Friday, November 8, 2024

সেন্টমার্টিন নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টার বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক : স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি

নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ (সেন্টমার্টিন) নিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টার বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক ও বাস্তবতা বিবর্তিত বলে মন্তব্য করেছে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ (সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ছাত্র আন্দোলন)।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপে যাতায়াত ও অবস্থানে সরকারি বাধা দেশের সাবভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে’ ব্যানারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা এমন মন্তব্য করেন। তারা পরিবেশ উপদেষ্টাকে বাস্তবসম্মত এবং দেশ ও জনগণের পক্ষ হয়ে কথা বলার আহ্বান জানান।

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক ঢাবি শিক্ষার্থী মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বিদেশি জার্নালের রেফারেন্স টেনে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেছেন, পর্যটকরা কোরাল তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাই ২০৪৫ সালের মধ্যে নাকি সকল কোরাল ক্ষয় হয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ (নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ) ডুবে যাবে। পরিবেশ উপদেষ্টার এই কথা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অবৈজ্ঞানিক। উপদেষ্টা মহোদয় কখনও দ্বীপে গিয়েছেন কি না, অথবা গিয়ে কখনও এসব জানার চেষ্টা করেছেন কি না সেটা আমরা জানি না। তবে গিয়ে থাকলে এমন অবাস্তব কথা তিনি বলতে পারতেন না।

তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে- দ্বীপের কোরালগুলো অনেক বড়, অনেক ওজন, অনেক ধারালো এবং পানির অনেক নিচে থাকে যেগুলো মানুষের পক্ষে তুলে আনা সম্ভব নয়। কোরাল নিয়ে আসা তো দূরের কথা, জীবন্ত কোরালে হাত দিলেই হাত কেটে যায়। কথিত বিদেশি জানান কিংবা পরিবেশবাদীদের কোরাল নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যে বক্তব্য যেটি অসত্য ও মিথ্যা প্রচারণা। মূলত প্রাকৃতিক কারণেই কিছু কোরাল মারা যায়। আবার নতুন কোরাল জন্মায়। পর্যটকদের কেউ কেউ সাগরে ভেসে ওঠা সেই মৃত কোরাল অনেক সময় নিয়ে আসেন যেটাতে দ্বীপ কিংবা পরিবেশের ক্ষতি নয় বরং উপকার হয়, সাগর পরিচ্ছন্ন থাকে। তারপরেও সেসব মৃত কোরাল আনার ব্যাপারে যদি নিষেধাজ্ঞা থাকে যেটা সরকারিভাবে বাস্তবায়ন করলেই সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যা অজুহাতে দ্বীপে যাওয়া ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার রহস্য জনগণ জানতে চায়।

জিয়াউল আরও বলেন, নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ শুধু কোরাল দিয়েই তৈরি নয়, শক্ত পাথর দিয়েও তৈরি। কোরাল নয়, শক্ত পাথরই এর মূল ভিত্তি। তাই কোরাল যদি তুলেও নেওয়া হয়, তবুও পাথরের ভিত্তির উপর দ্বীপ টিকে থাকবে। কাজেই ‘২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপ হারিয়ে যাবে’ বিদেশি জার্নালের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, কল্পনাপ্রসূত এবং এটাকে কন্সপিরেসি থিউরি (ষড়যন্ত্র তত্ত্ব) বললে অত্যুক্তি হবে না। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণেই নারিকেল দ্বীপ ২০৪৫ সালের মধ্যে তলিয়ে যাবে মর্মে বিদেশি জার্নালের যেই বক্তব্য প্রচার হচ্ছে সেটি পরিবেশবাদীদের সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। সেখানে গবেষক টিমে কারা ছিল, তারা কোন মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ তাদের গবেষণাটি কতটুকু সঠিক কিংবা বায়াসড ছিল, তাদের ফান্ডিং করেছে কোন সংস্থা, তাদের উদ্দেশ্য কী, রিসার্চের মেথডোলজি কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত ছিল, মাঠ পর্যায়ে কয়দিন গিয়েছে, কী কী বিষয়ের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে, কার কার বক্তব্য নিয়েছে, যাদের বক্তব্য নিয়েছে তারা কারা অর্থাৎ কথিত বিদেশিদের গবেষণার সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে- এসব কিছুই খতিয়ে না দেখে দুএকটি বিদেশি জার্নালের রেফারেন্সে দেশীয় শিল্প বন্ধ করে দেওয়া হলো, আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে দিয়ে দ্বীপবাসীদের চরম মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হলো। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাচ্ছি, পরিবেশ উপদেষ্টা বিদেশি পরামর্শে চলছেন কিন্তু দেশের মানুষের পরামর্শ ও দাবি-দাওয়াকে পাত্তা দিচ্ছেন না। বিদেশি জার্নালের পরামর্শে তিনি নিজ দেশের পর্যটন শিল্প ও দ্বীপবাসীকে একটা মারাত্মক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। যেটা কোনো দেশপ্রেমিক মানুষের কাজ হতে পারে না।

পরিবেশ উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জিয়াউল হক বলেন, পরিবেশবাদীরা বলছে, দ্বীপের কোরাল ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, কোরাল ক্ষয় হয় না, বরং প্রতি বছর গড়ে প্রায় ০.৫-২.৮ সে.মি. হারে বৃদ্ধি পায়। দ্বীপে সরেজমিনে দেখা যায়, মৃত কোরাল জমে দ্বীপের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ উপদেষ্টা বলছেন, কোরাল ক্ষয়ে নাকি দ্বীপ হারিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে বিজ্ঞান ও বাস্তবতার মিল পাওয়া যায় না।

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ঢাবি শিক্ষার্থী মুহিউদ্দীন রাহাত বলেন, বাস্তবে নারিকেল দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। দ্বীপে কুকুরের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস ডেকে আনছে। ক্ষুধার্ত কুকুরের পাল সৈকতে আসা বাল কাকড়াকে আক্রমণ করে, কচ্ছপের ডিম খেয়ে ফেলে। দ্বীপে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু দ্বীপ থেকে সেই কুকুর অপসারণ করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার কোনো উদ্যোগ পরিবেশ উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত নেননি। উপদেষ্টা মহোদয় বৈদেশিক পরামর্শে চলছেন। তার সিদ্ধান্ত বরং পরিবেশকে যারা রক্ষা করেন সেই মানুষ অর্থাৎ দ্বীপবাসীকে বাস্তুচ্যুত করাবে। এ ছাড়া উপদেষ্টা মহোদয় থাইল্যান্ডসহ বিদেশী পর্যটন স্পটের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের নারিকেল দ্বীপে যাওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছেন। উপদেষ্টা মহোদয়কে আমরা বলব, আমাদের নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ ভ্রমণ মাত্র চার মাসের জন্য হয়ে থাকে, বাকি আট মাস বন্ধ থাকে। কিন্তু অন্যান্য দেশের দ্বীপগুলো দুই তিন মাস বন্ধ থাকে। বাকি সময়গুলো খোলা থাকে। সেটি কেনো বললেন না?

তিনি আরও বলেন, আমাদের দ্বীপটি ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অবস্থানে আছে। দ্বীপে ভ্রমণ বন্ধ রাখলে এক সময় দ্বীপ জনশূন্য হয়ে যাবে। পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের মগ, আরাকানি ও ভারতের জেলেরা একসময় দ্বীপটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাবে। ইতোমধ্যেই মিয়ানমার ও আরাকান আর্মি দ্বীপটিকে একাধিকবার তাদের বলে দাবিও করেছে। অর্থাৎ দেশের অখণ্ডতা রক্ষার তাগিদেই নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপকে সবসময় জনবান্ধব ও জনগণের আসা যাওয়াকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশবাদসহ কোনো কিছুর অজুহাতেই দ্বীপ ভ্রমণে বাধা দিলে দ্বীপটি আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। 

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : কালবেলা
স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি : কালবেলা

আসছে শৈত্যপ্রবাহ, কিন্তু কবে?

নভেম্বর মাঝামাঝিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শীত অনুভূত হতে পারে। এ ছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আগামী তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময় সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে পাঁচটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ থেকে দুটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

এ ছাড়া আগামী তিন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। একইসময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও নদনদী অববাহিকায় মাঝারি অথবা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দেশে ৮ থেকে ১০টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। 

পুরোনো ছবি
পুরোনো ছবি

জব্দের আগেই ব্যাংক খালি করেন লোটাস কামাল: তারল্য সংকটে তুলতে পারেননি পুরো অর্থ by এ জেড ভূঁইয়া আনাস

সরকার পরিবর্তনের আভাস পেয়েই গত জানুয়ারি থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব খালি করে বিদেশে পালিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল ও তার পরিবার। গত জানুয়ারি থেকে তারা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছেন সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে অবশ্য পাওয়া গেছে ৮০ কোটি টাকার বেশি। মূলত ব্যাংকে তারল্য সংকটের কারণে পুরো অর্থ তুলে নিতে পারেননি। অভিযোগ আছে, সাবেক এই মন্ত্রী ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও সরকারি প্রকল্প থেকে লুটেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। সাম্রাজ্য গড়েছেন দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে।

২০০৮ সাল থেকে টানা ১৬ বছর কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলা) আসনের এমপি ছিলেন আবু হেনা মোহাম্মদ (আ হ ম) মুস্তফা কামাল। তিনি পরিচিত লোটাস কামাল নামে। আওয়ামী লীগের হয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য হওয়া এই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ক্রিকেট সংগঠকও। সব পরিচয় ছাপিয়ে লোটাস কামাল একজন বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ। অথচ তার হাতেই দেশের অর্থনীতি বলা চলে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন আঁচ করতে পেরে গত ১৫ জুলাই লোটাস কামাল ও নাফিসা কামাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এর আগেই তাদের ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছেন সিংহভাগ অর্থ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত ২২ আগস্ট লোটাস কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল ও মেয়ে নাফিসা কামালের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে বিএফআইইউ।

তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১০ সালের পুঁজিবাজার কারসাজি, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট করেছেন কামাল দম্পতি। মেয়ে নাফিসা কামাল বাবার প্রভাব খাটিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। বিভিন্ন সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় কোনো সংস্থাই এসব অনিয়মের বিষয়ে টুঁ শব্দও করতে পারেনি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউতে তাদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ জমা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে বেরিয়ে আসছে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ।

ব্যাংক থেকে তুলে নেন ৬৫০ কোটি টাকা:

ব্যাংকে তারল্য সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছরের শেষ দিক থেকেই টালমাটাল অবস্থায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। বিশেষ করে নির্বাচনে বিএনপিসহ বড় দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল আগে থেকেই। এজন্য লোটাস কামাল, স্ত্রী কাশমিরী কামাল ও মেয়ে নাফিসা কামাল গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংক থেকে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত হিসাব থেকে তুলে নেওয়া এসব অর্থের বেশিরভাগই পাঠিয়েছেন দেশের বাইরে। গত জানুয়ারি মাসে কামাল পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থায়ী আমানত ছিল ৭৩০ কোটি টাকা। তবে গত ২২ আগস্ট তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বিএফআইইউ। এ কারণে তিনজনের ব্যক্তিগত হিসাবে থাকা ৮২ কোটি টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর সিন্ডিকেট:

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, লোটাস কামাল এবং তার পরিবারের সদস্যরা একটি বৃহৎ পাচার চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই চক্রটি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি হিসেবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা শ্রমিকদের কাছ থেকে ভুয়া চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে।

প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে যখন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলে, তখন কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব পায় মালয়েশিয়া। তাদের কাছে ১ হাজার ৫২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাত্র ২৫টি এজেন্সির নাম নির্বাচন করা হয়। এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা ছিল না। দেখা গেছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক তিন এমপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং এ খাতের নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমিরী কামালের অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ৭ হাজার ১৫২ জন ও মেয়ে নাফিসা কামালের মালিকানাধীন অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল ২ হাজার ৭০৯ জন শ্রমিক পাঠিয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ব্যয় ৭৯ হাজার টাকা। সিন্ডিকেটটি নিয়েছে কর্মীপ্রতি ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, অনেক শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গিয়ে নানা জটিলতায় কাজ পাননি কিংবা কেউ কেউ ঋণ করে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। যেখানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেরই মানবেতর ও অমর্যাদাকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন যাপনের বিবরণ উঠে আসে।

শেয়ারবাজার কারসাজি:

২০১০ সালে শেয়ারবাজার কারসাজিতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন লোটাস কামাল। লোটাস কামাল তখন বিভিন্নভাবে শেয়ারবাজারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এবং সস্তায় শেয়ার কেনার পর তা বিদেশে পাচার করেছিল। ওই সময় লোটাস কামাল এবং তার চক্র প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদক এরই মধ্যে এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম এ ব্যাপারে কাজ করছে।

নির্বাচনী হলফনামায় অসংগতি:

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের সম্পদের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বহু গুণ বেশি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে লোটাস কামালের বিরুদ্ধে। গত ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া এই হলফনামায়, কামালের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪১ কোটি ৯০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, স্ত্রীর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা। নিজের স্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ হলেও, স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে। কামাল তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং পাঁচ নাতি-নাতনিকে দান করে কিছু সম্পদ কমিয়েছেন। এর মধ্যে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা শেয়ারের ২ কোটি ৪ লাখ ৫ হাজার টাকার অংশ তিনি তার মেয়ে নাফিসা কামালকে দিয়েছেন, এবং স্ত্রী, মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনিকে দিয়েছেন প্রায় ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি।

তবে সূত্র জানায়, কামালের হলফনামায় উল্লিখিত সম্পদের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে স্বজনের নামে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

৫০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক:

সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) নামে-বেনামে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক লোটাস কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের ব্যাপারে প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

দুদকের গোপন অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঢাকার নিকুঞ্জে জোয়ারসাহারায় রয়েছে আধুনিক বাণিজ্যিক ভবন ‘লোটাস কামাল টাওয়ার’। বাড্ডা ও উত্তরায় রয়েছে তার বহুতল বাড়ি ও দামি ফ্ল্যাট। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে শেয়ারবাজারে। ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে সঞ্চয়পত্রে। লোটাস কামাল প্রপার্টিজ ও অরবিটাল এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন লোটাস কামাল। এ ছাড়া, স্ত্রী কাশমিরী কামালের নামে ঢাকার গুলশান, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট-ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় তার নিজের ও স্ত্রীর নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি। স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে নগদ অর্থ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারেও বিনিয়োগ রয়েছে কাশমিরী কামালের। লোটাস কামাল প্রপার্টিজ ও সৌদি বাংলাদেশ কন্ট্রাকটিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন কাশমেরী। তার সঞ্চয়পত্র রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকার। তিনটি দামি গাড়ির মালিক তিনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লোটাস কামালের প্রায় ৮০ কোটি টাকা থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। আয়কর নথিতে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দেখিয়েছেন তিনি। লোটাস কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ খুঁজতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, রাজউক, ঢাকা ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, রেজিস্ট্রার অফিস এবং ভূমি অফিসে চিঠি দিয়েছে দুদক।

লুট করতে প্রকল্প অনুমোদন:

পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে লোটাস কামাল কুমিল্লা জেলা অন্তর্ভুক্তি শর্তে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। ২০১৮ সালে, কামালের বাড়ির পাশেই সাড়ে ১০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এই আইটি সেন্টার। ২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত কুমিল্লাসহ সাত জেলায় প্রায় ৫৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেও, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ গ্রামীণ এলাকায় কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনেনি। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অন্যান্য কাজে কামালের গড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লায় নলেজ পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও, প্রকল্পটি শুধু জমি অধিগ্রহণের পর সীমানা দেয়াল ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।

এ ছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লার সদর দক্ষিণ, নাঙ্গলকোট ও আদর্শ সদর উপজেলায় ৪২টি খাল খননের জন্য ১৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও, কামালের নির্দেশে তার সিন্ডিকেট কাজ না করেই পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন সদর দক্ষিণ জেলা কৃষক সমবায় ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুহম্মদ আখতার হোসাইন। মামলায় কামালের ছোট ভাই গোলাম সারোয়ার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু, এপিএস মিজানুর রহমান, জনপ্রতিনিধিসহ ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে লোটাস কামালের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

জব্দের আগেই ব্যাংক খালি করেন লোটাস কামাল
জব্দের আগেই ব্যাংক খালি করেন লোটাস কামাল



নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া যে ৭ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে ফের হোয়াইট হাউসে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে তার মনোভাব দৃঢ়।

নির্বাচনের পরদিন (৬ নভেম্বর) ট্রাম্প জানান, ‘আমি একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করব। যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো পূর্ণ করব।’ তার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলেছেন, যা তার প্রথম মেয়াদে শুরু হওয়া কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

দেখে নেওয়া যাক ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া সাতটি প্রতিশ্রুতি:

১. অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়া অবৈধ অভিবাসী নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করবেন তিনি। তার কথায়, ‘মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ করব’। যা তার প্রথম মেয়াদে শুরু হয়েছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়নে আইনগত এবং লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তাছাড়া এটি দেশের অর্থনীতির গতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

২. অর্থনীতিতে মনোযোগ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকে ট্রাম্প দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে চান। এ ছাড়া ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ‘বিদেশি পণ্যের ওপর অন্তত ১০% শুল্ক আরোপ করতে’ এবং ‘চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ৬০% বাড়াতে’। তবে এতে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

৩. জলবায়ু নীতিতে কাটছাঁট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরিবেশ সুরক্ষা নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এবারও নির্বাচনী প্রচরণায় তিনি পরিবেশ নীতিতে কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছেন আগে থেকেই, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পকে সহায়তা করার জন্য। এছাড়া ইলেকট্রিক গাড়ির বিরোধী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেছেন।

৪. ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে শত শত কোটি ডলার সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বরাবরই কড়া সমালোচনা করে আসছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচরণায় তিনি তার প্রতিশ্রুতিতে বলেছেন, যদি তিনি আবার ক্ষমতায় আসেন, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাবেন।

তবে ট্রাম্প ফিলিস্তিনের গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গে নিজেকে ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তারা দ্রুত এই যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নেয়। একইসঙ্গে লেবাননে যুদ্ধ থামানোর পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট। প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিতে বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল আর্থিক সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে এবং সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নেবেন।

৫. গর্ভপাতের অধিকার রদ গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থকরা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। ২০২২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার খারিজ করেছিল। এ বিষয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে গর্ভপাতের অধিকার রদসংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করবেন না, তবে তার শাসনামলে কড়া গর্ভপাত নীতি বজায় থাকবে।

৬. দাঙ্গাকারীদের ক্ষমা যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়েছিল ট্রাম্পের সমর্থকরা। এতে বেশ কিছু প্রাণহানিও ঘটে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগে আটক হওয়া তার সমর্থকদের ক্ষমা করবেন’ এবং তাদের অকারণে বন্দি করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন’।

৭. বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলার তদন্ত করছেন বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলা এবং সরকারি গোপন নথি সরানোর অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ট্রাম্প একসময় বলেছিলেন, ‘হোয়াইট হাউসে বসার সঙ্গে সঙ্গে আমি জ্যাক স্মিথকে চাকরিচ্যুত করব।’ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে ট্রাম্পের সামনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার লক্ষ্যগুলোর বাস্তবায়নে রিপাবলিকান পার্টির সিনেটের সমর্থন তাকে সহায়তা করতে পারে। এই সাতটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করবেন, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া যে ৭ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

আসিফ নজরুলের সঙ্গে আওয়ামী দুস্কৃতিকারীদের আচরণ অনভিপ্রেত: তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে আওয়ামী দুস্কৃতিকারীরা উদ্ধত ও শিষ্টাচারবর্হিভূত আচারণ করেছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এটা শুধু অনভিপ্রেতই নয় বরং দেশ ও জনগণের আত্মমর্যাদার ওপর প্রচণ্ড আঘাত। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফ্রান্সে যাওয়ার পথে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা এয়ারপোর্টের সামনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে কতিপয় আওয়ামী দুস্কৃতিকারীর উদ্ধত আচারণ করে। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের সরকারের একজন উপদেষ্টার সঙ্গে এহেন শিষ্টাচারবর্হিভূত আচরণ শুধু অনভিপ্রেতই নয় বরং দেশ ও জনগণের আত্মমর্যাদার ওপর প্রচণ্ড আঘাত।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের হিংস্র রুপের প্রকাশ এখনো দেশে-বিদেশে অনেক স্থানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। প্রবাসে আওয়ামী নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের অবয়ব ধারণ করে সুযোগ পেলেই গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আইন উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের উশৃঙ্খল আচরণে আবারও প্রমাণিত হলো এরা বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, বিভাজন, সংকীর্ণতা, অনৈক্য, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির হরিলুট এবং বিপুল অঙ্কের টাকা পাচারসহ অসৎ অনাচারের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনার হত্যা ও গুমের রাজনীতির বিশ্বাস থেকে সরে আসেনি। এরা গণতন্ত্র স্বীকৃত মানবাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সঙ্গে শত্রুতা আওয়ামী লীগের চিরদিনের বৈশিষ্ট্য। রক্তাক্ত পন্থায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে পরাজিত করতে না পেরে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় শেখ হাসিনার ক্রোধ যেমন থামছে না তেমনি দেশে-বিদেশে তার সমর্থকরাও প্রচণ্ড হাতাশা নিয়ে সুযোগ পেলেই গণতন্ত্রকামী মানুষদের হত্যা করছে বা শারিরীকভাবে আঘাতসহ নানাভাবে হয়রানীর কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ড জেনেভা এয়ারপোর্টের সামনে ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে অশোভন আচরণ শেখ হাসিনার তৈরি করা সেই দু:শাসনেরই অভিব্যক্তি।

তিনি বলেন, পতিত শেখ হাসিনা দেশের রাজনীতিকে জটিল করে তুলতে বাইরে থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লুটপাটের সুবিধাভোগীরা বিদেশে গভীর চক্রান্তে মেতে উঠেছে। গণতন্ত্রের স্বপক্ষের ব্যক্তিবর্গকে হেনস্থা করাসহ বাংলাদেশের ভেতরেও অন্তর্ঘাত সৃষ্টির গভীর চক্রান্তজাল বুনে যাচ্ছে। লুটপাটের স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য উদগ্রীব ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশে-বিদেশে নানা এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ বরাবরই ক্ষমতার নেশায় আচ্ছন্ন অপরাধ প্রবণ রাজনৈতিক দল। ক্ষমতা হারানোর মনোবেদনায় এরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না বলেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেছে নেয়। আত্মপ্রত্যয়হীন, যুক্তিবিমুখ, মানবতাবিরোধী আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী দোসরদের চিহ্নিত করে রাখতে হবে। এদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে গণতন্ত্রকামী প্রবাসী বাংলাদেশিরা ফ্যাসিবাদী দোসরদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচার বিভাগকে অবহিত করতে হবে। বাংলাদেশে আওয়ামী দৈত্যকে জনগণই বোতল বন্দি করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে এই সমস্ত আওয়ামী কুচক্রীদের বিচারের আওতার মধ্যে আনতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমি আসিফ নজরুলের ওপর ফ্যাসিস্ট দোসরদের অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কী ঘটেছিল জেনেভা বিমানবন্দরে

প্রায় দুই মিনিটের একটি  ভিডিও।  যেটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল ওই ভিডিও নিয়েই চলছে নানান আলোচনা। কী ছিল সেই ভিডিওতে, কী-ই বা ঘটেছিল?

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ঘিরে রেখেছেন একদল লোক। তারা উপদেষ্টার সঙ্গে উত্তেজিত ভাষায় কথা বলছেন। তর্ক করছেন। বারবার তার দিকে তেড়ে আসছেন। ঘিরে ধরছেন। সামনে এগুতে দিচ্ছেন না তাকে। বলছেন, আপনি মিথ্যা বলছেন।

জানা যায়, জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডি এবং সংস্থাটির গুরত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। দূতাবাসের প্রটোকলে তিনি গাড়িতে করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে পৌঁছান।

গাড়ি থেকে বিমানবন্দরে নামার পর হঠাৎ একদল লোক এসে আইন উপদেষ্টাকে ঘিরে ধরেন। তাকে বিরক্ত করতে থাকেন। উচ্চশব্দে কথা বলতে থাকেন।

ভিডিওতে দেখা যায় এ সময় আসিফ নজরুল বলছেন, ‘আপনি গায়ে হাত দিচ্ছেন কেন?  এভাবে কথা বলতে পারেন না। আপনি অনেক খারাপভাবে কথা বলছেন, খারাপ ব্যবহার করছেন।  আপনাদের ল্যাঙ্গুয়েজ এমন কেন?  আপনারা আসেন, কথা বলবো। তখন হেনস্তাকারীরা বারবার তর্ক করতে থাকেন। তাদের একজন বলেন, আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।  স্বাধীনতার পক্ষের লোক, আপনারা বিপক্ষের লোক। এরপর আসিফ নজরুল বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকে যান। হেনস্তাকারীরা তখনও তার পিছু নেন। ‘পাকিস্তানি রাজাকার, বাংলাদেশ সরকার’,   ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’বলে  স্লোগান দিতে থাকেন।

ওদিকে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে,  বিমানবন্দরে আইন উপদেষ্টাকে হেনস্তাকারীরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। সেখানে সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জমাদার ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জেনেভা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের প্রোটকলে প্রচণ্ড ঘাটতি ছিল।  মিশন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। 

mzamin

এক সময়কার ‘কট্টর সমালোচকই’ হচ্ছেন ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইতিহাসের পাতায় আবারও নাম লেখালেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৩১ বছরের ইতিহসের রেকর্ড ভেঙে আবারও হোয়াইট হাউসে নিজের জায়গা করে নিলেন ৭৮ বছর বয়সী বিলিয়নিয়র এই রাজনীতিক। আলোচনার তুঙ্গে থাকা মার্কিন নির্বাচন নিয়ে এবার ট্রাম্প ও কমলার মধ্যে চলছিল তুমুল লড়াই। কমলার সকল স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আবারও চার বছরের জন্য ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বরাবরের মতই এবারও কোন নারীর স্থান হলো না এই মার্কিন মুলুকের মসনদে বসার।

‘রানিং মেট’ হিসাবে জেডি ভ্যান্সকে পছন্দ করেছিলেন ট্রাম্প। তাই তিনি হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এমনকি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের দৌড়ে তিনি প্রথম দিকে থাকবেন বলেও আগাম অনুমান করা হচ্ছে।

এককালে ট্রাম্পের ‘কড়া সমালোচক’ হিসেবেই পরিচিত ছিল এই ভ্যান্স। গেল ৫ নভেম্বর নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় পরবর্তী রিপাবলিকান প্রার্থী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন জেডি ভ্যান্স। তবে কে এই জেডি ভ্যান্স তা নিয়ে অনেকের মনেই তৈরী হয়েছে নানান কৌতূহল।

এক সময়কার ট্রাম্পের কড়া সমালোচক থেকে তারই রানিংমেট হওয়া এবং এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর জেডির নতুন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে যাওয়ার এই যাত্রাটি ছিল বেশ আকর্ষণীয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার সম্পর্কে।

জেডি ভ্যান্সের জন্ম ওহাইয়োর মিডলটাউনে। তিনি মিডলটন হাইস্কুল থেকে পাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কর্পসে যোগ দেন। যোগদানের তাকে পরে ইরাকে মোতায়েন করা হয়। এরপর ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইয়েল ল স্কুল থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।

একসময় ক্যালিফোর্নিয়ায় বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন জেডি ভ্যান্স। তার বেড়ে ওঠা এবং তার ব্যক্তিত্ব শ্রমজীবী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে ভেবেই তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত করেছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।

রাজনৈকি পরিচয় বাদেও তার আরও একটি পরিচয় আছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন লেখকও। তার জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে ছিল তার লেখা বই‘হিলবিলি এলেজি’। এই বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরই তার নাম আলোচনায় উঠে আসে। মূলত বইটি প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন নামকরা অনুষ্ঠানে ভাষ্যকার হিসাবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হতো যেখানে তিনি মূলত শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে কথা বলতেন।

তৎকালীন রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী ট্রাম্পের সমালোচনা করার সুযোগ খুব কমই হাতছাড়া করতেন তিনি। জানা যায়, ২০২০ সালের শেষের দিক পর্যন্ত ট্রাম্পের বিষয়ে সংশয় ছিল ভ্যান্সের। চার বছর আগে তিনি জানান, ট্রাম্প ‘তার অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তা বাস্তবায়িত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন’ এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন। এমনকি সিনেটের জন্য প্রচারের সময় তার আগের মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন ভ্যান্স। 

সম্ভাব্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহীত
সম্ভাব্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহীত

যোদ্ধাদের প্রতিরোধ মানে ইসরায়েলের পরাজয় : খামেনি

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি এ হামলা চালিয়ে আসছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস ও লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রতিরোধ মানে ইসরায়েলের পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তেহরানে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস সদস্যদের সঙ্গে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, হামাস এবং হিজবুল্লাহ এখনো গাজা ও লেবাননে লড়াই করছে তা ইসরায়েলের পরাজয়ের ইঙ্গিত দেয়। ইসরায়েল হামাসকে সমূলে উৎখাত করতে চেয়েছিল কিন্তু এর বদলে তারা গণহত্যা করেছে। সারা বিশ্বের কাছে ইসরায়েল তার কুৎসিত চেহারা দেখিয়েছে এবং নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েল ভেবেছিল তারা শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে স্তব্ধ করতে পারে, কিন্তু হামাস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ ইহুদিবাদী শাসকের পরাজয় হয়েছে।

হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহকে ৩১ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে হত্যা করা হয়। এছাড়া হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ গত সেপ্টেম্বরে বৈরুতে নিহত হন।

খামেনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে, হিজবুল্লাহ বৈরুত, সিডন, টায়ার এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের বেশিরভাগ এলাকা সহ অনেক ঘটনায় ইসরাইলকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে। হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের একটি ছোট দল থেকে একটি বিশাল সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে গোষ্ঠীটির এমন একটি প্রতিপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যা আমেরিকার রাষ্ট্রপতিদের দ্বারা ব্যাপকভাবে সমর্থিত।

তিনি আরও বলেন, লেবাননের অভ্যন্তরে কিছু লোকসহ অনেকে হিজবুল্লাহকে দুর্বল মনে করছে। তারা ভাবছে যে শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেককে হত্যার পর এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা ভুল ও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। হিজবুল্লাহ আর শক্তিশালী হয়েছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠন এবং যোদ্ধাদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে। শত্রুরা তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি : সংগৃহীত



জাহাজ নির্মাণ শিল্প সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

নৌপরিবহন এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উন্নতি করছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকারি খাতেও জাহাজ নির্মাণ শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে । আগামীতে জাহাজ নির্মাণ জাতি হিসেবে আমরা গড়ে উঠছি। বর্তমান সরকার জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়নে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন এন্ড অফশোর এক্সপো- (বিমক্স ২০২৪)’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের মেরিনটাইম সেক্টর তথা জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের তিনটি সমুদ্রবন্দর আছে- চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দর। আপনাদের সবাইকে এই তিন বন্দরে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। আপনারা আসুন ঘুরে দেখে যান। মাতারবাড়িসহ সকল বন্দরগুলোতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। বে টার্মিনাল নির্মাণ ও লালদিয়ার চরে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

কোনো প্রকল্পে কোনোরূপ অনিয়ম বা অবহেলা হবে না মর্মে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, সবকিছুই অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। কোনোরূপ অন্যায়, দুর্নীতি অনিয়ম আমি বরদাশত করব না। সবকিছুই থাকবে উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। ছোট বড় মিলিয়ে আমাদের ৯০৭টি নদ-নদী আছে। এর মধ্যে ৩৬৬টি নদীতে নৌযান চলাচল করে। যেখানে অনেক দেশের সমুদ্রবন্দরই নেই, সেখানে আমাদের সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি অসংখ্য নদীবন্দর আছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা নৌ-যোগাযোগ বাড়াতে পারিনি। নৌযোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে দেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ বা জেলাগুলোতে নৌযোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত এবং নেদারল্যান্ডস ও সুইডিশ দূতাবাসের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, তাদের দেশ সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে। তাদের দেশের সরকার এবং বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী আগামী শনিবার শেষ হবে। এতে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং, অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি শিপ রিসাইকেলিং শিপ-ব্রেকি ইকুইপমেন্ট, বন্দর ও এর সম্পর্কিত বিভিন্ন লজিস্টিক ও টেকনোলজির বিষয়বস্তু প্রর্দশনীতে স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত। বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাজার তৈরির লক্ষ্যে সেভর ষষ্ঠবারের মতো এই প্রর্দশনীর আয়োজন করছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পে বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তাদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হল। প্রর্দশনীতে ১৫টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মোট ১৮০টিরও বেশি স্টলে তাদের পণ্য প্রর্দশন করছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন, সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার আখতার হুসাইন, ঢাকার ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের মিশন প্রধান আন্দ্রে কারস্টেন্স, সুইডেন দূতাবাসের রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান লোভিসা হফম্যান এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রমুখ। 

‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন এন্ড অফশোর এক্সপো- (বিমক্স ২০২৪)’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা
‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন এন্ড অফশোর এক্সপো- (বিমক্স ২০২৪)’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি : কালবেলা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের আশা আফগানিস্তানের

যোদ্ধাবাজ ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ৬০তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মার্কিন মসনদের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন স্ট্রং ম্যান খ্যাত এই নেতা। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়ার প্রত্যাশা করছে এক সময়কার মার্কিন দখলদারিত্বের কবলে থাকা আফগানিস্তান।

২০০১ সালে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে আফগানিস্তনে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী। তারপর দীর্ঘ দুই দশক পর সালে আরেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়। যা শেষ হয় ২০২১ সালে ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে। এবার নির্বাচনে জিতেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প, এমনকি চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার আশাও দেখান তিনি।

ফলে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা তালেবান প্রশাসন মনে করছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি জানান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মার্কিন প্রশাসন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত পন্থা অবলম্বন করবে। যা উভয় দেশকে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় খোলার সুযোগ দেবে।

এ সময় দোহা চুক্তির কথা উল্লেখ করে তালেবানের এ কর্মকর্তা জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত, বিশেষ করে গাজা ও লেবাননে চলমান বর্বরতা ও আগ্রাসন বন্ধ করতে একটি গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবেন।

এদিকে কমলা হ্যারিসের পরাজয় নিয়েও খোচা দিতে ছাড়েননি তালেবান কর্মকর্তারা। কান্দাহারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইনামুল্লাহ সামানগানি এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে লিখেন- আমেরিকানরা বলেছিল অবশেষে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন, যা কখনও ঘটেনি। এ ঘটনার পর কেউ বিশ্বাস করবে না কমলা কখনো প্রেসিডেন্ট হবেন। আমেরিকানরা তাদের মহান দেশের নেতৃত্ব একজন নারীর হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত নয়। অশেতাঙ্গ এবং অভিবাসীদের ভোট বাদ দিলে হয়তো কম আমেরিকানরাই মিসেস হ্যারিসকে ভোট দিত। 

আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পকে কি আর জেলে যেতে হবে

ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে একটি ঘুষের মামলা রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পরপরই এসব মামলা বন্ধে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে।

ট্রাম্পের জন্য এটি অভূতপূর্ব একটি অবস্থা। তাঁর আগে ফৌজদারি অভিযোগ মাথায় নিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। এমনকি গত বছরের আগপর্যন্ত সাবেক কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হননি।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে যে মামলা হয়েছে এবং গোপন নথি অব্যবস্থাপনার জন্য যে অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি এসব মামলার সমাপ্তি টানবেন। এ ছাড়া কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

গত মঙ্গলবার মার্কিন নির্বাচনের পর রাত থেকেই ট্রাম্পের পক্ষে ফল আসতে শুরু করে। এরপর গতকাল বুধবার কৌঁসুলি স্মিথ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে ট্রাম্পের মামলাগুলো কীভাবে দ্রুত শেষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের একটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লয়োলা ল স্কুলের সংবিধানিক আইন বিষয়ের অধ্যাপক জেসিকা লেভিনসন বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মামলাগুলোর কার্যক্রম যতটা সম্ভব দেরি করার চেষ্টা চালানো হয়। ওই চেষ্টা যে দারুণ কাজে লেগেছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

এর মধ্যেই নিউইয়র্কের একজন বিচারক ট্রাম্পের মামলার ঘোষণার জন্য আগামী মাসে দিন ধার্য রেখেছেন। নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে নির্বাচনের আগে এ মামলার রায় স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এখন বিচারককে ওই সাজা ঘোষণা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করতে পারেন। কারণ, ট্রাম্প ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে গেছেন। ট্রাম্প অবশ্য এ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন।

নিউইয়র্কের আদালতে এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁর সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল স্টর্মিকে। ব্যবসায়িক রেকর্ডে এ তথ্য গোপন করেছিলেন ট্রাম্প। ব্যবসায়িক তথ্য নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি অভিযোগ আনা হয়।

আগামী ২৬ নভেম্বর ওই আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আদালত ওই সাজা ঘোষণা করবেন কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন থেকে গেছে। ট্রাম্পের আইনি দল চেষ্টা করছে, আদালত যেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করতে না পারেন। এর আগে এ মামলা যতটা সম্ভব বিলম্বিত করার চেষ্টা চালান আইনজীবীরা। এখন ট্রাম্পের আইনি দলের কৌশলের সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র বলেছে, পুরো মামলা এখন বাতিল করার চেষ্টা করতে পারেন আইনজীবীরা।

ট্রাম্পের অ্যাটর্নিরা আদালতের কাছে আবেদন করবেন, নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পেরও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের মতোই সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। তাই রাষ্ট্রীয় আইনজীবীর কোনো পদক্ষেপ থেকে তিনি সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে ট্রাম্পের আইনজীবীদের ১২ নভেম্বরের আগেই বিচারক হুয়ান মার্চানের আদালতে এ আবেদন দাখিল করতে হবে। কারণ, বিচারকের পক্ষ থেকে এ তারিখ ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তে বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে কিছুটা দায়মুক্তির সুযোগ রয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ তুলে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। বিচারক মার্চান যদি অভিযোগ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলাটি বাতিল হয়ে যাবে। তাঁর কোনো সাজা হবে না।

কিন্তু বিচারক মার্চান যদি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আইনজীবীরা সাজা পেছানোর আবেদন করবেন, যাতে তাঁরা আপিল করতে পারেন। তাঁদের এ আবেদন মঞ্জুর হলে ট্রাম্পের অ্যাটর্নিরা তখন আপিল বিভাগে আবেদন করবেন এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন। তাঁরা আপিল বিভাগের কার্যক্রম চলা অবধি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা পেছানোর জন্য বলবেন। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।

বিচারক মার্চান যদি সাজা ঘোষণা করতে চান, তবে তিনি সর্বোচ্চ চার বছর ট্রাম্পকে কারাদণ্ড দিতে পারবেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে যাবেন না বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এর কারণ হিসেবে আইনজীবীরা ব্যাখ্যা করেছেন, ট্রাম্প একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং ‘ফার্স্ট টাইম অফেন্ডার’ অর্থাৎ প্রথমবার কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই। যেকোনো সাজার বিরুদ্ধে আইনজীবীরা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলতে পারেন। তাঁরা সাংবিধানিক যুক্তি তুলে ধরে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। এ নিয়ে আরজির প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে পারে।

তবে এটি যেহেতু রাষ্ট্রীয় মামলা, তাই আগামী বছর ক্ষমতায় এলেও ট্রাম্প নিজেকে এতে ক্ষমা ঘোষণা করতে পারবেন না।

৬ জানুয়ারির মামলা

বিবিসি জানায়, স্পেশাল কাউন্সেল বা বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি জো বাইডেনের কাছে তাঁর ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিতে না পেরে সেই নির্বাচনী ফল বদলে ফেলার জন্য জোরদার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ওই মামলা আইনি অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়, যখন সুপ্রিম কোর্ট জানান প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালে সরকারি কাজকর্মে ফৌজদারি মামলার বিষয়ে আংশিকভাবে রক্ষাকবচ ছিল ট্রাম্পের।

এরপর স্মিথ যুক্তি দিয়েছিলেন যে ২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফলকে বদলে ফেলার চেষ্টার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই।

সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর নেয়ামা রাহমানির মতে, যেহেতু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতেছেন, তাই এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ফৌজদারি বিষয় থেকে আপাতত তিনি ‘রেহাই’ পাবেন।

তাঁর কথায়, ‘এটা সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় যে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। তাই ডিসি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই নির্বাচনী জালিয়াতির মামলা খারিজ হয়ে যাবে।’

সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প জেতার পর ওয়াশিংটন ও ফ্লোরিডায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর ওপর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা এ মামলাগুলো যতটা সম্ভব বিলম্বিত করার চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন। ট্রাম্প নির্বাচিত হলে স্মিথকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। এখন ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হলে এ মামলা দ্রুত শেষ হবে।

গত মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, কোনো ইতস্তত ছাড়াই তিনি স্মিথকে চাকরিচ্যুত করবেন। হিউ হুইটের এক রেডিও অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এসব মামলায় নিজেকে ক্ষমা ঘোষণা করবেন নাকি জ্যাক স্মিথকে তাড়াবেন? ট্রাম্প এর জবাবে বলেন, ‘এটা অনেক সোজা। আমি দুই সেকেন্ডেই তাঁকে বরখাস্ত করব।’

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের মামলা নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে স্মিথের আলোচনা কয়েক দিন ধরে চলবে। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা যত দ্রুত ওই মামলা থেকে ট্রাম্পকে অব্যাহতি দেওয়া যায় সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে বিচার বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্মিথকে বরখাস্ত করার আগে বা মামলা বাতিলের আদেশ হওয়ার আগে তিনি সরে আসবেন না।

ফেডারেল আইন অনুযায়ী, পদ ছাড়ার আগে স্মিথকে অবশ্যই তাঁর সরে যাওয়ার কারণ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে গোপনীয় নথি দিয়ে যেতে হবে।

এদিকে ফ্লোরিডায় গোপন নথি সরানো নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, সেটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ মামলারও নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যাক স্মিথ। ট্রাম্প এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর মার-এ-লাগোর ভবনে সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণ এবং সেই নথি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক আইলিন ক্যানন জুলাই মাসে অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছিলেন।

তাঁর যুক্তি ছিল এই মামলার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগ যথাযথভাবে জ্যাক স্মিথকে নিযুক্ত করেনি। প্রসঙ্গত, বিচারক আইলিন ক্যাননকে নিয়োগ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন স্মিথ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে যাওয়ার কারণে এই মামলার ভবিষ্যৎও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ২০২০ সালের নির্বাচনী ফল–সংক্রান্ত মামলার মতোই হতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, জর্জিয়াতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে ২০২০ সালে সেখানকার নির্বাচনী ফলাফল বদলে ফেলার চেষ্টার কারণে।

এই মামলা একাধিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ফানি উইলিসকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণার চেষ্টা।

এই মামলায় কাজ করার জন্য একজন অ্যাটর্নিকে নিযুক্ত করেছিলেন ফানি উইলিস, যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে এমন কারণ দেখিয়ে ফানি উইলিসকে অযোগ্য বলে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছিল।

ফানি উইলিসকে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত কি না, সে বিষয়টি এখন আদালতে বিবেচনাধীন।

তবে এখন যেহেতু ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন, তাই এ মামলা আরও বিলম্বের সম্মুখীন হতে পারে বা সম্ভবত খারিজও হয়ে যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্বে থাকাকালে এই মামলাও থেমে থাকবে বলেই অনুমান করা যায়। যদি উইলিসকে অপসারণ করা হয়, সূত্র সিএনএনকে বলেছে যে, তারা মনে করে যে অন্য একজন প্রসিকিউটর মামলাটি নিতে চাইবেন না এবং এটি আর চলবে না। ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালে কোনো বিচারক এ মামলা চালাতে চাইবেন বলে মনে হয় না। এতে ট্রাম্পের অ্যাটর্নিরা মামলাটি বাতিল করে দেবেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলায় তাঁর ভূমিকা, সাবেক সাংবাদিক-কলাম লেখক এলিজাবেথ জেন ক্যারলকে ধর্ষণ ও মানহানির মামলা ও জালিয়াতির মতো আলোচিত মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের করা জালিয়াতির এক মামলায় ট্রাম্পকে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে আপিল আদালতে ট্রাম্পকে দুটি আপিলের শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়। এর মধ্যে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ফেডারেল আদালতে এলিজাবেথ জেন ক্যারলের করা দুটি মানহানির মামলায় ট্রাম্প হেরেছেন। জুরিরা তাঁকে যৌন নির্যাতনের জন্য দায়ী করেন এবং ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ও ৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা করেন।

সেপ্টেম্বরে ফেডারেল আপিল কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনানি গ্রহণ করেন। আদালত এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আপিল কোর্টে তাঁর জালিয়াতি মামলারও যুক্তিতর্ক শুনেছেন। এ মামলার একজন বিচারক বলেছেন, ঋণ ও বিমার দাম বেশি পেতে ট্রাম্প ও তাঁর সন্তানেরা জালিয়াতি করে সম্পদের মূল্য বাড়িয়ে দেখিয়েছেন।

পরে পাঁচ বিচারকের আপিল কোর্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জরিমানা কম করার বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ বিষয়ে আদালতের দেওয়া রুলিং নিয়ে নিউইয়র্কের আপিল কোর্টে যাওয়া হতে পারে। এর বাইরে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকলেও এসব মামলা থাকবে। ১৯৯৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের রুলিং অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে দেওয়ানি মামলার দায়মুক্তি পাবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প

নাফিজকে বহনকারী রিক্সাটি গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রাখা হবে : নাহিদ ইসলাম

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ গোলাম নাফিজের দেহ বহনকারী রিক্সাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে রাখা হবে।

উপদেষ্টা গতকাল গণভবনে নাফিজের দেহ বহনকারী রিক্সাটি দেখতে এসে একথা বলেন। গণভবনে রিক্সাটি হস্তান্তরের সময় তিনি রিক্সাচালক নূর মোহাম্মদকে তার সাহসিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। গত ৫ই নভেম্বর ‘নাফিজের নিথর দেহ পড়ে থাকা রিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছেন নূরু’ শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাৎক্ষণিক  রিক্সা  ও রিকশাচালককে খুঁজে বের করার জন্য তার দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন। উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা (রিকশা) ৩৫ হাজার টাকায় লন্ডনপ্রবাসী আহসানুল কবীর সিদ্দিকী কায়সারের কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানান।

পরবর্তী সময়  আহসানুল কবীর সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  রিক্সাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হস্তান্তর করার ইচ্ছা পোষণ করেন। সে অনুযায়ী রিক্সাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৪ঠা আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পথচারী-সেতুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী গোলাম নাফিজ। গুলিবিদ্ধ নাফিজকে পুলিশ যখন রিক্সার পাদানিতে তুলে দেয়, তখনো তিনি রিক্সার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিলেন। রিক্সাচালক তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরবর্তী সময় এই রিক্সার ছবি কাঁদিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে।

mzamin

নিরাপত্তা দিতে অক্ষম ট্রুডো প্রশাসন, কানাডায় ভারতের যাবতীয় সামাজিক কর্মসূচি বাতিল

বৃহস্পতিবার কানাডার স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অক্ষম। এরপরেই টরন্টোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল ঘোষণা করেছে দেশ জুড়ে বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কনস্যুলার ক্যাম্প বাতিল করা হচ্ছে। টরন্টোতে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘কমিউনিটি ক্যাম্পে ন্যূনতম নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদান করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাদের অপারগতার কথা জানায়। এরপরেই আয়োজকরা  কিছু ইভেন্ট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

টরন্টোর নিকটবর্তী হিন্দু সভা মন্দিরে অনুষ্ঠিত কনস্যুলার ক্যাম্পে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার কয়েকদিন পর এই খবর সামনে এলো। কানাডায় ভারতীয় হাইকমিশন এই হামলাকে ‘ভারত-বিরোধী’ কাজ বলে নিন্দা করেছে। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই ভবিষ্যতে কনস্যুলার কার্যক্রম চলবে। ঘটনার ফুটেজ শেয়ার করে হিন্দু কানাডিয়ান ফাউন্ডেশন অভিযোগ করেছে যে, খালিস্তানিপন্থীরা মন্দিরের বাইরে নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে। ভিডিওটি ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং  ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য কড়া সুরক্ষার দাবি তোলা হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায়, এক হাজারেরও বেশি কানাডিয়ান হিন্দু  মন্দিরের বাইরে জড়ো হয়েছিল। কানাডার নেতাদের কাছে এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

বিক্ষোভের সময়, আয়োজকরা কানাডার রাজনৈতিক নেতাদের এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে খালিস্তানিপন্থীদের সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।  ভারতের  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো উভয়েই ধিক্কার জানিয়েছেন। এক্স-এ ঘটনাকে সম্বোধন করে, প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, ‘আমি হিন্দু মন্দিরে ইচ্ছাকৃত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের কূটনীতিকদের ভয় দেখানোর কাপুরুষোচিত প্রয়াসও সমান আতঙ্কজনক। এ ধরনের সহিংসতা কখনোই বরদাস্ত করা হবে না যা ভারতের সংকল্পকে দুর্বল করে। আমরা আশা করি কানাডিয়ান সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং আইনের শাসন বজায় রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ব্র্যাম্পটন হিন্দু সভা মন্দিরে সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। প্রতিটি কানাডিয়ানের  স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে তাদের বিশ্বাস অনুশীলন করার অধিকার রয়েছে।’

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

mzamin

আকাশে ওড়ার আর কোনও সম্ভাবনাই থাকলো না জেট এয়ারওয়েজের

ঋণের ভারে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে ভারতের একসময়ের অন্যতম বড় বিমান সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। প্রায় ২৫ বছর পর ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস থেকেই বন্ধ হয়ে যায় উড়ান। সংস্থার কর্ণধার নরেশ গোয়েলের বিরুদ্ধেও একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত বছর কানাড়া ব্যাংকের ৫৩৮ কোটি টাকা প্রতারণার দায়ে নরেশকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কর্মীদের বেতন, বিনিয়োগকারীদের বকেয়া সব মিলিয়ে সংকটের পরিস্থিতি। ২০২০ সালে লন্ডনের সংস্থা কালরক ক্যাপিটাল জেট কিনতে আগ্রহ দেখায়। জালান গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কালরক ক্যাপিটাল জেট অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করে। কর্মীদের বেতন-সহ সংস্থার যাবতীয় ঋণ মিটিয়ে নতুন করে জেটের উড়ান চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। জেট এয়ারকে ফের আকাশে ওড়াতে ৪৭৮৩ কোটির প্যাকেজের দর হেঁকেছিল জালান-কালরক কনসোর্টিয়াম। পাঁচ বছরে দফায় দফায় সেই টাকা দেয়ার কথা ছিল জালান-কালরকের।

এদিকে এসবিআই-এর নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম জানায়, জালান-কালরকের সেই দর গৃহীত হওয়ার দুই বছর পরও প্রথম দফার ৩৫০ কোটি পায়নি তারা। পরে সেই মামলা গড়িয়েছিল আদালতে। এরই মাঝে গত মার্চ মাসে ন্যাশনাল কোম্পানি ল' অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল নির্দেশ দিয়েছিল, পার্ফর্ম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১৫০ কোটি টাকা দিতে হবে জালান-কালরক কনসোর্টিয়ামকে। আর ৯০ দিনের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইবুনাল। তবে ট্রাইবুনালের নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, জেট এয়ারওয়েজের লিকুইডেশন করতে হবে এবং সম্পত্তি নিলাম করে দিতে হবে। সংবিধানে উল্লিখিত ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে জেটের সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ঝুলে থাকা ওই মামলায় 'সম্পূর্ণ ন্যায়' যাতে মেলে, তার জন্যই সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগ করেছে আদালত। পাঁচ বছর আগে যেখানে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে গিয়েছিল, এত দিনেও কেন তার প্রয়োগ হলো না, আজ তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। ঘটনাক্রমকে 'অদ্ভুত এবং উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত বলে, এর সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া আর রাস্তা নেই। ফলে পুরোপুরি অস্তিত্বহীন হয়ে যাচ্ছে জেট এয়ারওয়েজ। ফলে জেটের  আকাশে ওড়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।

সূত্র : livemint

mzamin

কেমন হবে ট্রাম্প দুনিয়া? by মোহাম্মদ আবুল হোসেন

বিশ্ব যখন যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রেষারেষিতে উত্তাল তখন বিশ্বমোড়লের দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু একদিনের মধ্যে তিনি যুদ্ধ থামিয়ে দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কীভাবে সামলাবেন এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেননি। দৃশ্যত, এটাই বিশ্বের চোখে হবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ। গাজায়, পশ্চিমতীরে গণহত্যা, লেবাননে অব্যাহতভাবে হামলা কীভাবে সমাধান দেবেন তিনি তা দেখার জন্য উদগ্রীব বিশ্ব। অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে তিনি কোন পথে হাঁটেন তাও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে আরও একটি কথা বলে রাখা ভালো। তা হলো বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দা-কুমড়ো সম্পর্ক।  প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। চীনের বিরুদ্ধে তিনি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তারপর ক্ষমতায় আসেন ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সরকার। তাইওয়ান ইস্যুতে তার সরকার চীনের সঙ্গে যুদ্ধং দেহী অবস্থান নেয়। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। তা চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেয়। এর জবাবে তাইওয়ানকে অভয় দেন বাইডেন। বলেন, তাইওয়ান আক্রান্ত হলে তার পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কা ঘোরাফেরা করছে। এ সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন ট্রাম্প, তাও তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর পরই তাকে ফোনকলে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সহযোগিতা করলে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়েই সুবিধা পাবে। সংঘর্ষ বা সংঘাতময় অবস্থা বিরাজ করলে দুই পক্ষই হেরে যাবে। এ জন্য তিনি দুই দেশকে মতবিরোধের যথাযথ সমাধান দাবি করেছেন। বলেছেন, এর মধ্যদিয়ে একটি নতুন যুগের পথ বের করতে হবে। এখানেই শেষ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে শি জিনপিং বলেছেন, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের জন্যই চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থিতিশীল, সুস্থ এবং টেকসই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও। শি জিনপিং আশা প্রকাশ করেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, শক্তিশালী সংলাপ ও যোগাযোগ, মতবিরোধ সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা, সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি সঠিক পথ বের করলে তাতে নতুন যুগের সূচনা হবে। এতে শুধু দুই দেশই উপকৃত হবে- এমন নয়, একই সঙ্গে বিশ্বও উপকৃত হবে। আলাদা ফোনকলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জেডি ভ্যান্সকে অভিনন্দন জানিয়ে একই রকম বার্তা দিয়েছেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান ঝেং। শুধু চীন নয়, ইউরোপেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ট্রাম্প। ওই অঞ্চলে ন্যাটো সহ ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা তা নিয়ে নির্বাচনের আগে কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। ফলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে ইউরোপে। বৃহস্পতিবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসেন ইউরোপিয়ান নেতারা। সেখানে বেশ কয়েক ডজন নেতা উপস্থিত হন। ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসা এবং তার পরবর্তীতে ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা। কারণ, ট্রাম্পের ২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে ইউরোপের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল। ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বেশি পরিমাণ অর্থ দিচ্ছে না এটা নিয়ে ক্ষোভ ছিল ট্রাম্পের। ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ঘাটতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। এই দু’টি ইস্যুতেই তিনি ইউরোপের সবচেয়ে বড় শক্তি জার্মানির ওপর ছিলেন ক্ষুব্ধ। তখন জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন অ্যানজেলা মারকেল। এখন ওলাফ শুলজ। এ সময়ে ইউরোপের জন্য ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সি কেমন হবে? বিশেষ করে ইউক্রেন ইস্যুতে? ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটির মিটিংয়ে যোগ দিতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অবস্থান করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই আয়োজনের ব্রেইনচাইল্ড হলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ইউক্রেনে রাশিয়া যখন পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু করে তখন এই গ্রুপের বিষয়টি মাথায় ঢোকে তার। এতে ইউরোপ যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। ইউরোপিয়ান নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক হলো, ইউক্রেনকে দেয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন হয়তো ধীরগতি করে দেবে, হয়তো বন্ধ করবে না। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হলো এককভাবে সবচেয়ে বড় ডোনার। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেয়, ধীর করে দেয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখতে ঘাটতি কাঁধে নিতে হবে ইউরোপকে। ট্রাম্প এখন কোনপথে হাঁটবেন তা পরিষ্কার নয়। এমন অবস্থা মাথায় রেখেই নির্বাচিত হওয়ার পর পরই ট্রাম্পকে বুধবার ফোনকলে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, চমৎকার ফোনালাপ হয়েছে তাদের মধ্যে। একদিনের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে এই যুদ্ধ বন্ধ করে দিতে পারেন বলে আগে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি ইউক্রেনকে বিজয়ী দেখে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান নাকি রাশিয়াকে বিজয়ী দেখতে চান- এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ওদিকে ইউক্রেনের পাশে থাকার অঙ্গীকার বার বার করেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ সহ ইউরোপিয়ান নেতারা। তারা যেন তাদের কথায় অটল থাকেন বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে সেই আপিল জানাতে পারেন জেলেনস্কি। এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক সহায়তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনকে দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডোনার জার্মানি কি করবে তা নিয়ে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই জার্মানিতে তিন দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায়। এ জন্য  দেশটি কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভেতরে বিরোধিতা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় বুদাপেস্টে বৃহস্পতিবারের মিটিংয়ের আয়োজক আর কেউ নন, তিনি ট্রাম্পের প্রতি উৎসাহী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য তিনি পরিচিত। রাশিয়ার বিরুদ্ধে তিনি নিষেধাজ্ঞা আরোপে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র দেয়ারও পক্ষে নন। তিনি বার বার ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে নিঃশর্ত ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে। ট্রাম্প শান্তির পক্ষে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পকে নির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপের যেসব নেতা প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছেন তার মধ্যে ভিক্টর অরবান অন্যতম। যতদিন সম্ভব ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয় নিয়ে জেলেনস্কি ও অন্য নেতাদের আলোচনা হওয়ার কথা গতকাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউরোপিয়ান নেতারা যেসব অভিনন্দন জানিয়েছেন তাতে ট্রাম্প একেবারে পরিষ্কার। কিন্তু তিনি এটাও খুব ভালো করে জানেন যে, ইউরোপের বেশির ভাগ নেতা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের পক্ষে ছিলেন। ফলে ট্রাম্পের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতাবাদ তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ইউরোপ। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই এমনটা চলছে। রাশিয়ার সম্প্রসারণবাদ থেকে তারা নিরাপত্তা চায়। ইউক্রেনের পক্ষে সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। কিন্তু সমস্যা হলো ন্যাটোর পক্ষে নন ট্রাম্প। ইউরোপের জন্য আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হলো বাণিজ্য। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ট্রাম্প সংরক্ষণবাদী। অর্থাৎ বাইরের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান। এ জন্য তিনি আমদানির ওপর শুল্ক বসাতে পছন্দ করেন। এটা করা হলে ইউরোপের অর্থনীতির ওপর বড় খারাপ প্রভাব পড়বে। জার্মানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেন তাহলে একই রকম পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন। ট্রাম্পের ভীষণ ভক্ত শুধু ভিক্টর অরবানই নন। স্লোভাকিয়া, ইতালির প্রধানমন্ত্রীরাও। তারা ট্রাম্পের প্রতি এতটাই অনুগত যে, ইউরোপের বাকি নেতাদের থেকে তারা আলাদা। এ ইস্যুতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক এক্সে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর ইউরোপের ভবিষ্যৎ আর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে ইউরোপের ওপর। ট্রাম্পকে শুধু এই সমস্যার মুখেই পড়তে হবে না। দক্ষিণ চীন সাগর, ইরান সহ বহুবিধ সমস্যা তার চারপাশে এসে ভিড় করবে। একই সঙ্গে তাকে অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হবে দেশের  ভেতরে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। নতুন প্রশাসনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে খেলাপি অর্থের অঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়া। এর ফলে সেখানে রাজনৈতিক মেরূকরণ ঘটতে পারে। রয়টার্সের মতে, ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্প। এর ফলে বিশ্ব ঋণ বাজারে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকিতে ফেলে দিতে পারে। এতে দেশের ঋণ বিষয়ক সিকিউরিটিজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যাবে। সরকারি খরচ বৃদ্ধি পাবে। সরকারকে আরও ঋণ নিতে হবে।  বেশ কিছু হিসাব অনুযায়ী ৫ই নভেম্বরে নির্বাচিত হয়ে আসা ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট ঘাটতি এবং সরকারি ঋণের মুখোমুখি হতে হবে। এই খরচ ট্রাম্পের অধীনে কমালা হ্যারিসের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। অনেকেই বলছেন, ট্রাম্প বাণিজ্য ও ট্যাক্স বিষয়ক যে পলিসি নিচ্ছেন তাতে মুদ্রাস্ফীতি অনেক বেড়ে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও খারাপ কবে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার খবরে বুধবারই বিনিয়োগকারীরা সরকারি ঋণের খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১০ বছরের ট্রেজারি বেঞ্চমার্ক বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৪.৪৭৯ ভাগ। টোলু ক্যাপিট্যাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্পেন্সার হাকিমিয়া বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে আমরা ক্রমবর্ধমান ঘাটতি এবং উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপ হিসেবে দেখি। এখানে উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের কাছ থেকে ফিরে পেয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও তারা এগিয়ে আছে। আগেই প্রতিনিধি পরিষদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এবার তারা যদি এই পরিষদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পায় তাহলে ট্রাম্পের জন্য প্রশাসনে কোথাও কাউকে কোনো কিছুর জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে না। এমন এক বাধাহীন অবস্থায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তথা বিশ্বে কেমন এক নতুন যুগের সূচনা করেন তা নিয়ে আগ্রহ সবার। তিনি অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছেন মার্কিনিদের। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ইস্যু হলো অভিবাসন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের তিনি গণহারে বের করে দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। বিষয়টিকে মার্কিনিরা লুফে নিয়েছে। এতে কর্মক্ষেত্রে তাদের কদর বাড়বে। 
mzamin

অন্তর্বর্তী সরকারের ৩ মাস: বাড়ছে নির্বাচনের চাপ

দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকার রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জ আর সংকটকে সামনে রেখে দায়িত্ব নেয়া নতুন সরকারের ওপর এখন চাপ বাড়ছে নির্বাচনের। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার প্রশ্নে সরকারকে সমর্থন দিলেও তারা চাইছে নির্বাচন এবং সংস্কারের কার্যক্রম একসঙ্গে চালাতে। নির্বাচনী কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা কমবে বলে তারা মনে করছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। এই সময়ে নির্বাচনের বিষয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার বিষয়েও কথা বলেছেন দলটির নেতারা। বিএনপি’র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করা দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে সরকারকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যদিও সরকার বলছে, নির্বাচন আয়োজনেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল কমিশন গঠনে নাম প্রস্তাবের শেষ দিন ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই এই কমিশন গঠন হবে। নতুন কমিশন আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়াও দৃশ্যমান হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন, তিন মাস কোনো সরকারের মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তবে যেহেতু এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচিত নয় তাই তাদের একটি নির্ধারিত রোডম্যাপ থাকা উচিত। যাতে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। দায়িত্ব নেয়ার পর সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে নেয়া উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার শুল্ক করসহ নানা খাতে ছাড় দিলেও বাজার পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিদায়ী মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশের ঘরে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখনো পুরো স্বাভাবিক হয়নি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা কেউ কেউ সরকারের পরিধি বা উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ানোর কথা বললেও সরকার এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বলা হচ্ছে, একজন উপদেষ্টা একাধিক দপ্তর সামলানোর কারণে শৃঙ্খলা ফেরাতে সময় লাগছে।

সরকারের তিন মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়নে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে সে অবস্থাটা একেবারে এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন ছিল। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় নির্বাচিত সরকার তার  নব্বই দিনের মাথায় তার সাফল্য ব্যর্থতা কতোটুকু সেটা আমরা যেভাবে করি এই সরকারের ক্ষেত্রে সেটা করা যাবে না। করা উচিতও না। কারণ একটা বিরাট গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনার সরকার পরাজিত হলো। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলো। নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নিলেন তখন দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। আমলাতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, পুলিশ ধ্বংস হয়েছে, জুডিশিয়ারি ধ্বংস হয়েছে। আর বাকি যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে সবই কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।
দ্বিতীয়ত হচ্ছে যারা দায়িত্বে আছেন তারা ওইভাবে পলিটিশিয়ান না। তাদের কার্যকর্ম অন্যদের চাইতে একটু  পৃথক হবে এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, তারা অনেক কাজই হয়তো করছেন যেগুলো সঠিকভাবে করছেন। কিন্তু এগুলোর ফল আমরা চট করে পাচ্ছি না। তারা কাজ করেন মিনিস্ট্রির সেক্রেটারিদের মাধ্যমে। আজকে অনেকগুলো মিনিস্ট্রিতে সেক্রেটারি পর্যন্ত নাই এবং বিশ্বাসযোগ্য লোকও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার প্রশ্ন উঠেছে যাদের পদায়ন করা হয়েছে বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এদের মধ্যে অনেকেই আবার ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, এই সরকার অর্থনীতির যে পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে সেটা তো ভয়াবহ। দেশের অর্থনীতি বলে কিছু নেই এখন। যেহেতু সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত, মেগা প্রজেক্টের নামে অনাচার দুর্নীতি করা হয়েছে পাশাপাশি গত তিন চার বছর ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে এখন যে অর্থনীতি সে ধারাবাহিকতারই একটা অংশ।

আমরা যদি বলি তারা ব্যর্থ হচ্ছে, সেটা বলা সঠিক না। তবে আমি  তাদের প্রতি আমার যে সাজেশন থাকবে সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ লোকজনদের সঙ্গে তারা কথাবার্তা বলবেন, তাদের বুদ্ধিপরামর্শ চাইবেন। তাতে হয়তো কিছুটা সুফল তারা পেতে পারেন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে তারা কী করতে চাচ্ছেন না চাচ্ছেন, সেটা যেন জনগণকে জানানো হয়। এখানে এক ধরনের স্বচ্ছতার প্রয়োজন আছে।

এই সরকারের নির্দিষ্ট কোনো সময় কেউ দেয়নি। সরকার কোনো সময়ের কথা বলছে না। তারা এ কথা বলছে না যে, দু’বছরের মধ্যে কাজগুলো করবো। বা এক বছরের মধ্যে এ কাজ করবো। এগুলোর তো টাইম টার্গেট কিছু নাই। নির্বাচন করতে গেলে একবারে কমপক্ষে একটা ভালো নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। যারা অনেস্ট, অন্যের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না এ ধরনের লোকদের নিয়ে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। তারপরে নির্বাচন কমিশনের ভেতরকার যে ব্যাপার আইন-কানুন রুলস আছে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। এবং সেটা পরিবর্তন দরকার।

এ সরকারককে দেখতে হবে নিজেরা সম্পূর্ণ ভালো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে জনসাধারণের মনোভাবটা কি বা তারা কীভাবে দেখছে সেটা করেই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি চট করে পরিবর্তন হবে না। আমার ব্যক্তিগত মত কালবিলম্ব না করে পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে ছয় মাসের স্কিম নিয়ে সাজানো। প্রয়োজন হলে আনসার বাহিনী থেকে বা অন্য কোনো বাহিনী থেকে লোক নিয়ে আসতে পারেন। এ ছাড়া যারা অন্যায় করে এখানে বসে আছে তাদের দ্রুত বিতাড়ন করা দরকার।

সরকারের তিন মাসের মূল্যায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত তিন মাসে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সবাই যদি তাদের সহযোগিতা করি তাহলে জাতির সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে তা পূরণে সক্ষম হবে।

৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ৮ই আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ১১ই সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। পরবর্তীতে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে কমিশনের প্রধান করে ছয় কমিশন গঠন করা হয়। গত মাস থেকে কমিশনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরে আরও চারটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গঠনের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ১০ সংস্কার কমিশনকে সরকারপ্রধানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিশন প্রধানরা তাদের কাজের অগ্রগতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছেন। কমিশনগুলোর মধ্যে সংবিধান সংস্কারে যে কমিশন হয়েছে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সংবিধান বাতিল, নাকি পুনর্লিখন এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। এছাড়া সংবিধান সংস্কার এই সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা এই প্রশ্নও সামনে এসেছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়িদ চৌধুরী।  তিনি জানান, তার কমিশনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সবার মতামত সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সফর করে জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

বৈঠকে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন কমিশন প্রধান সফর রাজ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যে ১০টি সভা করেছে। পাশাপাশি অংশীদারদের সঙ্গে আরও চারটি বৈঠক করেছে। জনসাধারণের মতামত চেয়ে একটি প্রশ্নমালা প্রস্তুত করা হয়েছে; যা ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে যেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রক্রিয়া সহজ করে তোলার জন্য যথাযথ প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি জানান, মব নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন করার প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর কতিপয় ধারা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তা পরিবর্তন করা হবে কি না সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সংস্কারে কাজ করছে এ সংক্রান্ত কমিটি। এ কমিটির প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সর্বশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে নিজেদের কার্যক্রমের বিষয় অবহিত করেন।

সর্বশেষ গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই আইনটি বাতিলে সাংবাদিক সমাজ ও অংশীজনের কাছ থেকে জোরালো দাবি ছিল। এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরতদের তিন মাসের কাজের মূল্যায়নের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিবেদন চেয়েছেন। বিদায়ী সরকারের নাজুক অবস্থায় রেখে যাওয়া অর্থনীতি ও রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোতে সংস্কার আনা হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এসেছে। তবে এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বাজার পরিস্থিতি। সরকার অনেক পণ্যের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে বা কমিয়েছে। কিন্তু দামে পরিবর্তন হচ্ছে না খুব একটা। নিত্যপণ্যের দাম কমানো ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও জোরালো উদ্যোগ চাইছে রাজনৈতিক দলগুলো।

mzamin

জেলে থেকে শত কোটি টাকার মালিক আলমগীর

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ ও চররমনী মোহন ইউপি’র সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি নিজ দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। জমি দখল, ঘাট দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মামলাই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে নেমে আসতো নির্মম নির্যাতন। তার ভয়ে আতঙ্কিত চররমনী মোহন ও মজুচৌধুরীহাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা। তার বিরুদ্ধে সদরসহ বিভিন্ন থানায় নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে চার শিক্ষার্থী নিহত ও তিনশ’র বেশি গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এরপর ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় আলমগীর হোসেন। তার রয়েছে লক্ষ্মীপুর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর জমি। চর মেঘাতে সরকারি কয়েকশ’ একর খাস জমি দখল করে ৫শ’র বেশি মহিষ লালন-পালন করছেন। এ ছাড়া মজুচৌধুরীরহাটে রয়েছে বালু মহল। বর্তমানে শত কোটি টাকার মালিক বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মজুচৌধুরীরহাট এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য এবং চররমনী মোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন আলমগীর হোসেন। এই সুবাদে সরকারি খাস জমি দখল ও ঘাট দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালুমহল দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক এখন। শহরের গোহাটা সড়কে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক একর জমি ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লট রয়েছে তার।
মেঘনা বেষ্টিত জেলা লক্ষ্মীপুর। জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ ও নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর এসব অসহায় মানুষদের শাসন ও শোষন করে চরাঞ্চলের এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা। এসব প্রভাবশালীর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মেম্বার ওরফে আলমগীর। তার নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল এক লাঠিয়াল বাহিনী। এই লাঠিয়াল বাহিনীর চাঁদাবাজি, জমিদখল ও ঘাট দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ চরাঞ্চলের জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির-পেশার লোকজন। আলমগীর মেম্বারের জন্মস্থান ভোলার সাবাসপুর হলেও স্বাধীনতার পর  চররমনী মোহন এলাকায় এসে রাজত্ব শুরু করে। এরপর থেকে আলমগীর হোসেন আর পিছনে ফিরতে হয়নি। এক সময় নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন শতকোটি টাকার মালিক। কীভাবে এত টাকার মালিক, এটাই এখন প্রশ্ন স্থানীয়দের। তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা।
অনেকটা টানা-পড়েনের সংসার ছিল তার। স্থানীয়দের মতে, রাজনীতির মাধ্যমেই আয় তার শত কোটি টাকা। তবে রাজনীতিবিদ হিসেবে খুব একটা জনপ্রিয় ছিলেন না আলমগীর। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে দুইবার চররমনী মোহন ইউনিয়নে আবু ইউসুফ ছৈয়ালের সঙ্গে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। সেই ভোটে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান তিনি। ওই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আলমগীর। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নয়নের আশির্বাদ পুষ্ট আলমগীর দুইবার জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদসহ জেলে পল্লীতে যত অনিয়ম তার হাত ধরেই শুরু হয়।
আলমগীর মেম্বারের লক্ষ্মীপুরে আগমন: আলমগীর মেম্বারের মূল বাড়ি ভোলার সাহাবাসপুর এলাকায়। তার পিতা নুরুল্লাহ মিয়া জেলে ছিলেন। বাবার সঙ্গে জেলের কাজ করতেন আলমগীর। মেঘনার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে স্বাধীনতার পরপরই সপরিবার চলে আসেন লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকায়। ঘাঁটি করেন চররমনী মোহন এলাকার  ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা নুরুল্লাহ মিয়া দুই বিয়ে করেন। তারা চার ভাই পাঁচ বোন। আলমগীর মেম্বার পরের ঘরের সন্তান। আলমগীর মেম্বারের পরিবারের সিন্ডিকেটে রয়েছে ভাতিজা হুমায়ূন কবির, ইউসুফ হোসেন জাবেদ, ভাগিনা ইউপি সদস্য মাদক ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম, ভাই বারেক মিয়া। বারেক মিয়ার ছেলে হত্যা মামলার আসামি শাকিল। সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি খাল দখল, বেড়িবাঁধ দখল, মাছ ঘাট দখল, বালু মহল দখল, মাদক ব্যবসাসহ সকল অপকর্ম তাদের নিত্যদিনের ব্যবসা।
মজুচৌধুরীরহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, আলমগীর হোসেন মেম্বার ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। চর মেঘায় সরকারি কয়েকশ’ একর জমি দখল করে মহিষ লালন-পালন করছেন। কয়েক মাস আগে ইউপি সদস্য মনির হোসেন বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। অর্থাৎ মাদক ব্যবসা, বালু মহল ও লঞ্চ ও ফেরিঘাট নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আলমগীর ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে চররমনী মোহন এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। তার কথামতো না চললে দেয়া হতো মামলা ও নির্যাতন। পাশাপাশি তার আত্মীয়স্বজনরা জমি দখল, ঘাট দখল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে দোকান-পাট গড়ে তুলে বিক্রি করতেন। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী বলেন, এই ওয়ার্ডে আলমগীর মেম্বার জমি কিনে পাঁচতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। অথচ এই আলমগীর ছিলেন এক সময়ে ইউপি মেম্বার ও মজুচৌধুরীরহাট ঘাট এলাকার আতঙ্ক। আওয়ামী লীগ করে গত ১৭ বছরে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক।
তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে এডভোকেট হাসানুজ্জামান বলেন, রাজনীতির প্রতিহিংসার কারণে অনেকেই নানান কথা বলছেন। এ ছাড়া ব্যাংক লোন নিয়ে বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছে বাবা। এখনো অনেক টাকা দেনা রয়েছে। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, অন্যায়কারী যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন? আইনের কাছে সে অপরাধী। আইনের অধীনে প্রত্যেক অপরাধীর বিচার হবে। এ ছাড়া আলমগীর মেম্বারসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

mzamin

হতশ্রী পারফরম্যান্স নিয়ে নান্নুর ‘ময়নাতদন্ত’ by ইশতিয়াক পারভেজ

একের পর এক উইকেট নিচ্ছেন আল্লাহ্‌ মোহাম্মাদ গাজানফার।  শুরুতেই তানজিদ হাসানকে আউট করে লাফিয়ে উঠলেন আকাশপানে। এরপর মুশফিকুর রহীমকে ঘোল খাইয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো উদযাপন করলেন। তাসকিন আহমেদকে বোল্ড করে দৌড়ে ছুটলেন দিগবিদিক। একেকটি উইকেট নিচ্ছেন আর একেক ভাবে উদযাপন করছেন। হয়তো তার ভাবানাতেই ছিল না টাইগার ক্রিকেটাররা তার কাছে এভাবে আত্মসমর্পণ করবেন। তাই উদযাপনের স্টাইলটাও যেন ঠিক করতে পারছিলেন না কিভাবে কী করবেন। চোটের কারণে মুজিব উর রহমান না থাকলেও ‘নতুন মুজিব’ পেয়ে গেছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬.৩  ওভারে ২৬ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেন ১৮ বছর বয়সী স্পিনার। আফগান তরুণ স্পিনার যখন বিশ্বকে তার  আগুনঝরা আগমন বার্তা দিয়েছেন তখন টাইগারদের অভিজ্ঞ আর তরুণদের করুণ ব্যাটিং দিচ্ছে হতাশার বার্তা। টাইগারদের এমন হতশ্রী ব্যাটিংয়ের কারণ কী! সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর ময়নাতদন্ত বলছে- ‘অপ্রত্যাশিত’।   দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করাই যায় না। এটি ভয়ঙ্কর রকম হতাশার। এমন ব্যাটিং করবে তা চিন্তা করা যায় না। ব্যাটিং কৌশল, মানসিকতা, মনোযোগ সবকিছুতেই ঘাটতি মনে হচ্ছে। সবেচেয়ে বড় সমস্যা যেটা চোখে পড়ছে বাংলাদেশ দল যেন স্পিন খেলতে ভুলে গেছে!’ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে  হোয়াইটওয়াশ। এর পর দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই ফল। দুটি সিরিজেই হারের অন্যতম কারণ নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। ওপেনার, টপ অর্ডার যেন ব্যাট চালাতেই ভুলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজাতে নিজেদের সবচেয়ে সফল ফরম্যাট ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে দল। কিন্তু তা আর হলো কই, উল্টো সিরিজের প্রথম ম্যাচেই লজ্জার হার। দলীয় সংগ্রহ ১২০ রানে ২ উইকেট থেকে ১৪৩-এ গুটিয়ে যায় টাইগাররা। হারে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে। ২৩ রানে শেষ ৮ উইকটের পতন। এমন ব্যাটিং নিয়ে মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে বেশির ভাগ ক্রিকেটার ফর্মে নেই। এটা সহজ কথা, কতদিন দেখা গেলো টপ অর্ডার ব্যর্থ এবার দেখলাম মিডল অর্ডারেও বাজে অবস্থা। ধারাবাহিকতা নেই বললেই চলে। দায়িত্ব নিয়ে কেউ ব্যাট করছে না, বল সিলেকশন যা করছে তা বেশ বাজে। কোন বলে কিভাবে খেলতে হবে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছে। উপরের বল কিভাবে মারতে হবে পিছনের বল কিভাবে খেলা উচিত, বা সামনের বল কিভাবে খেলবে কোনটাই ঠিক নেই। ফুটওয়ার্ক টলমলে। তার মানে টেকনিকে সমস্যা। আরেকটা বিষয় চোখে পড়ার মতো- মানসিকভাবেও তারা স্থির নয়। আগের ম্যাচের ভুলগুলো পরের ম্যাচে শুধরাচ্ছে না। তার মানে মনোযোগের অভাব। এর মানে মানসিকভাবেও তারা স্ট্যাবল  নেই। আরেকটা বিষয় বেশ ভয়ঙ্কর আমরা মনে হয় স্পিন খেলা ভুলে গেছি। এটাতে মনোযোগ দিতে হবে যতদ্রুত সম্ভব।’ বলাবলি হচ্ছে, প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের চলে যাওয়া, নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, ক্রিকেটারদের মধ্যে নানা রমকম অভ্যন্তরীণ সমস্যা দলের ওপর প্রভাব ফেলছে, দল হিসেবে গ্যাপ তৈরি করছে। তবে সাবেক প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেন, ‘মনে হয় না দলের অভ্যন্তরে গ্যাপ আছে। ক্রিকেটীয় সমস্যাটাই বেশি। বোলিংটা ভালো হচ্ছে। কিন্তু দেখেন ব্যাটিংয়েই ধারাবাহিকতা নেই। হারের কারণটা ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতা।’ তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এত টাকা খরচ করে ব্যাটিং কোচ আনছে তারা কি কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। নাকি ক্রিকেটাররাই তাদের কাছ থেকে নিতে পারছেন না? নান্নু বলেন, ‘এটা আমরা ভুলে যাই কোনো কোচই ক্রিকেটারকে পরিপূর্ণ ভাবে দিতে পারবে না। এখানে ক্রিকেটারকে শেখার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে। নিজের আগ্রহ না থাকলে কেউ গুলিয়ে খাইয়ে দিতে পারবে না। কারণ, শেখার পর সেটি প্রয়োগ করার দায়িত্ব ক্রিকেটারের। আমার কাছে মনে হচ্ছে ক্রিকেটাররা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করছে না।’

তাহলে কিভাবে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? দীর্ঘদিন প্রধান নির্বাচক ছিলেন, সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ব্যাটারদের মধ্যে সফল একজন। তাহলে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কী পরামর্শ থাকবে দলের জন্য? নান্নু বলেন, ‘ব্যাটারদের মনোযোগী হতে হবে, দায়িত্ব নিয়ে খেলার ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। সবচয়ে বড় কথা শুধু ব্যাটার নয়, তিন বিভাগে (ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং) সব কিছু নিয়ে কাজ করতে হবে। যেন দল হিসেবে মাঠে পাফরম্যান্স করতে পারে। এর কোন বিকল্প নেই।’ 

mzamin

প্ল্যান্টেশন সেক্টরে মাত্র ৯০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া by আরিফুল ইসলাম

আজ হোম মিনিস্টার দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিশন ইসমাইল জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ লাখ কর্মী নিয়োগের সীমা অনুযায়ী হোম মিনিস্ট্রি (কেডিএন) নতুন বিদেশি কর্মী কোটাগুলি স্থগিত করেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২৪.১ লাখ নিবন্ধিত বিদেশি কর্মী রয়েছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমা ছুঁতে প্রায় ৯০,০০০ এর মতো কোটা খালি রাখছে।

দেশটির মালয় মেইল জানিয়েছে "এই সীমা দেশের মোট কর্মী সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের উপর নির্ভর করে, যা অর্থ মন্ত্রণালয় দ্বারা নির্ধারিত। মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি হওয়া উচিত নয়। বর্তমানে এই সীমার নিচে মাত্র ১ লাখ অবশিষ্ট থাকায়, কেডিএন সেপ্টেম্বরে নতুন কোটাগুলি ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে," তিনি কেডিএন এর টাউন হল ডায়লগ সেশনে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আবেদনগুলি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং কৃষি, বাগান, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা এই পাঁচটি খাতে চাহিদা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

যাইহোক, তিনি উল্লেখ করেন যে এই পাঁচটি খাতের মধ্যে কৃষি ও বাগান খাতের শ্রমিক সংকট রয়েছে।

"স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও, এই খাতগুলিতে শ্রমিক সংকট সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে," তিনি আরও যোগ করেন।

প্ল্যান্টেশন ও কমোডিটি মন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল গনি আগেই এই খাতে শ্রমিক আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যেখানে এখনো প্রয়োজনীয় কর্মী সংখ্যা পূরণ হয়নি।

তিনি আরও জানান যে, কেডিএন এবং মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে আরও আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলি শ্রমিকের চাহিদা যাচাই করতে পারে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে পাম তেল ও রাবার শিল্পে কোম্পানিগুলির প্রয়োজনীয় কর্মী সংখ্যা নিশ্চিত করার জন্য সংস্থাগুলি প্রমাণ দেবে, তারপর নতুন অনুমোদন দেয়া হবে।

সাইফুদ্দিন আরও জানান, প্রয়োজন হলে অবশিষ্ট ১ লাখের কিছু অংশ যা ইতিমধ্যে অব্যবহৃত আবেদন বা পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে।

mzamin