Friday, July 30, 2010

সংবিধান সংশোধনে সবাইকে দরকার by আলী রীয়াজ

বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধন এখন জোর আলোচনার বিষয়। সংসদে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একটি কমিটি নির্বাচনের পর এটা স্পষ্ট যে ক্ষমতাসীন জোট সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। উচ্চ আদালতের দেওয়া একটি রায়, যার পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা এখনো জানা যায়নি, সেটাকে উপলক্ষ করেই এই উদ্যোগ। বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের ঘটনা নতুন নয়। গত ৩৮ বছরে বৃহত্তর সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহের আলোকে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনেকেই উপলব্ধি করেন। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীতে তাগিদ দিয়েছি। আমার ধারণা, বাংলাদেশের মূল সংবিধান এবং তার পরে উপর্যুপরি অবিবেচনাপ্রসূত পরিবর্তন—সবই সংবিধানের বিভিন্ন দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। সে কারণেই সংবিধানের একটা বড় ধরনের পরিবর্তন খুবই জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কী হবে? নিঃসন্দেহে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল সংসদেরই আছে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য আছেন সরকারি জোটে, তাঁরা চাইলেই সংশোধনী আনতে পারেন। মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে তার জন্য গণভোটের প্রয়োজন হবে। কিন্তু সংবিধানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন, সংযোজন কি কেবল সংসদ সদস্যদেরই বিষয়? তদুপরি সংবিধান সংশোধনে তাড়াহুড়ো করাই রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। তার কারণও আমরা জানি। এ ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো প্রয়োজন আছে বলে কারোরই মনে করার কারণ নেই। এযাবৎ সরকারি জোটের কার্যক্রম থেকে মনে হচ্ছে, তারা এই রেওয়াজ অনুসরণ করতে উৎসাহী। সংবিধান সংশোধনের প্রধান লক্ষ্য কী, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। গত ৩৮ বছরের অভিজ্ঞতায় যেসব দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে, সেগুলো এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করা হবে কি না, তা সরকারি দলের সদস্যরা বলেননি। বরং তাঁদের কথাবার্তায় মনে হয় বিশেষ কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের জন্যই তাঁরা বেশি উৎসাহী।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যেসব দেশে যুদ্ধ বা সংঘাতের পর নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করেছেন, বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন এটা বোঝার জন্য যে, সবার জন্য ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না। কেননা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা ছাড়া সংবিধান কোনো অবস্থাতেই ভবিষ্যৎ-সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা করতে পারে না। সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব সব ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধিরাই পালন করেছেন, কিন্তু কেবল জনপ্রতিনিধিদের বিবেচনাই সংবিধানের ভিত্তি হয়নি। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যেসব দেশ পরবর্তী সময়ে স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করেছে, জাতীয় আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন দিক সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তৈরির ক্ষেত্রে শেষ পর্বের সূচনা হয় ১৭৮৬ সালে এনাপলিস কনভেনশনের মধ্য দিয়ে। সেখানেই একটি সংবিধান কনভেশনের ডাক দেওয়া হয়। ফিলাডেলফিয়ায় ওই অধিবেশন বসে ১৪ মে ১৭৮৭ সালে, কিন্তু কোরামের অভাবে আরও ১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। ২৫ মে শুরু হয় কনভেনশন, শেষ হয় ১৭ সেপ্টেম্বর। এই পাঁচ মাসের কনভেনশনের পটভূমিকায় ছিল ১৭৮১ সালে স্বাক্ষরিত আর্টিকেলস অব কনফেডারেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী বছরগুলোয় বিভিন্ন রকম দলিল-দস্তাবেজ, চুক্তি, আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের এই সংবিধান রচনার পরও তা নিয়ে এর রচয়িতারা যে আলোচনা-বিতর্ক অব্যাহত রেখেছিলেন, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ১৭৮৭-৮৮ সালে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৮৭টি রচনা। এগুলোর লেখক হলেন আলেকজান্ডার হেমিলটন, জেমস মেডিসন ও জন জে। এই রচনাগুলো ‘ফেডারিলিস্ট পেপার’ বলে পরিচিত এবং সংবিধান-বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর শিক্ষার্থীদের অবশ্য পাঠ্য। ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সংবিধান প্রণয়নপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে আলাপ-আলোচনা, ব্যাখ্যা-পাল্টা ব্যাখ্যা, সমঝোতা ও বিশ্লেষণ। কিন্তু এটা কেবল নতুন সংবিধান তৈরির জন্যই প্রয়োজন, তা নয়। বরং যখনই একটি সংবিধানকে সবার অধিকারের রক্ষাকবচে পরিণত করার চেষ্টা হয়, তখনই দরকার উন্মুক্ত জাতীয় আলোচনা। বাংলাদেশের সংবিধান তৈরির সময় এই বিবেচনা সংবিধানপ্রণেতাদের ছিল না। বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ (প্রথম আলো, ২৩ জুলাই ২০১০) এদিকে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। এ নিয়ে পুনরুক্তির প্রয়োজন নেই।
সংবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানের মৌল বিষয়গুলো সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের পরিচয় হওয়া খুবই জরুরি। শেষাবধি আইনপ্রণেতারাই সংবিধানের পরিবর্তন, পরিবর্ধন করবেন। কিন্তু সেটা যথেষ্ট কি না সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। যে কারণে বিভিন্ন দেশে সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধনের জন্য সংবিধান কমিশন নিয়োগের উদাহরণ রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সংবিধানকে বদল করে নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব কেবল নির্বাচনে বিজয়ী দলই নেয়নি। প্রথমে সেখানে কনভেনশন ফর ডেমোক্রেটিক সাউথ আফ্রিকা গঠন করা হয়। তাতে অগ্রগতি না হওয়ায় ‘মাল্টিপার্টি নেগোশিয়েটিং প্রসেস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেবল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছিল, তা নয়। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ ছিল এই প্রক্রিয়ার অন্যতম দিক। তিন পর্যায়ে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। প্রথম পর্যায়ে কমিটির কাছে ১৭ লাখ মন্তব্য জমা পড়েছিল। এক হাজারের বেশি কর্মশালা আয়োজন করে ৯৫ হাজার সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও কমিটি কর্মকর্তারা কথা বলেছিলেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল নির্ধারণ করে দেয়, এসব মন্তব্যের কোনগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। সর্বসাকল্যে ১৩ হাজার ৪৩৩টি লিখিত মন্তব্য সংবিধানপ্রণেতাদের বিবেচনার জন্য গৃহীত হয়। এর ১০ শতাংশ এসেছিল বিভিন্ন ধরনের সংগঠনের কাছ থেকে। এর ভিত্তিতে যে খসড়া সংবিধান তৈরি হয়, তা বিলি করে আবারও মন্তব্য চাওয়া হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার পরামর্শ ও মন্তব্য জমা পড়ে। সর্বশেষ যখন খসড়াটি সংসদে আলোচনা হয়, সেসব অধিবেশন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল একটাই, সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি সংবিধান তৈরি করা।
আলবেনিয়ায় নতুন সংবিধান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯৭ সালের শেষ পর্যায়ে। সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত চলা এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে বিভিন্ন উন্মুক্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে সাধারণ জনগণ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) এবং আইন বিশ্লেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা হয়। এরই আলোকে তৈরি হয় একটি খসড়া। সংবিধান কমিশনের তৈরি করা এই খসড়ার ওপর সবার মতামত গ্রহণ করার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়। লক্ষণীয় যে, খসড়া সংবিধানের ২৫ শতাংশ ধারা-উপধারায় পরিবর্তন আনা হয় সমাজের বিভিন্ন অংশের মতামতের ভিত্তিতে। ইরিত্রিয়ায় সংবিধান প্রণয়নের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কমিশনও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের জন্য চেষ্টা চালায়। তাতে শুধু যে ইরিত্রিয়ায় বসবাসরতরাই অংশ নিয়েছিল, তা নয়; প্রবাসে বসবাসরত সাড়ে সাত লাখ ইরিত্রীয় তাদের মন্তব্য ও পরামর্শ তুলে ধরে।
অনেকেই হয়তো আমার দেওয়া এসব উদাহরণের সমালোচনা করতে পারেন এই বলে যে, এগুলো সংবিধান তৈরিপ্রক্রিয়া, সংশোধনের নয়। এসব উদাহরণ থেকে যে বিষয়টি লক্ষ করার, তা হলো সর্বসাধারণের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা। সংবিধান তৈরি এবং বিশেষ করে একে আরও বেশি গণতান্ত্রিক করে তুলতে চাইলে সংবিধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ একে স্থায়ী ও শক্তিশালী করে। এতে করে জনসাধারণের মধ্যে সংবিধান ও সংবিধান-প্রদত্ত অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়। ফলে সংবিধান রক্ষার জন্য তাদের ভেতরে তাগিদ দেখা দেয়।
বাংলাদেশে বারবার সংবিধান লঙ্ঘনের ইতিহাস সবার জানা। সাধারণ জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধিবিধান নিয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংবিধান লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগে ক্ষমতা দখল বন্ধের জন্যই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবিধানে লেখা থাকলেই অবৈধ ক্ষমতা দখল বন্ধ হবে বলে মনে হয় না, তবে সংবিধান বিষয়ে সচেতনতা গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষায় জনগণকে অধিকতর উৎসাহী করবে—এমনটা আশা করা যেতে পারে।
দেশের প্রধান বিরোধী দল সংসদীয় কমিটিতে তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। তাঁরা এ কমিটিতে শেষাবধি অংশগ্রহণ করবেন কি না, সেটা দেখার বিষয়। দলগতভাবে তাঁরা অংশ না নিলে লাভবান হবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল যদি প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হয় সংশোধনীগুলো খুব সংকীর্ণ বিবেচনায় তৈরি করে এবং তাড়াহুড়ো করে প্রক্রিয়াটি শেষ করে, তবে তা বিরোধী দলের জন্য ইতিবাচক হয়ে উঠবে এবং দেশের জন্য হবে মারাত্মক ক্ষতিকর।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভারসিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

‘একটা তোড়া লন, আফা’ by সৈয়দা আখতার জাহান

বিজয় সরণি হয়ে ফার্মগেট আসার এই রাস্তাটাতে কিছু মুখ আমার পরিচিত হয়ে গেছে। প্রতিদিনই তারা আসে, ‘আফা, ফুল লন’। সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া আর বিকেলে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। না, ফুল কেনা হয় না আমার। সচেতন বা অসচেতনভাবে বলে দেয়, না, লাগবে না। ফুল যে ভালোবাসি না তেমন নয়, তবে চার দেয়ালের ঘরটাতে ওদের একাকী রাখতে ইচ্ছে করে না আমার।
যথারীতি অফিস থেকে রিকশায় বাড়ি ফেরার পথে বিজয় সরণির দীর্ঘ যানজট। ‘আফা একটা তোড়া লন’,—শুনে চিন্তা ভঙ্গ হলো।
প্রশ্ন করি, কী নাম তোমার?
হাসি মুখে উত্তর—আলী হাসান।
একটা তোড়া কত করে বিক্রি করো?
‘আফা, গোলাপ তোড়া ১০ ট্যাকা।’
বলি, তুমি আমার সঙ্গে একটু কথা বলবে, যদি তোমার ফুল বিক্রিতে সমস্যা না হয়।
আলী হাসান হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
আলী হাসানের বয়স আট বছরের মতো। বাবা বেলাল হোসেন মারা গেছেন। মা দেলোয়ারা বেগম বেঁচে আছেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে আলী হাসান বড়।
ওর একটা বোন আছে। বোনের বয়স কত জিজ্ঞেস করতেই হাতের উচ্চতায় যা দেখাল তাতে ওর বোনটার বয়স ছয় বছর হবে বলে মনে হলো। ছোট ভাইটার বয়স তিন বছরের মতো।
আলী হাসানেরা এখানে গাবতলীতে থাকে। ঢাকায় এসেছে দুবছর আগে। ওদের বাড়ি দিনাজপুরের কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামে। বাবা মারা যাওয়ার পর জীবিকার সন্ধানে ওর মা তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। আলী হাসানের মা রঙের কারখানায় কাজ করেন। আলী হাসান আগে একটা দোকানে কাজ করত। ছয় মাস হয় ও ফুল বিক্রি করছে।
দিনে কতগুলো তোড়া বিক্রি করো?—জানতে চাই ওর কাছে
‘জানি না, তয় হইবো ৫০-৬০টা। আফা, আমরা তো তোড়া বানাই না, মালিকে বানায়, আমরা বেচি। প্রত্যেক তোড়ায় দুই টাকা কইরা পাই। তয়, ১০ ট্যাকার বেশি বেচবার পারলে বেশিও পাই।’
আলী হাসানের দিন শুরু হয় ভোরে। ৮-৯টায় লোকাল বাসে চড়ে চলে আসে বিজয় সরণিতে। অপেক্ষা ফুলের গাড়ি আসার। গাড়ি আসলে শুরু হয় তোড়া বানানোর কাজ। কাজটা ওদের না হলেও আলী হাসানের মতো আরও যেসব বাচ্চারা ফুল বিক্রি করে, তারা হাত লাগায় কাজে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ওরা ফুলের তোড়া নিয়ে বিক্রি শুরু করে।
আলী হাসান লেখাপড়া জানে না। স্কুলে যাওয়ার সময় ও সুযোগ কোনোটাই হয়নি তার। প্রশ্ন তাহলে টাকা চেনে কী করে। দুষ্টুমির হাসি ওর চোখে-মুখে। ‘মামুর ব্যাটারা শিখাইছে।’
দিনে কত টাকা আয় হয়?
আলী হাসান বলল, ‘আফা, একাক দিন একাক রহম। কোনো দিন ১০০, কোনো দিন ১৫০-২০০। ঠিক নাই। কোনো কোনো দিন গাড়ি কইরা যাওনের সময় স্যার-আফারা ৫০০-১০০০ ট্যাকা দেন।’
এমন কয়বার পাইছ?
‘আমি একবার পাইছি। তয়, অন্যরা আরও বেশিবার পাইছে। আফা, ঈদের আগে গাড়ি কইরা আইয়া স্যার-আফারা নতুন জামাকাপড়ও দিয়া যায়।’
আলী হাসানের মা রঙের কারখানায় কাজ করেন এবং ওভারটাইম করে মাসে তিন-সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় করেন। গাবতলীর ছোট ঘরটার ভাড়া মাসে এক হাজার ২০০ টাকা।
‘মায়ের একার আয়ে সংসার চলে না বইলাই তো ফুল বেচি আমি। সহালে বাসারতন খাইয়া আই আর দুপরের জন্য বাটিতে ভইরা লইয়া আসি। বাসায় ফিরি রাতের ১০টা বাজে।’
আলী হাসানের ছোট্ট একটা স্বপ্ন আছে। সেটা পূরণ করার জন্য মাটির ব্যাংকে টাকা জমা করছে। কত টাকা জমেছে তা সে জানে না। একবারে ভাঙলে জানতে পারবে পরিমাণটা আসলে কত।
জমানো টাকা দিয়ে সে তার বাড়িতে গিয়ে জমি কিনে ওখানেই থাকবে। স্কুলে ভর্তি হবে। এখানে স্কুলে গেলে ‘মালিকে’ রাগ হয়। সে সময় আর কেউ রাগ করবে না।
এটা বড় কোনো স্বপ্ন না হলেও আলী হাসানদের জন্য বড়। জানি না, স্বপ্নটা এই ছোট্ট আলী হাসানকে বাঁচিয়ে রাখবে, না আলী হাসান স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখবে। তবে চাইব, ‘ওর ছোট্ট দুচোখে দেখা এই স্বপ্নটা পূরণ হোক।’
আমি আলী হাসানের কাছ থেকে একটা ফুলের তোড়া কিনলাম। ও আমাকে প্রশ্ন করল, ‘আফা, এত কিছু জানলেন। আপনি কি পত্রিকায় লেখবেন?’
হেসে বলি, তুমি পত্রিকা চেনো?
‘হ, চিনি। আমাগো লগের অনেকে পত্রিকা ব্যাচে। তাগোর কাছের পত্রিকাতন ছবি দেখি। পড়তে তো আর পারি না।’
সিগন্যাল সবুজ সংকেতে জানিয়ে দিল এবার আমরা যেতে পারি। আলী হাসান রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে উঠে দাঁড়াল। আমি বললাম, ভালো থেকো আলী হাসান। আলী হাসান উত্তর দিল, ‘আবার দেহা হইবো, আফা।’

সাংসদদের ‘বিশেষ অধিকার’ সীমাহীন হতে পারে না by বদিউল আলম মজুমদার

বিগত কয়েক সপ্তাহে সংবাদপত্রের কয়েকটি শিরোনাম নাগরিক হিসেবে আমাদের চরমভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। প্রথম শিরোনামটি হলো ‘রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে সংসদীয় কমিটি’ (আমাদের সময়, ৬ জুলাই ২০১০)।
পরদিন ‘নূরুল হুদাকে শোকজ করবে সংসদীয় কমিটি’ এই শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয় (কালের কণ্ঠ, ৭ জুলাই ২০১০)। সংবাদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ৬ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সাংসদদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় রাজউকের চেয়ারম্যান নূরুল হুদাকে কমিটির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হবে। জনাব হুদার কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং জবাবে কমিটি সন্তুষ্ট না হলে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হবে। একই সঙ্গে ড্যাপ সম্পর্কে কোনো সভা-সেমিনারে তাঁকে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতেই কমিটির সদস্যরা অভিযোগ তোলেন, ‘সাংসদদের ব্যাপারে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করার সাহস রাজউক চেয়ারম্যান কোত্থেকে পেলেন? এর জবাব তাঁর কাছ থেকে নিতে হবে। ড্যাপ নিয়ে রাজউকসহ একটি মহলের আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে, তাদের কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, যার সঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যানও জড়িত।’
অপর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘সাংসদদের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনুমতি লাগবে’ (প্রথম আলো, ১৪ জুলাই ২০১০)। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর বিরুদ্ধে এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধর করার অভিযোগে মামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার আগে যেমন চিন্তা করা উচিত ছিল, তেমনি মামলা নেওয়ার সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়টি অবহিত করা উচিত ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংসদদের ছোটখাটো ভুলের বিষয়ে মামলা করার আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, অনুমতি নিতে হবে। উল্লেখ্য, এ ঘটনার জন্য পরবর্তীকালে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য আইজিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, তদন্তের পর যদি সার্জেন্ট কিংবা ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা হবে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর সমতুল্য।
এ তিনটি খবরই ‘পার্লামেন্টারি প্রিভিলেজ’ বা সংসদ ও সাংসদদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি-সম্পর্কিত। অর্থাৎ অভিযোগ, নূরুল হুদা তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সাংসদদের মর্যাদাহানি এবং সংসদের অবমাননা করেছেন।
আমাদের সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদ সংসদ ও সাংসদদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি-সম্পর্কিত। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘(১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এই সকল ক্ষমতাপ্রয়োগ-সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোনো আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না। (৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোট দানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না। (৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না। (৫) এ অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারিবে।’ এ ছাড়া সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদও সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যপরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ অধিকারসম্পর্কিত। এ ক্ষেত্রেও আইনের দ্বারা এ ক্ষমতা কার্যকর করার কথা।
সংবিধানের এ দুটি ধারাকে কার্যকরতা দেওয়ার জন্য আমাদের দেশে অদ্যাবধি কোনো আইন প্রণীত হয়নি। সংসদ ও সাংসদদের অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলেও আমাদের জানা নেই। বস্তুত গত বছর ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে গঠিত সংসদীয় কমিটি সাবেক স্পিকার ও বর্তমান সাংসদ জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পেলেও এ-সম্পর্কিত আইন ও দৃষ্টান্তের অভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সংসদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বিশেষ অধিকার প্রয়োগের পদ্ধতি বলা আছে, কিন্তু এতে বিশেষ অধিকার সংজ্ঞায়িত এবং এর পরিধিও নির্ধারণ করা হয়নি। আর এ জন্যই আইনের প্রয়োজন।
সংসদীয় বিশেষ অধিকার এবং দায়মুক্তির সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা দিয়েছেন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এরেসকাইন মে, ‘সংসদের বিশেষ অধিকার হলো কতগুলো স্বাতন্ত্র্য অধিকারের সমষ্টি, যা প্রত্যেক সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে এবং সংসদের উভয় পক্ষই উপভোগ করে। এগুলো অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভোগ করা অধিকারের চেয়ে অতিরিক্ত অধিকার এবং এগুলো ছাড়া সংসদ ও সাংসদেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম। তাই যদিও বিশেষ অধিকার রাষ্ট্রীয় আইনের অংশ, তবু এগুলোর মাধ্যমে অনেকটা সাধারণ আইনের আওতা থেকে তাঁদের রেহাই দেওয়া হয়।’ আমাদের দেশে অবশ্য উচ্চকক্ষ নেই। তাই উচ্চকক্ষের কথা আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যও নয়।
সংসদীয় বিশেষ অধিকারগুলোকে দুভাবে বিভাজন করা যায়: কতগুলো এককভাবে সাংসদদের জন্য প্রযোজ্য এবং অন্যগুলো পুরো সংসদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ব্যক্তি সাংসদদের বেলায় প্রযোজ্য বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তির ক্ষেত্রগুলো হলো: ক. বাকস্বাধীনতা, খ. দেওয়ানি মামলায় গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি, গ. জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি, এবং ঘ. সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি। এগুলো মূলত দায়মুক্তি-সম্পর্কিত অধিকার এবং এগুলোর ফলে ব্যক্তি সাংসদদের স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৭২-১৭৬ ধারায় এসব বিষয়সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
পুরো সংসদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অধিকার ও ক্ষমতাগুলো হলো: ক. শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার অধিকার। কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন করার বা সংসদ অবমাননার জন্য শাস্তি প্রদান, যার মধ্যে দুর্নীতি, অপকর্ম ও অসদাচরণের জন্য সাংসদকে বহিষ্কার এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সংসদের এ ধরনের অধিকারকে শাস্তিমূলক ক্ষমতা বলা হয়। খ. সংসদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ব্যবস্থাপনা বা কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণসম্পর্কিত ক্ষমতা। গ. সাংসদদের উপস্থিতি ও কার্যকরতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা। ঘ. তদন্ত করার, সাক্ষী ও রেকর্ডপত্র তলব করার ক্ষমতা। আমাদের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২০১-২০৩ ধারায় এ-সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। ঙ. সাক্ষীদের শপথ প্রদানের ক্ষমতা। আমাদের কার্যপ্রণালি বিধির ২০৪-২০৫ ধারা এ বিষয়সম্পর্কিত। চ. মানহানিকর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন কাগজপত্র প্রকাশ করার ক্ষমতা।
বিষয়টি সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের লক্ষ্যে বিশেষ অধিকার (privileges), ক্ষমতা (powers) ও দায়মুক্তির (immunities) মধ্যে বিভাজন করা আবশ্যক, যদিও তা অনেক সময় করা হয় না। ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সরকারের মতে, ‘নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংসদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে “বিশেষ অধিকার” হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে সংসদের অধিকার ক্ষুণ্ন বা অবমাননার দায়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকারকে ক্ষমতা হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। সংসদে যেকোনো কিছু বলার জন্য কোনো সাংসদ দায়ী না হওয়ার অধিকারই “দায়মুক্তি”।’ [বিশেষ রেফারেন্স অনুচ্ছেদ ১৪৩, এআইআর (১৯৬৫, এসসি ৭৪৫)]
রাজউকের চেয়ারম্যানকে দুটি সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে একই অভিযোগে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত একটি অভাবনীয় ঘটনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। এ ছাড়া বিশেষ অধিকারসম্পর্কিত সাংবিধানিক বিধানের কার্যকরতা প্রদানের জন্য কোনো আইনও নেই। তাই এ অধিকার প্রয়োগ করে তাঁকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটিদ্বয়ের এখতিয়ারবহির্ভূত বলেই আমাদের ধারণা। আইন ও দৃষ্টান্ত নেই বলে জমির উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না যায়, তাহলে জনাব হুদাকে কোন অধিকারে কারণ দর্শাতে বলা হবে? তাই অনেকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংসদীয় বিশেষ অধিকারের অপব্যবহার বৈ কিছু নয়। এ ছাড়া আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান...।’ আমরা আশা করি, স্পিকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় রুলিং দেবেন, যা তিনি করেছিলেন গত অক্টোবর মাসে তাঁর সহকর্মী ব্যারিস্টার সরকারের ক্ষেত্রে।
জনাব নূরুল হুদা কী বলেছিলেন, যার জন্য আমাদের অনেক সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে এককাট্টা এবং এত ক্ষিপ্ত? তিনি কি মিথ্যা কিছু বলেছিলেন? তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কি তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেছেন?
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্লাস্টের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড: বাস্তবায়ন এবং করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত পরিবেশ ও বাসোপযোগী ঢাকা চাইলে ড্যাপ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে এর বিরোধিতা করছে। দু-চারটা সংবাদপত্রও ড্যাপ ও রাজউকের সমালোচনা করছে। তারা ড্যাপ চায় না; রাজউককেও তুলে দিতে চাইছে। তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে। এই শহর কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব সাংসদ আবাসনব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সংসদে ড্যাপের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘এ দেশে কে কী করবে? একজন সাংসদ গুলশান এলাকায় ছয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ১৬ তলা করেছেন’ (প্রথম আলো, ১ জুলাই ২০১০)।
উপরিউক্ত প্রতিবেদন থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জনাব হুদা মিথ্যা কিছু বলেননি। এসব স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধিতার মুখে ড্যাপ বাস্তবায়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তার সঙ্গে সঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যানের সত্যকথন অনেক নাগরিককেই আশ্বস্ত করেছে।
জনাব হুদা মিথ্যাচার করেননি কিংবা আইনও অমান্য করেননি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ আইন ভঙ্গ করেছেন। যিনি ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে ১৬ তলা ইমারত নির্মাণ করেছেন, তিনি অবশ্যই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি প্রদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে আইন ভঙ্গ করেছেন আমাদের সেসব সাংসদ, যাঁরা আবাসনব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েও গৃহায়ণ ও গণপূর্তসম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮(২) অনুযায়ী, ‘এমন কোন সদস্য (সংসদীয়) কমিটিতে নিযুক্ত হইবেন না, যাহার ব্যক্তিগত, আর্থিক ও পরোক্ষ স্বার্থ কমিটিতে বিবেচিত হইতে পারে এমন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট আছে।’ উল্লেখ্য, কার্যপ্রণালি বিধি সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত এবং আইনের সমতুল্য। তাই সাংসদদের এককাট্টা হয়ে জনাব হুদার বিরুদ্ধে চড়াও হওয়া দুই বিঘা জমির ‘আমি আজ চোর বটে...’ বিখ্যাত লাইনটির কথাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রসঙ্গত, শুধু গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত কমিটিতেই নয়, স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে এমন সাংসদেরা আরও অনেক সংসদীয় কমিটিতেও রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে আমরা বহুদিন থেকেই সোচ্চার (সমকাল, ১ জুলাই ২০১০)। আমরা আনন্দিত যে প্রধানমন্ত্রী অন্তত ১৪ জন সাংসদের রদবদলের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন, যার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ (সমকাল, ১৭ জুলাই ২০১০)।
সাংসদ ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আসা যাক। সাংসদেরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তাঁদের বাকস্বাধীনতাসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দায়মুক্ত করা হয়। কিন্তু কোনো দেশেই ফৌজদারি অপরাধ থেকে সাংসদদের দায়মুক্ত করার উদাহরণ আমাদের জানা নেই। এ ছাড়া আইনপ্রণেতারা কি আইনের ঊর্ধ্বে? তা হবে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ। সাংসদদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির বাধ্যবাধকতা সংসদীয় বিশেষ অধিকারের পরিধিকে সীমাহীন, বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যার পরিণতিও অশুভ হতে বাধ্য।
এ ছাড়া আমাদের বর্তমান সংসদে কিছু সদস্য আছেন, যাঁরা তাঁদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের (যেমন, সরকারি কর্মকর্তাদের মারধর) মাধ্যমে মহান জাতীয় সংসদের মর্যাদাহানি করেছেন। ১৮ জন সাংসদ মিথ্যা হলফনামা দিয়ে রাজউকের প্লটের জন্য আবেদন করেছেন, যা নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ পর্যন্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, এ ব্যাপারে কাউকে উচ্চবাচ্য করতেও আমরা শুনিনি।
পরিশেষে, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে, সংসদকে কার্যকর ও কলুষমুক্ত করতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সাংসদদের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা এবং নৈতিকতাবোধ দ্বারা পরিচালিত হওয়া। একই সঙ্গে প্রয়োজন যেসব সাংসদ জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন এবং অন্যায় কাজে বা অসদাচরণে লিপ্ত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া প্রয়োজন সংসদ ও সাংসদদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তির বিষয়টি নির্ধারণ করার লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে একটি আইন প্রণয়ন। সাংসদেরা যাতে তাঁদের সংসদীয় পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে জরুরি প্রয়োজন তাঁদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা। আরও প্রয়োজন সব ক্ষমতাধরের সম্পদের হিসাব প্রদান। স্মরণ করা যেতে পারে, আচরণবিধি প্রণয়ন এবং বার্ষিকভাবে সম্পদের হিসাব প্রদান ও প্রকাশ ‘দিনবদলের সনদে’র অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত। এসব বিষয়ের প্রতি আমরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

বাঘের জন্য by খসরু চৌধুরী

আজ আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস। পৃথিবীর ১৩টি বাঘ অধ্যুষিত দেশসহ অন্যান্য দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে বাঘ সম্প্রদায়ের শুভ কামনায়।
১৯৭৩ সালে ভারতে বাঘ রক্ষার প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল, স্মিথসোনিয়ান প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠানের বন্য প্রাণীবিষয়ক প্রচারণার প্রধান প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় বাঘ। শুধু বাঘ অধ্যুষিত দেশেই নয়, পাশ্চাত্যের ধনী দেশগুলো—যেগুলোতে কখনোই বাঘ ছিল না, তারাও বাঘ রক্ষার প্রচারণায় শামিল হয়।
বাঘের মোট আটটি উপপ্রজাতির মধ্যে ওই সময়ের মধ্যেই দুটো উপপ্রজাতি বিলুপ্ত, একটি বিলুপ্তপ্রায় (বর্তমানে বিলুপ্ত) এবং একটি প্রজাতির বাঘের অস্তিত্ব প্রশ্নে সম্মুখীন। বিশেষজ্ঞরা দেখতে পাচ্ছিলেন, উপমহাদেশের বাংলা বাঘ, ইন্দোচীন বাঘ, সুমাত্রা বাঘ ও রাশিয়ান দূরপ্রাচ্যের বাঘের মধ্যে জেনেটিক্যাল ভবিষ্যৎ আছে। অন্য বাঘ প্রজাতি, দক্ষিণ চীনা আমুর বাঘ বনে কটি আছে বা আদৌ আছে কি না সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান ছিলেন।
উপমহাদেশে যেহেতু বাংলা বাঘের সংখ্যা অন্যান্য বাঘ দলের চেয়ে অনেক বেশি, সে কারণে বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল ভারতীয় সংরক্ষিত বাঘের জঙ্গলগুলোয় বাঘ সংরক্ষণের জন্য ভারত সরকারকে উৎসাহিত করে সহায়তা দেয়। ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এ বিষয়ে নিজেও অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকেই প্রকল্প চালু রাখতে আর্থিক সহায়তা দেন।
বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের ট্রাস্টি গাই মাউন্টকোর্ট সে সময় সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণের জন্য বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করলে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বাঘ সংরক্ষণের পক্ষে মত দেন। সে সময়ই বাংলাদেশ বন্য প্রাণী আইন প্রণয়ন হয়। কিন্তু বন বিভাগের অনীহা, বিশেষজ্ঞের অভাবে বাংলাদেশে বাঘ প্রকল্প আর চালু হয়নি।
গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বাঘ অধ্যুষিত দেশ চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়া অধিকাংশ দেশই বাঘ সংরক্ষণে এগিয়ে আসে। ষাটের (১৯৬০) দশকে যেখানে বাঘ বিশেষজ্ঞরা ভাবছিলেন, বাঘ সম্প্রদায় একবিংশ শতাব্দী দেখবে না, সেখানে নব্বইয়ের দশকের সাফল্যে সবাই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন। ফলে আগেভাগেই বাঘ সংরক্ষণের সাফল্য উদ্যাপিত হয়। কিন্তু বাঘ বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, আশির দশকের (১৯৮০) মধ্যেই পৃথিবীর আট উপপ্রজাতির বাঘের তিনটি শেষ হয়ে গেছে। ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়ায় আমেরিকান কার্পেট বম্বিং, জঙ্গল জ্বালিয়ে দেওয়ায়, জঙ্গলের খালগুলোয় বিষ প্রয়োগ করায় মানুষ, অন্যান্য বন্য প্রাণীসহ বাঘও প্রচুর পরিমাণে মারা পড়ে। ফলে ইন্দোচীনা বাঘ বিলুপ্তির মুখোমুখি দাঁড়ায়। এদিকে জাপানি কাঠের চাহিদা মেটাতে মালয় উপদ্বীপের ও ইন্দোনেশীয় জঙ্গল শেষ হওয়ার মুখে। গোদের ওপর মারাত্মক বিষফোঁড়ার মতো দেখা দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী চীনা টোটকা ওষুধ। এই ওষুধে বাঘের দেহের কোনো না কোনো অংশ ব্যবহূত হয়। চীনই একমাত্র দেশ, যে দেশে বাঘের তিনটি উপপ্রজাতি (ইন্দোচীনা বাঘ, দক্ষিণ চীনা বাঘ বা আমুর বাঘ ও সাইবেরীয় বাঘ) বাস করে। তবে আমুর বাঘের অবস্থা খুবই খারাপ। জঙ্গলে মাত্র ৩০টি বাঘ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বাঘ প্রজাতির উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়াকে চিহ্নিত করেন। সাইবেরীয় বাঘের জঙ্গল অনেক বড়। এখানে বাঘও প্রচুর ছিল। কিন্তু গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পটপরিবর্তনের ডামাডোলের সুযোগে সংঘবদ্ধ শিকারিরা প্রচুর বাঘ মেরে ফেলে। সেই সঙ্গে বাঘের জঙ্গলও কেটে ফেলে। এখন মার্কিন ও রুশ বিজ্ঞানীরা মিলিতভাবে সাইবেরীয় বাঘ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সুমাত্রা বাঘের সংকট হচ্ছে তাদের বাসস্থান ছোট হয়ে আসছে। বিশেষ করে জঙ্গল কেটে পামঅয়েল ও আখের ক্ষেত তৈরি করায় সুমাত্রা বাঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা চিন্তিত।
সারা বিশ্বে বাঘের অস্তিত্ব নেই হওয়ার আশঙ্কায়, সেই সময় বিশ্বব্যাংক এগিয়ে এসেছে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার (২০২০ সালের মধ্যে) অভিপ্রায় নিয়ে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাঘের জঙ্গলগুলোর আশপাশের অধিবাসীরা অত্যন্ত গরিব। জঙ্গলের উপজাতই তাদের আয়ের প্রধান উৎস্য। এসব জঙ্গলের বর্তমান অবস্থা, ধারণক্ষমতা নিরূপণ না করেই বিশ্বব্যাংকের এই উচ্চাভিলাসী অভিপ্রায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।
বাংলাদেশে যারাই মাঠপর্যায়ে বাঘ চর্চা করেন, তাদের একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। প্রশ্নটি হচ্ছে, বাঘের মতো একটি মারাত্মক প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখার দরকার কী? বাঘের ওপর মানুষের ক্ষোভটা এ জন্য যে বাঘ মানুষ মারে বলে? তাহলে বলতে হয়, বছরে সুন্দরবনে বাঘের হাতে মারা পড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন (কোনো কোনো বছর অবশ্যই বেশি), অথচ সাপের হাতে মারা পড়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। হাতির হাতে গড়ে আটজন। অথচ সাপ, হাতির বিরুদ্ধে মানুষ এতটা খেপা নয়। খোঁজ নিয়ে জেনেছি অন্যান্য প্রাণীর হাতে মানুষ মারা পড়লে সেটাকে দুর্ভাগ্য মনে করা হয়। বাঘ শুধু মানুষ মারেই না, সুযোগ পেলে মারা মানুষ খেয়েও ফেলে। এ ব্যাপারটি মানুষের মনস্তত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। বাঘ বাঁচাতে হলে এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।
যেকোনো বাঘের জঙ্গলের স্বাস্থ্যরক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি বাঘ। বাঘ শুধু খাদ্য শৃঙ্খলচক্রের সর্বোচ্চ অবস্থানেই থাকে না, সে প্রাকৃতিক পাহারাদারও। বাঘ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ধারক-বাহক। পৃথিবীর অনেকগুলো দেশের সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ চেনে না। কিন্তু বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতি ছাড়া পৃথিবীর কোনো চিড়িয়াখানাই পরিপূর্ণ হয় না। পৃথিবীর সমস্ত প্রাণীর ওপর যত বই লেখা হয়েছে, তাদের মধ্যে বাঘের ওপর লেখা বই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে বাংলা বাঘের ওপর বই সিংহভাগ দখল করে আছে।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হচ্ছে বাংলাদেশ সুন্দরবনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটারের খুব সামান্য এলাকাই বন বিভাগ তথা বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। সুন্দরবনের প্রধান নিয়ন্ত্রক হচ্ছে কয়েকটি ডাকাত দল। সুন্দরবনের ৮০টির মতো টহল ফাঁড়ির অধিকাংশেরই অস্ত্রপাতি বন বিভাগ সরিয়ে এনেছে ডাকাতদের ভয়ে। বনের পেশাদাররা সরকারকে যত বনকর দেয়, ডাকাতদের দিতে হয় তার চেয়ে অনেক বেশি। গাছচোর, মাছচোর, হরিণচোরের আশ্রয় ডাকাত দল। বেশ কয়েকটি টহল ফাঁড়ি ডাকাত দলের রাত্রিবাসের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা বন-কর দিয়ে গোল, গরান, আগামরা সুন্দরী কাটে, ডাকাতদের উদ্বৃত্ত টাকা দিতে হয় বলে ঘের ক্রেতারা বরাদ্দকৃত জঙ্গলের চেয়ে বেশি এলাকার বন কাটে।
এই ডাকাত কণ্টকিত বনেই আমাদের বাঘের আবাস। বাঘ বাঁচাবে কারা? বন বিভাগ না ডাকাত দল?
খসরু চৌধুরী: লেখক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ।

আঙ্গু কাবিলা বনাম মাঙ্গু কাবিলার অন্তহীন যুদ্ধ by ফারুক ওয়াসিফ

অমুককে প্রতিরোধ করতে তমুকের দলবলের রাস্তা আটকে সশস্ত্র পাহারা বসানোর ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত। গত শুক্রবারের প্রথম আলোর একটি খবর ও ছবিতে দেখা যায়, ফরিদপুরের এক এলাকায় মাঠের মধ্যে একদল গ্রামবাসী লাঠি-বল্লম-সড়কি আর বেতের তৈরি ঢাল হাতে বসে আছে। প্রতিপক্ষকে দেখামাত্রই হইহই করে ঝাঁপিয়ে পড়তে তারা প্রস্তুত। সেদিন সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবরের ফরিদপুরে আসার কথা থাকায় শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের লোকদের এই রণসাজ। আগের দিনও তারা একচোট লড়াই করে নিয়েছে। সেই লড়াইয়ে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়। চর দখলের কায়দায় মারামারির জন্য তাদের তৈরি থাকা দেখে মনে পড়ে মোকাবেলা নামের একটি ঢাকাই ছবির কথা।
সেই ছবিতে এফডিসির দুই বিখ্যাত অ্যাকশন হিরো ওয়াসিম আর জসিমকে দেখা যায় দুই গোত্রসর্দারের ভূমিকায়। গোত্র দুটির নাম আঙ্গু কাবিলা আর মাঙ্গু কাবিলা। আঙ্গু আর মাঙ্গু কাবিলার মধ্যে বিরোধের কোনো শেষ নেই। নতুন হলো নায়িকা নিয়ে বিবাদ। ছবিজুড়ে নায়ক-নায়িকার নাচগানে ভরপুর দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় দুই গোত্রপতির হুংকার এবং লাঠি-বল্লম-তলোয়ার নিয়ে মারামারি। মাঝেমধ্যে তারা বাঘ সেদ্ধ করে ভোজ খায়! তো একটি দৃশ্যে দেখা গেল আজব কাবিলার লোকজনের সেই বাঘ-ভোজ অনুষ্ঠানের পেছন দিয়ে একটি গাড়ি চলে যাচ্ছে। তেমনি একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সেটে আমরা দেখতে পাচ্ছি মান্ধাতা আমলের লেঠেল-লড়াই।
সভ্যতা যেন এ দেশকে বাইপাস করে চলে গেছে। বাইরে যতই আধুনিক রোশনাই ভেতরে এখনো সেই আঙ্গু কাবিলা আর মাঙ্গু কাবিলার যুগ। কাবিলায় কাবিলায় ভাগ হয়ে আছে সবাই, আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি কাবিলা, একই দলের বিভিন্ন উপদলীয় কাবিলা, এলাকাভিত্তিক কাবিলাসহ গ্রুপিংয়ের হাজারো ফেরকা। আর এদের ভেতরে পদ, ক্ষমতা বা অর্থ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার অব্যর্থ উপায় হলো ‘যুদ্ধ’। এবং পরিশেষে ‘জো জিতা ওহি সিকান্দর’; যিনি জিতবেন, তিনিই হবেন অধিপতি। তিনিই পাবেন ঊর্ধ্বতন নেতাদের বাহবা আর নিচের কর্মীদের জিন্দাবাদ।
মধ্যযুগের বাংলায় শান্তিপূর্ণ যুগের পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য এ রকম অবস্থা বিরাজ করছিল। সে সময় যিনিই গায়ের জোরে সিংহাসন দখল করতেন, তিনিই দিল্লির সম্রাটের কাছে নজরানার বিনিময়ে ‘সুবেদার’, ‘নবাব’ প্রভৃতি উপাধি কিনে এনে রাজত্ব করতে পারতেন। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিরোধ-মীমাংসার এই রীতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বলয়ে এখনো স্বমহিমায় বিরাজমান। সহিংসতার ক্ষমতাই এখনো রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি। যে হরতালে বিরোধী দল বেশি ক্যাডার নামাতে পারে, সেই হরতাল সফল; আর বিরোধী দলগুলোকে দাবড়ানির ওপর রাখতে পারাই সরকারের রাজনৈতিক সাফল্য। ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে গ্রাম-শহরে দলীয় ও উপদলীয় হানাহানির মধ্যেও এই সহিংসতার সংস্কৃতিরই প্রসার।
ঢাকাই ছবির মতো উত্তেজিত সংলাপ আর ঢাক গুড়গুড় আবহ সংগীতই যেন আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও স্থায়ী সুর। টেলিভিশনের টক শো, জনসভার বক্তৃতা, রাজনৈতিক পোস্টারের ভাষাসহ হেন জায়গা নেই যেখানে উত্তেজনা ও বিবাদের ভাষা ও ভঙ্গি অকাতরে ব্যবহূত হয় না। এসবের প্রভাব সবার ওপরে পড়ে এবং উত্তেজনা আর অস্থিরতা হয়ে ওঠে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মূল ভাব। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সহিংসতা পুরুষের সৃষ্টি। এই যুদ্ধংদেহী মেজাজ তাদেরই এবং এর ব্যবহারকারীও তারা। এই ব্যাটাগিরি রাজনৈতিক আচরণকেও অনেকটা প্রভাবিত করে।
কিন্তু দোষ কি কেবল রাজনীতির? সমাজের মানুষ যেমন, রাজনীতিতে তারই প্রতিফলন ঘটে। আমাদের রাষ্ট্র-রাজনীতি থেকে সমাজ ও পরিবার—সবখানেই কি সহিংসতার সংস্কৃতিরই জয়জয়কার দেখা যায় না? ১৮ জুলাই ফেনীর এক কলেজছাত্র দুর্ঘটনায় নিহত হয়। পরপরই তার সহপাঠীরা শহরজুড়ে তাণ্ডব চালায়। একটি হাসপাতাল ও ৩০টি বাস ভাঙচুর করা হয়, ছয়টি বাস পোড়ে এবং মারধরও চলে। গোটা শহর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত অচল থাকে, মহাসড়ক থাকে অবরুদ্ধ। দায়ী যারা, তাদের বিচারের দাবির থেকে প্রতিহিংসার আবেগটাই বড় হয়ে ওঠে কেন? হয়তো তারা বুঝে ফেলেছে, বিচার-প্রক্রিয়ার অপরাধী ছাড়া পেতে পারে কিংবা পুলিশে তাদের আস্থা নেই। কিংবা তারা হয়তো বিচারই চায় না, চায় প্রতিহিংসার চরিতার্থতা। প্রতিহিংসা হলো সহিংসতার জরুরি রসায়ন, এটা ছাড়া ঠিক সংঘাত জমে না। যে দেশে অপরাধ হলে বিচার হয়, সে দেশে এভাবে বিচারের দাবির পথ প্রতিহিংসার আবেগ দখল করতে পারে না। অন্য দিকে আন্দোলনের ধৈর্য্য কম বলেই কি ভাংচুরের উৎসাহ বেশি?
দ্বন্দ্ব মীমাংসায় বলপ্রয়োগের দাওয়াই কত ‘জনপ্রিয়’, বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলার দিকে তাকালেও তা ধরা পড়ে। আইন ভূমিকা রাখে খুন-জখম তথা বলপ্রয়োগ ঘটে যাওয়ার পর। পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক বিরোধ, ধর্মীয় বিতর্ক, দাম্পত্য কলহসহ এমন কোনো ক্ষেত্র কি পাওয়া যায়, যেখানে বলপ্রয়োগের ব্যবহার নেই, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নেই? পথচলতি নানা ঘটনা এমনকি রিকশায় রিকশায় বাধাবাধি, বাসে-সিএনজিতে যাত্রী-চালকে বচসা, এমনকি পাড়াপড়শির কাজিয়ারও শেষ হতে দেখা যায় বলপ্রয়োগে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কথাও আমরা শুনি। আর যেখানে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে না, বুঝতে হবে সেখানে বলপ্রয়োগের ভয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ চুপ হয়ে মেনে নিয়েছে।
বলপ্রয়োগের পথে দ্বন্দ্ব মীমাংসার এই ধারা কিংবা প্রতিহিংসার বাসনা সমাজকেও সহিংসতায় অভ্যস্ত করে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিজে এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনী স্বয়ং প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীমানুষের ওপর চড়াও হয়। এভাবে পাল্টাপাল্টি সহিংসতায় সমাজের মধ্যে নৈরাজ্যবাদী প্রবণতা আরও গেড়ে বসে। সব সময় যে তা প্রকট থাকে তা নয়, অনেক সময় তা চাপা উত্তেজনার আকারে সমাজ-রাষ্ট্রের শিরায় শিরায় বইতে থাকে। তারপর হঠাৎ একদিন বিডিআর বিদ্রোহের মতো ট্র্যাজেডির জন্ম হয় কিংবা ঘটে যায় কানসাট-ফুলবাড়ী বা শনির আখড়ার মতো জনরোষের বিস্ফোরণ।
শৃঙ্খলা ও স্বার্থের খাতিরে বলপ্রয়োগের ব্যবস্থা রাখতেই হয় রাষ্ট্রকে। পুলিশ-মিলিটারি-র‌্যাব-সোয়াতেরও সেটাই কাজ। কিন্তু আইন ও বিচার, সংলাপ ও আপস এবং প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ মীমাংসাকে ছাপিয়ে সংঘাত যখন আগে চলে আসে তখন বুঝতে হয় যে, রাষ্ট্রটি পরিণত নয়, সমাজ সাবলীল নয়। সংঘাত প্রশমনে আমাদের যেমন আছে আদালত, আছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংসদ থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ, আছে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো। এ ধরনের সংস্থাগুলো অনেকটা সেফটি ভালেভর মতো কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশে মনে হয় ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার বাষ্প বের করে দিয়ে আইন ও বিচারের পথ সুগম করার সেফটি ভাল্ভগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। আপস-মীমাংসার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকরতার দশা কাজির গরুর মতো, যাদের অস্তিত্ব কেবল কেতাবে, গোয়ালে নয়।
ফরিদপুরের ওই ঘটনার কথাই ধরা যাক, একজন সংসদীয় উপনেতা আর একজন শ্রমমন্ত্রী—দুজনই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। একজনের পুত্রের রাজনৈতিক অভিলাষ যদি অপরের বাসনার পথে বাধা হয়, তার মীমাংসা তো জেলা কমিটি বা কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমেই হতে পারত। কিন্তু সেসবের দ্বারস্থ না হয়ে তাঁরা নামলেন শক্তির পাল্লা দিতে। তাঁরা কি ধরে নিয়েছিলেন যে তাঁদের ওপরে কোনো আইন বা কর্তৃপক্ষ নেই? বিরোধ মীমাংসার প্রাতিষ্ঠানিক উপায়গুলোর প্রতি এই অনীহা সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতন্ত্রায়নের পথে বিরাট বাধা। আঙ্গু কাবিলা বনাম মাঙ্গু কাবিলার গোত্রীয় সংঘাতের পরিবেশ নৈরাজ্যের পরিবেশ। বিরোধীদের হরতাল-অবরোধ, ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন অথবা তৃতীয় কোনো শক্তির গায়ের জোরে ক্ষমতা দখলের ঘটনা এ পরিবেশেই ঘটার সুযোগ পায়। আর জনগণ হয় রাজনীতি বিমুখ।
বলপ্রয়োগের বিকল্প হিসেবে সুশাসন বা গুড গভর্নেন্স দিয়ে সংঘাতের ক্ষেত্রকে প্রশমিত করার ব্যর্থতা রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই ব্যর্থতা। এই নৈরাজ্য ও বলপ্রয়োগের বাস্তবতা শাসকশ্রেণীর তৈরি হলেও জনগণের আয়নায় তার প্রতিফলন ঘটে, তলার শ্রেণীগুলোর আচরণেও তার প্রতিধ্বনি ওঠে। পোশাকশ্রমিকদের কোনো ফরিয়াদেই যখন সরকার ও মালিকপক্ষের টনক নড়ে না, তখনই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। গায়ের জোরে শোষণের বিপরীতে দেখা যায় গা দিয়ে প্রতিরোধের প্রতিবাদ। কানসাট, ফুলবাড়ী, শনির আখড়ায় জনগণের নিরুপায় ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না, যদি যার যা কাজ সে তা করত। যদি সব আদালতে অন্তত আইন অনুযায়ী বিচারের নিশ্চয়তা থাকত, যদি দুদকে অন্তত বড় দুর্নীতিগুলো ধরা পড়ত। সংসদে যদি জনগণের স্বার্থের কথা আলোচিত হতো, রাজনৈতিক দলে যদি গণতন্ত্র থাকত এবং বড় দলগুলো জনগণকে ‘আশার ছলনে’ না ভুলিয়ে জনস্বার্থ রক্ষার কিছুটা চেষ্টা করত। তাহলে আঙ্গু কাবিলা আর মাঙ্গু কাবিলার এই অন্তহীন যুদ্ধ আমাদের দেখতে হতো না।
যাঁরা নিজেদের কাবিলা সর্দার ভাবছেন, পুুষছেন নিজস্ব বাহিনী, এলাকাকে ভাবছেন জমিদারি, তাঁদের বুঝতে হবে দেশের অধিকাংশ মানুষ রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে কাবিলা-যুগ পার হয়ে এসেছে।তারা জননেতা চায় ও জাতীয়নেতা চায়, কাবিলা সর্দার নয়।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

বন্যার মৃদু পদধ্বনি -দুর্যোগ সীমিত হলেও সরকারের প্রস্তুতি রাখতে হবে

বর্ষা আসে, সঙ্গে আসে বন্যা। কিন্তু এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আবহাওয়াবিদেরা স্বাভাবিক বন্যার বেশি কিছু হওয়ার আশঙ্কা করছেন না। বাংলাদেশ প্লাবন সমভূমির দেশ হওয়ায় প্রতিবছর ৩০ শতাংশ এলাকায় বছরের মাঝামাঝি বন্যা হওয়ার কথা। তার আলামত ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে। তবে গত এক সপ্তাহের গণমাধ্যমের খবরে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল কিছুটা প্লাবিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া চর এলাকায় নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অজস্র মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।
মৌসুমি বায়ু এবার অনেক দেরিতে হওয়ায় ভারী বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তবে উজান থেকে আসা পানি পদ্মা, যমুনা ও তিস্তা নদীর কিছু এলাকায় উপচে পড়ছে। এ ছাড়া নদীর গতিপ্রবাহে নানারকম স্থাপনা নির্মাণ এবং প্লাবনভূমি কমে যাওয়ায় বন্যার ভোগান্তি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি এখনো সহনীয় হলেও আগস্টের শুরুতে অতিবর্ষণ ও উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে বন্যার প্রকোপ কিছুটা বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোর নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও মুন্সিগঞ্জে নদীভাঙনও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ফরিদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যা মোকাবিলা বাঁধের ওপর চাপ বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, দুর্যোগ বড় না হলেও সরকারের প্রস্তুত থাকাই কর্তব্য। বিশেষ করে জরুরি ত্রাণ, আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও ডায়রিয়া ঠেকানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজের অভাব ঘটায় গরিব মানুষের বিকল্প আয়ের সংস্থান করতে হবে।
বন্যা একই সঙ্গে অভিশাপ ও আশীর্বাদ। নদীবাহিত পলি জমে জমেই বাংলাদেশের জন্ম। বন্যায় এই পলি সমতলে ছড়িয়ে মাটির উর্বরতাও বাড়ায়। আবার ভুল নদীশাসনে নদীগর্ভ উঁচু হওয়ায় নদী অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, চিরাচরিত পথে বন্যার সঙ্গে বসবাসের প্রস্তুতি নিয়ে রাখাই কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, পানির গমনপথ দখল করে ঘরবাড়ি-স্থাপনা তৈরি হওয়ায় একদিকে বন্যার পলিসমৃদ্ধ পানি যেমন কৃষি জমিতে যেতে পারছে না, আবার কোথাও কোথাও তা জলাবদ্ধতারও জন্ম দিচ্ছে। তাই ওপর থেকে নামা পানি যাতে সহজে খাল-বিল-জলাশয়ে ছড়িয়ে বিনা বাধায় সমুদ্রে নেমে যেতে পারে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার -ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই চূড়ান্ত লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল গঠনের চার মাস পর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরটি নিঃসন্দেহে সুখবর। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে এ দেশের নিরস্ত্র, নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে প্রবল জনমতের প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের এই কর্মতৎপরতা এমন প্রতীতি সৃষ্টি করবে যে শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তাঁদের শাস্তির মাধ্যমে অনেক দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে।
তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত সোমবার প্রথমবারের মতো শুনানি করেন। ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আরেক নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে। এই আসামিরা অন্য কয়েকটি মামলায় এখন কারাগারে আটক রয়েছেন, তাঁদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন এবং ওই সময়ের মধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে কি না তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই আসামিরা দেশের একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা। জামায়াতে ইসলামী নামের সেই দলটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম-প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু দলটির এই রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার নেতা-কর্মীদের দ্বারা খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনসহ এমন কিছু অপরাধ সংঘটন, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে বিচারযোগ্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৩৯ বছরেও সেই বিচার সংঘটিত হয়নি; তার কারণ ছিল রাজনৈতিক এবং বলা বাহুল্য, সে রাজনীতি আইনের শাসনকে অস্বীকার করেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকারীদের সুরক্ষা দিয়েছে। তবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এমনই এক অপরাধ, যা বিচারের সময়সীমা কখনো শেষ হয়ে যায় না। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর আজ যখন সেই অপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো, তখন আমাদের মনে রাখা ভালো যে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই এ বিচার-প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। বাংলাদেশ সেই অন্যায় রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনের শাসনকেই যথার্থ পন্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে এই বিচার-প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, ট্রাইব্যুনালের বিচার-প্রক্রিয়া সম্পাদনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে যে জামায়াতের এ অভিযোগ ভিত্তিহীন, এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। বিচার-প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করা, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বাধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বিচারকে সর্বমহলে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য করার দায়িত্ব বর্তেছে রাষ্ট্রপক্ষ, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন শাখার ওপর। ১৯৭১ সালের নয় মাসজুড়ে উল্লিখিত আসামিদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যকলাপের অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর এখনো জীবিত থাকার কথা। সাক্ষ্য দিয়ে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশন শাখাকে সহযোগিতা করতে তাঁদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
আমরা আশা করি, আইনের শাসনের প্রতি সর্বোচ্চ অঙ্গীকার নিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়াকে সর্বাধিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক হলো ফরাসি ফার্স্ট লেডি কার্লা ব্রুনির

চলচ্চিত্রে অভিষেক হলো ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির স্ত্রী কার্লা ব্রুনির। গত মঙ্গলবার মার্কিন পরিচালক উডি অ্যালেনের একটি চলচ্চিত্রে হলিউড তারকা ওয়েন উইলসনের সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর অভিষেক হলো। প্যারিসে চলচ্চিত্রটির শুটিং চলছে।
শুটিং শুরু হওয়ার আগে উডি অ্যালেন সাবেক মডেল কার্লা ব্রুনিকে মিডনাইট ইন প্যারিস চলচ্চিত্রের সেটে স্বাগত জানান। ছোট একটি মুদি দোকানে কয়েক ঘণ্টা ধরে এই শুটিং চলে। এ সময় রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুটিং দেখতে জড়ো হয় অনেক মানুষ। এ সময় ব্রুনির দেহরক্ষীদের সতর্ক উপস্থিতি দেখা যায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে উডি অ্যালেন প্যারিসে তাঁর নতুন এ ছবির কাজ শুরু করেন।
এই রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্রে ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ন কোটিলার্ড এবং মার্কিন অভিনেত্রী র‌্যাচেল ম্যাক অ্যাডামস ও ক্যাথি বেটসও অভিনয় করছেন।

মেক্সিকোতে ৮টি কাটা মাথা উদ্ধার

 মেক্সিকোর পুলিশ মানুষের আটটি কাটা মাথা উদ্ধার করেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর দুরাঙ্গ থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব হতভাগ্য ব্যক্তির বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসব মাথা উদ্ধার করে। দুরাঙ্গ শহরে মাদক ব্যবসা নিয়ে গালফ ও সিনালোয়া গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে সংঘর্ষ চলছে। এরই জেরে তাঁদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের জান্তা প্রধান থান শোয়ে হায়দরাবাদে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান জেনারেল থান শোয়ে গতকাল বুধবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে হায়দরাবাদ গেছেন। নয়দিল্লিতে গত মঙ্গলবার তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই দিনে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
থান শোয়ের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি চুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া ছয় কোটি ডলার ব্যয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের সঙ্গে মিয়ানমারের সংযোগ সড়ক স্থাপনের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
হায়দরাবাদে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে থান শোয়ের। এরপর তিনি কলকাতা যাবেন। সেখান থেকে আজ তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ভারতে থান শোয়ের এই আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরের সমালোচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-দ.কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শেষ

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চার দিনের যৌথ সামরিক মহড়া গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু যুদ্ধের হুমকি উপেক্ষা করে জাপান সাগরে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের উদ্দেশে আগামী সোমবার সিউলে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।
উত্তর কোরিয়া গত মঙ্গলবার কোরিয়া যুদ্ধের ৫৭তম বার্ষিকী পালন করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক কনসার্টে অংশ নেন দেশটির নেতা কিম জং ইল।
কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের সবচেয়ে বড় এই সামরিক মহড়ায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন, অন্য ২০টি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ, চারটি এফ-২২ র‌্যাপটর স্টিলথ যুদ্ধবিমানসহ ২০০টি বিমান ও আট হাজার সেনা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় যৌথ মহড়া শেষ হয়। মার্কিন একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমরা যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছি। যাতে দক্ষিণ কোরিয়া যেকোনো সময় উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সূত্র জানায়, গত রোববার থেকে কোরিয়া সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক তৎপরতা দেখা যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কোরিয়া দেশটিতে সাইবার হামলা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে সিউলের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ দূত রবার্ট এইনহর্ন শিগগিরই সিউল পৌঁছাবেন। উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপসহ আরও কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী সোমবার মার্কিন ও কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ গতকাল জানায়, কোরিয়া যুদ্ধের ৫৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে যোগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং ইল। এ সময় ‘২৭ জুলাই আমাদের বিজয় দিবস’, ‘আমাদের নেতা সবচেয়ে ভালো’ প্রভৃতি স্লোগানে প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান গত ২৬ মার্চ পীতসাগরে ডুবে যায়। এতে ৪৬ জন নাবিকের মৃত্যু হয়। ২০ মে পাঁচ জাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর আঘাতে ওই যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। উত্তর কোরিয়া অবশ্য বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

যুদ্ধাহত সঙ্গীদের চিকিৎসায় রক্ত চুরি করে আল-কায়েদা

ইরাকে আল কায়েদা জঙ্গিরা যুদ্ধাহত সঙ্গীদের জন্য রক্ত চুরি করছে। নিজস্ব আদলে গড়ে তুলেছে হাসপাতাল ও ব্লাডব্যাংক। মূলত গ্রেপ্তার এড়াতেই তারা এ কাজ করছে বলে ইরাকের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান।
আনবার প্রদেশের চিকিৎসক হাদাদ হামাদ জানান, আল-কায়েদা জঙ্গিরা রক্ত ও চিকিৎসার সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য প্রায়ই বিভিন্ন হাসপাতালে হামলা চালায়। তারা ২০০৫ সালে আল কাইম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ব্লাডব্যাংকের সব রক্ত নিয়ে যায়। এসব রক্ত তারা হাসপাতালের কাছেই একটি গ্রামে নিয়ে গিয়ে আহত সঙ্গীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করে।
রক্তের জন্য সিরিয়া সীমান্তসংলগ্ন ইরাকের বিভিন্ন হাসপাতালেও প্রায়ই হামলা চালায় আল-কায়েদা। চলতি গ্রীষ্মেও চিকিৎসা সহায়তা ও চাহিদামতো রক্ত সরবরাহের জন্য আনবার প্রদেশের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সহায়তা না করলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই হুমকির পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটি কয়েক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
সুন্নি অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করেন এমন কয়েকজন চিকিৎসক জানান, সম্ভবত আল-কায়েদার নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দল আছে। তারা রক্তের গ্রুপ মেলানোসহ আহত ব্যক্তিদের শরীরে রক্ত সঞ্চালনের কাজটি নিখুঁতভাবে করে থাকে।

জাপানে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পর্যালোচনার ঘোষণা বিচারমন্ত্রীর

জাপানে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে টোকিও কারাগারে তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়। গত বছর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হলো। ফাঁসি কার্যকর করার সময় বিচারমন্ত্রী কিকো চিবা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরোধিতা করে আসছিলেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পর্যালোচনার জন্য গতকাল তিনি একটি কমিটি গঠন করার কথা ঘোষণা করেন।
যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তাঁরা হলেন কাজুও শিনোজাওয়া (৫৯) ও হিদেনোরি ওগাতা (৩৩)। একটি গয়নার দোকানে গুলিবর্ষণ করে ছয় নারীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন শিনোজাওয়া। ওগাতা একজন নারী ও একজন পুরুষকে হত্যা করেন। দুটিই ২০০৩ সালের ঘটনা।
কিকো চিবা জাপানের প্রথম বিচারমন্ত্রী, যিনি সরকারিভাবে কোনো মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার ঘটনা সরাসরি দেখলেন। ফাঁসি দেওয়ার পর মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি চান তাঁর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি দল ঘটনাটি পর্যালোচনা করুক।
কিকো চিবা বলেন, ‘ফাঁসি কার্যকর হওয়ার ঘটনা আমি নিজ চোখে দেখেছি। ঘটনাটি আবার আমাকে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে তাড়িত করেছে। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যে মৌলিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, তা আবার জোরালোভাবে অনুভব করছি।’

উইকিলিকসে ফাঁস করা তথ্যে নতুন কিছু নেই: ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, উইকিলিকসের ওয়েবসাইটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ফাঁস করা নথির মধ্যে নতুন কিছু নেই। এসব বিষয় নিয়ে এর আগেও অনেক বিতর্ক হয়েছে। তিনি আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সম্পর্কে তাঁর নীতির প্রতি সমর্থন জানাতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান। উইকিলিকসে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে কথা বললেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।
উইকিলিকস নামের একটি সংগঠনের ওয়বেসাইটে গত রোববার মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি নথি ফাঁস করা হয়। এসব নথিতে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি ইরানও তালেবানকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তথ্য ফাঁস প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি বলেন, উইকিলিকসে প্রকাশ হওয়া তথ্য সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। কিন্তু এতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা মার্কিন জনগণ আগে থেকে জানে না। প্রকাশিত সব বিষয় নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। এখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিষয়ে মার্কিননীতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ওবামা আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে মার্কিন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় তহবিলের জন্য সমর্থন দিতে কংগ্রেস নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন গত মঙ্গলবার বলেন, তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আফগানিস্তানে মার্কিন কৌশলের কোনো পরিবর্তন হবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। মুলেন বলেন, ‘তথ্যগুলো আমি দেখেছি। কিন্তু এসব তথ্যে এমন কিছু নেই, যার কারণে মার্কিননীতি বা কৌশল নতুনভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফাঁস হওয়া এসব তথ্য নিয়ে গত বছর পর্যালোচনা হয়েছে।
উইকিলকিসে তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা আফগান যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। গত মঙ্গলবার তাঁরা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের দ্বৈতনীতির কারণে ইসলামাবাদের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা র‌্যাংগিন দাদফার স্পানটা এই আহ্বান জানান।
আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের দ্বৈতনীতির কঠোর সমালোচনা করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখমাত্র মঙ্গলবার বলেন, সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার নীতি পুরোপুরি নিন্দনীয়। এমন কাজ থেকে পাকিস্তানের বিরত থাকা উচিত।

শান্তি আলোচনায় যেতে আব্বাস ‘অসম্ভব’ শর্ত দিয়েছেন

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সরাসরি শান্তি আলোচনায় যেতে ‘অসম্ভব’ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের উপপ্রধানমন্ত্রী সিলভান শ্যালম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ শান্তি আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মিসরের রাজধানী কায়রোতে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আজকের পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের আগে সিলভান শ্যালম গতকাল বুধবার এ মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের সরকারি রেডিওকে শ্যালম বলেন, মাহমুদ আব্বাস তিনটি অসম্ভব শর্ত দিয়েছেন। শর্তের মধ্যে আছে, ২০০৮ সালে আলোচনা যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকে আলোচনা শুরু করতে হবে। ওই আলোচনায় ১৯৬৭ সালে দখল ভূমি থেকে ইসরায়েলিদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করে ফিলিস্তিনিরা যাতে সেখানে বসতি স্থাপন শুরু করতে পারে, সে দাবি করা হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল যেকোনো সময় মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি আছে। তবে ফিলিস্তিনিরা বৈঠক সফল করার নিশ্চয়তা চেয়েছে। কারণ, আগের সব বৈঠকই ব্যর্থ হয়েছে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে গাজা উপত্যকায় লড়াই শুরু হলে প্রত্যক্ষ শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র তিন মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দেশে হামলা চালাবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী তিন মাসের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত দুটি দেশে হামলা চালাবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গত সোমবার ধারণ করা হয়।
ইরান আক্রান্ত হবে কি না, সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে তা বলেননি। কোন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন, সে বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান।
পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যদিও দেশ দুটি আশঙ্কা করছে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার প্রচারিত সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী তিন মাসের মধ্যে এ অঞ্চলের দুটি দেশে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি যে এ অঞ্চলে হামলার ষড়যন্ত্র করছে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে আছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তাঁরা ইরানকে বাগে আনার যে চেষ্টা চলছে, তা ইতিমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে।

ওয়াশিং মেশিনে বিষধর সাপ

ওয়াশিং মেশিনে কিছু কাপড় দিয়েছিলেন ওয়েন্ডি ফলি (৫১)। একচোট ধোয়া শেষে যন্ত্রটির দরজা খুলে যেই তিনি কাপড়গুলো বের করতে যাবেন, অমনি ভয়ে তাঁর মূর্ছা যাওয়ার জোগাড়। কাপড়গুলোর মধ্যে কুণ্ডলি পাকিয়ে আছে বড় একটি বিষধর সাপ। যুক্তরাজ্যের ডেভনের এক্সেটার শহরে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল বুধবার সান পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এ কথা জানা যায়।
দুই সন্তানের মা ওয়েন্ডি ফলি বলেন, ‘ধোয়া শেষে ওয়াশিং মেশিনের দরজা খুলে কাপড়গুলো যখন বের করতে যাব, তখন দেখি কিছু একটা পড়ে আছে কাপড়ের মধ্যে। ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখি, একটি সাপ। প্রথমে ধরে নিয়েছিলাম বাচ্চাদের খেলনা সাপ এটি। পরে দেখি, বারবার জিভ বের হচ্ছে ওটার। এর পর চোখের পলকে কোথায় যেন লুকিয়ে পড়ে সাপটি।
এরপর থেকে ওয়েন্ডি ফলির জন্য শুরু হয় আতঙ্কের প্রহর। পরদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভয়ে ভয়ে কাটাতে হয় তাঁকে। ফলি বলেন, ‘শুরুতে দুই সন্তানকে নিয়ে আমি বাড়ির বাইরে চলে যাই। রাতে দুই সন্তানকে বিছানায় পাঠিয়ে আমি সারা রাত বসে থাকি। কেবলই মনে হচ্ছিল, এই বুঝি সাপটা বের হয়ে আসে।’

কোটি কোটি ডলারের হিসাব দিতে ব্যর্থ মার্কিন কর্তৃপক্ষ

ইরাক পুনর্গঠন তহবিলের হিসাবে গরমিল খুঁজে পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সমালোচনা করেছে সে দেশের একটি সরকারি হিসাব নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরাক পুনর্গঠনে বরাদ্দ করা ৮৭০ কোটি ডলারের হিসাব ঠিকমতো দিতে পারেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ইন্সপেকটর জেনারেল ফর ইরাক রিকন্সট্রাকশন-এর তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক পুনর্গঠনে বরাদ্দ করা তহবিলের ৯৬ শতাংশ অর্থের হিসাব ঠিকমতো দিতে পারেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। সঠিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তহবিলের যথেচ্ছ ব্যবহার হয় এবং এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
২০০৪ সালে ইরাক পুনর্গঠনের জন্য ৯১০ কোটি ডলার বরাদ্দ পায় পেন্টাগন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাকের দখলদার কর্তৃপক্ষ এই অর্থ বরাদ্দ করে। ইরাকের তেল ও গ্যাস বিক্রির আয় থেকে এবং সাদ্দামের সরকারকে উৎখাত করে পাওয়া অর্থ-সম্পদ থেকে এই তহবিলের অর্থ জোগান দেওয়া হয়।
মার্কিন সরকারের এই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮৭০ কোটি ডলারের যথাযথ হিসাব দিতে পারেনি পেন্টাগন। কারণ, প্রতিরক্ষা দপ্তরের যেসব শাখা এই তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ পায় তারা ঠিকভাবে এর হিসাব দেয়নি এবং এই তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো একক সংস্থাও গঠন করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, খরচের হিসাব সম্পূর্ণ শেষ করা হয়নি। যেমন পেন্টাগন বলতে পারছে না, তারা কীভাবে বরাদ্দের ২৬০ কোটি ডলার খরচ করেছে। এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত নথিপত্রও নেই।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বেসরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের তা অবশ্যই নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত।
এদিকে খরচের হিসাব নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কেন্দ্রীয় শাখা ও সামরিক বাহিনীর প্রকৌশল শাখা। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তহবিলের অর্থ হারিয়ে যায়নি বরং খরচের হিসাবগুলো হয়তো আর্কাইভে রাখা আছে। এই হিসাবগুলো খুঁজে বের করতে তাদের অনেক সময় লাগবে। কিন্তু প্রকৌশল শাখা বলছে, তারা ২০০ কোটি ডলারের খরচের হিসাবের কাগজ নিরীক্ষাকারীদের কাছে জমা দিয়েছে।
এর আগেও ইরাক পুনর্গঠন তহবিলের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০০৫ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ৮৮০ কোটি ডলারের একটি তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। ওই তহবিলটি ছিল ইরাকের সরকারের। ওই ঘটনায় আট মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত করা হয়।

আইএফআইসি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গত সোমবার ব্যাংকের এক বোর্ড সভায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এর আগে একই দিনে ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৩৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সালমান এফ রহমানকে পরিচালক নির্বাচন করা হয়।
সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ ও বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআিই), আবাহনী ক্রীড়াচক্র লিমিটেড এবং ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট-এর সম্পাদকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান।
আইএফআইসি ব্যাংকের লভ্যাংশ
আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার অনুমোদন করেছে।
ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গত সোমবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৩৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় লভ্যাংশ হিসেবে এই বোনাস শেয়ার অনুমোদন করা হয়। এতে ব্যাংকের ২০০৯ সালে সমাপ্ত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও স্থিতিপত্র অনুমোদন করা হয়।
ব্যাংকের সদ্যবিদায়ী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পরিচালকদের মধ্যে আবু তাহের মোহাম্মদ গোলাম মারুফ, আমিনুর রহমান, সৈয়দ আনিসুল হক, মোহাম্মদ নাঈম সাঈদ, এস এম ফারুকী হাসান, তানিম নোমান সাত্তার, মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আলী খান ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়।

সার্ক চেম্বারের সামনে এখন তিনটি চ্যালেঞ্জ: বাণিজ্যমন্ত্রী

সার্ক চেম্বার অব কমার্সকে (এসসিসি) তিনটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
চ্যালেঞ্জগুলো হলো: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহজে ভিসা পাওয়া, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি।
পাশাপাশি বাণিজ্যমন্ত্রী এসসিসিকে অচলাবস্থা ও গতানুগতিক ধারা থেকে বের করে নিয়ে আসারও তাগিদ দিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে সার্ক চেম্বারের নেতৃত্বে রয়েছে। নেতাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাঙালির সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে।’
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এসসিসির এক প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা জানান।
১৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এসসিসির সভাপতি আনিসুল হক। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ, এসসিসি সহসভাপতি আবুল কাসেম আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক ও ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম সফিউজ্জামান প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানান, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘সার্ক বিজনেস লিডারশিপ কনক্লেভ’ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে সার্কভুক্ত আটটি দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে পরস্পরের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো এবং দেশগুলোর মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ স্থাপন ও বিদ্যমান যোগাযোগ আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৪৭ সালে এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্য হতো। তা এখন কমে পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
মেধাসম্পদ স্বত্ব: বিশ্বের অন্য স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মতো মেধাসম্পদ স্বত্বের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্যও একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা, ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন ও স্বাস্থ্যসুবিধার জন্য বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তার পরও মেধাস্বত্ব বিষয়ে আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে ‘মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাহিদা যাচাই’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক কর্মশালা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার কর্মশালার শেষ দিন।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পরিচালক অ্যান্টনি টবমান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম আলী রেজা মুর্তজা এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি আবদুল হাই সরকার উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম, নেপাল, মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১০টি দেশের প্রতিনিধি এবং ডব্লিউটিও, ডব্লিউএইচও, ডব্লিউআইপিও, আঙ্কটাড, ইসি ও ইউএনসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল কর্মশালাটির আয়োজক।

দলগত উদ্যোগে জোর দিতে আহ্বান জানালেন অর্থমন্ত্রী

‘ঘরে ফেরা কর্মসূচি’তে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি উদ্যোগের তুলনায় দলগত উদ্যোগকে বেশি উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘরে ফেরা কর্মসূচিকে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। এ কারণেই বাজেটে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে পাঁচ কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছে কৃষি ব্যাংককে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঘরে ফেরা কর্মসূচির উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোখতার হোসেন এতে স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানীর বস্তির মানবেতর জীবন ছেড়ে গ্রামে ফিরতে চায়—এমন চার হাজার ৫০০ ছিন্নমূল পরিবারকে চিহ্নিত করেছে কৃষি ব্যাংক। এর মধ্যে ঘরে ফেরা কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর ১৪টি বস্তি থেকে নির্বাচিত ২৫০টি পরিবারকে। নিজ গ্রামে পুনর্বাসিত হবে তারা।
শহরের রিকশা, ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানগাড়িচালকের সংখ্যা কমিয়ে নগরজীবনকে যানজটমুক্ত করা, গ্রামাঞ্চলে শ্রমজীবী মানুষের ঘাটতি পূরণ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার ও সামাজিক অপরাধের পরিমাণ কমানো এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
যেসব পরিবারকে ঋণ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, গুদারাঘাট বস্তি থেকে ৭২টি, আরামবাগ ঝিলপাড় বস্তি থেকে ৪২টি, খিলগাঁও রেলগেট বস্তি থেকে ৩৪টি, কল্যাণপুর পোড়া বস্তি থেকে ২৬টি, শিয়ালবাড়ী বস্তি থেকে ২৬টি, নাখালপাড়া রেলগেট বস্তি থেকে ১৫টি, হাজি রোড ঝিলপাড় বস্তি থেকে ১২টি, তেজগাঁও রেলগেট বস্তি থেকে ছয়টি, মগবাজার রেলগেট ও কারওয়ানবাজার বস্তি থেকে পাঁচটি করে, রূপনগর বস্তি থেকে তিনটি, মণিপুর বস্তি থেকে দুটি, রায়েরবাজার ও উত্তর শাহজাহানপুর রেলগেট বস্তি থেকে একটি করে পরিবার।
অনুষ্ঠানে দুলা মিয়া ও শামীমা আক্তার শারমিন নামক দুই সাবেক বস্তিবাসী তাঁদের বস্তিজীবন থেকে বেরিয়ে আসার বিবরণ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সমবায়ের ধারণা, আমাদের দেশ শত বছরের পুরোনো। তবে সমবায়েরও ব্যর্থতা রয়েছে প্রচুর। এত অব্যবস্থাপনা আর কোথাও চোখে পড়ে না। ঘরে ফেরা কর্মসূচিতে দলভিত্তিক ঋণ বিতরণের মাধ্যমে বস্তিবাসীকে গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে সমবায়ের মৌলিক ধারণা বাস্তবায়িত হবে।’ তবে এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
নগরজীবনের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু নগরে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি প্রায় চার শতাংশ। গ্রামগুলোতে পৌর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হলেও গ্রামের মানুষ গ্রামেই থাকবে এবং নগরজীবনের ওপর চাপ কমবে।
এ ছাড়া নগরের বস্তিবাসীদেরও ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিতে ঘরে ফেরা কর্মসূচির মতো আরও কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গ্রামনির্ভর এসব কর্মসূচি সফল করতে কৃষি ব্যাংকের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান সরকারকে পাঁচটি ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো হলো: সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি, খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ অ-কৃষি কার্যক্রম।
ভবিষ্যতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করতে এর আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানান কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।
‘বস্তি থেকে স্বস্তি’ নামক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্য ব্যাংকগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুন্নয়ন বাজেটে কর্মসূচির নতুন নীতিমালা ঘোষণা by রোজিনা ইসলাম

অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেকোনো কর্মসূচির সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ কোটি টাকা এবং তা বাস্তবায়নের সময় তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে সরকার।
একই সঙ্গে অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে যে নীতিমালা জারি করা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে।
গত সোমবার অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়।
নীতিমালা অনুসারে সরকারের কৌশলগত উদ্দেশ্য ও মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা অর্জনে সহায়ক হবে—এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে যেসব এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে তার মধ্যে রয়েছে: স্বল্প ব্যয়ে উন্নয়নমূলক কার্যসম্পাদন, দারিদ্র্য বিমোচনমূলক কার্যক্রম, প্রবৃদ্ধি সহায়ক কার্যক্রম এবং মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক ও উদ্ভাবনী গবেষণা; কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার সংগ্রহ ও এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ; নির্মাণ ও পূর্ত কাজ; বিদ্যমান স্থাপনার মেরামত ও সংরক্ষণ এবং বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি সংগ্রহ।
নীতিমালা অনুযায়ী অনুন্নয়ন বাজেটের যেকোনো কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য নির্ধারিত ‘পিপিএন ছক’ ব্যবহার করতে হবে। কর্মসূচি শনাক্ত করার পর বাস্তবায়নকারী অধিদপ্তর ও সংস্থা নির্দিষ্ট ছকে প্রস্তাব প্রণয়ন করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবে।
বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এ কর্মসূচির মেয়াদ তিন বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহীত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
তবে কর্মসূচির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় এ মেয়াদ ক্ষেত্রবিশেষে তিন বছরের বেশি হতে পারে।
কর্মসূচি সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য পিপিএনবিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পদের সংস্থান রাখা যাবে। তবে এ ধরনের পদে সরাসরি কোনো জনবল নিয়োগ করা যাবে না। বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা অথবা অন্য কোনো সরকারি দপ্তর থেকে প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এসব পদ পূরণ করতে হবে।
কর্মসূচির আওতায় কোনো প্রকার যানবাহন ক্রয়ের সংস্থান রাখা যাবে না। তবে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে যানবাহন ভাড়া নেওয়া যেতে পারে।
কর্মসূচির অঙ্গভিত্তিক ব্যয় হিসেবে ‘মেরামত ও সংরক্ষণ’ খাতে কোনো বরাদ্দ প্রস্তাব করা হলে এ বরাদ্দ প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের প্রস্তাব করা যাবে। কর্মসূচির আওতায় সাধারণভাবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ নিরুৎসাহিত করা হবে।
প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বাজেট বরাদ্দের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির তিন কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ এ ক্ষেত্রে ছাড় করতে পারবে এবং সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী শেষ কিস্তিতে অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করতে পারবে।
এ কর্মসূচির আওতায় সব ধরনের পণ্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে। মাসিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সমন্বয় সভায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমাপ্তির পর একটি সমাপ্তি প্রতিবেদন কর্মসূচির পরিচালক প্রণয়ন করবেন। উল্লেখ্য, প্রতি কর্মসূচির জন্য একজন পরিচালক নিয়োগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বাজেট ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নাধীন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরীবিক্ষণ করবে। অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রস্তাবিত কর্মসূচি স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প সময়ে বাস্তবায়িত হবে এ কারণে কর্মসূচি প্রণয়ণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন অনুমোদনের পরে তা সংশোধনের প্রয়োজন না হয়।
তবে যৌক্তিক কারণে মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্মসূচির অঙ্গভিত্তিক ব্যয় ও মোট ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে এক বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে পারবে।

রমজানে ৭৭ হাজার টনের বেশি চিনি বেচবে সরকার

আসন্ন রমজান মাসে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) দেশব্যাপী বিস্তৃত তার নিজস্ব ডিলারদের মাধ্যমে ৭৭ হাজার টনের বেশি চিনি বাজারজাত করবে।
একই সঙ্গে বিএসএফআইসি চিনির মূল্য কেজিপ্রতি দুই টাকা কমিয়ে ৪৫ থেকে ৪৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এসব ঘোষণা দিয়েছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় এবং বিএসএফআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি টন চিনির মিলদর ৪৫ হাজার টাকা। রমজান উপলক্ষে তা কমিয়ে ৪৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বর্তমান মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তার পরও পবিত্র রমজান মাসে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য বিএসএফআইসির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২৫ হাজার টন এবং স্থানীয় বাজার থেকে ১০ হাজার টন চিনি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তা ছাড়া আসন্ন রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য বিএসএফআইসির উৎপাদিত চিনি মজুদ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএসএফআইসির নিজস্ব মজুদ ৪২ হাজার সাড়ে ৬৫০ টন। আমদানির অপেক্ষায়্ররয়েছ্রে২৫ হাজার টন এবং স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত্র১০ হাজার টন। বিএসএফআইসির তালিকাভুক্ত দেশব্যাপী ডিলারদের মাধ্যমে এই ৭৭ হাজার টনের বেশি চিনি বাজারজাত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত চিনি আমদানি করা হয়েছে। কেবল জুলাই মাসেই এক লাখ ২০ হাজার ৭৬৩ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানি করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে পবিত্র রমজান মাসে চিনির দর ক্রেতা ও ভোক্তাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। পবিত্র রমজান মাসে চিনির ডিলার ও ব্যবসায়ীরা কোনোরূপ অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হবেন না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পেশাদার লিগ নিয়ে ‘সুপারিশমালা’

চতুর্থ মৌসুমে পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবল লিগ। আগের তিনটি লিগে পেশাদারির চর্চা ছিল ডুমুরের ফুল। এবার বাফুফে কিছু উদ্যোগ নিয়ে চাইছে উঠে দাঁড়াতে। পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কাছ থেকে সুপারিশ চাওয়া হয়েছিল বাফুফের পক্ষ থেকে। গত লিগের ১৩টি দলের মধ্যে সুপারিশ দেয়নি ৫টি দলই!
মোহামেডানের মতো বড় দলের সঙ্গে চিঠি এবং ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা মতামত জানায়নি। মতামত দেয়নি ব্রাদার্সও। বাফুফের আহ্বানে সাড়া না দেওয়া বাকি তিনটি ক্লাব—মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম মোহামেডান ও আরামবাগ।
বাফুফে সূত্রের খবর, আবাহনীর পরামর্শ ছিল ঢাকার বাইরের ভেন্যু ব্যবস্থাপনা যেন কিছুটা হলেও মানসম্মত হয়। গত তিন লিগে ঢাকার বাইরে এই ভেন্যু ব্যবস্থাপনা ছিল যাচ্ছেতাই। মাঠ ছিল ভালো ফুটবলের অনুপযোগী। গত তিনটি পেশাদার লিগের চ্যাম্পিয়নরা লিগ কমিটির সঙ্গে ক্লাবগুলোর সুসম্পর্কও চেয়েছে।
রহমতগঞ্জ বলেছে, পাতানো খেলা বন্ধে মাঠে সংশ্লিষ্ট দুই দলের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য মুঠোফোন নিষিদ্ধ করা হোক। শেখ রাসেল বিদেশি খেলোয়াড় ৫ জন নিবন্ধনের বিপরীতে তিনজন নয়, চারজনের খেলার সুযোগ চায়। বিয়ানীবাজার সামনে নিয়ে এসেছে একটি আপ্তবাক্য, ‘সবার উচিত ফুটবল ভালোবাসা। মুখে না বলে সেটা যেন প্রমাণ করা হয়।’ ফেনী সকারের চাওয়া—ভালো রেফারিং।
অবনমিত নারায়ণগঞ্জ শুকতারা চেয়েছিল বাংলাদেশ লিগ কমিটির সভায় উপস্থিত থাকতে। তাদের পর্যবেক্ষণ, ‘বড় বড় দল ফুটবল উন্নয়নের কথা বললেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আন্তরিক নয়।’ ফরাশগঞ্জের দাবি, ক্লাবগুলোর জন্য বাফুফের অনুদান বাড়ানো হোক। দলটি চায়, অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ক্লাবের পরিবর্তে বাফুফেই যেন নেয়। চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রত্যাশা, ‘লিগ ঠিক সময় শুরু এবং শেষ হওয়া। লিগে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।’
হারুনুর রশিদ, আনোয়ারুল হক, বাদল রায় ও ফজলুর রহমানকে (বাবুল) নিয়ে গঠিত বাফুফের বিশেষ কমিটিও কিছু সুপারিশ করেছে। তারা লিগের সুপারিশমালা তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছে—ক্লাবের জন্য, খেলোয়াড় ও কোচের জন্য এবং লিগ কমিটির জন্য পালনীয়।
এই কমিটির সুপারিশ, প্রতি ক্লাবকেই বেতনভুক্ত একজন পেশাদার কর্মী (কো-অর্ডিনেটর) নিয়োগ দিতে হবে, যিনি বাফুফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সমন্বয় করবেন। কোচ আর ক্লাবের মধ্যে চুক্তিপত্রের অনুলিপি বাফুফের কাছে জমা দিতে হবে। ক্লাবগুলো যেসব খেলোয়াড়কে নিবন্ধন করাচ্ছে, তাঁদের সবার এই লিগে খেলার সামর্থ্য আছে কি না, কিংবা সবার ফিটনেস আছে কি না, সেটি পরীক্ষা করার জন্য বাফুফের উদ্যোগে ফিটনেস পরীক্ষা হতে পারে, যেটিকে বলে ‘ব্লিপ টেস্ট’।
ব্লিপ টেস্টে উত্তীর্ণ না হলে কোনো বিদেশি নিবন্ধিত হতে পারবেন না। প্রতি দলের কমপক্ষে ১০-১২ জন স্থানীয় খেলোয়াড়কে ব্লিপ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে। মাঠে মুঠোফোন নিষিদ্ধ করা, পাতানো খেলা বন্ধে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সহযোগিতা নেওয়া ইত্যাদি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ক্লাব কোচিং স্টাফের কমপক্ষে একজনের ‘বি’ লাইসেন্স থাকতেই হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিয়ে কর্মশালা করারও পরামর্শ দিয়েছে ওই কমিটি।
সুপারিশ তো হলো, এগুলো বাস্তবায়ন হবে কি না, সেটিই প্রশ্ন। জানা গেছে, লিগ কমিটির গত সভায় এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সভায় এগুলো বাইলজে ঢোকানো হবে।
যত যা-ই করা হোক, পেশাদার লিগকে সফল করে তুলতে ক্লাবগুলোকেই নিতে হবে বড় ভূমিকা। কিন্তু বাফুফে সুপারিশ চাইলেও সব দলের সাড়া না দেওয়ায় বোঝাই যাচ্ছে, এসব নিয়ে ভাবছেই না অনেক ক্লাব। মৌসুম শেষে ক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিল বাফুফে, ফরাশগঞ্জ ছাড়া সেই হিসাব আর কেউ দেয়নি। টিকিট বিক্রির যে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বাফুফেকে, সেটিও দেয়নি কোনো ক্লাবই!
এবার ক্লাবগুলোর জন্য সেরা অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার পুরস্কারের ব্যবস্থা করছে বাফুফে—এতে যদি ছবিটা একটু বদলায়!

মাঠে ফিরছেন রোনালদো

বিশ্বকাপে পর্তুগাল দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিতে পারে। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়টা কেটেছে দারুণ। বাবা হয়েছেন। পরম মমতায় ছোট্ট সোনামণিকে নিজ হাতে খাইয়ে-পরিয়ে দিয়েছেন। বাকি সময়টা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়িয়েছেন বান্ধবী নিয়ে। হয়তো আরও কদিন ভেসে চলতে পারতেন রোমান্সে। কিন্তু কড়া কোচ হোসে মরিনহো দলে দ্রুত যোগদানের বাঁশি বাজিয়ে দেওয়ায় ছুটিটা সংক্ষিপ্ত করে রোনালদোকে মন দিতে হলো রিয়ালের অনুশীলনে। মরিনহোর তত্ত্বাবধানে গত মঙ্গলবারই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তিনি। খবর অনুযায়ী প্রাক-মৌসুম অনুশীলনের জন্য গতকাল বুধবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার কথা রিয়াল মাদ্রিদের। ছুটি সংক্ষিপ্ত করে অনুশীলনে মজে যাওয়ায় দুঃখ থাকার কথা নয় রোনালদোর। কারণ স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের রিয়াল তারকারাও দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকা যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে যাবেন শনিবার। ক্যালিফোর্নিয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন ক্যাম্প চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত। এএফপি।

আর্জেন্টিনা দল
গোলরক্ষক: সার্জিও রোমেরো, মারিয়ানো আনদুজার। ডিফেন্ডার: মার্টিন ডেমিকেলিস, ওয়াল্টার স্যামুয়েল, নিকোলাস বুরদিসো, গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ, ফ্যাব্রিসিও কোলোচিনি, পাবলো জাবালেতা, এমিলিয়ানো ইনসুয়া। মিডফিল্ডার: ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, হ্যাভিয়ের মাচেরানো, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, হোনাস গুতিয়েরেজ, মারিও বোলাত্তি, হাভিয়ের পাস্তোরে, ফার্নান্দো গ্যাগো, জেসাস দাতোলো, এভার বানেগা। আক্রমণভাগ: গঞ্জালো হিগুয়েইন, কার্লোস তেভেজ, সার্জিও আগুয়েরো, লিওনেল মেসি, ডিয়েগো মিলিতো, এজেকুয়েল লাভেজ্জি।

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

আনোয়ার, শফিকুল ও জামালের গোলে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলের সুপার লিগে পরশু ওয়ারী ক্লাব (৩-০) হারিয়েছে যাত্রাবাড়ীকে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রেলিগেশনের ম্যাচে মহাখালী একাদশ ২-১ গোলে হারিয়েছে বাড্ডা জাগরণীকে। মহাখালীর গোলাপ ও সাইফুল করেছেন গোল দুটি। বাড্ডার গোলটি সাইফুদ্দিনের।

রাজশাহীতে ফুটবল: দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে কাল দীপ্তি পরিষদ ৪-০ গোলে হারিয়েছে সবজিপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবকে। অন্য ম্যাচে আমবাগান ক্লাব ৩-১ গোলে সিক্স স্টার স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়েছে।

মাঠে ফিরছেন রোনালদো

বিশ্বকাপে পর্তুগাল দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিতে পারে। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়টা কেটেছে দারুণ। বাবা হয়েছেন। পরম মমতায় ছোট্ট সোনামণিকে নিজ হাতে খাইয়ে-পরিয়ে দিয়েছেন। বাকি সময়টা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়িয়েছেন বান্ধবী নিয়ে। হয়তো আরও কদিন ভেসে চলতে পারতেন রোমান্সে। কিন্তু কড়া কোচ হোসে মরিনহো দলে দ্রুত যোগদানের বাঁশি বাজিয়ে দেওয়ায় ছুটিটা সংক্ষিপ্ত করে রোনালদোকে মন দিতে হলো রিয়ালের অনুশীলনে। মরিনহোর তত্ত্বাবধানে গত মঙ্গলবারই অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তিনি। খবর অনুযায়ী প্রাক-মৌসুম অনুশীলনের জন্য গতকাল বুধবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার কথা রিয়াল মাদ্রিদের। ছুটি সংক্ষিপ্ত করে অনুশীলনে মজে যাওয়ায় দুঃখ থাকার কথা নয় রোনালদোর। কারণ স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের রিয়াল তারকারাও দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। ব্রাজিলিয়ান তারকা কাকা যুক্তরাষ্ট্রে উড়ে যাবেন শনিবার। ক্যালিফোর্নিয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন ক্যাম্প চলবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত।

বাট-ওয়াকারকে ‘শত্রু’ মুশতাকের সমর্থন

৫২ টেস্ট আর ১৪৪ ওয়ানডে খেলেছেন পাকিস্তানের হয়ে। দলের সহকারী কোচ, ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই সাবেক পাকিস্তানি স্পিনার মুশতাক আহমেদ আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে।
ইংল্যান্ডের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে মুশতাককে পাকিস্তানের ব্যর্থতাই কামনা করতে হবে। কিন্তু মনেপ্রাণে তো আর সেটা সম্ভব না। তাই দীর্ঘ মেয়াদে সালমান বাট ও ওয়াকার ইউনুসের দলের সফলতাই চাইছেন তিনি। চাইছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আস্থা রাখুক তরুণ অধিনায়ক বাট ও কোচ ওয়াকারের ওপর।
একসময়ের সতীর্থ ওয়াকারকে কোচ হিসেবে বেশ মূল্য দিচ্ছেন মুশতাক, ‘সালমান খুবই ভাগ্যবান যে ওয়াকারের মতো একজন কোচ পেয়েছে। একজন তরুণ অধিনায়কের জন্য ভালো ও পরিণত কোচ পাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটাই সেরা জুটি।’
এই দলটির প্রতি ভালোবাসা যেমন আছে, তেমনই আছে সহানুভূতি। ‘হোম’ ম্যাচগুলো দেশের বাইরে খেলতে হওয়ায়, খেলোয়াড়েরা কেমন কষ্টে আছেন, সেটা ভালোই বোঝেন মুশতাক, ‘কোনো দেশ আমার দেশে খেলতে চায় না—এই চিন্তাটাই তো খুব কষ্টের। খেলোয়াড়রা দেশে খুব বেশি সময় কাটাতে পারে না। সময়টা খুব কঠিন।’
দেশের ম্যাচ দেশে খেলতে না পারায় পাকিস্তান দলের জন্য কষ্ট পাচ্ছেন আরেক সাবেক স্পিনার সাকলায়েন মুশতাকও। তিনি অবশ্য বলছেন, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে হলে ইংল্যান্ডই পাকিস্তানের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।

বদলেরই ইঙ্গিত মেনেজেসের

মাইকনকে এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা রাইটব্যাক বলছে অনেকেই। অনেক দিন ধরেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন ঠিক, কিন্তু সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারদের দলে আছেন কাকাও। তা হতে পারে, কিন্তু ব্রাজিল কোচ মানো মেনেজেসের প্রথম ঘোষিত দলে এঁদের স্থান নেই।
১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মেনেজেসের প্রীতি ম্যাচের দলে আসলে জায়গা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলা বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই। লুসিও, হুলিও সিজার, লুইস ফ্যাবিয়ানো...প্রায় সবাই পড়ে গেছেন বাতিলের খাতায়। কার্লোস দুঙ্গার বিশ্বকাপ দল থেকে মেনেজেসের দলে ঠাঁই পেয়েছেন মাত্র চারজন—রবিনহো, রামিরেস, দানি আলভেজ ও থিয়াগো সিলভা।
অনেকেই হয়তো মেনেজেসের শুরুটাকে দুঙ্গার সঙ্গে মেলাতে চাইবেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব পেয়ে দুঙ্গা যে দল দিয়েছিলেন, তাতে কাটা পড়েছিলেন সেই বিশ্বকাপে খেলা রোনালদো-রবার্তো কার্লোসদের মতো বড় তারকারা। এবারও হলো তাই।
তবে এমন ভাবাটা মনে হয় ভুলই হবে। কারণ দুঙ্গা ব্রাজিলকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের স্বাভাবিক ‘সুন্দর ফুটবল’ থেকে। আর মেনেজেসের কণ্ঠে ব্রাজিলের সেই ‘সুন্দর ফুটবল’ ফিরিয়ে আনার কথা, ‘জয়ের অনেক পথই আছে। সব পথেই শ্রদ্ধা আছে আমার। তবে ব্রাজিলের মানুষ যা চায়, সেই সুন্দর ফুটবল খেলে যদি জয় পাওয়া যায়, সেটা হবে দারুণ। আমি সেই চেষ্টাই করব।’ মেনেজেসের ঘোষিত প্রথম দলটাতেও আছে এই কথার প্রতিফলন।
ব্রাজিলের সাবেক তারকাদের অনেক অনুরোধের পরও সান্তোসের দুই তরুণ তুর্কি পাওলো হেনরিকে গানসো ও নেইমারকে বিশ্বকাপের দলে রাখেননি দুঙ্গা। মেনেজেস তাঁর দলে রাখলেন দুজনকেই। আর মাইকনের বিকল্প হিসেবে দলে নিয়েছেন আরেক তরুণ ডিফেন্ডার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রাফায়েলকে।
তরুণ খেলোয়াড় আরও আছে মেনেজেসের দলে। তাঁর দলের ১১ জনই আছেন ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে অভিষেকের অপেক্ষায়। এমনিতেই তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার সফল সমন্বয় ঘটাতে পারার সুনাম আছে মেনেজেসের, এর সঙ্গে তাঁর ওপর বর্তেছে ২০১২ অলিম্পিক ফুটবলের দায়িত্বও। সেটা মাথায় রেখেই তারুণ্যের প্রতিই হয়তো বেশি ঝুঁকেছেন তিনি।
তবে তারুণ্যের প্রতি জোর দিতে গিয়ে অভিজ্ঞতার বিষয়টি ভুলে যেতে চান না মেনেজেস। সেটা যদি না চান, তাহলে কাকা, লুসিও, সিজারদের বাদ দিয়ে দল গড়লেন কেন? মেনেজেসের উত্তর, ‘এখন গুছিয়ে ওঠার সময়। এ সময় তাদের ডাকার প্রয়োজন নেই বা এটা ভালোও নয়। আর এখন তো কেবল শুরু। আমাদের সামনে তাকানোর সময়, পেছনে কী হয়েছে বা হয়নি সেদিকে নয়।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।

ব্রাজিল দল
গোলরক্ষক: জেফারসন, রেনান, ভিক্টর। ডিফেন্ডার: আন্দ্রে সান্তোস, দানি আলভেজ, মার্সেলো, রাফায়েল, ডেভিড লুইস, হেনরিকে, রেভার, থিয়াগো সিলভা। মিডফিল্ডার: কার্লোস এদুয়ার্দো, এডারসন, পাওলো হেনরিকে গানসো, হার্নানেস, জুসিলেই, লুকাস, রামিরেস, সান্দ্রো। ফরোয়ার্ড: আলেক্সান্ডার পাতো, আন্দ্রে, ডিয়েগো টারডেল্লি, নেইমার, রবিনহো।

আর্জেন্টিনার নতুন দলে ভেরন নেই

ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই আর্জেন্টিনার নতুন দলের যাত্রা শুরু হলো। ১১ আগস্ট আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য পরশুই ২৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সার্জিও বাতিস্তা।
ম্যারাডোনার সাবেক সতীর্থ বাতিস্তা অবশ্য ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ দলে বিশাল কোনো পরিবর্তন আনেননি। যে হাভিয়ের জানেত্তি, এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোকে দলে না নেওয়ায় সমালোচিত হয়েছিলেন ম্যারাডোনা; বাতিস্তার দলেও তাঁদের জায়গা হয়নি। ডাক পাননি ম্যারাডোনাকে উপেক্ষা করা মিডফিল্ডার হুয়ান রোমান রিকেলমেও।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ২৩ সদস্যের আর্জেন্টিনা দলের ৬ জন বাদ পড়েছেন। বাদ পড়াদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিশ্চয়ই হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন। বর্তমান দলটা ২৪ সদস্যের হওয়ায় যোগ হয়েছে নতুন সাতজন খেলোয়াড়। এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার ফার্নান্দো গ্যাগো। ম্যারাডোনার প্রিয়পাত্র হয়েও কেন বিশ্বকাপ দলে গ্যাগো জায়গা পাননি, এ নিয়ে সে সময় অনেক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাতিস্তার দলে গ্যাগো ছাড়াও ডাক পেয়েছেন এসপানিওলের মিডফিল্ডার জেসাস দাতোলো, ভ্যালেন্সিয়ার মিডফিল্ডার এভার বানেগা, ম্যানসিটির ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার পাবলো জাবালেতা, ফিওরেন্টিনার ডিফেন্ডার এমিলিয়ানো ইনসুয়া ও নিউক্যাসল ডিফেন্ডার ফ্যাব্রিসিও কোলোচিনি।
মেসি, তেভেজ, হিগুয়েইন, আগুয়েরো, মিলিতোর মতো তারকাখচিত আক্রমণভাগের সঙ্গে যোগ হয়েছেন নাপোলির স্ট্রাইকার এজেকুয়েল লাভেজ্জি। আক্রমণভাগ থেকে বাদ পড়েছেন ‘প্রবীণ’ মার্টিন পালের্মো।
এ ছাড়া বিশ্বকাপ দলে থাকা গোলরক্ষক ডিয়েগো পোজো বাদ পড়েছেন। ডিফেন্ডার অ্যারিয়েল গ্রেস, নিকোলাস ওটামেন্ডি ও ক্লেমেন্তে রদ্রিগেজের জায়গা হয়নি বাতিস্তার দলে।

প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থানে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে মরগান ও কলিংউডের ব্যাটে ভর করে প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান সংগ্রহ করেছে ইংল্যান্ড। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক এন্ড্রু স্ট্রস।মোহম্মদ আমির আর মোহম্মদ আসিফের দুর্দান্ত বোলিং-এ ইনিংসের শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। দলীয় ৪২ রানে মোহম্মদ আমিরের বলে ইমরান ফারহাতের হাতে ধরা পড়েন কুক। ইংল্যান্ড স্কোরবোর্ডে আর ৫১ রান যোগ করে আবারো আমিরের শিকারে পরিণত হন আরেক ওপেনার এন্ড্রু স্ট্রস। ১১৬ রানের মাথায় পিটারসনকে বোল্ড আউট করে ফেরত পাঠান মোহম্মদ আসিফ।মাত্র ১১৮ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে অল্প রানেই গুটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখাতে থাকেন পাকিস্তানি বোলাররা। কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে ২১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে পাকিস্তানের সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেন কলিংউড ও মরগান। দিনশেষে কলিংউড ৮১ রানে ও মরগান ১২৫ রানে অপরাজিত আছেন।