়সী সুইডিশ এটাও মনে করেন, এই জয় দলে জয়ের মানসিকতা আরও জোরালো করবে, ‘এই ধারা বজায় রেখে দল জিততেই চাইবে।’ মিলানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আরও বলেছেন, ‘আমি জিততে চাই। আমরা মিলান এবং জয়টাই আমাদের কাম্য। কারণ, এটাই ক্লাবের মানসিকতা। ক্লাবের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যই আমাদের ওপর এই দায়িত্ব আরোপ করে।’
বার্সেলোনায় এই সুইডিশ ছিলেন অবহেলিত। কোচ পেপ গার্দিওলা অধিকাংশ ম্যাচেই ইব্রাহিমোভিচকে বসিয়ে রাখতেন বেঞ্চে। গার্দিওলার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণেই গত মৌসুমে বার্সা থেকে ধারে খেলতে আসেন এসি মিলানে। মিলানে এসেই ইব্রাহিমোভিচ স্বরূপে ফেরেন। ৩৯ ম্যাচে ২১ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১২টি।
এই সাফল্যের রহস্য দলের এক হয়ে খেলা। পরশু তিনিই যেমন নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দিলেন সতীর্থদের, ‘ভালো করার জন্য আমি সতীর্থদের ধন্যবাদ দেব। তাদের সাহায্য ছাড়া আমি কিছুই করতে পারতাম না। আমার গোলটির জন্য (ক্লারেন্স) সির্ডফকে ধন্যবাদ দেব।’
এদিকে হারের পর ইন্টার মিলানের অধিনায়ক হাভিয়ের জানেত্তি বলেছেন, ‘দলের এককাট্টা হতে আরও সময় দরকার।’ ভুল কিছু বলেননি এই আর্জেন্টাইন। ব্রাজিলিয়ান কোচ লিওনার্দো চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব বর্তেছে জিয়ান পিয়েরো গ্যাসপেরিনির কাঁধে। নতুন কোচের অধীনে গুছিয়ে উঠতে সময় তো কিছু লাগবেই।

Monday, August 8, 2011

আবার স্বপ্ন দেখছেন রোনালদিনহো

হলুদ জার্সিটা সব সময়ই টানে রোনালদিনহোকে। মনের মধ্যে আবার ব্রাজিল দলে ফেরার আকুলতা। সেই আকুলতা নিয়ে চোখের সামনে চলে যেতে দেখেছেন ২০১০ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ গেল, গেল দুঙ্গা-যুগ। ব্রাজিলের ফুটবলে এখন মেনেজেস-যুগ। কিন্তু দলে আর ফেরা হয় না রোনালদিনহোর। নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন যিনি, তাঁকে কোন ভরসাতেই বা দলে নেবেন ব্রাজিলের নতুন কোচ মানো মেনেজেস?
তবে রোনালদিনহোর বিশ্বাস, আবার ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে উঠবে তাঁর। দুবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ফ্লামেঙ্গোতে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ফ্লামেঙ্গোতে যেমন কাটছে, এই ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে মেনেজেসের দলে জায়গা করে নিতে পারবেন, সুযোগ পাবেন নিজের দেশে ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলার; রোনালদিনহো আছেন এই বিশ্বাস আর স্বপ্ন নিয়ে।
‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে ফ্লামেঙ্গোর হয়ে নিজের সেরা খেলাটা খেলে যাওয়া। এরপর কোচের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি খেলতে প্রস্তুত’—বলেছেন এসি মিলান থেকে এ বছরই ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লামেঙ্গোতে নাম লেখানো বার্সেলোনার সাবেক প্লে-মেকার।
এ বছরের জানুয়ারিতে ফেরেন স্বদেশে, যোগ দেন ফ্লামেঙ্গোতে। ‘ফুরিয়ে যাওয়া’ রোনালদিনহো নিজেকে আবার আবিষ্কারের ইঙ্গিত দেন এখানেই। এই তো গত সপ্তাহেই সান্তোসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে জেতান দলকে। এখন তো বলতেই পারেন, ‘ব্রাজিল দলে ফেরার স্বপ্নটা আমি দেখি। বিশ্বকাপের আগে অনেক কিছুই ঘটবে। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় দলে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারব।

Monday, August 1, 2011

বার্সাকে হুমকি রোনালদোর

রোনালদো এসে গেছেন, এবার কাটবে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা-খরা। দুই মৌসুম আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যখন ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ড গড়ে রিয়ালে নাম লেখান, বার্নাব্যু-জুড়ে উঠেছিল এই রব। রোনালদো পারেননি। দুই মৌসুম কেটে গেছে—স্প্যানিশ লিগে সেই বার্সেলোনারই জয়জয়কার, চ্যাম্পিয়নস লিগে খরাই চলছে রিয়াল মাদ্রিদের। শুধু কোপা দেল রে জয়ের সঙ্গে গত মৌসুমে রোনালদোর সান্ত্বনা হয়ে ছিল পিচিচি ট্রফি জয়ের ব্যক্তিগত অর্জন।
এবার দলীয় অর্জনেও ভাসতে চান রোনালদো। বার্সেলোনাকে হটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের মাথায় পরাতে চান স্প্যানিশ আর ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। ‘গোল করতে পেরে আমি খুব খুশি। কিন্তু সব সময়ই আমার লক্ষ্য দলকে জেতানো। আমি সবচেয়ে খুশি হব স্প্যানিশ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে’—বলেছেন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে দুর্দান্ত ফর্ম দেখানো রোনালদো।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিটা রোনালদোর ভালোই হচ্ছে। গত মৌসুমটা যেখানে শেষ করেছিলেন, যেন সেখানেই আছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। গত মৌসুমে ৪০ গোল করে স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পিচিচি জেতা রোনালদো ৪ ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ করেছেন ৫ গোল।
অথচ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ২০০৯ সালে রোনালদো যখন বার্নাব্যুকে ঠিকানা বানান, তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল অনেক। একদিকে ট্রান্সফার ফির রেকর্ড নিয়ে হইচই, অন্য দিকে ছিল তাঁর ডাইভ দেওয়া নিয়ে সমালোচনা। দুই মৌসুমে রোনালদো প্রমাণ করেছেন, তিনি ফুটবল দিয়েই মানুষের মন জয় করতে পারেন। ওয়েবসাইট।
রিয়ালে রোনালদোর আরেকটা পরিচয়—ফ্রি-কিক মাস্টার। সেট পিসের জন্য বিখ্যাত ডেভিড বেকহামের ৭ নম্বর জার্সিটাই রিয়ালে পেয়েছেন রোনালদো। এ কারণেই কি না, রিয়ালে নাম লেখানোর পর থেকেই ভালো ফ্রি-কিক নিতে শুরু করেন। গত বুধবার হার্থা বার্লিনের বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল করেন এবং সেটা ফ্রি-কিক থেকে। দুই বছরে এ নিয়ে ফ্রি-কিক থেকে ১৩টি গোল করেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
আসন্ন মৌসুমে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে নিশ্চয়ই। হয়তো আরও একবার জ্বলজ্বল করে জ্বলবেন। তা যদি পারেন, তাহলে হয়তো তাঁর অন্য ইচ্ছাটাও পূরণ হবে—বার্সেলোনাকে সিংহাসনচ্যুত করে রিয়ালকে এনে দিতে পারবেন স্প্যানিশ আর চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হলেন ক্লিন্সমান

বরখাস্ত হওয়া বব ব্র্যাডলির উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের কাঁধেই উঠল যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের দায়িত্ব। গত বৃহস্পতিবার বব ব্র্যাডলিকে ছাঁটাইয়ের পরদিনই নতুন কোচ হিসেবে ক্লিন্সমানের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশন।
জার্মানির সাবেক এই কোচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সেই ২০০৬ বিশ্বকাপের পর থেকেই। গত মৌসুমেও তিনি ছিলেন আলোচনায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বব ব্র্যাডলির সঙ্গেই চার বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করে। কিন্তু এক বছর পেরোতেই ব্র্যাডলিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলো ক্লিন্সমানকে। তবে চুক্তিটা কত দিনের, সেটা জানানো হয়নি।
১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর থেকেই মার্কিন স্ত্রীকে নিয়ে ক্লিন্সমান বসবাস করছেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের কোচের চাকরি হারানোর পর থেকে এখানেই স্থায়ী। ফলে জার্মানির এই সাবেক স্ট্রাইকার যুক্তরাষ্ট্রে খুবই জনপ্রিয়। এবার জনপ্রিয়তার পারদ নিশ্চিতভাবেই আরও উর্ধ্বমুখী হবে। গতকাল গতকালই ৪৭-এ পা দেওয়া ক্লিন্সমানের মতো বিশ্ব ফুটবল ব্যক্তিত্বকে কোচ হিসেবে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন উচ্ছ্বসিত। খেলোয়াড় হিসেবে জার্মানিকে ১৯৯০ বিশ্বকাপ এবং ১৯৯৬ ইউরো জেতানো ক্লিন্সমান নিজেও রোমাঞ্চিত।
২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানিকে ‘তৃতীয়’ করা কোচ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পুরুষ দলের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত এবং সম্মানিত। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই এবং আগামীর এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমি রোমাঞ্চিত বোধ করছি।’ চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন আগামীকাল সোমবার নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনের পর। তবে কোচ হিসেবে প্রথম লক্ষ্যটা স্থির করে ফেলেছেন। আগস্টে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য দলকে নতুন করে সংগঠিত করাই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য।

মেসির সমর্থনে রিকেলমে

জাতীয় দলের জার্সি গায়েও মেসি কীভাবে বার্সেলোনার খেলাটি খেলতে পারেন—সেটা তাঁরই ভালো জানা। ২০০৭ কোপা আমেরিকার পর ২০০৮ অলিম্পিকেও মেসির সঙ্গে দারুণ জমেছিল হুয়ান রোমান রিকেলমের জুটি। রিকেলমে-বিহীন আর্জেন্টিনায় মেসি যখন আবার ব্যর্থ, বোকা জুনিয়র্সের এই তারকা পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থের। বললেন, মেসিকে প্রত্যাশার চাপে নতজানু করে নয়, তাঁকে খেলাটা উপভোগ করতে দিতে হবে।
বলেছেন, ‘এত আগেভাগে আর্জেন্টিনা কোপা থেকে বিদায় নেবে ভাবতেই পারিনি। কিন্তু যতবারই জাতীয় দল ব্যর্থ হয়, আমরা সব দোষ চাপিয়ে দিই মেসির ওপর। আরে, আমাদের সৌভাগ্য, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়টি এই দলেই খেলে।’

আর্জেন্টিনার জয়, ব্রাজিলের ড্র

সিনিয়ররা ব্যর্থ হয়েছে কোপা আমেরিকায়। সেই ব্যর্থতাকে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও টেনে নিয়ে এল ব্রাজিল। মিসরের সঙ্গে ড্র করেছে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রতিবেশী ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের সফলতম দল আর্জেন্টিনার শুরুটা ভালোই হয়েছে। ১-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়েছে তারা।
কলম্বিয়ায় পরশু শুরু হওয়া যুব ফুটবলের ১৮তম আসরের উদ্বোধনী দিনের চার ম্যাচের তিনটিই হয়েছে ড্র। গোল হয়েছে মাত্র ৩টি। ই-গ্রুপে ব্রাজিল ১২ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল দানিলোর গোলে। ২৬ মিনিটে মিসরকে সমতায় ফেরান ওমর জাবের। অন্য ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও পানামার ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য।
এফ-গ্রুপে আর্জেন্টিনাকে জিতেয়েছেন এই মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাব রোমায় যোগ দেওয়া এরিক লামেলা। পুরো ম্যাচেই দারুণ খেলা ১৯ বছর বয়সী লামেলা ৭০ মিনিটে করেছেন জয়সূচক গোলটি।

Monday, June 27, 2011

তাঁরও নায়ক ম্যারাডোনা

কোপা লিবার্তোদোরেস ফাইনালের ফিরতি লেগ ছিল বলে এক দিন পরে এসেছেন। আর্জেন্টিনায় পা রাখা মাত্রই নেইমারকে ঘিরে ধরেছেন সাংবাদিকেরা। সান্তোসের ১৯ বছর বয়সী এই উঠতি তারকা প্রথম সুযোগেই স্যালুট জানিয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার সেকালের মহাতারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর একালের মহাতারকা লিওনেল মেসিকে।
ম্যারাডোনা তাঁকে অভদ্র বলেছিলেন বলে খবর রটেছিল। এর পরদিনই অবশ্য ম্যারাডোনা তাঁর নাতির দিব্যি কেটে জানান, এ ধরনের কোনো মন্তব্যই তিনি করেননি। আর নেইমারও সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, এ নিয়ে অহেতুক জল ঘোলা করার দরকার নেই, ‘এ নিয়ে আমি আগেই আমার ওয়েবসাইটে একটা নোট দিয়েছি। এটা এখন অতীত। ম্যারাডোনা শুধু আমার নয়, পুরো বিশ্বেরই একজন নায়ক। তাঁর প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আছে। তাঁর সঙ্গে তোলা একটা ছবিও আছে আমার।’
ইদানীং অনেকে মেসি বনাম নেইমার দ্বৈরথের ছবি আঁকছেন। কিন্তু সেই চারা গাছকে আর বাড়তে দিতে রাজি নন নেইমার। জানিয়ে দিলেন, ‘আমি সব সময়ই বলেছি, দরকার পড়লে হাজারবার বলব, মেসি বাকি সবার চাইতে এক ধাপ ওপরে।’
কিন্তু বয়সের তুলনায় যথেষ্ট পরিণতও মনে হয় তাঁকে, ‘সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি তাতে উচ্ছ্বসিত। আমি কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাচ্ছি এতে ভালোই লাগে। কিন্তু ব্রাজিল দলে আমি স্রেফ আরেকজন খেলোয়াড়, যে কি না দলের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে, এর বেশি কিছু নয়।’

Saturday, June 25, 2011

মেসিকে পেলের তির্যক বাণ

কিছু বিষয় আছে কখনো বদলায় না। এই যেমন ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ম্যারাডোনা পেলের পরের প্রজন্মের খেলোয়াড় হলেও দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতিহাসেরই বিষয় হয়ে গেছে। পেলে না ম্যারাডোনা, কে সর্বকালের সেরা এই বিতর্কটাও সেই কবে থেকে চলে আসছে, একটুও রং হারায়নি। মঞ্চে লিওনেল মেসির আবির্ভাব বরং এই বিতর্কে ঘি-ই ঢেলেছে।
মেসি সর্বকালের সেরাদের একজন কি না—পরশু সান্তোস লিবার্তোদোরেস কাপ শিরোপা জয়ের পর পেলেকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন। বিতর্কের সলতেটা যেন বাড়িয়েই দিয়েছেন ওই সাংবাদিক! পেলে তির্যকভাবে যা বলেছেন, তাতে অর্থটা দাঁড়ায় মেসির পেলে হতে এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে, নেইমার বরং একসময় মেসির চেয়ে ভালো করবে।
২৩ বছর বয়সেই মেসি অনেক কিছু পেয়েছেন। স্প্যানিশ লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো দলীয় পুরস্কারের পাশে জ্বলজ্বল করছে ফিফা আর ইউরোপ-সেরার স্বীকৃতি। এই বয়সে পেলে-ম্যারাডোনারাও এত কিছু জিততে পারেননি।
কাঠখোট্টা ভাষাতেই এর জবাব দিয়েছেন পেলে, ‘মেসি পেলের চেয়ে ভালো? এটা হতে ওকে আগে ১২৮৩ গোল করতে হবে।’ ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলে তাঁর ক্যারিয়ারে খেলেছেন সান্তোস, এমএলএসের (মেজর লিগ সকার) ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে। সব মিলিয়ে করেছেন ১২৮৩ গোল। বার্সেলোনার মেসির সব মিলিয়ে ১৮০ গোল।
মেসির একটি অপূর্ণতাও দেখিয়ে দিয়েছেন পেলে। সেটি সবাই জানে, আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের আর্জেন্টিনার হয়ে এখনো কিছু জিততে না পারা। এই প্রসঙ্গ টেনেই ‘নতুন পেলে’ বিশেষণ পাওয়া নেইমারকে নিয়ে বলেছেন, ‘নেইমার দারুণ এক প্রতিভা। আশা করছি, ওর শেষটা মেসির মতো হবে না। মেসি তো ক্লাবের হয়ে দারুণ খেলে, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে কিছুই করতে পারে না।’
দেখা যাক, নিজের দেশের কোপা আমেরিকায় মেসি এর জবাব দিতে পারেন কি না! এই বদনামটা যে বহুদিন ধরেই বয়ে বেড়াচ্ছেন বার্সেলোনার প্লে-মেকার।

নতুন কোচ থাকবেন তো?

বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে অসংখ্য টিভি ক্যামেরা। তা দেখে আশপাশের সবারই কৌতূহলী দৃষ্টি, ‘কে এলেন?’
বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি। এসেছেন মেসিডোনিয়া থেকে, ৫৫ হাজার ৫৯৮ বর্গমাইলের বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় যে দেশটি অর্ধেকেরও কম (২৫ হাজার ৭১৩ বর্গমাইল)। ১৬ কোটি মানুষের দেশে চাকরি নিয়েছেন ২০ লাখ মানুষের দেশের বাসিন্দা।
তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে বাফুফের কর্মকর্তা-কর্মীরা গেলেন ফুলের তোড়া নিয়ে। বেশ হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল কালো স্যুট পরা ভদ্রলোককে। ২৬ ঘণ্টা ভ্রমণের ক্লান্তি কাটিয়ে ঘণ্টা তিনেক বাদেই এলেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ দেখতে। কী দেখলেন?
ইলিয়েভস্কি কথা বলেন গ্রিক ভাষায়। ভাঙা ভাঙা ইংরেজি জানেন। গলার স্বর খুবই নিচু। শোনার জন্য মুখের কাছে কান নিতে হয়। এ এক বড় সমস্যা। বিমানবন্দরেই সেটি ভালো করে বোঝা গেল। মাঠে আসার পর আরও। তবে তাঁর অভিব্যক্তি বলে দিল, দুই প্রধানের ম্যাচ দেখে খুশি নন। আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আগে তেমন কিছুই বলতে চাইলেন না। তবে কাল বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন, তাতে ‘বাংলাদেশে এসে আমি খুশি’ জাতীয় অনুভূতিই প্রকাশ পেল।
পূর্বসূরি রবার্ট রুবচিচ ২ জুন ভোর রাতে কাউকে না বলেই চলে গেছেন। নতুন কোচ হিসেবে বাফুফে যাঁকে চূড়ান্ত করেছিল, সেই মেসিডোনিয়ান কোচ জর্জি ইয়োভানভস্কিও এলেন না বাংলাদেশ দল নিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার ভয়ে। তাঁরই স্বদেশি এবং মেসিডোনিয়া জাতীয় দলের সাবেক কোচ এসে বাফুফেকে চিন্তামুক্ত করেছে। কালকের দিনটি বাফুফের কাছে ‘কোচ নিয়ে চিন্তা মুক্তি দিবস’ হতে পারে!
কিন্তু বড় প্রশ্ন—ইলিয়েভস্কি বাংলাদেশকে বেছে নিলেন কেন? ‘জাতীয় দলের কোচ হওয়া বিশেষ কিছু। সেটি চীন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ যে দেশই হোক না কেন’?—বললেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলে দলের ১৫তম বিদেশি কোচ।
ইলিয়েভস্কি জানেন না, এ দেশে এসে কোচরা কাজ না পেয়ে শুয়েবসে থাকেন। কিছুদিন পর চলে যান। তাঁর বেতনটাও ঠিকমতো দিতে পারে না ফেডারেশন। কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় উপাদান চেয়ে পান না। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে পরে চলে যেতে হয়।
৫৬ বছর বয়সী মুখে স্মিত হাসি নিয়ে বলে গেলেন, ‘আমি আপাতত এক বছরের জন্য এসেছি। তবে আশা করছি, এ দেশ আমার ভালো লাগবে এবং দীর্ঘ মেয়াদেই থাকতে পারব।’
তিনি এগিয়ে যেতে চান নিজের কোচিং দর্শন নিয়ে, ‘আমি জয়ী হতে ভালোবাসি। তবে যেতে চাই ধাপে ধাপে। আমি চাই আক্রমণাত্মক খেলতে। কোয়ালিটি এবং ক্যারেক্টারিস্টিক প্লেয়ারই আমার পছন্দ।’
খেলোয়াড়ি জীবনে স্ট্রাইকার হিসেবে শুরু করে ৮ বছর পর মিডফিল্ডার হয়ে গেছেন। অবিভক্ত যুগোস্লাভিয়ার হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু এখন কোচিং নিয়েই কথা বলতে বেশি আগ্রহ তাঁর, ‘মেসিডোনিয়ার হেড কোচ ছিলাম ২১টি ম্যাচে। অর্ধেকেরও বেশি জিতেছি। স্কলারির পর্তুগালের বিপক্ষে আমার মেসিডোনিয়া হেরেছে ১-০ গোলে। এরিকসনের ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ করেছি আমরা।’
বর্তমান সময়ের সেরা কোচদের মধ্যে কাকে পছন্দ? মরিনহো, ফার্গুসন না গার্দিওলা? ‘আমি নিকোলা...’ বলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গেলেন।
ততক্ষণে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর তাড়া কর্তাদের [বাদল রায়, হাসানুজ্জামান (বাবলু), ইমতিয়াজ সুলতান (জনি), ছাইদ হাসান (কানন)]। বেরোনোর আগে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ জুলাই ফিরতি ম্যাচে লাহোরে যেতে তাঁর আপত্তি নেই জানিয়ে দেন, ‘পাকিস্তানে যেতে আমার সমস্যা নেই।’
২৯ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ম্যাচ। আজই বিকেএসপিতে প্রাথমিক দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। এসেই কাজ পেলেন। কিন্তু বাফুফে কি তাঁকে ধরে রাখতে পারবে?