Monday, May 14, 2018

হুমকির মুখে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্যসম্পদ by আবুল হাসান

সুন্দরবন এলাকার নদী ও খালগুলোতে বেন্দি, কারেন্ট, বুনো ও নেট জাল দিয়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। তারপরও এসব জালে ছেয়ে গেছে ওই এলাকা। এসব জালে  আটকা পড়ছে ৭০ প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্যসম্পদ।
অভিযোগ উঠেছে নৌ-পুলিশের টোকেন নিয়েই সুন্দরবনের ভেতরে নো-ফিস ল্যান্ডসহ মোংলার পশুর নদীতে জেলেরা এসব জাল দিয়ে অবাধে চিংড়ি পোনা আহরণ করছে। মংলার জয়মনি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ— অবৈধভাবে মাছের পোনা শিকার করা প্রতিটি নৌকার কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে টোকেন বাবদ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা পলিশ সদস্যরা।
পশুর নদী উপকূলের জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা আলম, মো. শুকুর ও জহুর গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা টোকেনের বিনিময়ে অমাবস্যা ও পূর্নিমার সময় নৌকাপ্রতি ৩০০ টাকা করে নেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জয়মনি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন শরিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দূর থেকে কাঁশবন অনেক সাদা দেখায়। আপনারা আসেন, দেখেন— কোনটা সত্য।’  তিনি বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। বরং নিষিদ্ধ নেট জাল দিয়ে অবাধে চিংড়ি পোনা আহরণকারীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।’
মোংলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোমবার (৭ মে) নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে চিংড়ি পোনা আহরণকারীদের ধরার নির্দেশ দিয়েছি।’ এই নির্দেশের কথা স্বীকার করেছেন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন শরিফ।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিন কবির  বলেন, ‘উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের কাজল, মুক্তা, রেজাউল শেখ, অরুণ, আলতাফ, মিজান, ইসলাম, হানিফ, নাসির গাজী ও মনিসহ শতাধিক ব্যবসায়ী জেলেদের দাদন (অগ্রিম টাকা) দেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ জাল দিয়ে চিংড়ির রেনু পোনা ধরাচ্ছেন। তারা কোনও আইন মানেন না, নিয়মও মানেন না। তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’
পশুর নদী উপকূলের বাসিন্দা আলম, মো. শুকুর ও জহুর গাজী জানান, জয়মনি গ্রামের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেদের এনে মোংলার পশুর নদীসহ সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চিংড়ি পোনা ধরতে নামিয়ে দিয়েছেন।
মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ফেরদাউস আনসারী বলেন, ‘অবৈধ জাল দিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে রেনু পোনা এবং মাছ ধরা সারাবছরই নিষিদ্ধ। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ির রেনু ধরার জন্য অবৈধ জাল দিয়ে নদীতে নামিয়ে দিয়েছেন। তাদের সতর্ক করতে ইতোমধ্যে মাইকিং ও জয়মনির বটতলায় জেলে সমাবেশ করা হয়েছে। এছাড়া, নিয়মিত অভিযানসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’  তিনি বলেন, ‘আইনে বলা আছে-উপকূলীয় এলাকার সব নদ-নদী থেকে সব ধরনের চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই পোনা ধরা হলে প্রথমবার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা একবছরের জেল, পরবর্তী বছরে আবারও যদি কেউ একই অপরাধ করে তাহলে দুই বছরের জেল দেওয়া হবে।’
কোস্টগার্ড পশ্চিম (মোংলা) অপারেশন কর্মকর্তা লে. আব্দুল্লা আল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মৎস্য আইনে নদীতে বেন্দি, কারেন্ট, বুনোসহ ৭/৮ প্রকার নেট জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েছে। কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রায় সারাবছরই বিশেষ করে মৌসুমে নেট জাল দিয়ে পোনা ধরা বন্ধে বিশেষ অভিযান চালান। এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া জাল পরবর্তীতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এরপরও জেলেরা নদীতে নেট জাল দিয়ে পোনা শিকার করে থাকেন।’

বুকের দুধে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

জন্মের পর শিশুদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শিশুদের মায়ের দুধ দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে এক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বাংলাদেশের। এখানে নবজাতকদের মাত্র ৫১ শতাংশকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয় এবং ছয় মাসের কম বয়সী ৫৫ শতাংশ শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। গতকাল প্রকাশিত ইউনিসেফের নতুন এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, শিশুদের মায়ের বুকের দুধ দেয়ার বিষয়ে বিশ্বে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন। বর্তমানে আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার অন্তত ৯৮ শতাংশ শিশুকে তাদের ছোট বয়সের কোনো না কোনো সময়ে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যে কোনো স্থানেই এর অনুপাত বেশ উচ্চ, যা ৯৪-৯৭ শতাংশ। এই অঞ্চলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো প্রায় সর্বজনীন হলেও এই চর্চার আরো উন্নতির প্রয়োজন বলে মনে করে ইউনিসেফ। ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জ্যঁ গফ বলেন, একজন মা তার সন্তানকে এবং একই সঙ্গে নিজেকে সর্বোত্তম যে উপহার দিতে পারেন তা হচ্ছে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো। আমাদের অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে ও তা চালিয়ে যেতে মায়েদের যে সমর্থন প্রয়োজন তা দিতে হবে। বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলো এখনো পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশে নবজাতকদের মাত্র ৫১ শতাংশকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয় এবং ছয় মাসের কম বয়সী ৫৫ শতাংশ শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে এ শূন্যতা পূরণে কাজ করছে ইউনিসেফ। বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, সাধারণত বিশ্বের সম্পদশালী পরিবারগুলোর শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত থাকে না। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোতে ২০ থেকে ২৩ মাস বয়সী ৮১ শতাংশ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। অন্যদিকে ধনী পরিবারগুলোতে এই হার মাত্র ৫৭ শতাংশ। এই প্রবণতা বিশ্বব্যাপী দেখা যায়, যেখানে ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না এবং বিশ্বের ধনী দেশগুলোর শিশুরাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়। ইউনিসেফের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; একজন মা যদি এক বছর তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তা হলে তার স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ কমে যায়। এ ছাড়া বুকের দুধ শিশুদের জীবন বাঁচায় এবং তাদের প্রাণঘাতী রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে। শিশুদের দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। কারণ এটি শিশুর সুস্থ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস প্রদান করে এবং শিশুর জীবনের দ্বিতীয় বছরে মৃত্যুর অর্ধেক প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া এটি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় উচ্চ সাফল্যের দিকে ধাবিত করে।

‘যেন কংক্রিটের কবরে রাখা হয়েছিল আমাকে’ by মিছবাহ পাটওয়ারী

১৩ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন কাতারের নাগরিক আলি আল-মাররি। পড়াশুনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রেফতার হন ৯/১১-এর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে। বন্দিদশায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন আলি আল-মাররি। তার ভাষায়, ‘আমাকে সমকামের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। জানতাম আমার কোনও অধিকার নেই। আমার সেলে ছয়টি ধাপ ছিল। হাঁটু ভেঙে ঘুমাতে হতো। কখন দিন আর কখন রাত, তা দেখতে পেতাম না। মনে হতো যেন কংক্রিটের কবরে রয়েছি। আমি জানি আমেরিকানরা ক্ষুব্ধ। কিন্তু সেটি তাদের আমার সঙ্গে এমন আচরণের অধিকার দেয়নি। পরীক্ষার সময় আপনার নৈতিকতা ও মান পরিবর্তন করা উচিত নয়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময়ে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী। আমেরিকান বিচার ও সংবিধানের যাবতীয় গর্জন, আস্ফালন জানালার বাইরে চলে যায়। মনে হতো, তারা আমাকে গুলি করবে, ঝুলিয়ে দেবে।’
অনিদ্রা, জিজ্ঞাসাবাদ ও নিঃসঙ্গতার মুহূর্তগুলো পর্যবেক্ষণ করা হতো নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে। ২০০৪ সালের ১১ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের অংশ হিসেবে তার গলায় মোজা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। হাত-পায়ে বেড়ি পরা অবস্থায় ফিতা দিয়ে মাথা প্রায় আবৃত করে ফেলা হয়। তার ভাষায়, ‘আমি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম, মারা যাচ্ছিলাম।’ নৌ ব্রিগেডটির ১১ মার্চের নথি অনুযায়ী, কোরআনের আয়াত শোনার হতাশা থেকে মুখে ফিতা বেঁধে দেওয়া হয়।
আলি আল-মাররি বলেন, ‘আমেরিকার অন্য যেকোনও কয়েদির চেয়ে আমার সঙ্গে নিকৃষ্টতম আচরণ করা হয়েছিল। আমার কোনও ম্যাট্রেস, কম্বল বা বালিশ ছিল না। কোনও কোরআন বা জায়নামাজ ছিল না। মক্কা বা কিবলা কোন দিকে, সে সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা ছিল না। তাই আমি প্রত্যেক সময়ে প্রত্যেক দিকেই প্রার্থনা করেছি। আমি ভীত ছিলাম, মৃত্যুর ভয় ছিল। সন্তানদের জন্য আমার বাড়ি ফেরার কাতরতা ছিল। বাতাসের গন্ধ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের এটা বুঝতে দিতে চাইতাম না।’
১৩ বছর কারা প্রকোষ্ঠে কাটানো এই কাতারের নাগরিক বলেন, নিঃসঙ্গতার সাত বছরে আমি আমার সন্তানকে মিস করেছে, স্ত্রীর শূন্যতা অনুভব করেছি। মাকে চুম্বনের চেয়েও আগে তার কাছে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে তুলে ধরার প্রয়োজন বেশি ছিল। কিন্তু সামরিক কারাগারে টানেলের শেষে কোনও আলো নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমার সাজার সেরা সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি। বেরিয়ে আসা।’ দেশে ফিরে নায়কোচিত সংবর্ধনা পান আলি আল-মাররি। স্বয়ং কাতারের প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করেন। তার দেশে ফেরা উদযাপন করা হয়। আলি আল-মাররি বলেন, ‘লোকজন আমাকে রাস্তায় থামিয়ে দিচ্ছিল, তারা সেলফি তুলছিল। তারা কী উদযাপন করছিল? কারা প্রকোষ্ঠে দিনগোনা একজন বন্দির কারামুক্তি?’
আলি আল-মাররি বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করে না যে আমি সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী একটি আপেক্ষিক শব্দ। একজনের কাছে সন্ত্রাসী আরেকজনের কাছে বীর। আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিটিশদের কাছে একজন সন্ত্রাসী ছিল। পশ্চিমা দুনিয়ার কাছে আমি একজন সন্ত্রাসী। কিন্তু আরবদের কাছে আমি তা নই, এখানে আমি একজন বীর। তাহলে কি ওসামা বিন লাদেনও একজন বীর? তারা আমাকে সন্ত্রাসী বা বীর যাই বলুক না কেন, আমি এসবে ভ্রূক্ষেপ করি না।’ তিনি বলেন, ‘আমি একটি মাস্টার্স ডিগ্রি এবং হয়তো একটি পিএইচডি’র পরিকল্পনা করেছিলাম। আমেরিকান আতিথেয়তায় আমার পিএইচডি শেষ হয়েছে।’
এফবিআই’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দ্য গার্ডিয়ান’কে বলা হয়েছে, এই মামলার ব্যাপারে তারা কোনও মন্তব্য করবে না। তবে এফবিআই নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তারা সঠিক তথ্য প্রাপ্তির সবচেয়ে কার্যকর উপায় প্রয়োগ করে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলার ‘স্নিপার টেররিস্ট’ হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গ্রেফতারের পর আলি আল-মাররিকে ‘শত্রুযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা দেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। কোনও ধরনের অভিযোগ গঠন ছাড়াই ছয় বছর ধরে তাকে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নৌ ব্রিগেডে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন; এমন ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যাকে কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারের বাইরে আটকে রাখা হয়েছিল।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসামরিক আদালত আল কায়েদাকে উপাদানগত সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে রায়ে তার আগের বন্দিদশা বিবেচনার কথা বলা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ কেজ-এর পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন আলি আল-মাররি। তিনি চাইছেন, মার্কিন সরকার যেন তার বিরুদ্ধে আরোপিত মামলা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, ‘এ ব্যাপারে আমি তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি।’

চাঞ্চল্যকর হত্যার তদন্ত-৪: পল্লবীতে মামা ও ভাগ্নি খুনের রহস্য উদঘাটন হয়নি আজও by আল আমিন

আর কয়েকদিন পরই আমার স্ত্রী ও মামাকে হত্যার ঘটনার তিন বছর পার হবে। ঘটনার সময় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া আমার মেয়ে এখন ক্লাস টুতে পড়ে। কী অপরাধে আমার স্ত্রী ও মামাকে হত্যা করা হয়েছে তা এখন পর্যন্ত অজানা। মামলা থানা থেকে ডিবি আবার ডিবি থেকে সিআইডিতে গেছে। সেখানে আবার পাঁচ বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। মামলার ক্লুতো তারা পাচ্ছে না বরং আমাকে খুনের বিষয়ে নানারকম তথ্য আদায়ের নামে মানসিক চাপ দেয়া হয়। এতে আমার মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। কথাগুলো নিহত সুইটির স্বামী ডেসকোর সহকারী প্রকৌশলী (সেলস অ্যান্ড ডিভিশন) মো. জাহিদুল ইসলামের। এ ঘটনার মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। থানা পুলিশ, ডিবি থেকে ঘুরে সিআইডিতে পাঁচ বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। ডাবল মার্ডারের ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
২০১৫ সালের ১৩ই মে দুপুরে রাজধানীর পল্লবীর ২০ নম্বর রোডের ৯ নম্বর ৭তলা বাড়ির ৬তলায় ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটের মধ্যে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে সুইটি খাতুন (৩০) ও তার মামা আমিনুল ইসলামকে (৪৬) হত্যা করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা জাহিদুল ও সুইটির একমাত্র ছেলে সাজিদ বিন জাহিদ বিন সাদ (৭)কে বাথরুমে আটকে রাখে। সূত্র জানায়, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-৮। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য বাদী পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন মামলার এজাহারে। মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের বিশেষ শাখা সিআইডির পরিদর্শক মোকসুদুর রহমান মানবজমিনকে জানান, মামলাটির কয়েকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। আমাকে নতুনভাবে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, আলামতগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ঘটনার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে, মামলার তদন্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি থানা পুলিশ ১ সপ্তাহ তদন্ত করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ডিবি পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে অনীহা প্রকাশ করলে সেটি সিআইডির কাছে হস্তাস্তর করা হয়। সিআইডিতে এই মামলার পাঁচ বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ৮ মাস অথবা পাঁচ মাস মামলাটির তদন্ত করে হয় বদলী হয়েছেন কেউবা ট্রেনিংয়ে গেছেন। সময় ধরে কোনো কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করতে পারেনি। এ কারণে খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
সূত্র জানায়, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল যে, ব্যবসায়িক ও চাঁদাবাজীর দ্বন্দ্বে হয়তো এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এ ঘটনার পর নিহত সুইটির স্বামী জাহিদুল ইসলামের ব্যবসায়িক বন্ধু ও ব্যবসায়িক অশীংদার শাহীন হোসেন ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু, তাদের কাছে কোনো তথ্য না পেয়ে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। বাসার গেটে কোনো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকায় খুনিদের দৃশ্যগতভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র জানায়, খুনের তদন্তে পুলিশ নিহতের স্বামীর কাছে জানতে পারে যে, ২০১৫ সালের ১লা মার্চ রাতে একটি এয়ারটেল নম্বর থেকে জাহিদুলকে ফোন দেয়া হয়েছিল। জিসান নামে এক শীর্ষ সস্ত্রাসীর নাম ভাঙিয়ে তার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। উদ্বেগ-উদ্বেলিত হয়ে জাহিদুল পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করে জানতে পারে যে, ওই কলটি এসেছিল মাদারীপুর জেলা থেকে। কিন্তু, কলকারীকে আর ধরতে পারেনি পুলিশ। এরপর জাহিদুল পুলিশকে জানিয়েছিল যে, তাকে আর কেউ কল করেনি। সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা ভিকটিমের কাছে তথ্য পেয়ে নিশ্চিত হয়েছেন যে, খুনিরা পেশাদার কিলার। তাদের পরনে ছিল জিন্সপ্যান্ট ও টিশার্ট। তারা মোটরসাইকেলে করে এসে জাহিদুলের ফ্ল্যাটে যায় গ্যাসের লাইন মেরামত করার জন্য। এরপর তারা খুন করে পালিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা যে নম্বর থেকে জাহিদুল ইসলামকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেছিল সেই নম্বরটি আবার নতুনভাবে স্থান নির্ধারণ চিহ্নিত করা ও ফোনকারী ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়াও নিহতের ব্যবসায়িক, পারিবারিক ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি রোজা রাখবেন? by ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক মুসলমান রোজা রাখবেন- এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। তারা একদিকে যেমন রোজা রাখতে চান, অন্যদিকে আবার ডায়াবেটিস নিয়ে রোজা রাখা যাবে কিনা বা কীভাবে রাখতে হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। অনেকে ভয়ে রোজা রাখেন না, অনেকে আবার নিজের মতো করে ওষুধ পরিবর্তন করে রোজা রাখতে চান। মোটকথা ডায়াবেটিস রোগীর রোজা রাখা নিয়ে অনেক রোগী, এমনকি অনেক ডাক্তারও বিভ্রান্তিতে ভোগেন। অথচ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজা রাখা অনেক সহজ করে দিয়েছে। ডায়াবেটিস হলে রোগী রোজা রাখতে পারবেন না- একথা মোটেই ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এবং ইসলামী আলেমগণ উভয়েই রোজা রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন। সুতরাং যেসব ডায়াবেটিস রোগী ঝুঁকির কথা জেনেও ধর্মীয় কারণে রোজা রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তারা রোজা শুরুর আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে জটিলতা এড়িয়েই রোজা রাখতে পারেন।
ডায়াবেটিস রোগে অনেক ধরনের জটিলতা হতে পারে। যেহেতু একজন রোজাদারকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়, তাই তাদের জটিলতার সম্ভাবনা আরো বেশি। রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের যে সমস্ত জটিলতা হতে পারে তা হলো- রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসিমিয়া), সুগার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসিমিয়া), পানি শূন্যতা এবং ডায়াবেটিক কিটো-এসিডোসিস। এছাড়া অনেকে এই মাসে রোজা রেখেও বাকি সময় অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করেন এবং ব্যায়াম বা হাঁটাচলা প্রায় করেন না। ফলে রক্তের চর্বি এবং শরীরের ওজন বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই থাকে না। অনেকক্ষণ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যেতে পারে, তাকে বলে হাইপোগ্লাইসিমিয়া। বিশেষ করে যারা সালফোনাইল ইউরিয়া জাতীয় ওষুধ খান, ইনসুলিন নেন, সেহরি খান না বা খুব কম খান অথবা রোজা রেখে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন, তাদের এই ঝুঁকিটা বেশি। হাইপোগ্লাইসেমিয়া বোঝার উপায় হলো, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম দেয়া, মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপা, চোখে ঝাঁপসা দেখা ইত্যাদি। এতে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করে দেখা উচিত। সুগারের পরিমাণ ৩ বা এর নিচে হলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোজ বা চিনির সরবত বা যে কোনো খাবার খেয়ে নিতে হবে। রক্তের সুগার কখনও কখনও অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে, তাকে বলে হাইপারগ্লাইসিমিয়া। এর লক্ষণ হলো জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, বমি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে রক্তের সুগার পরীক্ষা করতে হবে এবং এর পরিমাণ বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হবে। রোজা অবস্থায় ইনসুলিন ইনজেকশন নিলে রোজা নষ্ট হবে না বলেই অনেক ইসলামী চিন্তাবিদের অভিমত। শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার উপায় হলো রাতের বেলা পানি বেশি বেশি পান করা। তার পরও যদি রোজা রাখা অবস্থায় পানিশূন্যতার পরিমাণ বেশি হয়, যেমন জিহ্বা অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া, বেশি বেশি মাথা ঘোরানো, প্রস্রাবের পরিমাণ অতিরিক্ত কম ইত্যাদির কোনো লক্ষণ দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে রোজা ভাঙতে হবে। যারা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন বা বাইরে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে কাজ করেন, তাদের বেলায় এই ঝুঁকি বেশি থাকে। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এই পানিশূন্যতা আরো প্রকট হতে পারে।
যারা শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তাদের জন্য রোজা সুবর্ণ সুযোগ। রোজা তাদের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না, বরং রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। রোজায় দিনের বেলা খাওয়া থেকে বিরত থাকা ও ইফতার এবং সেহরিতে সময়মতো পরিমিত আহারের অভ্যাস যেকোনো ডায়াবেটিক রোগীকে সংযম ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়, যা ডায়াবেটিসের চিকিৎসার মূল উপাদান। এর মাধ্যমে রোগী তার রক্তের সুগার এবং চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারেন, বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে পারেন। অনেকে রোজার সময় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন, অনেকে আবার খুবই অল্প খাবার খান। মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দুটিই ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে নিচের পরামর্শসমূহ মেনে চলা যেতে পারে- (১) সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ে খাওয়া, (২) ইফতারের সময় বেশি বেশি চর্বিযুক্ত বা মিষ্টিজাতীয় খাবার না খাওয়া, (৩) ভাজাপোড়া খাবার অল্প পরিমাণে খাওয়া, (৪) পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করা, (৫) খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, (৬) ইফতারে অতিভোজন এবং সেহরিতে অল্প আহার পরিহার করা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখে ওষুধ খাবার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে যারা মেটফরমিন, গ্লিটাজোন অথবা ইনক্রিটিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন, তাদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। তবে সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ওষুধ অথবা ইনসুলিন রক্তের সুগারের মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া করতে পারে। তাই এসব ওষুধ গ্রহণকারী রোগীর উচিত রমজানের পূর্বেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর ওষুধের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণত যেসব পরিবর্তন করা হয়, তা হলো যারা তিনবার ওষুধ খান তাদের বেলায় বেশি মাত্রা ইফতারের সময় খাবেন এবং কম মাত্রাটুকু সেহরির সময় খাবেন। যদি দিনে দুইবার খেতে হয় তবে সকালের মাত্রাটি ইফতারের শুরুতে এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরির সময় খাবেন।
যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তারা রোজায় দীর্ঘমেয়াদি ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন, এতে হাইপোগ্লাইসিমিয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম। এই ইনসুলিন ইফতারের সময় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে শেষ রাতে অল্প মাত্রায় নিতে হবে। ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীদের অবশ্যই রমজানের পূর্বেই ইনসুলিনের ধরন ও মাত্রা ঠিক করে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতামত অনুযায়ী রোজা রাখা অবস্থায় দিনের বেলায় রক্ত পরীক্ষা করা এমনকি প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়া যাবে, এতে রোজা নষ্ট হবে না। সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর জন্য ডায়াবেটিক রোগীর উচিত সেহরির ২ ঘণ্টা পর এবং ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে রক্তের সুগার পরীক্ষা করা। এছাড়া দিনের বেলায় অধিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ইফতার বা রাতের খাবারের ১ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীর রোজা রাখা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে বহু বিতর্ক ছিল এবং আছে। যেহেতু রোজা আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত বিধানে একটি অপরিহার্য ফরজ এবং আল্লাহ তায়ালা নিজেই এর প্রতিদান দেবেন, তাই অজুহাত বা আলস্য করে রোজা পালন থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। কারণ একমাস রোজা পালনের মধ্য দিয়ে মানুষের দেহ, মন এবং আত্মার পরিশুদ্ধির সুবর্ণ সময়। ডায়াবেটিস এমনকি অন্য কোনো রোগ হলেও চিকিৎসকগণ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে, রোজা রাখা বা না রাখার ব্যাপারে অবশ্যই সুন্দরভাবে সহায়তা প্রদান করবেন।
লেখক: অধ্যাপক ও ডিন মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

তিন কারণে বাংলাদেশের ডেনিম এখন বিশ্বের বিস্ময় by শফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশি ডেনিম জিনস
বিশ্ববাজারে ডেনিম কাপড়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ব্রান্ড। প্রধানত সাশ্রয়ী দাম আর গুণগত মানে সেরা হওয়ায় বাংলাদেশের ডেনিম পোশাকের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী তুঙ্গে। তবে এ দুটি কারণের পাশাপাশি রয়েছে ডেনিম তৈরিতে ‘বাংলাদেশি নৈপুণ্য’।
তুলা এবং বুননের বিশেষত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী কাপড়টি ‘ডেনিম’ নামে পরিচিত। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে এখন জিন্স নামেই বেশি চেনেন ব্যবহারকারীরা। ইউরোপের বাজারে ডেনিম পোশাক এখন এক নম্বরে। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এর অবস্থান তৃতীয় বলে জানা গেছে।
উন্নতমানের ডেনিম রফতানি, বিশ্বমানের কারখানা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ফলে এই অবস্থানে উন্নীত হওয়া গেছে। ডেনিমে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী এখন চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ইউরো স্টেটের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৪ হাজার ৬৫১ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য আমদানি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ১৭৬ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য রফতানি হয়েছে। তথ্যমতে, ইউরোপের বাজারে ২০১০ সালে ৪৪৪ মিলিয়ন, ২০১১ সালে ৫৯১ মিলিয়ন, ২০১২ সালে ৭২৫ মিলিয়ন, ২০১৩ সালে ৮০৮ মিলিয়ন, ২০১৪ সালে ৯৩৯ মিলিয়ন, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৩৫ মিলিয়ন, ২০১৬ সালে ১ হাজার ২২৭ মিলিয়ন এবং ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম পণ্য রফতানি হয়েছে ইউরোপে।
বাংলাদেশি ডেনিম জিনসবাংলাদেশি ডেনিম জিনস
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন কারণে বাংলাদেশের ডেনিম পণ্য এখন বিশ্বসেরা। এর প্রথম কারণ হচ্ছে ডেনিম ফেব্রিক্সের কাঁচামাল বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। ফলে দাম কম। দ্বিতীয় কারণ হলো অভিনব ডিজাইন এবং সৃজনশীল ডেনিম পোশাক প্রস্তুত করতে বাংলাদেশের নৈপুণ্য। এবং তৃতীয় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের ডেনিমের কারখানাগুলো অত্যাধুনিক এবং ওয়াশিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উৎকৃষ্ট। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ফিনিশিং হয় আকর্ষণীয়। মূলত এ তিন কারণেই বাংলাদেশে ডেনিম এখন বিশ্বের বিস্ময়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পাট ও তুলা এবং একই রকম আঁশ জাতীয় দ্রব্যের সংমিশ্রণে সাশ্রয়ী মূল্যে সুতা উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নতমানের ডেনিম কাপড় তৈরি করা যাবে। বাংলাদেশের পাট ও তুলার মিশ্রণে সুতা তৈরি করা হবে। সেই সুতা থেকে বানানো হবে ডেনিম কাপড়। উৎপাদিত কাপড় থেকে প্যান্ট, জ্যাকেট ও শার্টের মতো পোশাক বানিয়ে রফতানি করা হবে। পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতে কাপড় সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের পাটের উৎপাদন বাড়াতে পাটের বহুমুখী ব্যবহার এবং ডেনিমের বিশ্ববাজার ধরতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশি ডেনিম এর প্রদর্শনীবাংলাদেশি ডেনিম এর প্রদর্শনী
ডেনিম খাতকে এগিয়ে নিতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। দেশে ডেনিম পণ্য তৈরি করছে এমন কারখানার সংখ্যা সোয়া ৫শ’। এসব কারখানার বেশিরভাগই আমদানিকৃত কাঁচমালের (ফেব্রিক) ওপর নির্ভরশীল। তবে বাংলাদেশে এখন ৩১টি বড় ডেনিম কারখানা কাজ করছে। এই খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৩৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে ব্লু ডেনিম ট্রাউজার্স, স্কার্ট, জ্যাকেট, স্যুট-কোট, প্লে স্যুট রফতানি হয়। এইচঅ্যান্ডএম, ইউনিকলো, টেস্কো, লেভিস, ডিসেল, ওয়াংলার, জি-স্টার, এস অলিভার, হুগো বস ও গ্যাপ এখন বাংলাদেশের ডেনিমের ক্রেতা।
বিজিএমইএ সূত্রমতে, উচ্চমান ও সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি ফ্যাশনেবল ডেনিমের উৎপাদনকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছেন এ শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা। নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবছরই ডেনিম কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ডেনিম বিশ্বে এখন অলরাউন্ডার। চীন ও তুরস্কের ডেনিমের বাজার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা ব্যাপক। এ সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোক্তারা কাজ করছেন।’
ক্রেতাদের ডেনিম জিনসের পণ্য দেখাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাক্রেতাদের ডেনিম জিনসের পণ্য দেখাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা
জানা গেছে, বিশ্বে ডেনিমের বাজার প্রায় ৫ হাজার ৬২০ কোটি ডলারের। বিশ্বাজারে বাংলাদেশ ডেনিম পণ্য রফতানি করছে ৩৫০ কোটি ডলারের। বছরে ডেনিম পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের ওপরে। দেশে প্রতিবছর ডেনিম কাপড়ের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৬০-৬৫ কোটি গজ। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ৩৬ কোটি গজের। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে দেশে। ২০২১ সালের মধ্যে এ চাহিদা ১২০ কোটি গজে দাঁড়াবে। সুতরাং এ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক জায়গা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশে স্কয়ার ডেনিম দীর্ঘদিন ধরেই সুতা উৎপাদন করছে।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের ডেনিম ফেব্রিকস উৎপাদনের বিশাল কারখানা। এ ছাড়াও দেশের বৃহত্তম পারটেক্স ডেনিমের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও এনভয় ডেনিমের কর্ণধার আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ডেনিম পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ব্যাপক। বিশ্ববাজারে ডেনিমের চাহিদার কোনও শেষ নেই। প্রবৃদ্ধিও ভালো। এটিকে এগিয়ে নিতে পারলে রফতানিতে বিশাল ভূমিকা পালন করবে ডেনিম।’  
বাংলাদেশি ডেনিম প্যান্ট দেখছেন একজন বিদেশি ক্রেতাবাংলাদেশি ডেনিম প্যান্ট দেখছেন একজন বিদেশি ক্রেতা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ইউরো স্টেটের তথ্যমতে, বাংলাদেশি ডেনিমের সবচেয়ে বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ডেনিম পণ্য ব্যবহার করে। ইউরোপে সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি হলো যুক্তরাজ্য। সেখানে জনপ্রতি গড়ে ১৭টি ডেনিম পণ্য ব্যবহার করে।
বিশ্বব্যাপী ডেনিমের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম ফিলিপাইন ও হংকংয়ের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলাদেশে ডেনিম পোশাক তৈরির দুটি কারখানা স্থাপন করে। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ বিশ্বের ১১তম ডেনিম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর আগের বছরের তুলনায় সরবরাহ ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলে এ স্বীকৃতি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল থেকে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় ডেনিম কাপড়ের ওপর নির্ভরতা শুরু করে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ১৭ কোটি পিসের কিছু বেশি ডেনিম পোশাক বিক্রি করে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার আয় করে। একই সময়ে চীন ইউরোপের বাজারে বিক্রি করে মাত্র সাড়ে ১১ কোটি পিস।
রাজধানীতে ডেনিম জিনসের প্রদর্শনীরাজধানীতে ডেনিম জিনসের প্রদর্শনী
আশা করা হচ্ছে ডেনিম শিল্পের অভিযাত্রা সফল হলে এ দশকেই বছরে লাখো কোটি টাকা আয় করতে পারবে বাংলাদেশ।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে: সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবে। রোববার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি আরও বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের অনেক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এ সহযোগিতার মাত্রা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দুই দেশের মধ্যে  সহযোগিতা জোরদারের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইসলামি ইরান শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদারে আগ্রহী এবং আজ যেসব সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে।
এ সময় শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বলেন, বিজ্ঞান, কারিগরি ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে ইরান উন্নত দেশগুলোর সারিতে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ইরানের উন্নয়নকে নিজেদের কল্যাণে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক

পোশাক রপ্তানিতে সম্ভাবনাময় ডেনিম by এমএম মাসুদ

ডেনিম রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। চীনকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের এই শীর্ষ অবস্থান দেশের ডেনিম প্রস্তুতকারকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সার্বিক রপ্তানি আয় সাড়ে ৬ শতাংশ বাড়লেও তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাতে আয় বেড়েছে ৩.১৭ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বিজিএমইএ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপের বাজারে ডেনিম রপ্তানির মধ্যে ২৭ ভাগই যায় বাংলাদেশ থেকে। আগে চীন এই বাজারে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে চীনকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিমে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। মোট রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশ শতকরা ১৪.২ ভাগ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে চীন এবং মেক্সিকো।
ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান ডিরেক্টরেট ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ১.২৭ বিলিয়ন ইউরোর ডেনিম জিনস রপ্তানি করেছে। এরপর ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১.৩০ বিলিয়ন ইউরো। এছাড়া রপ্তানি বেড়েছে ০.৫৮ ভাগ। তবে বাংলদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কেরর রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশি, ৪.৩৬ ভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ৯.৫৫ ভাগ। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৪৬৩.৬১ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ডেনিম রপ্তানি হয়েছে। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০৭.৯২ মিলিয়ন ডলারে। চীন ২০১৭ সালে ৯২১.৯০ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলেও, রপ্তানি কমেছে ১.৪১ ভাগ। মেক্সিকোরও একই অবস্থা। তাদের রপ্তানি কমেছে ৭.৯ ভাগ। অর্থাৎ মোট রপ্তানি করেছে ৭৯৩.৪২ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম। তাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে শতকরা ১৩ ভাগ এবং ৭.৯ ভাগ। তারা ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যথাক্রমে ২১৩.৭ এবং ২০৭.২৮ মিলিয়ন ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে।
বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিুর রহমান বলেন, দেশে ডেনিমের ভালো ফেব্রিক তৈরি হয়। পাশাপাশি আধুনিক কারখানা ও ভালো ওয়াশিং প্ল্যান্ট থাকায় ডেনিমে ভালো করছি। বাংলাদেশে এখন ৩১টি বড় ডেনিম ফ্যাক্টরি আছে। বাংলাদেশ থেকে ব্লু ডেনিম ট্রাউজার্স, স্কার্ট, জ্যাকেট, স্যুট-কোট, প্লে স্যুট রপ্তানি হয়।
সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আমরা ভালো কাপড় তৈরি করায় কম সময়ে এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে পোশাক দিতে পারি। তিনি বলেন, ডেমিন শুধু কাপড় নয়, এটা একটা ফ্যাশান। এর ক্রেতা সবাই। এর কোনো সিজন নেই, কারণ ১২ মাসই সিজন। এসব দিক খেয়াল রেখে আমরা সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি বলে ডেনিমের চাহিদা বাড়ছে এবং আরো বাড়বে। সব মিলিয়ে ডেনিমে আমাদের সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল।
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোস্তাফিজ উদ্দিন মনে করেন, বাংলাদেশকে ডিজাইন উন্নয়ন এবং নতুনত্বের মাধ্যমে ডেনিমে অবস্থান উপরে নিয়ে যেতে হবে। এই খাতে এখন আরো বিনিয়োগ এবং গবেষণা বাড়াতে হবে ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে মাথায় রেখে। তিনি বলেন, আমাদের এখন ভ্যালু অ্যাডিশনের দিকে যেতে হবে। আমরা এখন একটি জিন্স প্যান্ট বিক্রি করি ৫ থেকে ৬ ডলারে। আর দোকানে বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৯ ডলারে। আমাদের এই কোয়ানটিটির পরিবর্তে এখন সাসটেইনিবিলিটির দিকে যেতে হবে। আমাদের এখন ১৯ ডলার থেকে ২৯ ডলারের উৎপাদনে যেতে হবে। ভ্যালু অ্যাডিশন বিষয়ে তিনি বলেন, ইনোভেশন, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইননিবিলিটি-এই ৪টি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে আমরা ভ্যালু অ্যাডিশন করতে পারব। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৩১টি ডেনিম কারখানায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা সব মিলিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ গজ।
এদিকে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দুই দিনব্যাপী অষ্টম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোতে অংশ নিতে আসা স্পেনের জিনোলোজিয়ার প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং এবং কমিউনিকেশন ম্যানেজার কারমেন সিলা বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে নেতিবাচক ধারণাও আছে। তবে কেউ যদি বাংলাদেশে একবার সফর করে। আর পোশাক খাতের সম্ভাবনা নিজ চোখে দেখে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ নিয়ে তাদের সব ধরনের নেতিবাচক ধারণা মুহূর্তেই পাল্টে যাবে। কেননা এ দেশে এখন বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান আছে, যা অনেকেই জানে না।
দেশের বস্ত্র খাতের বড় প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কাস্টমার কেয়ারের ব্যবস্থাপক অনল রায়হান বলেন, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এরই মধ্যে এই এক্সপো একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এ প্রদর্শনীতে বিশ্বের বড় ক্রেতারা আসে নেটওয়ার্কিং করতে, একই সঙ্গে তাদের এ দেশীয় ক্রেতাদের কারখানাগুলোও পরিদর্শন করে। আমাদের কারখানাগুলোর উন্নতি দেখে তারা সত্যিকার অর্থে বিস্ময় প্রকাশ করে। অনল রায়হান মনে করেন, এখানকার পানি, ইন্ডিগো কালার এবং প্রতিযোগিতামূলক দাম ডেনিমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের অবস্থান ধরে রেখে এগিয়ে যেতে সরকারের কিছু ‘পলিসি সাপোর্ট’ লাগবে।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ডেনিম পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি ২৩ লাখ ডলার। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এ সময়ে ইউরোপে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম পোশাকের রপ্তানি আয় ছিল ৩৯ কোটি ডলার। ২০১৪ সালে এ আয় বেড়ে হয়েছে ৪৩ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ শতাংশ। প্রচলিত-অপ্রচলিত বাজারেও সামান্য পরিমাণ ডেনিম পোশাক রপ্তানি হচ্ছে। সবমিলিয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
ডেনিম ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপে ৭১ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ ভাগ, চীন ৫৮ ভাগ এবং জাপানে ৫৮ ভাগ মানুষ নিয়মিত ডেনিম পণ্য ব্যবহার করেন।
ইপিবি রপ্তানি তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৩০ কোটি ৫৫ লাখ (২৫.৩০ বিলিয়ন) ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯.৩৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতের পণ্য রপ্তানিতে এক হাজার ২৫৪ কোটি ১১ লাখ ডলার এবং ওভেন পোশাক রপ্তানিতে এক হাজার ২৭৬ কোটি ৫২ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮৩.২২ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৩.১৭ শতাংশ। এই দশ মাসে নিট খাতে রপ্তানি বেড়েছে ১১.৪৩ শতাংশ। আর ওভেনে বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ।

সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানালেন এরদোগান!

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিরিয়ায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তেল আবিব গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। তিনি সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলাকে ‘অপ্রয়োজনীয় আগ্রাসন’ বলেও অভিহিত করেছেন।
এরদোগান বিবিসি আরবি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইল আতঙ্কের বীজ বপন করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে একটি ‘যুদ্ধাঞ্চলে’ পরিণত করতে চায়।  ইসরাইলি বিমান হামলায় সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
সিরিয়ার অভ্যন্তরে অসংখ্য লক্ষ্যবস্তুতে ইসরাইল বিমান হামলা চালানোর দাবি করার তিনদিন পর এরদোগান এসব মন্তব্য করলেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে সিরিয়ার অভ্যন্তরে এটি ইসরাইলের সবচেয়ে বিস্তৃত হামলা বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
সিরিয়ায় তৎপর উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে দেশটির সেনা অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। সিরিয়ার ইসরাইল বিরোধী প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ২০১১ সালে তেল আবিব ও তার পশ্চিমা মিত্রদের পৃষ্ঠপোষকতায় সিরিয়ায় ভয়াবহ সহিংসতা চাপিয়ে দেয়া হয়।
সে সময় যেসব দেশের নেতারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাদের অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক বিজয় অর্জন করার পর সেসব দেশ নিজেদের ভোল পাল্টে ফেলেছে।

সংগ্রামী মা খোদেজার গল্প

নাম খোদেজা, বয়স আনুমানিক ৪৫। প্রতিদিন তাকে দেখা যায় নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাট-বাজারে। পেশায় একজন কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী হলেও তিনি একজন সংগ্রামী মা। তার বাড়ি পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর দমদমা গ্রামে। উত্তর দমদমা গ্রামের আঃ খালেকের মেয়ে খোদেজা। ৩০ বছর আগে বিয়ে হয় একই গ্রামের ইউসুফ মোল্লার সঙ্গে। ঘর আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান, খোরশেদ আলম। ছেলের জন্মের পরেই তার সংসার ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকেই জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন খোদেজা। প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সিংড়ার হাট-বাজারে কাঁচা তরকারীর ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে ছোট থেকে বড় করে বিয়েও দিয়েছেন। জীবিকার তাগিদে ছেলে এখন স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ঢাকায়। নিয়মিত খোঁজ খবর নেবার পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠায় ছেলে খোরশেদ আলম। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন খোদেজা। প্রতি সপ্তাহে ৬১০ টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয় তাকে। টিনের একটি ছোট ঘরই হতদরিদ্র খোদেজা আবাসস্থল। সংগ্রামী মা খোদেজা বলেন, প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাভ হয় ব্যবসা করে। বয়স্ক ভাতা ৪ মাসে ১৫০০ টাকা পাই। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের সহযোগীতায় চলে আমার জীবন।

সংরক্ষণ শেষ হয়ে গেলে ভারতবাসীর অধিকার শেষ হয়ে যাবে: সাবিত্রি বাই

বিজেপি এমপি সাবিত্রী বাই ফুলে
ভারতে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের বিজেপি এমপি সাবিত্রী বাই ফুলে বলেছেন, সংরক্ষণ (শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা পদ্ধতি) শেষ হয়ে গেলে গোটা দেশবাসীর অধিকার শেষ হয়ে যাবে।
গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে উদ্দেশ করে সাবিত্রী বাই ফুলে বলেন, গোটা ভারত জ্বলছে, উত্তর প্রদেশ জ্বলছে। হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু এসবের কোনো চিন্তা নেই! সাবিত্রী বাই ফুলে বহুজন সমাজের মানুষের কথা তুলে ধরছে বলে তার কণ্ঠস্বরকে চাপা দেয়ার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে! কিন্তু ভারতের সংবিধান ও বহুজন সমাজের সঙ্গে যে অন্যায় হচ্ছে এ নিয়ে কোনো আপোশ করা হবে না।  
সাবিত্রী বাই ফুলে বিজেপি এমপি হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এবং বিজেপি নেতাদের টার্গেট করে তীব্র সমালোচনায় মুখর হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সাবিত্রী দেবী বলেন, ‘দলিতদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বাবা সাহেব আম্বেদকরের ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্তকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, "আমি নই, সুপ্রিম কোর্টের জজ পর্যন্তও বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র বিপদাপন্ন।"
বিজেপি নেতাদের টার্গেট করে তিনি বলেন, "কখনো বলা হচ্ছে আমরা সংরক্ষণ পরিবর্তনের জন্য এসেছি, কখনো বলা হচ্ছে দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করা হবে, কখনো বলা হচ্ছে আমরা সংরক্ষণ শেষ করে দেবো। সংরক্ষণ এমনভাবে শেষ করা হবে যা থাকা আর না থাকা সমান হবে! কিন্তু যদি সংরক্ষণ শেষ হয়ে যায় তাহলে শুধু বহুজন সমাজই নয়, গোটা দেশের মানুষের অধিকার শেষ হয়ে যাবে।"
সাবিত্রী বাই ফুলে বলেন, তিনি বহুজন সমাজের হয়ে আন্দোলন করছেন। কিন্তু দল ও সরকার তাকে দমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখিই হোন না কেন সেজন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি দলিত নির্যাতনের প্রশ্নে সরকারের কাছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার দাবি তুলেছেন।
বিজেপি’র ওই এমপি এর আগে দলীয় অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘মহাপুরুষ’ বলে অভিহিত করে তার প্রশংসা করায় বিজেপি অস্বস্তিতে পড়েছে। উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতা ও উপ- মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য ওই বিবৃতিতে আপত্তি জানিয়ে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বললে সাবিত্রী দেবী তাতে কান না দিয়ে বলেন, "জিন্নাহ ‘মহাপুরুষ ছিলেন বলেই তাকে মহাপুরুষ বলেছি। কেন সত্যি বলা কী অপরাধ?"

দরিদ্রতা জয় করলো ওরা

কারো বাবা ভ্যানচালক, কারো বাবা রাজমিস্ত্রি বা দিনমজুর। সংসারে নিত্য অভাব লেগেই আছে। যেখানে তিনবেলা খাবার জোটে না, সেখানে পড়াশোনার চিন্তা করাটাও ছিল দুরূহ ব্যাপার। তারপরও থেমে থাকেনি তারা। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম আর মেধার জোরে ছিনিয়ে এনেছে সাফল্য। তাদের মধ্যে ৫ সহপাঠীর জীবন যুদ্ধের কথা তুলে ধরা হলো। এদের জীবন যেন গল্পকেও হার মানিয়েছে।
রওশন আলী: পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শ্রম বিক্রি আর প্রিয় সাইকেলটি বিক্রি করে ফরম ফিলাপের টাকা জোগাড় করেছে মেধাবী রওশন আলী। না হলে পরীক্ষা দেয়াই হতো না তার। বাবা সাধারণ একজন দিনমজুর। ৫ জনের টানাটানির সংসার। নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বাবার শ্রমের ঘামে চলছিল সংসার। সেখানে পড়াশোনার টাকা জোগাড় করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু রওশনের ইচ্ছে পড়াশোনা চালিয়ে যাবার। পরে নিজেই বাবার সঙ্গে কখনো বা আলাদাভাবে জমিতে এবং বিল্ডিংয়ে শ্রমিকের কাজ করে টাকা জমিয়ে সংসার এবং নিজের পড়ালেখার খরচ জুটিয়েছে সে। এমন পরিবারে খেয়ে না খেয়েই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। বাবা খলিলুর রহমান ও মা রওশন আরা বেগম ছেলের এ সাফল্যে খুশি হলেও তার ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার খরচ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ডাকুয়াপাড়া গ্রামে। রওশনের ইচ্ছে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হবার।
সোহরাব হোসেন: বাবা একজন সামান্য ভ্যানগাড়ি চালক। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে পরিবারের লোকজনকে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হতো। এমন পরিবারে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াটাও ছিল কষ্টকর ব্যাপার। ফলে পরিবার ও নিজের জন্য পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে রাজমিস্ত্রির যোগালি হিসেবে কাজ করতে হয়েছে সোহরাব হোসেনকে। নিজের কথা বলতে গিয়ে টলমল করে উঠছিল তার চোখ। কলেজে ভর্তি হবে কিভাবে এটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কান্না চাপা দিচ্ছিল সে। তিন ভাই আর বাবা-মাকে নিয়ে তাদের অভাবী সংসার। থাকেন পৌরসভা এলাকার দক্ষিণ ডাকুয়াপাড়া গ্রামে। বাবা মোফাচ্ছেল হক ও মা ছামিনা বেগম জানেন না ছেলে কতটুকু মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। সোহরাব হোসেনের ইচ্ছে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হবার।
আরিফ হোসেন: বাড়িভিটা মিলে ১৫ শতক জমির মধ্যে ৮ শতক জমিতে শুধু আবাদ করা যায়। তা দিয়ে সংসারে তেমন কিছু হয় না। ফলে কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির কাজ করে চলে টানাটানির সংসার। সেই পরিবারে বড় সন্তানের মতো দ্বিতীয় সন্তান আরিফ হোসেনও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এরআগে বড় ছেলে শরীফ হোসেন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। অথচ কঠিন জীবন ছিল তাদের।  আরিফের পড়ালেখার খরচ জোগানো তার বাবার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার ছিল। ফলে দু’ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ যুগিয়েছে। কুড়িগ্রাম পৌরসভার চর ভেলাকোপা-মাঝেরচর গ্রামের মোস্তফা আলী ও শাহিদা বেগমের সন্তান আরিফ হোসেন ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হতে চায়।
রেদওয়ান আহমেদ: কাঠমিস্ত্রির সন্তান রেদওয়ান আহমেদ। বাবাই সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। নানাবাড়িতে থাকে তারা। চার ভাইবোন, বাবা-মা আর নানা-নানীকে নিয়ে ৮ জনের টানাটানির সংসার।  গ্রাম সম্পর্কীয় এক মামা স্কুলে ফরম ফিলাপের টাকা কমিয়ে দেয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিল রেদওয়ান। এরকম দারিদ্র্যতার মধ্যে লড়াই করেই চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে স্কুলসহ পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সে। স্কুলের পাশেই কৃঞ্চপুর বকসীপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ ও রাশেদা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান রেদওয়ান। ৪ সন্তানের মধ্যে ৩ জন মেয়ে। ভবিষ্যৎ লেখাপড়ার খরচ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা। রওশনের ইচ্ছে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হবার।
রায়হান হোসাইন রাশু: রায়হানের বাবা শাহ আলম মিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দরজা-জানালার ওয়েল্ডিং’র কাজ করেন। এজন্য প্রায়ই বাইরে থাকতে হতো তাকে। এ সময় পরিবারে নেমে আসতো দুর্ভোগ। ঠিকমতো খাবার জুটতো না তাদের। খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। দু’ভাই আর এক বোনের মধ্যে রায়হান সবার বড়। নিজের উপর আস্থা আর আত্মবিশ্বাসের ফলে অভাবের সংসারে ভেঙে পড়েনি সে। সবার অলক্ষ্যে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। তার প্রতিদানও পেয়েছে সে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সদরের নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার ফলাফলে খুশি বাবা-মাসহ এলাকার লোকজন। কিন্তু দরিদ্র এই পরিবারে মেধাবী শিক্ষার্থীটি কিভাবে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাবে এনিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছে সে। কুড়িগ্রাম পৌরসভার কৃঞ্চপুর করিমের খামার গ্রামের শাহ আলম মিয়া ও রুনা বেগম সন্তান রায়হানের উচ্চ শিক্ষার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
দরিদ্রতাকে জয় করলো হনুফা: হোমনা উপজেলার গোয়ারীভাঙ্গা গ্রামের দরিদ্র পিতা মাতার সন্তান হনুফা বিবি।  তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও প্রচেষ্টায় এ দরিদ্রতাকে পিছনে ফেলে প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে হনুফা বিবি। সে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় হোমনা কফিল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে  উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিষয়ে হনুফা বিবি বলেন, আমার ইচ্ছা শক্তি ও স্যারদের উৎসাহে আমি এ রেজাল্ট করতে পেরেছি। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞ । আমার ইচ্ছা ভাল রেজাল্ট করে প্রাশাসন ক্যাডার হওয়ার। আমি সকলের  নিকট দোয়া কামনা করছি । রেহেনা বেগম বলেন, দরিদ্রতার কারণে ছেলে মেয়েদের প্রাইভেট পড়াতে পারিনি। আমার ছেলে মেয়েরা খুবই মেধাবী। আমার বড় মেয়ে হেলেনা আক্তার এসএসসি ও এইচ এসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল । আমার ছেলেও মেয়ে কলেজে পড়ছে। আমার ছেলে মেয়েদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

‘মাহাথির যা করেছেন তা ভুলতে কষ্ট হবে’ -নুরুল ইজ্জাজ আনোয়ার

নুরুল ইজ্জাজ আনোয়ার মালয়েশিয়ার সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কন্যা। গত বুধবারের নির্বাচনে পিতার দীর্ঘদিনের আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইজ্জাজ। তাদের দল পিপলস জাস্টিস পার্টি(পিকেআর) ও নির্বাচনী জোট পাকতান হারাপানের নীতি নির্ধারকদের একজন তিনি। ৩৭ বছরের এই নারী রাজনীতিক ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নিজের জোরালো অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। পিতার অবর্তমানে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শক্ত হাতে। এবারের নির্বাচনের আগে তাদের জোটের সাথে সাবেক প্রধামন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের ঐক্য’র পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে বলে মনে করা হয়। নির্বাচনের দিন রাতে টিআরটি টেলিভিশনকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নুরুল। সেটি নয়া দিগন্ত থেকে পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হল।
টিআরটি : প্রায় সবাই এই বিজয়কে আকষ্মিক বা অভাবনীয় বলছে? আপনিও কী তা মনে করেন?
নুরুল : আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। নির্বাচন অনেক কঠিন ছিলো। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ফলাফল স্বাক্ষী দেয় যে, মালয়েশিয়ানরা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিলো। তারা এমন একটি সরকার চেয়েছে যারা তাদের জন্য কাজ করবে। কাজেই এখানে বিস্মিত হওয়ার কিছু নাই। এই বিজয় সত্যিই প্রত্যাশিত ছিলো।
টিআরটি : আপনাদের সরকার কিভাবে গঠিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানতে পারিনি আমরা।
নুরুল : আজ আমরা সফলভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করেছি। ছয় দশকেরও বেশি সময় পর এই সরকার বিদায় নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী... দুঃখিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ফলাফল মেনে নিয়েছেন। আমাদের নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা রয়েছে, সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিবেন। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা সংস্কারের জন্য অঙ্গীকারাবন্ধ ছিলাম এবং আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করবো। মালয়েশিয়ানরা ব্যালটবাক্সে আমাদের জয় এনে দিয়েছেন। তারা ব্যালট বাক্স পাহাড়া দিয়েছে যাতে প্রতিটি ভোট গুরুত্বের সাথে গননা করা হয়।
টিআরটি : আপনি বলেছেন যে, মালয়েশিয়ার ভবিষ্যতকে নতুন করে সাজাতে চান। নতুন সরকারে আপনার ভুমিকা কী হবে বা আপনি কোন ভুমিকা চান?
নুরুল : আামি আমার পিতার আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এটি পার্লামেন্টে আমার তৃতীয় মেয়াদ। মালয়েশিয়ার তরুণদের এই অনুভূ’তি আছে যে, তারা নিজেকে মালয়েশিয়ার ভবিষ্যত নির্মাণের অংশ মনে করে। গনতন্ত্রে সবাই যদি প্রধানমন্ত্রী হতে চায় তাহলে সঙ্কট সৃষ্টি হবে। আমার মনে হয় মালয়েশিয়ার সেটি দরকারও নেই। মালয়েশিয়ার দরকার অল্প সংখ্যক লোক এই পদে আসতে চাইবে আর বাকিরা সবাই চাইবে দেশকে বদলে দিতে। আমিও শুধুমাত্র এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হতে চাই।
টিআরটি : আপনার মা উপপ্রধানমন্ত্রী। আবার মাহাথির মোহাম্মদের বয়স ৯২ বছর, তাই ধরে নেয়া যায় কিছুদিন পরেই হয়তো আপনার বাবা আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে। তাহলে কী এর মাধ্যমে পারিবারিক শাসনের যুগে প্রবেশ করবে মালয়েশিয়া?
নুরুল : আমি অনেকদিন ধরে রাজনীতিতে আছি। আমি ও আমার মা মন্ত্রীসভায় থাকতে রাজনীতিতে আসিনি। জনগনের প্রতিনিধিত্ব করতে রাজনীতিতে এসেছি। ১১ বছর ধরে বাবা জেলে আছেন। আমরা রাজনীতিতে সংস্কার চাই। আমি তরুণদের পক্ষ হয়ে সেই কাজটিই করবে। কিভাবে আপনি জীবন যাপন করছেন, আপনার কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে সেগুলো সুরক্ষিত রাখাই বড় ব্যাপার।
টিআরটি : যার আমলে আপনার পিতা কারাগারে গিয়েছেন, তার সাথেই আবার জোট বেধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে জানতে চাই- কিভাবে আপনি, আপনার পরিবার বিশেষ করে আপনার বাবা সেই মাহাথির মোহাম্মদের সাথে সমঝোতার বিষয়টি কিভবে দেখছেন এবং ওপর কতটা আস্থা রাখতে পারবেন?
নুরুল : মাহাথির মোহাম্মদ আমার জোটের অংশ হতে এখানে যোগ দিয়েছেন। এই জোটের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই এখানে কোন ব্যক্তিগত বিষয় থাকবে না। জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে কাজ করতে হবে। কাজেই সব কিছুর আগে বিবেচনা করা হবে কিভাবে সরকারকে এগিয়ে নেয়া যায়, কিভাবে সর্বোত্তম সংস্কার করা যায়। আমার ছোট বোন ছয় বছর বয়স থেকে বাবাকে কারাগারে দেখছে। আমার কন্যা জন্ম থেকেই তার নানাকে কারাগারে দেখছে। সব কিছু ভুলে যাওয়া কঠিন, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে কেউ যাতে আর এ ধরনের ঘটনার শিকার না হয়। তাই পুরো সিস্টেমটিকেই সংস্কার করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
টিআরটি : মালয়েশিয়ায় পরিবর্তন আনার কথা বলছেন, সেক্ষেত্রে আপনাদের কাছে কোন বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে?
নুরুল : নতুন প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তৃতা শুনলেই বুঝবেন অর্থনীতিসহ জনগনের আশা আকাঙ্খার বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাবে। আগে তো মন্ত্রীসভা গঠন করতে দিন(হাসি)। প্রথম এক শ’ দিনের কর্মসূচিতেই নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রাধান্য থাকবে।

৩২৪৭ গাছ কেটে স্টেডিয়ামসহ স্থাপনা নির্মাণ চায় বন মন্ত্রণালয়: মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উঠছে আজ by দীন ইসলাম

মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটার অনুমতি চায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এছাড়া সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং প্রকল্প বাস্তবায়নেও সংরক্ষিত বনের গাছপালা কাটা এবং অপসারণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এ দুই প্রস্তাব আজ সচিবালয়ের ৬ নং ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠবে। অনুমোদন মিললে মিনি স্টেডিয়াম এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কাটতে হবে এক হাজার ৫৪৬টি গাছ। এছাড়া আলাদা প্রস্তাবে কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড় মৌজার এসপিএম প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির এক হাজার ৭০১টি গাছ, জ্বালানি গাছ ও বেতঝাড় কাটার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমতি চেয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। সবমিলিয়ে দুই প্রকল্পের জন্য ৩২৪৭টি গাছ কাটার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১৬ সাল থেকে সরকারি নির্দেশে সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের গাছ কাটা নিষিদ্ধ। গাছ কাটা বন্ধে মন্ত্রিসভায় নেয়া এই সিদ্ধান্ত ২০২২ সাল পর্যন্ত বহাল থাকায় প্রাকৃতিক বনের গাছ কাটার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমতি নিতে হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনভূমির দুই দশমিক ৩৪ একর জায়গা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভূমি বরাদ্দ দিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। তবে স্টেডিয়ামের জন্য নির্ধারিত ভূমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের হওয়ায় বরাদ্দ করা ভূমি ব্যবহারের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত দুই দশমিক ৩৪ একর ভূমি স্টেডিয়াম ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য পাঠানো সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার ২১২ নং মৌজার সি,এস/এস,এ ১১১ নং দাগ থেকে সৃষ্ট আরএস ১৮০ নং দাগে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা সংরক্ষিত বনভূমিতে বিদ্যমান সামাজিক বনায়নের এক হাজার ৪০০টি আকাশমণি গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির ১৪৬টি প্রাকৃতিক গাছ কাটার অনুমতি দিতে মন্ত্রিসভাকে অনুরোধ জানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য আলাদা আরেক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) ও ডিজেল বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে সরাসরি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহের লক্ষ্যে ‘ইন্সটলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুড়িং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর পাহাড় মৌজার ১৯০ দশমিক ৯৫৬ একর ভূমি লিজ দিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এজন্য এসপিএম প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ করা বনভূমিতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতির এক হাজার ৭০১টি গাছ, জ্বালানি গাছ ও বেতঝাড় কাটার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমতি চেয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩২৪৭টি গাছ কাটার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক থেকেই ৫৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা ঋণ by সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকঋণের টার্গেট ধরা হচ্ছে ৫৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ঋণ নেয়ার টার্গেট থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে সরকার ব্যাংক থেকে যদি বিশাল পরিমাণ ঋণ নেয় সে ক্ষেত্রে দেশের বেসরকারি খাত ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মতপ্রকাশ করেছে অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা। তারা বলেছেন, এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। ফলে অর্জিত হবে না জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও।
অর্থমন্ত্রী আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। পরে এ লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়। ফলে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫৯ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরের এই খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি এবং সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিনগুণ। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটে এই খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা বেশি। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে এই অঙ্ক ৩৯ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজেট তৈরির সাথে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বাজেট। এ বছরের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এবারকার বাজেটটি নির্বাচনকে মাথায় রেখে তৈরি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভোটারদের মনোতুষ্টির জন্য আগামী বাজেটে করখাতে তেমন কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বর্ধিত হারে রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থের প্রয়োজন পড়বে।
মনে করা হচ্ছে বাজেটে বিদেশ থেকে ঋণও কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাওয়া যাবে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকঋণের ওপরই বেশি ভরসা করা হচ্ছে। একই সাথে আগামী অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই খাতে মানুষ কম বিনিয়োগ করবে। এই জন্য আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্যও কমানো হয়েছে। এখন বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের একমাত্র উৎস থাকছে ব্যাংকঋণ। সে কারণেই ব্যাংকঋণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তবে যদি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার না কমানো হয় এবং বর্তমান অবস্থার মতো সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে এত বিশাল পরিমাণ ঋণ নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
বিভিন্ন বছরের বাজেট ডকুমেন্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, বিগত কোনো অর্থবছরেই সরকারকে এত ব্যাংক ঋণনির্ভর বাজেট দিতে হয়নি। যেমন-২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকঋণ নেয়া হয়েছিল মাত্র ৫১৪ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর থেকেই ব্যাংকঋণের পরিমাণ ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে যা কমিয়ে করা হয়েছিল ৩১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। এর পরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে ঋণ নেয়ার টার্গেট ছিল ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে করা হয় ২৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা।

ভালো নেই সিদ্দিকুর by মারুফ কিবরিয়া

‘চাকরি আছে, স্থায়ী নয়। বেতন খুবই সামান্য। যা দিয়ে দিনাতিপাত করা কঠিন। যে বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকি সেটা খুব ছোট। এক রুমে মা আর ভাগনে সেলিমকে নিয়ে থাকতে হয়। নিরাপত্তাও নেই। একবার মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা চুরি হয়ে গেছে। তাছাড়া ঘরটি বসবাস অযোগ্য। মাকে নিয়ে এই বাসাটিতে খুব কষ্টে আছি। প্রতিটি মুহূর্ত খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়’। কথাগুলো বলছিলেন গত বছরের ২০শে জুলাই রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭ কলেজের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানো সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মাকে নিয়ে মোটেও ভালো নেই তিনি। যে বেতন পান তা দিয়ে দিনযাপন করা সিদ্দিকুরের জন্য কষ্টসাধ্যে হয়ে উঠেছে। বেগুনবাড়িতে যে বাসায় থাকেন সেটি থাকার উপযুক্ত নয়।
গত বছরের ওই ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে, কে নেবে তার দায়িত্ব? তার সহপাঠীরা সিদ্দিকুরের একটি চাকরির দাবি জানায় সরকারের কাছে। সরকারের পক্ষ থেকে সে দাবিও মানা হয়। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর সাত রাস্তায় অবস্থিত সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে অস্থায়ী ভিত্তিতে টেলিফোন অপারেটর পদে নিয়োগ দেয়া হয় তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এ ছাত্রকে। এ সময় তার বেতন ধরা হয় ১৩ হাজার টাকা। অস্থায়ী এ চাকরিতে ‘নো ওয়ার্ক, নো পেমেন্ট’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ যেদিন কাজ করবেন সেদিনের টাকাই দেয়া হয়। অনুপস্থিত থাকলে ওইদিনের টাকা দেয়া হয় না।
বর্তমানে সিদ্দিকুর তার মা ছুলেমা খাতুনকে নিয়ে তেজগাঁওয়ের মধ্যে বেগুনবাড়িতে একটি বাসার নিচতলার একটি ঘরে ভাড়া থাকেন। ওই রুমের ভাড়া বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতিমাসে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। তাই বেতনের টাকা দিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিদ্দিকুরকে। মা ও এক ভাগনেসহ ওই বাসায় থাকেন তিনি। কিন্তু থাকার মতো ভালো পরিবেশ নেই। যে বেতন পান তা দিয়ে ভালো কোনো বাসায় উঠতেও পারছেন না । সিদ্দিকুর বলেন, প্রত্যেক সন্তান চায় তার মা-বাবাকে নিয়ে যেন ভালোভাবে বেঁচে থাকে। আমার তো বাবা নেই। মা-ই সব। কিন্তু সারাজীবন কষ্ট করে আসা এই মায়ের কষ্ট আমি কিছুতেই দূর করতে পারছি না। এক ঘরের মধ্যে তিনজন থাকতে হয়। আর ওই ছোট্ট ঘরের যে অবস্থা তাতে আমারই দম বন্ধ হয়ে আসে। মায়ের জন্য আলাদা একটি রুম দরকার হয়। আমার জন্য একটি। এরকম একটি ভালো বাসা ভাড়া নিতে গেলে মাস শেষে প্রচুর টাকা গুনতে হবে। সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আর এই বাসায় কোনো নিরাপত্তা নেই। একবার মা ছিলেন না। আমি একা। এই সুযোগে চোর এসে আমার মোবাইল, টাকা পয়সাসহ কিছু মালামাল নিয়ে গেছে।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকে চাকরি পেলেও কষ্ট পিছু ছাড়ছে না উল্লেখ করে সিদ্দিকুর বলেন, চাকরি পেয়েছি। এটা তো সরকারের দেয়া। এতে আমার কষ্ট কোনো অবস্থাতেই লাঘব হচ্ছে না। বরং দিনকে দিন চিন্তা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মায়ের জন্য। মা প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। মাঝে একবার অসুস্থ হয়ে গেলে ময়মনসিংহ নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। কারণ ঢাকায় করাতে গেলে অনেক টাকা পয়সার হিসাব করতে হবে। এখন আমার একটাই চাওয়া- মাকে নিয়ে যদি একটি ভালো বাসায় উঠতে পারতাম।
চাকরির স্থায়ী হওয়া প্রসঙ্গে সিদ্দিকুর বলেন, এখানে তো এক বছরের কথা আগেই বলা হয়েছে। এক বছর আগে চাকরি স্থায়ী হবে না। তারপর স্যারকে বলেছি। বলেছে দেখবেন। তবে আশাবাদী হওয়ার মতো তেমন কিছু নেই। সিদ্দিকুর আরো বলেন, এ চাকরিটা সরকার তো আমাকে দিয়েছে। আমি অর্জন করে পাইনি। পড়ালেখা শেষ করে একটি ভালো চাকরির জন্য আবেদন করবো।
অফিসে আসা যাওয়ায় অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে সিদ্দিকুর বলেন, চলাফেরায় খুব কষ্ট। আমার যদি দৃষ্টিশক্তি থাকতো তাহলে বাসে চলাফেরা করতে পারতাম। কিংবা হেঁটে হলেও অফিসে আসতে যেতে পারতাম। কিন্তু আমাকে চলতে ফিরতে রিকশা কিংবা অটোরিকশা নিতে হয়। আর কেউ একজন না থাকলে আমি পারি না। ভাগনে সেলিমই আমাকে অফিসে আনা নেয়া করে। এখন রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করতে গেলে অনেক টাকা চলে যায়। প্রতিদিন আমার আসা যাওয়ায় একশ টাকার মতো খরচ হয়। সব গুনতে গেলে মাস শেষে কোনো টাকা থাকে না। বড় ভাই বাড়িতে কৃষি কাজ করে। সে খাত থেকে চালটা আসে। নয়তো আরো বড় সমস্যায় পড়ে যেতাম।
অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে থাকলেও সিদ্দিকুর শারীরিকভাবে বেশ সুস্থ আছেন বলে জানান। তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে সুস্থ আছি। কিন্তু মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে খুব টেনশন কাজ করে। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।
পড়ালেখা আর চাকরির পাশাপাশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য গড়া একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিদ্দিকুর। বাংলাদেশ ভিস্যুয়েলি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস)-এ প্রতি শুক্র ও শনিবার প্রশিক্ষণ নিতে যান তিনি। সিদ্দিকুর বলেন, চাকরির পাশাপাশি এ প্রশিক্ষণটি নিয়ে রাখছি। ভবিষ্যতে কোনো কাজে লাগানো যেতে পারে। এখানে আমার মতো অনেক দৃষ্টিশক্তি হারানো তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। মিডিয়ারই এক আপু এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ।

ইসরাইলি লবির শিকার আল-জাজিরা!

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইসরাইলি লবি কতটা প্রভাব বিস্তার করে?
মধ্যপ্রাচ্য কিংবা বিশ্ব রাজনীতির গতিপ্রবাহ যারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ বা বিশ্লেষণ করেন, এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের প্রায়ই।
সম্প্রতি কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ছবির প্রদর্শন 'স্থগিত' হয়ে যাওয়ায় এই প্রশ্নটি আবার আলোচিত হচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যমে।
আল জাজিরা টেলিভিশন সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা দেশগুলিতে ইসরাইলি লবির প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছে। গত বছর ব্রিটেনের রাজনীতিতে ইসরাইলি লবির প্রভাব নিয়ে তাদের চার পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন রীতিমত শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেটি মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার (সিনে গোল্ডেন ঈগল এওয়ার্ড) জিতেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আল জাজিরার পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলি লবির প্রভাব নিয়ে। ছবিটির নাম 'দ্য ইসরায়েলি লবি'। এটির নির্মাতা আল জাজিরার অনুসন্ধানী রিপোর্ট বিভাগের সাংবাদিক ক্লেটন সুইশার।
ছবিটি আল জাজিরায় প্রচার হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল গত কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু এখনো এটি প্রচার করা হয়নি। কবে হবে সেটাও কেউ বলতে পারছে না।
কিন্তু এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী ইসরায়েলিপন্থী ইহুদী গোষ্ঠীগুলোর চাপেই 'দ্য ইসরায়েলি লবি'র প্রচার বন্ধ হয়ে গেল কীনা।
দ্য লবি: কী ছিল প্রথম পর্বে
ব্রিটেনে ইসরাইলি লবির প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং কিভাবে তারা ব্রিটেনের ভেতরের রাজনীতিতে নাক গলায় তা নিয়ে চার পর্বের দ্য লবি প্রচারিত হয় গত বছরের জানুয়ারিতে।
প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি রীতিমত শোরগোল তৈরি করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় কিভাবে গোপনে তৎপরতা চলে, সেটিই মূলত প্রকাশ করা হয় এতে।
একজন আন্ডারকভার রিপোর্টার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে একটি ঘটনা ফাঁস করে দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।
স্যার অ্যালান ডানকান হচ্ছেন ব্রিটেনের 'ফরেন অফিস মিনিস্টার'। পররাষ্ট্র দফতরে বরিস জনসনের পর তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে খুবই সমালোচনামুখর ছিলেন তিনি। তাঁর ভূমিকায় ইসরায়েল স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ।
আল জাজিরার ডকুমেন্টারিতে দেখা যায়, লন্ডনে ইসরাইলি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা এবং ব্রিটিশ এক সরকারি কর্মকর্তা গোপনে বৈঠক করে ষড়যন্ত্র করছিলেন কিভাবে ঐ মন্ত্রীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া যায়। গোপনে রেকর্ড করা তাদের দু'জনের কথোপকথন দেখানো হয় এই ডকুমেন্টারিতে। এতে ইসরাইলি দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার শাই মেসট'কে বড়াই করে বলতে শোনা যায়, স্যার আলান ডানকানকে দরকার হলে সরিয়ে দেয়া হবে।
দ্য লবি : ব্রিটেনে ইসরায়েলি লবির তৎপরতা নিয়ে আল জাজিরার প্রথম ডকুমেন্টারি হৈ চৈ ফেলে দেয়।
এই ডকুমেন্টারিটি প্রচারের পর ইসরাইলকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ব্রিটেনের মতো একটি ক্ষমতাধর দেশের পররাষ্ট্র দফতরে কে থাকবেন আর থাকবেন না, সেটিও ইসরায়েল ঠিক করে কীনা সে প্রশ্ন উঠে। ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত মার্ক রেগেভ এ নিয়ে ক্ষমা চান। পলিটিক্যাল অফিসার শাই মেসটকে পদত্যাগ করতে হয়। আর ব্রিটেনের পররাষ্ট্র নীতিতে বিদেশিরা নাক গলাচ্ছে কিনা তা নিয়ে একটি পার্লামেন্টারি তদন্ত শুরু হয়।
কিন্তু ব্রিটেনের ইসরাইলপন্থী ইহুদি গোষ্ঠী এবং সংগঠনগুলো এই বলে শোরগোল করতে থাকে যে এই অনুষ্ঠানটি ছিল ইহুদী-বিদ্বেষী। ব্রিটেনের মিডিয়া রেগুলেটর 'অফকমে' বহু অভিযোগ জমা পড়ে আল জাজিরার বিরুদ্ধে। করে। কিন্তু অফকম প্রতিটি অভিযোগ নাকচ করে দেয়।
কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সিনে গোল্ডেন ঈগল এওয়ার্ড জিতেছে এই ডকুমেন্টারি। এটি খুবই মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার।
এর আগে যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ, স্পাইক লী, মাইকেল মুর এর মতো চিত্র নির্মাতা।
কিন্তু আল জাজিরা ঠিক একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি এবং ইসরাইলি লবির প্রভাব নিয়ে যে ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে, সেটি কেন প্রচারিত হচ্ছে না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
দ্য ইসরাইলি লবি : কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্বে
দ্য লবির দ্বিতীয় পর্বটি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি লবির কাজকর্ম নিয়ে। এটি অনেকটা ব্রিটেনে ইসরায়েলি লবির ডকুমেন্টারির অনুরূপ।
২০১৬ সালে একজন আন্ডারকভার বা ছদ্মবেশি রিপোর্টার একটি ইসরায়েলিপন্থী সংগঠনের কাজকর্ম ভিডিও করেন। সেখানে তাদের তৎপরতা ফাঁস করা হয়।
এই ডকুমেন্টারিতে ইসরাইলি এবং ইহুদি লবি'র যাদের ব্যাপারে কথা-বার্তা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল আল জাজিরা। সেজন্যে তাদের চিঠিও দেয়া হয়। তখনই এই গোপন অনুসন্ধানের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।
যাদের সঙ্গে আল জাজিরা যোগাযোগ করেছিল, তারা এই সিরিজটি সম্প্রচার না করার কথা বলে।
এটি এখনো পর্যন্ত প্রচার করা হয়নি।
এমন জল্পনা রয়েছে যে, ইসরায়েলপন্থী লবিগুলোর চাপে হয়তো আল জাজিরা এটির প্রচার বন্ধ রেখেছে।
একটি ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎয দাবি করছে যে, মূলত কাতারের শাসকদের চাপেই আল জাজিরা এই ডকুমেন্টারিটির প্রচার স্থগিত রেখেছে।
হারেৎয এর খবর অনুযায়ী আমেরিকার প্রভাবশালী ইহুদী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল কিছুদিন আগে কাতার ভ্রমণ করেন। সেসময় তারা কাতারের আমীরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকে একজন এই ডকুমেন্টারি প্রচার না করার জন্য আমীরকে অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য আল জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মালিক হচ্ছে কাতার সরকার।
কিন্তু কাতার সরকার কেন ইসরায়েলপন্থী এবং ইহুদী গোষ্ঠীগুলোর কথা আমলে নিচ্ছে?
হারেৎযের রিপোর্টে-এর ব্যাখ্যা রয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর আরোপ করা অবরোধের মুখে কাতার মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ভালো করার। সেই লক্ষ্যে কাতার যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রভাবশালী লবিস্ট নিয়োগ করে। সেই লবিস্টকে দায়িত্ব দেয়া হয় প্রভাবশালী ইহুদী সংগঠনগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলার। যাতে তাদেরকে কাজে লাগানো যায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে।
কাতারের প্রতিশ্রুতি
হারেৎয পত্রিকার খবর অনুযায়ী, কাতারের শাসকরা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদী-আমেরিকান সংগঠনগুলোকে এই মর্মে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে এই ডকুমেন্টারিটি প্রচার করা হবে না।
ব্রিটেনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় গত ১৫ই মার্চ প্রকাশিত একটি খবরে অনেকটা একইরকম ভাষ্য রয়েছে এ বিষয়ে।
কিন্তু ছবিটির যিনি নির্মাতা, সেই ক্লেটন সুইশার কি বলছেন এ বিষয়ে?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীল ইহুদিদের একটি প্রভাবশালী 'ফরোয়ার্ড' ম্যাগাজিনে ক্লেটন সুইশার এ বিষয়ে নিজেই একটি লেখা লিখেছেন।
সেখানে তিনি স্বীকার করছেন যে তাদের ছবিটির প্রচার বন্ধ করার জন্য কেউ হয়তো জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলছেন, গত অক্টোবর থেকে এই ছবির কাজ নিয়ে নানা ধরণের বিলম্বের মুখে পড়ছেন তারা, যার কোন ব্যাখ্যা নেই। যেরকম অভিজ্ঞতা তার আগে কখনো হয়নি। তাকে সবাই 'অপেক্ষা' করতে বলছেন বারবার। তাকে বারবার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে তাদের ডকুমেন্টারি শেষ পর্যন্ত দিনের আলো দেখবে। তিনি বলছেন, তিনি এখনো তার উর্ধ্বতনদের কথায় আশ্বাস রাখতে চান।
ক্লেটন সুইশারের মতে, তাদের তৈরি এই ডকুমেন্টারি আল জাজিরা নেটওয়ার্কের স্বাধীতনতার জন্য এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কী বলছে আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন 'জিওনিষ্ট অর্গেনাইজেশন অব আমেরিকা'র প্রেসিডেন্ট মর্টন ক্লেইন দাবি করেছিলেন, ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর চাপে আল জাজিরা তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
কিন্তু আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আসলে ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে সে বিষয়ে। আল জাজিরা বলেছে, এটি মোটেই 'ইহুদি বিদ্বেষী' কোন অনুষ্ঠান নয়।
আল জাজিরা আরো বলেছে, তাদের এই সিরিজের উদ্দেশ্য ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর নানা অনিয়ম ফাঁস করা এবং সত্য প্রকাশ করা যা মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখা হচ্ছে।
আল জাজিরা বলছে, তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ এজন্যে আল জাজিরা ইংলিশ যে নিউইয়র্ক ফেস্টিভ্যালে দ্বিতীয়বারের মতো 'ব্রডকাস্টার অব দ্য ইয়ার' হয়েছে, সেটির কথা উল্লেখ করছে তারা।

খুলনা মডেলের দিকে চোখ সবার by রোকনুজ্জামান পিয়াস ও রাশিদুল ইসলাম

রাত পোহালেই ভোট। প্রচার-প্রচারণা শেষ। চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। ভোট নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। কেমন হবে খুলনার ভোট। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে মডেল তৈরি করবে নাকি আগের দখল-কারচুপির মডেলই দেখা যাবে এই নির্বাচনে? এমন প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের এ সিটিতে নির্বাচন হলেও পুরো দেশের দৃষ্টি এখন এই শিল্পনগরীতে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আর তাই প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ নির্বাচনে মেয়র পদটি তাদের দখলে নিতে মরিয়া। প্রচার-প্রচারণা, কৌশল, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ ছড়িয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করেছেন তারা। আপাতত প্রার্থীদের সব চেষ্টার পর এবার আসল পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনার ভোট নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধী পক্ষের অভিযোগ নাকচ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দাবি করে আসা নির্বাচন কমিশনকে ভোটের দিন আসল পরীক্ষা দিতে হবে দেশবাসী ও খুলনার ভোটারদের কাছে। তারা চাইলে খুলনা হতে পারে একটি নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মডেল। আর তা না হয়ে যদি অতীতের দখল-কারচুপির দৃষ্টান্ত হয় খুলনা তা দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি অশনি সংকেত হতে পারে। নির্বাচনকে ঘিরে নগরীতে একদিনে যেমন উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা আছে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। বিগত দিনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তুলনামূলক প্রচারণা, প্রচারণার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার কারণে সংশ্লিষ্টদের মনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে মানুুষ তাকিয়ে আছে আগামীকালের ভোটের মাঠের দিকে। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে নির্বাচনের সকল ধরনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক গতকাল রাত ১২টার পর থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে প্রচারণা। মাঝে শুধু একদিনের বিরতি। এই বিরতিতে আত্মসমালোচনায় প্রার্থীরা। কে কতটুকু প্রচারণা চালাতে সক্ষম হয়েছেন, কত ভোটারের কাছে হাজির হতে পেরেছেন সে সব হিসাব কষছেন তারা। পাশাপাশি কার কত ভোটব্যাংক রয়েছে তার সংখ্যাও হিসাব করছেন প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। খুলনা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় ভোটারের বাইরে নতুন ভোটাররা একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া বরাবরের মতো বস্তিবাসীর ১ লাখ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭০ হাজার, নতুন ৫২ হাজার ভোট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে জামায়াতের ৬০ হাজার, শ্রমিক শ্রেণির ৬০ হাজার, উর্দু ভাষাভাষীর (বিহারী) প্রায় ২০ হাজার এবং খুলনায় বসবাসরত একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আঞ্চলিক ভোটার।
সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ১৫ই জুন কেসিসি নির্বাচনে এক লাখ ৮০ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এক লাখ ১৯ হাজার ৪২২ ভোট পেয়েছিলেন। অপর মেয়র প্রার্থী জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু পেয়েছিলেন তিন হাজার ৭৪ ভোট। দলীয় মনোনয়নে প্রথমবারের এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক ও সিপিবি’র মিজানুর রহমান বাবু। এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বড় দু’দলের মনোনীত আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বিগত দিনের নির্বাচনগুলোর ফলাফল অনুযায়ী, খুলনা মহানগরীতে দীর্ঘদিন ধরেই ভোটের ক্ষেত্রে বিএনপি এগিয়ে। খুলনা-২ নির্বাচনী এলাকায় মুসলিম লীগপন্থিদের প্রভাবের কারণে সংসদীয় কিংবা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই বিএনপি’র প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। কেসিসি’র আরেক অংশ খুলনা-৩ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাব বেশি বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। তবে স্বাধীনতা-উত্তর কোনো দলই ধারাবাহিকভাবে এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে পারেনি। কখনো আওয়ামী লীগ ও কখনো বিএনপির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই দুই সংসদীয় আসনের ভোটাররাই আগামীকালের নির্বাচনে ভোট দেবেন।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের তুলনায় এবার নতুন ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫২ হাজার। এসব ভোট উভয়দলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাবে বলে নগরবাসী মনে করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তালুকদার আবদুল খালেককে ইতিমধ্যেই সমর্থন দিয়েছেন ১৪ দল ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (জেপি)। আঞ্চলিকতার দিক দিয়ে খুলনায় অবস্থানকারী বরিশাল, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ, যশোর ও নড়াইলের একটি অংশের সমর্থন পাবেন বলে আশা করছেন নৌকার সমর্থকরা।
তবে আঞ্চলিকতার অপর অংশ মাদারীপুর ও সাতক্ষীরার একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে মঞ্জুর প্রতি। এছাড়া তিনি বরিশাল, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ অন্যান্য অঞ্চলের একাংশের সমর্থন পাবেন বলে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন। আঞ্চলিক সমিতির সমর্থন পাওয়ার জন্য দু’দলের নেতারাই সমিতির কর্মকর্তাদের শরণাপন্ন হয়েছেন। অপরদিকে ২০দলীয় জোটের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৯৪ সালে মেয়র পদে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এ দল থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ওই নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারেরও বেশি ভোট পান। এরপর ২৪ বছরেও দলটি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করেনি। জামায়াতের দাবি, এই দুই যুগে তাদের ভোট বেড়েছে দ্বিগুণ। এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. শাহ আলম বলেন, সংগঠন বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন শক্তিশালী। বিভিন্ন সময় খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে দুটি আসনেই আমাদের নির্বাচিত এমপি ছিলেন। এবারের কেসিসি নির্বাচনেও আমাদের পাঁচজন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। নগরীতে আমাদের ভোট ৬০ হাজারের উপরে। দলীয় মেয়র প্রার্থী না থাকায় ২০দলীয় জোট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে জামায়াতের সমর্থন রয়েছে।
নগরীতে উর্দু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর ভোট প্রায় ২০ হাজার। এ ভোটের একটি বড় অংশ বরাবরই বিএনপি পেয়ে আসছে। এবারের নির্বাচনে এই ভোট পাওয়ার জন্য দুই প্রার্থীই মরিয়া। দু’দলের শীর্ষ নেতারাই বিহারী ক্যাম্পে তাদের ভোট পেতে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এ ব্যাপারে উর্দু ভাষাভাষীদের সংগঠন এসপিজিআরসি’র খুলনার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি। সব নেতারাই আমাদের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে আমরা চাই, নির্বাচিত মেয়র আমাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভোট এবার উভয় দলের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাবে।
নগরীতে বস্তিবাসীর ভোট রয়েছে ১ লাখের মতো। এর আগের নির্বাচনগুলোতে এই ভোট অর্থের বিনিময়ে নিজের পক্ষে টানতে দেখা গেছে বিভিন্ন প্রার্থীকে। অনেকে মনে করছেন, সেই সময় আর নেই। এখন তাদের আয় রোজগার ভালো। তাদের ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়া শিখছে। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ভোট দেয়ার সম্ভাবনা কমেছে। তাই বিশাল এই ভোট ব্যাংক সম্পর্কে কারোই স্পষ্ট ধারণা নেই।
এদিকে শ্রমিক শ্রেণির ভোটারের একটি বড় অংশ খালিশপুর-দৌলতপুর এলাকার পাটকল শ্রমিক। সম্প্রতি বকেয়া মজুরির দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছিলো। তাদের ভোট নিয়ন্ত্রণের জন্য আওয়ামী লীগের নেতারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিজিএমসি’র মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেন। যে কারণে ক্ষমতাসীন লোকজনের দাবি, পাটকল শ্রমিকদের অধিকাংশ ভোট এবার নৌকায় যাবে।
খুলনায় হেফাজতে ইসলামের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ১৫-২০টি মাদরাসা। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে এসব মাদরাসার শিক্ষক- কর্মচারীরা সরাসরি বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সচিত্র লিফলেট ছেপে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামে। তখন তালুকদার খালেকের পরাজয়ের পেছনে হেফাজতের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এবারের নির্বাচনে তাদের তেমন কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। তবে তাদের এক নেতা খুলনা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়া ও খেলাফতে মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে গণসংযোগে দেখা গেছে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, ২০২১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে তার আলোকে আমরা খুলনার মেয়র দেখতে চাই। যার মধ্যে দক্ষতা, সততা, স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা আছে এমন মেয়রই খুলনার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন, আমরা তেমন ব্যক্তিকে পাশে চাই। নারী নেত্রী শামিমা সুলতানা শিলু বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে সৎ, যোগ্য ও প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিকে দেখতে চাই। যিনি হবেন পরিবেশ ও নাগরিকবান্ধব এবং যিনি সুন্দর নগরী গড়ে তুলবেন।
কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, খুলনার রূপসা থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। খুলনার মানুষ দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ মানুষের ভেতর একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটবে। লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে তালুকদার খালেক মেয়র নির্বাচিত হবেন।
২০দলীয় ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, গ্রেপ্তার-অত্যাচার-নির্যাতন করে মানুষের মন জয় করা যায় না। খুলনার মানুষ বারবার ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। জনগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে ও স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিপুল ভোটে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিজয়ী হবেন।
প্রস্তুতি সম্পন্ন: আগামীকাল সকাল ৮টা থকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল থেকেই মাঠে নেমেছ বিজিবি। এ নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটালিয়ান, আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি থাকছে র‌্যাবের ৩২টি টহল টিম এবং ৪টি স্টাইকিং ফোর্স। একইসঙ্গে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সিটি নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা তদারকি করতে সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা কেন্দ্রভিত্তিক নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকবেন।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। এছাড়া নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র রয়েছে ২৫৪টি এবং ৩৫টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এবার ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছেন ৪ হাজার ৯৭২ জন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শাস্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার, সিল, কালিসহ নির্বাচনী মালামাল খুলনায় এসেছে। এসব মালামাল বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনে ১ হাজার ৮১০টি ব্যালট বাক্স প্রয়োজন। আজ সকাল ১০টা থেকে স্ব স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বিকাল থেকে ২২ সদস্যের নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিম দায়িত্ব পালন করছে। তারা নির্বাচনের সকল বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে গতকাল থেকে ১৬ই মে পর্যন্ত ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ২টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। এ দু’টি কেন্দ্রে সোমবার সকাল ১০টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ইভিএম’র মাধ্যমে মক ভোটিং কার্যক্রম। এছাড়া তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন- উল আহসান বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। রোববার দুপুরের পর থেকে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নেমেছে। এছাড়া নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকে তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সোমবার ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনে র‌্যাবের ৩২টি টিম দায়িত্ব পালন করছে। যার প্রতিটি টিমে ৮ জন সদস্য থাকছে। এছাড়া ৪টি স্টাইকিং ফোর্স রয়েছে। এ টিমে ১০ জন করে থাকবে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, এ নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটালিয়ান ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে ৪ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য, ৯শ’ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য, নির্বাচনের ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) কেন্দ্রে ২৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশের ৭০টি টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের টিমের সঙ্গে একটি করে পুলিশের টিম থাকছে। ৮টি মোটরসাইকেল টিম এবং ১১টি পিকেট টিম দায়িত্ব পালন করবে।

এ মাসেই পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ভাঙার ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুঙ্গে-রি পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ভেঙে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২৩-২৫শে মে’র মধ্যে ভেঙে ফেলার কাজ সমপন্ন করা হবে। এই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছিল বিজ্ঞানীরা বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে, শনিবার রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’তে দেয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন’র মধ্যকার বহু প্রতিক্ষীত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সপ্তাহ তিনেক আগেই পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিলো উত্তর কোরিয়া। এপ্রিল মাসে দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, মে মাসে পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ভাঙার কাজ সমপন্ন করবে উত্তর কোরিয়া এবং ওই প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে থাকার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে কেসিএনএ’তে দেয়া বিবৃতিতে, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানোর কোনো কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে, বিদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত পুঙ্গে-রি পরীক্ষা কেন্দ্রটিই দেশটির প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র বলে ধারণা করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে ছয়টি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু সমপ্রতি বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র-সক্ষম হওয়ার প্রচেষ্টা বাদ দিতে সম্মত হয়েছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। সে সূত্র ধরেই পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী মাসে ট্রামেপর সঙ্গে তার এ বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি করতেও সম্মত হয়েছেন তিনি।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি ভাঙার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করা হয়নি। আবহাওয়া বিবেচনা করে ২৩ থেকে ২৫শে মে’র মধ্যে কোনো একদিন এই কার্যক্রম সমপন্ন করা হবে। কেন্দ্রটি ভাঙার অংশ হিসেবে এর নিচে অবস্থিত সব সুড়ঙ্গ বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হবে। সরিয়ে নেয়া হবে সব গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ স্থাপনা। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া থেকে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল স্থানীয় গণমাধ্যমকে নয়, অন্যান্য দেশের সাংবাদিকদেরও সরজমিন প্রতিবেদন করার সুযোগ দেয়া। যাতে এ ভাঙার প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা প্রতিফলিত হয়। তবে, এত সীমিত সংখ্যক দেশের সাংবাদিকদের কেন নিমন্ত্রণ জানানো হবে? এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করে উত্তর কোরিয়া তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের জায়গা ছোট হওয়ার কারণে ও এর অবস্থান দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের গভীরে হওয়ায় সীমিত সংখ্যক দেশের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।