Sunday, July 26, 2015
নেতা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
![]() |
| রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। এখন চলছে গণনা। ছবি: ফোকাস বাংলা |
ছাত্রলীগের চলমান ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ ভোটগ্রহণ হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্ধারণ করার ঘোষণার দেওয়ার পর কথিত ‘সিন্ডিকেট’ অনানুষ্ঠানিকভাবে একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এরপরই ভোটগ্রহণ করা হয়।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নেতৃত্ব স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে কাউন্সিলরদের (ভোটার) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া পরবর্তী নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে তিনি কিছু মাপকাঠি ঠিক করে দিয়েছেন। এরপর নির্বাচনের প্রক্রিয়া কেমন হবে, এ নিয়ে গতকাল বিকেলে চারটায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সাবেক শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।
এদিকে, কাউন্সিলরদের ভোট শেষে ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, রাতের আঁধারে প্রেস রিলিজ দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করে একটি ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অনেকে রাতের আঁধারে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিটি দেয়, আমরা দিইনি। ছাত্রলীগ একমাত্র সংগঠন যারা কাউন্সিলরদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করে। এটা নিয়ে আমরা গর্ব করি।’
অন্যদিকে, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বিদায়ী সভাপতিকে ‘আমার ভাই’ সম্বোধন করে সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ‘সোহাগের সঙ্গে চার বছর দায়িত্ব পালন করেছি। চার ঘণ্টার জন্য বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। গণমাধ্যমে ছাত্রলীগ নিয়ে অনেক নেতিবাচক সংবাদ এসেছে। কখনো সোহাগ ‘গ্রুপ’ নাজমুল ‘গ্রুপ’ নামে কোনো সংবাদ আসেনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি ইস্যুতে ওয়াইসির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিজেপি
![]() |
| আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, ইয়াকুব মেমন, সাক্ষী মহারাজ |
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘মুম্বাই দাঙ্গার ঘটনায় যুক্ত অপরাধী, রাজীব গান্ধী হত্যাকারী এবং বিয়ন্ত সিংয়ের হত্যাকারীকে ফাঁসি দেয়া হয়নি কেন?’
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি’র এ ধরণের মন্তব্যের ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়ার মন্তব্য, ‘এ ধরণের বিবৃতিতে এমপির (ওয়াইসি) মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।’
সদানন্দ গৌড়া বলেন, ‘জাতীয় মনোভাবাপন্ন মানুষ এ ধরণের কথা বলবে না। মেমন এ রকম সাজা পাওয়ার অধিকারী। কারণ তিনি মারাত্মক অপরাধ করেছেন।’
অন্যদিকে, বিজেপি এমপি সাক্ষী মহারাজ বলেছেন, ‘যিনি ভারতীয় বিচারবিভাগকে সম্মান না করেন, তার পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত, পথ খোলা আছে।’
কংগ্রেস নেত্রী রেণুকা চৌধুরী পাল্টা মন্তব্য করে বলেছেন, ‘হয়ত সাক্ষী মহারাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বসে রয়েছেন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যে, কাকে পাকিস্তান পাঠানো হবে।’
বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা ‘মিম’ নেতা ও এমপি আসাদউদ্দিন ওইয়ায়সি সম্পর্কে এ ধরণের মন্তব্য করলেও পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের পোতা এবং কংগ্রেস এমপি রভনীত সিং বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না আদালত ধর্মীয় ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যদিও সরকারকে এই বিষয়ে সাফাই দেয়া উচিত। ফাঁসির সাজায় কোনো বৈষম্য না হয়ে সব অপরাধীকে ফাঁসি দেয়া উচিত।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ৩১ আগস্ট চন্ডিগড়ে সচিবালয়ের সামনে খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের আত্মঘাতি বোমা হামলায় পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং সহ ১৮ জন নিহত হয়।
‘মিম’ নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যদি ফাঁসি দিতে হয় তাহলে রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী এবং বিয়ন্ত সিংয়ের হত্যাকারীকে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে না কেন? ধর্মীয় ভিত্তিতে কাউকে ফাঁসি দেয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপরেই কার্যত তেলেবেগুনে জলে উঠেছে বিজেপি।
ইয়াকুব মেমনের ফাঁসির সাজা হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং ‘র’-এর সাবেক কর্মকর্তা বি রমন। দীর্ঘ ৮ বছর আগে করা এ ধরণের মন্তব্য সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সিপিআইএম পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যার সঙ্গে যুক্তদের ফাঁসির সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে ইয়াকুব মেমনের ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন গ্রহণ করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলা হয়েছে, ইয়াকুব মেমনের মৃত্যুদণ্ডের সাজার পরিবর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হোক।
মেমনের ফাঁসির বিরোধিতা করেছেন মহারাষ্ট্রের সমাজবাদী পার্টির নেতা আবু আসিম আজমী এবং এনসিপি নেতা ও রাজ্যসভার এমপি মজিদ মেমন।
এদিকে, ইয়াকুব মেমন দায়রা আদালতের পক্ষ থেকে জারি করা মৃত্যু পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেছেন। আগামী ২৭ জুলাই সোমবার এর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক দশক ধরে শুধুই সিদ্ধান্ত, প্রয়োগ নেই by আনোয়ার হোসেন
সর্বশেষ গত বুধবার এক সভায় মহাসড়কে অটোরিকশাসহ ছোট যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারও সড়ক ও মহাসড়কে এসব ছোট যান নির্বিঘ্নে চলেছে। ২০০৬ সালে সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিলের বৈঠকে এসব ধীরগতির যানবাহন সড়ক থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে একই বৈঠকে তা সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রতিটি বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত আলোচিত হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের ঘোষণা এসেছে।
সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় এখন সড়ক-মহাসড়ক অধিকতর প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় সাড়ে আট হাজার মানুষ। দুর্ঘটনা ঘটে প্রায় ছয় হাজার। অবশ্য সরকারি হিসাবে দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের সামান্য বেশি। প্রতিবছরই তা কমছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ কমিটি হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিল। এর প্রধান হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। আর বিভিন্ন উৎসবকেন্দ্রিক সড়ক নিরাপত্তায় ডাকা হয় আন্তমন্ত্রণালয় সভা। সেখানেও সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। গত দুই বছরে এই দুই কমিটির বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।
গত বছর ঈদুল আজহার আগে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে বড় দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের সহায়তা নেওয়া হবে। এরপর এ নিয়ে আর কোনো আলোচনাই হয়নি। এবারের ঈদুল ফিতরের বৈঠকেও হেলিকপ্টারের বিষয়টি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এভাবে যেখানেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে, সেখানেই সড়ক চার লেন করার ঘোষণা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, জনচাপে এভাবে নেওয়া তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই পরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আদলে সারা দেশে প্রায় দেড় শ দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানে (ব্ল্যাক স্পট) সড়ক বিভাজক বসানো এবং বাঁক সোজা করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে গতকাল রাতে বারবার ফোন করা হলেও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।
পরে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ধীরগতির যানবাহন বন্ধে ১ আগস্ট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে সচিব বলেন, অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সবার সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী মাসে শুধু ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে একটা বৈঠক হবে। সহজ শর্তে পেশাদার চালকের লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে সচিব বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যদি মনে হয় সিদ্ধান্তের অপব্যবহার হচ্ছে, তাহলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয় না: ২০১১ সালে সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিল সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সুপারিশ তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের কমিটিতে বুয়েটের শিক্ষক, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও মালিক-শ্রমিক নেতারা ছিলেন।
২০১২ সালের মাঝামাঝি কমিটির সদস্যরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে প্রায় ৭৮টি সুপারিশ করেন। এর মধ্যে ৫২টিই স্বল্পমেয়াদি। কিন্তু এর বেশির ভাগই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
কমিটির স্বল্পমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে ছিল, দুর্ঘটনার জন্য দোষী ব্যক্তি চালক-মালিক-প্রকৌশলী-ফিটনেস অথরিটিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই সুপারিশ দেওয়ার পর নাটোরের বড়াইগ্রামে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৬ জন মারা যান। পরে তদন্ত কমিটি জানতে পারে, দুর্ঘটনায় পড়া দুটি বাসেরই চলাচলের অনুমতি (রুট পারমিট ও ফিটনেস) সনদ ছিল না। কমিটি বাস ও ট্রাকচালক এবং দুই বাসের মালিককে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর হানিফ পরিবহনের একটি বাস হতাহত ব্যক্তিদের মাড়িয়ে যায় বলে তদন্ত কমিটি জানতে পারে এবং দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আর কিছুই হয়নি। গত বছর ঢাকার কারওয়ান বাজারে সাংবাদিক জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরীকে একটি মিনিবাস চাপা দিলে তিনি মারা যান। এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা শোনা যায়নি।
আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটি স্বল্পমেয়াদি আরও যেসব সুপারিশ করে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে অটোরিকশা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করা। দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করে যথাযথ আইন মেনে লাইসেন্স দেওয়া। পরিবহনচালকদের নিয়োগপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা। সড়কে যথাযথ সংকেত স্থাপন করা।
মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মহাসড়কে হাটবাজার স্থাপন নিষিদ্ধ করা, পর্যায়ক্রমে সব সড়ক-মহাসড়কে সড়ক বিভাজক দেওয়া, সড়ক দুর্ঘটনার একটি মামলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা করে এর রায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
এসব মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি।
দুর্ঘটনার হিসাবও রাখতে পারছে না সরকার: ২০১২ সালের সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিলের এক সভায় সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশের মাধ্যমে যুগপৎভাবে তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর ৬৮টি ঘর পূরণ করে তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়। এতে পুলিশ খুব একটা আগ্রহ পায় না। জেলা প্রশাসনেরও প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। ফলে সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন হয় না। এতে সরকারি হিসাবের সঙ্গে বেসরকারি হিসাবের বড় ধরনের গরমিল হচ্ছে।
জানতে চাইলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার সংখ্যা ও হতাহতের যে সংখ্যা তাঁরা পেয়েছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। দুর্ঘটনা রোধে পরিকল্পনা করতে হলে তো সঠিক তথ্য প্রয়োজন। সরকারি তথ্যই যদি ভুল হয়, তাহলে পরিকল্পনা তো সঠিক হবে না।
মোটরযান আইন: সরকার মোটরযান আইন হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালে একটি খসড়াও প্রস্তুত করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা আইনে পরিণত করতে পারেনি সরকার।
আইনের খসড়া তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, খসড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালকের বিরুদ্ধে শাস্তি বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তের পক্ষে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ জন্যই মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এরপর আর তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মোটরযান আইনটি যুগোপযোগী করা খুবই জরুরি। দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির ধারায় এই অপরাধকে জামিন-অযোগ্য করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর আর বিষয়টি এগোয়নি।
পেশাদার চালকের লাইসেন্সে ছাড়: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দেওয়া তালিকা ধরে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পেশাদার চালককে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দিয়েছে বিআরটিএ। ২০১১ সালে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর হাইকোর্ট এভাবে লাইসেন্স দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। গত চার বছর সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রতিটি বৈঠকে পেশাদার লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) উল্টো যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া চালকদের সহজ শর্তে নবায়নের সুযোগ দিয়েছে। মোটরযান আইন অনুযায়ী, পেশাদার চালকের লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে সারা দেশে থাকা ড্রাইভিং কম্পিট্যান্সি বোর্ডের মাধ্যমে শারীরিক ও লিখিত পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু বিআরটিএ গত ফেব্রুয়ারিতে বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষার বদলে বিআরটিএর একজন মোটরযান পরিদর্শকের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, অধিক জনসংখ্যার দেশে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করা দরকার। নইলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মহাসড়ক থেকে ছোট যান উচ্ছেদও এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে, তাই সুপারিশ আসা মাত্রই তা বাস্তবায়ন করা উত্তম।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পদোন্নতি হলেও হয়নি পদের উন্নতি by আলী ইমাম মজুমদার
এমনটাই চলে আসছিল বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও। তবে ১৯৯১ সালের পর থেকে পদোন্নতি বিবেচনায় দলীয় আনুগত্যকে অলিখিতভাবে একটি নিয়ামক হিসেবে ধরা হতে থাকে। তবে সব ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে, এটা বলা যাবে না। কিন্তু বলা যাবে যে দলীয় বিবেচনায় এ সময় অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বাদ পড়েছেন সময়োচিত পদোন্নতি থেকে। অন্যদিকে দলের সমর্থক সেজে তুলনামূলকভাবে কম যোগ্য এবং ক্ষেত্রবিশেষে অদক্ষ কর্মকর্তা ঠাঁই করে নিচ্ছেন পদোন্নতির তালিকায়। ১৯৯১ সাল থেকে হালনাগাদ সব রাজনৈতিক সরকারই এ কাজ করেছে এবং করে চলছে।
আরেকটি নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায়। এটা সবার জানা যে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাচে একসঙ্গে অনেক কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। সুতরাং এটা স্বাভাবিক যে তাঁদের সবাইকে ওপরের স্তরে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। একসঙ্গে কিংবা ভেঙে ভেঙেও নয়। এরূপ দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যাচের কর্মকর্তাদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু তা-ই করা হচ্ছে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায়। আর করতে গিয়ে নির্ধারিত পদসংখ্যার ধার না ধেরে ঢালাওভাবে দেওয়া হচ্ছে পদোন্নতি। এর পরিণতি সম্পর্কে ভেবে এটা পরিহার করার কোনো প্রচেষ্টাও লক্ষণীয় নয়। উল্লেখ্য, পদ ছাড়াই পদোন্নতির সূচনা হয় ২০০৬ সালের শেষ দিকে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ত্যাগের কয়েক দিন আগে। তখন কোনো শূন্যপদ ছাড়াই প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় উপসচিব পদে।
২০০৭ সালে এক-এগারোর পরিবর্তনের পর অ্যাডহক ব্যবস্থা হিসেবে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এসব পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুপার নিউমেরারি উপসচিব পদ সৃজন ও তাঁদের পদায়ন করে শাখাকে অধিশাখায় রূপান্তর করা হয়। মনে করা হয়েছিল ব্যতিক্রমধর্মী এ ব্যবস্থা সাময়িক হবে। তবে ২০০৯ সালে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমে ধীরে এবং পরে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদোন্নতি দিতে থাকে। পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি, পদ ছাড়া পদোন্নতি গিয়ে ঠেকেছে পদগুলোয় অতিরিক্ত সংখ্যক কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও আরও পদোন্নতিতে। এখন অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে নির্ধারিত ১০৭, ৪৩০ ও ৮৩০টি পদের বিপরীতে ‘কর্মরত’ আছেন যথাক্রমে ৪৫৭, ১১৬৬ ও ১৬২৩ জন কর্মকর্তা। তাঁদের কর্মরত বলতে হবে এই জন্য যে পদোন্নতি পাওয়া প্রায় সবাইকে নিজ পদে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ সংখ্যার মাঝে মাস দেড়েক আগে পদোন্নতি পাওয়া ২৩১, ২৯৯ ও ৩৪২ জন যথাক্রমে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব রয়েছেন। পদোন্নতিটি এর আগেই অতিরিক্তসংখ্যক কর্মকর্তা নির্ধারিত পদে থাকার পরও দেওয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের সূত্র দাবি করছে, সংখ্যায় এ এককালীন পদোন্নতি গত ছয় বছরে সর্ববৃহৎ।
এরূপ সংযুক্তির ফলে অতিরিক্ত সচিবের অধীনে ক্ষেত্রবিশেষে কাজ করছেন অতিরিক্ত সচিব। একই হাল যুগ্ম সচিব ও উপসচিবের ক্ষেত্রেও। রুলস অব বিজনেস অনুসারে অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবেরা অনুবিভাগ-প্রধান। অর্থাৎ যুগ্ম সচিবদের অতিরিক্ত সচিবের অধীনে কাজ করার কথা নয়। সেখানে একই পদধারীর অধীনে কাজ করছেন একই পর্যায়ের কর্মকর্তা। এর বৈধতা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। রুলস অব বিজনেস উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। সংবিধানের নির্দেশনা অনুসারে সরকারের কাজ কীভাবে চলবে, তা এ বিধিমালায় নির্ধারিত। এতে সুস্পষ্ট রয়েছে অনুবিভাগ, অধিশাখা ও শাখার কাজ কীভাবে চলবে এবং কারা দায়িত্বে থাকবেন, এ সবকিছু। এর হেরফের যা করা হচ্ছে, তা সামান্য নয়। দু-চার মাসে কেটে যাওয়ারও কথা নয়। তাহলে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, এটা দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, পদোন্নতির দ্বার উন্মুক্ত করে হঠাৎ বন্ধও করা যাবে না। আগে বঞ্চিত হওয়া বেশ কিছু কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে আরও পদোন্নতি দেওয়ার দাবি আসবে। আর সে দাবি অযৌক্তিকও হবে না।
পদোন্নতির পর একজন কর্মকর্তার স্বাভাবিক প্রত্যাশা থাকে তিনি উচ্চতর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর অফিসের স্থানসহ সর্বত্র পড়বে উন্নতির ছাপ। কিন্তু এমনটা তো হতে দেখা যাচ্ছে না। একটি অধিশাখায় কর্মরত উপসচিব তিন বছর আগে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে সেখানেই থাকেন। এবার তিনি হয়ে যান অতিরিক্ত সচিব। আছেন সেখানে। সব স্তরে এ ধরনের অবস্থান ব্যাপক। এর থেকে বেরিয়ে আসার যৌক্তিক রাস্তাই বা কোথায়, সেটাও সহজবোধ্য নয়। যতজন অতিরিক্ত সচিব এখন আছেন, তাঁদের অনুবিভাগ-প্রধান করা হলে যুগ্ম সচিবদের অধিশাখা নিয়েই থাকতে হবে। প্রায় ১ হাজার ৬০০ যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে সচিবালয় মর্যাদার সঙ্গে ধারণ করতে পারে না। প্রেষণেই বা এত পদ কোথায়? বিশেষায়িত পদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের না দিয়ে সব ক্ষেত্রে তাঁদের প্রেষণে দেওয়া অসংগত হবে। এতে একদিকে সে সংস্থায় পদোন্নতির সুযোগ হবে সংকুচিত, অন্যদিকে সরকারকে বিশেষায়িত পরামর্শ দেওয়ার দক্ষতাও হ্রাস পাবে। ফলে সরকারের কার্যক্রমে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। আর অধিশাখাগুলোয় যদি যুগ্ম সচিবদের পদায়ন করা হয়, তবে উপসচিবদের শাখার দায়িত্ব নিয়েই থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে সহকারী সচিবদের পদায়নের সুযোগও থাকবে না।
এ ধরনের ঢালাও পদোন্নতির সপক্ষে বলা হচ্ছে, কর্মকর্তারা পদোন্নতির জন্য উপযুক্ততা অর্জন করেছেন। এর আগের স্তরে নির্ধারিত সময়সীমা পার করেছেন। পদোন্নতি না পেলে মনোবলে পড়বে ভাটা। কিন্তু পদ না থাকলেও কি শুধু এ কারণে পদোন্নতি দেওয়া যায়? অতিসম্প্রতি যে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কোনো কোনো ব্যাচকে আরও কিছুকাল অপেক্ষা করানো সংগত ছিল। চাকরি রয়েছে তাঁদের বেশ কিছু সময়। এ ধরনের পদোন্নতিতে কি তাঁরা সরকারকে অধিক সেবা দিতে পারবেন? বরং সরকারব্যবস্থায় একটা এলোমেলো পরিবেশ সেই সেবাদানের কার্যক্রমকে ব্যাহত করারই কথা। এ অবস্থায় সচিবেরা নিজেদের মন্ত্রণালয় কীভাবে সামলাচ্ছেন, তা ভেবে বিস্মিত হতে হয়।
একই ব্যাচের অতিরিক্ত, যুগ্ম ও উপসচিব রয়েছেন বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ে। সংখ্যার অতিরিক্ত তো বটেই, কোথাও যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের স্থানান্তর এবং ক্ষেত্রবিশেষে কক্ষান্তর করে বসার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে ঊর্ধ্বতনদের জন্য। নথি চলাচলের প্রক্রিয়াও হয়তোবা কোনোভাবে সমাধান দেওয়া হচ্ছে। এতে আর যা-ই হোক, প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ঈপ্সিত গতি আসার কথা নয়। আরও মনে হয়, এ ধরনের বড় সংখ্যায় পদোন্নতি তো থেমেও থাকবে না। পদ নেই বলে পদোন্নতির দাবিকে উপেক্ষা করার সুযোগ রইল কোথায়? আর যদি পদোন্নতি না-ও দেওয়া হয়, কত বছরে বর্তমানে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হবে, এটা হিসাব করে দেখা দরকার। তবে প্রকৃত প্রস্তাবে পদোন্নতির প্রক্রিয়া ন্যায়ত বন্ধ রাখা যাবে না।
যেটা ঘটার ঘটে গেছে। পিছু হটার সুযোগ নেই। তবে শুধু শূন্যপদে পদোন্নতির নিয়ম দ্রুত চালু করাই উত্তম। আর যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করার দায়িত্ব খসড়া সিভিল সার্ভিস আইনের বিধান অনুসরণে সরকারি কর্মকমিশনকে দেওয়াই সংগত। হয়তো সে খসড়াটি এখন পরিত্যক্ত। পাবলিক সার্ভিস আইনের খসড়া হয়েছে। নতুন খসড়ায় এ ধরনের বিধান সংযোজন একটি সময়ে সুফল দেবে। পদের উন্নতি ছাড়া পদোন্নতি দেওয়ার আবশ্যকতা তখন থাকবে না।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্রলীগের ঝান্ডা সোহাগ-জাকিরের হাতে?
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদারের নেতৃত্বাধীন কথিত ‘সিন্ডিকেট’ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে ওই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির সভাপতি পদের জন্য ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক জাকির হোসাইনকে সমর্থন দিয়েছে।
সোহাগের বাড়ি মাদারীপুর, আর জাকিরের বাড়ি মৌলভীবাজার। সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের এবং জাকির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া তাঁরা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন।
সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের বাইরে গিয়ে দেখা যায়, সোহাগ ও জাকির বিভিন্ন কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাইছেন। কিন্তু সেখানে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট চাইতে দেখা যায়নি।
এদিকে সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরোধী কোনো প্যানেল ঘোষণার সম্ভাবনা কম। এ কারণে সোহাগ ও জাকির প্যানেলের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এক রকম ‘নিশ্চিত’।
ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এইচ বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সংগঠনটির সাবেক নেতারা এবং আসন্ন নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সকালে প্রার্থী যাচাই-বাছাই করেছেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন হবে—জানতে চাইলে ছাত্রলীগের নির্বাচন কমিশনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন প্রার্থী যাচাই-বাছাই চলছে। কেউ কেউ প্রত্যাহার করছেন। আমরা প্রার্থী কমাতে চেষ্টা করছি। কারণ, বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন সম্ভব নয়।’
ছাত্রলীগের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদের জন্য বৈধ ৬৪ প্রার্থীদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ১৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এখন ১৮ জন অবশিষ্ট রয়েছেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভাপতির প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারী এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘আপনারা দেখছেন কেবল দুজন সবার কাছে ভোট চাইছেন আর কেউ ভোট চাইছেন না। আমরা ভোট চাইলেও পাব না। কারণ, গতকাল রাতে সিন্ডিকেট সব ভোটারদের কবজা করে ফেলেছে। এখন প্রত্যাহার ছাড়া আর কী করব, বলেন? তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ভালো পদ দেবে বলে আশা করি।’
নাম প্রকাশ না করে সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থিতা প্রত্যাহারকারী আরেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে প্রার্থিতা প্রত্যাহার কর। পরবর্তীতে ভালো পদ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রত্যাহার করেছি।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির ভবিষ্যৎ by মোহাম্মদ শাহজাহান
![]() |
| মোহাম্মদ শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি ও সাবেক হুইপ |
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিস্তর লেখালেখিও হয় এই সময়ে। কয়েকজন বিএনপি নেতার ফোনালাপ বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। যেমন : ‘এই বিএনপি দিয়ে হবে না’, ‘বেগম জিয়াকে দিয়ে হবে না’, ‘উনি (বেগম খালেদা জিয়া) আর উঠে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে হয় না’। এসব ফোনালাপ নিশ্চয়ই সাংবাদিক বন্ধুরা আড়িপেতে শোনেননি বা রেকর্ডও করেননি। রাজনৈতিক নেতাদের ফোনে আড়িপাতা ও কথোপকথন রেকর্ড করা যেসব সরকারি সংস্থার দায়িত্ব, সরকারি নির্দেশে এই কাজে হয়তো তারাই সাহায্য করেছেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে, নেতাদের এই কথাগুলো প্রকাশ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হতাশ করা; মাঠপর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নেতাদের বিতর্কিত করা। দলের জন্য নিবেদিত এবং সার্বণিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত অনেক উঁচু স্তরের নেতাও ব্যক্তিগত কথোপকথনে হতাশা প্রকাশ করতে পারেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা অস্বাভাবিক নয়। তাই এটাকে বিএনপির দল ভাঙার বা ফ্যাসিবাদের সাথে আপসরফার অংশ হিসেবে দেখা বা বিবেচনা করা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমীচীন হবে না। অতীতেও অনেক দেশবরেণ্য নেতা ব্যক্তিগত কথোপকথনে এমন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমনকি কোনো কোনো বড় নেতা নিজের দলকে ‘চাটার দল’ বলেছেন।
২৮ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে প্রায় ৫৪ মিনিট শহীদ জিয়ার ওপর বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল, বর্তমান বিএনপি জিয়ার আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাই বিএনপিকে আত্ম-অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভুলত্রুটি সংশোধনপূর্বক ওই আদর্শের ভিত্তিতে দলকে পুনর্গঠিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, তিনি বর্তমান বিএনপিকে নিয়ে আরো কঠিন এবং তির্যক সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনার ধার যত তীব্র ছিল বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ততটুকু তীব্র ছিল না। সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। মনোযোগসহ আলোচকদের আলোচনা শুনেছেন। সৌভাগ্যক্রমে আমি তার পাশের আসনে উপবিষ্ট ছিলাম। সমালোচনামুখর বক্তব্য শুনে বেগম জিয়া একটিবারও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। এমনকি তার মুখাবয়বেও কোনো বিরক্তিরেখা ফুটে ওঠেনি। তিনি বক্তব্যের নির্যাস অনুসন্ধানে মগ্ন ছিলেন। তার অব্যক্ত ভাষার মধ্যে একটি ভাষা ছিল ‘যিনি আমার আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি তার কথায় বা বক্তব্যে আমার মনে কষ্ট পাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।’
এখানে তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক নেত্রী এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির মূর্তপ্রতীক হিসেবে স্বীয় নেতৃত্বের বিশালতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন। তা হবেনই না বা কেন? তিনি তো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান। আশা করি, তার এই মনোভাবের প্রতি সবাই সম্মান প্রদর্শন করবেন।
এসব মন্তব্য ও বক্তব্য থেকে অনেকেই মনে করেন বিএনপি ভেঙে যাবে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, দলটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার! রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তারা এমনটি ভাবতেই পারেন। কারণ, তাদের ভাবনার মূল ভিত্তি হলো, সরকার রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে দলীয় প্রভাবে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে যে, সব সংস্থা যেন সরকারের সাথে ভিন্নমত পোষণকারী বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধে নেমেছে। তারা জনমতের তোয়াক্কা না করে সরকারি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে দীর্ঘকাল মতায় থাকবে। যে নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে, এই সরকার নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই নির্বাচনব্যবস্থাকে একেবারে ধূলিসাৎ করে দিয়ে নিজেদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের যোগসাজশে নির্বাচনের নামে যা চাইবে তাই বাস্তবায়ন করবে। এর প্রমাণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর, দক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন; যা শুধু এ দেশের মানুষের কছে নয়, বহির্বিশ্বেও ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এমনকি মত প্রকাশ না করলেও এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংশয় কাজ করছে। তাই বাংলাদেশ সফরকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থাকা অবস্থায়ও তিনি সংসদে বক্তব্য রাখেননি। অথচ বাংলাদেশ সফরের আগে তিনি নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ যেসব দেশ সফর করেছেন, সেসব দেশের পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট মহল এ বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্ধি করবেন, ততই নিজেদের, দেশের এবং গণতন্ত্রের জন্য তা মঙ্গলজনক। না হয় আজ হোক কাল হোক সময়ের পরিক্রমায় এই অন্যায় কাজের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যেন সাক্ষাৎ না হয়, এ বিষয়ে সরকার যারপরনাই চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মোদির সাক্ষাতের কোনো যুক্তিই তিনি দেখেন না। তার এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শংকর দিল্লিতে ঘোষণা করেছেন, ‘বাংলাদেশে সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করবেন।’ সে মোতাবেক ৭ জুন হোটেল সোনারগাঁওয়ে বেগম খালেদা জিয়া দলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা শেষে মোদি এবং বেগম জিয়া আরো ১৫ মিনিট একান্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা থেকে উভয় নেতা বিরত ছিলেন। তবে বৈঠক থেকে বের হওয়ার সময় বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে প্রফুল্ল দেখা গেছে, তাতে মনে হয়েছে বৈঠকটি ছিল খুবই আন্তরিক, অর্থবহ ও সন্তোষজনক।
এই একান্ত বৈঠক নিয়ে আমাদের দেশের পত্রপত্রিকা নানা ধরনের খবর পরিবেশন করেছে। তবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে মোদি যে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং একান্ত সাক্ষাতে যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আমি মনে করি, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, নির্বাচনের নামে যে প্রহসন বাংলাদেশে চলছে তা চিরস্থায়ী হবে না, একদিন-না-একদিন এখানে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া ও তার দলের নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোসহ উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে দীর্ঘকাল দলীয় কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ, ইতোমধ্যে সংস্থাগুলোর কার্যক্রম দেশে এবং বাইরে ভাবমূর্তির সঙ্কটে পড়েছে। গুম-খুন, ভয়ভীতি দেখানো গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হতে পারে না। জনগণ একসময় দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেই। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তির নয়া রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে। সেই মেরুকরণে দলগুলোর পার্থক্য ও বিরোধ থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষে আন্দোলনে সব রাজনৈতিক শক্তির এক সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে উঠবে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীরা নেতৃত্বের সামনের কাতারে চলে আসবেন। ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ নয়, তৃণমূল কর্মীদের মতামতই হবে নেতা নির্বাচনের মাপকাঠি। দুর্বলচিত্তের ভীরু নেতারা নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাবেন, নিষ্ক্রিয় হবেন। অনেকেই হয়তো ক্ষমতাসীনদের সাথে হাত মেলাতে পারেন। তাতেও তেমন ক্ষতি হবে না। বিএনপির এই কঠিন সময় থাকবে না। প্রয়োজন শুধু সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতাকর্মীদের পাহাড়ের মতো অবিচল থাকা। দল এবং দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি নেতাকর্মীদের রয়েছে অবিচল আস্থা এবং জনগণের ব্যাপক সমর্থন। প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা।
লেখক: যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি ও সাবেক হুইপ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্রলীগের গুলিতে বৃদ্ধ নিহতের ঘটনায় মামলা, নেতাসহ ১৬ জন আসামি
সুমন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া আজিব্বর শেখ, মুহম্মদ আলীসহ মামলার অন্য আসামিরা সবাই সংগঠনটির সাবেক নেতা-কর্মী।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মুন্সী মামলার কথা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে ফরিদপুর থেকে মো. সুমন (৩০) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই সময় আরেক আসামি মুহম্মদ আলী পালিয়ে গেলেও তাঁর মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁর ভাই ফারুক হোসেনকে (৪২) আটক করা হয়েছে। মামলাটির আরেক আসামি মো. সুবহানকে (২৮) ঘটনার পরদিন গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান আসাদুজ্জামান মুন্সী।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিগরপাড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের হিসেবে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ হন। ওই গুলি তাঁর পেটের সন্তানের শরীরও ভেদ করে। এ সময় মমিন ভূঁইয়া (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ গুলি ও বোমায় গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ওই দিন রাতে মাগুরা সদর হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ গৃহবধূ নাজমা খাতুনের (৩৫) অস্ত্রোপচার হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর তিনি মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। নবজাতক ও মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার রাতে নবজাতককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রসূতি মা মাগুরা সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তবে চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করেও বৃদ্ধ মমিন ভূঁইয়াকে বাঁচানো যায়নি। তিনি গত শুক্রবার গভীর রাতে সদর হাসপাতালে মারা যান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে নামেই হোক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন -খালেদা জিয়া
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমঝোতা নয়, ছাত্রলীগের নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটে: প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা by আবদুর রশিদ ও আসিফুর রহমান
এদিকে, ভোটার তালিকা প্রকাশ না করায় প্রার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। আর ভোট কীভাবে হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা প্যানেলভুক্ত, না স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেটা গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি। ফলে নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্তও ভোটাররা জানেন না, কাদের তাঁরা ভোট দেবেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নেতৃত্ব স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে কাউন্সিলরদের (ভোটার) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া পরবর্তী নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে তিনি কিছু মাপকাঠি ঠিক করে দিয়েছেন। এরপর নির্বাচনের প্রক্রিয়া কেমন হবে, এ নিয়ে বিকেলে চারটায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সাবেক শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।
আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। সকাল ১০টায় প্রথমে সব প্রার্থীকে নিয়ে ছাত্রলীগের সম্মেলনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন বৈঠকে বসবে। এ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সভাপতি পদের ৬৪ জন প্রার্থী ও সাধারণ সম্পাদক পদের ১৪২ জনকে নিয়ে তাঁরা বৈঠকে বসবেন। তবে অনেকে না বুঝে, আবেগের বশে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমেও প্রার্থীর সংখ্যা কমে আসবে। পরে স্বল্পসংখ্যক প্রার্থীদের ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে নির্বাচন হবে।
কিন্তু এটা প্যানেলভুক্ত, না স্বতন্ত্রভাবে হবে, এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান কিছু বলেননি।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কথিত ‘সিন্ডিকেটের’ হাতেই থেকে গেল বলে মনে করছেন এর বাইরের বিভিন্ন বলয়ের নেতারা। এবারের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অঞ্চলভিত্তিক অন্তত সাতটি উপদল তৈরি হয়েছিল। এসব উপদলের নেতারাও গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এমনই এক নেতা, যিনি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেলা শাখার প্রায় সবগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই সিন্ডিকেটের অনুসারী। তাঁরাই নিজেদের পছন্দমতো ভোটার তালিকা জমা দিয়েছেন। এখন ভোট হলে সিন্ডিকেট-সমর্থিত প্রার্থীই জিতবেন, এটাই স্বাভাবিক। এর বাইরে এখন কোনো প্রার্থী থাকবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
আরেকজন নেতা বলেন, বিগত চারটি কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতির অনুসারীরা শীর্ষ পদে রয়েছেন। ফলে নির্বাচন হলেই ছাত্রলীগের ওই সাবেক সভাপতি ‘মেকানিজম’ করে তাঁর অনুসারী প্রার্থীদের জয়ী করে নিয়ে আসেন। এবারেও এর বিকল্প হবে না।
ছাত্রলীগের আজকের সম্মেলনে প্রার্থী হিসেবে ছাত্রলীগের বর্তমান পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক জাকির হোসেন, সহসম্পাদক আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক প্রচার সম্পাদক শাহেদুজ্জামানের নাম আলোচনায় রয়েছে। রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ‘সিন্ডিকেট’ থেকে সাইফুর রহমান ও জাকির হোসেনকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ভবিষ্যৎ ছাত্রলীগ নেতার যোগ্যতা সম্পর্কে দলের সভানেত্রীর নির্দেশ—নেতা হতে হবে মেধাবী এবং নিয়মিত ছাত্র। তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের একটি বয়স সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছিলাম। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়সসীমা ২৭ বছর। নিয়মিত শিক্ষার্থী যারা, তারাই নেতৃত্বে আসবে। যেহেতু দুই বছর নষ্ট হয়ে গেছে। তাই গ্রেস পিরিয়ড তো দিতে হয়।’ তিনি এ সময় ২৯ বছর বয়স নির্ধারণ করে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বয়সের কারণে বাদ পড়া ছাত্রলীগ নেতারা আশাবাদী ছিলেন, যেহেতু দুই বছরের কমিটি চার বছর অতিক্রম করেছে, তাই বয়সের বিষয়টি নেত্রী বিবেচনা করবেন। কিন্তু এর আগের দুই বছরও ২৯ বছর থাকায় এখন নতুন করে ‘বাড়িয়ে’ ২৯ বছর করাটাকে একটা ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে মনে করছেন নেতারা।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য মোট ২৪২ জনের মধ্যে ৩৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। তাঁদের মধ্যে বয়স ২৯ বছরের বেশি হওয়ায় বাদ পড়েছেন চারজন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৬৬ সংবর্ধনার পর দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র নাছির by একরামুল হক
প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী গত ৮৮ দিনে কমপক্ষে ৬৬টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছে মেয়র নাছিরের জন্য। সংবর্ধনার অর্ধশতক পেরিয়ে আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি।
মেয়রের জন্য একের পর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফছারুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসলে আমজনতার আগ্রহ উপেক্ষা করা যায় না। আগের মেয়র যা করতে পারেননি নতুন মেয়র সেই প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলেই আমজনতার প্রত্যাশা।’
মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির শপথ নেন গত ৬ মে। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে দায়িত্ব পেতে তাঁকে এত দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত। ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর জয়ী মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা হয় ওই বছরের ২৬ জুলাই। যার মেয়াদ গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে।
দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগে আ জ ম নাছিরের একের পর এক সংবর্ধনা গ্রহণ নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি রয়েছে। তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া না–দেওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডাও কম হয়নি।
আওয়ামী লীগের নেতারাও বলছেন, এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা বিশিষ্ট নাগরিকের জন্য এত বেশি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নজির নেই। দলীয় সংবর্ধনার বাইরে ব্যবসায়ী সংগঠন, আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় ক্লাব, মহল্লা কমিটি, হকার্স সমিতি, সাংসদ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ঠিকাদার সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
নাম না প্রকাশের শর্তে চট্টগ্রামের একজন শিক্ষাবিদ বলেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য চট্টগ্রামে মাত্র দুটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর একটি নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অন্যটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয় ক্যাম্পাসে। ড. ইউনূস চট্টগ্রামের সন্তান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক সিকান্দার খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা মেয়রকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন, সেটা কেন দিচ্ছেন তা কেবল তাঁরাই জানেন। আর যিনি নিচ্ছেন তাঁকেও বুঝে নিতে হবে কেন তিনি নিচ্ছেন। নিশ্চয়ই এখানে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির কিছু বিষয় থাকতে পারে। তবে এত বেশি সংবর্ধনার আয়োজন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে।’
মেয়রের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মে এবং জুন মাসে প্রায় প্রতিদিনই সংবর্ধনা সভা হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো দিন সর্বোচ্চ তিনটি সংবর্ধনা সভাতেও যোগ দিয়েছেন মেয়র।
বিপুল সংবর্ধনা নেওয়ার বিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতি ছাড়াও ক্রীড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। আগের মেয়ররা রাজনীতির বাইরে এত বেশি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সে কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁকে সংবর্ধনা দিতেই পারে। কারণ তাঁর কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি।
প্রথা ভেঙে মেয়রকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ১৫ জুন আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে মেয়রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ করেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে জানান, সমিতি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কখনো সংবর্ধনা দেয়নি। এমনকি চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং স্বাধীনতার আগে-পরে কোনো মন্ত্রীকেও সংবর্ধনা দেয়নি। তবে মন্ত্রী-মেয়রের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করতেন। এবার রেওয়াজ ভেঙে আ জ ম নাছিরকে সংবর্ধনা দেওয়ায় আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পুলিশের গাফিলতি- ওসি ক্লোজড, দুই এসআই বরখাস্ত
তদন্ত কমিটি রাজন হত্যাকাণ্ডে পুলিশের গাফিলতি, হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়া ও আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের পর রাজনের বাবা গাড়িচালক শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আলমের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও পুলিশের দালাল হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আপস-রফার চেষ্টার বিষয়ও। পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি প্রতিবেদনে বেশ কজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের শাস্তির সুপারিশ করেছে। বিষয়টি সিলেট সফরে আসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নজরে নিয়ে আসা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিশু রাজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিবেদনের একটি কপি সঙ্গে নিয়ে সিলেট ছেড়ে যাওয়ার পূর্বমুহূর্তে গতকাল দুপুর সোয়া ১২টায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন আশ্বাস দেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, পুলিশের বেশি গাফিলতি দেখলে তিনি নিজেই বিষয়টির মনিটরিং করবেন।
এদিকে, শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও পুলিশ খোলাসা করেনি প্রতিবেদনের সারকথা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে দিনভর এমন কানাঘুষা থাকলেও মেট্রোপলিটন পুলিশ কিন্তু চুপই থাকে। নিজেদের ব্যর্থতা ও অনিয়মের ‘ঢোল’ তারা ‘পেটাতে’ চাননি। তবে নিজেরা নিজেরা তারা দিনভর ব্যস্তই ছিলেন হত্যার ঘটনা নিয়ে। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা মেট্রো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তার কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কমিশনার কামরুল আহসান।
এসএমপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশের সঙ্গে লিয়াজোঁ তৈরিতে টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন এবং সরকারি একটি সংবাদ সংস্থায় কর্মরত স্থানীয় প্রতিনিধির জনৈক ব্যক্তির মকসুদ আহমদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদন তৈরিতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ১৫০ জনের অডিও বক্তব্য এবং ৫০ জনের লিখিত বক্তব্য নিয়েছে। তদন্ত কমিটি মনে করেছে এরা রাজন হত্যার ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল- কেউবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
পুলিশের তদন্তে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ না মিললেও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। যার দায় চেপেছে নিচু স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর। ঘটনার দিন রাজনের লাশ উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। যাদের মধ্যে ছিলেন পুলিশের ডিসি, এডিসি, এসি সবাই। তারা দেখেছেন-শুনেছেন, তদন্তের তত্ত্বাবধান করেছেন। তবে দায় ছুঁতে পারেনি তাদের কাউকেই। তাদের দায়মুক্ত রেখেই সব দায় চেপেছে যারা হত্যার ঘটনায় দৌড়ঝাঁপ করেছেন তাদের ওপরই।
সিলেট মেট্রো পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান রুকন উদ্দিন গতকাল দুপুরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, ‘বিন্দু পরিমাণ আপস করিনি। দাড়ি-কমা বাদ দেইনি। অ্যাকশন হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ই জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ভ্যান চুরির অপবাদে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় স্থানীয় বাদে আলী গ্রামের বাসিন্দা গাড়িচালক শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আলমের ছেলে সামিউল আলম রাজনকে। পরে তার লাশ একটি মাইক্রোবাসে তুলে গুম করার চেষ্টাকালে জনতা হত্যাকারীদের দুজনকে আটক করে। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে দেশব্যপী ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে জালালাবাদ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় অপর এক আসামি সৌদি আরবে পালিয়ে গেলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। গত ১৪ই জুলাই মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রুকন উদ্দিনকে প্রধান করে গড়ে দেয়া তিন সদস্যের কমিটির তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও পরে আরও পাঁচ দিন সময় বাড়ানো হয়। গত বৃহস্পতিবার ছিল প্রতিবেদন দাখিলের শেষদিন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে প্রাণঘাতী ২২ কি.মি., ৭ মাসে নিহত ৭১ by এনামুল হক
![]() |
| সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন |
সর্বশেষ গত সোমবার মধ্যরাতে সড়কের মুলিবাড়ী এলাকায় বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আর রোববার ভোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ১৭ জন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গত ১৭ বছরে এই সংযোগ সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৮ জন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ, সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনার যে কারণগুলো চিহ্নিত করেছে সেগুলো হলো—দুই লেনের অপ্রশস্ত সড়ক, বাইলেন না থাকা, অদক্ষ চালক দিয়ে বিরামহীন গাড়ি চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা না মানা, ওভারটেকিং এবং নছিমন-করিমনসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন বৃদ্ধি। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে প্রতিকারের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এই সড়কটি বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন।
সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জহুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সংযোগ সড়কটি চার লেনে রূপান্তর করার জন্য সিরাজগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। যদি এটা দ্রুত করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। কারণ, এই সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি চালু হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ খুলনা বিভাগের ২৪টি জেলা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১২ হাজার যানবাহন এই সড়ক ও সেতু দিয়ে চলাচল করছে। দুই ঈদ ও বিশ্ব ইজতেমার সময় যানবাহনের এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়। গেল ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেছে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেতুর পশ্চিম অংশের মুলিবাড়ী, কাশেম মোড় বানিয়াগাতী, কোনাবাড়ী, কড্ডা, ঝাউল ওভারব্রিজ, চৈরগাতী এলাকায় বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মুলিবাড়ী, বানিয়াগাতী এলাকায় গত কয়েক দিনে চারটি দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, যানবাহনের সংখ্যার তুলনায় এই সড়কটি অপ্রশস্ত। দুই লেনের সড়কে দুই দিকের গাড়ি মুখোমুখি চলাচল করে। চালকেরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কাই করছেন না। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বললেন, মহাসড়কের কোথাও কোনো সতর্কবার্তা নেই। সড়কটি নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণও হয় না। সড়ক প্রশস্ত করা, ডিভাইডার স্থাপন, গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া, চালকদের বিরামহীনভাবে গাড়ি চালাতে না দিলে এবং ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, বিশেষ করে চালকদের অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা দরকার বলে মত দেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মুলিবাড়ী এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সড়কটি চার লেনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোড ডিভাইডার নির্মাণের কথাও বলেছেন তিনি।
তবে সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জহুরুল হক প্রথম আলোকে বললেন, ‘সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এর আগেও একাধিকবার সিরাজগঞ্জে এসে এই সংযোগ সড়কটি চার লেনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখছি না।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গত রাতে একাধিকবার প্রথম আলো থেকে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এই সড়কের কড্ডার মুখ অনেক আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ (ব্ল্যাকস্পট)। তার কারিগরি সমস্যার কিছু সমাধান করা হয়েছে। টোলপ্লাজার কাছের গোলচত্বরেও কিছু কাজ করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা কমেছে। এর বাইরে এখন যেসব দুর্ঘটনা হচ্ছে, সে বিষয়ে গবেষণা হতে পারে।
তবে অধ্যাপক সামছুল হক মনে করেন, এখনকার দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দ্রুত ও কম গতির যানবাহনের একসঙ্গে চলা। সড়কের আশপাশে অনেক নতুন স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। এতে কম গতির গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। আর দূরপাল্লার গাড়ি এখানে দ্রুত বেগে চলে। এখন দুর্ঘটনা কমাতে হলে এ এলাকায় দূরপাল্লার গাড়ির গতি কমাতে হবে, না হলে কম গতির গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জহুরুল হক বলেন, কম গতির ছোট যানবাহনের জন্য একটি বাইলেন সড়ক নির্মাণ করা জরুরি। কারণ, স্থানীয়দের যাতায়াতের বিষয়টি অবহেলা করা যায় না।
আলোচিত এই ২২ কিলোমিটার সড়ক বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন। এই সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটি চার লেনে রূপান্তর করতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এই প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। অনুমোদিত হলে ২০১৮ সালের মধ্যে একে চার লেনে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে ছোট ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য বাইলেন সড়ক নির্মাণেও প্রস্তাব রয়েছে। তাঁর মতে, চার লেনের পাশাপাশি বাইলেন সড়ক নির্মাণ করা গেলে এই সড়কে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন by ইসমাত আরা
![]() |
| শুভেচ্ছা বক্তব্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনীম |
কিন্তু বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে যেখানে মুসলমানদের সংখ্যা খুব কম, এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিকেল হলেই সড়কের পাশে বসে না ইফতারের আয়োজন, চোখে পড়ে না দল বেঁধে তারাবি নামাজ পড়তে যাওয়ার দৃশ্য। আর তাই রমজান মাস এলেই প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের মন চলে যায় বাংলাদেশে।
থাইল্যান্ডের জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ মুসলমান। কিন্তু রাজধানী ব্যাংককে এ সংখ্যা আরও কম। আর তাই ব্যাংককে রমজান মাসে বাঙালিদের এই পরিচিত ইফতার আয়োজনের দৃশ্য কল্পনা করাই বিলাসিতা। কিন্তু থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনীম সে কল্পনাকে খানিকটা বাস্তবে রূপ দেওয়ার ঐকান্তিক প্রয়াস নেন। তারই উদ্যোগে ব্যাংককে বসবাসরত বাঙালিদের জন্য দেশীয় পরিবেশে তারাবির নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে দূতাবাসে প্রথমবারের মতো খতম তারাবির আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের এই আয়োজনকে অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে স্বাগত জানায় ব্যাংককে বসবাসরত বাঙালিরা। প্রতিদিন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে খতম তারাবির জামাতে অংশ নেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভিন্ন দেশের মুসলমানেরাও এ জামাতে অংশ নেন।
![]() |
| মোনাজাতের দৃশ্য |
![]() |
| অতিথিদের একাংশ |
ইফতারে ছিল দেশীয় আয়োজন। বিভিন্ন ফলের শরবতে তৃষ্ণা নিবারণের পর ছিল খুরমা, পিয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, দই বড়া, আলুর চপ, চটপটি, বুট-মুড়ি আর সঙ্গে টাটকা ফল। ইফতারের পর জামাতে মাগরিবের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা দূতাবাসের ভেতরেই করা হয়। নামাজ শেষে কিছু সময় আগত অতিথি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কুশল বিনিময় করেন। এরই মধ্যে রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। রাতের খাবারে ছিল বিরিয়ানি, কারি ও কাবাব। এ ছাড়া ছিল পায়েস আর রসমালাই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাহাড়ধস ঠেকাতে নেই স্থায়ী উদ্যোগ- ৯ বছরে ১৯২ জন নিহত by প্রণব বল
![]() |
| চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আমিন কলোনি এলাকার টাংকির পাহাড়ের পাদদেশ থেকে গতকাল ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করা হয় l ছবি: প্রথম আলো |
সর্বশেষ শনিবার চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়ালধসে ছয়জন নিহত হয়। সবচেয়ে বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে ২০০৭ সালের ১১ জুন। সেবার এক দিনে নগরের বিভিন্ন স্থানে ১২৭ জন নিহত হয়েছিল। সেই থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৯২।
চট্টগ্রাম শহরে যেসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়েছে, তার বেশির ভাগের মালিকানা সরকারের। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়ও আছে। সরকারি পাহাড় দখল করে অথবা ইজারা নিয়ে ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
২০০৭ সালে পাহাড়ধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটি পাহাড়ে নিহতের ঘটনা ঠেকাতে ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। একই ঘটনার পর প্রকৌশলগত প্রতিরোধ কমিটি আরেকটি প্রতিবেদন দেয়। এতেও দুর্ঘটনা এড়াতে ৩০ দফা সুপারিশ দিয়েছিল। দুটি সুপারিশমালা ছিল প্রায় অভিন্ন।
এসবের মধ্যে পাহাড় দখলমুক্ত করে বনায়ন করা, ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসন, পাহাড় ইজারাদান এবং দখল বন্ধ করা অন্যতম। কিন্তু এসব সুপারিশ গত আট বছরে আলোর মুখ দেখেনি। ফলে দিন দিন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দার সংখ্যা বেড়েছে।
ধস রোধে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না থাকার কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়ধস রোধে অনেক ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু শনিবার হঠাৎ করে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে পড়ে। আর আমরা তাদের একদিক থেকে উচ্ছেদ করলে অন্যদিকে গিয়ে বসবাস শুরু করে।’ তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে বসবাস ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের ক্ষমতা অনেক সীমিত। পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু আইন রয়েছে। কিন্তু তাদের জনবল নেই। তবে মামলা করলে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রয়োজন।
বর্তমানে চট্টগ্রামে ৩০টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লোকজন বসবাস করছে বলে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে স্বল্প ও অধিক ঝুঁকিতে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা আনুমানিক ১০ লাখ বলে ধারণা করা হয়। ২০০৭ সালের ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সদস্যদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসন এই কমিটির তদারক করে।
প্রতিবছর বর্ষা এলে উচ্ছেদ চালানো হয়। এবারও ১১টি পাহাড়ের ৬৬৬টি পরিবারকে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে। কিন্তু বৃষ্টি একটু কমলে তারা আবার পাহাড়ের ঝুঁকিতে গিয়ে বসবাস শুরু করে। ফলে শনিবারের আকস্মিক অতিবৃষ্টিতে নগরের লালখান বাজার ও বায়েজিদ এলাকায় পাহাড় ও দেয়ালধসের ঘটনা ঘটে।
জানতে চাইলে সচেতন নাগরিক কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, পাহাড়ে বসতি ঠেকাতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রতিবছর এখানে বসতি বাড়ছে। এ কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
তালিকার বাইরের পাহাড়ে ধস: শনিবার বায়েজিদ থানাধীন আমিন কলোনিতে টাংকি পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হয়। এই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তালিকায় নেই। এ বিষয়ে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘আমরা কত দিকে আর তাদের পাহারা দেব। একদিকে বন্ধ করলে অন্যদিকে গিয়ে বসতি গড়ে তোলে। কোনোভাবে মানুষকে বোঝানো যায় না। ভয়ও নেই তাদের।’
সরেজমিনে বায়েজিদ এলাকায় দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে, খাঁজে ছোট ছোট টিনের ঘর। বাবুল নামের এক বাসিন্দা জানান, ‘আমাদের এখানে আগে কখনো পাহাড়ধস হয়নি। এগুলো অনেক নিরাপদ।’
বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বল্প ভাড়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পাহাড়ে বসতি গড়ে তোলে লোকজন। এক শ্রেণির দখলদার পাহাড় দখল করে গরিব লোকদের ভাড়া দেয়। কম ভাড়ার কারণে তারা সরতে চায় না।
বারবার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত: ২০০৭ সালের ১১ জুন ভয়াবহ ওই ঘটনার পর প্রতিবছর ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখে না। ২০১২ সালের ২ জুলাই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির দশম সভায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়নে অগ্রগতি ছিল বেশ কম।
এরপর ২০১৩ সালে ৬ জুন পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির একাদশ সভায় নতুন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। সেটাও আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৪ সালে পুনরায় উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা-ও পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি।
থেমে নেই দুর্ঘটনা: পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ২০০৭ সালে। সে সময় নিহত হয় ১২৭ জন। এ ছাড়া গত বছর বায়েজিদ এলাকায় ১ জন, ২০১৩ সালে ২ জন, ২০১২ সালে ২৮ জন, ২০১১ সালে ১৭ জন, ২০১০ সালে ৩ জন ও ২০০৮ সালে ১৪ জন নিহত হয়। ২০০৯ সালে ৩ জন আহত হয়। ২০০৭ সালের আগেও পাহাড়ধসে একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাচারকারীদের থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেও চাপে পরিবার by গোলাম মর্তুজা ও আহাদ হায়দার
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে আসামিরা!
সাতজনের বিরুদ্ধে মেয়েটির বাবা মানব পাচারের মামলা করেছিলেন। তাদের ধরতেও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পুলিশ। উল্টো মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে আসামিরা। ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার এ নিয়ে কচুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা আসামিদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তার কারণেই আড়াই মাসেও আসামিদের ধরতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। পুলিশ বলছে, বাগেরহাটের আওয়ামী লীগের এক নেতার পক্ষের দুই ব্যক্তি ওই মেয়েটির বাড়িতে এসেছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। তবে আসামি ধরা বা না-ধরার বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই।
মামলার বিবরণ ও মেয়েটির স্বজনদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট জেলা শহরে নিয়ে পাত্র দেখানোর নাম করে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায় তারই চাচাতো বোনের স্বামী আল আমিন ফকির। এরপর থেকেই মেয়েটি নিখোঁজ। এ ঘটনায় ৮ মার্চ কচুয়া থানায় একটি ‘নিখোঁজে’র জিডি করে মেয়েটির পরিবার। বাড়ি থেকে যাওয়ার এক মাস পর ১ এপ্রিল মেয়েটি তার মাকে ভারতের একটি নম্বর থেকে ফোন করে জানায়, সে বেঁচে আছে, ভালো আছে। ওই মুঠোফোনের সূত্র ধরেই তার সন্ধানে নামেন মামা রিয়াজ উদ্দীন। স্বজনেরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটিকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। এরপর মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে আল আমিন ফকিরসহ সাতজনকে আসামি করে কচুয়া থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো নাজমা বেগম, মেহেদি হাসান, পারুল বেগম, আল আমিনের স্ত্রী দুলালি বেগম এবং তার দুই ভাই আকু ফকির ও জুমা ফকির।
উদ্ধারপর্ব: মেয়েটির মামা রিয়াজ উদ্দীন বলেন, তিনি দুই দফা ভারতে গিয়ে সেখানে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মানবাধিকার সংগঠন স্টপের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত উত্তরাখন্ড রাজ্যের নেপাল সীমান্তবর্তী জেলা রুদ্রপুর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করেছেন। তিনি বলেন, ১ এপ্রিল প্রথম যেই নম্বরটি থেকে মেয়েটি ফোন করেছিল সেই নম্বরে বাংলাদেশ থেকে যখন বলা হয় তখন সীমা পরিচয় দিয়ে এক নারী বলেছিলেন, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে অবস্থান করছেন। সীমা পরিচয় দেওয়া ওই নারী দাবি করেন, মেয়েটিকে তিনি বাসের ভেতর পেয়েছেন। মেয়েটির অভিভাবক ভারতে গেলে তিনি তাকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেবেন। কিন্তু রিয়াজ উদ্দীন ভারতে গিয়ে ওই নম্বরটি বন্ধ পান। এরপর বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় পুলিশের শরণাপন্ন হন রিয়াজ। পুলিশ মুঠোফোন নম্বরটি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে দেখে ঝাড়খন্ড থেকে সিমকার্ডটি কেনা, সেটি দিল্লিতে ব্যবহৃত হচ্ছিল। নম্বর বন্ধ থাকায় পুলিশ কিছু করতে পারেনি।
রিয়াজ উদ্দীন বলেন, বাগেরহাটে ফিরে তিনি একপর্যায়ে প্রধান আসামি আল আমিন ফকিরের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দিল্লির একটি ঠিকানা পান। এর মধ্যেই ৪ মে মেয়েটি ফোন করে জানায় যে, সে পাচারকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে দিল্লির গ্রিন পার্ক এলাকায় প্রিয়া নামে এক নারীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পরদিনই রিয়াজ রওনা দিয়ে ৬ মে কলকাতা পৌঁছান। সেখান থেকে প্রিয়া নামে ওই নারীকে ফোন করলে তিনি বলেন, তিনি এখন বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন। তিনি মেয়েটির স্বজনদের দুই মাস পরে গিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে আসার জন্য বলে ফোন কেটে দেন।
রিয়াজ বলেন, তবুও ১১ মে দিল্লি যান তিনি। সেখানে গিয়ে প্রিয়ার ওই নম্বরটি বন্ধ পান। পরে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্টপ নামের একটি এনজিওর সাহায্য চাওয়া হয়। এর মধ্যেই পাচার হওয়া মেয়েটির বিষয়ে জানতে ভারতের একটি নম্বর থেকে গ্রামের বাড়িতে যোগাযোগ করেন এক নারী। পরে সেই নম্বরটি সংগ্রহ করে দিল্লি থেকে ফোন করেন রিয়াজ। জানতে পারেন, নিতু রায় ও অমিত নামে দুই যুবকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেয়েটি। মূলত প্রিয়া নামের ওই নারীও পাচারকারী চক্রের সদস্য ছিলেন। তাঁর বাড়ির গৃহকর্মী ছিল অমিত। অমিতের কাছে সাহায্য চাইলে অমিত মেয়েটিকে নিয়ে উত্তরাখন্ডের রুদ্রপুরে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৩ মে মেয়েটিকে পুলিশ ও এনজিও স্টপের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়ার পরে মেয়েটি জানায়, তাকে বিক্রি করে দিয়েছিল আল আমিন। এরপর কয়েক হাত বদল হয়ে দিল্লি যায়। তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য নানা রকম নির্যাতনও করা হয়। এর মধ্যে মেয়েটি মার্কেটে কাপড় কিনতে যাওয়ার কথা বলে পাচারকারীদের কবল থেকে পালাতে সক্ষম হয়। কিন্তু গিয়ে পড়ে আরেক পাচারকারী প্রিয়ার খপ্পরে। ২৪ মে মেয়েটি বাগেরহাটে মা-বাবার কাছে ফেরে।
হুমকি ও চাপ: মেয়েটি ফেরার পর থেকে গত দেড় মাসে পাঁচবার তাদের বাড়িতে মোটরসাইকেল আরোহী যুবকেরা গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে মামলা তুলে নেওয়ার চাপও দেওয়া হচ্ছে। পরিবারটি রয়েছে চরম আতঙ্কে।
গত বুধবার মঘিয়া গ্রামে গিয়ে ওই মেয়েটির বাবার নাম বলে তাদের বাড়িতে যাওয়ার পথ জানতে চাইলে লোকজন কেউই সাহায্য করেনি। উল্টো বিভিন্নজন নানা রকম প্রশ্ন শুরু করে। পরে মেয়েটির বাড়ি খুঁজে পাওয়ার পর তার ভাই জানান, হুমকিদাতা সন্দেহে গ্রামবাসী এ রকম আচরণ করেছিলেন। মেয়েটির পরিবার কৃষক, বেড়ার ওপরে টিন দিয়ে তাদের বাড়ি। পরিবারের সদস্যরা জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচবার মোটরসাইকেলে তাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে গেছে অচেনা যুবকেরা। এর মধ্যে একই লোকেরা এসেছে তিনবার। তারা নিজেদের বাগেরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনা হাসিবুল হাসান ওরফে শিপন মিনার লোক বলে পরিচয়ও দিয়েছে। আর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মামলা তুলে নিয়ে ‘মীমাংসা’ করার চাপও আসছে। অব্যাহত হুমকি ও চাপের মুখে ২৩ জুন মেয়েটির ভাই কচুয়া থানায় একটি জিডি করেন।
পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানান, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা আসামিদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এ কারণে তাদের ধরছে না পুলিশ।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী বলেন, আসামিদের না ধরার বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। প্রধান আসামি আল আমিনসহ দুজন এখন ভারতে পালিয়ে রয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বাকিদের ধরার জন্য তিনিসহ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জুন রাতে ২ নম্বর আসামি আল আমিন ফকিরের স্ত্রীকে (পাচার হওয়া মেয়েটির চাচাতো বোন) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, কারা হুমকি দিতে এসেছিল সেটা জানাতে পারেনি বাদীপক্ষ। তবে পুলিশ তদন্ত করে দেখেছে, বাগেরহাটের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনা হাসিবুল হাসানের দুজন লোক ওই মেয়েটির বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশ জেনেছে, বাদীপক্ষেরই কোনো আত্মীয় শিপন মিনার কাছে গিয়ে বলেছেন যে মামলাটি ভুয়া। তারপরে শিপন মিনা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য দুজনকে মঘিয়া গ্রামে পাঠান। তারা বাদী ও আশপাশের বিভিন্নজনের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে পরে পুলিশ শিপন মিনার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।
যোগাযোগ করা হলে মিনা হাসিবুল হাসান লোক পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো তাদের চিনিই না। আমি কেন লোক পাঠাব। আমার লোক ৩৫ জন। তাঁরা কোথাও যান না। আর যদি এ রকম লোক গিয়ে থাকে তাহলে পুলিশকে বলেন পুলিশ আটকায় রাখুক।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেশ ঘটা করেই বাজারে আসছে উইন্ডোজ ১০
![]() |
| উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের ডেস্কটপ দেখতে হবে এমন |
কম্পিউটার এবং ট্যাবলেট ব্যবহারকারীদের হাতে ২৯ জুলাই থেকে নতুন উইন্ডোজ তুলে দেবে মাইক্রোসফট। বিশ্বের ১৯০টি দেশের উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ৮.১ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা বিনা মূল্যে উইন্ডোজ ১০ হালনাগাদের সুযোগ পাবেন। ২৯ জুলাইয়ের পর বাজারে যেসব উইন্ডোজ-সমর্থিত কম্পিউটার আসবে, সেসবে নতুন অপারেটিং সিস্টেমই ইনস্টল করা থাকবে।
২০১৩ সালে উইন্ডোজ ৮ বাজারে ছেড়েছিল মাইক্রোসফট। তবে অপারেটিং সিস্টেমটি প্রতিষ্ঠানটির আশা পূরণে ব্যর্থ হয়। সবার দৃষ্টি এখন উইন্ডোজ ১০-এর দিকে। ২০১৮ সালের মধ্যে ১০০ কোটির বেশি যন্ত্রে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করা হবে বলে মাইক্রোসফটের ধারণা।
আগে শুধু পার্সোনাল কম্পিউটারের জন্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম প্রকাশ করা হলেও এবার স্মার্টফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার এমনকি তাদের গেম খেলার যন্ত্র এক্সবক্সেও উইন্ডোজ ১০ চলবে বলে জানায় মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ১০-এর জন্য তৈরি অ্যাপস তাই চলবে যেকোনো যন্ত্রেই।
উইন্ডোজ ১০-এর সফটওয়্যার পরীক্ষকদের সম্মানে আরও ১৩টি শহরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে—এক ব্লগে এমনটাই জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের নির্বাহী ইউসুফ মেহদী। তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক—৫০ লাখের বেশি উইন্ডোজ ইনসাইডারদের অভূতপূর্ব কাজের উদ্যাপন করব।’
মাইক্রোসফটের সাত হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সাড়ম্বরে উইন্ডোজ ১০ উদ্বোধনের ঘোষণা এলো। গত বছরেই ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মুঠোফোনের ব্যবসাকে ঢেলে সাজাতেই নাকি তাদের এমন আয়োজন। পার্সোনাল কম্পিউটারের বাজার দখলে রাখলেও স্মার্টফোন বাজারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে গুগল আর অ্যাপলের সঙ্গে ঠিক পেরে উঠছে না মাইক্রোসফট। প্রযুক্তি অঙ্গনে একসময়ের শীর্ষস্থানে থাকা মাইক্রোসফটকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে চান ২০১৪ সালে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে নিয়োগ পাওয়া সত্য নাদেলা।
এএফপি অবলম্বনে মেহেদী হাসান
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গরুর হৃৎপিণ্ডের ভাল্বে নতুন জীবন
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘স্যার’-এর জন্মদিনে
![]() |
| জন্মদিনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ l ছবি: সাহাদাত পারভেজ |
ঘড়ির কাঁটা যখন রাত ১২টা ১ মিনিটে ছুঁয়েছে, সামাজিক মিডিয়ায় তখন থেকেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নানা পোস্ট দেওয়া শুরু করেছিলেন তাঁর ছাত্র, ভক্ত-অনুরাগী ও বইপ্রেমীরা।
একজন লিখেছেন, ‘এক টুকরো কাগজ কখনো কখনো জীবনের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কলেজজীবনের শুরুতে সমাজবদলের জন্য ছাত্ররাজনীতিতে অংশ নেওয়া কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনেক লিফলেট হাতে এসেছে। এসব লিফলেট যেভাবে এসেছে, সেভাবেই হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু হলুদ রঙের একটি ছোট লিফলেট কেমন করে যেন দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিল। সেটি যেখানে টেনে নিয়ে এল, দেখলাম আমার মতো অনেকেই এই ‘হলুদ নিমন্ত্রণে’ সাড়া দিয়ে হাজির হয়েছে বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে।’
গতকাল বিকেলে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার হাতেই নানা রঙের ফুল আর উপহার। তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর একটি আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সন্ধ্যা যখন আকাশ ছুঁই ছুঁই, তখন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শুভেচ্ছা গ্রহণ করা শুরু করলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল মিলনায়তনে। শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছার ভারে ক্লান্ত হয়ে যখন একটু বসতে গেলেন তিনি, তখনই এল সুবিশাল একটি কেক। সেটি কাটার আগে স্বভাবসুলভ রসিকতা করে তিনি বললেন, ‘সবকিছুকে আমরা এশিয়ার সবচেয়ে বড় খেতাব দিতে ভালোবাসি। এত ছোট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকেও আমরা বলি সব থেকে বড়। সেভাবে আমি বলতে চাই, এটি এশিয়ার সব থেকে বড় কেক।’ তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রওশন আরা সায়ীদ ও কন্যা লুনা সায়ীদ।
তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের পরিচালক শরীফ মোহাম্মদ মাসুদ, ট্রাস্টি খন্দকার আসাদুজ্জামানসহ অনেকে। শিক্ষক, সংগঠক, লেখক, উপস্থাপক, সম্পাদক, সাহিত্য সমালোচক, নিষ্ঠাবান পাঠক, পরিবেশকর্মী—নানা পরিচয় থাকলেও সবার আগে একজন শিক্ষক হিসেবেই তিনি তাঁর ছাত্রদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
July
(1347)
-
▼
Jul 26
(31)
- নেতা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
- ইয়াকুব মেমনের ফাঁসি ইস্যুতে ওয়াইসির মন্তব্যে ক্ষুব...
- এক দশক ধরে শুধুই সিদ্ধান্ত, প্রয়োগ নেই by আনোয়ার...
- পদোন্নতি হলেও হয়নি পদের উন্নতি by আলী ইমাম মজুমদার
- ছাত্রলীগের ঝান্ডা সোহাগ-জাকিরের হাতে?
- বিএনপির ভবিষ্যৎ by মোহাম্মদ শাহজাহান
- ছাত্রলীগের গুলিতে বৃদ্ধ নিহতের ঘটনায় মামলা, নেতাসহ...
- যে নামেই হোক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন -...
- সমঝোতা নয়, ছাত্রলীগের নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটে: প...
- ৬৬ সংবর্ধনার পর দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়র নাছির by একরা...
- পুলিশের গাফিলতি- ওসি ক্লোজড, দুই এসআই বরখাস্ত
- বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কে প্রাণঘাতী ২২ ক...
- ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যতিক্রমী আয়োজন by ইস...
- পাহাড়ধস ঠেকাতে নেই স্থায়ী উদ্যোগ- ৯ বছরে ১৯২ জন ন...
- পাচারকারীদের থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেও চাপে পরিবার b...
- বেশ ঘটা করেই বাজারে আসছে উইন্ডোজ ১০
- গরুর হৃৎপিণ্ডের ভাল্বে নতুন জীবন
- ‘স্যার’-এর জন্মদিনে
- দুই কূটনীতিকের দ্বন্দ্বে ঢাকার লিবীয় দূতাবাসে অচলা...
- পাঁচ টনের জায়গায় ৪০ টন!
- দরকার মনে করলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করব: ইনু
- ৬ লাখ টাকার চুক্তিতে খুন করা হয় প্রবাসীর ২য় স্ত্রী...
- আন্তর্জাতিক চোরাচালানিদের খপ্পরে বাহরাইনপ্রবাসী
- টানা বৃষ্টিতে ফেনীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
- ১১ তরুণ নিখোঁজ সাড়ে তিন মাস ধরে
- সংযুক্ত আরব আমিরাতে মজুরি পরিশোধে নতুন বিধান কার্যকর
- ‘ছাত্রলীগ এতিমদের সংগঠন’
- শিশু সামিউল হত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘নির্দেশনায় ...
- কমছে না সড়ক দুর্ঘটনা- আট জেলায় নিহত ১৭
- ‘হট কাপল’-এর আচমকা ছাড়াছাড়ি
- বাড়ির পথে ১৪৬ অভিবাসী
-
▼
Jul 26
(31)
-
▼
July
(1347)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















