Sunday, April 9, 2017

ইন্দোনেশিয়ায় ৬ উগ্রবাদী নিহত

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ছয় সন্দেহভাজন আইএস সদস্য নিহত হয়েছেন। জাভা দ্বীপে এই অভিযান চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। রোববার পুলিশের এক মুখপাত্র একথা বলেন। শনিবার সাত ব্যক্তি পুলিশের একটি চৌকিতে হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে।
তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। এরপর পুলিশ তাদের গাড়ি ধাওয়া করে। হামলাকারী সাত ব্যক্তি তাদের গাড়ি রেখে পূর্ব জাভার তুবানের কৃষি এলাকায় পালিয়ে যায়। জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র রিকওয়ান্তো বলেন, ‘স্থানীয় পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় একটি গুলির আওয়াজ শুনতে পায়। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় ঘটে এবং ছয় উগ্রবাদী নিহত হয়।’

আফগানিস্তানে বোমা হামলায় ৯ মিলিশিয়া নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বালখে স্থানীয় মিলিশিয়াদের একটি গাড়ি রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমায় বিস্ফোরিত হয়ে কমপক্ষে নয়জন নিহত হন। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ফাইজ বার্তা সংস্থা সিনহুয়া’কে বলেন, ‘শনিবার রাতে চিমতাল জেলায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় গাড়িতে থাকা সরকারপন্থী স্থানীয় মিলিশিয়া গ্রুপের আরো চার যোদ্ধা আহত হয়েছেন। স্থানীয় জনগণ রাস্তায় বোমা পেতে রাখার জন্য তালেবানদের দায়ী করছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেই বোমাগুলো পেতে রাখে।

৪০ তলার ওপরে ঝুলন্ত পুল

আপনি কী সাহসী? ‌উচ্চতায় আপনার কোনো ভয় নেই? ‌তবে একবার ঘুরে আসতে পারেন ৪০ তলার ছাদের সুইমিং পুলে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হস্টানে এক বিলাসবহুল আবাসিক বহুতলের ৪০ তলায় তৈরি করা হয়েছে এক অসাধারণ সুযোগ–সুবিধা সমৃদ্ধ সুইমিং পুল। এই সুইমিং পুল থেকে পুরো শহরটা দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, বহুতল থেকে ১০ ফিট অতিরিক্ত বাড়ানো হয়েছে পুলটিকে। মানে একেবারে ঝুলন্ত সুইমিং পুল।
এই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটলে মনে হবে পাখিদের সঙ্গে আকাশে রয়েছেন আপনি এবং সারা শহরের দৃশ্য আপনার চোখে পড়বে। তবে অবশ্যই এই পুলে নামার আগে মনে যথেষ্ট পরিমাণে সাহস সঞ্চয় করে নেবেন। ৪০ তলার পুলে যখনই নামবেন ওপর থেকে পুরো শহরটি আপনার নজরে আসবে। কিন্তু পুলে নামার সময়ই সারা শরীরে শিহরণ লেগে যাবে। যে অংশটি হাওয়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে সেটি শ্যাটারপ্রুফ ৮ ইঞ্চি পুরু প্লেক্সিগ্লাস দিয়ে তৈরি। তাই ভয়ের কোনও কারণ নেই। তবে যাদের উচ্চতায় সমস্যা আছে তাদের জন্য একেবারেই এই সুইমিং পুল নয়। এই বহুতলের চতুর্থ তলার ছাদে আরও একটি সুইমিং পুল আছে তারা সেখানে যেতে পারেন।

ইয়েমেনে পাইপলাইনের কাছে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৩

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি তেলের পাইপলাইনের কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১৩ জন প্রাণ হারান। দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ওই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, লোহিত সাগর তীরবর্তী হোদিদায় ‘পাইপলাইনটি যে স্থানে বিস্ফোরিত হয়েছে সেখানে জমায়েত বেশ কয়েকজন লোক মারা গেছেন।
অন্যান্য তেলপূর্ণ কন্টেইনার বিস্ফোরণেও অনেকে প্রাণ হারান।’ তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক জেনারেটর ব্যবহারের কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১৩ জন মারা গেছেন, ২৬ জন আহত ও আটজন নিখোঁজ হয়েছেন।’

কোরীয় উপসাগরের দিকে ছুটছে মার্কিন রণতরী

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই কোরীয় উপসাগর অভিমুখে রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেনাবাহিনীর আদেশে পাঠানো ওই রণতরীতে রয়েছে একটি বিমানবাহী জাহাজ এবং কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে যাত্রা করা বাহিনী সেখানে তাদের পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যাচ্ছে।
ওই অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত দায়িত্বহীন পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে চলার মাধ্যমে যে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় একাই পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ। গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে এ বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সূত্র : বিবিসি

হাতিয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

হাতিয়ার চরচেঙ্গা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারী হাজী রুহুল আমিন কোম্পানী (৬৫) কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃৃত্তরা। শনিবার দিবাগত রাত ৮ টায় সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রাস্তায় ঘটনাটি ঘটেছে। আহত রুহুল আমিন কোম্পানীর ছেলে নূরনবী বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী সদু, নিজাম, বাতেন, খলিল, হাবিব, আমিরসহ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে মুমুর্ষূ অবস্থায় রাস্তা ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
হাতিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আবদুল মজিদ জানান, ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আসামীদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সোনাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর ইসলাম মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ঘটনাটির সংগে আমার লোকজন জড়িত নয়। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্ধী চেয়ারম্যান প্রার্থী যোবায়ের এর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনে ঝুঁকিতে ২০ গ্রাম

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনুনদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ২২টি স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনের ফলে অসংখ্য বসত-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মারাত্মক ঝুকিতে রয়েছে নদী তীরবর্তী ২০টি গ্রামের আরো শতাধিক বাড়ি-ঘর। এনিয়ে ওই এলাকার মানুষদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার যোগাযোগ করার পরও তাদের এ চরম বিপদের মুহুর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলায় মনুনদীর উভয়তীরে ২০টি গ্রামের শতশত বাড়ি-ঘর ভাঙ্গনের ঝুকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনের ফলে অসংখ্য বসত-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ২২টি স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ভাঙ্গনের ঝুকিতে রয়েছে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন মসজিদ ও বহু কবরস্থান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার যোগাযোগ করার পরও তাদের এ চরম বিপদের মুহুর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে। দুর্গত লোকজন জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তা ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় অব্যাহত ভাবে বাঁধ ভেঙ্গে অসহায় মানুষের শেষ সম্বল বসত-ভিটা টুকু নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ ব্যাপারে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের জহির আলী(৭২) ও মান্নান মিয়া(৭০) বলেন, ‘আমরা বহুবার পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধ মেরামতের জন্য দাবী জানিয়ে আসছি। তারা কয়েকবার তা পরিদর্শন করে বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর আর কোন খবর করেন না। তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে ব্যার্থ হয়েিেছ। মনে হচ্ছে আল্লার ঘর মসজিদ, শেষ ঠিকানা কবরস্থান ও আমাদের বাড়ি-ঘর রক্ষা করতে পারবোনা।’ এদিকে হরিপাশাু গ্রামের অসুস্থ মছব্বির মিয়া(৬৫) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘পাউবো কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিদর্শণে আসলে অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলেছি, যত দ্রুত সম্ভব যেন ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। অন্যতায় মৃত্যুর মুহুর্তে বসত-ভিটা হারিয়ে সন্তানদের আশ্রয়হীন রেখে মরতে হবে।’ সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মনুদনীর উভয় তীরে শ্বাসমহল, হরিপাশা,
উজিরপুর, পন্ডিতনগর, তারাপাশা, কামারচাক, কান্দিরকুল, আকুয়া, ভাঙ্গারহাট, একামধু, আদিনাবাদ, মালিকানা, কোনাগাঁও, শ্যামেরকোনা, মুর্তিকোনা, কাজিরচক, জাঙ্গালিয়া, দস্তিদারের চক, খাসপ্্েরমনগর, প্রেমনগর সহ ২২টি স্থান ভাঙ্গনের ঝুকিতে রয়েছে। এসব ভাঙ্গন মেরামতে চলতি বছর কোন কাজ হয়নি। শ্বাসমহল এলাকায় গত ২০১১-১২ অর্থবছরে ভাঙ্গন রোধে মাত্র ৪০মিটার ব্লক ফেলা হয়েছিল। এর পর আর কোন কাজই হয়নি। এ ব্যাপারে টেংরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ টিপু খান বলেন, মনু তীরবর্তী ২০টি গ্রামের মানুষ ভাঙ্গনের আশংকায় দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকায় অনেকের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদের কিছুই করার নেই, তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বার বার জোর দাবী জানানো হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কার্যত কোন পদক্ষেপ দেখছিনা। দুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে মৌলভীবাজার পাউবো’ কর্তৃপক্ষকে আবারোও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দুর্গত মানুষের হয়ে জোর দাবী জানাচ্ছি। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্রশংকর চক্রবর্তী জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। তবে ভাঙ্গন স্থায়ী ভাবে রোধ করার জন্য ডিপিপি প্রস্তাব রয়েছে। আগামী শুস্ক মৌসূমে এর বাস্থবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

ডাক্তারের কথায় হাসপাতালেই বিষ খেয়ে মারা গেলেন বৃদ্ধা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর অভিমান করে বিষ পানে মারা গেছেন এক রোগী। অসুস্থতার জন্য ওষুধ চাওয়ায় ওই রোগীকে বিষ খেয়ে মরে যাওয়ার কথা বলেন চিকিৎসক। অত:পর বিষ খেয়েই নিজের আত্মহুতি দিলেন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ। শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষপানে মৃত রোগীর নাম শানু দেউরী (৬০)। তিনি উপজেলার ধামসর গ্রামের মৃত টমাস দেউরীর ছেলে। জানা গেছে গত ২৯ মার্চ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় ৬০ বছর বয়সী শানু। তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার ৪ নম্বর শয্যা দেয়া হয়। পেশায় রিকশাচালক শানু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছিলেন এবং ঔষধ কেনারও সামর্থ্য ছিল না। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় (রাউন্ড দেওয়ার সময়) মেডিকেল অফিসার ডা. সৈব্যসাচী সানি দাসের কাছে ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই উল্লেখ করে কিছু ওষুধ চেয়েছিলেন শানু। এ সময় ডা. সৈব্যসাচী সানি তার উপর উত্তেজিত হয়ে “ওষুধ কিনতে না পারলে বিষ খেয়ে মরতে বলেন”। এতে বিস্মিত হয় তিনি। যে কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের চায়ের দোকানে পুরো ঘটনার কথা বলে আক্ষেপ করেন অসহায় শানু। ওইদিনই তিনি উজিরপুর বাজার থেকে বিষ সংগ্রহ করে পরের দিন ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই বিষ পান করেন হতদরিদ্র রোগী শানু। বিষয়টি খুব দ্রুত এলাকায় চাউর হয়ে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ নিজেরা বাঁচতে পাকস্থলী ওয়াশ না করেই তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই দিন বেলা ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন শের-ই বাংলা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চায়ের দোকানে শানুর আক্ষেপের কথা শোনা একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর তার ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ লিখে দেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে অনেক ওষুধ আছে যা সরকারিভাবে সরবরাহ নেই। ওইসব ওষুধ কেনার সামর্থ্যও ছিল না শানুর। তাই থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ যে চিকিৎসকই তৃতীয় তলায় রাউন্ডে যেতেন তার কাছেই ওষুধের জন্য অনুনয় করতেন তিনি। সর্বশেষ মেডিকেল অফিসার ডা. সব্যসাচী সানির কাছে ওষুধ চাওয়ায় তিনি ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা না করে বরং বিষ খেয়ে মরতে বলায় রোগী শানু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং রাগে-ক্ষোভে-অভিমানে বিষপান করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শানু দরিদ্র হওয়ায় শুরু থেকেই তার প্রতি তেমন যতœ নেয়নি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এমনকি বিষপানে অসুস্থ্য হওয়ার পরও তার পাকস্থলী ওয়াশ না করেই কর্তৃপক্ষ তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে প্রেরণ করে চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম শামসুদ্দিন জানান- এ ধরনের কথা কোনো চিকিৎসক বলতে পারে না। বললে তিনি চিকিৎসক নয়। তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল ৯টার দিকে ওই রোগীকে রিলিজ দেয়া হয়।
বেলা ১২টার দিকে বিষপানে অসুস্থ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়। উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈব্যসাচী সানি দাস জানান, ৬ এপ্রিল তিনিসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক তৃতীয় তলায় রাউন্ডে যায়। তিনি কোনো রোগীকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলেননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন- একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এর মধ্যে একজন ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছে। তাদের ওষুধ না লেখায় হয়তো তারাই এসব রটাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. এএফএম শফিউদ্দিন বলেন- সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সরকারিভাবে প্রচুর ওষুধ সরবরাহ দেয়া হয়। তারপরও অনেক বিরল রোগের ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু রোগী অস্বচ্ছল হলে তাদের জন্য রোগী কল্যাণ সমিতির তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়ে ওষুধ কিনে দেয়ার প্রথা চালু রয়েছে। এরপরও কোনো চিকিৎসক যদি রোগীকে ওষুধের ব্যবস্থা করে না দিয়ে তাকে বিষ খেয়ে মরতে বলেন সেটা দু:খজনক। একজন চিকিৎসকের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়। এটা অপরাধ। এ ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন তিনি। প্রসঙ্গত গত ৬ জানুয়ারী উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহিলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ডা. সৈব্যসাচী সানি ও তৃতীয় শ্রেণীর মহিলা কর্মচারী দেবী রানী অপচিকিৎসা করে এক প্রসূতিকে সন্তান প্রসবের ২৪ ঘন্টা পর মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় বরিশাল সিভিল সার্জন কর্তৃক তিন সদস্যের একটি তদন্তদল উজিরপুর হাসপাতালে তদন্ত করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে বিষয়টি পুরোপুরি ধাঁমাচাঁপা পড়ে যায়।

৪২ হাজার ফুট উপরে বিমানে জন্ম নিল শিশু

মাটি থেকে তখন ৪২ হাজার ফুট উপরে উড়ছিল টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমান বোয়িং-৭৩৭। কোনো সম্ভাবনা নেই জরুরি অবতরণের। সেই সময়েই প্রসব যন্ত্রণা উঠল এক যাত্রীর। বিমানবালাদের তৎপরতায় মাঝ আকাশেই জন্ম নিল এক কন্যা সন্তান। গর্ভবতী ওই নারীর নাম নফি দিয়াবি। ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে সাহায্যে এগিয়ে আসেন বিমানবালারা।
চলন্ত বিমানেই প্রসব করেন ওই মহিলা। বিমানে জন্ম নেওয়া ওই কন্যার নাম রাখা হয়েছে কাদিজু। সন্তান জন্ম দেয়ার পর ফ্লাইটটি বুরকিনা ফাসোর রাজধানীতে অবতরণ করে। পরে মা ও শিশুকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে মা এবং সন্তান দু’জনেই সুস্থ আছে। টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিমান বোয়িং-৭৩৭ গিনির রাজধানী কোনাক্রি থেকে ওগাডুগু হয়ে ইস্তাম্বুলে যাচ্ছিল। কাদিজু জন্ম নেয়ার পরেই তাকে কোলে নিয়ে আনন্দে মাতেন বিমানবালারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি পোস্ট করেছেন তারা।

মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুতি চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ তিন জনের ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। মন্ত্রী বলেন হান্নানসহ দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করে দিয়েছেন। তাই এখন তাদের ফাঁসি কার্যকরে কারাগারে প্রস্তুতি চলছে। আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাণভিক্ষার আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর  ফাঁসি কার্যকরে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে।
‘জেলকোড অনুসারে ২১ দিনের কমে নয় এবং ২৮ দিনের ঊর্ধ্বে নয়- এ সময়সীমার মধ্যে কার্যাদেশ পালন করতে হবে। আমরা সেজন্যই অপেক্ষা করছি। আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই আমরা রায় কার্যকর করবো’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব কিছু সময় মতো হবে। আমরা কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাবো না। আপনারা জানেন, ২১ দিন হতে হলে কতো সময় লাগবে। আমরা প্রহর গুণছি। শেষ হলেই আপনারা দেখবেন’।

পোলান্ডে ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ৬

পোলান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার একটি দোতলা ভবন ধসে দুই শিশুসহ ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। গ্যাস বিস্ফোরণেই সম্ভবত ভবনটি ধসে পড়ে। দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছে।
ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে আহত অপর চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিউজ ব্লাসজাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ঘটনায় ধ্বংস্তুপের ভেতর আর কারো আটকা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

মস্কোয় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

মস্কোর পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার রাতে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত। রাশিয়ান রেলওয়ের ওয়েবসাইট (আরজেডডি) জানিয়েছে, মস্কো থেকে বেলারুশ যাওয়ার পথে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ১৬ মিনিটে অপর একটি ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এক ব্যক্তি হঠাৎ রেললাইন পার হতে গেলে চালক আকস্মিক ব্রেক করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হলে প্রায় ৫০ জন আহত হয়। রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রী ভ্লাদিমির পুশকোভ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, এই ঘটনায় আহত ১২ জনকে হাপসাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

কিমকে হত্যার কথা ভাবছে আমেরিকা!

পিয়ংইয়ং’এর কথিত হুমকি মোকাবেলায় কোরিয়া উপদ্বীপে পরমাণু বোমা মোতায়েন বা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জ-উনকে হত্যার কথা চিন্তা করছে আমেরিকা। মার্কিন নিউজ চ্যানেল এনবিসি’র খবরে এ দাবি করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু তৎপরতার জবাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তুলে ধরেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বা এনএসসি। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পরমাণু বোমা মোতায়েন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে হত্যার কথাও বলা হয়েছে। পরমাণু বোমা মোতায়েন করা হলে শীতল যুদ্ধের পর এই প্রথম এ রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আমেরিকা।
এ ছাড়া, প্রায় ২৫ বছর পর কোরিয় উপদ্বীপে আবার পরমাণু বোমা মোতায়েন করা হবে। এদিকে বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ং সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ৩৮ নর্থের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত চার সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়ার পাংগি-রি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রে অস্বাভাবিক মাত্রায় ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার যে এলাকায় পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছে সে এলাকায় এ তৎপরতা দেখা গিয়েছে। অবশ্য, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবি দেখে পরমাণু যন্ত্র বসানো বা পরীক্ষার সঠিক সময় নির্ণয় করা যায়নি। সূত্র : ওয়েবসাইট

ভারতে মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের ঝাড়খন্ডের গুমলা জেলায় এক হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছে চরমপন্থী হিন্দুরা। পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সুপার চন্দন কুমার ঝা বলেন, ‘মোহাম্মদ সালিককে হত্যায় জড়িত সন্দেহে আমরা তিন ব্যক্তিকে আটক করেছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বান্ধবীর সাথে ওই তরুণকে দেখা যায় বুধবার। এরপর পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।’ তিনি বলেন, ওই ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়। চন্দন কুমার জানান, পুলিশের জেরার মুখে সালিকের বান্ধবীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। মেয়েটির পরিবার এ সম্পর্কের বিরুদ্ধে ছিল। ছেলেটিকে সতর্কও করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সালিক ওই সতর্কতা শোনেনি। বুধবার রাতে মেয়েটির বাসার কাছে স্কুটার থেকে তাকে নামিয়ে দেয় সে। ১৫ বছর বয়সী মেয়ে ও সালিককে দেখে স্থানীয়রা মেয়েটির সামনেই তাকে একটি খুঁটিতে বাঁধে। আর পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে সালিকের মৃত্যু হয়। সালিক বাসায় না ফিরলে তার পরিবার খোঁজখবর নেয়া শুরু করে। পরে সালিককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবার। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা এর পেছনে জড়িত কি না পুলিশ তা তদন্ত করছে। সূত্র : এনডিটিভি

পাবনা সেচ প্রকল্পের বাঁধে প্রভাবশালীদের দোকান



পাবনার সাঁথিয়া সদরে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল আই-৩ এবং সেকেন্ডারী সেচ খাল এস-৮ এর দু’পাড়ের ডাইক বাঁধ অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট তুলে ভাড়া দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকাপাট উচ্ছেদে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সাঁথিয়া উপবিভাগীয় কার্যালয়ে পাশের আইÑ৩, এস-৮ সেকেন্ডারী ক্যানালটি পৌরসভা সদর ও গৌরিগ্রাম ইনিয়নের মধ্যে দিয়ে তালপট্টি নদীর শুকা হয়ে কৈটোলা স্লুইসগেট পর্যন্ত চলে গেছে। এলাকাবাসী এই নৌপথে সাঁথিয়াতে যাতায়াত ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী আনানেয়া করতো। নদীর উৎসমুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে পানির প্রবাহ আটকে দিয়ে পাবনা প্রকল্পের এস-৮ সেকেন্ডারী সেচ ক্যানেল তৈরি করা হয়। ক্রুটিপূর্ণ এই ক্যানেলে গত ২০ বছরে সেচের জন্য পানির প্রবাহ ঘটানো সম্ভব হয়নি। এদিকে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্যানেলের দু’পাড় অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে এবং দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দিয়েছে। ভারাটিয়ারা তাদের ইচ্ছামত মুদিদোকান, সেলুন,চায়েরদোকান, ওয়ার্কশপ ও ইট বালুসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে পরিচালনা করছে। এদিকে ক্যানালটির পানি প্রবাহের প্রবেশদ্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার চাষিরা সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাবনা সেচ প্রকল্পের আই-৩, এস-৮ ক্যানালের দু’পাড়ের ব্যবসায়ীরা জানায়, তারা পাবনা সেচ প্রকল্পের রাজস্ব বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে নগদ টাকা দিয়ে লীজ গ্রহন করা হয়েছে। এ ব্যাপরে বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, পাবনা সেচ প্রকল্পের আই-৩ এস-৮ ক্যানালটি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লীজ প্রদান করা হয় নাই এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের সংস্কার কাজ এগিয়ে চলেছে

নওগাঁর আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়কের সংস্কার কাজ এগিয়ে চলেছে। সড়কটি পূর্ণ সংস্কার হলে এলাকার হাজার হাজার জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ লাঘব হবে। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার আত্রাই-বান্দাইখাড়া সড়ক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের বেওলা, চৌরবাড়ি, শুকটিগাছা, দিঘা, কালিকাপুর ইউনিয়নের মদনডাঙ্গা, গন্ডগোহালী, লালুয়া, সলিয়া, নন্দনালী, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বান্দাইখাড়া, কালুপাড়া, সন্যাসবাড়িসহ তিন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজার হাজার জনগণ প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। প্রতিদিন এ সড়কদিয়ে ট্রাক্টর, ট্রলি, সিএনজি, অটোচার্জার, সাইকেল ও মটরসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে। সড়কটি বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসী চলাচল করত। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার চৌরবাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, আমরা কৃষক মানুষ।
সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমাদের কৃষিজাত দ্রব্য বাজারজাত করা এখন খুব সহজ হবে। সেই সাথে দীর্ঘদিনে দুর্ভোগও লাঘব হবে। উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। আপাতত এই সড়কের ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত সংস্কার করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো সড়ক সংস্কার করা হবে। সংস্কার কাজ যেন মানসম্পন্ন হয় এ জন্য আমি নিজে এবং আমার দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলীরা সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করছি। উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এবাদুর রহমান বলেন, আমার বাড়ি ওই এলাকায়। এ জন্য সড়টির প্রয়োজনীয় সংস্কার আমার কাছেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খুব দ্রুত যেন পুরো সড়কটি সংস্কার হয় এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মাশরাফির জন্য চতুর্থদিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত

অবসর নয়, টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্র্তুজাকে বহাল রাখার দাবিতে নড়াইলের লোহাগড়ায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তার ভক্তরা। ‘মাশরাফি ভক্ত ফাউন্ডেশন’ ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের আয়োজনে আজ রোববার বেলা ১১টায় নড়াইল-ঢাকা সড়কের লোহাগড়া উপজেলা প্রবেশদ্বারের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচীতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মন্জুরুল করিম মুন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের জেলা সভাপতি সৈয়দ খায়রুল আলম, সম্পাদক জাকির হোসেন, ব্যবসায়ী সুখেন্দ্র মজুমদার, আব্দুল হাই প্রমুখ। এদিকে, একই দাবিতে রোববার সকাল ৯টায় লোহাগড়ার কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এড়েন্দা বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এছাড়া কাশিপুর ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগেও এড়েন্দা বাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন আজ রোববার চতুর্থদিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মাশরাফি ভক্তরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর শেষে দেশে আসার পর টি-২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্র্তুজাকে পুনর্বহালের ঘোষণা দিবেন। এদিকে, টি-২০ থেকে মাশরাফির অবসর ঘোষণার পর তার ভক্তরা ফেসবুকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’কে অধিনায়ক পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে একই দাবিতে গতকাল শনিবার (৮ এপ্রিল) নড়াইলে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, যানবাহন চালক, যাত্রী, ব্যবসায়ীসহ পেশাজীবীরা দিনব্যাপী কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচী পালন করেন। এদিকে, গত শুক্রবার বেলা ১১ টায় লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে আধাঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, নড়াইল চৌরাস্তা এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় মানববন্ধনসহ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-২০ মাঠে গড়ানোর আগেই এই ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে ৬ এপ্রিল মাশরাফির নের্তৃত্বে জয়লাভ করেন টাইগাররা। তবে, অবসর ঘোষণার বিষয়টি মাশরাফি ভক্তরা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেননি।

বালিয়াকান্দিতে ইউপি সদস্য আটক

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর-শেকাড়া-নীলকুঠি গ্রামীণ সড়কের বাহিরচর এলাকায় ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ওই সড়কের প্রায় ৪শত ফুট ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার ফলে ভেঙ্গে ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে দৈনিক সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম রকিব হায়দার ক্ষতির পরিমান নিরুপন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার বিকালে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ বহরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শুকুর আলী খানকে আটক করেছে। সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় জনসাধারনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাহিরচর এলাকা থেকে বহরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শুকুর আলী খা, মনোয়ার খা, শহিদ খা বহরপুর-শেকাড়া-নীলকুঠি সড়কের পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করে আসছে। ১শত থেকে দেড়শত ফুট গভীর করে মাটি ও বালু কাটার ফলে সড়কের প্রায় ৪-৫শত ফুট ভেঙ্গে ওই বালুর গর্তে চলে গেছে। বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার কারণে সড়ক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী লোকজনের জমিতেও ভাঙ্গণের সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে এখন পায়ে হেটে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গণের কারণে শেকাড়া, খালকুলা, বারাদী, বাহিরচর, দিঘিরচালা, নতুননগর, নারায়নপুর, হলুদবাড়ীয়া, দিয়ারা, তেঘড়ি সহ ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের মানুষের চলাচল ছাড়াও উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বালু ও মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ফলে ধুলায় এলাকায় বসবাস করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কারসহ দোষীদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। বালু উত্তোলনকারী ও ১নং ইউপি সদস্য শুকুর আলী খা জানান, বালু ও মাটি আমি কাটছি না। এটা আমার ভাই-ভাস্তেরা কাটছে। সড়কটি বালু ও মাটি কাটার কারণে ভেঙ্গে যায়নি। এটি বৃষ্টির কারণে ভেঙ্গে গেছে। বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, সরকারী রাস্তা ড্রেজার দিয়ে কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি ইতিপুর্বে নিষেধ করেছি। তা সত্বেও মাটি কেটে বিক্রি করেছে। মাটি কেটে বিক্রি করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, বহরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শুকুর আলী খা সরকারী রাস্তা কেটে মাটি বিক্রি করেছে। বিষয়টি আমি শুনেছি। খোজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম রকিব হায়দার জানান, সড়কটি এলজিইডির হওয়ার কারণে সড়কের ক্ষতির পরিমান উল্লেখ পুর্বক সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম,পিপিএম জানান, সরকারী রাস্তা কেটে বিক্রি করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের সদস্য শুকুর আলী খানকে আটক করা হয়েছে।

নড়াইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা

নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোল্যাকে (৭০) পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নড়াইল পৌরসভার গারুচোরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবুল কাশেমকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত কাশেম মোল্যা জানান, নড়াইল শহর থেকে গ্রামের বাড়ি সরসপুর যাওয়ার পথে গারুচোরা বাজার এলাকায় পৌঁছালে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তিন দুর্বৃত্ত। পরে তাকে বেধড়ক মারপিট করে তারা।
কাশেম মোল্যার জামাতা শাহাবাদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন পান্না বলেন, সম্প্রতি এলাকায় খেলাধূলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনা মিমাংসা করতে গিয়ে আমার শ্বশুরকে মারধর করেছে চিহিৃত দুর্বৃত্তরা। সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুরুল মোর্শেদ মুন জানান, আবুল কাশেমের দুই হাটুতে আঘাত করা হয়েছে। এক্সরে রিপোর্টের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, কে বা কারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধামরাইয়ে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : মাহেন্দ্রর চাপায় নিহত ১

ঢাকার ধামরাইয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে রাতে ডেকে নিয়ে চোখ উপড়িয়ে ও গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে বাড়ির সামনেই ভূট্রা ক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। কলেজ ছাত্রীর নাম জাবেদা আক্তার। আজ রবিবার সকালে লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বারপাইখা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।
জানা গেছে, উপজেলার বারপাইখা গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মানিকগঞ্জ খন্দকার দেলোয়ার হোসেন কলেজের একাদশ শ্রেণির ১ম বর্ষের ছাত্রী জাবেদা আক্তারকে বাড়ি থেকে সন্ধ্যারাতে মোবাইল ফোনে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায়। রাত গভীর হতে থাকলে বাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশীরা তার সন্ধান পেতে খোঁজতে থাকে। সারা রাত তাকে না পেলেও ভোর বেলায় তার লাশ দেখতে পায় বাড়ির পাশেই ভূট্রা ক্ষেতে। তবে পুলিশ জবেদার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি উদ্ধার করলে ও সিমকার্ড পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে থানার পুলিশ পরিদর্শক( তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ হত্যাকান্ডটি পরিকল্পিত ভাবে হয়েছে। তবে এটি প্রেম ঘটিত হতে পারে।
মাহেন্দ্রর চাপায় কৃষক নিহত
ঢাকার ধামরাইয়ে মাটি বহনকারী মাহেন্দ্রর চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে আজ রোববার সকালে লালমিয়া নামের এক কৃষক নিহত হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার দ্বীমুখা গ্রামে। জানা গেছে, উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের দ্বীমুখা গ্রামের লালমিয়া(৬৫)নামের এক কৃষক সকালে গরুর জন্য ঘাস কাঁটতে বাড়ির পাশেই কে বি এস নামের এক ইটে ভাটায় যায় । ঘাস কাটার সময় মাটি ভর্তি একটি মাহেন্দ্রর চালক ওই কৃষকের উপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই কৃষকের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেছেন কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশ পরির্শক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।

সেনা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত : ছাত্রলীগের চারজন গ্রেফতার

সিলেটে সেনা কর্মকর্তা মেজর আজিজকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, সিলেট মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জুয়েল, কর্মী হাবিবুর রহমান পাবেল, সাইদুল ইসলাম ও মাকসুদ আহমেদ। গতকাল শনিবার জালালাবাদ সেনানিবাসে কর্মরত মেজর আবদুল আজিজ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করলে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মেজর আজিজের মামলার বরাত দিয়ে ওসি সোহেল আরো বলেন, গত ৬ এপ্রিল বিকেলে নগরীর মীরের ময়দান কেওয়াপাড়া পড়শি ১১৯ নম্বর বাসা থেকে প্রাইভেটকারযোগে বের হন মেজর আবদুল আজিজ। এ সময় গাড়িটিকে মোটরসাইকেলে করে অতিক্রম (ওভারটেক) করার চেষ্টা করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। তবে সরু রাস্তায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিক্রম করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হন তাঁরা। এ সময় মেজর আজিজের গাড়িতে ভাঙচুর চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বাধা দিতে গেলে ওই সেনা কর্মকর্তার গলায় ছুরিকাঘাতও করেন তাঁরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে কোতোয়ালি থানায় সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন মেজর আবদুল আজিজ।

ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ তিন বছর বাড়ছে

সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন ২০১৩ অনুাযায়ী কোনো ব্যাংক পরিচালক এক সাথে দুই মেয়াদে তিন বছর করে ছয় বছর পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন। আইনের এ বাধ্যবাধকতায় এখন অনেকেই পরিচালক পদে থাকতে পারছেন না। কেউ কেউ উচ্চ আদালতে রিট করছেন। কেউবা পর্ষদে ছেলেমেয়েকে বসাচ্ছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হিসেবে আজীবন পরিচালক থাকার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন তারা। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন বছরের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২০১৩-এর এ বাধ্যবাধকতায় অনেকেই পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারছেন না। ফলে অনেকেই এখন উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ কেউ আইনটি সংশোধনের জন্য সরকারের উচ্চ মহলে দেনদরবার করছেন। জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ সর্বশেষ সংশোধিত হয় ২০১৩ সালে। আইনটি কার্যকর হয় ওই বছরের ২২ জুলাই। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৫(ক)(ক) ধারা অনুযায়ী ‘আপাতত : বলবৎ অন্য কোন আইনে অথবা কোন ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার পর কোন ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদের সর্বোচ্চ মেয়াদ হইবে তিন বছর।’ আইনের একই ধারায় উপধারা-২ এ বলা হয়েছে, ‘কোন পরিচালক একাদিক্রমে ২ মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হইবার তারিখ হতে পরবর্তী তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পদে পুনঃনির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।’ এ উপধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো একটি মেয়াদের আংশিক মেয়াদ পূর্ণ মেয়াদ হিসেবে গণ্য হইবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনের এ ধারা বাস্তবায়ন করতে যেয়েই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই উচ্চ আদালতে রিট করছেন। কারণ, এ আইন যখন কার্যকর হয় তখন কোনো পরিচালকের প্রথম তিন বছরের মেয়াদ শেষ হতে ২০ দিন বা ১০ দিন বাকি আছে। এ অল্প দিনের জন্যও সংশ্লিষ্ট পরিচালকের এক মেয়াদ অর্থাৎ তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ১০ দিন পরে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হচ্ছে। ফলে মাত্র তিন বছর ১০ দিনেই ওই পরিচালকের দুই মেয়াদ অর্থাৎ ছয় বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আইনের এ ধারা কার্যকর ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
ফলে অনেকেই আইনের ফাঁদে পরে বাদ পরে যাচ্ছেন পরিচালনা পর্ষদ থেকে। যারা বাদ পড়ছেন তাদের অনেকেই উচ্চ আদালতে রিট করছেন। আবার অনেকেই নিজের কোনো প্রতিনিধি ছেলে বা মেয়েকে দিয়ে পর্ষদে নিজের স্থানে বসিয়ে দিচ্ছেন। একজন পরিচালক গতকাল নয়া দিগন্তের এ প্রতিনিধিকে বলেন, তারা উচ্চ আদালতে রিট করছেন। কারণ তিনি আইনের এ বাধ্যবাধকতায় প্রথম তিন বছরের চার মাস পরিচালক হিসেবে থাকার পর পুরো তিন বছরের মেয়াদ হিসেবে গণ্য হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে তিন বছর পার করেছেন। অর্থাৎ দুই মেয়াদে ছয় বছরের মধ্যে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন তিন বছর চার মাস। এখানেই তাদের আপত্তি। ওই পরিচালক বলেন, তাদের দিয়ে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং পর্ষদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। এ কারণে তাদের কেউ কেউ উচ্চ আদালতে রিট করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকে বিরত থাকছেন। একই সাথে আইনটি সংশোধনেরও চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর ব্যাংকের পরিচালকদের সংগঠন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের ১৩ দফা দাবি পেশ করেছিলেন। ওই সময় তারা আজীবন পরিচালক থাকার ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন। একই সাথে একই পরিবারের দুইজনের বেশি পরিচালক না থাকার বিধান রহিত করতে বলা হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উদ্যোক্তা পরিচালকদের দাবি পর্সালোচনা করে তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে আইনটি সংশোধন ছাড়া কোনো বিষয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, এর আগে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে এক নীতিমালা দিয়েছিল। ওই নীতিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক হতে হলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কোম্পানির কমপক্ষে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এ নীতিমালার বিরুদ্ধে পরিচালকেরা উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত থেকেও এসইসির সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় দুই শতাংশ শেয়ার নেই এমন পরিচালকেরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পরিচালকের পদ হারিয়েছিলেন।

১৪২ ট্যানারিকে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ

রাজধানীর হাজারীবাগে রয়ে যাওয়া ১৪২টি ট্যানারিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা নির্ধারণ এবং তা ১৫ দিনের মধ্যে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আর ওই জরিমানার টাকা হাজারীবাগের ট্যানারি শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে শ্রম মন্ত্রণালয়কে বলেছেন আদালত। আজ রোববার  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ জরিমানার আদেশ পুনর্বিবেচনা ও স্থগিত চেয়ে ট্যানারি মালিকদের করা দু’টি আবেদনের রায়ে এ আদেশ দেন।
এছাড়া পরিবেশের ক্ষতির কারণে ট্যানারি কারখানাগুলোকে করা জরিমানা মওকুফ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। জরিমানার মোট ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মওকুফ করে দিলেন আদালত। একই সঙ্গে সাভারে স্থানান্তরিত হওয়া ট্যানারি কারখানাগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেক ট্যানারি কারখানাকে টোকেন মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

স্বস্তির বৃষ্টির খবর

সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সারাদেশের রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে যা উত্তর বঙ্গোপসাগর বিস্তৃত রয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়া সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

কোরাম সংকটে সংসদে অতিরিক্ত ব্যয় ৪৭ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা : টিআইবি

বর্তমান দশম জাতীয় সংসদে কোরাম সংকটে মোট ব্যয়িত সময়ের ১২ শতাংশ ছিল। মোট কোরাম সংকটে ৪৮ ঘন্টা ২৬ মিনিট সময় বেশি ব্যয় হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ৪৭ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা বলে ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জরিপে বলা হয়েছে। জরীপে বলা হয়, বিভিন্ন আলোচনা পর্বে সংসদীয় আচরনবিধি লঙ্ঘন করে এমপিদের অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। যা মোট ব্যয়িত সময়ের ১৫ শতাংশ। অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার বন্ধে স্পিকারের কার্যকর ভুমিকায় ঘাটতি রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের উপর আজ বৃহস্পতিবার টিআইবির এক গবেষনা জরীপে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। টিআইবি অফিসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি চেয়ারম্যান এডভোকেট সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। জরীপ অনুযায়ী, কমিটিগুলোকে প্রতিমাসে গড়ে একটা করে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ২ হাজার ১০১ বার, সংসদের ভেতরের প্রতিপক্ষকে নিয়ে ৪৩৩ বার বিভিন্ন কটুক্তি, আক্রমণাত্মক শব্দ ও অশ্লীল শব্দের ব্যবহার হচ্ছে।
বিধি অনুযায়ী অধিবেশন চলাকালীন গ্যালারিতে শৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্পিকারের কার্যকর ভুমিকার ঘাটতি রয়েছে। টিআইবি বলছে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করতে হবে। যেখানে দলের বিরুদ্ধে মত বা ভোট এবং বাজেট ছাড়া বাকী সকল সময় মত প্রকাশ ও সমালোচনার বিধান রাখতে হবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই সংসদকে নবম সংসদের সাথে তুলনা করতে হলে আরো অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, অসংসদীয় ভাষা ও আচরন বন্ধের জন্য বিধি অনুযায়ি স্পিকারকে আরো জোড়ালো ভুমিকা নিতে হবে। সুলতানা কামাল বলেন, সদস্যরা অসংসদীয় আচরন থেকে বিরত থাকবেন এটা সবার প্রত্যাশা। আর এই সংসদেও সরকারের প্রভাব কমেনি।

মুরগি ও মাছের খাবারে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধের রায় বহাল

মুরগি ও মাছের খাবারে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল গত বছরের ৭ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর পুনর্বহাল চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর আগে ত্রুটির কারণে সমিতির করা লিভ টু আপিলটি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। সেটি পুনর্বহাল চেয়ে সমিতি আরেকটি আবেদন করে। আজ আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে আগের রায়ই বহাল রইল।
২০১১ সালের ২১ জুলাই এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে করা এক রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ে ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মুরগি ও মাছের খাবার প্রস্তুত কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এ কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফিশ মিট ও অ্যানিমেল গ্লু প্রস্তুতকারক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার লিভ টু আপিল করেন।

মহাখালীতে আগুনে পুড়লো পরিবার পরিকল্পনা গুদাম

রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় গুদাম আগুনে পুড়েছে। টিনশেডের ওই পণ্যাগারে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সারারাত চেষ্টা চালিয়ে আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানান, ২৬০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৫০ ফুট প্রস্থের ওই টিনশেড গুদামে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন মালামাল মজুদ রাখা হত। তবে সেখানে কী পরিমাণ সামগ্রী ছিল তা তারা জানাতে পারেননি। সেখানে কীভাবে আগুন লাগল তাও স্পষ্ট নয়।

কাগজের কৃত্রিম ফুল তৈরিতে ব্যস্ত আত্রাইয়ের কারিগররা

“এসো হে বৈশাখ এসো এসো” আসছে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব । আর এই বৈশাখকে বরণ করার জন্য চলছে নানান প্রস্তুতি। আর এই বৈশাখকে সামনে রেখে নানান রঙের ও প্রকারের বাহারী কাগজ, কাপড় ও শোলা দিয়ে কৃত্রিম ফুল তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের এই কুঠির শিল্পের ছোট-বড় কারিগররা। এই গ্রামে গোলাপ, স্টার, সূর্যমুখি, কিরনমালা, মানিক চাঁদ, জবা, বিস্কুট, গাঁদা সহ বিভিন্ন নামের ফুল তৈরি করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়েনের একেবারেই অবহেলিত একটি গ্রাম জামগ্রাম। নেই কোন পাঁকা রাস্তা। রাতের আধাঁরে এই গ্রামবাসীদেরকে বিদ্যুৎবিহীন ঘুমাতে হয়। অথচ বাংলাদেশের মধ্যে এটিই একমাত্র গ্রাম যেখানে কাগজ, কাপড় ও শোলার রঙ্গিন বাহারী বিভিন্ন রকমের কৃত্রিম ফুল তৈরি করা হয়। এখানকার তৈরি ফুলই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন উৎসব, ঈদ ও মেলাতে পুরুষরা নিয়ে গিয়ে ফেরি করে বিক্রয় করে। লাভও দ্বিগুন। কিন্তু যোগ্য পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখনো এই হস্ত শিল্পটি আধুনকিতার দ্বোর গোড়ায় পৌছেনি। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে গাছের ছাঁয়া ভেজা বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন মিলে বসে বসে তৈরি করছে এই ফুলগুলো। বাংলাদেশের মধ্যে নানান রঙ্গের মন কাড়ানো এই সব বাহারী রঙ্গিন ফুল তৈরিতে এই জামগ্রামই একমাত্র গ্রাম। শুধুমাত্র এই গ্রামেই তৈরি করা হয় এই সব ফুল। তৈরির পর পরিবারের পুরুষরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে বিক্রয় করে। তবে দুই ঈদে, বিভিন্ন পূজা, মেলা ও পহেলা বৈশাখে এই সব ফুলের চাহিদা অনেক বেশি। প্রায় ৫০-৬০ বছর পূর্বে গ্রামে এই ফুল তৈরি করা শুরু হয় কিছু হিন্দু মানুষের হাত ধরে।
এখন তা পুরো গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকা ও আয়ের একমাত্র উৎসে পরিণত হয়েছে। এই ফুলে লাভ অনেক বেশি। একটি ফুল প্রায় দ্বিগুন মূল্যে বিক্রয় হয়। বর্তমানে এই গ্রামের প্রায় ৭শ পরিবার এই বাহারী ফুল তৈরি করার কাজে নিয়োজিত। সংসার দেখভাল করার পাশাপাশি এই গ্রামের মহিলা, পুরুষ ও ছোট-বড় সবাই এই ফুল তৈরি করার কাজ করে। এই গ্রামের মো: হোসেন আলী জানান, এক সময় এই গ্রাম খুবই অবহেলিত ছিল। রাস্তা-ঘাট কোনটিই ছিলো না। কিন্তু বর্তমানে একটু হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই গ্রামে এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসে নাই। তাই এই সব কারিগররা শত ইচ্ছে থাকলেও রাতে এই ফুল তৈরির কাজ করতে পারে না। তাই আমাদের এই শিল্পটিকে আরো গতিশীল করার জন্য আমাদের প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ। মোছা: রুখসানা আখতার জানান, আমরা আমাদের সংসারের সব কাজ সম্পন্ন করে পরিবারের পুরুষদের এই ফুল তৈরিতে সাহায্য করি। এই ফুলগুলোতে লাভ অনেক বেশি। আগে পুরুষরা বাহিরে গেলে দুবৃর্ত্তরা মাঝে মাঝে সবকিছু ছিনতাই করে নিতো কিন্তু এখন আর তা হয় না। এখন শুধু আমাদের এই গ্রামটিকে আধুনিক মান সম্মত গ্রামে পরিণত করা প্রয়োজন। মো: জনি ইসলাম জানান, ফুল তৈরিতে পরিবারের গৃহিণীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন বে-সরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই ব্যবসা করে আসছে। তাই মাস শেষে লাভের বেশি ভাগই দিতে হয় এই সব এনজিওতে। তাই সরকার যদি এই শিল্পর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে এই হস্ত কুঠির শিল্পটি আগামীতে আরো বেশি সম্প্রসারিত হতো। তাই এই গ্রামবাসীর সরাসরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম বলেন,এটি একটি ঐতিহ্যপূর্ন শিল্প। যার কদর সারা দেশে। সৌখিন মানুষ ও শিশুদের কাছে এই বাহারী কৃত্রিম ফুলগুলোর চাহিদা অনেক বেশি। এই শিল্পটিকে আরো সম্প্রসারিত করার জন্য সরকারের কাজ করা উচিত। এই গ্রামের মানুষদের আর্থিক ভাবে সহায়তা করতে পারলে তারা এই শিল্পটিকে আরো অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। এতে সরকার এই শিল্প থেকে অনেক অর্থ রাজস্ব হিসাবে আয় করতে পারবে। এই সব কারিগরদের জন্য যদি হস্ত শিল্পটির উপড় উন্নত মানের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে এই শিল্পটি আরো আধুনিক মান সম্মত হতো। আমি চেষ্টা করবো এই গ্রামের মানুষদের কে আরো বেশি বেশি সহযোগিতা করার জন্য।

রাতে খালেদার সাথে সুপ্রিমকোর্ট বার'র নতুন নেতৃবৃন্দের বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করবেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ। আজ রোববার রাত সাড়ে আটটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাত অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছেন বেগম জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

আজমিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

আজমিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর (র.) দরগাহ জিয়ারত করতে রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় নয়া দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটি থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। সেখান থেকে তারা হেলিকপ্টারে আজমির যাবেন। খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর দরগাহ জিয়ারতের পর দুপুরে দিল্লি ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকালে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনের নর্থ ড্রয়িংরুমে হবে ওই বৈঠক। সাক্ষাত শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।  চার দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার দিল্লি পৌঁছান শেখ হাসিনা। সফর শেষে সোমবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

২৪ ঘণ্টা পরই বিধ্বস্ত ঘাঁটি থেকে উড়ল সিরিয়ার বিমান

মার্কিন হামলার ২৪ ঘণ্টা পরই বিধ্বস্ত সিরিয়ার আল শায়রাত বিমান ঘাঁটি থেকে আকাশে উড়েছে দেশটির সামরিক বিমান। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, টমাহোক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শায়রাত থেকে সিরিয়ার সামরিক বিমানগুলো উড়ে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন হোমস এলাকায় হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিপক্ষে তার জনগণের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। এতে শিশু-নারীসহ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার সিরিয়ার বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে টমাহোক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এদিকে, হামলা থেকে বাঁচতে রাশিয়ান সামরিক যান এবং সদস্যদের নিরাপদে থাকার বার্তা দেয়া হয়েছে।

৪২ হাজার ফুট উপরে বিমানে সন্তান প্রসব

বিনে পয়সায় একজন অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেও খুশি তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের কেবিন ক্রুরা। আর তাদের এই খুশির উপলক্ষ এনে দিয়েছেন নাফি দিয়াবি নামের এক নারী। শুক্রবার প্রায় ৪২ হাজার ফুট উপরে উড়ন্ত অবস্থায় বিমানে তিনি ফুটফুটে মেয়ে সন্তান প্রসব করেছেন। তুর্কি এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটি গিনির রাজধানী কোনাক্রি থেকে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যাচ্ছিল। খবর বিবিসি, ডেইলি মেইলের। এক বিবৃতিতে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিনি থেকে রওনা হওয়ার পর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর রাজধানী ওগাডুগুতে বিমানটির যাত্রাবিরতি করার কথা ছিল।
এর প্রায় ৪২ হাজার ফুট উপরে থাকা অবস্থায় ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী নাফি দিয়াবির প্রসব বেদনা ওঠে। বিমানের কেবিন ক্রুরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে সব ধরনের সহায়তা করেন। এক পর্যায়ে নাফি ফুটফুটে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। গোটা ফ্লাইটে নেমে আসে খুশির জোয়ার। বিমানের কেবিন ক্রুরা নবজাতকের নাম রাখেন কাদিজু। পরে তুর্কি এয়ারলাইন্স তাদের টুইটারে কাদিজুর ছবি শেয়ার করে লেখে, 'স্বাগতম রাজকুমারি! আমাদের কেবিন ক্রুদের সাধুবাদ।' পরে ওগাডুগুতে যাত্রাবিরতির সময় মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ শেষে মা-মেয়ে দু'জনে সুস্থ আছে বলে জানান। বিমান ভ্রমণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভাবস্থার অনুমোদন আছে। তবে ২৮ সপ্তাহ পার হলেই চিকিৎসকের লিখিত অনুমতি নিয়ে ভ্রমণ করতে হয়।

জয় হত্যাচেষ্টা মামলার প্রতিবেদন ১৫ মে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ ১৫ মে নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন নির্ধারণ করেন। আজ মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য দিন ছিল।
কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহার থেকে জানা যায়, জাসাসের সহসভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন এবং দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে বিএনপির হাই কমান্ড দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন করেছে। পরে তদন্ত করে ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। এই মামলায় প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান গ্রেফতার হয়ে দুই দফা ১০ দিনের রিমান্ড শেষে পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। এছাড়া কারাগারে থাকা আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তিনিও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

সিরিয়া হামলায় ট্রাম্পের পক্ষে-বিপক্ষে কারা?

সিরিয়া সংকট সহসাই সমাধান হচ্ছে না। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো সমাধানের পথ না খুঁজে বরং নিজেদের অবস্থান জাহিরের তৎপরতায় সংকট আরও ঘণীভূত হচ্ছে। সিরিয়া নিয়ে বর্তমানে দুটি ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। একপক্ষের মতে, একমাত্র প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনেই কাটবে সিরিয়া সংকট, যিনি সম্প্রতি নিজ জনগণের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। এই পক্ষ সম্প্রতি দেশটিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে যুগোপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে। তাদের মতে, বাশার আল আসাদ দেশটির ক্ষমতায় থাকবে কি না তা নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ। অন্যদিকে রাশিয়ার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্র সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার মতে, সিরিয়ায় মার্কিন হামলার ঘটনা কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি আগ্রাসী মনোভাবের ফসল। স্বাধীন-সার্বভৌম সিরিয়ায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ কোনো হামলা বা অভিযান চালানোর অধিকার রাখে না বলেও তাদের দাবি। এই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সিরিয়ায় মার্কিন হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি মার্কিন আগ্রাসনের বিপক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের দাবি তুলেছে রাশিয়া। এসব নিয়ে সিরিয়ায় গত কয়েক বছর যাবৎ চলছে যুদ্ধ, সংঘর্ষ এবং হামলার ঘটনা। যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। ২০১৪ সাল থেকে আইএসবিরোধী অভিযান চালানোয় তৎপর হয় যুক্তরাষ্ট্র। বারাক ওবামার সময়কালে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান বর্তমানের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও জারি রেখেছে।
তবে আইএসবিরোধী বলা হলেও মার্কিন বোমা হামলা ও সামরিক অভিযানকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিরোধী অভিযান বলেই আখ্যায়িত করা হয়। মার্কিন হামলাকে সমর্থন জানিয়ে সিরিয়া সংকট সমাধানে আসাদকে সরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইল, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ও ন্যাটো। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। তার মতে, দেশটিতে মার্কিন সামরিক হামলা আগ্রাসন ছাড়া কিছুই না। মার্কিন হামলাকে পুতিন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে চালানো হামলা বলেই মনে করেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিরিয়ায় আইন লংঘন করে পরিচালিত মার্কিন হামলা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। শুরু হবে নতুন করে টানাপোড়েন। হামলার কারণে দুই দেশের সামরিক চুক্তি ও সহেযোগিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান ভিক্টর ওজিরভ। রাশিয়ার সঙ্গে একমত হয়ে আগ্রাসনের বিপক্ষে অবস্থানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ইরান। দেশটি সম্প্রতি সিরিয়ায় পরিচালিত মার্কিন আগ্রাসনের চরম বিরোধিতা করেছে। বৃহৎ পরাশক্তি হিসেবে চীনও মার্কিন আগ্রাসনের ঘোরবিরোধী। বরং আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে মত দেশটির। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকেও মার্কিন হামলার কট্টর সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন যেকোনো ধরনের আগ্রাসনকে দেশটি নিজের জন্য হুমকি বলে মনে করে। তবে এর পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি রয়েছে কিম জং উনের দেশটির।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার মার্কিন সামরিক অভিযানে সিরিয়ার শায়রাত এয়ারফিল্ড লক্ষ্য করে ৫৯টি টমাহোক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।   তথ্যসূত্র: সিএনএন

উত্তর কোরিয়া অভিমুখে মার্কিন রণতরী

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই কোরীয় উপসাগর অভিমুখে রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেনাবাহিনীর আদেশে পাঠানো ওই রণতরীতে রয়েছে একটি বিমানবাহী জাহাজ এবং কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। খবর বিবিসির।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে যাত্রা করা বাহিনী সেখানে তাদের পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যাচ্ছে। মাত্র ক'দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় একাই পদক্ষেপ নিতে পারে তার দেশ। গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

ক্ষমতাধর দুই উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করছেন ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ও রেইন্স প্রিবাসকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে অসমর্থিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ এক সহযোগী বলেন, এমনটি ঘটতে চলেছে, কিন্তু এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিষয়টি ‘অস্পষ্ট’। শীর্ষ দুই উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করা নিয়ে স্নায়ু উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের। শুক্রবার এক্সিওস সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রধান কৌশলবিদ (চিফ স্ট্রাটেজিস্ট) ব্যানন এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ প্রিবাসকে বরখাস্তের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। তবে কখন তাদের বরখাস্ত করা হবে বা ট্রাম্প আদৌ তাদের পদচ্যুত করবেন কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান ব্যানন। কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যাননকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) প্রধান কমিটিতে বসিয়ে সেই ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ দেন ট্রাম্প। তবে চলতি সপ্তাহে ব্যাননকে এনএসসির কমিটি থেকে সরানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে অনভিজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও এনএসসির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ করেই তাকে ওই পদ থেকে সরানোর ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন প্রশাসনে তাকে রাখা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে ট্রাম্প টিমে ব্যাননের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান প্রিবাসকে সরানোর বিষয়েও গুজব উঠেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এক অসমর্থিত খবরে বলা হয়, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বরখাস্ত হওয়ার পর এখন প্রিবাসের পদ নিয়ে টানাহেঁচড়া হতে পারে। তখন ব্যাননই তার পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘প্রিবাস খুব ভাল কাজ করছেন।’ ব্যানন ও প্রিবাসের পরিবর্তে কারা ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে বসতে যাচ্ছেন তা নিশ্চিত করেনি এক্সিওস। তবে শীর্ষ এ দুই পদে কংগ্রেসের হাউস মেজোরিটি নেতা কেভিন ম্যাককার্থি এবং ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্রেই কোহেনকে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যমটি।

কেমন ছিল ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ কক্ষের’ পরিবেশ

ফ্লোরিডার পাম বিচের বিলাসবহুল মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে সিরিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ক্ষমতা গ্রহণের পর শুক্রবার ওই হামলাই ছিল বড় কোনো সামরিক অভিযান। রাতের খাবারের পর উদ্বিগ্ন সহযোগীদের নিয়ে এ অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এক টুইটার বার্তায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব শন স্পাইসার এ পর্যবেক্ষণ কক্ষকে অস্থায়ী ‘জরুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কক্ষ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কিত একটি ছবিও টুইটারে পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প ছোট একটি টেবিলের ওপর ভিডিও সরঞ্জাম ও কাগজপত্র নিয়ে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন। তার পাশেই ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচআর ম্যাকমাস্টার, চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস, বিশেষ উপদেষ্টা জামাতা জেয়ার্ড কুশনার, উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, স্টিফেন মিলার এবং দলের একমাত্র নারী জাতীয় নিরাপত্তা উপ-উপদেষ্টা দিনা পাওয়েল ও হোয়াইট হাউসের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাও ছিলেন। স্পাইসার টুইট বার্তায় জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড ওই সময় জরুরি কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তারা ওয়াশিংটন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে যোগ দেন বলে জানান স্পাইসার।
স্পাইসার আরও জানান, ছবিটি তোলা হয়েছিল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের রাতের খাবারের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে। ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের এ ছবি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার একটি ছবির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই সময় আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের হত্যা অভিযান সরাসরি দেখার জন্য হোয়াইট হাউসের ‘জরুরি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ থেকে হিলারি ক্লিনটন, জো বাইডেন ও অন্যা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন ওবামা। ছবি দুটি একই দিক (এঙ্গেল) থেকে তোলা হয়েছে। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওয়াশিংটন থেকে মাইক পেন্স, জেমস ম্যাটিস ও অন্য কর্মকর্তারা ট্রাম্পের পর্যবেক্ষক দলকে সিরিয়া হামলার পরিস্থিতি বিস্তারিত জানান। দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, ছবির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে টেবিলে ট্রাম্পের জামাতা জেয়ার্ড কুশনার ও উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের অবস্থান। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দরজার দিকে এক কোণে বসেছেন ট্রাম্প। তার পাশেই বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস ও অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন এবং তার পরেই কুশনার। তবে স্টিভ ব্যানন একেবারেই এক প্রান্তে বসেছেন। আরেকটা বিষয় লক্ষ্যণীয় সেটা হচ্ছে, ট্রাম্পের এ পর্যবেক্ষণ দলে অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টাই বেশি উপস্থিত ছিলেন। এর কারণ জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক। এ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থবিষয়ক উপদেষ্টাদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

সিরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী পাঠাল রাশিয়া

সিরিয়ার সরকারি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়া। আসাদের কার্যালয় থেকে এ হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী পাঠিয়েছে রাশিয়া। শনিবার কৃষ্ণসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর উপকূলে এ রণতরী পাঠানো হয়েছে বলে জানায় রুশ সংবাদমাধ্যম ‘তাস’। এদিকে সিরিয়ায় শুক্রবারের মার্কিন হামলার ঘটনায় ২০টি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। আর এ হামলার ফলে সৃষ্ট ‘যুদ্ধে’ পাঁচ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, তারা মার্কিন হামলার ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। ফলে সিরিয়ার অভ্যন্তরে রুশ-মার্কিন যুদ্ধের আপাত কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু রুশ রণতরী পাঠানোর পর এ নিয়ে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ভোরে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস পোর্টার ও ইউএসএস রস থেকে আসাদ সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি বিমান ঘাঁটিতে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্তত ছয়জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ নামের কৃষ্ণ সাগরের বহরে থাকা একটি রুশ রণতরী ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়েছে।
সিরিয়ার বন্দরনগরী তারতুসে থাকবে এ রণতরী। ‘তাস’ জানায়, রুশ যুদ্ধজাহাজে রয়েছে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কালিবার। এটি তারতুস বন্দরে যাবে। চার হাজার টনের যুদ্ধজাহাজটি সিরিয়া উপকূলে কতদিন থাকবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতেই এটি এক মাসের বেশি সময় সেখানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ওই যুদ্ধজাহাজটি কৃষ্ণসাগরে তুর্কি জাহাজের সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ায় অংশ নেয়। এবার এটিকে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হল। সার্বভৌম রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা একটি সার্বভৌম দেশের ওপর আগ্রাসন। এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে মস্কো। সিরীয় ‘যুদ্ধে’ ৫ ভয়াবহ ঝুঁকির আশঙ্কা : শুক্রবার সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, এ হামলার কারণে সিরিয়া ইস্যুতে তাৎক্ষণিকভাবে ৫টি ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হবে। প্রথমত, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে। এ হামলায় মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেটা এই অর্থে যে সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের মনোভাব নিয়ে এত দিন যে ধোঁয়াশা ছিল, তা এবার স্পষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আসাদ পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। আগেও এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এ পদক্ষেপের মানে হয়তো এই নয় যে তিনি মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাবেন। তবে সুযোগ পেলেই মার্কিনিদের বিরুদ্ধে তিনি ‘ভাতে মারার, পানিতে মারার’ নীতি প্রয়োগ করবেন। সবচেয়ে বড় কথা হল, এ হামলার কারণে ট্রাম্পকে একটা বিপর্যয়ের মুখে পড়তেই হবে। আর ব্যাপক মাত্রায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সেই বিপদ হবে অনাকাক্সিক্ষত; নিয়ন্ত্রণের অযোগ্য। তৃতীয়ত, রুশ উপস্থিতি বাড়বে। মার্কিন অভিযানের পর সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া আগের চেয়ে প্রকাশ্যে পদক্ষেপ নেবে। এরই মধ্যে এ ইস্যুতেই রাশিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতির মাঠে নিজের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী করেছে। মার্কিন হামলার সমুচিত জবাবও দিতে পারে রাশিয়া।
চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার মধ্য দিয়ে আসাদ অবশ্য ট্রাম্পের মনোভাব সম্পর্কে একটা ধারণা পেলেন। আসাদ ভেবেছিলেন, সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের হয়তো তেমন মনোযোগ নেই। আর থাকলেও তার মতিগতি বোঝা যাচ্ছিল না। তাই এখন আসাদের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া আরও সহজ হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ার দুঃখ হয়তো আরও প্রলম্বিত হবে। মার্কিন হামলার সবচেয়ে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল সিরিয়ার ভাগ্যে আগামী আরও কয়েক বছর একই দুর্দশা লেগে থাকবে। সিরিয়ার ২০ বিমান ধ্বংস : সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০টি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা। সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের আশ-শাইরাত বিমান ঘাঁটিতে শুক্রবার এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইএসএস রোজ ও ইউএসএস পোর্টার থেকে এ ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রায় ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আমেরিকার ছোড়া মাত্র ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র বিমান ঘাঁটিতে আঘাত করতে পেরেছে। বাকি ৩৬ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। বিমান ঘাঁটির রানওয়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এছাড়া পার্কিং এলাকায় থাকা সিরীয় বিমানগুলো ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে। হামলায় সিরিয়ার ছয়টি মিগ-২৩ বিমান ধ্বংস হওয়ার কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ হামলার কার্যকারিতাকে খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছে এ মন্ত্রণালয়।

যোগীর রাজ্যেই ধুঁকে ধুঁকে মরল দেড়শ’ গরু

ভারতে যখন গোরক্ষার নামে তাণ্ডব চলছে, বিভিন্নস্থানে মুসলিম নাগরিকদের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠছে তখনই গরুর প্রতি অযত্ন অবহেলার এক করুণ চিত্র দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ১২৮ বছরের পুরনো এক গোশালায় অনাহার ও অপুষ্টিতে গত পাঁচ মাসে ১৫২টি গরু মারা গেছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির জয়ের পর যোগী আদিত্যনাথকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তিনি গরু জবাই কার্যত নিষিদ্ধ করেন। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, দেশটির অন্যতম বৃহৎ এ গরু আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৫৪০টি গরু রয়েছে। রাস্তা থেকে অসুস্থ গরু উদ্ধার করে এখানে নিয়ে এসে দেখাশোনা করা হয়। গরুগুলোর দেখভালের জন্য একটি সোসাইটি রয়েছে। এই সোসাইটির অধীনে প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সোসাইটির অবহেলার কারণে গরু মারা যাচ্ছে। গত সপ্তাহেই ৪টি গরু মারা গেছে। ডাক্তাররা বলছেন, গরুগুলো না খেতে পেয়ে মারা গেছে। অযত্ন-অবহেলায় গরুর মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ-উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোসাইটির একজন প্রবীণ সদস্য জানান, ‘গরুদের দেখাশোনার জন্য প্রচুর অর্থ আসে এই সোসাইটিতে। অথচ এত টাকা আসা সত্ত্বেও গরুগুলোকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না। তাহলে এই টাকা যায় কোথায়? এটা তদন্ত করে দেখা দরকার।’ তবে এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি শ্যামজি অরোরা। তিনি জানান, প্রতিদিনই ডাক্তার আসেন গরুগুলো দেখতে। তা ছাড়া গরু দেখাশোনার জন্য আটজনের একটি বিশেষ দল রয়েছে। এতকিছু সত্ত্বেও এতগুলো গরুর মৃত্যু কিভাবে হল তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

স্টকহোম হামলায় মূল সন্দেহভাজন গ্রেফতার

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি ব্যস্ত বিপণিবিতান এলাকায় ট্রাক নিয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার এক ব্যক্তিকে ঘাতক ট্রাকটির চালক বলে সন্দেহ করছে সুইডেন পুলিশ। শুক্রবার ভিড়ের মধ্য দিয়ে ট্রাক চালিয়ে চারজনকে হত্যা ও ১৫ জনকে আহত করার পর পালিয়ে গিয়েছিল ট্রাকটির চালক। খবর বিবিসির। এ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধূসর হুডি পরা এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশের পর স্টকহোমের উত্তরাংশ থেকে শুক্রবার একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ব্যক্তিই ওই ট্রাক দিয়ে চালানো হামলার সন্দেহভাজন চালক বলে শনিবার জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র লারস বাইস্ট্রম বলেন, ‘সন্দেহভাজনকে অভিযুক্ত চালক হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ থাকতে পারে, তবে এ মুহূর্তে আমাদের তা জানা নেই।’ সুইডেনের রাষ্ট্রীয় ব্রডকাস্টার এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ থাকা দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সূত্রগুলো। তবে দ্বিতীয় আরেকজনকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ফের ভারতীয় যুবক খুন

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক ভারতীয় নাগরিক হামলা ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ২৬ বছর বয়সী যুবক বিক্রম জারওয়ালের নাম। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে খুন হন তিনি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বিক্রম হত্যার বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়ে টুইট করেছেন। এনডিটিভি জানায়, পাঞ্জাবের হশিয়ারপুরের বাসিন্দা বিক্রম মাত্র ২৫ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
ওয়াশিংটনের একটি গ্যাস স্টেশনের দোকানে কাজ নেন। দোকানের ক্যাশ কাউন্টারের পাশেই তাকে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র মাইক বাস্তিনেলি বলেন, ‘বিক্রমের দোকানে কালো রঙের হুডি পরিহিত দু’জন ব্যক্তি ডাকাতির চেষ্টা করে। এ সময় বিক্রম বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি নিজেই পুলিশকে এ তথ্য দিয়েছেন।’

আইন প্রণয়নে এমপিদের অংশগ্রহণ কম: টিআইবি



জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ কম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে 'টিআইবির পার্লামেন্ট ওয়াচ: দশম জাতীয় সংসদ সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ অধিবেশন' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের মতামত ও প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হয় না।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনমত গ্রহণের সুযোগ সীমিত। আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত হয় না। এছাড়া সংসদ কার্যকর করতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে টিআইবি। সংসদে বিরোধী দলকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে দ্বৈত অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে বলেও মনে করে সংস্থাটি। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পড়লেন উপস্থাপিকা

ভারতের ছত্তিসগড়ের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকাকে ‘ব্রেকিং নিউজে’ সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের স্বামীর মৃত্যুর খবরই পড়তে হয়েছে। আইবিসি-টোয়েন্টি চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা সুপ্রীত কর নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শনিবার কঠিন এ কাজটি করেন। খবর এনডিটিভির। ঘটনার দিন সকালে খবর পড়ছিলেন সুপ্রীত কর। ওই সময় চ্যানেলটির একজন রিপোর্টার মহাসামুন্দ জেলার পিথারা এলাকায় একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার খবর জানান। দুর্ঘটনায় পড়া রেনোয়া ডাস্টার গাড়িটির পাঁচ যাত্রীর মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। যদিও ওই সময় রিপোর্টার হতাহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি।
কিন্তু সুপ্রীতের জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। কারণ তার স্বামীরও ওই সময় একই কোম্পানির গাড়িতে করে চার সহযাত্রী নিয়ে ওই পথে যাওয়ার কথা। দুর্ঘটনায় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরেও সুপ্রীত তার দায়িত্ব ছেডে চলে যাননি। দায়িত্ব পালন করে নিউজরুম ছাড়েন। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেন। এ ঘটনায় চ্যানেলটির অন্যান্য সহকর্মীরা হতবাক হন। সুপ্রীতের এক সহকর্মী বলেন, 'সত্যিই ও একজন সাহসী মহিলা। একজন অ্যাঙ্কর হিসাবে আমরা গর্বিত। স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনার পরেও যেভাবে ওই সময় নিজের দায়িত্বটা পালন করল, আমরা সবাই হতবাক।' গত ৯ বছর ধরে ছত্তিসগড়ের ওই সংবাদমাধ্যমে কাজ করছেন সুপ্রীত। তার বাড়ি ভিলাইয়ে। কর্মসূত্রে রাইপুরে থাকতেন। গত বছর বিয়ে হয়েছিল হর্ষদ কাওয়াড়ের সঙ্গে।

জুলহাস-তনয় হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৮ মে

রাজধানীর কলাবাগানে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে হত্যা ও অস্ত্র আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ৮ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম সাজ্জাদুর রহমান এই দিন নির্ধারণ করেন। আজ এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এই দিন ঠিক করেন।
মামলা দুটির মধ্যে হত্যা মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির ইন্সপেক্টর বাহাউদ্দিন ফারুকী আর অস্ত্র মামলার তদন্ত করছে ডিবির পুলিশ পরিদর্শক নুরুল আফসার। হত্যা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ নিয়ে ২৭ বার এবং অস্ত্র মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৬ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই ঘটনায় জুলহাসের বড় ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। আর কলাবাগান থানার এসআই মোহাম্মদ শামীম অস্ত্র মামলাটি দায়ের করেন।

পশু খাদ্যে ট্যানারি বর্জ্য নয়

মাছ, মুরগী ও পশু খাদ্য তৈরিতে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।রোববার সকালে শিল্প মালিকদের করা আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধী চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পোল্ট্রি ও মাছের খাবার প্রস্তুতকারক সমিতির করা আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন রোবাবার আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছেন।
এই আদেশের ফলে ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মুরগী ও মাছের খাবার তৈরি বন্ধে আগের রায়ই বহাল থাকল বলে জানান মনজিল মোরসেদ। এর আগে ২০১০ সালের ২৬ জুলাই পরিবেশবাদী সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২১ জুলাই এক মাসের মধ্যে ট্যানারি বর্জ্য দিয়ে মাছ, মুরগী ও পশু খাদ্য তৈরির কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে এর বিরুদ্ধে একটি কারখানার মালিকের করা লিভ টু আপিল গত বছরের ৭ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

আজমির গেলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত সফরের তৃতীয় দিনে রোববার আজমিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটি থেকে জয়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী আজমির শরিফে যাবেন।
মাজার জিয়ারত শেষে আজমির শরিফ থেকে আবার প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে জয়পুর বিমানবন্দর হয়ে দুপুরে দিল্লিতে ফিরবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। আগামীকাল সোমবার সফরের শেষ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। বিকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, চার দিনের সরকারি সফরে গত ৭ এপ্রিল শুক্রবার দিল্লি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। শনিবার তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত ও দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই।

একদিনে ট্রাফিকের আড়াই হাজারেরও বেশি মামলা

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একদিনেই আড়াই হাজারের বেশি মামলা করেছে। শুক্রবার দিনব্যাপী ট্রাফিক বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৫৬টি। এর পাশাপাশি নানা অনিয়মের অপরাধে জরিমানা করা হয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ টাকা। এ সময় ২৮টি গাড়ি ডাম্পিং ও ১৬৯টি গাড়ি র‌্যাকারিং করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৩০ : ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা, ১৩৮ গ্রাম ও ৪৪৩ পুরিয়া হেরোইন, ১০০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ ক্যান বিয়ার ও এক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার : রাজধানীতে ধারালো চাকুসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয। তারা হল- রুবেল মিয়া ও মো. মামুন। তাদের কাছ থেকে দুটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণেস্বাস্থ্য অধিদফতরের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। শনিবার রাত ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মাহমুদুল হক।
তিনি বলেন, রাত ১২টা ৩০ মিনিটে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকার গুদামটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পালাক্রমে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৪টি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এখনও আগুন পুরোপুরি নেভানো সক্ষম হয়নি বলে জানান মাহমুদুল হক।

প্রতিরক্ষায় সমঝোতা তিস্তায় আশ্বাস

প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা সংক্রান্ত রূপরেখাসহ চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলেও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে মিলেছে নরেন্দ্র মোদির জোরালো আশ্বাস। তিনি (মোদি) বলেছেন, শুধু তার এবং শেখ হাসিনার সরকারই এই চুক্তি সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। তাদের সরকার দ্রুত এটা নিষ্পত্তি করবে বলেও জানান তিনি। দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের পর মোদি তিস্তার ব্যাপারে এই ঘোষণা দেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন ইস্যুর দ্রুত নিষ্পত্তিতে ভারতের সহায়তা কামনা করেন। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর দু’দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। তার মধ্যে ছয়টি চুক্তি এবং ১৬টি এমওইউ সই হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের চারটি এমওইউ ছাড়াও পরমাণু শক্তি, স্যাটেলাইট, সাইবার নিরাপত্তা, সীমান্ত হাট, বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা এবং কানেকটিভিটি খাতে সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আরও ১২টি চুক্তি সই হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি পর্যায়ে আরও চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশকে সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে ৫০ কোটি ডলারসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। ফলে গত ছয় বছরে বাংলাদেশকে মোট আটশ’ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হল। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য বাধা দূর করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে শনিবার রাতে ঢাকা-দিল্লি ৬২ দফা যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার এসব চুক্তি ও এমওইউ সই হয়। সফরের দ্বিতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন। তারপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে গিয়ে গান্ধী সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। হায়দরাবাদ হাউসে স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আধা ঘণ্টা একান্ত আলোচনা হয়েছে। তারপর বসে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে। তিস্তা চুক্তি যে এবার হচ্ছে না সেটা আগেই ঘোষণা করেছিল উভয় পক্ষ। তবে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেছিলেন, তিস্তা চুক্তি সম্পাদন কবে নাগাদ হবে সে ব্যাপারে একটি সময়সীমা চাওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের কোনো সময়সীমা চাওয়া হয়নি। তবে এই চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বৈঠকের পর যুগান্তরকে বলেছেন, ‘তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের কোনো সময়সীমা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চাওয়া হয়নি। এ চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।’ তবে তিনি এটাও বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সময়সীমা চেয়েছেন কিনা তা তিনি জানেন না। তবে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এ আলোচনা চলেছে যে, শেখ হাসিনাকে একেবারে নিরাশ করে ফেরাতে চান না মোদি। কেননা তিস্তার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে কোনো প্রকার অগ্রগতি না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে প্রতিরক্ষা খাতে রূপরেখায় প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা,
সমুদ্র অবকাঠামো নির্মাণ, মহাকাশ গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যৌথ মহড়া, সামরিক কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়সহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কথা রয়েছে। এছাড়াও ভারত থেকে সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলারের ‘লাইন অব ক্রেডিট’ (এলওসি) দেয়ার বিষয়ে পৃথক এমওইউ সই হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত পৃথক দুটি এমওইউ সই হয়েছে। এছাড়া দিল্লির পার্ক স্ট্রিটের নাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ঘোষণা দেন মোদি। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন। এই আনুষ্ঠানিকতার এক পর্যায়ে দুই প্রধানমন্ত্রীকে নেমে এসে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি অনুবাদ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আহ্বান জানানো হয়। এই ঘোষণা দিতে গিয়ে উপস্থাপক বলেন, ‘মে আই রিকোয়েস্ট দ্য টু প্রাইম মিনিস্টার্স টু নাউ প্লিজ স্টেপ ডাউন।’ এ কথা বলার পর মিলনায়তন ভর্তি সবার মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা ও মোদি উভয়কেই তখন হাসতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে খুলনা-কলকাতা রুটে নতুন যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস, পরীক্ষামূলকভাবে খুলনা-কলকাতা দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং মালামাল পরিবহনের জন্য বিরল-রাধিকাপুর রেলপথটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ উদ্বোধন করেছে এবং নেপাল ও ভুটান থেকে ক্রসবর্ডার বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চুক্তি সই করার পর হায়দরাবাদ হাউসের একটি কক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জনাকীর্ণ এই অনুষ্ঠানে মোদি তার বক্তৃতায় অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন সম্পর্কে আলোকপাত করে বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন স্থল সীমান্তের সঙ্গেই রয়েছে আমাদের অভিন্ন নদী। তারা আমাদের জনগণকে বাঁচিয়ে রাখে এবং তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে।
তার মধ্যে তিস্তা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের সৃষ্টি করেছে। এটা ভারত, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আজকে আমার সম্মানিত অতিথি। আমি জানি যে, বাংলাদেশ সম্পর্কে তার অনুভূতি আমার মতোই। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আমাদের অঙ্গীকার ও অব্যাহত প্রচেষ্টা সম্পর্কে আশ্বস্ত করতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধু আমার সরকার এবং শেখ হাসিনার সরকারই তিস্তার পানির ভাগাভাগির দ্রুত সমাধান করতে পারে এবং করবে।’ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন সমস্যার দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তিস্তার মতো অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প এবং অভিন্ন নদীগুলোর অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনাসহ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, দ্রুততার সঙ্গে এসব ইস্যুর নিষ্পত্তির বিষয়ে ভারতের সমর্থন পাব।’ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দৃশ্যমান হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারিত্ব আমাদের জনগণের জন্য সমৃদ্ধি নিয়ে এসেছে। এই অংশীদারিত্ব জনগণকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ থেকে সুরক্ষার কাজে লাগছে। এটা শুধু ভারত আর বাংলাদেশের জন্যই হুমকি নয়; বরং গোটা অঞ্চলের জন্যই হুমকি।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরও প্রশংসা করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের ও এই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আমাদের সম্পৃক্ততার কেন্দ্রে রয়েছে। অনেক দিন পর আজকে আমরা আমাদের দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে পেরেছি।’ এ সময় বাংলাদেশের সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ৫০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই এই ক্রয় সম্পাদন করতে পারবে। আসন্ন বাংলা নববর্ষের প্রাক্কালে শেখ হাসিনা দুদেশের জনগণকে ‘শুভ নববর্ষ’ বলে বাংলায় নববর্ষ ১৪২৪-এর আগাম শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, দ্রুততার সঙ্গে এসব ইস্যু সমাধানে আমরা ভারতের সমর্থন পাব। তিনি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় চমৎকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তাদের এই বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেন। শেখ হাসিনা জানান, পারস্পরিক উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারের ব্যাপারে আমাদের বোঝাপড়া আরও এগিয়ে নিতে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের সব দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অমূল্য অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, এ জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, তার বর্তমান দিল্লি সফরকালে ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শহীদ সদস্যদের সম্মান জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। একাত্তরের গণহত্যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লি সমর্থন দিতে সম্মত হওয়ায় তিনি এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি একমত হয়েছেন, এ দুটি দেশের উন্নয়নে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগই বড় শক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে কারণেই আমরা আমাদের আগরতলা ভিসা অফিসকে যুগোপযোগী করে সম্প্রতি সহকারী হাইকমিশন এবং গৌহাটিতে আরেকটি নতুন সহকারী হাইকমিশন খুলেছি। ভারতও বাংলাদেশে আরও অনেক ভারতীয় ভিসা অ্যাপলিকেশন সেন্টার (আইভিএসি) খুলেছে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এগুলো আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক আত্মবিশ্বাস এবং বিশ্বাসের ভিতকে মজবুত ও সম্প্রসারিত করছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজ দুটি দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ফলে বিবিধ জায়গায় সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক জ্বালানির ব্যবহার, স্যাটেলাইট, যোগাযোগ প্রযুক্তি, গণমাধ্যম প্রভৃতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছে এবং খুব দ্রুতই শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পাওয়ার হাউস হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এখন একটি সন্তোষজনক হারে এগোচ্ছে, ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। আমরা সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তার গতিশীল নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনী চিন্তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর ফলে যে ভারতই শুধু দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তা নয় বরং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যোগ করছে নতুন মাত্রা। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত এবং টেকসই সম্পর্ক সৃষ্টির যে লক্ষ্য তা আমাদের যৌথ ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়েছে। এখন আমাদের এই ঘোষণাকে কাজে পরিণত করে এর একটি শক্ত ভিত প্রদান করতে হবে।’
বাণিজ্য বাধা দূর করার আহ্বান : বৈঠকে বাণিজ্য বাধা দূর করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি দু’দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ঘাটতি বাড়তে থাকার বিষয়টি মেনে নিয়ে এ বিষয়ে তার সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন। আমরা পাট রফতানির ক্ষেত্রে ‘এন্টি ডাম্পিং শুল্ক’ আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সমতা আনয়নের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দেশের বিভিন্ন নির্দিষ্ট স্থানে ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করারও উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য অন্য সব বিষয়ে আলোচনা করেছি।