Showing posts with label গোল্লাছুট. Show all posts
Showing posts with label গোল্লাছুট. Show all posts
Friday, July 17, 2026
হাতির জন্য কান্না by পল্লব মোহাইমেন
![]() |
| নিথর বঙ্গ বাহাদুর। ছবি: শফিকুল ইসলাম |
ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটির মৃত্যু সত্যিই কাঁদিয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষকে।
‘হাতিটি
যখন একেবারেই নিথর হয়ে গেল, তখন চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলাম।’ ১৮ আগস্ট ২০১৬
মুঠোফোনে যখন এ কথা বলছিলেন তখনো বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠ ছিল সরিষাবাড়ীর দর্পণ
থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আশরাফুল ইসলামের।
মো. মুকুল হোসেনের আবেগও থামে না। কামরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক এই সদস্য বললেন, ‘মনে হলো আমার কোনো আত্মীয় মারা গেছে।’
ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটির মৃত্যু সত্যিই কাঁদিয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষকে। মুকুল ও আশরাফের কথা তো আলাদাই। ১১ আগস্ট প্রথম দফা যখন হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয়, তখন সেটি কয়রা গ্রামের ডোবায় নেমে গিয়েছিল। প্রায় অচেতন হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছিল। ভেটেনারি চিকিৎসক তপন কুমার দে হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানান এলাকার মানুষজনকে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে যান মুকুল ও আশরাফুল।
সেদিনের কথা বলতে থাকেন মুকুল হোসেন, ‘হাতিটা যখন পড়ে গেল পানিতে, তখন প্রথমে নৌকা নিয়ে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। তারপর কলার ভেলা। কিন্তু কচুরিপানার কারণে কাছাকাছি যেতে পারি না। এরপর পানিতে নেমে পড়ি।’
প্রায় একই সময় পানিতে ঝাঁপ দেন আশরাফুল ইসলামও। ‘হাতিটি তখন অচেতন হলেও শুঁড় নাড়াতে পারছিল। একটা বাঁশের লাঠির (স্থানীয়ভাবে কোটা নামে পরিচিত) আগায় বড়শির মতো লোহা লাগিয়ে আমরা হাতির কান টানতে থাকি। শুঁড় যেহেতু নাড়াছিল, তাই ভয়ও করছিল। তারপরও আমি ডুব দিয়ে হাতির পায়ের নিচ দিয়ে দড়ি ঢুকিয়ে বুক আটকে ফেলি।’ দড়ি হাতির পিঠের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠানো হলে শতাধিক মানুষ হাতিকে ডাঙায় তুলে দড়ি টানা শুরু করে। একপর্যায়ে হাতিটিকে ডাঙায় তোলা হয়। এরপর আমগাছের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা তখন হাতিটির নাম দেন ‘বঙ্গ বাহাদুর’।
পানিতে ডুব দিয়ে প্রায় অচেতন হাতিটির পায়ে রশি পরানোর কাজটা কিন্তু বেশ ঝুঁকিপূর্ণই ছিল। তারপরও কেন সেই ঝুঁকি নিলেন? আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিটির ওপর মায়া পড়ে গিয়েছিল। সরিষাবাড়ীতে ঢোকার পর থেকেই এই হাতির পেছনে রয়েছি। যখন দেখলাম হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছে তখন আমি আর আমার মধ্যে ছিলাম না। আমি আর মুকুল মেম্বার সাঁতার দিলাম। ভয় ছিল শুঁড় দিয়ে যদি পানির নিচে জড়িয়ে ধরে! তারপরও আমাদের মনে হয়েছে যে করেই হোক হাতিটাকে বাঁচাতে হবে।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুকুল-আশরাফুলসহ শত শত গ্রামবাসী এবং বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা মিলেও বাঁচাতে পারেনি বঙ্গ বাহাদুরকে। ১৬ আগস্ট ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে মারা যায় হাতিটি। প্রথম আলোর সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, সেদিন সত্যিই শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছিল কয়রা এলাকাটা। বরকত হাজী নামে এক ব্যক্তির জমিতে পড়েছিল, সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে হাতিটিকে।
কিছুটা আক্ষেপের সুরে মুকুল হোসেন বললেন, ‘আমাদের কথা তো কেউ শোনে না। হাতির দুই পা একসঙ্গে চেপে বাঁধতে না করেছিলাম। আর ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি ছিটাতে চেয়েছিলাম হাতির ওপর।’ আশরাফুল বলেন, ‘বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টা ছিল, আন্তরিকতাও ছিল কিন্তু তাঁদের দক্ষতার অভাবটাই ছিল বেশি।’
২৮ জুন এই বুনো হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। এরপর ২৭ জুলাই হাতিটি সরিষাবাড়ী উপজেলায় আসে। ৮ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাতিটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে উদ্ধারের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন। ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল উদ্ধার অভিযান। প্রায় ২০ দিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করায়, স্থানীয় মানুষদের মনে দাগ কেটেছিল বঙ্গ বাহাদুর। জীবন বাজি ধরে হাতি উদ্ধারেও নেমেছিলেন মুকুল-আশরাফুলের মতো মানুষেরা। আর তাই আজ হাতির জন্য কান্না এলাকাজুড়েই।
মো. মুকুল হোসেনের আবেগও থামে না। কামরাবাদ ইউনিয়নের সাবেক এই সদস্য বললেন, ‘মনে হলো আমার কোনো আত্মীয় মারা গেছে।’
ভারতের আসাম থেকে ভেসে আসা বন্য হাতিটির মৃত্যু সত্যিই কাঁদিয়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মানুষকে। মুকুল ও আশরাফের কথা তো আলাদাই। ১১ আগস্ট প্রথম দফা যখন হাতিটিকে অজ্ঞান করা হয়, তখন সেটি কয়রা গ্রামের ডোবায় নেমে গিয়েছিল। প্রায় অচেতন হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছিল। ভেটেনারি চিকিৎসক তপন কুমার দে হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানান এলাকার মানুষজনকে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে যান মুকুল ও আশরাফুল।
সেদিনের কথা বলতে থাকেন মুকুল হোসেন, ‘হাতিটা যখন পড়ে গেল পানিতে, তখন প্রথমে নৌকা নিয়ে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। তারপর কলার ভেলা। কিন্তু কচুরিপানার কারণে কাছাকাছি যেতে পারি না। এরপর পানিতে নেমে পড়ি।’
প্রায় একই সময় পানিতে ঝাঁপ দেন আশরাফুল ইসলামও। ‘হাতিটি তখন অচেতন হলেও শুঁড় নাড়াতে পারছিল। একটা বাঁশের লাঠির (স্থানীয়ভাবে কোটা নামে পরিচিত) আগায় বড়শির মতো লোহা লাগিয়ে আমরা হাতির কান টানতে থাকি। শুঁড় যেহেতু নাড়াছিল, তাই ভয়ও করছিল। তারপরও আমি ডুব দিয়ে হাতির পায়ের নিচ দিয়ে দড়ি ঢুকিয়ে বুক আটকে ফেলি।’ দড়ি হাতির পিঠের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠানো হলে শতাধিক মানুষ হাতিকে ডাঙায় তুলে দড়ি টানা শুরু করে। একপর্যায়ে হাতিটিকে ডাঙায় তোলা হয়। এরপর আমগাছের সঙ্গে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা তখন হাতিটির নাম দেন ‘বঙ্গ বাহাদুর’।
পানিতে ডুব দিয়ে প্রায় অচেতন হাতিটির পায়ে রশি পরানোর কাজটা কিন্তু বেশ ঝুঁকিপূর্ণই ছিল। তারপরও কেন সেই ঝুঁকি নিলেন? আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হাতিটির ওপর মায়া পড়ে গিয়েছিল। সরিষাবাড়ীতে ঢোকার পর থেকেই এই হাতির পেছনে রয়েছি। যখন দেখলাম হাতিটি তলিয়ে যাচ্ছে তখন আমি আর আমার মধ্যে ছিলাম না। আমি আর মুকুল মেম্বার সাঁতার দিলাম। ভয় ছিল শুঁড় দিয়ে যদি পানির নিচে জড়িয়ে ধরে! তারপরও আমাদের মনে হয়েছে যে করেই হোক হাতিটাকে বাঁচাতে হবে।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য মুকুল-আশরাফুলসহ শত শত গ্রামবাসী এবং বন বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা মিলেও বাঁচাতে পারেনি বঙ্গ বাহাদুরকে। ১৬ আগস্ট ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে মারা যায় হাতিটি। প্রথম আলোর সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জানান, সেদিন সত্যিই শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছিল কয়রা এলাকাটা। বরকত হাজী নামে এক ব্যক্তির জমিতে পড়েছিল, সেখানেই সমাহিত করা হয়েছে হাতিটিকে।
কিছুটা আক্ষেপের সুরে মুকুল হোসেন বললেন, ‘আমাদের কথা তো কেউ শোনে না। হাতির দুই পা একসঙ্গে চেপে বাঁধতে না করেছিলাম। আর ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি ছিটাতে চেয়েছিলাম হাতির ওপর।’ আশরাফুল বলেন, ‘বন বিভাগের কর্মকর্তাদের চেষ্টা ছিল, আন্তরিকতাও ছিল কিন্তু তাঁদের দক্ষতার অভাবটাই ছিল বেশি।’
২৮ জুন এই বুনো হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। এরপর ২৭ জুলাই হাতিটি সরিষাবাড়ী উপজেলায় আসে। ৮ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় প্রতিনিধিদল ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাতিটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করে উদ্ধারের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন। ৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল উদ্ধার অভিযান। প্রায় ২০ দিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করায়, স্থানীয় মানুষদের মনে দাগ কেটেছিল বঙ্গ বাহাদুর। জীবন বাজি ধরে হাতি উদ্ধারেও নেমেছিলেন মুকুল-আশরাফুলের মতো মানুষেরা। আর তাই আজ হাতির জন্য কান্না এলাকাজুড়েই।
>>>২০ আগস্ট ২০১৬
Sunday, May 10, 2026
গল্প- মা তোমাকে ভালোবাসি by রোমেন রায়হান

সব
মা–ই সেরা! তোমার কাছে যেমন তোমার মাকে সবচেয়ে ভালো মা মনে হয়, দেখবে
তোমার বন্ধুরাও তা–ই ভাবে। আবার আশপাশে তাকিয়ে দেখো, শুধু মানুষ নয়,
পশুপাখিরাও মাকে ভীষণ ভালোবাসে। দেখবে বিড়ালছানা কেমন মায়ের বুকে গুটিসুুটি
মেরে থাকে। চড়ুইয়ের ছানা
‘চিঁচিঁ’ করে ডাকে মাকে! আজ রোববার মা দিবস। তাই আজ মাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন।
পাশে যে ছবিটা দেখছ, এটা এঁকেছে আবির শেখ। সে নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে
রুহামদের বাসায় পাঁচটা পিঁপড়া থাকে। মা পিঁপড়া, তার দুই ছেলে আর দুই মেয়ে। বাচ্চা পিঁপড়ারা খুব লক্ষ্মী। সব সময় মায়ের কথা শোনে। এই যেমন মা পিঁপড়া বলে দিয়েছে, ‘রুহামকে কখনো কামড় দিয়ো না।’
ওরা মায়ের কথা শুনেছে। এক বছর ধরে ওরা রুহামদের বাসায় থাকছে, এক দিনও রুহামকে কামড় দেয়নি।
রুহামদের বাসায় আজকে বড় অনুষ্ঠান হলো। অনেক মেহমান এসেছিল। একটা কেক আনা হয়েছিল। রুহাম সেই কেক কাটল। রুহামের জন্মদিন ছিল যে!
পিঁপড়ারাও কেকের ভাগ পেল। মা পিঁপড়া পেট পুরে খেয়ে ঘুমাতে গেল। ওদিকে চার ভাইবোন পিঁপড়া বসে বসে গল্প করছিল। সবচেয়ে ছোট পিঁপড়া বোনটা বলল, ‘আমার মন খারাপ।’
বাকি তিন ভাইবোন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘কেন, কেন?’
‘এই যে আমরা মোটে তিন-চার বছর বাঁচি!
ছোট ভাই পিঁপড়া বলল, ‘তাতে কী?’
‘আমরা তো চাইলেও দুই-তিনটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারব না।’
বড় বোন বলল, ‘আচ্ছা আমরা জন্মদিন পালন করি না কেন?’
জবাবটা কেউ দিতে পারল না। হঠাৎ সবার মন খারাপ হলো। মায়ের একটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারবে না।
সবাই ঠিক করল মায়ের জন্মদিন পালন করবে। তবে আগে থেকে মাকে কিছুই জানাবে না। চমকে দেবে।
পিঁপড়া মায়ের জন্মদিন ১১ মে। নানু পিঁপড়ার কাছ থেকে ওরা শুনেছিল।
মে মাস তো চলেই এল। সারা দিন চার ভাইবোন ফিসফিস করে। জন্মদিনে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা।
মে মাসের ১০ তারিখ এসে পড়ল। অনুষ্ঠান করার জন্য ড্রয়িংরুমের একটা কোনাকে বেছে নিল ওরা। এই ঘরে মা পিঁপড়া সাধারণত আসে না। তাই আগে থেকেই মায়ের চোখে পড়বে না। পিঁপড়া ভাইবোনেরা একেকজন একেক কাজে লেগে পড়ল।
বড় ভাই পিঁপড়া বাগানে গেল একটা ফুল আনতে। এত দূর থেকে কাঁধে করে একটা ফুল নিয়ে আসা তো সহজ কাজ না! কিন্তু মায়ের জন্য আনছে বলে তার একটুও কষ্ট লাগল না।
বড় বোন পিঁপড়া গেল রুহামের পড়ার ঘরে। পড়তে বসলেই রুহামের শুধু খিদে পায়। তাই রুহামের আম্মু ওর পড়ার টেবিলে সব সময় কিছু না কিছু খাবার রেখে দেয়। টেবিলের কাছাকাছি গিয়ে দেখল রুহাম পড়া ফেলে বিস্কুট খাচ্ছে। টেবিলের নিচে কার্পেটের ওপর একটা বিস্কুট পড়ে আছে। রুহাম এভাবে খাবার-দাবার গুছিয়ে খায় না বলে অন্য দিন পিঁপড়ারা বিরক্ত হতো। আজকে হলো না। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পিঁপড়া বড় বোন বিস্কুটটা নিয়ে রওনা হলো। আরেকটু হলে রুহামের পায়ের নিচে চাপা পড়ছিল!
রুহামের বাবা গতকাল বাজার থেকে স্ট্রবেরি এনেছিল। ছোট ভাই পিঁপড়াটা গেল রান্নাঘরে। গিয়ে দেখে ফ্লোরে এক টুকরো স্ট্রবেরি পড়ে আছে। সে ওই টুকরোটা নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা হলো।
জিনিস জোগাড় হয়ে গেছে। পিঁপড়া ছোট বোনটা এবার বসল কেক বানাতে। সব ভাইবোন মিলে ক্রিম দিয়ে জোড়া দেওয়া দুই বিস্কুট আলাদা করে ফেলল। তারপর ক্রিম লাগানো অংশটার ওপর বসাল স্ট্রবেরির কাটা টুকরো। ছোট বোন বলল, ‘এই নাও, হয়ে গেল জন্মদিনের কেক!’ কেক দেখে সবাই খুশি। আনন্দে হাততালি দিল।
আয়োজন শেষ করতে করতে দেখে রাত ১১টা বেজে গেছে। তার মানে মা ঘুমিয়ে গেছে।
রাত ১২টা বাজার একটু আগে সব ভাইবোন গেল মায়ের কাছে। গভীর ঘুম থেকে ডেকে তোলায় মা পিঁপড়া প্রথমে ঘাবড়ে গেল। চোখ কচলে বলল, ‘কী হয়েছে?’
বড় ছেলে মুখ হাসি হাসি করে বলল, ‘কিছু না।’
‘তাহলে এত রাতে ডাকতে এলি কেন?’
ছোট মেয়ে মায়ের হাত টেনে বলল, ‘চলো তো, মা।’
‘কোথায়?’
‘ড্রয়িংরুমে। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’
ড্রয়িংরুমে এসে মা তো অবাক। কেক! ফুল! জিজ্ঞেস করল, ‘এগুলো কী রে?’
বড় মেয়েটা কিছু বলবে বলে মুখ খুলতে যাচ্ছিল। অমনি রুহামদের বাসার দেয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে বেজে উঠল। মানে রাত ১২টা বেজে গেছে। সব ছেলেমেয়ে একসঙ্গে সুর করে গেয়ে উঠল:
‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার মা...হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।’
মা পিঁপড়া ভ্যাবাচ্যাকা খেল। এটা দেখে ছোট ছেলে বলল, ‘মা, আজকে মে মাসের ১১ তারিখ! আজকে তোমার জন্মদিন।’
বড় ছেলে মায়ের হাতে ফুল তুলে দিল। মা ফুল হাতে নিল। সবাই মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমিও তোদের অনেক ভালোবাসি।’
সবাই দেখল মায়ের চোখ ভেজা। চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। সব ছেলেমেয়ের চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।
তারপর সবাই মিলে গোল হয়ে বসল। কেক খেল। খেতে খেতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করল। গল্প শেষ করে ছেলেমেয়েরা অনে-এ-এ-ক দিন পর ছোটবেলার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে গেল।
‘চিঁচিঁ’ করে ডাকে মাকে! আজ রোববার মা দিবস। তাই আজ মাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন।
পাশে যে ছবিটা দেখছ, এটা এঁকেছে আবির শেখ। সে নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে
রুহামদের বাসায় পাঁচটা পিঁপড়া থাকে। মা পিঁপড়া, তার দুই ছেলে আর দুই মেয়ে। বাচ্চা পিঁপড়ারা খুব লক্ষ্মী। সব সময় মায়ের কথা শোনে। এই যেমন মা পিঁপড়া বলে দিয়েছে, ‘রুহামকে কখনো কামড় দিয়ো না।’
ওরা মায়ের কথা শুনেছে। এক বছর ধরে ওরা রুহামদের বাসায় থাকছে, এক দিনও রুহামকে কামড় দেয়নি।
রুহামদের বাসায় আজকে বড় অনুষ্ঠান হলো। অনেক মেহমান এসেছিল। একটা কেক আনা হয়েছিল। রুহাম সেই কেক কাটল। রুহামের জন্মদিন ছিল যে!
পিঁপড়ারাও কেকের ভাগ পেল। মা পিঁপড়া পেট পুরে খেয়ে ঘুমাতে গেল। ওদিকে চার ভাইবোন পিঁপড়া বসে বসে গল্প করছিল। সবচেয়ে ছোট পিঁপড়া বোনটা বলল, ‘আমার মন খারাপ।’
বাকি তিন ভাইবোন একসঙ্গে বলে উঠল, ‘কেন, কেন?’
‘এই যে আমরা মোটে তিন-চার বছর বাঁচি!
ছোট ভাই পিঁপড়া বলল, ‘তাতে কী?’
‘আমরা তো চাইলেও দুই-তিনটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারব না।’
বড় বোন বলল, ‘আচ্ছা আমরা জন্মদিন পালন করি না কেন?’
জবাবটা কেউ দিতে পারল না। হঠাৎ সবার মন খারাপ হলো। মায়ের একটার বেশি জন্মদিন পালন করতে পারবে না।
সবাই ঠিক করল মায়ের জন্মদিন পালন করবে। তবে আগে থেকে মাকে কিছুই জানাবে না। চমকে দেবে।
পিঁপড়া মায়ের জন্মদিন ১১ মে। নানু পিঁপড়ার কাছ থেকে ওরা শুনেছিল।
মে মাস তো চলেই এল। সারা দিন চার ভাইবোন ফিসফিস করে। জন্মদিনে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা।
মে মাসের ১০ তারিখ এসে পড়ল। অনুষ্ঠান করার জন্য ড্রয়িংরুমের একটা কোনাকে বেছে নিল ওরা। এই ঘরে মা পিঁপড়া সাধারণত আসে না। তাই আগে থেকেই মায়ের চোখে পড়বে না। পিঁপড়া ভাইবোনেরা একেকজন একেক কাজে লেগে পড়ল।
বড় ভাই পিঁপড়া বাগানে গেল একটা ফুল আনতে। এত দূর থেকে কাঁধে করে একটা ফুল নিয়ে আসা তো সহজ কাজ না! কিন্তু মায়ের জন্য আনছে বলে তার একটুও কষ্ট লাগল না।
বড় বোন পিঁপড়া গেল রুহামের পড়ার ঘরে। পড়তে বসলেই রুহামের শুধু খিদে পায়। তাই রুহামের আম্মু ওর পড়ার টেবিলে সব সময় কিছু না কিছু খাবার রেখে দেয়। টেবিলের কাছাকাছি গিয়ে দেখল রুহাম পড়া ফেলে বিস্কুট খাচ্ছে। টেবিলের নিচে কার্পেটের ওপর একটা বিস্কুট পড়ে আছে। রুহাম এভাবে খাবার-দাবার গুছিয়ে খায় না বলে অন্য দিন পিঁপড়ারা বিরক্ত হতো। আজকে হলো না। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে পিঁপড়া বড় বোন বিস্কুটটা নিয়ে রওনা হলো। আরেকটু হলে রুহামের পায়ের নিচে চাপা পড়ছিল!
রুহামের বাবা গতকাল বাজার থেকে স্ট্রবেরি এনেছিল। ছোট ভাই পিঁপড়াটা গেল রান্নাঘরে। গিয়ে দেখে ফ্লোরে এক টুকরো স্ট্রবেরি পড়ে আছে। সে ওই টুকরোটা নিয়ে ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা হলো।
জিনিস জোগাড় হয়ে গেছে। পিঁপড়া ছোট বোনটা এবার বসল কেক বানাতে। সব ভাইবোন মিলে ক্রিম দিয়ে জোড়া দেওয়া দুই বিস্কুট আলাদা করে ফেলল। তারপর ক্রিম লাগানো অংশটার ওপর বসাল স্ট্রবেরির কাটা টুকরো। ছোট বোন বলল, ‘এই নাও, হয়ে গেল জন্মদিনের কেক!’ কেক দেখে সবাই খুশি। আনন্দে হাততালি দিল।
আয়োজন শেষ করতে করতে দেখে রাত ১১টা বেজে গেছে। তার মানে মা ঘুমিয়ে গেছে।
রাত ১২টা বাজার একটু আগে সব ভাইবোন গেল মায়ের কাছে। গভীর ঘুম থেকে ডেকে তোলায় মা পিঁপড়া প্রথমে ঘাবড়ে গেল। চোখ কচলে বলল, ‘কী হয়েছে?’
বড় ছেলে মুখ হাসি হাসি করে বলল, ‘কিছু না।’
‘তাহলে এত রাতে ডাকতে এলি কেন?’
ছোট মেয়ে মায়ের হাত টেনে বলল, ‘চলো তো, মা।’
‘কোথায়?’
‘ড্রয়িংরুমে। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’
ড্রয়িংরুমে এসে মা তো অবাক। কেক! ফুল! জিজ্ঞেস করল, ‘এগুলো কী রে?’
বড় মেয়েটা কিছু বলবে বলে মুখ খুলতে যাচ্ছিল। অমনি রুহামদের বাসার দেয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে বেজে উঠল। মানে রাত ১২টা বেজে গেছে। সব ছেলেমেয়ে একসঙ্গে সুর করে গেয়ে উঠল:
‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার মা...হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।’
মা পিঁপড়া ভ্যাবাচ্যাকা খেল। এটা দেখে ছোট ছেলে বলল, ‘মা, আজকে মে মাসের ১১ তারিখ! আজকে তোমার জন্মদিন।’
বড় ছেলে মায়ের হাতে ফুল তুলে দিল। মা ফুল হাতে নিল। সবাই মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমিও তোদের অনেক ভালোবাসি।’
সবাই দেখল মায়ের চোখ ভেজা। চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। সব ছেলেমেয়ের চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।
তারপর সবাই মিলে গোল হয়ে বসল। কেক খেল। খেতে খেতে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করল। গল্প শেষ করে ছেলেমেয়েরা অনে-এ-এ-ক দিন পর ছোটবেলার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমুতে গেল।

Friday, February 7, 2025
গুড্ডুবুড়াদের বাড়িতে আর চোর আসে না by আনিসুল হক
![]() |
| অলংকরণ: নাইমুর রহমান |
গুড্ডুবুড়াকে কি তোমরা চেন?
ও একটা ছোট্ট ছেলে। ও কিছুতেই খেতে চায় না। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করলে কী হয়? বুদ্ধি কমে যায়, গায়ের জোর কমে যায়।
ওর বোকামির কাণ্ড শুনলে তোমরা হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
এমনিতে কিছু খায় না। একদিন দেখা গেল, ও বসে বসে টি-ব্যাগ চিবোচ্ছে। পানে চা-পাতার ব্যাগ।
ওর মা বলল, ওই তুই কী খাস? তোর মুখে কী?
আমি? চা খাই।
দেখি দেখি মুখ খোল।
মা ওর মুখ খোলালেন। দেখা গেল, মুখের মধ্যে টি-ব্যাগ ঢুকিয়ে সে বেশ করে চিবোচ্ছে?
তুই এটা খাচ্ছিস কেন?
আমি চা খাচ্ছি।
চা খাচ্ছিস কেন?
আমি বড় হয়ে গেছি।
বড় হলেই চা খেতে হবে?
হুম।
তা চা যদি খাবি, কাপে করে ভালোভাবে বানানো চা খা। এটা খাচ্ছিস কেন?
সেটা কি আর গুড্ডুবুড়া মাকে বলবে? একদিন তাদের টেবিলে দুই কাপ চা বানিয়ে রাখা হয়েছে, মেহমান এসেছেন বাড়িতে, তাদেরকে দেওয়া হবে।
গুড্ডুবুড়া এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল, মা রান্নাঘরে। বাবা মেহমানদের সামনে। এই সুযোগ। সে চায়ের কাপে মুখ দিল। অমনি তার মুখ গেল পুড়ে। বাবা গো মা গো...কিন্তু সেই কথা তো সে মাকে বলতে পারে না।
গুড্ডুবুড়াকে একদিন দেখা গেল, মশামাছি মারার স্প্রে নিয়ে ছুটছে। কেন?
পিঁপড়া উঠেছে চিনির বয়ামে।
সে বয়ামের মধ্যে মশা মারা ওষুধ স্প্রে করতে লাগল।
মা বললেন, গুড্ডুবুড়া কী করিস?
পিঁপড়া মারি মা।
সর্বনাশ। এতো বিষ। এই চিনি খেলে আমরা তো সবাই মারা যাব।
ওদের বাড়িতে মুরগি ডিম দিল। তারপর সেই মুরগি বাচ্চা ফোটাল। ৮টা বাচ্চা।
একদিন খুব গরম পড়েছে। গুড্ডুবুড়া ঘেমে একাকার। বিকাল তিনটার মতো বাজে। স্কুল থেকে ফিরে এসে সে দুপুরের খাবার খেয়ে মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। মা দিব্যি ঘুমাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ চলে গেছে। ফ্যান বন্ধ।
গুড্ডুবুড়া বিছানা ছাড়ল। উফ। কী গরম। সে গেল বারান্দায়। গিয়ে দেখে, মুরগিটা ঝিমোচ্ছে। মুরগির বাচ্চাগুলো পানি খাওয়ার জন্য বাটিতে ঠোঁট নামিয়েছে।
আহা, গরমে কষ্ট পাচ্ছ। বলে গুড্ডুবুড়া একটা মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রেখে দিল। আরও নেবে বলে আসতেই মা মুরগি ওর হাতে দিল ঠোকর। ও ভয়ে পালিয়ে এল।
মুরগির বাচ্চাটা মারা গেল ফ্রিজে। তাই নিয়ে গুড্ডুবুড়ার কী কান্না। সে তো ভালো করতে চেয়েছিল। খারাপ হয়ে গেল যে।
আরেকদিন তার মা শিং মাছ কিনে এনে জিয়ল রেখেছেন। দুটো মাছ মরে গেছে। তাদেরকে রাখা হয়েছে ফ্রিজে।
গুড্ডুবুড়া ভাবল, সর্বনাশ। মাছ কেন ফ্রিজে রেখেছে। মাছ তো মারা যাবে। সে মাছ নিয়ে গিয়ে পানিভরা পাতিলে ভাসিয়ে দিল।
মাছ পচে পুরো বাড়িতে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
তখন সে আবার হাত ডোবাল শিং মাছের হাঁড়িতে। শিং মাছের কাঁটায় ভীষণ বিষ।
গুড্ডুবুড়ার হাতে শিং মাছের কাঁটা ফুটেছে। ব্যথায় সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
আর তো পারা যায় না। গুড্ডুবুড়াকে ওর বাবা-মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
বললেন, ডাক্তার সাহেব, আমার ছেলের সমস্যাটা কী?
ডাক্তার সাহেব সব দেখেশুনে বললেন, গুড্ডুবুড়ার সব ঠিক আছে। শুধু বুদ্ধিটা খুলছে না। বুদ্ধি খুলছে না, কারণ সে কিছু খায় না। ওকে ভাত খেতে হবে, রুটি খেতে হবে, মাছ খেতে হবে, মাংস খেতে হবে, দুধ খেতে হবে, ডিম খেতে হবে, শাক খেতে হবে, সবজি খেতে হবে, ফল খেতে হবে, মূল খেতে হবে।
গুড্ডুবুড়া ঠিকঠাক খাওয়া শুরু করল।
তখন ওর মাথায় বুদ্ধি এসে গেল। এখন গুড্ডুবুড়ার জোরও বেশি, সারাক্ষণ খেলাধুলা করে। পড়াশোনা করতেও ওর ভালো লাগে।
এখন ও ক্লাসে ফার্স্ট হয়।
ওদের বাড়িতে কোনো পাহারাদার নেই। ওরা একটা চারতলা বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকে।
গরমের দিন। জানালা না খুলে ঘুমোনো যায় না।
কিন্তু জানালা খুলে ঘুমালে প্রায়ই ওদের বাড়িতে চোর আসে। জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেয়। হাতের কাছে যা পায় নিয়ে যায়। একবার তো ওর দাদিমার কানে হাত দিয়ে কানের দুল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গিয়েছিল।
কী করা যায়।
চোরটাকে তো ধরতে হবে।
গুড্ডুবুড়া একটা ইঁদুর ধরা কল জানালার কাছে টেবিলের ওপরে রেখে দিল। বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে এখানে যা থাকে, চোরটা প্রায়ই তাতে হাত দেয়। একবার তো মায়ের ইমিটেশনের গয়নার বাটিটা নিয়ে প্রত্যেকটা গয়না চোরটা কামড়ে কামড়ে দেখে পরখ করেছিল। তারপর সব রেখে গিয়েছিল।
রাতের বেলা ফল ফলল মারাত্মক। জানালায় চোর এসে যেই-না হাত দিয়েছে, অমনি ইঁদুরের কল তার হাত ধরল কামড়ে। চোরটা ওরে বাবা, ওরে মা বলে চিৎকার করছে। কিন্তু পালাতে পারছে না। হাত আর জানালার শিক গলে বেরোতে পারছে না। চোরটা হাত টানতেই আরও ব্যথা লাগছে।
ততক্ষণে বাড়ির সবাই জেগে উঠেছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে রাস্তার পাহারাদারেরা ছুটে এল। ৯৯৯-এ কল করল গুড্ডুবুড়া।
অমনি পুলিশও ছুটে এল তাদের বাড়িতে।
চোরটাকে জানালাতেই পাওয়া গেল।
পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল।
এরপর থেকে গুড্ডুবুড়াদের বাড়িতে আর চোর আসে না।
ও একটা ছোট্ট ছেলে। ও কিছুতেই খেতে চায় না। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করলে কী হয়? বুদ্ধি কমে যায়, গায়ের জোর কমে যায়।
ওর বোকামির কাণ্ড শুনলে তোমরা হাসতে হাসতে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
এমনিতে কিছু খায় না। একদিন দেখা গেল, ও বসে বসে টি-ব্যাগ চিবোচ্ছে। পানে চা-পাতার ব্যাগ।
ওর মা বলল, ওই তুই কী খাস? তোর মুখে কী?
আমি? চা খাই।
দেখি দেখি মুখ খোল।
মা ওর মুখ খোলালেন। দেখা গেল, মুখের মধ্যে টি-ব্যাগ ঢুকিয়ে সে বেশ করে চিবোচ্ছে?
তুই এটা খাচ্ছিস কেন?
আমি চা খাচ্ছি।
চা খাচ্ছিস কেন?
আমি বড় হয়ে গেছি।
বড় হলেই চা খেতে হবে?
হুম।
তা চা যদি খাবি, কাপে করে ভালোভাবে বানানো চা খা। এটা খাচ্ছিস কেন?
সেটা কি আর গুড্ডুবুড়া মাকে বলবে? একদিন তাদের টেবিলে দুই কাপ চা বানিয়ে রাখা হয়েছে, মেহমান এসেছেন বাড়িতে, তাদেরকে দেওয়া হবে।
গুড্ডুবুড়া এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল, মা রান্নাঘরে। বাবা মেহমানদের সামনে। এই সুযোগ। সে চায়ের কাপে মুখ দিল। অমনি তার মুখ গেল পুড়ে। বাবা গো মা গো...কিন্তু সেই কথা তো সে মাকে বলতে পারে না।
গুড্ডুবুড়াকে একদিন দেখা গেল, মশামাছি মারার স্প্রে নিয়ে ছুটছে। কেন?
পিঁপড়া উঠেছে চিনির বয়ামে।
সে বয়ামের মধ্যে মশা মারা ওষুধ স্প্রে করতে লাগল।
মা বললেন, গুড্ডুবুড়া কী করিস?
পিঁপড়া মারি মা।
সর্বনাশ। এতো বিষ। এই চিনি খেলে আমরা তো সবাই মারা যাব।
ওদের বাড়িতে মুরগি ডিম দিল। তারপর সেই মুরগি বাচ্চা ফোটাল। ৮টা বাচ্চা।
একদিন খুব গরম পড়েছে। গুড্ডুবুড়া ঘেমে একাকার। বিকাল তিনটার মতো বাজে। স্কুল থেকে ফিরে এসে সে দুপুরের খাবার খেয়ে মায়ের পাশে ঘুমিয়ে ছিল। মা দিব্যি ঘুমাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ চলে গেছে। ফ্যান বন্ধ।
গুড্ডুবুড়া বিছানা ছাড়ল। উফ। কী গরম। সে গেল বারান্দায়। গিয়ে দেখে, মুরগিটা ঝিমোচ্ছে। মুরগির বাচ্চাগুলো পানি খাওয়ার জন্য বাটিতে ঠোঁট নামিয়েছে।
আহা, গরমে কষ্ট পাচ্ছ। বলে গুড্ডুবুড়া একটা মুরগির বাচ্চা ধরে নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রেখে দিল। আরও নেবে বলে আসতেই মা মুরগি ওর হাতে দিল ঠোকর। ও ভয়ে পালিয়ে এল।
মুরগির বাচ্চাটা মারা গেল ফ্রিজে। তাই নিয়ে গুড্ডুবুড়ার কী কান্না। সে তো ভালো করতে চেয়েছিল। খারাপ হয়ে গেল যে।
আরেকদিন তার মা শিং মাছ কিনে এনে জিয়ল রেখেছেন। দুটো মাছ মরে গেছে। তাদেরকে রাখা হয়েছে ফ্রিজে।
গুড্ডুবুড়া ভাবল, সর্বনাশ। মাছ কেন ফ্রিজে রেখেছে। মাছ তো মারা যাবে। সে মাছ নিয়ে গিয়ে পানিভরা পাতিলে ভাসিয়ে দিল।
মাছ পচে পুরো বাড়িতে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল।
তখন সে আবার হাত ডোবাল শিং মাছের হাঁড়িতে। শিং মাছের কাঁটায় ভীষণ বিষ।
গুড্ডুবুড়ার হাতে শিং মাছের কাঁটা ফুটেছে। ব্যথায় সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
আর তো পারা যায় না। গুড্ডুবুড়াকে ওর বাবা-মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।
বললেন, ডাক্তার সাহেব, আমার ছেলের সমস্যাটা কী?
ডাক্তার সাহেব সব দেখেশুনে বললেন, গুড্ডুবুড়ার সব ঠিক আছে। শুধু বুদ্ধিটা খুলছে না। বুদ্ধি খুলছে না, কারণ সে কিছু খায় না। ওকে ভাত খেতে হবে, রুটি খেতে হবে, মাছ খেতে হবে, মাংস খেতে হবে, দুধ খেতে হবে, ডিম খেতে হবে, শাক খেতে হবে, সবজি খেতে হবে, ফল খেতে হবে, মূল খেতে হবে।
গুড্ডুবুড়া ঠিকঠাক খাওয়া শুরু করল।
তখন ওর মাথায় বুদ্ধি এসে গেল। এখন গুড্ডুবুড়ার জোরও বেশি, সারাক্ষণ খেলাধুলা করে। পড়াশোনা করতেও ওর ভালো লাগে।
এখন ও ক্লাসে ফার্স্ট হয়।
ওদের বাড়িতে কোনো পাহারাদার নেই। ওরা একটা চারতলা বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকে।
গরমের দিন। জানালা না খুলে ঘুমোনো যায় না।
কিন্তু জানালা খুলে ঘুমালে প্রায়ই ওদের বাড়িতে চোর আসে। জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেয়। হাতের কাছে যা পায় নিয়ে যায়। একবার তো ওর দাদিমার কানে হাত দিয়ে কানের দুল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গিয়েছিল।
কী করা যায়।
চোরটাকে তো ধরতে হবে।
গুড্ডুবুড়া একটা ইঁদুর ধরা কল জানালার কাছে টেবিলের ওপরে রেখে দিল। বাইরে থেকে দেখা যায় না। তবে এখানে যা থাকে, চোরটা প্রায়ই তাতে হাত দেয়। একবার তো মায়ের ইমিটেশনের গয়নার বাটিটা নিয়ে প্রত্যেকটা গয়না চোরটা কামড়ে কামড়ে দেখে পরখ করেছিল। তারপর সব রেখে গিয়েছিল।
রাতের বেলা ফল ফলল মারাত্মক। জানালায় চোর এসে যেই-না হাত দিয়েছে, অমনি ইঁদুরের কল তার হাত ধরল কামড়ে। চোরটা ওরে বাবা, ওরে মা বলে চিৎকার করছে। কিন্তু পালাতে পারছে না। হাত আর জানালার শিক গলে বেরোতে পারছে না। চোরটা হাত টানতেই আরও ব্যথা লাগছে।
ততক্ষণে বাড়ির সবাই জেগে উঠেছে। চিৎকার চেঁচামেচিতে রাস্তার পাহারাদারেরা ছুটে এল। ৯৯৯-এ কল করল গুড্ডুবুড়া।
অমনি পুলিশও ছুটে এল তাদের বাড়িতে।
চোরটাকে জানালাতেই পাওয়া গেল।
পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল।
এরপর থেকে গুড্ডুবুড়াদের বাড়িতে আর চোর আসে না।
Tuesday, July 9, 2024
অদ্ভুত লোকটি by পূরবী চক্রবর্ত্তী
![]() |
| অলংকরণ: মাসুক হেলাল |
শ্রাবণ।
শ্রাবণ মাসে জন্ম হওয়ায় তার এই নাম। সে এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। এরই মধ্যে
সে খুব বিখ্যাত হয়ে গেছে। তার একটাই কারণ, সে ভালো গল্প লিখতে পারে। অবশ্যি
সেটা সায়েন্স ফিকশন। তার পাঠানো একটা গল্প সম্প্রতি বাংলাদেশের জনপ্রিয় এক
দৈনিকে বেরিয়েছে। বন্ধুদের মধ্যে এটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।
রাকিব এই ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে। ক্লাসে সে অন্যদের নামে নালিশ করে খুবই মজা পায়। আগেরবার সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হওয়ায় তার দম্ভ। সে বলল, ‘কিরে শ্রাবণ, গল্পটা কার থেকে নকল করলি?’
শ্রাবণ: ‘নকল কেন করব? এটা আমারই লেখা।’
রিয়া: ‘আসলেই গল্পটা সুন্দর। শেষে যখন উত্তেজনা দিয়ে রিও পৃথিবীতে ফিরে আসে, তখন রোমাঞ্চ সৃষ্টি হয়।’
শ্রাবণ: ‘থ্যাংকস।’
এমনিতেই আফসানা ম্যাডাম শ্রাবণের প্রশংসা করেন, আজ একটু বেশিই করলেন। রাকিবের খুব রাগ হচ্ছিল কিন্তু ও কিছু বলল না।
স্কুল ছুটি হয়েছে। শ্রাবণ ও রাকিব একসঙ্গে আসছে।
রাকিব: ‘দোস্ত! তুই তো ফেমাস হয়ে গেলি।’
শ্রাবণ: ‘তো!’
রাকিব: ‘এবার সায়েন্স ফেয়ারে তোকে ক্যাপ্টেন করা হবে।’
শ্রাবণ: ‘হুম। মনে মনে খুশিই হয়েছে।’
এবার রাকিব ডানের গলিতে ঢুকে গেল আর শ্রাবণ তার বাড়ির দিকে রওনা দিল। শ্রাবণের বাড়ি যেতে একটা পার্ক পড়ে। প্রজাপতি পার্ক। ও ভাবল, পার্ক থেকে ঘুরে আসি। হঠাৎ একটা অপরিচিত লোক ওর নাম ধরে ডাকল।
শ্রাবণ: ‘আপনি কে?’
লোক: ‘আমি রিও। আমার বাড়ি রাশিয়া।’
শ্রাবণ একটু বিব্রত: ‘জি...’
লোক: ‘অবাক হয়ো না। ওই যে কদিন আগে চাঁদে গিয়েছিলাম।’
শ্রাবণ: ‘আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন? হয়তো আপনি আমার লেখা পড়েছেন।’
লোক: ‘হুম পড়েছি! আমার মনে হয় তোমার গল্পে ভুল আছে।’
শ্রাবণ: ‘কী ভুল?’
লোক: ‘তোমার গল্পের শেষে আছে আমরা এলিয়েনের সাহায্য নিয়ে এই পৃথিবীতে এসেছি। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয় না।’
শ্রাবণ: ‘কেন?’
লোক: ‘শোনো। ওরা আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ওরা চাইবে আমাদের নিয়ে রিসার্চ করতে।’
বাসায় গিয়ে শ্রাবণ এ কথাটা সবাইকে বলল। সবাই খুব খুশি ছিল বলে কেউ তেমন পাত্তা দিল না। সবাই বলল, লোকটা তোর গল্প পড়ে, তোর সঙ্গে মজা করেছে। তবে সে এ ব্যাপারে মেজো আপুকে বলল। ওর বড় আপু অর্পা থাকে ঢাকায়। সে কেমিস্ট হতে চায়। ওর তেমন সময় নেই। তবে মেজো আপুর হাতে অনেক সময়। সবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। সে বলল পার্কে গিয়ে আবার লোকটার সঙ্গে কথা বলতে।
পরদিন স্কুল ছুটির পর সে রাকিবকে সব বলল। রাকিব বাপারটা হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিল। আজকেও শ্রাবণ গেল। লোকটা খুব বেঁটে। টাইট পোশাক পরা। আর সব সময় শ্রাবণের থেকে দূরে একটা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলে। এদিনও তা-ই।
লোক: ‘তোমাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে।’
শ্রাবণ: ‘জি না।’
লোক: ‘তোমার আরও কয়েকটা ভুল ছিল।’
শ্রাবণ: ‘বলেন, শুনি।’
লোক: ‘তুমি সঠিক হিসাব দাওনি।’
শ্রাবণ: ‘কিসের?’
লোক: ‘ওই যে আদৌ মহাকর্ষ বল ওই এলিয়েনটার ওপর কাজ করবে কি না...’
শ্রাবণ: ‘হুম...’
পরদিন শ্রাবণ আবার গেল। প্রতিদিন লোকটা একটা করে ভুল বলে। কিন্তু শ্রাবণ তাকে বাসায় নিতে চাইলে আসে না।
এদিনও লোকটা ভুল ধরিয়ে দিল। এবার শ্রাবণ বাড়ির দিকে রওনা দিল। হঠাৎ মনে পড়ল যে সে বেঞ্চের ওপর তার স্কুলব্যাগ ফেলে এসেছে। সে আবার পার্কে গেল। গিয়ে সে হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল।
‘রাকিব, এসব কী হচ্ছে?’ শ্রাবণ বলল। সে দেখল রাকিব লোকটার হাত-পা আলাদা করে ব্যাগে ভরছে। ওকে দেখে রাকিব হো হো করে হেসে ফেলল।
রাকিব: ‘ভয় পেলি নাকি?’
শ্রাবণ: ‘কী করছিস তুই?’
রাকিব: ‘বলছি। ও হলো আর থার্টিফোর। আমার নাসার গবেষক ছোট মামার আবিষ্কার। সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হয়েছিলাম বলে খুশি হয়ে মামা আমাকে কিছু দিনের জন্য দিয়েছেন।’
শ্রাবণ: ‘কী?’
রাকিব: ‘তোর সঙ্গে একটু মজা করেছিলাম। আমি ভয়েস রেকর্ড করে ডিভাইসে দিয়েছিলাম। বল, আমার চিহ্নিত ভুলগুলো কেমন?’
শ্রাবণ: ‘তোর সঙ্গে কথা বলব না। তুই একটা...’
রাবিক: ‘গাধা?’
হা হা হা! দুজনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।
দশম শ্রেণি, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
রাকিব এই ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে। ক্লাসে সে অন্যদের নামে নালিশ করে খুবই মজা পায়। আগেরবার সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হওয়ায় তার দম্ভ। সে বলল, ‘কিরে শ্রাবণ, গল্পটা কার থেকে নকল করলি?’
শ্রাবণ: ‘নকল কেন করব? এটা আমারই লেখা।’
রিয়া: ‘আসলেই গল্পটা সুন্দর। শেষে যখন উত্তেজনা দিয়ে রিও পৃথিবীতে ফিরে আসে, তখন রোমাঞ্চ সৃষ্টি হয়।’
শ্রাবণ: ‘থ্যাংকস।’
এমনিতেই আফসানা ম্যাডাম শ্রাবণের প্রশংসা করেন, আজ একটু বেশিই করলেন। রাকিবের খুব রাগ হচ্ছিল কিন্তু ও কিছু বলল না।
স্কুল ছুটি হয়েছে। শ্রাবণ ও রাকিব একসঙ্গে আসছে।
রাকিব: ‘দোস্ত! তুই তো ফেমাস হয়ে গেলি।’
শ্রাবণ: ‘তো!’
রাকিব: ‘এবার সায়েন্স ফেয়ারে তোকে ক্যাপ্টেন করা হবে।’
শ্রাবণ: ‘হুম। মনে মনে খুশিই হয়েছে।’
এবার রাকিব ডানের গলিতে ঢুকে গেল আর শ্রাবণ তার বাড়ির দিকে রওনা দিল। শ্রাবণের বাড়ি যেতে একটা পার্ক পড়ে। প্রজাপতি পার্ক। ও ভাবল, পার্ক থেকে ঘুরে আসি। হঠাৎ একটা অপরিচিত লোক ওর নাম ধরে ডাকল।
শ্রাবণ: ‘আপনি কে?’
লোক: ‘আমি রিও। আমার বাড়ি রাশিয়া।’
শ্রাবণ একটু বিব্রত: ‘জি...’
লোক: ‘অবাক হয়ো না। ওই যে কদিন আগে চাঁদে গিয়েছিলাম।’
শ্রাবণ: ‘আপনি কি আমার সঙ্গে মজা করছেন? হয়তো আপনি আমার লেখা পড়েছেন।’
লোক: ‘হুম পড়েছি! আমার মনে হয় তোমার গল্পে ভুল আছে।’
শ্রাবণ: ‘কী ভুল?’
লোক: ‘তোমার গল্পের শেষে আছে আমরা এলিয়েনের সাহায্য নিয়ে এই পৃথিবীতে এসেছি। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয় না।’
শ্রাবণ: ‘কেন?’
লোক: ‘শোনো। ওরা আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ওরা চাইবে আমাদের নিয়ে রিসার্চ করতে।’
বাসায় গিয়ে শ্রাবণ এ কথাটা সবাইকে বলল। সবাই খুব খুশি ছিল বলে কেউ তেমন পাত্তা দিল না। সবাই বলল, লোকটা তোর গল্প পড়ে, তোর সঙ্গে মজা করেছে। তবে সে এ ব্যাপারে মেজো আপুকে বলল। ওর বড় আপু অর্পা থাকে ঢাকায়। সে কেমিস্ট হতে চায়। ওর তেমন সময় নেই। তবে মেজো আপুর হাতে অনেক সময়। সবে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। সে বলল পার্কে গিয়ে আবার লোকটার সঙ্গে কথা বলতে।
পরদিন স্কুল ছুটির পর সে রাকিবকে সব বলল। রাকিব বাপারটা হাসাহাসি করে উড়িয়ে দিল। আজকেও শ্রাবণ গেল। লোকটা খুব বেঁটে। টাইট পোশাক পরা। আর সব সময় শ্রাবণের থেকে দূরে একটা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলে। এদিনও তা-ই।
লোক: ‘তোমাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে।’
শ্রাবণ: ‘জি না।’
লোক: ‘তোমার আরও কয়েকটা ভুল ছিল।’
শ্রাবণ: ‘বলেন, শুনি।’
লোক: ‘তুমি সঠিক হিসাব দাওনি।’
শ্রাবণ: ‘কিসের?’
লোক: ‘ওই যে আদৌ মহাকর্ষ বল ওই এলিয়েনটার ওপর কাজ করবে কি না...’
শ্রাবণ: ‘হুম...’
পরদিন শ্রাবণ আবার গেল। প্রতিদিন লোকটা একটা করে ভুল বলে। কিন্তু শ্রাবণ তাকে বাসায় নিতে চাইলে আসে না।
এদিনও লোকটা ভুল ধরিয়ে দিল। এবার শ্রাবণ বাড়ির দিকে রওনা দিল। হঠাৎ মনে পড়ল যে সে বেঞ্চের ওপর তার স্কুলব্যাগ ফেলে এসেছে। সে আবার পার্কে গেল। গিয়ে সে হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল।
‘রাকিব, এসব কী হচ্ছে?’ শ্রাবণ বলল। সে দেখল রাকিব লোকটার হাত-পা আলাদা করে ব্যাগে ভরছে। ওকে দেখে রাকিব হো হো করে হেসে ফেলল।
রাকিব: ‘ভয় পেলি নাকি?’
শ্রাবণ: ‘কী করছিস তুই?’
রাকিব: ‘বলছি। ও হলো আর থার্টিফোর। আমার নাসার গবেষক ছোট মামার আবিষ্কার। সায়েন্স ফেয়ারে ফার্স্ট হয়েছিলাম বলে খুশি হয়ে মামা আমাকে কিছু দিনের জন্য দিয়েছেন।’
শ্রাবণ: ‘কী?’
রাকিব: ‘তোর সঙ্গে একটু মজা করেছিলাম। আমি ভয়েস রেকর্ড করে ডিভাইসে দিয়েছিলাম। বল, আমার চিহ্নিত ভুলগুলো কেমন?’
শ্রাবণ: ‘তোর সঙ্গে কথা বলব না। তুই একটা...’
রাবিক: ‘গাধা?’
হা হা হা! দুজনে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।
দশম শ্রেণি, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।
>>>২৯ এপ্রিল ২০১৬
Monday, July 8, 2024
গল্প- এই গল্পটা আমার মায়ের by মাহবুব রেজা
![]() |
| অলংকরণ: মাসুক হেলাল |
আমাদের
বাড়ির সামনে প্রাচীনকালের একটা বটগাছ। বেশ ডালপালা, লতাপাতা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
তার অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। দূর থেকে বটগাছটাকে দেখলে যে কেউই বেশ সমীহ
করবে। আর ভাববে, ওরেব্বাবা! এত্ত বড় ছাতা তো বাপের জন্মেও দেখিনি!
ছাতা!
হ্যাঁ, বড়সড় বটগাছকে দূর থেকে দেখলে অমন ছাতাই মনে হয়। বটগাছ থেকে দিনমান একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে লুটিয়ে পড়ে আমাদের সামনের ঘরে। আমরা যখন সেই ঘরে থাকি তখন মাকে আর কষ্ট করে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় না। ঠান্ডা হাওয়া আমাদের শীতল করে তোলে। আমরা তখন সামনের ঘরের বিছানায় হাঁ করে শুয়ে থাকি।
বর্ষার সময় সেই হাওয়া যেন আরও প্রাণ পায়। সারা দিন শোঁ শোঁ করে হাওয়া বয়ে যায়। আমি তখন হাওয়ার ভেতর ডুবে থাকি। আমার ভেতর তখন প্রশ্ন জাগে, ‘আচ্ছা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো ঘর থিকা কই মিলায়া যায়!’
একদিন আমি বোকার মতো মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো বাড়ি থিকা কই চইলা যায়?’
আমার কথা শুনে মা ছোট মেয়ের মতো হি হি করে হাসলেন। বললেন, ‘তর নানিগো বাইত।’
মার কথা শুনে আমি তো অবাক!
নানিগো বাইত যায় মানি? মা বলে কী!
আমি ভাবলাম, আমার কথা হয়তো মা বুঝতে ভুল করেছেন। মা বুঝি আমার কথা ঠিকমতো শোনেননি।
হাওয়া আবার নানিরবাড়ি যায় কীভাবে!
হাওয়া কি নানির বাড়ি চেনে, যে গুটিগুটি পায়ে চলে যাবে নানিবাড়ি!
আমি আবার মাকে বললাম, ‘মা বটগাছ থিকা যে হাওয়া আমাগো বাড়ির ওপর দিয়া যায় হেই হাওয়া কই যায়?’
মা এবার আমার কথার জবাবে আগের মতো নানির বাড়ি বললেন না। বললেন, ‘এই হাওয়া সোজা যাইব বিক্রমপুর’—বলে মা দুহাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বাইরের দিকে ইশারা করলেন। আমার মনে হলো, মা যেন তাঁর হাত দুটোকে বিক্রমপুরের দিকে নিশানা করে রেখেছেন।
এবার মায়ের কথা সত্যি সত্যিই আমার বিশ্বাস হলো। সন্ধ্যার পর বাবা ঘরে এলে বাবাকেও একই প্রশ্ন করলাম। প্রশ্ন শুনে বাবা ভালো করে আমাকে দেখলেন। মা তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত।
আমার কথা শুনে বাবা বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আগে বল, তোর এই প্রশ্নে বেগম সাহেবা কী উত্তর দিলেন।’ মা সামনে না থাকলে বাবা মাকে ‘বেগম সাহেবা’ বলে সম্বোধন করেন।
‘মায় প্রথমবার কইল, এই হাওয়া যায় তগো নানিগো বাইত। হেরপর কইল বিক্রমপুর।’
বিক্রমপুর শুনে বাবা শব্দ করে হাসলেন, ‘সবকিছুতে তোর মা খালি বিক্রমপুর বিক্রমপুর করে। এইটা হইল তোর মার একটা রোগ।’
বাবার কথা শেষ হলো না। তার আগেই ঘরের দরজায় মায়ের ছায়া এসে পড়ল।
মাকে দেখে বাবা ভূত দেখার মতো চমকে গেলেন।
মা দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে বললেন, ‘তর বাপে কী কয় রে?’
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করে কী যেন ইশারা করলেন। তারপর মাকে বললেন, ‘না...আমরা বাপ-মাইয়ায় মিল্যা বটগাছের গল্প করতাছি...।’
বাবার মুখে বটগাছের গল্প করতাছি শুনে মা মেজাজ খারাপ করে উত্তর করলেন, ‘সন্ধ্যার সময় কই মাইয়ারে লইয়া পড়াইতে বইবা। না, তিনি মাইয়ারে শুনাইতাছেন বটগাছের গল্প।’ এ কথা বলে মা গটগট করে চলে গেলেন।
মা চলে যাওয়ার পর বাবা আর আমি হো হো করে হাসতে থাকি।
ছাতা!
হ্যাঁ, বড়সড় বটগাছকে দূর থেকে দেখলে অমন ছাতাই মনে হয়। বটগাছ থেকে দিনমান একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে লুটিয়ে পড়ে আমাদের সামনের ঘরে। আমরা যখন সেই ঘরে থাকি তখন মাকে আর কষ্ট করে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয় না। ঠান্ডা হাওয়া আমাদের শীতল করে তোলে। আমরা তখন সামনের ঘরের বিছানায় হাঁ করে শুয়ে থাকি।
বর্ষার সময় সেই হাওয়া যেন আরও প্রাণ পায়। সারা দিন শোঁ শোঁ করে হাওয়া বয়ে যায়। আমি তখন হাওয়ার ভেতর ডুবে থাকি। আমার ভেতর তখন প্রশ্ন জাগে, ‘আচ্ছা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো ঘর থিকা কই মিলায়া যায়!’
একদিন আমি বোকার মতো মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মা, বটগাছের ঠান্ডা হাওয়া আমাগো বাড়ি থিকা কই চইলা যায়?’
আমার কথা শুনে মা ছোট মেয়ের মতো হি হি করে হাসলেন। বললেন, ‘তর নানিগো বাইত।’
মার কথা শুনে আমি তো অবাক!
নানিগো বাইত যায় মানি? মা বলে কী!
আমি ভাবলাম, আমার কথা হয়তো মা বুঝতে ভুল করেছেন। মা বুঝি আমার কথা ঠিকমতো শোনেননি।
হাওয়া আবার নানিরবাড়ি যায় কীভাবে!
হাওয়া কি নানির বাড়ি চেনে, যে গুটিগুটি পায়ে চলে যাবে নানিবাড়ি!
আমি আবার মাকে বললাম, ‘মা বটগাছ থিকা যে হাওয়া আমাগো বাড়ির ওপর দিয়া যায় হেই হাওয়া কই যায়?’
মা এবার আমার কথার জবাবে আগের মতো নানির বাড়ি বললেন না। বললেন, ‘এই হাওয়া সোজা যাইব বিক্রমপুর’—বলে মা দুহাত সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বাইরের দিকে ইশারা করলেন। আমার মনে হলো, মা যেন তাঁর হাত দুটোকে বিক্রমপুরের দিকে নিশানা করে রেখেছেন।
এবার মায়ের কথা সত্যি সত্যিই আমার বিশ্বাস হলো। সন্ধ্যার পর বাবা ঘরে এলে বাবাকেও একই প্রশ্ন করলাম। প্রশ্ন শুনে বাবা ভালো করে আমাকে দেখলেন। মা তখন রান্নাঘরে ব্যস্ত।
আমার কথা শুনে বাবা বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আগে বল, তোর এই প্রশ্নে বেগম সাহেবা কী উত্তর দিলেন।’ মা সামনে না থাকলে বাবা মাকে ‘বেগম সাহেবা’ বলে সম্বোধন করেন।
‘মায় প্রথমবার কইল, এই হাওয়া যায় তগো নানিগো বাইত। হেরপর কইল বিক্রমপুর।’
বিক্রমপুর শুনে বাবা শব্দ করে হাসলেন, ‘সবকিছুতে তোর মা খালি বিক্রমপুর বিক্রমপুর করে। এইটা হইল তোর মার একটা রোগ।’
বাবার কথা শেষ হলো না। তার আগেই ঘরের দরজায় মায়ের ছায়া এসে পড়ল।
মাকে দেখে বাবা ভূত দেখার মতো চমকে গেলেন।
মা দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে বললেন, ‘তর বাপে কী কয় রে?’
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করে কী যেন ইশারা করলেন। তারপর মাকে বললেন, ‘না...আমরা বাপ-মাইয়ায় মিল্যা বটগাছের গল্প করতাছি...।’
বাবার মুখে বটগাছের গল্প করতাছি শুনে মা মেজাজ খারাপ করে উত্তর করলেন, ‘সন্ধ্যার সময় কই মাইয়ারে লইয়া পড়াইতে বইবা। না, তিনি মাইয়ারে শুনাইতাছেন বটগাছের গল্প।’ এ কথা বলে মা গটগট করে চলে গেলেন।
মা চলে যাওয়ার পর বাবা আর আমি হো হো করে হাসতে থাকি।
Saturday, July 6, 2024
গল্প- হলুদ পাতার বিছানা by শরীফ খান
![]() |
| অলংকরণ: মাসুক হেলাল |
ঘুঙুরের
শব্দটা কান থেকে হারিয়ে যেতেই নানি রান্নাঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরে
তাকালেন। নাতির কাণ্ড দেখে হেসে ফেললেন। তিন বছর বয়সী নাতিটা এখন ছাগলছানার
পিঠে গিয়ে চড়ার কসরত করছে। ছোট সাদা ছাগলছানাটি প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে।
চাইছে পালাতে। সাগর ওটার একটা কান মুঠিতে ধরে রেখেছে। নানি নিজের মেয়ে
অর্থাৎ সাগরের মাকে দৃশ্যটা দেখালেন। মা-ও হেসে বললেন, ‘ঘুম ছাড়া ওর তো
কোনো বিশ্রাম নেই, যা দুষ্টু হয়েছে না! নানি বাটিতে রুই মাছের মাথাটা
কেটে গামলায় রেখে বললেন, ‘তাই তো দিয়েছি ওর কোমরে ঘুঙুর বেঁধে। যেখানেই
যাক, টের পাব আমরা।’
সাগর মা-বাবার সঙ্গে নানিবাড়িতে এসেছে এই সাত-আট দিন হলো। আসার পর থেকেই ওর দুরন্তপনা বেড়ে গেছে শতগুণে। ঢাকায় থাকে। দৌড়ঝাঁপের জায়গা নেই। মাথার ওপরে খোলা আকাশ নেই। চাঁদ-তারা-জোনাকির আলো নেই। ফুল-পাখি-প্রজাপতি নেই। তাই তো নানিবাড়িতে আসার পর থেকেই ও স্বাধীনতা পেয়ে গেছে। ঘরের সামনে মস্ত বড় উঠোন। সে উঠোনের চারপাশজুড়ে গাছপালা। সাদা-বাদামি আর কালো রঙের ছয়টা ছাগলছানা আছে নানির। ছানাগুলো কী সুন্দর যে লাফ-ঝাঁপ দেয়, তিড়িং বিড়িং করে। সাগরও ছোটে আর লাফায় ওদের পেছন পেছন। উঠোনে রাজহাঁস ঘুরে বেড়ায় চারটা। প্রথম প্রথম সাগরকে কাছে দেখলেই গলা তুলে ‘কোয়াঙ কোয়াঙ’ শব্দে ডাকত, ঠোকর দিতে চাইত। এখন অবশ্য ওরা বুঝে গেছে বোধ হয়—এ বাড়ির আদরের নাতি এটা! তাই অত্যাচার সহ্য করে। সাগর গলা ধরে টানে। পিঠে চড়ে বসতে চায়। নানির মুখে শোনা গল্পের মতো রাজহাঁসের পিঠে চড়ে পরির দেশে উড়ে যেতে চায়।
রোজ সকালে নানি যখন ছাগলের পাল নিয়ে মাঠের দিকে যান, সাগরও যায় পেছন পেছন। নানি ওকে বড় বড় খাসি ছাগলের পিঠে চড়িয়ে দেন। খুশি তখন দেখে কে সাগরের! নিজেকে মনে হয় রাজপুত্র। সারা দিন নানির সঙ্গেই কাটে। নানি ওকে পুকুরে নিয়ে গোসল করিয়ে দেন। ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনান। পাখির বাসা দেখান। আমের বোলের গন্ধ বোঝান। নানি যেখানে, সাগর সেখানে। রান্নাঘরের পেছনেই পুকুর। এই চৈত্রে জল নেমে গেছে। সাগরের হাঁটুজল আছে। ওই হাঁটুজলে নেমে নানির হাত ধরে কতবার যে হেঁটে সে পুকুর পাড়ি দিল। নানি তাই ওর কোমরে বেঁধে দিয়েছেন ঘুঙুর।
নানি আজ এই একটু আগে দূরের রেলস্টেশনে গেছেন। সঙ্গে গেছেন সাগরের বাবা। সাগরের বড় খালা আসছেন বেড়াতে। আনতে গেছেন ওদের।
বেশ কিছুক্ষণ বাদে নানির মনে হলো—তাই তো! ঘুঙুরের শব্দ তো শোনা যাচ্ছে না! বাইরে এলেন তিনি। সঙ্গে সাগরের মা। সাগর কই! মা নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করলেন। নানি গেলেন পুকুর পাড়ে। তারপর শুরু করলেন চেঁচামেচি। পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এল। খবর শুনে একজন বলল, ‘ইদানীং ছেলেধরাদের কথা শোনা যাচ্ছে! ওরাই কী...!’ সাগরের মা এবার বুক চাপড়াতে চাপড়াতে মাটিতে বসে পড়লেন। এ সময় অন্য একজন বলল, ‘আবার অপহরণ-টরণ নাকি...!’ সাগরের নানি চিৎকার দিয়ে সবাইকে থামালেন। বললেন, ‘আমি জানি, কোথায় গেছে ও! আজ তো যেতে পারেনি নানির সঙ্গে!’
বাগানের শুড়িপথ ধরে অনেকটা দৌড়ে চললেন নানি। পেছনে অন্যরা। অনেকটা দূরে আসার পরে একটা আমড়াগাছের কাছে থামলেন নানি। এগিয়ে এল সবাই। দৃশ্য দেখে সবাই যেন অভিভূত হয়ে গেল। আমড়াগাছের ঝরে পড়া হলুদ পাতায় যেন পুরু পাতার বিছানা পাতা হয়ে গেছে মাটিতে। সেই বিছানায় একটি সাদা ছাগলছানার গলা জড়িয়ে ধরে কী নিশ্চিন্তে যে ঘুমোচ্ছে সাগর! পাশে শোয়া আরও দুটি ছাগলছানা। আমড়ার বোলের ঝরে পড়া পাপড়ি আর হলুদ ছোট ছোট পাতাগুলো ঝরছে চারটি প্রাণীর মুখ-মাথা-শরীরে!
সাগরের নানি এগিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়লেন হলুদ পাতার বিছানার ওপরে। আদরের নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন বুকে। বললেন, ‘খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে কী সুন্দর ঘুমিয়ে গেছে আমার ভাই! আমিও এমন সুখের ঘুম চাই।’
সাগর মা-বাবার সঙ্গে নানিবাড়িতে এসেছে এই সাত-আট দিন হলো। আসার পর থেকেই ওর দুরন্তপনা বেড়ে গেছে শতগুণে। ঢাকায় থাকে। দৌড়ঝাঁপের জায়গা নেই। মাথার ওপরে খোলা আকাশ নেই। চাঁদ-তারা-জোনাকির আলো নেই। ফুল-পাখি-প্রজাপতি নেই। তাই তো নানিবাড়িতে আসার পর থেকেই ও স্বাধীনতা পেয়ে গেছে। ঘরের সামনে মস্ত বড় উঠোন। সে উঠোনের চারপাশজুড়ে গাছপালা। সাদা-বাদামি আর কালো রঙের ছয়টা ছাগলছানা আছে নানির। ছানাগুলো কী সুন্দর যে লাফ-ঝাঁপ দেয়, তিড়িং বিড়িং করে। সাগরও ছোটে আর লাফায় ওদের পেছন পেছন। উঠোনে রাজহাঁস ঘুরে বেড়ায় চারটা। প্রথম প্রথম সাগরকে কাছে দেখলেই গলা তুলে ‘কোয়াঙ কোয়াঙ’ শব্দে ডাকত, ঠোকর দিতে চাইত। এখন অবশ্য ওরা বুঝে গেছে বোধ হয়—এ বাড়ির আদরের নাতি এটা! তাই অত্যাচার সহ্য করে। সাগর গলা ধরে টানে। পিঠে চড়ে বসতে চায়। নানির মুখে শোনা গল্পের মতো রাজহাঁসের পিঠে চড়ে পরির দেশে উড়ে যেতে চায়।
রোজ সকালে নানি যখন ছাগলের পাল নিয়ে মাঠের দিকে যান, সাগরও যায় পেছন পেছন। নানি ওকে বড় বড় খাসি ছাগলের পিঠে চড়িয়ে দেন। খুশি তখন দেখে কে সাগরের! নিজেকে মনে হয় রাজপুত্র। সারা দিন নানির সঙ্গেই কাটে। নানি ওকে পুকুরে নিয়ে গোসল করিয়ে দেন। ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনান। পাখির বাসা দেখান। আমের বোলের গন্ধ বোঝান। নানি যেখানে, সাগর সেখানে। রান্নাঘরের পেছনেই পুকুর। এই চৈত্রে জল নেমে গেছে। সাগরের হাঁটুজল আছে। ওই হাঁটুজলে নেমে নানির হাত ধরে কতবার যে হেঁটে সে পুকুর পাড়ি দিল। নানি তাই ওর কোমরে বেঁধে দিয়েছেন ঘুঙুর।
নানি আজ এই একটু আগে দূরের রেলস্টেশনে গেছেন। সঙ্গে গেছেন সাগরের বাবা। সাগরের বড় খালা আসছেন বেড়াতে। আনতে গেছেন ওদের।
বেশ কিছুক্ষণ বাদে নানির মনে হলো—তাই তো! ঘুঙুরের শব্দ তো শোনা যাচ্ছে না! বাইরে এলেন তিনি। সঙ্গে সাগরের মা। সাগর কই! মা নাম ধরে ডাকাডাকি শুরু করলেন। নানি গেলেন পুকুর পাড়ে। তারপর শুরু করলেন চেঁচামেচি। পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এল। খবর শুনে একজন বলল, ‘ইদানীং ছেলেধরাদের কথা শোনা যাচ্ছে! ওরাই কী...!’ সাগরের মা এবার বুক চাপড়াতে চাপড়াতে মাটিতে বসে পড়লেন। এ সময় অন্য একজন বলল, ‘আবার অপহরণ-টরণ নাকি...!’ সাগরের নানি চিৎকার দিয়ে সবাইকে থামালেন। বললেন, ‘আমি জানি, কোথায় গেছে ও! আজ তো যেতে পারেনি নানির সঙ্গে!’
বাগানের শুড়িপথ ধরে অনেকটা দৌড়ে চললেন নানি। পেছনে অন্যরা। অনেকটা দূরে আসার পরে একটা আমড়াগাছের কাছে থামলেন নানি। এগিয়ে এল সবাই। দৃশ্য দেখে সবাই যেন অভিভূত হয়ে গেল। আমড়াগাছের ঝরে পড়া হলুদ পাতায় যেন পুরু পাতার বিছানা পাতা হয়ে গেছে মাটিতে। সেই বিছানায় একটি সাদা ছাগলছানার গলা জড়িয়ে ধরে কী নিশ্চিন্তে যে ঘুমোচ্ছে সাগর! পাশে শোয়া আরও দুটি ছাগলছানা। আমড়ার বোলের ঝরে পড়া পাপড়ি আর হলুদ ছোট ছোট পাতাগুলো ঝরছে চারটি প্রাণীর মুখ-মাথা-শরীরে!
সাগরের নানি এগিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়লেন হলুদ পাতার বিছানার ওপরে। আদরের নাতিকে জড়িয়ে ধরলেন বুকে। বললেন, ‘খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে কী সুন্দর ঘুমিয়ে গেছে আমার ভাই! আমিও এমন সুখের ঘুম চাই।’
Wednesday, February 8, 2023
লাল ফড়িঙের জন্মদিন by কামাল হোসাইন
![]() |
| অলংকরণ: মাসুক হেলাল |
বিকেল
বেলা। খোলা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকছে মিষ্টি হাওয়া। মা বললেন ঘুমাতে। কিন্তু
ঘুম আসছে না তার কিছুতেই। বিছানায় শুয়ে কেবলই এপাশ-ওপাশ। মা মাত্র চোখ
বুজেছেন। এই অপেক্ষাতেই ছিল ফাবিহা।
আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নামল সে।
বাইরে বেরিয়ে বাতাসে কান পাতল। ফিসফিস করে কারা যেন কথা বলছে। গাছের পাতায়-ডালে কেবল ফিসফিসানি। কী বলছে ওরা?
শব্দটা আসছে বাড়ির সামনের ফুলের বাগান থেকে। পায়ে-পায়ে এগিয়ে গেল সে। জায়গাটা ফাবিহার খুব পছন্দের। প্রায়ই একা-একা এখানে চলে আসে সে। গাছ-ফুল-মৌমাছি-প্রজাপতির সঙ্গে কথা বলে। ওদের খোঁজখবর নেয়। দুষ্টু পোকামাকড়ের হাত থেকে ওদের বাঁচায়।
ওরাও ফাবিহাকে পেলে খুশিতে লুটোপুটি খায়। আহ্লাদে আটখানা হয়। আনন্দে কেউ কেউ তাকে ফুলের রেণু উপহার দেয়। কেউ মধু খেতে দেয়। কেউবা গুনগুন গান শোনায়। কেউ আবার গাছের রঙিন পাতা ঝরিয়ে ফাবিহাকে অভিবাদন জানায়।
ফাবিহা বাগানে ঢুকতেই সবার ভেতরে কেমন একটা চঞ্চলতা দেখা গেল। বাগানজুড়ে একটা সাজ সাজ রব। ঠিক অন্য দিনের মতো নয়। অন্য দিন বাগানটা কেমন শান্ত থাকে। কিন্তু আজ একেবারে ব্যতিক্রম।
কিন্তু কী হলো আজ এই বাগানটায়! ফিসফিস শব্দটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কানে বাজছে। যেটা ও এর আগে কখনো শোনেনি। কেমন একটা গমগমে ভাব। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত। হঠাৎ কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল হলুদ প্রজাপতি।
বলল, ‘ও তুমি এসেছ? খুব ভালো।’ বলেই প্রজাপতি আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে দিল। ফাবিহার মজাই লাগল। একটু সুড়সুড়িও লাগল। খিলখিল করে হাসল ও। বলল, ‘সবাই ছোটাছুটি করছে কেন? কী হয়েছে?’
প্রজাপতিটি মিষ্টি করে হাসল। বলল, ‘তুমি জানো না? আজ আমাদের খুব মজার দিন। আজ আমরা আনন্দ করব। নাচব। গাইব।’
প্রজাপতি সব কথাই বলছে। কিন্তু আসল কথাটাই চেপে রাখছে, মানে সে রহস্যটা ভাঙতে চাইছে না এখনই। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ফাবিহাও আর জোর করল না। বলল, ‘ঠিক আছে। তোমরা আনন্দ করো। আমি এখন চলি। ভাবছিলাম, বিকেলটা বাগানেই কাটাব। কিন্তু তোমাদের যখন বিশেষ অনুষ্ঠান আছে, তাহলে থাক...।’
ফাবিহাকে কথা শেষ করতে দিল না প্রজাপতি। বলল, ‘ওমা! তুমি দেখছি রাগ করে বসে আছ। তুমি না থাকলে আজকের এই খুশির সময়টাই তো মাটি হয়ে যাবে।’
ফাবিহা বলল, ‘আমি রাগ করিনি। শুধু তোমাদের আনন্দের সময়ে বিরক্ত করতে চাইনি।’
ফাবিহার কথা শেষ হতেই আরও কয়েকটা প্রজাপতি, ফড়িং, মৌমাছি ছুটে এল। এসেই কেউ ফাবিহার গায়ে, কেউ মাথায় বসে পড়ল। মৌমাছি বলল, ‘হলদে বু দেখি আগেই তোমার কাছে এসে গেছে। কই তোমার তো এখানে আসার কথা ছিল না। হলদে বু, আমাদেরই তো এই সোনামুখো পাকা বুড়িটাকে নিয়ে আসার কথা ছিল!’
হলুদ প্রজাপতি একটু অপ্রস্তুত হলো। বলল, ‘আমি তো এখানে আসতে চাইনি মৌ। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। এই পাকা বুড়ির সঙ্গে দেখা, তাই কথা বলছিলাম। জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি গোপন কথার কিছুই বলিনি।’
ফাবিহা বলল, ‘হলুদ ঠিকই বলেছে। ও এখনো আমাকে তেমন কিছু বলেনি। তোমরাই বলো, আসল ব্যাপারটা কী? সেই কখন থেকে কেমন একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি!’
ফড়িং আর মৌমাছি মুখ টিপে হেসে উঠল। এরপর হলুদ প্রজাপতি, ফড়িং আর মৌমাছি প্রায় একসঙ্গেই বলল, ‘আজ আমাদের লক্ষ্মী মেয়ে লাল ফড়িঙের জন্মদিন।’
ফাবিহা হাসিতে মুখ ভরিয়ে বলল, ‘ওমা! তাই নাকি! এ তো দারুণ খবর। তোমরা যে ওর জন্মদিনের কথা মনে রেখে একটা উৎসবের আয়োজন করেছ, এটা জেনে খুব ভালো লাগছে।’
ফাবিহার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে হলুদ প্রজাপতি এবার বলল, ‘কেবল ভালো লাগলে চলবে না গো পাকা বুড়ি। আমাদের সঙ্গে তোমাকেও যেতে হবে। ফড়িং আর মৌমাছি তো এ জন্যই এসেছে।’
অন্যরাও বলল, ‘হ্যাঁ, তোমাকে আমাদের এই আয়োজনে থাকতেই হবে। থাকতেই হবে।’
ফাবিহা বুঝল, আর উপায় নেই। না থাকলে ওরা খুব মন খারাপ করবে। বলল, ‘ঠিক আছে। আর কোনো কথা নয়। চলো।’
প্রজাপতি, মৌমাছিরা উড়ে উড়ে পথ দেখিয়ে আগে আগে চলল। ফাবিহা চলল ওদের দেখানো পথে। বাগানের ঠিক মাঝখানটায় গিয়ে থামল ওরা।
ফাবিহা দেখল, চারদিকের ছোট ছোট ফুলের গাছগুলো দারুণ ঝকঝকে। তকতকে। মনে হচ্ছে এইমাত্র কেউ ওদের শ্যাম্পু মেখে গোসল করিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করেই দলে দলে একঝাঁক ফড়িং, প্রজাপতি, মৌমাছি এসে হাজির। সবাই ফাবিহাকে ঘিরে উড়তে লাগল। আর গুনগুন করে গান করতে লাগল। সবাই রীতিমতো সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে এসেছে। দেখে ফাবিহা মুগ্ধ হয়ে গেল। সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল, একটা করমচার ঝোপ সুন্দর করে ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। ফুলের রেণু মাখিয়ে আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটা প্রজাপতি আর মৌমাছি ধরাধরি করে কী যেন একটা নিয়ে এল। রাখল ঝোপের ওপর সুন্দর করে সাজানো জট পাকানো পাতার ওপর।
এতক্ষণে ফাবিহা বুঝল, ওটা একটা কেক। খুব ছোট ছোট পোকা আর ফুলের মধু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওটাকে। ফাবিহার হাসি পেল। আবার ভালোও লাগল। বলল, ‘বাহ্, তোমরা তো ভারি সুন্দর জন্মদিন পার্টির আয়োজন করেছ! আমি এখানে না এলে তো এই মজার আয়োজনটাই মিস করতাম! কিন্তু যাকে ঘিরে এত আয়োজন, সে কোথায়?’
ফাবিহার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুটো সোনালি রঙের প্রজাপতি একটা লাল ফড়িংকে নিয়ে হাজির। লাল ফড়িংকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। সারা শরীর উজ্জ্বল আলোয় যেন ঝলমল করছে। একদিকে বিকেলের চমৎকার সোনা-রোদের আনাগোনা। সেই রোদ গায়ে মাখার কারণে দিব্যি রোশনাই ছড়াচ্ছে চারদিকে।
লাল ফড়িংটা ফাবিহার দিকে চোখ পিটপিট করে তাকাল। ফাবিহা ওকে হাতে নিয়ে আলতো করে আদর বুলিয়ে দিল। লাল ফড়িং পাখা নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করল।
এরপর এল কেক কাটার সময়। সবাই হাজির। ফাবিহা ছোট্ট কেকটাকে হাতে তুলে নিল। ঘাসফড়িঙের লম্বা শুঁড় ছুরির ভূমিকা পালন করল। লাল ফড়িঙের মা-বাবা এলে কেক কাটা শুরু হলো।
সবাই গেয়ে উঠল—
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ প্রিয় লাল ফড়িং।
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...
গানের তালে তালে সবাই নাচতে লাগল। আর একটু একটু করে কেক খেতে লাগল। ওদের এই আনন্দে শামিল হতে পেরে ফাবিহার খুব ভালো লাগল। ভাবল, জন্মদিনে তো উপহারও দিতে হয়। কালই একটু ভেবেচিন্তে একটা উপহার আনবে লাল ফড়িঙের জন্য।
আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নামল সে।
বাইরে বেরিয়ে বাতাসে কান পাতল। ফিসফিস করে কারা যেন কথা বলছে। গাছের পাতায়-ডালে কেবল ফিসফিসানি। কী বলছে ওরা?
শব্দটা আসছে বাড়ির সামনের ফুলের বাগান থেকে। পায়ে-পায়ে এগিয়ে গেল সে। জায়গাটা ফাবিহার খুব পছন্দের। প্রায়ই একা-একা এখানে চলে আসে সে। গাছ-ফুল-মৌমাছি-প্রজাপতির সঙ্গে কথা বলে। ওদের খোঁজখবর নেয়। দুষ্টু পোকামাকড়ের হাত থেকে ওদের বাঁচায়।
ওরাও ফাবিহাকে পেলে খুশিতে লুটোপুটি খায়। আহ্লাদে আটখানা হয়। আনন্দে কেউ কেউ তাকে ফুলের রেণু উপহার দেয়। কেউ মধু খেতে দেয়। কেউবা গুনগুন গান শোনায়। কেউ আবার গাছের রঙিন পাতা ঝরিয়ে ফাবিহাকে অভিবাদন জানায়।
ফাবিহা বাগানে ঢুকতেই সবার ভেতরে কেমন একটা চঞ্চলতা দেখা গেল। বাগানজুড়ে একটা সাজ সাজ রব। ঠিক অন্য দিনের মতো নয়। অন্য দিন বাগানটা কেমন শান্ত থাকে। কিন্তু আজ একেবারে ব্যতিক্রম।
কিন্তু কী হলো আজ এই বাগানটায়! ফিসফিস শব্দটা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কানে বাজছে। যেটা ও এর আগে কখনো শোনেনি। কেমন একটা গমগমে ভাব। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত। হঠাৎ কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এল হলুদ প্রজাপতি।
বলল, ‘ও তুমি এসেছ? খুব ভালো।’ বলেই প্রজাপতি আলতো করে তার গাল ছুঁয়ে দিল। ফাবিহার মজাই লাগল। একটু সুড়সুড়িও লাগল। খিলখিল করে হাসল ও। বলল, ‘সবাই ছোটাছুটি করছে কেন? কী হয়েছে?’
প্রজাপতিটি মিষ্টি করে হাসল। বলল, ‘তুমি জানো না? আজ আমাদের খুব মজার দিন। আজ আমরা আনন্দ করব। নাচব। গাইব।’
প্রজাপতি সব কথাই বলছে। কিন্তু আসল কথাটাই চেপে রাখছে, মানে সে রহস্যটা ভাঙতে চাইছে না এখনই। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে ফাবিহাও আর জোর করল না। বলল, ‘ঠিক আছে। তোমরা আনন্দ করো। আমি এখন চলি। ভাবছিলাম, বিকেলটা বাগানেই কাটাব। কিন্তু তোমাদের যখন বিশেষ অনুষ্ঠান আছে, তাহলে থাক...।’
ফাবিহাকে কথা শেষ করতে দিল না প্রজাপতি। বলল, ‘ওমা! তুমি দেখছি রাগ করে বসে আছ। তুমি না থাকলে আজকের এই খুশির সময়টাই তো মাটি হয়ে যাবে।’
ফাবিহা বলল, ‘আমি রাগ করিনি। শুধু তোমাদের আনন্দের সময়ে বিরক্ত করতে চাইনি।’
ফাবিহার কথা শেষ হতেই আরও কয়েকটা প্রজাপতি, ফড়িং, মৌমাছি ছুটে এল। এসেই কেউ ফাবিহার গায়ে, কেউ মাথায় বসে পড়ল। মৌমাছি বলল, ‘হলদে বু দেখি আগেই তোমার কাছে এসে গেছে। কই তোমার তো এখানে আসার কথা ছিল না। হলদে বু, আমাদেরই তো এই সোনামুখো পাকা বুড়িটাকে নিয়ে আসার কথা ছিল!’
হলুদ প্রজাপতি একটু অপ্রস্তুত হলো। বলল, ‘আমি তো এখানে আসতে চাইনি মৌ। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। এই পাকা বুড়ির সঙ্গে দেখা, তাই কথা বলছিলাম। জিজ্ঞেস করে দেখো, আমি গোপন কথার কিছুই বলিনি।’
ফাবিহা বলল, ‘হলুদ ঠিকই বলেছে। ও এখনো আমাকে তেমন কিছু বলেনি। তোমরাই বলো, আসল ব্যাপারটা কী? সেই কখন থেকে কেমন একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি!’
ফড়িং আর মৌমাছি মুখ টিপে হেসে উঠল। এরপর হলুদ প্রজাপতি, ফড়িং আর মৌমাছি প্রায় একসঙ্গেই বলল, ‘আজ আমাদের লক্ষ্মী মেয়ে লাল ফড়িঙের জন্মদিন।’
ফাবিহা হাসিতে মুখ ভরিয়ে বলল, ‘ওমা! তাই নাকি! এ তো দারুণ খবর। তোমরা যে ওর জন্মদিনের কথা মনে রেখে একটা উৎসবের আয়োজন করেছ, এটা জেনে খুব ভালো লাগছে।’
ফাবিহার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে হলুদ প্রজাপতি এবার বলল, ‘কেবল ভালো লাগলে চলবে না গো পাকা বুড়ি। আমাদের সঙ্গে তোমাকেও যেতে হবে। ফড়িং আর মৌমাছি তো এ জন্যই এসেছে।’
অন্যরাও বলল, ‘হ্যাঁ, তোমাকে আমাদের এই আয়োজনে থাকতেই হবে। থাকতেই হবে।’
ফাবিহা বুঝল, আর উপায় নেই। না থাকলে ওরা খুব মন খারাপ করবে। বলল, ‘ঠিক আছে। আর কোনো কথা নয়। চলো।’
প্রজাপতি, মৌমাছিরা উড়ে উড়ে পথ দেখিয়ে আগে আগে চলল। ফাবিহা চলল ওদের দেখানো পথে। বাগানের ঠিক মাঝখানটায় গিয়ে থামল ওরা।
ফাবিহা দেখল, চারদিকের ছোট ছোট ফুলের গাছগুলো দারুণ ঝকঝকে। তকতকে। মনে হচ্ছে এইমাত্র কেউ ওদের শ্যাম্পু মেখে গোসল করিয়ে দিয়েছে। হঠাৎ করেই দলে দলে একঝাঁক ফড়িং, প্রজাপতি, মৌমাছি এসে হাজির। সবাই ফাবিহাকে ঘিরে উড়তে লাগল। আর গুনগুন করে গান করতে লাগল। সবাই রীতিমতো সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে এসেছে। দেখে ফাবিহা মুগ্ধ হয়ে গেল। সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল, একটা করমচার ঝোপ সুন্দর করে ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। ফুলের রেণু মাখিয়ে আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটা প্রজাপতি আর মৌমাছি ধরাধরি করে কী যেন একটা নিয়ে এল। রাখল ঝোপের ওপর সুন্দর করে সাজানো জট পাকানো পাতার ওপর।
এতক্ষণে ফাবিহা বুঝল, ওটা একটা কেক। খুব ছোট ছোট পোকা আর ফুলের মধু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওটাকে। ফাবিহার হাসি পেল। আবার ভালোও লাগল। বলল, ‘বাহ্, তোমরা তো ভারি সুন্দর জন্মদিন পার্টির আয়োজন করেছ! আমি এখানে না এলে তো এই মজার আয়োজনটাই মিস করতাম! কিন্তু যাকে ঘিরে এত আয়োজন, সে কোথায়?’
ফাবিহার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুটো সোনালি রঙের প্রজাপতি একটা লাল ফড়িংকে নিয়ে হাজির। লাল ফড়িংকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। সারা শরীর উজ্জ্বল আলোয় যেন ঝলমল করছে। একদিকে বিকেলের চমৎকার সোনা-রোদের আনাগোনা। সেই রোদ গায়ে মাখার কারণে দিব্যি রোশনাই ছড়াচ্ছে চারদিকে।
লাল ফড়িংটা ফাবিহার দিকে চোখ পিটপিট করে তাকাল। ফাবিহা ওকে হাতে নিয়ে আলতো করে আদর বুলিয়ে দিল। লাল ফড়িং পাখা নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করল।
এরপর এল কেক কাটার সময়। সবাই হাজির। ফাবিহা ছোট্ট কেকটাকে হাতে তুলে নিল। ঘাসফড়িঙের লম্বা শুঁড় ছুরির ভূমিকা পালন করল। লাল ফড়িঙের মা-বাবা এলে কেক কাটা শুরু হলো।
সবাই গেয়ে উঠল—
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ প্রিয় লাল ফড়িং।
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...
গানের তালে তালে সবাই নাচতে লাগল। আর একটু একটু করে কেক খেতে লাগল। ওদের এই আনন্দে শামিল হতে পেরে ফাবিহার খুব ভালো লাগল। ভাবল, জন্মদিনে তো উপহারও দিতে হয়। কালই একটু ভেবেচিন্তে একটা উপহার আনবে লাল ফড়িঙের জন্য।
Friday, February 24, 2017
এসে গেল ‘গোল্লাছুট সেরা গল্প’! by মো. সাইফুল্লাহ

ঢাকা
রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মাঠে সক্কালবেলাতেই এত ছেলেমেয়ে কোথা থেকে
এল—নিচের ঠোঁটে চিমটি কেটে ভাবতে বসেছিল কিশোর পাশা। ওদিকে বর্ণমেলার
মজার সব স্টল আর রঙিন সাজসজ্জা দেখে মুসা আমানের মুখ দিয়ে অজান্তেই বেরিয়ে
গেল—খাইছে! বইপড়ুয়া রবিন মিলফোর্ডও মেলা ঘুরে খুঁজছিল নতুন কোনো বই।
নাহ, এর সবই কল্পনা। তিন গোয়েন্দা বর্ণমেলায় আসেনি। তবে এই বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প সিরিজের স্রষ্টা যিনি, সেই রকিব হাসান কিন্তু এসেছিলেন। প্রথমা থেকে প্রকাশিত গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন তিনি। খুদে লেখকদের হাতে তুলে দিয়েছেন পুরস্কার।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্ণমেলায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এ বছর আমরা ‘এসো গল্প লিখি’ আয়োজনে অংশ নেওয়া লেখকদের গল্প নিয়ে বই প্রকাশ করব। অবশেষে এসে গেল সেই দিন। এক বছর ধরে আমরা তোমাদের পাঠানো গল্প থেকে বাছাই করা ৩৫টি গল্প ছেপেছি। সেই ৩৫টি গল্পই স্থান পেয়েছে গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলনে। সেরা তিন লেখকের প্রত্যেকেই পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই!
সকাল থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের লেখকেরা আসতে শুরু করেছিল। রংপুর থেকে এসেছিল জান্নাত নূরে মাহবুবা ও কে এম জান্নাত জামান। নড়াইলের পূরবী চক্রবর্ত্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুদরাত তাহিয়া, টাঙ্গাইলের জারিন তাসনিম জাহান, সৈয়দপুরের মাইশা মালিহা, চট্টগ্রামের সাবরিনা সাদিয়া, সোনাইমুড়ীর নাবিহা জাহান, ময়মনসিংহের সা’আদ ইসলাম, ফরিদপুরের নুসরাত হক, সিরাজগঞ্জের জিয়াউল হক...সবাই সময়মতো এসে হাজির। ওদিকে চট্টগ্রামের নাজমুল ইসলাম আর রাজশাহীর আবরার লাবিব কিন্তু খালি হাতে ফেরেনি। পুরো ১২ হাজার টাকার বই মাথায় তুলে নিয়ে গেছে তারা। ময়মনসিংহের আনিকা তাহসীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেনি। তার মা এসেছিলেন। আনিকার গল্পও সেরাদের সেরা হয়েছে। সে-ও পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই।
সামিরা তাবাস্সুম তালুকদার, আকিফ রহমান, আবীর ফেরদৌস, মো. সাজ্জাদুর রহমান, মারজিয়া তাবাসসুম, তমালিকা বিশ্বাস, নুজহাত মাসতুরা, মো. ইত্তিহাদ শাহ্, তুষার কান্তি সরকার, তানভীর ফুয়াদ, নুদরাত তাহিয়া, শাহরিয়ার রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, ইসতিয়াক ওয়ালিদ, তাসফিয়া তাবাসসুম, প্রাপ্তি ঘোষ, মাহমুদা তাবাসসুম, রাদমান সিদ্দিকী, ফারিহা ফালাক ও ইসতিয়াক জামান—এই নামগুলোও মনে রেখো। এদের লেখা গল্প নিয়েই গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলন। কে জানে, এদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আগামী দিনের সেরা লেখক হয়ে উঠবে!
নাহ, এর সবই কল্পনা। তিন গোয়েন্দা বর্ণমেলায় আসেনি। তবে এই বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প সিরিজের স্রষ্টা যিনি, সেই রকিব হাসান কিন্তু এসেছিলেন। প্রথমা থেকে প্রকাশিত গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন তিনি। খুদে লেখকদের হাতে তুলে দিয়েছেন পুরস্কার।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্ণমেলায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এ বছর আমরা ‘এসো গল্প লিখি’ আয়োজনে অংশ নেওয়া লেখকদের গল্প নিয়ে বই প্রকাশ করব। অবশেষে এসে গেল সেই দিন। এক বছর ধরে আমরা তোমাদের পাঠানো গল্প থেকে বাছাই করা ৩৫টি গল্প ছেপেছি। সেই ৩৫টি গল্পই স্থান পেয়েছে গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলনে। সেরা তিন লেখকের প্রত্যেকেই পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই!
সকাল থেকেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে গোল্লাছুট সেরা গল্প বইয়ের লেখকেরা আসতে শুরু করেছিল। রংপুর থেকে এসেছিল জান্নাত নূরে মাহবুবা ও কে এম জান্নাত জামান। নড়াইলের পূরবী চক্রবর্ত্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুদরাত তাহিয়া, টাঙ্গাইলের জারিন তাসনিম জাহান, সৈয়দপুরের মাইশা মালিহা, চট্টগ্রামের সাবরিনা সাদিয়া, সোনাইমুড়ীর নাবিহা জাহান, ময়মনসিংহের সা’আদ ইসলাম, ফরিদপুরের নুসরাত হক, সিরাজগঞ্জের জিয়াউল হক...সবাই সময়মতো এসে হাজির। ওদিকে চট্টগ্রামের নাজমুল ইসলাম আর রাজশাহীর আবরার লাবিব কিন্তু খালি হাতে ফেরেনি। পুরো ১২ হাজার টাকার বই মাথায় তুলে নিয়ে গেছে তারা। ময়মনসিংহের আনিকা তাহসীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেনি। তার মা এসেছিলেন। আনিকার গল্পও সেরাদের সেরা হয়েছে। সে-ও পেয়েছে ১২ হাজার টাকার বই।
সামিরা তাবাস্সুম তালুকদার, আকিফ রহমান, আবীর ফেরদৌস, মো. সাজ্জাদুর রহমান, মারজিয়া তাবাসসুম, তমালিকা বিশ্বাস, নুজহাত মাসতুরা, মো. ইত্তিহাদ শাহ্, তুষার কান্তি সরকার, তানভীর ফুয়াদ, নুদরাত তাহিয়া, শাহরিয়ার রহমান, মনিরুজ্জামান মনির, ইসতিয়াক ওয়ালিদ, তাসফিয়া তাবাসসুম, প্রাপ্তি ঘোষ, মাহমুদা তাবাসসুম, রাদমান সিদ্দিকী, ফারিহা ফালাক ও ইসতিয়াক জামান—এই নামগুলোও মনে রেখো। এদের লেখা গল্প নিয়েই গোল্লাছুট সেরা গল্প সংকলন। কে জানে, এদের মধ্যে অনেকেই হয়তো আগামী দিনের সেরা লেখক হয়ে উঠবে!

Saturday, April 5, 2014
কন্যাশিশু এবং কিছু অভিজ্ঞতা by আদনান সৈয়দ
আমি থাকি যুক্তরাষ্ট্রে। ছুটিছাঁটায়
সময়-সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে চলে আসি। তবে এবার বাংলাদেশে আসার সময় আমার
অনুভূতি ছিল একটু ভিন্ন। আমার স্ত্রী বাংলাদেশে, তিনি সন্তানসম্ভবা। এর
চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! আর বাবা হওয়ার আনন্দটা সত্যিই কি ভাষায়
প্রকাশ করা যায়?
বিস্ময়-বালিকা by মো. সাইফুল্লাহ
সারিনা
হোসেনের বয়স ১০ বছর। ছোট্ট মেয়েটার একটা বই বের হয়েছে লন্ডনের অলিম্পিয়া
পাবলিশার্স থেকে। তার লেখা গল্পের অংশবিশেষের অনুবাদ প্রকাশিত হলো তোমাদের
জন্য।
Friday, November 29, 2013
গল্প- আকাশে ওড়ার ফর্মুলা by ইন্দ্রজিৎ সরকার
দুই-দু গুণে চার হয়—এটা আর কে না জানে।
ছোট মামাও সেটা জানেন বিলক্ষণ। কিন্তু তাঁর ব্যাপার-স্যাপারই আলাদা। তিনি
প্রশ্ন করবেন, ‘দুই-দু গুণে কেন পাঁচ বা তিন হয় না, বলতে পারিস?’ বুঝতেই
পারছ, আমাদের বলতে পারার কথা নয়।
Friday, November 22, 2013
গল্প- ছোট কামা by নুসরাত ফাতেমা
‘এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে! তুই আমার চটিজোড়া পায়ে দিয়েছিস কেন?’
‘বেশ করেছি। তুই আমার খাতার মলাট ছিঁড়েছিস কেন?’
‘বেশ করেছি। তুই আমার খাতার মলাট ছিঁড়েছিস কেন?’
Friday, November 15, 2013
গল্প- লাল সাইকেল by নাদিরা মুসতারী
সেদিনও অন্তু বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে বসে
আড্ডা দিচ্ছিল। এমন সময় হিরু ভাই এসে হাজির।
তোমরা যাচ্ছ তো দৌড় প্রতিযোগিতায়?’
অন্তু হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল। দৌড় প্রতিযোগিতা!
তোমরা যাচ্ছ তো দৌড় প্রতিযোগিতায়?’
অন্তু হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল। দৌড় প্রতিযোগিতা!
Friday, November 1, 2013
এক দেশে একদিন... by মুহাম্মদ রিয়াজুল আমীন
সকাল ১০টা। দেশের সরকারপ্রধান চিন্তিত
মুখে তাঁর অফিসে বসে আছেন। তাঁর কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ। সকালেই তিনি খবর
পেয়েছেন, সরকারের সবচেয়ে গোপন ভল্টে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি চুরি গিয়েছে।
Friday, October 11, 2013
গল্প- আমার একটা পোষা দৈত্য আছে by আনিসুল হক
দুপুরবেলা তপু একাই থাকে বাসায়। স্কুল
ছুটির পর স্কুল থেকে সে আসে রিকশাভ্যানে। একটা রিকশাভ্যানে আসে তারা আটজন।
ভ্যানচালকের নাম হবিবর, তারা ডাকে হবিবর মামা বলে।
Friday, September 27, 2013
গল্প- এক ঢিলে দুই পাখি by আদনান মুকিত
এই মুহূর্তে টুশির মনটা খারাপ। মন খারাপ
হওয়ারই কথা। কার্টুন দেখার সময় হয়ে গেছে, অথচ দেখতে পারছে না। টিভির
রিমোটটা ক্যাডবেরি চকলেটের মতো আগলে রেখেছেন টুশির মামা।
"& still even today I hear the mournful tune of the Sanai"Say,Valiant,High is my head!I am the rebel,the rebel son of mother-earth!Ever-high is my head.O travellers on the road of destruction,Hold fast Ur hammer,pick up Ur shovel,Sing in unison & advance.We created in the joy of our arms.We shall now destory at the pleasure of our feet.‘O Lord,For eight years have I lived & never did I say my prayers & yet,did U ever refuse me my meals for thet?Ur mosques & temples are not meant for men,Men heve no right in them.The mollahs & the Priests Heve closed their doors under locks & keys.’Comrades, Hammer away at the closed doors Of those mosques & temples,& hit with Ur shovel mightily.For,climbing on their minarets,The cheats are today glorifying Selfishness & hypocrisy.& creatr a new universe of joy & peace.Weary of struggles,I,the great rebel,Shall rest in quiet only when I find The sky & the air free of the piteous groans of the oppressef.Only when the dattlefields are cleared of jingling bloody sabres Shall I,weary of struggles,rest in quiet,I,the great rebel.I am the rebel-eternal,I raise my head beyond this world,High,ever-erect & alone!
Friday, September 20, 2013
গল্প- জাদুর কলম by অর্ঘ্য দত্ত
আমাদের ক্লাসের অনীককে তো তোমরা চেনো। ওর রোল ৫০। ও বরাবরই সবার থেকে পিছিয়ে আছে।
"& still even today I hear the mournful tune of the Sanai"Say,Valiant,High is my head!I am the rebel,the rebel son of mother-earth!Ever-high is my head.O travellers on the road of destruction,Hold fast Ur hammer,pick up Ur shovel,Sing in unison & advance.We created in the joy of our arms.We shall now destory at the pleasure of our feet.‘O Lord,For eight years have I lived & never did I say my prayers & yet,did U ever refuse me my meals for thet?Ur mosques & temples are not meant for men,Men heve no right in them.The mollahs & the Priests Heve closed their doors under locks & keys.’Comrades, Hammer away at the closed doors Of those mosques & temples,& hit with Ur shovel mightily.For,climbing on their minarets,The cheats are today glorifying Selfishness & hypocrisy.& creatr a new universe of joy & peace.Weary of struggles,I,the great rebel,Shall rest in quiet only when I find The sky & the air free of the piteous groans of the oppressef.Only when the dattlefields are cleared of jingling bloody sabres Shall I,weary of struggles,rest in quiet,I,the great rebel.I am the rebel-eternal,I raise my head beyond this world,High,ever-erect & alone!
Friday, September 13, 2013
পিপ্পির মন খারাপ by আশিক মুস্তাফা
মরিচ দেখলেই মাথায় চক্কর মেরে ওঠে পিপ্পির। এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। হেলেদুলে পড়ে যায়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
Friday, August 30, 2013
টুটুলের অ্যাংরি বার্ডস by মাহফুজ রহমান
টুটুলের বড় আপুর নাম শিলা। টুটুল ডাকে
চিলা! ‘চিল’-এর সঙ্গে ‘আ’-কার যোগ করে চিলা। শিলা যখন সামনে থাকে না, টুটুল
তখন ওকে ডাকে চিলাপু বলে।
Friday, July 19, 2013
ঈদকার্ডের নকশা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন
‘হরলিক্স-গোল্লাছুট ঈদকার্ডের নকশা
প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছিল ৪ জুলাই। ১৬ জুলাই পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতার জন্য
ঈদকার্ডের নকশা পাঠিয়েছিল প্রায় এক হাজার আট শ প্রতিযোগী। এর মধ্য থেকে দুই
বিভাগে মোট ১১ জন বিজয়ী হয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
যুক্তরাষ্ট্র
দেশে দেশে
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
আমার দেশ
ইসরায়েল
ফুটবল খেলা
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ফিলিস্তিন
Lead
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
ইরান
সারা বিশ্ব
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
কালবেলা
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
মুসলিম
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
সাক্ষাৎকার
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
ইউরোপ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
সৌদি আরব
অমানবিক
পশ্চিমবঙ্গ
আলোকিত চট্টগ্রাম
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
বিজ্ঞান ও গবেষণা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
আফ্রিকা
মাদক
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
সংখ্যালঘু
প্রবাস
ছুটির দিনে
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
সৈয়দ আবুল মকসুদ
তুরস্ক
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
আফগানিস্তান
গোল্লাছুট
বইপত্র
অন্য আলো
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
দুর্ঘটনা
অপহরণ
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
হিন্দু
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
স্বাস্থ্য
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
জ্যোতির্বিজ্ঞান
সড়ক দুর্ঘটনা
আলী রীয়াজ
ক্রিখেট খেলা
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
কক্সবাজার
এ এম এম শওকত আলী
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
শুভ্র দেব
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
জাপান
রঙের মেলা
লেবানন
ঐতিহ্য
কুমিল্লা
জীবনযাপন
মুক্তমত
শিল্প
মাহমুদুর রহমান
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ময়মনসিংহ
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
যশোর
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
চিকিৎসা
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
Exclusive
মেহেদী হাসান
কলকাতা
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
তথ্য প্রযুক্তি
বরগুনা
আনু মুহাম্মদ
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়া
মারুফ কিবরিয়া
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
ইয়েমেন
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
তুহিন ওয়াদুদ
উত্তর কোরিয়া
জলবায়ু ও পরিবেশ
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
কালি ও কলম
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
কুষ্টিয়া
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
নিবন্ধ
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উচ্চশিক্ষা
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
চারু শিল্প
জনস্বাস্থ্য
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
প্রযুক্তি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
কাতার
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
শিশির মোড়ল
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
লাতিন আমেরিকা
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আরব আমিরাত বা দুবাই
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
লিবিয়া
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
ইসলাম
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
Hot Topic
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
Fantastic
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
জোহরান মামদানি
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
যৌন অপরাধ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
জলবায়ু পরিবর্তন
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
WikiInterview
আকবর হোসেন
ইসলামী ছাত্রশিবির
কিশোর আলো
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইহুদি
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
স্পেন
আইন ও আদালত
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
গণমাধ্যম
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
Asia
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কলম্বিয়া
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
চিঠিপত্র
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
তিউনিসিয়া
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
বেলজিয়াম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
সোমালিয়া
স্মৃতি
হংকং
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কুয়েত
চুক্তি
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
ওমান
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শেরপুর
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
রাজবাড়ী
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অমানবিকতা
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
পোল্যান্ড
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট





