Saturday, December 6, 2025

গাজায় ইসরায়েলের ভাড়াটে বাহিনীর প্রধান কে এই আবু শাবাব

গাজার মিলিশিয়া নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর গ্রুপ পপুলার ফোর্সেস ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের সমর্থনপুষ্ট ইয়াসির আবু শাবাব ছিলেন এমন এক ব্যক্তি, তিনি নিজেকে গাজায় হামাসের বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু বেশির ভাগ ফিলিস্তিনির চোখে তিনি ও তাঁর বাহিনী কেবলই ইসরায়েলের ভাড়াটে বাহিনী, যারা গাজায় শত্রুর হয়ে নিজেদের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে।

আবু শাবাবের বয়স ছিল ৩০–এর কোঠায়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ গাজার তারাবিন বেদুইন গোত্রের। গত বছর প্রথম গাজার একটি মিলিশিয়া দলের প্রধান হিসেবে আবু শাবাবের নাম সামনে আসে। এর আগে ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অচেনা ছিলেন।

শুরুতে এ গোষ্ঠীর নাম ছিল ‘অ্যান্টিটেরর সার্ভিস’। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে তারা নিজেদের পপুলার ফোর্সেস নামে পরিচিত করে তোলে। অন্তত ১০০ যোদ্ধার সমন্বয়ে গঠিত সুসজ্জিত দলটি গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে সক্রিয় ছিল। ইসরায়েল তাদের অস্ত্র সরবরাহ করত।

গোষ্ঠীটি কার্যত একধরনের অপরাধী চক্র আর ইসরায়েলের হয়ে কাজ করা একটি বাহিনীর মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল। যদিও তারা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরত ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসেবে, যার লক্ষ্য হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

হামাসের বিরুদ্ধে পপুলার ফোর্সেসের লড়াইয়ের এ প্রচার আদতে ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণ করত। তবে ইসরায়েল এ গোষ্ঠীকে দিয়ে কী করতে চায় বা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা কখনোই স্পষ্ট ছিল না।

পপুলার ফোর্সেস হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বললেও গাজার মানুষের মধ্যে তাদের খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। অধিকাংশ ফিলিস্তিনি আবু শাবাবের দলকে সমর্থন দিতেন না।

এর কারণ হচ্ছে, অনেক ফিলিস্তিনি আবু শাবাবকে একজন অপরাধী মনে করতেন।
গাজার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আবু শাবাবকে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছর ধরে কারাবন্দী করে রাখে। গাজা যুদ্ধের প্রথম দিকে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর জোট বাঁধা অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে শুরু থেকেই তাঁকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। তাঁকে সমর্থন না দেওয়া ব্যক্তিদের দলে তাঁর নিজের গোত্রের লোকজনও অন্তর্ভুক্ত। গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস ও নির্বিচার হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আবু শাবাবকে হত্যার খবর প্রকাশের পর তারাবিন বেদুইন গোত্র থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তাঁর (আবু শাবাব) নিহত হওয়ার ফলে অন্ধকার এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। এ অন্ধকার অধ্যায় তারাবিন বেদুইন গোত্রের ইতিহাসকে উপস্থাপন করে না।’

নৈতিক বা মতাদর্শগত অস্পষ্টতা

ব্যক্তি ইয়াসির আবু শাবাব কে ছিলেন, তাঁর অতীত কী ছিল, তা জানা গেলেও তাঁর মতাদর্শ কী ছিল—তা স্পষ্ট করে বলা কঠিন। অনেক পর্যবেক্ষক বলেন, তাঁর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অবস্থান ছিল না; বরং তিনি ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন এবং সেই আকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত হতেন।

আবু শাবাবের বাহিনী শুরুতে নিজেদের ‘অ্যান্টিটেররিজম’ নাম নেওয়ায় কিছুটা বিদ্রূপের পাত্র হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে যখন আইএসআইএসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যাচ্ছিল।

তবে আইএসআইএসের সঙ্গে আবু শাবাবের এই সংশ্লিষ্টতা কোনো মতাদর্শগত কারণে ছিল না। এ সংযোগ ছিল মূলত মিসরের সিনাই উপদ্বীপ থেকে গাজা হয়ে চোরাচালানের কাজে সহযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইয়াসির আবু শাবাবের পটভূমি ও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতির মধ্যে সব সময়ই একটি পার্থক্য দেখা গেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ইংরেজি ভাষার পোস্টগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালেও তাঁর একটি মতামত প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছিল।

সেই প্রবন্ধে ইয়াসির আবু শাবাব দাবি করেছিলেন, তাঁর পপুলার ফোর্সেস গাজার দক্ষিণে রাফার পূর্ব অংশের বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাঁরা একটি নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রস্তুত।

প্রবন্ধে আবু শাবাব আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো যাঁরা হামাসের সঙ্গে জড়িত নন, সেই ফিলিস্তিনিদের যুদ্ধের আগুন থেকে আলাদা করা।’

আবু শাবাব ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সব সময় আড়াল করতে বা কমিয়ে দেখাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু গত জুনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেন, তাঁর সরকার গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ব্যবহার করেছে।

নেতানিয়াহু সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করলেও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আবু শাবাবের পপুলার ফোর্সেসের নাম এসেছে।

নেতানিয়াহু বলেছিলেন, গাজায় এ ধরনের বাহিনী ব্যবহার করার ধারণা এসেছিল নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পরামর্শ থেকে।

যদিও এর আগে ইসরায়েল আরেক প্রতিবেশী দেশে লেবাননে সাউথ লেবানন আর্মির মতো স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল।

ইয়াসির আবু শাবাব
ইয়াসির আবু শাবাব। ছবি: পপুলার ফোর্সেসের ফেসবুক থেকে নেওয়া

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কি ‘অকার্যকর’ প্রমাণিত হচ্ছে by চিতিজ বাজপেয়ী

পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ২০২৫ সাল ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য সবচেয়ে কঠিন বছর। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ‘অকার্যকর’ প্রমাণিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে লিখেছেন চিতিজ বাজপেয়ী

ভারত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি প্রধান বৈশ্বিক শক্তি রাশিয়া, চীন এবং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের আতিথ্য দিচ্ছে। বিষয়টি দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতিকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ডিসেম্বরে ভারতে সফর করার কথা রয়েছে, যা হবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তাঁর প্রথম ভারত সফর। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আগামী বছর ভারতে আসতে পারেন, যখন দেশটি ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক হবে। কোয়াড নিরাপত্তা সংলাপের এ বছরের সম্মেলনটি এ মাসে ভারতে হওয়ার কথা থাকলেও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে অবনতির কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকটি যদি আগামী বছরে পুনর্নির্ধারিত হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভারতে সফর করতে পারেন।

তবে এই বয়ানের একটি উল্টো দিকও আছে। ভারতের সমদূরত্ব বজায় রাখা পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় দূরত্বপূর্ণ বা উদাসীন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প ভারতকে শাস্তি দিতে বাণিজ্য বৈষম্য এবং রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।

এদিকে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বজায় রাখে বা রুশ অপরিশোধিত তেলের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল, সেসব দেশকে একই মাত্রায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্ব (যেমন চীন) অথবা যুক্তরাষ্ট্রের জোটভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানের (যেমন জাপান, তুরস্ক) কারণে সেটা করা হয়নি।

ভিন্নতর আচরণটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ভারতের কৌশলগত অপরিহার্যতার অভাবই প্রতিফলিত হয়। ভারতের জন্য একটি মূল শিক্ষা হলো—নিষ্ক্রিয় নয় বরং আরও সক্রিয় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলা।

জুন মাসে মোদি ও ট্রাম্প ফোনালাপ করেন, যেখানে ট্রাম্প মোদি ও মুনিরকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। মোদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং বিশেষত কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের অনীহা রয়েছে। এরপর দুই নেতা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর কথা বলেননি, যা সম্পর্কের শীতলতার ইঙ্গিত দেয়।

২.

২০২৫ সাল সম্ভবত ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য সবচেয়ে কঠিন পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বছর। এপ্রিল মাসে ভারতশাসিত কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলার পর মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত ঘটে। সংক্ষিপ্ত হলেও এই সংঘাত ছিল দশকের মধ্যে দুই দেশের সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ সময়।

ভারত-পাকিস্তান এ সংঘাত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতিরও উদ্দীপক হয়ে ওঠে। কারণ, ট্রাম্প দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার এ শত্রুতা অবসানের কৃতিত্ব দাবি করেন, যা নয়াদিল্লি খণ্ডন করলেও ইসলামাবাদ তা সানন্দে প্রতিধ্বনিত করে। অপমানের ওপর অপমান যোগ করে, সংঘর্ষের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়, যেখানে হোয়াইট হাউস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরকে দুবার আমন্ত্রণ জানায়।

জুন মাসে মোদি ও ট্রাম্প ফোনালাপ করেন, যেখানে ট্রাম্প মোদি ও মুনিরকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। মোদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং বিশেষত কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের অনীহা রয়েছে। এরপর দুই নেতা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর কথা বলেননি, যা সম্পর্কের শীতলতার ইঙ্গিত দেয়।

এ সময়ের মধ্যে দুই দেশ দ্রুত অবনতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রবেশ করে। কারণ, আগস্টে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা কোনো বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি এবং এরপর ভারত ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ শুল্কের ‘শিকার’ হয়।  ‘মৃত’ অর্থনীতি হিসেবে ভারতকে ট্রাম্পের অবমাননা করা এবং তাঁর বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ‘ক্রেমলিনের লন্ড্রি’ বলে ভারতকে অভিহিত করা—দ্বিপক্ষীয় আস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

দুই নেতার সাম্প্রতিক আপসসূচক বক্তব্য উত্তেজনা প্রশমনের এবং শেষ পর্যন্ত একটি বাণিজ্যচুক্তি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লির আগের অযৌক্তিক উচ্ছ্বাস, যেমন ভারতীয়দের মধ্যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে অধিক ইতিবাচক মনোভাব ম্লান হয়েছে।

একইভাবে ম্লান হয়েছে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বিশেষ বা সুবিধাপ্রাপ্ত সম্পর্ক থাকার দাবি। মোদি তাঁর ব্যক্তিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে গর্ব করতেন, যেখানে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তবে এটি ট্রাম্পের খামখেয়ালি ও লেনদেনভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির ক্রোধ থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পারেনি।

আরও মৌলিকভাবে বললে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সামনে থাকা বিস্তৃত চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে। ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রতিশ্রুতি দেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি এক বোঝা। একদিকে এটি ভারতকে নমনীয়তা দেয়। এটি স্পষ্ট হয় যখন ২০২০ সালে সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীন-ভারত সম্পর্কে অবনতি ঘটে। নয়াদিল্লি এর জবাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করে, যার প্রমাণ কোয়াডে ভারতের সম্পৃক্ততা এবং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সঙ্গে তার গভীরতর সংযুক্তি।

এই বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতি ভারতের জন্য সুবিধা এনে দিচ্ছে। কারণ, এটি কোনো এক দেশের প্রতি বাধ্য নয়। ২০২৪ সালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মন্তব্য করেন, ভারতকে প্রশংসা করা উচিত তার পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বহুবিধ বিকল্প’ বজায় রাখার জন্য।

তবে গত বছরের ঘটনাবলি এই অবস্থানের ঔদ্ধত্যকে তুলে ধরে, যখন ভারতকে প্রধান শক্তিগুলোর মধ্য থেকে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা হয়; তখন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ধরে রাখা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। এটাই ঘটে যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করে; ইউক্রেনে শান্তিচুক্তি করতে মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে নয়াদিল্লির সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কও ওয়াশিংটনের অধিকতর নজরদারিতে আসে।

৩.

কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের শিকড় শীতল যুদ্ধকালীন নিরপেক্ষতার ধারণায়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর বৈশ্বিক সম্প্রদায়ে যোগ দেওয়ার পর ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে কোনো জোটে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে তোলে, যা দেশের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারত। মূলত নিরপেক্ষতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সব প্রধান প্রভাবকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নমনীয়তা ধরে রাখা।

নিরপেক্ষতা সব সময় বাস্তবে কার্যকর হয়নি। শীতল যুদ্ধকালে অস্তিত্বগত হুমকির মুখে পড়লে ভারতের কৌশলগত নমনীয়তা ক্ষয়ে যায় এবং দেশটি সমর্থনের জন্য দুই পরাশক্তির একটির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। এটি স্পষ্ট হয় ১৯৬২ সালে, যখন চীনের সঙ্গে যুদ্ধের সময় নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমর্থনে ঝুঁকে পড়ে।

আবার ১৯৭১ সালে ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে। সে সময় পাকিস্তান চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল।

শীতল যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ভারতকে নিরপেক্ষতার নীতি ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও পণ্য বিনিময় চুক্তি হারানোর ফলে নয়াদিল্লি উপলব্ধি করে যে তাকে তার বৈদেশিক সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তবে সর্বমুখী বা বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকে।

৪.

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের অবনতি দেখায় যে ভারতের আরও সক্রিয় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্প্রতিক জি-২০ সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণ এবং অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন অংশীদারির চুক্তি নয়াদিল্লির এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নির্দেশ করে যে দেশটি বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বর হতে চায়, পশ্চিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে চায় এবং উভয়ের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করতে চায়।

মোদি সরকার ভারতকে ‘বিশ্বমিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু দুনিয়ার বন্ধু হওয়া এবং দুনিয়াকে পরস্পরের বন্ধু বানাতে সাহায্য করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইরান ও ইসরায়েল—উভয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা সত্ত্বেও ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে উত্তেজনা প্রশমনে নয়াদিল্লির ভূমিকা সীমিত ছিল (কাতার, তুরস্ক, ব্রাজিল, এমনকি চীনের মতো দেশগুলোর ভূমিকার বিপরীতে)।

ভারত যদি এমন ভূমিকা পালন করত, তবে তা সেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, যা দেশটি একসময় পালন করেছিল; তখন ভারত ছিল আরও দুর্বল শক্তি। ১৯৫০-এর দশকে কোরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে তাইওয়ান প্রণালি সংকট পর্যন্ত বহু বৈশ্বিক সংঘাতে ভারত ছিল একটি প্রধান কণ্ঠ।

এসবের পরিবর্তে ভারত দূরত্ব বজায় রাখার পথ বেছে নিয়েছে। এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে অক্টোবর মাসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মোদির অনুপস্থিতি। প্রথমটি শারম আল-শেখে গাজা শান্তি সম্মেলন এবং দ্বিতীয়টি কুয়ালালামপুরে পূর্ব এশিয়া সম্মেলন। উভয় ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ পেলেও মোদি অংশ নেননি।

যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো—উভয় বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়েছিল পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য), যাকে ভারত তার ‘বিস্তৃত প্রতিবেশ’ বলে। এতে বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির উদাসীনতা ফুটে ওঠে।

ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান আরও সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় একটি শিক্ষা দেয়। ইসলামাবাদ তার নিজস্ব ধরনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুশীলন করছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে।

যেখানে নয়াদিল্লি ভূরাজনৈতিক উত্তপ্ত অঞ্চলগুলো থেকে দূরে থাকতে চায়, সেখানে ইসলামাবাদ আগ্রহভরে এগিয়ে আসে; ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টিতে সহায়তা করা থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হওয়া, ২০০০-এর দশকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা স্থাপত্যকে সমর্থন করা পর্যন্ত।

পাকিস্তান এটি ধরে রাখতে পারবে কি না, তা আরেক প্রশ্ন, যদি বিবেচনা করা হয় তাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বগুলোকে; যেমন—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই বন্দর প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া। অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তবর্তী অস্থিরতাগুলো বিবেচনায় নিলে ইসলামাবাদ কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বিস্তৃত প্রতিরোধ ক্ষমতা দেওয়ার আশা করে? তবু এটি দেখায় কীভাবে নয়াদিল্লির তুলনায় আরও সক্রিয় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুশীলন করা যেতে পারে।

একটি ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিশ্বে ভারতকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থ পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ বছরের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি দেখিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাভাবিক মিত্র’ হিসেবে ভারতের ধারণাগত নিশ্চয়তাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভারতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বাড়ছে, যার থেকে দেশটি এত দিন বিরত থেকেছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছে নিজেকে  কৌশলগতভাবে আরও অপরিহার্য করে তোলা ট্রাম্প অথবা অন্য যেকোনো দেশের খামখেয়ালিপনা নেতার থেকে ভারতের ঝুঁকি কমাবে।

গ্লোবাল ফোরামগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুপস্থিতি এবং কখনো কখনো অস্থিতিশীল ভূমিকা বৈশ্বিক নেতৃত্বে একধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। ভারতের এগিয়ে আসার এর চেয়ে উপযুক্ত মুহূর্ত আর হতে পারে না।

চিতিজ বাজপেয়ী, চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো
- ফরেন পলিসি থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মনজুরুল ইসলাম

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কি ‘অকার্যকর’ প্রমাণিত হচ্ছে

হামলার মধ্যেই গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর পরিকল্পনা

টাইমস অব ইসরায়েলঃ ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের। যদিও যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী গাজায় হামলা এখনো পুরোপুরি থামায়নি ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে প্রায়ই উপত্যকাটিতে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি হচ্ছে।

দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরুর পরিকল্পনার তথ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে সংঘাত-পরবর্তী গাজা পরিচালনার জন্য একটি শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকাঠামো গঠন করা হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা বা কোন কোন দেশ যুক্ত থাকবে, তা সময় হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা করবেন।

যুদ্ধবিরতির নতুন ধাপ শুরুর জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ওই আলোচনার মাধ্যমে চলতি বছরের শেষের আগে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় বাধা এলে তা বাস্তবায়নে দেরিও হতে পারে।

দুই মাসে নিহত ৩৬৬

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর গাজায় প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাসের কাছে বন্দী জীবিত ২০ জনের সবাইকে ইসরায়েলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন বাদে মৃত ২৭ বন্দীর সবার মরদেহও ফেরত পেয়েছে তারা। বিনিময়ে ইসরায়েল থেকে মুক্তি পেয়েছেন কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। গাজায় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেনাসদস্যদেরও পিছিয়ে এনেছে ইসরায়েল।

গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের একটি শর্ত ছিল উপত্যকাটিতে হামলা বন্ধ করবে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধবিরতির পরও সেখানে অন্তত ৩৬৬ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আহত হয়েছেন ৯০০ জনের বেশি। এর মধ্যে সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর গাজায় এক নারীকে হত্যা করা হয়। আগের দিন দক্ষিণে খান ইউনিসে একটি তাঁবুকে বিমান হামলা চালালে নিহত হন পাঁচ ফিলিস্তিনি।

গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে যুদ্ধবিরতি সময় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে একটি ইনফোগ্রাফ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। তাতে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর মাত্র ৯ দিনের মাথায় ১৯ অক্টোবর গাজায় হামলা চালিয়ে ৪৫ জনকে হত্যা করেছিল ইসরায়েল। এরপর ২৯ অক্টোবর ৫২ শিশুসহ হত্যা করা হয় ১০৯ জনকে। সবশেষ বড় হত্যাকাণ্ড হয় ২২ নভেম্বর। সেদিন ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানি হয়েছিল ২১ জনের বেশি ফিলিস্তিনির।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ওই হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। সেখান থেকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে আসা হয় প্রায় আড়াই শ জনকে। ওই দিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হামলায় এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

আলোচনায় কিছু বাধা

যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী—প্রথম ধাপের পর হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে সংগঠনটিকে। তবে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি নয়। আর গাজায় যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে বিদেশিদের উপস্থিতি মেনে নেবে না তারা। এই সরকারে শুধুই ফিলিস্তিনিদের চায় হামাস।

এই দুই বিষয়ে হামাসকে রাজি করানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর ও তুরস্ক। সংগঠনটিকে দেওয়া এক প্রস্তাবে তারা বলেছে, প্রথমে তাদের যোদ্ধারা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভারী অস্ত্র ত্যাগ করবে। পরে হালকা অস্ত্র সমর্পণ করবে। মার্কিন ওই কর্মকর্তার মতে, হামাস অস্ত্র সমর্পণের পরই কেবল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চাইছে ইসরায়েল।

বিষয়টি নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতায় পৌঁছালে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা। এরই মধ্যে এই বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগ্রহ দেখিয়েছে ইন্দোনেশিয়া ও আজারবাইজান। তুরস্কও একই আগ্রহ দেখালে তা নাকচ করে দিয়েছিল ইসরায়েল।

তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীতে তুরস্কের উপস্থিতিটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের একজন কর্মকর্তা। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেছেন, তুরস্ক এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি। তাই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে তুরস্কের সেনাসদস্যরা যোগ দিলে তাঁদের ওপর হামাস সদস্যদের গুলি চালানোর আশঙ্কা অনেক কম। সংঘাত-পরবর্তী গাজা পরিচালনায় তুরস্ককে যুক্ত করার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনও।

গাজায় অন্তর্বর্তী সরকার


যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ এবং হামাসকে অস্ত্রমুক্ত করার দায়িত্বে থাকবে একটি কমিটি বা অন্তর্বর্তী সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে ফিলিস্তিনি অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা (টেকনোক্র্যাট) থাকলেও হামাসের কেউ থাকতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই কমিটির ১২ থেকে ১৫ জনের নাম বেছে নেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।

এই কমিটি আবার থাকবে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা বোর্ডের অধীনে। সেখানে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। এর ওপর নজরদারি করবে ‘বোর্ড অব পিস’। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে বোর্ড অব পিসে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান থাকতে পারেন।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, গাজায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠনের পর ইসরায়েলের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। গাজায় বর্তমানে ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোয় পুনর্গঠন শুরু করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর ফলে ওই এলাকাগুলোয় আরও দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করতে পারেন বলে আপত্তি জানিয়েছে আরব দেশগুলো।

ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের দাফনের সময় স্বজনদের শোক। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার খান ইউনিসে
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের দাফনের সময় স্বজনদের শোক। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার খান ইউনিসে। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশে তরুণদের রাজনৈতিক লড়াই: ভোটের মাঠে পিছিয়ে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন দল এনসিপি

দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের রিপোর্টঃ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার পতনে জনগণের নজর কাড়লেও রাজনীতির মাঠে প্রত্যাশিত উত্থান ঘটাতে হিমশিম খাচ্ছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আত্মপ্রকাশ হয় ২০২৫ সালে। আত্মপ্রকাশের সময় বিপুল জনসমাগম দেখা গেলেও আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ভোটের মাঠে তেমন কোনো সাড়া ফেলতে পারছে না নবগঠিত এই দলটি।

এনসিপির আহ্বায়ক ও চব্বিশের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, যথেষ্ট সময় না পাওয়ায় দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা এখনও দুর্বল। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি।’ সংগঠনের নবযাত্রা ও স্বল্প অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা রচনায় যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

জনমত জরিপে তৃতীয় স্থানে এনসিপি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআরআই-এর ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা যায়, সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়া এনসিপি মাত্র ৬ শতাংশ ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। যাদের পক্ষে রয়েছে ৩০ শতাংশ ভোটার। আর দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইসলামপন্থী দলটি পেয়েছে ২৬ শতাংশ সমর্থন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক প্রাপ্তি তপশী জানান, এনসিপির প্রতি শুরুতে আশা থাকলেও পরে হতাশ হয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ নিজেদের মধ্যমপন্থী বলে দাবি করলেও সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা যথাসময়ে অবস্থান নেয়নি। সেপ্টেম্বরে হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলটির ছাত্র সংগঠন একটি আসনও পায়নি। এতে জনমনে হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জোট আলোচনা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক সংকট ও অস্পষ্ট নীতির কারণে এনসিপি বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করার আলোচনা করছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ালে একটি আসনও না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জোটে গেলে ‘বিপ্লবী’ ভাবমূর্তিই হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, জোটে গেলে জনগণ তাদের আর প্রচলিত তিন দলের বাইরে নতুন শক্তি বলে বিবেচনা করবে না।

অর্থসংকট ও গ্রাম পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ
অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের তুলনায় মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক মজবুতি না থাকায় গ্রামাঞ্চলে ভোটারদের আকৃষ্ট করা এনসিপি’র জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির প্রধান নাহিদ ইসলাম জানান, সদস্যদের ব্যক্তিগত উপার্জন, ছোট ছোট অনুদান এবং ক্রাউডফান্ডিংয়ের উপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি ভোটারদের বলেছি, আমার কাছে দেওয়ার মতো টাকা নেই। আমার লক্ষ্য হবে সরকারি অর্থ যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় তা নিশ্চিত করা। এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে দলটি।

রাজনীতিতে নতুনত্বের আশা
তবুও তরুণদের একটি অংশ এখনো এনসিপিকে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে দেখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনজিলা রহমান বলেন, তারা তরুণ, তারা আন্দোলন করেছে। শুধু কর্তৃত্ববাদী হয়ে না উঠলেই তারা পরিবর্তন আনতে পারবে। নভেম্বরে দলটি সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়- দুই দিনে এক হাজারের বেশি আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। রিকশাচালক থেকে শুরু করে আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই সেখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান। ডা. তাসনিম জারা, যিনি চিকিৎসা ক্যারিয়ার ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা রাজনীতিকে ক্ষমতাধর পরিবারগুলোর বাইরে এনে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। বিএনপির নেতারাও স্বীকার করেন, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তরুণদের গুরুত্ব বাড়বে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে জায়গা দিতে পারলে তা দেশের জন্য ভালো হবে। এনসিপি নেতাদের দাবি, এই নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাদের লক্ষ্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জয় বা পরাজয় বড় কথা নয়- এই নির্বাচনে অংশ নেওয়াই আমাদের জন্য নতুন সূচনা।

https://mzamin.com/uploads/news/main/192534_Kaium-1.webp

ফিলিস্তিনে শান্তি আসবে, কিন্তু তার আগে যা দরকার by আবদুল্লাহ গুল

দুই বছর ধরে ইসরায়েল বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে গত অক্টোবরে হওয়া গাজার যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। কিন্তু যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও স্থায়ী ও ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে।

এ উদ্যোগকে ‘নতুন শুরু’ বলা হলে সেটি ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। মনে হতে পারে সমাধান হয়ে গেছে। যদিও নতুন নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে বৈধতা দিয়েছে, তবু এতে ন্যায়সংগত ফিলিস্তিনি দাবির যথেষ্ট উল্লেখ নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে স্বাভাবিক করে তোলা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ইসরায়েলি আউটপোস্ট বা ছোট ছোট চৌকি ক্রমেই বাড়ছে এবং সেগুলো স্থায়ী বসতিতে পরিণত হচ্ছে। একইভাবে গাজায় ‘হলুদ রেখা’ চালু হওয়ায় অঞ্চলটি স্থায়ীভাবে ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে ইসরায়েল পুরো এনক্লেভের অর্ধেকের বেশি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ পাবে। এসব দেখে ইসরায়েল সত্যিই এসব এলাকা থেকে সরে যেতে চাইবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা একটি নতুন শান্তির প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। কিন্তু যে সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, তার মূল সমাধানগুলো অনেক দিন ধরেই পরিষ্কার। ইসরায়েলের দখলদারি এবং অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। মর্যাদার সঙ্গে অবশ্যই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে।

ইসরায়েলের অস্তিত্বগত উদ্বেগও একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ, দেশটি লেভান্ত অঞ্চলের মাঝখানে, অনেক বৈরী দেশের ঘেরাও অবস্থায় আছে। কিন্তু ইসরায়েলের সেটি বুঝতে হবে, যা বহু আগেই বিশ্বের অনেক ইহুদি বুদ্ধিজীবী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বুঝেছেন। তা হলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে এবং আশপাশের অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইসরায়েলের স্বাভাবিক সম্পর্ক দরকার।

ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইসলামি বিশ্বের অনেক উগ্রপন্থা ফিলিস্তিন ইস্যুকে কাজে লাগায়। সংঘাত মিটে গেলে এসব দাবি ও উসকানি দুর্বল হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভেতরেও সংস্কার দরকার। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতাদের সামনে আনা প্রয়োজন। কেবল এ ধরনের নেতৃত্বই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনের নেতৃত্বকে বিশ্বাসযোগ্য, বৈধ ও সম্মানজনক হতে হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর যে ভয়াবহ ধ্বংস ও কষ্ট নেমে এসেছে, সেই পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গঠনের শুরুতে তাদের ধৈর্য ও সমর্থন দেখাতে হবে। ইসরায়েলেরও উচিত এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা, যদি তারা সত্যিই হামাসের প্রভাব কমাতে চায় এবং অঞ্চলে স্থায়ী স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

২০০৬ সালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথম ব্যক্তি, নির্বাচনে বিজয়ের পর আঙ্কারায় হামাস নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করি। আমি তাঁদের শক্তভাবে পরামর্শ দিই—তাঁদের নতুন নীতি নিতে হবে এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক শক্তি যেমন আচরণ করে, তেমন আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ কূটনীতি ব্যবহার করতে হবে, সংগ্রামে আরও নরম কৌশল গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিনিধিত্ব অর্জন করতে হবে। তাঁরা শুরুতে এমন ইচ্ছার কিছু লক্ষণও দেখিয়েছিলেন।

আমি আমার ইসরায়েলি ও মার্কিন সমকক্ষদেরও বলেছিলাম, গাজায় নতুন নির্বাচিত নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। আজ আবার একই ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি এখনো মনে করি, গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিনি নেতৃত্বই একমাত্র পথ। এমন নেতৃত্ব, যারা সুশাসন নিশ্চিত করবে, দুর্নীতি দূর করবে এবং সহিংসতা বর্জন করবে—তারাই জনগণের পূর্ণ সমর্থন পাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ প্রতিনিধিত্ব অর্জন করতে পারবে।

আমি মধ্যপ্রাচ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকেই কারাবন্দী ফিলিস্তিনি রাজনীতিক মারওয়ান বারঘুতিকে সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইসরায়েলের এটা প্রমাণ করতে হবে, তারা সত্যিই শান্তি চায়। এ জন্য তাঁকে ও অন্য রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

আবদুল্লাহ গুল, তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ইসরায়েল গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে
ইসরায়েল গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। রয়টার্স

৩৩ বছর পর মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শনিবার

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে একই নামের মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ গড়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ কোনো হস্তক্ষেপ না করায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে এখন কোনো আইনি বাধা নেই।

শনিবার দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। হুমায়ুন কবীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই উদ্যোগকে বিভিন্ন মহল থেকে সংখ্যালঘু আবেগের সঙ্গে রাজনৈতিক খেলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আগামীকাল রেজিনগরে প্রস্তাবিত ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

হুমায়ুন কবীর বলেছেন, এই মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে। অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত অবস্থার কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, তাঁর নিজস্ব প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবকও অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকবেন।

হুমায়ুন কবীর বর্তমানে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। হুমায়ুনের এই ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এখানকার অনেকেই চাইছেন না বাবরি মসজিদ গড়ার নামে এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক।  

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গভর্নর সি ভি আনন্দ বোস এর আগে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে এই মসজিদ নির্মাণ ঘিরে এই রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। বিজেপি বলেছে, তৃণমূল বিধায়ক মসজিদ নির্মাণের নামে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল বলেছে, সংখ্যালঘুদের আবেগ নিয়ে হুমায়ুন কবীর ছিনিমিনি খেলছে। মানুষ হুমায়ুনের কথায় পাত্তা দেবে না।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উন্মোচন করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

হুমায়ুন কবীর আরও ঘোষণা দেন, ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে আয়োজিত একটি গণসমাবেশ থেকে তিনি একটি নতুন ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন। এই নতুন দল নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হবেন বলে জানান।

হুমায়ুন কবীর
হুমায়ুন কবীর। ছবি: প্রথম আলো

ফিলিস্তিনের গাজায় গণবিবাহ

একে অপরের হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন বর-কনে। কনের পরনে লাল ফিতায় সজ্জিত ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী কারুকার্যমণ্ডিত লাল–সাদা পোশাক। বরের গায়ে কালো স্যুট ও টাই। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার একটি গণবিবাহের দৃশ্য এটি। দুই বছর ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ধংসস্তুপকে পেছনে রেখে এভাবেই গাওয়া হয় নতুন জীবনের জয়গান।

গত মঙ্গলবার গাজার দক্ষিণে খান ইউনিস শহরে চোখজুড়ানো এ অয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫৪ জোড়া জুটির বিয়ে সম্পন্ন হয়, যা কোনো প্রচলিত বিয়ে নয়। যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে এটি ছিল জীবনের সাহসী উদ্‌যাপন। কারাম মুসাআদ নামের এক ফিলিস্তিনি তরুণ ওই অনুষ্ঠানে জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তের প্রয়োজন ছিল, যা আবার আমাদের হৃদয়কে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।’

ইসরায়েলের হামলায় গাজার সর্বত্র ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তার ওপরে লালগালিচা বিছিয়ে বানানো হয় অস্থায়ী মঞ্চ। বাদ্যের তালে তালে পা মিলিয়ে একে একে মঞ্চে ওঠেন হবু দম্পতিরা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা কনেদের হাতে ছিল লাল, সাদা ও সবুজ রঙের ফুলের তোড়া। তিন ধরনের ফুলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পতাকা ফুটিয়ে তোলা হয়। তাঁদের পাশে ফিলিস্তিনের ছোট ছোট পতাকা উড়িয়ে হাঁটছেন বরেরা।

অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়, যা দেখতে শত শত দর্শক শহরের একটি চত্বরে জড়ো হন। কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ আশপাশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ওপর অসহায়ভাবে বসেছিলেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় একই অনুষ্ঠানে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন একাধিক জুটি। মঙ্গলবার খান ইউনিসে
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় একই অনুষ্ঠানে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন একাধিক জুটি। মঙ্গলবার খান ইউনিসে। ছবি : এএফপি

ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করলেন মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত মাসের শেষের দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর টেলিফোনে কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ আলাপ হয়েছে। গতকাল বুধবার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো এ কথা নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, প্রায় ১০ দিন আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের খবর বের হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয় নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এত দিন বিষয়টি নিয়ে কথা কেন বলেননি, সে প্রসঙ্গে মাদুরো বলেন, তিনি ‘মাইক্রোফোন কূটনীতি’ এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন।

মাদুরো বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ছয় বছর দায়িত্ব পালনকালে আমি কূটনৈতিক সংযম শিখেছি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত কয়েক বছরে এই অভিজ্ঞতা আরও গাঢ় হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং আমাদের কমান্ডার চাভেজের (হুগো চাভেজ) কাছ থেকে শেখা অভিজ্ঞতার আলোকে আমি সংযমকে মূল্য দিই।’

ভেনেজুয়েলার প্রয়াত নেতা হুগো চাভেজের অধীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাদুরো।

মাদুরো বলেন, এই ফোনালাপ ভবিষ্যতে ‘পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের’ দরজা খুলে দিতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে তিনি স্বাগত জানান। আর তাঁর দেশ সব সময় শান্তির পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে মাদুরো বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলতে চান না। কারণ, তাঁর কাছে ‘সংযম’ ও ‘সম্মান’ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এমন এক সময়ে ট্রাম্প ও মাদুরো ফোনে কথা বললেন, যখন ওয়াশিংটন ও কারাকাস গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সংকট পার করছে।

গতকাল ট্রাম্প আবারও মাদুরোর সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার (মাদুরোর) সঙ্গে অল্প সময়ে কথা বলেছি। তাকে কয়েকটি কথা বলেছি। এরপর কী হয়, তা দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা আমাদের কাছে মাদক পাঠায়। ভেনেজুয়েলা আমাদের কাছে এমন লোকও পাঠায়, যাদের পাঠানো উচিত নয়।’

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ থেকে আসা নৌযানে মাদক পাচারের সন্দেহে হামলা চালাচ্ছে। মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলার ভেতরে হামলা চালানোর হুমকিও দিচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব সামরিক অভিযানকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হিসাবমতে, ভেনেজুয়েলায় খুব সামান্য কোকেন উৎপাদিত হয়। কিন্তু ২০২০ সালে বিশ্বে উৎপাদিত কোকেনের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পাচার হয়েছে ভেনেজুয়েলা হয়ে।

মাদুরোর অভিযোগ, ট্রাম্প মাদকবিরোধী অভিযানকে অজুহাত বানিয়ে তাঁর সরকার উৎখাত এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ দখলের চেষ্টা করছেন।

গত সোমবার রাজধানী কারাকাসে এক সমাবেশে মাদুরো বললেন, ভেনেজুয়েলা শান্তি চায়। তবে সেই শান্তিই ভেনেজুয়েলার কাম্য, যা পাওয়ার জন্য ‘সার্বভৌমত্ব, সমতা ও স্বাধীনতা’কে বিসর্জন দিতে হবে না।

মাদুরোর ভাষায়, ‘আমরা দাসত্ব বা উপনিবেশের শান্তি চাই না! উপনিবেশ, কখনো নয়! দাসত্ব, কখনো নয়!’

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে একটি ঐতিহাসিক তলোয়ার উঁচিয়ে ধরেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। এই তলোয়ারের নাম ‘সোর্ড অব পেরু’। লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের জনপ্রিয় নেতা সিমন বলিভারের তলোয়ারটির ২০০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে ২৯ নভেম্বর কারাকাসে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মাদুরো
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে একটি ঐতিহাসিক তলোয়ার উঁচিয়ে ধরেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো। এই তলোয়ারের নাম ‘সোর্ড অব পেরু’। লাতিন আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের জনপ্রিয় নেতা সিমন বলিভারের তলোয়ারটির ২০০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে ২৯ নভেম্বর কারাকাসে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মাদুরো। ছবি: এএফপি