Showing posts with label গোল্লাছুট. Show all posts
Showing posts with label গোল্লাছুট. Show all posts

Friday, July 17, 2026

হাতির জন্য কান্না by পল্লব মোহাইমেন

নিথর বঙ্গ বাহাদুর। ছবি: শফিকুল ইসলাম
ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটির মৃত্যু সত্যিই কাঁদিয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষকে।
‘হাতিটি যখন একেবারেই নিথর হয়ে গেল, তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলাম।’ ১৮ আগস্ট ২০১৬ মুঠোফোনে যখন এ কথা বলছিলেন তখনো বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠ ছিল সরিষাবাড়ীর দর্পণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আশরাফুল ইসলামের।

মো. মুকুল হোসেনের আবেগও থামে না। কামরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক এই সদস্য বললেন, ‘মনে হলো আমার কোনো আত্মীয় মারা গেছে।’

ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটির মৃত্যু সত্যিই কাঁদিয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষকে। মুকুল ও আশরাফের কথা তো আলাদাই। ১১ আগস্ট প্রথম দফা যখন হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয়, তখন সেটি কয়রা গ্রামের ডোবায় নেমে গিয়েছিল। প্রায় অচেতন হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছিল। ভেটেনারি চিকিৎসক তপন কুমার দে হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানান এলাকার মানুষজনকে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে যান মুকুল ও আশরাফুল।

সেদিনের কথা বলতে থাকেন মুকুল হোসেন, ‘হাতিটা যখন পড়ে গেল পানিতে, তখন প্রথমে নৌকা নিয়ে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। তারপর কলার ভেলা। কিন্তু কচুরিপানার কারণে কাছাকাছি যেতে পারি না। এরপর পানিতে নেমে পড়ি।’

প্রায় একই সময় পানিতে ঝাঁপ দেন আশরাফুল ইসলামও। ‘হাতিটি তখন অচেতন হলেও শুঁড় নাড়াতে পারছিল। একটা বাঁশের লাঠির (স্থানীয়ভাবে কোটা নামে পরিচিত) আগায় বড়শির মতো লোহা লাগিয়ে আমরা হাতির কান টানতে থাকি। শুঁড় যেহেতু নাড়াছিল, তাই ভয়ও করছিল। তারপরও আমি ডুব দিয়ে হাতির পায়ের নিচ দিয়ে দড়ি ঢুকিয়ে বুক আটকে ফেলি।’ দড়ি হাতির পিঠের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠানো হলে শতাধিক মানুষ হাতিকে ডাঙায় তুলে দড়ি টানা শুরু করে। একপর্যায়ে হাতিটিকে ডাঙায় তোলা হয়। এরপর আমগাছের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা তখন হাতিটির নাম দেন ‘বঙ্গ বাহাদুর’।

পানিতে ডুব দিয়ে প্রায় অচেতন হাতিটির পায়ে রশি পরানোর কাজটা কিন্তু বেশ ঝুঁকিপূর্ণই ছিল। তারপরও কেন সেই ঝুঁকি নিলেন? আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিটির ওপর মায়া পড়ে গিয়েছিল। সরিষাবাড়ীতে ঢোকার পর থেকেই এই হাতির পেছনে রয়েছি। যখন দেখলাম হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছে তখন আমি আর আমার মধ্যে ছিলাম না। আমি আর মুকুল মেম্বার সাঁতার দিলাম। ভয় ছিল শুঁড় দিয়ে যদি পানির নিচে জড়িয়ে ধরে! তারপরও আমাদের মনে হয়েছে যে করেই হোক হাতিটাকে বাঁচাতে হবে।’

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুকুল-আশরাফুলসহ শত শত গ্রামবাসী এবং বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা মিলেও বাঁচাতে পারেনি বঙ্গ বাহাদুরকে। ১৬ আগস্ট ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে মারা যায় হাতিটি। প্রথম আলোর সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, সেদিন সত্যিই শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছিল কয়রা এলাকাটা। বরকত হাজী নামে এক ব্যক্তির জমিতে পড়েছিল, সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে হাতিটিকে।

কিছুটা আক্ষেপের সুরে মুকুল হোসেন বললেন, ‘আমাদের কথা তো কেউ শোনে না। হাতির দুই পা একসঙ্গে চেপে বাঁধতে না করেছিলাম। আর ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি ছিটাতে চেয়েছিলাম হাতির ওপর।’ আশরাফুল বলেন, ‘বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টা ছিল, আন্তরিকতাও ছিল কিন্তু তাঁদের দক্ষতার অভাবটাই ছিল বেশি।’

২৮ জুন এই বুনো হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। এরপর ২৭ জুলাই হাতিটি সরিষাবাড়ী উপজেলায় আসে। ৮ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাতিটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে উদ্ধারের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন। ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল উদ্ধার অভিযান। প্রায় ২০ দিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করায়, স্থানীয় মানুষদের মনে দাগ কেটেছিল বঙ্গ বাহাদুর। জীবন বাজি ধরে হাতি উদ্ধারেও নেমেছিলেন মুকুল-আশরাফুলের মতো মানুষেরা। আর তাই আজ হাতির জন্য কান্না এলাকাজুড়েই।
>>>২০ আগস্ট ২০১৬

Sunday, May 10, 2026

গল্প- মা তোমাকে ভালোবাসি by রোমেন রায়হান

সব মা–ই সেরা! তোমার কাছে যেমন তোমার মাকে সবচেয়ে ভালো মা মনে হয়, দেখবে তোমার বন্ধুরাও তা–ই ভাবে। আবার আশপাশে তাকিয়ে দেখো, শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিরাও মাকে ভীষণ ভালোবাসে। দেখবে বিড়ালছানা কেমন মায়ের বুকে গুটিসুুটি মেরে থাকে। চড়ুইয়ের ছানা
‘চিঁচিঁ’ করে ডাকে মাকে! আজ রোববার মা দিবস। তাই আজ মাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন।

পাশে যে ছবিটা দেখছ, এটা এঁকেছে আবির শেখ। সে নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে
রুহামদের বাসায় পাঁচটা পিঁপড়া থাকে। মা পিঁপড়া, তার দুই ছেলে আর দুই মেয়ে। বাচ্চা পিঁপড়ারা খুব লক্ষ্মী। সব সময় মায়ের কথা শোনে। এই যেমন মা পিঁপড়া বলে দিয়েছে, ‘রুহামকে কখনো কামড় দিয়ো না।’
ওরা মায়ের কথা শুনেছে। এক বছর ধরে ওরা রুহামদের বাসায় থাকছে, এক দিনও রুহামকে কামড় দেয়নি।
রুহামদের বাসায় আজকে বড় অনুষ্ঠান হলো। অনেক মেহমান এসেছিল। একটা কেক আনা হয়েছিল। রুহাম সেই কেক কাটল। রুহামের জন্মদিন ছিল যে!
পিঁপড়ারাও কেকের ভাগ পেল। মা পিঁপড়া পেট পুরে খেয়ে ঘুমাতে গেল। ওদিকে চার ভাইবোন পিঁপড়া বসে বসে গল্প করছিল। সবচেয়ে ছোট পিঁপড়া বোনটা বলল, ‘আমার মন খারাপ।’
বাকি তিন ভাইবোন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘কেন, কেন?’
‘এই যে আমরা মোটে তিন-চার বছর বাঁচি!
ছোট ভাই পিঁপড়া বলল, ‘তাতে কী?’
‘আমরা তো চাইলেও দুই-তিনটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারব না।’
বড় বোন বলল, ‘আচ্ছা আমরা জন্মদিন পালন করি না কেন?’
জবাবটা কেউ দিতে পারল না। হঠাৎ সবার মন খারাপ হলো। মায়ের একটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারবে না।
সবাই ঠিক করল মায়ের জন্মদিন পালন করবে। তবে আগে থেকে মাকে কিছুই জানাবে না। চমকে দেবে।
পিঁপড়া মায়ের জন্মদিন ১১ মে। নানু পিঁপড়ার কাছ থেকে ওরা শুনেছিল।
মে মাস তো চলেই এল। সারা দিন চার ভাইবোন ফিসফিস করে। জন্মদিনে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা।
মে মাসের ১০ তারিখ এসে পড়ল। অনুষ্ঠান করার জন্য ড্রয়িংরুমের একটা কোনাকে বেছে নিল ওরা। এই ঘরে মা পিঁপড়া সাধারণত আসে না। তাই আগে থেকেই মায়ের চোখে পড়বে না। পিঁপড়া ভাইবোনেরা একেকজন একেক কাজে লেগে পড়ল।
বড় ভাই পিঁপড়া বাগানে গেল একটা ফুল আনতে। এত দূর থেকে কাঁধে করে একটা ফুল নিয়ে আসা তো সহজ কাজ না! কিন্তু মায়ের জন্য আনছে বলে তার একটুও কষ্ট লাগল না।
বড় বোন পিঁপড়া গেল রুহামের পড়ার ঘরে। পড়তে বসলেই রুহামের শুধু খিদে পায়। তাই রুহামের আম্মু ওর পড়ার টেবিলে সব সময় কিছু না কিছু খাবার রেখে দেয়। টেবিলের কাছাকাছি গিয়ে দেখল রুহাম পড়া ফেলে বিস্কুট খাচ্ছে। টেবিলের নিচে কার্পেটের ওপর একটা বিস্কুট পড়ে আছে। রুহাম এভাবে খাবার-দাবার গুছিয়ে খায় না বলে অন্য দিন পিঁপড়ারা বিরক্ত হতো। আজকে হলো না। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পিঁপড়া বড় বোন বিস্কুটটা নিয়ে রওনা হলো। আরেকটু হলে রুহামের পায়ের নিচে চাপা পড়ছিল!
রুহামের বাবা গতকাল বাজার থেকে স্ট্রবেরি এনেছিল। ছোট ভাই পিঁপড়াটা গেল রান্নাঘরে। গিয়ে দেখে ফ্লোরে এক টুকরো স্ট্রবেরি পড়ে আছে। সে ওই টুকরোটা নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা হলো।
জিনিস জোগাড় হয়ে গেছে। পিঁপড়া ছোট বোনটা এবার বসল কেক বানাতে। সব ভাইবোন মিলে ক্রিম দিয়ে জোড়া দেওয়া দুই বিস্কুট আলাদা করে ফেলল। তারপর ক্রিম লাগানো অংশটার ওপর বসাল স্ট্রবেরির কাটা টুকরো। ছোট বোন বলল, ‘এই নাও, হয়ে গেল জন্মদিনের কেক!’ কেক দেখে সবাই খুশি। আনন্দে হাততালি দিল।
আয়োজন শেষ করতে করতে দেখে রাত ১১টা বেজে গেছে। তার মানে মা ঘুমিয়ে গেছে।
রাত ১২টা বাজার একটু আগে সব ভাইবোন গেল মায়ের কাছে। গভীর ঘুম থেকে ডেকে তোলায় মা পিঁপড়া প্রথমে ঘাবড়ে গেল। চোখ কচলে বলল, ‘কী হয়েছে?’
বড় ছেলে মুখ হাসি হাসি করে বলল, ‘কিছু না।’
‘তাহলে এত রাতে ডাকতে এলি কেন?’
ছোট মেয়ে মায়ের হাত টেনে বলল, ‘চলো তো, মা।’
‘কোথায়?’
‘ড্রয়িংরুমে। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’
ড্রয়িংরুমে এসে মা তো অবাক। কেক! ফুল! জিজ্ঞেস করল, ‘এগুলো কী রে?’
বড় মেয়েটা কিছু বলবে বলে মুখ খুলতে যাচ্ছিল। অমনি রুহামদের বাসার দেয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে বেজে উঠল। মানে রাত ১২টা বেজে গেছে। সব ছেলেমেয়ে একসঙ্গে সুর করে গেয়ে উঠল:
‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার মা...হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।’
মা পিঁপড়া ভ্যাবাচ্যাকা খেল। এটা দেখে ছোট ছেলে বলল, ‘মা, আজকে মে মাসের ১১ তারিখ! আজকে তোমার জন্মদিন।’
বড় ছেলে মায়ের হাতে ফুল তুলে দিল। মা ফুল হাতে নিল। সবাই মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমিও তোদের অনেক ভালোবাসি।’
সবাই দেখল মায়ের চোখ ভেজা। চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। সব ছেলেমেয়ের চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।
তারপর সবাই মিলে গোল হয়ে বসল। কেক খেল। খেতে খেতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করল। গল্প শেষ করে ছেলেমেয়েরা অনে-এ-এ-ক দিন পর ছোটবেলার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে গেল।

Friday, February 7, 2025

গুড্ডুবুড়াদের বাড়িতে আর চোর আসে না by আনিসুল হক

অলংকরণ: নাইমুর রহমান
গুড্ডুবুড়াকে কি তোমরা চেন?
ও একটা ছোট্ট ছেলে। ও কিছুতেই খেতে চায় না। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করলে কী হয়? বুদ্ধি কমে যায়, গায়ের জোর কমে যায়।
ওর বোকামির কাণ্ড শুনলে তোমরা হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
এমনিতে কিছু খায় না। একদিন দেখা গেল, ও বসে বসে টি-ব্যাগ চিবোচ্ছে। পানে চা-পাতার ব্যাগ।
ওর মা বলল, ওই তুই কী খাস? তোর মুখে কী?
আমি? চা খাই।
দেখি দেখি মুখ খোল।
মা ওর মুখ খোলালেন। দেখা গেল, মুখের মধ্যে টি-ব্যাগ ঢুকিয়ে সে বেশ করে চিবোচ্ছে?
তুই এটা খাচ্ছিস কেন?
আমি চা খাচ্ছি।
চা খাচ্ছিস কেন?
আমি বড় হয়ে গেছি।
বড় হলেই চা খেতে হবে?
হুম।
তা চা যদি খাবি, কাপে করে ভালোভাবে বানানো চা খা। এটা খাচ্ছিস কেন?
সেটা কি আর গুড্ডুবুড়া মাকে বলবে? একদিন তাদের টেবিলে দুই কাপ চা বানিয়ে রাখা হয়েছে, মেহমান এসেছেন বাড়িতে, তাদেরকে দেওয়া হবে।
গুড্ডুবুড়া এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল, মা রান্নাঘরে। বাবা মেহমানদের সামনে। এই সুযোগ। সে চায়ের কাপে মুখ দিল। অমনি তার মুখ গেল পুড়ে। বাবা গো মা গো...কিন্তু সেই কথা তো সে মাকে বলতে পারে না।

গুড্ডুবুড়াকে একদিন দেখা গেল, মশামাছি মারার স্প্রে নিয়ে ছুটছে। কেন?
পিঁপড়া উঠেছে চিনির বয়ামে।
সে বয়ামের মধ্যে মশা মারা ওষুধ স্প্রে করতে লাগল।
মা বললেন, গুড্ডুবুড়া কী করিস?
পিঁপড়া মারি মা।
সর্বনাশ। এতো বিষ। এই চিনি খেলে আমরা তো সবাই মারা যাব।

ওদের বাড়িতে মুরগি ডিম দিল। তারপর সেই মুরগি বাচ্চা ফোটাল। ৮টা বাচ্চা।
একদিন খুব গরম পড়েছে। গুড্ডুবুড়া ঘেমে একাকার। বিকাল তিনটার মতো বাজে। স্কুল থেকে ফিরে এসে সে দুপুরের খাবার খেয়ে মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। মা দিব্যি ঘুমাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ চলে গেছে। ফ্যান বন্ধ।
গুড্ডুবুড়া বিছানা ছাড়ল। উফ। কী গরম। সে গেল বারান্দায়। গিয়ে দেখে, মুরগিটা ঝিমোচ্ছে। মুরগির বাচ্চাগুলো পানি খাওয়ার জন্য বাটিতে ঠোঁট নামিয়েছে।
আহা, গরমে কষ্ট পাচ্ছ। বলে গুড্ডুবুড়া একটা মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রেখে দিল। আরও নেবে বলে আসতেই মা মুরগি ওর হাতে দিল ঠোকর। ও ভয়ে পালিয়ে এল।
মুরগির বাচ্চাটা মারা গেল ফ্রিজে। তাই নিয়ে গুড্ডুবুড়ার কী কান্না। সে তো ভালো করতে চেয়েছিল। খারাপ হয়ে গেল যে।
আরেকদিন তার মা শিং মাছ কিনে এনে জিয়ল রেখেছেন। দুটো মাছ মরে গেছে। তাদেরকে রাখা হয়েছে ফ্রিজে।
গুড্ডুবুড়া ভাবল, সর্বনাশ। মাছ কেন ফ্রিজে রেখেছে। মাছ তো মারা যাবে। সে মাছ নিয়ে গিয়ে পানিভরা পাতিলে ভাসিয়ে দিল।
মাছ পচে পুরো বাড়িতে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
তখন সে আবার হাত ডোবাল শিং মাছের হাঁড়িতে। শিং মাছের কাঁটায় ভীষণ বিষ।
গুড্ডুবুড়ার হাতে শিং মাছের কাঁটা ফুটেছে। ব্যথায় সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
আর তো পারা যায় না। গুড্ডুবুড়াকে ওর বাবা-মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
বললেন, ডাক্তার সাহেব, আমার ছেলের সমস্যাটা কী?
ডাক্তার সাহেব সব দেখেশুনে বললেন, গুড্ডুবুড়ার সব ঠিক আছে। শুধু বুদ্ধিটা খুলছে না। বুদ্ধি খুলছে না, কারণ সে কিছু খায় না। ওকে ভাত খেতে হবে, রুটি খেতে হবে, মাছ খেতে হবে, মাংস খেতে হবে, দুধ খেতে হবে, ডিম খেতে হবে, শাক খেতে হবে, সবজি খেতে হবে, ফল খেতে হবে, মূল খেতে হবে।
গুড্ডুবুড়া ঠিকঠাক খাওয়া শুরু করল।
তখন ওর মাথায় বুদ্ধি এসে গেল। এখন গুড্ডুবুড়ার জোরও বেশি, সারাক্ষণ খেলাধুলা করে। পড়াশোনা করতেও ওর ভালো লাগে।
এখন ও ক্লাসে ফার্স্ট হয়।

ওদের বাড়িতে কোনো পাহারাদার নেই। ওরা একটা চারতলা বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকে।
গরমের দিন। জানালা না খুলে ঘুমোনো যায় না।
কিন্তু জানালা খুলে ঘুমালে প্রায়ই ওদের বাড়িতে চোর আসে। জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেয়। হাতের কাছে যা পায় নিয়ে যায়। একবার তো ওর দাদিমার কানে হাত দিয়ে কানের দুল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গিয়েছিল।
কী করা যায়।
চোরটাকে তো ধরতে হবে।
গুড্ডুবুড়া একটা ইঁদুর ধরা কল জানালার কাছে টেবিলের ওপরে রেখে দিল। বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে এখানে যা থাকে, চোরটা প্রায়ই তাতে হাত দেয়। একবার তো মায়ের ইমিটেশনের গয়নার বাটিটা নিয়ে প্রত্যেকটা গয়না চোরটা কামড়ে কামড়ে দেখে পরখ করেছিল। তারপর সব রেখে গিয়েছিল।
রাতের বেলা ফল ফলল মারাত্মক। জানালায় চোর এসে যেই-না হাত দিয়েছে, অমনি ইঁদুরের কল তার হাত ধরল কামড়ে। চোরটা ওরে বাবা, ওরে মা বলে চিৎকার করছে। কিন্তু পালাতে পারছে না। হাত আর জানালার শিক গলে বেরোতে পারছে না। চোরটা হাত টানতেই আরও ব্যথা লাগছে।
ততক্ষণে বাড়ির সবাই জেগে উঠেছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে রাস্তার পাহারাদারেরা ছুটে এল। ৯৯৯-এ কল করল গুড্ডুবুড়া।
অমনি পুলিশও ছুটে এল তাদের বাড়িতে।
চোরটাকে জানালাতেই পাওয়া গেল।
পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল।
এরপর থেকে গুড্ডুবুড়াদের বাড়িতে আর চোর আসে না।

Tuesday, July 9, 2024

অদ্ভুত লোকটি by পূরবী চক্রবর্ত্তী

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
শ্রাবণ। শ্রাবণ মাসে জন্ম হওয়ায় তার এই নাম। সে এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। এরই মধ্যে সে খুব বিখ্যাত হয়ে গেছে। তার একটাই কারণ, সে ভালো গল্প লিখতে পারে। অবশ্যি সেটা সায়েন্স ফিকশন। তার পাঠানো একটা গল্প সম্প্রতি বাংলাদেশের জনপ্রিয় এক দৈনিকে বেরিয়েছে। বন্ধুদের মধ্যে এটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।
রাকিব এই ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে। ক্লাসে সে অন্যদের নামে নালিশ করে খুবই মজা পায়। আগেরবার সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হওয়ায় তার দম্ভ। সে বলল, ‘কিরে শ্রাবণ, গল্পটা কার থেকে নকল করলি?’
শ্রাবণ: ‘নকল কেন করব? এটা আমারই লেখা।’
রিয়া: ‘আসলেই গল্পটা সুন্দর। শেষে যখন উত্তেজনা দিয়ে রিও পৃথিবীতে ফিরে আসে, তখন রোমাঞ্চ সৃষ্টি হয়।’
শ্রাবণ: ‘থ্যাংকস।’
এমনিতেই আফসানা ম্যাডাম শ্রাবণের প্রশংসা করেন, আজ একটু বেশিই করলেন। রাকিবের খুব রাগ হচ্ছিল কিন্তু ও কিছু বলল না।
স্কুল ছুটি হয়েছে। শ্রাবণ ও রাকিব একসঙ্গে আসছে।
রাকিব: ‘দোস্ত! তুই তো ফেমাস হয়ে গেলি।’
শ্রাবণ: ‘তো!’
রাকিব: ‘এবার সায়েন্স ফেয়ারে তোকে ক্যাপ্টেন করা হবে।’
শ্রাবণ: ‘হুম। মনে মনে খুশিই হয়েছে।’
এবার রাকিব ডানের গলিতে ঢুকে গেল আর শ্রাবণ তার বাড়ির দিকে রওনা দিল। শ্রাবণের বাড়ি যেতে একটা পার্ক পড়ে। প্রজাপতি পার্ক। ও ভাবল, পার্ক থেকে ঘুরে আসি। হঠাৎ একটা অপরিচিত লোক ওর নাম ধরে ডাকল।
শ্রাবণ: ‘আপনি কে?’
লোক: ‘আমি রিও। আমার বাড়ি রাশিয়া।’
শ্রাবণ একটু বিব্রত: ‘জি...’
লোক: ‘অবাক হয়ো না। ওই যে কদিন আগে চাঁদে গিয়েছিলাম।’
শ্রাবণ: ‘আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন? হয়তো আপনি আমার লেখা পড়েছেন।’
লোক: ‘হুম পড়েছি! আমার মনে হয় তোমার গল্পে ভুল আছে।’
শ্রাবণ: ‘কী ভুল?’
লোক: ‘তোমার গল্পের শেষে আছে আমরা এলিয়েনের সাহায্য নিয়ে এই পৃথিবীতে এসেছি। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয় না।’
শ্রাবণ: ‘কেন?’
লোক: ‘শোনো। ওরা আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ওরা চাইবে আমাদের নিয়ে রিসার্চ করতে।’
বাসায় গিয়ে শ্রাবণ এ কথাটা সবাইকে বলল। সবাই খুব খুশি ছিল বলে কেউ তেমন পাত্তা দিল না। সবাই বলল, লোকটা তোর গল্প পড়ে, তোর সঙ্গে মজা করেছে। তবে সে এ ব্যাপারে মেজো আপুকে বলল। ওর বড় আপু অর্পা থাকে ঢাকায়। সে কেমিস্ট হতে চায়। ওর তেমন সময় নেই। তবে মেজো আপুর হাতে অনেক সময়। সবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। সে বলল পার্কে গিয়ে আবার লোকটার সঙ্গে কথা বলতে।
পরদিন স্কুল ছুটির পর সে রাকিবকে সব বলল। রাকিব বাপারটা হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিল। আজকেও শ্রাবণ গেল। লোকটা খুব বেঁটে। টাইট পোশাক পরা। আর সব সময় শ্রাবণের থেকে দূরে একটা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলে। এদিনও তা-ই।
লোক: ‘তোমাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে।’
শ্রাবণ: ‘জি না।’
লোক: ‘তোমার আরও কয়েকটা ভুল ছিল।’
শ্রাবণ: ‘বলেন, শুনি।’
লোক: ‘তুমি সঠিক হিসাব দাওনি।’
শ্রাবণ: ‘কিসের?’
লোক: ‘ওই যে আদৌ মহাকর্ষ বল ওই এলিয়েনটার ওপর কাজ করবে কি না...’
শ্রাবণ: ‘হুম...’
পরদিন শ্রাবণ আবার গেল। প্রতিদিন লোকটা একটা করে ভুল বলে। কিন্তু শ্রাবণ তাকে বাসায় নিতে চাইলে আসে না।
এদিনও লোকটা ভুল ধরিয়ে দিল। এবার শ্রাবণ বাড়ির দিকে রওনা দিল। হঠাৎ মনে পড়ল যে সে বেঞ্চের ওপর তার স্কুলব্যাগ ফেলে এসেছে। সে আবার পার্কে গেল। গিয়ে সে হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল।
‘রাকিব, এসব কী হচ্ছে?’ শ্রাবণ বলল। সে দেখল রাকিব লোকটার হাত-পা আলাদা করে ব্যাগে ভরছে। ওকে দেখে রাকিব হো হো করে হেসে ফেলল।
রাকিব: ‘ভয় পেলি নাকি?’
শ্রাবণ: ‘কী করছিস তুই?’
রাকিব: ‘বলছি। ও হলো আর থার্টিফোর। আমার নাসার গবেষক ছোট মামার আবিষ্কার। সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হয়েছিলাম বলে খুশি হয়ে মামা আমাকে কিছু দিনের জন্য দিয়েছেন।’
শ্রাবণ: ‘কী?’
রাকিব: ‘তোর সঙ্গে একটু মজা করেছিলাম। আমি ভয়েস রেকর্ড করে ডিভাইসে দিয়েছিলাম। বল, আমার চিহ্নিত ভুলগুলো কেমন?’
শ্রাবণ: ‘তোর সঙ্গে কথা বলব না। তুই একটা...’
রাবিক: ‘গাধা?’
হা হা হা! দুজনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।
দশম শ্রেণি, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
>>>২৯ এপ্রিল ২০১৬

Monday, July 8, 2024

গল্প- এই গল্পটা আমার মায়ের by মাহবুব রেজা

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
আমাদের বাড়ির সামনে প্রাচীনকালের একটা বটগাছ। বেশ ডালপালা, লতাপাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। দূর থেকে বটগাছটাকে দেখলে যে কেউই বেশ সমীহ করবে। আর ভাববে, ওরেব্বাবা! এত্ত বড় ছাতা তো বাপের জন্মেও দেখিনি!
ছাতা!
হ্যাঁ, বড়সড় বটগাছকে দূর থেকে দেখলে অমন ছাতাই মনে হয়। বটগাছ থেকে দিনমান একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে লুটিয়ে পড়ে আমাদের সামনের ঘরে। আমরা যখন সেই ঘরে থাকি তখন মাকে আর কষ্ট করে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় না। ঠান্ডা হাওয়া আমাদের শীতল করে তোলে। আমরা তখন সামনের ঘরের বিছানায় হাঁ করে শুয়ে থাকি।
বর্ষার সময় সেই হাওয়া যেন আরও প্রাণ পায়। সারা দিন শোঁ শোঁ করে হাওয়া বয়ে যায়। আমি তখন হাওয়ার ভেতর ডুবে থাকি। আমার ভেতর তখন প্রশ্ন জাগে, ‘আচ্ছা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো ঘর থিকা কই মিলায়া যায়!’
একদিন আমি বোকার মতো মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো বাড়ি থিকা কই চইলা যায়?’
আমার কথা শুনে মা ছোট মেয়ের মতো হি হি করে হাসলেন। বললেন, ‘তর নানিগো বাইত।’
মার কথা শুনে আমি তো অবাক!
নানিগো বাইত যায় মানি? মা বলে কী!
আমি ভাবলাম, আমার কথা হয়তো মা বুঝতে ভুল করেছেন। মা বুঝি আমার কথা ঠিকমতো শোনেননি।
হাওয়া আবার নানিরবাড়ি যায় কীভাবে!
হাওয়া কি নানির বাড়ি চেনে, যে গুটিগুটি পায়ে চলে যাবে নানিবাড়ি!
আমি আবার মাকে বললাম, ‘মা বটগাছ থিকা যে হাওয়া আমাগো বাড়ির ওপর দিয়া যায় হেই হাওয়া কই যায়?’
মা এবার আমার কথার জবাবে আগের মতো নানির বাড়ি বললেন না। বললেন, ‘এই হাওয়া সোজা যাইব বিক্রমপুর’—বলে মা দুহাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বাইরের দিকে ইশারা করলেন। আমার মনে হলো, মা যেন তাঁর হাত দুটোকে বিক্রমপুরের দিকে নিশানা করে রেখেছেন।
এবার মায়ের কথা সত্যি সত্যিই আমার বিশ্বাস হলো। সন্ধ্যার পর বাবা ঘরে এলে বাবাকেও একই প্রশ্ন করলাম। প্রশ্ন শুনে বাবা ভালো করে আমাকে দেখলেন। মা তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত।
আমার কথা শুনে বাবা বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আগে বল, তোর এই প্রশ্নে বেগম সাহেবা কী উত্তর দিলেন।’ মা সামনে না থাকলে বাবা মাকে ‘বেগম সাহেবা’ বলে সম্বোধন করেন।
‘মায় প্রথমবার কইল, এই হাওয়া যায় তগো নানিগো বাইত। হেরপর কইল বিক্রমপুর।’
বিক্রমপুর শুনে বাবা শব্দ করে হাসলেন, ‘সবকিছুতে তোর মা খালি বিক্রমপুর বিক্রমপুর করে। এইটা হইল তোর মার একটা রোগ।’
বাবার কথা শেষ হলো না। তার আগেই ঘরের দরজায় মায়ের ছায়া এসে পড়ল।
মাকে দেখে বাবা ভূত দেখার মতো চমকে গেলেন।
মা দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে বললেন, ‘তর বাপে কী কয় রে?’
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করে কী যেন ইশারা করলেন। তারপর মাকে বললেন, ‘না...আমরা বাপ-মাইয়ায় মিল্যা বটগাছের গল্প করতাছি...।’
বাবার মুখে বটগাছের গল্প করতাছি শুনে মা মেজাজ খারাপ করে উত্তর করলেন, ‘সন্ধ্যার সময় কই মাইয়ারে লইয়া পড়াইতে বইবা। না, তিনি মাইয়ারে শুনাইতাছেন বটগাছের গল্প।’ এ কথা বলে মা গটগট করে চলে গেলেন।
মা চলে যাওয়ার পর বাবা আর আমি হো হো করে হাসতে থাকি।

Saturday, July 6, 2024

গল্প- হলুদ পাতার বিছানা by শরীফ খান

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
ঘুঙুরের শব্দটা কান থেকে হারিয়ে যেতেই নানি রান্নাঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকালেন। নাতির কাণ্ড দেখে হেসে ফেললেন। তিন বছর বয়সী নাতিটা এখন ছাগলছানার পিঠে গিয়ে চড়ার কসরত করছে। ছোট সাদা ছাগলছানাটি প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে। চাইছে পালাতে। সাগর ওটার একটা কান মুঠিতে ধরে রেখেছে। নানি নিজের মেয়ে অর্থাৎ সাগরের মাকে দৃশ্যটা দেখালেন। মা-ও হেসে বললেন, ‘ঘুম ছাড়া ওর তো কোনো বিশ্রাম নেই, যা দুষ্টু হয়েছে না! নানি বাটিতে রুই মাছের মাথাটা কেটে গামলায় রেখে বললেন, ‘তাই তো দিয়েছি ওর কোমরে ঘুঙুর বেঁধে। যেখানেই যাক, টের পাব আমরা।’
সাগর মা-বাবার সঙ্গে নানিবাড়িতে এসেছে এই সাত-আট দিন হলো। আসার পর থেকেই ওর দুরন্তপনা বেড়ে গেছে শতগুণে। ঢাকায় থাকে। দৌড়ঝাঁপের জায়গা নেই। মাথার ওপরে খোলা আকাশ নেই। চাঁদ-তারা-জোনাকির আলো নেই। ফুল-পাখি-প্রজাপতি নেই। তাই তো নানিবাড়িতে আসার পর থেকেই ও স্বাধীনতা পেয়ে গেছে। ঘরের সামনে মস্ত বড় উঠোন। সে উঠোনের চারপাশজুড়ে গাছপালা। সাদা-বাদামি আর কালো রঙের ছয়টা ছাগলছানা আছে নানির। ছানাগুলো কী সুন্দর যে লাফ-ঝাঁপ দেয়, তিড়িং বিড়িং করে। সাগরও ছোটে আর লাফায় ওদের পেছন পেছন। উঠোনে রাজহাঁস ঘুরে বেড়ায় চারটা। প্রথম প্রথম সাগরকে কাছে দেখলেই গলা তুলে ‘কোয়াঙ কোয়াঙ’ শব্দে ডাকত, ঠোকর দিতে চাইত। এখন অবশ্য ওরা বুঝে গেছে বোধ হয়—এ বাড়ির আদরের নাতি এটা! তাই অত্যাচার সহ্য করে। সাগর গলা ধরে টানে। পিঠে চড়ে বসতে চায়। নানির মুখে শোনা গল্পের মতো রাজহাঁসের পিঠে চড়ে পরির দেশে উড়ে যেতে চায়।
রোজ সকালে নানি যখন ছাগলের পাল নিয়ে মাঠের দিকে যান, সাগরও যায় পেছন পেছন। নানি ওকে বড় বড় খাসি ছাগলের পিঠে চড়িয়ে দেন। খুশি তখন দেখে কে সাগরের! নিজেকে মনে হয় রাজপুত্র। সারা দিন নানির সঙ্গেই কাটে। নানি ওকে পুকুরে নিয়ে গোসল করিয়ে দেন। ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনান। পাখির বাসা দেখান। আমের বোলের গন্ধ বোঝান। নানি যেখানে, সাগর সেখানে। রান্নাঘরের পেছনেই পুকুর। এই চৈত্রে জল নেমে গেছে। সাগরের হাঁটুজল আছে। ওই হাঁটুজলে নেমে নানির হাত ধরে কতবার যে হেঁটে সে পুকুর পাড়ি দিল। নানি তাই ওর কোমরে বেঁধে দিয়েছেন ঘুঙুর।
নানি আজ এই একটু আগে দূরের রেলস্টেশনে গেছেন। সঙ্গে গেছেন সাগরের বাবা। সাগরের বড় খালা আসছেন বেড়াতে। আনতে গেছেন ওদের।
বেশ কিছুক্ষণ বাদে নানির মনে হলো—তাই তো! ঘুঙুরের শব্দ তো শোনা যাচ্ছে না! বাইরে এলেন তিনি। সঙ্গে সাগরের মা। সাগর কই! মা নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করলেন। নানি গেলেন পুকুর পাড়ে। তারপর শুরু করলেন চেঁচামেচি। পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এল। খবর শুনে একজন বলল, ‘ইদানীং ছেলেধরাদের কথা শোনা যাচ্ছে! ওরাই কী...!’ সাগরের মা এবার বুক চাপড়াতে চাপড়াতে মাটিতে বসে পড়লেন। এ সময় অন্য একজন বলল, ‘আবার অপহরণ-টরণ নাকি...!’ সাগরের নানি চিৎকার দিয়ে সবাইকে থামালেন। বললেন, ‘আমি জানি, কোথায় গেছে ও! আজ তো যেতে পারেনি নানির সঙ্গে!’
বাগানের শুড়িপথ ধরে অনেকটা দৌড়ে চললেন নানি। পেছনে অন্যরা। অনেকটা দূরে আসার পরে একটা আমড়াগাছের কাছে থামলেন নানি। এগিয়ে এল সবাই। দৃশ্য দেখে সবাই যেন অভিভূত হয়ে গেল। আমড়াগাছের ঝরে পড়া হলুদ পাতায় যেন পুরু পাতার বিছানা পাতা হয়ে গেছে মাটিতে। সেই বিছানায় একটি সাদা ছাগলছানার গলা জড়িয়ে ধরে কী নিশ্চিন্তে যে ঘুমোচ্ছে সাগর! পাশে শোয়া আরও দুটি ছাগলছানা। আমড়ার বোলের ঝরে পড়া পাপড়ি আর হলুদ ছোট ছোট পাতাগুলো ঝরছে চারটি প্রাণীর মুখ-মাথা-শরীরে!
সাগরের নানি এগিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়লেন হলুদ পাতার বিছানার ওপরে। আদরের নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন বুকে। বললেন, ‘খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে কী সুন্দর ঘুমিয়ে গেছে আমার ভাই! আমিও এমন সুখের ঘুম চাই।’

Wednesday, February 8, 2023

লাল ফড়িঙের জন্মদিন by কামাল হোসাইন

অলংকরণ: মাসুক হেলাল
বিকেল বেলা। খোলা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছে মিষ্টি হাওয়া। মা বললেন ঘুমাতে। কিন্তু ঘুম আসছে না তার কিছুতেই। বিছানায় শুয়ে কেবলই এপাশ-ওপাশ। মা মাত্র চোখ বুজেছেন। এই অপেক্ষাতেই ছিল ফাবিহা।

আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নামল সে।

বাইরে বেরিয়ে বাতাসে কান পাতল। ফিসফিস করে কারা যেন কথা বলছে। গাছের পাতায়-ডালে কেবল ফিসফিসানি। কী বলছে ওরা?

শব্দটা আসছে বাড়ির সামনের ফুলের বাগান থেকে। পায়ে-পায়ে এগিয়ে গেল সে। জায়গাটা ফাবিহার খুব পছন্দের। প্রায়ই একা-একা এখানে চলে আসে সে। গাছ-ফুল-মৌমাছি-প্রজাপতির সঙ্গে কথা বলে। ওদের খোঁজখবর নেয়। দুষ্টু পোকামাকড়ের হাত থেকে ওদের বাঁচায়।

ওরাও ফাবিহাকে পেলে খুশিতে লুটোপুটি খায়। আহ্লাদে আটখানা হয়। আনন্দে কেউ কেউ তাকে ফুলের রেণু উপহার দেয়। কেউ মধু খেতে দেয়। কেউবা গুনগুন গান শোনায়। কেউ আবার গাছের রঙিন পাতা ঝরিয়ে ফাবিহাকে অভিবাদন জানায়।

ফাবিহা বাগানে ঢুকতেই সবার ভেতরে কেমন একটা চঞ্চলতা দেখা গেল। বাগানজুড়ে একটা সাজ সাজ রব। ঠিক অন্য দিনের মতো নয়। অন্য দিন বাগানটা কেমন শান্ত থাকে। কিন্তু আজ একেবারে ব্যতিক্রম।

কিন্তু কী হলো আজ এই বাগানটায়! ফিসফিস শব্দটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কানে বাজছে। যেটা ও এর আগে কখনো শোনেনি। কেমন একটা গমগমে ভাব। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত। হঠাৎ কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল হলুদ প্রজাপতি।

বলল, ‘ও তুমি এসেছ? খুব ভালো।’ বলেই প্রজাপতি আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে দিল। ফাবিহার মজাই লাগল। একটু সুড়সুড়িও লাগল। খিলখিল করে হাসল ও। বলল, ‘সবাই ছোটাছুটি করছে কেন? কী হয়েছে?’

প্রজাপতিটি মিষ্টি করে হাসল। বলল, ‘তুমি জানো না? আজ আমাদের খুব মজার দিন। আজ আমরা আনন্দ করব। নাচব। গাইব।’

প্রজাপতি সব কথাই বলছে। কিন্তু আসল কথাটাই চেপে রাখছে, মানে সে রহস্যটা ভাঙতে চাইছে না এখনই। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ফাবিহাও আর জোর করল না। বলল, ‘ঠিক আছে। তোমরা আনন্দ করো। আমি এখন চলি। ভাবছিলাম, বিকেলটা বাগানেই কাটাব। কিন্তু তোমাদের যখন বিশেষ অনুষ্ঠান আছে, তাহলে থাক...।’

ফাবিহাকে কথা শেষ করতে দিল না প্রজাপতি। বলল, ‘ওমা! তুমি দেখছি রাগ করে বসে আছ। তুমি না থাকলে আজকের এই খুশির সময়টাই তো মাটি হয়ে যাবে।’

ফাবিহা বলল, ‘আমি রাগ করিনি। শুধু তোমাদের আনন্দের সময়ে বিরক্ত করতে চাইনি।’

ফাবিহার কথা শেষ হতেই আরও কয়েকটা প্রজাপতি, ফড়িং, মৌমাছি ছুটে এল। এসেই কেউ ফাবিহার গায়ে, কেউ মাথায় বসে পড়ল। মৌমাছি বলল, ‘হলদে বু দেখি আগেই তোমার কাছে এসে গেছে। কই তোমার তো এখানে আসার কথা ছিল না। হলদে বু, আমাদেরই তো এই সোনামুখো পাকা বুড়িটাকে নিয়ে আসার কথা ছিল!’

হলুদ প্রজাপতি একটু অপ্রস্তুত হলো। বলল, ‘আমি তো এখানে আসতে চাইনি মৌ। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। এই পাকা বুড়ির সঙ্গে দেখা, তাই কথা বলছিলাম। জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি গোপন কথার কিছুই বলিনি।’

ফাবিহা বলল, ‘হলুদ ঠিকই বলেছে। ও এখনো আমাকে তেমন কিছু বলেনি। তোমরাই বলো, আসল ব্যাপারটা কী? সেই কখন থেকে কেমন একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি!’

ফড়িং আর মৌমাছি মুখ টিপে হেসে উঠল। এরপর হলুদ প্রজাপতি, ফড়িং আর মৌমাছি প্রায় একসঙ্গেই বলল, ‘আজ আমাদের লক্ষ্মী মেয়ে লাল ফড়িঙের জন্মদিন।’

ফাবিহা হাসিতে মুখ ভরিয়ে বলল, ‘ওমা! তাই নাকি! এ তো দারুণ খবর। তোমরা যে ওর জন্মদিনের কথা মনে রেখে একটা উৎসবের আয়োজন করেছ, এটা জেনে খুব ভালো লাগছে।’

ফাবিহার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে হলুদ প্রজাপতি এবার বলল, ‘কেবল ভালো লাগলে চলবে না গো পাকা বুড়ি। আমাদের সঙ্গে তোমাকেও যেতে হবে। ফড়িং আর মৌমাছি তো এ জন্যই এসেছে।’

অন্যরাও বলল, ‘হ্যাঁ, তোমাকে আমাদের এই আয়োজনে থাকতেই হবে। থাকতেই হবে।’

ফাবিহা বুঝল, আর উপায় নেই। না থাকলে ওরা খুব মন খারাপ করবে। বলল, ‘ঠিক আছে। আর কোনো কথা নয়। চলো।’

প্রজাপতি, মৌমাছিরা উড়ে উড়ে পথ দেখিয়ে আগে আগে চলল। ফাবিহা চলল ওদের দেখানো পথে। বাগানের ঠিক মাঝখানটায় গিয়ে থামল ওরা।

ফাবিহা দেখল, চারদিকের ছোট ছোট ফুলের গাছগুলো দারুণ ঝকঝকে। তকতকে। মনে হচ্ছে এইমাত্র কেউ ওদের শ্যাম্পু মেখে গোসল করিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করেই দলে দলে একঝাঁক ফড়িং, প্রজাপতি, মৌমাছি এসে হাজির। সবাই ফাবিহাকে ঘিরে উড়তে লাগল। আর গুনগুন করে গান করতে লাগল। সবাই রীতিমতো সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে এসেছে। দেখে ফাবিহা মুগ্ধ হয়ে গেল। সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল, একটা করমচার ঝোপ সুন্দর করে ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। ফুলের রেণু মাখিয়ে আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটা প্রজাপতি আর মৌমাছি ধরাধরি করে কী যেন একটা নিয়ে এল। রাখল ঝোপের ওপর সুন্দর করে সাজানো জট পাকানো পাতার ওপর।

এতক্ষণে ফাবিহা বুঝল, ওটা একটা কেক। খুব ছোট ছোট পোকা আর ফুলের মধু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওটাকে। ফাবিহার হাসি পেল। আবার ভালোও লাগল। বলল, ‘বাহ্‌, তোমরা তো ভারি সুন্দর জন্মদিন পার্টির আয়োজন করেছ! আমি এখানে না এলে তো এই মজার আয়োজনটাই মিস করতাম! কিন্তু যাকে ঘিরে এত আয়োজন, সে কোথায়?’

ফাবিহার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুটো সোনালি রঙের প্রজাপতি একটা লাল ফড়িংকে নিয়ে হাজির। লাল ফড়িংকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। সারা শরীর উজ্জ্বল আলোয় যেন ঝলমল করছে। একদিকে বিকেলের চমৎকার সোনা-রোদের আনাগোনা। সেই রোদ গায়ে মাখার কারণে দিব্যি রোশনাই ছড়াচ্ছে চারদিকে।

লাল ফড়িংটা ফাবিহার দিকে চোখ পিটপিট করে তাকাল। ফাবিহা ওকে হাতে নিয়ে আলতো করে আদর বুলিয়ে দিল। লাল ফড়িং পাখা নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করল।

এরপর এল কেক কাটার সময়। সবাই হাজির। ফাবিহা ছোট্ট কেকটাকে হাতে তুলে নিল। ঘাসফড়িঙের লম্বা শুঁড় ছুরির ভূমিকা পালন করল। লাল ফড়িঙের মা-বাবা এলে কেক কাটা শুরু হলো।

সবাই গেয়ে উঠল—           

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ প্রিয় লাল ফড়িং।

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...

গানের তালে তালে সবাই নাচতে লাগল। আর একটু একটু করে কেক খেতে লাগল। ওদের এই আনন্দে শামিল হতে পেরে ফাবিহার খুব ভালো লাগল। ভাবল, জন্মদিনে তো উপহারও দিতে হয়। কালই একটু ভেবেচিন্তে একটা উপহার আনবে লাল ফড়িঙের জন্য।

Friday, February 24, 2017

এসে গেল ‘গোল্লাছুট সেরা গল্প’! by মো. সাইফুল্লাহ

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মাঠে সক্কালবেলাতেই এত ছেলেমেয়ে কোথা থেকে এল—নিচের ঠোঁটে চিমটি কেটে ভাবতে বসেছিল কিশোর পাশা। ওদিকে বর্ণমেলার মজার সব স্টল আর রঙিন সাজসজ্জা দেখে মুসা আমানের মুখ দিয়ে অজান্তেই বেরিয়ে গেল—খাইছে! বইপড়ুয়া রবিন মিলফোর্ডও মেলা ঘুরে খুঁজছিল নতুন কোনো বই।
নাহ, এর সবই কল্পনা। তিন গোয়েন্দা বর্ণমেলায় আসেনি। তবে এই বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প সিরিজের স্রষ্টা যিনি, সেই রকিব হাসান কিন্তু এসেছিলেন। প্রথমা থেকে প্রকাশিত গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন তিনি। খুদে লেখকদের হাতে তুলে দিয়েছেন পুরস্কার।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্ণমেলায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এ বছর আমরা ‘এসো গল্প লিখি’ আয়োজনে অংশ নেওয়া লেখকদের গল্প নিয়ে বই প্রকাশ করব। অবশেষে এসে গেল সেই দিন। এক বছর ধরে আমরা তোমাদের পাঠানো গল্প থেকে বাছাই করা ৩৫টি গল্প ছেপেছি। সেই ৩৫টি গল্পই স্থান পেয়েছে গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলনে। সেরা তিন লেখকের প্রত্যেকেই পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই!
সকাল থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের লেখকেরা আসতে শুরু করেছিল। রংপুর থেকে এসেছিল জান্নাত নূরে মাহবুবা ও কে এম জান্নাত জামান। নড়াইলের পূরবী চক্রবর্ত্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুদরাত তাহিয়া, টাঙ্গাইলের জারিন তাসনিম জাহান, সৈয়দপুরের মাইশা মালিহা, চট্টগ্রামের সাবরিনা সাদিয়া, সোনাইমুড়ীর নাবিহা জাহান, ময়মনসিংহের সা’আদ ইসলাম, ফরিদপুরের নুসরাত হক, সিরাজগঞ্জের জিয়াউল হক...সবাই সময়মতো এসে হাজির। ওদিকে চট্টগ্রামের নাজমুল ইসলাম আর রাজশাহীর আবরার লাবিব কিন্তু খালি হাতে ফেরেনি। পুরো ১২ হাজার টাকার বই মাথায় তুলে নিয়ে গেছে তারা। ময়মনসিংহের আনিকা তাহসীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেনি। তার মা এসেছিলেন। আনিকার গল্পও সেরাদের সেরা হয়েছে। সে-ও পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই।
সামিরা তাবাস্সুম তালুকদার, আকিফ রহমান, আবীর ফেরদৌস, মো. সাজ্জাদুর রহমান, মারজিয়া তাবাসসুম, তমালিকা বিশ্বাস, নুজহাত মাসতুরা, মো. ইত্তিহাদ শাহ্, তুষার কান্তি সরকার, তানভীর ফুয়াদ, নুদরাত তাহিয়া, শাহরিয়ার রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, ইসতিয়াক ওয়ালিদ, তাসফিয়া তাবাসসুম, প্রাপ্তি ঘোষ, মাহমুদা তাবাসসুম, রাদমান সিদ্দিকী, ফারিহা ফালাক ও ইসতিয়াক জামান—এই নামগুলোও মনে রেখো। এদের লেখা গল্প নিয়েই গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলন। কে জানে, এদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আগামী দিনের সেরা লেখক হয়ে উঠবে!

Saturday, April 5, 2014

কন্যাশিশু এবং কিছু অভিজ্ঞতা by আদনান সৈয়দ

আমি থাকি যুক্তরাষ্ট্রে। ছুটিছাঁটায় সময়-সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসি। তবে এবার বাংলাদেশে আসার সময় আমার অনুভূতি ছিল একটু ভিন্ন। আমার স্ত্রী বাংলাদেশে, তিনি সন্তানসম্ভবা। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! আর বাবা হওয়ার আনন্দটা সত্যিই কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়?

বিস্ময়-বালিকা by মো. সাইফুল্লাহ

সারিনা হোসেনের বয়স ১০ বছর। ছোট্ট মেয়েটার একটা বই বের হয়েছে লন্ডনের অলিম্পিয়া পাবলিশার্স থেকে। তার লেখা গল্পের অংশবিশেষের অনুবাদ প্রকাশিত হলো তোমাদের জন্য।

Friday, November 29, 2013

গল্প- আকাশে ওড়ার ফর্মুলা by ইন্দ্রজিৎ সরকার

দুই-দু গুণে চার হয়—এটা আর কে না জানে। ছোট মামাও সেটা জানেন বিলক্ষণ। কিন্তু তাঁর ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। তিনি প্রশ্ন করবেন, ‘দুই-দু গুণে কেন পাঁচ বা তিন হয় না, বলতে পারিস?’ বুঝতেই পারছ, আমাদের বলতে পারার কথা নয়।

Friday, November 22, 2013

গল্প- ছোট কামা by নুসরাত ফাতেমা

‘এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে! তুই আমার চটিজোড়া পায়ে দিয়েছিস কেন?’
‘বেশ করেছি। তুই আমার খাতার মলাট ছিঁড়েছিস কেন?’

Friday, November 15, 2013

গল্প- লাল সাইকেল by নাদিরা মুসতারী

সেদিনও অন্তু বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এমন সময় হিরু ভাই এসে হাজির।
তোমরা যাচ্ছ তো দৌড় প্রতিযোগিতায়?’
অন্তু হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল। দৌড় প্রতিযোগিতা!

Friday, November 1, 2013

এক দেশে একদিন... by মুহাম্মদ রিয়াজুল আমীন

সকাল ১০টা। দেশের সরকারপ্রধান চিন্তিত মুখে তাঁর অফিসে বসে আছেন। তাঁর কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ। সকালেই তিনি খবর পেয়েছেন, সরকারের সবচেয়ে গোপন ভল্টে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি চুরি গিয়েছে।

Friday, October 11, 2013

গল্প- আমার একটা পোষা দৈত্য আছে by আনিসুল হক

দুপুরবেলা তপু একাই থাকে বাসায়। স্কুল ছুটির পর স্কুল থেকে সে আসে রিকশাভ্যানে। একটা রিকশাভ্যানে আসে তারা আটজন। ভ্যানচালকের নাম হবিবর, তারা ডাকে হবিবর মামা বলে।

Friday, September 27, 2013

গল্প- এক ঢিলে দুই পাখি by আদনান মুকিত

এই মুহূর্তে টুশির মনটা খারাপ। মন খারাপ হওয়ারই কথা। কার্টুন দেখার সময় হয়ে গেছে, অথচ দেখতে পারছে না। টিভির রিমোটটা ক্যাডবেরি চকলেটের মতো আগলে রেখেছেন টুশির মামা।

Friday, September 20, 2013

গল্প- জাদুর কলম by অর্ঘ্য দত্ত

আমাদের ক্লাসের অনীককে তো তোমরা চেনো। ওর রোল ৫০। ও বরাবরই সবার থেকে পিছিয়ে আছে।

Friday, September 13, 2013

পিপ্পির মন খারাপ by আশিক মুস্তাফা

মরিচ দেখলেই মাথায় চক্কর মেরে ওঠে পিপ্পির। এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। হেলেদুলে পড়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

Friday, August 30, 2013

টুটুলের অ্যাংরি বার্ডস by মাহফুজ রহমান

টুটুলের বড় আপুর নাম শিলা। টুটুল ডাকে চিলা! ‘চিল’-এর সঙ্গে ‘আ’-কার যোগ করে চিলা। শিলা যখন সামনে থাকে না, টুটুল তখন ওকে ডাকে চিলাপু বলে।

Friday, July 19, 2013

ঈদকার্ডের নকশা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন

‘হরলিক্স-গোল্লাছুট ঈদকার্ডের নকশা প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছিল ৪ জুলাই। ১৬ জুলাই পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতার জন্য ঈদকার্ডের নকশা পাঠিয়েছিল প্রায় এক হাজার আট শ প্রতিযোগী। এর মধ্য থেকে দুই বিভাগে মোট ১১ জন বিজয়ী হয়েছে।