Wednesday, July 12, 2023

আল মাহমুদ যেভাবে ‘আমাদের’ by আলতাফ শাহনেওয়াজ

গতকাল ১১ জুলাই ছিল বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের জন্মদিন। কীভাবে ‘আমি’ থেকে ‘আমাদের’ হয়ে উঠেছিলেন এই কবি? ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে এ লেখায় বলা হয়েছে সেই কাহিনি।

সারা দিন চলে গেল...সারাটা দিন। কাল আমার খুব উচাটন লেগেছে দিনভর। সারা দিন নেট ঘেঁটে ঘেঁটে তাঁর অনেক কবিতা পড়লাম। শতবার পড়া কবিতা, তবু পড়লাম, ‘কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুল খোলা আয়েশা আক্তার.... ’—এসব পড়তে পড়তে কত স্মৃতি যে মনে পড়ল! ফিরে দেখলাম, নিজের জীবন।

নিজের কথা বলতে গিয়ে এ লেখার শিরোনামে ‘আমাদের’ শব্দটি ব্যবহার করা হলো কেন? এমনটা কেউ ভাবতেই পারেন। এ প্রশ্নও তুলতে পারেন যে ‘আমাদের’–এর মতো সাধারণ শব্দকে এখানে উদ্ধৃতিচিহ্নের মোড়কে বিশেষায়িত করার কারণ কী! তা–ও আবার কবি আল মাহমুদ প্রসঙ্গে। তিনি যে আমাদের—অর্থাৎ বাংলাদেশের সবার, তা নিয়ে তো সন্দেহ নেই। তবে শুরুতেই বলে নেওয়া ভালো, ‘আমাদের’ শব্দটি এতে সচেতনভাবে বিশেষ অর্থেই বসানো হয়েছে।

আমিত্বের মধ্যে লীলা করতে করতে কবি সাধারণত নিজের আনন্দেই কাব্য লেখেন। কিন্তু কোনো কোনো কবি জনসংস্কৃতির নাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে মানুষের দৈনন্দিকতাকে, একেক মানুষের অনুভূতিকে আলাদা আলাদাভাবে স্পর্শ করেন। তখনই তাঁকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করার দায় থাকে। আর এ সময়ই পাঠকের মনে হয়, আশ্চর্য, এখানে তো আমার মুখই দেখা যাচ্ছে! কালে কালে এভাবেই ‘আমার’ থেকে ধীরে ধীরে ‘আমাদের’ হয়ে ওঠেন গুটিকতক কবি।

আল মাহমুদের কবিতা পড়তে গেলেই এসব মনে হয় আমার। শুধু আমার কেন, আরও কারও কি মনে হয় না? ‘সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দুটি’—‘সোনালি কাবিন’–এর এই অমর পঙ্‌ক্তি চিরকুট হিসেবে প্রেমিকাকে পাঠিয়েছেন—বিভিন্ন প্রজন্মে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। অথবা ওই একই সনেট–কাব্যের ‘আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,/পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ’—এই যুগল চরণকে স্লোগান করে, সাম্যবাদে আস্থা রেখে একদা কি অনেকে স্বপ্ন দেখেননি নতুন ভোরের!

গতকাল ১১ জুলাই আল মাহমুদের জন্মদিনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে তাঁর কবিতা ছড়িয়ে পড়ল, তা দেখে মনে পড়ল, এসব পঙ্‌ক্তির ছন্দ–অনুভব যেন আমার জীবনের মোহনায়ও মিলে গেছে, খোলা বইয়ের মতো প্রকাশ্য হয়ে উঠছে স্মৃতির পৃষ্ঠাগুলো।

কথাগুলো আমার ব্যক্তিজীবনের। তবু খুব কুণ্ঠিত চিত্তে এই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণাই মেলে ধরা; তা এই আকাঙ্ক্ষায় যে সামষ্টিক যৌথ অনুভবে ব্যক্তিস্মৃতি কিছু যদি যোগ করে!

একজন মানুষ—আল মাহমুদ—বাংলা ভাষার এই একজন কবি—প্রথমবার যাঁর মুখোমুখি হয়ে আক্ষরিক অর্থেই আমি একদা কেঁপে উঠেছিলাম। মনে হয়েছিল, আমি সত্যিই আল মাহমুদের সামনে বসে আছি! আল মাহমুদ!

কেন জানি না, সব সময় আমি আল মাহমুদের মতোই হতে চেয়েছি। তাঁর কবিতা আমাকে আক্রান্ত করার ফলেই হয়তো। অথবা এমনও হতে পারে, মফস্‌সল থেকে ঢাকায় এসে তিনি যেভাবে যুদ্ধ করেছেন—সেই পঞ্চাশের দশক থেকে পরবর্তী অনেক দিন—বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেসব পড়ে আমি ভেবেছি, আমিও তো মফস্‌সলের, আমাকেও এভাবে যুদ্ধ করতে হবে। যেতে হবে শহর ঢাকায়। কারণ, আমি তো কবিই হতে চাই। একজন মফস্‌সলবাসী কবিযশপ্রার্থীর অনুপ্রেরণা হিসেবে সে সময় আল মাহমুদই ছিলেন আমার একমাত্র আদর্শ—‘আইডল’।

গেল শতকের শেষ ভাগের শেষ বছর। মাধ্যমিক পাস করার পর কবিতা যখন আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছে, তখন হঠাৎ মনে হলো, আরে, এত বিদ্যাশিক্ষা করে কী হবে! আল মাহমুদ ক্লাস এইট পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন, সেই তুলনায় আমি তো দুই ক্লাস বেশিই পড়ে ফেলেছি। এমন ভাবনা থেকে একাডেমিক লেখাপড়ার পাট সিঁকেয় উঠল আমার এবং ঘরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে আমি বাড়িছাড়া হয়ে গেলাম। যদিও এখন বুঝতে পারি, কতটা ছেলেমানুষি ও শিশুতোষ ব্যাপার ছিল এসবের ভেতর। ‘...কেবলই আমার মধ্যে এক শিশু আর পশুর বিরোধ’—এ চরণ তো আল মাহমুদেরই। ‘শিশু আর পশুর বিরোধ’ নিয়ে শুরু থেকেই পথ চলছি। তাকে এড়ানোর সাধ্য কী আমাদের!

তাই হয়তো একসময় আমার মনে হতো, স্কুলজীবনে আল মাহমুদ যেভাবে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন (এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা আছে কবির ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ নামের আত্মজৈবনিক উপন্যাসে), আমিও চলে যাব সেভাবে। ঘর ছেড়ে বেরিয়েও পড়েছিলাম—নিজের জন্মশহর ঝিনাইদহ থেকে প্রথমে ফরিদপুর, তারপর ঢাকা—সেসব বেহিসেবের বোহেমিয়ান দিন ছিল বটে!

পরে ঢাকায় থিতু হওয়ার পর নানা কাজের সূত্রে অনেকবার গিয়েছি মগবাজারে, আল মাহমুদের বাসায়। যাওয়া–আসার ঘনঘটায় তত দিনে এই বয়োবৃদ্ধ লোক ‘মাহমুদ ভাই’ হয়ে উঠেছেন আমার কাছে। তাঁর সঙ্গে দেখা হলেই বলতেন, ‘সিগারেট এনেছ?’

আমি পকেট থেকে বের করে দিতাম একপ্যাকেট সোনালি বেনসন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যেদিন তিনি মারা যান, এই ঘটনা তার মাস ছয়েক আগেও ঘটেছে।

মাহমুদ ভাইয়ের বাড়িতে যেতে আমার ভালো লাগত। কবির সঙ্গে তর্ক–বিতর্কও চালানো যেত দেদার। তাঁর অনেক কিছুর সঙ্গে আমি একমত পোষণ করিনি। তাতে অবশ্য মাহমুদ ভাইয়ের কবিতার আস্বাদ নেওয়া বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক—কোনোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নিজের মত জারি রেখেই এই কবির সঙ্গে মেশা যেত, এ ছিল এক মস্ত সুবিধার ব্যাপার।

এখন আমার স্ত্রী যিনি—ফাতেমা আবেদীন নাজলা—মনে আছে, ২০১৩ সালে তাঁকে নিয়ে গিয়েছিলাম আল মাহমুদের বাসায়। আমার আর নাজলার মধ্যে তখন কেবল নিরেট বন্ধুত্ব, অন্য কোনো কিছু নয়। তো, ঘণ্টাখানেক কথাবার্তা শেষে কবি আমাদের বললেন, ‘তোমরা দুজন দুজনকে পছন্দ কর, না?’

নাজলার কথা জানি না। তবে আমি বেশ লজ্জা পেয়েছিলাম এ কথায়; এবং এ–ও অস্বীকার করব না যে তখনই আমার প্রথম মনে হয়েছিল, এই মেয়েকে কি আমি পছন্দ করি?

নিজের কাছে নিজের উত্তর ছিল, করি হয়তো।

নাজলার সঙ্গে ভাবনাচিন্তায় আমার অনেক অমিল। কিন্তু প্রথম থেকে একটা জায়গাতেই মিল প্রচণ্ড—সেটা হলো আল মাহমুদ। তিনি আল মাহমুদে অবসেসড, আমিও।

আল মাহমুদের অজস্র কবিতা—‘সোনালি কাবিন, ’ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’, ‘বাতাসের ফেনা’ ‘খড়ের গম্বুজ’, ‘ফররুখের কবরে কালো শেয়াল’, ‘কবিতা এমন’—এসব পড়লে আমি আমার আম্মাকে দেখতে পাই, ফেলে আসা আমার বাড়িঘর দেখতে পাই, গ্রামকে দেখতে পাই, দেখতে পাই মফস্‌সলকে। সব মিলিয়ে ভূপ্রকৃতি, মানুষজনসমেত গোটা বাংলাদেশই তো হাজির আল মাহমুদের কবিতায়।

যদিও তিনি বলেছেন, ‘শহর ছাড়লে সুখ নাই। আসলে সুখ হলো শহরে’, তারপরও দেখাশোনা থেকেই এ কথা বলতে চাই যে কবিতা এবং নিজের জীবনাচরণেও আল মাহমুদ ছিলেন গ্রামজনপদের বাসিন্দা। গ্রামের মানুষ যেমন অতটা আদবকেতার ধার ধারে না, তাদের মধ্যে যেমন কুটিলতার পাশাপাশি নির্মল স্নিগ্ধ এক সরলতা বিরাজমান, মাহমুদ ভাইও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। কখনো বা তাঁর ভেতরে শতভাগ খাঁটি গ্রাম্যতাও প্রত্যক্ষ করেছি। আর এই ‘গ্রাম্যতা’ এবং সারল্যের কারণেই বোধ করি, কবিতায় মুগ্ধ হওয়ার পরও শহুরে নাগরিক সমাজ তাঁকে অভিজাতরূপে গ্রহণ করতে অনীহা দেখিয়েছে, তাঁর সময়ের অন্য কবিদের তুলনায়।

মাহমুদ ভাইকে আমার ‘আলাদিনের গ্রামে’ সনেটগুচ্ছের কয়েকটি সনেট শোনাতে পেরেছিলাম। তখন তিনি ‘কানা মামুদ’, চোখে একেবারেই দেখেন না। তাই আমাকেই পড়তে বললেন। পড়লাম। আবারও পড়তে বললেন। পুনরায় পড়লাম। পড়া শেষে দেখি, কবির চোখে পানি। আমাকে শুধু বললেন, ‘ছন্দে তোমার হাত ভালো। তোমার কবিতায় বাংলাদেশ আছে।’

কেউ যখন কারও কবিতাকে ভালো বলে, তখন ওই কবিতারচয়িতার ভালো না লাগার কোনো কারণ নেই। স্বাভাবিকভাবেই কেউ আমার কবিতার প্রশংসা করলে আমারও ভালো লাগে। তবে সেই ২০১২ সালে মাহমুদ ভাই আমার কবিতা নিয়ে যা বলেছিলেন এবং তাতে আমি যতটা খুশি হয়েছিলাম, আর কোনো প্রশংসায় এত আনন্দিত হইনি।

পারি বা না পারি, হোক বা না হোক, সব সময় আমি বাংলাদেশের কবিতাই লিখতে চেয়েছি। আর এ ক্ষেত্রে আবারও অনুপ্রেরণা ওই আল মাহমুদই!

আমার মতো অসংখ্য তরুণ কবিকে স্বপ্ন দেখিয়ে, লড়াইয়ের ময়দানে ঠেলে দিয়ে তিনি কেবল পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের নয়, ‘আমাদের’ হয়ে উঠেছেন।

কাজের ফাঁকে ফাঁকে কাল সকাল থেকে গুগল খুঁটে খুঁটে তাই আল মাহমুদেরই কবিতা পড়ছি, ‘ভোলো না কেন ভুলতে পারো যদি/চাঁদের সাথে হাঁটার রাতগুলি/নিয়াজ মাঠে শিশির-লাগা ঘাস/পকেটে কার ঠান্ডা অঙ্গুলি।’

‘খড়ের গম্বুজ’–এর কবির লিখে যাওয়া ঠান্ডা আঙুলই কি আনমনে বারবার বলছে:

‘কে যেন ডাকল তাকে; সস্নেহে বলল, বসে যাও,
লজ্জার কী আছে বাপু, তুমি তো গাঁয়েরই ছেলে বটে,
আমাদেরই লোক তুমি। তোমার বাপের
মারফতির টান শুনে বাতাস বেহুঁশ হয়ে যেত।
পুরোনো সে কথা উঠলে এখনো দহলিজে
সমস্ত গায়ের লোক নরম নীরব হয়ে শোনে।

সোনালি খড়ের স্তুপে বসতে গিয়ে প্রত্যাগত পুরুষ সেজন
কী মুশকিল দেখল যে নগরের নিভাঁজ পোশাক
খামচে ধরেছে হাঁটু। উরতের পেশি থেকে সোজা
অত দূর কোমর অবধি
সম্পূর্ণ যুবক যেন বন্দী হয়ে আছে এক নির্মম সেলাইয়ে।’

নাগরিক পোশাকে বন্দী হয়ে ‘গ্রামীণ’ আল মাহমুদের একটার পর একটা কবিতা পড়ে চলেছি আর এসব কবিতার পঙ্‌ক্তির দোলায় স্মৃতিরা ঘিরে ধরছে আমায়। সবাই দেখছে, অফিসের কাচঘেরা ঘরে বসে আছি আমি। কিন্তু আমি জানি, ততক্ষণে আমি চলে গিয়েছি ঝিনাইদহের সিটি কলেজ মাঠে অথবা পোড়াদাহ রেলস্টেশনে, কখনো বা শ্মশানঘাটে। ফরিদপুরের আলিপুরেও কি বসে ছিলাম না?

এখনো যখন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটা পড়ি, এবং ওই জায়গাটা পড়ি, ‘আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।/আম্মা বলেছিলেন, আজ রাত নাহয় বই নিয়েই বসে থাক,/কত রাত তো অমনি থাকিস।’ লাইনগুলো পড়ি আর আম্মাকে মনে পড়ে আমার। আব্বার চোখটা ভাসে।

এখনো যখন বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে আসি, তার আগের দিন, আম্মা আমাকে বলেন, ‘আরেকটা দিন থেকে যা, বই–টই পড়।’ আর আব্বা বলেন সেই কথা—গ্রামের, লোকেরা যা বলে!

এই মওকায় চলুন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটিতে আবার চোখ ফেরানো যাক। আল মাহমুদের সামনে কেউ এই কবিতা পড়লে মাহমুদ ভাই হাউমাউ করে কাঁদতেন। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য বটে, মনোহরও।

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

আল মাহমুদ

শেষ ট্রেন ধরব বলে একরকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি
নীলবর্ণ আলোর সংকেত। হতাশার মতন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
যাদের সাথে শহরে যাবার কথা ছিল, তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।
আম্মা বলেছিলেন, আজ রাত নাহয় বই নিয়েই বসে থাক,
কত রাত তো অমনি থাকিস।
আমার ঘুম পেল। এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।

অথচ জাহানারা কোনো দিন ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ
আধঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলি
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায়।
নাহার কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
আর আমি এদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে এসে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।
কুয়াশার সাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরব।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে। চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে। পরাজিতের মতো আমার মুখের ওপর রোদ
নামলে, সামনে দেখব পরিচিত নদী। ছড়ানো–ছিটানো
ঘরবাড়ি, গ্রাম। জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে। তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।
কলার ছোট বাগান।

দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে। বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...।
বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসে ফেলবেন।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা। তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়। হাত–মুখ
ধুয়ে আয়। নাশতা পাঠাই।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
ঘষে ঘষে
তুলে ফেলব।

আদতে আল মাহমুদের কবিতা পড়লে আমি আমার কাছে, নিজের জীবনেই কাছেই ফিরি। বড় কবিদের কবিতা পড়লে এমন হয়, মনটা কেন জানি উচাটন হয়ে ওঠে।

মাহমুদ ভাই, প্রিয় কানা মামুদ, আপনাকে দেখতে কোনো একদিন ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় যাব চুপি চুপি। তবে ঢাকায় ফেরার সময় কি আর ট্রেন মিস করতে পারব, করা হবে?—হা জীবন!

আল মাহমুদ
আল মাহমুদ। ছবি: নাসির আলী মামুন

মদের আসরেই কি সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার চুক্তি হয়েছিল?

অন্তরঙ্গ মূহুর্তে ইয়েলৎসিন এবং গরবাচেভ
লাস্ট আপডেট- ৫ অগাস্ট ২০১৭: ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙ্গে গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। তিনটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র- রাশিয়া, ইউক্রেন এবং বেলারুশের নেতারা সেবছর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির ডিনা নিউম্যান। ইতিহাসের সাক্ষী এই পর্বে জানা যাক সেই কাহিনী:
১৯৯১ সালের ডিসেম্বর। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে যাওয়ার পর পূর্ব ইউরোপের বহু দেশে কমিউনিজমেরও পতন ঘটেছে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন তখনো টিকে আছে। কমিউনিষ্ট পার্টি তখনও ক্ষমতায়, আর পার্টির নেতা তখন মিখাইল গর্বাচভ।
গর্বাচভ তখন এক কঠিন সময় পার করছেন। ১৯৯১ সালের অগাষ্টে তার বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে কট্টরপন্থী কমিউনিষ্টরা। তারা গর্বাচভের সংস্কার কর্মসূচী পেরেস্ত্রোইকার বিরোধী ছিল। কিন্তু সেই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে গেলেন গর্বাচভ। কিন্তু এবার দেখা দিল নতুন সমস্যা। ১৫ টি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অনেকগুলোতেই স্বাধীনতার আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠলো। ইউক্রেন সহ অনেক ছোট ছোট প্রজাতন্ত্রে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটও হয়ে গেল।
ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কিভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়া যায় তার পথ খুঁজছেন। "একটি স্বাধীন ইউক্রেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পুরোনো রাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষের নীচে থেকে লাখ লাখ মানুষকে কিভাবে বাঁচানো যায় সেটাই তখন আমার চিন্তা।"
১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বেলারুশে বৈঠকে বসলেন তিনটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের নেতারা। বৈঠকটি ডেকেছিলেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ। ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক এবং রাশিয়ার নেতা বরিস ইয়েলৎসিন যোগ দিলেন তার সঙ্গে। ইউক্রেন ততদিনে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু বেলারুশ তখনো সেরকম ঘোষণা দেয়নি। মিস্টার শুশকেভিচ দাবি করছেন, তখনো এ নিয়ে কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তিনি পৌঁছাননি।
"বেলারুশে শীতকালে তেল এবং গ্যাসের সরবরাহ কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য। আমাদের অর্থনীতি তখন সংকটে। আমরা তখন এসব জ্বালানির মূল্য পরিশোধের ক্ষমতা নেই। আমাদের কেউ অর্থ ধার দিতে চাইছে না। সেজন্যে আমরা রাশিয়াকে অনুরোধ করতে যাচ্ছিলাম আমাদের সাহায্য করার জন্য, যাতে আমাদের শীতে জমে যেতে না হয়।"
তবে এই বৈঠক সম্পর্কে লিওনিদ ক্রাভচুকের ভাষ্য অন্যরকম। তার মতে, সেখানে একমাত্র আলোচ্য বিষয় ছিল কিভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত করা হবে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সেই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করছেন ইয়েলৎসিন এবং বেলারুশের স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ
"শুশকেভিচ যখন তেল এবং গ্যাসের কথা বলছিলেন, তখন আমার মাথায় আসছিল না, তিনি কি বলছেন। আমি ভেবেছিলাম, আমরা সেখানে গিয়েছি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলার জন্য। দেশ তখন পরস্পরবিরোধী টানাপোড়েনে ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। সংকটের কারণে মানুষ তখন অতিষ্ঠ। আমরা বেলারুশে গিয়ে বৈঠকে বসেছি দেশ কোনদিকে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার জন্য।"
আলোচনার পূর্ব নির্ধারিত বিষয় যাই থাক, তিন নেতাই ভালো করে জানতেন, গর্বাচভকে না জানিয়ে এরকম একটা বৈঠকে বসা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
"গর্বাচভের নির্দেশে সোভিয়েত গুপ্ত সংস্থা কেজিবির এজেন্টরা আমাদের গ্রেফতার করতে পারতো। কারণ সোভিয়েত কেজিবি তখনো গর্বাচভের অধীনে। কিন্তু আমাদের বেলারুশের গুপ্তচর সংস্থার প্রধান যোগাযোগ রাখছিলেন বরিস ইয়েলৎসিনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে। বৈঠকের পনের দিন আগে থেকে প্রতিদিন তিনি আমাকে নিশ্চয়তা দিয়ে গেছেন যে আমাদের গ্রেফতার হওয়ার কোন ঝুঁকি নেই। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, বেলারুশের গুপ্তচর সংস্থার প্রধান পরে যখন অবসর নিয়ে রাশিয়ায় গিয়ে বসবাস শুর করলেন, তখন তিনি অনুতাপ করেছেন, কেন আমাদেরকে ১৯৯১ সালে তিনি গ্রেফতার করেননি।"
১৯৯১ সালের ৭ই ডিসেম্বর রাশিয়ার নেতা বরিস ইয়েলৎসিন, ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক এবং বেলারুশের নেতা স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ পূর্ব বেলারুশের এক বিরাট খামারবাড়ীতে গিলে মিলিত হলেন।
"বাড়িটা ছিল খুবই বিলাসবহুল। সোভিয়েত শীর্ষ নেতাদের জন্য এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরণের বৈঠকের যেটা রীতি, একটি স্টীম বাথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সাধারণত এই স্টীম বাথের পর, প্রচুর মদ পানের আয়োজন রাখা হয়। তবে এবারের বৈঠকে দেখা গেল, মদ পানের পরিবর্তে আমাদের জন্য মাসাজ বা শরীর মালিশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সোভিয়েত রীতি অনুযায়ী এই বৈঠকে প্রচুর খানাপিনা এবং আরাম আয়েশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।"
পরদিন ৮ই ডিসেম্বর তিন নেতা তাদের প্রধানমন্ত্রীদের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসলেন। স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ জানালেন, বৈঠক শুরুর অল্প পরেই তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির লক্ষ্যে চুক্তির প্রথম লাইনটির ব্যাপারে একমত হলেন:
"আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই লাইনটি মনে রাখবো। এটি ছিল আমাদের চুক্তির শুরুর লাইন। কোন রকম তর্কবিতর্ক ছাড়াই আমরা এই লাইনটির ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। লাইনটি ছিল এরকম: ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় হিসেবে ইউনিয়ন অব সোভিয়েত সোশ্যালিষ্ট রিপাবলিকস বা ইউএসএসআর এর কোন অস্তিত্ব আর নেই। এই লাইনটি শুনে আমিই প্রথম বলেছিলাম, এতে আমি সই করবো।"
গর্বাচেভের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টা। ট্যাংক থামাতে মস্কোর রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ।
এই চুক্তির মধ্য দিয়ে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচভ কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়লেন। এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলসিনের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেয়া হলো। পুরো পরিকল্পনাটির পেছনে ছিলেন ইয়েলৎসিন। যদিও এর মধ্য দিয়ে কার্যত কয়েক শতাব্দীর রুশ সাম্রাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের অবসান ঘটলো। এটি ছিল এক বিরাট পদক্ষেপ। পরবর্তীকালে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছিল, এই তিন নেতা যখন এই চুক্তি করেন, তখন তারা সেটি সুস্থ মাথায় করেছিলেন কিনা। বলছিলেন লিওনিদ ক্রাভচুক।
"এরকম একটা কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে যে আমরা মদ্যপ অবস্থায় এই চুক্তির খসড়া তৈরি করেছিলাম। এটা পুরোপুরি ভুল। এটা ঠিক যে সোভিয়েত রীতিতেই ঐ বৈঠকটির আয়োজন করা হয়েছিল। ঐ বাড়ির সর্বত্র প্রচুর মদ পানের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কেউ তা স্পর্শ করেনি। আমরা এক একটা অনুচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হওয়ার পর বড়জোর এক দুই ফোঁটা ব্রান্ডি পান করতাম।"
পরবর্তী কয়েক ঘন্টায় তারা চুক্তির মোট ১৪টি অনুচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হলেন। রাত তিনটে নাগাদ সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘোষণা করে তৈরি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়ে গেল। এখন পুরো বিশ্বের সামনে ব্যাপারটা ঘোষণা করার পালা। বলছিলেন স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ।
"ইয়েলৎসিন এবং ক্রাভচুক মজা করে আমাকে বললেন, আমরা দুজন মিলে আপনাকে মনোনীত করেছি গর্বাচভকে বিষয়টি জানানোর জন্য। তখন আমি হেসে বললাম, মিস্টার ইয়েলৎসিন, আমি আর ক্রাভচুক মিলে আপনাকে মনোনীত করছি আপনার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে ফোন করার জন্য। আমি মস্কোতে মিখাইল গর্বাচভের অফিসে ফোন করলাম। কিন্তু তারা আমাকে গর্বাচভের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দিচ্ছিল না। তারা আমার কলটিকে একজনের পর আরেকজনের কাছে দিচ্ছিল। আর আমাকে বারবার ব্যাখ্যা করতে হচ্ছিল, আমি কে, কোত্থেকে ফোন করেছি! আর ইয়েলৎসিন এই ফাঁকে ডায়াল করলেন প্রেসিডেন্ট বুশকে। আর তাঁর পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী আঁন্দ্রে কোজিরেভ আরেকটি ফোন লাইনে প্রেসিডেন্ট বুশের কথা অনুবাদ করে দিচ্ছিলেন। ইউক্রেনের নেতা লিওনিদ ক্রাভচুক দুজনের কথা শুনছিলেন।"
সোভিয়েত ইউনিয়নের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন যে তিনজন। বাঁ থেকে: ইউক্রেনের লিওনিদ ক্রাভচুক, বেলারুশের স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ এবং রাশিয়ার ইয়েলৎসিন।
এর মধ্যে বেলারুশের নেতা শুশকেভিচ টেলিফোনে গর্বাচভের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলেন। এবারও তাদের দুজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন ইউক্রেনের নেতা ক্রাভচুক;
"দুজনের মধ্যে কঠিন কথাবার্তা হচ্ছিল। গর্বাচভ খুবই রেগে গিয়েছিলেন। তিনি বলছিলেন, আপনারা কি করেছেন! পুরো দুনিয়া উলট-পালট করে দিয়েছেন। সবাই তো আতংকের মধ্যে আছে। তবে এই কথাবার্তার সময় শুশকেভিচ ছিলেন শান্ত, ধীর-স্থির।"
সেই টেলিফোন আলাপের কথা এখনো মনে করতে পারেন মিস্টার শুকেভিচ:
"আমি গর্বাচভকে বুঝিয়ে বললাম, কি ধরণের চুক্তিতে আমরা সই করতে চলেছি। গর্বাচভ তখন একটা ভাব নিয়ে বললেন, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কী হবে? তখন আমি বললাম, আসলে বরিস ইয়েলৎসিন এখন প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে কথা বলছেন। এবং প্রেসিডেন্ট বুশের মনে হয় আপত্তি নেই!"
এর কয়েক ঘন্টা পরেই তিন নেতা এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চু্ক্তিতে সই করলেন। এই সংবাদ সম্মেলনের পর এবার তাদের বাড়ি ফেরার পালা। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট স্ট্যানিস্লাভ শুশকেভিচ বাড়ি ফেরার পথে বুঝতে পারলেন, তারা যা করেছেন তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব:
"গাড়িতে বাড়ি ফেরার সময় আমি রেডিওতে খবর শুনছিলাম দুনিয়ার কোথায় কি ঘটছে। আমি খেয়াল করলাম, খবরে বার বার ইয়েলৎসিন আর ক্রাভচুকের নাম বলা হচ্ছে। আর আমার নাম যখন আসছে, তখন তারা সেটি ঠিকমত উচ্চারণ করতে পারছে না। চুকচোভিচ, শেশকোভিচ, শাখোভিচ, যার যা খুশি উচ্চারণ করছিল। তখন আমি বুঝলাম, আমরা একটা বিরাট খবর তৈরি করেছি। তবে তখন আমি বেশ ভয়ে ছিলাম। আমাদের আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ৮২ শতাংশই সদস্যই হচ্ছে কমিউনিষ্ট। এরা যদি চুক্তিটি অনুমোদন না করে, আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখানেই শেষ।"
তবে শেষ পর্যন্ত তিনটি আঞ্চলিক পার্লামেন্টই এই চুক্তি অনুমোদন করলো। শুধু তাই নয়, অন্য সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোও এতে যোগ দিল। ১৯৯১ সালের ২৫শে ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট গর্বাচভ পদত্যাগ করলেন। বিলুপ্ত হয়ে গেল সোভিয়েত ইউনিয়ন। লিওনিদ ক্রাভচুক স্বাধীন ইউক্রেনের প্রথম প্রেসিডেন্ট হলেন। তিনি এখনো কিয়েভে থাকেন। স্ট্যানিস্লভ শুশকেভিচ ১৯৯৪ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। তিনি এখন বেলারুশে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা, থাকেন রাজধানী মিনস্কে।
বার্লিন প্রাচীরের পতনের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিজমের পতন ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র

ডায়েট মেন্যুতে অ্যালোভেরা রাখবেন কেন?

কেবল রূপচর্চাতেই নয়, স্বাস্থ্যরক্ষাতেও অ্যালোভেরা অনন্য। এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা নিয়মিত রাখলে পারেন আরও নানাবিধ সুফল। জেনে নিন ডায়েট মেন্যুতে কেন এবং কীভাবে রাখবেন অ্যালোভেরা।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর
অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি ডায়েট চার্টে থাকলে যেমন সুস্থ থাকবে শরীর, তেমনি সুস্থ থাকবে ত্বক ও চুল।
হজমশক্তি বাড়ায়
হজমশক্তি বাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। অ্যালোভেরাতে থাকা ল্যাক্সেটিভ উপাদান পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফলে খাবার হজম হয় দ্রুত। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রের খারাপ ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কমায় এবং ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতা বাড়ে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
সমীক্ষা বলছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আত্রান্তরা নিশ্চিন্তে এই রস পান করতে পারেন। এতে ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়ে। নিয়ন্ত্রণে থাকে শর্করার পরিমাণ।
ওজন কমায় দ্রুত
অ্যালোভেরাতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লমেটারি এবং ডিটক্সিফাইং উপাদান ওজন কমাতে সাহায্য করে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এটি। 
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
অ্যালোভেরায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ডায়েটে অ্যালোভেরা যেভাবে রাখতে পারেন
  • জুস হিসেবে পান করতে পারেন অ্যালোভেরা। এজন্য পাতার কিছুটা অংশ কেটে নিন। তারপর ওপরের সবুজ অংশ সরিয়ে চামচ দিয়ে বের করে নিন জেল। হলদেটে আঠা যেন না থাকে। এবার জেল ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ডাবের পানি বা নরমাল পানির মধ্যে দিয়ে, অল্প মধু মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। চাইলে পছন্দের ফলের রসও মেশাতে পারেন।
  • সালাদে মিশিয়ে খেতে পারেন এটি। এজন্য পাতা ভালো করে ধুয়ে নিন। আঠা যেন না থাকে। এবার ছোট ছোট টুকরোয় কেটে মিশিয়ে নিন সালাদের সঙ্গে।
  • অ্যালোভেরার জুস বরফের ট্রেতে জমিয়ে রাখতে পারেন। শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে পান করতে পারবেন।
>>>তথ্য: এনডিটিভি
জুস হিসেবে পান করতে পারেন অ্যালোভেরা