Thursday, August 17, 2017

রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার উদ্যোগ নেবে না ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাজ নয়। ইসি এ উদ্যোগ নেবেও না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের সংলাপ করে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। নুরুল হুদা বলেন, তাঁরা তাঁদের নেয়া শপথ দৃঢ়ভাবে পালন করবেন। যত চাপ আসুক, নতি স্বীকার করবেন না। সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের সংলাপ শুরু হয়। শেষ হয় বেলা পৌনে একটায়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। আজকের সংলাপে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মোট ৩৪ জন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির প্রথম দিনের সংলাপ হয়। এদিন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ইসি। সংলাপে আমন্ত্রিত ৩৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ২৬ জন। ইসি গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংলাপ শুরু করে। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু, অবনতি দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে

দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির (কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়ার) উন্নতি হতে শুরু করেছে। অপরদিকে দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চল (মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুঞ্জিগঞ্জ, শরীয়তপুর) বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল রয়েছে। সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মধ্যাঞ্চলে ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার হতে ১২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে। তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকায় নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে, এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ৬৭ থেকে ১৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বন্যার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশের আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ৩০ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে। বাংলাদেশ অংশের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বিভিন্ন্ পয়েন্টে আগামী ৭২ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকবে, তবে এই নদীর পানি বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে আসছে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ৪৮ ঘন্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। এতে বলা হয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা এই তিন অববাহিকার মধ্যে গঙ্গা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানের ভারতীয় অংশে এবং মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় ও বাংলাদেশ অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৮০ কিলোমিটার উজানে) ৪৩ সেন্টিমিটার পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৬০ কিলোমিটার উজানে) ৩৪ সেন্টিমিটার, গোয়ালপাড়া (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৯০ কিলোমিটার উজানে) ২৬ সেন্টিমিটার এবং ধুবরী (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ২৫ কিলোমিটার উজানে) ১৪ সেন্টিমিটার পানি সমতলে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সমতল নুনখাওয়া, চিলমারী, বাহাদুরাবাদ এবং সারিয়াকান্দি পয়েন্টে হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গতকাল সন্ধ্যা হতে স্থিতিশীল রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বাসস।

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী পাপিয়াকে হত্যার দায়ে স্বামী মনিরুজ্জামান সেলিমকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ হেলাল উদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার অপর আসামি নজরুল ইসলামকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায়ের বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ দীঘলপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মনিবরুজ্জামান সেলিমের সাথে ছফর আলীর মেয়ে পাপিয়া আক্তারের (৩০) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাপিয়া আনন্দমোহন কলেজে ইসলামের ইতিহাসে ২য় বর্ষে পড়তো এবং স্বামী মনিরুজ্জামান সেলিম ওয়ার্ল্ডভিশনে চাকরি করতো। পরে স্বামী মনিরুজ্জামান স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি নেবে বলে স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ি পাঠান। পাপিয়ার বাবা যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করে মেয়েকে নিজের বাড়িতেই রেখে দেয়।
ঘটনার ১৫ দিন আগে মনিরুজ্জামান স্ত্রী পাপিয়াকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং শারিরীক নিযার্তন শুরু করে। ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে পাপিয়াকে হত্যা করে। পরদিন পাপিয়ার বাবাকে খবর দেয় যে, তার মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে পাপিয়ার স্বজনরা এসে দেখে ঘরের ভেতর পাপিয়ার লাশ পড়ে রয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। এঘটনায় পাপিয়ার বাবা ছফর আলী বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করে। আদালতে আসামি পক্ষসহ ১৫ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক মনিরুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। মামলার অপর আসামি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট কবির উদ্দিন ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ পাল ও অ্যাডভোকেট সনজীব কুমার সরকার মামলা পরিচালনা করেন।

সৈয়দপুরে প্রতারণার নয়া ফাঁদ : আটক ৩

নীলফামারীর সৈয়দপুরে নেমে পঞ্চগড় চা বাগানে বেড়াতে যাওয়া তিন ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে ৯০ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল সেট হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতারক দল। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে তিন প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। সৈয়দপুর থানার এসআই আব্দুল আজিজ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। জানা যায়, নওগাঁ থেকে নীলসাগর ট্রেনে চেপে বুধবার রাতে (১৬ আগস্ট) সৈয়দপুরে আসেন হারুন-অর রশীদ (৪৫), মোতাহার হোসেন (৪১) ও মোস্তাকিন আহমেদ (৩৫)। এখান থেকে পঞ্চগড় চা বাগান যাওয়ার উদ্দেশ্যে সৈয়দপুরের পাশে রাবেয়া মিল বাসস্ট্যান্ডে যান। এসময় তিনটি মোটর সাইকেলে একদল প্রতারক এসে তাদের গতিরোধ করেন এবং নিজেদের ডিবি পরিচয় দেন। ওই আগন্তক ৩ জনকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নেওয়া হয় সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়ার একটি বাড়িতে। সেই বাড়িতে ওই ৩ জনকে মারডাং করে সাথে থাকা ৯০ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল সেট কেড়ে নেওয়া হয়। এরমধ্যে হারুণ-অর রশীদকে ছেড়ে দিয়ে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। হারুণÑঅর-রশীদ বিষয়টি সৈয়দপুর থানাকে অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ প্রতারক কে আটক করে। এরা হচ্ছে নীলফামারীর আরাজি রামকলার মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে আজিজুল ইসলাম ওরফে ডাক্তার (৪৫), একই এলাকার মৃত জাফর আলী চৌধুরীর ছেলে নূর হোসেন (৩৫) ও দিনাজপুরের খানসামা গোয়ালডিহি মৃত সোলেমান আলীর ছেলে ডাব্লিউ ইসলাম (২৮)। এ ঘটনার মুল হোতা বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের আব্দুল মন্নাফের ছেলে রকি (২৫) নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে এসব অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন তারা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আত্রাইয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নওগাঁর আত্রাইয়ে উজান থেকে নেমে আসা পানি ও গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে উপজেলার ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপথসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে উপজেলার মালিপকুর নামক স্থানে আত্রাই-সিংড়া সড়ক, পাঁচুপুর বেড়িঁবাধ ও পাঁচুপুর-সিংড়া রোড ভেঙ্গে আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। সেই সাথে উপজেলার অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এর পরও শিলক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি ভেঙ্গে গেলেও শিক্ষার্থী নেই। এদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্লাস করতে না পাড়লে এসব পরীক্ষার্থীরা সমাপনী পরীক্ষা ও বাষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবে না বলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন। এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার রোখছানা আনিছা জানান, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আত্রাইয়ে গত কয়েক দিন বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় এবং বিদ্যালয়গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় উপজেলার বেওলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারমোহনঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বমিরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলরামচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দনালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আত্রাই আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৩০টি প্রথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অপর দিকে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় উপজেলার কাশিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, শলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জগদাশ উচ্চ বিদ্যালয়, বড় কালিকাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, উদনপৈ দাখিল মাদ্রাসা, ও আটগ্রাম দাখিল মাদ্রাসাসহ ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। এদিকে উপজেলার পূর্বমিরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবল বন্যার পানি বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোতে ঢুকে যাওয়ায় এবং পানিবন্দী হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ বন্যার ফলে বর্তমান আমাদের বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে কোমর পর্যন্ত পানি। বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ১৯ নভেম্বর সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন সমাপনি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে না পাড়লে বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয়। সচেতন মহল মনেকরছেন এভাবে স্কুল বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের উপর পরীক্ষায় বিরুপ প্রভাব পড়বে।

রাবিতে দুই বছর পর শিবিরের প্রকাশ্য মিছিল

দুই বছর পর আবারো প্রকাশ্য ঝটিকা মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে শুরু করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে দিয়ে কাজলা দিকে যেয়ে শেষ হয়। ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ এবং আইন হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কেন্দ্রঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল এবং ৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্তৃক শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৫ জন সাধারণ ছাত্র ও ৮ জন শিবির কর্মীকে নির্যাতন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।  জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শিবির মিছিল করেছে আমরা শুনেছি। তবে এব্যাপারে আমরা স্পষ্ট না। কোথায় যেন নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিছে, সঠিক করে কেউ বলতে পারছি না। প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ১৩ জন শিক্ষার্থীকে মরধর করে পুলিশের সোপর্দ করে। ছাত্রলীগের দাবী তারা সবাই শিবিরের সক্রিয় কর্মী।

'যেকোনো মূল্যে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ প্রতিহত করব'

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন বৃহস্পতিবার বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে কোনো যুদ্ধ হবে না। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ প্রশ্নে সিউল জোরালোভাবে ভেটো দিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও সিউলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ব্যাপারে এমন কথা বলা হলো। দায়িত্ব গ্রহণের ১শ’ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মুন বলেন, কোরীয় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে দক্ষিণ কোরীয়রা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। মুন আরো বলেন, ‘আমি যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই সব দক্ষিণ কোরীয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করুক যে কোনো যুদ্ধ হবে না।’ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক উচ্চাকাক্সক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির বিরুদ্ধে সপ্তম দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দেয়। যদিও পরে তারা সেখানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে পিয়ংইয়ংয়ের এমন হুমকির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে চরম শিক্ষা দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ওয়াশিংটনের অস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে মুন বলেন, সিউল তাদের নিরাপত্তা মিত্র ও রক্ষক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালোভাবে ভেটো দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্মতি ছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।’ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াটা কোন বিষয় না হলেও এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা করে তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই যে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

হাওয়াইয়ে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ব্ল্যাক হ’ক হেলিকপ্টার পাঁচ আরোহীসহ হাওয়াইয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন কোস্ট গার্ড এবং হনলুলু দমকল বাহিনী পাঁচ আরোহীর জন্য তল্লাশি শুরু করেছে। হাওয়াইয়ের ওয়াহু দ্বীপের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে গতকাল বিকেলে এটি বিধ্বস্ত হয়। আজ সকাল থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ওহাহু দ্বীপের কেইনা পয়েন্টের তিন কিলোমিটার পশ্চিমে দেখা গেছে। অনেকগুলো জাহাজ এবং বিমান এ তল্লাশি অভিযানে অংশ নিয়েছে। মার্কিন মেরিন বাহিনীর একটি এমভি-২২ ওসপ্রে বিমান অস্ট্রেলিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে তিন মেরিন সেনা নিহত হওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ব্ল্যাক হ’ক বিধ্বস্ত হলো।

গাজায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হতাহত ৭

গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল ও মিসর সীমান্তে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আত্মঘাতী বোমা হামলায় দু'জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও রয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে ই- মেইলে পাঠানো সরকারি এক বিবৃতিতে ইয়াদ আল বোজম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফা ও মিসরের মধ্যবর্তী সীমান্তে বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরো বলেন, মিসরীয় সীমান্তে দুই ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্তরক্ষীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময়ে একজন তার সাথে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সে নিহত এবং অপরজন আহত হন। তিনি আরো জানান, এছাড়া সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলে তাকে শহরের আবু ইউসুফ আল নাজার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কর্মকর্তা মারা যায়। এ হামলায় আরো ৫ জন আহত হয়। আল বোজম বলেন, হামলার পর পরই গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া তদন্তও শুরু হয়েছে।

অস্ত্র ফেলে পাথর ছোড়াছুড়ি করলো চীন ও ভারতের সেনারা

কাশ্মিরের লাদাখে হিমালয় পার্বত্য সীমান্তের বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডে চীন ও ভারতের সৈন্যদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছে। সিকিম সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মাসব্যাপী মুখোমুখি অবস্থানের পর লাদাখে এ সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তবে মঙ্গলবারের এ সংঘর্ষের ঘটনার পর গতকাল সেখানে দুই দেশের সেনাকর্মকর্তারা পতাকা বৈঠক করেছেন। ভারতের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার পনগং লেকের কাছে ভারতীয় সৈন্যদের লক্ষ্য করে চীনের সৈন্যরা পাথর ছুড়ে মারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটি পর্যটকদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়। ভারতের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরো জানান, চীনের সৈন্যরা দুই দফা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে কিন্তু সেনাদের বাধার মুখে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘এটি একটি সামান্য ঘটনা। চীনের সৈন্যরা কিছু পাথর ছুড়ে মারলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ তিনি আরো জানান, ভারত ও চীনের সৈন্যরা তাদের নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে সংক্ষিপ্ত এ সংঘর্ষের অবসান হয়। এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে সিকিম সীমান্ত এলাকায় দুইপরে সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। সিকিম সীমান্তের কাছাকাছি মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ দোকলাম এলাকায় চীনা বাহিনীর রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দুইপরে মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দোকলাম এলাকার মালিকানা নিয়ে চীন ও ভুটানের মধ্যে বিরোধ থাকলেও ভুটানের পক্ষ হয়ে ভারতীয় বাহিনী দোকলামে চীনের রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়। এরপর থেকে ওই এলাকায় মারমুখী অবস্থান নিয়ে আছে দুইপক্ষের বাহিনী। এই নিয়ে চলা উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এবার লাদাখ সীমান্ত এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে মৃদু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনা সৈন্যরা দুইবার ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে, দুইবারই তাদের বাধা দেয়া হয়। ওই সেনাকর্মকর্তা বলেন, ‘সেখানে ছোট একটি ঘটনা ঘটেছে। চীনাপক্ষ থেকে পাথর ছোড়া হয়েছিল; কিন্তু দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ১৫ জন সৈন্য ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে দুইবার লাদাখ সীমান্তের দু’টি এলাকা, ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ দিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। উভয়ক্ষেত্রেই সতর্ক ভারতীয় সেনারা তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যখন চীনা সৈন্যরা দেখতে পায় ভারতীয় সেনারা মানববন্ধন তৈরি করে পথ আটকে রেখেছে তখন তারা পাথর নিক্ষেপ শুরু করে, সাথে সাথে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরাও চীনাদের লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় উভয়পরে বেশ কয়েকজন সেনা ছোটোখাট আঘাত পান। পরে উভয়পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশ জানিয়েছে, লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নামে পরিচিত ওই সীমান্তে সংঘর্ষ তুলনামূলকভাবে একটি সাধারণ ঘটনা। শ্রীনগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘প্রতি গ্রীষ্মেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এবারের ঘটনাটি একটু বেশি সময় ধরে ঘটেছে এবং আরো গুরুতর ছিল; কিন্তু কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।’ প্যাঙ্গন হ্রদ এলাকাটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উচ্চতায় তিব্বতের মালভূমিতে অবস্থিত।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ লাইক পেলো যে টুইট

একটা ছবি, ছবিতে একটি জানালা দিয়ে কয়েকটি শিশুকে দেখছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিশুগুলো একসাথে আছে কিন্তু তাদের গায়ের রঙ ভিন্ন ভিন্ন। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা নেলসন ম্যান্ডেলার উক্তি, ‘কোনো শিশুই অন্য কারো বর্ণ, ধর্ম কিংবা অতীতকে ঘিরে ঘৃণা নিয়ে জন্মায় না।’  ভার্জিনিয়ার শার্লোটসভিলে হামলার পর গত ১৩ আগস্ট বারাক ওবামার পোস্ট করা এই টুইটটিতে এখন পর্যন্ত লাইকের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বলা হচ্ছে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের ইতিহাসে এত লাইক এর আগে আর কোনো টুইটই পায়নি। টুইটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাইলফলকটি অর্জিত হয় বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার দিকে। এর আগে সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া টুইটটি পোস্ট করেছিলেন আরিয়ানা গ্রান্ডে, বিষয় ছিল ম্যাঞ্চেস্টারের সন্ত্রাসী হামলা। বারাক ওবামার সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া টুইটটি ছিল মূলত একটি ধারাবাহিক টুইটের প্রথমটি। এরপর একই বিষয়ে আরো দুটি টুইট করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
তিনটি টুইটই মূলত নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী লং ওয়াক টু ফ্রিডমের একটি অনুচ্ছেদের থেকে নেয়া। দ্বিতীয় টুইটটি ছিল, ‘মানুষকে অবশ্য ঘৃণা করতে শিখতে হয়। তাদের ভালোবাসতেও শেখানো যায়।’ তৃতীয়টি ‘মনুষ্যহৃদয়ে ঘৃণার চেয়ে ভালোবাসাটাই বেশি প্রাকৃতিকভাবে আসে।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই টুইটারের একজন ভক্ত এবং নিয়মিত ব্যবহারকারী, এমনটিই জানেন সবাই। টুইটারকে রীতিমতো প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, টুইটের সংখ্যার বিচারে না হলেও জনপ্রিয়তার বিচারে টুইটারে বারাক ওবামার থেকে বিস্তর পিছিয়ে আছেন ডোলান্ড ট্রাম্প। টুইটারে ট্রাম্পের অনুসারীও বারাক ওবামার চেয়ে অনেক কম। বারাক ওবামাকে অনুসরণ করেন ৯ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারী মোটে তিন কোটি ৬০ লাখ। যদিও বারাক ওবামার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টুইট করেছেন ডোলান্ড ট্রাম্প। সূত্র : বিবিসি

আবারো কারাগারে দাঙ্গা, নিহত ৩৭

ভেনিজুয়েলার একটি কারাগারে আবারো দাঙ্গা হয়েছে। অ্যামাজনাস রাজ্যের ওই কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। প্রসিকিউটর দফতর জানায়, পুয়ের্তো আইয়াকুচো শহরের ওই কারাগারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দাঙ্গায় ৩৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এর আগে গভর্নর লিবোরিও গুয়েরুলা এক টুইটার বার্তায় কারাগারে ভয়াবহ সহিংসতায় নিহতের কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার ভোর পর্যন্ত এই সহিংসতা চলে। এতে ১৪ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে কোনো কর্মকর্তা নিহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারাগার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, এ সংঘর্ষে নিহত ৩৭ জনের সবাই ওই কারাগারের বন্দি। গুয়েরুলা জানান, দাঙ্গার সময় কারাগারে ১০৫ বন্দি ছিলেন।

সহায়ক সরকারের ফর্মুলা নভেম্বরে

লন্ডনে চিকিৎসা শেষে সেপ্টেম্বরেই দেশে ফিরতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অক্টোবরের শেষের দিকে অথবা নভেম্বরে দলটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবে। এ ক্ষেত্রে দলটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ‘রাজনৈতিক বিতর্ক ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি’র অবসানে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছা।  ইতোমধ্যে রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি। রূপরেখায় বিশ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোরও সুপারিশ নিচ্ছে তারা। তবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর রূপরেখা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণাসংক্রান্ত রায়ের পর সহায়ক সরকার নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার সময় এসেছে। আগে একটি রায়ে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার কথা বলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তা অমান্য করে নির্বাচন করেছে। ওই নির্বাচন যে যথাযথ ছিল না, তা বর্তমান ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে। রায়ে বলা হয়েছে, এ সংসদ ডিসফাংশনাল বা অকার্যকর। ফলে এ সরকারে সবকিছু এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচন অপরিহার্য। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ও পক্ষপাত ছাড়া নিরপেক্ষভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে না পারলে গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গ্রহণযোগ্য সংসদ গঠিত হতে পারে না। আর এ কারণে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং সংসদ শিশু অবস্থায় রয়ে গেছে। জনগণ নির্বাচন কমিশন ও সংসদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এ দুইটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় না আনা যাবে ততদিন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে না ধরলেও প্রায় এক বছর ধরে নির্বাচনকালীন একটি ‘সহায়ক সরকার’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একই দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল এ দল। ওই নির্বাচনের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ’৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনকালীন দুইটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে নিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন- যা আমলে নেয়নি দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অনড় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সহায়ক সরকারের ফর্মুলা কেমন হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা নয়া দিগন্তকে বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য থেকেই সহায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা সংবিধান সংশোধন করে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহায়ক সরকার হতে পারে। অথবা প্রধানমন্ত্রীকে ছুটিতে রেখে কিংবা তার কার্যপরিধি সীমিত করে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সহায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে। ওই নেতা বলেন, ফর্মুলা যেটাই হোক এ ক্ষেত্রে সমঝোতা কিংবা আলোচনার মনোভাব সবার আগে জরুরি। আলোচনার টেবিলে বসলে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি স্থায়ী সমাধান বের করে আনা সম্ভব। জানা গেছে, রূপরেখা প্রকাশের পর এ দাবিতে সোচ্চার হবে বিএনপি। ড. মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন। এটা আমাদের ঘোষিত বিষয়। নেত্রী দেশে থাকা অবস্থায় বিশেষজ্ঞ দল এটা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি আসার পর তা চূড়ান্ত করা হবে। পরে তা নিয়ে জনমত সৃষ্টি করা হবে। তাই আরো জনসংযোগ কর্মসূচি আসবে সামনে। বিএনপির এ নেতা আরো বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক কিংবা সহায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন সরকার আপসে এ ব্যাপারে রাজি হলে সহায়ক সরকারের বিষয়ে আমাদের নতুন করে প্রস্তাব দিতে হবে না। হ্যাঁ, প্রধান কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সমঝোতা হতে পারে। এটা নিয়ে শুধু বিএনপি নয়, সরকার অন্যান্য দলের সাথেও আলোচনায় বসতে পারে। এর বাইরে গেলে সরকার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে অমান্য করবে। সেই রকম কিছু হলে তখন আমরা বাধ্য হব আন্দোলনে। যদি আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, তাহলে ২০১৪ সালের উদাহরণ আছে। এ ঝুঁকি বাংলাদেশ আবার নেবে কি না- সেটা হচ্ছে বিষয়। জানা গেছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বেশ সতর্কভাবে এগোচ্ছে। নির্বাচনে অতি উৎসাহ দেখানোর পক্ষপাতী নয় তারা। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেই ধাপে ধাপে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচন এখনো দূরে থাকায় দলটি দাবি-দাওয়ার মধ্যেই আরো কয়েকটি মাস পার করতে চায়। তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে কর্মসূচির ধরন আমূল পাল্টে ফেলতে পারে বিএনপি।

ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি কাল থেকে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে। ওইদিন ২৭ আগস্টের ট্রেনযাত্রার টিকেট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। আজ বৃহস্পতিবার রেলভবনে ঈদসেবা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির সূচি তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ১৮ থেকে ২২ অগাস্ট ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঈদযাত্রার আগাম টিকেট বিক্রি হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাউন্টারে এই টিকেট পাওয়া যাবে। ১৮ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৭ আগস্টের টিকেট, ১৯ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৮ আগস্টের টিকেট, ২০ অাগস্ট বিক্রি হবে ২৯ আগস্টের টিকেট, ২১ অাগস্ট বিক্রি হবে ৩০ আগস্টের টিকেট, ও ২২ অাগস্ট বিক্রি হবে ৩১ আগস্টের টিকেট। বর্ষায় দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ট্রেনের ওপর এবার বাড়তি চাপ পড়বে জানিয়ে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, চাপ সামলাতে রেলওয়ে সব প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে।… আমরা ১৩৮টি কোচ বাড়তি যোগ করেছি। এছাড়া ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আগে ঈদের তিন দিন আগে থেকে ঈদের বিশেষ ট্রেন চালাতাম। এবার ঈদের চার দিন আগে থেকে সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন দিচ্ছি, তা চলবে ঈদের পর সাত দিন পর্যন্ত। এবার ঈদ উপলক্ষে ২৯ অাগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে এসব বিশেষ ট্রেন। শোলাকিয়া ঈদগায় যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চালানো হবে।

আদালত পরিবর্তনে খালেদা জিয়ার আবেদনের আদেশ রোববার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদনের আদেশের দিন পিছিয়ে আগামী রোববার ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো: শওকত হোসেন ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের দিন পিছিয়ে এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১০ আগস্ট খালেদা জিয়ার করা আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর আগে গত ৭, ৮ ও ৯ আগস্ট খালেদার আবেদনের ওপর শুনানি হয়। গত ৬ আগস্ট জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত পরিবর্তন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবেদন করেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বর্তমানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলছে।

রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে জাতি উদ্বিগ্ন : মির্জা ফখরুল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা ব্যক্ত করেন। গতকাল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গতকাল দেখলাম প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিজে এ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরে এভাবে সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন এবং হতাশ। এরআগেও আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করলেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এবং দেশের মানুষ মনে করে বর্তমান রাজনীতিতে এ রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য এ রায় শুধু যুগোপযোগী নয় ঐতিহাসিক। আমি মনে করি এটি একটি দলিল। তিনি বলেন, এখানেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। সরকার দেখছে যে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আওয়ামী লীগ যে অবৈধভাবে দীর্ঘ দিন শাসন চালিয়ে আসছে তার প্রকাশ ঘটেছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচার বিভাগ নিজেরাই বলেছে, সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। সরকারের দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।এসময়, এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলটির আয়োজন করে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

সর্বসম্মতভাবে দেয়া রায়কে অপমান করা যায় না : বি চৌধুরী

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিচারের বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে সবাই কথা বলতে পারেন। সর্বসম্মতভাবে এ রায় দেয়া হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু অপমান করা যায় না। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে যে ভাবে কথা হচ্ছে কা নিয়ে আমি অন্যরকম সংশয় করছি। তারা রাষ্ট্রের একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কোটের সংগে যেভাবে লড়াইয়ের মতো পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছেন- এটা অভিপ্রেত নয়, এটা অনঅভিপ্রেত। এবং এটা ভবিষ্যতে কোন চেহারা নিতে পারে কি-না তা সবাইকে ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের ভেতর সরকার ও সংসদ দু শক্তি জোট বেঁধে তৃতীয় যে শক্তি বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এভাবে লড়ে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। আমার সন্দেহ হচ্ছে এটার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ অসংবিধানিক সরকার আসার প্রেক্ষাপট রচনা করতে পারে কি-না-এ প্রশ্ন আসছে। এ সুযোগে যদি কোনো অসাংবিধানিক সরকার গঠনের প্রচেষ্টা এর থেকে বেরিয়ে আসে তার জন্য কে দায়ী হবে। এটাই চিন্তা। ভালো হবে বিচার বিভাগ যা বলেছে তা মাথা পেতে নেয়া-এটাই সরকারের জন্য ভালো হবে। আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘ভিআইপি লাউঞ্জে’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র উদ্যোগে ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় : অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় ডা. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বন্যার কারণে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

বন্যার কারণে দেশে কোনো খাদ্য সঙ্কট হবে না বলে সরকার আশ্বস্ত করতে চাইলেও, চাল আমদানিতে ধীরগতির ফলে খাদ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর ড. এম আসাদুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাজারকে প্রভাবিত করার মত মজুদ সরকারের হাতে নেই। "গত ছয় মাস ধরে আমরা শুনছি তারা আমদানি করবেন, কিন্তু আমদানি তারা এখন পর্যন্ত করেন নাই।" তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ হাজার টন চাল আমদানি করতে পেরেছে, আর মজুদ আছে দুই লাখ ১৫ হাজার টন। দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় যদি ব্যাপকভাবে ত্রাণ দিতে হয়, তাহলে সরকার সেটা 'কোথা থেকে দেবে' তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ড. আসাদুজ্জামান। সরকারী তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, বুধবার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত ২০টি জেলায় ত্রাণের জন্য তিন হাজার ১০০ টন চাল মজুদ রয়েছে। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, সরকারের হাতে অর্থ আছে এবং চাল আমদানি করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, "চীনে এ বছর ফলন কম হয়েছে। তারা এরই মধ্যে চালের বিশ্ববাজারে ঢুকে পড়েছে। আমরা কি চীনের সাথে কম্পিট করে কিনতে পারবো? সেটা সম্ভব হবে না।" তিনি বলেন, এখন টেন্ডার ডেকে চাল আমদানি করতে গেলে তাতেও দুই থেকে আড়াই মাস লেগে যাবে। বাংলাদেশে এক বছরে তিন দফা বন্যার ফলে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং আরো অনেক ফসল নষ্ট হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সরকারী হিসেবে হাওর এলাকায় মাস তিনেক আগের বন্যাতেই বোরো উৎপাদন ২০ লাখ টন কম হয়েছে। এবার উত্তরাঞ্চলের বন্যায় আমন ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু মাঠের ফসল নয়, অনেক কৃষকের মজুদ করা গোলার ধানও পচে গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে অনেককেই হয়তো ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। লালমনিরহাটের একজন কৃষক শুক্কুর উদ্দিন বলেন, তার চাষ করা ধানের ৯০ শতাংশই প্রায় সপ্তাহখানেক পানিতে ডুবে আছে। তার ধারণা, এই ধানের পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে গোলার ধানও পচে গেছে। ড. আসাদুজ্জামান বলছেন, পানি যদি দ্রুত সরে যায় এবং কৃষি অধিদফতর যদি চারা দিতে পারে, তাহলে হয়তো কৃষকরা আবার কিছুটা আমন চাষ করতে পারবেন।
উত্তরাঞ্চলে ভয়াল রূপ নিয়েছে বন্যা
উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট জেলায় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনাজপুর বা কুড়িগ্রামের অনেক জায়গায় স্থানীয়রা বলছেন তারা জীবনে এরকম দুর্যোগের মুখোমুখি হননি। সরকারি হিসাবেই ২১টি জেলায় অন্তত ৩৩ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গেছে। অনেকগুলো জেলায় রাস্তা, রেললাইন ডুবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপদ্রুত লাখ লাখ মানুষ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও উঁচু জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পুরো দিনাজপুর জেলাই বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে পাঁচদিন ধরে। সেখানকার মানুষ গত প্রায় তিন দশকে বন্যার এত পানি দেখেননি। বন্যায় তলিয়ে থাকা দিনাজপুর শহরের একটি স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ইয়াসিন আলী বলছিলেন, "জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে গ্রামে আমার ঘরের টিনের চাল পর্যন্ত পানি। ঘরের কিছুই বের করতে পারিনি। শুধু মানুষগুলো বেরিয়ে এসে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। এখানে খাদ্য এবং খাবার পানির অভাবে আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি।" একই আশ্রয়কেন্দ্রে দুই শিশু এবং স্বামীসহ উঠেছেন নূরজাহান বেগম। তিনি বলছিলেন,সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা, কারও কাছ থেকেই সেভাবে ত্রাণ সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না। তিনি বা তার স্বামী একবেলা খেয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন। কিন্তু তিনি কোলের দুই শিশুর খাবার জোগাড় করা নিয়ে চরম দুরবস্থায় পড়েছেন। দিনাজপুরে এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। সেখানকার সাংবাদিক আসাদুল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, দিনাজপুরে দুই লাখ আটাত্তর হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। দিনাজপুরে আগেই আমন ধান রোপন করা হয়েছে। বন্যায় দুই লাখ হেক্টর জমিই পানির নিচে গেছে। নতুন করে আমন রোপনের বীজতলাও নেই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি সামলে ওঠা বেশ কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন। উত্তরের বন্যা কবলিত আরেকটি জেলা গাইবান্ধার শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সেখানকার মানুষের মাঝে আতংক তৈরি হয়েছে। জেলাটির পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রৌকশলী মাহবুবুর রহমান বলছিলেন, "গাইবান্ধাকে রক্ষার জন্য ২২৭ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এই বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ইঁদুর আর উইপোকার গর্ত। এসব গর্ত দিয়ে পানি ঢুকে বাঁধের ক্ষতি হচ্ছে। তবে গর্তগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। আর এখন পানি কমতে শুরু করায় বাঁধ ভাঙ্গার সম্ভাবনা নেই।" উত্তরের কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাটসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও এবং বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষকে বেশি দুরবস্থায় পড়তে হয়েছে। নদী এবং বন্যা নিয়ে কাজ করেন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ। তিনি বলছিলেন, "কখনও খনন না করায় উত্তরের নদীগুলো সব ভরাট হয়ে গেছে।ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানে ভারত থেকে যে পানির ঢল এসেছে, তা এখানকার নদীগুলো ধারণ করতে পারেনি এবং অনেক নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।" "আর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক উঁচু হয়ে জ্বলোচ্ছাসের মতো হু হু করে পানি এসেছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এমন ভয়াবহ পানির তোড়ে অনেক এলাকার মানুষ ভিটেমাটিতে সব ফেলে শুধু নিজের জীবনটা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে।" উত্তর পূর্বে সিলেট অঞ্চলে সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যায় এবার বেশি ক্ষতি হয়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলছিলেন, "উত্তরে যমুনা নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। এই পানি পদ্মা নদী দিয়ে বেরিয়ে যাবে। ফলে এখন রাজবাড়ী, শরিয়তপুর, মুন্সিগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার পানি আসছে।" সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন যে, এবার উত্তরের জেলাগুলোর মানুষ আগের বছরগুলোর তুলনায় বয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা তারা করছেন।

ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা বলা হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকায় বাতাসের গতি ও দিক দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কি.মি.। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অধিদফতর আরো জানায়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।

বিমানের আরো দুই হজ ফ্লাইট বাতিল

যাত্রীসংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আরো দুটি নিয়মিত হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই দুই ফ্লাইট যাত্রার কথা ছিল। যে দুটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, সেগুলো হলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভোর ৬টা ৫ মিনিটের বিজি-১০৭৩ ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটের বিজি-৫০৭৩। এদিকে আজ ভিসা জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও ৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রীর পাসপোর্ট হজ কার্যালয়ে জমা পড়েনি। বিমান কর্তৃপক্ষ জানান, হজযাত্রীসংকটের কারণে আজকে বিমানের দুটি নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এভাবে ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয় গত ২৪ জুলাই। শুরুর দিকে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় গত ২০ দিনে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইনসের ২৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল বা সময় পেছানো হয়েছে। এর মধ্যে বিমানেরই ২৫টি ফ্লাইট বাতিল হলো। এদিকে হজ কার্যালয় জানিয়েছে, এ বছর হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮। এর মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২ জনের ভিসা হয়ে গেছে। অর্থাৎ, ৪ হাজার ৭৭৬ জনের পাসপোর্ট জমা হয়নি। এঁরা সৌদি আরবে হজে যেতে ভিসা পাবেন না। সৌদি আরবে হজে যেতে আজ হজযাত্রীদের পাসপোর্ট বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসে জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই আজকের মধ্যেই সব পাসপোর্ট জমা পড়তে হবে। হজ কার্যালয়ের হিসাবে, আজ বেলা ১১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ৪৫ হজযাত্রী। আর ভিসা নিয়ে টিকিট কেটে সৌদিতে যাত্রার অপেক্ষায় আছেন ৪৯ হাজার ৩৭৭ হজযাত্রী। হজ ফ্লাইটের সূচি অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ ও ২৭ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে শেষ হজ ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা। বাকি ১০ দিনে প্রায় ৫০ হাজার হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠাতে হবে।
৪০ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বিমান
ভিসা জটিলতায় যাত্রী না পেয়ে ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক আহমেদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বিমানের বলাকা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতির যে অবসান হবে, সেই জায়গাটায় আমরা এখনও যেতে পারছি না।” এজন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও বাড়ি ভাড়া করার ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বয়হীনতার কথা বলেছেন বিমানের এমডি। এ সঙ্কট কাটিয়ে হজযাত্রীদের সবাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এ পর্যন্ত বিমানের ৫৪টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট এবং ১৬টি শিডিউল ফ্লাইটে ২৪ হাজার ১১৫ জনকে সৌদি আরব পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন হলেও তা এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। সব হজযাত্রীকে সময়মতো জেদ্দা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও আশাবাদী।” সৌদি সরকারের কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা। কিন্তু ভিসা জটিলতা, সৌদি আরবে মোয়াল্লেম ফি বৃদ্ধি এবং টানা দ্বিতীয়বারের হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে ভিসা ফি বৃদ্ধির ফলে এবারের হজযাত্রায় জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিমানের এমডি ও সিইও মোসাদ্দেক আহমেদ বলেন, “হজ যাত্রী পরিবহনে আমরা লাভ লোকসান হিসাব করি না। এখানে ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এটাকে লোকসান বলব না, কারণ এ আয় থেকে আমাদের খরচও হত।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের হজ যাত্রীদের এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তার জানা নেই। তারা সরকারিভাবে হজ পালন করতে যায়। যাত্রীদের পাঠানোর দায়িত্ব নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরই থাকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ৩০ অগাস্ট হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। সৌদি সরকার ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত ভিসা দেবে এবং হজের শেষ ফ্লাইট যাবে ২৬ অগাস্ট। গত ২৪ জুলাই ফ্লাইট শুরুর পর ১৬ দিনে ৭০টি ফ্লাইটে ৪০ হাজারের মত হজ যাত্রীকে সৌদি আরব পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে বিমান ২৪ হাজার ১১৫ জনকে জেদ্দা নিয়ে গেছে।  এক সপ্তাহের মধ্যে ৫২ হাজার হজ যাত্রীর ভিসা করিয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাদের জন্য ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার বিষয়টিকে ‘বেশ কঠিন’ বলেই মনে করছেন মোসাদ্দেক আহমেদ। তিনি বলেন, এটা খুব চ্যালেঞ্জিং একটা সিচুয়েশন। সিচুয়েশনটা ইমপ্রুভ করা দরকার। আমরা এর মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনের জন্য ১৪টি স্লটের আবেদন করেছিলাম। যার মধ্যে সাতটি আমরা ব্যবহার করতে পারব। বিমানের এত বেশি ফ্লাইট বাতিল হলেও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে ততটা সমস্যা না হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মোসাদ্দেক বলেন, সৌদিয়ার কোন হজ ফ্লাইট নাই। সেখানে শিডিউলড ফ্লাইটে যাত্রীরা যাতায়াত করছে। কিন্তু বিমানের যেগুলো বাতিল হয়েছে সবগুলো হজ ফ্লাইট। যাত্রী না থাকার কারণে সেগুলো বাতিল হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিমানের মার্কেটিং এন্ড সেলস বিভাগের পরিচালক মো. আলী আহসান, ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন ফরহাদ হাসান জামিল এবং জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীতে টিভি উপস্থাপিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ

রাজধানীতে বাসায় ডেকে নিয়ে এক টেলিভিশন উপস্থাপিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত দুই আগস্ট যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপস্থাপিকা নিজে বাদী হয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর কদমতলী থানায় ধর্ষণ মামলা করেছন। তবে অভিযুক্ত যুবককে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার তরুণী টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন। এছাড়া তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। মামলার বিবরণে তিনি জানান, ঘটনার দিন তাকে রাজধানীর শনিরআখড়া (যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের শেষ মাথা) এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেন পূর্ব পরিচিত এক যুবক। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করে সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, ধর্ষণের অভিযোগে মেয়েটি নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নং ৩৪। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এর আগে রাজধানীর বনানীতে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটক রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার এবং বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তাঁর মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়। এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতের জন্মদিনে দুই ছাত্রী যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তাঁর বান্ধবী জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁরা ভদ্র কোনো লোককে দেখেননি। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও বান্ধবী দেখেন সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় তাঁরা চলে যেতে চান। এই সময় আসামিরা তাঁদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। তাঁকে খুব মারধর করেন। ধর্ষণ করার সময় সাফাত গাড়িচালককে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন এবং তিনি প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর বাদী ও বান্ধবীর বাসায় দেহরক্ষী পাঠানো হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। তাঁরা এতে ভয় পেয়ে যান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিক অসুস্থতা তাঁরা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়। এর আগে ধর্ষণের আলামত হিসেবে এক ছাত্রীর সালোয়ার-কামিজ জব্দ করা হয়। তাতে কোনো ধরনের পুরুষের বীর্য আছে কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন ওই সালোয়ার-কামিজের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেন। এর আগে গত ৭ মে দুই ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। ওই সময় তাঁদের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন কবির সোহেল, মমতাজ আরা, নিলুফার ইয়াসমিন ও কবিতা সাহা। ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, ঘটনার এক মাস পর দুই ছাত্রী এখানে পরীক্ষা করাতে এসেছেন। এসব ঘটনায় যত দ্রুত পরীক্ষায় আসা যায়, ততই ভালো হয়। অন্যথায় শরীর থেকে আলামত নষ্ট হতে থাকে। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমরা তারপর বেশ কয়েকটি পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। এখনো সেগুলোর রিপোর্ট পাইনি। রিপোর্ট এলে পাঁচ সদস্যের বোর্ড বসে একটা ফাইন্ডিং রিপোর্ট দেওয়া হবে। এছাড়া গত ৪ জুলাই রাতে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে বনানীর বাসায় ইভান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেন এক তরুণী। পরদিন ৫ জুলাই ধর্ষণের অভিযোগ এনে বনানী থানায় বাহাউদ্দিন ইভানকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন তিনি। ৬ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে ইভানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন ৭ জুলাই ইভানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ জুলাই ইভান ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। বর্তমানে মামলার তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ১১ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইভানের সঙ্গে তার (তরুণীর) বন্ধুত্ব হয়। এর সূত্র ধরে তারা দেখা-সাক্ষাৎ ও ঘোরাঘুরি করতেন। চার মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাত ৯টায় ইভান ফোন করে ওই তরুণীকে জন্মদিনের কথা বলে তার বাসায় যেতে বলেন এবং তার মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন বলে জানান। ওই তরুণী বাসায় গিয়ে কাউকে দেখেননি।  সেদিন তাকে বাসায় ফিরে আসতে দেয়নি ইভান। আর রাতে খাবার খাওয়ায় এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ায়। তাকে (ইভান) নিষেধ করলে সে একদিন খেলে কিছু হবে না মর্মে জানায়। এরপর রাত দেড়টায় ইভান তাকে ধর্ষণ করে। পরে চিৎকার করতে থাকলে সে রাত সাড়ে ৩টায় আমার ব্যাগ রেখে বাসা থেকে বের করে দেয়। তরুণী আরও বলেন, আসামি (ইভান) আমাকে এর আগেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

ঢাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে সালাম না দেয়ায় দুই শিক্ষার্থী হল ছাড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগ নেতাকে সালাম না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ। এর একদিন পরে তাদের হলছাড়া করা হয়। মঙ্গলবার বিবিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী- লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শামিমুর রহমার ও একই বর্ষের বাংলা বিভাগের আতিকুর রহমান। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটান। ভুক্তভোগী ও হলসূত্র জানায়, গত সোমবার কেনো ছাত্রলীগ নেতাকে সালাম দেওয়া হয় নি তার জবাবদিহী করতে ওই দুই শিক্ষার্থীসহ মোট তিনজনকে হলের ১৭৭ নং কক্ষে ডাকেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের সাদিক খান। সেখানে সালাম দিয়ে প্রবেশ করায় শামিম ও আতিকুরকে চড় থাপ্পড় দেন সাদিক। পরে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করেন পরিসংখ্যান বিভাগের তানভীর ও সৌরভ, জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের তাহের, ফারসি বিভাগের সফিউল্লাহ, সংস্কৃত বিভাগের সোহরাব। এরা সবাই তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সভাপতি তাহসানের কাছ থেকে ছাত্রদেরকে রুমে ঢুকিয়ে মারার অনুমতি নিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে প্রতিবাদ জানান তাহসান গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাহসান আহমেদ শামিমুর রহমার ও আতিকুরকে স্থায়ীভাবে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে হলের সিনিয়ররা তাহসানকে বুঝিয়ে তাদের হলে ফিরিয়ে আনে। কিন্তু গতকাল বুধবার আবার তাদের বের করে দেয় তারা। তবে জানতে চাইলে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন সাদিক। তিনি বলেন, তাদেরকে মারধর করা হয়নি। বরং ওই দুই ছাত্র হলে আছে। এ বিষয়ে হল সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, বেয়াদবির কারণে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

কাশ্মীরে 'হিজবুল মুজাহেদিন'কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল মুজাহেদিনকে 'বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, হিজবুল মুজাহেদিন যেন সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় রসদ প্রাপ্তি বন্ধ করতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো সংগঠন ও ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করলে তারা দেশটির আর্থিক খাতে প্রবেশাধিকার হারায়। মার্কিন নাগরিকরাও তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারেন না। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় হিজাবুল মুজাহেদিনের ক্ষেত্রেও এ বিধান কার্যকর হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এ সংগঠনটির সম্ভাব্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে হিজবুল মুজাহেদিনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী ও সংস্থাগুলো এবং অন্য দেশের সরকারও ব্যবস্থা নিতে পারবে। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৮৯ সালে গঠিত হয় হিজবুল মুজাহেদিন। এ সংগঠনটি হিমালয় উপত্যকার এ জনপদের সবচেয়ে বড় সংগঠন। গত জুনে মুজাহেদিনের প্রধান সাইয়েদ সালাহউদ্দিনকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ শাহ নামেও পরিচিত। হিজবুল মুজাহিদেরে ২২ বছর বয়সী তরুণ কমান্ডার বুরহমান ওয়ানি ২০১৬ সালের ৮ জুলাই ভারতীয় বাহিনীর হাতে আটকাবস্থায় নিহত হন। এ ঘটনার পর কাশ্মীর জুড়ে ভারতবিরোধী গণ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মাস ধরা চলা বিক্ষোভ বন্ধে ভারতীয় বাহিনী কারফিউ জারি করে। তা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ করে কাশ্মীরিরা। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়। এছাড়া হাজার হাজার আহত ব্যক্তির মধ্যে অনেকেই চোখে প্লেটগানবিদ্ধ (ছড়রা গুলি) হয়ে অন্ধ হয়ে যান। কাশ্মীরের এ বিক্ষোভকে সমর্থন ও কমান্ডার বুরহান ওয়ানির প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। কাশ্মীরে নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভকে তিনি ইনতিফাদা বা গণজাগরণ বলেও আখ্যা দেন। উল্লেখ্য, ভূস্বর্গ খ্যাত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত স্বাধীন রাজ্য হিসেবে ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে ছিল।
তবে বিদায়ের সময় ভারতবর্ষকে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশে বিভক্ত করে গেলেও কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারণ করে যায়নি ব্রিটিশরা। এই সুযোগে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে দখল করে নেয়। অন্যদিকে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে কাশ্মীরিরা। কাশ্মীরিদের সশস্ত্র সংগ্রাম মূলত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে ঘিরেই চলছে। তারা কয়েক দশক ভারতীয় শাসনের অবসান দাবি করছেন। এ অবস্থায় কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সেখানে গত সাত দশক ধরে অন্তত পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন করে রেখেছে ভারত। এসব সেনার অভিযানের মুখে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার কাশ্মীরি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক মানুষ। এদিকে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শাসনের প্রতি আনুগত্য জানানোর কারণে সেখানকার পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসছিল। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে মার্কিন অভযানের সুযোগে কাশ্মীরি সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে অনেকটাই কোনঠাসা করে ফেলতে সক্ষম হয় ভারত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফের সশস্ত্র সংগঠনগুলো কাশ্মীরে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সাধারণ কাশ্মীরিরা, বিশেষ করে তরুণরা তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে। যখন সেনা অভিযান চলে তখন তাদের সঙ্গে তরুণরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, এতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সরে পড়ার সুযোগ পায়। ভারতের অভিযোগ, কাশ্মীরি যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ দেয় পাকিস্তান। তবে দেশটি বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ভারতের কাছে গন্ডার ফেরত চেয়েছে নেপাল

সম্প্রতি বন্যার পানিতে নেপালের রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে ভেসে যাওয়া এক শিং ওয়ালা গন্ডার ফেরত চেয়েছে নেপাল। এসব গন্ডার আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। নেপালের বন্যপ্রাণী বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তাদের দেশ থেকে বেশ কিছু গন্ডার পাশের দেশ ভারতে ভেসে গেছে এবং সেগুলোকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব গন্ডারের আবাসভূমি হল নেপালের বিখ্যাত রয়্যাল চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্ক। প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এই সংরক্ষিত অরণ্যে গন্ডার ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখতে আসেন। বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এসব গন্ডার ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টে আশ্রয় নিয়েছে। এটি ভারতের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান একটি আবাসভূমি। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী রয়্যাল চিতওয়ান পার্কে প্রায় ছয়শ'র মতো এক শিং ওয়ালা গন্ডার আছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের চেয়ে পুতিনে বেশি আস্থা বিশ্ববাসীর

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প্রের চেয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেশি আস্থা রাখছে বিশ্ববাসী। মার্কিন জরিপ সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ সালের বসন্তে পরিচালিত জরিপের জনমত অনুযায়ী, ৩৭টি দেশের মধ্যে র্মানি, ফ্রান্স এবং জাপানসহ ২২টি দেশের মানুষ পুতিনের উপর বেশি আস্থা রাখেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ভারত ও ইসরাইলসহ ১৩টি দেশের মানুষ ট্রাম্পের প্রতি বেশি আস্থাশীল। একমাত্র তানজানিয়ার মানুষই পুতিন ও ট্রাম্পের প্রতি সমান আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্রেও জরিপটি চালানো হলেও সেখান পুতিন-ট্রাম্পের তুলনার প্রশ্নটি ছিল না। অন্যদিকে চীনে জরিপটি চালানো হয়নি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত জরিপটি করে ওয়াশিংটন ভিত্তিক নির্দলীয় সংস্থা পিউ। সংস্থাটি জানায়, ২৩ শতাংশ আমেরিকান পুতিনের প্রতি 'আত্মবিশ্বাস' থাকার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি একই মনোভাব রয়েছে ৫৩ শতাংশের। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে পুতিনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩৭ দেশের ৬০ ভাগ মানুষ তাদের কম আস্থা থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে ২৬ ভাগ মানুষের মতে পুতিন ভালো কাজ করছেন। সূত্র: ব্লুমবার্গ

রোববার কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়া অসহায় মানুষদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর যাচ্ছেন। সেদিন দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিএনএফ স্কুল প্রাঙ্গণে ও দিনাজপুর জেলা স্কুলমাঠে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এদিকে কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যাপরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও দিনাজপুরে পানি কিছুটা কমেছে। তবে দুই জেলায় এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি দুর্গতরা। ফলে কমেনি জনদুর্ভোগ। ত্রাণ অপ্রত্যুল হওয়ায় দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছেনি খাদ্য সহায়তা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা রাণী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন রোববার বিকালে। বিস্তারিত সরকারি সফর সূচি এখনও পাওয়া যায়নি। দিনাজপুর জেলা  প্রশাসক মির  খায়রুল আলম জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০  প্রধানমন্ত্রীকে বহণকারী হেলিকপ্টারটি জেলা গৌরএ শহীদ বড় ময়দান মাঠে অবতরণ করবে। এরপর জেলা স্কুল প্রাঙ্গণে তিনি বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করবেন। তারপর বিরল উপজেলার টেঘরা উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে বন্যায় দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ করবেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম ফেরিঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৬ সেমি এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৭ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বাপক ভাঙ্গন। পুরোপুরি পানি না নামা পর্যন্ত ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের সুযোগ নেই। সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসা সেবা দিতে ৯০টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ, ওর স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ আছে। ভয়াবহ বন্যার কারণে পানিতে ডুবে গেছে ৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক। পানি সড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ক্লিনিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার উপযোগী করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক আবু ছালেক মোহাম্মদ ফেরদৌস খান স্বাক্ষরিত জেলা কন্ট্রোল রুম কর্তৃক প্রেরিত তথ্যে জানা যায়, জেলার ৯ উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের ৮২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৩০২টি। যার লোক সংখ্যা চার লাখ ৭৯ হাজার ৮২০জন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ৪৪কিলোমিটার।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠনের সংখ্যা ৬০৭টি। কাঁচা ও পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ২হাজার ৬৯৪টি বাড়ি। এসময়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু রাস্তা ও বাঁধে আশ্রিত লোকসংথ্যা এক লাখ ১৭০ জন। জেলা প্রশাসক আরো জানান, বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইতিমধ্যে ৮৫১ দশমিক ৩৮০ মেট্রিকটন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। জিআর ক্যাশ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২ হাজার প্যাকেট শুকা খাবার বিতরণ করা হয়। এখনও মজুদ আছে ১৫০ মেট্রিকটন চাল ও সাড়ে ৯লাখ টাকা। আমাদেও চাহিদা মোতাবেক ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই কোথাও কোনো সংঙ্কট নেই। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ইছামতি, পুনর্ভবা ও আত্রাই নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার নিচে। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও প্লাবিত হয়ে থাকার পাশাপাশি দিনাজপুর শহরের বেশ কিছু অংশ এখনও পানির নিচে ডুবে আছে। এদিকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সরকারি হিসেবে অনুযায়ী প্রায় পৌনে ৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হলেও বরাদ্দ এসেছে ৪৮৫ মেট্রিক টন চাল ও ১৬ লাখ টাকা। এতে প্রতি জন মানুষের ভাগ্যে জুটছে ১ কেজি করে চাল ও ৩ টাকা করে।

ট্রেনের ঈদ টিকিট বিক্রি শুরু ১৮ আগস্ট

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৮ আগস্ট থেকে। এবার পাঁচ দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রেল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ১৮ আগস্ট বিক্রি করা হবে ২৭ আগস্টের টিকিট। এরপর দিন ১৯ আগস্ট বিক্রি হবে, ২৮ আগস্টের টিকিট। ২০ আগস্টে ২৯ আগস্ট ও ২১ আগস্টে ৩০ আগস্টের এবং ২২ আগস্ট ৩১ আগস্টের টিকিট বিক্রি করা হবে। এছাড়া ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বিক্রি হবে ৩ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের ফিরতি টিকিট। এবার ঈদে রেলযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় সুজন নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিয়ারা আক্তার যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। আসামি সুজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। সে ওই স্কুলছাত্রীর শিক্ষক। ধর্ষণের শিকার কিশোরী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা গাড়িচালক। ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে ইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন স্তর থেকে মতামত গ্রহণের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সভাপতিত্ব করছেন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। এর আগে বুধবার প্রিন্ট মিডিয়ার (সংবাদপত্র) সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাকিদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশন। আজ টেলিভিশন, অনলাইন ও রেডিও’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসলেন ইসি। বুধবারের বৈঠকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চেয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। তারা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইসির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের উপর জোর দেন।
এছাড়া নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে ও বিপক্ষে মত দেন কেউ কেউ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ, আইন সংস্কার, সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মত নেয়ার জন্য ধারাবাহিক এ সংলাপের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুধবার সংলাপে ৩৬ জন সিনিয়র সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২৬ জন অংশ নিলেও বাকি ১০ জনের মধ্যে কেউ অসুস্থ, কেউ বিদেশে থাকায় আসতে পারেননি। আজ ইলেকট্রুনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিতে ৩৪ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে ইসি। ওইদিন সকালে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি। ২৮ আগস্ট সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মুসলীম লীগ (বিএমএল) এবং বিকেল ৩টায় খেলাফত মজলিশের সঙ্গে বসবে ইসি। এ ছাড়া ৩০ আগস্ট সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এবং বিকাল ৩টায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি র (জাগপা) সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন।

ইসিকে আস্থা অর্জনের তাগিদ সাংবাদিকদের

নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনকে সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে টেলিভিশন, অনলাইন ও রেডিও'র বার্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ইসি। বৈঠক শেষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অনেকেই সংলাপে এমন মত দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন তারা। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন স্তর থেকে মতামত গ্রহণের অংশ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির দ্বিতীয় দিনের এই বৈঠক হয়। বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বলেন, বার বার আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিতে হবে ইসিকে। এছাড়া প্রশাসনিক অখণ্ডতা বজায় রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কথা বলেছেন সাংবাদিকরা। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কেউ কেউ 'না' ভোটের বিধান চালুর আহ্বান জানান। এছাড়াও ভোট কারচুপি, জালভোট ঠেকাতে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারির পরামর্শ দেন অনেকে। এর আগে বুধবার প্রিন্ট মিডিয়ার (সংবাদপত্র) সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাকিদের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশন। আজ টেলিভিশন, অনলাইন ও রেডিও’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসলেন ইসি। বুধবারের বৈঠকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চেয়েছেন গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। তারা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইসির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের উপর জোর দেন। এছাড়া নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে ও বিপক্ষে মত দেন কেউ কেউ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ, আইন সংস্কার, সীমানা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মত নেয়ার জন্য ধারাবাহিক এ সংলাপের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুধবার সংলাপে ৩৬ জন সিনিয়র সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২৬ জন অংশ নিলেও বাকি ১০ জনের মধ্যে কেউ অসুস্থ, কেউ বিদেশে থাকায় আসতে পারেননি। আজ ইলেকট্রুনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিতে ৩৪ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সাংবাদিকের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে ইসি।

বিশ্ব বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পাথুরে ভূমি থেকে আহরিত জ্বালানি তেল (শেল) উত্তোলনের পরিমাণ কমার খবর পণ্যটির দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি এদিন মার্কিন প্রশাসনের জ্বালানি বিষয়ক সর্বশেষ সরকারি তথ্য প্রকাশও পণ্যটির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্স। এদিন ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হয় প্রতি ব্যারেল ৪৭ ডলার ৭১ সেন্ট বা স্থানীয় মুদ্রায় ৩ হাজার ৮১৬ টাকা ৮০ পয়সায় (প্রতি ডলার ৮০ টাকা ধরে), যা আগের দিনের তুলনায় ১৬ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মাজারের খাদেমকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ১

সোনাইমুড়ি উপজেলার নদোনা ইউনিয়নে মাজারের খাদেম সোনা মিয়াকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ইলিয়াছ (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইউনিয়নের হাটগাঁও গ্রামের আফজাল পাটোয়ারী মাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার (সাবেক) সামছুদ্দোহা মজনু জানান, রাতে মাজারের বাইরে সোনা মিয়া বের হলে ওৎপেতে থাকা দুই দুর্বৃত্ত ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে ইলিয়াছকে আটক করে। এদিকে ঘটনাস্থলেই সোনা মিয়া মারা যান। শরীয়তপুর জেলার হবিপুর গ্রামের মফেল হাওলাদারের ছেলে সোনা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই মাজারে খাদেম হিসেবে কাজ করছেন। সোনাইমুড়ী থানার (ওসি) ইসমাইল মিঞা জানান, এ ঘটনায় ইলিয়াছ নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ইলিয়াছ একই এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে। এ হত্যার কারণ তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। সোনাইমুড়ি এএসপি সার্কেল আবদুল্লাহ আল মাসুম যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় যুবক ইলিয়াছকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা

সুন্দরবনে র‌্যাব-বনদস্যু গোলাগুলি, আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ২

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্দারমানিক খালে র‌্যাবের সঙ্গে বনদস্যু সুমন বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৩ রাউন্ড গুলিসহ দুই বনদস্যুকে আটক করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে র‌্যাবের টহলদল আন্দারমানিক খালে অভিযান শুরু করে। এর ঘণ্টা খানেক পরই অস্ত্রসহ বনদস্যুদের আটক করা হয়। আটক বনদস্যুরা হল- আবুল হোসেন ওরফে আবু ঢালি (৩২) বনদস্যু সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি মোংলা উপজেলার সোইলতলা গ্রামের মৃত তোফা শেখের ছেলে ও অপর সহযোগী বনদস্যু সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার চাদনীমুখী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মিঠু গাজী (৩৪)। র‌্যাব -৮ এর উপ অধিনায়ক মেজর আদনান কবীর জানান, গত কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনে জেলে অপহরণসহ দস্যুদের উৎপাত বেড়ে গেছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে র‌্যাবের টহলদল সুন্দরবনের আন্দারমানিক খালে অভিযান শুরু করে। এসময় বনদস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলে। এরপর র‌্যাব সদস্যরা বনের মধ্য থেকে বনদস্যু সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু ঢালি ও অপর সহযোগীকে আটক করে। এসময় তাদের নিকট থেকে একটি বিদেশি দোনালা বন্দুক, ১টি দেশি পাইপগান, একটি দেশি ওয়ান সুটারগান একটি রামদা ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হরিণটানা খাল এলাকায় কোস্টেগার্ড ও বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়। সে সময় চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত একটি বোর্ড ও ৯ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

ভাত চাওয়ায় মাকে নির্যাতন: সেই ছেলে গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বউয়ের কাছে ভাত চাওয়ায় মাকে নির্যাতনের অভিযোগে ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, উপজেলার ওই গ্রামের তসলিমা খাতুনকে (৯৫) তার বড় ছেলে দবির উদ্দীন নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে জখম করেছে। মা তসলিমা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চেয়েছিলেন। একথা দবির উদ্দীন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাম চোখ থেতলে গেছে। বুধবার জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ বিষয়ে হরিপুর থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার পরদিন বুধবার রাতে পুলিশ দবির উদ্দীনকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, তসলিমার স্বামী সফির উদ্দীন ২৫ বছর আগে মারা যান। তিনি ছেলেদের জায়গা জমি দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা তাদের মাকে দেখভাল করতে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল।

বিমানবন্দর থেকে যুবলীগ নেতা চপল গ্রেফতার

সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ঠিকাদার ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপলকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, খায়রুল হুদা চপল সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য রাতে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছান। দুদক টিম আগে থেকেই তার গতিবিধি অনুসরণ করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়। খায়রুল হুদা চপল হাওরে বাঁধ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী। সুনামগঞ্জ সদর থানায় করা মামলায় এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করল দুদক। চপলকে বুধবার বিকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে সোপর্দ করা হয়। দুদকের উপপরিচালক (গণসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে জানান, আসামি চপলের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাওরের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের ১৬০টি প্যাকেজের মধ্যে পাঁচটি প্যাকেজে ঠিকাদারির দায়িত্ব ছিল মেসার্স নূর ট্রেডিংয়ের মালিক চপলের। মামলার এজাহারে তার অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়, খায়রুল হুদা চপল ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬ ও ৬৭ নম্বর প্যাকেজে বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পান। এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৩, ৬৪ ও ৬৪ নম্বর প্যাকেজে কোনো কাজ হয়নি, তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাক্রমে ৩০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়। এছাড়া ৬৬ ও ৬৭ নম্বর প্যাকেজে যথাক্রমে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৯ ও ৪০ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫০ ও ৪০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। খায়রুল হুদা চপল সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের ছোট ভাই। দু’বছর আগে তিনি জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর থানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৫ কর্মকর্তা ও ৪৬ জন ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগে বলা হয়, প্রতি বছর বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সম্পর্কে অবহিত থাকার পরও তারা পর¯পর যোগসাজশে মৌলিক চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। ওই চুক্তিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের অসমাপ্ত ৮৪টি প্যাকেজের বাঁধ নির্মাণ শেষ করতে ঠিকাদারদের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু পরে আর দরপত্র আহ্বান না করে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে আগের ঠিকাদারদেরই ১৬০টি প্যাকেজে নতুন কাজ দেয়া হয়। নতুন প্যাকেজের মধ্যে নয়টির কাজ শুরু না করে এবং ১৫১টি প্যাকেজের কাজ আংশিক সম্পন্ন করার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভবিষ্যতে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি করেন আসামিরা। দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৬৬, ৫১১ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি করে। অন্যদিকে হাওরের বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হক বাদী হয়ে ৩ আগস্ট আরও একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় ১৪০ জনকে। মামলার আসামির তালিকায় ৪৬ জন ঠিকাদারের মধ্যে খায়রুল হুদা চপলের নামও রয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঠিকাদাররা ৮৪টি প্যাকেজের কাজ দরপত্রের শর্ত মোতাবেক সম্পন্ন করেননি। শুধু চলতি বছর নয়, আগের বছরেও তারা একই কাজ করেছেন। পাউবো কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। এর মাধ্যমে তারা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। মামলায় তদন্তকালে তাদের অবৈধ স¤পদ জব্দ করারও আবেদন জানানো হয়। আদালত ওই মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে খায়রুল হুদা চপল গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শিবির উৎফুল্ল হলেও বিক্ষোভ করেছেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা যুবলীগ। এতে নেতৃত্ব দেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বজলু, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপল, রনজিৎ চৌধুরী রাজন ও সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এহসান আহমেদ উজ্জ্বল। যুবলীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে চপলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।

নাক বন্ধ, মাথা ভার থাকলে

অনেক রোগী নাক বন্ধ থাকার অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। কিছু সময় একদিক বন্ধ থাকে, কিছু সময় অন্যদিক বন্ধ থাকে। এ রোগীদের নাক দিয়ে সর্দি ঝরে, নাকে গন্ধ ঠিকমতো পান না, অনেক সময় নাকে দুর্গন্ধ হয়। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে না পারার কারণে রোগী নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায়। ফুসফুসে কাশি ও রোগী কানে কম শোনে।
রোগ নির্ণয়- পরীক্ষা করে দেখা যায় এ রোগীদের নাকের হাড় বাঁকা থাকে। নাকের পর্দা একদিকে বেঁকে যেতে পারে বা দু’দিকেই বেঁকে যায়। এর সঙ্গে নাকের ভেতরে অ্যালার্জি বা ইনফেকশন বা পলিপ থাকতে পারে।
চিকিৎসা- নাকের হাড় বাঁকা থাকলে এবং তা সমস্যার সৃষ্টি করলে অপারেশনের মাধ্যমে ঠিক করে নিতে হয়। এর সঙ্গে সাইনাস বা কানের সমস্যা থাকলে সে সমস্যারও একই সঙ্গে সমাধান করে নেয়া দরকার। আধুনিক যুগে হাড় বাঁকা সোজা করার জন্য সেপ্টোপ্লাস্টি অপারেশন করা হয়। এ অপারেশনের বাড়তি সুবিধা হল নাকের বাহ্যিক কাঠামোর কোনো সমস্যা থাকলে রাইনোপ্লাস্টি অপারেশনের মাধ্যমে একই সঙ্গে ঠিক করে নেয়া হয়। ৬-৭ বছর বয়সেও এ অপারেশন করা হয়। তবে অপারেশন করতে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সূক্ষ্ম টেকনিক অবলম্বন করতে হয়। যাদের নাকের হাড় বেশিমাত্রায় থাকে এবং উপরোক্ত সমস্যায় ভুগছে তারা অতি শিগগিরই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।
নাক, কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা।