Wednesday, December 23, 2015

ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান- পৌরবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়ার খোলা চিঠি by শফিকুল ইসলাম

দীর্ঘ সাত বছর পর নৌকা বনাম ধানের শীষ মার্কায় লড়াই হবে ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনী প্রচারণা। হামলা-মামলা হবে জেনেও দেশজুড়ে চলছে তুমুল প্রচারণাযুদ্ধ। দেশের ইতিহাসে এবারই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাপকভাবে প্রচারণায় নেমেছে বিএনপি। সারা দেশের বিভিন্ন পৌরসভা চষে বেড়াচ্ছে বিএনপির সাংগঠনিক টিম ও কেন্দ্রের সিনিয়র নেতারা। পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ধানের শীষের প্রচারণা মাঠে নেমেছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর ধানের শীষ বনাম নৌকা মার্কায় ভোটযুদ্ধ হওয়ায় পৌরবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। চিঠির শিরোণাম হচ্ছে- ‘পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন।’
চিঠিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকারসহ গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রায় দিতে ‘ধানের শীষে’ ভোট দিন।
তিনি বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাস ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে। বিরোধীদলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে দমননীতির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মীকে বিনা কারণে আটক, নির্যাতন এবং পঙ্গু, গুম ও হত্যা করেছে। এমতাবস্থায় আপনাদের (ভোটার) একটি ভোট ফ্যাসিস্ট, অনৈতিক সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে এবং স্বাধীন চিন্তায় ও মুক্ত দেশের পথে দেশকে এগিয়ে নিবে।
জানা গেছে, বিএনপির বেশিরভাগ সিনিয়র নেতা এ মুহূর্তে বিভিন্ন পৌরসভায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করছেন তারা। পথসভা, কর্মীসভা, হাটে-বাজারে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বার্তা উৎকীর্ণ লিফলেট পৌঁছে দিচ্ছেন তৃণমূলে।
বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় তিনটি মনিটরিং সেল এবং ১১টি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- দলের প্রায় সব সিনিয়র নেতা এখন মাঠে। পথে পথে বাধা পেরিয়ে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির মনিটরিং সেলের ঢাকা বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা জানি সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আচরণ করবে। তবুও এবার শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তিনি বলেন, অতীতেও ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে। এবারো ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ভোট নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, গত চার দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, তারাব, টাঙ্গাইলে গণসংযোগ করেছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি দল। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে প্রচারণা শুরু করে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর ও সর্বশেষ কালিহাতীতে গণসংযোগ করেন তারা। এই টিমে ছিলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ আযম খান, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
ওদিকে আজ বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বান্দরবানে নির্বাচনী প্রচারণা চালায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি দল। তারা সেখানকার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জাবেদ রেজার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহাবুবুর রহমান শামীম, উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক মাম্যাচিং, জেলা বিএনপির সভাপতি সাচিং প্রু জেরী, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ জেলা বিএনপি ও অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর, মীর কাদিম পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা। জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা দুই পৌরসভায় ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা চালান।
চট্টগ্রাম বিভাগেও প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপির তিনটি প্রচারণা টিম। এর মধ্যে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন ও মেজর. জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার প্রমুখ পৌর এলাকাগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল রংপুর বিভাগে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেখানে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ও আক্তারুজ্জামান মিয়া প্রমুখ ভোট চাচ্ছেন এলাকায় গিয়ে।
বরিশাল বিভাগে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিভাগীয় টিমের আহবায়ক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে একটি দল। এই দলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুল হক নান্নু, সাবেক ছাত্রদল নেতা নূরুল ইসলাম নয়ন, হাসান মামুন প্রমুখ।
রাজশাহী বিভাগে প্রচারণা চালাচ্ছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা। খুলনা বিভাগীয় টিম লিডার স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অসুস্থ থাকায় টিমের সদস্য সচিব মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ওই এলাকায় প্রচারণা চলছে। সিলেট বিভাগে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি টিম।

সিরিয়ায় রুশ হামলায় ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত -অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন

বিভিন্ন সময়ে চালানো রাশিয়ার বিমান হামলায় সিরিয়ার ২০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদনে সিরিয়ার হোমস, হামা, ইদলিব, লাতাকিয়া ও আলেপ্পোতে বিমান হামলার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। এসব স্থানে হামলার ১৬ প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য নেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মী।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৯ নভেম্বর ইদলিব প্রদেশের আরিহার একটি বাজারে তিনটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে। এ ধরনের আরো কিছু হামলার বিবরণ আছে ওই প্রতিবেদনটিতে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, অ্যামনেস্টি গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি স্থানে ২৫টি রুশ হামলা বিশ্লেষণ করেছে। এসব হামলার সময়ে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে’ রাশিয়া।
যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবারই এ ধরনের দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। এ ধরনের দাবিকে ‘তথ্যযুদ্ধ’ বলেও আখ্যা দিয়েছে রাশিয়া।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্যদের দমনে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে রশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুরোধে এ ধরনের হামলা শুরু হয়।
এসব হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এ ছাড়া হামলার কোনো কোনোটি আসাদবিরোধী বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

রাম মন্দির তৈরির নয়া উদ্যোগ

অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির নতুন উদ্যোগে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে আজ বুধবার রাজ্যসভায় সেই উদ্বেগ ঝরে পড়ে। বিরোধী সদস্যরা রাজ্যসভার ওয়েলে নেমে এসে এই উদ্যোগের প্রতিবাদ জানান।
সংসদীয় প্রতিমন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, মন্দির-মসজিদ বিতর্কটি আদালতের বিচারাধীন। সবারই উচিত আদালতের রায় মেনে চলা।
রাজস্থান ও গুজরাট থেকে রাম মন্দির তৈরির জন্য কয়েক ট্রাক পাথর সম্প্রতি অযোধ্যায় পাঠানো হয়েছে। এই পাথরগুলোর ওপর রাম মন্দিরের নানান নকশা কাটা। মন্দির আন্দোলন এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মন্দির তৈরির পাথর খোদাইয়ের কাজ শুরু হয়। দেশ-বিদেশ থেকে ইট আসতেও শুরু করে। কিছুদিন চলার পর অবশ্য এই উদ্যমে ভাটা পড়ে। সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নতুন করে মন্দির তৈরির কাজে উদ্যোগী হয়েছে। অযোধ্যায় আসতে শুরু করেছে পাথর। আতঙ্ক তা নিয়েই।
জনতা দল (সংযুক্ত) সদস্য কে সি ত্যাগী আজ বুধবার রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁর অভিযোগ, উত্তর প্রদেশের বিধানসভার ভোট ২০১৭ সালে। তার আগে নতুনভাবে মন্দির তৈরির কর্মসূচি গ্রহণ করে বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও সংঘ পরিবারের অন্য সদস্যরা সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি দিতে শুরু করেছেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দাঙ্গার প্ররোচনা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। ত্যাগীর সঙ্গে গলা মেলান অন্যরাও।
মুক্তার আব্বাস নাকভি তখন বলেন, বিতর্কিত স্থান থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ১৯৯০ সাল থেকেই মন্দির তৈরির জন্য পাথর খোদাইয়ের কাজ চলছে। সরকার ও বিজেপি মনে করে, আদালত যে রায় দেবেন, সবার তা মানা উচিত।
নাকভির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী আজ সংসদ ভবন চত্বরে বলেন, রাম মন্দির বিজেপি ও সংঘ পরিবারের বরাবরের অ্যাজেন্ডা। বিজেপির উচিত দলের লোকজনকে সংযত রাখা।
বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে রাম মন্দিরের উল্লেখ থাকলেও গত কয়েক বছর দল এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য করেনি। কিন্তু বিশ্ব হিন্দু পরিষদ গত মাস থেকে রাম মন্দির তৈরিতে নতুন উদ্যোগ নেয়। ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন পরিষদ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া ভোপালে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর তাঁদের অগাধ বিশ্বাস। বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির শেষ বৈঠকে ঠিক হয়েছে, সংসদে বিল পাস করিয়ে গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের মতো অযোধ্যায় এক ভব্য রাম মন্দির তৈরি করা হবে। তার প্রস্তুতি হিসেবেই চলছে অযোধ্যায় পাথর পাঠানোর কাজ।
২৫ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির জন্মদিনে অযোধ্যায় এ জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজনও হচ্ছে। অযোধ্যার ধর্মীয় নেতা মহন্ত নৃত্যগোপাল দাস পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পাথর আসা শুরু হয়েছে। মোদি সরকারের কাছ থেকে তাঁরা মন্দির তৈরির ইঙ্গিতও পেয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িকতাকে হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি এখন থেকেই।

অবিশ্বাস্য নৃশংসতা

‘তুই সর। নাইলে পিষ্যা ফালামু তোরে’—এ কথা বলেই চালক তাঁর যাত্রীবাহী বাসটি তুলে দেন অটোরিকশাচালকের ওপর। শত মানুষের সামনে রাস্তায় পিষেই মেরে ফেললেন অটোরিকশাচালক মো. ফারুককে (৪০)।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বাসচালক আবদুল মজিদ (২৫) তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস চালাচ্ছিলেন। মজিদের নৃশংসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েন বাসযাত্রীরা। কিন্তু বাসটি আধা কিলোমিটারের মতো পেরিয়ে আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে গেলে যাত্রীরা চালক মজিদকে আটক করেন। পরে তাঁকে ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দেন। জসীমউদ্দীন মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পরিদর্শক মো. ফারুক আহমেদ উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করেন মজিদকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাচালক মো. ফারুক যাচ্ছিলেন আবদুল্লাহপুরের দিকে। জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে সিগন্যাল পড়লে ব্যস্ত সড়কের বাঁ পাশে থেমে যায় অটোরিকশাটি। হঠাৎ করে তেঁতুলিয়া পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ওই অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশা থেকে বের হয়ে এসে চালক ফারুক বাসচালক আবদুল মজিদের কাছে ধাক্কা দেওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত চান। মজিদ উল্টো ফারুককে গালাগালি করতে থাকেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সিগন্যাল চালু হলে ফারুকের শরীরের ওপর বাসটি তুলে দিয়ে গতি বাড়িয়ে দেন মজিদ। ফারুকের শরীর বাসের তলায় আটকে যায় এবং ওই অবস্থাতেই আধা কিলোমিটার দূরের আজমপুর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে থামেন বাসচালক মজিদ।
প্রত্যক্ষদর্শী অনন্ত কুমার সিংহ প্রথম আলোকে জানান, বিমানবন্দর মোড় থেকেই বাসচালকের সঙ্গে সাইড দেওয়া নিয়ে সমস্যা চলছিল অটোরিকশাচালকের। জসীমউদ্দীন মোড়ে সিগন্যালের কারণে যানবাহনগুলো দীর্ঘ সময় সেখানে থেমে ছিল। তখন বাসচালক ও অটোরিকশাচালকের মধ্যে তর্কবিতর্ক চলছিল। সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসটি অটোরিকশাচালককে ধাক্কা দেয়।
অনন্ত কুমার সিংহ বলেন, সিগন্যালের সময় মোড়ে বাসের পাশে দাঁড়ানো থাকায় তিনি দুই চালকের তর্কাতর্কি শুনছিলেন। একপর্যায়ে বাসচালক অটোরিকশাচালককে বলতে শোনা যায় ‘তুই সর। নাইলে পিষ্যা ফালামু তোরে’। এ কথা বলার পরপরই অটোরিকশাচালকের ওপর বাস তুলে দেওয়া হয় এবং চাকার নিচে পড়ে যান অটোরিকশার চালক। বাসের সঙ্গে তাঁর শরীরের একটি অংশ আটকে যায়।
ট্রাফিক পরিদর্শক ফারুক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশাচালককে টেনে নিয়ে যায় তেঁতুলিয়া পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৪৮৯)। চালকসহ বাসটি উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তেঁতুলিয়া পরিবহনের বাস উত্তরার আবদুল্লাহপুর-মোহাম্মদপুর রুটে চলাচল করে।
অটোরিকশার মালিক আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বাসচালক ইচ্ছে করেই তাঁর অটোরিকশার চালক ফারুককে মেরে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার অটোরিকশাটি (ঢাকা মেট্রো থ-১৪-৩৮০৬) সম্প্রতি রং করানো হয়েছিল। পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ায় ফারুক কারণ জানতে চান। এ সময় বাসচালক মজিদ খেপে গিয়ে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
আমিনুল ইসলাম জানান, ফারুকের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি ঢাকার মুগদায় থাকতেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ উত্তরা পশ্চিম থানায় রাখা ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠাবে পুলিশ। ফারুকের পরিবার এ ঘটনায় হত্যা মামলা করবে।

দুদকের ‘অব্যাহতিপত্র’- এটি দুর্নীতি দমনের পথ নয়

দুর্নীতির ব্যাপকতা নিয়ে কথা বললে সরকারি খাতের দুর্নীতিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এই খাতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও তহবিল তছরুপের ঘটনা বেসরকারি খাতের চেয়ে বহুগুণে বেশি। তাই সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পায় না দুর্নীতি দমনে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদক—এ রকম খবর যেমন আমাদের উদ্বিগ্ন করে, তেমনি এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ক্ষমতায় আছে প্রায় সাত বছর। কিন্তু দুদকের তরফে দুর্নীতি দমনে যেসব মামলা আলোচিত হয়ে থাকে, তার বেশির ভাগই বিএনপি-জামায়াত আমলের। আর সেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। আবার সেই সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেসব মামলা যৌক্তিক পরিণতি পায়নি। মাঝপথে থেমে গেছে। এ ক্ষেত্রে দুদকের ভূমিকা স্ববিরোধী বলেই সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অতীতের দুর্নীতির বিচারে দুদক তৎপর থাকবে, সেটা সবারই কাম্য। তাই বলে বর্তমানের দুর্নীতির ব্যাপারেও তারা চোখ বুজে থাকতে পারে না। এক-এগারোতে ৩৩৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ মামলাগুলো সরকারের অনুরোধে দুদক সরাসরি না করে বাঁকা পথে পরিত্যক্ত করেছে, যা কোনোভােবই গ্রহণযোগ্য নয়। গত আট বছরে সরকারদলীয় ৬৯৭ জনসহ প্রভাবশালী ১৫ হাজার ও অন্তত ৩ হাজার সরকারি কর্মকর্তা দুদক থেকে ‘অব্যাহতিপত্র’ লাভ করেছেন। হল-মার্ক, বেসিক ব্যাংক, পেট্রোবাংলার মতো আলোচিত ঘটনাগুলোয় দুদকের সততা ও সামর্থ্য যে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
দুদক যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পাইকারি হারে অব্যাহতিপত্র দিয়ে যাচ্ছে, তাতে মনে হতে পারে সরকারি দলের অভিযুক্ত নেতারা কালিমামুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির ভয়াল থাবা এর বিপরীত চিত্র ও চরিত্রই তুলে ধরে। এই প্রেক্ষাপটে দুদকের আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মসমালোচনা জরুরি বলে মনে করি। অনুগতপ্রবণ মনমানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কর্তব্য পালন করবে, সেটাই প্রত্যাশিত।

ভারত-বার্মা-থাইল্যান্ড হাইওয়ে ২০১৬ সালেই

লং ড্রাইভে এখন সহজেই বেড়ানো যাবে নয়াদিল্লি থেকে ব্যাংকক। আগামী বছরেই চালু হতে যাচ্ছে নয়াদিল্লি-ব্যাংকক হাইওয়ে। ভারতের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করি শনিবার এ ঘোষণা দেন। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের এ মহাসড়কটি ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ডকে সংযুক্ত করবে। খবর ইকোনমিক টাইমসের। মহারাষ্ট্রের ‘ফ্লাইওভার ম্যান’ খ্যাত নীতিন গড়করি বলেন, ‘কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। আপনারা যেভাবে মুম্বাই থেকে গাড়ি চালিয়ে দিল্লি আসেন, সেভাবেই পৌঁছে যেতে পারবেন থাইল্যান্ডে। এটা একটা বৈপ্লবিক কাজ। জনগণ এখন বিশ্বাস করবে না।’ ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির সময় থেকে নীতিন তার দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছেন।
সে সময়ের ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, এ ত্রিদেশীয় সংযোগের মহাসড়কটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নতুন বছরে এটা শেষ করাই অগ্রাধিকার। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ২০১২ সালে এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। নীতিন বলেন, আমি ফাঁকা কথা বলি না, কাজে বিশ্বাস করি। এখন আমাদের লক্ষ্য দৈনিক ১০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা। আগের সরকারের আমলে দৈনিক মাত্র ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ হতো। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৩০ কিলোমিটারে। ভারতের ৯৬ হাজার কিলোমিটার হাইওয়েকে ‘সবুজ করিডোর’ হিসেবেও গড়ে তুলবেন বলেও জানান তিনি। সব প্রজেক্টের বাজেটের এক শতাংশ ব্যয় হবে সড়কের দুই পাশের সবুজায়নে। তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ভারতের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।’ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক নেটওয়ার্ক (৪৮ লাখ কিমি.) রয়েছে ভারতে।
এর আগে তিনি শ্রীলংকার সঙ্গে ভারতের সংযোগে সাগরে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যার পুরো অর্থায়ন করছে এডিবি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ ঘোষণার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংযুক্তিতে নয়াদিল্লি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মাইলফলক হল বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) চুক্তি স্বাক্ষর। এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করা চারটি দেশ যাত্রী চলাচলের জন্য ১৪টি রুট বের করেছে। এছাড়া ৭টি রুটে চলবে পণ্যবাহী কার্গো। বাংলাদেশ-চীন-নেপাল-পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের সড়ক নির্মাণ প্রতিবেশি দেশগুলোর সীমান্তে সড়ক নির্মাণ করছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজু মঙ্গলবার লোকসভায় বলেন, বাংলাদেশ, চীন, নেপাল ও পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩৭৯ কিমি. পাকিস্তান সীমান্তে ৬৮৯.৫ কিমি. চীন সীমান্তে ৩৭৯৬ কিমি. ও নেপাল সীমান্তে ১৩৭৭ কিমি. দৈর্ঘ্যরে এ সড়ক তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভুটান ও মিয়ানমার সীমান্তেও এমন সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কারা প্রার্থী হলেন?

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে কারা প্রার্থী হয়েছেন তার ওপর নির্ভর করবে কারা আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হবেন এবং আগামী পাঁচ বছর এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেমন চলবে। আর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার ওপরই গণতন্ত্রের ক্রিয়াশীলতা ও সুশাসন বহুলাংশে নির্ভর করবে। কারণ, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সব স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এবার ২৩৪টি পৌরসভায় ৯২৩ জন মেয়র পদে, ৮ হাজার ৫৮৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর পদে এবং ২ হাজার ৫৩৩ জন সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে (মোট প্রার্থী ১২ হাজার ৪৫ জন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত ২৩২টি পৌরসভায় মেয়র পদে (বাগেরহাটের মংলা ও চাঁদপুরের মতলব ব্যতীত) সর্বমোট ৯০৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২১ জন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২০৬ জন প্রার্থী। কমিশন দলভিত্তিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর সংখ্যা কত, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তাই অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭৭ জন। দলীয়ভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবার প্রার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। দলীয় মনোনয়নের কারণে স্থানীয়ভাবে অনেক সৎ, যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তি, যাঁরা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, নির্বাচনে অংশ নিতে এগিয়ে আসেননি। গড় মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি সীমিত হয়ে গেছে এবং তাঁরা যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের সর্বোচ্চ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ২৩৪টি পৌরসভায় ইতিমধ্যে ছয়জন মেয়র প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের ১৩৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফেনী জেলার ফেনী, পরশুরাম ও দাগনভূঞা পৌরসভার সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন মিলে মোট ৪৮টি পদের মধ্যে ৪৪ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। কোনো কোনো পৌরসভা থেকে জোর খাটিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর অভিযোগও উঠেছে। আমাদের বড় দুই দলই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং নারীর সক্ষমতা অর্জনে বিশ্বাসী। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পৌর নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটেনি। রাজনৈতিক দলগুলো মাত্র ১৫ জন নারীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। আরেকটি নেতিবাচক দিক হলো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২১৯ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ও ৩২১ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৩ জন এবং বিএনপির ২০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৬ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেই বর্তমানে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ৩৩ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে যে মামলা রয়েছে তার কারণ নিশ্চয়ই হয়রানিমূলক নয়। যদিও মামলায় অভিযুক্ত হওয়া মানে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। কিন্তু চূড়ান্ত রায়ে তাঁদের অনেকেই অভিযুক্ত হতে পারেন। তাই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতার পরিচয় হতে পারে না। ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩৪১ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৯০ জন এবং বিএনপির ২০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩ জন।
২২৪ জন মেয়র প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে, অর্থাৎ তাঁরা হাইস্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেননি। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৪০ জন এবং বিএনপির ২০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪০। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থা প্রায় একই রকম হলেও নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর শতকরা হার আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপিতে সামান্য বেশি। অন্যান্য নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৬৫২ জন (৭২ দশমিক ১২ শতাংশ) ব্যবসায়ী। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৬৫ জন (৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ) এবং বিএনপির ১৬২ জন (৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ)। এ পরিসংখ্যান বলে দেয় যে আমাদের জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতি ক্রমাগতভাবে ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত হয়ে যাচ্ছে, যা ‘প্লুরালিটি’ ধারণার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক নয়। সম্পদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের সম্পদ ৫ লাখ টাকা বা তার কম। এর মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৯ জন, বিএনপির ৯৯ জন। ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা ৪৭ জন, যার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ জন, বিএনপির ১৩ জন। বিশ্লেষণে দেখা যায় যে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগে বেশি হলেও কম সম্পদের মালিক আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপিতে বেশি। প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই (৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ) কর দেন। অন্যান্য নির্বাচনে প্রার্থীদের অনেকেই আয়কর বিবরণী জমা না দিলেও এবার প্রায় সবাই আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন। হলফনামা নিয়ে এবারও যথেচ্ছাচার হয়েছে, যা উল্লেখ না করলেই নয়। অনেক প্রার্থীই হলফনামায় বিস্তারিত তথ্য দেননি। যেমন, তাঁদের অনেকে হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য উল্লেখ করেননি, যার ফলে প্রার্থীর মোট সম্পদের পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয় না।
আইন অনুযায়ী, সম্পদের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা অর্জনকালীন মূল্য উল্লেখ করেন। তাই প্রকৃত ও পরিপূর্ণ তথ্য পেতে হলে ভবিষ্যতে হলফনামায় পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া আরও যেসব সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে তা হলো ওয়েবসাইটে অনেক দেরিতে তথ্য দেওয়া, সব পৌরসভার তথ্য না থাকা, কোনো পৌরসভার তথ্য দেওয়া থাকলেও সব প্রার্থীর তথ্য না থাকা, দলভিত্তিক পরিচয়সংবলিত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করা এবং এক প্রার্থীর জায়গায় অন্য প্রার্থীর তথ্য থাকা ইত্যাদি। প্রসঙ্গত, আদালত ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে বাক্স্বাধীনতা তথা মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কারণ, ভোটাররা তাঁদের বাক্স্বাধীনতা প্রয়োগ করেন ভোটের মাধ্যমে। তাই সময়মতো ও যথাযথভাবে তথ্য প্রকাশ না করা ভোটারদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার শামিল। এটি সুস্পষ্ট যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং তা বিশ্লেষণ ও বিতরণ ভোটারদের সচেতন করার এবং তাঁদের সৎ ও যোগ্য তথা সঠিক প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে শুধু তথ্য পেলেই হবে না, তথ্য সঠিক হতে হবে। তাই প্রদত্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে চুলচেরাভাবে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গোপনকারী ও ভুল তথ্য প্রদানকারীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা এবং নির্বাচিত হলে নির্বাচন বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সুজন-এর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা এবং আদালতের নির্দেশে ভোটারদের জন্য প্রার্থী সম্পর্কে জেনে-শুনে-বুঝে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনগণ প্রতিটি নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে সমর্থ হবেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

নির্বাচন নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ

এবারের পৌরসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই প্রথম স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হতে যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন যে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করবে—সেটাও অপ্রত্যাশিত নয়। কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন স্থানে যেভাবে সংঘাত-সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় নেই। সংঘাতের নানা ধরন ও মাত্রা এরই মধ্যে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। একই দলের মনোনয়ন পাওয়া ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে যেমন সংঘর্ষ ঘটছে, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় প্রার্থীদের মধ্যেও ঘটছে। আমরা দেখলাম, জামালপুরে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কুমিল্লায় হয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে। পটুয়াখালীতে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। সাভারে বিএনপির প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও নাটোর, গোপালপুর পৌরসভা, যশোর, হাজীগঞ্জ, ভোলা, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সংঘাত ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এসব ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। গুলিবর্ষণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটি যথাযথভাবে হয়নি। এ ধরনের সংঘাত ও সহিংসতা অনেক ক্ষেত্রে সংক্রামকের মতো কাজ করে। শুরুতেই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে অঘটন আরও বাড়তে পারে, যা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশের অন্তরায়। যেকোনো নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইসি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ব্যাপারে আইনগত বাধা নেই। কিন্তু শুরু থেকেই তাদের কাজকর্মে একধরনের ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও দলের মধ্যে উত্তেজনাও তত বাড়বে। অতএব, নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে আরও সক্রিয় ও সজাগ হতে হবে। যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জঙ্গিবাদ- বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ? by নুরুজ্জামান লাবু

দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গিবাদ। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো শুরু করেছে তাদের গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মী সংগ্রহ করছে তারা। বিভিন্ন উপায়ে সমৃদ্ধ করছে অর্থ-তহবিলও। গত কয়েক মাসে জঙ্গিরা একাধিক হামলায় নিজেদের অস্তিত্ব নতুন করে জানান দিয়েছে। চলতি বছরেই অন্তত ৫ জন ব্লগার, লেখক-প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে। হামলা চলছে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপরও। রাজধানী ঢাকায় শিয়াদের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ায় শিয়া মসজিদে বোমা হামলা হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশের চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ হত্যা করা হয়েছে। বেশির ভাগ ঘটনাতেই পাওয়া গেছে জঙ্গি সম্পৃক্ততা। ঢাকার গুলশানে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা না বললেও রংপুরের জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিরা সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া পাবনায় গির্জার যাজকের ওপর হামলায় জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে দিনাজপুরের ইসক্‌ন মন্দিরে হামলার ঘটনাতেও। এ ছাড়া একের পর এক হামলা ও হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেই চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক মাসে অন্তত ১০টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবগুলো ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব হামলার বেশ কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এমনকি তাদের প্রকাশনা ‘দাবিক’ বাংলাদেশে কার্যক্রম এসব নিয়ে বিশেষ ‘আর্টিকেল’ও ছাপা হয়েছে।
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো প্রধানত আল-কায়েদার অনুসারী ছিল; কিন্তু আল-কায়েদার প্রভাব কমে যাওয়া এবং আইএসের তৎ?পরতা দৃশ্যমান হওয়ায় এখানকার জঙ্গিরা আইএসমুখী হওয়ার চেষ্টা করছে।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, সিরিয়া এবং ইরাকে আইএসের তৎ?পরতা এখানকার জঙ্গিদের উদ্বুদ্ধ করছে। এখন ‘লিডার লেস’ জিহাদ শুরু হয়েছে। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিরসন সম্ভব নয়। সামাজিকভাবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে হবে।’ পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশে শুধু জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করবে এমন কোনো ইউনিট নেই। বহুদিন ধরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কথা বলা হলেও তা হয়নি। যার ফলে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হলে সেখানে যারা থাকবে তারা মাসের পর মাস শুধু জঙ্গিবাদ নিয়ে কাজ করবে এবং জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভের কারণগুলোও অনুসন্ধান করবে। এতে কিছু সফল পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিদের তৎ?পরতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের নতুন ছক গড়ে ওঠায় বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ছে। ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সঙ্গে এখানকার জঙ্গিরা নতুনভাবে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। আগে আল-কায়েদার অনুসারী ছিল জঙ্গিরা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জঙ্গিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের জঙ্গিদের সম্পর্ক অনেক পাকাপোক্ত। গত বছরের শেষদিকে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে এক বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশের জেএমবির অনেক সদস্য পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে থেকে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর কয়েক দফা ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএ) কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জঙ্গিদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্যবিনিময় করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশি জঙ্গিদের ভারতীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন অস্বীকার করা হলেও এর আগে অন্তত ১৪ জঙ্গি ধরা পড়েছে, যারা কোনো না কোনোভাবে আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। তারা বিভিন্ন উপায়ে সিরিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ ছাড়া কয়েকজন এরই মধ্যে আইএসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও গোয়েন্দা তথ্য বলছে। এমনকি কয়েকজনকে তুরস্ক বা সিরিয়া থেকে ফেরত আনা হয়েছে। মাস ছয়েক আগে ঢাকায় সামিউন ওরফে ইবনে হামদান নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক বৃটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। যে আইএসের জন্য জিহাদি রিক্রুট করতে বাংলাদেশে এসেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে ১০০ জিহাদি সিরিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল তার। এর আগে আসিফ আদনান ও ফজলে এলাহী তানজিল নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা ‘জিহাদে’ অংশ নিতে তুরস্ক ও সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে মূলত ৯০ দশকের শুরুতে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তির হাত ধরে জঙ্গি তৎপরতা শুরু হয়। এরাই পরে হরকাতুল জিহাদ অব বাংলাদেশ (হুজিবি) নামে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। এরপর হুজির নেতারাই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। ১৯৯৯ সালে যশোরের উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলা হয়। ওই ঘটনাটিই মূলত জঙ্গি হামলার প্রথম ঘটনা বলে বিবেচিত হয়। যদিও রাজনৈতিক টানাপড়েনে এ মামলার তদন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে মোড় ঘুরে গেছে। এরপর ২০০১ সালের ১৪ই এপ্রিল রমনার বটমূলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়ে হুজি জঙ্গি তৎপরতার জানান দেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশেও গ্রেনেড হামলা করা হয়। ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট একযোগে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। এর পরেও সারা দেশে একের পর এক আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাসহ অন্তত ৩৩ জন জনকে হত্যা করে জেএমবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে অর্ধশত জঙ্গি গ্রুপ নানাভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে হিযবুত তাহ্‌রীর, শাহাদাত-ই-আল হিকমা, জামা’আতে মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি) ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)- এ পাঁচটি সংগঠনকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকায় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সর্বশেষ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামে একটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
নিরাপত্তা-বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ যেভাবে বিস্তৃতি লাভ করছে তা ভবিষ্যতের জন্য খুবই ‘অ্যালার্মিং’। এক কথায় বাংলাদেশ জঙ্গিবাদের উর্বর-ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। জঙ্গিবাদ বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি সার্বিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে এখনই থামাতে হবে।’ তিনি বলেন, মাঝখানে কিছুদিন জঙ্গিবাদ একটু কমে এসেছিল। এখন আবার তারা রি-অর্গানাইজড হয়ে মাঠে নেমেছে। নতুন নতুন রিক্রুট হচ্ছে, নতুন কৌশল নিয়ে কাজ করছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সেলে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করছে। এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জঙ্গিরা এখন ‘রিফরমেটিভ’ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। অর্থাৎ নতুন করে ছোট ছোট ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। ভবিষ্যতে যে তারা বড় ঘটনা ঘটাবে না তা বলা যাবে না।
নিরাপত্তা বিষয়ে খোঁজখবর রাখা এ বিশ্লেষক বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জঙ্গিবাদ ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে সন্ত্রাসবাদের উদ্ভব হয়। সেজন্য রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি। একই সঙ্গে ইন্টেলেকচুয়াল ব্যক্তিবর্গ ও সিভিল সোসাইটিকে এক করে লংটার্ম পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা। কারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে শুধু তাৎক্ষণিক ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু গোপনে গোপনে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করবেই। এম সাখাওয়াত মনে করেন, এখন মাদরাসার ছাত্রদের চেয়ে অনেক উচ্চশিক্ষিত আধুনিক তরুণ জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ছে। টেকনোলজি জানা তরুণরা জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ছে। কেন তারা জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং কারণগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই জঙ্গিবাদ ঠেকানো যাবে।

তাদের রয়েছে ঐশ্বরিক ক্ষমতা by রুদ্র মিজান

প্রেমে ব্যর্থতা, অবাধ্যকে বাধ্য করা, মনের মানুষকে আয়ত্তে আনা, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, পরীক্ষায় পাস, অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করা, শত্রু দমন, বিদেশ যাত্রায় বাধা, ব্যবসায় ক্ষতি, বন্ধ্যত্ব- এরকম অনেক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন তারা। সবই তারা করতে পারেন ঐশ্বরিক ক্ষমতায়। তাদের দাবি- জাদুটোনায় দীক্ষিত তারা। জিন-পরী তাদের হাতের মুঠোয়। বিভিন্ন নামে পরিচিত তারা। কেউ সাধক বাবা, কেউ মুশকিলে আহসান, কেউ কেবলা হুজুর। এরকম নানা নামে পরিচিত তারা। মানুষ ঠকানোই তাদের কাজ। নানা রকমের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারণা চালান এই প্রতারকরা। তাদের কাছে ছুটে যান সমস্যাগ্রস্ত মানুষ। এসব মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। রাতারাতি প্রতারকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সমস্যাগ্রস্ত মানুষগুলো আরও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কেউ কেউ পীর-দরবেশ সেজে আড়াল করতে চান নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পীর সেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই নানা রকম অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন এক নারী। ঢাকার একটি শ্রেণীর কাছে এক নামেই পরিচিত তিনি। এই নারীর নাম নাজমা বেগম।
ঘনঘন আস্তানা পরিবর্তন করে এখন তার আস্তানা রাজধানীর দনিয়ার ধোলাইপাড় এলাকায়।  সেখানেই প্রতিদিন জড়ো হন তার ভক্তরা। পানি পড়া, তাবিজসহ নানা তদবির করেন। অনেকের সমস্যা সমাধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিনিময়ে খুব বেশি টাকা দাবি করেন না। সমস্যার অজুহাত নিয়ে নাজমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি ফোনে জানতে চান, সমস্যা কি। পূর্ব থেকেই বানানো গল্পটা তাকে জানাই আমার বাসার গৃহকর্মী হারিয়ে গেছে। জানার পরও দেখা করতে আগ্রহী না তিনি। বুঝার চেষ্টা করেন প্রতিবেদকের প্রকৃত উদ্দেশ্য। বারবার নাম-পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। কারণ নাজমার এই রূপকে ঘিরে আছে রহস্য। তাই সবসময়ই অচেনা কারও সঙ্গে কথা বলতে ভয় কাজ করে তার। এক পর্যায়ে বিশ্বাস করেন সমস্যাগ্রস্ত হয়েই তার দ্বারস্থ হয়েছি। জানতে চান গৃহকর্মীর নাম, মা-বাবার নাম, বয়স, কখন-কিভাবে হারিয়েছে। বলার পরেই জানান, তার সঙ্গে জিন রয়েছে। তিনি ডাকলেই জিন হাজির হয়। নাজমার নিজের কোন ক্ষমতা নেই। সবই করে জিন। জিনকে হাজির করতে অনেক কষ্ট হয় তার। অসুস্থ হয়ে যান তিনি। কয়েক দিন দুর্বল থাকে শরীর। এ জন্য জিনকে টাকা দিয়ে খুশি করতে হবে। এই টাকা তিনি নিজের কাজে ব্যয় করেন না। নাজমা বলেন, আমি এসব টাকা মন্দিরে দিয়ে দেই। কারণ জিনটা হিন্দু।
হারিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীর সন্ধান দিতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিন পারে না এমন কোন কাজ নেই। তবে অনেক সময় মিথ্যা বলে, কাজ করতে চায় না। অর্থাৎ কাজে সফল না হলেও দোষারোপ করা যাবে না নাজমাকে। তবে প্রাথমিকভাবে তদবির করে প্রায় আধাঘণ্টা পরে তিনি জানান, গৃহকর্মী আছে। তাকে পাওয়া যাবে। বিস্তারিত জানতে হলে রাত ৮টার পরে টাকা নিয়ে যেতে বলেন তিনি। বাস্তবে এই প্রতিবেদকের বাসা থেকে কোন কর্মী হারিয়ে যায়নি। তবে নাজমার গল্পটা ভিন্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরেই তাবিজ-কবজ, তদবিরের নামে এই প্রতারণা চালাচ্ছেন তিনি। নারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নাজমা বেগম। পুলিশের খাতায় তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এ পর্যন্ত একাধিকবার কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে। এখন এসবে জড়িত নেই বলে প্রচার করছেন নিজেই। এসব ছেড়ে দিয়ে চালাচ্ছেন ‘পীর’ ব্যবসা। নাজমার সুন্দর ব্যবহার ও ভদ্র-সুন্দর চেহারা দেখে বুঝার উপায় নেই এই সেই নাজমা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিবির বাগিচার দুটি বাসায় রয়েছে তার অনৈতিক ব্যবসা। এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এতে জড়িত রয়েছে রনি নামে এক যুবক। নাজমা তাকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করতেই ‘পীর’ সেজেছেন এই নারী। আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে পটুয়াখালীর বাউফলের প্রত্যন্ত গ্রাম গোসিঙ্গা থেকে ঢাকায় পা রাখেন নাজমা ও তার এক বোন। সঙ্গে ছিলেন নাজমার প্রথম স্বামী ফারুক। ফারুকই প্রথম নাজমাকে ঠেলে দেন অনৈতিক পথে। যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী, ধোলাইপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত নাজমার অপরাধ কর্মকাণ্ড। ফারুকের পরে অন্তত স্বামী হিসেবে অন্তত আট জন পুরুষ এসেছে তার জীবনে। বর্তমান স্বামীর নাম জানতে চাইলে নাজমা বলেন, তার নাম কামরুল হাসান রনি। পীর ব্যবসা সম্পর্কে নাজমা বলেন, কবিরাজি করে টাকা উপার্জনের ইচ্ছে। টাকা আমার কম নেই। উপার্জনের উৎস জানতে চাইলে তিনি বলেন, একসময় নাটক-ফিল্মের  ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। অস্বীকার করেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের।
একই ধরনের প্রতারক না হলেও অবাধ্যকে বাধ্য করার চ্যালেঞ্জ করে দীর্ঘদিন বাণিজ্য করে আসছেন আফসার উদ্দিন। নামের আগে সাধক হুজুরে কেবলা ইত্যাদি বিশেষণ যোগ করেন তিনি। যাত্রীবাহী বাসে বিজ্ঞাপন দেখে এই প্রতিবেদক ফোনে কথা বলেন তার সঙ্গে। সমস্যা কি জানতে চান। সমস্যার ধরন শুনেই সাক্ষাৎ করতে বলেন তিনি। জানান, শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে তাকে কল দিলেই তিনি ঠিকানা বলে দেবেন। পরদিন গত বুধবার দুপুরে শেওড়াপাড়া থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হয় হুজুরে কেবলার সঙ্গে। রিকশায় চড়ে কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুরে কামাল খান সড়কে যেতে বলেন তিনি। যথারীতি কামাল খান সড়কে গেলে আরও একটু ভেতরে ব্লুবার্ড কিন্ডারগার্টেনের গেইটের সামনে যেতে বলেন তিনি। অতঃপর ওই স্কুলের ৬৩৪/১ ভবনের পাঁচ তলায় গেলে দেখা মেলে তার। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত হুজুরে কেবলা। মুখে লম্বা দাড়ি। বয়স প্রায় চল্লিশ। একটি কক্ষে নিয়ে যান। বসার পরপরই জানতে চান সমস্যা কি।
অভিন্ন সমস্যার কথা বলি তাকেও। হারানো গৃহকর্মীর নাম-ঠিকানা বলার পর তিনি বলেন তদবির করে জানাচ্ছি এই কাজ সম্ভব কি-না। হুজুরে কেবলা জানান, তদবির ছাড়া কোন কাজ করেন না তিনি। যে কাজ সম্ভব সেটাই করেন। যা সম্ভব না তা করেন না। তিনি তদবির করতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি জানান, গৃহকর্মী একজনের আশ্রয়ে আছে। তবে সে সহজে ফিরে আসবে না। এমনকি তার স্বজনদের কাছেও যাবে না। এতে মহাবিপদে পড়ে যেতে পারি আমি। উপায় একটাই। ত্রিমুখী নদীর পানি পড়ে গৃহকর্মী যে কক্ষে থাকতেন সেখানে ছিটাতে হবে। ওই কক্ষে জাফরান কালির লেখা একটি তাবিজ ঝুলিয়ে রাখতে হবে। সাত দিনের মধ্যেই ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেন কেবলা হুজুর। এ জন্য তাকে দিতে হবে সাত হাজার এক টাকা। পরবর্তীতে টাকা নিয়ে আসবো জানিয়ে ফিরে আসি।
কথা হয় ওই বাড়ির বাসিন্দা এক নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতিদিনই অনেক মানুষ আসা-যাওয়া করে তার কাছে। কিন্তু কেউ উপকৃত হয়েছেন কি-না জানেন না তিনি। একইভাবে পাশের ‘ভাই ভাই ইলেকট্রিক অ্যান্ড রেফ্রিজারেশন’র স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাগর জানান, হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে প্রতিদিনই অনেক লোকজন আসেন। কিন্তু হুজুরের কাজকর্ম সম্পর্কে কিছুই জানা নেই। তবে এই হুজুরের কাছে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক যুবক জানান, কয়েক মাস আগে বিজ্ঞাপন দেখে কেবলা হুজুরের কাছে যান তিনি। তার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নিয়েছেন তিনি। মেয়েবান্ধবী তার অবাধ্য হয়ে গেছে। আগের মতো মধুর সম্পর্ক নেই তাদের। তাকে বাধ্য করার জন্যই হুজুরের সহযোগিতা চান। আফসার জানান, সবই সম্ভব। এজন্য মাত্র দুটি তাবিজ দেবেন তিনি। ৪১ দিনের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক অনেক মধুর ও গভীর হবে। টাকার বিনিময়ে তাবিজ নেন তিনি। একটি রাখা হয় ওই মেয়েবন্ধুর চলাচলের সড়কে অন্যটি নিজের হাতে। তারপর চলে যায় দীর্ঘ দুই মাস। সম্পর্কের উন্নতি হবে দূরে থাক। ততদিনে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে ওই মেয়ের। এবার টাকা ফেরত চান যুবক। কিন্তু হুজুর কেবলা জানিয়ে দেন টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব না। উদাহরণ হিসেবে বলেন, রোগী সুস্থ না হলে ডাক্তার কি টাকা ফেরত দেন? শুধু আফসার না। এরকম আরও অসংখ্য প্রতারক ছড়িয়ে আছেন রাজধানী জুড়ে। প্রকাশ্যেই প্রতারণা চালাচ্ছেন তারা। এসব প্রতারককে প্রায়ই গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, তারা জামিনে বের হয়ে আবার প্রতারণা শুরু করে। তবে অভিযোগ পেলেই পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে’ -হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

আসন্ন পৌর নির্বাচনে সকাল ৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কায় সারা দেশে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের অর্ধেক বসে গেছে। আমার ভয় হচ্ছে, এ নির্বাচনও ঢাকা সিটি নির্বাচনের মতো হবে। সকাল ৯টার মধ্যে ভোট শেষ হবে। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা জয়ী হন। নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে আসে। ভোটের শেষদিকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সামনে পৌর নির্বাচন। আমি আগে বলেছিলাম, যদি এ নির্বাচন সুষ্ঠু হয় তাহলে জনগণ আওয়ামী লীগের অতীতের সব অপকর্ম ভুলে যাবে। এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু যা দেখছি, তাতে আশা আছে- এমনটা বলতে পারবো না।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড নেই। এ ব্যাপারে যেটুকু সন্দেহ ছিল আজ তা দৃঢ় হয়েছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা যেন পৌর নির্বাচনী প্রচারে অংশ না নেন, সেজন্য একজন নির্বাচন কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তার স্থান প্রধানমন্ত্রীর ওপরে, এটা তিনি ভুলে গেছেন। তিনি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কারও কথা বলার অধিকার নেই। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। এটা কোনো গণতন্ত্র নয়। এভাবে গণতন্ত্র হয় না। সম্মেলনে এরশাদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এ বয়সে এসে দলকে শক্তিশালী করার জন্য দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছি দলকে শক্তিশালী করার জন্য। কিন্তু আমি সবাইকে আমার পাশে পাই না। তিনি বলেন, ৮ বছর এ দেশের সেনাপ্রধান ছিলাম, ৯ বছর প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। মৃত্যুর আগে জাতীয় পার্টিকে সংগঠিত করে যেতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিকে সবার ঘরে ঘরে নিয়ে যেতে হবে। এটা পরীক্ষিত সত্য, সিলেটের ১ আসন যার, ক্ষমতা তার। তাই আগামী দিনে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আসার জন্য সিলেটের ১ আসন দখল করতে হবে। তিনি বলেন, আগে সিলেটে জাতীয় পার্টির মোট ৮টি আসন ছিল, এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪টিতে। দলকে সুসংগঠিত করে হারানো আসন ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে একসঙ্গেথ কাজ করতে হবে। জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দেলোয়ার হোসেন খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের, মীর আবদুস সবুর প্রমুখ।

উপদেষ্টা বলেছিলেন বিএনপি নির্বাচন না করলেও জামায়াত অংশগ্রহণ করবে

নভেম্বর ১৮, ২০০৮ সাল। ওইদিন দুপুর ২-৩০ মিনিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘ক্রাইসিস গ্রুপের’ পাঁচ উপদেষ্টা। বৈঠক প্রায় দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। বিএনপির আল্টিমেটাম নিয়ে আলোচনা হয়। কোনো বিষয়েই ছাড় দিতে রাজি ছিল না সরকার। পরে নির্বাচনকে আরও দশ দিন পিছাবার আমাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে বলা হয়েছিল যে, শুধু এ বিষয়ের ওপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারে। অন্য কোনো ছাড় দিতে আমরা রাজি ছিলাম না। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন তার লেখা  ‘নির্বাচন কমিশনে পাঁচ বছর’ শীর্ষক বইয়ে এসব কথা লিখেছেন। পালক পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত বইয়ে তিনি আরও লিখেছেন, আমাদের বৈঠক শেষে ওইদিনই পাঁচ উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনের তারিখ পিছাবার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য গিয়েছিলেন। কথা ছিল যে বেগম খালেদা জিয়া রাজি হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করে পুনঃনির্ধারিত তারিখসহ তফসিলে পরিবর্তন আনা হবে। উপদেষ্টাদের ওই দিনের আলোচনার ফলাফল নিয়ে পরের দিন পুনরায় বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
পরের দিন সকালে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের অফিসে আমরা আগের দিনের আলোচনার বিস্তারিত জানতে এবং এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বৈঠক করেছিলাম। ওই দিন প্রথমবারের মতো এ ধরনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আমার বিশিষ্ট বন্ধু, মেজর জেনারেল আবদুল মতিন (অব.) উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থারই দুই গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ এবং মেজর জেনারেল মনিরুল ইসলাম।
বৈঠকে জানানো হয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন পিছিয়ে ডিসেম্বর ২৮ অনুষ্ঠিত করবার প্রস্তাবনাসহ অন্যান্য বিষয়ে ছাড় না দেবার কথা জানানো হলে তিনি প্রস্তাবনায় রাজি হননি। তিনি জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে নির্বাচন করাবার বিষয়ে অনড় বলে জানান। ওই পাঁচ উপদেষ্টার মুখপাত্র ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আরও জানালেন যে, বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচনের তারিখ পেছানোর প্রস্তাব নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিকট গেলে তিনি তাদের (উপদেষ্টাদের) প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতেই রাজি হননি। শেখ হাসিনা প্রথমে কিছুটা রাজি হলেও পুনরায় শক্ত অবস্থানে গিয়েছিলেন।
উপদেষ্টাদের দৌড়ঝাঁপের এমন নিষ্ফল প্রচেষ্টার বিবরণ শুনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপদেষ্টাদের এরকম দৌড়ঝাঁপের বিরোধিতা করে হার্ডলাইনের কথা তুললে বৈঠকে উপস্থিত তার সঙ্গে সবাই প্রায় একমত পোষণ করলেও ড. হোসেন জিল্লুর রহমান আলোচনার পথ খোলা রাখতে শেষ প্রচেষ্টা নিতে কয়েকঘণ্টা সময় চাইলেন। ওই সময় যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের বলেছিলেন যে, বিএনপি নির্বাচন না করলেও জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ওই কথার ওপরে আমি চুপ থাকাটা সমীচীন মনে না করে বলেছিলাম, জামায়াতে ইসলামী আর বিএনপি এক হলো না।

বিএসএফের গুলিতে এবারই সর্বাধিক বাংলাদেশী নিহত

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে বলে বলছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, চলতি বছরে এপর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪৫জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। গতবছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩জন।
মঙ্গলবার ভোরেও বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হেমন্ত চন্দ্র নামের একজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্তে ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান লিটন জানিয়েছেন, এ বছর মারা যাওয়া পয়তাল্লিশজনের মধ্যে ৩১ জন গুলিতে আর ১৪জন শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার আলোচনা হয়েছে, ভারত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু তা আর কার্যকর হয়নি। এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়াটা এর একটি বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ বলছে, এ বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪১জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০জন। আর ২৭ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ অপহরণ করেছে।
অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেন, ২০১০ সালের পর এ বছর বিএসএফের গুলিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি বিএসএফ কোন প্রকার সম্মানই দেখাচ্ছে না। বরং তারা আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে।
এমনকি অনেক সময় তারা বাংলাদেশের ভেতরে এসেও আক্রমণ করছে, বলেন মি. খান।
অধিকারের হিসাবে, ২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯জন। ২০১২ সালে ৩৮জন আর ২০১১ সালে ৩১জন।
এর আগে ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৪জন।
অধিকার বলছে, দুই দেশের মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীকে গ্রেপ্তার ও হস্তান্তরের সমঝোতা এবং চুক্তি থাকলেও, বিএসএফ সেটি লঙ্ঘন করে সীমান্তে বাংলাদেশীদের দেখামাত্রই গুলি করছে।
অধিকারের মতে, বিএসএফ তাদের ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি থেকে একবিন্দুও সরে আসেনি।
সূত্র : বিবিসি

সেনা মোতায়নের পরিস্থিতি হয়নি : সিইসি

পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর মোতায়নের দাবি জানালো হলেও ওই রকম পরিস্থির আলমত দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অফিস ত্যাগের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করি এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করি। এ নিয়ে শনিবার আইনশৃঙ্খলা বৈঠকও করেছি। সেখানে সারাদেশের পরিস্থিতি পর‌্যালোচনা করেছি। সমস্ত সংস্থার প্রতিবেদন বিবেচনা করে দেখেছি, সেনাবাহিনী মোতায়েন পরিস্থির আলামত দেখা যায়নি বা সৃষ্টি হয়নি। তবে আমরা পরিস্থির উপর নজর রাখছি। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করবো।
বিরোধী দল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সব দলের প্রার্থীরাই সুন্দরভাবে সাচ্ছ্যন্দে প্রচারণা করছেন। কোথাও অনিয়ম হলে আমরা ব্যবস্থাও নিচ্ছি। ইতিমধ্যে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন, তারা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের জানাচ্ছেন।
প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও জরিমানা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করছি। কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও আমরা জবাবদিহিতা করছি। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রকিব উদ্দিন বলেন, উন্নত বিশ্বে কোনো বাহিনীই মোতায়েন করা হয় না। সেখানে পুলিশও মোতায়েন করা হয় না। আমাদের এখানে অনেক আগে থেকেই মোতায়েন করা হয়। কেননা, এখানে রাজনৈতিক উন্নয়ন হয় নাই। ইন্ডিয়াতেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আশাকরি, আমাদের এখানেও রাজনৈতিক উন্নয়ন হবে। তখন রাজনিতিকরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলবেন, হাসি ঠাট্টা করবেন। কিন্তু কেউ কারো মাথায় বাড়ি দেবেন না। এখানেও রাজনীতিতে গুণগতমানের উন্নয়ন হবে বলে আশাকরি। তখন আমরাও কোনো বাহিনী মোতায়েন করবো না।
সাংবাদিকরে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারাও নিরপেক্ষ থেকে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। ইসির অনুমোদিত বৈধ সাংবাদিকরাই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। কিন্তু বেশিক্ষণ ভোটকেন্দ্রে থাকতে পারবেন না। অন্যদের সুযোগ করে দেবেন। এছাড়া গোপন কক্ষে প্রবেশ করা যাবে না, ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া যাবে না, ছবি তোলা যাবে না।
শরীয়তপুরের বিএনপির ৫ মেয়রপ্রার্থীর অভিযোগ : শরীয়তপুরের ৫টি পৌরসভার বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে তারা এসব অভিযোগ করেন।
শরিয়তপুর পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী একেএম নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, সরকার দলীয় প্রার্থী ও তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। তারা জনগণকে বলছে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
তারা আরও প্রকাশ করছে যে, নির্দেশ অমান্য করলে পরিনাম ভয়াবহ হবে। ২৫ তারিখের পর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মাঠে থাকবে না। সকাল ১০টার মধ্যে সব ভোট কাটা হয়ে যাবে।
জাজিরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সিকদার মো. ইকবাল অভিযোগ করেছেন, সরকার দলীয় লোকজন তার কর্মী-সমর্থককে প্রকাশ্যে নির্বাচন পরিচালনা না করার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে।
ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী বিএম মোস্তাফিজ অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার দলীয় এমপি নাহিম রাজ্জাক নির্বাচনী এলাকায় মিটিং ও নির্বাচনী প্রচার অভিযান চালাচ্ছেন। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ করেছেন ডামুড্যা পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী মো. আলমগীর হোসেন।
নড়িয়া পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী মো. রেজাউর রহমান অভিযোগ করেছেন, সরকারদলীয় লোকজন ও ক্যাডাররা তার বাড়িতে মোটরসাইকেল বহরে মহড়া নিয়ে হুমকি ও
ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। তার কর্মী-সমর্থকরা কোথাও কোনো পোষ্টার লাগাতে ও লিফলেট বিলি করতে পারছে না। স্বয়ং সরকার দলীয় এমপি ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। যেখানে স্বয়ং সরকার দলীয় এমপি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সেখানে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে তার অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেননি বলে ওই প্রার্থী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
মনোনয়ন বাতিল হয়নি কলারোয়ার সেই প্রার্থীর : সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে ‘অবৈধভাবে’ একজন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের অভিযোগে সেখানকার রিটার্নিং অফিসারকে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন সেখানকার স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মো. আরাফাত হোসেন। নির্বাচন কমিশনে করা ওই অভিযোগে বলা হয়, রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল হোসেন টাকার বিনিময়ে আমিনুল ইসলাম লাল্টুর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা লাল্টুর পদত্যাগপত্র মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের তদন্তে যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনক কারণে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনে স্বার্থে লাল্টুর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান আরাফাত হোসেন।

সীমান্ত অতিক্রম করলেই হত্যা করতে হবে কেন, প্রশ্ন বিজিবি প্রধানের

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হলে রাতের বেলা বাংলাদেশীদের সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বা বিজিবি`র প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশী গরু চোরাকারবারীদের তৎপরতাও বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশী সীমান্ত এলাকায় নিহত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪৫ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩ জন। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে। ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশী নিহত হন। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি'র প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এই পরিসংখ্যানের সাথে একমত নন। বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হত্যার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে। তিনি বলেন, চোরাকারবারীরা সব সময় চেষ্টা করে বিজিবি`কে ফাঁকি দিতে। চোরাকারবারীরা গরু আনতে কখনও কখনও সীমান্তের ৩/৪ কিলোমিটার ভেতরে চলে যায় বলে তিনি জানান। ``প্রতিনিয়ত গরু আসে দেশের মধ্যে। আমাদের কথা হচ্ছে গরু আনতে আপনারা যান কেন?`` মি. আহমেদ বলেন, ``ওরা যদি বার্ডারে এসে দিয়ে যায় তো দিয়ে যাবে। আপনারা কেন যাবেন?`` সীমান্তে হত্যার প্রশ্নে তাহলে শুধু বিএসএফকেই দোষারোপ করা চলে কি না, এই ধরনের এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন এক্ষেত্রে বাংলাদেশীদেরও দোষ রয়েছে। কিন্তু আইনভঙ্গ করে সীমান্ত অতিক্রম করলেই হত্যা করতে হবে কেন? এই প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল আাজিজ জানান, ভারতের সাথে আলোচনার সময় তিনি বরাবরই এই কথাটি তুলে আসছেন। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো জবাব ছিল কি না, সে সম্পর্কে তিনি অবশ্য কোনো মন্তব্য করেন নি।

ভারতে নাবালক বিচার সংশোধন বিল পাস

অবশেষে নাবালক বিচার সংশোধন বিলটি পাস করলো ভারতের সংসদ৷ নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম অপরাধী স্রেফ নাবালক বলে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায়, বিলটি নিয়ে চলছিল তুমুল আলোচনা৷ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল – এই নিয়ে জনজীবন তোলপাড়৷ সোমবার ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের নাবালক অপরাধীর মুক্তি আটকানোর আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ গণধর্ষণ কাণ্ডের সময় এই নাবালকের বয়স ছিল ১৮ বছর থেকে ছয় মাস কম৷ আদালতের অভিমত, চলতি নাবালক বিচার আইনে তা আটকানো যায় না, যদিও বিচার বিভাগ জনমানসের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া উপলব্ধি করতে পারছে৷ এর জন্য আইনগত দিক থেকে প্রথমে নাবালক বিচার আইনের সংশোধন প্রয়োজন, যেটা করতে পারে সংসদ৷ তাতে যদি নাবালক বা নাবালিকার বয়স সীমা বর্তমানের ১৮ বছর থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করা হয়, তবেই তার বিচার এবং শাস্তি প্রাপ্তবয়স্ক ধরে নিয়ে করা সম্ভব৷ আর শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো৷ মঙ্গলবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে নাবালক বিচার আইনের সংশোধনি বিলটি পাশ হলো৷ তাতে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘৃণ্যতম অপরাধের ক্ষেত্রে সাবালকের বয়স-সীমা ১৮ বছর থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করা হয়েছে৷ বিলটি পেশ করার সময় দর্শকের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নির্ভয়ার বাবা-মা৷ এর আগে তারা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের দরজায় দরজায় গিয়ে এই বিলটি দ্রুত পাশ করাবার আবেদন জানিয়ে এসেছেন, বহুবার৷ এখন অবশ্য এই বিল পাশ হলে নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষকের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না৷ এই বিল কার্যকর হবে আগামী দিনে৷ বলা বাহুল্য, নির্ভয়ার নাবালক ধর্ষকের মুক্তি পাওয়া নিয়ে জনসমাজে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক৷ সমাজ দ্বিধাবিভক্ত৷ এই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্ভয়ার মা বলেছিলেন, ‘‘সিস্টেমর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে৷'' ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারও প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত থাকে৷ মহিলা কমিশনের প্রধানের কথায়, ‘‘এই দিনটিকে মহিলাদের কাছে কালো দিন হয়ে থাকবে৷'' তার কথায়, ‘‘এখন মোমবাতির বদলে মশাল হাতে নেবার সময় এসেছে৷'' সমাজের একাংশের মতে, ধর্ষণ এবং খুনের মতো জঘন্য অপরাধ করেও স্রেফ নাবালক বলে ছাড়া পেয়ে যাবে – এটা মেনে নেয়া যায় না৷ অন্যদিকে আরেক পক্ষ মনে করেন, কঠোর শাস্তি দেয়াটাই শেষ কথা নয়৷ শেষ কথা হলো বিপথগামী নাবালকের মানসিকতা সংশোধন করে তাকে সমাজে ফিরিয়ে আনা৷ মুক্তি পাবার পর ঐ নাবালক অপরাধীকে এক এজিওর তত্ত্বাবধানে সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়৷ এই প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক বুদ্ধদেব ঘোষ ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বলেন, ‘‘আইন ও শাস্তির বিবাদ বহু পুরানো৷ আমরা শাস্তি কেন দেই? দেই যাতে ভবিষ্যতে সে সাবধান থাকে৷ কিন্তু কথা হচ্ছে, যে-সব কারণগুলো একটি নাবালককে অপরাধী করে তুলছে, সেদিকটা আমরা দেখি না৷ শাস্তি দিলেই যে সে আর ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করবে না, সেটাও বলা মুশকিল৷ তাই সমাজের একজন সদস্য হিসেবে নাবালক অপরাধীকে নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে৷ এরপরেও অবশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, কোনটা ভালো – জেলখানা না সংশোধনাগার?'' হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা বা এনজিও-এর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান মীনাক্ষী গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটা বাচ্চা যাতে অপরাধী হয়ে না ওঠে, সেটা দেখার দায়িত্ব অনেকটাই বর্তায় সরকারের ওপর৷ একটা বাচ্চা অপরাধী হয়ে জন্মায় না৷ বরং সমাজব্যবস্থাই তাকে অপরাধী করে তোলে৷ তাই আগে দেখতে হবে আইনের শাসন ঠিকমত পালিত হচ্ছে কিনা৷ কড়া শাস্তি দিলেই সব ঠিক হয়ে যায় না৷ তাই যদি হতো, তবে ফাঁসির সাজা দিয়েও তা আটকানো যাচ্ছে না কেন? আসল কথা হচ্ছে, বিপথগামী নাবালকদের মানসিকতায় প্রকৃত সংশোধন হয়েছে কিনা সেটা দেখা জরুরি৷ পাশাপাশি এটাও সত্য যে, কড়া শাস্তি দিলে দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করার আগে অপরাধীকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে৷ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই দিল্লির লাগোয়া হরিয়ানা রাজ্যের আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এক নেপালি মহিলাকে ধর্ষণ ও খুন করার অপরাধে৷- সংবাদমাধ্যম

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা চাপ ও হুমকির মুখে

বাংলাদেশে সুশীল সমাজের ধরণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এরা যে তেমন সক্রিয় নন, তা নিশ্চিত৷ বার বার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা৷ ইইউ ও ‘সিভিকাস’ মনে করে বাংলাদেশের সুশীল সমাজ আজ চাপের মুখে৷ গত বছরের জুন মাসে সুশীল সমাজের আন্তর্জাতিক জোট বা গ্লোবাল সিভিল সোসাইটি অ্যালায়েন্স (সিভিকাস) এক বিবৃতিতে দাবি করে, ‘‘বাংলাদেশের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে যারা মানবাধিকারের কথা বলেন, তারা হুমকি এবং চাপের মুখে আছেন৷'' বাংলাদেশের সুশীল সমাজ-এর চরিত্র নিয়ে সিভিকাস-এর পর্যবেক্ষণ বেশ স্পষ্ট৷ ২০১৫ সালে তাদের বাৎসরিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশের রাজনীতি যেভাবে বিভক্ত, সুশীল সামাজও সেইভাবেই বিভক্ত৷ যদিও তারা রাজনীতি নিরপেক্ষ চরিত্রের জন্য চেষ্টা করছে৷'' চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত টোমাস প্রিনৎস সুশীল সমাজের ওপর চাপ এবং তাদের কথা বলার এলাকা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘সুশীল সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য৷ একই অভিমত জানিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশে সুশীল সমাজের ওপর চাপের সমালোচনা করে৷ বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের সম্পাদক এবং সিভিল সোসাইটির গবেষক অরূপ রাহী বলেন, ‘‘আমরা সিভিল সোসাইটির বাংলা করেছি সুশীল সমাজ৷ সেই হিসেবে বাংলাদেশে সুশীল সমাজের কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা – তা নিয়ে বিতর্ক আছে৷ যাঁরা সুশীল সমাজ বলে পরিচিত বা যাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে ধরা হয়, তারা মূলত বিভিন্ন ধরণের নাগরিক সংগঠনের সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সামরিক কর্মকর্তা, অধ্যাপক বা এনজিও নেতা৷ এরাও রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত৷ ফলে এ দেশে সুশীল সমাজের কোনো চরিত্র দাঁড়ায়নি এবং তাদের ভূমিকাও স্পষ্ট নয়৷'' বাংলাদেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে যারা পরিচিত, তারা বিভিন্ন নাগরিক ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় হন৷ এর বাইরে সংবাদমাধ্যমে মতামতও প্রকাশ করেন তারা৷ বিশেষ করে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর ‘টকশো'-তে তাদের সক্রিয় হতে দেখা যায়৷ কিন্তু পর্যবেক্ষণ বলছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর সংবাদমাধ্যমে তাদের সক্রিয় উপস্থিতি কমে আসছে৷ এমনকি ‘ব্যক্তিগত' কারণে টকশো-র কয়েকজন জনপ্রিয় উপস্থাপককেও নিস্ক্রিয় হতে হয়েছে৷ বেসরকারি টেলিভিশন একুশে টিভির টকশো ‘একুশের রাত'-এর উপস্থাপক মনজুরুল আলম পান্না বলেন, ‘‘আমরা এক ধরণের অদৃশ্য চাপ অনুভব করি৷ এখন যারা টকশো-তে আসেন, তারা নিজেরাই ‘সেন্সর' করে কথা বলেন৷ তাদের দেখে আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারি৷ তাই প্রশ্ন করার ক্ষেত্রেও আমি সাবধান থাকি৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘সুশীল সমাজের একটি অংশ এখন আর টকশো-তে আসতে চান না৷ তাদের কথা, যদি প্রাণ খুলে কথা বলা না যায় তাহলে টকশো-তে গিয়ে কী লাভ?'' চাপটি ঠিক কোন দিক থেকে জানতে চাইলে পান্না বলেন, ‘‘মালিক পক্ষের চাপটি সরাসরি বোঝা যায়৷ তবে সরকারের দিক থেকে কোনো চাপ আমি এখনো অনুভব করি না৷ সবাই যেন ‘সেলফ সেন্সরশিপ' করছে৷ কেমন যেন একটা ভয় কাজ করছে তাদের৷'' চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয় সিভিকাস-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে৷ তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘সরকারি পর্যায় থেকে সুশীল সমাজকে যখন ক্যানসার ও দেশদ্রোহী বলা হয়, তখন তাদের সক্রিয় থাকা কষ্টকর৷'' প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যে, ‘‘সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত করা বাংলাদেশে এখন সাধারণ নীতিতে পরিণত হয়েছে৷'' বাংলাদেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নানা নামে বিভিন্ন সময় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন৷ ২০১১ সালে ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে গঠন করা হয় ‘নাগরিক সমাজ'৷ তবে মান্না এরপর ‘নাগরিক ঐক্য' গঠন করে একে রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন৷ মাহমুদুর রহমান মান্না সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি৷ তিনি এখনো কারাগারে আছেন৷ তবে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই সুশীল সমাজের আরেকটি প্লাটফর্ম গড়ার চেষ্টা করেন নেপথ্যে থেকে৷ এর সঙ্গে এনজিও নেতা, সম্পাদক, সাবেক আমলাসহ সুশীল সমাজের বেশ কিছু প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন৷ কিন্তু মান্না গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা আর সক্রিয় হননি৷   বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের সম্পাদক অরূপ রাহী ‘সিভিল সোসাইটি পর্যালোচনা' নামে একটি গ্রন্থ সম্পাদনাও করেছেন৷ তার আলোকে তিনি বলেন, ‘‘এখানে কথিত সুশীল সমাজ এক ধরণের ‘পাওয়ার এলিট'৷ তারা তাদের স্বার্থে কখনো এক হন৷ আবার কখনো নানা শিবিরে ভিভক্ত হন৷ ফলে সত্যিকারের সিভিল সোসাইটি এখানে গড়ে ওঠেনি৷'' জার্মান রাষ্ট্রদূত টোমাস প্রিনৎস-এর সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তা হল, ‘বাস্তবে এখানো কোনো বিরোধী দল নেই৷ তাই সংবাদমাধ্যম এবং সুশীল সমাজকে সক্রিয় ও স্বাধীন হতে দিতে হবে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য'৷ এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং সিভিল সোসাইটি গবেষক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘‘যে নামেই ডাকি না কেন, সুশীল সমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে৷ তারা বেঙ্গল রেনেসাঁর উত্তরাধিকার৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অনন্য৷'' তিনি বলেন, ‘‘সুশীল সমাজের কাজ হলো জনগণ এবং গণতন্ত্রের পক্ষে শাসকদের সঙ্গে আলোচনা, দর কষাকষি এবং প্রয়োজন হলে চাপ সৃষ্টি করা৷ কিন্তু এ সময়ে এসে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সিভিল সোসাইটি, এনজিও ও ডোনার কেন্দ্রিক হয়ে গেছে৷ তারা জোর করে হলেও একটি দ্বিদলীয় ব্যবস্থার কথা বলে৷ ফলে অনেক সময় তারা মূল জায়গায় থাকেন না৷ তাই তারা জনগণের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না৷ আমাদের প্রয়োজন স্বাধীন বুদ্ধিজীবী ভিত্তিক সুশীল সমাজ, যা অতীতে ছিল৷''- ডিডব্লিউ

বিএসএফের বিমান বিধ্বস্ত ঢাকার বৈঠক স্থগিত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনার পর ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে ও অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, ওই বিমানটি রাঁচির উদ্দেশে যাচ্ছিল। গতকাল সকালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ছিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের সদস্যরা। খবরে বলা হয়, উড্ডয়নের পরপরই দিল্লি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে দোয়ার্কা এলাকার কাছে বাদপোলা গ্রামে একটি দেয়ালে আছড়ে পড়ে বিমানটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান একে শর্মা বলেছেন, এ দুর্ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। বিমানটির টেকনিশিয়ানরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলার পর এ ঘটনা ঘটে। টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ফাঁকা স্থানে আগুন জ্বলছে। তার মাঝে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে বিমানটি। বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী মহেশ শর্মা বলেছেন, বিমানের আরোহীদের ১০ জনই মারা গেছেন। সুরুজ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, বিমানটি একটি দেয়ালে আঘাত করতেই এতে আগুন ধরে যায়। তারপর বিমানবন্দরের বাইরে একটি ক্ষেতের ভেতর গিয়ে আছড়ে পড়ে। তিনি দু’টি মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন।
ওদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক আজ ২৩শে ডিসেম্বর ঢাকার পিলখানায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বিএসএফ প্রতিনিধিদলের একটি অংশ (১০ জন) গতকাল সকালেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছিল। বিএসএফ মহাপরিচালক দেবেন্দ্র কুমার পাঠক, আইপিএসসহ আরও ১৩ প্রতিনিধি গতকাল বিকালে ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সকালে দিল্লি এয়ারপোর্টে বিএসএফের একটি বিমান উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হয়ে বিএসএফের দুজন ডিআইজি, একজন কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় বিএসএফ মহাপরিচালককে তার পূর্বনির্ধারিত ঢাকা সফর বাতিল করতে হয়। ফলে ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। বিএসএফের বিমান দুর্ঘটনায় এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১০ জন নিহতের সংবাদ পেয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিএসএফ মহাপরিচালককে ফোন করে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শোকাবহ এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় মহাপরিচালক পরে সীমান্ত সম্মেলনের নতুন তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ফোনে কথোপকথনের পর বিজিবি মহাপরিচালক বিএসএফ মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত শোকবার্তা পাঠান।