Saturday, June 25, 2011

মেসিকে পেলের তির্যক বাণ

কিছু বিষয় আছে কখনো বদলায় না। এই যেমন ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ম্যারাডোনা পেলের পরের প্রজন্মের খেলোয়াড় হলেও দুজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতিহাসেরই বিষয় হয়ে গেছে। পেলে না ম্যারাডোনা, কে সর্বকালের সেরা এই বিতর্কটাও সেই কবে থেকে চলে আসছে, একটুও রং হারায়নি। মঞ্চে লিওনেল মেসির আবির্ভাব বরং এই বিতর্কে ঘি-ই ঢেলেছে।
মেসি সর্বকালের সেরাদের একজন কি না—পরশু সান্তোস লিবার্তোদোরেস কাপ শিরোপা জয়ের পর পেলেকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন। বিতর্কের সলতেটা যেন বাড়িয়েই দিয়েছেন ওই সাংবাদিক! পেলে তির্যকভাবে যা বলেছেন, তাতে অর্থটা দাঁড়ায় মেসির পেলে হতে এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে, নেইমার বরং একসময় মেসির চেয়ে ভালো করবে।
২৩ বছর বয়সেই মেসি অনেক কিছু পেয়েছেন। স্প্যানিশ লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো দলীয় পুরস্কারের পাশে জ্বলজ্বল করছে ফিফা আর ইউরোপ-সেরার স্বীকৃতি। এই বয়সে পেলে-ম্যারাডোনারাও এত কিছু জিততে পারেননি।
কাঠখোট্টা ভাষাতেই এর জবাব দিয়েছেন পেলে, ‘মেসি পেলের চেয়ে ভালো? এটা হতে ওকে আগে ১২৮৩ গোল করতে হবে।’ ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা পেলে তাঁর ক্যারিয়ারে খেলেছেন সান্তোস, এমএলএসের (মেজর লিগ সকার) ক্লাব নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে। সব মিলিয়ে করেছেন ১২৮৩ গোল। বার্সেলোনার মেসির সব মিলিয়ে ১৮০ গোল।
মেসির একটি অপূর্ণতাও দেখিয়ে দিয়েছেন পেলে। সেটি সবাই জানে, আর্জেন্টাইন এই জাদুকরের আর্জেন্টিনার হয়ে এখনো কিছু জিততে না পারা। এই প্রসঙ্গ টেনেই ‘নতুন পেলে’ বিশেষণ পাওয়া নেইমারকে নিয়ে বলেছেন, ‘নেইমার দারুণ এক প্রতিভা। আশা করছি, ওর শেষটা মেসির মতো হবে না। মেসি তো ক্লাবের হয়ে দারুণ খেলে, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে কিছুই করতে পারে না।’
দেখা যাক, নিজের দেশের কোপা আমেরিকায় মেসি এর জবাব দিতে পারেন কি না! এই বদনামটা যে বহুদিন ধরেই বয়ে বেড়াচ্ছেন বার্সেলোনার প্লে-মেকার।

নতুন কোচ থাকবেন তো?

বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে অসংখ্য টিভি ক্যামেরা। তা দেখে আশপাশের সবারই কৌতূহলী দৃষ্টি, ‘কে এলেন?’
বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি। এসেছেন মেসিডোনিয়া থেকে, ৫৫ হাজার ৫৯৮ বর্গমাইলের বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় যে দেশটি অর্ধেকেরও কম (২৫ হাজার ৭১৩ বর্গমাইল)। ১৬ কোটি মানুষের দেশে চাকরি নিয়েছেন ২০ লাখ মানুষের দেশের বাসিন্দা।
তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে বাফুফের কর্মকর্তা-কর্মীরা গেলেন ফুলের তোড়া নিয়ে। বেশ হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল কালো স্যুট পরা ভদ্রলোককে। ২৬ ঘণ্টা ভ্রমণের ক্লান্তি কাটিয়ে ঘণ্টা তিনেক বাদেই এলেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ দেখতে। কী দেখলেন?
ইলিয়েভস্কি কথা বলেন গ্রিক ভাষায়। ভাঙা ভাঙা ইংরেজি জানেন। গলার স্বর খুবই নিচু। শোনার জন্য মুখের কাছে কান নিতে হয়। এ এক বড় সমস্যা। বিমানবন্দরেই সেটি ভালো করে বোঝা গেল। মাঠে আসার পর আরও। তবে তাঁর অভিব্যক্তি বলে দিল, দুই প্রধানের ম্যাচ দেখে খুশি নন। আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আগে তেমন কিছুই বলতে চাইলেন না। তবে কাল বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন, তাতে ‘বাংলাদেশে এসে আমি খুশি’ জাতীয় অনুভূতিই প্রকাশ পেল।
পূর্বসূরি রবার্ট রুবচিচ ২ জুন ভোর রাতে কাউকে না বলেই চলে গেছেন। নতুন কোচ হিসেবে বাফুফে যাঁকে চূড়ান্ত করেছিল, সেই মেসিডোনিয়ান কোচ জর্জি ইয়োভানভস্কিও এলেন না বাংলাদেশ দল নিয়ে পাকিস্তান যাওয়ার ভয়ে। তাঁরই স্বদেশি এবং মেসিডোনিয়া জাতীয় দলের সাবেক কোচ এসে বাফুফেকে চিন্তামুক্ত করেছে। কালকের দিনটি বাফুফের কাছে ‘কোচ নিয়ে চিন্তা মুক্তি দিবস’ হতে পারে!
কিন্তু বড় প্রশ্ন—ইলিয়েভস্কি বাংলাদেশকে বেছে নিলেন কেন? ‘জাতীয় দলের কোচ হওয়া বিশেষ কিছু। সেটি চীন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ যে দেশই হোক না কেন’?—বললেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলে দলের ১৫তম বিদেশি কোচ।
ইলিয়েভস্কি জানেন না, এ দেশে এসে কোচরা কাজ না পেয়ে শুয়েবসে থাকেন। কিছুদিন পর চলে যান। তাঁর বেতনটাও ঠিকমতো দিতে পারে না ফেডারেশন। কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় উপাদান চেয়ে পান না। ত্যক্তবিরক্ত হয়ে পরে চলে যেতে হয়।
৫৬ বছর বয়সী মুখে স্মিত হাসি নিয়ে বলে গেলেন, ‘আমি আপাতত এক বছরের জন্য এসেছি। তবে আশা করছি, এ দেশ আমার ভালো লাগবে এবং দীর্ঘ মেয়াদেই থাকতে পারব।’
তিনি এগিয়ে যেতে চান নিজের কোচিং দর্শন নিয়ে, ‘আমি জয়ী হতে ভালোবাসি। তবে যেতে চাই ধাপে ধাপে। আমি চাই আক্রমণাত্মক খেলতে। কোয়ালিটি এবং ক্যারেক্টারিস্টিক প্লেয়ারই আমার পছন্দ।’
খেলোয়াড়ি জীবনে স্ট্রাইকার হিসেবে শুরু করে ৮ বছর পর মিডফিল্ডার হয়ে গেছেন। অবিভক্ত যুগোস্লাভিয়ার হয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু এখন কোচিং নিয়েই কথা বলতে বেশি আগ্রহ তাঁর, ‘মেসিডোনিয়ার হেড কোচ ছিলাম ২১টি ম্যাচে। অর্ধেকেরও বেশি জিতেছি। স্কলারির পর্তুগালের বিপক্ষে আমার মেসিডোনিয়া হেরেছে ১-০ গোলে। এরিকসনের ইংল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ করেছি আমরা।’
বর্তমান সময়ের সেরা কোচদের মধ্যে কাকে পছন্দ? মরিনহো, ফার্গুসন না গার্দিওলা? ‘আমি নিকোলা...’ বলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গেলেন।
ততক্ষণে বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর তাড়া কর্তাদের [বাদল রায়, হাসানুজ্জামান (বাবলু), ইমতিয়াজ সুলতান (জনি), ছাইদ হাসান (কানন)]। বেরোনোর আগে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ জুলাই ফিরতি ম্যাচে লাহোরে যেতে তাঁর আপত্তি নেই জানিয়ে দেন, ‘পাকিস্তানে যেতে আমার সমস্যা নেই।’
২৯ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ম্যাচ। আজই বিকেএসপিতে প্রাথমিক দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। এসেই কাজ পেলেন। কিন্তু বাফুফে কি তাঁকে ধরে রাখতে পারবে?

হ্যাম্পশায়ারকে জয়ে ফেরালেন আফ্রিদি

আগের ম্যাচে এসেক্সের কাছে হার। তবে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে বিধ্বংসী বোলিং করে হ্যাম্পশায়ারকে জয়ে ফিরিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি।
আফ্রিদি বল করেন ৪ ওভার। ২০ রানের বিনিময়ে তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। তাঁর চোখ ধাঁধানো বোলিংয়ের সুবাদে ১৬ রানের জয় পায় তাঁর দল হ্যাম্পশায়ার।
ফ্রেন্ডস লাইফ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার এই ম্যাচে প্রথম ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৩৯ রান করে হ্যাম্পশায়ার। খেলার মাঝে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ালে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে প্রতিপক্ষ গ্লুচেস্টারশায়ারের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১৭ ওভারে ১২৪ রান। ৫০ রানের ইনিংস খেলেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু অন্য প্রান্তে একের পর এক আক্রমণ করে দুই বল বাকি থাকতেই গ্লুচেস্টারশায়ারের ইনিংস ১০৭ রানে গুটিয়ে দেন আফ্রিদি।

বিশ্ব জয় করতে চান নেইমার

বয়স মাত্র ১৯। পেশাদার ক্যারিয়ারও শুরু করেছেন দুই বছর পুরো হয়নি। এরই মধ্যে সাফল্য যেন নিজে থেকে এগিয়ে এসে নেইমারের পায়ে লুটোচ্ছে। ব্রাজিলের এই উঠতি তারকাও যেন বিশ্ব জয় করতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন, ‘এবার আমি বিশ্ব জয় করতে চাই।’
সেটাই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য হওয়ার কথা। সান্তোসের হয়ে এরই মধ্যে দুই বছরে চারটি ট্রফি জিতেছেন। সদ্যই জিতলেন দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ কোপা লিবার্তোদোরেস। নেইমার এখন বিশ্ব জয়ে নামতেই পারেন।
আক্ষরিক অর্থেই। কারণ মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে এ বছর ডিসেম্বরে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে খেলবে সান্তোস। স্বাভাবিকভাবেই টুর্নামেন্টের সেরা দুই ফেবারিট ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন সান্তোস। ২০০৬ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ দিয়েই নিজেকে ভালোমতো চিনিয়েছিলেন পাতো। পরের বছরই তাঁকে কিনে নিয়েছিল এসি মিলান।
নেইমার অবশ্য আগে থেকেই ইউরোপের ক্লাবগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে। চেলসি তো গতবার তাঁকে কেনার জন্য হন্যে হয়ে পড়েছিল। এবার শোনা যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদেরও নাম। এবং খোদ পেলেই বলছেন, রিয়াল মাদ্রিদই হতে পারে নেইমারের যোগ্য ঠিকানা।
নেইমারের মতটাও জানা জরুরি। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস-এর সাংবাদিক মওকা মতো পেয়ে ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রশ্নটা—বিশ্ব জয় করতে চান মানে মাদ্রিদেই আসছেন? নেইমারের হেঁয়ালিমাখা উত্তর, ‘আমি জানি না। ভবিষ্যতে কী হতে পারে কে-ই বা জানে!’ নেইমার অবশ্য আরও কিছুদিন সান্তোসে খেলতেই আগ্রহী। তবে সান্তোস কোচ রামালহো ভালো করেই জানেন, শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল তারকাদের ঠিকানা হয় ইউরোপেই, ‘আমি ওকে ইউরোপে যেতে নিষেধ করতে পারি না। আমি নিজে খেলোয়াড় ছিলাম বলেই জানি খেলোয়াড়দের কাছে এটা কত বড় একটা স্বপ্ন।’ আর নেইমার যে ইউরোপে খেলতে পারেন সেই প্রত্যয়নপত্র দিচ্ছেন সান্তোসেরই আরেক আবিষ্কার রবিনহো।
বিশ্বজয়ের পথ এখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে নেইমারকে!

দেশে ফিরেই না-ফেরার দেশে মার্শাল

জীবন এ রকমই! মাত্র পাঁচ দিন আগেই পুরো কোস্টারিকা দলকে আনন্দে ভাসিয়েছেন ডেনিশ মার্শাল। পরশু সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকেই বিদায় নিলেন কোস্টারিকার ডিফেন্ডার।
গত শনিবার হন্ডুরাসের বিপক্ষে কনক্যাকাফ গোল্ড-কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কোস্টারিকার সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন মার্শাল। পরে অবশ্য টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তাঁর দল। দেশে ফেরেন ড্যানিশ ক্লাব আলবোর্গ বিকের ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। এই বাড়ি ফেরাই যেন কাল হলো তাঁর। পরশু সড়ক দুর্ঘটনায় চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। পাহাড়ি মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন মার্শাল। উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কাতেই নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ।
মার্শাল আর কখনো হাসি-হাসি মুখ নিয়ে কথা বলবেন না, এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তাঁর এজেন্ট হোর্হে উল্লোয়া, ‘এটা অবিশ্বাস্য, আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না...। আসলে আপনি জানেন না আগামীকাল কী ঘটতে যাচ্ছে। এটাই জীবন!’
ডিফেন্ডার ছিলেন, প্রতিপক্ষের খেলার গতি নষ্ট করা ছিল কাজ। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে এর ঠিক উল্টোই ছিলেন মার্শাল। দলের সবাই প্রাণবন্ত হয়ে উঠত তাঁর হাসিঠাট্টার ছোঁয়ায়। কোস্টারিকার আর্জেন্টাইন কোচ রিকার্ডো লা ভলপের এটাই মনে পড়ছে বেশি করে, ‘আলোকিত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছিল তরুণ মার্শালের জন্য। সহজ-সরল স্বভাবের জন্য দলের সবাই ওকে খুব ভালোবাসত। আমরা সবাই খুব মর্মামত।

গ্যাস চুক্তি দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে না by কল্লোল মোস্তফা

গত ২২ জুন প্রথম আলোয় অধ্যাপক ম. তামিম ‘গ্যাস উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির সহজ পাঠ’ শীর্ষক লেখায় উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির অধীনে গ্যাসের মালিকানা ও রপ্তানির বিধান বিষয়ে যে মতামত রেখেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কিছু কথা বলা জরুরি মনে করছি।
গ্যাসের মালিকানার তর্ক: বছর-বছর ৫৫ শতাংশ হারে গ্যাস কোম্পানি কস্ট রিকভারি হিসেবে নিতে থাকলে কয়েক বছর পরই কোম্পানির বিনিয়োগের বা খরচের পুরোটা উঠে আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ম. তামিম। তাঁর আশাবাদ অনুসারে কয়েক বছর পর এভাবে পুরো কস্ট রিকভারি হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ গ্যাসই হয়ে যাবে প্রোফিট গ্যাস বা লাভের গ্যাস, যার ৫৫ থেকে ৮০ শতাংশ মালিকানা পেট্রোবাংলার থাকায় সামষ্টিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে ৫০ শতাংশের বেশি।
প্রথম কথা, কস্ট রিকভারির পর প্রোফিট গ্যাসের ৫৫ থেকে ৮০ শতাংশ মালিকানা পেট্রোবাংলার হলেও সম্পূর্ণ গ্যাসের কত ভাগ মালিকানা পেট্রোবাংলা পেল, তা হিসাব করতে গেলে কস্ট রিকভারি পর্যায়ে কত পরিমাণ গ্যাস পেট্রোবাংলা পেল, সে হিসাবও করতে হবে। কস্ট রিকভারি পর্যায়ে ৫৫ শতাংশ গ্যাস কস্ট রিকভারি গ্যাস হিসেবে কোম্পানির ভাগে গেলে এবং বাকি ৪৫ শতাংশ গ্যাস সমান অনুপাতে ভাগাভাগি হলে কস্ট রিকভারি পর্যায়ে কোম্পানির ভাগে পড়বে ৫৫+২২.৫ = ৭৭.৫ শতাংশ গ্যাস এবং পেট্রোবাংলার ভাগে পড়বে ২২.৫ শতাংশ গ্যাস। কাজেই কস্ট রিকভারি পর্যায়ের পর প্রোফিট গ্যাস পর্যায়ে ৮০ শতাংশ গ্যাস পেট্রোবাংলা পাওয়ার মানে এই নয় যে পেট্রোবাংলা মোট গ্যাসের ৮০ শতাংশ পেল। ম. তামিম উল্লিখিত বিবিয়ানার কস্ট রিকভারি পর্যায় পার হওয়ার পর উত্তোলিত গ্যাসের ৫০ শতাংশ গ্যাস পেট্রোবাংলা পাওয়ার মানে তাই পুরো গ্যাসের ৫০ শতাংশ পাওয়া নয়।
দ্বিতীয় কথা হলো, বাস্তবে বিদেশি কোম্পানিগুলো নানাভাবে বাড়তি খরচ দেখিয়ে কস্ট রিকভারি পর্যায় দীর্ঘায়িত করে। ফলে বাংলাদেশের ভাগে কার্যত মোট উত্তোলিত গ্যাসের ২০-৩০ শতাংশের বেশি জুটবে না। বাংলাদেশের স্থলভাগে এবং অগভীর সমুদ্রে এভাবে বাড়তি খরচ দেখিয়ে কস্ট রিকভারি পর্যায় দীর্ঘায়িত করার বিভিন্ন নজির আছে:
মাগুরছড়ায় অক্সিডেন্টাল ১৯৯৫ সালে সিসমিক সার্ভে এবং তিনটি কূপ খননের জন্য প্রথমে এক কোটি ৮৮ লাখ ডলারের হিসাব দিলেও ১৯৯৭ সাল নাগাদ চারবার সংশোধনের মাধ্যমে তা চার কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পরিণত হয়। এবং এই খরচের হিসাব কূপ খননের খরচের হিসাব ছাড়াই।
অগভীর সমুদ্রের সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে কেয়ার্নের কস্ট রিকভারির হিসাবটা দেখা যাক। বিডিংয়ের সময় ১০.৮১ মিলিয়ন ডলার প্রকল্প ব্যয় দেখানো হলেও একের পর এক সংশোধনী বাজেট দিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়ায় ৬৬০ মিলিয়ন ডলার। ফলে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাংলাদেশ মাত্র ২০ শতাংশ গ্যাস পায়। পেট্রোবাংলার এপ্রিল মাসের এমআইএস রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, এ বছরের এপ্রিলে মোট ১৩.৮৩৪ এমএমসিএম গ্যাসের মধ্যে কেয়ার্নের ভাগে পড়ে ১১.০৭৫ এমএমসিএম গ্যাস অর্থাৎ বাংলাদেশের ভাগে পড়ে মাত্র ২.৭৫৯ এমএমসিএম, যা মোট গ্যাসের মাত্র ১৯.৯৪ শতাংশ।
একই রিপোর্ট অনুসারে টাল্লোর বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রটিতে এপ্রিল মাসে মোট উৎপাদন হয় ৮৩.৪৮৪ এমএমসিএম, যার মধ্যে টাল্লোর কস্ট রিকভারি ও প্রোফিট গ্যাসের ভাগ ছিল ৫৫.৪৭৭ এমএমসিএম। সুতরাং পেট্রোবাংলার প্রোফিট গ্যাস হলো ২৮.০০৭ এমএমসিএম, যা মোট গ্যাসের মাত্র ৩৩.৫৪ শতাংশ।
গভীর সমুদ্রের বিশাল খরচের কথা বলে নানাভাবে যে কেয়ার্নের সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রের মতো কস্ট রিকভারি পর্যায় দীর্ঘায়িত করে বেশির ভাগ গ্যাসই কনোকোফিলিপস নিয়ে নেবে না, তার নিশ্চয়তা কী?
তৃতীয়ত, যে মডেল পিএসসি ২০০৮ অনুসারে কনোকোফিলিপসের সঙ্গে সাম্প্রতিক পিএসসি চুক্তি হয়েছে, তার আর্টিক্যাল ১৫.৫.৪-এ বলা আছে, প্রথম ১০ বছর বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই সর্বমোট বিপণনযোগ্য গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি দাবি করতে পারবে না, ১১তম বছরের মাথায় কোম্পানি রাজি হলে পেট্রোবাংলা ৩০ শতাংশ দাবি করতে পারবে। চুক্তির আর্টিক্যাল ১৫.৫.২ অনুসারে, গ্যাসকূপের দৈনন্দিন অপারেশনাল কাজে ব্যবহারের গ্যাস বাদ দিয়ে সব গ্যাসই বিপণনযোগ্য গ্যাস। এখন চুক্তির আর্টিক্যাল ১৫.৪ অনুযায়ী কোম্পানি যদি বছরে মোট গ্যাসের ৭.৫ শতাংশ হারে (পেট্রোবাংলা অনুমতি দিলে এর চেয়েও বেশি পরিমাণে গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে) গ্যাস উত্তোলন করতে থাকে তাহলে ১৩.৩৩ বছরের মাথাতেই সব গ্যাস উত্তোলিত হয়ে যাবে। ফলে কস্ট রিকভারি আর প্রোফিট গ্যাসের ভাগাভাগি অনুসারে পেট্রোবাংলার ভাগে যতটুকু গ্যাসই পড়ুক না কেন, কার্যত আর্টিক্যাল ১৫.৫.৪ অনুযায়ী পেট্রোবাংলা ২০ শতাংশের বেশি গ্যাস পাবে না।
রপ্তানির বিধান ও রপ্তানির সম্ভাবনা: ম. তামিমকে ধন্যবাদ তিনি রপ্তানির প্রশ্নে বেশ খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছেন: ‘বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে যদি বিপুল গ্যাস পাওয়ার ১ শতাংশ সম্ভাবনাও থাকে, সে ক্ষেত্রে কোম্পানি তার বিনিয়োগকৃত মূলধন দ্রুততম সময়ে তুলে আনতে চাইবে।...রপ্তানির সুদূরপ্রসারী একটি সুযোগ অথবা নিশ্চিত গ্যাস কেনার প্রতিশ্রুতি তাই যেকোনো আন্তর্জাতিক গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তির অংশ।’ চুক্তিবিরোধীদের আপত্তিটা ঠিক এখানেই, রপ্তানির এই ‘সুদূরপ্রসারী’ সুযোগ কাজে লাগিয়ে, কোম্পানি তার বিনিয়োগকৃত মূলধন দ্রুততম সময়ে তুলে আনার জন্য, গ্যাস এমন বেশি পরিমাণে উত্তোলন করতে শুরু করবে যে পেট্রোবাংলা বাধ্য হবে তাকে ‘বাড়তি’ গ্যাস রপ্তানির অনুমতি দিতে। বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করা যাক। কনোকোফিলিপসকে দেওয়া ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকের কাছে মিয়ানমার ৭ টিসিএফ এবং ভারত ১৪ টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কার করেছে। এখন বাংলাদেশের অংশেও যদি একইভাবে ৭ টিসিএফের মতো গ্যাস আবিষ্কৃত হয় তাহলে আর্টিক্যাল ১৫.৪ অনুযায়ী কোম্পানি ৭.৫ শতাংশ হারে (যদিও পিএসসিতে গভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি হারে গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে) গ্যাস তুলতে পারবে বছরে ০.৫২৫ টিসিএফ বা ৫২৫ বিসিএফ। তাহলে দৈনিক উত্তোলন করতে পারবে ৫২৫/৩৬৫ = ১.৪৩৮ বিসিএফ।
আবার বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের ঘাটতি ৫০০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট (এমএমসিএফ)। বছরে ৭ শতাংশ চাহিদা বৃদ্ধি ধরলে পাঁচ বছর পর যদি গ্যাস আবিষ্কৃত ও উত্তোলিত হয়, তখন গ্যাসের চাহিদা হবে দৈনিক ৭৫০ এমএমসিএফ বা ০.৭৫ বিসিএফ।
এখন কনোকোফিলিপস যদি সাত টিসিএফের গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১.৪৩৮ বিসিএফ গ্যাস তুলতে শুরু করে তখন বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবে ০.৭৫ বিসিএফ, যার পরও দৈনিক অতিরিক্ত থাকবে ১.৪৩৮-০.৭৫ = ০.৬৮৮ বিসিএফ বা ৬৮৮ এমএমসিএফ গ্যাস, যা ব্যবহার করে এলএনজি প্ল্যান্ট বসিয়ে বার্ষিক ৫.৩৭৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমটিপিএ) এলএনজি উৎপাদন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ খাতে যখন এই ‘বাড়তি’ গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে না তখন কী হবে? চুক্তি অনুসারে পেট্রোবাংলা তখন এই গ্যাস এলএনজি আকারে রপ্তানির অনুমতি দিতে বাধ্য হবে।
কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী।

সব ধরনের মাদককে ‘না’ বলুন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

যারা নেশা করে, তাদের অধিকাংশই জানে যে নেশা কোনো রকম উপকারী বা ভালো কাজ নয় এবং নেশা মানুষের জীবনীশক্তি বিনষ্ট করে—এসব কিছু জেনেশুনেও মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা নেশার অন্ধকার জগতের মধ্যে থাকতে চায়। কিন্তু প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মুসলমান লোকেরা তো সর্বনাশা মাদকদ্রব্যের নেশায় মেতে উঠতে পারে না। কোনো মাদকাসক্ত বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ঈমানদার হতে পারে না। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে ‘মাদক ও ঈমান একত্র হতে পারে না।’ (নাসাঈ)
আধুনিক বিশ্বের সামাজিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার ন্যায় মানবজীবনের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী দেশের অন্যতম অভিশাপ মাদকাসক্তি। শহর, বন্দর ও নগরের প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলেও যার অবাধ বিচরণ। ড্রাগ বা মাদকদ্রব্যের নেশা এমনই মারাত্মক বদ নেশা যে তা শুধু আসক্তকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশ থেকেই বিচ্ছিন্ন করে না, তার জীবনকেও বিপদাপন্ন করে তোলে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘আর তোমরা নিজের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৯৫)
ইসলাম মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ব্যবহারিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও পরিপূর্ণ গ্রহণযোগ্য সমাধান দিয়েছে। যেহেতু মাদকাসক্তি ও নেশাজাতীয় দ্রব্য মানবসমাজের জন্য মারাত্মক সর্বনাশ ও ধ্বংস ডেকে আনে, তাই ইসলামি শরিয়ত মাদকতাকে চিরতরে হারাম ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওহে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর হচ্ছে ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কারসাজি। সুতরাং তোমরা এসব বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সূরা-আল মায়িদা, আয়াত-৯০)
মাদক হলো এমন এক প্রকার অবৈধ ও বর্জনীয় বস্তু, যা গ্রহণ বা সেবন করলে আসক্ত ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটতে পারে। নেশা ও মাদকাসক্তির ভয়াবহতা থেকে মানবসমাজকে মুক্ত রাখার জন্য ইসলামের কঠোর মূলনীতি জারি করে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘নেশাজাতীয় যেকোনো দ্রব্যই মাদক, আর যাবতীয় মাদকই হারাম।’ (মুসলিম) অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘যেসব পানীয়তে নেশা সৃষ্টি হয়, তা সবই হারাম।’ (বুখারি ও মুসলিম) মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সবকিছুই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি পবিত্র আমানতস্বরূপ। এ আমানতকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঠেলে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার মানুষের নেই। মাদকাসক্তিতে মানুষের কোনো না কোনো ক্ষয়ক্ষতি তো হবেই এবং ধীরে ধীরে তা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকে, হূদস্পন্দন ও নাড়ির গতি বৃদ্ধি পায়, চোখ রক্তবর্ণ হয় এবং মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। এতে হজমশক্তি বিনষ্ট হয়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়। মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধতে থাকে, স্থায়ী কফ, কাশি ও যক্ষ্মা রোগের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নেশাগ্রস্ত যুবক-যুবতীদের উল্লেখযোগ্য অংশ সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করার কারণে মরণব্যাধি এইডসের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কঠোর ভীতি প্রদর্শন করে নবী করিম (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল।’ (মুসলিম)
মাদকদ্রব্য অপব্যবহারের কারণে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি তার রোগের জন্য ওষুধের গুণাগুণ পাওয়ার বদলে বিষাক্ত হয়ে যায়। তাই অনেক সময় বিষ স্বল্পমাত্রায় প্রয়োগ করলে হয় ওষুধ, কিন্তু বেশি মাত্রা বা অযথা গ্রহণ করলে হয় বিষাক্ত, যা মানবদেহকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ করে ফেলে, আকস্মিক মৃত্যু ডেকে আনে। উপরন্তু মাদকাসক্তি মানুষকে ব্যবহারিক জীবনে ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ তথা কালেমা, নামাজ, রোজা, জাকাত, হজসহ আল্লাহ তাআলার বিধিবদ্ধ দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত থেকে দূরে রাখে এবং পাপাচারে লিপ্ত করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মদ ও জুয়ার দ্বারা তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়, তবুও কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত-৯১)
যেহেতু মাদকাসক্তি একটি জঘন্য সামাজিক ব্যাধি, তাই জনগণের সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও সক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর প্রতিকার করা সম্ভব। যার যার ঘরে পিতা-মাতা, অভিভাবক থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাড়া-মহল্লা বা এলাকায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ঘৃণা প্রকাশের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকদ্রব্যের কুফল ও মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে নিয়মিত সভা-সমিতি, সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ধর্মীয় বিধি-বিধান সম্পর্কিত শিক্ষামূলক ক্লাস নিতে হবে। মাদকদ্রব্য উৎপাদন, চোরাচালান, ব্যবহার, বিক্রয় প্রভৃতি বিষয়ে প্রচলিত আইনসমূহের বাস্তব প্রয়োগ ও কঠোর বিধান কার্যকর নিশ্চিত করতে হবে। সমাজজীবনে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে যারা মাদকদ্রব্য প্রস্তুত, এর প্রচলন ও সরবরাহকাজে জড়িত, তাদের দেশ ও জাতির স্বার্থে এহেন অনৈতিক কাজ অবশ্যই বর্জন করা উচিত।
মাদকাসক্তি থেকে বিরত থাকার জন্য নিজস্ব উদ্যোগই সবচেয়ে ভালো। নিজ থেকে নেশা ছাড়া সম্ভব না হলে তাদের ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র প্রদত্ত সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে। মাদকাসক্তি ত্যাগে আসক্ত ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের তিন লাখ মসজিদের ইমাম বা ধর্মীয় নেতাদেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করা বাঞ্ছনীয়। আসুন, আমরা যুবসমাজকে মাদকের কালো থাবা থেকে রক্ষার জন্য ইসলামের বিধি-বিধান অনুসরণ করে প্রথম আলোর মাদকবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সব ধরনের মাদককে ‘না’ বলি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

পাকিস্তানে আরও ৪ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সে দেশে আরও চারজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গত বুধবার সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতহার আব্বাস এ কথা জানিয়েছেন।
আব্বাস বলেছেন, ‘নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে চার মেজরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে এ সন্দেহভাজন সেনা কর্মকর্তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।’ সেনা মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে আরেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আলী খানকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত মাসে আটক করা হয়।
অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল সন্দেহভাজন কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করা নিয়ে ইসলামাবাদের ওপর মার্কিন চাপ বাড়তে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যও তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে

আফগানিস্তানের শান্তি-প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যও শরিক হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ গতকাল বৃহস্পতিবার কাবুল সফরকালে বিবিসি রেডিওকে এ তথ্য জানান। হেগ বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাঁরা তাঁদের সব সেনা প্রত্যাহার করবেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করে, আফগানিস্তানে এক দশক ধরে চলা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে তারা তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। উইলিয়াম হেগ বলেন, ‘এ কথা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বলার সময় এসেছে যে তালেবানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাজ্যও আফগানিস্তানের শান্তি-প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, সহায়ক ভূমিকা রাখছে।’ তবে এ ব্যাপারে এর বেশি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান হেগ।
গত শনিবার আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, দেশটির চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস বলেন, এক দশক ধরে চলা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা সে দেশের তালেবানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীতে যুক্তরাজ্যের অন্তত সাড়ে নয় হাজার সেনা রয়েছে।

বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডে লাদেন জড়িত ছিলেন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন জড়িত ছিলেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক এ দাবি করেছেন। গত বুধবার পার্লামেন্টে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রেহমান মালিক বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। তাই এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।
রেহমান মালিক বলেন, ‘বেনজির ভুট্টো হত্যার পরিকল্পনা ও পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যরা দম্ভভরে নিজেদের জড়িত থাকার ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতারা অনুমতি দিলে আমি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করব। কোথায় বসে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং গুপ্তঘাতকেরা কীভাবে রাওয়ালপিন্ডি আসে, সব তথ্য জানাব।’
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে যে আদালতে শুনানি চলছিল, ওই আদালতের বিচারককে সম্প্রতি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার ছিল না। বিচারকদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশের বিচার বিভাগ নিয়েছিল।

তুরস্ক সীমান্তবর্তী গ্রামে ঢুকে পড়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী

সিরিয়ার সেনাবাহিনী গতকাল বৃহস্পতিবার ট্যাংকসহ তুরস্ক সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামে প্রাণের ভয়ে অন্যান্য অঞ্চল থেকে পালিয়ে এসে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার পর সিরিয়ার শত শত শরণার্থী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তুরস্কে ঢুকে পড়ে। তুরস্কের আধাসামরিক পুলিশ বাহিনী তাদের গাড়ি ও মিনিবাসে করে শরণার্থী শিবিরে নিয়ে যায়।
একজন মানবাধিকারকর্মী টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তুরস্ক সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় খিরবেত আল-জজ গ্রামে গতকাল ভোরের দিকে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশ করে। তুরস্কের সীমান্তবর্তী গ্রাম গুভেসির এক বাসিন্দা জানান, তিনি ভোর ছয়টার দিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সিরীয় অংশের একটি পাহাড় অতিক্রম করতে দেখেছেন। পাহাড়টি তুরস্কের সীমান্ত এলাকা থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সিরিয়ার ওই পাহাড়ে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে গুভেসি গ্রামের বাসিন্দারা।
তুরস্ক এর আগে প্রায় ১০ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এ ছাড়া সিরীয় অংশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের মানবিক সাহায্য প্রদান করছে আঙ্কারা।

জারদারিকে ওবামার ফোন, সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে মতৈক্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুই দেশের মধ্যকার চির ধরা সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে একমত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে ওবামা ও জারদারি ফোনালাপে এ ব্যাপারে একমত হন। পাকিস্তানে মার্কিন অভিযানে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
পাকিস্তানে সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাতে ওবামা করাচিতে জারদারিকে টেলিফোন করেন। আলাপচারিতায় দুই নেতা দেশ দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথাবার্তা বলেন। দুই পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জঙ্গিবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই নেতাই এ ক্ষেত্রে নিয়মিত মতবিনিময় ও যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হন।
চলতি বছর কয়েকটি ঘটনায় ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্কে চির ধরে। গত ২৭ জানুয়ারি সিআইএর ঠিকাদার রেমন্ড ডেভিসের গুলিতে দুজন পাকিস্তানি ও ২ মে মার্কিন অভিযানে লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন ডাচ এমপি

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ থেকে নেদারল্যান্ডের কট্টর ডানপন্থি নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য গিয়ার্ট ভিল্ডার্সকে অব্যাহতি দিয়েছেন আমস্টারডামের একটি আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।
গিয়ার্ট ভিল্ডার্স বিভিন্ন সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসলাম ধর্মকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া ‘ফিতনা’ শিরোনামে নিজের বানানো ছবিতেও তিনি ইসলামবিরোধী মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ভিল্ডার্সের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনে ভিল্ডার্স দাবি করেন, তিনি ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, মুসলিমদের সম্পর্কে নয়। তাঁর দাবি, ডাচ আইন অনুযায়ী যেকোনো মতাদর্শের সমালোচনা করার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে।
বিচারক মার্শেল ভ্যান ওস্টেন গতকাল রায় ঘোষণার সময় বলেন, ভিল্ডার্স যেসব মন্তব্য করেছেন, তা প্রকাশ্য যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। ফলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
তবে বাদীপক্ষ বলেছে, তাঁরা মানবাধিকারবিষয়ক ইউরোপীয় আদালতে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ওবামার

আফগানিস্তান থেকে পর্যায়ক্রমে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে অতিরিক্ত ৩৩ হাজার সেনা দেশটি থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ১০ হাজার মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেওয়া হবে এ বছরই। এর মাধ্যমে শুরু হবে আফগান যুদ্ধের সমাপ্তি। গত বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ১৪ মিনিটের ভাষণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এসব ঘোষণা দেন।
প্রায় ১০ বছরের টানা যুদ্ধে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এখন এক লাখেরও কিছু বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে আফগান অভিযানে নামে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানের তালেবান সরকার উৎখাত করে। ঘটনার জন্য দায়ী বলে পরিচিত জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার মূল আশ্রয়স্থল ছিল আফগানিস্তান। ওসামা বিন লাদেনসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা তালেবান সরকারের প্রশ্রয়ে থেকেই বিশ্বব্যাপী জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন।
মার্কিন বাহিনীর টানা সেনা অভিযানে সংগঠনটির সদস্যরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আল-কায়েদার জঙ্গিরা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়। গত মাসে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।
আফগান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ বলে মনে করা হয়। মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি, অঙ্গহানি ও সামরিক ব্যয়ের কারণে আফগান যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমত প্রবল হয়ে ওঠে।
আফগান যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি টানার অঙ্গীকার করে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর আগে ইরাক যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী বছরের মধ্যে ৩০ হাজার মার্কিন সেনা দেশে ফিরলেও ৭০ হাজারের বেশি সেনা থেকে যাবে আফগানিস্তানে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানে মার্কিন সেনারা আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সরকারকাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে। ইরাকের মতো সেখানকার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে বলে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না।
ওবামা বলেন, এখন দেশের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, চরম বেকারত্ব, শিল্প-বাণিজ্যে অচলাবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন উদ্বেগ বিরাজ করছে। ২০১২ সালে পুনর্নির্বাচনে জয়ী হতে ওবামা এখন পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এদিকে ন্যাটোর সদস্য ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই সময়ে আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সমানুপাতে তারাও একই সময়সীমার মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
তালেবানের প্রতিক্রিয়া: আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ওবামার ঘোষণাকে ‘প্রতীকী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে তালেবান। গতকাল সংবাদমাধ্যমে ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র তারিক গজনিওয়াল বলেন, আফগানিস্তান থেকে এ বছর ১০ হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মার্কিন জনগণকে এভাবে কখনো সন্তুষ্ট করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা করে তারিক গজনিওয়াল আরও বলেন, তারা যুদ্ধ শেষ করার কথা বলে বারবার দেশের মানুষকে ধোঁকা দেয় এবং ভিত্তিহীন বিজয়ের দাবি করে।

রান্নায় ব্যবহূত তেলে চলবে বিমান

ডাচ বিমান সংস্থা কেএলএম ঘোষণা করেছে, রান্নায় ব্যবহূত তেল থেকে উৎপন্ন জৈবজ্বালানি ব্যবহার করে তারা ২০০টির বেশি ফ্লাইট চালাবে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে প্যারিস ও আমস্টারডামের মধ্যে ফ্লাইটগুলো চলবে।
কেএলএমের মুখপাত্র গেডি শ্রাইভার বুধবার এ কথা জানিয়ে বলেছেন, বিমানগুলো ৫০ ভাগ সাধারণ কেরোসিন ও বাকি ৫০ ভাগ রান্নায় ব্যবহূত তেল থেকে উৎপাদন করা জৈবজ্বালানি ব্যবহার করবে। তিনি বলেন, বিমান চালনায় এ ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের ঘটনা এটাই প্রথম।
বিমান সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন ধরনের এই জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বিমানের অবকাঠামোগত বা যান্ত্রিক কোনো পরিবর্তন আনতে হবে না।
মার্কিন কোম্পানি ডায়নামিক ফুয়েলস নতুন এই জৈবজ্বালানি উৎপাদন করেছে। এর কাঁচামাল মূলত রেস্তোরাঁয় ব্যবহূত রান্নার তেল। কেএলএম বিবৃতিতে আরও বলেছে, শতভাগ নতুন জৈবজ্বালানি ব্যবহারের আগে এ জ্বালানির উৎপাদন-খরচ উল্লেখযোগ্য হারে ও স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনতে হবে। তবে সংস্থাটি বলেছে, টেকসই বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে ২০০টি ফ্লাইটে মিশ্র জ্বালানি ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

গ্রিন ব্যাংকিং বিষয়ে বিআইবিএমে প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপ্ত

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘গ্রিন ব্যাংকিং’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্প্রতি শেষ হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন কর্মকর্তা এ কোর্সে অংশ নেন।
বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। বিআইবিএমের প্রভাষক তাহমিনা রহমান ও মো. শহীদ উল্লাহ যৌথভাবে কোর্স সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

পঞ্চগড়ে তিন দিনের স্পট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম শেষ

পঞ্চগড়ে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রদান ও স্পট অ্যাসেসমেন্ট কর্মসূচি শেষ হয়েছে।
রংপুর কর অঞ্চলের কমিশনার মো. বেলাল উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে সম্প্রতি পঞ্চগড় শহরে তিন দিনের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কমিশনার মো. আতাউল হক। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ইকবাল কায়সার, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. শরীফ হোসেন, সহসভাপতি আবদুল হান্নান শেখ এবং পঞ্চগড় সার্কেলের উপকর কমিশনার মো. ফরহাদুজ্জামান।
বেলাল উদ্দিন বলেন, নতুন করদাতাদের দ্রুত সেবা প্রদান, করভীতি কমিয়ে জনগণকে কর প্রদানে আগ্রহী করতে স্পট অ্যাসেসমেন্ট কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

উৎসে আয়কর কমানোর দাবি করেছে বিজিএমইএ

বর্ধিত হারের উৎসে আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা। প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে দেড় শতাংশ হারে উৎসে কর প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ আয়োজিত বাজেটসংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় নেতারা এ দাবি জানান। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, আবদুস সালাম মুর্শেদী, এস এম ফজলুল হক, সাংসদ টিপু মুন্সী, সাংসদ ফজলুল আজিম প্রমুখ।
বিজিএমইএর নেতারা মত দেন, ১ দশমিক ৩ শতাংশ হারে লাভ করে এর চেয়ে বেশি দেড় শতাংশ হারে উৎসে আয়কর দেওয়ার প্রস্তাব কোনোভাবেই যুক্তিসংগত হতে পারে না।
বিজিএমইএর সাধারণ সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পোশাক খাতের ওপর প্রস্তাবিত করের বোঝা চাপানো হলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে কারখানা বন্ধ করে চাবি বিজিএমইএর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেবেন। আবার কেউ কেউ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সরকার বিদেশি ইন্ধনে পোশাক খাত ধ্বংসের অপচেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে আয়কর ১ দশমিক ৫০ শতাংশ ধার্য করায় প্রকৃতপক্ষে শতাংশের হিসাবে ২৭৫ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করবে। বিগত সময়ে কাঁচামাল সংগ্রহের খরচ বেড়েছে প্রায় ৭৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, ব্যাংকঋণের মাশুলও বেড়েছে এবং সুদের হার বেড়েছে ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ। এ অবস্থায় নতুন করে বর্ধিত হারে উৎসে আয়কর দিলে এই শিল্পের ঝুঁকি বাড়বে।
সফিউল ইসলাম জানান, পোশাক খাতের এসব সমস্যা বিবেচনা করে বিকল্প সহায়তার হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণসহ তা ২০১৫ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা, পণ্যের বহুমুখীকরণ উৎসাহিত ও তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পলিয়েস্টার, ভিসকস স্ট্যাপল ফাইবার, অ্যাক্রিলিক টো এবং টপস, পেট-চিপস এবং চিপসের শুল্কসহ আনুষঙ্গিক কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সভায় সরকার ঘোষিত বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ছাড়, নতুন বাজারে রপ্তানি প্রণোদনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ ছাড়, বাড়িভাড়ার ওপর আরোপিত ৯ শতাংশ হারে মূসক প্রত্যাহার, ফার্নেস অয়েলের মূল্য লিটারপ্রতি ২২ টাকা নির্ধারণ, বস্ত্র খাতকে কর অবকাশসুবিধার আওতাভুক্ত করাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে ১৭০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এডিবি

উপ-আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭০ কোটি টাকার একটি ঋণচুক্তি হয়েছে।
ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পর্ষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক পরিচালক থেভা কুমার কান্দিয়াহ্ এই চুক্তিতে সই করেন। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এই অর্থ দিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১৪টি সড়ক এবং রেলের আটটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো মূলত সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নসংক্রান্ত প্রকল্প বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান এবং চীনের কুনমিং পর্যন্ত সড়ক ও রেল যোগাযোগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কাজ শুরু করেছে। এডিবির এই ঋণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নসহ প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
এডিবির এই ঋণ ৩২ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে আট বছর গ্রেস পিরিয়ড। এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে গ্রেস পিরিয়ডে শতকরা এক শতাংশ ও পরবর্তী সময়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

সপ্তাহের শেষ দিনে সূচক ও লেনদেন বাড়ল

সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক বেড়েছে। এর পাশাপাশি দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনও বেড়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৮৪৭ দশমিক ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে গতকাল ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১৫৭টির, কমেছে ৭৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জে ৬১৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৭২ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল: লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ইউসিবিএল, এমআই সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ফার্স্ট লিজ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বেক্সিমকো ও পূবালী ব্যাংক।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১২৬ পয়েন্ট বেড়ে গতকাল ১৬ হাজার ২০৯ দশমিক ১০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ৫০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে আট কোটি টাকা বেশি।
বিনিয়োগকারীদের সংবাদ সম্মেলন: শেয়ারবাজারের বর্তমান বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণ ও বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবিতে বাংলাদেশ শেয়ার ইনভেস্টর ওয়েলফেয়ার ক্লাব এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস ফোরাম নামে দুটি সংগঠন গতকাল পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অপ্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বাজারে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত সব ধরনের সুদ মওকুফ ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব মো. রুহুল আমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মো. সালেহ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দেওয়ান, খন্দকার জিল্লুর রহমান, নূরুল করিম, মহিউদ্দিন মিন্টু, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
আর দুপুরে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ শেয়ার ইনভেস্টর ওয়েলফেয়ার ক্লাব আরেকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি আহম্মেদ উল্লাহ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু হান্নান লাভলু, সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ জুয়েল, উপদেষ্টা শেখ সেলিম, আতাই গাজী মাহবুব, হারুনুর রশিদ আজম, মহিউদ্দিন আহমেদ, খান মাসুদ মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এই সংগঠনটিও বাজারে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান, ব্যাংকের সিআরআর ও এসএলআর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজার পতনের সময় শেয়ার বিক্রি করতে না দেওয়া, বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ফোর্স সেল বন্ধ করা ইত্যাদি দাবি করে। বাজারে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যর্থ হলে আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুমকি দেন সংগঠনটির নেতারা।

বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য তবে উচ্চাভিলাষী

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য, তবে উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে অভিহিত করেছে অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি আগামী অর্থবছর উচ্চহারে মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য-সংকট এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিপণ্যের দাম বাড়ার চাপ অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক এই মতামত দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান সঞ্জয় কাঠুরিয়া, জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই দাম কমার সম্ভাবনা কম। আমদানিপণ্যের দামও চড়া থাকবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, কয়েক মাস ধরে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে রয়েছে। এতে দরিদ্র মানুষের ওপর বেশি প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
আগামী বাজেটকে ‘সম্প্রসারণমূলক’ বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, জিডিপিতে প্রস্তাবিত বাজেট ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা বেড়ে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছর ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে প্রস্তাবিত বাজেট ২৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আবার বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে পাঁচ শতাংশ।
সম্প্রসারণমূলক বাজেটকে টেকসই করতে টাকা কখন, কোথায় ও কীভাবে খরচ হচ্ছে, সেটার ওপর জোর দিতে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাকে ‘উচ্চাভিলাষী’ হিসেবে অভিহিত করেছে বিশ্বব্যাংক। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, চলতি অর্থবছর এত ভালো প্রবৃদ্ধির পরের বছর একই হারে অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক। বলছে, অতীতে রাজস্ব আদায়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পরের বছর আর সেই তুলনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি।
উল্লেখ্য, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর প্রশাসন শক্তিশালীকরণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া কর অবকাশসুবিধা অব্যাহত রাখা, সিমকার্ডে করহার কমানো, করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি, সঞ্চয়পত্রের উৎসে করহার কমানোর কারণে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিকে (এডিপি) উচ্চাভিলাষী ও বিশাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্বব্যাংক। বলছে, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে চলমান প্রকল্প অনেক বেশি। সমাপ্ত প্রকল্প ও নতুন প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য কম। যে পরিমাণ প্রকল্প শেষ হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এতে করে এডিপিতে অর্থ বরাদ্দ সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংক অবশ্য আগামী বাজেটকে বেশ দরিদ্রবান্ধব উল্লেখ করে বলেছে, দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বলেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির ৯ দশমিক ২ শতাংশই বা নয় হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভর্তুকি হিসেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ও স্থানীয় বাজারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম কী নির্ধারণ করা হয় অর্থাৎ বাজারমূল্য কত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান।
বিশ্বব্যাংক আরও অভিমত দেয়, শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সব মানুষ এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ভর্তুকি পায়। এই ভর্তুকি আরও বেশি লক্ষ্যনির্ভর হওয়া উচিত। অর্থাৎ ভর্তুকির সুবিধাভোগী আরও সীমিত করা উচিত। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সিএনজি ও ইউরিয়া সারের দাম আবারও সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনযোগ্য নয় তা বলছি না। তবে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, ব্যবসায় বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কৃষিতে আবার বাম্পার ফলনের ওপর করছে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন।’
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, রাজনীতি সমঝোতাপূর্ণ হলে এবং আগামী অর্থবছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলে সরকারের ওপর টাকা ধার করার চাপ সৃষ্টি হবে। অথচ ব্যাংকিং খাতে এখন তারল্য-সংকট রয়েছে। তাই অভ্যন্তরীণ খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ কমিয়ে বিদেশি সহায়তা বেশি ব্যবহারের দিকে নজর দিতে।
শেয়ারবাজার সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির তুলনায় শেয়ারবাজারের আকার ছোট। তবে ব্যাংকের বিপুল বিনিয়োগ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

ম্যারাডোনা ও কথা বলেননি!

এমনিতে ম্যারাডোনা কিছু বললেই সেটা খবর। তার ওপর যদি সেটি হয় পেলেকে খোঁচা দেওয়া কিছু, তাহলে তো কথাই নেই। এ সময়ের আলোচিতদের একজন নেইমারকে খোঁচা দিতে গিয়ে ম্যারাডোনা পেলেকেও টেনে এনেছেন—এমন খবরই পুরো বিশ্বে ছাপা হয়েছে আগের দিন, নেইমারকে অভদ্র বলেছেন ম্যারাডোনা। কিন্তু ম্যারাডোনার দাবি, এ ধরনের কোনো কথাই তিনি বলেননি। রীতিমতো দিব্যি দিয়ে বলছেন, ‘আমি আমার জীবনেই কখনো নেইমারকে নিয়ে কিছু বলিনি। নেইমারকে নিয়ে কিছু কেন বলব। ওকে তো আমি চিনিই না। আমি বেঞ্জামিনের (তাঁর নাতি, যাকে এখন ম্যারাডোনা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন) নামে শপথ করে বলছি, এ ধরনের কিছুই আমি বলিনি।’
ম্যারাডোনার এ কথা শুনে সবচেয়ে খুশি নেইমারেরই হওয়ার কথা। নিশ্চয়ই এখন সান্তোসের এই উঠতি তারকার স্বস্তি হচ্ছে। ওদিকে তাঁকে নিয়ে আবারও শুরু হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ আর সান্তোসের টানাটানি। মাত্রই সান্তোসকে ৪৮ বছর পর কোপা লিবার্তোদোরেসের শিরোপা এনে দিলেন। তাতে গোল করে বড় অবদানও রেখেছেন। ফলে নেইমারকে নিয়ে আগ্রহী ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আগ্রহ আরও বাড়বে নিশ্চয়ই। চেলসিকে ছাপিয়ে এখন রিয়ালের কথাই শোনা যাচ্ছে বেশি। সান্তোস অবশ্য নেইমারকে বিক্রি করতে রাজি নয়। ক্লাব চেয়ারম্যান লুইস আলভারো ডি অলিভিয়েরা রিবেইরো সে কথাই জোর দিয়ে বলছেন।
তবে রিয়াল এই ভেবে আশায় বুক বাঁধতে পারে, সান্তোসকে রাজি করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন খোদ পেলে। নেইমার ইউরোপে যাওয়ার আগে আরও কিছুদিন সান্তোসে খেলে যাক—পেলে নিজেই এমন কথা আগে বলেছিলেন। এখন হয়তো এই কিংবদন্তির মনে হচ্ছে, ইউরোপে যাওয়ার সময় নেইমারের চলে এসেছে। স্পেনের একটি পত্রিকাকে পেলে বলেছেন, ‘শুধু তো টাকাই সব কথা নয়, সান্তোসের ক্লাব প্রধানকেও রাজি হতে হবে। তিনি নেইমারকে ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ছাড়তে চান না। তবে আমি তাঁকে পরামর্শ দেব ওকে রিয়াল মাদ্রিদে যেন যেতে দেওয়া হয়। স্পেনই ওর জন্য ঠিক জায়গা। ওর খেলার ধরনের সঙ্গে স্পেনের ফুটবলই মানায়। আট মাস আগে ও হয়তো ইংল্যান্ডে (চেলসিতে) চলে যেত। আমি ওকে বলেছিলাম, ওর শারীরিক সক্ষমতা ইংল্যান্ডে খেলার মতো নয়।’

আন্তস্কুল বাস্কেটবল

সিটি গ্রুপ আন্তস্কুল বাস্কেটবলের ফাইনালে উঠেছে ম্যাপললিফ ও সেন্ট গ্রেগরিজ সবুজ দল। সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল মাঠে ম্যাপললিফ ৩০-২৬ পয়েন্টে গ্রিন হেরাল্ডকে এবং সেন্ট গ্রেগরিজ সবুজ দল ৪৭-৯ পয়েন্টে সেন্ট গ্রেগরিজ লাল দলকে হারিয়েছে। আজ ফাইনাল।

ইয়োভানভস্কির জায়গায় ইলিয়েভস্কি

জাতীয় ফুটবল দলের কোচের তালিকায় নতুন সংযোজন হলো আরেক মেসিডোনিয়ান। বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিতে আজই ঢাকা আসছেন নিকোলা ইলিয়েভস্কি।
কাউকে কিছু না বলে গত ২ জুন ঢাকা ছেড়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ রবার্ট রুবচিচ। বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এই ক্রোট। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচন করল মেসিডোনিয়ান কোচ জর্জি ইয়োভানভস্কিকে। কিন্তু তাঁরও বাংলাদেশে আসা হলো না ওই পাকিস্তান ইস্যুতে। ওই মেসিডোনিয়ানকে সরিয়েই আরেক মেসিডোনিয়ান ৫৬ বছর বয়সী ইলিয়েভস্কিকে ঠিক করে ফেলল বাফুফে। নতুন এই কোচ পাকিস্তানে যাবেন কি না, কে বলতে পারে? অবশ্য বাফুফে শর্ত দিয়ে থাকলে অন্য কথা। এই কোচের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে চাইলেন না দল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান বাদল রায়, ‘এটা সত্যি, মেসিডোনিয়ান কোচ ইলিয়েভস্কি আসছেন। আমরা আগে তাঁকে নিয়ে আসি। এরপরই বিস্তারিত জানাব।’
ইলিয়েভস্কির জীবনবৃত্তান্ত বেশ সমৃদ্ধই বলতে হবে। বর্তমানে আলবেনিয়ার ক্লাব বাইলিস বালশের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন ইলিয়েভস্কি। ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, মেসিডোনিয়ার স্কোপজেতে ১৯৫৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া কোচ খেলেছেন সাবেক যুগোস্লাভিয়া ফুটবল দলে। ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে খেলেছেন, মেসিডোনিয়ার জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন ২০০২-২০০৩ মৌসুমে। এই মেসিডোনিয়ানের কোচিং ক্যারিয়ারটা বেশ দীর্ঘই। ১৯৮৯ সালে মেসিডোনিয়ার ক্লাব রাবোতনিসকিতে সহকারী কোচ হিসেবে কোচিং শুরু ইলিয়েভস্কির। জাতীয় দলসহ এ পর্যন্ত ১৮টি দলের দায়িত্বে ছিলেন, ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথম বিভাগে চ্যাম্পিয়ন করেন এফকে পবেদাকে। ২০০১-০২-এ জেতেন মেসিডোনিয়ান কাপ। স্লোভানিয়ান কাপে রানার্সআপ করেছিলেন সিএম কেলজি ক্লাবকে।

দ্বিতীয় রাউন্ডেই লি নার বিদায়

মাত্র ২০ দিন আগের কথা। লাল দুর্গে চীনা পতাকা উড়িয়েছিলেন লি না। স্বপ্নকে সত্যি করে এশিয়ার প্রথম নারী হিসেবে জিতে নিয়েছিলেন কোনো গ্র্যান্ড স্লাম। ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ী লি নাকে ২০ দিনের ব্যবধানে মাটিতে নামিয়ে আনলেন জার্মানির সাবিন লিসিস্কি। কাল উইম্বলডনের দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাঁর স্বপ্ন-যাত্রা থামিয়ে দিলেন ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে খেলতে আসা ২১ বছর বয়সী তরুণী। কাল ৩-৬, ৬-৪, ৮-৬ গেমে লি নাকে হারিয়েছেন লিসিস্কি। অঘটন বলতে এই একটাই।
তবে অঘটন ঘটতে পারত আরেকটা। প্রায় এক বছর পর কোনো গ্র্যান্ড স্লামে খেলতে নেমে প্রথম রাউন্ডে একটুর জন্য হারতে হারতে ফিরে এসেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। কাল সেরেনা-ভক্তদের মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল, এবারও হয়তো সেরেনা কাঁদবেন দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ার হতাশায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রথম সেট হেরে যাওয়া সেরেনা শেষ দুটো সেট জিতে নিয়েছেন দাপটের সঙ্গেই। রোমানিয়ার সিমোনা হালেপকে ৩-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হারিয়ে উঠে গেছেন তৃতীয় রাউন্ডে। এএফপি, রয়টার্স।
মহিলা এককে তৃতীয় রাউন্ডে উঠেছেন আনা ইভানোভিচ, মারিয়া কিরিলেঙ্কো, ফ্রান্সেসকা শিয়াভোনেও। আগের দিনই তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন সেরেনার বড় বোন ভেনাসও। ক্যারিয়ারের সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম এককের পাঁচটিই ভেনাস জিতেছেন উইম্বলডনে। যদিও দ্বিতীয় রাউন্ডে দাতে ক্রুম তাঁর ঘাম ঝরিয়ে দিয়েছিলেন। সেরেনা আর ভেনাসের এই ধুঁকতে থাকার পেছনে অনেকেই আরও একবার উইলিয়ামস বোনদের আধিপত্যের শেষ দেখছেন। যদিও এটাও সত্যি, গত এক বছরে এ নিয়ে মাত্র চারটি ম্যাচ খেললেন সেরেনা। ভেনাসও গত জানুয়ারি থেকে ছিলেন কোর্টের বাইরে। এই অনুপস্থিতির ছাপ তাঁদের খেলায় তো পড়বেই।
ওদিকে রাফায়েল নাদালের পর পুরুষ এককের তৃতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন নোভাক জোকোভিচ আর অ্যান্ডি মারেও। যুক্তরাষ্ট্রের রায়ান সুইটিংকে ৬-৩, ৬-২, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন উইম্বলডনের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। জার্মানির টোবিয়াস কামকেকে ৬-৩, ৬-৩, ৭-৫ গেমে হারিয়েছেন মারে। আর কাল দক্ষিণ আফ্রিকার কেভিন অ্যান্ডারসনকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন আরেক ফেবারিট জোকোভিচ।

ল-কে নিয়েই জিম্বাবুয়ে যাবে বাংলাদেশ

বিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও এটা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’—স্টুয়ার্ট ল-ই বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ। কাল বিশ্বস্ত একটি সূত্রে এও নিশ্চিত হওয়া গেছে, আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরের আগেই বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
নতুন কোচের নাম না বললেও বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও কাল আভাস দিয়েছেন সে রকমই, ‘আশা করছি, জিম্বাবুয়ে সফরের আগেই আমরা নতুন কোচ পেয়ে যাব।’ তাঁর বিশ্বাস, আগামী সোমবারের মধ্যে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে পারবে বিসিবি।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড সফর করছেন স্টুয়ার্ট ল। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর চুক্তি শেষ হওয়ার কথা আগামী নভেম্বরে। বাংলাদেশে এখনই চলে এলে ল-কে সেই চুক্তি ভেঙে আসতে হবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে এখন সেটা নিয়েই তাঁর দেনদরবার চলছে। তবে কাল ইংল্যান্ড থেকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চলতি যুক্তরাজ্য সফরের পরই শ্রীলঙ্কা দলের পাট চুকিয়ে ফেলবেন ল, চলে আসবেন বাংলাদেশে।
সূত্র জানিয়েছে, ‘যুক্তরাজ্য সফরের পরই শ্রীলঙ্কা দল ছাড়ছেন স্টুয়ার্ট ল। আশা করা যায়, বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তিনি জিম্বাবুয়ে সফরে যাবেন।’ জানা গেছে, নভেম্বরের আগে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যদি তাঁকে না-ও ছাড়তে চায়, যুক্তরাজ্য সফরের পরপরই চাকরি ছেড়ে দেবেন ল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার তিন টেস্ট, এক টি-টোয়েন্টি ও পাঁচ ওয়ানডের সিরিজ শেষ হবে আগামী ৯ জুলাই। এরপর আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এডিনবরায় দুটি ওয়ানডে শেষে ১৩ জুলাই শেষ হবে যুক্তরাজ্য সফর। প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে বাংলাদেশ দলের জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা ১৯ জুলাই।

‘চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার পর...

কানে হেডফোন। হাতে দামি মুঠোফোন। সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেসবুকে মগ্ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের স্ট্রাইকার আবদুল বাতেন (কোমল)। ছোট ভাই আবদুল আহাদ প্রথম আলোয় ছাপা হওয়া গতকালের শিরোপা উৎসবের ছবি ফেসবুকে তুলে দিয়ে নিচে লিখেছেন, ‘আসলেই কি তোমরা চ্যাম্পিয়ন?’
প্রশ্নটা শুধু আহাদেরই নয়। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও শেখ জামালের এই শিরোপা-উৎসবের সামনে এখনো একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়ে গেছে পাতানো খেলার ‘অভিযোগে’।
ধানমন্ডিতে শেখ জামাল ক্লাবে শিরোপা জয়ের পরের দিনটিতে গিয়ে সে রকম আনন্দ-উল্লাস দেখা গেল না। তাদের বিরুদ্ধে পাতানো খেলার অভিযোগের তদন্ত চলছেই বলে কি ক্লাবটি জয় দিয়ে লিগ শেষ করার পরের দিনটিতে অপ্রত্যাশিত রকমের বিষণ্ন?
তরুণ স্টপার রেজা এই আনন্দের দিনে ম্যাচ পাতানো নিয়ে কথা বলতে চাইলেন না, ‘আমি রহমতগঞ্জের ম্যাচের দিন ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। আমি কিছুই জানি না।’ মামুনুল দাবি করলেন, ‘আমরা পাতানো খেলিনি। আমরা যে দল, তাতে পাতানো খেলা কেন লাগবে?’ প্রথমবারের মতো পেশাদার লিগে পা রেখেই চ্যাম্পিয়ন, ইতিহাস গড়ার পরও ক্লাবে যেন প্রাণের ছোঁয়া নেই। রং নেই। সমর্থকদের আনাগোনা নেই। শুধু কয়েক ডজন মরিচাবাতি ক্লাবের দেয়াল, দেবদারু আর কদমগাছের ওপর ছড়ানো। যৎসামান্য উৎসবের উপলক্ষ এসবই।
আমিনুল হককে পাওয়া গেল তাঁর কক্ষের সামনেই। কিন্তু ‘ব্যক্তিগত কাজে একটু বাইরে যাচ্ছি’—বলেই চলে গেলেন দলের অধিনায়ক।
উৎসব যে হয়নি তা নয়, তবে হয়েছে আগের রাতে। মাঠ থেকে ফেরার পর। ক্লাবে ফিরেই খেলোয়াড়েরা শুভেচ্ছাসিক্ত হয়েছেন। ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের ও অন্য কর্মকর্তারা শুভেচ্ছা জানান খেলোয়াড়দের। এরপর ক্লাব মাঠে হয়েছে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে কনসার্ট। সেই কনসার্টে ওয়ালি ফয়সাল গেয়েছেন, ‘আই অ্যাম এ ডিসকো ড্যান্সার’। সঙ্গে নেচেছেন মামুন, আরিফ, কোমল, শাকিল, এমিলি, সুজনরা। অনেক রাত পর্যন্ত চলেছে সেই উৎসব। স্টপার রেজার এটাই প্রথম লিগ শিরোপা। অন্যদের চেয়ে তাই একটু বেশিই খুশি তিনি। রেজার মতো ছোট ক্লাব থেকে এসেছেন তরুণ স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলমও (সবুজ)। প্রথম চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হয়ে এমন আনন্দ করেছেন যে ঘুমিয়েছেন ভোরে। প্রথম পর্বে সাতটি ম্যাচ খেললেও দ্বিতীয় পর্বে একটিও খেলেননি। এই নিয়ে তাঁর আক্ষেপ আছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে সব দূর হয়ে গেছে। সবুজের মতো বেঞ্চে কাটানো জাহিদও একটু মনঃক্ষুণ্ন। মামুনুল বললেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা অনেক স্যাক্রিফাইস করেছে।’ জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া শেখ জামাল এখন জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো ফাইনাল

টানা চতুর্থবারের মতো কনক্যাকাফ গোল্ডকাপের ফাইনালে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্লিন্ট ডেম্পসির একমাত্র গোলে পরশু সেমিফাইনালে পানামাকে হারিয়েছে বব ব্র্যাডলির দল। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো। ডি নাইগ্রিস ও হাভিয়ের হার্নান্দেজের গোলে হন্ডুরাসকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা।
পানামার কাছে গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলে হারা যুক্তরাষ্ট্রের জয়ে বড় অবদান দলের সবচেয়ে বড় তারকা ল্যান্ডন ডনোভানের। ৭৭ মিনিটে ডেম্পসির গোলটির উৎস ছিলেন গোল্ডকাপে টানা ২৭তম ম্যাচ খেলা ডনোভান।

আজহার উদ্দিনকে ছাড়িয়ে গেলেন ধোনি

গতকাল কিংস্টন টেস্ট জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে নতুন একটি মাইলফলক অতিক্রম করেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে পেছনে ফেলে তিনি চলে গেছেন ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ২১টি টেস্ট জয়ে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে এখন ধোনির সামনে আছেন শুধু সৌরভ গাঙ্গুলী।
৪৭টি টেস্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা অধিনায়ক আজহার উদ্দিন। এর মধ্যে তিনি জয় পেয়েছিলেন ১৪টি ম্যাচে। আর গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬২ রানে হারিয়ে অধিনায়ক হিসেবে ১৫তম ম্যাচটি জিতেছেন ধোনি। ৪৯টি ম্যাচের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১টি ম্যাচ জিতেছেন গাঙ্গুলী। তবে সাফল্যের হার বিচার করলে ধোনিই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবেন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এ অধিনায়ক মাত্র ২৫টি টেস্ট খেলেই জিতেছেন ১৫ বার। সাফল্যের হার ৬০ শতাংশ।

এগিয়ে গেল ভারত

বুধবার রাতে কি শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছিলেন ড্যারেন স্যামি? কিংবা কাল রাতে?
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মাত্র ৬ রানে স্লিপে রাহুল দ্রাবিড়ের সহজ একটি ক্যাচ ছেড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। ‘দ্বিতীয় জীবনে’ স্যামিদের কাঁদিয়ে ছেড়েছেন দ্রাবিড়, চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় যোগ করেছেন আরও ১০৬ রান। পরশু দিন শেষে তাই স্যামির সরল স্বীকারোক্তি, ‘ক্যাচটা ছেড়ে দেওয়ায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি।’
পরে উইকেট তুলে ক্ষতি পোষানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন স্যামি, কিন্তু ৪ উইকেটেও ঠিক প্রায়শ্চিত্ত হওয়ার কথা নয়। কারণ সেই দ্রাবিড় প্রায় একা লড়ে ভারতকে এনে দিয়েছেন ৩২৫ রানের লিড, জ্যামাইকার উইকেটের কথা ভাবলে যেটিকে বলা যায় ‘বিশাল’ লিড। ‘ভালো ঘুম’ তাই বুধবার রাতে হওয়ার কথা নয়। দুঃসহ স্মৃতিটা আরও যন্ত্রণা দিয়েছে কাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরেছে ৬৩ রানে। এই জয়ে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ভারত।
হারটা নিশ্চিত হয়েছিল আসলে প্রথম সেশনেই। ১৭৩ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর। লাঞ্চের সময় স্কোর ২২৬/৯। শেষ দিকে এসে যা একটু লড়াই করলেন টেল এন্ডাররা। ৩২ বলে ৩৪ রান করেন রামপল, ৩৩ বলে ২৬ দেবেন্দ্র বিশুর। এই দুজন ভারতের জয়টাকে শুধু বিলম্বিতই করেছেন।
জয়ের জন্য উইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৯৫ রান, ভারতের ৭ উইকেট। কাল শুরুতেই প্রাভিন কুমার তুলে নেন ব্রাভো ও চন্দরপলকে। ন্যাশ, বাফ ও অধিনায়ক স্যামি এসেও খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি।
স্বাগতিকদের শুরুটা কিন্তু চমকে দিয়েছিল ভারতকে। বারাথ ও সিমন্স ১০ ওভারেই তুলে নেন ৫৬ রান। এক ওভারে দুটি ছয় ও একটি চার মেরে ইশান্তকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে দেন বারাথ, অমিত মিশ্রকে গ্যালারিতে পাঠান সিমন্স। ধোনির ‘দূরদর্শিতা’ কিংবা ‘ভাগ্যে’ ভাঙে এই জুটি। ফাঁকা তৃতীয় স্লিপে রায়নাকে দাঁড় করান ভারত অধিনায়ক, পরের বলেই ক্যাচ দেন বারাথ! ইশান্ত ফিরেই তুলে নেন সারওয়ান ও সিমন্সকে। ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেছেন ব্রাভো-চন্দরপল।
দ্রাবিড়ের পর ভারতের সর্বোচ্চ রান দশে নামা অমিত মিশ্রর ২৮। নবম উইকেটে এই দুজনের ৫৬ রানের জুটিতেই ভারতের লিড ৩০০ ছাড়িয়েছে। ২৫২ বলে ৩২তম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন দ্রাবিড়, ছুঁয়েছেন স্টিভ ওয়াহকেও। আরেকটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন ‘দ্য ওয়াল’, সুনীল গাভাস্কারকে (১৪০৪) ছাড়িয়ে ক্যারিবিয়ানে সবচেয়ে বেশি রান করা ভারতীয় এখন দ্রাবিড়ই (১৪১২)। দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ সিরিজে ৬ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১২০। ৩৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের জন্য এই সিরিজটা ছিল তাই আরেকটি পরীক্ষা। এতে আপাতত উতরে গেলেন।
ভারতের সর্বশেষ উইন্ডিজ সফরের জ্যামাইকা টেস্টেও পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন দ্রাবিড়। লো-স্কোরিং ম্যাচে করেছিলেন ৮১ ও ৬৮, দুই ইনিংস মিলিয়ে ভারতের হয়ে বিশের বেশি করতে পেরেছিলেন আর কেবল অনিল কুম্বলে (৪৫)। সেবার জিতেছিল ভারত, এবারও।

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে ১৮ ক্রিকেটার

জিপি-বিসিবি একাডেমিতে কাল শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ১৮ ক্রিকেটারকে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে গেম ডেভেলপমেন্টের লজিস্টিক অফিসার শহিদুল ইসলামের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।
মূলত আগামী বছর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যই ডাকা হয়েছে এই ক্যাম্প।

যাঁরা ডাক পেয়েছেন
সৌম্য সরকার, আসলাম হোসেন, আনামুল হক, আল আমিন, মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলী, রুবেল হোসেন নূরুজ্জামান, আসিফ আহমেদ, আবু জায়েদ, তাসকিন আহমেদ, দেওয়ান সাব্বির, জুবায়ের হোসেন, নাসুম আহমেদ, নাঈম ইসলাম, নূর হোসেন, জাকারিয়া মাসুদ, নূরুল হাসান, লিটন দাস।

তামিম এলে দারুণ হবে

টেস্ট কী, দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট কী, সেসব প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। আইপিএলে পাঁচটা, এরপর কাউন্টিতে এসেও এবার প্রথম চারটা ম্যাচই খেললাম টি-টোয়েন্টি। তা ছাড়া আমরা সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছি গত বছরের জুনে। এই লম্বা বিরতি আমার দীর্ঘ পরিসরের খেলার অভ্যাসে যে ভালোই মরচে ফেলেছে, সেটা বুঝলাম হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচ খেলতে নেমে।
টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং আর চারদিনের ব্যাটিং দুই রকম—সমস্যা তো হবেই। মজাটা এখানেই। সমস্যা কিন্তু আমার ব্যাটিংয়ে নয়, হয়েছে বোলিংয়ে! চারদিনের ম্যাচে যে ধরনের বোলিং দরকার, সেটাই হচ্ছিল না। আর দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখাটা জরুরি, সমস্যা হচ্ছিল সেখানেও। মাঝেমধ্যে দু-একটা ভালো বল হয়েছে। সেগুলোতেই উইকেট পেয়ে গেছি। নইলে চারদিনের ম্যাচে বল করেছি আমি খুবই বাজে। মানিয়ে নিতে আসলেই কষ্ট হচ্ছিল।
অথচ এই কষ্টটা হওয়ার কথা ছিল ব্যাটিংয়ে এবং তাতে বিস্ময়করভাবে আমি স্বচ্ছন্দ ছিলাম। টি-টোয়েন্টির তুলনায় এখানে শট একটু কম খেলতে হয়, ব্যাটিংয়ে ওই নিয়ন্ত্রণটা আনতে কিছুটা সমস্যা হলেও তা বড় কোনো অসুবিধায় ফেলেনি। ব্যাটিং নিয়ে অন্তত আমি খুশি। তবে হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেটা তো খেললামই না। এর আগে টানা পাঁচ ম্যাচ খেলেছি বলে এদিন বিশ্রামে ছিলাম। বিশ্রাম মানে পুরো বিশ্রাম। খেলাও দেখিনি, একটা কাজে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য মাঠে গিয়েছিলাম। তবে থাকলে বোধহয় ভালোই হতো। শ্রীলঙ্কার কোচ স্টুয়ার্ট লর সঙ্গে কথাবার্তা বলা যেত। পত্রপত্রিকায় তো পড়ছি, উনিই আমাদের পরবর্তী কোচ!
আগেরবার যেমন ছিলাম, ইংল্যান্ডে এবারও সে রকমই আছি...। বরং তুলনায় একটু ভালোই আছি বোধহয়। আগেরবার তো প্রথম এসেছিলাম, সবকিছু নতুন লেগেছে। এবার আমি উস্টারশায়ারের পুরোনো খেলোয়াড়...সবার সঙ্গে মিশে গেছি। সবচেয়ে বড় কথা, এবার বেশির ভাগই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছি। চাপ কম...অনেক নির্ভার। উস্টারশায়ারের হয়ে আমি আমার শেষ ম্যাচ খেলব ১৫ জুলাই। এর মধ্যে আরও একটা চারদিনের ম্যাচ থাকলেও সম্ভবত ওটা খেলব না।
টি-টোয়েন্টিতে নির্ভার থাকতে পারার একটা কারণ হতে পারে আমার আইপিএল খেলে আসার অভিজ্ঞতা। এখানে এসে খেলাটার সঙ্গে আর নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়নি। একটা ম্যাচে ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য একটু সমস্যা অবশ্য হয়েছিল। তবে বড় কিছু না।
এখানে সময়টা সামনে আরও ভালো কাটবে আশা করছি। এ আশার একটা কারণ অবশ্যই তামিম ইকবাল। নটিংহ্যাম্পশায়ারে খেলতে আসছে ও। ইংল্যান্ডে বসেই নিজেদের কারও সঙ্গে দেখা হবে, এটাই তো অনেক! তার ওপর সেও খেলবে কাউন্টিতে এবং আমাদের বিপক্ষেও দুটি ম্যাচ আছে তাদের। দুই দলে যদি দুজন খেলি...অবশ্যই একটা দারুণ ব্যাপার হবে। আমি এখন তামিম আর তামিমের বিপক্ষে ম্যাচের অপেক্ষাতেই আছি।
১৫ জুলাই ম্যাচ শেষ হলে খুব সম্ভবত ১৬ জুলাই আমি দেশে ফেরার বিমানে উঠব। তার মানে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগেই দেশে ফিরছি। অবশ্য জিম্বাবুয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকায় চারদিনের ম্যাচ খেলতে গেলে কী হবে এখনো বলতে পারছি না। বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে দেখি।
এই যে! আবার দেশে ফেরার কথা মনে হয়ে গেল! কবে যে ফিরব...? ইংল্যান্ডে সবই ভালো। সমস্যা কেবল এটাই—ইংল্যান্ডে আসলে দেশের বাইরে থাকতে হয়!