Friday, June 8, 2018

‘কেন বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’ by শেখ জাহাঙ্গীর আলম

স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে প্রশ্ন রেখেছেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার নির্দোষ হলে চাকরিতে বহাল থাকবে, অথবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে যদি তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়, তবে বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করবে পুলিশ। কেন বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’
বুধবার (৬ জুন) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেছেন বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘যদিও তদন্ত হচ্ছে, তবে এখনও মনে হয় না পুলিশ মিতু হত্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে পেরেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা? তাদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।’
এ প্রসঙ্গে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে তদন্ত কার্যক্রম চলছে, তাতে আমরা মোটেও সন্তুষ্ট নই। সঠিক তদন্ত না করে নামমাত্র চার্জশিট জমা দিলে আমরা আদালতে নারাজি দেবো।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ওই দিন সকালে ছেলে মাহিরকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলা প্রসঙ্গে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ও (বাবুল আক্তার) এই হত্যা মামলার বাদী। কিন্তু সে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা বলেনি। তখন তো সে আমাদের সঙ্গে ছিল। যদি সে দোষী না হতো, তবে কথা বলতে কী সমস্যা ছিল তার।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শোনা কথা- পুলিশ বাবুল আক্তারকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সেখানে আলাদা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে নাকি আসামিদের মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসা করেছিল। সেখানে নাকি বাবুল আক্তার তার স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছিল। এরপর সে পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এর কিছুদিন পরে বাবুল আক্তার চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টাও করেছে। কিন্তু পুলিশ ডিপার্টমেন্ট তাকে পুনঃনিয়োগ দেয়নি। এখানে বোঝা যাচ্ছে বাবুল আক্তার তার স্ত্রী (মিতু) হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাই সে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।’
বাবুলের শ্বশুরের প্রশ্ন, ‘বাবুল আক্তার যদি নির্দোষ হয়, তবে কেনইবা চাকরি ছাড়লো? আর সে যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে কেন তাকে গ্রেফতার করা হলো না?’
বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে বাবুলের শ্বশুর বলেন, ‘বর্ণির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আকরামকে হত্যা করে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে এমন খবর অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আমরা অনেকদিন পরে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি। গায়েত্রী সেন নামে এক নারীর সঙ্গে বাবুল আক্তারের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার বেশ কিছু প্রমাণও আমরা পেয়েছি। তাদের মধ্যে কিছু এসএমএস আদান-প্রদান হয়েছে, এছাড়াও বাবুল আক্তারকে কিছু বই উপহার দিয়েছে গায়েত্রী সেন। সেই বইগুলোতে তাদের হাতের লেখাও পাওয়া গেছে, তারা কোথায় কোথায় সাক্ষাৎ করেছে সে বিষয়গুলো পাওয়া গেছে। মোবাইলে পাঠানো কিছু এসএমএস ওই বইগুলোতে লিখে রেখেছে বাবুল। কিছু এসএমএস মিতুর মোবাইলেও পাঠিয়েছিল গায়েত্রী। সেগুলোর প্রতিটিতেই ছিল হুমকিস্বরূপ কথা।’
মিতুকে নির্যাতনের বিষয়ে বাবুল আক্তারের শ্বশুর বলেন, ‘মিতুর ওপর অনেক মানসিক নির্যাতন চলেছে। এই কারণে মিতু একাধিকবার সুইসাইড করতে চেয়েছিল। এসব কথা মিতুর ছেলে মাহির, বাসার কাজের মেয়ে এবং সেখানকার প্রতিবেশীরাও বলেছে। হত্যার ঘটনার আগে বাসাও চেঞ্জ করতে চেয়েছিল, কিন্তু মিতু তাতে রাজি হয়নি।’
তার অভিযোগ, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের আরও সহযোগী রয়েছে। এদের মধ্যে একজন মজিবুর রহমান, অপরজন কামাল। ঘটনা ঘটার সময় বাবুল আক্তারের কাছে ছিল তারা। মিতু হত্যাকাণ্ডের সময়কার বাবুল আক্তারের অঙ্গ-ভঙ্গিমা আর এখনকার অঙ্গ-ভঙ্গিমা এক নয়। তখন সে অভিনয় করেছিল।’
মিতুর বাবা আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার (৫ জুন) আমার বাসায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বাবুল আক্তার আসেনি। তার দুই সন্তানকেও আসতে দেয়নি। গত দেড় বছর ধরে সে আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। তার সন্তানরা আমাদের কাছে আসতে চাইলে, ফোনে কথা বলতে চাইলেও দেওয়া হয় না।’
মিতু হত্যাকাণ্ডের পরপর তো বাবুল আক্তারের পক্ষে কথা বলেছিলেন কিন্তু এখন তার বিপক্ষে কেন? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তখনও গণমাধ্যমের সামনে বলেছি, মিতু হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আসামি যেই হোক, তাকে গ্রেফতার করা হোক। কিন্তু তখন তো জানতে পারিনি যে বাবুল আক্তার এর সঙ্গে জড়িত। সে যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা অনেকাংশেই বোঝা যায়। আর যদি সে জড়িত না হয়, তবে কেন সে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলো?’
উল্লেখ্য, ০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড় এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কয়েক দিন আগে বাবুল আক্তার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি নিয়ে ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে যোগ দেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তার সম্পৃক্ত কিনা, তা নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় তাকে খিলগাঁওয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে ১৬ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেয়। এরপর তার আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে পরে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাননি দাবি করে চাকরি ফিরে পেতে চেষ্টা করেছেন বাবুল আক্তার।

মিয়ানমারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মতামত পাঠিয়েছে বাংলাদেশ by শেখ শাহরিয়ার জামান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অনুরোধে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে নিয়ে মতামত জানিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার গত ৭ মে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে মতামত জানানোর অনুরোধ করে। এ ক্ষেত্রে ১১ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সাড়া দিলো বাংলাদেশ।
বৃহ্স্পতিবার (৭ জুন) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আইসিসির অনুরোধে সাড়া দিয়ে আমাদের জবাব হস্তান্তর করেছি।’
এখন পর্যন্ত তিন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান আইসিসির অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের মতামত দিয়েছে।
আইসিসি প্রকাশ্যে বা গোপনীয়ভাবে মতামত জানানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বলেছিল। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে গোপনীয়ভাবে তাদের মতামত জানিয়েছে।
কোর্টের বন্ধু (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবে ডা. মোহাম্মাদ হাদি জাকের হোসেইন এবং আন্তর্জাতিক কমিশন অব জুরিস্ট তাদের মতামত দিয়েছে। এছাড়া ৪০০ জন রোহিঙ্গার পক্ষে একটি আন্তর্জাতিক এনজিও গ্লোবাল রাইটস কমপ্লায়েন্স তাদের মতামত দিয়েছে।
আইসিসির প্রসিকিউটর ফেতো বেনসুদা মিয়ানমার থেকে জোর করে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করে বাংলাদেশে পাঠানো সংক্রান্ত অভিযোগ বিচার করার অধিকার আদালতের আছে কিনা জানতে চেয়ে গত ৯ এপ্রিল একটি পিটিশন দাখিল করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আইসিসি বাংলাদেশের মতামত চায়।
বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ
‘যেকোনও ধরনের জাতিগত নিধন সম্পর্কিত বিষয়ে মতামত দেওয়া বাংলাদেশের কর্তব্য। রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না’ বলে মন্তব্য করেন একজন কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মাদ বেলাল নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রোম স্ট্যাটিউটের ১৬তম অ্যাসেম্বলিতে বলেছিলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা সঠিক কাজটি করেছি এবং আমি সবাইকে আহবান জানাই তারা যেন মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।’
আইসিসি নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অবস্থিত।

২০ জুন শুনানি
আগামী ২০ জুন প্রি-ট্রায়াল চেম্বার এ বিষয়ে শুনানির জন্য রুদ্ধদ্বার কক্ষে মিলিত হবে। সেখানে শুধুমাত্র ফেতো বেনসুদা উপস্থিত থাকবেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে দায়বদ্ধতার বিষয়টি উত্থাপন করে আসছিল এবং এ কারণে বেনসুদা ইস্যুটি আদালতের সামনে নিয়ে আসেন।
সম্প্রতি গণহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত আদামা দিয়েং বাংলাদেশ সফরের সময় বলেছিলেন, ‘মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের শুধুমাত্র তাদের পরিচয়ের জন্য হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জীবিত পুড়িয়ে মারা এবং অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।’
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ছাড়া আগে থেকে ছিল আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা। গত ২৫ আগস্টের পরে যারা পালিয়ে এসেছে তাদের মথ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্তা নারী, ৩৬ হাজার এতিম এবং মা-বাবা নিখোঁজ এমন প্রায় আট হাজার শিশু রয়েছে।

এস-৪০০ কিনলেও ব্যবহার করবেন না: তুরস্ককে আমেরিকা

রাশিয়ায় তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনলেও তা ব্যবহার না করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন বিরোধিতার মুখে তুরস্ক যখন রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে তখন মার্কিন কর্মকর্তা এমন আহ্বান জানাচ্ছেন।
তুরস্কের ইংরেজি ভাষার দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকা আজ (বৃহস্পতিবার) একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, তিনটি কারণে মার্কিন সরকার রাশিয়া থেকে তুরস্ককে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে বাধা দিচ্ছে। এ তিনটি কারণ গত ৪ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পোম্পেওর সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লুর সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
প্রথমত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়াকে একঘরে করার চেষ্টা করছে কিন্তু এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে তুরস্কের পরিকল্পনা ন্যাটো জোটের সে পরিকল্পনার পথে বাধা। এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ আগস্ট রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তাও বাস্তবায়নের জন্য বাধা। কারণ ওই নিষেধাজ্ঞায় রুশ কোম্পানিগুলোকে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত তুরস্ক এস-৪০০ কিনলে ন্যাটো জোটের সামরিক বিমান বিশেষ করে মার্কিন এফ-৩৫ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিপদ সৃষ্টি হবে বলে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। তৃতীয়ত, আমেরিকা নিজেই তুরস্ক ও ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যের কাছে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি করতে চায়। কিন্তু তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কিনলে মার্কিন সে পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।

জেরুজালেম ঘোষণা শান্তি প্রতিষ্ঠা করেনি, মৃত্যু বয়ে এনেছে: ম্যাক্রোন

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, বরং তা মানুষের জন্য মৃত্যু বয়ে এনেছে। মঙ্গলবার প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন। এ খবর দিয়েছে হারিতজ।
খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদে দীর্ঘ ৯০ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারা। পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দু’দেশের প্রেসিডেন্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও বিশ্ব শক্তিদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ম্যাক্রোন বলেন, ইরানের বিষয়ে ইসরাইলের উদ্বেগের সঙ্গে একমত ফ্রান্স। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বহাল থাকা জরুরি। পাশাপাশি এমন কোনো সমঝোতা দরকার, যাতে ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরা যায়। এজন্য একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠনে রাজি হয়েছে দু’দেশ। ম্যাক্রোন বলেন, মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমের স্থানান্তরের মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেয়া হয়েছে। এতে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় নি। যেহেতু এটা মানুষের জন্য মৃত্যু বয়ে এনেছে, তাই এটা উদযাপন করার বিষয় না। ফ্রান্স গাজায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধান চায়।
যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পরেও ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এ পরিস্থিতিতে ইরান ইস্যুতে মিত্রদের সমর্থন আদায়ের জন্য ইউরোপ সফর শুরু করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে তিনি বর্তমানে ফ্রান্স সফরে রয়েছেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ইরান চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ম্যাক্রোনকে বলেন নি। তার ভাষায়, ‘আমি জেসিপিওএ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানাইনি। কেননা, আমি মনে করি, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, কোনো চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে আমার আগ্রহ নেই। আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ইরানকে সিরিয়া থেকে বের করে নেয়া।

রাজনৈতিক বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে বাস্তবায়ন অযোগ্য, চমকহীন ও ভারসাম্যমূলক বাজেট হিসাবে অভিহিত করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও অর্জন করা অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা। গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদরা এ মন্তব্য করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের যে আকার নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এছাড়া বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রত্যেকবার বড় আকারের বাজেট দেয়া হচ্ছে। অথচ তা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না। এবারও তাই হবে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেট লক্ষ্যমাত্রার জন্য প্রশাসনিক যে দক্ষতা প্রয়োজন তা আমাদের নেই। যেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব রযেছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে চালের ওপর অসময়ে ২৮ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে। এটা সঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এই বাজেটের মাধ্যমে মানুষের আয় বৈষম্য আরো বেড়ে যাবে। বাজেটে কর মুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দরকার ছিল। গত তিন বছর ধরে করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানেও একই রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। মীর্জ্জা আজিজ আরো বলেন, ব্যাংকিং খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে তা মোকাবিলায় বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। বরং নতুন করে ব্যাংকের আমানতের একটা স্তরের ওপর সারচার্জ বসানো হয়েছে। এতে করে ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাবে এবং ব্যাংকের ঋণের সুদের হার বেড়ে যাবে। তিনি বলেন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতে আড়াই  শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর উদ্দেশ্য কি? ব্যাংকগুলো চাইলো আর কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হলো? তিনি বলেন, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর আগে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্তারোপ করা দরকার ছিল। কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোর বিনিময়ে ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর শর্ত দেয়া যেত।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মানবজমিনকে বলেন, বাজেটে নতুন কোনো চমক নেই। পুরনো কাঠামো ও পুরনো চিন্তার মধ্যেই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে মালিকপক্ষেরই বেশি লাভ হবে। কেন এ কর কমানো হয়েছে তার পেছনে যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কোনো কারণ দেখছি না। ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্যের মধ্যে এ ধরনের করপোরেট কর ছাড় দেয়া ঠিক হয়নি। রোহিঙ্গাদের জন্য কী পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে সেরকম কোনো আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়নি। সঞ্চয়পত্রের ওপর চাপ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে চাঙ্গা করা উচিত ছিল। কিন্তু এই ঘোষিত বাজেটকে দেখে মনে হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকতে হবে। সিপিডির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো হবে, এবার এটা বাজেটে কমানো হয়েছে। সিপিডি খুশি হয়েছে। কৃষক এটাতে লাভবান হবে, যোগ করেন এই বিশেষজ্ঞ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, বাজেটে রাজনৈতিক কনফিগারেশন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামনে নির্বাচন তাই বড় বাজেট না দিলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাই অর্থমন্ত্রী এতো বড় বাজেট দিয়েছেন।
জনকল্যাণমুখী বাজেট হয়নি। বাজেটের প্রকল্পগুলো যদি জনকল্যাণমুখী হতো, মানুষের জীবন যাত্রার মান এবং প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো তবে সেটা ভালো হতো। কিন্তু এমন কিছুই দেখছি না। সবমিলে একটা সাদামাটা বাজেট পেলাম, যা হতাশাজনক। অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, বড় বাজেট বাস্তবায়নের যে সক্ষমতা সেটা আমরা এখনো অর্জন করতে পারিনি। সরকারি সংস্থাগুলা, ব্যবসায়ী সংগঠন অথবা ব্যাংকিং খাতের কথা যদি বলি, তাদের মাধ্যমেইতো বাজেট বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এ বাজেট বাস্তবায়ন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি ভারসাম্যমূলক বাজেট। নির্বাচনের বছরে এরকম বাজেটই কাম্য। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানো হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে বিনোয়োগের ক্ষেত্রে আর একটু ছাড় দিলে ভালো হতো। সব মিলিয়ে এটি একটি ভারসাম্যমূলক বাজেট।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সঙ্গে বাজেটের আকার সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বাজেট শুধু প্রণয়ন করলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, করপোরেট ট্যাক্স কমানো একটা ভালো সিদ্ধান্ত। বাজেটে দেশীয় শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে বেশ কিছু সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে আইবিএফবি’র পক্ষ থেকে অনুন্নত জেলাগুলোকে এগিয়ে নিতে একটি জেলা বাজেটের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল সেটা হয়নি। আশা করছি ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগে ঘাটতি রয়েছে। তবে যেহেতু চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নে এখনো সময় রয়েছে তাই এটি সামগ্রিকভাবে ব্যবসাবান্ধব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজেটে ব্যাংক রেট কমানোর প্রস্তাবকে ভালো উদ্যোগ উল্লেখ করে মহিউদ্দিন বলেন, দেশের ব্যাংকিংখাতে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এই উদ্যোগ ইতিবাচক। সেই সঙ্গে ব্যাংকিংখাতে কমিশন গঠনের প্রস্তাবকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। বিদ্যুৎখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে জোর দেয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এটিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এফবিসিসিআই। করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর্পোরেট করের হার আরো কমানো প্রয়োজন। ঢাকা চেম্বার মনে করে, জিডিপিতে বেসরকারিখাতের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হলে কর্পোরেট সেক্টরের সকল খাতে করের হার ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ হারে কমানো প্রয়োজন। ডিসিসিআই সভাপতি কোম্পানির লভ্যাংশের উপর দ্বৈত করের হার কামানোর প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান।
বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি সেলিমা আহমেদ আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য উন্নয়ন প্রত্যাশী এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাজেট শিল্প-ব্যবসাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে

ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মনে করছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প ও ব্যবসা খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। গতকাল রাজধানীর ফেডারেশন ভবনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এদিকে ব্যবসায়ীদের অপর সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বলছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে করপোরেট করের হার আরো কমানোর প্রয়োজন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেটে এক লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কেটি টাকার ঘাটতি দেখানো হয়েছে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা নেয়া হবে। সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া হবে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংক নির্ভর বাজেট উৎপাদন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্পতি ব্যাংক খাতে সুদহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজেটে ব্যাংক লোন নেয়ার ক্ষেত্রে সুদহার বাড়বে না এটা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকে অস্থিরতার জন্য নিবিড় পর্যালোচনা দরকার। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমরা বাজেটে ইনকাম ট্যাক্স সম্পন্ন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। যেন তড়িঘড়ি না করে শেষ তিন মাসে সব প্রকল্পে হাত দেয়া না হয়। সতিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু ভালো দিক আছে।  বিদ্যুৎ, পরিবহন, অবকাঠামো খাতে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। বিধবা ভাতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, মুনতাকিম আশরাফ প্রমুখ।
এদিকে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি আবুল কাসেম খান-এর সভাপতিত্বে ডিসিসিআই বোর্ড রুমে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সম্পর্কে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবুল কাসেম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৩৭.৫ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করের হার ৪২.৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও, পাবলিকলি ও নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি এবং মার্চেন্ট ব্যাংক খাতে বিদ্যমান করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যার কারণে পুনঃবিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জিডিপিতে বেসরকারিখাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বিদ্যমান ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হলেও কর্পোরেট করের হার কমানো না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। অথচ জিডিপিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ শতাংশ বাড়াতে হলে প্রায় ২৪-২৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ অবস্থায় ঢাকা চেম্বার মনে করে, জিডিপিতে বেসরকারিখাতের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হলে কর্পোরেট সেক্টরের সকল খাতে করের হার ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ হারে কমানো প্রয়োজন। ডিসিসিআই সভাপতি কোম্পানির লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত করের হার কামানোর প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান।
বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১,৭৩,০০০ কোটি টাকা, যা কিনা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৬.৫৯ শতাংশ বেশি এবং এডিপি খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব কে ডিসিসিআই সাধুবাদ জানায়।  প্রস্তাবিত বাজেট মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়োছে ৩,৩৯,২৮০ কোটি টাকা, যার মধ্যে এনবিআর’র উৎস হতে ২,৯৬,২০১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য করের আওতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি বলে ডিসিসিআই মনে করে। প্রস্তাবিত বাজেটে জ্বালানি অবকাঠামো খাতে ২৪,১৭৩ কোটি টাকা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৪৫,৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকা চেম্বার মনে করে, আমাদের অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করা আবশ্যক। ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, রেলখাতের উন্নয়নে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১১,১৫৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে, যা ৩ শতাংশ। এটাকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। বলেন, রেলপথ ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা সম্ভব, যা ব্যবসার ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দকে সাধুবাদ জানিয়ে ডিসিসিআই’র সভাপতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা পরিচালনায় বিনিয়োগ করলে তা ৫ শতাংশ হারে করমুক্ত সুবিধা প্রদানের আহ্বান জানান। দেশীয় উৎপাদিত  মোটরসাইকেল, টায়ার-টিউব এবং মোবাইল ফোনোর আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির উপর শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান তিনি। আবুল কাসেম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু কিছু পণ্যের উপর ভ্যাটের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সকল পণ্যের উপর বিদ্যমান ভ্যাট হার বজায়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি। সভায় ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তে খুশি হামাস, কাজ হয়নি নেতানিয়াহুর ফোনেও

বিশ্বের ন্যায়কামী মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আর্জেন্টিনা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ফুটবল প্রীতি ম্যাচ বাতিল করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রভাবশালী সদস্য হেসাম বাদরান বলেছেন, আর্জেন্টিনার এই সিদ্ধান্ত থেকে প্রমাণিত হয়েছে গণমানুষের চাপ বাস্তব ফল বয়ে আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বয়কট, পুঁজি প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে 'বিডিএস' আন্দোলন চলছে তা এক ধরনের প্রতিরোধ। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করা সম্ভব এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলকে কোণঠাসা করতে এ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আগামী ৯ জুন বায়তুল মুকাদ্দাসে (জেরুজালেম) ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র সমালোচনা ও ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ওই ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
আর্জেন্টিনার ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট মিনুতুনো জানিয়েছে, সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা, হুমকি ও সমালোচনার মুখে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার ফুটবল দল ইসরাইলের সঙ্গে ৯ জুনের প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়েছে ইসরাইলি নেতারা। ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও মার্সিকে ফোন করে খেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন। জবাবে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার দেশের ফুটবল ফেডারেশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না।
ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান আর্জেন্টিনার ফুটবল টিমের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইহুদিবাদী দৈনিক ইয়াদিউত অহারনোত বলেছে, আর্জেন্টিনার সিদ্ধান্তে আরও একটি বিজয় হয়েছে বয়কট আন্দোলন তথা বিডিএস মুভমেন্টের।

মাদকবিরোধী অভিযান স্থগিতের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পাশাপাশি এই অভিযানে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এছাড়া জাতিসংঘও একই আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জায়েদ রা’দ আল হোসেন বলেন, মাদক বিক্রির অপরাধে কারো মানবাধিকার বঞ্চিত করা উচিত না। একইসঙ্গে চলমান অভিযানে হওয়া প্রত্যেকটি মৃত্যুর তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সংঘটিত বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোর স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেয়া উচিত বাংলাদেশ সরকারের। গত মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়া এ অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩০ জনেরও বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি মনে করে, আন্তর্জাতিক মানের আইনি প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ প্রশিক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান স্থগিত করা উচিত।  হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, বাংলাদেশে মাদক একটি মারাত্মক সমস্যা। কিন্তু যেকোনো পদক্ষেপ হওয়া উচিত আইনের মধ্যে থেকে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় শক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকা  উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মে মাসের শুরুতে এ মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলেছিলেন। পরে ৩০শে মে তিনি বলেন, এ অভিযানে প্রায় দশ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, অভিযানে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলায়। এসব ঘটনার পর সরকারের তরফ থেকে কথিত বন্দুক যুদ্ধের যে বক্তব্য এসেছে, সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
বিবৃতিতে গত ১৯শে মে কর্তৃপক্ষ হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, র‌্যাবের সঙ্গে হওয়া ওই বন্দুকযুদ্ধে আরও দুজনকে মৃত উদ্ধারের কথা বলা হয়। তবে হাবিবুর রহমানের পরিবার জানিয়েছে, সে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা হেফাজতেই ছিলো। আারেকটি ঘটনায় ঢাকা ভিত্তিক একটি মানবাধিকার গ্রুপ দাবি করেছে, ইসলাম রনি নামে একজনকে বাড়ি থেকেই আটক করা হয়। তার পরিবার জানায় গোয়েন্দা পুলিশ পরে তার নিরাপত্তা ও মুক্তির জন্য ঘুষ দাবি করে। পরিবার থেকে পুলিশকে টাকাও দেয়া হয় কিন্তু রনি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
এরপর সমপ্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হবার ঘটনা। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা অডিওতে কথাবার্তায় বোঝা যাচ্ছে যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে  অডিওটি নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, অডিওর বিষয়ে তারা তদন্ত করবেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে বাংলাদেশের এনজিও, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রা্থদ আল হুসেইন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উদ্বেগ উৎকণ্ঠাও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও সরকার র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্ব শান্তির জন্যই ইসরাইল যাচ্ছে না আর্জেন্টিনা

ইসরাইলে ফুটবল ম্যাচ খেলছে না আর্জেন্টিনা। আর এ ম্যাচ বাতিল করায় ফিলিস্তিনসহ যেমন অন্যান্য দেশের ফুটবল সমর্থকের বাহবা পাচ্ছেন মেসি-মাসচেরানোরা তেমনি ইসরাইলের মানুষরাও ক্ষিপ্ত আর্জেন্টাইন ফুটবল দলের ওপর। খেলা বাতিল করার মূল কারণ কি ছিল, তা নিয়ে এখনও জলঘোলা করছেন অনেকে। তবে সব প্রশ্নের জবাব দিলেন খোদ আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (এএফএফ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি জানান, মূলত বিশ্ব শান্তির জন্যই ইসরাইলে যাচ্ছে না মেসিরা।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য বর্তমানে বার্সেলোনাতে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা দল। বার্সেলোনার প্রিন্সেস সোফিয়া হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রধান তাপিয়া বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইসরাইলের সঙ্গে খেলব না। আর আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ওইসব ইসরাইলিদের কাছে যারা ম্যাচ দেখার জন্য নিজেদের পয়সা খরচ করে টিকিট কিনেছিল।’ মাঠের খেলা আর খেলা নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক জটিলতার বিষয়টিও পরিষ্কার করেন তাপিয়া। এএফএফ সভাপতি তাপিয়া বলেন,  ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে ফুটবল মাঠের খেলা, যা কি না মাঠে শুরু হয় আর সেখানেই শেষ হয়। আর যারা আমাদের ভয় দেখিয়েছে, তারা সত্যিই আমাদের ছোট করেছে। এমন পরিস্থিতি মাঝে মধ্যেই সৃষ্টি হয়।
গেল ৭২ ঘণ্টায় আমাদের নিয়ে যা হলো, যত রকমের সমালোচনা বা ভয়ভীতি দেখানো এসব কারণই মূলত আমাকে ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য করেছে।
আমার প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে সর্বপ্রথম আমার দলের সকলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেদিক বিবেচনা করেই আমি আমার অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আমি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য যেন সবাইকে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

গাড়িতে তুলে চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়

গাড়িতে তুলে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। গতকাল ডিআরইউতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। গ্রেপ্তার ও ছেড়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, গাড়িতে তুলে আমার চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। হাতকড়া পরানো হয়। কোথায় তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তা তিনি বুঝতে পারেননি। রাতে ছেড়ে দেয়ার পর বুঝতে পেরেছেন তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযানের  যৌক্তিকতা বোঝাতে চেষ্টা করেছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। ইমরান বলেন, আমিও তাদের বলেছি- আমরা মাদকের বিরুদ্ধে। আমি এটাও বলেছি- কেন আমরা বিচারবহির্ভূত  হত্যার বিরুদ্ধে। অভিযানের প্রতি আমাদের শতভাগ সমর্থন আছে। কিন্তু অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিচার করতে চাইলে সরকার আলাদা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করেও করতে পারে। সেখানে আমাকে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে সেসব প্রশ্ন শাহবাগে দাঁড়িয়েও করা যেত জানিয়ে ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, গতকাল (গত বুধবার) যে ঘটনা ঘটেছে, যে প্রক্রিয়ায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়া সিনেমাটিক স্টাইলে নিয়ে যাওয়াও কাম্য নয়।
ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল কিনা- প্রশ্ন রেখে ইমরান এইচ সরকার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে র‌্যাবের অংশ আছে। বেশির ভাগই র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। এখন ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তারা আমাকে তুলে নিয়ে গেছে কিনা- এটাও একটা প্রশ্ন। অযথা হামলা করে আহত করে সমাবেশ করতে না দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না। আমাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রনেতাদের যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। প্রতিবাদ করা নাগরিকের সমাবেশে যদি বাধা দেয়া হয় সেটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো মামলা  নেই। তারপরও আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার বলেন, শাহবাগে সমাবেশের অনুমতি আমাদের আগে থেকেই নেয়া ছিল। পুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানায়ও অবহিত করা হয়েছিল। সমাবেশের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করা র‌্যাবের এখতিয়ারে নেই। পুলিশ চাইলে অনুমতির ব্যাপার খতিয়ে দেখতে পারে। আমি এসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে গাড়িতে তোলা হয়। সেখানে সমাবেশের লোকজন পর্যন্ত জড়ো হয়নি, এমন সময় আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ঘোষিত সমাবেশের আগেই মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছয় ঘণ্টা আইনবহির্ভূতভাবে তাকে আটক রেখে রাত ১১টায় ছেড়ে দেয়। যথাযথ অনুমতি থাকা সত্ত্বেও গণজাগরণ মঞ্চের বিকালের সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ ধারা অনুযায়ী সমাবেশ করার অধিকার সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ‘মৌলিক অধিকার’ অংশ দ্বারা রক্ষা করা হয়েছে। গতকাল শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের পূর্বঘোষিত সমাবেশের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছিল। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্রের জোরে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা নজিরবিহীন।
মাদকবিরোধী অভিযানকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র কখনই আইনবহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে না যাওয়ার কারণে বড় বড় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে  থেকে যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরেও বিনা বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এসব প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার। মাদক ব্যবসায়ীদের যেসব সিন্ডিকেটের কথা আমরা গণমাধ্যমে জানতে পারি তাতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, রাঘববোয়ালদের নাম যেন প্রকাশিত না হয় সে কারণেই কি বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড? বলে প্রশ্ন রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করা যাবে না। অপারেশন সার্চ লাইটের সময় থেকে আমরা বলছি, বিচারিক আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা নেই? প্রশ্ন রেখে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, গতকাল (বুধবার) নাটকীয়ভাবে হ্যান্ডশেক করার বাহানায় ইমরান এইচ সরকারকে ধরে নিয়ে গেছে। পত্রিকায় র?্যাবের বক্তব্য দেখলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। র‌্যাবের এখতিয়ারে নেই সমাবেশের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার। সেটা পুলিশের কাজ। আমরা মাদকবিরোধী অভিযানের পক্ষে, কিন্তু বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড আমাদের সংবিধান পরিপন্থি। তিনি বলেন, এভাবে বাধা দিয়ে, ধরে নিয়ে গেলেও আমরা ভীত হচ্ছি না, আমাদের সংগ্রাম চলমান থাকবে।
পরবর্তীতে বিকাল ৪টায় গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীর নেতৃত্বে মিছিলযোগে সমাবেশে যোগ দেন গণজাগরণ মঞ্চ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তারা বিচারবহির্ভূত গুম, খুন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

এমবিবিএস পাস চিকিৎসক যখন পেশাদার খুনি, অস্ত্র ব্যবসায়ী

ডা. মো. জাহিদুল আলম কাদির (৩৮)। ২০০২ সালে ময়মনসিংহ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ মাসের একটি ডিপ্লোমা কোর্স করেন। আর উচ্চতর পড়াশোনা করেননি। স্থায়ীভাবে সরকারি চাকরিও পাননি। ডিপ্লোমা করার পর তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার একাধিক ক্লিনিকে কয়েক মাস চাকরি করেছেন। সেই চাকরি তার আর ভালো লাগেনি। এরমধ্যে জাহিদুলের অস্ত্র সংগ্রহ করা একটি শখে পরিণত হয়। শখ থেকে ব্যবসা শুরু। একপর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক খুনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে এক ব্যক্তির বার্তা পেয়েছিলেন জাহিদুল।
সিলেট অঞ্চলে এক সংসদ সদস্যকে হত্যা করার জন্য ওই বার্তাটি পেয়েছিলেন। তবে কোন সংসদ সদস্যকে হত্যার চুক্তি হয়েছিল তা জানা যায়নি। এসব ঘটনার সম্পৃক্ততার কারণে স্ত্রী সুমা আক্তারসহ জাহিদুল আলম কাদিরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১৫ই মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে জাহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়। আদালতের আদেশে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে গত ৩রা জুন গাবতলী এলাকা হতে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দুজনের দেয়া তথ্যে গত বুধবার ময়মনসিংহ জেলার বাঘমারা এলাকার জাহিদুল আলম কাদিরের ফ্ল্যাট থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৬১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি তার নিজ বাসায় বিশেষভাবে তৈরি করা একটি স্টিল কেবিনেটের পেছনে লুকানো ছিল। তাদের কাছ থেকে মোট ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও মোট ১ হাজার ৬২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেল ৩টি, পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল ১টি, পয়েন্ট ৩২ বোর রিভলবার ৪টি, ২২ রিভলবার ১টি,  ৭.৬৫ পিস্তল ৫টি ও পয়েন্ট ২৫ পিস্তল ১টি। উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেলের গুলি ১১০ রাউন্ড, পয়েন্ট ২২ রাইফেলের গুলি ১১০০ রাউন্ড, পয়েন্ট ৩২ রিভলবারের গুলি ৩৫৮ রাউন্ড ও পয়েন্ট ২৫ পিস্তলের গুলি ৫৪ রাউন্ড। তিনি আরো জানান, ১৫টি অস্ত্রের মধ্যে ৪টি রাইফেল, ৫টি রিভলবার ও ৬টি পিস্তল।  অধিকাংশ জার্মানি ও ব্রাজিলের তৈরি।
জাহিদুল আলম ২০০২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর সরকারি বা স্থায়ী কোনো চাকরি করতো না। পড়াশোনার পর গ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও  ক্লিনিকে চাকরি করত। চিকিৎসা পেশার অন্তরালে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি অস্ত্র সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করতেন। বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও মেরামতে বিশেষভাবে পারদর্শী। এছাড়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অস্ত্রের আকার আকৃতি পরিবর্তন এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষ। পেশাদার কিলার হিসেবে তিনি বেশ কয়েক জায়গায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই তাকে গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। জাহিদুল আলমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসী এবং পেশাদার খুনিদের সখ্য ছিল। সিলেট ও কক্সবাজারের কিছু সস্ত্রাসীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনার পর অস্ত্র সংগ্রহ করা একটি শখে পরিণত হয়। নেশায় পরিণত হয়। নেশা থেকে একপর্যায়ে সে অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। অস্ত্র চালনার ক্ষেত্রেও তার দক্ষ নিশানা ছিল। এই অস্ত্র বিক্রয় করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি কন্ট্রাক কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি আরো জানান, জাহিদুল বেশ কিছু অস্ত্র বৈধ অস্ত্র বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যেসক বৈধ অস্ত্র বিক্রেতা তার কাছে অবৈধভাবে অস্ত্র বিক্রি করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। সদ্য কাউকে কাউকে খুনের পরিকল্পনা ছিল কি-না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, জাহিদুল কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে একটি কন্ট্রাক কিলিংয়ের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। সিলেটের একজন এমপিকে হত্যা করার তার মিশন ছিল, তার আগেই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যারা অবৈধভাবে অস্ত্র বিক্রয় করে থাকে তাদের সবার সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাজধানীতে দুটি টিম কাজ করছে। গত ৩ মাসে ১০ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আমরা এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করি না। প্রেস রিলিজ দিয়ে বিষয়টি অবগত করি।  সংবাদ সম্মেলনে এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, ডিএমপির ডিসি (স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ) প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, ডিএমপির এডিসি (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটি) মো. সানোয়ার হোসেন।

নির্বাচনী উচ্চাভিলাষ: ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকটা জনতুষ্টির বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চলতি বাজেট থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়লেও অনেক দিক সামলে সবার মন জয়ের চেষ্টা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন উদ্যোগ প্রস্তাবিত বাজেটে খুব একটা নেই। বরং কিছু ক্ষেত্রে ভোটারের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত ৪ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ এবং মূল বাজেটের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি। গতকাল দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বাজেট প্রস্তাবে সই করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা, যার ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যাবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন   বাজেটের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি।
অনুন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ৫৮ হাজার ৫১২ কোটি টাকা যাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে। যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের ২০ দশমিক ৭১ শতাংশ। বাজেটের ৭৩ শতাংশ অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে রাজনৈতিক বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে তা বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। শিল্প ও বণিক সমিতির নেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প ও বাণিজ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বিএনপি বাজেটকে নির্বাচনী এবং লুটপাটের বাজেট বলে আখ্যা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এ বাজেট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পেশ করা ১২তম। ৮৫ বছর বয়সী মুহিতের এটি টানা দশম বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্যসংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, এক লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৮২ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা করা হয়। আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে ১ লাখ ৭১৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৪৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৩৬ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ৯০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে চার হাজার ৫১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। ঘাটতির এই পরিমাণ মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে।  বিদশি ঋণ থেকে ৫০ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ  উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী তার ১১০ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতায় আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে মূল্যস্ফিতি ৫.৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে খাতভিত্তিক সম্পদ বিভাজনে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনপ্রশাসনে ১৮ শতাংশ।  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১৪ দশমিক ৬ ভাগ। এ ছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১২ দশমিক ২ ভাগ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ৭ ভাগ, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ৫ দশমিক ৭ ভাগ, প্রতিরক্ষায় ৬ দশমিক ৩ ভাগ, কৃষিতে ৫ দশমিক ৭, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫ দশমিক ৪ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ। এ ছাড়া মোট বাজেটের ১১ দশমিক ১ ভাগ বরাদ্দ রয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধে।
বাজেটে এবারও করমুক্ত আয় সীমা আড়াই লাখ টাকাই রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের কোম্পানি করদাতা ছাড়া অন্যান্য করদাতাদের যথাক্রমে ৫, ৪ ও ৩ হাজার টাকা ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। এই কর হার বিদায়ী অর্থ বছরের মতোই থাকছে।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় ব্যক্তিগত করদাতার প্রদর্শিত সম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জ আরোপের কথা বলেছেন। নিট পরিসম্পদ ২ কোটি ২৫ লাখ থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ ভাগ সারচার্জ দিতে হবে। কোনো করদাতার নিজের নামে দুটি গাড়ি বা কোনো সিটি করপোরেশন এলাকায় আট হাজার বর্গফুটের গৃহ সম্পত্তি থাকলে তাকেও একই ধরনের সারচার্জ দিতে হবে। ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিট পরিসম্পদ থাকলে ১৫, ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ২৫ এবং ২০ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পত্তিধারীদের ৩০ শতাংশ হারে সারচার্জ প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ২০৩০ সালের মধ্যে বিড়ি এবং ২০৪০ সালের মধ্যে সিগারেট পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী তামাক পণ্যের ওপর কর বাড়িয়েছেন। বাজেটে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ি আমদানির সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গুঁড়োদুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে।
স্থানীয়ভাবে তৈরি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারীদের ভ্যাট অব্যাহতি এবং দেশে তৈরি হয় না, এমন ধরনের কিছু সফটওয়্যার আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, ক্যানসার প্রতিরোধক ওষুধ প্রস্তুতের উপকরণের উপর রেয়াতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। প্রস্তাবিত বাজেটে এনার্জি ড্রিংকের উপর সম্পূরক শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিগারেট ও বিড়ির কাগজের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং হাতে তৈরি বিড়ির খুচরা মূল্যহার বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে। সব ধরনের প্রসাধন সামগ্রীর উপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
আতর ও আগরবাতি ছাড়া সব ধরনের সুগন্ধিতে সম্পূরক শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সব ধরনের পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগের উপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে। হেলিকপ্টার সেবায় ২০ শতাংশ এবং উবার পাঠাওয়ের মতো শেয়ারিং রাইডে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এদিকে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর একটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবিত বাজেট থেকেই এর পাইলটিং শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া বাজেটে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার এবং নাতি-নাতনিদের সহযোগিতার জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ১লা বৈশাখ ও বিজয় দিবসে সব মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ১১০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতায় আশা করেন রাজস্ব আহরণ ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজস্ব পরিসর বাড়ারও আশা করছেন মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট ৯২ শতাংশ বাস্তবায়নের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আর্জেন্টিনাকে ফিলিস্তিনের ধন্যবাদ

ইসরাইলে প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচ বাতিল করায় আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন। সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে জেরুজালেমে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টিনা ফুটবল এসোসিয়েশন (এএফএ)। এক বিবৃতিতে মেসি ও তার দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরি রজব বলেন, ‘ম্যাচ বাতিল হওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। জয় হয়েছে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও খেলার।’ এদিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও ম্যাক্রির সঙ্গে কথা বলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। ম্যাচ বাতিল না করার অনুরোধ করেন তিনি। আর্জেন্টিনায় ইসরাইলের দূতাবাসও টুইট করে প্রীতি ম্যাচ বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী শনিবার বিরোধপূর্ণ জেরুজালেমের টেডি স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের একটি গ্রাম ধ্বংস করে এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ইসরাইলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচ ঘিরে শুরু থেকেই সমালোচনা আর বিতর্কের ঝড় ওঠে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমনপীড়ন এর মূল কারণ। ম্যাচ বাতিলের খবরে ফিলিস্তিনের গাজায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এর আগে মেসিকে ইসরাইলে না খেলার আহ্বান জানান রজব। বলেন, ‘মেসি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে তার ১০ মিলিয়ন ভক্ত রয়েছে। ইসরাইলের বিপক্ষে খেলতে নেমে মেসি যেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকে স্বীকৃতি না দেন আমরা সেই প্রত্যাশাই করি।’ শত অনুরোধের পরও যদি মেসি ইসরাইলে খেলতে যান তবে তার জার্সি ও ছবি পোড়ানোর হুমকিও দিয়ে রাখেন রজব। রাশিয়ায় উড়াল দেয়ার আগে এটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। এখন বার্সেলোনার মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ খুঁজছে এএফএ। আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি আগেই বলেছেন তিনি বার্সায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে রাশিয়া যেতে যান। এর আগে বুয়েন্স আয়ার্সে মেসির হ্যাটট্রিকে হাইতিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে প্রথম প্রস্তুতি সারে আলবিসেলেস্তেরা। মস্কোতে আগামী ১৬ই জুন আইসল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে গতবারের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া ‘ডি’ গ্রুপের অপর দুই প্রতিপক্ষ।
মিনিটে ৫০০০০ ডলার পেতেন মেসি
আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেই ইসরাইলের বিপক্ষে ম্যাচ বাতিল করেছে আর্জেন্টিনা। ইসরাইলের বিপক্ষে মাঠে নামলে প্রতি মিনিটের জন্য ৫০ হাজার ডলার পেতেন লিওনেল  মেসি! টুইটারে এমন তথ্য জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সাংবাদিক রয় নেমার। বিশ্বকাপের আগে আগামী ৯ই জুন ইসরাইলের বিপক্ষে জেরুজালেমে  প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচটি আয়োজন করতে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এরই মধ্যে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ইসরাইল ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তি ছিল ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার হাতে আরো ৩ মিলিয়ন ডলার তুলে দেয়ার। সফর বাতিল হয়ে যাওয়ায় ইসরাইলকে ১ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়ে দিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার। মেসি-মাসচেরানোদের চাপে পড়েই এই প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।

স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিলো পাষণ্ড স্বামী

রায়গঞ্জে যৌতুক দিতে না পারায় এক গৃহবধূর মাথার চুল ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির স্বজনদের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা গৃহবধূর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে তার মাথা ন্যাড়া করে কয়েকদিন ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়ে মঙ্গলবার নির্যাতিতা গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে মামলা করলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রায়গঞ্জ উপজেলার সড়াই হাজিপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাদুলি গ্রামের আবু তাহের খানের মেয়ে ইসরাত জাহান বিথির (২২) বিয়ে হয়। মেয়ের সুখের জন্য বিয়ের সময় একটি মোটরসাইকেল, নগদ ৫০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু ফার্নিচার দেয় বিথির পরিবার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় নতুন নতুন চাহিদা। আর সেই দাবি পরিশোধ করতে না পারায় বিথির ওপর শুরু হয় নির্যাতন। সবশেষ গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বিথির ওপর চাপ দেয় জাহাঙ্গীরসহ পুরো পরিবার। কিন্তু টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে পরিবারের সকলে মিলে বৃহস্পতিবার সকালে বিথির মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। আর বিষয়টি যেন কেউ যেন জানতে না পারে সেজন্য বিথিকে ঘরের ভেতর তালাবন্ধ করে আটকে রাখা হয়। চার দিন পর  সোমবার দুপুরে কৌশলে মা ও ভাইকে মোবাইলে বিষয়টি জানায় বিথি। পরে বিথির পরিবার পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিথির ভাই জুয়েল খান অভিযুক্ত বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। রায়গঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বুধবার দুপুরে জানান, নির্যাতিতা গৃহবধূ বিথি নিজে বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে চলে গেছে।