Friday, September 10, 2010

‘ব্যক্তিত্বই নারীর নিরাপত্তার সেরা বর্ম’ by গোলাম মুরশিদ

ওপরের শিরোনামে আবুল মোমেনের লেখাটি পড়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, যখন প্রায়ই বখাটেদের অত্যাচারে স্কুল-কলেজের নিতান্ত কমবয়সী মেয়েদের আত্মহত্যার খবর পড়ি, তখন মনে হয়, এ ধরনের লেখা প্রতিদিন প্রকাশিত হওয়া দরকার। প্রত্যেকটি বিবেকবান মানুষের এ রকম প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন। তাহলে যদি জেগে ওঠে কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমন্ত সমাজবিবেক; তাহলে যদি নিদ্রাভঙ্গ হয় মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা যাদের দায়িত্ব, তাদের।
বখাটের অত্যাচারে কিশোরী মেয়েদের আত্মহত্যা অথবা পণলুব্ধ স্বামীর নির্যাতনে নারীর আত্মহত্যার সংবাদ যখন পড়ি, তখন কেবল আন্তরিক দুঃখ হয় না, আমি এই সমাজের একজন সদস্য—এ কথা ভেবে লজ্জা হয়। সেই সঙ্গে সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত লোকদের নিষ্ক্রিয়তা অথবা অকার্যকারিতাকেও ধিক্কার জানানোর ইচ্ছে হয়। আবুল মোমেনের বক্তব্যের সঙ্গে আরও কয়েকটি কথা জুড়ে দেওয়ার জন্যই এ লেখা ফেঁদে বসতে হলো।
পোশাক ও সাজসজ্জার প্রসঙ্গ দিয়ে মোমেনের লেখার সূচনা। নারীরা যতক্ষণ না অশ্লীল পোশাক পরে চলাফেরা করছেন, ততক্ষণ তাঁদের দেখে টিটকারি দেওয়া অথবা অপমানজনক আচরণ করার কোনো কারণ নেই। এমনকি নারীরা যদি পুরুষদের কৌতূহল জাগানোর মতো ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরেন, অথবা একটু বেশি সাজসজ্জা করেন, তাহলেই কি সেই নারীকে উত্ত্যক্ত করার অথবা ধর্ষণ করার মতো অধিকার অর্জন করে কোনো পুরুষ—সে যেকোনো বয়সী হোক না কেন? যদি করে, তাহলে সভ্য সমাজে বাস করার মতো ন্যূনতম শর্তও সে পূরণ করে না। তার সঙ্গে আদিম অসভ্য মানুষের অথবা পশুর বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। তাদের হাত থেকে নারী-পুরুষ সবাইকে রক্ষা করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের দায়িত্ব, যেমন তাদের দায়িত্ব চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের বাঁচানো।
ভারতে তো বটেই, এমনকি পাশ্চাত্যের বহু দেশে ধর্ষণের মামলা বিচারের সময় নারীর উগ্র পোশাক ছিল কি না, অথবা উসকানি ছিল কি না, তা বিবেচনা করে লঘু দণ্ড দেওয়ার ইতিহাস আছে, কিন্তু তা এখন ইতিহাসেই পরিণত হয়েছে। সমাজের তীব্র সমালোচনার মুখে এ ধরনের বিচারকদের রক্ষণশীল মনোভাব লোপ পাচ্ছে। এখন নারী কী পোশাক পরিহিত ছিলেন, তা বিবেচনা করে লঘু শাস্তি দেওয়ার মনোভাব লোপ পাচ্ছে।
অল্পদিন আগে যখন খবরে পড়লাম, নাটোরের এক কলেজের অধ্যক্ষ ‘বোরকা না পরে কলেজে আসা’ নিষিদ্ধ বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন (এবং উচ্চ আদালত এই নিষেধকে বেআইনি বলে হুকুম দিয়েছেন), তখন মনে হচ্ছিল, একুশ শতকে বাস করলেও, এ রকমের অধ্যক্ষের মধ্যযুগে ফিরে গিয়ে কোনো এক মরূদ্যানে বাস করা উচিত। কারণ তিনি সম্ভবত মেয়েদের বিবেচনা করেন উটের মতো উপকারী জন্তু হিসেবে।
পাশ্চাত্যের স্কুলে ইউনিফর্ম ব্যবহার কমে যাচ্ছে বলে মোমেন যে মন্তব্য করেছেন, তা ঠিক নয়। ইউনিফর্ম দিয়ে একটা বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের চেনা যায়। এমনকি বোঝা যায়, তারা স্কুলের ছাত্রী। সেটা প্রয়োজন। ফ্রান্সে আইন করে বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় পোশাক পরে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারবে না—সেটা মুসলমানদের হিজাবই হোক, অথবা ক্যাথলিক এবং ইহুদিদের শিরোবসনই হোক। এ আইন থেকেও কড়া মুসলিম দেশ তুরস্কের আইন। সেখানে কেবল স্কুল-কলেজে নয়, প্রকাশ্যে কোথাও কারও হিজাব পরার অধিকার নেই। ইসলামি দল ক্ষমতায় এসে কয়েকবার এই আইন বদল করার উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্ককে আধুনিক করে তোলার জন্য কামাল আতার্তুক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার মধ্যে এটি অন্যতম।
ইদানীং বাংলাদেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেলামেশা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাক পরা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অনেক ছাত্রী যেমন পাশ্চাত্য-প্রভাবিত পোশাক পরে আধুনিকতার দৃষ্টান্ত রাখেন, তেমনি অনেকে ধর্মের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে বোরকাও পরেন। কিন্তু পোশাকের এই পার্থক্য মেলামেশার ব্যাপারে কোনো তারতম্য ঘটাচ্ছে না। বোরকা-পরিহিতারা মেলামেশার ব্যাপারে একটুও পিছিয়ে নেই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকা পরা তরুণীকেও অন্য তরুণের হাত ধরে চলতে দেখেছি। দেখেছি, রিকশায় ঘনিষ্ঠভাবে তরুণের সঙ্গে বসে যেতে। বোরকার পরা নারীদের মোবাইল ফোনে কথা বলতেও দেখেছি। অর্থাৎ একই সঙ্গে সপ্তম শতাব্দীর সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর সহাবস্থান লক্ষ করেছি। বস্তুত, বোরকা অথবা হিজাব পরে নারী তাঁর ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে পারেন না। অথবা তা দিয়ে উত্ত্যক্তকারী অথবা নারীলোলুপ নরপশুদেরও ঠেকিয়ে রাখা যায় না।
প্রসঙ্গত বলতে চাই, মেয়েদের অন্তঃপুরে বন্দী করে রাখার দিন চলে গেছে। কোনো ধর্মীয় আইন দিয়েই তাঁদের আর সেখানে বন্দী করা যাবে বলে মনে হয় না। পোশাক নয়, নারীদের উত্ত্যক্ত করার জন্য পরিবেশই বেশি দায়ী। যে মেয়েরা একটা ভালো পাড়ায় বাস করেন, তাঁদের ভাগ্য ভালো, উত্ত্যক্ত হতে হয় না; অপরপক্ষে, যে মেয়েরা এমন একটা পাড়ায় বাস করেন, যে পাড়ায় পুরুষ নামী গুটিকতক জানোয়ার বাস করে, সেখানে নারীদের উত্ত্যক্ত হতে হয়, কালেভদ্রে ধর্ষিতও হতে হয়, এমনকি নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্রায়ই দেখা যায়, উত্ত্যক্তকারীরা থাকলে স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা সে পথ দিয়ে যায় অতি নম্রভাবে, চোখ না তুলে, নতমুখে। এসব কমবয়সী মেয়েদের ব্যক্তিত্ব গড়েই ওঠেনি। সুতরাং আবুল মোমেনের ভাষায়, তাদের নিরাপত্তার বর্ম তাদের ব্যক্তিত্ব হতে পারে না। তাদের নিরাপত্তা সমাজের অন্য সদস্যরা, আর সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তাদের নিরাপত্তা দেশের আইন।
মোমেন উত্ত্যক্তকারীদের ধর্মের কথাও শুনিয়েছেন। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। শাস্ত্রে কী লেখা আছে তা শুনিয়ে দুষ্কৃতকারীদের দমন করা যাবে না। দমন করতে হবে আইনের পথ ধরে। সমাজের অন্য পাঁচজনের যে অধিকার, বয়স-নির্বিশেষে, সামাজিক মর্যাদা-নির্বিশেষে প্রতিটি নারীরও সেই অধিকার। সুতরাং সে নারী কী পোশাক পরলেন, কী সাজসজ্জা করলেন, সেটা দ্রষ্টব্য নয়। দেখতে হবে, কে অথবা কারা তাঁকে উত্ত্যক্ত করল, কারা মর্যাদা বিনষ্ট করল এবং কারা তাঁকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করল।
অনেক সময়ই দেখা যায়, উত্ত্যক্তকারীরা কোনো ধনীর লাই-দেওয়া বখাটে সন্তান, পাড়ার মাস্তানের পুত্র, ক্ষমতাসীন দলের কোনো মাতুব্বরের ছেলে। অভিভাবকের ছত্রচ্ছায়ায়ই তারা উত্ত্যক্ত করার অথবা মেয়েদের লাঞ্ছিত করার সাহস পায়। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এই শ্রীমানদের ভালো করেই জানে। কিন্তু তাদের বিচার হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে থানায় নিয়ে যাওয়াই সার হয়। তারপর সসম্মানে সেই নরপিশাচদের ছেড়ে দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি রাজনৈতিক তদবির থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রক্ষা করে, তবেই নারীদের পক্ষে সুবিচার পাওয়া সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও যে সব সময় নারীদের প্রতি সম্ভ্রম দেখায় অথবা আইনের প্রতি আনুগত্য দেখায়, তা নয়। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, এমন নারী থানায় গেলে অনেক সময় মামলা নেওয়া হয় না। উপরন্তু, থানায় সেই নারী আরও কয়েকজনের হাতে ধর্ষিত হন—এমনও শোনা যায়।
আইনের পথ ধরে সুবিচার পাওয়ার আর এক বাধা ফতোয়াবাজেরা। কে তাদের ক্ষমতা দিয়েছে জানি না, বরং জানি, ফতোয়া দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, বছরের পর বছর দেখে আসছি, ফতোয়ার শিকার হচ্ছেন নূরজাহানের মতো হতভাগ্য দরিদ্র নারীরা। ধর্ষকেরা দোররার আঘাত পেয়েছে অথবা তাদের ওপর ইটের টুকরো ছুড়ে মারা হয়েছে—এমন কোনো খবর এখনো পড়িনি। বরং চট্টগ্রামের এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল তাঁর ছাত্রদের সঙ্গে সমকামিতায় ধরা পড়েও কোনো ফতোয়ায় শাস্তি পান না—এ খবর কয়েক বছর আগে প্রথম আলোতেই পড়েছিলাম। ধর্মের নামে এই যে দেশের আইনের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখানো—এর মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে প্রকাশ পায় ঔদ্ধত্য এবং ভণ্ডামি। এর পরও ফতোয়াবাজেরা সমাজের চোখে সম্মান পায়, অথবা ধর্মের দোহাই দিয়ে সম্মান আদায় করে নেয়।
ভাবতে আশ্চর্য লাগে, দেশে পরপর চারবার প্রধানমন্ত্রী থেকেছেন দুজন মহিলা। সেই সঙ্গে পার্লামেন্টে সদস্য থেকেছেন অসংখ্য মহিলা—সে দেশে নারীরা এমনভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এ কথা ঠিক যে, তাঁরা সবারই প্রধানমন্ত্রী, সবারই সাংসদ, কেবল নারীদের স্বার্থ রক্ষা করা তাঁদের কাজ নয়। তবু তাঁদের কাছ থেকে যদি মহিলারা নিজেদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুবিচার না পান, তাহলে তাঁরা কি তা পাবেন পুরুষশাসিত প্রশাসনের কাছ থেকে? প্রসঙ্গত বলা দরকার, মহিলা প্রধানমন্ত্রীদের আমলেও সম্পত্তিসহ পূর্ণ মৌলিক অধিকার নারীরা আজও পাননি।
কেবল যৌনসম্ভোগের বস্তু হিসেবে গণ্য না করে ব্যক্তি হিসেবে একজন নারীকে দেখতে পারা, যোগ্যতা অনুসারে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দান করা—এ রকমের মানবিক এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশের অনেক পুরুষই এখনো অর্জন করতে পারেননি।
আবুল মোমেন প্রসঙ্গত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা উল্লেখও করেছেন। রোকেয়ার প্রধান দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয় এখন থেকে ১০০ বছরেরও আগে। তিনি লিখেছেন, ১. নারী-পুরুষ সমান; ২. উভয়ের উন্নতি না হলে সমাজের অগ্রগতি হতে পারে না; ৩. নারীরা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী না হলে সত্যিকার মর্যাদা লাভ করবেন না; ৪. নারীরা যেকোনো ধরনের কাজ করতে পারেন, এমনকি মাঠে কৃষিকাজও করতে পারেন। ধর্মপ্রচারকেরা নারী হলে ধর্মে নারীদের মর্যাদা অন্য রকমের হতো—এমন কথাও তিনি লিখেছেন।
এসব সত্ত্বেও স্বীকার না করে উপায় নেই, সময়ের তুলনায় অগ্রসর এবং সাহসী হলেও, ১০০ বছর আগে রোকেয়া যা লিখেছেন, সেটা আজকের দিনে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। যেমন, সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বোরকার পক্ষে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, নিজে বোরকা পরে থাকতেন। কিন্তু একুশ শতকের গোড়ায় এসে এটাকে নিতান্তই প্রাচীনপন্থী বলে মনে হবে। আজকের দিনে মেয়েরা যখন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, বিমান চালাচ্ছেন, জজিয়তি করছেন, ওকালতি করছেন; অফিস, কলকারখানা ও গবেষণাগারে কাজ করছেন, পথে চলতে বাধ্য হচ্ছেন, ধাক্কাধাক্কি করে পুরুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাদুড়ঝোলা হয়ে বাসে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন শাড়ি বা বোরকাকে নারীদের সবচেয়ে আদর্শ পোশাক বলে গণ্য করার সুযোগ নেই। বস্তুত, নারীদের অন্তঃপুরে বন্দী করে রাখা যেমন চূড়ান্ত দাসত্ব, অনুপযোগী বস্ত্র দিয়ে তাঁদের চলাচল সীমিত করাও সেই বন্দিত্বেরই নামান্তর। রোকেয়ার অনেক কথাই আজও অসম্পূর্ণ, ১০০ বছর পরও তিনি আধুনিক, কিন্তু তাঁর বক্তব্যকেই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা যায় না, দরকারও নেই।
আরও একটা কথা মনে রাখা দরকার, নারীদের তুলনায় পুরুষেরা সাধারণত শত গুণ বেশি অপরাধ করেন। পরিবার, সমাজ এবং জেলখানার দিকে তাকালেই তার প্রমাণ মেলে। চুরি, ডাকাতি, খুন, জখম, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ, স্ত্রীহত্যা, স্ত্রীনির্যাতন, সন্ত্রাস—প্রতিটি অপরাধমূলক কাজে পুরুষদের সংখ্যা নারীদের তুলনায় অনেক বেশি।
নারীদের বর্ম বোরকা বা ব্যক্তিত্ব নয়—তাদের সম্ভ্রম এবং অধিকার রক্ষার পূর্বশর্ত হলো শিক্ষা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির উন্নতি; পুরুষসমাজের সুস্থ মনোভাব; এবং কাগুজে আইন নয়, সত্যিকারের আইনের শাসন।
গোলাম মুরশিদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক।
ghulammurshid@aol.com

ঈদ তো সবার জন্যই by তৌহিদা শিরোপা

আবারও এসে গেল ঈদ। সবারই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চলছে কেনাকাটা।
ঈদ উৎসবে শরিক হওয়ার জন্য সারা বছর সবাই থাকে অপেক্ষায়। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।
এর মধ্যেই ঢাকা মহানগর ছাড়তে শুরু করেছে অনেকেই। রাস্তাঘাট কিছুটা ফাঁকা হয়ে এসেছে। কিন্তু শপিং মল বা কমপ্লেক্সগুলোয় এখনো রয়েছে ভিড়। ওই এলাকাগুলো দেখে এখনো বোঝার উপায় নেই, ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। সেখানে যানজট এখনো মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। হল ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার চাপ নেই এখন। এখন কেবল ঈদের আনন্দ। মা-বাবার কাছে ফিরে যাওয়া। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই এতদিনে পৌঁছে গেছেন বাড়িতে।
বিপণিবিতান ও ফুটপাতে বেশ ভিড়। কিছু বাদ পড়ে গেল কি না, এমন ভাবনা থেকে কেউ কেউ তালিকা করে নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে যাঁরা ঢাকায় ঈদ করবেন, তাঁরা যেন আগামী দুই দিনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেননা, দুই দিন পরই ঢাকা শহর সত্যি সত্যিই প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে।
ঈদের আনন্দ সবাই ভাগ করে নেয়। এমন একজন মানুষের সঙ্গে দেখা হলো, যিনি শুধু ঈদের সময়ই ঢাকায় রিকশা চালাতে আসেন। বুলবুল নামের এই লোকটি এসেছিলেন ময়মনসিংহ থেকে। ধানমন্ডির অর্কিড প্লাজা থেকে তাঁর রিকশায় চেপে বসি। বলি, যাব ফুলার রোড। ঘাড় বাঁকা করে তিনি বলেন, ‘পাঁচ টাকা বেশি দিতে হবে।’ ভাড়া ঠিক না করেই যিনি পাঁচ টাকা বেশি চান, তিনি যে এই শহরের হাল-হকিকত জানেন না, সেটা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। তাঁর কাছেই জানা যায়, ঈদের সময় একটু বাড়তি রোজগার করে আবার ফিরে যাবেন বাড়িতে। যাওয়ার আগে পরিবার ও স্বজনদের জন্য কিনে নিয়ে যাবেন ঈদ উপহার। ছোট ছোট শিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠবে, এই আনন্দে এখনই তিনি বিভোর।
এ সময় তরুণীরা ব্যস্ত নিজেদের সাজাতে। ত্বক ও চুলের যত্নের জন্য তাঁরা ভিড় করছেন বিউটি পারলারগুলোতে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে ফোন করে যোগাযোগ করছেন। বাড়ি যাওয়ার সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিটখানা পেয়েছে কিনা। না পেলে কীভাবে যাবে, তা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা করছেন। তবে যেভাবেই হোক, বাড়ি যে যেতেই হবে। পরিবারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সময় কাটাতে চান সবাই। হয়তো দীর্ঘদিন দেখা হয় না, এমন বন্ধুর সঙ্গেও দেখা হয়। দাদা-দাদি, নানা-নানিরা তাঁদের নাতি-নাতনির জন্য অপেক্ষা করেন। সারা বছর তো ওরা আসতে পারে না। তাই ওদের পছন্দের সব জিনিস তৈরি করে রাখেন। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোই আসল কথা।
ঢাকা কলেজের উল্টো দিকের বিপণিবিতানগুলোতে মানুষের ভিড় লেগেই আছে। দোকানিরা বিক্রিতে ব্যস্ত। এদেরই একজনকে জিজ্ঞেস করি, ‘ভাই তুমি কি তোমার ঈদের পোশাক কিনেছ?’
‘না।’
‘কিনবে কবে?’
‘এখনো জানি না।’
যাঁরা অন্যের জন্য পোশাক বিক্রি করছেন, তাঁরা এখনো জানেন না, নিজের জন্য কিছু জুটবে কি না।
বিজয় সরণি ধরে এগিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ লালবাতিতে দাঁড়িয়ে যায় বাহন। চারদিক থেকে ছুটে আসে মানুষ। নানা বয়সের মানুষ। বয়স্করা আসেন, হাত পাতেন। একটু কম বয়স যাদের, তারা পঙ্গু। নিজেদের অসহায়ত্ব নিয়ে এসে দাঁড়ায় ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে। কেউ কিছু দেয়, কেউ দেয় না। কিন্তু কী এক আশায় প্রতিটি গাড়ির দরজায়ই তারা বাড়িয়ে দিচ্ছে হাত।
হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে জাকাতের কাপড়ের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ওতেই যেন ওদের ঈদ। বরাবরের মতো অনেক পরিবারেই ঈদের আনন্দ স্পর্শ করবে না। অন্যসব দিনের মতো তাদের দিন কাটবে। কিংবা কে জানে, হয়তো হঠাৎ করেই ঈদের আনন্দে রাঙিয়ে নিতে পারবে হূদয়।
ঈদ তো সবার জন্যই। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকাতেই ঈদের আনন্দ।
ঈদ চলে যাবে। আবার ঢাকা শহর তার আপন রূপে ফিরে আসবে। কিন্তু এই যে কয়েক দিনের জন্য সবার আনন্দ-উচ্ছ্বাস, একাত্মতা, এটা যেন সারা বছর ধরে থাকে।

ঈদ মোবারক by আবুল হায়াত

দ্বারপ্রান্তে ঈদ। ঘরমুখো মানুষের ছোটাছুটি। ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা শহর। যানজটের অভিশাপ থেকে দিন পনেরোর জন্য মুক্তি পাবে রাজধানীর মানুষ। তার কিছু নমুনা গতকালই পাওয়া গেল—শান্তিনগর থেকে গুলশান ১ নম্বর চত্বরে যেতে সময় লাগল মাত্র আট থেকে ১০ মিনিট। তাও আবার ইফতারের আগে আগে। অতি আশ্চর্য ঘটনা বটে।
এক ঝাঁক টিয়া এসে বসল আমার নীপবন্ধুর মগডালে। আমার নীপবনে, এখন আর শুধু একটা কদমগাছ নেই—রয়েছে চার চারখান গাছ। সামনেই আকীজ সাহেবের ফাঁকা চত্বরের শিশু গাছ কয়টি রীতিমতো যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছে। ফুল দিয়েছে এবার সবাই। তাই ফুল ঝরে গিয়ে ফলগুলো এতদিনে পেকেছে। সেই লোভেই টিয়াদের দল বেঁধে আসা। কাকেরাও দেখি ভাগ বসায় টিয়ার খাদ্যে। কিন্তু দুই দল পাখির মধ্যে মারামারি খুনোখুনি নেই। যার যার মতো খায়
একজোড়া টিয়াকে লক্ষ করছিলাম। ওরা অন্যদের থেকে একটু আলাদা থাকতে পছন্দ করছে। একজন অন্য ডালে গেলেই অন্যটিও সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া ফেলে তার কাছে যাচ্ছে মুহূর্তে। ওদের খুব ভাব। আবার দেখি, একটি নতুন ফলে একজন কামড় দিয়ে অন্যটিকে ইশারায় ডাকছে। সঙ্গে সঙ্গে অন্যটি এসে সেই ফলেই দিল এক ঠোকর। তারপর দেখি, ডানা ফুলিয়ে ডানা ঘষাঘষি করছে দুজন। রাগ-অনুরাগের পালা চলছে। আমি যেন দিব্য চোখে দেখলাম, ওদের একজন বলছে: ‘হাতখানি তব রাখ মোর হাতে—’
সত্যিই তো ওদের হাত থাকলে ওরা করত কী? প্রেমিক-প্রেমিকা হাত ধরাধরি করা ছাড়াও যেটা করত বলে আমার মনে ভাসছে, তা হলো দুজন দুটো ফল হাত দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে বলত, ‘চলো, বাড়ি গিয়ে নিভৃতে আলাপ করি।’
নাহ্। হাত নিয়ে হাতাহাতি চলতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে কল্পনাবিলাসী হওয়াটা একটু বেশি হয়ে যায়, তাই না?
তাহলে ফিরে আসি বাস্তবে। এক বিখ্যাত ইন্ডাস্ট্রির ম্যানেজার ওয়ার্কস পদে নিয়োগের সাক্ষাৎকারে একটিমাত্র প্রশ্ন সব প্রার্থীকে করা হয়েছিল: ‘হাত দিয়ে আমরা কী করি? সর্বপ্রথম যেটি মনে আসবে, সেই উত্তরটি দেবে।’ উত্তর এসেছে হরেক রকম। হাত দিয়ে খাই, হাত দিয়ে লিখি, হাত দিয়ে সালাম দিই, হাত দিয়ে বিদায় সম্ভাষণ জানাই, হাত দিয়ে দান করি, হাত দিয়ে গ্রহণ করি, হাত দিয়ে বর্জন করি ইত্যাদি। কিন্তু চাকরি পেল একজন, যে বলেছিল হাত দিয়ে কাজ করি।
হাতওয়ালা মানুষ ভাবতেই পারে না, হাত না থাকলে তার চলত কীভাবে। তবে হাত ছাড়াও চলতে পারে তার দৃষ্টান্ত দেখেছি জয়পুরহাটের ভাদসা গুচ্ছগ্রামে। গত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী হালিমা খাতুনের বাবাকে দেখেছি। জন্মগতভাবে দুটো হাতই নেই। কিন্তু তিনি ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছেন। হালিমাকে শিক্ষিত করে তুলেছেন। আমরা দেখি, পা দিয়ে লিখে ট্রান্সলেশন শেখাচ্ছেন তাঁর সন্তানকে। হস্তের অধিকারী অনেক মানুষের জন্যই এটা একটা লজ্জার কারণও বটে।
আসলে হাত যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, তাতে তো সন্দেহের কোনো কারণ নেই। হাত দিয়ে আমরা যেমন খাই, পরি, লিখি, প্রার্থনা করি, বিদায় জানাই, ভিক্ষাও করি, চুরিও করি। আবার এই হাত দিয়ে কখনো আঁজলা ভরে পানি পান করে তৃপ্ত হই, কখনো বা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে মানবতার সেবায় রত হই।
হাত যেমন শরীরকে পূর্ণতা দেয়, তেমনি অদ্ভুতভাবে অলংকৃত করেছে ভাষাকে। আমাদের বাংলা ভাষাতেই দেখুন না হাত নিয়ে কত রকমারি সব ভাবের বহিঃপ্রকাশ। উদাহরণ প্রচুর, হাত দিয়ে হাত সাফাই করি, হাত মাপি (এক হাত, দুই হাত ইত্যাদি), ডান হাতের কাজ করি, হাত ভারী করি, হাতযশ অর্জন করি, হাতে-কলমে কাজ শিখি, বিব্রত হলে হাত কচলাই, রাগলে হাত কামড়াই, বিপদে পড়লে জ্যোতিষীকে দিয়ে হাত গোনাই, ব্যস্ততা থাকলে কাজে হাত চালাই, অপরাধ করলে হাত জোড় করে ক্ষমা চাই, অতি ব্যস্ত হলে বলি আমার হাত জোড়া, শুরুতে কোনো কাজে হাত দিই, হতাশ হয়ে কোনো বিষয় থেকে হাত ধুয়ে ফেলি।
আমার এসব পাণ্ডিত্যে আপনারা হাততালি দেন বা না দেন, আমার কিন্তু হাতেখড়ি হয়েছিল ১৯৪৭-এ গ্রামের মসজিদে। শিরিনের হাত গ্রহণ করেছিলাম ১৯৭০-এর জুলাইয়ে।
এবার একটা গূঢ় কথা বলে দিই। হাতের যতই উপকারিতা থাক না কেন, কখনো কখনো হাত হয়ে দাঁড়ায় একজন অভিনেতার শত্রু। মনের কথা শোনে না, এদিক-ওদিক উল্টাপাল্টা চলতে চায়। অভিনেতা যেন বুঝতেই পারে না হাত কোন জায়গায় কীভাবে রাখবে। এক মহাজ্বালা হয়ে যায় হাত। কেউ পকেটে রাখে, কেউ ঝুলিয়ে রাখে বুক বরাবর, কেউ দুহাত মোচড়ায়, কেউ বা ঘন ঘন গা চুলকায় হাত দিয়ে।
কলকাতার ঘটনা শুনুন। নাট্যজন শচীন ভৌমিকের লেখাতে বহুকাল আগে পড়েছিলাম, রকে বসে আড্ডা মারছিলেন এক নায়ক। তখনো নায়ক হননি তিনি। এক ভিক্ষুক সাত-আটটা ছেলেমেয়ে নিয়ে এসে বলল, ‘বাবা, একটি টাকা দিলে বাচ্চাগুলোর আজ খাওয়া হয়। দিন না বাবা। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করবেন। বাচ্চাগুলো দুদিন অভুক্ত।’
‘দাদা, খেতে পান না তো এত বাচ্চা নিয়েছেন কেন?’ নায়ক ভিক্ষুককে জিজ্ঞাসা করলেন।
‘কী করব দাদা, সবই ভগবানের হাত।’
হিরো তখন এক রুপি বের করে তাঁকে দিয়ে বললেন, ‘নিন ধরুন। ভগবানের হাতটা কেটে ফেলবেন (বা সামলান)।’
রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গ সংগঠন অনেক। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছাত্রসংগঠন। মানুষের হাতের মতোই জরুরি ও কার্যকর। হাতের ভালোমন্দ সবই এতে পরিলক্ষিত। জাতির দুর্যোগে এই হাত জাতিকে উপহার দিয়েছে অনেক মহার্ঘ্য অর্জন।
সেই কৃতজ্ঞতায় কি আমরা সর্বদাই তাঁদের কাছে হাত জোড় করে থাকব, নাকি তাঁদের ব্যাপারে হাত ধুয়ে ফেলব, নাকি সৃষ্টিকর্তার কাছে ওই নাট্যজনের মতো কাতর আর্জি জানাব দু-হাত তুলে? ঈদ মোবারক।
আবুল হায়াত: নাট্য ব্যক্তিত্ব।

ঈদুল ফিতর অনাবিল আনন্দের উৎসব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ঈদ মানেই আনন্দ ও খুশির উৎসব। ‘ঈদ’ শব্দটি আরবি, শব্দমূল ‘আউদ’, এর অর্থ এমন উৎসব, যা ফিরে ফিরে আসে, পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, রীতি হিসেবে গণ্য হয় প্রভৃতি। এর অন্য অর্থ খুশি-আনন্দ। প্রতিবছর চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট রীতিতে এক অনন্য আনন্দ-বৈভব বিলাতে ফিরে আসে ঈদ। গোটা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বছরে দুবার ঈদ হাজির হয়। একটি ঈদুল ফিতর, অন্যটি ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতর পালিত হয় ১ শাওয়াল আর ঈদুল আজহা পালিত হয় ১০ জিলহজ্ব। এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নানা নিয়মকানুন পালনের পর ঈদুল ফিতর; অন্য কথায় রোজার ঈদ। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া। আরেক অর্থে বিজয়। বিজয় শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। গোটা রমজান মাস রোজা রেখে আল্লাহভীরু মানুষ তার ভেতরের সব রকমের বাজে অভ্যাস, খেয়ালখুশিকে দমন করার মাধ্যমে এক রকমের বিজয় অর্জন করেন।
ঈদুল ফিতরের সঙ্গে বিজয়ের এক মহান যোগসূত্র রয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর হিজরি দ্বিতীয় সালে আরম্ভ হয়। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ওই যুদ্ধে মুসলমানদের ‘চূড়ান্ত মীমাংসা’ হয়েছিল। প্রথম মাহে রমজানে যে বছর সিয়াম পালিত হয়, সেই দ্বিতীয় হিজরি সনের ১৭ রমজান মোতাবেক ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মার্চ ইসলামের ইতিহাসের প্রথম আত্মরক্ষামূলক সশস্ত্র যুদ্ধ গায্ওয়ায়ে বদরে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়েছিল। এই বিজয়ের স্মৃতিকে আরও সম্প্রসারিত করার জন্যই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ওই বছর মাহে রমজান শেষে ঈদ উৎসব পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তদানুযায়ী আরবে প্রথম ঈদুল ফিতর মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরি ২ সনের ১ শাওয়াল শুক্রবার মোতাবেক ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ পালিত হয়। প্রথম ঈদুল ফিতরে সেই বিজয় আনন্দ রোজা ভাঙার আনন্দ-উৎসবে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে রমজান মাসে মক্কা বিজয়ের ৮/৯ দিন পরে মক্কা মুকাররামায় সর্বপ্রথম ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়েছিল।
মদিনার অধিবাসীরা ঈদ উৎসব প্রবর্তনের আগে বছরে যে দুটো আনন্দ-উৎসব পালন করত তা ছিল পারস্যের দুটো দিনের অনুকরণে, যার একটির নাম ‘নওরোজ’, যাকে তারা বলত ‘নায়মূক’, অন্যটির নাম ‘মেহেরজান’। অন্ধকার যুগে এ দুই উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক অশ্লীল, অশোভন আচার-অনুষ্ঠান করা হতো। পরিবর্তে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে ঈদ উৎসবের প্রবর্তন করা হয়। ঈদ উৎসব কল্যাণের ও মানবিক সৌন্দর্যে মণ্ডিত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখতে পেলেন যে এখানকার অধিবাসীরা বছরে দুটো দিন ক্রীড়া-কৌতুক ও আনন্দ-উৎসব করে। তিনি তাদের কাছে জানতে চাইলেন: এই দুটো দিন কিসের জন্য? তারা বলল: অন্ধকার যুগে (আইয়্যামে জাহিলিয়াতে) আমরা খেলাধুলা ও আনন্দ-উৎসব পালন করতাম। তাদের এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই দুই দিনের বিনিময়ে অন্য দুটো উত্তম দিবস দান করেছেন আর তা হচ্ছে ঈদুল আজহা এবং ঈদুল ফিতর।’ (তিরমিজি, নাসাঈ ও আবু দাউদ)
ঐতিহাসিক পটভূমিতে ঈদ উৎসব পালনের আরও একটি ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। সে সময় আরব দেশে মুসলিম সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য গোষ্ঠীভুক্তদের মধ্যে নানা রকম উৎসবের প্রচলন ছিল। উকাজের মেলা ছিল তার মধ্যে অন্যতম। বলা হয়, এসব উৎসব মূলত নানা অশ্লীল আর রুচিহীন আনুষ্ঠানিকতায় ভরপুর করে রাখা হতো। অপর দিকে ইসলামের অনুসারী মুসলমানদের জন্য তখন পর্যন্ত তেমন কোনো উৎসবেরই প্রচলন ছিল না। এমতাবস্থায় মুসলমানদের মধ্যে একটা পবিত্র বিনোদনের বিষয় ইসলামের নবী হজরত মুহম্মদ (সা.) গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করেন। আর সেই সুচিন্তার ফলেই তিনি ঈদ উৎসবের সূচনা করেন; যাতে নির্মল বিনোদন অথচ পবিত্র এক আবহে সবাই অবগাহন করে। নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেন, ‘লিকুল্লি কাওমিন ঈদ, হাজা ঈদুনা’ অর্থাৎ ‘প্রতিটি জাতিরই নিজস্ব আনন্দ-উৎসব রয়েছে, আমাদের আনন্দ-উৎসব হচ্ছে এই ঈদ।’ (বুখারি ও মুসলিম)
ঈদুল ফিতরের অর্থ যেমন রোজা ভাঙার আনন্দ-উৎসব, তেমনি এর অর্থ ফিতরা প্রদানের আনন্দ-উৎসব। সমাজের অভাবী, নিঃস্ব, গরিব-দুঃখীদের মধ্যে শরিয়ত নির্ধারিত হারে ফিতরা প্রদানের মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের দিবসের সূচনা হয়। এ জন্য মুসলমানদের ঈদকে বলা হয় ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য খুশির দিন। ঈদুল ফিতরে হক্কুল্লাহ বা আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক আদায়ের বিধান সমানভাবে বাস্তবায়িত হয়। ইসলাম সব ধনাঢ্য ও সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ঈদুল ফিতরে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ‘ফিতরা’ আদায়ের বিধান অত্যাবশ্যকীয় করেছে। ঈদে শুধু সামর্থ্যবানেরাই আনন্দ করবে, গরিব অসহায়রা নয়, এমন রীতি ইসলাম সমর্থন করে না। জাকাত আদায়ের জন্যও সাধারণত ঈদুল ফিতরের সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়। সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যই আল্লাহ তাআলা জাকাতের বিধান দিয়েছেন। এই প্রতীকী সাম্য ও ঐক্য বিরাট তাৎপর্যপূর্ণ। আত্মশুদ্ধি তথা কলুষমুক্ত নতুন জীবনের উপলব্ধির মধ্যে ঈদুল ফিতরের মূল তাৎপর্য নিহিত।
ঈদকে ঘিরে যে চালচিত্র সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে দেখা যায়, তা কিন্তু আমাদের মতো দরিদ্র দেশে ঈদ সবার জন্যই সমান আনন্দ উপভোগের হয়ে ওঠে না। নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় হতদরিদ্র মানুষের ঈদ আনন্দ উপভোগ করা কঠিন। ঈদের দিনটি তখন আর ধনী-গরিবের একাত্মতার দিন নয়, বরং ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্যের দিকটাই প্রকট হয়ে ওঠে অনেকের অনুভবে। যারা অর্থনৈতিক জীবনে নিত্যদিনই পর্যুদস্ত, তাদের জীবনে ঈদে আনন্দের বন্যা নিশ্চয়ই বইতে পারে না বা তাদের জীবনে ঈদ নিশ্চয়ই কোনো আনন্দের ঝংকার তোলে না। এসব হতদরিদ্র মানুষদের অন্তরের বেদনাকে নিজের বুকে গভীরভাবে ধারণ করেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘হররোজ রোজার’ অবসান না ঘটা পর্যন্ত ঈদের সকার্থকতা যে আসবে না সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। ‘ঈদ মোবারক’ কবিতায় নজরুল সেই ধর্মীয় বিধানের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: ‘জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?’
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত হলেও যুগ যুগ ধরে এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই নিকটতম প্রতিবেশী। নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি-বিধান এবং আচার-অনুষ্ঠান পালন করেও তারা সমপ্র্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। মুসলমানের ঈদে অন্য ধর্মের অনুসারীরাও আনন্দের ভাগ নেয়, খ্রিষ্টানদের বড়দিন বা বৌদ্ধদের পূর্ণিমা অথবা হিন্দুদের পূজার উৎসবেও মুসলমানরা যোগ দেয় নানাভাবে, এটাই ধর্মপ্রাণ বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্য।
ঈদের দিনে ‘ঈদ মোবারক আস-সালাম’ অভিবাদনে মশগুল হয় সবাই। কিন্তু এ সাদর অভিবাদন যাতে গতানুগতিক ও নিছক নিষ্প্রাণ অভিবাদনে পর্যবসিত না হয়, অন্তরের বক্রতাকে জিইয়ে রেখে পরস্পরের ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রকাশের ঈদের মর্মবাণী যাতে হারিয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়। ঈদের দিনের দাবি অপর মুসলমানকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পরস্পরকে ভাই-বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়: ‘পথে পথে আজি হাঁকিব, বন্ধু/ঈদ মোবারক! আস্সালাম!’
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

থানা-পুলিশের জন্য সাংসদের উপঢৌকন -এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি থাকা উচিত

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকার সাংসদ নবগঠিত মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশের ব্যবহারের জন্য একটি মাইক্রোবাস উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছেন। সেটা যে সাংসদের সৌজন্যে পাওয়া, তা সবাইকে জানানোর জন্য গাড়ির পেছনের অংশে সে কথা লিখে রাখা হয়েছে। এটা পরিষ্কার, এই বিজ্ঞাপন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য। এই সাংসদ লাকসাম থানার একটি মাইক্রোবাসও এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় মেরামত করে দিয়েছেন। পুলিশ তা ব্যবহার করছে। গাড়ি দিয়ে তো আসলে সাংসদ তাঁর নিজের প্রতি থানা-পুলিশকে দায়বদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করলেন। সাংসদের বিরুদ্ধে যদি কখনো কোনো অভিযোগ ওঠে, থানার পুলিশ কি সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে পারবে? সাংসদের নুন খেয়ে তো তাঁর গুণ গাইতেই হবে।
তা ছাড়া প্রশ্ন ওঠে, সাংসদ যে মাইক্রোবাস দিলেন, গাড়ি মেরামত করে দিলেন, এই টাকা কার? এটা কি তাঁর বৈধ আয় থেকে এসেছে? তিনি কি সেই ব্যয়ের হিসাব আয়কর বিভাগের সম্পদ বিবরণীতে প্রকাশ করবেন? সাংসদদের অনেক সুবিধা। তাঁদের আয়কর দিতে হয় না। কিন্তু তিনি যে দুই হাতে টাকা বিলি করবেন, তার বৈধতা নিয়ে তো প্রশ্ন তোলা যায়। তাঁর উচিত এই টাকার উৎস সবাইকে জানতে দেওয়া। অবশ্য পাঁচ-দশ লাখ টাকার বৈধ উৎস দেখানো একজন সাংসদের জন্য এমন কিছু না। তার পরও প্রশ্ন ওঠে, তিনি কি সরাসরি থানা-পুলিশকে এভাবে গাড়ি উপহার বা গাড়ি মেরামতের টাকা দিতে পারেন?
তিনি যদি পুলিশের সেবা করতে চান, নিশ্চয়ই সে উদ্যোগকে সবাই স্বাগত জানাবে। কিন্তু সেটা তাঁকে করতে হবে নিয়মসিদ্ধ উপায়ে। তিনি গাড়ি দিলে দেবেন পুলিশ বিভাগকে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ তখন বিবেচনা করবে, সেই গাড়ি কোথায় কীভাবে ব্যবহার করা যায়।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে একজন সাংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন, এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করবেন, সেটা সবাই চায়। কিন্তু এমন কিছু করা তাঁদের উচিত নয়, যা নৈতিকতার মানদণ্ডে প্রশ্নবোধক হয়ে পড়ে। সংসদের বাইরের কাজকর্মের ব্যাপারে সাংসদদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করা উচিত। সাংসদ কাউকে কী পরিমাণ মূল্যের উপঢৌকন দিতে পারেন, কার কাছ থেকে কী শর্তে কী পরিমাণ উপঢৌকন নিতে পারেন—সেসব একটি গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী স্বীকৃত হলে আর প্রশ্ন উঠবে না। এ রকম নীতিমালা প্রণয়নের একটি প্রস্তাব সম্প্রতি সংসদে তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংসদের সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর -শুভবোধের চর্চা সঞ্চারিত হোক সবার জীবনযাপনে

বছর ঘুরে আবার এসেছে ঈদ উৎসব—শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে। এই আনন্দে সবাই শামিল। ধনী-দরিদ্রনির্বিশেষে সবাই কোনো না কোনোভাবে এ আনন্দের ভাগিদার হয়। ঘরে-বাইরে, সর্বত্র আমরা উৎসবমুখরতা অনুভব করতে পারছি। ঈদের এই আনন্দ আমরা ভাগ করে নিতে চাই আমাদের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্টসহ সব শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে। সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ঈদের এই আয়োজন তো জীবনেরই উদ্যাপন, জীবনকে নতুন করে রাঙানোর উৎসব। সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের আপন হয়ে ওঠা, পরস্পরের সৎ প্রতিবেশী হয়ে ওঠার এক মহান উপলক্ষ ঈদ। ঈদের আগমনী সুরেও বেজে চলেছে মানুষে মানুষে মিলনের এই আকুতি। তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের প্রতিবেশীদের নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
উৎসবের সঙ্গে শান্তির গভীর যোগসূত্র আছে। শান্তির কমতি থাকলে উৎসবের আনন্দেও ভাটা পড়ে। এবার সব দিকে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত—অর্থনীতি অনেকটাই জীবন্ত, রাজনৈতিক উত্তেজনা তেমন নেই; সংঘাত, সহিংসতা কমেছে। পেশাদারি অপরাধ এবং ঈদের আগে চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কম থাকায় মানুষ স্বস্তিতে আছে। অপেক্ষাকৃত শান্তির পরিবেশে ঈদ উৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে, এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে?
তবে আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষে মানুষে বৈষম্য প্রকটতর হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের অনেকটাই যখন অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে, তখন ঈদের আনন্দ সর্বজনীন হওয়ার পথে বড় বাধা থেকে যায়। দুঃখজনক হলো, বেসরকারি শিক্ষক ও পোশাকশ্রমিকদের অনেকে তাঁদের বেতন-বোনাস পাননি। ব্যবস্থাপনাগত নানা দুর্বলতা কাটিয়ে সবার জন্য ঈদ উৎসবকে সমান আনন্দময় করে তোলার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের আরও সচেষ্ট হওয়া দরকার।
যে ঐক্য ও শান্তি আমরা উৎসবের দিনগুলোয় দেখাতে পারি, তাকে কেন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত করতে পারব না? যদি ছোট পরিসরে পারি, তো বড় পরিসরে, জাতীয় জীবনে একই আচরণ করতে না পারার তো কোনো কারণ থাকতে পারে না। ঈদ আমাদের সামষ্টিক জীবনে শুভবোধের চর্চার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা সঞ্চারিত হোক সবার প্রতিদিনের জীবনযাপনে—সেটাই প্রত্যাশা।
ঈদ নিছক উৎসব নয়, জীবনকে নবায়ন করার আহ্বান, উৎসে ফেরার ডাক। ঈদে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে আকুল হয়, শহরবাসী গ্রামে ফেরায় রোমাঞ্চ পায়, একাকী মানুষ বন্ধুমহলের সঙ্গে মেলার জন্য ব্যাকুল হয়। অনেক ভোগান্তি শেষে নিজ প্রাঙ্গণে প্রিয়জনের আলিঙ্গনের সুখ উপভোগ করে। দেশের মানুষ তখন ‘দেশের’ মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়। এই সুযোগ থেকে কেউই যাতে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জে ঈদের আগে বিউটি পারলারেও ভিড়

ঈদ সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের বিউটি পারলারগুলোতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পারলারকর্মীদের। কিশোরী-তরুণী থেকে বিভিন্ন বয়সীর গৃহিণীরা পারলারগুলোয় ভিড় করছেন নিজেদের পরিপাটি ও সুসজ্জিত করার জন্য।
ভ্রু-প্লাক, বিভিন্ন ধরনের হেয়ার কাট, পার্টি মেকআপ, খোঁপার চুল সেটিং, ফেসিয়াল, ব্লিচ, বোলার, স্টেট পাম্প, মেহেদি থেকে শুরু করে নাক-কান ফোঁড়ানোর কাজটিও পারলার থেকে করিয়ে নিচ্ছেন নারীরা। বর্তমানে জেলা শহরে ২০ থেকে ২৫টি বিউটি পারলার গড়ে উঠেছে।
পারলারকর্মী নাফিজা রহমান জানান, ঈদ সামনে রেখে তাঁদের হাতে প্রচুর কাজ। তিনি আরও জানান, ভ্রু-প্লাক ২০ টাকা, স্টেপ কাট ৮০ টাকা, ইউ কাট ৬০ টাকা, পার্টি মেকআপ ২৫০ টাকা, কেয়ার পালিশ ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, খোঁপা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, চুল সেটিং ৬০ থেকে ১৫০ টাকা, ফেসিয়াল ১২০ থেকে ৩০০ টাকা, মেহেদি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কান ফোঁড়ানো ৩০০ টাকা ও নাক ফোঁড়ানো ২০০ টাকায় করা হচ্ছে।
গৃহিণী মেহেরিমা বলেন, ‘ভ্রু-প্লাক ও চুল সেটিং করতে এসেছি। ঈদের আগে নিজেকে একটু পরিপাটি করতে এগুলোর প্রয়োজন হয়।’
আঁচল বিউটি পারলারের মালিক মাহফুজা চৌধুরী জানান, তাঁদের ব্যবসা ভালো। তিনি তাঁর প্রধান বিউটিশিয়ানকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন।
অন্য রকম বিউটি পারলারের ব্যবস্থাপক সেলিনা ইয়াসমিন কাকলী জানান, বিউটি পারলারগুলো একটু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়ে উঠতে পারে মেয়েদের কর্মসংস্থানের প্রধান মাধ্যম।
পারলার নারীদের অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের একটি ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ উইমেন চেম্বারের সভানেত্রী নায্মুন নাহার।

মিশ্র প্রবণতায় শেষ হলো শেয়ারবাজারের লেনদেন

ঈদের ছুটির আগে শেয়ারবাজারে গতকাল বুধবার ছিল শেষ লেনদেন। টানা চার দিন ছুটির পর আগামী সোমবার থেকে লেনদেন আবার চালু হবে।
শেষ দিনে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন কিছুটা মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান দুটি সূচকই কমেছে। অবশ্য সিএসইতে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গঠিত সিএসই-৩০ সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে সূচক বাড়লেও গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। তার পরও সূচক বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ধারার বিপরীতে হঠাৎ করেই ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের মূল্য উল্লম্ফন। অন্তত গতকালের বাজার সম্পর্কে বিশ্লেষকদের সেটাই ধারণা। এর বাইরে মিউচুয়াল ফান্ডের দামেও ছিল ঊর্ধ্বগতি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ারে ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস থেকে আর্থিক সমন্বয়-সুবিধা বা নেটিং ফ্যাসিলিটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ ব্যাংকিং খাতসহ হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানি নেটিংসুবিধার বাইরে চলে যাবে।
অর্থাৎ, হাতে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত বিক্রিলব্ধ টাকা দিয়ে অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে না। তার মানে বিক্রির পর ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ার কিনতে একজন বিনিয়োগকারীকে কোম্পানিভেদে চার থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই ঋণ পাওয়া যায় এবং নেটিংসুবিধা রয়েছে, এমন কোম্পানির দিকেই ঝুঁকবে।
গতকালের বাজারের লেনদেনের গতিপ্রকৃতি দেখে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে বলে জানান বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে যেসব কোম্পানির আয় অনুপাতে মূল্য বা পিই ৪০ পয়েন্টের বেশি, সেসব কোম্পানি ঋণসুবিধা পায় না। এ ছাড়া ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত কোম্পানি এবং তালিকাভুক্তি বা শ্রেণী পরিবর্তনের মেয়াদ এখনো ৩০ কার্যদিবস অতিক্রম করেনি, এমন কোম্পানি ঋণসুবিধার বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি কোম্পানি ঋণ ও নেটিংসুবিধা পাবে না।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারের গড় পিই ২৬ পয়েন্টের মতো। আর ব্যাংকিং খাতের গড় পিই এর প্রায় অর্ধেক। পিই তুলনামূলক কম হওয়ার পরও প্রায় দুই মাস সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকিং খাতের শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন।
এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে তারল্যপ্রবাহ কমাতে এসইসি একাধিক পদক্ষেপ নেয়। একেক সময় একেক ধরনের পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় সব ধরনের বিনিয়োগকারী ঋণবহির্ভূত স্বল্প মূলধনের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাই ঋণসুবিধা থাকার পরও অপেক্ষাকৃত বড় মূলধনের হওয়ায় ব্যাংকিং খাত জৌলুশ হারায়। এখন আবার ঋণসুবিধাবহির্ভূত কোম্পানিতে নেটিং বন্ধ হওয়ায় নতুন করে এ খাতে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে বেড়ে ছয় হাজার ৮০৭ পয়েন্ট হয়েছে। লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা বেশি। তবে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭৩টির দামই কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৮১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৮ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ১৭৮ পয়েন্ট হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম কমেছে ১১৮টির ও বেড়েছে ৭২টির।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক কমেছে ১০.৭৬ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাধারণ মূল্যসূচক ও আর্থিক লেনদেন দুই-ই কমেছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭৯৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে।
এদিকে আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৭৬ কোটি টাকা কম।
আজ লেনদেন হওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫০টির, কমেছে ৯১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজও আগের দিনের মতো লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিএসআরএম স্টিল। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা অপর তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেডের। এ ছাড়া সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও সায়হাম টেক্সটাইল দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বিডি অটোকারস, আইসিবি, সোনালী আঁশ, সাফকো স্পিনিং ও শ্যামপুর সুগার।

আইএমএফ থেকে ১০ টন সোনা কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের (মজুদ) একটা অংশ স্বর্ণে সংরক্ষণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে কেনাও হয়েছে ১০ মেট্রিক টন সোনা।
রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়ে এই সোনা কেনা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার ৮২০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ধরে এই সোনা কেনাবেচা হয়েছে।
আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সোনা বিক্রির তথ্য প্রকাশও করেছে। এই সোনা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত থাকবে। যেকোনো সময় প্রয়োজন হলে এই সোনা বিক্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের রিজার্ভে এতদিন সোনা ছিল না। প্রথমবারের মতো ১০ টন সোনা কেনা হল, যা হবে রিজার্ভের প্রায় পাঁচ-ছয় শতাংশ।’ তিনি বলেন, রিজার্ভের পুরোটাই এতদিন ছিল ডলার-ইউরোর মতো কাগুজে মুদ্রায়। কাগুজে মুদ্রার মান এবং তা কোনো দেশের ব্যাংকে বিনিয়োগ করলে সুদের হার বেশ ওঠানামা করে। সে তুলনায় সোনার দাম বরাবরই স্থিতিশীল এবং তা ক্রমশই উর্ধ্বমুখী। এ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের একটা অংশ সোনাতে সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয় বলে জানান গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে কোনো সোনা রিজার্ভ ছিল না। ১৯৭২ সালে কানাডা সরকার বাংলাদেশকে কিছু সোনা অনুদান দেয়, যা দিয়ে আইএমএফের সদস্য হয় বাংলাদেশ।

ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংকপাড়ায় ছিল নীরবতা

ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়া মতিঝিলের ব্যস্ততা মোটেও ফুটে ওঠেনি। যানবাহনের আনাগোনা ছিল যেমন কম, তেমনি সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম। সব মিলে শুনশান নীরবতার মধ্যে আজ সোমবার অতি পরিচিত ব্যস্ত অফিসপাড়া মতিঝিলকে যেন ঠিক চেনাই যাচ্ছিল না।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় বেলা ১১টার দিকে টাকা তোলার একটি কাউন্টারের মাত্র একজন লোক দেখা গেল। এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহের আগে পুরোপুরি কর্মব্যস্ততা ফিরে আসবে না ব্যাংকপাড়ায়। আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি সকালে মিরপুরের পল্লবী থেকে মাত্র ২৫ মিনিটে অফিসে পৌঁছেছেন। এমনটা তিনি সাধারণ সময়ে ভাবতেই পারতেন না।
শাপলা চত্বরের সামনে গাড়ি চলাচল করছে ঠিকই, তবে বেশি গাড়ি না থাকায় অতি সহজেই বাঁক নিতে পেরেছে যেকোনো পরিবহন। লাগোয়া সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়েও গ্রাহক তেমন চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার কাউন্টারগুলো এক রকম শূন্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উপস্থিত অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি করেই বেশি সময় কাটিয়েছেন।
বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির হারও ছিল অনেক কম। ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে ছুটি নিয়ে গ্রামে বেড়াতে গেছেন।

কাল শুরু চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি

চারদিকে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ পাতানোর আলোচনা। ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করার এমন ডামাডোলের মধ্যেই আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টের এটি দ্বিতীয় আসর, বসছে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ১০টি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক হাইভেল্ড লায়ন্সের মুখোমুখি হবে ভারতের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।
সাউথ অস্ট্রেলিয়ার শন টেইট অবশ্য মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্রিকেট নিয়ে এসব নেতিবাচক আলোচনা থামিয়ে দেবে, ‘খুব ভালো হলো যে টি-টোয়েন্টি লিগটা এখন হচ্ছে। লোকে বাজে সব জিনিস থেকে মন সরিয়ে খেলায় মন দেবে।’
আইপিএলের মতো এখানেও নেই কোনো পাকিস্তানি প্রতিনিধি, নেই ইংল্যান্ডের কোনো দলও। তবে আছে আইপিএলের তিন দল চেন্নাই সুপার কিংস, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া আছে নিউজিল্যান্ডের ক্লাব সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্টাগ, শ্রীলঙ্কার দল উইয়াম্বা ও গায়ানা। টুর্নামেন্টে খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি দল ওয়ারিয়র্স ও হাইভেল্ড লায়ন্স।
দলগুলোর মধ্যে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই-ই সবচেয়ে বেশি তারকাসমৃদ্ধ। মুত্তিয়া মুরালিধরন, ম্যাথু হেইডেন, আলবি মরকেল, ডগ বলিঞ্জার আর মহেন্দ্র সিং ধোনি আছেন এই দলে।
টুর্নামেন্টে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে পাঁচটি করে দল। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

পাকিস্তানের কানেরিয়া-স্বস্তি

মাঠে ম্যাচ হেরে চলেছে পাকিস্তান, মাঠের বাইরেও তাদের নিয়ে চলছে বিতর্ক। এমন দুঃসময়ে খবরটা একটা স্বস্তি হয়েই এল পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য। কাউন্টি ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে অবৈধ বাজি ধরার যে অভিযোগ উঠেছিল দানিশ কানেরিয়ার বিপক্ষে, ইংল্যান্ডের পুলিশ সে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে কাউন্টি ক্রিকেট দল এসেক্সের পাকিস্তানি স্পিনারকে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডারহামের বিপক্ষে এসেক্সের প্রো-৪০ ম্যাচকে ঘিরে বাজি ধরার অভিযোগ উঠেছিল কানেরিয়া ও তাঁর এসেক্স-সতীর্থ পেস বোলার মারভিন ওয়েস্টফিল্ডের বিপক্ষে। গত মে মাসে পুলিশ আটকও করেছিল তাঁদের। জামিনে ছেড়ে দেওয়া হলেও পুলিশি তদন্ত চলছিল তাঁদের বিপক্ষে। সেই তদন্ত শেষেই পুলিশ নির্দোষ ঘোষণা করেছে ৬১ টেস্টে ২৬১ উইকেট শিকারি কানেরিয়াকে। শুরু থেকেই অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন কানেরিয়া। অভিযোগ থেকে তাঁর অব্যাহতি পাওয়ার খবরটি দিয়েছেন কানেরিয়ার আইনজীবী ফুরকান আনোয়ার, ‘অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ দানিশকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’
সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের ‘স্পট-ফিক্সিং’য়ে পাকিস্তানের ক্রিকেট যখন কলঙ্কিত, তখন কানেরিয়ার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার খবরটা একটা স্বস্তিই এনে দেবে পিসিবিকে।

কী বলবে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড

পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘ত্রিমূর্তি’ সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ আর মোহাম্মদ আমিরের বিরুদ্ধে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করছে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড। আগামীকালের মধ্যেই তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন দেওয়া হতে পারে বলে লন্ডনের দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র। ওয়েবসাইট।
‘আমাদের জানানো হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এটা পাওয়া যেতে পারে’—গত মঙ্গলবার বলেছে পিসিবির ওই সূত্র। তদন্ত প্রতিবেদনে কী আসবে সেটা নাকি তারা অনুমান করতে পারছে, ‘সত্যি বলতে কি, তদন্তে কী পাওয়া যাবে সেসব জানাই। তার পরও আমরা অপেক্ষা করছি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্তাধীন কোনো বিষয় সম্পর্কে মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই আমাদের। করাটা ঠিকও নয়।’
ওদিকে লর্ডস-কাণ্ডে আইসিসির তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী নিতু চন্দ্রাকেও। স্পট ফিক্সিং বিতর্কে আসিফের মাধ্যমে জড়িত থাকতে পারেন নিতুও, এমন ধারণা থেকে ভারতের এই অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আসিফ ও তাঁর সাবেক বান্ধবী বীণা মালিকের টেলিফোন রেকর্ড থেকেই জানা গেছে তাঁর সঙ্গে নিতুর যোগাযোগের কথা। তবে হিন্দি ও তামিল সিনেমার নায়িকা নিতু আসিফের সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন।
আইসিসি ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তদন্ত চালালেও স্পট ফিক্সিং ইস্যুতে পিসিবির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন আইসিসির সাবেক সভাপতি এহসান মানি। ‘স্পট ফিক্সিং ও বেটিংয়ে অভিযোগ ওঠার পরও একগুঁয়ে পিসিবি বলেছে, অভিযুক্ত খেলোয়াড়েরা ওয়ানডে সিরিজে খেলবে; আইসিসি এটা সহ্য করতে পারত না এবং তাদের নিষিদ্ধই করেছে।’ পিসিবির আচরণকে দুঃখজনক মন্তব্য করে রেডিও ডয়েচে ভেলেকে মানি বলেছেন, ‘পিসিবিরই উচিত ছিল সবার আগে এই খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করা। কিন্তু তারা সেটা করেনি।’

তাহলে বাতিস্তাই তো ভালো

তিনি নিজেই বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক কোচের তকমাটা খুলে ফেলে স্থায়ী কোচের আসনে বসতে চান। গত ১১ আগস্ট ডাবলিনের প্রীতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টা ছিল তার প্রথম বার্তা। পরশু রিভার প্লেটের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৪-১ গোলে হারানোর পর সার্জিও বাতিস্তা হয়তো মুখে আর কিছু বলবেনই না। যা বলার বলবে আর্জেন্টিনার মিডিয়া এবং একই সুরে কথা বলবেন তাঁর খেলোয়াড়েরা। এর পরও কি এ বছরের শেষ পর্যন্ত ম্যারাডোনার শূন্য চেয়ারে স্থায়ীভাবে বসার জন্য পরীক্ষা দিয়ে যেতে হবে বাতিস্তাকে?
প্রীতি ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে বড় জয়ের পর বাতিস্তার পক্ষে সবচেয়ে সরব পাওয়া গেল হাভিয়ের জানেত্তিকে। ‘এখন সমর্থনটা বাতিস্তার প্রাপ্য। তিনি তাঁর কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভালোই করছেন’—বলেছেন গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে ঐতিহাসিক ট্রেবল জেতানোয় নেতৃত্ব দেওয়া জানেত্তি। তবে বাতিস্তার পূর্বসূরি, যাঁর জন্য তাঁর খেলা হয়নি গত বিশ্বকাপ, সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনাকেও শ্রদ্ধাই জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার, ‘ম্যারাডোনাও ভালো করেছেন। বিশ্বকাপেও খুব একটা খারাপ করেননি তিনি।’
জানেত্তির সমর্থন পেলেন। মাত্রই এক সপ্তাহ আগে বড় সমর্থন পেয়েছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড় লিওনেল মেসির। আগামী কিছুদিন ধরে আর্জেন্টিনায় অবধারিতভাবে যা পাওয়া যাবে, তা হলো মিডিয়ায় বিরামহীন বাতিস্তা-বন্দনা। ট্যাকটিক্যালি ম্যারাডোনার চেয়ে বাতিস্তা কতটা ভালো এই নিয়ে চলতে থাকবে আলোচনা।
২০০৬ সালের পর ৫৮ ম্যাচে এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার চার গোল খেল স্পেন। এমন পরাজয়ের পর স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক আর্জেন্টিনার খেলাটা ব্যাখ্যা করেছেন সরলভাবেই, ‘ওপরের দিকে কয়েকজন খুবই গতিসৃমদ্ধ খেলোয়াড় আছে তাদের। চারদিকে ছড়িয়ে খেলেছে তারা এবং এটাই স্বাভাবিক যে তাদের হাতেই ছিল খেলার নিয়ন্ত্রণ।’ তবে বাতিস্তার ট্যাকটিকস প্রশংসা পেয়ে যায় দেল বস্কের পরের কথাতেই, ‘বড় দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হয়, এই পরাজয় থেকে সেটি আমরা শিখতেও পারব।’ তাহলে বলতেই হচ্ছে, বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর বাতিস্তা আর্জেন্টিনার বড় দলের অহংকার অন্তত ফিরিয়ে এনেছেন।

এবার ভেনাসকে পেলেন ক্লাইস্টার্স

২০০৯ সাল। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে মুখোমুখি সেরেনা উইলিয়ামস আর অবসর ভেঙে ফেরা কিম ক্লাইস্টার্স। ওয়াইল্ড কার্ডধারী ক্লাইস্টার্স জিতেছিলেন বলেই নয়, ম্যাচটি স্মরণীয় সেরেনার আচরণের কারণেও। লাইন ও’ম্যান ‘ফুট ফল্ট’ ডাকায় সেরেনা উইলিয়ামস বাধিয়ে দেন তুঘলকি কাণ্ড। উত্তেজনার একপর্যায়ে ওই লাইন ও’ম্যানকে ‘যদি পারতাম, আস্ত বল মুখে পুরে দিয়ে তোমাকে মেরে ফেলতাম আমি’ বলেও হুমকি দেন সেরেনা। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেরেনা আত্মপক্ষ সমর্থন করলেও জল গড়ায় অনেক দূর।
এক বছর আগের সেই সেমিফাইনাল স্মৃতির আয়নায় আসার কারণ, এবারও সেমিফাইনালে উঠেছেন ক্লাইস্টার্স। এবং এবারও সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ উইলিয়ামস পরিবারের সদস্য, ভেনাস উইলিয়ামস। এএফপি।
আগামীকাল শুক্রবার ক্লাইস্টার্স-ভেনাস নামবেন সম্মুখ সমরে। তার আগে পরশু দুজন কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের দুই ফাইনালিস্টকে। ক্লাইস্টার্স ফ্রেঞ্চ ওপেনের রানারআপ অস্ট্রেলিয়ার সামান্থা স্টোসুরকে হারিয়েছেন ৬-৪, ৫-৭, ৬-৩ গেমে আর ভেনাস ফ্রেঞ্চ ওপেনের চ্যাম্পিয়ন ইতালির ফ্রান্সেসকা শিয়াভোনের বিপক্ষে জিতেছেন ৭-৬ (৭-৫), ৬-৪ গেমে।
গত বছর সেমিতে সেরেনাকে হারানোর আগে চতুর্থ রাউন্ডে ভেনাসের বিপক্ষেও জিতেছিলেন ক্লাইস্টার্স। শুধু ইউএস ওপেনে নয়, সর্বশেষ চার সাক্ষাতেই ক্লাইস্টার্সের কাছে হেরেছেন ভেনাস। যদিও এরপর মুখোমুখি দ্বৈরথে সমতা, ৬-৬।
পুরুষ এককে এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলেন না কোনো মার্কিন। ওপেন যুগে গত বছরই প্রথম ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের কোয়ার্টার ফাইনালে কোনো মার্কিনকে পাওয়া যায়নি। পরশু সুইজারল্যান্ডের স্তানিসলাস ওয়ারিঙ্কার কাছে স্যাম কুরে হারতেই দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিনদের কপালে জোটে এই লজ্জাতিলক।
অ্যান্ডি রডিক, জেমস ব্লেকরা গ্যালারির দর্শক হয়েছেন আগেই। শেষ ভরসা হয়ে জ্বলছিলেন স্যাম কুরে। সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই কুরে চেষ্টা করেছেন শেষ আটের টিকিট প্রাপ্তির সঙ্গে মার্কিনদের সম্মান রক্ষার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ৭-৬, ৬-৭, ৭-৫, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ওয়ারিঙ্কাই প্রথমবারের মতো পা রেখেছেন কোনো গ্র্যান্ড স্লামের কোয়ার্টার ফাইনালে। ফেদেরার শেষ আগে উঠেছেন আগের দিনই। ১৯৬৮ সালে ওপেন যুগ শুরুর পর এই প্রথম দুই সুইস তারকা একসঙ্গে পা রাখলেন কোনো গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের শেষ আটে।
শেষ আটে ওয়ারিঙ্কার প্রতিপক্ষ মিখাইল ইয়ুঝনি। যিনি টমি রব্রেডোকে হারিয়েছেন ৭-৫, ৬-২, ৪-৬, ৬-৪ গেমে।
এদিকে প্রথম ইউএস ওপেন ও ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের পথে আরেক পা সামনে এগোলেন রাফায়েল নাদাল। স্বদেশি ফেলিসিয়ানো লোপেজকে ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে উঠে গেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ আটেও তাঁর প্রতিপক্ষ এক স্বদেশি—বন্ধু ফার্নান্দো ভার্দাস্কো। আগের ১০ বারের সাক্ষাতে কখনোই ভার্দাস্কোকে জিততে দেননি নাদাল। প্রথম দুই সেটে হেরেও ভার্দাস্কো স্বদেশি ডেভিড ফেরারকে হারিয়েছেন ৫-৭, ৬-৭, ৬-৩, ৬-৩, ৭-৬ গেমে।

একটা জয় চান আফ্রিদি

মাঠের বাইরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নিয়ে চলছে বিতর্ক। তারই জের এসে পড়েছে মাঠের পারফরম্যান্সেও। পরশু কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ৬ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ১৮.৪ ওভারে করে ৮৯ রান। ধুন্ধুমার ক্রিকেটে যা তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। ম্যাচ আসলে সেখানেই শেষ।
তবে ‘স্পট ফিক্সিং’ বিতর্কের সঙ্গে দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সকে মিলিয়ে দেখতে রাজি নন পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি, ‘আমরা একটা বাজে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সত্যি, তবে পেশাদার হিসেবে আমাদের মনোযোগটা ক্রিকেটেই থাকা উচিত।’
সেটা থাকলে হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটা ম্যাচই হতো। কিন্তু হলো একপেশে ম্যাচ। ২২ রানে আফ্রিদিসহ ৪ উইকেটের পতন এবং ৮৯ রানে পাকিস্তান অলআউট—এর পর ধরেই নেওয়া হয়েছিল ম্যাচ জিতবে ইংল্যান্ড। বাকি ছিল শুধু ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা। কিন্তু সে অনিশ্চয়তার মঞ্চায়ন হতে দেয়নি পল কলিংউডের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দলের ২৬ রানে ডেভিসের রানআউট হওয়ার পরের বলেই কিসওয়েটার আউট হয়ে গেলে যা একটু উত্তেজনার আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। পরে আরও দুটি উইকেট হারালেও ৩৬ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ইংল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে এটা ইংল্যান্ডের টানা সপ্তম জয়। টানা জয়ের রেকর্ডে এখন পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ হলো ইংল্যান্ডও।
স্পট ফিক্সিং বিতর্ককে অজুহাত হিসেবে দেখাতে না চাইলেও এটি যে দলের মনোবলকে তলানিতে নিয়ে গেছে, তা মানছেন আফ্রিদি। এ থেকে উত্তরণের পথ দেখছেন একটাই—জয়। ‘আমি শুধু একটা জয় চাই। ওয়ানডে সিরিজেও আমি এভাবে দলকে হতাশ করতে পারি না।’
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। পরের চারটি ম্যাচ হবে ১২, ১৭, ২০ ও ২২ সেপ্টেম্বর।

বরদুলইয়ে আবাহনীর প্রথম ম্যাচ আজ

xআসামের ৫৮তম বরদুলই ট্রফি ফুটবল টুর্নামেন্টে আজ প্রথম ম্যাচ খেলছে আবাহনী। প্রতিপক্ষ স্থানীয় দল রেজিমেন্টাল সেন্টার, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় আরেক দল আসাম স্টেট ইলেকট্রিক স্পোর্টস ক্লাবকে।
ছয় দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে গুয়াহাটির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। আবাহনী, রেজিমেন্টাল ও স্টেট ইলেকট্রিক স্পোর্টস আছে এক গ্রুপে। অন্য গ্রুপে নেপালের থ্রিস্টার, স্থানীয় দল শিলং লাজং ও আসাম পুলিশ।
এদিকে আবাহনী দুই দিন আগে আসাম গেলেও তাদের চার বিদেশি ভিসা জটিলতায় ম্যাচের আগের দিনও বাংলাদেশেই পড়ে ছিলেন। গতকাল তাঁদের ভিসা পাওয়ার কথা ছিল। ভিসা পেলে আজ সকালে চার ঘানাইয়ান আউডু ইব্রাহিম, সামাদ ইউসুফ, ইউসুফ আমিনু ও থুয়াম ফ্রাঙ্ক আসাম যাবেন। অপেক্ষায় থেকেও বিদেশিদের সঙ্গে নিতে না পেরে অগত্যা ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) কাল চলে গেছেন আসাম।

অবশেষে প্রধান নির্বাহী

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঈদের আগে শেষ দিনের মতো চলছিল জাতীয় দলের অনুশীলন। ছুটির আগের দিনের মেজাজে চলছিল ক্রিকেট বোর্ডের অফিসও। হঠাৎই অফিসজুড়ে ছোটাছুটি। ফুলের তোড়া নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে ছুটলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী।
বিশেষ কেউ এলেন নাকি? হ্যাঁ, দীর্ঘ আড়াই বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে পা রাখলেন একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা—মঞ্জুর আহমেদ। ১৯৯২ সাল থেকে ব্রুনাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করতে থাকা মঞ্জুর আহমেদের বিসিবিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া আগেই শেষ হয়ে গেছে। কাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন অফিস।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় অবশেষে একজন প্রধান নির্বাহী পেয়েছে বিসিবি। স্বভাবতই তাঁর কাছে প্রত্যাশাও আছে বেশ। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণে মঞ্জুর আহমেদ কতটা কী করবেন, সেটা নিয়ে কাল অন্তত কথা বলতে চাইলেন না। শুধু বললেন, নিজের আদর্শের কথা, ‘কী করব না করব, সেটা নিয়ে এখনই কথা বলতে পারছি না। এখনো সবার সঙ্গে পরিচয়ও হয়নি। প্রেসিডেন্ট সাহেবের সঙ্গে, বোর্ড পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলব। তবে এটুকু বলতে পারি, আমার কাছে মূলত গুরুত্ব পাবে সুপ্রশাসন গঠন করা এবং ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।’
ব্রুনাইতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এ কাজে তাঁকে সাহায্য করবে অবশ্যই। তবে মঞ্জুর আহমেদ মানছেন, ব্রুনাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করা আর বিসিবিতে কাজ করা এক কথা নয়, ‘এটা অনেক অনেক বড় জায়গা। তার পরও ব্রুনাই বলুন আর বাংলাদেশ, ক্রিকেট বলুন আর ফুটবল; দুনিয়ার সব জায়গাতেই প্রশাসন প্রায় একইভাবে চালাতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই কাজে লাগবে।’
এই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্রুনাইতে নিজের ‘লক্ষ্যপূরণ’ করতে পারার তৃপ্তিও সঙ্গী হয়ে এসেছে মঞ্জুর আহমেদের, ‘আমি যখন ব্রুনাইতে যাই, তখনো ওখানে শুধু বিদেশিরা, মূলত ব্রিটিশরা ক্রিকেট খেলত। আমার লক্ষ্য ছিল, স্থানীয়দের মধ্যে ক্রিকেটটাকে কিছুটা হলেও ছড়িয়ে দেওয়া। সেটা খানিকটা হলেও করতে পেরেছি।’
তা বাংলাদেশ নিয়েও কি বিশেষ কোনো লক্ষ্য আছে তাঁর? মঞ্জুর আহমেদ হাসলেন, ‘এই দেশের মানুষ আমি, এই দেশে খেলেছি। এই দেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন তো আছে। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেটের প্রশ্নে আমার একার লক্ষ্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ না। এখানে সবার লক্ষ্য এক হলেই সেটা পূরণ সম্ভব।’
অন্য লক্ষ্যের কথা পরে। আপাতত প্রধান নির্বাহীর চেয়ারে বসেই বিশ্বকাপের উত্তাপ টের পাওয়ার কথা মঞ্জুর আহমেদর। সেটা টের পাচ্ছেনও। বিশ্বকাপ নিয়ে তিনি নিজেও রোমাঞ্চিত। কিন্তু শুধু একটা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার উত্তেজনাই তো আর সব নয়, ‘দেশে এত বড় দায়িত্ব নিয়ে আসা, বিশ্বকাপের সময় দায়িত্ব পালন করা; সবই রোমাঞ্চকর। তবে আমি বিশ্বকাপের চেয়ে দূরে তাকাতে চাই।’
বিসিবির প্রধান নির্বাহীর চেয়ারটা বরাবরই টলমল। মঞ্জুর কতটা শক্ত হয়ে বসতে পারেন সেই চেয়ারে, সেটাই এখন দেখার।

আর্জেন্টিনায় বিধ্বস্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

১১ জুলাই সকার সিটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে তোলার পর ফুটবল-বিশ্বকে এখনো নিজেদের লাল রঙে রাঙিয়ে রেখেছে স্পেন। চ্যাম্পিয়নদের গর্বের পতাকাটা এখনো সগৌরবে উড়ছে চারদিকে। কিন্তু এর মধ্যেই তাদের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দিল আর্জেন্টিনা। পরাজয়টা যেনতেনও নয়। বুয়েনস এইরেসের রিভার প্লেট স্টেডিয়ামে পরশু স্পেনকে ৪-১ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা। এই আর্জেন্টিনা ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা নয়, সার্জিও বাতিস্তার। কিন্তু যে দুঃখ তারা কিছুটা হলেও ঘোচাল, সেটি ওই ম্যারাডোনার রাজত্বেই পাওয়া। সেই যে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার দুঃস্মৃতি!
লিওনেল মেসি খেলার ১০ মিনিটে এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। জাতীয় দলের হয়ে গোল পেলেন তিনি ১৩ ম্যাচ ও ১০ মাস পর। ঘটনাচক্রে যে স্পেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সর্বশেষ গোল, ১৪তম গোলটিও তাদের বিপক্ষেই। ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গঞ্জালো হিগুয়েইন, ৩৫ মিনিটে কার্লোস তেভেজ স্কোরলাইন করেন ৩-০। তবে এই গোলে যতটা না তেভেজের কৃতিত্ব, তার চেয়ে বেশি ব্যর্থতা ইকার ক্যাসিয়াসের বদলে খেলা গোলরক্ষক পেপে রেইনার। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সেটি তুলে দিয়েছিলেন তেভেজের কাছে। ক্যাসিয়াসের কারণে পুরো বিশ্বকাপ দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল রেইনা ও ভালদেসকে। দুই অর্ধে ভাগাভাগি করে এ দিন খেলেছেন দুজনই।
নিজেদের ফিরে পেতে মরিয়া স্পেন ৮৪ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে ফার্নান্দো লরিয়েন্তের মাধ্যমে। কিন্তু কোথায় কী? উল্টো আরও গোলের বোঝা ভারী করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বাড়তি সময়ে স্পেনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ম্যারাডোনার জামাই সার্জিও আগুয়েরো।
বিশ্বকাপ-ব্যর্থতার পর তত্ত্বাবধায়ক কোচ সার্জিও বাতিস্তার হাতে শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনার নতুন পথচলা। আসলে নতুন করে পথ চলতে চাইছে তারা। কিন্তু নতুন কোথায় আর্জেন্টিনা? এ তো সেই ম্যারাডোনার আক্রমণাত্মক আর্জেন্টিনাই। আর গোল করলেনই বা কারা? সেই ম্যারাডোনার বিশ্বস্ত আক্রমণভাগ। সেই মেসি, হিগুয়েইন, তেভেজ ও আগুয়েরোই তো গোল দিলেন! না, এখানে একটু ভুল হয়ে গেল। বাতিস্তা অনেক বদলই এনেছেন দলে। ফিরিয়ে এনেছেন ম্যারাডোনার কাছে ব্রাত্য দুই খেলোয়াড় ডিফেন্ডার হাভিয়ের জানেত্তি ও রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোকে।
এ ম্যাচে ইন্টার মিলানের দুই পরীক্ষিত সৈনিক এর প্রতিদানও দিয়েছেন। ডান প্রান্তটাকে একেবারে দুর্ভেদ্য দুর্গ বানিয়ে রেখেছিলেন জানেত্তি। পুরো ৪৫ মিনিট প্লে-মেকার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে অকেজো করে রেখেছিলেন। আর মাঝমাঠে মাচেরানো-ক্যাম্বিয়াসো যুগলবন্দী বিরামহীনভাবে জাভি- ফ্যাব্রিগাসকে হতাশ করে বল রেখেছেন পায়ে। এতেই খেলার জন্য অনেক জায়গা পেলেন মেসি। জ্বলে উঠল আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগের ত্রিমূর্তি। দুর্দমনীয় তেভেজ একটি গোল করলেন। করালেন দুটি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপে কেপটাউনের সেই দুঃখের রাতের কালো চাদরটা কিছু সরাল বৈকি! বাতিস্তা নিজেই জয়ের পর বলেছেন বিশ্বকাপে জার্মানি-দুঃখের সেই রাতটা এ দিয়ে পেছনে ছুড়ে ফেলেছে আর্জেন্টিনা, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমরা লজ্জা নিয়ে ফিরেছিলাম, কিন্তু আমরা সেখানে বিশ্বকাপ জিততেও পারতাম। আজ আমরা তেমনই খেললাম, যেমনটা আমরা খেলতে চেয়েছিলাম।’
তবে এমন পরাজয়কেও লজ্জা হিসেবে দেখছেন না স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে শ্রেয়তর দল বলে মেনেও তাঁর দাবি স্কোরলাইনটা যা দেখাচ্ছে, ম্যাচটি প্রকৃতপক্ষে সে রকম ছিল না। সত্যিই তো, বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন বাইরে রেখে নেমেও স্পেন গোল করার অনেক সুযোগ পেয়েছিল। তিন-তিনবার বল ফিরেছে পোস্টে লেগে। দুবার এই দুর্ভাগ্যের শিকার ডেভিড ভিয়া (২৮ ও ৪১ মিনিটে) অন্যবার ডেভিড সিলভার বদলি সান্তিয়াগো কাজোরলা (৭৫ মিনিট)। ৭৮ মিনিটে পেদ্রোর শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। এএফপি।
দুদলে খেলেছেন যাঁরা
আর্জেন্টিনা: রোমেরো, জানেত্তি, ডেমিকেলিস, গ্যাব্রিয়েল মিলিতো, হেইঞ্জ, বানেগা, মাচেরানো, ক্যাম্বিয়াসো, মেসি (ডি আলেসান্দ্রো ৮৯ মি.), তেভেজ (ডি মারিয়া ৬০), হিগুয়েইন (আগুয়েরো ৬৮)।
স্পেন: রেইনা (ভালদেস ৪৫ মি.), আরবেলোয়া, পিকে, মারচেনা, মনরিয়াল, বুসকেটস, আলোনসো (পেদ্রো ৭১), ইনিয়েস্তা (নাভাস ৪৫), ফ্যাব্রিগাস (হার্নান্দেজ ৫৭), সিলভা (কাজোরলা ৪৫), ভিয়া, (লরেন্তে ৪৫)।

রুবচিচের লক্ষ্য ৩০ ধাপ উন্নতি

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন ১৫২। আগামী এক বছর পর এই র‌্যাঙ্কিংটা ১২০-এর ঘরে দেখতে চান রবার্ট রুবচিচ। বাফুফের প্রধান কোচ হয়ে ঢাকায় আসার ঘণ্টা চারেক পরই সংবাদ সংম্মেলনে একরকম ঘোষণার সুরেই বলে দিলেন ক্রোয়েশিয়ান কোচ।
বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কে গত কয়েক দিনে ইন্টারনেট ঘেঁটে পাওয়া কিছু ধারণা ছাড়া আর কিছুই তাঁর জানা নেই। তা হোক, এক বছরের চুক্তি শেষে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান—প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসীই শোনায় কণ্ঠটা, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের যে ফিফা র‌্যাঙ্কিং আছে, এক বছরে তার চেয়ে ৩০ ধাপ ওপরে দেখতে চাইব।’
ভোরে বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয় মতিঝিল বাফুফে ভবনে। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তাদের পাশে বসে ক্রুসিয়ানি-ডিডোদের উত্তরসূরি ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে প্রথমেই বললেন, ‘বাংলাদেশের কোচ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। সবে তো এলাম, কয়েক দিন সময় দিন আমাকে।’
দেখতে অনেকটা আর্জেন্টাইন কোচ ক্রুসিয়ানির মতো। চাইলে কেউ কলেজের শিক্ষকও ভেবে নিতে পারেন। ক্রুসিয়ানির মতোই থেমে থেমে কথা বলেন। নিজেই হেসে বলেন, ‘ইংরেজিটা অত ভালো পারি না।’
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে প্রশ্ন যায় আমিনুলদের নতুন কোচের দিকে, বাংলাদেশের প্রধান কোচ হওয়ার অনুভূতিটা কেমন? এই প্রথম কোনো জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা কেমন? পাশ থেকে প্রশ্নটা ভালোভাবে বুঝে নিয়ে তাঁর উত্তর, ‘এটা সহজ দায়িত্ব নয়। খুব কঠিন। তবে আমার অভিজ্ঞতা আছে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার যোগাযোগটা ভালো। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমি চাই, অবশ্যই শারীরিকভাবে ‘শক্তিশালী’ খেলোয়াড়।’
৪৭ ছুঁইছুঁই কোচের কোচিং-পদ্ধতি, কোচিং-দর্শন জানতে চাইলে আবারও প্রশ্ন বুঝিয়ে দিতে হলো ভালো করে। তাঁর কথা থেকে যতটুকু বোঝা গেল তা এ রকম, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসি। আমি চাই, দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে। ঠু মাচ রান...অ্যান্ড টেকনিক্যালি ভেরি গুড। আমার পছন্দের ফরমেশন ৪-২-৩-১।’
তাঁর জীবনপঞ্জিতে লেখা ওয়ার্ল্ড স্টার টিমের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন। কত সালে? কোথায়? কার সঙ্গে? প্রশ্ন বুঝতেই পারলেন না। জীবনবৃত্তান্তের কপি সামনে ধরে বোঝানোর পর বুঝলেন। তারপর স্মিত হাসি, ‘ও হো...ওয়ার্ল্ড স্টার টিম...। ১৯৯৫ সালে খেলেছিলাম ফ্রান্সে। বাতিস্তা-বেনিফিট ম্যাচ। তাফারেল, হুগো সানচেজদের সঙ্গে।’ ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলে একটি ম্যাচ, অবিভক্ত যুগোস্লাভিয়ার অনূর্ধ্ব-১৬ দলে খেলেছেন বলেও এক ফাঁকে জানিয়ে দেন বাংলাদেশের ফুটবলে চতুর্দশ বিদেশি কোচ।
প্রিয় খেলোয়াড় কে ছিলেন? বড় কোনো তারকা নন, স্বদেশি ডেভর সুকারের নামটাই শুধু বললেন। এবারের বিশ্বকাপের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতনের কারণটাও জানালেন, ‘ওরা অতি-আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে সর্বনাশ করেছে নিজেদের। ক্রোয়েশিয়ার ঘরোয়া ফুটবলে এফসি রিয়েকার হয়ে খেলোয়াড়ি ও কোচিং জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটানো এই লেফট ব্যাকের মতে, ‘ট্যাকটিক্যালি সমস্যা ছিল দুই দলেরই।’
পেপ গার্দিওলা নাকি হোসে মরিনহো—কার কোচিং ভালো লাগে, জানতে চাইলে মরিনহোর নামটাই বলে যান বারবার। রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে তাঁর প্রিয় কোচ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘তিনি ২৪ ঘণ্টাই ফুটবল নিয়ে ভাবেন।’ এই অঞ্চলে প্রথম আসায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন কি না—প্রশ্নের জবাবে চ্যালেঞ্জের ব্যাপারটা সহাস্যেই কবুল করে নেন ছয় বছর বয়সী একমাত্র সন্তানের জনক, ‘এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ তো বটেই।’
এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিরত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নতুন কোচকে সংবাদ সম্মেলন শেষে নিয়ে যাওয়া হয় বিকেএসপিতে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুধুই পরিচিত হয়েছেন প্রথম দিনে, ক্যাম্পের খেলোয়াড় নিয়ে আয়োজিত একটা ম্যাচ দেখে ঢাকায় ফিরেছেন। ঈদের ছুটির পর দল নিয়ে কাজ করবেন রুবচিচ।
বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় সংবাদ সম্মেলনের ইতি টেনে বললেন, ‘আজ আমাদের জন্য বিশেষ একটা দিন। আমাদের উচিত হবে এই উঁচুমানের লোকটাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখা। আমাদের ভুলে তিনি যেন চলে না যান, সে দিকটি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’
বিদেশি কোচ এলে শুরুটা হয় এমন আশা-জাগানিয়া। কিন্তু শেষটা? দুই পক্ষের তিক্ততায় ভরা। রুবচিচ এর সঙ্গে পরিচিত না হলেই ভালো!

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে ফেদারার

ষষ্ঠবারের মতো ইউএস ওপেন জয়ের পথে আরও একধাপ পেরোলেন রজার ফেদারার। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডিশ রবিন সোডার্লিংকে ৬-৪, ৬-৪, ৭-৫ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন টেনিস র‌্যাংঙ্কিংয়ের দুই নম্বর তারকা ফেদারার।
গত ফ্রেঞ্চ ওপেনে এই সোডার্লিংয়ের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিলেন ফেদারার। এবার শিরোপার পথে প্রথম বাধাটি বেশ ভালোমতোই উতরে গেলেন তিনি। সেমিফাইনালে ফেদারার মুখোমুখি হবেন নোভাক জকোভিচের। গয়েল মনফিলসকে ৭-৬ (৭-২), ৬-১, ৬-২ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন জকোভিচ।
ইউএস ওপেনে টানা চতুর্থবারের মতো মুখোমুখি হবেন ফেদারার ও জকোভিচ। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে অবশ্য এগিয়ে আছেন ফেদারারই। ২০০৭ সালে ফাইনালে আর গত দুই বছর জকোভিচকে সেমিফাইনালে হারিয়েছিলেন ফেদারার। এবারও কি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন ১৬ বারের গ্রান্ডস্ল্যাম বিজয়ী?
জকোভিচ অবশ্য ইউএস ওপেনের পরিসংখ্যান ভুলে গিয়ে স্মরণ করতে পারেন ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের স্মৃতি। সেবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালেই ফেদারারের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলেন জকোভিচ।

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে রাফায়েল নাদাল

প্রথম ইউএস ওপেন জয়ের পথে আরও এক ধাপ এগোলেন রাফায়েল নাদাল। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বদেশি ফার্নান্দো ভার্দাস্কোকে ৭-৫, ৬-৩, ৬-৪ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর এ তারকা।
এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে উঠলেও এখন পর্যন্ত কোনোবারই ফাইনালের টিকিট পাননি নাদাল। প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শনিবার নাদাল মুখোমুখি হবেন রাশিয়ার মিখাইল ওজনির।
২০১০ সালে থেকে এ পর্যন্ত দুটি গ্রান্ডস্ল্যাম জিতেছেন নাদাল। ইউএস ওপেন শিরোপা জিততে পারলে টানা তিনটি গ্রান্ডস্ল্যাম জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ে নাম লেখানোর সুযোগ পাবেন রজার ফেদেরার, পিট সাম্প্রাস ও রড লাভেরের পাশে। তবে এখনো অত দূরে দৃষ্টি নেই টেনিসের এক নম্বর তারকার।
‘আমি সব সময়ই পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিই’, বলেছেন নাদাল।

নাইজেরিয়ায় কারাগারে ‘জঙ্গি’ হামলা, ৮০০ কয়েদির পলায়ন

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাউচি প্রদেশে এক দল বন্দুকধারী একটি জেলখানায় হামলা চালিয়ে প্রায় ৮০০ উগ্রপন্থী মুসলিম কয়েদিকে মুক্ত করে নিয়ে গেছে। সেখানকার বোকো হারাম নামের একটি উগ্রপন্থী ইসলামি গ্রুপ ওই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাউচির প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার দানলামি ইয়ার আদুয়া বলেছেন, গত মঙ্গলবার অজ্ঞাতসংখ্যক বন্দুকধারী জেলখানায় হামলা চালায়। তারা তালা ভেঙে কয়েদিদের নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা জেলখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে।

‘ক্ষমতা ধরে রাখতে ঘুষ দিয়েছেন গিলার্ড’

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাংসদদের দলে ভেড়ানোর জন্য তাঁদের ‘নির্বাচনী ঘুষ’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘মহা চুরি’ (দ্য বিগ স্টিল) শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।
জুলিয়া গিলার্ডের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ টনি অ্যাবোটের সমর্থনকারী ওই পত্রিকা বলেছে, সরকার নির্বাচনী ঘুষের বিনিময়ে কিং মেকার সাংসদদের সমর্থন আদায় করেছে। প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড তাঁকে সমর্থন করার জন্য স্বতন্ত্র সাংসদ রোব ওয়াকেশট এবং টনি উইন্ডসোরের নির্বাচনী এলাকার জন্য ৯০০ কোটি ডলারের যে স্বাস্থ্য বরাদ্দ দিতে চেয়েছেন, সেটাকেই ওই প্রতিবেদনে ‘ঘুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তারা বলেছে, এই অর্থ জনগণের জন্য বরাদ্দ হলেও তার মাধ্যমে ওই দুই সাংসদ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করবেন।
দ্য অস্ট্রেলিয়ান নামের একটি পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়, গিলার্ডের এ সরকার স্বতন্ত্র সাংসদদের স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় করে নাও দেখতে পারে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড সরকারের প্রতি পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে তাঁদের নিজেদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করেছেন।
গত ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড ও তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ টনি অ্যাবোটের নেতৃত্বাধীন উভয় জোট ৭৩টি করে আসন পায়।

পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিছুটা চাপের মধ্যেই এই ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। ওই নির্বাচনে ওবামার দল ডেমোক্রেটিক পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি মার্কিন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক কাজ করছেন।
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে গত সোমবার শ্রম দিবসের শোভাযাত্রায় প্রেসিডেন্ট ওবামা জানান, সড়ক, রেলওয়ে ও বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এর আওতায় দেড় লাখ মাইল সড়ক ও চার হাজার মাইল রেললাইনের উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, এই তহবিলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে শুধু বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগই সৃষ্টি হবে না, দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ওবামা বলেন, ‘আমরা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করব।’
তবে মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে ঘোষণা দিলেও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য ২০১১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
গত শুক্রবার মার্কিন শ্রম বিভাগ প্রকাশিত নতুন তথ্যমতে, দেশটিতে বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ওবামার ওহিও অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার কথা।
প্রেসিডেন্ট ওবামার ওই ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান নেতারা। সিনেটে রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতির উন্নয়নে ডেমোক্র্যাটদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিই প্রকাশিত ধরেছে।
এদিকে এবিসি ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর জরিপে দেখা যায়, ৫৭ শতাংশ মার্কিন সার্বিক অর্থনীতির জন্য ওবামার কাজকে অনুমোদন করেন না। ৫২ শতাংশ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কিছু করছেন না।
জরিপে ডেমোক্র্যাটদের জন্য ইতিবাচক একটি বিষয়ও অবশ্য আছে। এতে দেখা যায়, মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। তবে জরিপে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের পক্ষে ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ৪০ শতাংশের সমর্থন পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ২ নভেম্বর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অবসরের বয়স বৃদ্ধির পরিকল্পনার প্রতিবাদে ধর্মঘটে অচল ফ্রান্স

চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘটে মঙ্গলবার কার্যত অচল হয়ে পড়ে ফ্রান্স। ট্রেন ও বিমান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয় এবং অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ ছিল।
সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার পরিকল্পনা করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি। ২০১৮ নাগাদ এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। অবসরের বয়সসীমা ইউরোপের মধ্যে ফ্রান্সেই সবচেয়ে কম।
ধর্মঘটে পাঁচটি টিজিভি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে তিনটি বন্ধ ছিল। এ ছাড়া রাজধানী প্যারিসে পাতাল রেলসহ রেল চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘটের ফলে প্যারিস থেকে স্বল্পপাল্লার বিমানের এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ববিত হয়। তবে দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলো সময়মতো চলাচল করে।
ধর্মঘট আহ্বানকারী ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। প্যারিসে এত বেশিসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয় যে মিছিল দুই ভাগে বিভক্ত করে দেওয়া হয়।

শান্তিরক্ষীরা কঙ্গোয় গণধর্ষণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে

জাতিসংঘের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, কঙ্গোর ধারাবাহিক গণধর্ষণ ঠেকাতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে সেখানে ২০০ নারী ও শিশু-কিশোর ধর্ষণ ও বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। ঘটনাস্থল ঘুরে এসে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পেশ করা এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খের এ কথা বলেন।
অতুল খের বলেন, প্রাথমিকভাবে যত জন ধর্ষণ ও বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে মনে করা হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার দ্বিগুণেরও বেশি। তিনি বলেন, প্রজাতান্ত্রিক কঙ্গোর নর্দ ও সাদ কিভু প্রদেশের মোট ১৩টি গ্রামে রুয়ান্ডার হুতু বিদ্রোহীগোষ্ঠী এফডিএলআর এবং পূর্ব কঙ্গোর মাই মাই গেরিলারা হানা দেয় বলে বিভিন্ন সূত্র তাঁদের নিশ্চিত করেছে।
অতুল খের বলেন, শুধু দক্ষিণ কিভু প্রদেশের মিকি গ্রামেই তারা গত দুই মাসে ৭৪টি হামলা চালিয়েছে। সেখানে যারা ধর্ষণ ও বলাৎকারের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে সাত বছরের শিশু-কিশোরও রয়েছে।
অতুল খের বলেন, প্রাথমিকভাবে এ গণধর্ষণের দায় কঙ্গো সরকারের ওপর বর্তালেও জাতিসংঘকেও ব্যর্থতার দায় স্বীকার করতে হবে।
শান্তিরক্ষা মিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে অতুল খের বলেন, ‘কঙ্গো সরকারের পাশাপাশি পরিষ্কারভাবে আমরাও ব্যর্থ হয়েছি। সেখানে আমাদের যথাযথ তৎপরতা না থাকায় এ পাশবিক ঘটনা ঘটেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী ও শিশুদের জন্য নিজেকে অপরাধী মনে করছি।’
অতুল খের বলেন, মাই মাই গ্রুপের নেতা কর্নেল মাইয়েলে এবং এফডিএলআরের নেতা কর্নেল সেরাফিমের বিরুদ্ধে এসব ধর্ষণের ঘটনায় মদদ জোগানোর সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার আহ্বান জানান।
প্রজাতান্ত্রিক কঙ্গো সরকার জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের আরও বেশি প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘের অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০০৯ সালেই কঙ্গোতে কমপক্ষে আট হাজার ৩০০ ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

রাশিয়ার জাদুঘর থেকে আড়াই লাখ নিদর্শন খোয়া গেছে

রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলেছে, সে দেশের জাদুঘরগুলো থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ নিদর্শন খোয়া গেছে। মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ লিউবোভ মোলখানোভা গত তিন বছরের একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন।
মোলখানোভা বলেছেন, তাঁরা সমগ্র রাশিয়ার এক হাজার ৮৮১টি, অর্থাৎ দেশের ৯৭ শতাংশ জাদুঘরের নিদর্শনের ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারা দেশের জাদুঘর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে দুই লাখ ৪২ হাজার নিদর্শন খোয়া গেছে। এর মধ্যে সাড়ে ২৪ হাজার নিদর্শন খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন সময় সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। বাকি দুই লাখ ১৯ হাজার নিদর্শন ‘অজ্ঞাত কারণে’ হারিয়ে গেছে।
মোলখানোভা বলেন, জাদুঘর থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা নিদর্শন নিয়ে তা আর ফেরত না দেওয়া এসব খোয়া যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ।

ক্যামেরনের বাবার মৃত্যু

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাবা আয়ান ক্যামেরন (৭৭) গতকাল বুধবার ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অবসর কাটাতে তিনি সস্ত্রীক ফ্রান্সে গিয়েছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ডেভিড ক্যামেরন ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে টুলোঁ নামের ওই হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তাঁর বাবা মারা যান। আয়ান ক্যামেরন ব্রিটিশ শেয়ারবাজারের একজন সফল ব্রোকার ছিলেন। বাবার মৃত্যুতে ডেভিড ক্যামেরন তাঁর পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

‘শত্রুসম্পত্তি’ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিল উঠছে পার্লামেন্টে

‘শত্রুসম্পত্তি’ নিয়ে এবার পূর্ণাঙ্গ বিল আসছে ভারতের পার্লামেন্টে। নভেম্বরে শীতকালীন অধিবেশনে এই বিল পেশ করা হবে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে শত্রুসম্পত্তি নিয়ে প্রথমে অধ্যাদেশ আনার প্রস্তাব উঠলে তা বাতিল হয়ে যায়।
গত ৩০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ করার উদ্যোগ নেয়। এ সময় প্রতিবাদ জানান সমাজবাদী পার্টির প্রধান মুলায়ম সিং যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান লালু প্রসাদ যাদবসহ বিজেপির নেতারা। লালু ও মুলায়ম সিং অভিযোগ করেন, এই বিলে সংখ্যালঘু মুসলিমদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে।
ভারত ভাগের পর যেসব ভারতীয় মুসলিম তাঁদের সম্পত্তি ফেলে পাকিস্তান চলে যান, তাঁদের সম্পত্তি শত্রুসম্পত্তি বলে পরিচিত। এসব সম্পত্তি এখন ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। ভারতে এ ধরনের দুই হাজার ১৬৮টি সম্পত্তি রয়েছে।

কারিগরি অদক্ষতাই বিস্ফোরণের কারণ

মেক্সিকো উপসাগরে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের জন্য ব্রিটিশ তেল কোম্পানি বিপির কারিগরি ও জনবলের অদক্ষতাকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এক তদন্ত প্রতিবেদনে গতকাল বুধবার এ কথা বলা হয়েছে।
তেলক্ষেত্রের ওই বিস্ফোরণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল বিপর্যয়ের ঘটনা। এতে ১১ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়। প্রায় ৪৯ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইপলাইনের ত্রুটিপূর্ণ জোড়া, তেলের চাপ নির্ণয়ে ব্যর্থতা এবং বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিল পাস

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে গতকাল বুধবার সংবিধান সংশোধনবিষয়ক একটি বিতর্কিত বিল পাস হয়েছে। এই বিল পাসের সুবাদে প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন। দেশটির সরকার পরিচালিত টেলিভিশনে গতকাল এ কথা বলা হয়।
বিলটি পাস হওয়ার পর এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে না পারার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টে বিলটির পক্ষে ১৬১টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে। বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন ছিল। প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে মাহিন্দা রাজাপক্ষের ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। রাজাপক্ষে ও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীরা যতবার খুশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন এবং নির্বাচনগুলোর আয়োজনের দায়িত্বও থাকবে তাঁদের ওপর।
বিরোধী দল এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, এ বিল আইনে পরিণত হলে শ্রীলঙ্কায় গণতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হবে।
প্রধান বিরোধী দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) বলেছে, এ বিলটি পাসের ফলে দেশে একনায়কতন্ত্র চালু হবে। বিলটির প্রতিবাদে ইউএনপির এমপিরা গতকাল পার্লামেন্টের বাইরে মিছিল করেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশনায় বলা হয়, এক ব্যক্তির পরপর তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়াসংক্রান্ত সংবিধানের সংশোধনীটি পার্লামেন্টেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে পাস করা যাবে। সুপ্রিম কোর্টের এ নির্দেশনা পাওয়ার এক দিন পরই বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপিত ও পাস হলো। রাজাপক্ষের মন্ত্রিসভা গত সপ্তাহে প্রস্তাবিত এ সংবিধান সংশোধনী বিলটি অনুমোদন করে।
রাজাপক্ষে এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০১৬ সালে তাঁকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু সংশোধনী পাস হওয়ায় এখন তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
রাজাপক্ষে ২০০৫ সালে প্রথমবার ক্ষমতা আসেন।

রাশিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত ২০

রাশিয়ার দক্ষিণের শহর ভ্লাদিকাভস্কোয় বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় একজন সরকারি কর্মকর্তা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অনেকেই বলছে এটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হতে পারে।
উত্তর ওসেথিয়া অঞ্চলের প্রধান শহর ভ্লাদিকাভস্কো। এ শহরের কেন্দ্রের একটি মার্কেটের পাশেই এ বিস্ফোরণ ঘটে।

তিব্বতি শরণার্থীদের চীনের হাতে তুলে দিচ্ছে নেপাল

নেপাল সরকারের বিরুদ্ধে সে দেশে অবস্থানরত তিব্বতি শরণার্থীদের আটক করে চীনের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নেপালে কর্মরত বিভিন্ন তিব্বতি মানবাধিকার সংস্থা কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
গত জুন মাস থেকেই নেপাল তিব্বতি শরণার্থীদের ধরতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। জুনেই ৩৩ জন তিব্বতি শরণার্থীকে নেপাল সরকার চীনের হাতে তুলে দেয়। সম্প্রতি চীন নেপালকে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার সাহায্য দেওয়ার পরপরই তিব্বতি শরণার্থীদের ব্যাপারে নেপাল সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেই ১৫ লাখ ডলার চীন তিব্বতি শরণার্থীদের ব্যাপারে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য নেপালকে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
এদিকে ভারত সরকার তিব্বতি শরণার্থীদের ব্যাপারে নেপালের অবস্থানে উদ্বিগ্ন হলেও এখনই এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেবে না বলে জানা গেছে। তবে ভারতীয় সরকারি মহল মনে করে, তিব্বতি শরণার্থীদের ব্যাপারে নেপাল সরকার যা করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি ও অন্যতম বিশ্ব পরাশক্তি চীনের প্রভাব বৃদ্ধিরই আরেকটি উদাহরণ।

ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চাই: চীন

চীন বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটি ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
‘চীন এশিয়ায় আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই এ ব্যাপারে ভারতের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।’ গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের এই উক্তির জবাবে গতকাল বুধবার দেশটি তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
চীন দক্ষিণ এশিয়ায় একটি জায়গা করে নিতে চাইছে—টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত মনমোহনের এই মন্তব্য ব্যাখ্যা করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ বলেন, চীন দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতসহ এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর স্বার্থে কাজ করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘অভিন্ন উন্নয়ন ইস্যুতে চীন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করতে পারে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উন্নত দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চাই।’
ভারত ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলেও কাশ্মীর সীমান্ত নিয়ে বিরোধ অমীমাংসিত থাকায় দেশ দুটির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত চীন সম্পর্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্তব্য এই সম্পর্ককে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মনমোহন বলেন, ‘চীন দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। আর এ ক্ষেত্রে দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরকে ব্যবহার করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘দেশটি কোন পথে এগোবে, তা বোঝা খুবই কঠিন। তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’
ভারত ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে গত মঙ্গলবার রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, চীন গত মাসে ভারতের এক জেনারেলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই জেনারেল বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর এলাকায় কর্মরত। এ ঘটনায় দিল্লি চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছিন্ন করে। একটি প্রতিরক্ষা সূত্র ও স্থানীয় গণমাধ্যম এ কথা জানায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬২ সালে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর উভয় দেশের সীমান্তের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন থেকে সামরিক কর্মকর্তাদের যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বেইজিং দশকের পর দশক ধরে কাশ্মীরে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা বজায় রাখলেও ভারত সেখানে ২০ বছর ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের জন্য নয়াদিল্লি বরাবর পাকিস্তানকে দায়ী করে থাকে।
ভারত কাশ্মীরকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে আসছে। এ রকম একটি অঞ্চলকে বিরোধপূর্ণ বলা যেকোনো বিদেশি শক্তির কাছে সত্যিই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এ অঞ্চলকে পাকিস্তানও নিজেদের বলে দাবি করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি চীনের উদ্বেগের একটি কারণ। অনেক বিশ্লেষক ২০০৮ সালে সম্পাদিত ওই বেসামরিক পরমাণু চুক্তিকে এই দুটি দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ওই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের পরমাণু অচলাবস্থা কেটে যায়। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিং পাকিস্তানকে একটি নতুন পরমাণু চুল্লি নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীন-ভারত উভয়ই নিজেদের বিকাশমান অর্থনীতি জোরদার করে তুলতে বর্তমানে জ্বালানির মতো বৈশ্বিক সম্পদ আহরণের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

রাষ্ট্রের ব্যর্থতায় দশ বছরে ৪০ লাখ শিশুর মৃত্যু

দরিদ্রদের রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে বিশ্বে গত ১০ বছরে এমন প্রায় ৪০ লাখ শিশু মারা গেছে, যাদের বাঁচানো যেত। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এ কথা জানিয়েছে।
এ ছাড়া, ধনী ও দরিদ্র শিশুদের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, চরম দরিদ্র শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এ ছাড়া, সংঘাতময় অঞ্চলে শিশুরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়।
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের দুই সপ্তাহ আগে শিশুদের দুরবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগজনক এ ধরনের দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। দুটি প্রতিবেদনেরই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো দেশকে সহযোগিতা দেওয়া মানে এই নয় যে, এতে অনেক শিশুর জীবন বাঁচবে।
এমডিজির অন্যতম লক্ষ্য, জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ১৯৯০ সালের ৯০ জন থেকে ৬৫ জনে নামিয়ে আনা। ২০০০ সালে গৃহীত এমডিজির লক্ষ্যগুলো ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জনের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাব সাহারা অঞ্চলের মতো অনেক এলাকায় এখনো শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। সাব সাহারায় প্রতি সাত জনের মধ্যে একজন শিশু জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে মারা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুর কারণ ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও কলেরার মতো অসুস্থতা, যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।
সেভ দ্য চিলড্রেনের চার্লি ম্যাককারম্যাক জানিয়েছেন, শিশুদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁরা এখন বড় বড় আধুনিক হাসপাতাল এবং শহরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ওই সব এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন। এর জন্য ব্যয় কম হবে কিন্তু অধিকতর ফল পাওয়া যাবে। যদিও এ জন্য আরও বেশি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংস্থার নতুন নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেকি বলেন, ‘এটি ইউনিসেফের নতুন কৌশল। সম্পদ যাতে সবচেয়ে বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।’

পাক-আফগান কৌশল নিয়ে ওবামা-অ্যান্ডার্স বৈঠক

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে ন্যাটোর মহাসচিব জেনারেল অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে এ আলোচনা হয়। এদিকে রাসমুসেন আশা প্রকাশ করে বলেছেন আগামী বছরের যেকোনো সময় থেকে ন্যাটো আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ শুরু করবে।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানবিষয়ক যৌথ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন ওবামা ও রাসমুসেন। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’
বৈঠকে বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষ করে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি ন্যাটোর ৫০ হাজার সেনা মোতায়েনের জন্য রাসমুসেনকে ধন্যবাদ জানান ওবামা।
আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর পর্তুগালের লিসবনে ন্যাটো সম্মেলনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। এই আলোচনায় একুশ শতকের উপযোগী করে ন্যাটোর কাঠামো সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে আমাদের জন্য বড় সমস্যা হলো আল-কায়েদা ও তাদের কট্টরপন্থী সমর্থকদের আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসা ঠেকানো। এটা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নয় বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এটা করা দরকার।’
আফগানিস্তানের দায়িত্ব হস্তান্তর আগামী বছর শুরু: এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব বলেছেন আগামী বছরের যেকোনো সময় থেকে তারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব সেদেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ কথা বলেন।
রাসমুসেন বলেন, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আগামী নভেম্বরে আয়োজিত ন্যাটোর সম্মেলনে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দেশটির দায়িত্ব হস্তান্তর-সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি ওই সময়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রকাশ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তবে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কবে নাগাদ দায়িত্ব হস্তান্তর শুরু হবে, এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি তিনি।
ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে বৈঠকে আফগানিস্তানে মার্কিন কৌশল বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রাসমুসেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ওবামা লিসবন সম্মেলনে ন্যাটোর সংস্কার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় লাখ সেনা রয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী বছরের জুলাইয়ে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণায় কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ধর্মীয় সংগঠনের কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণার তীব্র নিন্দা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ধর্মযাজক রেভারেন্ড টেরি জোনসের পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় এ প্রতিক্রিয়া জানালেন স্টিফেন হার্পার।
স্টিফেন হার্পার বলেন, ‘খ্রিষ্টান ধর্ম সহনশীল, প্রতিটি মানুষেরই তাঁর নিজস্ব ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের ধর্মের ব্যাপারে আমি খুব একটা বলতে পছন্দ করি না। তবে জোর দিয়ে বলতে চাই, আমার সৃষ্টিকর্তা যিশু খুবই সহনশীল এবং এই সহনশীলতা নিয়েই আমি বাঁচতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী হার্পার বলেন, ‘কানাডায় আমরা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছি এবং তা সম্ভব হয়েছে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার জন্য।’
কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ম্যাককেও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নাইন ইলেভেনের নবম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য এ রকম প্রস্তুতি কানাডার মুসলিমসহ অন্যান্য জাতির ধর্মীয় বিশ্বাস ও চিন্তার স্বাধীনতার প্রতি হুমকি ও ঘৃণার জন্ম দেবে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে যুদ্ধরত কানাডার সেনারা ইসলাম ও ইসলামি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়; বরং ধর্মকে পুঁজি করে যারা সন্ত্রাসের সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ফ্লোরিডার গেইনস ভিলের ‘ওয়ার্ল্ড আউট রিচ সেন্টার’ নামের চার্চে রেভারেন্ড টেরি জোনস নাইন ইলেভেনের ঘটনার প্রতিবাদে আগামী শনিবার ২০০ কপি পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণা দেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডায়ও বিতর্কের ঝড় ওঠে।

‘ভারতের প্রতি তিনজনের একজন দুর্নীতিবাজ’

প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারতীয় পুরোপুরিভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। অর্ধেক সৎ ও অসতের মাঝামাঝি পর্যায়ে যারা রয়েছে, তারা সুযোগ পেলেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে। দেশটির দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ সংস্থার বিদায়ী প্রধান প্রত্যুষ সিনহা এ কথা বলেছেন।
গত বৃহস্পতিবার মিনট পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে প্রত্যুষ সিনহা বলেন, ভারতে ক্রমাগতভাবে সম্পদ বেড়ে চলেছে। আর এটাই হচ্ছে দুর্নীতি বৃদ্ধির মূল কারণ।
প্রত্যুষ সিনহা বলেন, তাঁর প্রশংসাহীন কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো, ভারতে কীভাবে দুর্নীতি বাড়ছে এবং লোকজন কীভাবে ক্রমাগত বস্তুবাদী হয়ে উঠছে সেটি পর্যবেক্ষণ করা।
সাক্ষাৎকারে সিনহা আরও জানান, আধুনিক ভারতে যার প্রচুর সম্পদ আছে সেই সমাজে সম্মানিত। কিন্তু কেউ জানতে চায় না এ সম্পদ সে কীভাবে অর্জন করল।
দুর্নীতি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিনহা বলেন, ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে সমাজের সবাই তাকে ঘৃণা করত। দুর্নীতির ব্যাপারে সমাজের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তখন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরত। ওই দিন এখন আর নেই। এখন সমাজে দুর্নীতিগ্রস্তদের এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা আছে, যা এটিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিনহা জানান, এত দুর্নীতি সত্ত্বেও ভারতের ২০ শতাংশ লোক এখনো সৎ, যারা লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সূচকে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্টের মধ্যে ভারত ৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার ৮৪তম স্থানে অবস্থান করছে। এ তালিকায় ১ দশমিক ১ পয়েন্ট পেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে সোমালিয়া। এতে ৯ দশমিক ৪ পয়েন্ট পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মর্যাদা পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। এএফপি।
সবচেয়ে খাটো মানুষ নেপালের খগেন্দ্র!

চীন-ভারত কূটনৈতিক টানাপোড়েনের নেপথ্যে

চীন ও ভারতের মধ্যে হু হু করে বাণিজ্য বাড়ছে। কিন্তু নানা কারণে দেশ দুটির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এর জন্য দায়ী দেশ দুটির মধ্যে বিরাজমান সীমান্ত সমস্যা, কাশ্মীর ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা।
কাশ্মীর নিয়ে গত মাসে চীন ভারতের একজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাকে তাদের দেশে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি চীনের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছিন্ন করে।
অতীতেও দেশ দুটির মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক খুব যে ভালো ছিল তা-ও নয়। ১৯৬২ সালে চীন ও ভারতের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সীমান্ত-যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধের পর দেশ দুটির মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময়ে দেশ দুটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক সফরও বেশ কমই হয়েছে। তবে নিম্নপর্যায়ে কিছু সফর হয়েছে।
চীন কয়েক দশক ধরেই কাশ্মীর বিষয়ে বেশ নমনীয় ভূমিকা পালন করে আসছিল। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ছিল একবারেই ভিন্ন। ভারতীয় সেনাবাহিনী গত ২০ বছর ধরে কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে এবং কাশ্মীর অশান্ত করার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। তবে গত বছর চীন কাশ্মীর বিষয়ে একটু আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করার ইঙ্গিত দেয়। তারা কাশ্মীরের অধিবাসীদের ভিন্ন ভিসা দিতে শুরু করে। এ বিষয়টিকে ভারত মোটেও ভালোভাবে নেয়নি।
ভারত কাশ্মীরকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করে। এ ভূখণ্ডের ব্যাপারে বিদেশি যেকোনো রাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপকে তারা নেতিবাচক হিসেবেই দেখে থাকে। কাশ্মীরকে পাকিস্তানও নিজেদের বলেই দাবি করে আসছে।
চীনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ দালাই লামা। তিব্বতের এই ধর্মগুরুকে ভারত আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে চীন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। ১৯৫০ সালে দালাই লামা পালিয়ে ভারতে চলে আসেন। দালাই লামাকে চীন একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলেই মনে করে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, দালাই লামা ভারতের হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত ধর্মশালায় আস্তানা গেড়ে চীনের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সচল রাখছে।
গত বছর ভারত দালাই লামাকে দেশটির সীমান্তবর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ সফরের অনুমতি দেওয়ায় চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এ ছাড়া এই বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ওই রাজ্য সফর করেন। মনমোহন সিংয়ের অরুণাচল সফরের পর বেইজিং তাঁর সমালোচনা করে। বেইজিংয়ের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এ অঞ্চলে আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অরুণাচল নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং এ দ্বন্দ্ব নিরসনের ব্যাপারে দেশ দুটি ঐকমত্যের কাছাকাছি রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের একটা বড় অংশ চীন নিজের বলে দাবি করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ককেও চীন খুব ভালোভাবে নিচ্ছে না। তারা এ নিয়ে বেশ চিন্তিত। ২০০৮ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি হয়েছে, সেটাকেই অনেক বিশ্লেষক দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন। এ চুক্তি একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে; অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের অবনতির কারণ হয়েছে। দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই পরমাণু সহযোগিতা চুক্তিকে বেইজিং এ অঞ্চলে তাদের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে দাঁড় করানো একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও ভারতের চির শত্রু পাকিস্তানকে একটি নতুন পরমাণু চুল্লি নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।
ভারত ও চীনের মধ্যে বৈশ্বিক সম্পদ আহরণ নিয়েও তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিশেষ করে দেশ দুটি তাদের অগ্রসরমাণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য জ্বালানি সম্পদ আহরণের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
এ ছাড়া ইদানীং চীন দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ আধিপত্য বিস্তারের কৌশল হিসেবে তারা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে। আর এ নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্রতর হয়েছে। চীন শুধু ভারতের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকেই অর্থনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে না; বরং বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের সঙ্গেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর নির্মাণে সহায়তা করছে চীন। এর মাধ্যমে চীন ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে একটি বন্দর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এ দেশগুলো একসময় ভারতের প্রভাব বলয় হিসেবেই চিহ্নিত হতো। কিন্তু চীনের এ কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত আশঙ্কা করছে, বেইজিং এ অঞ্চলে তাদের প্রভাব কমাতে কাজ করছে। তবে অনেক ভারতীয় কর্মকর্তা এ সন্দেহকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছেন।

তালেবানদের শান্তি আলোচনায় কারজাইয়ের আহ্বান

আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই আজ শুক্রবার তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরকে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
হামিদ কারজাই বলেন, ‘আমরা আশা করি, মোল্লা মোহাম্মদ ওমর আখুন্দ বোমা বিস্ফোরণ বন্ধ করে এবং আফগানিস্তানের শিশু, নারী-পুরুষ হত্যা বন্ধসহ শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন।’

যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি : ওবামা

চরম বিভক্তি ও চাপা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াল ১১ সেপ্টেম্বরে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার নবম বার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কোন ধর্মের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেনি। আল কায়দার মত বিপৎগামী জঙ্গিরা এ হামলার জন্য দায়ী। বারাক ওবামা এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সহনশীল এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবারের মতো এবারও ১১ সেপ্টেম্বর নিহতদের স্মরণ করার জন্য ব্যাপক আয়োজন ছিল। সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে গ্রাউন্ড জিরো এলাকায়। একে একে নিহতদের নাম পাঠ করেন অশ্রুসিক্ত স্বজনেরা। গ্রাউন্ড জিরো সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি একটি ইসলামি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। এবারের ১১ সেপ্টেম্বরের স্মরণসভায় এ বিতর্কের চিত্র ফুটে ওঠে। গতকাল নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করতে আসা মানুষের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেছে। একপক্ষ ইসলামিক সেন্টার নির্মাণকে নিহতদের প্রতি অবমাননা বলে শ্লোগান দিতে থাকে। ব্যাপক পোস্টার-লিফলেট নিয়ে এ দলটি উপস্থিত হয় গ্রাউন্ড জিরো এলাকায়। অপরদিকে ইসলামিক কেন্দ্র স্থাপনের সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার কোন যোগসূত্র নেই- এমন বক্তব্য নিয়ে ছিল অন্যপক্ষের অবস্থান। শক্ত পুলিশি বাধার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনাকর উপস্থিতি ছিল শনিবারের স্মরণসভায়।
উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তধর্মীয় সহিষ্ণুতার জন্য প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দেশবাসীর সম্প্রতি কয়েক দফা আহ্বান জানিয়েছেন। সব ধর্মের সব মতের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যে দেশটির প্রতিষ্ঠা; সেখানে কোনো ধর্মের ওপর আক্রমণ করার অবকাশ নেই- এমন কথা কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যদিও প্রভাবশালী রক্ষণশীলদের উসকানি প্রদান অব্যাহত রয়েছে। রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পলিন, সাবেক স্পীকার নিউই গিংগ্রীচও ইসলামী কেন্দ্র স্থাপনের বিপক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখছেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১৯ জন জঙ্গি চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর পরই সন্ত্রাসীরা দুটি বিমান নিয়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলা চালায়। এতে বিমানদুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং মাটিতে মিশে যায় বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের বিশাল ভবনটি। একটা বিমান নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে পেন্টাগনের একাংশের ক্ষতি হয়। অপর বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার বিধ্বস্ত হয়।

আবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হতে পারবো: মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ আবারো রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, তিনি আবারও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন। পারভেজ মোশাররফ গতকাল শুক্রবার লন্ডনে বিবিসি রেডিওকে বলেন, তিনি নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।
তিনি আরো বলেছেন, আগামী নির্বাচনের আগেই তিনি দেশে ফিরবেন। তবে পাকিস্তানে তাঁর জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলায় তিনি ভীত নন। পাকিস্তানকে শোচনীয় পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তিনি জোর চেষ্টা চালাবেন।

তুরস্কের গণভোটে সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব জয়ী

তুরস্কের সংবিধান সংস্কারের ওপর গৃহীত গণভোটে জয়ী হয়েছে সরকারি দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। ৫৮ শতাংশ ভোটার এই সংবিধান সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোগান বলেছেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা গণতান্ত্রিক উৎসবের দিন। দেশের মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সংবিধান সংশোধনীর জন্য আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আশা করি, এটা দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’ শিগগিরই সরকার নতুন সংবিধান রচনার কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
১৯৮০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তুরস্কের বর্তমান সংবিধান রচিত হয়েছিল। নাগরিক অধিকার বৃদ্ধি ও সামরিক ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অনেক দিন ধরেই তুরস্ককে সংবিধান সংশোধনীর জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিল।
তুরস্কের বিচার বিভাগ অনেকগুলো আইন পাস করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে অভিযোগ করে সরকারি দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বলেছে, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে বর্তমান সংবিধান সংশোধন করাটা জরুরি।
এদিকে সরকারের এই সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলো। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার আরও বেশি ক্ষমতা দখল করতে চায় বলে দাবি করেছে তারা।
বিশ্লেষকেরা এই গণভোটকে সরকারি দলের প্রতি জনগণের সমর্থনের স্মারক হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। ২০০২ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে একেপি।
তুরস্কের সংবিধান সংশোধনের পক্ষে গণভোটের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপিয়ান কমিশন।

ছত্রিশগড়ে থানায় আক্রমণ, ঝাড়খন্ডে ট্রেনলাইনে বিস্ফোরণ

মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের মুখপাত্র চেরুকুরি রাজকুমার ওরফে আজাদের হত্যার প্রতিবাদে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার বনধ আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।
আজাদ হত্যার প্রতিবাদে এবং এই হত্যার রহস্য তদন্তের জন্য তিনজন সাবেক বিচারপতির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করার দাবিতে মাওবাদীরা এই ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ্ ডেকেছে।
এই বনধ পালিত হচ্ছে মাওবাদী অধ্যুষিত ছয়টি রাজ্য এবং মহারাষ্ট্রের মাওবাদী অধ্যুষিত গড়চিরৌলি, চন্দ্রপুর ও ভান্ডারা জেলাসহ মধ্য প্রদেশের মাওবাদী অধ্যুষিত বালাঘাট জেলায়। আর রাজ্য ছয়টি হলো—অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ।
আজ প্রথম দিন পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার জঙ্গলমহলে বনেধর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আজ সকালে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া জেলার ভিজ্জি পুলিশ স্টেশনে একদল মাওবাদী অতর্কিত হামলা চালায়। এতে থানার দুজন পুলিশ কর্মী মারা যান। পুলিশের দাবি, তাদের পাল্টা হামলায় কয়েকজন মাওবাদীও নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটা জানা যায়নি। দুই ঘণ্টা গোলাগুলি শেষে মাওবাদীরা পালিয়ে যায়।
আজ এ রাজ্যের কাংকের জেলার জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
মাওবাদীরা আজ ভোররাতে ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার কর্মভাদ স্টেশনের কাছে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তিন ফুট রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে একটি মালগাড়ির ক্ষতি হয়েছে। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন স্টেশনে কলকাতা অভিমুখী দুটি, রাজধানী এক্সপ্রেস, আরও কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনসহ অন্তত ৩০টি ট্রেন আটকা পড়েছে।
গতকাল রোববার মাওবাদীরা পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের নাচুপাটিনা গ্রামে সিপিএমের পাঁচ সমর্থককে হত্যা করেছে। রাতে মাওবাদীদের একটি বড় স্কোয়াড দুটি বাড়িতে গিয়ে পাঁচজনকে বাড়ি থেকে বের করে গুলি করে হত্যা করে। এ ছাড়া তারা রোববার ভোরে লোধাশুলির সিপিএম কার্যালয় মাইন বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। পুলিশ আজ পুরুলিয়া থেকে দুই মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করেছে।

কিশোরগঞ্জে ঈদের আগে বিউটি পারলারেও ভিড়

ঈদ সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের বিউটি পারলারগুলোতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে পারলারকর্মীদের। কিশোরী-তরুণী থেকে বিভিন্ন বয়সীর গৃহিণীরা পারলারগুলোয় ভিড় করছেন নিজেদের পরিপাটি ও সুসজ্জিত করার জন্য।
ভ্রু-প্লাক, বিভিন্ন ধরনের হেয়ার কাট, পার্টি মেকআপ, খোঁপার চুল সেটিং, ফেসিয়াল, ব্লিচ, বোলার, স্টেট পাম্প, মেহেদি থেকে শুরু করে নাক-কান ফোঁড়ানোর কাজটিও পারলার থেকে করিয়ে নিচ্ছেন নারীরা। বর্তমানে জেলা শহরে ২০ থেকে ২৫টি বিউটি পারলার গড়ে উঠেছে।
পারলারকর্মী নাফিজা রহমান জানান, ঈদ সামনে রেখে তাঁদের হাতে প্রচুর কাজ। তিনি আরও জানান, ভ্রু-প্লাক ২০ টাকা, স্টেপ কাট ৮০ টাকা, ইউ কাট ৬০ টাকা, পার্টি মেকআপ ২৫০ টাকা, কেয়ার পালিশ ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, খোঁপা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, চুল সেটিং ৬০ থেকে ১৫০ টাকা, ফেসিয়াল ১২০ থেকে ৩০০ টাকা, মেহেদি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কান ফোঁড়ানো ৩০০ টাকা ও নাক ফোঁড়ানো ২০০ টাকায় করা হচ্ছে।
গৃহিণী মেহেরিমা বলেন, ‘ভ্রু-প্লাক ও চুল সেটিং করতে এসেছি। ঈদের আগে নিজেকে একটু পরিপাটি করতে এগুলোর প্রয়োজন হয়।’
আঁচল বিউটি পারলারের মালিক মাহফুজা চৌধুরী জানান, তাঁদের ব্যবসা ভালো। তিনি তাঁর প্রধান বিউটিশিয়ানকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতন দিচ্ছেন।
অন্য রকম বিউটি পারলারের ব্যবস্থাপক সেলিনা ইয়াসমিন কাকলী জানান, বিউটি পারলারগুলো একটু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়ে উঠতে পারে মেয়েদের কর্মসংস্থানের প্রধান মাধ্যম।
পারলার নারীদের অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের একটি ইতিবাচক দিক বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ উইমেন চেম্বারের সভানেত্রী নায্মুন নাহার।

মিশ্র প্রবণতায় শেষ হলো শেয়ারবাজারের লেনদেন

ঈদের ছুটির আগে শেয়ারবাজারে গতকাল বুধবার ছিল শেষ লেনদেন। টানা চার দিন ছুটির পর আগামী সোমবার থেকে লেনদেন আবার চালু হবে।
শেষ দিনে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন কিছুটা মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান দুটি সূচকই কমেছে। অবশ্য সিএসইতে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গঠিত সিএসই-৩০ সূচক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে সূচক বাড়লেও গতকাল দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। তার পরও সূচক বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে ধারার বিপরীতে হঠাৎ করেই ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের মূল্য উল্লম্ফন। অন্তত গতকালের বাজার সম্পর্কে বিশ্লেষকদের সেটাই ধারণা। এর বাইরে মিউচুয়াল ফান্ডের দামেও ছিল ঊর্ধ্বগতি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ারে ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস থেকে আর্থিক সমন্বয়-সুবিধা বা নেটিং ফ্যাসিলিটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ ব্যাংকিং খাতসহ হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানি নেটিংসুবিধার বাইরে চলে যাবে।
অর্থাৎ, হাতে থাকা কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে লেনদেন নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত বিক্রিলব্ধ টাকা দিয়ে অন্য কোম্পানির শেয়ার কেনা যাবে না। তার মানে বিক্রির পর ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ার কিনতে একজন বিনিয়োগকারীকে কোম্পানিভেদে চার থেকে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই ঋণ পাওয়া যায় এবং নেটিংসুবিধা রয়েছে, এমন কোম্পানির দিকেই ঝুঁকবে।
গতকালের বাজারের লেনদেনের গতিপ্রকৃতি দেখে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে বলে জানান বিশ্লেষকেরা।
বর্তমানে যেসব কোম্পানির আয় অনুপাতে মূল্য বা পিই ৪০ পয়েন্টের বেশি, সেসব কোম্পানি ঋণসুবিধা পায় না। এ ছাড়া ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত কোম্পানি এবং তালিকাভুক্তি বা শ্রেণী পরিবর্তনের মেয়াদ এখনো ৩০ কার্যদিবস অতিক্রম করেনি, এমন কোম্পানি ঋণসুবিধার বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০টি কোম্পানি ঋণ ও নেটিংসুবিধা পাবে না।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারের গড় পিই ২৬ পয়েন্টের মতো। আর ব্যাংকিং খাতের গড় পিই এর প্রায় অর্ধেক। পিই তুলনামূলক কম হওয়ার পরও প্রায় দুই মাস সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকিং খাতের শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন।
এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে তারল্যপ্রবাহ কমাতে এসইসি একাধিক পদক্ষেপ নেয়। একেক সময় একেক ধরনের পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় সব ধরনের বিনিয়োগকারী ঋণবহির্ভূত স্বল্প মূলধনের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাই ঋণসুবিধা থাকার পরও অপেক্ষাকৃত বড় মূলধনের হওয়ায় ব্যাংকিং খাত জৌলুশ হারায়। এখন আবার ঋণসুবিধাবহির্ভূত কোম্পানিতে নেটিং বন্ধ হওয়ায় নতুন করে এ খাতে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার পরিস্থিতি: ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে বেড়ে ছয় হাজার ৮০৭ পয়েন্ট হয়েছে। লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা বেশি। তবে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭৩টির দামই কমেছে। বেড়েছে মাত্র ৮১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৮ পয়েন্ট কমে ২০ হাজার ১৭৮ পয়েন্ট হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৫৫ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম কমেছে ১১৮টির ও বেড়েছে ৭২টির।

ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংকপাড়ায় ছিল নীরবতা

ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়া মতিঝিলের ব্যস্ততা মোটেও ফুটে ওঠেনি। যানবাহনের আনাগোনা ছিল যেমন কম, তেমনি সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম। সব মিলে শুনশান নীরবতার মধ্যে আজ সোমবার অতি পরিচিত ব্যস্ত অফিসপাড়া মতিঝিলকে যেন ঠিক চেনাই যাচ্ছিল না।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় বেলা ১১টার দিকে টাকা তোলার একটি কাউন্টারের মাত্র একজন লোক দেখা গেল। এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী সপ্তাহের আগে পুরোপুরি কর্মব্যস্ততা ফিরে আসবে না ব্যাংকপাড়ায়। আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি সকালে মিরপুরের পল্লবী থেকে মাত্র ২৫ মিনিটে অফিসে পৌঁছেছেন। এমনটা তিনি সাধারণ সময়ে ভাবতেই পারতেন না।
শাপলা চত্বরের সামনে গাড়ি চলাচল করছে ঠিকই, তবে বেশি গাড়ি না থাকায় অতি সহজেই বাঁক নিতে পেরেছে যেকোনো পরিবহন। লাগোয়া সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়েও গ্রাহক তেমন চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার কাউন্টারগুলো এক রকম শূন্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। উপস্থিত অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কোলাকুলি করেই বেশি সময় কাটিয়েছেন।
বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির হারও ছিল অনেক কম। ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে অনেকে ছুটি নিয়ে গ্রামে বেড়াতে গেছেন।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক কমেছে ১০.৭৬ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাধারণ মূল্যসূচক ও আর্থিক লেনদেন দুই-ই কমেছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ১০ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭৯৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে।
এদিকে আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৭৬ কোটি টাকা কম।
আজ লেনদেন হওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫০টির, কমেছে ৯১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
আজও আগের দিনের মতো লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিএসআরএম স্টিল। এ ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা অপর তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ফাইন ফুডস লিমিটেডের। এ ছাড়া সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও সায়হাম টেক্সটাইল দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—বিডি অটোকারস, আইসিবি, সোনালী আঁশ, সাফকো স্পিনিং ও শ্যামপুর সুগার।

আইএমএফ থেকে ১০ টন সোনা কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের (মজুদ) একটা অংশ স্বর্ণে সংরক্ষণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে কেনাও হয়েছে ১০ মেট্রিক টন সোনা।
রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়ে এই সোনা কেনা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার ৮২০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ধরে এই সোনা কেনাবেচা হয়েছে।
আইএমএফ তাদের ওয়েবসাইটে গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সোনা বিক্রির তথ্য প্রকাশও করেছে। এই সোনা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত থাকবে। যেকোনো সময় প্রয়োজন হলে এই সোনা বিক্রি করা যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের রিজার্ভে এতদিন সোনা ছিল না। প্রথমবারের মতো ১০ টন সোনা কেনা হল, যা হবে রিজার্ভের প্রায় পাঁচ-ছয় শতাংশ।’ তিনি বলেন, রিজার্ভের পুরোটাই এতদিন ছিল ডলার-ইউরোর মতো কাগুজে মুদ্রায়। কাগুজে মুদ্রার মান এবং তা কোনো দেশের ব্যাংকে বিনিয়োগ করলে সুদের হার বেশ ওঠানামা করে। সে তুলনায় সোনার দাম বরাবরই স্থিতিশীল এবং তা ক্রমশই উর্ধ্বমুখী। এ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের একটা অংশ সোনাতে সংরক্ষণের পদক্ষেপ নেয় বলে জানান গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার একটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে কোনো সোনা রিজার্ভ ছিল না। ১৯৭২ সালে কানাডা সরকার বাংলাদেশকে কিছু সোনা অনুদান দেয়, যা দিয়ে আইএমএফের সদস্য হয় বাংলাদেশ।