Tuesday, March 28, 2017

আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অপেক্ষায় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় আতিয়া মহল নামক ভবনকে ঘিরে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামের কমান্ডো অভিযান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করে ভবনটিকে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হতে পারে, এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। গতকালই সন্ধেবেলাতেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবনটির ভেতরে চারজন সন্দেহভাজন উগ্রবাদী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ একজন নারী। এরা ছাড়া ভেতরে আর কোনো উগ্রবাদী থাকার সম্ভাবনা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। তারপরও কমান্ডোদের অভিযান গতকাল শেষ না হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়, ভবনটি বিস্ফোরকে ভরা, এটিকে এখনো পুরোপুরি নিরাপদ করা যায়নি, তাই অভিযান চলমান রাখার কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সিলেট থেকে বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেন জানাচ্ছেন, কর্মকর্তাদের সাথে কথাবার্তা বলে যেটুকু ধারণা পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী আজ হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে। এদিকে, ভবনটির নিচতলা থেকে নিহত দুজন উগ্রবাদীর লাশ গতকালই বের করে এনে পুলিশকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদের একজন মহিলা একজন পুরুষ। বাকী দুজন নিহত উগ্রবাদীর শরীরে বিস্ফোরকের বেল্ট বাঁধা থাকায় তাদের বের করে আনতে সময় লাগছে। এর আগে অভিযানের প্রথম দিকে ওই ভবনটির ভেতর থেকে এক নারী উগ্রবাদী চিৎকার করে পুলিশের উদ্দেশ্যে কথাবার্তা বলেছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছিলেন। পরে এ-ও জানা গিয়েছিল, যে ফ্ল্যাটটিকে ঘিরে এই উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড চলেছে, সেটি মর্জিনা নামে এক নারী ভাড়া নিয়েছিল। ফলে নিহত নারীটি সেই মর্জিনা বলেই মনে করা হচ্ছে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, যতদূর জানা যাচ্ছে, নিহত উগ্রবাদীদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত। হয়তো আজই কোন এক সময় তাদের পরিচয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবগত করবে তারা। তবে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে নিহতরা সবাই নব্য জেএমবি নামে কথিত উগ্রবাদী সংগঠনটির সাথে যুক্ত এবং এদের মধ্যে এই সংগঠনের অত্যন্ত উঁচু পর্যায়ের একজন নেতা রয়েছে। গত বছর জুলাই মাসে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান নামের রেস্তোরাঁয় উগ্রবাদী হামলার সাথেও এদের কারো কারো যোগসাজশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

অবসরেও ব্যতিক্রমী জীবন ওবামার

কয়েক বছরের মধ্যে একটা ভিন্নধর্মী ককটেল পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই আড্ডা-অনুষ্ঠানে তার সাবেক প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চিফ অব স্টাফ ডেনিস ম্যাকডোনাফসহ জুনিয়র অনেক কর্মকর্তা যোগ দিয়েছিলেন। এটা এক ধরনের গেট-টুগেদারের মতো, তবে ছোট্ট সেই হলঘরে পদমর্যাদার তোয়াজ ছিল না। একই পাত্র থেকে সবাই খাবার নিচ্ছিলেন, পানীয় হাতবদল করছিলেন। হোয়াইট হাউসের সাবেক জনসংযোগবিষয়ক এক কর্মকর্তা পিটার ভেলজ বলেন, এটা ছিল কিছুটা নিয়মভাঙা পার্টি। ভাইস প্রেসিডেন্টের প্লেট থেকেই পনির তুলে খাওয়া যায়।’ তবে ডিনার শেষে যথারীতি সেই পুরনো কৌতুক বলে ওবামা বিদায় নিয়েছিলেন, তা হচ্ছে- ‘আসি, তাড়াতাড়ি মিশেলের কাছে না গেলে আমার খবর আছে!’ বারাক ওবামার সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা ভ্যালেরি জারেট জানান, ওবামা সাধারণ জীবনযাপন করছেন। অবশ্য হোয়াইট হাউসেও তিনি সাধারণ ছিলেন। ডেমোক্রেট দলের নানা চাপ সত্ত্বেও তিনি নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিতেন। তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে আরামে বিশ্রাম নিচ্ছেন, ‘পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছেন।’ সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পরবর্তী জীবনে ওবামা তার অবকাশ লম্বা করতে পারছেন না। গত সপ্তাহে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিলাসবহুল রিসোর্টে সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকেই এক বিবৃতি দিয়ে বলতে হয়েছে, তার স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্যনীতি একতরফাভাবে বাতিল করা ঠিক হবে না। তার মানে রাজনৈতিক ও জনজীবনে বারাক ওবামার উপস্থিতি বহালই থাকছে। ওবামা অবসরপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেও তাকে এখনও তরুণ বলা যায়। আর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার ওয়াশিংটনে বসবাস। ছোট মেয়ের হাইস্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ছাড়তে পারছেন না তিনি। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ ওবামাকে আলোচনায় নিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রশাসনিক বিশৃংখলার জন্য পূর্বসূরি ওবামাকে দায়ী করেছেন। তার মতে, এই নৈরাজ্য তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারকে দুষছেন। নির্বাচনোত্তর ওবামা-ট্রাম্পের টুকটাক সৌজন্য আলাপ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের শপথের দু’মাস পার হলেও দুই নেতার আর কথা হয়নি। যেটুকু ভদ্রতার আবরণ ছিল, সেটাও ছুড়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি বলেছেন, ওবামা তার ট্রাম্প টাওয়ারে আড়ি পেতেছিলেন। এই অভিযোগে ওবামা ব্যক্তিগতভাবে বিরক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখাননি। কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা ও এফবিআই প্রধান ওই অভিযোগ নাকচ করেছেন। সম্প্রতি ওবামাকেয়ারের বিকল্প স্বাস্থ্যনীতি ঠেকিয়ে দিয়েছেন খোদ রিপাবলিকানরাই।
সাবেক প্রেসিডেন্টরা অবসর নেয়ার পর সাধারণত রাজনীতির একেবারেই দূরে চলে যান। জর্জ ডব্লিউ বুশ সর্বনিম্ন রেটিং নিয়ে ক্ষমতা ছেড়েছিলেন। তারপর মন দিয়েছিলেন আত্মজীবনী লেখা ও ছবি আঁকায়। বিল ক্লিনটন নিউইয়র্ক পাড়ি দিয়ে তার স্ত্রী হিলারির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু বারাক ওবামা একেবারেই রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না। তিনি নিজেই বলেছিলেন, দেশের প্রয়োজনে নাগরিক হিসেবে তিনি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন। এই মুহূর্তে বারাক ওবামা জনজীবন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। ফেব্রুয়ারিতেই তার বড় মেয়ে মালিয়াকে নিয়ে আর্থার মিলারের ‘দ্য প্রাইস’ অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন। বসেছিলেন দর্শক সারির একপাশে। দর্শকরা তার আগমনের খবর জানতেন না। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিক তাকে দেখে টুইট করেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষের আগেই ওবামা লাপাত্তা। জনসমাগম এড়াতেই ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই একের পর এক দ্বীপাঞ্চলে গেছেন অবকাশ কাটাতে। অন্যদিকে মিশেল ওবামা ওয়াশিংটনে থাকলেও জনসম্মুখে খুব একটা আসছেন না। নারী দিবসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অভিবাসীদের নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তবে তাতে ট্রাম্পের নাম নেননি। ওয়াশিংটনের এক অনুষ্ঠানে গেলেও ছবি তুলতে রাজি হননি। হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গত আট বছর ওবামা দম্পতি যে বিশাল চাপের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন, তারা দু’জনেই সেই অবস্থা থেকে মুক্তির চেষ্টা করছেন। একজন জাতীয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক কাজকর্ম, চিন্তা-গবেষণা, দায়িত্ব-কর্তব্য যেভাবে সামলেছেন- তার চাপ সুতীব্র।’ তবে ওবামা ও মিশেল তাদের হোয়াইট হাউসের স্মৃতি নিয়ে আত্মজীবনী লিখতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আপাতত তাই লেখালেখির প্রস্তুতিতে রয়েছেন তারা।

৪০৭ কিমি. গতির টহল গাড়ি পেল দুবাই পুলিশ

সর্বোচ্চ ভবন কিংবা সর্বোচ্চ গতি- সবকিছুর রেকর্ড যেন দুবাইয়ের! আরব আমিরাতের এই শহরের পুলিশবাহিনীর রয়েছে সর্বোচ্চ গতির টহল গাড়ি। সাড়ে ১০ কোটি টাকার বুগাতি ভেরনের ওই টপ স্পিড গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৪০৭ কিলোমিটার। গতির এ রেকর্ড স্থান পেয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। খবর সিএনএনের। দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশের টহলদারি বাহিনীর জন্য গত বছর এটি কেনা হয়েছিল। তবে শুধু টহলদারির জন্যই নয়, এই লাক্সারি সুপার কার কাজে লাগানো হচ্ছে একটু অন্যভাবেও। পর্যটক টানতেও খুবই কাজে আসছে বুগাতি ভেরন। দুবাই পুলিশের লে. সইফ সুলতান রশিদ আল শামসি জানিয়েছেন, মূলত বুর্জ খালিফার মতো জনপ্রিয় পর্যটনস্থলগুলোতে এটি রেখে দেয়া হচ্ছে।
আর দুবাইতে বেড়াতে এসে গাড়িপাগল বহু পর্যটকই তা একবার করে দেখে যাচ্ছেন। হবে না-ই বা কেন? ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতি তুলতে এর সময় লাগে মাত্র আড়াই সেকেন্ড। সঙ্গে রয়েছে ১৬ সিলিন্ডারের এক হাজার হর্সপাওয়ার ইঞ্জিন। দুবাইয়ের টহলদারি বাহিনীর রয়েছে ‘সুপার ফ্লিট’। তাতে শুধু বুগাতি ভেরনই নয়, রয়েছে ম্যাকলারেন এমপি৪-১২সি, ল্যামবরঘিনি অ্যাভেনটেডর থেকে শুরু করে বেন্টলে কন্টিনেন্টাল জিটি বা বিএমডব্লিউ এম৬-এর মতো দ্রুতগতির একাধিক গাড়ি। রশিদ আল শামসি বলেন, ‘মজার কথা কি জানেন, অনেক পর্যটকই পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করে এসব গাড়ির কথা জানতে চাইছেন।

গিলগিট-বাল্টিস্তান ভারতের পাক দখলদারি অবৈধ

গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলকে পাকিস্তানের পঞ্চম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ, তার নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন। ওই অঞ্চলকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করে প্রস্তাব পাস হল ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বলছে, অবৈধভাবে ওই অঞ্চলকে দখল করে রেখেছে পাকিস্তান। গিলগিট-বাল্টিস্তান হয়ে যে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করেছে চীন-পাকিস্তান, তাকেও অবৈধ আখ্যা দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ব্রিটেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। পাক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলকে পাকিস্তানের পঞ্চম প্রদেশের মর্যাদা দেয়ার সুপারিশ করেছে। পাক সরকার সে লক্ষ্যে এগোতেও শুরু করেছে। কিন্তু ভারত গিলগিট-বাল্টিস্তানের ওপর নিজেদের দাবি ছাড়েনি। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মনে করে, ওই অঞ্চল যে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জম্মু-কাশ্মীরের উত্তর-পশ্চিমাংশে লাল অংশে চিহ্নিত এ অঞ্চলই হল গিলগিট-বাল্টিস্তান।
দেশভাগের কিছু দিন পরেই পাকিস্তান সেনা পাঠিয়ে এ অঞ্চল দখল করে। ব্রিটেনের শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব ব্ল্যাকম্যান সে দেশের পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পেশ করেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘গিলগিট-বাল্টিস্তান হল ভারতের জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের বৈধ এবং সাংবিধানিক অংশ, পাকিস্তান ওই অঞ্চলকে ১৯৪৭ সাল থেকে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে এবং সেখানকার মানুষকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্য সব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।’ ২৩ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাস হয়। ব্রিটেন বলেছে, পাকিস্তান এমন একটি অঞ্চলকে নিজেদের পঞ্চম প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করতে চলেছে, যে অঞ্চলের ওপর তাদের অধিকারই নেই। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবটিতে পাকিস্তানের পাশাপাশি অস্বস্তি বাড়ল চীনেরও। চীনের কাশগড় থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর পর্যন্ত যে চীন-পাক অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি হয়েছে, ব্রিটেন সেই করিডোরকেও অবৈধ আখ্যা দিয়েছে। কিছু দিন আগেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। চিন-পাক অর্থনৈতিক করিডোর সেই ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ উদ্যোগেরই অন্যতম অংশ।

রোহিঙ্গারা বাঙালি অভিবাসী

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পক্ষ নিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। রাজ্যে সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়ে জাতিসংঘ তদন্তের আহ্বান জানানোর পর এর পক্ষে সাফাই গাইলেন তিনি। সোমবার মিয়ানমারের রাজধানীতে সেনাবাহিনী দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং জানান, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা এ দেশের নাগরিক নয়, তারা বাঙালি মুসলিম। খবর এএফপির। জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তাকর্মীরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল দেশটিতে একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত মিশন পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়। জাতিসংঘের সে পদক্ষেপকে কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক তদন্ত মিশন পাঠানো হলে সমস্যা সমাধানের চেয়ে এ ইস্যুটি নিয়ে আরও উত্তেজনা তৈরি হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বহু শতাব্দী ধরে বাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করছে সরকার। রাখাইনে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বাস।

মুম্বাইয়ে জিন্নাহ হাউস গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি বিজেপি এমপির

ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থিত পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহর রাজকীয় বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এমপি মঙ্গল প্রভাত লোদহা। মুম্বাইয়ের একজন শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ী মঙ্গল প্রভাত। তিনি জিন্নাহ হাউসকে ভেঙে সেখানে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। আড়াই একর জমির ওপর অবস্থিত জিন্নাহ হাউসটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৪০ কোটি ডলার (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩২০০ কোটি)। খবর এনডিটিভির। মঙ্গল প্রভাত বলেন, ‘দক্ষিণ মুম্বাইয়ে জিন্নাহর ওই আবাসিক ভবনটিতে দেশ বিভক্তির বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। জিন্নাহ হাউসটি ওই বিভক্তির প্রতীক। এ স্থাপনা ভেঙে ফেলা উচিত।’ তিনি আরও জানান, ‘ব্রিটিশ স্টাইলে তৈরি সমুদ্রমুখী ওই ভবন তত্ত্বাবধানে লাখ লাখ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।’
১৯৩০ সালের শেষের দিকে এটি তৈরি করা হয়। ইতালিয়ান মার্বেল পাথরের তৈরি ভবনটি কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারের আবাস ভবন ছিল। কিন্তু ১৯৮২ সাল থেকে ভবনটির অপব্যবহার শুরু হয়। ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি জিন্নাহ ও ভারতীয় নেতাদের মধ্যে সন্ধিক্ষণের স্থান হিসেবে চিহ্নিত। পাকিস্তান সরকার বহু দিন ধরে দিল্লিকে ওই ভবনটি ইসলামাবাদের কনস্যুলার ভবন বানানোর জন্য ইজারা বা বিক্রি করার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। পাকিস্তানের এ প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি ভারত। ২০০৭ সালে জিন্নাহর কন্যা দিনা ওয়াদিয়া ওই ভবনের মালিকানার দাবিতে মুম্বাই আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানেও পাত্তা পাননি নিউইয়র্কের বাসিন্দা দিনা। তার ছেলে নুসলি মুম্বাইয়ে একটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানের মালিক ও আবাসন ব্যবসায় জড়িত।

বাগেরহাটে ট্রলারডুবি, ৩ মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে  এ ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২০ জন। তাদের মরদেহ মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা পাকিস্তানের পক্ষে

গণহত্যা দিবসে বিএনপির কর্মসূচি না থাকার তীব্র সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। কিন্তু একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত তা পালন করল না। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হল যে একদিকে তারা যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, অপরদিকে যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী, অগ্নিসংযোগকারী, মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠনকারী এবং অপরাধীদেরকেই এরা আপন মনে করে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানান। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। কিন্তু যে দেশে যেদিন গণহত্যা শুরু হয়, সে দেশে সেদিন দিবসটি পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পার্লামেন্টে আলোচনার পর সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এরপর কেবিনেটেও সেটা পাস করেছি। কেবিনেট যখন পাস করেছে, তখন সবার জন্য প্রযোজ্য, সবাই হণহত্যা দিবস পালন করবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বুঝিয়ে দিল তারা বাংলার জনগণের সঙ্গে নেই- তারা আছে আলবদর, আলশামস, রাজাকার, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে এদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার সবই করা হবে।
জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাও সচল রাখা হবে। সরকার প্রধান আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলেই কাদের মনে কষ্ট লাগে, মনোবেদনার সৃষ্টি হয় তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। দেশ এগিয়ে গেলে, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলেই এদের অন্তর্জ্বালা শুরু হয়। কিভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রক্ষা করবে, তাদের অপকর্ম কিভাবে ঢাকবে সেজন্য একই ভাঙা রেকর্ড তারা বাজিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা চাই না দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হোক। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে দেশের মানুষ মোকাবেলা করেছে, এখন সময় এসেছে এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা ও প্রতিহত করার। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী মুসলমানদেরকেই বিশ্বের সামনে হেয় করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তি ও পবিত্র ধর্ম। ইসলামে আত্মহনন মহাপাপ। কিন্তু ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে কিছু বিপথগামী এসব অপকর্ম করে বিশ্বের সব মুসলমানদেরই হেয় করছে। আত্মহনন করে মানুষ মারতে পারলেই নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে, সঙ্গে আরও ৭০ জনকে নিয়ে যেতে পারবে! এ পর্যন্ত যারা আত্মঘাতী হয়েছে তারা কী জান্নাতে গেছে নাকি দোজখে গেছে? কেউ (আত্মঘাতী) কি এ ব্যাপারে কোনো মেসেজ পাঠিয়েছে, কেউ কী সেই মেসেজ পেয়েছে? আসলে এরা পবিত্র ও শান্তির ধর্ম ইসলামকেই হেয় করছে। মুষ্টিমেয় কিছু লোক গোটা মুসলমানদের জীবনই অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাড়ি ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে মালিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন, কাকে দিচ্ছেন, সে কী করেন, এসব খোঁজখবর নিন। শুধু ঢাকা শহরেই নয়, দেশের যে কোনো জায়গায় বাড়ি ভাড়া দেয়ার আগে এসব খোঁজখবর নেয়ার জন্য বাড়ির মালিকদের আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে কিন্তু ক্ষতি আপনাদেরও হবে। বিপদে আপনারাও পড়বেন। জিয়াউর রহমানকে যারা স্বাধীনতার ঘোষক বলেন তাদের ‘অর্বাচীন’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো একজনের বাঁশির ফুঁতে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ২৪ বছরের সংগ্রাম ও নেতৃত্বের ফসলই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। তাই এখন স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কে কী বলে তা নিয়ে আলোচনা করার কোনো দরকার নেই। আর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়েই বিতর্কের অবসান হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়েই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হচ্ছেন স্বাধীনতার ঘোষক। আদালতের রায় অমান্য করে যেসব অর্বাচীন ঘোষক নিয়ে মিথ্যাচার করবে তখন বুঝবেন- ‘পাগলে কিনা কয়, ছাগলে কিনা খায়।’ আসলে যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না,
পরাজিত শক্তির পদহেলন করে তারাই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, ড. শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেননি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ আলোচনা সভা বিকাল ৩টায় শুরু হয়। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেত হন কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট অডিটরিয়াম এলাকায়। দুপুর ২টার মধ্যে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় হলরুম। বাইরে দাঁড়িয়ে শত শত লোক মাইকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ৩৪ মিনিট বক্তৃতায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা এবং বিএনপির অপরাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সেনা অভিযান সমাপ্তির পথে

সিলেটে টানা চার দিনের জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সমাপ্তির পথে। ৮৭ ঘণ্টার অভিযানে সিলেটের শিববাড়ীর আতিয়া মহলে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। ভেতরে আর কোনো জীবিত জঙ্গি নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। আস্তানাটির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল। সোমবার সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, আমাদের অভিযান এখনও চলমান। শেষ করতে আরও হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে। এজন্য অপারেশন টোয়াইলাইট সমাপ্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার পর স্থানটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা বাকি কাজটুকু এগিয়ে যাব। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, দু’জনের লাশ বের করা হয়েছে। এদের একজন পুরুষ এবং একজন নারী জঙ্গি। বাকি লাশ দুটি বের করা হয়নি। প্রতিটি লাশের শরীরে সুইসাইড ভেস্ট লাগানো ছিল। আতিয়া মহলের ভেতরে থাকা লাশের আশপাশে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে ওই লাশ দুটি বের করা হয়নি।
ওই ভবনে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং আইইডি বোমা রয়েছে। এই আস্তানায় জঙ্গিদের শীর্ষ কোনো নেতা থাকতে পারেন বলে ধারণার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। নিহতদের মধ্যে তেমন কেউ রয়েছে কিনা- সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সেনা কর্মকর্তা ফখরুল বলেন, তা পুলিশ ও র‌্যাব দেখে নিশ্চিত করতে পারবে। তবে যে চারজন এখানে ছিল, তারা ওয়েল ট্রেইন্ড। তাদের খুঁজে বের করে যে নিষ্ক্রিয় করা হল বা হত্যা করা হল, তা সেনাবাহিনীর জন্য বিশাল বড় সফলতা। ফখরুল আহসান আরও বলেন, ভেতর থেকে জঙ্গিরা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে। জঙ্গিরা সুইসাইডাল ভেস্ট পরা ছিল। পুরো বাড়ি কমান্ডোরা তল্লাশি করে দেখেছেন। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি করা হবে। ভেতর থেকে যাদের লাশ বের করা হয়েছে তারা কখন মারা গেছেন এর সঠিক সময় সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি। তবে তিনি বলেন, চারজনের মধ্যে রোববার সেনা অভিযানে দু’জন এবং সোমবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পুরো ভবন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ফখরুল আহসান বলেন, সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। ভেতরে অবস্থানরত সব জঙ্গি নিহত হলেও তারা বাড়িটিতে ব্যাপক বিস্ফোরক মজুদ করে রেখেছিল। যে চারজন এখানে ছিল, তারা বেশ ভালো প্রশিক্ষিত। তাদের খুঁজে বের করে মারা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার্বিক অবস্থায় দেখলাম, একটা রুমের ভেতরে একটা ডেডবডি, তার পাশেই ছড়ানো-ছিটানো আইইডি লাগানো রয়েছে। পুরো বিল্ডিংটায় যে পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে এগুলো যদি বিস্ফারিত হয় তাহলে এই বিল্ডিংয়ের অংশবিশেষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যে অবস্থায় আছে, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। সোমবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েই তিনি অভিযান প্রায় শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য আমরা সবাই গর্বিত। আপনারাও গর্ববোধ করতে পারেন। দেশবাসীর দোয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সফলভাবে অভিযানটা চলেছে।
পাঁচ তলা ওই ভবনের নিচ তলায় চারটি লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের যে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলাম সেখানে মোটামুটি চার জঙ্গি থাকার তথ্য ছিল। এমন তথ্যও ছিল যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা। যে ডেডবডি আমরা পেয়েছি তার মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন মহিলা। দুটি লাশ পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হলেও বাকি দুটি এখনও ওই বাড়ীর ভেতরেই রয়েছে। ব্রিগেডিয়ার ফখরুল বলেন, বাকি দুটো ডেডবডির মধ্যে সুইসাইডাল ভেস্ট লাগানো আছে। যে অবস্থায় আছে, তাদের ওইখান থেকে বের করাটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ ডেডবডিগুলো কিভাবে বের করব, সেজন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। আগুন লাগার বিষয়ে তিনি বলেন- এখানে যে পরিমাণ ফায়ারিং হয়েছে, যে পরিমাণ গ্রেনেড লাঞ্চ করা হয়েছে, টিয়ার শেল ফায়ার করা হয়েছে তাতে আগুন লাগতেই পারে। তবে আগুন দ্রুত নেভানো হয়েছে। জঙ্গিদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, অভিযানের প্রথম দিন কলাপসিবল গেটের সামনে একটি বালতি ছিল। ওই বালতিতে বিস্ফোরক ছিল। সেটিতে যখন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, ওই গেট উড়ে এসে পাশের ভবনে পড়েছে। সেখানে আমাদের তিন-চারজন সদস্য ছিলেন, তারা ছিটকে গেছেন। এ ধরনের বিস্ফোরক আরও থাকতে পারে। আগের দিনই (রোববার) দুই জঙ্গির নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, দু’জনকে দৌড়ানো অবস্থায় দেখে আমাদের কমান্ডোরা ফায়ার করে। তারা পড়ে যাওয়ার পর একজন সুইসাইডাল ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটায়। চারজনের বাইরে আর কারও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, চারজনের বিষয়ে আমরা জানতাম, চারটা ডেডবডি আমরা পেয়েছি। যতটুকু ধারণা হচ্ছে, এখানে জীবিত আর কেউ নেই। তবে কেউ হঠাৎ করে থেকেও যেতে পারে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আতিয়া মহলের ভেতরে সেনা কমান্ডোরা প্রবেশ করেছেন। এর এক ঘণ্টা পরে ওই বাড়ীতে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) গোলাম কিবরিয়া। তারা ভেতর থেকে ঘুরে আসার পরও তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান সমাপ্তির কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। সোমবার সকাল থেকে ভবনে অন্তত চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে বেলা সোয়া ৩টার পর আর কোনো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা জঙ্গিদের লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি করলেও বেলা সোয়া ৩টার পর আর কোনো গুলির শব্দ পাওয়া যায়নি। সোমবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা গুলি শুরু করেন। ভেতর থেকে গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এ সময় গোলাগুলির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুপুর ২টার দিকে বিকট শব্দে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর থেকে আবারও শুরু হয় গুলি। আধা ঘণ্টা গুলি চলে। পরে বেলা আড়াইটার দিকে গোলাগুলি বন্ধ হয়। বেলা ৩টা সোয়া ৩টার দিকে আবারও বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর ১০ মিনিট পর আতিয়া মহল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে স্থানীয়রা ধারণা করেছিলেন, ভবনে আগুন লেগেছে। এ ধোঁয়া ক্রমেই বাড়ছিল। এর ২০ মিনিট পর বেলা পৌনে ৪টার দিকে আস্তে আস্তে ধোঁয়ার পরিমাণ কমে আসে। এর ৫ মিনিট পর ধোঁয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আশপাশের এলাকায় কাঁদানে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।  এ থেকে ধারণা করা হয়, ওই ভবনে কমান্ডোরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছিলেন।
তারপরই কমান্ডোরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার আতিয়া মহলে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিট। শনিবার আতিয়া মহল থেকে নারী ও শিশুসহ ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরই জঙ্গিদের ধ্বংস করতে মূল অপারেশন শুরু হয়। বাড়ীতে শক্তিশালী আইইডি লাগিয়ে রাখার কারণে অভিযান চালাতে সমস্যা হয়েছে। টানা ৪ দিন তারা ভেতর থেকে দফায় দফায় গ্রেনেড চার্জ করেছে। এমনকি আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া বাড়ীর অবস্থানগত কারণে সেখানে সাঁজোয়া যান নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। বাড়ীর ছাদ এবং বাইরে থেকে কমান্ডোদের গুলি করতে হয়েছে।কড়াকড়ি আরও বেড়েছে : শিববাড়ী মোড় এবং এর আশপাশের এলাকায় সোমবার অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। শিববাড়ী থেকে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা কর্ডন করে রাখা হয়। এ সময় কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শিববাড়ী থেকে উত্তর দিকে হুমায়ূন রশীদ চত্বর পর্যন্ত এবং দক্ষিণে পারাইরচক পর্যন্ত কর্ডন করে রাখা হয়। শিববাড়ী থেকে পূর্বে গোটাটিকর ও পাঠানপাড়া, পশ্চিমে চান্দাই জৈনপুর ও গালিমপুর পর্যন্ত কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এতে করে এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়েছে।
আতিয়া মহল ধ্বংসের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে : টানা চতুর্থ দিনের সকালে আতিয়া ভবনের ভেতরে জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কমান্ডোদের পাল্টা জবাব দিচ্ছিল। তাছাড়া ওই বাড়িতে আইইডি লাগিয়ে রাখার কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ কারণে ভবনটি উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও হচ্ছিল। সোমবার সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার যুগান্তরকে বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভেতরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভবনটি ধ্বংস করার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে।
যেভাবে অপারেশন টোয়াইলাইটের শুরু : সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার উস্তার মিয়ার মালিকানাধীন আতিয়া মহলে জঙ্গি অবস্থান করছে- এমন তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর আতিয়া মহলের মূল গেটে তালা দিয়ে বাসাটি ঘিরে রাখে পুলিশ। বিকালে ঢাকা থেকে আসে সোয়াত টিম। সন্ধ্যায় আসে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো। বৃহস্পতিবার রাতভর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভবনটি ঘেরাও করে রাখে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় মূল অভিযান। জঙ্গি সদস্যদের ধরতে পরিচালিত এ অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর আগে সোয়াত এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’। এদিকে অপারেশন চলাকালীন শনিবার সন্ধ্যার পর আতিয়া মহলের অদূরে দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশত। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রথম দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পুলিশের একটি চৌকি ছিল। এরপর কর্ডন করে রাখা এলাকা ক্রাইম সিন করতে গেলে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বস্তাসদৃশ্য একটি বস্তু পরীক্ষা করার সময় দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয়জন নিহত হন। এর মধ্যে দুজন আত্মঘাতী জঙ্গি ছিল বলে আইনশৃংখলা বাহিনী দাবি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘুর্ণিঝড় ডেবি



ঘণ্টায় ২৬৩ কিলোমিটার বেগে ধাবমান শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'ডেবি' আঘাত হেনেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড উপকূলের বিভিন্ন পর্যটন শহরে।  এতে ওই এলাকার ২৩ হাজারের বেশি বাড়িঘর ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্যাটাগরি-৪-এর ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে। কতৃপক্ষ বলছে, ২০১১ সালের পর এমন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আর হয়নি।
আর এঝড়টি ঘণ্টাখানেক সময় ধরে বয়ে যেতে পারে। সতর্কতা হিসেবে এরইমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ইতিমধ্যে হুইটসানডে দ্বীপপুঞ্জে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সেখানে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল রেখা অতিক্রম করে কুইন্সল্যান্ডের টাউনসভিল থেকে প্রোসারপাইন এলাকার মধ্যে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া ব্যুরো। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেবি আঘাত হানার সময় দুই মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। সেই সঙ্গে থাকতে পারে ভারি বৃষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুকনো খাবার ও জরুরি সামগ্রী মজুদ করতে শুরু করায় সুপার মার্কেটগুলো প্রায় খালি হয়ে গেছে। কুইন্সল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ১০২টি স্কুল, ৮১টি শিশু নিকেতন এবং দুটি বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

জার্মানির জাদুঘর থেকে ১০০ কেজির এক স্বর্ণমুদ্রা চুরি

জার্মানির জাদুঘর থেকে ১০০ কেজি ওজনের একটি স্বর্ণমুদ্রা চুরি গেছে। মুদ্রাটির দাম ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩২ কোটি টাকা। সোমবার বার্লিনের বোডে জাদুঘর থেকে বহুমূল্য ওই মুদ্রাটি চুরি হয়। জার্মান গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, চুরি যাওয়া ‘বিগ ম্যাপল লিফ’ নামের বিশাল স্বর্ণমুদ্রাটি বড় একটি ম্যাপল পাতার আদলে তৈরি করা হয়েছিল।
কানাডার সরকারি মুদ্রা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট স্মারক হিসেবে ২০০৭ সালে এটা তৈরি করে। ৫৩ সেমি. পরিধি (২১ ইঞ্চি) ও তিন সেমি. পুরু এই মুদ্রায় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছবি অংকিত আছে। জার্মান পুলিশ এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাদুঘরের ভেতরে ঢুকে মুদ্রাটি চুরি করে চোরেরা। ভেতরে ঢোকার জন্য সম্ভবত একটি মই ব্যবহার করেছে তারা। জাদুঘরের কাছেই একটি রেললাইনে মইটি পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। বোডে জাদুঘরটি ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত বার্লিনের মিউজিয়াম আইল্যান্ডে অবস্থিত। জাদুঘরটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মুদ্রা সংগ্রহশালা। প্রাচীন গ্রিসে ব্যবহৃত এমন এক লাখ দুই হাজার মুদ্রার বিশাল সংগ্রহ এখানে রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে রোমান আমলের প্রায় ৫০ হাজার মুদ্রা।

আলাদা থাকছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া

একসঙ্গে থাকছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নারীবিষয়ক খ্যাতনামা ম্যাগাজিন মেরি ক্লেয়ার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফার্স্ট লেডি হয়েও সুখী নন মেলানিয়া। পুরো পরিবার নিয়ে ট্রাম্প যখন ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে বসবাস করছেন, মেলানিয়া তখন বসবাসের জন্য নিউইয়র্ককে বেছে নিয়েছেন। একমাত্র ছেলে ব্যারনকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন তিনি। ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, যতটুকু না হলেই নয় ঠিক ততটুকুই ট্রাম্পের সঙ্গে সময় দিচ্ছেন মেলানিয়া। ট্রাম্প, তার প্রেসিডেন্সি কিংবা তার কোনো বিষয়েই এখন আর আগ্রহী নন মেলানিয়া।
গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। শপথ অনুষ্ঠানে স্বামীর সঙ্গে মেলানিয়ার ঝলমলে উপস্থিতি বিশ্বকে অনেকটাই তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। স্বামী প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মেলানিয়ার গ্রহণযোগ্যতাও আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তবে এসব বিষয়ে তার আর আগ্রহ নেই। ২০০৫ সালে ধনকুবের ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে বিয়ে করেন স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত মডেল মেলানিয়া। এরপর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফিফথ এভিনিউয়ে ট্রাম্পের তিনতলা বাড়িতে নিজের জীবনকে ভালোভাবেই উপভোগ করছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছু কেমন যেন ওলটপালট হয়ে গেল। ট্রাম্পের পারিবারিক বন্ধু ফিলিপ ব্লচ বলেন, ফার্স্ট লেডির যে ভূমিকা তার সঙ্গে খাপখাওয়াতে রীতিমতো সংগ্রাম করছেন মেলানিয়া। এ জীবন তার স্বপ্ন ছিল না; ছিল ট্রাম্পের।

সাহারা মরুভূমি মানুষের তৈরি!

১০ হাজার বছর আগে সাহারা অঞ্চল সবুজ ছিল। পরে তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। এ পরিবর্তনের পেছনে এতদিন প্রাকৃতিক কর্মকাণ্ডকেই দেখা হতো। কিন্তু ফ্রন্টিয়ারস ইন আর্থ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিওল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করছেন, সাহারা মরুভূমি মানুষের তৈরি। জিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন মনে করা হতো, পৃথিবীর কক্ষপথগত পরিবর্তন এ মরুভূমি তৈরির পেছনে কাজ করেছে। কিন্তু নব্যপ্রস্তর যুগে এ অঞ্চলে মানবিক কারণেই পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। বৃষ্টিপাত কমে আসে সাহারায়। ইউরোপ, আমেরিকা ও নিউজিল্যান্ডে এমন পরিবর্তন পরেও দেখা যায়।
সাহারা অঞ্চলের পশুপালন সভ্যতার নিদর্শনগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, দক্ষিণ সাহারায় এক সময় এ সভ্যতা রীতিমতো সক্রিয় ছিল। ধীরে ধীরে এখানে ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ বাড়তে শুরু করে। পরে তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। পশুপালন সভ্যতা ক্রমে পশ্চিম দিকে সরে যেতে শুরু করে। সাহারার এক বিপুল এলাকা ঝোপ অধ্যুষিত হতে শুরু করে। পশুপালন অর্থনীতি ক্রমে কৃষির দিকে মোড় নেয়। পশ্চিমে উর্বর জমির সন্ধান চলতে থাকে। সাহারা ক্রমেই জনশূন্য হয়ে পড়ে। পশুপালনে অরণ্যভূমি আগেই ধ্বংস হয়। কেননা পশুপালনের উপযোগী চারণভূমি তৈরি করতে বিপুল গাছ কাটা হয়। এতে কমে আসে বৃষ্টি। সাহারায় মরুর হাত প্রসারিত করতে থাকে।

ছেলের আশায় একে একে ১১ মেয়ে

কন্যাসন্তান বাঁচাতে, তাদের অধিকার রক্ষার্থে সরকার যতই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিক-না কেন ভারতে ছেলেসন্তানের প্রতি তীব্র আকর্ষণ এখনও বহাল রয়েছে। আরও একবার তার প্রমাণ দিল কর্নাটকের এক পরিবার। পুত্রসন্তানের আশায় ১৫ বছরে একে একে ১১ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কর্নাটকের থুমাকুরু জেলার এক দম্পতি। অবশেষে ১২ বারের মাথায় শুক্রবার এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই মা। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। ২০০২ সালে বিয়ে হয়েছিল কুরিকেনাহালির রিষনা এলাকার রামাকসনা এবং ভাগ্যাম্মার।
প্রথম থেকেই পুত্রসন্তানের ইচ্ছা ছিল তাদের। ২০০৩ সালে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন ভাগ্যাম্মা। কিন্তু মেয়ে হওয়ায় মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। পুত্রসন্তানের ইচ্ছায় গত ১৫ বছরে আরও ১০ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। তবে তাদের পঞ্চম ও অষ্টম মেয়ে প্রসবের সময় মারা যায়। সম্প্রতি কুরিকেনাহালির প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১২তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ভাগ্যাম্মা। অবশেষে পুত্রসন্তানের জন্ম লাভ করায় বেশ খুশি এ দম্পতি। রামাকসনা জানান, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী প্রথম থেকেই চেয়েছিলাম আমাদের ছেলে হোক।

এক সন্ন্যাসীর প্রভাবে বদলে গেলেন শি জিনপিং

১৯৮২ সালে চীনের হিবে প্রদেশের ক্রমবর্ধনশীল রাজধানী শিজিয়াজুয়াংয়ের ধুলোবালিময় একটি শহর ঝেংডিংয়ে এসে উপস্থিত হওয়া একজন হলেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী শি ইয়াওমিং। ঝেংডিংয়ের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের পুরোহিত তিনি। অপরজন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এক শীর্ষ কর্মকর্তার ছেলে ২৯ বছর বয়সী শি জিনপিং। ওই সময় চীন সরকারের একজন আমলা হিসেবে কাজ করছিলেন জিনপিং। একজন সন্ন্যাসীর সঙ্গে সরকারি এক আমলার যে সখ্য সেদিন গড়ে উঠেছিল, তা আজও তাৎপর্যপূর্ণ। বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম বিখ্যাত সূতিকাগার ঝেংডিং শহরের লিনজি মন্দির। জিনপিংয়ের সমর্থনে ও সহায়তায় ওই জরাজীর্ণ মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ করেন সন্ন্যাসী। সন্ন্যাসী ইয়াওমিংয়ের সঙ্গে নিয়মিতই দেখা করতে যেতেন জিনপিং। এমনকি ঝেংডিং থেকে জিনপিংকে অন্যত্র বদলি করার পরও। ধর্ম ও দলের মধ্যকার সম্পর্ক অধ্যয়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদেরও সেখানে পাঠাতেন তিনি। ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে জিনপিংয়ের ওই সংস্পর্শ তাকে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এক অন্য মানুষে পরিণত করে। যিনি মাও সেতুংয়ের পর থেকে অন্যান্য নেতার তুলনায় দৃঢ় হাতে চীনকে পরিচালনা করছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ড বিস্তারের জন্য সুপরিচিত তিনি। এ ছাড়া চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তিনি। ধর্মের সঙ্গে সংশ্রবের মাধ্যমে চীনের আধ্যাত্মিক জীবন পুনরুজ্জীবিত করার একটা প্রচেষ্টা তার মধ্যে রয়েছে। সংগঠন হিসেবে যে কমিউনিস্ট পার্টি একসময় ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্ট করেছে, জিনপিংয়ের অধীনে সেই কমিউনিস্ট পার্টিই বর্তমানে ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। একইভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো শক্তিশালী নেতাও ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। নিজেদের শাসন-শোষণকে বৈধতা দেয়ার জন্য ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করছেন এই বিশ্বনেতারা। ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যা ও ক্ষয়িষ্ণু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মুখে ক্ষমতা ধরে রাখতে ধর্মের দিকে ফিরে আসছে চীনের কমিউনিস্ট সরকার। চীনকে বৌদ্ধ ধর্মের মতো একটি বড় ধর্মবিশ্বাসের অভিভাবক করে তুলছে জিনপিং। বিশ্ব দরবারে চীনের অবস্থান নিশ্চিত করতে ধর্মকে একটা অবলম্বন হিসেবে দেখছেন তিনি। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম সম্পর্কে জিনপিংয়ের বর্তমান অভিমত- ‘জনগণ যদি ধর্মবিশ্বাসী হয়, জাতির একটা আশা থাকে, আর দেশ পায় শক্তি।’তবে চীনের কমিউনিস্টরা ধর্মের প্রতি সব সময় শত্রুভাবাপন্ন ছিলেন না।
১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে জয়ের আগে কমিউনিস্ট পার্টি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত হয়েছিলেন। ওই অঞ্চলের তিব্বতীয় বৌদ্ধ ও হুই মুসলিমদের সহযোগিতা তাদের দরকার ছিল এবং তারা তা পেয়েছিলেন। মতাদর্শিকভাবে কমউিনিস্ট পার্টিতে ধর্মের কোনো স্থান নেই। আর তাই গৃহযুদ্ধে জয়লাভের পর মাও সেতুং নিজ থেকে লাখ লাখ মন্দির, চার্চ এবং মসজিদ ধ্বংস করেছিলেন। তবে দলের অন্য কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা এদের হাতে আসে। জিনপিংয়ের বাবা শি ঝংশান কমিউনিস্ট পার্টির উদার অংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯৮০ সালের শুরুতে পার্টির ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ছিলেন তিনি। দু’বছর পর ধর্মীয় নীতির ওপর ‘ডকুমেন্ট ১৯’ হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ দলিল ইস্যু করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। ১১ হাজার শব্দের ওই প্রতিবেদন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পার্টির সদস্যদের হুশিয়ার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জনগণকে দূরে ঠেলে দেবে। এ ছাড়া মন্দির, মসজিদ ও চার্চের পুনর্নির্মাণের আহ্বান এবং ধর্মীয় পেশাজীবীদের পুনবার্সনের ব্যবস্থার কথা বলা হয় ওই প্রতিবেদনে। ওই বছরই জিনপিং সন্ন্যাসী ইয়াওমিংয়ের সঙ্গে ঝেংডিংয়ে এসে উপস্থিত হন। তার সহায়তায় পুনর্নির্মিত হয় জরাজীর্ণ লিনজি মন্দির। জিনপিং সম্ভবত ধর্মকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। ঝেংডিংয়ের সঙ্গে জিনপিংয়ের বাবা বা পারিবারিক যে সম্পর্ক ছিল তাকেই কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৩ সালে লিনজি মন্দিরের উদ্বোধন করেন জিনপিং। জরাজীর্ণ একটি প্যাগোডা থেকে লিনজি মন্দির বড় একটি ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধ ভাষান্তর : জামির হোসেন

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৯জন গ্রেফতার

পাবলিক পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির অভিযোগে অধ্যক্ষসহ নয় জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেল থেকে খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে পরে জানানো হবে বলে ওই খুদে বার্তায় জানা যায়।

বিচারকদের শৃংখলাবিধি: গেজেট প্রকাশে ফের সময়

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে ফের এক সপ্তাহের সময় পেল সরকার। মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ সময় দেন। জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ে নিন্ম আদালতের বিচারকদের জন্য আলাদা শৃংখলা বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। সে ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃংখলাবিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছরের ২৮ আগস্ট খসড়ার বিষয়ে আপিল বিভাগ বলেন, সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপর সুপ্রিমকোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে গত বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা গেজেট আকারে প্রণয়ন করে আদালতকে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানাতে ব্যর্থ হন। এরপরও দু’দফায় সময় দেয়ার পর গেজেট জারি না করায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ১২ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেয়া হয়।
তবে দুই সচিব হাজির হওয়ার একদিন আগে ওই শৃংখলা বিধিমালার গেজেট আকারে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১২ ডিসেম্বর দুই সচিব হাজির হলে রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে উল্লেখ করে আপিল বিভাগ ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বিধিমালার গেজেট আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ফের চার সপ্তাহের সময় আবেদন করেন। পরে আদালত ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন। এরপর আবারও সময় আবেদন করলে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন আপিল বিভাগ। কিন্তু অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃংখলা সংক্রান্ত পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও সময় চাইলে এই সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সময় ক্ষেপণের ব্যাখ্যা ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবারে মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার আবার সময় চাইলে শেষবারের মতো ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেন আপিল বিভাগ। এরপর আবারো সময় প্রার্থনা করলে আদালত ১৪ মার্চের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হলে সরকারের আবেদনে উষ্মা প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়। এটিকে রক্ষা করতে হবে। গেজেট জারি না করে বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।’ সেসময় আদালত আদালত দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ  আজ এক সপ্তাহের সময় পেল সরকার।

লাশ হস্তান্তরে ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বর এলাকায় ‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণে নিহত যুবকের লাশ হস্তান্তরে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার আপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। সোমবার যুগান্তরে ‘বিমানবন্দরে আত্মঘাতী জঙ্গি ৭ মাস ধরে নিখোঁজ আয়াদ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিকালে আয়াদের মা মুনমুন আহমেদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ল্যাবেও। কিন্তু ল্যাব থেকে জানানো হয়, এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় মুনমুনের ডিএনএ নমুনা নেয়া হয়েছে। একজনের ডিএনএ নমুনা দু’বার নেয়ার নিয়ম নেই। তাই নতুন করে আর মুনমুনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছে, সীতাকুণ্ডের ঘটনার পর নেয়া ডিএনএ আলামত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া শুক্রবার বিমানবন্দরে ‘আত্মঘাতী’ বিস্ফোরণের পর নিহত যুবকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ দুটি ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর যুবকের লাশের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গেই থাকবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার বিমানবন্দরের সামনের গোলচত্বরে আয়াদ নিহত হয়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত পুলিশের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে আয়াদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। কিন্তু পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার আয়াদের মায়ের বরাত দিয়ে বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। আয়াদের মা মুনমুন আহমেদও যুগান্তরকে জানান, বিমানবন্দর এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত যুবক তার ছেলে আয়াদ। পারিবারিকভাবে ছেলের লাশ দাফন করবেন বলেও তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ তার ডিএনএ নমুনা চাইলে তিনি সোমবার তা দিতে রাজি হন। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার ডিএনএ নমুনা নেয়া হয়নি। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিধান ত্রিপুরা যুগান্তরকে বলেন, কেউ লাশ দাবি করলেই আমরা তাকে তা দিতে পারি না। এক্ষেত্রে অনেক নিয়মকানুন আছে। আদালতের অনুমতি, ডিএনএ রিপোর্টের মতো বিষয়গুলো আছে। সেসব ফলো করে লাশ হস্তান্তর করা হবে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার আগেই পুলিশের যে কর্মকর্তা এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে তথ্য দিয়েছেন তিনি ঠিক করেননি, পেশাধারিত্বের পরিচয় দেননি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যান্য ইস্যুর চেয়ে জঙ্গি ইস্যুটি খুবই শক্তিশালী ইস্যু। এছাড়া বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এ নিয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নূরুল আলম যুগান্তরকে বলেন, মুনমুন আহমেদ যে দাবি করেছেন, তা সত্য হতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তো লাশ কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পুলিশ ঘটনার পর থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, নিহত যুবক ও মুনমুন আহমেদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর তা মিলয়ে দেখা হবে। মিল পাওয়া গেলে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছেন এডিসি রাফিউল আলম। তাই এ নিয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে এডিসি রাফিউল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিমানবন্দর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রুহুল আমিন সাগর জানান, এ ধরনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সময়সাপেক্ষ। লাশের দাবিদারকে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে হয়। সন্দেহ হলে পুলিশ তদন্তের জন্য অধিকতর সময় চায়। আদালতের অনুমতি নিয়ে নিহত ও নিহতের স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সামনে বিস্ফোরণে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা আমি না। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। তবে পুলিশ আইনের ধারা অনুযায়ীই কাজ করছে। যাতে কোনো সন্দেহ বা বিতর্ক না থাকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক এজাজ শফি বলেন, এ মামলার বিষয়ে মিডিয়ায় কোনো তথ্য দিতে উচ্চপর্যায় থেকে বারণ আছে। তাই অপনাদের যদি কিছু জানার থাকে তবে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জঙ্গিরা লোকাল মার্কেট থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘যেসব বিস্ফোরক, অস্ত্র তারা (জঙ্গিরা) ব্যবহার করছে তা লোকাল মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতে পারে। সেসব বিস্ফোরক কাঁধে করে আনা লাগে না, পকেটে করেও আনতে পারে। এগুলোর জন্য পরিবহনও লাগে না, মানুষই আনতে পারে। এরা হয়তো এক মাস দুই মাসে এগুলো এনে জোগাড় করেছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথার্থভাবে সজাগ ছিল বলেই চিহ্নিত করতে পেরেছে, কোনো গাফলতি ছিল না।’ আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার বিষয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গাফিলতি ছিল কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সোমবার সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দু’জন নিহত হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। আইএসপিআরের প্রেস রিলিজে আরও দু-একজন থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও সংখ্যা নিশ্চিত নয়। তবে যে কোনো সময় তাদের পরাস্ত করে আস্তানা দখলে নেয়া হবে। সশস্ত্র বাহিনী আশংকা করছে জঙ্গিরা ভেতরে বোমা রেখে থাকতে পারে, তাই ধীরে সুস্থে এগোচ্ছে যাতে কোনো অনাকাক্সিক্ষত প্রাণহানি না হয়। আশা করছি যে কোনো সময় অপারেশন শেষ হবে এবং প্রেস রিলিজ দিয়ে তা সারা দেশের মানুষকে জানিয়ে দেয়া হবে। ভবনের ভেতরে জঙ্গিদের বড় নেতা রয়েছে বলে মনে করছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সঠিকভাবে বলতে পারছি না ভেতরে কারা আছে। তবে যেসব নাম আপনারা বলছেন, তারা থাকতেও পারে। হয়তো নতুন কোনো কিছু বা বড় কোনো নাম শুনতে পেতেও পারেন।’

ট্রেনে ঢিল ছোড়া রোধে মাঠে পুলিশ

স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রং বহন করে বর্তমানে ২২টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা ২৭০টি নতুন বগি এসব ট্রেনে সংযুক্ত করা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয়, চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়ে গ্লাস ভেঙে দেয়া হচ্ছে। এসব ঢিল জানালার গ্লাস ভেদ করে ঢুকে প্রায়ই সাধারণ যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এর যথাযথ প্রতিকার ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হলেও ঢিল ছোড়া বন্ধ হচ্ছে না। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, পারিবারিক শিক্ষা, সচেতনতাই কেবল পারে এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে দেশের সম্পদ বাঁচাতে। নতুন আসা লাল-সবুজ রঙের যাত্রীবাহী বগিগুলো খুবই সুন্দর ও আরামদায়ক। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনে ঢিল প্রতিরোধ করতে সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। ট্রেনে ঢিল ছোড়া ও রেলওয়ে সম্পদ নষ্ট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন বার্তা ও সচেতনতার লক্ষ্যে লাইন সংলগ্ন জেলার বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা ও গ্রামগুলোয় উঠান বৈঠক হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। এসব প্রতিরোধে পুলিশ মাঠে নেমেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক ও অপারেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেশিরভাগ ট্রেনেই কোনো না কোনো বগিতে গ্লাস ভাঙা রয়েছে। পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে চলা এসব ট্রেনগুলোয় রাতে সবচেয়ে বেশি ঢিল ছোড়া হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসি বগি ও কেবিনে অতিরিক্ত টাকায় টিকিট কিনে আরাম করে যেতেও ভয় পান তারা। কখন জানি ঢিল এসে পড়বে, ভাঙা গ্লাসের অংশ এসে চোখে-মুখে পড়বে। সিট ও হাতলও ভেঙে ফেলছে কেউ কেউ।
কয়েকজন রেল কর্মকর্তা ও টিটি জানান, বিনা টিকিটে কিংবা সিটবিহীন টিকিট কাটা যাত্রীরা বিভিন্ন ট্রেনে বগির সিটের হাতলে বসছে। টি-টেবিলে শিশুদের বসাচ্ছে। ফলে টি-টেবিলগুলো ভেঙে পড়ছে। হাতলে কিংবা টি-টেবিলে বসা যাত্রী ও শিশুদের বাধা দিলে ঝগড়ার সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আমাদের সীমিত পুলিশ সদস্য দিয়ে রাত-দিনই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রেলওয়ে পুলিশ, স্থানীয় পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি স্টেশন ও সংলগ্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রসা, হাটবাজারে সচেতনতামূলক বৈঠক হচ্ছে। ট্রেনে ঢিল ছোড়া, রেললাইনের যন্ত্রাংশ চুরিসহ রেলওয়ে সম্পদ নষ্ট ও ধ্বংস করা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। রেলওয়ে সম্পদ রক্ষার্থে রেলপুলিশের উদ্যোগে স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। রেলওয়ে আইনে ১২৭, ১২৮ ও ১২৯ ধারায় বলা হয়েছে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক কেউ ঢিল ছুড়লে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে সমপরিমাণ কখনও আবার দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ ঢিল ছুড়লে জরিমানাসহ ৩ মাস থেকে ১ বছরের জেল-জরিমানার বিধান আছে। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনের ভেতরের টয়লেটের সাবান, টিস্যু এবং ব্যবহারের সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় কেবিন থেকে চাদরও নিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, যেসব শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক লোক ট্রেনে ঢিল ছুড়ছে তাদের শনাক্তে পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া রয়েছে।

এমপি রানার জামিন প্রশ্নে রায় বৃহস্পতিবার

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। আদালতে এমপি রানার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি এমপি রানাকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমানুর রহমান রানা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। বিচারিক আদালতে নাকচের পর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এমপি রানার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এছাড়া গত বছরের ২৮ নভেম্বর ও ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ এমপি রানার জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।

বাংলাদেশীদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়ম শিথিল ভারতের

ট্যুরিস্ট ভিসার বাংলাদেশী আবেদনকারীরা ভারতে যাওয়ার নিশ্চিত বিমান টিকিটসহ সরাসরি সাক্ষাৎ করতে এবং ভারত ভ্রমণের তারিখের তিন মাস পূর্বে তাদের ভিসার আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তি সহজতর ও সাধারণ করার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভিসার নিয়মে এই শিথিলতা আনা হয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীরা সরাসরি সাক্ষাৎ করতে এবং ভারত ভ্রমণের তারিখ থেকে এক মাস পূর্বে আবেদনপত্র জমা দিতে পারতেন। এই শিথিলকরণ প্রক্রিয়া ১ এপ্রিল ২০১৭ থেকে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম,
খুলনা, যশোর, ময়মনসিংহ, বরিশাল এবং ঢাকার মিরপুরের আইভিএসিসহ ৯টি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভিএসি) কার্যকরী হবে। ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, সরাসরি ট্যুরিস্ট ভিসা স্কিমটি ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঢাকায় মহিলা ভ্রমণকারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রথম চালু করা হয়, যা পরবর্তীতে সব আবেদনকারীর জন্য ও ঢাকার বাইরের সব আইভিএসি-তে সম্প্রসারিত করা হয়। এই স্কিমের আওতায় আবেদনকারীরা নিশ্চিত টিকিটসহ (বিমান, ট্রেন ও অনুমোদিত বাস সার্ভিস) সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন এবং তাদের নিজেদের জন্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়টি আইভিএসি-তে কোনো পূর্ব নির্ধারিত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ ছাড়াই ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। মিরপুরের আইভিএসিটি শনিবার শুধু মহিলা আবেদনকারীদের জন্য খোলা থাকে।

এক হাজার চারশ’ ব্যাংক হিসাব জব্দ

আইনি ব্যবস্থা না নেয়া হলে শুধু ফ্রিজ করে লাভ হবে না। কারণ এভাবে হিসাব বেশিদিন আটকে রাখা যায় না : ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জঙ্গি ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন, অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লেনদেন হয়েছে- এমন সন্দেহে ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়েছে ১৪৩০টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট)। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) জব্দ করেছে এক হাজার ৩৭৫টি। বাকি ৫৫টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়। গত ছয় বছরে (২০১০-১৫) এ হিসাবগুলো জব্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর তৈরি করা এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। অর্থ পাচারের মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা (এপিজি) সম্প্রতি এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রোববার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদে প্রচুর অর্থায়ন হয়েছে। এই অর্থ এসেছে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই। ব্যাংকিং সিস্টেম সঠিকভাবে চললে জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ হবে। তাই ব্যাংকিং পদ্ধতিটাকেই সোজাপথে আনার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, হুন্ডির মাধ্যমেও জঙ্গি অর্থায়ন হচ্ছে। এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে তা বন্ধে কাজ করছে। জানতে চাইলে বিএফআইইউ মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, সন্দেহজনক লেনদেন হলে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (জব্দ) করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যাংক হিসাবের তথ্য দুদক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সিআইডিসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিএফআইইউ নিজেও ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। ধারাবাহিকভাবে জব্দকৃত ব্যাংক হিসাবের ২০ শতাংশের বেশির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএফআইইউ নিজেই। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক হিসাব জব্দ নিয়ে এপিজির রিপোর্ট উদ্বেগজনক। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় অর্থ পাচার বেড়েছে। এটি দেশের উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, কোনো তথ্য পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে। তবে আইনি ব্যবস্থা নেয়া না হলে শুধু ফ্রিজ করে কোনো লাভ হবে না।
কারণ ফ্রিজ করা হিসাব বেশিদিন আটকে রাখা যায় না। এপিজি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএফআইইউর জব্দ ১৩৭৫টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ৮টি হচ্ছে নন-ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এবং ৬টি হচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট। শুধু বিএফআইইউর মাধ্যমে জব্দ হয়েছে ১৩৬১টি হিসাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। কারণ ওই বছর মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর সঙ্গে অনেক ব্যাংক হিসাব জড়িত ছিল। অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এছাড়া অর্থ পাচারের জন্য তিনটি ঘটনা সরাসরি শনাক্ত করা হয়। যার মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হিসাবগুলোর মধ্যে জঙ্গি অর্থায়নের কারণও রয়েছে। যার মধ্যে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় নিহত আইএসের প্রধান হ্যাকার বাংলাদেশী নাগরিক সাইফুল হকের (সুজন) দুটি ব্যাংক হিসাবও আছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, সুরিনাম ও স্পেন থেকে এ হিসাবগুলোতে টাকা এসেছে। জানা গেছে, ঢাকার কারওয়ান বাজারে সাইফুল হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস লিমিটেড ও আইব্যাকস টেলি ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেডের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়নের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে সেটি জানানো হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, ২০১২-১৫ সাল পর্যন্ত আইব্যাকস লিমিটেড ও আইব্যাকস টেলি ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যাংক হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের (এফটিটি) মাধ্যমে ২ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও মেইন্টেন্যান্স চার্জ হিসেবে এসব অর্থ পাঠানো দেখানো হয়। বিদেশী রেমিট্যান্স ছাড়াও ওই হিসাব দুটিতে বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ জমা হওয়ার সন্ধান পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এফটিটি ও নগদ জমার একটি বড় অংশ উত্তোলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাইফুলের ব্যাংক হিসাব দুটি থেকে অধিকাংশ সময় নাহিদউদ্দোজ্জা মিয়ার মাধ্যমে নগদ লেনদেন হয়। এছাড়া মো. আতাউল হক, জাহাঙ্গীর, মো. মশিউর রহমান, মো. আনিসুর রহমান, মামুনুর রশিদ, আবুল হাসনাত, মাহবুবুল হক, কালাম, মুন্না, হোসেন আহমেদ, মিঠু, মাহি, মো. অলি, মো. আবু হানিফ, অজিত বাবু, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম নামে এই হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে যারা টাকা তুলেছেন তাদের বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বা হিসাব পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এপিজির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত মোট ৩৪৭টি ঘটনার তদন্ত করেছে। এর মধ্যে দুর্নীতিবিষয়ক ৮৭টি, প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত ১০৩টি, অর্থ আত্মসাৎবিষয়ক ১৮টি, মানব পাচার সংক্রান্ত ২১টি, মাদক পাচার সংক্রান্ত ১২টি, চোরাচালান বিষয়ক ৯টি। এছাড়া অপহরণ সংক্রান্ত ৪৭টি, চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ১১টি, হত্যাকাণ্ড নিয়ে ১৩টি, জাল নোটবিষয়ক ঘটনা ৫টি, যৌতুক সংক্রান্ত ১টি, যৌন হয়রানি ৬টি, অর্থ চোরাচালান ১১টি ও আয়কর অপরাধ সংক্রান্ত ৩টি ঘটনার অনুসন্ধান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফআইইউ। বিএফআইইউর বাইরে দুদক তদন্তের পর তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৫৫টি হিসাবও জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৭টি হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৩ সালে জব্দ করা হয় ১৩টি ব্যাংক হিসাব। একইভাবে ২০১২ সালে ২৩টি হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। ২০১১ সালে ৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। ২০১০ সালে ৫টি হিসাব জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ ওইসব হিসাব ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় তিনশ’ সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসে। এসব অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করছে। তদন্তে মাসে ৪০ থেকে ৫০টি লেনদেনে জঙ্গি, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ মুহূর্তে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ভুয়া আইডি কার্ড, চুরি, সন্দেহজনক লেনদেনসহ মোট ২৭টি অপরাধমূলক আর্থিক লেনদেনের ওপর বিশেষ নজরদারি করছে বিএফআইইউ।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে তিস্তার পানি চুক্তির কী হবে?

বাংলাদেশের ৫৪টি নদী ভারতের বিভিন্ন নদীর সঙ্গে যুক্ত। Lower Riparian Country বা ভাটির দেশ হিসেবে ভারতের নদীগুলোর পানির একটা অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীই প্রাপ্য। কিন্তু প্রথম থেকেই অর্থাৎ ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত সরকার উভয় দেশের মধ্যে নদীর পানিবণ্টন ক্ষেত্রে নিজেদের এ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন না করে এমনভাবে Upper Riparian Country হিসেবে পানি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বাংলাদেশকে তার পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে যে মনে হয়, যেসব নদী তাদের দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করছে সেগুলোর পানির সার্বভৌম মালিকানা একা তাদেরই! অন্যসব নদীর কথা বাদ দিয়ে আপাতত তিস্তা নদীর পানি নিয়ে যে খেলা ভারত খেলছে সেটা দেখা দরকার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এখন বাংলাদেশকে তার পানি না দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তাকেই যুক্তি হিসেবে খাড়া করে ভারত সরকার বলছে এবং আগে থেকেই বলে আসছে যে, পশ্চিমবঙ্গের সম্মতি ছাড়া তাদের পক্ষে বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য পানি দেয়া সম্ভব নয়।
কেন? এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, ভারতের সংবিধানে বলা আছে, পানি হল রাজ্যের অধিকারভুক্ত। এটা ঠিক, কিন্তু এক্ষেত্রে রাজ্যের অধিকারভুক্তির যে কথা বলা হয়েছে সেটা কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের ব্যাপার। ভারতের নিজস্ব পানি যা আছে তার ওপর ‘অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে’ কেন্দ্রের পরিবর্তে রাজ্যের অধিকারের কথাই বলা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই এখন তামিলনাড়– ও কর্নাটক রাজ্যের মধ্যে কাভেরি নদীর পানি নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ চলছে। কেন্দ্রের এক্ষেত্রে করার কিছু নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, উজান দেশের (upper riparian) থেকে যে পানি ভাটির দেশে (lower riparian) ঢুকছে তার ওপরও ভারতের রাজ্যগুলোর কোনো অধিকার আছে। এটা সম্পূর্ণভাবে দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার ব্যাপার। এর সঙ্গে রাজ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে তিস্তার পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তার ন্যায্য পানির হিস্যা দেয়ার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে ভারত রাষ্ট্রের। কাজেই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির সময় কোনো রাজ্যেরই কোনো ভূমিকা সেখানে থাকার কথা নয়। ভারতের সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদ অনুসারেও তার কোনো প্রয়োজন নেই। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অন্য দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ও পার্লামেন্টের অধিকার আছে, ‘The power to make any lwa for whole or any part of the territory of India for implementing any treaty, agreement or convention with aû other country.’ কাজেই এই আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ভারত সরকার যদি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি চুক্তি করে তাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তি থাকলেও এর কোনো আইনগত গ্রাহ্যতা নেই। ভারত সরকার তা অনায়াসে সংবিধান অনুযায়ী অগ্রাহ্য করতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভারত সরকার সে কাজ না করে বাংলাদেশকে তিস্তার পানি না দেয়ার অজুহাত হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিকে খাড়া করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে পানি দেয়ার ব্যাপারটি স্থগিত রেখেছে। আগামী এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সরকারের তিস্তার পানি সম্পর্কিত যে আলোচনা হবে, তাতে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি কর্তৃক মমতা ব্যানার্জিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা সংবাদপত্রে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরাসহ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন। এটা তারা অবশ্যই করতে পারেন নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলোচনার জন্য। কিন্তু অন্য একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বসার প্রয়োজন কী? বাস্তবত ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এর কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটা পরিকল্পিতভাবে, এমনকি বলা যেতে পারে চক্রান্তমূলকভাবে করা হচ্ছে রাজ্যের আপত্তির অজুহাত দেখিয়ে চুক্তির বিষয়টি ভেস্তে দেয়ার জন্য।
ভবিষ্যতে চুক্তিটি সুসম্পন্ন হবে এই মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আপাতত বিষয়টিকে শিকেয় তোলার জন্য। শুধু ভারতের সাংবিধানিক আইনই নয়, একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানির অধিকার নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও এর কোনো প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নেই। ১৯১১ সালের মাদ্রিদ ঘোষণা, ১৯৩৩ সালের মন্টিভিডিও ঘোষণা, ১৯৬৬ সালের হেলসিংকি বিধান এবং ১৯৯৭ সালের ২১ মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত The Convention on the Lwa of Non-Navigational Uses of International Watercourses ইত্যাদিতে আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টনবিষয়ক যেসব বিধিবিধান আছে সেগুলো অনুযায়ী কোনো দেশই তার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত আন্তর্জাতিক নদীর ওপর নিজস্ব সার্বভৌম অধিকারের কথা বলে ভাটির দেশকে তার পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। মমতা ব্যানার্জি সব সময়ই ঘোষণা করছেন যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের পানি স্বার্থ রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় পানি রেখেই তারা বাংলাদেশকে তিস্তার পানি দিতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পানি স্বার্থ বলে কোনো ব্যাপার নেই। যা আছে তা হল ভারতের ন্যায্য অধিকার। এবং এই ন্যায্য অধিকার বলতে পানির ওপর কোনো সার্বভৌম ও একতরফা অধিকার বোঝায় না। এ অধিকার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একাধিক দেশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে হবে। কিন্তু ভারত সরকার ১৯৪৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর পানি নিয়ে এমন সাম্রাজ্যবাদী নীতি কার্যকর করে আসছে যে, বাংলাদেশের একটি মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের একের পর এক পানিসম্পদমন্ত্রী থেকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আমলারা ভারতের মন্ত্রী ও আমলাদের সঙ্গে কতবার যে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির হিস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন তার হিসাব নেই। তারা কি এসব আইন বিষয়ে কিছুই জানেন না? তারা কী নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির বৈঠকগুলোতে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন? দিল্লিতে গিয়ে ভারত সরকারের আতিথেয়তা উপভোগ এবং বাংলাদেশের জনগণের পয়সায় বাজার-সদাই করে তারা দেশে ফেরেন; কিন্তু এর দ্বারা বাংলাদেশের স্বার্থ কোনোভাবেই রক্ষিত হয় না। এবারও প্রধানমন্ত্রী এক বড় বহর নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন। তিনি সেখানে রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে থেকে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আতিথেয়তা উপভোগ করবেন। এই সঙ্গে তিনি যে ভারত সরকারের সঙ্গে কয়েকটি সামরিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবেন এটা ইতিমধ্যেই দুই পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির দ্বারা বাংলাদেশ বিন্দুমাত্র লাভবান হবে না। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ও দেশরক্ষাবিষয়ক সব তথ্যই এর মাধ্যমে ভারতের হস্তগত হবে। এর দ্বারা বাংলাদেশের ওপর ভারতের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এ চুক্তি সম্পাদনের পর খুব সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীকে তার ‘সাফল্যের’ জন্য ঢাকার বিমানবন্দরে বড় অভ্যর্থনা দেয়া হবে! কিন্তু তিস্তার পানির হিস্যা? তার কী হবে? এক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের কী হবে? এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকারি দলের কোনো প্রকৃত অসুবিধা আছে বলে মনে করার কারণ নেই। তারা নিশ্চয় ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ভারতের স্বার্থকেই নিজেদের স্বার্থ মনে করে গৌরব-কীর্তন করতেই নিযুক্ত থাকবেন, যেমন তারা সব সময়ই করে থাকেন।
২৫.০৩.২০১৭
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

বাংলাদেশের স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর

সম্প্রতি ড. আকবর আলি খান রচিত ‘অবাক বাংলাদেশ- বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। এবারের একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রথমা প্রকাশন এটি প্রকাশ করে। কিন্তু বইটি এতই পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে যে, ফেব্রুয়ারিতেই ২য় মুদ্রণ প্রকাশ করতে হয়েছে। ড. আকবর আলি খান খুব বেশি লেখেন না, আবার কমও লেখেন না। তার প্রতিটি গ্রন্থে স্বকীয়তার সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে। কলকাতার দেশ পত্রিকা মন্তব্য করেছে, ‘এই লেখক লিখতে জানেন।’ সব শিক্ষিত মানুষ কম-বেশি লিখতে পারেন। কিন্তু লিখতে পারা এবং লিখতে জানার মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে। যারা লিখতে জানেন তারা শুধু লিখতেই পারেন না, তারা তাদের লেখাকে হৃদয়গ্রাহী রূপে উপস্থাপন করতে পারেন। তাদের লেখা পাঠকের মনের খোরাক জোগায়। প্রতিটি পাঠকের মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। পাঠক খুঁজে বেড়ায় কোন বই পড়লে এ প্রশ্নগুলোর সদুত্তর পাওয়া যাবে।
লিখতে জানা লেখকদের লেখা হয় কালোত্তীর্ণ। ড. আকবর আলি খান এ বইটি লিখতে গিয়ে পাঠক মনের অনেক প্রশ্ন খুঁজে বেড়িয়েছেন এবং বইটির মধ্য দিয়ে এসব প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর খোঁজারও চেষ্টা করেছেন। এ বইটি পড়তে গেলে পাঠককে অনেক সময় হেয়ালির মধ্যে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি পাঠককে সুস্পষ্ট উত্তর দেননি। সম্ভাব্য উত্তরগুলোর মধ্যে প্রতিটিতেই যে কিছু সত্য আছে তা তুলে ধরতে কোনো ধরনের শৈথিল্য লেখকের লেখায় প্রকাশ পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে পাঠকের কাছেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। পূর্ব থেকে অনুমিত কোনো সিদ্ধান্ত বা বিশ্বাস তার লেখাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেনি। আমাদের দেশে মুক্ত মনের মানুষ বা মুক্ত মনের লেখক নিয়ে অনেক কথা হয়। যাদের মুক্ত মনের লেখক বা মানুষ হিসেবে ঠাহর করা হয় যুক্তির কষ্টিপাথরে তাদের অনেকেই অন্ধ আবেগ বা অন্ধ বিশ্বাস দোষে দুষ্ট। এরকম কোনো অন্ধ বিশ্বাস আকবর আলি খান সযত্নে এড়িয়ে চলেন। এখানেই তার শ্রেষ্ঠত্ব। আকবর আলি খান যখন এ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করছিলেন, তখন তিনি তার একমাত্র কন্যাকে হারান। তার স্ত্রীও রোগ শয্যায় শায়িত। এরকম পরিস্থিতিতে কারও পক্ষে স্থির থাকা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় গভীর তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে নিয়ে চিন্তা করার এবং সেগুলো হৃদয়গ্রাহী করে পাঠকের কাছে হাজির করা। এ ক্ষেত্রে আকবর আলি খান উদ্ভাসিত হয়েছেন যুধিষ্ঠির রূপে। তিনি তার বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ‘জিন্দাবাদ’ তকবির না দিলেও এ জাতীয়তাবাদ টিকে থাকবে। জিন্নাহর পাকিস্তান ও গান্ধীর ভারতের তুলনায় শেখ মুজিবের বাংলাদেশ অনেক বেশি টেকসই। তবু আগামী দিনগুলোতে একে দুটি সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
প্রথম সমস্যা হল আধিপত্যবাদ, যা জাতীয়তাবাদের স্বপ্ন সফল হওয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বায়ন এ জাতীয়তাবাদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আকবর আলি খান বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জন্য দুটি প্রধান বিপদ সম্পর্কে যথার্থভাবেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বায়নের কাছ থেকে বিপদ সম্পর্কে অনেকেই একমত হলেও আধিপত্যবাদের বিপদ সম্পর্কে এ দেশের সরব বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগই একমত নন। তারা ভারত ও বাংলাদেশের স্বার্থের মধ্যে এক ধরনের সম্পূরকতা দেখতে পান। এমনকি এদের কেউ কেউ, দুর্ভাগ্যজনক হলেও ভাবতে চান বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে বিলীন হয়ে গেলেও খারাপ কী? অনেক কিছুই আছে যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি তার ভেতরকার শক্তি হারিয়ে ফেলতে পারে। ভারত যেভাবে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ভাগাভাগি নিয়ে টালবাহানা করছে, এমনকি অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রত্যাহার করছে, তার ফলে নদীমাতৃক বাংলাদেশ কথাটির কোনো তাৎপর্যই অবশিষ্ট থাকবে না। পানির অভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ একদিন পরিবেশগত মহাবিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবেশ উদ্বাস্তু হয়ে অন্য কোনো দেশে বা অন্য কোথাও জীবন রক্ষার তাগিদে বেরিয়ে পড়তে বাধ্য হবে। আকবর আলি খান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতীয় আধিপত্যবাদকে সবচেয়ে শক্তিমান আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতীয় কূটনীতিবিদ জেএন দীক্ষিতের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। দীক্ষিতের ভাষায়, ‘The point to be remembered is that India looms large in maû ways in Bangladesh's domestic politics and foreign policy. India is too overarching and too proximate to be ignored. It is also too proximate and assymetrical identity to have a close relationship with. This is the Bangladesh. আকবর আলি খান লিখেছেন, সৌহার্দ্যে ও প্রতিযোগিতায়, ভালোবাসায় ও বিদ্বেষে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। অভিন্ন জনগোষ্ঠী, একই ভাষা, ধর্মের বন্ধন ও সামগ্রিক ইতিহাসজুড়ে পারস্পরিক লেনদেন এদের নিবিড় বাঁধনে বেঁধেছে। অথচ আজ দুটি দেশ কাঁটাতারের বেড়ায় বিভক্ত। কয়েক দশক আগে এরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। আজ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে প্রচণ্ড বাঙালি বিদ্বেষ দৃশ্যমান। তবু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুফলও দেখা যায়। প্রায় ৬৭ বছর পর ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবু ৪টি প্রাচীন সমস্যার আশু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। আকবর আলি খানের মতে সমস্যাগুলো হচ্ছে- পানি বণ্টন সমস্যা, গরু ও চোরাচালান, মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা এবং বাণিজ্য ঘাটতি ও বিনিয়োগ। তার মতে, পানি বণ্টন সমস্যার আশু কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কি বলতে হবে আশু না হোক, দূর ভবিষ্যতে সমস্যাটির সমাধান হবে? এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর উপলক্ষে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নানাজন নানা মত ব্যক্ত করছেন। প্রশ্ন হল- তিস্তা চুক্তি হলেও কি বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত হিস্যা এ নদী থেকে লাভ করবে? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। তিস্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সিকিমে এ প্রয়াস চলছে। অন্যদিকে ভারতের গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে তিস্তার পানি সেচের জন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ভেতরে তিস্তা বাঁধ দিয়েও শুষ্ক মৌসুমে উল্লেখ করার মতো পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তার প্রবাহ অনেক ক্ষীণ হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে বড়জোর সাত-আটশ’ কিউসেক পানি পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অভিন্ন নদীতে কোনো দেশ একতরফাভাবে পানির প্রবাহ রুদ্ধ করতে পারে না। তিস্তাতে বাঁধ দিয়ে ভারত সে কাজটিই করেছে। আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতার নীতি অনুসরণ করতে হয়। এমন কিছু করা যাবে না, যার ফলে অন্য পক্ষের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। আমরা বাংলাদেশে সে রকম ক্ষতিরই সম্মুখীন। সমতাভিত্তিক পানি বণ্টনের জন্য ভারতকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। এটাকে বলা হয় চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজ। ভারত যদি বাঁধগুলো অপসারণ করতে না চায়, তাহলে একটা প্রযুক্তিগত সমাধানে আসতে হবে। যার ফলে বাংলাদেশ তার প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্যা পায়। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি চুক্তি হয়েছিল। এ চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। দুর্ভাগ্যের বিষয় শুষ্ক মৌসুমে অনেক সময় বাংলাদেশ চুক্তি মোতাবেক পানি পায় না। অথচ অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে সবারই কিছু কিছু মঙ্গল হতো। বিদ্বেষ ও অসন্তোষ হ্রাস পেত। ভারত অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ নদীগুলোর উজান অংশ ভারতে পড়েছে। এ ভৌগোলিক সুবিধা এবং বিশাল দেশ হওয়ার সুবিধা ব্যবহার করে ভারত তার মনমতো সমাধান বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
এসব দেখে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে কতটুকু মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে? সত্যিকারের মহানুভবতা ক্ষণিকের নয়। সময়কে অতিক্রম করে যায়। জাতীয়তাবাদের সীমাবদ্ধতা হয়তো এমনটি যে, নিজ স্বার্থের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণতার গলিতে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সম্ভবত এ নিষ্ঠুর বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের অনেক কাল কাটাতে হবে। আকবর আলি খান ২৬ মার্চ প্রথম আলোতে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তার শিরোনাম হল ‘বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে স্থায়ী ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র।’ তিনি তার গ্রন্থে বাংলাদেশের টেকসই বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে যে মত দিয়েছেন এ সাক্ষাৎকারটি তারই একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অনেক টেকসই অবস্থানসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এদিক থেকে দেখা যাক, বাংলাদেশ যদি না থাকে তাহলে কী হবে? হয় এটা ভারতের নয়তো পাকিস্তানের অংশ হবে। আমি মনে করি না, ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের জনসংখ্যা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে ১৫ কোটি মুসলমান আছে। ১৫ কোটি মুসলমান ভারতের নাগরিক হলে ভারতের রাজনীতি বদলে যাবে, বর্ণহিন্দুদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। ভারতের কোনো রাজনৈতিক দল এটা মানবে না। অন্যদিকে ১৬ কোটি বাঙালি ভারতের বাঙালিদের সঙ্গে যোগ হলে ২৩ কোটি বাঙলাভাষী অপরাপর প্রদেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হবে, তাদের মধ্যে বিরাট প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। সুতরাং ভারতের পক্ষে কোনোভাবেই বাংলাদেশকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আর ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে বাদ দিয়ে তো বাংলাদেশকে গ্রহণ করা আরও অসম্ভব।’ এর পরপরই তার প্রতি প্রশ্ন ছিল, তার মানে মুসলমান হিসেবে, বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশই এই ভূ-খণ্ডের অধিকাংশ জনগণের রাজনৈতিক ঠিকানা? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘ঠিক তাই। আর পাকিস্তানে তো আমরা গিয়েই জেনেছি সেটি অসম্ভব। পাকিস্তান এখনও বাঙালিদের প্রতি বিরূপ। সুতরাং এ দিক থেকে বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে স্থায়ী ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র। পক্ষান্তরে, ভারতে বিভিন্ন জাতির মুক্তি সংগ্রাম রয়েছে, তাদের কেউ কেউ সফলও হতে পারে। পাকিস্তানের একই অবস্থা। সুতরাং ভারত ভাঙার আশংকা আছে, পাকিস্তানও ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ভাঙার কোনো আশংকা নেই।’ আকবর আলি খানের বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়, ভারত ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে সেক্যুলার হতে পারেনি। তাই যদি হতো ভারতের রাজনীতিবিদরা বাড়তি মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ে কেন শংকিত বোধ করেন? এখন তো ভারতে হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। এ ক্ষেত্রে বলা যায় কংগ্রেসের মধ্যে হিন্দুত্ববাদ ছিল অঘোষিত এবং বিজেপির মধ্যে এ ব্যাপারে কখনই কোনো রাখঢাক ছিল না। সত্যিকার অর্থে ভারত ভাগের জন্য শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকেই দায়ী করতে হয়। আকবর আলি খানের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, পাকিস্তান না হলে কেবিনেট মিশন পরিকল্পনা মাফিক ৩টি রাষ্ট্র হতো। এ পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকার, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ- সবাই মেনে নিয়েছিল।
তাহলে একভাগে থাকত যুক্ত বাংলা ও আসাম, পশ্চিম পাকিস্তানের অঞ্চল হতো এক ভাগ, বাকি ভারত থাকত এক ভাগে। মুসলিম লীগ শেষ পর্যন্ত কেবিনেট মিশন প্ল্যানে রাজি ছিল, কিন্তু কংগ্রেস মানেনি। কংগ্রেস অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হয়ে এটার বিরোধিতা করে। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মন্তব্য উল্লেখ করে আকবর আলি খান বলছেন, (এটা আসলে মাওলানা আজাদেরই মন্তব্য), এটা মস্ত বড় ভুল হয়ে গেল। এ ভুলেরই খেসারত হল পূর্ব পাকিস্তান। লাখ লাখ মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেল, বহু মানুষ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ হারাল। তারপরও সমস্যার সমাধান হল না। কাজেই পূর্ব পাকিস্তানের জন্ম হল এক ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশের আবির্ভাব সেই দুর্ঘটনারই সংশোধন। ইতিহাসে দুর্ঘটনা বলে কিছু আছে কি? ইতিহাস তার আপন গতিতে এগিয়ে চলে। এ গতি প্রবাহে কোনো ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হলে ইতিহাস তার নিজ নিয়মে ভিন্ন পথে এগিয়ে চলে। বাংলাদেশকে ভারত কখনও গিলে খাবে না। অথবা বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলেও ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ বিশ্লেষণের প্রতি একমত হতেই হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় দেশটাকে নিয়ে আমরা কী করছি? এখানে সুশাসনের অবস্থা কী? এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নাজুক হয়ে পড়ছে কেন? আমরা যদি নিজেরা এ পরিস্থিতি রোধ করতে না পারি তাহলে বাইরের শক্তি অবান্তর প্রমাণিত হলেও ভেতরের দুর্বলতা দুর্বলতা হিসেবেই অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের বিপদ এ দুর্বলতার মধ্যেই নিহিত।
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী দাউদকান্দি

ইলিয়টগঞ্জ, আমদপুর, রায়পুর, গোয়ালমারীসহ দাউদকান্দি উপজেলায় রয়েছে একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক স্থান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এসব স্থানও অনেক গুরুত্ব। ঘুরে এসে লিখেছেন-গাজী মুনছুর আজিজ প্লাবনভূমিখ্যাত কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একাত্তরে একাধিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মহাসড়কের পাশ ঘেঁষা এ অঞ্চলেও ছড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি। সেসব স্মৃতিবিজড়িত স্থান দেখতেই এক সকালে হাজির হই দাউদকান্দি। স্থানীয় কৃষিসংগঠক মতিন সৈকত, সংস্কৃতিকর্মী লিটন সরকার বাদল ও এসএম মিজান ছিলেন এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যম। আলাপের শুরুটা হয় দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল কুদ্দুস সরকারকে দিয়ে। উপজেলার বাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে বসে তার সঙ্গে কথা হয়। আবদুল কুদ্দুস সরকার বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্র ছিল দাউদকান্দি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এবং দাউদকান্দি ডাকবাংলোতে। এ ক্যাম্প ও নির্যাতন কেন্দ্র ধ্বংস করতে আমরা ৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে ক্যাম্পের তিনপাশ ঘিরে ফেলি, কারণ, বাকি পাশে মেঘনা-গোমতী নদী। তারপর শুরু হয় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তখন পাকিস্তানি সেনারা প্রাণে বাঁচতে চারটি লঞ্চে করে নদী দিয়ে পালিয়ে যায়। এভাবে ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার আগে শত্রুম্ক্তু হয় দাউদকান্দি। এ যুদ্ধে যোগ দেন দাউদকান্দির দক্ষিণ এলাকার নজরুল ইসলাম কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধা, উত্তর এলাকার কাউসার কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধা, উত্তর-পূর্ব এলাকার আবদুল মতিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার শফিক কমান্ডারের মুক্তিযোদ্ধার দল। আমি ছিলাম নজরুল কোম্পানির দলে। এ কোম্পানিতে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ৯০ থেকে ১০০ জন। অন্য দলগুলোতেও প্রায় এমন সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নজরুল ইসলাম কোম্পানির এলাকা ছিল গোয়ালমারী, কাউসার কোম্পানির এলাকা ছিল দাউদকান্দি উত্তর, আবদুল মতিনের এলাকা ছিল গৌরীপুর এবং শফিক কমান্ডারের এলাকা ছিল বড়কোটা। আবদুল কুদ্দুস সরকার জানান, দাউদকান্দি মুক্ত হওয়ার আগে ২০ নভেম্বর গোয়ালমারীতে একটি যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধেও তিনিসহ অংশ নেন ওয়াদুদ, শফিক, নজরুল কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা। তার কথা শুনে আমরা অটো রিকশায় গ্রামের মেঠোপথ ধরে আসি গোয়ালমারী বাজারে। গোয়ালমারীর এ যুদ্ধে অংশ নেন দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমান্ডার মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ইনসান পাগলি নামে ২৪ বা ২৫ বছর বয়সী এক নারী গোয়ালমারী বাজারে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি কিভাবে যেন আগাম খবর পেলেন পাকিস্তানি সেনারা গোয়ালমারীতে আসছে। তখন তিনি চিৎকার করে ঘুরে ঘুরে পাকিস্তানিদের আসার খবর পুরো এলাকায় জানিয়ে দেন। তার এ চিৎকার শুনেই আমরা নিরাপদে অবস্থান নিই। সেদিন ইনসান পাগলি যদি চিৎকার করে পাকিস্তানিদের আসার খবর না দিতেন তাহলে হয়তো আমরা সব মুক্তিযোদ্ধাই মারা যেতাম পাকিস্তানিদের হাতে। তবে পাকিস্তানিরা আমাদের না মারতে পারলেও ইনসান পাগলিকে গুলি করে মেরেছে। তার লাশ পড়ে ছিল গোয়ালমারী বাজারের পাশে। পরে তাকে সেখানেই কবর দেন স্থানীয়রা। খোরশেদ আলম গোয়ালমারী বাজারের পাশে ঘাসে ঢাকা একটি স্থান দেখিয়ে বললেন, ‘এটাই ইনসান পাগলির কবর’। অবশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই এটা একটি কবর বা বিশেষ কারও কবর। গোয়ালমারীর এ যুদ্ধে শহীদদের উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় খালেকুজ্জামান এ স্মৃতিস্তম্ভের জন্য দুই শতক জমি দান করেছেন। গোয়ালমারী বাজার থেকে আসি জিংলাতলী ইউনিয়নের রায়পুর বাসস্ট্যান্ড। এখানকার রায়পুর খালের কাঠের সেতুতে ১২ জনকে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। এ হত্যাযজ্ঞ নিজের চোখে দেখেছেন রায়পুরের চৌধুরী বাড়ির মো. ওমর ফারুক সিকদার। তার সঙ্গে কথা বলি রায়পুর বাসস্ট্যান্ডের বাজারে। তার বাড়ি থেকে রায়পুর খালের সেতুটি প্রায় ২০০ মিটার দূরে। তিনি তখন ২১ বছরের তরুণ। সবে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা সদরে পাকিস্তানিদের ক্যাম্প ছিল। সেই ক্যাম্প থেকে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল রায়পুর গ্রাসে আসে মুক্তিদ্ধোর খোঁজে। পাকিস্তানিরা গ্রামে প্রবেশ করলে এ ১২ শহীদ পালিয়ে বাঁচতে চান, কিন্তু রায়পুর খালের কাঠের সেতু পার হওয়ার আগেই পাকিস্তানিরা তাদের ধরে ফেলে এবং হত্যা করে। পাকিস্তানিরা ভেবেছে রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধারা লুকিয়ে আছেন, তাই তারা গ্রামে হামলা করে। রায়পুর কৈলাশ চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়েও পাকিস্তানিদের ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা গাছের আড়ালে পালিয়ে থাকতে পারেন এ ভয়ে পাকিস্তানিরা গ্রামের সব বড় গাছ, ঝোপ-ঝাড় কেটে ফেলে। রায়পুর খাল কালাডুমুর নদীর ছোট্ট একটি শাখা। এ খাল পার হয়ে একটু এগুলেই কালাডুমুর নদী।
নদীর ওপার গেলেই নিরাপদ। সেজন্য রায়পুর গ্রামে পাকিস্তানিরা প্রবেশ করলে গ্রামবাসী দৌড়ে রায়পুর খাল পার হয়ে কালাডুমুর নদী সাঁতরে ওপার চলে যেতেন। এ হত্যাযজ্ঞের প্রায় আড়াই মাস পরে আরও ৭/৮ জনের সঙ্গে ওমর ফারুক সিকদার ভারতের পালাটনা যান মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে তিনি গ্রামে ফিরে মামাবাড়ি আসেন। এখানে যারা শহীদ হয়েছেন তারা হলেন- পান্ডব চন্দ্র দেবনাথ, সুধীর বণিক, শীতল সরকার, শরৎ সরকার, উমেশ সরকার (আড়াই মেম্বরী), ফেলন সরকার, পান্ডব সাহা, বিদেশিনী সাহা, কামিনী বালা দেবনাথ, নকুল দেবনাথ, রঞ্জিত সরকার ও অনাথ বন্ধু দেবনাথ। রায়পুর থেকে এবার আসি আদমপুর গ্রামে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যরা এখানে দুজনকে গুলি করে হত্যা করে। একই সঙ্গে তারা গ্রামের ৫টি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। দুই শহীদ হলেন- নূরু মিয়া ও অনুকুল। নূরু মিয়ার বয়স প্রায় ৩৫, আর অনুকুলের বয়স প্রায় ৫০ বছর। এ হত্যাযজ্ঞ দেখেন নূরু মিয়ার ভগ্নিপতি প্রায় ৯০ বছরের কালা মিয়া। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, খুব সম্ভবত বৈশাখের ১০ তারিখ সোমবার। গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আছেন এ খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য গ্রামে প্রবেশ করে। তাদের খবর পেয়ে আমরা ভয়ে কালাডুমুর নদী সাঁতরে পার হয়ে কলিযোগ গ্রামে চলে যাই। আদপুর গ্রাম ঘুরে আসি ইলিয়টগঞ্জ বাজারে। একাত্তরের ৫ ডিসেম্বর কনকনে শীত আর গভীর রাতে এখানে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে শহীদ হন পিপুইয়া গ্রামের আবদুল মমিন। আহত হন রানীপুরের মোহাম্মদ শাহজাহান। এছাড়া মিত্রবাহিনীর তিন সদস্য শহীদ হন। অন্যদিকে শত্রুদের ১১ জন মারা যায় ও আত্মসমর্পণ করে সাতজন। বাকিরা পালিয়ে যায়। ৫ ডিসেম্বর রাতে যুদ্ধ শুরু হয়ে চলে ৬ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত। আর এ যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুমুক্ত হয় ইলিয়টগঞ্জ অঞ্চল। এ যুদ্ধের গ্রুপ কমান্ডার চান্দিনার সুহিলপুর গ্রামের মো. আলী আকবর দর্জি বলেন, ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিই এ যুদ্ধে। আবদুল মমিন ছিলেন আমাদের কমান্ডার। সহকারী কমান্ডার ছিলেন আমার ভাই মো. আমির হোসেন দর্জি। ইলিয়টগঞ্জ রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ঘাঁটি ছিল। আমরা ১১ বার অভিযান চালিয়ে অবশেষে শেষবার সফল হই। মমিনের দাফন করা হয় তার গ্রামের বাড়ি পিপুইয়াতে। ইলিয়টগঞ্জ থেকে অটোরিকশায় আমরা আসি পিপুইয়া গ্রামে শহীদ মমিনের সমাধিস্থলে। সমাধিটির চারপাশের দেয়ালে সম্প্রতি সাদা রঙ দেয়া হয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে কোনো স্মৃতিফলক নেই। সমাধির সামনে ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড দেয়া আছে। সে সাইনবোর্ডে শহীদ মমিনের শহীদ দিবসের তারিখ ভুল লেখা রয়েছে।
ছবি : লেখক

বেশি সার্চ করা অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাট

চলতি সপ্তাহে ইমেজ শেয়ারিং অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপের শেয়ার মূল্য কিছুটা কম থাকলেও আইওএস অ্যাপ স্টোরে স্ন্যাপচ্যাট-ই ছিল সবচেয়ে বেশি সার্চ করা অ্যাপ, জানিয়েছে আইএএনএস। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর সূত্রমতে, অ্যাপ স্টোরে সার্চ করার দিক থেকে স্ন্যাপচ্যাট সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে মানুষের সবচেয়ে বেশি খোঁজা অ্যাপে পরিণত হয়েছে এটি। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্ন্যাপ ২০১৬ সালে সাড়ে ৫১ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ে। চলতি মাসে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করে। স্ন্যাপচ্যাটের সূত্রমতে, প্রতিদিন ১৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ স্ন্যাপচ্যাটের সেবা ব্যবহার করেন আর এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ‘স্ন্যাপ’ তৈরির সংখ্যা আড়াইশ’ কোটি। আইওএস অ্যাপ স্টোরে সার্চের দিক থেকে স্ন্যাপচ্যাটের পরের স্থান দখল করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের মালিকাধীন ইনস্টাগ্রাম, আর ফেসবুকের অ্যাপ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে আছে গুগলের ভিডিও প্লাটফর্ম ইউটিউব।
কিশোরদের দিকে নজর দিয়ে বানানো মেসেজিং স্টার্টআপ কিক পঞ্চম আর মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের অ্যাপ ষষ্ঠ অবস্থানে আছে বলে জানা যায়। ২০১৬-তে অ্যাপ স্টোরে ডেভেলপারদের আয় বলা হয়েছে দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০১৭-এর ১ জানুয়ারি অ্যাপ স্টোরে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এদিন গ্রাহকরা রেকর্ড পরিমাণ ২৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। বছর থেকে বছরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং চীনের মতো বর্ধনশীল বাজারগুলোতে আয় বাড়তে দেখা গেছে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। অ্যাপ স্টোরের এই কর্মক্ষমতায় বিনিয়োগকারীরাও মনোযোগ দিয়েছে। কারণ অ্যাপলও এখন পণ্যের পাশাপাশি সেবার দিকে নজর দিয়েছে। তাই আয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটি শুধু নতুন পণ্যের ওপরই নির্ভর করছে না। বর্তমানে অ্যাপ স্টোর থেকে প্রতি ডলার আয়ের ৩০ সেন্ট পায় অ্যাপল। সে হিসাবে আগের বছর প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার, এমনটাই ধারণা করছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান জ্যাকডো রিসার্চের বিশ্লেষক জ্যান ডসন। -আইটি ডেস্ক

ফেসবুক কমেন্টে যুক্ত হচ্ছে জিফ

নিত্যনতুন নানা ফিচার এলেও জিফ ইমেজ আপলোডের সুবিধা থেকে গ্রাহকদের বঞ্চিত করে আসছিল শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। জিফ ইমেজ দেখানোর জন্য ব্যবহারকারীদের অন্য ওয়েবসাইট বা লিংক ব্যবহার করতে হতো। অবশেষে ফেসবুকের মন গলেছে! টেকক্রাঞ্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফেসবুক কমেন্টে ব্যবহারকারীদের অ্যানিমেটেড বা গিফ ইমেজ আপলোডের সুবিধা আসছে।
এ জন্য ফেসবুক ইতিমধ্যে একটি জিফ বাটন যুক্ত করার পরীক্ষাও চালাচ্ছে। যদিও ফেসবুকের মেসেঞ্জারে জিফি এবং টেনরের মাধ্যমে জিফ ইমেজ শেয়ার করা যায়। জিফ সাপোর্ট না করার পেছনে ফেসবুক অনেক যুক্তিও দিয়েছে। তাদের মতে, জিফ ইমেজ আপলোডের সুবিধা দিলে ফেসবুক নিউজফিড ঘিঞ্জি মনে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ভিডিও সুবিধাকেও অনেকেই বিরক্তি হিসেবে দেখে। আর বর্তমানে ভিডিওর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শব্দ চালু হওয়ায় সেটি আরও বিরক্তিকর মনে করেন অনেকেই। ঠিক কবে নাগাদ সেবাটি চালু হবে তা জানানো হয়নি। দ্য নেক্সট ওয়েব অবলম্বনে রুদ্র মাহমুদ

ঋণখেলাপিদের শাস্তি কবে হবে?

দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের চরম দুরবস্থায় আজ এই লেখা লিখতে বসেছি। বলতে পারেন, বিবেকের তাড়নায় লিখছি। অবস্থাটা এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কিছু কথা না বললেই নয়। তাই কোনো ভণিতা না করে সোজাসাপ্টা বলতে চাই, ব্যাংকিং খাতের দুর্বৃত্তরা ভয়াবহ অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। বড় মাপের ঋণখেলাপি থেকে শুরু করে ঋণ জালিয়াত, দুর্নীতিবাজ, জনগণের টাকা আত্মসাৎকারী- সবাই যেন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। অথচ আইন আছে, আছে প্রশাসনিক অনেক ক্ষমতাও। কিন্তু প্রয়োগ নেই। বরং যিনি বা যারা আইন প্রয়োগ করবেন, অনেক সময় তাদের দেখা যায় ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে সাফাই গাইতে। দেখতে দেখতে চোখের সামনে কতগুলো বড় বড় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটে গেল। কিন্তু কারও তেমন কিছু হল না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো রাঘববোয়ালদের অনেকের তো টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেনি।
যুবকের প্রতারণা থেকে শুরু করে ডেসটিনি, হলমার্ক ও বেসিক ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেংকারি সবার মুখে মুখে। আর প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়, এ সেক্টরের কোনো না কোনো ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভয়াবহ দুর্নীতি, জালিয়াতি ও পার পেয়ে যাওয়া ঋণখেলাপির খবর। তথ্যভিত্তিক সচিত্র খবর দেখাচ্ছে কোনো কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেলও। সাংবাদিকদের নিজস্ব অনুসন্ধান ছাড়াও খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে একের পর এক উঠে আসছে জাল-জালিয়াতি করে নেয়া ঋণের অবিশ্বাস্য সব খবর। পরিদর্শন টিমে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অনেক কম থাকলেও কিছুসংখ্যক সৎ ও সাহসী কর্মকর্তার কারণে মানুষ স্বল্প পরিসরে হলেও কিছু অনিয়ম, দুর্নীতির খবর জানতে পারছে। কিন্তু খবর প্রকাশ পর্যন্তই যেন সব শেষ। অবস্থাটা এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এসব ব্যাংক ও শেয়ারবাজারখেকো দুর্বৃত্তদের সামাজিকভাবে মিডিয়া ট্রায়াল ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। এ পর্যন্ত একটি ঘটনারও দৃষ্টান্তমূলক বিচার কিংবা শাস্তি হয়নি। কয়েকজন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের সংবাদে তাদের যেসব সাহসী বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে সেখানেও তারা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এসব অন্যায়ের শাস্তি নিশ্চিত না হবে ততদিন এই দুর্বৃত্তপনা বন্ধ হবে না। তারা এ-ও বলছেন, কেউ যদি জানেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর দেয়া লাগবে না; তাহলে তিনি ঋণ পরিশোধ কেন করবেন? অবশ্যই করবেন না। হচ্ছেও তাই।
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এ চক্র নিজেরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ওদিকে ব্যাংকের কিছুসংখ্যক পরিচালক নিজের ঘরে আগুন দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছেন। তারা একে অপরের ব্যাংক থেকে মিলেমিশে লুটপাটে মেতে উঠেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবরে দেখা গেছে, ব্যাংকের পরিচালকরা প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ খেলাপি হয়ে ঋণ অবলোপনও করছেন। কী ভয়াবহ কথা। এসব ভাবা যায়! অথচ এটিই আজ বাস্তবতা। আর এই যখন অবস্থা, তখন শুধু ব্যাংকিং খাত কেন- এর বিরূপ প্রভাবে পুরো অর্থনীতি ধ্বংস হতে বসেছে। বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। যেসব তথ্য দিয়ে বাহবা নেয়া হচ্ছে তা সবই কাগুজে। তাই দেশের একজন শিল্পপতি হিসেবে সরকারের কাছে আমার জোরালো দাবি- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে এসব অন্যায়-দুর্নীতি আর চলতে দেয়া উচিত হবে না। যারা ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়াবহ দুর্নীতি করে ব্যাংকিং সেক্টরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঋণখেলাপিদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিশেষ করে যারা বড় বড় ঋণখেলাপি তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। প্রথমে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে তুলে ব্যাংকের সমুদয় পাওনা টাকা উসুল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্পদ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ না হলে দ্রুত জেলে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষ বিধান জারি করতে হবে; যাতে কেউ আদালতে রিট করে শাস্তি আটকাতে না পারেন। খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে প্রয়োজনে ৩ থেকে ৬ মাসের সময় বেঁধে দিয়ে কঠোর আইন করা উচিত। একই সঙ্গে তাদের পাসপোর্টও জব্দ করতে হবে। যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন।
কারণ ব্যাংকের মূলধন সাধারণ জনগণের আমানতের টাকা। তাই এসব দুর্বৃত্তকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া কিংবা ক্ষমা করার সুযোগ নেই। আমার মতে, তাদের ন্যূনতম ছাড় দেয়ার আর সুযোগ নেই। কেননা তারা ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। বিপুল অংকের টাকা পাচার করাসহ বিদেশে নানা পন্থায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন। আর তারা তো আকাশ থেকে নাজিল হননি। আমাদের সমাজের আশপাশে দিব্বি বহালতবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দামি গাড়িতে চড়ছেন। গুলশানের মতো জায়গায় আলিশান বাড়িতে থাকছেন। ছেলেমেয়েদের বিদেশে লেখাপড়া করাচ্ছেন। নামিদামি ক্লাবে পার্টি দিচ্ছেন। কখনও ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতা সেজে সমাজে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। যারা ঋণ আদায় করবেন তারাই উল্টো তাকে সমীহ করে চলছেন। অর্থাৎ তাদের সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। শুধু যত সমস্যা ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করার বেলায়। মোট কথা, তারা ব্যাংকের টাকা দেবেন না। ভাবখানা এমন যে, সাধারণ মানুষ ব্যাংকে রাখতে বাধ্য, আর তারা সে টাকা মেরে দিয়ে বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়ে তুলবেন। অপরদিকে ঋণ অবলোপনের নামে সমানে ব্যাংকগুলো খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এ পর্যন্ত ৪২ হাজার কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এতে খেলাপিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। অর্থাৎ ঋণ নিয়ে আর দেয়া লাগবে না। একপর্যায়ে ব্যাংক বাধ্য হয়ে দায়দেনার খাতা ক্লোজ করে ফেলবে। এ অপব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। আমি মনে করি, শুধু ঋণখেলাপি নয়, ব্যাংকিং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জেলে পাঠানো ছাড়াও তাদের সম্পদ বিক্রি করে টাকা উসুল করতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালকদের ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত হবে ব্যাংকের পরিচালকদের সম্পদের হিসাব নেয়া। বিশেষ করে কে কত বছর আগে কত টাকা দিয়ে ব্যাংকের মালিকানা খাতায় নাম লিখিয়েছেন এবং এখন কত টাকার মালিক হয়েছেন। আমার মতে, দুদক এ হিসাবটি যথাযথভাবে নিতে পারলে অনেকের গোমর ফাঁস হবে। সবশেষে এটাই বলব, ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে আর হেলাফেলা করা ঠিক হবে না। কারণ এটি অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এরই মধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে। আর সামনে বাড়তে দিলে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বিনিয়োগ হওয়া তো দূরের কথা, চালু শিল্পপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মসংস্থান বাড়ার পরিবর্তে লাখ লাখ বেকার তৈরি হবে। দেশ স্বনির্ভর না হয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। বিপরীতে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক সেক্টরের অনিয়ম, দুর্নীতি শক্ত হাতে দমন করতে পারলে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে। সাহসের সঙ্গে সঠিক পলিসি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারলে এখানে রীতিমতো শিল্পবিপ্লব ঘটানো সম্ভব। আর মাথাপিছু আয় এখন যা আছে, তা ৫ বছরের মধ্যে বাড়বে বহুগুণ।

মেসির চেয়ে আয় বেশি রোনাল্ডোর

২০১৬-১৭ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এ সময়ে তিনি কামিয়েছেন ৮৭.৫ মিলিয়ন ইউরো (৯৫.৩ মিলিয়ন ডলার)। একই সময়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির আয় হয়েচে ৭৬.৫ মিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্স ফুটবলের সর্বশেষ সংস্করণে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। সাময়িকীটি প্রকাশিত হবে আজ। বার্সেলোনায় মেসির ব্রাজিলীয় সতীর্থ নেইমার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন। তিনি রোজগার করেছেন ৫৫.৫ মিলিয়ন ইউরো। রিয়াল মাদ্রিদের ওয়েলস ফরোয়ার্ড গ্যারেথ বেল ৪১ মিলিয়ন ইউরো আয় করে চতুর্থ স্থানে আছেন।
চাইনিজ সুপার লীগে হেবেই ফরচুনের হয়ে খেলা আর্জেন্টাইন এজেকুয়েল লাভেজ্জি কামিয়েছেন ২৮.৫ মিলিয়ন ইউরো। সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী কোচ হলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হোসে মরিনহো। ম্যাগাজিনের মতে, ২৮ মিলিয়ন ইউরো এ সময়ে জমা হয়েছে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে পাওয়া বেতন, বোনাস এবং বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ফ্রান্স ফুটবল এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। এএফপি।

৩৮ বসন্ত পেরিয়ে শাকিব খান

প্রকৃত নাম মাসুদ রানা। কিন্তু চলচ্চিত্রে পা রেখেই বদলে যায় নাম। হলেন শাকিব খান। যে নামের সঙ্গে এখন জড়িয়ে রয়েছে অগণিত ভক্তদের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা। শাকিব খান মানেই এখন নতুন কিছু। প্রেক্ষাগৃহে দর্শক মাতানো ছবি। যদিও ক্যারিয়ারের মাঝের সময়টা খুব একটা ভালো করতে পারেননি তিনি। পরে আবার ট্র্যাকে ফিরেছেন। তার ওপর ভক্তদের যে প্রত্যাশা জন্মেছিল তার পুরোটাই পূরণ করেছেন এবং করছেন। প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন লুকে হাজির হচ্ছেন। উপস্থিত হচ্ছেন ফ্যাশনেবল নায়ক হিসেবে। ভক্তদের কাছে নিজের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ঢালিউড কিং খান উপাধিও। বর্তমানে এ তারকা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবির শুটিং নিয়ে ঢাকা টু কলকাতা ওড়াউড়ির মধ্যেই রয়েছেন। প্রায় তিন মাস ব্যস্ত ছিলেন ‘নবাব’ ছবির শুটিং নিয়ে। এ ছবির ফাঁকে ‘অহংকার’ নামে দেশীয় একটি ছবির কাজও শেষ করেছেন। তারপর আবারও ব্যস্ত হয়েছেন কলকাতার নাম ঠিক না হওয়া একটি ছবির শুটিং নিয়ে। সম্প্রতি দেশে ফিরে ঢাকার অদূরে নন্দন পার্কে ‘অহংকার’ ছবির কিছু প্যাঁচ ওয়ার্কের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন শাকিব খান। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘সত্তা’ ছবিটিও। জানা গেছে, আগামী দুই বছর এ নায়কের হাতে নতুন কোনো ছবির শিডিউল নেই।
যৌথ প্রযোজনার বেশ কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন খান। যে ছবিগুলোতে নায়িকা হিসেবে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের নায়িকা শুভশ্রী, কোয়েল মল্লিক ও নুসরাতের মতো নায়িকারা। এছাড়া ‘বসগিরি’ ছবিটির সিক্যুয়েল বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রযোজক। সব মিলিয়ে বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে এ নায়কের। এতকিছুর মধ্যে শাকিব ভক্তদের জন্য সুখবর রয়েছে একটি। আজ তার জন্মদিন। জীবনের ৩৮টি বসন্ত পেরিয়ে এসেছেন এ ঢালিউড কিং। কিন্তু দিনটি দেশে উদযাপন করতে পারছেন না তিনি। শুটিংয়ের জন্য গতকাল আবারও কলকাতায় উড়াল দিয়েছেন। দেশে জন্মদিনের কোনো আয়োজন না থাকলেও কলকাতায় শুটিং সেটে কাজের মধ্য দিয়েই দিনটি উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন শাকিব খান। এ প্রসঙ্গে কলকাতায় যাওয়ার আগে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলেও এবার দেশে জন্মদিন পালন করতে পারছি না। কলকাতায় শুটিংয়ে একদিন উপস্থিত না থাকলে শিডিউলে অনেক সমস্যা হবে। ওখানেই হয়তো সাদামাটাভাবে দিনটি উপভোগ করব।’ প্রসঙ্গত, সোহানুর রহমান সোহানের ‘অনন্ত প্রেম’ ছবির মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় শাকিব খানের। তবে তার অভিনীত প্রথম ছবির নাম আবুল খায়ের বুলবুলের ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’। ২০০৮ সালে নায়ক মান্না মারা যাওয়ার পর ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির অলিখিত সম্রাট হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন তিনি।