Tuesday, July 20, 2010

তিতাশ চৌধুরী: জন্মদিনের শুভেচ্ছা by জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

সাহিত্যের অঙ্গনে তিতাশ চৌধুরীর পদচারণ বহু বছরের। দীর্ঘ অধ্যাপনা-জীবনের শেষে তাঁর এক পরিচয়, তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। পেশাজীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। কুমিল্লার সঙ্গে তাঁর নাড়ির সম্পর্ক। কুমিল্লা জেলার ইতিহাস ছাড়াও তিনি রচনা করেছেন ‘কুমিল্লায় নজরুল স্মৃতি, প্রেম ও পরিণয়’, ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস’, ‘কুমিল্লা জেলার লোকসাহিত্য’। তাঁর গবেষণা ও সাহিত্যকর্মে কুমিল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। কুমিল্লাবাসী কুমিল্লার প্রতি তাঁর এই আগ্রহ, অনুরাগ ও আনুগত্যের সকৃতজ্ঞ স্বীকৃতি দিয়েছে তাঁকে। সম্মাননা ও সংবর্ধনা দিয়ে কুমিল্লা ফাউন্ডেশন তাঁকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করেছে। তিনি অলক্ত নামের একটি মানসম্মত পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন কুমিল্লা থেকেই। স্বাধীনতার ঊষালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রয়েছে। মফস্বল থেকে প্রকাশিত আর কোনো পত্রিকা—উচ্চমানের পত্রিকা—এত দীর্ঘকাল টিকে থাকার নজির বোধহয় আর দ্বিতীয়টি নেই। একই কথা বলা যায় অলক্তর সঙ্গে জড়িত ও তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রবর্তিত ‘অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার’ সম্পর্কেও। ১৯৮১ থেকে আজ পর্যন্ত যাঁরা অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন, সেই তালিকা থেকে যে কেউ ধারণা করতে পারবেন। কোনো সংকীর্ণ বিবেচনা প্রশ্রয় পায়নি এই পুরস্কারের মানোন্নয়নে। পুরস্কারের অর্থমূল্য নয়, সোনার মেডেলে কতটা সোনা আছে, তাও বিবেচ্য নয়, একমাত্র বিচেনার বিষয়, কোন মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে পুরস্কৃত জনকে। ব্যক্তি উদ্যোগে ও বেসরকারি পর্যায়ে এদিক দিয়ে অলক্ত পুরস্কারের সঙ্গে তুলনীয় একমাত্র ফরিদপুরের আলাওল পুরস্কার। আলাওল পুরস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়েছে কি না জানি না, তবে শত অসুবিধার মধ্যেও যেভাবে তিতাশ চৌধুরী একদিকে অলক্ত পত্রিকা, একই সঙ্গে অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার—দুটিকে পিতৃস্নেহে লালন করছেন, তার প্রশংসার ভাষা আমার জানা নেই।
তিতাশ চৌধুরীর পরিচয় যে জন্মসূত্রে বা কর্মসূত্রে নয়, তাঁর স্বভাবের মর্মকেন্দ্রে, সে তাঁর সাহিত্যের প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য। শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়ে, কালক্রমে কবিতা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়েছেন গদ্যে, প্রবন্ধে, গবেষণায়। গবেষণায় জায়গা করে নিয়েছে কুমিল্লা—তার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে, তার প্রিয় অতিথি নজরুলকে নিয়ে, তার গর্বের প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়া কলেজকে নিয়ে। কুমিল্লার ইতিহাস হয়তো সম্পূর্ণতার দাবি করতে পারবে না, তবে কলেজের ইতিহাস রচনায় তিনি প্রায় অসাধ্য সাধন করেছেন। এমন তথ্যবহুল ও একই সঙ্গে আকর্ষণীয় কোনো কলেজের ইতিহাস রচিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।
একাডেমিক সমালোচনায় তিতাশ চৌধুরী কতটা আগ্রহী, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ তাঁর একজন সাহিত্য-স্রষ্টার সৃষ্টিকর্মের বাইরের পরিচয়ে। এই ধারায় তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা অন্যরকম রবীন্দ্রনাথ। কবি পরিবারের বাইরে রবীন্দ্রনাথের যে নানামুখী পরিচয়, সেটি তিনি তুলে ধরেছেন এই বইয়ে। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘রবীন্দ্রনাথ জীবনে নানাভাবে চিত্রিত, নানারূপে, রঙে ও রেখায় বর্ণিত, বিচিত্র বর্ণে ও কর্মে স্পন্দিত এবং প্রত্যেক মানুষের জীবনের সর্বগ্রাসী মননপিপাসা নিবারণে নন্দিত। তবু যে রবীন্দ্রনাথকে আমি এখানে পাঠক দরবারে ভীরু পদক্ষেপে হাজির করেছি—সে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের বাইরে থেকেও “চিত্ররূপময়”—বিচিত্র বর্ণাঢ্য এক অপরূপ রবীন্দ্রনাথ। এ রবীন্দ্রনাথ আমাদের চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ থেকে একটু ভিন্ন হলেও তাঁকে চিনে নিতে কারও ভুল হওয়ার কথা নয়। বস্তুত তিনি অন্য খ্যাতিতে ভাস্বর এক অন্য রকম রবীন্দ্রনাথ।’
তিতাশ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথকে দেখেননি, তবু মানুষ রবীন্দ্রনাথকে তিনি চিনেছেন ও চিনিয়েছেন। যাঁদের দেখেছেন, যাঁদের ব্যক্তিত্বের প্রত্যক্ষ পরিচয় লাভ করেছেন, তাঁদের নিয়ে তাঁর বই দেখা অদেখার স্মৃতি। ১৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই বইয়ের বিষয়; তবে তিতাশ চৌধুরীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তাঁরা যেভাবে ধরা দিয়েছেন, তাঁদের সেই খণ্ডিত পরিচয়ে। ১৪ জনের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে দুজনকে বাদ দিলে (প্রবোধচন্দ্র সেন, আহমদ শরীফ) বাকি ১২ জনই হয় কবি বা গল্পকার। দেখা অদেখার স্মৃতির পাতায় আমরা তিতাশ চৌধুরীর যে পরিচয় পাই, তাঁর সংবেদনশীলতা, তাঁর গুণগ্রাহিতা, প্রতিভার প্রতি বিনম্র প্রণতি—তা এ বইয়ের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
তিতাশ চৌধুরী আত্মজীবনী লেখেননি, তবে তাঁর অনেক রচনায় নিজেকেই তিনি কিছুটা পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন। জীবনের যে অনেক কৌতুকপ্রদ দিক রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সজাগচক্ষু। তিনি যেমন রবীন্দ্রনাথের কৌতুকপ্রিয়তা নিয়ে লেখেন, একইভাবে তাঁর নিজের পরিচ্ছন্ন কৌতুকপ্রিয়তার প্রকাশ ঘটান রঙ্গরসের গল্প লিখে। সংবাদপত্রের কলাম লেখার তাগিদে তাঁর দৃষ্টি চঞ্চল হয়ে ওঠে, তাঁর স্মৃতি শাণিত হয়ে ওঠে, তাঁর বিচারবুদ্ধি নানা প্রসঙ্গে ধাবিত হয়। হালকা ভঙ্গিতে লেখা হলেও তাঁর কলামভিত্তিক বই আপনভুবন তাঁকে সমকালের একজন বোদ্ধা দর্শক ও বিচারক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করে। এভাবেই কুমিল্লার সঙ্গে নাড়ির বন্ধনে বাঁধা তিতাশ চৌধুরী হয়ে ওঠেন সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ।
একজন পরিশ্রমী ও নিবেদিত সাহিত্যকর্মী তিতাশ চৌধুরী কখনো আত্মপ্রচারের পথে চলেননি। তাঁর পরিচয় তবু পাওয়া যায় তাঁর সাহিত্যকর্মে। বিচিত্র এই সাহিত্যকর্ম। গতকাল ছিল তাঁর ৬৫তম জন্মদিন। তাঁকে তাঁর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে এই সামান্য রচনা।

বাঁচার মতো মজুরি এবং রাহেলাদের প্রাণীজীবন by ফারুক ওয়াসিফ

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের মালিকদের নিয়ে পরিহাস হলো, তাঁরা নিজেদের তৈরি সমস্যার জন্য নিজেদের ছাড়া বাকি সবাইকে দায়ী করতে ভালোবাসেন। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জন্য তাঁরা শ্রমিকদের ক্ষুধার্ত পেট নয়, তাকান তাঁদের মনের দিকে। ভাবেন, সেখানে কিলবিল করছে ষড়যন্ত্র। তাঁদের জবানীতে যা জানা যায়, তাতে মনে হয়, শ্রমিকেরা ষড়যন্ত্র নামক কোনো এক যন্ত্রের দখলে চলে গেছেন। পরিহাসটি এই, পোশাকশিল্পের অধিকারীরা নিজেরাই ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্বের’ প্রচার করেছেন। এখন নিজেরাই এর পেছনে দৌড়াচ্ছেন। নিজেদের তৈরি সমস্যার সমাধান দিতে তাঁরা অক্ষম।
আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনকদের একজন ডেভিড রিকার্ডো। শ্রমিকের মজুরি সম্পর্কে তাঁর বিধি হলো, শ্রমিকদের মজুরি ততটাই হওয়া প্রয়োজন, যতটা না দিলে তাঁরা বাঁচতে ও শ্রম বিক্রি করতে পারবেন না। এখান থেকেই ‘বাঁচার মতো মজুরি’ কথাটা এসেছে। কেউ কিন্তু বলেন না যে বাঁচার মতো মজুরিই ন্যায্য মজুরি। বাঁচার মতো মজুরি হলো সেটাই, যা না হলে প্রাণীর মতো করেও প্রাণ ধারণ করা যায় না। আর ন্যায্য মজুরি হলো তাই, যা পেলে শ্রমিক তাঁর পরিবার নিয়ে মানুষের মতো বাঁচতে পারেন। ধনী ও গরিবের বাঁচা সমান নয়, কারণ উভয়ের চাহিদা এক নয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা যে নিম্নতম মজুরির দাবি তুলেছেন, তা দিয়েও মানুষের মতো বাঁচা সম্ভব নয়।
এক হিসাবে দেখা গেছে, একজন পোশাকশ্রমিকের কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রতিদিন ৩০৩০ কিলোক্যালরি তাপ প্রয়োজন। বাজারে পাওয়া সস্তা খাদ্য দিয়ে একজন শ্রমিককে তাঁর পুষ্টি ও শক্তি রক্ষা করতে হলে প্রতিদিন খাদ্য বাবদ ব্যয় করতে হবে কমসে কম ৬৪ দশমিক ৫০ টাকা। অর্থাৎ তাঁকে রিকার্ডোর কথিত পদ্ধতিতে বাঁচিয়ে রাখতে হলে মাসে ১৯৩৫ টাকা খাদ্যের জন্য ব্যয় করতে হবে। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান মিলিয়ে পরিবারের সদস্য চারজন হলে দরকার হবে ১৯৩৫ X ৪ = ৭৭৪০ টাকা। এর সঙ্গে তাঁর এক কক্ষের বাসা ভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা, পোশাক ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক ব্যয় হওয়ার কথা নিম্নে ১৪,২৪০ টাকা। স্বামী-স্ত্রী দুজন কাজ করলে তা ভাগ হয়ে ৭,৭৪০ টাকাই হয়। এটাই হওয়া উচিত শ্রমিকের বাঁচার মতো নিম্নতম মজুরি।
এই বাঁচা প্রাণীর মতো উদরের জ্বালা শান্ত রাখার মতো বাঁচা, মানুষের মতো বাঁচা নয়। নিছক পেটের কাছে বন্দী থাকা জীবন প্রাণীর জীবন, পশুর জীবন। আদিম পরিবেশে কোনো প্রাণীকে ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা পরিশ্রম করতে হয়, আমাদের পোশাকশ্রমিককে কাজ করতে হয় তার থেকে বেশি—দিনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা! তাঁদের জীবন তাই মানবিক নয়, প্রাণবিক। এটা চলতে পারছে কারণ, প্রতিটি সরকারই বাঁচার মতো মজুরি নির্ধারণে শ্রমিককে ফাঁকি দিয়েছে।
১৯৯৪ সালে পোশাকশিল্পের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঠিক হয়েছিল ৯৩০ টাকা, ১২ বছর পর তা পুনর্নির্ধারণ করা হয় ১৬২২ টাকা। গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলেছে, ২০০৬ সালে নির্ধারিত সপ্তম গ্রেডের একজন সাহায্যকারী বা শিক্ষানবিশের বেতন হওয়া উচিত কমপক্ষে ২১৫৬ টাকা। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন। ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের জুন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ‘এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত দেশজ প্রবৃদ্ধির হিসাবটুকুও। এই দুটি সমন্বয় করলে শ্রমিকের মজুরি কমপক্ষে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো দরকার।’ (খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রথম আলো, ১৭ জুলাই) এই হিসাবে একজন শিক্ষানবিশের বেতন কমপক্ষে ২৮৪০ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো ১৯৯৪ সালের ৯৩০ টাকা বেতনকেই মেনে নিয়ে হিসাব করা হয়েছে মাত্র।
গত ৭ জুলাই প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিজেএমইএর সহসভাপতি জানিয়েছেন, একজন শ্রমিকের জীবন ধারণের জন্য মাসিক এক হাজার ৯৮৯ টাকার বেশি দরকার নেই। বিজেএমইএর নেতারা বলে থাকেন, তাঁদের ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। অথচ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে তাঁদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৩-১৪ শতাংশ। বিশ্বমন্দার আঘাতও তেমন লাগেনি এই খাতে। তারপরও সরকার তাঁদের জন্য ‘বেইল-আউট’ তথা নগত অর্থসহায়তার ব্যবস্থা করছে। তাঁরা স্বল্পসুদে ঋণ পান। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ পদ্ধতিতে তাঁদের কাপড় আমদানি করমুক্ত। গোড়ার দিকে তাঁরা পেয়েছেন ২৫ শতাংশ নগদ অর্থ সহায়তা। ছিল ২০০৪-৫ পর্যন্ত ছিল আমেরিকায় করমুক্তভাবে রপ্তানি সুবিধার কোটা। এখনও ইউরোপের দেশগুলিতে রপ্তানির বেলায় কর দিতে হয় না। এছাড়াও আছে ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ। বিভিন্ন সময়ে সরকারের তরফে নগদ সহায়তাধন্য হয়েছে এই শিল্প। তারপরও তাঁদের মুনাফার সোনার ডিম পাড়া হাঁস যে শ্রমিকরা, তাদের কেন বাঁচার মতো মজুরি কেন দেওয়া হবে না, তা বোধগম্য নয়। যেখানে বিদেশি ক্রেতারাও বেশি মজুরি দেওয়ার পক্ষে, সেখানে এর থেকে নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে? যে পোশাকশিল্প দেশের সবচেয়ে মুনাফাধন্য খাত, সেই শিল্পের মজুরি কীভাবে রিকশাচালক কিংবা মাটিকাটা দিনমজুরদের থেকেও কম হয়! রপ্তানীমুখী শিল্পে আয় বেশি হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকদের বেতন অরপ্তানীমুখী খাতের শ্রমিকদের থেকে কম। মালিকেরা চান কম মজুরি আর দ্রুত চলা আঙুল। শ্রমিক বাঁচেন ওভারটাইমের বাড়তি আয়ে, বেতনে তার কুলায় না। মালিকও বাড়তি খাটিয়ে খুশি, কিন্তু শ্রমিকের সন্তোষ বাড়লে যে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে সেই বুঝ আমাদের প্রথম প্রজন্মের শিল্পোদ্যক্তাদের আসেনি।
জাজ্বল্যমান এই বাস্তবতা থেকে উটপাখির মতো মুখ লুকিয়ে থাকা পোশাকশিল্পের মালিকদের জন্য আত্মঘাতী হবে। অতি মুনাফার বাসনায় খোদ শিল্পটিকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিলে মালিক-শ্রমিক কারোরই লাভ হবে না। এখানে সরকারের করণীয় রয়েছে। শেষ বিচারে শ্রম ও মুনাফার চূড়ান্ত ব্যবস্থাপক হলো রাষ্ট্র। কে কতটা লাভ করবে, কাদের কোন মাত্রার নিচে শোষণ করা যাবে না, নিজ স্বার্থেই রাষ্ট্র তা ঠিক করে দেয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অনেক সময় নিজেদের আসল স্বার্থের বিপরীত আচরণ করে, রাষ্ট্রের তরফে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় তখনই। সরকার ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে পোশাকশিল্পের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ না হোক, নিদেনপক্ষে যৌক্তিক হতে হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোটের দাবি ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা। আমাদের দেখানো প্রাণীর মতো বাঁচার জন্যও যে মজুরি প্রয়োজন, তাঁরা সেই ৭৭৪০ টাকা পর্যন্ত চাওয়ার সাহস করেননি। এই পাঁচ হাজার টাকাও যদি না দেওয়া হয়, তাহলে জীবন টিকিয়ে রাখার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, গরিব মানুষ যেভাবে বাজারের স্বাধীনতা হারাচ্ছে, তাতে করে অচিরেই শ্রমিক অঞ্চলে আবার বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।
একসময় পাটচাষি আর পাটকল শ্রমিকেরা যেমন অর্থনীতির চালিকাশক্তি ছিলেন, আজ সেই ভূমিকা নিয়েছে পোশাকশিল্প ও এর শ্রমিকেরা। তাঁরাই দেশের বৃহত্তম শ্রমশক্তি। বিভিন্ন গবেষণাপত্রে দেখানো হচ্ছে, এই শিল্পের ৯৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৭৮ শতাংশ নারীই এক-দুই ক্লাস পর্যন্ত পড়েছেন। এঁদের অধিকাংশের জীবনদৃষ্টিই আধুনিক। আজকাল গ্রামের অনেক পরিবারই মেয়েকে পোশাকশিল্পে পাঠাবে বলে এক-দুই ক্লাস পর্যন্ত পড়ায়। শ্রমিকতার মাধ্যমে অনেক তরুণী বাল্যবিবাহ এড়িয়ে নিজের জীবনের কর্তা হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এই মেয়েরা দ্বিগুণ ওভারটাইম করে খেয়ে না-খেয়ে সঞ্চয় করেন এবং গ্রামে টাকা পাঠিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। এঁদের চাহিদাকে ঘিরে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ও বাজারও বিকশিত হচ্ছে। রাজপথের একপাশ দিয়ে সারবেঁধে হেঁটে যাওয়া এইসব তরুণ-তরুণীরা তাই কেবল এক ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠী নন। তাঁদের এই চলা নারীর এগিয়ে যাওয়ার কাফেলারই অংশ। এঁরা আত্মসচেতন ও মুক্তমনা, নীরবে এঁরাই বহন করছেন নাগরিক আধুনিকতার মশাল। উপযুক্ত মজুরি দিয়ে এঁদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া আজ জাতীয় দায়িত্ব। দেখা যাক, এ মাসের ২৭ তারিখে সরকার তাদের জন্য কী করে।
তাঁদের প্রাণীর দশায় আটকে রেখে বাদবাকি সমাজ মানবিক হতে পারে না। তাঁদের বাঁচার মতো মজুরির দাবি আসলে মানুষের মতো জীবন পাবারই আকুতি। কেবল মজুরির বঞ্চনাই নয়, আরও নানা বঞ্চনা ও নিপীড়নে জর্জর অবস্থা পোশাকশিল্পের নারী কর্মীদের। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে অমানবিক জীবনে আটকে রেখে মালিকদের ভাবমূর্তিও কিন্তু উজ্জ্বল হয় না। পাঁচ হাজার টাকার ন্যূনতম মজুরি তাই আর কিছু নয়, শ্রমিকের দাস বা প্রাণী থেকে মানুষ হয়ে ওঠার নিম্নতম চাহিদা। আর সেটাই মালিকের সভ্য সমাজের উৎপাদনের সংগঠক হয়ে ওঠার ন্যূনতম শর্ত।
বছর কয়েক আগে সাভারে রাহেলা নামে এক পোশাকশ্রমিককে গণধর্ষণ করে গলা কেটে পশুর মতো ফেলে রাখা হয়েছিল। সে অবস্থায় এক ঝোপের মধ্যে কয়েক দিন তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কদিন আগে দেখলাম, মিরপুরে রাহেলা নামে আরেক শ্রমিক মজুরির দাবিতে পুলিশের সঙ্গে লড়ছেন আর মার খাচ্ছেন। এই রাহেলার জেদ, সেই রাহেলার আর্তনাদ নিরর্থক হয়ে যেতে পারে না। জবাই করা রাহেলার বুকের ভেতর থেকে রক্তের সঙ্গে যে ফরিয়াদ ঘড়ঘড় শব্দে বেরিয়ে আসছিল, বঞ্চনার শিকার মিরপুরের রাহেলারা যেকারণে ভয়ডর ভুলে উঠে দাঁড়িয়েছে, সেই ফরিয়াদ আর সেই সংগ্রামই পোশাকশ্রমিকের জীবনের সত্য। সেই জীবন আজ প্রাণীর জীবন থেকে মানুষের মতো জীবন চাইছে। এই চাওয়াকে উপেক্ষা করার মতো অনৈতিক ও অমানবিক কী আমরা হব?
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

অনিয়মই বহাল রইল by আবুল কাসেম ফজলুল হক

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়েছে। এ নিয়ে দুজন শিক্ষাবিদের মতামত ছাপা হলো।
জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া কিছু দিন আগে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে সংগতি রেখেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন ও পাস করা হয়েছে। শিক্ষা এখন বাণিজ্যিকীকৃত হয়ে গেছে। আমাদের শিক্ষানীতি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনেও বাণিজ্যিকীকরণের এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা বা সংযত করার কোনো চেষ্টা করা হয়নি। বাণিজ্যিকীকরণের যা যা ক্ষতিকর দিক আছে, তার সবই এখানে দেখা যায়। যাঁরা বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালান, তাঁরা পুঁজি বিনিয়োগ করেন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। শিক্ষাকে এ রকম পুঁজির পণ্যে পরিণত রাখা সরকারের দিক থেকে উচিত নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির সঙ্গে সংগতি রেখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ব্যবসায়িক প্রবণতা সরকারের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ছিল। মনে হয়, সরকার চাপের কাছে নতিস্বীকার করেছে। জনগণের দিক থেকে সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য ভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি করা হলে ফল অন্য রকম হতো। সে ব্যাপারে উদ্যোগ আসার কথা দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক-চিন্তাবিদ ও জ্ঞানসাধকদের পক্ষ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী হিসেবে যাঁরা সমাজের অভিভাবকত্ব করেন, তাঁদের বেশির ভাগের মধ্যেই সে রকম চিন্তাভাবনা, এমনকি প্রবণতাও নেই। ছাত্ররাজনীতির যে রূপ, তার মাধ্যমেও এমন কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না, অথবা চিন্তাভাবনা দেখা দেয় না, যাতে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
একাডেমিক স্বাধীনতা বলে যে ব্যাপারটি বোঝানো হয়, তা মূলত পাঠ্য বিষয়, পাঠ্যক্রম ইত্যাদি স্থির করার স্বাধীনতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত ও জ্ঞানগত কাজকর্মের স্বাধীনতাও এর সঙ্গে জড়িত। সেসব ব্যাপারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চায়নি বলে বর্তমান আইন দেখে মনে হয়েছে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কাজ করে যাবে, তা সরকার বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রের আওতায় অন্তত কিছুটা নির্ধারণ করে দিতে পারত। যেমন, আজকের বিশ্ববাস্তবতায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলায়ও জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদের নীতি অবলম্বন করা অপরিহার্য। বাস্তবে দেখতে পাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিয়েও এর ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারী ভাব চলছে। তাতে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পাচ্ছে না, জ্ঞান-বিজ্ঞানেরও উন্নতি হচ্ছে না। ঢাকা-রাজশাহী-চট্টগ্রাম-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের যে মনোভাব দেখতে পাই, তাতে দেখি, শিক্ষকদের আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রভৃতি দল করার স্বাধীনতাকেই চূড়ান্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন-সংক্রান্ত চিন্তার স্বাভাবিক বিকাশ নয়, বিকার মাত্র। যাঁরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রবর্তন এবং শিক্ষানীতি প্রণয়নের সঙ্গে আছেন, তাঁরা এসব ভালো করেই জানেন। কিন্তু তাঁরা কাজ করেন নিতান্তই পুঁজিপতিদের স্বার্থে ও বাজারি মানসিকতায়। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, তাঁরা কাজ করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বদৃষ্টির অনুসারী হিসেবে। দেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধ সেখানে কথার কথা মাত্র।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক ব্যাপারে ন্যায়বিচারের স্বার্থেই সামঞ্জস্য বিধান করা সরকারের কর্তব্য ছিল। সেদিকে সরকারের মনোযোগের পরিচয় নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, বামপন্থী রাজনীতিবিদদের দিক থেকেও সে সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত সমালোচনা লক্ষ করা যায় না। আসলে অর্থনৈতিক ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
এটা লক্ষ করার বিষয়, চাকরিমুখী কিছু বিষয়ই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানোর ব্যবস্থা আছে। অর্থকরী কিছু দিক ছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের সৃষ্টিশীল দিকের প্রতি দৃষ্টি নেই। শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশের প্রতিও দৃষ্টি নেই। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নেওয়া হয় অনেক বেশি বেতন। টাকার বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভালো সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষা এবং সমাজের যে ক্ষতি হয়, তার প্রতিবিধানের উপায় করা উচিত ছিল। কিন্তু এগুলোর সঙ্গে যুক্ত পুঁজিপতিদের চাপে সরকার তা করতে পারেনি।
সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের না হয়ে বিভিন্ন দিকে তাদের শিক্ষা কর্মকাণ্ড বিভক্ত ও বিকশিত করতে পারত। সরকারি নীতির মাধ্যমেই তা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। সে ব্যাপারেও সরকার দৃষ্টি দেয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, নতুন আইন নিয়ে আগামী ১০ কিংবা ২০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে এগুলো যে ইতিবাচক উন্নতি করবে, তা আশা করা যায় না। নতুন আইন করার আগে যে অনুচিত ব্যাপারগুলো ছিল এবং অপব্যবস্থার সুযোগ ছিল, সেগুলোই আইনের মাধ্যমে এখন কিছুটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হলো।
আবুল কাসেম ফজলুল হক: লেখক ও অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পাকিস্তান-ভারত বৈরিতা অবসানের জন্য by কুলদীপ নায়ার

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দর কুমার গুজরাল সব সময় বলতেন, পাকিস্তান ও ভারতের বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের সমাধান স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে হবে; একজন জাদুকর যেমন করে থলের ভেতর থেকে খরগোশ বের করে এনে দর্শককে তাক লাগিয়ে দেন, তেমনভাবে জনগণের সামনে সমাধান হাজির করলে হবে না। তার এ কথায় যুক্তি আছে।
দুই পক্ষকেই সমাধানের ব্যাপারে মাথা ঘামাতে হবে, তারপর সমাধানটি দুই পক্ষকেই গিলতে হবে। এই প্রক্রিয়া ধীরগতির। ইটের পর ইট দাঁড় করিয়ে দালান নির্মাণের মতো। সুতরাং, যেসব বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আছে, কোনো ধরনের মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলাপ ও বিতর্ক করার ক্ষেত্রে পরিষ্কার রাস্তা হলো দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই যোগাযোগ সীমিত আছে শুধু তাদের মধ্যেই, যারা ভিসা পায় কিংবা ট্রেক-২ কমিটির সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। দুই দেশের সরকারই এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দেয় না এবং সরকারের নড়াচড়া ধীরগতির।
দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের নামমাত্র সুযোগ তারা খোলা রেখেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘অনাকাঙ্ক্ষিতদের’ বাইরে রাখতে ভিসা পাওয়ার যোগ্যতার শর্তাবলি আরও কড়াকড়ি করতে যাচ্ছে। ভারতে ঢোকার ক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত জুড়ে দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনাধীন আছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেলে তার মানে দাঁড়াবে, শুধু অভিজাতদেরই ভারতে ঢোকার অনুমতি মিলবে।
ভারত ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক একটি অগ্রগতি। তাঁরা কী বলেন আর কী পদক্ষেপ নেন, সেটা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর খুব শিগগির তাদের এটা করা উচিত, কেননা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে জনগণ আর সময়ের অপচয় দেখতে রাজি নয়।
তবে সবচেয়ে জরুরি হলো, প্রতিপক্ষ সম্পর্কে উভয় পক্ষের ভ্রান্ত ধারণাগুলো মন থেকে তাড়ানো। দুই দেশেই জাতীয় সংহতির বোধ লালন করা হয় ‘প্রতিপক্ষের অপকর্মের’ ওপর জোর দিয়ে। যখন জাতীয়তাবাদের রসদ আসে ‘শত্রু’কে ধরাশায়ী করার ভাবনা থেকে, তখন তো আস্থার পরিবেশ সৃষ্টির আশা ক্ষীণ। আসলে জাতীয়তাবাদ সব সময় পক্ষপাতদুষ্ট।
সমঝোতায় পৌঁছার বহু সফল প্রচেষ্টার পরও ভারত নিজেকে প্রতারিত বোধ করার কারণে পাকিস্তানের আন্তরিকতাকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং যাচাই করে দেখার বিষয়ে মনমোহন সিং যে মন্তব্য করেছেন, তা হয়তো ন্যায্য। তবে এতে শুধু অবিশ্বাসের গভীরতাই মূর্ত হয়। কে যাচাই করবে, কী যাচাই করা হবে আর কেমন করে করবে—এসব বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে। দুই দেশ যখন আলোচ্যসূচির রূপরেখাও দাঁড় করাতে পারেনি, তখন এগুলো উত্থাপন করা উচিত নয়।
উভয় দেশের জনগণকে দেশভাগের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে যেতে হবে। তখন যা ঘটেছিল তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এখনো প্রচারিত হয়ে আসছে। ১৯৪৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আমি শিয়ালকোট থেকে অমৃতসর গিয়েছিলাম। আমার সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অপর সম্প্রদায়ের ওপর হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ চালানোর ক্ষেত্রে হিন্দু আর মুসলমানের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না।
দেশভাগের সময় প্রায় ১০ লাখ মানুষ নিহত হলো; প্রায় দুই কোটি পরিবার বাস্তুভিটা ছেড়ে গেল। পাকিস্তানের মূলধারা দেশভাগের একপাক্ষিক চিত্র উপস্থাপন করে, এটা আমাকে পীড়া দেয়। ওয়াগাহ সীমান্তে পাকিস্তান এক বোর্ড খাড়া করেছে, তাতে দেখানো হচ্ছে হিন্দু আর শিখদের হাতে মুসলমানেরা কীভাবে নিহত হয়েছে। মুসলমানেরাও তো তখন কোনো অংশে কম করেনি। দেশভাগের ট্রাজেডিকে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাসে এক বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করাই ভালো হবে।
কিন্তু দেশভাগের সেই ট্র্যাজেডি ফিরে ফিরে আসে যখন পাকিস্তানের পাঠ্যবইগুলো ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়, ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। আগের মতো উঁচু স্বরে আর না বললেও এখনো ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের খারাপ অভিসন্ধি’র কথা বলা হয়। বিদ্যালয়ে শিশুদের যা শেখানো হয়, তা তারা কেমন করে ভুলবে? সেই মনোজগৎ নিয়েই তারা বড় হয়ে ওঠে। এখন সময় এসেছে দুই দেশ মিলে পাঠ্যপুস্তকগুলো এবং সেগুলো তৈরি করতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিশন গঠন করার।
এ পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিশুকালে যে ঘৃণার বীজ বপন করা হয়, তা নিঃসন্দেহে পরিহার করা যাবে। তবে দেশভাগের ফলে ক্ষুদ্র আয়তনের রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানের শঙ্কিত হওয়ার কারণ অনুধাবনযোগ্য। বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতের কাছ থেকে পাকিস্তানকে বিপদের আশঙ্কাতে থাকতে হয়। আর রাষ্ট্র গঠনের ৬২ বছর পর এখনো অধিকাংশ পাকিস্তানি মনে করে, নয়াদিল্লি তাদের দেশকে ধ্বংস করতে চায়। এমন চিন্তাকেই আশ্রয় করে চরমপন্থী সংগঠনগুলো তাদের প্রচারণার কাজ চালায়। উভয় দেশের সুশীল সমাজকে এ মনোভাবের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে। বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠে পাকিস্তান কি টিকে থাকতে পারবে? মনে পড়ছে, মিনার-ই-পাকিস্তানের দর্শনার্থী বইয়ে অটল বিহারি বাজপেয়ি লিখেছিলেন: ‘পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও সমৃদ্ধির ওপর ভারতের অখণ্ডতা ও সমৃদ্ধি নির্ভরশীল।’
দুই দেশের শাসক ও আমলাদের মনোভাবের বাজে নজির বহন করছে দুই দেশেই আটকে থাকা পরদেশের বন্দীরা। ভারতীয় ও পাকিস্তানি বন্দীরা সাজা খাটার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জেলখানায় খেটে মরছেন। বন্দীদের বেশির ভাগেরই অপরাধ হলো, তাঁরা পরদেশে ঢুকে পড়েছিলেন। ‘বৈরী’ পরিবেশে জেলেরা এর শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি। ভারতের গুজরাট ও দিউ এবং পাকিস্তানের সিন্ধুতে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। না জেনে তাঁরা পরদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়েন; গ্রেপ্তার হন। পাকিস্তানের কারাগারে এখন প্রায় ৫৬০ জন ভারতীয় জেলে আটকে আছেন আর ভারতের জেলখানায় আছেন ১৫০ জন পাকিস্তানি জেলে।
ভারতীয় বন্দীদের ৯৫ শতাংশ গুজরাট ও দিউয়ের আর পাকিস্তানি বন্দীদের বড় অংশ সিন্ধুর অধিবাসী। সাধারণত তাঁরা অন্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে পণে পরিণত হয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন মনে করে, বন্দী মুক্তির সময়টা তাঁদের জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক, তখনই তাঁরা ছাড়া পান, তার আগে নয়। যদিও দুই দেশই স্বীকার করে, এঁরা নিরপরাধ, তবু এঁদের দীর্ঘ সময় বন্দী করে রাখা হয়।
উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনে অনেক ছদ্মবেশী গোয়েন্দা থাকেন, তাই এক ধরনের গোয়েন্দা যুদ্ধ চলতে দেখা যায়। এক দেশ যখন কোনো কর্মকর্তাকে তাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য (পারসনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করে দেশ থেকে বের করে দেয়, তখন পাল্টা জবাব দেয় অন্য দেশ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।
আমি এখনো বিশ্বাস করি, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বড় মাত্রায় পারস্পরিক যোগাযোগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে; ভীতি, সন্দেহ ও অবিশ্বাস কমাবে। কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে সে সম্ভাবনা আমি দেখছি না। কারণ, সন্ত্রাসবাদ অনেক কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের শিকার। বহু মার্কিন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, যে তালেবান পাকিস্তানের বিভিন্ন নগরে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থসহায়তা দেয় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইসহ দেশের অভ্যন্তরেরই কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।
নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ যৌথভাবে এবং সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর সহায়তায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়সংকল্প ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এখন তালেবান নির্মূল করতে এক ধরনের কার্যকৌশল প্রণয়ন করা উচিত।
দ্য ডন থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব।
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।

পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ -মত দ্বিমত সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়েছে। এ নিয়ে দুজন শিক্ষাবিদের মতামত ছাপা হলো। by মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ নামে যে বিলটি পাস হয়েছে, তা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কেননা ১৯৯২ সালে যে আইনটি পাস করা হয়েছিল তাতে অনেক দুর্বলতা, অসংগতি ও অসম্পূর্ণতা ছিল। একই সঙ্গে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন বলেও আমি মনে করি। এর মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
এ আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। আগে যেকোনো ব্যক্তি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হতে পারতেন। নতুন আইনে বলে দেওয়া হয়েছে, উপাচার্য হতে হলে শিক্ষার সঙ্গে অন্তত ২০ বছর যুক্ত থাকতে হবে এবং এর মধ্যে ১০ বছর শিক্ষকতা করতে হবে।
উপাচার্যকে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান থাকবেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা-পয়সা জোগাড় করেন উদ্যোক্তারা। সে ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্য থেকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হওয়াই যুক্তিসংগত। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনে অ্যাক্টিভেশন কাউন্সিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই কাউন্সিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নির্ধারণ করবে।
তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদারকি বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইন পাস হয় ১৯৭৩ সালে। তখন কিন্তু দেশে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না, সব কটি ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আইনটি পর্যালোচনা করে বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে অনেক কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা প্রয়োজন। এর ক্ষমতা ও জনবল বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের বেতন ও শিক্ষার্থীদের ফির প্রশ্নও সামনে এসেছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখন বড় সমস্যা, ভালো শিক্ষক পাওয়া। ভালো শিক্ষক পেতে হলে ভালো বেতন দিতে হবে। আর ভালো বেতন দিতে হলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশি ফি নিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ছয় শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পড়ানোর কথা বলা আছে, যারা মেধাবী, দরিদ্র ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।
এ প্রসঙ্গে আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কথা বলতে পারি। সেখানে বছরে সাড়ে তিন কোটি টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়। তা ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বেতনের বাইরেও অনেক সুযোগ-সুবিধা পান, তাঁদের বাসস্থানেরও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বেতন ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা পান না।
নতুন আইনে আরেকটি কথা বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত শিক্ষা দিতে না পারলে সরকার সেটি বন্ধ করে দিতে পারবে। কিন্তু এর সঙ্গে তদারকি কাজ বাড়াতে পারলে শিক্ষার মানও বাড়বে। কিন্তু আইনে এ কথা বলা নেই, তিন-চার বছর পর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে। আমি মনে করি, তাদের অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকা উচিত, না হলে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ধরে রাখতে টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাস্কফোর্স তো খণ্ডকালীন। আমার পরামর্শ হলো, জাতীয় এডুকেশন কাউন্সিল গঠন করার, শিক্ষানীতিতে যার কথা উল্লেখ আছে।
এ জাতীয় এডুকেশন কাউন্সিল সরকারি-বেসরকারি—সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণ এবং গ্রেডিং করবে। কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যেমন গ্রেডিং হবে, তেমনি বিষয়ভিত্তিকও। তাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বুঝতে পারবেন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়টির মান কতটা উন্নত।
সার্বিকভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনকে আমি একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ আইন বলেই মনে করি।
ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন: প্রতিষ্ঠাতা-উপাচার্য, ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

অ্যাম্বুলেন্স প্রটোকলে রোগী উপেক্ষিত by ঊর্ধ্বতনদের নয়, জনগণকে খুশি করাই প্রশাসনের দায়িত্ব

বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়, মন্ত্রীর চেয়ে উপদেষ্টা বড় আর তাঁর থেকে বড় হলেন চিকিৎসা কর্মকর্তারা। মুমূর্ষু অন্তঃসত্ত্বাকে জরুরিভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সদরে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়নি, কারণ সেটি তখন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রটোকলে নিয়োজিত। অতি উৎসাহী হয়ে কাণ্ডটি করেছেন জেলার চিকিৎসা কর্মকর্তারা। অথচ মন্ত্রী পর্যায়ের নিচের কারও জন্য ঢাকার বাইরে সফরের সময় অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা দল নিযুক্ত করার নিয়ম নেই।
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটা এই অনিয়ম গত শনিবারের প্রথম আলোর সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। মুমূর্ষু ওই অন্তঃসত্ত্বাকে বৃহস্পতিবার রাতেই জরুরি উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পরামর্শ দিয়েই দায়িত্ব খালাস, রোগীকে স্থানান্তরের জন্য ওই হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা তাঁরা করেননি। উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে ধরনা দিয়েও রোগীর স্বামী উপেক্ষিত হয়েছেন। কারণ, সেখানকার সিভিল সার্জন অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার জন্য গঠিত চিকিৎসা দলের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দিয়ে রেখেছেন। এলাকার বা হাসপাতালের কোনো রোগীর জীবন রক্ষার মতো জরুরি প্রয়োজন উপেক্ষা করাকে তিনি দায়িত্বে অবহেলা মনে করেননি। অথচ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সেখানে সরকারি কাজে যাননি, গেছেন স্থানীয় এক সাংসদের বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে।
এ ধরনের আচরণ কেবল দায়িত্বহীনতাই নয়, মানুষের প্রতি বিবেচনাবোধেরও অভাব। এই অভাব প্রশাসনের নিম্ন থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত দেখা যায়। যাঁদের কাজ জনসেবা, তাঁদের দ্বারা জনগণকে এমন উপেক্ষা দুঃখজনক। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি চাইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্দেশ দেবে যে ঊর্ধ্বতনদের খুশি করার চেয়ে দায়িত্ব পালন বড়। মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রথম কর্তব্য সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও বিপদে দায়িত্ব অনুযায়ী সহযোগিতা করা।

উলফা নেতা গ্রেপ্তার by আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক

ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা মেজর রঞ্জন ও তাঁর এক সহযোগীকে ভৈরবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, খবর সেটা নয়। আসল খবর হলো, তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের পত্রিকা থেকেই, এ জন্য ভারতের পত্রপত্রিকার খবরের ওপর নির্ভর করতে হয়নি। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব সদর দপ্তরে যথারীতি সংবাদ ব্রিফিং করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের ছবিও পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় উলফা নেতা গ্রেপ্তারের খবরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের ১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন উলফা নেতা শশধর চৌধুরী ও চিত্রবন হাজারিকা। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে ওই ধরনের কোনো নেতা গ্রেপ্তারের খবর তাদের জানা নেই, অথচ ভারতের পত্রপত্রিকায় দাবি করা হয় যে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারের পর ৭ নভেম্বর উলফা নেতাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এটা পরিষ্কার যে গ্রেপ্তারের দায় আগে বাংলাদেশ নিতে চাইত না, এখন সেই লুকোচুরির নীতি থেকে বেরিয়ে এসে সরকার সুবিবেচনার পরিচয় দিয়েছে। মেজর রঞ্জন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন যে তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে থাকছেন এবং উলফার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের দলের আরও নেতা-কর্মী গোপন পরিচয়ে এ দেশে থেকে তাঁদের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হয়, সেসব কথাও প্রকাশ পেয়েছে। এটা তো সাংঘাতিক কথা। বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র ব্যক্তিরা কীভাবে এক যুগ বা তারও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবৈধ তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারেন? দেশের গোয়েন্দারা কী করেন? তাঁদের ভূমিকা কি এতই দুর্বল যে প্রতিবেশী দেশের নাশকতামূলক তৎপরতায় লিপ্ত সশস্ত্র ব্যক্তিরা নির্বিঘ্নে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে চলেছেন?
এর আগে ১৯৯৭ সালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের এক বাসা থেকে উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রচলিত আইনে তাঁর বিচার ও শাস্তি হয়েছে। কিন্তু এখন তাঁর আইনগত অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানা যায় না। বলা হয়, তিনি মেয়াদ শেষেও কারাগারে আছেন। নাকি বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে রাখা হয়েছে? পরিষ্কারভাবে কোনো কিছুই মানুষ জানে না। এসব ব্যাপারে রাখঢাক কখনো কোনো দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। প্রচলিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সবকিছু করা বাঞ্ছনীয়।
এ ব্যাপারে সরকারের নীতির স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। নীতিটি হলো, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ না করা। অন্য রাষ্ট্রের ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত শক্তিকে কোনো রকম আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়া। এই নীতির ব্যাপারে কোনো রকম শৈথিল্য কাম্য নয়। আমরা আশা করব, প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের এই নীতি সম্মানের সঙ্গে দেখবে এবং আমাদের প্রতিও একই নীতি অবলম্বন করবে।
বাংলাদেশের অনেক সন্ত্রাসী বিভিন্ন সময় ভারতসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেয়। আমাদের প্রত্যাশা, তাদেরও গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক দৃঢ়তর হতে পারে। এটাই শান্তির পথ।

সোনিয়াকে বিহার আদালতের সমন

ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে সমন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের একটি আদালত। আগামী ২৯ জুলাই সোনিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার আদালত এ নির্দেশ দেন।
২০০৭ সালে উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করে পোস্টার বিলি হয়েছিল। ওই পোস্টারে দেবী দুর্গার মুখমণ্ডলের স্থানে সোনিয়ার মুখমণ্ডল বসিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ এনে বিহারের মুজাফফরপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট সুধীর কুমার ওঝা। তার অভিযোগ, ওই ছবির ব্যাপারে সোনিয়া গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসের সভানেত্রী রীতা বহুগুনার পরোক্ষ সম্মতি ছিল।

আর্জেন্টিনার প্রথম সমকামী দম্পতিকে নিখরচায় মধুচন্দ্রিমার প্রস্তাব

মেক্সিকো সিটি সমকামীদের বিয়ের অনুমতি দিয়েছিল আগেই। আর্জেন্টিনা দিয়েছে গত বৃহস্পতিবার। মেক্সিকো সিটি বলেছে, আর্জেন্টিনার যে সমকামী জুটি প্রথম বিয়ে করবেন, তাঁরা বিনা খরচে এই শহরে মধুচন্দ্রিমা করতে পারবেন। এমনকি অবকাশযাপন কেন্দ্র কানকুনেও তাঁরা বিনা খরচে বেড়াতে পারবেন।
এ ব্যাপারে মেক্সিকো সিটির পর্যটনবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলেজান্দ্রো রোজাস বলেছেন, আর্জেন্টিনার প্রথম বিবাহিত সমকামী দম্পতির মধুচন্দ্রিমার পুরো খরচ মেক্সিকো সিটি ও কানকুন কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
আর্জেন্টিনা সরকার বৃহস্পতিবার সমকামীদের বিয়ের আইনি অনুমতি দেয়। এর আগে ২০০৯ সালে সমকামীদের বিয়ের অনুমতি দেয় মেক্সিকো সিটি। পাশাপাশি তারা সমকামী দম্পতিদের সন্তান দত্তক নেওয়ারও অনুমতি দেয়।
মেক্সিকো সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আর্জেন্টিনার সমকামী নবদম্পতির বিমানভাড়া দেবে। মধুচন্দ্রিমার বাকি খরচ বহনের জন্য তারা এখন বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।
কর্তৃপক্ষের বিনা খরচে মধুচন্দ্রিমার এ প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো সিটির বাসিন্দারা। তাদের অনেকে বলেছে, মেক্সিকো সিটির প্রতি সমকামী পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নিয়েছে। আবার অনেকে বলেছে, এর মাধ্যমে মেক্সিকো সিটি কর্তৃপক্ষ সমকামীদের বিয়ের প্রতি সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে।

আইন ভাঙায় বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার সংস্থাকে জরিমানা

নির্বাচনী আইন ভাঙার অপরাধে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার সংস্থাকে জরিমানা করেছে সে দেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেতে প্রচারণা চালানোর সময় এই আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটে। এই অপরাধে সংস্থাটিকে দুই লাখ ১৯ হাজার ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাইডেন ফর প্রেসিডেন্ট নামের ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর সময় জো বাইডেন একটি বেসরকারি বিমান ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া চাঁদা গ্রহণ করেন, যা নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া আইনকে ছাড়িয়ে যায়। সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই জরিমানার কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করা হবে

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীর সেনাদের প্রত্যাহার করা হতে পারে। এ বছর থেকেই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ফাঁস হয়ে যাওয়া একটি ইশতেহারের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানায়।
আগামীকাল মঙ্গলবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে আফগানিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্টেফান ডি মিস্টুরা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের গত রোববার গোপনে এই ইশতেহার বিতরণ করেছিলেন।
ইশতেহারের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, কাবুল সম্মেলনে আফগানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সেনা প্রত্যাহারের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (এএনএসএফ) হাতে হস্তান্তরের বিষয়ে কারজাইয়ের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে পত্রিকাটি উল্লেখ করে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও অর্থ দিয়ে এএনএসএফকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা ইশতেহারে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
কাবুলে আগামীকালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হগ, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণাসহ ৭০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে আফগানিস্তানের শান্তির জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ইরাকে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৪৩

ইরাকের রাদওয়ানিয়া শহরে গতকাল রোববার আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ আল-কায়েদাবিরোধী গেরিলা সংগঠন সাহওয়ার সদস্য। হামলার সময় তাঁরা সেনাবাহিনীর একটি কার্যালয় থেকে বেতন নিচ্ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বাগদাদের ২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত রাদওয়ানিয়া শহরের আল-বালাসিম সেনাঘাঁটির একটি অফিসের কক্ষে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটার দিকে হামলাটি চালানো হয়। এ শহরটি এক সময় সুন্নি আরব বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। হামলার সময় মার্কিন ও ইরাকি সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট গেরিলা সংগঠন সাহওয়ার সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়ে মাসিক বেতন তুলছিলেন। ঠিক এসময় একজন আত্মঘাতী বোমাবাজ শরীরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকের সাহায্যে নিজেকে উড়িয়ে দিলে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মাহমুদিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া ২০ বছর বয়স্ক তাসির মোহসিন বলেন, ‘আমরা ৮৫ জন তিন সারিতে দাঁড়িয়ে বেতন নিচ্ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। একজন সেনা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি নিজেকে উড়িয়ে দেন। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পাই।’
আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২০০৬ সালের গোড়ার দিকে সাহওয়া গঠন করা হয়। এ গেরিলা গোষ্ঠীটির অধিকাংশ সদস্য সুন্নি আরব। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠীর সদস্য ও সাবেক ইরাকি গেরিলাদের অনেকে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রথম দিকে এ গেরিলা সংগঠনটির বেতন সরাসরি মার্কিন সেনাবাহিনী দিত। তখন জনপ্রতি মাসিক বেতন ছিল ৩০০ মার্কিন ডলার। ২০০৮ সালের অক্টোবরে সাহওয়ার দায়িত্ব মার্কিন বাহিনী ইরাক সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়। তখন তাদের বেতন জনপ্রতি ১০০ ডলার কমে যায়।
মার্কিন ও ইরাকি সেনাদের সাহওয়ার সহায়তার কারণে ইরাকে আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন গেরিলা গোষ্ঠীর তৎপরতা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। তবে এর পরেও এই সুন্নি গেরিলা সংগঠনটি সন্দেহের চোখে দেখে থাকে ইরাকের শিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারকে। গত ছয় মাসে আল-কায়েদা জঙ্গিদের হামলায় অনেক সাহওয়া যোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারান।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করল দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া দূরপাল্লার একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। এটি প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানতে পারবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়নহ্যাপ গত শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম হাইউনমু-থ্রিসি। এর পাল্লা দেড় হাজার কিলোমিটার। এটি চীন, জাপান ও রাশিয়াতেও আঘাত হানতে পারবে।

সিআইএর অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার বিজ্ঞানী আমিরির

ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) কাছ থেকে ৫০ লাখ ডলার নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইরানের গুপ্তচর—এ কথা স্বীকার করতে মার্কিন গোয়েন্দারা আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। ইরানে বন্দী তিনজন মার্কিন গুপ্তচরের মুক্তির ব্যবস্থা করতে তাঁরা এই কৌশল নিয়েছিলেন।’
গত শনিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বিজ্ঞানী আমিরি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইরানে আটক তিনজনকে গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্যই ইরাক-ইরান সীমান্তে পাঠানো হয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দারা বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আমি ইরানের গুপ্তচর—এ কথা স্বীকার করলে তাঁরা গুপ্তচর বিনিময়ের নামে আমার মুক্তির বিনিময়ে ওই তিনজনের মুক্তি দাবি করতেন।’
গত বছরের জুলাইয়ে ইরান-ইরাক সীমান্ত থেকে শেন বাউয়ের (২৭), সারাহ সৌর্ড (৩১) ও জোশ ফাট্টালকে (২৭) আটক করে ইরান। ওয়াশিংটনের মতে, তাঁরা তিনজন নির্দোষ। অবকাশ যাপনের জন্য তিনজন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুই দেশের সীমান্তের চিহ্ন ছিল না। পরে তাঁদের আটক করে ইরান।
বিজ্ঞানী আমিরি গত বছরের মে মাসে সৌদি আরব থেকে নিখোঁজ হন। তখন থেকেই ইরান অভিযোগ করে আসছিল, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) তাঁকে অপহরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে জানায়, বিজ্ঞানী আমিরি নিজের ইচ্ছায়ই সিআইএর সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে ফেরেন। ওয়াশিংটন পোস্টে গত বুধবার রাতের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজ্ঞানী আমিরি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিআইএর হয়ে কাজ করেছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য জানতে সিআইএ তাঁকে ৫০ লাখ ডলার দেয়। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে আমিরির ব্যাংক হিসাবে জমাও হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো ব্যাংকিং লেনদেন না থাকায় আমিরিকে ওই অর্থ রেখেই তেহরানে ফিরে যেতে হয়েছে।
গত শনিবারের সাক্ষাৎকারে পরমাণু বিজ্ঞানী আমিরি জানান, তাঁর কাজ সম্পর্কেও ভুল ভাবনায় ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তিনি তেহরানের মালেক আসতার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে মূলত স্বাস্থ্যবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দারা তাঁর কাছ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করেন। আমিরি জানান, মার্কিন গোয়েন্দারা তাঁকে বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র দেখান। এসব নথিপত্রে পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের প্রক্রিয়া উল্লেখ করা ছিল। তিনি দাবি করেন, ‘এসব নথিপত্র আমি ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েছি—এমন বলার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়।’
আমিরি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে গোয়েন্দারা তাঁকে মিথ্যা শনাক্ত করার যন্ত্রের মুখোমুখিও করেন। পরে তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন।
মার্কিন গোয়েন্দারাই ওয়াশিংটনে ইরানের ইন্টারেস্ট সেকশনে তাঁকে নিয়ে যান বলেও উল্লেখ করেন পরমাণু বিজ্ঞানী আমিরি। তিনি বলেন, আমি নিজে থেকে সেখানে যেতে চাইনি। গোয়েন্দারা একটি ট্যাক্সিতে করে আমাকে জোর করে সেখানে পাঠিয়ে দেন। এর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিরি বলেন, সৌদি আরবের মদিনা শহর থেকে বন্দুকের মুখে সিআইএর ফার্সিভাষী দুজন গোয়েন্দা তাঁকে অপহরণ করেন।

গাজায় জনসমক্ষে নারীদের হুক্কা খাওয়া নিষিদ্ধ

ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থী দল হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় জনসমক্ষে নারীদের হুক্কা খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশ গাজার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নারীদের হুক্কা খাওয়া বন্ধ করতে মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইহাব আল হুসেইন বলেন, জনসমক্ষে নারীদের হুক্কা খাওয়ার বিষয়টি আমাদের ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি বিনোদনকেন্দ্রের মালিক আবু আহমেদ জানান, পুলিশের কাছ থেকে এমন নির্দেশ পাওয়ায় তিনি সেই নির্দেশ পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুিক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নারী ও শিশুদের জন্য এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। গাজার রক্ষণশীল সমাজের কিছু পরিবারের নারীরা হুক্কা খান। এ ছাড়া কেউ কেউ বিনোদনকেন্দ্রে বা ব্যক্তিগতভাবে হুক্কা খেয়ে থাকেন। হুক্কা টানা আরব সংস্কৃতির একটি অংশ।
চলতি বছরের শুরুতে গাজায় নারীদের বিউটি পার্লারে পুরুষের কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়। গাজায় তরুণ দম্পতিদের মাঝেমধ্যেই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। পুলিশ তাঁদের বিয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আহ্বান নাকচ করেছেন আব্বাস

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে মার্কিন দূতের আহ্বান নাকচ করেছেন। ফাত্তাহর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ দাহলান এ কথা জানান।
এক বিবৃতিতে দাহলান বলেন, গত শনিবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার বৈঠকে মার্কিন দূত মিচেল সীমান্ত ও নিরাপত্তার বিষয়ে ফিলিস্তিনের প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি কোনো মতামত তুলে ধরতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার আগে সীমান্ত ও নিরাপত্তার বিষয়ে অবশ্যই ইসরায়েলের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাই আমরা। এই দুটি বিষয়ে ইসরায়েলের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়ার আগে ফাত্তাহ সরাসরি আলোচনায় যাবে না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলে আসছে, পরোক্ষ আলোচনায় সীমান্ত ও নিরাপত্তার বিষয়ে অগ্রগতি হলেই তারা কেবল সরাসরি আলোচনায় বসবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জর্দানের একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তৃতীয় কোনো পক্ষ বা আন্তর্জাতিক বাহিনীকে সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিতে ইসরায়েল রাজি হলেই, তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জর্জ মিচেল বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। গত শুক্রবার তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জেলখানায় হামলা চালিয়ে ২৩ জন বন্দিকে মুক্ত করে নিয়ে গেল তালেবান

আফগানিস্তানের ফারাহ প্রদেশে গতকাল রোববার একটি জেলখানায় হামলা চালিয়ে ২৩ জন বন্দীকে মুক্ত করে নিয়ে গেছে তালেবান জঙ্গিরা। এ ছাড়া তারা চারটি পুলিশ চৌকিতেও হামলা চালায়। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
ফারাহ প্রদেশের পুলিশপ্রধান মোহাম্মদ ফকির আশকার জানান, ফারাহ শহরে অবস্থিত জেলখানার মূল ফটকে তালেবান জঙ্গিরা বোমা পেতে সেটি উড়িয়ে দেয়। এ সুযোগে ২৩ জন তালেবান জঙ্গি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের মধ্যে সাতজনকে ধরতে পারলেও বাকি ১৬ জন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এ সময় চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন। জেলখানাটিতে ৪০০ বন্দী ছিল।
প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ ইউনুস রাসুলি জানান, গতকাল সকালের দিকে জঙ্গিরা ফারাহ প্রদেশের চারটি পুলিশ চৌকিতেও হামলা চালায়। এতে এক পুলিশ নিহত হন। তালেবান জঙ্গিরা প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল প্রায় সাত ঘণ্টা তাণ্ডব চালায়।
বন্দী সতীর্থদের মুক্ত করতে তালেবান জঙ্গিরা প্রায়ই জেলখানায় হামলা চালিয়ে থাকে। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফারাহ প্রদেশের একই জেলখানা থেকে ১৩ জন বন্দী সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যায়।
২০০৯ সালের জুনে কান্দাহারের একটি জেলখানায় আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে তালেবান জঙ্গিরা এক হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্ত করে নিয়ে যায়।

ডাইনি অপবাদ দিয়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে আফ্রিকায়

ডাইনি বা খারাপ আত্মা ভর করেছে, কালো জাদুর চর্চা করছে—এ ধরনের অপবাদ দিয়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে আফ্রিকা মহাদেশের বেশ কিছু অংশে। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, এ ধরনের অপবাদে নির্যাতিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনাথ, পথশিশু ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাইনি বা কালো জাদুকর হিসেবে আখ্যা দেওয়া শিশুদের আগুনে ফেলে দেওয়া, মারধর এবং হত্যার মতো শাস্তি দেওয়া হয়। গবেষকেরা বলছেন, একটি শিশু ডাইনি বা শয়তান জাদুকর হতে পারে—ওই অঞ্চলে এমন বিশ্বাসের প্রচলন অপেক্ষাকৃত নতুন। ১০-২০ বছর আগেও সাধারণত নারী ও বৃদ্ধদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনা হতো।
ইউনিসেফ বলছে, এ ধরনের অভিযোগ এনে অসহায় শিশুদের নির্যাতন করার হার বাড়ার একটি কারণ নগরায়ণ। পাশাপাশি যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অসহায় শিশুরা এভাবে নিগৃহীত হচ্ছে। শিশুদের লালনপালনের খরচ বেড়ে যাওয়া এ ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। সংস্থার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ডাকিনিবিদ্যার এই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে খুব বেশি কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব না। তবে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এক ধরনের অন্যায় এবং এই অন্যায় প্রতিরোধে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেবে তারা।
আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডাকিনিবিদ্যা বা কালো জাদুর চর্চার অভিযোগ আনা হয়েছে—এমন বেশির ভাগ শিশুর বয়স আট থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। প্রায়ই এই বয়সের শিশুরা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয় এবং মাঝেমধ্যেই তাদের হত্যা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের চোখে-কানে পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস হচ্ছে, এমনটি করলে শিশুর ভেতর থেকে ‘শয়তানের আত্মা’ বের হয়ে যায়।
জানা গেছে, ‘শিশুর ওপর ভরকারী শয়তানি আত্মা’ তাড়াতে স্থানীয় ধর্মীয় মোড়লেরা মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় এ ধরনের এক মোড়লকে আটক করা হয়। তিনি প্রতিটি শয়তান তাড়ানোর কাজে আড়াই শ ডলারের বেশি অর্থ নিতেন।
ইউনিসেফের পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার আঞ্চলিক শিশু নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তা জোয়াকিম থেইস বলেন, কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় ২০ হাজারের বেশি পথশিশু ‘ডাইনিতে ভর করেছে’—এমন অপবাদের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মারধর এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জোর করে শিশুদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, তারা ডাইনি বা তাদের ওপর খারাপ আত্মা ভর করেছে। এ ধরনের অপবাদে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনাটাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রূপালী ইনস্যুরেন্সের ২০% বোনাস শেয়ার অনুমোদন

রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ২২তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই বোনাস শেয়ার অনুমোদন করা হয়।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় পরিচালকদের মধ্যে কে এম ফারুখ, কাজী মনিরুজ্জামান, জিন্নাত আলী মিয়া, মো. সিরাজুল হক, আফতাব আহম্মেদ, মোস্তফা গোলাম কামরুস সোবহান, রুনা হায়দার, মোস্তফা গোলাম এমরান, আবু হেনা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থ উপদেষ্টা এম আজিজুল হক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে রায় উপস্থিত ছিলেন।

অবকাঠামো-সংকট পর্যটন খাত বিকাশে প্রতিবন্ধক

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পর্যটন খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এ খাত থেকে আয়ও বাড়ছে না।
দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন এ খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মাহমুদ হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচজি এভিয়েশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম শাহজাহান খান।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের দক্ষতা উন্নত করতে হবে। তিনি এ খাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য সবার সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বেসরকারি খাতে লাইসেন্স দিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দুই বছরের মধ্যে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। এ ছাড়া কিছুদিনের মধ্যে বিমানের শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ বিমানের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দর্জির দোকানে ১৫% হারে মূসক প্রত্যাহারের দাবি

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে টেইলারিং শপ বা দর্জির কাজের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের টেইলারিং শপ বা দর্জির দোকান বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এ খাতের মালিকেরা।
স্থানীয় টেইলারিং শপ বা দর্জির দোকানগুলোকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলাদেশ ড্রেস মেকার্স অ্যাসোসিয়েশন আরোপিত ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহার ও এ খাতকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব দাবি জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বি এম হারুণ-অর-রশীদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ সাল থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টেইলারিং শপ ও টেইলার্স সরকারকে সাড়ে চার শতাংশ হারে ভ্যাট দিয়ে আসছে। কিন্তু চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে টেইলারিং শপ বা দর্জির কাজের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করা হয়েছে।
সমিতির সভাপতি বলেন, দর্জির দোকানগুলো কেবল কাপড় সেলাইয়ের মাধ্যমে সামান্য মজুরি পেয়ে থাকে। এই মজুরি থেকে কারিগরদের বেতন দিতে হয় এবং সুতা, বোতাম, ফিউজিং, পকেটিং ও অন্যান্য অনুষঙ্গ খরচ বাদ দিলে তেমন কিছু থাকে না। এখানে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ খুবই সামান্য। যদিও এর আগে সেবা খাতের অধীনে মূল্য সংযোজনের নির্ধারিত হারের ভিত্তি ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করে সাড়ে চার শতাংশ নিট মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করা হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ মূসক গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করার কথা থাকলেও কোনো দিন আদায় করা যায়নি।
সিরাজুল ইসলাম ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমানে তৈরি শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও মেয়েদের পোশাক খোলাবাজারে যেভাবে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হয়, সেখানে দর্জির দোকানে গ্রাহকদের কাছ থেকে মূসক আদায় করলে দোকানে গ্রাহক খুঁজে পাওয়া যাবে না।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় না আনা হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না।

রিয়ালের সমালোচনায় পেলেগ্রিনি

দ্বিতীয় নক্ষত্রপুঞ্জ গড়েও গত মৌসুমে কোনো ট্রফি স্পর্শ করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫০ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই জলে গেছে বলে সমালোচনাও উঠেছে। মৌসুমের শেষ বাঁশি বাজতেই রিয়াল কর্তৃপক্ষও বাজিয়ে দেয় কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির বিদায়ের বাঁশি।
বরখাস্ত হয়ে এত দিন চুপটি মেরেই ছিলেন। কিন্তু এবার হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন পেলেগ্রিনি। পাল্টা অভিযোগ করে বললেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষের কোনো সমর্থনই নাকি তিনি পাননি! দল গঠনেও নাকি কোনো কর্তৃত্ব তাঁর ছিল না! রিয়াল কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড় কেনাবেচাও করেছে কোচ পেলেগ্রিনির মতামত না নিয়েই। সোজা কথায়, ‘ফুটবলে কোচই সর্বেসর্বা’—এই ধারণাকে রিয়াল পাত্তা দেয়নি তাঁর আমলে, সাফল্য ধরা দেবে কীভাবে? ‘আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারিনি, কারণ এটা জেতার মতো সুসংগঠিত দল আমাদের ছিল না। আমার মতের ভিন্নতাও ছিল এখানেই’—বলেছেন এই চিলিয়ান কোচ।
লা লিগায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনাই জিতেছে শিরোপা। এতে তিনিও অসন্তুষ্ট এবং এর পুরো দায়টাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ‘কাপে আমরা খুব খারাপ করেছি। এটা ছিল লজ্জার। এর পুরো দায়টা আমারই।’ এত এত ইউরো ঢেলে রোনালদো, কাকাকে দলে টানতে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে দেয় দুই ডাচ তারকা আরিয়েন রোবেন ও ওয়েসলি স্নাইডারকে। চ্যাম্পিয়ন লিগের গত ফাইনালে নিজ নিজ ক্লাবের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন এ দুজন। গত বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন রোবেন-স্নাইডার। এই দুই ডাচ তারকাকে বিক্রির বিপক্ষেও নাকি অবস্থান ছিল তাঁর।

‘ক্যাপেলো সূচক’ এবং...

জার্মেইন ডিফো ৬২.৪৭, ওয়েইন রুনি ৫৮.৮৭, জো কোল ৫৫.৪৫...। কী এসব? জার্মানির কাছে ১-৪ গোলে হেরে যাওয়া ম্যাচে ১০০-এর মধ্যে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন। গত শনিবার একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এটি। ‘ক্যাপেলো সূচক’ শিরোনামের নিচে খেলোয়াড় ধরে ধরে করা হয়েছে এই মূল্যায়ন। দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোই দিয়েছেন এই নম্বর।
অথচ ক্যাপেলো বলছেন, ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই ‘ক্যাপেলো সূচক’ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইন্টারনেট থেকে এটি সরিয়ে ফেলারও দাবি জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের ইতালিয়ান কোচ। ‘এমন কোনো কিছুতে আমি অনুমোদন দিইনি এবং বিষয়টি খুব বিরক্তিকর’—বলেছেন ক্যাপেলো।
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) এক বিবৃতিতে ক্যাপেলোর দাবিকেই সমর্থন করেছে, ‘ক্যাপেলোর অজ্ঞাতেই সূচকটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাঁর প্রতিনিধি এটা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

টেরির শেষ দেখছেন ক্যানাভারো

জন টেরি সম্ভবত ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়বেন—সদ্যই সাবেক হওয়া ইতালির ডিফেন্ডার ফ্যাবিও ক্যানাভারোর ভবিষ্যদ্বাণী এটা। ‘আমার ধারণা, জন টেরি ইংল্যান্ড দলের তালিকায় আর থাকবে না’—বলেছেন তিনি।
ভাববেন না, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে জ্যোতিষী বনে গেছেন ইতালির সাবেক অধিনায়ক। ক্যাপেলোর কোচিংয়ে খেলার পূর্বাভিজ্ঞতা থেকেই এমন অনুমান করেছেন তিনি। জুভেন্টাস আর রিয়াল মাদ্রিদে ক্যাপেলোর অধীনে খেলেছেন ক্যানাভারো। তখনই দেখেছেন, যত বড় নামই হোক, কাজটা ঠিকঠাকভাবে না করতে পারলে ক্যাপেলোর সুদৃষ্টি আশা করা বৃথা।
বিশ্বকাপের আগে সতীর্থ ওয়েইন ব্রিজের সাবেক প্রেমিকার সঙ্গে টেরির গোপন প্রেমের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর টেরিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ক্যাপেলো। এরপর বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্স এবং সংবাদ সম্মেলন করে কোচের ট্যাকটিকসের প্রতি অসন্তুষ্টি জানানো—সবকিছু মিলিয়ে টেরির ওপর চটে আছেন ক্যাপেলো।
সবকিছু মিলিয়ে ক্যানাভারোর কাছে মনে হচ্ছে, ইংল্যান্ডের ২০১২ ইউরো অভিযানে টেরির না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। শুধু টেরি নন, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই একই ভাগ্য হবে বলে ক্যানাভারোর ধারণা। দলের খোলনলচে পাল্টে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ২০১২-এর ইউরোয় এই দল থেকে শুধু দুজন খেলোয়াড়ই থাকবে। একজন অ্যাশলি কোল, অন্যজন ওয়েইন রুনি।’
বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার পরও ক্যাপেলোকে দায়িত্বে রেখে ইংল্যান্ড ঠিকই করেছে বলে মনে করেন ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, ‘এফএর (ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ফ্যাবিওকে রেখে দেওয়াটা ঠিক সিদ্ধান্তই হয়েছে। তিনি এখন এই ইংল্যান্ড দলটাকে একেবারেই নিজের মনে করবেন। আমি তো ইংল্যান্ডকে ২০১২ ইউরোর জন্য ফেবারিটই বলব।’

ওয়ালকটকে নিয়ে ওয়েঙ্গারের বাজি

থিও ওয়ালকটকে বিশ্বকাপ দলে না নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো কি ভুল করেছিলেন? আর্সেন ওয়েঙ্গার মনে করেন সেরকমই। আর্সেনাল কোচ বলেছেন, এই ক্লাব মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত খেলে ওয়ালকট সেটা প্রমাণও করে দেবেন।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির শুরুতেই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে শুরু করেছেন তরুণ ওয়ালকট। গত শনিবার বার্নেটের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। ওয়ালকট গোল করেননি, কিন্তু যেভাবে খেলেছেন তাতে ওয়েঙ্গার মুগ্ধ।
ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়েঙ্গার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ডের কোচ ক্যাপেলোকে খোঁচাটা দিয়েছেন এর পরই, ‘অনুশীলনে সে খুবই নিবেদিত। কোনো সমস্যা হলে কিংবা নিজের যথার্থ মূল্যায়ন না হলে সে সব সময়ই নিজেকে প্রমাণ করে দেখায়।

স্কুল খো খো

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-জে ওয়ান স্কুল খো খোর বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাইকপাড়া গভর্নমেন্ট স্টাফ কোয়ার্টার স্কুল। ফাইনালে কাল তারা ১৪-১১ পয়েন্টে হারিয়েছে খিলগাঁও মডেল হাইস্কুলকে। বালিকা বিভাগে বাসাবো বালিকা উচ্চবিদ্যালয়কে ১২-৩ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে করাতিটোলা সিএমএস মেমোরিয়াল হাইস্কুল। দুই বিভাগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে পাইকপাড়ার আবু সাইদ ও করাতিটোলার তানিয়া আক্তার। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ।

মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণুযুদ্ধের ব্যাপারে কাস্ত্রোর ফের আশঙ্কা প্রকাশ

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো আবারও মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণুযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রাজধানী হাভানায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর এই ভাষণ গত শুক্রবার কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। এ নিয়ে নয় দিনের মাথায় পঞ্চমবারের মতো জনসমক্ষে দেখা গেল এই নেতাকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনে কূটনীতিকদের উদ্দেশে প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তাঁর পরনে ছিল চেক শার্ট। এবারও কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এক হাত নেন। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর ভিত্তি করে এ পর্যন্ত যত খবর ও সংবাদ বিশ্লেষণ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে, সেগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন কাস্ত্রো।
রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরান ও উত্তর কোরিয়ায় আগ্রাসন চালায়, তবে তা বিশ্বে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। আগ্রাসনের জবাব কী হবে তা ঠিকঠাক হয়ে আছে। এটা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের বিষয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়া আক্রমণ করবে, সে ব্যাপারে তিনি প্রায় নিশ্চিত। নিজের স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে ৮৩ বছর বয়স্ক এই নেতা বলেন, তাঁর অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো আছে।
কাস্ত্রো মাত্র নয়দিনের মধ্যে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য দিলেন। এক বছরের মধ্যে গত সোমবার তাঁকে প্রথম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়। এ সময় তাঁর গলার স্বর কিছুটা ভেঙে গেলেও স্বাস্থ্যের অবস্থা ছিল মোটামুটি ভালো। সেদিন টেলিভিশনে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়, যাতে তিনি বিশ্বে পরমাণুযুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কিউবা সম্প্রতি ৫২ জন ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে শুরু করেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি এখন বেশ ভালো। আর ঠিক এই সময়েই কাস্ত্রোকে এখন বারবার জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে। ২০০৬ সালে ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর এই নেতা এত দিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন।

কাঁচামাল আমদানিতে মোড়কে লেখার শর্ত প্রত্যাহার দাবি

দেশের প্লাস্টিক শিল্প খাতের বিকাশের স্বার্থে অনতিবিলম্বে এ খাতের প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক কর্তৃক আমদানিকৃত কাঁচামালের ব্যাগের গায়ে ‘বন্ডের আওতায় আমদানি, বিক্রয়যোগ্য নয়’ লেখাসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাংক গ্যারান্টি সমস্যা সমাধান, ইউপি ইস্যুর দায়িত্ব বিপিজিএমইএর ওপর ন্যস্ত করা, পরিবেশ সমস্যা সমাধান, প্লাস্টিক শিল্প খাতের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সভায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) নবনির্বাচিত সভাপতি শাহেদুল ইসলাম (হেলাল) সভাপতিত্ব করেন।
রাজধানীর পল্টনে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিপিজিএমইএর বিদায়ী সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহেদ, সাবেক সভাপতি মো. ইউসুফ আশরাফ, কে এম আলমগীর, বর্তমান সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ। সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেকুর রহমান সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমিতির ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সামিম আহমেদ।
সভায় জানানো হয়, দেশে প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। তা ছাড়া প্লাস্টিক পণ্যের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। সারা দেশে ছোট-বড় মিলে প্রায় তিন হাজার প্লাস্টিক কারখানায় প্রায় ছয় লাখ লোক কাজ করছে। বর্তমানে সরাসরিভাবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং প্রচ্ছন্নভাবে আরও প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকারও অধিক মূল্যের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়ে আসছে।

সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজার অস্থির

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক সামান্য বেড়েছিল গত সপ্তাহের শেষ দিনে। লেনদেন কমলেও দিনশেষে সূচকের এ সবুজ সংকেত কিছুটা হলেও স্বস্তি জুগিয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এর বাইরে সপ্তাহের পুরো সময়টাই দেশের শেয়ারবাজার ছিল অস্থিতিশীল। মূলত নীতিনির্ধারকদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহের প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে। আগের সপ্তাহের শেষ দিনে এসইসি শেয়ারের বিপরীতে ঋণসীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা কার্যকর হয় গত রোববার থেকে। আর হঠাৎ করে বিনিয়োগকারীদের ঋণ নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ দিন মূল্যসূচকে বড় ধরনের দরপতন ঘটে। একই সঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণও।
ঋণসীমা কমানোর সপক্ষে এসইসির যুক্তি ছিল, অতিরিক্ত তারল্যপ্রবাহের কারণে বাজারে ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছিল। এই ঝুঁকি কমাতেই বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে তারা।
কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ হস্তক্ষেপ এক দিনের ব্যবধানেই অসাড় প্রমাণিত হয়। সোমবার থেকে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বাড়তে থাকে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। এ পর্যায়ে এসইসি বাজার নিয়ন্ত্রণে বেছে নেয় ভিন্ন কৌশল। অনেকটা পুলিশি কায়দায় বড় বড় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষস্থানীয় ৫০ জন গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায়। উদ্দেশ্য, এসব গ্রাহকের লেনদেনে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। একই সঙ্গে তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও যাচাই করে দেখতে চায় এসইসি।
সপ্তাহের শেষ দিকে এসে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া এসইসির এ চিঠির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তালিকায় থাকতে পারে—এমন বিনিয়োগকারী তো বটেই, সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। তাই বাজার আবার কমতে শুরু করে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসির কৌশল কিছুটা সফল হলেও বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকেরা বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।
তাঁরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে বাজারে তারল্যপ্রবাহ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই শেয়ারের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে সূচক নিয়ন্ত্রণের কৃত্রিম প্রচেষ্টা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে সাত হাজার ২৪৪ কোটি টাকা, আগের সপ্তাহে চেয়ে যা ৩৩ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ১০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে যেখানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল দুই হাজার ১৬৬ কোটি টাকা, সেখানে গত সপ্তাহে তা নেমে এসেছে এক হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায়। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে প্রতিদিনকার গড় লেনদেন কমেছে ৭১৭ কোটি টাকা।
লেনদেনের পাশাপাশি ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচকেরও পতন ঘটেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ছয় হাজার ৪৩২ পয়েন্ট। আর সপ্তাহশেষে তা প্রায় ১২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৩০৯ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসইতে ২৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮৬টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৭১টির।
দাম বাড়ার শীর্ষ ১০: ম্যারিকো বাংলাদেশ, আইসিবিএমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, আইসিবি এমসিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, আইসিবি এমএমসিএল তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ও আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।
দাম কমার শীর্ষ ১০: ম্যাকসন্স স্পিনিং, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সমতা লেদার, মেঘনাপেট, দেশ গার্মেন্টস, আলফা টোব্যাকো, বিডি অটোকারস ও সোনালি আঁশ।

দেশে মুঠোফোনের গ্রাহক ছয় কোটি ছাড়িয়ে গেছে

দেশের মুঠোফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছয় কোটি অতিক্রম করেছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত এই সংখ্যা ছয় কোটি পাঁচ লাখ এক হাজার। এই হিসাবে দেশের দুই-পঞ্চমাংশ লোকের হাতেই মুঠোফোন পৌঁছে গেছে।
বিশাল এ অর্জনে আনন্দের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো খানিকটা হতাশও। তাদের দাবি, শুধু সংযোগ কর (সিম ট্যাক্স) না থাকলে গ্রাহকের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারত।
অপারেটর কোম্পানিগুলোর পৃথক তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসে টেলিটক বাদে বাকি পাঁচটি অপারেটর কোম্পানি সাড়ে ২১ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ করেছে। এর আগে মে মাসে দেশের ছয়টি অপারেটর কোম্পানি ২০ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ করেছিল।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, জুন মাসে তাদের গ্রাহক বেড়েছে ১১ লাখ ৬৮ হাজার। এতে সব মিলিয়ে তাদের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১৮ হাজারে। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেরা অপারেটর বাংলালিংকের গ্রাহক বর্তমানে এক কোটি ৬৫ লাখ। ওয়ারিদের গ্রাহক সংখ্যা ৩১ লাখ ৭০ হাজার। তবে এ সময়ে একমাত্র দেশীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের গ্রাহক কমেছে ২৭ হাজার। মে মাসের শেষে ১১ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহকে পৌঁছে যাওয়া টেলিটকের গ্রাহক এখন ১১ লাখ ৬৩ হাজারে নেমে এসেছে।
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যামটবের সভাপতি জাকিউল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো এবং বাংলাদেশের জন্য এটি অবশ্যই বড় অর্জন। তবে পুরো কৃতিত্ব অপারেটর কোম্পানিগুলোর। কারণ আইনগত নানা চ্যালেঞ্জ এবং হাজার কোটি টাকার করের বোঝা সত্ত্বেও অপারেটর কোম্পানিগুলো দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে যে একযোগে এগিয়ে নিচ্ছে, এটিই এর প্রমাণ।
তবে মুঠোফোনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছয় কোটি মোবাইলের সিম কার্যকর হলেও, প্রকৃতপক্ষে টেলিঘনত্ব আরও কম।
গ্রামীণফোনের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদ হোসেইন জানান, টেলিঘনত্বের হিসাব সব সময় সঠিক হয় না। কারণ দেশের অসংখ্য লোক একাধিক সিম ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে ৩২-৩৬ শতাংশ লোকের হাতে মুঠোফোন আছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুঠোফোনের গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটি হয়েছিল। এ সংখ্যা ২০০৮ সালের এপ্রিলে চার কোটি এবং ২০০৭ সালের জুলাইয়ে তিন কোটি পার হয়। ১৯৯৩ সালে দেশে মুঠোফোনের যাত্রার পর প্রথম তিন কোটি গ্রাহক অর্জনে সময় লাগে ১৪ বছর। পরের তিন কোটি গ্রাহক এল তিন বছরেরও কম সময়ে।

সাধারণ সূচক বেড়েছে ৮০.২০ পয়েন্ট

ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ রোববার লেনদেন বেশ বেড়েছে। আজ শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক ৮০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৮৯ পয়েন্টে। আজ শেয়ারবাজারে মোট এক হাজার ৬৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৬টির, কমেছে ১০৭টির। সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স ও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো আরএকে সিরামিকস, বাংলাদেশ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, গ্রামীণফোন, ডেল্টা স্পিনার্স ও কাশেম ড্রাইসেলস।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বিডি আটোকারস, আলফা টোব্যাকো, কাশেম সিল্ক ও মডার্ন ডাইং।

জয় দিয়ে শুরু স্কলারির

প্রায় ১০ বছর পর পালমেইরাসে ফেরাটা ভালোই হয়েছে লুই ফেলিপ স্কলারির। এই ক্লাবে নিজের দ্বিতীয় দফা শুরু করলেন জয় দিয়ে। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্টোসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্কলারির পালমেইরাস।
১৯৯৭ থেকে ২০০০, এই তিন বছর পালমেইরাসে ছিলেন স্কলারি। জিতেছেন চারটি শিরোপা। এর মধ্যে আছে ১৯৯৮ সালের ব্রাজিলিয়ান কাপ আর ’৯৯-এর লিবার্তোদোরেস কাপ। পালমেইরাসের পর ক্রুজেইরোর দায়িত্বও নিয়েছিলেন। সেখানে এক বছর কাটানোর পর ২০০১-০২ কোচিং দিয়েছেন ব্রাজিলকে। ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দিয়ে পাড়ি জমান পর্তুগালে। সেখানে ৮ বছর পার করে আবার দেশে ফিরলেন পালমেইরাসের কোচ হয়ে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ম্যাচ জিতলেও এখনো অনেক কাজ করতে হবে স্কলারিকে। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম রাউন্ড শেষে তাঁর দল পালমেইরাস আছে তৃতীয় স্থানে। ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে সান্টোস আর ফ্ল্যামেঙ্গোও। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে করিন্থিয়ানস আর সিয়ারা যৌথভাবে শীর্ষে। ফ্লুমিনেসের অবস্থান দ্বিতীয় (১৬ পয়েন্ট)।

ফার্গুসনের ইংল্যান্ড-ভীতি

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন ওয়েইন রুনি। কিন্তু হতাশ করলেন। রুনিকে দেখে মনে হলো, ফুটবল খেলাটাই বোধ হয় ভুলে গেছেন! সমস্যাটা কি ফ্যাবিও ক্যাপেলোর? ক্যাপেলোর জায়গায় ইংল্যান্ডের কোচ যদি হতেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, তাহলে কি নিজেকে মেলে ধরতে পারতেন রুনি?
হেসে উড়িয়ে দেবেন না। শুধু ফার্গুসন আপত্তি করেছেন বলে, নইলে ম্যানইউর এই কিংবদন্তিকে ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা নিতান্ত কম হয়নি। না, ইংল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশন নয়, তথ্যটা জানিয়েছেন খোদ ‘ফার্গি’। সেই সঙ্গে কাজটা কেন নেননি, বলেছেন সেটাও।
ফার্গুসনের দাবি, তিনি প্রথম প্রস্তাবটা পেয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। টেরি ভেনাবেলসের পর তাঁকে কোচ করতে চেয়েছিল এফএ। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করা গ্লেন হডল সরে গেলে ১৯৯৯ সালেও একবার ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ফার্গুসনকে।
কিন্তু ফার্গুসন ইংল্যান্ডের কোচ হওয়াটাকে ভয়ংকর কাজ বলেই মনে করেন। সেই সঙ্গে নিজে স্কটিশ বলেও ইংল্যান্ডের দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন বলে জানালেন ম্যানইউর এই কোচ, ‘ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করার জন্য বার দুয়েক আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে ভাবার প্রশ্নই আসে না। ইংল্যান্ডের দায়িত্বটা হলো বিষের পেয়ালার মতো। ভয়ংকর একটা চাকরি। সঙ্গে আমার আরেকটা বাধা ছিল—আমি একজন স্কটিশ। এই ব্যাপারটা কে কীভাবে দেখে, জানি না। কিন্তু আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেননি বলে দলটি নিয়ে একটুও ভাবেন না, তা নয়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কেন ব্যর্থ হলো, সেসব প্রশ্নের জবাবও দিতে হচ্ছে তাঁকে। ফার্গুসন আরও অনেকের মতো দায়টা দিলেন খেলোয়াড়দের ক্লান্তির ওপরই। দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর একটা মৌসুম শেষ করে বিশ্বকাপে খেলোয়াড়েরা ফিট থাকতে পারেনি বলেই ধারণা ফার্গুসনের, ‘ইংলিশ ফুটবল মৌসুমটা খুব ক্লান্তিকর। উদাহরণ হিসেবে শুধু ডিসেম্বর মাসের দিকেই তাকান, মাসে আট থেকে নয়টা ম্যাচ খেলতে হয়। মাঠের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, আবহাওয়াও জঘন্য হয়ে পড়ে। মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে এসে দেখবেন, অনেক খেলোয়াড়ই ছোটখাটো চোট-টান নিয়ে খেলছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকে বলে এর পরও খেলা চালিয়ে যায় তারা। এতকিছুর পর বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট যখন আসে, তখন তারা পুরোপুরি ফিট থাকে না।’
প্রশ্ন হলো, ক্লান্তির সমস্যাটা শুধু ইংলিশদেরই কেন? ইংলিশ লিগে তো অন্যরাও খেলেন!

তাঁদের কোচিং ক্যারিয়ার

কে হবেন ব্রাজিলের কোচ—ফুটবল বিশ্বে এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সম্ভাব্য তালিকায় আছেন সাত-আটজন। এগিয়ে আছেন লুই ফেলিপে স্কলারি, ভ্যান্ডারলি লুক্সেমবার্গো আর মুরিসি রামালহো

লুই ফেলিপে স্কলারি
শুরু: ১৯৮২ সালে, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সেনত্রো স্পোর্তিভো আলাগোয়ানোতে।
অভিজ্ঞতা: ১৩টি ক্লাব এবং ৩টি জাতীয় দলের (কুয়েত, ব্রাজিল ও পর্তুগাল) কোচ ছিলেন।
জাতীয় দলে সাফল্য: ২০০২ বিশ্বকাপ জয় (ব্রাজিল), গালফ নেশনস কাপ (কুয়েত)।
ক্লাব সাফল্য: ৩টি ব্রাজিলিয়ান কাপ, ২টি লিবার্তোদোরেস কাপ, কুয়েত এমির কাপ এবং উজবেক লিগ।
ভ্যান্ডারলি লুক্সেমবার্গো
শুরু: ১৯৮৩ সালে, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ক্যাম্পো গ্রান্দোয়
অভিজ্ঞতা: ১৬টি ক্লাব এবং ১টি জাতীয় দলের (ব্রাজিল) কোচ ছিলেন
জাতীয় দলে সাফল্য: ১৯৯৯ কোপা আমেরিকা জয় (ব্রাজিল)
ক্লাব সাফল্য: ৫ বার ব্রাজিলিয়ান প্রথম বিভাগ শিরোপা
১টি ব্রাজিলিয়ান কাপ।
মুরিসি রামালহো
শুরু: ১৯৯৩ সালে, মেক্সিকান ক্লাব পুয়েবলায়।
অভিজ্ঞতা: ১৩টি ক্লাবের কোচ ছিলেন।
ক্লাব সাফল্য: কনমেবল কাপ ১টি, ব্রাজিলিয়ান প্রথম বিভাগ
শিরোপা ৩টি, চায়না কাপ ১টি।

জো’বুলানির দাম ৭৪ হাজার ডলার

‘সুপার মার্কেট বল’, ‘বাজে বল’—পুরো বিশ্বকাপে কত সমালোচনাই না হয়েছে ২০১০ বিশ্বকাপের বল জাবুলানির। সমালোচনা করেছেন খেলোয়াড়েরা। এত সমালোচিত হওয়া একটি বলেরই কিনা দাম উঠেছে ৭৪ হাজার ডলার!
অ্যাডিডাসের তৈরি দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের জাবুলানি বলটি ফাইনালে নাম বদলে হয়েছে জো’বুলানি। ফাইনালের এই জো’বুলানি বলটিরই এত দাম! আসলে নাম বদলের কারণে নয়, ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের বলটির এত দাম উঠেছে অন্য কারণে।
নেলসন ম্যান্ডেলার এইচআইভি/ এইডসবিরোধী অভিযানে সাহায্য করতে নিলামে তোলা হয়েছিল বলটি। ইন্টারনেটে তোলা নিলামের অর্থ জমা পড়বে ম্যান্ডেলার এইচআইভি/এইডসবিরোধী অভিযান ৪৬৬৬৪-তে। এ নম্বরটি রোবেন দ্বীপে ম্যান্ডেলার কারা নম্বর ছিল।
বিশ্বকাপ ফাইনালের বল, তার ওপর সেটি বিক্রির এমন মহৎ উদ্দেশ্য—জো’বুলানির দাম তো অত বেশি হবেই।

স্বস্তি নিয়ে গ্লাসগোতে বাংলাদেশ

তৃপ্তি নিয়ে আয়ারল্যান্ড ছাড়ার সম্ভাবনা প্রথম ম্যাচেই শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে অন্তত স্বস্তি নিয়ে বেলফাস্ট ছাড়ল বাংলাদেশ দল। আইরিশদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে গতকালই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে চলে গেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা।
গ্লাসগোতে আগামীকাল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে পরদিন হল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে চলতি ইংল্যান্ড সফর।
বাংলাদেশের সফরটা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যেমন একটু অবাক করেছিল মাশরাফির দল, তেমনই ধাক্কা খায় আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে।
সেই হারের প্রতিশোধ অন্তত নিতে পেরেছে তারা গত পরশু। বৃষ্টিতে ৪৬ ওভারে পরিণত হওয়া ম্যাচে পেসার শফিউল ইসলামের ক্যারিয়ার-সেরা (৪/৫৯) বোলিংয়ে আইরিশদের ১৮৯ রানে আটকে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের ৭৪, জহুরুল ইসলামের ৩৪ ও সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতেছে তারা।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে এমন কিছু আপ্লুত হওয়ার কথা নয় কারোরই। প্রথম ম্যাচ হারের পর পাওয়া জয়ে ভেসে যাচ্ছেন না অধিনায়ক মাশরাফিও। তার পরও সিরিজ বাঁচানো জয় এনে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছেন তিনি বোলারদের, ‘আমি বোলারদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম। তারা শেষ পর্যন্ত জয়ের ভিত্তিটা গড়ে দিতে পেরেছে।’
বাংলাদেশের অধিনায়কের মুখে এই জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস না থাকলেও, আইরিশ অধিনায়কের ‘বাংলাদেশ-ভক্তি’ ঠিকই প্রকাশ পেল। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড বলছেন, ‘বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী দল। আমরা প্রথম ম্যাচ জয়ের পরও জানতাম, তারা সিরিজে ভালোভাবে ফিরে আসার যোগ্যতা রাখে। সেটাই করেছে তারা।’
কাল গ্লাসগো পৌঁছে বিশ্রাম নিয়েছে বাংলাদেশ দল। স্কটল্যান্ড আর হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ এক দিনই অনুশীলন করবে তারা। আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষেই সাকিবের কাউন্টি দল উস্টারশায়ারে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে রেখে দিয়েছে স্কটল্যান্ডেও। তাতে অবশ্য কোনো আপত্তি জানায়নি উস্টারশায়ার।

টেস্টে মুরালিধরনের যত রেকর্ড

সবচেয়ে বেশি উইকেট (৭৯২)
সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট (৬৬)
সবচেয়ে বেশিবার ১০ উইকেট (২২)
টানা সবচেয়ে বেশি ১০ উইকেট (৪)
দেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪৮৫)
দেশের মাটিতে জয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট (২৯৭)
ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি বল (৪৩৬৬৯)
ষ এক মাঠে সবচেয়ে বেশি উইকেট (১৬৬, কলম্বোর এসএসসিতে)
দলের জয়ে শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪২.২%)
পরাজয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট (২১০)
বোল্ড করে সবচেয়ে বেশি উইকেট (১৬৫)
বোলার-ফিল্ডার কম্বিনেশনে সবচেয়ে বেশি উইকেট (মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে ৭৩)
ক্যাচ আউট করে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪৩১)
সবচেয়ে বেশি কট অ্যান্ড বোল্ড (৩৫)
স্টাম্পিং করে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪৭)
সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে ৩৫০, ৪০০, ৪৫০, ৫০০, ৫৫০, ৬০০, ৬৫০, ৭০০ ও ৭৫০ উইকেট।

মিলান ছাড়ছেন রোনালদিনহো

ক্লাব প্রেসিডেন্ট স্বয়ং তাঁকে অনুরোধ করেছেন থেকে যেতে। আগের সেই অদম্য চেহারাটা না থাকলেও আকাশচুম্বী বেতনটা দিয়ে যেতে রাজি হয়েছে ক্লাব। তার পরও হয়তো এসি মিলান আর ধরে রাখতে পারছে না রোনালদিনহোকে। ইতালির ক্রীড়া পত্রিকা করিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত-এর যা খবর, তাতে দুবারের ফিফা বর্ষসেরার ইতালি অধ্যায় শেষ। ফিরতে চান নিজ দেশ ব্রাজিলে। বড় ভাই ও এজেন্ট রবার্তো ডি অ্যাসিস মোরেইরাকে নিয়ে রোনালদিনহো শিগগিরই নাকি মিলান যাবেন ক্লাবকে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাতে।
রোনালদিনহোকে পাওয়ার ইচ্ছার কথা ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো বেশ কবারই জানিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, রোনালদিনহোরও ইচ্ছা সেখানেই যাওয়ার। বাতাসে উড়ছে দুই আমেরিকান ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি ও রিয়াল সল্ট লেকের নামও। তবে এই প্লে-মেকারের সান সিরো ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন মিলানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদ্রিয়ানো গ্যালিয়ানি, ‘রোনালদিনহো মিলান ছাড়ছে না। পরের মৌসুমেও সে এখানে থাকছে। সে নিজে আমাদের ক্লাব ছাড়ার কথা জানায়নি, অন্য কোনো ক্লাবের কাছ থেকে প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি।’ তবে বড় অঙ্কের কোনো প্রস্তাব পেলে যে ভেবে দেখবেন, গ্যালিয়ানি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন এটাও।
ফার্নান্দো তোরেসকে পাওয়ার জন্য টোপ অব্যাহত রেখেছে চেলসি। লিভারপুলের কাছে ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার এক দিন পর কাল ৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। আগের প্রস্তাবটি পর্যন্ত লিভারপুলের কোচ-কর্তৃপক্ষ সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ব্যর্থ এই স্ট্রাইকারকে কোনোভাবেই না ছাড়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। নতুন প্রস্তাবের পর ভাবনার পরিবর্তন হয়েছে কি না, জানা যায়নি এখনো। তোরেসের ব্যাপার যা-ই হোক, হাভিয়ের মাচেরানোকে মনে হয় হারাচ্ছেই লিভারপুল। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ইন্টার মিলানে নিয়ে যেতে উঠেপড়ে লেগেছেন লিভারপুলের সাবেক ও ইন্টারের বর্তমান কোচ রাফায়েল বেনিতেজ। লিভারপুলের নতুন কোচ রয় হজসন নাকি গত কয়েক দিনে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারছেন না এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আগে ডেভিড ভিয়াকে নেওয়ার পর স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এবার দলে ভিড়িয়েছে ব্রাজিলের আদ্রিয়ানোকে। নাম দেখে চমকে উঠতে পারেন, তবে এই আদ্রিয়ানো ‘দ্য এমপেরর’ আদ্রিয়ানো নন, তাঁর পুরো নাম আদ্রিয়ানো করিয়া ক্লারো। খেলতে পারেন ডিফেন্স-মিডফিল্ড দুই জায়গাতেই, গত পাঁচ বছর খেলেছেন সেভিয়ায়। বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল এখনো আশা ছাড়েনি জার্মান মিডফিল্ডার সামি খেদিরাকে পাওয়ার। শুধু খেদিরাই নন, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, টমাস মুলারদের মতো জার্মান তরুণদের নিয়ে রিয়ালে ‘জার্মান ফ্রিগেড’ গড়ে তোলার ইচ্ছে ছিল নতুন কোচ হোসে মরিনহোর। তবে মরিনহোর কোনো আশাই হয়তো পূরণ হচ্ছে। খেদিরা-মুলারদের কোনোভাবেই ছাড়বে না বলে জানিয়েছে তাঁদের ক্লাব স্টুটগার্ট ও বায়ার্ন মিউনিখ।

জোন্স-সতীর্থদের পক্ষে রায়

‘পাপী’ নাকি দশ ঘর নিয়ে মরে! মারিয়ন জোন্সের ‘পাপ’ তেমনই কপাল পুড়িয়েছিল সিডনি অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি রিলে দৌড় দলের। মাদক গ্রহণের অভিযোগে মারিয়ন জোন্স নিষিদ্ধ হয়েছেন অ্যাথলেটিকস থেকে। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর এবং তাঁর সতীর্থদের সব পদক। অবশেষে জোন্সের সে সময়ের সতীর্থদের পদক কেড়ে না নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে নির্দেশ দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস)।
সিডনি অলিম্পিকে ৩টি সোনা ও ২টি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন জোন্স। এর মধ্যে ছিল ৪–৪০০ মিটার রিলে দৌড়ের সোনা এবং ৪–১০০ মিটার রিলে দৌড়ের ব্রোঞ্জ। পরবর্তীকালে নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি মাদকের সহায়তা নিয়েছিলেন ওই সময়। ফলে তাঁর পদক কেড়ে নেওয়া হয়। সঙ্গে কেড়ে নেওয়া হয় দুটি রিলে দৌড়ে সঙ্গী পদকজয়ীদের পদকও।
জোন্সের অপরাধের কারণে নিজেদের পদক অলিম্পিক কমিটিতে জমা দিতে অস্বীকার করে মামলা করেছিলেন তাঁর সতীর্থরা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত শুক্রবার তার রায়ে বলেছে, ‘সিডনি গেমসে যুক্তরাষ্ট্রের যে দুটি দল ৪–১০০ মিটার ও ৪–৪০০ মিটার রিলেতে অংশ নিয়েছিল, তাদের ডিসকোয়ালিফাই বলা যাবে না এবং তাদের পদক ও সনদ আইওসি ফেরত নিতে পারে না।’