Tuesday, April 8, 2014

পৌনে তেরো আনাই খাদ by সৈয়দ আবুল মকসুদ

১০০ বছর আগে সুনামগঞ্জের মরমি পল্লিকবি রাধারমণ দত্ত লিখে গেছেন গানটি। বহুদিন পর তাতে সুরারোপ করেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। জনপ্রিয় গানটি হলো:
যে জন প্রেমের ভাব জানে না,
তার সঙ্গে নাই লেনাদেনা;
খাঁটি সোনা ছাড়িয়া যে নেয়
নকল সোনা,
সে জন সোনা চেনে না।

বিজেপির আদর্শিক টানাপোড়েন by অমূল্য গাঙ্গুলি

প্রথম দফা নির্বাচন শুরুর প্রথম দিনেও কেন বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে পারল না? নরেন্দ্র মোদির জন্য এই ব্যর্থতা খুবই লজ্জার ব্যাপার। দলটির দৃষ্টিভঙ্গি যে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে, এটা শুধু তাই-ই বোঝাচ্ছে না, মোদিকে নিয়ে বিজেপির ‘ওয়ান ম্যান শো’ ঠিকঠাক চলছে না। নরেন্দ্র মোদির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ফাটলের লক্ষণ এটি। ইশতেহার প্রকাশিত হতে না পারা মোদির উন্নয়নবাদী গোষ্ঠী আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) সমর্থিত বিজেপির হিন্দুত্ববাদীদের দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।

আমাদের সিন্দুকভরা ডলার by ফারুক মঈনউদ্দীন

প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধি বোঝাতে একসময় গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ আর গোয়ালভরা গরু—এমন অবস্থাকেই বোঝানো হতো। সেই অতি সরল সমৃদ্ধির মাপকাঠিটা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে, উপচে পড়া সম্পদ আগলে বসে থাকা এখন আর অর্থনৈতিক সুবিবেচনার পরিচয় বহন করে না। কয়েক বছর ধরে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সিন্দুকভরা এই ডলার নিয়ে আমরা কী করব, আমাদের কতখানি মজুত থাকা উচিত—এসব প্রশ্ন উঠে আসছে বিভিন্ন আলোচনায়। ইতিমধ্যে (ফেব্রুয়ারি ২০১৪) আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, এই প্রবণতায় জুন নাগাদ দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আনোয়ার ইব্রাহিমের মুক্তির জন্য ছিনতাই হয়েছে নিখোঁজ বিমান!

ব্ল্যাক বক্সের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সঙ্কেত পাওয়া গেছে। মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানের অনুসন্ধানকারী দল গতকাল এ কথা নিশ্চিত করেছে। তারা এখন নিশ্চিতভাবে ধরে নিচ্ছেন ওই সঙ্কেত কোন ব্ল্যাক বক্স থেকে আসা। তবে তা যে নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০-এর ব্ল্যাক বক্স থেকে আসছে কিনা সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেন নি। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ওই সঙ্কেত নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্সের।

আলোকিত মানুষ হওয়ার শিক্ষা চাই: প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আলোকিত মানুষ হওয়ার শিক্ষা চাই। সার্টিফিকেটস্বর্বস্ব শিক্ষা নয়, নোট মুখস্থ করে পাস করার শিক্ষা নয়, সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব গড়ার শিক্ষা চাই। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত ৪৮তম সমার্বতনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি চর্চায় ছাত্র সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি জ্ঞাননির্ভর ঐতিহ্যকে লালন করতে গবেষণার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষে মানুষে সম্মিলন ঘটানোর শিক্ষাই আমরা চাই। শিক্ষার সঙ্গে মননশীলতার সংযোগ ঘটাতে হবে।

এষা দেউল ফিরছেন

বেশ রাজকীয়ভাবেই নিজের ক্যারিয়ার বলিউডে শুরু করেছিলেন হেমা মালিনী কন্যা এষা দেওল। কিন্তু সেই অবস্থা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। প্রথমদিকে ধারাবাহিকভাবে তার কয়েকটি ছবি ব্যবসা সফলতা পেলেও পরবর্তীতে তা অব্যাহত থাকেনি।

খালেদার অর্থসঙ্কটে সহৃদয় মন্ত্রীরা! by দীন ইসলাম

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অর্থাভাবে প্রায় তিন বছর বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না- একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এমন সংবাদে সহানুভূতিশীল হয়েছেন মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচিত হয়। কয়েক জন সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রীরা খালেদা জিয়ার অর্থাভাব নিয়ে আলোচনা করলেও ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চুপ ছিলেন। কোন কিছু বলেননি। মন্ত্রিপরিষদের কয়েক সদস্য মত দেন, বিষয়টিকে সামনে এনে খালেদা জিয়া  দেশের মানুষের সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। তার এ বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে। তাই খতিয়ে দেখা দরকার।

ভারতেই ফেঁসে যাচ্ছেন দেবযানী!

দেবযানী খোবরাগাড়ে
ভারতের আলোচিত কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)। আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্ত সংস্থাটি এই মামলা করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আদর্শ হাউজিং সোসাইটি কেলেঙ্কারি ভারতের আলোচিত কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে অন্যতম। আবাসন প্রকল্পটি নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয় বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। সিবিআই দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে। সূত্র জানায়, আলোচিত কূটনীতিক দেবযানী ও তাঁর বাবা উত্তম খোবরাগাড়ে মিথ্যা তথ্য দাখিল করে ওই আবাসন প্রকল্প থেকে একটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এনডিটিভি ও পিটিআই।

বিজেপির ‘এক নেতা এক মডেল’ ফলপ্রসূ হবে না: রাহুল

রাহুল গান্ধী
বিজেপির নেতা ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘এক নেতা, এক মডেল’ কৌশল নিয়ে মোদি জনগণকে বিশ্বাস করাতে চাইছেন, তাঁর কাছে সব সমস্যার জবাব রয়েছে। কিন্তু এতে কাজ হবে না। কারণ, জনগণ এখন অনেক বেশি ওয়াকিবহাল। কেরালা রাজ্য সফররত রাহুল চেনগানুর শহরে গত শনিবার এক জনসভায় বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশে বিজেপির বিলম্ব প্রমাণ করে, দলটি জনগণকে নিয়ে বিব্রত। তাদের বিশ্বাস, একজন ব্যক্তির কাছে সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।
তিনি নিজেকে সবজান্তা ভাবেন এবং কারও কথা শুনতে আগ্রহী নন। কংগ্রেস সব স্তরের মানুষের ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই কংগ্রেস নারী, তরুণ ও দলিত সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে ছয় মাসব্যাপী কাজ করে একটি জনমুখী ইশতেহার দিয়েছে। রাহুল দাবি করেন, তাঁর দল কংগ্রেস একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করে না, বরং জনগণের সামগ্রিক আস্থা অর্জন করতে চায়। কংগ্রেসের সহসভাপতি বলেন, বিজেপির অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিতে দরিদ্রদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে ধনীদের হাতে তুলে দেওয়ার ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পিটিআই।

কংগ্রেস, এসপি ও বিএসপি পাতানো কুস্তি লড়ছে: মোদি

নরেন্দ্র মোদি
কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সমালোচনা করে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার জন্য ওই তিনটি দল উত্তর প্রদেশ রাজ্যে ‘পাতানো লড়াইয়ে’ লিপ্ত হয়েছে। এটি অনেকটা টেলিভিশনে প্রদর্শিত কুস্তির (রেসলিং) মতো। উত্তর প্রদেশের বিজনোরে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণে মোদি বলেন, দেশে পরিবর্তনের নাম করে কংগ্রেস, এসপি ও বিএসপি জনগণকে বিপথে পরিচালিত করছে। তাদের শাসনে ইতিমধ্যে জনসাধারণের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। কিন্তু মানুষ এবারের নির্বাচনের আগেই পরিবর্তনের আওয়াজ তুলেছে।
বিজেপি ও এনডিএকে একটি শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, শিক্ষক দুর্বল হলে শিশুরাও বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। তাই দেশকে একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। বিজেপিকে অন্তত ৩০০টি আসন পেতে সহায়তা করুন। ‘নির্বাচনের পরে কারও সমর্থন লাগবে না বিজেপির’: বিজেপির সাবেক সভাপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তাঁর দল ২৫০টির বেশি আসনে জয়ী হবে। কাজেই নির্বাচনের পরে তৃণমূল কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলের সমর্থন বিজেপির প্রয়োজন হবে না। পিটিআই।

মোদিকে হারাতে এককাট্টা?

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বারানসি আসনে লড়ছেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ও গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো ধোঁয়াশা-ই রয়ে গেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণায় এই দীর্ঘসূত্রতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা মোদির বিপক্ষে ওই আসনে লড়াই নিয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দলগুলো সম্ভাব্য কী পরিকল্পনা আঁটছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। বারানসিতে আগেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আঞ্চলিক দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। তবে সূত্রগুলো বলছে, তার অর্থ এই নয়, সেখানে মোদিকে রুখতে ওই দুটি দল ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার ব্যাপারটি একেবারে অসম্ভব হয়ে গেছে। বরং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠিন একটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতেই কংগ্রেস সেখানে প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্ব করছে বলে মনে হচ্ছে। কংগ্রেস সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই আসনে দলের পছন্দ দুজনের যেকোনো একজন। তাঁরা হলেন, অজয় রায় ও সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য রাজেশ মিশ্র।
দুজনই স্থানীয় মানুষ। তবে চূড়ান্তভাবে যিনিই মনোনীত হোন না কেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনেক সময় লাগবে—এই বাস্তবতা জেনেও কংগ্রেস এখনই প্রার্থী ঘোষণা দিচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস, বিএসপি ও এসপির মধ্যে তলে তলে সমঝোতা একটা আছে। তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোন রাজনীতিকের প্রতি কোন জাতের মানুষের সমর্থন কেমন, সেটি আমলে নিতে পারেন। এর মাধ্যমে যতটা সম্ভব মোদিকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে তারা। এসপি ও বিএসপির দুই প্রার্থী স্থানীয় বিভিন্ন উপজাতির সমন্বয়ে গঠিত সর্ববৃহৎ সম্প্রদায় বৈশ্য গোত্রীয় সদস্য। এই সম্প্রদায়ের লোকজন মোদির প্রতি সাহানুভূতিশীল বলেই পরিচিত। আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও একই সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনিও বারানসিতে মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। মোদির বিরুদ্ধে বারানসিতে বিজেপির বাইরের দলগুলোর ‘যৌথ প্রার্থী’ দেওয়ার কথাও উঠেছিল। তবে তা হালে পানি পায়নি। তার মূল কারণ হচ্ছে, এসব দল নিজেদেরকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী-বিমুখ হিসেবে তকমা পেতে চায় না।
সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, বারানসিতে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে গতকাল রোববারই কংগ্রেসের বৈঠক করার কথা ছিল। অজয় রায় বা রাজেশ মিশ্রকে সেখানে প্রার্থী করার ক্ষেত্রেও জাতের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। অজয় স্থানীয় ভূমিহর সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ। ওই আসনে এই সম্প্রদায়ের লোকজনের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো। আর রাজেশকে কংগ্রেসের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখার কারণ হচ্ছে, তাঁর ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের ভোট বারানসি আসনে জয়ের জন্য বিরাট গুরুত্ব বহন করে। স্থানীয় কংগ্রেসের একটি অংশ চাইছিল, মোদির বিরুদ্ধে বারানসিতে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে ও সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রার্থী দেওয়া হোক। মোদির বিরুদ্ধে প্রিয়াঙ্কা-ই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন বলে তাদের মত। তবে এই আবেদন শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে টেকেনি। কারণ, কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করে, প্রিয়াঙ্কাকে এত বড় দায়িত্বে বসালে, তা তালগোল পাকিয়ে দিতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

কেমন হলো উপজেলা নির্বাচন?

নানাবিধ অনিয়ম ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন। মোট ৪৫৮টি উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে বিভিন্ন কারণে আরও ২২টি উপজেলার নির্বাচন এখনো অসমাপ্ত। এটি ছিল চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি প্রায় ১৭ বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৃতীয় নির্বাচন। শাসনব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের অন্যতম প্রধান স্তর হতে পারে উপজেলা পরিষদ। বিগত প্রায় তিন দশকে উপজেলা পর্যায়ে বহু অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণেরও কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় হলেও সব দলের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে সব দলই উপজেলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মনে করছে। এটা এ দেশের শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতির বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে বড় পদক্ষেপ। এই কারণে উপজেলা নির্বাচন যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। এবারের গুরুত্ব ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশের এবং ফলাফলের প্রেক্ষাপটে, যেখানে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দল বিএনপি ও তার শরিকেরা এতে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশন পাঁচ ধাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এর কারণ, দুই জোটের বা দলের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে কিছু কিছু অনিয়ম হলেও বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের অগ্রগামী থাকা চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয় সরকারি দল এবং সমর্থিত প্রার্থীদের। বস্তুত সেখান থেকেই শুরু হয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা আর সার্বিক অনিয়ম। বাকি দুটি ধাপে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে প্রাণহানি হয় ডজন খানেক ব্যক্তির।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। সমালোচনার মুখে পঞ্চম ধাপে কৌশল পরিবর্তন করতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া হয় নির্বাচন-প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার প্রক্রিয়া এবং এতে যোগ দেন নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দৃশ্যত নির্বাচন ব্যবস্থাপক নির্বাচন কমিশন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সমালোচনার মধ্যে নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে, কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসন অসহযোগিতা করেছে। তাদের এ ধরনের অভিযোগও অভূতপূর্ব। কারণ, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া রয়েছে। এমনকি শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে কমিশনের এখতিয়ারে। আইনের আওতায় নির্বাচনকালের পরেও প্রায় দুই সপ্তাহ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের আওতায়ই থাকেন। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ নয়, নির্বাচন কমিশন যাদের সহযোগিতা পায়নি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধি প্রয়োগ করা উচিত ছিল। এ আইন সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই প্রয়োগ করতে হবে, কারও মাধ্যমে নয়। যেকোনো নির্বাচন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তিনটি উপাদান বিবেচনায় আনতে হয়। প্রথমত, কৌশল নির্ধারণের জন্য সার্বিক বিবেচনা। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের ধরন, ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীদের চরিত্র, পূর্বতন অভিজ্ঞতা এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদির মূল্যায়ন অত্যাবশ্যক, অন্যথায় আমাদের মতো দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। দ্বিতীয়ত, প্রস্তুতি ও উপকরণের সমাহার করা। এ ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের প্রশাসন, সচিবালয়ের। প্রস্তুতি ও উপকরণের সমাহার ঘটানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যথেষ্ট যোগ্য। তৃতীয়ত, ব্যবস্থাপনা। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব সদস্যের মাঠপর্যায়ে বিন্যাস, পরিবেশ সৃষ্টি, সমতল ক্ষেত্র তৈরি করা, নির্বাচনী আইনের প্রয়োগে ভোটারদের ভোট নিশ্চিতকরণ এবং ভোট গ্রহণের দিন সার্বিক ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখা। ওপরের আলোচনার নিরিখে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন বিশ্লেষণ করলে দুটি উপাদানে যথেষ্ট অপরিপক্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমত, নির্বাচনের পরিকল্পনার আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচনা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পূর্বতন অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে পরিবেশ সামাল দেওয়ার পন্থা অবলম্বন করা যেত। হয়তো সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে অপরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে নির্বাচন না করে তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনের মতো সিংহভাগ উপজেলার নির্বাচন একধাপে সম্পাদন করা যেত।
আইনগত বা অন্য কারণে কিছু উপজেলা বাদ পড়লে সেগুলোতে ভোট গ্রহণ করা যেত পরবর্তী পর্যায়ে। ধাপে ধাপে করতে গিয়ে পরিকল্পনায় যে ত্রুটি দৃশ্যমান হয়, তা হলো আঞ্চলিক বা বিভাগীয় পর্যায়ে ধাপ নির্ণয় না করে একই জেলায় কয়েক ধাপে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হয়েছে। ধাপে ধাপে নির্বাচনের যে সুবিধা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি, তাও খুব কার্যকর দেখা যায়নি। সেনাবাহিনী নিয়োগ করলেও তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়নি। কারণ, ফৌজদারি বিধিতে নিয়োগ আর নির্বাচনী আইনের আওতায় নিয়োগের মধ্যে প্রক্রিয়াগত অনেক তফাত রয়েছে। সে কারণে চতুর্থ ধাপ নির্বাচনের আগে সিআরপিসির ধারা ১৩১-এর উল্লেখ করে চিঠি দিতে হয়েছে। উল্লিখিত ফৌজদারি ধারার আঙ্গিকে নির্বাচনী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক। এত স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনীর পরেও নির্বাচনে নিয়োজিত কেন্দ্র ও বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেশ কিছু জায়গায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের বাহিনী নিয়োগ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতাও পরিলক্ষিত হয়। অবশ্য নির্বাচন কমিশন এখন স্বীকার করেছে যে ধাপে ধাপে নির্বাচনের পরিকল্পনাই সঠিক ছিল না। দ্বিতীয় উপাদান নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান শৈথিল্যের কারণে ক্রমেই নির্বাচনে সহিংস ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে দুটি উপজেলা এবং মোট ১১৭টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়, তথাপি এই পরিসংখ্যান হিমশৈলের দৃশ্যমান অংশমাত্র। ব্যাপক সহিংসতা ও অনিয়ম ঘটা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। কয়েকটি উপজেলায় নির্বাচনী পরিবেশ যে একেবারেই ছিল না,
তা নির্বাচনপূর্ব সময়ে মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচিত হলেও সেগুলো কমিশন আমলে না নেওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে। পৃথিবীর কোনো দেশে শতভাগ বিশুদ্ধ নির্বাচনের দাবি করা যায় না। তবু কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে ১৯৯১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোর ব্যবস্থাপনার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল। ওই সব নির্বাচনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটলেও তা প্রকট ছিল না। ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সর্বস্তরের নির্বাচনে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও এতটা ব্যাপক ছিল না। ২০০৯ সালের তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করলেও এ বক্তব্যের সত্যতা মিলবে। ওই নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার কারণে ভোট গ্রহণের আগের রাতে দুটি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অপর দিকে নির্বাচনের দিন কারচুপি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চারটি উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মিডিয়া ও অন্যান্য সূত্রে অনিয়মের অভিযোগে ১৬টি উপজেলার ফলাফলের গেজেট স্থগিত করা হয়। ৪৮টি কেন্দ্রসহ স্থগিতের কারণ নিরূপণে বিচারিক হাকিমের তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই মাস তদন্ত করা হয়েছিল। একটি কেন্দ্র স্থগিতের নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে পরবর্তী পর্যায়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। অবশেষে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার সমর্থন করে রায় দিলে ওই কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থান দৃঢ় করতে পেরেছিল।
পরবর্তী সময়ে অন্যান্য নির্বাচনে তেমন বেগ পেতে হয়নি। পরিশেষে উল্লেখ করতে হয়, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের তর্কিত পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব ব্যাপকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপরই বর্তায়। এত কিছুর পরেও আশা করা যায়, নির্বাচন ব্যবস্থাপক সংস্থা নির্বাচন কমিশন নিকট অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিলে হয়তো আগামী নির্বাচনগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারবে। কিছুটা হলেও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে। সামনে পৌরসভা ও সবচেয়ে জটিল ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখনই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার প্রত্যয় কিছুটা হলেও প্রকাশ পাবে। অন্যথায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় যে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়েছে, তা আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হবে এবং সার্বিকভাবে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সংস্কৃতির অবনতির যে পরিণতি হবে, তা সুখকর হওয়ার নয়। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান শুধু নির্বাচন কমিশনের একক বিষয় নয়; সব রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়দায়িত্বই বেশি। আমরা আশা করি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।
এম সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক নির্বাচন কমিশনার, কলাম লেখক।
hhintlbd@yahoo.com

বিড়াল দশতলার ছাদে উঠছে

লেখার বিষয় এত বেশি যে, ঠিক করতে পারি না কী নিয়ে লিখব। আজ মনে হলো পাঠকের সঙ্গে একটু হালকা আলাপই করি। নইলে সম্পর্কই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। নারী জাতি কেন বিড়ালকে এত পছন্দ করে, এই নিয়ে মনীষীরা অনেক ধন্দে থাকেন। কারণ, একটি পুরুষের যেসব গুণকে তারা ঘৃণা করে, তার প্রায় সবই বিড়ালের মধ্যে আছে। সে স্বাধীন থাকতে ভালোবাসে এবং কারও কথা শোনে না। ডাকলে কাছে আসে না, বাইরে রাত কাটাতে পছন্দ করে এবং যখন বাড়ি ফেরে, তখন একা থাকাটাই তার পছন্দ, এবং সে ঘুমাতে খুব ভালোবাসে। বিড়াল হলো বাঘ-সিংহের আত্মীয়, তাই হয়তো ওর অহংবোধ অত্যন্ত বেশি। আলাদা একটা ভাব নিয়ে থাকতে পছন্দ করে সে। ওর চালচলনে খেয়াল করেছেন না, রয়েছে কেমন একটা রাজকীয় ঢং? নিমকহারামও বটে এই মার্জার জাতি। আমার নানি বলতেন, বিড়ালকে কখনো বিশ্বাস করিস না। ওরা নিমকহারাম। কুকুর সব সময় সৃষ্টিকর্তাকে বলে—প্রভু, আমার গৃহকর্তাকে আরও ধনসম্পদ দাও, আমি খেয়েদেয়ে সুখে থাকি; আর বিড়াল বলে—হে প্রভু, আমার গৃহকর্তাকে অন্ধ করে দাও, আমি তার পাতের মাছটা যেন অনায়াসে খেতে পারি। ওদের নিমকহারামির একটি ঘটনা বলি, শোনেন। আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের আগে একটি বিড়াল খুঁজে আনা হলো, তাকে পোষ মানিয়ে অভিনয়ও করাল বিপাশা। কিন্তু তার পরই একদিন হঠাৎ কী জানি কী কারণে খামচে-খুমচে একাকার করে পালাল সে।
বোধ হয় সিনেমায় অভিনয় করাটাই তার উদ্দেশ্য ছিল। সেটা হাসিল হতেই পলায়ন! বিড়াল নিয়ে এত আলাপ-আলোচনার কারণটা বলি। ইদানীংকালে আমি একটা কাজ উপলক্ষে ঘুরে বেড়ালাম দেশের সমগ্র উত্তরাঞ্চল, তারপর ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২ এপ্রিল, যশোরে। ভোরে ঘুম ভেঙে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েই দেখি আমার দিকে তাকিয়ে আছে একটা কালো বিড়াল। গা-টা ছমছম করে উঠল, যদিও এসব মানি না; তার পরও মনটাতে কু-ডেকে উঠল। সন্ধ্যায় কাজ সেরে ফরিদপুরের দিকে রওনা হয়েছি, মোবাইল ফোনে কল এল: ফরিদপুরের এলজিইডি রেস্টহাউসে মন্ত্রী উঠেছেন দলবল নিয়ে। আমাদের জায়গা হবে না। তারপর বেশ বেগ পেতে হয়েছে রাতে থাকার ব্যাপারে। বেটা অশুভ বিড়াল, তারও কদর কত মানুষের কাছে! বিড়ালের অসাধারণ গুণের কথা শোনেন। এক ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীর বিড়াল-প্রেমে বিরক্ত হয়ে বিড়ালকে ব্যাগে পুরে শহরের ভিড়ে ফেলে দিয়ে এলেন। বাড়ি ফিরে দেখেন, বিড়াল তাঁর আগে বাড়ি ফিরেছে। পরদিন দূরের এক শহরে ছেড়ে দিয়ে এলেন, সেদিনও বিড়াল আগে বাড়ি এসে হাজির। তার পরদিন দূরে পাহাড়ের পেছনে জঙ্গলে ছেড়ে দিলেন। কিছুক্ষণ পর বাসায় ফোন স্ত্রীকে: ‘হারামজাদা বিড়ালটাকে ফোনটা দাও তো, আমাকে বাড়ি ফেরার রাস্তা বাতলে দেবে।’ আর একটি গল্প। এক ভদ্রলোককে বাগানে গর্ত করতে দেখে পাশের বাড়ির ভদ্রলোক জানতে চান, তিনি কী করছেন।
‘আমার গোল্ডফিশটা মারা গেছে, ওকে কবর দেব।’
‘তার জন্য এত বড় গর্ত কেন?’
‘কারণ ওটা তো আপনার বিড়ালের পেটে রয়েছে।’ এক ভদ্রলোকের প্রাণপ্রিয় বিড়ালের মৃত্যুর কাহিনি দিয়ে শেষ করি কড়চা। ভদ্রলোক বিদেশে গিয়েছেন কাজে। তাঁর কেয়ারটেকারের কাছ থেকে মেসেজ পেলেন—‘স্যার, আপনার বিড়ালটা মারা গেছে।’ তিনি এই সংবাদে খুবই মর্মাহত হলেন এবং এভাবে সংবাদটা দেওয়ার জন্য বাড়ি ফিরে কেয়ারটেকারকে ভালো করে বোঝালেন, ‘শোনো, এভাবে কখনো প্রিয়জনের মৃত্যুর সংবাদ দিতে নেই, তাতে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যেমন, দুঃখে আমার স্ট্রোক হয়ে যেতে পারত। আমি মারা যেতে পারতাম অথবা সারা জীবন পঙ্গু হয়ে থাকতাম স্ট্রোকের কারণে।’ ‘তাহলে এ ধরনের সংবাদ কীভাবে দেব, স্যার?’ জানতে চাইল কেয়ারটেকার। ‘ধীরেসুস্থে দিতে হয়। যেমন, প্রথমে তুমি একটা মেসেজে বলতে পারতে—স্যার, আপনার প্রিয় বিড়ালটা দশতলার ছাদে উঠেছে, কিছুতেই নামছে না। পরের মেসেজে বলতে পারতে, স্যার, বিড়ালটা দশতলার ছাদ থেকে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে। শেষ মেসেজে বলতে পারতে, স্যার, পারলাম না তাকে বাঁচাতে। বুঝেছ?’
‘জি স্যার।’ বিজ্ঞের মতো মাথা ঝাঁকায় কেয়ারটেকার। এর কিছুদিন পর আবার বিদেশ গেছেন ভদ্রলোক। এবার তিনি কেয়ারটেকারের কাছ থেকে মেসেজ পেলেন— ‘স্যার, আপনার আম্মা দশতলার ছাদে উঠেছেন, কিছুতেই নামছেন না।’ বাংলাদেশে চতুর্থ দফার উপজেলা নির্বাচনের পর বলা যায়, আমাদের নির্বাচন কমিশন দশতলার ছাদে উঠছে।
আবুল হায়াত: নাট্যব্যক্তিত্ব।