Tuesday, August 31, 2010

মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করা বা ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আরবি ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ ১০ দিন অথবা অন্য কোনো দিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদে বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা ও স্থির থাকাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফ করার মূল উদ্দেশ্য হলো—মসজিদে বসে আল্লাহর আনুগত্য করা, সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভের আশা করা, সওয়াব অর্জনের আশা করা এবং লাইলাতুল কদর লাভ করার আশা করা। আর এ জন্য প্রত্যেক ইতিকাফকারীর আল্লাহর জিকির, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ-রোজা, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ, মোরাকাবা-মোশাহেদা ও অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত থাকা এবং পার্থিব বিষয়ে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতিকাফ করতেন। নবী করিম (সা.) ইতিকাফের এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে কখনো তা ছুটে গেলে ঈদের মাসে আদায় করতেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস সূত্রে জানা যায়, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন (মসজিদে) ইতিকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ইতিকাফের বিধিসম্মত সময় মাহে রমজানের ২০ তারিখ সূর্য অস্ত যাওয়ার কিছু আগে থেকে শুরু হয় এবং ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তা শেষ হয়ে যায়। ইতিকাফকারী পুরুষ রমজান মাসের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছাবেন এবং মসজিদের কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করে অবস্থান নেবেন। ঘেরাওকৃত কক্ষে পর্দা এমনভাবে স্থাপন করবেন, যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় তা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়। এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং নিষ্প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে অথবা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ। কিন্তু প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই ইতিকাফের স্থানে ফিরে যেতে হবে। ঈদের চাঁদ দেখা গেলে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসবেন।
পার্থিব কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে মহান আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগের জন্য পুরুষদের মসজিদে এবং নারীদের জন্য গৃহে অবস্থ্থান করাই ইতিকাফ। স্ত্রীলোকের মসজিদে ইতিকাফ করা মাকরূহ। ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে, যেখানে তিনি নামাজ আদায় করেন, সেখানেই ইতিকাফ করবেন। বাড়ির নির্দিষ্ট স্থান না থাকলে যেকোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্থানে ইতিকাফ করবেন এবং ঈদের চাঁদ উদয় না হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করবেন না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া ও ফরজ গোসল ব্যতীত অন্য কোনো কারণে মসজিদের বাইরে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে কেউ ইতিকাফ করলে সুন্নতে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রামের বা পাড়া-মহল্লার কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহগার হবে।
ইতিকাফকারীকে অবশ্যই রোজাদার হতে হবে। এ সময় জাগতিক কাজকর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হতে হয়। ফলে ইতিকাফকারী বেহুদা কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন। একাগ্রচিত্তে কয়েক দিনের ইবাদত-বন্দেগির ফলে তার অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া গভীরভাবে রেখাপাত করে। এ সময় দুনিয়ার চাকচিক্য তাকে আল্লাহর জিকর থেকে দূরে সরাতে পারে না। ইবাদতে তার মনে প্রশান্তি আসে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হইও না, যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফে থাকবে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৭)
ইতিকাফ পালনকালে যেকোনো ধরনের পার্থিব বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ইতিকাফকারী রোগী দেখতে যাবে না, জানাজায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রী স্পর্শ করবে না। বিশেষ জরুরি কাজ ব্যতীত বাইরে যাবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ) হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ইতিকাফ করতেন, মসজিদে বসে আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি তাঁর কেশবিন্যাস করে দিতাম।’ অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘নবী করিম (সা.) ইতিকাফের সময় পীড়িতকে দেখতে যেতেন এবং নিজ ইচ্ছামতো চলতেন, কিন্তু কারও সঙ্গে কথা বলতেন না।’
বস্তুত, শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজনে ও অজু ব্যতীত ইতিকাফের স্থান ত্যাগ করে বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। অবশ্য এসব কারণ ছাড়াও প্রয়োজনের তাগিদে কারও জীবন রক্ষার্থে বাইরে যাওয়া যেতে পারে। তবে এ জন্য ইতিকাফের কাজা আদায় করতে হবে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বছর ইতিকাফ করতে পারেননি, পরবর্তী বছর তিনি ২০ রাত ইতিকাফ করেন।’ (তিরমিজি) হজরত্রআবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘নবী করিম (সা.) প্রতি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিফাক করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সে বছর ২০ দিন ইতিফাক করেন।’ (বুখারি)
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে।’ (বায়হাকি) ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিনের ইতিকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।’ (তিরমিজি ও বায়হাকি)
যে ব্যক্তি ইবাদত মনে করে সওয়াবের নিয়তে ইতিকাফ করে, তার সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) ফরমান, ‘ইতিকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকে আর ইতিকাফে লিপ্ত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নেক কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ওই নেক কাজসমূহের পূর্ণ নেকি সে লাভ করবে।’ (ইবনে মাজা) হজরত্রইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘ইতিকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং তাকে ইতিকাফের বিনিময়ে এত বেশি নেকি দেওয়া হবে যেন সে সব নেকি অর্জনকারী।’ (ইবনে মাজা)
লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও এর ফজিলত লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) মাহে রমজানে ইতিকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা মতে, ‘মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন এলে তিনি স্ত্রীদের কাছ থেকে দূরে থাকতেন এবং ইবাদতে মশগুল হতেন। সারা রাত নিজেও জাগতেন এবং পরিজনকেও জাগিয়ে রাখতেন।’ ইতিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক রাত বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে। তবে ইতিকাফ দীর্ঘ সময় ধরে করা উত্তম, বিশেষত মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ অবস্থায় থাকায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ করার মাধ্যমে গুনাহর পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের মোক্ষম সুযোগ দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক কমেছে ৪৯.৮৩ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাপ্তাহিক লেনদেনের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ সূচক কমেছে। তবে আর্থিক লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৪৯.৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬২০.৮৩ পয়েন্টে।
আজ মোট এক হাজার ৫১৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ৩৬৩ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া মোট ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, স্কয়ার টেক্সটাইল ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—দেশ গার্মেন্টস, সোনালি আঁশ, দুলামিয়া কটন, সায়হাম টেক্সটাইল ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বাংলাদেশ লিফ টোব্যাকো, থেরাপেটিকস বাংলাদেশ, ফিনিক্স ফিন্যান্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস।
এ ছাড়া আজ ডিএসইর বাজার মূলধন ২,৯৬,৪৫৩ কোটি টাকা।

ঢাকা ইনস্যুরেন্স ও কাশেম সিল্কের শেয়ার লেনদেন স্থগিত

ঢাকা ইনস্যুরেন্স লিমিটেড ও কাশেম সিল্ক মিলস লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে।
এর আগে, ডিএসই প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান দুটি সেই কারণ দর্শানো নোটিশের উত্তর দিতে দেরি করায় আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ওই কোম্পানি দুটিতে বিনিয়োগ করার ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ বিতরণের কঠোর বিধান বাতিলের দাবি

শেয়ারের বিপরীতে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সম্প্রতি যে বিধান আরোপ করেছে, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের যুক্তি হলো, ঋণ বিতরণের এ বিধানটি অত্যন্ত জটিল এবং এ পদ্ধতিতে একজন গ্রাহক কী পরিমাণ ঋণ প্রাপ্য হবেন, তা গণনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নেই। তা ছাড়া পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে গেলে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির চাপে পড়বে। এতে বাজারে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তাঁরা।
তবে স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের এ দাবির সঙ্গে একমত হননি এসইসির নীতিনির্ধারকেরা। তাঁরা বলেছেন, এসইসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিধানটি পরিপালন করতে হবে। এতে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়লে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এ জন্য তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দেওয়া ঋণের তথ্য চেয়েছে এসইসি। একই সঙ্গে ঋণ বিতরণের নতুন বিধানটি কার্যকর হলে কী পরিমাণ শেয়ার বাধ্যতামূলক বিক্রির আওতায় পড়বে, তারও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামী রোববার আবার বৈঠক ডাকা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে ঋণের নতুন বিধান বাস্তবায়নে সমস্যা ও সমাধানসহ বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে গতকাল রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে এসইসির পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। এ বৈঠকেই এসব বিষয়ে আলোচনা উঠে আসে।
এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এসইসি তার আগের অবস্থানেই রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ক নির্দেশনা পরিপালনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, কমিশন মনে করে ঋণ অনুপাত নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার না থাকার বিষয়টি বড় কোনো সমস্যা নয়। ডিজিটাল যুগে এসব সমস্যা দূর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
প্রতিদিনের বাজারদরের ভিত্তিতে ঋণের অনুপাত নির্ণয়ের জটিলতা প্রসঙ্গে আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, প্রতিদিনের বাজারদরের ভিত্তিতে নয়, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট দিনের বাজারদরের ভিত্তিতে ঋণ অনুপাত হিসাব করতে পারবে।
বাজারে ঝুঁকি কমানো ও তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য গত ২৪ আগস্ট এসইসি ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় ২০০৬ সালে প্রণীত একটি বিধান পরিপালনে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিধানে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে তাদের গ্রাহকদের ঋণ দিতে গেলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করতে হবে। এ সূত্র অনুযায়ী গ্রাহকদের শেয়ারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করে যে ফলাফল পাওয়া যাবে, তার সমানুপাতিক হারে ঋণ দিতে হবে।
একই সঙ্গে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম করলে তা সমন্বয় করতে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়।
প্রায় চার বছর আগে প্রণীত এ বিধানটি প্রয়োগযোগ্য নয় বলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। গত মাসে এসইসির পরামর্শক কমিটির সভাও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বিধানটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল। এসইসির একজন সদস্যের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই কমিটির বৈঠকে বিষয়টি বিবেচনার ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিধানটি বাতিলের দাবি জানানো হলে এসইসির একজন সদস্য এর ঘোর আপত্তি জানান। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এ বিধানটি পরিপালন করতে হবে। ওই সদস্যের বক্তব্যের জবাবে ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান জানতে চান, এর ফলে বাজারে দরপতনের দায়িত্ব এসইসি নেবে কি না। এ বক্তব্যের পরপরই এসইসি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলে।

রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তিতে দুটি আলাদা বেঞ্চ হবে

রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঈদের পরপরই হাইকোর্টে দুটি আলাদা বেঞ্চ গঠন করা হবে। বেঞ্চ দুটিতে শুধু আয়কর, শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা হবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) আইনের খসড়ার ওপর অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে সভায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এডিআর আইনের খসড়ার ওপর মতামত ও সুপারিশ পাঠাতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, মেট্রো চেম্বারের পরিচালক নিহাদ কবীর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আমিনুর রহমান প্রমুখ যোগদান করেন।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানান, শুধু রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তির দুটি বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানানো হলে তিনি এতে রাজি হয়েছেন। ঈদের পরই বেঞ্চ গঠনের কাজ শুরু হবে। জানা গেছে, রাজস্ব নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানেও হাইকোর্টে দুটি বেঞ্চ রয়েছে। কিন্তু এগুলোতে রাজস্বসংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি অন্য বিরোধও নিষ্পত্তি হয়। তবে নতুন দুই বেঞ্চে শুধুই রাজস্ব বিরোধ নিষ্পত্তি হবে।
ইউএনবি জানায়: বৈঠকে রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমানে রাজস্বসংক্রান্ত ১৮ হাজার ৪৩৮টি বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে এনবিআরের বিভাগীয় মামলা রয়েছে ১২ হাজার ৩৩২টি, আপিল আদালতে পাঁচ হাজার ৫০০টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৬০৫টি এবং আপিল বিভাগে একটি।
সভায় এডিআর আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনায় বলা হয়েছে, শুল্ক ও মূসক বিষয়ে ভালো জানাশোনা আছে এমন একজনকে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। ভাইস চেয়ারম্যানও থাকবেন একজন।
এ ছাড়া থাকবেন দুজন জুডিশিয়াল সদস্য। প্রত্যেক বেঞ্চে একজন করে কমিশনার থাকবেন কমিশনে।
জেলা জজ হিসেবে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা হবে জুডিশিয়াল সদস্য হওয়ার পূর্বশর্ত। আর কমিশনারের কাজ হবে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করা।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী বলেন, এডিআর যদি বাধ্যতামূলক করা না যায়, তাহলে এটা থেকে সুফল পাওয়া যাবে না।
নিহাদ কবির উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে এডিআরের মামলাগুলো নিস্পত্তি করার পরামর্শ দেন।

ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে

ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানকারীদের উচিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কোনো যন্ত্রের ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানকারীদের সংগঠন সার্চ ফর এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (সেটি) সদস্য জ্যোতির্বিদ সেথ শোস্টাক এই পরামর্শ দিয়েছেন। সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী অ্যাকটা অ্যাস্ট্রোনটিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই পরামর্শ দেন তিনি।
সেটির বিজ্ঞানীরা এত দিন পর্যন্ত মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো কোনো গ্রহ থেকে বেতারসংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানী শোস্টাকের ধারণা, বেতারসংকেত ব্যবহারের প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি আয়ত্তে আনতে খুব বেশি সময় লাগেনি ভিনগ্রহের প্রাণীদের। শোস্টাক লিখেছেন, এমনটি ঘটে থাকলে ভিনগ্রহের কোনো জৈবপ্রাণ শনাক্ত করার চেয়ে ভিনগ্রহের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র শনাক্ত করা সহজ।
সেটির সঙ্গে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, ‘প্রকৃতি সম্ভবত বেশ আগেই ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও আকৃতিতে জীবন সৃষ্টির সমস্যা সমাধান করে ফেলেছে। সুতরাং ভিনগ্রহের প্রাণীরা দেখতে আমাদের মতো না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা জৈবিক পর্যায়ে আমাদের মতো কার্মকাণ্ড পরিচালনা না-ও করতে পারে।’
সেটির বিজ্ঞানীরা এখনো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানের ক্ষেত্রে এমন প্রাণী শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যারা আমাদের ধারণা অনুযায়ী জীবিত। অর্থাৎ যারা কোনো একপর্যায় পর্যন্ত প্রাণরসায়নের নিয়ম অনুসরণ করে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন ধারণ করে এবং বিবর্তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়।
কিন্তু শোস্টকের মতে, কোনো প্রাণী প্রযুক্তির বিবর্তনের ধারায় নিজগ্রহের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রযুক্তি অর্জন করলে প্রযুক্তিও অতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে ওই প্রজাতিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রগতির সময় পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, একটি পর্যায়ে আপনি বেতার আবিষ্কার করলেন, এরপর আপনি বেতার সম্প্রচার শুরু করলেন এবং এরপর দেখা গেল, আমরা আপনার সংকেত শনাক্ত করতে পেরেছি। কিন্তু বেতার আবিষ্কারের কয়েক শ বছরের মধ্যে চিন্তা করতে পারে এমন যন্ত্র আবিষ্কার করে ফেলবেন আপনি। মানুষ সম্ভবত চলতি শতকেই এ ধরনের যন্ত্র তৈরি করে ফেলবে। সুতরাং আপনি আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করে ফেললেন এবং ভাবুন তাহলে কয়েক শ বছর পর আপনি কী জৈব বুদ্ধিমত্তা হিসেবে সংকেত পাঠাবেন। সম্ভাবনার নিরিখে বলা যায়, এ ধরনের চিন্তাশীল যন্ত্রের উদ্ভব হলে তাদের কাছ থেকে আসা সংকেতই আমাদের কাছে পৌঁছার সম্ভাবনা বেশি।’

লাদেন সিআইয়ের এজেন্ট: কাস্ত্রো

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন, আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের বেতনভুক্ত এজেন্ট। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের যখনই বিশ্বকে আতঙ্কিত করার প্রয়োজন হতো, তখনই তিনি ওসামাকে নিয়ে কথা বলতেন।
কাস্ত্রো বলেন, বুশ প্রতিবারই লাদেনের কথা বলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতেন ও বড় বড় বক্তব্য দিতেন। বুশ লাদেনকে নিয়ে একটি গল্প হাজির করে তিনি কী করতে যাচ্ছেন, তা তুলে ধরতেন। লিথুয়ানিয়ার এক বিশিষ্ট লেখকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে কাস্ত্রো এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বুশের কখনই লাদেনের সমর্থনের অভাব হয়নি। লাদেন বুশের অধীন ছিলেন।
দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা গ্রানমায় গত শুক্রবার কাস্ত্রোর এ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে কাস্ত্রো বিশ্ব পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে—এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক করে দেন।
ফিদেল কাস্ত্রো আরও বলেন, উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশিত আফগান যুদ্ধ বিষয়ে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্তে এটা নিংসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে, লাদেন সিআইয়ের এজেন্ট।

ক্যাটরিনার আঘাত হানার পঞ্চম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি

ভয়াবহ হ্যারিকেন ক্যাটরিনার আঘাত হানার পঞ্চমবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। প্রলয়ংকরী এই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এক হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ উপলক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি নিউ অর্লিন্স শহর সফর করবেন। তিনি জেভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেবেন। নিউ অর্লিন্সের পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর ভাষণে এই আশ্বাস দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রলয়ংকরী এই ঝড়ে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। তাদের অনেকে এখনো বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি।
ক্যাটরিনার আঘাতে লুইজিয়ানা থেকে ফ্লোরিডা উপকূল পর্যন্ত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুরোনো বাঁধ ভেঙে নিউ অর্লিন্সের ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে ভেসে যায়। ক্যাটরিনার আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি ডলারের।

কেনিয়াকে আইসিসির কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কেনিয়াকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে তাঁদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
এক বিবৃতিতে কফি আনান বলেন, ‘কেনিয়ার নতুন সংবিধান ঘোষণা উপলক্ষে নাইরোবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বশিরকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় অন্য অনেকের মতো আমিও বিস্মিত হয়েছি।’ আফ্রিকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এ বিবৃতি দেন।
বিবৃতিতে কফি আনান আরও জানান, রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এবং ২০০৭-০৮ সালের নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি কেনিয়ার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা আছে। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই পরিস্থিতে কেনিয়ার উচিত আইসিসির কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা।

নেপালে ফের রাজতন্ত্র চাইছে মাওবাদীরা

ক দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নেপালের ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রকে যে মাওবাদীরা বিদায় করেছিল, তারাই এখন সেই রাজতন্ত্রকে পুনর্বহাল করতে চাইছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল গতকাল রোববার এ অভিযোগ করেছেন।
রাজধানী কাঠমান্ডুতে গতকাল এক অনুষ্ঠানে মাধব কুমার নেপাল বলেন, মাওবাদীরা নিজেদের বিপ্লবী বলে দাবি করে। তাদের এ দাবি নিতান্তই হাস্যকর। কারণ মাওবাদীরাই এখন দেশে আবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, মাওবাদীরা তাদের ক্যাডারদের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজকীয় সেনাবাহিনীর কারণে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির সভাপতি কামাল থাপার এক মন্তব্যের দুই দিনের মাথায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওই অভিযোগ করলেন।
কামাল থাপা সম্প্রতি বলেন, কিছুদিন আগে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারম্যান প্রচণ্ডের সঙ্গে তার এক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে এই মাওবাদী নেতা দেশে আবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
কামাল থাপা জানান, প্রচণ্ড তাঁকে বলেছেন, রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর নেপালে বিদেশি হস্তক্ষেপ অনেক বেড়ে গেছে। তাই নেপালকে বিদেশি হস্তক্ষেপের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশে ফের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। প্রচণ্ড কোন দেশের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন, সে ব্যাপারে অবশ্য মুখ খোলেননি কামাল থাপা।
এদিকে নেপালের পার্লামেন্ট পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

‘আমাদের ও সন্তানের জন্য শান্তি স্থাপন করতে পারব’

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তির ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের ‘ঐকান্তিকতার’ ওপর। গতকাল রোববার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন।
ওয়াশিংটনে আসন্ন শান্তি আলোচনার আগে গতকাল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যেভাবে আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি, ফিলিস্তিনি নেতারাও যদি সেভাবে নেন, তাহলে আমরা একটি সুদৃঢ় মতৈক্যে পৌঁছাতে পারব বলে আমি আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ও সন্তানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপন করতে পারব। এটাই আমার লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈঠকে বলেন, বসতি স্থাপন নিয়ে গোয়েন্দা ও পরমাণু জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী ডান মেরিডরের প্রস্তাব একান্তই তাঁর নিজস্ব মতামত। তাঁর এই মতামত বসতি স্থাপন ইস্যুতে সরকারি অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না।
উল্লেখ্য, মেরিডর বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে যেসব বসতি ব্লক ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে, শুধু সেসব ব্লকেই বসতি নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা উচিত।
এদিকে সরাসরি শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করার লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। পরদিন বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর বৈঠকে বসার কথা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার সফলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও মিসরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেনিয়েল কার্টজার বলেন, অতীত ও সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা গেছে যে দুই পক্ষকে যদি একাকী ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মতপার্থক্য দূর করার কোনো পথ থাকবে না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে আনা সম্ভব।

আফগানিস্তানে ৭ মার্কিন সেনা নিহত

আফগানিস্তানে গত দুই দিনে একাধিক হামলায় সাত মার্কিন সেনা ও এক রাজনীতিক নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স (ইসাফ) জানায়, গত শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্টিতে পৃথক দুটি সংঘর্ষে তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া গতকাল রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।
একজন কর্মকর্তা জানান, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে গুলিতে স্থানীয় এক রাজনীতিক নিহত হন। আগামী সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল।
এদিকে যৌথবাহিনী জানায়, দেশটির গোলযোগপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে আফগান ও ন্যাটো সেনাদের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ১৫ জঙ্গিও নিহত হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম আদিবাসী এমপি নির্বাচিত

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো একজন আদিবাসী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নাম কেন ওয়েট (৫৭)। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার হাসলাক আসনে লিবারেল পার্টি থেকে নির্বাচন করে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। ২১ আগস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়েট গতকাল শনিবার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। হাসলাকের বাসিন্দারা এমন একজন ব্যক্তিকে পছন্দ করেছেন, যিনি তাঁদের সবার স্বার্থেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনি আরও বলেন, জাতিগত বিদ্বেষ থেকে উত্তরণের সময় এসেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অস্ট্রেলিয়াকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
হাসলাক আসনে ভোট গণনার শেষের দিকে এসে দেখা গেছে, লেবার পার্টির প্রার্থীর চেয়ে ওয়েট অন্তত এক হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন। অবশ্য এখনো কিছু ভোট গণনা বাকি আছে। তবে তাঁকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এবারের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি ও বিরোধী দল লিবারেল পার্টি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন পায়নি। লিবারেল পার্টি পেয়েছে ৭৩টি ও লেবার পার্টি পেয়েছে ৭২টি আসন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন চারটি আসনে। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৭৬টি আসন দরকার।

৩৩ শ্রমিককে উদ্ধারে বিকল্প সুড়ঙ্গ খনন শুরু হচ্ছে আজ

চিলিতে দুর্ঘটনাকবলিত খনিকূপে আটকেপড়া ৩৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবার থেকে বিকল্প সুড়ঙ্গপথ খননের কাজ শুরু হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাধীনতা দিবসের আগে আটকেপড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
খনিসম্পদমন্ত্রী লরেন্স গোলবোর্ন বলেছেন, শ্রমিকদের উদ্ধারে বিকল্প সুড়ঙ্গ তৈরিসহ বিকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ২৩ দিন আগে খনি দুর্ঘটনায় আটকে পড়া ৩৩ শ্রমিককে পৃথিবীর আলো দেখতে আরও তিন থেকে চার মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
কর্মকর্তারা গতকাল রোববার দুই ফুট ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গ খননের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করেন। এতে সময় লাগবে তিন মাস। এই সুড়ঙ্গ দিয়ে একে একে শ্রমিকদের তুলে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৫ আগস্ট চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর প্রায় ৭২৫ কিলোমিটার উত্তরে কোপিয়াপো শহরের কাছে সান জোসে খনিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ২৪ দিন আগে দুর্ঘটনা ঘটলেও খনিশ্রমিকদের পাঠানো ৪৫ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পর ২২ আগস্ট খবরটি প্রথম জানাজানি হয়। উদ্ধারকারীদের পাঠানো ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করা ফুটেজে তাঁদের বিজয় চিহ্ন প্রদর্শন ও জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়।

নিলামে লেননের কমোড

একটি পুরোনো কমোডের দাম আর কত হতে পারে! যদি বলি, সাড়ে নয় হাজার পাউন্ড! বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন; এটাই সত্য। বিখ্যাত পপসংগীত দল বিটলসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন লেননের ব্যবহূত একটি কমোড গত শনিবার ইংল্যান্ডের লিভারপুলে নিলামে এই অবিশ্বাস্য দামে বিক্রি হয়েছে।
জন লেনন ১৯৪০ সালে লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে তিনি নিউইয়র্কে খুন হন। ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বার্কশায়ারের টিটেনহার্স্ট পার্ক এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করেছেন।
বাড়িটির সংস্কারকাজ করার সময় একজন নির্মাণশ্রমিক তাঁর পুরোনো কমোডটি বদলে সেখানে একটি নতুন কমোড বসান।
লেনন তাঁকে পুরোনো কমোডটি দেন এবংএকে ফুলের টব হিসেবে ব্যবহার করতে বলেন।
জন হ্যানকক নামের ওই নির্মাণশ্রমিক সাদা ও নীল রঙের চীনামাটির তৈরি কমোডটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং ৪০ বছর ধরে তা সংরক্ষণ করেন। সম্প্রতি তিনি মারা যান। তাঁর জামাতা এই কমোডটি নিলামে বিক্রির জন্য তোলেন।
লিভারপুলে অনুষ্ঠিত ৩৩তম বার্ষিক বিটলস কনভেনশন উপলক্ষে আয়োজিত নিলামে বিটলসের বিভিন্ন স্মারকের সঙ্গে কমোডটি বিক্রি হয়। নিলামের আগে এটির সম্ভাব্য দাম হিসাব করা হয়েছিল ৭৫০ থেকে ১ হাজার পাউন্ড।
নিলামের আয়োজক স্টিফেন বেইলি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বিটলসের যত পণ্য নিলামে তুলেছি তার মধ্যে এটা একেবারেই অপ্রচলিত। কমোডটি এত দামে বিক্রি হবে তা আমরা ভাবিনি।

পীতসাগরে সামরিক মহড়ার ঘোষণা চীনের

পীতসাগরে সামরিক মহড়া চালাবে চীনের নৌবাহিনী। গতকাল রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়। সম্প্রতি পীতসাগরে যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। বেইজিং পরিকল্পিত এই মহড়ার বিরোধিতা করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চীন ও কোরীয় উপদ্বীপের মধ্যবর্তী এই সাগরে আগামী বুধবার এই মহড়া শুরু হয়ে শেষ হবে শনিবারে। এতে নৌবাহিনীর নৌবহর অংশ নেবে।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুইংডাও শহরের উপকূলে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মহড়া চালাবে পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনীর একটি নৌবহর। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বার্ষিক নিয়মিত অনুশীলনের অংশ হিসেবে এ মহড়া চালানো হবে।
এদিকে সেপ্টেম্বরে পীতসাগরে নতুন দফায় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। পেন্টাগন বলেছে, মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—উত্তর কোরিয়ার প্রতি এই সতর্কবার্তা পাঠানো এ মহড়ার উদ্দেশ্য।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বিতর্কিত সমুদ্রসীমাসহ বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে পীতসাগরে যেকোনো ধরনের সামরিক মহড়া স্পর্শকাতর বিষয়।
পীতসাগরে ওয়াশিংটন ও সিউলের যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করছে চীন। এই মহড়ার সময় চীনের উপকূলের কাছে মার্কিন রণতরী টহল দেবে, এই খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পরিকল্পিত এন্টি-সাবমেরিন অনুশীলনে কোনো রণতরী থাকবে না। চীনের রিয়ার এডমিরাল ইয়াং ই সম্প্রতি চায়না ডেইলি পত্রিকায় এক নিবন্ধে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের পর এটা হবে নতুন উসকানি।

সৌদি আরবে শিক্ষিত বেকারদেও নজিরবিহীন বিক্ষোভ

সৌদি আরবে প্রায় ২০০ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকার যুবক চাকরির দাবিতে রাজধানী রিয়াদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। গত শনিবার তাঁরা সে দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। রাজতন্ত্রের শাসনাধীন সৌদি আরবে কোনো ধরনের বিক্ষোভ সাধারণত বরদাশত করা হয় না। এ কারণে তাঁদের এ বিক্ষোভকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, গত বছর সে দেশে বেকারত্বের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। এ অবস্থায় সে দেশের দ্রুত বর্ধনশীল এক কোটি ৮০ লাখ সৌদি নাগরিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সে দেশের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গতকাল রোববার সৌদি পত্রপত্রিকায় বিক্ষোভকারীদের যে ছবি ছাপা হয়েছে, তাতে তাঁদের বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্লাকার্ড বহন করতে দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে একটি স্লোগান ছিল, ‘যথেষ্ট অবিচার হয়েছে! আর না!’
বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, সৌদি আরবে স্থানীয় ও বিদেশি মিলে বর্তমানে দুই কোটি ৭১ লাখ লোক রয়েছে। সে দেশের সরকার সেখানকার বাসিন্দাদের যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে, তার মান পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েত ও কাতার থেকে অনেক নিম্নস্তরের। সেখানে বহু শিক্ষিত লোককে বর্তমানে চাকরি না পেয়ে ট্যাক্সি ড্রাইভার ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর মতো ছোট ছোট কাজ করতে হচ্ছে।
তবে বিশ্বে ধনী দেশগুলোর একটি বলে পরিচিত সৌদি আরব কখনোই তার বেকারত্বের হিসাব প্রকাশ করে না। সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব তার স্থানীয় সব শিক্ষিত ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত করতে না পারার মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা তাদের পশ্চাৎপদ শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাঁরা বলেছেন, সেখানকার শিক্ষাক্রমে ব্যবহারিক দক্ষতার চেয়ে ধর্মীয় বিষয়াবলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে একটি বিশাল তেল উৎপাদক দেশের জন্য যে দক্ষতাসম্পন্ন লোক দরকার, সেখানকার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সে অনুযায়ী মানসম্পন্ন মানবসম্পদ সরবরাহ করতে পারছে না।
সৌদি দৈনিক আল হায়াতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত শনিবারের বিক্ষোভকারীদের মুখপাত্র নাঈফ আল তামিমি বলেছেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও কাজ পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন হলেও মন্ত্রণালয় তাঁদের চাকরি দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাঁরা অবিলম্বে তাঁদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি তোলেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। কিন্তু নিয়োগদানের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
২০০৫ সাল থেকেই সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ সে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শরিয়া আইনে সংস্কার আনার চেষ্টা করছেন। তবে ধর্মীয় নেতারা তাঁর সেসব উদ্যোগে সমর্থন দিতে চাইছেন না। সৌদি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে শিক্ষিত বেকারেরা সংঘাতমূলক পথ বেছে নিতে পারেন।

ইন্টারপোলের তালিকায় সাড়ে ৬০০ ভারতীয়

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের তালিকায় ফেরারি ভারতীয়দের সংখ্যা সাড়ে ৬০০ শর বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গত পাঁচ বছরে ৬৫৬ জন ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে সংস্থাটি।
ইন্টারপোল কারও বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করলে সংস্থার সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের পুলিশ বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এরপর তাঁকে তাঁর নিজের দেশ বা তিনি যে দেশে অপরাধ করেছেন সে দেশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ৬৫৬ জন ভারতীয়র বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্টারপোল। এর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ১৫০ জনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। এ ছাড়া ২০০৭ সালে ১৩৩ এবং ২০০৬ সালে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয় ১১৯ জনের বিরুদ্ধে।
সাধারণত নিজ দেশের বাইরে কোনো দেশে অপরাধের জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল। এ ক্ষেত্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বেশির ভাগ অপরাধের অভিযোগ এসেছে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, রাশিয়া, বেলারুশ, মিসর, অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম থেকে। আর তাদের অপরাধের মধ্যে আছে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, যৌন হয়রানি, যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি, ই-মেইলের মাধ্যমে জালিয়াতি ও যৌতুক দাবি। এর মধ্যে শুধু ২৫ শতাংশ আছে রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনা।

বার্সা-লিভারপুলের জয় হেরেছে জুভেন্টাস

স্প্যানিশ লিগে শুভসূচনা করেছে বার্সেলোনা। মেসি, ইনিয়েস্তা ও ভিয়ার গোলে রেসিং সান্তান্দারের মাঠ থেকে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে তারা। ওদিকে চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা ফার্নান্দো তোরেসের একমাত্র গোলে ওয়েস্টব্রমকে হারিয়েছে ‘অল রেড’রা। তবে ইতালিয়ান লিগে জুভরা তাদের প্রথম ম্যাচে ০-১ গোলে হেরেছে বারির কাছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সিটির ১-০ গোলের পরাজয়টি সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে।

মিলানেই গেলেন ইব্রাহিমোভিচ

সব গুঞ্জন, আলোচনার অবসান। বার্সেলোনায় মেসি-জাভিদের সতীর্থ হয়ে খেলা ৪২ ম্যাচে ২২ গোল করার উজ্জ্বল স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। এসি মিলানই তাঁর নতুন ঠিকানা।
আজ সোমবারই মিলানে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর চুক্তি হবে। ২ কোটি ৪০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে চুক্তিটি চার বছরের হলেও এই মৌসুম খেলবেন ধারে। পাকা চুক্তি হবে এই মৌসুমের শেষে।
এক মৌসুম আগে ছিলেন সান সিরো স্টেডিয়ামের শরিক ইন্টার মিলানে, কিন্তু এবার চুক্তির আগেই যেন হয়ে গেলেন মিলানের, ‘মিলান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব। আমাদের রয়েছে চমৎকার আক্রমণভাগ। আমি মিলানের খেলোয়াড়।’
কোচ কথা বলতেন না। বার্সেলোনায় দিনগুলো কাটছিল দমবন্ধ করা মানসিক যন্ত্রণায়। মিলান সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ায় তিনিও প্রতিদান দিতে চান, ‘এখানে আসাটা আমার হূদয়ের স্পন্দন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এসেছি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে, ডাবল জিততে।

পদত্যাগ করবেন না বাট

মাঠের বাইরের লজ্জার সঙ্গে কাল যোগ হলো মাঠের ভেতরের লজ্জাও। ইনিংস ও ২২৫ রানে হেরেছে পাকিস্তান, দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ম্যাচের ভাগ্য আগের দিনই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকতা সারতে ইংল্যান্ড কাল সময় নিল ঘণ্টা দেড়েক। মোহাম্মদ আসিফকে নিয়ে শেষ উইকেটে কামরান আকমল ৫০ রানের জুটিটা না গড়লে আরও অনেক আগেই গুটিয়ে যেত পাকিস্তান। অবশ্য মাঠের বাইরের যে ঘটনাপ্রবাহ, তাতে কাল সবকিছুই যেন মনে হচ্ছিল মেকি! ইংলিশদের উচ্ছ্বাসেও ছিল না প্রাণ।
ম্যাচের চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলন নিয়েই। থমথমে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সালমান বাটকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘সিডনি টেস্টটা (এ বছরের শুরুতে) কি ইচ্ছে করেই হেরেছিল পাকিস্তান?’ কোনো উত্তর দেননি বাট, পাশে বসা ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদও এড়িয়ে যান প্রসঙ্গ। আবারও বাটের দিকে তীর, ‘পদত্যাগের কথা ভাবছেন?’ এবার যেন আঁতে ঘা লাগল বাটের, ‘কেন? ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জিতেছি, জিতেছি ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও।’
এবার একটু ঘুরিয়ে বাটের কাছে আবার প্রশ্ন, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কি মাঠে সেরাটা দিয়েছেন? বাট আশ্রয় নিয়েছেন কন্ডিশনের আড়ালে, ‘অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিয়েছি। কন্ডিশনের জন্য ব্যাটসম্যানদের কাজটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সবাই শতভাগ দিয়েছে।’ এতসব ঘটনার পর ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। পাকিস্তান ম্যানেজার অবশ্য শঙ্কার কিছু দেখছেন না। আশা করছেন সিরিজটা হবে সময়মতোই, ‘সিরিজটা হবে। সবকিছুই এখনো কেবল অভিযোগের পর্যায়ে, যে কেউ যেকোনো কিছুই বলতে পারে।’
হতাশার সিরিজে পাকিস্তানের একমাত্র উজ্জ্বল অধ্যায় ছিলেন মোহাম্মদ আমির। কিন্তু শেষ দিকে গায়ে লাগল কলঙ্কের ছোপ। পাকিস্তানের সিরিজ-সেরা হয়েছেন, কিন্তু ম্যানেজার জানালেন এমন অভিযোগে দারুণ বিষণ্ন আমির।

উদ্বিগ্ন পাকিস্তান সরকার

ইংল্যান্ডে ক্রিকেটারদের ‘স্পট ফিক্সিং’ বিতর্কে নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তান সরকারও। অভিযোগের ব্যাপারে পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, ‘বিষয়টি প্রেসিডেন্টের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁকে যেন পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডে হওয়া যেকোনো তদন্ত সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনা সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব একটা প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে পিসিবি প্রধানকে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী ইজাজ হুসেইন জাখরানি জানিয়েছেন, পিসিবি প্রধান ইজাজ বাটের গতকালই লন্ডনে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসার কথা।

অপরাধী ক্রিকেটারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন ইমরান

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান বলেছেন, লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের ন্যক্কারজনক ঘটনায় যদি কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার জড়িত থাকে, তাহলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ক্রিকেটের এই জীবন্ত কিংবদন্তির মতে, এ অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। তিনি আরও বলেন, এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়দের কঠোর শাস্তি দিয়ে তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তিনি গতকাল রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
‘আমি আজ সকালেই (রোববার) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর দেখেছি। মনে-প্রাণেই চাই, সব কথা, সব অভিযোগ যেন মিথ্যা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণ হলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তিই আমার কাম্য।’ বলছিলেন ইমরান।

আবার কলঙ্কিত পাকিস্তান-ক্রিকেট

ক্রিকইনফোর সরাসরি ধারাবিবরণিতে লেখা হয়েছিল ‘বিশাল নো-বল।’ বিবিসি অনলাইন লিখেছে, ‘ডার্টি গ্রেট নো-বল। দাগের প্রায় ২ ফিট সামনে পা।’ লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মোহাম্মদ আমিরের ডেলিভারিটি নিয়ে তবুও সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না। একজন বোলার, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারের নো-বল হতেই পারে। সন্দেহ ছিল না তাই, সেদিনই দশম ওভারে করা মোহাম্মদ আসিফের ও পরদিন সকালে করা আমিরের আরেকটি নো-বল নিয়েও।
কিন্তু যদি বলা হয়, নো-বল তিনটি ‘হয়ে যায়নি, ইচ্ছে করে করা হয়েছে’, তাহলে? কিংবা বোলার আগে থেকেই জানতেন, এই বলটি হবে নো-বল, জানতেন অধিনায়ক-উইকেটকিপারও! চোখ কপালে উঠতে পারে, কিন্তু লর্ডসে হয়েছে এটাই। বোমাটা ফাটিয়েছে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ‘স্পট ফিক্সিংয়ে’ জড়িত থাকার খবর ফাঁস করেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডটি। তুলে এনেছে ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার আরেকটি কালো অধ্যায়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মাজহার মাজিদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সালমান বাট, আমির, আসিফ ও কামরান আকমলকে। সন্দেহের তালিকায় থাকা আরও তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম জানা যায়নি।
‘প্রপার্টি টাইকুন’ মাজিদ খেলাধুলার সঙ্গে বেশ আগে থেকেই জড়িত। তাঁর কোম্পানি ‘ব্লু স্কাই ডেভেলপমেন্টস’ ইংল্যান্ডে বিভিন্ন খেলার বেশ কিছু প্রথম সারির টুর্নামেন্ট পৃষ্ঠপোষণা করেছে। মাজিদের সঙ্গে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের যোগাযোগ অনেক দিন থেকেই। বেশ কিছু ক্রিকেটারের স্পনসর এজেন্ট তিনি। কিছুদিন আগে বুকির ছদ্মবেশে মাজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর প্রতিবেদক।
মাজিদকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ ও স্পট ফিক্সিংয়ের প্রমাণ দিতে বলেন ওই প্রতিবেদক। ১০ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে মাজিদ জানিয়ে দেন নির্দিষ্ট তিনটি নো-বলের কথা। মাজিদ যেভাবে বলেছিলেন, ঠিক ওই সময়েই নো-বল করেন আমির ও আসিফ। প্রমাণ পাওয়ার পর ইংল্যান্ডেই ও দুবাইয়ে আরও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য মাজিদকে আরও দেড় লাখ পাউন্ড দেন প্রতিবেদক। পুরো ঘটনাই ধারণ করা হয় গোপন ভিডিও ক্যামেরায়। ওই প্রতিবেদক, মাজিদ ও বাটের ছবিসহ আরও বেশ কটি ছবিও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। ভিডিওটি দেখানো হয়েছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর তথ্যের ভিত্তিতে জুয়াড়ি সন্দেহে আমরা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছি।’ পাকিস্তানের ম্যানেজার ইয়াওয়ার সাঈদ পরশু রাতে বলেছেন, ‘খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর দু-একজন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। তারা এখন ব্যাপারটা তদন্ত করছে এবং আমরা সর্বতোভাবে তাদের সহায়তা করব। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের কক্ষ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধারের কথাও শোনা গেছে। তবে তা জুুয়াড়িদের দেওয়া নাকি বৈধ টাকা, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। পুলিশি তদন্ত চলছে বলে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইসিসি, ইসিবি ও পিসিবি।
অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আসিফ পরশু রাতে হোটেলে বার্তা সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে বলেছিলেন, ‘ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তারা বলেছে কিছু একটা হয়েছে, তবে কী হয়েছে তা জানায়নি। ম্যানেজমেন্ট পরে আমাদের জানাবে। আমাদের শতভাগ মনোযোগ ম্যাচের দিকে।’ আসিফ পরে জেনেছেন, ‘অজানা’ সেই ঘটনার অন্যতম মুখ্য চরিত্রে ছিলেন তিনি, সতীর্থদের নিয়ে আরও একবার কলঙ্কিত করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটকে।

ক্ষোভ-হতাশা-নিন্দা

নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর ফাটানো বোমায় কেঁপে উঠেছে ক্রিকেট-বিশ্বই। ঘটনা ইংল্যান্ডে, ইংলিশ ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়াই তাই বেশি জানা যাচ্ছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় হতাশা-ক্ষোভ মিলেমিশে একাকার।
ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান অ্যালান ল্যাম্ব বলেছেন, ‘কোনো খেলোয়াড় যদি ধরা পড়ে, তাদের আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে প্রকৃত অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। ক্রিকেটকে এসব লোকের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তাদের আজীবন নিষিদ্ধ করে খেলাটাকে এগিয়ে নিতে হবে।’
কাল সকালে পত্রিকায় খবরটা দেখার পর মনটাই খারাপ হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের। ‘প্রতারিত’ মনে হচ্ছে নিজেকে, ‘স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ সেঞ্চুরির পর আমি উঠে হাততালি দিয়েছিলাম। মাঠের দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় একটা অন্যরকম মুহূর্ত হিসেবে ধরা দিয়েছিল মুহূর্তটা। কিন্তু যখন জানবেন চারপাশে আসলে কী হচ্ছে, মাথার পেছনে চুল দাঁড়িয়ে যাবে। আপনি জানবেন, আপনার আবেগটা কীভাবে প্রতারিত হচ্ছে।’
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে ফ্রেজার বলেছেন, ‘ক্রিকেট এমন একটা খেলা, যেখানে এক দিনে অনেক ঘটনা ঘটে। চাইলে দিনের খেলার ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই সহজ। এমনিতে একটা নো-বল হয়তো তেমন কিছুই না, তবে এতে শুধু হিমবাহের মাথাটাই দেখতে পাচ্ছি আমরা।’
সাবেক দুই ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন আর নাসের হুসেইনও সর্বশেষ এই কেলেঙ্কারিতে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। টুইটারে ভন লিখেছেন, ‘এ মুহূর্তে একটাই অনুভূতি হচ্ছে—প্রচণ্ড রাগ। জানি না কীভাবে এ থেকে বেরিয়ে আসা যাবে...এটা অনেক বড় লজ্জা। আমি খুব মর্মাহত।’ আর স্কাই স্পোর্টস নিউজকে নাসের হুসেইন বলেছেন, ‘একবার মনে হচ্ছে, এটা প্রমাণিত হলে একদিক দিয়ে ভালোই হয়। কারণ এমন অভিযোগ অনেক দিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এখনই হয়তো সময় কিছু একটা করার। উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে খেলাটাকে পরিচ্ছন্ন করার এই-ই হয়তো সুযোগ।’
যে লর্ডস টেস্ট নিয়ে এই বিতর্ক, সেটিতে বড় ব্যবধানে জয়ের পর ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘এমন প্রেক্ষাপটে কেউ টেস্ট সিরিজের শেষ দেখতে চায় না। এটা আমাদের সিরিজ জয় থেকে ঔজ্জ্বল্যটা কেড়ে নিয়েছে।’ স্ট্রাউস তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব ক্ষুব্ধ, ‘কেউ যদি নিশ্চিতভাবেই দোষী প্রমাণিত হয়, আমার সোজা কথা—তাকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে দেওয়া যাবে না।’

ক্ষোভে ফুঁসছে পাকিস্তান

লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কুকর্মের খবর শুনে ফুঁসে উঠেছেন সে দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটারদের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এবার তা আরও জোরালো হলো। দোষী ক্রিকেটারদের আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠছে জোরেশোরে।
পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার ও নির্বাচক ইকবাল কাসিম বলেছেন, ‘এটা বড় একটা ধাক্কা। একটা বড় বিপর্যয়ও।’ অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি, ‘যতটুকু শুনেছি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে “নো” বল করার মতো ফেন্সি ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভালোভাবে তদন্ত করতে হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ, মোহাম্মদ আমির ও কামরান আকমল ঘরোয়া ক্রিকেটে যে দলের হয়ে খেলেন, ইকবাল কাসিম আছেন সেই ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে। তবে কাসিম বলছেন, ‘প্রথমে ব্যাপারটা পাকিস্তানের, এরপর আসবে ওরা কোথায় কাজ করে সেই প্রসঙ্গ। কাজেই অপরাধী প্রমাণিত হলে আগে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, ওরা কোথায় কাজ করে এটি আসবে এর পরে।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
পাকিস্তান ক্রিকেট আর ম্যাচ পাতানো প্রায় সমার্থক হয়ে গেছে অনেক দিন ধরেই। সর্বশেষ এই ঘটনাও অনেককেই বিস্মিত করেনি। এঁদেরই একজন সাবেক পেসার সরফরাজ নওয়াজ বললেন, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে সব সময়ই বলে আসছি আমি। এবার আবারও বলছি, এর সঙ্গে জড়িত খেলোয়াড়দের আজীবন নিষিদ্ধ করতে হবে। ওরা দেশের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছে।’
সাবেক আইসিসি সভাপতি এহসান মানি, সাবেক পিসিবি প্রধান তৌকির জিয়া, পাকিস্তান জাতীয় সংসদের ক্রীড়া কমিটির প্রধান জালাল মোহাম্মদ আলী যেমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তেমনই পাকিস্তানের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও। এহসান মানি বলেছেন, ‘ক্রিকেটের জন্য এটা কলঙ্কিত এক দিন। নব্বইয়ের দশকের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির পর বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে অনেক দিন লেগেছে ক্রিকেটের। আমি শুধু একটা জিনিসই কামনা করি, যে খবরটা বেরিয়েছে সেটা যেন সত্যি না হয়।’