Monday, January 11, 2016
নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে : মির্জা ফখরুল
আজ সোমবার বিকেলে নয়া পল্টনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের উদ্যোগে ‘কলঙ্কিত ১/১১ : সংবিধান ও গণতন্ত্রের দুঃসময়ের কাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ছাত্র দলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলটের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্র দলের সহসভাপতি তারেক উজ জামান, নাজমুল হাসান, ইশতিয়িাক নাসির, আবু আল আতিক আল হাসান মিন্টু, জয়দেব জয়, কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, আবুল হাসান, হাবিবুর রহমান ডালিম, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এক দুঃসময় অতিক্রম করছি। আমাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে আমাদের ছোট ঘরে আলোচনা করতে হয়। টেলিফোন করে চিঠি লেখে আমাদের অনুমতি নিয়ে সভা করতে হয়। আমরা অফিসের সামনে অথবা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইলে অনুমতি লাগবে। এমন গণতন্ত্র আনলেন যে অনুমতি নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হয়।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে নেতা-কর্মীদের প্রযুক্তি সুবিধা নিয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়গুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান ফখরুল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন, তারা বলেন, আগে উন্নয়ন তারপর গণতন্ত্র। সেই পুরনো ইচ্ছা- ১৯৭৫ সালে এই ইচ্ছাকে পুরণ করবার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেছিলেন। ওইভাবে তাদের শাসনব্যবস্থা পোক্ত রাখতে, ধরে রাখবেন। তারা কাছে মানুষের অধিকার, মানুষ স্বাধীনতা, মানুষের গণতন্ত্র পরে।
বর্তমান আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে নিজের পরিবর্তন আনার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদেরও চিন্তা-ভাবনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদেরও কর্মকাণ্ডের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের কর্মসূচির মধ্যেও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রযুক্তির যে অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে, এই যে ছোট একটা মোবাইল ফোন এর মধ্যেই সবকিছু আছে। সুতরাং এই প্রযুক্তিকে আপনাদের ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের কথা, বাক স্বাধীনতার কথা, মানুষের অধিকারের কথা ছড়িয়ে দিতে হবে মানুষের কাছে। পৌঁছিয়ে দিতে হবে আজকে কেনো দেশে দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ফখরুল বলেন, উন্নয়ন কাকে বলে। উন্নয়ন কী শুধু ব্রিজ তৈরি করা তা নয়। উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আনা, মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করা, সে যখন স্বাধীন হয়ে কথা বলতে পারবে, মুক্ত চিন্তা করতে পারবে- সেটাকে বলি আমরা উন্নয়ন।
তিনি বলেন, একদিকে সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। অন্যদিকে যারা উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা কাজ করছেন যেমন কয়েকদিন আগে সিপিডি বলেছে, দেশে বিনিয়োগ নেই। বিনিয়োগ না থাকলে উন্নয়ন কোত্থেকে হবে? উৎপাদন নেই, কর্মসংস্থান নেই। কৃষকরা বলেছেন, তারা তাদের ধানের দাম পাচ্ছেন না। তাহলে উন্নয়ন কোথায়? উন্নয়ন তাদের হয়েছে, যারা মোটা-তাজা হয়েছেন। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে। সেই দুর্নীতির মধ্য দিয়ে তারা (সরকার) উন্নয়ন খুঁজে পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ২৬ ক্যাডারদের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরে তিনি।
১/১১ এর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১/১১ কী ছিলো? কেনো ওই ভয়াবহ দিনটি আমরা স্মরণ করতে চাই। দিনটি ছিলো একটি সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা তাকে ধবংস করে দিয়ে বিরাজনীতিকরণের উদ্যোগ পরাজিত শত্রুরা নিয়েছিলো। দেশ-বিদেশী অনেকগুলো শক্তি দীর্ঘকাল যে ষড়যন্ত্র করছিলো, তারা একত্রিত হয়ে সেদিন ১/১১ ঘটনা ঘটিয়েছিলো। দেশের সংবিধানকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি দিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে পদানত করে গণতন্ত্রকে তিরোহিত করে দিয়ে সেইদিন কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষকে নিয়ে সেনা বাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলো। দুঃখের ও আশঙ্কার ব্যাপার এই যে ওই ১/১১ এর সেই শাসনব্যবস্থাকে আমাদের রাজনীতিবিদরা পরে বৈধ্যতা দিয়েছে। বিচার বিভাগও বৈধ্যতা দিয়েছে। আমাদের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগ তাদের সকল কর্মকাণ্ডকে বৈধ্যতা দিয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি রাজনীতিতে এমপি, মন্ত্রী ছিলেন না। ১/১১ তে তাকে সবচেয়ে বেশি শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। তিনি আজ নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো যিনি রাজনীতি করতেন না, তিনি রাজনীতির ভিকটিম হয়ে চলে গেছেন। আমাদের শত শত কর্মী প্রাণ দিয়েছে, গুলি খেয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, গুম হয়ে গেছে। অনেকে পঙ্গু হয়ে গেছে। এতো রক্তস্রোত বৃথা যেতে পারে না।
১/১১ এর বিরুদ্ধে ওই সময়ে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ও ভুমিকারও কথাও স্মরণ করেন ফখরুল।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আমাদেরকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সঠিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে আমরা অবশ্যই এই ফ্যাসিবাদী সরকার যারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের বাধ্য করতে হবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে, আমাদের অধিকারগুলোকে ফিরিয়ে দিতে। তাদের বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিয়ে জনগনের আশা-আকাংখার প্রতিফলন হয়-এটাই হউক আজকের দিনে আমাদের শপথ। ইনশাল্লাহ গণতান্ত্রিক উপায়ে আমরা অধিকার ফিরিয়ে আনবো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন নামে সংগঠিত হবে জামায়াত
মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের তিনজন নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে৷ তারা হলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জান৷ এছাড়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডও বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত৷ আর জামাতের সাবেক আমির ও ‘থিংক ট্যাংক গোলাম আযম আজীবন কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারেই মারা গেছেন৷ আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন দলটির নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসে সাঈদী৷ ওদিকে জামায়াতের আরেক নায়েবে আমির আবদুস সুবহান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলি ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলামের ফাঁসির দণ্ড এ মুহূর্তে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে৷
এমন অবস্থায় জামায়াতের এখন আর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না৷ তাদের তৎপরতা এখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা ‘প্রেসরিলিজ-এ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে৷ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের নামে এ সব সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হলেও, তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না৷ পাওয়া যায় না টেলিফোনেও৷ দেশের বাইরে থাকা মধ্যম বা তৃতীয় সারির কোনো নেতাও মোবাইল ফোন খোলা রাখেন না৷
শুধু তাই-ই নয়, তাদের কর্মসূচিও এখন নামকাওয়াস্তে৷ প্রথমদিকে জামায়াত নেতাদের শাস্তির পর জামায়াত-শিবির যে সহিংস প্রতিবাদ করেছে, এখন আর তা নেই৷ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতালে কোনো সাড়া মেলেনি৷ এমনকি হরতালে জামাত-শিবিরের কোনো নেতা-কর্মীকেও দেখা যায়নি মাঠে৷
এই পরিস্থিতি ব্যখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, নির্বাচন কমিশনে দল হিসেবে এখন আর জামায়াতের নিবন্ধন নেই৷ সরকারের যে মনোভাব, তাতে হয়ত এ বছরের মধ্যেই জামায়াত দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে বলে মনে হচ্ছে আমার৷ জামায়াতে ইসলামী নামের এই দলটি বাংলাদেশে আর থাকবে না৷ তবে দলের অনুসারীরা থাকবেন এবং তারা নতুন নামে দল গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন৷ তাঁর কথায়, সেই দলটি ২০১৯ সালের নির্বাচনেও অংশ নেবে৷ তারা কীভাবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. তারেক বলেন, সেই প্রক্রিয়া কেমন হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়৷ তবে আমার জানা তথ্য মতে, নতুন নেতৃত্বের জন্য জামায়াতের তরুণরা কাজ করছেন৷ জামায়াতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জানতে কারাগারের বাইরে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা তো দূরের কথা, জামায়াতের জেলা পর্যায়েরও কোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন দেশে-বিদেশে by তাইছির মাহমুদ
চাচাতো ভাই শাহেদ স্থানীয় ছাত্রলীগের একজন মাঝারি কিসিমের কর্মী। বয়স আঠারোর বেশি হয়নি এখনও। সে-ও আলোচনায় যোগ দিল। নিজের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলল- ভাই, এটা কি একটা নির্বাচন? আমি একাই ৭০টি ভোট দিয়েছি। আর বড় ভাই বললেন, তিনি ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দেখেন, তার ভোটটি এরই মধ্যে দেয়া হয়ে গেছে। তিনি যখন কেন্দ্রে পৌঁছলেন তখন তাকে দেখে বন্ধু-বান্ধবরা অট্টহাসি দিয়ে বলল, কষ্ট করে আসার কী দরকার ছিল? আমরা তো আছি।
৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের গল্পের বোধহয় শেষ নেই। ওই নির্বাচন কেমন ছিল- সাত সমুদ্র তেরো নদীর এপারে থাকলেও আমরা সবই জেনেছি। সংবাদপত্রে তো বটেই, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার বদান্যতায় প্রকাশ্যে ভোট জালিয়াতির দৃশ্য দেখে লজ্জায় মুখ ঢাকতে হয়েছে। এ কেমন নির্বাচন? পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারকে জিম্মি করে একের পর এক ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢোকানোর দৃশ্য এখনও চোখের সামনে ভেসে আছে। মনে আছে, ওই সময় সেন্ট্রাল লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে এক ইংলিশ সাংবাদিকের কাছে লজ্জা পেতে হয়েছিল। আমার প্রতি ব্যঙ্গ প্রশ্ন ছুড়ে বলেছিলেন- তোমাদের দেশে কি এভাবে ভোট হয়? আমার তখন কোনো জবাব ছিল না।
কী জবাব দেব? কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় ব্রিটেন। এখানে কেউ জাল ভোট দেয়ার কিংবা নেয়ার চিন্তাই করতে পারে না। জাল ভোট শব্দের সঙ্গে ব্রিটিশরা মোটেও পরিচিত নন। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সারা দিন একজন-দুইজন করে এসে ভোট দিয়ে যায়। আর বৃষ্টি হলে ভোট কেন্দ্র থাকে অনেকটাই ফাঁকা। ভোট কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়িয়ে দু-চারজন এজেন্টকে তাদের প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিলি করতে দেখা যায়। এছাড়া সেখানে অন্য কোনো মানুষই পাওয়া যায় না। মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করে। ভোট কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামার ভয়ে পুলিশ ডাকতে হয়েছে- এমন কোনো খবর কখনও শুনিনি। আর বাংলাদেশে তো ভোট একটা উৎসব। তাছাড়া জাল ভোটের মহোৎসব চলে সব আমলেই। বিএনপির আমলে ধানের শীষেই সর্বাধিক ভোট পড়ত। আর আওয়ামী লীগ আমলে নৌকা ভর্তি করে দেশবাসী ভোট দেয়। এ ছিল তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগের ও তা বাতিল হওয়ার পরের বাংলাদেশের নির্বাচনী হালচাল।
প্রায় দুই যুগ আগের ঘটনা। একবার স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে এক মেম্বার প্রার্থীর পোলিং এজেন্টের দায়িত্বে ছিলাম। তখন আইডি কার্ড বলতে কিছু ছিল না। তাই এজেন্টদের প্রধান কাজ ছিল ভোটারদের শনাক্ত করা। প্রথমদিকে আমরা সব এজেন্টই বাধাহীন দায়িত্ব পালন করছিলাম। কিন্তু বিকালের দিকে দেখা দেয় চরম বিপত্তি। দেখতে পাই ভোটার তালিকায় এক ব্যক্তির নাম, কিন্তু ভোট দিতে এসেছেন অন্যজন। ভোটার লিস্টের নামের সঙ্গে ভোটারের নামের মিল নেই। ভোটার তালিকার নামের ব্যক্তি বিদেশে থাকেন। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ভোটারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন। এভাবে যখন চার থেকে পাঁচজনকে বের করে দেয়া হল তখনই দেখা দিল বড় সমস্যা। গ্রামের একজন মাতবর ভোট কেন্দ্রের দরজায় দাঁড়িয়ে হুমকি দিয়ে গেলেন, আর কোনো ভোটারকে আটকালে তিনি আমাকে দেখে নেবেন। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ ভোট কেন্দ্র ভর্তি লোকজন। প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা রয়েছেন। আশপাশে পুলিশও আছে। কেউ কিছুই বলল না। ভাবলাম ঝুঁকি নিয়ে লাভ কী। নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তো আর লাভ নেই। এরপর থেকে নিশ্চুপ থাকলাম। একের পর এক জাল ভোট দেয়া চলল। বিদেশে থাকা গ্রামের যুবকদের কোনো ভোটই বাকি থাকল না। সব ভোটই দেয়া হয়ে গেল।
ভোট গ্রহণের সময় শেষ হয়ে এলে আর কোনো ভোটার না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের এক প্রার্থীর এজেন্ট উঠে গিয়ে অবশিষ্ট ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দিলেন। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম। দেখলেন প্রিসাইডিং অফিসার ও অন্য কর্মকর্তারা। বিকালে ভোট গণনা শুরু হল। দেখা গেল ক্ষমতাসীন দলের মদদপুষ্ট প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
এই ছিল নির্বাচনী কাজে দায়িত্ব পালনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। তখনকার সময় প্রচারমাধ্যম বলতে বিটিভি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। আজকের দিনের মতো সোস্যাল মিডিয়া ছিল না। সংবাদপত্র ছিল হাতেগোনা। তাই নির্বাচনে কী ধরনের জালিয়াতি হতো ভেতরে না থাকলে বাইরে থেকে বুঝা মুশকিল ছিল।
এখন জালিয়াতি দেখার জন্য ভোট কেন্দ্রের ভেতরে থাকার প্রয়োজন হয় না। বিশ্বের যে কোনো দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে আয়নায় যেভাবে মুখ দেখা যায় সেভাবেই ভোট জালিয়াতির দৃশ্য দেখা যায়। যেমন দেখলাম ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনে। পুলিশের সহযোগিতায় পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে একের পর এক নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করে দেয়া হচ্ছে। এক মেয়র প্রার্থীকে পিটিয়ে আধমরা করে ছাড়ার ঘটনাতো সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
একাত্তর টিভির সিলেট ব্যুরো চিফ ইকবাল মাহমুদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভায়। দুপুরে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তাদের টিমকে ঘিরে ফেলে সরকারি ছাত্র ও যুব সংগঠনের শত লোক। তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। সাহায্য চেয়ে পুলিশের কাছ থেকে জুটে ভর্ৎসনা। ওসি পরিচয়ে একজন তাদের শাসিয়েছেন। ক্যামেরা বন্ধ করে তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর কোনোমতে সেখান থেকে অক্ষত ফিরতে পেরেছেন তারা। এ নিয়ে ফেসবুকে ইকবাল মাহমুদের দেয়া জবানবন্দি সাড়া ফেলেছে।
যমুনা টিভির একটি লাইভ রিপোর্টে দেখা গেছে, একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে গ্রামের অর্ধশতাধিক তরুণ সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ভোট প্রদানের জন্য। তাদের কাছে কোনো আইডি কার্ড নেই। রিপোর্টার তাদের পিতার নাম জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, জবাবে কেউই তাদের পিতার নাম বলতে পারেনি।
টিভি সাক্ষাৎকারে এক নির্বাচন কর্মকর্তার অসহায়ত্ব দেখে নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে। তিনি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলছিলেন, আপনারা তো দেখছেনই। প্রশ্ন করে বিপদে ফেলবেন না প্লিজ। আমাকে জান নিয়ে বাড়ি ফিরতে দিন।
নির্বাচন কর্মকর্তা কেন এ কথা বলছেন- তার কি ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন আছে? তিনি নিশ্চয়ই মনের সুখে কথাটি বলেননি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-পাতিনেতাদের হুমকির মুখে তাকে ভোট কেন্দ্র ছেড়ে দিতে হয়েছে। হ্যাঁ, সত্যিই তো। জান বাঁচানোই ফরজ। সুষ্ঠু নির্বাচনের চেয়ে নিজেকে বাঁচানো জরুরি। পুলিশকেও চাকরি রক্ষা করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে চাকরি চলেও যেতে পারে।
অবাধ জাল ভোট আর কেন্দ্র দখলের পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার রকিবউদ্দীন বলেছেন নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। হ্যাঁ, তিনি তো বলবেনই। কারণ ঘুমন্ত মানুষকেই শুধু জাগানো যায়। জাগানো মানুষকে জাগানো যায় না। তিনি তো জেগেই ঘুমাচ্ছেন। দেশবাসী জানে তিনিও অসহায়। কিন্তু সেটা তিনি বলছেন না চাকরিচ্যুতির ভয়ে। চাকরি চলে গেলে উপোস মরবেন, তাই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেও বলছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের স্বার্থে দেশের ১৬ কোটি মানুষের কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার চেয়ে সিইসির চাকরি ছেড়ে উপোস থাকাটাই তার জন্য কি সম্মানের ছিল না?
তাইছির মাহমুদ : সম্পাদক, দৈনিক দেশ, লন্ডন
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন বছরে অর্থনীতির জন্য রয়েছে ৫ চ্যালেঞ্জ : ড. জাহিদ হোসেন by মনির হোসেন ও মামুন আব্দুল্লাহ
ড. জাহিদ হোসেন : গত বছরের প্রথম ৩ মাসে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা চলে অচল ছিল। এ বছর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা কিছুটা কম। তবে তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কিনা এর নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। অর্থাৎ দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিনিয়োগে গতি সঞ্চার হচ্ছে না। আগামীতে অর্থনীতির জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ।
বিনিয়োগের হার জিডিপির ৩৪-৩৫ শতাংশে নিয়ে যেতে না পারলে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির হার অর্জন হবে না। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিনিয়োগের হার ২৮ শতাংশ। বিনিয়োগেই এই গ্যাপ পূরণ করতে হবে। এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো ছিল, তা এখনও রয়ে গেছে। এজন্য বিনিয়োগের হার ৩৪ শতাংশে উঠে যাবে এমন ‘কনভিনসিভ এভিডেন্স’ বা বাস্তবসম্মত কোনো কারণ নেই। অর্থাৎ বিনিয়োগের সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি।
যুগান্তর : ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের বাধা কী?
ড. জাহিদ হোসেন : অনিশ্চয়তার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ঘাটতিতে অবকাঠামোগত দুর্বলতা আরেকটি চ্যালেঞ্জ। যা বাংলাদেশে এখনও প্রকট। ভিয়েতনামসহ বিশ্বের অন্য প্রতিযোগী দেশগুলো এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে আছে। এ কারণে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে সব সময়ই পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে যেসব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল তা এখনও বহাল আছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে এখনও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি তো আছেই। এছাড়া ব্যক্তি খাতের বড় বিনিয়োগ ভূমি সমস্যাও রয়েছে।
দেশের ভেতরে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে, কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি। যে কোনো সময় রাজনীতি অস্থিতিশীল হবে না এমনটা কেউ বলতে পারে না। কারণ ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারিও কেউ ভাবেনি, পরবর্তী ৩ মাস দেশ অস্থির থাকবে। ছোট একটি ইস্যুতে আন্দোলন শুরু হয়ে দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। এখনও ওই নিশ্চয়তা আছে। ১৯৯০ সালের পর একটি প্রবণতা ছিল ৫ বছর পরপর দেশ চালানোর একটি নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দল ক্ষমতায় আসবে। যারা হেরে যাবে, তারা বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কিন্তু ৩ মাস পর ঠিক হয়ে যাবে। এরপর টানা ৪ বছর স্থিতিশীল থাকবে দেশ। পঞ্চম বছরে এসে হরতাল-অবরোধ শুরু হবে। এটা বিনিয়োগকারীসহ দেশের সবার ধারণায় ছিল। কিন্তু দেশ এখন আর ওই অবস্থায় নেই। ২০১৯ সালেও নির্বাচন হলে সেটি কেমন নির্বাচন তা আমরা জানি না। বিরোধী দল সেটি মেনে নেবে কিনা। অথবা নির্বাচন নিয়ে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সবকিছু নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইবে কিনা সেটি বিবেচ্য বিষয়।
যুগান্তর : বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে আগামীতে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে?
ড. জাহিদ হোসেন : বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটও বাংলাদেশের আগামী অর্থনীতিকে কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীর অন্য অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থা ভালো নয়। বেশ কিছু সময় ধরে ইউরোপে খারাপ অবস্থা চলছে। খুব শিগগিরই তা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গ্রিস নিয়ে সমস্যায় পড়েছে পুরো ইউরোপ। এসব দেশের উৎপাদন কমছে। ফলে জ্বালানি চাহিদাও কমে আসছে।
আর বৈশ্বিক মন্দার কারণে এ বছরের রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা কমে এসেছে। যদিও গত বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু রেমিটেন্স প্রবাহ সে অনুসারে বাড়েনি। এর মানে হল- শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও শ্রমিকের মাথাপিছু আয় কমেছে বা বাড়েনি। জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। আরও কমতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতিসহ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাবে।
যুগান্তর : মিশ্র অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে আগামীতে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে?
ড. জাহিদ হোসেন : চীনের অর্থনীতির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে গড়ে দশমিক ৩ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। এটি বাংলাদেশে রফতানি আয়ের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ ইউরোপ-আমেরিকার পর নিজেদের তৈরি পোশাকের জন্য চীনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চীন তাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এর মানে হল- চীনের অর্থনীতিতে গতি না বাড়লে রফতানি বাজার কাঙ্ক্ষিত হারে সম্প্রসারণ হবে না। আর বিশ্ববাজারে তেলের দাম অব্যাহতভাবে কমছে।
যুগান্তর : আর্থিক খাতে সরকারের আয়ের বড় উৎস রাজস্ব আদায়। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকতে পারে- এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
ড. জাহিদ হোসেন : ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহল থেকে চাপও সৃষ্টি হয়েছে। পুরনো আইন দিয়ে ২০১৬ সালের ব্যবসা-বাণিজ্য চলে না। ব্যবসায় নতুন অনেক ডাইমেনশন এসেছে। এসব বিষয় ভাবতে হবে। নতুন কোম্পানি আইন, ভ্যাট আইন, কাস্টম আইন ও বিএসটিআই সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু আগামীতে এগুলো বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
যুগান্তর : টিপিপিতে (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) যেসব দেশের নাম শোনা যাচ্ছে তার অন্যতম ভিয়েতনাম। এ দেশটি তৈরি পোশাক রফতানি খাতে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগী। এ দেশটি শূন্য শুল্কে রফতানির সুবিধা পেলে বাংলাদেশের জন্য কী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে?
ড. জাহিদ হোসেন : ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাংলাদেশের জন্য একটি মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। ভিয়েতনামসহ অন্য প্রতিযোগী দেশগুলো এমনিতেই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। এই চুক্তির ফলে তারা আরও সুবিধা পাবে এবং তা কাজে লাগানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে। বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করার জন্য ২৪ থেকে ৩৬ মাস সময় পাবে। কারণ আমেরিকার আসন্ন নির্বাচনের আগে এই চুক্তি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে বাংলাদেশকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। শর্তপূরণ করে জিএসপি ফিরিয়ে আনতে হবে।
যুগান্তর : বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল আর্থিক খাতে সুশাসনের অভাব। আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. জাহিদ হোসেন : গত দুই-এক বছরে আর্থিক খাতে বড় কেলেংকারি বা ঋণখেলাপির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তা হওয়ার আর কোনো আশংকা নেই। ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। প্রতিরোধে কিছুটা শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অনিয়মের জন্য দায়ীদের মধ্যে ছোট ছোটদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও রাঘব-বোয়ালরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। ফলে এই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে খুব একটা লাভ হবে না। ভবিষ্যতে আবার ঘটতে পারে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রাঘব-বোয়ালদের কিছু হচ্ছে না। কে বা কারা এই কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত তা চিহ্নিত। কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার বাড়ছে। কারা এই অর্থ পাচার করছে তা সবার জানা। শীর্ষ আমদানি-রফতানিকারকদের মধ্যে এরা রয়েছেন। কারণ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, টাকা পাচারের বড় অংশ ওভার ইনভয়েসিং (আমদানি পণ্যের দাম বেশি দেখানো) এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের (রফতানিতে পণ্যের দাম কম দেখানো) মাধ্যমে করা হয়েছে।
যুগান্তর : সরকার বলছে অর্থনীতির জোন তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়বে। এ উদ্যোগ আমাদের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?
ড. জাহিদ হোসেন : আগামীতে বাংলাদেশে অর্থনীতির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। কিন্তু ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের জন্য স্পেশাল ইকোনমিক জোন নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। চার লেন রাস্তা নির্মাণসহ গৃহীত বড় বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে হবে।
বিদেশীদের অর্থনৈতিক জোনের কথা শুধু মুখে বললেই হবে না। তা নির্মাণে গতি আনতে হবে। এছাড়া ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের বাস্তব রূপ দিতে হবে। আর্থিক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
যুগান্তর : বিভিন্ন মহল থেকে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বলা হচ্ছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ড. জাহিদ হোসেন : জ্বালানি তেলের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে সমন্বয়ের সময় এসেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ভর্তুকি বা লোকসান পুষিয়ে নেয়ার অজুহাতে দাম না কমানো অযৌক্তিক। আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড পরিমাণ দাম কমে এসেছে, সামনের বছরও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারের মূল্য সমন্বয় করার এখনই উপযুক্ত সময়।
জ্বালানি তেল নিয়ে কথা বলছে সরকার। বলা হচ্ছে বিপিসির ৩০ হাজার কোটি টাকা লোকসান রয়েছে। এই লোকসান কাটিয়ে ওঠার পর দাম সমন্বয় করা হবে। এটা কোনো যুক্তি নয়। কারণ বিপিসির লোকসান হওয়ার কথা নয়। কারণ প্রতি বছর সরকার বিপিসিকে ভতুর্কি বাবদ টাকা দেয়া হয়। এটি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত। এসব টাকা জনগণের করের টাকা। যা খরচ হিসাবে দেখানো হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির দেনা থাকবে কেন? দাম সমন্বয়ের জন্য একটি নীতিমালা জরুরি। এটি সরকারের জন্য সহায়ক। নীতিমালাতে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করলে দেশীয় বাজারে সমন্বয় করা হবে কীভাবে। যদি এখন সরকার দাম সমন্বয় না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক বেশি বাড়লেও দেশীয় বাজারে বাড়ানো কঠিন হবে।
যুগান্তর : চলতি বছর সরকারের অন্যতম ব্যয়ের খাত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন। অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক বা নেতিবাচক কী প্রভাব পড়বে?
ড. জাহিদ হোসেন : বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে জিডিপিতে সরাসরি প্রবৃদ্ধি দশমিক ৯ শতাংশ যুক্ত হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কমালে তা জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেবে। মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমবে। যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে এখনও বেশি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জনগণই আমার জীবন’ by ড. আবু সাইয়িদ
২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তীব্রতর হতে থাকে। বিশ্বজনমত সংগঠিত হতে থাকে। ৪ ও ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনায় নিক্সনের প্রস্তাব ছিল যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহার। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সরাসরি বলেন, বাংলাদেশ সংকট সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। মিসেস গান্ধী স্পষ্টভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নকে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের সংকটকে তিনি আর ঝুলিয়ে রাখতে চান না। পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করলে মিত্রবাহিনী একযোগে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।
৩. ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ২০ ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইয়াহিয়াকে সরে যেতে হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা দখল করেন। কারাগার থেকে স্থানান্তরিত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ভুট্টো দেখা করেন। পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানকে ন্যূনতম শিথিল শর্তে এক রাখার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু মুজিব কোনো কথাই বললেন না। চুপ করে থেকে শুধু বললেন, ‘আমর জনগণই আমার প্রাণ। আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না। আমাকে হত্যা করলে আমার লাশটা বাংলার মাটিতে পাঠিয়ে দেবেন। তারা আমায় বড্ড ভালোবাসে। জনগণের কাছে না শুনে আমি কিছুই বলতে পারব না। জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তার দিকে এগিয়ে দেয়া একটি যৌথ ইশতেহার প্রত্যাখ্যান করলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বললেন, ‘আমি কি এখন দেশে যেতে পারি?’ ভুট্টো বললেন, ‘হ্যাঁ, যেতে পারেন। কিন্তু কীভাবে যাবেন? পাকিস্তানের পিআইএ ভারতের ওপর দিয়ে যায় না।’ শেখ মুজিব বললেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি লন্ডন হয়ে যাব।’ ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিব পিআইএ’র একটি বিশেষ বিমানে ওঠার আগে জুলফিকার আলী ভুট্টো তার দিকে ৫০ হাজার ডলার হাত খরচের জন্য দিতে চাইলে বঙ্গবন্ধু বলেন এটি চার্টার বিমানের জন্য আপনি রেখে দেন। এমনি ছিল তার আত্মমর্যাদা ও উন্নতশির। তিনি লন্ডনের উদ্দেশে অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা করেন।
অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ : ৭২ খসড়া সংবিধান প্রণেতা, গবেষক ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি না পেলে পণ্য ও সেবা বাড়ে না by এম এ খালেক
এখন অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে যে, শ্রমিকের চাহিদা পূরণের মাধ্যমেই তাকে দিয়ে ভালো কাজ করিয়ে নেয়া সম্ভব। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বর্তমানে শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণের জন্য নানারকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আধুনিক অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শ্রমিক-কর্মচারী যারা তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত তাদের অভুক্ত রেখে বা তাদের চাহিদা অপূর্ণ রেখে কখনোই ভালো কাজ আশা করা যায় না। কারণ অভুক্ত মানুষের কাছ থেকে কখনোই নৈতিকতা আশা করা যায় না। আর যার মাঝে নৈতিকতার অভাব থাকবে তিনি যে কোনো অন্যায় কাজ করতে পারেন। তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা আশা করা বাতুলতা মাত্র। এছাড়া উদ্বেগ নিয়ে একজন কর্মী কখনোই সর্বোচ্চ মাত্রায় উৎপাদনশীলতা প্রদর্শন করতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে ডে-কেয়ার সেন্টারের বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে। উন্নত দেশে অনেক আগে থেকেই ডে-কেয়ার সেন্টার সিস্টেম চালু আছে। আমাদের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকেই মনে করতে পারেন, কোনো কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের অর্থই হল অকারণে ব্যয় বৃদ্ধি করা। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের কল্যাণমূলক বিনিয়োগ। ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হলে সেই প্রতিষ্ঠানের মহিলা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ একজন মহিলা কর্মী তার ছোট বাচ্চাকে বাড়িতে রেখে এসে কখনোই কাজে মন লাগাতে পারবেন না। সব সময় বাচ্চার নিরাপত্তা নিয়ে তাকে উদ্বিগ্ন থাকতে হবে। এ অবস্থায় তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা কোনোভাবেই পাওয়া যাবে না। যে প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার আছে এবং যে প্রতিষ্ঠানে তা নেই, উভয় প্রতিষ্ঠানের মহিলা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা একই রকম হতে পারে না।
স্মর্তব্য, শুধু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে অথবা অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হলেই একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা উৎপাদন বাড়বে সবসময় তা আশা করা যায় না। পণ্য ও সেবা উৎপাদন বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সাধারণভাবে মানুষের ভোগপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং সেই ভোগ মেটানোর জন্য আর্থিক সঙ্গতি থাকা। একটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব যদি বেশি হয় এবং সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে জনগণের পর্যাপ্ততা থাকে এবং মানুষের ভোগের প্রবণতা এবং সামর্থ্য বৃদ্ধি পায় তাহলে পণ্য ও সেবার জোগান বৃদ্ধি পেতে বাধ্য। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ১৬ কোটির মতো। উন্নত বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে যাদের তিন-চারটি দেশের মোট জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে কম। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভোগের প্রবণতা এবং ভোগের জন্য ব্যয়ের সামর্থ্য উভয়ই বেড়েছে। আগেকার দিনে সাধারণত শহরের মানুষের মাঝে ভোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যেত। কারণ তাদের ভোগ ব্যয়ের সামর্থ্য ছিল বেশি। তুলনামূলকভাবে গ্রামীণ জনগণের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। তারা দিন এনে দিন খেত। বিলাসিতা করার সুযোগ তাদের ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এখন গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থা বেশ উন্নত হয়েছে। তারা শহুরে কালচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। মূলত দৃশ্যমান দুটি কারণ গ্রামীণ জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নয়নে সহায়তা করেছে। প্রথমত, গ্রামের মানুষের মাঝে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এমন কোনো গ্রাম সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দুই থেকে চারজন বিদেশে কর্মসংস্থান করছে না। তারা প্রচুর পরিমাণে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। স্থানীয় বেনিফিসিয়ারিরা এ রেমিটেন্সের টাকায় বিলাসিতা করছে। তারা বিত্ত-বৈভব বৃদ্ধি করে চলেছে। গ্রামের মানুষও এখন শহুরে জীবনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। এমন কোনো গ্রাম সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে কোনো বাড়িতেই রঙিন টিভি-ফ্রিজ নেই। অনেক গ্রামেই এখন সনাতনী পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে হাল চাষ হচ্ছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের কল্যাণে। যারা বিদেশে কর্মসংস্থান করছে তাদের বেশিরভাগই গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। কোনো একজন বিদেশে কর্মসংস্থান করতে পারার অর্থই হচ্ছে তার আর্থিক এবং পারিবারিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হওয়া। গত অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছে। এর বেশিরভাগই গ্রামীণ অর্থনীতিতে সঞ্চালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হচ্ছে রেমিটেন্স। রফতানি আয় থেকে আসছে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু রফতানি আয় থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসছে তার সবই জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে না। কারণ রফতানি খাতে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় তার একটি বিরাট অংশই কাঁচামাল আমদানিতে চলে যায়। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশীরা যে অর্থ প্রতি বছর দেশে পাঠান তার পুরোটাই জাতীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো অর্থের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগই গ্রামীণ অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এ দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ বিদেশে কর্মরত আছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে বেকার সমস্যার কিছুটা হলেও নিরসন হয়েছে। দেশের একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আগে শহর থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালিত হতো। আর এখন গ্রাম থেকে আসা অর্থ শহরের অর্থনীতিকে মজবুত করছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে তা হল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক রূপান্তর। আগেকার দিনে গ্রামের মানুষ সাধারণত নানা ধরনের ফসল ফলানোর দিকেই বেশি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখত। এমনকি তারা শুধু ধান চাষের প্রতিই আগ্রহী ছিল। আরও কোনো ফসল যে ধানের চেয়ে লাভজনক হতে পারে তা তারা ভাবতে পারত না। অর্থাৎ ক্রপ ডাইভার্সিফিকেশনের প্রতি তারা ছিল অনেকটাই উদাসীন। গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থায় অন্তত ৩১ ধরনের ফসল উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও ধান উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৫ ভাগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ উৎপাদন ব্যবস্থায় এক ধরনের বিপ্লব সাধিত হয়েছে। এখন গ্রামের মানুষ আর শুধু ধান উৎপাদনে নিজেদের কর্ম-প্রচেষ্টা সীমিত রাখছে না। তারা নানা ধরনের ছোট ছোট কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। হাঁস-মুরগির খামার, মাছের খামার, গরু-ছাগলের খামার এখন যে কোনো গ্রামে গেলেই চোখে পড়ে। অনেকেই তাদের বাড়ির আঙ্গিনা, যা আগে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকত তাকে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ বা গরু-ছাগল পালনের খামারে পরিণত করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে মূলত সেটাই জাতীয় অর্থনীতির চাকা চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। গ্রামীণ জনগণের উৎপাদনশীলতা এবং সামর্থ্য নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ের সুযোগ নেই। স্বাধীনতার পর যেখানে বাংলাদেশের মানুষ ছিল সাড়ে ৭ কোটি সেখানে এখন মানুষ বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি। তখন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হতো ১ কোটি মেট্রিক টনের মতো। বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হচ্ছে। যদিও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি অনেকটাই কমে গেছে।
বর্তমান সরকার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, বিশেষ করে কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সিডিউল ব্যাংকগুলোকে চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১১ ভাগ সুদে কৃষকের এ ঋণ পাওয়ার কথা। কিন্তু একই আইনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো যদি মাইক্রো ফিন্যান্স ইনস্টিটিউটের (এমএফআই) মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করে তাহলে সেক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো ১১ ভাগ সুদ চার্জ করতে পারবে। এমএফআইগুলো মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্দেশিত সুদ হার এবং অন্যান্য শর্ত অনুসরণ করে এ ঋণ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করবে। এমআরএ’র নির্ধারিত সুদ হার হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৭ ভাগ। এনজিওরা ব্যাংক থেকে ১১ ভাগ সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ নিয়ে কৃষক পর্যায়ে তা ২৭ ভাগ সুদে বিতরণ করছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের কষ্ট লাঘব এবং টার্গেট পূরণের স্বার্থে এনজিও’দের মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি সত্যি কৃষকের উন্নয়ন চায়, বিশেষ করে তুলনামূলক স্বল্প সুদে কৃষকদের ঋণ দিতে চায় তাহলে, ব্যাংকের মতোই এনজিওদের ক্ষেত্রে কৃষি ঋণের সুদেও সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ করে দিতে পারে। অন্যথায় কৃষক কৃষি ও পল্লী ঋণ গ্রহণ করতে গিয়ে উচ্চ সুদ চক্রে আবদ্ধ হতে পারে; যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
এমএ খালেক :অর্থনীতি বিষয়ক কলাম লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘুরে এলাম শেখ হাসিনার বাংলাদেশ by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
এটার ভালো দিক হল, বাংলাদেশকে একটা নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে তুলে আনতে যে সবল ও সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন, শেখ হাসিনা সেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বিশ্বব্যাংক বা আমেরিকার ভ্রুকুটিকে গ্রাহ্য করেননি। আবার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ দমন এবং পদ্মা সেতুর নির্মাণেও পিছপা হননি। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সব পারে। সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সে এগিয়ে যাওয়ার সাহস রাখে। এই আত্মবিশ্বাসটা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে দিয়েছেন। এজন্য বলা চলে একুশ শতকের নতুন বাংলাদেশের নির্মাতা শেখ হাসিনাই। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশকে বলা চলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।
এ অবস্থার ভালো-মন্দ দু’দিক আছে। আগেই বলেছি, এমন সবল ও একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো সাহসী নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশ একটি অকার্যকর দেশ হয়ে উঠত। কিন্তু এই নেতৃত্বের একক হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার একটা বিপদ এই, কোনোভাবে এই নেতৃত্বকে হঠাৎ ধ্বংস করা গেলে তার সাফল্যের গোটা সৌধটিই ভেঙে পড়বে। তাকে রক্ষা করার জন্য যে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকআপ দরকার তা তার থাকে না। প্রশাসন তো চিরকালই সুবিধাবাদী এবং উদিত সূর্যের পূজারি।
এবার দেশের মানুষের মধ্যেও এই আশা-আশংকার দোলাচল আমি লক্ষ করেছি। দেশের জন্য অসম্ভব সব উন্নয়নকার্যে হাত দিয়ে হাসিনা সফল হচ্ছেন। তাতে মানুষের মুখে তার জয়ধ্বনি। কিন্তু তার রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি আওয়ামী লীগ নামে যে সংগঠন তা জনপ্রিয়তা অর্জনে তেমন এগোতে পারেনি। সাধারণ মানুষের বৃহত্তর অংশের মধ্যে একটা নেগেটিভ মনোভাব আছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে। বিএনপি রাজনীতিতে এখন ধস নেমেছে। তবু ভবিষ্যতে বিএনপি যদি কোনো নির্বাচনে জেতে, তা জিতবে নেগেটিভ ভোটে। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী, এমনকি সরকারে আসন গ্রহণকারী মন্ত্রী ও এমপিদের অনেকের সম্পর্কেও সত্য-মিথ্যা নানা অভিযোগ মানুষের মনে। এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করার ব্যাপারে শক্তিশালী প্রচারযন্ত্র নেই আওয়ামী লীগের। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ যতটা শক্তিশালী, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে ততটাই দুর্বল।
কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তি যদি দুর্বল থাকে, তাহলে সেখানে সামরিক ও অসামরিক ব্যুরোক্রেসি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই ব্যুরোক্রেসির মাথায় ছাতা ধরে চরিত্রহীন নব্যধনীর দল। বাংলাদেশে এখন তাই ঘটেছে অথবা ঘটতে চলেছে। সমাজের আগের মূল্যবোধগুলো ধ্বংস হয়েছে। নতুন মূল্যবোধ গড়ে ওঠেনি। বরং অর্থের বিনিময়ে যে কোনো মূল্যবোধের বেচাকিনি চলে। শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থা সর্বত্র এই মূল্যবোধহীনতার ছাপ পড়েছে। ফলে হাসিনা সরকারের আমলে দেশের যে চমৎকার অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটেছে, তা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করতে পারেনি।
সামাজিক অবক্ষয় দ্রুত হওয়ায় মানবতাবোধ, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে যে শূন্যতা বাড়ছে, তা পূরণ করছে ধর্মান্ধতা এবং জঙ্গি মৌলবাদ। এ ঘাতক জঙ্গিদের মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণের মাত্রাতিরিক্ত ঝোঁক দেখে মনে হয় দেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে কোনো গণতান্ত্রিক দলই আদর্শবাদের কোনো দিশা দেখাতে পারেনি। ফলে তারা দিশাহীন হয়ে টেরোরিজমের দিকে ঝুঁকছে। গত শতকের গোড়ায় অবিভক্ত বাংলায় তরুণ প্রজন্ম দেশপ্রেমের তাড়ায় টেরোরিস্ট হয়েছিল। তারা অনেকেই সাহসের সঙ্গে আত্মদান করেছেন। বর্তমান শতকে স্বাধীন বাংলাদেশে যে টেরোরিজমের আবির্ভাব ঘটেছে, তার পেছনে কোনো আদর্শবাদ নেই। আছে ধর্মান্ধতা। আছে জঙ্গিবাদের আন্তর্জাতিক চক্রের আর্থিক ও অন্যান্য পৃষ্ঠপোষকতা। এরা নিরীহ, নির্দোষ মানুষ হত্যায় আনন্দ লাভ করে।
এই জঙ্গিবাদ দমনেই হাসিনা সরকার সময় ও শক্তি অধিক ব্যয় করছে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সামাজিক নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলার ব্যাপারে তার সরকার এখনও ততটা এগোতে পারেনি। বরং তার দল, সহযোগী ছাত্র ও যুব সংগঠন দারুণভাবে এই অবক্ষয় দ্বারা আক্রান্ত। ফলে সরকারের রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি খুব সুদৃঢ় নয়। হঠাৎ পাল্টা বাতাসের ধাক্কায় এই ভিত্তি সামলানো যাবে কিনা সে সন্দেহ অনেকের মনে আছে। অনেকে আবার মনে করেন, বিএনপির শিবিরে বর্তমানে যে বেহালদশা, তাতে এ দলটি শিগগির আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অনুমানটি হয়তো সঠিক। কিন্তু বিপদ বিএনপিকে নিয়ে নয়। খালেদা-তারেকের রাজত্বের দিন না হয় শেষ হয়ে গেল। কিন্তু তাদের পেছনে যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তি খাপ মেরে আছে, তারা সুযোগ পেলে নতুন চেহারায়, নতুন স্লোগানের হাতিয়ার নিয়ে আবির্ভূত হতে পারে। এই আশংকাবোধ করার জন্য যে রাজনৈতিক শক্তির যূথবদ্ধতা দরকার, আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের সরকার তা ঘটাতে পারছে না।
একদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অন্যদিকে তার সহযোগী দেশের ছোট-বড় বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর অসহায় রাজনৈতিক অবস্থান হাসিনা সরকারের বর্তমান সুদৃঢ় অবস্থাসত্ত্বেও অনেককে ভাবিত করে। এবারে পৌরসভার মেয়র নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মহাজোটের মহাবিপর্যয় এই দলগুলোর রাজনৈতিক শক্তিহীনতারই প্রমাণ দেয়। আওয়ামী লীগ অবশ্য বিরাট জয়ের অধিকারী হয়েছে। কিন্তু এই জয় সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের কোনো গ্যারান্টি নয়। ব্রিটেনেও দেখা গেছে, কোনো দল স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে জিতে সাধারণ নির্বাচনে বিরাটভাবে হেরে গেছে। পৌরসভায় নির্বাচনে জয়লাভের দ্বারা আওয়ামী লীগ অতিমাত্রায় কমপ্লাসেন্ট হলে দারুণ ভুল করবে।
এবার বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে গিয়ে দেখেছি, মানুষের চেহারায় একটা পরিবর্তনের চিহ্ন। ছিন্নবস্ত্র মানুষের সংখ্যা খুবই কম। গ্রামের মানুষের আর্থিক সম্পত্তি ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দিনমজুর পাওয়া মুশকিল। শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু এই স্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে অস্বস্তিকর দিকটি হল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত একশ্রেণীর চাঁদাবাজ ও তোলাবাজদের অত্যাচারে ও দুর্নীতিতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার এত ভালো কাজ করা সত্ত্বেও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ যে জনঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারেনি এটাই তার একটা বড় কারণ।
আমি যখন বাংলাদেশে তখন ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের মনে আশংকা ছিল, একাধিক যুদ্ধাপরাধীর দ্রুত ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পর নিজামীর ফাঁসির আদেশ হয়তো রিভিউতে গিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হতে পারে। সাকা চৌধুরীর ব্যাপারেও এই আশংকাটা জনমনে ছিল। সেই আশংকা যেমন সত্য হয়নি, তেমনি নিজামীর ব্যাপারেও হয়নি। লন্ডনে ফিরে এসেই জানতে পেরেছি, নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রয়েছে। তাতে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এমনকি বিলাতের বাঙালি কমিউনিটিতেও। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ডদানে হাসিনা সরকার যে অকুতোভয় এবং অবিচল, নিজামীর ব্যাপারেও তা প্রমাণিত হয়েছে। এই বিচার ও দণ্ডদানের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মনে দীর্ঘদিন যাবত পোষিত আত্মগ্লানি দূর হয়েছে। জাতি হিসেবে তারা এই মনোবল ফিরে পেয়েছে যে, অন্যের ভ্রুকুটিতে তাদের ভীত হওয়ার কিছু নেই। বর্তমান হাসিনা সরকারের বড় সাফল্য, তারা জাতিকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
আমি বাংলাদেশে থাকতেই সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত তথাকথিত জঙ্গিবাদবিরোধী সামরিক এলায়েন্সে বাংলাদেশ যোগ দেয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়ে দেশে বিতর্ক দেখা যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। সৌদি আরবে শিয়া আলেমের প্রাণদণ্ডকে কেন্দ্র করে ইরানে বিক্ষোভ এবং তার ফলে তেহরান-রিয়াদ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। বাহরাইন, কাতার, সুদান ইত্যাদি কতিপয় সৌদি মিত্রদেশও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী করবে? তার সৌদি এলায়েন্সে যোগ দেয়া কি সঙ্গত হয়েছে? এসব নানা প্রশ্ন উঠেছে দেশে। আমার ধারণা সৌদি এলায়েন্সে যোগ দেয়ার বিষয়টি সরকারের আরও গভীরভাবে বিবেচনা করে দেখা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করা উচিত ছিল। এখন পরিস্থিতি যেখানে গড়িয়েছে, সেখানে হাসিনা সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ ইরানের সঙ্গে তার সম্পর্ক তিক্ত না হয়। আমার বিশ্বাস, শেখ হাসিনা সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে এই বিপজ্জনক বিরোধের সময়েও বাংলাদেশের জন্য একটি ভারসাম্যের নীতি গ্রহণ করতে পারবেন। জঙ্গি দমনের নামে আমরা যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ি, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারণ করতে হবে।
কুড়িদিন যাবৎ ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ ঘুরেছি। মনে আশংকার চাইতে আশা বেশি। অসম্ভব সব বাধা ও বিপত্তি কাটিয়েছে হাসিনা সরকার। আমার ধারণা, বর্তমানের বাধা-বিপত্তিগুলোও এই সরকার কাটিয়ে উঠবে। এজন্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনাকে মনোযোগ দিতে হবে। হাসিনা সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তারা কিভাবে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক শক্তি বাড়াবেন এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সত্যিকার অর্থেই কিভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ফিরিয়ে আনবেন।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চল্লিশ পেরোলেন? by অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ
৪০ বছর ধরে যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আপনাকে সচল রেখেছে, তাদের এবার একটু-আধটু ক্লান্তি আসতেই পারে। কিছু রোগবালাই সাধারণত চল্লিশের কোঠা পেরোতেই শরীরে বাসা বাঁধে, জীবন নতুন বাঁক নেয়।
—৪০ বছর বয়স হলে কিছু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভালো। আজকাল বিভিন্ন হাসপাতালে এসবের ব্যবস্থা রয়েছে। আর তা না হলে কিছু বিষয়ে মনোযোগ দিন। সাত দিনের মধ্যে কয়েকবার বিভিন্ন সময় রক্তচাপ মাপুন। ওজন মেপে উচ্চতা অনুযায়ী বিএমআই জেনে নিন। রক্তে শর্করার মাত্রা দেখে নিন, তার সঙ্গে লিপিড প্রোফাইল বা রক্তে চর্বির অনুপাত।
—এ বয়সে গিঁটে ব্যথা শুরু হতে পারে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দেখে নিন। হাঁটু ব্যথা থাকলে একটা এক্স-রে বলে দেবে আর্থ্রাইটিস বা হাঁটু ক্ষয় আছে কি না।
—ওজন অতিরিক্ত থাকলে বা রক্তে শর্করা ইত্যাদি একটু বেশি থাকলে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
—চল্লিশোর্ধ্ব পুরুষেরা প্রস্টেটের সমস্যায় ভুগতে পারেন। প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা ধীর গতির হওয়া এর লক্ষণ।
—চল্লিশের পর নারীদের কিছু নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি। এর একটা হলো প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট বা জরায়ু মুখের রস পরীক্ষা। ক্যানসারের ঝুঁকি ধরা পড়বে এতে। ৪০ থেকে ৫০-এর মধ্যে যেকোনো সময় মাসিক বন্ধ হওয়া বা মেনোপজ হতে পারে। এ সময় হৃদ্রোগের ঝুঁকি ও হাড় ক্ষয় বাড়ে।
—দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একে বলে চালশে। তাই চোখ পরীক্ষা করিয়ে নিন, দরকার হলে চশমা নিন।
—অনেকে ভাবেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই নানা রোগ ধরা পড়বে, তার চেয়ে এই তো বেশ ভালো আছি। তাঁরা ভুল করছেন। কেননা অনেক গুরুতর রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, চর্বি আধিক্য এমনকি ক্যানসার—কেবল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই আগেভাগে বা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে। আর তখন এর চিকিৎসাও ভালো ফল হয়।
অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ
মেডিসিন অনুষদ, বিএসএমএমইউ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুন্নি-শিয়া সঙ্ঘাত : যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষ নেয়া উচিত নয় by ফরিদ জাকারিয়া
ওয়ালি নাসর তার দূরদৃষ্টিসম্মৃদ্ধ ‘শিয়া রেনেসাঁ’ শীর্ষক বইয়ে যুক্তি দেখিয়েছেন, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন বর্তমান সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্র তার কাজকে ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখেছে; কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষ সেটাকে দেখেছে ভিন্ন কিছুÑ ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন হিসেবে। বিশ্বের মোট মুসলমানের ৮৫ শতাংশ সুন্নির আরবে দীর্ঘকাল আধিপত্য ছিল। এমনকি ইরাক ও বাহরাইনের মতো শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও ছিল তাদের আধিপত্য। কিন্তু এক আঘাতেই এর পরিবর্তন হয়ে গেছে। একটি প্রধান আরব রাষ্ট্র ইরাক এখন শিয়া দ্বারা শাসিত। এটি অন্যান্য আরব শাসকের জন্যও বাজাচ্ছে সতর্কঘণ্টা। এতে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা কেবলই বেড়ে চলেছে।
আরব অঞ্চলে সবসময় উত্তেজনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বেশির ভাগ অংশে সুন্নি ও শিয়া শান্তিতে পাশাপাশি বসবাস করে আসছিলেন। ১৯৬০ ও ’৭০-এর দশকে একমাত্র শিয়া শক্তি ইরান শাহ দ্বারা শাসিত হয়ে আসছিল, যার শাসন না ছিল ধর্মীয়, না ছিল সাম্প্রদায়িক। বস্তুত, শাহের পতনের পর প্রথম তাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে এই অঞ্চলের বৃহত্তম সুন্নি শক্তি মিসর, আজকের সাম্প্রদায়িক পরিবেশে এটি কল্পনাতীত।
এই অবস্থা পাল্টে যায় ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর। এ বিপ্লব একটি আগ্রাসী ধর্মীয় শাসকশ্রেণীকে দেশটির ক্ষমতায় নিয়ে আসে। তারা এই অঞ্চলে শিয়া ধারণার ‘রফতানি’ করতে এবং শিয়াদের সমর্থন জোগাতে বদ্ধপরিকর ছিল। সে বছরেই সৌদি আরবে জঙ্গি উগ্রপন্থীরা মক্কায় মসজিদুল হারামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঘোষণা করে যে, তারা সৌদি রাজপরিবারের বিরোধী। তারা এটাকে সৌদি শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের শিথিল উপায় হিসেবে দেখেছিল। এই ঘটনা সৌদি আরবকে আতঙ্কিত করে তোলে। একই সাথে, এ ঘটনা শাসকদের ধর্মীয় অধিকারের দিকে বিশেষভাবে ঠেলে দেয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, সৌদি আরবের প্রধান মতাদর্শ ওয়াহাবি ইসলাম সবসময় শিয়াবিরোধী ছিল। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার সময় চার পাশে, শিয়া মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করার ঘটনাও ঘটেছিল। আর তখন শিয়া ধর্মমতের প্রতি এক রকম ঘৃণাও ছড়ানো হয়।
লেবানন, ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান তার প্রভাব প্রসারিত করার সাথে সাথে সৌদি আরবের সম্প্রদায়গত মনোভঙ্গি আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এক দশক আগে সৌদি কর্মকর্তারা দেশের শিয়া সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্ত এবং ক্ষমতাবান করার কথা বলতেন। আজ সৌদি আরবে শিয়াদের ইরানের এজেন্ট হিসেবে সন্দেহের চোখে দেখা হয়।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সম্প্রদায়গত লড়াই হয়ে উঠেছে। ‘কার্নেগি অ্যানডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর একটি রিপোর্টে ফারিয়া আল মুসলিমি উল্লেখ করেছেন, এখন ইয়েমেনে দুই পক্ষের একে অন্যকে ‘পারসিক’ এবং ‘দায়েশ’ (আইএসআইএস বা ইসলামি রাষ্ট্র সম্পর্কে আরব তাচ্ছিল্যের প্রতিশব্দ) হিসেবে চিহ্নিত করছে। আল মুসলিমি লিখেছেন, সম্প্রদায়গত মনোভাব ক্রমেই চাঙ্গা হচ্ছে, ইয়েমেনের সমাজে এই ধারাতেই দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্বিন্যাস ঘটছে। জাতীয় চেতনা বা ভিত্তির পরিবর্তে সম্প্রদায়গত পরিচিতি বা অবস্থানের আলোকে পরস্পরের সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
ইরানের প্রভাব সম্পর্কে, বিশেষত ইরাকে এই প্রভাব নিয়ে সৌদি আরবের বাস্তব কৌশলগত উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি লেখালেখি শুরু করা সৌদি ব্যাংকার আলি আল শিহাবি আমাকে বলেছেন, দক্ষিণ ইরাকের পুরোটা এখন ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া দিয়ে পূর্ণ। এটি সৌদি আরবের তেল ক্ষেত্র থেকে মাত্র দুই ঘণ্টা ড্রাইভের পথ। সৌদি আরব এ নিয়ে সত্যিকারভাবেই উদ্বিগ্ন। তবে সাম্প্রদায়িক রণকৌশল সঙ্কীর্ণ ভূ-রাজনীতির চেয়েও গভীরতর কিছু। সৌদি আরব ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ চরমপন্থী পর্যন্ত অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। দেশটির বৃহৎ ও সক্রিয় সামাজিক মিডিয়া প্রান্তিক ইসলামপন্থীদের দ্বারা প্রভাবিত। দেশটির আয়ের প্রধান উৎস তেলের দাম কমছে, সরকারি রাজস্ব ভাণ্ডার ভেঙে পড়ছে আর দেশের জনগণের জন্য এতদিন উদারভাবে যে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছিল, তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় শাসকদের বৃহত্তর বৈধতা অর্জনের প্রয়োজনও বাড়ছে।
এসব নানা ধরনের সঙ্কটের সাথে যোগ হয়েছে গত সপ্তাহে একজন বিশিষ্ট শিয়া আলেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, ইরানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ, ইয়েমেনের যুদ্ধ এবং সিরিয়ার প্রতি সৌদি নীতি। এর সাথে আপনি দেখবেন, সৌদি আরব তার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর ও আক্রমণাত্মক সাম্প্রদায়িক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। এই কৌশলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অনেক ঝুঁকি রয়েছে। সৌদি আরবের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী শিয়া এবং তারা দেশটির তেল ক্ষেত্রের ওপরে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে বসবাস করে। আর প্রতিবেশী বাহরাইন ও ইয়েমেনের শিয়ারা এখন তাদের ওপর নির্যাতক হিসেবে সৌদি আরবকে দেখছে। ইরানও নিশ্চয় যেকোনো সময়ে সৌদি আরবে তার প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করবে।
সাধারণভাবে এ অঞ্চলে ইরানের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিরোধকারী হিসেবে সৌদি আরবকে সমর্থন করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু এই বৃহত্তর সম্প্রদায়গত সঙ্ঘাতে কোনো পক্ষ গ্রহণ করা আমেরিকার উচিত হবে না। এটি কারো কারো ক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধ। সর্বোপরি, ‘ইসলামি রাষ্ট্রের’ বিরুদ্ধে সংগ্রামে ওয়াশিংটনের প্রধান মিত্র হলো বাগদাদের শিয়াপ্রধান সরকার। এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এককভাবে সবচেয়ে বড় হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চরমপন্থী সুন্নি জিহাদিদের কাছ থেকে আসছে। ওদের অনেকে সৌদি আরব থেকে অনুপ্রেরণা, তহবিল ও মতবাদগত সমর্থন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্যাটেলাইট টিভি সিএনএনের সিনিয়র সাংবাদিক ও নিউজউইকের সাবেক সম্পাদক ফরিদ জাকারিয়ার এ লেখাটি ওয়াশিংটন পোস্টে ৭ জানুয়ারি প্রকাশ হয়েছে। তার এই কলামটির অনুবাদ করেছেন মাসুমুর রহমান খলিলী
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাঠানকোট অপারেশনে সন্তুষ্ট মোদি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরমাণু বোমা না থাকলে সাদ্দাম-গাদ্দাফি হতে হয়: উ. কোরিয়া
শুক্রবার উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দিতে লাউড স্পিকারে মাইক বাজিয়ে কোরীয় সঙ্গীত ও উত্তরের বদনাম প্রচার শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া। এর প্রতিবাদে দক্ষিণ কোরিয়াকে হুমকি দিয়ে এমন বার্তা প্রচার করেছে উত্তরের সরকারি সংবাদ সংস্থা। ওই হুশিয়ারিতে বলা হয়েছে, বাইরের আগ্রাসন থেকে পরিত্রাণ পেতে পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তিতে বলিয়ান হওয়াই আবশ্যক। যা পূর্বের যুদ্ধাস্ত্র ‘তলোয়ার’র ন্যায় কাজ করে। ইতিহাসই তার চূড়ান্ত সাক্ষী। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ও লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে,
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানের ওপর মার্কিন চাপ

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের সীমান্তবর্তী পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় অপরাধীদের দ্রুত ধরে সাজা দিতে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, মুম্বাই হামলার মতো এ ক্ষেত্রেও তারা যেন অপরাধীদের আড়াল করতে বাজে যুক্তি না দেখায়। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এই চাপের মুখে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে যাক এমন কোনো অপকর্ম কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ এবং পাকিস্তানি তৎপরতার মধ্য দিয়ে আপাতত এটুকু বোঝা যাচ্ছে, এই দুই দেশই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালিয়ে যেতে বিশেষ আগ্রহী। চলতি মাসের মাঝামাঝি ইসলামাবাদে ভারত-পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ওপরেই নির্ভর করছে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভবিষ্যৎ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পাকিস্তান বলেছে তারা তদন্ত করবে। আমরা চাই সেই কাজটা তারা এগিয়ে নিয়ে যাক। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে আগ্রহী।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা এই ইঙ্গিতও দেন যে অতীতে এমন ঘটনায় পাকিস্তান অনেক টালবাহানা করেছে। সেই টালবাহানা এবার না হওয়া বাঞ্ছনীয়। ওই কর্মকর্তা এই কথাও বলেন, পাকিস্তানের কথা ও কাজের মধ্যে মিল দেখতে তাঁরা সে দেশের সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে রাজি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার ভারতীয় মনোভাবেরও পরিবর্তন লক্ষণীয়। পাঠানকোটের ঘটনার পর তারা পাকিস্তান সরকারকে একবারের জন্যও দোষারোপ করেনি। পাকিস্তানও চুপ করে না থেকে সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগের বৈঠক ডেকে ঘটনার নিন্দা করেছে এবং অবিলম্বে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিবাসী আইন কঠোর করার ইঙ্গিত জার্মানির
![]() |
| অ্যাঙ্গেলা মেরকেল |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার বিভাগের সব ক্ষমতা নিতে চায় নির্বাহী বিভাগ : প্রধান বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে সমিতি আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী আইন বইমেলা উদ্বোধনকালে রোববার প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশের বিভিন্ন আদালতে তুচ্ছ কারণে আইনজীবীদের আদালত বর্জনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইনজীবীরা যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এত কথা বলেন, আপনাদের ছাড়া বিচার বিভাগ কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে? কিন্তু আপনারা যদি শুধু নিজেদের স্বার্থের পক্ষের বিষয়গুলোকে সমর্থন করেন, তাহলে কীভাবে চলবে?’
আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন, অতীতে আইনজীবীরা অনেক ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, বার কাউন্সিল কঠোর ছিল। কিন্তু এখন জেলা আদালতে আইনজীবীদের অন্যায় আবদার বার কাউন্সিল চোখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছে। যেসব আইনজীবী নিয়ম পরিপন্থী কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, বার কাউন্সিল কি রাজনৈতিক সংগঠনের মতো শুধু ভোট চাওয়ার জন্য?
উদাহরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি ও বর্তমানে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার সুনামগঞ্জে গিয়েছিলাম একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। সেখানে আমি তাঁকে বললাম, সুনামগঞ্জের একজন মহিলা বিচারকের কোর্ট আইনজীবীরা বয়কট করছেন। কারণ, উনি আইনজীবীদের বলেছেন পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য। আপনি তাঁকে (বিচারক) উইথড্র (প্রত্যাহার) করতে বললেন, কিন্তু আপনার আইনজীবীদের কিছু বলতে পারলেন না, এটা কি ভোটের জন্য?’
প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশের আদালতগুলোতে ৩০ লাখ মামলা বিচারাধীন, এর মধ্যে তিন লাখ উচ্চ আদালতে। এসব মামলা নিষ্পত্তি করে মামলাজট নিরসনে আইনজীবীদের সহায়তা চান প্রধান বিচারপতি।
প্রতি বছর এ ধরনের বইমেলা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও অন্যতম সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেট-অনলাইনের যুগে এসে বইয়ের গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি। বইয়ের মধ্য দিয়েই দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জমিরউদ্দীন সরকার।
আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমিতির সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধান বিচারপতিসহ অন্য আইনজীবীরা আইন বইমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই মুসলিম নারী কেন ট্রাম্পের সমাবেশে গিয়েছিলেন?
তিনি আরো বলেন, সমাবেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করা বা চিৎকার করে কোনো প্রতিবাদ জানানোর পরিকল্পনা তার ছিল না। তিনি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
রোজ বলেন,‘যারা আমার আশপাশে ছিল এবং যাদের সঙ্গে আমি কথা বলার সুযোগ পেয়েছি তাদের মধ্যে অনেকেই খুব ভালো ব্যবহার করেছে। তবে যারা ট্রাম্পের দ্বারা প্রভাবিত তারা সত্যিই খুব নোংরা।’
স্থানীয় সময় শুক্রবার নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় নীরবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন রোজ হামিদ নামের ৫৬ বছর বয়সী ওই নারী। একেবারে ট্রাম্পের মুখোমুখি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এ সময় তার পরনের শার্টে লেখা ছিল, ‘সালাম,আমি শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি।’
মার্টি রোসেনব্লুথ নামে আরো এক ব্যক্তিও রোজ হামিদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তার প্রতিবাদে অংশ নেন। তারা দুজনেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের আশপাশে থাকা ট্রাম্পের ভক্তরা জোরে জোরে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ এসে রোজ হামিদকে সরিয়ে নিয়ে যায়। রক হিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা স্টিভেন থম্পসন দাবি করেছেন, রোজ ঝামেলা সৃষ্টি করছেন বলে সমাবেশ কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। এ জন্য তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
রোজ হামিদের বরাত দিয়ে মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএন জানিয়েছে, পুলিশ যখন তাকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আশপাশ থেকে তার উদ্দেশে অপমানকর নানা বক্তব্য ছুড়ে দেয়া হচ্ছিল। এদের মধ্যে একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘বেরিয়ে যাও, তোমার কাছে বোমা আছে।’
আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন বলে কিছুদিন আগে ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বক্তব্যের মধ্যদিয়ে ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র : রেডিও তেহরান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মসজিদ কমিটির খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা by বিবিসি বাংলা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইজতেমায় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে ছাত্রলীগ নেতা আটক
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
January
(576)
-
▼
Jan 11
(17)
- নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে : মির্জা ফখরুল
- নতুন নামে সংগঠিত হবে জামায়াত
- নির্বাচন দেশে-বিদেশে by তাইছির মাহমুদ
- নতুন বছরে অর্থনীতির জন্য রয়েছে ৫ চ্যালেঞ্জ : ড. জা...
- ‘জনগণই আমার জীবন’ by ড. আবু সাইয়িদ
- ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি না পেলে পণ্য ও সেবা বাড়ে না by এম ...
- ঘুরে এলাম শেখ হাসিনার বাংলাদেশ by আবদুল গাফ্ফার চৌ...
- চল্লিশ পেরোলেন? by অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ
- সুন্নি-শিয়া সঙ্ঘাত : যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পক্ষ নেয়া...
- পাঠানকোট অপারেশনে সন্তুষ্ট মোদি
- পরমাণু বোমা না থাকলে সাদ্দাম-গাদ্দাফি হতে হয়: উ. ক...
- পাকিস্তানের ওপর মার্কিন চাপ
- অভিবাসী আইন কঠোর করার ইঙ্গিত জার্মানির
- বিচার বিভাগের সব ক্ষমতা নিতে চায় নির্বাহী বিভাগ :...
- সেই মুসলিম নারী কেন ট্রাম্পের সমাবেশে গিয়েছিলেন?
- মসজিদ কমিটির খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা by বিবিসি বাংলা
- ইজতেমায় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টাকালে ছাত...
-
▼
Jan 11
(17)
-
▼
January
(576)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












