Saturday, September 7, 2024

গেটস কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ, পাবেন ৩৩ লাখ টাকা

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পিএইচডি, এমএসসি বা এমএলিট বা এক বছরের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। ‘গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ’ প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কোর্সভেদে আবেদনের শেষ সময়ের ভিন্নতা রয়েছে। কোনো কোর্সে আবেদন ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত। আবার কোনো কোর্সের আবেদনের শেষ সময় ৭ জানুয়ারি ২০২৫।

যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ ২০০০ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল। মাইক্রোসফটের বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস তাদের ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ থেকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেয়। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া সর্বকালের সবচেয়ে বড় এই অনুদান দিয়েই স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি বৃত্তির সব খরচ বহন করা হয়। এটি যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্মানজনক বৃত্তি।

যোগ্যতা : আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে। একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে। অসামান্য মেধাক্ষমতা থাকতে হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে।

বৃত্তির সুযোগ-সুবিধা :

আসা-যাওয়াসহ যাতায়াতের সকল খরচ এবং টিউশন ফি প্রদান।অতিরিক্ত ভাতা প্রদান। কোর্সকালীন এক বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা হিসেবে ২১ হাজার পাউন্ড বা ৩৩ লাখ ৩ হাজার ৩৮১ টাকা প্রদান। পিএইচডি স্কলারদের জন্য চার বছর পর্যন্ত এ ভাতা প্রদান করা হবে। ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সকল খরচ প্রদান করবে।

বিভিন্ন কনফারেন্স ও কোর্সে যোগ দিতে কোর্সভেদে ৫০০ থেকে ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ভাতা প্রদান। পারিবারিক ভাতা বাবদ প্রথম সন্তানের জন্য ১১ হাজার ৬০৪ পাউন্ড এবং দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ১৬ হাজার ৫৪৮ পাউন্ড প্রদান করবে।

পিএইচডির অংশ হিসেবে ফিল্ড ওয়ার্কের সময় খরচ। মাতৃত্ব বা পিতৃত্ব তহবিল ও অপ্রত্যাশিত সমস্যা হলে মিলবে তহবিল।

গেটস কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি। ছবি : সংগৃহীত।
গেটস কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি। ছবি : সংগৃহীত।



নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন, কঠোর আইন করছে পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে গত মাসে এক চিকিৎসককে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে উত্তপ্ত হয়েছে গোটা ভারত। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন করে চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের মানুষ। তারা দাবি তুলেছে যে ধর্ষণ বিরোধী আইন থাকার পরেও কীভাবে ধর্ষণ বাড়ছে? তাদের আন্দোলনের তোপে এবার পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের জন্য আরও কঠোর সাজা চালু হতে যাচ্ছে। এই সাজার মধ্যে রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড। তবে, এই কঠোর আইন পাশ করলেই নারীদের উপর যৌন হেনস্তা ও হয়রানি কমবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজকর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় গত মঙ্গলবার সর্বসম্মতিক্রমে ‘অপরাজিতা নারী ও শিশু বিল’ পাশ হয়েছে। এই বিলে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির হাজতবাসের মেয়াদ ১০ বছর থেকে বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ধর্ষণ সংক্রান্ত তদন্তের যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে বিলটিতে। দেশের প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলে এই বিল আইনে পরিণত হবে। গত মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ৩১ বছর বয়সী এক রেসিডেন্ট চিকিৎসকের ওপর নৃশংস হামলাকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভের তোপে এই বিল পাশ হয়েছে।

নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে এখনও বিক্ষোভ জারি রেখেছে। ওই হাসপাতালে কর্মরত একজন পুলিশ (সিভিক) ভলিন্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এই অপরাধের দায় তার ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলেছে, নারী ও শিশুদের সুরক্ষাকে জোরদার ও তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই এই বিলের লক্ষ্য। তবে, আইনজীবী ও নারী অধিকার কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে দেশের বিচার ব্যবস্থা এত মন্থর সেখানে কঠোর শাস্তি দিয়ে অপরাধীদের পাকড়াও করা বেশ কঠিন। আইনজীবী ও সমাজকর্মী আভা সিং উল্লেখ করেছেন, ‘আইন নিয়ে তেমন ভয় নেই। এর কারণ হল, বিচার খুব কম ক্ষেত্রে রায়ে গড়ায়। ধর্ষণে সাজা ঘোষণার হার মাত্র ২৮ শতাংশের মতো।’ নারী অধিকার কর্মীরা বলেছেন, নয়াদিল্লিতে এক চলমান বাসের মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করে হত্যার পর ২০১৩ সালে কেন্দ্র সরকার ফৌজদারি আইনি ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। তবে, পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনায় ওই বদলের প্রভাব নেই বললেই চলে। ২০১২ সালে প্রায় ২৫ হাজার ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। দশ বছর পর, অর্থাৎ ২০২২ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজারের উপরে। এমনটাই জানাচ্ছে জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)। চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসকদের নিয়ে একটা জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে যারা কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সুপারিশ করবেন।

সূত্র- ভয়েস অব আমেরিকা।

ফ্যাসিবাদীরা কেন বিশ্ববিদ্যালয় ঘৃণা করেন -দ্য গার্ডিয়ান

বাংলাদেশে উল্লেখ করার মতো কিছু ঘটনা ঘটে গেল। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে প্রাথমিকভাবে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বড় পরিসরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু ক্রমেই স্বৈরাচার হয়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে তা গায়ে লাগাননি। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার পরিবর্তে তিনি এমন সব পদক্ষেপ নেন যে, তাতে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনার সরকার বিক্ষোভ দমনে চূড়ান্ত রকমের সহিংসতার আশ্রয় নেয়। পুলিশের গুলিতে মারা যান অনেক শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট যোগাযোগ। পুলিশের নৃশংসতার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ওই মাসের শেষ নাগাদ বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ঘটনাক্রমে সেনাবাহিনী ছাত্র–জনতার পক্ষে অবস্থান নিলে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এভাবেই দেশব্যাপী ছাত্র–জনতার আন্দোলন একজন সহিংস স্বৈরশাসককে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়। দৃশ্যত, অন্তত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্দোলনকারীরা জয়ী হয়েছেন।

বাংলাদেশের ওই সহিংস আন্দোলনের প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি প্রতিবেশী দেশগুলোও। পাকিস্তানে, জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে বন্দী। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁর নাম না নিতে, তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত না করতে বা তাঁর ছবি প্রদর্শন না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে ঢোকানো হয়েছে তাঁর দলের অনেককে। কিন্তু বিস্ময় জাগানো কিছু শুরু হয়েছে সেখানেও। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের শুরু করা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানের স্টুডেন্টস ফেডারেশন গত ৩০ আগস্টের মধ্যে ইমরান খানকে মুক্তি দিতে সরকারকে সময় বেঁধে দেয়। তাঁকে মুক্তি না দিলে দেশজুড়ে ছাত্রবিক্ষোভ শুরুর হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

বাংলাদেশে যা ঘটেছে এবং পাকিস্তানে যা ঘটতে পারে, তা প্রতিটি স্বৈরশাসকের জন্যই দুঃস্বপ্নের। কর্তৃত্ববাদীরা ও সম্ভাব্য কর্তৃত্ববাদীরা এটা জানেন, তাঁদের সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রাথমিক ঘাঁটি বিশ্ববিদ্যালয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা ফ্যাসিবাদের জন্য বিপদের আগাম সতর্কবার্তা।

ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন। ‘ভারত-বিরোধিতার’ অজুহাতে দেশটির অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশানা বানানো তাঁর সরকারের একটা বৈশিষ্ট্য।

একইভাবে হাঙ্গেরির স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের কথা বলা যায়। বুদাপেস্টে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ‘জেন্ডার মতাদর্শ’ ছড়িয়ে দিচ্ছে অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে বাগাড়ম্বরপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। আইনকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশছাড়া করতে চায় তাঁর সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকমের। ভিন্নমত দমনে সম্ভাব্য কর্তৃত্ববাদীরা ও একদলীয় রাজ্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করছে। যেমন সংখ্যালঘু ভোটারদের কঠোরভাবে দমন করতে ভোটার জালিয়াতির পুরাকথা ব্যবহার করছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর ও ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বৈরাচার’ রন ডিস্যান্টিস (যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবিক অর্থে কখনো ভোটার জালিয়াতি হয়নি। অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, এমন জালিয়াতি হলেও তা হয়তো অঙ্কের হিসাবে শূন্য দশমিক ০০০৩ থেকে শূন্য দশমিক ০০২৫ শতাংশ)।

সংখ্যালঘু ভোটারদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিশানা বানিয়েছেন ডিস্যান্টিস। ফ্লোরিডার সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও শিক্ষাগত স্বাধীনতার ওপর গত বছরের মে মাসে ‘আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি)’–এর এক বিশেষায়িত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা, শর্তাবলি ও শাসন এখন রাজনৈতিক ও আদর্শিক হামলার শিকার; যা মার্কিন ইতিহাসে নেই। কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভীতির পরিবেশ বজায় থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

অতি সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে গণহত্যাবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে। বিক্ষোভে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি শিক্ষার্থীও অংশ নেন। এই বিক্ষোভকারীদের হামাসপন্থী আখ্যা দিয়ে অভিজাত ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের ওপর মৌখিক, রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে আক্রমণ চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাবনার বিষয়ে অবগত রয়েছে। রিপাবলিকান দল ক্রমেই যত কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকবে, ততই বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের মতো ভিন্নমত গুঁড়িয়ে দিতে চাইবে। আর এটি শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে। তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অপরিসীম সাহস ও সংকল্প দিয়ে এটিই দেখিয়েছে, ফ্যাসিবাদীদের কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে।

শেখ হাসিনা ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান

পশ্চিমতীরে মার্কিন নাগরিক হত্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চায় জাতিসংঘ

নাবলুসের কাছে বেইতা শহরে ইহুদি বসতি স্থাপন সম্প্রসারণের প্রতিবাদে শুক্রবার পশ্চিমতীরে প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তুরস্কের বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নারী আয়সেনুর ইজগি ইগি (২৬)। কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে জাতিসংঘ। জবাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় গুলিতে একজন বিদেশি নিহত হওয়ার পর তারা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইনস বিবিসি।

এতে বলা হয়, একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, ওই এলাকায় তিনি প্রতিবাদ বিক্ষোভকালে দুটি গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এই হত্যার বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, এ ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছি আমরা। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতায় নিতে হবে। সব অবস্থায় বেসামরিক লোকজনের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই হত্যার তদন্ত দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র সিন সাভেত বলেন, একজন মার্কিন নাগরিকের করুণ মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে হতাশ। তিনি আরও বলেন, আমরা ইসরাইল সরকারের কাছে আরও তথ্য চেয়েছি।

একই সঙ্গে এর তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছি। গুলির পরপরই ওই স্থান থেকে যে ফুটেজ পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, দ্রুততার সঙ্গে আয়সেনুরকে একটি এম্বুলেন্সে তুলে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবাদ বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ইহুদি-ইসরাইলি কর্মী জোনাথন পোলাক। তিনি বিবিসির নিউজআওয়ার প্রোগ্রামে বলেছেন, ভবনের ছাদ থেকে সেনাদেরকে তিনি দেখেছেন টার্গেট করতে। তিনি দুটি গুলির  শব্দ শুনেছেন। দুটি গুলির মধ্যে সময়ের ব্যবধান এক বা দুই সেকেন্ড। তার ভাষায়- আমি শুনতে পেলাম কেউ একজন আমার নাম ধরে ডেকে ইংরেজিতে বলছে- আমাদেরকে সাহায্য কর। আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন। আমি তাদের দিকে দৌড়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে মিস আয়সেনুরকে মাটিতে একটি জলপাই গাছের নিচে দেখতে পাই। তার মাথা থেকে রক্তে ভেসে যাচ্ছে সব। আমার হাত তার মাথার নিচে দিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করলাম। আমি সেখান থেকে সেনাদের একটি লাইন পরিষ্কার দেখতে পেলাম। এ সময় আয়সেনুরের পালস দেখলাম। তিনি খুব দুর্বল ছিলেন তখন। ফিলিস্তিনপন্থি গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্টের প্রতিবাদে শুক্রবারই প্রথম যোগ দিয়েছিলেন আয়সেনুর। তাকে ওই অবস্থায় নাবলুসে একটি হাসপাতালে নেয়া হলো। এরপর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

আয়সেনুরকে ভর্তি করা হয়েছিল রাফিদিয়া হাসপাতালে। এর প্রধান ডা. ফুয়াদ নাফা নিশ্চিত করে বলেন যে, মার্কিন এই নাগরিক মাথায় গুলিতে নিহত হয়েছেন। এই হত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

অন্যদিকে ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আয়সেনুরকে নাবলুস শহরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী হত্যা করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে সম্প্রতি সিয়াটলে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন আয়সেনুর। 

mzamin

তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান করতে হবে -অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে মতপার্থক্য দূর করতে সরকার কাজ করবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য দূর করতে তার সরকার কাজ করবে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় কোনো দেশেরই লাভ হচ্ছে না। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের সমস্যা অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর এ বিষয়ে অধিকার রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। পানিবণ্টন ইস্যুটি ঝুলিয়ে রেখে কোনো উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভাটির দেশগুলোর কিছু অধিকার আছে এবং আমরা সেই অধিকার চাই। এই ইস্যুটি (পানিবণ্টন).... ঝুলিয়ে রেখে কোনো উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে না। আমি যদি জানি, আমি কতটুকু পানি পাব, সেটা ভালো হতো।

এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। এই বিষয়টি সমাধান হতেই হবে। দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে অন্তর্বর্তী সরকার চাপ দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘চাপ একটি বড় শব্দ। আমি এটা বলছি না। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়, অনেক পুরনো সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে। আমরা সবাই চেয়েছিলাম এই চুক্তি হোক, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করতে হবে। সমপ্রতি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে ঢাকার গণমাধ্যমের খবরের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সংকটে আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একসঙ্গে কাজ করে এর সমাধান করতে পারি।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বগ্রহণ করার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাক্ষাৎ করেন। বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভারতের হাইকমিশনার যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, আমি বলেছি যে কীভাবে বন্যা মোকাবিলা করা যায় সে ব্যাপারে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারি। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সমন্বয়ের জন্য কোনো চুক্তিরও প্রয়োজন নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই সমস্যা সমাধানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। কেননা, এটি গণমানুষের দুর্দশা লাঘব করবে। এ ধরনের মানবিক পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই সহায়তা করবে। সীমান্ত হত্যার নিন্দা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, হত্যাকাণ্ড কোনো সমাধান নয়। কাউকে হত্যা করা কোনো সমাধান নয় কারণ এটি মোকাবিলার আইনি উপায় রয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা একতরফা ব্যাপার। আপনার দেশ দখলের জন্য কেউ সীমান্ত অতিক্রম করছে না। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে মনে করেন ড. ইউনূস। পিটিআই’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আটটি  দেশের এ জোট আঞ্চলিক অনেক সমস্যার সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। একটি মহৎ উদ্দেশ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি এখন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ, এর কোনো দৃশ্যমান কার্যকারিতা নেই। দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থার সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে আলাপ করার চেষ্টা করবেন। তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের একত্র করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন। পিটিআই’কে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন অবশ্যই, আমরা (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির) সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবো।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর সব রাষ্ট্রপ্রধান একত্রিত হয়ে একটি ছবি তোলার চেষ্টা করবো। সার্ক একটি মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য গঠিত হয়েছিল। এটি এখন কেবল কাগজে-কলমে বিদ্যমান। আমরা সার্কের নাম ভুলে গেছি, আমি সার্কের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। জাতিসংঘ কর্তৃক জারি করা বক্তাদের একটি অস্থায়ী তালিকা অনুসারে প্রধানমন্ত্রী মোদির ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন ২৪শে সেপ্টেম্বর শুরু হবে। চলবে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ইউনূস বলেন, অনেকদিন সার্ক সম্মেলন হচ্ছে না। আমরা যদি একত্র হই তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। আঞ্চলিক এই সংস্থাকে সক্রিয় করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল, যা ২০১৬ সালের পর থেকে খুব একটা কার্যকর নয়। সে বছর সার্কের শীর্ষ সম্মেলন ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনা ক্যাম্পে ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর, ভারত বিরাজমান পরিস্থিতিতে শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশ, ভুটান এবং আফগানিস্তানও ইসলামাবাদ বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকার করার পরে শীর্ষ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছিল।  নোবেলজয়ী ইউনূস উল্লেখ করেছেন যে, সার্কের মতো আঞ্চলিক স্বার্থে গঠিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যদিও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন করেছে, সেক্ষেত্রে সার্ক এখনও তেমন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের দেশগুলো অনেক কিছু অর্জন করেছে। ড. ইউনূস বলেছেন- সার্ক যাতে কাজ করে তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকান এবং এটি কতটা উজ্জ্বলভাবে কাজ করছে। পাকিস্তানের ব্যাপারে কোনো সমস্যা হলে, অন্য উপায়ে কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু সার্কের কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

২০১৬ সালের পর থেকে সংস্থাটি কার্যকর নয় কারণ ২০১৪ সালে কাঠমান্ডুতে যে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইউনূস বলেছিলেন যে, তিনি মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি করার জন্য ভারতের সঙ্গে কাজ করবেন। ড. ইউনূস আরও বলেন, সংকট মোকাবিলায় ঢাকার ভারত ও চীন উভয়ের সহায়তাই প্রয়োজন।  রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের জন্য আমাদের ভারত ও চীনের সাহায্য দরকার। প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু এ পর্যন্ত যারা মিয়ানমারে ফিরে গেছে তাদের সংখ্যা খুব সামান্য। ভারতের মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে,  রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে বাংলাদেশের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন ড. ইউনূস। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সামরিক দমন-পীড়নের পর ২০১৭ সালে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল, যা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা জাতিগত নিধন হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মূলত তাদের নাগরিকত্ব এবং  মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ: নেতানিয়াহু চরম বিপাকে! by মাহবুব নাহিদ

নেতানিয়াহুর উপরে ভরসা নেই বাইডেন প্রশাসনের। অর্থাৎ নানামুখী সংকট কিন্তু চেপে ধরেছে নেতানিয়াহু সরকারকে। যেদিকেই যায় সাগর ফুরিয়ে যায়- এমন একটা অবস্থা। আর হামাস এখন একা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। ইরান একদম স্পষ্ট সহায়তা করছে হামাসের সঙ্গে। এই জায়গায়ও ব্যর্থ নেতানিয়াহু তথা ইসরাইল। কারণ ফিলিস্তিন একটা সুন্নি দেশ, হামাস সুন্নিদের সংগঠন কিন্তু ইরান শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা কীভাবে হামাসের পাশে দাঁড়ায়।

এটা না বুঝতে পারা কিংবা যেভাবে সুন্নিদের বড় বড় রাষ্ট্র বিশেষভাবে বললে সৌদি আরবকে চুপ রাখা গেছে, সেই জায়গা থেকে ইরান দাঁড়িয়ে যাবে সেটা তো ভাবতে পারেনি নেতানিয়াহু। কিন্তু এটা ভাবা উচিত ছিল...

জ  ন্ম থেকেই যাদের যুদ্ধ চলছে, ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছে একটা ভুলের মধ্যদিয়ে। একটা ভুল বললে ভুল হবে শত শত ভুলের একটা বাজে ফলাফল ছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মধ্যে ইসরাইল গঠন করা। সেই থেকে যে যুদ্ধ চলছে সেই যুদ্ধ আর থামছে না, থামে অবশ্য মাঝে মধ্যেই, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। থেমে গিয়ে আবার শুরু হয়, শুরু হলে আর থামে না।
গত ১১ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে হামাস এবং ইসরাইলী বাহিনীর মধ্যে। কিন্তু এবার যুদ্ধবিরতির একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আসলে ভিন্ন দিক থেকে আসছে। এবার যুদ্ধ বিরতি চাচ্ছে ইসরাইলের মানুষ। অন্যদিকে হামাস মনে করছে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রয়োজন নাই। কিছুদিন আগেই হামাস প্রধানকে হত্যা করা হয়। নিহত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এসব ঘটনা হামাসকে কোণঠাসা করলেও পিছপা হয়নি হামাস, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সাহস এবং শক্তি দুটোই দেখাচ্ছে তারা।

কিন্তু ইসরাইলের মানুষ কেন যুদ্ধবিরতি চাইছে? তাহলে কি তাদের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যেতে চাইছে? তাদের উদ্দেশ্য কি ভুলে গেছে তারা? ইহুদি জাতির ইতিহাস আমরা সবাই জানি। জার্মানির চ্যান্সেলর এডলফ হিটলার ইহুদিদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। একপর্যায়ে যুদ্ধ জিতেও যেতে পারতো হিটলার বাহিনী। কিন্তু উল্টো পরাজয় বরণ করতে হয় তাকে। কিন্তু যুদ্ধে ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি হয়ে যায় ফিলিস্তিনের। উদ্বাস্তুর মতো ইহুদিদের পাঠানো হয় ফিলিস্তিনে, সেখানে একটা রাষ্ট্র গঠন হয় ইসরাইল। ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের একটা বড় উদ্দেশ্য আছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা সারা বিশ্ব শাসন করবে। সেই সারা বিশ্বকে শাসন করতে হলে তাদেরকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হচ্ছে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন জায়গায় যত ইহুদি আছে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে, গঠন করতে হবে একটা নিজস্ব রাষ্ট্র। এরপর তাদের একজন মাসিহ বা ত্রাণকর্তা আসবে যে কিনা তাদেরকে নেতৃত্ব দেবে, যাকে আমরা দাজ্জাল হিসেবে জানি। তার আগে তাদেরকে ভাঙতে হবে আল আক্‌সা মসজিদ, যেটা ভেঙে বানাতে হবে থার্ড টেম্পল বা কিং সালমানের মন্দির। এখন সেই মন্দির ভাঙার আগে তাদেরকে আবার পবিত্র হতে হবে। পবিত্র হওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে এক তরল পদার্থের যা পাওয়া যাবে লাল এক ধরনের গরু থেকে।

এত কথা বলার কারণ আছে। সারা বিশ্ব শাসন করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে এত সহজেই তারা যুদ্ধবিরতি চাইছে কেন? যুদ্ধবিরতি কারা চাইছে সেটা আগে দেখার বিষয়। যুদ্ধবিরতি চাইছে ইসরাইলের সাধারণ মানুষ। তার মানে নেতানিয়াহু সরকার অবশ্যই তাদের মূল যে উদ্দেশ্য আছে সেটাকে দেশের মানুষের মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারেন নাই। সেটাই যদি পারতেন তাহলে ইসরাইলের মানুষ কেন রাস্তায় নেমে আসবে!

মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে অবশ্য বিশেষ একটা কারণে। গত শনিবার গাজায় ইসরাইলের ৬ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ইসরাইলের সাধারণ মানুষ। ইসরাইলের ট্রেড ইউনিয়ন হিস্ট্রড্রট ধর্মঘটও পালন করে। ধর্মঘটের ফলে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় সকল কল কারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জিম্মিদের মুক্তির ব্যবস্থা করতে না পারায়, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ক্ষমা চেয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পুরো ঘটনার জন্য হামাসকেই সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু নেতানিয়াহুর অপারগতাও অস্বীকার করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে নেতানিয়াহু যথেষ্ট উদ্যোগ নিতে পারেনি বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুদ্ধবিরতি বিষয়েও চাপ দিতে থাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জিম্মিদের মুক্ত করতে না পারায় এত চটে যাওয়ার পিছনে অবশ্য কারণ আছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। গত শনিবার নিহত হওয়া ৬ জিম্মির মধ্যে একজন যে মার্কিন নাগরিক ছিল, তাই তো এত জোর তাদের! অর্থাৎ দেশটা ইসরাইলের হলেও চালায় যে আমেরিকা তা বুঝতে খুব একটা বুদ্ধিমান হওয়া লাগে না। তাদের নাগরিককে মুক্ত করতে পারে নাই বলে দেশে ধর্মঘট লাগিয়ে দিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা পাওয়ার পর্যায়ে নিয়ে গেছে তারা। সিলেবাসের বাহিরে প্রশ্ন আসলে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। এদিকে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই দেশটির কাছে বেশকিছু অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
যুদ্ধ যেমন দুইদিক থেকে হয় তেমনি যুদ্ধ বিরতি হলেও তো দুই দিক থেকেই হবে। হামলা দুইদিক থেকে হবে, মানুষ দুইদিকেই মারা যাবে। হামাসের বক্তব্য হচ্ছে- যদি ইসরাইল গাজায় অভিযান চালায় তাহলে জিম্মিরাও মুক্তি পাবে না। ইসরাইল যুদ্ধের নাম করেই বিভিন্ন জায়গায় দখল শুরু করেছে ইসরাইল। জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে দর্শনীয় একটি এলাকা হলো ফিলিস্তিনের বাত্তির। সেখানকার জলপাই বাগান এবং আঙ্গুরক্ষেতের জন্য পরিচিত এই গ্রাম। এখানে প্রাকৃতিক ঝরনার জল ব্যবহার করা হয় সেচের কাজে। কয়েক শতাব্দী ধরে এইভাবেই জীবন বয়ে চলেছে সেখানে।
প্রকৃতির কোলঘেঁষা এই গ্রামই অধিকৃত ‘ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক’ বা পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনের সর্বশেষ ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’-এ পরিণত হয়েছে।

ইসরাইল এখানে একটা নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন বা ‘সেটলমেন্ট’-এর অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন বসতির জন্য কেড়ে নেয়া হয়েছে বহু মানুষের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। শুধু তাই নয়, অনুমোদন ছাড়াই নতুন ইসরাইলি ফাঁড়িও স্থাপন করা হয়েছে।
অর্থাৎ হিসাব খুবই পরিষ্কার, কাজ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে। মানে ইসরাইলের কথা বলছি। তারা আস্তে আস্তে পুরো ফিলিস্তিন দখল করবে, এক সময় গাজা দখল করবে, আল আক্‌সা মসজিদ তাদের নিজেদের করে নেবে, এটাই তাদের ইচ্ছা বা স্বপ্ন। সব স্বপ্নই যে সবসময় বাস্তবে রূপান্তরিত হবে তা তো সত্যি নয়। আল আক্‌সা শুধু ফিলিস্তিনের মানুষের আবেগের জায়গা নয়, আল আক্‌সা সারা বিশ্বের মুসলমানদের আবেগ অনুভূতির জায়গা। এই মসজিদ মুসলমানদের কিবলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই মসজিদ মহানবী (সঃ)কে মিরাজের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে এই মসজিদ সকল মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর উপরে হাত দিতে আসলে একটা বড় সংঘর্ষের দিকে আগাবে।

ভারতের বেশ কয়েকজন সাবেক আমলা, সমাজকর্মী এবং খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন কোম্পানিকে দেয়া লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন লাইসেন্স দেয়া বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। আমেরিকার পাশাপাশি ভারতও ইসরাইলের একটা মিত্র শক্তি। ভারতের নির্বাচন ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। সেখানে ইসরাইলের বন্ধুপ্রতিম শক্তি বিজেপি তথা মোদী পুনরায় ক্ষমতা পেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে আমেরিকা নিয়ে। একে তো সামনে আমেরিকার নির্বাচন। অন্যদিকে আমেরিকাতেও সাধারণ মানুষ ফিলিস্তিনের উপর নির্যাতন বন্ধের জন্য সোচ্চার। আমেরিকাতেও বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষ আন্দোলন করে যাচ্ছে, প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। জার্মানিতে একটা অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটনকে একদম জনসমক্ষে যাচ্ছেতাই অবস্থা করে দেয়া হয় ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে। আমেরিকাতে বর্তমানে ডেমোক্রেটরা ক্ষমতায় আছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। ডেমোক্রেটরা এবার প্রার্থী হিসেবে পাচ্ছেন কমলা হ্যারিসকে। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, এবার রিপাবলিকান পার্টির ডনাল্ড টাম্পেরও যথেষ্ট এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। আর সেটা হলে ইসরাইলের উপর সুনজর সরেও যেতে পারে আমেরিকার। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর উপরে ভরসা নেই বাইডেন প্রশাসনের। অর্থাৎ নানামুখী সংকট কিন্তু চেপে ধরেছে নেতানিয়াহু সরকারকে। যেদিকেই যায় সাগর ফুরিয়ে যায় এমন একটা অবস্থা। আর হামাস এখন একা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। ইরান একদম স্পষ্ট সহায়তা করছে হামাসের সঙ্গে। এই জায়গায়ও ব্যর্থ নেতানিয়াহু তথা ইসরাইল। কারণ ফিলিস্তিন একটা সুন্নি দেশ, হামাস সুন্নিদের সংগঠন কিন্তু ইরান শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হওয়া সত্ত্বেও তারা কীভাবে হামাসের পাশে দাঁড়ায়। এটা না বুঝতে পারা কিংবা যেভাবে সুন্নিদের বড় বড় রাষ্ট্র বিশেষভাবে বললে সৌদি আরবকে চুপ রাখা গেছে, সেই জায়গা থেকে ইরান দাঁড়িয়ে যাবে সেটা তো ভাবতে পারেনি নেতানিয়াহু। কিন্তু এটা ভাবা উচিত ছিল।

এখন কথা হচ্ছে, এই যে একটা বৈশ্বিক সংকট। এটা কি শুধুই হামাস আর ইসরাইলের লড়াই। এর মধ্যে কী আর কারও কিছুই নেই? জাতিসংঘ থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠন কেন চুপচাপ বসে আছে! যতদিন সারা পৃথিবী এই সমস্যাকে বৈশ্বিক সমস্যা মনে না করবে, যতদিন সবাই এটাকে নিজেদের সমস্যা না মনে করবে ততদিন এর সমাধান হবে না। আসলে সবাই মিলে মজা দেখছে, এই মজা দেখা বন্ধ না হলে যুদ্ধও শেষ হবে না। যেভাবে ফিলিস্তিনের মানুষকে নির্বিচারে মারা হচ্ছে তা মানার মতো না। আবার ইসরাইলের যে কেউ মারা যাচ্ছে না, তাও তো না, যুদ্ধ হলেও খতিগ্রস্ত সবাই হবে। কিন্তু এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসার সমাধান খুঁজতে হবে। যুদ্ধবিরতি কোনো সমাধান হতে পারে না, প্রয়োজন যুদ্ধ বন্ধের।

পিস্তলের ভয় দেখিয়ে তারেক রহমানকে সাজা দিতে বলা হয় by লুৎফর রহমান

ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ বিচার চলছিল বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার সংক্রান্ত কথিত দুর্নীতি মামলার। রায় ঘোষণার আগে নানা নাটকীয় ঘটনা। বিচারক মোতাহার হোসেন স্বাভাবিকভাবে মামলার রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বদলে যায় দৃশ্যপট। চারদিক থেকে আসতে থাকে নানা চাপ, হুমকি। তারেক রহমানকে যেকোনোভাবে  হোক সাজা দিতে হবে।

সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার রায় যা হওয়ার তাই হবে। বিচারক প্রথমে এমন মনোভাব প্রকাশ করলে তার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা (পরে আইন সচিব হন) আবু সালেহ  শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল সরাসরি যোগাযোগ করেন মোতাহার হোসেনের সঙ্গে। চলে আলোচনা।

বিচারকের মনোভাব দেখে ভয়  দেখানোর কৌশল নেন দুলাল। ধানমণ্ডিতে উচ্চ আদালতের এক বিচারপতির বাসায় ডাকা হয়  মোতাহার হোসেনকে। সেখানে উপস্থিত হন জহিরুল হক দুলাল। সঙ্গে কয়েকজন  গোয়েন্দা কর্মকর্তা। কয়েকজন  কোমরে পিস্তল গুঁজে সেখানে প্রবেশ করেন। বিচারক  মোতাহার হোসেনকে বলা হয়, তারেক রহমানকে যেকোনো মূল্যে সাজা দিতে হবে। বিচারক তখন জানান, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই সাজা দেয়ার মতো। এ মামলায় সাজা দেয়া আইনসম্মত হবে না। তখন দুলাল বিচারককে প্রাণনাশের ভয় দেখান। গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেন। একপর্যায়ে দুলাল বিচারককে বলেন, আপনাকে রায় লিখতে হবে না। আমিই লিখে দেবো। আপনি শুধু পড়বেন। পরে দুলাল রায় লিখে পাঠিয়েছিলেন বিচারকের বাসায়। বিচারক মোতাহার অবশ্য আদালতে জহিরুল হক দুলালের লিখে  দেয়া রায় পড়েননি। তিনি নিজের লেখা রায় পড়ে তারেক রহমানকে অভিযোগ থেকে  বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন বিচারক  মোতাহার। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার এক মাস আগের এই ঘটনা উলটপালট করে দেয় তার সবকিছু। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে ফিরে আসলেও বুঝতে পারেন তাকে শায়েস্তা করার নানা আয়োজন চলছে। পরে নিজের অফিস গুছিয়ে অবসর নেয়ার আগের দিন প্রিয় কর্মস্থল ছাড়েন। এক  ছেলেকে নিয়ে চলে যান মালয়েশিয়া। এরপর অনেকটা ভবঘুরের মতো সময় কাটিয়েছেন। গোয়েন্দারা পিছু  নেয়ায় একস্থানে বেশি দিন থাকতে পারেননি। থাকতে পারেননি এক দেশেও। কয়েক দেশ ঘুরে ২০২২ সালে থিতু হন ফিনল্যান্ডে। ছেলেকে নিয়ে  সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরার চিন্তা করছেন বিচারক মোতাহার হোসেন।  হোয়াটসঅ্যাপে মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপে তিনি জানিয়েছেন, রায় দেয়ার আগে-পরের দুর্বিষহ পরিস্থিতি। দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই চুয়াডাঙ্গায় দলটির  নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় দিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন। পরে ৪১দিন আত্মগোপনে থাকতে হয় তাকে। চার বছর আগে বাংলাদেশে তার স্ত্রী মারা যান। তাকেও দেখার সুযোগ হয়নি। দুই ছেলেকে নিয়ে মোতাহার হোসেনের স্ত্রী দেশে ছিলেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদেরকেও এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ঘুরতে হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৭ই নভেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোতাহার। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে তিনি তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন।

অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের বিপক্ষে করা অভিযোগের কোনো তথ্য-প্রমাণ ছিল না উল্লেখ করে মোতাহার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়। সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে তাকে অভিযুক্ত করে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পরে মামলার নথি বিশদভাবে পর্যালোচনা করি। দেখি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ,  সেই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদানও নেই। এরপরও  যেহেতু চার্জ গঠিত হয়ে গিয়েছে এই কারণে আমাকে বিচার করতে হবে। আমি বিচার কন্টিনিউ করি। সাক্ষ্য গ্রহণ করি। আসামির বিরুদ্ধে তো  কোনো এভিডেন্স নেই। এভিডেন্স হলো জিরো। একজন সাক্ষীও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে তার নাম উচ্চারণ করেনি।  কোনো অভিযোগ দেয়নি। সেই মামলায় কী করে একজন আসামিকে সাজা দেয়া যায়।
মোতাহার হোসেন বলেন, দোষ না থাকার পরও বিদেশে অর্থ পাচার মামলার রায়ে যেনো তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয় সেজন্য সাবেক আইন সচিব দুলাল তাকে একের পর এক চাপ দিতে থাকেন। (জহিরুল হক দুলাল তখন আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন, আইন সচিব হন ২০১৫ সালে, অবসরের পর ২০২০ সালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান)। দফায় দফায় আমাকে, তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দিয়ে চাপ দিতে থাকেন। গোয়েন্দা সংস্থার  লোকজনকে আমার পেছনে  লেলিয়ে দেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধানও আমাকে নানাভাবে চাপ দেন। তারেক রহমানকে শাস্তি দেয়ার জন্য বলেন।আমি তাদের সবাইকে বলেছি, আমি আইন পর্যালোচনা করে আইনানুসারে বিচার করবো। ন্যায়বিচার হবে।

তিনি বলেন, রায় ঘোষণার আগের শুক্রবারে আমার বাসায়  গোয়েন্দা সদস্যরা আসলো। তারা আমাকে নিয়ে গেলেন ধানমণ্ডিতে তৎকালীন বিচারপতি আশিস রঞ্জন সাহেবের বাসায়। দুই-চার মিনিট পরেই দেখি জহিরুল হক দুলাল এবং

 ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশিস রঞ্জনের বাসায় আসেন। ঢুকে তাদের কেউ কেউ পিস্তল  বের করলো। পিস্তল বের করে গুলি লোড করছে। নাড়াচারা করছে। বলছে একবার ট্রিগার চাপলে এই পিস্তল দিয়ে ৮টি গুলি বের হয়। এসব করার কারণ ছিল আমাকে ভয়  দেখানো। আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি এবং বিচারপতিও ভয় পেয়ে যান। দুলাল বার বার বলতে থাকেন, মামলায় শাস্তি না দিলে, এই মামলায় জেল না দিলে, তারেক রহমানকে খালাস দিলে  কেউ নিস্তার পাবেন না। তখন আমি বিচারপতি আশিস রঞ্জন সাহেবকে বলি, স্যার এই মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে- নো এভিডেন্স। একজন সাক্ষীও, সরকারপক্ষ ছাড়া, তার বিরুদ্ধে নামও বলে নাই, তার নামই উচ্চারণ করে না, কোনো অভিযোগ দেয়া তো দূরের কথা। তার নামই নাই এভিডেন্সে। আমি কীভাবে পানিশমেন্ট  দেবো? আমি বললাম, আমি এ রায় লিখতে পারবো না। তখন দুলাল জাস্টিস আশিস রঞ্জন সাহেবকে বললেন, স্যার কী করা যায়? স্যার আপনি রায় লিখে  দেন, আমি দেখবো। জাস্টিস সাহেব বললেন, না। আমি রায় লিখতে পারবো না। মোতাহার সাহেবের রায় মোতাহার সাহেব লিখবে।
তখন জহিরুল হক দুলাল আমাকে বাসায় বসে রায় লিখতে বলেন। আমি বাসায় বসেই রায় লিখি। তারেক রহমানকে খালাস  দেয়ার রায় লিখি। রোববার সকালে জহিরুল হক গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের মাধ্যমে আমার কাছে রায় লিখে পাঠান। রায়টাসহ গোয়েন্দা বাহিনীর  লোকজন আমাকে বাসা থেকে  কোর্টে নিয়ে যায়। কৌশলে আমি আমার লেখা রায়টাও সঙ্গে নিই।
এজলাসে উঠে যা সত্য ও সঠিক  সেই রায়ই ঘোষণা করি। এরপরই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, নিরাপত্তার উদ্বেগ নিয়ে আমাকে আত্মগোপনে যেতে হয়।একপর্যায়ে আমি আবার কোর্টে আসি। অবসরের ঠিক কয়েকদিন আগে জানতে পারি অবসর  নেয়ার দিনই তারা আমাকে অপহরণ করে গুম করে দিতে পারে। তাদের এই পরিকল্পনা  জেনে আমি অবসরের আগের দিনই সব কাগজপত্র সই করে  বের হয়ে যাই।

তিনি বলেন, প্রথমে ছেলেকে নিয়ে মালয়েশিয়া যাই।  সেখানেও আমার পেছনে  গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। এক জায়গায় বেশি দিন থাকতে পারিনি। সেখান থেকে নেপালে গিয়ে থেকেছি কিছুদিন।  সেখানেও গোয়েন্দারা যায়। ২০২২ সালে ছেলে আরিফ হাসান রাহুলকে নিয়ে ফিনল্যান্ডে আশ্রয়ের অনুমতি পাই।

ওদিকে দেশে আমার স্ত্রী ও দুই  ছেলে ছিল। তারাও দুর্বিষহ সময় পার করেছে। ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তারা এক  জেলা থেকে আরেক জেলায় ঘুরে  বেরিয়েছে। চার বছর আগে স্ত্রী মারা যান। আমরা যেতে পারিনি। এখন দুই ছেলে নাটোরে থাকে।
রায় দেয়া নিয়ে আগে এমন  কোনো ঘটনা ঘটেছিল কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে চুয়াডাঙ্গায় একটি রায়  দেয়ার পর আমাকে পালাতে হয়েছিল। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আমি শাস্তি দিয়েছিলাম উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে। তারপর আদালতে হামলা হয়। আমার চেম্বারে গুলি করা হয়। বাধ্য হয়ে আমি আত্মগোপনে যাই। তখন প্রধান বিচারপতিসহ অনেকে আমাকে সাহায্য করেন। আমি আবার আদালতে ফিরতে পারি।

মোতাহার বলেন, আমার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হলো। আমার সম্পদের তথ্য চাইলো। ছেলের মাধ্যমে আমি তাদের জানালাম  দেশে-বিদেশে আমার কোথাও প্লট বা ফ্ল্যাট নেই।  পৈতৃক জমি আছে। বাগান আছে। ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরির্তনের পর অবশ্য দুদক আমার বিরুদ্ধে করা মামলা এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এখন দেশে ফিরবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দেশে দ্রুতই ফিরতে চাই। আমার জীবন থেকে অনেক কিছু চলে গেছে। আমার পরিবার ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে  গেছে। দেশে ফিরে আসলে কিছুটা শান্তি পাবো।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে বাংলাদেশ  স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। এখন সময় বিচার বিভাগকে সব ধরনের প্রভাবমুক্ত করা যাতে সব মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

পিওন থেকে ১০ জাহাজের মালিক খুলনার তুহিন ঠাকুর by রাশিদুল ইসলাম

শাহ আলম ঠাকুর তুহিন। নামে ঠাকুর হলেও তার পেশাক-আশাকের কারণে খুলনার অনেকেই তাকে দরবেশ বলে ডাকেন। এক সময় ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক শ্রমিক ইউনিয়নের পিওন। মাত্র দেড় যুগের মধ্যে রূপকথার মতো হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। দেশি ও আর্ন্তজাতিক রুটে চলে তার ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ। ঢাকা, খুলনা ও ফরিদপুরের নগরকান্দায় রয়েছে আলীশান বাড়ি। তার এই সবকিছুর শক্তি যুগিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ইদ্দিন, শেখ জুয়েল ও শেখ সোহেল। শুধু তাই না, নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মোংলা বন্দর এলাকা দাপিয়ে বেড়াতেন। শেখ পরিবারের আশির্বাদ নিয়ে বিনা ভোটে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্ট্রি ও জাহাজ মালিকদের সংগঠন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের পরিচালক হন। তিনি ছিলেন মোংলা বন্দরের অঘোষিত ডন। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন এই ধনকুবের।

কে এই তুহিন ঠাকুর: অনুসন্ধানে জানা যায়, তুহিন ঠাকুরের বাবা ঠাকুর আবুল বাশার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইন গ্রাম থেকে মোংলায় আসেন। তিনি ছিলেন মোংলা বন্দরের ডক শ্রমিক। বাবার কারণে নব্বই দশকের শেষের দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক শ্রমিক ইউনিয়নের পিওন হিসেবে চাকরি পান। সুচতুর তুহিন চাকরির পাশাপাশি মোংলা সেনাকল্যাণ সংস্থা ও বসুন্ধরা সিমেন্ট মিলে ব্রোকারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ২০০৬ সালে চাকরি ছেড়ে নৌ-পরিবহনে দালালি শুরু করেন।

যেভাবে উত্থান: ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্য খুলে যায়। এ সময়ে বাগেরহাটের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন খানজাহান আলী পরিবহনের ‘এমভি তন্ময়’, শেখ হেলালের স্ত্রী রূপা চৌধুরীর মালিকানাধীন অনন্যা করপোরেশনের ‘এমভি অনন্যা-১, ‘এমভি আনমনা’ নৌ-যানে কমিশন ভিত্তিক কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তার ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের মালিকানাধীন ‘আজমীর নেভিগেশন এন্ড কোম্পানির নৌযান ‘এমভি জয়নাব বাতুল, এমভি শেখ ফারদিন ও এমভি নাজিলা মরিয়ম’-এ  কাজ করেন। তখন থেকেই শেখ পরিবারের আশির্বাদ নিয়ে মোংলা বন্দরের নৌ-পরিবহনে ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নিতে থাকেন। শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল সার্বক্ষণিকভাবে খুলনায় না থাকার কারণে তাদের ব্যবসার তদারকির ভার পড়ে তার উপর। তখন সে নিজেকে শেখ পরিবারের লোক বলে ব্যবসায়ী সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। প্রথমে জাহাজ ভাড়া নিয়ে পণ্য পরিবহন করতেন। এরপর ধীরে ধীরে ১০টি পণ্যবাহী জাহাজের মালিক হন।
তুহিন ঠাকুরের মালিকানাধীন  জাহাজ: তুহিন ঠাকুরের মালিকাধীন ১০টি জাহাজ থাকলেও অনুসন্ধানে ৭টি পণ্যবাহী লাইটার ভ্যাসেল (জাহাজ)এর নাম জানা গেছে। জাহাজের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এমভি আবুল বাশার, এক হাজার টন ধারণ সম্পন্ন রয়েছে ৫টি জাহাজ। এগুলো হচ্ছে- এমভি তন্নি, এমভি তামিম, এমভি সোহাগ, এমভি সুলতানা চাঁদনী ও এমভি সুমি সুলতানা। সবচেয়ে বিলাসবহুল দেড় হাজার টন এমভি নগরকান্দা। এসব জাহাজগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে। এ ছাড়াও মেসার্স শিপিং লাইন্স ও মেসার্স আই এফ এস লজিস্টিকাস নামে দু’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট: তুহিন ঠাকুরের খুলনা মহানগরীর আজম খান কমার্স কলেজের সামনে বিলাসবহুল ‘নান্দিক আবেদীন ভিলায়’ রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, রায়পাড়া গফ্‌ফারের মোড়ে রয়েছে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া বাজারের কাছে রয়েছে আরও একটি বাড়ি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে রয়েছে জমি। মিরপুরে রয়েছে দু’টি ফ্ল্যাট। ফরিদপুরের নগরকান্দায় রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি। এ ছাড়া নগরকান্দায় কাইচাইন গ্রামে বিশাল এলাকা জুড়ে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন ‘তুহিন নগর’।

যেভাবে কাজ হাতিয়ে নিতেন: বহুরূপী তুহিন ঠাকুর একসময় মোংলা বন্দরের পিওন থাকলেও শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েলের দাপটের কারণে মোংলা বন্দরে অঘোষিত ডন বনে যান। তিনি বন্দরে ঢুকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হতো। এক সময় যেসব কর্মকর্তাদের স্যার বলে স্বম্বোধন করতেন তারাই তুহিন ঠাকুরকে দেখলে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াতে বাধ্য হতেন। বন্দরের নৌ-পরিবহনের অধিকাংশ কাজ বাগিয়ে নিতো তার মালিকানাধীন মেসার্স ইস্টার্ন কেরিয়ার্স। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল ছাড়াও অপর ৩ ভাইয়ের রয়েছে আরও জাহাজ। শেখ সোহেলের মালিকানাধীন শেখ নাবিলা করপোরেশন, শেখ রুবেলের মালিকানাধীন জালাল করপোরেশন এবং শেখ বেলাল উদ্দিন বাবুর মালিকানাধীন অহনা করপোরেশনের পণ্যবাহী জাহাজ দেখাশুনা করতেন এই তুহিন ঠাকুর। অভিযোগ রয়েছে শেখ পরিবার ও তুহিন ঠাকুরের জাহাজে পণ্য সরবরাহের পর অন্যান্য মালিকরা পণ্য সরবরাহের কাজ পেতেন। ফলে অনেক ব্যবসায়ীর নৌযানগুলো দিনের পর দিন অলস পড়ে থাকতো। শেখ পরিবারের দাপটে অনেকেই নিজের ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন।

সিটি মেয়রের ব্যবসায়িক পার্টনার: জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ‘বিটুমিন’ এর পদ্মার এপারে একমাত্র পরিবেশক তুহিন ঠাকুর। এ কারণে তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। ফলে মেয়রকে দিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারদের বাধ্য করতেন তার ‘বিটুমিন’ কেনার জন্য। এ থেকে বড় অংকের কমিশন পেতেন সাবেক এই মেয়র।
তুহিন ঠাকুরের প্রভাব বিস্তার ও অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যাবসায়ী বলেন, তুহিন ঠাকুরের জোরজবরদস্তি করে কাজ বাগিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ করলে অনেকেই নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। একাধিক নৌ-পরিবহনের মালিক অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদান করেতো তুহিন ঠাকুর।

অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকারক ও মোংলা বন্দরের কর্মকর্তাদের হুংকার দিয়ে বলতেন ‘এমপি হেলাল সাহেব ও এমপি জুয়েল সাহেবের নির্দেশে আমি এসেছি, ‘দেশ চলে এখন তাদের কথায়’। ‘আর তাদের কথার বাইরে মোংলা বন্দরের পানিও নড়বে না’। তার এ দাপটের কারণে বন্দরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা ছিলেন অসহায়। তাছাড়া ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইদের নিয়ন্ত্রণে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন সাবেক এমপি শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ২০১৭ সাল থেকে সরকার পতনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন তার ভাই শেখ সোহেল। কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তার আরেক ভাই শেখ রুবেল। তারা সবাই প্রভাব খাটিয়ে ভোট ছাড়াই এ পদ দখল করেন।
শুধু তুহিন ঠাকুরই নয়, খুলনায় শেখ পরিবারের আশির্বাদপুষ্ট ডজন খানেক ব্যক্তি শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। তারা অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এদের বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহ আলম ঠাকুর তুহিন প্রথমে বলেন, মোংলা বন্দরে আমার কোনো ব্যবসা নেই, কোনো জাহাজও নেই। পরে তিনি স্বীকার করেন তার দু’টি ভেসেল জাহাজ, স্ত্রীর নামে একটি জাহাজ, মেয়ের নামে একটি ও ছেলের নামে একটি জাহাজ রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ পরিবারের সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যে সম্পর্ক রয়েছে আমার সঙ্গে একইভাবে সম্পর্ক। আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে এ অবস্থায় এসেছি।

সিলেটে একটি অপহরণ মামলা, অনেক রহস্য by ওয়েছ খছরু

৫ই আগস্ট বিকালে বিজয় মিছিল নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় হামলা করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এ সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে; থানার কম্পাউন্ডের ভেতরের সড়কে পুলিশ এক যুবককে লাথি মারছে। ওই যুবক উঠে দাঁড়ানোরও শক্তি পাচ্ছেন না। দক্ষিণ সুরমার কাজী মিয়ার বাড়ির ভাড়াটে বাসিন্দা ঝর্ণা ভিডিও দেখে দাবি করেছেন; পুলিশ যাকে লাথি মারছিল তিনি তার নিখোঁজ স্বামী শাহজাহান মিয়া। এরপর থেকে তার স্বামী শাহজাহান মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন। তবে, স্বামী নিখোঁজের ঘটনায় এরই মধ্যে ২৬শে আগস্ট ঝর্ণা বেগমের নামে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঝর্ণা বেগম দাবি করেছেন, তিনি মামলার ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শাহজাহান মিয়া পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক।

বাড়ি মৌলভীবাজার সদরের সনকাপন এলাকায় বর্তমানে বসবাস করেন সিলেট নগরের ধরাধরপুরের কাজী মিয়ার বাড়িতে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ৫ই আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে অংশ নেন শাহজাহান মিয়া। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। কোথায় আছেন, কেমন আছেন- জানেন না তার পরিবারের সদস্যরা। শাহজাহানের সন্ধান চেয়ে গত ২০শে আগস্ট দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্ত্রী ঝর্ণা বেগম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৫ই আগস্টের ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওইদিন বিকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মিছিল থেকে থানায় হামলা করে। তারা ইটপাটকেল ছুড়ে থানার ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছিল। এমন সময় থানার ভেতর থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষিত হলে ছাত্র-জনতা থানা কম্পাউন্ড  থেকে দৌড়ে পালায়। একই সময় দেখা যায় দক্ষিণ সুরমা থানা কম্পাউন্ডের ভেতরের সড়কে এক যুবক পড়ে আছে। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে ওই যুবককে লাথি দেয়া হচ্ছে। তবে ওই যুবক গুলিবিদ্ধ কিনা- সেটি ভিডিও দেখে  বোঝা যায়নি। এই ভিডিওর সূত্র ধরে ঝর্ণা বেগম দাবি করেন, পুলিশ যাকে লাথি দিচ্ছিল ওই ব্যক্তিই তার স্বামী শাহজাহান। এ ব্যাপারে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং স্বামীকে এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় ঝর্ণা বেগমকে বাদী করে ২৬শে আগস্ট দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঝর্ণা বেগমের দাবি হচ্ছে; তিনি ওই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় নগরের চণ্ডিপুল সিএনজি অটোরিকশা শাখার চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী তার কাছ থেকে কাগজে একটি স্বাক্ষর নেন। স্বামীকে খুঁজে আনার জন্য এ স্বাক্ষর নেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শুনেন এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। তিনি বলেন- ‘ভিডিওতে দেখেছি আমার স্বামীকে পুলিশ লাথি দিচ্ছে। এখন পুলিশই আমার স্বামীকে বের করে দেবে। এক মাস হয়ে গেল আমার স্বামীর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।’ দক্ষিণ সুরমা থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সে মামলার প্রধান সাক্ষী হচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের নেতা সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাহমুদ আলী। তিনি সহ আরও ৭ জনকে এ মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষীদের সবাই সিএনজি অটোরিকশা চালক বলে জানিয়েছেন মামলার প্রধান সাক্ষী মাহমুদ আলী। জানান, দক্ষিণ সুরমা থানায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সে মামলায় আমাকে সাক্ষী করার বিষয়টিও জানি না। কখন মামলা হয়েছে তাও জানি না। আরও যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারাও মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছেন। ঝর্ণা বেগমের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার বিষটি সত্য নয় বলে জানান শ্রমিক নেতা মাহমুদ আলী। এদিকে থানায় যে মামলা করা হয়েছে সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, পরিবহন মালিক সমিতির নেতাসহ সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

এ কারণে মামলা দায়েরের পর এজাহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানার সাব-ইন্সপেক্টর সৈয়দ শাফি মাহমুদ রাসেল জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের পর আমি বাদীসহ পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা থানায়ও এসে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ছাড়া যাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তার মোবাইল চিহ্নিত করার জন্য এরই মধ্যে আবেদন করা হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষ এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছেন। বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার রাতে নগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ফখরুল ইসলাম নিখোঁজ ওই সিএনজি চালকের বাড়িতে যান। এ সময় তার কাছেও মামলার বিষয়ে অভিযোগ জানান স্বজনরা। পরবর্তীতে মিডিয়ায় দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নগর জামায়াত আমীর বলেছেন, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন বিজয় মিছিলে শামিল হন সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহজাহান আহমদ। সেদিন বিকালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহজাহানসহ ৪ জনের মরদেহ পুলিশ দক্ষিণ সুরমা থানার ভেতরে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ভিডিওতে লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুটি মাসুম বাচ্চার পিতা শাহজাহানের মরদেহ গুমের ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। অবিলম্বে নিহত শাহজাহানের খুনি ও লাশ গুমকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এ সময় তিনি শাহজাহানের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্ব্তনা দেন, সহমর্মিতা প্রদান করেন ও নগদ দুই লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান দেন। এ ছাড়া জামায়াতের পক্ষ থেকে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের অভিযোগে ২২২ বাংলাদেশি আটক by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় কোম্পানি ও কাজ চেঞ্জ করার অভিযোগে ২২২ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির কেদাহ রাজ্যের কুলিমে বিদেশি কর্মীর কর্ম পরিবর্তনের পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একটি এজেন্সি অফিসে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে মোট ২২৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে।

কেদাহ জিআইএম এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিটের ইমিগ্রেশন অফিসারদের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশি ছাড়াও ৫ চীনা এবং একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

দেশটির কেদাহ ইমিগ্রেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে, ইমিগ্রেশনের ডিরেক্টর মোহাম্মদ রিদজুয়ান মোহাম্মাদ জেইন বলেন, অভিযানের সময় দেখাগেছে জড়িত এজেন্সিগুলো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে কর্মিদের সব সেক্টরে কোম্পানি চেঞ্জ করা ও ভালো কাজের প্রলোভনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিলো।

ইমিগ্রেশনের উক্ত বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে, নিজের কোম্পানির অনুমতি ছাড়া কোনো এজেন্সির প্রলোভনে কর্মসংস্থান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে। এছাড়া এজেন্সিটি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত কি না তা নিশ্চিত হয়ে সেখানে যেতে প্রবাসী কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩, ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯৬৬ এবং অ্যান্টি-ট্রাফিকিং ইন পারসনস এবং অ্যান্টি-হিউম্যান স্মাগলিং অ্যাক্ট ২০০৭ অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আটকদের ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আলোর সেতার ইমিগ্রেশন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

রুশ ভূখণ্ডে আক্রমণ করে ভয়ংকর ফাঁদে ইউক্রেন!

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রীতিমতো সবাইকে অবাক করে দিয়ে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালায় জেলেনস্কি বাহিনী। এরপর থেকেই প্রশংসার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু পুতিনের পাল্টা খেলায় এখন সেই প্রশংসার পালে দেখা দিয়েছে উদ্বেগের হাওয়া। একদিকে ইউক্রেন যখন কুরস্ক অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে অন্যদিকে নিজ দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হারাচ্ছে তারা।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউক্রেন বাহিনী যখন কুরস্ক দখলে ব্যস্ত তখন রুশ বাহিনী প্রতিদিন ইউক্রেনের ডনবাসের নতুন নতুন এলাকা দখল করছে। বিশ্লেষকদের মতে ইউক্রেন বাহিনী যখন রুশ ভূখন্ড খুব অল্প জায়গা দখল করতে তুমুল লড়াই করছে তখন রাশিয়ার সামরিক বাহিনী প্রায় বিনা বাধায় কাঙ্খিত ডনবাস অঞ্চলে দখলের পথে এগিয়ে চলছে।

কিয়েভের দাবি কুরস্ক অঞ্চলের এক হাজার কিলোমিটারের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর সফলতা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। কেননা এমন মরিয়া সিদ্ধান্তে যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে কিয়েভ। রুশ অঞ্চল দখলের কৃতিত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজ সেনাদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা চালালেও ইউক্রেনের অভ্যন্তরে থেমে নেই পুতিনের সেনারা।

বেশ কয়েকমাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলের দিকে আরও অগ্রসর হয়েছে মস্কোর সামরিক বাহিনী। দখলে নিয়েছে কিরোভো গ্রাম। পতনের মুখে রয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের ঘাঁটি থাকা গুরুত্বপূর্ণ পোকরোভস্ক শহর। দোনেৎস্ক অঞ্চলে রেল রুটে যুদ্ধের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ইউক্রেনের কাছে পোকরোভস্ক অঞ্চলটি দ্যা রোড অব লাইফ নামে পরিচিত।

শহরটি দখল করে নিলে পূর্বাঞ্চলে ধসে পড়বে ইউক্রেনের প্রতিরোধ। এর মাধ্যমে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চলই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসার সামিল হবে বলে জানিয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে কুরস্ক আক্রমণের মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী হিসেবে চরম গোলমাল করে ফেলেছে বলে জানাচ্ছেন কিয়েভের সমালোচকরা। কুরস্কের কিছু অঞ্চল দখলের তৃপ্তি নিয়ে ইউক্রেনকে ব্যস্ত রাখা বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতা প্রেসিডেন্ট পুতিনের আরও একটি হিসেবি চাল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কয়েক স্তরের প্রতিরক্ষায় পোকরোভস্ককে দুর্গের মতোই এতদিন আগলে রেখেছে ইউক্রেন। তবে কিয়েভের শক্তিশালী সেনা ইউনিটগুলো কুরস্ক আক্রমণ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রতিরক্ষা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে পোকরোভস্কের। এমনকি কুরস্কে ইউক্রেনের হামলার পর সম্মুখ সারি থেকে খুব বেশি সেনাকেও অঞ্চলটিতে সরিয়ে আনেনি মস্কো। দোনেৎস্কে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের মেরুদণ্ড বলে পরিচিত পোকরোভস্ক শহরটি এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আসা এখন সময়ের ব্যাপার। 

দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। গ্রাফিক্স : কালবেলা

অ্যাম্বুলেন্সে অসুস্থ স্বামীর সামনে স্ত্রীর শ্লীলতাহানি, অতঃপর...

বিপদে যে কোনো নারী-পুরুষের ভরসার জায়গা হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অবিচ্ছেদ্য অংশ অ্যাম্বুলেন্স। বিপদে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিতে গিয়ে বিভৎস অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এক নারী। কেবল তাই নয়, অ্যাম্বুলেন্স থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে তার স্বামীকেও।

সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তর প্রদেশে অ্যাম্বুলেন্সে এক নারীকে তার অসুস্থ স্বামীর সামনে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এ সময় তিনি তাদের বাধা দিলে তারা অ্যাম্বুলেন্স থেকে তাকে ও তার স্বামীকে ফেলে দেয়। এমনকি অসুস্থ স্বামীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্কও খুলে ফেলেন অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা।

গত ৩০ আগস্ট ভয়াবহ এ অভিজ্ঞতার শিকার হন ওই নারী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী মারা যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই নারী প্রথমে তার স্বামীকে বাসতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী তার স্বামীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না। ফলে তিনি স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাকে জোর করে পাশে বসান এবং তাকে যৌন হেনস্তা করেন। এ সময় তিনি চিৎকার করলে অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাকে ও তার স্বামীকে রাস্তায় ফেলে দেন। এমনকি তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকারও লুট করে নেন তিনি।

বিষয়টি প্রথমে ওই নারী তার ভাইকে অবহিত করেন। পরে তার ভাই পুলিশে অভিযোগ করলে পুলিশ তার স্বামীকে অন্য আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি চিকিৎিসাধীন অবস্থায় মারা যান।
অ্যাম্বুলেন্স। প্রতীকী ছবি

ভারত থেকে কোথায় যাচ্ছেন শেখ হাসিনা?

কোথায় আবাস গড়বেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা? দেশে ফিরবেন কবে? নাকি ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে থেকে যাবেন? শেখ হাসিনাকে নিয়ে ঘুরেফিরেই সামনে আসছে এসব প্রশ্ন। এর আগে গুঞ্জন ছড়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা এখনো অন্তত ৪টি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব অথবা ফিনল্যান্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে।

তবে এমন কথা আগেও ছড়িয়েছিল বিভিন্ন মাধ্যমে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, তার মা আপাতত কোথাও যাচ্ছেন না। কোথাও যাবার জন্য আবেদনও করেননি। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে তিনি দেশে ফিরবেন বলেও জানান জয়।

ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভারত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে ফেরত পাঠানোর সমীকরণটা কেমন হবে? প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর মর্যাদা দেয়, সে ক্ষেত্রে হাসিনাকে ফেরানো কঠিন হবে। তার কারণ কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে বাধ্যবাধকতা থাকবে না। তবে ঢাকা-দিল্লির মধ্যকার নতুন সম্পর্ক জোরদার করতে হাসিনা ইস্যু ভারতের জন্য অস্বস্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে নাখোশ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলো। শুধু তাই নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতারাও হাসিনাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা বলছেন। এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে গণহত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

এমন আবহে ভারতীয় সংবাদ সংস্থার পিটিআইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগসহ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা-নির্যাতনের একপর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গুলি করে মারা হয় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারত যান শেখ হাসিনা। যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটে। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা মানুষ জানতে পারেনি -বললেন মইন ইউ আহমেদ

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে ১৫ বছরে শুধু বিগত সরকারের কথা শুনতে হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা অনেক কিছুই জানা নেই। জনগণও জানতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থানরত মইন ইউ আহমেদ গত বৃহস্পতিবার তাঁর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের ভাষ্য তুলে ধরেন। ‘মইন আহমেদ’ নামের ইউটিউব চ্যানেল ও বক্তব্য নিজের বলে প্রথম আলোকে গতকাল মুঠোফোনে নিশ্চিত করেছেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালে তিনি কথাগুলো বলতে চেয়েও পারেননি। তবে তিনি মনে করেন, তখন সেনাবাহিনী কী ভূমিকা নিয়েছিল এবং ঘটনা কী ছিল, সে সম্পর্কে মানুষের জানা উচিত। বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি এখন ঘটনাগুলো তুলে ধরতে পারছেন।

মইন ইউ আহমেদ প্রথম আলোকে আরও বলেন, তিনি অসুস্থ। চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যেই তিনি ঘটনা তুলে ধরেছেন।রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ঘটেছিল দেশের ইতিহাসের নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড। বিডিআরের বিদ্রোহে ওই সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।

মইন ইউ আহমেদ ২৫ আগস্ট ইউটিউব চ্যানেলটি খোলেন। সেখানে ২৯ মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও তৎকালীন সেনাপ্রধানের ভূমিকা অনেকের জানা নেই। অনেকে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন। ভূমিকা কী ছিল, তা তিনি জানাতে চান।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর অব্যবহৃত কিছু অস্ত্র বিডিআরকে দেওয়া নিয়ে বাহিনীটির তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের (হত্যাকাণ্ডে নিহত) সঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর কথা হয়। তিনি অস্ত্রগুলো নিতে রাজি হন। তখন পর্যন্ত বিদ্রোহ সম্পর্কে তিনি (বিডিআরের ডিজি) কিছুই জানতেন না বলেই সাবেক সেনাপ্রধানের বিশ্বাস।

একটি বৈঠকে থাকার সময় ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পিলখানায় কিছু একটা ঘটার তথ্য জানতে পারেন বলে উল্লেখ করেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কর্নেল ফিরোজ রুমে প্রবেশ করেন এবং আমাকে কানে কানে বলেন, পিলখানায় গন্ডগোল হচ্ছে। আপনার দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।’

মইন ইউ আহমেদ জানান, তিনি তখন ওই সভা স্থগিত করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিডিআরের ডিজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তাঁদের ফোন ধারাবাহিক ব্যস্ত ছিল। সামরিক গোয়েন্দারা তখন তাঁকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তিনি তখন সময় বাঁচাতে কারও নির্দেশ ছাড়াই সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডকে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করে, যার নামকরণ করা হয় ‘অপারেশন রি-স্টোর অর্ডার’।

সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে বিডিআরের ডিজিকে ফোনে পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, বিডিআর ডিজি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। তিনি (মহাপরিচালক) বলেন, দরবার চলাকালীন দুজন সশস্ত্র সৈনিক দরবার হলে প্রবেশ করে। একজন ডিজির পেছনে এসে দাঁড়ায়, অপরজন দরবার হল অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। তার পরপরই বাইরে থেকে গুলির শব্দ আসে। গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরবার হলে উপস্থিত সৈনিকেরা গন্ডগোল শুরু করে দেয়। তারা দাঁড়িয়ে যায়। দরবার হল থেকে বের হয়ে যায়।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, ‘মনে হলো সব পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে।’মইন ইউ আহমেদ বলেন, ‘অনেকে মনে করে, বিডিআর ডিজি সাহায্যের জন্য আমাকে কল করেছিলেন। এটা সত্য নয়। আমি বিডিআর ডিজিকে ফোন করি এবং আমরা কী ব্যবস্থা নিচ্ছি, তা ওনাকে জানিয়ে দিই।’

ওই দিন সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় বলে উল্লেখ করেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যেই তিনি (শেখ হাসিনা) বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় আমি তাঁকে অপারেশনের কথা জানালে তিনি জানতে চান, কতক্ষণ সময় লাগবে ব্রিগেডকে তৈরি করতে? আমি বললাম, সাধারণত ছয় ঘণ্টা লাগে। তবে তাড়াতাড়ি করে দুই ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা যায়।’

৪৬ ব্রিগেডকে পিলখানায় যাওয়ার অনুমতি শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে জানান মইন ইউ আহমেদ। ব্রিগেডটি এক ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা শুরু করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪৬ ব্রিগেডের তৎকালীন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাকিমের নেতৃত্বে ১০ জন কর্মকর্তা ও ৬৫৫ জন সৈনিক পিলখানার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রিগেডের অগ্রবর্তী দল জাহাঙ্গীর গেট অতিক্রম করে।

ওদিকে বিদ্রোহীরা বিডিআর গেটগুলোর সামনে আক্রমণ প্রতিহত করতে বিভিন্ন অস্ত্র মোতায়েন করে বলে উল্লেখ করেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, বেলা ১১টায় ৪৬ ব্রিগেডের প্রথম গাড়িটি পিলখানার মেইন গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে বিদ্রোহীরা একটি পিকআপ লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। এতে চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। চালকের পাশে বসা একজন গুরুতর আহত হন।

সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাঁর অফিস থেকে বিডিআরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তা সম্ভব হয়নি। হয়তো এর আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসের বরাত দিয়ে বলেন, শামসের ধারণা অনুযায়ী, সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই অনেক অফিসারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনীর ব্রিগেড পৌঁছায় ১১টার পরে।
মইন ইউ আহমেদ বলেন, ক্যাপ্টেন শফিক তাঁর নেতৃত্বে ৩৫৫ জন র‍্যাব সদস্য নিয়ে পিলখানায় পৌঁছান ১০টার আগেই। এ সময় তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পিলখানায় প্রবেশের অনুমতি চাইলেও তা পাননি। তিনি অনুমতি পেলে হয়তো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সুবিধা হতো এবং এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না।

সাবেক সেনাপ্রধান জানান, ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পিএসও এএফডি (প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার–সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ) তাঁকে জানান, সরকার রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, কোনো আলোচনার আগে সেনাবাহিনীকে এই এলাকা থেকে চলে যেতে হবে। তাই সরকার আদেশ করেছিল, সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে হবে। অন্তত দুই কিলোমিটার উত্তরে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সমঝোতা না হলে তখন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আনুমানিক দুপুর ১২টায় পিএসও ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে মইন ইউ আহমেদকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যেতে বলেন। তিনি সেখানে যান। মইন ইউ আহমেদ বলেন, বেলা একটার দিকে সাদা পতাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম আলোচনার জন্য পিলখানায় যান। এরই মধ্যে সরকার থেকে বলা হলো, সেনাবাহিনী পিলখানার প্রধান ফটক এলাকায় থাকবে। র‍্যাব ও পুলিশ আরও দুটি এলাকায়। ডেইরি গেট এলাকাটি অরক্ষিত ছিল।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, যমুনায় গিয়ে তিনি অনেক লোককে দেখেন, যাঁদের কোনো কাজ ছিল না। কৌতূহলবশত এসেছিলেন। মন্ত্রিসভা বৈঠক করছিল। কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না। ওই সময় পিলখানা থেকে পালিয়ে আসা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, সেখানে অনেককে হত্যা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার পর আরেকটি ছোট বৈঠক করে তিন বাহিনীর প্রধানদের শেখ হাসিনা ডাকেন বলে উল্লেখ করে মইন ইউ আহমেদ বলেন, তিনি যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পরে বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান সেখানে যান। শেখ হাসিনা তাঁদের জানান, রাজনৈতিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম বিদ্রোহীদের একটি দলকে নিয়ে যমুনায় আসছেন এবং তারা (বিদ্রোহীরা) সাধারণ ক্ষমা চায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) বলেন, বিদ্রোহীদের কিছু বলার থাকলে তিন বাহিনীর প্রধান যেন তাঁদের বলেন।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, ‘তখন আমি তাঁকে (শেখ হাসিনা) বলি, “অনেকে নিহত হয়েছেন। তাদের কোনো দাবি মানা যাবে না। আপনি তাদের বলবেন, প্রথমত, অফিসার হত্যা এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে এখনই মুক্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত, অস্ত্রসহ বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং চতুর্থত, সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”’

একটা পর্যায়ে শেখ হাসিনা বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বলে উল্লেখ করেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, বৈঠকে শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম ছিলেন। প্রথম পর্যায়ে আলোচনা তাঁর (মইন) জানা নেই। পরের পর্যায়ে তাঁকে ডাকা হয়। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের জন্য বলেন। বিদ্রোহীরা ৬টা ৩৭ মিনিটে যমুনা থেকে পিলখানার উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে গিয়ে তারা ঘোষণা দেয়, সাধারণ ক্ষমার প্রজ্ঞাপন না হলে তারা আত্মসমর্পণ করবে না। তারা গোলাগুলিও শুরু করে। কর্মকর্তাদের খুঁজতে থাকে।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, রাত ১২টায় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস ও তৎকালীন আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) পিলখানায় যান আলোচনার জন্য। একপর্যায়ে বিদ্রোহীরা কিছু অস্ত্র সমর্পণ করে এবং আটটি পরিবারকে মুক্তি দেয়। শুধু তিনটি পরিবার ছিল সেনা অফিসারদের। সাহারা খাতুন জানতেন অফিসারদের বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি তাঁদের মুক্তির ব্যাপারে উদ্যোগ নেননি, কোনো খোঁজও নেননি।

২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার গোলাগুলি শুরু করে বিদ্রোহীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে ডেকে নেন জানিয়ে মইন ইউ আহমেদ বলেন, তাঁকে জানানো হয় বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ না করলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি সাভার থেকে ট্যাংক আনার অনুমতি চান। সেটা দেওয়া হয়। তিনি ট্যাংক রওনা দেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন। অন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও ট্যাংক আসার কথা শুনে বিদ্রোহীরা কোনো শর্ত ছাড়া আত্মসমর্পণে রাজি হয়। শেখ হাসিনা বেলা দুইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেন। সেই পরামর্শ তিনি (মইন) দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর আক্রমণ প্রস্তুতি দেখে বিদ্রোহীরা আলোচনা ও আত্মসমর্পণের জন্য উদ্‌গ্রীব হয় এবং সাদা পতাকা টানিয়ে দেয়। রাতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দল পিলখানায় প্রবেশ করে এবং বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে ৩৩ ঘণ্টার বিদ্রোহের অবসান হয়। প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, যাঁরা সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ছিলেন।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার তদন্ত নিয়েও কথা বলেন মইন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় আমি যখন তদন্তের আদেশ দিই, তখন আমাকে বলা হয়; যখন সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করছে, তখন আমাদের এর প্রয়োজনটা কী?’
মইন ইউ আহমেদ বলেন, প্রতি–উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এত সেনা অফিসার হত্যার কারণ তাঁকে বের করতে হবে। তারপর সরকার আর উচ্চবাচ্য করেনি। তবে তদন্তে সরকার তেমন সহায়তা করেনি। সেনাবাহিনীর তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা)।

মইন ইউ আহমেদ বলেন, তিনি আশা করেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তদন্ত কমিটি পুনর্গঠিত করে জড়িত ব্যক্তিদের বের করতে সক্ষম হবেন। তিনি নতুন সরকার গঠনের পর মুঠোফোনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন।

বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে মইন ইউ আহমেদ বই লিখেছেন এবং তা শিগগিরই প্রকাশিত হবে বলে ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ

 

কেনিয়ায় স্কুলের বোর্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৭ শিক্ষার্থী

কেনিয়ার একটি আবাসিক স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৭ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় ১৩ জনের অধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, শুক্রবার কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলের নাইরি নামে এলাকার একটি স্কুলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বোর্ডিং ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে বলে সতর্ক করা হয়েছে। নাইরির পাহাড় ঘেঁষা ওই স্কুলটিতে যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্কুলটি রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এখনও আহত সকলের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে হতাহতের বেশির ভাগই শিশু বলে জানানো হয়েছে।

স্কুলটিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০। এদের বেশির ভাগই ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তবে ঠিক কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র রেসিলা ওনিয়াঙ্গো বলেছেন তারা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। মৃতদেহগুলো আগুনে এতটাই ঝলসে গেছে যে তাদের দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কেনিয়ার এফএম-৯৬ রেডিওতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন এবং তারা কাজ করছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এক্সের এক বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রুটোর ডেপুটি, রিগাথি গাচাগুয়া জানিয়েছেন, বোর্ডিং স্কুলের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশকৃত সুরক্ষা নির্দেশিকাগুলি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্কুল প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কেনিয়া রেড ক্রস এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে, তারা বলেছে যে, কমপক্ষে ১১ জন আহত শিশুকে নয়েরি প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংস্থাটির এক্স-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। কেনিয়া রেড ক্রস ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মানসিক সহায়তা সেবা প্রদান করছে এবং স্কুলে একটি ট্রেসিং ডেস্ক স্থাপন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত স্কুলটির আশপাশে একাধিক বোর্ডিং স্কুল রয়েছে। এর আগেও এসব অঞ্চলের স্কুলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। অভিভাবকরা মনে করেন তাদের বাচ্চারা স্কুলের বোর্ডিংয়ে থাকলে অধিক পড়া-লেখার সময় এবং সুযোগ পাবে। এর আগে ২০১৬ সালে নাইরোবির পার্শ্ববর্তী এলাকা কিবেরায় একটি ছাত্রী বোর্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেসময় একাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। তার এক বছর পর নাইরোবিতে একটি স্কুলে অগ্নিদুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০১ সালে কিয়াঙ্গুলি এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। 

mzamin

ভারতের সশস্ত্রবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বললেন রাজনাথ

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, ভারত শান্তিপ্রিয় দেশ। শান্তি রক্ষার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্নৌতে সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে এক কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ। তিনি ইউক্রেন এবং গাজায় চলমান সংঘাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে সামরিক বাহিনীকে এসব ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেন এবং তাদের এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিটি ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে রাজনাথ সিং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির তাৎপর্যের উপর জোর দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর চীনের সঙ্গে যে সীমান্ত রয়েছে তার কথা উল্লেখ করেছেন এবং পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণের জন্য জোর দিয়েছেন।

রাজনাথ সিং বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উপভোগ করছে এবং শান্তিপূর্ণ বিকাশ অব্যাহত রেখেছে। তবে, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় আমাদের শান্তি বজায়  রেখেছি যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বর্তমান সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমানে আমাদের চারপাশে যা ঘটছে তা গভীর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং ভবিষ্যৎমুখী হওয়ার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকা উচিত বলে মনে করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ প্রমাণিত করা উচিত নয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্রাগারে ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের সঠিক মিশ্রণ চিহ্নিত করতে এবং অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া মহাকাশ এবং তথ্যপ্রযুক্তির যুদ্ধে সক্ষমতা বিকাশের ওপর জোর দিয়েছেন রাজনাথ। তিনি আধুনিক সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের অবিচ্ছেদ্য করণীয়  বর্ণনা করেন। এক্ষেত্রে সামরিক নেতৃত্বকে ডেটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান রাজনাথ। তবে তিনি বলেছেন এসব প্রস্তুতি সরাসরি কোনো সংঘাত বা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য নয়। কেননা তাদের পরোক্ষ অংশগ্রহণ অনেকাংশে বর্তমান পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের লক্ষ্নৌতে দুইদিনব্যাপী সশস্ত্র এই কনফারেন্স শুরু হয় গত বুধবার। কনফারেন্সে অংশ নেন ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী এবং প্রতিরক্ষা সচিব গিরিধর আরমানে।

সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিবের এত সম্পদ! by মারুফ কিবরিয়া

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আটতলা বাড়ি। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর-মিরপুর এলাকায় রয়েছে একাধিক প্লট। রয়েছে ফ্ল্যাট-গাড়িও। এসব সম্পদ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিব (বর্তমানে পিআরএল ভোগরত) দিদারুল আলম চৌধুরীর। অভিযোগ রয়েছে চাকরি জীবনে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়েছেন তিনি। মানবজমিন’র অনুসন্ধানেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দিদারুল আলম চৌধুরীর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একাধিকবার জমা পড়েছে অভিযোগ। প্রথমবার সংস্থাটি সেটি আমলে নিলেও খতিয়ে দেখতে সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আবারো অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রীর নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তারের পরপর এই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। সে অবস্থায়ই অবসরে যান দিদারুল।
সরজিমন দেখা যায়, মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার ১৪ নম্বর সড়কে ৯৯ নম্বর বাড়িটি সংসদ সচিবালয়ের এই কমকর্তার।

তিন বছর আগে নির্মাণ করা হয়। তবে আটতলা পর্যন্ত সবক’টি ফ্লোরের কাজ শেষ করেছেন দিদারুল। বাড়ির সামনে কোনো নামফলক না থাকলেও নিচতলায় ছোট একটি অফিস কক্ষ রয়েছে। যেখানে তার নাম ও কর্মস্থলের পদবি লেখা রয়েছে। সেই বাড়ির ফটকে গিয়ে কড়া নাড়লে এক নারী বের হয়ে আসেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে ওই নারীর আলাপে আরও নিশ্চিত হওয়া যায় আটতলাবিশিষ্ট এই বাড়ির মালিক উপ-সচিব দিদারুল আলম চৌধুরী। পরিচয় জানতে চাইলে ওই নারী জানান, বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্ব পালনকারীর (কেয়ার টেকার) স্ত্রী তিনি। এমনকি নামও বলতে চাননি। অবশ্য ওই নারীই বলেছেন, বাড়িটি দিদারুল আলম চৌধুরীর। তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় গ্যারেজে নীল রঙের গাড়ি দেখা যায়। যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৮৩৩১। ওই গাড়িটিও সরকারি এই দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপ-সচিব দিদারুল আলম চৌধুরী মোহাম্মদপুরের ওই বাড়ি থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন। প্রতিটি ফ্ল্যাট সাড়ে ১৩ হাজার করে ভাড়া দেন। শুধু তাই নয়, অষ্টম তলায় ছাদের উপর দু’টি ছোট পরিবার থাকার মতো ঘরও তৈরি করেছেন দিদারুল।  

জানা গেছে, চাকরিতে যোগদান করেন পার্সোনাল অফিসার (পিও) পদে। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম গ্রেডের) এ কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ৯ হাজার ৬শ’ টাকা এবং অন্যান্য ভাতা ১৫শ’ টাকা মিলিয়ে সাকুল্যে ২৭ হাজার ১শ’ টাকা। এই বেতনে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাসের পাশাপাশি সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চাকরির সুবাদে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। চাকরিজীবনে অফিস আদেশ-বহির্ভূত জার্মানিতেও ছিলেন দিদারুল আলম। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি পদোন্নতি পেয়ে উপ-সচিব হয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন। প্রথম ঘরে একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় ঘরে ৩ মেয়ে রয়েছে। তাদের প্রত্যেককে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন।
দিদারুলের যত সম্পদ: ঢাকা উদ্যানের নবীনগর হাউজিংয়ে সাততলা বাড়ির জমিটি দিদারুল আলম কেনেন ১৯৯৭ সালে। তৎকালে তিনি পার্সোনাল অফিসার (পিও) পদে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া মিরপুর পর্বতা মৌজায় ৬.৫ শতাংশ ভূমি, রামচন্দ্রপুর মৌজায় সিএস ও এসএ ৪৬৮ নং দাগে ৫২০০ অযুতাংশ ভূমি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুরে স্বপ্ননগর আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের ভবন নম্বর ১-এর এ/১ নম্বরে ১৫৪৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বুকিংকৃত। অন্যদিকে রাজধানীর বিএনপি বাজার এলাকায় দু’টি দোকানও রয়েছে দিদারুল আলমের নামে।
যত অভিযোগ: সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি জার্মানিতে যান। জার্মানি থেকে ফিরে কৌশলে আবার সংসদ সচিবালয়ে যোগদান করেন দিদারুল আলম চৌধুরী। দ্বিতীয় স্ত্রী মারফেতুন্নেছার দায়ের করা নারী নির্যাতন ও ভরণ-পোষণ মামলায় দিদারুল আলমকে ২০২৩ সালের ২৩শে জুন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুব জামিল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়- মো. দিদারুল আলম চৌধুরীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২,

ঢাকার মামলা নং ৯২/২০২৩তে অভিযুক্ত হয়ে গত ৫ই জুন হতে জেলহাজতে অবস্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ (২) ও সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারা মোতাবেক ৫ই জুন থেকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। অবশ্য বিশদিন জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হন দিদারুল আলম।

২০২৩ সালের ২রা মার্চ দিদারুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ দাখিল করেছেন তারই স্ত্রী মারফেতুন্নেছা। দিদারুল সংসদ সচিবালয় থেকে ‘এ’ টাইপের বাসা পেতেন। তিন রুমের সেই বাসাটি সাবলেট হিসেবে এক পরিবারকে ভাড়া দিয়েছিলেন। সেই পরিবার থেকে মাসে ২২ হাজার টাকা আদায় করতেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সংসদের বাসা বাতিলের জন্য চিঠি দেন স্পিকারকে। অবশ্য বর্তমানে অবসরে যাওয়ায় সরকারি বাসাটি এখন আর দিদারুল আলমের নামে নেই।  দিদারুল আলম চৌধুরী ১৯৮৬ সালে সংসদ সচিবালয়ে যোগদান করেন পার্সোনাল অফিসার (পিও) পদে। তার বর্তমান পদ উপ-সচিব। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এ পদোন্নতি হয়। এরও আগে তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব (৬ষ্ঠ গ্রেড) পদে ৬ থেকে ৭ বছর কাজ করেছেন। তার আগে ছিলেন নবম গ্রেডের সহকারী সচিব।

অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় দিদারুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে। কিন্তু তিনি কোনোবারই ফোন রিসিভ করেননি।

গাজী টায়ারসে লুটপাট-অগ্নিসংযোগ: কী ঘটেছিল সেদিন? by নাজমুল হুদা

রূপগঞ্জে ৯৬ বিঘার উপর গাজী টায়ারস কারখানা। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে পুরো কারখানাটি। অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটিতে চালানো যাচ্ছে না উদ্ধার কাজও। অগ্নিসংযোগের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের সন্ধান পেতে এখানো কারখানার সামনে আসছেন স্বজনরা। এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহের আলামত পায়নি উদ্ধারকারী দল। তবে রোববার নিখোঁজের স্বজনরা মানুষের হাড় ও মাথার খুলি সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছেন। বর্তমানে কারখানাটির প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক ব্যক্তি ছাড়া ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না কাউকেই। ২৫শে আগস্টের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় ও কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দের জেরে লুটপাট করা হয় কারখানায়। তবে লুটপাটের সময় কারখানার ভেতর ৩টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তারপরও একটি গ্রুপ সেখানে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। এ সময় ভবনের উপরের তলায় অনেকেই আটকা পড়ে যান।

সূত্র জানায়, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেপ্তারের খবরের পরই ঘটে গাজী টায়ারস কারখানায় লুটপাটের ঘটনা। তবে লুটপাটের আগে খাদুন উত্তরপাড়া মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করা হয় কারখানার সামনে। একপর্যায়ে কারখানার পূর্ব পাশ দিয়ে খাদুন এলাকার একটি গ্রুপ কারখানার ভেতর লুটপাট করে। ওদিকে প্রধান ফটক দিয়ে আরেকটা গ্রুপ ঢুকে লুটপাটে অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র বলছে, গত ৫ই আগস্টও লুটপাট হয় কারখানায়। তার কিছুদিন পর থেকে স্থানীয় সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা তোফাজ্জেল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রায়হান মীরের ভাই ছাত্রলীগ নেতা রবিনসহ ২০ জনের একটা গ্রুপ প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে কারখানা পাহারা দিতো। তবে তারা প্রতিদিন জনপ্রতি ৫ হাজার করে এক লাখ টাকা দাবি করে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। সেটা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মসজিদে মাইকিং করে পাহারা দেয়া ওই গ্রুপটি। মসজিদের মাইকে গাজী গ্রুপের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দে জড়ানো মালিকদের মানববন্ধন করার জন্য ডাকা হয়। মাইকে ঘোষণার পর তারা কারখানায় লুটপাট শুরু করলে সাধারণ পথচারী ও আশেপাশের কারখানার শ্রমিকরা লুটপাট শুরু করেন। এ সময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। লুটপাটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় বরাবো এলাকা থেকে শহিদুল ওরফে ডাকাত শহিদুল ৫০ জনের একটা গ্রুপ নিয়ে লুটপাটের জন্য কারখানায় ঢুকে পড়ে। তখন আগের লুটপাটকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় শহিদুলের গ্রুপের। এ সময় বন্দুকের গুলির মতো শব্দও পান এলাকাবাসী। এ ছাড়া ওইদিন চনপাড়ার আরও একটি গ্রুপের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি গ্রুপ কারখানার নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়।

গাজী টায়ারস কারখানার পাশেই রূপসী বাসস্ট্যান্ড। সেখানের স্থানীয় দুই সিএনজি চালক মো. উজ্জ্বল ও মিরাজ জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরও প্রতিদিন লুটপাট হয়েছে কারখানায়। চনপাড়া, ডেমরা, কাঁচপুর, গাউছিয়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন এসে লুটপাট করেছে। অনেকে রিকশা, ভ্যান, অটো, পিকাপ ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। এক গ্রুপ ভিতর থেকে বাইরে মালামাল বের করেছে। আরেক গ্রুপ বাইরে থেকে তা বিক্রি করতে নিয়ে গেছে। গাজী টায়ার্সের অপারেটর শহিদুল ইসলাম ঘটনার দিন কারখানায় ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সেদিন শতশত মানুষ এসে হামলা, লুটপাট করে। আমরা পরে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যাই। তাদের বাধা দেয়ার কেউ ছিল না।  

এদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পরও কারখানার বাইরে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। গতকাল সকালে হাতে সন্তানের ছবি নিয়ে গাজী টায়ারস কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোকসেদ আলী। তার ছেলে রেজাউল করিম ২৫ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। রেজাউল একটি মশারির কারখানায় কাজ করতেন। বাবা মোকসেদ আলী বলেন, আমার ছেলে সেদিন এখানে দেখতে আসছিল। সেদিন রাত থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মোবাইল নম্বরও বন্ধ। ছেলে মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে তাও জানি না। শিশু ইসমাইলের (১৪) খোঁজে কারখানার গেটের সামনে বসেছিলেন মা বেদেনা। ইসমাইল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। বেদেনা বলেন, সেদিন সন্ধায় ছেলেটা মাদ্রাসায় গেল। কিন্তু মাদ্রাসা থেকে কখন বের হইছে, কোথায় গেছে জানি না। ছেলের আর খোঁজ পাচ্ছি না। আমার একটাই সন্তান। তারে ছাড়া কেমনে থাকবো। কারখানায় এসে ছেলের ছবি আর জন্ম নিবন্ধন জমা দিয়েছেন বলেও জানান বেদেনা। ভাগ্নে নিহাদের খোঁজ নিতে এসেছেন রুবেল। নিহাদও ২৫শে আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ। একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজে কাজ শিখতো নিহাদ। প্রতিদিন সকালে গ্যারেজে দিয়ে রাতে আবার বাসায় ফিরতো। কিন্তু সেদিন রাতে আর বাসায় ফিরেনি। রাতে মামা রুবেল কারখানায় এসে খোঁজ নেয়। রুবেল বলেন, ভবনের ভেতরে গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করি। কিন্তু আগুনের কারণে পারিনি। এখন পর্যন্ত তার কোনো খবর নেই।

উদ্ধারকারী টিম মানুষের দেহাবশেষ খুঁজে না পেলেও নিহতের স্বজনেরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঢুকে মানুষের হাড়, মাথার খুলিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো পুলিশের কাছে দেন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ৮০ জনের তালিকা করেছে জেলা প্রশাসন গঠিত ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি। গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, এখন তদন্ত চলমান রয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। বুয়েটের একটা বিশেষ দল ভবন দেখে জানিয়েছে এখানে উদ্ধার কাজ চালানো যাবে না। এটা অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে সেটা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।

শহীদদের গল্প: বাবার মৃত্যুর পর সংসারের ভরসা ছিল শাকিল by ফাহিমা আক্তার সুমি

শাকিল হোসাইন। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। চারুকলা বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। গত ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হন। নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ৩ দিন আইসিইউ’তে থাকার পর মারা যান তিনি। শাকিলের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। বেশ কয়েক বছর আগে নদীতে ভেঙে যায় তাদের বসতভিটা। এরপর শাকিলের বাবা-মা কাজের সন্ধানে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার ৬ মাস পরে শাকিলের বাবা সিদ্দিক মৃধা অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। শাকিলের মা বাসা-বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। গত ৬ মাস ধরে অসুস্থতার কারণে আর কাজে যেতে পারেন না। শাকিল পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে খরচ জোগাতেন। তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

শাকিলের মা বিবি আয়েশা মানবজমিনকে বলেন, আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। সংসারে অভাব থাকায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। দুই ছেলের মধ্যে শাকিল ছিল বড়। সংসারের সব দায়িত্ব তারই ছিল। ওদের বাবা ২০১৪ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যায়। সে নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করতো। আমি আগে বাসা-বাড়ির কাজ করতাম। এখন শরীরের নানা রোগের কারণে কোনো ভারী কাজ করতে পারি না। ছোট ছেলে সুমনকে বেশিদূর পড়াশোনা করাতে পারিনি। সে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে। শাকিল আমাকে কাজ করতে নিষেধ করেছিল। ও বলেছিল, ‘মা তুমি কাজে আর যেও না, আমি সব দেখবো।’ শাকিল বাচ্চাদের ক্লাস নিতো, কয়েকটি টিউশনি করাতো, যখন অবসর সময় পেতো তখন ইলেক্ট্রিকের কাজ করতো। সবসময় চাইতো কি করে আমাদের ভালো রাখা যায়। আমাকে ও আমার ছোট ছেলেটাকে নিজের কষ্ট হলেও সবসময় আগলে রাখতো।

গতকাল মিরপুরের পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চলতি মাসেই তারা এক রুমের একটি নতুন বাসায় উঠেছেন। এই বাসায় আগের চেয়ে ভাড়া কম। ছোট এক রুমের বাসাটিতে অসহায়ের মতো বসে আছেন শাকিলের মা। বলেন, আমার সন্তান মারা যাওয়ার পরে আগের বাসা ছেড়ে দিয়েছি। আগে ৭ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়া থাকতাম। এখন সাড়ে ৪ হাজার টাকা দেই। আমার পুত কাজ-কাম করবে আমারে খাওয়াবে, আমি মরলে মাটি দিবে সেই ছেলেরেই আল্লায় নিয়ে গেছে, এখন কি আর আমার কিছু আছে। ওর খুব পড়াশোনা এবং কাজের দিকে আগ্রহ ছিল আমাদের ভালো রাখার জন্য। আমার ছোট ছেলেটার বয়স খুব কম। ও মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পায়। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার সন্তান রাতে বাসায় ফিরতো। রাত আসলেই আমি আর ঘুমাতে পারি না। কোনোদিন একটু মাথা ব্যথা করছে শুনলে ও পাগল হয়ে যেতো। টেনশন করতো ওর ভাইকে কীভাবে রাখবে, আমাকে কীভাবে রাখবে। আগে নিজে কাজ করে সন্তানদের বড় করেছি, কিন্তু এখন তো সেই শক্তি নেই। যা শক্তি ছিল ছেলের মৃত্যুতে তাও হারিয়েছি। দুই মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকে। সবাই এসে দেখে যায় আমার কষ্ট বোঝার মতো কেউ নেই। আমার মতো কতো মায়ের বুক খালি হয়েছে। কতো মা আমার মতো কেঁদে রাত-দিন পার করছে।

তিনি বলেন, গত ৪ঠা আগস্ট রোববার আমার ছেলেকে নতুন বাসা দেখার জন্য কল দিয়েছিলাম। এরপর বাসায় এসে দুপুরে খাবার খেয়ে অনেকক্ষণ শুয়ে ছিল। এরমধ্যে ওর মোবাইলে একজন কল দিলে কিছুক্ষণ পরে উঠে যায়। পরে একটার দিকে ওর কিছু বন্ধু আমাদের বাসায় এসে বলে আন্টি আপনার আমাদের সঙ্গে যেতে হবে শাকিল ভাইয়া একটু অসুস্থ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে অভিভাবক ছাড়া চিকিৎসা করবে না। পরে শুনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে রাখেনি আগারগাঁও নিউরোসাইন্স হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরে আমরা একটি সিএনজি নিয়ে আগারগাঁও গিয়েছি। আমার শাকিলের মাথায় গুলি লাগে দুইটা। একটা ভিতরে ছিল আরেকটি বের হয়েছিল। তিন রাত চার দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল। গত ৭ই আগস্ট নিউরোসাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শুরু থেকে আন্দোলনে ছিল শাকিল। ৮ তারিখে ভোলায় নিয়ে দাফন করা হয় শাকিলকে। আমার একটাই চাওয়া আমার সন্তান হত্যার বিচার যেন আমি পাই। আমার ছেলে দেশের জন্য শহীদ হয়েছে এই মর্যাদাটা যেন পাই। সরকার যেন আমার সন্তানটিকে মনে রাখে।

কসবা-আখাউড়ার দাপুটে চেনা মুখগুলো আত্মগোপনে by জাবেদ রহিম বিজন

অনুষ্ঠান মঞ্চে মন্ত্রীর দু’পাশের চেয়ারে উপস্থাপকের ঘোষণার আগেই আসন নিয়েছেন তারা। আলোচিত সেসব মুখের দেখা নেই এখন। সরকার পতনের পর গা-ঢাকা দিয়েছেন সবাই। অথচ এই ক’দিন আগেও কসবা ও আখাউড়া কাঁপিয়েছেন। তাদের কথা ছাড়া কিছুই হয়নি। অবৈধ কাজ-কারবারে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার তালিকা তাদের নামেই ভরা।

সায়েদুর রহমান স্বপন সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হকের আপন ফুফুর ছেলে। তার এই ফুফাতো ভাই গত মে মাসে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে কুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। কুটির পর গোটা উপজেলা শাসন করার সুয়োগ আর তার হয়নি। কুটির চেয়ারম্যান, ব্যবসায়ী সমিতির পদ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ, সবই ছিল তার দখলে।

আলোচনা আছে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধ ওই ইউনিয়নের নানা খাত থেকে টাকা কামিয়ে পাঠিয়েছেন আমেরিকায় পরিবারের কাছে। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলে মামলার আসামি হয়েছেন দলের অনেক নেতাকর্মী। আনিসুল হকের মন্ত্রীত্বের পুরো সময়ে উপজেলায় স্বপনের মতো সময়ে সময়ে আরও কিছু ক্ষমতাধর মুখ সামনে এলেও আখাউড়ায় ছিল তাকজিল খলিফা কাজলের শাসন। ওই উপজেলায় মন্ত্রী মানে কাজল, কাজল মানেই মন্ত্রী। ১০/১১ বছর ধরে কাজলের বগলদাবা ছিলেন মন্ত্রী। আর এই সুযোগে কাজল অর্থবিত্তে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। ছাত্রলীগ নেতা থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তিনবারের মেয়র, অসীম ক্ষমতাধর কাজল সরকার পতনের পর পুকুরে লাফিয়ে পড়ে পালিয়েছেন। এখন আর তার খবর নেই। কাজলের ডানহাত-বামহাত হিসেবে পরিচিত আবদুল মোমিন বাবুল ওরফে এ্যারো বাবুল, লাকসু খলিফা, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহবুদ্দিন বেগ শাপলু এলাকায় নেই। এ্যারো বাবুল মাদক ব্যবসা, থানার দালালি এবং উপজেলায় তদবির করে ভাগ্য ঘুরিয়েছেন। কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কারিমা নামে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট রয়েছে তার। লাকসু সিএনজি স্টেশন ও বন্দরে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করতো। বেপরোয়া শাপলুও নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন।    

আনিসুল হক প্রথম মন্ত্রী হওয়ার পর তার এপিএস হন তার আইন পেশার সহকারী এডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন। কসবায় জীবন, আখাউড়ায় কাজল। এ দু’জনের বাইরে মন্ত্রীর কাছে এক্সেস ছিল না আর কারও। মন্ত্রীর পরই আসতো এ দু’জনের নাম। ঢাকা থেকে কসবা, সবই জীবনময়। চাকরি-বদলি বাণিজ্যে ফুলে ফেঁপে ওঠার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি সবসময় বলে বেড়িয়েছেন, ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষের কেউ বলতে পারবে না মন্ত্রী বা তাকে এক কাপ চা খাইয়েছে।’ অবশ্য এখন বদলি-চাকরি এসবের কোনোটাই টাকা ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ আসছে। সাবেক আইনমন্ত্রী তার দু’মেয়াদে ২ হাজারের বেশি লোককে চাকরি দেন। এজন্যে কাউকে এক পয়সা দিতে হয়নি বলে সবসময় এলাকার সভা-সমাবেশে বলেছেন তিনি। জীবন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় চলে আসলে মন্ত্রীর দুই পিএ আলাউদ্দিন বাবু ও সফিকুল ইসলাম সোহাগ হয়ে উঠেন ক্ষমতাধর। জীবনকে ছেড়ে চাকরি, বদলি প্রত্যাশীরা তাদের দুয়ারে ধরনা দিতে শুরু করেন। এসব কাজের জন্য স্থানীয় সিন্ডিকেট সৃষ্টি করেন। সীমান্তের এই উপজেলায় মাদক চোরাচালানীসহ নানা অপকর্মে নেপথ্যের মদতদাতা হয়ে ওঠেন তারা। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে জীবনকে টেক্কা দিয়ে মন্ত্রীর ভাই স্বপনকে জয়ী করাতে মাঠে নামেন দুই পিএ। ভোটার শূন্য কেন্দ্রে ভোটের বন্যা বইয়ে দিয়ে স্বপনকে বিজয়ী করেন। অবশ্য মন্ত্রীর সাবেক এপিএস আর ভাইয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এ নির্বাচনে স্থানীয় মডেল মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে এসে তার নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের পর থেকে জীবনের সঙ্গে মন্ত্রীর দূরত্ব দেখা দেয়। জীবন এলাকা থেকে চলে যান।  

পিএ বাবুর পিতা ইদ্রিস মিয়া মন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি পানিয়ারূপের কেয়ারটেকার। বাবুও ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত  মন্ত্রীর অফিসে আগতদের চা পরিবেশন করতেন। পিএ হয়ে আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়ে বসেন। শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন এই ক’বছরে। সাব রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার বদলির শতকারা ৯০ ভাগ এই দুই পিএ সম্পন্ন করেছেন। আরেক পিএ সোহাগ একসময় পানিয়ারূপ গ্রামে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।

মন্ত্রীর বাড়ির কেয়ারটেকার আর পিএ ছেলের জোরে দ্বিতীয় মন্ত্রী হয়ে উঠেন ইদ্রিস মিয়া। তার বেয়াই বাবুর শ্বশুর ফরিদ মুহরী, মেয়ের জামাই আমজাদ হোসেন, পানিয়ারূপ গ্রামের আরেক স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। সিন্ডিকেট করে নানাভাবে টাকা কামাইয়ে নামেন তারা।   

২০১৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এমরান উদ্দিন জুয়েলকে মেয়র বানিয়ে চমক দেখান মন্ত্রী। জুয়েলের দিন বদলের গল্প শুরু হয় সেখান থেকে। লাকসাম-আখাউড়া রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আখাউড়া অংশে কাজল আর কসবায় জুয়েল সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে তমা গ্রুপের সঙ্গে কাজ করেন। কসবা পৌরসভার গাড়ি ব্যবহার করেও রেলপথ নির্মাণ কাজে মাটি-বালু সরবরাহের অভিযোগ ওঠে জুয়েলের বিরুদ্ধে। পুলিশ মাদক চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ায় সে সময় থানার ইট খুলে নেয়ার হুমকি দিয়েও আলোচিত হন জুয়েল। কাজল রেলপথে বালু দিতে ভবানীপুরে বালু মহাল সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জুয়েলের পর ২০২৩ সালে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয় যুবলীগ নেতা এমজি হাক্কানীকে। পৌরসভার কোনো কাজ ঠিকভাবে না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ছোট ভাই টি আলী কলেজের প্রদর্শক গোলাম আজমও কলেজ ছেড়ে ঠিকাদারি কাজের হর্তাকর্তা হয়ে ওঠেন। কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান ঠিকাদারি ব্যবসায়। উপজেলার সকল ঠিকাদারি কাজ কব্জা করেন। ২০১৭ সালে কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ২ কোটি টাকায় একটি ভবন করার কাজ পান আজম। কাজ করেন অনেক নিম্নমানের। এর প্রতিবাদ করায় শাসান অধ্যক্ষ মো. তসলিম মিয়াকে।

কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইখতিয়ার আলম রনি, বায়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন মাদক, চিনি, কাপড় এবং গরু চোরাচালানের বেপরোয়া নাম। কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিকও টাকা কামিয়েছেন পিএ সোহাগের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে।

স্বপনের দখলে কুটি: এক সময় কুটিতে একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন সায়েদুর রহমান স্বপন। বাড়িতে ছিল টিনের চৌচালা ঘর। এখন সেখানে একাধিক ৩ তলা পাকা বিল্ডিং। চলাফেরায় ব্যবহার করেছেন একাধিক গাড়ি। সন্ধ্যার পর থানা পুলিশের একটি গাড়ি তার বাড়ির সামনে লাগানো থাকতো। ধরনা দিতে আসতেন ইউএনও-ওসি। আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে নেন স্বপন। ২০০৯ সাল থেকে কুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ সায়েদুর রহমান স্বপনের দখলে। কুটি অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কুটি বাজার শিল্প বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করেন ২০১৬ সালে। ফরম ফিলাপ, ভর্তিসহ নানা খাতে কুটি বালিকা বিদ্যালয় থেকে বছরে ২০/৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এসব হিসেবপত্র রাখার জন্য বিদ্যালয়ে দুটো খাতা মেইনটেন করা হয় বলে সূত্র জানায়। অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ কানি এবং বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ কানি মোট ৯ কানি জমির মাটি ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। কিন্তু এই টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা করেননি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থেকেও নানা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেন। ২০১৬ সালে কুটি বাজার শিল্প বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করে পেরীফেরী করে ১০৪টি দোকান করেন। একেকটি দোকানের জন্যে সর্বনিম্ন ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেন। এমনকি অর্পিত সম্পত্তির ওপরে থাকা বাজার কমিটির অফিসের জায়গায় ৪টি দোকান ঘর করে  দেড় কোটি টাকায় বিক্রি করে দেন। সালিশ বিচারের নামে তার কাছে জমা হওয়া টাকাও ফেরত দেননি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান লিটন জানান, এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে ৩টি, তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান বিপ্লবের বিরুদ্ধে ২টি এবং ভাগ্নে দশম শ্রেণির ছাত্র শাকিব ইসলামের বিরুদ্ধে ১টি মামলা দেন। স্বপন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে করা মামলায় ৮৩ দিন জেল খেটেছেন তিনি। ৫ দিন রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে। 

কুমিল্লায় প্রকাশ্যে মহড়া দেয়া সেই অস্ত্র কোথায়?

কথায় কথায় অস্ত্রের মহড়া। কখনো নিজের দলের বিরুদ্ধে, আবার কখনো বিরোধী মত দমনে। কখনো চাঁদা না পেয়ে। আবার কখনো সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি দখলে। কুমিল্লায় আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানিতে বহুবার রক্তাক্ত করেছে কুমিল্লাকে। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার নেতাকর্মীরাই এসব অস্ত্র দিয়ে জেলা শহরটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। হাসিনার সঙ্গে নেতাকর্মীরা পালালেও অবৈধ এ সকল অস্ত্র ও বহনকারীদের খোঁজ পায়নি পুলিশ। তাই ধারণা করা হচ্ছে, হাত বদল বা নিজেরাই এসব অস্ত্র দিয়ে যেকোনো সময় হামলায় জড়িয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩রা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচিতে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় নিরস্ত্র ছাত্রদের মিছিলে রিভলভার, শটগানসহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা করে মহানগর ছাত্র, যুব, স্বেচ্ছাসেবক ও আওয়ামী লীগ। হামলায় সরাসরি দেখা যায় মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টু, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সোহেল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এ সময় কয়েকশ’ রাউন্ড গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা। এতে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়।
গত ৩০শে জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সময়ে থেমে থেমে অস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। কুমিল্লা নগরীতে ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী আগ্নেয়াস্ত্র, রাম দা, ছেনির মহড়া, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। এ সময় কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। কুমিল্লা নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর খলিফা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলার সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা গেছে অন্তত ৬ জন কিশোর-যুবক এই হামলায় অংশ নিয়েছে। সিসি ফুটেজে দেখা যায়, আগ্নেয়াস্ত্র, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রহমানের কার্যালয়ের সামনে মহড়া দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কাউন্সিলর অফিসের সামনে মহড়া দিচ্ছে। এ সময় তাদের কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার ঘটনায় মামলা হলেও উল্লেখযোগ্য অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
২রা ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা নগরীর সার্কিট হাউস ও ঈদগাহ মোড় এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেয় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপ। উভয় গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে দুজন আহত হন। পরদিন দুই গ্রুপের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় কিশোর অপরাধীদের রতন গ্রুপ ও ঈগল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ১০টি দেশীয় অস্ত্র ও নয়টি ককটেলসহ ১৬ জন কিশোর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রতন গ্রুপ ও ঈগল গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার করতে সংঘাতে জড়ায়। ২০২২ সালের ৭ই নভেম্বর কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্রের মহড়ায় পিস্তল ও রাইফেল হাতে প্রতিপক্ষকে হামলা করতে দেখা যায়। অস্ত্র হাতে ১৫-১৬ জন ছিলেন সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সমর্থক ও সম্মেলনের কার্ডধারী। নগরীর কান্দিরপাড় ও নজরুল অ্যাভিনিউতে এই ঘটনা ঘটে।
সম্মেলনস্থলের বাইরে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি ও আঞ্জুম সুলতানা সীমা এমপির লোকজনের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়া দুটি ছবিতে দেখা যায়, লাল মাস্ক পরে অস্ত্র হাতে সামনের দিকে তেড়ে আসছেন এক যুবক। ওই যুবকের নাম দিদারুল হক আশিক। তার বাড়ি নগরীর চর্থা এলাকায়। আরেক ছবিতে দেখা যায়, ক্যাপ পরা এক যুবক রাইফেল প্রস্তুত করছেন। ওই যুবকের নাম দিদার। তার বাড়ি নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায়। ওই যুবকের পাশেই আশিক ও বাপ্পী নামের দুজনকে দেখা যায়। তাদের বাড়িও নগরীর চর্থা এলাকায়। অস্ত্রধারী অনেকের মাথায় হেলমেট ছিল। কেউ কেউ মুখে কাপড় বেঁধে আসেন। কেউ কাঁধে ব্যাডমিন্টনের র‌্যাকেট বহনকারী ব্যাগে ঝুলিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসেন।
২০২১ সালের ২২শে নভেম্বর নগরীর পাথরিয়াপাড়া থ্রি স্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন কাউন্সিলর ৫০ বছর বয়সী সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা। এ ঘটনায় কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আর হরিপদ সাহা (৫৫) নগরীর ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জোড়া খুনের ঘটনার পরদিন ২৩শে নভেম্বর রাতে কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন, মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম, তিন নম্বর আসামি সাব্বির ও পাঁচ নম্বর আসামি মো. সাজন।
আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনার শুরু থেকেই নিহত সোহেলের পরিবারের সদস্যরা বলে আসছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ইন্ধন দিয়ে এবং অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করিয়েছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, আলোচিত একটি অপরাধ ধামাচাপা দিতেই কাউন্সিলর সোহেলকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য বাহার জড়িত রয়েছেন বলেও শোনা যায়। এ ছাড়াও কয়েক বছরে বিচ্ছন্ন অর্ধশত ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়ার ঘটনা ঘটে। কিছু ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বিভিন্ন সময় অস্ত্র উদ্ধার করে। সেইসঙ্গে অপরাধীও গ্রেপ্তার করে। তবে তা সংখ্যায় অনেক কম।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্ট কুমিল্লার কয়েকটি থানা ও পুলিশ লাইন্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয়। এ সময় ৫২ অস্ত্র লুট হয়েছিল। এরমাঝে ৩০টি উদ্ধার করা হলেও ২২টি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও বৈধ লাইসেন্সধারী ১৬২টি অস্ত্র জমা হলেও বাকি আছে আরও ৩৫০টি বৈধ অস্ত্র। কিন্তু নানান সময় মহড়া দেয়া অবৈধ  অস্ত্রের কোনো সংখ্যা বা এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্রে বলছে, এসব অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি ও জেলা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন থানা থেকে লুট হয়েছে পুলিশের অস্ত্র। আমরা বেশির ভাগ অস্ত্রই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। এর আগেও জেলা পুলিশ বিভিন্ন সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আশা করছি অভিযানে ভালো সুফল আসবে।

ফারুকের আশা, সফলভাবেই নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে আমিরাত

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ। ৩রা অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপের রোডম্যাপ ঠিক করতেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে উড়ে গেছেন তিনি। এ আসরটি বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় নারী বিশ্বকাপ ইউএইতে সরিয়ে নিয়েছে আইসিসি। তবে আরব আমিরাতে গেলেও আসরের অফিসিয়াল আয়োজক বাংলাদেশই থাকছে। আইসিসি প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালারডাইসের উপস্থিতিতে আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড প্রধান মাবারাক আল নাহিয়ান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। বৈঠক শেষে সফল এক টুর্নামেন্টের আশা প্রকাশ করে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘দুবাই ও শারজাহতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। দুটি ভেন্যুতেই কিছু বড় বিশ্ব ইভেন্টসহ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন হয়েছে। টুর্নামেন্টটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য তাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দুই বোর্ডের মধ্যে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা দুই বোর্ড আইসিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে উন্মুখ। আরব আমিরাত বোর্ডের প্রধানও আসরটি সফলভাবে আয়োজনে বদ্ধপরিকর।’ উল্লেখ্য জুলাই-আগষ্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যদিও অন্তর্বর্‌তী সরকারের পক্ষ থেকে আশার কথা শোনানো হয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এটি সরিয়ে নেয়া আরব আমিরাতে। এমনিতে আইসিসির সদর দপ্তর আরব আমিরাতেই অবস্থিত, যারা এর আগে ২০২১ সালে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও আয়োজন করেছিল। অন্যদিকে এবারই প্রথম বাংলাদেশ থেকে আইসিসির কোনো ইভেন্ট সরিয়ে নেওয়া হলো। এর আগে ২০১৪ সালে পুরুষদের পাশাপাশি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপেরও আয়োজক ছিল।

সালমান শাহ’র মামলা পুনরুজ্জীবিতের দাবি তার মায়ের

সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন ক্ষণজন্মা অভিনেতা সালমান শাহ। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেই ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে রীতিমতো চলচ্চিত্রের বরপুত্রে পরিণত হন তিনি। কিন্তু ২৫ বছর বয়সেই থেমে যান এ অভিনেতা। ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর রহস্যজনক মৃত্যু হয় তার। সাবেক পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানিয়েছিলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তাকে খুন করা হয়নি। চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্কের কারণে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হয়। এদিকে সম্প্রতি এ অভিনেতার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে আবারো ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, ভারত থেকে এজেন্ট এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পিবিআই প্রধান বনজ কুমার সম্পর্কে নীলা চৌধুরী বলেন, তাদের সঙ্গে বনজ কুমারের সম্পৃক্ততা ছিল।  এই বনজ কুমারকে তারা অনেক টাকা দিয়েছে। মৃত্যুর পর আমরা জেনেছিলাম যে, ভারতীয় কাউকে ভাড়া করে এনে  সালমান শাহকে হত্যা করিয়েছে তারা। সুকুমার রঞ্জন সে সময় সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনি একজন ভারতীয় ‘র’র এজেন্ট। তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। নীলা চৌধুরী বলেন, আগে একটা মাফিয়ার আন্ডারে ছিলাম। এখন আমরা মুক্ত হয়েছি। এই হত্যার বিচার প্রয়োজন।

বগুড়ায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আন্ডারপাসের দাবি: ঝুঁকি নিয়ে প্রতি মিনিটে অর্ধশতাধিক মানুষের পারাপার by প্রতীক ওমর

মহাসড়কের উন্নয়নে ঢাকা পড়ছে হাসপতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশ পথ। রোগীবাহী এম্বুলেন্স ঘুরে আসতে হবে প্রায় এক কিলোমিটার। হাসপতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনদের বাইরে যাতায়াত করতেও শরীরের ঘাম ঝরাতে হবে। সড়ক বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে মন খারাপ করেছে বগুড়াবাসী। তারা ইতিমধ্যেই হাসপাতালের জরুরি গেটে আন্ডারপাস রাখার দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন। মানববন্ধন, বিক্ষোভ করেছেন। লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল কো-অপারেশন বা সাসেক-২ প্রকল্পের কর্তৃপক্ষকে। ঘটনা উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মেডিকেল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নতি করার কাজ চলমান। সেই কাজের অংশ হিসেবে ওই মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে একটি আন্ডারপাস রাখা হয়েছিল।

হঠাৎ সড়কের সেই নকশা থেকে আন্ডারপাস উধাও হয়ে গেছে। জরুরি বিভাগের সামনে রাখা আন্ডারপাস করা হচ্ছে মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে। বিষয়টি জানাজানি হলে বাঁধ সাধে এলাকাবাসী। তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ইতিমধ্যে আন্দোলনে নেমেছে। তারা কলেজ এবং জরুরি বিভাগের দুই গেটেই আন্ডারপাস দাবি করছেন। একই দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও। তবে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সাসেক প্রকল্প-০২ ব্যবস্থাপক) আহসান হাবীব। বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক। এই মহাসড়কের সঙ্গেই হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের গেট। এখানে প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক অসুস্থ, সুস্থ, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পারাপার হয়। এ ছাড়া রোগীদের সুবিধার্থে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল থেকে অত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির সংযোগস্থল শেষ হয়েছে মেডিকেল কলেজের গেটে। কিন্তু জরুরি বিভাগের গেটে আন্ডারপাস না রাখার কারণে এসব নানাবিধ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে মেডিকেলমুখী মানুষেরা।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, প্রথমের দিকে সাসেক প্রকল্প-২ এর জরিপে ঢাকা-রংপুর এক্সপ্রেসওয়ের নকশাটিতে অত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আন্ডারপাসের নকশা ছিল। তা পরবর্তীতে আন্ডারপাসটি করা হচ্ছে কলেজ গেটের সামনে। কিন্তু অপরিকল্পিতিভাবে জরুরি বিভাগকে বাদ দিয়ে অন্য জায়গায় আন্ডারপাসটি মেনে নিচ্ছে না স্থানীয়রাসহ বিভিন্ন মহল। এই বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি অব্যহত রেখেছেন। বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তে মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনের আন্ডারপাসটি কলেজ গেটের সামনে নেয়া হয়েছে। তারা আরও বলেন কলেজের গেটটি সন্ধ্যার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে মহাসড়কের উপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও রোগীরা বাধ্য হয়ে যাতায়াত করবে। এ ছাড়া জরুরি বিভাগের গেটের সামনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অসুধের দোকান ও হোটেলসহ প্রায় ৩ শতাধিক দোকান রয়েছে। অর্থাৎ আন্ডারপাসটি কলেজ গেটে হওয়ায় কোনো সুবিধাই পাওয়া যাবে না। তাই আমাদের দাবি জরুরি বিভাগের সামনে আরও একটি আন্ডারপাস করতে হবে।
উল্লেখ্য, বিগত দিনে এখানে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে নানা ধরনের দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে রোগী-স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরতরা। ব্যস্ততম মহাসড়কটি হাসপাতালের সামনে হলেও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ বা সড়ক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী থাকেন দেড় হাজারের ওপরে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। তাঁদের সঙ্গে থাকেন স্বজনরা।
এদিকে মহাসড়কের পাশে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার থাকলে সেখানে সড়ক নির্দেশিকাসহ সাইন সিগন্যাল থাকার কথা। কিন্তু বগুড়ার এই বৃহৎ হাসপাতালের সামনে তার কোনো চিহ্ন নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সড়কে গতিরোধক নির্মাণের তাগাদা দিলেও তা করা হয়নি।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ মানবজমিনকে জানান, আমরা লিখিতভাবে, মৌখিকভাবে সড়ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে এখানে কলেজ গেট এবং মেডিকেলের জরুরি গেটে আন্ডারপাস রাখতে। এখানে দুই গেটেই মানুষ পারাপারের জন্য নিরাপদ রাস্তা প্রয়োজন। আশাকরি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুরাহা করবেন।
মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণে চলমান সাসেক-২ প্রকল্পের বনানী থেকে মোকামতলা অংশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব জানান, তাদের প্রকল্পে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এমভিটি আন্ডারপাস রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দুর্ঘটনা কমবে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন জরুরি বিভাগের সামনে একটি এমভিটি আন্ডারপাস করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। নকশার কাজ চলছে। আশাকরি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটির অনুমোদন হয়ে যাবে।