Friday, August 19, 2011

জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতি ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের শুরুতেই মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার (পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা বিগত ৪২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০০৮ সালে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
এ বছর মে ও জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমলেও জুলাইয়ে এসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো। মে ও জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে ১০ দশমিক ২০ শতাংশ ও ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবমতে, গত জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে এই হার ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ দুটি উপখাতেই মূল্যস্ফীতি আগের মাসগুলোর তুলনায় বেড়েছে।
সামগ্রিকভাবে এখনো শহরের মানুষের চেয়ে গ্রামের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি। তবে গত জুলাইয়ে গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়েছে। জুলাই মাসে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ আর শহরের এ হার ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
গত জুনে শহরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, আর গ্রামে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর মানে জুলাইয়ে শহরের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির অভিঘাত তুলনামূলক বেশি পড়েছে।
খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষকে বেশি কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। গ্রামে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর শহরে এ হার ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
২০০৮ সালের জানুয়ারির পর মূল্যস্ফীতি কখনো কমেছে, আবার কখনো বেড়েছে; কিন্তু কোনো মাসেই মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

এক দিন পর আবারও সর্বনিম্ন লেনদেন ডিএসইতে

এক দিন পর আবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। তবে সারা দিনই বাজার ছিল চাঙা। এ দিকে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবিতে আজও ডিএসইর সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে ৩৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে আট কোটি টাকা কম। আর দুই মাস ২০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৯ মে ডিএসইতে ৩৩০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ ছাড়া গত মঙ্গলবারও দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩৫৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়।
বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবিতে ও অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে আজও ডিএসইর সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বেলা একটা ২০ মিনিটে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, আজ বাজার চাঙা হলেও লেনদেনের পরিমাণ খুবই কম। এটা প্রমাণ করে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট বিরাজ করছে। বাজার এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। কৃত্রিমভাবে বাজার চাঙাভাব রাখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। সমাবেশে ওই সংগঠনের নেতারা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
পরে বেলা আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ডিএসইর সামনে থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ঘুরে আবারও ডিএসইর সামনে এসে শেষ হয়।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৭৪.০৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬১১৮.০২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে আজ লেনদেন শুরু হয়। ১০ মিনিটের মাথায় সূচক ৮০ পয়েন্ট বাড়ে। আর এক ঘণ্টা শেষে বেড়েছিল ৯২ পয়েন্ট। এভাবেই আজ ডিএসইতে লেনদেন চলে।
আজ হাতবদল হওয়া ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৩৬টির প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ২০টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, ফু-ওয়াং ফুডস, তিতাস গ্যাস, গ্রামীণফোন, সিটি ব্যাংক, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ১, এমআই সিমেন্ট ও কেয়া কসমেটিকস।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২২৫.৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৭৪৪২.৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৭টির, কমেছে ১৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ছয় কোটি টাকা বেশি।

শেয়ারবাজারে দরপতন

দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে পতন শুরু হয়। প্রথমে এটি স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমেই তা পতনে রূপ নেয়। গতকাল বুধবারও বাজারে দরপতন হয়েছে।
এই দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল বিনিয়োগকারীদের একাংশ রাস্তায় নামেন। তাঁরা রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই বিক্ষোভে তাঁরা অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ডিএসইর সভাপতির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন।
তবে বিক্ষোভে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভ চলাকালে সড়কে যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে—অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণা গতকাল বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অবশ্য আয়কর আইনে ওই টাকার উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না, তবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী আইনে এই প্রশ্ন তোলা যাবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।
গতকাল লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাজারে দরপতন শুরু হয়। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই সাধারণ মূল্যসূচক প্রায় ৮০ পয়েন্ট কমে যায়।
গত ২৪ জুলাই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল প্রায় ছয় হাজার ৭১১ পয়েন্ট। গতকাল সেটি ছয় হাজারের ঘরে নেমে এসেছে। গতকাল দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৪ পয়েন্টে।
তবে গতকাল ডিএসইতে দরপতন ঘটলেও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। দিনশেষে ঢাকার বাজারে প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৮২ কোটি টাকা বেশি। এদিন ডিএসইতে ২৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮৭টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৬১টির আর অপরিবর্তিত ছিল নয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেড়েছে লেনদেন। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১৭-তে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৫ কোম্পানির মধ্যে ১৬০টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ২০টির আর অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে চট্টগ্রামের বাজারে প্রায় ৫০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে সাত কোটি টাকা বেশি।

পরিমিত পানাহার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের তৃতীয় হচ্ছে সিয়াম সাধনা বা রোজা তথা নির্ধারিত সময়ের জন্য খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থেকে উপবাস যাপন। মানবজাতি এ রোজার মাধ্যমে মানসিকভাবে আত্মসংযমে অভ্যস্ত হয়। দেহের বেশির ভাগ রোগের সৃষ্টির কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ। পক্ষান্তরে পরিমিত পানাহার ও আত্মসংযমের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সুস্বাস্থ্যের জন্য রোজা রাখো।’
উপবাস কিডনি ও লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে নতুন জীবনীশক্তি সৃষ্টি করে রোজাদারের মনে সজীব অনুভূতি এনে দেয়। সিয়াম সাধনায় দেহের পরিপাকযন্ত্র একপ্রকার পরিশুদ্ধি লাভের অবকাশ পায়। ফলে দেহের অপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সারাংশ ও সঞ্চিত বিষাক্ত রস নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের বাড়তি ওজন, রস, চর্বি ইত্যাদি হ্রাস পায়। পাকস্থলীসংক্রান্ত রোগসমূহ যেমন—ক্ষুধামান্দ্য, পেট ফাঁপা, টক ঢেঁকুর, লিভারের দুর্বলতা, বমি বমি ভাব সিয়াম সাধনার ফলে স্বাভাবিকভাবেই উপশম হওয়ার সুযোগ পায়।
মানবদেহে গৃহীত খাদ্যদ্রব্যের শতকরা ২৫ ভাগ বা এর অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়। দেহযন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে টকসিন নামক একপ্রকার রসজাতীয় বিষ সঞ্চিত হয়ে থাকে। বাড়তি খাদ্যদ্রব্যাদি ক্ষেত্রবিশেষে স্বাস্থ্যরক্ষায় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একনাগাড়ে কিছুদিন রোজার মাধ্যমে পরিপাকযন্ত্র খালি রাখলে দেহের ভেতর সঞ্চিত বিষাক্ত রস নিঃশেষ হয়ে যায় এবং উত্তম রস দেহের মধ্যে কোনো প্রকার ক্ষতিসাধনের অবকাশ রাখে না। পরিমিত পানাহার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আহার করবে ও পান করবে, কিন্তু অপচয় করবে না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত-৩১)
রোজা মানবস্ব্বাস্থ্যের বিরাট উপকার সাধন করে। সারা বছর অনিয়মিত বা অতিরিক্ত পানাহার বা অধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য খেয়ে রক্তে যখন প্রচুর কোলেস্টেরল জমে প্রেশার বা অন্য যেকোনো হূৎপীড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন রোজার উপবাস রক্তের কোলেস্টেরল ও হূৎপীড়ার আশঙ্কামুক্ত করে। অতিভোজনের অত্যাচারে পাকস্থলী যখন হতোদ্যম ও দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন এক মাসের দিবাভাগের রোজা পাকস্থলীকে সবল করে নতুন জীবন দান করে, ফলে রক্ত ও রক্তনালিগুলো পরিষ্কার হয়ে যায়।
স্বাস্থ্থ্যবিদদের কথা, ‘শরীরটাকে ভালো রাখতে চাও তো রোজা করো।’ নীরোগ, দীর্ঘজীবী ও কর্মক্ষম সুস্ব্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপবাসকালে শরীরের মধ্যস্থিত, প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করাজাতীয় পদার্থসমূহ স্বয়ং পাচিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ কোষগুলোতে পুষ্টি বিধান হয়। ফলে শরীরে উৎপন্ন উৎসেচকগুলো বিভিন্ন কোষে ছড়িয়ে পড়ে। এটি হচ্ছে শরীর বিক্রিয়ার এক স্বাভাবিক পদ্ধতি। রোজা এ পদ্ধতিকে সহজ, সাবলীল ও গতিময় করে।
রোজার উপবাসের মাধ্যমে লিভার রক্ত সঞ্চালন দ্রুত হয়। ফলে ত্বকের নিচে সঞ্চিত চর্বি, পেশির প্রোটিন, গ্রন্থিসমূহ এবং লিভারে কোষসমূহ আন্দোলিত হয়। অভ্যন্তরীণ দেহযন্ত্রগুলোর সংরক্ষণ এবং হূৎপিণ্ডের নিরাপত্তার জন্য অন্য দেহাংশগুলোর বিক্রিয়া বন্ধ রাখে। খাদ্যাভাব বা আরাম-আয়েশের জন্য মানুষের শরীরের যে ক্ষতি হয়, রোজা তা পূরণ করে দেয়। আধ্যাত্মিক সুফি-সাধকদের মতে, হূদয়ের স্বচ্ছতা হাসিলে পরিমিত পানাহার ও স্বল্প খাদ্য গ্রহণের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
মাহে রমজানে অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েন এই ভেবে যে রোজা রাখলে নাকি শরীর-স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু রোজায় কারও স্বাস্থ্য বিনষ্ট হয়ে গেছে বা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়ে কোনো রোজাদারের মৃত্যু হয়েছে, এমন ঘটনা ঘটেনি। রোজা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং মঙ্গলজনক। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাবার হতে হবে পুষ্টিকর ও পরিমিত। রোজার সময় মানুষের শরীরের বিপাকক্রিয়া বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কিছুটা পরিবর্তিত নয় বলে সহজপাচ্য অর্থাৎ সহজে হজম হয়, এজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত। রোজা একই সঙ্গে দেহে রোগ প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। রোজাদারের শরীরে পানির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার দরুন চর্মরোগ বৃদ্ধি পায় না। রোজার সামগ্রিক প্রভাব মানবস্বাস্থ্যের ওপর ধীরভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে এবং রোজার মাধ্যমে শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সূর্যাস্তের পর রাত্রি শুরুর প্রাক্কালে গোধূলিলগ্নে রোজা শেষ করার মধ্যে মানসিক, আধ্যাত্মিক এমনকি শারীরিক নিগূঢ় রহস্য ও তাৎপর্য রয়েছে। সেহির থেকে ইফতার পর্যন্ত বেশ অনেকটা সময় পরে খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকলে শারীরিকভাবে সুস্থ থেকে রোজা পালন সম্ভব। রোজার মাসে খাবার সাধারণত তিনবার খাওয়া হয়—ইফতার, কিছুক্ষণ পরে সন্ধ্যা রাতের খাবার এবং সেহির। স্বাস্থ্য খাবারের ওপর নির্ভরশীল, খাদ্য গ্রহণের সময়ে পরিবর্তনের দরুন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই রমজান মাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত ওষুধ সেবন করে রোজা রাখতে পারেন। দেহ সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে, মন ভালো থাকলে ইচ্ছামাফিক আল্লাহর ইবাদত করতে পারবেন। সুতরাং পরিমিত পানাহার ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করে রোজাদারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা মোটেই কঠিন ব্যাপার নয়।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

পাকিস্তানে বন্যায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত সাত লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। ৬০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল বুধবার সরকারি কর্মকর্তারা এই কথা জানান।
বন্যায় সিন্ধু প্রদেশে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার শাহ বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের ফলে সিন্ধু প্রদেশের ছয়টি জেলার কমপক্ষে সাত লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় সরে গেছে।
সাজ্জাদ হায়দার শাহ আরও বলেন, গত সপ্তাহে বন্যায় ৩০ জন মারা গেছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ কাইম আলী শাহ সাংবাদিকদের বলেন, ১০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। তবে এর চেয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মুখ্যমন্ত্রী।
২০১০ সালে পাকিস্তানে নজিরবিহীন বন্যায় দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের। গত বছরের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে সিন্ধু অন্যতম।
গতবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ এখনো আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে।
বাদিন জেলার প্রধান প্রশাসক কাজিম জাতোই বলেন, বন্যার পানিতে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করছে সেনা ও নৌবাহিনী। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে বন্যাকবলিত লোকজনকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
জাতোই বলেন, ১৫০টি স্কুলভবনে অস্থায়ী ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আরও তাঁবু ও খাবারের প্রয়োজন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হায়দার শাহ বলেন, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাদিন জেলা।
ভারী বর্ষণের কারণে বাদিন ছাড়া আরও পাঁচটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জন্মদিন ভুলে যাওয়ায়...

রাশিয়ায় এক নারী তাঁর জন্মদিন ভুলে যাওয়ায় রাগের মাথায় স্বামীকে হত্যা করেছেন। দক্ষিণ রাশিয়ার অসত্রাখান এলাকার কাছে একটি গ্রামে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে।
লিয়ালিয়া তুপিকোভা নামের ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী খালপিক সকালে কাজে যাওয়ার আগে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ভুলে যান। তিনি যখন কাজ শেষে ঘরে ফেরেন তখনো লিয়ালিয়া আশায় ছিলেন, এবার হয়তো তাঁকে একগুচ্ছ ফুল হাতে তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন স্বামী। কিন্তু দেখলেন, স্বামীর এবারও কিছু মনে পড়েনি। এরপর দিবসটি উপলক্ষে লিয়ালিয়া রাতে দুজনের জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন। খেতে বসেও যখন খালপিক কিছুই বুঝতে পারলেন না, তখন আর সহ্য হলো না তাঁর।
গ্রামের পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, স্বামীর এ রকম উদাসীনতায় ৪৫ বছর বয়সী লিয়ালিয়ার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তিনি রান্নার কাজে ব্যবহার করা একটি ছুরি তুলে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বামীর ওপর। খালপিকের হূৎপিণ্ড বরাবর বসিয়ে দেন সেটা। ৫০ বছর বয়সী খালপিক অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।
লিয়ালিয়া পুলিশের কাছে অকপটে স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এখন তিনি শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন।

কুকুরকে খাবার না দেওয়ায়...

পাকিস্তানে পোষা কুকুরকে খাবার না দেওয়ায় এক নারী তাঁর গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, কয়েক দিন আগে লাহোরের ভ্যালেন্সিয়া টাউনের বাসিন্দা সাদিয়া আসিফ নামে ওই নারী বাজারে যাওয়ার আগে গৃহকর্মী তাকি উসমানকে (১২) তাঁর পোষা কুকুরকে খাবার দেওয়ার কথা বলে যান, কিন্তু বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি দেখেন, কুকুরটিকে খাবার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সাদিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে উসমানকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
উসমান হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার সাদিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাদিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর টিকে থাকা কঠিন হবে

নাওতো কানের পর জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী যিনিই হোন না কেন, এক বছরের বেশি সময় টিকে থাকা তাঁর জন্য খুব কঠিন হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের চালানো এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার এ ফল প্রকাশ করা হয়।
কানের উত্তরসূরি হিসেবে যেসব ব্যক্তি আছেন, তাঁদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদার সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল। দেশের অর্থনৈতিক মার্কেটে তিনি খুব পছন্দনীয় ব্যক্তি।
কানের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, তা নির্বাচনে ৩২টি মার্কেটে জরিপ চালায় রয়টার্স। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪২ শতাংশ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নোদাকে চায়।

পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মন্ত্রী কারাগারে অনশন শুরু করেছেন

হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্টের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ গতকাল বুধবার কারাগারে অনশন শুরু করেছেন।
একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুশান্ত ঘোষ ওই দিন মেদিনীপুর আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত আটটায় এই আদেশ দেওয়ার পরপরই সিআইডি পুলিশ সুশান্ত ঘোষকে কলকাতায় সিআইডির সদর দপ্তর ভবানী ভবনে নিয়ে আসে। সেখানেই শুরু করা হয় জেরা। এ সময় সুশান্ত ঘোষ অসুস্থ হলে পড়লে তাঁকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পিজি হাসপাতাল থেকে গতকাল দুপুরে সুশান্ত ঘোষকে নিয়ে যাওয়া হয় মেদিনীপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। আদালত তাঁকে আরও চার দিনের সিআইডির হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এরপর তাঁকে বারবার খাবার দেওয়া হলেও তিনি খাবার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। শুরু করেন অনশন।